শুধু তোমাকে চাই৭
#শুধু তোমাকে চাই
part : 7
আমি মনে মনে খুশিই হলাম,,,,
তাহলে বাঘে বশে এসেছে,,,,
ইমাদকে বেলকুনিতে রেখে দরজা আটকে দিলাম,,,,কারণ ছেলে মানুষের বিশ্বাস নেই,,,,,
আর বেলকুণির দরজাটা গ্লাসের ভেতর থেকে দেখা যায় এন্ড বাইরে থেকেও দেখা যায়,,,,,
.
ইমাদ সারাটা রাত বেলকুনিতে কাটিয়ে দিয়েছে,,,,
যতবার আমার ঘুম ভেঙ্গেছে দেখি ইমাদ আমার দিকে তাকিয়ে আছে,,,
ফ্লোরে শুয়েছে বেচারা,,,,,
বেচারা না,,,,
আমাকে জোর করে বিয়ে করার শাস্তি,,,,,
সকালে দরজা খুলে দিলাম,,,,
ইমাদ মিষ্টি হেসেঁ,,,,,
কলিজা ঘুম কেমন হয়েছে???
.
আমি ::::::: যেমনি হবে হোক তাতে তোমার কি??
.
ইমাদ :::::: এখনো রাগ কমেনি বুঝি,,,
আচ্ছা বলো কি করলে আমার জানটার রাগ কমে যাবে,,,
.
আমি ::::: যা করার তাতে করেই ফেলেছো,,,,
এখন আর কিছু হবে না,,,
বরং তুমি একটু দূরে দূরে থাকো,,,,
খবরদার আমার কাছে আসার চেষ্টা করবে না,,,,
.
ইমাদের চেহেরাটা মলিন হয়ে গেলো,,,
ও যা করেছে তার জন্যে এটাই প্রাপ্য,,,,
নাসতার টেবিলে ইমাদের মা ছেলেকে নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছে,,,,
একটা মাত্র ছেলে তো তাই বোধহয় এতোটা ভালোবাসে,,,,
পরম যত্নসহকারে ছেলেকে খাইয়ে দিচ্ছেন,,,,,
আর আমি মনভরে দেখছি,,,,
আমি অবশ্য এতোটা খারাপ নয়,,,
তবে ইমাদের সামনে এমন করি ইচ্ছে করে,,,,
ওকে কষ্ট দিতে,,,,
.
ইমাদের মা বললো আমাকে শপিংয়ে নিয়ে অনেক গুলো ড্রেস কিনে দিতে,,,
কারণ এসব শাড়ি পড়ে আমি নিজেকে সামলাতে পারিনা,,,,
কিন্তু আমি যেতে চাইলাম না ইমাদের মা বললো,,,,
ইমাদ নাকি মেয়েদের কাপড় চিনে না,,,
আর ও এসব বুঝেও না তাই আমার যা যা দরকার আমি সহ গিয়ে নিয়ে আসতে,,,
.
মুরুব্বী মানুষ উনি যখন বলছেন উনার উপর কথা বলাটা ঠিক হবেনা তাই না বলিনি,,,,
.
ইমাদের সাথে শপিং মলে এলাম,,,
একটা শপে ঢুকলাম,,,
আমি কাপড় দেখছিলাম আর ইমাদ অন্য সাইডে বসে আমাকে দেখছে,,,,
একটা শাড়ি আমার পছন্দ হলো,,
আর আমি হুট করে বলে ফেললাম,,,
এই কালারটা বোধহয় আমাকে মানাবে না,,,,,
আর দোকানি ছেলেটা শাড়ির একটা পার্ট ধরে আমার হাতের উপর রেখে বললো,,,
আপু দেখেন আপনাকে কত মানিয়েছে,,,,
এই কালারে আপনাকে অনেক সুন্দর লাগবে,,,,
.
আমি চট জলদি হাত সরিয়ে নিলাম,,,
ইমাদের দিকে তাকাতেই দেখি ও চোখ লাল লাল করে ঐ দোকানিটাকে দেখছে,,,,,
দোকানিটা আবার বলে উঠলো আপু এটা প্যাক করে দিই,,,,
আর তখনি দোকানির গালে টাশ করে চড় বসিয়ে দেয় ইমাদ,,,,
তোর এত বড় সাহস আমার বউকে টাচ করিস,,,,
তারপর,,,
আরো মারতে চাইলে অন্যান্যরা ওকে ধরে ফেলে,,,,
দোকানের অন্যরা সরি বলে,,,কিন্তু তারপরও ইমাদ শান্ত হয়না,,,,
তাই আমি রাগ করে একা একাই বেরিয়ে আসি,,,,
খুব অপমান লাগছে আমার,,,
এই সামান্য ব্যাপারে এমন সিনক্রিয়েট করতে হয়,,,,
.
বাসায় এসেও আমি ওর সাথে কথা বলিনি,,,,
ইমাদ সবসময় আমার পিছনে লেগে থাকে,,,,
আর বারবার মানা করা সত্তেও আমার কাছে আসার চেষ্টা করে,,,
আমার খেয়াল রাখে,,,
.
সেদিন রাতে ইমাদ একটু দেরীতে বাসায় আসে,,,,
আর আমি শুয়ে ছিলাম,,,
চোখটাও লেগে এসেছিলো,,,
কেমন যেনো একটা স্পর্শ পাচ্ছিলাম আমি,,,
তাই চোখটা আধা খুলে দেখতেই দেখি ইমাদ আমার কাপড়ে হাত দিয়েছে,,,
মনে হয় টানছে,,,
আমি লাফ দিয়ে উঠে ওকে ধাক্কা দিই,,,
.
ছিহ ইমাদ ছিহ,,,
তুমি এত নিচ,,,,
তোমাকে কতবার বলেছি আমার কাছে আসবে না আর তুমি,,,,
.
ইমাদ ::::::: আরে হলুদ পাখি কি বলছো তুমি,,,,
আমিতো জাস্ট,,,
.
আমি চিৎকার করে,,,
আমিতো জাস্ট কি,,,
কি বলো ইমাদ,,,
নিজেকে কন্ট্রোল রাখতে পারছো না তাইতো,,,
ধৈর্যর বাধ ভেঙ্গে যাচ্ছে তাইনা,,,
ওয়েট বলে দরজাটা লক করে দিলাম,,,
তারপর ইমাদের সামনে এসে শাড়ির আচলটা ফেলে দিয়ে,,,,
এই নাও লোভ সামলাতে পারছো নাতো,,,
নাও যেমন ইচ্ছা যেভাবে ইচ্ছে আমাকে ভোগ করো,,,,
এই শরীরটার জন্যই তো আমাকে জোর করে বিয়ে করেছো তাইনা,,,
নাও নিজের মনোকামনা পূরণ করে,,,
আজ তোমাকে সুযোগ দিলাম,,,
.
ইমাদ আমার গালে পাঁচ আঙ্গুল বসিয়ে দিলো,,,,
তারপর শাড়ির আচলটা ঠিক করে দিয়ে বললো,,,,
তুমি কিভাবে এটা ভাবতে পারলে সিয়া,,,
সেদিন ও তুমি আমাকে এভাবে কথা বলে হার্ট করেছিলে,,,
আর আজও এসব নোংরা কথা বলছো,,,,,,,
আমি তোমার শরীরকে না তোমাকে ভালোবেসেছি,,,,
তারপর নিজের হাত আমার হাতের পাশে রেখে,,,,
আমি কি তোমার চাইতে কালো,,,
বরং তোমার থেকে ফর্সা আর হাইটেও লম্বা,,,,
তাহলে কেনো তোমার প্রতি আমার অন্য বাসনা থাকবে,,,
সত্যি সিয়া আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি,,,
শুধু তোমাকে চাই,,,
তোমার ভালোবাসা চাই,,,
তুমি যখন আমায় মেনে নিবে তখনি আমি তোমার কাছে আসবো এর আগে নয়,,,
.
তারপর ইমাদ রুম থেকে বেরিয়ে গেলো,,,,,,,
এর ভেতরে ইমাদকে অনেকটা ভালো লেগে যায় আমার,,,,
ওর অনেক ভালো দিক আমার চোখে পড়ে,,,,
ইমাদ এলাকার অনেক গরীব কেটে খাওয়া মানুষের আর্থিকভাবে সহায়তা করেছে,,,,
পলিটিকসের কাজের পাশাপাশি ও অনেক অনাথ বাচ্ছার পড়াশোনার খরচ বহন করছে,,,
ওদের একটা ক্লাব আছে যেখানে সব নেতারা অর্থ দান করে গরীবদের জন্যে,,,,
তাইতো ইমাদের মা ছেলেকে অনেক বেশি ভালোবাসেন,,,
.
ইমাদের মায়ের কাছে ইমাদের ছোটবেলার কথা শুনে আমি হাসতে হাসতে শেষ,,,
ও নাকি ছোট বেলায় কালো মানুষদের পছন্দ করতো না,,,
কাজের মেয়ের ছেলে কালো ছিলো বলে ইমাদ ওকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়,,,
তখন খুব ছোট ছিলো ও,,,
ফ্রিজের ভিতর লুকানোর জন্যে বারবার ফ্রিজ খুলে ঢুকতে চাইতো,,,,,
আরো কত কি,,,,
.
ইমাদের সাথে হালকা পাতলা কথা বলি,,,
ও আমার একটু কথা শুনার জন্যে অধীর আগ্রহে থাকে,,,
তবে ইগনোরটা বেশি করি,,,
কিন্তু সেটা ও গায়ে মাখেনা,,,,
হঠাৎ ইমাদের বড় চাচার অসুস্হতার খবর শুনে ইমাদের বাবা আর মাকে গ্রামের বাড়ি যেতে হয়,,,,,
আমাকে আর ইমাদকে বাসায় রেখে তারা রওনা দেন,,,
ইমাদদের গ্রাম নাকি অনেক দূরে,,,,
তাই আমাকে নেননি,,,,
.
দুইটা দিন হয়ে গেলো ইমাদের বাবা মা এখনো আসেনি,,,
ইমাদ যা পারে রান্না করে আমাকে খাওয়াচ্ছে,,,,
আমি তো মজা হলেও মুখটাকে বাকা করে বলি যত্তসব ফালতু খাবার,,,
কিন্তু ও তারপরও আমার জন্যে এটা ওটা বানিয়ে আনে,,,
অথচ স্বামীকে আমার সব করে খাওয়ানোর কথা,,,,
সেদিন ইমাদের প্রচন্ড জ্বর উঠে,,,
সারারাত ঠান্ডার মধ্যে ফ্লোরে ঘুমিয়ে ছিলো কারণ আমি বিছানায় ছিলাম,,,,
আমি এত রাতে কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না,,,
রাত প্রায় দুটো বাজে,,,,
প্রথমে ওর কাছেও যায়নি,,,
যখন দেখলাম থরথর করে কাঁপছে আমার সহ্য হলোনা,,,
জ্বরপট্টি দিয়েও কাজ হচ্ছেনা,,,
ইমাদ জ্বরের ঘোরে আমার হাত জড়িয়ে ধরলো,,,
.
কেনো জানিনা ওকে এভাবে দেখতে আমার খুব কষ্ট লাগছিলো,,,,,
ওর জন্যে স্যুপ করে আনলাম,,,,
বেচারা জ্বরের বেগে কিছু খেতেও পারছে না,,,,
ওকে নিজের হাতে স্যুপ খাইয়ে দিয়ে
ধরে ধরে কোনো ভাবে বিছানায় শুইয়ে দিলাম,,,,
এবার আশ্চর্য রকম ভাবে ইমাদ আমাকে জড়িয়ে ধরলো,,,
খুব জোরে,,,,
আমাকে জড়িয়ে ওর সাথে চেপে ধরলো,,,,,,,
আমার পুরো শরীর কাপছিলো,,,
ওর বুকের উপর থেকে নিজেকে সরাতে চাইলেও পারছি না,,,
এর এক একটা স্পর্শ আমাকে পাগল করে দিচ্ছিলো,,,
নিজেকে ছাড়াতে চাইলেও ছাড়াতে পারছি না,,,,,
ইমাদ যে শক্ত করে আমায় ধরে রেখেছে,,,,,,
যখন ইমাদ আমার ঠোটঁ নিজের অধিকারে নিলো আমিও আর বাধা দিলাম না,,,,,,,,
কারণ কিছু করেও লাভ হচ্ছিলো না,,,,,
একটা ছেলের সাথে একটা মেয়ে কতক্ষণ পারে,,,,
যা হবার কথা ছিলো না তা হয়ে গেলো,,,,,,,,,
আমি পারিনি আটকাতে ইমাদকে আর রা নিজেকে,,,,,,
.
সকালের দিকে ইমাদের শরীরটা অনেকটা সুস্হ হয়ে উঠে,,,
রাতে যে এত সেবা করেছিলাম,,,
মেডিসিনও দিয়েছিলাম,,,
ইমাদ চোখ কচলাতে কচলাতে এদিক ওদিক তাকাতেই যখন দেখলো আমি কর্ণারের সাথে হেলান দিয়ে ফ্লোরে বসে কাদছি ইমাদ অবাক হয়ে যায়,,,,
এক লাফে আমার কাছে ছুটে আসে,,,,
আমি দুই হাটুর মধ্য খানে মুখ লুকিয়ে কাদছিলাম,,,,
এটা কি হয়ে গেলো,,,,
এমন তো হবার কথা ছিলো না,,,,
.
ইমাদ উত্তেজিত হয়ে,,,
জান পাখি কি হয়েছে তোমার??
তুমি কাদছো কেনো????
প্লিজ জান বলো আমায়,,,,
ইমাদ আমাকে স্পর্শ করতে চাইলে আমি একটু সরে এলাম,,,
খবরদার আমাকে স্পর্শ করবে না,,,,
তুমি এ নিচ জানা ছিলো না,,,,
.
ইমাদ ভ্রু কুচকে,,,,,,
মানে কি???
আমি আবার কি করলাম,,,,
.
আমি চোখ রাঙ্গিয়ে বললাম,,,,
যা করার তাতো করেই ফেলেছো আবার এখন ন্যাকা সেজে বলছো কি করেছো,,,,,,,,
আমি তো জাস্ট তোমার হেল্প করছিলাম,,,,,
নিজেকে গুছানোর জন্যে কিছুদিন সময় নিয়েছিলাম আর তুমি সেই সুযোগটাও দিতে পারলে না,,,,
কেনো ইমাদ কেনো,,,,
এমনটা কেনো করলে আমার সাথে,,,,
কথা গুলো বলে বলে কাদতে লাগলাম আমি,,,,
.
ইমাদ এদিক ওদিক তাকিয়ে,,,,
কিন্তু আমি করেছি টা কি,,,,
একটু বলো প্লিজ,,,,
আমার তো বলতেই
আমি শাড়ির আচল সরিয়ে গলার নিচের অংশ আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বললাম,,,,
তুমি কি করেছো মনে নেই তাইতো,,,
দেখো কি করেছো,,,,,
তুমি একটা অমানুষ,,,,
তুমি নিজের চাহিদা মেটাতে আমাকে জোর করেছো,,,,
একটা কথাও শুনোনি আমার,,,,
আমি কত করে মিনুতি করে বললাম,,,,,,,,,,,
.
ইমাদের সব মনে পড়ে গেলো,,,
মাথায় হাত দিয়ে আমার পাশে বসে ছলছল চোখে,,,,,
সি,,,সিয়া,,,,
আ,,,আমি ইচ্ছে করে কিছু করিনি,,,
হয়তো বা নিজের অজান্তে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি,,,,
প্লিজ সিয়া আমাকে ক্ষমা করে দাও,,,,
আমি কখনো চাইনি তোমায় হার্ট করতে,,,,,,,
বিশ্বাস করো,,,,
তোমায় তো আমি নিজের চাইতেও বেশি ভালোবাসি,,,,,
আম রিয়েলী ভেরী ভেরী সরি সিয়া,,,,,
প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দাও,,,,
বলতে বলতে আমার হাতের উপর হাত রাখলো,,,,
.
আমি এক ঝটকায় ইমাদের হাত সরিয়ে,,,
ছুবে না আমায় তোমার ঐ নোংরা হাত দিয়ে,,,,,
আমার ঘৃন্না হচ্ছে নিজের প্রতি,,,,
কেনো পারিনি আমি নিজেকে বাচাতে তোমার হাত থেকে,,,,
আমি নিঃস্ব আজ,,,,
আমার যে শেষ সম্বলটুকুও তুমি কেড়ে নিলে,,,,
তাও জোর করে,,,
আমি সোজা ব্যাগ গুছাতে লাগলাম,,,,,
.
ইমাদ চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে,,,,
ওর চোখ থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছে,,,,
হাজার চেস্টা করেও যে ও আমাকে আটকাতে পারছে না,,,,
আর কিভাবেই বা পারবে,,,
আমাকে আটকানোর অনেক চেষ্টা করেও ইমাদ ব্যর্থ হলো,,,,
.
বাসায় চলে এসেছি আমি,,,,
প্রচন্ড অভিমান আর কষ্টে আমার ভেতরটা জ্বলে যাচ্ছিলো,,,,
আম্মু আমাকে একা দেখে ইমাদের কথা জিঙ্গেস করলো,,,,,,
বললাম ও পরে আসবে,,,,
রুমে এসে আয়নার সামনে বসে নিজেকে দেখছি আর কাদছি,,,,
ইমাদ এটা কেনো করলো আমার সাথে,,,,,,,,
অন্তত আর কিছুটা দিন আমাকে সময় দিত,,,,,
গলার নিচে আচড়ের দাগটা বসে গেছে,,,,,,,,
ওখানে সামান্য জ্বলছে,,,,,,,
কিন্তু তার চাইতেও মনের ব্যাথাটা বেশি,,,,,
বাসায় আসার পর থেকে ইমাদ ফোন দিয়েই যাচ্ছে,,,,
কিন্তু আমি রিসিভ করছি না,,,
ফোন অফ করে রেখেছি,,,,
.
দুইটা দিন পর ফোন অন করলাম,,,
আর সাথে সাথে ইমাদের ফোন,,,,
রিসিভ করলাম,,,,
হ্যালো হ্যালো জান পাখিটা,,
.
কি বলবে বলো,,,,
.
এতদিন ফোনটা অফ করে রেখেছো কেনো,,,,
তুমি জানোনা আমি ফোন দিবো,,,,
জানো তোমার সাথে কথা বলতে না পেরে তো আমি মরেই যাচ্ছিলাম,,,
.
দেখো ইমাদ তোমার সাথে আমার কথা বলার কোনো ইচ্ছে নেই,,,,
সেদিনের পর থেকে তুমি সব হারিয়ে ফেলেছো,,,,
আমাদের সম্পর্কটা এখানেই শেষ,,,,,
.
ইমাদের কন্ঠস্বরে কান্নার ভাবটা স্পষ্ট ভাবে বুঝা যাচ্ছে,,,,
প্লিজ সিয়া এভাবে বলো না,,,,
আমি যে মরে যাবো,,,,
তোমাকে ছাড়া আমি মরে যাবো সত্যি বলছি,,,,,
প্লিজ সিয়া অভিমান ভুলে গিয়ে ফিরে এসো আমার কাছে,,,,
.
পাগল নাকি,,,,
এসব কি ভুলবার মতো,,,,
তুমি যা করেছো তার কোনো ক্ষমা নেই,,,,,,,,
আমি যাবো না এটাই আমার ফাইনাল ডিসিশন,,,,
.
প্লিজ প্লিজ সিয়া,,,,
ওকে ওয়েট ভিডিও অন করো,,,
.
ভিডিও অন করে কি হবে,,,,
তোমার ঐ নোংরা মুখটা আমি দেখতে চাই না,,,,
.
ইমাদ এবার ফুপিয়ে কেদে উঠে,,,
প্লিজ কলিজা,,,
জাস্ট একটা বার আমার ফোন রিসিভ করে,,,,,
তোমার পায়ে পড়ি,,,
প্লিজ,,,
.
খুব আকুতি মিনুতি করে বলছিলো,,,
তাই আর না করতে পারলাম না,,,,
মেইন কথা হচ্ছে ইমাদের প্রতি আমারো কিন্তু দূর্বলতা আছে,,, কিন্তু তা ওকে বুঝতে দিচ্ছি না,,,,
আর আমি ভীষণ বাড়াবাড়ি করছি,,,
ও তো আমার স্বামি,,,
ওর পুরোপুরি অধিকার আছে আমাকে স্পর্শ করার,,,
হোকনা সেটা আমার ইচ্ছেয় বা অনিচ্ছেয়,,,,,,
কিন্তু তারপরও কেনো জানিনা আমার কেমন জানি একটা বাধা বিপত্তি কাজ করছে,,,,,
.
ওর কথাই ভিডিও অন করলাম,,,,
একি ওকে দেখে আমার চোখ বড় বড় হয়ে গেছে,,,,,
রুমের যতটুকু অংশ দেখা যাচ্ছে সব ত্যাচন্যাচ হয়ে আছে,,,,
আর ইমাদের চেহেরাটা কেমন শুকনো শুকনো টাইপের হয়ে গেছে,,,,
মনে হচ্ছে দুদিন যাবত কিছুই মুখে দেয়নি,,,,,
.
সিয়া আই লাভ ইউ,,,,
লাভ ইউ ভেরী মাচ,,,,
আমি তোমাকে ছাড়া নিজেকে কল্পনা করতে পারিনা,,,,
তোমায় ছাড়া আমি সত্যিই মরে যাবো,,,
প্লিজ তুমি আমাকে ক্ষমা করে ফিরে এসো,,,,,
কথা দিচ্ছি আর কখনো এমন ভুল হবেনা জান,,,,
প্লিজ কলিজা ফিরে এসো,,,
.
আমি রাগীভাবে,,,,
এসব নাটক বন্ধ করো,,,,
তুমি জানো আমি আর কখনো ফিরবো না কেনো তারপরও এসব করছো,,,
আর কখনো ফোন দিবানা,,,
ভালো থেকো রাখছি আমি,,,
.
ইমাদ চিৎকার করে,,,,
তোমাকে ছাড়া আমি কিভাবে ভালো থাকবো,,,,,
তুমি সত্যিই আমার কাছে ফিরে আসবে না,,,,
তাহলে ঠিক আছে আমি নিজেকে শেষ করে দিবো বলেই পাশ থেকে চাকু নিয়ে হাতের উপর রাখলো,,,
ঠিক সেই জায়গায় যেখানে আগেও কেটে ছিলো,,,
.
আমি পাত্তা না দিয়ে বললাম,,,,
ওহ ইমাদ প্লিজ এবার অফ যাও,,,
এসব ড্রামা দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত,,,
.
ইমাদ কান্নারত অবস্হায় হেসেঁ দিয়ে,,,,
তাই নাকি,,,
তাহলে এবার রিয়েলীটি দেখো বলেই গরগর করে চাকু বসিয়ে দিলো,,,,
আর ছিটকে রক্ত বেরিয়ে গেলো,,,,
আমি চিৎকার করতে করতে দৌড় দিলাম,,,,,,
আসলে আমি ভেবেছি ও এমনটা করবে না,,,,
এই সামান্য ব্যাপারে কেউ এইসব করে,,,,,,,,,
ইমাদের বাসার সামনে আসতেই দেখি ইমাদের বাবা মা দুজনেই গ্রাম থেকে চলে এসেছেন,,,,
গাড়ি থেকে নামছেন,,,,
আমাকে দেখে বললো,,,
কেমন আছো মা??
.
আমি উত্তেজিত হয়ে,,,,
আংকেল আন্টি,,,
ই,,,ইমাদ হাত কেটে ফেলেছে,,,,
আংকেলের হাত থেকে মোবাইল আর গাড়ির চাবিটা পড়ে যায়,,,,
আন্টি চোখ বড় বড় করে,,,,
কোথায় ইমাদ,,,
ইমাদ করে চিৎকার দেয়,,,,
তারপর দরজা ভেঙ্গে ইমাদেক হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়,,,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
Song
Tumi ki amr hasi muke abar karon hbe
Tmi ki amr soto vuler abr baron hbe
Debona aj hasi muke kono bada
ডেভিল হ্যাসবান্ড
Devil Husband💗
part_28
_ স্যার সবকিছুর জন্য সরি,আমি বুঝতে পারি নি আপনাকে এমন সিশুয়েশনে পড়তে হবে
_এখানে আপনার কোনো দোষ নেই
_ স্যার ম্যাডামের কি হলো
_কিছু না মাথা ঘোরাচ্ছে
_ অনেক ভালোবাসেন ম্যাডামকে তাই না
_হুম অনেক
আজকে আসি,আর শুনেন কমিশনারের ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যান
ইমরান সিনহাকে নিয়ে বাসায় চলে আসে
_এখন কেমন লাগছে
-হালকা ভালো লাগছে
_ রেস্ট নেও সব ঠিক হয়ে যাবে
-আপনি যে কমিশনারের ছেলেকে এভাবে মারলেন,এখন ওরা আপনার ক্ষতি করবে নাতো
_ওই ছেলের সাহস কী করে হয়,তোমাকে বাজে কথা বলার
_তারপরও এভাবে মারা ঠিক হয়নি
- চুপ করো তুমি
কোনটা ঠিক কোনটা বেঠিক সেটা আমাকে বুঝাতে এসো না(ধমক)
ইমরান রুম থেকে বের হয়ে কাউকে ফোন দেয়
_ হ্যালো,যতো টাকা লাগে নেও
আমার বা আমার পরিবারের যেনো কোনো ক্ষতি না হয়
পরেরদিন কমিশনার আসে ইমরানের বাড়িতে,কমিশনার ইমরানকে দেখে তেড়ে আসে
_তোর এক্টুও ভয় লাগে নি কমিশনারের ছেলের গায়ে হাত তুলতে,তোকে এর মাসুল দিতে হবে
চল আমার সাথে
কমিশনার তার সৈন্যদের আদেশ দেয়,ইমরানকে নিয়ে চলতে
সৈন্যরা ইমরানকে টাচ করতে
_ ডোন্ট টাচ মি(ধমক)
_এখনো এতো দেমাগ
_ভাইয়া
_চুপ ইরিন,কোনো কথা নয়
আমি রাতের ভিতরেই ফিরে আসবো
সিনহা কিছু বলছে না,শুধু কান্না করছে।
এইদিকে আয়ান সব লজ্জা সরম ভুলে ইমরানের বাড়িতে হাজির হয়
এসেই দেখে সিনহা ইরিন দুজনেই কাদছে
আয়ান ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়
_কী হয়েছে,তোমরা এভাবে কাদছো কেনো
আয়ানকে দেখে সিনহা আরো জোরে কেদে উঠে
_আরে বলবে তো কী হয়েছে,এভাবে কান্না করার কারন কী(ধমক)
আয়ানের ধমক শুনে সিনহা ইরিন দুজনেই চমকে উঠে
তারা কখনোই আয়ানের রাগ দেখে নি
ইরিন বিয়ের বাড়ি থেকে শুরু করে
আজকের ঘটনা খুলে বলে
_তোমার ভাইয়ার মাথা এতো গরম হয়ে যায় কেনো,বুঝি না
মারছে ভালো কথা,এতো নৃশংস ভাবে মারার কি দরকার ছিল
তাও কমিশনারের ছেলেকে,এবার বুঝুক মজা
ইরিন সিনহা ভ্যা করে কেদে দেয়
_আমি যাই তোমাদের কান্না শুনার ইচ্ছা আমার নাই
আয়ান চলে যায়
রাত হয়ে গেছে,সিনহা ইরিন মনমরা হয়ে বসে আছে
সিনহা আজকে খুব করে তার ডেভিল জামাইকে মিস করছে
তার ডেভিল টা এখন কী করছে,কী অবস্থায় আছে কে জানে,ভাবতেই সিনহার কান্না পাচ্ছে
কমিশনার মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে,তার ছোট মেয়েকে বিকেল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না,এটা কোনোভাবে ইমরানের কাজ নয়তো
কমিশনারের মাথায় আগুম জ্বলে উঠে,এটা যদি ইমরানের কাজ হয়
আজকেই সে ইমরানকে মেরে ফেলবে
কমিশনারের ফোন বেজে উঠে
_ হ্যালো
_
_কীইই
-
_ প্লিজ আমার মেয়ের কোনো ক্ষতি করবেন না,আমি ইমরানকে ছেড়ে দিবো
-
_হুম এক্ষুনি গিয়ে ছেড়ে দিচ্ছি
কমিশনার ফোন কেটে থানায় যায়
থানায় এসে ইমরানকে মুক্ত করে দেয়
-আজকে বেচে গেলি আমার মেয়েকে কিডন্যাপ করে,নেক্সট টাইম আর তোকে বাচিয়ে রাখবো না,মাইন্ড ইট
ইমরান অবাক হয়ে যায় কমিশনারের কথা শুনে,তার মেয়েকে সে কখন কিডন্যাপ করলো।
ইমরান ঠিকমতো হাটতে পারছে না
কমিশনার অনেক মেরেছে তাকে
ইমরান এর শেষ দেখে ছাড়বে😠
চলবে.
(এই কিডন্যাপার টা আবার কে?)
Nisarto valobasa
গল্পটা
লেখক, সাফওয়ান
💝💝💝💝নিঃস্বার্থ ভালোবাসা💝💝💝💝
পার্টঃ-খ
একটি ছেলে খুবই সাদাসিদে ছিল।👦👦
সে একটি দোকানে চাকুরি করতো ছেলেটির বেতন ছিল মাত্র পাচহাজার টাকা।😔😔
ছেলেটির দোকানের সামনে দিয়ে প্রতিদিন একটি মেয়ে স্কুলে যেত।👸👸
মেয়েটি ছিল পর্দাশীল। যদিও তার মুখটি প্রায়ই খোলা থাকতো। 👸👸
একদিন হঠাৎ ছেলেটির নজর পড়লো মেয়েটির দিকে।এভাবে বেশ কদিন যাবার পর একদিন মেয়েটি বুঝতে পারলো ছেলেটি তাকে লক্ষ করে । 🤓🤓
মেয়েটিও বাকা চোখে ছেলেটিকে দেখতে শুরু করলো। 🙄🙄
ছেলেটি মেয়েটির চলাফেরা দেখে মুগ্ধ হয়ে আফসোস করতে লাগলো ।😴😴
ইস যদি আমিও আজ পড়াশুনা করতে পারতাম। তাহলে সাহস করে মেয়েটির সাথে কথা বলতে পারতাম ।😴😴
মেয়েটিও বুঝতে পারলো ছেলেটি তাকে বিষন পছন্দ করে ।😌😌
তাই একদিন মেয়েটি ছেলেটির দোকানের পাশে দাড়িয়ে রইলো।👸👸
তখন দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য ছেলেটি বাহির হলো ।🚶🚶
সে একটি চায়ের দোকানে গিয়ে পাচ টাকার একটি রুটি খেয়ে পানি পান করে আসতে লাগলো। 🚶🚶
তখন মেয়েটি তার কাছে গেলো।👸👸
বললো তুমি ভাত খেলেনা। রুটি দিয়ে কি পেট ভরবে ।🙄🙄
তখন ছেলেটি মেয়েটিকে দেখে অবাক হয়ে গেলো।🙄🙄
ছেলেটি বললো আমি ভাত খেলে আমার মা,আর ছোট বোনকে কি খাওয়াবো ।🥺🥺
মেয়েটি শিক্ষিত তাই অল্পতেই বুঝে গেলো। সে ছেলেটির হাত ধরে বলতে লাগলো তাহলে তুমি যে আমাকে পছন্দ করো। তাহলে আমাকে কি খাওয়াবে ।🤔🤔
তখন ছেলেটি বললো আমিতো তোমাকে আপন করে পাওয়ার জন্য দেখিনা । কারন সে যোগ্যতা আমার নেই ।😔😔
তবে এটা সত্য যে তোমায় দেখলে আমার খুব ভালো লাগে।😌😔
তাই দেখি ।🥺🥺
মেয়েটি ছেলেটির কথা শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলোনা ।😥😥
সে বুঝে গেলো ছিলেটির চরিত্র, এমনকি ভাবনাও সুন্দর।💮💮
সেদিন মেয়েটি চলে গেলো।
বাসায় গিয়ে রাত্রিবেলা মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরেরদিন তাকে ডাক্তার দেখানো হলো।বলা হলো তার দুটো কিডনিই নষ্ট। 🙄🙄
তখন মেয়ের বাবা ফোন করে তার বন্ধুর ছেলেকে।📱📲
যার সাথে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য সে পাগল।👳👸
কিন্তুু মেয়েটি বাবার পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি নয়। 😔😔
কারন ছেলেটির টাকা থাকলে কি হবে তার চরিত্র খারাপ। সে ছিল নারী লোভী ।😡😡
এদিকে মেয়েটির কোন লোভ ছিলনা।
যাহোক হবু জামাই আসার পর তাকে সব বলা হলো। এখন কোথাও কিডনিও মিলছেনা।
তখন মেয়ের বাবা তাকে বললো তোমার থেকে একটা কিডনি আমার মেয়েটিকে দাও ।🙄🙄
তুমিতো বলেছো আমার মেয়েকে তুমি অনেক ভালবাসো । 😍😍
তাকে পেলে তুমি ভাল হয়ে যাবে। 👦👦
তাহলে আজ পরিক্ষা দাও।🤔🤔
তখন ছেলেটি বললো, আমি আপনার রোগা মেয়েকে বিয়ে করবো কেন ।🤗🤗
আমার কি সুস্থ মেয়ের অভাব নাকি । এ বলে সে চলে গেলো। 🏃🏃
বাবা তখন কেদেঁ কেদেঁ মেয়ের কাছে গিয়ে সব খুলে বললো।😥😥
মেয়ে বলে বাবা তুমি কেদঁনা । একটা পথ এখনও আছে।তুমি এক কাজ করো।
আমাদের সামনের মোড়ে একটা বড় গ্যারেজ আছেনা। তুমি সেখানে যাও।
যেয়ে তাইয়্যেব নামে একটা ছেলে আছে তাকে নিয়ে আসো।🚶🚶
আমার কথা বলো । তখন বাবা ছেলেটিকে নিয়ে আসলো। 🚶🚶
মেয়েটিকে দেখে ছেলেটির চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগলো।😥😥
কারন মেয়ের বাবা তাকে সব খুলে বলেছে।
তখন ছেলেটিকে মেয়েটি বললো।
তুমি আমাকে একটা কিডনি দিবে?🙄🙄 ছেলেটি বললো কিডনি দেবার জন্যই আমি এসেছি।😪😪
মেয়েটি তাকে বললো তুমি কি চাও । 🤔🤔ছেলেটি বললো তুমি সুস্থ হয়ে আমার দোকানের সামনে দিয়ে স্কুলে যাবে। আর আমি শুধু তোমাকে দুর থেকে তাকিয়ে দেখবো।🥺🥺
এই অনুমতি টুকুই চাই । 🥺🥺
এ কথা শুনে মেয়ে,এবং বাবা দুজনই চোখের পানি ধরে রাখতে পারলোনা । 😢😢
অবশেষে মেয়েটি বিছানা থেকে উঠে ছেলেটির দু পায়ে জরিয়ে ধরে বললো।😭😭
এ জীবনে তোমার থেকে আমাকে একমাত্র মৃত্যুই আলাদা করতে পারবে।😥😥
আর কেহ পারবেনা। 🤧🤧
তারপর মেয়েটি বললো আমার কোন কিডনি নষ্ট হয়নি।😇😇
এ সব ছিল আমার সাজানো নাটক। 😇😇আমি যা ভেবেছিলাম তাই হয়েছে। তোমাকে দেখে..😇😇
I LOVE YOU.. 😍😍😍😍
নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এমনই হয়...
(কেমন লেগেছে অবশ্যই জানাবেন )
So goodbye
So goodbye don't cry and smile
I'll send away all the times in which my heart has been cold
So goodbye to me , who has been alone in the darkness
I need you
I need your love again
As if I'd miss you again everyday
I, who has erased hurting wounds and sad memories
When i saw you for the first time
It was like in this moment I'd stop and i saw only you
In this rough trail i collapse but it's like I can't regret it
When i close my eyes i can feel your breath.i can smile now
প্রেমিকার লাশ
প্রেমিকার লাশ
-
আজ ৬৪ টা দিন তোমায় ছাড়া কাটিয়ে দিয়েছি 🙂
ভালবাসার মানুষটা আজ অন্ধকার কবরে শুয়ে আছে 😭
জানিনা কেমন অবস্থায় আছে।
কি হয়ে গেলো আমার সাথে এখনো মানতে পারি না আমি।
স্ত্রীর লাশের উপর অধিকার থাকে কিন্তু প্রেমিকার লাশের উপর কোন অধিকার থাকে নাহ। ঠিক এমনটা হয়ে গেলো আমার সাথে। আমি কোন অধিকার দেখাতে পারিনি।প্রতিটা সময় আত্নচিৎকারে মগ্ন ছিলাম।
আর কেউ না দেখলেও ঐ উপরের আল্লাহ দেখেছে। তার একটা কথা কানে বাজে, আমি যদি না থাকি তুমি নিজেকে সামলে নিতে পারবে? আমি এখনো নিজেকে সামলে নিতে পারিনি। তোমার কথাটা আমি রাখতে পারিনি।। তোমায় খুব মনে পরে, কেন জানি মনে হয় তুমি আমার আশেপাশেই আছো। জানো তুমার ছবির সাথে প্রতিনিয়তই কথা বলি। চোখের পানি ঝরতেই থাকে।। তুমি নেই এমন একটা সত্যি আমি জানি কিন্তু বিশ্বাস করতে পারি না খুব কষ্ট হয় আমার।। কেন তুমি এমন করলে, একটাবার ভাবলে না আমার কি হবে??😭
ভাল থেকো ওপারে
আমার ভালবাসা
কিং ওফ মাফিয়া
কিং ওফ মাফিয়া
পর্ব:-৮
আস্তে আস্তে নীল সন্ত্রাস দলে পুরোপুরি জরিয়ে পড়ে।
নীল প্রথম থেকেই ঠিক করে রেখেছিলো
যে নীল নিজে একদিন বড় হবে।।।তার হাতেই সে সন্ত্রাস দল তৈরি করবে।
নীল সেই সব লোকদের শাস্তি দিবে যাদের জন্য নীলের আজকে এই অবস্থা।
যাদের জন্য নীল তার সবটুকু দিয়ে কাজ করে গেছে,, যাদের জন্য নীল তার বাবা মার কথা শুনে নি।আর আজকে তারাই নীলকে একটু থাকার জায়গা ও দিলো না তারা।
নীলের টালেন্ট থাকায় নীল সবার প্রিয় হয়ে যায়।সব ধরনের কাজ নীল করতে থাকে।
আস্তে আস্তে নীল তার টিম তৈরি করতে থাকে।ওপরে ওপরে ওরা দলের লোক হিসেবে থাকে কিন্তু আসলে ওরা সবাই নীলের লোক।
নীল যখন তার ভিতটা শক্ত করে ফেলে তখন সে ঠিক করে যাদের জন্য নীলের এই অবস্থা তাদের মেরে ফেলবে।
নীল প্রথমে যায় এমপির ছেলেকে মারতে ওর জন্য আজকে নীল ঘরছাড়া।নীল রাজুকে মেরে ফেলে।
তারপর সাকিব ভাই এর পালা।।সাকিব ভাই এর জন্য পার্টির জন্য নীল কি না করে নি।রাত দিন এক করে কাজ করেছে।
তারপরে ও নীলের থাকার জায়গা ও দিলো না।
নীল আর ওর ছেলেরা চলে যায় সাকিব ভাই এর কাছে।
নীল তুই এখানে।কেমন আছিছ।তোকে আমি কত খুজেছি।(সাকিব ভাই অবাক হয়ে বললো,,আর আসল কথা হলো সাকিব ভাই অবাক হওয়ার থেকে ভয়ই বেশি পেয়েছে কারন নীলের সব ছেলেদের কাছে স্নাইপার ছিলো)
আমি এখন ভালো নাই,,একজনকে ওপরে পাঠাবো তারপর থেকে আমি ভালো থাকবো।(নীল)
কে সেই,,তার নাম কি।আর তুই এখানে কি মনে করে আসলি।(সাকিব)
ও হলো সেই লোক যার জন্য আমি সারাদিন কাজ করছি।যার জন্য আমি বাসা ছাড়া হইছি তখন তার কাছে আমি সামান্য থাকার জায়গা চাইতে আসছিলাম সে আমাকে কোনো উপকার করে নি।(নীল)
কে সেই লোক।(তুতলিয়ে বললো সাকিব)
ওই হারামখোরটা আমার সামনে দাড়িয়ে আছে।তার নামটা হলো সাকিব।(নীল)
ত.....তু........তুই কি বলছিছ এসব।(সাকিব)
আমি ঠিক ই বলছি।তোমার বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নাই।
নীলের সব ছেলেরা একসাথে স্নাইপার দিয়ে ফায়ার করা শুরু করে দিলো।
ভবলিলা সাংগো।সাকিব ভাই এর সব কিছু শেষ।
নীল আর ওর ছেলেরা সাকিবকে মেরে দিয়ে চলে আসলো।
পরে নীল বুঝতে পারে তার কাজটা করা ঠিক হয় নি।
কারন সাকিব ভাই এর বউ এর ছোট ছোট দুইটা বাচ্চা ছিলো।
সাকিব ভাই চলে যাওয়ার পরে ওরা অনেক অসহায় হয়ে পড়ে।
সাকিব ভাই এর পরিবার অনেক ভাবে অসহায় হয়ে পড়ে তারা ঠিক মতো সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে না।
সাকিব ভাই এর বৃদ্ধ বাবা মা ছিলো তারা ও ছেলের মৃত্যতে ভেঙে পড়ে।
নীল এগুলো দেখে বুঝতে পারে যে তার এ কাজগুলো করা অনেক বড় অপরাধ হয়ে গেছে।
তার পর থেকে নীল এই রকম হয়ে থাকে।আর কোনো ঝামেলার মধ্যে যায় না।
নীল ঠিক করে সব কিছু ছেড়ে দিয়ে সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকবে।
কথাগুলা বলে আদিবার বাবা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে।
কথাগুলো শুনে সবাই অবাক হয়ে যায়।
সব থেকে বেশি আবাক হয়ে যায় আদিবা।
কারন আদিবা নীলের সাথে কতো খারাপ ব্যাবহার করেছে তারপরেও নীল কিছু বলে নি।সবকিছু নীল মুখ বুজে সহ্য করেছে।
তাহলে কি নীল ও আমাকে...............।(কথাগুলো ভাবতে ভাবতে আদিবা মুচকি হাসি দেয়)
আমি দশ পর্যন্ত গুনবো এর মধ্যে পুরো কলেজ যেন এমব ভাবে সেজে যায় যেন কিছুই হয়নি।
ওয়ান......
সেভেন.....
....
.......
......
টেন......
সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে নীল চোখ খুলে দেখে।নীল ও ক্লাশে চলে যায়।
সেদিনের মতো সবাই ক্লাশ করার বদলে নীলের দিকেই তাকিয়ে দেখে।
স্যার ও কোনো ভাবে ক্লাশ করে চলে যায়।
নীল ও ক্লাশ করে বাসায় চলে আসে।
আদিবা সারাখন শুধু নীকলে নিয়ে ভাবতে থাকে।
রাতে আদিবার বাবা আসলো বাসায়।
তুমি নীলকে চেনো কিভাবে বাবা।(আদিবা)
তুই ও নীলকে খুব ভালো করে চিনিস.(আদিবার বাবা)
আমি কেমন করে নরলকো চিনি।আমি সেদুন ই নীলকে প্রথম দেখেছি।(আদিবা)
তারপরে আদিবার বাবা যেটা বললো সেটা শুনে আদিবা..................
(কেমন হলো জানাবেন।আপনাদের সারা পেলে পরবর্ত পাঠ দিব)
#stay home.....
#stay save........
নিয়তি২
# নিয়তি ( পর্ব--২)
।
মিসেস সালেহা বেগমের চিৎকারে নাজিফা ভাবনার জগত থেকে বিদায় নিলো, মিসেস সালেহা তখন নাজিফাকে চেঁচিয়ে -- চেঁচিয়ে বলতে লাগলো --- চুপ করে ওখানে দাড়িয়ে আছো কেন???
ইমাদকে মুখের উপর কিছু বলে দিচ্ছ না কেন??? আর এভাবে বড় করে ঘোমটা দিয়ে রেখেছো কেন?? ঘোমটা টা সরাও।
ইমাদ তখন মাকে উদ্দেশ্য করে বললো --- না মা ওনি ঘোমটা সরাবেন না।
---- মানে কী বলতে চাস তুই??
--- আমি বলতে চাই ওনাকে দেখার আমার বিন্দুমাত্র ও ইচ্ছে নেই, সো প্লিজ ওনি যেনো আমার সামনে এট লিষ্ট মুখটা না দেখায়।
----- দিন-- দিন তুমি এতো বিগড়ে যাচ্ছ কেন?? একটা মেয়েকে বউ করে এনে ওকে পাপ্য সম্মান টুকু ও কেন দিচ্ছোনা তুমি???
---- কারন এ বিয়েতে আমি রাজি নেই বলে, মা প্লিজ তুমি এসব নিয়ে আর কথা বলোনা, তোমার জীবনটা নাকি আমি শেষ করে দিয়েছি, তুমি আমার কাছে বউয়ের আবদার করেছো, তাই বিয়ে করলাম, কিন্ত ওকে আমার স্ত্রীর পরিচয় দেবার আবদারটা যদি ও করো আমি মরে গেলে ও রাখতে পারবোনা, আর কেন পারবোনা সেটা ও তুমি ভালো করে জানো।
------ হে আমার রব আমাকে সবকিছুর সাথে মানিয়ে নেওয়ার তৌফিক দান করো। নিশ্চয় আপনি আমার জন্য উওম কিছু রেখেছেন, নিশ্চয় আপনি ধৈর্যশীল দের পছন্দ করেন, অতএব আমাকে তাদের ভিতরে অন্তর্ভুক্ত করো।
নাজিফার এরুপ বিড়বিড়িয়ে দোয়া করাটা সালেহার কানে যেতেই, ওনি নাজিফার সামনে এসে ওর হাতটা শক্ত করে ধরে বললো --- বাহিরে এভাবে দাড়িয়ে থেকে গুনগুন করেই কী তুমি রাতটা কাভার করবে???
একটা কথা মনে রেখো নিজের অধিকার নিজেকেই আদায় করতে হবে কখনো ছেড়ে দিওনা।
।
।
নাজিফা তখন ঠুনকো হেসে সালেহাকে বললো ---- আমি সবসময় এটা বিশ্বাস করি যে আর যাই হোক ভালোবাসা আর অধিকার কখনো জোর করে আদায় করা যায়না, আর যে জোর করে আদায় করে সে সবচেয়ে বেশি বোকা। আমি সেই বোকাদের দলে অন্তর্ভুক্ত হতে চাইনা। আমি ভালোবাসাকে ---- ভালোবাসা দিয়ে, অধিকারকে--- অধিকার দিয়ে আদায় করবো।
ইমাদের কানে নাজিফার কথাগুলো যেতেই ইমাদ হেসে-- হেসে নাজিফাকে বললো --- সে স্বপ্ন আপনার কখনো পূরণ হবেনা। এনিওয়ে মা অনেক রাত হয়েছে, বাচ্চাদের এতো রাত অবদি জাগা ঠিক হবেনা, তুমি প্লিজ ওনাকে নিয়ে এখান থেকে যাও, আমি নওরীন আর নাবাকে নিয়ে একটু ঘুমাবো।
।
।
।
--- মানে কী ইমাদ!!!! নাজিফা তাহলে কোথায় থাকবে???
---- মা তুমি আমাকে হাসালে, দিন-- দিন তুমি এমন বোকা কেন যে হয়ে যাচ্ছ!!! আমাদের এতো বড় বাড়ি , এতে রুম থাকা শর্তে ও তুমি ওনার শোয়া নিয়ে চিন্তা করছো!!!!
এটা আমি মানতে পারছিনা , আসলে আমার মনে হয় তুমি ওনার এ ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়াটাই মেনে নিতে পারছোনা। তাই অজুহাত দেখাচ্ছ।
--- ঠিক তাই আমি ওর এ ঘর থেকে চলে যাওয়াটাই মেনে নিতে পারছিনা, কারন এটা ওর অধিকার।
নাজিফা ওমনেই শাশুড়ির হাতটাকে আলতো করে ধরে বললো--- থাকনা
, আমি না হয় অধিকারটা নাই বা চাইলাম। একদিন ওনি নিজেই হয়তো এই অধিকারটা আমায় ফিরিয়ে দিবেন।
।
।
।
মেয়েটির কথাগুলোয় বেশ মায়া আছে, যা সহসা যে কাউকে ওর মায়ায় বাঁধতে পারে । কিন্তু নিয়তির পরিহাসে আজ মেয়েটি সমাজের কাছে বড্ড বেশি তুচ্ছ , তবে ওকে যে চিনেছে সেই ঝিনুকের ভিতরে মুক্তোর সন্ধান পেয়েছে। যেমন পেয়েছি আমি, এই ভেবে সালেহা ঠোঁটের কোনে একটা শান্তির হাসি ফুটিঁয়ে, নাজিফা কে বললো --- তুই আমার এই সংসারকে আলোর পথে আনবি,আর সাথে আমার এই ছেলেটাকে ও একদিন নিজের মতো করে গড়ে নিবি । তুই যেমন স্রষ্টা কে ভালোবাসিস, এই সংসারের মানুষগুলোকেও তার প্রতি ভালোবাসায় মগ্ন করবি। আর আমি তোকে কথা দিচ্ছি আজ যারা তোকে এ ঘর থেকে বের করে দিলো, একদিন তারাই তোকে এ ঘরে ঠাঁই দিবে।
।
।
।
এই বলে সালেহা নাজিফার হাতটা ধরে ওকে টেনে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। ইমাদ মেয়েদের নিয়ে দিব্যি নিজের ঘরের দরজাটা লাগিয়ে দেয়। ছেলেটার এরুপ আচরণ হয়তো নাজিফার কাছে ছেলেটিকে অমানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু উপরওয়ালা জানে ছেলেটি কতটা কষ্টে--- দিন-- দিন এমন অমানুষ হয়ে গেছে।
প্রতিরাতে জেগে থাকা বালিশ, আর জানালার ফাঁক দিয়ে বাহিরে দেখা সোডিয়ামের আলোয় জানে--- ছেলেটি কতরাত হাহাকার করে কেঁদেছে। আজ ইমাদের চোখে পানিই নেই, অশ্রুটাও আজ হারিয়ে গেছে। কিন্তু এতো কঠিন বাস্তবতার মাঝে ও প্রিয়মানুষের শেষ আমানত টুকু তাকে আজ ও বাচিঁয়ে রেখেছে। নওরীন আর নাবার চেহারাগুলো আজ ও ইমাদকে হাজারো কষ্টের মাঝে বলতে বাধ্য করে--- এইতো আমি সুখে আছি, এইতে আমি ভালো আছি।
।
।
।
নাজিফাকে সালেহা বিছানার উপর বসিয়ে, রান্না ঘরে গেলো খাবার আনতে। সালেহা খাবার এনে দেখে মেয়েটি এখন ও মাথায় এক হাত ঘোমটাটা দিয়ে বসে আছে। সালেহা নাজিফার কাছে গিয়ে কোনে কথা না বলেই, নাজিফার ঘোমটা টাকে সরিয়ে ফেললো।
।
।
অতঃপর দেখলো মেয়টি কান্না করে চোখ দুটোকে লাল করে ফেলেছে। সালেহা অভিমান করে বললো --- এটাই করতে পারবে তাছাড়া আর কিছুই করতে পারবেনা।
নাজিফা চোখের জল মুছতে--- মুছতে বললো ---- মানে????
---- মানে আমরা মেয়েরা কান্না ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনা। শুনো একটা কথা মাথায় রাখবে তোমার সুখ তোমার নিজেকে আদায় করে নিতে হবে বুঝলে।
নাজিফা অবাক হয়ে গেলো --- আসলেই ওনি কী আমার শাশুড়ি!!!! দুনিয়াতে কত রকমের মানুষ কেউ শাশুড়ি নামক জল্লাদ আর কেউ শাশুড়ি নামক মা।
---- তা এভাবে কী চুপ করে বসে থাকলেই হবে??ক্ষুদা লাগেনি??
---- এ্যা, ইয়ে মানে লেগেছে তো।
----যাও হাত -- মুখ ধুয়ে এসো, আমি খাবার বেড়ে দিচ্ছি।
।
।
নাজিফা হাত-- মুখ ধুয়ে আসলে, সালেহা বেগম নিজ হাতে ওকে খাওয়াতে গেলে, ও কান্না করে দেয়। সালেহা তখন আলতো করে ওর মাথায় হাত দিয়ে বলে--- কী হয়েছে মায়ের কথা মনে পড়ছে???
নাজিফা তখন কাঁদতে-- কাঁদতে বলে--- মা কখনোই এমন ভালোবাসেনি যে তাকে মনে পড়ার কথা।
--- তাহলে কাঁদছিস কেন???
---- আপন মা না হয়ে ও কেউ একজন মায়ের মতো ভালোবাসায়।
--- পাগলি, নে খেয়ে নে।
নাজিফা যখন ভাতের প্রথম লোকমা মুখে নিলো, তখন ওর নিজেকে পৃথিবীর সবথেকে সুখী মানুষ মনে হলো। এই প্রথম কেউ একজন ওকে এতো ভালোবাসলো। নিজের মা ও কখনো এভাবে আদর করেনি।
।
।
আসলে পৃথিবীতে একজন কে দিয়ে সকলকে বিবেচনা করা উচিত নয়। পৃথিবীর সব মায়েরা যেমন এক হয় না, ঠিক তেমনি পৃথিবীর সব শাশুড়িরা ও এক হয়না।
---- কী রে মা কী ভাবছিস??
--- না, কিছুনা, আচ্ছা আমি কী আপনাকে মা বলে ডাকতে পারি?
--- এ মা! এ আবার কী কথা, আমি তো তোর মায়েই।
কথাটি শুনে নাজিফা মিসেস সালেহার দিকে ভ্যালভ্যাল করে তাকিয়ে রইলো।
--- কী হলো ওভাবে চেয়ে আছিস কেন??
--- না, কিছুনা।
---নে ঘুমিয়ে পড়, কাল থেকে দেখবি এই বাড়ির নাটকীয়তা।
হুম দেখতে তো আমাকে হবেই, আর সাথে মানুষগুলোকে ও পরিবর্তন করতে হবে।
( চলবে)
Boser meye
গল্পের নাম --বসের মেয়ে যখন বউ
পর্ব ২,,,,,
এবার মনে মনে আনন্দ হচ্ছে,,যাক রাখির বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।। তাহলে এবার আমার কিছু করবে না।মাথা থেকে যেন টেনশন কমে গেল।।
নিজের ডেস্কে এসে আরামে কাজ করছিলাম।।বাহ বেশ ভালই লাগছে এখন।।ডাইনি টা এবার কিছু করবে না।।😁
কাজ শেষ করে ফ্লাটে এলাম এসে ফ্রেশ হয়ে খালি খাওয়া শেষ করছি।ওমনি কল এল বসের।।
-- হেলো স্যার,
-- হ্যা নয়ন। কালকে থেকে তোমার কাজ শুরু হয়ে যাবে,,
-- জ্বি স্যার বুঝতে পারছি।।
-- হুম।।কালকে অফিস না গিয়ে আমার বাসায় চলে আসবে।।
-- ওকে স্যার।।
তারপর কল কেটে দিলাম।।
বিছানায় শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছিলাম তখনি বাবার নাম্বার থেকে কল এল,,
-- হেল বাবা,,
-- হ্যা বাবা নয়ন কেমন আছিস??
-- ভাল বাবা।। তুমি??
-- ভাল আছি
-- মা আর তুলি(তুলি আমার পিচ্চি বোন)
-- ওরাও ভাল আছে।
-- বাবা ২ দিন তোমার নাম্বার বন্ধ কেন??
-- মোবাইলটা নষ্ট হয়ে গেছে বাবা।।এইটা তোর কাকার মোবাইলে সিম ঢুকাইছি।
নিমিশেই আমার মন খারাপ হয়ে গেল।।আমার এই ২৫ হাজার টাকা বেতনে নিজের খরচ আর বাবা মাকে ঠিক ভাবে চালাতেই পারছি না।।
বাবার মোবাইল খারাপ হইছিল অথচ আমাকে বলে নি।।বাবা জানত আমাকে বললে আমি মোবাইল কেনার টাকা দিয়ে পাঠাইতাম নিজের খরচ থেকে।।তাই হয়ত বলে নি।।
-- আচ্ছা বাবা আমি তোমাকে কালকে টাকা পাঠাবো।।একটা মোবাইল কিনে নিও।
-- লাগবে না মোবাইল।।তুই সাবধানে থাকিশ।
-- লাগবে বাবা।।তোমাদের সাথে কথা না বললে আমার সময় কাটে না।।তুমি কিনে নিও।
-- আচ্ছা আচ্ছা দিস।।
এরপর মা আর বোনের সাথে একটু কথা বলে কল কেটে দিলাম।।
পারি দিলাম ঘুমের রাজ্যে।।
কি সুন্দর স্বপ্ন দেখছি!!আমি, আমার বাবা,মা, বোনের সাথে ঘুরে বেরাচ্ছি।।নানা খাবার খাচ্ছি।।
ক্রিং ক্রিং,,,,
ধুর সালা আমার এত সুন্দর স্বপ্ন ভেঙে দিল।।কোন সালায় দেখি তো,
মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি বসের কল,,ধুর ভাল লাগে না।।যাবই তো ওর বাড়ি।।কল দিয়ে জ্বালানো লাগে নাকি??
-- হেলো স্যার
-- হ্যা নয়ন কোথায় তুমি??
-- এইত স্যার বের হচ্ছি।। একটু পরেই পৌছে যাব।।
-- আচ্ছা আস।
আমি এবার তারাতারি উঠে ফ্রেশ হয়ে দৌড় মারলাম।। তারাতারি সিএনজি নিয়ে গেলাম বসের বাড়ি।
বাড়ির সামনে নেমে দিলাম দৌড় বসের বাড়ির ভেতরে।।
সেই কতক্ষনে বলছি আসছি।।অনেক লেট হয়ে গেল।।
যেমনি দৌড়ে গেটে ঢুকব ওমনি কারো সাথে ধাক্কা খেলাম।।ধুর এমনি দেড়ি হইছে তার উপর আবার বাধা এল।।আমি রেগে গিয়ে কিছু না দেখেই,,
-- কে রে??দেখে চলতে পারেন না??
আমার এই কথা বলতে দেড়ি কিন্তু আমার গালে থাপ্পড় পরতে দেড়ি হল না।।
আমি তাকিয়ে দেখি স্যারের মেয়ে রাখি।।
-- ওই ফকিরের বাচ্চা আমাকে বলিশ দেখে চলতে নিজে দেখে চলতে পারিশ না।।
আমি মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছি।।
-- যত সব গায়ে পরা স্বভাব।
বলে চলে গেল। আর আমি বাসার ভেতরে এলাম।।
বসের সাথে দেখা করলাম।।বস আমাকে কাজ বুঝিয়ে দিল।। আমি আমার মত কাজ করছিলাম।।
এভাবে ২ দিন কেটে গেল।।বিয়ের আর মাত্র ৪ দিন।।
আমি সকালে উঠে এসেছি বসের বাড়ি।।বাড়ি ডেকোরেট করা হচ্ছিল।।হঠাৎ বস আমাকে ডাকল,,
নয়ন!
-- জ্বি স্যার কিছু বলবেন?
-- হুম।।রাখি শপিং এ যাচ্ছে।তুমি ওর সাথে যাও।।
-- কিন্তু স্যার,,
-- কোনো কিন্তু না।।ওর কাজিন রা কেউ আসে নি।।ওর বান্ধবীরাও নাকি কালকে আসবে।।আজকে নাকি আসতে পারবে না।।তাই তুমি যাও।।
-- ওকে স্যার।।
ধুর ব্যাটা আবার আরেক ঝামেলায় ফাসাই দিল।।
আমি গাড়ির সামমে দাড়িয়ে আছি।।একটু পর এল রাখি।।এসেই,,
-- কিরে ফকির তুই এখানে কেন??
-- স্যার আমাকে আপনার সাথে শপিং এ যেতে বলল,,
-- শপিং আর তোর সাথে।।। নেভার।।
-- আচ্ছা তাহলে আমি বসকে বলে আসি,,
-- এই না।।লাগবে না।।চল।।(বাবা আবার কি না কি বলে)
চলে এলাম শপিং মলে।।
অনেকক্ষন ধরে এপাশ ওপাশ হেটে বেরাচ্ছে।আর আমি পিছন পিছন যাচ্ছি।।অনেকগুলো শপিং করল।
আর সব ব্যাগ আমার কাছে।।শপিং করার ইচ্ছা মিটে গেছে।।
দেখতে দেখতে বিকাল হয়ে গেল।।আমি রাখি আর শপিং ব্যাগ গুলো বাসায় পৌছে দিয়ে নিজের ফ্লাটে এলাম।।এসে রেস্ট নিচ্ছি।।বাবা মোবাইল কিনছে তাই কল দিলাম।।
রিসিভ হলো,,
-- হেলো বাবা,
-- কেমন আছিস??
-- ভাল।।তুমি??
-- ভাল।।
-- মা আর বোন?
-- ওরাও ভাল আছে।।তা কালকে কল দিলি না যে,
-- বসের মেয়ের বিয়ে তো।।সব কাজ আমাকে দিছে।।তাই ব্যাস্ত ছিলাম।।
-- ওহ।।
-- আচ্ছা মাকে দাও তো,
-- কথা বল,,
-- হেলো মা,,
-- কেমন আছিস রাজ।।
-- ভাল। তুমি??
-- আমিও।।খাওয়া করছিস??
-- হুম।।মা একটা কথা জিজ্ঞেস করব সত্যি সত্যি বলবে??
-- বল,
-- আমার পাঠানো টাকাতে কি তোমরা ভালভাবে চলতে পারো?
মা এবার ফোনটাকে আড়াল করে কেদে দিল।।আবার নিজেকে সামলিয়ে,,
-- হুম খুব পারি,,
মায়ের গলা শুনেই বুঝা যাচ্ছে মা কাদল,,
আর আমিও এতে বুঝে গেলাম।।না এরপর থেকে আরও বেশি করে টাকা পাঠাবো।।
১৫ হাজার বাড়িতে দিব।।আর ১০ হাজারে আমি চলব।।
আসলে আমার বোনকে ভাল স্কুলে পড়াই।। আমার ইচ্ছা ও ডাক্তার হবে তাই।।আর আমি তো ঢাকাতে থাকি তাই ফ্লাট ভাড়া নিয়ে থাকি।।আমি হোস্টেলে থাকতে পারি না,,তাই ফ্লাট ভাড়া থাকি,,।এতেই টাকা শেষ হয়ে যায়।।
বোনের স্কুল,টিউশনিতে ৪-৫ হাজার টাকা শেষ হয়ে যায়।।আর তাছাড়াও বারতি খরচ থাকেই।।
-- আচ্ছা মা এখন রাখি।।
বলে কল কেটে দিলাম।।আর না রাতে না খেয়েই ঘুমিয়ে গেলাম,,
পরদিন,,,
,,,,,,চলবে,,,,,,
কেমন লাগলো প্লিজ জানাবেন।লাইক কমেন্ট করতে টাকা লাগেনা
পাশেই থাকুন,
ধন্যবাদ।।
গল্পঃবাবার_বন্ধুর_মেয়ে_যখন_বউ
#গল্পঃবাবার_বন্ধুর_মেয়ে_যখন_বউ।
পর্বঃ9 ( শেষ পর্ব)
তারপর এক সময় মাটিতে পড়ে গেলাম। চারপাশে অন্ধকার নেমে এলো, আমিও চোখ মেলতে পারলাম না। চোখ খুলে নিজেকে আবিষ্কার করলাম হাসপাতালে,
---- আমি এখানে কেনও?
---- তোমার আজকে ২০ দিন পরে জ্ঞান ফিরলো। ( ডাক্তার)
---- কেনও ডাক্তার আমার কি হইছে?
---- সেটা তো আমি জানি না, তোমার পরিবারের লোকে জানে।
----- কই তারা?
---- বাহিরে আছে আমি ডেকে দিচ্ছি।
সবাই ভিতরো এলো, আন্টি, আংকেল ও আসছে
। সবাই আসছে কিন্তু আমি একজনকে খুজতে লাগলাম,, জারা, কিন্তু তাকে দেখলাম না মনটা খারাপ হয়ে গেল। এতো দিন পরে তাকে দেখতে না পেয়ে কেমন যেনও লাগল,,, সবাই জিজ্ঞেস করলো আমার কী হয়েছিলো। আমি তাদের বললাম, কিছু ছিনতাইকারি আমাকে ছিনতাই ধরেছিলো। তারা আমার উপর হামলা করে। ,,
ডাক্তার আমাকে দুই দিন পরে ছেড়ে দিলো, আমিও বাসায় চলে এলাম, কিন্তু জারার কোনও খোজ নেই, বাইরে গিয়ে যে তার কোনও খোজ নিবো তা ও পারছি না, ফোন টা ও বন্ধ বলছে,, সব বন্ধু রা আমাকে দেখতে আসছে, সবাই দেখে চলে গেল, কিন্তু আমার চোখ একটা চেনা মুখ খুজতে লাগল সেটা হলো জারা,,, হঠাৎ করে একটা মেসেজ আসলে, মেসেজ টা ছিলো এমন,,,,,
এখন কেমন আছেন? নিজের একটু যত্ন নিয়েন।
, নাম্বার টা চিনি না তাই একটা ফোন দিলাম কিন্তু ফোন টা বন্ধ বলছে,,
।আমি ভাবলাম হয়তো জারা হবে কিন্তু ফোনটা বন্ধ বলছে কেনও?
ধুর কিছু ভালে লাগে না, কেনও জারা কে আমার এতো মনে পরছে,
ওই দিকে জাারা ও জিদানের কথা ভাবতে ভাবতে শুকিয়ে গেছে, স্কুলে ও যায় না,, সারা সময় নামাজ পড়ে জিদানের জন্য দোয়া করে, জিদান যাতে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যায় সেই প্রত্যশ্যা করে।
এখন একটু সুস্থ, একটু জারার স্কুলের সামনে যাবো ওকে দেখার জন্য, কিন্তু ওকে পেলাম না, পেয়ে গেলাম ওই লোকটা কে যে আমাকে মারছিলো, সাথে সাথে আমার এক বড় ভাইকে ফোন দিলাম সে আবার এক প্রকার নেতা, সে এসে ওই লোকটার এমন অবস্থা করলো, যে সে মনে হয় বাচবে না, আর বাচলে ও জীবনে দাড়াতে পারবে না,,
অনেক দিন ধরে জারার স্কুলের সামনে দাড়িয়ে থাকি কিন্তু ও আসে না, আমি জারার বাসায় ওই দিনের পর থেকে আর যাই না।
আজকে জারা স্কুলে আসছে সব বান্ধবী দের সাথে, আমি ওকে মন ভরে দেখতাছি, আমার৷ যে জারার কাছে যেতে ইচ্ছে করছে,, জারা ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে, মনে হয় আজকে ও অনেক খুশি, ওর মুখ দেখে তা মনে হয়,, যাক এতো দিন পরে অন্তত দেখা টা তো পেলাম,, আসলে জারা কে আমি অনেক ভালোবাসে ফেলছি। ওকে ছাড়া কিছু কল্পনা করতে পারি না, আর পারবো ও না, ,,,,,
---- ভাই আমাকে একটু বাইরে নিয়ে যাবি?
---- কেনও?
---- ওর সাথে দেখা করতে যাবো।
---- আমি পারবো না,
---- তাহলে আমি বলে দিবো।
--- যাও বলে দাও, সব সময় একটা কথা বলো, বলো গিয়ে যাও, একদিন তো সব জানতে পারবে এখন জানলে আমার কিছু আসে যায় না। ভালো লাগে না আর তোামর এই ব্লাক মেইল।
আপু কোনও কথা না বলে চলে গেল।
মনে হয় আপু অনেক কষ্ট পাইছে। না আপুর একটা ব্যবস্তা করতে হবে।
---- আব্বু তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
---- কি কথা বল।
---- আব্বু ছোট আপু একজনকে ভালবাসে ছেলেটা অনেক ভালো, আমি চিনি তাকে, তুমি ওর সাথে আপুর বিয়ের ব্যাপারে কথা বলো।
---- ছেলেটা কে?
আমি ছেলেটার সব ঠিকানা দিলাম,
পরের দিন ঘুম থেকে উঠলাম, উঠে দেখি বাসায় মেহমান আসছে, একি এটাতো আপু যার সাথে কথা বলে সেই লোকটা,, তারা এখানে কেনও। গিয়ে দেখি তো,,
এরা তো আপুর বিয়ের ব্যাপারে কথা বলছে।
--- আব্বু এরা এখানে কেনও?
--- আমি এদের আসতে বলছি বিয়ের কথা বলতে।
--- ওহহ,,
।তারপর তারা বিয়ের তারিখ হিসাবে শুক্রবার ধার্য করলো, আবার সবাইকে ইনভাইট করলো, আমিও আমার সব বন্ধু দের ইনভাইট করলাম। সবাই আসলো, আন্টি, আংকেল জারা ও এলো, আজকে আপুর গায়ে হলুদ,, আমি একপাশে দাড়িয়ে তানিয়ার সাথে মজা করছি, জারা তা দেখতাছে,
একটু পরে বান্ধবী দের সাথে মজা করলাম ওদের হলুদ দিয়ে দিলাম, জারা এবার ফায়ার হয়ে গেছে,,৷ তারপর আমি এক পাশে দাড়িয়ে ক্যামেরায় তোলা ছবি গুলো দেখতাছি, তখন জারা এসে আমার হাত ধরে টেনে আমার রুমে নিয়ে গেলও,,
---- আরে আমাকে এখানে আনার মানি কী,,
---- চুপ কোনও কথা বলবি না তুই।
--- একি আপনি আমাকে তুই করে বলছেন কেনও?
---- তুই করে বলতাছি একটু পরে মারবে তোকে,,
---- ভালো হবে না কিন্তু
---- ভালো হবে নাকি খারাপ হবে তা দেখাচ্ছি
---- দরজা বন্ধ করলেন কেনও।
---- কেনও করলাম দেখ এবার,,
মারতে শুরু করছে, আমি খাটের উপর পড়ে গেলাম, জারা তারপরও মারতেছে,, আমি জারা কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম,,, জারা মারলো না,,
---- জিদান আমার কথাটা একটিবার শুনো।
--- কী বলবা বলো।
---- আসলে ওই ছেলেটা আমার চাচাতো ভাই লাগে, আমার ভাই নেই তাই ওকেই আমি ভাই ডাকি, ওও আমাকে বোনের মতো ভালোবাসে, কিন্তু তুমি অন্য কিছু মনে করে আমার উপর অভিমান করছো।
---- তুমি এইকথা আগে বলোনি কেনও?
---- আমি বলতে চাইছি কিন্তু তুমি বলার সুযোগ দেওনি। জানো জিদান তুমি যখন হাসপাতালে ছিলে তখন আমি একটা রাতও ঘুমাইনি, প্রতিটা রাতে তোামর জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলছি তুমি যাতে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাও। স্কুল ফাকি দিয়ে আমি তোমাকে দেখতে যেতাম।
---- জারা আমি সরি,, আসলে আমি তোমাকে বুঝতে পারিনি।
---- এখন অভিমান টা ভাংছে।
---- হুম ভাংছে।
তখন একটা ফোন এলে,,
---- জিদান কে ফোন দিছে?
---- তানিয়া ফোন দিছে।
---- তানিয়া মানে ওই মেয়ে টা
জারা আমার কাছে থেকে ফোন টা কেড়ে নিল,,
---- এই মেয়ে তুমি আমার হাসবেন্ড কে ফোন দাও কেনও?
---- তোমার হাসবেন্ড মানি?
---- মানে তুমি যাকে ফোন দিছো সেই জিদান আমার হাসবেন্ড
( আরে সব্বনাস কী বইলা দিলো)
---- জিদান বিয়ে করলো কবে?
---- আরো আগে, কেনও বিয়ে করছে বলে কী তোমার ভাব হবে না, নাকি ভাগে কম পরবে।
বলেই ফোন কেটে দিল।
---- জারা তুমি এইটা কী করলা,,
---- তুই একটা কথা বলবি না, আমাকে বিয়ে করে এখন অন্য মেয়ের সাথে প্রেম করোস
---- জারা তানিয়া আমার দুইবছর এর বড় আসলে ব্যাপার টা হলো( সব কিছু বলে দিলাম)
--- এইরে তার মানে এইবার সব বলে দিবে।
---; জানি না তবে বলার আগে আমি তানিয়ার সাথে কথা বলতাছি
তারপর তানিয়ার কাছে গেলাম,,
---- কিরে জিদান কোন মেয়ে তোর ফোন রিসিভ করছিলো?
---- কোনও মেয়ে না জারা।
*---- তোর বউয়ের পরিচয় দিলো কেনও?
---- আসলে তানিয়া আপু,,,, এমন এমন ঘটছে।
---- কিহ তুই আমাদের ছোট হয়ে আমাদের আগে বিয়ে করলি।
---- কী করবো সব পরিস্থিতি।
---- হুম মানলাম, এখন আমার কী করতে হবে বলে দে।
---- তোমাকে কিছু করতে হবে না আপাতত মুখ টা বন্ধ রাখবা।
--- ঠিক আছে,,
আজকে সব বন্ধু রা ছাদে এলাম, জারা তানিয়া ও আসলো, আসলে এখন তাদের দুজনের মাঝে ভাল একটা সম্পর্ক হয়ে গেছে,, আমার বন্ধু রা আমাকে ড্রিংক করতে বললো, জারার চোখ রাংগানীতে করলাম না, পরের দিন,,
সব মেহমান এলো বন্ধু, বান্ধবী সবাই আসলো, আমিও মনে মনে ঠিক করলাম আজকে সবাইকে বলে দিবো আমার আর জারার কথা, কিছু সময় পরে বরযাত্রী এলো, আমি সবাইকে আপ্যায়ন করতাছি,, বরের যে একটা বোন আছে তা আমি জানতাম না,
একি সে আমার দিকে তাকিয়ে তাকে কেনও,,,
---- আমার নাম এনি, আপনের?
---- আমি জিদান,,
--- আপনি কনের কী হন?
---- আমি কনের একমাত্র ভাই। আপনি?
---- আমি বরের ছোট বোন।
---- ওহহ।
( জারা আমাদের কথা বলতে দেখে ফুলতে লাগলো, আর ইশারায় বললো, আজকে আমার খবর আছে)
---- আপনি কি করেন?
---- আমি আপাতত আপনাদের সেবা করতাছি।
--- আমি বলতাছি আপনি কী স্টুডেন্ট।
---- হুম। আর কিছু।
--- আপনি কী আপনের বোনের সাথে আমার বাসায় যাবেন?
---- না,
-+- কেনও?
---- অন্য কে ও যাবে।
---- আচ্ছা যখন যাবেন না তাহলে আপনার নাম্বার টা দিন,।
---- কেনও?
---- আপনের সাথে যোগাযোগ করবো,,
---- নাম্বার নিবেন?
---- হুম,,
---- আচ্ছা আগে বিয়েটা মিটে যাক তারপর আপনি ভাববেন নাম্বার নিবেন কী নিবেন না।
---- এমনটা ভাবতে যাবো কেনও?
---- তা একটু পরে জানবেন।
তারপর বিয়েটা শেষ হলো,,
আম্মু জোরে জোরে বলতে লাগলো,
--- দুই মেয়ের বিয়ে দেয়া শেষ এবার আমার ছেলের বিয়েটা দিলেই আমি খুশি।
---- সেকি মা তুমি জানো না তোমার ছেলের আর বিয়ে দেয়া হবে না ( ছোট আপু)
---- কেনও?
কারন তোমার ছেলে আমাদের দুজনের আগেই বিয়ে করে নিছে।
---- মানে কী বলতে চাস তুই।( আম্মু তে আাকাশ থেকে পড়লো)
---- আম্মু তোমার ছেলে জারা কে বিয়ে করছে, তা ও আরও কয়েক মাস আগে।
( আপু আর আব্বু সব কিছু সবাইকে বলে দিলো, জারা অনেক লজ্জা পেলো)
---- তাহলে আমি আমার ছেলের বউকে আজকে ঘরে তুলবো, আর ওর বাসায় যেতে দিবো না,, জারা মা কই তুই।
আমি এবার গেলাম আমার বিয়ান এর কাছে
--- কী বিয়ান নাম্বার নিবেন না?
--- না ভাইয়া লাগবে না
---- এখন ভাইয়া ডাকছেন কেনও?
---- তখন তো জানতাম না আপনি সবার আগে কাম সারছেন, না জানার কারনে ভাবছিলাম আপনের সাথে একটু লাইন মারবো
---- এখন মারবেন নাকি?
---- না ভাইয়া,,
তারপর আপুকে বিদায় দিয়ে, মা জারা কে আমাদের বাসায় রেখে দিলো, জারা ও এখন আমাদের বাসায় থাকে, এখান থেকে পড়ালেখা করতাছে, তবে আমরা দুইজন আলাদা আলাদা রুমে থাকি,,,,
দুইজন দুইজন কে জীবনের চেয়ে ও বেশি ভালোবাসি,,।।
_____________**Happy ending** _______
Kmon laglo pura golpo ta?
Ek tukra pawruti
#গল্প
#এক টুকরো পাউরুটি
#পর্ব----১
/আপু এসে গেছি।।
/হুমম।।এই নে!!
/আপু আরো 10 টাকা।।
/যা দিছি তাই রাখ----ফকির কোথাকার!!!বেশি বেশি কথা বলবি না!!
/আপু সকাল থেকে কিছু খাই নি!!আর 5 টাকা তো দেন!!অনেকদূর তো আনলাম।।
/দেখ তোদের মত ফকিরের দলকে চেনা আছে।।যা ভাগ এখান থেকে!!
কিছু না বলে চলে আসলাম ।।অনেক খুদা লেগেছে।।কাল থেকে কিছু খাইনি এখনো।।যেটুকু টাকা হয়েছে---সেটা দিয়ে----মায়ের জন্যে খাবার নিতে হবে!!আম্মু ও কিছু খাই নি!!কিন্তু কিছুই বলে নি আমাকে।।
ছেলে তো আমি মায়ের।।বুঝতে তো পারি!!সকালেও চোখের পানি দেখেছি।।সহ্য করতে পারি নি!!আব্বু নেই।।অনেক আগেই চলে গেছে।।
খুব গরিব বললেই চলে।।আমাদের যেটুকু সম্পদ ছিলো --সুসম্পর্কের এক চাচা সব নিয়ে গেছে।।তারা এখান থেকে চলেও গেছে।।
আমি আর আমার আম্মুই রয়ে গেছি।।অনেক কষ্টে লেখাপড়া করছি!!খারাপ ছাত্র না।।প্রতিবারি ফাস্ট হই।।
সারাদিনে কাজ করে রাতে একটু প্রায় সারারাত পড়ি।।তাও চাঁদের আলোয় ।।কেরোসিন কেনার তেমন টাকা হয় না প্রতিদিন।।
যেটুকু টাকা হয়েছে।।মায়ের জন্যে কিছু খাবার কিনেছি!!সব শেষে একটা টং দোকানের ভেতরে বসে একটা পাউরুটি নিলাম।।সাথে এক গ্লাস পানি।।তৃপ্তি সহকারে খাওয়া যাবে!!
অর্ধেক টা শেষ করতে না করতেই কিছু একটা আমার রুটির ওপর এসে পড়ল।।দেখলাম একটা বোতল।।হয়তো কেউ ছুড়ে মেরেছে।।রুটি টা উঠিয়ে নিলাম।।মৃদু একটা হাসি দিয়ে একটুকরো রুটি গালে দিলাম।।চোখ থেকে একফোঁটা পানিও পড়ল।।তবে সেটা রুটির সাথে আবার ভেতরে চলে গেছে।।
অনেক কান্না করতে ইচ্ছে করছে।।বলতে ইচ্ছে করছে ---হে আল্লাহ্ কেন এত কষ্ট জীবনে????কেন গরীব করে পাঠালে???কি অপরাধ করেছি???
কিছুই করতে পারছি না।।নীরবে চোখের পানি ঝরছে।।প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে!!গায়ের নোংরা পোশাকটাও বলছে----কিরে আমার প্রতি বুঝি তোর মায়া লেগে গেছে???আজ দুবছর ধরে নিজের কাছ থেকে দূরে রাকিস নি!!!রুটিটা শেষ করলাম ।।পেট ভরে গেছে!!!পেটের কাছে মনে না হলেও মনের কাছে তো মনে হচ্ছে ।।
রুটির টাকা দিয়ে---উঠতে যাব!!
ঠিক এমন সময় একদল মেয়ে আসলো।।দেখে মনে হলো হঠাৎ করেই তারা মাটিতে নেমে এসেছে।।খুব বড় লোকের মেয়ে মনে হচ্ছে ।।পাশ কেটে চলে আসতে যাব !!ঠিক তখন একটা মেয়ে বলল------
/এই দাড়াও ।।
/জ্বি!
/তুমি না নীল!!
/হুম।।আপনি কি করে চিনেন??
/আমি তোমাদের কলেজে পড়ি।।
/ওহহ---হতে পারে!!
/কি কাজ করো??
/রিকশা চালাই!!
/কিছু খেয়েছো???
/হুমম।।
/কি??
/একটা রটি।।আর পানি!!আচ্ছা এখন আমি যাই!!
বাড়িতে আম্মু না খেয়ে আছে।।খাবার নিয়ে যেতে হবে!!
/হুমম।।
/কিরে নীলা তুই এই ফকিরের ছেলেটার সাথে কথা বলছিলি????আমি তো এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে লজ্জায় শেষ!!(হিরা)
/ও কে জানিস???(নীলা)
/জানব না???সকালে ওর রিকশায় করে এসেছি!!10 টাকা দেওয়ার পর বলে আরো 10 টাকা দিতে!!(হিরা)
/নারে-----ছেলেটা ভালো।।খুব গরীব ।।জানিস---ও কলেজের টপার!!(নীলা)
/কিহহহ ----সবাই হা হয়ে গেল!!
বলিস কি????এই ছেলেটির সাথেও পেরে উঠিস না??একটা ফকির ।।সে কি না টপার????(ঝিনুক)
/অনেক টালেন্ট আছে ওর মাঝে।।
কিন্তু অনেক অসহায়!!দেখলি না মাত্র তুই যে বোতলটা ছুড়ে দিলি।।সেটা ওর খাবারে লেগে খাবারটা পড়ে গেছে।।তবু উঠিয়ে খেয়েছে।।
এটুকুই ওর আজকের খাবার।।(নীলা)
/তুই ওর হয়ে কথা বলছিস কেন বলতো।।ওসব ফাল্ত ছেলেদের জানা আছে।।চল তো।।(সিমু)
/দেখ আমরা কদিনের জন্যে ঘুরতে এসেছি।।এখন এই ফকিরটাকে নিয়ে পড়লি কেন???(হিরা)
রিকশা নিয়ে বাসায় যাচ্ছি।।আম্মু কে খেতে দিতে হবে!!অনেক অসুস্থ ও আছে।।ঔষুধ কিনতে পারি না।।তবে কালকে সালাম চাচা বলেছে কিছু টাকা দিবে।।তাহলে ঔষুধ কিনতে পারব।।
আম্মুকে যেয়ে আজ বলব।।
কি আজব দুনিয়া ।।মেয়েগুলো আমার সাথে কেন কথা বলতে আসলো।।ওও বুঝতে পেরেছি----ওরা হয়তো কখনো গরীব দেখেনি ।।তাই কাছ থেকে দেখতে আসছে!!হাঁসতে ইচ্ছে করছে।।এই অন্ধকারে হাসলে কেউ দেখবে না।।হয়তো শুধু হাঁসির শব্দ শুনতে পাবে----কিন্তু চোখের পানি নয়।।
একটুপর বাড়ি চলে আসলাম!!রাত 10 টা বেজে গেছে!!
তারাতারি রিকশাটা রেখে খাবার নিয়ে মায়ের ঘরে গেলাম।।অন্ধকার ঘর।।মনে হয় ল্যাম টাও নিভে গেছে কেরোসিনের অভাবে!!
আম্মুকে ডাকলাম।।
/আম্মু খাবার আনছি।।ও আম্মু আসো।।খেয়ে নাও।।
/কোনো কথা নেই!
/ও আম্মু আসো না।।দেখো ভাত আর মাছ আনছি।।তুমি না এই মাছ খুব ভালোবাসো।।এই দেখো আনছি।।কথা বলো না কেন তুমি???
/কোনো সাড়া নেই!!
আস্তে করে আম্মুর পাশে গেলাম।।
অন্ধকারে ভালো দেখা যাচ্ছে না।।আম্মু কি ঘুমিয়ে পড়েছে???
তাহলে কথা বলছে না কেন???আম্মুর হাত ধরলাম ।।অনেক ঠান্ডা লাগছে।।শক্ত হয়ে গেছে ।।
আবার ও ডাকলাম।।
কথা বলছে না।।বার বার ডাকলাম কথা বলছে না কেন???
চিৎকার করে ডাকলাম ।।
হ্যাঁ তাও কথা বলছে না।।শুধু শুয়ে আছে।।কি মা তুমি ছেলের ডাকে ওঠো না।।ছেলে ডাকছে তো।।শুনতে পারছো না???
চোখ বেয়ে পানি নামতে লাগল।।বুঝতে পারলাম ।।একা হয়ে গেছি।।পৃথিবীতে আমি এখন একা।।বড়ই একা।।
জড়িয়ে ধরে কাদলাম।।অনেক কান্না করেছি।।আর টাকা নিতে হলো না।।ঔষুধ ও কেনা হলো না।।ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে চাদের আলোয় মায়ের মুখটা দেখতে পাচ্ছি ।।ঘুমিয়ে পড়েছে।।আর উঠবে না।।
মায়ের জন্যে নিয়ে আসা খাবারের দিকে চেয়ে আছি।।তোকে আনতে আনতে অনেক দেরি হয়ে গেছেরে!!!যার জন্যে তোকে এনেছি----সে আর নেই।।তবে তুই চিন্তা করিস না।।আমিতো আছি।।আমি----এই আমি খাব।।
খুব তৃপ্তি করে খাব আজকে।।খাবারটা হাতে নিয়ে ঝাপসা চোখে খাবার খেয়ে চলেছি।।
ও মা দেখো তোমার ছেলে আজ পেট ভরে খেয়েছে!!
এতটুকু খুদা নেই আজ পেটে।।
হঠাৎ মায়ের মাথার পাশে আমার একটা বই দেখতে পেলাম।।বইটা খোলা।।
হাতে নিয়ে দেখলাম একটাপাতা ছেড়া ।।সেটা খুঁজতে লাগলাম ।।অনেক খোঁজার পর দেখলাম সেটা মায়ের অন্য হাতে ।।
হাত থেকে নিয়ে দেখাল।।একটা লেখা।।
কাল রাতে এখানে লিখেছিলাম-----মা আমি একদিন অনেক বড় হবো।।সেদিন আমাদের আর কোনো কষ্ট থাকবে না।।
লিখে মাকে দেখিয়েছিলাম!!
চোখের পানিতে পাতাটা ভিজে গেল।।
হ্যাঁ মা-----তোমার ছেলে অনেক বড় হবে!! একদিন তোমার ছেলের কিছুর অভাব থাকবে না।।অনেক অনেক বড় হবে।।
অনেক বড় হবে!!অনেক বড় হবে।।
চোখের পানি আর পড়ছে না।।হয়তো ফুরিয়ে গেছে।।না হয় ক্লান্ত হয়ে গেছে।।
দেরি করি নি।।পাশের বাসার কাকাকে ডেকে----আর ইমাম সাহেব কে ডেকে মাকে করব দিলাম।।
জায়গা বলতে ওটুকুই আছে।।ঐ ঘরেই দীলাম।।
পরদিন সকালে কলেজ গেলাম।।কোনো চিন্তা নেই আজ থেকে।।একা জীবনে অনেক কিছু করতে হবে।।কলেজে তেমন কেউ নেই।।এবার HSC দিব।।হাতে সময় নেই।।আর 2 মাস সর্বোচ্চ ।।
খুদাও নেই পেটে।।সব ক্লাস শেষ করলাম ।।গেট থেকে কে যেন ডাকল।।
আরে সেই মেয়েটা ।।
কাল রাতে যার সাথে কথা হলো।।বোরখা পড়া ।।বোরখা দেখেই চিনতে পেরেছি!!
আজ কেন ডাকছে।??কি দরকার???
আমার কোনো দরকার নেই।।রাতের খাবারের জন্যে রিকশা চালাতে হবে।।দোকানেই রেখে এসেছি।।বাড়িতে যাব না।।একবারে রাতে যাব।।
মেয়েটার কথায় কান না দিয়ে চলে আসলাম ।।
/কিরে নীলা তোকে পাত্তা দিলো না ফকিরের ছেলেটা(সিমু)
/হয়তো কোনো কাজ আছে।।(নীলা)
/বাদ দেতো। ঐ শুধু আমাদের কলেজের টপার তাই।।তা না হলে কেও ওকে তাকিয়ে দেখত না।।দেখিস না কেমন নোংরা জামা।।(ঝিনুক)
/ওর কাছে ওটাই নতুন।।তোরা বুঝবি না।।চল বাসায় যাই।।কালতো আমার জন্মদিন ।।তোরা সবাই আসবি!!(নীলা)
/আচ্ছা ।।চল।।
/নারে আমি আজ হেঁটেই যাব।।তুই ড্রাইভার কে বল চলে যেতে!!(নীলা)
/হঠাৎ??
/এমনি!!একটু বলে দে না।।
/আংকেল জানলে কি বলবে???(ঝিনুক)
/কিছু বলবে না।।যা তোরা!!
/আচ্ছা ।।
রিকশা নিয়ে বের হলাম।।বিশ টাকা জোগাড় হয়ে গেছে।।রিকশা নিয়ে যাচ্ছিলাম ।।হঠাৎ করেই কেও থামতে বলল!!পাশে তাকিয়ে দেখলাম নীলা।।ওকে শুধু কলেজের কারনে চিনি।।ও প্রতিবারই সেকেন্ড হয়।।ওকে কখনো বোরখা ছাড়া দেখেনি।।ওর সাথে এর আগে কখনো কথা হয়নি।।বড় গাড়িতে আসে ।।আর চলে যায় ।।
বড়লোকের কাজ ।।
/এই শোন!!
/জ্বি???
/আমাকে নামিয়ে দেবে??
/আচ্ছা ।।।
/চলো।।
/আপনার বাড়ি এদিকে???
/হুমভ।।তুমি যেতে থাক!!
আচ্ছা একটা কথা বলি??
/জ্বি!!
/তোমার খুব কষ্ট করে থাকতে হয় তাই না???
/সেসব আপনি জেনে কি করবেন ম্যাডাম???
/বলো না!!
/থাক আর শুনতে হবে না।।গরীবদৈর কোনো কষ্ট হয় না।।আচ্ছা এটাই কি আপনার বাসা???
/হুমম।।
/এই নাও!!
/আমার কাছে তো খুচরা নেই ম্যাডাম ।।
/দিতে হবে না।।তুমি রাখো।।
/পারব না ম্যাডাম ।।আপনার ভাড়া 10টাকা।।সেখানে আমি 1000টাকা কখনোই নিতে পারব না।।তার থেকে বরং কাল দিয়ে দেবেন!!!আসি!!
/এই শোন!!
/জ্বি!!
/ধার হিসেবেই নিও।।তোমার মায়ের জন্যে কিছু কিনো।।পরে দিয়ে দিয়ো।।
/মা নেই।।
/মানে??
/কালকে চলে গেছে আমাকে ছেড়ে ।।
চলে আসলাম ওখান থেকে।।ম্যাডাম হঠাৎ এমন করল কেন????জানি না কেন!!!বড়লোকের যখন যা ইচ্ছে তাই করবে ।।এতে আমাদের কি ভাবার আছে???হাসি আসে খুব।।কি দুনিয়া!!
দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে গেল।।
একটা পাউরুটি নিয়ে বসে আছি।।সাথে এখন পানির বদলে এক কাপ চা।।রাতটা যেন গরীবের কাছে সব থেকে বড় সম্বল।।কাঁদলেও দেখতে পায় না কেউ----না খেলেও বলে না কেউ!!!রাস্তায় পড়ে থাকলেও ফিরেও তাকায় না কেউ।।
এরা সব এমনি!!
পরদিন আর কলেজে যাই নি।।রিকশা নিয়ে বের হয়েছি।।একটা বই খুব দরকার।।তাই কিনতে হবে।।অতো টাকা তো নেই।।তাই আজকে আর কলেজে যাই নি।।দেখতে দেখতে দুপুর হয়ে আসলো।।
খুব পানি পিপাসা পেয়েছে।।
রাস্তার ধারে একটা নল আছে।।
সেখানেই যাই।।এখানে আবার কি যেন হচ্ছে ।।মনে হয় কোনো বড় অনুষ্ঠান আছে।।চারিদিকে অনেক সাজিয়েছে।।আমি পানি খেতে লাগলাম ।।হঠাৎ একজন কালো কোর্ট পড়া লোক ধাক্কা দিল।।
বুঝতে পারলাম না।।পড়ে গেলাম।।
উনি বলল---------
/এই তোকে এখানে আসতে কে বলছে????দেখিস না এখানে অনুষ্ঠান হচ্ছে ।।যা ভাগ।।
/একটু পানি খেয়ে চলে যাব।।
/বলছি না যেতে!!
/আচ্ছা যাচ্ছি ।।
(Next পার্ট পেতে রিকুয়েষ্ট দিয়ে সাথে থাকুন...)
হঠাৎ করেই আরো দুজন লোক আসলো।।আর ঐ লোককে বলল------
/এই ম্যাডাম এনাকে চেনে!!তোমাকে এখনি ওনার কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছে!!!
/কিহহহ!!!এই ফকিরকে????
/হুমম।।তারাতারি ক্ষমা চেয়ে চলো।।
/আচ্ছা ।।
ওনাদের কথার মাঝখানেই আমি চলে আসলাম ।।
থাকি নি আর।।আমারি ভুল যে ওখানে গেছি।।তবে ম্যাডাম আমাকে চিনে মানে???বুঝলাম না!!!
কি জানি???
/ম্যাডাম তোকে ডাকছে।।
/কেন???
/দেখ কেন???
লোকটি যেতেই বলল-------
/ঐ ছেলেটা কে আসতে বলো।।
/ম্যাডাম ওতো চলে গেছে।।
/চলে গেছে???
/হুমম ।।
/আচ্ছা যাও।।
অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করে লাইব্রেরিতে গেলাম।।বই কিনতে হবে।।।
কিনলাম একটা বই।।এখন শুধু পড়তে হবে---------
■■■■■■■■Next part coming soon ■■■■■■■■■
বাবার ভালবাসা
#_বাবার_ভালোবাসা_♥
পর্ব__১৯
মৌ কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। বুকটা ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। চোখের পানি টলমল করে পড়ছে।
- কি হলো বোন?
- না ভাবছি রাজের একটা মেয়ে থাকার পরও তুমি রাজের জন্য পাগল হলে কেন?
- আপু সত্যি বলতে আমি রাজকে ভালোবাসি। আর রাজকে যতটা ভালোবাসি ঠিক ততটাই রাইসাকেও ভালোবাসি।
- ওহ্ আচ্ছা তাই বুঝি?
- জানো আপু রাজের মতো একজনকে স্বামী হিসেবে পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।
- আচ্ছা তুমি যেভাবে পারো রাজকে রাজি করাবে। প্রমিজ করেছো কিন্তু।
-মৌ আর কিছু বলতে পারলো না, বুকে পাহাড় পরিমাণ কষ্ট নিয়ে মাথা নাড়িয়ে হ্যা সূচক জবাব দিল।
- কথা মৌকে জড়িয়ে ধরে বলল' সত্যিই তুমি আজ থেকে আমার বোন'।
- এদিকে আমি ডেস্কে বসে অফিসের জরুরি একটা কাজ করছি। কে যেন টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তাকিয়েই দেখি মৌ!
- আমি মৌ এর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললাম' কিছু বলবেন?'
- হ্যাঁ যদি কিছু মনে না করেন তাহলে বলতে পারি।
- আচ্ছা কি বলবেন বলেন?
- রাজ তোমাকে কথা ম্যাডাম অনেক ভালোবাসে।
- হুম আমিও ভালোবাসি। মৌকে রাগানোর জন্য কথাটা বললাম।
- মৌ কিছু না বলে, করুণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বলল' রাজ তুমি না আমায় ভালোবাসতে? তবে এখন কথা ম্যাডামকে কেমনে ভালোবাসো?
- হাসালেন। আপনিওতো আমাকে ভালোবাসতেন। তারপরও অন্য ছেলের কাছে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন? আমি তো কথাকে ভালোবাসি। তবে অনৈতিক কোন কাজ করিনি। মৌ'কে কষ্ট দেওয়ার জন্যই কথাটা বলা ।
- মৌ আমার কথা শুনে মুচকি হেসে বলল' জানো, ভালবাসাই যেহেতু কথা ম্যাডামকে তাহলে এক কাজ করো তাকে বিয়ে করে ফেলো। 'রাইসাও একটা মা পাবে। আর তুমিও পাবে একটা বউ।
- হুম তাই ভাবছি।
- মৌ এবার আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারলো না। আচ্ছা ভালো থেকো।
- আচ্ছা।
- মৌ রুম থেকে বের হয়ে সোজা বাসায় চলে গেল। বাসায় গিয়ে দরজা বন্ধ করে অনেকক্ষণ কান্না করল।
- এদিকে কথা রাইসাকে নিয়ে আসতে স্কুল চলে গেল। কথা স্কুলে গিয়ে দেখে রাইসা বারান্দায় বসে কাঁদছে।
- রাইসার কান্না দেখে কথার বুকের ভেতরটা কেমন করে ওঠলো। দৌড়ে রাইসার কাছে গিয়ে বলল আমার মামনিটার কি হয়েছে?
- রাইসা কথাকে জড়িয়ে ধরে হুহু করে কেঁদে ওঠল।
- কি হলো মামনি? কাদঁছো কেন? বলো কি হয়েছে তোমার?
- রাইসা কাঁদতে কাঁদতে বলল' জানো আন্টি সবার মা আছে। আমার মা নেই। বাবাকে বলতেও পারি না। বাবা কষ্ট পাবে বলে। আজ রাতুল আমাকে বলেছে তোর মা নেই। আর মা'কে নিয়ে অনেক গল্প বলেছে। ওর মা ওকে অনেক আদর করে।
- কে বলছে তোমার মম নেই? আমি তোমার মম। কেউ যদি বলে তোমার মম কে? তখন আমার কথা বলবে!
- সত্যি তুমি আমার মম?
- হ্যাঁ আজ থেকে আমিই তোমার মম।
- না না। তোমাকে মম ডাকা যাবো না। বাবাই রাগ করবে। আর বাবাই রাগ করলে অনেক কাঁদে। বাবাই কাঁদলে পড়ে আমারি তো কষ্ট হবে। বাবাই যদি বলে তুমি আমার মম তাহলে ঠিকআছে।
-কথা রাইসার কথা শুনে রাইসাকে বুকের সাথে চেপে ধরল। রাইসায় ছুঁয়াতে কথা আজ মাতৃত্বের অজানা এক অনুভূতি ছোয়া অনুভূব করছে। রাইসা মামনি? তোমার বাবাই যদি আমাকে মম ডাকতে বলে। আমাকে তুমি মম ডাকবে?
- হ্যাঁ ডাকবো তো। আচ্ছা তাহলে শুনো তোমার বাবাইকে আমি যেভাবে বলতে বলব সেভাবে বলবে। কথা রাইসাকে কানে কানে অনেক কথা বলে দিল। রাইসা লক্ষী মেয়ের মতো বলতে রাজি হয়ে গেল।
- বিকেল বেলা কথা রাইসাকে নিয়ে সোজাসুজি অফিসে এসে পড়ল। আমি ডেস্কে বসে বসে মৌ এর সাথে কাটানো স্মৃতিগুলো মনে করছি। হঠাৎ রাইসা বাবাই করে ডাক দিয়েই আমাকে জড়িয়ে ধরল।
- বাবাই তুমি আর কত কাজ করবে? চলো বাসায় যাই।
- এখনি বাসায় যাবো? এখন বাসায় গেলে তোমার কথা ম্যাডাম আমার চাকরি খেয়ে দিবে!
- কি বললে? কে তোমার চাকরি খাবে। আমি তার চাকরি খেয়ে দিবো।
- তাই বুঝি।
- হ্যাঁ তাই কারণ তুমি অফিসেও আমার হুকুমে চলবে।
- এদিকে রাইসার কথা শুনে কথা দরজায় দাঁড়িয়ে এক প্রকার জুরেই হেসে দিল।
- আমি কিছু না বলে, রাইসাকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
- রাত্রি বেলা রাইসা ঘুমিয়ে গেলে বিছানার নিচ থেকে মৌ এর ছবিটা বের করে বুকের উপর রেখে একা একাই কথা বলছি। আর চোখের পানি ফেলছি। হঠাৎ কারো স্পর্শ টের পেলাম। কপালে একটা পাপ্পি দিয়েই বলল' বাবাই তুমি কাঁদছো কেন?
- কই কাঁদছি না তো?
- ছি, বাবাই তুমি না বলেছো মিথ্যা বলা ভালো না?
- হ্যাঁ বলেছি তো।
- তো মিথ্যা কেন বললে?
- রাইসা আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল' বাবাই তোমাকে একটা কথা বলবো রাখবে?
- কি কথা মামনি? তোমার সব কথায় তো আমি রাখি!
- হুম জানি তো।
- আচ্ছা তাহলে বলো কি করতে হবে আমার?
- বাবাই বেশি কিছু না। তার আগে আমার মাথা ছুঁয়ে প্রমিজ করো আমার কথা রাখবে? আমার হাতটা রাইসার মাথায় রেখে।
- আমি রাইসার মাথা থেকে হাতটা সরিয়ে বললাম 'হ্যাঁ মামনি রাখবো বলো।'
- লাভিউ বাবাই। আমি জানি তুমি আমার কথা রাখবে। আচ্ছা বাবাই কথা আন্টি তো ভালোই তাই না। জানো আমাকে অনেক আদর করে।
- হুম। ভালো।
- ভালোই তাহলে কথা আন্টিকে আমার মম বানিয়ে ফেল। সবার মম আছে আমার মম নেই। সবাই আমার মম নেই বলে আমাকে রাগায়। আচ্ছা বাবাই বলো আন্টিকে আমার মম বানাবে।
- রাইসার কথা শুনে মুহূর্তের মাঝে দুনিয়াটা উলট-পালট হয়ে গেল। কি বলব কিছু ভেবে পাচ্ছি না। রাইসার মাথা ছুঁয়ে প্রমিজ করেছি। যদি কথাকে বিয়ে না করি তাহলে কেমন হবে। রাইসা যে আমার জীবন।
- কি হলো বাবাই তুমি কিন্তু আমাকে কথা দিয়েছ। বলো বাবাই কথা আন্টিকে মম বানিয়ে নিয়ে আসবে?
-হুম মা মম বানিয়ে নিয়ে আসব। আমি যে আমার মা'টাকে কথা দিয়েছি।
- আচ্ছা বাবাই তোমার ফোনটা দাও তো।
- এতো রাতে ফোন দিয়ে কি করবে?
- দাও না।
- এই নাও। রাইসা ফোনে কার যেন নাম্বার তুলে ফোন দিয়ে বলল ' হ্যালো মম! বাবাই রাজি হয়েছে। লাভিউ মম। কাল সকালেই আমাদের বাড়ি এসো পড়ো কেমন?
- কথা রাইসার মুখে এমন কথা শুনে আনন্দে কেঁদে ফেলল। রাজকে নিজের করে পাবে বিশ্বাস হচ্ছে না।
- কি হলো মম কথা বলছো না কেন?
- বলছি তো মামনি। কাল সকালে আসবো। আমাকে যে আসতেই হবে। কথা ফোনটা কেটে দিয়ে অযু করে দু'রাকাত নফল নামায পড়ে নিল।
- এদিকে মৌ এর কোন ভাবেই ঘুম হচ্ছে না। খুব একা একা লাগছে। অফিসের কথা ভাবতেই মৌ'এর চোখে জল এসে পড়ে। রাজের একটা ছবি বের করে মৌ দেখতে লাগে। ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মৌ ঘুমিয়ে যায়।
- এদিকে আজ কথা আর রাজের বিয়ে। বিয়ের সাজে রাজকে খুব সুন্দর লাগছে। এতোটা মানুষ সুন্দর হয় কিভাবে। রাজের সামনেই একটা স্টেজে কথা আর রাইসা বসে আছে। রাইসা কথার কুলে বসে আছে। কথা রাইসার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। বিয়ে বাড়িতে নীল-লাল বাতির আলো আজ মৌ এর কাছে বড্ড অসহায় লাগছে। হঠাৎ সবাই বলে ওঠল কাজি এসেছে। কাজী যখন কথাকে কবুল বলতে বলে, কথা যখন কবুল বলে কাবিন নামায় সাইন করবে এমন সময় মৌ চিৎকার দিয়ে বলে ওঠে এ বিয়ে হতে পারে না। রাজ আমার স্বামী। আর রাইসা আমার মেয়ে। এ বিয়ে যদি হয় তাহলে আমার লাশের উপর দিয়েই হবে। কথা মৌ এর কথা শুনে বলে ওঠল' আপু তুমি না আমার বোন হও। তবে বোন হয়ে বোনের স্বপ্ন নষ্ট করতে চাচ্ছো কেন?
- আমি আর পারছি না কথা। রাজ অন্য কারো হোক তা আমি মানতে পারব না। আমি রাজকে ছাড়া বাঁচবো না।
- আপনি কে আপনি এমন করছেন কেন? আর আপনি আমাকে আপনার মেয়ে বলছেন কেন? যেদিন আপনি আমার অসুস্থ বাবাইকে রেখে অন্য ছেলেকে বিয়ে করেছেন? তখন আমি আর আমার বাবাই আপনাকে বিয়ে করতে না করে ছিলাম। আর আপনি কি বলেছেন? আমার অসুস্থ বাবা সেদিন কেঁদেছে। ছোট্ট শিশুর মতো। আজ আপনি আমাদের আবার কষ্ট দিতে আসছেন। আপনি প্লিজ চলে যান। আপনি আমার মা হতে পারেন না। আপনি আমার বাবাইকে ভালোবাসলে অসুস্থ বাবাইকে রেখে আপনার বসকে বিয়ে করতেন না। জানেন এখনো আমার বাবাই আপনার জন্য কাঁদে। আমি আর আমার বাবাইকে কাঁদতে দিবো না।
-হঠাৎ মৌ এর ঘুম ভেঙে যায়। মৌ এর বুঝতে বাকি থাকে না সে স্বপ্ন দেখলো। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সকাল নয়টা বাজে। ঘুম থেকে উঠেই চলে যায় রাজের বাসায়। বাসায় দরজা ধাক্কা দিতেই দেখে কথা রাজকে জড়িয়ে ধরে আছে।
- রাজকে এভাবে দেখে মৌ এর ভেতরের আত্মাটা যেন বেরিয়ে আসবে।
- এই কথা কি করছো? ছাড়ো। এটা ঠিক না।
- কেন বরকে এসব করা যায় না।
- এখনো তো হয়নি?
- হতে কতক্ষণ।
- মৌ রাজ আর কথার কথা শুনে নিজের চোখের পানি আকটাতে পারছে না। মৌ যখনি রুম থেকে বেরিয়ে আসতে যাবে এমন রাইসা মৌকে দেখে বলে। আন্টি আপনি এখানে?
- রাইসার কথায়, কথা আমাকে ছেড়ে দিয়ে মৌ এর দিকে তাকায়।
- আপু আপনি এখানে?
- আর বলো না তুমি যে বললে সে কথাটা বলতে আসছিলাম।
- কথা মৌ'কে জড়িয়ে ধরে বলল ' আপু দোয়া করো রাজ রাজি হয়েছে। সামনে মাসেই আমাদের বিয়ে। তুমি কিন্তু সারাদিন থাকবে। চলো আমরা সবাই বিয়ের কার্ড বানাতে যাবো। কথা মৌ'কে সহ আমাকে নিয়ে গাড়িতে উঠল। রাইসা আমার কুলে ঘুমিয়ে গেছে। কথা আমার পাশে বসে আছে। মৌ বার বার আমার দিকে আর চোখে তাকাচ্ছে। আমি রাইসার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। হঠাৎ কথা আমার গালে চুমু দিয়ে দেয়।
- মৌ এটা দেখার সাথে সাথে চিৎকার দিয়ে বলে ওঠল রাজ ''''''
চলবে....
বি:দ্র:^ ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
নীল রক্ত
#নীল_রক্ত
পর্ব-০৪
,
থানার নতুন ইনচার্জ শামসুল হক সাহেব রিতু কে জানালেন আসামি নীল মাঝে মাঝে জেল হাজত থেকে হঠাৎ হঠাৎ গায়েব হয়ে যায়,
উনি কি অদৃশ্য হওয়ার মন্ত্র জানে নাকি,
ইনচার্জ এর কথায় রিতু একটু ভাবনার জগতে চলে যায়,
এটা কি বলল একটা মানুষ কি করে আবার অদৃশ্য হয়ে যায় নাকি আমার সাথে মজা করছে,কিন্ত একজন ওসি কেনো মজা করবে,
ওসি শামসুল হক সাহেবের ডাকে রিতু ভাবনার জগত থেকে ফিরে আসে,
ভাবনার জগত থেকে ফিরে একবার নীলের দিকে চোখ বুলায়,
নীলের দিকে তাকিয়ে ভাবছে এই বোকা ছেলের দ্বারা এমন কোন কিছু করা কি সম্ভব।
অতিরিক্ত ভাবনা আর কিছু মানুষের
চক্রান্তের ফাঁদে পড়ছি না তো আবার তো নীলের চার দিকে শত্রুর অভাব নেই,
নীল রিতু কে ডাকলো,
নীল- আমাকে এখান থেকে বের করবে কবে,আমার এখানে একদম ভালো লাগে না,
রিতু- খুব তারাতাড়ি বের করবো,
নীল- আচ্ছা দাদু কেমন আছে সে আসে না কেনো আমাকে দেখতে,
রিতু- একটু অসুস্থ আছেন,,,, (মিথ্যা বলল)
নীল- আচ্ছা আমি কি অপরাধ করছি যার জন্য আমাকে এখানে আটকে রাখছে আবার মারে,,
রিতু- আমি জানি না কিন্ত খুব তারাতাড়ি বের করবো তোমাকে,,,তুমি একদম টেনশন করো না,,,,।।
বলে রিতু থানা থেকে বের হলো রিতু কে বারবার একটা জিনিস ভাবিয়ে তুলেছে নীল কি ভাবে জেল থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে,
রিতু বাসায় গিয়ে টিভি ছেড়ে দেশের একটু খবর নিচ্ছিলো কিন্ত ভালো লাগছিলো না বারবার চ্যানেল চেন্স করছিলো,
একটা মুভির দৃশ্যে রিতুর চোখ টা আটকে গেলো সেটা হল একটি নেতার আলাদা একটি গোপন কক্ষ খোঁজে পায় পুলিশ যেখানে সেই নেতা তার অবৈধ কাজ কর্ম করে থাকে,
সেই রুমের তল্লাশি নিয়ে পুলিশ অনেক কিছু পায়,,,
রিতুর মাথায় তখন একটা চিন্তা আসে
এই বাড়িতে এমন আলাদা কিছু নাই তো,
সেটা ভেবে রিতু অনেক খোঁজাখোজি করে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে বসে পড়ে,।
একটু জিড়িয়ে নেওয়ার জন্য
সোফায় মাথা হেলান দিয়ে বসে আছে
রিতু, হঠাৎ ফোন টা বের করে ইবু স্যার
কে ফোন দেয়,
রিতু ভাবলো একটু অপরাধীদের আঁতুড় ঘর দিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে আসা যাক,
তাই একা বের হওয়া ঠিক হবে না,
ইবু স্যার কে নিয়ে যাওয়া যাক,
ইবু স্যার হচ্ছে রিতুর প্রেমে এক সময় দিওয়ানা ছিলো,এখন আপাতত উনি বিয়ে করে ঘর সংসার করছে,
কিন্ত ইবু স্যার ফোন টা রিসিভ করলো না,
তাই একটা মেসেজ করলো আমি অমুকখানে যাচ্ছি সময় মতো এসে পড়বেন,
তখন প্রায় সন্ধা নেমে আসছে বাহিরে
আবার বৃষ্টি হচ্ছে,
রেইনকোট গাঁয়ে চাপিয়ে বের হয়ে পড়লো রিতু,
রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে চলেছে পিচ ঢালা রাস্তায় গাড়ির হেডলাইট এর আলো পড়ে চকচক করছে
আবার কোথাও কোথাও তো পানি জমে আছে, জমে থাকা পানির উপর দিয়ে
দিয়ে গাড়ির চাকা আসে তখন রিতু কে লাফ দিয়ে সরে যেতে হয় না গায়ের উপর পানি আসবে,
আমার মনে গাড়ির ড্রাইভার গুলো ইচ্ছে করে আমাকে পানি দিচ্ছে,
হাটতে হাটতে চলে গেলো নিজের গন্তব্যে,
ভিতরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না এদিকে ইবু স্যার আসেনি,
এই বৃষ্টির মধ্যে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যায়,
পাশেই ছিলো মা রেস্তোরাঁ খাওয়ার হোটেল,
এই বৃষ্টির মধ্যে ভুনা খিচুড়ি আর ডিম
ভাজির সুগন্ধে আশেপাশে ছুড়িয়ে পড়েছে,
এমন প্রিয় খাবার রেখে কেমনে দাঁড়িয়ে থাকা যায়,
তাই রিতু লোভ সামলাতে না পেরে ভিতরে প্রবেশ করে,
কিন্ত তখন বিদ্যুৎ ছিলো না প্রতিটি টেবিলে ছিলো একটি করে মোমবাতি।
বেশ চমৎকারই লাগছিলো,
রিতু গিয়ে বসে পড়লো এক কোনের টেবিলে,আর গরম গরম প্রিয় খাবার গুলো অর্ডার করলো, কিন্ত ভয় হলো
এলাকাটি সন্ত্রাসীদের আতুড়ঘর, মনে হয় প্রতিদিন হোটেলটিতে কিছু বখাটে ছেলেপেলে বসে থাকে,আজও আছে,
এই অসময় মেয়ে মানুষ দেখে ছেলে গুলো আস্তে আস্তে রিতুর টেবিলের দিকে যেতে থাকে,
কিন্ত রিতু মন দিয়ে তার প্রিয় খাবার গুলো খাচ্ছে,,,
কিন্ত হোটেল যে কখন জনশূন্য হয়ে গেছে তা রিতু খেয়ালই করেনি,
রিতু পানির বোতল চাইতে গিয়ে তাকিয়ে দেখে কিছু ছেলে বসে আছে,
এক সাথে ছেলে গুলো কে দেখেই বুঝা যাচ্ছে নেশাপানি খায়,
কিন্ত একটু দূরেই একজন কালো পোশাক পড়া মুখ দেখা যাচ্ছে না,
কাটা চামচ দিয়ে কিছু খাচ্ছে কারণ শব্দ শুনে বুঝা যাচ্ছে,
রিতুর মনে পুরো ভয় ইবু স্যার কি এখনো আমার মেসেজ পায়নি,
ভয় হচ্ছে খুব,
এমন সময় বখাটে একটি ছেলে এসে খপ করে ধরে বলল চলো মামুনি এবার আমাদের খাওয়াবে বলে টান দিতেই।
হাতির মতো বিশাল পা দিয়ে ছেলেটির বুকে লাথি মারে,
ছেলেটি গিয়ে পড়ে বাকি বখাটেদের
সামনে তাকিয়ে দেখে বুকের হাড় গুলো পিঠের সাথে লেগে গেছে,
রিতু দেখলো পাশের টেবিলে বসা সেই লোক কিন্ত মুখ দেখা যাচ্ছে না।
লোকটি বুখাটেদের দিকে এগিয়ে যেতেই বিদ্যুৎ চলে আসে ফলে ছেলে গুলো লোকটিকে দেখে ফেলে আর বস বস বলে পায়ে পড়ে যায়,
লোকটি এক হাত উঁচু করে ৪ আঙুল
মোস্টি করে, আবার খোলে,
হোটেল এর মালিক বুঝে লাইট অফ করতে বলল,আবার অন,
লাইট অফ কিন্ত রিতু দেখতে পেলো না,
কিন্ত লাইট অন করতেই লোকটি আর নেই,,,
(চলবে)
বাস্তবতা
#বাস্তবতা
ছেলেটির শেষ কথা ছিলো "
তোমাকে ছাড়া ভালোই থাকবো"
"ছেলেটির লাশ টাও ভালো আছে হয়তো আজো 🙃-মেয়েটি বলেছিলো আর রাত জাগবো না কখনও তোমার জন্যে।
এখনও মেয়েটি রোজ সকালে কনসিলার দিয়ে চোখের নিচের কালি লুকায়।😊
-মেয়েটা বলেছিলো, ভুলতে পারবে আমায়?
ফিকে হাসিতে এলোমেলো চুলের ছেলেটি জবাব দিয়েছিলো,"কোনো ব্যাপার না"
ছেলেটি আজ মানসিক হাসপাতালে।
হয়তো ভুলার চেষ্টা সফল হয়নি তার।
- বয়স ২২ কি ২৩, তখনিই বিয়ে দিয়ে দিলো বাড়ি থেকে।প্রেমিকের কথা বাসায় বলায় বাবা বলেছিলো, আমার সম্মান আগে নাকি তোমার প্রেম?
বাবার সম্মান রাখতে মেয়েটা এখনও আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে, "ক্ষমা করে দিয়ো ভালোবাসা।
-আর কখনো সিগারেট খাবো না বলে প্রমিজ করা ছেলেটির বুক ভরা নিকোটিনের ধোঁয়া, ক্যান্সার ধরা পরেছে বলে ডাক্তার খুব করে বারন করেছে সিগারেট খেতে।
ছেলেটি বলে, সে কথা রাখেনি, অন্য কারো হয়ে গেছে, আমিও কথা রাখবো না
-- কেউ ভালো থাকে না রে।
বিশ্বাস কর যারা মন থেকে সত্যিই ভালোবাসে তারা ভালোবাসা হারিয়ে কখনও ভালো থাকে না।
সব সামলে নেওয়া যায়, বুকের বাম দিকের চিনচিনে ব্যাথা টা সামলানো যায় না কখনো ।
হারিয়ে যাওয়া মানুষ গুলো খুব করে চায় একটা সুযোগ ফিরে আসার, পাবে না জেনেও চায়, আর কষ্ট জমায়।
সবার সামলে নেওয়ার ক্ষমতা থাকে না,
কেউ ধীরে ধীরে শেষ হয়,কেউ বা তারাতারি😥
কিন্তু আত্মার মৃত্যু তো একসাথেই হয়☺
প্রেম কাহিনী
#একটা করুণ প্রেম কাহিনী- (কষ্ট করে পুরোটা পড়বেন প্লিজ।)
একটা ছেলে একটা মেয়েকে মনে মনে ভালবাসত। একটা সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে এক সময় মেয়েটিকে নিজের ভালবাসার কথা জানাল। মেয়েটি কিছু না বলে চলে গেল । সে মনে মনে ভাবল...
দেখি একটু পরীক্ষা করে, কেমন এই ভালবাসা। ফলশ্রুতিতে শুরু হল ছেলেটিকে কষ্ট দেওয়া ।
কখনো কড়া কথা বলে, কখনো বাজে ব্যবহার করে, কখনো অবহেলা করে,
যখন যা ইচ্ছা করেও শেষ পর্যন্ত দেখল ছেলেটি এখনো তাকেই ভালবাসে ।
এবার বুঝল, নাহ এই ছেলেটি তাকে আসলেই চায় ।
কিন্তু এরপরেও নিজের মনের অজান্তের অহমিকা বোধটা হঠাৎ জেগে উঠে।
মনে হয়, এমন কত ছেলেই তো আমার জন্য পাগল ।
কি দরকার ঝামেলা মাথায় নিয়ে । শুধু শুধু একজনের সাথে এনগেইজ
হলে বাকিদের মন রাখবে কে??
এদিকে সবার অজান্তে কষ্টে এক প্রকার উম্মাদ হয়ে এক সময় ছেলেটা ভেতরে ভেতরে শেষ হয়ে গেল।
এরপরে অনেকদিন কেটে গেল।
এর মধ্যে বহুজনের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাব যাচাই করে দেখল আসলেই ঐ একজনের সাথে কারোই তুলনা হচ্ছে না ।
এবার মেয়েটি একটি কাগজে সুন্দর করে লিখল, "কেউ যদি খুব সহজে সত্যিকার ভালবাসা পায়, তাহলে সেটা সে মূল্যায়ন করতে পারে না। তোমাকে কষ্ট দিয়ে তাই সেভাবেই তৈরী করে নিলাম। কিন্তু একটা সঠিক সিদ্ধান্ত তো নিতে হবে।
আর তাই আজ তোমাকে স্বাগতম জানালাম।"
মেয়েটি ছেলেটিকে খুজতে খুজতে ছেলেটির বাসায় গেল। দরজায় ধাক্কা দিতেই খুলে গেল। খুব ছিমছাম নীরব ঘর।
আস্তে আস্তে ঢুকল। কারো সারাশব্দ নেই।
একটু এগিয়ে গিয়ে দেখল টেবিলে মাথা নিচু করে ছেলেটি বসে আছে।
খুব দুষ্টু হেসে আস্তে করে পিছন থেকে ছেলেটিকে ধরল।
আর কিছু বোঝার আগেই ছেলেটির নিথর দেহটা গড়িয়ে পড়ল মাটিতে।
কব্জিতে জমাট বাধা রক্তটা বলে দিচ্ছে ছেলেটি আর নেই ।
মেয়েটি কি বলবে ভেবে উঠতে পারল না। শুধু দেখল পাশে একটা নীল খাম।
খামের ভেতর থেকে একটা কাগজ বের হল। সেখানে লেখা, "কেউ যদি খুব সহজে সত্যিকার ভালবাসা পায় তাহলে সেটা সে মূল্যায়ন করতে পারে না। সহজেই নিজের ভালবাসার কথা বলে তোমার দেওয়া কষ্টে তাই নিজের অজান্তেই
ধ্বংস হয়ে গেলাম । কিন্তু একটা সঠিক সিদ্ধান্ত তো নিতে হবে ।
আর তাই আজ তোমাকে বিদায় জানালাম।"
[বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ সস্তা টাইপ প্রেমের কাহিনী মনে হতে পারে অনেকের। যদিও মৃত্যু এখানে রূপক কিন্তু অহংকারের ফলে কিংবা এক তরফা ভালবাসার পরীক্ষা নিতে গিয়ে অনেকেই শেষ পর্যন্ত ভালবাসার মানুষটিকে হারায়।]
Perfect villain6
#Perfect_Villain
part : 6
.
কবিরের ওপর ১দল লোক ভীষন বাজেভাবে attack করেছে। কবির hospital এ admit ... কথাটা শুনে সকলের বুকটা কেপে উঠলো। ছুটলো হসপিটালো।
.
হসপিটালে...
কবিরের অবস্থা খুব খারাপ ।
মেঘ: আমার বাবা সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি তোমাদের সময় দিলাম। এই সময়ের মধ্যে তার গলাটা কেটে আমার সামনে কিভাবে নিয়ে আসবে সেটা তোমাদের ব্যাপার। got it...
রজত: জী স্যার....
মেঘ দেখে মেরিন কান্না করছে। মেরিনের কান্না মেঘের একদম সহ্য হয়না। মেঘ মেরিনের কাছে গেলো।
মেঘ: সোনাবাচ্চা কান্না করেনা। বাবা ঠিক হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ।
মেরিন:😭।
.
কিছুক্ষনপর...
ডক্টর বেরিয়ে এলো ।
মেঘ: ডক্টর আমার বাবা...
ডক্টর: surgery is successful ... but আমরা তাকে ventilation এ রাখতে চাই। তার ঠিক হওয়ার chance 65%। excuse me...
.
২দিনপর...
কবিরের জ্ঞান ফিরলো। এরপর ওকে কেবিনে shift করা হলো। সবাই দেখা টেখা করলো । কথা টথা বলল।
মেঘ : বাবা... কে ছিলো? তুমি কি তাদের দেখেছো?
কবির:no.. my son...
কবিরকে ঘুমের injection দেয়া হলো। সবাই বেরিয়ে এলো।
মেঘ: কার এতো কলিজা যে আমার বাবার ওপর হামলা করে? আমি তার কলিজাটাই বের করে নিবো?
মেরিন: i think আমি জানি....
মেঘ: কিছু বললে?
মেরিন : না । আমি আসছি। wait ...
বলেই মেরিন বেরিয়ে গেলো।
মেরিন: i know মিস্টার নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষন its you... কারন আপনিই সেদিন বলেছিলেন...
মেরিন বাসায় থেকে ওর গানটা নিলো।
.
ওদিকে...
ভার্সিটিতে...
নীড় মনে মনে: সেদিন মনে হয় মেয়েটার সাথে একটু বেশিই করে ফেলেছিলাম। হয়তো কষ্ট পেয়েছে। কেন যে রাগ control করতে পারিনা? shit...
আকাশ : আচ্ছা ভিপিতো উধাও হলোই... ২-৩দিন ধরে ভিপি বউও হাওয়া। কাহিনি কি রে?
ইমান: আরে ভিপির শশুড়ের ওপর attack হয়েছে। hospitalized...
নীড় : what?
ইমান: হামম।
নীড়: কিভ...
নীড় কথাটা শেষ করতে পারলোনা। কারন তখনই ওকে কেউ গুলি মারলো । সবাই সামনের দিকে তাকালো। দেখলো হাতে রিভলবার নিয়ে রেগে আগুন হয়ে মেরিন এগিয়ে আসছে। ভয়ও লাগছে ওকে দেখতে।
যদি কেউ ওর সামনে আসতে চাইছে ওকে বাধা দেয়ার জন্য তখন মেরিন তার পায়ের দিকে ফাকা গুলি করছে। আর কেউ সামনে আসছেনা। মেরিন নীড়ের হাত গুলি করেছে। কেন যেন ও চেয়েও নীড়ের হৃদয় বরাবর গুলি করতে পারেনি । মেরিন নীড়ের সামনে গিয়ে
দারালো। এরপর ১টা গান নীড়ের কপালে ঠেকালো। নীড় অবাক + রাগী চোখে মেরিনকে দেখছে।
.
মেরিন দাঁতে দাঁত চেপে
বলল : আপনার সাহস কি করে হয় আমার বাবার এ অবস্থা করার? 🤬। just tell me... এখন তো মনে হচ্ছে সেদিন বাবা যেটা বলেছিলাম সেটাই ঠিক। বলুন কেন এমন করলেন?
নীড় মেরিনকে ঘুরিয়ে হাত মেরিনের পেছনে মোচর দিয়ে পিছে নিয়ে নিজের সাথে বুকের সাথে মিশিয়ে
বলল : তোমার সাহস কিভাবে হয় আমাকে গুলি করার... আর কোন ভিত্তিতে তুমি আমার দিকে আঙুল তুলছো... just tell me...
মেরিন: you told me... আপনিই আমাকে বলেছিবেন সেদিন...
নীড়: বলেছি বলেই নাকী? idiot...
মেরিন: of course ... now i am going to kill you...
নীড়: really ?
বলেই নীড় মেরিনের হাত থেকে গানটা নিয়ে নিলো। এরপর মেরিনেক মাথায় ঠেকালো।
নীড় : চাইলে এখনই আমি তোমাকে শেষ করে দিতে পারি। but....
নীড় মেরিনকে ছেরে দিলো ।
নীড় : করবোনা। কারন তাহলে তুমি আমার সত্যটা জানতে পারবেনা। আর আমি তোমাকে দেখিয়ে দিবো যে এসবের মূলে আমি না। তবে আমার প্রত্যেক ফোটা রক্তের হিসাব তোমাকে দিতে হবে মিস খান... &&& from today i hate you the most...
মেরিন : but not more than me...
নীড় : আমার ঘৃণার তুলনাও তুমি করতে পারবেনা ।
বলেই নীড় চলে গেলো।
.
মেরিন হসপিটালে গেলো।
মেঘ: কোথায় গিয়েছিলে?
মেরিন: কোথাও ...
তখন মেরিন তাকিয়ে দেখে নির্ঝর দারিয়ে আছে। আর নির্ঝরকে দেখে মেরিনের মেজাজ আরো বিগরে গেলো।
মেরিন : এই অসভ্য লোকটা এখানে কি করছে?
নির্ঝর: জান...
মেরিন: just shut up & get out ...
মেঘ: সোনাবাচ্চা কি হয়েছে?
মেরিন: ওকে তুমি চোখের সামনে থেকে সরতে বলবে কি বলবেনা।
নির্ঝর: জান জান... জানি বাবা অসুস্থ বলে তুমি একটু...
মেরিন: খবরদার আমার বাবাকে বাবা ডাকবেনা। তোমার চেহারাটা just ঘৃণা করি নির... তোমার নামকে ঘৃণা করি নির... তোমার নোংরামো কে ঘৃনা করি নির... তোমাকে ঘৃণা করি..
নির্ঝর: অমন করে বলোনা জান...
মেঘ: নির্ঝর আপাদত তুমি যাও। ওর মাথা ঠান্ডা হলে এসো।
মেরিন: না। এই লোকটা আরেকবার আমার চোখের সামনে এলে জানে মেরে দিবো।
নির্ঝর: জান প্লিজ ...
মেরিন: বলেছিনা যেতে...
মেঘ: হয়েছেটা কি? কি করেছেটা কি ও?
মেরিন: he molests me ভাইয়া।
মেঘ: what?
মেরিন: তাও সেইদিন... যেদিন আমি একদম helpless ছিলাম।
নির্ঝর: জান বিশ...
আর বলতে পারলোনা । মেঘ ১টা punch মারলো।
নির্ঝর: ভাইয়া...
মেঘ নির্ঝরকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে পিটানো শুরু করলো। পিটাতে পিটাতে হসপিটালের বাইরে নিয়ে গেলো। অনেক পিটানোর পর...
মেঘ: আর কখনো যদি তোকে চোখের সামনে দেখি তো জানে মেরে দিবো বডিগার্ডস আবর্জনাটাকে চোখের সামনে থেকে দূর করো।
যাওয়ার সময় নির্ঝর কেবল ১টা কথাই
বলল: কাজটা ঠিক করলেনা ভাইয়া...
.
কিছুদিনপর...
কবির এখন অনেকটাই সুস্থ। লাঠি ভর দিয়ে হাটে। আস্তে আস্তে সেটাও সেরে যাবে। মেরিন রুমে বসে আছে। তখন ওর ১টা ফোন এলো।
মেরিন: hello...
নীড় : hello...
নীড়ের কন্ঠ শুনেই মেরিন বুঝতে পারলো।
মেরিন: আপনি?
নীড় : হামম।
মেরিন: কেন ফোন করেছেন?
নীড় : তোমার মতো ১টা মেয়ের সাথে তো আর প্রেম করার জন্য ফোন করিনি । তাইনা। শোনো... আমি যে নিরপরাধ সেটার প্রমান দেয়ার জন্যেই ফোন করেছি।
মেরিন : প্রমান?
নীড় : হ্যা প্রমান। যে করেছে তার নাম শুনলে তুমি অবাক হয়ে যাবে। কল্পনার বাইরে।
মেরিন: তাই বুঝি? তো কে সে?
নীড়: বলবো। এখন নামটা বললে কেবল রাগ করবে। প্রমান তো জেনে যাবে। কালকে দেখা করতে পারবে?
মেরিন: হামম। কেথায়?
নীড় : গুলশান লেক পার্কে।
বিকাল ৪টা। ok?
মেরিন: ok...
নীড় ধপাস করে রেখে দিলো।
মেরিন: যাহ বাবা bye ও বললনা। বেয়াদব কোথাকার।
.
পরদিন...
বিকাল ৪টা...
মেরিন পৌছালো। কিন্তু নীড় এখনও পৌছায়নি।
মেরিন: কাহিনি কি? আমাকে আসতে বলে নিজেই এখনও আসেনি। এই সব প্রমান ট্রমান ধাপ্পাবাজী নয়তো? let me call him...
মেরিন নীড়কে ফোন করলো। ১ম বার ধরলোনা। ২য়বার ধরলো।
নীড়: আসছি... আসছি... জ্যামে ফেসে আছি।
মেরিন: জ্যাম না? বাহানা আর পান না।
নীড় দুম করে কেটে দিলো।
মেরিন: যা রেখে দিলো।
পরক্ষনেই আবার video call এলো। মেরিন ধরলো। ধরে দেখে নীড়।
মেরিন: আপনি?
নীড় : see.. জ্যামে বসে আছি। প্রমান ছারা বিশ্বাস করা যায় না ... huh কি আমার L.L.B. এর student রে...
মেরিন: এই...
তখন ১দল মুখোশধারী লোক এসে মেরিনকে ঘিরে ধরলো ।
মেরিন: কারা আপনারা?
নীড় : মেরিন....
লোকগুলো মেরিনের হাত থেকে mobile কেরে নিয়ে আছার মারলো। এরপর chloroform দিয়ে মেরিনকে অজ্ঞান করে তুলে নিয়ে গেলো।
নীড় : মেরিন.. oh no.. এই জ্যাম... না বসে থাকলে হবেনা ।
নীড় গাড়ি রেখেই বেরিয়ে গেলো।
.
৩ঘন্টাপর ...
মেরিনের জ্ঞান ফিরলো। নিজেকে ১টা ঘরে আবিষ্কার করলো।
হাত বাধা । উঠে বসলো। তাকিয়ে দেখে সামনের ১টা চেয়ারে নির্ঝর পায়ের ওপর পা তুলে বসে আছে।
মেরিন : নির?
নির্ঝর: হ্যা জান... আমি।
মেরিন : তোমার সাহস কি করে হয় আমাকে তুলে আনার?
নির্ঝর: আমার সাহসের কোনো ধারনাই তোমার নেই ।
মেরিন : আমাকে ছেরে দাও ।
নির্ঝর : তোমাকে ছেরে দিলে আজকে তোমার-আমার বিয়ে কি করে হবে জা....ন....
মেরিন : বিয়ে? তুমি ভাবলে কি করে যে তোমাকে বিয়ে করবো? তোমাকে...
নির্ঝর: হামম। আমাকে... বিয়ে তো করতেই হবে। তা না হলে যে আমার plan successful হবে না....
মেরিন: plan?
নির্ঝর :হ্যা জান। plan...
মেরিন: কিসের plan?
নির্ঝর: খানদের বরবাদ করার plan... কবির ফয়সাল খানকে বরবাদ করার plan...
মেরিন : মানে?
নির্ঝর: মানে যে অনেক কিছু জান। চলো তোমাকে বলেই দেই। আমার বাবা রায়হান মাহমুদ... he was topper in the hotel business . আমাদের হোটেলই দেশের সেরা ছিলো ... but তোমার বাবা... সে আমার বাবাকে টপকে ওপরে চলে গেলো। শুধু তাইই নয় আমাদের হোটেল বন্ধ হয়ে যায়। নতুন business start করতে হয় বাবাকে। কতোটা কষ্ট হয়েছে জানো? কি দিন গেছে জানো। আমার দাদুভাই বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। সেদিন থেকে আমি প্রতিজ্ঞা করি আমি তোমাদের বরবাদ করে দিবো। সবই ঠিক চলছিলো। তোমাদের দেশে ফেরানো... এরপর পদে পদে তোমাকে বিপদে ফেলা। all was perfect ... তোমাকে বিয়ে করার কোনো ইচ্ছা ছিলোনা। মেরে ফেলার ইচ্ছাই ছিলো। কিন্তু কখনো নীড় কখনো নিরব এসে হাজির হতো। তবে সেদিন বৃষ্টিতে তোমাকে দেখে মাথা ঘুরে গেলো। তোমাকে ছোয়ার ইচ্ছা হলো। তাই plan টা ঘুরিয়ে ফেললান। কিন্তু সেদিন একটু বোকামোর জন্য সব শেষ । তাই একটু cover করার জন্য তোমার বাবার ওপর attack করালাম...
মেরিন: কি? তুমি...
নির্ঝর : হ্যা জান... তোমার বাবার ওপর নীড় না আমিই হামলা করিয়েছি। ভাবলাম এই দুঃখের সময় এসে একটু sympathy দেখিয়ে তোমাকে পটিয়ে নিবো। but you are heartless baby... আরো ঘেটে দিলে... তাই তো আড়ালের villain থেকে প্রকাশ্য villain হয়ে গেলাম।
মেরিন : হামম। you are a #Perfect_Villain ....
.
নির্ঝর: oh thank you জান।
মেরিন : তবে বলুতো তোমাদের সাথে যা হয়েছে এতে আমার বাবার দোষ কোথায়?
নির্ঝর : অনেক দোষ। এখন বেশি পটর পটর না করে বিয়ে করে নাও। তোমাকে বিয়ে না করলে তোমার বাবাকে রাস্তার ভিখারী বানাবো কি করে? 😏।
মেরিন: তুমি ভাবলে কি করে যে তোমাকে বিয়ে করবো?
নির্ঝর মেরিনের হাতের বাধন খুলে দিলো। এরপর ওর হাতে ১টা লাল শাড়ি দিয়ে
বলল: বেশি কথা বলে শাড়িটা পরে আসো।
মেরিন শাড়িটা ছুরে ফেলে নির্ঝরের কলার ধরে
বলল: তোমার সাথে যে আমি কি করবো সেটা আমি নিজেও জানিনা... তুমি আমার সাথে যা করেছো করেছো... কিন্তু আমার বাবাকে... তোমাকে তো আমি...
নির্ঝর মেরিনের হাত নিজের কলার থেকে ছারিয়ে ১হাতে বন্দী করে অন্য হাত দিয়ে মেরিনের মুখে গলায় slide করতে করতে
বলল: জান.... তুমি আমার কিছুই করতে পারবেনা। আমি জানি তুমি যথেষ্ট strong
but chloroform এর effect makes you weak... ভালোমতো বিয়েতে রাজী হও না হলে ....
মেরিন ঠাস করে নির্ঝরকে থাপ্পর মারলো। নির্ঝর নিচে পরে গেলো।
মেরিন : আমার বাবা ভাইয়া এলো বলে...
নির্ঝর হা হা করে হেসে উঠলো।
নির্ঝর : ভালোমতো কথা কেউ বোঝেনা। আগে বিয়ে করতে বললাম করলেনা। থাক আগে যখন না হলো তখন পরে হবে।
বলেই মেরিনের ওরনা ১টানে ছুরে ফেলে মেরিনকে খাটে ফেলে ওর ওপর ঝাপিয়ে পরলো।
.
মেরিন নিজেকে ছারানোর চেষ্টা করছে। আর সমানে কান্না করছে। ঠিক তখনই দরজা ভেঙে the নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষন ভেতরে ঢুকলো।
নীড় : মেরিন...
নির্ঝর পিছে ঘুরলো। ও ঘুরতে ঘুরতে নীড় এসে ওকে ১টা লাথথি মারলো। ১টা বার মেরিনের দিকে তাকালো । মাথায় রক্ত উঠে গেলো। দে দানা দান মারতে লাগলো। নির্ঝর নূন্যতম আঘাত করার সুযোগই পেলোনা।
নীড়: তোর এতো বড় সাহস তুই আমার কলিজায় হাত দিস... তুই আমার মেরিনের দিকে বাজে হাত বারাস... তোকে আজকে আমি মেরেই ফেলবো...
নীড় নির্ঝরকে মেরে আধামরা করে দিলো। এরপর ঘুরে দেখে মেরিন ১কোনে বসে কান্না করছে। নীড় নিজের গায়ের জ্যাকেটটা খুলে মেরিনকে পরিয়ে দিলো। মেরিন নীড়কে জরিয়ে ধরে হাউমাউ করে কাদতে লাগলো।
নীড় : shush কাদেনা... আমি এসে গেছিনা... থামো... যতোদিন আমি আছি কেউ তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা... থামো প্লিজ... i can't bear this... প্লিজ থামো.... আছি তো আমি...
তখন নির্ঝর পেছন থেকে
বলল: তততাহলে তোমাকেই আগে shoot করি...
নীড়-মেরিন পিছে ঘুরলো। দেখে নির্ঝর গান হাতে দারিয়ে আছে। কেবল shoot করবে তখন মেঘ পেছন থেকে shoot করে দিলো। আর ধিরিম করে নির্ঝর নিচে পরে গেলো। চোখ বোজার আগে নির্ঝর
বলল: i lllove yyyou জজজান... & iiii aaam ssssoor....
আর কিছু বলতে পারলোনা...
মেঘ: সোনাবাচ্চা....
মেঘ গিয়ে মেরিনকে টেনে বুকে নিলো।
মেঘ:কাদেনা বাচ্চা... & you... নীড় thank you... আমি অনেক কৃতজ্ঞ তোমার কাছে। তুমিই আজকে আমার বোনকে বাচালে।
নীড় মনে মনে : আমি নিজেকে বাচিয়েছি...
.
৭দিনপর...
চৌধুরী বাড়িতে...
নিহাল: son... are you in love??
নীড় থতমত খেয়ে গেলো।
নীড় : কককি বববলছো কককি বববাবা?
নিহাল : ঠিকই বলছি... যখন ছেলেরা প্রেমে পরে তখন বাবার জেনে যায়।
নীলিমা: এটা ঠিকনা নীড় বেবি... তুমি প্রেম করছো আর আমাকে বলোনি।
নীড় : আরে তোমরা কি শুরু করলে?
নিহাল: আয় হায় আমার রাগী ছেলে লজ্জা পাচ্ছে... ভাবা যা...
তখন ৩জন শুনতে
পেলো: আসতে পারি?
৩জন দরজার দিকে তাকালো। দেখলো কবির দারিয়ে আছে ।
নিহাল: কবির ফয়সাল খান?
.
( মেরিন নামের অর্থ হলো জাহাজ। আর কালকে থেকে regular গল্প দেয়ার চেষ্টা করবো । আর আমার problem টা বোঝার জন্য অনকগুলা ধন্যবাদ। )
চলবে...
তোমার নিসা
.
গায়ে হলুদের স্টেজ থেকে ওয়াশরুমে যাওয়ার বাহানা করে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে বাস স্ট্যান্ডের সামনে গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে রয়েছে নিসা। লাল পাড়ের কাচা হলুদের মাঝে সবুজ রঙা শাড়িটির কুচি একহাতে চেপে ধরে অন্যহাতে আঁচল টেনে মুখের একাংশ ঢেকে একবার রাস্তার ডান পাশে তো একবার বাম পাশে তাকিয়ে সময় গুনতে লাগল কাঙ্ক্ষিত মানুষটি আসার।
সন্ধ্যার আকাশ রাতের কোলে ঢোলে পড়তেই ব্যস্ত শহরের ব্যস্ত মানুষগুলো যেন দিনশেষে স্বস্তি খুঁজতে নিজের নীড়ে ফেরার উদ্দেশ্যে হুড়মুড়িয়ে পড়ছে মাঝ রাস্তার যান্ত্রিক শক্তির পেছনে। শত শত গাড়ি আসছে আর যাচ্ছে কিন্তু তার মধ্যে একটি গাড়িও নিসার অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারেনি। হঠাৎই রাস্তার বা পাশ থেকে ইউটার্ন নিয়ে ডান পাশে একটি কালো রঙের বাইক আসতে দেখে নিসার বুকটা ধক করে উঠল। চোখেমুখে হাসির ঝলক ফুটিয়ে কয়েক পা সামনে এগিয়ে মুখের আঁচল টেনে অস্পষ্ট স্বরে বলল,
"প্রণয়!"
"হ্যাঁ, দ্রুত বাইকে উঠো।"
নিসা কোনো কথা না বলে তড়িঘড়ি করে বাইকে উঠে বসে পড়ল।
কিছুটা দূরে যেতেই বাইক চালানোর ফাঁকে প্রণয় ঘাড় কাত করে বলল,
"আমাকে আসতে দেখে এতো অবাক হয়েছিলে যে, কী ভেবেছিলে তোমাকে ঘর থেকে বের করে আমি আর আসব না?"
"না,মোটেও না। এসব ভাবা তো দূরে কথা, মনের অজান্তেও কখনো একটিবারের জন্যও এই কথাটি মনে আসেনি।"
"যদি এসব ভাবনা মনের কোণে না-ই এসে থাকে তাহলে একটু আগে আমাকে ওমন করে দেখছিলে কেন?"
"এটাও বুঝি এখন খুলে বলতে হবে?বাসা থেকে সেই কখন পালিয়ে এসেছি। এতক্ষণে হয়তো বাসায় সবার খবরও হয়ে গিয়েছে আমি ঘরে নেই। আর সেই সুবাদে এদিকে কেউ না কেউ আসবেই আসবে তখন যদি কেউ আমাকে এখানে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখে কী হবে ভাবতে পারছ?তাই তোমাকে দেখে এতটা খুশি হয়েছিলাম।"
"তাই বুঝি?"
"হ্যাঁ হ্যাঁ, তাই।এখন বেশি কথা না বলে সামনে তাকিয়ে ঠিকমতো বাইক চালাও তো। নাহলে দেখা যাবে এক্সিডেন্ট করে এখানেই চিৎপটাং হয়ে আছি।"
"তোমার মুখে কিছুই আটকায় না নিসা?রাস্তাঘাটে কেউ এরকম কথা কি বলে?"
"আচ্ছা ভুল হয়েছে। এবার অন্তত সামনে তাকিয়ে বাইকটা চালাও।"
প্রণয় কথা না বাড়িয়ে সামনে তাকিয়ে বাইক চালাতে লাগল।
প্রায় ঘন্টা খানেক পর বাইকটি একটি বাড়ির সামনে থেমে গেল।প্রণয় হ্যালমেট খুলে বলল,
"চলো ভেতরে।"
নিসা বাইক থেকে নেমে শাড়ির আঁচল দুই আঙুলের ফাঁকে পেঁচিয়ে আমতাআমতা করে বলল,
"নিশ্চয়ই মা ঘরে আছে এখন যদি হঠাৎ করে আমি ঘরে যাই মা কী ভাববে!"
"কী আর ভাববে, এই যে তার যুবক ছেলে অন্যের ঘরের যুবতী মেয়েকে হলুদ সন্ধ্যার আসর থেকে ভাগিয়ে নিয়ে এসেছে। হো হো....."
"এই মুহূর্তেও তোমার হাসি পাচ্ছে?যেখানে কি-না আমি টেনশনে মরছি সেখানে তোমার হাসি পাচ্ছে?"
" হাসি পাওয়ার মতো প্রশ্ন করো বলেই হাসি পাচ্ছে নয়তো কি পেত?"
"মানে!"
"তুমি কি ভুলে গিয়েছ ফ্ল্যাটে আমি একা থাকি?"
জিহবায় কামড় বসিয়ে নিসা মুখ কাচুমাচু করে বলল,
"সত্যি, আমি না ভয়ে,চিন্তায় একবারে ভুলেই গিয়েছিলাম তুমি একা থাকো।"
দরজার লক খুলে জুতো একপাশে রেখে প্রণয় নিসার সামনে হাত বাড়ালো।
"নীল পাথর, নতুন করে স্বাগতম জানাই আমার ভুবনে। চোখ ধাঁধানো তোমার নীলচে আভা দিয়ে ছড়িয়ে দাও প্রশান্তির হাওয়া এই মন পাজরে।"
প্রণয়ের হাতে হাত রেখে নিসা উৎকন্ঠা স্বরে বলল,
"বাব্বাহ! এখনের ভেতর তাল মেলানো ছন্দও বানিয়ে ফেলে?"
"না,বানিয়েছি বললে ভুল হবে। এটা আমি বানাইনি। হঠাৎ করে মনে আসল সঙ্গে সঙ্গে মুখে বলেছি এই যা এর থেকে বেশি কিছুই না।"
"তারপরও বেশ ভালোই হয়েছে। আচ্ছা, একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"
"কোনোকিছু জিজ্ঞেস করতে অনুমতি আবার কবে থেকে নেয়া শুরু করলে?"
মৃদু হেসে নিসা বলল,
" তুমি আমায় নীল পাথর বলে ডাকো কেন? নীল পাথর কি তোমার বেশ পছন্দের?"
"পছন্দ না হলে কি আর তোমায় ডাকতাম? আর পছন্দ টাও বড় কথা না, আসল কথা হলো...নীল পাথর সবার কাছে থাকে না আর থাকলেও সবার গলায় মানায় না। কেননা নীল পাথর বেশ দামী আর মূল্যবান।যেটা সবার কাম্য নয়,ঠিক যেমনটা তুমি। তোমার থেকে মূল্যবান আর কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না। তোমার জন্ম সবধরনের পুরুষ মানুষের জন্য হয়নি। তোমাকে বোঝার ক্ষমতা সবার মাঝে নেই। তাই তোমাকে সবসময় নীল পাথর বলে ডাকি। শুধুমাত্র আমার মূল্যবান নীল পাথর।"
"এতটা গভীরভাবে ভাবো কি করে তুমি?"
"আমার গভীর ভাবনা দেখে তুমি আবার আবেগে আপ্লুত হয়ে যেও না। তা নাহলে বিয়ের আগেই নির্লজ্জের মতো রাত কাটবে দু'জনার মাঝে।"
নিসা কিছু বলতে যেয়েও পারল না,লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে যে তার। চুপচাপ রুমের ভেতর চলে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে ভিড়িয়ে দিল।
এদিকে নিসার লাজুক মুখ দেখে প্রণয় মুখ চেপে হেসে পাশের রুমে চলে গেল।
.
রাতের ঘন আঁধার সরে রোদের হাতছানি মিলতেই ঘুম ভেঙে যায় প্রণয়ের। আড়মোড়া ভেঙে বিছানা ছেড়ে উঠতে নিলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে রাতে নিসার সেই বউ সাজে মনকাড়া লাজুক চাহনির মুহূর্তের কথা। হঠাৎই ভ্রু কুচকে গেল তার। মনে মনে বলল,
"ইশ!কী ভুলটাই না করেছি কাল। নিসা কে দেখতে এত সুন্দর লাগছিল আর আমি কিছুই বললাম না!এটা কী করে সম্ভব হলো?না,কাজটা একদমই ঠিক হয় নি। তবে রাতের করা ভুল শুধরে নিতে আজ তো বলতেই পারি। হ্যাঁ, আজই বলব আর এখনই বলব। দেরি হলে যদি অভিমান করে নিসা রাগ করে বসে!"
ভেবেই বিছানা ছেড়ে উঠে হাতমুখ ধুয়ে এগুলো নিসার ঘরের দিকে। বাহির থেকে দরজা হালকা ফাঁক করতেই প্রণয় হা হয়ে গেল।সে কি সঠিক দেখছে না ভুল,এখনো বোধগম্য হচ্ছে না তার।চোখ কচলাতে কচলাতে ধীর পায়ে ঘরের ভেতর এসে নিসার মাথা বরাবর দাঁড়িয়ে মুচকি হেসে সামান্য ঝুঁকে বলল,
"নিসা!নিসা!"
প্রথম ডাকের পর দ্বিতীয় ডাক দিতেই ধরফরিয়ে নিসা শোয়া থেকে উঠে বসে পড়ল। এলোমেলো চুলের ভাজে হাত গুঁজে হাই তোলার মাঝে বলল,
"সকাল হয়ে গিয়েছে বুঝি?"
"বাহিরের ঝলমলে আকাশ যেভাবে চোখে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে, দেখে তো মনে হচ্ছে সকাল হয়েই গিয়েছে।"
"কথা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলার অভ্যাসটা কি তোমার যাবে না?"
"অভ্যাস জিনিসটা মানুষ জন্মলগ্ন থেকে নিয়ে আসে জানো না? সে যাই হোক,তোমাকে কিন্তু দেখতে বেশ লাগছে। এসেছিলাম বউ সাজে রাতের সৌন্দর্যের প্রশংসা করতে কিন্তু,এসে যে তোমার আরেক আগুন রূপ দেখতে পাবো সেটা তো কখনো ভাবিই নি।"
প্রণয়ের কথা শুনে নিসা বুঝতে পারল না তার এই আগুন রূপের বর্ননা কিসের ভিত্তিতে দিয়েছে সে। তাই নিসা নিজেই এর রহস্য উদঘাটন করতে ঘাড় নিচু করে নিজের মাথা থেকে পা অবধি ভালো করে তাকাতেই তার চোখ যেন ছানাবড়া হয়ে যায়! একবার নিজের পরনের জামার দিকে তো একবার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রণয়ের দিকে তাকিয়ে বিছানার একপাশে থাকা কাঁথা টি ঝট করে হাতে তুলে নিয়ে নিজেকে ঢেকে ফেলল নিসা।
"আরে আরে,কাঁথা মুড়ি দিলে কেন?বেশ তো লাগছিল দেখতে। আর সবচেয়ে ভালো লাগছিল তোমার ওই বুকের মাঝের লম্বা ভাজ টা। জাস্ট পাগল করে দেয়ার মতো। তাই ভাবছি এখন থেকে তোমাকে আমার কাপড় পড়িয়েই রাখব। তাতে হবে কী,তোমার জন্য আলাদা কাপড় কিনে টাকা নষ্ট করার প্রয়োজন পড়বে না আবার কারণে অকারণে তোমার প্রেমে পাগল হতে সময়ও লাগবে না। কী বলো?"
"প্রণয়!" নিসা মুখ গোমড়া করতেই প্রণয় বিছানার একপাশে বসে বলল,
"তোমার জামার প্রয়োজন আমাকে বলোনি কেন?আমি না-হয় নানান ঝামেলায় কাপড়ের কথা ভুলে গিয়েছি কিন্তু তুমি যখন রাতে চেঞ্জ করবে ভেবেছিলে তোমার তো একটিবারের জন্যও হলেও মনে করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন ছিল আমাকে, তাই না?"
"বলে কী হবে তুমি কি ওতো রাতে আমার জন্য মার্কেটে গিয়ে কাপড় এনে দিতে?না-কি তুমি কাপড় কিনবে বলে দোকানদাররা তোমার জন্য না ঘুমিয়ে দোকান খুলে বসে থাকত?"
"সেই চিন্তা তো তোমার না,আমার কি করতাম আর কি না করতাম সেটা না'হয় আমার উপরই ছেড়ে দিতে।"
এইটুকু বলে প্রণয় এগুলো পড়ার টেবিলের কাছে। একটি খাকি প্যাকেট নিসার সামনে ধরে বলল,
.
.
চলবে.....
তোমার_নিসা
পর্ব - ১
.
(তোমার_নিসা গল্পটি প্রথমে একটু বোরিং লাগলেও ধীরে ধীরে এর কাহিনী বুঝতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। তাই প্রথম পর্ব পরেই হতাশ হবেন না।)
নেতার রাগী মেয়ে
নেতার_রাগী_মেয়ে
#পর্ব ১৫+১৬
পরেরদিন ভার্সিটিতে গেলাম৷আর তখনই আরেকটা মজার ঘটনা ঘটল৷মিমের কথায় আমিও আবারও শকড খাইলাম৷আজকে নাকি ওরে ফুসকা খাওয়াতে হবে,শালার এই মাইয়াডা অনেক জ্বালাইতাছে এমনভাবে এমন সব আবদার করে যেন,ওনি আমার জিএফ
যাই হোক বেষ্টু বলে কথা৷তাই রাজি হলাম৷কিন্তু ফুসকা খেতে গিয়ে পড়লাম এক ঝামেলায়৷
কারন ঝামেলা তো হবেই৷যেই রাক্ষসির সাথে যাচ্ছি ,সে একাই তো সব খেয়ে ফেলবে৷এরই মধ্যে আমার হারামী ফ্রেন্ডগুলোও হাজির৷পকেটে তেমন টাকাও নাই,এখন কি যে করি?
যে টাকা আছে ওই গূলো নিয়েই গেলাম৷সাথে রনী,নিলা,জয়,সজীব,মীমসহ আরও অনেক হারামি বন্ধু৷প্রায় ৭-৮ জন গেলাম৷
ফুসকাওয়ালার মামার কাছে যেতেই বুকটা ধুরুধুরু করছে৷পকেটে টাকা না থাকলে তো করবেই৷ সাথে সাথেই একটা বুদ্ধি পেলাম৷সবাইকে খুব ভাল করেই বলে ঊঠলাম
.
--মামারা,আজকে একটু ঝাল করে ফুসকা খাবো,দেখি কে কত ঝাল খেতে পারে,যে বেশি ঝাল খেতে পারবে তার জন্য এক্সট্রা খাবার আছে(আমি)
--বলিস কি মামা?আরও খাওয়াবি?(জয়)
--হুম খাওয়াবো,কিন্তু ঝাল তো তোরা বেশি খেতে পারিস না৷(আমি)
--যদি খেতে পারি তাহলে ,আরও খাওয়াবি কিন্তু(মিম)
--হায় আল্লাহ,এই রাক্ষসি না জানি কি করে ফেলে(মনে মনে বললাম)
--কি রে কি ভাবছিস,আমরা রাজী,(মিম)
--কিছুনা,তোরা রাজী থাকলে আমিও রাজি৷
বলেই ফুসকাওয়ালা মামার সামনে গেলাম৷
আর মামাকে কানের সামনে গীয়ে আস্তে আস্তে বললাম
(মামা সবার ঝালটা একটু বাড়িয়ে দিবেন৷আর একটা ফুসকায়,আপনার যত ঝাল আছে,সব দিবেন,)
ফুসকাওয়ালা তাই করল৷সবার সামনে ফুসকা দেওয়া হলো আর সবাই খাওয়া শুরু করল৷আর আমি মিমের খাওয়া দেখতে লাগলাম কারন মিমের ফুসকায় অনেক ঝাল দেওয়া আছে?
খাওয়া শুরু হলো,মিম এমন ভাবে খাওয়া শুরু করল আমার চোখ আসমানে উঠে গেল,শালার রাক্ষস কী জিনিস মিমকে না দেখলে বুজতেই পারতাম না৷ওই ঝাল ফুসকাই চেটে পুটে খেয়ে ফেলছে,আর অন্য দিকে যাদের কম ঝাল দেওয়া তারা সবাই ঝালের দাপটে কান্না করে দিছে৷
হঠাৎ মিম বলে উঠল
,
--কিরে তন্ময়,আমি তোর শর্ত পূরন করেছি,এবার আরও খাওয়া(মিম)
--হুম,বল কি খাবি(আমি)
--আমি এখন... প প প প প পা পান পানিইইইইইইইই খাবো
বলেই গরুর মত চিৎকার শুরু করে দিল
--এই কি হইছে মিম?(আমি)
--পা পা পানি দে,ঝ ঝা ঝাল,মরে গেলাম,ওরে বাবারে ,বাঁচা
.
খেয়াল করলাম মিম তো কান্না করে দিতাছে,কি যে করি?
আল্লাহ বাঁচাও৷
ফুসকাওয়ালা মামার কাছেও বেশি পানি নাই৷
মিম পানি না পেয়ে শেষমেষ দোকানের ফুসকাই উরাধুরা খাওয়া শুরু করে দিল৷
একেবারে দোকানের বেশি অর্ধেক ফুসকা মিম ওই ভাবেই খেয়ে ফেলল৷
এবার কি করি?
অর্ধেক ফুসকা খাওয়ার পর মিম বলে উঠল.
.
--তন্ময় তুই বিলটা দিয়ে আয়,আমার ঝাল লাগছে মিষ্টি খেতে হবে(একটূ নরম সুরে)
--হুম,তোর ঝাল লাগতাছে?দাড়া আমি পানি আনতাছি(আমি)
--পানি ত আর লাগবেনা৷
--কেন তোর ঝাল শেষ হয়ে গেছে?
-মিষ্টি খাবো৷মিষ্টির দোকানে নিয়া যা
---পানি আনি?
--না৷তোর মিষ্টি খাওয়ানো লাগবো না৷আমি গেলাম
বলেই সেখান থেকে মিম চলে গেল৷আর আমি আমার পকেটের শেষ সম্বলটুকু শালার ফুসকাওয়ালাকে দিয়ে এলাম৷আল্লাহ গো?চাইলাম কি আর দিলা
কি?মনে করছি ঝালে ধরলে পানির জন্য এখান থেকে চলে যাবে কিন্তু তা না করে ফুসকা তো আরও খাইলো৷
২কেজি ২০০ গ্রাম কষ্ট নিয়ে ভার্সিটির মাঠে বসে রইলাম৷ঠিক তখনি পিছন থেকে বলে ঊঠল
--তন্ময়য়য়য়য়?
--কিরে এখনো ঝাল লাগছে?
--কিসের ঝাল?আমি তো ঐ সময় খাবার জন্যই অভিনয়টা করলাম৷
--মানে?
--তারমানে কিছুই না,আসলে আমাকে ঝাল ফুসকা দেওয়ার কথা থাকলেও ,ফুসকাওয়ালা মামা কিন্তু তা করেনি,ওনি আমাকে একদম ভালোভাবে ফুসকা বানিয়ে দিছে,আর আমি জানতাম তুই এমন টাই করবি?(মিম)
--মানে?(আমি)
--মানে টা খুব সহজ,তুই যখন ঝালের কথা বলছিলি ঠিক তখনই তোর মতি গতি বুঝে ফেলছি আর তখন মামাকে ইশারা দিলাম যেন তোর কথায় আমাকে ঝাল না দেয়৷আর তাই হলো,আর ওনাকে আমি আগে থেকেই চিনি,যার কারণে তোর কথা না শুনে.........হি হি হি
,
হায় আল্লাহ মুই কোনে যামু?মোরে বাঁচাও একটু৷নয়ত মুই পান খাইয়া মইরা যামু..
মিম চলে গেল আর আমি মাঠেই দাড়িয়ে রইলাম৷
না এর একটা উচিৎ জবাব দিতে হবে৷
আমার টাকাগুলো নষ্ট করছে ও....
পরেরদিন ও একটা নতুন আইফোন কিনছে৷আর আমাকে দেখাচ্ছে,আমি যতটুকু জানি মিম আইফোন সম্পর্কে বেশি ধারনা নাই৷তাই একটা ফন্দি আটমু৷আর প্রতিশোধ নিমু হি হি হি
--তন্ময়,দেখ দেখ,আমি আইফোন কিনছী(মিম)
--অনেক ভালো করছোছ৷দে তো দেখি একটু৷
তারপর ফোনটা হাতে নিয়া,লাগাইয়া দিলাম একটা লক ৷এবার মিমের কাছে কিছু খোয়াইতে পারমু৷ হি হি
বেশ আরামে দুপুরে ঘুম দিচ্ছিলাম। ঠিক তখনই পরানের বান্ধুবি ফোন দিয়া কইল,
- বিরাট প্রবলেম হইসে দোস্ত!
- কি হইসে রে ফকিন্নী?
- আমার মোবাইল কিভাবে যেন লক হয়ে গেছে। সিকুরিটি কোড চাচ্ছে!
- হাই হাই! তোর মোবাইল গেছে রে গেছে! সিকুরিটি কোড চাওয়া তো ভাল লক্ষণ না।
- মানে? গতকালই কিনলাম। আজ কি হল? ক্লাশেই তো তুই দেখলি মোবাইল ঠিক ছিল।
- হ্যাঁ। তখন তো ঠিকই ছিল।
- এখন কি হবে?
.
মিমের কাঁদো কাঁদো অবস্থা। আমি সান্তনা দিয়ে কইলাম, 'চিন্তা করিস না। বিকালে বের হ। দেখি কিছু করতে পারি কিনা।' ফোন কেটে দিয়ে মনে মনে চিক্কুর দিলাম। নতুন মোবাইল কিনসে মেয়েটে। কিছু জানে না! তাই বাঁশ দেয়ার উদ্দেশ্য ওর ফোনে কোড সেট করে দিলাম। যাক বিকালে ভরপেট খানাপিনা হবে। এর আগেও টুকিটাকি আমার টাকা মারছে ও। আজ বড়সড় ওর টাকা শেষ হবে। .হিহিহি
বিকাল ৫টা। মিমের ফোন চেক করে কইলাম,
-- সমস্যা জটিল।
- তুই দেখ পারবি পারবি।
- পারব কিনা জানি না। তবে দোকানে নিয়ে গেলে ২ হাজারের নিচে সারাবে না।
- এত টাকা নাই তো! তুই কিছু কর দোস্ত। .
মিমের আকুতি মিনতি দেখে পৈশাচিক মজা লাগতেসে।মনে মনে বললাম,আমার টাকায় বুদ্ধী কইরা ফোসকা খাইছোছ৷এবার বুঝ কেমন লাগে টাকা হারানোর যন্ত্রনা৷হা হি হি
- ঠিক আছে। যদি ঠিক করে দিতে পারি তাইলে খাওয়াতে হবে। মিনিমাম ৫০০! - তুইও আমাকে ছাড়লি না।
- রাজি থাকলে ১ চাপুন, নাহলে ২.. - ওকে যা রাজি। যা ইচ্ছা খাস। .
মিমের ফোন নিয়ে গুতাগুতি শুরু করলাম। ভাবটা এমন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। পরে সঠিক কোড প্রবেশ করিয়ে লক খুলে দিলাম।
- মিম কাজ শেষ।
- ওয়াও। তুই কি ট্যালেন্ট। আমি জানতাম তুই পারবি।
- চল এখন খাওয়াবি।
- ওকে চল।
.
রেস্টুরেন্টে গেলাম। সেই খানাপিনা করলাম। একা খাওয়াটা খারাপ। বেচারিও কিছু খাক। ২০% এর মত খেতে দিলাম। বিল আসল ৪৯০! বান্ধুবী ব্যাগ থেকে ৫০০ টাকার নোট বের করে দিয়ে দিল।
.
রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে মিমকে রিকশা ঠিক করে দিলাম।
- তন্ময়, এই দশ টাকা তুই রাখ।
- ধুর বাদ দে।
- না না রাখ। তোর পকেটে টাকা নাই।
- আরে আছে। তুই যা।
- হিহি! নাইরে। বিশ্বাস নাহলে দেখ।
.
আমি মানিব্যাগ খুলে দেখলাম টাকা নাই।
- এই আমার ৫০০টাকার নোট ছিল। কই গেল?
- ধান্দাবাজি কি তুমি একাই পারো। আমিও পারি তন্ময়
- মানে?
- মানে আর কি! সকালে যখন মোবাইল নিলি বুজলাম, তুই একটা আকাম করবি। পরে ব্ল্যাকমেইল করবি। তাই টুক করে তোর মানিব্যাগ থেকে ৫০০ টাকা সরিয়ে নিসি।
- কি কস?
- ইহাই সত্য বাছা। নে এই দশ টাকা দিয়ে বাড়ি যা।
.
মিম দশ টাকা হাতে দিয়ে চোখ টিপে চলে গেল। আমি ব্যাক্কল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। এ কেমন বিচার!আমি মাথায় হাত দিয়া সেখানেই অজ্ঞান। আমাকে কেউ এক চা এনে দাও ,খাইয়া মইরা যাই। আপনেরা কেউ মেয়েদের বিশ্বাস কইরেন না।
মুই মিমরে বিশ্বাস কইরাই বাশ খাইতাছি,
চলবে...
১৫তম পর্বের পর থেকে.
,
মিমকে বিশ্বাস কইরাই বাশ খাইছি ঠিক পরক্ষনেই মনে হলো নিজের দোষের সাজা পাইছি,বিশ্বাস করে তো কোনো বাশ খাই নাই৷অতি চালাকি করতে গিয়া বাশ খাইছি,
কথায় আছে অতি চালাকের গলায় দড়ি
কিন্তু আমার তো দেখি পকেট খালি!
.
কি যে করমু?না আর এমন করমু না৷সহজ সরল ভাবেই আগের গেরাইম্মাল মাল হইয়া যামু
৷সবাই এক নামে আবার আমাকে চিনবো,
""গেরাইম্মা মাল,জেজাল ছাড়া অরিজিনাল""
.
রাতের প্রায় ২টার সময় হঠাৎ ফোনটা ক্রিং ক্রিং বেজে উঠল৷
খেয়াল করলাম মিম ফোন দিছে৷
কেন জানি ওর ওপর রাগ হলো৷হয়ত এখন ফোন দিয়া কইবো একটা গল্প শোনা,তাই ফোনটা রিসিভ করলাম না৷কয়েকবার ফোন আসলো কিন্তু রিসিভ করলামই না৷
একটু পরই মনটা খারাপ হয়ে গেল,""ধুরর ফোনটা রিসিভ করাই ভালো ছিলো"৷
মনে মনে নিজেকে একটু বকা দিতে লাগলাম৷
তখনি দেখি আবার কল,
ফোনটা ধরলাম,
,
--হ্যালো মিম,এত রাতে ফোন দিছোছ কেন(আলগা রাগ দেখাইলাম)
.
--ভাইয়া আমি মিম না,আপনি একটু তাড়াতাড়ি সদর হাসপাতালে আসেন(ওপাশ কান্নার আওয়াজ)
.
--কেন কি হইছে?
.
--যা বলছি তাড়াতাড়ি আসেন৷সময় নাই
.
বলেই ফোনটা কেটে দিল৷
তখন মনের ভিতর কেন জানি ভূমিকম্প শুরু হল,কি হইছে মিমের?কেন হাসপাতালে আমাকে যেতে বলছে?
মাথাটা পুরাই ওলট পালট হয়ে গেল৷
কি করব বুঝতেই পারছিনা৷আর
কোনো কিছু না ভেবে সদর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে দৌড় দিলাম৷গুটি গুটি পায়ে যেন হাটছি,যেন পা চলছেই না,হাটার শক্তিও কেন জানি পাচ্ছি না,রাস্তায় তখন গাড়িও দেখছি না৷আজকে মনে হয়ে সব ড্রাইবার মরছে,
.
আমি দৌড়াচ্ছি কিন্তু পা বেশি চালাতে পারছিনা৷
কোনোভাবে দৌড়ে হাসপাতালে ডুকলাম৷
ঠিক তখনই সামনে দেখি নিলা,
-আরে নিলা,তুমি এখানে?মিম কই?ওর কিছু হয়নি তো?
.
--(নিলা চুপ করেই আছে)
.
--কথা বলছো না কেন?
.
-ভাইয়া তাড়াতাড়ি ভিতরে যান
,
--আরে কি হইছে সেটা তো বলবা(মাথা ঘাবরে যাচ্ছে)
.
---আসলে রাতের বেলা মিম যখন রুমে গিয়ে ঘুমাচ্ছিল ঠিক সেই মুহূর্তে একটা আওয়াজ পায়,আর সেখানে গিয়েই দেখে মিমের বাবা মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে৷
আর মিম তখনই আমাকে কল করল আর সবাই মিলে ওর বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে আসছে(কান্না করতে করতে নিলা বলল)
.
--কিন্তু মিমের বাবার কি হইছে?
--হয়ত কেউ ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে চলে গেছে
.
--আরে ,বাসার ভিতর কিভাবে আর দাড়োয়ান কই ছিল?
.
--ভাইয়া এখন এত কিছু বলার সময় নেই৷চলুন ওদের কাছে আর মিমের বাবাকে বাঁচাতে হবে
.
--হুম
.
তখনই মিমের বাবার কাছে যাবো ঠিক তখনই দেখলাম মিম জ্ঞান হারিয়ে বেডরুমে পড়ে আছে আর ওকেও ডাক্তাররা চিকিৎসা করছে৷
এই মুহুর্তে মাথাটা একদমই ঠিক রাখতে পারছিনা৷বুকের ভিতর অনেক কষ্ট হচ্ছিল৷
তখন নিলাকে বললাম
,
--মিমের বাবা কোথায়,আর ওনি এখন কেমন আছে?
.
ঠিক তখনই নিলা হাউমাউ করে কেদে উঠল
.
--আরে কান্না করছো কেন?না বললে কিছু বুঝব কি করে?(আমি চিৎকার করে বলে উঠলাম)
,
--আসলে ভাইয়া মিমের বাবাকে নাকি রক্তের অভাবে মরে যেতে হবে(কান্না করতে করতে)
.
--মানে?কি বলছো এগুলো?
.
--হুম ভাইয়া,ওর বাবার রক্তের গ্রুপ কারো সাথেই মিলছে না৷আর প্রায় সব হাসপাতালে খোজ করেও রক্ত পাওয়া যায়নি৷
.
--কি বলছো?ওনার রক্তের গ্রুপ কি?
.
--আসলে ভাইয়া আধাঘন্টার মধ্যে যদি ২ ব্যাগ (O-)ও নেগেটিভ রক্ত না যোগাড় করা যায়,মিমের বাবাকে আর বাঁচানো সম্ভব হবে না
.
--এটা হতে পারেনা৷মিমের বাবা বাঁচবে,ওনার কিছু হতে পারেনা
.
--ভাইয়া আমরাও তো তাই চাই কিন্তু এই গ্রুপের রক্ত কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না?আর এত কম সময়ে কিভাবে পাবো?
.
বলেই নিলা আবারও কান্না করে দিল
.
--একদম কান্না করবে না৷রক্ত আমি দিবো৷আমার রক্তের গ্রূপ ও নেগেটিভ৷
,
--তাহলে ভাইয়া এক্ষনি চলুন
,
আর দেড়ি করলাম না৷
রক্ত দেওয়ার জন্য ভিতরে গেলাম৷
এক ব্যাগ রক্ত নিয়ে ডাক্তাররা অপারেশন রুমে চলে গেল৷কিন্তু মুহুর্তেই আবার ডাক্তার আসল৷আর বলে উঠল আরও এক ব্যাগ রক্ত লাগবেই লাগবে৷তাও আবার ১৫মিনিটের মধ্যে৷
মাথাটা এমনিতে ঘুরাচ্ছে,আর রক্ত দেওয়ার পর আরও বেশি৷
সব বন্ধুকে ফোন দিলাম সবাই আসতেছে কিন্তু কারও এই গ্রূপের রক্ত নেই৷
আস্তে আস্তে ১৫মিনিট প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে,ডাক্তার এসেই বলল
,
--রক্ত কি যোগার হইছে(ডাক্তার)
.
--না,এখনও তো হয়নি(আমি)
.
--দেখুন আর মাত্র কয়েক মিনিট সময় পরে আমরা আর কিছুই করতে পারব না
.
কথাটা শুনে মাথাটা আরও ঘুরে গেল,আজ যদি নিজের বাবা হত?পারতাম নিজের জীবন ভালো রেখে বাবাকে মরে যেতে দিতাম নাকি?পারতাম না৷আর মিমের বাবা মানে তো আমারও বাবার মতই৷তাহলে এত কিছু ভাবছি কেন?তখনি সিদ্ধান্ত নিলাম৷আরেক ব্যাগ রক্ত আমি নিজেই দিবো৷আর তখনি ডাক্তার কে বললাম
,
--ডাক্তার আর দেড়ি করার দরকার নেই৷আমার কাছ থেকে আরেক ব্যাগ রক্ত নেন(আমি)
.
--আপনি কি পাগল হইছেন নাকি?
আরেক ব্যাগ রক্ত নিলে,আপনার জীবন নাশেরও আশংকা আছে৷(ডাক্তার)
.
--ভাইয়া,আপনি এত বড় ঝুকি কেন নিচ্ছেন(নিলা)
,
--তন্ময়,এত বড় ঝুকি নেওয়া ঠিক না৷চল রক্তের খোজ করি(রনী)
.
--না রে৷আর দেড়ি করা একদমই ঠিক হবে না৷ডাক্তার আপনি আমার রক্ত নেন
.
--না আমি পারব না(ডাক্তার)
,
--আপনাকে নিতেই হবে,নাহলে আপনার অবস্থাও অনেক খারাপ হয়ে যাবে,ওনার যদি কিছু হয় আপনাকে আমরা ছাড়ব না(আমি)
.
অনেক বার বলার পর রাজি হলো৷
আমার শরীর থেকে আরও এক ব্যাগ রক্ত নেওয়া হলো৷
মিমের বাবার অপারেশন করা হলো৷
কিন্তু আমার আর কিছুই মনে নেই৷
যখন জ্ঞান ফিরল
তখন সামনে দেখি মিম,রনি,নিলা সবাই কান্না করছে,আর আমার হাতে ,পায়ে স্যালাইন লাগানো৷
.
আমার জ্ঞান ফিরার পর রনি এসে বলল
--ভাই তুই ঠিক আছিস তো?এখন কেমন লাগছে?(রনী)
,
--হুম ভালো৷
.
তখন খেয়াল করলাম মিম কান্না করেই যাচ্ছে,
আমি মিম কে ডাক দিলাম
--এই মিম,তুই কান্না করছীস কেন?দেখ
আমি ঠিক আছি তো,আর আংকেল কেমন আছে?ভালো আছে তো?
.
--আংকেল পরে দেখ!আগে নিজে ঠিহ(মিম)
.
--দেখ এসব বলবি না,আংকেল ঠিক আছে কি না সেটা বল
.
--তোর পাশের সীটে দেখ
.
--আমার পাশের সীটে দেখব কেন?
.
--আরে পাশের সীটে দেখ তো
.
তখন খেয়াল করলাম একজন মধ্যবয়স্ক মানুষ বেডে বসে আছে আর আমার দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ছেড়ে দিছে
.
--একি আপনি কান্না করছেন কেন আংকেল?(এক বেডে শুয়ে অন্য বেডের আংকেলকে বললাম)
.
--জানিনা বাবা,তুমি কোন মায়ের সন্তান,তোমার বাবা কেমন?কিন্তু তোমাকে দেখার পর যা বুঝেছি,কোনো ছেলেও তার বাবার জন্য এত বড় ঝুকি নিয়ে অন্যজনকে বাঁচাবে না৷ আর তুমি......
.
--আংকেল এগূলো বলে লজ্জা দিবেন না৷আপনিও আমার বাবার মতই,আর সব
চাইতে বড় কথা এটা আমার কর্তব্য৷
আর আপনাকে কেন ?আর কে মেরেছে?
.
--বাবা,ওইটা বুঝবেনা,রাজনীতী করলে এমনই,
আচ্ছা তুমি এখন রেস্ট নাও৷
এমনিতেই ১৫দিন ধরে অজ্ঞান ছিলে,
.
--কিহহহহহহ?পনের দিনননননননননন!আল্লাহ বাসায় তারমানে পনেরদিন ধরে কথা বলিনি?মা বাবা কত চিন্তা করবে?কে জানে?
রনি আমার ফোনটা দে,বাসায় একটু কথা বলি,এমনিতেই অনেক চিন্তায় আছে রে(আমি)
-
--আরে ওইটা নিয়া চিন্তা করিস ণা,যা বলার আন্টিকে বলে দিয়েছি,ওরা চিন্তা করছেনা৷সব ঠিক করে রাখছিরে(রনি)
.
--ওপস বাচাইলি৷
.
--তন্ময় ,তুই এখন রেস্ট নে (রনি)
বলেই সবাই চলে গেল৷আমি শুইয়ে আছি৷ঠিক তখনই মিম বলে উঠল
,
--এই পাগল,এত বড় ঝুকি নিলে কেন?
.
--এখন এসব কথা বাদ দাও৷
.
--হুম৷তুমি রেষ্ট নাও
.
--আর কত রেষ্ট নিমু?১৫দিন ধরে নাকি অজ্ঞান হয়ে আছি,তাহলে তো অনেক রেষ্টই নিয়েছী৷কীন্তু আমার হয়েছিল কি?
.
--আসলে তোমার শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্ত নেওয়ায় তুমী রক্তশূন্যতায় পড়ে গিয়েছিলে,
তাই এমন হইছে, আর চিন্তা করো না,সব ঠিক হয়ে যাবে,
.
--হুম
.
এর পর আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে পড়ি
আর এর পরই একদিন মিম বলে উঠে
.
--তন্ময়,তোর এই ত্যাগ কিভাবে যে শোধ করবো?
.
--দেখ মিম!এগুলো বলবি না,আমরা ফ্রেন্ড,আর ওনার জায়গায় আমার বাবা থাকলে.তুই চুপ করে থাকতে পারতি?
.
-কিন্তু?
.
--কোনো কিন্তু না৷এগুলো বাদ দে৷আর আমরা আবার আগের মত মজা,আড্ডা সব করব৷বুঝেছিস?
.
--হুম.
.
কিছুদিন পর.
এখন আমি মিমের বাবার চোখের মনি হয়ে গেলাম৷
মিমের বাবা আমাকে এখন অনেক আদর করে৷নিজের সন্তানের মতই৷
যাই হৌক,সুস্থ হয়ে ভার্সিটিতে গেলাম৷আর আবারও আগের মতই দুষ্টুমী শুরু করলাম৷কিন্তু একটা জীনিস খেয়াল করলাম ,মিম এখন আমার সাথে আরও ঘনিষ্ট হতে চাচ্ছে,
কিন্তু কেন৷তাহলে কি মিম আমাকে ভালোবাসে?
পরক্ষনেই নিজেকে পাগল বললাম,আর ভাবছি বড় লোকের মেয়ে,তারওপর আবার নেতার মেয়ে,
না এটি হতেই পারেনা৷আর মিমের সাথে আমার হয়না৷আমি গ্রামের ছেলে৷আর মিম ....,,.....থাক আপনারা তো জানেনই,বলে লাভ নাই৷
হঠাৎ একদিন সব বন্ধুরা আড্ডা দিতে যাবো ঠিক তখনই নিলা ,আর সজীব সামনে এসে একটা গোপন প্লানের কথা বলল,
প্লানটা শুনে তো হেব্বি মজা লাগছে,এবার আগের মত একটা দূষ্টমি করার সুযোগ পাইলাম৷কাজে লাগাবো৷হি হি হি
তারপর নিলা আর সজীবকে নিয়ে আরেকটা প্লান করলাম৷
এবার খেলা জমবে!!!!!!!!!
শালার এত দূষ্টু বুদ্ধী ?তাও আমার সাথে?
একটু মজা নেওয়া যাক৷
,
তারপর ভার্সিটির মাঠে গিয়ে সবাই আড্ডা দিচ্ছিলাম৷
আর তখনই সবার সামনে মিম হঠাৎ বলে উঠল
.
--তন্ময়,I love U
.
--(কথাটা শুনার পর নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিনা,স্বপ্ন দেখছি না তো?)
.
--কিরে তন্ময়,চুপ কেন?(মিম)
.
--মিম,আবার বল.
.
--I love u tannoy
.
---I love u to mim
.
সাথে সাথেই মিম হেসে বলে উঠল
.
--দেখেছিস সবাই?বলেছিলাম না তোরা বাজিতে হারবি,দেখেছিস তন্ময় রাজি হয়ে গেল হি হি হি
.
--কিরে তন্ময় এত সহজেই পটে গেলি?আর শালা,আমাদের বাজিতে হারিয়ে দিলি?(রনি)
.
সবাই যখন মজা করছিলো ঠিক তখন আবার মিম বলে উঠল.
--তোরা তো দেখলি ,আমি প্রপ্রোজ করা মাত্রই তন্ময় রাজি হইছে,এবার ১হাজার দে রনি,
আর তন্ময় তুই আমার সাথে পটে গেলি দেখছি?
তখনই আমি
.
--হা হা হা হা৷ নিলা,সজীব কই তোরা,এবার আমার ৫হাজার দে(আমি)
.
---কিহহহহহহ?৫ হাজাররররররররররররর(মিম হা করে রইল)
.
--হুম ৫হাজার!তোরা মাত্র ১হাজার টাকার বাজি ধরেছিস,আর আমি ৫ হাজাররররররর(আমি)
.
--কিন্তু সেটা কিভাবেএএএএএ(মিম)
.
.
.
..
চলবে...........
Romantic doctor
#রোমান্টিক ডাক্তার
পর্ব:২০
সকালে ঘুম ভাঙতেই ঘুম ঘুম চোখে রুমের চারপাশে তাকালাম, কাব্য সোফায় বসে ল্যাপটপ টিপছে।
কাব্য: গুড মর্নিং তিলো পাগলী।
আমি: গুড মর্নি... (আশ্চর্য কাব্য এভাবে হাসছে কেন, আমার দিকে না তাকিয়েই ল্যাপটপ টিপছে আর মিটিমিটি হাসছে)
আমি: এই তুমি এভাবে হাসছ কেন? (কিছুনা বলে আরো বেশি হাসছে)
আমি: বলো বলছি কেন হাসছ।
কাব্য: কোথায় আমি হাসছি নাতো। (হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে হাসছে ইচ্ছে হচ্ছে ওকে... হঠাৎ রাতের কথা মনে পড়লো। আমার তো কাব্য'র আগে ঘুম থেকে উঠার কথা ছিল আর ডায়েরি... ডায়েরিটা আছে তো? তাড়াতাড়ি উঠে বসলাম, কোথায় টেবিলে তো ডায়েরিটা নেই)
কাব্য: আরে এভাবে লাফ দিয়ে উঠে বসেছ কেন সমস্যা হবে তো।
আমি: আচ্ছা আমরা তো বারান্দায় ঘুমিয়েছিলাম তাহলে বিছানায় আসলাম কিভাবে?
কাব্য: এই ঠান্ডার মধ্যে তোমাকে বারান্দায় রাখবো আমি পাগল হয়েছি তো। তুমি ঘুমানোর পরই তোমাকে রুমে নিয়ে এসেছি। (তারমানে কাব্য রাতেই ডায়েরিটা সরিয়ে ফেলেছে। এখন কি করবো আমি, দ্যাত নিজের প্রতি নিজের রাগ হচ্ছে ইচ্ছে হচ্ছে নিজেকেই...)
কাব্য: তুমি আবার নিজের উপর রাগ করছ? আমি কিন্তু তোমার রাগে লাল হয়ে যাওয়া নাক দেখে নিজেকে ঠিক রাখতে পারবো না।
আমি: তুমি আবার হাসছ? (আচ্ছা কাব্য এভাবে হাসছে কেন তাহলে কি ও আমার চালাকি ধরে ফেলেছে। দ্যাত আমি চালাকি করতে পারলাম কোথায় কাব্য নিজেই তো আমার চেয়ে বড় চালাক)
কাব্য: তিলো তুমি অসুস্থ রেস্ট নাও প্লিজ, অন্য টেনশন মাথায় এনো না। (অবাক হয়ে তাকালাম কাব্য'র দিকে তারমানে কাব্য সব বুঝে ফেলেছে)
কাব্য: যেভাবে আছি ভালোই তো আছি কেন শুধু শুধু অশান্তি বাড়াচ্ছ?
আমি: অশান্তি আমি করছি না। আর টেনশনের কথা বলছ? আমার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই টেনশন আমি করেই যাবো।
কাব্য: হুম করো কিন্তু মনে রেখো কোনো লাভ হবে না। (কাব্য রুম থেকে বেরিয়ে গেলো)
ডাক্তারবাবু তুমি আমার সাথে যতোই চালাকি করো আমি যখন বলেছি আব্বু আম্মুকে ফিরিয়ে আনবো তাহলে আনবোই।
দুই সপ্তাহ পর...
এই দুই সপ্তাহের ভিতরে কাব্য'কে আর ডায়েরি লিখতে দেখিনি, ভেবেই পাচ্ছি না কিভাবে কি করবো। কাব্য যেহেতু ডায়েরিটা আমার থেকে লুকিয়ে রাখতে চাইছে তারমানে এই ডায়েরিতে কোনো না কোনো রহস্য তো আছেই।
ভাবি: হিয়া কি হয়েছে? (ড্রয়িংরুমে বসে বসে এসব ভাবছিলাম হঠাৎ ভাবির কথা শুনে দরজার দিকে তাকালাম হিয়া ভয়ে দৌড়ে ভিতরে এসে ঢুকেই দরজা লাগিয়ে দিলো)
ভাবি: কিরে হিয়া কি হয়েছে?
আমি: হিয়া কি হয়েছে তুমি এতো ভয় পেয়ে আছ কেন?
হিয়া: আমাকে পানি দাও। (ভাবি হিয়ার জন্য পানি আনতে গেলেন, হিয়া আমাকে জরিয়ে ধরে বসে আছে। আশ্চর্য হিয়া এতো ভয় পেলো কেন?)
ভাবি: এইনে পানি খেয়ে নিজেকে শান্ত করে বলতো কি হয়েছে। (হিয়া ঢকঢক করে পানি খেয়ে আবার আমাকে জরিয়ে ধরলো, কিছুই তো বুঝতে পারছি না)
ভাবি: হিয়া বল আমাদের কি হয়েছে?
হিয়া: শপিং করতে গিয়েছিলাম কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি। যখন শপিংমল থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলাম তখন মনে হলো কেউ আমাকে ফলো করছে। গাড়িও নিয়ে যাইনি তাই তাড়াতাড়ি একটা রিকশা ডেকে উঠে পড়ি। কিন্তু বার বার মনে হচ্ছিল কে যেন আমাকে ফলো করছে, ভয়ে আর পিছন ফিরে তাকানোর সাহস পাইনি। বাসার সামনে এসে যখন রিকশা থেকে নামলাম তখন দুইটা লোক আমার দুইপাশে এসে দাঁড়ালো। বিপদ হতে পারে বুঝতে পেরে একটা লোককে ধাক্কা দিয়ে আমি দৌড়ে চলে আসি আর আসার সময়...
আমি: আসার সময় কি?
হিয়া: একটা লোকের হাতে বোধহয় চাকু ছিল আমি দেখতে পাইনি আমার হাতে লেগে গেছে।
ভাবি: কোথায় দেখি?
আমি: অনেকটা জায়গা কেটে গেছে তো। (হঠাৎ পাশেই রাখা আমার ফোনটা বেজে উঠলো, কাব্য ফোন দিয়েছে)
ভাবি: তিলোত্তমা কে ফোন দিয়েছে দেখ আমি হিয়ার হাত ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছি।
আমি: হুম।
একটু দূর এসে ফোনটা রিসিভ করলাম।
আমি: হ্যালো।
কাব্য: তিলো আজকে ফিরতে পারবো না।
আমি: কেন?
কাব্য: একটু কাজ আছে। (কিসের কাজ এমন যে কাব্য বাসায় ফিরবে না। আচ্ছা ও তো বলেছিল আমি সুস্থ হলে কক্সবাজার যাবে এখন তো আমি পুরোপুরি সুস্থ তাহলে কি ও কক্সবাজার যাচ্ছে)
আমি: আমার থেকে কি লুকাচ্ছ বলো।
কাব্য: কি লুকাবো কিছুই নাতো, কাজ আছে তাই ফিরবো না। (কাব্য যদি সত্যি কক্সবাজার যেতে চায় তাহলে ওকে আটকাতে হবে। হিয়ার সাথে আজকে যা ঘটলো তা আমার কাছে ঠিক লাগছে না, আমি নিশ্চিত এসব ওই মেয়েটার কাজ)
আমি: ডাক্তারবাবু হিয়া হাত কেটে ফেলেছে।
কাব্য: মানে কিভাবে?
আমি: বাসায় আসো তারপর বলছি।
কাব্য: ঠিক আছে আমি আসছি। (ফোন রেখে হিয়ার কাছে আসলাম)
আমি: আচ্ছা হিয়া তুমি লোক দুইটাকে চিনতে পেরেছ?
হিয়া: না অন্ধকারে তো বুঝা যাচ্ছিল না আর মনে হলো দুজনের মুখই রোমাল দিয়ে বাধা ছিল। (আমাকে যারা মেরেছিল তারা নয়তো)
আমি: শপিং করতে গিয়েছিলে তো ছিনতাইকারী হবে, তুমি ভয় পেয়ো না রুমে গিয়ে রেস্ট নাও।
হিয়া: ঠিক আছে।
বারান্দা আর রুমে পায়চারী করছি কিছুতেই শান্ত হয়ে বসতে পারছি না। মেয়েটা অনেক দূর এগিয়ে গেছে, আজ হয়তো হিয়ার তেমন ক্ষতি হয়নি কিন্তু পরে? পরে যে বেশি ক্ষতি করবে না তার কি নিশ্চয়তা আছে? হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো হাতে নিয়ে দেখি অচেনা নাম্বার, এই অচেনা নাম্বার দেখলেই এখন আমার ভয় হয়। ভয়ে ভয়ে ফোনটা রিসিভ করলাম।
আমি: হ্যালো।
--আমি আন্দাজ করতে পেরেছি সেদিন হসপিটালে আমার ফোন কাব্য নয় তুমি রিসিভ করেছিলে। আমি এতোকিছু বলার পরও কাব্য চুপ হয়ে থাকার ছেলে নয়। সেদিন কি কি বলেছিলাম মনে আছে তো? অবশ্য মনে না থাকলেও সমস্যা নেই আজ হিয়ার এই অবস্থা দেখে অবশ্যই মনে পরে গেছে।
আমি: তুমি কে বলতো।
--আমি কে শুনলে চমকে যাবে তারচেয়ে না জানাই ভালো।
আমি: কেন করছ এরকম?
--কাব্য আমার সাথে প্রতারণা করেছে তাই প্রতিশোধ নিচ্ছি ওকে আমি শান্তিতে থাকতে দিবো না।
আমি: কি করবে তুমি হ্যাঁ?
--যা যা করেছি তা থেকে কি আন্দাজ করতে পারছ না?
আমি: দেখো তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে ডাক্তারবাবু কারো সাথে প্রতারণা করতেই পারে না।
--করেছে তো আমার সাথে করেছে।
আমি: যেটুকু বুঝতে পেরেছি তুমি ডাক্তারবাবুর অতীত আ...
--তুমি খুব চালাক মেয়ে কিন্তু তুমি এইটা কেন বুঝতে পারছ না কাব্য আমার লোক গুলোকে খুঁজতে চাইছে আর তাই আমি হিয়ার ক্ষতি করছি। কাব্য'কে নিষেধ করো তাহ...
আমি: অন্যায় যখন করেছ শাস্তি তো তোমাকে পেতেই হবে।
--আমাকে খুঁজে পাবে না তো শাস্তি কিভাবে দিবে? বরং আমি তোমাদের একের পর এক ক্ষতি করেই যাবো।
আমি: ভীতুরা লুকিয়েই অন্যের ক্ষতি করে, সাহস থাকলে সামনে এসে ক্ষতি করো দেখি পারো কিনা।
--এই আমাকে একদম ভীতু বলবি না।
আমি: ভীতু কে তো ভীতুই বলতে হয়। তুমি তো ভয়ে আমার সামনেই আসছ না টাকা দিয়ে লোক কিনে আমাদের ক্ষতি করছ আ...
--খুব শীঘ্রই তোর সামনে আসবো। (ফোনটা কেটে দিলো যাক রাগিয়ে দিয়ে তো একটা কাজ হলো, ও আমার সামনে আসবে ওকে তো চিনতে পারবো)
হঠাৎ কাব্যদের চেঁচামেচি শুনে তাড়াতাড়ি নিচে আসলাম।
তিন ভাই একসাথে চলে এসেছে আর হিয়াকে একটার পর একটা প্রশ্ন করেই যাচ্ছে।
হিয়া: আরে থামো তোমরা। (হিয়ার চিৎকারে সবাই শান্ত হলো)
হিয়া: এভাবে তিনজন একসাথে প্রশ্ন করলে আমি উত্তর দিবো কিভাবে?
ভাইয়া: ঠিক আছে এখন বল তোর হাত কেটেছে কিভাবে।
হিয়া: দুজন লো...
আমি: হিয়াকে রাস্তায় ছিনতাইকারী ফলো করেছিল আর ওদের কাছ থেকে পালিয়ে আসতে গিয়ে কেটে গেছে।
কাব্য: তোকে একা বাইরে যেতে বলেছিল কে অয়নকে বললে তো নিয়ে যেতো আর একা গিয়েছিস তো গাড়ি নিলি না কেন?
হিয়া: কখন থেকে সবাই আমাকে বকা দিয়েই যাচ্ছ, আমার তো তেমন কিছুই হয়নি সামান্য হাত কেটেছে মাত্র।
অয়ন: এক থাপ্পড় দিবো সামান্য কেটেছে বলছে আবার।
আমি: অয়ন কি করছ? যাও তোমরা তিন ভাই এই রুম থেকে বের হও। (সবাইকে জোর করে রুম থেকে বের করে দিলাম)
ভাবি: কেন যে একা একা গেলি।
হিয়া: আমি জানতাম নাকি ছিনতাইকারী ধরবে।
আমি: অয়নকে নিয়ে গেলেই পারতে, দেখছ তো সামান্য হাত কাটাতে তোমার ভাইরা কেমন পাগল পাগল হয়ে গেছে।
হিয়া: হু।
আমি: এখন চুপ করে ঘুমাও।
হিয়া: ঠিক আছে।
রুমে এসে দেখি কাব্য নেই গেলো কোথায়? বারান্দার দরজা খোলা তাহলে মনে হয় বারান্দায়। কাব্য বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে কাঁদছে, হঠাৎ ও কাঁদছে কেন?
আমি: ডাক্তারবাবু।
কাব্য: হুম।
আমি: কি হয়েছে কাঁদছ কেন?
কাব্য: জানো তিলো আমি কখনো হিয়ার গায়ে এতটুকু আছর লাগতে দেইনি আর আজ হিয়ার হাত এতোটা কেটে গেছে।
আমি: এজন্য কাঁদতে হয় পাগল কোথাকার।
কাব্য: কি করবো খুব কষ্ট হচ্ছে যে, হিয়াটাই তো আমার সব।
আমি: হু বুঝতে পেরেছি। (সামান্য হাত কেটে গেছে তাতেই কাব্য কান্নাকাটি করছে এরচেয়ে বড় কোনো ক্ষতি হলে তো কাব্য...)
আমি: আচ্ছা তোমাকে একটা প্রশ্ন করি রাগ করবে নাতো?
কাব্য: উঁহু বলো।
আমি: আচ্ছা তুমি তো আমার প্রথম ভালোবাসা আমিও কি তোমার প্রথম ভালোবাসা? (কাব্য চমকে উঠে আমার দিকে তাকালো)
কাব্য: হঠাৎ এসব জানতে চাইছ কেন?
আমি: বলোনা প্লিজ। (কাব্য'কে পিছন থেকে জরিয়ে ধরে ওর পিটে মাথা রাখলাম, কোনো ভাবে তো জানতে হবে আমাকে মেয়েটা কে)
কাব্য: তুমি আমার প্রথম ভালোবাসা না, এর আগেও আমার একজনের সাথে রিলেশন ছিল।
আমি: তাহলে তাকে বিয়ে করলে না কেন?
কাব্য: ওকে বিয়ে করলে কি আমার তিলো পাগলীকে পেতাম?
আমি: তুমি কিন্তু আমার কথা এড়িয়ে যাচ্ছ, আচ্ছা মেয়েটির নাম কি ছিল?
কাব্য: ওই নোংরা নামটা আমি মুখে আনতে চাই না। (কাব্য আমাকে এক ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে রুমে চলে গেলো)
কিযে করি কিছুই ভেবে পাচ্ছি না। কাব্য তখন রাগ করে বাসা থেকেই বেরিয়ে গেলো, মেয়েটির নাম জানতে চাওয়াতে কাব্য এতো রেগে গেলো কেন বুঝতে পারছি না। দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালাম রাত এগারোটা বাজে, কাব্য এখনো বাসায় আসছে না কেন? হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো, আদনান ভাইয়া এতো রাতে ফোন দিলো কেন?
আমি: হ্যালো।
আদনান: ভাবি কাব্য আমার কাছে আছে টেনশন করোনা।
আমি: ও বাসায় আসবে না?
আদনান: বলেছিলাম ও তো না করছে। আর তুমি হঠাৎ করে ওর অতীত জানতে চাইছ কেন বলতো?
আমি: ওহ এজন্য ও রাগ করেছে?
আদনান: রাগ না ঠিক তবে অতীত মনে পড়লে ও কষ্ট পায় প্লিজ আর কখনো জানতে চেয়ে ওকে কষ্ট দিও না।
আমি: ঠিক আছে ওকে সকালে পাঠিয়ে দিও।
আদনান: ওকে।
আশ্চর্য তো যে কাব্য আমাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারে না সে কাব্য সামান্য অতীত জানতে চাওয়াতে রাগ করে বন্ধুর বাসায় চলে গেলো।
কাব্য যখন বাসায় নেই এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে হবে, এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু ডায়েরিটা পাবো কোথায়? এই রুমে কোথাও আছে বলে তো মনে হয় না।
কি খুঁজছি নিজেও জানিনা শুধু জানি ডায়েরিটা আমাকে পেতে হবে। আর খুঁজতে খুঁজতে নিচে চলে এসেছি। অন্যমনস্ক হয়ে হাটছিলাম হঠাৎ অয়নের সাথে ধাক্কা খেলাম, এতো রাতে অয়ন সজাগ কেনো?
অয়ন: ভাবি এতো রাতে এখানে কি করছ?
আমি: আমিও তো তোমাকে এই একি প্রশ্ন করতে পারি।
অয়ন: এইতো ঘুম আসছিল না তাই হাটছিলাম।
আমি: ওহ আমি পানি খেতে আসছিলাম।
অয়ন: মিথ্যে বলছ তুমি, আমি এর আগেও অনেক বার লক্ষ করেছি তুমি এই বাসায় কি যেন খুঁজো।
আমি: হ্যাঁ খুঁজি, তুমি আমাকে সাহায্য করবে?
অয়ন: বলে দেখো করলে তো করতেও পারি। (অয়নের দিকে তাকালাম সত্যি কি ওকে বলা উচিত হবে, ও কি সাহায্য করবে আমায়)
আমি: আসলে আমি তোমার ভাইয়ার ডায়েরি খুঁজছি।
অয়ন: হঠাৎ ডায়েরি কেন?
আমি: প্রয়োজন আছে।
অয়ন: আমাকে বললে সাহায্য করতে পারি।
আমি: আম্মু আব্বুকে খুঁজে বের করতে চাই আবার সবাইকে এক করতে চাই।
অয়ন: পারবে তুমি এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে?
আমি: পারবো কিনা জানিনা তবে চেষ্টা তো করতেই পারি।
অয়ন: চলো আমার সাথে।
অয়ন আমার হাত ধরে টেনে স্টোররুমে নিয়ে আসলো।
আমি: এই রুমে তো আমি আগেও এসেছি এখানে কিছু নেই। (অয়ন আমার দিকে একবার তাকিয়ে দেয়ালের সাথে লাগানো আলমারিটা সরিয়ে ফেললো। আলমারির পিছনে দরজা দেখে তো আমি অবাক)
অয়ন: এই দরজার কথা কেউ জানেনা একদিন আমি ভাইয়াকে ফলো করে এখানে এসেছিলাম আর তুমি ভাইয়ার আব্বু আম্মুকে ফিরিয়ে আনতে চাইছ বলেই তোমাকে দেখালাম।
আমি: এখানে আরেকটা রুম আছে?
অয়ন: লাইব্রেরী।
অয়ন আর আমি দুজন লাইব্রেরীতে ঢুকলাম। ছোট একটা রুম কিন্তু পুরো রুমে বই দিয়ে ঠাসা। টেবিলের উপর অনেক গুলো ডায়েরি রাখা আর টেবিলের পাশে গীটার রাখা। দেয়ালে তাকালাম পুরো দেয়াল জুড়ে শুধু আব্বু আম্মুর ছবি। সেদিন যে ডায়েরিটা দেখেছিলাম সে ডায়েরিটা টেবিলের উপর রাখা দেখে হাতে নিলাম। অবশেষে ডায়েরিটা পেয়ে গেলাম, কোনো না কোনো সূত্র তো পাবোই আব্বু আম্মুকে খুঁজে পাওয়ার। আস্তে আস্তে ডায়েরিটা খুললাম...
চলবে
বোনের_বান্ধাবীর_প্রেমে
#বোনের_বান্ধাবীর_প্রেমে
.
#____**পর্ব**৪র্থ______
.
লেখক: আম্মু আব্বুর দুষ্টু ছেলে
.
আমি সেখান থেকে নীলা এবং সোনিয়ার সাথে হাটতে হাটতে ক্লাসে চলে আসলাম।ক্লাস রুমে ডুকবো এমন সময় ক্লাসের দিকে তাকিয়ে দেখি
আমাদের ইংলিশ ম্যাডাম ক্লাসে চলে এসেছে।আমি আবার আমাদের স্কুলে সবচেয়ে বেশী ভয় পায় এই ম্যাডাম টাকে।আজ পর্যন্ত অনেক বার ম্যাডামের সাথে মজা করার জন্য ম্যাডামের হাতে মার খেয়েছি।কিন্তুু কি ব্যাপার ম্যাডাম আজকে এতো তাড়াতাড়ি চলে এসেছে কেন?প্রতিদিন তো আমি ম্যাডামের আগে ক্লাসে চলে আসি আর ম্যাডাম আসলেই ম্যাডামের সাথে দুষ্টমি শুরু করি।কিন্তুু আজ তো আমার আগেই ম্যাডাম চলে এসেছে।
.
-- ম্যাডাম ভেতরে আসতে পারি?(আমি)
-- না আসবে না।
-- কেন?ম্যাডাম।
-- আজকে আসতে এতো দেরি হলো
কেন?কোথায় গিয়েছিলে?
-- আপনার মেয়ের সাথে প্রেম করতে।
আমার কথা শুনে ক্লাসের সবাই হাসতে শুরু করলো।
ম্যাডাম আমার সামনে এসে দাড়িয়ে বললো:
-- আচ্ছা তুমি কি কখনো ভাল হবে না।
-- হবো তো ম্যাডাম।
-- কখন?
-- আপনার মেয়েকে বিয়ের পর।
.
কথাটা শুনেই ম্যাডাম রেগে টেবিলের উপর থেকে লাঠি আনতে গেল
আমাকে মারার জন্য।কিন্তুু আমারে আর পায় কেন?কথাটা বলেই
দিলাম একটা দৌড় এক দৌড়ে সোজা বাসায় চলে আসলাম।আজকে
আবার অন্য পাড়ার সাথে ক্রিকেট খেলার টিম আছে।বিকেলে সেখানেই
যেতে হবে।বাসায় এসে দিলাম একটা ঘুম।বিকেলে এক বন্ধুর ফোনে
আমার ঘুমটা ভেঙে গেল।আমি ঘুম ঘুম চোখে ফোনটা রিসিভ করলাম।
.
-- হ্যালো।(রিফাত)
-- হু বল।
-- বল মানে কই তুই খেলতে
যাবি না।
-- তোরা দ্বারা আমি আসতেছি।
.
তারপর আমি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে ব্যাটটা কাধে ফেলে খেলতে চলে গেলাম।বন্ধুদের সাথে সিগারেট টানতেছি আর এক দল বেধে হাটতেছি।
এমন সময় আমার এক বন্ধু বললো:
.
-- দোস্ত তোর বোন তোকে ডাকছে।(রকি)
-- পিছনে তাকিয়ে দেখি নীলা
দাড়িয়ে আছে।
-- এদিকে আয়।(আমার বন্ধুকে বললাম)
-- কাছে আসতেই দুই গালে দুইটা দিলাম।
-- মারলি কেন?
-- ওইটা আমার বোন না।ওইটা তোদের
ভাবি।বুঝলি?
-- হু।
নীলাকে দেখে হাতে থাকা সিগারেটটা ফেলে দিলাম। নীলা এখন নীল
শাড়ি পড়ে আছে।নীলাকে এখন যা দেখতে লাগছে না।ওকে দেখে আর
চোখ ফিরাতেই পারছি না।নীলাকে দেখে আবার ক্রাশ খাইতে ইচ্ছা করছে।
নীলা আমার সামনে এসে দাড়িয়ে বললো:
.
-- এই যে ভাইয়া।(নীলা)
-- হু বলো।
-- কখন থেকে ডাকছি শুনছেন
না কেন?
-- না আসলে....
-- থামুন..সিগারেট খাচ্ছিলেন কেন?
-- কই না তো।আজ পর্যন্ত তো আমি
কখনো সিগারেট ছুড়েও দেখিনি।
-- আমার সাথে মিথ্যা বলবেন না।
আন্টিকে বলবো?
-- এই না প্লিজ আম্মুকে কিছু বলো না।
-- তাহলে আজকে আমাকে ক্লোজারে
ঘুরতে নিয়ে যেতে হবে।
-- এখন?
-- হু।
-- এখন তো আমি খেলতে যাবো।
-- আপনি যাবেন কিনা বলেন?
-- পরে নিয়ে যাই।
-- না আমাকে এখনি নিয়ে যেতে হবে।
-- আমি পারবো না।
-- আন্টি......
-- এই না।চলুন।
.
তারপর বন্ধুদের কাছে ব্যাটটা দিয়ে মেয়েটাকে নিয়ে চললাম সিরাজগঞ্জ
ক্লোজারে যাওয়ার উদ্দেশ্য।এই মেয়েটা আমার জীবনটাকে একদম ত্যাজ-
পাতা বানিয়ে ফেলেছে।আজকে অন্য পাড়ার সাথে কতো সুন্দর একটা
ক্রিকেট খেলার ম্যাচ ছিল কিন্তুু মেয়েটার জন্য সেখানে যেতে পারলাম না।
আমাকে ব্লাক মেইল করেই সব ভেজাল বাজিয়ে দিল।ক্লোজারে এসে দুজন
একসাথে হাটতেছি।কিছুদুর হাটার পর নীলা বললো:
.
-- আমি আইসক্রিক খাবো!(নীলা)
-- কই আইসক্রিম।
-- ওই যে সামনে?
-- আচ্ছা তুমি দাড়াও এখানে
আমি নিয়ে আসছি।
.
তারপর আমি নিলাকে রেখে আইসক্রিম কিনতে দোকানে গেলাম।শত
ভীরের মাঝে অবশেষে ২টা আইসক্রিক কিনে নিয়ে আসলাম।আইসক্রিক কিনে নিয়ে এসার পর দুজন আবার হাটতে শুরু করলাম।আইসক্রিম
খাইতেছি আর হাটতেছি।কিছু পথ হাটার পর নীলা একটা ইটের সাথে
ধাক্কা খেয়ে নীলার হাতে থাকা আইক্রিকটা মাটিতে পড়ে গেল।ইটের সাথে
ধাক্কা খাওয়ার ফলে নীলা পায়ে চোট পেল।আমি আমার হাতে থাকা আইসক্রিমটা নীলার পায়ে ছুয়ে দিলাম।নীলাকে স্পর্স করার সাথে সাথে
একটা অন্যরকম মায়ায় হারিয়ে গেলাম।কিছু সময় পর নীলার পা আবার
স্বাবাভিক হয়ে গেল।আমরা আবার হাতটে শুরু করলাম।কিছু পথ যাওয়ার
পর একটা মেয়ের ডাকে পিছনে ফিরে তাকালাম।পিছনে ফিরে তাকাতেই
আমি আবাক হয়ে গেলাম।
.
.
.
.
.
.
.
#_____**(চলবে)**_____
আকাশ_ছোঁয়া_ভালোবাসা
♥আকাশ_ছোঁয়া_ভালোবাসা♥
//Part_8//
এখন নামতে ইচ্ছে করতেসে না। তাই যেভাবে পাউরুটি খাইতেসিলাম, ওভাবেই খাইতে লাগলাম। ক্রাশের জ্বালায় জীবন একেবারে ত্যানা ত্যানা।
দুপুরে খেয়েই শুয়ে রইলাম। বিকালে আর যাওয়া হইলো না। বলতে গেলে আম্মাই যাইতে দিল না। কত সাধ ছিল। ক্রাশের বাসায় যামু। তা আর হইল কই? মুখ বোঁচা করে একটা গল্পের বই নিয়ে বসে রইলাম। হেইডি। বইটা এই নিয়ে দশবার পইড়া ফেলসি। আবার পড়তেসি। নিজেকে হেইডির মতো মনে হইতেসে। হেইডি শহরের বাড়িতে বন্দী ছিল আর আমি নিজের রুমে। দাঁড়া, এই খাঁচা থেকে আমি বের হমুই। কেউ আমারে আটকাইতে পারবো না। আমি মাত্র পাটা নামাইতে ছিলাম। হঠাৎ আম্মার ডাক, ছোঁয়া, পা নামাবি তো খবর আছে। আমি আশেপাশে তাকাই ভাবলাম সিসি ক্যামেরা লাগাইসে নাকি! পরে দেখি আম্মা দরজার সামনে দাঁড়াই আছে। আমি আবার পা উঠাই ফেললাম। বইটা চোখের সামনে মেইলা ধইরা মনে মনে কইলাম, জামাই, আমারে নিয়া চলো। আর ভালা লাগে না।
একটু পরে আম্মারে অনেক বুঝাইয়া সুঝাইয়া বারান্দায় আইসা বসলাম। যাক অন্তত এক পলক পরাণ পাখিটা রে দেখমু। অনেকক্ষণ খেলা দেখলাম কিন্তু ক্রাশ তো নাই। এই আসবো, এই আসবো কইরা বিকাল গড়াই সন্ধ্যা হই গেল। আমি মশার কামড় খাইয়া বইসা আছি। আম্মা ভেতর থেইকা চিল্লাইতেসে, তুই ভেতরে আসবি? নাকি ডেঙ্গু হয়ে কয়েকমাস বিছানায় পড়ে থাকার ইচ্ছা আছে? শুনেই আমি ভেতরে ঢুকে দরজা আটকে দিলাম। সত্যিই যদি তাই হয়!!! ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে বিছানায় এসে বসলাম। মনটা খারাপ। আজকে কিছুতেই ক্রাশরে দেখতে পারতেসি না।
সাতটার দিকে কলিং বাজল। আমি তখন হেইডি একবার পড়া শেষ কইরা ভাবতেসি আবার পড়মু কি না। আম্মা গিয়া দরজা খুলল। গলার স্বর শুইনা আর থাকতে পারলাম না। বিছানা থেকে ল্যাংচাইতে ল্যাংচাইতে বসার ঘরে চলে আসলাম। আন্টি জিজ্ঞেস করলেন, কেমন আছো, ছোঁয়া?
- ভালো। (মনে মনে) আর কেমন আছি। আপনার পোলারে না দেইখা আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত।
- তুমি বলেছিলে আসবে। দেখলাম আসোনি। ভাবলাম পায়ের অবস্থা খারাপ কি না।
- না আন্টি, আমি ঠিক আছি।
- ভাবি, মেয়েটা যে কি করে না। পায়ের হাড় একটু নড়ে গেছে। প্লাস্টার করিয়ে আনিয়েছে ওর আব্বু। ডাক্তার বলেছে বেড রেস্ট নিলে ঠিক হয়ে যাবে।
- সে তো ভালো কথা।
- ভালো কথা তো ঠিক কিন্তু মেয়ে কি কথা শোনে? দিনে একশবার ওয়াশরুম যাবে।
- আম্মু……
হায় হায় রে!!!! শ্বাশুড়ির সামনে আমার মান সম্মান সব ডুবাই দিল!!! আম্মার তো থামার নামই নাই। বলতেই আছে।
- একবার বারান্দা যাবে। একবার শেলফের কাছে যাবে। একবার এখানে যাবে আবার ওখানে যাবে। কোথাও স্থির হয়ে বসার মেয়ে নাকি।
- আরে, এই বয়সে এমন ছটফটে হয়। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। তবে রেস্ট নেবে তাহলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে।
- জ্বি আন্টি। (মনে মনে) লাভ ইউ শ্বাশুড়ি আম্মা।
- ও… তুমি না বড়া খেতে চেয়েছিলে। তাই বানিয়ে এনেছি।
- শিখতেও তো চেয়েছি।
- কিহ্!!!! যে মেয়ে রান্নাঘরে যেতে চায় না সে বড়া বানাতে চাইছে।
আম্মা, দোহাই তোমার। আমারে আর ছোট করিও না। তাইলে একসময় অদৃশ্য হই যামু। আর দেখতে পাইবা না। আমি সরমে লাল হইয়া খাঁড়াই আছি। আন্টি আরও কিছুক্ষণ কথা বলে চলে গেলেন। যাওয়ার আগে বললেন, ভালো হলে বাসায় আসতে। আমি তো আটাইশ দাঁত বের করে দেখাইলাম। এই ব্যাপারে আমি এক পায়ে খাঁড়া।
একদিন পরই আমার প্লাস্টার খুলে ফেলল। আমি হাজির ক্রাশের বাসায়। বিকাল বেলা। তাই ক্রাশ নাই। আমি আন্টির থেকে আপাতত চা বানানো শিখলাম। তারপর আম্মা আমাকে দমাই রাখলো এই বইলা, যদি আমি বান্দরের মতো লাফালাফি করি তবে ঘরে বাইন্ধা রাখবো। আমিও চুপ কইরা ঘরে পইড়া রইলাম। অবশেষে আমার পা সারলো।
.
.
.
.
কয়দিন পর স্কুল থেকে আইসা শুনলাম চেরির বাসায় মেহমান আসছে। আমার সন্দেহ হইল। তাই বিকালে একটু সাজুগুজু কইরা হাজির হইলাম পাশের বাসায়। গিয়া দেখি আমার সন্দেহ ঠিক। শুঁটকি মাছের পোনা আসছে। তার সাথে দুইটা পোলা। আমার ক্রাশ তাদের লগে সোফায় বইসা কথা বলতেছিল। আমি নক করতেই সে দরজা খুলে বলল, তুমি? আমি কিছু না বলে ঢুইকা পড়লাম। বললাম, আপনার নাকি ঠান্ডা লেগেছে। তাই দেখতে এলাম। প্রতিবেশি হিসেবে তো একটা দায়িত্ব আছে। তাই না? ক্রাশ আমার দিকে এমন কইরা তাকাই আছে যেন আমি আজব চিড়িয়া আকাশ থেইকা টুপ কইরা পড়সি তাদের বাসায়। আন্টি রান্নাঘর থেকে জিজ্ঞেস করলেন, কে রে?
- আম্মু, গাজরের হালুয়া এসেছে।
আমি রেগে তার দিকে তাকাইলাম। ফের গাজরের হালুয়া!!!! ওর বন্ধুরা শুনে হাসতে লাগল। মেজাজ সেই লেভেলের গরম হইতেসে। আমি গটগট করে হেঁটে রান্নাঘরে আন্টির কাছে চলে গেলাম। আন্টি আপেল কাঁটছে। আমি যেতেই বললেন, কি খবর ছোঁয়া মা। পায়ের কি খবর?
- ভালো, আন্টি। চা বানাবেন?
- হুম।
- আন্টি, আমি বানাই? ঐদিন যেভাবে শিখিয়ে দিয়েছেন।
- বানাবে? বানাও। আমি এগুলো দিয়ে আসি।
- আচ্ছা।
আন্টি নাস্তা দিতে চলে গেলেন। আমি চা বানানোর জন্য দুধ দিলাম চুলায়। এমন সময় কেউ একজন বলল, তুমি এখানে এতোবার আসো কেন? আমি তাকাই দেখলাম শুঁটকি খাঁড়াই আছে। আমি পাত্তা দিলাম না। গান ধরলাম, পাগলে কি না বলে, ছাগলে কি না খায়। সে কাছে এসে বলল, এই মেয়ে তোমার সাহস তো কম না, এইটুকু পুঁচকে মেয়ে, নাক টিপলে দুধ বের হবে, আমাকে পাগল বলছো।
- আমি কি কাউকে ইঙ্গিত করেছি? আমি তো গান গাইছি।
আমি চা পাতা আর চিনি দিয়া কাপ পিরিচ ধুতে গেলাম। সে যেখানে ছিল সেখানে দাঁড়াই একটু পরে চলে গেল। আমি মনের আনন্দে চা ঢেলে নিয়া গেলাম বসার ঘরে। মনে রঙ লাগছে। আজ নিজে হাতে বানানো চা ক্রাশরে খাওয়ামু। আমি সবাইকে চা দিলাম। আন্টি রান্নাঘরে গেলেন আবার। আমি দাঁড়াই আছি। শুঁটকি কইল, আজকে গাজরের হালুয়া আমাদের জন্য চা বানিয়েছে। আমি দাঁতে দাঁত চেপে কইলাম, আমার নাম গাজরের হালুয়া না। ছোঁয়া। চাঁদনি মেয়েটা পাত্তাও দিল না। সবাই চা মুখে দিতেই উৎসুক চোখে জিজ্ঞেস করলাম, কেমন হইসে? কারো মুখে কোনো কথা নাই। একটু পরে ক্রাশ বলল, নিজেই খেয়ে দেখো। আমি এত কিছু চিন্তা না কইরা ক্রাশের হাত থেকে কাপ নিয়ে ঢকঢক করে পুরো চাটা খাইয়া ফেললাম। তারপর আমি শ্যাষ!!!! আমার হূদয়টা খান খান হইয়া গেল চায়ের স্বাদে। কাপটা রাইখা কইলাম, আমি বাসায় যাই। আমার কাজ আছে। বলেই দৌঁড়। আসার সময় শুনলাম কেউ বলতেসে, মেয়েটা কেমনে চাটা খেল!? আমি মনে মনে কইলাম, ক্রাশের ঠোঁটের ছোঁয়া থাকলে লবণ মেশানো চাও এই ছোঁয়ার কাছে মধুর থেকেও মিষ্টি লাগবে।
বাসায় এসে মধুর রিয়েকশান বের হইতে লাগল। ইচ্ছা মতো বমি করলাম। বমি শেষে ক্লান্ত শরীরটা বিছানাই দিয়া মনে মনে বললাম, এই কাজ নিশ্চয়ই ঐ শুঁটকির। ইস্, আমার এত শখের চাটায় লবণ মিশাই নষ্ট কইরা দিল। আমি চোখ বন্ধ করে আছি, আম্মা সন্দিহান চোখে এসে আমার কাছে বইসা বলল, কি হইসে রে তোর?
- মাথা ঘুরাই বমি হইসে।
আম্মা শুইনা আঁতকে উইঠা কইল, কি বলিস!? আমিও কইলাম, হ, এখন কি টক খাইতে দিবা? আমার কথা শুইনা আম্মা ওখানেই আইটকা গেসে। আমি বিরক্ত হই আবার কইলাম, ধুর বাবা, কি হইসে? আরে, আমি একগাদা লবণ চা খাইসি। তাই এই অবস্থা। তুমি কি মনে করসিলা? আমি ইয়ে?
মুখ দিয়া আর শব্দটা বাহির করলাম না। আমার কথা শুনে আম্মার মনে হয় রুহ ফিরে আসছে। আমাকে বলল, এমন চা কোথা থেকে খাইলি?
- খাইসি এক জায়গা থেকে। সব হইসে ঐ শুঁটকির জন্য।
- শুঁটকি আবার কে?
- তুমি চিনবা না। এখন কি খাওয়া যায় সেটা বলো। মুখ একেবারে নুনে তেেতা হয়ে গেছে। আম্মু, আব্বু আসে নাই?
- না, কেন?
- আব্বুকে বলো না জিলাপি আনতে।
- এখন? না না। দেখবি পরে নিজেই দশটা খেয়ে ডায়াবেটিস বাড়াই রাখসে।
- তুমি আনতে বলবা না আমি আবার বমি করমু?
আম্মা বিরক্ত হয়ে উঠে বলল, যা খুশি কর। বাপে ঝিয়ে একেবারে জ্বালাই খাইলো।
চলবে…
tution
রাত ১০টা...
টিউশনি শেষ করে রাতে বাসায় ফিরার সময় একটা বিষয় চোখে পড়লো। ব্রিজের উপর সাদা ড্রেস পড়া একটা মেয়ে একা একা দাঁড়িয়ে আছে, মেয়েটার ঠিক ওপাশেই কয়েক পা দূরে কিছু বখাটে ছেলে আড্ডা দিচ্ছে। কি আশ্চর্য... কি অদ্ভুত... ওই ছেলেগুলো একবারের জন্য হলেও মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছেনা। যেখানে দিন-দুপুরে ছেলেগুলো মেয়েদের সাথে ইতরামি করে, সেখানে এতো রাতে একা একটা মেয়েকে পেয়েও ওরা মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছেনা। বিষয়টা আমার কাছে ভালোই লাগলো। ভাবলাম হয়তো ছেলেগুলো ভালো হয়ে গেছে... সেদিনের মতো বাসায় চলে আসলাম...!!
.
পরেরদিন রাতে আবারো বাসায় ফেরার সময় দেখলাম মেয়েটা ব্রিজের উপর একিই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু আজকে ছেলেগুলো এখানে নেই। আমি মেয়েটাকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যাচ্ছিলাম... হুট করে মেয়েটা পিছন থেকে ডাক দিলো-
--এইযে শুনুন !!
মেয়েটার দিকে পিছন ফিরে তাকিয়ে বললাম-
--আমাকে বলছেন?
--জ্বী... একটু এদিকে আসুন !!
আমি মেয়েটার কাছে গেলাম। প্রথমবারের মতো মেয়েটার এতো কাছে গেলাম। এই প্রথম মেয়েটাকে ভালোভাবে দেখলাম। সাদা ড্রেস, খুলা চুল, কাজল দেওয়া চোখ, কপালে ছোট একটা টিপ। ল্যাম্পপোস্টের আলোতে মেয়েটাকে কোনো এক অপ্সরী মনে হচ্ছিলো... সত্যি বলতে এতো সুন্দর মেয়ে আমি এর আগে কখনো দেখিনি...!!
--এইযে মিস্টার... এভাবে তাকিয়ে কি দেখছেন?
মেয়েটার কথায় আমার ঘুর কাটলো... আমতা আমতা করে বললাম-
--না... মানে... কিছুনা, কিছু বলবেন?
মেয়েটা আমার তোতলামি দেখে মুচকি মুচকি হেসে বললো-
--আমাকে ওই সামনের দোকান থেকে এক প্যাকেট বিস্কিট আর একটা পানির বোতল এনে দিতে পারবেন?
--হুম পারবো।
মেয়েটাকে বিস্কিট আর পানি দিয়ে সেদিনের মতো চলে আসলাম। কিন্তু সত্যি বলতে বাসায় এসে একদম শান্তি পাচ্ছিলাম না। বার বার ওই অপ্সরীর মুখটা আমার চোখের সামনে ভাসছিলো। ওর মুচকি হাসিটা যেনো চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাচ্ছিলাম। আমি কি ওর প্রেমে পড়ে গেলাম? আচ্ছা আগামিকাল কি মেয়েটা আসবে? মেয়েটাকে দেখতে পারবো? যদি আর না আসে? যদি আর কখনো মেয়েটাকে দেখতে না পাই? সেদিন রাতে হাজার চেষ্টা করেও ঘুমাতে পারলাম না। সারারাত এসব প্রশ্ন মাথায় ঘুরঘুর করছিলো...!!
.
পরেরদিন রাত ১০টা...
ব্রিজের কাছে আসতেই দেখলাম আজকেও মেয়েটা একিই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।
আমি খুব আস্তে আস্তে পা দিয়ে ব্রিজটা পার হচ্ছিলাম। সত্যি বলতে মেয়েটার ডাকের অপেক্ষা করছিলাম... কিন্তু মেয়েটা এখনো ডাক দিচ্ছেনা কেনো? মেয়েটার সাথে আগে গিয়ে কথা বলা কি ঠিক হবে? আচ্ছা মেয়েটা প্রতিদিন এখানে দাঁড়িয়ে কি করে? এসব চিন্তা করতে করতে পিছন থেকে মেয়েটার ডাক শুনতে পেলাম-
--এইযে শুনুন...!!
আমি তাড়াতাড়ি মেয়েটার কাছে গিয়ে বললাম-
--বিস্কিট লাগবে? পানি এনে দিতে হবে?
মেয়েটা আমার কথা শুনে হাসতে হাসতে একদম শেষ... কি সুন্দর ওর হাসি। আমি অপলক দৃষ্টিতে মেয়েটার হাসি দেখছিলাম। মেয়েটা হাসতে হাসতে বললো-
--না না, আজকে পানি বিস্কিট কিছুই লাগবেনা। আমার নাম মিহি... আপনি?
--আমি মেহরাব।
সেদিন-ই প্রথম ওর নামটা শুনছিলাম...!!
.
তারপর থেকে মিহির সাথে প্রতিরাতে দেখা হতো। অনেক গল্প হতো... অনেক দূর অবধী দুজনে একসাথে হাঁটতাম।
মিহিকে জিজ্ঞাস করছিলাম-
--আচ্ছা মিহি, প্রতিদিন রাতে ব্রিজের উপর কেনো দাঁড়িয়ে থাকো?
মিহি ছোট করে বলছিলো-
--ভালোলাগে তাই !!
মিহিকে ওর পরিবারের কথা জিজ্ঞাস করলে কেমন জানি ওর মুখটা কালো হয়ে যেতো। হয়তো অনেক কষ্ট ওর মনে... আমিও বেশি জোর করতাম না... মানুষের মনে অনেক ধরনের কষ্ট তো থাকতেই পারে। কিন্তু সেদিন যখন মিহিকে প্রশ্ন করলাম-
--আচ্ছা মিহি, তুমি আমাকে তোমার সম্পর্কে কিছু বলতে চাওনা কেনো?
মিহি মুচকি একটা হাসি দিয়ে বললো-
--তুমি বড্ড তাড়াহুড়ো করো মেহরাব... আস্তে আস্তে সব জানতে পারবে। অপেক্ষা করো !!
--আচ্ছা আর কিছু জানতে চাইবোনা। শুধু এতটুকু বলো তোমার বাসা কোথায়?
আমার প্রশ্নটা শুনে মিহি আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো-
--ওই সামনে একটা চায়ের দোকান আছে। দোকানের ডান দিকের রাস্তায় গিয়ে যে গলিটা আছে, সেই গলির একদম লাস্ট বাসা আমার। আর কিছু জিজ্ঞাস করোনা মেহরাব... সময় হলে সব বলবো আমি...!!
.
ব্যাস... আমিও আর কিছু জানতে চাইতাম না। ওর সাথে প্রতিদিন দেখা তো হচ্ছে... কথা তো হচ্ছে... এটাই বা কম কিসের?
.
সেদিন রাতে অনেক বেশি বাতাস হচ্ছিলো। আকাশের অবস্থা খুব খারাপ... বুঝাই যাচ্ছে একটু পর ঝড় শুরু হবে।
মিহি আমাকে বললো-
--মেহরাব... সম্ভবত বৃষ্টি আসবে, আমার কাছে ছাতা আছে। তুমি ছাতাটা নিয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় চলে যাও।
--আর তুমি? তুমি বাসায় যাবে কি করে?
--আরে বোকা, আমার বাসা তো কাছেই তাইনা? আমি বৃষ্টি আসার আগেই চলে যেতে পারবো। তুমি ছাতাটা নিয়ে তাড়াতাড়ি চলে যাও।
মিহির জোরাজোরিতে সেদিন ছাতাটা নিয়ে চলে আসলাম। আমি বাসায় পৌছানোর আগেই প্রচন্ড জোরে বৃষ্টি শুরু হলো। মনে মনে মিহিকে ধন্যবাদ দিলাম। কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির পানি আমার উপর পড়লেই আমার এমন জ্বর হয় যে আমি ২-৩ দিন বিছানা থেকে উঠতেই পারিনা। মিহির কি অবস্থা আল্লাহ জানে। বৃষ্টিতে কি ভিজে গেলো? না'কি বৃষ্টি আসার আগেই বাসায় পৌছে গেছে? কি জানি... আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম রাতটা পার হওয়ার...!!
.
পরেরদিন সকালে মিহির জন্য খুব টেনশন হচ্ছিলো। বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর হলো কি'না কে জানে... আমি ছাতাটা হাতে নিয়ে বের হয়ে গেলাম। ভাবলাম মিহির বাসায় গিয়ে ওর ছাতাটা দিয়ে আসবো, আর মিহিকেও দেখে আসবো। মিহির কথা অনুযায়ী ব্রিজের ওপাশে একটা চায়ের দোকান... চায়ের দোকানের ডান দিকের রাস্তায় গিয়ে একটা গলি আছে, ওই গলির একদম শেষ বাসাটা ওদের...!!
.
আমি হাঁটতে থাকলাম... মিহির কথা অনুযায়ী একটা চায়ের দোকান ও পেলাম। চায়ের দোকানের ডান দিকে একটা রাস্তাও আছে। আমি ডান দিকের রাস্তায় হাঁটা শুরু করলাম... কিছুদূর যেতেই আমি দেখলাম ওদিকে যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা নেই। এখানে কোনো গলি নেই... অনেক বড় একটা নিম গাছ, আর বিশাল বড় দেয়াল দেওয়া ওই জায়গায়। আমি তাড়াতাড়ি চায়ের দোকানে এসে দোকানদার চাচাকে জিজ্ঞাস করলাম-
--আচ্ছা চাচা, এখানে কোনো গলি নাই?
--না বাজান।
আমার শরীরটা শিউরে উঠলো... হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসলো। চোখটা বন্ধ করে মিহির সাথে কাটানো সময়গুলোর প্রত্যেকটা দিক চিন্তা করতে লাগলাম... মিহির সাথে আমার কেনো রাতেই দেখা হতো?? কেনো আজ অবধী দিনে মিহিকে দেখিনি?? মিহি কেনো ওর পরিবার সম্পর্কে কিছু বলতে চাইতোনা? মিহি কেনো সাদা ড্রেস সবসময় পড়তো? কেনো ওই বখাটে ছেলেগুলো মিহির সাথে খারাপ ব্যাবহার করেনি? ওরা কি মিহিকে আসলেই দেখতে পেয়েছিলো? না'কি শুধু আমি মিহিকে দেখতে পেতাম। উফফফফ... মাথাটা চিনচিন করছে আমার। সবগুলো প্রশ্নের উত্তর যেনো ঘুরে-ফিরে একটা কথাই বার বার বলছে। মিহি বলতে কেউ কি এই পৃথিবীতে আছে? না'কি নেই...??
.
রাত ৯টার দিকে ব্রিজের উপর এসে দাঁড়িয়ে থাকলাম। এই প্রথম মিহির আগে আমি এসে দাঁড়িয়ে আছি। কিছুক্ষণ পর দেখলাম ব্রিজের ওপাশ থেকে মিহি আসছে। আস্তে আস্তে হেঁটে মিহি আমার পাশে এসে দাঁড়ালো। আমার মনে তখন হাজারটা প্রশ্ন জমা হয়ে আছে। আমি কিছু বলার আগেই মিহি আমাকে বললো-
--অনেক প্রশ্ন তোমার মনে মেহরাব। তাইনা?
আমি মিহির চোখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। বললাম-
--কে তুমি?
মিহি একটা দ্বীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললো-
--মেহরাব... বলেছিলাম সময় হলে সব বলবো তোমাকে। আজকে সেই সময়টা এসে গেছে... তোমার বন্ধু শুভর কথা মনে আছে তোমার?
আমি মিহির মুখে শুভ নামটা শুনে কিছুটা অবাক হলাম। শুভ... আমরা একসাথে স্কুল+কলেজ লাইফে বেস্ট-ফ্রেন্ড ছিলাম। পরে অবশ্য শুভ বিদেশ চলে যায়... আমাদের যোগাযোগ ও কমে যায়। শুনেছি বিদেশ থেকে এসে কোনো এক বড়লোকের মেয়েকে বিয়ে করে বেশ সুখে আছে এখন। আমি মিহির দিকে কিছুটা অবাক চোখে তাকিয়ে বললাম-
--শুভকে কিভাবে চিনো তুমি?
মিহি আমার দিকে তাকিয়ে আবারো একটা দ্বীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললো-
--বাবা-মা আমাকে রেখে অনেক আগেই মারা গেছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার আগে ওনার সবকিছু আমার নামে লিখে দিয়ে গেছিলেন। জানো মেহরাব? তোমার বন্ধু শুভকে অনেক ভালোবাসতাম। ভালোবেসে বিয়েও করেছিলাম... কিন্তু বিয়ের পর বুঝতে পারলাম শুভ আসলে আমাকে ভালোই বাসেনি। আমার সম্পত্তি, আমার টাকা-পয়সাকে ভালোবেসেছিলো। ও প্রতিদিন রাতে মাতাল হয়ে বাসায় ফিরে আমার সাথে ঝগড়া করতো। আমার গায়ে হাত তুলতো... সেদিন রাতে আমি যখন বললাম ওকে ডিভোর্স দিয়ে দিবো, তখন রেগে গিয়ে আমার মুখে বালিশ চাঁপা দিয়ে আমাকে মেরে ফেলে...!!
মিহির মুখে লাস্ট কথাটা শুনে আমি ২পা পিছন দিকে হেঁটে গেলাম।
মিহিকে বললাম-
--তারমানে তুমি... তুমি?
মিহি কান্না করতে করতে বললো-
--হুম আমি বেঁচে নেই। জানো মেহরাব... তোমার বন্ধু আমাকে মেরে আমার জানাযা অবধী করায় নি। আমাকে গোসল অবধী করায় নি। ওই চায়ের দোকানের ডান দিকে রাস্তাটায় ঢুকে যে নিমগাছটা দেখছিলা, সেদিন রাতে ওইটার নিচেই আমাকে কবর দিয়ে গেছে। তোমার বন্ধুকে বলোনা প্লিজ আমার লাশটা আবার তুলে আমাকে গোসল করিয়ে, জানাযা পড়িয়ে আবার কবর দিতে... বলোনা প্লিজ।
মিহি অনেক জোরে জোরে কান্না করতে করতে কথাগুলো বলছিলো... আমি মিহির কান্নাভরা মুখটার দিকে তাকিয়ে পিছ পা হয়ে হাঁটছিলাম... আমি জানিনা এখন আমার কি বলা উচিত। আমি জানিনা এখন আমার কি করা উচিত। আমি শুধু এটা জানি আমাকে এখন থানায় যেতে হবে... থানায় গিয়ে সবকিছু খুলে বলতে হবে। শুভকে ওর পাপের শাস্তি পেতে হবে... পেতেই হবে...!!
নীলখাম
বাবার বন্ধুর ছেলের বিয়েতে গিয়ে ঘটনাক্রমে আমার সাথে নীলার বিয়েটা হয়ে যায়।আমি কেবল মদনের মতো নির্বাক বিমুর্ষ,নিলিপ্ত ছিলাম।সব যেনো নাটক,থুরি সিনেমা।আর সিনেমার ঘটনাচক্র হচ্ছে সব আমার সাথেই।বিয়ে খেতে এসেছি,এখন নিজেরি বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।যদিও আমি কিছুটা মত ছিলাম,যাকে নিজের চেয়েও বেশী ভালোবেসেছি,সে কিনা আমাকে ছেড়ে অন্য কারো নিড়ে পাড়ি জমায়।নীশি নামক কোনও এক ঝড় আমার মনে গেঁড়ে বসেছে।এমন কোনও দিন নেই,এমন কোনও রাএি নেই যার বিরহের তাপে নিজেকে পোড়াঁই।কিন্তু আর কতোদিন,কার জন্য নিজেকে শেষ করছি। "দুধ কলা দিয়ে পোষা কোনও এক বিষধর সাপের জন্য"
না তা আর হতে দেওয়া যাবেনা।তাই এমন হুট-হাট বিয়েতে রাজী হয়েছিলাম।বাবাকে মনে মনে ধন্যবাদ দিলাম। Pappa Your are great pappa.
বিয়েটা নাটকীয় ভাবে সম্পর্ন্ন হলো।বাসর-রাতে নীলা প্রকান্ড ঘোমটা দিয়ে বসে আছে।কিন্তু আমার ওদিকে কোনও ভু-ক্ষেপপ নেই।মাথায় তখন নীশি নামক কোনও এক সাইক্লোন এপার ওপার চক্কর দিচ্ছে।নিজেকে নিজে প্রশ্ন করছি।আমার সাথে কেনো এমনটা হলো?
আমি নব-বধূর দিকে একবারও তাকায়নি।চুপচাপ বিছানায় এসে শুয়ে পরলাম।
এভাবে দিন যায় মাস আসে। বিয়ের এই কয়েক-মাসে অনেক কিছু হয়েছে।
যেমন ধরুন,আমার বউটা মানুষ নয়,যেনো একটা তোতাপাখি।
বাসর-রাতে ঘটনা বলি।আমিতো চুপ-চাপ শুয়েছি।তো পরেরদিন।কাঁচের গ্লাস ভেদ করা সূর্যের আলোর ছটায় ঘুম ভাঙ্গলো।আমি চোখ কচালাতে কচলাতে ওপাশ ফিরে যা দেখলাম চোখ আমার হাঁসের ডিম হয়ে গেলো।
নীলা বাঁথরুম থেকে এসে।আমার চুলের স্পার্ইক নিয়ে স্পিকারের মতো করে,ধেই ধেই করে গান গাইছে।আমার গানের তালে তাঁলে কোমড় দুলিয়ে নাঁচচে।আবার মাঝে মাঝে আমার দিকে তাকাচ্ছে।আমি মরার মতো ঘুমের ভং ধরে বসে আছি।কিন্তু এর পরে যা দেখলাম তা দেখার জন্য নিজেই নিজের গায়ে চিমটি কাটলাম "নীলা আমার টি-শার্ট আর জিন্স পরেছে"মনে মনে বলছি এরকমও কি হয়।তারপর ড্রেসিংটেবিল থেকে আমার কাছে এসে মাথা ঝুঁকিয়ে বলছে আপনার নাঁকটা খুব কিউট।তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে নিচে আসুন।তারপর রুম থেকে ধেই ধেই করে নেঁচে নেঁচে চলে গেলো।আমি টেরা চোখে তাঁকিয়ে বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে গেলাম।গায়ে আবার চিমটি কাটলাম।এটা কি স্বপ্ন নাকি সত্যি।না সবি সত্যি।
এভাবেই দিন হয়ে কখন যে বিয়ের তিন-মাস পার হলো বুজতেই পারিনি।আমাদের মাঝে কোনও দাম্পত্য জীবন নেই।ফিজিকালি কিছু নেই।সে থাকে নিজের মতো,আমি থাকি আমার মতো।
কোনও এক সকাল-বেলায় কাঁথার নিচে গুটি-সুটি দিয়ে ফেসবুকিং করছিলাম।সে কাথা সরিয়ে দিয়ে ভেউ..আমি ভয় পেয়ে গেলাম।পরে বিরক্তির চাপ নিয়ে...
"কি হয়েছে টা কি"?
আপনি কাঁথার নিচে কি করছেন।কোনও চুরি টুরি করার প্ল্যান করছেন না তো?কাথার নিচে শুয়ে শুয়ে।
আমি ভ্রু কুচকে বললাম আমাকে আপনার চোর মনে হয়?
চোরের গায়ে কি লেখা থাকে যে সে চোর?এমন হলেতো চোরকে ধরার জন্য পুলিশের দরকার পরতো না।গায়ের লেখা দেখে চোর সনাক্ত করে পাট্টাম দিতো!তাই কিভাবে বলবো আপনি চোর নাকি ভালো মানুষ।I mean,আপনি কাঁথার নিচে শুয়ে শুয়ে হয়তো আমার গহনা চুরি করার ফন্দি আটঁতে পারেন।দাদি বলতো চোরেরা এভাবে কাথাঁর নিচে প্ল্যান করে।তাই দাদির থিউরি অনুযায়ী আপনি প্ল্যান করছেন হয়তো চুরি করার।এমন তো হতেও পারে, এটাতো অবান্তর নয়।
প্লিজ থামবেন আপনি।
কেনো থামবো?অবশ্য আপনার ফিগার দেখে মনে হয়বা আপনি চোর।
তাইলে কিসের মতো মনে হয়?
হৃত্বিক রোশান দ্যা বলিউড হিরোর মতোন।উফ হট,ড্যাসিং লুকক।মাই ফেবারিট এক্টর।উনার মতো মনে হয়।
নীলার কথা শুনে আমার মুখ হা হয়ে গেলো।
জানেন নীল পান্জাবি পরলে আপনাকে খুব হট লাগে।যেদিন বিয়েতে নীল পান্জাবি পরে এসেছিলেন সেদিন আপনাকে কি জোসটাই না লেগেছিলো।আমি আপনাকে আড়চোখে সেদিন দেখছিলাম আর দেখছিলাম । জানেন হৃত্বিক রোশানকে বিয়ে করবো বলে ছোটও থেকেই স্বপ্ন দেখতাম।স্বপ্ন সত্যি হলো আপনাকে দেখে।কখনো ভাবিনি আপনার মতো বাংলাদেশি হৃত্বিক রোশান পেয়ে যাবো।কিন্তু আমার খুব রাগ হয়?
কেনো কেনো?
ওই যে বৌ-ভাতের দিন কচি কচি মেয়েরা আপনার পাশে ঘেষার চেষ্টা করছে।চান্স নেওয়ার চেষ্টা করছে।আর আপনি ও হেঁসে হেঁসে ফিল্মি স্টাইলে কথা বলেছেন ওই সিনটা দেখে।ইচ্ছে করছিলো মেয়েগুলোর চুলের মুঠি ধরে বলি "বেয়াদব মেয়ে,বেহায়া মেয়ে,ছেলের বাজারে কোনও ছেলেকে কথা বলার জন্য খুজে পাসনি?আমার হৃত্বিক রোশানকেই খুজে পেতে হলো? তারপর দিতাম এক ঘা।
আস্তে আস্তে।তারপর কি করতে?
তারপর মেয়েগুলোকে তাড়িয়ে আমি আপনার সাথে রোমান্স করতাম, পাশ থেকে বেজে উঠতো "মেরি রুহু কা - পারিন্দা ফরফরাহে,লেকিন শুকনো ক্যা জাজিরা মিল ন্যা পায়ে"
থাক থাক।আর বলতে হবেনা।বুজেছি আমি।তোতাপাখি একটা,কথার গাড়ি স্টার্ট হলে সেটা চলতেই থাকে।ফাজিল মেয়ে একটা।
সেদিন বাইরে থেকে এসে রুমে ঢুকতেই এক পা পিছলে গেলাম।তারপর খানিকটা আড়াল হলাম।নীলা একটা হলুদ শার্ট পরেছে।চোখে সানগ্লাস। আর স্টিচ পেন্ট পরেছে।আমি নীলার বডি-লেঙ্গুইজের দিকে হা করে তাকিয়ে আছি।
আমি শুভকে খুব ভালোবাসি।এই আকাশ, তবে শুনো।আমার বুক চিরে ওই দু অক্ষরের নাম থাকবে সেটা হলো শুভ।ওই বাতাস জেনে রেখো।আমার ভালোবাসা হীরে ডায়মন্ড স্বর্ণ,সবার চেয়ে খাটি।চৌধুরি সাহেব "আমি মেয়ে গরীব হতে পারি"কিন্তু আমার ভালোবাসা গরীব নয়।আমার ভালোবাসা কেনার মতো কোনও সামর্থ্য আপনার নেই "চৌধুরী সাহেব"
লাস্ট কথাটা শুনে হাসি আর চেপে রাখতে পারলামনা অজান্তেই হেসে ফেললাম। আমার আগমনের উপস্হিতি টের পেয়ে নীলা একটু লজ্জা পেলো।এতো হাসার কি হলো?
না না কি আবার হবে কিচ্ছু হয়নি।
আপনি কিচ্ছু দেখেননি তো?
একদমি না।
তাইলে হাসছেন কেনো?
আপনার ভালোবাসা কেনার সামর্থ্য আমার নেই তাই হেসেছি।নীলা এবার রাগী রাগী ভাব নিয়ে তাকালো।চোখের ভাষা দেখে মনে হচ্ছে।এই বুজি কাঁচা খেয়ে নিবে আমাকে।
মাস পেরিয়ে বছর এলো।এরি মাঝে নীশি নামক ভূতটা কিছুটা সরে গেলো।নীলার দুষ্টুমি, মিষ্টি পাগলামি,আর খুনসুটি খুব ভালোই লাগতো।নীলার বয়স মাএ ২০।আর আমার ২৬।খুব প্রাণবন্ত, চঞ্চল, যৌবনের তারণ্যে উজ্জল মেয়ে নীলা।এভাবে বছর পেরিয়ে নতুন বছরে পা রাখলাম।আশে-পাশের প্রতিবেশীরা কানা-ঘুষা করে,এতোদিন হলো বিয়ে হয়েছে।এখনও কোনও বাচ্চা-কাচ্চা হলোনা।আসলে আমি কখনও নীলার কাছাকাছি আসিনি বা নীলাও আসার চেষ্টা করেনি।কোনও এক অদৃশ্য দেওয়াল কাছে থেকেও অনেক দূরে রাখার চেষ্টা করছে।তাছারা নীলার বয়স অনুযায়ী সে খুব ছোটও।সে কি বুজবে স্বামী-স্তীর সুখের জন্য একটা সন্তান নেওয়া কতোটা গুরুত্বপূর্ণ? এখন তাকে এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে দেখা যাবে সে নিচে গিয়ে মা কে গিয়ে সব বলে দিবে তারপর লজ্জায় আমার দু কান কাটা যাবে।এভাবেই নীলার সাথে কোনও এক অদৃশ্য দেওয়ালের আলাদা সওা হিসেবে সংসার করতাম।যতদিন না নীলা সেক্সুয়ালি এডাল্ট হয়, আমি তার কাছাকাছি আসবোনা।ভালো বন্ধু হয়ে থাকবো।নীলা তার ভালো লাগা কিংবা খারাপ লাগা,পছন্দ অপছন্দ সব শেয়ার করতো।অফিসে থাকলে কম করে হলেও ৫/১০বার ফোন দিবে।অফিস থেকে আসতে দেরী হলে বলবে এই যে হৃত্বিক রোশান কোন মেয়ের দিকে তাকিয়েছেন,আমি জানি তো আজকে কোনও এক মেয়ের সাথে ঘুরতে গিয়েছিলেন।তাই এতো দেরী হলো,এবং সেদিন সে অভিমান করে রাএে ভাত খাইনি।অনেক কষ্ট করে রাগ ভাঙ্গালাম।অথচও যে শুভ কোনওদিন কারো ইগোকে পাওা দেয়নি।অনেক কষ্ট করে বুজালাম যে অফিসের কাজের জন্য লেট হয়েছে।
আরেকদিন অফিস থেকে এসে আমার শাটের বোতামে একটা মেয়ের চুল পাওয়া যায়।বিষয়টা আমিও জানিনা।কিভাবে এই চুল এলো।কিন্তু কি করে নীলাকে বুজাই।সেদিন আমাকে বলেছিলো "আমার মাঝে কিসের কম আছে"যার কারণে অন্য মেয়ের সাথে রাত কাটাঁতে হলো, কথাটা বলার সাথে সাথে নীলার আঁচল আর ব্লাউজ খুলে ফেলে দেয়।দেখো, আমার মাঝে কিছু কম আছে কিনা? সেদিন নীলার শরীরের দিকে তাকিয়ে নিজেই খুব লজ্জা পাই।কিভাবে বুজাবো,?আমি কোনও মেয়ের সাথে রাত কাটাইনি।সে আমাকে ভুল বুজছে।হয়তো বাসের জ্যামে ভুলবশত কোনও এক মেয়ের চুল আটঁকে গিয়েছিলো।কিন্তু নীলা তা মেনে নিলোনা....
বিয়ের পাঁচবছর পর জানতে পারলাম নীলা অন্তঃস্বওা।তার মানে কোনও নতুন অতিথি আসতে চলেছে।পিচ্ছির কোলে আরেক পিচ্ছি।নীলার মুখে হাসির ছোপ গাঢ়ো ভাবে ফুটে উঠেছে।নীলাকে দেখে বুজলাম মেয়েরা সবচেয়ে বেশী খুশী হয়,তখন,যকন সে মা হয়.....
#নীলখাম
#পর্বঃ০১
বাবার বন্ধু মেয়ে যখন বউ
#গল্পঃবাবার_বন্ধুর_মেয়ে_যখন_বউ।
পর্বঃ8
মনে হয় চিঠি টা আমার জন্য। খুললাম চিঠিটা।,,
জিদান তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করার জন্য আমি দুঃখিত। আসলে তুমি সত্যি টা না জেনে এমন করছো। আর আমি তোমার পাশে অন্য কে দেখতে পারি না। তোমার বাইকের চাবি টেবিলের উপর রাখা আছে।
কী করবো বুঝতে পারলাম না। না এতো অপমানের পড়ে তার বাইক রাখা যাবে না। তাই বাইক দেয়ার জন্য যেতে হবে। বাইক নিয়ে জারার বাসায় গেলাম,,
গিয়ে দেখি জারা বসে আছে, আন্টি রান্না ঘরে। আর ছেলেটা ও বসে আছে। আমি কারও সাথে কোনও কথা না বলে বাইকের চাবি টা টেবিলে রেখে চলে এলাম।
বাসায় চলে এলাম। অনেক দিন হয়ে গেছে জারার সাথে কোনও যোগাযোগ নেই। আমি নিয়মিত কলেজে যাই। আজকে ও গেলাম, আরে মেয়ে টাকে তো চেনা চেনা লাগছে, জারা তো, মনে হয় স্কুল পালাইয়ে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে আসছে, কিন্তু এলাকা টা তো বেশি ভালো না। ,,, ওর সব বন্ধু রা ও চলে যাচ্ছে, কিন্তু সে রিকশা পাচ্ছে না তাই দাড়িয়ে আছে, যায়গা টা ও শুনশান,, না এভাবে ওকে একা রাখা যাবে না।।
---- এখানে কেনও আপনি?( অন্য দিকে তাকিয়ে)
---- ঘুরতে আসছিলাম, কিন্তু রিকশা পাচ্ছি না।
---- বাইকে উঠুন বাসায় ড্রপ করে দিচ্ছি।
কোনও কথা না বলে বাইকে উঠলো। মাঝ পথে বাইক দাড় করালাম, সিগারেট কিনতে।
---- এইসব না খেলে হয়না।
--- না, এইটা আমার সাথে খারাপ ব্যাবহার করে না।
----- আসলে যদি একটি সময় দিন তাহলে কিছু কথা বলার ছিলো।
---- বাইক চালানোর সময় কথা বললে আমার সমস্যা হয়।
জারার কোনও কথা শুনলাম না। ওকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আমি চলে এলাম। পরের দিন কলেজে গেলাম। সব বন্ধুরা তাদের gf দের পিক দেখালো, এখন আমার পালা,,,
---- কি জিদান তোর gf এর পিক দে।
---- আমার gf নেই।
---- সে কি রে।
---- এটাই সত্যি।
---- যা এইটা মেনে নেয়া যায় না।
---- না গেলেও মানতে হবে।
---- ওকে ঠিক আছে। ,,,,
ক্লাস করতে ভাল লাগছে না। তাই সব বন্ধুরা চলে যাবো, ক্লাস করবো না।
---- জিদান আমাকে একটু বাসায় দিয়ে আসবা?( আরিফা)
---- ওকে ঠিক আছে চলো।
---- হুম চলো।
---- তোমার বাসায় টা কোন দিকে।
--- ওই তো ( ঠিকানা দিয়ে বললো)
আরিফা কে বাইকের পিছনে নিয়ে যাচ্ছি। আরে এখন তো পথে জারার স্কুল পরবে,,এইরে স্কুল টা ও এখনই ছুটি হলো,, আজকে যে বৃহস্পতিবার আমার খেয়াল ছিলো না, ঠিকই জারার সামনে পরলাম, জারা কিভাবে যেন আমার দিকে দেখছে, আমি দেখে ও ইগনোর করলাম,,
মনে হয় জারা আজকে একটু বেশি কষ্ট পেলো,,,
আরিফা কে ওর বাসায় নামিয়ে দিলাম। আমি বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে একটু ফোন নিয়ে বসলাম, তখনই আব্বু আসলে,,,
---- জিদান তুই একটু তোর আংকেলর বাসায় যা তো।
( আমি আদনান, গল্পের মাঝে কথা বলার কারন হলো, আমার গল্প টা কে যেনও কপি করতাছে, তাই সে যেনও আর কপি না করে)
---- কেনও?
---- এই জরুরি ফাইল গুলো দিতে হবে,,
---- আমি পরবো না।
---- যা একটু,,
আব্বুর অনেক বলাতে আমি গেলাম,, গিয়ে দেখি আংকেল নেই মনে হয় বাইরে গেছে,। তাই আন্টির হাতো ফাইল টা দিয়ে চলে আসবো এমন সময়,,,
---- জিদান জারার সাথে কী তোমার ঝগড়া হইছে?
---- কই নাতো।
---- তাহলে কিছু খায় না, কারও সাথে কথা বলে না কেনও?
---- সেকি আন্টি কী বলছেন এইসব,,
---- হ্যা বাবা ঠিকই বলছি।
---- জারা জই?
---- নিজের রুমে আছে।
---- আপনি খাবার দিন আমি দিয়ে আসছি।
---- ঠিক আছে।
__**=**=**=**_==**===**==__==_=_=_=_=[_
----- ভিতরে আসবো?
---- আরে আপনি ( চোখ মুছতে মুছতে)
---- হুম, কেনও অন্য কাওকে আশা করেছিলেন নাকি।
----- না, আর কাকে করবো।
---- করার মানুষের তো আর অভাব নেই। এখন খেয়ে নিন।
---- আমার খেতে ইচ্ছে করছে না।
---- খেতে বলছি খেয়ে নিন।
---- না বললাম তো খাবো না।
---- এই ছেমড়ি তোকে খেতে বলছি( ধমক দিয়ে)
----- খাচ্ছি।
জারা খাওয়া শেষ করলো, তারপর আমি চলে এলাম।
অনেক দিন হলো বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাই না, তাই আজকে একটু যাবো ভাবছি,, সবার সাথে ঘুরতে গেলাম,, কিন্তু আরিফার নাকি কী একটা কাজ আছে তাই ও আামকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে এলো,,
---- কী এখানে এলাম কেনও?
---- আমারbf আসবে তার জন্য।
----- তোমার bf আসবে ভাল কথা আমি এলাম কেনও?
---- তুমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তাই তোমাকে নিয়ে এলাম।
--- কই তোমার bf এখনই চলে আসবে চলো আমরা ভিতরে যাই,,
---- হুম চলো।
তারপর আরিফার bf. এর সাথে কিছু সময় কাটানের পরে চলে এলাম বাসায়। আজকে অনেক দিন পরে বড় আপু এসেছে। তাই আপুর সাথে সময় কাটালাম।
আপুর সাথে নাকি আমার যেতে হবে কি আর করার তাই চলে গেলাম। আপুর বাসায় ভালই দিন কাটছে। জারা কথা এখন বেশি মনে হয় না। ১৫ দিন পরে বাসায় এলাম। একি জারা আমাদের বাসায় কেনও,,,
--- আপু জারা আমাদের বাসায় কেনও( ছোট আপু)
---- আসলে আন্টি আর আংকেল, ইন্ডিয়া গেছে, আন্টিকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে। তাই জারা কে এখানে রেখে গেছে।
---- কেনও অন্য কোনও বাসা পেলো না, এখানে রাখতে হলো।
---- এখানে আছে তাতে তোর খুশি হবার কথা,
---- আমি কেনও খুশি হতে যাবো।
---- তোর খুশির মানুষ তাই।
---- হাহাহাহা কি বলো।
নিজের রুমে এলাম, অনেক দিন ধরে ছাদে যাওয়া হয় না, তাই ছাদে গেলাম, জারা ও আসলো, জারা কে দেখে আমি ফোনে কথা বলার অভিনয় করে নিচে চলে এলাম। মনে হয় জারা আমাকে কিছু বলতে চায়। কিন্তু আমি কোনও পাত্তা দিলাম না।
এসে শুয়ে আছি, তখন আরিফার ফোন আসলো,,, আরিফার সাথে কথা বলে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে অনেক লেট করে ঘুম ভাংলো। বাসায় কাওকে দেখছি না কেনও?
আব্বু কে ফোন দিলাম,,,
---- আব্বু কই তোমরা?
---- আমরা তো একটু বাহিরে আসছি, তুই একটু বাসায় থাক, জারা ও আছে, আর আমরা বিকালে আসবো।
---- বাইরে গেছে আর আমাকে নিয়ে গেলে না কেনও?
---- তুই ঘুম থেকে দেরি করে উঠলি কিভাবে তুই আসবি।
সকালে নাসতা ও খেলাম না, বাহিরে গিয়ে খেয়ে আসি।,,
---- কোথায় ও যাচ্ছেন?
----- হুম বাইরে যাবো।
---- নাসতা করে যান।
---- না বাইরে করবো।
--- আন্টি বলে গেছে আপনি যেনো বাইরে না যান।
---- আমি বাইরে গেলে আপনের আন্টির কী হুম?
----তাতো আমি জানি না।
কী আর করবো বাহিরে গেলাম না। সোফায় বসে টিভি দেখতেছি। তখন জারার একটা ফোন আসলো, জারা উঠে ফোনটা রিসিভ করে কথা বলতে লাগল, কথা বলার স্টাইল দেখে মনে হলো কোনও ছেলে হবে, তখনই আমি জারার কাছে গিয়ে ওর ফোনটা নিয়ে, কলটা কেটে দিলাম, ওর হাতটা শক্ত করে ধরে পিছনে নিয়ে মোচড় দিলাম,,,
---- আহহহ কি করছেন ছাড়ুন লাগছে তো।
--- লাগুক, আগে বল কার সাথে কথা বলছিলি?
---- আমার একটা বন্ধুর সাথে।
---- এতো ছেলেটা বন্ধু দের সাথে কিসের কথা।
---- লাগছে আমার ছারতো বলছি।
---- ছাড়বো না তোকে, আজ তোকে মেরেছি ফেলবো।
---- জিদান ছাড়ুন বলছি,, আমি আপনারgf না, যে মারলে কিছু বলবো না।
--- কী বললি তুই, ( ধাক্কা দিয়ে সোফায় ফেলে দিলাম,
মনে হয় অনেক লাগছে,
---- একি জারা কী হইছে,
---- অনেক ব্যথা লাগছে( কেদে কেদে)
---- সরি,, কেথায় লাগছে বলো আমাকে।
---- থাক মেরে এখন আর আদোর করতে হবে না।
---- আমি আদর করবো আবার আমিই মারবো।
---- আমি কে আমাকে আদর করবেন।
---- তুমি কে যানে না,,
বলেই জারা কে জড়িয়ে ধরলাম, কপাল অনেক গুলো কিস করলাম, তারপর আবার ছেলেটার কথা মনে পরায় ওকে ছেড়ো দিলে। রুমে চলে এলাম। একটা ঘুম দিলাম, ঘুম থেকে উঠে দেখি সবাই চলে এসেছে।
পরের দিন কলেজে গেলাম,, বাসায় আসতে অনেক রাত হলো, কারন লং ড্রাইভে গেছিলাম ।। কেও গেট খুলে না, কি করবো, আজকে কী তাহলে বাইরে কাটাতে হবে, ধুর ভালো লাগে না। না বন্ধুর বাসায় যাই। পরের দিন বাসায় গেলাম, বিকালে আপুকে নিয়ে ঘুরতে যাবো, না হলে আপু সব কিছু ফাস করে দিবে সেই হুমকি দিল। জারা কে ও সাথে করে নিতে বললো কিন্তু নিলাম না, আমি বললাম, কারও বাপের টাকায় কেনা বাইক না, যে কাওকে নিয়ে ঘুরতে যাবো। আপু তুমও গেলে চলো। জারা অনেক কষ্ট পেলো, ঘুরাঘুরি শেষ করে বাসায় এলাম। জারা আজকে অনেক কষ্ট পাইছে মনে হয়। কারন এই কয়দিন টুকিটাকি কথা বলছে আজকে একদমই বলছে না।
এক সপ্তাহ পরে জারার বাবা মা চলে এলে তাই ওকে বাসায় দিয়ে আসতে হবে, সেই দায়িত্ব টা পড়লো আমার উপর।
( আবারও বলছি আমি জিদান, কেও একজন আমার গল্প কপি করে। গল্পের মাঝে মধ্যে বলার জন্য সরি)
জারাকে বাসায় পৌঁছে দিলাম তখন মনে হলো কেও একজন আমাকে ইশারা করে বলতাছে,,
হ্যা এই ছেলেটা।
পরের দিন বাসায় গেলাম, দেখি কিছু মানুষ মনে হয় আমাকে ফলো করে, কিন্তু কিছু বুজতে পারছি না,, একদিন একা একা সন্ধার আগে বাসায় ফিরছি তখন কতো গুলো লোক আমার পথ আটকালো,,,
---- একি কারা আপনার?
---- আমরা কারা তা পরে জানতে পারবি,, আগে বল জারা কে তুই কেনও বিয়ে করলি।
---- আমি কেনও বিয়ে করছি তা আপনাদের বলবো কেনও।
--- তুই জানেস না জারা কে আমি বিয়ে করতে চাইছিলাম।
---- তাতে কী,, আপনি তো করেননি।
---- তুই না করলে তো আমি করতে পারতাম, এখন এর জন্য তোকে এর পরিনাম পেতো হবে। ওই ওকে ধর,
তারপর কিছু লোক এসে আমাকে ধরলো, আমি এতোজনের সাথে পারলাম না, হঠাৎ মনে হলো কেও একজন আমার পিছন দিকে কিছু একটা ঢুকিয়ে দিলো। অনেক ব্যাথা অনুভব করলাম,
তারপর এক সময় মাটিতে পড়ে গেলাম। চারপাশে অন্ধকার নেমে এলো, আমিও চোখ মেলতে পারলাম না,,,,,,
চলবে,,,,,,,,
কাজের মেয়ে যখন বউ
কাজের মেয়ে যখন বউ...
Part -01...
★★★★★
আমি নীল, আজ অনেক দিন পর বাড়িতে আসলাম।
বাসায় এসে কলিংবেল বাজানোর পর.......
-আসসালামু আলাইকুম(অপরিচিত মেয়ে)
-ওয়া আলাইকুম আসসালাম(আমি)
-ব্যাগ টা দেন
-কে তুমি?
-ওর নাম মুন্নি(মা)
-ওহ
-হুমম এখন ফ্রেস হয়ে বস পরে সব বলব
-আগে বলো তুমি আর বাবা কেমন আছো?
-হুমমম পাগল সবাই ভালো আছে, মুন্নি এক গ্লাস সরবত বানিয়ে নিয়ে আয়।
-আচ্ছা খালাম্মা(ওর নাম মুন্নি)
-মা এই মেয়েটা কে?
-তোর নানির বাড়ির, ওর আপন বলতে ওর বাবা ছিলো কয়েকদিন আগে উনি মারা গেছে তারপর ওরে আমাদের বাসায় নিয়ে আসলাম।
-মা তুমি কি যে করো।
এইভাবে অপরিচিত মেয়ে আনা ঠিক নাহ
-আরে পাগল এটা তোর নানার বাড়ির।
-হুমম বুঝলাম
-হুমম মেয়েটা ও অনেক লক্ষী
-হয়ছে বাদ দেও এবার।
খাবার খেয়ে রুমে এসে ঘুম দিলাম।
বিকালে দরজা বার বার নক করতাছে তখন দরজা খুলে....
-ঐ মাইয়া কি হয়ছে?(আমি)
-ভাইয়া রুম মুছবো(মুন্নি)
-দেখতাছো রুম খুলি নাই তা ও বার বার কেনো নক করতাছো?
-চুপ
-যাও এখান থেকে
ও মন খারাপ করে চলে গেছে, আমি আবার ঘুমের দেশে ভ্রমন করলাম।সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠে মারে খুজতে খুজতে ওর রুমে গিয়ে দেখি ও কান্না করতাছে আর চোখগুলে লাল হয়ে আছে।
মনে হয় খুব কান্না করছে।
-কান্না করো কেনো?(আমি)
-না তো ভাইয়া(মুন্নি)
-তাহলে চোখ লাল হয়ে আছে কেনো?
-চোখে পোকা পড়ছিলো তুই লাল হয়ে আছে।
-তুমি কি আমারে অবুঝ পাইছো যে যা বলবা তা-ই বিশ্বাস করবো।
-চুপ হয়ে আছে
-স্যরি
-না না ভাইয়া, আমি তো এমনিতে মন খারাপ করে রাখছি কারন মা বাবার কথা মনে পরছে তাই
-আমি মিথ্যা কথা শুনতে পছন্দ করি না
-আসলে
-হয়ছে এখন ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসো।
-ওকে
আপনাদের বলতে ভুলে গেছি,
মুন্নি ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ালখে করে।
অনেকদিন পর বন্ধুদের পেয়ে আড্ডা দিয়ে ১০ টার দিকে বাড়িতে ফিরলাম ।
-এতো রাত করে আসলি কেনো?(মা)
-মা অনেকদিন পর বাড়িতে আসা তাই বন্ধুরা ছাড়ে নাই।
-হুম ফ্রেশ হয়ে খেতে আয়
-ওকে
খাওয়া-দাওয়া শেষ করার পর......
-বাবা মুন্নি অনেক্ষন হয় একটা অংক মিলাতে পারতাছেনা, তুই যদি একটু হেল্প করতি
-ওকে, কোথায়?
-ওর রুমে
-ওকে
ওর রুমে গিয়ে দেখি রুমটা অনেক গুছালো,ঠিক ওর মতোই।
ওর মতো কেনো বলছি??
ও দেখতে অনেক সুন্দর, যে কেউ দেখে ওর প্রেমে পড়তে পারে।ও যখন সন্ধ্যায় কান্না করছিলো তখন ওর চোখের কাজলগুলো লেপ্টে গিয়ে কেমন যেনো এক অদ্ভুত সুন্দর লাগতে ছিলো।
আমি আসতে দেখে ও বসা থেকে দাড়িয়ে.....
-ভাইয়া বসেন(মুন্নি)
-আরে বসো বসো
-না আপনি বসেন
-হুমম বলো কোন অংকে সমস্যা?
-ভাইয়া এই অংক টা
-ওকে দাও
অংকটা বুঝিয়ে দেওয়ার পর...
-ভাইয়া ধন্যবাদ
-হুমম ধন্যবাদের কিছু নাই,এখন খেতে আসো।
-ওকে ভাইয়া আসছি।
ও অন্য দশটা কাজের মেয়ের মতো নাহ।আগেই বলছি ওর কেউ নাই তাই আমাদের বাসায় নিয়ে আসছে।বাসার কাজ ও আর মা মিলে করে, আর পড়ার সময় পড়তে বসে।
রুমে বসে বসে ল্যাপটওে আশিক বানাইয়া আপনে গানটা শুনতাছি,মুন্নি হঠাৎ করে রুমে ডুকে আমার দিকে একবার আর ল্যাপটপের দিকে একবার তাকাচ্ছে।
আর বস ইমরান হাশমি ও এখন সেই মুহূর্তে আছে।
-স্যরি(মুন্নি)
-কেনো?
-না কিছুনা এমনিতে বলে দৌড় দিয়ে রুম থেকে চলে গেছে , ওর মুখে স্পষ্ট লজ্জার ছাপ বুঝা যাচ্ছে। ওর অবস্থা দেখে আমার হাসি উঠে গেছে।
আসলে আমার রুমে কেউ প্রবেশ না।
প্রবেশ করলেও নক করে প্রবেশ করে,কিন্তু গ্রামের মেয়ে তো তাই হয়তো এমন ভুলগুলো করতাছে।
সকালে উঠে ব্রাশ করে দেখি ও মাকে নাস্তা বানাতে হেল্প করতাছে।
ওর সাথে চোখাচোখি হওয়ার হাসি দিয়ে আবার নিচের দিকে চেয়ে রয়ছে।
নাস্তা শেষে
-বাবা ওরে একটু কলেজে দিয়া আয়।
-ও কি এতোদিন কলেজে যায়নি?
-যায় কিন্তু বখাটে ছেলেরা নাকি ওর পিছনে নেয়।
-ওহহ
-হুমম তাই বলছিলাম কি ওরে যদি কলেজে নিয়ে যেতি তাহলে ভালো হত।
-আচ্ছা,মা বাইকটা বের করি?
-না না বাইক ছাড়া যাবি।
-কেনো?
-৭-৮ মাস আগে হাত ভাঙ্গছিলো, সেটা কি ভুলে গেছোছ?
-ঐ সময় তো আমি আমার জায়গা দিয়েই যাচ্ছিলাম তখন ট্রাক চালক এসে আমার বাইকে ধাক্কা লাগিয়ে দিছে।
-হয়ছে এখন চাপা মারা লাগবোনা।রিক্সা দিয়ে যা
-তাহলে আমি পারবোনা
-আচ্ছা বাইক নিয়ে যা তবে খুব সাবধানে চালাবি বাবা।
-ওকে মা, তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ট মা
-হয়ছে এখন আর পাম্প দেওয়া লাগবে না।
-পাম্প না তো
-ওকে এখন ওরে নিয়ে কলেজে দিয়ে আয়।
-ওকে,আসো(মুন্নির উদ্দেশ্যে)
-বাইকটা বের করে দেখি সবই ঠিকঠাক আছে,তেল ও আছে
-উঠে পিছনে বস
-কিভাবে উঠবো?
-বাংলা মুভি দেখোনা?
-হুমম একটু একটু
-নায়কারা যেভাবে উঠে যায় তারাতারি উঠে বসে যাও
-আমি কি নায়কা নাকি?(মাথা নিচের দিকে দিয়ে, এখন ও কালকের লজ্জা মাখা হাসিটা দিতাছে)
-নায়কার চেয়ে কম কিসে।
-নীল ভাইয়া এখন কিন্তু ভালো হবে না
-আচ্ছা আচ্ছা উঠে বসো
-হুম আপনি স্টার্ট দেন
ওরে পিছনে নিয়ে প্রথমই একটু জুড়ে টান দেওয়াতে ওর দুই হাত দিয়ে আমার কোমরে জড়িয়ে ধরছে আর বলছে ভাইয়া ভাইয়া আস্তে চালাও আমার ভয় করছে।
-আরে আস্তেই তো চালাচ্ছি।
-আরো আস্তে চালান
-ভয় পাও?
-হুমমম
-আমি থাকতে এতো ভয় কিসের?
-আপনি আছেন তার জন্যইতো ভয় করতাছে
-কিহহহহহ
-হুমম, আস্তে চালান আর না হলে খালাম্মার কাছে বিচার দিমু
-কি বিচার দিবা?
-বলমু আপনি আমারে নিয়ে এতো জুড়ে জুড়ে বাইক চালাইছেন।
-হি হি হি তাহলে মা কিছু বলবে না
-কিছু না বললে বলবো যে আপনি ঐসব খারাপ খারাপ ভিডিও দেখেন।
-এই এই কি ভিডিও দেখছি?
-ঐ যে এক জন আরেক জনের সাথে...
চলবে...
আমার_স্বামী_প্রেগন্যান্ট
#আমার_স্বামী_প্রেগন্যান্ট 😲😲
পর্ব : ২ (শেষ পর্ব)
বুঝতেই পারিনি সময় কিভাবে কেটে যাচ্ছে,,,, আজ এই মুহুর্তে হসপিটালে বসে অপেক্ষা করছি কখন আমি আমার প্রিন্সেস এর শব্দ শুনতে পাবো।হ্যা আমি একটা মেয়ে সন্তান চাই,,, যাকে দেখতে একদম আমার তিতলির মতো হবে,,, অবশ্য তিতলি আমাকে বলেছে সে একটি ছেলে সন্তান চায় আমার মতো। এই টপিক নিয়ে আমাদের মাঝে প্রায়ই লড়াই হতো,,,, আর প্রতিবারই তিতলি জিততো,,,
আমি তাকে জিততে দিতাম। কি আর করব নাহলে যে সে বারে বারে আমার সেই কথাটি তুলে ধরে আর আমাকে ব্লেইকমেইল করে যে বাসার সবাইকে বলে দিবে যে আমি নাকি প্রেগন্যান্ট,,,, হ্যা এই কথাটি নিয়ে তিতলি এখনো আমার সাথে মজা করে,,,, আমি যদি বেশিক্ষণ অফিসে কাজ করি আমাকে বলে '' নিঝুম এই অবস্থায় তোমার এতো কাজ করা ঠিক না ''
আমি নিজেকে এখনো দোষারোপ করি যে কেন আমার মুখ দিয়ে এই কথাটা বের হয়েছিল,,,মাঝে মাঝে তো তিতলি সবাইকে প্রায় বলেই দিয়েছিল,,,খুব কষ্টে তাকে আইসক্রিম এর কথা বলে চুপ করাই,,,
হ্যা আর তিতলিকে একদম বাচ্চা মেয়েদের মতো সামলাতে হয়েছে আমাকে,,,, মাঝে মাঝে রাত ২ টায় আমাকে ডেকে বলতো '' নিঝুম আমি পিজ্জা খাবো '' কি আর করার তাই করতাম,,,
অবশ্য এই কয়েকমাসে আমার তিতলির চেহারায় অনেক glow এসেছে,,, আমি তার মুড সুয়িংস গুলো অনেক মিস করবো,,,
অবশেষে আমি আমার সন্তানের চিতকার শুনতে পেলাম,,,, বুকের ভেতরটা জানি কেমন লাগছে,,,, নার্স OT থেকে বাইরে এসে আমাকে বলল '' Congratulations আপনার ছেলে হয়েছে '' আমার চোখ দিয়ে আনন্দের পানি ঝরছিল। আমি নার্সকে জিজ্ঞাসা করলাম তিতলি কেমন আছে,,, নার্স আমাকে বলল সে ঠিক আছে আর আধা ঘন্টার মধ্যেই তাকে OT থেকে শিফট করা হবে,,,,
নার্স এসে আমাকে আমার সন্তানকে আমার কোলে দিল,,, আমি বলে বুঝাতে পারব না যে আমি কতো খুশি,,, আমার আর আমার তিতলির ভালোবাসার চিহ্ন। আমাদের সন্তান একদম আমার তিতলির মতো দেখতে,,,, পরে মা, বাবা আর বাড়ির সবাই মাহিরকে কোলে নিল,,, হ্যা তিতলি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল যে ছেলে হলে মাহির আর মেয়ে হলে মাহিরা,,
কিছুক্ষণ পর তিতলিকে কেবিনে শিফট করা হয় আর আমি মাহিরকে আমার কোলে নিয়ে কেবিনে ঢুকি,,, গিয়ে দেখি তিতলি শুয়ে আছে,,, আমি তার পাশে গিয়ে বসি আর আলতো করে তার কপালে কিস করি।
আমার কিস করাতে সে তার চোখ মেলল আর আমি তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দেই,,,
তিতলি আমাকে ইশারা করে মাহিরকে তার কোলে দেওয়ার জন্য। আমি মাহিরকে তার কোলে দিয়ে তাকে বলি '' তিতলি মাহির তো এসে গেছে, এখন আরেকজন অপেক্ষা করছে ''
তিতলি আমার দিকে তাকায় আর বলে '' কে ''
আমি বলি '' আরে আমাদের মাহিরা ''
আমার কথা শুনে তিতলির গাল দুট একদম আপেলের মতো লাল হয়ে যায় আর সে আমার দিকে রাগে তাকায় তার লজ্জা লুকানোর জন্য।
আমি বলি '' আরে তুমি রাগ করছো কেন? দেখ তুমি তোমার প্রিন্স পেয়ে গেছো এখন আমারও তো আমার প্রিন্সেস চাই। আর তাছাড়া মাহিরের ও তো একজন সাথী চাই তার সাথে খেলার জন্য তার কথা অন্তত ভাবো,,,
তিতলি লজ্জায় লাল হয়ে যায় সে কিছু বলবে এমন সময় আমি বলি '' দেখো তুমি একদম আপেল হয়ে গিয়েছো,,, আর তুমি তো খুব ভাল করে জানো যে আমি আগেল খেতে অবেক পছন্দ করি।
তিতলি কিছুক্ষন চুপ করে রইল আর পরে আমাকে বলল '' আরে নিঝুম আগে তোমার ডেলিভারি হোক তারপর দেখা যাবে ''
এমন সময় আমাদের পরিবারের সবাই আসল আর আমার বোন কুহু আমাকে বলল '' আরে ভাবি কিসের ডেলিভারি? মনে হয় মাহিরের বোন এর প্লেন করা হচ্ছে,,
আমি আর লজ্জায় কিছু বলি নি।
#তিতলি
আমি জানি এটা ঠিক না,,, কিন্তু তাও নিঝুমের অই কথাটি নিয়ে নিঝুমের সাথে দুষ্টামি করতে আমার খুব ভাল লাগে,,, নিঝুম আমার কোনো কথা না শুনলে আমি এই কথাটি নিয়ে তাকে ব্লেইকমেইল করি। আর বেচারা নিঝুম চুপচাপ আমার কথা মেনে নেয়,,, অবশ্য তার চোখে রাগ স্পষ্ট দেখা যেতো,,, কিন্তু আমার রাগী নিঝুমকে দেখতে খুব কিউট লাগে। আই লাভ মাই এংরি ম্যান 💝 অবশ্য আরেকটা কথা বলা যায়,,, আই লাভ ইউ মাই প্রেগন্যান্ট হাসবেন্ড 😀😀
*************************
প্লিজ কমেন্ট করে জানাবেন কেমন লাগল 🙏🙏
বিশ্বাসের প্রতিদান
😢😢চোখের পানি ধরে রাখতে পারবে না😢😢
😢😢গল্পঃ**বিশ্বাসের**প্রতিদান💔💔
👉👉মাত্র কয়েক মিনিট
আগে আমি
আমার স্ত্রী নিলিমা কে হত্যা করলাম।👰😂😂
নিজের হাতে বিষ মিশানো দুধ
খাইয়েছি ওকে।👰
👉অবাক করা বিষয় কি জানেন? নিলিমা
জানতো আজ আমি ওকে খুন করবো।
এমনকি ও এটাও জানতো যে দুধে বিষ
আছে। তারপরও ও আমার হাত থেকে
দুধটা হাসি মুখে খেয়ে নিলো। দুধ
খেয়ে বললো আমি তোমাকে শেষ
বারের মত জড়িয়ে ধরে তোমার
চোখে একটা চুমো খাবো?💋👨
আমি কিছু বলতে পারিনি। কি বলবো?
শুধু ওকে শক্ত করে বুকের মাঝে জড়িয়ে
ধরেছিলাম। ও আমার চোখে একটা
চুমো দিলো। তারপর আমার বুকে
ঘুমিয়ে পরলো। আমি ওকে বিছানায়
শুইয়ে দিয়ে আসলাম।👨👨😢😢
👉এখন আমি লিখছি। কি লিখছি?
জীবনের কিছু কথা লিখছি।
নিলিমাকে খুন করার কোন কারন আমার কাছে নাই।😢😢😢
👉কারন নিলিমার মত স্ত্রী পাওয়া যে কোন
পুরুষের জন্য ভাগ্যের বিষয়। যে মেয়ে
তার সবটা দিয়ে তার স্বামীকে
ভালোবাসে, শ্বশুর শ্বাশুরির সম্মান
করে 👰😢😢, নিজের সংসারটাকে মন্দিরের
ন্যায় পুজ্যনীয় মানে সে মেয়েকে
পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের বিষয়। তাহলে
কি নিলিমার কোন পরকিয়া ছিলো ?
ছিঃ এ কথা মুখে আনাও পাঁপ😢😢। কারন
নিলিমা ছিলো যথেষ্ট ধার্মিক মেয়ে। ওর
পুরো পৃথিবী জুড়ে ছিলাম শুধু আমি
আর আমাদের সংসার।👨👰
👉তাহলে আমি নিলিমাকে মারলাম কেন? হুম শুনলে আপনাদের বুক কেঁপে উঠবে।👨😵😵
নিলিমাকে মেরেছি কারন আমার মা
বলেছে। এখন আপনারা বলবেন মা
বলেছে বলে আমি নিলিমাকে মেরে কেন
ফেললাম?😢😢😢👰👰 কারন মা নিলিমাকে ঘৃনা
করতো আর আমি আমার মাকে খুব
ভালোবাসি। মা কখনোই নিলিমাকে
পছন্দ করতেন না। তার একমাত্র কারন
হচ্ছে নিলিমা অনাথ। ওর জন্ম পরিচয়ের
ঠিক নাই।👰👰😂😂 ছোট বেলা থেকে অনাথ
আশ্রমে বড় হয়েছে।👉👉 নিজের অভিজ্ঞতা
আর কঠিন প্রচেষ্টায় নিলিমা অনার্স
কমপ্লিট করেছে।ভালোবেসে বিয়ে
করেছিলাম আমরা। আমাদের
ভালোবাসাটা বাবা মা কখনোই
মেনে নেয়নি👰😢😢😢। তবুও তাদের অমতে
জোড় করে আমি নিলিমাকে বিয়ে করি।
নিলিমাও তাদের অমতে বিয়ে করতে
চায়নি কিন্তু আমার জেদের কাছে হার
মানতে হলো।👨😎😎😎
👉আমাদের বিয়ের পর নিলিমা আমাদের
বাড়ির সবার খুব খেয়াল রাখতো।
বিশেষ করে বাবা মায়ের। কিন্তু তবুও
মা পান থেকে চুন খসলেই নিলিমাকে যা
তা বলে গালি দিতো👰👰👰। মাঝে মাঝে
নিলিমাকে অবৈধ পাঁপও বলতো। নিলিমা
কখনো তাদের মুখের উপর কোন কথা
বলতো না👰👰😢😢। চুপচাপ নিচের দিকে
তাকিয়ে থাকতো। ওর কষ্টটা আমি
আমার ভালোবাসা দিয়ে ভুলাতে
চেষ্টা করতাম😢😢💕💕। নিলিমা কে আমি কয়েকবার বলেছিলাম চলো আমরা আলাদা বাসায় উঠি! কিন্তু ও বলতো বাবা মা যতই বকা দিক তারা কিন্তু বাবা মাই।👨👰
👉জন্মের পর থেকে নিলিমা কখনো বাবা
মায়ের স্নেহ ভালোবাসা পায়নি।
ভেবেছিলো বিয়ের পর সেটা পুরন
হবে। কিন্তু কথায় আছে না তৃষ্নার্ত
যেখানেই যায় সাগর শুকিয়ে যায়। তখন
যদি নিলিমা আমার কথামত আলাদা
বাসায় যেতে রাজি হতো তাহলে ওর
মৃত্যু হতো না।👰😭😭😭😭😭
👉কিছুদিন থেকে মা খুব অসুস্থ ছিলেন।
নিলিমা মাকে খুব সেবা যত্ন করতো।
সেদিন মা আমায় রুমে একা ডাকলেন।
আমি যাওয়ার পর মা বললো
মাঃ বাবা তোর কাছে কিছু চাইবো
দিবি? আমার শেষ চাওয়া।👰👰 শেষ ইচ্ছা।
মায়ের কথায় খুব কষ্ট হচ্ছিলো। শত
হলেও নিজের মা তো?
আমিঃ হ্যা বলো মা।👨👨👨
👉মাঃ আগে আমাকে ছুয়ে প্রতিজ্ঞা কর
যে আমি যা বলবো তাই শুনবি।
আমিঃ ঠিক আছে মা প্রতিজ্ঞা
করলাম। 👨👨😢😢( মাকে ওয়াদা করাটাই আমার
জীবনের চড়ম কাল হয়ে দাড়ালো। )
👉মাঃ তুই ঐ পাঁপকে বিদায় কর। নয়তো
মেরে ফেল। ও যতদিন থাকবে আমি
মরেও শান্তি পাবো না।👰😂😂
👉মাকে কিছু বলতে চাইছিলাম কিন্তু মা
বলতে দিলো না। মা বললেন দেখ তুই
আমাকে ছুয়ে প্রতিজ্ঞা করছিস। এখন
বল তোর মা বড় না বৌ।😵😵😵😵
আমি কোন কথা না বলে রুম থেকে চলে
আসতে নিলাম। দেখলাম নিলিমা পানি
হাতে দাড়িয়ে আছে। 👰👰👰ওর চোখ থেকে
পানি পড়ছে। মানে ও সবটা শুনেছে।
আমি কোন কথা না বলে রুমে চলে
আসলাম👨👨। সেদিন রাতে নিলিমা নিজে
থেকেই আমায় অনেক আদর করলো।💝💖💖
👉ভালোবাসায় ভরিয়ে দিলো আমার
মনটাকে। আমায় পরিপূর্ন করলো ওর
রাঙানো ভালোবাসায়। 💕💕শেষ রাতে
তাহাজ্জুত নামাজ পড়ে আমায় বললো
👉নিলিমাঃ তোমার জায়গায় আমি থাকলে
আমি আমার মায়ের কথা মানতাম।👰😢😢
আমি অবাক দৃষ্টিতে নিলিমার দিকে
তাকিয়ে ছিলাম। আমার চোখ দুটো
দিয়ে পানি পরছিলো। নিলিমা আমার
চোখের নিচে চুমো দিয়ে আমার
চোখের পানি গুলোকে শুষে নিলো।👨😢
👉গত দুদিন নিলিমা আমায় এত ভালোবাসা
দিয়েছে যা কল্পনার বাইরে💝💖। হয়তো
এটাই ওর শেষ ভালোবাসা। আর আজ
আমি নিলিমাকে মারলাম।👰😭😭😭😭
👉নিলিমা এটাতো জানতো যে আমি ওকে
মারবো কিন্তু ও কি এটা বুঝতে
পারেনি যে আমি ওকে ছাড়া বাঁচবো
না।👨😭😭😭 ও কি ভেবেছে আমি মায়ের কথা
শুনবো আর আমার ভালোবাসার মান
রাখবো না? হুমমম তা কি হয়?👨👨👨 আমি
মায়ের কথায় যেমন নিলিমাকে মেরে
ফেললাম। তেমনি নিলিমার ভালোবাসার
মান রাখতে নিলিমার সাথে এক হয়ে এক
সাথে দুজন পরপারে পাড়ি জমাবো।👨👰👨
জানি উপরওয়ালা আমায় মাফ করবে
না। নিলিমাকে খেতে দেয়া অর্ধেক
পরিমান দুধ আমি নিজের জন্য
রেখেছিলাম। 👨😢😢সেটা মাত্র খেলাম।
👉মাকে কিছু কথা বলার আছে-----
মা তুমি মা। মায়ের স্থান কাউকে
দেয়া যায় না। 👰👰আল্লাহর পর মায়ের
স্থান। কিন্তু মা , মা যদি কলিজা হয়
স্ত্রী তবে হৃদয়। 👰👰😢😢কলিজা ছাড়া যেমন
মানুষ বাঁচতে পারে না তেমনি হৃদয়
ছাড়াও বাঁচতে পারে না। দুজনই
জীবনের অবিছেদ্দ অংশ।😭😭😢😢 আমি
তোমার কথা রাখলাম। সাথে আমার
ভালোবাসার মর্যাদাও রাখলাম। মা
তোমার শেষ ইচ্ছাতো আমি পূরন
করলাম। 👨😢😢এবার তুমি আমার শেষ ইচ্ছা
পূরন করবে মা? মা আমাকে আর নিলিমাকে
এক জায়গাই পাশাপাশি কবর দিও। আর
হ্যা মা তিনজনের জানাজা পড়িও।👰😭😭😢
👉তিন জন কে সেটা ভাবছো তো? আমি
, নিলিমা আর আমাদের অনাগত সন্তান।😢😢
হ্যা মা নিলিমা সেদিন তোমায়
বলেছিলো না মা আপনাদের নাতি
নাতনি থাকলে কেমন হতো? সেদিন
তুমি নিলিমাকে বলেছিলে তোর সন্তান
তোর মতই পাঁপ হবে।👰😢😢 না মা আমাদের
সন্তান পাঁপ না। ও আমার ওরশজাত
সন্তান। আমার রক্ত ছিলো।
👉মা আমি জানি কাল তুমি খুব কাঁদবে।
তোমার আর্তনাতে পুরো বাড়ি
কেঁপে উঠবে।😢😢😢 কিন্তু মা তোমার
সন্তান মরেছে বলে তুমি এত কষ্ট পাবে
তাহলে আমার সন্তানের জন্য আমার
ঠিক কতটা কষ্ট হচ্ছে তা তুমি বুঝতে
পারছো? জানো মা আজ নিলিমাকে
মারার পর আমি বিছানার নিচ থেকে
একটা কাগজ পাই।📜📜 সেটা থেকেই আমি
জানতে পারি আমি বাবা হতে চলেছি।
না বাবা হতে চলেছিলাম।👨👨😀😀
👉রিপোর্টটা দুদিন পুরোনো📜📜। মানে
নিলিমা জানতো বেবির কথা বললে ওকে
আমি মারতে পারবো না। মা জানো
নিলিমা মরার সময় কি বলেছে?😭👰😭
মায়ের খেয়াল রেখো। পাগলিটা
জানতেও পারবে না যে , মায়ের
খেয়াল রাখার জন্য আমি থাকবো না।😭😭😭
👉মা জানো আজ শুধু তিনটা মানুষের
মৃত্যু হলো না মৃত্যু হলো
ভালোবাসার, বিশ্বাসের, ভরশার,
স্নেহের , মমতার, মায়ার বাঁধনের আর
সম্পর্কের।😭😭😭😭😭😭😭😭😭
👉মা তুমি ভালো থেকো নিজের
খেয়াল রেখো। আমার ঘুম পাচ্ছে। খুব
ঘুম পাচ্ছে। যাই নিলিমার পেটে একটা
চুমো দিবো। কারন এতক্ষনে ওর
ভিতরে থাকা আমাদের ছোট্ট
সোনার হয়তো হ্যার্টবিট বন্ধ হয়ে
গেছে। 😭😭😭তারপর নিলিমাকে জড়িয়ে ধরে
ঘুমিয়ে পরবো। শান্তির ঘুম।😭😭😭
আর হ্যা। আমার আর নিলিমার মৃত্যুর জন্য
কেউ দায়ী না। আমরা নিজেদের ইচ্ছায়
দুনিয়া ছাড়লাম।😭👰👨😭😭😭
😭😭😭
😭😭😭গল্পটা কেমন হলো বলবেন😭😭
আদুরে বউ৬
>>>>>😍আদুরে বউ😍<<<<<<<<<<
পর্বঃ০৬
★চেন্জ করবো? কিন্তু কি চেন্জ করে আসবো😰
উফফফ..বুঝো না তুমি, কি চেন্জ করে আসতে বলছি😱
উমমম না ত😫
ড্রয়ারে তোমার একটা পছন্দের নীল পান্জাবী আছে, ওটা পরে আসো যাও😍
আর তুমি😜
আমি বেনারসীটা পরে আসবো, তোমার বউ সেজে,, যাও চেন্জ করতে,,😜
আসছা যাচ্চি,, মনে মনে ভাবছি, এতো রাতে পাগলীটার মাথায় কোন ভূত যে বাসা বেধেছে, ভগবান জানে,, কথাগুলো ভাবতে ভাবতে নিজের রুমে এসে পরেছি,, তারপর পান্জাবিটা পরে একটু সাজগুজু করলাম, বুকে একটু পারফিউম মেরে দিলাম, বোগলেও দিলাম, পাঠকরা, আপনারা হয়তো তীব্র গবেষনা শুরু করে দিছেন, মাথার তার আমারটা ছিরলো😜 নাকি আমার বউয়েরটা😫😜 নাকি দুজনেরটা একসাথে ছিরলো😃😆 কিন্তু কি করবো বলেন, বড্ড ভালোবাসি যে পাগলীটারে, বাসর-রাতে ছোটও করে একটা আবদার করেছে, সেটা কি না দিয়ে পারি, হোক না একটু কস্ট, আজ রাতটুকু না হয়, না ঘুমিয়ে কাটালাম, আদুরিটার জন্য, এতোটুকু কস্ট ত সয্য করতেই পারি😱 যাইহোক আপনাদের সাথে এতো বক বক করতেছি কেনো😃😃, ওইদিকে আমার বউটা হয়তো বসে আছে, পানজাবিটা পরে নতুন জামাইয়ের মতো বউয়ের কাছে যাচ্চি, যদিও জামায়টা পুরনো☺☺😆😆
এহহহহহহহহহহহ,, ,,, রাম,,, বউ ত অনেক আগেই নতুন বউয়ের মতো মুখে সাত পাঁচ দিয়ে আমার জন্য খাটে বসে আছে😜
ধ্যাৎ চাই,, পাঠকদের সাথে কথা বলতে বলতে এদিকে দেরী হয়ে গেছে,,, 😱
আমি নীলার পাশে গিয়ে বসলাম 😜
নীলা তোমাকে খুব সুন্দর লাগতেছে😍 নীলা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে হালকা্ লজ্জা পেয়ে, বললো
তাই, তোমাকেও আজ খুব সুন্দর লাগতেছে, অভ্র আজ আমি কিছুই বলবো না, যা করার তুমিই করবে😍😍
তাই। কিন্তু আমি ত জানি না, তোমাকে কি কি করলে খুশি হবে, ☺😰
নীলা, আমার মুখের দিকে তাকিয়ে তারপর, একটু মুচকি হাসি দিয়ে, বললো, অভ্র বি-সিরিয়াস, বাসর-রাতে স্বামী তার বউকে যা যা করলে খুশী হয়, তুমি তাই তাই করবে, কথাটা বলে নীলা মাথা নিচু করে ফেলে,, হুম পাগলীটা খুব লজ্জা পেয়েচে,, তাইলে ত একটু দুস্টুমি করতে হয়,
নীলা বাসর রাতটা আমরা গান দিয়ে শুরু কররবো, আর শেষটা সকালের গোসল দিয়ে শেষ করবো😍 [ পাঠকরা কিছু বুজছেন,😆 না বুজলে মুড়ি খান😍 ]
আসছা ঠিক আছে, অনিচ্চা সওে ও নীলা, মুখ ভেংচী দিয়ে, হ্যা বললো, তাইলে শুরু করা যাক, নীলা তুমি আগে শুরু করো😊😍
আসছা----
মিলন হবে কতোদিনে....😃😃😃
ওহহ মিলন হবে কতোদিনে😆😆😆😆
আহা্
আমার মনের মানুষেরও সনে......😜
ও....হো
আমার মনের মানুষেরও সনে.....
বাহ্ বাহ্, খুব সুন্দর হয়ছে, 😍
অভ্র এবার তুমি,
নীলা জানো, আমি একজন সিঙ্গার ছিলাম, আমার একটা ব্যান্ড ও ছিলো,, পাঠকরা আপনারা কি জানেন, আমার গান একবার যে শুনবে, সে আরর দ্বিতীয়বারর শুনতে চাইবে না, 😱
প্লিজ অভ্র তুমি আরর যাই, ঢপ দাও, অন্তন আরর এই ঢপটা দিও না,, পাঠকরা অভ্র কথাগুলো একদম শুনবেন না, সে ঢপ দিচ্চে☺☺☺😊😆😊
ভয়াবহো দূর্নাম ছড়াচ্চো, আমার নামে😡😡 তাইলে দেখো আমার গান----
হুম শুরু করো
হুমমম
---- এহেম এহেম,,
-- কারা ঐ লৌহ কপাট,, 😊
ঐ.....ঐ
--কারা ঐ লৌহ কপাট 😊
ভেঙ্গে ফেল চলরে লোপাট, শিখল,,
এই থামো থামো, প্লিজ থামো, ভগবান আমি যে কার সাথে সংসার করছি, আমার মরণ হলো না কেনো...😭😭😭
ছিঃছিঃ এতো রাতে অলুক্ষনে কথা বলো না,,,
বলবো তোর কি? তুই-বাসর রাতে ঐ গানটা গাওয়ার সময় পেলি,, তুই গানটা দিয়ে এটাই বুঝালি, যে বাসর-রাতের দরজা ভেঙ্গে যেনো, কেউ চলে আসে, তাই গানটা দিয়ে সবাইকে আহবান করতেছিস,, তুই কোনওদিনও সিরিয়াস হবি না, 😡😡
কথাগুলো বলেই নীলা উঠে যাচ্চে😱 এমনসময় নীলাকে হেচকা টান দিয়ে, বিছানায় ফেলে দিলাম, আর আমিও নীলার গায়ের উপর গিয়ে পরে গেলাম,, নীলা এবার চোখ বন্ধ করে আছে, আর আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে😊 ভাবছি পাগলিটা যে কি পাগলামি শুরু করেছে এতো রাতে,, , পাঠকরা এরি মধ্যে গবেষনার ফলাফল জানিয়ে দিয়েছে, দুজনের মধ্যে এখন পাগলের বাতাস প্রবাহিত, ,
যাইহোক, দুজনের নীরবতা ভেঙ্গে আমিই প্রথম কথা বলা শুরু করলাম, , নীলা আমার সমস্যা হচৃচে, তুমি গয়না - গুলো খুলে নাওও,,
শয়তান,, এগুলো স্বামীর খোলার দায়িত্ব, বউয়ের না, যা যা আছে খুলে নাওও😍😒😊😆😊😆😊😆☺
চলবে----------
মিস্টি ভাবির দুস্টু বোন
গল্পঃ মিষ্টি ভাবির দুষ্টু বোন
(পর্ব -৩)
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
::::
^^^^^^^^
::
_কি রে, তুই তো বললি না,,, (ভাই)
_কি বলব,,, (আমি)
_রুহুল আংকেলের মেয়ে,,,
_তাতে কি,,,
_তাতে কি মানে,,,
_তোকে বললে আমার কি হত,,
_তোর আর কি হত,,, কচু হতো,,,
_তাই নাকি,,,
,,, হাতে মোবাইলটা বের করে ভাই বলল,,,
_হুম,,, যা ভাগ এখন,,, (ভাই)
_কেন,,, (আমি)
_যেতে বলছি যা,,,
_উহু,,, উহু,,, আমি বুঝি বুঝি না,,,
_কি বুঝিস,,,
_তুই এখন ফোনে কথা বলবি,,,
_হুম বলব,,, তুই যা এখন,,
_উহু যাব না,,,
_তাহলে এখানে কি করবি,,,
_তুই কাকে ফোন করবি সেটা দেখব,,,
_তোর ভাবীকে ফোন দিব,,, হয়েছে এবার,,, যা তো,,,
,,,, ভাই এবার আমার হাত ধরে বের করতে লাগল আমায়,,,
_যাচ্ছি,,, তো,,, এত টানাটানি করার কি আছে,,
,,,,, ভাইয়ের কাছে থেকে চলে গেলাম,,, আসলে ভাই এখন আফিয়া আপুর সাথে কথা বলবে,,, ইশ,,, গোপন কথা,, ওপেন করে দিলাম,,, যাই হোক,,, আপনারা আবার ভাইকে বইলেন না,,, আমি বলছি,,, বললে আমার হাড়-হাড্ডি একসাথে করে দিবে,,,
,,
ভাই তো আফিয়া আপুর সাথে কথা বলছে,,,
আমি কি করি এখন,,, আরে,, হ্যাঁ,, আপনাদের তো বলাই হয় নাই,,,
আফিয়া আপু আর ভাই ২ বছরে বড়-ছোট,,,
আফিয়া আপু সবেমাত্র অনার্স ৪র্থ বর্ষ তাও আবার ইংলিশ নিয়ে,,,
আমি আবার বেশি ইংলিশ পারি না,,,
তাই আপুর সাথে বাংলা ছাড়া কোনো কথাই বলি না,,, আর আপুর বোন আদিবা মানে আমার হবু বিয়াইন,,, আমার থেকে ১ বছরে ছোট মানে এইচ,এস,সি ১ম বর্ষ,,,
,,
ভাইয়ের কথা বলা মনে হয় শেষ হলো,,,
যাই গিয়ে দেখিতো একবার,,, একি ভাইয়া দেখি এখনও কথা বলছে,,, কি করব এখন,,, কি আর করব,,, অপেক্ষা করি,,, কখন ফোন কাটে,,,
ফোন কাটার আগে গেলে তো আবার ঝাড়ি ফ্রীতে গিফট হিসেবে পাব,,,
,,,
ভাইয়ের কথা বলা শেষ,,,
_এত কথা বলে মানুষ হবু বউয়ের সাথে,,, (আমি)
_কেনো,,, (ভাই)
আমি-_আর কয়েকদিনরই তো ব্যাপার, তারপর তো সরাসরি কথা বলতে পারবি,,,
আর শুধু শুধু ফোনের টাকাগুলো নষ্ট করলি,,,
ব্রো_তোকে কে বলল,,, আমি তোর হবু ভাবীর সাথে কথা বললাম,,,
_এ ম্যা,,, তুই তো নিজেই বললি,,,,
(আমি )
ভাই_আমি অফিসের বসের সাথে কথা বললাম,,,
আমি_উহু,,, উহু,,, তুই কেমন তোর অফিসের বসের সাথে কথা বললি তা আমি ভালো করেই দেখলাম,,,
ভাই_কিহ,,,
_কিছু না,,, চল এবার,,,
ভাইয়া_কই,,,
_আম্মু তোকে ডাকে,,, (মিথ্যে বললাম)😁
ভাইয়া_কেন,,,
আমি_গিয়ে শুনে আয়,,,
,,,
ভাই মায়ের কাছে গেল,,,
_মা,, তুমি আমায় ডাকছো,,, (ভাই)
_না,, তো,, (মা)
_ইমন যে বলল,,, তুমি ডাকছো,,, (ভাইয়া)
মা_ওই,,, ফাজিলের কথা আর বলিস না,,, খুব ফাজিল হয়ে গেছে,,,,
আমি_ওহহ,,, আচ্ছা,,, ওর ফাজিলগীরি বের করছি আমি,,,,,
,,,
আমার কাছে আসছে,,, আমি পালাই,,, কারণ কি কারণ তা তো বুঝতেই পারছেন,,, একবার ধরতে পারলে আর রক্ষ্যে নেই,,, পালাই পালাই,,, 🏃
,,,
গান গাইতে ইচ্ছে করছে,,, থাক আমি গান গাইতে পারি না,,, এই কন্ঠে গান শুনলে আপনারা এখনি পালিয়ে যাবেন,,, আপনাদের তো আর পালিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না,,, তাই আমিই পালাই।,,
,,,
পালাবো কই,,, যা হোক আজকের মত বেচে গেছি,,, আমায় যে এভাবে পালাতে হলো এর একটা বিহীত তো করতেই হবে,, কি বলেন,,, থাক,,, বড় ভাই হয় ছোট একটা ভুল করেই ফেলেছে মাফ করে দেই,,, কি বলেন,,,
,,,
২তারিখ আসতে আর কয়মাস বাকী আছে,,, থুক্কু,,,কয়দিন বাকী আছে,,, ধুর,,, আপনাদের জিজ্ঞাসী কেন,,, গল্প তো আর আপনারা লেখতেছেন না,,,, আমিই লিখছি,,, আমি জানব,,,
,,,
৫ তারিখ,,, "বিয়ের দিন",,,
খুব বড় করে একটা কাগজে কম্পিউটার টাইপ করে প্রিন্টিং করা একটা কাগজে লেখা ছিলো,,, "শামীম আফিয়ার বিয়ে",,,
,,
এর মানে তো বোঝায় যাচ্ছে,,, আজকে ময়দা সুন্দরীদের দেখা পাওয়া যাবে,,, যাবেই তো,,,
আদিবার সকল বান্ধবী আর আফিয়া আপুর বান্ধবীরা আসবে তো,,, আটা,,, ময়দা,,, সুজি,,, ইত্যাদি কিছু জিনিসপত্র মেখে,,,😉😁😉
একি সত্যি যে,,, সবাই আটা,,, ময়দা,,, সুজি মাখছে,,, ভালো ভালো,,,আমার আইডিয়া বলে কথা,,,
আচ্ছা বিয়ে বাড়িতে তো গেটে নাকি ফিতা কাটতে হয়,,,
ভাইয়ের বিয়েতে কি ফিতা কাটতে হবে,,, হুম হবেই তো,,, গেটের সামনে কত কত ময়দা সুন্দরী,,, দাড়িয়ে আছে,,, সবাই দেখি ময়দা,,, মাখছে,,,
,,
এ ম্যাঁ,, এরা এগুলো কি পড়ছে,,, আমাদের ছেলেদের লুঙ্গী না,,,, হুম লুঙ্গীর মতই তো লাগছে,,,
শুধু মাঝখানে সেলাই করে কেটে দিছে,,,আচ্ছা,,, আমার এক বান্ধবী বলেছিলো,,, এই পোষাককে নাকি প্লাজু না পিলাজু বলে,,, হুম তাই তো,,, ,,
,,
আচ্ছা,,, আমাদেরকে ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না কেন,,,
কি সমস্যা,,,
_আমরা কি ভিতরে ঢুকব না,,, (আমি)
,,
আদিবার এক বান্ধবী বলল,,,
_ঢুকবেন না কেন,,,, (আদিবার বান্ধবী)
_তাহলে ফাক করুন,,, থুক্কু সাইড দিন,,,
আদিবার বান্ধবী _আগে ফিতা কাটুন,,,
_ফিতা কাটব,,, (আমি)
_আপনি না,,, বর কাটবে,,,
_আচ্ছা,,, ফিতা কি দিয়ে কাটব,,, আঙুল দিয়ে,,,,
_আঙুল দিয়ে কাটতে যাবেন কেন,,,
আমি_তাহলে কি দিয়ে কাটব,,, ময়দা সুন্দরী,,,
আদিবার বান্ধবী _কিহ,,, 😐
আমি_কি দিয়ে কাটব,,
_এরপর কি বলছিলেন,,,
_কি আর বললাম,,,
_কে ময়দা সুন্দরী হ্যাঁ,,,
_ওমা,,, আপনাকে বলি নি তো,,,, কি দিয়ে কাটব,,,সেটা বলুন,,,
_কাচি দিয়ে,,,
_দিয়ে দিন,,,
_কেন,,,
_ফিতা কাটতে হবে তো নাকি ,,,
_আগে টাকা ছাড়ুন,,
_টাকা,,,,, কিসের টাকা,,,
_ফিতা যে কাটবেন,,, এর জন্য টাকা লাগবে,,,
_কত টাকা,,,
_৫ হাজার টাকা,,,
,,
এ মেয়ে বলে কি,,, ৫ হাজার টাকা আমি চোখেই দেখি নি,,,
উহু দেখেছি,,, তবে বলা যাবে না,,, শুনে ফেলবে তো,,,
_৫ হাজার টাকা,,, (আমি)
_হুম,,, ৫ হাজার টাকা,,, (আদিবার বান্ধবী)
_এত টাকা তো নেই,,, (আমি)
_না থাকলে ভিতরে ঢুকতে পারবেন না,,, (বিয়াইনের বান্ধবী)
_তাহলে কনে'কে বাইরে আনুন,,, বাইরেই বিয়েটা পড়িয়ে দেই,,, আমি
আদিবার বান্ধবী _আপনাদেরকে ভিতরে গিয়ে বিয়ে করতে হবে,,,
ইমন_তাহলে কাচি দিন ফিতা কাটি,,,
আদিবার বান্ধবী_উহুহু,,, আগে টাকা দিন,,,
আমি_আচ্ছা,,, ১৫০ টাকা দিলে হবে না,,,
আদিবা বান্ধবী_নাহ,,,,
আমি_আর যে টাকা নেই,,,
আদিবার বান্ধবী_চেক করুন পকেট,,,
,,
পকেটে হাত দিয়ে দেখালাম,
_আর ৫০ টাকা আছে,,,
আমি--মানে ২০০টাকা আছে,,,
আদিবার বান্ধবী_হবে না,,,
আমি_তাহলে,,,
_আপনি একটা কাজ করুন,,, ৪০০০ টাকা দিন,,,
,,,
এভাবে কথোপকথন কিছুক্ষণ চলল,,, তারপর শেষমেষ ৩০০০টাকায় ফিতা কাটলাম,,,,
আমি কিন্তু কোনো টাকা দেই নি,,, সব টাকা ভাইয়ের,,, শুধু আমি খরচ করতেছি,,,
,,
বলুন,,, ভিতরে যাই,,, আরে যাহ,,, আপনারা হয়ত ভাবছেন বিয়ে বাড়িতে কি শুধু আমি এসেছি,,, না,,, শুধু আমি না,,, আরও অনেকে এসেছে,,, তবে আমার চরিত্র বেশি,,, তাই ওদের চরিত্র কিছুক্ষণের জন্য বাতিল,,,
,,,
মনে মনে একজনকে আমি খুজতেছি,,, বলুন তো কাকে,,,,
আরে বাহ,,, যাকে খুজতেছি সে দিকে আজ হলুদ পেত্নীদের মত সেজেছে,,, থুক্কু,,, পরীদের মত,,, ময়দা তো মনে হয় দোকানে আর ছিলো না,,,
সব মনে হয় বিয়ে বাড়িতেই বিক্রি করে দিয়েছে,,,
,, এতবড় বিয়ের বাড়ি সবাইকে বসতে দিলো,,, কিন্তু আমাকে কেউ বসতে বলছে না,,, আমি কি ছেলেটা খুব ভালো,,, হুম ভালোই তো,,, বসতে না বললে তো আর বসব না,,, দাড়িয়েই থাকি কি বলেন,,, ?
,,,
আদিবা আসতেছে,,, আমার দিকে,,, কেন আসতেছে,,, কেন আসতেছে,,, আমাকে দাড়িয়ে থাকা দেখে।
আদিবা,,, _এই যে,,, মিস্টার,,,
_ইয়েস,,, ময়দা সুন্দরী,,, বলেন,,, (আমি)
আদিবা_কিহ,,,, 😒
_ময়,,, দা,,, সুন,,, দরী,,, 😁😜
আদিবা_আমি ময়দা মাখি না,,,
আমি_তাহলে কি মাখেন,,,, হু,,,
আদিবা_মেকাপ,,,
আমি_ওই হলো,,, ওটার মাঝেই সব থাকে,,, আটা,, ময়দা,, সুজি,,, ইত্যাদি ইত্যাদি,,,
আদিবা_বাদ দিন,,
আমি_কি বাদ দিব,,,
আদিবা_বসবেন না,,,
আমি_বসতে কেউ বলে নি,,,
,,
ইতিমধ্যে আদিবার কয়েকজন আরো ময়দামাখা বান্ধবী চলে আসল,,, আমি অবশ্য টের পেয়েছি কি হবে এরপর,,, ,,,,,,
_বসুন না,,, (আদিবা)
_হুম,,, বসবই তো,,, (আমি)
_তাহলে বসুন,,, (আদিবা)
,,
ময়দা সুন্দরীর দল চেয়ারের মধ্যে চুইমগাম লাগিয়ে দিয়েছে,,, আমি আড় চোখে লক্ষ্য করেছি,,, আমি আবার কম চালাক নাকি ,,, অন্য একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসে পড়লাম,,,
,,,
_এই যে মিস্টার,,,,,, (আদিবা)
_হুম,,, বলেন,,, মিসেস,,, (আমি)
আদিবা_আপনি ওই চেয়ারে বসলেন যে,,,
_সমস্যা নাই,,, যেখানে নিরাপদে থাকা যাবে সেখানেই বসা যাবে,,,
আদিবা_মানে,,,
,,
ঈশারা করে দেখিয়ে দিলাম,,, চেয়ারে চুইমগাম লাগানো,, ময়দা সুন্দরীর দল,,, আর কথা না বলে চলে যাচ্ছে,,, কিন্তু,,, আমি কি চলে যেতে দেব,,, হুম দেই,,, যাক,,,
,,,
এদিকে,,, খাওয়ার ব্যবস্থা করছে,,, আমি আমার ফুফাতো ভাই আদনান কে নিয়ে আদিবাকে খুজতে লাগলাম,,, ধুর,,,,বিয়াইনকে খুজে কি হবে,,, থাক,,, আগে খাই,,,
,
খাওয়ার জন্য সবাইকে ডাকছে,,, দাড়ান আগে খেয়ে আসি,,, বড্ড খিদে পেয়েছে,,,কিছু মনে করেন না, ,,, আপনারা ততক্ষণে,,, অন্য একটা গল্প পড়েন,,,
,,,,,,,,,,,,,, (চলবে),,,
মিথ্যা অপবাদ২৯
♥♥মিথ্যা অপবাদ♥♥
//part_29&lasT//
আংকেল আন্টি,,রিদয় ভাইয়া,আশা সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রিমিকে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম?
সুমি আপু তার বাড়িতে কেননা,,তার স্বামী আজ মারা গেছে।কিন্তু আমি এখনো জানতে পারলাম না।সুমি আপু কি এমন প্রমান দিয়েছিল আব্বুকে।,,মিথিলা হয়ত এখনো জানে না আমরা আসল সত্যিটা জেনে গেছি।আব্বু আমাকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছে সাথে রিমিকেও।
তবে মিথিলার জন্য আমার খুব বেশি মন খারাপ করছে।কেন করছে তার প্রথম উত্তর হলো।আমি মিথিলাকে ভালোবাসতাম।।মিথিলার সাথে এমন কিছু ঘটছে যার জন্য মিথিলা আমাকে ভালোবাসার কথা মুখ খুলে বলতে পারে নি।।কারন দুলাভাই মিথিলাকে নানা ভাবে ভয় দেখিয়েছে।ব্লাকমেইল করেছে।
আমি না হয় সব পেলাম,,,রিমির মতো মেয়েকে জিবন সঙ্গীনি। আর আমার পরিবার। কিন্তু মিথিলার এই ত্যাগের জন্য কি পাবে।আর কি হারিয়েছে?
হুম যদি আপনি মনে করেন আমি এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ত্যাগ দিয়েছি।আমার মনে হয় মিথিলা আমার থেকে কয়েকগুন বেশি ত্যাগ দিয়েছে।জানতে চান কিভাবে?
একবার ভাবুন ত,,,একটা মেয়ে যে তার বোনের জিবন বাচাতে তার সর্বত্র বিলিয়ে দিতে বাধ্য হয় সে মেয়েটা কত খানি ত্যাগ দিয়েছে।যে তার ভালোবাসার মানুষ টি কে ধর্ষক এর মত অপবাদ দিতে বাধ্য হয়,,,,ভালোবাসার মানুষটিকে হারাতে হয়।শুধু পরিবার আর বোনের কথা ভেবে।কাউকে সত্যটা বলতে পারে না।আপনি কিন্তু তাকে স্বার্থপর বলতে পারেন না।কারন মিথিলা সেসব নিজের জন্য নয়।তার পরিবার।আর আপুর সংসার বাচানোর জন্য করেছে।
(গল্পটি মিথিলার দিক থেকে ছোট গল্প অথবা কয়েকটি পার্টে লিখা হবে)
তবে বাড়িতে যাচ্ছি মনে অনেক আনন্দও লাগছে বটে।কেননা দুই বছরেরও বেশি বাড়িতে যাই না। কত বন্ধুবান্ধব খেলার স্বাথী যোগাযোগ নেই।সবার সাথে আবার যোগাযোগ করতে পারবো। প্রিয় খেলা ক্রিকেট টাও খেলতে পারবো।তবে আমি আরো বেশি আনন্দিত আব্বু আম্মু রিমিকে মেনে নিয়েছে।আর রিমিকে দেখে তাদের হাসি মাখা মুখ দেখে আমার মন টা ভরে গিয়েছিল।,,আসলে সব কিছু এত সহজ ভাবে ঘটে যাবে আমি কল্পনাও করতে পারছি না।এর জন্য ত সুমি আপুর ক্রেডিট দিতেই হয়।আর কিভাবে সুমি আপু আমাকে নির্দোষ প্রমান করেছে।তা না হয় ভাবি,আর আম্মুর কাছ থেকেই জেনে নিব।
-- আসিফ,,বিয়ে করে নিয়েছিলে আমাকেও ত একবার জানাতে পারতে?(ভাবি মন ভার করে)
তাহলে ভাবি কি রাগ করলো ভাবি ত রাগ করার মত মেয়েই না।
-- সরি আসলে আমি খুবই ভয়ে ছিলাম।তোমরা আমাকে ভুল বুজো কিনা।(আমি)
-- কি ভুল ভাববো?(ভাবি)
-- যদি ভাবতে এমনেই বাসাতে আসতে পারছি না আবার বিয়ে করে ফেলেছি।তা ও তোমাদের না জানিয়ে।(আমি)
-- তাই ত,,(ভাবি)
-- আসলে রিমির আর আমার বিয়েতে অনেক ঘটনা আছে।বাড়ি চলো সবাইকে সব কিছু বলছি।(আমি)
-- আচ্ছা আসিফ আমার ও একটা প্রশ্ন রিমির পরিবার ত অনেক ধনী তার পরও তোর যেখানে থাকার জায়গা না নেই।তোর সাথে নিজের মেয়েকে বিয়ে দিলো কিভাবে?(আম্মু)
-- আম্মু রিমির আব্বু আম্মু অনেক ভালো,,আমাকে তাদের বাসায় থাকতে দেয়।পড়ালেখার ব্যবস্থা সাথে নিজের কম্পানিতেও চাকরি দেয়।আর রিমি আমাকে ছাড়া বাচবে না তাই রিমিকেও আমাকে দিয়ে দেয়। অদের মত মানুষ হয়না।।(আমি)
-- হুম ঠিকই বলেছিস।তবে রিমিকে কিন্তু আমার অনেক বেশি পছন্দ হয়েছে।কি মিস্টি দেখতে মাশাআলাহ।(রিমিকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে)
রিমির মনেও অনেক আনন্দ প্রথমে হয়ত রিমি ভাবতো আমার পরিবার অনেক খারাপ কারন কোনো কিছু না জেনে আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিল।এখন হয়ত ভাবছে এত মিশুক আর ভালো মানষ কেমনে হয়।।।
এটাই স্নেহের অধিকার।যার প্রতি ভালোবাসা বেশি মানুষ তার দেওয়া কষ্টে ব্যাথিত হয় বেশি।।আর যার জিবনে শাসন নেই তার জিবনে ভালোবাসাও নেই।তাই আমি আব্বুর প্রতি রাগ নয় অনেক খুশি।কারন আমার বাবা প্রমান করেছে দুষ নিজের ছেলে হওক তার শাস্তি পেতে হবে।।।কিন্তু বর্তমান সমাজে এরকম ন্যায় বিচার উঠেই গেছে।নেতার ছেলে সাত গুন মাফ।,,ধর্ষন করে ছেলে বাবা সেই ছেলেকে প্রটেকশন দেয়।,,,নেতার ছেলে খুন করে বাবা তার প্রটেকশন দেয়। নেতার ছেলে ইভটিজিং করে কোনো দুষ নাই।।।আর নেতার মেয়ের দিকে চাইলেই দুষ।
গাড়িতে অনেক কথাবার্তা হতে হতে বাড়ি চলে আসি।।।বাড়িতে পা রাখতেই মনে কেমন শান্তির হাওয়া বইয়ে যেতে লাগলো।।।বাড়ির ঘ্রান যে আমার নাকে এসে লেগেছে। কি পরিচিত ঘ্রান।আমি আমার রুমে গিয়ে বসলাম,,,রুমের চার পাশ ভালো করে দেখছিলাম।কোনো কিছু পরিবর্তন হয়নি।যেভাবে যা রেখেছিলাম।সেভাবেই আছে।সবচেয়ে বড় কথা হলো রুমে ময়লা ও পরে নেই।।তাহলে কি ভাবি আমার দিয়ে যাওয়া কথা রেখেছিল।।যেন আমার রুমটা স্টোত রুম না হয়।।।
ভালো লাগছিল রুমটা আগের মত পেয়ে।,,,ভাবি মুখে হাসি নিয়ে ভাবির দিকে তাকালাম?
-- কি আসিফ,, কিছু বলবা?(ভাবি)
-- ভাবি তোমাকে অনেক ধন্যবাদ,,আমার রুম টার কোনো পরিবর্তনন কর নি।(আমি)
-- কি বলো এত দিন এভাবেই ছিল? কোনো পরিবর্তন হয়নি।(রিমি)
-- না রিমি আসিফ চলে যাওয়ার সময় এই একটা কথা বলেছিল।রুমটাকে যেন দেখে রাখি।(ভাবি)
-- হুম রুম টা অনেক সুন্দর।(রিমি)
-- হুম সব ভাবির যাদু।।(আমি)
-- হুম হইছে,এত দিন আমি রুমটা দেখে রাখছি এবার না হয় তুমি দেখে রাখো?(ভাবি রিমিকে বলছে)
সবার জিবনে মনে হয়।।বউকে ভাবি বলে,, এত দিন তোমার টা আমি দেখে রাখছি।এবার তোমারটা তুমি দেখে রাখো।কিন্তু আমার বেলায় সব কিছুই অন্যরকম।
-- রুম আর রুমের মালিক দুটাই এখন আমার।তাই এগুলো ত আমাকেই দেখে রাখতে হবে।(রিমি)
-- অকে দেখে রাখো কাল সকালে কথা হবে.(ভাবি চলে গেলো।)
রাত তখন প্রায় ২ টা ঘুমানোর দরকার,,।কিন্তু আমার মনে জানার ইচ্ছা কিভাবে সুমি আপু প্রমান দিল।।,,
এত রাতে আপুকে ফোন দেওয়া ঠিক না।তবে আমাকে যে জানতে হবে। আপুকে ফোন দিলাম,,,
-- হ্যলো?(সুমি আপু)
-- আপু কি ঘুমিয়ে গেছো?(আমি)
-- না,,আসিফ বলো?(আপু)
-- আপু,,আব্বুকে কি প্রমান দিয়েছিলে আর কি বলেছিলে?(আমি)
-- তোমাকে তোমার দুলাভাইয়ের বলা সব কিছুই আমি রেকর্ড করে রেখেছিলাম।আর সেগুলো বড় আব্বুকে জানাই।সব কিছু সুনে বুজতে পারে এখানে কার দুষ ছিল।আর কে কে বিনা দুষে শাস্তি পেলো।বাকি কথা পরে বলব।এখন ঘুমাও,,(আপু)
-- কবে বলবা,,,(আমি)
--আগে আমি বাসায় আসি,,সামনা সামনি বলবো।(আপু)
-- আচ্ছা,,,
তাহলে কি আপু কিছু লুকাচ্ছে।সিজন ২ তে জানতে পারবেন।
সকালে রিমির ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো,,,ফ্রেশ হয়ে সবার সাথে নাস্তা করতে বসলাম।।বাড়িতে যেন নতুন করে আনন্দ ফিরে এলো।সবার মুখে হাসি ফুটে এসেছে।বিশেষ করে আব্বু,,আম্মুর মুখে।।আম্মু ত রিমিকে নিজের মেয়ের মতো করে ভালো বাসছে।,,
নাস্তা শেষ করে এলাকায় ঘুরতে বের হইছি।।এলাকার বন্ধুবান্ধব ছোট ভাই,,বড় ভাই যে দেখছে সেই আমাকে প্রশ্ন করছে। এত দিন কোথায় ছিলাম,,,খবর ছিল না কেন।আরো নানা কথা।।সবার সাথে অনেকক্ষন কথা বলে বাসায়,,,ফিরলাম।কেউ জানে না আমি বিয়ে করে ফেলছি।আব্বু বলেছিল আয়োজন করে আবার বিয়ে হবে।
বাসায় এসে সুনি মিথিলা এসেছে,,,,।চাচিও কি জানে আমি অপরাধী ছিলাম না।।হয়ত সব কিছু জেনে গেছে,,,।। বাসায় এসে অনেকক্ষন মিথিলাকে দেখব বলে মিথিলাদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে ছিলাম।।কিন্তু মিথিলাকে দেখছি না।তবে একটা ছেলেকে দেখছি এটা কি তাহলে মিথিলার জামাই?
চাচিকে দেখলাম আমাদের বাসায়।।আমাকে দেখে কেদে দিয়েছিল। চাচিও সব কিছু জেনেছে।রিমিকে দেখে চাচি ও খুব পছন্দ করেছে।
মিথিলা কি জানে আমি এসেছি,,হয়ত জানে,,তাহলে আমাদের বাড়িতে আসে না কেন?রাগ না অভিমান।
বিকেলের দিকে আমিই মিথিলার সাথে দেখা করতে গেলাম। মিথিলা কি যেন করছিল,,,পিছন থেকে ডাক দিলাম,।
-- মিথিলা,,,(আমি)
আমার কন্ঠ সুনে মিথিলা পিছন ফিরে তাকালো।মনে হচ্ছে চমকে উঠেছে।
-- কেমন আছিস মিথিলা?(মিথিলাকে দেখে আমার চোখ গুলো ভিজে আসছিল)
-- আসিফ তুই,,(মিথিলার চোখ গুলোও ছল ছল করছে)
-- হুম আমি,,,মিথিলা আমি সব জেনে গেছি।তোর সাথে কি হইছিল? (আমি)
-- হয়ত আরো আগেই জানতে পারতি,,তুই ত আমার কথা সুনতে চাস নি?যাক গে সুনেছি বিয়ে করেছিস?(মিথিলা)
-- হুম,,,দেখে আছিস?(আমি)
-- বিয়েটা হয়ত তোর সাথে আমার হতো তাই না?কিন্তু নিয়তির কি খেলা দেখলি ত ওনি যা চাইবেন তাই হবে।(মিথিলা)
-- এখন এইসব নিয়ে ভেবে কি হবে বল?(আমি)
-- তুই একবার জানতে চাইলি না আমার সাথে কি হয়েছিল।নিজের ত্যাগ টাই দেখলি?(মিথিলা প্রায় কেদে দিয়েছে)
নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে।,,,ঠিকই ত যাকে এত ভালোবাসতাম,,,তার কথা গুলো কেন সুনতে চাই নি।কথা গুলো সুনলে হয় ত রিমির প্রেমে পরতাম না।কিন্তু এখন মিথিলা জন্য খারাপ লাগা ছাড়া কিছু করার নাই।
-- সরি মিথিলা,,,অনেক রাগ হইছিল তোর উপর তোকে ত আমি অনেক ভালোবাসতাম। তাই তোর দেওয়া অপবাদ নিতে পারছিলাম না।(আমি)
-- কিন্তু একটা কথা মানতে হবে,,,তুই আমাদের পরিবার,,আমার সম্মান আর আপুর সংসার নিয়ে অনেক বেশি ভেবেছিস।।থাক না কিছু সপ্ন অপুর্ন তার পরেও তোর প্রতি আমার শ্রদ্ধা বেড়ে গেলো.(মিথিলা)
তখনি,,,মিথিলার স্বামী কোথায় থেকে যেন আসলো।
মিথিলা আমাদের পরিচয় করিয়ে দিল।।।ছেলে দেখতে দারুন স্মার্ট।আর ব্যবহারে অনেক ভালো ও মনে হচ্ছে। আসলে খারাপের পর ভালোই অপেক্ষা করে।।
#গল্পের সিজন ২ আসবে আপনাদের আগ্রহের উপড় বিত্তি করে।আর আমার প্রতিটি গল্প মিথ্যা অপবাদ গল্পের সাথে সম্পর্ক থাকবে।কিছু কিছু বিষয় যেগুলো এই গল্পে তুলে ধরতে পারি নি সেগুলা অন্য গল্পে তুলে ধরবো।।
ধন্যবাদ সবাইকে গল্পের সাথে প্রথম থেকে ছিলেন। আর আমাকে নানা ভাবে হেল্প,সাপোর্ট করেছেন।