read.cash Log in
@Safwan more from that month

গল্পঃবাবার_বন্ধুর_মেয়ে_যখন_বউ

#গল্পঃবাবার_বন্ধুর_মেয়ে_যখন_বউ। পর্বঃ9 ( শেষ পর্ব) তারপর এক সময় মাটিতে পড়ে গেলাম। চারপাশে অন্ধকার নেমে এলো, আমিও চোখ মেলতে পারলাম না। চোখ খুলে নিজেকে আবিষ্কার করলাম হাসপাতালে, ---- আমি এখানে কেনও? ---- তোমার আজকে ২০ দিন পরে জ্ঞান ফিরলো। ( ডাক্তার) ---- কেনও ডাক্তার আমার কি হইছে? ---- সেটা তো আমি জানি না, তোমার পরিবারের লোকে জানে। ----- কই তারা? ---- বাহিরে আছে আমি ডেকে দিচ্ছি। সবাই ভিতরো এলো, আন্টি, আংকেল ও আসছে । সবাই আসছে কিন্তু আমি একজনকে খুজতে লাগলাম,, জারা, কিন্তু তাকে দেখলাম না মনটা খারাপ হয়ে গেল। এতো দিন পরে তাকে দেখতে না পেয়ে কেমন যেনও লাগল,,, সবাই জিজ্ঞেস করলো আমার কী হয়েছিলো। আমি তাদের বললাম, কিছু ছিনতাইকারি আমাকে ছিনতাই ধরেছিলো। তারা আমার উপর হামলা করে। ,, ডাক্তার আমাকে দুই দিন পরে ছেড়ে দিলো, আমিও বাসায় চলে এলাম, কিন্তু জারার কোনও খোজ নেই, বাইরে গিয়ে যে তার কোনও খোজ নিবো তা ও পারছি না, ফোন টা ও বন্ধ বলছে,, সব বন্ধু রা আমাকে দেখতে আসছে, সবাই দেখে চলে গেল, কিন্তু আমার চোখ একটা চেনা মুখ খুজতে লাগল সেটা হলো জারা,,, হঠাৎ করে একটা মেসেজ আসলে, মেসেজ টা ছিলো এমন,,,,, এখন কেমন আছেন? নিজের একটু যত্ন নিয়েন। , নাম্বার টা চিনি না তাই একটা ফোন দিলাম কিন্তু ফোন টা বন্ধ বলছে,, ।আমি ভাবলাম হয়তো জারা হবে কিন্তু ফোনটা বন্ধ বলছে কেনও? ধুর কিছু ভালে লাগে না, কেনও জারা কে আমার এতো মনে পরছে, ওই দিকে জাারা ও জিদানের কথা ভাবতে ভাবতে শুকিয়ে গেছে, স্কুলে ও যায় না,, সারা সময় নামাজ পড়ে জিদানের জন্য দোয়া করে, জিদান যাতে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যায় সেই প্রত্যশ্যা করে। এখন একটু সুস্থ, একটু জারার স্কুলের সামনে যাবো ওকে দেখার জন্য, কিন্তু ওকে পেলাম না, পেয়ে গেলাম ওই লোকটা কে যে আমাকে মারছিলো, সাথে সাথে আমার এক বড় ভাইকে ফোন দিলাম সে আবার এক প্রকার নেতা, সে এসে ওই লোকটার এমন অবস্থা করলো, যে সে মনে হয় বাচবে না, আর বাচলে ও জীবনে দাড়াতে পারবে না,, অনেক দিন ধরে জারার স্কুলের সামনে দাড়িয়ে থাকি কিন্তু ও আসে না, আমি জারার বাসায় ওই দিনের পর থেকে আর যাই না। আজকে জারা স্কুলে আসছে সব বান্ধবী দের সাথে, আমি ওকে মন ভরে দেখতাছি, আমার৷ যে জারার কাছে যেতে ইচ্ছে করছে,, জারা ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে, মনে হয় আজকে ও অনেক খুশি, ওর মুখ দেখে তা মনে হয়,, যাক এতো দিন পরে অন্তত দেখা টা তো পেলাম,, আসলে জারা কে আমি অনেক ভালোবাসে ফেলছি। ওকে ছাড়া কিছু কল্পনা করতে পারি না, আর পারবো ও না, ,,,,, ---- ভাই আমাকে একটু বাইরে নিয়ে যাবি? ---- কেনও? ---- ওর সাথে দেখা করতে যাবো। ---- আমি পারবো না, ---- তাহলে আমি বলে দিবো। --- যাও বলে দাও, সব সময় একটা কথা বলো, বলো গিয়ে যাও, একদিন তো সব জানতে পারবে এখন জানলে আমার কিছু আসে যায় না। ভালো লাগে না আর তোামর এই ব্লাক মেইল। আপু কোনও কথা না বলে চলে গেল। মনে হয় আপু অনেক কষ্ট পাইছে। না আপুর একটা ব্যবস্তা করতে হবে। ---- আব্বু তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে। ---- কি কথা বল। ---- আব্বু ছোট আপু একজনকে ভালবাসে ছেলেটা অনেক ভালো, আমি চিনি তাকে, তুমি ওর সাথে আপুর বিয়ের ব্যাপারে কথা বলো। ---- ছেলেটা কে? আমি ছেলেটার সব ঠিকানা দিলাম, পরের দিন ঘুম থেকে উঠলাম, উঠে দেখি বাসায় মেহমান আসছে, একি এটাতো আপু যার সাথে কথা বলে সেই লোকটা,, তারা এখানে কেনও। গিয়ে দেখি তো,, এরা তো আপুর বিয়ের ব্যাপারে কথা বলছে। --- আব্বু এরা এখানে কেনও? --- আমি এদের আসতে বলছি বিয়ের কথা বলতে। --- ওহহ,, ।তারপর তারা বিয়ের তারিখ হিসাবে শুক্রবার ধার্য করলো, আবার সবাইকে ইনভাইট করলো, আমিও আমার সব বন্ধু দের ইনভাইট করলাম। সবাই আসলো, আন্টি, আংকেল জারা ও এলো, আজকে আপুর গায়ে হলুদ,, আমি একপাশে দাড়িয়ে তানিয়ার সাথে মজা করছি, জারা তা দেখতাছে, একটু পরে বান্ধবী দের সাথে মজা করলাম ওদের হলুদ দিয়ে দিলাম, জারা এবার ফায়ার হয়ে গেছে,,৷ তারপর আমি এক পাশে দাড়িয়ে ক্যামেরায় তোলা ছবি গুলো দেখতাছি, তখন জারা এসে আমার হাত ধরে টেনে আমার রুমে নিয়ে গেলও,, ---- আরে আমাকে এখানে আনার মানি কী,, ---- চুপ কোনও কথা বলবি না তুই। --- একি আপনি আমাকে তুই করে বলছেন কেনও? ---- তুই করে বলতাছি একটু পরে মারবে তোকে,, ---- ভালো হবে না কিন্তু ---- ভালো হবে নাকি খারাপ হবে তা দেখাচ্ছি ---- দরজা বন্ধ করলেন কেনও। ---- কেনও করলাম দেখ এবার,, মারতে শুরু করছে, আমি খাটের উপর পড়ে গেলাম, জারা তারপরও মারতেছে,, আমি জারা কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম,,, জারা মারলো না,, ---- জিদান আমার কথাটা একটিবার শুনো। --- কী বলবা বলো। ---- আসলে ওই ছেলেটা আমার চাচাতো ভাই লাগে, আমার ভাই নেই তাই ওকেই আমি ভাই ডাকি, ওও আমাকে বোনের মতো ভালোবাসে, কিন্তু তুমি অন্য কিছু মনে করে আমার উপর অভিমান করছো। ---- তুমি এইকথা আগে বলোনি কেনও? ---- আমি বলতে চাইছি কিন্তু তুমি বলার সুযোগ দেওনি। জানো জিদান তুমি যখন হাসপাতালে ছিলে তখন আমি একটা রাতও ঘুমাইনি, প্রতিটা রাতে তোামর জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলছি তুমি যাতে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাও। স্কুল ফাকি দিয়ে আমি তোমাকে দেখতে যেতাম। ---- জারা আমি সরি,, আসলে আমি তোমাকে বুঝতে পারিনি। ---- এখন অভিমান টা ভাংছে। ---- হুম ভাংছে। তখন একটা ফোন এলে,, ---- জিদান কে ফোন দিছে? ---- তানিয়া ফোন দিছে। ---- তানিয়া মানে ওই মেয়ে টা জারা আমার কাছে থেকে ফোন টা কেড়ে নিল,, ---- এই মেয়ে তুমি আমার হাসবেন্ড কে ফোন দাও কেনও? ---- তোমার হাসবেন্ড মানি? ---- মানে তুমি যাকে ফোন দিছো সেই জিদান আমার হাসবেন্ড ( আরে সব্বনাস কী বইলা দিলো) ---- জিদান বিয়ে করলো কবে? ---- আরো আগে, কেনও বিয়ে করছে বলে কী তোমার ভাব হবে না, নাকি ভাগে কম পরবে। বলেই ফোন কেটে দিল। ---- জারা তুমি এইটা কী করলা,, ---- তুই একটা কথা বলবি না, আমাকে বিয়ে করে এখন অন্য মেয়ের সাথে প্রেম করোস ---- জারা তানিয়া আমার দুইবছর এর বড় আসলে ব্যাপার টা হলো( সব কিছু বলে দিলাম) --- এইরে তার মানে এইবার সব বলে দিবে। ---; জানি না তবে বলার আগে আমি তানিয়ার সাথে কথা বলতাছি তারপর তানিয়ার কাছে গেলাম,, ---- কিরে জিদান কোন মেয়ে তোর ফোন রিসিভ করছিলো? ---- কোনও মেয়ে না জারা। *---- তোর বউয়ের পরিচয় দিলো কেনও? ---- আসলে তানিয়া আপু,,,, এমন এমন ঘটছে। ---- কিহ তুই আমাদের ছোট হয়ে আমাদের আগে বিয়ে করলি। ---- কী করবো সব পরিস্থিতি। ---- হুম মানলাম, এখন আমার কী করতে হবে বলে দে। ---- তোমাকে কিছু করতে হবে না আপাতত মুখ টা বন্ধ রাখবা। --- ঠিক আছে,, আজকে সব বন্ধু রা ছাদে এলাম, জারা তানিয়া ও আসলো, আসলে এখন তাদের দুজনের মাঝে ভাল একটা সম্পর্ক হয়ে গেছে,, আমার বন্ধু রা আমাকে ড্রিংক করতে বললো, জারার চোখ রাংগানীতে করলাম না, পরের দিন,, সব মেহমান এলো বন্ধু, বান্ধবী সবাই আসলো, আমিও মনে মনে ঠিক করলাম আজকে সবাইকে বলে দিবো আমার আর জারার কথা, কিছু সময় পরে বরযাত্রী এলো, আমি সবাইকে আপ্যায়ন করতাছি,, বরের যে একটা বোন আছে তা আমি জানতাম না, একি সে আমার দিকে তাকিয়ে তাকে কেনও,,, ---- আমার নাম এনি, আপনের? ---- আমি জিদান,, --- আপনি কনের কী হন? ---- আমি কনের একমাত্র ভাই। আপনি? ---- আমি বরের ছোট বোন। ---- ওহহ। ( জারা আমাদের কথা বলতে দেখে ফুলতে লাগলো, আর ইশারায় বললো, আজকে আমার খবর আছে) ---- আপনি কি করেন? ---- আমি আপাতত আপনাদের সেবা করতাছি। --- আমি বলতাছি আপনি কী স্টুডেন্ট। ---- হুম। আর কিছু। --- আপনি কী আপনের বোনের সাথে আমার বাসায় যাবেন? ---- না, -+- কেনও? ---- অন্য কে ও যাবে। ---- আচ্ছা যখন যাবেন না তাহলে আপনার নাম্বার টা দিন,। ---- কেনও? ---- আপনের সাথে যোগাযোগ করবো,, ---- নাম্বার নিবেন? ---- হুম,, ---- আচ্ছা আগে বিয়েটা মিটে যাক তারপর আপনি ভাববেন নাম্বার নিবেন কী নিবেন না। ---- এমনটা ভাবতে যাবো কেনও? ---- তা একটু পরে জানবেন। তারপর বিয়েটা শেষ হলো,, আম্মু জোরে জোরে বলতে লাগলো, --- দুই মেয়ের বিয়ে দেয়া শেষ এবার আমার ছেলের বিয়েটা দিলেই আমি খুশি। ---- সেকি মা তুমি জানো না তোমার ছেলের আর বিয়ে দেয়া হবে না ( ছোট আপু) ---- কেনও? কারন তোমার ছেলে আমাদের দুজনের আগেই বিয়ে করে নিছে। ---- মানে কী বলতে চাস তুই।( আম্মু তে আাকাশ থেকে পড়লো) ---- আম্মু তোমার ছেলে জারা কে বিয়ে করছে, তা ও আরও কয়েক মাস আগে। ( আপু আর আব্বু সব কিছু সবাইকে বলে দিলো, জারা অনেক লজ্জা পেলো) ---- তাহলে আমি আমার ছেলের বউকে আজকে ঘরে তুলবো, আর ওর বাসায় যেতে দিবো না,, জারা মা কই তুই। আমি এবার গেলাম আমার বিয়ান এর কাছে --- কী বিয়ান নাম্বার নিবেন না? --- না ভাইয়া লাগবে না ---- এখন ভাইয়া ডাকছেন কেনও? ---- তখন তো জানতাম না আপনি সবার আগে কাম সারছেন, না জানার কারনে ভাবছিলাম আপনের সাথে একটু লাইন মারবো ---- এখন মারবেন নাকি? ---- না ভাইয়া,, তারপর আপুকে বিদায় দিয়ে, মা জারা কে আমাদের বাসায় রেখে দিলো, জারা ও এখন আমাদের বাসায় থাকে, এখান থেকে পড়ালেখা করতাছে, তবে আমরা দুইজন আলাদা আলাদা রুমে থাকি,,,, দুইজন দুইজন কে জীবনের চেয়ে ও বেশি ভালোবাসি,,।। _____________**Happy ending** _______ Kmon laglo pura golpo ta?

No comments yet

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.