read.cash Log in

@kamal16

Joined 4 June 2020 · 90 posts

120 KT

0 KT · $2.42 received · 0 KT given

Posts

@kamal16

গুন্ডি মেয়ে৫ গল্পঃ / গুন্ডি মেয়ে 🙎 পর্বঃ / ৫ম 📜 | | /\________/\ \/________\/ | | ___ আমি বাসায় যাচ্ছি। (আমি) | ___ কোথাও যাবি না। আমার সাথে এখানে থাকবি। আর আমি তোর বুকে মাথা রেখে ঘুমাবো। (সিনথি) | ___ কি বলো আন্টি দেখলে সাড়ে সর্বনাশ হয়ে যাবে। (আমি😲) | ___ দেখলে দেখুক। তারাতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিবে। আমার আরো ভালো হবে। (সিনথি😊) | ___ এতো বিয়ে করার শখ কেন? আমি এতো তারাতাড়ি বিয়ে করতে পারবো না। আর আমাকে এখন বিয়ে দিবেও না। (আমি) | ___ আমি এতো কিছু বুঝিনা। আমার একা থাকতে ভালো লাগে না। (সিনথি) | ____ একটু ধৈর্য ধরো লক্ষীটি। কারণ ধৈর্যের ফল সবসময় মিষ্টি হয়। (আমি) | ___ বিয়ে না করতেই ফলের চিন্তা? কি কান্ড!! 🙆 (সিনথি) | ___ আরে ভাই এই ফল সেই ফল না। এটা হলো ধৈর্যের ফল। উপমা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। (আমি😐) | ___ আমি এতো কিছু বুঝি তুমি ঐ টাই মিন করছো। (সিনথি) | ___ ধুর ভাই আমি এহন আসি। ভার্সিটির ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এখানে রোমান্টিক আলাপ করছি। (আমি) | ___ তোমার মধ্যে রোমান্টিক কিছু আছে নাকি? আগে তো জানতাম না? 🤔(সিনথি) | ___ এতো বড় অপমান? আমার মধ্যে রোমান্টিকতা নাই। দাড়াও দেখাচ্ছি মজা... (আমি) | সিনথির দিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম। | ___ এই পিচ্চি একদম কাছে আসবি না। আমি চিৎকার করবো কিন্তু। (সিনথি 😩) | তখনি সিনথির আম্মুর ডাক পরলো। সিনথির রুমের কড়া নাড়তে লাগলো। সিনথি দরজা খুলে দিলো। | ___ কিরে মা খেয়েছিস? (সিনথির) | ___ হ্যাঁ মা অনেক কিছু খেয়েছি। (সিনথি) | ___ অনেক কিছু মানে? (সিনথির আম্মু) | ___ না মানে সব আইটেম খেয়েছি। (সিনথি 🙈) | ___ আচ্ছা মা ভালো করেছিস। (সিনথির আম্মু) | ___ সিনথি আপু, আন্টি আমি এখন যাই। (আন্টির সামনে সিনথিকে আপু বললাম। নাহলে ধরা পরে যাবো) | ___ সেকি বাবা এখন তো দুপুর হয়ে গেছে। আমাদের সাথে লাঞ্চ করেই যেও। (আন্টি) | ____ আপনার মেয়ে যা খাইয়ে দিয়েছে সাতদিন উপোষ থাকতে পারবো। (মনে মনে বললাম? | ____ না আন্টি আম্মু টেনশন করবে। সেই সকালে বের হয়েছি না বলে। (আমি) | ___ আচ্ছা বাবা আবার আসবে কিন্তু? (আন্টি) | ___ ওকে আন্টি। (আমি) | তারপর সিনথির বাসা থেকে বের হয়ে সোজা বাসায় চলে আসলাম। | ___ কিরে সকালে না বলে কোথায় গিয়েছিলি? ভার্সিটিতে যাসনি? (আম্মু) | ___ ভার্সিটি থেকেই তো আসলাম। (আমি) | ___ আমার সাথে মিথ্যা? তোর বই কই? (আম্মু) | আয় হায় বই তো নাই। ধরে পরে গেলাম। | ____ আসলে আম্মু ফ্রেন্ডদের সাথে একটু আড্ডা দিতে গিয়েছিলাম। (আমি) | ___ ক্লাস বাদ দিয়ে আড্ডা? আজ তোর কোন খাবার নেই। (আম্মু) | আম্মু রাগ দেখিয়ে চলে গেল। আমি রুমে গিয়ে শুয়ে পরলাম। প্রচন্ড ক্ষিদে পেয়েছে। পেটের মধ্যে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে। সিনথির বাসা থেকে খেয়ে আসতাম এটাই ভালো ছিলো। এখন না খেয়ে থাকতে হবে। মাইরালা 😩 | কিছুক্ষন পর দেখি আম্মু খাবার নিয়ে আসলো। টেবিলে রেখে চলে গেলো। মায়েরা মুখে যাই বলুক সন্তানের কষ্ট ঠিকই বুঝতে পারে। 💕ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মা 💕 | তারাতাড়ি খাবার খেয়ে নিলাম। ফেবুতে ডুকলাম। নতুন একটা গ্রুপ খুলেছি সেটাতে সবাইকে ইনভাইট করলাম। আমার ফ্রেডরা সবাই খুব ভালো। সবসময় আমার পাশে থাকে। I love all of my friends. Stay with me for more and more romantic story. I'm very helpful. I personally believe my maximum friends are Single. So I am trying to entertaining them. এখন প্রায় রাত হয়ে গেছে।।সিনথির সাথে খুব কথা বলতে ইচ্ছে করছে। আমার কাছেও সিনথির নাম্বার নেই আর ওর কাছেও আমার নাম্বার নেই। পরলাম এক বিপদে ওর সাথে কথা না বলে থাকতে পারছি না। হঠাৎ আননোন নাম্বার থেকে একটা কল আসলো। ফোন টা পিক করলাম। | ___ আসসালামু আলাইকুম। কে বলছেন? (আমি) | ___ ওয়ালাইকুমুস সালাম। আমি তোমার হবু বউ। (সিনথি) | আমি লাফ দিয়ে উঠে বসলাম। | ___ সিনথি তুমি আমার এই নাম্বার পেলে কোথায়? এই নাম্বার তো তোমার কাছে ছিলো না? (আমি😲) | ___ ভালোবাসার টান থাকলে সবই সম্ভব। তোমার বন্ধু সামির কাছ থেকে বিকেল বেলা নিয়েছি। | ___ খুব ভালো করেছো। আমি এতোক্ষণ তোমার কথাই ভাবছিলাম। (আমি) | ___ ওমা কি কান্ড!! 😱 তাই নাকি? (সিনথি) | ___ হুম তাই ঢং করে (আমি 😐) | ____ আচ্ছা শোন তুমি এখনি আমার বাসার সামনে চলে আসো। (সিনথি) | বাইরে তাকিয়ে দেখি প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। | ___ বাইরে তাকিয়ে দেখো প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে আমি আসতে পারবো না। জ্বর আসবে। (আমি) | ___ প্লিজ আসো আমি তোমার সাথে বৃষ্টিতে ভিঁজবো। আমার খুব ইচ্ছে করছে। না আসলে আমি কিন্তু একটা কিছু করে ফেলবো। (সিনথি) | কি গুন্ডি মেয়েরে বাবা? কথায় কথায় ভয় দেখায়। | ___ আচ্ছা আসছি তুমি থাকো। (আমি) | বাসা থেকে না বলে একটা রিকশা করে সিনথির বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। হাতে একটা ছাতা ছিলো। এই মেয়েকে বিয়ে করলে আমার জীবনটা তেঁজপাতা করে ফেলবে। এতো রাতে উনার মধ্যে রোমান্টিকতা জেগে উঠেছে। বৃষ্টিতে ভিঁজতে চাচ্ছে। 🙄 | রিকশায় করে সিনথির বাসার সামনে চলে আসলাম। এসেই সিনথিকে ফোন দিলাম। | ___ হ্যালো তুমি কই আমি তোমার বাসার সামনে। (আমি) | ___ তুমি সত্যি আসছো? (সিনথি 😲) | ___ তো আমি কি ফান করছি নাকি? (আমি 😐) | ___ ওকে তুমি দুই মিনিট দাড়াও আমি দুই ঘন্টায় আসতেছি। (সিনথি) | ___ ওকে আসো। (আমি) | ফোনটা রেখে দাড়িয়ে রইলাম। ভাবলাম ও কি বলল.. 🤔 আমি দুই মিনিট দাড়াবো আর ও দুই ঘন্টায় আসবে? আচ্ছা ডেঞ্জারাস মেয়েতো? 😳 | এর ঠিক কিছুক্ষন পর সিনথি নিচে আসলো। ওকে দারুন লাগছে। কোন আটা ময়দা মাখে নি। কারণ বৃষ্টিতে তো সব আটা ময়দা ধুয়ে যাবে। আমার সিনথিকে আটা ময়দা ছাড়াই সুন্দর লাগছে। গারো কালো রঙের একটা শাড়ি পরে আসছে। মনে আজ রাতে কোন শোক দিবস পালন করবে। আমি ছাতা নিয়ে ওর মাথায় ধরলাম। ও ঝাটকা মেরে ছাতাটা ফেলে দিলো। | ___ এখানে ভিঁজতে আসছি শশুরের পোলা ছাতা দিয়ে কি করবো হু (সিনথি 😐) | ___ ও তাই তো 😳(আমি) | ___ হুম চলো ভিঁজবো। (সিনথি) | ___ হুম (আমি) | তারপর দুজনে রাস্তায় হেঁটে হেঁটে ভিঁজতে লাগলাম। সিনথি বাচ্চাদের মতো বৃষ্টির পানি নিয়ে খেলতে লাগলো। আমার শরীর ভিঁজে একাকার সাথে সিনথিরও। ভেঁজা শরীরে সিনথি খুব কিউট দেখাচ্ছে। আমার কেমন যেন ইচ্ছে করছে। তখনি সিনথি ডাক দিলো। | ___ এই পিচ্চি এদিকে আয় তো... (সিনথি) | আমি ওর কাছে গেলাম। | ___ এই আমাকে একটু কোলে নিয়ে হাঁটো তো। (সিনথি) | ___ ইন্না-লিল্লাহ। কি বলো এসব? আমার কোমড় ভাঙার প্লান করে আসছো নাকি? (আমি) | ___ ধুর তুমি কোন কাজের না। এমন একটা রোমান্টিক মুহূর্তে কোলে নিবে তা পারবে না 🙄 নিজেকে আবার পুরুষ ভাবছে। (সিনথি🙄) | ___ আচ্ছা বাবা নিচ্ছি। 🙄 (আমি) | তারপর সিনথিকে কোলে তুলে নিলাম। এক পাঁ দু পাঁ করে হাঁটছি। সিনথির দিকে তাকিয়ে রইলাম। ও লজ্জায় আমার বুকে মুখ গুজছে। আল্লাহ গো আমার কোমড় মনে হয় ভেঙে গেলো রে। এই মেয়েতো ভীষণ প্যাঁরাবাজ? | ___ সিনথি এবার নামো না আমার কোমড় ব্যাথা হয়ে যাচ্ছে। (আমি 😩) | ___ আচ্ছা নামছি। (সিনথি) | তারপর সিনথি নেমে গেলো। | ___ চলো এখন তোমাকে বাসায় দিয়ে আসি অনেক রাত হয়ে গেছে কেউ আমাদের এই অবস্থায় দেখলে সব শেষ হয়ে যাবে। (আমি) | ___হুম চলো। (সিনথি) | তারপর সিনথিকে বাসায় দিয়ে আমিও বাসায় গেলাম। বৃষ্টিতে এতো ভিঁজাতে গায়ে প্রচন্ড জ্বর আসছে। আম্মু বকাবকি করছে আর কপালে জল পট্টি দিচ্ছে। শুনলাম সিনথির ও জ্বর হয়েছে। কিন্তু আমি শরীর দুর্বলতার কারণে বিছানা ছেড়ে উঠতে পারছি না। | এভাবে প্রায় তিনদিন পর আমার জ্বর ভালো হলো। ভার্সিটিতে যেয়ে সিনথিকে না পেয়ে সোজা ওর বাসায় চলে আসলাম। | ___ আন্টি সিনথি আপু কই? শুনলাম উনার নাকি প্রচন্ড জ্বর আসছে। ভার্সিটিতে যেয়ে পেলাম না। তাই চলে আসলাম। (আমি) | ___ ভালো করেছো বাবা। যাও ও ওর রুমে আছে। কেনই বা মেয়েটা ছাঁদে ভিজতে গেলো। (আন্টি) | তারমানে আমার সাথে ভিজেছে সেটা বলেনি। আমি ওর রুমে গিয়ে দেখি ও জ্বরে কাঁপছে। আমার মাথা গরম হয়ে গেছে। | ___ তুমি কেন এই ছেলেমানুষি গুলো করো? এতো রাতে কেউ এভাবে বৃষ্টিতে ভিজতে চায়? জ্বরে তো গাঁ ফেটে যাচ্ছে। (আমি) | ___ বাদ দেও তো আমার কিছুই হয় নি। একটা চুমু দেও তো সব জ্বর ভালো হয়ে যাবে। (সিনথি) | ___ তুমি কি এটা বাংলা সিনেমা পেয়েছো নাকি যে চুমু খেলে রোগ মুক্তি হয়ে যাবে.. (আমি) | ___ ধুর এতো কথা বলিস কেন রে যা বলছি তাই কর...,(সিনথি) | ____ উম্মাম্মাহ উম্মাম্মাহ | ___ আমার মনে হয় জ্বর ভালো হয়ে গেছে। (সিনথি) | ___ একদম সিনেমার ডায়লগ মারবা না। কিন্তু এটা সত্য যে গার্লফ্রেন্ড এর কিছু হলে আর্টসে পড়ুয়া ছেলেটিও ডাক্তার হয়ে যায়। যেমন _ আমি 😜 | ___ হুম। (আমি) | ___ শোন ঠিক মতো মেডিসিন গুলো খাবে। আমি যাচ্ছি ফোনে কথা হবে হুম। (আমি) | ___ না না তুমি এখন যেতে পারবে না। লাঞ্চ করে তারপর যাবে। তোমার হাতে ছাড়া আমি খাবো না হুম 🙄(সিনথি) | আন্টি এসে বলল... | ___ বাবা তুমি কিন্তু আজ না খেয়ে যেতে পারবে না। (আন্টি) | ___ আচ্ছা আন্টি আমি খেয়েই যাবো। (আমি) | তারপর.... | | দৌড়াবে........... | | | | (মনের মধ্যে লাগলে রং দেখিয়ে বেড়ায় কত ঢং। কি কান্ড!!😲 )

@kamal16

পাবে কি পুর্নতা গল্পঃ পাবে কী পূর্নতা ??? অন্তু পাঁচদিন আগে এসেছে বাংলাদেশে।সে ইউ এস এ থাকে।একটা বড় সফটওয়্যার কোম্পানিতে ইন্জিনিয়ার হিসেহে কাজ করে।তবে বাংলাদেশে আসার পিছনে একটা কারন আছে,কারনটা হইল বিয়ে্।বিয়ে করার জন্য অন্তু দুই মাসের জন্য এসেছে।উঠেছে ঢাকার উওরার নিজেদের ফ্লাটে।অন্তুর আসার পর পরই অবশ্য অন্তুর পরিবার আত্বীয় স্বজন মেয়ে দেখার কাজটা শুরু করে দিয়েছে।যদিও অন্তুর নিজের কোনো পছন্দ নাই।তাই পরিবার যে মেয়েকে সিলেক্ট করবে অন্তু তাকেই...............­....................­... যাইহোক আসি মূল ঘটনায়------ অন্তুরা ২য় তলায় থাকে।অন্তু ঢাকায় আসার পরপর মোটামুটি অলস সময়ই কাটাচ্ছে।অন্তু সে দিন কফি খাচ্ছিল হঠাৎ সে দেখল,জানালা দিয়ে যতটুকু দেখা য়ায় আর কি,যদিও স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছিলনা..পাশের বাসায় নিচে গাড়ি পার্কিং যেখানে করা হয়,সেখানে একটা মেয়ে নিজের হিজাব ঠিক করছিল।অন্তু ব্যাপারটা পাওা দিলনা অতটা।পরপর কয়েকদিনই ঐই হিজাব পড়া মেয়েকে দেখতে পেল এবং দেখল মেয়েটি একই কাজ করছে,হিজাব ঠিক করছিল।অন্তু দেখে একটু হাঁসল। যাইহোক অন্তু সেদিন সন্ধায় বাইরে যাবে বলে মাএ মেইন গেট পার হয়েছে।ঠিক তখনই দেখে সেই হিজাব পড়া মেয়েকে যদিও অন্তু মেয়েটিকে পেছন থেকে এটা সেই মেয়ে না....যাইহোক অন্তু যে মেয়েকে দেখতে যায় সেই মেয়েকে অন্তুর পছন্দনা তেমন একটা।আর বাসার সবাই যখন অপছন্দের কারন যানতে চাইল,অন্তুর একটাই কথা মেয়েটার চোঁখ তার পছন্দ না..কথা শুনে সবাই হতভাগ।আর এই চোখের কথা মনে আসতেই,অন্তুর মনে ভেসে ওঠে হিজাবের আড়ালে থাকা সেই দুটি চোখ।যদিও অন্তু ওই দুটি চোখ ছাড়া দরজার ফাক দিয়ে আর কিছুই ঠিকমত দেখতে পাই না।অন্তু ঠিক তখনই একটু কৌতুহলি হয়ে ওঠে যে,"আচ্ছা ঐ মেয়েটা রোজ ঐ বাসায় ঢোকার পর এটকা নির্দিষ্ট জায়গায় দাড়িয়ে হিজাব ঠিক করে কেন"??? তবুও ঠিক প্রতিদিন একই জায়গায়?? এসব কথা ভাবতে ভাবতে অন্তু জানালার দিকে তাতাকায়,এবং লক্ষ্য করে মেয়েটি পাশের বাসার দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে,উপর থেকে কে জানি চাবিটা ফেলে দিলে মেয়েটি তা কুড়িয়ে তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করল এবং আবারও ঐ নির্দিষ্ট জায়গায় নিজের হিজাব ঠিক করে সিড়ি দিয়ে উপরে ওঠে গেল।কেন জানিনা অন্তুর ঐ মেয়েকে জানার একটা আগ্রহ সৃষ্টি হলো।অন্তু কফি খেতে খেতে বার বার জানালার দিকে তাকিয়ে ছিল যে কখন বের হবে ? আবার মনে মনে এটাও ভাবছে যেযে বের হলেও বা কী? কী বলব আমি? এসব ভাবতে ভাবতে অন্তু জানালার দিকে তাকাতেই দেখলো যে মেয়েটি দরজা দিয়ে বাহিরে বের হচ্ছে।অতটা কৌতুহল ছিলনা অন্তুর।দুজন দুই দিকে চলে গেল। পরদিন অন্তু আবার চা খাচ্ছিল এবং জানালার দিকে তাকায় ছিল তখন দেখল ঐ হিজাব পরা বোরখা পরা মেয়েটি দাড়ায় আছে। আর কিছুক্ষন পর পর কলিংবেল চাপছে। কিছুক্ষন পর ২য় তলার বেলক্যানি থেকে একজন মাঝ বয়সি মহিলা বলছে, আজ আফারা বাড়িত নাই।আপামনি আপনি চলে যান। আরশিকে নিয়ে আফা মার্কেটে গেছে।দাড়ান আনতাসি?তাই বলে ভিতরে চলে গেল।এবং একটু পর উপর থেকে টাকাটা ফেলে দিল। অন্তু খেয়াল করলো মেয়েটি টাকাটা মাঠি থেকে তুলে নিল। কাঁধে ব্যাগ ছিল সেই টাকাটা রাখল।রেখে হাটতে লাগল।এদিকে অন্তুর ছোট বোন অন্তুকে ডাক দিল,ভাইয়া তাড়াতাড়ি রেডি হয়েনে। মেয়ে দেখতে যাবে তোর জন্য।হিজাবপরা সেই মেয়েটির নাম নয়নতারা।আরশিকে আজ পরাতে হবে না বলে হাতে সময় ও আছে অন্যদিকে বেতনের টাকাটাও আছে এটা ভাবতে ভাবতে নয়নতারা হাটতে লাগল,রাস্তার পাশে ফুটপাতের দোকানের সামনে ভ্যানে কাঁচের চুরি দেখছিল।ঠিক সেই সময় অন্তু ও তার পরিবারের সবাই গাড়িতে চড়ে মেমেয়ে দেখার উদ্দেশ্য যাচ্ছিল।অন্তু জানালার দিকে তাকিয়ে ছিল।আর হঠাৎ সে সেই হিজাপ পরা মেয়ে নয়নতারা কে দেখতে পায়।আর মনে মনে ভাবে............................. পর্বঃ ০১ চলবে ......................

@kamal16

এক্স জিএফ১ পার্ক এ বসে বাদাম খাচ্ছি... পাশেই আমার এক্স বসে আছে.. তার সাথে ছোট্ট একটা মেয়ে. . কেনো জানি তাকে দেখে খুব মায়া হচ্ছে..মনের মধ্যে বাজতেছে...এই কি সেই মেয়ে???যাকে আমি ভালোবেসেছিলাম?? . এমন সময় আমার হবু বউ..অহনা এসে আমার হাত ধরলো.. . ইসশহহ.আমি আমার বাবুটাকে অনেক বেশি অপেক্ষা করিয়ে ফেলেছি তাই নাহ??(অহনা) . >না.. আমি বসেই ছিলাম..আর তুমি এলে.. >ওহ বসে বসে কি করছিলে??কোন মেয়ে দেখছিলে নাকি?? >আরে নাহ..এমনি বসে ছিলাম..তোমার অপেক্ষা করতেছিলাম.. >আচ্ছা আচ্ছা.. . এমন সময় অহনার চোখ যায় আমার এক্স তোড়ার দিকে..তোড়া বলতে তার সাথে থাকা বাচ্চার দিকে.. . অহনার বাচ্চা খুব পছন্দ..তাই সে সোজা বাচ্চাটির কাভহে চলে গেলো.. . হায় বাবু..তোমার নাম কি?? >আমাল নাম সায়রা. >বাহ কত সুন্দর নাম... . সায়রা নামটা শুনতেই আমার মনের মাঝে কেমন যেনো করে উঠলো..আমি আর তোড়া মিলেই ঠিক করেছিলাম যে আমাদের মেয়ে হলে নাম রাখবো সায়রা.. . হয়তো আমি ভুলে গেছিলাম কিন্তু আমার স্মৃতি মনে রাখতেই হয়তো তোড়া নিজের মেয়ের নাম সায়রা রেখেছে.. . এমন সময় হঠাৎ তোড়ার চোখ পরলো আমার দিকে.. যখন অহনা আমায় ডাক দিলো..এই আয়ান.. এদিকে এসো..দেখো না বাচ্চাটি কত্ত কিউট.. . অহনা আমার দিকে তাকিয়ে যেনো কিছুক্ষন স্তব্ধ হয়ে গেলো.. সে যেনো স্বপ্ন দেখছে.. . তার মনে হয়তো নানা প্রশ্ন জাগছে.. . সে কিছু না বলে একটাই প্রশ্ন করলো অহনাকে.। . উনি কি আপনার হাজবেন্ড?? (অহনা) >নাহ..তবে হবে.. . অহনা আর কিছু না বলে বাচ্চাটিকে কোলে তুলে সোজা হাটা দিলো.. . এদিকে অহনা আমার সাথে এসে শুরু করলো ঝগড়া.. . এই কি হলো এটা হে??মেয়েটা এমন রিয়েক্ট কেনো করলো?? >আরে বাবা আমি জানি নাকি?? >তুমি নিশ্চয় কিছু করেছো.. নাহলে এমন কেনো করবে মেয়েটা?? . >হে হে তোমার হিসেবে সব মেয়ের সাথে তো সব আমিই করি.. . আরে আয়ান..রাগ কেনো করো?? . না রাগ না বায়.. . এই বলে চুপচাপ চলে এলাম সেখান থেকে.. . একে তো সেখানে তোড়াকে দেখে পুরোনো ভালোবাসা জেগে উঠেছে..তার উপর এই অহনার জ্বালা.. . ধুর ভালো লাগে নাহ.. . বাসায় আসতে আসতে অনেক কিছুই চিন্তা করলাম.. . ভাবতেছি শুধু একটা কথাই.. . মেয়েটা তো অনেক শুকিয়ে গেছে..তার মানে কি সে অনেক কষ্টে আছে?? . এসব কিছু ভাবত্ব ভাবতে বাসায় চলে এলাম.। . আমার রুমে এলাম.. . আমার যেনো স্মৃতির পাতা গুলো খুলতে লাগলো.. . অনেক ভালোবেসেছিলাম মেয়েটাকে.. . কিন্তু আমার টাকা নেই বলে চলে গিয়েছিলো সে.. . আমি নাকি তার যোগ্য ছিলাম নাহ.. কারণ আমি বেকার.. আমার টাকা নেই..তাই.. . আজ আমার সব আছে৷ কিছুদিন আগে বিয়েও ঠিক হয়েছে.. . কিন্তু যাকে ভালোবাসি তার সাথে নাহ.. . . রাতে বিছানাহ শুয়ে আছি.. . এমন সময় ফোনের রিং বাজে.. . অচেনা নাম্বার.. ফোনটা রিসিভ করতেই পাশে থেকে বলে উঠে.. . হেলো আয়ান?? কন্ঠটা খুব চেনা..তোড়ার কন্ঠ. . আমার হার্ডবিট কেনো যেনো ফাস্ট হয়ে যাচ্ছিলো.. আমি তাও নিজেকে শান্ত রেখে উত্তর দিলাম.. . হে কে??(আমি) >আমি তোড়া.. >কে তোড়া? >এতো জলদি ভুলে গেছো? এখন কেনো যেনো নিজের প্রশ্নেই খারাপ লাগছে.. ধুরর কি বলে ফেললাম.. >না মানে.. . >যাই হোক..আমার তোমাকে কিছু বলার আছে..শুনবে..?? . >কি বলতে চাও.. . >আসলে আয়ান..তুমি চিন্তাও করতে পারবে না এমন কিছু বলতে চাই.। . >কি?? . >আয়ান...তুমি বিয়েটা করো নাহ..প্লিজ আয়ান.. . আমি তো তোড়ার কথা শুনে পুরাই থ..কি বললো ও এটা.. . কিন্তু কেনো বিয়ে করবো নাহ? >কারনটা হলো আয়ান.. . . #চলবে..

@kamal16

ভাবি যখন বউ৯ গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব_ ৯ আয়মানকে কল দিলাম, আজ রাত ওর সাথেই থাকতে হবে। কারন এতো রাতে বাসায় যাওয়া ঠিক হবে না। আয়মান বললো ওদের বাসায় যাওয়ার জন্য। যেতে ভাবতে লাগলাম অবন্তীর জন্য আমি এতো কিছু করলাম অথচ সে এক মুহূর্তেই সব ভুলে গেলো। তাহলে ২ রাতে যে আমার সাথে ঘুমাইছে, ওটা কেন করলো??? আমি আব্বু আম্মুকে কি বলবো উনারা তো অবন্তীকে না ফেলে মারাই যাবে, অবন্তী এতো বড় বিশ্বাসঘাতকতা করবে আমি তো কোনো দিন কল্পনাও করিনি। ভাবতে ভাবতে আয়মানদের বাসায় চলে গেলাম, কলিং বেল দিলাম কিছুক্ষণ পর আয়মান বেরিয়ে আসলো…… আয়মানঃ জুয়েল আসছিস? আমিঃ হুম। আয়মানঃ আয় ভিতরে আয়। আমি ভিতরে গেলাম, ওর আম্মুকে দেখে সালাম দিলাম। আন্টিঃ আরে জুয়েল যে, কতো দিন পর আসছো। কেমন আছো বাবা? আমিঃ জি আন্টি আমি ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন???? আন্টিঃ আছি বাবা! বয়স হয়ে গেলে যা হয় আরকি। জুয়েল তোমার আব্বু আম্মু কেমন আছে? আমিঃ জি আন্টি সবাই ভালো। আর কিছু কথা বলে আয়মানের রুমে চলে গেলাম, রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে মাত্র বসলাম আন্টি এসে ডেকে নিয়ে গেলো খাওয়ার জন্য। খাওয়াদাওয়া শেষে আবার আয়মানের রুমে গেলাম,খাটে আমি আর আয়মান পাশাপাশি শুয়ে আছি এমন সময় আয়মান বললো….. আয়মানঃ জুয়েল! এই জুয়েল” আমিঃ হুম বল। আয়মানঃ কি হয়েছে এবার বল। আমিঃ…….(অবন্তীর কথা গুলো বললাম) আয়মানঃ তোরে আমি আগেই বলেছি এই মেয়েটার মধ্যে কোনো ঘাবলা আছে। আমিঃ দোস্ত আমার মাথায় কিছু আসছে না, অবন্তী আমার সাথে এমন করবে আমি ভাবতেই পারিনি। আয়মানঃ দেখ জুয়েল! তোরে আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি ওই মেটার সাথে তোর হবে না। তুই ওরে ডিভোর্স দিয়ে দে। আমিঃ ধুর তোর কাছে এই কথা ছাড়া অন্য কোনো কথা নেই? সারা দিন শুধু ডিভোর্স ডিভোর্স করস। ওরে ডিভোর্স দিলে আব্বু আম্মুকে কি বলে বুঝাবো,আমি নিজে কিভাবে থাকবো? আয়মানঃ দেখ জুয়েল আবেগ দিয়ে তো আর জীবন চলে না, আবেগ আর বাস্তবতা এক না। আমিঃ আবেগ দিয়ে জীবন চলবে যদি চালাতে পারিস। আয়মানঃ কিন্তু ওতো তোকে এখনো মেনেই নিচ্ছে না, ফ্লোরে ঘুমাতে হয় তোকে। আমিঃ দেখ ফ্লোরে ঘুমালে সমস্যা নাই, আমি চাই অবন্তী আমার সাথেই থাকুক, আব্বু আম্মুর মেয়ে হয়ে থাকুক। আয়মানঃ কিন্তু জুয়েল! অবন্তী তো তোরে ভালোই বাসেনা। আমিঃ ও না বাসুক, আমি তো অবন্তীকে ভালোবাসি। অবন্তী কেন আমাকে ভালোবাসে না সেটাও আমি জানি। আয়মানঃ কেন? আমিঃ কারন অবন্তী ভাইয়াকে কি পরিমাণ ভালোবাসতো তোরে বলে বুঝাতে পারবো না। ভাইয়ার সাথে বিয়ের পরে অবন্তী আমাকে ভাইয়ের মতোই দেখেছে। সো হুট করে আমাকে বিয়ে করে তো আর স্বামীর মর্যাদা দিয়ে দিতে পারবে না। সেটা অবন্তী কেন পৃথিবীর কোনো মেয়েই পারবে না। ভাইয়া মারা যাওয়ার পর থেকে অবন্তী ঠিক মতো খেতো না, ঘুমাতো না, শরীরের প্রতি কোনো কেয়ার ছিলো না। কারন অবন্তীর মনটা পাথর হয়ে গেছে। যেদিন ওই পাথরে ফুল ফুটবে সেদিন অবন্তী জুয়েলকে মেনে নিবে। আমিও সেই দিনের অপেক্ষায় বসে আছি। আমি কোনো দিনও অবন্তীকে কোনো ব্যাপারে জোর করিনি আর এখনও করবো না। আয়মানঃ কিন্তু অবন্তী তো আজকে বলে দিছে তোকে মেনে নিবে না। আমিঃ সেটাই তো বুঝতেছিনা হঠ্যাৎ করে অবন্তীর কি হলো? হাসপাতালে গিয়েও আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করেছিলো। তারপর কিছু একটা চিন্তা করে ছেড়ে দিয়েছে। আয়মানঃ আচ্ছা দোস্ত কিছু মনে না করলে একটা কথা বলতাম। আমিঃ হুম বল, মনে করার কি আছে? আয়মানঃ অবন্তীর কি কারো সাথে রিলেশন আছে বা ছিলো? আমিঃ আমার জানামতে নাই, কারন অবন্তীর আম্মু বলেছিলো অবন্তীর নাকি কোনো ছেলে ফ্রেন্ডও নাই। সে জায়াগায় বয়ফ্রেন্ড আসার তো প্রশ্নই আসেনা। আয়মানঃ তো তুই এখন কি করবি? তোর আব্বু আম্মুকে বলে দিবি ওর ব্যাপারে? আমিঃ এখন না, আরো কিছু দিন দেখি। এখন বলে দিলে উনারা অনেক কষ্ট পাবে। আয়মানঃ জুয়েল আমার মাথা ঘুরতেছে। তুই তোর আব্বু আম্মুকেও বলবি না, নিজেও করবি না। তাহলে কি করবি? আমিঃ আমার মনে হয় এখানে বিশাল একটা রহস্য আছে যেটা আমি জানি না। আয়মানঃ তো কি করবি এখন? আমিঃ দোস্ত তোকে একটু কষ্ট করতে হবে। আয়মানঃ কি? আমিঃ দেখ আমি তো অফিসে চলে যাবো, সারা দিন ওখানেই থাকতে হবে। তুই তো ফ্রি আছিস, তুই যদি অবন্তীকে ফলো করতি ও কি করে, কার সাথে যায়। তোর বাইক আছে সমস্যা হবে না। প্রয়োজনে আমি তোরে তেলের টাকা দিয়ে দিবো। আয়মানঃ এই হারামি তুই পাগল হইছিস, তোর কাছে থেকে আমি টাকা নিবো? তুই আমার বেস্টফ্রেন্ড, তোর জন্য আমি সব করতে রাজি আছি। আমিঃ থেংক্স দোস্ত। তাহলে কালকে থেকে ওরে ফলো করা শুরু কর, আমি তোরে অবন্তীদের বাসা দেখিয়ে দিবো। আয়মানঃ আচ্ছা ঠিক আছে। এখন ঘুমা। তারপর একপাশ হয়ে শুয়ে গেলাম। ঘুম আসছে না। বার বার অবন্তীর কথাই মনে পড়তে লাগলো। ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে আয়মান আর আমি বাইক নিয়ে বের হলাম। আয়মানকে অবন্তীদের বাসা দেখিয়ে আমি অফিসে চলে গেলাম। কাজ করতে লাগলাম আর আয়মানকে বার বার কল দিয়ে জিজ্ঞেস করতে লাগলাম কিন্তু কোনো খবরাখবর নাই। অফিস শেষ করে বাসায় গেলাম। আব্বু আম্মু আমার উপর ফায়ার হয়ে আছে….. আব্বুঃ কিরে তুই একা কেন? আমার মেয়ে কোথায়? আমিঃ আসেনি। আম্মুঃ আসেনি, তুই কালকে ওর সাথে ঝগড়া করে চলে আসছিস কেন? আমিঃ কিহ! তোমাদের এসব কথা কে বলেছে? আব্বুঃ তুই কি ভাবছিস অবন্তীর সাথে আমাদের কথা হয়না? অবন্তীই আমাদের বলেছে। আমিঃ।……..(কি বলবো বুঝতেছিনা) আম্মুঃ কালকে কোথায় ছিলি? আমিঃ আয়মানদের বাসায় (মাথা নিচু করে) আম্মুঃ অবন্তী তোরে কি বলেছে? আমিঃ আরো কিছুদিন ওখানে থাকবে (মিথ্যা বললাম) আম্মুঃ যা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়। যাহ বাবা বেঁচে গেলাম, মনে হচ্ছে আমাকে রিমান্ডে দিয়েছে। শালা অবন্তী আব্বু আম্মুকে কি বুঝিয়েছে কে জানে! আমার সাথে একরকম করলো আর আব্বু আম্মুর সাথে অন্যরকম। বুঝলাম না। যাইহোক খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। পরেরদিন ঘুম থেমে উঠে রেড়ি হয়ে অফিসে চলে গেলাম। এভাবে ২ দিন গেলো, অবন্তীর সাথে আমার কোনো যোগাযোগ হয়নি। সেও আমাকে কোনো কল বা মেসেজ দেয়নি। একদিন অফিসে কাজ করতেছি। ১০.৩০ বাজে এমন সময় আয়মান কল দিলো। আয়মানঃ হ্যালো জুয়েল! আমিঃ হুম বল। আয়মানঃ তুই কই? আমিঃ অফিসে। তুই কোথায়??? আয়মানঃ আমিতো অবন্তীদের বাসার সামনে। আমিঃ কোনো খবর পাইছিস? আয়মানঃ এইমাত্র একটা গাড়ি অবন্তীদের বাসার সামনে আসলো আর অবন্তী সেটাতে উঠে চলে যাচ্ছে। আমিঃ গাড়িতে কে দেখছিস??? আয়মানঃ না দেখা যাচ্ছে না। আমিঃ আচ্ছা দোস্ত তুই গাড়িটা ফলো কর, কি হয় আমাকে জানা। আয়মানঃ আচ্ছা ঠিক আছে। কলটা কেটে দিলো, আমি একটু টেনশনে পড়ে গেলাম। অবন্তী কার সাথে ঘুরতেছে। ১১.২০ এ আয়মান আবার কল দিলো। আয়মানঃ জুয়েল! আমিঃ হুম বল। আয়মানঃ ঘটনা তো কিছুই বুঝলাম না। আমিঃ কেন কি হইছে? আয়মানঃ তোর অবন্তী তো লিমার সাথে। আমিঃ কোন লিমা??? আয়মানঃ আরে বেটা আমাদের ফ্রেন্ড, তোর বসের মেয়ে। আমিঃ অবন্তী তো লিমার কথাই শুনতে পারেনা। আয়মানঃ জানি তোর বিশ্বাস হবে না। আমি ছবি পাঠাচ্ছি তুই দেখ। আমিঃ আমার কাছে নরমাল মোবাইল। আয়মানঃ আচ্ছা বিকালবেলা দেখা করিস। আমিঃ ঠিক আছে। আজকে অবন্তী লিমার সাথে কি করে? আয়মানঃ আমি কেমনে বলমু? তুই লিমারে জিজ্ঞেস করিস। আমিঃ আচ্ছা তুই আরেকটু ফলো কর। আয়মানঃ ওকে। আমিঃ হুম আমি বিকালে তোর সাথে দেখা করবো। আয়মানঃ ওকে। কল কেটে দিলো। কাজ শেষ করে বিকালবেলা আয়মানের সাথে দেখা করলাম। আয়মান ওর মোবাইলে তোলা ছবি গুলো আমাকে দেখাতে লাগলো, আসলেই তো এটা যে লিমা। কিন্তু অবন্তী লিমার নামও শুনতে পারে না। আমাকে কয়েকবার হুমকি দিয়েছে যাতে লিমার সাথে দেখা না করি কিন্তু এখন দেখছি সে নিজেই লিমার সাথে হাত ধরাধরি করে হাটছে। কাহিনী তো একটা আছে। যেটা আমি জানি না। কিন্তু আমাকে এভাবে বসে থাকলে চলবে না, এই কাহিনী টা কি সেটা বের করতে হবে। আয়মানঃ এই জুয়েল কি ভাবতেছিস? আমিঃ দুজন একসাথে কি করে সেটা। আয়মানঃ লিমাকে জিজ্ঞেস কর তাহলে কাহিনী বুঝে যাবি। আমিঃ কিন্তু লিমা কি আমাকে বলবে? আয়মানঃ বলবে না কেন, অবশ্যই বলবে। আমিঃ নারে লিমার পেট থেকে সহজে কথা বের হয়না। আয়মানঃ ওরে ইমোশনাল করে বের করতে হবে। আমিঃ কিন্তু কিভাবে? আয়মানঃ কিছু একটা চিন্তা কর। আমিঃ হুম দেখি। আচ্ছা এখন কল দিবো? আয়মানঃ তুই পাগল হইছিস,এখন দিলে ভুলেও বলবে না। তোর সাথে যখন দেখা হবে তখন সিস্টেমে জিজ্ঞেস করে নিবি। আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে। আরো কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে বাসায় চলে গেলাম। খাওয়াদাওয়া করে বসে বসে ভাবতে লাগলাম আসলে অবন্তী কি করতে চাচ্ছে। ২ দিন পর আমি অফিসে কাজ করতেছি এমন সময় লিমা আমার ডেস্কে আসলো…. লিমাঃ কিরে জুয়েল কি খবর? আমিঃ ভালো না রে। লিমাঃ কেন বউয়ের জন্য খারাপ লাগছে বুঝি? এইতো ফকিন্নি মুখ দিয়ে আসল কথা বের করে দিছে, বাকি কথা গুলো বের করে নিই। আমিঃ নারে দোস্ত বউয়ের জন্য না। লিমাঃ তাহলে? আমিঃ আমি আর বেশি বাঁচবো নারে। লিমাঃ তুই এগুলো কি বলিস, পাগল হলি নাকি? আমিঃ সত্যিই বলছি। ডাক্তার বলেছে আর বেশি দিন নাই। লিমাঃ এই তোর শরীর ঠিক আছে তো। আমিঃ দোস্ত আমি তো চলে যাবো, যাওয়ার আগে একটা রিকুয়েস্ট রাখবি প্লিজ,, (একেবারে নরম গলায়) লিমাঃ তুই কি বলতেছিস এগুলো,আমার মাথা ঘুরতেছে। তোকে তো দেখে ভালোই মনে হচ্ছে। আমিঃ নারে, বল আমার রিকুয়েস্ট টা রাখবি? লিমাঃ কি রিকুয়েস্ট বল। এই তো লাইনে আসছে,,,, আমিঃ অবন্তীর সাথে কি চলতেছে বলবি, মরার আগে যানতে চাই। লিমাঃ……. (চুপ করে আছে) আমিঃ কি হলো বল। লিমাঃ তুই কিভাবে জানিস? আমিঃ তোকে আর অবন্তীকে আমি একসাথে দেখেছি। প্লিজ বল,,, লিমাঃ তোর সাথে যখন আমি মাহির বিয়েতে হেসে হেসে কথা বলেছিলাম তখন অবন্তী এসে আমার হাত ধরে কান্না করতে লাগলো আর বললো যাতে তোর সাথে না মিশি। আমিঃ তো তুই কি বললি? লিমাঃ আমি বলেছি তুই আর আমি জাস্ট ফ্রেন্ড আর কোনো সম্পর্ক নেই। অবন্তীকে রাগানোর জন্যই আমরা বিয়েতে এমন করেছি। এরপর থেকে আমার আর অবন্তীর মাঝে ভালো একটা ফ্রেন্ডশিপ হয়ে যায়। আমরা এখন একে অন্যকে তুই করে ডাকি। আমিঃ তো আমাকে বলিস নি কেন? লিমাঃ অবন্তী বলতে নিষেধ করেছে। তোরে নাকি শাস্তি দিবে। আমিঃ কি শাস্তি? লিমাঃ তুই যাতে অন্য মেয়ের সাথে আর জীবনে কথা না বলিস। আমিঃ আমি যে এখানে চাকরি পেয়েছি সেটাও কি বলে দিয়েছিস? লিমাঃ হুম, তুই জয়েন করতে আসার আগেই ওরে বলে দিয়েছি। আর সে তোর আব্বু আম্মুকে জানিয়ে দিয়েছে। আমিঃ তারমানে আমি বলার আগেই আব্বু আম্মু আর অবন্তী জেনে গেছে? লিমাঃ হুম। আমিঃ আচ্ছা এখন আমাদের মধ্যে একটু ঝামেলা চলতেছে তুই সেটা জানিস? লিমাঃ জানবো না কেন, আমার বুদ্ধি দিয়েই তো অবন্তী এগুলো করতেছে। আমিঃ তারমানে এসবের মধ্যে তুইও আছিস। লিমাঃ হুম রে দোস্ত আমি অনেকবার না করেছি কিন্তু অবন্তী আমাকে কিছুতেই ছাড়েনি। তাই করতে বাধ্য হলাম,,, কিন্তু আসল কথা কি জানিস? আমিঃ কি? লিমাঃ অবন্তী তোকে অনেক ভালোবাসে। আমিঃ কচু বাসে। ও জীবনেও আমাকে মেনে নিবে না। লিমাঃ নিবে দেখিস। আচ্ছা এবার বল তোর কি হয়েছে? আমিঃ আমার আবার কি হবে??? লিমাঃ তুই না একটু আগে বললি তুই আর বেশি দিন নেই। আমিঃ আরে ফকিন্নি এটা মিথ্যা ছিলো, তোর পেট থেকে আসল কথা বের করার জন্যই এমন করেছি। লিমাঃ কিহ! তুই এটা করতে পারলি? আমিঃ তুই যদি পারিস আমি কেন পারবো না? লিমাঃ দাঁড়া আমি অবন্তীকে সব বলে দিবো। আমিঃ বলে দে, তাতে তুই বাঁশ খাবি। আমার কি? লিমাঃ ধুর আমি তোদের কারো সাথে নাই। আমিঃ মনু মাইনক্যা ছিপায় আটকাইছো, বের হওয়ার সুযোগ নেই। বেশি চালাকি করলে এই অবস্থাই হবে। লিমাঃ আমি আর এসবের মধ্যে নেই। আমিঃ তুই আগে ছিলি, এখনো আছস এন্ড আগামীতেও থাকবি। শোন,,, লিমাঃ আবার কি? আমি আর তোকে কোনো ইনফরমেশন দিবো না। তুই এতো হারামী আগে জানতাম না,,, আমিঃ আরে আগে কথা শোন। লিমাঃ হুম বল। আমিঃ আমি যে সব কিছু জেনে গেছি অবন্তী যাতে না জানে। লিমাঃ আমি ওরে বলে দিবো। আমিঃ ওকে বলিস, আমি অবন্তীকে বলবো লিমা নিজেই এসে আমাকে সত্যি কথা বলে দিছে। তখন অবন্তীর পক্ষ থেকে খুব সুন্দর আর সাজানো একটা বাঁশ খাবি। সো অবন্তীকে কিছু বলবি না। লিমাঃ আচ্ছা। লিমা চলে গেলো, আমি চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলাম। এবার একটু শান্তি আসলো, শালার অবন্তী জীবনটা শেষ করে দিলো। কোথায় এসে আমার সাথে রোমান্স করবে সেটা না উলটো আমাকে বাঁশ দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। বালিকা তুমি চলো ডালে ডালে আর আমি চলি পাতায় পাতায়। জুয়েল কি জিনিষ এবার ভালো করে টের পাবা। আয়মাইন্না হারামিরে কল দিয়ে আসার জন্য বললাম। দেখা করবো, সন্ধ্যার সময় আসলো। আয়মানকে সব কিছু বললাম, আয়মান তো পুরা টাসকি খেয়ে বসে আছে। আয়মানঃ আরে কি বলিস? আমিঃ হুম সত্যিই। আয়মানঃ অবন্তীর দিকে তাকালে তো মনে হয় নিষ্পাপ একটা মেয়ে কিছু জানে না। বাজা মাছ উলটে খেতে জানে না। কিন্তু ওর ভিতর এতো প্যাছ? আমিঃ দাঁড়া আমি ওর প্যাচ বের করছি। আয়মানঃ একটা জিনিষ আমার মাথায় আসছে না। আমিঃ কি? আয়মানঃ অবন্তী তোরে হঠ্যাৎ শাস্তি দিতে যাবে কেন? আমিঃ আমি জানি না, সেখানেও হয়তো কোনো রহস্য আছে। আয়মানঃ দেখ এবার কি হয়। আমিঃ দোস্ত আমি যাই, কালকে দেখা করবো। আয়মানঃ কোথায় যাবি? আমিঃ এখন বাসায় যাবো। রেড়ি হয়ে অবন্তীদের বাসায় যাবো। আয়মানঃ অবন্তীদের বাসায় কেন? আমিঃ তুই এখনো ছোট, বুঝবি না কিছু। আরো বড় হয়ে নে তারপর নিজে নিজে বুঝে যাবি। আয়মান আবুলের মতো তাকিয়ে রইলো, আমি বাসায় চলে গেলাম। ফ্রেশ হয়ে আব্বুর কাছে আসলাম। বাবাঃ কোথাও যাবি নাকি? আমিঃ হুম। বাবাঃ কোথায়? আমিঃ তোমার বেয়াই মশায়ের বাসায়। বাবাঃ এতো রাতে ওখানে কেন? আমিঃ কেন যেতে পারি না? বাবাঃ পারবি না কেন, শ্বশুর বাড়ি মধুর হাড়ি। যখন ভালো লাগে তখন যাবি। এখন কি অবন্তীর কথা খুব মনে পরছে? আমিঃ আরে এগুলো কি বলো, ধুর যাবোই না। বাবা বসে বসে হাসতেছে। আমি রান্না ঘরে গেলাম। আম্মুকে বলে বেরিয়ে গেলাম। ৩০ মিনিট পর অবন্তীদের বাসায় গেলাম। কলিং বেল চাপ দিলাম। কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে দেয়। আমাকে দেখেই……… ৩০ মিনিট পর অবন্তীদের বাসায় গেলাম, কলিং বেল চাপ দিলাম। কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে দেয়। তাকিয়ে দেখি অবন্তীর আম্মু, আমাকে দেখেই মোটামুটি একটা টাসকি খেলো। খাওয়ার কথা যেখানে জুয়েলকে বলতে বলতে আসেনা, সেখানে নিজে থেকেই এসে হাজির তাও আবার রাতের বেলা। শাশুড়িঃ আরে জুয়েল! আসো বাবা আসো। আমি সালাম দিয়ে ভিতরে গেলাম। অবন্তীর বাবা বসে বসে টিভি দেখতেছে আমাকে দেখে উঠে দাঁড়ালো। আমি উনার সাথে কৌশল বিনিময় করলাম। শ্বশুরঃ অবন্তী রুমে আছে যাও। আমিঃ যাবো এখন না, একটু পর। শ্বশুরঃ তাহলে বসো, গল্প করি। আমি উনার পাশে গিয়ে বসলাম, বাবা মায়ের কথা জিজ্ঞেস করলো, চাকুরীবাকরির কি খবর জিজ্ঞেস করলো। আমিও উনার পাশে বসে সব কিছুর উত্তর দিচ্ছি। কিছুক্ষণ পর অবন্তী আসলো আমাকে দেখে ভুত দেখার মতো অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো, আমি ওরে পাত্তা না দিয়ে আবারও শ্বশুরের সাথে কথা বলতে লাগলাম। একসাথে খেয়ে আমি অবন্তীর রুমে চলে গেলাম। একটু পর অবন্তী আসলো,,, অবন্তীঃ কি ব্যাপার তুমি এখানে আসছো কেন?? আমিঃ সেটা আপনাকে কেন বলবো???? অবন্তীঃ আজব তো! আমার রুমে এসে শুয়ে আছো অথচ আমাকেই বলবে না। আমিঃ আমি আমার বউয়ের রুমে আসছি। আপনার সমস্যা কোথায়? অবন্তীঃ জুয়েল এসবের মানে কি? আমিঃ মানে খুব সোজা। আমি আমার বউয়ের কাছে আসছি আর বউয়ের সাথেই থাকবো। অবন্তীঃ দেখো জুয়েল ভালো হবে না কিন্তু। আমি কিন্তু চিৎকার করবো। আমিঃ তো করেন, দেখি কে আসে? অবন্তী একটু ভয় পেয়ে গেলো। তারপর আমার একটু সামনে আসলো। অবন্তীঃ জুয়েল তুমি সত্যি করে বলো তো কেন আসছো? আমিঃ কেউ একজন কে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি। ওরে ছাড়া থাকতে পারছিনা তাই চলে আসলাম। অবন্তী কিছুক্ষণ আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো তারপর আমার পাশে এসে বসলো। অবন্তীঃ কাকে ভালোবাসো???? আমিঃ যে এখন আমার পাশে বসে আছে। অবন্তীর চোখে পানি টলোমলো করতেছে, আমি ওর একটা হাত ধরে বললাম…. আমিঃ আমি কি এতোই বাজে? এতোই খারাপ যে আপনি আমাকে মেনে নিতে পারছেন না? অবন্তীঃ…….. (চুপ করে আছে) আমিঃ এটা ঠিক যে আপনি কখনো আমাকে মন থেকে মেনে নিবেন না। আবার এটাও জানি কোনো এক কারনে আপনি আমাকে শাস্তি দিতে চেয়েছেন কিন্তু এমন শাস্তি দিচ্ছেন আর একটু হলে তো আমি এই পৃথিবী ছেড়ে……(শেষ করার আগেই মুখ হাত দিয়ে দিলো) অবন্তীঃ না প্লিজ। এগুলো ভুলেও মুখে আনবে না। একজন কে হারিয়ে ফেলেছি, আর কাওকে হারাতে চাইনা। এই সব কিছুর জন্য আমি অনেক অনেক সরি। আমিঃ তো কেন এমন করলেন আমার সাথে, আমার দোষটা কি ছিলো??? অবন্তীঃ তুমি যখন মাহির বিয়েতে লিমার সাথে হেসে হেসে কথা বলতেছিলে সেটা দেখে আমার ভিতর একটা মোছড় দেয়। মনে হলো আমি খুব দামি একটা জিনিষ হারিয়ে ফেলতেছি। তোমার আড়ালে আমি লিমাকে সব বলি তখন উনি হাসি মুখে সব বলে দেয় যেটা তোমার আর ওর প্ল্যান ছিলো। তবুও আমার মনে একটা ভয় ছিলো যে তোমাকে যদি কেউ নিয়ে যায় বা তুমি যদি অন্য কারো হয়ে যাও। সেজন্য সেদিন রাতে তোমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়েছিলাম। আমিঃ সেটা নাহয় বুঝলাম কিন্তু আমি এক্সিডেন্ট হওয়ার পর একবারও যাননি কেন? অবন্তীঃ গিয়েছি সেটা তুমি দেখার আড়ালে। তুমি যখন ঘুমে থাকতে তখন যেতাম। আব্বু আম্মুর সাথে কথা বলে তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়্র আবার চলে আসতাম। আমিঃ কিন্তু এতো নাটক করার মানে কি? অবন্তীঃ জুয়েল! তুমি যখন চাকরিটা পাইছো তখন আমি কি পরিমাণ খুশি হয়েছি তা বলে বুঝাতে পারবো না। কিন্তু দুঃখের বিষয় তুমি তোমার চাকরির ব্যাপারে কিছুই বলো নি। উলটো লিমাই আমাকে বলেছে,,,, আমিঃ তখন বলিনি ঠিক আছে, কিন্তু বাসায় এসেতো বলতাম। আমি ভাবছিলাম মিষ্টি কিনে নিয়ে গিয়ে আব্বু আম্মু আর আপনাকে একসাথেই খবিশ টা দিবো। অবন্তীঃ সেটা নাহয় ঠিক আছে, কিন্তু একবার কল করে বললে কি এমন ক্ষতি হয়ে যেতো? আমিঃ ক্ষতি হতো না, ইচ্ছা ছিলো বাসায় গিয়ে বলবো। আচ্ছা সেদিন রাতে আমাকে এতো অপমান কেন করলেন তাহলে? অবন্তীঃ জুয়েল! আমি জানি তুমি অনেক ভালো। তোমাকে হিট করার মতো কোনো কথা আমার কাছে ছিলো না। তাই সেদিন আবোলতাবোল কি বলছি নিজেও জানি না। আমিঃ তো কেন বললেন? অবন্তীঃ তোমার ভাইয়া যখন ছিলো তখন আমাদের মাঝে খুব ভালো একটা সম্পর্ক ছিলো। কিন্তু তুমি প্রতিদিন কাজ থেকে এসে ফ্লোরে ঘুমিয়ে যেতে। আমিঃ আপনিই তো বলেছেন আপনি আমাকে মেনে নিতে পারবেন না, সেজন্যই তো ফ্লোরে থাকতাম। অবন্তীঃ জুয়েল জানো তোমার ভাইয়াকে এতো ভালোবেসে ছিলাম যে, তোমার ভাইয়ার জায়গায় অন্য কাওকে কোনো দিন কল্পনাও করতে পারিনা। তাই তোমাকে কথা গুলো বললাম। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে এইভাবে তো আর লাইফ যায় না। আমিঃ তো আমাকে বলতেন,,,, অবন্তীঃ সব কথা মুখে বলতে নেই, কিছু কথা বুঝে নিতে হয়। তুমি যদি ফ্লোরে না থেকে খাটে থাকতে আমি কি কিছু করতে পারতাম? আমিঃ সেটা নাহয় পারতেন না কিন্তু পরে বলতেন সব পুরুষ সমান। শুধু মেয়েদের সাথে থাকতে চায়,,, অবন্তীঃ মোটেও না। আমিঃ তো এতো কিছু করার কারন টা কি???? অবন্তীঃ দেখলাম। আমিঃ কি দেখলেন? অবন্তীঃ আমার বরটা আমাকে ভালোবাসে কিনা! আমিঃ তাই নাকি? অবন্তীঃ হুম। আমিঃ তো কি রেজাল্ট পেলেন? অবন্তীঃ সেটা জানি না তবে এটা মনে হচ্ছে পৃথিবীর ভাগ্যবতী নারীদের মধ্যে আমিই একজন। যে তোমার ভাইয়ার মতো ছেলেকে পেয়েছি। নিজের বাবা মায়ের চাইতেও ৩ গুণ ভালো শ্বশুর শাশুড়ি পেয়েছি। আর সেরা ভাগ্যবতী এই জন্য,,, সব শেষে তোমাকে পেয়েছি। আমিঃ…….. (কি বলবো বুঝতে পারছিনা) অবন্তীঃ খুব ভালোবাসি তোমায়, বলে বুঝাতে পারবো না। আমিঃ কিন্তু আপনি যে বললেন অন্য কোনো মেয়েকে বিয়ে করতে আমি তো আয়মানকে বলে দিছি অন্য মেয়ে খুঁজতে। অবন্তীঃ ওই কি বললে তুমি? খুন করে ফেলবো। আমিঃ কেন আপনিই তো বললেন। অবন্তীঃ আমি বললেই কি করতে হবে। আমিঃ হুম, আপনার আবদার না রেখে পারি? অবন্তীঃ খুব ভালোবাসি তোমায়, পারবো না তোমাকে ছাড়া থাকতে। পারবো তোমাকে অন্য কারো হতে দিতে। আমিঃ……. (চুপ করে রইলাম) অবন্তীঃ ভাবতেছি আপনাকে এখন কি বলে ডাকবো, ভাবী নাকি অবন্তী???? অবন্তীঃ মাইর খাবা কিন্তু, ভাবি কেন ডাকবে হুম? আচ্ছা মাঝেমাঝে ভাবি ডাকিও। ভাবি ডাক শুনার মাঝেও অন্যরকম একটা আনন্দ আছে। আমিঃ ও তাই নাকি? অবন্তীঃ হুম। বাট একটা শর্ত আছে! আমিঃ কি সেটা? অবন্তীঃ আজ থেকে আপনি নয় তুমি করে বলতে হবে। আমিঃ হুম।…… (কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম) অবন্তীঃ এই জুয়েল! চুপ করে আছো কেন? আমিঃ ভাবতেছি। অবন্তীঃ কি ভাবছো? আমিঃ আব্বু আম্মুর ইচ্ছা টা কিভাবে পূরণ করবো। আজ থেকে কার্যক্রম শুরু করবো কিনা সেটা ভাবছি। অবন্তীঃ কোন ইচ্ছা? আমিঃ ওই যে নাতী/নাতনীর ইচ্ছাটা। অবন্তী লজ্জায় লাল হয়ে গেলো। তারপর বললো…. অবন্তীঃ এই একদম ফাজলামো করবে না। আমিঃ ফাজলামো করি তাই না!! এই কথা বলেই অবন্তীর হাতটা ধরে একটা টান দিলাম। অবন্তী নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে আমার বুকের উপর এসে পড়লো…. অবন্তীঃ এই জুয়েল শোনো শোনো। আমিঃ হুম বলো। অবন্তীঃ তোমার না অনেক ইচ্ছা ধুমধাম করে বিয়ে করা। আমিঃ হুম, ছিলো বাট এখন বলে লাভ কি? অবন্তীঃ বলে লাভ আছে। আমাদের বিয়েটা আবারও হবে এন্ড সেটা তোমার ইচ্ছা মতোই। আমিঃ অনেক টাকা লাগবে কিন্তু পাবো কোথায়? অবন্তীঃ সেটা তুমি জানো বাট যদি বিয়ের অনুষ্ঠান না হয় তাহলে কিন্তু আমি তোমাদের বাসায় যাবো না। আর আমাকে টাচও করতে দিবো না। আমিঃ এটা কেমন কথা? অবন্তীঃ যেটা বলেছি সেটাই হবে। আমিঃ আরে ধুর, এই মুহূর্তে টাকা কই পাবো আর আব্বু আম্মুকে কি বলবো? অবন্তীঃ আচ্ছা আব্বু আম্মুকে বোঝানোর দায়িত্ব আমার। আমিঃ আচ্ছা দেখি কি করা যায়। অবন্তীঃ হুম দেখো, আর এখন নিচে থাকবা। আমিঃ মানে! সব কিছুতো ঠিক আবার নিচে কেন? অবন্তীঃ কোনো কিছুই ঠিক নেই। বলছিনা অনুষ্ঠান ছাড়া তোমার মনের আশা পূরণ হওয়া ছাড়া খাটে উঠতে দিবো না। আমিঃ এটা কোনো কথা, নিচে থেকে থেকে আমার সমস্যা হয়ে গেছে। প্লিজ আজকে অন্তত উপরে থাকতে দাও। অবন্তীঃ ওকে দিবো বাট একটা শর্ত আছে। আমিঃ আবার কি শর্ত? অবন্তীঃ আমাকে টাচ করতে পারবে না। দুজনের মাঝখানে কোলবালিশ থাকবে। আমিঃ আচ্ছা বাবা ঠিক আছে, তারপরও উপরে থাকি। অবন্তীঃ ওকে ওই পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ো। আমিঃ আপনি ঘুমাবেন না? অবন্তীঃ বলছিনা তুমি করে বলতে। আমিঃ ও সরি,,, অবন্তীঃ তুমি ঘুমাও, আমি পরে ঘুমাবো। কি আর করা মাঝখানে একটা কোলবালিশ দিয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। আমি আবার সব সময় কোল বালিশ জড়িয়ে ধরে ঘুমাই। রাতের বেলা মনে হচ্ছে কোলবালিশ নাড়াচাড়া করছে, কিন্তু কোলবালিশ এতো নরম কিভাবে হয়। আস্তে করে তাকিয়ে দেখি কোল বালিশ নিচে পড়ে আছে আর অবন্তী আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে। এইজন্যই তো বলি কোল বালিশ এতো নরম কেন!!! এটা যে আসল কোলবালিশ, যাইহোক আমিও কোলবালিশ জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠলাম কারো মিষ্টি হাসি দেখে। বাহ! ভেজা চুল দেখে আবারও ক্রাশ খেলাম। উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। তারপর নাস্তা করে আবার রুমে এসে অফিসের জন্য রেড়ি হয়ে নিলাম। অবন্তী রুমে আসলো…. অবন্তীঃ এই তুমি কি এখন চলে যাবে? আমিঃ হুম। অবন্তীঃ আচ্ছা সাবধানে যেও, আর যাওয়ার পর আমাকে একটা কল দিও। ওকে.??? আমিঃ ওকে, ওইটা কি দেখেন তো? অবন্তীঃ কোনটা? এ কথা বলে আমি যেদিকে ইশারা করেছি অবন্তী সেদিকে তাকালো আর আমি এই সুযোগে ওর গালে একটা ভালোবাসার স্পর্শ একে দিলাম। অবন্তী লজ্জায় লাল হয়ে গেলো। অবন্তীঃ এটা কি করলে? আমিঃ কোনটা? অবন্তীঃ এই যে এক্ষুনি দিলা। আমিঃ আমার বউকে আমি দিয়েছি, আপনার সমস্যা কোথায়? অবন্তী হাসতে শুরু করলো। আমিঃ এই রাতে আসবো? অবন্তীঃ জি না মশাই, আপনি আর এই বাসায় আসবেন না। আবার বিয়ের জন্য প্রিপারেশন নেন। নতুন বউ সেজে আপনাদের বাসায় যাবো। তখন পেট ভরে আদর করিয়েন। এর আগে যাতে আপনার চেহারাও না দেখি। আমিঃ আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে? অবন্তীঃ না পারার কি আছে? এই তুই বকবক না করে অফিসে যাও। দেরি হয়ে যাচ্ছে,,, আর হে আমি আব্বু আম্মুকে আবার বলে দিবো। আমিঃ ওকে,, অবন্তীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে গেলাম। আজকে অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করতেছে। তারপর অফিসে চলে গেলাম, সারা দিন অফিসে কাজ করলাম এর মধ্যে বেশ কয়েকবার অবন্তীর সাথে কথা হলো। বিকালবেলা আয়মানকে কল দিয়ে আসতে বললাম, ওর সাথে দেখা করে কিছুক্ষণ আড্ডা দিলাম। অবন্তীর কথা গুলো বলতে লাগলাম। আয়মানঃ যাক বাবা, বেঁচে গেলাম। জানিস জুয়েল আমি কতো টেনশনে ছিলাম। আমিঃ আরে আমিও তো অনেক টেনশনে ছিলাম। যে অবন্তী আব্বু আম্মুকে ছাড়া কিছু বুঝে না সে কি করে আবভ আম্মুকে ছাড়া থাকবে। আয়মানঃ হুম সেটাই। যাইহোক সব কিছু মিটমাট হয়েছে। আমিঃ নারে আরো বড় একটা প্যারায় ফেলেছে আমাকে। আয়মানঃ আবার কি? আমিঃ আমাদের বিয়ের তো কোনো অনুষ্ঠান হয়নি, আবার অনেকে জানেও না। তাই অবন্তী চাইছে বড় করে অনুষ্ঠান করে ওরে আবার নতুন করে বউ সাজিয়ে নিয়ে যেতে। আয়মানঃ ভালো তো। তোরও তো ইচ্ছা ছিলো ভালোভাবে বিয়েটা করা। আমিঃ হুম ইচ্ছা তো ছিলো, কিন্তু এখন টাকা কোথায় পাবো? অনেক টাকার দরকার,,,, আয়মানঃ টাকা তো লাগবেই, টাকা ছাড়া কিছুই হবে না। আমিঃ আগামী ১ বছর টাকা জমাতে হবে যদি অনুষ্ঠান করতে চাই। আয়মানঃ আরে না, এটা পসিবল হবে না। তুই কি এই একবছর অবন্তীকে ওর বাবা বাসায় রেখে দিবি? এটা কিছুতেই হয় না। আমিঃ সেটাই তো ভাবছি। আয়মানঃ জুয়েল! আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে। আমিঃ কি? আয়মানঃ তুই তোর অফিস থেকে লোন নে। তাহলে তোর বেতন থেকে প্রতি মাসে একটা করে পার্সেন্টিস ওরা রেখে দিবে। এতে করে তোর উপর খুব বেশি প্রেশার পরবেনা। আমিঃ জয়েন করেছি অল্প কিছু দিন হলো, এখন কি লোন দিবে? পুরাতন চাকুরীজীবী ছাড়া লোন দেয়না। আয়মানঃ আরে বেটা, তুই লিমার সাথে কথা বল। দেখনা কিছু একটা হয় কিনা। আমিঃ হুম দেখি। এরপর আর কিছু কথাবার্তা বলে বাসায় চলে আসলাম। রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সোফা রুমে গেলাম। আব্বু বসে বসে টিভি দেখতেছে। আমি গিয়ে বাবার পাশে বসলাম। বাবাঃ কিরে কি অবস্থা, চাকরি কেমন চলছে। আমিঃ এইতো ভালোই। বাবাঃ আমার মেয়ে কেমন আছে? আমিঃ ভালো। তোমাদের সাথে কথা হয়নি? বাবাঃ হুম সব সময় হয়। তুই নাকি মহা ধুমধামে বিয়ে করতে চাস? আমিঃ এগুলো কি বলো! (লজ্জায় আমার অবস্থা শেষ) বাবাঃ ঠিকই তো বললাম। তোর নাকি সেই ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন মহা ধুমধাম করে বিয়ে করবি। এখন আবার সেই ইচ্ছাটা জেগে উঠেছে। আমিঃ ধুর এখানে বসবোই না। আমি উঠে চলে গেলাম। বাবা বসে বসে হাসছে, আমি আম্মুর কাছে গেলাম, আম্মু রান্না করতেছে। আম্মুঃ কিরে বাবার কাছ থেকে চলে আসলি কেন? আমিঃ আরে ধুর আব্বু শুধু উল্টাপাল্টা কথা বলে। আম্মুঃ ঠিকই তো বলছে। আমিঃ আম্মু তুমিও বলছো। ধুর আমি রুমে গেলাম,,,, রুমে এসে বসে রইলাম, চারপাশে যেন অবন্তীর স্মৃতি গুলো ছড়িয়ে আছে। আমি অবন্তীকে কল দিলাম। আমিঃ কি করেন! অবন্তীঃ একজনের কথা ভাবতেছিলাম আর উনিই কল দিলো। আমিঃ আমিও, খুব মিস করছি। প্লিজ চলে আসো, অনুষ্ঠান পরে করবো। অবন্তীঃ জ্বি না সাহেব, সেটা হচ্ছে না। আমিঃ আমার উপর বেশি প্রেশার হয়ে যাচ্ছে না? অবন্তীঃ আমার বরের উপর প্রেশার পরবে এতে আপনার সমস্যা কোথায়! আমিঃ সত্যিই মিস করছি অবন্তীঃ হুম, আমিও করছি আমিঃ ওকে রাখি। কল কেটে দিলাম। অবন্তীর কথা ভাবতেছি এমন সময় আম্মু রুমে আসলো, ডেকে নিয়ে গেলো খাওয়ার জন্য। আমি আব্বু আর আম্মু একসাথে খাচ্ছি এমন সময় আব্বু বললো…. বাবাঃ জানিস জুয়েল! আমি উনার দিকে তাকালাম…. বাবাঃ আমাদের মানে তোর আম্মুর আর আমারও অনেক ইচ্ছা ছিলো আমাদের ছোট ছেলের বিয়েটা অনেক সুন্দর হবে। সবাই অনেক আনন্দ করবে, কিন্তু দেখ কেমন বাবা হলাম আমি সেই ইচ্ছাটাও পূরণ করতে পারলাম না। আমিঃ আব্বু এগুলো কি বলো? টাকা হলে সব করা যাবে। এতে টেনশন করার দরকার নেই। আব্বুর মন খারাপ দেখে আমি উঠে চলে গেলাম। রাতের বেলা আব্বু আম্মু ঘুমিয়ে গেছে। আমি উঠে বের হয়ে গেলাম। ভাইয়ার কাছে যাবো, কয়েকদিন ভাইয়ার কাছে যেতে পারিনি। আমার ভাইটা মন খারাপ করবে। বাইরে চাঁদের আলো ছিলো। আমি হেটে হেটে ভাইয়ার কবরের কাছে গেলাম। কবরের মাথা বরাবর গিয়ে বসলাম। ভাইয়ার কবরের পাশে কয়েকটা গাঁদাফুল গাছ লাগিয়ে ছিলাম সেগুলোতে ফুল ফুটেছে। দেখে মনে হচ্ছে ভাইয়া হাসতেছে। “ভাইয়া কেমন আছিস? তুই হয়তো ভাবছিস আমি তোকে ভুলে গেছি। নারে ভাই আমি তোকে ভুলিনি,সময় পাইনি তোর কাছে আসার। তোর কর্তব্য গুলো আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করতেছি কিন্তু তোর মতো পারছিনা। তবুও চেষ্টা করতেছি। ভাইয়া যেখানেই যাইনা কেন তোর অভাব টা আমি অনুভব করি, তোর স্মৃতি গুলো আমাকে ঘুমাতে দেয়না। ঘুমাতে গেলে তোর সাথে ঘুমানোর কথা মনে পড়ে, খেতে গেলে তোর সাথে ভাগাভাগি করে খাওয়ার কথা মনে পড়ে। খেলা দেখতে গেলে তোর দলের বিরোধিতা করার কথা গুলো মনে পড়ে। আজ সব আছে, ভালো একটা চাকরিও পেয়েছি, টাকা এখন নেই হয়তো ভবিষ্যৎ এ হবে। সব কিছু হয়তো পাবো কিন্তু তোকে পাবো না। ভাই আমি জানি তুই আমার উপর অভিমান করে আছিস, ভাই বিশ্বাস কর ১ সেকেন্ডের জন্যও আমি তোকে ভুলিনি। তোর অবন্তীকে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি ভালো রাখার। পড়ালেখা করানোর, আমি সফল হয়েছি। জানিস ভাইয়া প্রতি রাতেই আমি মায়ের কান্নার আওয়াজ শুনতে পাই, কিন্তু আমি মাকে শান্তনা দিই না। তুই আবার এটা ভাবিস না আমি স্বার্থপর। আমি আম্মুকে শান্তনা দিই না এইজন্য যে আম্মুকে সান্তনা দেওয়ার মতো ভাষা আমার নেই। অবন্তী এখনো তোকে অনেক ভালোবাসে। আমাকে মেনে নিলেও অবন্তীর মনে তুই যে জায়গাটা করে নিয়েছিস সেটাতে তুই সারা জীবন থাকবি। ভাই আজকে সব আছে শুধু তুই নেই, আর একবারের জন্য আমাদের মাঝে ফিরে আয়। দেখে যা ওদের আমি ঠিকমতো রাখতে পারছি কিনা আর একবার এসে আমার সাথে ঝগড়া করে যা। এবার আর তোর সাথে মারামারি করবো না। তুই শুধু একবার আয়। “”” চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে গেছে আর কোনো কথাই আসছে না আমার মুখ দিয়ে। আরো কিছুক্ষণ ওখানে বসে কবর জিয়ারত করে বাসায় চলে আসলাম। পরের দিন ঘুম থেকে উঠে, ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে অফিসে চলে গেলাম। ১১ টার দিকে লিমা আসলো… লিমাঃ দুলাভাই জুয়েল নাকি এইটা? আমিঃ মনে হয়। লিমাঃ কি অবস্থা? আমিঃ ভালো নারে। বিপদে আছি,,, লিমাঃ কেন আবার কি হইছে। এবার তো সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গেছে। অবন্তী আমাকে সব কিছু বলেছে। তুই তো হারামি কিছুই বলবি না। এখন বল আবার কি হইছে? আমিঃ…… (সব কিছু বললাম) লিমাঃ ওরে অনেক টাকা লাগবে। আমিঃ হুম। লোন ওতো দিবে না, কারন নতুন জয়েন করেছি লিমাঃ হুম, আচ্ছা আমি ম্যানেজারকে বলে দিবো, দেখ কিছু হয় কিনা। আমিঃ থেংক্স দোস্ত! লিমাঃ এক

@kamal16

চাহিদা গল্প :- চাহিদা পর্ব :- ০৩ . --কিহ্ অবাক হচ্চো? অবাক হবার কিছু নাই কারণ সিমা আমার কথামত এসব করেছে। এই সবকিছু আমার ই প্লান আমার।(লিজা) হঠাৎ লিজার এমন কথা শুনে সাদিক পুরা থ হয়ে গেলো কি বলছে এসব লিজা? আর লিজার কথাতেই এসব করছে সিমা? নিশ্চুপ হয়ে বিছানায় বসে পরে সাদিক। বসে বসে ভাবছে আমি জানতাম একজন স্ত্রী তার সব কিছু ভাগ অন্য কাউকে দিতে পারে। কিন্তু তার স্বামীর ভাগ সে কখনো কাউকে দিতে চায় না। এমনকি দেয়ও না। কিন্তু লিজা নিজে থেকে সিমাকে আমার কাছে পাঠিয়েছে? সাদিক কিছুতেই যেন ভুঝতে পারছে না লিজা এসব করলো কেন? । তারপর কিছুক্ষনের জন্য সাদিক ভুলেই গেছে যে একটু আগে সে তার বউ লিজার পরোকিয়া সম্পর্কে জানতে পারলো। কারণ সাদিকের মাথায় শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরছে লিজা আসলে কেন সিমাকে আমার কাছে পাঠালো। তারপর সাদিকের মনে পড়তে থাকে সিমার সাথে কাটানো প্রথম সেই দিনের কথা। যেদিন সিমা নিজেই এসেছিলো সাদিকের কাছে। আজ সাদিক কিছুটা বুঝতে পারছে সিমা কেন সেদিন নিজে থেকে সাদিকের সাথে ওসব করতে চায়। । (প্রিয় পাঠক/পাঠিকা চলুন সর্ট কার্ট সে ঘটনা যেনে নেয়া যাক) -সেদিন। যখন সাদিক আর লিজার বিয়ের ৩ বছর চলছিলো। তখনো সামিরার জন্ম হয়নি। লিজা একটু কাজের জন্য বাইরে যায়। বাসায় শুধু সাদিক আর সিমা ছিলো। সাদিক রুমে বসে কাজ করছিলো আর সিমা বার বার রুমে আসা যাওয়া করছিলো। কিন্তু সাদিকের সে দিকে কোন মনোযোগ ছিলো না। সে তার মতো কাজ করছিলো। তার কিছুক্ষন পর সিমা সাদিকের সামনে এসে বসে এমনি এমনি কিছু প্রশ্ন করতে লাগলো এই যেমন। --কি করছেন,, কেন করছেন,, এখন আপনার মুড কেমন,,এইসব। (সিমা) আর সাদিকের দিকে তাকিয়ে মিটমিটিয়ে হাসছিলো। ওর হাসির মধ্যে একটা চাহনি ছিলো যেটা সাদিক কেন যে কোন পুরুষ ই বুঝতে পারতো। সাদিকও বুঝতে পারে। কিন্তু সে কোন রিয়েক্ট করে নাই। কারণ ওর এসবের মধ্যে কোন ইন্টেরেস্ট ছিলো না। এভাবে অনেক্ষন চলতে থাকে কিন্তু সিমা এমন কিছু কাজ করছিলো যা হতে দেখে কোন পুরুষ আর ঠিক থাকতে পারতো না। সাদিক তাহলে কিভাবে পারবে? সেও পারলো না। সারা দিলো সিমার ইশারায়। তবে এক শর্তে। ও যেন কাউকে কিছু না বলে। সেই থেকে প্রায়ই তারা লিজাকে লুকিয়ে দেখা করতো।কিন্তু ওসব যে লিজার প্লান ছিলো ভুলেও সাদিক বুঝতে পারে নি। --কি হলো সাদিক বসে আছো কেনো?(লিজা) (লিজার কথায় বাস্তবে ফিরলো সাদিক) --হুমম হা বলো। (সাদিক) --আমি বলবো নাকি তুমি বলবে?(লিজা) --আমি আর কি বলবো? তুমিতো সব ই জানো। আর আমি তো এই গল্পের মাস্টার মাইন্ড না, আমিও তোমার হাতের পুতুল এই গল্পে। তাই তুমিই বলো।(সাদিক) --হুমম কিন্তু এটা কেন করেছি সেটা জানো?(লিজা) --নাহ.! সেটাই জানতে চাচ্ছি। সাথে তুমি শাওন,শিপন এদের সাথে সম্পর্ক রাখছো কেন সেটাও?(সাদিক) --সাদিক তোমার দুইটা প্রশ্নের উত্তর একটাই আমার কাছে। আমি এগুলো করেছি তার কারণ অনেকটা তুমিই। হ্যাঁ অনেক টা তুমি। আর কিছুটা আমার ভাগ্য আর সবচেয়ে বড় করণ টা হলো একটা মেয়ের চাহিদা,, আকাংক্ষা,, ইচ্ছা,, সখ,, স্বপ্ন,, সাধনা, এসব কিছু পূরনের জন্য। আর একটা কথা কি জানো? আমি আসলে এসব করতে চাই নি। কিন্তু করতে বাধ্য হয়েছি। অনেক ভেবেছি তার পর পা বাড়িয়েছি।(লিজা) এদিকে সাদিক লিজার কথা যতই শুনছে ততই যেন অবাক হচ্ছে। --কি বলছো এসব লিজা? তুমি বাধ্য হয়ে করেছে মানে? আমি কি তোমাকে কখনো অপুর্ন রেখেছি?(সাদিক) --হ্যাঁ রেখেছিলে। হ্যাঁ তুমি অপূর্ণ রেখেছো। আর কি অপুর্ণ রাখছো জানতে চাও?(লিজা) --হুমম প্লিজ লিজা বলো আমি জানতে চাই।(সাদিক) তারপর লিজা কোন কথা না বলে সাদিকের হাত ধরে সাদিক-কে টেনে পাশের রুমের দরজার কাছে নিয়ে জায়। নিয়ে গিয়ে পাশের রুমে বসে বসে পড়তে থাকা সামিরার দিকে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দিয়ে বলে। --ওই মেয়েটাকে দেখছো? (লিজা) --হুমমম ও তো আমাদের মেয়ে সামিরা।(সাদিক) --হুম আমার এসব করার পিছনে আর একটা কারণ হচ্ছে ওই পিচ্ছি মেয়ে টা।(লিজা) --What......(সাদিক) --হুম সাদিক.(লিজা) --কিন্তু……….(সাদিক) --প্লিজ সাদিক এখান থেকে চলো সামিরা এখন অনেকটা বড় হয়ে গেছে। সামিরার ৪ বছর এখন। তাই আমি চাই না ও এসব শুনুক। আর আমি চাই না তোমার আমার কোন কিছুই আমার মেয়ের জীবনকে প্রভাবিতো করুক। তাই চলো রুমে চলো। আর ডিনারের টাইম তো হয়ে এসেছে তাই চলো সবাই আগে ডিনার করে নেই তার পর তোমাকে সব বলবো। হ্যাঁ আজ আমি সব বললবো তোমাকে।(লিজা) তারপর সবাই যে যার যার মতো ডিনার সেরে নিলো। লিজা,, সাদিক,, সামিরা,, সিমা সবাই। ডিনার সেরে সামিরাকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে লিজা রুমে চলে আসলো সাদিক আগে থেকেই বসে ছিলো রুমে।লিজা রুমে প্রবেশ করতেই সাদিক একটু নরেচরে বসলো। আর লিজাও এসে বসে পড়লো কেউ কিছু বলছে দুজনেই চুপ এভাবে প্রায় ২০ মিনিট চলে গেলো তারপর লিজা উঠে এক গ্লাস পানি পান করলো আর সাদিক-কে বললো তুমি পানি খাবে? --নাহ থাক। আমার পানির পিপাশা পায়নি। (সাদিক) --ওকে। (লিজা) --হুমমম এবার বলো। (সাদিক) --হুম বলছি। আচ্ছা সাদিক ছেলেরা তার বউয়ের থেকে কি চায় বলো তো।(লিজা) --কেন জানো নাহ? (সাদিক) --প্রশ্ন করো কেন? যা জানতে চাচ্ছি তাই বলো।(লিজা) --একটা ছেলে তার বউয়ের থেকে সব চেয়ে বেশি যেটা আশা করে সেটা হলো অধিক বিশ্বাস আর ভালোবাসা।(সাদিক) --হুমমম আর মেয়েরা?(লিজা) --মেয়েরা কি চায় তার স্বামীর থেকে?(সাদিক) --মেয়েরাও সেটাই চায়। ট্রাসটিং,কেয়ারিং,সেয়ারিং এই সব। হুমমম কিন্তু মেয়েরা যে এসবের থেকেও আর একটা জিনিস বেশি চায় সেটা কি জানো?(লিজা) --নাহ.। কি চায় বলো তো?(সাদিক) --সেটা হলো একটা বাচ্ছা। সাদিক তুমি দুনিয়ায় এমন কোন মেয়ে পাবে নাহ। যে মেয়ে মা হতে চায় না। সব মেয়েই চায় তার একটা বাচ্ছা হোক। আর সেটা যে কোন মূল্যই। আর মা হবার ইচ্ছাটা এতই অদ্ভুদ। যে দেখো না খবরের কাগজে বাচ্চা প্রসব করতে গিয়ে কতো মেয়ে মারা যায়। তবুও কোন দিন কোন মেয়ের মুখে শুনছো যে সে বলছে আমি মা হবো না?(লিজা) লিজার কথা শুনে সাদিক কিছুটা থ হয়ে গেলো। মনে মনে ভাবছে লিজা তো সত্যি কথাই বলছে। এতো কিছুর পরেও মেয়েদের মা হবার আকাংক্ষা, কমে না। তারপর আবার দুজন কিছুক্ষনের জন্য চুপ। কেউ কিছু বলছে না। তার ঠিক ১০ মিনিট পর নিরোবতা ভেঙ্গে লিজা বললো। --আচ্ছা সাদিক তুমি কি জানো সামিরা কার মেয়ে? --কার আবার আমাদের মেয়ে। মানে তোমার আর আমার মেয়ে। --নাহ সাদিক সামিরা আমার মেয়ে সেটা ঠিক। কিন্তু তোমার নাহ্। --মানে --হুমম সামিরার বাবা তুমি নও। ওর বাবা অন্য কেউ। --What…!!! . . চলবে…………………♥♥ (পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন। গল্পটি ভাল না লাগলে এড়িয়ে চলো। পুরো গল্প না পড়ে বিতর্কিত মন্তব্য করবেন না।)

@kamal16

অবুঝ মনের ভালবাসা #অবুঝ মনের ভালোবাসা #পর্বঃ১০ হিমুও মেহেরিমার দিকে তাকিয়ে আছে। পারভেজ ও আবছার দু'জন লক্ষ্য করলো হিমু ভিতরের দরজান দিকে তাকিয়ে। ওটা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে কিছু না বলে নিজেদের মধ্যে কথা বলতেছে। মেহেরিমা আর হিমু চোখের ইশারায় নিজেদের ভিতরে কথা বলতেছে। মেহেরিমা হিমুকে বলল বিকালে কল দেওয়ার জন্য। হিমুও ইশারায় বুঝিয়ে দিলো কল করবে। আবছার বলল, হিমু উঠ অনেক সময় হয়েগেছে এবার বাসায় চলে যেতে হবে। হিমু অনিচ্ছা সত্ত্বেও বলল, হুম চল।পারভেজ আজকে উঠি রে অনেক সময় হয়ে গেছে। পারভেজ বলল, কি বলিস এসেছিস যখন একেবারে দুপুরের খাবার খেয়ে তারপর যাবি। না রে বন্ধু অন্য কোন দিন আসবো। ভিতর থেকে পারভেজের মা আসতেছে দেখে মেহেরিমা সেখান থেকে সরে গেলো। হিমু আর আবছার পারভেজের মায়ের সাথে কথা বলে বিদায় নিয়ে বের হয়ে গেলো।পারভেজ ওদের সাথে সাথে রাস্তায় আসতেছে।হিমু একটু পিছনে থেকে মেহেরিমার দিকে তাকিয়ে আছে। মেহেরিমাও আড়াল থেকে হিমুর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। আবছার বলল,আচ্ছা পারভেজ এখন যাই কালকে স্কুলে দেখা হবে। আল্লাহ হাফেজ ওকে বন্ধু। হিমু আর আবছার সাইকেল নিয়ে বাসার উদ্দেশ্য রওয়ানা দিলো। এ দিকে মেহেরিমা বিকালে হিমুর কলের অপেক্ষায় বসে আসে। হঠাৎ করে ঘুম থেকে উঠে দেখে ঘড়িতে সময় ৪.৩০। তাড়াতাড়ি উঠে ওয়াসরুমে চলে গেলো ফ্রেশ হওয়ার জন্য। ফ্রেশ হয়ে মায়ের কথা থেকে মোবাইলটা নিয়ে মেহেরিমার নাম্বারে কল দিলে। কল দেওয়ার সাথে সাথে রিসিভ হল হ্যালো আসসালামু আলাইকুম। ওয়াইলাকুম আসসালাম। কেমন আছেন? আলহামদুলিল্লাহ ভালো, তুমি কেমন আছো? আলহামদুলিল্লাহ ভালো, তবে আপনার উপর রেগে আছি। কেন, আমি আবার কি করলাম? কখন থেকে অপেক্ষা করতেছি আপনার জন্য। সরি সুইটহার্ট, আসলে সকালে তোমাদের ঐ দিকে যাওয়া হইছে আর একটু ঘুরাঘুরি করছিলাম তাই শরীর ক্লান্ত ছিলো। খাবার খেয়ে একটু রেস্ট নেওয়ার জন্য শুয়ে ছিলাম। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজেও জানি না। আর ঘড়িতে এ্যার্লাম দিতেও ভুলে গেছি। তাই দেরি হয়েগেছে। ও আচ্ছা, আপনি হঠাৎ করে সকালে কেন আসলেন। তোমাকে দেখার জন্য। তাই বলে বাড়ীতে আসতে হবে। কালকে তো স্কুলে যাব তখন তো দেখা হতো। আমার ভীষণ মন চাইছিলো তাই চলে গেলাম। মন চাইলে সব কিছুই করবে নাকি? হুম করবো। না আজকে থেকে আর করবে না। কেন? আজকে থেকে আমি যা বলবো তাই করতে হবে সেজন্য। আচ্ছা করবো। তবে তোমাকে যখন দেখতে মন চাইবে তখন না করলেও শুনবো না। আচ্ছা সেটা দেখা যাবে। কি করেন? আমার প্রেয়সীর সাথে কথা বলতেছি। তাই হুম। তুমি কি করো? আমি কিছু করি না শুধু........ কি? একজনের সাথে প্রেম করতেছি। কার সাথে গো? যার সাথে এখন কথা বলতেছি। এ কথা শুনে হিমু মনে মনে খুশি হলো। এভাবে ওরা নিজেদের মধ্যে দুষ্টুমি করতেছে। মেহেরিমা বলল, আচ্ছা এখন রাখি কালকে সকালে কথা হবে। আর কিছু সময় থাকো। সরি আজকে আর হবে না মিষ্টার। কেন? অনেক সময় হয়েগেছে। তো কি হইছে? আরে আম্মু পরে সন্দেহ করতে পারে তাই মোবাইলে বেশি কথা বলা যাবে না। আর আগামী কালকে তো দেখা হচ্ছে সো এতে টেনশন করা কি আছে মিষ্টার? সেটা তুমি বুঝবে না। কেন বুঝবো না? বুঝিয়ে বললে তো হয়। তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি মেহেরিমা তাই মন চায় সারাক্ষণ তোমার সাথে কথা বলতে। ও আমি বুঝি বাসি না? কি? বুঝেন না? না। থাক আর বুঝতে হবে না। এখন রাখি ভালো থাকবেন। তুমি রেগে যাচ্ছো কেন? সরি। আচ্ছা ঠিক আছে, তবে সত্যি এখন রেখে দিতে হবে। ওকে। ভালোবাসি তোমাকে অনেক বেশি। আমিও আমিও কি? এতো বলতে পারবো না। আল্লাহ হাফেজ এটা বলে মেহেরিমা কল কেটে দিলো। হিমু বুঝতে পারলো কল কেটে দিয়েছে। তাই সেও মোবাইল থেকে নাম্বার ডিলেট করে মায়ের কাছে দিয়ে দিলো। পরের দিক সকালে হিমু মেহেরিমা জন্য অপেক্ষা করতেছে। আজকে হিমু একা আসছে আবছারকে সাথে নিয়ে আসে নাই। এদিকে মেহেরিমা মিষ্টি কালারের একটা জামা পড়ে সুন্দর করে হিজার করে বাহির হলো। রুমকিকে ডেকে দুজনে প্রাইভেটের উদ্দেশ্য রওয়ানা দিলো। হিমু জামমুড়া ব্রিজের উপর বসে আছে। এটা দেখে রুমকি বললো দেখ হিমু ভাই তোর জন্য অপেক্ষা করতেছে। হুম জানি। ও আচ্ছা তাহলে আগে থেকেই সব ঠিক করা। ওরা কাছাকাছি আসতেই হিমু দাঁড়িয়ে পড়লো। রুমকি বলল, আচ্ছা তোরা কথা বলতে বলতে আয় আমি সামনে আছি। আচ্ছা। হিমু মেহেরিমা দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেটা দেখে মেহেরিমা জিজ্ঞেস করলো এভাবে কি দেখেন? আমি স্বপ্নের অপ্সরীকে দেখি। তোমাকে আজকে কতটা সুন্দর লাগছে বলে বুঝাতে পারবো না। যতই সৌন্দর্যের বর্ণনা করি না কেন তাতেই কম হয়ে যাবে। যা এসব কি বলছেন আমার বুঝি লজ্জা করে না? লজ্জা কেন করবে? সেটা আপনি বুঝবেন না। এভাবে ওদের প্রেম চলতেছে। প্রতিদিন সকালে দেখা করা বিকালে কথা বলা ওদের প্রতিদিন অভ্যাস হয়ে গেছে। এখন বর্ষা কাল শুরু হয়েছে। হিমু আজকে সকালে মেহেরিমার সাথে দেখা করার জন্য বের হয়েছে কিন্তু ছাতাটা নিয়ে আসতে ভুলে গেছে। মেহেরিমাও প্রতিদিনের মতো প্রাইভেটে যাওয়ার জন্য বাহির হলো। রুমকি বাড়িতে যেয়ে দেখলো সে এখনো রেডি হয় নাই। কি রে এখনো রেডি হলি না যে? মেহেরিমা আমি আজকে যাবো না তুমি যা। কেন? শরীর ভালো লাগছে না। ও আচ্ছা তাহলে আমি গেলাম। আগে কখনো এ রকম হলে একা যেত না কিন্তু এখন না যেয়ে উপায় নাই। কারণ মেহেরিমা জানে হিমু তার জন্য অপেক্ষা করতেছে। আজকে তুমি একা কেন রুমকি কোথায়? ওর শরীর ভালো লাগছে না তাই আসে নাই। ও আচ্ছা। একথা বলে দু'জনে হাঁটা শুরু করলো। এই তুমি ছাতা আনো নাই? না মনে ছিলো না। এখন বর্ষার সময় কখন বৃষ্টি শুরু হয় তার ঠিক নাই। আর আজকে সকাল থেকেই আকাশে অবস্থা ভালো না। সমস্যা নাই তোমার কাছে আছে না সেটা দিয়েই হয়ে যাবে। হুম দুজনের ভিজতে হবে। এদিকে হঠাৎ করে গুটি গুটি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টির ফোঁটা পড়তেছে দেখে মেহেরিমা ছাতা খুলে হিমুর একেবারে কাছে চলে আসলো যাতে হিমু বৃষ্টিতে না ভিজে। মেহেরিমা বৃষ্টি তো মনে হয়ে অনেক বেশি হবে। এ কথা বলার কিছুটা পরেই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মেহেরিমা আর হিমু দু'জনে বৃষ্টিতে ছাতা নিচে পাশাপাশি হাঁটতেছে। হিমু বলল, মেহেরিমা চল এখানে দাঁড়ায়ে থাকি কিছুক্ষণ। বৃষ্টি একটু কমলে যাওয়া যাবে। আর এভাবে যদি যাই তাহলে ভিজতে হবে কারণ বাতাস শুরু হয়েছে। মেহেরিমাও দেখ আকাশের অবস্থা আগে থেকে আরো বেশি খারাপ পর্যায়ে যাইতেছে। তাই সেও বলল আচ্ছা চল ঐখানে দাঁড়াই। ওরা দু'জন একটা কুঁড়ে এসে দাঁড়ালো। আসলে এটা এখানে করা হয়েছে রাতে মটর পাহারা দেওয়ার জন্য। ফসলে পানি দেওয়ার জন্য এখানে পাম্প বসানো হয়েছে। যাতে কেউ মটর চুরি করতে না পারে রাতে এ কুঁড়ে ঘরে বসে পাহারা দেওয়া হয়। হিমু আর মেহেরিমা কুঁড়ে ঘরে এসে দেখলো ভিতরে কেউ নাই। ওরা ভিতরে গিয়ে নিজেদের মধ্যে একটু দূরত্ব রেখে দাঁড়িয়ে আছে। হিমু আর মেহেরিমাও শরীরের বেশিরভাগই বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। হিমু তাকিয়ে দেখলো মেহেরিমাকে ভেজা কাপড়ে......... . . . চলবে..... .

@kamal16

Offtopics অফটপিকস ছবিটি মুগদা জেনারেল হাসপাতালের সামনের.. বড় বোনকে সাথে নিয়ে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে করোনা টেস্ট করাতে এসেছিলো বাবুবাজারের চা বিক্রেতা আল আমিন৷ বোন তাকে ফেলে রেখে চলে যাই৷ এরপর জ্ঞান হারিয়ে সে হাসপাতালের সামনে পড়ে থাকে। এটি শুধু একজন আল আমিনের মুখ থুবড়ে পড়ে থাকার ছবি নয়, করোনা দূর্যোগে পুরো স্বাস্থ্যখাত ভেঙে পড়ার এবং অব্যবস্থাপনার চিত্র এটি।। এবার আসি আমার কথায়... আমি একজন করোনা পজেটিভ রোগী । করোনা আমাকে যতটা না কষ্ট দিয়েছে তার চেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে , আমার আশেপাশের কিছু মানুষজন তাদের ব্যবহার দিয়ে । আমার আজ ১২ তম দিন চলে । আল্লাহর রহমতে শারিরিক ভাবে ভালো আছি। ‍তবে মানুষিকভাবে ভাবে ভালো নেই। করোনা থেকে সাবধান হতে গিয়ে আমরা কতটা অমানবিক হয়ে পড়েছি তা এই ছবিটাই প্রমান দিচ্ছে। আমার উপলব্ধিতে করোনা কোন ভয়ানক রোগ নয় । আমার দুইদিন জ্বর ছাড়া আর কিছুই হয়নি । এর আসল ডাক্তার আপনি নিজেই । ঘরোয়া টিটমেন্টে এটা ভালো হয়ে যায় । করোনার চাইতে ভয়ানক রোগ আমাদের সমাজের কিছু মানুষ বহন করে বেড়াচ্ছে, আর তা হলো অমানবিকতা । করোনা একদিন ঠিক চলে যাবে, কিন্তু আমাদের অমানবিকতা যাবে কি ? মানবিকতা যারা এখনো বাচিয়ে রেখেছে ,তাদের মধ্যে একজন হলো ফটো সাংবাদিক রুবেল রশীদ । তিনিই প্রথম ছেলেটিকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন । স্যালুট বস..মানবতার জয় হোক।

@kamal16

Valobasar rat #গল্প ভালোবাসার-রাত #পর্ব (১৮) তিলকে অবাক করে দিয়ে রিদ ওর বুকের উপর শুয়ে খুব গভীরভাবে জড়িয়ে ধরলো। অস্পষ্টট সুরে বললো, "" ভালোবাসি তোকে,খুব বেশি ভালোবাসি রে বউ!"" রিদের চোখের পানি বেয়ে বেয়ে তিলের বুকে পড়ছে। তিলকে ফাঁকি দিয়ে চোখের পানি মুছার চেষ্টা করছে রিদ। কিন্তু যে চোখই নিজের পানিকে আটকাতে পারেনি, লুকাতে পারেনি তা রিদ কিভাবে তিলের কাছ থেকে লুকোবে? তাও এতোটা কাছ থেকে?? রিদের অতি নগন্য কষ্টের কান্নার সাথে ফুপানির শব্দ এবং রিদের চোখের পানি যা রিদের চোখের কোন বেয়ে তিলের জামা ভেদ করে শরীরে ছুয়ে দিচ্ছে। হঠাৎ এমন উষ্ণ পানির ছেয়ায় তিলের মনে খটকা লাগে৷ তিল রিদের মাথাটা চেপে ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে ফেলে। এ সে কি দেখছে? রিদ ভাইয়ার চোখে পানি? চোখ ভিজে লালবর্ন ধারন করে আছে। কেন কাঁদছেন উনি?? আমার কেন মনে হচ্ছে উনি আমার থেকে কিছু লুকোচ্ছেন?? উনি তো এমন নরম মনের মানুষ নই? কি এমন হলো যে এতোটা পাল্টে গেলো। যে চোখের চাহনি আমাকে ভয়ে নাড়িয়ে দিতো সেই চোখ আজ কেন আমার চোখে চোখ রাখতে পারেনা??? রিদের চোখের পানি দেখেই তিলের চোখ ভিজে গেলো। কান্নাজরিত কন্ঠে বললো, "" আপনি কাঁদছেন কেন?? কি হয়েছে আপনাল?"" রিদ তিলের হাত থেকে নিজের মুখমন্ডলটা সরিয়ে নিলো। সোজা হয়ে দাড়িয়ে চোখের পানি আড়াল করে বললো, "" কোথায় কাঁদছি? তুই কি দিনে দিনে কানাও হয়ে গেছিস?? ছোট মাছ খাসনা কত দিন ধরে বলতো?"" "" আপনি কথা গুলাচ্ছেন কেন? আমি দেখলাম আপনাল চোখে পানি,বলুননা কি হয়েছে? আল আজকাল আপনি কেমন জানি হয়ে যাচ্ছেন। আমাকে দেখতেই পালেননা এমন। আবাল হুট কলে এসে অনেকগুলো ভালোবেসে ফেলেন। যেন এক মুহুলতেই সবটা ভালোবাসা দিয়ে দিবেন!"" রিদ তিলের মাথায় একটা চাটি মেরে দিলো৷ ঠোটে হাসির রেখা ফুটিয়ে বললো, "" কালকেই তো এক্সাম শেষ। পাস করবি নাকি ফেল? ঠিক ঠিক করে বল,আমি কিন্তু লাড্ডু পাওয়া মেয়ের বর হতে পারবোনা। ইউকে থেকে পড়াশুনা কমপ্লিট করেছি তো এমনি এমনি না। কত কষ্ট করে পড়তে হয়েছে জানিস? এখন যদি আমাকে লাড্ডু পাওয়া মেয়েকে বিয়ে করতে হয় তাহলে আমার ইয়া মোটা মোটা ইংলিশ বইগুলো তো আমাকে দেখে হাসবে!"" তিল রিদের কথা নিজের কানেই নিচ্ছেনা। সে খুব বুঝতে পারছে এগুলোর পেছনে অন্য কিছু আছে। কিন্তু সেটা কি?? তিল রিদকে হালকা করে জড়িয়ে ধরলো। "" ছাড়,ছাড় ছাড় আমাকে। তুই আমাকে ঘুষ দিয়ে বিয়ে করতে চাচ্ছিস?? ছি! ছি! ছি!!! তিল!!! তুই তো দেখছি ব্যাংকের সব টাকা লুটে নিয়ে নিজের পেটে পুরবি। এখনি ঘুষ দেওয়া শিখে গেছিস??"" "" কি হয়েছে,বলুননা। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আপনাল চোখে পানি আমি কখনোই সহ্য কলতে পালবোনা। আমি কি কিছু কলেছি? তাহলে আমাকে শাস্তি দিন! তাতেও আমি হ্যাপি,কিন্তু আপনাল চোখে পানি দেখে আমাল বুকটা জ্বলে পুলে যাচ্ছে,লিদ ভাইয়া।"" রিদের ঠোটের কৃত্রিম হাসিটা নিমিষেই উধাও হয়ে গেলো। তিলকে নিজের বুক থেকে সরিয়ে নিলো। নিজের হাতের তালু দিয়ে তিলের গালদুটো চেপে ধরে বললো, "" ভালোবাসিস আমাকে?"" "" হুম!"" "" কতটা?"" তিল কিছু বলতে যাবে তার আগেই রিদ ওকে ছেড়ে দু কদম পিছিয়ে গিয়ে বললো, "" তোর ঐ ছাই ভালোবাসা আমার লাগবেনা। কই এতোদিন তো বলিসনি ভালোবাসিস তাহলে আজকে কেন বলবি? শুনবোনা আমি তোর ভালোবাসার কথা!"" তিল রিদের কাছে এগিয়ে এসে বললো, "" আপনি তো জানতে চাননি!"" "" জানতে চাইবোনা বলে তুই বলবিনা? এখন তোর কাছে আমাকে ভালোবাসা জানার জন্য হাত পাততে হবে? ভিক্ষে চেয়ে বলতে হবে,তিল সাহেবা,তিল সাহেবা,দুটো ভালোবাসার কথা বলে আমাকে ধন্য করুন???"" "" আপনি এভাবে বলছেন কেন? আমিতো...."" "" কাল পরীক্ষা শেষ হবে কখন?"" "" ৪ টায়।কেন?"" "" কাল একটু তাড়াতাড়ি আসিস তো!"" রিদ চলে যেতে নিলে তিল পেছন থেকে প্রশ্ন করে,,, "" কেন? কাল কি আছে?"" "" আমার মাথা আছে। এসে খেয়ে ফেলিস। বিরক্তকর!"" রিদের কথায় তিল মন খারাপ করে মুখটা নামিয়ে নিতেই রিদ ডেকে উঠে, "" বউ,একটু এদিকে আসুন তো। আপনার বর আপনাকে একটা চুমু খাবে।"" তিল মাথা উচু করে দেখে রিদ ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে। যে হাসির ছোয়া তিলের ঠোটেও লাগলো তবে সাথে কিছুটা লজ্জা মিশ্রিত। এমন করে কেউ চুমু খেতে চাই? ইশ! কি লজ্জা! "" আমি কি চুমু না খেয়েই চলে যাবো?"" তিল ছুটে গিয়ে রিদের সামনে দাড়ায়। "" তোর তো দেখি লজ্জা শরম নাইরে তিল,চুমু নেওয়ার জন্য দৌড়ে চলে এলি? এমন ছুচি তুই?"" "" ধুল! লাগবেনা,আপনাল চুমু!"" তিল অভিমান করে চলে যেতে নিলেই রিদ ওর হাতটা চেপে ধরে নিজের দিকে ঘুড়িয়ে দাড় করালো। "" এতো অভিমান শিখেছিস কেন? আমাকে পাগল করে পাগলাগারদে পাঠানোর জন্য? তুই জানিস, তুই যখন অভিমান করিস তখন তোর গালদুটো ফুলে লাল টমেটো হয়ে যায়? আমার তো আবার টমেটো অনেক পছন্দ, আমি যদি খেয়ে ফেলি? তখন গাল ছাড়া তোকে কত বিচ্ছিরি লাগবে ভাবতে পারছিস?"" "" লাগুক,তাও আপনি শান্তি পান। আপনাল শান্তি দেখেই আমি আমার মন জুলাবো।"" রিদ তিলের ঠোট আংগুল দিয়ে চেপে ধরে বললো, "" আজকাল আগুন ধরানোর কথা বলাও শিখে গেছিস দেখি!কোথা থেকে শিখছিস এগুলো?"" তিল লজ্জায় মাথা নুয়িয়ে নিলে রিদ ওর কপালে চুমু খেতে গেলো। কিন্তু আবারও কিছু একটা ভেবে কপাল ছেড়ে গালে চুমু খেয়ে বললো, "" দোয়া করি,ভালোবাসারা যেন তোকে মাতিয়ে রাখে।"" রিদ চট করে তিলকে ছেড়ে হাটা ধরে। নিশ্বাসটা আবার গলার মাঝখানটাই এসে আটকে আছে। পুরোটা কেন আটকায়না? তাহলেতো একটু শান্তি পেতাম। জীবনের পুর্নতাকেই অপুর্নতায় খেয়ে ফেলছে! তিল রিদের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো। এক গাধা অভিমান আর কষ্ট এসে ভিড় করছে তার মনে। কিন্তু কেন? রিদ ভাইয়া এটা কি বলে গেলেন? যা শুনেই আমার মন খারাপ হয়ে গেলো? তিল মন খারাপের জ্বালায় সারারাত ছটফটিয়ে কাটিয়ে দিলো। রিদ ভাইয়া কেন তাড়াতাড়ি যেতে বললো? কি হবে তাড়াতাড়ি গিয়ে?? আগে তো কখনো এমন বলেনি তাহলে কাল রাত কোন বললো?? টেনশনে তিলের খাতায় কাটাকাটির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এদিকে লেখাও যেন ফুরাচ্ছেনা। তিল ৩ ঘন্টার পরীক্ষা ২ ঘন্টায় শেষ করে বাড়ির দিকে রওনা দিলো। কিছু ভালো লাগছেনা তার। মনটা কেমন খচখচ করছে। ভালোমন্দ কিসব চিন্তা আসছে মাথায়। তার মধ্যেই রাস্তায় মানুষের গুনগুন থেকে বুঝা যাচ্ছে এক্সিডেন্ট করেছে কেউ। পুরো শরীর নাকি রক্তে মাখামাখি! হাঠাৎই চোখের সামনে তিলের সেই স্বপ্ন ভেসে উঠলো,যেখানে রিদের শরীরও রক্ত মেখে ছিলো। উফ! কিছু ভালো লাগছেনা,গরম লাগছে,খুব গরম লাগছে,এতো গরম কেন? শরীরটাও কেমন জ্বলে যাচ্ছে। আজকেই এতোকিছু হতে হচ্ছে???? বাসায় এসেই তিল সোজা রিদের রুমে ঢুকে গেলো। পুরো রুম ফাঁকা। কোথায় গেলো উনি? আমাকে তাড়াতাড়ি আসতে বলে নিজেই নাই? তিল বিরক্ত নিয়ে রিদের রুমের ওয়াশরুমটাই ঢুকে ফ্রেশ হয়ে আসলো। তিলের মনে হলো,উনার ওয়াশরুমটাও কেমন মন খারাপ করে আছে,পানিটাও কি গরম,ঠিক উনার শরীরের মতো। উনার শরীরের তাপমাত্রা কি সবসময়ই ১০০ এর উপরে থাকে?? তিল রিদের বিছানায় বসল। এখনো উনি এলেননা,গেলেনটা কোথায়? তিল বেড়িয়ে যেতে গিয়েও থমকে দাড়ালো। পা ঘুড়িয়ে পায়ে পায়ে ড্রেসিং টেবিলটার সামনে গিয়ে দাড়াতেই তিলের চোখ আটকে গেলো আয়নাতে। কালো কালি দিয়ে কিছু একটা লিখা। তিল ঠোট নাড়িয়ে পড়তে থাকলো,,, ***ভালো থাকিস রে বউ! তুই আমার কাছে কখনো কিছু চাসনি অথচ আজ যখন তোর এই বদমেজাজী,রাগী,স্বার্থপর ভাইয়াটাকে বর হিসেবে চাইলি তখন তাও আমি তোকে দিতে পারিনি। মাফ করে দিস। ভেবেছিলাম তোকে বউ সাজে দেখে তারপর চলে আসবো কিন্তু নিজেকে দিয়ে আর অভিনয় করাতে পারছিলাম না রে। খুব কষ্ট হচ্ছিলো। তোকে বউ সাজে দেখবো বলে ১৭ টা বছর ওয়েট করে ছিলাম অথচ দেখ তোকে আমি সামান্য শাড়িতে জড়ানোই দেখতে পারলামনা। ভাগ্য আমার সাথে এভাবে বেঈমানী করবে জানতামনা। মনকে শান্তনা দিচ্ছি এটা ভেবেই যে আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন। হয়তো আমি তোর জন্য বেস্ট ছিলাম না! একটুও কাঁদবিনা,মন খারাপ করবিনা তাহলে আমি দুরে গিয়েও শান্তি পাবোনা। তোর না বলা ভালোবাসার দোহাই দিয়ে গেলাম,আমি ছাড়া তোর জীবনটাকে নতুন করে রাঙিয়ে নিস! ইতি তোর পালিয়ে যাওয়া লিদ ভাইয়া*** রিদ ভাইয়াকে ছাড়া আজ ১ টা বছর চলে গেছে তিলের জীবন থেকে। যার মধ্যে ৮ বার মিলিয়ে প্রায় ৪ মাসের মত হসপিটালেই কাটিয়ে দিয়েছে সে। হাসি আর কান্নার মধ্যে তফাত কি সেটাও ভুলে গেছে তিল। রিদের অন্ধকার ঘরটাকেই নিজের ঘর বানিয়ে নিয়েছে,এখন সেও প্রচন্ড গরমে কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমুতে শিখে গেছে,কেন শিখবেনা? একমাত্র এটাই আছে যার মধ্যে সে তার রিদ ভাইয়ার গন্ধ পায়,মন ভরে নিশ্বাস নিতে পারে,যে নিশ্বাসে শুধু রিদ আছে। জড়িয়ে ধরলে মনে হয় এটাই তার রিদ ভাইয়া। তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলছে,বউ আরেকটু শক্ত করে ধরোনা! প্রতিদিনের মতো আজো সে আয়নার সামনে দাড়িয়ে রিদের লিখে যাওয়া সেই আয়নাচিঠি পড়ে যাচ্ছে আর গাল বেয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। কাঁদতে কাঁদতে একসময় তিল ফ্লোরেই ঘুমিয়ে পড়ে। যে ঝড়ের গতিতে হুট করে এসে সবার মনকে খুশিতে ভরে দিয়েছিলো রিদ ঠিক সেভাবেই হুট করে পালিয়ে গিয়ে পুরো বাড়ির মানুষকে মন খারাপের সাগরে ডুবিয়ে দিয়ে গেছে। সবার যেন এখন এটাই মৌলিক কাজ। এর মধ্যে রিমা অনেকবার এসেছে কিন্তু তাতে লাভের কিছু হয়নি সে নিজেও মন খারাপ রোগে ভুগতে ভুগতে আবার চলে গিয়েছে। বাড়িটাই জনমানবহীনতায় ভুগছে। ছেলেকে খুজতে খুজতে আমির আলী আর রহমত আলী হাপিয়ে উঠেছেন,তবুও যদি জানতে পারতেন কোথায় আছে কেমন আছে। সেটাও হয়নি! আজ রিদের জন্মদিন। এই দিনেও মানুষটার রুমটা এমন বাসি থাকবে?? তিল নিজের হাতে রিদের রুমটা গুছাচ্ছে,আজকে ফুল দিয়ে সে তার রিদ ভাইয়ার রুমটা সাজাবে,কিন্তু কি ফুল দিয়ে সাজানো যায়?? উনার কোন ফুল পছন্দ? আমি এটাও জানিনা? এই জন্যই উনি চলে গিয়েছেন। আপনি ঠিকি বলেছেন রিদ ভাইয়া আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্য করেন। তবে আপনি একটা কথা ভুল বলেছেন আপনি আমার জন্য বেস্ট ছিলেন,আমিই আপনার জন্য বেস্ট ছিলামনা! তিল চোখের পানি মুছতে মুছতে রিদের ওয়াড্রভটা খুলে জামাকাপড় গুছাতে লাগলো। হঠাৎই কিছু কাগজ চোখে পড়ে। হাত দিয়ে সেগুলো বের করে চোখের সামনে ধরতেই বুঝতে পারলো মেডিকেলের কাগজ। পেসেন্টের জায়গায় রিদের নাম লিখা। চলবে

@kamal16

আপনি মেয়ে আপনি মেয়ে! আপনি "Always Available" টাইপ হলে চলবে না!আপনার মধ্যে আলাদা একটা "Attitude" থাকতে হবে,আপনার মধ্যে লজ্জাশীলতা থাকতে হবে,লজ্জা পেলে আপনার মুখে লাল আভা পড়তে হবে। আপনার মধ্যে ঢং করার একটা বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে!যেকোনো নরমাল বা সাধারণ বিষয়কেও ঢং এর মাধ্যমে অসাধারণ করে তুলতে হবে!আপনার মধ্যে একটা বাচ্চামি বাচ্চামি টাইপ আবেগ থাকতে হবে!কঠিন হৃদয় আপনাতে শোভা পায় না,অল্প আঘাতেই কান্না করতে হবে,চিতকার করে কাঁদলে আপনার চলবে না,আপনার কাদতে কাদতে হবে ফুপিয়ে ফুপিয়ে। সব ছেলেদের মেসেজের রিপ্লায় দেয়া আপনার খাটে না,প্রতিদিনের ১০-১২ জনের মেসেজ থেকে আপনাকে প্রিয় মুখ বেছে নিতে হবে আপনার অনুভুতি এবং প্রায়োরিটি শেয়ার করার জন্যে!না হয় আজ যাদের রিপ্লায় দিবেন কাল তাদের বন্ধুমহলেই আপনার চরিত্র নিয়ে কথা উঠবে "আরে এই মেয়ে তো তামান পোলাগোর সাথে কথা বলে"। তাই আপনাকে সস্তা হলে চলবে না,আপনাকে মুল্যবান হতে হবে,আপনাতে মাধুর্যতা থাকতে হবে,আর পাশাপাশি থাকতে হবে সেই মাধুর্যতা ধরে রাখার "Attitude"। আপনার টাইট জিন্স আর টি শার্ট পছন্দ হলে চলবে না।আপনার শাড়ি পছন্দ হতে হবে!হ্যা তবে কপালে ছোট করে কালো টিপ,চোখে আলতো করে কাজল,আর ঠোটে হালকা করে লিপ্সটিক দিলে ক্ষতি নেই!চুড়ির মধ্যে সস্তা চুড়িগুলো আপনার বেশি পছন্দ হবে!২০ টাকার এক গুচ্ছ নীল বা কালো রঙের চুড়ি পেলে আপনি খুশিতে আত্নহারা হয়ে যেতে হবে!আবার একই ভাবে একটা চুড়ি ভেঙে গেলে আপনার চোখে পানি চলে আসতে হবে!কালো রঙের সেই টিপটা আয়নাতে লাগিয়ে রাখতে হবে,আর টিপটা পড়ার সময় ভুল জায়গায় বসাতে হবে যেনো সামনের জন বলে " এই তোমার টিপটা তো ঠিক ভাবে বসে নাই"!বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় টিপটা খুজে না পেলে অস্থির হয়ে যেতে হবে,অস্থির এজন্য হলে চলবে না যে "অনুষ্ঠানের দেরী হচ্ছে",অস্থির এজন্য হতে হবে যে "প্রিয় টিপটা বুঝি হারিয়ে ফেললাম।" আপনার বুকের উড়না টা কাধের এক পাশে কিংবা গলায় ঝুলিয়ে রেখে স্টাইল করলে চলবে না,উড়না টা দিয়ে আপনার বুক ঢাকতে হবে!খুব সুন্দর করে গুছিয়ে বেগুনী রঙের উড়নাটা পড়তে হবে আর বারবার হাত দিয়ে দেখতে হবে "উড়নাটা ঠিক জায়গায় আছে তো?" না থাকলে টান দিয়ে আবার ঠিক জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। চুল খোপা কিংবা বেধে রাখার চেয়ে খোলা রাখতেই আপনার ভালো লাগতে হবে!নিজের চুলের শেম্পুর ঘ্রাণ নিয়ে নিজেই ফিদা হয়ে যেতে হবে!আর কালো চুলের বদলে আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে লাল কিংবা ফ্যাশনের ব্রাউন কালারের চুল যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে পরের পয়েন্ট গুলো বরং আপনার না পড়াই থাক। বৃষ্টি আপনার ভালো লাগতে হবে,বৃষ্টি আসলেই আম্মুকে ফাকি দিয়ে চুপিচুপি যেয়ে এক পশলা ভিজে আসতে হবে,তারপর জ্বর উঠলেও আফসোস করা যাবে না যে "ইশশশশ কেনো ভিজলাম", বরং জ্বরের মধ্যে যদি আরেকবার বৃষ্টি হয় তবে জ্বর নিয়েই আরেকবার ভিজতে ইচ্ছে হবে। রেষ্টুরেন্টের "বার্গার,পিজ্জা কিংবা শর্মা" পেরিয়ে আপনার ভালোলাগার প্রথম স্থানে থাকতে হবে ফুচকা কিংবা ঝালমুড়ি জাতীয় কমদামী খাবার গুলো!ঝালমুড়ির ঝালটা বেশি পছন্দ না হলেও "মামা ঝালটা একটু বাড়ায় দিও" কথাটা বলতেই হবে। বাসা থেকে বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়া আপনাকে টাকা দেয়া হবে না।স্কুলের টিফিনের ১০ টাকা থেকে ৫ টাকা খেয়ে আর বাকি ৫ টাকা আপনাকে আপনার প্রিয় বাক্সটায় লুকিয়ে রাখতে হবে,মাস শেষে সেই জমানো টাকা দিয়ে নিজের ছোট ছোট সখগুলো পূরণ করতে হবে। অনেক সময় আপনি যাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন সে আপনাকে অবহেলা করবে,আপনি আঘাত পাবেন,ভেঙে যাবেন!দিনের বেলায় ও রুমটাকে অন্ধকার করে বালিশে মুখ গুজে শুয়ে থাকতে ইচ্ছে হবে তবুও প্রিয় মানুষকে ছেড়ে আসা আপনার স্বভাবে নেই। তাই শত আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার পরও আরো আঘাত সহ্য করার শক্তি আপনাতে থাকবে।যেই আপনি ভাঙা চুড়ি গুলোও যত্ন করে রেখে দেন সেই আপনি নিজেই ভেতর থেকে ভেঙে আছেন। কিছু মেয়েরা লিখাটার এই পর্যায়ে আসার পর হয়তো দেখবেন উপরের সবই যে আপনার সাথে মিলে গেলো! হ্যা মিলে তো যেতেই হবে!কারণ আপনিই তো সেই মেয়ে যার অনন্যতার বৈশিষ্ট উপরে দেয়া।আপনিই সেই মেয়ে যার মধ্যে উপরের সব সুন্দর সুন্দর জিনিস গুলো ফুটে উঠে। ভাবছেন উপরের জিনিসগুলো মিলেছে বলে আপনি সাধারণ? মোটেও না,আপনি অসাধারণ,আপনি অনন্য,আপনার সবকিছুতে মাধুর্যতা রয়েছে!আর বাকি জিন্স প্যান্ট কিংবা লাল চুল করা আজকালকার ফ্যাশনেবল মেয়েরা যারা আপনাকে "ক্ষেত কিংবা বেকডেটেড" বলবে তাদের সামনে গিয়ে একটা বাকা দাঁতের হাসি দিয়ে বলে দিন "আমি গর্বিত আমি সাধারণ, আমি ভালোবাসি আমি সাধারণ 💙"

@kamal16

ইসলামী একজন সাহসী নারীর লিখা আপনিও প্রচার করুন তসলিমা নাসরিন যদি অযৌক্তিক সব অধিকার নিয়ে অান্দোলন করে বিদেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, তবে আমরা কেন যৌক্তিক দাবীগুলো নিয়ে অান্দোলন করেও দেশের সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারি না? ১/নারীদের জন্য আলাদা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা চাই। যেখানে দারোয়ান থেকে দপ্তরি পর্যন্ত শুধুই নারী থাকবে, কোনো পুরুষ টিচার থাকবে না। যেখানে কোনো মেয়ের পরিনতি নুসরাতের মতো হবে না। ২/নারীদের জন্য আলাদা হসপিটাল চাই। যেখানে আমার দাদীর মতো কেউ অাল্ট্রাসনো করতে গিয়ে হাহাকার করে বলবে না, "আমি তো পর্দা করি, এখানে কোনো মহিলা ডাক্তার নাই?" ৩/আলাদা পার্ক, লাইব্রেরী চাই। যাতে মুসলিম প্রধান দেশে আমার মতো কোনো মুসলিম মেয়ে বিনোদন এবং পাঠ্যবহির্ভূত বিদ্যার্জন থেকে বঞ্চিত না হয়। ৪/সৌদিয়ান নারীদের মতো আমরাও এদেশে আলাদা ক্যান্টিন এবং রেস্টুরেন্ট চাই। যাতে ক্ষুধা পেলে নিকাবটা খুলে একটু নিশ্চিন্তে পর্দার সাথে বসে খেতে পারি। ৫/নারীদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা কর্মক্ষেত্র চাই। যাতে স্বাবলম্বী হতে চাওয়া মুসলিম নারীরা পর্দা করেও নিরাপদে জব করতে পারে, আর পৃথক কর্মস্থানের কারণে পুরুষরাও চোখের হিফাজত করতে পারে। ৬/নারীদের জন্য আলাদা বাস চাই। যেখানে ড্রাইভার ছাড়া সবাই হবে নারী। যাতে মাহরাম-হীনা নারীরাও রাতে নিরাপদে জার্নি করতে পারে। আচ্ছা আমার দাবীগুলো কি অযৌক্তিক? মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেও কেন পদে পদে ইসলাম পালনে বাধা দেয়া হয়? কেন আমার খাস পর্দাশীলা বান্ধবীকেও পরিক্ষার হলে মেল টিচার আর মেল ক্লাসমেটদের সামনে নিকাব খুলতে বাধ্য করা হয়?? কেন আজ NID কার্ড করতে গিয়ে আমাকে ১০জন পুরুষের সামনে হিজাব, নিকাব খুলে চেহারা-সহ চুল, কান বের করে ক্যামেরার সামনে ফেক স্মাইল করতে হলো?? হায়রে আমার এত সাধনার পর্দা! আল্লাহ কি আমায় ক্ষমা করবে!!! মনে রাখবেন, মিনা আর রাজুকে এক প্লেটে খাবার দিলে সমধিকার হয় না। আলাদা প্লেটে সমান পরিমাণে খাবার দিলে সমধিকার দেয়া হবে। একইভাবে সহ-শিক্ষা, সহ-কর্মসংস্থান তৈরী করলে কখনোই নারীকে ন্যায্য অধিকার দেয়া হলো না। মুসলিম বলেই কি আমি আমার অধিকার থেকে বঞ্চিত?

@kamal16

পিচ্চি বউ১ সকালে ভার্সিটি যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিলাম, আম্মু রুমে এসে বলল, -- নিয়ান তুই ভার্সিটি শেষে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরিস ৷ -- কেন আম্মু?(আমি) -- আমরা সবাই আজ আমাদের গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। (আম্মু) -- আমরা সবাই মানে? আমি তো যেতে পারব না । আমার exam এখনো শেষ হয় নাই, কালকে আমার লাস্ট exam, -- তুই তো আমাকে বলেছিলি তর পরিক্ষা আজকে শেষ হবে? আম্মু কিছুক্ষন কি যেন একটা ভাবল, তারপর বলল, --আচ্ছা তুই কালকে পরিক্ষা দিয়ে পরের দিন চলে যাস, আমরা আজকে যাই ৷ -- আচ্ছা ৷ আমি আবার বললাম, -- আম্মু হঠাৎ তোমাদের গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কথা কেন মনে হল? -- আগামী শুক্রবারে দিয়ার বিয়ে ৷ -- কি বল কি আম্মু এত পিচ্চি একটা মাইয়ার কিভাবে বিয়ে হবে? -- পিচ্চি কোথায় দিয়া তো এবার ssc পাস করেছে ৷ -- ssc পাস করেছে বলে বিয়ের বয়স হয়েগেছে? হায়রে গ্রামের মানুষ ৷ -- তকে এসব নিয়ে ভাবতে হবে না, তুই শুধু ঠিক সময়ে পৌছে যাস, যা এখন ভার্সিটি যা ৷ ! আমার পরিচয়টা দিয়ে দেই, আমি নিয়ান আহমেদ অনার্স লাস্ট ইয়ারের exam দিচ্ছি ৷ দিয়া হল আমার চাচাত বোন,পিচ্চি একটা মেয়ে ৷ জানিনা চাচা কেন এত তাড়াতাড়ি মেয়েটার বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন ৷ পরের দিন পরিক্ষা দিয়ে বৃহস্পতিবার মানে দিয়ার গায়ে হলুদের দিন আমি গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিট কাটলাম, সকাল 6.30মিনিটে ট্রেন, তাই আমি ভোর 5টায় ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে স্টেশনে পৌছলাম, এতদিন পরিক্ষা দিয়ে ইট পাথরের দুনিয়া থেকে বেরিয়ে গ্রামের সবুজ পরিবেশে যাচ্ছি, অনেক খুশি খুশি লাগছে, আর অনেক দিন পর গ্রামের বাড়িতে একটা বিয়ে খাচ্ছি, গ্রামের বিয়ের মজাই আলাদা, যা শহরের বিয়েতে পাওয়া যায় না ৷ সকাল 7টা, ট্রেন চলছে তার দূরন্ত গতিতে, আমার কানের ইয়ারফোন বাজছে রোমান্টিক গান ৷ দুপুর 12.30মিনেটে এসে ***** স্টেশনে পৌছলাম, যেহেতু চাচাদের বাসা স্টেশন থেকে বেশি দূরে না তাই ভাবলাম রিক্সা দিয়েই যাই, রিক্সা দিয়ে গেলে গ্রামের সবুজ পরিবেশটা ভাল করে দেখতে পারব, রিক্সা চলচে আপন গতিতে, চারিদিকে শুনশান বাতাস পাখির কিছিরমিছির সবুজে গেরা মাঠ, অনেক ভাল লাগছে, কিছুক্ষণ পর রিক্সা এসে থামল চাচার বাড়ির সামনে, আসলে চাচা হলেন এই এলাকার চেয়ারম্যান তাই রিক্সাওয়ালাকে চাচার নাম বলাতেই একেবারে বাড়ির সামনে এনে নামিয়ে দিল, গেট খুলে বাড়িতে ডুকলাম ,বিসাল বাড়িটা খুব সুন্দর করে সাজানো ৷ আমি গেটের ভিতরে ডুকা মাত্রই শিহাব (দিয়ার ছোট ভাই) আমাকে দেখে দৌড়ে ঘড়ের ভিতরে যেতে যেতে জুরে জুরে বলতে লাগল, শিহাব-- নিয়ান ভাইয়া এসে গেছে, আম্মু,আব্বু,আপু সবাই এসে দেখ নিয়ান ভাইয়া চলে এসেছে, শিহাবের ডাকে সবাই ঘড় থেকে বেড়িয়ে আসল, সারা বাড়ির সব আন্তীয় সজনও বেড়িয়ে এসে আমাকে গিরে দাড়াল, সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমি বুঝলাম না সবাই আমাকে দেখে এরকম রিয়েক্ট করছে কেন? আর সবাই আমাকে এরকম ভাবে দেখছে কেন? দিয়াকে দেখলাম সবার পিছনে দাড়িয়ে আছে, আমার দিখে একবার তাকাচ্ছে , আর একবার লজ্জা পেয়ে চোখ নিচে নামাচ্ছে, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না, কি হচ্ছে এসব? হঠাৎ চাচা বললেন, -- চল তোমরা সবাই জামাই বাবাজিকে নিয়ে ঘড়ে চল ৷ 'জামাই বাবাজি' মানে? চাচা জামাই বাবাজি কাকে বলছে? আমি আমার পেছেনে তাকালাম, নাহ আমার পেছনে তো কেউ নাই, তাহলে চাচা কাকে জামাই বাবাজি বলল? আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম, আমাকে চিন্তিত দেখে আম্মু বলল, -- এই নিয়ান কি ভাবছিস এত? তকে কিছু ভাবতে হবে না চল ঘড়ে চল আমি তকে সব বুঝিয়ে বলছি । আম্মু আমাকে রুমে নিয়ে গেল, আমি বললাম, -- আম্মু এসব কি হচ্ছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না? আর চাচা আমাকে জামাই বাবাজি বলছে কেন? -- নিজের মেয়ের হবু স্বামীকে জামাই বাবাজি বলবে নাতো কি বলবে? -- মানে আমি??(অনেক অবাক হয়ে) -- হুম তুই ই দিয়ার হবু বর, আগামীকাল তদের বিয়ে, -- আম্মুওওওও,(আমার প্রায় কান্নাই চলে এসেছে) -- কিইইই?? -- আমার পক্ষে এই পিচ্চিটাকে বিয়ে করা সম্ভব না ৷ হঠাৎ আব্বু রুমে ডুকে বলল, -- কি বললি তুই?(কিছুটা ধমক দিয়েই কথাটা বললেন) -- হ্যা আব্বু আমি এই বিয়েটা করতে পারব না ৷ আর তাছাড়া আমার কি বিয়ের বয়স হয়েছে? আমার তো অনার্সই শেষ হয় নাই ৷ আব্বু-- শেষ হয় নাই তো কি হয়েছে? বিয়ের পর অনার্স মাষ্টার্স সবই করবি ৷ -- আব্বুওওও, -- আমি আর কোনো কথা শুনতে চাই না । এই বলে আব্বু আম্মু দুজনেই রুম থেকে বেড়িয়ে গেলেন ৷ পরের দিন একরকম জুর করেই আমার বিয়েটা হয়ে গেল ৷ | রাতে আমি চাচাদের ছাদে এক কোণায় দাড়িয়ে রইলাম, আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম, সত্যিই কি আমার বিয়ে হয়ে গেল?? তাও কিনা একটা পিচ্চি মাইয়ার সাথে?? আমি কি এই পিচ্চিটাকে বউ হিসেবে মেনে নিতে পারব?? নাহ কোনো দিনও আমি অই পিচ্চিটাকে বউ হিসেবে মানতে পারব না?? আমি অনেক্ষণ হল ছাদে দাড়িয়ে আছি, ঘড়িতে দেখলাম রাত 12:35 বেজে গেছে, পেছন থেকে হঠাৎ আদিবা(আমার ছোট বোন) ডাক দিল, -- ভাইয়া, তুমি এখানে, আর সবাই তোমাকে সারা বাড়ি খুজছে, -- কেন খুজছে? -- সেকি?? তুমি জাননা তোমাকে কেন খুজছে? আজ না তোমার বাসর রাত? আর ভাবী সেই কখণ থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে? আমি আদিবার সাথে নিচে নেমে আসলাম, আব্বু আমাকে দেখে রাগে কটমট করে এগিয়ে আসল আমার দিখে, এসেই আমার গালে ঠাসসস করে একটা চর বসিয়ে দিলেন, তারপর বললেন, -- মেয়েটা তর জন্য সেই কখন থেকে অপেক্ষা করে বসে আছে, আর তুই কিনা, যা তাড়াতাড়ি ঘড়ে যা বলছি ৷ আমার মাথায় অনেক রাগ উঠে গেল, তবে বাবার উপর না, অই পিচ্চিটার উপর, অই পিচ্চিটার কারণেই বাবা আজ আমাকে মারল, আমি রাগে ফুসতে ফুসতেই রুমে ডুকলাম, দরজার খুলার আওয়াজ পেয়ে মেয়েটা দৌড়ে বেলকুনি থেকে বেড়িয়ে আসল, এসেই মাথায় ঘুমটা দিয়ে বিছানাতে বসে পড়ল, আমি বিছানার দিকে এগিয়ে গেলাম, আমি বিছানার পাশে এসে দাড়াতেই মেয়েটা বিছানা থেকে নেমে আমার পা ধরে সালাম করতে লাগল, পিচ্চিটা আমার পা ধরে সালাম করেই যাচ্ছে উঠার কোনো নাম গন্ধ নাই, আমি ধমক দিয়ে বললাম, -- এই পিচ্চি পা ধরে বসে আছিস কেন? উঠ বলছি? -- তুমি উঠাবে না? -- আমি কেন উঠাব?(রেগে) -- আমি তো জানি বাসর রাতে বউ তার স্বামীকে পা ধরে সালাম করলে, স্বামী বউকে তুলে বুকে জড়িয়ে নেয়, কথাটা বলতে বলতেই মেয়েটা আমার পা ছেড়ে উঠে আমার সামনা সামনি লজ্জায় লাল হয়ে দাড়াল #পিচ্চি_বউ (1st part)

@kamal16

Ex গার্লফ্রেন্ড যখন অফিসের বস গল্পঃ Ex গার্লফ্রেন্ড যখন অফিসের বস পর্বঃ ১৩ আজ শুক্রবার। সকালবেলা আরাম করে ঘুমাচ্ছিলাম। কিন্তু জান্নাত এসে জান্নাত- ভাইয়া উঠ?? আমি........ জান্নাত- ভাইয়া তুই উঠবি না আমি পানি দিব?? আমি- হুমমমমম(ঘুম চোখে) জান্নাত- কিছু না বলে আমার জামা ধরে টান দেওয়া শুরু করল। আমি- ধুর কোন রাস্তা না পেয়ে উঠতেই হল।( রাক্ষসী মনে মনে) জান্নাত- নে এইবার ফ্রেশ হয়ে আয়। আমি খাবার নিয়ে বসে আছি। আমি- কেন??? আজ কে কি?? জান্নাত- কিহ???? তুই জানিস না আজকে কি???(রেগে) আমি- ওহ মনে পরছে আজ তো শুক্রবার। জান্নাত- হুম। আমার লক্ষি ভাইয়া। আমি- হুহ।।।। জান্নাত এর নতুন নিয়ম। নতুন না, অনেক আগেই তৈরি হয়েছে। প্রতি শুক্রবার তাকে নিয়ে ঘুরতে যেতে হবে। আমি কি আর তার উপরে কিছু বলতে পারি বলেন। যে গুন্ডি মেয়ে। এইসব ভাবতে ভাবতে ফ্রেশ হয়ে খেতে গেলাম। খাবার সময় তেমন কোন কথা হয় নি। তাই আর লিখলাম না। আমি আর জান্নাত একটা রিক্সা নিয়ে পুরো শহর ঘুরলাম। জান্নাতকে নিয়ে বের হলে সহজে বাসায় আসতে চায় না। কারন সপ্তাহে একদিন ঘুরতে বের হয়তো তাই। রাতে বাসায় এসে জান্নাত বই পরতে বসল। আর আমি আমার রুমে বসে ফোন চালাচ্ছিলাম। তখন রাত প্রায় ১২ টা বেজে ৩ মিনিট। এমন সময় আমার মোবাইলে একটা মেইল এল। আমি ভাবলাম কোন ফ্রেন্ড হয়ত মেইল করেছে। তাই কিছু না ভেবে মেইলটা চেক করলাম। আমি মেইলটা দেখে অবাক। আমার কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছিল না। হুম এটা আমার চাকরির মেইল। আমার চাকরি টা কনফার্ম হয়েছে। এতে তো আমার খুশী হবার কথা,, কিন্তু আমার মনের মাঝে ছোট একটা রাগ/ভয় কাজ করছে। প্রথম কারন- যে আমায় বিশ্বাস করে নাই। আমি এখন তার অফিসেই চাকরি করব। দ্বিতীয় কারণ- শিমলা মনে হয় প্রতিশোধ নেবার জন্য আমায় চাকরি দিছে। এইসব আর কিছু না ভেবে জান্নাত এর রুমে গেলাম। গিয়ে দেখি আপু বই পড়ে। আমি- আপু একটা দুঃখের খবর ছিল। জান্নাত- হুম বল আমি- আপু আমার চাকরিটা হয়ে গেছে? জান্নাত- তুই কি সিরিয়াস??? আমি- মোবাইলটা এগিয়ে দিলাম.. জান্নাত কিছু না বলে গলা জরিয়ে ধরে বলে জান্নাত- কংগ্রেস ভাইয়া আমি- ধুর জান্নাত- ভাইয়া তুই খুশী না?? আমি- না জান্নাত- কেন?? আমি- সারাদিন বাইরে থাকতে হবে??তোকে দেখতে পারব না.. জান্নাত- ভাইয়া তুই এখনো আমায় নিয়ে ভাবছিস??? আমি- তো কার জন্য ভাববো?? তুই হলি আমার কিউট আপু। জান্নাত- হয়েছে। আর শোন? আমি অত কিছু শুনতে চাই না? তুই কাল থেকে অফিসে যাচ্ছিস এটা ফাইনাল। আমি- তোর সাথে কি আর আমি পারব?? জান্নাত- হুহ (ভাব নিয়ে) আমি- আপু তুই এখন ঘুমা। জান্নাত- হুম। তুইও এরপর জান্নাত এর রুমে থেকে বের হয়ে, আমার রুমে গিয়ে শুয়ে পরলাম। শুয়ে পরে ভাবতে লাগলাম-- শিমলা আমায় চাকরি দিলো। তাও আবার ৬ বছর পরে দেখা। আমার মনে হয় ওর বেবি ও হয়ে গেছে। যেহেতু অনেক আগে বাপ্পি বলছিলো ওর বিয়ের কথা। এরপর আমি সকল ফ্রেন্ডদের আমার চাকরির খবির জানিয়ে দিলাম। হারামি গুলো সকলে শুধু ট্রিট চায়। আমি কি আর পারি ওদের সাথে। তাই আমি ঠিক করলাম কিছুদিন পরে ট্রিট দিবো। এরপর কাল সকালে কি পরে অফিসে যাব,?? সেটা আলাদা গুছিয়ে রাখলাম। এরপর সেই পূরনো কিছু কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে জান্নাত এর ডাকে ঘুম ভেঙে গেল। আপু রান্না করে রাখছে। তাই ফ্রেশ হয়ে ৯ টার দিকে আমি আর জান্নাত বের হলাম আমার অফিস + আপুর স্কুল এর উদ্দেশ্যে। রাস্তায়---- আমি- আপু স্কুলে গিয়ে ভালোভাবে চলবি?? জান্নাত- হুহ। আর আমার ভাইকে আজ তো পুরা হিরোর মতো লাগছে। দেখিস কারো নজর যেন না পরে। (আমার মাথা নিচু করে, কি সব ফু দিলো) আমি- হাহাহাহা জান্নাত- হিহিহি। এরপর জান্নাতকে ওর স্কুলে রেখে আমি আবার রওনা দিলাম। আসলে আমার বাসা থেকে অফিস অনেক দূরে। তাই একটু তারাতাড়ি বের হলাম। কিছুক্ষণ পরে পৌছে গেলাম অফিসে। অনেক বড় অফিস। আমি অফিসের সামনে এসে দেখি কালকের ছোট ভাই রহিম। রহিম- কি ভাই চাকরিটা হয়ে গেল?? আমি- হুম ভাই। তোমারো?? রহিম- হুম ভাই। ভিতরে চলেন... আমি- হুম চলো.... আমরা ভিতরে গেলাম। গিয়ে অফিসটা ঘুরে দেখতেছিলাম। তখন পিয়ন চাচা এসে বলল পিয়ন চাচা- স্যার আপনাদের ম্যাডাম ওই রুমে যেতে বলছে... আমি- চাচা আপনি আমার বাবার মতো। আপনি আমায় স্যার না ডাকলে খুশী হব। রহিম- হ্যা চাচা। ভাই একদম ঠিক বলছে। পিয়ন চাচা- ঠিক আছে বাবা। তোমাদের মতো যদি সবাই হতো।(চোখে জল নিয়ে) আমরা একটা হাসি দিয়ে চলে এলাম। যে রুমে আমাদের যেতে বলা হয়েছে। ভিতরে ঢুকে দেখি --- দুইজন মেয়ে আর একজন ছেলে বসে আছে। মেয়ে দুইজন আমার থেকে ছোট হবে। আর ছেলেটা বোধহয় আমার বয়সী। আমি- হাই এভরিওয়ান... সবাই- হায়। এরপির আমরা পরিচয় পর্বটা সেরে ফেললাম। (মেয়ে দুটির নাম- রুহি আর সিথি। ছেলেটির নাম রুবেল) এরপর আমরা কিছু কথা বলতেছিলাম। তখন রুমে সেই চিরচেনা মেয়েটি প্রবেশ করল। আমরা সবাই দাঁড়িয়ে গেলাম। সকলকে বসতে বলা হল। আমিও বসে গেলাম। এরপর ম্যাডাম (শিমলা) বলল--- ম্যাডাম - আপনাদের পাচ জনকে আমি সিলেক্ট করেছি। সবাই- ধন্যবাদ ম্যাম। ম্যাডাম- আপনারা সকলে মন দিয়ে কাজ করবেন। আর আমি কিন্তু কাজে ফাকি একদমই পিছন্দ করি না। সবাই- জ্বী ম্যাডাম। ম্যাডাম- আর আমার একজন পিয়ে লাগবে। তো কে হতে চান?? সবাই- আমার কথা বলল।(সকলের ভিতরে বড় তো তাই বোধহয়) আমি- না। রুবেল ভাই ভালো আমার চেয়ে?? ম্যাডাম- আপনার যদি কোন প্রবলেম থাকে তো আপনি বলতে পারেন??আর দরকার হলে চাকরি ছেরে দিন। আমি- না না ম্যাম। আমার কোন প্রব্লেম নাই। ম্যাডাম- ওকে তাহকে ওই কথাই রইল। সবাই- হুম ম্যাডাম ম্যাডাম - আমি পিয়ন চাচাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। তিনি আপনাদের ডেস্ক দেখিয়ে দিবে?? সবাই- ওকে ম্যাডাম। এই বলে ম্যাডাম চলে গেল। আমরা সবাই হাপ ছেরে বাচলাম রহিম- ম্যাডাম কি রাগি?? রুবেল- হুম ভাই আমি- ভাই তোমরা আমায় দেখিয়ে দিলে কেন?? রুবেল- ভাই এই বাঘিনীর সামনে কে যাবে?? সবাই- হাহাহাহা আমি- চুপ চুপ। আস্তে এরপর আরো কিছু সময় হাসাহাসি করে আমরা পিয়ন চাচার সাথে নিজেদের ডেস্কে চলে গেলাম। সবার ডেস্ক এক জায়গায়। কিন্তু আমরটা আলাদা। কিছুটা দূরে। ম্যাডামের রুমের পাশে। কারন আই তার পিয়ে লাগি। (নোয়াখালী 😉) আমি গিয়ে আমার ডেস্কে বসে পরলাম। প্রথম দিন তেমন কোন কাজ নেই। তাই একটু পরিচয় হয়ে নিলাম সকলের সাথে। অফিস থেকে বিকাল ৪ টার সময় আমরা সকলে বের হয়ে গেলাম। প্রথম দিন ভালোই কাটল। আমি ভাবলাম শিমলা মনে হয় আমাকে দয়া করে চাকরি দিছে। আমার জন্য ভালোই হলো। বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে একটা ঘুম দিলাম। রাতে জান্নাত এর ডাকে ঘুম ভাংল। আমরা দুইজনে রাতে ডিনার করে নিলাম। জান্নাত- ভাইয়া প্রথম দিন কেমন কাটল?? আমি- খুব ভালো জান্নাত- আর ভাইয়া কি পোস্টে তুই চাকরি করবি?? আমি- ম্যাডামের পিয়ে।(এই সম্পর্কে ধারনা নেই৷ তাই বেশি লিখলাম না) জান্নাত- ভাইয়া দেখিস ম্যাডাম আবার তোর উপরে ক্রাশ না খায় আমি- জান্নাত তুই কিন্তু বেশি পাকনামি করছিস?? জান্নাত- বুঝি বুঝি সব বুঝি। আমি- দিলাম দৌরানি। কিন্তু ওকে আর কে পায়। আমি এসে রুমে শুয়ে পরলাম। আর কিছু সময় ফেসবুকিং করলাম। আরে আপনাদের তো বলাই হল না। আমার বেতন ৩৬ হাজার টাকা করে। বেশ খুশী কিন্তু আমি। আর শিমলার উপরে আমার রাগ নেই। আছে অভিমান। কারন যেখানে আমার পরিবারই বিশ্বাস করে নি। সেখানে আর শিমলার তো কোন প্রশ্নই আসে না। এরপর ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে যথা নিয়মে চলে গেলাম অফিসে। কিন্তু অফিসে গিয়ে শিমলা আমার সব ধারণা পাল্টে দিলো..... চলবে...???

@kamal16

হারিয়ে যাওয়া ভালবাসা আচ্ছা নেহা তোমার তল পেটে এই কাটা দাগটা কিসের? বাসর রাতে চরম রোমাঞ্চকর মূহুর্তে এই কথাটা শোনার জন্য একদমই প্রস্তুত ছিলো না নেহা। এদিকে নেহার মুখে কোন উত্তর না পেয়ে আবার ও জিজ্ঞেস করলো মজনু,,বললে না তো, তোমার তলপেটে এই কাটা দাগটা কিসের? নেহা এইবার একটু নড়ে-চড়ে বসলো,ডেসিন টেবিলের উপর রাখা পানির গ্লাস হাতে নিয়ে এক ঢোকে সবটুকু পানি খেয়ে ফেললো। তারপর তার স্বামী মজনুর বুকের সাথে একেবারে লেপ্টে গেলো,নেহার চোখের পানি দিয়ে ইতিমধ্যে মজনুর বুকটা ভিজে একাকার হয়ে গেছে। যদি ও মজনু জানে এই কাটা দাগের রহস্যটা কি,তবুও নেহার মুখ থেকে সে শুনতে চায়। নেহা -আমি যদি আপনাকে এই কাটা দাগের রহস্যের কথা বলি,আপনি আবার আমাকে ছেড়ে দিবেন নাতো(অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে কথাটা বললো নেহা) মজনু-তুমি নির্ভয়ে বলতে পারো,আমি তোমাকে কখনো ছেড়ে দিব না। তারপর নেহা বলতে শুরু করলো,,, ঘটনাটি কয়েক বছর আগের,তখন আমি নিউ টেনে পড়ি,তো এক বান্ধবীর বিয়েতে তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। অন্য সবার মতো আমার মন ও তখন প্রেমের জন্য দিওয়ানা হয়ে ছিলো।ভালোই চলছিলো বিয়ে বাড়িতে কাটানো মূহুর্তগুলো। হঠাৎ আমার চোখ পড়ে নীল পাঞ্জাবি পড়া একটা ছেলের উপরে।দেখতে লম্বা চরা,হ্যান্ডসাম,স্মার্ট, এক কথায় যেকোন মেয়েকে ঘায়েল করতে তার একটা মুচকি হাসিই যথেষ্ট ছিলো। মজনু-তারপর কি হলো(উৎসাহের সাথে জিজ্ঞেস করলো) নেহা-এক গ্লাস পানি হবে,গলাটা একটু শুকিয়ে গেছে,,, মজনু-হুমম এই নেও(পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে) পানি খেয়ে আবারও বলা শুরু করলো নেহা,,, প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলি ওকে,সেদিন রাতেই ওকে প্রপোজ করি,আর বাবু(সেই ছেলেটা) ও আমার প্রপোজ একসেপ্ট করে। এভাবে চলতে থাকে আমাদের প্রেম,একসময় বাবু আমার সাথে ফিজিক্যাল রিলেশন করতে চায়,প্রথমে রাজী হইনি। কিন্তু পরে রাজী হয়ে যাই,কারণ ওর প্রতি আমি এতোটাই মুগ্ধ হয়েছিলাম যে ওকে ছাড়া আমার জীবন অসম্ভব ছিলো। প্লাস আমার শরীর ও তখন প্রথম কারো স্পর্শ পাওয়ার জন্য পাগল হয়ে ছিলো। বাবুর সাথে রুম ডেট করার পর থেকে ও আমাকে এভয়েড করা শুরু করে,আমার সাথে ঠিকমতো কথা বলেনা। আগের মতো কেয়ার করে না,তারপর একদিন হঠাৎ করে ফোন দিয়ে বলে ব্রেকাপ,শুধু এইটুক বলেই ফোন কেটে দিয়েছিলো। আমাকে কোন কথা বলার চান্স দেয়নি।এভাবে চলে যায় কয়েকমাস একসময় আমি জানতে পারি,আমি মা হতে যাচ্ছি, কথাটা শোনা মাএ কলিজা ফেটে কান্না চলে আসে। আমার এক বান্ধবীর সাথে যোগাযোগ করে একটা ক্লিনিকে গিয়ে বাচ্চাটা নষ্ট করে দেই। কিন্তু বিশ্বাস করেন তখন ও আমি শুধু মন থেকে ওকেই ভালোবাসি,আর হতে পারে এখন ও এই বেহায়া মনটা শুধু ওকেই চায়। কিন্তু আমি আপনাকে ঠকাতে চাইনি,আমি বিয়ের আগেই আপনাকে সব বলে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাবা তার মাথায় হাত দিয়ে আমার কাছ থেকে কথা নেয়,যেনো আমি বিয়ের আগে এই কথাটা আপনাকে না বলি। এতক্ষন শুধু শ্রোতার মত সবকিছু শুনে গেলো মজনু,যদি ও সে আগে থেকেই জানতো এই ব্যাপারে। কিন্তু নেহা হয়তো একটা জিনিস জানেনা,তা হলো,মজনু স্কুল লাইফ থেকেই নেহা অনেক ভালোবাসতো কিন্তু ভয়ে বলতে পারতো না। কিন্তু মজনু নিজে নিজে একটা জিনিস ঠিক করেছিলো,তার ভালোবাসা যদি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে একদিন নয়তো একদিন নেহা আমারই হবে। আজ সত্যিই নেহা মজনুর হয়ে গেছে,থাক না কিছু অতিত তাতে কোন সমস্যা নেই মজনুর।মজনুর চিন্তা ধারায় অবসান ঘটে নেহার ডাকে,,,, নেহা-হ্যালো মিঃ কি ভাবছেন এমন করে,,, মজনু-ভাবছি,ভাবছি,ভাবছি আজ আর আমাদের বাসর করা হলো না,,, নেহা-কেনো(লজ্জামাখা মুখে) মজনু-চারদিকে তো আযান দিচ্ছে,এখন যদি বাসর শুরু করি তাহলে আজকে দিনের বেলায় আর আমাদের ঘর থেকে বের হওয়া লাগবে না। মজনুর অদ্ভুত কথায় নেহা বেশ লজ্জিত হয়,অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে ফিক করে হেসে ফেলে,আর ভাবতে থাকে,এতো সহজে এত বড় একটা বিষয় কিভাবে মেনে নিলো ও,,, নাকি কাল সকালের জন্য ওয়েট করছে,সকাল হলেই উকিল ডেকে তালাক দিয়ে দিবে,এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যায় নেহা। সকালে ঘুম ভেংগে অবাক হয়ে যায় নেহা,সত্যি সত্যি বাসায় তিন চারটা উকিলকে দেখা যাচ্ছে,তাহলে কি,,,,,, চলবে,,, #হারিয়ে_যাওয়া_ভালোবাসা #পার্ট_১

@kamal16

গুন্ডী মেয়ে vs দুষ্টু ছেলে গুন্ডী মেয়ে vs দুষ্টু ছেলে পার্টঃ-৯ রাহি আমার সামনে ওর ওড়নাটা ছুড়ে ফেলে দিলো। -এসব কি করছো রাহি,, রাহি কিছু না বলে ওর জামাটাও খুলে ফেললো,রাহি এখন অর্ধ নগ্ন হয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, আমি লজ্জায় হাত দিয়ে আমার চোখটা বন্ধ করে ফেললাম। -প্লিজ রাহি জামাটা পড়ে নাও,এরকম ছেলেমানুষীর কোনো মানে হয়না। রাহি এক টানে আমার হাতটা ছাড়িয়ে আমাকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে জরিয়ে ধরে কিস করতে লাগলো,দুজনের শরীরটা একেবারে মিশে গেছে,রাহির গরম স্পর্শে আমি আর নিজেকে ঠিক রাখতে পাড়লাম না,কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক সেটা ভুলে আমি রাহির ঠোঁটে কিস করতে লাগলাম,রাহি নখ দিয়ে আমার পিঠটা খামচে ধরলো,আমিও হারিয়ে গেলাম ওর ভালোবাসায়,,, প্রায় ঘন্টা খানেক পর ক্লান্ত হয়ে দু'জনে আলাদা হয়ে গেলাম, রাহির দিকে তাকিয়ে দেখি ওর চোখে মুখে দুষ্টুমির হাসি। . কেনো জানি না এই মুহুর্তে নিজেকে সবচেয়ে নিম্ন শ্রেণির একটা জীব বলে মনে হচ্ছে,কখনও ভাবতেও পারিনি এরকম একটা কাজ আমার দ্বারা হবে,আমি শার্টটা গায়ে দিয়ে সোজা রুমে চলে আসলাম। ঘড়িতে দেখলাম রাত একটা বাজে। এসিটা ছেড়ে দিলাম কিন্তু কিছুুতেই যেনো ভালো লাগছে না, শরীর থেকে ঘাম সব চুইয়ে পড়ছে। বাথরুমে গিয়ে শাওয়ারটা ছেড়ে দিলাম। . প্রায় এক ঘন্টা ধরে শাওয়ার নিচ্ছি তবুও ঠান্ডা লাগছে না, বুকের ধুকধুকানিটা যেনো বেড়েই চলছে। গা টা মুছে বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসসলাম, বিছানায় শুতেই রাহির নাম্বার থেকে কল আসলো। রিসিভ করবো কি? নিজেই নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনবারের সময় রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে মিষ্টি গলায় ভেসে আসলো, -ঘুমিয়ে পড়েছো? আজ রাহির কন্ঠটাও কেমন যেন অচেনা লাগছে, ভীষণ মিষ্টি আর লজ্জা মিশ্রিত। এই প্রথম আমি রাহির সাথে কথা বলতে দ্বিধায় পড়ে যাচ্ছি, একটু লজ্জাও লাগছে, কি বলবো বুঝতে পারছি না সবকিছুই কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে। আমি আস্তে করে বললাম, -না,, -ঘুম আসছে না? -না,, -তুমি কি লজ্জা পাচ্ছো? -লজ্জা পাবো কেনো? -তাহলে কিছু বলছো না যে। -আচ্ছা রাহি আমরা কি কাজটা ঠিক করলাম? -কোন কাজটা? -একটু আগে যেটা করলাম। -কি করলাম একটু আগে? -বিয়ের আগে এসব ঠিক না এখন যদি তোমার পেটে বাচ্চা হয়ে যায়। -তাতে কি আমি তো তোমাকেই বিয়ে করবো। -কিন্তু আমাদের পরিবার যদি এই সম্পর্কটা মেনে না নেয়? কথাটা শুনে রাহি চুপ হয়ে গেলো। -কি হলো চুপ হয়ে গেলে যে? -যদি না মানে তাহলে আমি তোমার সাথে পালিয়ে যাবো। তুমি নিবে না আমায়? -হুমম,,,নিবো তো। -ঠিক আছে,,,,, এখন তাহলে ঘুমিয়ে পড়ো অনেক রাত হয়েছে কাল তো আবার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান, তোমাকে অনেক কাজ করতে হবে। -হুমম,,,বাই। -বাই,,, -রাহি একটা কথা,,, -হুমম,,বলো -আই লাভ ইউ রাহি একটা হাসি দিয়ে বললো, -আই লাভ ইউ টু ইমন,,,গুড নাইট -হুমম,,,গুড নাইট। . ফোনটা রেখে ঘুমিয়ে পড়লাম। . হঠাৎ কারও গরম নিঃশ্বাস অনুভব করতে লাগলাম আমার মুখের ওপর,,,মনে হচ্ছে কেউ আমার মুখের একেবারে কাছে ঝুকে আছে। আমি চোখটা মেলতেই আমার চোখ কপালে উঠে গেলো,আমি লাফ দিয়ে উঠে পড়লাম, -প্রিয়া তুই এখানে কি করছিস? -ত,,ত,,তোমার জন্য চা নিয়ে আসছি। -সেটা টেবিলে রাখবি কিন্তু আমার ওপর ঝুকে কি করছিলি? -ম,,ম,,মশা ছিলো তো তাই,,, -তাই বলে তুই একটা ছেলের এতো কাছে চলে আসবি?যদি কিছু একটা হয়ে যেতো। আমার কথা শুনে প্রিয়া আস্ত আস্তে কি যেনো বিড়বিড় করতে লাগলো, -কি ব্যাপার?তুই মিনমিন করে কি বলছিস? -ক,,ক,,কই কিছু নাতো। -তাহলে এখানে হা করে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো?যা বাইরে যা,,, প্রিয়া একটু মন খারাপ করে বাইরে গেলো। এই মেয়ের মতলবটা কি? এখানে আসার পর থেকেই দেখছি ওর আচরণটা কেমন পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমি উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলাম। আজ বৃষ্টির গায়ে হলুদ, বাসা ভর্তি মেহমান। বর্ষাকে দেখলাম খুব ছুটোছুটি করছে,মনে হয় ভীষণ ব্যাস্ত আছে। খালামণি আমাকে দেখেই বললো, -ইমন তুই একটু দেখতো মেহমানদের খাবারের জিনিসপত্র সব ঠিকঠাক আছে কিনা আর ওদের সাথে কথা বলে জেনে নে কখন আসবে। আমি একা একা আর কতদিক সামলাবো বল। -তুমি কোনো টেনশন করো না তো খালামণি আমি সব দেখছি,,,, একাই সব কাজ দেখতে লাগলাম, মেহমানদের খাবারের জিনিসপত্র সব কমপ্লিট। আসলে খালামণি বাইরের কোনো রেস্টুরেন্টের খাবার আনবে না, বাসায়ই বাবুর্চি রেখে রান্না করাবেন। আমি ফোন করে জেনে নিলাম মেহমানরা নাকি বিকেলের দিকে আসবে। প্রচুর ব্যাস্ততার মাঝে আছি, কাজ করতে করতে দুপুর হয়ে গেলো কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো সকাল থেকে একবারের জন্যও রাহিকে দেখতে পায়নি। মেয়েটা ঘরে বসে করছেটা কি?আমি রাহির রুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই প্রিয়া সামনে এসে বললো, -ইমন ভাইয়া তোমার সাথে আমার কথা আছে। -কি কথা? -এখানে সবার সামনে বলা যাবে না তুমি ছাদে চলো,, -একটু পর শুনি এখন আমার একটা জরুরি কাজ আছে। -না,এক্ষুনিই শুনতে হবে,তুমি প্লিজ ছাদে চলো। প্রিয়ার জোরাজুরিতে রাহির রুমে আর যাওয়া হলো না,আমি প্রিয়াকে নিয়ে ছাদে গিয়ে বললাম, -এখন বল কি এমন কথা যা সবার সামনে বলা যাবে না। -তুমি কি কাউকে পছন্দ করো? -আজিব! এটা বলার জন্য তুই আমাকে ছাদে নিয়ে আসছিস? -বলো না,,,পছন্দ করো কাউকে? -প্রিয়া তোর কথা আমি কিছু বুঝতে পারছি না,,,আমি কাউকে পছন্দ করি বা না করি তাতে তোর কি?তুই আসলে কি বলতে চাইছিস স্পষ্ট করে বলতো। -আমি তোমাকে ভালোবাসি,,,, -হোয়াট!!! তুই কি ফান করছিস? -না,,,আই এম সিরিয়াস। -দেখ প্রিয়া, এটা কখনও সম্ভব না, আমি তোকে ভালোবাসতে পারবো না,,, -কেনো পারবে না?আমি কি দেখতে খুব খারাপ। -কে বললো তুই দেখতে খারাপ?তুই দেখতে অনেক সুন্দর । -তাহলে ভালোবাসবে না কেনো? -কারণ আমি তোকে সবসময় আমার ছোটো বোন হিসেবেই ভেবেছি। -আমি তো তোমার আপন বোন না,,,, -এসব ভালোবাসার ভুত মাথা থেকে নামিয়ে মন দিয়ে এখন পড়াশোনা কর,,, প্রিয়া আমার হাতটা ধরে বললো,আমি কি খুব খারাপ? আমাকে একটু ভালোবাসা যায় না? -তুই খুবই ভালো আর লক্ষ্মী একটা মেয়ে, আমার থেকেও অনেক ভালো একটা ছেলে তুই পাবি আগে পড়াশোনাটা মন দিয়ে কর। -কিন্তু আমার যে তোমার চেয়ে ভালো ছেলে চাই না,আমার শুধু তোমাকেই চায়। আমি প্রিয়ার হাতটা ছাড়িয়ে বললাম,আমি তোকে ভালোবাসতে পারবো না কারণ আমি রাহিকে ভালোবাসি। -রাহি আপুকে..!!! -হুমম,,, প্রিয়া মন খারাপ করে মাথাটা নিচু করে ফেললো,উড়নাটা দিয়ে একবার চোখটা মুছে নিলো, -প্রিয়া এভাবে মন খারাপ করিস না,,,তুই এখন আবেগের বসে এসব বলছিস কিছুদিন পর দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে। -আমি মন খারাপ করিনি, সবার ভাগ্যে তো আর সবকিছু থাকে না। হয়তো কিছুদিন পর সব ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু আমি নিছক আবেগের মোহে তোমাকে ভালোবাসিনি,,, কথাটা বলেই প্রিয়া দৌড়ে ছাদ থেকে চলে গেলো। আমি পিছনে ঘুড়তেই দেখি রাহি আমার সামনে দাঁড়িয়ে, -রাহি তুমি এখানে? -ভালোই তো প্রেম করছিলে দু'জন। -প্রেম করছিলাম মানে? -হুমম প্রেম,,,,এখানে না আসলে তো তোমার আসল রূপটা আমি ধরতেই পারতাম না,,, -রাহি তুমি আমাকে ভুল বুঝছো। -কোনটা ভুল?আমি নিজের চোখে যেটা দেখলাম সেটা? -তুমি যেটা দেখেছো সব সত্যি কিন্তু প্রিয়ার সাথে আমার কোনো রিলেশন নেই আসলে,,, -থাক, তোমাকে আর বানিয়ে বানিয়ে কিছু বলতে হবে না যা বোঝার আমি সব বুঝে গেছি। -আমি তোমাকে বানিয়ে বানিয়ে বলছি? -তা নইতো কি? আমাকে তো আর ভালোলাগে না স্বার্থ হাসিল হয়ে গেছে যে। -তুমি কিন্তু তোমার লিমিট ক্রস করে ফেলছো রাহি,, -আমি আমার লিমিট ক্রস করছি নাকি তুমি?ভালোবাসার নাম করে আমাকে ভোগ করে এখন অন্য মেয়ের সাথে প্রেম করছো এটা কি সীমার মধ্যে পড়ে? রাহির কথা শুনে আমার প্রচন্ড রাগ উঠে গেলো, ঠাসস করে ওর গালে একটা থাপ্পড় মারলাম, রাহি আমার থাপ্পড় খেয়ে বেশ অবাক হয়েছে,ও হয়তো কখনও কল্পনাও করেনি যে আমি ওকে এভাবে থাপ্পড় মারবো, রাহি আর কোনো কথা না বলে কাঁদতে কাঁদতে নিচে চলে গেলো। . যাকে এতোটা ভালোবাসলাম আজ সেই আমাকে অবিশ্বাস করছে?সন্দেহ করছে? রাহি তো একটাবার আমার কথাগুলো শুনতে পারতো,আমাকে একটা বার জিজ্ঞেস করতে পারতো। আমার ওপর কি একটুও বিশ্বাস নেই রাহির? রুমে বসে বসে এসব ভাবছিলাম তখনই,,,,,,,,,, - - - ***চলবে

@kamal16

পুত্র এক পুত্র নিজের বৃদ্ধ পিতাকে রাতের খাবারের জন্য একটা রেস্টুরেন্ট এ নিয়ে গেল। খাবার খাওয়ার সময় বৃদ্ধ পিতা অনেকবার খাবার নিজের কাপড়ে ফেলল। ওখানে বসে থাকা অন্য লোকেরা বৃদ্ধকে ঘৃণার নজরে দেখছিল। কিন্তু বৃদ্ধের পুত্র শান্ত ছিল। খাবার পর লজ্জা না পেয়ে পুত্র বাবাকে ওয়াশরুম নিয়ে গেলেন। বৃদ্ধের কাপড় পরিষ্কার করল, চেহারা পরিষ্কার করল, চিরুনি দিয়ে চুল আছড়ে চশমা পড়িয়ে বাইরে নিয়ে এলেন। সবই চুপ করে ওদের দেখতে লাগল। পুত্র বিল দিয়ে বাবাকে নিয়ে বাইরে যাবার জন্য পা বাড়াল। তখনই খাবাররত অন্য এক বৃদ্ধ পুত্রকে বলল "তুমি কি কিছু ভুলে যাচ্ছ এখানে?" পুত্র জবাব দিল "না সরি, আমি এখানে কিছু ছেড়ে যাচ্ছি না"। বৃদ্ধ বলল " তুমি এখানে প্রত্যেক পুত্রের জন্য ছেড়ে যাচ্ছ একটা শিক্ষা আর প্রত্যেক পিতার জন্য আঁশা."" সাধারণত আমরা বৃদ্ধ বাবা-মা কে বাইরে নিয়ে যেতে চাই না আর ধিক্কার দিই কি করবে ভাল করে চলাফেরা করতে পার না, ঠিক ভাবে খেতে পার না, তোমরা বাড়িতেই ঠিক। আপনি কি ভুলে গেছেন আমরা যখন ছোট ছিলাম, বাবা-মা কোলে করে আমাদের নিয়ে যেত, নিজের হাতে খাইয়ে দিত আর খাবার পরে গেলে বকতেন না, ভালবাসতেন। তাহলে বাবা-মা বয়স হয়ে গেলে বোঝা লাগে কেন??? বাবা-মা, তাঁদের সেবা করুন, ভালবাসা দিন। কেননা একদিন সবাই বৃদ্ধ হবে।

@kamal16

গুন্ডি গার্লফ্রেন্ড২ গল্প : গুন্ডি গার্লফ্রেন্ড পর্ব : ২য় (শেষ পর্ব) অামি : প্লিজ গলা থেকে ছুরিটা নামান । সুলতানা : কেনো...? ভয় লাগছে....? - হুমম, অামি অাপনার সব কথা শুনবো; প্লিজ ছুরিটা নামান গলা থেকে...! - কেন নামাবো ছুরি হুমম....? তুই অামার ধাক্কা মারছিস; অামার কপাল ফাটিয়েছিস...; অামার প্রিয় ফুসকা খেয়েছিস..তোকপ অামি অার ছাড়ছি না...! - অারে বাবা অামার ভুল হয়ে গেছে.. সরি অার এমন করবো না...! - এখন এতো ভালো করে কথা বলছিস কেনো হ্যা....? - অাপনার মতো গুন্ডির সাথে যে কেউ ভালোভাবে কথা বলবে...! - ঠাসসসসস....কি বললি তুই অামু গুন্ডি..? তোরে দিলাম ছুরি টেনে...! - এই না না...; ভুল করে বলে ফেলেছি..; গুন্ডি না...! অাপনি একটি লাল পরী...! -..... - যাক বাবা লাল পরী বলে বেঁচে গেলাম..! এতখনে গলা থেকে ছুড়িটা নামালো...! কি মেয়েরে ভাই... " যদি ছুরিটা টেনে দিতো তাহলে তো অামি শেষ.. না অার কোনো দুষ্টমি করা যাবে না...; কারণ দুষ্টমি করলে খুন হওয়ার চান্স অাছে..! তারপর বিয়ে বাড়িতে এসে পৌছলাম..! বাড়িটা অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে..! বিয়ের অায়োজন চলছে.... অার অামু বিয়ে বাড়িতে সুন্দরী মেয়েদের ঝাড়ি মারছি...! ঠিক তখনই সুলতানা কোথা থেকে এসে অামাকে বললো... - ওই তুই ওই মেয়েকে চোখ মারলি কেনো...? -তাতে অাপনার কি সমস্যা...? অামার ইচ্ছে অামি চোখ মারতেই পারি...! -না তুই চোখ মারবি না..অার একবার যদি দেখি কোনো মেয়েকে চোখ মারছিস তাহলে অামি তোর চোখ উপড়ে নিবো...! -অাজব তো..অামি যদি অাপনাকে চোখ মারতাম তাহলে কথ ছিলো...! - ঠাসসসসস...তুই অাবার অামার মুখের উপর কথা বলছিস...? তুই যে মেয়েটাকে চোখ মারছিস ও অামার মামাতো বোন..বুঝলি...? - তাই বলে বিয়ে বাড়িতে সবার সামনে এভাবে অামাকে থাপ্পড় মারবেন.....? - উল্টো পাল্টা কাজ করলে থাপ্পড় দিবো না তো কি....তোকে অাদর করে চুমু দিবো...? - পুরাই গুন্ডি একটা...! - ওই তুই কি বললি অামি গুন্ডি...? দাড়া দেখাচ্ছি মজা..! - অার কিছু না বলেই দিয়েছি দৌড়... ধরতে পারলো এবার সিওর থাপ্পড় মেরে অামার গাল ফাটিয়ে দিবে...! ইসস কতো ইচ্ছে ছিলো চার-পাঁচটা মেয়ে পটাবো..." কিন্তু এই সুলতানার জন্য কিচ্ছু হলো না..! পালিয়ে অাসলাম বিয়ে বাড়ি থেকে.. নাহ অার বিয়ে বাড়িতে যাওয়া যাবে না রাতটা বাইরেই পার করে দিলাম...! ফোনটাও বন্ধ ছিলো সারারাত...! সকাল ৮ টায় অাবার বিয়ে বাড়িতে গেলাম অার গিয়ে দেখছি সুলতানা কাঁদছে..! সুলতানা অামাকে দেখা মাত্রই অামার সামনে এসে....ঠাসসসস....ঠাসসসসস -অাপনি কি অামার গাল দুটো কিনে রেখেছেন? শুধু শুধু থাপ্পড় মারবেন....! তারপর সুলতানা বললো.. - সারারাত কোথায় ছিলি...? তোর ফোন বন্ধ কেনো...? - তাতে অাপনার কি...? - অামার অনেক কিছুই...তুই এখন থেকে অামার সাথে সাথে থাকবি...! - কাদো কাদো কন্ঠে বললাম..কেনো..? অাপনার সাথে থাকবো কেনো...? -যা বলছি তাই করবি...? নাহলে খুন করে ফেলবো...!. - বাধ্য হয়ে বললাম - অাচ্ছা ঠিক অাছে তারপর বিয়েটা দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেলো সারাক্ষণ অামি সুলতানার সাথেই ছিলাম...! ওহ্ হ্যা বিয়েটা অামার মামাতো ভাই এর..অার সুলতানা হলো অামার ভাবির বোন..." তো অামরা অাবার গাড়িতে ওঠে বসলাম.. বাড়ি ফিরতে হবে...! সুলতানা অাবারও অামার পাশে এসে বসলো..কিন্তু এবার ওর হাতে ছুরি নেই... তাই একটু ভালো লাগতেছে...! - একটু পর দেখি ও অামার কাঁধে মাথা রাখলো এই কি করছেন এসব...? - অামার রাতে ঘুম হয়নি তাই এখন ঘুমাবো... - ঘুমাবেন সেটা ভালো কথা.. তাই বলে অামার কাধটা কি বালিশ পেয়েছেন নাকি...? তারপরই একটা ব্যাথা অনুভব করলাম..অাহহহহহ ওই অাপনি চিমটি কাটলেন কেনো...? - অামার মাথা সরালি কেনো...? - তাই বলে এতো জোরে চিমটি কাটবেন...? - অার একবার যদি অামার মাথা তোর কাঁধ থেকে সরাস...তাহলে তোর অাসল জায়গায় চিমটি কাটবো..বলে দিলাম...! - এই না না না, ঠিক অাছে অাপনি অামার কাঁধে যতো খুশি মাথা রাখুন...অামি কিছু বলবো না...! তারপর সুলতানা ওর হাত দিয়ে অামার গলা জড়িয়ে ধরে অামার কাঁধে মাথ রেখে ঘুমাচ্ছে...! অসম্ভব সুন্দর লাগছে ওকে...ঘুমন্ত অবস্থায় ওকে এতো লাগে অাগে জানা ছিলো না...! সত্যি বলতে অামি ওর প্রেমে পরে গেছি.. কিন্তু এই কথা ওকে বলা যাবে না...এই কথা ওক বললে অামার অার রক্ষা নেই...! এসব কথা ভাবতে ভাবতে বাড়ির কাছাকাছি এসে গেলাম.. তারপর ওকে বললাম... - এই যে মেডান উঠুন...অামরা বাড়ি পৌছে গেছি...! - হাঃ অাঃ অাঃ হাঃ অাঃ উমমম - হয়েছে হয়েছে...অনেক ঘুমিয়েছেন মহারানী.. এবার উঠুন..." - অারেকটু ঘুমাই না প্লিজ....! - অারে কি অাজব উঠুন বলছি..এসে গেছি তো.. তারপর সুলতানার মাথা অামার কাঁধ থেকে সরিয়ে ওকে কিছু না বলেই বাড়ি চলে অাসলাম...ও গাড়িতে ঘুমাচ্ছে...! রাত্রি জাগার কারণে ও সারাদিন ঘুমিয়ে ছিলো...! সন্ধ্যাবেলা অামি ছাদে দাড়িয়ে অাছি..! কিছুই ভালো লাগতেছে না শুধু সুলতানাকে দেখতে ইচ্ছে করতেছে....! কিছুখন পর কারো পায়ের নূপুরের শব্দ পেলাম...", পেছন ফিরে দেখি সুলতানা অাসছে..! দেখে মনে হচ্ছে অনেক কেঁদেছে,...অার প্রচন্ড কাজের রেগে অাছে....অার অামার সামনে এসেই....ঠাসসসসস... ঠাসসসসস কাঁদো কাঁদো হয়ে বলতে লাগলো............. তোকে না বলছি তুই অামার সাথে থাকবি.. কখনো অামার পিছু ছাড়বি না... তাহে না বলে কেনো চলে এসেছিলি....? কি হলো কথা বল....চুপ করে অাছিস কেনো..? এরপর অামাকে জরিয়ে ধরে বলছে...; - অাই লাভ ইউ পারভেজ...তোকো অনেক ভালোবাসিরে.....তুই কেনো অামাকে বুঝিস না...? তারপর অামি বললাম.. - অামি অাপনাকে ভালোবাসি না....তবে ভালোবাসতে পারি... কিন্তু একটা শর্ত অাছে.. - বল কি শর্ত...? - এতোদিন ধরে অামাকে যতোগুলো থাপ্পড় মেরেছেন.. এখন ততো গুলো পাপ্পি দিতে হবে এ কথা বলই দিয়েছি দৌড়...! - ওরে শয়তান দাড়া বলছি...কাছে অায় বলছি - যাবো না কাছে গেলে তুমি অাবার থাপ্পড় মারবে...! - তারপর রেগে বললো.. ওই তুই কাছে অাসবি কিনা...? - ওকে বাবা অাসছি...! হুমম বলো এই কথা শেষ না করতেই অামার ঠোঁটের মধ্যে তার ঠোঁট দুটো চেপে ধরলো...উমমমমমম্মাহ...উমমমম্মাহ...উমম্মাহ - কি করছো তুমি.. পাপ্পি দিতে দিতে অামাকে মেরে ফেলবে নাকি...? কে শুনে কার কথা...অামাকে পাপ্পি দিতেই লাগলো....অামি অার বাঁধা দিলাম না অারে অাপনারা এখনো এখানে অাছেন...? দেখছেন না অামার পাগলিটা অামাকে পাপ্পি দিচ্ছে... এখন যান গিয়ে ঘুমিয়ে পরুন...অামাদের ডিস্টার্ব করবেন না....হা হা হা ....................সমাপ্ত...............

@kamal16

মানবতা রিকশা থেকে নেমে ১০০ টাকার একটা নোট বাড়িয়ে দিলাম রিকশাওয়ালার দিকে। রিকশা ভাড়া ৩৫ টাকা। আমার প্ল্যান ছিল আগামীকাল ঈদ ; তাই পাঁচ টাকা বাড়িয়ে রিকশাওয়ালা'কে ৪০ টাকা দিবো। ১০০ টাকার নোট হাতে নিয়ে রিকশাওয়ালা পকেট খুঁজে ভাঙ্গতি টাকা পেলো না। সে বলছে, ঘণ্টাখানেক আগে দুই জন মহিলা রিকশায় উঠেছিল। ১০০ টাকা ভাড়া হয়েছিল। আর, ঐ মহিলারা ৫০০ টাকার নোট দেয়াতে, ভাংগতি যা ছিল সব দিয়ে দিয়েছে। আশেপাশে সব দোকান বন্ধ,আম্মা ঘুমিয়ে গেছে । তাই আম্মাকে ডেকে যে খুচরা ৪০ টাকা নিবো সেই উপায় নাই। প্রায় ১০ মিনিট টাকা নিয়ে এদিক সেদিক খুঁজে কোন দোকান খোলা পেলাম না। কি করবো চিন্তা করছিলাম।এর মধ্যে আমাকে অবাক করে দিয়ে রিকশাওয়ালা বললেন। - মামা থাউক! রাইত মেলা হইছে। টাকা দেয়া লাগবে না। এখন রাত ১২ টা বাইজা গেছে। এইদিকে ভাঙ্গতি টেহা পামু না। আগামীকাল যেহেতু ঈদ ! তাই মনে করুম, আমি আর আমার মামা রিকশায় ঘুরতে গেছেলাম। কোন সমিস্যা নাই! আপনি যান। আমি অবাক হয়ে রিকশাওয়ালার ( হারুন) দিকে তাকিয়ে আছি। ওর বয়স হবে আনুমানিক ১৭ থেকে ১৮ বছর। শরীর থেকে টপটপ করে ঘাম ঝরছে। এই রিকশা চালিয়ে যে টাকা পাবে, সেই টাকা দিয়ে আগামীকাল ঈদের সকালে তার বাসায় ভাত রান্না হবে। তারপরেও আমাকে এত রাতে 'দায় মুক্ত' করতে সে এক কেজি চালের দাম মাফ করে দিচ্ছে হাসি মুখে! হাতের ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি বারোটা ৫ বাজে। আমি হারুন কে বললাম। -মামা আমি তোমার সাথে কোলাকুলি করি? একটু আগে ও যখন ভাড়ার টাকা মাফ করে দিবে বলছিল। আমি তখন যেভাবে অবাক হয়েছি। ঠিক সেভাবেই হারুন আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে! হারুন বললো, মামা আমার শইলে ঘাম, কিভাবে কোলাকুলি করবেন? এবার আমি ওর মত করেই বললাম... _ আরে সমিস্যা নাই ! হারুন রিকশা নিয়ে চলে যাচ্ছে।ওর পকেটে আমি জোর করে একশো টাকার নোট'টা ঢুকিয়ে দিয়েছি। ৪০ টাকার ভাড়া ৬০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েও আমার কাছে কোন আফসোস লাগছে না। কারন এই একশো টাকার বিনিময়ে আমি হারুনের কাছে কোটি টাকার 'শিক্ষা' পেয়েছি। আর সেই শিক্ষার নাম হচ্ছে মানবতা।

@kamal16

মাস্টার মশাই গল্প:-মাষ্টার_মশাই পর্ব:- #১ """""""""""""""" -ভাইয়া -হুমম বল -আমার পিকনিক এর টাকাটা?? -কত যেন?? -ভাইয়া পাঁচহাজার -আমি স্কুল থেকে এসে দিবো নি -ভাইয়া পুরো টাকাইই দিতে হবে -চিন্তা করিস না, আমি স্কুল থেকে ফিরেই টাকা টা দিয়ে দিবো -আচ্ছা ভাইয়া ,, ,, শুভ আর তার বোন ইশিতা কথা বলছিলো। শুভ একটা প্রাইমারী স্কুল এর শিক্ষক আর ইশিতা শুভর ছোট বোন, সে এবার ইন্টারর ফার্স্ট ইয়ার এ পড়ে। শুভর পরিবার এ, শুভ, তার বাবা, আর ছোট বোন ইশিতা এই তিন জন। ,, ,, শুভ স্কুলে গিয়ে ক্লাস নিচ্ছিল হঠাৎ তার বাবা তাকে ফোন করে জানিয়ে দেয়। আজই শহরে যেতে এবং সেখানকার একটা কলেজ এর ম্যাডাম এর সাথে দেখা করতে। ,, শুভ দেড়ি না করে তখনই রওনা দিলো। দুপুরের একটু আগে শুভ সেই কলেজে পৌছে যায়। আর বাবার নির্দেশনা অনুযায়ী হিয়া নাম এর একজন কে খুঁজতে থাকে... ,, সে একজন শিক্ষক কে বলল.. -হিয়া ম্যাম কোথায় আছেন?? (শুভ) -উনি এখনন..ওহ হ্যা ৩০৪ নাম্বার রুমে ক্লাস নিচ্ছে, একটু পরেই ক্লাস শেষ হয়ে যাবে, -ধন্যবাদ আপনাকে.. ,, শুভ ৩০৪ নাম্বার রুমের সামনে চলে আসে। এসে দেখে একটা ম্যাম ক্লাস নিচ্ছে..দেখতে কোনো বলিউড এর নায়িকা মনে হচ্ছে। শুভ ম্যাম কে দেখে ভাবছিলো.. -বাবা আমাকে এর কাছে কি জন্য পাঠালো?? এ বাইরে আসলে কিভাবে কথা বলব?? আমার তো এখনই গলা শুকিয়ে যাচ্ছে (শুভ) ,, কিছুক্ষণ পর ক্লাস শেষ হয়ে যায়। সবার আগে ম্যাম বের হয়। আর শুভ সাথে সাথে ডাক দেয়া.. -ইয়া ম্যাম (শুভ) ,, হিয়া নাম ইয়া ভাবে ডাকায়, হিয়া শুভর কাছে এসে দাড়ায়, আর বলে.. -কি বললেন??(হিয়া) -সরি, আপনার নাম টা সঠিক ভাবে উচ্চারণ করতে পারি নি, গলা টা শুকিয়ে গেছে, হিয়া বলতে ইয়া হয়ে গেছে.. -হুমম ঠিক আছে..আপনি কে?? -আমি শুভ বাবা আমাকে পাঠিয়েছেন -ওহহ(হিয়া হাটতে শুরু করলো) ,, শুভ সাথে সাথে হাটা শুরু করলো। আর বলতে লাগলো.. -বাবা আমাকে কি জন্য পাঠিয়েছেন আমি জানি না, শুধু বলল আপনার সাথে দেখা করতে (শুভ) -আমার বাবাও বলছিলো শুভ নাম এর একজন আমার সাথে দেখা করবে, এবং তার সাথে লাঞ্চ করতে বলেছে.. -ওহহ চলেন -কোথায়?? -লাঞ্চ করতে -না, আমি বাসা থেকে আপনার জন্য খাবার নিয়ে আসছি, আমি বাইরের খাবার খেতে পারি না -ওহহ থ্যাংকস -কি জন্য? -খাবার নিয়ে আসছেন আমার জন্য তাই -হুমমম আসুন ,, হিয়া একটু রাগ রাগ ভাব, শুভর দিকে একবার তাকিয়ে দ্বিতীয় বার আর তাকায় নি। সেমিনার এ খেতে বসে দুজন কথা শুরু করলো.. -খাবার টা কেমন হইছে??(হিয়া) -হুমম খুব ভালো হইছে (শুভ) -আচ্ছা এখন বলেন, আপনি কি করেন?? -এই যে খাচ্ছি -হুহহ কি কাজ করেন সেটা জানতে চাইছি -সরি, আমি একটা প্রাইমারি স্কুল এর শিক্ষক -ওহহহ। আচ্ছা আপনি কি জানেন আপনাকে কেন আমার সাথে দেখা করতে বলেছে?? -না আমি জানি না -আইডিয়া করেন তো -মনে হয় কোনো কাজ এর জন্য হবে -উহুমম বিয়ের জন্য -এহহহহ -অবাক হইছেন তাই না?? -হুমম অনেক -আমাকে পছন্দ হয়েছে আপনার?? -হুমম হইছে -কতটুকু..?? -....(শুভ লজ্জায় কিছু বলছে না) -লজ্জা পাচ্ছেন, আমি বলি, আমাকে আপনার এতটাই পছন্দ হইছে, এক দেখাতে ভালবেসে ফেলেছেন এইরকম তাই না?? -হুমমম আপনি বুঝলেন কিভাবে??(শুভ মুচকি হেসে) -অনেক ছেলেই বলেছে -ওহহহ -হাতটা ধুয়ে আমার ডিসিশন টা বলি?? -জ্বি ,, ,, হিয়া হাত ধুয়ে, পানি পান করে বলল... -আপনাকে আমার পছন্দ.... হয় নি। হয় নি মানে একদমই হয় নি। আর আপনি সাধারন একটা স্কুল শিক্ষক! আমি বুঝলাম না বাবা সব জেনেও, কেন এমন একটা ছেলের সাথে,, ধুররর আমার মেজাজ টাই গরম করে দিয়েছে...আর আপনি বা কেমন নিজের এই ছোট্ট একটা যোগ্যতা নিয়ে আমার সাথে এই ব্যাপার এ দেখা করতে আসছেন! -আমি তো জানতাম না, বাবা শুধু আপনার সাথে দেখা করতে বলেছিলো (শুভর চোখ একদম লাল হয়ে গেছে, মনে হচ্ছে এখনই কান্না করে দিবে) -সব কিছু জেনে আসা আপনার উচিত ছিলো -হুমমমম সরি ম্যাম -হুমম আপনি এখন আসতে পারেন -জ্বি, আসসালামু আলাইকুম -আর শোনেন -জ্বি বলেন -নেক্সট টাইম, আপনার বাবা বললে আসবেন না, আমি আমার বাবা কে সামলে নিবো ওকে?? -জ্বি ,, ,, শুভ বাইরে চলে আসলো। বাইরে এসেই শুভ বাবা কে ফোন করে.. -হ্যালো বাবা (শুভ) -হ্যা দেখা করছিস??(শুভর বাবা) -হুমম, পছন্দ হইছে?? -হইছে, আবার হয় নি -বুঝলাম তোর কথা -বাড়িতে গিয়ে বলি?? -আচ্ছা আয় ,, ,, শুভ বাড়িতে গেলো। বোন আর বাবা কে ডেকে তার রুমে আনলো। তারপর বলল -আমার বিয়ের জন্য এত হাই লেভেল এর মেয়ে পছন্দ করছো কি জন্য??(শুভ) -ও তোকে কিছু বলছে??(শুভর বাবা) -উনি যা বলেছেন একদম ঠিক বলেছেন, সে একজন বি সি এস ক্যাডার, সরকারি কলেজ এর টিচার আর আমি সাধারন বি এ পাশ করা, একটা প্রাইমারি স্কুল এর টিচার! -সে যাই হোক, তোর বউ -বাবা কি বলো, আমি কই আর সে কই?? -আমি যা বলেছি তাই, কিভাবে তুই তাকে রাজি করবি সেটা তোর ব্যাপার, সে তোর বউ এটা মাথায় রাখিস(শুভর বাবা চলে গেলো) -বিয়ে না করে এ কেমন বউ??(শুভ) -ভাইয়া, ভাবি কে কেমন দেখতে??(ইশিতা) -এ বিয়ে সম্ভব না রে! বাবা বুঝতেছে না -বিয়ে হোক আর নাই হোক, ভাবি কেমন দেখতে?? -তার ভাষায় বলি?? -হুমম বলো -একবার দেখে ভালবেসে ফেলার মতো -তার মানে ভাইয়া তুমিও.. -সেটা কি আর বলতে হবে?? এত সুন্দর একটা চেহারা.. -ভাইয়া কুচ কুচ.. -ওইইইইই... (শুভ ধমক দেওয়ায় ইশিতা এক দৌড়) -ধুরর ওরে ধমক দিতে গেলাম কেনো?? সত্যি আমি তো..কুচ কুচ..নাহহ ম্যাম এর যে অনেক যোগ্যতা.. ,, ,, পরদিন শুভ তার স্কুল শেষে আবার কলেজে যায়... গিয়ে হিয়া কে খুঁজে বের করে। হিয়া শুভ কে দেখে রাগি লুক নিয়ে শুভর দিকে তেড়ে আসে.. -আজ আবার কি জন্য আসছেন??(হিয়া) -আপনাকে দেখতে আসছি (শুভ) -কাল কি বললাম?? সেগুলো বুঝতে পারেন নি?? -বুঝেছি, কিন্তু বাবা বলেছে আপনি আমার বউ -আমি বুঝতেছি না, আমিও আমার বাবা কে বললাম, উনি বললেন যে আপনিই আমার বর -হুমমমম -আবার বলে হুমম?? নিজেকে দেখছেন একবার?? কিসের সাথে কি মিলাতে চান -....(শুভ চুপ) -আমি লাস্ট বার বলছি, এরপর থেকে আপানকে যেন না দেখি, দেখলে কিন্তু অনেক খারাপ হবে বলি দিলাম ,, ,, শুভ বাড়িতে এসে তার বোন কে জানায়। -ভাবি তো দেখছি সেই বদমেজাজি(ইশিতা) -কিসের ভাবি?? ম্যাম বল, (শুভ) -আরে ভাইয়া রাখো তো, তুমি কিচ্ছু বুঝো না -তুইও আমার উপর বিরক্ত হইছিস?? -তো কি করব?? একটা মেয়ে কখনো দুই দিনে পটবে?? মাথায় জ্ঞান বুদ্ধি কিছু নেই??(এটা বলে হিয়া বাইরে চলে গেলো) -সবাই দেখছি, আমার উপর ক্ষিপ্ত! ,, ,, পরদিন.. শুভ আজকে মাথায় একটু তেল টেল দিয়ে ফুল হাতা একটা শার্ট পরে হাতে একটা চিঠি নিয়ে হিয়ার সামনে যায়.. হিয়া শুভ কে দেখে তো তার চোখ কপালে.. -এটা রাখেন (শুভ) -কি এটা??(হিয়া) -চিঠি -কিসের চিঠি?? কার চিঠি?? -আপনার জন্য, আমি লিখতে পারি না, তাই আমার বোন লিখে দিয়েছে হিয়া চিঠি টা হাতে নিয়ে বলল... -তারপর?? -আমি আপনাকে ভালবাসি -ঠাসস ঠাসস ঠাসসস ঠাসসস (দুই গালে চার টা চর মারে হিয়া) ,, ,, -চর গুলো দিলাম এই চিঠি দেওয়া বা আমাকে প্রপোজ করার জন্য না। আমার কথা না শোনার জন্য। কাল কি বলেছিলাম??(হিয়া) -আপনার সামনে যেন না আসি (শুভ) -তো আসলেন কেনো?? -বাবা বলেছে -তো তাকেই পাঠিয়ে দিয়েন, আপনি আসলেন কেনো?? আপনাকে মানা করি নি?? -জ্বি -আবার বলে জ্বি। -....(শুভ গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে) -এই শেষ বার বলছি, আপনার মতো এই সাইজ এর ছেলে আমার পছন্দ না। এক কথায় শেষ, এখন বুঝতে পারছেন -হুমম কিন্তু বাবা যে আসতে বলে -আপনার বাবা কে পাঠিয়ে দিবেন -আচ্ছা -আর শোনেন -হুমমম -মাথায় তেল আর একটু দিয়ে আসলে ভালো হতো, না না তেল এর পুকুরে মাথা টা ডুবিয়ে নিয়ে আসলে ভালো হতো -আচ্ছা পরদিন আসবো নি -ওই, আমি আসতে মানা করছি না?? -হুমমম -এখন এখান থেকে যান.. গোওও ,, হিয়া চিঠি টা শুভ কে ফেরত দিতে ভুলে যায়। বাসায় এসে কি মনে করে চিঠি টা খুলে.. খুলেই তো হিয়ার শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা.. ,, হিয়া দেখতে পেলো.. তার চার টা ছবি আঁকা। একটা ক্লাস রুমে দাড়ানো অবস্থায়। একটা খাওয়ার সময়, একটা পানি পান করার সময়.. আর একটা...খুব রাগি মুড এর। -ওয়াও, ছেলেটা তো সেই আঁকা এঁকেছে! এত টা খেয়াল করেছে আমাকে, কিন্তু এই শেষ এর ছবি টার জন্য ও মাইর খাবে, রাগলে আমাকে একদম পঁচা দেখায়, কেমন লাগছে আমাকে এ্যা এ্যা এ্যাহহহ, ওরে আচ্ছা মতো ধোলাই দিবো! ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। চলবে

@kamal16

সিনিয়র ভাবি যখন বউ৭ সিনিয়র_ভাবি_যখন_বউ পর্ব_৭ . মেহতাব হোসেন মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেলেন। নীলার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। ওকে কাব্যকে ভুলতে হবে। না, না এটা অসম্ভব। নীলা লাফ মেরে বিছানায় শুয়ে বালিশ আকড়ে ধরে কাঁদতে লাগল। – আব্বু এটা কি বলছে? কাব্যকে আমি ভুলব কি করে? কাব্যকে তো আমি আমার জীবনের চেয়েও বেশী ভালোবাসি। আব্বু আমাকে কাব্যর থেকে আলাদা করতে চাইছে কেনো? নীলা ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদতে লাগল। বালিশ আঁকড়ে ধরে কাঁদতে লাগল। . মিরা বিছানায় শুয়ে আছে। আর কাব্য সোফায়। এটা প্রতিদিনকার ঘটনা। কাব্য এপাশ ওপাশ করছে। আর মিরা এক দৃষ্টিতে কাব্যের দিকে তাকিয়ে আছে। কি আছে ওর এই মুখে? ছেলেরা আবার মায়াবী আর সুন্দর হয় নাকি। কি করে ছাড়ি ওকে? যে আমার দুঃসময়ে পাশে থেকেছে। – কাব্য… কাব্য পাশ ফিরে তাকাল মিরার দিকে, – কি? এনিথিং রং? – নাহ। – তাহলে… মিরা দ্বিধা হচ্ছে কথাটা বলতে। – কি হল বল? – না মানে, বিছানায় এসে শুয়। কাব্য মিরার দিকে তাকাল মিরা উৎফুল্ল দৃষ্টিতে বলছে। – নাহ, সোফায় শুতে পারব। অসুবিধা হচ্ছে না তো। তুমি ঘুমিয়ে পড়ো… – একটাদিনইতো। মিরার কথা শুনে কাব্যের মুখ মলিন হয়ে গেল। আসলেই তো। কাল ওরা ডিভোর্স এর জন্য এপ্লাই করবে। এটাই হয়তো শেষ রাত। – প্লিজ… কাব্য মিরার দিকে তাকাল। মিরা যেন খুব করে চাইছে কাব্য যেন ওর পাশে শুয়। কাব্য ওতো চাইছে।কিন্তু…. – ওক্কে… কাব্য বালিশ নিয়ে বিছানায় রাখল। মিরার পাশে গিয়ে শুলো। মিরা চিৎ হয়ে শুলো। কাব্যও একি রকম শুলো। মাঝখানে কোনো বালিশ নেই। . আমার অস্বস্থি লাগছে। মিরার পাশে এরকমভাবে শুতে.. – মাঝখানে একটা বালিশ রাখি। আমি তো আবার বেশী এপাশ – ওপাশ হই। কখন আবার তোমার পেটে ডিসুম করে ঘুসি বসিয়ে দেই। মিরা হাসল, – লাগবে না। – ওও। কিছুক্ষণ নিরবতা.. – আচ্ছা কাব্য, মানুষ বড় অদ্ভুত তাই না। কখন কাকে ভালোবেসে ফেলে। বলা যায় না। আমি মিরার দিকে তাকালাম। মিরা নিরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। – হুম, আসলেই…। – একটা কাজ করবে? মিরার আমার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে মারল। – কি? – আমার পেটে একবার হাত রাখবে। আমি চমকে উঠলাম। অবাক বিষ্ময় নিয়ে মিরার দিকে তাকালাম। মিরার দৃষ্টি বরাবরের মতোই শান্ত। মেয়েটা এমন কেনো? আমাকে অবাক করিয়ে দিল। অথচ নিজে একেবারেই শান্ত। – কি হল? আমি ইতস্তত বোধ করলাম, – না মানে.. – একবারই তো। তোমার ভালো না লাগলে না থাক। শুধু, একটা জিনিস অনুভব করিয়ে দিতে চাই তোমাকে। আর আমিও। – কি? – অনুভব করতে চাই। প্লিজ একবার হাতটা রাখো। নিরীহ দৃষ্টিতে তাকাল আমার দিকে। এখানে নেই কোনো লোভ আর পাপ। নিষ্পাপ একটা মেয়ে যেন মিরা। – আচ্ছা। – হুম, প্লিজ.. মিরা সোজা হয়ে শোয়া। চোখ বন্ধ করে নিল। মিরা পেটটা আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। এখানেই রয়েছে একটা দেহের অস্তিত্ব। আমি কাপা কাপা হাতটা এগিয়ে নিলাম। হাত প্রচুর কাঁপছে। আমি প্রায় ঘামছি। অবশেষে হাত রাখলাম। মিরা জোরে একটা শ্বাস নিল। যেন কিছু অনুভব করছে। আমার স্পর্শ। আর আমি অনুভ করছি একটা অস্তিত্ব। আমি মিরার দিকে তাকালাম চোখ বন্ধ করেই আছে। আর মুখমণ্ডল এ যেন মায়া ছড়িয়ে পড়ছে। একটা নেশাবোধ হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছি মিরার মায়াবী মুখে। মিরা চোখ খুলে আমার দিকে তাকাল, – কিছু অনুভব করছো? চোখ কোণে খানিকটা পানি জমে আছে। – হুম। – কি? – একটা অস্তিত্ব যেটা আস্তে আস্তে বেড়ে উঠছে। খুব ভালো লাগছে। – তাহলে আর কিছুক্ষণ রাখো। আর অনুভব করো। – হুম। আমি হাসলাম। মিরাও। মিরা হাতটা আমার মাথায় নিয়ে এল। চুলে বিলি কেটে দিতে লাগল। – কাল কটায় যাচ্ছি? – একজন লয়ারে কাছে যেতে হবে। বিকেলে.. – হুম। আমি পেট থেকে হাত সরিয়ে নিলাম। এখন ঘুমাও মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। – আচ্ছা। আমি মিরার চুলগুলোতে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম। বাতাসে চুলগুলো উড়ে এসে আমার মুখে পড়ছে। মিষ্টি একটা ঘ্রান। মিরা চোখ আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে এলো। আমিও ঘুমানোর প্রস্তুতি নিলাম। . ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভেঙে গেলে চোখ খুলে দেখলাম সকাল হয়ে গেছে। পাশে হাত দিয়ে দেখলাম মিরা বিছানায় নেই। গেল কোথায়? আমি উঠে বসলাম। এমন সময় দরজা ঠেলে রুমে ডুকল মিরা। – গুড মর্নিং। কফি.. এগিয়ে এসে কফির মগ টেবিলে রাখল। আমি ভ্রু কুচকালাম। – তুমি রান্নাঘরে গিয়েছিলে? – এমনি শুধু গিয়েছিলাম। আম্মু কফি বানিয়ে দিল তোমার জন্য। – একা একা নিচে যাওয়ার কি দরকার? যদি কোনো অঘটন ঘটে? – আরে কিচ্ছু হবে না। এতো ভেবো না তো। – এহ! উনি জানেন কিছু হবে না। চুপটি করে এখানে বসো। আমি ওয়াসরুম থেকে আসছি। ওয়াসরুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে নিলাম। এসে কফি খেয়ে নিলাম। – কাব্য – হুম। মিরার দিকে তাকালাম, – একটা কথা বলি? – বলো। যতটা মন চায়। মিরা হাসল, – ডিভোর্স এর পরেও কি আমার যত্ন নিবে? আমি চোখ তুলে মিরার দিকে তাকালাম। শুধু দ্বিধা ফেলে দেয় মেয়েটা। – হুম। তখন তো তোমার কেয়ার করার জন্য ভাইয়া থাকবে। – কোথায় তোমার ভাইয়া? এই ফেসে গেলাম। এখন কি বলি? – না, মানে তুমি যখন দেখেছ। তখন এখানেই কোথাও আছে। খুব তাড়াতাড়ি বের করে নিবে আব্বু খোজার জন্য লোকজন পাটিয়ে দিয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। – হুম। মুখ উদাস হয়ে গেল। – ভুল কিছু বলে ফেললাম? – নাহ। – তাহলে উদাস কেনো? – এমনি.. সকালের খাবার মিরাকে খাইয়ে দিলাম। আস্তে আস্তে বিকেল গড়িয়ে এলো। মিরা রেডি আমিও রেডি। আম্মুকে বেড়ানোর কথা বলে বেরিয়েছি। আমি নিশ্চুপ গাড়ি চালাচ্ছি। মিরাও। গাড়ির বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। তবে প্রতিদিনের মতো উৎফুল্ল নয়।আমি মোবাইল নিয়ে নীলাকে কল করলাম। প্রথম বার রিসিভ করল না। পরে নিজেই ফোন করল, – হ্যালো নীলা। ওপাশ থেকে, – হুম। – আমি ডিসিশন নিয়ে নিয়েছি। – কি? – মিরাকে নিয়ে এখন একজন লয়ারের কাছে যাচ্ছি। ডিভোর্সের এপ্লাই করার জন্য। আমি মিরার দিকে তাকালাম। মিরা গাড়ির বাইরের দিকেই তাকিয়ে আছে। – তো.. – মানে! তুমি খুশি না? – নাহ, তোমার মতো ছেলেকে আমি ভালো না বাসলেই খুশি হতাম। – মানে কি বলছো এসব? – কেনো? ভুল কিছু বললাম নাকি? তুমি কি ভেবেছো, আমি কচি খুকি যে কিছু বুঝিনা। তোমরা স্বামী -স্ত্রী এক ছাদের নিচে থাকো তোমাদের মাঝে কিছু হয়নি। এটার কোনো গ্যারান্টি আছে? – নীলা বিলিভ মি..। সত্যি আমাদের মাঝে কিছু হয়নি। তুমি মিরাকে জিজ্ঞেস করো। – ওকে আর কি জিজ্ঞেস করব? তোমাদের মতো ছেলেদেরকে আমার চেনা আছে। আর আমি তো কখনো তোমাকে ভালোবাসিনি। শুধু টাইম পাস ছিল। কি ভেবেছিলে তুমি বিয়ে করেছো এতে আমি কষ্ট পেয়েছি। আরে এটাতো ইম্পসিবল। আমি শুধু অভিনয় করেছিলাম এতদিন। এখন তো তুমি বিবাহিত আর আমার আপদও বিদায়। – নীলা তুমি এতোটা নিচে নামতে পারলে। – আরে রাখ তোর ডায়লগ...... #_চলবে কেমন লাগলো জানিয়ে যাবেন প্লিজ?

@kamal16

রিয়েলিটি পুরুষটি জানে না যে নিচে একটি সাপ আছে,,নারীটিও জানে না যে পুরুষটির পিঠের উপর একটা বড় পাথর চাপ দিচ্ছে,,! নারীটি ভাবছে আমি নিচে পরে যাচ্ছি এবং আমি যে উপরে উঠতে পারবো না,,কারণ সাপটা আমাকে কামড়ে দেবে,,! (কেনো সে আরেকটু শক্তি দিয়ে আমাকে টেনে তুলছে না).. পুরুষটি ভাবছে আমি খুব ব্যথা অনুভব করছি,,তথাপি আমি তাকে আমার সাধ্যমতো টেনে তুলছি,,! (কেনো সে নিজে চেষ্টা করে আরেকটু উঠছে না).. শিক্ষা:অপরপক্ষ কতটা চাপে আছে তা আপনি কখনও জানবেন না,, এবং আপনি কতটা চাপে আছেন তা অপরপক্ষ কখনও জানবে না..!! (কাউকে ভূল বোঝার আগে অন্তত একবার তার পরিস্থিতিটা বোঝার চেষ্টা করুন,,! আগে সত্যিটা জানুন তারপর না হয় ভূল বুঝবেন) এটাই জীবন,, আপনার কাজ হলো,পরিবার,ভালোবাসা,বন্ধু যাই হোক না কেন একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করা উচিত,,! তাই ভিন্নভাবে ভাবতে শিখুন,,একে অপরকে বুঝতে চেষ্টা করুন,,এবং সুসম্পর্ক গড়ে তুলুন,,!♥ [ধন্যবাদ]

@kamal16

ডাক্তার বউ ডাক্তার বউ : - অনেকক্ষণ হলো ডাক্তারে রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।অনেক বড় লাইন।আমি মাঝামাঝি আছি।সরকারি হাসপাতাল গুলোতে এই একটা সমস্যা, সকাল হতে না হতেই রোগীদের লাইন পড়ে যায়।তার উপর সবথেকে বিরক্তিকর যেটা!,সেটা হলো ডাক্তার কিংবা নার্সদের স্টার্ফদের জ্বালা।মানুষ ২ঘন্টা দাড়িয়ে থেকেও ডাক্তার দেখাতে পারেনা আর উনারা সাহেবদের মত এসে সবার আগে দেখিয়ে চলে যায়। এখনো তেমন একটা গরম পড়েনি কিন্তু এত লোকের ভিড়ে গরম লাগছে খুব।টিশার্ট ঘামে ভিজে একাকার। প্রায় ১ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর অবশেষে আসলো আমার সিরিয়াল।রুমের ভেতরে ঢুকতেই বড় ধরনের ক্রাশ খেলাম।এত সুন্দর পরী এখানে কী করছে?মনে হয় ভুল করে মাটিতে নেমে এসেছে।ডাক্তারের পোশাকে তাকে ভয়ঙ্কর সুন্দর লাগছে। :-আপনি এভাবে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো বসুন? ডাক্তারের কথাতে বাস্ততে ফিরলাম।আমি ডাক্তারের সামনের চেয়ারটাতে বসলাম। :-আপনার সমস্যা বলুন?(তুলি রহমান) টেবিলের উপর একটা কাঠে লেখা আছে।এটাকে কাঠ না কী বলে আমার ঠিক জানা নেই। :-আপনার সমস্যা কী বলুন?(তুলি) :-মনে সমস্যা মেডাম।(আমি) :-কী? এটা কী বললাম আমি?মুখ ফসকে কী বলে ফেললাম। :-না মানে হয়েছে কী আজ কয়েকদিন হলো চোখে প্রচন্ড যন্ত্রনা হচ্ছে।ঠিকমত ঘুমোতে পারিনা।(আমি) :-এর আগে অন্যকোনো ডাক্তার দেখিয়েছেন?(তুলি) :-না।এখানে এত সুন্দর একটা পরী থাকতে অন্যখানে কেনো যাবো? :-আপনি এসব কী বলছেন?দেখুন এটা হাসপাতাল।একটু ভেবে চিন্তে কথা বলুন।আমাকে দেখে ভদ্রই মনে হচ্ছে।আশা করি ভদ্রতা বজায় রাখবেন। :-সরি। অনেকক্ষণ পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর কিছু ওষুধ লিখে দিলো। :-আপনার নম্বরটা দিন।যদি বেশি সমস্যা হয় আপনাকে ফোন করে বলবো।(আমি) :-প্রেসক্রিপশনের উপর দেওয়া আছে।কোনো সমস্যা হলে সন্ধা ৭টার পর ফোন দিবেন।এর আগে দিবেন না আমি বিজি থাকি।(তুলি) :-ওকে। আমি প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে বাইরে বের হয়ে আসলাম।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ১২ টা বাজে মাএ।অফিস থেকে ৩ ঘন্টার ছুটি নিয়ে এসেছি।এখনো ১ঘন্টা সময় হাতে আছে।বাইরে থেকে ওষুধগুলো কিনে ব্যাগে রাখলাম। আমি হুসাইন।পেশায় একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।মাএ ৩মাস হলো চাকরীটা পেয়েছি।আজ কয়েকদিন হলো চোখে কী যেনো হয়েছে শুধু ব্যথা করে তাই ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম।কিন্তু ডাক্তার দেখাতে এসে এমন একটা পরীকে দেখবো সেটা কল্পনাও করিনি।না এই মেয়েকে হাতছাড়া করা যাবেনা।খোজখবর নিতে হবে। আমার একটা ফ্রেন্ড আছে ও আবার এলাকার সব সুন্দরী মেয়েদের খোজখবর রাখে। আমরা ওর নাম দিয়েছি মেয়ে বিশেষঙ্গ।ফোন দিলাম ওকে।একবার রিং হতেই রিচিভ হলে :-কিরে ফহিন্নি এই অসময়ে ফোন দিলি?(শিপন) :-একটা দরকারে ফোন দিলাম।(আমি) :-আমি জানি দরকার ছাড়া তোরা আমাকে কেউ মনে করিস না।তো বল কী দরকার? :-আমাদের এখানের হাতপাতালে যে চক্ষু ডাক্তার বসে উনার সম্পর্কে কিছু জানিস? :-মামা ওই মাইয়ার দিকে একদম তাকাবানা।ওইটা তোমাগো ভাবি হবে। :-দোস দেনা এইটা আমারে।তোরতো অনেক গালফ্রেন্ড।এইটা আমাকে দিয়ে দে।প্লিজ দোস।তুই যা খেতে চাস খাওয়াবো। :-আচ্ছা যা দিয়ে দিলাম।তুই বন্ধু মানুষ এত করে যখন বলছিস।তবে মামা পার্টি একটা দিতেই হইবো। :-আচ্ছা।এখন বল মেয়েটা কারো সাথে রিলেশন টিলেশন করে কিনা? :-আমার জানা মতে কোনো রিলেশন নাই।তবে একটা ছেলের সাথে বিয়ের কথা চলছে।মেয়েটার বাসা ঢাকা কমলাপুর। এখানে চাকরী হওয়ায় পরিবারসহ এখানে থাকে। :-এটা হতে পারেনা।আমি ছাড়া ওকে কেউ পাবেনা।এখন রাখিরে অফিসে যেতে হবে। :-আচ্ছা। ফোন রেখে দিলাম।ভাবছি কী করবো।তুলিকে প্রথম দেখাতেই ভালো লেগে গেছে।জীবনে কখনো প্রেম করিনি।করিনি বললে ভুল হবে আম্মু করতে দেয় নি।সবসময় আমাকে চোখে চোখে রাখতো।একবার এক মেয়ের সাথে আমাকে রাস্তায় কথা বলতে দেখেছিলো সেদিন বাসায় আমাকে তিনবেলা না খাওয়ায়ে রেখেছিলো।এরপর থেকে প্রেম ভালোবাসায় আর সাহস হয়নি। বিকেল ৪টায় অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে আগে আব্বুর কাছে গেলাম।আব্বু আমার ফ্রেন্ডের মত।আব্বু ড্রয়িংরুমে বসে টিভি দেখছে। :-আব্বু তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো।(আমি) :-বল।(আব্বু) :-তোমরাতো কয়েকদিন ধরে বিয়ের কথা বলছো তাইনা। :-বলছি কিন্তু তুইতো রাজি হসনা। :-না মানে বলছিলাম আমি একজনকে পছন্দ করি। :-বলিস কী?কবে থেকে?আমাকেতো বলিস নি! :-বলার সময় পেয়েছি নাকি।আজই প্রথম মেয়েটাকে দেখলাম। :-বাসা কোথায়?বাবার নাম কী? :-আমাদের এখানের হাতপাতালের চক্ষু ডাক্তার। :-মেয়েটা তোকে পছন্দ করে? :-আব্বু তুমিও না।প্রথম দেখায় কেউ কাউকে পছন্দ করে নাকি।তুমি ওর বাবার সাথে কথা বলো। :-আচ্ছা বলবোনে। :-বাপ ছেলেতে এত কিসের গল্প হচ্ছে?(আম্মু) :-তোমার ছেলে প্রেমে পড়েছে।(আম্মু) :-কবে কখন?তাড়াতাড়ি বলো।এবার বিয়েটা দিতেই হবে।সেই কতদিনের শখ আমি বউমা দেখবো,নাতি নাতনির মুখ দেখবো। :-আমি গেলাম।তোমরা কথা বলো।(আমি) আমি ওঠে চলে এলাম।আমার কেমন জানি লজ্জা লজ্জা লাগছিলো। রুমে এসে তুলির নম্বর দিয়ে ফেসবুকে চার্চ দিলাম।না এই নম্বরে কোনো আইডি খোলা নেই।শিপনকে আবার ফোন দিলাম :-মামা তুলির আইডির নাম কিরে?(আমি) :-ড.তুলি রহমান।(শিপন) :-পরোফাইল পিক কী দেওয়া? :-ওর নিজের পিকই দেওয়া আছে। :-থ্যাঙ্কু দোস। :-শুধু থ্যাঙ্কুতে কাজ হবেনা।পার্টি চাই। :-আচ্ছা আমার বিয়ের দিন একবারে সব খাওয়াবো। :-তোরও বিয়ে হবে আর আমিও খাবো।একটু ব্যস্ত আছি পরে কথা হবে। :-আচ্ছা। ফোন রেখে ড.তুলি রহমান নামে চার্চ দিলাম।অনেকগুলো আইডি আসলো।কয়েকটা আইডি খোজার পর তুলির আইডি পেলাম।পরোফাইল পিক দেখে আমি পুরাই ফিদা।খোলা চুল,লাল শাড়ি,ঠোটে লাল লিপিস্টিক,কপালে কালো টিপ।অসাধারণ লাগছে এক কথায়।তুলির আইডিতে অনেকগুলো পিক দেওয়া।কয়েকটা পিক ডাওনলোড করে নিলাম।আমি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালাম।জানিনা এপছেট করবেনা কিনা। রাত ৮টার দিকে তুলির নম্বরে ফোন দিলাম।রিং হতেই রিচিভ হলো।সম্ভবত ফোন হাতেই ছিলো। :-আসসালামুআলাইকুম(তুলি) :-ওলাইকুমআসসালম।কেমন আছেন?(আমি) :-ভালো।আপনাকেতো ঠিক চিনলাম না। :-ওইযে আজ আপনার কাছে চোখ দেখালাম। :-সারাদিনেতো কত রোগীই দেখি। :-যাকে ভদ্রভাবে কথা বলতে বললেন। :-ও আপনি।তো কী মনে করে ফোন দিলেন? :-কেনো ফোন দেওয়া মানা নাকি? :-না আসলে তা না।আমি অপরিচিত কারো সাথে তেমন একটা কথা বলিনা। :-তাই বুঝি? :-হ্যা। :-সমস্যা নেই আস্তে আস্তে পরিচিত হয়ে যাবেন। :-মানে কী? :-কিছুনা।আপনি যে ওষুধগুলো দিলেন সেগুলো কখন কখন ব্যবহার করতে হবে? :-দেখুন প্রেসক্রিপশনের উপর সুন্দর করে লিখে দেওয়া আছে। :-ও তাইতো।আমার মনে ছিলোনা। :-মন যদি আকাশে উড়ে তাহলে বুঝবেন কিভাবে? :-মানে? :-কিছুনা।আপনি আর ফোন দিবেন না। :-কেনো? ওপাশ থেকে কোনো উওর আসার আগে ফোন কেটে গেলো।কী মেয়েরে বাবা একটু কথা বলবো তাতেও রাগ দেখায়।দেখেতো শান্তই মনে হয় কিন্তু বাস্তবে কাচা লঙ্কা।তবে কন্ঠটা সুইট। এরপর আমি মাঝে মাঝেই তুলিকে ফোন দিতাম।কখনো ধরতো কখনো ধরতোনা।আমি চেষ্টা করছিলাম তুলির মনে আমার প্রতি ভালোলাগা সৃষ্টি করার কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিলোনা। প্রায় ১২ থেকে ১৩ দিন পর হঠাৎ আমার চোখের সমস্যা অতিরিক্ত বেড়ে যায়।আব্বু আম্মু আমাকে নিয়ে হাসপাতালে যায়।তুলি আমাকে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বলে চোখে অপারেশন করাতে হবে।৭ দিনের ওষুধ লিখে দিলো।৭দিন পর অপারেশন। অফিস থেকে ১৫ দিনের ছুটি পেলাম।এই ১৫ দিন বাসায়ই থাকবো। ডাক্তার দেখিয়ে আসার পরেরদিন রাতে তুলির ফোন।যেই মেয়ে আমার সাথে কথা বলতে বিরক্তবোধ করে সে আজ নিজেই ফোন দিয়েছে এটা অনেকটা রহস্যজনক।ফোন রিচিভ করলাম :-আসসালামুআলাইকুম(তুলি) :-ওলাইকুমআসসালাম।আজ সুর্য কোন দিক থেকে ওঠেছে?(আমি) :-রাতের বেলা আপনি সুর্য পেলেন কোথায়? :-সেটা বুঝাতে চাইনি।এর আগে আমি যতবার ফোন দিয়েছি ততবারই আপনি বিরক্ত হয়ে ফোন রেখে দিয়েছেন।তো আজ হঠাৎ ফোন দিলেন? :-কেনো আমি কী আমার প্রেশেন্টের খোজখবর নিতে পারিনা? :-তা পারেন। সেদিন রাতে অনেকক্ষণ কথা হলো তুলির সাথে।এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিন কথা হতো আমাদের মাঝে।আমি যত তুলির সাথে কথা বলছি ততই ওর প্রেমে পড়ে যাচ্ছি। ৭দিন পর আমার চোখে অপারেশন হলো।২দিন হাসপাতালে থাকতে হবে।অপারেশনের পর থেকে তুলির কেয়ার যেনো হঠাৎই বেড়ে গেলো।কিছুক্ষণ পর পরই আমার খোজখবর নেই।আম্মু মনে হয় ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে কিন্তু আমাকে সরাসরি বলছেনা কিছু।একচোখে অপারেশন করায় অন্যচোখ দিয়ে সবকিছু দেখছি।তুলির হঠাৎ এত কেয়ার করার কারণ আমি বুঝে ওঠতে পারছিনা।তবে কী তুলিও আমাকে ভালোবেসে ফেলেছো?যদি এমন হয় তাহলে ভালোই হবে। যে দুইদিন হাসপাতালে ছিলাম সেই দুইদিন তুলি অনেক কেয়ার করেছে আমার।বাসার আসার পরেও একই অবস্থা।একটু পরপর ফোন করে খোজখবর নিচ্ছে।মনে হচ্ছে ও আমার বউ আর আমি ওর বর।আমি অসুস্থ হওয়ায় ও খুব টেনশনে আছে। ৬দিনেই সুস্থ হয়ে গেলাম অনেকটা।অবশ্য এতে তুলিরও অবদান কম নয়।মনে মনে ভাবছি আজ তুলিকে প্রপোজ করবো।মনের মধ্যে আবার অন্য আরেকটা চিন্তাও ঘুরপাক খাচ্ছে।যদি তুলি রাজি না হয়?আবার মনে হচ্ছে ধুর কী ভাবছি তুলি রাজি হবেনা কেনো?ও আমাকে ভালোবাসে বলেইতো এত কেয়ার করছে।এসব ভাবছি এমন সময় তুলির ফোন :-আসসালামুআলাইকুম।কী করছেন?(তুলি) :-ওলাইকুমআসসালাম।এইতো বসে আছি।আপনি?(আমি) :-আমিও।ওষুধ খেয়েছেন এখন? :-হ্যা।আপনাকে কিছু কথা বলার ছিলো? :-আমি জানি আপনি কী বলবেন।আমি পারবোনা এটা।আমার বাবা মা আমাকে যার সাথে বিয়ে দিবে আমি তাকেই বিয়ে করবো। :-তাহলে এতদিন আমার সাথে কথা বললেন? :-ফ্রেন্ড হিসেবে।এক ফ্রেন্ড কী আরেক ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলতে পারেনা? :-পারে।কিন্তু? :-আজ আমাকে ছেলেপক্ষ দেখতে আসবে।হয়তো আজ বিয়েও হয়ে যেতে পারে।আপনি যদি আমাকে পছন্দ করে থাকেন তাহলে আপনার বাবা মাকে আমাদের বাসায় পাঠান ওরা আসার আগেই।নয়তো আমার কিছু করার থাকবেনা।এখন রাখছি আমার কাজ আছে। তুলি ফোন রেখে দিলো।আমার মাথায় হাজারটা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে।কী করবো? কী করবো? ডাক্তার বউ :Hosain Ahmed(আমি হিমু) - (২য় পর্ব) - আব্বু আম্মুকে তুলিদের বাসায় পাঠিয়েছিলাম কিন্তু তুলির বাবা রাজি হয়নি।তুলির বাবা নাকি অনেক আগেই ওই ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক করে রেখেছিলো।আমার মাথায় কিছু আসছেনা এই মুহুর্তে কী করা উচিত।আব্বু অনেক অনুরোধ করেও তুলির বাবাকে রাজি করাতে পারেনি। :-আব্বু আমি তুলিকে ছাড়া বাঁচবোনা।আমার তুলিকে চাই চাই।(আমি) :-পাগল ছেলে একটা মেয়ে গেছেতো কী হয়েছে।ওর থেকে অনেক ভালো মেয়ে তোর জন্য খুজে নিয়ে আসবো।(আব্বু) :-আমি আর কাউকে চাইনা।শুধু তুলিকে চাই।ওকে না এনে দিতে পারলে আমি মরে যাবো।(অনেকটা আবেগ নিয়ে বললাম) :-বুঝার চেষ্টা কর।তুলির আগে থেকেই বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। আমি আর কিছু না বলে নিজের রুমে চলে আসলাম।খুব কান্না পাচ্ছে।বালিশে মুখ চেপে কান্না করছি।চোখে খুব ব্যাথা করছে।এখনো পুরোপুরিভাবে সুস্থ হয়ে ওঠিনি তাই কান্না করার ফলে এমন হচ্ছে।আমি শুয়ে শুয়ে কান্না করছি এমন সময় তুলির ফোন :-সরি আমি আপনার জন্য কিছু করতে পারলাম না।আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।(তুলি) :-তুলি আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবোনা।আমি সত্যিই মরে যাবো।(আমি) :-দেখুন পাগলামি করবেন না।আমার থেকেও অনেক ভালো মেয়ে পাবেন আপনি। :-আমি ভালো মেয়ে চাইনা শুধু তোমাকে চাই। :-আমি জানতাম না আব্বু আমার বিয়ে ঠিক করে রেখেছিলো।জানলে কখনোই আমি আপনার সাথে কথা বলতাম না।সব দোষ আমার। :-আমার সাথে পালাবে? :-আমি পারবোনা।আমি আমার বাবা মাকে কষ্ট দিতে পারবোনা।তাদের জন্য যদি আমার জীবনটাও দিয়ে দিতে হয় তাতেও আমি রাজি।আপনি আমার থেকে ভালো মেয়ে পাবেন। :-আমার দরকার নেই কাউকে।শুধু তোমাকে চাই। :-আমি রাখছি এখন।আপনার আব্বু আম্মু যাওয়ার পর ছেলে পক্ষ দেখতে এসেছিলো।৩দিন পর বিয়ে।নিজের খেয়াল রাখবেন।ঠিকমত ওষুধ খাবেন। :-আমি কিছুই করবোনা। :-আমাকে আপনি সত্যিই ভালোবাসেন? :-হ্যাঁ। :-আমাকে যদি সত্যিই ভালোবাসেন তাহলে আপনি সবকিছু ঠিকঠাক মত করবেন।আর যদি কিছু না করেন তাহলে বুঝবো আপনি আমাকে কখনো ভালোবাসেন নি। :-প্লিজ এই কথা বলোনা। :-আমি যেটা বলেছি সেটাই।আমাদের ভালোবাসার কসম দিলাম।আপনি যদি সবকিছু ঠিকঠাক মত না করেন তাহলে আমার মরা মুখ দেখবেন। তুলি আমাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ফোন রেখে দিলো।আমি সঙ্গে সঙ্গে ফোন ব্যাক করলাম কিন্তু বন্ধ।আবারো চেষ্টা করলাম এবারো বন্ধ। তুলি তুমি তোমার কসম ফিরিয়ে নাও।আমি সত্যিই তোমাকে ছাড়া বাঁচবোনা।এসব বলছি আর কান্না করছি। কান্না করতে করতে কখন ঘুড়িয়ে পড়েছিলাম জানিনা।আম্মুর ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো।আম্মু আমার সামনে ওষুধ আর পানির গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। :-নে বাবা ওষুধটা খেয়ে নে।(আম্মু) :-আমি ওষুধ খাবোনা।(আমি) :-দেখ পাগলামি করিস না।এখনকার যুগের ছেলেরা এমন করেনা।একটা মেয়ে গেলে কিছুক্ষণ পরেই আরেকজনকে ধরে নেয়।এভাবে শুধু শুধু একটা মেয়ের জন্য কেনো নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবি? :-তুমিতো জানো আমি অন্য ছেলেদের মত না।আমি শুধু তুলিকে চাই আর কাউকেই না। :-তোর বাবা এখনো চেষ্টা করছে।ওষুধটা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়। আম্মুর জোরাজুরিতে ওষুধ খেতে হলো।ওষুধ খাওয়ার পর কেমন জানি চোখটা আটকে আসছে।কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমের দেশে হারিয়ে গেলাম। যখন ঘুম ভাঙ্গলো তখন ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সকাল ৯টা বাজে।মনে হয় আম্মু ওষুধের নাম করে ঘুমের ওষুধ দিয়েছিলো তাই এতক্ষণ এক নাগারে ঘুমিয়েছি। ৩দিন পর। আমি অনেক বদলে গেছি।এখন আর কারো সাথে কথা বলিনা।সারাক্ষণ রুমের দরজা আটকিয়ে বসে থাকি।ভালো লাগেনা কারো সাথে কথা বলতে।তুলির সাথে সেদিনের পর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।আমি ফোন দিয়েছি অনেকবার কিন্তু কখনো ফোন অন পায়নি।নিজের কষ্টগুলোকে ভুলে থাকার জন্য সিগারেট বেছে নিয়েছি।সিগারেটের ধোঁয়া কিছুক্ষণের জন্য হলেও কষ্টটাকে ভুলিয়ে রাখে।আজ তুলির বিয়ে।হয়তো এতক্ষণে বর পক্ষও চলে এসেছে।কিছুক্ষণ পরেই তুলি অন্য আরেকটা মানুষের হয়ে যাবে। আবার কষ্টগুলো বেড়ে যাচ্ছে।সিগারেটের প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করতে গেলাম কিন্তু প্যাকেটে হাত দিয়ে দেখি একটা সিগারেটও নাই।বাইরে গিয়ে আবার আনতে হবে। একটা শার্ট গায়ে জরিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।আমাদের বাসা থেকে দোকান একটু দুরে।আজ রোদের তেজ একটু বেশি বেশিই মনে হচ্ছে। সামনে একটা ছেলেকে দৌঁড়াতে দেখে থমকে দাঁড়ালাম।এতো তুলির ছোট ভাই।তুলির সাথে একবার হাসপাতালে দেখেছিলাম।ও এভাবে কোথায় দৌঁড়াচ্ছে।আমার কাছাকাছি আসতেই ও থেমে গেলো।হাঁপাতে হাঁপাতে বললো :-ভাইয়া ভাইয়া আপু আপনাকে এখনি একবার ডেকেছে। (তুলির ছোট ভাই) :-আমাকে কেনো ডেকেছে তোমার আপু?তোমার আপুর না আজ বিয়ে?(আমি) :-বিয়ে ভেঙ্গে গেছে।আব্বু স্টক করেছে।আপু তাড়াতাড়ি আপনাকে ডেকেছে। :-চলো। আমি আর রনি(তু্লির ছোট ভাই) দুজনে দৌড় শুরু করলাম।১০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম।বাড়ির চারপাশ খুব সুন্দর করে সাঁজানো।কিন্তু এই মূহুর্তে বাড়িটা থমথমে হয়ে আছে।আমি বাসার মধ্যে ঢুকে দেখি সবাই ওঠোনের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে।তুলির বাবাকে একটা চেয়ারে বসিয়ে তুলি চিকিৎসা করছে।আমি গিয়ে তুলির পিছনে দাঁড়ালাম।তুলির পড়নে লাল বেনারসি ভিজে একাকার। মনে হয় ওর বাবার মাথায় পানি দিতে গিয়ে এই অবস্থা হয়ছে। আমি তুলির আম্মুকে জিঙ্গেস করলাম এসব কেমন করে হলো :-ছেলে পক্ষ আগে ৫ লক্ষ টাকা চেয়িছিলো যৌতুক হিসেবে কিন্তু আজ সকালে হঠাৎ করে ১০ লক্ষ টাকা চেয়ে বসে।তোমার আঙ্কেল বলেছিলো ১০ লক্ষই দিবে কিন্তু একটু দেরী হবে।এসব নিয়ে কথা কাটাকাটি হতে হতে হঠাৎ করে উনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।(কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বললো তুলির আম্মু) আমি আব্বুকে ফোন করে তুলিদের বাসায় আসতে বললাম।আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি আজই তুলিকে বিয়ে করবো। রাতের দিকে তুলির আব্বু অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠলো।তুলির বড় ভাইয়ের সাথে কথা বলে আব্বু আম্মু বিয়ের সব ব্যস্থা করে ফেললো।রাতেই আমাদের বিয়ে হলো।কোনো অনুষ্ঠান হয়নি।রাতে তুলিকে নিয়ে বাসায় আসলাম।ও আসতে চাইছিলো না ওর আব্বুকে রেখে কিন্তু ওর ভাইয়েরা পাঠিয়ে দিলো।আমিও একবার বলেছিলাম থাকতে কিন্তু নতুন বউকে শুশুর বাড়িতে যেতে হয় সেই নিয়ম মেনেই তুলিকে আসতে হলো। আমি আর তুলি এখন বাসর ঘরে বসে আছি।ও এখনো কাঁদছে।আমি চেষ্টা করছি ওর কান্না থামানোর কিন্তু পারছিনা। :-ওই তুমি কান্না থামাবে?(আমি) :-নিশ্চুপ। :-কীহলো?প্লিজ কান্না থামাও।সকালেই তোমাদের বাসায় আব্বুকে দেখতে যাবো।এবারতো কান্না থামাও? :-সত্যি নিয়ে যাবেতো? :-হ্যাঁ যাবো। :-মনে থাকে যেনো। :-থাকবে।এবার একটু হাসো।কান্না করলে তোমাকে একদম পেত্নীর মত লাগে। :-আমিতো পেত্নীই। :-দেখেছো আল্লাহ যার সাথে যার লিখে রেখেছে তার সাথেই তার বিয়ে হবে।কেউ এই লেখন মুছতে পারবেনা। :-হুম। :-তবে তোমাকে বিয়ে করে ভালোই হলো ফ্রিতে ডাক্তারের সেবা পাওয়া যাবে। :-তবেরে দুষ্টু দিচ্ছি তোমার সেবা। এই বলপ তুলি আমার বুকে কিল ঘুসি মারতে শুরু করলো।আমিও তুলির সাথে দুষ্টুমিতে মেতে ওঠলাম। ২ মাস পরের কথা। তুলি এখন আমাদের পরিবারের একজন সদস্য।তুলি সকালে হাসপাতালে চলে যায় আর আমি অফিসে।সারাদিন দুজন অফিস করে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরি তবুও দুজনের মাঝে কোনো ভালোবাসার কমতি ছিলোনা।আম্মু হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।আব্বু আগে থেকেই কিছুটা অসুস্থ ছিলো।আম্মুকে অসুস্থ হতে হতে দেখে টেনশনে আব্বুও অসুস্থ হয়ে পড়ে।আমি তুলিকে বলি হাসপাতাল থেকে কয়েকদিনের ছুটি নিতে।ও বলে একজন নার্সকে আব্বু আম্মুর দেখাশুনার জন্য রাখবে।আমি মেনে নিই। এরপর ১সপ্তাহের মত কেটে যায়।আম্মু তবুও সুস্থ হচ্ছেনা।সেদিন রাতে তুলিকে বললাম :-দেখো এভাবে আব্বু আম্মুকে অবহেলা করা আমাদের ঠিক হচ্ছেনা।তুমি কয়েকদিন ছুটি নিয়ে আব্বু আম্মুর পাশে থাকো এরপর আমি কয়েকদিন ছুটি নিয়ে পাশে থাকবো তাহলে আব্বু আম্মু দুজনেই ভালোভাবে সুস্থ হয়ে ওঠবে।(আমি) :-দেখাশুনার জন্যতো লোক আছেই।সুস্থ যখন হচ্ছেনা তখন হাসপাতালে ভর্তি করে দিলেই হবে।(তুলি) :-তুমি থাকতে আব্বু আম্মুকে হাসপাতালে থাকতে হবে এটা বলতে পারলে? :-কেনো খারাপ কিছু বলেছি আমি? :-থাক তোমার আর চাকরিই করতে হবেনা।তুমি কালই রিজাইন দিবে।আমার এত টাকার দরকার নেই।তুমি আব্বু আম্মুর পাশে থাকলেই হবে। :-দেখো এটা নিয়ে আমি নিজেদের মধ্যে ঝামেলা করতে চাইনা।সারাদিন পর এখন আমি অনেক ক্লান্ত ঘুমোতে দাও আমাকে। :-তোমার শুশুড় শাশুড়ি দুজনেই অসুস্থ আর তুমি আরামে ঘুমাতে চাচ্ছো? :-ধুর ভালো লাগেনা।আমি কী করতে পারি উনাদের জন্য?সারাদিন কাজ করে এখনতো আর সারারাত উনাদের জন্য জেগে থাকতে পারিনা।আমিওতো মানুষ।আমারো বিশ্রামেরর প্রয়োজন আছে। :-তুমি শেষ কবে আব্বুকে নিজের হাতে ওষুধ খেতে দিয়েছিলে মনে আছে তোমার? :-আমি আর কেনো কথা বলতে চাচ্ছিনা।তোমার বাবা মাকে তুমি দেখো।আমাকে শান্তিতে ঘুমোতে দাও। এবার আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারলাম না।একটা থাপ্পর বসিয়ে দিলাম তুলির গালে।তুলি গালে হাত দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললো :-তুমি আমাকে গায়ে হাত তুললে?থাকো তুমি তোমার বাবা মাকে নিয়ে।আমি আর এই বাড়িতে থাকবোনা। আমি রাগের মাথায় বলে দিলাম :-যা তুই।এখনি যা। সেই রাতেই তুলি ব্যাগ গুছিয়ে বাপের বাড়ি চলে গেলো।আমার থাপ্পর মারাটা ঠিক হয়নি।পরেরদিন সকালে তুলিকে আনতে গেলাম ওদের বাড়িতে কিন্তু তুলি আমাকে অনেক অপমান করলো ওদের বাসার সবার সামনে।আমি কিছু না বলে চলে আসলাম।আব্বু আম্মু দিনে দিনে বেশি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে তাই ভালো ডাক্তার দেখালাম।ডাক্তার বললো উনাদের ঠিকমত যত্নের অভাবেই দিনে দিনে বেশি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।বাসায় ছোট দুইটা ভাই আছে ওদেরও ঠিকমত আদর যত্ন হচ্ছেনা।আমি তুলির কাছে আবার গেলাম ওকে ফিরিয়ে আনার জন্য।কিন্তু ও এবারো আগের মতই খারাপ ব্যবহার করলো। আর এবার সরাসরি বলে দিবো ও আর আমার কাছে আসবেনা।ডিভোর্স দিয়ে দিবে।আমি এবারো মুখ বুজে সহ্য করে নিলাম সব।এখন আমাকে ভেঙ্গে পড়লে চলবেনা।আমি ভেঙ্গে পড়লে আব্বু আম্মু আর ছোট ভাইদের দেখার কেউ থাকবেনা। -(চলবে) -পরের পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন। -(

@kamal16

গোধুলী বেলায় তুমি গোধূলী বেলায় তুমি পর্ব___০৪ আচ্ছা আমি তোমার শর্তে রাজি।'' '' তাহলে কাল সকাল থেকে সাতদিন শুরু। " আচ্ছা, তবে আবারো বলে দিচ্ছি স্বামীর অধিকার তুমি কখনো পাবে না আমার থেকে।'' '' রাজ মুচকি হেসে বললো,' চিন্তা করো না ওসব কিছু করবো না। এখন ঘুমিয়ে যাও। '' '' ফজরের আযানের সময় রাজ, জয়াকে ডেকে দিতেই জয়া বললো,' আমি নামায পড়বো না আমাকে ঘুমাতে দাও। কেন শুধু শুধু বিরক্ত করো?'' '' জয়া ভুলে যেয়ো না এ সাতদিন আমার কথা মতো চলবে। যাও অযু করে আসো। রাজ জয়াকে অযু করতে পাঠিয়ে দিয়ে নিজেও অযু করে নামায পড়ে নিল। - সকালে জয়া যখন রান্না করছে, তখন রাজ জয়ার সাথে থেকে হেল্প করে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও জয়া এসব সহ্য করে যায়। আর মনে মনে ভাবে সাতদিনই তো। '' - এদিকে প্রতিদিনের মতো, ' রাজ আজকেও অফিস থেকে আসার সময় বেলী ফুলের মালা নিয়ে এসে নিজ হাতে জয়ার খোঁপায় পরিয়ে দেয়! জয়া না করতে পারে না। '' - রাতে জয়া আর রাজ ডিনার করতে বসছে। রাজ খেয়াল করলো জয়া খাচ্ছে না। ' - এই তুমি খাচ্ছো না কেন?'' - হাত কেটে গেছে দুপুরে ফল কাটতে গিয়ে। '' - ওহ্ আচ্ছা তাই বুঝি? আচ্ছা হা করো। '' -না আমি খেতে পারবো। আপনার খাইয়ে দিতে হবে না। '' - এ সাতদিন কোন কৈফিয়ত শুনতে চাই না। হা করো, জয়া রাজের দিকে চেয়ে আছে এক দৃষ্টিতে আর খাবার খাচ্ছে।'' - তিনদদিন খুব ভালো কাটল। তৃতীয় দিন রাজ অফিসে এমন সময় বৃষ্টি নামল! জয়া ছোটবেলা থেকেই বৃষ্টি পাগল। বৃষ্টি শুরু হলেই, জয়া ছাদে গিয়ে ভিজতে লাগে। প্রায় ঘন্টাখানেক ভিজার পর রুমে এসে কাপড় চেঞ্জ করতেই। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এসে যায়! রাজ বাসায় এসেই দেখে জয়া বিছানায় শুয়ে আছে। জয়াকে দু'বার ডাক দিতেও যখন বিছানা থেকে উঠছিল না তখন মাথায় হাত দিয়ে দেখে জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে! রাজ কি করবে বুঝতে পারছে না। কিছুক্ষণ জলপট্টি দিয়ে দেখলো জ্বর কমছে না। তাই আর দেরি না করে রাতেই, হসপিটালে নিয়ে যায়। হসপিটাল দুই দিন রাজ জয়ার পাশেই থাকে। তিনটা দিন এক মুহূর্তের জন্যও রাজ জয়ার চোখের আড়াল হয়নি। জয়াকে খাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে মেডিসিন দেওয়া সব করেছে। দুই দিন পর হসপিটাল থেকে বাড়ি ফিরে আসে। - বাড়ি ফিরার পর রাজ জয়াকে রান্না করতে দেয়নি। এদিকে রাজ রান্না করতে গিয়ে তার হাত পুড়ে ফেলে। এর আগে কোনদিন তো রান্না করেনি সে জন্য। দুপুরে রাজ যখন জয়াকে খাইয়ে দিতে যায়। তখন জয়া খেয়াল করে রাজের ডান হাতে ফুসকা পড়েছে অনেকগুলো। রাজকে জিজ্ঞেস করতেই বলে, ' ওই একটু খানি হাত তেলের ছিটা লেগেছিল। '' তুমি কিছু ভেবো না ঠিক হয়ে যাবে। আর হ্যাঁ তুমি তো গোসল করোনি। আমি পানি তুলে কাপড় রেখে আসছি তুমি গোসল করে আসো। ঠিকমত গোসল না করলে তো শরীর আরো খারাপ লাগবে। - জয়া গোসল করে বের হতেই রাজ বিছানায় বসিয়ে, জয়ার মাথায় চুল আঁচড়ে তেল লাগিয়ে দেয়। জয়ার এসব সহ্য হয়না কিন্তু সহ্য করা ছাড়া এ মুহূর্তে কোন উপায় নেই। আর কয়েকটা দিনই তো মাত্র! আর বাকি দু'দিন জয়া এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। এদিকে জয়ার দিনগুলি যেন যাচ্ছে না। আর মাত্র দু'টি দিন তারপরেই সে জারিফ কে পেতে যাচ্ছে! কিন্তু এ দু'টি দিন জয়ার কাছে দু'টি মাসের সমান লাগছে। - দেখতে দেখতে ছয়দিন চলে যায়। আজকের রাতটা পেরুলেই কাল সকালে অপেক্ষার সাতদিন পূর্ণ হবে। রাজ জয়ার মাথায় হাত বুলাচ্ছে, জয়ার বড্ড রাগ হচ্ছে তবুও কিছু বলছে না। সে নতুন সকালের নতুন একটি সুন্দর ভোরের আশা করছে। যে ভোরে থাকবে না কোন খুনির ছায়া! - এদিকে রাজ জয়ার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললো,' জয়া সত্যিই কি জারিফ আমার চেয়ে তোমাকে বেশি ভালোবাসে?' - রাজ দেখলো জয়া ঘুমিয়ে গেছে। চাঁদের আলো জানালার কাচ ভেদ করে জয়ার মুখে পড়ছে। এমনিতেই রুপকথার রাজকুমারীর মতো দেখতে জয়া, চাঁদের আলোতে আরো বেশি সুন্দর লাগছে। রাজের মন চাচ্ছে জয়ার কপালের চুলগুলো সরিয়ে তার কপালে চুমু এঁকে দিতে। কিন্তু না। - এদিকে জয়ার মাঝরাতে কারো কান্না শুনে ঘুম ভেঙে যায়! জয়া বুঝতে পারে পাশের রুমে কে যেন কাঁদছে। তাড়াহুড়া করে ঘুম থেকে উঠে পাশের রুমে উঁকি দিতেই দেখে রাজ জায়নামাযে বসে মোনাজাত ধরে কান্না করছে আর কি যেন বলছে। - জয়া, একটু মনোযোগ দিয়ে শুনতে পেল। রাজ বলছে,' হে আল্লাহ রাত্রি যতই গভীর হয় ততই তোমার দরজা বান্ধার জন্য উন্মুক্ত হয়। তুমি না শেষ রাতে বান্দার ফরিয়াদ শোনার জন্য শেষ আসমানে আসো। ও আল্লাহ আমি আমার প্রিয়তমা স্ত্রীকে তোমার পথে আনার জন্য, চেষ্টা করেছি। হেদায়াত দানের মালিক তুমি। আমি আমার কর্মের জন্য তোমার কাছে তওবা করছি। ও আমার আল্লাহ তুমি জয়াকে আমার জন্য কবুল করে নাও। '' তুমি তো জানো কতটা ভালোবাসি আমি তাকে। তুমি তো সত্যিটাও জানো। ও আল্লাহ জয়াকে আমার করে দাও।'' -জয়ার কাছে রাজের কান্না অসহ্য লাগছে। তাই তাড়াতাড়ি বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল। - রাজ সারারাত ওভাবেই কাটিয়ে দিল। - সকাল বেলা ভোরের আলো পড়তেই জয়ার ঘুম ভেঙে যায়! ঘুম ভাঙতেই তার খুব খুশি লাগে। আজ থেকে সে মুক্ত। কিন্তু কোথাও রাজকে দেখতে পাচ্ছে না। রাজ কী তাকে ডির্ভোস দিবে না? হঠাৎ খেয়াল করলো টেবিলের উপর ডির্ভোস পেপার। তার পাশেই একটা চিরকুট। জয়া দেখলো ডির্ভোস পেপারে রাজ সাইন করে দিয়েছে। সাইনটা দেখেই ঈদের চাঁদ দেখার আনন্দ হচ্ছে। ডির্ভোস লেটারের পাশে থাকা চিরকুট খুলে পড়তে শুরু করলো ' তোমাকে কি বলে সম্বোধন করবো সে ভাষা আমার জানা নেই, আজ থেকে তোমার প্রতি আমার কোন অধিকার রইল না। আজ থেকে তুমি মুক্তি। তুমি তো এটাই চেয়েছিলে। আজকের পর থেকে আর কেউ বেলী ফুলের মালা নিয়ে এসে তোমাকে বলবে না ভালোবাসি। বলবে না তোমাকে নীল শাড়িতে অনেক সুন্দর লাগে। আর কেউ তোমাকে জোর করে খাইয়ে দিবে না। আর কেউ হয়তো তোমার জন্য হাত পুড়ে রান্না করবে না। বলবে না নামায পড়তে। জানো খুব করে চেয়েছিলাম জান্নাতে তোমাকে নিয়ে একসাথে থাকতে। জানি তোমার রাত্রে উঠতে কষ্ট হতো, তারপরেও সাতটা দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ানোর চেষ্টা করেছি। জানো জয়া আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসতাম, তুমি যতক্ষণ আমার পাশে থাকতে মনে হতো পুরো পৃথিবীটাই আমার পাশে। কিন্তু আমি এ জিনিসটা বুঝতাম না জোর করে ভালোবাসা হয় না। তুমি তো আমাকে ভালোবাসতে একটা সময় কলিজা ছাড়া ডাকতেই না। কিন্তু আজ বুঝতে পারলাম তুমি আমাকে ঘৃণা করো প্রচন্ড ঘৃণা করো। আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো জোর করে তোমাকে বিয়ে করার জন্য। আর হ্যাঁ আজকের পর থেকে বিরক্তিটা আর কোনদিন তোমার সামনে আসবে না। ভালো থেকো। আর হ্যাঁ তুমি না বলেছিলে,' কবুল কবুল কবুল তিনবার বললেই বিয়ে হয় না? ' তুমি হয়তো ভুলে গেছো বিয়ে হয় আল্লাহর পবিত্র কালাম পড়ে। আর পবিত্র কালামের একটা বন্ধন থাকে। এ বন্ধনটাই একদিন তোমাকে খুব করে কাঁদাবে। ভালো থেকো বিরক্তিটা আর তোমার জীবনে আসবে না। - চিঠি পড়া শেষ হলেই, জয়ার চোখের সামনে তার বোনের সুসাইড করার চেহারাটা ভেসে উঠল। জয়া মনে মনে বললো,' যাক অবশেষে খুনির হাত থেকে বাঁচলাম।'' - জয়া ডির্ভোস লেটার টা নিয়ে সোজা জারিফের বাসায় চলে যায়। জারিফের রুমের কাছে যেতেই শুনতে পায়, -আরে কি বলিস ওই বিয়ে করা মেয়েকে আমি আবার বিয়ে করবো? শুনেছি আজ ডির্ভোস নিবে। ভাবছি হোটেলে নিয়ে ব্যবহার করে ছেড়ে দিবো। মেয়েটা সুন্দর তাই একটু বেশিই সময় দিতে হচ্ছে। '' - আরে দোস্ত তুই একলাই খাবি না কি? আমাদের নিবি না? - আরে তোরাও আসিস, আগে আমি যাবো তারপর তোরা। আর হোটেল বুক করার টাকা কিন্তু তুই দিবি।'' -জারিফের কথা শুনে জয়ার পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। জারিফ তাকে নয় তার শরীরটাকে ভালোবাসে। জয়া জারিফের সাথে কথা না বলেই তার বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বাসা থেকে বের হতেই ফোনটা ক্রিং ক্রিং করে বেজে উঠে,' ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একটা মেয়ে বলে, ' আপু আপনি একটু ইবনে সিনা হসপিটালে দেখা করেন। '' - জয়া হসপিটালে গেলে নার্স একটা রোগীর সামনে নিয়ে যায়। বিছানায় শুয়ে আছে মুখে অক্সিজেন মাক্স থাকা সত্ত্বেও লোকটাকে চিনতে ভুল হয় না জয়ার এটা আপুর ফেন্ড হাবীব! - জয়াকে দেখেই হাবীব বললো,' আমি আর বাঁচবো না হয়তো। তাই সত্যিটা বলে যেতে চাই। তোমার আপু সুসাইড করেনি, আমি ধর্ষণ করে মেরেছি। চলবে..... বি:দ্র:^ ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

@kamal16

বস ভার্সিটির-BOSS। পর্ব :০১ মা আসি (আমি)। শোন বাবা কলেজে কারও সাথে মারামারি করিস না (মা)। আচ্ছা মা ঠিক আছে (আমি)। বাইকের চাবি টা নিলাম Start দিচ্ছি start হচ্ছে না। কি ব্যাপার start হচ্ছে না কেনো। বাইকের ট্যাংক টা খুললাম দেখি এক ফোটাও তেল নেই। বুঝলাম ফাহাদ ছাড়া এই কাজটা কেও করেনি।😈😈😈 মা ফাহাদ কোথায়? (আমি)😠 কেনো রে কি হয়েছে (মা)।দেখো ফাহাদ আমার বাইকের সব তেল শেষ করে ফেলেছে ঐ গেছে কোথায় ডাক দাও আজ ওরে পেদাবো (আমি)। না না বাবা এইসব করিস না ফাহাদ ছোট মানুষ কিছু বোঝেনা ওকে মারিস না (মা) । তো কি করবো বলো এখন ভার্সিটিতে যাবো কিভাবে (আমি)। 😩😩😩 আচ্ছা এই নে ১০০ টাকা আজ কোনো একটা CNG দিয়ে চলে বাবা (মা)। তোমার ছেলেকে বলো রেডি হয়ে থাকতে আসছি ভার্সিটি থেকে (আমি)। আচ্ছা এখন যা তো দেরি হয়ে যাচ্ছে যা (মা)। হুম যাচ্ছি (আমি)। ১০০ টাকা নিয়ে বের হয়ে পরলাম। ধ্যাত আজ মেজাজটাই খারাপ এখন CNG দিয়ে যেতে হবে। এই মামা যাবেন (আমি)। হুম উঠেন (CNG)। ভার্সিটির দিকে চললাম।😊😊😊 Sorry sorry আপনাদের তো পরিচয় দিতে ভুলে গেছি। আমি ফাহিম, অনার্স ১ম বর্ষ। পরিবারে বাবা, মা আর ছোট একটি ভাই আছে ফাহাত। ফাহাত দশম শ্রেণীতে পড়ে। মেয়েদের সাথে লাইন মারার ১ নাম্বারের ওস্তাদ। বাবা একজন পুলিশ অফিসার। একটু ঘুষ খায়, তা আমি জানি তবে মনটা অনেক ভালো। 😂😂 আমার কিছু অতীত আছে? যা আগেই আপনাদের মাঝে শেয়ার করি। তাহলে গল্পের মূল চরিএ, মূল ভাব বুঝতে আপনাদের সহজ হবে। গত ২ বছর আগে আমি ছিলাম অপরাধ জগতের মাফিয়া। এক কথায় বলতে গেলে ফাহিম ভাই এর উপরে কোনো মাফিয়া কাজ করতে পারতো না। রাজনীতি আর অপরাধ জগতের চরম সীমানায় ছিলাম। ১৫-২০ বারের মতো জেলে গিয়েছি তবে, বাবার জন্য বার বার বেচেঁ গিয়েছি। বাইক নিয়ে যখন কোনা এলাকায় প্রবেশ করতাম? আমার পোলাইপান এর অভাব ছিলো না। বন্দুক ছিলো শ্রেষ্ঠ সঙ্গি। যেখানেই যেতাম সাথে ২ টা বন্দুক নিয়ে যেতাম। কারণ বুঝেনই তো নেতাদের শত্রুর কোনো শেষ নেই। মা বাবা সব অনেক বুঝাতেন তবু আমি কারও কথা শোনতাম না। একদিন মা আমার জন্য বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। ৭দিন হয়ে যায় তবু মা আন্টির বাসা থেকে আসতে চায় না। আমার এইসব কাজকর্ম মায়ের খুব অপছন্দনীয় ছিলো। মা চাইতো আমি যেনো মানুষের মত মানুষ হই। আমি গেলাম আন্টির বাসা থেকে মা কে আনতে কিন্ত?মা কোনোমতেই আসতে চায় না?যাবো তবে একটা শর্তে (মা)। তুমি বলো তোমার যেকোন শর্তে রাজি আছি (আমি)। আমার মাথা ছুয়ে তুই প্রতিঙ্গা কর কোনোদিন তুই রাজনীতি করবি না,কোনোদিন তুই মারামারি করবি না (মা)। মায়ের কথা শোনে খুবই অবাক হলাম,,,, এখন কি করবো ভাবতে পারছি না। ১০ মিনিট চিন্তা করার পর আচ্ছা তুমি যা বলবে আমি তাই করবো (আমি)। এই বলে মায়ের মাথা ছুয়ে প্রতিঙ্গা করে ফেললাম। আর মা কে নিজের বাসায় নিয়ে আসলাম। ২ দিন পর মায়ের কথা আবার ভুলে যাই। আর রাজনীতিতে আবার চলে যাই। আমার মনে হতো রাজনীতি যেনো আমার রক্তের সাথে মিশে গেছে। কোনোমতে মা? আমি রাজনীতিতে জড়িয়েছি এটা টের পেয়ে গেলো। এবং মা বিষ খেয়ে আত্নহত্যা করতে চাইলো। আমি তখন বাসার বাইরে। সন্ধ্যার সময়? 😦😦😦 হ্যালো ভাইয়া তুই কোথায় মা বিষ খেয়ে ফেলছে কেঁদে কেঁদে (ফাহাদ)। কি বলিস তোরা এখন কোথায় (আমি)। আমরা মেডিকেলে আছি তুই তাড়াতাড়ি আয় (ফাহাদ)। কি করবো বুঝতে পারছি না,,,, মনে হচ্ছিল পাগল হয়ে যাবো এমন অবস্থা,,,, বাইকে ফেলে রেখে দিলাম এক দৌড়ঁ মাথা কাজ করছে না। অবশ্য হাসপাতালটা কাছেই ছিলো। 😞😞😞 ১০মিনিটে পৌছে গেলাম। দেখি বাবা আর ফাহাদ বসে বসে কাদঁছে। ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে গেলো।😶😶😶 ফাহাদ মা কোথায়? (আমি)। কেঁদে কেঁদে ভাইয়া মা মনে হয় আর বাচঁবে না (ফাহাদ)। এখন ভয়ে হাত পা ঠাণ্ডা হতে লাগলো। আগে বল মা কোথায় (আমি)। মা কে ICU তে নিয়ে গেছে ডাক্তার (ফাহাদ)। তুই এখান থেকে চলে যা, তোর জন্য তোর মায়ের আজ এই অবস্থা, তোর মত ছেলে থাকার চেয়ে না থাকা অনেক ভালো (বাবা)। বাবাকে কি বলবো কোনো ভাষা নেই? মাথা নিচু করে দাড়িঁয়ে রইলাম। নিজেকে আজ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অপরাধী বলে মনে হচ্ছে। 😭😭😭 মা যদি মারা যায়? তাহলে আমি বেচেঁ থেকে কি করবো। মনে মনে ভাবছিলাম আমিও চিরবিদায় নিয়ে নিবো। বাহিরে দাড়িয়ে দাড়িঁয়ে কাদছি। রাত ১০টার সময় খবর আসলো মা একটু সু্স্থ আছে। আমার সব অঙ্গ প্রতঙ্গ যেনো নতুন জীবন ফিরে পেলো। মাকে দেখার জন্য পাগল হয়ে গেলাম? বাবা আর ফাহাদ আগেই দৌড়েঁ ডুকে পরলো। আমি ডুকবো এসময়? তোমার ছেলেকে বলে দিয়ো ও যেনো আমার সামনে না আসে (মা)। এবং সাথে সাথে বাবা আমাকে ভিতরে ডুকতে দিলো না। মা কে একটু দেখবো সেই সুযোগটাও নেই। বুকের ভেতরটা যেনো জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে। তবুও আমি বাহিরে দাড়িঁয়ে আছি যদি মাকে একবার দেখতে পারি। এভাবে প্রায় ৩দিন হয়ে গেলো তবুও আমি এক পা এদিক সেদিক হয়নি। না খেয়ে না ঘুমিয়ে দাড়িঁয়ে আছি মা কে একটি বার দেখবো বলে। 😔😔😔 অবশেষে মা আমাকে ডাকছে? ফাহিম বাবা এইদিকে আয় (মা)। মায়ের ডাক শোনে আমি পাগলের মতো ছুটে গেলাম। মায়ের সামনে মাথা নিচু করে দাড়িঁয়ে রইলাম কোনো কথা বের হচ্ছে না। এইদিকে আয় বাবা (মা)। মা তুমি আমাকে মাফ করে দাও আমি আর কখনো তোমার কথার অবাধ্য হব না (আমি)। 😫😫😫 মায়ের মন সব সময় নীরিহ থাকে, সহজেই সন্তানকে হ্মমা করে দিতে পারে। দেখ বাবা তোরা দুই ভাই যদি ভালো মানুষ না হতে পারিস তাহলে আমি মরেও,শান্তি পাবো না (মা)। ঐ দিন মায়ের কাছে প্রতিঙ্গাবদ্ধ হলাম জীবনে আর কোনো খারাপ কাজ করবো না। তারপর আমরা সবাই ঐ শহর ছেড়ে চলে আসি। যেনো কেউ খুজে না পায়। একধম রাজনীতির মূল কেন্দ্র ছেড়ে। আর কেউ খুঁজে পায় নি আমায়। 😖😖😖 এখন একটা ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি । আজ ১০তম দিন ভার্সিটিতে যাচ্ছি। 😋😋😋 পরিচয় পর্ব শেষ। আসা করি গল্পটা এখন আপনারা বুঝতে পারবেন। আমি সত্যিই দুঃখিত এতো বড় পরিচয় পর্বের জন্য। তবে আমি চাই আপনারা যেনো গল্পের সব অংশ বুঝতে পারেন। তবে আমার লেখা স্বার্থক হবে।💚💚💚 এবার মূল গল্প। একটাCNG দিয়ে ভার্সিটিতে পৌছালাম। মাএ ১০ দিন হয়েছে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি তেমন কোনো বন্ধু-বান্ধব নেই। তবে মাএ একজন বন্ধু আছে পিয়াস। প্রথমদিন ওর সাথে আমি পরিচিত হই। আর ঐ আমার একমাএ বন্ধু। ক্লাস শেষ করে আবার বাসায় চলে আসলাম।💪💪💪 তারপর থেকে আমি একটু অসুস্থ ছিলাম ৪-৫ দিন ভার্সিটিতে যেতে পারি নি। একটু সুস্থ হলাম। আবার ভার্সিটিতে বের হবো এমন সময়? হ্যালো দোস্ত কই তুই (পিয়াস) । আমি তো বাসায় ভার্সিটিতে যাচ্ছি? তুই কোথায় (আমি)। দোস্ত আমি বাসায় কয়েকদিন ভার্সিটিতে যাবো না (পিয়াস) । 👽👽👽 যাবি না কেনো,কি হয়েছে? (আমি)। আরে বেটা আর বলিস না ভার্সিটিতে একজন Bossএসেছে তাও আবার মেয়ে চলবে..👇👇👇

@kamal16

অপরিচিতার প্রেমে গল্পঃ অপরিচিতার প্রেমে পর্ব_০১ ক্লাস শেষ করে বের হচ্ছি এমন সময় একটা পিচ্ছি এসে আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দেয়৷ তারপর এক দৌড় দিয়ে চলে যায়৷ আমি চিরকুট টা খুললাম। তাতে লেখা "" এই যে মি. জানেন আপনাকে আমার অনেক ভালো লাগে। """ এটা পড়ে আমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম, কার চিরকুট কে জানে। আমাকে দিবে না এটা সিউর। মনে হয় বাচ্ছাটা ভুল করে আমাকে দিয়ে চলে গেছে। ইস বেচারি ওর মনে কথাটাও বলতে পারেনি। যাইহোক চিরকুট টা পকেটে নিয়ে বাসার দিকে রওনা দিলাম। চিরকুট নিয়ে রাখলাম কালকে আসলে যদি পিচ্ছিটাকে পাই তাহলে ওরে আবার দিয়ে দিবো। এবার চলেন আপনাদের পরিচয় টা দিয়ে দিই, আমি নীল। অনার্স স্টুডেন্ট। ব্যাচেলর থাকি। আব্বু আম্মু বাড়িতেই থাকে। মধ্যবিত্ত পরিবার হওয়ায় টিউশনি করিয়ে নিজের খরচ নিজেই চালাই। আর সামান্য কিছু বাড়িতে পাঠাই। এইভাবে কোনোমতে দিন যাচ্ছে। পরিচয় দিতে দিতে বাসায় চলে আসছি। রাতের বেলা চিরকুট আবার খুলে দেখলাম। ভালোই লাগছে, কে সেই ভাগ্যবান আল্লাই জানে। ইসস আমাকেও যদি কেউ এইভাবে চিরকুট দিতো। ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে গেলাম। পরের দিন ঘুম থেকে উঠে টিউশনি করিয়ে কলেজে গেলাম। বার বার এদিকওদিক তাকাচ্ছি যদি পিচ্ছিটাকে খুজে পাই, তাহলে চিরকুট টা দিয়ে দিবো। কিন্তু না পিচ্ছির কোনো দেখাই নাই,,, ক্লাসে চলে গেলাম, দেখলাম শাকিল আগে থেকেই বসে আছে। শাকিলঃ কিরে এতো দেরি করলি যে? আমিঃ টিউশনি থেকে আসতে দেরি হয় গেছে৷ শাকিলঃ ওহ। আমিঃ রাফাত আসেনি এখনো? শাকিলঃ না, আমি তো ভাবছি তোর সাথে একসাথে আসবে। আমিঃ দাঁড়া কল দিয়ে দেখি। তারপর রাফাতকে কল দিলাম। কিছুক্ষণ পর রাফাতও আসলো। কয়েকটা ক্লাস করে ক্যান্টিনে গিয়ে কিছুক্ষণ আড্ডা দিলাম, তারপর বেরিয়ে গেলাম। কলেজের গেইটের সামনে আসার পর শাকিল বাইক বের করলো। রাফাত গিয়ে প্রথমে বসলো। তারপর আমি বসতে যাবো এমন সময় আজকেও একটা পিচ্ছি এসে একটা নীল কালারের চিরকুট আমার হাতে দিয়ে দৌড় দেয়। বাইবে বসে যাওয়ার কারনে ওরে আর ধরতে পারিনি। আমি চিরকুট টা পকেটে নিয়ে নিলাম। তারপর আমরা দিঘীর পাড়ে গিয়ে বসলাম। নানান রকম ক্যাপলদের প্রেম ভালোবাসা উপভোগ করতেছি৷ হঠাৎ করে চিরকুট টার কথা মনে পড়লো, বের করলাম। ওটাতে লেখা "" এই যে মি. নীল কালারের শার্টে আপনাকে সুন্দর দেখায়"" আমি আমার নিজের গায়ের দিকে তাকিয়ে দেখলাম আমিও নীল কালারের শার্ট পড়ে আছি। অবাক হয়ে বসে রইলাম। তাহলে কি আমাকে টার্গেট করেই কেউ এগুলো দিচ্ছে? এক দিন ভুল হবে, সব সময় তো আর ভুল হবে না। রাফাত আমার হাত থেকে চিরকুট টা নিয়ে পড়লো। রাফাতঃ কিরে এইটা কি? আমিঃ একটা চিরকুট। রাফাতঃ কে দিছে? আমিঃ জানি না, একটা পিচ্ছি এসে দিয়ে গেছে৷ শাকিলঃ দেখি দেখি। রাফাতঃ এই নে। শাকিলঃ "" আপনাকে নীল শার্টে সুন্দর লাগে।"" এই কেরে মেয়েটা? আমিঃ দোস্ত আমি সত্যিই জানি না। জানিস গত কালকেও একটা দিয়েছে। রাফাতঃ কি বলিস আমাদের কে তো কিছুই বলিস নি। আমিঃ আমি ভাবছিলাম কেউ ভুল করে আমাকে দিয়ে দিছে তাই আর বলিনি। শাকিলঃ কি লেখা ছিলো ওটাতে? আমিঃ এই যে মি. আপনাকে খুব ভালো লাগে। রাফাতঃ মামু তোর তো হয়ে গেছে। তোর উপর কেউ ক্রাশ খেয়ে বসে আছে। আমিঃ আরে না, হয়তো ভুল করে কেউ আমাকে দিচ্ছে। শাকিলঃ শালা ভুল কি মানুষ সব সময় করে? আর আজকের লেখাটা তো তোর গায়ের শার্টের সাথে মিলে গেছে। আয়োজন হুম সেটাই তো। আচ্ছা বাদ দে, আরো কয়েকদিন দেখ। আমার মনে হয় তোকে কেউ পছন্দ করে। আমিঃ আরে ধুর আমাকে কে পছন্দ করবে? রাফাতঃ কেন করতে পারে না? আমিঃ পারে, বাট এতো ছেলে থাকতে আমাকে কেন করবে? রাফাতঃ আচ্ছা বাদ দে। চল বাসায় চলে যাবো। আমিঃ হুম, তাড়াতাড়ি চল। আজকে বুয়া আসবে না। রান্না করতে হবে। তারপর শাকিল আমাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে সে বাসায় চলে যায়। রাতের বেলা কিছুক্ষণ পড়লাম, ভালো লাগছে না দেখে হুমায়ুন আহমেদ এর একটা গল্পের বই নিয়ে বারান্দায় গেলাম। একটা চেয়ারে বসে পড়তেছি এমন সময় একটা মেসেজ আসলো। আমি ভাবছি সিম কোম্পানি গুলোর। খেয়াল না করে পড়ার দিকে মন দিলাম। ২ মিনিট পর আবার আসলো। এরপর মোবাইল টা নিয়ে দেখি একটা নতুন নাম্বার থেকে মেসেজ আসছে। ১ম মেসেজঃ কি ব্যাপার মন খারাপ নাকি? ২য় মেসেজঃ কোনো সিম কোম্পানি থেকে মেসেজ আসেনি আমিই দিয়েছি। মেসেজ গুলো দেখে আমি কিছুটা অবাক হয়ে গেলাম৷ তারমানে সত্যিই আমার সাথে এগুলো হচ্ছে। আমি তাড়াতাড়ি ওই নাম্বার টাতে কল দিলাম। কিন্তু ব্যস্ত দেখাচ্ছে,,, পরে আমিও একটা মেসেজ দিলাম। "" কে আপনি?? কিন্তু কোনো রিপ্লে আসলো না। যাইহোক খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে কলেজে গেলাম। গিয়ে দেখি রাফাত শাকিল বসে আছে,,,, রাফাতঃ কিরে আসছস। আমিঃ হুম। শাকিলঃ চলে ক্লাসে যাই। আমিঃ নারে আজকে ক্লাস করতে ইচ্ছে করছেনা, চল লাইব্রেরিতে গিয়ে বসি৷ রাফাতঃ কি হইছে তোর? আমিঃ.... (কালকে রাতের ঘটনাটা বললাম) রাফাতঃ তারমানে তোকে কেউ ফলো করছে। শাকিলঃ কিন্তু তোর নাম্বার ফেলো কোথায়? আমিঃ সেটাই ভাবছি। এমন সময় আরো একটা মেসেজ আসলো। আমি তাড়াতাড়ি করে মোবাইল বের করলাম। চেক করে দেখি ওটাতে লেখা,,,, "" এই ক্লাস করবেন না, ওই দুই হারামির সাথে থাকলে আপনিও হারামি হয়ে যাবেন। "" আমি মেসেজটা রাফাত শাকিল কে পড়ে শুনালাম। রাফাতঃ তারমানে ও আমাদের আশেপাশে আছে। শাকিলঃ এই বাইরে চল তো। তাড়াতাড়ি। আমরা তাড়াতাড়ি করে বাইরে চলে আসলাম। অনেক খোঁজা খুঁজির পরও কাওকে দেখলাম না। সবাই যে যার মতো ব্যস্ত। অতঃপর আমরা ব্যর্থ হয়ে আবারও লাইব্রেরিতে চলে আসলাম। কিছুক্ষণ ওখানে থেকে বাইরে চলে যাবো এমন সময় রাফাত ফিদা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমিঃ কিরে কি হইছে তোর? রাফাতঃ দোস্ত রাত্রি আসছে। আমিঃ কোন রাত্রি ? শাকিলঃ আমাদের ডিপার্টমেন্টের রাত্রি নাকি? রাফাতঃ হুম। আমিঃ ও আসছে তো কি হইছে? রাফাতঃ জানিস ওরে দেখলে আমার ভিতরে লাড্ডু ফুলে। ওর গাল দুটো টেনে দিতে ইচ্ছা করে। শাকিলঃ শুধু তোর না, ও এই কলেজের মোটামুটি সবার ক্রাশ।সিনিয়ররা সবাই ওর পিছে পিছে ঘুরে। খামোখা সময় নষ্ট না করে চল। বাইরে আসলাম। এসে যেই গেইটের সামনে গেলাম, তখনি একটা পিচ্ছি এসে চিরকুট আমার হাতে দিয়ে চলে গেলো, আমি চিরকুট টা না পড়ে এক দৌড় দিয়ে ছেলেটাকে ধরলাম। আমিঃ ওই দাঁড়া!! ছেলেঃ জ্বি ভাইয়া বলেন। আমিঃ তোকে এইটা কে দিছে? ছেলেঃ একটা আপু দিছে৷ আমিঃ কোন আপু? ছেলেঃ আমি উনাকে ছিনি না। উনি আমাকে ৫০ টাকা দিয়েছে৷ তারপর বললো এইটা আপনাকে দিয়ে দৌড় দিতে। আমিঃ ওরে দেখলে ছিনবি? ছেলেঃ না উনি হিজাব পড়া ছিলো। আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে যা। ছেলেটা কে বিদায় দিয়ে আমি চিরকুট টা পড়লাম। * **এই প্রতিদিন একটা শার্ট পড়েন কেন?** * শুধু এতো টুকুই লেখা। তারপর রাফাত শাকিলের কাছে চলে আসলাম। ওদের সাথে বেরিয়ে গেলাম। রাতে পড়তেছি এমন সময় সেই আগের নাম্বার থেকে মেসেজ আসলো। * **আমি আপনাকে ২ টা শার্ট কিনে দিবো** * আমি রিপ্লাই দিলাম। **কেন, আমি ফকির নাকি? যে আপনার দেওয়া শার্ট পড়বো?** ও রিপ্লাই দিলো,, **আর একবার কথা বললে মেরে পানিতে ফেলে দিবো, যেটা বলছি সেটা।** আমি সাথে সাথে কল দিলাম, কিন্তু না কল যাচ্ছে না। সকালবেলা ঘুমিয়ে আছি এমন সময় আমার রুমমেট + বন্ধু রিয়াদ আসলো। রিয়াদঃ ওই নীল ওঠ। তোর পার্সেল আসছে। আমিঃ আমার আবার কিসের পার্সেল? রিয়াদঃ আমি কেমনে জানি, খুলে দেখ। আমি তাড়াতাড়ি করে খুলে দেখলাম ওটাতে দুইটা শার্ট আছে। বুঝতে বাকি রইলো না কালকে রাতের কথাটা ও রেখেছে। কিছুক্ষণ পর একটা মেসেজ আসলো,, **আজকে এখান থেকে একটা পড়ে কলেজে আসবেন** আমিঃ দোস্ত তোকে এই টা কে দিলো? রিয়াদঃ একটা ছেলে দিয়ে গেছে। আমিঃ ছেলেটাকে ছিনিস? রিয়াদঃ আরে না, পিচ্ছি একটা ছেলে এসে দিয়ে গেছে। আর বলছে এইটা নীল কে দিবেন। আমিঃ ওহ। রিয়াদঃ কেসটা কি? আমিঃ কিসের কেস? রিয়াদঃ আমার সাথে মিথ্যা বলিস না। আমিঃ আচ্ছা বলছি শোন...(পুরো ঘটনা শেয়ার করলাম) রিয়াদঃ তলে তলে এতো টুকু করে ফেলেছিস অথচ আমাকে কিছু বললিও না। আমিঃ আমি ভাবছি হয়তো ভুল করে দিয়েছে, তাই বলনি। তবে তোকে আর আবিরকে এমনিতেই আজকে বলতাম। রিয়াদঃ আচ্ছা আজকে কলেজে যাবি না? আমিঃ হুম। আচ্ছা ফ্রেশ হয়ে আসি। তারপর ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে ওখান থেকে একটা শার্ট পড়ে কলেজে চলে গেলাম। কলেজের গেইট দিয়ে ঢুকার সময় আবারও মেসেজ আসলো৷ "" বাহ! খুব সুন্দর লাগছে। "" তারমানে আমার আশেপাশেই আছে। আমি তাড়াতাড়ি করে আশেপাশে খুঁজতে লাগলাম। গেইটের দিকে তাকাতেই.... wait

@kamal16

কৃতকর্মএর ফল আজ ১০বছর পর আরফানের পরিবারের সাথে কোর্টে দেখা।সবাইকে কেমন জানি বিষন্ন লাগছে। আরফানের বাবা অহংকারী বদমেজাজি লোকটা আজ কেমন জানি শান্ত হয়ে গেছে, দেখে মনে হচ্ছে তার মধ্যে প্রাচুর্যের অহংকার এখন আর নেই সব ধুলোয় মিশে গেছে। আরফানের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। দূরে দাঁড়িয়ে কাঁদছে অনামিকা আরফানের বোন।সুন্দর চঞ্চল, মেয়েটার সেই দেমাগি মুখটা আর নেই।শুকিয়ে চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে দেখে মনে হচ্ছে অনেকদিন ঘুমায় না,বেশিরভাগ সময় নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে না।আমাকে দেখা মাত্রই তারা সবাই থমকে দাঁড়ায়। আমি রিদুয়ানা। পেশায় আমি উকিল।আরফানের সাথে ১০বছর আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে সবার অমতে বিয়ে করি।তখন সবেমাত্র কলেজে পড়ি আমি।আরফানের কাছে ওর পরিবার সম্পর্কে সুনাম শুনেছি।আমি দেখতে তেমন সুন্দর না, কালো খাটো,মোটা।তবুও আরফান আমাকে খুব ভালোবাসতো।আরফানের বাসায় আমাকে নিয়ে যায়,যেহেতু বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিলাম পড়নে ছিলো আমার কমদামি জামা।আরফানের বাড়ির দরজার সামনে আমাকে ৬ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়,বাড়ির ভেতর থেকে চেচামেচির শব্দে বুঝতে পারতেছিলাম আরফানের উপর দিয়ে ঝড় ভয়ে যাচ্ছে। আরফানের চাচী এসে আমাকে ভিতরে নিয়ে যায়। কেউ আমাকে দেখতে আসেনি,সবার যার যার ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে বসে থাকে। ঘরের কোনায় বসে কাঁদতে লাগলাম,তখন পরিবারের প্রত্যেকটা মানুষকে খুব মনে পড়ছিলো।এদিকে আরফান কোথায় জেনো চলে গেলো।পরেরদিন সকালে আমার শাশুড়ী আরফানের মা আমাকে বাড়ির কি কি কাজ করতে হবে বুঝিয়ে দিয়ে গেলো।বাড়িতে ১জন কাজের মহিলা ছিলো আসার জন্য না করে দেওয়া হলো।রান্না করা,ঘর মুছা,কাপড় ধোয়া সব আমি একাই করতাম।মাঝে মধ্যে একটু বিশ্রামের জন্য ঘরে আসলে আরফানের বোন অনামিকা বলতো আমি নাকি কালো বেটে মহিষ,কাজ কাম না করার জন্য ফয়দা খুঁজি।অনামিকা সারাদিন রুপ চর্চা নিয়ে আর মোবাইল নিয়ে বসে থাকতো।আরফান তখন কোনো চাকরি করতো না,তাই আরফান সারাদিন চাকরি খোঁজার জন্য বাইরে বাইরে ঘুরতো।বাড়িতে আসলেই আমার নামে তার মা আর বোন নানা রকমের অভিযোগ করতো।তা শুনে আরফান খুব বকাবকি করতো আমায়।তখন আরফানের চোখে আমার জন্য ভালোবাসা খুঁজে পেতাম না। ৬মাস পর আমি প্রেগন্যান্ট হই।বাড়ির সবাই খুশি হলেও আরফানের বাবা খুশি হয়নি।কারণ বাচ্চা হলে নাকি আমার মতই কালো খাটো হবে।সেদিন নিজেকে মেরে ফেলতে ইচ্ছে করছিলো।আরফানের চোখে আমি সুখ দেখতে পেতাম। সে এখন তার বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করে। ২মাস পর আমার বাচ্চা টা নষ্ট হয়ে যায়। চলবে ১ম পার্ট

@kamal16

Dr ferodus আমেরিকান প্রবাসীদের প্রিয় মুখ মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। নিউইয়র্কের এই করোনাযোদ্ধা #ডাঃ_ফেরদৌস খন্দকার বাংলাদেশের ক্রান্তিকালে ছুটে আসছেন। নিউইয়র্কের করোনা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে, আর বাংলাদেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে। জন্মভূমির এমন পরিস্থিতিতে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। একটি চিকিৎসক দল নিয়ে আজ শনিবার বিশেষ একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন। এবার নিজ দেশের মানুষকে করোনা থেকে বাঁচানোর যুদ্ধে শামিল হবেন। Thank You Dr. Ferdous ♥ আপনার মতো একজন সাহসী যোদ্ধা বাংলাদেশে খুব প্রয়োজন। আপনাকে স্বাগতম প্রিয় জন্মভুমি বাংলাদেশে।। We Salute you.....

@kamal16

পরিবর্তন সকালে ঘুম ভেঙে দেখি আমার স্ত্রী পাশে নাই। ভাবছি হয়তো ওয়াশ রুমে গেছে। চোঁখ বন্ধ করেই শুইয়ে আছি। কয়েকটা ডাক দিলাম, কোন সাড়া নাই। আমি ডাক দিয়ে বললাম, আজকে আমার অফিস নাই ছুটি নিয়েছি। শরীরটা ভালো নাই। নাস্তা দেরী করে বানিয়ো। কোন উওর নাই। আমি আবার ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। হঠাৎ শুনতে পাচ্ছি কেউ সুন্দর করে কোরআন তেলওয়াত করছে। আমি একটু ভাবনার ভিতর পড়ে গেলাম। ঘরে আমার বউ আর আমিই থাকি। তাহলে কোরআন কে পড়ছে? আমি বিছানা ছেড়ে উঠে গেলাম পাশের রুমে। দেখে বড়সড় একটা শখ খেলাম। চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। শুনছি কি সুন্দর করে কোরআন পড়ছে সে। আমার মনটা জুড়ে গেলো। নিজের রুমে বসে ভাবছি, ইরা এত সুন্দর করে কোরআন পড়তে পারে, আগে জানতাম না। আর আজকে ফজরের নামাজও পড়ছে! যে মেয়ে কিনা সকাল ৭'টার আগে ঘুম থেকে উঠে না। আজকে ফজরের নামাজ পড়ছে। আমি বসে বসে হিসাব মিলাতে পারি না। ইরা রোজার মাস ছাড়া নামাজ পড়ে না। রোজা রাখে আর যোহর, আছর,মাগরিব পড়ে। এশা, ফজর পড়তো না। প্রতিদিন সকালে অফিসে যেতে একবার ঝগড়া হয়ই। কোনদিন চায়ে চিনি কম, কোন দিন রুটি কাঁচা থাকে, কোনদিন তরকারিটা ভালো হয় না। এইসব কিছু জানতে চাইলেই ঝগড়া শুরু। আর বলতে শুরু করে, আমার মতো ছেলের সাথে বিয়ে হয়েই জীবন শেষ তার। তাকে গহনা দিতে পারি না,ভালো বাড়িতে রাখতে পারি না, কোন স্বাদ-আল্লাদ পুরুন করতে পারি না। আমিও মাঝে মাঝে ভাবি কেমন মেয়ে বিয়ে করলাম। না আছে ভালবাসা, না আছে কোন সাপোর্ট। ঝগড়া লেগেই থাকে সারাক্ষণ। রাতে পাশাপাশি ঘুমানো ছাড়া আর কিছু নাই। আজ মনে হয় ঝগড়া করবে না।মন ভালো মনে হচ্ছে। আমি আবার চুপচাপ শুয়ে পড়লাম। প্রায় ঘন্টারখানিক পর। _উঠে নাস্তা করে নাও। তারপর আবার ঘুমাও যেহেতু অফিস নাই। _তুমি টেবিলে নাস্তা দাও। আমি উঠে ফ্রেশ হয়ে আসতেছি। একটু পরই টেবিলে গিয়ে দেখি চা, বিস্কুট আর কিছু নাই। আজ কেনো জানি রাগ হচ্ছে না। _তোমার শরীর খারাপ নাকি? নাস্তা বানাও নাই যে? _না, কোরআন পড়ে চা বানাতেই কেমন জানি লাগছে। _তাহলে হাসপাতালে নিয়ে যাই। _এখন ঠিক আছি। লাগবে না ডাক্তারের কাছে যাওয়া। _আমাকে ডাক দিলে নাস্তা বানিয়ে দিতাম। _থাক লাগবে না। একটা হাসি দিয়ে বললো। আজকে ইরাকে কেনো জানি সহজ সরল মনে হচ্ছে। ঝগড়া নাই, কিছু নাই। আজকেই মনে হচ্ছে ভালবেসে বিয়ের করার পর একটা সকাল ভালো ভাবে গেলো। বিয়ের আগে কত স্বপ্ন দেখতাম তার সব আশা পুরুন করবো। কপালই খারাপ কম বেতনে চাকুরী করি। কোন রকমই সংসার চালাই। আমি নাস্তা করে রুমে এসে ল্যাপটপ নিয়ে বসলাম। কিছুক্ষণ পরই আসলো ইরা। _বিরিয়ানী রান্না করবো? তোমার তো খুব পছন্দ বিরিয়ানি। _না, থাক। শরীর খারাপ তোমার। আমরা বাহিরে গিয়ে খাবো। তারপরও রান্না করবে বলতেছে। আমিও বললাম করো পারলে। সে হাসিমুখে চলে গেলো। আজকে ইরার কি হলো এত ভালোবাসা, চুপচাপ থাকা। সকাল ১০টার আগেই রান্না শেষ। আমাকে বললো বিরিয়ানি খেতে। বিরিয়ানিতে লবন কম। আর তেমন ভালো করেও রান্না করতে পারে নাই। তারপর খেয়ে নিলাম পেটভরে। আজকে আর কিছু বললাম না। এটায় ভালবাসা দেখছি, তাই যা দিয়েছে সেটায় স্বাদ খোঁজে ফেলাম ভালবাসার। ইরা নিজেই খেয়ে বুঝতে পারছে। টেবিলে দু'জন খেতে বসছি। _লবন কম হয়ে গেছে, তাই না? (ইরা) _ না, ঠিক আছে। তোমার মুখে হয়তো সমস্যা। আমার কাছে ভালো লাগলো। _হবে হয়তো। আমি চুপচাপ খেয়ে রুমে এসে বসে ভাবছি মেয়েটার এত পরিবর্তন কি করে? আজ মন চাচ্ছে একটু ভালবাসা দরকার। ইরাকে বললাম আমরা ঘুরতে যাবো। সেও রেডি হয়ে নিলো। বাসার কাছেই একটা পার্ক আছে। ওটা গিয়ে দুজন কয়েক ঘন্টা ঘুরলাম। ঘাসের উপর বসে দুজন অনেক গল্প করে দুপুরেই বাসায় ফিরে আসলাম। আজকে কেনো জানি দুজনের মনই ভালো। যোহরের আজান দিলে নামাজ পড়ে নিলাম দুজনেই। খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। আসরের সময় ইরা ডেকে তুলে দিলো। নামাজ পড়তে মসজিদে গেলাম। মসজিদ থেকে বের হয়ে চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরলাম মাগরিবের নামাজ পড়ে। এসে দেখি ইরা কোরআন পড়ছে। রাতে এশা পড়ে দুজন খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম। আজকের দিনটা কেমন করে কেটে গেলো। আজ আর একবারও ঝগড়া হয়নি। অন্য দিন সকালে অফিসে যাওয়ার আগে ঝগড়া করে বের হতাম। রাতে ফিরে খাবার খেয়েই শুয়ে পড়তাম। সকালে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে নাস্তা করে অফিসে চলে গেলাম। আজ আর ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে বাসায় কিছু রেখে আসছি। বিয়ের ১বছর কেটে গেলো আজই মনে হচ্ছে ভালবাসাটা দুজনের ভিতর বাহিরে আসতছে। দুপুর হতেই কল আসলো। _তুমি খাবার খেয়েছো? নামাজ পড়ে নিয়েছো?(ইরা) _হুম, তুমি? _আমিও। নিজের খেয়াল রেখো। ইরার কলটা কেটেই মনটা কেমন শান্ত হয়ে গেলো। বউয়ের সাথে কথা, ভালবাসা এত মধুর হয় জানা ছিলো না। এজন্য আল্লাহ বলছে জান্নাতের একটু সুখ জীবন সঙ্গীর ভিতর দিয়ে দিছে। আসলে আমরা সেই সুখটা বের করতে পারি না। তাইতো সংসার জীবন তেঁতো লাগে । সারাদিন অফিস করে বাসায় গিয়ে দেখি বউ খাবার নিয়ে বসে আছে। অন্য দিন নিজে খেয়ে শুয়ে থাকতো। আমি নিজে খেয়ে নিতাম কোনদিন, কোনদিন খেতাম না। আমি ফ্রেশ হয়ে খাবার খেতে বসলাম। ইরাও বসলো খেতে। ইচ্ছে করছে তাকে খাইয়ে দেই। আমি বললাম, তোমায় খাইয়ে দেই। সে মাথা নেড়ে সায় দিলো। আমি নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছি। ওর মুখে কত হাসি। আমি সারাদিন কাজ করেও আজ কেনো জানি ক্লান্ত লাগছে না। দু'জন খাবার খেয়ে বসে বসে গল্প করলাম। তারপরই ঘুমিয়ে গেলাম। ফজরের সময় উঠে নামাজ, নাস্তা করে অফিস যাওয়া। সঁন্ধ্যায় বাসায় ফেরার সময় ইরার জন্য কয়েকটা রজনীগন্ধা ফুল নিয়ে আসলাম। তার রজনীগন্ধা পছন্দ। আমার হাতে ফুল দেখে জড়িয়ে ধরলো। তার হাতে ফুল গুলো দিয়ে বললাম ভালবাসি। সে অনেক খুশী হলো। এভাবে চলছে আমাদের সংসার। দুজনই আল্লাহর ইবাদত করি। নামাজ রোজা সবই ঠিক মতো পালন করি। কথায় আছে না। যার বউ ভালো হয় সে সংসারের রহমত আসে। আমার তা হলো। কয়েক মাস পরই ইরা মা হবে বললো। আরো ভালবাসা যত্ন করতে থাকি। ইবাদাতে আল্লাহর কাছে বলি যেনো।দুজনে ঠিক এভাবেই সারাজীবন কাটাই। দেখতে দেখতে বাচ্চা হওয়ার সময় চলে আসলো। ইরাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিলাম। অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলো। আমি দৌড়ে চলে গেলাম হাসপাতালের নামাজের জায়গায়। নামাজে দাঁড়িয়ে গেলাম, নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে হাত তুলে বললাম, ইয়া আল্লাহ আমার বউকে তুমি সুস্থ রাখো। ওকে আমার কাছেই ফিরিয়ে দিও। ঘন্টাখানিক পর ডাক্তার এসে বলে আমার মেয়ে হয়েছে। আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া জানালাম। ইরার কাছে গিয়ে মেয়েটাকে একটা চুমু দিয়া ইরার পাশে বসলাম। _আজকে অনেক খুশী। জানো আল্লাহর কাছে বলছি যেনো দুজনে সারাজীবন থাকি একসাথে। তোমার যেনো কিছু না হয়। _আমি জানি এমনই কিছু বলবে। দেখো মেয়েটা তোমার মতোই হয়েছে। _আজকে একটা কথা বলি? _হুম। _আমরা একসময় অনেক ঝগড়া করতাম। তোমার ভালবাসা ও পরিবর্তনে সুখ নেমে আসলো জীবনে। শিখে গেলাম দুজনে কি কে দুজনকে ভালবেসে থাকতে হয়। এত পরিবর্তন কি করে আসলো তখন?(আমি) _আমার নিচের ফ্ল্যাটে থাকে যে হাফেজা মহিলাও তার স্বামী। একদিন বিকালে ওনার সাথে ছাদে দেখা। আর আমার মন খারাপ দেখে জানতে চাইলো। আমাদের অভাব, ঝগড়া সব কিছু। তাকে বললে বলে, দুনিয়ার সুখ বাদ দিয়ে দুজনে মিলে থাকলে ভালবাসা নেমে আসবে। আল্লাহই সুখ দিবে আমাদের। আর তখনই আমিও ভাবলাম দেখি নিজেকে আল্লাহর পথে এনে পরিবর্তন করে। আর তা করতে শুরু করলাম। তাইতো আল্লাহর রহমতে শান্তি নেমে আসলো। (ইরা) আমি ইরার কপালে একটা চুমু দিলাম। _আমরা এভাবে আল্লাহর পথে থেকে জীবনটা পার করবো। _মেয়েকে হাফেজা বানাবো। আমার পেটে থাকতেই ইচ্ছে ছেলে মেয়ে যেটাই হউক হাফেজ বানাবোই। (ইরা) _তোমারই সব ইচ্ছে। আমার জীবনটাই তুমি যে। দুজনে হাসতে থাকলাম। এটা সুখের হাসি। সমাপ্ত। (ভুল হলে ক্ষমার চোঁখে দেখবেন)

@kamal16

সে সে... part:-2 -সামান্য খিঁচুরিও রান্না করতে পারিস না অথচ এতো বড় বাড়ির বউ হওয়ার সাধ!! -ফুপ্পি!! -চুপ কর!!একটা কথা ও বলবি না তুই কি ভেবেছিস তোরা আমার মাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে আমার ছেলের ঘারে চেপে বসে ওর ঘার ভেঙ্গে খাবি?ভুল করেও এমন ভাবিস না তোর গোষ্ঠিকে চালানোর জন্য একটা টাকা ও আমার ছেলে তোকে দিবে না অন্তত আমি বেঁচে থাকতে তো নয়ই বুঝলি। কথাটা বলে তমশা বেগম রান্না ঘর থেকে চলে যায়।অন্তী থম মেরে দাড়িয়ে আছে।এই ফুপ্পিকে যেন সে আগের ফুপ্পির সাথে কিছুতেই মেলাতে পারছে না।আগে যখন ফুপ্পি অন্তীদের বাড়িতে আসতো অন্তীকে কতোই না আদর করতো আর আজ.....!! সকাল বেলা অন্তীর ঘুম ভাঙ্গে তূর্য চিৎকার চেচামেচিতে।তূর্য বারান্দায় দাড়িয়ে কারো সাথে খুব জোড়ে জোড়ে কথা বলছে।বোধয় খুব রেগে আছে ও। অন্তী গুটিগুটি পায়ে একটু এগিয়ে গিয়ে বারান্দায় উঁকি দিতেই দেখে তূর্য ফোনে কারো সাথে খুব ঝগড়া করছে। অন্তী বরাবরই তূর্যর রাগকে খুব ভয় পায় তাই আর সেদিকে না এগিয়ে পা বারায় ওয়াশ রুমের দিকে। অন্তী গোসল করে ফ্রেশ হয়ে বের হতেই দেখে তূর্যর ফোনটা বাজছে।অন্তী এদিক ওদিক উঁকি ঝুকি মারে কিন্তু তূর্যকে আসে পাশে কোথাও দেখতে পায় না সে।অথচ ফোনটা বেজেই চলেছে। অন্তী কি মনে করে ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরতেই অপর পাশ থেকে একটা মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসে -জান আমি তোমায় খুব ভালোবাসি খুব খুব তুমি আমার সাথে এমনটা করতে পারো না। প্লিজ তুমি ফিরে এসো প্লিজ আমি তোমাকে ছাড়া.... -হ্যালো (কথাগুলো শুনে অন্তী কি বলবে বুঝতে পারছিলো না তাই মেয়েটাকে থামানোর জন্য এই উপায়) -হ্যালো কে বলছেন?কে আপনি তূর্য বেবির ফোন আপনার কাছে কেন?কি হলো চুপ করে আছেন কেন? -আমি.....মানে আমি আসলে তূর্য ভাইয়া তো.... ব্যাস এইটুকু বলতেই পেছন থেকে কেউ একজন ছোঁ মেরে অন্তীর হাত থেকে ফোনটা নিয়ে নেয়। অন্তী পেছন ফিরে তাকাতেই তূর্য অন্তীর হাতটা পেঁচিয়ে ধরে.... -তোর এতো সাহস হয় কি করে আমার জিনিসে হাত দিস?? -আহ্ তূর্য ভাইয়া আমি ব্যাথ্যা পাচ্ছি -খুব সাহস বাড়ছে না তোর?কি মনে করেছিস বিয়ে করেছি বলে মাথায় উঠে গেছিস?এতো সাহস আসে কোথা থেকে?এই সব সাহস গিয়ে তোর সাগড় ভাইয়াকে দেখা আমাকে না... তূর্য এক নাগাড়ে কথা গুলো বলে অন্তীর হাতটা আরো শক্ত করে ধরে। -ও মা গো!!আপনার ফোন বার বার বাজছিলো আপনি কোথাও ছিলেন না আমি ভেবেছিলাম হয়তো জরুরি কোনো ফোন তাই আমি।আমার ভুল হয়ে গেছে আর কখনো হবে না... অন্তী এবার জোড়ে জোড়ে কেঁদে দেয়। তূয এবার হাতের বন্দ্ধন আলগা করে দেয়।অন্তী ছুটি লাগায় ফুপ্পির কাছে। "ফুপ্পিকে বলে দিবে তূর্য ভাইয়া ওকে মেরেছে.... আর কাল রাতে তো!! না না সব বলেদিবে ও ফুপ্পিকে" অন্তী একরকম ছুটতে ছুটতে ফুপ্পির কাছে যেতেই মাঝ পথে ধাক্কা খায় বড় ভাবির সাথে -আউ্চ এই এভাবে ছুটছো কেন?দেখে চলতে পারো না ধূর! -সরি ভাবি আমি দেখতে পাইনি!! -যত্তসব -ভাবি তুমি কি কোথাও বেরোচ্ছো? -সেই কৈফিয়ত কি তোমাকে দিতে হবে?? অন্তী এবার চুপ হয়ে যায়।প্রভা ভাবির কাছ থেকে এমন ব্যবহার আসা করেনি অন্তী। বড় ভাইয়ের বিয়ে হয়েছে দুই মাস হলো।বাবা বড় ভাইয়া আর ভাবিকে দাওয়াত দিয়ে সে কি এলাহী কান্ড করেছিলো।তখন তো বড় ভাবি... হয়তো খুব রেগে আছেন তাই এমন ব্যবহার করলেন! (অন্তী মনে মনে কথাগুলো বলে) এদিকে অন্তীকে মুখ ভেঙ্গিয়ে প্রভা বেরিয়ে যায়। অন্তী আবার ছুট লাগায় ফুপ্পির কাছে।কাল এসে থেকে একবারও ফুপ্পিকে দেখেনি।তাই মন কেমন কেমন করছিলো। অন্তী ফুপ্পির ঘরের সামনে দাড়াতেই কানে আসে তমসা বেগম ফুপ্পার সাথে বেশ চিৎকার চেচামেচি করছে। -দয়া দেখিয়ে তো মেয়েটাকে আমার ছেলের ঘারে চাপালে তারপর কি হবে ও কি আমার ছেলের যোগ্য বলো -চুপ করো তো অন্তী কতো ভালো মেয়ে তা কি তুমি জানো না! -রাখো তোমার ভালো মেয়ে আমার ছেলে বিয়ে করবে কোনো বড়লোকে বেটি কে আর তা না -ও তোমার নিজের ভাইয়ের মেয়ে ওদের কি অবস্থা তা তো তুমি জানোই। -তাতে আমার কি? অন্তী অনেক্ষন দাড়িয়ে দাড়িয়ে কথাগুলো শুনে। -ফুপ্পি!! তমসা বেগ মুখ তুলে তাকায় -কি হয়েছে এখানে দাড়িয়ে দাড়িয়ে আড়ি পাতছিলি। -না না ফুপ্পি আসলে তূর্য ভাইয়া আমাকে মেরেছে দেখো... (হাত দেখিয়ে) -বেশ করেছে মেরেছে....এখন এইসব ন্যাক্যামো না করে কাজ টাজ কিছু কর।বাড়িতে দুই দুইটা বউ থাকতে কাজের লোকের রান্না খাবো নাকি আমরা। -(...) -অন্তী -হ্যা ফুপ্পি।। -গিয়ে একটু খিচুড়ি কর তো।তোর মা খুব ভালো রান্না করতো.... অন্তী ফুপ্পির ধমকানী শুনে এইটুকুও বলতে ভুলে গেছে যে সে রান্না করতে জানে না। বাবা মায়ের প্রথম সন্তান হওয়ার ক্ষাতীরে মা কখনো এক গ্লাস পানিও নিজে নিয়ে খেতে বলে নি। অন্তী রান্না ঘরে এসে অনেক চেষ্টা করেও কিছু করে উঠতে পারছে। একেই তো অপরিচিত জায়গা তার উপর এসব কাজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। মাঝে তমসা বেগম একবার রান্না ঘরে এসে অন্তীকে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকতে দেখে রাগে গজগজ করতে করতে কথা গুলো শুনিয়ে উপরে চলে যায়। তমসা বেগমের রান্না করা খিচুড়ি চাই মানে চাই।এবং সেটা অন্তীকেই রান্না করতে হবে।এতো বড় বাড়ির বউমা শ্বাশুড়ির এতটুকু আবদার না রাখতে পারলে এমন অযোগ্য বউ দিয়ে কি করবেন ওনি!! অন্তী ওখানেই মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।গাল বেয়ে পানি পড়ছে। মানুষগুলো হটাৎ করে এমন পাল্টে গেলো কি করে!!সম্পর্ক পাল্টে গেলে কি মানুষ ও পাল্টে যায়। অন্তী বেখেয়ালে চুলায় বসানো গরম পানির দিকে হাত বাড়াতেই কেউ একজন হাতটা চেপে ধরে.... -তূর্য ভাইয়া তুমি!! -হুহ....কোথায় দাড়িয়ে আছিস হুস নেই এখনি হাতটা পুড়িয়ে ফেলতিস -না মানে ফুপ্পি আমাকে রান্না করতে বলেছে কিন্তু আমি তো -কোনো কাজের নই -মানে -তুই যে কোনো কাজের নস সেটা আমি জানি। -ওও -তুই এখন উপরে যা আমি করে দিচ্ছি! -মানে -যেতে বলেছি!! -হুহ যাচ্ছি। যেতে যেতে অন্তী হটাৎ করে পেছন ফিরে তাকায় তূর্যর দিকে -আচ্ছা সকালে যে আপনাকে ফোন করেছিলো সে কে?? -ওও সেই মেয়ে যাকে আমি ফিরে গিয়ে বিয়ে করবো!ও সেই মেয়ে যে আমাকে ভালোবাসে!ও সেই মেয়ে যে আমার জন্য সব করতে পারে!ও তোর মতো স্বার্থপর আর চরিত্রহীনা নয়। -তাহলে আমাকে বিয়ে কেন করলেন আর কাল রাতে....ওমনই বা কেন করলেন?? -আমার ইচ্ছে হয়েছিলো তাই!! কথাগুলো বলেই তূর্য কাজে মন দেয় অন্তী ছুট লাগায় নিজের ঘরের দিকে। আবার সেই অতীতের একটা মিথ্যে...... একটা খুব বড় মিথ্যে!! চলবে.... [ভালো লাগলে কমেন্ট করেন Next Part দিবো]

@kamal16

Golpo9 তমাঃ বাবু আমি না প্রেগনেন্ট…!😞 আকাশঃ ঐ প্রেগনেন্ট মানে.? কেমনে কি হলো? আমরা তো এখনো বিয়েই করিনি.😎 তমাঃ কুত্তা.. আমার এতো বড় সর্বনাশ করে এখন বলিস আমি প্রেগনেন্ট কেমনে হলাম.. সকাল থেকে ৩ বার বমি হয়ছে..😖 আকাশঃ বাট তমা আমরা তো কিছুই করিনি তেমন.. তমাঃ কিছুই করিসনি তাইনা? সেদিন আমাকে পাপ্পি দিছিলি ঐজন্য আমি প্রেগন্টে হয়ছি.. তারাতারি আমার জন্য ঔষধ নিয়ে আসো.. আকাশঃ ঐ চুমু দিলে কেউ প্রেগনেন্ট হয়ে যায়?😂 তমাঃ হয় প্রেগনেন্ট.. তুমি সিনেমা দেখোনা? ঐখানে নায়ক নাইকাকে চুমু দেয় আর নাইকা প্রেগনেন্ট হয়ে যায়..😃 হায় আল্লাহএই মুখ আমি কারে দেখামু,,, ঐ যা বলছি তাই করো.. নাহলে বেবি যদি বড় হয়ে যায.. উফ শুধু গুড়গুড় করছে পেটের ভেতর) (ফোনটা কেটে দিলো তমা.. তমা ক্লাস নাইনে পড়ে, সেদিন দুষ্টুমি করে একটা পাপ্পি দিছিলাম.. আর আজকে ও প্রেগনেন্ট.. হায় আল্লাহ… আসলে হয়েছে কি গতকাল এত্তোগুলা ফুচকা, চটপটি আরো অনেক কিছু খাইছে.. এইজন্য পেটখারাপ করছে.. আর ঐ পিচ্চি ভাবছে ও প্রেগনেন্ট) কি আর করার.. গ্রালফ্রেন্ড বড় হলো এক জ্বালা.. ছোট হলে আরো বেশি জ্বালা.. তাই পরিচিতো ঔষধের দোকান থেকে পেটখারাপ হলে যেই লাগে ঐগুলা কিনে নিয়ে ফোন দিলাম তমাকে.. আকাশঃ হ্যালো..তমা বাড়ির বাইরে এসো.. ঔষধ নিয়ে আসছি.. তমাঃ দুই মিনিট ওয়েট করো আসতেছি.. (বাড়ির বাইরে এলো তমা) আকাশঃ এই নেঊ ঔষধ.. তমাঃ ঔষধ এত্তোগুলা কেন? আকাশঃ আরে তুমি ছোট থাকতে প্রেগনেন্ট হয়ছো তো তাই এতোগুলো ঔষধ.. (ওরে বুঝিয়ে দিলাম কোনটা কখন খেতে হবে..) তমাঃ ওহ.. ঠিক আছে তুমি যাও.. (আমি বাড়িতে চলে আসলাম.. পরদিন সকালে তমার ফোন..) তমাঃ হ্যালো আকাশ আকাশঃ হ্যা বলো..!! পেটের কি অবস্থা? বমি কমছে? তমাঃ হ্যা বাবু কমছে.. আর জানো.. বেবিটাও না কোথায় জেনো চলে গেছে.. পেটের মধ্যে আর লাফালাফি করছে না… তবে জানো বেবিটার জন্য খুব খারাপ লাগছে.. মনের মধ্যে কেমন জেনো মা মা ফিলিংস আসতেছে.. আচ্ছা বেবিটাকে রেখে দিলে কি হতো? আমরা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ফেলতাম,, সংসার করতাম.. আকাশঃ আগে বললেই রেখে দিতাম বাবু (তোর বেবির গুষ্টির খেতায় আগুন.. কোনটা প্রেগনেন্ট আর কোনটা পেটখারাপ এইটার পার্থক্য বুঝলোনা আর সংসার করবে)😎 তমাঃ আচ্ছা তুমি প্রেগনেন্ট হলেনা কেনো আকাশ? তুমিওতো পাপ্পি দিয়েছিলে..🙈😂 আকাশঃ আরে বাবু আমি চুমু দিয়েছিলাম তাই তুমি প্রেগনেন্ট হয়েছিলে.. এরপর তুমি চুমু দিও তাহলে আমিও প্রেগনেন্ট হবো 😎😂😂...

@kamal16

Bestu 🌼বেস্টুকে নিয়ে কিছু কথা... 🌼 আমি ঃ আচ্ছা তোর কাছে খুশির মূহুর্ত কোন টা? 🙄 আমার বেস্টু ঃ তোর সাথে বকবক করা! ☺☺ আমি ঃ আর হিংসা হয় কখন? 🤔 বেস্টু ঃ তুই অন্য কারো সাথে বকবক করলে! 😡😡 আমি ঃ কষ্ট হয় কখন? 😕 বেস্টু ঃ তোর সাথে কথা না বললে! 😔😔 আমি ঃ আর রাগ হয় কখন? 😒 বেস্টু ঃ আমার মেসেজ এর রিপ্লে দিতে দেরি হলে! 🤬🤬 আমি ঃ ভালো বাসিস কত টা?🤨 বেস্টু ঃ তোর বিয়ে তে বর না আসলে আমি তোকে বিয়ে করে ফেলতাম তত টা! 😋😜😝 আমি ঃ কি কুত্তা ফাজলামি বন্ধ কর! 😡 বেস্টু ঃ নিজের থেকেও বেশি ভালো বাসি রে কুত্তা তোরে! 🥰🥰🥰 🌺 ‌_ বেস্টু গুলা এমনই হয় রাগি আর ফাজিল কিন্তু তবুও ওদের মতো কেও আমাদের এতো ভালো বাসতে পারবো না! ভালো বুঝতেও পারে না! 🌺 ❤❤ ভালো থাকুক সবার বেস্টু ❤❤