Golpo
উদার তথ্য প্রযুক্তির যুগে আপনি আমি কতটা অনুদার কখনো ভেবেছেন কি?
একটি সৃষ্টির পেছনে অজস্র রাতের গল্প থাকে, সে গল্পের মূল্য দেবার মানসিকতা আপনার আমার নেই!
শ্রোতারা আজ দর্শক হয়ে গেছে, তাই নগ্নতা ছাড়া কোন সৃষ্টিকে উপভোগ করতে চায়না।
' ব্যান্ড প্রলয়' মনে করে, শ্রোতারূপী দর্শকদের ক্ষুধার্ত চোঁখকে সাময়িক শান্তি দেবার জন্যই ভাইরাল নামক 'সস্তা জনপ্রিয়তা' কুড়াবার ট্রেন্ড চালু হয়েছে।সৃষ্টিশীলদের ছাড়াই যেমন ভাইরাল হবার স্বপ্ন দেখে কিছু ভাইরালকামী, ঠিক তেমনি সৃষ্টিশীলরাও শটকার্ট উপায়ে নিজেদের ভাইরাল করতে মগ্ন।
এই লজ্জা কার, এর দায় কে নেবে?
'ব্যান্ড প্রলয়' মনে প্রাণে বিশ্বাস করে ভাইরাল হয়ে পঁচে যাবার চেয়ে অস্তিত্বের জন্য যুদ্ধ করে হেরে যাওয়াটা বেশি সম্মানের।
বিশ্বাস না হলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে গিয়ে বাকি গানগুলো শুনে দেখতে পারেন।
সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে কিছু করিনি, শুধু নিজদেরকে ভেঙেছি আবার গড়েছি নতুন করে বারংবার।
'ব্যান্ড প্রলয়' আশ্বস্ত হয় এই জেনে যে, কোন শহরকে আলোকিত করবার যে প্রয়াস; সে গল্পে আধারের কারণ হয় সেই শহরের মানুষেরাই। এটিই নিয়ম, আর এই নিয়ম ভেঙেই সৃষ্টি হয় অস্তিত্বের সম্ভাবনা।
সবশেষে একটি কথাই বলতে চাই; দর্শকরূপী শ্রোতাদের আচরণে আমরা হতাশ নই, আমরা বিস্মিত!
"আমরা শিখছি এবং শিখবো"
এই চারটি শব্দই এই সংকটে বারবার ঘুরে দাড়াবার সাহস যুগিয়েছে আমাদের।
আপনাদের প্রতি অনুরোধ সৃষ্টিকে ভালোবাসুন, নগ্নতাকে নয়।
নয়তো সৃষ্টিশীলরা ঘুমিয়ে যাবে। সমাজ হয়ে যাবে ধূসর, ফ্যাকাসে, যান্ত্রিক এবং এই জনপদ হয়ে উঠবে পতিতাবৃত্তির কারখানা।
Shikalbaha
শিকলবাহায় করোনার আক্রমণ।
কালারপোল,
সিডিএর টেক, সব শেষ
মাস্টার হাটের উভয় পাশে।
মেম্বারগুস্টির হাজী কামাল আহমেদ আজ করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন।
তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।
তবুও মানুষের সচেতনতার কোনো লক্ষনই নাই।
বাইরে বের হলে অন্তত মাস্ক দিয়ে বের হন। তাও না।
চলছে যে যার মত।
আমরা যারা ফার্মেসীতে জড়িত তারাই কেবল কিছুটা অনুমান করতে পারছি কি হতে চলেছে শিকলবাহায়।
ঘর ঘর জ্বর। জ্বর একশোর নিছে নামছেইনা।
কাল রাত্রে এক বন্ধু হাসতে হাসতে কথার কথাই থার্মোমিটার দিয়ে দেখলাম তারও জ্বর একশো'র উপরে।
অথচ তার জ্বরের কোনো লক্ষনই নাই।
আল্লাহ পাক আমাদের সকলকেই হেফাজত করুন, আমিন।
সচেতনতা
চলন্ত বাসে ধর্ষন"""
প্রতিটি মেয়ে লেখাটি পড়বেন।
.
রাত ৮:৩০
গলফ ক্লাবের সামনে থেকে মিরপুরের
উদ্দেশ্যে বাসে উঠলাম আমরা তিন বন্ধু।
আঃ রহমান, সাজিদ আর আমি। বাস
মোটামুটি খালিই বলা চলে।
কন্ডাক্টর:ভাড়াডা লন মামা,
সাজিদ :কোন পর্যন্ত যাবে এটা?
-কালশী,আপনারা কই যাবেন?
:পূরবী (কালশী থেকে আরেকটু সামনে)
-ঐদিক দিয়াই পার্কিংয়ে যাইবো গাড়ি।
তহন নাইমা যায়েন।তয় ৫ টাকা কইরা বেশী
দেন।
.
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের
সামনে থেকে একটা মেয়ে বাসে উঠলো।
আমাদের বড় বোনের বয়সী হবে।পোশাকে
মোটামুটি শালীনতার ছাপ,তবে পুরো নয়।
.
কন্টাক্টর: আপা কই যাবেন?
মেয়েটা- ডিওএইচ মোড়, আচ্ছা বাস কোন
পর্যন্ত যাবে?
:ডিওএইচ যাইবোনা গাড়ি।কালসী মোড়ে
নাইমা যাইতে অইবো আপনার।
ভাড়াডা লন; ২০ টাকা।
(ভাড়া নিয়ে চলে গেল কন্টাক্টর)
.
হঠাৎ কইরা জ্যাম।
ঈদের আগের রাতে ঢাকায় তো জ্যাম
থাকার কথা নয়।
বললো আঃ রহমান।
কারণ জানতে চাইলে কন্ডাক্টর বললো,কমন
সমস্যা হুজুর! ভি.আই.পি আইতাছে মনে অয়।
সামনের রোড বন্ধ।
প্রায় ২৫ মিনিট পর ডান পাশের খালি লেন
দিয়া ফুড়ুৎ-ফাড়ুৎ কইরা ভি.আই.পি.-রা
যাওয়ার আরও ১০ মিনিট পর জ্যাম ছুটলো।
প্রায় সাড়ে নয়টা বেজে গেছে।নটা পর্যন্ত
ছুটি নিয়ে এসেছিলাম।এখন গিয়ে
মাদ্রাসায় ঢুকতেই সমস্যা হবে।
দারোয়ানকে কোনভাবে মেনেজ করতে
পারলেও ভিতরে ঢুইকা নিশ্চিত দরখাস্ত
মঞ্জুর করাইতে হবে।নাহলে কপালে প্যারা
আছে।এসব ভাবতে ভাবতে ঝিমুচ্ছিলাম!
খোঁচা দিল সাজিদ।
সামনের দিকে ইশারা করলো,
কন্ডাক্টর আর ড্রাইভার কথা বলছে!
অল্প আওয়াজের কথা বার্তা থেকে স্পষ্ট
বুঝলাম, তারা মেয়েটিকে নিয়ে কিছু
বলছে।
ফিরে এসে কন্ডাক্টর মেয়েটিকে বললো,
-আপা, আরও দশ টাকা দেন।ডিওএইচ
নামায়া দিবো আপনেরে।
.
>দোস্ত, কিছু বুঝলিরে?সাজিদ বললো
আমাকে।
মাথা নাড়লাম। চিন্তায় পড়ে গেলাম কি
করা যায়।মেয়েটির সাথে কথা বলতে
চাইলাম।ড্রাইভার বারবার পিছনে
তাকাচ্ছিলো বলে সম্ভব হলোনা।
.
কথা শেষ করে বাসের জানালাগুলো টেনে
দিচ্ছিলো কন্ডাক্টর, আর ড্রাইভার কাউকে
ফোন করে মাটিকাটা মোড়ে আসতে
বললো।ড্রাইভারের ফোনালাপেও সামথিং
রঙ আঁচ করলাম।
(কালসীর একটু আগের এলাকার নাম
মাটিকাটা)।
বাস ততক্ষণে ইসিবি মোড় পার হচ্ছে।
যাত্রী যে কয়জন ছিলো আগেই নেমে
গেছে। এখন বাসে আমরা তিনজন আর
মেয়েটা।
.
জানালাগুলো বন্ধ করে কন্ডাক্টর আইসা
বললো,
-হুজুর গাড়ী কালসী যাইবনা,মাটিকাটা
নাইমা যায়েন।
:কেন?(জিজ্ঞেস করলাম আমি)
-মালিক ফোন দিছিলো,গাড়ী ডিওএইচ
নিয়া যাইতে অইবো।
:তাইলে ভাড়া বেশী নিলা কেন?
"মোল্লাগো ভাড়া ঘুড়ায়া দিয়া দে" কেমন
জানি একটা বদ কন্ঠে বললো ড্রাইবার।
:না,এটা কোন কথা বললা তুমি? কালসী
যাইবানা,তাহলে আগে উঠাইলা কেন?
গাড়ি ব্রেক কষে থামিয়ে,পিছনের দিকে
রাগান্বিতভাবে তাকিয়ে বললো,
-গাড়ি যাইবনা আর,আপনারা কেমনে
যাইবেন,কথামত নাইমা যান।নাইমা
রিক্সা নাইলে অন্য বাস দিয়া যানগা।
:তাহলে আজকে কোথায় যাবে গাড়ি?
-ঐডা জানার কি দরকার আপনাগো?
:দরকার আছে বইলাই ত জিজ্ঞেস করলাম
মামা।
-ডিওএইচ অয়া সিরামিক্সে যাইবো গাড়ি।
(সিরামিক্স একটা এলাকার নাম)
:আমরাও তাহলে ওখানেই নামবো,যাও!
(এখন আর কিছু বলার নেই ড্রাইভারের,অগত্
যা সে চললো)
মাটিকাটা থেকে কয়েকজন উঠলো,ওরা
চালক সমিতির নেতা-টেতা হবে আরকি।
একজন মেয়েটার কাছাকাছি সীটে
বসলো,আর দুজন গিয়ে ড্রাইবারের সাথে
কি জানি বললো।
"শালার মল্লারা ঝামেলা করতাছে" স্পষ্ট
শুনতে পেলাম।
১০০% বিপদের আশংকা।
মেয়েটার দিকে তাকালাম।চোখের
ইশারায় কিছু বুঝাতে চেষ্ঠা করলাম।
আলহামদুলিল্লাহ্, বুঝে নিলো মেয়েটি।
দেরী না করে কন্ডাক্টরকে গাড়ি থামাতে
বল্লাম।
"আপু উঠ"
বলেই মেয়েটার ব্যাগ হাতে করে
মেয়েটিকে নিয়ে নেমে আসলাম।
.
ভেবে দেখুন তো একটু,
কি হতে যাচ্ছিলো অল্পের জন্য?
হায়তো পরদিন সকালে নিউজে আসতো
"রাজধানীতে চলন্ত বাসে ধর্ষনের পর
হত্যা"
ভিকটিমের গায়ের জামার কালার দেখে
হয়তো সাজিদ আমাকে বলতো,
দোস্ত,
দেখ দেখ!সেই মেয়েটাই না?
কালরাতে আমাদের সাথে বাসে ছিলো
যে?
আমি হয়তো মাথা নাড়তাম;শখের বশে
লাশটা দেখতে যেতাম।
আপনি ফেসবুকে পোস্ট আপডেট করতেন।
বেপর্দা কিছু নারী বিচারের দাবিতে
রাস্তা গরম করতো।
মিডিয়া কিছুদিন মাতামাতি করতো।
এর বেশী কিছু নয়....
.
কিন্তু মেয়েটির বাবা হয়তো স্ট্রোক
করতেন খবরটা শুনে।
মা কিছুদিনের জন্য নির্বাক হয়ে যেতেন।
ভাই-বোনরা সারাজীবন লজ্জায় মুখ নিচু
করে থাকতো সমাজে।
.
যাই হোক,
আলহামদুলিল্লাহ্!
আল্লাহর রহমতে এগুলোর কিছুই হলোনা।কারণ,আমরাতিনজন শুধু আমাদের কথা
ভেবে নেমে যাইনি।
নিশির যাত্রাপথে অচেনা মেয়ে
যাত্রীটিকে বোনের আসনে বসিয়ে ওর
কথাও ভেবেছিলাম একটু।
.
আসুন না,
প্রতিজ্ঞা করি;
"কখনো কোন মেয়েকে বাসে একা রেখে
নিজের স্টপেজে নেমে যাবোনা"
যেমন নেমে যেতামনা নিজের মা-মেয়ে-
বোন কে রেখে।
.
আর আপিরাও বি কেয়ার্ফুল!
"বাসের লাস্ট যাত্রী হওয়ার আগেই নেমে
যাবেন"
.
cause is;-
সব পুরুষই ধর্ষক হওয়ার ক্ষমতায় ক্ষমতাবান
"চেতনায় দীপ্ত পথ"
,
আমি ভিনদেশী নই
আমি ভিনদেশী নই
হালকা ঝাঁকুনি দিয়ে কেপে উঠলো প্লেনটা। রাজা বাইরে তাকালো। প্লেন রানওয়েতে ছুটতে শুরু করেছে। সে সাথে রাজার ভেতরটা বেশ খচ খচ করছে। মনে হচ্ছে, সে যেন কিছু একটা ফেলে যাচ্ছে। কিন্তু কি ফেলে যাচ্ছে! হ্যাঁ..... সে তার হৃদয় ফেলে দিয়ে যাচ্ছে তার ঠাম্মির(নানি) কাছে। তার স্বপ্নের শহর কলকাতার কাছে। বারবার শুধু দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসছে। কয়েক ঘণ্টার পর সে বাংলাদেশে পৌঁছে যাবে। কিন্তু, একটুও আনন্দ বোধ করছে না। জীবন আসলে নদীর মতন বয়ে যায়, ফুলের মতন ফুটে না।
সাদা ফুলহাতা জামা কোনুই পর্যন্ত গোটানো, তার উপর বেশ মোটা একটা সাদা জ্যাকেট। পায়ে ফুল কটনের একটা স্যুট। মাথার চুলগুলো বেশ বড় এবং এলোমেলো। চোখে মাইনাস পাওয়ারের চশমা। প্লেনের বাকি যাত্রীরা হৈ-হুল্লোড় করলেও, রাজা চুপচাপ বসে রয়েছে। সে, কারুর সাথে বিন্দুমাত্রও পরিচয় হওয়ার চেষ্টা করছে না। শুধু কি আজ, তা নয়, আজ আঠারো বছর প্রয়োজন ছাড়া কারো সাথে পরিচয় তো দূরের কথা, সামান্য কথা বলেনি। এমনকি,ওর বেস্ট ফ্রেন্ড মানে, আকাশ আর অভি ওর এমন আচরণে বিন্দুমাত্র রাগ বা অভিমান করে না।কারণ, ওরা জানে রাজা ছোটবেলার অতিথি ওকে ভীতু, লাজুক করে দিয়েছে। শুধু কি, এখানেই শেষ, তা মোটেও নয়। সদ্য এক বছরের রিলেশন শিপের জরানো রানীর সাথেও প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে না। যদিও, রানী এমন একটা শান্তশিষ্ট বয়ফ্রেন্ড পেয়ে বেশ খুশি।
তবে, সবাই খুশি হলেও রাজার ঠাম্মি মোটেও খুশি নন। উনার মতে,
"18 বছর বয়সেও, যে ছেলে নিজের মান সম্মান নিজে রক্ষা করতে পারেনা সেটা, ওর গুণ নয় দুর্বলতা"।
তিনি, রাজাকে নিজের চাইতেও অনেক বেশি ভালোবাসেন। তবে,নাতির এই ভীতু, শান্তশিষ্ট, দুর্বলতা নিয়ে, তিনি খুবই চিন্তিত।
তাইতো ঠাম্মির কথা রাখতে রাজা আজ এক দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। যাত্রীদের কোলাহলের মধ্যে রাজা একটু বিরক্ত বোধ করলো। পকেট থেকে মোবাইল বের করতে গিয়ে বুঝলো ওর শেষ সম্বল টুকু ছেড়ে দিয়ে এসেছে। এয়ারপোর্টে, রানীকে ফোনটা দিয়ে বাথরুমে গিয়েছিল। কিন্তু ফিরে এসে আর নিতে মনে নেই। বেচারা রাজা, একদিকে ঠাম্মি- রানী কে ছেড়ে তিন বছর চলে যাচ্ছে, অন্যদিকে একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম মোবাইলটাও ফেলে দিয়ে এলো।
তবে,রাজাকে বাংলাদেশে অনেক মানুষকে একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ইন্ডিয়ায় এত বড় বড় কলেজ থাকতে, সে কেন বাংলাদেশে পড়াশোনা করতে এল! রাজা কি তবে কোনো গরিব পরিবারের ছেলে! বিদেশে পড়াশোনা করবে, তা বাংলাদেশে হলেও হবে। তা কিন্তু মোটেও নয়। তার বাবার,যা টাকা আছে তাতে তার সাত পুরুষ বসে আরামে খেতে পারবে। তবে কি জন্য তার বাংলাদেশে আসা! প্রতিটা রূপকথার পিছনে, একজন আদর্শ লেখক এর হাত থাকে। তেমনি রাজার বাংলাদেশের আসার একটা কারন ছিল।
ঢাকা এয়ারপোর্টে নামার পর সে ঘড়ির দিকে লক্ষ্য করলো। সময় তখন বিকেল পাঁচটা। যদিও ওটা ইন্ডিয়ার টাইম অনুযায়ী, এখন বাংলাদেশ সময় কত, সে অনুমান করতে পারলো না। বাইরে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা। তার হাত-পা কেঁপে উঠছে। নগরের বাইরে গেলেই বোঝা যায় পৌষ মাসে শীতের দাপটা কত থাকে। ঠাম্মির কথা মত, বাসে করে সুসং পরগনা চলে আসে। সুসং পরগনা এসে সমস্যায় পড়ে। এতক্ষণ, সমস্ত রাস্তার ঠিকঠাক মিললেও, সুসং পরগনা পর থেকে আর মিলল না। এই 15 বছরে অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে গ্রাম শহর,আর শহর নগরে পরিণত হয়েছে। তাইতো, আগে যে রাস্তায় গাড়ি গুলো যেত এখন আর যায় না। আগন্তুক রাজা, নতুন দেশে এসে মহা বিপদে পড়লো। কোন ট্যাক্সি ওর বাড়ির কাছে যেতে চাইল না। অনেকগুলো, ট্যাক্সিচালককে রিকুয়েস্ট করার পর, শেষমেষ একটি ট্যাক্সি যেতে রাজি হলো। যদিও, পুরোটা তিনি আবার যাবেন না। মেন রাস্তায় রাজাকে,ছেড়ে দিবেন তারপরে তাকে গ্রামের রাস্তা ধরে তিন কিলোমিটার হাঁটতে হবে। সে,আর কোনো উপায় না দেখে ট্যাক্সিতে উঠে পরলো। কথায় আছে না, 'নেই মামার চেয়ে,কানা মামা ভাল'।
মসৃণ রাস্তা দিয়ে ট্যাক্সি দ্রুত ছুটতে লাগলো। সেই সাথে শীতকালে ঠান্ডা কনকনে বাতাস তার কান ধাঁধিয়েএ দিল। তার চোখ যেদিকে যায় সে দিকে শুধু কুয়াশা আর কুয়াশা। ছোট্ট এক শুরু রাস্তার মধ্যে দিয়ে ট্যাক্সিটা ছুটছে। ট্যাক্সিটা সাথে সাথে তাল মিলিয়ে দু'পাশের গাছগুলোও দৌড়াচ্ছে।শীতের সন্ধ্যায় মাঠ-ঘাট দিগন্ত কুয়াশায় হালকা ওড়নায় ঢাকা।কুয়াশা ও শিশির ভেজা ঘাস গুলো হি হি করে উত্তরের হিমেল বাতাসে কাঁপছে। সর্বত্র বিরাজ করছে শীতের জড়তা, কুয়াশাচ্ছন্ বিষন্নতা।শীতের সন্ধ্যা হতে না হতে কৃষকের কুঠির দ্বারে গিয়ে দাঁড়ালে দেখা যায় কৃষক ও কৃষক বধু আরাম করে বিছানায় বসে রয়েছে। দূরে সর্ষে হলুদ ফুলের সতরভা প্রজাপতি রঙের বাহার দাঁড়িয়েছে। রাস্তার ধারে বাড়ি গুলো থেকে গাঁদা,ডালিয়া, সূর্যমুখী, চন্দ্রমল্লিকা সুগন্ধি ভেসে আসছে। কৌতুহলী রাজা, কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যেও গাড়ির কাচটি সরিয়ে দিয়ে, প্রাকৃতিক দৃশ্য অনুভব করতে লাগলো। এমন প্রাকৃতিক দৃশ্য সে, তার জীবনে প্রথমবার দেখছে। আসমুদ্রহিমাচল ব্যাপী বঙ্গভূমি, সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা সুন্দর এই বাংলা।সন্ধ্যার কুয়াশায় অস্পষ্টতা দূরের ছোট ছোট পাহাড় বা টিলা গুলি, চোখের সামনে ভেসে উঠছে। এমন দৃশ্য দেখে, সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের একটি কবিতার লাইন মনে পরল,
"যেন একরাশ ধোঁয়াটে মেঘ যেন
কারা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে
আসলে ওটা মেঘ নয় গারো
পাহাড়"।
সোনার বাংলার, প্রাকৃতিক রূপ দেখতে দেখতে কখন পৌঁছে গেল তা টের করতে পারলো না। এখানে পৌঁছেও সমস্যা, তার যেন পিছু ছাড়লো না। সেই ঘড়ির দেখল। তখন রাত 8:00। রাত আটটার মধ্যে প্রায় সমস্ত দোকানই বন্ধ হয়ে গেছে। এটা দেখে, সে মোটেও চিন্তা করলো না। এটা শহর নয়, যে রাত বারোটা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা থাকবে। এটা গ্রাম, এখানে রাত তাড়াতাড়ি নামে তার উপর শীতকাল। শহরের, রাতটা অনেক দেরিতে নামে, তাও আবার অল্প সময়ের জন্য।
আগন্তুক, অচেনা মুখ রাজাকে দেখে একটিমাত্র দোকানদার, তার দোকানটি বন্ধ করতে গিয়ে থামলেন।
- আসসালামুয়ালাইকুম ভাইয়া।
তার কাছে এই শব্দটি অচেনা নয়। তবুও, সে ঠিকঠাক উচ্চারণের ভয়ে নিজের ধর্মের সালাম জানালো।
-নমস্কার আঙ্কেল।
-দেখে তো অচেনা মনে হচ্ছে! তা কোথায় যাওয়া হবে?
সে এই সুযোগ ছাড়তে চাইলেও না। এই আঙ্কেল একমাত্র পারে, তার বাড়ির পথ দেখিয়ে দিতে।
- সোনালী পুরে, সুনয়না দেবীর বাড়িতে। আপনি কি,আমাকে উনার বাড়ির রাস্তাটা দেখিয়ে দিতে পারবেন!
কথাটি শুনে, লোকটি চমকে উঠলো। একটু হালকা স্বরে বললেন,
- কিন্তু...... আমি যতোটুকু জানি সুনয়না দেবী আজ থেকে 18 বছর আগে মারা গেছেন। তারপরই, উনার স্বামী,ছেলে সবাই ইন্ডিয়াতে চলে গেছেন। এখানে তো কেউ থাকেনা।
- হ্যাঁ জানি......., আমি উনারই হতভাগা ছেলে। যাকে জন্ম দিতে গিয়ে, নিজেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।
- দুঃখিত, আমি ঠিক বুঝতে পারিনি।
-আচ্ছা ঠিক আছে। এখন আমাকে রাস্তাটা দেখান। অনেক রাত হলোতো, আমাকে আবার বাড়ি ফিরতে হবে।
-কিন্তু এত রাতে, তুমি একা বাড়ি কি করে যাবে! বাড়ির দেখাশোনা যিনি করেন তিনি নিশ্চয়ই, এতক্ষণে উনার বাড়ি ফিরে গেছেন। তুমি বরং আমার বাড়িতে চলো। কাল সকালে আমি নিজে গিয়ে তোমাকে ছেড়ে দিয়ে আসব।
- না, তা কি করে হয়! আন্টিকে বলে দেওয়া হয়েছে আমি আজই আসবো। উনিতো, আবার আমার জন্য অপেক্ষা করতে থাকবেন।
- তাহলে, আর কি! ডান দিকে সরু রাস্তা ধরে এগিয়ে যাও।
- হ্যাঁ যাবো, থ্যাংকস।
কিছুটা যাওয়ার পর, লোকটি আবার পিছনে ডাকলো,
-ভাইয়া।
- জি বলেন।
-তোমার কাছে মোবাইল আছে তো!
-না আসলে ভুলে ফেলে এসেছি।
-তাহলে, অন্ধকারে কি করে বাড়ি ফিরবেন?
-কোনরকম চলে যাব।
-না, রাস্তাটা খুব ভয়ঙ্কর। তুমি বরং আমার টর্চ লাইটটা নিয়ে যাও।
-তাহলে আপনি কি করে বাড়ি ফিরবেন?
-আমিতো মেন রাস্তা দিয়ে যাব। তাছাড়া আমি ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করি। আমার কোন অসুবিধা হবেনা।
-ওকে, থ্যাংকস। চিন্তা করবেন না, আমি এখানে তিন বছর থাকবো,আপনার টর্চ ঠিক পেয়ে যাবেন।
তিন বছর কথাটি শুনে লোকটি একটু ঘাবড়ে গেলেন। তারপর তিনি বললেন,
-তিন বছর, তুমি এখানে কি করবে?
-কেন? পড়াশুনা করব।
কথাটি শুনে লোকটি খিলখিল করে হেসে উঠলেন
রাজা যেন কোন এক হাসির কথা বলল। রাজা একটু বিরক্ত হয়ে বলল,
-এতে হাসার কি আছে!
-হাসবো না, তোমার দেশে এত বড় বড় কলেজ থাকতে, তুমি শেষ পর্যন্ত কিনা থার্ড ওয়াল্ড কান্ট্রি বাংলাদেশ পড়াশোনা করতে এসেছ।
রাজাও উনার মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে দিলেন,
-নিজেরা যদি নিজের দেশকে ঘৃণা করো, তাহলে বিদেশীরা করবে না কেন?
-কিন্তু.... কথাগুলো তো সত্যি!
-কোনটাই সত্যি নয়।
Part 2
চারিদিকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা। দূরে বা কাছে কি আছে, তার দেখার উপায় নেই। টচ লাইট টা জালিয়ে দ্রুত পায়ে, সে এগিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে ঠান্ডা কনকনে হাওয়া, তার শরীর কাঁপিয়ে দিচ্ছে। চারিদিকে নিস্তব্ধ তার মাঝে শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। দু-চারটি বাদুড় চোখের সামনে নেচে বেড়াচ্ছে। সে এদিকে ওদিকে দেখল, কোথাও বাড়ি আছে কিনা! লোকটির কথা মত,সে যদি উনার বাড়িতে চলে যেতেন তাহলে এমন বিপদ আসতো না। সে শহরে আলোকউজ্জ্বল ময় পথে বড় হয়েছে। গ্রামে এমন বিকট অন্ধকার তার শরীর ভয়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। ভূতের ভয় যে, তার মধ্যে নেই সেটা বলা ভুল। সে ভূতকে ভীষণ ভয় পায়। এমন সব অদ্ভুত কথা ভাবছে। হঠাৎ, তারসামনে কেউ একটা হ্যারিকেনের ছোটো আলো নিয়ে এগিয়ে আসতে দেখল। সেই ভয়ে কাঁপতে থাকে। এমন ভূতের গল্প সে গল্পের বইতে কম পড়েনি। কিন্তু বুঝতে পারেনি, একদিন তাকে সত্যি সত্যি ভূতের মুখোমুখি হতে হবে।
-আরে রাজা ভাই! তুমি এখানে!
বিপরীতমুখী নারী কন্ঠ শুনে, রাজা একটু ইতস্তত বোধ করলেও, ওর মন থেকে ভয় টা কেটে যায়। এই বিদেশে থাকে একমাত্র উনার বাড়ি, যিনি দেখাশোনা করেন তিনি ছাড়া, আর তাকে কেউ চেনে না। নিশ্চয়ই ওর যেতে দেরী হচ্ছে দেখে, আন্টি এগিয়ে এসেছেন। তবুও না চেনার ভান করে সে বলল,
-হ্যাঁ.... কিন্তু আমিতো, আপনাকে চিনতে পারলাম না।
-আমি আরাধ্যা, ভুলে গেছো দেখছি!
আরাধ্যার নামটা তার কাছে নতুন নয়। সেই যখন বাংলাদেশে ছিল, তার প্রতিবেশী ছিল আরাধ্যা। বয়সে রাজা চাইতে 5 বছরের বড় হলেও সম্পর্ক ছিল বেশ মধুর। যদিও রাজার এসব কিছুই মনে নেই। কারণ তখন সে অনেক ছোট ছিল। আরাধ্যার সাথে, তারা লাস্ট যখন দেখা হয় তখন তার বয়স ছিল তিন বছর।আরাধ্যার সম্বন্ধে যেটুকু জেনেছ সবকটাই ওর ঠাম্মির কাছ থেকে।
-না, ভুলব কেন! তোমার, আমাকে চিনতে অসুবিধা হলো না।
আরাধ্যা কথাটি এড়িয়ে গেল। সে বলল,
-তুমি এত রাতে কোথায় যাবে?
-আমিতো বাড়ি ফিরব। আমাকে একটু পৌঁছে দেবে।
-কিন্তু, এত রাতে কি করে যাবে?
-কেন? তোমার বাড়িওতো ওইখানে, তুমিও তো নিশ্চয়ই যাবে!
-হ্যাঁ, 15 বছর আগে আমার বাড়ি ওইখানে ছিল। কিন্তু আমরা এখন এখানে থাকি।
কি উত্তর দিবে রাজা তা বুঝতে পারছেনা। তাও বলল,
-ওওওও
-হ্যাঁ, তুমি বরং আজ রাতে আমাদের বাড়িতে থেকে যাও। কাল সকালে চলে যাবে।
ভীতু রাজা আর না বলল না। একবার না বলে সে..........
-আচ্ছা চলো।
তারপর, আরাধ্যার পিছনে পিছনে, সে গল্প করতে করতে চলল। তার ঠাম্মি কেমন আছি? পড়াশুনা কেমন হচ্ছে, কলকাতা শহর কেমন? এই নিয়ে তারা গল্প করতে লাগলো।
সবকিছু ঠিক থাকলেও, মনে হল আরাধ্যার চোখটা ওর নিজের নয়। চোখটা স্বাভাবিক মানুষের নয়। ভিশন লাল,যেন উজ্জ্বল এক নক্ষত্র।
ঘরে পৌছেই আরাধ্যা বলল,
-নে হাত মুখ ধুয়ে আয়! আমি ভাত বাড়ছি, অনেক দূর থেকে এসেছিস খিয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়।
রাজা বাধ্য ছেলের মতো কোনো রকম প্রশ্ন না করে হাত-মুখ ধুয়ে নিল। সে সত্যি ভীষণ ক্লান্ত। সারাদিন কম ধকল যায়নি, তার উপর দিয়ে। খেতে বসে রাজা তার কাকু কাকিমা কে না দেখতে পেয়ে প্রশ্ন করল,
-দিদিভাই, কাকু কাকিমাকে দেখতে পাচ্ছি না কেন?
আরাধ্যা ওর দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলল,
-বাবা-মা, মামার বাড়ি গেছে। বাড়িতে আমি একা।
কথা শুনে ভাতটা রাজার গলায় লেগে গেল। একটু জল খিয়ে বলল,
-এখানে তো আসে পাশে কোন বাড়ী নেই। তোমার ভয় লাগছে না?
-না, আমি ভয় পাই না। তুমি রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।
-হ্যাঁ, তুমি ঘুমাবেনা?
-হ্যাঁ ঘুমাবো, তুমিতো খেয়ে নিলে। আমি খাই দিলে ঘুমাবো, আরাধ্যা হাসতে হাসতে বলল।
রাজাও আরাধ্যা দিকে তাকিয়ে হেসে উঠলো। ক্লান্ত শরীর নিয়ে, আর সাত-পাচ না ভেবে ঘুমিয়ে পড়ল। কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম সে জানেনা।
রাজা নিশ্চিন্তভাবে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। আরাধ্যা প্রথমে রাজার মাথায় কয়েকবার হাত বুলিয়ে দেয়। তারপর নিজের গলায় একটি লকেট বের করে হাতে নেয়।তা দিয়ে রাজার একটি হাতের কনুই থেকে শুরু করে কব্জি অব্দি সোজাসুজি বরাবর টান দেয় আরাধ্যা। রাজার কোন নড়াচড়া নেই। শুধু শ্বাস-প্রশ্বাস আছে তার। গল গল করে রক্ত বেরিয়ে আসে ভেতর থেকে। আরাধ্যার নাক ডুবিয়ে তার গন্ধ নেওয়া শুরু করে। রাজা মারা যাচ্ছে,কিছুক্ষণ পর পা দুটি এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করার পরে তার শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে। আর আরাধ্যা খুব নিখুঁত ও যত্ন সহকারে রাজার গায়ের চামড়া ছড়াচ্ছে আর খাছে সাথে মুখে অট্টহাসি।তারপর আরাধ্যা, রাজার পেটের ভেতর হাত ভরে হৃদপিণ্ডটা বের করে আনল। রাজা পুরো নিস্তেজ।কিছুক্ষণ পর ফারজানার ডাকে রাজা একটা আর্তনাদ করে জেগে উঠে।
-রাজা ভাই! রাজা ভাই! কি হয়েছে তোমার?
রাজা ধড়পড় উঠে হাপাতে লাগলো। এমন ঠান্ডার মধ্যেও, সে পুরো ঘেমে গেছে। হাপাতে হাপাতে বলল,
-না, কিছু না।
-রাজা ভাই, কোন খারাপ স্বপ্ন দেখেছো বুঝি!
রাজা অনেকক্ষণ চুপচাপ। বেশ খানিকক্ষণ পর সে নিচুস্বরে বলল,
- হ্যাঁ,
-তুমি ভীষণ ক্লান্ত, তার উপর নতুন জায়গা তাই একটু ভয় পেয়েছো। আমি তোমার কাছে বসে আছি।ঘুমিয়ে পড়ো।
তারপর, আরাধ্যা রাজার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে, একটা সুরেলা কন্ঠে গান ধরল। আরাধ্যা, রাজার নিজের দিদি নয়। তবুও, কখনো রাজাকে নিজের ভাই না, এটা কোনদিন ভাবেনি। দিদির স্নেহ পেয়ে রাজার চোখে আবার ঘুম জড়িয়ে আসে। কিন্তু, এবারও তাকে শান্তিতে ঘুমাতে দিল না। ভোর চারটা হতে না হতেই আরাধ্যা ডাক দিল,
-রাজা ভাই! রাজা ভাই! উঠে পড়ো, ভোর হয়ে গেছে।
চোখে একরাশ ঘুম নিয়ে রাজা উঠে পড়ল। সে
আরাধ্যা দিকে তাকিয়ে বলল,
-কই ভোর হয়েছে! এখনো তো অন্ধকার আছে।
-আসলে, এটাতো গ্রাম। সকালে সবাই যদি জানতে পেরে যায়, আমরা দুজন বাড়িতে কেউ নেই তাও একই সঙ্গে রাত কাটিয়েছি, তাহলে ওরা অনেক কথা শোনাবে।
-হুম, দিদিভাই, আমি বুঝতে পারছি।
-তাহলে আসছি।
আরাধ্যাকে বিদায় জানিয়ে রাজা অন্ধকার পথে আবার বেরিয়ে পরলো। শীতকাল, ভোর চারটায় ও অনেক অন্ধকার। কোন দিকে যাবে, কি করবে কোন উপায় না পেয়ে, সে একটা গাছে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।
দেখতে দেখতে, পুবআকাশে লালা আভায় ভরে গেল। রাত্রির কালো পর্দা সরিয়ে একটি রৌদ্রদীপ্ত দিনকে উপহারস্বরুপ শ্যামা ধরিত্রীর হাতে তুলে দেয় যে সে উসা তপনের দ্রুতি, অরুণ রমণী।
ঊষার আবির্ভাবে রাত্রি বিদায় নেয়।শ্রমিকেরা কাজে বেরিয়ে যায়। ছোট ছোট বাচ্চারা বাড়িতে বসে পড়ায় মনোযোগী হলো। পাখিরা খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে গেল গান করতে করতে। নতুন দেশে প্রথম সূর্যের আলো, রাজার ফর্সা গালে চকচক করে উঠলো। সূর্যের তাপে,তার ঘুম ভাঙলো। তবুও সে উঠলো না। অপেক্ষা করতে লাগল, কেউ যদি ওই রাস্তা দিয়ে যায়। নিশ্চয়ই ওকে সাহায্য করবে। কিন্তু 'সেগুড়ে বালি'কেউ এলোনা। কোন উপায় না দেখে, সে আবার হাঁটতে শুরু করল। বেশ খানিকটা হেঁটে যাওয়ার পর, সে আবার বিপদে পড়লো। তিন দিকে রাস্তা, কোন দিকে, তার বাড়ির রাস্তা সে বুঝতে পারল না। এবার খানিকটা হলেও সে বিরক্ত বোধ করলো। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে, ভাবছে এটা যেন এক নতুন পৃথিবী।
এদিকে ফারজানা সদ্য সাইকেল চালানো শিখেছে। বলতে গেলে এই রাস্তায় ফারজানাই দৈনিক পথচারী। প্রতিদিন ওই একমাত্র এই রাস্তা দিয়ে কলেজ যায় আবার আসে। আজও তার ব্যতিক্রম হল না। ফাঁকা রাস্তা পেয়ে দ্রুত গতিতে সাইকেল চালাচ্ছে সে। হঠাৎ রাজাকে মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, ফারজানা চিৎকার করতে লাগলো'সরে যান, সরে যান'। রাজা সরতে না সরতে ফারজানার সাইকেল রাজাকে ধাক্কা মারলো। রাজা কোনরকম নিজেকে সামলে নিয়ে, ফারজানা দিকে তাকালো। মেয়েটির পোশাক-আশাক দেখে বোঝা যায়। সে নিশ্চয়ই মুসলিম। মেয়েটি পড়ে যাওয়ায় তার মাথার হিজাব টা সরে গেছে। তাই মুখটা বেশ ভালোভাবে দেখা যাচ্ছে। একদৃষ্টিতে রাজা, ফারজানার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তাকে দেখে রাজার চোখে রীতিমতো কপালে উঠে গেছে। এত সুন্দর মানুষ হয়!
-কি ভাইয়া! এত ভূত দেখার মত তাকিয়ে আছেন কেন!
-আমি নারী, পরী নই......
-আপনি পরীদের থেকেও অনেক সুন্দর।
কথাটি রাজার মুখ থেকে যেন আপনা আপনি বেরিয়ে এলো। এমন প্রশংসা সে আজ পর্যন্ত কোন মেয়েকে করেনি। প্রথম দেখাতে এমন সুনামক পিয়ে ফারজানা একটু খুশি হলো। সে, নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে পড়ল।
-আপনার কোথাও লাগে নি তো?
-না ,একটু পায়ে.....
-তাহলে উঠে পড়ুন।রাস্তায় পড়ে থাকবেন না।তাতে আমার খারাপ লাগবে।
রাজা একটু লজ্জা বোধ করল। মেয়েটি আবার বলল,
-আমি নতুন সাইকেল চালানো শিখেছি।তাই.….....
রাজা মেয়েটির কথায় কান দিলো না। তার কাছে এটাই সুযোগ, এই মেয়েটি তাকে কোন ভাবে সাহায্য করতে পারি কি না,তা একবার দেখার চেষ্টা করল। সে কোন কথা না ভেবে মেয়েটিকে বলল,
-আচ্ছা, আপনি কি সোনালীপুরে, সুনয়না দেবী বাড়ি চেনেন?
-হ্যাঁ চিনি, কিন্তু ওই বাড়িতে তো কেউ থাকেনা।
-জানি, আমি উনারই ছেলে।
ফারজানা হা হা করে হেসে উঠলো। তার হাসির কারণ রাজা বুঝতে পারলাম না।
-ভাইয়া, আপনি সোনালী পুরের যাওয়ার রাস্তা জানেন না ওটা বলুন, মিছামিছি একজন ভদ্রমহিলাকে আপনার মা বানাচ্ছেন কেন?
-মিথ্যা বলছি না, উনি সত্যিই আমার মা।
-আপনি কি আমাকে পাগল ভাবেন। সুনয়না দেবী মারা যাওয়ার পর উনার স্বামী, ছেলে সবাই ইন্ডিয়ায় থাকে। তারা এত সকালে নিশ্চয়ই উড়ে আসবে না। নিশ্চয়ই অনেকটা সময় লাগবে।
কথাগুলো শুনে রাজার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে এলো।নিজের দেশে এসে প্রথমে ওকে নিজের মা টা আসল না নকল,সেটার পরিচয় দিতে হচ্ছে। রাজার চোখের জল দেখে সে বলল,
-আপনি কাঁদছেন কেন?
রাজার নিজের গলা থেকে একটা লকেট বের করে খুলে ফেলল, তার ভেতর তার মা-বাবার সাথে, তার ছোটবেলার ছবি।
-এই দেখুন। আমার মা সুনয়না দেবীর সাথে আমি।
মেয়েটি একটু অবাক হয়ে বললেন,
-তাহলে আপনি সত্যিই ভিনদেশী?
-না আমি ভিনদেশী নই। বাংলাদেশই আমার জন্ম।
-ওওও। কিন্তু এত সকালে আপনি এখানে কি করে এলেন? ঢাকা থেকে আসতে তো ন্যূনতম একটা সময় লাগবে।
-হ্যাঁ আমি কাল বিকালে এসেছি।
- তাহলে সারারাত কি এই মাঠে বসে ছিলেন?
-না, আরাধ্যার বাড়িতে ছিলাম।
আরাধ্যার নামটা শোনার সাথে সাথে ফারজানার মধ্যে এক অদ্ভুত পরিবর্তন এলো। এক লাভে সে রাজার থেকে অনেক দূরে চলে গেল। তারপর বেশ অনেকক্ষণ নীরবতা। ফারজানা আবার কাছে এসে বলল,
-আপনি, আমার হাতে চিমটি কাটুন তো।
রাজা কাছে, আর কোন উপায় নেই তাই বাধ্য হয়ে ওর হাতে চিমটি কাটলো।
-লাগছে, মানে আমি বেঁচে আছি।
-হ্যাঁ, বেঁচে থাকবেন না কেন?
না, আমি ভেবেছিলাম অ্যাক্সিডেন্টের পর আমরা দুজনই মারা গেছি।
-পাগল নাকি! ওইটুকু এক্সিডেন্টে কেউ মারা যায়।
ফারজানা কোন কথা না বলে, রাজারহাতে চিমটি কাটলো। সাথে সাথে রাজা আঁতকে উঠলো।
-কি করছেন লাগছে তো।
-লাগছে মানে তুমিও বেঁচে আছো।
-আচ্ছা পাজি মেয়ে তো তুমি। বলছি না আমরা দুজনই বেঁচে আছি।
-হ্যাঁ, বেঁচে আছি তো আরাধ্যা কোথা থেকে আসছে।
-কেন,আরাধ্যা কি করলো?
- কারণ আরাধ্যা আজ থেকে দু বছর আগে মারা গেছে। আর ওখানে কোনো বাড়ি নেই যেটা আছে সেটা অনেক পুরনো।
ফারজানাকে কি মনে হয় গল্পের নায়িকা না অন্য কেউ প্লিজ কমেন্ট করে জানাবেন।
Part 1,2
সিনিয়র আপুর সাথে প্রেম
গল্প : সিনিয়র আপুর সাথে প্রেম
পর্ব: ৩য়
, তারপর নিলিমা আপু বসা থেকে উঠে
ঠাসসসস ঠাসসসস
আমাকে দুইটা চর মারলো।
নিলিমা : এই ছিল তোর মনে?
আমি তোকে আমার ভাইয়ের মতো দেখতাম আর তুই নাকি ছি ছি ভাবতেও আমার কেমন লাগছে( জোরে জোরে কথা গুলো বল্লো)
আমি : বিশ্বাস করো নিলিমা আমি সত্যি তোমাকে ভালোবাসি।( চোখে পানি চলে আসছে)
নিলিমা : চুপ একদম চুপ তোর ঐ মুখ দিয়ে
আমার নাম দরবি না।
আর আমার সামনে কোনোদিন আসবি।( এই
বলেই নিলিমা ওখান থেকে চলে গেলো)
আমি ওখানেই কিছু সময়
দারিয়ে থেকে চলে আসলাম
বাসায়।
আমার রুমে গিয়ে নিলিমার সাথে
কাটানো সময় গুলো ভাবছি
আর ওজোরে কেদে যাচ্ছি😭😭
তারপর আপু আসলো আমার রুমে
আপু: কিরে এতো তারাতারি চলে আসলি কেনো?
আমি : না এমনি রোহান ওরা কেও আসে
নাই তাই(চোখের পানি মুছে।)
ওওও ঠিক আছে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে আয় (বলে আপু চলে গেলো)
আমি ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পরলাম
ঘুম ভাঙলো পরেরদিন
আপু : কিরে রেডি হোস না কেনো কলেজে যাবি না?
আমি : না তুই যা।( তারপর আপু চলে গেলো কলেজে) আর আমি আমার ফোন বন্ধ করে রাখলাম। আমার ফোন রাখতাম শুধুমাত্র নিলিমার জন্য।
আর সেই নিলিমা আমাকে ভালো বাসে না তাহলে ফোন চালু রেখে কি হবে
এভাবে কেটে গেলো ১৫ দিন তারপর ভাবলাম কালকে কলেজে জাবো তাই খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পরলাম
সকালে উঠে কলেজের গেলাম গিয়ে দেখি নিলিমা আপু মাঠে বসে আছে।
আমি আর ঐদিকে না গিয়ে
অন্যদিক দিয়ে ক্লাসে চলে আসলাম।
তারপর ক্লাসে স্যার আসলো
এসেই আমাকে বল্লো
মেহেদী তুমি দারাও
আমি: জি স্যার?
স্যার : এতোদিন কলেজে আসো
নি কেনো?
আমি: স্যার বাসায় একটা সমস্যা ছিলো
স্যার : ঠিক আছে বসো।
(তারপর আমি মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করতে লাগলাম)
আর এদিকে ক্লাসের সবাই অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে
অবাক হওয়ারই কথা কারন আমি আজকে একটা আকাম / দুস্টুমি করি নাই আমি ফাজলামো করে ক্লাসের সবাইকে জালিয়ে মারতাম,
রোহান আমার কাছে এসে বল্লো
কি হয়েছে তোর?
আমি: কিছু না( তারপর ওর সাথে কথা বলে বাসায় চলে আসলাম।
আসার সময় আর নিলিমাকে দেখলাম না)
তারপরের দিন কলেজে গিয়ে আমার ছিটে বসে আছি এমন সময় সাদিয়া আসলো।( সাদিয়া হলো আমাদের সাথেই পড়ে)
সাদিয়া: মেহেদী কি হয়েছে তোমার?
আমি : কোই কিছু নাতো।
সাদিয়া : না আগের থেকে তুমি অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছো
কারো সাথে কথা বলো না।
কোনো দুষ্টুমি করো না। তেমার দুষ্টুমি গুলো অনেক মিছ করছি
আমি : হুমমম
চলবে,
{মন্ত্রীর ছদ্মবেশী ছেলে}
{মন্ত্রীর ছদ্মবেশী ছেলে}
.
.
PART:-10
.
.
আমি:না স্যার তার আর কোনো দরকার হবে না।আব্বু আগের কলেজেই আমাকে ভর্তি করে দিয়েছে।তাহলে আমি আসি স্যার!
-আচ্ছা!ভালো থেকো!
বাহিরে বের হয়ে আসলাম!কি করবো এখন কিছুই মাথায় আসতেছে না।আমি সায়রাকে ছাড়া এখান থেকে যেতে পারবো না!ওকে যে আমার জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসে ফেলছি!
আমি:ম্যাম একটু সুনবেন!
সায়রা:হ্যা বলো!(অফিস রুম থেকে এসে।চোখ দেখে স্পস্ট বুঝা যাচ্ছে যে সারারাত কান্না করছে।)
আমি:ম্যাম বিশ্বাস করেন আমি এইসবের কিছুই জানিনা!সব ওদের সাজানো!আপনার মনে হয় আমি এইসব করতে পারি!
সায়রা:তো এইসব আমাকে বলতেছো কেন!(একটু অভিমান সুরে)
আমি:সায়রা বিশ্বাস করো আমি এইসব করিনি!(ওর হাত ধরে)
সায়রা:হাত ছাড়ো!
-না ছারবো না!(আরো শক্ত করে ধরে)
-হাত ছাড়!(ঝাটকা মেরে)
-প্লিজ সায়রা তুমিতো আমাকে বিশ্বাস করো!
-ঠাসস বিশ্বাস তাও আবার তোকে!হাসালি!তোর মতো ভাকারিকে পায়ের নিচেই রাখতে হয় বুকে না!তোর প্রতিটা কথাগুলো আমার মন ছুয়ে যেতো!ভালোবেসে ফেলছিলাম তোকে!কিন্তু তোর মত লুচ্চাকে ভালোবাসা না দিতে হয়! ঠাসসস এইটা(শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে)
-তুমি আমাকে মারো কিন্তু বিশ্বাস করো আমি এইসব কিছুই করিনি!
-তোর কোনো কথাই শোনার আমার ইচ্ছা নেই!তুই থাক আমি গেলাম!
-প্লিজ আমার কথাটা শোনো!আমার এইখানে আশার প্রধান কারন হচ্ছোই তুমি!খুলনার বিয়ে বাড়িতে..(সব খুলে বল্লাম ওকে খালি আমি মন্ত্রীর ছেলে বাদে।কারন ও ভালোবেসেছে এই সাধারন ছেলেকে আর আমিও চাই ও এই সাধারন ছেলেকেই ভালোবাসুক কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠলো না)
সায়রা:দেখ তোর অযুহাত আমাকে দেখাবি না!(এই বলে সায়রা চলে গেলো)
আমি মাথা নিচু করে বাহিরে যাচ্ছিলাম যেই গেটের বাহিরে যাবো অমনি কিছু ছেলে মিলে আমাকে মারা শুরু করে!খেয়াল করে দেখলাম এইগুলো সামির ভাইয়ের বন্ধুবান্দব!সামির ভাইয়ো পাসে দারিয়ে আছে ওনাকে দেখে একটা মুচকি হাসি দিলাম!সপে দিলাম আর সরির ওনাদের!ইচ্ছা মতো মারতেছে!পা থেকে শুরু করে বুক অব্দি হকিস্টিক দিয়ে বারি মারতেছে!কিন্তু আমার দুটি লাল চোখ খুজতেছে শুধু সায়রাকে!চোখ বেয়ে অঝরে বৃষ্টি পরতেছে।ওদের মারার জন্য না সায়রার আমাকে ভুল বুঝার জন্য আমার বিশ্বাস ছিলো সায়রা আমাকে বুঝবে কিন্তু না সায়রাও আমাকে বুঝলো না!হঠ্যাৎ কে যেনো পিছোন থেকে মাথা বরাবর একটা আঘাত করলো!সবাই সবার মতো দৌড়ে পালাতে লাগলো!ঝাপসা ঝাপসা চোখে দেখলাম আশিফ আমার কাছে দৌরে আসতেছে!
WAIT FOR NEXT
গুন্ডি জিএফ
গল্প : গুন্ডি গার্লফ্রেন্ড
পার্ট : ১ম
লেখক : কামাল
বিয়ে বাড়ির ব্যাপার
একটু তো ধাক্কা লাগতেই পারে তাই না...?
কারণ বিয়ে বাড়িতে প্রচুর মানুষের ভীড়..!
তো অামার সাথে ধাক্কা লেগে সুলতানার কপাল ফেটে গেছে...!
অার এই দুর্ঘটনার পর অামি লুকিয়ে লুকিয়ে
বেড়াচ্ছি....!,
একটু পর শুনছি..
সুলতানার মা তাকে বলছে : সুলতানা মা তুই শুধু নামটা বল কে তোকে ধাক্কা মেরেছে....?
তারপর সুলতানা বললো : ছেড়ে দাও মা কিছু করতে হবে না...!
- মানে ;
যে তোর কপাল ফাটিয়েছে তাকে কিছু না বলেই ছেড়ে দেবো....?
- হুমম তোমাকে কিছু করতে হবে না...!
ওকে অামি নিজেই দেখে নিবো...!
সুলতানার মায়ের কথা শুনে অামি ভীষণ ভয় পেয়ে গেলাম...! সামনে পেলে হয় তো অামাকে খুন করে ফেলবে...!
উফ ;
বিয়ে বাড়ি না অাসলেই বোধ হয় ভালো হতো..!
এসব টেনশনে সারাদিন কিছু খাইনি...!
খুব খিদে পেয়েছে... দেখলাম একটা প্লেটে কিছু ফুসকা রাখা অাছে...
অার এক মুহূর্ত দেড়ি না করে সব ফুসকাই খেয়ে ফেললাম...... অাহ্ কি শান্তি...!
খাওয়া শেষ হতেই দেখি সুলতানা অামার সামনে দাঁড়িয়ে...
ও অামার কান টেনে ধরে বললো..
সুলতানা : ওই তুই অামার ফেভারিট ফুসকা খেয়ে ফেললি কেনো...? তোকে অামি এবার খুনই করে ফেলবো..!
অামি : সত্যি বলছি.. অামি জানতাম না যে এই ফুসকা অাপনার ছিলো..বিশ্বাস করুন..!
সুলতানা : তোর বিশ্বাস এর গুষ্টি কিলাই.."
তুই অাজ খুন হবি অামার হাতে..! অাজকেই তোর শেষ দিন...!এই বলেই হাতে ছুরি নিলো..
অামি : এই অাপনি হাতে ছু ছু ছু ছুরি কেনো নিলেন...?
সুলতানা : তোকে অাপেলের
মতো কাটবো তাই...
তোর কতো বড় সাহস.. তুই অামাকে ধাক্কা মেরে কপাল ফাটিয়েছিস..! এবার তোর খবর খারাপ অাছে...!
অামি : বিশ্বাস করুন অামি ইচ্ছে করে অাপনাকে ধাক্কা মারিনি...! কে যেনো অামাকে পিছন থেকে ধাক্কা মেরে ছিলো...! তখন অাপনি সামনে ছিলেন তাই অাপনারও ধাক্কা লেগে গেলো...!অাপনার কপাল ফাটুক এটা অামি কখনো চাইনি...!
সুলতানা : অামি তোর কোনো কথা শুনতে চাই না...! দাঁড়া অাজ তোকে দেখাচ্ছি মজা..!
অামি : হিঃ হিঃ ধরতে পারলে তো...এই কথা বলেই দিয়েছি দৌড়..!
কি জ্বালায় পরলামরে ভাই... এখানে থাকলে তো এই সুলতানা অামাকে কি যে করবে তা অাল্লাহ জানে...!
এদিকে বিয়ের সব অায়োজন করা হচ্ছে.. এখন অামরা বরযাত্রী যাবো...!
ভদ্র ছেলের মতো রেডি হয়ে নিলাম যাওয়ার জন্য..! কিছুখন পর দেখছি সুলতানা অাসছে..
অাজকে ওকে অনেক দারুন লাগছে...!
লাল রং-এর শাড়ি পরেছে- হালকা মেক অাপ- কপালে লাল টিপ - ঠোঁটে হাল্কা লিপস্টিক ;
মনে হচ্ছে অাকাশ থেকে লাল পরী নেমে এসেছে...!
লাল শাড়িতে একটা মেয়েকে এতোটা সুন্দর লাগে অাগে জানা ছিলো না...!
হা করে তাকিয়ে অাছি সুলতানার দিকে..
ও অামার কাছে এসে বললো....
- অাজ তোর খবর অাছে...!
- অামি ওকে বললাম.. খবর অাছে মানে কি...? কি করবে অামাকে...?
- সেটা একটু পরেই বুঝতে পারবি...!
- সুলতানার কথা শুনে ভয় পেয়ে গেলাম!
না জানি অাজ অামার কপালে কি অাছে..!
এসব ভাবতে ভাবতে গাড়িতে ওঠে বসলাম...তারপর দেখি সুলতানাও গাড়িতে ওঠতেছে এবং অামার দিকেই অাসতেছে...হঠাৎ করে অামার পাশের সিটেই বসে পরলো....! অামি তো ভয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছি... এরপর চলন্ত গাড়িতে সুলতানা হঠাৎ করে অামার গলায় ছুরি ধরে বললো...
- এবার কোথায় পালাবি...? অাজ তোকে এখানেই শেষ করে ফেলবো..."
চলবে....
ভালবাসার প্রতিশোধ
#গল্প :: #ভালাবাসার_প্রতিশোধ
👇............................👇..................................👇
👇............................👇..................................👇
👇.................………...👇………………..................👇
ও ছেড়ি,ও ছেড়ি রে তুই,অপরাধী রে,
আমার যত্নে জমানো টাকাগুলো
দে ফিরাই দে,
আমার টাকার ফুসকা খাওয়ার
অধীকার দিল কে?
ছেড়ি তুই বড় ফইন্নি ,
তোর ক্ষমা নাই রে
গানটা গাচ্ছি আর তখনই৷কানটা ছিড়ে যাচ্ছে মনে হয়,
,
--ওরে বাবারে,কোন শালারে?(আমি)
--চুপ শালা৷এগুলো কি কস?(পিছনের কেউ)
পিছনে তাকাইয়া ২কেজি বোল্টের শকড খাইছি৷চাইয়া দেহি আমার আযরাইল৷শালার যার নির্যাতনে গান গাইতাছি৷এটা তো দেখি সে৷আরে ভাই কিছুই কি বুঝতে পারছেন না?আমি একটা ডাইনীর কথা বলছি৷আমার পকেট ফাকা করার মেশিন আর কি,
,
--ওই শালা আবুইল্লার মত তাকাইয়া আছছ কেন?(ডাইনী)
--আরে তু তু তু তুই?
--হুম৷আমি
--একটু কানটা ছাড় না৷আমার না খুব লাগছে
--চূপ কর৷লাগার জন্যই তো ধরছি
--কানটা ছাড় না প্লীজ,তুই না আমার কইতর,আমার বুলবুলি কাওয়া
--ঠাসস৷ শালা ফাজলামী পাইছোছ?
--আরে না রে ৷তোর সাথে ফাজলামি আমি করতে পারি?
--চুপ কর৷চল ফুসকা খামু,
--হুম খাবিই তো৷এই শুন আমার কাছে না টাকা নাই৷আজকের বিল টা তুই দেইস৷
--আচ্ছা চল৷
হা হা হা৷খুশি মনে যাইতাছি ৷আজকে ও বিল দিব আর আমি আজকে ইচ্ছা মত খামু৷আর অনেক টাকা বিল উঠামো৷তারপর বুঝামু অন্যের টাকায় খাইলে কেমন লাগে৷,
,
ওপস,ওই মিয়ারা আপনাদের কি আমাদের পরিচয়টা জানতে ইচ্ছে করেনা৷করুক বা না করুক আমি নিজে থেকেই বলছি৷আমি হলাম বিশ্ব ভদ্র পোলাগো লিডার৷
"" আরমান হোসেন হিমেল"""৷একদম ভদ্র পোলা৷ আর যে ডাইনিটার কথা বলছিলাম ওর নাম অজান্তা৷কথায় আছে না যেটা না জানা,সেটা হল অজানা৷আর এই হারামী মাইয়াটা অজানার চেয়েও অজানা৷এজন্যই বুঝি বাপ মা নাম রাখছে অজান্তা৷একদম হাচা একটা নাম দিছে৷আমরা দুজনে একসাথে একই ভার্সিটিতে পড়ি৷অজান্তা কোটিপতি বাবার বড় মেয়ে৷কথায় আছে বড় মেয়েরা অনেক ভাল হয়৷আর শালার এমন এক মাইয়ার কাছে পড়ছি কিপটার চেয়েও কিপটা৷
থাক ভাই এত কথা বলে লাভ নাই৷যদি অজান্তা এগুলো শুনে তাহলে আমাকে তেজপাতা বানাইবো৷আরে মিয়ারা কথা বলতে বলতে খাওয়ার কথা ভুলে গেছি৷আজকে ও খাওয়াবে৷
এটাই ও আমাকে প্রথম খাওয়াবে৷তাই খামু ইচ্ছা মত৷হি হি হি
,
--কিরে শালা,ছাগলের মত দাঁত বের রাখছিস কেন৷আর ভির ভির কইরা কি বলতাছোছ?(অজান্তা)
--আরে কিছু না রে(আমি)
--হুম৷যা অর্ডার করে আয়,
--তুই খাওয়াবি৷তুই অর্ডার কর,
--ঠিক আছে৷
,
বলেই অজান্তা অর্ডার করল৷আমি ইচ্ছামত ফুসকা খাওয়া শুরু করলাম৷একসময় দোকানদারও হাপিঁয়ে পড়ল ফুসকা বানাতে বানাতে আর দিতে দিতে৷খাওয়ার পর বিল আসল ২০৫০টাকা৷হা হা হা এত ফুসকা খাইছি ৷দে এবার বিল৷একটু হাসি দিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখি অজান্তা হাওয়া৷
হায় ! হায়! ও গেল কই?এইডা কি হইল?অজান্তা বলেই চেয়ার থেকে উঠলাম৷আর তখনই ফুসকাওয়ালা মামা বলল,
,
--মামা,কই যান(ফুসকাওয়ালা)
--অজান্তাকে খুজতে(আমি)
--বিলটা দিয়ে তারপর যান
--আমি বিল দিব মানে?বিল দিবে অজান্তা
--ওই মিয়া রাখেন ফাজলামি,বিল দিবেন নাকি বাজারের গন ধোলাই খাবেন
--বি বি বি৷হ্যা বিল তো আমিই দিব৷
মানিব্যাগে হাত দিয়ে দেখি ৮২৩টাকা আছে৷এবার কি হবে আমার?টাকা পামূ কই৷এমনিতে ফুসকা খাইয়া পেট ফুটবল হইয়া গেছে৷আর এখন টাকার জন্য যদি আমাকে মাইর দেয়,তাহলে তো আমি ব্রাষ্টো হইয়া যামু৷আল্লাহ বাঁচাও আমারে৷নয়ত ওপর থেকে কিছু একটা পাঠাও৷আমি ওপরে ওইঠা যাই৷কিন্তু তা আর হল না৷মুহুর্তেই কানে আওয়াজ আসল
,
--মামা শুরু করমু নাকি?
আমি আবুলের মত কইলাম
--মামা আমার কাছে মাত্র ৮২৩টাকা আছে৷আর কোনো টাকা নাই
--আচ্ছা টাকা দেন।
একটু সস্তি ফিরে পেলাম৷হয়ত এই টাকা নিয়ে আমাকে ছেড়ে দিবে৷আপাতত আমি বাইচা নেই৷তারপর অজান্তার ১৩টা বাজামু৷কিন্তু দোকানদার মামু আমাকে ছাড়ল না৷টাকাগূলো নেওয়ার পর আমার ২হাজার টাকার ঘড়িটা রেখে দিল৷আর বলছে টাকা দিয়ে তারপর নিতে৷আমি তখন আবুইল্লার মত বেক্কল হইয়া শার্টের হাতায় চোখ মুছতে মুছতে চলে আসলাম৷অনেক কষ্ট লাগছিল৷আর ভাবলাম এমন কিপটা মাইয়ার সাথে কেন গেলাম৷আমার এত সাধের ঘরিটা চলে গেল৷আর আমার টাকাগুলোও শেষ করছে৷এর একটা হিসাব নিকাশ করতেই হবে৷
বলেই চলে আসলাম৷আর সারারাত ভাবলাম, কিভাবে অজান্তাকে শায়েস্তা করমু৷কিন্তু শালার কিছুই ভাবতে পারলাম না৷বাসায় গিয়া মাথায় পানি ডালতে শুরু করলাম৷আমার এত দামী ঘড়ি বলে কথা৷মাথায় পানি ঢালতে ঢালতে দেখি বালতির পানি শেষ হইয়া টাংকির পানিও শেষ করে ফেলছি৷হঠাৎ আমার আমার ফ্রেন্ড (আমার পাসের রুমেই থাকে) তন্ময় এসেই দিল এক লাথি,
,
--ওরে বাবারে,কোন শালায় লাথি মারলি রে?
--শালা না বল দুলাভাই বল
--আরে শালা তুইও ওই অজান্তার মত হারামি হইয়া গেছছ
?
--আরে ,আব্বে হালায় কয় কি?কই অজান্তা?কই আমি?ওই মাইয়ার সাথে আমার তুলনা দিবি না
--ধুরর শালা৷তুই যেমন আমার সাথে এমন করতাছোছ,অজান্তাও তেমন করতাছে
--আজান্তা আবার কি করছে?
তারপর তন্ময়কে সব খুলে বললাম৷বলার পর তো শালায় হেব্বি হাসাহাসি শুরু করে দিছে৷আর আমাকে অনেক রাগানো শুরু করল৷রাগ কইরা বাইরে বের হইয়া গেলাম৷রাতের বেলায় বাইরে একা একা হাটতাছি৷হঠাৎ পাগলা কুত্তার ডাক শুনতে পেলাম৷
পিছনে তাকাইয়া দেহি পাগলা কুত্তাগুলো আমার দিকেই মে মে মে থুক্কু ঘেউ ঘেউ করতে করতে আসতাছে৷আমি চুপ কইরা দাড়াইয়া আছি৷ভাবলাম দৌড় দিলেই আমার অবস্থা শেষ৷কুত্তাগুলো আমার কাছে এসেই দাড়াল৷আর আস্তে আস্তে ডাকতে লাগল৷আমার মনে হয় এগুলোর খিদে পাইছে৷তাই আমি বললাম,,
,
--ভাই কুত্তা,আমার কাছে ঘেউ ঘেউ কইরা লাভ নাই৷টাকা পয়সা কিছু নাই৷সব ওই অজান্তা কিপাটা মাইয়াটা শেষ করে দিছে রে৷
,কিছুই বুঝলাম না৷কুত্তাগূলো আমার দিকে তেড়ে আসতেছে কেন৷এগুলো কী অজান্তার মত হারামী নাকি?৷বুঝলাম আমারে এখনি ওই অজান্তার মত শেষ করব৷তাই দিলাম ভো দৌড়৷অনেক কষ্টে বাসায় আসলাম৷বুঝলাম না,আজকের দিনটা এত কুফা কেন?কোনো রকম রাতটা পার করলাম৷কিন্তু সকাল বেলা আর ঘুম থেকে উঠেতে পারছিনা৷এত শীত করছে৷তাই আমি শুয়েই রইলাম৷আগের মত যথা সময়ে তন্ময় আমাকে ডাকতে লাগল৷কিন্তু উঠতে পারলাম৷আর তখনই আমার মাথায় হাত দিয়ে বলল,
,
--এই আরমান,তোর কি হইছে ভাই?তোর শরীর তো জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে৷
বলেই আমার মাথায় অনেকক্ষন পানি ডালল৷আর একটু পরই ডাক্তার ডেকে আনল৷ডাক্তার আমাকে দেখে৷তারপর ঔষধ দিয়ে চলে গেল৷আর তন্ময় আমার এত সেবা করছে৷হয়ত নিজের ভাইও এমন করত না৷তন্ময় আমার সাথে মাঝে মাঝে খারাপ ব্যবহার করলেও এখন মনে হচ্ছে ও আমার ফ্রেন্ড না,ও আমার ভাই,আর ভাইয়ের ওপরে কিছু থাকলে সেটা৷সেদিন তন্ময়ের এমন কীর্তি দেখে নিজের অজান্তেই চোখে পানি এসে গেল৷,
,
দুদিন পর,
,
এখন অনেকটাই সুস্থ আছি,তন্ময়ের সেবা অনেক কাজে এসেছে৷হঠাৎই অজান্তার আগমন৷আর এসেই বলল
,--কিরে আরমান,তোর এই অবস্থা,আর তুই আমাকে একবারও বললি না৷
বলেই আমাকে কি আদর!
--নারে তেমন কিছুনা বাদ দে৷এইত আমি সুস্থ
-তুই বললেই হবে নাকি?
--আচ্ছা বাদ দে
--চল,আমাকে ফুসকা খাওয়াবি৷
কথাটা শুনে শালার,সাথে সাথে জ্বর গা থেকে চলে গেল৷আর ৬কেজি রাগ উঠল৷হারামি বলে কি?
--ওই তুই চুপ কইরা এখান থেকে যা৷নাহলে তোরে বাথরুমের বদনার ভিতরে চুবাইয়া মারমু
--কি বললি তুই?
--আমি হাচা কথাই কইছি
--এই নে শালা,তোর টাকা আর ঘরি।
আমি তাকাইয়া দেখি আমার ঘরি৷
--দে আমার ঘরি
--তুই আমার সাথে এমন ব্যবহার করতে পারলি?
-চুপ কর তুই৷তুই ওইদিন ঐভাবে চলে গিয়েছিলি কেন?ওই দিন এমনিতেই ফুসকা খাইয়া পেট ফুটবল বানাইছিলাম৷ভাগ্য ভাল পকেটে কিছু টাকা আর ঘরি ছিল৷নয়ত আমাকে গনধোলাই খেয়ে ব্রাষ্ট হইয়া যাওয়া লাগত
--হি হি হি
-ওই হাসস কেন?
--তোর কথা শুনে
--আমি হাসার মত কিছু বলি নাই৷তুই এখন যা
-আমি চলে গেলি খুশি হবি?
-হুমু মানে৷১০০%হমু
-আচ্ছা আমি চলে যাচ্ছি,
,
বলেই এই কিপটা মাইয়া চলে গেছে৷আর আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি কয়েকদিন৷ আমিও করিনি৷কিছুদিন পর কলেজে গেলাম৷দেখি অজান্তা একা একা বসে আছে৷তাই ওর সামনে গেলাম
,
-কিরে ডাইনি মন খারাপ?
--চুপ কর৷আর আমার সামনে থেকে যা
-না গেলে কি করবি?
--তোরে লাত্তি মাইরা ফালাই দিমু
--কি কইলি তুই?
--হুম ঠিকই বলছি
-তুই জানছ এই কয়দিন তোর সাথে কোনো যোগাযোগ না করে কি করছি?
--কি করছছ?
--একটা উড়াধুরা গান বানাইছি
-কি গান?
-শুনবি?
-হুম
--তাহলে বলছি তুই সুন,
"ও আমার ডাইনি গো?
চির পেতনি পথ চলার,,,
তোর ফুসকা খাওয়ার বিল দিতে দিতে,
পকেট খালি আমার,,,,,
--শালাআআআআ,,,আরম্মম্মম্মম্মম্মমান
---আআআআআআআআআ,,,বলেই ভো দৌড়।
ওই মিয়ারা দৌড় না দিলে তো আলুর ভর্তা বানাইতো৷,
,
বিকেলবেলা মনের সুখে নদীর পার বসে বসে গান শুনতাছি৷হঠাৎ আমার শরীরে প্রচন্ড জোড়ে ধাক্কা অনুভব করলাম৷ধাক্কা অনুভব করতে করতে আর পিছনে তাকানোর সুযোগ পেলাম না৷সরাসরি নদীতে পড়ে গেলাম৷
ও মারে ডুবে গেলাম রে৷ডুবে গেলাম৷ওপরে তাকাইয়া দেখি শালার অজান্তা৷আমার জীবনটা বানাইয়া ফেলছে ভাতের মত পান্তা৷খিলখিল করে হাসছে৷দেখেই ২৫০কেজি রাগ উঠল৷আর আমাকে বলা শুরু করল
,
--কিরে আরমান্নন্নন্না,কেমন লাগছে?
.
--অজান্তা কাজটা ভাল করলি না৷আমার এত সুন্দর একটা সময় তুই জাহান্নাম করে দিলি৷আল্লাহ এটা সইবে না৷তোর ওপর আল্লাহ ৫কেজি কষ্ট দিব
.
--আব্বে হালায় কয় কি?কষ্ট আবার কেজিতে মাপলি কেমনে?
.
--চুপ কর৷
বলেই আমি নদি থেকে উপরে উঠব ৷ঠিক সেই সময় অজান্তা হাসতে হাসতে চলে গেল৷উপরে উঠার পর আরও একটা শকড খাইলাম৷আমার ফোন শেষ৷পানি গেছে ভিতরে৷আমার দাদার এত কষ্টের নোকিয়া ১১০০মডেলের ফোনটা আজ মনে হয় শেষ৷
মনের কষ্টে চোখ দিয়ে একফোটা পানি না পড়লেও নাক দিয়ে ২কেজি পানি বের হইছে৷ওই মিয়ারা একদম হাসবেন না৷আমার অনেক রাগ হইল৷আমি প্রতিশোধ নিমু৷প্রতিশোধ৷চরম প্রতিশোধ নিমু৷তাই অপেক্ষা করতে লাগলাম৷,
,
কিছুদিন পর,
,
অজান্তা এসে বলল
,
--বল তো আরমান কাল কি?
.
--কাল আবার কি?
.
--একটু ভেবে বল
.
--কাল শুক্রবার৷সো কলেজ বন্ধ৷তো আরকি হতে পারে?তোর বিয়ে টিয়ে নাকি?
.
দেখলাম অজান্তা হেব্বি রেগে গেছে,
--দেখ ফান করবি না৷কাল কি তুই সেটাও জানিস না
,
--হয়ত তোর দাদার মৃত্যু বার্ষিকি৷যাক ভালই হলো ফ্রি তে খেতে পারব৷হিহিহি
.
--শালা তোর ফ্রি তে খাওয়ার গুষ্টি কিলাই৷কাল আমার জন্মদিন৷আর আমার জন্য ভাল কিছু নিয়ে যাবি
.
--কি বলছিস কাল তোর জন্মদিন?
.
--হুম৷তুই আমার স্পেসাল বন্ধু৷তাই স্পেশাল কিছু নিয়ে যাবি৷যেন আমিসহ সবাই এটা মনে রাখতে পারি৷
.
--হুম তাই হবে৷চিন্তা করিস না৷তুই আমার বন্ধু ৷আর জন্মদিন বলে কথা৷এমন জিনিস দিব এমনিতেই ইতিহাস হয়ে থাকবে
.
--হুম৷তাহলে এখন যাই"কাল ঠিক সময়ে চলে আসবি৷
.
বলেই অজান্তা চলে গেল৷আমিও ভাবতে লাগলাম ইতিহাস করমু৷ বাসায় আইসা ভাবতে লাগলাম কিভাবে ইতিহাস করমু৷তন্ময়কে ডাক দিলাম৷
--কিরে শালা ডাকস কেন(তন্ময়)
.
--দোস্ত কাল তো ইতিহাস করমু রে
.
--কি ইতিহাস করবি?
.
--দোস্ত তুই অনেক ভাল দেখে একটা গিফ্টের বাক্স নিয়ে আয়৷শুধু বাক্সটার দামই যেন ২-৩হাজার টাকা হয়৷অনেক ভাল একটা বাক্স আনবি
.
--আরে শালায় কয় কি?খালি বাক্স এত টাকা দিয়ে আনবি,মাথা ঠিক আছে তোর
.
--আছে রে দোস্ত৷তুই শুধু আগে আন
.
--শালা,বাক্স দিয়ে চা খাবি?
.
--আরে তুই নিয়ে আয়৷এইনে টাকা,
,
তন্ময় বকবক করতে করতে চলে গেল৷মনে হয় আমাকে পাগল ভাবছে৷আপনারাও হয়ত ভাবছেন আমি কেন এমন করছি৷আরে ভাই ইতিহাস করমু তো৷একটু তো ত্যাগ স্বীকার করতে হবেই তাই না?
ভালো লাগলে আর নেক্সট প্রাট পেতে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দিয়ে,,, সাথে থাকেন।
তন্ময় গেছে বাক্স আনতে আর আমি বাইরে বের হয়ে গেলাম লাইট হাতে নিয়ে৷আর হাতে একটা ব্যাগও নিয়ে গেলাম৷ পুকুরপাড়ে গেলাম৷অনেক গুলো ব্যাঙ ধরলাম৷তারপর বাসায় এসে ওই গুলো ভাল একটা জায়াগায় রাখলাম যেন৷ সবগুলো একদম সতেজ থাকে৷তারপর ঘর থেকে অনেক খুজে অনেকগুলো তেলাপোকা অনেক গুলো টিকটিকি ধরে পাত্রে আটকিয়ে রাখলাম৷একটু পরই তন্ময় আসল৷হাতে একটা গিফ্টের বাক্স
,
--ওয়াও দোস্ত৷বাক্সটা হেব্বি হইছে রে দোস্ত
(আমি)
,
বলেই তন্ময়কে জড়াইয়া ধরলাম৷তন্ময় আমাকে বলল।
--দোস্ত এইবাক্স দিয়া কি করবি?
(তন্ময়)
.
--দোস্ত ইতিহাস করমু
.
--দুর শালা,,খালি বাক্স দিয়া আবার কেমনে ইতিহাস করবি
--তাহলে শুন
,
তারপর তন্ময়কে সব খেলে বললাম৷
তন্ময় শুনে তো হাসতে হাসতে শেষ৷
দুজনে সারা রাত অনেক মজা করলাম৷লুঙ্গী ড্যান্স এমন ভাবে শুরু করলাম৷লুঙ্গি ড্যান্স দিতে গিয়ে কয়বার যে লুঙ্গি খুলে..........
থাক আর বলা লাগব না৷
,
পরেরদিন ,
,
অজান্তার ফোন আসল
--কিরে আরমান কই তুই?আর আমার গিফ্টের কি অবস্থা?
.
--তোর স্পেশাল গিফ্টের দুর অবস্থা(ভির ভির করে বললাম)
.
--কি বললি?
.
--কই না তো
.
---তাহলে ভালই ভালই বল কি বলছোছ?আর গিফ্টের কি অবস্থা?
মনে মনে বললাম কি খাচ্ছর মাইয়ারে ৷খালি অন্যের টাকা শেষ করতে চায়৷আমিও বুঝামু
.
--কিরে আরমান চুপ কেন?
.
--দোস্ত তোর গিফ্টের জন্যই তো এত দেড়ি৷আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড বলে কথা
.
--হুম৷স্পেশাল গিফ্ট নিয়ে আসবি
.
শালার কি রকম খচ্ছরের খচ্ছর৷নিজের জন্মদিনের গিফট আবার নিজে চায়৷তাও আবার স্পেশাল৷ঠিক আছে স্পেশালই দিমু
.
--কিরে আরমান চুপ কেন
.
--হুম৷স্পেশালই পাবি৷পরে কথা
বলছি৷আর আমি সন্ধার দিকেই এসে পড়ব৷
বলেই ফোন কেটে দিলাম৷
দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর৷ব্যাঙ ,তেলাপোকা,আর টিকটিকি গুলো খুব যত্ন সহকারে বাক্সে প্যাকেট করলাম৷প্যাকেট করার পর আমারই মন চাচ্ছে খুলে দেখি৷এত নিখুত ভাবে প্যাকেট৷হঠাৎ তন্ময় আসল
.
--ওয়াও দোস্ত,অনেক সুন্দর হইছে৷দে আমার জিএফ রে দিমূ নে
.
--আরে শালা কালকের কথা ভুলে গেলি নাকি?এটার ভিতর তো ...
.
--থাক ভাই আর বলিস না৷কিন্তু এমন করার মানে কি?
.
--স্পেশাল + ইতিহাস
.
--হা হা হা৷শালা তুই মানুষই একখান
.
--তো দুইখান হমু নাকি৷
,
সন্ধার সময় আমি আর তন্ময় অজান্তার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম৷যাওয়া পরই অজান্তা দৌড়ে আসল৷এসেই বলল,
.
--ওহ আরমান,তুই জানস তোর জন্য আমি কত ওয়েট করছি?সবাই আমার জন্য এখনও কেক কাটছে না
.
--তো কেক কাটতে বল
.
--আরে না৷তুই তো আমাকে স্পেশাল গিফ্ট দিবি৷ তাই তোর স্পেশাল গিফ্ট সবাইকে দেখাবো ৷যে আমার ফ্রেন্ড ......
.
--আর বলতে হবে না
.
-হুম৷এখন আমি সবাইকে আগে দেখাবো
.
-হায় হায় দেখালে আমি তো শেষ৷ভিতরে এত কিছু(মনে মনে)
.
--কিরে আরমান চুপ কেন?এখন সবাইকে দেখামু
.
আমার চোখ বড় বড় হইয়া গেল৷এখন তো দেখি আরেক ইতিহাস হইয়া যাইব৷আমি তন্ময়কে ইশারা দিলাম কিছু বলতে,তন্ময় বলল
.
-আরে অজান্তা আপু,এখন খোলার দরকার নেই
.
--কেন তন্ময় ভাই
.
--আরে ওইটার ভিতর ব্যা ব্যা
.
আর বলতে দিলাম না৷তন্ময়ের মুখ চেপে ধরলাম৷আর কথাটা ঘুরিয়ে বললমা
.
--কিছুনা অজান্তা
.
--ওই আরমান তুই ছাড়৷তন্ময় ভাইয়া আপনি বলুন??
.
--আরে ও আসলে বলতে চেয়েছে ব্যা না ভাল গিফ্ট তো৷তাই তোমাকে এত মানুষের সামনে না দেখতে৷
ঠিক না তন্ময়?তন্ময় বলল
,
--হুম আরমান৷এটাই৷আর তুই এত স্পেশাল বন্ধুর জন্য স্পেশাল গিফ্ট আনছিস!ওইটা মনে হয় অজান্তা আপু একা একা দেখলে সব চাইতে ভাল হবে
,
(মনে মনে বললাম,শালায় একটু হইলেই তো ফাসাইয়া দিত,আর এখন একটা কাজের কথা বলছে,এটাকে নিয়ে এগুতে থাকি)
আমি একটু ঢং করে বললাম
,
--হুম অজান্তা ,তোর জন্য এমন স্পেশাল গিফ্ট,আর তুই সেটা সবাইকে দেখাবি?একা দেখলে আমার গিফ্ট দেওয়াটা স্বার্থক হইত(আমি)
,
--ঠিক আছে রে৷তুই এত করে বলছিস৷আমি একাই দেখব(অজান্তা)
,
--হু হু ,একাই দেখ,আর নতুন করে হতিহাস গড়৷হুহু(মনে মনে)
,
এরপর যা হল তা আর বলে বুঝাতে পারব না৷কারন..........
👇
👇
#চলবে......
মানবিক
- আমরা মানুষ, চলনু মানবিক গুনগুলো বজায় রাখি।
- কোন অমানবিক কাজ না করি।
😓
🐘
ফরেস্ট অফিসার মোহন যখন সংবাদ মাধ্যমকে তার বিবৃতি দিলেন তখন সেটা দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেছিলেন সমস্ত সাংবাদিক।
তিনি বলেছিলেন,
" ডাক্তার যখন হাতিটির ময়নাতদন্ত করেন তখন তিনি বলেন যে হাতিটি 6 মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। কাঁপা গলায় আরও জানান যে হাতিটির মধ্যে একটা 6th সেন্স কাজ করেছিল। সে জানতো তার মৃত্যু আসন্ন। শুঁড় সহ গোটা শরীর রক্তময়, যন্ত্রণায় জ্বলছিল সারা দেহ। এই অবস্থায় সে তার সন্তানের কথা ভেবে চলে যায় নদীর মাঝে জলের মধ্যে যাতে সেই রক্তাক্ত জায়গায় পোকা-মাকড় না বসে। যতক্ষণ প্রাণ ছিল সে চেষ্টা করেছিল যাতে তার সন্তানের কষ্ট একটু হলেও কম হয়।
আর শেষ অবধি সে ওই মাঝ নদীতেই প্রাণ ত্যাগ করে। "
কেরলের Silent valley national park এর একটি 15 বছরের অন্তঃসত্ত্বা হাতি Malappuram এর একটি গ্রামের কাছে চলে আসে খাবারের সন্ধানে। সেখানে গ্রামবাসীরা তাকে একটা আনারস খেতে দেয় । অবলা প্রাণীটা সেটি খেয়েও নেয়। আনারসটির ভেতরে ছিল বারুদ ভর্তি। খাওয়া মাত্রই বাজি গুলো তার মুখে ফেটে যায়। রক্তাক্ত হয়ে ওঠে সারা মুখ।
তবুও নিজের সন্তানের কথা ভেবে সেই রক্তাক্ত শরীর নিয়েই ছুটে বেড়ায় সারা গ্রাম একটু খাবারের খোঁজে। শেষ অবধি সে খাবার পায়নি আঘাত ও করেনি কোনো গ্রামবাসী কে, ভাঙেনি কোনো ঘর। সোজা চলে এসে মাঝ নদীতে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। বহু চেষ্টাতেও তাকে সরানো যায়নি সেখান থেকে।
----
নিয়তি
নিয়তিঃ♠
ছেলেটার সাত বছরের রিলেশন ছিলো মেয়েটার সাথে। মেয়েটা আমাদের ডিপার্টমেন্টেই পড়তো। নাম মোহনা।
.
ভাইয়ের নাম ছিলো সামস। আমাদের হলেই থাকতেন। তিন ব্যাচ সিনিয়র। কোনদিনও হাসি ছাড়া দেখিনি উনাকে। এতো ভদ্র ছেলে পুরো ক্যাম্পাসে পাওয়া দুষ্কর ছিল। মেয়েটাকে ভালোও বাসতেন পাগলের মতো। প্রায়ই দেখা যেতো ক্যাম্পাসে হাতে হাত রেখে হেটে চলেছেন দুজনে। আমাদের চোখে চোখ পড়তেই অবশ্য হাত ছেড়ে দিয়ে লাজুক হাসি দিতেন শামস ভাই! মাঝে মাঝেই রাত তিনটা-চারটায় ঘুম থেকে উঠে দেখতাম, হলের করিডোরের এক কোনায় দাড়িয়ে ভাই তখনও গুজুর গুজুর করেই চলেছেন!
.
একটা চাকরির অভাবে সেই সম্পর্কটাই বদলে গেল কী ভীষনভাবে!
ততোদিনে ভাইয়ের মাস্টার্স পাস করা শেষ। চাকরি পাচ্ছেন না বলে হলে থেকে গিয়েছিলেন আরও দেড় বছরের মতো।মেয়েটা ছেড়ে চলে গিয়েছিলো মাস্টার্স শেষের এক বছরের মাথায়। যাবেই না বা কেনো, সুন্দরী মেয়ে, বাসায় বিয়ের প্রস্তাব এসেছে, সেই ছেলে আবার প্রসাশনের ক্যাডার।
→যাওয়ার আগে মেয়ে বলে গিয়েছিলো, "চাকরি পাও না, যোগ্যতা নেই, তো প্রেম করতে এসেছিলে কেন?"
.
ব্রেকাপের পর ভাই প্রায়ই আমার রুমে আসতেন সিগারেট খেতে। হাতে সবসময় কোনো না কোনো বিসিএসের বই থাকতোই। ঘন্টার পর ঘন্টা ধোঁয়া ছাড়তেন আর মাথে মাঝে উনার জীবনের গল্প বলে চলতেন। বাড়ির রান্নাঘরের কোনাটা ভেঙে পড়েছে, বড় বোনটার বিয়ের বয়স হয়ে গিয়েছে, বাপ আবার পেনশনে গেছে এই বছর। মাঝে মাঝে কথা বলা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। কি যেন ভাবতেন। হয়তো সে ভাবনা আমাদের ধরাছোয়ার বাইরে!
.
মাস্টার্সের দেড় বছরের মাথোয় সামস ভাইকে হল থেকে বের করে দেয়া হয়েছিলো। বের করে দিয়েছিলো তারাই, যারা সামস ভাইয়ের হেল্প পেতে পেতে এতদূর এসেছে, যাদের হলে ব্যাবস্থা করে দেয়েছিলেন সামস ভাই নিজেই।
.
যেদিন বেরিয়ে যান, অঝোর ধারায় চোখ থেকে পানি পড়ছিলো। ভার্সিটিতে ক্লাস সেরে এসে দেখি, ভাই বের হয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমাকে দেখে চোখে পানি নিয়ে অনেক কষ্টে একটা হাসি দিয়ে বলেছিলেন, "আর যাই করিস, প্রেম করতে যাস না ভাই। জীবনটা ছাই বানিয়ে দেবে। " কথাটা কাগজে লিখে দেয়ালে টানিয়ে রেখেছিলাম!
উপরের কথাগুলো প্রায় বছর-দশক আগের।
ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত একটা কাজে বহুদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম কোনো এক কাষ্টমস অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে, বিষেশত ভার্সিটির কোনো বড় ভাইয়ের সাথে। হেল্প বেশি পাওয়া যায় তাহলে।খোজ-খবর নিয়ে যা জানতে পারলাম, মাথা ঘুরে যাবার উপক্রম হলো। শামস ভাই এখন ঢাকা এয়ারপোর্টের নামীদামী কাষ্টমস অফিসার!!
.
সময় করে একদিন গেলাম ভাইয়ের অফিসে। ঝা চকচকে সেক্রেটারিয়েট টেবিলের একপাশে বসে ছিলেন ভাই, আমাকে দেখে বিশাল এক হাসি দিয়ে এগিয়ে এসে বুকে বুক মেলালেন। একথা সেকথার পর উঠল সংসার জীবনের কথা, বললাম, বিয়ে-থা করিনি এখনো, বোহেমিয়ান জীবনই ভালো লাগছে। ভাইয়ের কথা জিজ্ঞেস করতে বললেন, বিয়ে করেছেন, একটা ফুটফুটে বাচ্চাও হয়েছে। ভাবী আবার সলিমুল্লাহ মেডিকেলের ডাক্তার।
.
অনেকক্ষন যাবত মনের সধ্যে একটা কথা বাজছিল, শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞেস করেই ফেললাম, "মোহনার কথা মনে পড়েনা, ভাই?" বেশ বড়সড় একটা হাসি দিয়ে বললেন, "না রে। জীবনে যা চেয়েছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি পেয়ে গিয়েছি। এখন আর এইসব ছোটখাট চাওয়াগুলো পাত্তা পায়না।"
জিজ্ঞেস করলাম, "মোহনার আর কোনো খবর পাননি?" কিছুক্ষন চুপ থেকে বললেন, "শুনেছিলাম বছরখানেক আগে ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে। এরপর আর কোনো খবর পাইনি। "
.
ভাইয়ার গাড়ি তে একসাথে ফেরার পথে ভাইয়ের বলা একটা কথা প্রায়ই কানে বাজে "লাইফে কাউকে ঠকাস না রে। লাইফ কাউকে ছাড় দেয়না, প্রতিশোধ নিয়েই ছাড়ে।
গল্প
পুলিশের কনস্টেবলের চাকরী'তে যয়েন দেয়ার পর পরই, বেঈমান এক্স গার্লফ্রেন্ডের প্রতারণার বদলা নেয়ার জন্য থানা থেকে ১৪ জন কনস্টেবল নিয়ে তার বাড়ির দিকে রওয়ানা দিলাম।
সাথে এক প্যাকেট ইয়াবা ট্যাবলেট নিলাম।
শালী'কে ইয়াবা মহিলা ব্যবসায়ী বলে- চালান করে দেবো, জেলার জেলখানায়। আমার মতো এক সহজ-সরল ছেলের সাথে প্রতারণার মাশুল কত'টা ভয়ানক হতে পারে, তা এবার সে হাড়ে-হাড়ে টের পাবে।
আমি শাওন। রাঙ্গামাটিতে পুলিশের চাকরী করি। ঘুষ দিয়ে এখানে ট্রান্সফার হয়ে এসেছি। শুনেছি আমার এক্স এই জেলাতে আছে।
আমি আগে একজন মেধাবী স্টুডেন্ট ছিলাম। গায়ের রং কিঞ্চিৎ কালো হলেও, সব সময় পড়াশুনায় ব্যস্ত ছিলাম। কলেজে তুখোড় স্টুডেন্ট তখন আমি।
আমি বলছি আগের কথা।
মেয়েরা আমার দিকে ভাব করার জন্য নজর দিলেও কিন্তু তখন আমি কাউকে তোয়াক্কা করতাম না। আমাকে যে, জেলার টপ স্টুডেন্ট হতে হবেই।
উপবৃত্তি আর টিউশনির টাকায় আমার পড়াশুনা তখন চলত।
সারাক্ষণ বই নিয়েই থাকতাম। কিন্তু এই মেয়ে আমার জীবনে এসে আমার জীবনকে তেজপাতার মতো তছনছ করে দেয়।
প্রথমত আমি তার দিকে তাকাতাম না। কিন্তু একটা সুন্দরী মেয়ে একটা কালো ছেলের পিছনে দৌঁড়াচ্ছে বিষয়টা কতক্ষণ সহ্য করা যায়।
শেষে আমিও পড়ে গেলাম তার ভালবাসার ফাঁদে। পরে জানতে পারি আমার মতো ছেলে ঘুরানোই মেয়েটার বেড হেভিট। আমার মতো আরো ডজন খানেক ছেলে আছে তার।
আমার ভালবাসা ছিলো পানির মতো স্বচ্ছ। তাই তাকে ভুলতে পারলাম না। তার জন্য কবিতা থেকে শুরু করে, রক্ত দিয়ে নামও লিখতে থাকলাম দেয়ালে দেয়ালে। আমার বি পজেটিভ রক্ত দেখে, সে আমার জন্য পাগল হয়ে গেলো।
তার জন্য টিউশনির টাকা থেকে হরেক রকমের গিফট আর ট্রিট দিতে থাকলাম। ১৪ মাসে ১৪ লাখ টাকা খরচ করলাম। শেষে মেয়ে বলে কিনা তার বিবাহ ঠিক হয়ে যাচ্ছে!
আমি আমার কালো চেহারা, কালো ফিগার আর চিকন শরীর দেখিয়ে বললাম, কি কম আছে আমার মাঝে?
সে আমাকে উত্তর দিলো "সরকারী চাকরী" এর শুধু কম আছে।
আমি বললাম, "যদি সরকারী চাকরীই তোমাকে পাওয়ার মাধ্যম হয়, তাহলে হবো আমি সরকারী কর্মকর্তা।"
ইন্টারের সার্টিফিকেট দিয়ে কি মেলে সরকারী চাকরী? শেষে ভিটেমাটি বন্ধক রেখে ১৪ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে নিলাম কনস্টেবলের পুলিশের চাকরী।
তার কপালে চুমু দিয়ে গেলাম পুলিশ ট্রেনিং -এ। পুলিশে ট্রেনিং যে কি কষ্ট, তা আর বলতে। আমাকে সকালে পিটিয়ে উঠিয়ে দিতো। দৌঁড় দিয়ে যেতো হতো কয়েক কিলোমিটার। ঠিক সময় না আসতে পারলে আবার মাইর। দড়ি বেয়ে উঠতে হতো উপরে। নীচের দিকে তাকালে মনে হতো মানুষ পিঁপড়া হয়ে গেছে। কতবার যে প্যান্টের তলা ফেটেছে ওয়াল টপকাতে গিয়ে, তার হিসেব নেই।
শুধু তার জন্য পালিয়ে আসতে পারতাম না।
শেষে আমি কনস্টেবল হয়ে গেলাম । কিন্তু এসে শুনি কিনা তার ইচ্ছায় বিবাহ হয়ে গেছে!
এটা শুনে দুইদিন কোমায় ছিলাম।
কিন্তু কোমা থেকে ফিরে আসলাম বদলা নেবো বলে।
নিজেকে জিমে নিয়ে গেলাম। ইয়া বড় মাসল বানালাম। যাতে তাকে ইচ্ছামত পিটাতে পারি যেন।
খবর নিয়ে জানলাম মেয়েটির বিবাহ হয়েছে রাঙ্গামাটিতে।
আরো ১৪ লাখ টাকা দিয়ে বদলি হলাম রাঙ্গামাটিতে।
সেখানে প্রথমে তাকে খুঁজতে গিয়ে, শান্তি বাহিনীর কাছে খেলাম মাইর। পরে ১৪ বার কান ধরে শেষ রক্ষা হলো।
আমি বলছি সে ছলনাময়ীর কথা যাকে জগৎ, ইরা নামে চিনে।
তাই আজ যখন ইরার বাড়ির ঠিকানা পেলাম, তাই ইয়াবার প্যাকেট নিয়ে রওনা দিলাম তার বাড়ির দিকে।
আমার সাথে আরো ১৪ জনকে নিয়ে এলাম। যাতে ইরা পালাতে না পারে।
কিছুক্ষণ পরে জিপে করে চলে এলাম ইরার হাজবেন্ডের বাসায়। বাসা তো নয় যেন রাজপ্রাসাদ।
বাড়ির সামনে দারোয়ান প্রবেশ করতে না দিলে দিলাম এক মাইর। ১৪ বার কানে ধরালাম তাকে। আজ আমার যে ক্ষমতা আছে, সাথে প্রশাসনও আছে। এখন আমি যা ইচ্ছা তা করতে পারি।
কলিংবেল চাপতেই দেখি "ইরা" দরজা খুলেছে।
প্রথমত আমাকে সে চিন্তেই পারিনি। পরে যখন রাইফেল বের করলাম তারপর চিনলো। রাইফেলের নীচে সব।
চিনবে বা কি করে আমি যে ফেয়ার এন্ড লাভলী মেখে এসেছি।
সে আমাকে দেখে, নাক কান্না করতে লাগল।
আমি গলতে থাকলাম। কিন্তু প্রশ্রয় দিলাম না।
আমাকে যে বদলা নিতে হবে।
আমি সাদা কাগজ দেখিয়ে বললাম " চার্চ ওয়ারেন্ট"।
ভিতরে অনিচ্ছাসত্ত্বেও ঢুকতে দিলো সে। দুদকের মতো সব কিছু এলোমেলো করতে থাকলাম। বইপত্র, আসবাবপত্র সব মেঝেতে ছুঁড়ে মারলাম।
"ইরা" চা বানাতে গেলে, পকেট থেকে ইয়াবার প্যাকেট বিছানার নীচে রেখে দিলাম।
সে চা নিয়ে আসলে, চা পান করে তাকে বিছানায় উল্টিয়ে দেখালাম "এগুলা কী?"
সে কাঁদতে কাঁদতে বলল, এগুলা হিস্টাচিন এর ট্যাবলেট। আমি বললাম,"এগুলা বাবা"। সে দেয়ালে ঠাঙ্গানো বাবার ছবির দিকে তাকিয়ে রইল।
আমি বললাম," বাবার ব্যবসা করো, না?"
সে আবার বাবার ছবির দিকে তাকিয়ে রইল।
আমার সাথে দু'জন মহিলা মোটা কনস্টেবলও নিয়ে এসেছি। নতুন এসেছে। তারা "ইরা" কে রেসলিং খেলার মতো মারতে থাকল। আমি রেফারি হয়ে আনন্দে শিস দিতে থাকলাম। সে "ওমাগো" বলে কাঁদতে কাঁদতে শেষ।
শেষে আমিও চুলের মুড়ি ধরে ইচ্ছামতো পিটাইলাম। তারাও শিস দিতে থাকল।
১৪ বার পিটালাম। শেষে থানায় নিয়ে ১৪ শিখের ভিতরে ঢুকিয়ে রাখলাম। জানুক, প্রতারণা কি!
শেষে আমরা নতুন পুলিশ ১৪ জন গিয়ে ১৪ বার করে ১৪ ঘন্টা মারলাম।
শেষে ওসি সাহেব আসলেন। সব শুনে,
তিনিও "ইরা"কে মারতে ঢুকলেন। ওসি সাহেবের মাইর দেখার জন্য আমিও কারাগারে ঢুকলাম। ইরার পিছনে গিয়ে দিলো এক ফুটবলের মতো লাথি। আমরা হাত তালি দিতে থাকলাম। বললাম: ওয়েল শট স্যার!"
তিনি বললেন," থ্যাংক ইউ".
শেষে স্যার, তার ১৪ টা গোল দেয়ার পর, চেহারা দেখতে চাইল।
কিন্তু ইরার চেহারা দেখেই ওসি সাহেব "থ" হয়ে গেল। আমরা ভাবলাম হয়ত ইরার প্রেমে পড়েছে। তা আর নতুন কি! এই মেয়ে যে ছলনাময়ী। যাদু জানে।।
ওসি সাহেব কাঁদতে কাঁদতে বললেন,"হারামজাদার বাচ্চা, কাকে নিয়ে আসছস? এটা তো আমার বউ!"
"তার মানে ইরা ওসি সাহেব'কে বিবাহ করেছে।"
ওসি সাহেব কোমড় থেকে পিস্তল নেয়ার আগেই দিলাম দৌঁড়।
আমি এখন দৌঁড়াচ্ছি, ওসি সাহেব বন্দুক আর ১৪ জন কনস্টেবল নিয়ে আমার পিছনে দৌঁড়াচ্ছেন।।
বন্দুক আর বোম ফুটছে আমার আশেপাশে।।
বোকা বরের দুস্টু বউ
#বোকা_বরের_দুষ্টু_বউ
#পর্ব/-০১
মোবাইলে রিং হচ্ছে......
ধুরু ভাল্লাগে না। কেউ কি একটু শান্তিতে ফ্রেশ হতেও দিবে না। দেখতেছে ফোন টা রিসিভ করছি না। তাহলে মানুষটির বোঝা উচিত যার কাছে ফোন করছি তিনি হয়তো ব্যস্ত ও থাকতে পারেন। কিন্তু না একের পর এক কল করেই যাচ্ছে । অবশেষে বিরক্তির ভাব নিয়ে ফোনটা ধরলাম.....
হ্যালো!(আমি)
ওই যে মিষ্টার। ফোন ধরতে এত সময় লাগে? (অচেনা মেয়ে কন্ঠে)
দুঃখিত! আপনি যার কাছে ফোন করেছেন তিনি এখন ওয়াশরুমে ইয়ে করতে ব্যস্ত আছে । অনুগ্রহ করে কিছুক্ষণ পরে ফোন করুন ।(আমি)
এই বলে আমি ফোন টা কেটে দিলাম । এরপর আমি আবার চলে গেলাম ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে । এই ফাঁকে আমি আমার পরিচয় টা দিয়ে ফেলি। আমি ইবাদত হোসাইন আফনান(আমারর আগের নামম চন্জ করে এই নাম দিছি কারন এটা আমার মায়ের দেওয়া নাম..) ভারসিটিতে আফনান বললে এককালে সবাই এক নামে চিনতো। মেয়েদের ক্রাশ ও পড়াশোনায় ভাল হওয়ার কারণে হয়তো এতটা সেলিব্রেটি ছিলাম সবার মাঝে। পরিবার বলতে বাবা-মা ও ছোট্ট একটি বোন আছে। বোনটি সবে মাত্র এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। পড়াশোনায় ভাল ছিলাম বিধায় আব্বু-আম্মু এসএসসি পরীক্ষার পর পরই শহরে পাঠিয়ে দেয়। জাতীর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেনেজমেন্টের উপর মাস্টারস্ করে বের হয়েছি সবেমাত্র ১ বছরের থেকে বেশি কিছু সময় হচ্ছে । রেজাল্ট ভাল থাকার কারণে ভারসিটি থেকে বের হওয়ার এক মাসের মধ্যেই একটা বেসরকারি ব্যাংকে অনেক ভাল পদে চাকরি পেয়ে যায়। নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়ে এই এক বছরের মধ্যেই ব্যাংকের অনেক উচ্চ পদে নিজের অবস্থান টা করে নিয়েছি । আর বেতনের কথা নাই বা বললাম। কারণ আমি যে বেতন পায় তা দিয়ে পরিবারসহ কয়েকটা বউ চালোনো যাবে। তাইতো আব্বু আম্মু এ চাকরি পাওয়ার পর পরই বিয়ে কর বিয়ে কর বলে প্যারা দিচ্ছে ।আর আমি সবসময় কোন না কোন সমস্যা দেখিয়ে বিয়েগুলো ক্যান্সেল করে দি। সারাদিনের পরিশ্রম করে ব্যাংক থেকে ফিরার পর রাতে ইনজয় ও খাওয়া ধাওয়ার করে বিছানায় গা লাগিয়ে দিতেই হারিয়ে যায় এক গভীর ঘুমের রাজ্যে। আর আমার একটা বাজে অভ্যস হলো রাতে ঘুমানোর আগে এফবি তে গল্প লিখে পোষ্ট করা। আপনারাই বলুন এরকম বিন্দাস লাইফ রেখে কোন দরকার আছে বিয়ে করে নিজের জীবন কে প্যারাময় করা। তারপরে ও আম্মু আজ পায় পায় করে বলে দিয়েছে কাল নাকি পাত্রী দেখতে যাবে আমার জন্য তাই যেন ভোরের ট্রেনেই বাড়ি রওনা দি। তাই আজই ব্রান্স ব্যাংক ম্যানেজার থেকে আগামী দুই দিনের ছুটি নিয়ে নিয়েছি।
ফ্রেশ হতে আর আপনাদের সাথে কথা বলতে বলতে এতক্ষণ ধরে যে ওয়াশরুমে রয়ে গেছি খেয়াল ই করি নি। প্রায় ২৫ মিনিট পর ওয়াশরুম থেকে বের হলাম ।
ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে ফোন টা হাতে নিতেই আমি তো অবাক । এ ২৫ মিনিটে ৪০ টা মিসকল।মোবাইলের স্কিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই ফোন টা আবার বেজে উঠলো...
হ্যালো!! (আমি)
এই যে হাদারাম!!ওয়াশরুমে ইয়ে করতে এতক্ষণ লাগে নাকি?(অচেনা মেয়েলি কন্ঠে)
হ্যা আমার লাগে। তা আপনি কে গো মা?(আমি দুষ্টমি করে)
আমি মিষ্টি ।(অচেনা মেয়েলি কন্ঠে)
স্যরি রং নাম্বার । আমি কোন মিষ্টির দোখানে মিষ্টি অর্ডার করি নি। (আমি)
আরে বোকা আমি আপনার বউ মিষ্টি ।(অচেনা মেয়েলি কন্ঠে)
ওমাগো আমি আবার বিয়ে করলাম কবে?(আমি অবাক হয়ে)
ছি ছি বিয়ে করে নিজের বউকেই চিন্তে পারছেন না?(অচেনা মেয়েলি কন্ঠে)
আপু গো আপনার পায়ে পড়ি এসব কথা বইলেন না।আমি তো কোন মেয়েকে বিয়ে করা তো দূরের থাক মেয়েদের সাথে কথা বলতেও লজ্জা পায়।(আমি)
আহারে!আর লজ্জা পেতে হবে না। একবার আপনার সাথে আমার ফুলশয্যটা হোক তারপর সব লজ্জা শরম চলে যাবে। (অচেনা মেয়েলি কন্ঠে)
দেখুন ফাজলামির একটা সীমা আছে। আমি আপনাকে ভাল করে চিনি না পর্যন্ত । আর আপনি বলছেন আপনি আমার বউ।আর হে আমি এখনো বিয়ে করি নি। তবে খুব শিগ্রই করতে যাচ্ছি। তারজন্য আগামীকাল পাত্রী ও দেখতে যাচ্ছি। ফোন রাখুন । আর একদম ফোন দিয়ে আমায় ডিস্ট্রাব করবেন না ।(আমি রেগে)
ওই একদম ফোন কাটবেন না। কিহ্ আমায় ছেড়ে আপনি অন্য কাউকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন? আপনার পা কেটে রেখে দিবো ।আমি ও দেখবো আপনি আমায় ছেড়ে অন্য কাউকে কিভাবে বিয়ে করেন।আর হ্যা রাত অনেক হলো খেয়ে ধেয়ে তারাতারি ঘুমিয়ে পড়েন। এফবি তে যেন অন্য মেয়েদের সাথে টাংকি না মারেন।(অচেনা মেয়েলি কন্ঠে)
তারপর সাথে সাথে ফোন টা কেটে যায়। মেয়েটার খুব রাগ হচ্ছিলো। বলে কিনা আমার বউ। যাই বলি না কেন মেয়েটার গলার বয়েজ টা কিন্তু খুব সুন্দর ।
অবশেষে খেয়ে ধেয়ে তারাতারি ঘুমিয়ে পড়লাম ।কারণ পরেরদিন ভোরবেলা ট্রেন ধরতে হবে।
পরেরদিন...
অবশেষে ভোরবেলার ট্রেন ধরে নিজ গ্রামে চলে আসলাম। বাড়িতে পৌঁছাতে পৌছাতে প্রায় সকাল ১০ বেজে গেলো।
কাধে বেগ নিয়ে বাড়ির মধ্যে ঢুকছি এমন সময়...
আফনান বাবা কেমন আছিস? (আম্মু)
আমি কেমন আছি সেটা পরে যেন আম্মু ।আগে সত্যি করে বলো তো আম্মু আমি কি আগে বিয়ে করেছি?আমার কি বউ আছে?(আমি)
পাগলের মতো এসব কি যা তা বলছিস। মনে হয় তুই এতটা পথ যারনিং করে এসেছিস তাই তোর মাথাটায় খারাপ হয়ে গিয়েছে।তুকে আজ পর্যন্ত একটা মেয়ে ও পচন্দ করাতে পারলাম না তারপর বলছিস আগে বিয়ে করেছিস । (আম্মু)
নিশ্চুপ হয়ে ভাবছি ।(আমি)
কি এত ভাবছিস। রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে। আমি খাবার দিচ্ছি। খেয়ে ধেয়ে রেস্ট নে। বিকালে আবারে পাত্রী দেখতে যেতে হবে।(আম্মু)
তারপর আমি সেখান থেকে ফ্রেশ হতে নিজের রুমে চলে গেলাম।
বিকালবেলা....
আব্বু আম্মু, ছোট বোন সহ মিলে পাত্রী দেখার জন্য পাত্রীর বাড়ি যাচ্ছি।শুনেছি পাত্রী নাকি আব্বুর বন্ধুর মেয়ে । আব্বুর গ্রামের মধ্যে ভাল একটা ব্যাবসা আছে।
অবশেষে একটা গাড়িতে করে পাত্রীর বাড়ির সামনে চলে আসলাম। পাত্রী পক্ষের কিছু লোক খুব সাদরে আমাদের বাড়ির ভেতর নিয়ে গেলো।
আমাদের নাস্তা পানি দিয়ে খুব ভাল করে আপ্যয়ন করা হলো। অনেক্ষণ ধরে আমরা গেইস্ট রুমে বসে আছি কিন্তু এখনো পর্যন্ত পাত্রী আসার নাম'ই নেই। আমার অসহ্য বিরক্ত লাগছিলো এসব । ইচ্ছে করেছিলো এক্ষনি চলে যায়। শুধু মাত্র আব্বু-আম্মুর সম্মানের কথা ভেবে চুপ করে আছি ।
অবশেষে পাত্রী কে নিয়ে আসা হলো। দুইপাশে দুইটা রমনি ঘুমটা পড়া পাত্রীর হাত ধরে আমাদের সামনে নিয়ে আসলো।তখন...
সচেতনমুলক
সচেতনতামূলক
😔🙏😔🙇
মেয়েরা কেউ মাইন্ড করবেন না
👉সবাই ২ মিনিট সময় নিয়ে পড়বেন প্লিজ,,💢
👉প্রেম করেছো নিজের ইচ্ছায়।🏃🏾♀️💔
হোটেলে নিজের ইচ্ছায় কারোর শয্যা সংগীনি হোচ্ছ🏃🏾♀️💔
প্রেমিকের সাথে যখন
তখন ফোনে অশ্লীল আলাপ করেছো।👩❤💔️💋👨
সেটাও নিজের ইচ্ছায়।🤦
ডেটে গেলে শরীরের
জায়গায় জায়গায় হাত দিতে দিয়েছো।😔
কাওকে জিজ্ঞেস কর নাই,,,,,🤦
কাজটা কি ঠিক না বেঠিক ?🤦
দিন শেষে প্রেমিক তোমাকে ছেঁকা দিয়ে
চলে গেল,,,,,!!!💔
এখন তোমার মাথায় বুদ্ধির উদয় হয়েছে।🤔
এখন বলছো,,, পৃথিবীর সব ছেলেরাই খারাপ।😔😢
"""""
তুমি যে খারাপ ছেলেটাকে বেছে
নিয়েছিলে🙊,
তা তো বলো না!🙇
তোমাদের তো এসব লুচ্চা ছেলেরই পছন্দ,👩❤️💋👨
যারা লুতু পুতু কথা বলে মেয়ে পটাতে পারে,,,,,,🥱
কখনো কি বুঝার বা জানার চেস্টা করেছো,,,,😖😠
একজন ছেলের পার্সোনালিটি বলতে
কি বুঝাই??🥴🤧
যে ছেলে তোমার পিছে ঘুরে, তোমাকে ইম্প্রেস করছে তার,,কি ভরসা, যে সে অন্য
মেয়ের পিছে ঘুরবে না?🤔
কিন্তু না এসবের পর ও ,,তুমি যে নিজেই তার হাতে তোমার সম্ভ্রম তুলে দিয়ে, তার কাছে তোমাকে সস্তা করে দিয়েছো,,😢
তা আর স্বীকার করবে না।😔
ওই ছেলে নিশ্চিত বাহিরে বলে বেরাবে💁🤓
"ওই মেয়েটা ভালো না আমিও,,!🤦
এই কথা তো আর মিথ্যা না,,,,!!!😠
তাকে এই কথা বলার সুযোগ দিলো কে?🙄
তুমিই তো নাকি???😩
এরপর পুরুষ জাতিকে
গালি দিয়ে,,, বাবা-মা এখন যার সাথে বিয়ে দিবে,,,তাকেই বেচে নিয়ে চুপ থাকবে,,,!!!😔😔
তোমার এই ব্যবহৃত শরীরকে, সতীত্বের মিথ্যা মোড়কে পেচিয়ে,,,, তাকে উপহার দিবে,,,,!!!!😢😔
হ্যা বাবা-মা যা করে সন্তানের ভালোর
জন্যেই করে।😍
👉যে ছেলেটিকে বিয়ে করে জীবন কাটিয়ে দিবে সেও একটি পুরুষ। মেয়েদের কাছে অাশা করবো সুধু সুন্দর প্লেবয় টাইপ ছেলেদের বয়ফ্রেন্ড না বাছাই করে,ক্লাশের লাষ্ট ব্রেঞ্চে বসা সান্ত ছেলেটাকে সুযোগ দিবে👰। সে আর যাই করুক তোমার মন ভাংবেনা। আর ক্ষতির সম্ভাবনা যেহেতু মেয়ের বেশি তাই সতর্কতা তাকেই নিতে হবে। 👰👰👰👉👉👉👉👉👉👉👉👉👉👉👉👉👉👉👉👉👉মেয়েরা সচেতন হও।সাবধানে থাকো।।
👉সব ছেলে _মেয়েরা কিন্তু এক না।।👍👍
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
👉এই লেখাটা হয়তো অনেকের কাছেই
ভালো লাগবে না,,,,,,,,,,,!!!!
👉কিন্তু, এটাই বাস্তবতা।
খারাপ লাগলে,
→ দয়া করে ক্ষমা করবেন.... ।। 🙏🙏
মিথ্যা অপবাদ ২৩
♥♥মিথ্যা অপবাদ♥♥
//part_23//
মাইশা আপু এমন মাইন্ডের না।।খুবই ফ্রি,,আর বিয়েটা কিভাবে হলো সবাই ত দেখলেন।।আপু রাগ করলে না হয় একটু বুজানোর কাজে সাহায্য করবে।
আরেকটা কাজ করা যায় এখন যেহেতু পরিবারের কাছে সমালোচনা মধ্যে আছে বিয়ের কথা টা গোপনে থাকাটাই ভালো হবে।,,বিকেলে আশা চলে যাচ্ছিল,,,
-- আশা শুনো,,আমি চাচ্ছি আমাদের বিয়েটা গোপন থাকুক,,,(আমি)
-- কেন(আশা)
-- এমনেই পরিবারের লোকজনের কাছে অপরাধী হয়ে আছি।বিয়ের খবর সুনলে হয়ত কত কি চিন্তা করে ফেলবে।তাছাড়া আম্মু,ভাবি জানলে খুব কষ্ট পাবে।(আমি)
-- আচ্ছা ঠিক আছে,কাল ভার্সিটিতে দেখা হচ্ছে বায়।(আশা)
-- হুম বায়,,(আমি)
আশা চলে গেলো,,বিকেলটা ছাদেই কাটাবো,,,তাই ছাদে চললাম।রিমি কফি আনতে গেছে,,,,
আমি ছাদের এক কোনে দাড়িয়ে ভাবছি,,,বিয়েটা করা কি ঠিক হইছে?এত ভেবে কি হবে যা হবার তা ত হইছেই।।
আচ্ছা আমার কি বাসায় যাওয়া হবে? কিন্তু কিভাবে?
আমার কাছে ত ভিডিওটা নাই,,,আমার বিয়ে নিয়ে পরিবারের কত ইচ্ছা আকাংখা ছিল।আমার ও ত ইচ্ছা ছিল মিথিলা কে বউ করব।কিন্তু নিয়তির কি নির্মম খেলা,,,যাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবেসেছি সেই আমাকে নিজের অপবাধ আমার কাধে দিয়ে বাসা ছাড়ালো।
বাড়ির কথা মনে হলেই চোখে পানি চলে আসে।
একটা কথা ভাবছি,,,আল্লাহর উপর ভরসা রাখাটাই ত ভালো হলো।।বাসায় থাকলে ত আর রিমির মতো ভালো মেয়েকে পেতাম না।।আর এইরকম অপবাদ নিয়ে সবার সামনে ছোট হয়ে থাকতে হতো ।।
রিমি কফি নিয়ে এসেছে,,,,
-- কি ভাবছো আসিফ?(রিমি)
-- কিছু না,,(চোখ মুছার সময় দেখে ফেলে)
-- কিছু না মানে এই তুমি কাদছো কেন?(রিমি)
-- পরিবারের কথা মনে পরছে?(আমি)
-- আসিফ মন খারাপ কর না দেখো সব ঠিক হয়ে যাবে?(রিমি আমার হাত ধরে)
-- জানি না আমি আবার বাসায় ফিরবো কি না।তবে আমার অপবাদ টা যেন মিথ্যা প্রমান হয়। (আমি)
-- এটাই হবে তুমি মন খারাপ করো না প্লিজ।,,
রিমির সাথে ছাদে কিছুটা সময় কাটিয়ে,,,রুমে এসে মোবাইল টিপছি ভাবছি আমার জিবনের ঘটনাটা গল্প আকারে দিব। হঠাৎ মোবাইল বেজে উঠলো ভাবি ফোন দিয়েছে,,,
-- হ্যালো,,ভাবি কেমন আছো?(আমি)
-- ভালো তুমি কেমন আছো?.<(ভাবি)
-- হুম ভালো,,,আম্মু, আব্বু কেমন আছে?
-- হুম ভালোই,,আসিফ জানো মিথিলাকে আজ দেখতে এসেছিল?(ভাবি)
-- পছন্দ করছে?(আমি কিছু টা খুশিই হচ্ছি)
-- হুম মিথিলাকে দেখেতে ছেলে ও তার পরিবার অনেক পছন্দ করেছে।আগামি সাপ্তাহে বিয়ে।(ভাবি)
-- সুনে খুশি হলাম,,,বিয়েটা ভালোভাবে হলেই হয়।।(আমি)
--হুম,,
-- আচ্ছা ছেলে কি করে?(আমি)
যাই হওক চাচাতো বোন খবর ত নিতেই হয়।
-- ছেলের নাকি কক্সবাজার কি ব্যবসা করে।সঠিক বলতে পারবো না?অনেক বড় লোকই মনে হয়?(ভাবি)
-- তাহলে ত ভালোই,,,,আচ্ছা ভাবি তোমাকে একটা কথা বলব।প্রমিস করতে হবে কাউকে বলবা না।(আমি)
-- কি কথা?(ভাবি)
-- ভাবি তোমাকে বলেছিলাম না,,আমাকে যে বাসায় আশ্রয় দিয়েছে।সেই বাসায় একটা মেয়ে আছে নাম রিমি?(আমি)
-- কেন কি হইছে প্রেমে পরে গেছো নাকি?(ভাবি)
-- না ভাবি কাল রাতে বিয়ে করে ফেলেছি?(আমার কথা সুনে ভাবি উত্তেজিত হয়ে)
-- বিয়ে করছো মানে?বেগে গিয়ে নাকি?(ভাবি)
-- না আংকেল,আন্টির কথায় ই।তবে অনেক কাহিনি আছে.? পরে বলব তোমাকে?(আমি)
-- আচ্ছা।
-- আচ্ছা প্লিজ বাসায় কাউকে জানিয় না।আম্মু সুনলে কষ্ট পেতে পারে।(আমি)
-- আচ্ছা ঠিক আছে?(
-- ধন্যবাদ ভাবি,,,,এখন রাখি?(আমি)
ভাবির সাথে কথা বলে ফোন রেখে দিলাম। কিছুক্ষন মোবাইল টিপার পর রিমি রুমে আসলো?
-- আমার জান টা কি করছে?(রিমি)
-- এই ত মোবাইল টিপছি?তুমি কোথায় থেকে আসলা?(আমি)
-- এই ত আম্মুকে খাবার বানাতে হেল্প করলাম,(রিমি)
-- তুমি? এত লক্ষী হলে কিভাবে?কখনো ত দেখি নাই আন্টির কোনো কাজে হেল্প করতে?(আমি ত অবাক এটাও কি আরেকটা রং)
-- আমি সব সময় ই লক্ষী,,<(ভাব নিয়ে)
-- আমার বঊ ত লক্ষী হওয়ারই কথা তাই না?(আমি মুচকি হেসে)
-- পাম মারতেছো?আমার সাথে এইসব চলবে না?(রিমি ত দেখি পাম দেওয়াটাও বুজে গেল)
--।পাম ত মেয়ে পটানোর কাজে ব্যবহার হয়,,,।(আমি)
-- আমি কি ছেলে? (রিমি রেগে গিয়ে)
-- আরে না,,তুমি ত আমার বউ আর বউকে কেউ পাম দেয় না? (ভুলবাল বুজাচ্ছি)
-- আচ্ছা ঠিক আছে,,,খেতে আসো?(রিমি)
-- রিমি ভাবি ফোন দিয়েছিল,,,ভাবিকে আমাদের কথা বলেছি।অনেক খুশি হয়েছে,,,,আর মিথিলার বিয়ে ঠিক হইছে?(আমি)
-- তাই নাকি এই দুশ্চরিত্রা মেয়ের বিয়ে ঠিক হইছে? (রিমি)
-- রিমি কাউকে এভাবে বলাটা আমি পছন্দ করি না।তুমি এমন ভাষা করবা আশা করি নাই।কারন তুমি আমার স্ত্রী আমি চাই তুমি আমার মতই হবে।ত্যাগ দিতে শিখবে,,,মনের রাগ কন্ট্রোল করবে?(রিমির দুই কাধে হাত রেখে সামনে দাড়িয়ে বললাম)
-- আচ্ছা সরি,,মিথিলার প্রতি অনেক রাগ ত তাই।(রিমি)
-- বুজছি,,আমি জানি আর এমন হবে না।(আমি)
-- কি করে ছেলে?(রিমি)
-- অনেক বড় ব্যবসা করে কক্সবাজার? (আমি)
-- আচ্ছা বিয়ে কবে?(রিমি)
-- আগামী সাপ্তাহে নাকি,, সঠিক বলতে পারছি না?(আমি)
-- অহ আচ্ছা খাবে চলো?(রিমি)
খাওয়ার টেবিলে,,,
-- আংকেল আন্টি,,,আমি খুবই দুঃখিত আপনাদের মনে কষ্ট দেওয়াতে? (আংকেল আন্টির দিকে তাকিয়ে)
-- আংকেল আন্টি কে হ্যা?আব্বু আম্মু বলবা?(আন্টি)
আন্টির কথা সুনে চোখের কোনে পানি জমে গেলো।কতটা ভালো মানুষ হলে।।একটা পরিবারহীন ছেলেকে,,,মেয়ের সুখের জন্য।নিজের বাসায় রেখে বিয়ে দেয়। আর এত অল্প সময়ে রাগ না করে ভালোবাসা দিচ্ছে। যাই হওক আব্বু আম্মুর অভাব ত দুর হবে)
-- আচ্ছা,, (আমি আস্তে করে)
-- আর আমরা মনে কষ্ট পাই নাই।আমাদের মেয়ে যাকে পেয়ে সুখে থাকবে তাকেই পছন্দ করে নিয়েছে।আমরাই প্রথম ভুল করেছিলাম।টাকা পয়সা প্রতিষ্ঠিত পাত্র খুজে।আসলে এইসব কখনো কাউকে সুখি রাখতে পারে না।জিবনে একজন ভালো মানুষ প্রয়োজন। আমি মনে করি রিমি সঠিক কাউকে খুজে নিয়েছে।(আংকেল)
আসলে আংকেল আন্টিকে আব্বু আম্মু বলাটা কেমন লজ্জা লাগছিল।এখন হয়ত আগের মত আংকেল আন্টি বলতে পারবো না।তাই কথাও তেমন বলতে পারব না।
খাবার শেষ করে রুমে বসে মনের সুখে গান গাচ্ছি।কিন্তু কি গান গাচ্ছি বলতে পারবো না।গুন গুন করছি,,কয়েকটা গানের সুর এক সাথে।
অনেকের গান গাওয়ার প্রতিভা থাকে। যা বিন্দু মাত্র আমার নাই।তবে আমি গান লিখতে পারি,,,নিজের মত করে।
-- রিমি তোমার আব্বু কি বলছে সুনছো? (আমি)
-- কি বলছে?(রিমি)
-- তুমি সঠিক মানুষ কে খুজে নিয়েছো?
-- দেখা যাবে কত দিন সঠিক থাকেন?(রিমি)
-- আমাকে ভালো মানুষ ও বলেছে?(বিছানার এক পাশে সুয়ে)
-- তুমি ভালো?(রিমি)
-- ভালো না???(আমি রিমির দিকে তাকিয়ে)
-- না খুব পচা আমার ঘুম ভেংগে দেও তুমি।আর এমন করবা না অকে?যা কিছু হয়ে যাক?(রিমি)
-- যদি ওয়াশরুমে যেতে হয়?
-- যাবা আমার ঘুম না ভাংলেই হলো।(রিমি)
-- কিভাবে যাবো মাথাটা ত আমার বুকেই থাকে?(আম)
-- এটা পার্মানেন্টলি আমার ওকে?(রিমি)
এভাবে কেটে যাচ্ছে খুনশুটি,,রাগ অভিমান, ভালোবাসা।রিমি আমাকে অনেক কেয়ার করে।কাল মিথিলার বিয়ে,,,।বাসায় থাকলে হয়ত আমিই আনন্দটা করতাম।কিন্তু এখনা আনন্দ করার জন্য কেউ নেই।পরিবারের লোকেদের মন ভালো নেই।বিয়েটা হয়ত সাদামাটাই হবে।
আজ মাইশা আপু এসেছিল।মিথিলার বিয়েতে নাকি যাবে।আমিও নাকি একসাথে যেতে হবে।কিন্তু আমার যে অই বাড়িতে যাওয়া মানা।মিথিলার সাথে এমন কিছু ঘটেছে।মাইশা আপু ত কিছুই জানে না।শুধু বলছে চাচাতো বোনের বিয়েতে যাবে না।এত রাগ করছো তুমি।অনেক অনুরোধ। শেষে কাল যাবো বলে মাঈশা আপুকে বুজালাম।
মিথিলার বিয়েটা হয়ত হয়ে গেছে,,,ঘুমিয়ে ছিলাম,,ফোনে মাইশা আপুর কল,,রিসিভ করতেই,কান্নার আওয়াজ,,,
চলব,,,,।
প্রকৃতি
এ যেন প্রকৃতির প্রতিশোধ!সময় এসেছে ক্ষমা চাওয়ার, প্রকৃতি মায়ের কাছে মানব সভ্যতার।
বড় ক্লান্ত,বড় বিধ্বস্ত হয়ে হয়ে পড়েছিল আমাদের প্রকৃতি মা। কোভিড-১৯ এর ঝড়ে যখন স্তব্ধ হল গোটা পৃথিবী,বন্ধ হল কলকারখানা,গাড়ি-ঘোড়া,সভ্যতা আগল দিল ঘরে! ঠিক তখন থেকেই আবার যেন প্রকৃতি মা সকল গ্লানি, জরা ঝেড়ে ফেলে ফিরতে শুরু করল তাঁর নব নির্মল সবুজ ছন্দে। এবার আমাদের তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পালা। বুঝে,না বুঝে আমরা অনেক ক্ষতি করেছি এই বিশ্বের। উন্নয়নের তাগিদে,এগিয়ে যাওয়ার নেশায় বার বার আঘাত করেছি প্রকৃতি মায়ের বুকে। টেকনোলজির ঘেরাটোপে ভুলে গিয়েছি মাটির টান! এইভাবেই অভ্যস্থ হয়ে উঠেছিল আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম। কিন্তু আর কত সইবে আঘাত আমাদের প্রকৃতি মা বা নেচার মাদার? তাই হয়ত কাউকে কিছু না বলে একদিন আছড়ে পড়ল 'করোনা' নামক ভাইরাস ঝড়! প্রথম প্রথম না বুঝলেও ধিরে ধিরে মানুষ উপ্লব্ধি করল তাদের আসল ভুলটা কোথায়?কেন আজ এত বড় মাশুল দিতে হচ্ছে গোটা মানবজাতিকে?
সময় এসেছে প্রায়েশ্চিত্ত করার। আমরা যেন ভবিষ্যত বিশ্বকে দূষিত না করি। যেন নতুন বিশ্বকে দূষণ মুক্ত রাখতে পারি। তবেই তো প্রকৃতি মা আবার আমাদের বুকে টেনে নিয়ে আরও একটা সুযোগ দেবে। এবং এই নতুন ভুবনে আমরাও স্থান পাবো আশাবাদী।।
Golpo5
Three drunk guys entered a taxi.The taxi driver knew that they were drunk so he started the engine and turned it off again.Then said "we have reached your destination".The first guy gave him money and the 2nd guy said "Thank you".The 3rd guy slapped the driver.The driver was shocked thinking the third drunk know what he did.But then he asked "what was that for?".The 3rd guy replied ,"control your speed next time,your nearly killed us !" 😂😁
ভিলেন
#ভিলেন
#পার্টঃ৩০
মেঘলা ঘুম থেকে উঠেই আকাশের ঘরে গেল...
আকাশ গভীর ঘুমে কিন্তু মেঘলার সেদিকে কোন খেয়াল নেই মেঘলা গিয়ে আকাশ কে টানতে শুরু করল।
মেঘলাঃ উঠ বলছি উঠ...
আকাশ ঘুম ঘুম অবস্থায় চোখ বন্ধ রেখেই বলল,
আকাশঃ উফফ কি হচ্ছে কি মেঘলা? যা এখান থেকে
মেঘলাঃ উঠ বলছি
আকাশ এবার রেগে গিয়ে উঠে বসল.
আকাশঃ তোর সাহস হয় কি করে আমার ঘুম ভাংগানোর? তোকে বলেছি না আমার রুমে আসবি না...তবুও এসেছিস তাও আবার আমার ঘুম ভেংগে দিলি।
মেঘলা কিছু বলতে যাবে তার আগেই আকাশ চেঁচাতে শুরু করে দিয়েছে...
আকাশঃ মা, ছোট মা, নাবিল কোথায় সবাই একবার আমার ঘরে এসো ত...
মেঘলাঃ ওদের ডাকছিস কেন আমি ত একটা কথা বলতে এসেছি...
আকাশ মেঘলার কথায় কান না দিয়ে সবাইকে ডেকে আনল...
আকাশের মাঃ কি হয়েছে আকাশ?
আকাশঃ কি হয়নি সেটাই বলো... নিজের ঘরে একটু শান্তিতে ঘুমানো যায় না কেমন বাসা এটা.
আকাশের মাঃ কেন ঘুমাতে মানা করেছে কে? যত ইচ্ছা ঘুমা।
আকাশঃ এমন জনজেন্ত একটা আপদ থাকলে কিভাবে ঘুমাব...এত খারাপ মেয়ে আমি কখনো দেখি নি।
নাবিলঃ আকাশ কি সব বলছিস?
আকাশঃ কি ভুল বলেছি? ওকে বারবার নিষেধ করার পরেও এখানে কি চায় জিজ্ঞাস কর। শরীরে এতই যদি চাহিদা থাকে রাতে সেজেগুজে রাস্তায় দাঁড়ালেই ত পারে..আমার কাছে কি?
মেঘলা এতক্ষনে কেঁদে ফেলেছে...
আকাশের কথাগুলি আর সহ্য হল না তাই চলে গেল...
কিন্তু তাতেও শান্তি পেল না আকাশের ঘর থেকে বের হতেই নিলিমার সাথে দেখা..
নিলিমাঃ তোমার কি লজ্জা নেই?
মেঘলা কোন উত্তর দিল না।
নিলিমাঃ আকাশ এত এত অপমান করে তাও ওর কাছেই যাও আমাকে এভাবে একবার বল্লে সারাজীবন আর ওর মুখ দেখতাম না তোমার কি কোন আত্মসম্মান নেই।
মেঘলাঃ আকাশ আমাকে ভালবাসে খুব ভালবাসে তাই ওর অপমান আমার গাঁয়ে লাগে না।
নিলিমাঃ লাইক সিরিয়াসলি?আকাশ তোমাকে ভালবাসে? তা কি দেখে তোমার এটা মনে হল।
মেঘলাঃ সেটা দেখার মত চোখ তোমার নেই আদর যে করে অপমান করার যোগ্যতাও সে রাখে..আশা করছি বুঝাতে পেরেছি
নিলিমাঃ আকাশ তোমায় নয় আমায় ভালবাসে
মেঘলাঃ আকাশ কুসুম চিন্তাভাবনা করা বাদ দাও, আমি জানি ভাইয়া কখনই তোমাকে বিয়ে করবে না ও শুধু আমাকে ভালবাসে
কথাগুলি বলেই মেঘলা চলে গেল..
।
।
।
।
।
কিছুক্ষন পর মেঘলা নিচে কাজ করছিল আর সবাই বসে ছিল তখন আকাশ আসল।
রুবিনা বেগমঃ আকাশ আয় বস তোর কথায় হচ্ছিল।
আকাশঃ আমার কি কথা।
রুবিনা বেগমঃ তুই ত তোর কম্পানির উদ্বোধন করতে যাচ্ছিস তো পার্ট দিবি না?
আকাশঃ আমার কোম্পানি আরও দুই বছর আগেই লঞ্চ হয়েছে মা.তখন আমি ছিলাম না এখন এসেছি এটাই শুধু নতুন,এক্সপার্ট ইমপোর্ট এর বিজনেস যেকোন দেশ থেকেই অপারেট করা যায় তাই আসার প্রয়োজন হয় নি আগে মেইন অফিদ uk তে ছিল এখন এখানে হবে এই তো আর কিছু না তার জন্য পার্টির কি দরকার?
রুবিনা বেগমঃ সে যাই হোক তুই সাকসেস হয়ে দেশে ফিরেছিস তার একটা পার্টি আমি দিবই।
আকাশঃ তুমি চাইলে দিতেই পারো তাতে আমার কি বলার আছে...
বলে আকাশ বাইরে চলে গেল।
নিলিমাঃ থাংক্স খালামনি..
রুবিনা বেগমঃ চিন্তা করিস না এই গেট টুগেদার এই আমি তোর আর আকাশের বিয়ের এনাউন্সমেন্ট করে দিব(ফিসফিস করে)
বাড়িতে সাজ সাজ রব সবাই খুব খুশি বাড়িতে সব আত্মীয়রা আসতে শুরু করেছে। আকাশের একটু সন্দেহ হল কারন পার্টিতে ২ দিন আগে থেকে সব আত্মীয়রা আসছে...কিন্তু এতটা গায়ে মাখল না ভেবেছে তার মা সবাইকে ছেলের সাকসেসটা দেখাতে চায়...
মেঘলাও খুব খুশি সবার সাথে বেশ মজা করছে কারন সে সহ বাড়ির কেউ এই জানে না এই পার্টি কিসের জন্য হচ্ছে..
।
।
।
।
পার্টির আর একদিন বাকি..বাড়িভর্তি আত্মীয় স্বজন...
মেঘলা এদিক দিয়ে যাচ্ছিল হঠাৎ দেখল নিচে সবাই বসে আছে আর একজন অনেক কাপড় চোপড় নিয়ে এসেছে।
মেঘলা যখন নিচে যেতে চাইল তখন নিলিমা এসে মেঘলার হাত ধরল।
মেঘলাঃ নিচে কি হচ্ছে আপু..??
নিলিমাঃ পার্টির জন্য সবার শপিং হচ্ছে
মেঘলাঃ ওহ আচ্ছা..
নিলিমাঃ তুমিও একটা ড্রেস নিবে নাকি?
মেঘলাঃ না আমার ড্রেস আছে তো..
নিলিমাঃ আচ্ছা মেঘলা একটা গেম খেলবে..
মেঘলাঃ কি গেম?
নিলিমাঃ চল আজ প্রমান হয়ে যাক আকাশ তোমায় ভালবাসে নাকি আমাকে?
মেঘলাঃ মানে?
নিলিমাঃ সেদিন ত খুব বড় মুখ করে বললে আকাশ নাকি তোমায় ভালবাসে..
মেঘলাঃ বাসেই তো...
নিলিমাঃ ঠিক আছে চল তাহলে আজ তুমি আর আমি সেইম ড্রেস পছন্দ করব তারপর দেখব আকাশ কাকে কিনে দেয় যদি তোমায় দেয় বুঝব তোমায় ভালবাসে...
মেঘলাঃ এটা কেমন চ্যালেঞ্জ..??
নিলিমাঃ ভয় পাচ্ছো নাকি? আরে যে যাকে ভালবাসে তার পছন্দের জিনিস নিশ্চুই অন্য কাউকে দিয়ে দিবে না আর যদি চ্যালেঞ্জ নিতে না পারো তাহলে মেনে নাও আকাশ তোমায় নয় আমায় ভালবাসে...
যদিও মেঘলা এসব চ্যালেঞ্জ নিতে রাজি ছিল না কিন্তু নিলিমার চাপে পরে রাজি হল...
তারপর ২ জন মিলে একটা ড্রেস পছন্দ করল...
মেঘলাঃ এটা আমি নিব
সাথে সাথেই নিলিমাও একই ড্রেস ধরে বলল না এটা আমি নিব..
২ জন মিলে টানাটানি শুরু করে দিয়েছে...
নেহাঃ আহ তোরা এসব কি করছিস বাচ্চাদের মত অনেক তো ড্রেস আছে একজন এটা নে আরএকজন অন্যটা নে...
মেঘলাঃ আমি এটাই নিব।
রুবিনা বেগম রেগে গিয়ে বলল এটা নিলিমা পছন্দ করেছে তাই এটা নিলিমাই নিবে।
মেঘলাঃ না আমি দিব না বলে ড্রেস টা নিজের দখলে নিয়ে নিল।
নিলিমাঃ মেঘলা জামাটা দাও বলছি আমার এটা চাই ই চাই।।
মিলিঃ উফফ মেঘলা দিয়ে দে না।
নাবিলের মা দেখল সবাই মেঘলার উপড় ক্ষেপে যাচ্ছে তাই মেঘলার কাছে এসে বলল,
ছোট মাঃ এমন করে না মা দেখ বড় মা রাগ করছে নিলিমা আমাদের গেস্ট না এটা দিয়ে দে আমরা বাইরে গিয়ে আরও ভাল ড্রেস নিয়ে আসব কেমন?
মেঘলাঃ না না না আমার এটা চাই।
চেঁচামেচি শুনে আকাশ আর নাবিল ২ জনে সেখানে আসল।
আকাশঃ কি হয়েছে এত চেঁচামেচি কিসের?
নেহাঃ দেখ না নিলিমা একটা ড্রেস পছন্দ করেছে মেঘলা বলছে ওটা নাকি মেঘলা নিবে।
মেঘলাঃ মিথ্যা কেন বলছো আমি আগে নিয়েছি।তাই এটা আমার।
আকাশঃ আগে নিয়েছিস ত কি হয়েছে..??
মেঘলাঃ আমার পছন্দ হয়েছে আমি নিব।
আকাশঃ এটাকে পছন্দ বলে না জেদ বলে সবাই চাচ্ছে নিলিমা নিক তাহলে দিয়ে দে একটা ড্রেস না নিলে কি এমন হবে?
মেঘলাঃ আমি দিব না...
আকাশঃ বাচ্চাদের মত এসব কি করছিস মেঘলা?
মেঘলাঃ বলেছি না আমি দিব না...
রুবিনা বেগমঃ মেঘলা বাড়াবাড়ি করছিস ওটা নিলিমায় নিবে।
আকাশঃ দিয়ে দে মেঘলা...
মেঘলা প্রায় কেঁদে ফেলেছে দেখে আকাশ ক্ষেপে গেল।
আকাশঃ তুই কি এখনো ছোট আছিস? যতসব তুই কখনো কাওকে কিছুর ভাগ দিতে চাস না একদম একরুখো সেক্রিফাইস করতেই শিখিস নি এগুলা একদম ঠিক না..
মেঘলাঃ সবাই শুধু আমাকে দিতে বলছে কেউ ত একবারো বলছে না মেঘলা নিক নিলিমা আপু অন্যটা নিক.আমি কারোর কথা শুনব না এটা আমি নিব।
আকাশঃ টাকা আছে তোর? নিতে পারবি ড্রসটা কিনতে পারবি?সেই ত কারোর দয়া ভিক্ষা করতে হবে তাও এত বড় বড় কথা কি করে বলছিস?
মেঘলাঃ আমি এটা নেই প্লিজ ভাইয়া তুই এটা আমাকে কিনে দে... কথা দিচ্ছি আর কখনো কিছু চাইব না।
আকাশ মেঘলার কথা না শুনেই মেঘলাকে একটা থাপ্পড় মারল।
আকাশঃ আমার কথার উপড়ে কথা বলার সাহস হয় কি করে তোর ফকিন্নি কোথাকার...
মেঘলা এক হাতে গাল ধরে আছে অন্য হাতে ড্রেসটা।
আকাশ মেঘলার কাছ ড্রেস টা কেড়ে নিয়ে নিলিমাকে দিয়ে দিল।
নিলিমাও হাসতে হাসতে ড্রেস টা নিয়ে নিল।
মেঘলার কান্না পাচ্ছে তাই সেখান থেকে চলে গেল।
নাবিল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব টা দেখল..
তারপর আকাশের কাছে এসে বলল,
নাবিলঃ কাজ টা ঠিক করলি না আকাশ জানিস ত মেঘলা এমনই পরিস্থিতি হয়ত বদলে গেছে তাই বলে মেঘলার মন টা বদলায় নি...আর বাকি রইল বাচ্চাদের মত আচারন.. মেঘলা নিলিমার চেয়ে অনেক ছোট নিলিমা চাইলেই পারত ড্রেস টা ওকে দিতে।।
বলে নাবিল মেঘলার ঘরে চলে গেল।
আকাশ কি বলবে বুঝতে পারছে না...সেও নাবিলের পিছন পিছন গেল
।
।
।
।
নাবিলঃ আসব..
মেঘলা চোখ মুছতে মুছতে বলল, হ্যা আয় কিছু লাগবে ভাইয়া...?
নাবিলঃ তুই কাঁদছিলি..
মেঘলাঃ কই নাতো।
নাবিলঃ তোর চোখে পানি দেখতে পাচ্ছি।
মেঘলা অভিনয় করে বলল, চোখে কিছু একটা পড়েছে জানিস ভাইয়া
নাবিলঃ আমার সাথে মিথ্যা বলছিস মেঘলা?
মেঘলা এবার হাওমাও করে দিল।
নাবিল এগিয়ে এসে মেঘলার কাছে গিয়ে বলল, বোকা মেয়ে একটা ড্রেসের জন্য কেউ কাঁদে চল তোকে আমি এর চেয়ে ভাল ড্রেস কিনে দিব।
মেঘলা নাবিলকে জড়িয়ে ধরে বলল আমার ড্রেস চাই না রে ভাইয়া আমি হেরে গেছি আজ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরাজয় হল...
নাবিলঃ বুঝলাম না একটা ড্রেসের জন্য জীবনের পরাজয়?
মেঘলাঃ আকাশ আমাকে নয় নিলিমাকে ভালবাসে..
নাবিল ব্যাপার টা বুঝল তাই মেঘলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল ধুর পাগলি ও আমাদের বাসায় বেড়াতে এসেছে না তাই দিয়েছে।মন খারাপ করিস না।ও তোকেই বেশি ভালবাসে।
মেঘলাঃ সত্যি বলছিস..??
নাবিলঃ হুম সত্যি।
আকাশ দরজার পাশ থেকে দেখছে আর জ্বলছে কারন সে দেখতে পাচ্ছে নাবিল মেঘলাকে আদর করছে কিন্তু তারা কি বলছে সেটা শুনতে পাচ্ছে না...আকাশ রাগে নিজের ঘরে চলে গেল
মেঘলাঃ কিন্তু আমি যে বাজি ধরেছিলাম,
নাবিলঃ কি...?? অবাক হয়ে বলল,
হায় খোদা এই জন্যেই ত বলি ম্যাডামের এত মন খারাপ হল কেন..??
মেঘলাঃ নিলিমা শাকচুন্নি আমায় হারিয়ে দিল আমি এসব চ্যালেঞ্জ নিতে চায় নি বিশ্বাস কর...
নাবিলঃ তুই জিততে চাস?
মেঘলাঃ আর কি করে জিতব..?? হেরেই ত গেছি।
নাবিলঃ আমি তোকে জিতিয়ে দিব চিন্তা করিস না..
মেঘলাঃ সেটা কিভাবে..??
নাবিলঃ ওই শাড়ি আকাশ নিজে তোকে পড়িয়ে দিবে।
মেঘলাঃ সত্যি..
নাবিলঃ হুম,যা নিলিমাকে বলে আয় তুই চ্যালেঞ্জ এ এখুনো হারিস না।
মেঘলাঃ যাব..??
নাবিলঃ অবশ্যই চল আমিও যাচ্ছি...
নাবিলের কথা শুনে মেঘলার মন ভাল হয়ে গিয়েছে তাই মেঘলা নাবিলের সাথে হাসতে হাসতে যাচ্ছে..
মেঘলাঃ আমি জিতব কি মজা হবে..
নাবিলঃ তুই আমার বোন না তুই কখনো হারতে পারিস?তুই ই জিতবি
আকাশ রুমে বসে বসে নিজে নিজের মাথার চুল ছিড়ছে..
আকাশঃ এমন মেয়ে জীবনে দেখি নি একটু আগেই কেঁদে সমুদ্র বানিয়ে ফেলেছিল আর এখন দেখো হাসি যেন আর ধরছে না।ঠিকি আছে একটা ড্রেস দেই নি জন্যে আমি ভাল না নাবিল ভাল হয়ে গিয়েছে...
আকাশের আর সহ্য হল না,তাই মেঘলাকে ডাকল।
আকাশঃ মেঘলা আমার ঘরে আয় তো
নাবিলঃ বল পারব না...(ফিস ফিস করে)
মেঘলাঃ ডাকছে গিয়ে একটু শুনে আসি তারপর নিলিমার কাছে যাই...
নাবিলঃ না ও তোকে কষ্ট দিয়েছে না? তুই ও এবার দে।
মেঘলাঃ হুম ঠিক বলেছিস যাব না ওর কাছে।
নাবিলঃ এই ত সাহসী মেয়ে..?
আকাশঃ কিরে ডাকছি কথা কানে যায় না..??
মেঘলাঃ ব্যাস্ত আছি এখন পারব না বলে চলে গেল।
আকাশঃ আমাকে ত এখন ভালই লাগবে না দাঁড়া মজা দেখাচ্ছি।
।
।
।
।
নাবিল গিয়ে মেঘলাকে নিলিমার দিকে এগিয়ে দিল
নিলিমাঃ তারপর বলো মেঘলা হেরে কেমন লাগছে? আরো চ্যালেঞ্জ নিবে?
নাবিল মেঘলাকে ইশারা দিতেই মেঘলা বলে উঠল
মেঘলাঃ আমি হারি নি
নিলিমাঃ মানে কি..??
মেঘলাঃ ওই শাড়িটা আমিই পড়ব আর আকাশ নিজে আমাকে পড়িয়ে দিবে চ্যালেঞ্জ রইল
নিলিমাঃ তাই নাকি তা সেটা কি করে সম্ভব হবে? ম্যাজিক করবে নাকি?
মেঘলাঃ চ্যালেঞ্জ ত চ্যালেঞ্জই ম্যাজিক হবে কেন
নিলিমাঃ আবার হারবে
মেঘলাঃ দেখা যাক.
নাবিল এবার আকাশের ঘরে গেল.
নাবিলঃ আসব..
আকাশঃ না আসবি না
নাবিল ঘরে ঢুকে গেল..
আকাশঃ মানা করলাম না..?? তবুও আসছিস কেন?
নাবিলঃ দরকার আছে তাই
আকাশ নাবিল আর মেঘলা ২ জনের উপড়েই ক্ষেপে আছে,
আকাশঃ তোর সাথে আমার কোন কথা নেই যা এখান থেকে।
নাবিলঃ এখনী চলে যাব শুধু একটা অনুরোধ করতে এসেছি
আকাশঃ কিসের অনুরোধ?
নাবিলঃ ওই শাড়িটা মেঘলাকে দিয়ে দে প্লিজ।
আকাশঃ ও এই জন্য এসেছিস..
ভালো ভালো একেই বলে মার চেয়ে মাসির দরদ বেশি তাহলে কান খুলে শুনে নে আমি মরে গেলেও ওই শাড়ি মেঘলাকে দিব না আর তোকেও দিতে দিব না দেখি তুই কি করে দিস..
নাবিলঃ আকাশ প্লিজ..
আকাশঃ চুপ কর আর এখান থেকে বিদায় হ আমি তোদের ২ জনের মুখ দেখতে চাই না বলে নাবিল কে ঘর থেকে বের করে দিল।
নাবিলঃ আমি ত ভেবেছিলাম আকাশ আমার অনুরোধ ফেলবে না কিন্তু ও ত আমার কোন কথায় শুনল না এখন কি করব আমি পারব ত মেঘলাকে জিতাতে?
।
।
।
।
(কি মনে হয় নাবিল কি পারবে আকাশ কে দিয়ে শাড়ি পড়াতে নাকি মেঘলা আবারও হেরে যাবে?)
Tomai ridmajare rakbo
#
Tomai ridmajare rakbo
#Extra_part
খাটের মাঝে বসে আছি এটা জয়ের রুম যেটা বাসর ঘরের মতো ফুল দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছে আর আমার দুপাশে দুজন বসে আছে। এক নুপুর আরেক সীমা এখানে এসে নুপুর কে দেখে তো আমি ৪৪০ ভোল্টেজের শক খেয়েছি ও এখানে কেন কিন্তু সবার সামনে কিছু বলতে পারি নি এখন জয়ের রুমে আছি তিনজন আমি সন্দেহ চোখে নুপুরের দিকে তাকিয়ে আছি।
- কি হলো তুই এখানে কি করসিস তোর মা না বলে ব্যাথা পাইছে তাই চলে এলি।
- সরি রে দোস্ত তোকে মিথ্যে বলেছিলাম আম্মুর কিছু হয় নি।
- কি তুই আমাকে মিথ্যা বলে এসেছিস তুই জানিস তুই চলে আসার পর কতোটা ভেঙে পরেছিলাম আমি। আর জ য়ের সাথে তোর কি সম্পর্কে তুই এখানে কেন?
- বলছি শুন।
জয় আমার মামাতো ভাই। সেই কারণে আমি এখানে আর সকালে তোকে মিথ্যে বলতে জ য় ভাইয়াই বলেছে। আমার নাম্বার দিয়ে তুই জয় কে কল করেছিলি কিন্তু এটা দেখেস নি নাম্বার আগে থেকেই সেভ। সকালে তুই উঠার আগে কল আসে ভাইয়ার নাম্বার দেখে অবাক হয় কারণ সহজে ভাইয়া আমাকে ফোন দেয় না। সাথে রিসিভ করি।
- ভাইয়া তুমি এতো সকালে কোন দরকার নাকি।
- নুপুর তুই আমাকে কিসের মেসেজ দিচ্ছিস ওইটা তুই কেন দিলি আমি বুঝলাম না।
- কই কখন আমি তো কোন মেসেজ দেয় নি।
- দেখ আমি মেসেজ টা পেয়ে খুশি ছিলাম কিন্তু তোর নাম্বার থেকে দেখে অবাক হয়েছি।
- আমি তত কিছু বুঝতে পারছি না কি বলছো ওয়েট আমি দেখে বলছি।
আমি মেসেজ দেখে অবাক সত্যি তো কিন্তু কে দিলো হঠাৎ তোর কথা মনে পরলো তুই তো দিয়েছিলি কিন্তু ভাইয়া কেন আমি দৌড়ে এসে তোর খাতা থেকে নাম্বার চেক করি আর অবাক হয়ে যায় কারণ নাম্বার মিলে গেছে।
ভাইয়াকে সব বলার পর জানতে পারি তুই যাকে ভালোবাসিস সি ভাই। তারপর ভাইয়া বলে ওকে নাকি এক্মিডেন্ট করার পর রুমে বন্ধি রাখে কিছুতেই বের হতে দেবে না আমাকে সাহায্য করতে বলে। আমি তাই রওনা হয়ে যায় সকালেই ভাইয়া আমার অপেক্ষা করে না বাড়ি থেকে লুকিয়ে চলে আসে আমি দশটার দিকে পৌঁছে দেখি ভাইয়া নেয় ফোন দিয়ে জানতে পারি সে বেরিয়ে গেছে মামা মামি রেগে আছে তাদের সব খুলে বলি আর বউ বরণ করার প্রস্তুতি নিতে বলি। তারপর একটু আগে আপনাদের বাসর সাজিয়েছি।
এক দূমে কথা বলে থামলো নুপুর।
আমি কিছু বলতে যাবে তার আগেই জ য় রুমে চলে আসে। এসে ওদের রুমে থেকে বের করে দেয়।
- তুমি ওদের বের করে দিলে কেন?
- তো কি ওদের সাথে নিয়ে বাসর করবো নাকি।
- অসভ্য কি বলো এসব আমার ওদের কাছে অনেক কিছু জানার ছিলো।
- কি জানার ছিলো জানপাখি।
বলে জয় আমার পাশে খাটে এসে বসে পরলো।
- এই যে নুপুর এখানে কি করছে আর আপনার মাথায় ওই বাচ্চা পেটে এই বুদ্ধি কে দিয়েছে এসব।
জয় আমার পেছনে গিয়ে বসে আর দুহাত আমার পেটে রেখে কাদে থুতনা ডেকিয়ে বলতে লাগলে,,,
- এতো কিছু জেনে কি করবে জানপাখি। তোমাকে যে আমি আমার করে পেয়েছি এটা কি বড় না নিলা তুমি খুশি হও নি আমার বউ হয়ে।
আমি কথা বলতে পারছি না জয়ের গরম নিশ্বাস আমার গারে পরছে অদ্ভুত শিহরিত হচ্ছে। আমি কেপে উঠছি বারবার আমি কথা বলছি না দেখে জয় আমাকে ডাকতে লাগল। পেটে থেকে হাত উঠিয়ে গারের চুল সরিয়ে আচমকা ঠোট বুলাতে লাগল আমি চোখ বন্ধ করে আছি।
- জ য় আমার সহ্য হচ্ছে না প্লিজ ছারু।
এমন কথা হয়তো জয় আশা করে নি সঙ্গে সঙ্গে আমার থেকে দূরে সরে যায়।
- সরি আমার এতো তারাতারি করা উচিত হয়নি। তুমি রাগ করো না প্লিজ আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনা আসলে এতো দিন পর তোমাকে এতো কাছে পেয়ে নিজের কন্টেন্ট হারিয়ে ফেলেছিলাম।
জয় মুখটা ছোট হয়ে গেছে খুব খারাপ লাগছে আমার কিন্তু আমি তো জ য় কে কষ্ট দেওয়ার জন্য বলি নি। মুখ দিয়ে কথা টা বের হয়ে গেছে আমি তো জয় কে ভালোবাসি তাহলে কেন?
- জয় আমি তোমাকে কষ্ট দেবার জন্য বলি নি তুমি কাছে আসলে আমার অদ্ভুত অনুভূত হয় যা আমি সহ্য করতে পারি না মনে হয় এতো সুখ কি আমার জন্য আমার ভ য় হয় মা আমাকে এতো কিছু বলে দিলো সত্যি কি আমি সুখি হবো না জয়। আমার তোমাকে হারানো ভয় হয়।
- কিছু হবে জান তুমি চিন্তা করো না তো।
বলেই জ য় আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জরিয়ে ধরে।
আমি ও ধরে রাখি যেন ছারলেই হারিয়ে যাবে।
মার কথাটা কানে বাজছে,,, তুই কখনো সুখি হতে পারবি না কখনো না এভাবে আমাকে ঠকালি।
জয় শার্ট ভেজা পেয়ে আমার মাথা বুকে থেকে উঠিয়ে।,
- আবার কাদছো তোমাকে বলছি না কাদবে না তোমার চোখের জল আমি সহ্য করতে পারি না।
- এতো কেন ভালোবাস জয় আমাকে তুমি আমি কি এর যোগ্য।
- চুপ করো তুমি সব কিছুর জন্য যোগ্য।
আমি মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছি এতো ভালো কেন জ য় একটু আগেই তো কাছে আসা থেকে আটকালাম তোমায় এত একটু ও অভিযোগ নাই তোমার।
আমি আচমকা জয়ে ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে দিলাম জ য় হয়তো এটার আর জন্য প্রস্তুত ছিলো না ও বড় ব ড় চোখ করে তাকিয়ে আছে আমি চোখ বন্ধ করে আছি জয়ের দিক থেকে সারা না পেয়ে সরে আসতে নিলাম এবার জ য় আমার কোমর জরিয়ে আরো কাছে টেনে রুডলি কিস করতে লাগলো কতোক্ষণ এভাবে ছিলাম জানি না।
আমি জয়ের বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছি জ য় আমার মাথায় বিলি কেটে দিচ্ছে প্রচুর ব্যাথা করছে মাথা।
- জানপাখি তোমার ভালো লাগছে এখন। নাকি ডাক্তার ডাকবো।
জ য়ের দিকে তাকালাম চিন্তা হয়ে আছে না এখন আর চিন্তায় ফেলা ঠিক না এমনিতেই এক্মডেন্ট করে ওর শরীর র্দূবল।
আমি মাথা নেরে না জানালাম। জয় মুচকি হেসে আমার মাথা বুকে আর ও চেপে ধরে চোখ বন্ধ করে ফেলল।
চলবে....
ছোট করে দেয় বলে এক্মটা পার্ট দিলাম এবার সবাই খুশি তো।
Love2
ভালবাসার মানে বুঝিনা আজ কি যে করি
মনের অজান্তে হয়েছ আজ অপসরি ।
রূপে লাবণ্যে ভরা হে বেহেস্তের রমণী
ভালবাসি তোমায় বলিব যে আজ কেমনি ।
কি করে বলি শত কথা লুকিয়ে অন্তরে
কথার ফাঁকে বলে ফেলি ভালবাসি তারে ।
ভালবাসি বলি তারে শক্ত কুটির জুড়ে
পাইনি তারে আজও নিজের মতন করে ।
জলের কল কল শব্দে কি যেন বললে
নদীর ঐ কূলে আসলে বুঝিবে সব খুলে ।
সবুজের সমারোহ শিমুল বাগের রাণী
রূপের গুণে হয়েছ আকাশের নীলপুরী ।
কিচির মিচির পাখির ডাকে দুচোখ খোলে
হিমেল বাতাসে দাড়িয়ে থাকি আসবে বলে ।
একবার আসিয়া নড়বড়ে দুছালা নীড়ে
ধমকা বাতাসে বলে যাও ভালবাস মোরে ।
পাশে এসে বলনা একলা কোন রজনীতে
আসনা এক সাথে ঘুরে বেড়াই জোনাকিতে ।
আজ হয়ে গেছ তুমি ভালবাসার বিবাগী
চাঁদনী পশরে তুমি কর আজ আহাজারি ।
তটিনীর বুকে কত পদ্ম ফুলের মেলা
আমায় নিয়ে কর যে হাজার মজার খেলা ।
নিশি রাতে জুৎস্নাকে যে একা একা বলি
সুখ পাখিরে বলিও প্রতিদিন ভালবাসি ।
গল্প:বড়_আপু_যখন_বউ6
গল্প:বড়_আপু_যখন_বউ
পর্বঃ০৬
ফোন বের করার সাথে সাথে রিমঝিম আপুর ফোন দিয়েছে ৷
* হ্যালো (আমি)
* কই তুই ? (রিমঝিম আপু)
* ব্রিজের উপর বসে আছি ৷ কেন ? (আমি)
* দরকার আছে ওখানেই থাক আমি আসছি ৷ (
বলেই রিমঝিম আপু ফোনটা কেটে দিলো )
তারপর দিশা কে নাম্বার দিয়ে ওর সাথে কথা বলছিলাম ৷
কথা বলার ইচ্ছে করছিলো না ৷ কিন্তু মুখের উপর কেমন করে চলে যেতে বলি ৷ নিজে থেকে কথা বলতে এসেছে চলে যেতে বললে ওর সম্মানে লাগবে ৷ কিন্তু কথা বলতে খুব বিরক্ত লাগছিলো ৷
হটাৎ রিমঝিম আপুর গাড়ি এসে দারালো ৷
রিমঝিম আপু বাইরে বেরিয়ে আসলো ৷ আমাকে মিমের সাথে দেখে মুখের ভাব বদলে গেলো আমার কাছে আসল ৷৷
* চল দরকার আছে ৷ (রিমঝিম আপু)
* দারাও একটু ৷ (আমি)
আমি দিশার সাথে আরেকটা কথা বলার আগেই
রিমঝিম আপু আমাকে টেনে গাড়ির ভিতর বসালো আর গাড়ি চালাতে লাগলো ৷
* তৌকে না বলছি কোনো মেয়ের সাথে কথা বলবি না ৷ (রিমঝিম আপু)
* আমি বলি নি আর ও নিজে থেকেই কথা বলতে এসেছিলো ৷ (আমি)
* তারপরেও তুই কথা বলবি না ৷ (রিমঝিম আপু)
রিমঝিম আপুর কাছেই আসলে কেমন যেন দূর্বলতা কাজ করে
* কোথায় যাচ্ছি আমরা ? (আমি)
* মার্কেটে যাবো ৷ (রিমঝিম আপু)
* কেন ? (আমি)
* কাল আমার জন্মদিন তাই ড্রেস কিনবো আর তুই সেটা পছন্দ করে দিবি ৷ (রিমঝিম আপু)
*আমি পছন্দ করে দিব কেন ? তোমার হবু বর পছন্দ করে দিবে ৷ (শুকনো হাসি দিয়ে আমি)
* খোটা মারা কথা গেলো না তোর ৷ (রিমঝিম আপু)
*খোটা মারার কথা আবার কখন বললাম যেটা সত্যি সেটাই বললাম ৷ (আমি)
রিমঝিম আপু আর কোনো কথা বললো না ৷ মার্কেটে গিয়ে রিমঝিম আপু ড্রেস দেখতে লাগলো ৷ একটা নীল কালারের ড্রেস দেখে খুব পছন্দ হলো ৷
রিমঝিম আপু হয়তো সেটা লক্ষ্য করলো ৷
তাই ড্রেস টা কিনলো ৷
রিমঝিম আপু বিল দিতে দিতে আমি একজোড়া পায়েল আরেকজোরা ঝুমকো কিনলাম ৷
তারপর সেগুলো চুপ করে রিমঝিম আপুর ব্যাগে রেখে দিলাম ৷
রিমঝিম আপু আমাকে বাসার সামনে নামিয়ে দিলো ৷ আমি বাসার ভিতর ঢুকতে যাব তখুনি আবার ডাক দিলো ৷
আমি রিমঝিম আপুর কাছে গেলাম ৷৷
* শোন কাল আমি কলেযে যাব না । কিন্তু সন্ধ্যায় তোকে নিতে রনি আসবে ৷ তখন ওর সাথে আমার বাসায় চলে আসবি আর তুই না আসলে কাল সত্যি তোর কপালে মাইর পরবে ৷৷ (রিমঝিম)
কথাটা বলার পরেই রিমঝিম আপু চলে গেলো ৷
পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কলেজে গেলাম না ৷
গিফট তো রিমঝিম আপুকে দিয়েই রেখেছি তাই যাওয়ার কোনো প্রয়োজন হয় না ৷ আর আমি ওর কাছে গিয়ে মায়া বারাতে চাই না ৷
যতটা সম্ভাব দূরে থাকতে হবে ৷
আমি জানি রিমঝিম আপু গাড়ি পাঠাবে আমাকে কিন্তু আমি যাব না ৷
তাই সন্ধ্যা লাগতে বাইরের থেকে গেট লাগিয়ে দিয়ে পিছনের একটা ছোট দরজা আছে ওটা দিয়ে বাসায় ঢুকলাম ৷ যাতে যে কেউ আসলে বুঝতে না পারে আমি বাসায় আছি ৷
সকাল ১০ টার দিকে বাড়ির সামনে গাড়ির আওয়াজ পেলাম ৷
(আমার ঘরের লাইট সব সময় বন্ধই থাকে ৷ অন্ধকার কেন জানি খুব ভালো লাগে ৷ তার কারন আজও জানি না ৷ অন্ধকারে আলাদা একটা অনূভুতি আছে )
জানালা দিয়ে দেখলাম রনি গাড় থেকে নামলো ৷
তারপর বাসার দিকে তাকালো ৷
তালা ঝুলানো দেখে গাড়ি নিয়ে চলে গেলো ৷
ফোনটাও অফ করে রেখেছি যাতে কেউ ফোন দিতে না পারে ৷ বিছানায় গিয়ে কানে হেড ফোন লাগিয়ে দিয়ে গান শুনতে লাগলাম ৷
রিমঝিম আপু মনে হয় রনির সাথে জন্মদিনে খুব মজা করছে ৷ করবেই না কেন কয়েক মাস পর তাদের বিয়ে ৷ কেনো যে আমি রিমঝিম আপুকে ভালোবাসতে গেলাম ৷ খুব ঘুম পাচ্ছিলো
তখুনি আবার গাড়ির আওয়াজ পেলাম ৷
জানলার কাছে গিয়ে দেখি রিমঝিম আপু গাড়ি থেকে বের হয়ে আসলো ৷
রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলোতে রিমঝিম আপুকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ৷৷
নীল ড্রেস এ একদম পরীর মতো লাগছিলো ৷ কিন্তু এই পরীতো ধরা ছোয়ার বাইরে ৷
রিমঝিম আপু ফোন হাতে নিয়ে ফোন দিতে লাগলো হয়তো বা আমাকে ফোন দিচ্ছিলো ৷
কিচ্ছুক্ষন পর ফোনটা রাস্তায় জোরে ছুরে মারলো ৷ তারপর গাড়ি করে চলে গেলো ৷
আমি গিয়ে শুয়ে পরলাম ৷ পরেরদিন কলেজে গেলাম ৷ কেন জানি আজ কলেজে যাওয়ার খুব ইচ্ছে করলো ৷
কলেজে ঢুকতেই দিশার সাথে দেখা ৷
* কেমন আছো ?(দিশা)
* ভালো তুমি (আমি)
* ভালো ৷ কাল কলেজে আসতে বললাম আর আজ আসছো ! (দিশা)
* আসলে কাল একটু কাজ ছিলো তাই আসতে পারি নি ৷ (আমি)
* ও তা ফোনটা অফ কেনো? (দিশা)
* চার্জ ছিলো না আর চার্জে দেওয়ার কথা মনে ছিলো না ৷ (আমি)
দিশার সাথে কথা বলতে বলতে রিমঝিম আপুর গাড়ি চলে আসলো ৷ আমি দিশার সাথে কথা বলে মাঠের এক কোনায় গিয়ে ফোন টিপতে লাগলাম ৷
হটাৎ কারো ছায়া আমার উপর পরলো ৷ তাকিয়ে দেখলাম রিমঝিম আপু ৷ আমি উঠে দারালাম ৷৷
* আপু তুমি কখন আসলে ? (আমি)
* কাল কই ছিলি ? (রিমঝিম আপু)
* ল্যপটপ টা সার্ভিসিং করতে গিয়েছিলাম আসতে আসতে দেরি হয়ে যায় ৷ (আমি)
ঠাসস,, ঠাসস,,,
* মিথ্যা কথা বলবি না ৷ তুই কি মনে করিস আমি তোকে জানালার কাছে দেখি নি ৷ (রিমঝিম আপু)
* চুপ (আমি)
* তুই আমার সাথে এমন টা করলি । কতো আশা নিয়ে বসে ছিলাম আমি তোর জন্য ৷ আজ থেকে তুই আমার সাথে কথা বলবি না ৷ (রিমঝিম
আপু)
* সেটায় হয়তো ঠিক হবে । আপনার সাথে কথা বললে হয়তো আপনার হবু বর খারাপ মনে করতে পারে আর আপনাদের সম্পর্কের মধ্যে তিক্ততা আসতে পারে । তাই আমার মতো একটা বখাটে খারাপ ছেলের সাথে না মেশায় ভালো ৷ (আমি)
রিমঝিম আপু কিছু বলছে না ৷ রিমঝিম আপুর চোখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ৷ চোখ দিয়ে পানি বয়ে পরছে ৷
কারনটা এখনো অজানা ৷ রিমঝিম আপু আর কিছু না বলে চলে গেলো ৷ আমি আর ওখানে না থেকে বাসায় চলে আসলাম ৷
আবার আগের মতো হয়ে গেলাম ৷
সেই কলেজে গিয়ে আগের মতো সিগারেট খাওয়া কারো পরোয়া না করা ৷ একা চলা কোনো মায়ায় না জড়ানো ৷
তিনদিন পর মাঠের কোনায় বসে নোট করছিলাম সাথে একটা সিগারেট খাচ্ছিলাম ৷৷
তখম দেখলাম,,,
চলবে ....
সবার সাড়া পেলে পরের পর্ব দিব
একটু রাগি
গল্পঃ একটু রাগি বাট বেশিই রোমান্টিক😍
পর্বঃ ৭
লেখকঃ তাসরিফ আহমেদ নীল।
নিধীঃ হুম আপু ফোন এ কথা বলতাছে।
আমিঃ ওকে।
তখনি আমার ফোনে একটা অফিস থেকে ফোন আসলো।।।।
আমিঃ রানা তরা কথা বল একটু কথা বলে আসি।
নিধীঃ কে ফোন দিছে?
আমিঃ অফিস থেকে।
তারপর আমি সাইটে এসে কথা বলে ওদের কাছে
গিয়ে দেখি ইভা। ইভা এখানে কি করছে। তাহলে
ইভাই কি নিধীর চাচাত বোন।
আমিঃ ইভা তুমি এখানে?
ইভাঃ হুম নিধীর সাথে আসলাম।
আসলে আপনারা বুজতে পারতেছেন তনা ইভা কে? ইভা হলো রানার এক্স গার্লফ্রেন্ড। ভার্সিটি
লাইফের প্রেম ছিলো। কিছু ভুলবুঝাবুঝি
তে অদের রিলেশনের ইতি ঘটে।
রানার দিকে তাকিয়ে দেখি রানা নিচের দিকে
তাকিয়ে আছে। রানার চোখ থেকে পানি পড়ছে
অসম্ভব ভালোবাসত ইভাকে এখনো বাসে।
নিধীঃ আপু তুমি নীল কে চিনো।
ইভাঃ হুম ভার্সিটি তে আমাদের এক ব্যচ
ছিনিয়র ছিলো।
নিধীঃ ওহ।
ইভাঃ তা কেমন আছো নীল ভাইয়া?
আমিঃ ভালো, তুমি?
ইভাঃ ভালো।
তারপর ইভা রানার সামনে গেলো।
রানাকে বললো।
ইভাঃ কেমন আছেন?
রানা ইভার কথা শুনে আর এক সেকেন্ড ও এখানে
দাড়ালো না। ইভার কথার কোনো উত্তর না দিয়েই
হাটা দরলো।
ইভা ও রানার পিছনে পিছনে যেতে লাগলো।
নিধীঃ এটা কি হলো?
আমিঃ কোনটা?
নিধীঃ আপু কে দেখে রানা ভাইয়া চলে গেলো কেনো আবার দেখলাম তার চোখে পানি।
আমিঃ ওদের ব্যপার ওদের বুঝতে দেন।
নিধীঃ ওকে আসেন বসি।
তারপর আমরা দুজন ঘাসের উপড় বসে পড়লাম।
ওদিকে রানা আর নিধীর কথাপকোথন।
নিধীঃ কথা বলবে না?
রানাঃ স্যরি কে আপনি?
নিধীঃ প্লিজ আগের সব কিছুর জন্য ক্ষমা করে দাও। তোমাকে অনেক খুজেছি বাট কোথাও
পাই নি।
রানাঃ বাই।
নিধীঃ প্লিজ আমার কথা টা শুনো।
রানা আর কোনো কথা না বলে বাসায় চলে গেলো।
ইভা ও কাঁদতে কাঁদতে বাসায় চলে গেলো।
নিধী শুনেন কিসের জন্য আপনাকে ডাকলাম।
নিধীঃ আমি বিয়েতে রাজি।
আমিঃ সত্যি।
নিধীঃ হুম বাট কিছু শর্ত আছে।
আমিঃ কি শর্ত?
নিধীঃ আমরা দুইমাস পড়ে বিয়ে করবো?
আমিঃ কেন?
নিধীঃ আমার অনেক ইচ্ছা ছিলো আমি লাভ মেরেজ করবো বাট মনের মতো ছেলে পাইনি।
তাই ভাবলাম আগে দুইমাস প্রেম করবো। এই
সময়টাই দুজন দুজনাকে ভালো করে চিনবো।
পছন্দ অপছন্দ জানবো।
আমিঃ আমার কোনো প্রবলেম নেই।।
নিধীঃ রাজি ত আপনি?।
আমিঃ হুম।।।
নিধীঃ আরেকটা কথা আমরা দুজন দুজনাকে
তুমি করে বলবো?
আমিঃ আচ্ছা।
নিধীঃ তুমি বলে সিগারেট খাও?
আমিঃ না মানে?ইয়ে আর কি?
নিধীঃ শুনো আজকে থেকে খাবে না তাহলে
বিয়ে কেনসেল।
আমিঃ না না আর খাবো না।
নিধীঃ হুম গুড বয়।
আমিঃ আপনি বললেন যে,,,
নিধীঃ আবার আপনি?😡
আমিঃ আচ্ছা স্যরি।
তুমি বললে যে মনের মতো ছেলে পাও নাই তাই
প্রেম করো নাই তাহলে আমি কি তোমার মনের
মতো।
নিধীঃ কিছুটা মনের মতো আর বাকিটা আমি বানিয়ে নিবো।
আমিঃ হুম।
নিধীঃ সত্যি কথা বলতে যখন আব্বু তোমার কথা
আমাকে এসে বললো। আমি পিক চাইলাম দিলো না বললো সামনা সামনি দেখা করবি। তখন আমি তোমার ডিটেইলস নিয়ে তোমার খুজ করতে লাগলাম ভাগ্যবসত তুমি যে ভার্সিটি তে পড়ছো
আমিও ওটাই পড়ি। ভার্সিটি তে এক নামে চিনে
তোমাকে সবাই। সবাই বললো তুমি অনেক ভদ্র ছেলে মেয়েদের সম্মান করো। তাই ভাবলাম তোমার মতো হাসবেন্ড কইজনের কপালে থাকে।
আমিঃ ওহ। এতো কিছু খুজ নিছো।
তা শুধু ভালো দিক ই পাইছো খারাপ দিক কিছু পাও নাই।
নিধীঃ হুম পাইছি ত।
আমিঃ কি?
নিধীঃ তুমি একটুও রোমান্টিক না। ভার্সিটিতে
তোমাকে অনেকেই ভালোবাসত বাট তুমি
কাউকে এক্সেপট করো নাই।
আমিঃ হুম।
নিধীঃ সমস্যা নেই আমি রোমান্টিক বানিয়ে নিবো।
আমিঃ হুম।
নিধীঃ এখন বলো ইভা আপু কে দেখে রানা
ভাইয়া চলে গেলো কেনো?
আমিঃ সেটা ইভার কাছেই জিঙ্গাস কইরো।
নিধীঃ ওকে।।
আমিঃ চলো আজকের মতো উঠি দেখি রানা আবার কোথায় গেলো।
নিধীঃ হুম।
তারপর আমি আর নিধী পার্কে থেকে বাহিরে চলে আসলাম।
আমি গিয়ে গাড়িতে বসলাম। তারপর
নিধী এসে আমার পাশে বসলো।
নিধী আমাকে রাস্তা চিনাচ্ছে আর আমি সে দিকে যাচ্ছি কিছু খন যাওয়ার পড়েই নিধীর বাসা চলে আসলো।
নিধীঃ এটাই আমার বাসা।।
আমিঃ ওহ।
তারপর নিধী নেমে পড়লো,
নিধীঃ কি হলো নামো?।
আমিঃ নেমে কি করবো?।
নিধীঃ বাসায় যাবা।
আমিঃ না আজকে না অন্য একদিন।
নিধীঃ আর শুনো আজকে গিয়েই আন্টিকে বলবা কালকে এসে জানি বিয়ে ঠিক করে রেখে যায়।
আমিঃ তুমি না বললে দুইমাস পড়ে বিয়ে করবে।।
নিধীঃ বিয়ে ঠিক করে রাখতে ত প্রবলেম নেই।
নাকি বিয়ে করার দান্দা নেই।
আমিঃ কি যে বলো না আমার ইচ্ছে করছে এখনি বিয়ে করে ফেলি।।
নিধীঃ এখন কি ডাইরেক্ট বাসায় যাবা।।
আমিঃ না আগে রানার বাসায় যাবো তারপর বাসায় যাবো।
নিধীঃ ওহ আচ্ছা।
তারপর নিধী যা বললো তা শুনে ত
আমার হার্টবির্ট লাফাতে লাগলো।
#চলবে
গল্পঃ একটু রাগি বাট বেশিই রোমান্টিক
গল্পঃ একটু রাগি বাট বেশিই রোমান্টিক😍
পর্বঃ ৭
লেখকঃ কামাল
নিধীঃ হুম আপু ফোন এ কথা বলতাছে।
আমিঃ ওকে।
তখনি আমার ফোনে একটা অফিস থেকে ফোন আসলো।।।।
আমিঃ রানা তরা কথা বল একটু কথা বলে আসি।
নিধীঃ কে ফোন দিছে?
আমিঃ অফিস থেকে।
তারপর আমি সাইটে এসে কথা বলে ওদের কাছে
গিয়ে দেখি ইভা। ইভা এখানে কি করছে। তাহলে
ইভাই কি নিধীর চাচাত বোন।
আমিঃ ইভা তুমি এখানে?
ইভাঃ হুম নিধীর সাথে আসলাম।
আসলে আপনারা বুজতে পারতেছেন তনা ইভা কে? ইভা হলো রানার এক্স গার্লফ্রেন্ড। ভার্সিটি
লাইফের প্রেম ছিলো। কিছু ভুলবুঝাবুঝি
তে অদের রিলেশনের ইতি ঘটে।
রানার দিকে তাকিয়ে দেখি রানা নিচের দিকে
তাকিয়ে আছে। রানার চোখ থেকে পানি পড়ছে
অসম্ভব ভালোবাসত ইভাকে এখনো বাসে।
নিধীঃ আপু তুমি নীল কে চিনো।
ইভাঃ হুম ভার্সিটি তে আমাদের এক ব্যচ
ছিনিয়র ছিলো।
নিধীঃ ওহ।
ইভাঃ তা কেমন আছো নীল ভাইয়া?
আমিঃ ভালো, তুমি?
ইভাঃ ভালো।
তারপর ইভা রানার সামনে গেলো।
রানাকে বললো।
ইভাঃ কেমন আছেন?
রানা ইভার কথা শুনে আর এক সেকেন্ড ও এখানে
দাড়ালো না। ইভার কথার কোনো উত্তর না দিয়েই
হাটা দরলো।
ইভা ও রানার পিছনে পিছনে যেতে লাগলো।
নিধীঃ এটা কি হলো?
আমিঃ কোনটা?
নিধীঃ আপু কে দেখে রানা ভাইয়া চলে গেলো কেনো আবার দেখলাম তার চোখে পানি।
আমিঃ ওদের ব্যপার ওদের বুঝতে দেন।
নিধীঃ ওকে আসেন বসি।
তারপর আমরা দুজন ঘাসের উপড় বসে পড়লাম।
ওদিকে রানা আর নিধীর কথাপকোথন।
নিধীঃ কথা বলবে না?
রানাঃ স্যরি কে আপনি?
নিধীঃ প্লিজ আগের সব কিছুর জন্য ক্ষমা করে দাও। তোমাকে অনেক খুজেছি বাট কোথাও
পাই নি।
রানাঃ বাই।
নিধীঃ প্লিজ আমার কথা টা শুনো।
রানা আর কোনো কথা না বলে বাসায় চলে গেলো।
ইভা ও কাঁদতে কাঁদতে বাসায় চলে গেলো।
নিধী শুনেন কিসের জন্য আপনাকে ডাকলাম।
নিধীঃ আমি বিয়েতে রাজি।
আমিঃ সত্যি।
নিধীঃ হুম বাট কিছু শর্ত আছে।
আমিঃ কি শর্ত?
নিধীঃ আমরা দুইমাস পড়ে বিয়ে করবো?
আমিঃ কেন?
নিধীঃ আমার অনেক ইচ্ছা ছিলো আমি লাভ মেরেজ করবো বাট মনের মতো ছেলে পাইনি।
তাই ভাবলাম আগে দুইমাস প্রেম করবো। এই
সময়টাই দুজন দুজনাকে ভালো করে চিনবো।
পছন্দ অপছন্দ জানবো।
আমিঃ আমার কোনো প্রবলেম নেই।।
নিধীঃ রাজি ত আপনি?।
আমিঃ হুম।।।
নিধীঃ আরেকটা কথা আমরা দুজন দুজনাকে
তুমি করে বলবো?
আমিঃ আচ্ছা।
নিধীঃ তুমি বলে সিগারেট খাও?
আমিঃ না মানে?ইয়ে আর কি?
নিধীঃ শুনো আজকে থেকে খাবে না তাহলে
বিয়ে কেনসেল।
আমিঃ না না আর খাবো না।
নিধীঃ হুম গুড বয়।
আমিঃ আপনি বললেন যে,,,
নিধীঃ আবার আপনি?😡
আমিঃ আচ্ছা স্যরি।
তুমি বললে যে মনের মতো ছেলে পাও নাই তাই
প্রেম করো নাই তাহলে আমি কি তোমার মনের
মতো।
নিধীঃ কিছুটা মনের মতো আর বাকিটা আমি বানিয়ে নিবো।
আমিঃ হুম।
নিধীঃ সত্যি কথা বলতে যখন আব্বু তোমার কথা
আমাকে এসে বললো। আমি পিক চাইলাম দিলো না বললো সামনা সামনি দেখা করবি। তখন আমি তোমার ডিটেইলস নিয়ে তোমার খুজ করতে লাগলাম ভাগ্যবসত তুমি যে ভার্সিটি তে পড়ছো
আমিও ওটাই পড়ি। ভার্সিটি তে এক নামে চিনে
তোমাকে সবাই। সবাই বললো তুমি অনেক ভদ্র ছেলে মেয়েদের সম্মান করো। তাই ভাবলাম তোমার মতো হাসবেন্ড কইজনের কপালে থাকে।
আমিঃ ওহ। এতো কিছু খুজ নিছো।
তা শুধু ভালো দিক ই পাইছো খারাপ দিক কিছু পাও নাই।
নিধীঃ হুম পাইছি ত।
আমিঃ কি?
নিধীঃ তুমি একটুও রোমান্টিক না। ভার্সিটিতে
তোমাকে অনেকেই ভালোবাসত বাট তুমি
কাউকে এক্সেপট করো নাই।
আমিঃ হুম।
নিধীঃ সমস্যা নেই আমি রোমান্টিক বানিয়ে নিবো।
আমিঃ হুম।
নিধীঃ এখন বলো ইভা আপু কে দেখে রানা
ভাইয়া চলে গেলো কেনো?
আমিঃ সেটা ইভার কাছেই জিঙ্গাস কইরো।
নিধীঃ ওকে।।
আমিঃ চলো আজকের মতো উঠি দেখি রানা আবার কোথায় গেলো।
নিধীঃ হুম।
তারপর আমি আর নিধী পার্কে থেকে বাহিরে চলে আসলাম।
আমি গিয়ে গাড়িতে বসলাম। তারপর
নিধী এসে আমার পাশে বসলো।
নিধী আমাকে রাস্তা চিনাচ্ছে আর আমি সে দিকে যাচ্ছি কিছু খন যাওয়ার পড়েই নিধীর বাসা চলে আসলো।
নিধীঃ এটাই আমার বাসা।।
আমিঃ ওহ।
তারপর নিধী নেমে পড়লো,
নিধীঃ কি হলো নামো?।
আমিঃ নেমে কি করবো?।
নিধীঃ বাসায় যাবা।
আমিঃ না আজকে না অন্য একদিন।
নিধীঃ আর শুনো আজকে গিয়েই আন্টিকে বলবা কালকে এসে জানি বিয়ে ঠিক করে রেখে যায়।
আমিঃ তুমি না বললে দুইমাস পড়ে বিয়ে করবে।।
নিধীঃ বিয়ে ঠিক করে রাখতে ত প্রবলেম নেই।
নাকি বিয়ে করার দান্দা নেই।
আমিঃ কি যে বলো না আমার ইচ্ছে করছে এখনি বিয়ে করে ফেলি।।
নিধীঃ এখন কি ডাইরেক্ট বাসায় যাবা।।
আমিঃ না আগে রানার বাসায় যাবো তারপর বাসায় যাবো।
নিধীঃ ওহ আচ্ছা।
তারপর নিধী যা বললো তা শুনে ত
আমার হার্টবির্ট লাফাতে লাগলো।
#চলবে
ভাবি যখন বউ০৪
গল্পঃ ভাবি যখন বউ
পর্ব০৪ ...
আবারও হাটতে হাটতে বাসায় গেলাম, রাত প্রায় ১১ টা বাজে। আমি বাসায় গিয়ে বাবাকে ডাকলাম,,,
আমার ডাক শুনে আব্বু আম্মু আর অবন্তী আসলো।
বাবাঃ কিরে এতো দেরি হলো যে?
আমিঃ কাজের চাপ ছিলো। এই নাও (টাকা গুলো দিলাম)
বাবাঃ কি এখানে?
আমিঃ তোমার মেয়ের পরীক্ষার খরচ। ৬ হাজার আছে,,,
বাবা টাকা গুলো হাতে নিলো, অবন্তীকে দিয়ে দিলো। তারপর অবন্তী বললো….
অবন্তীঃ আব্বু একটা কথা বলতাম।
বাবাঃ হুম মা বল।
অবন্তীঃ জুয়েলের একা ইনকামে দিয়ে তো আর সব কিছু করা সম্ভব না। তাই বলছিলাম কি আমিও একটা চাকরি করি। তাহলে মোটামুটি আমাদের পরিবারে একটু স্বচ্ছলতা আসবে।
আমিঃ এই পরিবারে আর কারো ইনকাম করার দরকার নেই। আমি এখনো মরিনি। যদি করার এতো ইচ্ছা থাকে তাহলে আমি মরার পরে করিয়েন।
সবাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে,আমি আর কোনো কথা না বলে রুমে চলে গেলাম।
আসল কথা হচ্ছে আমি চাইনা অবন্তী কোনো কাজ করুক। এমনিতে আমি সারা দিন বাইরে থাকি, এখন যদি অবন্তীও বাইরে চাকরি করে তাহলে আব্বু আম্মুকে কে দেখবে? বুড়া বয়সে দুজনেরই কষ্ট হবে।
রাতে খেয়ে আমি বাইরে থেকে ঘুরে আসলাম, রুমে এসে দেখি অবন্তী ভাইয়ার ছবিটা হাতে নিয়ে বসে আছে। আমাকে দেখার পর ছবিটা রেখে দিলো।
আমি বিছানা থেকে একটা বালিশ আর কাঁথা নিয়ে ফ্লোরে শুয়ে পড়লাম।
অবন্তীঃ জুয়েল একটা কথা বলতাম!
আমিঃ হুম বলেন।
অবন্তীঃ তুমি খাটে থাকো, আমি ফ্লোরে ঘুমাই। সারাদিন কাজ করে আসছো এখন ফ্লোরে ঘুমালে হয়তো ঘুম আসবে না।
আমিঃ আমি কাপুরুষ নই যে একটা মেয়ে মানুষকে নিচে ঘুমাতে দিয়ে আমি নিজে খাটে ঘুমাবো। আপনি ঘুমান, এমনিতে অনেক রাত হইছে।
আর কোনো কথা না বলে ফ্লোরে ঘুমিয়ে গেলাম, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি অবন্তী গোসল করে আয়নার সামনে বসে চুল ঠিক করছে। ভেজা চুলে একটু অন্যরকম সুন্দর দেখাচ্ছে।
আমি দেখেও না দেখার ভান ধরে শুয়ে রইলাম। পরে মনে হলো যে পায়ে হেটে কাজ করতে হবে রোমান্টিক মুডে থাকার মতো সময় নাই।
উঠে ফ্রেশ হয়ে গোসল করে রেড়ি হয়ে বেরিয়ে গেলাম। আজকেও অনেক গুলো মাল নিয়ে কভার ভ্যান ঠ্যালতে শুরু করলাম।
মনে মনে ভাবতে লাগলাম, অবন্তী কেন আমাকে মেনে নিচ্ছে না, যেখানে আমিই ওকে মেনে নিবো না সেখানে তার উলটো টা হচ্ছে।
এভাবে দিন যেতে লাগলো, বিয়ে করেও আমার অবন্তীর সম্পর্ক ভাবি দেবরের মতোই রয়ে গেলো
মাঝে মাঝে অবন্তীর উপর অনেক রাগ হয়, কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। আব্বু আম্মুর জন্য আজকে আমার এই অবস্থা। দেশে মেয়ের অভাব পরেছে যে আমাকে ভাবিকেই বিয়ে করতে হলো।
সারা দিন কাজ করে এসে আবার রাতে ফ্লোরে ঘুম, জীবনটা অসহ্য লাগছে।
পরেরদিন কাজে গেলাম, শরীরটা ভালো লাগছে না। মনে হচ্ছে জ্বর আসবে। ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও রাত পর্যন্ত কাজ করলাম।
রাতে না খেয়েই ঘুমিয়ে গেলাম। গভীর রাতে আমার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছে। ঠিক মতো চোখও মেলতে পারছি না।
হঠ্যাৎ করে কপালে কারো নরম হাতের স্পর্শ পেলাম। ঝাপসা চোখে তাকিয়ে দেখি অবন্তী ডাকতেছে,,,,,
অবন্তীঃ জুয়েল, এই কি হইছে তোমার? এই রকম করছো কেন?
আমার অবস্থা এতোই খারাপ যে ওর সাথে কথা বলার মতো শক্তিও আমার নেই। অবন্তী আমাকে উঠিয়ে খাটে শুইয়ে দিলো। তারপর সারা রাত মাথায় পানি ঢাললো। আর কি কি করছে কিছুই মনে নেই, জ্বরের ঘোরে কোনো কিছু অনুভব করতে পারিনি।
সকালবেলা অবন্তীর ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো। তাকিয়ে দেখি আব্বু আম্মু সবাই বসে আছে। অবন্তী নাস্তা হাতে দাঁড়িয়ে আছে।
তারপর নিজের হাতে খাইয়ে দিয়ে, মেডিসিন খাইয়ে দিলো।
বাবাঃ এখন কেমন লাগছে?
আমিঃ ভালো। তোমরা খেয়েছো?
আম্মুঃ হুম, ঠিক মতো খাওয়াদাওয়া করিস না তাই এমন হলো।
বাবাঃ ডাক্তার বলেছে কয়েকদিন রেষ্টে থাকতে।
আমিঃ ডাক্তার কখন আসলো?
বাবাঃ আরো আগে, তুই ঘুমে ছিলি। অবন্তী কল দিয়ে আসতে বলেছে।
আমি আর কোনো কথা বললাম না, সেদিন আর কাজে যাইনি। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়….
অবন্তীঃ সরি!
আমিঃ সরি কেন?
অবন্তীঃ আমার জন্য আজকে তোমার এই অবস্থা।
আমিঃ আরে ধুর এগুলো কি বলেন, আপনার জন্য হবে কেন?
অবন্তীঃ ফ্লোরে ঘুমানোর কারনে এমন হইছে।
আমিঃ……
অবন্তীঃ প্লিজ তুমি খাটে ঘুমাও আমি নিচে ঘুমাচ্ছি।
আমিঃ দরকার নাই, আমার জন্মই হয়েছে নিচে ঘুমানোর জন্য। আমি থাকতে পারবো, সমস্যা নেই। আপনি ঘুমান।
অবন্তীঃ কিন্তু!
আমিঃ কোনো কিন্তু না, নিচে ঘুমালে আপনারওতো সমস্যা হতে পারে। তখন কি করবেন, সো ঘুমিয়ে পড়ুন।
অবন্তী কিছু একটা বলতে চেয়েছিলো বাট আমি বলার আর সুযোগ না দিয়ে উলটো পাশ হয়ে শুয়ে গেছি। ফকিন্নি এটা বলতে পারছে না যে আসো আমরা দুজনে খাটে ঘুমাই।
দুজন খাটে ঘুমালে কি এমন সমস্যা হয়ে যাবে? আব্বু আম্মু বুঝে যাবে তাই অন্য রুমেও যেতে পারছিনা।
দেখবো অবন্তী মেডাম, আপনি কতোদিন এভাবে থাকতে পারেন।
কয়েকদিন পর মোটামুটি সুস্থ। আবারও কাজে চলে গেলাম।
এমন সময় আয়মানের সাথে দেখা হলো,,,
আয়মানঃ কিরে দোস্ত কি অবস্থা?
আমিঃ এইতো আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তোর?
আয়মানঃ ভালোই, তোর কাজ শেষ হতে কতোক্ষন লাগবে?
আমিঃ সন্ধ্যা হবে।
আয়মানঃ আচ্ছা কাজ শেষে দেখা করিস, অনেক দিন তোর সাথে আড্ডা দিই না।
আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে।
তারপর আবার কাজে চলে গেলাম।
বিকালবেলা আয়মানের সাথে দেখা করতে গেলাম।
আয়মানঃ আসছিস?
আমিঃ হুম, বল কি অবস্থা?
আয়মানঃ এই তো চলছে। এই জানিস আগামী মাস থেকে তো পরীক্ষা।
আমিঃ কিহ! আগামী মাসে পরীক্ষা?
আয়মানঃ হুম, তোর প্রিপারেশন কেমন?
আমিঃ হা হা হা, পরীক্ষাও তো দেওয়ার কথা ছিলো না। তুই তো টাকার ব্যবস্থা করে দিলি। আর বইও তো কিনিনি। প্রিপারেশন কেমন হবে তুই বল।
আয়মানঃ তোর ভাই মারা যাওয়ার পর থেকে সব কিছু ওলটপালট হয়ে গেছে।
আমিঃ হুম, বাস্তবতা কি জিনিষ এখন বুঝতেছি।
আয়মানঃ তোর ভাবি কেমন আছে?
আমিঃ ভাবি না, বউ আমার।
আয়মানঃ বউ মানে?
আমিঃ ভাবির সাথেই আব্বা আমার বিয়ে দিছে।
আয়মানঃ কিহ, কখন? আমাকে তো কিছুই বলিস নি।
আমিঃ……. (পুরো ঘটনা শেয়ার করলাম)
আয়মানঃ এতো কিছু হয়ে গেছে অথচ আমাকে কিছুই জানালি না?
আমিঃ সরি দোস্ত, বলার মতো তেমন সুযোগ ছিলো না।
আয়মানঃ তো অবন্তীর জন্য তো এটা প্লাস পয়েন্ট তবুও তোকে মেনে নিচ্ছে না কেন?
আমিঃ জানিনা রে, হয়তো আমি ওর যোগ্য নই।
আয়মানঃ তো এখন কি করবি?
আমিঃ কি আর করা এভাবেই দিন যাবে।
আয়মানঃ শোন জুয়েল, এটা কোনো জীবন নয়, তোরও একটা ভবিষ্যৎ আছে। এভাবে তো তোর কিছুই হবে না।
আমিঃ তো এখন কি করতাম?
আয়মানঃ অবন্তীর সাথে কথা বলে সব কিছু ঠিকঠাক কর।
আমিঃ কোনো লাভ হবে না। ও আমাকে মেনে নিতে পারবে না।
আয়মানঃ না নিলে ডিভোর্স দিয়ে দে। অন্য কোথাও বিয়ে হলে তখন ঠ্যালা বুঝবে।
আমিঃ ধুর তুই পাগল নাই, ওরে রাখার জন্যই আব্বু আমার সাথে বিয়ে দিছে। আর তুই বলছিস ডিভোর্স!!
আয়মানঃ ভালো তো, তাহলে সারা জীবন সিঙ্গেল থাক, ভাবি আর দেবরের মতো জীবন কাটা।
শোন ভাই, জীবন অনেক কঠিন সেটা তুই আমার থেকে ভালো জানিস।
আমিঃ সেটা ঠিক বাট অবন্তীকে ডিভোর্স দেওয়া তো দূরের কথা ডিভোর্স এর নাম মুখেও আনা যাবে না।
আয়মানঃ দেখ যা করবি ভেবেচিন্তে কর, আবেগ দিয়ে জীবন চলে না। আব্বা কি বললো আম্মা কি বললো এগুলোর দিকে কান দিয়ে নিজের মন কি বলে সেটা দেখ।
তোর লাইফ তোকেই হ্যান্ডেল করতে হবে।
আমিঃ হুম ঠিক।
আয়মানঃ তুই একটা কাজ কর।
আমিঃ কি?
আয়মানঃ তুই অবন্তীর সাথে সরাসরি এই ব্যাপারে কথা বল।
আমিঃ কোন ব্যাপার?
আয়মানঃ তোকে স্বামী হিসেবে মেনে নিবে নাকি নিবেনা সেটা। যদি না মেনে নিবে বলে তাহলে তুইও অবন্তীকে বলে দিবি, যে তুই ওরে ডিভোর্স দিয়ে দিবি।
আমিঃ এটা কি করে হয়।
আয়মানঃ সব হয়, তুই কথা বল।
আমিঃ এখন না, পরীক্ষাটা শেষ হোক, তারপর।
আয়মানঃ আচ্ছা ঠিক আছে।
তারপর আরো কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
এভাবেই দিন যাচ্ছে। অবন্তীর সাথে দরকার ছাড়া কথা বলি না। কেমন যেন অস্বস্তি লাগে।
দেখতে দেখে পরীক্ষার সময় চলে আসলো। অবন্তী আর আমি একসাথেই পরীক্ষা দিলাম। আমার পরীক্ষার কথা শুনে বাবা মা অনেক খুশি।
পরীক্ষার কিছুদিন পর একদিন সকাল বেলা অবন্তী বসে বসে মোবাইল টিপতেছে, আব্বু আম্মু মামার বাড়িতে গেছে। আমি মনে মনে ভাবলাম এটাই সুযোগ অবন্তীর সাথে এবার বোঝাপড়া টা হয়ে যাক।
আমি অবন্তীর সামনে গেলাম।
অবন্তীঃ কিছু বলবে?
আমিঃ হুম,,,
অবন্তীঃ বলো।
আমিঃ আপনি কি চান?
অবন্তীঃ মানে?
আমিঃ মানে আপনি কি আমার কাছে থাকতে চান নাকি আমার কাছ থেকে মুক্তি চান, কোনটা?
অবন্তীঃ জুয়েল তোমার মাথা ঠিক আছে, এগুলো কি বলছো?
আমিঃ আপনি উত্তর দেন। এখানে থালতে কি আপনার কোনো সমস্যা হচ্ছে?
অবন্তীঃ না,,,,
আমিঃ তাহলে আমাকে স্বামী হিসেবে মানতে আপনার সমস্যা কোথায়?
অবন্তীঃ দেখো আমি তোমাকে আগেই বলেছি এটা কোনো ভাবেই সম্ভব নয়।
আমিঃ যদি আপনার অন্য কোথাও বিয়ে হতো?
অবন্তীঃ………. (চুপ করে আছে)
আমিঃ আমার সাথে বিয়ে হয়েছে বলে আপনি আমাকে মেনে নিতে পারছেন না, কিন্তু অন্য কোথাও হলে কি পারতেন? জীবনেও না। আমি কোনো দিনই আপনাকে কোনো কথা বলিনি। তারমানে এই নয় যে সারাজীবন এভাবে থাকবো।
আমারওতো একটা লাইফ আছে,আমারও তো ইচ্ছা করে সুন্দর করে সংসার করতে।
আব্বু আম্মু আপনাকে অনেক ভালোবাসে, নিজের মেয়ের মতো দেখে। এখন যদি উনাদের বলি আপনাদের আদরের মেয়ে বিয়ের পরের দিন থেকে আমাকে ফ্লোরে রাখছে, তখন কি হবে চিন্তা করছেন?
অবন্তীঃ……..
আমিঃ আপনার সাথে বিয়ে টা হয়েই আমার জীবনটা শেষ, সারাদিন এতো কাজ করার পরেও কোনো শান্তি নাই।
আপনার সামনে দুটো রাস্তা খোলা আছে!
অবন্তীঃ….. (প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকালো)
আমিঃ হয় আপনি আমাকে মুক্তি দেন নাহয় আমি আপনাকে,,,,
পুরোটা বলার আগেই অবন্তী আমার দিকে তাকিয়ে কাঁদতে শুরু করলো।
আর কোনো কথা না বলে সে রুমে চলে গেলো। ঠাস করে দরজাটা লাগিয়ে দিলো, আমি সোফায় গিয়ে বসে রইলাম,একটু পর দেখি সে ব্যাগপত্র গুছিয়ে চলে যাচ্ছে।
থামাতে গিয়েও থামাইনি, যাক তাতে আমার কি? এসব আবেগ দিয়ে তো আর জীবন চলে না। আমি তো ওরে জোর করে বিয়ে করিনি।
আমাকে যদি এতোই অপছন্দ করতো তাহলে বিয়ের দিন বলে দিলেই পারতো।
সারা দিন বাসায় কাটিয়ে দিলাম, বাবা মাও নেই। বাসাটা কেমন খালি খালি লাগছে।
বিকালবেলা বের হতেই দেখি……..
চলবে……
মিথ্যা অপবাদ
♥♥মিথ্যা অপবাদ♥♥
#লেখক_কামাল
//part_21//
আমি চোখের পানি মুছতে মুছতে,,।মেসে চলে আসলাম,,,.।
জানি না রিমি আমার চলে যাওয়ার খবর সুনে কি করে বসে।খুব ভয় হচ্ছে।আর চিন্তাও হচ্ছে।আমি এখানে চলে আসাটা শুধু রাহুলই জানে।রাহুল আমাকে মেস খুজে দিতে সাহায্য করেছিল।আর প্রমিস করেছিল রিমিকে বলবে না আমি যে এখানে আছি।
আসলেই কি বেকার ছেলেরা প্রেম করতে পারে না?
আসলেই,,,,।ছেলেটা যতই ভালো আর সুন্দর হওক,,আংকেল আন্টির যতই পছন্দের হওক কিন্তু ছেলেটা ত বেকার। আমি বেকার না হলেও,,,রিমির পরিবার অনেক ধনী পরিবার।আর আমার ত বর্তমানে কোনো পরিবারই নেই।
এমন ছেলের সাথে ত রিমির পরিবার বিয়ে দিবে না।যার ভালো ভবিষ্যতের কোনো নিশ্চয়তা নেই। তার কাছে কিভাবে মেয়েকে তুলে দিবে।
আমি জানতাম এরকম কিছু হবে?রিমি আমার সম্পর্ক কেউ মেনে নিবে না।তার পরও পারি নি রিমিকে ভালোনা বেসে থাকতে।কারন ভালোবাসা ধনী গরিব দেখে না।মনের সাথে মনের মিল হলেই হয়ে যায়।
তবে আমি আজ সবাইকে বলবো,,,প্রেম ভালোবাসা কোনো ছেলে খেলা নয়।এমন প্রেম করবেন না যাকে পাওয়া টা আমার মতই প্রশ্নবিদ্ধ। প্রেমটা ক্যারিয়ার গঠনের আগে পর্যন্ত বন্ধ রাখুন।আর ধনীর মেয়ে,,ধনীর ছেলেদের সাথে প্রেম করতে ভেবে করুন।কারন প্রেমটা সত্যি হতে পারে পরিবার কিন্তু মেনে নিবে না।,,, আপনাদের আশেপাশে তাকালেও দেখতে পাবেন কত ছেলে চাকরির অভাবে তাদের ভালোবাসার মানুষটিকে অন্যের হতে দেখছে।।
ভালোবাসা শুধু কাছে পাওয়া নয়।ভালোবাসা হলো ভালোবাসার মানুষ টিকে ভালো রাখা।সে যদি অন্য কোথাও ভালো থাকবে মনে করেন তাহলে তাকে অন্য কোথাও যেতে দিন।আর নিজের ভিতর একটা কবর খুরে নিন।সব কষ্ট সেখানে কবর দিন।কারন ছেলেদের সবার সামনে কাদতে নেই।
রাতে ঘুম হলো না রিমির কথা ভেবে বালিশ ভিজিয়ে ফেলেছি।ঠিক করলাম কয়েকদিন ভার্সিটিতে যাবো না।আর আংকেলের অফিসেও না। কারন রিমির সাথে দেখা হওয়ার এই দুই মাধ্যম।আমার মনে হয় কয়েকদিন আমাকে না দেখলে হয়ত রিমি আমাকে ভুলে যাবে।ভুল বুজবে আমার প্রতি ঘৃনা জন্মাবে।
যেই রকম চিন্তা সেই রকম কাজ,,দুই দিন হয়ে গেলো।ভার্সিটি, অফিস কোথাও যাই নাই।রাহুল কে দেখছি খুব তারা হুরা করে আমার দিকে আসছে।
-- কিরে কি হয়েছে,,এত তারাহুরা করে কেন আসছিস?(আমি)
-- আসিফ তারাতারি হাসপাতলে চল,,কাল রাতে নাকি রিমি অনেক গুলো ঘুমের ঊষুধ খেয়ে ফেলেছে।(রাহুলের কথা সুনে বুক কাপতে লাগলো।)
-- কি বলিস এইসব কোন হাসপাতালে চল প্লিজ?(আমার মাথা ঘুরছিল রিমির যদি কিছু হয়ে যায়)
রাহুল আমাকে হাসপাতলে নিয়ে গেল,,,আংকেল আন্টি কেবিনের বাহিরে বসা।আমি গিয়ে জিজ্ঞাস করলাম?
-- কি হয়েছে আন্টি,,রিমি নাকি ঘুমের ঊষুধ খেয়ে ফেলছে?(আমি)
-- হা আসিফ,তুমি চলে যাওয়ার পর দুই দিন খাওয়া দাওয়া করে নাই।আমরা অনেক বুজাই কিন্তু রিমি কিছুতেই বুজতে চায় নি।রিমি বলছিল তোমাকে না পেলে রিমি আর বাচবে না।তাই তোমার আংকেল রিমিকে চর বসিয়ে দেয়।পরের দিন সকালে উঠে দেখি রিমি ঘুম থেকে উঠছে না।রুমে গিয়ে দেখি অনেক গুলো ঘুমের ঊষুধ খেয়ে নিয়েছে।(আন্টি)
-- ডাক্তার কি বলেছে?(আমি)
-- রিমিকে ওয়াস করা হইছে।এখনো জ্ঞান ফিরে নাই।(আন্টি)
-- আসিফ আমার মেয়েটার যেন কিছু না হয়ে যায়।আমি কথা দিচ্ছি তোমার সাথেই রিমির বিয়ে দিব?আমি বুজতে পারছি টাকা পয়সা কিছুই না যদি আমার মেয়ে হারিয়ে যায়।(আংকেল কান্না করছিল)
এমন সময় ডাক্তার এসে বললো,,,
-- রোগীর জ্ঞান ফিরেছে আপনারা চাইলে দেখা করতে পারেন?(ডাক্তার)
রিমির ছোট ভাই এক দৌরে রিমির কাছে চলে গেল।আর রিমিকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছিল।আংকেল আন্টির সাথে আমিও গেলাম।সাথে রাহুল আশাও ছিল।
রিমিকে দেখে আটকে উঠি একি অবস্থা হয়েছে রিমির।রিমি একনজর আমাদের দিকে তাকাতেই যখন আমার দিকে চোখ পড়ে।অন্য দিকে ফিরে যায়।,,,,
সবাই বুজতে পেরে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।,,
আমি রিমির কাছে যাই,,,
আমি কোনো কিছু না ভেবে রিমিকে জড়িয়ে ধরি
-- রিমি আমি সরি,আমি বুজতে পারি নাই?(জড়িয়ে ধরে কান্নামাখা কন্ঠে)
-- ছাড়ো বলছি আমাকে,,তুমি এখানে কেন?আমাকে ত তুমি ভালোবাসো না তাহলে কেন এসেছো?(রিমি অভিমানি সুরে বললো)
-- আমার জানটা যে আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছিল?(আমি)
-- কে তোমার জান?যাও এখান থেকে আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাই না।(রিমি কান্না করছিল)
রিমি অনেক রাগ, অভিমান করে আছে।
-- রিমি আমি জানতাম না তুমি এরকম কিছু?(আমাকে আটকে দিয়ে)
-- আম্মু আম্মু,,,(রিমি আন্টিকে ডাকতে শুরু করে দিছে)
-- কি হয়েছে রিমি?(আন্টি, আংকেল সবাই রুমে এসে)
-- আম্মু আসিফ কে যেখানে চলে গেছিল সেখানেই যেতে বলো?(রিমি)
আমি মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছি,,, রিমি কি অভিমান করে বলছে নাকি সত্যিই চলে যেতে বলছে।
-- রিমি আসিফের কোনো দুষ নেই,,সব কিছু আমাদের জন্য করেছে।বাসায় চল সব বলছি?(আংকেল)
-- তোমাদের জন্য মানে?(রিমি)
-- বাসায় চল,,,সব কিছু বলবো?(আন্টি)
রিমি চুপ মেরে গেছে।,,
বাসায় আসার পর,,রিমি জানতে চাইলো,,
-- এবার বলো,,(রিমি)
-- আসলে আমরা আসিফকে বলেছিলাম,,,তোর সাথে যেন অন্য কোনো সম্পর্কে না জরায়।আর যখন জড়িয়ে গেছে।যেন তোকে ভুলে যায়,আর তুই ভুলে যাওয়ার জন্য যা দরকার তাই করবে।(আন্টি)
রিমি আমার দিকে তাকিয়ে আবার সুনতে লাগলো,,,
-- আমরা জানতাম না আমাদের অহংকার তোমাকে হারিয়ে ফেলছিল,,,আর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।আসিফের সাথেই তোমার বিয়ে দিবো,,।রিদয়ের সাথে কথা হয়েছে।(আংকেল)
-- সত্যি বলছো আব্বু,,,(রিমি আনন্দে মেতে উঠলো)
-- হুম সত্যি বলছি,,,আর আসিফ তুমি আবার বাসায় চলে আসো।আজ রাতেই তোমাদের বিয়ে।(আংকেল)
বিয়ের কথা সুনে মনে আনন্দ যেন আর ধরে না।।এটা যেন অসাধ্যকে সাধ্য করা।কিন্তু আমি কিছুই করি নাই।সব কিছু রিমির পাগলামি।
-- আংকেল আপনি মেনে নিছেন এতেই হবে? বিয়েটা না হয় পরেই করি?(আমি একটা বিষয় ভাবছিলাম)
-- কেন?আজ রাতেই হবে।নয়ত আবার ঘুমের ঊষুধ খাব?(রিমি)
-- না মানে বলছিলাম লেখাপড়া শেষ করে না হয়।বিয়েটা করি?(আমি)
-- না,না আব্বু তুমি আজই বিয়ের আয়োজন করো?(রিমি)
ভাবছি আমার বিয়েতে আব্বু আম্মু,ভাইয়া ভাবি,সুমি আপু কেউ থাকবে না। আর কিভাবে থাকবে আমার ত এখন সেই সমপর্ক নাই।আর রিমিকে বিয়ে করার এই সুযোগ টা হারানো মনে হয় ঠিক হবে না।
-- আচ্ছা ঠিক আছে?(আমি)
রাহুল,,আশা,আর কিছু ভালো বন্ধুদের দেওয়া হলো বিয়ের সব দায়ীত্ব।
প্রানপন চেস্টায় বিয়েটা হয়েই গেলো,,,।বন্ধু বান্ধব অনেক কথা বলছিল।আর হাসছিল।কথা গুলো আসলে বলা যাবে না।বুজতেই পারছেন কথা গুলো কি হতে পারে।,,তবে আংকেল আন্টির মুখে হাসি দেখে মন ভরে গেলো।কারন আংকেল আন্টির মনে কষ্ট দিয়ে হয়তো কখনো আমরা সুখি হতে পারতাম না।
বাসর ঘর সাজিয়ে বন্ধু বান্ধব গুলো। বসে বসে আড্ডা দিচ্ছে। কেউ কেউ কার্ড নিয়ে বসে পরেছে।,,,আজ নাকি কিছু হবে না আজ শুধু আড্ডা হবে।। সালারা ত কখনো বিয়ে করে নাই কেমনে বুজবে আমাদের মনে কি চলছে।
-- দোস্ট ১;৩০ বাজে এবার ত যা?(আমি)
-- না বন্ধু আজ কিছুই হবে না,,,তুমি চাইলে শুরু করতে পারো আমরা এখানেই আছি।নয়ত আমাদের সাথে খেলতে আসো?(রাহুল,,সাথে আশা,ইভা সবাই সায় দিচ্ছে। আর হাসা হাসি করছে)
-- অকে তোরা কার্ড খেল আমরা লুডু খেলছি।(রিমি)
-- অই দাড়া আমিও খেলবো তোদের সাথে (আশা)
-- দাড়া আমিও আসছি।(রাহুল)
-- অকে খেলার আগে একটা শর্ত আছে বলে নেই।(আমি)
-- কি শর্ত,,,,
-- আমরা জিতলে তোরা রুম থেকে বের হয়ে যাবি।আর তোরা জিতলে সারারাত আড্ডা চলবে?(আমি)
-- আচ্ছা ঠিক আছে আমরা রাজি?(আশা)
আশাকে একটু আসতে করে বললাম,,,
-- আশা একটু বুজার চেস্টা কর,,,একটু কম খেলিস,,রাহুলে ত ছাড় দিবে না।(আমি)
-- আচ্ছা,,,৫০০ দিতে হবে?(আশা)
--কাল সকালে পেয়ে যাবি প্রমিস।(আমি)
খেলা শুরু হলো,,,আমার খেলার বাজে অবস্থা,,রিমি ভালোই খেলছে।।সবসময়ই রিমিই সব কিছুতে এগিয়ে থাকে।তানাহলে হয়ত আজ বিয়ে টা করতে পারতাম না।
আশাকে যা বলছি তাই করছে। তার পর ও পেরে উঠতে পারছি না।অন্য সবাই আকর্ষন দিচ্ছে।সবাই আমাদের বিরুদ্ধে। যাক আশার হেল্প এর জন্য শেষ পর্যন্ত আমরাই জয়ী হলাম।
-- এবার ত রুম খালি করতে হবে,,যাও? (রিমি)
-- হুম যাচ্ছি,,,(আশা)
রুম খালি করে,, সবাই চলে গেলো।
-- আচ্ছা আশা এত বাজে কি ভাবে খেললো?(রিমি)
-- ৫০০ টাকা ঘুষ ছিল?(আমি)
-- তাই,,,ভালো করেছো,,,(রিমি)
-- হুম,,(আমি)
-- তুমি দেখছো কিভাবে তোমাকে আমার করে নিলাম?(রিমি)
-- আংকেল আন্টি না চাইলে কখনো সম্ভব হতো না।(আমি)
-- তুমি জানো আমি এত গুলো ঘুমের উষুধ খাই নাই।২টা খেয়েছিলাম বাকি গুলো বাহিরে ফেলে দিছি(রিমি)
-- ২ টা খেয়েই এই অবস্থা?(আমি ত অবাক)
-- না আমি অভিনয় করেছিলাম (রিমি)
-- অভিনয়,,,
-- হুম তোমার সাথে আব্বু আম্মুর সব কথাই আমি
একটি বাস্তব কাহিনী
#একটা_বাস্তব_জীবন_কাহিনীঃ 😥 প্লিজ ২মিনিট সময় নিয়ে পড়বেন।
২ সপ্তাহ আগে আমার গার্লফ্রেন্ড এর বিয়ে ছিল!
কিন্তু বিয়ে টা হয়নি।
কারন বিয়ের দিন আমি তাকে তুলে নিয়ে আসছিলাম।
এবং কোর্ট ম্যারেজ করে ফেলি দুইজন।
.
আমার বাবা মা বিষয়টা
মেনে নিল না!
বিধায় আমাকে বাসা থেকে বের করে দিল।অসহায় দুইটা প্রাণ ঘুরতেছিলাম.....!
.
আমি ভাবলাম যত কষ্টই হোক,মেঘাকে একটা থাকার ব্যবস্থা আমাকে করে দিতেই হবে!
.
হাতে কিছু টাকা ছিল।ঐই টাকা দিয়ে মেঘা কে একটা
মহিলা মেসে তুলে দিলাম!
আমার কাছে প্রায় সব টাকা শেষ।কথায় আছে বিপদে পড়লে বন্ধু চেনা যায়।একজন ও আমার পাশে এসে দাঁড়ায় নাই!
কিনা করছি তাদের জন্য। যাই হোক,এটাই হয়ত পৃথিবীর নিয়ম।বড্ড স্বার্থবাদী এই পৃথিবীটা!
.
এই দিকে রাত হয়ে গেল।হাতে একটা টাকাও
নাই।
সখের মোবাইল ফোনটা বেঁচে দিলাম রাস্তার টোকাই এর কাছে!
টাকা হাতে আছে,কিন্তু খাইতে ইচ্ছা করছে না!
ভাবছিলাম আমি যদি একটু কষ্ট করি,তাহলে মেঘা ভাল থাকবে।এরমধ্যে আমি একটা থার্ড ক্লাস মেসে উঠলাম!
অন্তত আকাশের উপর ছাদ টা পেয়েছিলাম!
খুব কষ্টে একটা হোটেলে ওয়েটারের চাকরী পেলাম!
নিজেকে প্রশ্ন করলাম টাকাই কি সব কিছু?
.
একদিন দুপুরে,হোটেল এ ১০ জন ফরেনার আসল!
কিন্তু কেউ তাদের খাবারের অর্ডার নিতে পারলনা!
.
আমি BBA তে অধ্যায়নরত ছাত্র।তাই ইংরেজিতে কথা বলার কৌশল টা আমার অনেক আগে থেকেই জব্দ করা ছিল।তাদের সাথে কথা বলে হোটেল ম্যানেজারকে
সন্তুষ্টি করে ফেললাম। ফলে আমাকে ফ্লোর ম্যানেজার করে দিল।
বেতন ও ১৮ হাজার টাকা!
.
মেঘাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য নতুন বাসা
ভাড়া নিলাম।দুইজন একসাথে থাকব,মনে ঝড় উঠতে লাগল!
.
মেঘার মেসে গিয়ে জানতে পারলাম,মেঘা তার বাবার সাথে বাসায় চলে গিয়েছে!
একটা ছোট্ট মেয়ে আমাকে বলল ভাইয়া,মেঘা আপু আপনাকে এই চিঠিটা
দিতে বলছে!
চিঠিটা এমন ছিলো:
আশিক,যখন তুমি আমাকে বিয়ে করে সুখী করতে পারবে না,তবে কেনো আমায় সুখের রাজ্য থেকে নিয়ে এসেছিলে?
তোমার অবস্থা এখন আর পাঁচটা সাধারণ ঘরের থার্ডক্লাস ছেলেদের মত। যাই হোক তোমার বাসায়
ডিভোর্স এর পেপার চলে যাবে।প্লিজ আমাকে যদি একটুও ভালবাসো,তাহলে সাইন টা করে দিও!
.
-নির্বাক দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়েছিলাম চিঠির দিকে।মাত্র ১০ টা দিন কষ্ট
করতে পারল না!
ব্যর্থতা আমারই ছিল। আমি একটা অপদার্থ ছেলে যে,মেঘাকে ভালবেসে নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতাকে ছেড়ে তার কাছে চলে এসেছিলাম..........+
#স্বামি স্ত্রীর রোমান্টিক ঝগরা
#স্বামি স্ত্রীর রোমান্টিক ঝগরা😍
#পার্ট -- ১
#মো:-রিয়াদ দেওয়ান
🍁🍁🍁🍁
শ্রাবন - Hlw
নুপুর - বাসায় ফিরবা কখন?
শ্রাবন -কেনো কিছু লাগবে?
নুপুর - উহু, এমনি।
শ্রাবন - ওহহ আচ্ছা।
নুপুর - এই শোনো শোনো!!
শ্রাবন - কি?
নুপুর - না মানে..
শ্রাবন - কি..??
নুপুর - একটা ইয়ে আনবা??
শ্রাবন - ইয়ে আবার কি??
নুপুর - আরে ইয়ে ইয়ে!!
শ্রাবন - আরেহ বাবা সেটাই তো জিজ্ঞাসা করছি, ইয়েটা কি?
নুপুর - উহু, বলবো না।
শ্রাবন - না বললে আনবো কীভাবে?
নুপুর - থাক লাগবে না।
শ্রাবন - আহা বলোই না!!
নুপুর - উফ! তুমি প্রতিদিন বাসায় আসার সময় নিয়া আসো আর এখন বলছো ইয়েটা কী!!
শ্রাবন - আচ্ছা, সোজা ভাবে বলতো কী লাগবে?
নুপুর - বলবো??
শ্রাবন - হু, বলো।
নুপুর - না থাক বলবো না।
শ্রাবন - আহা, একবার বলেই দেখো না!!
নুপুর - আসার সময় আমার জন্য ডেইরি মিল্ক চকোলেট নিয়া আসবা কেমন??
শ্রাবন - এই কথা!!
নুপুর - হু।
শ্রাবন - কী এক স্বভাব পেয়েছো বাচ্চাদের মতো!!
নুপুর - হু, আমি এখনো বাচ্চা ওকে??
শ্রাবন - ক'দিন পর নিজের কোলেই একটা বাচ্চা আসবে আর উনি এখনও নিজেকে বাচ্চা দাবি করে!!
নুপুর - চুপ ফাজিল। একদম মাইর দিবো। খালি পচা কথা বলে!
শ্রাবন - এইটা পচা কথা??
নুপুর - হু, পচা কথা। আমি এখন বাচ্চা নিতে চাই না।
শ্রাবন - এখন নিলে সমস্যা টা কী?
নুপুর - আরোও এক বছর পরে নিবো!
শ্রাবন - কিন্তু কেনো??
নুপুর - আমি এখনও বাচ্চা। আর একটা বাচ্চার কোলে তুমি অন্য একটা বাচ্চা কীভাবে দিবা বলো!! সো এখন আমার ধারেকাছেও আসবা বলে দিলাম, হুও।
শ্রাবন - তুমি বাচ্চা!
নুপুর - হু, আমি এখনও বাবু।
শ্রাবন - আজকে বাসায় এসে নেই দাড়াও!
নুপুর - আবার পচা কথা বলে! একদম মাইর দিবো কিন্তু।
শ্রাবন - আজ রাতে বাসায় এসে নেই। তারপর পচা কথা কী সেটা বুঝাবো।
চলবে?
[অতি শিঘ্রই পরবর্তী পার্ট দিবো ইনসা- আল্লাহ গল্প ভালো লাগলে অবশ্যাই জানাবেন]
রাগীবসের অত্যচার
রাগিবসের অত্যাচার♥
part : 1
!
আজ আমার জন্মদিন,
কিন্তু আমার জন্মদাতা পিতার সেটা মনে নেই,
...
তবে আমার সৎ বোনের ও যে আজকে বার্থডে সেটা তার ঠিকি মনে আছে,
...
প্রতিবছর এই দিনে অনেক ধুমধাম করে ইশার বার্থডে পালন করা হয়,
আর আমি আমার ঘরের এক কোনে পরে চোখেরজল ফেলতে থাকি,আমার জন্মের ঠিক দুঘণ্টা পরে আমার মা মারা যায়,তারপর বাবা আবারো বিয়ে করেন এবং সে আবারো কন্যা সন্তানের পিতা হন,কোএনসিডেন্সলি আমাদের দু বোনের বার্থ ডে একইদিনে একই তারিখে,ওর বার্থডে মনে থাকলে ও আমার বার্থডে মনে থাকেনা তারআসলে আমি ভুল বাবা হয়তো ইচ্ছে করেই এটা করেন,বাবা কখনো আমার সাথে কথা বলেননা আমি ও তার সাথে কথা বলি না,বাবা কখনওই আমাকে হাত ধরে মেলায় নিয়ে যাননি,নিজে থেকে কোনোকিছু কিনে দেননি,আমি বাড়ির কাজের লোকের কোলে কোলেই মানুষ হয়েছি,আমার মনে আছে HSC পরীক্ষায়য় GPA 5.00পাওয়ার পর বাবাকে সাহস করে বলেছিলাম ফ্যাশন ডিজাইনিং কোর্স করতে চাইতখন বাবা আমাকে বলেছিলেনতোমার পেছনে ওয়েস্ট করার মতো টাকা বা টাইম কোনো টাই আমার নেইবাবার কথা শুনে আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম কারন ইশার পেছনে বাবা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা খরচ করেও মুখ থেকে কিছু বলার আগেই সেটা হাজির হয়ে যায়,আর আমি আমার কোনো ভ্যালু নেই বাবার কাঅনেক কষ্ট করে ইউনিভারসিটি পরীক্ষা দিয়ে চান্স পাই আমতখন বাবা কে বলি একটা ল্যাপটপ কিনে ....কিন্তু বাবা তখন আমার গায়ে হাত তোলেন,যাই হোক ওদিনের পর থেকে ওনার কাছে চাওয়া একে বারে বন্ধ করে দেই....উনি মাসের শেষে যে টুকু দিতো তাতেই চালিয়ে যেতাম আমএকদিন আবার বড় আব্বু মানে বড় চাচু তার ছেলে রিয়াদ ভাইয়া কে দিয়ে আমার জন্যে ল্যাপটপ কিনে পাঠায়বড় আব্বু আম্মু আমাকে অসম্ভব ভালো বাসেন তার নিজের কোনো মেয়ে নেই তাই সে আমাকে তার কাছে নিয়ে যেতে চেয়েছকিন্তু বাবা আমাকে যেতে দিলেন না,কারন কেউ আমাকে নিয়ে যেতে চাইলেই বাবার মুখ টা কালো হয়ে যায়একমাত্র কাজের লোক গুলো ছাড়া কেউ আমাকে এই বাড়িতে সম্মান করে নাসে যাই হোক আজকে আমার বার্থডে তার ওপরে ইউনিভারসিটি তে প্রেজেন্টেশন আছে,কাঁদলে আমার ফ্রেন্ডস গুলো মন খারাপ করবতাই কান্নাকাটি করাই যাবে না,যাই হোক হলে গিয়ে দেখতে হবে সবাই কি করেকারন ইশার বার্থডে তে কোনো অঘটন ঘটলে সবাই আমাকে দোষারোপ করবে,শুনলাম এবার ইশার বার্থডে ঘরোয়া ভাবে হবে,কারন ওর ফেভারিট ড্রেস ডিজাইনাররে ফ্যামিলি এবং ডিজাইনার কে বাবা বাসায় ইনভাইট করেছঅবশ্য সেটা আমার দেখার বিষয় আমার বিষয় হলো আমি একটু স্পেস পেলেই সবার মাঝখান থেকে ফুড়ুৎ হয়ে যাবোআম্মু তুমি ওখানে কি করইসসস এই বড় আব্বু কোথা থেকে এলো?কি হলো আম্মুকিছুনা বড় আব্বু,তাহলে নিচে আসোহায় আল্লাহ আমি এখন যাবো কি করে?আমি তো হাটু পর্যন্ত ফ্রক থ্রি কোয়াটার পালাজ্জো, ব্লাক সু ও গলায় ওড়না ঝুলিয়ে আছিআর এগুলো তো আমার নিত্যদিনের পোশাক এগুলো পরে বাসার কেউ দেখেনি তো মেহমান দের সামনে যাবো কি করেযাই হোক কিছু করার নেই লজ্জার মাথা খেয়ে দোতালা থেকে নেমে দৌড়ে গিয়ে বড় আব্বুর গলা জড়িয়ে ধরি,হ্যাপি বার্থডে আম্মু,তোমার মনে ছিলো বড় আব্...হ্যা আম্মু তোমার জন্যেই তো এসেছি,....তাহলে আমার গিফট কোইসেটা তো দেওয়া যাবেনা,
...
আচ্ছা ঠিক আছে,
....
মিশশশশ তোর গায়ের ড্রেস টা তুই ডিজাইন করেছিস?
...
হ্যা রিয়াদ ভাইয়া কেন?
..
সিম্পলের ভিতরে ড্রেস টা অনেক সুন্দর,
...
কি সুন্দর দেখলে তুমি আমি তো এক কালারের কাপড় কিনে ফ্রক টা একটু ভিন্ন স্টাইলে বানিয়েছি,
.....
তাও অনেক সুন্দর হয়েছে বোন,
...
তখন খেয়াল করে দেখে সবাই আমাকে দেখে মৃদু মৃদু হাসছে,
...
আর ইশার পাশে বসা এক টা ছেলে দুধের মতো ফর্সা রয়েল ব্লু কালারের কমপ্লিট সুট, টাইটান ব্রান্ডের ওয়াচ, বড় বড় গোল গ্লাসের চশমা ও লেপার্স পরে মুখ টা বাংলার পাঁচের মতো করে আমাকে দেখছে,
...
যে যাই দেখুক আমার দেখার টাইম নেই কারন প্রেজেন্টেশনের জন্যে যেতে হবে,
....
কি হলো বোন নি এতো ভাবছিস,
...
আসলে ভাইয়া আমার ইউনিভারসিটি তে প্রেজেন্টেশন আছে তাই,
....
মিশশশশ তুই কি আজকে এভাবে ইউনিভারসিটি যাবি?
....
ইসসসস না রে না just give me five minutes ইয়ার আমার সাড়ি পরতে মাএ পাঁচ মিনিট লাগবে,
....
কি সাড়ি পড়া এতো সহজ?
......
ভাইয়া চুপপ কর তুই,
তখন খেয়াল করে দেখি বাসার সবাই হাসছে,
..
কিন্তু খেয়াল করে লাভ নেই,
তাই আমি এক দৌড়ে রুমে ছুটে গিয়ে খয়েরি কালারের সাড়ি পরে
খোপা করে লিপস্টিক লাগিয়ে নিচে ছুটে আসি,
....
গিয়ে দেখি সবাই ঘড়ি ধরে বসে আছে,
...
হঠাৎ রিয়াদ ভাইয়া বলে,
....
just four minutes?
...
yes bro,
আচ্ছা বড় আম্মু, বড় আব্বু আমি এখন আসি,
....
আম্মু আমি তোমাকে দিয়ে আসি,
..
বড় আব্বু তুমি মাএ জার্নি করে এসেছ,
so take rest,
..
কিন্তু?
...
আমার কোনো অসুবিধে হবেনা,
..
জিসা তো নিতে এসেছে বাকি ফ্রেন্ডস রাও আছে তাছাড়া প্রেজেন্টেশনের পর একটু পার্টি সার্টি করবো একটু রাত হবে আসতে তোমরা টেনশন করো না প্লিজ,
....
সাবধানে যেও আম্মুজ্বি বড় আব্বু অবশ্যই,
.তারপর আমি জিসা জাহান্নাম থেকে বেড়িয়ে আআরে EK তোর বাসায় কি করছে কার কথা তুআরে ওই যে বিখ্যাত ড্রেস ডিজাইনার ইমান খান উনি তোর বাসায় কি করছওওও ওনাকে ইশার বার্থডে তে বাবা ইনভাইট করেছে,
.ছোটো বেলা থেকে দেখে আসছি তোকে হুদাই টর্চার করে আসছে,
ওই পঁচা লোক টার কথা বাদদে প্লিজআঙ্কল আপনার তো আরেক টা মেয়ে আছে তাই না?হ্যা বাবা,সে কোই?ইমান একটু আগে তুমি যাকে দেখলে সে আমার বোন,
ওহহহ সেই মেয়েটা?
...হ্যা এখন বলো তো ও বেশি সুন্দরি না আমি বেশি সুন্দরিআমি জানি তোমার উওর কি হবে?আসলে ও শ্যামলা আমার মতো তো বিউটিফুল না তাই না?
...তোমাকে কে বলেছে শুধু ফর্সা হলেই সে সুন্দর হয়?আল্লাহর সৃষ্টি সবকিছু অনেক সুন্দর হয়,
....আমার সাদা মনে কাদা নাই?
....তোর বিয়া খামু কবে মিশশশ,
..তোর বিয়ের পরে জিসু বেবি,
....হা হা হা
রোমান্টিক বেয়াইন
💞রোমান্টিক বিয়াইন 💞
⏩⏩পর্ব: 01
লেখক,কামাল
মাঝ রাতে ঘুম ভাঙ্গতেই মনে হল কেই আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে। উঠে দেখি একটা একটা মেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে। লাইট নিভানো তাই বুঝা যাচ্ছে না কে। মেয়েতাকে এমন ভাবে জড়িয়ে ধরা দেখে আমার অনেক রাগ উঠে। আর তার থেকেও বেশি অবাক হয়ে যাই।
- এই যে কে আপনি উঠুন। কি হল উঠুন ?
- ............(কোন সারা পাচ্ছি না মেয়েটি আমাকে জড়িয়ে ধরে এখনো ঘুমিয়ে আছে। ডাকতেছি কিন্তু কোন সারা দিচ্ছে না এখন কি করি। আমার গা থেকে হাত দিয়ে সরিয়েও দিতে পারতেছি না)
- সাহস করেই মেয়েটির হাত আমার গা থেকে সরিয়ে দিলাম। কিন্তু মেয়েটি...
- ভুত ভুত ভুত করে জোরে জোরে চিল্লানি দিতে থাকলো
- আমি দৌড়ে গিয়ে লাইটটা জ্বালিয়ে দিলাম। দেখি বিয়াইনসাব
- আপনি এখানে কেন?
- আপনি এখানে কেন? আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাইছেন মানে কি?
- অ্যা... এক ঘুসি মাইরা দাঁত ভেঙ্গে দিবো। এইটা আমার রুম, আপনি এরুমে ঘুমাইছেন কেন?
- মাওয়াই ঘুমাইতে বলছে।
- আম্মু ঘুমাইতে বলল আর আপনি এসে আমার রুমে ঘুমাইছেন।
- আপনি কি কানা যে আমি ঘুমাইছি দেখেননি। অন্য রুমে ঘুমালে ও তো পারতেন।
- আমি তো ঘুমাতে এসে আপনাকে দেখিনি।
- দেখবেন বা কি করে আপনি তো দিন কানা+রাত কানা=পুরাই কানা
- মাঝ রাতে বাজে বকবেন না বলে দিলাম। অন্য রুমে গিয়ে ঘুমান।
- আমি এই রুমেই ঘুমাব আপনি অন্য রুমে যান।
আমি বিছানায় উঠে শুয়ে পড়লাম। বিয়াইনসাব রাগে লুছির ফুলছে মনে হচ্ছে আমাকে জ্যান্ত চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে। বিয়াইনসাব কে এই রাগি অবস্থায় দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে। তাছাড়া বিয়াইন দেখতেও সুন্দর ক্রাস না খেয়ে কি আর থাকা যায়। বিয়াইন এ রুম থেকে অন্য রুমে ঘুমাতে চলে গেল। বিয়ের দিন ও মার্কেটে যা কাহিনী করেছিল এর শোধ তো আমি নিয়েই ছাড়বো।
#তা হলে চলুন জেনে আসি আমার পরিচয় ও বিয়ের দিনের কাহিনী............
আমার নাম সাব্বির। ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ৬ষ্ট সেমিস্টারে পরি। আমাদের বাসা গ্রামে হওয়ায় খালার বাসায় থেকে পড়াশুনা করি। ৩ দিন আগেই খালাতো ভাইয়ের বিয়ে হয়েছে।
#বিয়ের_আগের_দিন
অনেকদিন পর কোন বিয়ে বাড়িতে যাবো তাও খালাতো ভাই বিয়ে। কেনাকাটার জন্য বাসা থেকে টাকা নিলাম। মার্কেটে গেলাম। সিরি দিয়ে উঠে সামনে যেতেই কার সাথে ধাক্কা খেয়ে একটা মেয়ের গায়ে পড়ে গেলাম। সরি বলার সুজক ও দিলো না ঠাসসসসসসসস। কানের নিছে দিলো একটা একে তো ব্যাথা তার উপর আবার থাপ্পর কেমন দা লাগে লকজন সবাই এদিয়ে চাইয়া দেখতেছে।
- চোখে দেখতে পান না( মেয়েটি যে বর্তমান বিয়াইন)
- আপনি চোখে দেখতে পান না।
- আমার পা থেকে মাথা অব্দি দেখে ... পাবলিকের মাইর খাওয়ার ইচ্ছা আছে নাকি?
কিছু না বলে চলে এলাম কারন দেশের আইন এখন ওদের পক্ষে। তারপর কেনাকাটা করে চলে এলাম বাসায়। সবাই অনেক আনন্দ করতে আমি ও আনন্দ করলাম। সাউন্ড বক্সে DJ গান বাজানো হচ্ছে আর এক এক করে সবাই ড্যান্স দিচ্ছে। সবাই মিলে অনেক আনন্দ করলাম। ২ আগে থেকে হদুল মাখা, ফটকা ফুটানো হচ্ছে।
আজকে বিয়ের দিন তাই সবাই রেডি হয়ে গারিয়ে উঠে কনের বাসায় যাচ্ছি। আমরা ১০ টা গাড়িতে যাচ্ছি। বরের গাড়িতে আমি, খালাতো ভাই মানে বর, নীলয় ও দুলাভাই। কনের বাসায় যেতে অনেক ফাজলামো করলাম।
- ভাইয়া বিয়া করছ ঠিক আছে বাসর কিন্তু আমি করমু (নীলয় আমার অন্য খালাতো ভাই)
- তুই পারবি না সাব্বির ভাল পারবো। (দুলাভাই)
- কি বল দুলাভাই, জীবনে বাসর রাত একবারেইক আসে। আর ভাইয়ার সেই হক কি আর আমরা নিতে পারি। দুলাভাই তুমি যে কি বল না। আমার হবু বউ বিয়ের পর এ কথা শুনলে আমারে মাইরা ফেলব।
অনেক শয়তানি করা শেষে এখন আমরা কনের বাসার কাছে এসে গেছি। সন্ধ্যা হয়ে গেছে বিশাল বড় একটা গেট দিয়েছে আর মরিচ বাতি দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়েছে। চোখগুলো সবার ঝলমল করতেছে। গাড়ি নেমে সামনে আরও একটা গেট আর গেটের সামনে অনেক লকজন দাড়িয়ে আছে। বুঝতেই পারলাম ভিতরে জাওয়ার জন্য টাকা দিতে হবে। সবাই মিলে সামনে যেতেই মার্কেটের সেই মেয়েটিকে দেখে চমকে যাই। আর সেদিনের চর খাওয়ার কথা মনে পড়ে। তোরে তো পাইছি চর মারা বুঝিয়ে দিবো। মেয়েটি ও আমাকে দেখে চমকে যায়। গেটের টাকা দেয়া হল অনেক ঝগড়া করার পরে। বর/নয়ন ভাইকে শরবত খাওয়াচ্ছে আমাকে ও দিলো কিন্তু দুলাভাই ও নীলয় দিলো না। আমি গ্লাসটা ওদের দিতে চাচ্ছি কিন্তু ওরা খেল না। জানি খেতে হলে টাকা দিতে হবে। উপায় না পেয়ে খেয়ে নিলাম আমার ২০০ টাকা গচ্ছা গেল। একটু পর পেতের মধ্যে ভূমিকম্প হতে শুরু করলো পেটটা মছর দিয়ে উতছে এখুনি কাপড় বুঝি নষ্ট হয়ে যায়।
একটা ছোট ছেলেকে বলে টয়লেট টা দেখিইয়ে নিলাম। ১ ঘণ্টা পর নেজেহাল হয়ে বরের স্টেজে আসলাম। এদিকে এতক্ষণে বিয়ে শেষ হয়ে গেছে। সবাই খাওয়ার জন্য বসে গেছে।
- কিরে কই গেছিলি তোকে সবাই এতক্ষণ ধরে খুজছে। (নীলয়)
- তুই তো এখানে বসে থাকার জন্য এসেছিস। আমি ভাবির সাথে দেখা করে এলাকাটা একটু ঘুরে দেখে আসলাম । (আমি)
- আমাকে বললে হতো না আমি ও যেতাম (নীলয়)
- চল সবাই খেতে বসছে আমরাও যাই (আমি)
- চল (নীলয়)
শরীরে এক ফোঁটা শক্তি নাই খাওয়া দাওয়া করে শক্তি সঞ্চয় করলাম। আমার সাথে ফাজলামি আমি ও কম না দেখাই দিবো কত ধানে কত চাল।
- নীলয় চল তো মেয়েটি বারবার আমাদের দিকে তাকাচ্ছে।
- আমাদের দিকে তাকাবে কেন?
- চলতো , পড়ে বুঝিস
- এই মেয়ে চোখ মারলেন কেন? ভদ্র ছেলে দেখলে বুঝি চোখ মারতে ইছা করে।
- কিহহহহহহ... আমি আপনাকে চোখ মারতে যাবো কেন? (বিয়াইন)
এমন সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। বিয়াইনের ঠোঁটে আমার ঠোঁট .........।
।
#চলবে.......?
।
ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন
।
ম্যাডাম বউ
ম্যাডাম বউ
পর্বঃ৭
জান্নাতের সাথে পিছু হাটতে হাটতে নিজেই
ক্লান্ত হয়ে গেছি।তবুও মহারানীর থামার কোনো
নাম গন্ধ নেই।
জান্নাতঃঠাসসস কুত্তার বাচ্চা এটা তোর প্রতিশোধ
ছিলো?ভেবেছিলাম তোর থেকে সরি বলে নিবো
কিন্তু কখনো ভাবতে পারিনি আমাকে এইভাবে
বিয়ে করতে বাধ্য করবি।
আমিঃআমি তোমাকে বিয়ে করতে বাধ্য করছি
মানে,কি বলতে চাইছো তুমি?
জান্নাতঃএকদম ন্যাকামি করবি না।সেদিন কি
বলেছিলি আমায় ভুলে গেছিস?
আমিঃকি বলেছিলাম?
জান্নাতঃঠাসসস সেদিন বিয়ে করার জন্য চ্যালেঞ্জ
করেছিলি আর সেটা তুই এভাবে ঠাসসস
আমিঃদেখো আমার কথাটা শুনো একবার
জান্নাতঃতোকে দেখলেই কেমন একটা ঘৃণা হচ্ছে
জেরি চল আমার সাথে।
আমাদের কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই
জান্নাত চলে গেলো।জেরি আগে থেকেই ঘাবড়ে
ছিলো তাই আর না করলাম না।সালার বুড়োর
দল তোদের যদি এখন কাছে প্রতাম সামনে রেখে
হাজার বার সালাম দিতাম।আপনাদের জন্য
বিয়েটা হয়ে গেলো।যদিও কয়েকটা থাপ্পড় খেয়েছি
তবে ভালোবাসার মানুষটা বউ হয়েছে সেটাই
অনেক বড় পাওয়া😍
জয়ঃসালা পাগল হলি নাকি?
আমিঃপাগল হবো কেনো?
জয়ঃতাহলে হাসছিস কেনো?
আমিঃআবেগের ঠেলাই
রাগিঃথাপ্পড় খেয়ে কেউ হাসে?
আমিঃএটা থাপ্পড় খাওয়ার হাসি না রে পাগল।
এটা ভালোবাসার থাপ্পড়। এখন চল।
—হ্যা চল
তারপর সবাই মিলে ক্যাম্পে চলে আসলাম।খুব
বেশি রাত হয়নি।বাসে গিয়ে আগে ব্যাগ থেকে
ফোনটা বের করে নির্জন স্থানে চলে গেলাম।
ধরে ফেলছেন কি করবো তাই না,হ্যা জান্নাতকে
কল দেয়ার জন্য এখানে এসেছি।কল দেয়ার
সাথে সাথে কেটে দিলো।আরো কয়েকবার দিলাম
বাট প্রতিবারই কেটে দিলো।একটা মেসেজ লিখে
পাঠালাম“তুমি কি চাও,এখান থেকে তোমাকে
জোড় করে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করি?"
মেসেজটা সেন্ট করার পর মনে পড়লো জান্নাতের
ফোনে টাকা নাই।তাই আবার কল দিলাম।
এবার রিং হওয়ার সাথে সাথে রিসিভ করলো।
আমিঃবার বার কেটে দেওয়ার মানে কি?
জান্নাতঃমানে খুব সিম্পল, আমি আপনার সাথে
কথা বলতে একদম বিরক্তি ফিল করি।
আমিঃকিন্তু আমি করি না।আর শুনো,ঐ ব্যাটা
নিলয়ের সাথে আর কখনো যেনো না দেখি
জান্নাতঃআপনি জানলেন কি করে আমি আজ
নিলয়ের সাথে ছিলাম।
আমিঃসেটা তোমার না জানলেও চলবে।এরপরেও
যদি ওর সাথে দেখি তাহলে তোমার আগে ওকে
খুন করবো...😈
জান্নাতঃকরলে আমারই ভালো হবে।বদজাতটা
সব সময় আমাকে প্যাড়া দেয়।
আমিঃমেরে দেয় ওকে?
জান্নাতঃজানিনা আমি,আর প্লিজ আমাকে আর
কল দিবেন না🙏
আমিঃতাহলে কাকে কল দিবো?
জান্নাতঃযাকে খুশি দেন বাট আমাকে না
আমিঃতাহলে তোমার বোনকে আবার কিডন্যাপ
করি,কি বলো ডিয়ার হবু বউ(থুক্কু বউ)
জান্নাতঃধুর,আমি আপনার প্রায় সব কথাই শুনছি
তারপরেও কেনো আমার সাথে এমন করছেন?
আমিঃভালোবাসি তাই
জান্নাতঃকিন্তু আমি আপনাকে ভাসি না
আমিঃতোর ঐ ফয়সালের সাথে ব্রেকআপ করিসনি?
জান্নাতঃকরিনি আর কখনো করবোও না
আমিঃঠিক আছে আমিও দেখবো
আর কোনো কথা না বলে সিমটা বন্ধ করে সবার
সামনে চলে আসলাম।
জয়ঃকি কোথায় গেছিলি?
আমিঃএকটু কাজ ছিলো
রাহুলঃকি কাজ?
আমিঃ২ নাম্বার আর কিছু বলবি?
রাহুলঃনা ঠিক আছে।
আমিঃজান্নাত কোথায় আর কোনো মেয়েকে
এখানে দেখছি না কেনো?
রাফিঃমেয়েদের জন্য বাসের মধ্যে জায়গা করেছে
আমিঃওহ
জয়ঃহুম এখন চল খেয়ে নেই
আমিঃহ্যা চল
তারপর সবাই মিলে রাতের খাবার খেয়ে নিলাম।
খাওয়া শেষ করে কয়েকটা বড় বড় ক্যাম্প
করা হয়েছিলো সেটাতেই ঘুমাতে হলো।
-----------------------------------------------------
পরেরদিন,,,,,,,
ঘুম থেকে উঠে পাশের ছোট একটা পুকুর থেকে
মুখ ধুয়ে ঘুরতে বের হলাম।এখনো সবাই ঘুমিয়ে
আছে।চারপাশে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।মাঝে
মাঝে পাখিদের কলরবে মনটাকে ব্যাকুল করে
দিচ্ছে।রাতের অন্ধকারে খেয়াল করিনি তবে
এলাকাটা অনেকটাই পাহাড়ি এবং অপরূপ
সুন্দরতা দিয়ে ফুটে উঠেছে।এখনো সূর্য ওঠেনি।
তাই অনেকটা দৌড়ের মতো করে পাশের একটা
পাহাড়ের উপরে উঠলাম।।পাহাড়ের উপরে
উঠে যেনো এলাকাটা আরো বেশিই সুন্দর দেখাচ্ছে
সূর্য উদয় হওয়া দেখে ক্যাম্পের দিকে রওনা
দিলাম।
ক্যাম্পের সামান্য একটু দূর থেকে লক্ষ্য করলাম
সবাই একসাথে দাঁড়িয়ে আছে।জয়,রাফি, রাহুল
কাকে যেনো বার বার কল করছে।কি হয়েছে
সেটা জানার জন্য সবার কাছে গিয়ে বললাম...
আমিঃকি হয়েছে আর কাকে কল দিচ্ছিস?
এটা বলার পর নিজেকে ভিনগ্রহের প্রাণী মনে
হতে লাগলো।সবাই আমার দিকে হা করে
তাকিয়ে আছে।
আমিঃঐ হালা বলিস না কেনো?
রাহুলঃসালা তোকেই কল দিচ্ছি।কোথায় গেছিলি
আর তোর ফোন বন্ধ কেনো?
আমিঃভোর বেলার প্রকৃতির দৃশ্যপট দেখছিলাম
জয়ঃতাহলে ফোন বন্ধ কেনো?
আমিঃহয়তো বন্ধ হয়ে গেছে।
সবার সাথে টুকটাক কথা বলছিলাম হঠাৎ করে
জান্নাত কোথায় থেকে এসে কলার ধরে সবার
আড়ালে নিয়ে গেলো।চেহারাটা দেখে মনে
হচ্ছে অনেক রেগে আছে।দাতের উপর দাত চেপে
আমার দিকে রাগান্বিত চেহারা নিয়ে তাকিয়ে আছে।
আমিঃকি হয়েছে ম্যাডাম?
জান্নাতঃঠাসসস,অচেনা জায়গায় কোথাও ঘুরতে
বের হলে সাথে কাউকে নিয়ে যেতে হয় সেটা
কি ভুলে গেছিস?
আমিঃসবাই ঘুমিয়ে ছিলো তাই কাউকে ডাকা
হয়নি।(গালে হাত দিয়ে)
জান্নাতঃযদি কিছু হয়ে যেতো?
আমিঃআপনার জন্য ভালোই হতো।কেউ আর
আপনাকে বিরক্তি করতো না।
জান্নাতঃহু,এখন থেকে তুই আমার সাথে থাকবি?
আমিঃবর হিসাবে মেনে নিয়েছো?
জান্নাতঃএকদম না,৬ মাস পর ডিভোর্স দিয়ে দিবো
কিন্তু এই কয়েকদিন আমি যেটা বলবো তুই সেটাই
করবি।যদি অবাধ্য হয়েছিস তো গাল ফাটিয়ে দিবো
আমিঃহুম আমিও
জান্নাতঃতুইও কি?
আমিঃতোমার কথা শুনবো(আমি কি মোসারফ নাকি😁)
জান্নাতঃগুড।এখন হয়তো সবাই নাস্তা করবে
তাই তুই নিজেও করে নে।আর এখানে কোথাও
একা বের হবি না।সব সময় বন্ধুদের সাথে থাকবি
আমিঃবন্ধুদের gf আছে।আমার তো আর সেটা
নেই।যা একটা বউ জুটলো সেউ আমাকে মেনে
নিতে নারায।
জান্নাতঃতুই চিট করে বিয়ে করেছিস এটার শাস্তি
তুই অবশ্যই পাবি
আমিঃহোপ,আমি মোটেও চিট করেনি।
জান্নাতঃতোর এসব আজাইরা কথা বাদ দে।এখন
যাতো গিয়ে নাস্তা কর
আমিঃআচ্ছা #ম্যাডাম বউ
জান্নাতঃহারামজাদা👿
আমিঃহিহিহি
সেখান থেকে চলে এসে নাস্তা করে নিলাম।
--------------------------------------------------
সবাই ঘুরতে বের হচ্ছে।বন্ধুরা উনাদের gf নিয়ে
ঘুরতে ব্যস্ত তাই সেখানে আমার না যাওয়াটাই
উত্তম। ক্যাম্পের বাহিরে একটা গাছের নিচে বসে
গান বাজিয়ে গেম খেলতে লাগলাম।কিছু সময়
পর জেরি এসে পাশে বসলো...
জেরিঃকি করেন দুলাভাই?
আমিঃপাগল হয়েছিস?
জেরিঃপাগল হবো কেনো?
আমিঃএই যে দুলাভাই আর আপনি করে বলছিস
জেরিঃবোনের বরকে তো দুলাভাই বলেই তো
ডাকতে হয় তাই না,আর দুলাভাইদের আপনি
করে বলতে হয়।
আমিঃএকটা কথা রাখবি?(গেম খেলতে খেলতে)
জেরিঃহুম বলো
আমিঃকখনো যেনো কেউ জানতে না পারে আমার
আর জান্নাতের বিয়ে হয়েছে
জেরিঃকেনো?
আমিঃঅনেক কষ্ট পাবে।
জেরিঃভাইয়া তুমি এতো ভালো কেনো?
আমিঃমোটেও ভালো না আমি।আর তুই এখানে
কেনো,জান্নাত দেখলে বকা দিবে
জান্নাতঃদেয়ার হলে আগেই দিতাম।
আমিঃআপনি এখানে?
জান্নাতঃঘুরতে বের হবো তাই তোকে সাথে নিয়ে
যেতে আসলাম।একাই তো বসে আছিস
আমিঃহুম বাট যেতে পাড়বো না
জান্নাতঃকেনো পারবি না?
আমিঃআপনার সাথে গেলে আবার যদি অন্য
কেউ আমাদের আবার ধরে বিয়ে দিয়ে দেয়
জেরিঃকতোবার বিয়ে করবে শুনি,একবার তো
বিয়ে হয়েই গেছে।
আমিঃএকটু আগে কি বললাম তোকে?
জেরিঃমনে আছে।তবে অন্যদের বলবো না
আমিঃহুম গুড।আপনারা বরং যান
জান্নাতঃঐ এতো কথা বলিস কেনো,যেতে বলছি
যাবি।চল আমাদের সাথে।
আমিঃহু
জান্নাতঃকি হু চল বলছি
আমিঃঠিক আছে চলেন।
তিনজন মিলে ঘুরতে বের হলাম।তবে আজ গত
কালকের থেকে বিপরীত দিকে।জান্নাতের সাথে
তেমন কোনো কথা বলিনি।তবে ওকে ইমপ্রেস
করার সব রকম কাজ করেছি।কিছু সময় ঘুরাঘুরি
করার পর বড় একটা নদীর সামনে বসে স্রোত
দেখতে বসে গেলাম।সেখানে কিছু সময় আড্ডা
দেয়ার পর ক্যাম্পে চলে আসলাম।কারণ,সবাইকে
দুপুর অবধি ঘুরাঘুরি করার সময় দেয়া হয়েছিলো।
সবাই মিলে দুপুরের খাবার খেয়ে বাসে উঠে
পড়লাম।সকল স্টুডেন্টসদের চেক করে নিয়ে
গাড়ি স্টার্ট করলো।
---------------------------------------------
জান্নাতের এমন ব্যবহার কিছুটা ভাবাচ্ছিলো আমায়।
অন্যান্য দিনের চেয়ে আজকের কথা বলা ছিলো
অন্যরকম। অনেকটা সময় বাস চলার পর
ছোট একটা ব্রেক নেয়।সেই সুযোগে সবাই গাড়ি
থেকে নেমে যার যার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে
ব্যস্ত হয়ে পরে।রাত হওয়ার কারণে আমিও
বাস থেকে নেমে একটু দূরে গিয়ে জান্নাতকে কল দিলাম...
আমিঃহাই ডিয়ার
জান্নাতঃকি বলবেন সেটা বলেন
আমিঃএতো রাগ কেনো তোমার শুনি?
জান্নাতঃসেটা আমার ইচ্ছা
আমিঃবাইরে থেকে কিছু কেনার দরকার নেই।
আমি তোমার সিটের উপর কিছু খাবার রেখে
দিয়েছি।সেটাই খেয়ে নিও
জান্নাতঃআপনার জিনিষ আমি খেতে পাড়বো না
আমিঃআমিও দেখবো না খেয়ে কি করো
টুট টুট টুট
কিছু না বলেই কল কেটে দিলো।বাস থেকে নামার
পরপরই রেস্টুরেন্ট থেকে ২টা বিরিয়ানির প্যাকেট
রেখে দেয়।যেনো জান্নাত জেরি খেতে পারে।
বাইরে থেকে একটা সিগারেট খেয়ে বাসে উঠতে
একটু দেড়ি হয়ে যায়।
জান্নাতঃকোথায় গেছিলি?
আমিঃবাইরে
জান্নাতঃকি করছিলি?
আমিঃ১নাম্বার চেপেছিলো(মিথ্যা কথা)
জান্নাতঃএতো সময় লাগে?
আমিঃসিরিয়াল দিয়ে করতে হয়
জান্নাতঃহয়েছে আর বলা লাগবে না।যা গিয়ে বস
আমিঃহুম
সিটে বসে জান্নাতের দিকে আড়ালে তাকিয়ে আছি
দেখতে চাইছিলাম ও এখন কি করে।কিছুটা সময়
তাকিয়ে থাকার পর আমি যে দুটো প্যাকেট
রেখেছিলাম সেগুলো জানালা দিয়ে ফেলে দিলো।
ইচ্ছা করছিলো গিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়।
আর তাকিয়ে না থেকে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।
অনেকটা সময় হলো কিন্তু ঘুম ধরছে না।সবাই
ঘুমিয়ে গেছে শুধু জান্নাত জেরি ছাড়া।তারা এখন
গেম খেলতে ব্যস্ত।জান্নাতকে এখন দেখতে ইচ্ছা
করছিলো না।তাই পাশ ফিরে চোখ বন্ধ করে আছি
কিছুটা সময় যাওয়ার পর কারো ডাকে তাকাতে
দেখলাম জেরি দাঁড়িয়ে আছে।
আমিঃতুই এখানে কেনো?
জেরিঃআপু ডাকছে তোমাকে
আমিঃকেনো?
জেরিঃআমি কি জানি..
আর কোনো প্রশ্ন না করে জেরির সাথে আসলাম।
আমিঃকি হয়েছে,ডাকছেন কেনো?
জান্নাতঃএটা কি তোর কলেজ?
আমিঃনা কেনো?
জান্নাতঃতাহলে আপনি করে বলছিস কেনো?
জেরিঃস্ত্রী কে কি কেউ আপনি করে বলে?
আমিঃবর কে কি কেউ তুই করে বলে?
জেরিঃহুম রাইট,আপু তুমি দুলাভাইকে তুমি করে
বলো আর দুলাভাই তোমাকে তুমি করে বলবে
জান্নাতঃথাপ্পড় দিয়ে গাল ফাটিয়ে দিবো।চুপচাপ
বসে থাক।বড়দের সামনে কথা বলতে নাই
জেরিঃওকে
জান্নাতঃজেরি তুই এদিকে চেপে বস,নিলয়কে
একটু বসার জায়গা করে দে
আমিঃকেনো?
জান্নাতঃখাবার খাবো তাই
আমিঃআমার ইচ্ছা নাই
জান্নাতঃকিন্তু তুই এখন খাবি ব্যস
আমিঃআমি খেতে পাড়বো না
জান্নাতঃতুই খেতে পারবি না মানে,তোর চোদ্দ গুষ্টি খাবে
অনেকটা জোড় করেই খাইয়ে দিলো।খাবার শেষ
করে নিজের সিটে এসে বসলাম।জান্নাতের দিকে
তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি
একদম টের পাইনি।
রাফির ডাকাডাকিতে ঘুম থেকে উঠতে হলো।
আমিঃসালা এভাবে চিল্লাচিল্লি করছিস কেনো
রাফিঃচলে এসেছি তাই।নাম এখন বাস থেকে
চলবে................
বউ বশীকরন
বউ বশীকরণ - ০১
ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালে আমার এক বড়ভাই ছিলো নামটা বলতে চাচ্ছি না। তার বউ ছিলো অসম্ভব সুন্দরী। ভাই ভাবিকে খুব ভালোবাসতো । আর ভাবি ভাইকে একদম সহ্য করতে পারতো না । ভাই শেষমেষ হতাশ হলেন যে তার বউটা চলে যাবেন এ পযায় চলে গেছে। তখন আমি আর আমার কিছু ফ্রেন্ড সেলুনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম তখন ভাই সব ঘটনা খুলে বললো আমাদের । তখন ঐপাশ থেকে অচেনা এক লোক বললো ভাই আপনি কি আপনার বউকে আপনার প্রতি পাগল করতে চান । তাকে বশে আনতে চান । তখন ভাই বললো হ্যা । ঐ ব্যাক্তি বললো আগামীকাল আপনি আমি যে মাযারের নাম বলতেছি ঐখানে থাকবেন ।ঐটা ছিলো ঢাকার একটি বড় মাযারের নাম। তো পরের দিন ভাই ভেবে চিন্তা করে ঐখানে গেলেন তারপর জটা চুল জটা দাড়ী ওয়ালার কাছে গেলেন। তখন পাশে থাকা ব্যাক্তি জটা লোকটাকে সব খুলে বললেন। তারপর জটা লোকটা ভাইকে বললো যে যদি তোর বঊকে ফিরে পেতে চাস তাহলে খুব কঠিন একটা কাজ করতে হবে তো কি পারবি? ভাই না ভেবেই বললো হ্যা পারবো। তখন জটা লোকটি বললো ১০বছরের কোনো মৃত বাচ্চার কলিজা আনতে হবে । মার যাওয়ার ৩দিনের মধ্যে। এবং ঐটা একা আনতে হবে। ঐ বাচ্চার কাফনের কাপড়ে পেচিয়ে নিয়ে আসবি.......চলবে