Join 98,474 users already on read.cash

বুক_রিভিউ

0 7 exc
Avatar for Nipa1234
Written by   23
1 year ago

#বুক_রিভিউ

বইয়ের নাম :- রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি।

লেখক :- মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন।

প্রকাশনী:- বাতিঘর ।

ক্যাটাগরি :- থ্রিলার বই, রোমাঞ্চকর উপন্যাস।

প্রথম প্রকাশ :- ২০১৫ ।

রেটিং :- ৫/৫ ।

একজন মনোযোগী পাঠিকা হওয়ার সুবাদে আমার মন ভিন্ন ভিন্ন বইয়ের স্বাদ নেওয়ার জন্য সর্বদায় সচল থাকে। লকডাউনে থেকে সেই অভ্যাসটা আরো বেশি তীব্র হয়েছে।মোটামুটি ধরনের একজন থ্রিলার গল্প প্রেমী হিসাবে গতদিন আমি #রবীন্দ্রনাথ_এখানে_কখনো_খেতে_আসেননি বইটি একদিন পড়ে শেষ করেছি। এই উপন্যাসের একটি সিকুয়াল আছে, কিন্তু আজকে আমি প্রথম প্রকাশ নিয়েই পর্যালোচনা করবো। অনেকদিন ধরেই উপন্যাসটি আমার লিস্টে ছিল কিন্তু পর্যাপ্ত সময়ের স্বল্পতায় পড়ে উঠতে পারছিলাম না। আজকে আমি আমার দৃষ্টিকোণ থেকে এই বইয়ের রিভিউ দিতে হাজির হয়েছি। আগেই বলে রাখি পুরো স্পইলার এইখানে আমি দিবো না। তাহলে পাঠকেরা পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

°

গল্পের শুরুতেই ছোট্ট একটা মফস্বল শহরের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, "সুন্দরপুর"। এই ছোট্ট শহর বললে ভুল হবে, নিতান্তই গ্রাম। যেখানে উন্নয়নের সুগন্ধ খুবই কম, একটা বইয়ের লাইব্রেরি অব্দি নেই। সেইখানে হাইওয়ের পাশে আশ্চর্য রকমের একটি রেস্টুরেন্ট অবস্থিত,

"রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেন নি"।রবীন্দ্রনাথ কি সত্যিই কখনো এখানে খেতে আসেননি, নাকি এসেছিলেন? আর কেনই বা রেস্টুরেন্টের নাম রাখা হলো রবীন্দ্রনাথের নামে? এইখানেও লুকিয়ে আছে এক বিশাল রহস্য।

• রেস্টুরেন্টের এবং সেখানকার খাবারের বর্ণনা যে এত সুন্দর ভাবে বইয়ের পাতায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তার স্বাদ অন্তত রিভিউ পড়ে বোঝার ক্ষমতা রাখবে না সাধারণ পাঠক।

এই অদ্ভুত নামের রেস্টুরেন্টের মালিক মুশকান জুবেরি। যিনি ডাক্তারি পেশা ছেড়ে সুন্দরপুর এসে রেস্টুরেন্ট খুলে বসেছেন, যেখানে তিনি নিজেই রাধুনী। যদিও অদ্ভুত এই রেস্টুরেন্টকে তিনি রেস্টুরেন্ট হিসাবে দেখেন না। তার ভাষ্য মতে এটি অতিথিশালা। যার ফলস্বরূপ এইখানকার অত্যাধুনিক খাবারের মূল্য খুবই কম। এই রেস্টুরেন্টের বৈশিষ্ট্য হলো এইখানকার খাবারের স্বাদ একবার যে গ্রহণ করবে সে নিশ্চিত ভাবে আবার এই সুস্বাদু খাবারের স্বাদ গ্রহণ করতে ফিরে আসবে। তার হাতের রান্না খেতে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন মানুষ এসে ভিড় করত। খাবারগুলোর স্বাদ অসাধারণ। যে খায়, সে-ই মুগ্ধ হয়ে যায়, কারণ এত মজাদার খাবার এর আগে তারা কেউই কখনো খায়নি। মুশকান জুবেরি রান্নার সময় এক বিশেষ উপাদান মিশিয়ে দিত সব খাবারে। এই কারণেই খাবারগুলো খেতে এত ভালো হতো। কিন্তু সেই উপাদান সম্পর্কে সে ছাড়া রবীন্দ্রনাথের অন্য কেউই জানত না।

খাবার গুলো পুরোপুরি নেশার মতো কাজ করে। মুশকান জুবেরি তার রেসিপি গুলো সবসময় গোপন রাখেন, তিনি বিভিন্ন খাবারের উপর এক্সপেরিমেন্ট করে খাবারের স্বাদ অসম্ভব মাত্রায় বাড়িয়ে দেয়।

রেস্টুরেন্টের মালিক এবং রাধুনী মুশকান জুবেরি সম্পর্কে স্থানীয় কেউ তেমন কিছুই জানে না, কেউ জানার আগ্রহও প্রকাশ করে না, কারণ তার উঠাবসা এলাকার সব সুনামধন্য ব্যক্তি বর্গের সাথে। লোকাল থানার ওসি, এস.পি, এম.পির সাথে মহিলার অনেক ঘনিষ্ঠতার কারণে এলাকার কেউ তার বিষয়ে খতিয়ে দেখার সাহস পায় না। কারণ এইসব ক্ষমতাধর ব্যক্তিবর্গকে উপেক্ষা করে তার সম্পর্কে তথ্য সংগ্র করা মানুষের অভাব। সবাই এইটুকুই জানে তিনি জোড়পুকুরের জমিদার বাড়ির নাতবউ এবং সে এইখানকার জমিদার বাড়িতেই থাকে, সেই বাড়িতেও তিনি একা, একজন কাজের বুয়া আর এক বাকশক্তি হীন ও বধির দারোয়ান ব্যাতিত আর কেউ থাকেন না। পুরোটা জুড়ে এক রহস্যময় নারী চরিত্র এই মুসকান জুবেরি। তার রহস্যে ঘেরা চরিত্র প্রতিটা মুহূর্তে পাঠক হৃদয়ে নতুন ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে তোলে।

°

এইদিকে তার রহস্য উদ্ঘাটনে ডিবি পুলিশের নামকরা একজন অফিসার নুরে সফা সাংবাদিক পরিচয়ে এই সুন্দরপুর এসেছেন । কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার ভাগ্নে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তিনি এইখানে এসেছেন। কারণ সে নিখোঁজ হওয়ার দিন ট্যাক্সিক্যাবে যেতে ঠিক এই রবীন্দ্রনাথেই এসেছিল খেতে। তদন্তে নেমে নুরে সফা আরো কিছু যুবকের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পারেন, যাদের গন্তব্যও এই রবীন্দ্রনাথেই ছিল। তাই লোকাল থানার ইনফর্মর আতরকে সাথে নিয়ে তদন্ত কাজে নেমে পড়েন সফা। তদন্ত কাজের মধ্যে যেইসব ঘটনা গুলো এইখানে তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো পড়তে বসলে যে কোনো মানুষই সেই ঘটনা স্থলে নিজেকে কল্পনা করতে বাধ্য এবং আসল থ্রিলড এক্সপেরিন্স করতে গেলে অবশ্যই এই বইটি পড়া উচিত। বাংলা সাহিত্যে অভিনব কৌশল অবলম্বন করে পুরোটা উপন্যাস জুড়ে পাঠককে এক নতুন রাজ্যে নিক্ষেপ করবে এবং গা শিউরে উঠবেই চাঞ্চল্যকর পেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে।

ডিবির প্রাক্তন কর্মকর্তা কে. এস খানের সহায়তায় নুরে সফা কেসটা আরো দ্রুত সলভ করতে সক্ষমতা অর্জন করে। যার রেকর্ডে অমীমাংসিত কোনো কেস নেই। রহস্যময়ী সেই নারীর কেস সলভ করতে এসে নূরে সফা এমন কিছু সত্যতার সম্মুখীন হয়, যেই সত্যের বর্ণনায় পাঠকের মন নির্ঘাত এক ভয়ের রাজ্যে পদার্পণ করবে। যে ভয় গুলো হাজারটা ভূতের সম্মুখীন হওয়ার সমান। সবশেষে সকলের চোখে ধুলা দিয়ে রহস্যের নতুন জগৎ তৈরির জন্য পালিয়ে বাঁচে মুশকান জুবেরি।

কী সেই রহস্য? কীভাবেই বা মুশকান পালিয়ে যায় সুন্দরপুর থেকে? আর রান্নায় কী বিশেষ উপাদান মেশাত সে? কেনোই বা মুশকান ডাক্তারি ছেড়ে দিয়েছিল? সবকিছু জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে 'রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি' উপন্যাসটি।

এই গল্পে আপনি পাবেন অভিনব সব যৌক্তিকতা, আত্মা কেঁপে উঠা ভয়ার্তক দৃশ্য, ক্যানিবালিসম, সাইন্সটিফিক ধারণা এমনকি মানুষ মানুষের জন্য কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে সেই চিত্র। স্পয়লার আমি এইখানেই শেষ করবো কারণ আমি চাইনা আপনারা এই রোমাঞ্চকর অনুভূতি থেকে বঞ্চিত হন।

লেখক অসম্ভব সুন্দর একটি প্লট তৈরি করে অসম্ভব সুন্দর ভাবে গল্পটি সাজিয়েছেন।

উপন্যাসের শেষের কথাটি আমার মন ছুয়ে গিয়েছে। সেইটা হলো,

"বইয়ের চেয়ে শক্তিশালী খাবার এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয় নি।"

এইখানে একজন পাঠিকা হিসাবে না বলে পারছি না অবশ্যই উপন্যাসটি একটি মাস্টারপিস । এই বিবেচনায় কোনো সন্দেহ নেই। আমি পার্সোনালি খুবই পছন্দ করেছি, পুরোপুরি মনের মতো একটি বই। আশা করি আপনারাও উপন্যাসটি পড়বেন।

1
$ 0.09
$ 0.09 from @TheRandomRewarder
Avatar for Nipa1234
Written by   23
1 year ago
Enjoyed this article?  Earn Bitcoin Cash by sharing it! Explain
...and you will also help the author collect more tips.

Comments