বেলী
#বেলী_ফুলের_মালা
#পর্ব_২৭
আবিরের মা খাবার প্লেটে বেড়ে দিলো, আবির সেটা নিয়ে তাড়াতাড়ি চলে গেলো। সুমনা রাগে গজগজ করতে করতে অর্ধেক খাওয়া হতেই প্লেট রেখে উঠে গেলো।
আবির রুমে গিয়ে রুহীকে খাইয়ে দিয়ে নিজেও খেয়ে নিলো। প্লেট রেখে এসে দেখলো রুহী শুয়ে পড়েছে। ভীষণ মন খারাপ লাগছে আবিরের, রুহী কি ওর উপর রাগ করলো? রুহী ঘুমিয়ে পড়েছে ভেবে আর কিছু না বলে বেলকনিতে চলে গেলো।
বন্ধু সায়ান কে বেশ কয়েকবার ফোন দিলো, কিন্তু ওর নাম্বার বন্ধ। ফেসবুক আইডি ও ডি এক্টিভ, গত বেশ কয়েক মাস ধরে সায়ানের সাথে কোনো যোগাযোগ করতে পারছে না আবির। বাধ্য হয়ে সায়ানের রুমের একজনের নাম্বারে ফোন দিলো সে জানালো সায়ান আরও একমাস আগে দেশে চলে গেছে। এবার আবির আরও অবাক হলো, যে সায়ানের ওকে ছাড়া এক মুহুর্তও চলতো না সে এতগুলো দিন আবিরের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখলো? বিষয়টা কেমন অস্বাভাবিক। পাশাপাশি আরও একটা বিষয় আবিরকে বেশ ভাবাচ্ছে। দেশে তো এসেছে একমাস আগে, তাহলে তার আগে আবিরের ফোন তুলতো না কেন?
আবির যখন ইউ. কে. থেকে দেশে ফিরলো, তখন সায়ানও কয়েক মাসের ছুটিতে ওর সাথে এসেছিলো, ওকে ছাড়া থাকতে পারবে না বলে। সেই সায়ান দেশে এসেছে এক মাস হয়ে গেছে অথচ আবির সেটা জানেই না। এসব ভাবতে ভাবতেই আবিরের চোখের কোণায় থেকে দুফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো। উদাস চোখে অনেকক্ষণ বাইরে তাকিয়ে থেকে রুমে চলে গেলো। রুহীকে নড়াচড়া করতে দেখে বুঝতে পারছে ও জেগে আছে।
আবির রুহীর মাথার পাশে বসে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই রুহী চমকে চোখ খুলে তাকালো। আবিরের দিকে এক নজর তাকিয়েই আবার চোখ বন্ধ করে ফেললো। আবিরের বুকের বাঁম পাশ টা চিনচিন করে ব্যাথা করছে। একদিকে প্রাণের বন্ধু সায়ান কে নিয়ে দুশ্চিন্তা, তার উপর আবার রুহীর সাথে বাজে ব্যবহার করার জন্য অনুতাপ।
- রুহী.....(আবির)
-......... (চুপ করে চোখ বন্ধ করেই শুয়ে আছে)
- রুহী, আমি সরি। আমি ইচ্ছা করে অমন করি নি রুহী। তুমি ফোন রিসিভ করছিলে না তাই আমার খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছিলো।(ধরা গলায় আবির)
আবিরের চোখ থেকে দুফোঁটা পানি রুহীর মুখের উপর পড়তেই রুহী তড়িৎ গতিতে উঠে বসলো।
- রুহী, আই এম এক্সট্রিমলি সরি... (রুহীর হাত দুটো চেপে ধরে)
- চুপ, একদম কান্না করতে না। ছি ছি পুরুষ মানুষ নাকি কাঁদে।
রুহী আবিরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে। আবির যে এতো করে থামতে বলছে তবুও ওর থামার নাম নেই।
- রুহী, আমি কিন্তু এখন বাসা থেকে বেরিয়ে যাবো।(আবির)
আবিরের কথা শুনে রুহী সাথে সাথেই চুপ করে গেল।
- এই তো লক্ষী বউ.... (রুহীর চোখ মুছে দিয়ে আবির)
- হুমম, হয়েছে। (হালকা হেসে রুহী)
- রুহী, আমাকে ছেড়ে কখনও চলে যাবে না তো...?(দু-হাতে রুহীর মুখে আলতো করে ছুঁয়ে)
রুহী শুধু মুচকি হাসলো, কিছু বললো না।
- এগারোটা বাজে, চলো ঘুমিয়ে পড়ি।(রুহী)
- হুমম।
আর কোনো কথা না বাড়িয়ে আবির চুপচাপ শুয়ে পড়লো। এখন আর কথা বলতে মোটেই ইচ্ছা করছিলো না। মাথায় শুধু একটা কথা ঘুরপাক খাচ্ছে, সায়ান কেন ওর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো? ওর কোনো সমস্যা হয় নি তো? পরক্ষণেই আবার মনে হচ্ছে, না... ও তো দেশে এসেছে এক মাস, তার আগেই তো যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো। তখন তো ওর কোনো সমস্যা হয়েছিল না।
রুহী আবিরের গলা জড়িয়ে ধরে বুকের উপর মাথা রেখে শুয়ে পড়লো, আর শোয়া মাত্রই ঘুম। যতই দুশ্চিন্তা হোক রুহী যদি ওর বুকের উপর মাথা রাখে, কেমন যেন ম্যাজিকের মতো সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যায়। কথাটা ভেবেই মুচকি হাসলো আবির। তারপর রুহীর কপালে আলতো করে চুমু দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।
অভ্যাস অনুযায়ী আজও রুহীর দেড়টায় ঘুম ভেঙে গেলো। এক ঘন্টা পড়ার পর আর পড়তে ভালো লাগছে না। এদিকে ঘুমও আসছে না। তাই ফোনটা হাতে নিয়ে ফেসবুকে ঢুকলো। সাথে সাথেই রুহীর চোখ ছানা বড়া। রাত পৌনে তিনটায় আভা অনলাইনে? তাড়াতাড়ি বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো, আভার রুমের লাইট অফ। লাইট তো সাড়ে দশটার সময়ই অফ দেখেছিলো রুহী। তার মানে আভা তখনও ঘুমায় নি। বাতি যেহেতু অফ, সেহেতু ও পড়ছেও না। গত তিনদিন ধরে আভাকে অনেক রাতে অনলাইনে দেখছে রুহী। অথচ সাড়ে দশটা বাজতেই বাতি অফ করে শুয়ে পড়ে। সবাই ভাবে ঘুমিয়ে পড়েছে।
আসলেও কি আভা অনলাইনে থাকে? নাকি নেট অন করে রেখে ঘুমিয়ে পড়ে বিষয়টা রুহীর মাথায় ঢুকছে না। তাই দরজা খুলে পা টিপে হেঁটে আভার রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। ভেতর থেকে চাপা গলায় আভার কথা শোনা যাচ্ছে। তখন কিছু না বলে রুহী রুমে চলে গেলো। আভা কি কারও সাথে রিলেশনশিপ এ আছে? ভাবতেই অস্থির লাগছে ওর। যদি তাই হয়, তাহলে তো আবির ওকে মেরেই ফেলবে। এসব আবির একদম পছন্দ করে না। কাঁপা হাতে কয়েক গ্লাস পানি খেয়ে রুহী ধপ করে ফ্লোরে বসে পড়লো।
আবিরকে কি বলবে? না থাক.... আগে নিজে নিজে প্রবলেম টার সমাধান করতে হবে। এই মুহূর্তে নিজেকে বেশ ম্যাচিউর মনে হচ্ছে রুহীর কাছে, একটা সংসারে কত দায়িত্ব থাকে, কত কিছু আগলে রাখতে হয়। আভা রুহীর এক বছরের সিনিয়র। বয়সে ছোট হলেও ও আভার বড় ভাবি। সে হিসাবে আভাকে ভুল পথ থেকে সরিয়ে আনা ওর দায়িত্ব।
কি করবে কিছু মাথায় আসছে না। অনেক ভেবে আভাকে মেসেঞ্জারে ফোন দিলো। অন্য কারও সাথে কথা বলছে ও। তাই ফোন কেটে দিয়ে চুপ করে বসে রইলো। তখনই আভা কল ব্যাক করলো....
- হ্যাঁ ভাবি বলো....(কাঁপা গলায় আভা)
- ঘুমিয়ে পড়েছিলে নাকি?(নিচু স্বরে রুহী)
- না না না ভাবি... ওই যে আমার এক বান্ধবী আবার ফোন দিলো তাই ঘুম ভেঙে গেল। (ঢোক গিলে আভা)
- ওওওওও
- কে কে কেন? কিছু বলবে? কিছু হয়েছে কি?(আভা)
- না, তেমন কিছু না। তুমি একটু বাইরে আসো, আমি আসছি।(রুহী)
- আ আ আচ্ছা ভাবি।(আভা)
রুহী বুঝতে পারছে আভা মিথ্যা কথা বলছে। তবুও ওকে এখনই কিছু বলা যাবে না। হিতে বিপরীত হতে পারে, তার চেয়ে বরং ওর উপর নজর রাখতে হবে।
- কিছু কি হয়েছে ভাবি? ভাইয়া কোথায়?(ভয়ে ভয়ে বললো আভা)
- না না কিছু না তো, আমার হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। আর ঘুম আসছে না, ভাবছি ছাদে যাবো। একা তো আর এত রাতে যাওয়া যায় না, তাই ভাবলাম তোমাকে ফোন দেই।(স্বাভাবিক ভাবেই রুহী)
আভা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। যাক..!!!! রুহী তাহলে ওকে সন্দেহ করে নি।
- ওওওও বেশ ভালো করেছো। আমারও ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর আর ঘুম আসছে না। (আভা)
অনেক্ক্ষণ ছাদে বসে দুজন গল্প করলো। কিন্তু রুহী একবার ওই বিষয়ে কথা বলল না। পরে দুজনেই রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লো। কিন্তু রুহীর আজ আর কিছুতেই ঘুম আসছে না। রূপার কথা মনে পড়ছে শুধু, আর মনে হচ্ছে আভা কোনো ভুল মানুষকে বেছে নেয়নি তো....?
be continue.... 💖💖
💞চেষ্টা করবো রাতে আরেক পার্ট দিতে। 🙂🤗💞
Manus
- আমরা মানুষ, চলনু মানবিক গুনগুলো বজায় রাখি।
- কোন অমানবিক কাজ না করি।
😓
🐘
ফরেস্ট অফিসার মোহন যখন সংবাদ মাধ্যমকে তার বিবৃতি দিলেন তখন সেটা দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেছিলেন সমস্ত সাংবাদিক।
তিনি বলেছিলেন,
" ডাক্তার যখন হাতিটির ময়নাতদন্ত করেন তখন তিনি বলেন যে হাতিটি 6 মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। কাঁপা গলায় আরও জানান যে হাতিটির মধ্যে একটা 6th সেন্স কাজ করেছিল। সে জানতো তার মৃত্যু আসন্ন। শুঁড় সহ গোটা শরীর রক্তময়, যন্ত্রণায় জ্বলছিল সারা দেহ। এই অবস্থায় সে তার সন্তানের কথা ভেবে চলে যায় নদীর মাঝে জলের মধ্যে যাতে সেই রক্তাক্ত জায়গায় পোকা-মাকড় না বসে। যতক্ষণ প্রাণ ছিল সে চেষ্টা করেছিল যাতে তার সন্তানের কষ্ট একটু হলেও কম হয়।
আর শেষ অবধি সে ওই মাঝ নদীতেই প্রাণ ত্যাগ করে। "
কেরলের Silent valley national park এর একটি 15 বছরের অন্তঃসত্ত্বা হাতি Malappuram এর একটি গ্রামের কাছে চলে আসে খাবারের সন্ধানে। সেখানে গ্রামবাসীরা তাকে একটা আনারস খেতে দেয় । অবলা প্রাণীটা সেটি খেয়েও নেয়। আনারসটির ভেতরে ছিল বারুদ ভর্তি। খাওয়া মাত্রই বাজি গুলো তার মুখে ফেটে যায়। রক্তাক্ত হয়ে ওঠে সারা মুখ।
তবুও নিজের সন্তানের কথা ভেবে সেই রক্তাক্ত শরীর নিয়েই ছুটে বেড়ায় সারা গ্রাম একটু খাবারের খোঁজে। শেষ অবধি সে খাবার পায়নি আঘাত ও করেনি কোনো গ্রামবাসী কে, ভাঙেনি কোনো ঘর। সোজা চলে এসে মাঝ নদীতে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। বহু চেষ্টাতেও তাকে সরানো যায়নি সেখান থেকে।
----
হ্মেত যখন বড় লোকের বউ ৭
#ক্ষেত_যখন_বড়লোকের_ছেলে
#পর্ব_৭
#লেখকঃ কামরুল
তারপর তার বান্ধবীরা এসে তাকে বলল যে,,,,,,,,,,
আজকে তার জন্মদিনে ফাহিম গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের নতুন এমডি ওমর ফারুক ফাহিম আসবে।।আর তিনি নাকি আমাদের ভার্সিটি থেকে আমাদের সাথেই পড়ালেখা করেছেন।।।
তারপর নিধি চিন্তায় পড়ে গেল।।কারণ –ভার্সিটি তে এতো বড়লোকের ছেলে কেউ ছিল না।
তাহলে সে আমাদের সাথে এবং একই ভার্সিটি থেকে।কিভাবে পাশ করল।।।তাও আমরা তাকে দেখি নি।।।
ও আপনাদের আরেকটা কথা বলা হয় নি।।
আমার ক্রাশের সাথেই আমার আমার বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছেন।মানে নিধির সাথে।।।
কিন্তু নিধি তা জানে না।।আর তার বাবাও আমাকে দেখে নি কোনোদিন।।। তাহলে কিভাব নিধির সাথে আমার বিয়ে ঠিক হল বুঝতেছেন না তো।।
বুঝত্তে হলে সাথেই থাকুন।।।।
নিধি আমাকে তার বার্থডে পার্টিতে ইনভাইট করে নি।।আর সবাইকে করেছে।।আমিও দাওয়াত ছাড়া যাচ্ছি না।।কারণ -তার বাবা আমাদের সবাইকে দাওয়াত দিয়েছে।।।তারপর বিকেলে বাবা আর সবাই চলে গেল আমি সন্ধ্যায় যাব।। আমার কিছু কাজ আছে তা শেষ করে।।তারপর আমি বাসা থেকে বের হয়ে বন্ধুদের কল দিলাম।।১৫ মিনিটের ভিতর সবাই ভার্সিটির সামনে হাজির হল।।তারপর সবাইকে সব কাজ বুঝিয়ে দিলাম।আর বললাম বাড়ির সবাইকে যেন বলে।যা হচ্ছে দেখে যেতে কোনো কথা যেন না বলে।(আমার বাড়ির সবাইকে।)
তারপর বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিলাম নিধির বাসায় যাওয়ার জন্য।।আমার পড়নে নরমাল একটা পাঞ্জাবী আর পায়জামা আর কমদামী একজোড়া জুতা।।
তারপর নিধির বাসার উদ্দেশ্যে বের হয়।।
গাড়ি নেই নি রিক্সা দিয়েই ওদের বাসায় পৌছালাম।।
গেটের দারোয়ান প্রথমে ডুকতে দেয় নি।।
কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে দেওয়ার পর ভিতরে যেতে দিল।।(আসলে এখনকার মানুষ টাকার জন্য সব করতে পারে।নিজের পরিবারের ক্ষতি করতেও দুইবার ভাবে না)
তারপর ভিতরে প্রবেশ করলাম।।আমার বন্ধুরা তা দেখে আমার কাছে চলে এলো।।তারপর তাদের বললাম -বাবা-মাকে সব বুঝিয়ে বলেছিস নাকি।।
সিয়াম- হ্যা।।
ওদের সাথে কথা বলা শেষ করার সাথে সাথে কে যেন আমার হাত ধরে টান দেয় পিছনে ঘুরতেই ঠাস।(সবাই থমকে যায়।আপু কিছু বলতে চেয়েছিল,আমি ইশারায় তাকে বলতে মানা করি)নিধি আমার গালে চড় মারে আর বলতে থাকে।
ছোটলোক কোথাকার তকেএখানে কে ইনভাইট করেছে।।
আমি বললাম- কেউ না আজ তোমার জন্মদিন তাই তোমাকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি। আর এটা তোমার জন্য। (একটা ঘড়ি এগিয়ে দিয়ে।।ঘরিটা দামি কিন্তু পেকিং সেভাবে করেছি যাতে দামি মনে না হয়)
তারপর নিধি বলল-ভিখারির মতো যখন এসেই পড়েছিস খাবার খেয়ে যাস।।।
আমি- সরি।। আমি এখানে খাবার খেতে আসি নি।।এসেছিলাম তোমাকে তোমার জন্মদিনের গিফট দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে।। জানানো হয়ে গেছে এখন আমার ফিরে যাওয়ার পালা।।
তারপর আমি সেখান থেকে চলে আসি।।
আমার সাথে আমার বন্ধুরাও চলে আসে।।
সেখান থেকে বের হয়ে আমি বাবাকে কল করে বললাম- যে নিধির বাবাকে বলতে যে এংগেজমেন্ট কালকে কমিওনিটি সেন্টারে হবে।বলে আমি কল কেটে দেই।।
তারপর আমি বন্ধুদের বললাম- তোরা চলে এসেছিস কেন।তোরা ইনজয় করতি।
তখন সিয়াম- বলল যেখানে তকে অপমান করে দিয়েছে সেখানে আমরা কি করে থাকি।।
আর এইসব করে তুই কি পাইতাছিস।।অপমান ছাড়া ত আর কিছু পাচ্ছিস না।
আমি বললাম- তোরা কি খাবি। আমার খুব খিধে লেগেছে।
তারপর সবাই মিলে একটা রেস্টুরেন্টে ডুকলাম।।সবাই মিলে অনেক কিছু খেলাম।।
এদিকে বাবা নিধির বাবাকে বললেন যে আমার কিছু গুরুত্বপুর্ণ কাজ থাকায় আমি যেতে পারব না।।
কাল কমিওনিটি সেন্টারে চলে আসতে।।
আপনাদের সাড়া পেলে নেক্সট পর্ব দিব নয়তো দিব না।।
সবাই নিয়মিত নামায আদায় করুন।।।
(বিঃদ্রঃ ভুলট্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
গল্প১
মেয়েঃএই দোকানের মালিক কে...?
তানভীরঃজ্বি আমি...
মেয়েঃএই ছোট বয়সের কেউ মালিক হয়...?
তানভীরঃজ্বি হয়,এই যে আমি।
মেয়েঃআচ্ছা আপনার দোকানে বিষ আছে...?
তানভীরঃজ্বি,,,,আছে,,,,
মেয়েঃআমাকে বিষ দিন।
তানভীরঃজ্বি ইয়ে মানে,,,,,,
মেয়েঃআজব ছেলে তো বাংলা কথা বুঝেন না।
তানভীরঃজ্বি,,,, বুঝি,,,,
তানভীর তাকিয়ে আছে সামনে দাঁড়ানো মেয়েটির দিকে,,,,,
মনে হচ্ছে সারা রাত কান্নাকাটি করেছে।চোখ দুই টা হালকা ফুলে আছে,,,,,,,,,
তানভীরের মনে হচ্ছে এই সেই নাটোরের বনলতা সেন,,,,,,
যাকে কবি না দেখে আন্দাজে রুপের বর্ননা
দিয়েছিলেন,,,,,,,
এত সুন্দর মেয়েদের মুখে বিষ শব্দ টাও সুন্দর শোনায়,,,,,,
তবে যাই হোক এই মেয়ে কে বিষ দেওয়া আর জেলখানার
একটা ১৪ সিকের রুম কেনা উভয় সমান,,,,,,,,
মেয়েঃহ্যালো,,,,,,এই যে আমি আপনাকে বলছি,,,,,,বিষ
দিন আমাকে.,,,,,
তানভীর মেয়েটির কথায় হকচকিয়ে গেল।
একটু মজা করেই বললঃ
আচ্ছা বলুন কি কালারের বিষ লাগবে?
মেয়েঃ মানে ,বিষের আবার কালার হয় না কি...?
তানভীরঃ আলবাত হয়, এর আগে একবার খাইলে বুঝতেন,,,,,,
এই যেমন কালো,সাদা,নীল,পিংক কালার ইত্যাদি।
মেয়েঃ কালো বিষ দেন।
তানভীরঃ ছিঃ ছিঃ ভুল করেও খাবেন না,,,,মরার পরে
দাঁত কুচকুচে কালো দেখাবে।
আপনাকে যারা দেখতে আসবে সবাই বলবে মেয়ের দাঁত কালো।
মেয়েঃ নাহ থাক তাহলে,,,,,,,আচ্ছা নীল কালার আমার
খুব পছন্দ,,,,,,নীল কালারের বিষ দেন,,,,,
তানভীরঃআরে না ,নীল কালারের বিষ নিমের পাতার মত
তিতা,,,,,,
তবে আপনার সাথে পিংক কালারের বিষ ভাল
মানাবে,,,,,,
মেয়েঃ ধ্যাত বিষের এত কাহিনী।যা মনে চায় দিয়ে দিন,,,,
তানভীর সিভিটের পাতা থেকে ২ টা সিভিট সাদা
কাগজে জড়িয়ে দিলো।
মেয়েঃ কত টকা...???
তানভীরঃ আপাতত টাকা লাগবে না,,,,,,পড়ে এসে দিয়েন,,,,,,
মেয়েঃ আপনি কি আমাকে পাগল পেয়েছেন,,,,,??
তানভীরঃ কেন,,,,,???
মেয়েঃ আমি মারা যাওয়ার পর কিভাবে দিবো,,,,??
তানভীরঃ তাহলে ফোন নাম্বার দিয়ে যান।
মেয়েঃ নাহ ফোন নাম্বার দিতে পারবো না।
তানভীরঃ ওকে,,,,, তাহলে আমার টা নিয়ে যান।
বিষ খাওয়ার আগে কল দিয়েন,,,,,,,
কিভাবে খেতে হবে বলে দিবো...।।
তানভীরের কথাতে মেয়েটার মুখে কিছু টা হাঁসি ফুটলো,,,,
রাত ১১.৪৭ মিনিট।
তানভীরঃ হ্যালো...!!( রিসিভ করে)
মেয়েঃকে বলছিলেন,,,,???
তানভীরঃআমি তানভীর,,,,
মেয়েঃআপনি মিয়া একটা ফাউল,,,
তানভীরঃকেন...??
মেয়েঃআপনার বিষ সিভিটের মত কেন,,,,?
তানভীরঃআপনি কি খালি পেটে খেয়েছেন?
মেয়েঃজ্বি,,,
তানভীরঃসেই জন্য সিভিটের মত লেগেছে...।।এক কাজ
করুন ভরা পেটে খান।
মেয়েঃআপনি যেমন ,আপনার দোকানের বিষ
তেমন,,,,,,,,আমি এখন ভাত খাইলে রাগ চলে যাবে,,,,,,,,,,
কারণ ভরা পেটে আমার রাগ থাকে না...।।
তানভীরঃতাহলে খেয়ে উঠে আমাকে কল দেন,আমি রাগ
বাড়িয়ে দিয়ে বিষ খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবো,,,,,,
মেয়েঃতবে আপনি যেমন মানুষ তাতে খারাপ বলেন
নাই,,,,,,
কারণ আপনাকে কল দিলেই আমার মেজাজ খারাপ হয়ে
যাবে,,,,,
ওকে আমি খেয়ে এসে কল দিচ্ছি...।।
তানভীর অপেক্ষা করতে থাকলো সেই ফোন কলের,,,,,,,
আপনারা অপেক্ষা করতে থাকেন পরের অংশের জন্য,,,,,,,,,,,,,
নারী
নারী হচ্ছে প্রকৃতির সবচেয়ে রহস্যময় সৃষ্টি...সৃষ্টিকর্তা
তার রহস্যের এক বিরাট অংশ নারীদের মধ্যে লুকিয়ে
রেখেছেন...🤔
এ কারনে ঘুম থেকে ওঠার সময় তাকে আপনার কাছে
লাগবে একেবারে নিস্পাপ, আদুরে বিড়ালের মত...তার
গালগুলা একটু টিপে দিতে মন চাইবে, নাকটা একটু টেনে
দিতে ইচ্ছে করবে, ঠোঁটগুলা...ইয়ে, থাকুক
.
যখন সে কোমরে ওড়না পেঁচিয়ে চুলগুলো খোঁপা করে বা ক্লিপে আটকিয়ে ঘরকন্যার কাজগুলো করবে, তখন তার ঘামে ভেজা নাক আর ভেজা কপালে লেপ্টে থাকা
কয়েকগাছি চুল আপনার কাছে অপার সৌন্দর্যের আধার হয়ে দেখা দেবে...🤩
.
আবার যখন গোসল সেরে টাওয়েলটা মাথায় পেঁচিয়ে
বেরিয়ে আসবে, নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি বসে
আছেন...কারন বিস্ময়ের ঝটকায় আপনি মাথা ঘুরে পড়ে আহত ও হতে পারেন...আপনার চোখে তাকে তখন মনে হবে শিশিরে ভেজা ভোরের আলোয় সদ্য ফোটা একটি গোলাপকুঁড়ি...আপনি কসম খেয়ে বলতে পারেন যে এর চেয়ে সুন্দর কিছু আপনি কখনো দেখেননি...প্রয়োজনে সানগ্লাস পরে নিন, যেন সৌন্দর্যের ছটায় আপনি অন্ধ না হয়ে যান...
.
এরপর দেখবেন তাকে অস্তগামী সূর্যের হলদে
আলোয়...ভেসে আসা আযানের ধ্বনি শুনে যখন সে মাথা ঢাকবে ওড়না দিয়ে, আপনার মনে হবে একে আপনি আগে দেখেননি, সম্পুর্ন অপরিচিতা কেউ একজন...আপনি আবার নতুন করে তার প্রেমে পড়বেন...আপনার কাছে আপনার জীবনকালটাকে খুবই ছোট বলে মনে হবে...আর কিছুদিন বেশি বেঁচে থাকার জন্য মন আকুলি বিকুলি করবে...
.
সন্ধ্যারাতে আটপৌরে শাড়ি পরা সে যখন বারান্দায়
আপনার পাশে আপনার কাঁধে মাথা রেখে চুপচাপ বসে
থাকবে, আপনি তার চুলের গন্ধ পাবেন...আপনার কাছে মনে হবে আপনার এই জীবনে চাইবার আর কিছু নেই।
এগুলো সবই হচ্ছে মায়া...এই ভ্রম কেটে গিয়ে সবকিছুর ঠিক উল্টো অভিজ্ঞতাও আপনার হতে পারে...একই অঙ্গে এমন হাজারো রূপ বলেই নারী রহস্যময়ী...।💘
মামাতো বোন
♥ মামাতো বোন ♥
পার্ট :২
নীল
তুলি ছেলেটার কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো
তুলিঃ বলো কত টাকা চাই তোমার
ছেলেটি: ১ লক্ষ
তুলিঃ এই নাও কার্ড যত লাগে তত তুলে নিয়ে আমাকে কার্ড টা দিয়ো
ছেলেটি তুলিকে জড়িয়ে ধরে বললো ধন্যবাদ সোনা তুমি না থাকলে আজ কিযে হত আমার।
ছেলেটি চলে যাবার পর তুলি এসে গাড়িতে বসলো
তুলি: চলো এখন
আমি: ওকে
তুলি: আর হ্যা তোমার মনে আছে তো যে কোন অনুষ্টানে গেলে আমাকে ম্যাম বলে ডাকতে হবে
মার নাম ধরে ডাকা যাবে না
আমি: হুম মনে আছে
কিছুক্ষন পরেই আমরা চলে আসলাম আমি গাড়ি থেকে নেমে দেখলাম কারো মনে হয় বিয়ে বাড়ি এটা
তুলি গাড়ি থেকে নেমে বললো
তুলিঃ তুমি এখানেই থাকবা ভিতরে যাবা না
আমি: ওকে ম্যাম
ও হ্যা ওকে ম্যাম বলে ডাকার কারন টা হচ্ছে আমার মত ছেলে
যদি ওকে নাম ধরে ডাকে তাহলে ওর মান সম্মান নাকি নষ্ট হয়ে যাবে তাই তো ওকে সব সময় ম্যাম বলে ডাকতে হবে ।
তুলি চলে যাবার পর আমি গাড়িতে গিয়ে বসলাম। তুলির সাথে ভালো ভালো যায়গায় গেলে তুলি আ মাকে এভাবে বাহিরেই রাখে তাই আর এখন এই ব্যাপার টা আমাকে খারাপ লাগে না।
আমি গাড়িতে বসে গান শুনতেছি এমন সময় শুনতে পেলাম মামির কন্ঠ
আমি গাড়ির গ্লাস খুলে দেখলাম মামি বাহির এ দাড় হয়ে
আমি গাড়ি থেকে নেমে বললাম
আমি: মামি কিছু লাগবে নাকি
মামি: তুমি ভিতরে না গিয়ে এ খানে কেন
আমি: না এমনি তেই যাইনি
মামি: আসো এখন
আমি: না থাক না আমি ভিতরে না যাই।
মামি: আমি বলছি না আসো তুমি।
আমি মামির কথা মত ভিতরে ডুকলাম। তার ফাকেই মামিকে বললাম
আমি: মামি কার বিয়ে আজ
মামি: আমার ভাইয়ের মেয়ে
আমি: ও রিতি আপু বিয়ে আজে ( মামির ভাইয়ের মেয়ের নাম রিতি)
মামি: হুম কথা না বলে চলো তোএখন
আমি মামির সাথে ভিতরে গেলাম ভিতর টা অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।
মামি আমাকে একটা রুম দেখিয়ে দিয়ে বললো যাও ওই রুম এ গিয়ে বিশ্রাম নাও আমি আসতেছি
আমি মামির কথা মত রুমে ডুকতে যাবো এমন সময় পিছন থেকে কে যেন আমাকে ডাক দিলো
আমি পিছনে ঘুরে দেখলাম রাফা আমাকে ডাকতেছে( রাফা হচ্ছে রিদির ছোট বোন)
ও মামির বাসায় গিয়ে মাঝে মাঝেই থাকে তাই আমাকে চিনে
ও এবার ক্লাস টেন এ পড়ে ও আমার সাথে খুব ফ্রি।
আমি: কি হয়েছে রাফা
রাফাঃ ভুলে গেছো নাকি আমাকে
আমি: ভুলে কেন যাবো তোমাকে
রাফাঃ যদি মনে রাখতে তাহলে একবার হলে ও আমার খোজ নিতে ভাই
আমি: আরে পাগলি আমি কেবল আসলাম
রাফাঃ ওকে ভাইয়া চলো রুম এ গিয়ে বসে গল্প করি
আমি: ওকে চলো
আমরা দুজনে রুম এর মধ্যে প্রবেশ করে গল্প করতেছি এমন সময় তুলি রুম এর মধ্যে ডুকে আমাকে বললো
তুলি: ওই ফকিন্নির বাচ্ছা তোকে না বলছি বাড়ির ভিতড়ে ডুকবি না
আমি: আমি তো ডুকতে চাই নি কিন্তু মামি
ও আমাকে চুপ করে দিয়ে বললো
তুলিঃ মামি আসতে বলছে বিধায় তুই আসবি নাকি।
আমি: না মানে তুলি
তুলিঃ: কি বললি তুই ঠাসস ঠাসস ঠাসস ঠাসস
তোকে না বলছি আমার নাম ধরে ডাকবি না
আমি: স্যরি ম্যাম ভুল হয়ে গেছে আর ভুল হবে না।
আমি পিছন ফিরে দেখতেছি রাফা আমার দিকে করুন চোখ এ তাকিয়ে আছে
তুলিঃ যা বলছি এখন থেকে বের হয়ে আর যেন এখান এ না দেকি তোকে
আমি: ওকে ম্যাম
বলেই আমি যখনি চলে আসতে
ধরছি তখনি রাফা পিছন থেকে বলে উঠলো
রাফাঃ নীল ভাইয়া দাড়াও তুমি। তুমি কেথাও যাবা না এখানেই থাকবা
তুলিঃ: মানে কি বলতে চাস তুই নেহা
রাফাঃ আপু তুমি অনেক বলেছো যখন আমি তোমাদের বাসায় গিয়ে থাকতাম
তখনো তুমি নীল ভাইয়াকে এভাবেই অপমান করতে। ওটা তোমার বাসা ছিলো তাই আমি কিছু বলি নাই
এখন এটা আমার বাসা আমি কাকে থাকতে দিবো না দিবো সেটা আমার ব্যাপার
তুলিঃ ও বুঝছি রাতে দেখবো তোমার পেয়ারের নীল কোথায় থাকে কার বাসায় যায়
আমি: তুমি যদি বেশি বাড়াবাড়ি করো তাহলে কিন্তু আপু। তোমার যে ঘটনা টা আমি যানি সেটা আন্টিকে বলে দিবো
এই কথা বলার সাথে সাথে তুলি যেনো চুপ হয়ে গেলো। ও মুখ টা কালো করে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো
আমি: থাক না রাফা বরং আমি চলে যাই আমার জন্য শুধু শুধু তুমি কেন ওর সাথে সম্পর্ক নষ্ট করতেছো
রাফাঃ চুপ করো তো তুমি তোমার কেউ নাই বিধায় ও তোমাকে এভাবে অপমান করবে নাকি
আমি: ওর খারাপ ব্যাবহার ওর থাপ্পর এগুলো এখন আর আমাকে কষ্ট দেয় না
কারন একটা কাজ যদি মানুষ প্রতিদিন করে তখন কিন্তু তাকে আর খারাপ লাগে না।
ঠিক প্রতিদিন ওর অপমান আর চর থাপ্পর আর আমাকে খারাপ লাগে না
রাফা: হয়েছে চলো তো এখন আমার রুম এ। ফালতু মেয়ে কোথাকার মানুষকে কেউ এভাবে থাপ্পর মারে নাকি। গালটাতো পাচ টা আংগুল এই দেখা যাচ্ছে
আমি রাফার সাথে ওর রুম এ গিয়ে চুপটি করে বসে রইলাম।
কিছুক্ষন পরে মামি রাফার রুম এ ডুকলো।
আর মামি রুমে ডুকতেই তো অবাক.
wait
Covid19
আল্লাহ মাফ করুন!
কোভিড আইসিইউ এর এক নার্সের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
যারা মাস্ক না পরে বাইরে ঘুরে বেড়ান আর ভেন্টিলেটরে থাকবার মানেটা বুঝতে পারেন না তারা শোনেন।
এই ভেন্টিলেটর এমন কোন অক্সিজেন মাস্ক নয় যেটাকে ফিল্মি কায়দায় আরামে মুখে লাগিয়ে শুয়ে শুয়ে পেপার ম্যাগাজিন পড়তে থাকা যায়। কোভিড-১৯ এর এই ভেন্টিলেশন হল এমন একটা নল যেটা আপনার গলার একদম নিচ পর্যন্ত ঢুকিয়ে রাখা হয়। আর সেটা আপনি বেঁচে ওঠা বা মরে যাওয়া পর্যন্ত একদম ওখানেই লাগানো থাকে। এই নলটা প্রায় ২ থেকে ৩ সপ্তাহ কোন নড়াচড়া না করে; মাঝেমধ্যে এমনকি শরীরকে সম্পূর্ণ উপুড় করে বসানো থাকে। মুখ থেকে ট্রাকিয়া পর্যন্ত একটা টিউব ঢুকিয়ে দেয়া হয় যা ফুসফুসযন্ত্রের সাথে ছন্দ মিলিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালাতে সাহায্য করে। রোগী এই অবস্থায় কথা বলা, খাওয়া- কোনকিছুই স্বাভাবিকভাবে করতে পারে না। মেশিনটিই তাকে জীবিত রাখে। এই প্রক্রিয়ায় একজন রোগী যে প্রচন্ড কষ্ট পান তা সয়ে নেয়ার জন্য ডাক্তাররা তাদের কড়া সিডাটিভ(চেতনানাশক) ও পেইনকিলার পুশ করে রাখেন। এতে করে যতক্ষন এই মেশিন ব্যবহার করার দরকার পড়ে ততক্ষণ তারা এই কষ্ট সহ্য করে নিতে পারেন। এই অবস্থাটা অনেকটাই কৃত্রিম কোমায় থাকার মতন।
এই চিকিৎসা ২০ দিন চললে একজন যুবকবয়সী রোগী তার মোট পেশীর প্রায় ৪০% হারান, ভোকাল কর্ড ট্রমায় ভোগেন, এবং এর সাথে সাথে বিভিন্নরকম শ্বাসকষ্ট ও হৃদযন্ত্রের জটিলতায় ভুগবার সম্ভাবনাও থাকে। ঠিক এসব কারণেই বৃদ্ধ বা ইতোমধ্যে দুর্বল রোগীরা এই চিকিৎসা সহ্য করতে না পেরেই মারা যান। আমরা অনেকেই এই দুর্বল দলের সদস্য। তাই ঐ অবস্থায় যাবার ইচ্ছা না থাকলে সকলে খুবই সাবধান থাকুন। এটা কোন ফ্লু নয়।
তরল খাদ্য ঢুকানোর জন্য নাক বা ত্বকের মধ্য দিয়ে পেটের মধ্যে একটা টিউব, ডায়ারিয়া কালেক্ট করার জন্য কোমরের চারপাশ জুড়ে একটা স্টিকিব্যাগ, প্রস্রাবের জন্য ফোলি ক্যাথেটার, ফ্লুইড আর ওষুধের জন্য আইভি, ব্লাডপ্রেশার মনিটর করার জন্য একটা এ-লাইন এফ- এসবকিছু একসাথে শরীরে ঢুকাবেন?
আবার লাগানোর পরে এর সব কয়টাই ওষুধের হিসাব করা ডোজ, নার্স টিম, মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট কর্তৃক আপনার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পাশপরিবর্তন করা আর বরফশীতল পানি বয়ে যাওয়া ম্যাটে শুয়ে আপনার ১০৪ ডিগ্রি জ্বরকে স্বাভাবিক রাখার উপরে নির্ভর করবে।
-এসব চেষ্টা করে করে দেখবেন নাকি কেমন লাগে?
-এই আর্টিকেলে যা বলা নাই তা হচ্ছে এই অবস্থায়ও একজন রোগী কিন্তু সবই শুনতে পান। তাই তাদের পাশে দাঁড়িয়ে কোন নার্স অসচেতনভাবে মৃত্যুর কথা বললেও রোগী প্যানিক করেন। সিডাটিভের পরিমাণ কম হলেও রোগী শ্বাস নিতে পারেন না, কথা বলতে পারেন না। ব্যথানাশকের পরিমাণ কমালে রোগী তার মাথার ভেতরে অসহ্য যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু কোন শব্দ করতে পারেন না। যখন টিউবগুলো শরীর থেকে বের করে নেয়া হয় তখনও খুবই অস্বস্তি হয়। রেস্পিরেটরের বদলে ট্রাকিয়া কাজ করতে পারে, কিন্তু রোগী তখনও টিউব ছাড়া খেতে বা কথা বলতে পারেন না।
যখন আপনি মাস্ক না পরে বাইরের কোন দোকানে কোন শখের জিনিস কিনতে যাবেন- তখন মনে রাখবেন আপনার দ্বারা কিন্তু শুধু অচেনা লোকই আক্রান্ত হবে না। আপনার বাচ্চা, আপনার স্বামী/স্ত্রী, বাবা/মা-কে হাসপাতালে অমন একা একা নরকযন্ত্রণায় ভুগতে দেখতে চান কিনা- শখে শখে পাড়াবেড়ানোর আগে সে কথা ঠিকমতো ভেবে নেবেন!
Devil husband part18
Devil Husband💗
part_18
Kamrul
_ইমরান সিনহাকে নিয়ে লেডিস শোরুমে প্রবেশ করে
ইমরান সিনহার উদ্দেশ্য বলে
_তোমার পছন্দমতো তুমি দুইটা ড্রেস কিনতে পারবা,সেটা শাড়ি বা অন্যকিছু যাই হোক
আর সবকিছু আমি আমার পছন্দমতো কিনবো
সিনহা বিরক্তি নিয়ে বলল
_দুইটা আবার আমাকে কেনো পছন্দ করতে হবে,সব তো আপনিই পছন্দ করবেন,এটাও করেন
ইমরান সিনহাকে একপাশে বসিয়ে রেখে সিনহার জন্য নিজের পছন্দমতো শপিং করছে
অন্যদিকে সিনহার,ইমরানের উপর অনেক রাগ উঠতেছে
-শালার ডেভিলের বাচ্চা,সব যখন তুই পছন্দ করে কিনবি তাহলে আমাকে সাথে করে আনার কি দরকার ছিল,হুদাই আমার সময় নষ্ট করলি😠
শপিং শেষে ইমরান সিনহাকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে আসে
_কি খাবা অর্ডার দেও
_এটাও আপনিই অর্ডার করেন
ইমরান ওয়েটার কে ডেকে খাবার অর্ডার দেয়
ইমরান খাওয়ার ফাকে লক্ষ করলো সিনহা খাচ্ছে না,কেমন অসস্থি বোধ করছে
-সিনহা কোনো সমস্যা
-হু
-বলছি কোনো সমস্যা,খাচ্ছো না যে
সিনহা অকপটে স্বীকার করে
_ঐ ছেলে দুইটা আমাকে খারাপ ইংগিত করছে
ইমরান নিজের পিছনে তাকায়
দেখে দুইটা ছেলে চুমুর স্টাইলে সিনহাকে বাজে ইংগিত দিচ্ছে আর হাসছে
ইমরানের রাগ আর দেখে কে
সে তড়িৎ গতিতে উঠে এসে ছেলেদের সামনে এসে ঝড়ের গতিতে ছেলে দুইটাকে ইচ্ছামত থাপ্পড় লাথি,ঘুষি মারতে থাকে
_কুত্তার বাচ্চা তোদের সাহস কি করে হয় ওর দিকে বাজে ইংগিত দেওয়ার
আজকে তোদের ঠোঁট চোখ দুইটাই আমি ছিড়ে ফেলবো(রেগে ফায়ার)
রেস্টুরেন্ট কতৃপক্ষ এসে ইমরানকে থামায়,ছেলেগুলো রক্তাক্ত অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে আছে
-স্যার প্লিজ কুল ডাউন,আমরা দেখছি ওদেরকে
-তাড়াতাড়ি দেখেন,নাহলে আপনাদের ব্যাবসা আমি আকাশে উঠাবো বলে দিলাম
_না না স্যার এমনটা করবেন না
ইমরানের চোখ দিয়ে আগুন বেরুচ্ছে
_কতো বড় সাহস কুত্তার বাচ্চাদের আমার বউকে চুমু দেখায়
সিনহা ভয়ে চুপ করে আছে
ইমরানকে খুব ভয়ংকর লাগছে
সিনহা এই ডেভিলটাকে ভীষন ভয় পায়
ইমরান সিনহার হাত ধরে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যায়
সিনহাকে নিয়ে বাসায় চলে আসে
ইমরান সোফায় বসে পড়ে,সিনহা সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে যায়
-এই যে প্যাকেটগুলো কে নিবে
সিনহা তাড়াতাড়ি এসে ইমরানের হাত থেকে প্যাকেটগুলো ছো মেরে নিয়ে যায়
সিনহা রুমে এসে প্যাকেটগুলোতে তার জন্য কী কিনছে ডেভিলে,তা চাওয়ার জন্য উৎসাহী হয়
তখন ডেভিলকে গালি দিতে ছিলো
তাই ঠিক করে আর খেয়াল করলো না ডেভিলে কি কিনে তার জন্য
সিনহা প্যাকেট গুলো খুলতেই তার
মেজাজ সপ্তম আকাশে উঠে যায়
মাত্র দুইটা শাড়ি কিনছে,আর সব গুলো টিশার্ট,ট্রাউজার
-শালা কিপ্টস, ডেভিল বাচ্চা আমার জন্য মাত্র দুইটা শাড়ি কিনলি,আর সব কিছু নিজের জন্য কিনলি
আজকে সিনহা ডেভিল কে কঠিন গালি দিবে,গালি দিয়েই আজকে সে ডেভিলকে মেরে ফেলবে
_ডেভিলের বাচ্চা তুই যদি ডেভিল হয়ে থাকস,তাহলে আমিও ডেভিলের বউ ডেভিলনী,আজকে তোরে বুঝাবো এই সিনহা কী জিনিস😠
সিনহা সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে ইমরানের সামনে দাঁড়ায়
সে মনে মনে দোয়া দুরূদ পড়ে নিতেছে
চলবে.
(সিনহা গালি দিয়েই আজকে ইমরানকে মেরে ফেলবে, ভাবা যায় এগ্লা😂)
বিবেক থেকে বলছি
আবেক নয়, বিবেক থেকে লিখছি 🙂
সুখে নয়, দুঃখে লিখছি 😢
......................................................
মাস্টার্স পাশ করা ২৬, ২৭ বছর বয়সী একজন যুবক-যুবতীকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরিতে যোগদান করতে হয়। আর পড়ালেখা না জানা ১০, ১২ বছর বয়সী একজন বাস হেল্পার এর দৈনিক হাজিরা প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, যা মাস শেষে ১৪, ১৫ হাজার টাকা হয়।
কেউ কোন ফ্যাক্টরীতে ২০ বছর কাজ করলে তার বেতন হয় লক্ষ টাকা, আর ২০ বছর পড়ালেখা করে যখন চাকরির জন্য যায়, তখন তার বেতন হয় ১০ হাজার টাকা। তাহলে আমরা কোথায় যাবো? স্কুলে না ফ্যাক্টরীতে?
হাজার হাজার - লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে পড়ালেখা করে আজ শিক্ষিত মানুষগুলো পরিবারের, সমাজের এবং সবার কাছে অবহেলিত। রাষ্ট্র পড়ালেখা করার জন্য টাকা নিতে পারে। কিন্তু পড়ালেখা শেষ করার পর টাকা ফিরিয়ে দিতে পারেনা!
অনেকেই বলবে ভাল করে পড়ালেখা করলে, ভাল রেজাল্ট করলে ভাল চাকুরী পাওয়া যায়। আসলেই কি পাওয়া যায়? নাকি মোটা অংকের Donation দিতে হয়?
ভাল রেজাল্ট না করলে পাশ দেওয়া হয় কেন? রাষ্ট্র যদি শিক্ষিত মানুষের চাকুরী দিতে না পারে তাহলে রাষ্ট্রের উচিত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ব বিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দেয়া। তাহলে সন্তানদের পড়ালেখার জন্য বাবা মায়ের এতো কষ্ট করতে হতো না। টাকা গুলো সঞ্চয় হতো।
চাকরির অভাবে পরিপক্ক হওয়া ছেলেটা ২৮ বছরেও বিয়ে করতে পারে না।অন্যদিকে বয়স বাড়তে থাকা অবিবাহিত মেয়েটাও মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না। না পারছে উপযুক্ত ছেলেকে বিয়ে করতে, না পারছে পড়শির খোটা সহ্য করতে। শুধুই দীর্ঘশ্বাস।
আমাদের অবস্থা আজ এমন দাঁড়িয়েছে যে, যেন গাধার দিকে তাকালে দেখতে পাই নিজেদের প্রতিচ্ছবি।
এরথেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার আকাংখা জাগরিত করা...চাকরি নামক গোলকধাঁধা মাথাথেকে ছাত্রাবস্থায় বের করে প্রত্যকের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেয়া...উদ্যোক্তা😍
Toke cai
#তোকে চাই❤
....... (সিজন-২)
#writer:kamrul
#part: 67
🍁
সোফায় পা গুটিয়ে বসে আছি আমি। আমার সামনে বিছানায় উবু হয়ে বসে আছে চিত্রা। আদ্র-রোদ্রর গলায় "A" আর "R" লেখা দুটো লকেট ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে করে কে আদ্র আর কে রোদ্র তা সহজেই বুঝা যাচ্ছে। আমাদের সবার কাছে বাবুদুটোকে এক মনে হলেও আপু দৃঢ় কন্ঠে বলছে তারা জমজ হলেও চেহারা এক নয়। দু'জনের মাঝে কিছুটা অমিল আছে। আমার আর চিত্রার কাছে বিষয়টা বিশ্বাসযোগ্য নয় তাই বাচ্চাদেরকে উল্টে পাল্টে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে অমিল খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে চিত্রা। আদ্র রোদ্রর চেয়ে ৩ মিনিটের বড়, এই কথাটাও আপু থেকেই জেনেছি আমরা। ডক্টর বলেছিলো, কিন্তু কে আদ্র আর কে রোদ্র সেটাই যেখানে বড় প্রশ্ন সেখানে বড় ছোট নির্ণয় করা একরাশ কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে আপু কিভাবে যেন ব্যাপারটা ধরে ফেলেছে। কিভাবে ধরলো কে জানে? আদ্র- রোদ্রর সাথে দুষ্টুমি করতে করতেই কানে এলো শুভ্রর ডাক। চিত্রাকে গনেষনা চালিয়ে যেতে বলে আমাদের রুমের দিকে হাঁটা দিলাম আমি। দরজার কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়াতেই দুনিয়া ঘুরে এলো আমার। দরজা ধরে নিজেকে সামলে নিয়ে ধীর পায়ে রুমে প্রবেশ করলাম আমি। মাথা ঘুরানোর ব্যাপারটা শুভ্রকে বুঝতে দেওয়া চলবে না। কোনভাবে বুঝতে পারলেই শুরু করবে চিৎকার, "খাও না ঠিকমতো হেন তেন কতো কিছু।" অথচ এই দুসপ্তাহ ধরে আমি বেশ নিয়ম করেই খাবার আর ঔষধ খেয়ে চলেছি। তবুও এই দুর্বলতা পিছুই ছাড়ছে না। রুমে ঢুকতেই শুভ্রর গোমড়া মুখটা চোখে পড়লো। মুখ কালো করে জুতো আর মোজা খুলছে সে। আমি সামনে দাঁড়াতেই অভিমানী কন্ঠে বলে উঠলো সে,
--- কি লাভ হলো, বলো? এতো পরিশ্রম করে লাভ টা কি হলো?
উনার কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে না পেয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকালাম আমি৷ কনফিউজড হয়ে বলে উঠলাম,
--- মানে? কিসের কথা বলছেন আপনি?
শুভ্র বাম পায়ের জুতোটাও ঠাস করে ফ্লোরে ফেলে উঠে দাঁড়ালো। আমার দিকে তাকিয়ে মুখ কালো করে বলে উঠলো,
--- আপনার রেজাল্টের কথা বলছি। এতোকষ্ট করে পড়াশোনা করিয়ে ৩. ৭১?
শুভ্রর কথায় চোখ বড় বড় হয়ে এলো আমার। ৩.৭১? বলে কি? জামাইয়ের কাছে পড়ে এতো ইম্প্রোভমেন্ট হয়েছে ভাবতেই পারছি না আমি। বুকের ভেতর থাকা মনটা রীতিমতো লাফালাফি শুরু করেছে। আমার মনের অবস্থা "ভেরি হ্যাপি" টাইপ হলেও শুভ্রর মুখটা "ভেরি স্যাড" টাইপ হয়ে আছে। তার মুখ দেখে মনে হচ্ছে ক্লাস সিক্সের ম্যাথ এক্সামে সবাই যেখানে হান্ড্রেট পেয়েছে সেখানে সে পেয়েছে জিরো। বর যেখানে এতো কষ্ট পেয়েছে সেখানে আমার এতো খুশি খুশি ভাব মানায় না। তাই মুখে দুঃখী দুঃখী ভাব আনার প্রচেষ্টা চালালাম। কতটুকু সফল হয়েছি জানি না কারণ যখনই দুঃখ দুঃখ ভাব আনার চেষ্টা করি তখনই মনের মধ্যে খুশি নামক ভাইরাসগুলো লুঙ্গিডান্স মারে। তবুও যথাসম্ভব মন খারাপ ভাব নিয়ে বলে উঠলাম,
--- মাত্র ৩.৭১? এতো কম! সরি.... নেক্সট টাইম ভালো করবো।
শুভ্র এ বিষয়ে কিছু বললো না। শার্টের বাটন খুলতে খুলতে বললো,
--- তোয়ালেটা দাও। ফ্রেশ হবো।
আমি তোয়ালে নিতে সোফার দিকে এগিয়ে যেতেই আবারও মাথা ঘুরে গেলো আমার। এবার আর শেষ রক্ষা হলো না। আশেপাশে ধরার মতো কিছু না থাকায় ফ্লোরে গিয়ে পড়লাম আর খাটের কোনাটা লাগলো মাথায়। শব্দ শুনে ফিরে তাকিয়েই দৌড়ে এলো শুভ্র। আমার কপালে খানিকটা ফুলে উঠেছে। উনি আমাকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়েই বরফ আনতে ছুটলেন। কপালে বরফ ডলতে ডলতে প্রশ্ন করলেন,
--- আবারও খাবারে অনিয়ম করছো? ঔষধও নিশ্চয় খাচ্ছো না? এক্চুয়েলি কি চাও তুমি? বলো প্লিজ। টেনশনে রেখে মেরে ফেলতে চাও আমায়? আজকের এই ইন্সিডেন্টটা যদি সিঁড়িতে বা রাস্তায় হতো তখন বাঁচতে তুমি? নাকি আমি বাঁচতাম? তুমি খুবই কেয়ারলেস একটা মানুষ রোদ। এতোটা কেয়ারলেস হলে চলে না। তুমি দু'বছরের বাচ্চা নও। সবকিছু তোমাকে বলে বলে করাতে হবে কেন?
উনি এক নিঃশ্বাসে বকে চলেছেন আমায়। আমাকে কিছু বলার সুযোগই দিচ্ছেন না। তবুও এক ফাঁকে ফট করেই বলে ফেললাম আমি,
--- আমি নিয়মিত খাচ্ছি এবং ঔষধও নিচ্ছি। আমার মনে হয় ঔষধ গুলো কাজ করছে না।
শুভ্র এবার ভ্রু কুঁচকে তাকালো। আমি তাড়াহুড়ো করে বলে উঠলাম,
--- আমি সত্যি বলছি। মামানিকে জিগ্যেস করুন না। আধ ঘন্টা পর পর কিছু না কিছু খাচ্ছি। ভালো না লাগলে জোর করেই খাচ্ছি। ঔষধও নিচ্ছি। তবুও বারবার মাথা ঘুরাচ্ছে।
--- বারবার? সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কতোবার হয়েছে?
--- ৫/৬ বার।
--- তাহলে আমায় বলো নি কেন, ডাফার। এনিওয়ে,সব ঠিক থাকার পরও এতো দুর্বলতার কারণ কি? আঙ্কেল তো বলেছিলো এক সপ্তাহে ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু এখন তো দু'সপ্তাহ চলছে।
নিজের মনেই কথাগুলো বলে চুপ করলো শুভ্র। কিছুক্ষণ ভেবে আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
--- তোমার লাস্ট পিরিয়ড হয়েছে কবে?
উনার এমন প্রশ্নে থতমত খেয়ে গেলাম আমি। মুহূর্তেই ভীষণ অস্বস্তির মাঝে পড়ে গেলাম আমি। শুভ্র সেদিকে পাত্তা না দিয়ে বলে উঠলেন,
--- কি হলো? বলো। লাস্ট ডেট কবে ছিলো?
আমি ইতস্তত করে বলে উঠলাম,
--- মনে নেই। তবে ৩/৪ মাস হবে হয়তো।
আমার কথায় কেশে উঠলেন শুভ্র। শান্ত গলায় বললেন,
--- তুমি কতোটা কেয়ারলেস তার প্রমাণ স্পষ্ট। এতোদিন ধরে পিরিয়ড হচ্ছে না তোমার সেদিকে কোনো খেয়াল নেই?
এটুকু বলে থামলেন উনি। মাথা চুলকে অন্যদিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,
--- তুমি কি প্রেগনেন্ট?
উনার কথায় চোখ দুটো বড় বড় হয়ে এলো আমার। ডান হাতটা অটোমেটিক পেটের উপর গিয়ে স্থির হলো। আমি ড্যাবড্যাব করে পেটের দিকে তাকিয়ে আছি। সত্যিই কি আমি প্রেগনেন্ট? কথাটা ভাবতেই শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ জাগছে। শুভ্র উঠে দাঁড়িয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো,
--- উঠতে পারবে? পারলে উঠে রেডি হয়ে নাও। হসপিটালে যাবো।
শুভ্রর গম্ভীর মুখ দেখে চিন্তায় পড়ে গেলাম আমি তবে কি শুভ্র বেবি চাচ্ছে না? অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে শুভ্রর সাথে হসপিটালে চললাম আমি। সব শুনে ডক্টরও প্রেগনেন্সি টেস্ট করার জন্য সাজেস্ট করলো। আলট্রাসনোগ্রাফি শেষ করে বাসায় ফিরেই ঘুমিয়ে পড়লাম আমি। যখন জাগলাম তখন প্রায় সন্ধ্যা। বিছানার এক কোণে ফাইল হাতে মাথা নিচু করে বসে আছে শুভ্র। মুখটা অসম্ভব রকম গম্ভীর তার। আমাকে উঠে বসতে দেখেই ফাইলটা এগিয়ে দিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলেন,
--- বেবি আসছে।
কথাটা শুনে যেখানে খুশিতে লাফিয়ে উঠার কথা ছিলো সেখানে চুপচাপ বসে রইলাম আমি। শুভ্রর গম্ভীর মুখটা আমার সব খুশিই যেন চুষে নিয়েছে কোনো অন্ধকার গহ্বরে। আমি একটা ঢোক গিলে ফাইলটা হাতে নিলাম। সাথে সাথেই ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো শুভ্র। আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না, হঠাৎ এতো গাম্ভীর্যতা কেন? উনি তো বাচ্চা পছন্দ করেন তাহলে? প্রশ্নগুলো মাথায় নিয়ে ফাইলটা বেড সাইড টেবিলে রেখে উল্টোদিক ফিরে শুয়ে পড়লাম আমি। কিছুক্ষণ পরই ওয়াশরুমের দরজা খুলার শব্দ হলো। কোমরে কারো ঠান্ডা হাতের স্পর্শ আর ঘাড়ে কারো ঠোঁটের স্পর্শটাও প্রকট আকার ধারণ করলো। বিরবির করে বলে উঠলো,
--- আই লাভ ইউ রোদু। জীবনটাকে আজ হঠাৎ করেই অনেক বেশি সুন্দর লাগছে। আমি বাবা হচ্ছি! ভাবতে পারছো তুমি? আমাকেও কেউ আধো আধো স্বরে "বাবা" বলে ডাকবে। কালো বড় বড় দুটো চোখ, ভুবন ভুলানো হাসি আর নরম তুলতুলে ছোট্ট শরীর থাকবে তার। ইশ! রোদ, এতো আনন্দ যে ধরে রাখতে পারছি না আমি। আমার প্রিন্সেসকে কিভাবে বুঝাবো যে আমি তার আগমনের খবরে প্রচন্ড রকম খুশি...প্রচন্ড! বেশি খুশি আর বেশি দুঃখে মানুষ নাকি অনেকটা স্তব্ধ হয়ে যায়? আমারও আজ একই অবস্থা রোদপাখি।
আমি এবার ঘাড় ঘুরিয়ে উনার দিকে তাকালাম। উনার চোখে পানি টলমল করছে যেন চোখদুটোতে আস্ত দুটো বিল নিয়ে শুয়ে আছেন উনি। আমি মিষ্টি হেসে উনার বুকে হাত রেখে বলে উঠলাম,
--- কিভাবে জানলেন প্রিন্সেস আসছে? প্রিন্সও তো হতে পারে।
--- কি জানি? কেন জানি মনে হচ্ছে প্রিন্সেস আসছে তবে যেই আসুক আই এম অলওয়েজ হ্যাপি। আমি তো এটা ভাবছি, তুমি একমাসের প্রেগনেন্ট হওয়ার পরও ডক্টর আঙ্কেল ধরতে পারলেন না কেন? অদ্ভুত না, ব্যাপারটা?
আমি কিছু বললাম না। চোখ জোড়ায় আবারও ঘুম নেমে আসছে। মনে হচ্ছে, কতোদিন ঘুমোয় না আমি।
#চলবে...
(রি-চেইক করা হয়নি। ঘুম পাচ্ছে। ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন প্লিজ)
Love reason2
#Love_Right_Season_2❤💕❤
#kamruk
পার্ট:১৬
আজকে নিশুর বিয়ে।নিশু ড্রেসিংটেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখছে।ওর চোখভর্তি পানি।মাথা ঘুরছে।কানের কাছে ভোঁ ভোঁ আওয়াজ হচ্ছে।পা দুটো টলছে, নিজেকে সামলে রাখতে পারলো না।ধপ করে পড়ে যেতে নিলো,কিন্তু তার আগেই কেউ একজন ওর কোমর চেপে ধরেছে।চোখ খুললো নিশু!! নীলের হাসিহাসি মুখটা দেখে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।ঠোঁট দুটো চেপে ধরে ফোঁপাচ্ছে সে।নীল ছোটবাচ্চাদের যেভাবে সান্ত্বনা দেয় সেভাবে ওর মাথাটা বুকের সাথে চেপে ধরে বলল,"কে বকেছে, কে মেরেছে? কে দিয়েছে গাল? একবার শুধু নামটা বলো তুলবো পিঠের ছাল😂।
নিশু প্রচন্ড রকমের ক্ষেপে গেলো।ওর চোখের পানি কোন দাম নেই নীলের কাছে?? ওকে কবিতা শোনানো হচ্ছে? ঠেলে সরিয়ে দিলো নীলকে।
নীল:কি হয়েছে নিশুপাখি?
নিশু:কিছু হয় নি।তবে রিহান বিয়ে করলে হবে! ছেলেমেয়ে যাই হোক তোমার বাসায় মিষ্টি পাঠাবো।
নীল:☺উজবুক!
নিশু:কি বললে?
নীল:আর কিছু বলবো না ম্যাডাম।এবার শুধু করবো!..কি করবো জানো?
নিশু:😐কি?
নীল:আদর!..আদরে আদরে তোমাকে ঝালাপালা করে দেবো তোমাকে😜!
ঘুম ভেঙ্গে গেলো নিশুর।তারমানে এতক্ষণ সে স্বপ্ন দেখছিলো?ইশশ কি সুন্দর ছিলো স্বপ্নটা।মনে মনে দোয়া করলো নিশু স্বপ্নটা যেন সত্যি হয়।
নিশুকে সাজানো হয়ে গেছে।অধীর আগ্রহে বসে আছে সে।বরপক্ষ অলরেডি এসে গেছে কিন্তু নীলের দেখা নেই।নিশুর কান্না পাচ্ছে,ভীষণ কান্না পাচ্ছে।আজকে সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকেই ওর দেখা নেই।সে কি চলে গেছে?..নিশুতো মরে যাবে।
নিশু মনে মনে বলল..একবার শুধু আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও নীল।তারপর আর কখনো তোমাকে ছেড়ে আসবো না।তুমি বকো, মারো যা খুশি করো নিশু কিচ্ছু মনে করবে না।প্লিজ নীল!
নিশু বাসরঘরে বসে আছে।একটু আগে একগাদা স্লিপিং পিল খেয়ে নিয়েছে সে।মাথাটা টলছে।নীল ছাড়া অন্য কেউ ওর শরীর স্পর্শ করবে,ওকে কাছে টানবে সেটা ও মরে গেলেও সহ্য করতে পারবে না।নিশুর ওপর শুধু নীলের অধিকার।
নীল সাবধানে রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে নিলো।পাঞ্জাবি বদলে একটা কালো টি-শার্ট আর ট্রাউজার পরে এলো।বিছানায় চোখ পড়তেই ওর চক্ষু ছানাবড়া 😮।আঁতকে উঠলো সে।নিশু এভাবে পড়ে আছে কেন??..পাশে ওষুধের পাতা দেখে ওর শরীর ঝিমঝিম করে উঠলো।হাত পা অসাড় মনে হচ্ছে।নিজের ওপর জোর খাটিয়ে দৌড়ে নিশুর কাছে গেলো সে।নিশুর মাথাটা বুকে চেপে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠতেই ইলারা বেগম আর ইশু দৌঁড়ে এলো।
ইশু:😮ভাইয়া কি হয়েছে??
নীলের পুরো শরীর ঘেমে একাকার।কান্নার চোটে চোখদুটো লাল হয়ে গেছে!মুখ দিয়ে কোন কথা বেরোচ্ছে না।নিশুর শরীরটাকে অনবরত ঝাঁকাচ্ছে সে।
ইশু নিশুর পাশে পড়ে থাকা ওষুধের পাতা দেখে আঁতকে উঠলো।নীলকে টেনে সরালো নিশুর কাছ থেকে।তারপর ধমক দিয়ে বলল..এখন পাগলামি করার সময় নয় ভাইয়া।ওকে তাড়াতাড়ি হস্পিটালে নিতে হবে।
নীল আর একসেকেন্ডও দেরী করলো না।পাঁজকোলা করে কোলে তুলে নিলো নিশুকে।ওর পেছন পেছনে ইলারা বেগম আর ইশু দৌড়াচ্ছে।
নীল গাড়ি সামনে এসে ইশুকে ইশারা করলো গাড়ির দরজা খুলে দেওয়ার জন্য।যেই ওকে সীটে শোয়াতে যাবে ওমনি নীলের গালে চুমু খেয়ে ফিক করে হেসে দিলো😁 নিশু।
নীল:😮
নিশু:😁কি ভেবেছিলে? আমি জানি না?বাবা আমাকে সব বলেছে!..তোমার কি মনে হয়?বরের বেশে তুমি না থাকলে আমি রিহানকে বিয়ে করতাম?..এত বোকা কেন তুমি?.নিশুকে যতটা বোকা ভাবো নিশু কিন্তু ততটা বোকা নয়😎।বিয়ে পড়ানোর সময় তো বরের নাম শুনেছি আমি।.বেশ হয়েছে রিহান গাধাটা জেলে গেছে,কতবড় সাহস তোমার বউয়ের ছবি দিয়ে তোমাকে ব্ল্যাকমেইল করে??
এই মুহূর্তে নিশুকে তুলে যদি সত্যি সত্যি একটা আছাড় মারতে পারতো তাহলে নীল শান্তি পেতো।ইশুও চরম খেপে গেলো।😡এটা কোন ধরনের মজা?
ইশু:তোর কোন আক্কেল আন্দাজ নেই নিশু?..তুই জানিস অল্পের জন্য আমি হার্ট এটাক করে ফেলতাম?..এই ভাইয়া তুই দাঁড়িয়ে আছিস কেন? মার কষে দুইটা ওর গালে! মার!..তারছিঁড়া,গাধী একটা।
ইশুর কথা শুনে নিশু ভয়ে ভয়ে নীলের দিকে তাকালো।নীল কি সত্যি সত্যি চড় মারবে ওকে? ভয়ে চোখমুখ শুকিয়ে গেলো ওর।
নীল ঝুঁকে গাড়িতে মাথা ঢুকালো।ভয়ে গালে হাত দিয়ে ফেললো নিশু।
ইশু:দে!..কষে দিবি ভাইয়া যেন দাঁত নড়ে যায়,ফাজিল একটা!
নীল নিশুর গাল থেকে হাত সরিয়ে দিলো।ওকে অবাক করে দিয়ে গাঢ় করে চুমু খেলে নিশুর গালে।গালের সাথে গাল ঘষলো।
ইশু:😮
ইশু লজ্জায় অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো।ইলারা বেগম দ্রুত ভেতরে ঢুকে গেলেন।
নিশুর ঠোঁটে চুমু খেলো নীল।গলায় নাক ডুবিয়ে দিয়ে বলল..আমি মরে যেতাম নিশু।সত্যি মরে যেতাম!
নীলের চোখের পানি নিশুর ঘাড়ে পড়তেই নিশুর কান্না পেয়ে গেলো।ইশশ!এমন করছে কেন নীল?তারচেয়ে দুচারটা থাপ্পড় মারুক না ওকে।ও কিচ্ছু মনে করবে না।কিন্তু কাঁদছে কেন?..নীলের মুখটা তুলে ধরে গালে কপালে,ঠোঁটে,নাকে,গলায় পাগলের মত চুমু খাওয়া শুরু করলো সে।
ইশু:😐নির্লজ্জের দল।..ছি! ভাইয়া তুই এমন বউ পাগলা হলি কি করে? এইজন্যই তো নিশু এমন বাদর হচ্ছে।বউয়ের আঁচল চেপে বসে থাক তুই।আমি হলে খিঁচে কানের নিচে কয়েকটা দিতাম কয়েকটা এমন বাঁদরামির জন্য।আর তুই আমার ভাই হয়ে এমন করছিস?..হাদারাম একটা!
ওকে অবাক করে দিয়ে নীল গাড়িতে ঢুকে গেলো।গাড়ির দরজা বন্ধ করে দিয়ে বলল,"যাহ তো।বিরক্ত করিস না।এমনিতেই এতদিন ধরে বউকে কাছে পাই নি।সময়নষ্ট করছিস কেন?..আমার এখন সময় নেই।প্রচুর ভালোবাসাবাসি হবে আজ😁।..প্রচুর!
ইশু পড়িমরি করে সেখান থেকে ছুটে পালালো।এই দুই বেশরমের পাল্লায় পড়ে ও নিজেও বেশরম এর মত এতক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলো।হেসে ফেলল সে🙈।নীল আর নিশু একসাথে থাকা মানে অদ্ভুত কিছু করা!অদ্ভুত এরা!অদ্ভুত এদের ভালোবাসা।অদ্ভুত এদের অধিকার বোধ!
নিশু:ছি!নীল গাড়ির ভেতর কি করছো ছাড়ো আমাকে!
নীল:কি করছি😜?
নিশু:তুমি জানো না কি করছো?
নীল অবাক হওয়ার ভান করে বলল..নাতো?
নিশু:লুচু একটা।মেয়ে দেখলেই হুঁশ থাকে না।খালি জড়িয়ে ধরার ধান্ধা!.ছাড়ো আমাকে!
নীল ওর গলায় নাক ডুবিয়ে দিয়ে বলল..😁আগে বলতে হবে আমি কি করছি তা না হলে ছাড়ছি না!
নিশু লজ্জায় লাল হয়ে গেলো🙈।নীলের কানে ফিসফিস করে বলল..ভালোবাসাবাসি করছো!
নীলের ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠলো।নিশুকে ছেড়ে দিতেই নিশু বেরিয়ে গেলো।নীলও বেরলো।
বাসার গেটের কাছে যাওয়ার আগেই একটা সাদা গাড়ি এসে নিশুকে তুলে নিয়ে গেলো।
ইশু দৌঁড়ে বেরিয়ে এলো।ওপরের বারান্দা থেকে সব দেখেছে সে।
ইশু:ভাইয়া নিশু?..কারা ওরা?
নীল গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বলল..আমি জানি না কারা।
তবে মনে হচ্ছে রিহানের কেউ।
নীলের প্রায় কেঁদে ফেলার অবস্থা!এতদিন পর নিশুকে কাছে পেলো সে,আবার অঘটন!,কিন্তু ইশু হাসছে।
নীল:😡তুই হাসছিস যে?..ওরা যদি নিশুর কোন ক্ষতি করে দেয়?
ইশু:কিচ্ছু হবে না নিশুর।যারা নিয়ে গেছে তারা জানে না তোর নিশু কি জিনিস?😂মাথা খারাপ করে দিতে ওস্তাদ!
নীল:আমি যাচ্ছি!
গাড়িটার পিছু পিছু গিয়ে তাজ্জব বনে গেলো নীল।এই কিডন্যাপার গুলো রিহানের পাঠানো।শয়তানটা জেলে বসেও গুণ্ডামির তালে আছে। রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো ওর।ভেতরে ঢুকতে গিয়ে কিডন্যাপার দুটোর কথা শুনে থমকে গেলো।
কিডন্যাপার ১:আমাদেরকে মজুরী বেশি দিতে হবে স্যার!
কিডন্যাপার ২:হ্যাঁ স্যার।
রিহান:😡কেন?..তোমার সাথে তো ওয়ান লাকই ডিল হয়েছিলো।
কিডন্যাপার ১:আমাদের ডাবল পরিশ্রম হয়েছে স্যার!জাত বিচ্ছু এই মেয়ে।মাথা খারাপ করে দিয়েছে।
কিডন্যাপার ২:সারারাস্তায় বকবক করে কানের পোকা বের করে দিয়েছে।
নীল দূর থেকে নিশুকে লক্ষ্য করলো।মুখ বেধে রাখা হয়েছে।চোখের বিন্দুমাত্র ভয়ের ছাপ নেই।চোখ দিয়ে রিহানকে শাসাচ্ছে।হাসলো নীল।ইশু ঠিকই বলেছে!ওর নিশু এত সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নয়😂!
রিহানরা বেরিয়ে যেতেই দুজন পাহারাদার রাখা হয়েছে নিশুকে পাহারা দেওয়ার জন্য।নীল পুলিশে ফোন করে দিলো।তারপর পাহারাদার দুটোকে আচ্ছামত মেরে নিশুর কাছে গেলো।নিশু ওকে দেখতে পায় নি।রুমের লাইট সব নিভিয়ে দিয়ে গেছে রিহান যাওয়ার সময়।নীল সাবধানে নিশুর হাত চেপে ধরলো ওকে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য।
আর তখনই নিশুর খেল শুরু হয়ে গেল।এলোপাথাড়ি কিল দিচ্ছে নীলকে।তারসাথে ওর চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে ফেলছে।
নিশু:😡হারামজাদা আমার হাত ধরিস তুই? এতবড় সাহস?.নিশুর হাত ধরিস!..আজকে তোর একদিন কি আমার একদিন।কত্তবড় সাহস??..ঐ হাত ছাড়!..ছাড় হাত!
নিশু এলোপাথাড়ি কনুই দিয়ে কিল ঘুষি দিয়ে যাচ্ছে।মারের চোটে নীলের মুখ দিয়ে কথাও বেরোচ্ছে না।
নীল রাগে বোম হয়ে গেলো।..ওহ!শিট! নিশু ওকে কিডন্যাপার ভেবেছে?..দুম করে পিঠে কিল পড়লো।..ওমাগো!
নিশুকে থামানোর অন্য কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে নীল ওর ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরলো।নিশুর শরীর অবশ হয়ে গেলো।এ তো ওর নীল!
নিশু:নীল!!
নীলের গায়ের গন্ধ পেয়ে নিশু তাজ্জব বনে গেলো।এতক্ষণ ধরে ও নীলকে মারছিলো।😷এইজন্যই তো বলি কিডন্যাপার এত মার খেয়েও ওকে কিছু করছে না কেন?
নীল হাঁপাচ্ছে।নিশু জড়িয়ে ধরতেই কঁকিয়ে উঠে বলল...ওরা তোমাকে কিডন্যাপ না করে আমাকে কিডন্যাপ করলেই ভালো করতো।..আমার হাড্ডিমাংস সব গুঁড়ো করে ফেলেছো তুমি!
নিশু:সরি!
নীল:..উফফ!..মাআআ!(ব্যাথায় মুখ কুঁচকে ফেললো সে।)
তবে আর সময় নষ্ট করলো না নীল।নিশুকে তাড়াহুড়ো করে বেরোতে গেলো।এখান থেকে বেরোতে হবে গেটে নিশ্চই পাহারা বসিয়ে গেছে রিহান।নীল চুপিচুপি নিশুর হাত ধরে এগোচ্ছিল,এমন সময় নিশু দাঁড়িয়ে গেলো।
নিশু:নীল?(অসহায় কন্ঠে!)
নীল:আবার কি?
নিশু:আমার ভীষণ ক্ষিদে পেয়েছে।সকাল থেকে না খেয়ে আছি।
নীল:😐আমার মুন্ডুটা কেটে দিই?.. খাও?(রাগে লাল হয়ে)
নিশু চুপ মেরে গেলো।এখন কথা বললেই বিপদ।
চলবে
আলোয় অন্ধকার
#আলোয়_অন্ধকার🍁
#part 4
-- ছাড়ুন আমাকে!! একদম ট্যাচ করবেন না। কোথায় নিয়ে এসেছেন আমায়?? যেতে দিন প্লিজ... প্লিজ। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে এখানে আমি বাইরে যাবো প্লিজ!
-- কাম ডাউন মিস আমি ধরছিনা তোমায়! কাম ডাউন!
.
কথাটা বলে ডেনিয়াল ট্রাউজার এর পকেটে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত পুরে দাড়িয়ে থাকে টিয়ার সামনে। টিয়া বেডের এক কোণায় গুটিসুটি মেরে বসে ঠায় প্রলাপ করছে সে বাড়ী যাবে৷ ডেনিয়ালের যদিও কষে একটা থাপ্পড় মারতে ইচ্ছে করছে টিয়াকে। কিন্তু সে কেনো জেনো একটা ধমক ও দিতে পারছেনা টিয়াকে৷আর টিয়া কে ট্যাচ ও করা যাচ্ছে না। এবার ডেনিয়াল এর বিরক্তি লাগছে প্রায় আধাঘণ্টা যাবত টিয়া এসব বলছে আর অস্থির হয়ে বলছে আমি বাইরে যাবো আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এখানে......
.
একটু আগে....
টিয়া কে আমেরিকা নিয়ে এসেছে শুনার পর থেকেই টিয়া অস্থির হয়ে আছে সে কিছুতেই শান্ত হতে পারছিলো না। চিৎকার করে কাদছিলো টিয়া৷ লেডি সার্ভেন্ট অবস্থা বেগতির দেখে ডেনিয়াল কে ডেকে আনে। আর ডেনিয়ালকে দেখে টিয়ার পাগলামো আরো বেরে যায়৷ সেই থেকে আধাঘন্টা হবে দাড়িয়ে বুঝানোর চেষ্টা করছে ডেনিয়াল টিয়া কে।
.
-- টিয়া আই সেইড লাস্ট টাইম কেদে লাভ নেই!!
-- আমি বাড়ী যাবো প্লিজ... এখুনি দিয়ে আসুন আমায়!!
.
টিয়া অস্থির হয়ে এবার উঠে দাড়ায় ডেনিয়াল কে অগ্রাহ্য করে । আর দৌড়ে দরজা খুলে বাইরে বেরুতে চেষ্টা করে। কিন্তু ডেনিয়াল টিয়ার এই কাজে এবার প্রচুর রেগে টিয়া রুম থেকে বেরুবার আগেই ওকে পিছন থেকে হুট করেই কোলে তুলে নেয়। টিয়া ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠে।কিন্তু যখন দেখে ডেনিয়াল তাকে কোলে তুলে নিয়েছে টিয়া রেগে চিৎকার করে বলে উঠে।
.
-- কি করছেন ছাড়ুন আমি চলে যাবো!!! নামান আমাকে! সাহস কি করে হয় আমায় ট্যাচ করার ছাড়ুন বলছি !!
.
ডেনিয়াল টিয়ার কথা রেগে যায়। ভেবেই এই টুকুনি মেয়ে তাকে সাহস দেখাচ্ছে। ডেনিয়াল চায়নি টিয়ার সাথে ব্যবহার খারাপ করতে। কিন্তু টিয়ার কথায় সে নিজের রাগ ধরে রাখতে পারেনা চেচিয়ে উঠে।
.
-- জাস্ট শাট আপ আই সে!! না হয় আমার সাহস কতুটুকু দেখাতে বাধ্য হবো তোমাকে!!
.
টিয়া ডেনিয়াল এর ধমক মার্কা কথায় ভয়ে চুপ মেরে গেলো মাথা নুইয়ে পড়ে রইলো ডেনিয়াল এর কোলে!! ডেনিয়াল রেগে টিয়াকে কোলে নিয়েই ধুপধাপ পা ফেলে। নিচে নেমে বাড়ীর পিছনে সুইমিংপুল এরিয়ায় এসে সুইমিংপুলে এক প্রকার ঢিল মিরে টিয়াকে ফেলে দিলো পানিতে৷ টিয়া মাথা নুইয়ে রাখায় দেখতে পায়নি কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তাকে। কিন্তু এভাবে হঠাৎ পানিতে পড়ায় টিয়া হকচকিয়ে গেলো৷ আচমকা পানিতে পড়ায় কিছু পানি সাথে সাথেই মুখে চলে গেলো টিয়ার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে টিয়ার। হাত পা ছুড়াছুড়ি করে বহু কষ্টে টিয়া নিজেই সুইমিংপুল এর সাইডে উঠে এসে বসে কাপতে লাগলো৷ প্রচুর ঠাণ্ডা পানি সুইমিংপুল এর টিয়ার হাত মনে হচ্ছে ঠাণ্ডায় বরফ এ পরিনত হয়ে গেছে৷ কিন্তু তাতে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই টিয়ার। সে বসে আছে চুপ করে শরীরটা না চাইতেও কাপছে।চোখের পানি গুলো মিলিয়ে যাচ্ছে শরীরের পানির সাথে। চারপাশ অন্ধকার চাদের আলোয় সুইমিংপুল এর পানি চিকচিক করছে তাছাড়া আর কিছুই টিয়া দেখতে পেলোনা দেখার ইচ্ছেটাও নেই।টিয়া সুইমিংপুল এর দিকেই তাকিয়ে একদৃষ্টিতে টিয়ার মাথা টা শূন্য শূন্য লাগছে। মনে ভয় ছাড়া কিছু কাজ করছেনা। বার বার একটা কথাই ভাবছে টিয়া।
.
-- আমি বাড়ী কি করে যাবো স্তব্ধ ?? স্তব্ধ তোমার কি কিচ্ছু যায় আশেনা আমি কোথায় কি অবস্থায় আছি?? তা কি তুমি এক্টু ও ভাবোনা?? আমি জানি না তুমি কে?? কি তোমার পরিচয়!! বাট এতো সব যখন হয়েই গেছে আমার সাথে তো আমি তোমার পরিচয় জেনেই ছাড়বো!!জেনেই ছাড়ব কেনো মেরেছো তুমি ঐ ছেলেকে? জেনেই ছাড়বো কেনো এলে এই বিয়ের ড্রামা করতে!! আচ্ছা তুমি কি সব জানতে স্তব্ধ ওরা তোমার ওয়াইফ কে কিডনাপ করতে আসবে তাই তুমি আমায় বিয়ে করেছো। জেনো ওরা তোমার ওয়াইফ ভেবে আমাকে কিডনাপ করে?? কই পাবো আমি সব কিছুর উত্তর?? কে দিবে উত্তর আমায় স্তব্ধ?? কিন্তু আমি কি তার কাছে আর কখনো বেচে ফিরতে পারবো?? আমার মারার জন্য তো বিয়েই করলো ড্রামা করে! আমি কখনো ক্ষমা করবোনা তোমায় স্তব্ধ কখনো না!! আমার সাথে হওয়া সব কিছুর জন্য তুমি দায়ী তুমি।
.
কথা গুলো ভেবেই টিয়া হ্যাচকি তুলে কাদতে লাগলো শব্দ করে৷
ডেনিয়াল টিয়াকে ফেলে দিয়ে রেগে চলে যায় নি দাড়িয়ে ছিলো টিয়ার থেকে কিছুদূর টিয়াকে লেডি সার্ভেন্ট একটা হোয়াট শার্ট আর ট্রাউজার পরিয়ে দিয়েছিলো। সাদা শার্ট ভিজে যাওয়ায় টিয়ার শরীরের ভাজ চাদের আলোয় আর সুইমিংপুল এর হাল্কা লাইটিং এর আলোয় স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলো ডেনিয়াল। ঘোর লেগে যাচ্ছিলো ডেনিয়ালের টিয়ার ভেজা খোলা চুল কান্নার ফলস্বরূপ ফোলা চোখ, লাল হয়ে যাওয়া নাক, রক্ত লাল হয়ে যাওয়া ঠোঁট সব কিছু ডেনিয়ালকে আহত করছিলো এক প্রকার তাই। সে নিজের সাথে যুদ্ধ করে অন্য দিকে ফিরে দাড়িয়ে রয়। এভাবে কাউকে দেখা ঠিক নয় সেটা ডেনিয়ালের অজানা নয় । কিন্তু চোখ বেহায়া টিয়ার উপর থেকে সরতেই চাইছিলোনা যুদ্ধ করেই কাজ টা করে ডেনিয়াল। তার এখন টিয়ার প্রতি দুর্বল হলে চলবেনা সব জানতে হবে টিয়ার থেকে স্তব্ধের ব্যাপারে তার কঠোর হতে হবে টিয়ার সাথে।
.
অন্য দিকে তাকিয়ে নিজের মাইন্ডে ডেনিয়াল যখন এসব সেট করতে ব্যস্ত তখন তার কানে টিয়ার কান্নার শব্দ আসে। সে পিছন ফিরে দেখে টিয়া দুই হাতে মুখ ধরে কাদছে। ডেনিয়াল দ্রুত একটা টাওয়াল হাতে নিয়ে টিয়ার পাশে গিয়ে বসে পানিতে দুই পা ডুবিয়ে। তারপর টিয়ার শরীর টাওয়াল টা দিয়ে ঢেকে দিয়ে সামনে তাকিয়ে বসে উঠে!!
.
-- তোমার ক্ষতি করার চিন্তা এখনো করিনি......
.
টিয়া তার চিন্তা আর কান্নায় এতোটাই বিভোর ছিলো সে ডেনিয়ালকে খেয়াল করেনি। ডেনিয়াল এর হঠাৎ কথা বলায়। টিয়া ভয়ে পাশে তাকাতেই ডেনিয়ালকে দেখে দুই হাত দূরে চলে যায়। টিয়ার এই কাজে ডেনিয়াল তার কথা সম্পূর্ন করতে পারেনি তাই রেগে টিয়ার হাত ধরে হ্যাচকা টানে আগের জায়ায় বসায়। কিন্তু টিয়ার হাত ছাড়েনি। টিয়া নিজের হাত ছুটানো জন্য চেষ্টা করতেই। ডেনিয়াল ক্ষিপ্তস্বরে বলে উঠে।
.
-- মিস টিয়া আমি তোমার খারাপ করি বা ভালো কোনও টাই তোমার জন্য ভালো হবেনা তাই চুপচাপ বসে থাকো।
.
টিয়া কাদতে কাদতে বললো।
.
-- প্লিজ আমায় ছেড়ে দিন। আমি বাড়ী যাবো!
-- ফাইন। আমি নিজেই দিয়ে আসবো। কিন্তু তার আগে তোমায় বলতে হবে স্তব্ধকে? কোথায় থাকে? কি তার প্রফেশন? আমি তাকে শেষ করতে চাই নিজ হাতে? যেদিন এই কাজ সম্পূর্ণ হবে আমি ছেড়ে দিবো তোমায়! যদি না আমার মাইন্ড চেঞ্জ হয়৷ আর যদি চেঞ্জ হয়ে যায় তোমায় আমার সাথেই থাকতে হবে!!
.
টিয়া ঠাণ্ডা পানিতে ভিজায় এমনি কাপছিলো। কিন্তু ডেনিয়ালের বলা কথা টিয়ার কাপাকাপি বেরে গেলো। টিয়ার মাথায় ডেনিয়ালের বলা একটা কথাই ঘুরছে। "আমি তাকে নিজ হাতে শেষ করতে চাই! " না টিয়া এটা কিছুতেই চায় বা স্তব্ধকে কেউ মেরে ফেলুক তাই। টিয়া এবার ডেনিয়াল এর চোখে চোখ রেখে কাঁপা কাঁপা গলায় উত্তর দিলো।
.
-- দেখুন আমি কিছুই জানিনা স্তব্ধ কে কি করে আমি সেটা নিজেই জানতে চাই। আমি শুধু স্তব্ধকে ভালোবাসতাম আর কিছু নয়!! ওর সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই এটা ছাড়া স্তব্ধ খুব রাগী বদমেজাজি।
.
ডেনিয়াল টিয়ার দিকে কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে টিয়ার কথা শুনে। তারপর টিয়ার হাত ছেড়ে উঠে গটগট করে হেটে ভেতরে চলে যায় টিয়াকে ওখানে ফেলেই৷ টিয়ার কাপাকাপি অবস্থা ডেনিয়ালকে পাগল করছিলো আর কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলে সে কিছু করে বসতো যা টিয়া মানতে পারতো না। তাছাড়া টিয়ার উত্তর টাও তার পছন্দ হয়নি তাই সেখান থেকে চলে আসাই শ্রেয় মনে হয়েছে ডেনিয়ালের।
.
এদিকে টিয়া ভাবছে সবাই এটাই জানতে কেনো চায় স্তব্ধ কে কি তার পরিচয়?? টিয়াও তো তাই জানতে চায়! কিন্তু তার জানতে চাওয়ার কারণ ছিলো সে ভয়ংকর একটা রূপ দেখেছিলো স্তব্ধ ওর। স্তব্ধ এর যে এমন একটা রূপ আছে সেটা কল্পনার বাহিরে ছিলো টিয়ার। সে দিন এর দৃশ্য টিয়া কোনও দিন ভুলতে পারবেনা। টিয়া অতীতে ডুব দিলো! তার মনে পরতে লাগলো সেই দিনটার কথা।
.
.
আজ থেকে প্রায় ৩ বছর আগের কথা৷ দিন বার মনে নেই টিয়ার কিন্তু বর্ষাকাল ছিলো টিয়া ভার্সিটি যাওয়ার আগেই আকাশ অনেক খারাপ ছিলো তাও সে ভার্সিটি যায়।
.
অভ্যাস মত ক্লাস শেষে বাড়ী ফিরছিলো টিয়া। ঐদিন ভার্সিটি থেকে একা ফিরতে হয়েছিলো টিয়ার কারণ বৃষ্টি ছিলো প্রচুর তাই পিউ যেতে পারেনি ভার্সিটি। প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তাঘাটে মানুষ নেই বললেই চলে আরো দুপুর বেলা মানুষ অত বাইরে থাকেনা। বৃষ্টির জিন্য রিকশা না পাওয়া টিয়া হেটে হেটে বাসার পথে যাচ্ছিলো।
.
টিয়া ভার্সিটি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই একটা কালো গাড়ী তাকে ফলো করছিলো বুঝতে পারে টিয়া কিন্তু পাত্তা দেয় না। কারণ তার মত সাধারণ মেয়েকে কে গাড়ী নিয়ে ফলো করবে?? খেয়ে কাজ নেই নাকি? আর যদি কোনও গাড়ী ওলা তাকে ফলো করতোই তবে তার বিপদে হ্যাল্প করতো নিশ্চিয়!! এই যে সে বৃষ্টি তে ভিজে ভিজে বাড়ী যাচ্ছে তাকে ড্রপ করে দেওয়ার কথাও তো বলতে পারতো কই এমন কিছুই হয়নি!
.
তার মানে তাকে ফলো করছেনা গাড়ী ওলা। টিয়ার ভাবনা টা এমনি ছিলো!! আর এমনিতেও ভার্সিটির ছেলেপেলে ও কেনো জেনো ইদানীং টিয়ার থেকে দূরে থাকে। বিষয় টা টিয়া বুঝলেও কারণ অজানা। এসব ভাবতে ভাবতেই টিয়া হেলে দুলে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে তাদের গলির মোড় এর আগ পর্যন্ত চলে আসে৷
.
মেইন রোড থেকে গলিতে ঢুকে ৪ নাম্বার বাড়ীটাই তাদের। কিন্তু গলিতে ঢুকার আগে একটা দোকান পড়ে টিয়া দোকান ক্রস করবে। তখনি দোকানের ভেতরে থাকা কিছু বখাটে ছেলেদের পাল্লায় পড়ে টিয়া তারা টিয়ার যাওয়ার পথে বাধা দিয়ে দাড়ায়।টিয়া ছেলে গুলোকে আগে থেকে চিনে। তাকে প্রচুর ডিস্টার্ব করে এই ছেলেগুলোর মধ্যে মাহিন নাম করে একটা ছেলে।
.
টিয়া ভয়ে তার বাবাকে বলেনা এসব কথা তাহলে তার ভার্সিটি যাওয়ার ব্যান্ড বাজিয়ে দিবে তার বাবা। তাই টিয়া চুপচাপ সব সহ্য করে যায় ছেলে গুলোর অসভ্যতা ৷
.
আর তাতেই ছেলে গুলো আজ রাস্তা খালি পেয়ে লিমিট ক্রস করে টিয়ার হাত ধরে বসে। মাহিন নামের ছেলেটা। হাত ধরায় এবার টিয়া রেগে যায় চেচিয়ে বলে উঠে।
.
-- ছাড় আমার হাত!
.
মাহিন নামের ছেলেটা বলে উঠে।
.
-- না ছাড়লে কি করবে বেবি??
-- ছাড় বলছি অসভ্য আমি বিচার দেবো তোর নামে অসভ্য কোথাকার ছাড় বলছি!!
-- ছাড়বো না কি করবা কর দেখি?
.
মাহিনের কথায় বাকি ছেলে গুলো হাসতে লাগলো। টিয়া
অনেক বলার পরে ও ছেলেটা টিয়ার হাত ছাড়ছেনা দেখে টিয়া গায়ের জোরে ছেলেটা কে দুহাতে ধাক্কা মারে ফলে ছেলেটা রাস্তার মধ্যে পড়ে যায়!! আর সাথে সাথে টিয়া দেখতে পায় তাকে ফলো করা কালো গাড়ী টা মাহিন নামের ছেলেটাকে পিষে চলে যাচ্ছে। টিয়া ঐদিন গাড়ীর দিকে তাকালে দেখতে পায় গাড়ীটা স্তব্ধ ড্রাইভ করছিলো সে গাড়ী টা দ্রুত চলে যাওয়ার মধ্যেও স্তব্ধকে চিন্তে ভুল করেনি। যাকে ১ বছর ধরে টিয়া খুজছিলো তাকে ইচ্ছা বসতো একটা ছেলের উপর দিয়ে গাড়ী চালিয়ে চলে যেতে দেখে আর মাহিনের রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পরে থাকতে দেখে সাথে সাথেই জ্ঞান হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যায় টিয়া। এই ঘটনা এতো দ্রুত ঘটে যে মাহিনের সাথে দাড়ানো ছেলে গুলো ও কিছু বুঝতে পারেনা। ভয়ে টিয়া মাহিনেকে ফেলেই তারা পালিয়ে যায়।
.
.
চলবে!
[মনে রাখবেন একটা গল্পে কোনকিছুই অকারণে লিখা হয়না। প্রত্যয় নাম আমি গল্পে এনেছি সে কে সেটা গল্পে বলা তো হবেই তাই না?? গল্প তো আর শেষ হয়ে যাচ্ছেনা৷ ধৈর্য ধরুন আমি মাত্র গল্প শুরু করেছি সঠিক সময়ে সব জানতে পারবেন। এই কথা গুলো সবার জন্য নয় ঐ ১০% পাঠকের জন্য যারা আমার গল্পটা বুঝতে পারছেনা। ধন্যবাদ ❤]
ঘৃনার মেরিন
ঘৃণার মেরিন
part : 19 (last)
season : 2
writer : কামরুল
.
নীড় ঠাস করে থাপ্পর মারলো। সবাই তো হা।
নীড় : এসবের মানে কি?
মেরিন: আপনার মুক্তি...
নীড় : মানে মেরিন কখনো কিছু ভোলেনা.... হতে পারি খারাপ কিন্তু আপনাকে ভীষন ভালোবাসি। আপনাকে মুখে বলা কথাই আমার জন্য অনেক। তারমধ্যে আপনাকে ছুয়ে কথা দিয়েছি। সেটার বরখেলাপ কি করে করি.... আপনি মুক্তি চেয়েছেন তাই আপনাকে মুক্তি দিবো...
.
নীড়ের মনে পরলো সেই রাতের কথা যেদিন মেরিন ওকে ছুয়ে কথা দিয়েছিলো যদি নীড় কনিকাকে খুজে আনে তবে মেরিন নীড়কে মুক্তি দেবে। মানে divorce ... নীড় ভেবেছিলো ওটা কেবলই আবেগের প্রলাপ ছিলো। ভুলেই গিয়েছিলো কথাটা।
মেরিন : ক্ষমা চাইছি কালকেই কথাটা পূরন করতে পারিনি। আমি signature করে দিয়েছি... আপনার যোগ্য কাউকে খুজে নেবেন। যাকে আপনি ভালোবাসেন। আর যে আপনাকে ভালোবাসে.... মেরিন চোখ নামিয়ে কথা গুলো বলছে। তাই নীড়ের ভয়ংকর রাগী চোখ ২টা দেখেনি... কথাগুলো বলেই মেরিন যেই নীড়ের দিকে তাকালো। আর চমকে উঠলো।
নীড় : বলা শেষ?
মেরিন: হামম। আরেকটা কথা... ক্ষমা। জানি আমি ক্ষমার অযোগ্য। তবুও ক্ষমা চাইছি। আমাকে please ক্ষমা করে দেবেন।
নীড় আর কোনো কথা না বলে মেরিনকে টেনে রুমে নিয়ে গেলো।
.
নীড় মেরিনের দিকে তাকিয়ে আছে । আর মেরিন নিচে দিকে। কারন নীড়ের দিকে তাকানো এখন সম্ভব না।
নীড়: আমার দিকে তাকাও....
মেরিন: ....
নীড় : তাকাতে বলেছিনা....
নীড় মেরিনের গাল চেপে মাথা ওপরে তুলল।
নীড় : আমার মুখটা কি আর ভালো লাগছেনা... যে নিচের দিকে তাকিয়ে আছো....
মেরিন: ....
নীড় : কথা বলছো না কেন?
মেরিন: ভালো লাগলে কি হবে? আর তো দেখতে পারবোনা এই ভালোলাগার মুখ।
নীড় : কেন দেখতে পারবিনা কেন? বল দেখতে পারবিনা কেন?
মেরিন : কারন di....
আর বলতে পারলোনা নীড় মেরিনের ঠোট জোরা দখল করে নিলো।
.
একটুপর....
নীড়: আরেকবার divorce এর d ও উচ্চারন করলে কি করবো নিজেও জানিনা।
বলেই divorce paper টা টুকরো টুকরো করে আগুনে পুরিয়ে দিলো।
নীড় দেখলো মেরিন চুপচাপ দারিয়ে আছে। আর স্থির চোখে পুরে যাওয়া দেখছে।
নীড় : কি হলো ? কথা বলছোনা কেন?
মেরিন : কখনো দেখেছেন বর্ষা শেষে বন্যার ধংব্সলীলা... আমি এখন বর্ষা শেষে সেই স্থির বন্যা, শান্ত বন্যা... যেমনটা আপনি বলেছিলেন সেদিন,,, যেমনটা চেয়েছিলেন...
নীড় : আমি বর্ষা শেষে শান্ত বন্যা চাইনা....
আমি গ্রীষ্মের শুরুতে আগমনী বন্যা কেই চাই।
যার কথা ভেবেই শুরু হয় আতংক। যার আরেক নাম ভয়...
মেরিন : ভুল করলেন না তো ... সারাজীবন কিন্তু বোঝা নিয়ে বেরাতে হবে....
নীড় : কি বললা? তুমি আমার বোঝা?
মেরিন: হামম। বোঝা। এখন পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে
নীড় : 🤬।
নীড় কিছু না বলে বেরিয়ে গেলো।
.
মেরিন : যায় জ্যোতি যায় যাক না জীবন... ছারবো না তোরে...
কি ভেবেছিলেন মিস্টার চৌধুরী.... আপনাকে আমি মুক্তি দিবো। ঘৃণার মেরিন আমি... ঘৃণা থেকে কখনো মুক্তি পাওয়া যায়না। আমার দাদুভাইকে kidnap করে আমার অতীত জেনেছেন...
আমার আম্মুকে ফিরিয়ে এনেছেন...
কেন করেছেন জানিনা বুঝি?
ভালোবাসেন আমাকে...
কিন্তু বলছেন না... 😒..
ভালোবেসেছি আপনাকে.... কি করে আপনাকে ছারতে পারি.... নিঃশ্বাস আপনি আমার এই কথার তীর তো কেবল আপনার মুখে ভালোবাসি শোনার জন্য । আর ৩দিন দূরে থাকার শাস্তি।
হায় কি রাগ.... আজকে সাদা শাড়ি পরেছি আজকে কি রক্ত দিয়ে রং খেলা ঠিক হবে?
তখন জন ফোন করলো ।
মেরিন: hello ...
জন: ম্যাম... সেতু-নীরাকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা....
মেরিন : what?
জন: yes... mam...
মেরিন: যেভাবেই হোক ওদের খুজে বের করো...
.
বিকালে....
দাদুভাই : নিহাল...
নিহাল : জী স্যার...
দাদুভাই: কিসের স্যার? কাকা ডাকো....
নিহাল: ok... কাকা...
দাদুভাই : আমি আমার নাতনিকে বাসায় নিয়ে যেতে পারি?
নিহাল : হ্যা কাকা... কিন্তু ১বার নীড় এসে নিক...
দাদুভাই : নীড় কখন আসবে জানিনা... এখন নিয়ে গেলাম। দাদুভাই আসলে বলো যে আমি নিয়ে গেলাম।
.
খান বাড়িতে.....
কনিকা মেরিনকে খাইয়ে দিচ্ছে। কবির দূর থেকে দেখছে । খুব ইচ্ছা হচ্ছে স্ত্রী সন্তানের সাথে বসে কিছু মুহুর্ত পার করার। কিন্তু অপরাধবোধের জন্য ওদের সামনে যেতেই সাহস পাচ্ছেনা।
.
রাতে....
মেরিন মাকে জরিয়ে ধরে শুয়ে আছে। কিন্তু ঘুম হচ্ছেনা। গতরাতে তো কাদতে কাদতে ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু আজকে কিছুতেই ঘুম আসছেনা। নীড়কে ছারা... অথচ কতো ইচ্ছা ছিলো মায়ের বুকে ঘুমাবে। খেয়াল করে দেখলো কনিকা কাদছে। কনিকা মনে করেছিলো মেরিন ঘুমিয়ে পরেছে। কান্নার আভাস পেয়ে মেরিন ধরফরিয়ে উঠলো।
মেরিন : আম্মু তুমি কাদছো কেন?
কনিকা: কই না তো...
মেরিন: বললেই হলো। বলো কাদছো কেন?
কনিকা: sorry রে মা.... তোমার জীবনটা নষ্ট করে ফেলেছি, সুন্দর করে সাজাতে পারিনি... কিছুই করতে পারিনি.... ক্ষম...
মেরিন: এই... পাগল নাকি? কি বলছো কি? তোমার কোন দোষ নেই আম্মু... দোষ ওই
সেতু, আর কবির খানের... ওদের ২জনের আমি এমন হাল করবো... ওই কবির খানকে তো আমি এমন মৃত.....
কনিকা : না মা অমন কথা বলেনা... সে তোমার বাবা...
মেরিন : বাবা my foot...
কনিকা : মামনি আমি জানি কবির তোমার অপরাধী । আমারও অপরাধী ... কোনোদিনও ক্ষমা করতে পারবোনা.... কিন্তু তাই বলে.... মামনি খুন করা কি ঠিক ? কারো জীবন নেয়া যে হারাম.... তারওপর সে তোমার বাবা....
মেরিন : আম্মু বাদ দাও তো...
কনিকা : মামনি.... কবিরকে আমি ঘৃণা করি... কিন্তু ও তোমার বাবা... পিতার হত্যাকারী খেতাব পেতে দিতে পারিনা....
মেরিন : আম্মু তুম...
কনিকা : কথা দাও তুমি কবিরের কোনো ক্ষতি করবেনা...
মেরিন : আম্মু তুমি ওই লোকটাকে বাচাতে চাইছো...?
কনিকা: না মা... আমি তোমাকে ভালোবাসি.... জানি সে অনেক আঘাত দিয়েছে তোমাকে.....
মেরিন : আমার থেকে কয়েক গুন বেশি কষ্ট তোমাকে দিয়েছে। তবুও তুমি ওই লোকটাকে ক্ষমা করে দিলে...
কনিকা : কে বলেছে ক্ষমা করেছি.... যে লোকটা আমার জীবনের ১২টা বছর কেরে নিয়েছে। সেই লোকটাকে ক্ষমা... যে আমার বাচ্চাটার জীবনটা বিষিয়ে দিয়েছে তাকে ক্ষমা করবো? কোনোদিনও না...
কনিকা কান্না করতে লাগলো। মেরিন মাকে বুঝিয়ে সুজিয়ে ঘুম পারালো । এরপর বারান্দায় গিয়ে দারালো।
.
মেরিন : তোমার চরম শাস্তির সময় ঘনিয়ে এসেছে মিস্টার কবির ফয়সাল খান... শুধু ১বার তুমি ক্ষমা চাও আমার মামনির কাছে... এরপর দেখো আমি তোমায় কেমন ক্ষমা দেই? সেই সময়টার অপেক্ষা যেদিন তুমি ক্ষমা চাইবে? কিন্তু সেতু আর নীরা কোথায় গেলো? ও...
তখন কেউ পেছন থেকে হঠাৎ ওর মুখে কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলো । এরপর হাত বেধে কাধে তুলে নিয়ে কোথাও যেতে লাগলো।
.
গাড়িতে...
গাড়িতে বসিয়ে মেরিনের চোখের বাধন রাখা হলেও মুখের বাধন খুলে দেয়া হলো। মেরিন মোচরা মোচরি করছে।
মেরিন : নীড় ভালো হচ্ছেনা কিন্তু..
নীড় : ...
মেরিন: চুপ থাকলে লাভ হবেনা কিন্তু। আমি জানি এটা আপনি...
নীড় মেরিনের চোখের বাধন খুলে দিলো। ২জনের চোখই রাগে লাল হয়ে আছে।
২জন একসাথে
বলল : এসবের মানে কি?
মেরিন : আপনার সাহস কিভাবে হয় আমাকে এভাবে তুলে আনার?
নীড় : তোমার সাহস কিভাবে হয় আমাকে না বলে এই বাসায় আশার?
মেরিন : মানে? মেরিন বন...
নীড় : জানি জানি ....
মেরিন : মেরিন বন্যা খান কোনো কাজ কারো অনুমতি নিয়ে করেনা....
নীড় : wait wait... মেরিন বন্যা খান মানে?
মেরিন : মেরিন বন্যা খান মানে মেরিন বন্যা খান ।
নীড়: তোমার কি আমার থাপ্পর খেয়ে মন ভরে না? মেরিন বন্যা খান নামে এখন কেউ নেই। মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরী আছে।
মেরিন : ....
নীড় : চুপ কেন?
মেরিন : বাসায় যাবো... আমার হাত খুলে দিন....
নীড়: 🙄।
মেরিন : কিছু বলেছি তো...
নীড় : শুনেছি তো... 😏।
মেরিন : ধ্যাত...
নীড় : আচ্ছা আমি তোমাকে বাসায় রেখে গেলাম শাড়ি পরা এখন আবার এই অবাঙালি পোশাক কেন?
মেরিন : mind your own business ..
নীড়: সেটাই করছি...
.
একটুপর...
নীড় গাড়ি থামালো। ১টা বাড়ির সামনে। এরপর কোলে করে মেরিনকে ভেতরে নিয়ে যেতে লাগলো।
মেরিন : এটা কার বাড়ি?
নীড়: তোমার জামাইর। মানে তোমার ।
মেরিন : 😒...
নীড় মেরিন ১টা রুমে নিয়ে নামালো। এরপর ১টা লাল টুকটুকে শাড়ি হাতে ধরিয়ে দিয়ে
বলল: যাও এটা পরে আসো।
মেরিন: এই রাত সারে ১২টা বাজে আপনি আজিরা পেচাল পারছেন?
নীড় : হ্যা। পরবে কি পরবেনা?
মেরিন: না।
নীড় : তুমি কি কোনো কথাই ১বারে শুনতে পারোনা?
মেরিন : না। আর এই শাড়ি আপনি গিয়ে নীরাকে দিন।
নীড় : আরেকবার নীরার নাম নিলে খবর আছে। শাড়িটা পরে নাও ।
মেরিন :না বলেছিনা।
নীড় বাধ্য হয়েই নিজেই মেরিনকে শাড়ি পরিয়ে দিলো। এরপর সাজিয়ে দিলো। ভীষন সুন্দর লাগছে মেরিনকে। এরপর আবার মেরিনকে কোলে তুলে গাড়িতে বসালো। কালো কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে দিলো। মেরিনের মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
.
কিছুক্ষন পর আবার গাড়ি থামলো । নীড় মেরিনকে গাড়ি থেকে নামালো। হাতের বাধন কিছুটা হালকা করলো।
নীড় : দারাও ... আসছি....
বলেই নীড় চলে গেলো। মেরিন গুতাগুতি করতে করতে হাতের বাধন খুলে ফেলল।
মেরিন মনে মনে: হালকাই তো ছিলো। তাহলে এতোক্ষন খুলতে পারলাম না কেন?
এরপর চোখের বাধন
টা খুলবে আর ঠিক তখনই গিটারের আওয়াজ পেলো। ১টানে চোখের বাধন খুলল। আর দেখলো সামনে আলোর মেলা সেই সাথে গোলাপের পাপড়ির তেরি করা পথ। পথের কিনারা দিয়ে আছে প্রদীপ.... মাথার ওপর পূর্নিমার চাদের আলো। নদীর স্নিগ্ধ বাতাস। মাতাল করা গিটারের সুর...
🎶🎵🎶
সারারাত ভর...
চোখের ভেতর
স্বপ্নে তোমার আনা গোনা..
নেমে আসে ভোর
থাকে তবু ঘোর...
হাওয়ায় হাওয়ায় জানাশোনা
তুমি দেখা দিলে তাই মনে
জাগে প্রেম প্রেম কল্পনা...
আমি তোমার হতে চাই
এটা মিথ্যে কোনো গল্পনা...
🎶🎵🎶....
মেরিন একেবারে নীড়ের সামনে এসে পরেছে । চারিদিক সুন্দর করে সাজানো। সাদা গোলাপ দিয়ে। সামনে ১টা ভ্যানিলা কেক রাখা। নীড়কেও অনেক সুন্দর লাগছে। কালো shirt-pant... চুল স্পাইক করানা।। নরমাল। বাতাসে উরছে। গান শেষ করে নীড় মেরিনের সামনে এসে ১হাতে মেরিনের কোমর জরিয়ে সামনে এনে অন্যহাত দিয়ে ওর মুখের ওপর থেকে চুল সরিয়ে মেরিনের কপালে চুুমু দিয়ে
বলল: happy anniversary আমার বউটা....
.
মেরিন অবাক হলো এটা জেনে যে নীড়ের মনে ছিলো।
নীড় : অবাক হলে? কি ভেবেছো আমার মনে নেই?
মেরিন : ....
নীড় : চলো কেক কাটি।
২জন কেক কাটলো। ২জন ২জনকে wish করলো। আবার নীড় হাওয়া হয়ে গেলো। পরক্ষনেই আবার ঝরের বেগে এলো। ১গুচ্ছ গোলাপ নিয়ে। হাটু গেরে বসলো...
নীড়: হয়তো তোমার মতো কখনো ভালোবাসতে পারবোনা। কারন মেরিনের মতো ভালোবাসার ক্ষমতা কারো নেই....
তবে আমি আমার সবটুকু দিয়ে তোমাকে ভালোবাসবো । কখনো কোনো অভিযোগের সুযোগ দিবোনা। যতোদিন বেচে আছি... পাশে থাকবো । ১টা কথাই বলতে চাই...
তুমি আমার
#ঘৃণার_মেরিন না ।
#ভালোবাসার_মেরিন....
১টা সুযোগ দিবে.... please ....
তোমাকে ভালোবাসার...
মেরিন নিজের চোখ আর কানকে বিশ্বাস করতে পারছেনা.... নীড়কে জরিয়ে ধরেকাদতে লাগলো।
নীড় : আরে পাগলি কাদছো কেন?
মেরিন : i love you.. love you... love you... love you a lot...
নীড় : & i love you too....
মেরিন : কখনো আমাকে ছেরে যাবেন না... please ...
নীড় : মাথা খারাপ না পাগল ... আমি তো আজীবন আমার বউটার সাথে থাকবো। কথা দিলাম....
.
কিছুদিনপর...
চৌধুরী বাড়িতে...
মেরিন: কাহিনি কি বলো তো? কি লুকাচ্ছো?
নীড় : কোথায় ? কিছু নাতো...
মেরিন: কিছু তো আছে ঘাপলা...
নীড় : জান তুমি কি আমার ওপর সন্দেহ করছো...
মেরিন : ধ্যাত কি যে বলো না। আচ্ছা শোনো... আজকে ওই বাসায় যাবো কিন্তু।
নীড় : আচ্ছা...
বলেই নীড় মেরিনের কপালে চুমু দিয়ে চলে গেলো।
নীড় মনে মনে : জান... ঘাপলা তো করছি... কিন্তু প্রমান না পেলে তো আর সম্ভব না। কালকেই সব clear হবে। ইনশাল্লাহ।
বিকালে ওরা খান বাড়িতে গেলো।
.
পরদিন....
কনিকা কাজ করছে....
নীড় office এ। মেরিন রুমে বসে অফিসের কাজ করছে। দাদুভাই-দীদা বসে চা খাচ্ছে। কবির অনেক সাহস জুগিয়ে কনিকাকে ডাক দিলো।
কবির : কনা...
কনিকার সময় ওখানেই থেমে গেলো। কতোদিন পর সেই ভালোবাসার ডাক.... কিন্তু কনিকা আবেগকে প্রশ্রয় দিলোনা।
কবির : একটু কথা বলতে চাই...
কনিকা যেন শুনতেই পায়নি।
কবির : শোনো না please ...
মেরিন : কি শুনবে আপনার কথা? আরো কোনো অপবাদ-অপমান শোনা বাকি আছে কি?
কবির: ...
মেরিন: কি হলো এখন চুপ কেন? ১২বছর ধরে যাকে দুনিয়ার সব বাজে বাজে কথা বলেছেন আজকে তার সাথে আরো কথা আছে? যার জীবন থেকে আপনি ১২টা বছর কেরে নিয়েছেন তার সাথে কথা বলতে চান? যাকে ঘৃণা করে এসেছেন , যার অস্তিত্বকে ঘৃণা করে এসেছেন তার সাথে কথা বলতে চান? যাকে কখনোই ভালোইবাসেন নি তার সাথে কথা বলতে চান? আসলে আপনি just আম্মুর রুপের মোহয় পরে বিয়ে করেছিলেন....
কবির : মেরিন....
কবির মেরিনকে থাপ্পর মারার জন্য হাত তুলেও নামিয়ে নিলো।
মেরিন: নামালেন কেন? মারুন আমাকে.... কসম আল্লাহর ওই হাত কেটে কুকুরদের খাওয়াবো....
তখন ওখানে নীড় এলো ।
কবির: হামম। খাওয়াবেই তো। আচ্ছা তুমি তো সবাইকে শাস্তি দাও... মেরেও ফেলো। আমাকে দিলেনা কেন? মারলেনা কেন?
মেরিন : দিবো তো শাস্তি... আগে সেতু আর নীরাকে খুজে বের করে নেই। ওদেরকে ওদের পাওনা বুঝিয়ে নেই... আপনার চোখের সামনে ওদেরকে নৃশংস্র ভাবে খুন করে নেই। এরপর..
নীড় : খুন হওয়াদের আর কি খুন করবে মেরিন....
মেরিন পিছে ঘুরলো।
.
মেরিন: একি তুমি? কখন এলে?
নীড় : মাত্র।
মেরিন : যাও fresh হয়ে নাও...
নীড় : হবো... তার আগে কিছু কাজ আছে। সেটা complete করতে হবে....
মেরিন: মানে?
নীড় : খুব সহজ... সেতু আর নীরা আর বেচে নেই। মরে গেছে। খুবই বাজে ভাবে মরেছে...
মেরিন: মরে গেছে? অসম্ভব... ওদের মৃত্যু এভাবে হতে পারেনা।
নীড় : কিন্তু হয়েছে। গতকালই । জানতে চাও ওদের মৃত্যু কিভাবে হয়েছে? ওদের হাত-পা প্রথমে আগুনে পুরে দেয়া হয়েছে। পরে সেগুলোতে আবার ঔষধ দেয়া হয়েছে। এরপর আবার পোরানো হয়েছে। এরপর একটু ঔষধ লাগিয়ে তাদেরকে কুমির ভরা পুকুরে ছেরে দেয়া হয়েছে। ক্ষনিকের মধ্যেই ২জনের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে।
মেরিন:কি? কে করলো এমন?
নীড়: তোমার সামনে দারিয়ে আছে।
মেরিন: মানে?
নীড় কবিরের সামনে গিয়ে কবিরের কাধে হাত রেখে বলল : বাবা....
দাদুভাই, দীদা ,কনিকা,মেরিন, জন তো অবাক।
মেরিন: কি বলছো কি? আজেবাজে কথা বন্ধ করো..
নীড় : আজেবাজে কথা বন্ধ না। সেতু-নীরা-নিলয়কে যতোটা তুমি ঘৃণা করো তার থেকে অনেক বেশি ঘৃণা বাবা করে।
মেরিন: stop nonsense....
নীড়: না... আমি একদম ঠিক বলছি... সব গল্পেরই এপিঠ ওপিঠি থাকে। বাবার সত্যটা কেউ জানোনা।
মেরিন: সত্য?
নীড়: হ্যা সত্য... আচ্ছা মেরিন তোমার মনে কি কখনো এই প্রশ্নটা আসেনি যে বাবা যদি আম্মুকে ভালোইনাবাসতো, যদি ঘৃণাই করতো তবে ২য় বিয়ে কেন করেনি? ১২ টা বছর কেন একাই কাটিয়ে দিলো।
বাকীরা সবাই ভাবলো : হ্যা তাই ই তো....
নীড় : কারন হলো বাবা কেবল আর কেবল আম্মুকেই ভালোবাসে।
মেরিন: নামের ভালোবাসা... দাদুভাইয়ের ভয়ে করেনি...
নীড় : seriously ? কবির ফয়সাল খানের মতো ১জন talented & educated business icon চাইলেই নিজে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারতেন না? পারতেন। কিন্তু ইচ্ছা করেই কিছু করেননি?
মেরিন:...
নীড় : আমি জানি তুমি আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসো। কিন্তু হঠাৎ যদি আমি কিছুদিন ধরে তুমি আমাকে না জানিয়ে কোনো কাজ করো। like না বলে কোথাও যাওয়া, late করে ফেরা.... আমার কি খটকা লাগবেনা? বাবার তো তবুও কখনোই সন্দেহ হয়নি। কিন্তু যদি কোনো স্বামী কারো সাথে তার স্ত্রীর অমন ছবি দেখে এমনকি এটা জানতে পারে যে সন্তানটাও তার না...তখন সেই স্বামীর মনের অবস্থা কেমন হতে পারে? সব মিলিয়ে কি তার রাগ করাট জায়েজ নয়? তার মনের অবস্থা কি হতে পারে? অমন অবস্থা নিয়ে ঠিক ভুল বিবেচনা করা যায়?
সবাই:....
নীড়: তুমি যে আমায় এতো ভালোবাসো , তবুও যদি আমার এমন কিছু জানতে পাও তবে ওই মুহুর্তে তুমি কিভাবে react করবে?
মেরিন :....
.
নীড়: ১২ বছর আগে বাবা সেদিন আম্মুকে অনেক অপমান করেছিলো ঠিকই। কিন্তু যখন মাথাটা ঠান্ডা হলো তখন বিষয়ের গভীরে যায়। প্রমান পেয়েও যায় সত্য। কিন্তু সেই সাথে এটাও জানতে পারে যে দীদা ওদের কব্জায়। তাই ওদের কিছু বলতে পারেনা। ওদের সাথে মিলে থাকার নাটক করে। দীদাকে আমি পেলেও আম্মুর খোজ বাবার জন্যেই পেয়েছি।
মেরিন : মিথ্যা কথা.... সব মিথ্যা....
নীড় : না। সব সত্য। বাবা আজও আম্মুকে ভালোবাসে। আর তোমাকেও...
মেরিন: ক...
নীড় : কোনো কথা না। আগে আমার কথা শোনো....
জন...
জন: জ স্যার....
নীড় : ১টা কথা বলো তো মেরিনের under এ তো তুমি কাজ করো । but মেরিনের under এ কাজ করার জন্য তোমাকে কে কাজ করতে বলেছে? কে তোমাকে মেরিনের ছায়া হয়ে থাকতে বলেছে ? কে তোমাকে মেরিনের সাহায্য করতে বলেছে?
জন:...
নীড় : বলো...
জন: জানিনা স্যার.. তার সাথে কেবল আমার ফোনে কথা হয়। আর মাস শেষে salary দেয় ...।সে বলেছে যে করেই হোক আমি যেন ম্যামকে একা না ছারি... আলাদা না ছারি.... যেন সবসময় রক্ষা করি...
নীড় : সে পুরুষ না মহিলা?
জন: পুরুষ....
নীড় : সবাই জানতে চাও সে কে? সে এই কবির ফয়সাল খান.... হ্যা মেরিনের সাথে সে খারাপ ব্যাবহার করেছে। আর সেসবের জন্যেই আজ মেরিন the মেরিন হতে পেরেছে। স্বর্নকে পুরিয়ে যেমন খাটি করা হয় তোমনি কষ্ট পেয়ে মেরিন... বন্যা হতে পেরেছে..... জানতো যে বাবা নিজে মেরিনকে save করতে পারবেনা। দাদুভাইয়েরও বয়স হয়েছে। তাই মেরিনের strong হওয়ার দরকার ছিলো। সে কারনেই....
মেরিন : ...
নীড় : ৫বছর আগে তোমার car accident হয়েছিলো। তোমাকে রক্ত দিয়ে কে বাচিয়েছিলো জানো? বাবা....
মেরিন: ...
নিহাল : আরো আছে...
সবাই পিছে তাকালো। দেখলো নিহাল-নীলিমা দারিয়ে আছে।
.
নিহাল মেরিনের সামনে গিয়ে ওর মাথায় হাত রাখলো।
বলল : ভাবির সত্যিটা কবির আমাকে আরো আগেই বলেছে। সব সত্যই বলেছে। কারন সেদিন আমি তোমাকে বাজে কথা বলেছিলাম.... আমাকে কবির বলেছিলো যেন আমি তোমাকে বাবার ভালোবাসা দেই। তুমি ভালোবাসা কাঙাল কিন্তু যেন পলকেই পরিবর্তন না হই তাহলে তুমি বুঝে যাবে.... তুমি কবিরের দুনিয়া... কবিরের হাতে দেখো । তোমার প্রতি জন্মদিনে ও নিজেকে আঘাত করেছে। যার চিহ্ন আজও রয়ে গেছে। তুমি তোমার বাবার ঘৃণার মেয়ে নও.... ভালোবাসার....
মেরিন: মিথ্যা... মিথ্যা ...মিথ্যা। সব মিথ্যা। সবাই মিথ্যাবাদী। সবাই খারাপ....
বলেই মেরিন গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলো। নীড়ও পিছে ছুটলো। গাড়ি নিয়ে মেরিনের পথ আটকালো। এরপর মেরিনের সামনে গিয়ে দারালো।
মেরিন: আমার পথ ছেরে দাও নীড়...
নীড়:ছারবোনা.... গাড়ি থেকে নামো...
মেরিন : আপনি সরবেন কি না?
নীড় : না।
মেরিন : না সরলে কিন্তু....
নীড় : কিন্তু... আমার ওপর দিয়ে চালাবে?
মেরিন: ....
নীড়: আমার ওপর দিয়ে চালাবে? বলো....
মেরিন : ....
নীড় : চালাও...
মেরিন : .....
নীড় : কি হলো.... চালাও...
মেরিন মাথা নিচু করে বসে রইলো।
নীড় : নামো...
মেরিন: ....
নীড় : নামতে বলেছি কিন্তু.....
মেরিন নেমে এলো। নীড় মেরিনের কাধে হাত দিয়ে হাটতে লাগলো।
নীড় : সত্য থেকে না পালিয়ে সত্যে মোকাবেলা করতে কবে শিখবে? তোমার, আম্মুর জীবন থেকে যেমন ১২ বছর হারিয়ে গেছে তেমনি বাবার জীবন থেকেও। please accept this....
মেরিন : আমি যে বাবার সাথে অনেক খারাপ ব্য...
নীড় : সবটাই সময়ের দোষ ছিলো..... চলো আবার নতুন করে জীবনটা শুরু করি।
নীড় মেরিনকে নিয়ে বাসায় ফিরলো। বাবা-মেয়ের মিল হলো। মেরিন কবিরকে বুকে জরিয়ে কাদতে লাগলো। কবিরও এতো বছর পর মেয়েকে বুকে জরিয়ে কাদতে লাগলো। সব সমস্যা মিটে গেলো। মেরিনের জীবনও স্বাভাবিক হয়ে গেলো।
.
কিছুদিনপর....
নীড় office থেকে এসে দেখে মেরিন টেবিল calendar এর পাতা উল্টাচ্ছে।
নীড় : কি করছে আমার বউটা?
মেরিন: তোমার ভাগ্য গননা....
নীড় : ভাগ্য গননা?
মেরিন: হামম।
নীড় : মানে?
মেরিন: দেখি দেখি তোমার কপালে কি লেখা?
নীড়:😒।
মেরিন: উফফ...
চুলগুলো সরাও না...
নীড়:🙄🙄।
মেরিন: অলস কোথাকার? আমি সরিয়ে দিচ্ছি... মেরিন সরিয়ে দিলো।
মেরিন: 😱🤭।
নীড়: কি হলো?
মেরিন: তোমার কপালটা তো ভীষন ভালো গো।
নীড় মেরিনের কাধে হাত রেখে নাকে নাক ঘষে
বলল: তোমার মতো বউ পেলে তো সবারই কপাল ভালো হবে?
মেরিন: তাই বুঝি? তোমার কপাল আরো বেশি ভালো হতে চলেছে। আজ থেকে ঠিক ৯মাস পর ১টা ছোট্ট নীড় আসতে চলেছে.... যার নাম হবে নির্বন....
নীড়: মান.... সত্যি? 😍😍...
নীড় মেরিনকে কোলে নিয়ে ঘুরতে লাগলো।
নীড়: উহুহু... আমি বাবা হতে চলেছি..thank u আল্লাহ thank u জান... its the best gift in my life... i just love you...
খবরটা শুনে খান বাড়ি চৌধুরী বাড়িতে ধুম পরে গেলো। মেরিনের জীবন থেকে সকল ঘৃণার অবসান ঘটলো।
.
(sorry ... কালকে বলেও গল্প না দেয়ার জন্য। next গল্প
#পারফেক্ট_ভিলেন । আর নীড়-মেরিনই থাকবে। তবে ৩দিন পর থেকে গল্প পাবেন। কারন আমি ভীষন অসুস্থ। )
.
❤❤সমাপ্ত❤❤
বন্ধুর বোন যখন বউ
বন্ধুর_বোন_যখন_বউ
#পর্ব: 11
#কামরুল
,,
,,
আমি হাসপাতালের বারান্ধায় বসে আছি হঠাৎ পেছন থেকে কেউ আমার পিঠে হাত রাখলো পেছনে ঘুরে দেখি,,ছোট মা
আমি: আপনে এখানে (একটু রেগে)
ছোট মা: বাবা শুভ আজ আমি তোকে কিছু কথা বলতে চাই,,,,,
আমি: জ্বি বলুন(বিরক্তি কর ভাব নিয়ে)
ছোট মা: দেখ বাবা তোর মা মারা যাবার পরে তোর বাবা তোকে দেখাশোনার জন্য আমাকে বিয়ে করেন।
কিন্তু আমি ,,,আমি তোদের সম্পত্তির লোভে পরে তোর বাবা কে বিয়ে করেছিলাম,,,,
এমন কী তোকে আর তোর বাবাকে মেরে ফেলার ও ফন্ধি এটেছিলাম
তোকে মিথ্যা অপবাদে বাড়ি থেকে বের করে দেয়,,,, এটাও ঠিক আছে
আমি কখনো তোর মা হতে পারিনি এটাও ঠিক আছে,,,,
কিন্তু যখন আমার পেটে ইমন আসে তখন আমি ভেবে দেখলাম ওকে পৃথিবীর আলো দেখতে দেবো না,,,,ডাক্তারের কাছেও গিয়েছিলাম কিন্তু পরে আবার আমার মনে হলো ,,,,,আমি একজন মা হয়ে কী ভাবে নিজের হাতে আমার সন্তান কে হত্যা করবো,,,,,
নিজের কাছে নিজেকে সেদিন প্রশ্ন করেছিলাম যে আমি এত নিচ এত খারাপ যে আজ আমি নিজের সন্তান কে হত্যা করতে চাইছি,,,,বাবা জানিস সেই দিন থেকে আল্লাহ্র কাছে তওবা করেছিলাম জিবনে আর কোনো খারাপ কাজ করবো না একজন ভালো মা হয়ে দেখাবো ।কিন্তু পারিনি রে,,,আজ আমার ভুলের শাস্তি তোর বাপ পাচ্ছে রে ,,,,তোর বাবা একজন ভালো মানুষ ওনার কোনো দোষ নেই আমি ওনাকে তোর বিরুদ্ধে উশকিয়ে ছিলাম,, এই ভয়ে যে তোর সাথে ওনার সম্পর্ক থাকলে আমি কোনো সম্পত্তি পাবো না ।সব তোর নামে করে দেবে ,
কিন্তু আজ আমার আর কোনো সম্পত্তির প্রতি লোভ নেই ।
কারন আজ আমরা বুড়া বুড়ি মারা গেলে সব তোর আর ইমনে রি,,,আর আমি চাই সবাই এক বাসাতে থাকতে
সেখানে তুই থাকবি বউমা থাকবে আমরা সবাই এক বাসাতে থাকবো।
আর বাবা আমার এতদিনের খারাপ ব্যাবহারের জন্য আমি লজ্জিত আমাকে ক্ষমা করে দিস
বাবা শুভ
আমি: হুম মাথা (নিচু করে)
মা: কিছু বলছিস না কেন
আমি: এই কথা গুলো আপনার অনেক আগে বোঝা উচিত ছিল।
অনেক দেরি হয়ে গেছে আপনার জন্য আমি আমার বাবাকে ভুল বুঝলাম
ছোট মা: বাবা আগের সব কথা গুলো ভুলে যা,,,,আজ থেকে ভালো মা হয়ে দেখাবো,,,আর তোর বাবাকেও ক্ষামা করে দে তা না হলে তোর বাবা মরেও শান্তি পাবে না,,,,,
আমি : তার মানে ?কী হয়েছে বাবার
মা: কয়েক দিন আগে নাকি সন্ধাবেলা তোর বাবার সাথে তোর দেখা হয়েছিলো,,।
আমি:হুমম
মা: ঔ দিন তোর বলা কথা গুলো তোর বাবা সয্য করতে পারে নি
বাসায় আসার পথে গাড়ির ভিতর হার্ড এট্যাক করেন তিনি ।
আমি: বাবা এখন কেমন আছে(হাইপার হয়ে)
ছোট মা: ভালো কিন্তু
আমি: কিন্তু কী ছোট মা???
ছোট মা : তোর বাবা কোমাই চলে গেছে ,,,,
আমি: মানে ,,,,,
ছোট মা: হুম,,,কিন্তু ডাক্তার বলেছে
ওনাকে যত হাসি খুশি রাখবো ততো তারাতারি সুস্থ হয়ে যেতে পারে,,,,,,
আর অনেক যত্ন নিতে হবে ।
আমি: কোন হাসপাতালে এডমিড করেছো
ছোট মা: এই হাসপাতালেই প্রথম কেবিনে আছে
আমি: এখন কী দেখা করা যাবে।
ছোট মা: যাবে,,,,যা তুই তোর বাবাকে দেখে আয় আমি নিলার সাথে কথা বলি
আমি:আচ্ছা ,,,আর ধন্যবাদ,,,,,
ছোট মা: কীসের জন্য
আমি: রক্ত দিয়ে নিলার জিবন বাচানোর জন্য
(ছোট মা একটু হেসে) এতে ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই
তোর বাবার কাছে জাচ্ছিলাম
হঠাৎ দেখি
সবাই কান্না কাটি করছে ,,,এগিয়ে গিয়ে দেখি ,,রক্তের অভাবে একজন কে বাচানো যাচ্ছে না,,(ডাক্তার 20 মিনিটের মধ্যে o+ রক্ত চাইছে)
(আমি এর আগে রক্ত পরিক্ষা করেছিলাম আমার o+ রক্ত আর ডাক্তার ও একই রক্ত চাইছে তাই রক্ত দিয়েছিলাম।
কিন্তু এখন দেখছি আমি যাকে রক্ত দিয়েছি সে আমার ছেলের আত্তার আত্তা,,,,,,আর আমাদের চৌধুরি পরিবারের পুএ বধু,,,,,
আমি:হুম ,,,,, ওর যদি কিছু হয়ে যেত তাহলে আমি বাচঁতে পারতাম না ,,,,,,খুব ভালোবাসি আমি ওকে
ছোট মা: সেটা আমি জানি ,,আচ্ছা বাবা যা তুই তোর বাবার সাথে দেখা করে আয়,,,,আমি নিলার কাছে যাচ্ছি
আমি: আচ্ছা ,,এরপর ছোট মা নিলার কাছে গেলো আমি বাবাকে দেখতে গেলাম,,,,
1 no কেবিনে গিয়ে দেখি বাবা শুয়ে আছে মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো,,,,,
আমি গিয়ে বাবার হাত ধরলাম,,,,
হঠাৎ বাবা কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে চোখ খুলে তাকালো,,,,তাকিয়ে দেখে আমি।
আমি বাবার পা ধরে বলতে লাগলাম আমাকে ক্ষমা করে দিও বাবা আজ তোমার এই অবস্হার জন্য আমি দায়ী।
বাবা মাথা নারিয়ে না বললেন ।
সেদিন যদি আমি তোমাকে ওভাবে না বলতাম তাহলে আজ হয়তো তোমার এ অবস্হা হতো না,,,
এবার বাবা মাক্সের ভিতর দিয়েই বললো না বাবা না ,,,তুই আমাকে ক্ষমা করেছিস।
আমি চোখের পানি ছেরে) ,,,(বাবারা কখনো ভুল করে না ),,,আর ক্ষমা সেতো তুমি আমাকে করবে ,,,
না রে কিছু অভিমান আর কিছু ভুলের কারনে আজ আমারা বাপ ছেলে আলাদা ছিলাম,। আমি এসব কাথা এখন বাদ দাও। কাল তোমাকে সিঙ্গাপুর পাঠাবো।
বাবা: কেনো
আমি: তোমার উন্নত চিকিৎসার জন্য।
বাবা: তার আর দরকার নেই রে বাপ ।তুই এসছিস ,আমি এমনিতেই সুস্থ হয়ে যাবো।
আমি: হুমম কিন্তু,,,আমার তোমাকে দরকার।তাই না বলো না আমি আজই তোমার সিঙ্গগাপুর যাওয়ার ব্যাবস্হা করছি।
বাবা: আচ্ছা।
আমি: আচ্ছা বাবা তুমি এখন ঘুমাও ।
বাবা: আচ্ছা।
তারপর বাবা ঘুমিয়ে গেলে আমি বের হয়ে এলাম ।এসে আবার নিলার কাছে গেলাম গিয়ে বাই জানিয়ে বাবার সিঙ্গাপুর যাওয়ার ব্যাবস্হা করলাম।আজ রাত 1 টাই বাবার ফ্লাইট ।বাবার সাথে এখানকার একটা ডাক্তার আর ছোট মা যাবে।
তারপর আমি নিজের বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আবার হাসপাতালে চলে এলাম।এসে বাবাকে খবর টা দিলাম সাথে ছোট মাকেও।
এখন রাত 2 টা আমি বাবাকে বিমানবন্ধরে ছাড়তে এসেছিলাম।
বাবাকে ছেড়ে ।
আমি হাসপাতালে নিলার কাছে গেলাম গিয়ে দেখি আমার পরীটা ঘুমিয়ে আছে,,,,,পাশে ওর ,,,আর সবাই বাসায় চলে,,,,,,আমি গিয়ে নিলায কপালে একটা চুমু খেলাম
ও হালকা নরে উঠলো তারপর আমার হাত জরিয়ে ধরলো।আমি আমার হাত ছাড়ানোর মিথ্যা চেষ্টা করছিলাম।এক সময় ও জেগে গেলো ।আমাকে দেখে চমকে উঠলো,,,
নিলা: এতো রাতে তুমি এখানে,,,,বাসায় যাও নাই।
আমি: আমার কলিজা টাকে এখানে রেখে আমি কী ভাবে বাসায় যাবো বলো।
নিলা: এতো ভালোবাসো আমায়।
আমি: অনেক গুলা ভালোবাসি তোকে,,,,যত ভালোবাসলে ।
নিলা: হয়েছে আর কবি হতে হবে না ।
আমি জানি তুমি আমাকে কতো ভালোবাসো।
তারপর আমি নিলাকে জরিয়ে ধরলাম।নিলা আমাকে জরিয়ে ধরলো ।
এই তোরা কী করছিস রে ভুলে যাস না আমি পেছনে আছি(পেছন থেকে নিলার মা একটু হাসি দিয়ে)
আমিতো একটু লজ্জা পেলাম ,,,
নিলা: আমরা প্রেম করছি,,,,(তুমি জাগলা কেনো,)
মা: আমি তাহলে যায়। তোরা প্রেম কর।
আমি: এই না না আন্টি নিলা এমনি বলছে ও। আমিতো ওকে দেখতে এসেছিলাম
মা: এতো রাতে (আর লুকাতে হবে না)
শুভ তুমি এখানেই থাকবা নাকি বাসায় যাবা।
আমি: না আমি বাসায় যাবো।
,,
,,
,,
চলবে,,,,,,,,
কিসমত
#কিসমত
#পর্ব-১৬
.
.
.
.
-নিরু তোর সাথে আমার কিছু কথা ছিলো(লিমা)
.
-হুম বল(নিরু ফোন টিপতে টিপতে)
.
- আজ কাল নেহালের সাথে তোকে বেশি দেখ যাচ্ছে
.
-হুম তো?(লিমার দিকে তাকিয়ে)
.
-নাহ কিছু নাহ
.
-ও আচ্ছা.. (আবার ফোনের দিকে তাকিয়ে)
.
-৫ মিনিট পরে আবার
.
-নিরু..
.
-হুম বাবা বল
.
-তুই কি নেহালের প্রেমে পরেছিস?
.
-হোয়াট দ্যা ( নিজেকে কিছুটা সামলিয়ে নিয়ে) নেহাল আমার জাস্ট ফেন্ড।ওকে.
.
-হুম ওকে.
.
.
.
-মনি নিজের হাতে ফোন নিবে। তখন নিশির ফোনে ফোন আসে 📞📞📞
.
-এক সেকেন্ড মনি(নিশি)
.
-হুম(মনি মুচকি হেসে)
.
-আসসালামু আলাইকুম খালা বলেন.(নিশি)
.
-(......)
.
-কখন (দাঁড়িয়ে)
.
-(......)
.
-আমি এখনি আসছি.
.
-মনি খালামনির হঠাৎ পেশার লো হয়ে গেছে আমার এখনি যেতে হবে..
.
-ও আচ্ছা। যাও তাহলে।
.
-তুমি তো আছো কিছু দিন নাকি?
.
-নাহ আপু কাল চলে যেতে হবে
.
-তাহলে তো আর দেখা হলো নাহ আমি আসি।ফোনে কথা হবে..
.
.
.
-নিশান তাহলে আসি মনিটা একা. (শুভ্র )
.
-হুম যা আমিও যাই(নিশান)
.
.
.
-কিরে মনি তোর আপু কই(শুভ্র মনির পিছনে দাঁড়িয়ে)
.
-ইশ্ ভাইয়া আর এক মিনিট আগে আসলে দেখতে পেতে।মাত্র গেলো।একটু প্রবলেম ছিলো(মনি)
.
-ওকে।নেক্সট টাইম
.
-হুম চলো এখন
.
.
.
-নিশান নিশি গাড়িতে দু'জনের মাঝেই অস্থিরতা কাজ করছে তাদের খালামনির কাছে কখন যাবে তা নিয়ে..বাসার সামনে আসতেই নিশি নিশান দ্রুত ভিতরে ঢুকে..
.
-খালামনি তোমার শরীর ভালো এখন (নিশান পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে)
.
-কিছু হয়নি আমি ঠিক আছি বারবার নাহ করলাম ফোন দিতে দিয়েই দিলো(রহিমা বেগম)
.
-বেশ করেছে (নিশি পাশে বসে কান্না কন্ঠে )
.
-পাগল মেয়ে কিছু হয়নি তো আমার(রহিমা বেগম বসে)
.
-হুম (নিশি)
.
-দেখা হয়েছে
.
-হুম।আচ্ছা আমি ফ্রেশ হয়ে আসি। (দাঁড়িয়ে নিশি)
.
-খালামনি জানো আজ নাহ শুভ্রর সাথে দেখা হয়ে গেল হঠাৎ (নিশান)
.
-শুভ্র নাম শুনতেই দরজা দাঁড়িয়ে পরে নিশি।দুচোখ জলে ভরে আসে।আসিয়া খালাকে আসতে দেখে নিজের রুমে চলে যায় নিশি. চোখের জল গাল বেয়ে নিচে পরছে নিজের পেটে হাত রেখে চোখ বন্ধ করে ফেলে নিশি...
.
.
.
-আপা আমি বুঝতে পারছি নাহ কি করবো আমি(রহেলা বেগম কান্না কন্ঠে )
.
-দেখ কি বলবো তুই তো বুঝতে পারছিস।(আছিয়া বেগম)
.
-নিজের স্বামীর জন্য নিজের মেয়ে এত সর্বনাশ করবো।দিশা ছোট একটা মেয়ে। কি বুঝে বলো।
.
-এমন তো হতে পারে দিশাকে ভালো লাগতে পারে সারাজীবন রেখে দিতে পারে
.
-হসপিটাল থেকে এসে আড়াল থেকে সবটা শুনে নিশি রুমে আসে..
.
-কি করতে চাচ্ছো তোমরা দিশার সাথে? (নিশি)
.
-তুই শুনে কি করবি(আছিয়া বেগম)
.
-মা বলো কি করতে চাচ্ছো (নিশি রাহেলা বেগমকে উদ্দেশ্য করে)
.
-নিশ্চুপ (কান্না করছে)
.
-কি হলো মা বলো।কান্না করছো কেনো?(নিশি)
-তোর বোনকে ১মাসের বিয়ে দিবে ছেলে টাকা দিবে তোর বাপের চিকিৎসা করার জন্য দেশের বাহিরে নিয়ে যাবে(আছিয়া বেগম)
.
-খালা(চেঁচিয়ে নিশি)
.
-চেঁচাছিস কেনো।
.
- দিশা তোমার বোন ঝি এমন বলতে পারলে
.
-তোর তো বোন তুই নিজে ১ মাসের জন্য যা নাহ। বোন টাকে বাঁচা।
.
-আপা নিশি কেনো যাবে দিশাই যাবে।নিজের বাপের জন্য এইটুকু করতে পারবে( রাহেলা বেগম কান্না করতে করতে নিজের রুমে চলে যায় দরজা লাগিয়ে দেয় )
.
-মা শুনো আমার টাকা জোগাড় করে ফেলবো।(নিশি)
.
-এতো টাকা কই পাবি।কালকের বিকালের মাঝে সব টাকা দিতে হবে। আর ছেলেকেও বলে দিতে হবে বিকালের মাঝে। (আছিয়া বেগম রুম থেকে বের হয়ে যায়)
.
-রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে নিশি।কি করবে কিছু বুঝতে পারছে নাহ। এতো টাকা কি করে ব্যবস্থা করবে।বিকাল থেকে সব কাছের মানুষের কাছে টাকা ধার চাচ্ছে কেউ দিতে রাজি নাহ আর মাত্র একরাতের মাঝে সব পাল্টে যাবে। কিছুই করার থাকবে নাহ। সব চিন্তা করতে করতে রাস্তার মধ্যে বসে পরে নিশি।দুচোখ জোরে অন্ধকার। দিশার এতো বড় সর্বনাশ কখনোই হতে দিতে পারে নাহ।চায় নিজের খারাপ হোক।দু'হাতে নিজের চোখ মুছে দাঁড়ায় নিশি।বাসায় উদ্দেশ্য রওনা..
.
-রাতে ব্যাগ থেকে কলম বের করার সময় শুভ্র দেওয়া কার্ডটা বের হয়ে আসে..
.
-
-সকালে থেকে বের হয়ে বিকেলে বাসায় ঢুকে নিশি একজন মধ্য বয়স্ক লোক আর দুজন মহিলাকে দেখতে পায় নিশি।
.
-দেখুন আমার আপনার মেয়ে কে পছন্দ এক মাসের জন্য নিতে চাই। আর এই একমাস আমি যা বললো তাই করতে হবে । পছন্দ হলে রাখবো নয় দিয়ে যাবো।বুঝতেই তো পারছেন ।(মধ্য বয়স্ক লোক বিশ্রী হাসি দিয়ে )
.
-আমরা রাজি নাহ আপনি আসতে পারেন (নিশি)
.
-সবাই নিশির কথায় কিছুটা অবাক হয়ে যায়..
.
-দেখুন আপনারা ভেবে চিন্তে বলছেন কি(মধ্য বয়স্ক লোক)
.
-হুম (নিশি)
.
-আমি কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবো
.
-আপনি বের হোন।নাহ বের হলে লোক ডেকে অপমান করতে বাধ্য হবো.
.
-ওকে যাচ্ছি
.
-ঠাসস্ নিশি কি করছিস এখন টাকা কই পাবো (রাহেলা বেগম)
.
-মা(নিশি গালে হাত দিয়ে )
.
-বোনের সুখ ভালো লাগে নি?(চোখে জল)
.
-নিশি নিজের ব্যাগ থেকে কয়েকটা টাকার বান্ডিল রাহেলা বেগম এর হাতে দেয়..আরো লাগলে আরো পাবা তবু দিশার গায়ে কোনো আঁচ আসবে নাহ।
.
-এতো টাকা কোথায় পেলি(আছিয়া বেগম)
.
-তোমার জানতে হবে নাহ। বোনকে বাঁচাতে সব করতে পারি। টাকা জমা দিয়ে বাহিরে যাবার ব্যবস্থা করো তোমাদের তিন জনের( টাকা দিয়ে নিশি নিজের রুমে দিকে এগিয়ে যায়)
.
-আর তুই ?(রাহেলা বেগম)
.
- যাবো নাহ(দাঁড়িয়ে)
.
-একা থাকতে পারবি নাহ তুইও যাবি
.
- তোমার চিন্তা করতে অনেক দেরি হয়ে গেছে মা (তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে)
.
-নিজের রুমে অঝোরে কাঁদতে থাকে নিশি।তোমার বোন দিশাকে বিয়ে দিতে নাহ রক্ষিতা করতে চেয়ে ছিলো মা। খোঁজ নিয়েছি আমি কিন্তু তোমায় বললে তো বিশ্বাস করবে নাহ। কেউ আপন নাহ সবাই পর।হঠাৎ নিশির ফোন বেজে ওঠে। .দু'হাতে চোখ মুছে নিশি।ফোনের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য একটা হাসি দেয় নিশি..
.
.
চলবে....
তোমাই পাবো বলে
#তোমায়_পাবো_বলে
#কামরুল
#পর্ব_০৫
.
তাম্মি চৌধুরী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
___"তুমিই নিনিতা?"
নিনিতার এই প্রশ্ন শোনার পর অস্বস্তি হতে লাগলো।ও প্রশ্নটা শুনে এতোটা অস্বস্তিবোধ করতো না।অস্বস্তিবোধ করার কারণ হচ্ছে তাম্মি চৌধুরী কটমট করে আশফাক চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে আছেন।আচ্ছা তাহিনের ভাইরাল হওয়ার বিষয়টা কি তিনি স্বাভাবিকভাবে নেননি?আশফাক চৌধুরী তো বললো এতে তাদের উপকার হয়েছে তবে কেনো তিনি এমনভাবে স্বামীর দিকে তাকিয়ে আছেন?নাকি অন্যকিছু?নিনিতা ইতস্তত করতে করতে বললো,
___"জ্বি আমি নিনিতা।"
তাম্মি কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে আশফাক চৌধুরীকে বললেন,
___"এ যদি নিনিতা হয়,তবে তুমি এর সাথে ফোনে কথা বলতে!একটা হাঁটুর বয়সী মেয়ের প্রেমে পড়তে তোমার লজ্জা করলো না!এতো আমার ছেলে তাহিনের চাইতেও ছোট।"
নিনিতা অবাক হয়ে গেলো।আশফাক চৌধুরী নিনিতার প্রেমে পড়েছে!এটা আদোও সম্ভব!
আশফাক চৌধুরী কাচুমাচু করে বললেন,
___"ছিঃ এগুলা কি বলো?নিনিতা তো আমার আম্মা।"
তাম্মি রেগে আগুন হয়ে বললেন,
___"যেই ধরা পড়লে ওমনি ও তোমার আম্মা হয়ে গেলো।বাহ!"
আশফাক চৌধুরী নিনিতাক বললেন,
___"নিনিতা আমি না তোমায় আম্মা ডাকি?"
নিনিতা জোরে জোরে মাথা নাড়ালো।যার অর্থ হ্যাঁ ওকে আশফাক চৌধুরী আম্মা ডাকে।
তাম্মি চৌধুরী কিছুটা নিভলো।তারপর বললেন,
___"ঠিক আছে,ঠিক আছে।এবারের মতো ক্ষমা করলাম।পরের বার এরকম কিছু শুনলে প্রথমে তোমাকে খুন করবো তারপর নিজে বিষ খাবো।কথাটা মনে থাকে যেন।"
আশফাক চৌধুরী একটু হেসে বললেন,
___"তোমার কাছে এ আজগুবি খবর গুলো কে দেয় বলো তো?এখন কি আমার নিনিতার প্রেমে পড়ার বয়স?হ্যাঁ নিনিতার মা হলে অন্য কথা ছিল।"
তাম্মি চৌধুরী রণচণ্ডী রূপ নিয়ে তার সামনে দাড়ালেন।আশফাক চৌধুরী ভুল মানুষের সামনে ভুল কথা বলে ফেলেছেন।তিনি গুটি গুটি পায়ে চোরের মতো ড্রয়িংরুম থেকে চলে গেলেন।
নিনিতা এতোক্ষণ হওয়া কোনোকিছুরই মানে বুঝতে পারলো না।
তাম্মি চৌধুরী নিনিতাকে নিয়ে সোফায় বসলেন।নিনিতার দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন,
___"কেমন আছো?"
কি সুন্দর হাসি!এই যে একটু আগে রাগারাগি করলেন এখন তার চোখে-মুখে কোনো রাগ নেই।অপরূপ সুন্দরী একজন মহিলা।
নিনিতা হাসি মুখে বললো,
___"আলহামদুলিল্লাহ।"
আশফাক চৌধুরী রুম থেকে বেড়িয়ে বললেন,
___"শুধু গল্প করবে।ওদিকে তোমার গুণী সন্তান যে তোমায় কখন থেকে ডাকছে শুনছো না?"
তাম্মি চৌধুরী সামান্য বিরক্তি নিয়ে উঠে চলে গেলেন।আশফাক চৌধুরী নিনিতার অপজিট সোফায় বসে বললেন,
___"তুমি কিছু মনে করো না।তাম্মি বুড়ো বয়সেও আমাকে হারানোর ভয় পায়।"
আশফাক চৌধুরী উচ্চস্বরে হেসে দিলেন।তার সাথে তাল মিলালো নিনিতা।
আশফাক চৌধুরী হাসিটা কোনোরকম ভাবে থামিয়ে বললো,
___"তোমার আন্টি বিয়ের আগে আমার বন্ধুদের থেকে খবর নিতো,আর এখন নেয় সুমনের থেকে।সুমন একটা গর্দভ ওর জন্যই তোমাকে এ সিচুয়েশনে পড়তে হলো।গর্দভটা তাম্মিকে বলেছে নিনিতা নামের এক মেয়েকে আমি ফুলের বুকে পাঠিয়েছি।কি কারণে পাঠিয়েছি,তোমার বয়স কত এসব নিয়ে কিছু বলেনি।সেই থেকে তোমার সাথে দেখা করার জন্য বাসায় ঝড় তুলেছে,গতকাল আমি ইচ্ছে করে তাম্মিকে জ্বালানোর জন্য তোমায় ভিডিও কল করেছিলাম।তুমি আম্মা মাইন্ড করো না।তাম্মির মাঝে ছেলেমানুষী এখনো রয়ে গেছে।ওর হয়ে আমি ক্ষমা চাইছি।"
নিনিতা এতোক্ষণ মজা নিয়ে এসব কথা শুনছিলো।আশফাক চৌধুরীর শেষ কথা শুনে নিনিতা বললো,
___" না, না,না।আমি কিছু মনে করিনি।ক্ষমার কথা বলে আমাকে ছোট করবেন না।"
আশফাক চৌধুরী সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললেন,
___"জানো নিনিতা ভাইরাল হওয়ার বিষয়টা নিয়ে যদি তোমার কোনো ক্ষতি হতো।ক্ষতিটার কারণ সবার প্রথম আমি হতাম।"
নিনিতা আৎকে উঠলো।মুখের হাসিটা বিলীন হয়ে গেল।আশফাক চৌধুরী নিনিতার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,
___"ভয় পেও না।এখন আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না।ইনফ্যাক্ট, সারাজীবন আমার দ্বারা তোমার এক চিমটি ক্ষতি হবে না।তাহিন যতই বিগড়ে যাক।ও তো আমারই সন্তান।যখন নিউজটা ভাইরাল হলো,মুহুর্তের মাঝেই আমি তোমার ঠিকুজিকোষ্ঠীর খবর নিয়ে নিয়েছিলাম।যখন বিষয়টা সবাই পজিটিভলি নিয়েছে তখন আমি শান্ত হয়েছি।মনে হয়েছে বিগড়ে যাওয়া ছেলেটা সঠিক পথে আসুক।কিছু একটা করুক আমি আর কয়দিনই বা থাকবো?তোমাকে ধন্যবাদ।কথাগুলো বলতাম না বলার কারণ জানো?"
নিনিতা মাথা নাড়ালো।যার অর্থ সে জানে।নিনিতা নিচু স্বরে বললো,
___"আমি জানি আঙ্কেল ছবিগুলো পোস্ট করার আগে আমার অনুমতি নেয়া প্রয়োজন ছিলো।আমার মাথায় তখন পজিটিভ চিন্তাভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছিলো।আর আমি তো কোনো জার্নালিস্টকে হেল্প করবো, কিংবা আপনার মান-সম্মান নিয়ে খেলবো,আমার এরকম বাজে উদ্দেশ্য ছিলো না।ওইরকম বাজে উদ্দেশ্য নিয়ে আমি ছবিগুলো তুলিনি।বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আব্বুকে বলে এসেছি আপনার আর আন্টির কাছে এটা নিয়ে ক্ষমা চাইবো।আ'ম সরি।"
আশফাক চৌধুরী হাসি দিয়ে বললেন,
___"ইটস ওঁকে, মাই চাইল্ড।
তাম্মক চৌধুরী এলে তারা তিনজন মিলে একসাথে হল্প গুজব করতে লাগলো।
______________________
খাওয়ার টেবিলে,,,
তাম্মি চৌধুরী তাহিনকে খাইয়ে দিচ্ছেন।আশফাক চৌধুরীর পাশে নিনিতা বসেছে।
তাম্মি চৌধুরী বললেন,
___"তোমার বাবা কি করেন নিনিতা?"
নিনিতা খাবার নাড়তে নাড়তে জবাব দেয়,
___"রিটায়ার্ড সিনিয়র ব্যাংকার।এখন এলুমিনিয়ামের বিজনেস করছেন।"
___"আর মা?"
নিনিতা শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাম্মিকে বললো,
___"মা নেই।আমি এতিম।"
তাম্মির অনেক খারাপ লাগলো।তাহিন অবাক হয়ে গেল, কারণ তাহিনের কাছে খবর আছে নিনিতার মা আছেন।আশফাক চৌধুরী নিনিতার দিকে একপলক তাকিয়ে কিছু বললো না।
তাহিন খাবার টেবিল থেকে উঠে গেল।কিছুক্ষণ বাদে আশফাক চৌধুরী উঠে গেলেন।টেবিলে তাম্মি চৌধুরী আর নিনিতা।নিনিতা মাথা নিচের দিকে দিয়ে প্লেটের দিকে তাকিয়ে আছে।চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে প্লেটে পড়লো।তাম্মি চৌধুরী নিনিতার মুখের সামনে লোকমা ধরলো।তিনি বললেন,
___"ভাত সামনে রেখে কাঁদতে নেই।"
নিনিতার গলা পাকিয়ে কান্না আসছে।কোনো এতিম, মা বিহীন সন্তান জানে,চোখের সামনে কোনো মা যদি তার সন্তানকে খাইয়ে দেয়।তখন মা বিহীন মানুষটার বুকের ভেতর কিভাবে মোচড় দেয়,রক্তক্ষরণ হয়।সেই সাথে কলিজাটা কেঁপে বুকের ভেতরে ব্যাথাগুলো পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে।
নিনিতা ভাতের লোকমা মুখে না তুলে কেঁদে দিলো।সেই সাথে তাম্মিকে জড়িয়ে ধরলো।তাম্মিও বাম হাত দিয়ে নিনিতার পিঠে হাত বুলিয়ে দিলেন।
বিকেলে তাম্মি চৌধুরী নিনিতাকে যেতে দিলেন না।একেবারে ডিনার করে তাহিন বাসায় পৌঁছে দিবে বলেছেন।তিনি এখন নিনিতার জন্য পিঠে বানাচ্ছেন।
তাহিন নিনিতাকে নিয়ে ছাদে গেল।নিনিতা দোলনায় বসলো।তাহিন বললো,
___"এখানে প্রতিরাতে আম্মু-আব্বু বসে।দুজনে একসাথে হাসে-খেলে-গান গায়।সে কি এক সুন্দর দৃশ্য তোমাকে বলে বুঝাতে পারবো না।দেখলে বুঝতে।"
নিনিতা বললো,
___"আপনি তাদের সন্তান হয়ে এরকম কেনো?"
তাহিন চুপ।নিনিতা দোল খেতে খেতে বললো,
___"থ্যাঙ্কিউ।"
তাহিন ভ্রু কুঁচকে তাকালো নিনিতার দিকে।নিনিতা বললো,
___"আন্টি বলেছেন।আমাকে বাসায় আনার প্ল্যানটা আপনার ছিলো।আন্টি শুধু আঙ্কেলকে ফোর্স করেছেন।"
তাহিন হালকা হেসে মাথার চুল চুলকালো।নিনিতা দোলনার একপাশে তাহিনকে বসার জন্য জায়গা দিলো।তাহিন ঝটপট বসে পরলো।নিনিতা আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো,
___"জীবনের প্রথম আমি একটা পরিবারের সাথে এতোটা গভীরভাবে মিশতে পারলাম।এতোটা সময় স্পেন্ড করলাম,আঙ্কেল-আন্টি খুব ভালো মনের মানুষ।আমি কখনো মায়ের আদর পাইনি।আন্টি আমাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছে,আধঘন্টা সময় নিয়ে মাথায় তেল দিয়ে দিলেন।বিকেলে ঘুমোনের সময় কাছে টেনে জড়িয়ে ধরলেন।ছাদে উঠার আগে আঙ্কেল আমার সাথে দাবা খেললেন।তিনি জিতেও হেরে গিয়ে আমাকে জিতিয়ে দিলেন।তাহিন আপনার জীবনটা কতটা মধুর তা উপলব্ধি করতে পারলাম।আপনাকে ভালোবাসার কতগুলো মানুষ আছে।জানেন আফসোস হচ্ছে আমার জীবনেও যদি এমন মানুষ থাকতো।ট্রাস্ট মি তাহিন, আমি তাদের কখনোই হার্ট করতাম না।সারাজীবন আগলে রাখতাম।"
তাহিন কিছু বললো না।চুপ করে রইলো।দোলনা থেকে উঠে নিনিতা ছাদের রেলিং ধরে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইলো।বেশকিছু সময় কাটিয়ে তাহিন বললো,
___"নিচে যাওয়া যাক।"
নিনিতা অন্ধকারে চোখ মুছে তাহিনের সাথে নিচে নেমে গেল।
তাম্মি চৌধুরী নিনিতার জন্য পিঠেপুলি, পাটিসাপটা পিঠে বানিয়েছেন।আশফাক চৌধুরীকে দিয়ে আগেই খেজুরের রস আনিয়েছেন।নিনিতার বেশ ভালো লাগছে।
রাত এগারোটার দিকে
তাহিন নিনিতাকে বাসায় পৌঁছে দেয়ার জন্য বাসা থেকে বের হলো।নিনিতা বললো,
___"আপনি শুধু শুধু কেনো কষ্ট করতে যাবেন, ড্রাইভারই তো আমাকে বাসায় দিয়ে আসতে পারে।"
তাহিন ভ্রু কুঁচকে বললো,
___"আমি গেলে কি খুব বেশি অসুবিধে হবে?"
___"এমা অসুবিধে হবে কেন?আমি তো আপনার কথা ভেবে বললাম।"
___"আমার কথা এতো তাড়াতাড়ি ভাবতে হবে না।আমাকে নিয়ে পরে ভাবলেও চলবে।"
তাহিন গাড়ির দরজা খুলে নিনিতাকে বসার জন্য বললো।নিনিতা তাহিনের দিকে তাকালো।তাহিন এবার সাহস নিয়ে নিনিতার হাত ধরে বললো,
___"ভয় পেও না।তুমি যতোটা বাজে ভাবছো আমি ততোটা বাজে নই।কেউ কাছে না টানলে আমি কাছে যাই না।"
নিনিতা বসে পড়লো।তাহিন ড্রাইভ করতে লাগলো।দুজনেই চুপ।তাহিন বললো,
___"শুধু চুপ করেই থাকবে?কিছু তো বলো।"
সামনের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে পাশ ফিরে দেখে নিনিতা জানালার কাঁচে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেছে।তাহিন গাড়ি থামিয়ে বেশ কিছুক্ষণ নিনিতার দিকে চেয়ে রইলো।নিনিতার মাথাটা নিজের কাঁধে রাখলো। তারপর বাঁকা হাসি দিয়ে গাড়ি চালাতে শুরু করলো।
নিনিতার বাসার সামনে গাড়ি থেমেছে প্রায় পনের মিনিট।তাহিন জানালা খুলে দিলো।তাহিন নিনিতার সিট বেল্ট বাম হাত দিয়ে খুলে ফেলল।নিনিতা এবার ঘুমের ঘোরে নড়েচড়ে তাহিনকে জাপ্টে ধরলো।তাহিনের মেরুদণ্ড বেয়ে শীতল ঠান্ডা হাওয়া বয়ে গেল।তাহিন ডান হাত দিয়ে নিনিতার খোঁপা খুলে দিলো।নিনিতার চুল গুলো ঠান্ডা হাওয়ায় উড়তে লাগলো।তাহিন নিনিতার গাল ছুঁতেই হাতটা কেঁপে উঠলো।নিনিতার গাল ঠান্ডা বরফ।তাহিন আস্তে আস্তে নিনিতাকে ডাকতে লাগলো,
___"নিনিতা,এই নিনিতা উঠো।তোমার বাসায় পৌঁছে গেছি।"
নিনিতা নড়েচড়ে তাহিনকে দেখে আর তাহিনের সাথে লেপ্টে আছে দেখে তাহিনকে ধাক্কা দিলো,নিজেও গাড়ির ভেতরে ছিটকে দূরে সরে গেল।তাহিন ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বললো,
___"কুল,কুল।কিচ্ছু হয়নি।আমি এক্সপ্লেইন করছি,তুমি ঘুমিয়ে গিয়েছিলে।বার বার জানালার সাথে বারি খাচ্ছিলে দেখে আমি তোমার মাথাটা আমার কাঁধে রাখি।আর তোমার বাসার সামনে এসে তোমাকে ডাকতেই তুমি নড়েচড়ে আমাকে ধরো।ইজ সিম্পল ম্যাটার।লিভ ইট।"
নিনিতা গাড়ি থেকে নামলো।তাহিনও নেমে দাঁড়ালো।নিনিতা তাহিনকে থ্যাংকস বলে চলে যাচ্ছিলো।তাহিন নিনিতাকে ডাক দিলো।তারপর বললো,
___"বলেছিলাম না তোমায়,বাজে ছেলে হতে পারি কিন্তু ধর্ষক নই।আমি বাঘ-ভালুক নই তোমার মতো রক্তে মাংসে গড়া মানুষ।"
কথাগুলো বলে তাহিন নিনিতাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চলে গেল।
______________________________________
একটা রেস্টুরেন্টে বসে আছে তাহিন,নবীন,নিনিতা।নবীন বেশ কিছুক্ষণ পরে বললো,
___"সমস্যা কি নিনিতা,একটা মাত্র অ্যালবামের গানই তো।"
___"ভাই আমি ক্যামেরার পিছনে থাকা মানুষ।ক্যামেরার সামনে না।তাছাড়া তাহিনেরও তো শুটিং আছে।"
নবীন তাহিনের দিকে তাকালো।তাহিন বললো,
___"আমার সমস্যা নেই।ডিরেক্টর কামাল শেখ অসুস্থ।তিনি চিকিৎসার জন্য জাপান গেছেন।আপাতত শুটিং বন্ধ।"
নিনিতা নবীনকে বললো,
___"ভাইয়া আমি তোমায় নতুন মডেলের সন্ধান দিতে পারি।"
নবীন রেগেমেগে বললো,
___"তুই চুপ থাক।একটা কথাও বলবি না।আসছে নতুন মডেল দিতে।মডেলয়ালি।"
___"ভাইয়া তুমি শুধু শুধু হাইপার হচ্ছো।তাহিন আমি ভাইয়ার সাথে একটু কথা বলবো।"
___"ইয়াহ সিউর।ইউ ক্যারি অন।"
তাহিন উঠে চলে গেল।
নিনিতা নবীনকে বললো,
___"পাগলামি করছো কেনো?তুমি জানো আমার মাঝে অভিনয় করার ক্ষমতা নেই,ফিলিংস নেই।হোয়াই ইউ ফোর্স মি?"
___"বিকজ আই ওয়ান্ট।তোর মাঝে ফিলিংস আসুক তুই ভালো থাক।আর এটা মাত্র তিন মিনিটের গান শুট করতে কতক্ষণ লাগবে শুনি?"
___"তুমি পাগল হয়ে গেছো।তুমি তো সবটাই জানো তবুও এই পাগলামি করছো।আমার রঙচঙ ক্যামেরার পিছনেই ভালো লাগে,সামনে না।তবুও তুমি যেহেতু ফোর্স করছো কাজটা আমি করতাম।কিন্তু তাহিন আর আমার মধ্যে কেমিস্ট্রি ভালো না।"
নবীনের মুখে হাসির ঝিলিক। নবীন বললো,
___"কেমিস্ট্রি ভালো হয়ে যাবে।ডোন্ট ওয়ারি।"
নিনিতা ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই নবীন বললো,
___"আই ক্যান নট সে লাভ কেমিস্ট্রি।ফ্রেন্ডলি হয়ে যাবি ওটা বললাম।"
___"ওকে ডান।"
নবীন নিনিতাকে খুশি হয়ে জড়িয়ে ধরলো।এবার নবীনের পরিচয় দেই।নবীন হলো নিনিতার ফুফাতো ভাই।তিনি ছয়টি গান দিয়ে একটা অ্যালবাম বানাবেন।একটা গানে নিনিতা এবং তাহিনকে রাখতে চান।
তাহিন দূর থেকে দেখলো।নবীন নিনিতাকে জড়িয়ে ধরেছে।তাহিন কিছু বললো না।চট্টগ্রাম যেতে হবে।বাকি কাজ চট্টগ্রাম।
নিনিতা-তাহিন একসাথে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন গেল।রাতে ট্রেনেই চট্টগ্রাম যাবে।রাত ৯:৩০ নয়টায় ট্রেন ছাড়বে।মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠে খুব সহজেই নবীনদের পেয়ে গেল।নিনিতা অবাক হয়ে বললো,
___"ভাইয়া হানিমুনে যাচ্ছো নাকি?কেমন আছো ভাবি?"
নবীন বললো,
___"জোড় ভেঙ্গে বিজোড় হবার প্রচেষ্টায় যাচ্ছি।"
নবীনের স্ত্রী মাধুবী নবীনের কথায় অনেক লজ্জা পেল।নিনিতাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
___"আলহামদুলিল্লাহ। তুমি কেমন আছো?"
___"আলহামদুলিল্লাহ।"
তাহিন নবীনের স্ত্রী আছে দেখে খুশি হলো।এরই মধ্যে কেউ একজন বললো,
___"আমি যে চিতায় এখনো উঠিনি তার খেয়ালকি আছে?"
নিনিতা 'আরে শিবুদা' বলে হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলো।
শিবুকে হাত মিলাতে দেখে একটা মেয়ে কড়া গলায় বললো,
___"শিবু তুমি কার হাত ধরেছো?"
শিবু ভয়ে ভয়ে বললো,
___"পূর্ণা,উনি আমার দিদি।"
পূর্ণা মিষ্টি হেসে নিনিতাকে বললো,
___"নমস্কার দিদি।"
নিনিতা আহাম্মক হয়ে গেল।ও শিবুদার দিদি কবে হলো।মাধুবী নিনিতার কানে কানে বললো,
___"শিবুর গার্লফ্রেন্ড পূর্ণা।হেব্বি ডেঞ্জারাস।আমাদের শিবু এবার ফেঁসে গেছে।"
অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা চললো।বেচারা শিবু আড্ডাতে উপস্থিত থাকতে পারলো না।তাহিন আর নিনিতা পাশাপাশি বসেছে।অনেক আগেই তাহিন ঘুমিয়ে গেছে।নিনিতা তাহিনের মাথা নিজের কাঁধে রাখলো।তাহিনের নিঃশ্বাস ঘাড়ে পরতেই সেদিনের মতো ভয়ংকর অনুভূতি হতে লাগলো।হাত-পা বরফের মতো জমে আসছে।ভেতরটা কাঁপছে।নিনিতা কাঁপা কাঁপা হাতে তাহিনের মাথাটা সরিয়ে দিলো।
ট্রেনের সবাই ঘুমিয়ে গেছে।সামনে থাকা নবীন-মাধুবী কি সুন্দর একে অপরকে ধরে ঘুমিয়ে আছে।ট্রেন দ্রুত গতিতে সামনে এগুচ্ছে।
নিনিতাও এক সময় জানালার সাথে মাথা ঠেকিয়ে ঘুমিয়ে যায়।
রাত ১: ২০ মিনিটে তাহিনের ঘুম ভাঙে।সবাই তখন গভীর ঘুমে।তাহিন ব্যাগ থেকে পাতলা চাদর বের করে নিনিতাকে কাছে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরে।নিনিতার মাথা তাহিনের বুকে।নিনিতা ঘুমের ঘোরে তাহিনের বুকে নাক দিয়ে ঘষা দেয়।তাহিন তখন শক্ত হয়ে বসে থাকে।তারপর আস্তে আস্তে নিনিতার মুখটা উপরে তোলে।তারপর নিনিতার গালে ঠোঁট ছোঁয়ায়।তাহিনের মনের মাঝে একপ্রকার তরঙ্গ সঞ্চার ঘটে।ও নিনিতার চোখে-মুখে-নাকে ঠোঁট ছোঁয়ায়।পুরো মুখে দশ পনেরটা চুমু দিয়ে নিনিতাকে বুকের সাথে চেপে রাখে।
তাহিন মনে মনে বললো,
___"জীবনে তো আর কম পাপ করিনি।এর থেকে মারাত্মক পাপ করেছি।তবুও এটাকে ভয়ংকর বলে মনে হচ্ছে।"
কথাটা বলে নিনিতার কপালে চুমু দিলো।তারপর তাহিন চোখ বুজে রইলো।
.
.
চলবে,,,,,,,
Ex গার্লফ্রেন্ড
EX গার্লফ্রেন্ড যখন বস
পর্ব_০২
এ কথা বলে আমি হাটা দিলাম, ফারিয়া কান্না করছে আর আমাকে ডাকতেছে, আমি কিছু না বলে চুপচাপ হাটতে লাগলাম।
সেদিন ফারিয়া আমাকে অনেকবার কল দিয়েছিলো কিন্তু আমি ধরিনি। পরে ওর নাম্বার ব্লক দিয়ে দিলাম।
আসলে আমিও ফারিয়াকে অনেক ভালোবাসি। কিন্তু এই ভালোবাসা ফারিয়াদের পরিবার কখনো মেনে নিবে না। কারণ ফারিয়া হচ্ছে ধনী পরিবারের মেয়ে। তার দাদার অনেক নাম ডাক।
আমার মতো গরিব ছেলের কাছে জীবনেও ওদের মেয়ে তুলে দিবে না।
এছাড়া আমারও কোনো চাকরী বাকরী নেই। টিউশনি করিয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ নিজেই চালাই। আবার বাড়িতে পাঠাতে হয়।
ঘরে বাবা মা অসুস্থ এবং ছোট বোনটার পড়ালেখার খরচ চালানো। সব কিছু মিলিয়ে ফারিয়াকে বিয়ে করা জীবনেও সম্ভব নয়।
তারচেয়ে ভালো, ও ওর মতো থাক, আমি আমার মতো। ফারিয়া আমার ছেয়ে ভালো কোনো ছেলেকে বিয়ে করতে পারবে।
আমাকে বিয়ে করা মানে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারা। সব দিক দিয়ে চিন্তা করলাম ফারিয়ার সাথে আর রিলেশন continue না করাই উচিত।
সেদিন আমিও অনেক কেঁদেছি, কিন্তু পরিবারের কথা চিন্তা করে পাথর হয়ে গেছি। এখনো ফারিয়াকে ভালোবাসি, কিন্তু এখন আর কিছুই করা সম্ভব নয়।
অনেক কষ্টে চাকরিটা পেয়েছি। কিন্তু সেটাও দেখি ফারিয়াদের কোম্পানি। কি আছে কপালে আল্লাই ভালো জানে।
পুরনো কথা গুলো ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি মনে নেই।
পরের দিন শুক্রবার ছিলো, তাই অনেক দেরি করে ঘুম থেকে উঠলাম। আয়মানকে কল দিলাম...
আমিঃ হ্যালো দোস্ত কি অবস্থা?
আয়মানঃ এইতো আছি, তোর কি অবস্থা?
আমিঃ মোটামুটি, বিকালে দেখা করিস কথা আছে।
আয়মানঃ বিকালে আমাদের বাসায় চলে আসিস, বাইরে যাবো না আর আম্মাও তোকে আসতে বলেছে।
আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে আসবো।
আয়মানঃ ওকে।
এরপর দুপুরে নামাজ পড়ে খাওয়া দাওয়া করে একটু ঘুমিয়ে নিলাম। বিকালে আয়মানদের বাসায় গেলাম...
কলিংবেল বাজালাম, একটু পর আন্টি এসে দরজা খুলে দিলো...
আন্টিঃ আরে অনি! কতো দিন পর আসলে। আসো আসো ভিতরে আসো।
আমিঃ তো আন্টি কেমন আছেন?
আন্টিঃ এই তো আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?
আমিঃ জ্বি আমিও ভালো আছি। আয়মান কোথায়?
আন্টিঃ ও ছাদে আছে, যাও উপরে যাও।
এরপর আমি উপরে গেলাম। দেখলাম আয়মান বসে বসে গান শুনতেছে...
আমিঃ কিরে কি করিস?
আয়মানঃ কিরে আসছিস? এই তো বসে আছি।
আমিঃ হুম মাত্র আসলাম।
আয়মানঃ তো বল আর কি অবস্থা?
আমিঃ তোর সাথে কিছু কথা ছিলো।
আয়মানঃ তো বল! এতো অনুমতির কি আছে?
আমিঃ আমি যে তোকে আগে আমার gf. এর কথা বলতাম মনে আছে?
আয়মানঃ হুম, তুই যে কোনো কারণ ছাড়া ব্রেকআপ করে দিলি ওটা?
আমিঃ হুম ওটা।
আয়মানঃ তো এখন কি হইছে?
আমিঃ তোকে যেই ফারিয়ার কথা বলতাম সেই ফারিয়াই হচ্ছে আমাদের বর্তমান বস।
আয়মানঃ কিহ! তুই কি সত্যি বলছিস?
আমিঃ হুম।
আয়মানঃ তাহলে তো ভালোই, এখন আনার রিলেশন continue কর। অফিসের মালিক তুই হয়ে যাবি।
আমিঃ তুই কি পাগল, আমার চাকরি থাকে কিনা সেটা নিয়ে চিন্তায় আছি। আর তুই বলছিস রিলেশন করতে।
আয়মানঃ ফকিন্নি তখন ব্রেকআপ করলি কেন? এবার মজা বোঝ।
আমিঃ আরে ব্যাটা ইচ্ছা করে করছি নাকি, ওর ভালোর জন্যই তো করছি। দোস্ত যদি চাকরিটা চলে যায়।
আয়মানঃ আরে তুই পাগল নাকি, চাকরি কি বললেই চলে যাবে। দেখনা কি হয়।
আমিঃ হুম, মনে হয় না বেশি দিন টিকবে।
আয়মানঃ সেটা পরে দেখা যাবে। আগে নিজেকে স্টিল রাখ।
আমিঃ হুম।
সেদিন আয়মানদের বাসা থেকে আসতে অনেক রাত হয়ে গেছে। বাসায় এসেই ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরের দিন ঘুম থেকে উঠতে অনেক দেরি হয়ে যায়, উঠে দেখি অলরেডি ৯.০০ টা বেজে গেছে। তাড়াতাড়ি রেড়ি হয়ে অফিসে গেলাম। প্রায় ১০.০০ টা বাজে। মোবাইল নিয়ে দেখি আয়মান অনেক গুলো কল দিছে।
silent মুড থাকার কারণে ধরতে পারিনি। যাওয়ার পর আয়মান বললো...
আয়মানঃ কিরে এতো দেরি কেন? তোকে ম্যাম ওনার রুমে যেতে বলেছে।
আমিঃ কেন বলেছে কিছু জানিস?
আয়মানঃ মনে হয় দেরি করে আসছিস তাই। গিয়ে দেখ।
আল্লাহ মোরে রক্ষা করো, চাকরিটা বাঁচাও। আস্তে আস্তে উনার রুমের কাছে গেলাম।
আমিঃ ম্যাম আসবো?
ফারিয়াঃ হুম আসুন।
কি কপাল মাইরি, যাকে প্রতিদিন ঠ্রেড দিতাম, তুই তুকারি করতাম, কথায় কথায় রাগারাগি করতাম আর আজ মাইনক্যা চিপায় পড়ে ওরের আপনি করে বলতে হচ্ছে।
তারপর আমি ভিতরে গেলাম, একটা চেয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। ম্যানেজারও সেখানে ছিলো।
ফারিয়াঃ রফিক (ম্যানেজার) সাহেব! উনাকে কাগজটা দেন।
ম্যানেজার আমাকে একটা কাগজ ধরিয়ে দিলো। শেষ পর্যন্ত চাকরিটা চলে গেলো। মা বাবার চেহারা গুলো চোখের সামনে ভাসতে লাগলো।
আমি ভয়ে ভয়ে কাগজটা পড়তে লাগলাম, পড়েই আমার চোখ কপালে উঠে গেলো।
কারণ আমাকে ফারিয়ার সেক্রেটারি বানানো হলো, সব সময় উনার সাথে থাকতে হবে। কিন্তু কেন এটা করলো বুঝতে পারলাম না। মন খারাপ হয়ে গেলো।
কাগজটা নিয়ে বেরিয়ে আসলাম, আয়মান জিজ্ঞেস করলো...
আয়মানঃ কিরে কি বলেছে?
আমিঃ (কাগজ টা ওর হাতে দিলাম)
আয়মানঃ বাহ! তোর তো প্রমোশন হয়েছে। বিকালে ট্রিট দিবি।
আমিঃ নারে দোস্ত, আমাকে সেক্রেটারি বানাইছে মানে কোনো কাহিনী আছে। তুই ও কে ছিনিস না। ও ঠিকই প্রতিশোধ নিবে।
আয়মানঃ আরে ব্যাটা তোর মাথায় এগুলো ছাড়া ভালো কোনো চিন্তা আসেনা। কিছু করবে না। চুপচাপ কাজ কর।
এরপর কাজ শুরু করে দিলাম..
একটু পর পিয়ন এসে বললো..
পিয়নঃ ম্যাম আপনাকে ডাকছে?
আমিঃ কেন? কাজ করতেছি ম্যাম দেখতেছে না?
পিয়নঃ কেন সেটা ম্যাম কে জিজ্ঞেস করেন।
আমিঃ ওকে যাচ্ছি, আপনি আসতে পারেন।
একটু পর ফারিয়ার কাছে গেলাম....
আমিঃ ম্যাম ডেকেছেন?
ফারিয়াঃ হুম, আপনাকে আমার প্রাইভেট সেক্রেটারি বানানো হয়েছে। আজকে তেমন কোনো কাজ নেই। কাল সকালবেলা আমার বাসার সামনে থাকবেন।
আমিঃ কিন্তু ম্যাম আমার কাজ তো অফিসে।
ফারিয়াঃ ভুলে যাবেন না আপনি আমার সেক্রেটারি। সো যেটা বলেছি সেটা।
আমিঃ ওকে ম্যাম।
পরের দিন ফারিয়াদের বাসার সামনে গেলাম।
চলবে........
মন্ত্রির ছেলে
গল্প: #মন্ত্রির_ছেলে
:
লেখক: #কামরুল
:
part:1
:
কলেজে ঢুকবো এমন সময় পিছল থেকে মিম ডাক দিল।
মিম:এই তোমাকে না বলেছি কলেজে আসতে না?
আমি:জি,কলেজটা আপনার বাবার না।
মিম:তোমার সাহস তো মন্দ না?
আমি:এখানে সাহসের কি হলো?
মিম:তুমি জানো আমি কে?
আমি:না,আর জানার চেষ্টাও করি না।
মিম:কি?এত বর কথা।আজি তুমাকে এই কলেজ থেকে বের
করব!দারাও
আমি:হা হা হা!!জান জান
মিম রাগে ফুসতে ফুসতে প্রিন্সিপালের রুমের দিকে
গেল।অহ!আমার পরিচয়টাই ত দেওয়া হই নাই।আমি আহাদ
আর ও মিম।ভার্সিটির প্রথম থেকেই আমার সাথে এরকম
করে কিন্তু বেশি কিছু করে না।ওর বাবা পুলিশ কমিশনার
আর ও একটু বেশি শুন্দর তাই অহংকার সাথে ভাব একটু
বেশি।অনেক প্রপোস পেয়েছে কিন্তু acpt করে না।বেশি
distrub করলে নাকি ওর বাবাকে দিয়ে শাহেস্তা করে।
আমি দেখতে স্মার্ট কিন্তু থাকি খেত হয়ে।এই কারনে ও
আমাকে দেখতে পারে না।এরই মধ্যে পিওন এসে বলে
গেল প্রিন্সিপাল আমাকে ডেকেছেন।তাই উনার রুমের
দিকে গেলাম:
আমি:may I come in,sir?
প্রিন্সিপাল:ys,come in.
আমি:স্যার,আমাকে নাকি ডেকেছিলেন?
প্রিন্সিপাল:হুম
আমি:কিসের জন্য?
প্রিন্সিপাল:তুমি নাকি মিম কে distrub করো?
আমি:জি না,তিনিই আমার সাথে আগে কথা বলতে
আসেন
প্রিন্সিপাল:ওকে,nxt যদি শুনি তুমি মিমকে distrub
করসো তাহলে তোমাকে t.c দিয়ে বের করে দিব
আমি:ঠিক আছে
প্রিন্সিপাল:এখন তুমি আসতে পার
আমি:ওকে
চলে আসলাম।আমার সাথে মিমও বের হলো।বাহিরে
এসে:
মিম:তা মি.আহাদ,কেমন দিলাম?
আমি:ভালো
মিম:এরপর থেকে জেন আমার সামনে না দেখি
আমি:চেস্টা করবো
চলে আসলাম বারিতে।ফ্রেশ হয়ে খাবার খেতে গেলাম।
তখন:
বাবা:আমার গুনধর ছেলে,আর কত দিন এইভাবে চলবে?
আমি:কি কত দিন চলবে?
বাবা:এই খেত হয়ে থাকা
বাবা:তুমি তো জানও আমার এরকম থাক্তেই ভাল লাগে
বাবা:তা তো জানি।কিন্তু সবাই কি বলে জানিস?আমার
নাকি টাকা নাই হইয়া গেছে
ভাইয়া:হুম।ওকে একদম বাজে দেখা জায়
আম্মু:ওটাই ভাল।কোন মেয় নজর দিবে না
ভাবি:আম্মা,এখনকার ছেলেরা এরকম হয় নাকি,যে রকম
আমার দেবর
আমি:তোমরা কি শুরু করলে?১ মাস পর থেকে সব চেইঞ্জ
করে ফেলব
খাবার খেয়ে রুমে চলে আসলাম।আপনাদের তহ আমার
পরিবার সম্পকে কিছু বলা হয় নাই।আমার পরিবারে মা-
বাবা,ভাইয়া,ভাবি,ভাতিজা আর আমি।বাকিটা পরে
জানতে পারবেন।তারপরের দিন কলেজে গেলাম।গেট
দিয়ে ঢুকতে জাবও তখনি খেলাম ধাক্কা।তাকিয়ে
দেখলাম মিম।তারপর:
★
চলবে.......
ভাল থেকো ভালবাসা
ভালো থেকো, ভালবাসা
..........................................
১
অনেক সেজেগুজে বাসর ঘরে বসে আছি, কিন্তু আমার বরের কোনো খবর নাই। এ ছেলে নির্ঘাত আনরোমান্টিক হবে।
............
যাহোক উনি অবশেষে আসলেন।
এসে ঘরে ঢুকেই বলল -
"আমি কারো সাথে বিছানা ভাগ করে ঘুমাতে পারব না।"
আমি তো আর অবুঝ নই ; না বলা কথাটুকু ঠিকই বুঝে গিয়েছি। বিছানা থেকে নেমে সালাম করে আবারও সেই বিছানাতেই বসেছি।
উনি মনে হয় এরকমটা আশা করেন নি। এজন্যই হয়তো ভুরু কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন "কথা কানে যায় নি??"
আমি হাই তুলতে তুলতে বললাম,
-"কানে গিয়েছে তো, আপনি এক কাজ করুন.. নিচে শুয়ে ঘুমিয়ে পরুন। আমি বিছানা পেতে দিচ্ছি।"
উনি আমার আস্পর্ধা দেখে বিরবির করে কি যেন বললেন, স্পষ্ট শুনতে পাই নি।
উনি মনে হয় রেগে আছে খুব।
রেগে থাকারই তো কথা। উনার জায়গায় আমি হলে হয়তো বিয়েটাই ভেঙে দিতাম।
বিয়ের আগে যদি কোনো মেয়ে তার হবু বরকে বলে যে, "আপনি কি জন্ম থেকেই হাফ কানা?" তাহলে তো রাগ হবেই।
ব্যাপারটা খুলেই বলি....
উনি, উনার বাবা, মা ভাই আর বোন গিয়েছিল আমাকে দেখতে।
দেখাদেখির এক পর্যায়ে আমাকে আর উনাকে পাঠানো হল আলাদা করে কথা বলতে।
উফ্! কতক্ষন আর উনি উনি করব.. তারথেকে নামটা বলেই দেই।
ওর নাম শুভ্র।
যাহোক আলাদা করে কথা বলার সময়ই আমি উনাকে বলেছিলাম, "আপনি কি জন্ম থেকেই হাফ কানা? "
আমার এরকম অদ্ভূত প্রশ্ন করার কিন্তু কারন আছে। মেয়ে দেখতে এসেছে তাও চোখে চশমা পরে! চশমা চোখে না দিলে কি আমাকে দেখা যাবে না নাকি। এজন্যই তো হাফ কানা বললাম।
ও আমার প্রশ্ন শুনে গোমরা মুখে বলেছিল, "হুম"।
আমি তখনই বুঝেছিলাম এ ছেলে হাফ কানা তো বটেই, সাথে কিছুটা বলদ কিছিমেরও।
আমার কথাবার্তা, চিন্তাভাবনা কিছুটা অদ্ভূত। এজন্য বিয়ের আগে আম্মু বকত আর বলতো, "তোকে বিয়ে দিলে তো বিয়ের পরের দিনই পিছনের দরজা দিয়ে বের করে দিবে শশুরবাড়ির লোকেরা।"
আম্মুর এ কথায় আমি বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে বলতাম, "তাহলে যে বাসায় পিছনের দরজা নেই, ওরকম বাসায় আমাকে বিয়ে দিয়েন, হিহিহি।"
আম্মু তখন রেগে গিয়ে বলত, "তুই আর আমাকে মা বলবি না"।
আমি এ কথায় হিহিহি করে হেসে বলতাম, "ওকে আন্টি"।
বিছানায় শুয়ে শুয়ে এসবই ভাবছিলাম..
হঠাৎ-ই রুমের লাইট অফ হয়ে গেল। না, নিজে নিজে হয় নি ;শুভ্রই করেছে। আমি মুচকি হেসে ভাবছি
- "এখন তো আমার পাশেই শুয়ে ঘুমাতে হবে। কতক্ষন আর দাড়িয়ে থাকবে হুহ"।
বেশ খানিকট
infinitive love
💗Infinite Love💗
.
Writer: hasan
.
Part: 57
.
বলেই আমাকে বিছানায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো, উপুর হয়ে বালিশের ওপর পরে গেলাম, ও দ্রুত পদে শব্দ করে দরজাটা বন্ধ করে চলে গেলো। আমি ওভাবেই বালিশে মুখ গুজে শব্দ করে কাদতে লাগলাম কিন্তু আমার এই কান্না দেয়াল ভেদ করে কারো কাছে পৌছবে না আর যার কাছে পৌছবে তার কাছে এই কান্নার কোনো দাম নেই। আজ মনে হচ্ছে এর আগে আমি মরে কেনো গেলামনা। এর থেকে ভালো হতো যদি তুমি আমায় নিজের হাতে মেরে ফেলতে আদ্রিয়ান কিন্তু তুমিতো আমার বেচে থাকাটাকেও মৃত্যুর চেয়ে বেশি যন্ত্রণার করে দিলে। আমি তোমার হাত থেকে মুক্তি পাই বা না পাই, এই যন্ত্রণা থেকে কোনোদিন মুক্তি পাবোনা আদ্রিয়ান কোনোদিন না। বুকের মধ্যে অসহ্য এক ব্যাথা হচ্ছে যেনো কেউ কলিজায় ছুড়ি চালিয়ে দিচ্ছে, আদ্রিয়ান তুমি আমাকে বলেছিলে আর যাই করো বুকে আঘাত করোনা, কিন্তু তুমি নিজেই তো সেটা করলে, চরম আঘাত করেছো তুমি আমাকে আর আমি তোমাকে ক্ষমা করবো না কোনোদিন না।
.
ধীরে ধীরে কান্নার বেগ কমে গেলো এখন হিচকি উঠছে হালকা। অনেকক্ষণ পর দরজা খোলার আওয়াজে চোখ মুছে উঠে বসলাম। একটা মেয়ে ঢুকলো, কালো শার্ট কালো হাটু অবধি স্কার্ট চুলগুলো রিবন করা, ট্রে তে করে খাবার এনে খাটের পাশের টি-টেবিলের ওপর রেখে আমার সামনে এসে বলল
.
- ম্যাম!! স্যার আপনাকে খেয়ে নিতে বলে গেছেন।
.
স্যার শব্দটা শুনেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। ওর নাম শুনে যেটুকু খাওয়ার ইচ্ছে ছিলো তাও চলে গেলো। এমনিতেও মন ভালো না থাকলে আমি খাই না তেমন। আর এখন খাওয়ার মতো কোনো পরিস্হিতি বা রুচি কোনোটাই আমার নেই। তাই বললাম
.
- নিয়ে যান আমি খাবোনা এখন।
.
সেটা শুনে মনে হলো মেয়েটা ঘাবড়ে গেলো, রিকোয়েস্ট করে বলল
.
- প্লিজ ম্যাম এগুলো ফেরত নিয়ে গেলে কাল স্যার এসে আমাদের পানিস করবে। প্লিজ খেয়ে নিন।
.
বেশ অবাক হয়ে তাকালাম এতোটা ভয় পায় ওরা আদ্রিয়ানকে? এতোটাই রুড বিহেভ করে ওদের সাথে? পাবে নাই বা কেনো? টেরোরিস্ট একটা! আমি বেশ বিরক্ত হয়ে বললাম
.
- আচ্ছা রেখে যান।
.
- ওকে ম্যাম!
.
- আর আপনার আমাকে ম্যাম বলে ডাকার দরকার নেই, আমার নাম অনিমা। অনিমা বলেই ডাকতে পারেন আর এমনিতেও আমি আপনার ছোটই হবো তাই আমাকে তুমি করেও বলতে পারেন।
.
মেয়েটি কিছু না বলে চলে গেলো। আমি মাথা চেপে ধরে বসে আছি কিচ্ছু ভালোলাগছেনা। বাড়িতে সবাই নিশ্চই খুজছে আমাকে, কিন্তু এখান থেকে বেরোতেও পারবোনা, কোনো ভাবে ধরা পরে গেলে আদ্রিয়ান মেরেই ফেলবে আমাকে, এখনো বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে না যে আদ্রিয়ান এমন করতে পারে, কিন্তু সবটাতো আমার সামনেই হলো। এসব চিন্তা করেই চোখ দিয়ে দু ফোটা পানি গড়িয়ে পরল। ধ্যান ভাঙলো দরজায় নক করার আওয়াজে এখন আবার কে এলো? আদ্রিয়ান তো চলে গেছে! আমি চোখ মুছে বললাম
.
- কে?
.
- ম্যাম আমি অভ্র! আসতে পারি!
.
- জ্বী আসুন
.
বলার সাথে সাথেই অভ্র দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে দেখলো খাবার টি টেবিলে রাখা। মুখে একটা সুন্দর হাসি লেগেই থাকে ছেলেটার তবে আদ্রিয়ান একটু ধমক দিলেই মুখটা কাচুমাচু করে রাখে। মুখে হাসি রেখেই বলল
.
- খান নি এখোনো?
.
- এটা জিজ্ঞেস করতে এসেছেন? ( বিরক্ত হয়ে)
.
- নাহ আসলে...
.
বলেই একটা লাগেজ এনে রাখল খাটের ওপর, তারপর বলল
.
- এখানে আপনার দরকারী সব আছে আই মিন পোশাক, অন্যান্য সব।
.
আমি একবার লাগেজটার দিকে তাকিয়ে একটা নিশ্বাস দিলাম না জানি কতোদিন এভাবে আটকে রাখবে আমাকে। আমাকে চুপ থাকতে দেখে অভ্র বলল
.
- একটু পর সার্ভেন্ট এসে সব কাবার্ডে ভরে দিয়ে যাবে।
.
আমি ওর দিকে না তাকিয়েই বললাম
.
- তার দরকার নেই আমি পারবো
.
- কিন্তু ম্যাম স্যার তো..
.
আমি এবার একটু রেগেই বললাম
.
- বললাম তো আমি পারব
.
- অ্ আচ্ছা আচ্ছা। রাগছেন কেনো?
.
আমি বেশ বিরক্ত হয়ে হাত ভাজ করে খাটে হেলান দিলাম, আমিও কেমন জানি রুড হয়ে যাচ্ছি। অভ্র হেসে বলল
.
- ম্যাম..
.
- আমি আপনার টিচার নাকি বস যে ম্যাম ম্যাম করে যাচ্ছেন?
.
- বসের বউতো তাই! ( মুখ ছোট করে)
.
আমি কিছু না বলে একটা তাচ্ছিল্যের বাকা হাসি দিলাম, নিজেকেই নিজের কাছে একটা জোকার মনে হচ্ছে। বউ! হাহ! চোখ দুটো আবারো ছলছল করে উঠলো। অভ্র হয়তো ব্যাপারটা বুঝতে পারলো তাই ওর সেই হাসি মুখে গাম্ভীর্য চলে এলো, হাল্কা ইতোস্তত করে বলল
.
- ম্যাম আমার স্যার কিন্তু..
.
- প্লিজ! আপনার স্যারের সম্পর্কে কিছু শোনার ইচ্ছে নেই আমার এখন। আপনার কাজ হয়ে গিয়ে থাকলে আসতে পারেন!
.
- খাবারটা খেয়ে নেবেন কিন্তু... নইলে..
.
আমি চোখ গরম করে তাকাতেই অভ্র একটা কেবলাকান্ত হাসি দিয়ে বলল
.
- কিছু দরকার পরলে ডাকবেন আমি পাশের রুমেই আছি।
.
বলেই কেটে পরলো। ওর কান্ড দেখলে এখন যে কেউ হেসে দিতো কিন্ত হাসি পাওয়ার মতো মন মানসিকতা আমার নেই এখন তাই উঠে লাগেজটা খুললাম, একপাশে কতগুলো ফুল হাতা, হাফ হাতা শার্ট, গেন্জি আর ঢোলা টাউজার, ওপর পাশে টপস, কুর্তি জিনস, সালওয়ার সুট। কর্ণারে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, সাওয়ারজেল, ফেস ওয়াস, লৌশন, ক্রিম এক কথায় প্রয়োজনীয় সব আছে। আমার মনে হচ্ছে আমি এখানে অতিথী, যার সেবায় 10/12 জন কর্মচারী নিয়োজিত, কিন্তু আমাকে তো এখানে আটকে রেখে দিয়েছে তাও নিজের স্বার্থে এতো দরদ দেখানোর কী দরকার। এসব ভেবে আবারো একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। একে একে সব কাবার্ডে সাজিয়ে রেখে একটা এস কালার ফুল হাতার গেন্জি আর কালো টাওজার নিয়ে ওয়াসরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে চেন্জ করে বেরিয়ে এসে খাটে বসলাম। ফোনটাও নিয়ে গেছে আদ্রিয়ান কিচ্ছু ভালোলাগছে না, এবার ভালোভাবে চারপাশে তাকালাম, বেডটা বেশ বড়, রুমটাও বেশ সুন্দর করে সাজানো বিভিন্ন ফ্রেম আর শোপিছ দিয়ে, সোফা সেট, একটা টেবিল আর বুক সেলফ আছে। রুমের সাথে একটা ব্যালকনিও আছে ধীর পায়ে ব্যালকনিতে গেলাম। রেলিং ধরে চারপাশে তাকিয়ে দেখলাম যে গার্ডের অভাব নেই পালানোটা এককথায় প্রায় অসম্ভব। রুমে গিয়ে খাবারের প্লেটের দিকে একবার তাকালাম খাওয়ার কোনো ইচ্ছেই নেই আর ওর খাবার তো একদমি না তাই না খেয়েই চুপচাপ গিয়ে আবারো বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে পরলাম, সারাদিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ভেবে নিশব্দে চোখে পানি ফেলতে লাগলাম, কাদতে কাদতে কখন ঘুমিয়ে গেছি নিজেও জানিনা।
.
ঘুমের মধ্যেই হ্যাচকা টানে কেউ বসিয়ে দিলো আমায়, এমন আচমকা ঘুম থেকে ওঠার অভ্যেস নেই তারওপর হঠাৎ এভাবে টান মারাতে শরীর থরথর করে কাপছে, বুঝতে পারলাম সকাল হয়ে গেছে, ভালোভাবে চোখ ঝাপটে সামনে তাকিয়ে দেখি আদ্রিয়ান রাগী চোখে তাকিয়ে আছে, ভয়ে একটা ঢোক গিললাম আমি আর চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো। কেনো এমন করছে ও আমার সাথে ও তো জানে এমন আচমকা ঘুম থেকে ওঠার অভ্যেস নেই আমার। ও ধমক দিয়ে বললো
.
- খাবার টা খেয়ে ঘুমাও নি কেনো?
.
আমি মাথা নিচু করে ফেললাম, ও দাতে দাত চেপে বলল
.
- কী বলেছিলাম আমি? বেশি তেরিং বেরিং করতে বারণ করিনি? সাহস কী করে হলো আমার কথা না শোনার?
.
ওর একেকটা ধমকে কেপে উঠছি আমি, এই সেই আদ্রিয়ান যে আমি রাগ করে একবেলা না খেলে নিজের হাতে জোর করে খাইয়ে দিতো? ও ধমক দিয়ে বলল
.
- এখন চুপ করে আছো কেনো?
.
এবার ও টি টেবিল থেকে কাল রাতের সেই খাবারের ট্রে থেকে প্লেটটা নিলো, খাবারটা নিঃসন্দেহে নষ্ট হয়ে গেছে হালকা গন্ধও বেরোচ্ছে। ও প্লেটটার দিকে তাকিয়ে বলল
.
- মনে আছে প্রথম দেখায় কী বলেছিলাম? অপচয় পছন্দ করিনা আমি।
.
আমি ভ্রু কুচকে তাকালাম ওর দিকে ও আবারো বলল
.
- তাই এবার ব্রেকফাস্ট হিসেবে তুমি এই খাবারটাই খাবে।
.
আমি বেশ অবাক হয়ে তাকালাম ও এগুলো খাওয়াবে আমাকে? যেখানে আজ অবধি বাসি খাবারো খাইনি সেখানে এই নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবারটা খাবো? যদিও ওর দারা অসম্ভব কিছুই না। ও ওই প্লেট থেকে খাবার তুলে আমার মুখের কাছে ধরতেই মুখ ঘুরিয়ে নিলাম আমি, ও আমার গাল চেপে ধরে মুখটা ওর দিকে নিয়ে বলল
.
- হা করো!
.
- আদ্রিয়ান প্লিজ আমি খেতে পারবোনা এসব
.
- সেটা খাবারটা নষ্ট করার আগে মনে ছিলোনা?
.
বলেই জোর করে আমার মুখে ঢুকিয়ে দিলো, বাজে সাদ আর টকের কারণে মুখে রাখতে পারলাম না থু থু করে ফেলে দিলাম ওটা। ও আবারো প্লেট থেকে খাবার তুলে জোর করে মুখে ঢুকিয়ে দিয়ে বলল
.
- এবার ফেললে ঐ ফেলে দেওয়াটাই মুখে ঢুকিয়ে দেবো!
.
আমি আর ফেলার সাহস পেলাম না, প্রচন্ড খারাপ লাগছে, গিলতেও পারছিনা, এরকম জিনিস গলা দিয়ে নামে? মুখে নিয়ে বসে আছি চোখ দিয়ে অনরগল পানি পরছে। যখন বুঝলাম যে না খাইয়ে ও ছাড়বেনা তখন যেই গিলতে যাবো তখনি ও আবার মুখের সামনে প্লেট বারিয়ে দিয়ে বলল
.
- ফেলো!
.
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। ও ধমক দিয়ে বলল
.
- কী হলো ফেলো!!
.
আমি তাড়তাড়ি মুখ থেকে ফেলে দিলাম ও গ্লাসে করে পানি এগিয়ে দিয়ে বলল
.
- কুলকুচি করে নেও!
.
আমিও আর কথা না বাড়িয়ে তাই করলাম। এরপর ও আমার গাল ধরে মাথাটা উচু করে বলল
.
- এরপর থেকে না খেয়ে থাকার আগে অাজকের কথাটা মাথায় রেখো!
.
এমনিতেই হঠাৎ করে টেনে তুলে জাগানোর জন্যে শরীর কাপছে তার ওপর এই ব্যাবহার, সব ঝাপসা লাগছে আমার কাছে। ও কোথাও একটা ফোন করে বলল
.
- রুমে ব্রেকফাস্টটা পাঠিয়ে দাও!
.
এটুকু বলেই ফোনটা রেখে আমার দিকে তাকালো, আমি এখনো থরথর করে কাপছি মাথাটা ব্যাথা করছে। ও হঠাৎ করেই আমাকে দুই হাত দিয়ে ওর বুকের সাথে খুব শক্ত করে চেপে ধরল। আমি ছাড়িনোর চেষ্টা করতেই ও ধমকে বলল
.
- একটু নড়াচড়া করলে খুব খারাপ হয়ে যাবে!
.
আমি আর কিছু বললাম না এতই শক্ত করে ধরেছে যে দুই মিনিটের মধ্যেই আমার কাপুনি থেমে গেলো, আমার কাপুনি থামতেই ও আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলল
.
- যাও ফ্রেশ হয়ে এসো!
.
আমি আর কিছু না বলে চুপচাপ ফ্রেশ হতে চলে গেলাম। বেরিয়ে এসে দেখি ব্রেকফাস্ট দিয়ে গেছে। আমাকে দেখে বলল
.
- বসো!
.
আমি খাটে গিয়ে বসতেই একটা স্যান্ডউইচ ধরল আমার মুখের সামনে। আমার খুব মেজাজ খারাপ হচ্ছে এবার, এখন তো আর এসব নাটকের কোনো দরকার নেই তাহলে এসব করে কী প্রমাণ করতে চাইছে ও? আমি নিচু কন্ঠে বললাম
.
- আমি নিজেই খেতে পারব
.
- এখন কী আমায় ঐ বাসি খাবারটার মতো করে খাওয়াতে হবে নাকি হা করবে?
.
আমি ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি হা করলাম ও ধীরে ধীরে বেশ সময় নিয়ে পুরোটা খাইয়ে দিলো আমাকে। এরপর সার্ভেন্ট ডেকে সব পরিষ্কার করিয়ে নিলো। তারপর খাটে হেলান দিয়ে বসে ফোন টিপতে লাগলো, আমি অবাক হয়ে দেখছি ওকে, একে দেখে মনে হচ্ছে সবকিছুই স্বাভাবিক আছে, এতো কান্ড ঘটিয়ে একটা মানুষ এতোটা স্বাভাবিক কীকরে থাকে? আমি বেশ বিরক্ত হয়ে বললাম
.
- কেনো আটকে রেখেছেন আমাকে?
.
ও ফোনে চোখ রিয়ে ভ্রু কুচকে বলল
.
- আপনি?
.
- সবাইকে তুমি বলা যায় না, ওই শব্দটা কাছের মানুষদের জন্যে আর কারো কাছের মানুষ হবার যোগ্যতা আপনার নেই।
.
ও কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো এরপর ফোনে চোখ দিয়ে বলল
.
- ওহ। ( একটা নিশ্বাস নিয়ে) হোয়াটএভার তুমি আমাকে তুমি বলো বা আপনি I don't care!
.
- এবার বলুন আটকে কেনো রেখেছেন?
.
- নিজের স্বার্থে।
.
প্রচন্ড রাগ লাগছে আমার এই বেঈমান স্বার্থপর লোকটাকে কীকরে এতো বিশ্বাস করলাম? কীকরে ভালোবাসলাম?
.
- এতোটা সেলফিস আপনি? কারো ভালোবাসার পাবার অধিকার নেই আপনার! আর কারো বিশ্বাসের তো যোগ্যই না আপনি!
.
এবার এ ফোন থেকে চোখ সরিয়ে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল
.
- এতোটা বিশ্বাস না করলেও পারতে।
.
- ভূল করেছি।
.
- হুমম এবার সেই ভূলের মাশুল দেও।
.
- তা আপনার স্বার্থসিদ্ধি কবে হবে? আমি মরার পর?( ছলছলে চোখে কান্নাজরিত কন্ঠে)
.
ও আবার ফোনে চোখ রেখেই একটু হেসে বললো
.
- উমহুম আমি মরার পর।
.
আমি ভ্রু কুচকে তাকালাম ওর দিকে ও ফোন থেকে চোখ না সরিয়েই বলল
.
- এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো? আমার কথা এতো সিরিয়াসলি নেবার কিছু নেই!
.
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম
.
- বাড়িতে সবাই খুজছে না আমাকে?
.
- খুজছেতো! ইনফ্যাক্ট আমিও খুজছি, আমিতো তোমাকেই খুজতে বেরিয়েছি।
.
এটুকু বলে ফোন থেকে চোখ সরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে বলল
.
- সবাই এটাই জানে আরকি!
.
- সবার বিশ্বাস এভাবে ভাঙতে কষ্ট হচ্ছেনা আপনার? একবারো ভাবছেননা আপনার পরিবার, বন্ধুরা ওরা যখন এসব জানবে তখন ওরা কী করবে?
.
ও ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে আরো একবার ফোনে চোখ দিয়ে বলল
.
- কী আর করবে তোমার মতোই আমাকে স্বার্থপর বলবে, ঘৃণাও করবে হয়তো!
.
- এটা বলাকি স্বাভাবিক না?
.
ও আগের মতো একই ভঙ্গিতে বলল
.
- হ্যা! একদম স্বাভাবিক!
.
আমি মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে রইলাম। একটা মানুষ এতোটা খারাপ কীকরে হতে পারে? কারো বিশ্বাসের দাম দিতে জানেনা ও। ও হঠাৎ করেই উঠে গিয়ে সোফায় বসল ল্যাপটপ নিয়ে। বেশ ঘন্টা খানেকের মতো একমনে কাজ করলো। এরপর হঠাৎ কোথাও একটা ফোন করে কাউকে করে বলল
.
- কবে আসছো তোমরা?
- ....
- আজকেই? (অবাক হয়ে দাড়িয়ে গিয়ে)
- ....
- অব্ নো। কতোক্ষণ লাগবে আসতে?
- ....
- ওকেহ!
.
ফোনটা কেটেই আছাড় মারলো সোফার ওপর। দাত দিয়ে নিজের ঠোট কামড়ে ধরে ডায়ে বায়ে তাকালো। এরপর চুলগুলো নাড়তে নাড়তে সারা রুমে পায়চারী করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর কোমরে দুই হাত দিয়ে দাড়িয়ে গেলো, জিব দিয়ে ঠোট টা ভিজিয়ে উপরে তাকিয়ে একটা শ্বাস নিলো, তারপর সোফায় বসে মাথা থেকে ঘার পর্যন্ত দুই হাত দিয়ে একবার বুলিয়ে হালকা ঝুকে মাথাটা চেপে ধরল। আমি ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছি ওর দিকে হঠাৎ কী হলো? ও ওভাবেই কিছুক্ষণ বসে থেকে হঠাৎ কিছু একটা ভেবে দাড়িয়ে দাড়িয়ে গিয়ে ফোনটা তুলল তারপর কাউকে ফোন করে আসতে বলল। কিছুক্ষণের মধ্যেই দরজায় নক পরলো। আদ্রিয়ান বলল
.
- এসো!
.
সাথে সাথেই অভ্র ভেতরে এসে কিছু বলবে তার আগেই আদ্রিয়ান বলল
.
- উকিল আর কাজী দুটোই হাজির করো ইন ওয়ান আওয়ার! কেনো সেটাও নিশ্চই বলতে হবে না?
.
- স্যার আজকেই?
.
আদ্রিয়ান ভ্রু কুচকে তাকাতেই অভ্র হকচকিয়ে বলল
.
- ও্ ওকে স্যার।
.
- পেপারস সব রেডি থাকে জেনো!
.
- হুম..!
.
বলেই একপলক আমার দিকে তাকিয়ে চলে গেলো অভ্র। আমি তো অবাক উকিল যেকোন কাজেই আনতে পারে কিন্তু কাজী কেনো? আমার ভাবনায় ছেদ ঘটিয়ে আদ্রিয়ান বলল
.
- যাও গিয়ে একটা সালওয়ার সুট পরে নাও
.
আমি তো মহা অবাক আমি কেনো এখন সালওয়ার সুট পড়তে যাবো আজব? আমি ভ্রু কুচকে বললাম
.
- কেনো?
.
- যা বলছি চুপচাপ তাই করো, এক্সট্রা কথা বলবে না একদম!
.
- আমি পরতে পারবোনা এখন এসব!
.
- তুমি নিজে পরবে নাকি আমি পরিয়ে দেবো? ( ধমকে )
.
আমি বেশ ভয় পেয়ে গেলাম ওর কথায় আমি জানি ওর দ্বারা কিছুই অসম্ভব নয়! তাই উঠে গিয়ে কাবার্ড খুলতেই ও বলল
.
- লালটা পরো!
.
আমি ভ্রু কুচকে তাকালাম ওর দিকে কিন্তু কিছু বললাম না চুপচাপ লাল একটা থ্রিপিচ পরে বেরিয়ে এলাম। বেরোতেই আদ্রিয়ান আমাকে আগা গোড়া স্কান করে হাত ধরে সোফায় বসিয়ে দিলো, তারপর একটা বক্স খুলল, বক্সটার ভেতরে কিছু হালকা গহনা রাখা হয়তো স্বর্ণের। একটা পাতলা চেইন লকেট সহ, একজোরা কানের দুল, চারটা চিকন চুরি। আমি অবাক হয়ে বললাম
.
- এসব কী আদ্রিয়ান?
.
আমার কথায় পাত্তা না দিয়ে একে একে সব পরিয়ে দিলো আমায়। বাধা দিতে গিয়েছিলাম কিন্তু এক ধমকে চুপ করিয়ে দিয়েছে। সব পরিয়ে ওরনাটা মাথায় দিয়ে বলল, একবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল
.
- পার্ফেক্ট
.
আমি বেশ রেগে বললাম
.
- এখন আবার কোন নতুন ড্রামা শুরু করলেন আপনি?
.
ও আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয় বলল
.
- চুপচাপ এখানেই বসে থাকো, আমি আসার আগে নড়বেনা এখান থেকে তাহলে খুব খারাপ হবে তাহলে!
.
বলেই চলে গেলো। কী করতে চাইছে ও আমি যেটা চাইছি সেটাই যদি হয় তাহলে তো! প্রায় বিশ মিনিট পর ও এলো একটা সাদা পান্জাবী আর কালো জিন্স পরে মাথায় সাদা টুপিও আছে।ওকে এইভাবে দেখে আমি অবাক, এসেই আমার হাত ধরে বলল
.
- চলো!
.
যদিও কিছুটা আন্দাজ করতে পারছি তবুও বললাম
.
- ক্ কোথায়?
.
- বিয়ে হবে এখন আমাদের! ( স্পষ্ট জবাব)
.
- পাগল হয়ে গেছেন আপনি? বিয়ে করবো আমি তাও আপনাকে?
.
ও বাকা হেসে বলল
.
- এতো অবাক হওয়ার কী আছে? বিয়ে আমাদর ঠিক হয়েই ছিলো, তুমিও রাজী ছিলে
.
ওর অঙ্গুলে আমার পরানো আংটি দেখিয়ে বলল
.
- এটাই তার প্রমাণ!
.
- হ্যা হয়েছিলাম কারণ তখন আপনার মুখশের আড়ালের এই হিংস্র দানব কে দেখেনি তাই
.
- আমি হিংস্র দানব? ( শান্ত গলায়)
.
- তার চেয়েও খারাপ। আর তাই আপনাকে বিয়ে করার কোনো প্রশ্নেই ওঠেনা।
.
- বেশি কথা না বলে যা বলছি তাই করো।
.
- বললাম তো আপনাকে বিয়ে করা সম্ভব নয় আমার পক্ষে। যা খুশি করুন!
.
ও আমাকে হাত ধরে ওর দিকে ঘুরিয়ে বলল
.
- এর পরিণাম কী হতে পারে জানো?
.
আমি হাত ঝাড়া দিয়ে কাদতে কাদতে বললাম
.
- কী করবেন আপনি? মেরে ফেলবেন আমাকে? ফেলুন না, এমনিতে তো মেরেই ফেলেছেন আমার মনটাকে, শরীরটাকে আর বাচিয়ে কেনো রাখবেন? এটাকেও মেরে ফেলুন!
.
ও আমার গাল ধরে বলল
.
- যদি তোমাকে মারার হতো অনেক আগেই মেরে ফেলতাম এতোক্ষণ বাচিয়ে রাখতাম না।
.
এরপর ও আমার গাল ছেড়ে ওর কপালে স্লাইড করতে করতে বলল
.
- কিন্তু সুইটহার্ট এখন তোমার হোল ফ্যামিলি তোমার বাড়িতেই আছে রাইট? এখন ধরো যদি তোমাদের বাড়িতে একটা বিশাল ব্লাস্ট হয় তাহলে কেমন হবে?
.
আমার পিলে চমকে উঠলো, কাপাকাপা গলায় বললাম
.
- মান্ নে
.
- তুমি এতোটাও বোকানা যে মানে টা বুঝতে পারছোনা।
.
আমি অবাক হয়ে দেখছি ওকে, কীকরে একটা মানুষ এতো নিচ হতে পারে? আমার পরিবারকে শেষ করার কথা ভাবছে ও? আমি কাপা গলাতেই বললাম
.
- আপনি এমন কিচ্ছু করবেন না?
.
- তুমি আমার কথা না শুনলে আমি এটা করতে বাধ্য হবো! ইউ নো আমি খুব সেলফিস! নিজের স্বার্থের জন্যে সব করতে পারি। আধ ঘন্টার মধ্যেই সব শেষ করে দিতে পারি আমি। জাস্ট একটা কল করতে হবে আমাকে।
.
ওর কথা শুনে চোখ নিয়ে অনবরত পানি পরছে আমার, আমি কাদতে কাদতে বললাম
.
- আদ্রিয়ান ওরা সবাই খুব ভালোবাসে তোমাকে। আমার মা তোমাকে আর কাব্যকে কোনোদিন আলাদা চোখে দেখেনি, আর বাকিরাও আদ্রিয়ান বলতে পাগল,ওহির অন্তর কথা ভাবো ওরাতো বাচ্চা!
.
ও আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল
.
- বাহ আবার তুমিতে চলে এসছো? যাই হোক আমি জানি সেটা! কিন্তু কী বলোতো তুমি যদি আমার কথা মতো না চলো এসব ভূলতে আমার এক মিনিট লাগবেনা। সো আমি কল করব নাকি..
.
আমি এবার ওর সামনে হাত জোর করে বললাম
.
- আদ্রিয়ান প্লিজ! ওরাতো কিছুই করেনি, ফাইলটা তো আমি নিয়েছিলাম, যা ক্ষতি করার আমি করেছি তাই যা করার আমার সাথে করুন কিন্তু ওদের ছেড়ে দিন প্লিজ! আমার জন্যে ওদের কিছু হয়ে গেলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না আমি।
.
ও আমার হাত নামিয়ে বললো
.
- তো তুমি বিয়েতে রাজি?
.
আমি এবার অসহায় ভাবে তাকালাম ওর দিকে। তারপর ধীরে ধীরে সোফা ধরে বসে পরলাম। আমাকে কিছু বলতে না দেখে বললো
.
- ওকে ফাইন তাহলে আমি..
.
ও ফোন তুলতেই আমি বলে উঠলাম
.
- আমি রাজি...
.
এটা শুনে ও মুচকি হেসে বলল
.
- that like my lady...
.
এরপর আমাকে দাড় করিয়ে দিলো আমি কান্নাজরিত কন্ঠে বললাম
.
- ওদের কিছু...
.
- কাম অন! ওদের ক্ষতি করে আমার কী লাভ? কিন্তু ওরা ততোক্ষণি সেভ থাকবে যতক্ষণ তুমি আমার কথা শুনবে।
.
বলেই ও আমাকে কিছুই বলার সুযোগ না দিয়ে হাত ধরে নিয়ে যেতে লাগল। যেতে যেতেই আমি বললাম
.
- কেনো বিয়ে করছেন আমাকে? আবার কী গেইম খেলতে চাইছেন আমার সাথে আপনি?
.
ও পেছনে ঘুরে বাকা হেসে বলল
.
- আমি গেইম খেলি না। গেইম এর নিয়ম তৈরী করি আর সবাই সেই অনুযায়ী খেলতে থাকে।
.
বলেই আমায় নিচে নিয়ে গেলো নিচে গিয়ে দেখলাম সোফায় কাজী, উকিল, বসে আছে পাশে অভ্র দাড়িয়ে আছে, আর কিছু লোক। আমাকে নিয়ে এগোতে নিলেই আমি দাড়ায়ে গেলাম আদ্রিয়ান ভ্রু কুচকে পেছনে তাকাতেই বললাম
.
- আদ্রিয়ান প্লিজ এভাবে..
.
কিন্তু ও আমার কথা শেষ করতে দিয়েই টেনে নিয়ে গিয়ে গেলো, যারা বসা ছিলো তারা দাড়িয়ে গেলো, আমায়ে সোফায় বসিয়ে দিয়ে নিজেও আমার পাশে পায়ের ওপর পা তুলে বসতেই বাকিরা বসে পরল। উকিলের দিকে তাকাতেই উকিল তাড়াতাড়ি পেপার বের করে আদ্রিয়ান এর সামনে ধরল, আদ্রিয়ান হাত বাড়াতেই একটা পেন নিয়ে দিলো ওর হাতে, ও পেপারে একবার চোখ বুলিয়ে সাইন করে দিয়ে আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল
.
- সাইন করো!
.
আমি করুন চোখে ওর দিকে তাকালাম, কিন্তু ওর চোখের দৃষ্টি কঠোর ওকে কিছু বলে লাভ হবেনা তাই বাধ্য হয়ে সাইন করে দিলাম। চিৎকার করে কাদতে ইচ্ছে করছে আমার এখন। অভ্র হেসে বলল
.
- কনগ্রাচুলেশন স্যার আজ থেকে আইনত আপনি ম্যারিড।
.
আদ্রিয়ান বাকা হেসে এবার কাজী সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল
.
- এবার ধর্মীয় ভাবেও বিয়ে সম্পূর্ণ করে দিন!
.
এরপর ধর্মীয়ভাবেও বিয়ে হয়ে গেলো আমাদের। আদ্রিয়ান বেশ কয়েকবার ধমক দিলেও একমুহূর্তের জন্যেও কান্না থামিয়ে রাখতে পারিনি আমি,আজ আমার সাথে সেটাই হলো যেটা কল্পনাও করিনি আমি, নিজের বাবা মা পরিবার সকলকে ছেড়ে বিয়ে করতে হলো আমাকে, এই দিনটা নিয়ে কতো স্বপ্ন ছিলো আমার আর সেই স্বপ্নের প্রতিটা মুহূর্ত তোমাকে ঘিরেই ছিলো আদ্রিয়ান। কিন্তু তুমি নিজের হাতে সব শেষ করে দিলে। 'কবুল' শব্দটা বলার সময় বুক ফেটে কান্না আসছিলো। হ্যা আজ থেকে আমিও বিবাহিত, তাও সেই আমার স্বামী যাকে আমি ভালোবাসি, জীবনের প্রতিটা সপ্ন যাকে নিয়ে সাজিয়েছি। কিন্তু অবাক করা বিষয় এটাই যে আমি তবুও খুশি নই, কারণ ও আমাকে শুধু নিজের স্বার্থের জন্যেই বিয়ে করেছে আর আব্বুকে কী জবাব দেবো
Crush jokon bor
Crush যখন বর😍
#Season_4
#Part_52
তনু ফোনটা রেখে দিয়ে হাসতে হাসতে বারান্দায় চলে গেলো,
আর ভাবতে লাগল শিশিরের সাথে আজ একটু মজা করবে,,
তনু সব রেডি করে নিলো, এবার শুধু শিশির আসার পালা
শিশির দুপুরবেলায় বাসায় ফিরলো,,
রুমে ঢুকে দেখলো তনু নেই,
কি ব্যাপার আসার সময় তো ওকে ড্রয়িং রুমেও দেখলাম না, তাহলে গেলো কই
শিশির পিছন ফিরতে যাবে তার আগেই তনু একটা লাল ফিতা দিয়ে শিশিরের চোখটা বেঁধে দিলো
শিশির-কে?
তনু-আপনার বউ
শিশির-আচ্ছা তো দুপুরবেলা রোমান্স করতে মন চাইতেসে বুঝি?
তনু-লুকোচুরি খেলবো
শিশির-আমি কিন্তু তোমাকে নিমিষেই ধরে ফেলতে পারবো
তনু-দেখা যাক
শিশির হাত থেকে ব্যাগটা রেখে তনুকে খুঁজতে লাগলো
তনু রুম থেকে বেরিয়ে গেছে
শিশির ও আস্তে আস্তে রুম থেকে বের হলো,
কারন তনুর গায়ের ঘ্রান রুম থেকে চলে গেসে সেটা শিশির বুঝতে পেরেছে
তনু ঠিক যেদিকে যেদিকে যাচ্ছে শিশির ঠিক সেদিকেই যাচ্ছে
তনু হাঁপিয়ে গেসে পালাতে পালাতে,উফ এই ছেলেটা এত ফার্স্ট,ভালো করেই ফিতা বেঁধেছি,আমাকে তো দেখার চান্স নাই,তাহলে পিছে পিছে আসে কেমনে
তনু মা বাবার রুমের দরজার সামনে এসে হাঁপাচ্ছে,,পুরো বাসা শিশির চক্কর দেওয়াইসে
শিশির হাসতে হাসতে আসতেসে
তনু ভয়ে রুমের ভিতরে চলে গেলো
ভিতরে ঢুকতেই পা পিছলিয়ে দুম করে নিচে পড়ে বসে গেলো তনু,
শিশির-তনু??
রুমে মা বাবা নেই তারা ১১টার দিকে একটা দাওয়াতে গেসে, অপু আন্টির ছেলের আকিকায়
শিশিরের বাবা মদ খায়, তাই উনার সোফার পাশের সেন্টার টেবিলে এক গ্লাস মদ নেওয়া ছিল,আকিকাতে তাড়াহুড়ো করে রেডি হয়ে চলে যাওয়ায় এই গ্লাসের মদ খাওয়া হয়নি উনার,
তনু নিচে বসে ঢোক গিলতেসে শিশিরের মুখে হাসি দেখে,
শিশির শার্টের হাতা উঠাতে উঠাতে এগোচ্ছে
তনু টেবিলে তাকিয়ে দেখলো এক গ্লাস কোকাকোলা,
এটা যে মদ হতে পারে তা তনু জানে না,কারন শেখর চৌধুরীকে তনু অনেক অনেক ভালো জানেন,আর ভালো মানুষ যে মদ খায় সেটা তনু মানে না,,আর এ বয়সে কেনোই বা উনি মদ খাবেন?
তনু তাই একদমই ভাবেনি এটা মদ হতে পারে,
কোকাকোলা ভেবে ঢকঢক করে পুরা গ্লাসের মদটা খেয়ে নিলো,
মুখ মুছতে ব্রু কুঁচকিয়ে গ্লাসটার দিকে কিছুক্ষন চেয়ে রইলো তনু,এটা কি জিনিস ছিল,টেস্ট পুরা ফালতু,মনে হয় ডেট ওভার হয়ে গেসে,
শিশির-তনু?
৫মিনিট হয়ে গেসে শিশির রুমে হেঁটে তনুকে খুঁজেই পেলো না, তনু নিচে বসে চোখ মুখ ডলতেসে শুধু
তারপর উঠে দাঁড়ালো,
এগিয়ে গিয়ে শিশিরকে ধরে ফেললো
তনু-ধরে ফেলেছি😍
শিশির-মানে?
শিশির ওর চোখ থেকে ফিতা খুলে নিলো
শিশির-ধরবো তো আমি তোমাকে,তুমি আমাকে ধরসো কেন?
তনু দাঁত কেলিয়ে তাকিয়ে থেকে শিশিরের শার্টের বোতাম খুলায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো
শিশির -আবার কি,বোতাম খুলো কেন
তনু ২/৩টা বোতাম খুলে শার্ট টেনে ধরে ভিতরে নিজের মুখ লুকালো
শিশির-তনু?
তনু-উমমমম শিশিরবাবু
শিশির তনুর কথা শুনে চোখ কপালে তুলে তনুর মুখ টেনে নিজের দিকে ফিরালো
শিশির-আমাকে এখন এটা বলো না যে তুমি মদ খেয়েছো?
তনু-হুম খাইসি,কোকাকোলা
শিশির-কই পেলে?
তনু আঙ্গুল তুলে টেবিলের দিকে দেখালো
শিশির-মনে হয় বাবার বিয়ারের বোতলের মদ খাইসে,
খাইসে রে আমি শেষ!!!,বাবা যে ব্রান্ডের মদ খায় ওটা একবার খেয়ে আমারই নেশা হয়ে গেসিলো,its too dangerous, গোটা ২দিনেও এটার নেশা ছাড়ে না,শেষমেষ তনুই খেয়ে নিলো?আমি শেষ
তনু শিশিরের বুকে আবার মুখ ডুবালো
শিশির-তনু, তুমি না লক্ষী মেয়ে চলো আমার সাথে
শিশির তনুর হাত ধরে টেনে ওদের রুমে নিয়ে আসলো
তনু দুম করে নিয়ে বসে গিয়ে শিশিরের পা জড়িয়ে ধরলো
তনু-আমি যাব না কোথাও
শিশির -বেডে এসে শোও, আমি তোমার জন্য তেতুলের জুস আনতেসি,
তনু-কোনো জুস না, ঐবার জুস খাওয়ায় আমার নেশা কাটাইসো,এবার আমি নেশা কাটাতে দিব না, এই নেশাই ভালো,পৃথিবী হাল্কা লাগে,সব হাল্কা লাগে
শিশির-আমার পা ছাড়ো তনু
শিশির তনুকে ধরে এনে বিছানায় বসিয়ে দিলো
তনু মুচকি হেসে শিশিরের শার্ট টেনে ধরে ওকে কাছে নিয়ে আসলো
শিশির টান টা সামাল দিতে না পেরে তনুর গায়ে গিয়ে পড়লো
তনু-আহা কত কিউট লাগতেসে আমাদের দুজনকে
তনু বেডের পাশে থাকা দেয়ালের বিরাট বড় আয়নার দিকে চেয়ে কথাটা বললো
শিশির তনুর তাকানো দেখে নিজেও তাকালো আয়নার দিকে
তনু শুয়ে আছে তার উপর শিশির
শিশির-তোমার মাথা পুরা গেসে
শিশির উঠে দাঁড়িয়ে গেলো
তনু-যাও যাও তেতুলের জুস আনো,আমি তোমারে খাওয়াই দিব
শিশির-ওটা তোমার জন্য😒
শিশির নিজে রান্নাঘরে গিয়ে তেতুলের জুস বানিয়ে নিলো,চিনি দিলোই না,কারন ভালো করে টক না খেলে ওর মাথার থেকে নেশা নামবে না
শিশির অফিস থেকে এসে এখনও fresh ও হয়নি,,
রুমে ঢুকে দেখলো তনু নেই কোথাও,আবার গেলো কোথায় মেয়েটা উফ!!
শিশির টেবিলের উপর গ্লাসটা রেখে পিছনে তাকাতেই ওর চোখ কপালে উঠলো
তনু একটা ওড়না নিয়ে শাড়ী বানিয়ে পরেছে,ব্যাস!!
এই পাতলা ওড়না ছাড়া তার গায়ে একটা ছিটেফোটা কাপড় ও নেই
তনু মডেলদের মতো ঢুলে ঢুলে শিশিরের দিকে চেয়ে আছে
শিশির তনুর এমন বেশ দেখে হা করে টেবিল থেকে পানির গ্লাসের বদলে তেতুলের জুসটা নিয়ে ঢকঢক করে ৩ঢোক গিলে চোখ মুখ খিঁচে আবার রেখে দিলো,
ইস তনুর জন্য আনা এই টক চিনি ছাড়া তেতুলের জুস কিনা আমি খেলাম
শিশির কাশতে কাশতে খাটে বসে পড়লো
তনু-কি হইসে শিশির বাবু
তনু কথাটা বলতে বলতে এগিয়ে আসলো আর ওড়না ওর পায়ের নিচে পড়ে ঘুরে ঘুরে খুলে গেলো,একদম নিচে ফ্লোরে পড়ে গেলো
তনুর সেদিকে খেয়াল নেই,,হনহনিয়ে শিশিরের সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে
শিশির মাথার চুল একটু টেনে চোখটা খুলে তনুকে এমন অবস্থায়য় দেখে ওর চোখ আগে ছিল কপালে এবার আসমানে চলে গেসে
চিৎকার দিয়ে বিছনা থেকে বেড শিটটা নিয়ে তনুকে ঢেকে নিলো শিশির
তনু-কি হয়েছে,এমন চিল্লান কেন?
মা দরজা নক করতেসে,মনে হয় এসে গেসে
মা-কিরে শিশির চিৎকার দিলি কেন,কি হয়েছে,তনু ঠিক আছে তো ?
শিশির-(না মা কিছু ঠিক নাই,)না আসলে হুম সব ঠিক আছে
মা-দরজা খুল
শিশির কি করবে এখন??,তনুর গায়ে শুধু বেডশিট তাও সেটা নিয়ে তনু টানাটানি করতেসে, শিশির তনুর হাত ধরে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে বাইরে দিয়ে দরজা লক করে তারপর গিয়ে মাকে দরজা খুলে দিলো
মা ভিতরে ঢুকে বললো তনু কোথায়
শিশির-ও তো বাথরুমে গেসে
তনু-শাশুমা আমি বাথরুমে ইচ্ছে করে আসিনি,তোমার ছেলে আমাকে আটকায় রাখসে
শিশির-মজা করতেসে মা,কি কারনে আসছো বলো
মা-তুই এখনও ফ্রেশ হস নাই,fresh হয়ে নে,,
শিশির-তোমরা না আকিকা অনুষ্ঠানে গেসিলে,এত তাড়াতাড়ি ফিরে আসলে যে
মা-আরে বলিস না আমি আকিকাতে যে গিফট দিব ভাবসিলাম সেটা নিতেই ভুলে গেসি,তোর বাবা জানে না সেটা কোথায় রেখেছি আমি,তাই নিজেই চলে এলাম নেওয়ার জন্য,
শিশির-ওহ আচ্ছা নিয়ে যাও তাহলে তাড়াতাড়ি
মা-না শুধু সেই কারন না তো,ওরা বলেছে তনুকে একটু দেখবে,অপু বিয়েতে তো আসে নাই,তুই তনুকে বল রেডি হয়ে আসতে,আমরা একসাথে যাব
শিশির-নাহহহহহহহ
মা-কেন?কি হইসে?
শিশির-আসলে তনুর শরীর ভালো না,যেতে পারবে না
তনু-শাশুমা মিথ্যা কথা বলতেসেন উনি,আমি একদম ঠিক আছি
মা-হুম,শিশির ওকে রেডি হয়ে আসতে বল,ততক্ষনে আমি গিফটটা নিই
মা চলে যাওয়ার সাথে সাথে শিশির দরজাটা আটকিয়ে বাথরুমের দরজাটা খুললো
তনু বেডশিট টেনে বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসলো
তনু-কেমন হাসবেন্ড আপনি??আমাকে উনারা দেখতে চাইসে আমি সেজে গুজে যাব না?
শিশির-তোমার হুস নাই,তুমি ওখানে গিয়ে গণ্ডগোল করতে চাও নাকি,মাথা কাটা যাবে আমার
তনু-কাটা গেলে ব্যান্ডেজ করে দিবোনি
কথাটা বলে তনু বেডশিট গায়ের থেকে ফেলে দিলো
শিশির চোখে হাত দিয়ে আরেকদিকে ফিরে গেলো
তনু হেসে দিয়ে আলমারি থেকে একটা জামা নিয়ে পরে শিশিরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো
তনু-চলুন যাই
শিশির-না,তুমি মাকে বলবা আমরা যাচ্ছি না
তনু-মা চলো যাই,দেরি হচ্ছে তো😜
তনু নিমিষেই উধাও হয়ে গেলো
শিশির মাথায় হাত দিয়ে ভাবতেসে কিভাবে কি করবে
♦
মা-কিরে শিশির এখনও রেডি হস না কেন,দেরি হয়ে যাচ্ছে তো আমাদের
শিশির শার্টের বোতাম লাগিয়ে আসলো,তনু মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ঢুলতেসে
♦
গাড়ীতে বসে তনু হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে শিশিরকে জ্বালাচ্ছে,
মা ফোনে বাবার সাথে কথা বলতেসে,
অপু আন্টির বাসায় এসেই মা শিশির আর তনুর আগেই চলে গেলো
তনু বারবার পড়ে যাচ্ছে আর শিশির টেনে টেনে ধরতেসে,কি মহা ঝামেলায় পড়লাম
ভিতরে ঢুকে শিশির আর তনু মিলে অপু আন্টি আর তার হাসবেন্ড জিসান আহমেদকে সালাম করলো
অপু আন্টি-বাহ বউতো বেশ এনেছিস
মা-কার পছন্দ দেখতে হবে না
শিশির দাঁত কেলিয়ে সবার সাথে কথা বলতেসে আর পাশে তাকিয়ে দেখলো তনু নেই
শিশির-তনু গেলো কই,,!!!!
শিশির চারিদিকে তনুকে খুঁজতে খুঁজতে গিয়ে দেখলো তনু কোকাকোলা গ্লাসে ঢেলে নিয়ে বিশ্ব জয়ের হাসি দিয়ে আসতেসে
শিশির-কি?তোমাকে না বলসি আমার পাশে পাশে থাকতে
তনু-আরে কোকাকোলা বাবার রুমে খেয়েছিলাম যে ওগুলা খুব মজা ছিল,তাই এখন আবার নিলাম
তনু মুখে দিয়ে মুখ বাঁকিয়ে বললো এগুলা তো সেই কোকাকোলা না,
শিশির-কারন তখন কার গুলো বিয়ার ছিল,আর তোমার হাতের এগুলা আসল কোকাকোলা
তনু-তাহলে আমাকে নকল কোকাকোলা এনে দাও না প্লিস শিশিরবাবু
শিশির-না,চুপ থাকো,
তনু-না, এ্যা এ্যা😭
শিশির-চুপ চুপ,আস্তে আস্তে,আচ্ছা খাওয়াবো,কান্না থামাও
মা-শিশির তনুকে নিয়ে এদিকে আয় তো,,তোর রাফেজ আঙ্কেলের সাথে কথা বলে নে,উনিও আকিকাতে এসেছেন
শিশির তনুর হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো
মিঃরাফেজ-আরে তনু না?যে শিশিরকে ওর বিয়ের দিন নাতাশার মত একটা মেয়ের থেকে বাঁচিয়ে ছিল,
মা-হুম
মিঃ রাফেজ-একটা কথা বলতে হবে আপনাদের বউয়ের মধ্যে দম আছে
মা-আর তাই সে চৌধুরী বাড়ির বড় বউ হয়েছে
তনু ফিসফিসিয়ে শিশিরকে বললো এই মিঃ রাফেজ নাকি শিশিরের বিয়ের সময় লুকিয়ে লুকিয়ে চিকেন লেগ পিস ৪টা খেয়েছিল তনু সেটা নিজের চোখে দেখেছে
শিশির তনুর কথা শুনে ফিক করে হেসে দিলো
মিঃ রাফেজ-কি এমন বললো তনু যেটা এত হাসির??আমিও শুনি
শিশির-আসলে ও বললো আর কি নাতাশাকে কেমনে বিদায় করেছে
মিঃ রাফেজ-ওহহ, আচ্ছা
শিশির তনুর গায়ে হেলান দিয়ে কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছে,
মাঝে মাঝে পড়ে যাওয়া ধরে শিশির তনুর পিঠের পিছন দিয়ে হাত দিয়ে ওকে আগলে ধরে আছে
চলবে♥
ভিলেন
#ভিলেন
#পার্টঃ২৮
আকাশকে না বলেই মেঘলা নিরবের কাছে চলে গেল. নিলিমাও মেঘলার পিছু পিছু গেল।
নীরবঃ এসবের কি দরকার ছিল মেঘলা... হাসপাতাল থেকে ত খাবার দিতই...
মেঘলাঃ আমি থাকতে হাসপাতালের খাবার কেন খাবে? আমি বুঝি তোমার কেউ নই..
নীরবঃ কেউ নও মানে? তুমিই তো আমার সব..আমার সবচেয়ে আপনজন।
মেঘলাঃ মানে...
নীরবঃ বাড়ে...তুমি ত আমার বউ.. ১০ টা না ৫ টা না ১ টাই বউ আমার।
কথাটা শুনে মেঘলা একটু বিচলিত হয়ে গেল।
নীরব ব্যাপার টা বুঝতে পেরে হা হা করে হেসে মেঘলাকে চিন্তা মুক্ত করার চেস্টা করতে লাগল,
নীরবঃ আরে মেঘলা কি চিন্তা করছো...??? আমি ত মজা করছিলাম আমি খুব ভাল করেই জানি, আমি হাজার চাইলেও তুমি কখনও আমার হবে না কারন তুমার মনে আকাশ বাস করে তাই আমার সেখানে কো৷ জায়গা নেই আর আমি সেখানে ঢুকতেও চাই না তোমাকে আমার ভাল লাগে এটা সত্যি কিন্তু তুমার বিরুদ্ধে গিয়ে কখনো কোন দাবি করব না তুমি আমার খুব ভাল একজন বন্ধু এর বেশি কিছু না ঠিক আছে? এবার ত একটু হাসো প্লিজ।
মেঘলাঃ এমন মজা কেউ করে আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
নীরবঃ থাক থাক আর ভয় পেতে হবে না...
মেঘলাঃ তুমি তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও তো আমাকে যেতে হবে।ভাইয়া অসুস্থ জানই তো।
নীরবঃ আচ্ছা তুমি রেখে যাও আমি খেয়ে নিব।
মেঘলাঃ রেখে যেতে হবে কেনো এখনী খেয়ে নাও না..
নীরবঃ আমি মানে... আসলে আমার হাতে ত বেন্ডেজ মেঘলা আমি কি করে খাব?
মেঘলাঃ তারমানে তুমি কাল থেকে কিছু খাও নি?
নাবিলঃ না মানে আসলে... আমার পরিচিত কেউ এখানে নেই ত তাই আর কি...তুমি রেখে যাও আমি অফিসের কোম স্টাফ কে আসতে বলি, আসলে আসলে খেয়ে নিব...
মেঘলাঃ কে কখন আসবে সেই আশায় বসে থাকবে
.???
নীরবঃ আচ্ছা দাও আমি খাচ্ছি.
হাতের বেন্ডেজ খোলার চেস্টা করতে করতে বলল নীরব...
মেঘলাঃ আরে আরে কি করছ...??
নীরবঃতুমি রান্না করেছো আর আমি সেটা খাব না তা কি করে হয় তুমি দাও আমার যত কষ্টই হোক খাব।
মেঘলাঃ আরে থামো খেতে হবে না...
নীরবঃ না না তুমি কষ্ট করে রান্না করেছো...
মেঘলাঃ তুমাকে না খায়িয়ে আমিও যাব না কিন্তু তার জন্য তোমার বেন্ডেজ খুলতে হবে না। আমার কি হাত নেই নাকি?
নীরবঃ মানে..??
মেঘলাঃ তোমাকে আমি খায়িয়ে দিব..
নীরবঃ কিন্তু...
মেঘলাঃ একটু আগেই ত বললে আমরা ভাল বন্ধু তাহলে বন্ধু কি বন্ধুকে খায়িয়ে দিতে পারে না?
নীরবঃ অবশ্যই পারে
মেঘলাঃ হুম এখন আর কথা না বাড়িয়ে খেয়ে নাও তাড়াতাড়ি।
মেঘলা নিজের হাতে নীরবকে খায়িয়ে দিল।
ততক্ষনে নিলিমা তা ফ্রেমবন্দী করতে ভুলে নি...
মেঘলা বাসায় ফিরার আগেই...নিলিমা ফিরে এলো
নিলিমা আকাশের ঘরে গেল।
নিলিমাঃ আসতে পারি..
আকাশঃ মানা করলেও আসবে জানি, তাই ভনিতা না করে যা বলার আছে বলে ফেলো
নিলমা; তুমি হেরে গিয়ে ছো আকাশ মেঘলা...
আকাশঃ আমার চোখ আছে মেঘলা যে বাইরে গিয়েছস সেটা দেখেছি. ..
নিলিমা মেঘলার আর নাবিল একটা ছবি দেখিয়ে বলক,
নিলিমাঃ কিন্তু এটা নিশ্চুই দেখ নি
..
আকাশ ছবিটা দেখে বলল তুমি এখন যাও নিলিমা..
নিলিমাঃ যা করার করে ফেলেছি বাকি টা আকাশ নিজেই করবে আজ তো তুমার কপালে দুঃখ আছে মেঘলা ভাবতে ভাবতে নিলিমা চলে গেল।
কিছুক্ষন পরেই মেঘলা চলে আসল..
মেঘলা এসেই আকাশের ঘরে গেল...
আকাশ চুপচাপ বসে আছে...
মেঘলাঃ তুই বসে আছিস কেন ভাইয়া ডাক্তার তোকে বেড রেস্টে থাকতে বলেছে...
আকাশ খুব শান্তভাবে বলল সেটা তোর না ভাবলেও চলবে...
মেঘলাঃ কিছু কি হয়েছে...??
আকাশঃ না কিছু হয় নি তুই এখান থেকে যা মেঘলা
মেঘলাঃ তোর মন খারাপ কেন..??
আকাশঃ ক্ষুদা পেয়েছে তাই,
মেঘলাঃ আমি এখনী খাবার নিয়ে আসছি।
মেঘলা গিয়ে খাবার নিয়ে আসল...
আকাশঃ খায়িয়ে দে...
মেঘলাঃ তুই আমার হাতে খাবি...
আকাশঃ এক কথা বারবার বলি না আমি খায়য়ে দিতে না চাইলে যেতে পারিস জোর করব না।
মেঘলাঃ কেন দিব না অবশ্যই দিব এই নে খা...
আকাশ মেঘলার দিকে তাকিয়ে খাবার টা মুখে নিল..
মেঘলাঃ এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন..??
কথাটা বলার সাথে সাথেই আকাশ মেঘলার হাতে কামড় বসিয়ে দিল...
মেঘলাঃ আহ... কি করছিস আমার লাগছে ত ছাড় ভাইয়া...
আকাশের কানে যেন মেঘলার কথ ঢুকছে না।সে হাতে কামড় দিয়ে ধরে আছে...
মেঘলা ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে কেঁদে দিল।আকাশ এবার হাত টা ছেড়ে বলল,আমার ঘর থেকে বের হ
..আর কখনো আমার ঘরে আসবি না আমি তোর মুখ দেখতে চাইনা।
মেঘলা আকাশের আচারনে অবাক হল হাতে প্রচুর ব্যাথা হচ্ছে তবুও সে ব্যাথা যেন মেঘলাকে ছুতে পারল না কারন সে আকাশের চিন্তায় ব্যাস্ত।
আকাশ মেঘলার ধ্যান ভাংগিয়ে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল...
সেই থেকে আকাশ মেঘলার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে...মেঘলা অনেক চেষ্টা করেও কথা বলতে পারল না...
কেটে গেছে অনেক গুলি দিন নীরব ততদনে সুস্থ হয়ে গিয়েছে আকাশের হাত ও ভাল হয়ে গিয়েছে কিন্তু আকাশ মেঘলার সাথে কথা বলে নি।এই কয় দিনে ভিলের কথা ভুলেই গিয়েছে,
প্রতিদিনের মত মেঘলা আজও নির্ভয়ে ঘুমিয়েছিল,
এর মধ্যে সেই ভিলেনেরও আগমন ঘটে নি কোনদিন।
তবে আজকের ব্যাপার টা প্রতিদিনের মত ঘটল না মেঘলা ঘুমাচ্ছিল হঠাৎ কেউ মেঘলাকে টেনে তুলল।
মেঘলা ঘুম ঘুম অবস্থায় ঠিক বুঝতে পারল না কি হচ্ছে।চোখ খুলে কিছু বোঝার আগেই ছেলেটি মেঘলার মুখ আর হাত বেঁধে দিল।
ছেলেটিঃ ছটফট করে লাভ নেই এর আগেও নিয়ে গিয়েছি এবারো নিয়ে যাব বাঁধা দেয়ার চেস্টা করে নিজের কষ্ট বাড়িও না।কথার অবাধ্যতা আমার পছন্দ না।বলেই ছেলেটি মেঘলাকে কোলে তুলে নিল।
মেঘলা কিছু বলতে পারছে না কিছু করতেও পারছে না। শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখ দেখছে,
ছেলেটি মেঘলাকে কোলে নিয়ে নির্ভয়ে বাসার মেইন দরজা দিয়ে বের হল...
মেঘলাঃ এর ভাব ভংগী দেখে ত কোনভাবেই মনে হচ্ছে না যে তার মনে কোন প্রকার ভয় আছে..
কারোর বাসায় এসে এভাবে কি করে এসব করছে? তাকে কেউ দেখে ফেলার ভয়ও কি করে না? এত নির্ভয়ে বাইরের কেউ কি বাসায় ঢুকতে পারবে তাও একটা মেয়েকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে এত সাহস..?? তাহলে কি ও কি আমার বাসারেই কেউ?
ছেলেটি মেঘলাকে নিয়ে গাড়িতে বসিয়ে দিল...
মেঘলাঃ এবার ছটফট করছে...
ছেলেটিঃউফফ শুরু করে দিলে?আচ্ছা খুলে দিচ্ছি কি বলবে বলো...
ছেলিটি মেঘলাকে সীট বেল্ট পড়িয়ে দিয়ে মুখ খুলে দিল তবে হাত বাঁধা..
মেঘলাঃ আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ছাড়ুন বলছি আমি কিন্তু চেঁঁচাব...
ছেলেটিঃ আমাকে ভয় দেখাতে চাইছ ব্যাপার টা হাস্যকর।
ছেকেটি ড্রাইভ করছে মেঘলা বাঁচাও বাঁচাও বমে চেঁচাচ্ছে কিন্তু গাড়ির গ্লাসে জন্য আওয়াজ বাইরে বের হচ্ছে না।
।
।
।
চলবে..!!!
(আজকে পার্ট দিতে চাই নি কিন্তু অনেকেই রিকুয়েষ্ট করেছেন তাই দিয়েছি কি লিখেছি নিজেই জানি না তাই আজ ভুল ধরে বা পর্ব ছোট বলে লজ্জা দিবেন না প্লিজ)
Devil husband
Devil Husband💗
part_16
Kamrul
_সিনহা গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়
ইমরান সিনহার হাত ধরে সিড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে একটা নার্সকে জিজ্ঞেস করে ঐ ছেলেগুলো কোন কেবিনে
সিনহা কিছু বলছে না শুধু ইমরানের কাজকর্ম দেখছে
ইমরান সিনহাকে নিয়ে একটা কেবিনে প্রবেশ করে,কেবিনে প্রবেশ করেই সিনহার চোখ কপালে
সিনহা অবাক হতবাক
সিনহা নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছে না
যেসব ছেলেগুলো সিনহাকে ডিস্টার্ব করতো তাদের পুরো হাত পায়ে ব্যান্ডেজ করা
যে ছেলেটা সিনহাকে হুমকি দিয়েছে
সেই ছেলের হাত পা কপালে গালে সব জায়গায় ব্যান্ডেজ, দেখে বুঝা যাচ্ছে গনধলায় এর উপর দিয়ে গেছে
সিনহা ভয় সাথে অবাক দৃষ্টিতে ইমরানের দিকে তাকায়
_তোমাকে যে ছেলেটা হুমকি দিয়েছে,তাকে তোমার জুতা দিয়ে ঠাস ঠাস করে দুইটা থাপ্পড় মারো
সিনহা ইমরানের কথা শুনে অবাক হয়,এই ছেলে তো এমনিতেই আধমরা হয়ে আছে,একে আর কি মারবো
সিনহা ইমরানকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইমরান বলল
_ভুলেও মাফ করে দেওয়ার কথা বলবে না,ওরে জুতা দিয়ে মারতে বলছি মারো নাহলে সেই জুতার বারি তুমি খাবে(রাগী সুরে)
(শালারপুত ডেভিল বলে কী,আমাকে নাকি জুতা দিয়ে মারবে
না ভাই আমি জুতার বারি খেতে পারবো না, মান ইজ্জতের ব্যাপার
তার থেকে এই ছেলেটাকেই মেরে দি)
_কি হলো মারো(ধমক দিয়ে)
-মারছি তো,ধমক দেওয়ার কী আছে আজব
সিনহা তার জুতা হাতে নিয়ে ছেলেটার কাছে আসে
ছেলেটাকে ফিসফিস করে বলে
_কীরে ভাই তুই না আমাকে ভালোবাসবি,এখন দেখি কেবিনে শুয়ে আছিস,এটাই বুঝি তোর ভালোবাসা,ধিক্কার জানাই তোর ভালোবাসাকে
সিনহা বিসমিল্লাহ বলে জুতা দিয়ে ঠাস ঠাস করে ছেলেটার গাল বরাবর দুইটা থাপ্পড় মারে
সাথে সাথে গাল দিয়ে টুপটুপ করে রক্ত পড়া শুরু হয়ে গেলে
সিনহা এসে ইমরানের সামনে দাঁড়ায়
-রক্ত পড়ছে তো
_পড়ুক সমস্যা নাই,কিন্তু বাব্বাহ,তোমার শরীরে দেখি অনেক শক্তি
-হি
সিনহা সরাসরি ইমরানকে কিছু বলে না কিন্তু মনে মনে ঠিকি বলে, কচুর শক্তি আছে আমার
যেদিন এক লাত্থি দিয়ে তোরে উগান্ডায় পাঠাবো,সেদিন মনে করবো আমার শক্তি আছে
-চলো যাওয়া যাক
_আই Have এ Deep প্রশ্ন
_তো এতো ঢং করার কি আছে
তুমি ইংরেজি পারো সেটা বললেই হই
_আরে মিয়া রাখেন এইসব
ছেলেগুলোকে কেনো মারছেন আগে সেটা বলেন
_আমার তো বক্সিং খেলার অনেক শখ,তাই এদেরকে মেরে রিয়ের্সাল করছি(রাগী সুরে)
_আবে হালা চেতস কা(সিনহা মুখ হাত দিয়ে ফেলে,মুখ ফসকে ও কি বলে ফেলল ইমরানকে)
_কীই আমি হালা,আবার তুই করেও বলা হচ্ছে(রাগী সুরে)
_আপনাকে বলি নাই,সত্যি
_তো কাকে বলছো
_আমাকে,হিহি
-আসলেই তুমি একটা হালা
সিনহা এই কথা শুনে রাগে ফসফস করতেছে
(শালারপুত ডেভিলের বাচ্চা তোর মুখে জুতার বাড়ি😠)
_চলো যাই
-হাটেন আসতেছি
ইমরান হাটা ধরলো,সিনহা ছেলেটার কাছে এসে বলল
_ভাইরে ভাই ডেভিলটা খুবি ভয়ংকর
ভুলেও আর আমার আশেপাশে ঘুরঘুর করস না,নাহলে পরেরবার মেরে মাঠি চাপা দিয়ে দিবে.
চলবে.
(সিনহার সাহস বাড়তেছে,বিয়ে হতে না হতে এই অবস্থা.
:আবে হালা চেতস কা😂)
গল্প টা ভালবাসার
#গল্পটা_ভালোবাসার💞💞💞
#সিজন_2
#পর্বঃ৩৪
"মিষ্টি মা আমাকে একটু হেল্প কর না। সকাল থেকে দুইটা কি যে সাজতাছে কে জানে। আমাদের একটু হেল্প কর না তুই। "
"মা আমি কি হেল্প করবো। তোমরা আস্তে আস্তে করো।"
আসলে আসার পর থেকে সিমা রোদের আশেপাশেই ঘুরঘুর করছে। তাই আমি ও সবসময় রোদের সাথেই ছিলাম কিন্তু এখন মা আমাকে কাজ করতে বলছে এবার কি হবে? এবার তো সিমা রোদের সাথেই আরো বেশি করে মিশে থাকবে। আর রোদ বান্দরটা ও কিছুই বলবে না। অসহ্য।,,,,,
মা আমাকে কাজ দিয়ে বসিয়ে রাখছে। কিন্তু আমার মন তো ওইদিকে। কাজ কি আর হয়। কাজের বদলে অকাজ টাই বেশি করছি। তা দেখে মা আমাকে বললো,
"মিষ্টি তুই কি করছিস এতোক্ষণ ধরে। একটা কাজ দিছি এই একটা নিয়েই পড়ে আছিস। এখনো কিছুই করতে পারলি না।"
আমার মায়ের কথায় মেজাজ গরম হয়ে যাচ্ছে কিন্তু চুপ থেকে কাজটা কোন মতে করে দিয়ে চলে যেতে নিলে মা আরেকটা কাজ দিয়ে বসিয়ে রাখলো। কি একটা অবস্থা। এদিকে মাকে বলতে ও পারছি না আমি কিসের জন্য এমন করছি। অসভ্য রোদ তোরে আজকে আমি গরম পানিতে চুবামু খালি একবার বাড়ি যাইতে দে তারপর বুঝবি মজা!
সব কাজ করার পর আমি বাইরে গিয়ে দেখি সিমা শাঁকচুন্নিটা আমার রোদের সাথে সেল্ফি তুলছে। তা ও বিভিন্ন রকমের স্টাইলে। আর প্রতিটা সেল্ফিতেই রোদের গা ঘেসে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে। সিমা আবার ও রোদের গা ঘেসে সেল্ফি নিতে যায় । আমার তো রাগ এবার চরমে উঠে গেছে। তাই আমি এক দৌড়ে সিমাকে ইচ্ছা করে ধাক্কা দিয়ে রোদের পাশে দাঁড়িয়ে বলি,
"আমি ও তোমাদের সাথে সেল্ফি তুলবো। "
সিমা আমার ধাক্কা খেয়ে সোজা মাটিতে পড়ে গেছে। সাথে ওর দামী ফোনটা ও। 😂,,,,,,
রোদ সিমার পড়ে যাওয়া দেখে আমার দিকে তাকায়। তারপর জোরে জোরে হেসে দেয়। সিমা লজ্জায় চোখ মুখ লাল করে উঠে দাঁড়ায়। আর আমাকে বলে,
"এটা কি করলা তুমি?"
"ও সরি সরি। আমি তো বুঝতেই পারিনি তুমি পড়ে যাবে। আমি তো ভাবছিলাম তুমি খাম্বার মতো শক্ত করে দাঁড়িয়ে থাকবা। হাজার ধাক্কালে ও তোমাকে নড়াতে পারবো না। "
"মজা করছো আমার সাথে তুমি?"
"ইশ তোমার সাথে মজা করতে আমার বয়েই গেছে।"
"তোরে ইচ্ছা মতো পিটাইতে পারলে শান্তি পেতে পারতাম আরকি।"(মনে মনে)
"রোদ ভাইয়া তুমি হাসলা কেনো? আমাকে পড়ে যেতে দেখে তুমি আমাকে না তুলে হাসলে? "
"কি আর করবে বলো তোমার ধপাস করে পড়ে যাওয়াটা দেখে যে কেউই হাসবে। আমি তো.... "
"রোদ ভাইয়া।"
"উফঃ! বারে বারে রোদ ভাইয়া, রোদ ভাইয়া করো কেনো তুমি? রোদ ভাইয়া ছাড়া কি চোখে কিছু দেখো না তুমি? "
"😡"
"চলো সেল্ফি তুলবা না। আসো আমি ও তুলবো।"
সিমা আমার উপর রেগে গিয়ে ভিতরে চলে যায়। আর আমি রোদের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বলি,
"আপনি আসলেই লুচু।"
"কি বললা তুমি? তুমি আমাকে কি বললা?"
"কানে শুনতে পান নাই। আরেকবার বলতে হবে নাকি?"
"আমাকে তুমি লুচু বললা? "
"এইতো ভালো শুনেছেন আপনি।"
"তোমার আমাকে কোন দিকে লুচু মনে হয় হ্যাঁ।"
"সব দিক দিয়ে। সকাল থেকে দেখছি আপনি ওই সিমার সাথেই মিষ্টি মিষ্টি করে কথা বলেই যাচ্ছেন তো বলেই যাচ্ছে। শুধু আজকে সকাল না যেই দিন থেকে ওই শাঁকচুন্নিটা বাড়িতে আসছে সেই দিন থেকেই দেখে আসছি। আর আজকে তো আমি এতো সুন্দর করে সাজলাম আপনি কিছুই বললেন না। উলটা আমাকে সব মুছে ফেলতে বললেন আর ওই সিমা সাজলো তো ও খুব সুন্দর লাগছে। কেনো হ্যা কেনো? আমাকে কি কম খারাপ লাগছিলো নাকি? তারপর ওই শাঁকচুন্নি আমাকে গাইয়া বললো আর আপনি সবটা শুনলেন । কিন্তু একটু কথা ও বললেন না। এখন আবার ওই সিমা আপনার গা একেবারে ঘেসে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলো আর আপনি ও সুন্দর করে ওর সাথে পোজ নিচ্ছিলেন। তো এতো কিছুর পর লুচু বলবো না তো কি বলবো আপনাকে হ্যাঁ। "
একদমে পুরো কথাটা শেষ করি। তা দেখে রোদ বলে,
"আস্তে আস্তে। একদমে এতো কথা বললে তো দম আটকিয়ে যাবে।"
"😡"
"আচ্ছা সিমা শাঁকচুন্নি হলো কবে থেকে?"
"জানি না।"
রোদ আমার কানে কানে ফিসফিস করে বললো, "তুমি কি সিমাকে হিংসা করছো?"
"মোটেই না। আমি কেনো ওকে হিংসা করবো।"
"তাহলে সিমাকে নিয়ে তোমার এতো প্রবলেম হচ্ছে কেনো? হুম "
"আপনি না,,,আপনি,,,,আপনি আসলেই লুচু। "
বলে ওখান থেকে চলে আসি। বিয়ের কথাবার্তা সব ঠিক হয়ে গেছে। আজকেই এংগেজমেন্ট হয়ে গেছে। নিরা আর তিশা তো সেই খুশি। আর আমি ও। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ওদের বিয়েটা হয়ে যাবে সিমা ও ততো তাড়াতাড়ি চলে যাবে। আর আমি নিশ্চিন্ত হবো।
তারপর সবাই বাড়ি চলে আসি। এখানে এসে সিমা আবারো ন্যাকামি শুরু করে দিছে।
"রোদ ভাইয়া তোমাকে খুব টায়ার্ড লাগছে। তুমি রুমে যাও আমি তোমার জন্য কফি আনছি।"
"তুমি কেনো? মিষ্টি তুমি কফি নিয়ে এসো প্লিজ,,,। সিমা তুমি যাও ফ্রেশ হয়ে নাও। তোমাকে আনতে হবে না।"
"হ্যাঁ আমি এক্ষুনি যাচ্ছি। " বলে আমি কফি আনতে গেলে সিমা আমাকে আটকিয়ে বলে,
"রোদ ভাইয়া। আজকে আমি আনলে কি হয়? আমি তো কফি ভালোই বানাই। তুমি একবার আমার হাতের কফি খেয়ে দেখো তুমি আবারো খেতে চাইবে। আমি তোমার জন্য স্পেশাল কফি বানিয়ে আনছি। "
রোদ বেশি কিছু না বলে শুধু "ঠিক আছে" বলেই চলে যায়।
এদিকে আমি রাগে জ্বলে যাচ্ছি। রোদ টায়ার্ড সেটা আমার থেকে বেশি এই শাঁকচুন্নিটা খেয়াল রাখছে। অসহ্য। এখন আবার কফি ও খাওয়াতে চাচ্ছে। কতো খারাপ মেয়ে। আমি খাওয়াচ্ছি চা। দাড়া তুই,,,।
সিমা কফি বানাচ্ছে। আমি লুকিয়ে লুকিয়ে সব দেখছি। কিন্তু আমি তো ভালো কফি কিছুতেই বানাতে দিবো না। তাই ওৎ পেতে আছি। কখন সিমা একটু সরবে আর আমি কিছু একটা করবো। কিন্তু ওই অসভ্য সিমা সরছেই না। আর আমি তার জন্য সিমাকে একশো বারোটা গালি দিয়েই যাচ্ছি।
সিমা কিসের জন্য জানি রান্না ঘর থেকে বের হইছে। আর আমি সেই সুযোগে ভিতরে ঢুকে ভাবছি কি করা যায়। কিছুই মাথায় আসছে না। হাতের কাছে কফির বয়াম টা পেলাম। সাথে সাথেই কফি পাউডার অনেকগুলো মিশিয়ে দেই। আর সাথে তো লবন, চিনি সবই বেশি বেশি দিয়ে দিয়েছি। কালারটা কেমন একটা দেখাচ্ছে। এটা খেতে কি হইছে আল্লাহ্ই জানে।
ইচ্ছা করেই এটা করেছি। একবার খেলে খালি খেতেই ইচ্ছা করবে তাই না। খাওয়া এবার তোর রোদ ভাইয়াকে। বেশি করে খাক। বেশি শক হইছে তাই না তোর হাতের কফি খাওয়ার। খাও ব্যাটা রোদ। বেশি করে খাও। বউয়ের হাতের কফি না খেয়ে কাজিনের হাতে কফি খাওয়ার শকটা পূরণ করো।
সিমা আসছে তাই আমি আবার সরে গেলাম। সিমার দিকে তাকাতেই বুঝতে পারলাম ও ওর ঘরে গেছে লিপস্টিক লাগাইতে। লিপস্টিক লাগিয়ে সাজুগুজু করে রোদের রুমে যাওয়া না। আজকে তোর সাজুগুজু বের হবে অসভ্য বান্দরনী।
সিমা ঢেং ঢেং করে নাচতে নাচতে রোদের রুমে গিয়ে মিষ্টি করে একটা হাসি দিয়ে রোদকে কফিটা দেয়। রোদ একটা থ্যাংকস দিয়ে কফিটা মুখে নিয়েই সবটা ফেলে দেয়।
"রোদ ভাইয়া ফেলে দিলে কেনো? আমি এতো কষ্ট করে বানালাম। আর তুমি খেলে না। ফেলে দিলে।"
"এটা কি বানিয়েছো সিমা তুমি?"
"কেনো কফি। আমি তো রোজ এরকম কফিই খাই। আমার কাছে তো খুবই ভালো লাগে।"
"হুম আসলেই খুব ভালো। আমি আর এই কফি খেতে চাই না। এতো ভালো কফি খেলে না আমি পাগলই হয়ে যাবো। "
" তুমি কফিটা খাবে না।"
এতোক্ষণ আমি লুকিয়ে লুকিয়ে শুনছিলাম। এখন আমি এসে বলি, "না গো। তোমার রোদ ভাইয়া তোমার স্পেশাল কফি খাবে না। ও আমার হাতের কফিই বেশি পচ্ছন্দ করে" বলে আমি রোদের দিকে আমার বানানো কফি এগিয়ে দেই।রোদ সেটা নিয়ে খাওয়া শুরু করে। আর সিমা,,,,,,,,,,
চলবে...............
Tumi cara
#তুমি_ছাড়া
৫ম ও শেষ পর্ব
লেখনীতেঃ #kamrul
,
দেখতে দেখতে একমাস কেটে গেছে।এই একমাসে দানিয়া খুব হাসি খুশি কাটিয়েছে। স্বপ্নে আর কষ্ট হয়না। প্রতিরাতে কেও যেন তার একবুক অনুভূতি দানিয়াকে দিয়ে যায়। অনুভূতি গুলো জটলা করতে করতে সময়টা কিভাবে চলে গেছে দানিয়া বুঝতেই পারেনি। কিন্তু বারবার মনে হয় মানুষটা কবে আমার সামনে আসবে।
,
,
মেয়েকে ভালো থাকতে দেখে দানিয়ার মাবাবা খুব খুশি। তারা এসেছিলো দানিয়ার অতিত জানতে কিন্তু কি জানবে তারা নিজেও জানে না। অবশ্য ডক্টর মেহেরাবের সাথে ফোনে কথা বলার সময় উনি বলেন, "যার অতিত সে নিজের বের করে নিবে"।
,
ডক্টর নেহেরাবের কথা মিস্টার ওয়াহিদের বুঝতে কষ্ট হয় না। কারণ দানিয়ার অতিত দানিয়া নিজেই খুজে নেবে। তবে মেয়ের এই ভালো থাকা দেখে দেখে তারা আর চিন্তা করেন না। এমনকি সিদ্ধান্তও নিয়্র ফেলেছেন যে এখন থেকে বাংলাদেশেই থাকবেন মেয়েকে নিয়ে।
,
এই একমাসে অচেনা মানুষটাকে খুজে পাওয়ার ইচ্ছাটা যেন বেড়েই চলেছে দানিয়ার মধ্যে।
,
মেয়ের কষ্ট আর হয়না ঠিকই কিন্তু মেয়েটা দেশে আশার পর থেকেই সারাদিন হাসি খুশি থাকলেও সকাল বেলা যেন খুব উদাসীন থাকে।
,
মিস্টার ওয়াহিদ নিজে তো আর মেয়ের সাথে এই বিষয়ে কথা বলতে পারেন না তাই স্ত্রীকে দায়িত্ব দিলেন।
,
দানিয়া ছোট্ট বাচ্চার মত করে মায়ের কোলে চুপটি করে শুয়ে আছে। মা মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
,
-আচ্ছা দানিয়া মা, তোকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো?
,
- পারমিশন নেওয়ার কি আছে মা জিজ্ঞাসা করোতো!
,
-না মানে বাংলাদেশে আসার পর থেকে তোকে খুব হাসিখুশিই দেখেছি। শুধু মাত্র সকাল্টা ছাড়া।
,
দানিয়া শুয়ে থাকা অবস্থায় মাকে জড়িয়ে ধরে,
-জানো মা, সারা রাত টা আমি খুব মজাই মজাই কাটাই। ভালবাসার মানুষটার হাত ধরে ঘুরে বেড়ানো, তার কাধে মাথা রেখে তার পাশে বসে তার বলা কিছু কবিতার লাইন শুনে নিজেকে হারিয়ে ফেলা। এভাবেই রাতটা কাটে কিন্তু সকাল হলেই যখন বুঝতে পারি মানুষটা একটা ভ্রম তখন মনটা খারাপ হয়ে যায়।
,
দানিয়া মায়ের সাথে খুব ফ্রি তাই নিজের মনের অনুভূতিগুলো মাকে জানিয়ে দেয়।
,
-কিন্তু তুই যাকে স্বপ্ন দেখে ভালোবেসেছিস তার অস্তিত্ব তো নাও থাকতে পারে।
,
-জানো মা কেন জানি মনে হয়। সে আসবে আমার জীবনে। বার বার একটা কথায় বলে আগের বার ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারিনি। কিন্তু এবার সে আমাকে তার মনের ভাষা জানাবেই।
,
- একটা স্বপ্ন নিয়ে এভাবে পড়ে থাকিস না মা।
,
- মা এটা কোনো স্বপ্ন না। স্বপ্ন তো মানুষ ভুলে যায় কিন্তু এই অনুভূতি গুলো এমন যে আমার মনে গিথে আছে। আমি কোনো ভাবেই ভুলতে পারিনা।
,
মিসেস ওয়াহিদ মেয়ের সাথে আর তর্কে জড়ালেন না। যায়হোক মেয়েটা ভালো তবে আছে এটাই শান্তি।
এভাবে আরো কয়েকদিন চলে যায়। দানিয়ার সাথে অনেকেরই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। তার মধ্যে রায়মা,রিয়া,তানিয়া জানের দোস্ত হয়ে উঠেছে।
,
দানিয়া একদিন বাসায় ফিরে মাবাবাকে জানায় যে সে সিলেট বেড়াতে যেতে চায়। মাবাবা প্রথমে রাজি না হলেও রিয়া এসে জোর করায় তারা রাজি না হয়ে পারে না। তাছাড়া মেয়েটা একটু ঘুরতে গেলে স্বপ্ন ওসব আজগুবি চিন্তাও হয়তো ভুলতে পারবে। তাই তারা রাজি হয়ে যায়।
,
কালকেই সিলেট যাবে। কিন্তু কোনো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করবে না। তানিয়া নিজেদের প্রাইভেট কার নিবে যাওয়ার জন্য। কারণ চারজন যাওয়ার এটাই পারফেক্ট উপায়। সাথে আশে পাশের পরিবেশ কে উপলব্ধি করতে পারবে।
,
পরদিন সকালে মাবাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রায়মা,রিয়া,তানিয়া, আর দানিয়া সিলেটের উদ্দেশ্যে বের হয়।
,
পথমধ্যে,
দানিয়া রিয়াকে জিজ্ঞাসা করে,
- আচ্ছা আমরা সিলেটের কোথায় যাচ্ছি সেটাতো জানালি না?
,
রিয়া- তানিয়ার মামার বাসা সেখানেই যাচ্ছি আমরা।
,
-জায়গাটার নাম কি?
,
রায়মা বলল- কেন শ্বশুর বাড়ি বানাবি নাকি? জায়গার নাম শোনার এতো ইচ্ছা কেন?
,
-আরে না এমনিতেই জিজ্ঞাসা করছি।
,
তানিয়া- বিজয় নগর।
,
-হোয়াট।
দানিয়া একরকম চিল্লে কথাটা বললো।
,
-কি ব্যপার তুই এতো অবাক হলি কেন? চিনিস নাকি জায়গাটা?
সবাই একসাথে জিজ্ঞাসা করলো।
,
-না মানে, কিছু না এমনিতেই বললাম।
দানিয়ার মাথা ভনভন করতে লাগলো। বিজয়নগর নামটা তো আগেও শুনেছে। সেই স্বপ্ন! রিতু রিমনের গন্তব্য! কিন্তু কেও সেখানে যাতে পারে না যাওয়ার আগেই মরে যায়।
,
রাস্তার মাঝে হঠাৎ গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়।
চারজন মিলে জোগেজাগে গাড়িটা ধাক্কা দিয়ে রাস্তার ধারে নিয়ে যায়। এখন কি করবে তারা ভেবে পায়না।
,
তাই তারা সিদ্ধান্ত নেয় কারো কাছথেকে হেল্প চাইবে। হঠাৎ রাস্তায় দিয়ে একটা ইস্কর্পিয়ন কার আসতে দেখে। তারা ইশারা করে যে তাদের হেল্প লাগবে?
,
গাড়িটা ওদের সামনেই রাখে। ৫০ এর কাছাকাছি বয়সের একজনকে বের হতে দেখে সবাই কিন্তু দানিয়া ফেইসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকায় লোকটার দিকে তাকানো হয়না।
,
-এনি প্রব্লেম?
,
-আসলে আংকেল আমাদের গাড়িটা নষ্ট হয়ে গেছে এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা।
,
-আচ্ছা, তোমরা আমার সাথে চলো। সামনেই গ্যারেজ আছে ওখান থেকে মিস্ত্রি নিয়ে আসা যাবে।
,
-আপনি যদি একটু গিয়ে মিস্ত্রিকে খবর দিতেন খুব উপকার হতো।
,
-তা দেব। কিন্তু জায়গাটা ভালো না। তোমরা গাড়িতে ওঠো। মিস্ত্রি এসে ঠিক করে গ্যারেজে নিয়ে গেলে তোমাদের গাড়িও পেয়ে গেলে নিজেরাও সুরক্ষিত থাকলে।
,
লোকটার কথা শুনে সবাই ভরসা পায়। তারা গাড়িতে উঠতে গিয়ে দেখে দানিয়া এখনও দাড়িয়ে আছে। ফেইসবুক নিয়ে ব্যস্ত।
তাই রিয়া দানিয়া নাম ধরার আগেই,
লোকটা বলে বলে,
-রিতু গাড়িতে এসে বসো।
,
বারবার রিতু নামটা শুনে রিতু এবার সত্যিই মনে হচ্ছে যে তার পুনর্জন্ম এটা। তার মানে স্বপ্ন অদেখা সেই মানুষটাই আগের জন্মের রিমন? রিমন আর সেই কবিটা যদি একজনই হয় তাহলে কেন একজনের চেহারা ইস্পষ্ট দেখা যায় আর আরেকজনের আবছা?
,
-দানিয়া ওর নাম। (রিয়া লোকোটাকে বলল)
,
এবার দানিয়া লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ মুখ ফসকে বলে ফেলল,
-আমান ভাইয়া?
,
রায়মা,রিয়া, তানিয়া দানিতার মুখে নামটা শুনে অবাক হয়ে যায়।
,
সবাই একসাথে জিজ্ঞাসা করে,
-তুই ওনাকে আগে থেকেই চিনিস?
,
লোকটা বলে- না ও আমাকে কিভাবে চিনবে।হয়তো পরিচিত কারো নাম আমান আর তার চেহারার সাথে আমার মিল পেয়েছে। তাই হয়তো আমাকে আমান ভাইয়া বলেছে।
,
সবাই গাড়িতে বসে আছে। দানিয়ার এখন সব পরিষ্কার যে তার দেখা স্বপ্নগুলো ছিলো তার আগের জন্মের।
,
হঠাৎ সামনে থেকে একটা বড় ট্রাক আসতে থাকে।
,
দানিয়া গাড়িটাকে দেখে চমকে ওঠে। যেন আগেত বারের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে। লোকটা গাড়ি সাইড করার আগেই বড় গাড়িটা এসে ধাক্কা দিয়ে দেই। সবাই গাড়ি থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে।
,
দানিয়ার চোখ নিভুনিভু হয়ে আসে। হঠাৎ সামনে কারো অস্তিত্ব লক্ষ্য করে।
,
যদি চলে যাও
আবার ডেকে নিবো
যদি পালিয়ে যাও
ধরে নিবো।
শুন্য আমি
তুমি ছাড়া।
থাকতে চাইনা
তুমি হীনা।
,
অজান্তেই দানিয়ার মুখ থেকে বের হয়ে যায়
,
- রিমন!!!!!!
,
-হ্যা রিমন।
কথাটা বলে রিমন দানিয়ার হাতে হাত রাখে।
,
হাতের স্পর্শ পেয়ে দানিয়ার যেন মনে হয় ও তার আগের জন্মেই ফিরে গেছে। সেই আগের জায়গায় আছে। যেখানে আগের বার নিজেদেত অনুভুতি না জানিয়ে পৃৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যেতে হয়।
তাই দানিয়া আবারো মুখ ফসকে বলে ফেলে,
-আগেরবার ভালোবাসার কথা জানাসনি আজকে তুই জানিয়ে দে। যদি আবার না বলায় হয়ে থাকে।
,
এবার আর কোনো কিছুই না বলা থাকবে না।
তোকে যতটুকু ভালোবেসেছি হাজারবার জন্ম নিলেও আমার এই ভালোবাসা শেষ হবে না। আগের বারের আর এবারের ভালোবাসা একসাথে তোর সামনে নিয়ে বলছি। আমি তোকে ভালোবাসি আমার জীবনের থেকেও তুই কি আমাকে ভালোবাসবি।
,
-ভালোবাসি রিমন। তোকে অনেক ভালোবাসা এবার আর তোকে ছাড়বো না। আমাকে ফাকি দিতে পারবিনা।
,
-তুইও তবে ফাকি দিয়েছিলি আমাকে।
,
-আর ফাকি দেবনা রিমন। সারাজীবন তোর পাশে থাকবো।
,
রিমুন মুচকি হেসে জবাব দেয়,
-সারাজীবন নারে। সারামরণ।
,
-মানে কি বলছিস তুই? আর এখন আমি কোথায়?
,
-আয় তোকে দেখাচ্ছি।
এই বলে দানিয়ার হাতটা ধরে রিমন দানিয়াকে ঊঠায়। দানিয়া দাড়িয়ে পিছন ফিরে অবাক হয়ে যায়। ওতো এখনও রাস্তায় পড়েই আছে। বাকিরা নড়াচড়া করছে কিন্তু দানিয়ার নিজের দেহটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে।
,
-সব বুঝতে পারছিস তো? আমাকে ছাড়াতো একজমন বেচে ছিলি। কিন্তু বিধাতা আমাকে আর দুনিয়ায় পাঠায়নি রে। এতো দিন পর এটাই হয়তো তার ইচ্ছা ছিলো। তুই আবার ফিরে এসেছিস। এখন থেকে সারাজীবন মরবো একসাথে। দানিয়া মরলেও নিজের ভালোবাসা ফিরপেয়েছে এটাই তার প্রাপ্তি। বেচেথেকে বলা হয়নি তো কি হয়েছে মরে গিয়ে তো বলা হল "ভালোবাসি"। দানিয়া, সরি, রিতু রিমনের কাধে মাথা রেখে আকাশের দিকে তাদের গন্তব্যে যেতে থাকে।
যাওয়ার পথে রিমন পিছন ফিরে সেই লোকটা টাকে চোখের ইশারায় বলে দেই।
,
ধন্যবাদ, আমান ভাইয়া।
,
,
,
সমাপ্ত।
,
বানান ভুল হলে মাফ করবেন।
,
বিঃদ্রঃ আমিও পুনর্জন্মে বিশ্বাসী না। এটা জাস্ট একটা গল্প। তাই বাস্তবতা দিয়ে দেখবেন না আশাকরি।
বেলী ফুলের মালা
#বেলী_ফুলের_মালা
#kamrul
#পর্ব_২২
আবির হা করে তাকিয়ে আছে.... পাগল মেয়ে নাকি? রুহীর সাথে তর্ক করে লাভ নেই, তাই কিছু না বলে বেরিয়ে গেলো....
রুহী গোসল সেরে শাশুড়ীর সাথে সময় কাটাচ্ছে.. দুই ঘন্টা পর আবিরের ফোন....
- কি করছো পাগলী...?(আবির)
- এই তো আম্মুর সাথে গল্প করি...( মলিন হাসি হেসে রুহী)
- রেডি হয়ে নাও... আমি আসছি...(আবির)
- মানে কি...? (অবাক হয়ে রুহী)
- মানে আবার কি..? বাইরে যাবো তোমার সাথে... দ্রুত রেডি হয়ে নাও... আমি আসছি....(আবির)
- ওকে.....(রুহী)
- কি রে মা..? কি হয়েছে...? (আবিরের আম্মু)
- আম্মু তোমার ছেলের ফোন, আমাকে রেডি হতে বলল.... কোথায় নাকি যাবে..... আমি এখন উঠি.....(রুহী)
- আচ্ছা, যা.....(আবিরের আম্মু)
রুহী রুমে এসে রেডি হচ্ছে, এর মাঝেই আবির হাজির.....
- তোমার হলো.…?(আবির)
- ও বাবা, এতো তাড়াতাড়ি তুমি চলে এসেছো...?(রুহী)
- হুমম আসলাম..... কাজ শেষ তাই চলে আসলাম....(আবির)
- কি কাজে গিয়েছিলে....? (চুল চিরুনী করতে করতে রুহী)
- পরে বলব, এখন তুমি তাড়াতাড়ি করো.... চুল খুলে রাখবে না কিন্তু....(আবির)
- কেন....?(রুহী)
- আমি চাই না কেউ দেখুক..... আমি যেমন দেখে অজ্ঞান হচ্ছিলাম তেমন আর কেউ না হোক...(আবির)
- ঢঙ... আমি এমনিতেই চুল খোলা রাখি না.... খোঁপা করে ফুলের মালা নিই....(রুহী)
- সেদিন যে আভার কলেজে গেলে.... আমার মেজাজ তো ওই জন্যই আরও খারাপ হয়েছিলো...(আবির)
- ওওও হিংসুক একটা..... ওই দিন তো আভা বার বার বলছিলো.... সেইজন্য গিয়েছিলাম.... (রুহী)
- হুমম.... চলো এবার....
🌺
একটা রেস্টুরেন্টে মুখোমুখি বসে আছে রুহী ও আবির... অর্ডার করা এমনকি খাওয়াও শেষ তবুও আবিরের ওঠার নাম নেই.....
- কি হলো.….? উঠবে না....?(রুহী)
- না, চুপচাপ বসে থাকো......(আবির)
- কেন....? (রুহী)
-........(আবির চুপচাপ ফেসবুকিং করে চলেছে, মেসেজিং করছে)
- আবির, আমরা কি কারও জন্য অপেক্ষা করছি....? (রুহী)
- হুমমম....(ফোনের দিকে তাকিয়েই আবির)
- কার জন্য....?(উৎসাহ নিয়ে রুহী)
- আরে বসেই থাকো না.... আসলেই দেখতে পাবে.... এতো কথা বলো কেন...?(আবির)
রুহী মুখ গম্ভীর করে বসে আছে.. ফোনটাও আনেনি.. খচ্চর সাদা বিলাই...... মনে মনে আবিরের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্দ্বার করে চলেছে রুহী.... হঠাৎ আবির বলল.....
- রুহী, তুমি উঠে ওই পাশের টেবিলে বসো...
- কেন..? ওখানে কেন বসবো...?(রুহী)
- এখন অন্তত এত কথা বলো না... প্লিজ যাও.....(আবির)
রুহী এবার আর কোনো কথা বলল না... চুপচাপ গিয়ে পাশের টেবিলে বসে পড়লো... আবিরের উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে.....
- তোকে তো আজ দেখে নেবো.. বেটা হনুমান... 😡 দেখি তোর কে এমন বিশেষ গেস্ট আসছে, যার সাথে মেসেজিং করতে গিয়ে তুই আমাকে ধমক দিস... আবার আমাকে উঠিয়ে পাশের টেবিলে বসতে বলিস....😡😡 শয়তান বেটা....(মনে মনে রুহী)
আবির এবার ফোনটা পকেটে রেখে বসে আছে... কিছুক্ষণ পর একটা লোক এলো আর আবির দাঁড়িয়ে পড়লো.....
- হাই, আমি আবির চৌধুরী..... (হ্যান্ডসেক করে আবির)
- আমি সাকিব আহমেদ...
রুহীর চোখ চড়কগাছ.... সাকিব এখানে, আবার আবিরের সাথে.... এই বজ্জাত এর জন্য আবির আমাকে ধমক দিলো.... এই উনার বন্ধু....😡
- কেমন আছেন...? (সাকিব)
- জি আলহামদুলিল্লাহ.. আপনি...?(আবির)
- অনেক ভালো.... তার উপর আপনার সাথে এভাবে দেখা হবে তা ভাবতেই পারিনি....
- তাই..(মুচকি হাসলো আবির) তো কি খাবেন...? কফি...? নাকি অন্য কিছু...? (আবির)
- কোল্ড কফি....(সাকিব)
আবির ওয়েটার ছেলেটাকে ডেকে অর্ডার করে দিলো.....
- আপনার নাম অনেক শুনেছি, কিন্তু আপনার সাথে কখনও দেখা হবে সেটা ভাবতেই পারিনি....(সাকিব)
- আমিও কখনো ভাবতেই পারিনি আপনাকে আমি এভাবে চিনবো....( ডেভিল মার্কা হাসি হেসে)
- আপনি হঠাৎ আমাকে.... এখানে... এভাবে ডাকলেন যে.....(সাকিব)
- আমার এলাকায় এতো ঘোরাঘুরি করেন, আর আমাকে চিনেন না, ব্যাপারটা কেমন হয়ে যায় না...? এইজন্যই.... (গম্ভীর গলায় আবির)
- মা মা মানে....?(ঢোক গিলে সাকিব)
- না না তেমন কিছু না (আবির)
এর মাঝে ওয়েটার কফি দিয়ে গেলো... আবির রুহীকে ইশারা করলো ওর পাশে এসে বসতে... রুহী আবিরের পাশে বসতেই আবির বলল....
- তো, পরিচয় করিয়ে দেই... এ হলো আমার ওয়াইফ... তাসফিয়া চৌধুরী রুহী...(মুচকি হেসে আবির)
রুহীকে দেখে সাকিব পুরো অবাক হয়ে গেছে... রুহী আবিরের ওয়াইফ... তবুও আবিরকে কিছু বুঝতে দিবে না ভেবে বলল....
- হায়...( কাঁপা গলায় সাকিব)
রুহী কিছু বললো না...
- আগে থেকেই চিনেন নাকি সাকিব সাহেব..?(আবির)
- না না না তো...(সাকিব)
- তাহলে তোতলাচ্ছেন কেন...?(আবির)
- ক ক কই...? (সাকিব)
- দেখুন, আমি অতো ভনিতা পছন্দ করি না.... স্ট্রেট কথা বলতে পছন্দ করি... আপনি হয়তো এবার বুঝতে পেরেছেন আমি আপনাকে কেন ডেকেছি.….?(আবির)
-............. (সাকিব চুপ)
- আপনাকে যদি নেক্সট টাইম আর রুহীর আশে পাশে দেখি, তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না.... আপনার সিনিয়র আমি, তবুও আজ সম্মান করে "আপনি" বললাম... কিন্তু তখন তুমিও নয়, তুই করে বলতে বাধ্য হবো.…...(আবির)
-..............
- আর আপনার ভাইকে ওই দেশ থেকে ফেরত এনে রিমান্ডে দেওয়ার ক্ষমতা আমার আছে... কথাটা মাথায় রাখবেন..... আমার কথা বুঝতে পেরেছেন....? (আবির)
- জি, জি.... আসলে আমি তো জানিনা রুহী আপনার ওয়াইফ......(সাকিব)
- জানতেন না আজ জানলেন.... আর যেন না হয়.....(আবির)
- না না কখনোই নয়..... আজকে তাহলে আমি উঠি.... পরে আবার কথা হবে....(সাকিব)
- আচ্ছা... আর কড়া কথা বললাম.... কিছু মনে করবেন না.... আসলে রুহী আমার জন্য সবচেয়ে বড় দূর্বলতা.…... ওর কোনো সমস্যা আমি মেনে নিতে পারি না... (মুচকি হেসে আবির)
- না না কোনো সমস্যা নেই..... আমি তাহলে আসি.....(সাকিব)
- আচ্ছা, ভালো থাকবেন.... (আবির)
- সরি রুহী... (রুহীর দিকে তাকিয়ে)
বলেই সাকিব বেরিয়ে গেলো... রুহী হা করে তাকিয়ে আছে.... একবার সাকিবের চলে যাওয়ার দিকে, আরেকবার আবিরের মুখের দিকে.....
- এই যে... হয়েছে.... আর হা করে থাকতে হবে না এবার বাসায় চলো....(তুড়ি বাজিয়ে আবির)
- হুমম চলো.....(রুহী)
- কাল থেকে নিয়মিত ক্লাস করবে....
পথে গাড়ি থামিয়ে আবির রুহীর জন্য অনেকগুলো ফুল কিনে এনে ওর হাতে দিয়ে আবার ড্রাইভিং শুরু করলো....
বাসায় পৌঁছে কলিং বেল বাজাতেই দরজা খুলে দিলো.... আবির ভিতরে চলে গেলো.. কিন্তু রুহী হা করে দাঁড়িয়ে আছে....
be continue..... 💖💖
💞 এখনও মন ভালো হয়নি.......🥺 গল্প লেখার কোনো আগ্রহ পাচ্ছি না.... 😔তাই আজ এক পর্ব দিলাম...☹ 💞
Ami sudu tmk ceyeci
#আমি_শুধু_তোমাকেই_চেয়েছি
❤🦋
#writer_kamrul
#part_19
🍁
.
.
.
তিতলি সাজ্জাদের হাতে হাত রেখে পার্ক এর রাস্তা ধরে হেটে যাচ্ছে। সাজ্জাদ তো গুন গুন করে গান ও গাইছে। তা শুনে তিতলি অবাক হয়ে সাজ্জাদকে দেখছে আর লজ্জা পাচ্ছে। তিতলি নিরবতা ভেঙে বলে উঠলো,
তিতলি: কি জনাব? ভালো লাগছে না এভাবে হাটতে?(পাশে সাজ্জাদের দিকে তাকিয়ে)
সাজ্জাদ: আরে ভালো লাগবে না মানে! আমার বউ কিছু বলবে,,,, তা আমার ভালো না লেগে কই যাবে! আমার তো ইচ্ছে হচ্ছে এই সময়টা যেন থেমে যায়। যেন সারাজীবন তোমার সাথে হাটতে পারি। হাটবে তো আমার সাথে সারাজীবন?
তিতলি: উহুম না!
সাজ্জাদ:(উত্তেজিত হয়ে) কেন?
তিতলি: কারন আমার পা ব্যাথা হয়ে যাবে।(হেসে দিয়ে)
সাজ্জাদ হাফ ছেড়ে বলল,
সাজ্জাদ: ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে! তা তুমি চাইলে আমি তোমাকে কোলে নিয়েও হাটতে পারবো! চলবে?
তিতলি:(থুতনিতে আঙুল দিয়ে) ভেবে দেখতে হবে!
সাজ্জাদ হুট করে তিতলিকে কোলে তুলে নেয় আর বলে,
সাজ্জাদ: ভাবাভাবি পরে করো। এখন চলো।(মুচকি হেসে)
তিতলি সাজ্জাদের কাজে হা হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি কোল থেকে নামার জন্য ছটফট করতে থাকে আর বলে,
তিতলি: কি করছেন সাজ্জাদ? নামান আমাকে! সবাই কিভাবে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে।(আশেপাশে তাকিয়ে)
সাজ্জাদ: আই ডোন্ট কেয়ার! আর বেশি ছটফট করলে কিন্তু সবার সামনে চুমু দিয়ে দিবো। আর তুমি খুব ভালো করেই জানো আমার লজ্জা নামক জিনিসটার বড্ড অভাব।(চোখ টিপ দিয়ে)
তিতলি সাজ্জাদের কথা শুনে খুব ভালো ভাবে বুঝতে পেরেছে এখানে তার কথা খাটবে না। তাই লজ্জায় মাথা নিচু করে রেখেছে। আর সাজ্জাদ ওকে কোলে নিয়ে হাটছে।
,
,
,
,
,
,
সাজ্জাতকে তিতলি জোর করে একটা মেলায় নিয়ে গেছে। তিতলির এরকম মেলা খুব পছন্দ। সাজ্জাদ বারণ করেছিল কিন্তু তিতলি সাজ্জাদের কথা শুনে নি। তাই সাজ্জাদকেও বাধ্য হয়ে আসতে হয়েছে। মেলায় এসে তিতলি অনেক খুশি। এদিক সেদিক যাচ্ছে। সাজ্জাদ আর তিতলি একটা স্টলে ঢুকে জিনিসপত্র দেখছিল তখন সাজ্জাদের চোখ যায় তিতলির দিকে। সে খুব মনযোগ দিয়ে চুড়ি দেখছিল। সাজ্জাদ কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে,
সাজ্জাদ: কি ম্যাডাম! পছন্দ হয়েছে?
তিতলি মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলে। সেখান থেকে অনেক গুলো চুড়ি কেনে। তারপর একসাথে ফুচকা খায়। তিতলি সাজ্জাদকে নিয়ে প্রথম ফুচকা খেল! সাজ্জাদ প্রথমে খেতে চায় নি কিন্তু তিতলির জেদের কাছে হার মানতে হলো। প্রায় অনেক্ষন ঘুরাঘুরির পর সাজ্জাদ তিতলিকে নিয়ে সেই নদীর পাড়ে আসে। দুজনেই পাড়ে বসে আছে। কি সুন্দর সূর্যটা অস্ত যাচ্ছে আর তার লালিমা সাজ্জাদ আর তিতলির গায়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিকেলের মিষ্টি রোদটা তিতলির খুব প্রিয়।
হঠাৎ করে সাজ্জাদ বলে উঠলো,
সাজ্জাদ: কি সুন্দর বিকেল তাইনা?(তিতলির দিকে তাকিয়ে)
তিতলি:(নদীর দিকে সোজা তাকিয়ে) হুম! খুব সুন্দর। জানেন সাজ্জাদ যখন প্রিয় মানুষটা সাথে থাকে তখন সবকিছুই অনেক ভালো লাগে,,,মিষ্টি লাগে।(মুচকি হাসি দিয়ে) নিজেই জানি না কখন আপনার এতো কাছে চলে এলাম! প্রথমে তো আপনাকে সহ্যই হতো না।
সাজ্জাদ: হয়তো এর জন্যই একে ভালোবাসা বলে। কিন্তু আমি জানি তোমার মনে এখনো আমাকে নিয়ে অনেক কনফিউশন আছে। তা আমি ধীরেধীরে ক্লিয়ার করবো। চিন্তা করো না। আমি তোমাকে অনেক আগে থেকে জানলেও তুমি আমাকে নতুন চেনো তাই এমন মনে হচ্ছে।
তিতলি:(এক দীর্ঘ শ্বাস ফেলে) হুম।
,
,
,
সাজ্জাদ আর তিতলি কিছুক্ষন দুজনেই চুপ ছিল। নিরবতা ভেঙে সাজ্জাদ বলে উঠলো,
সাজ্জাদ: তিতলি জান! তোমাকে আমি কিছু দিতে ভুলে গেছি।(পকেটে হাত দিতে দিতে)
তিতলি ভ্রু কুচকে জিজ্ঞাসা করে কি? সাজ্জাদের হাতে একটা বক্স। ছোট বক্স,,, খুব কিউট ভাবে র্যাপিং এ মোড়া। তিতলি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালে সাজ্জাত বক্সটা খুলতে বলে। তিতলি ও বক্সটা হাতে নিয়ে খুলে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে আর মুচকি হেসে সাজ্জাদের দিকে তাকায়। তা দেখে সাজ্জাদ বলে,
সাজ্জাদ: পছন্দ হয়নি?
তিতলি:(হালকা হেসে) পছন্দ হয়েছে কিন্তু আমার তো নাক ফোঁড়ানো নেই। আমি এটা কি করে পড়বো?(ঠোট উলটে)
সাজ্জাদ: আসলে আমি বুঝতে পারিনি। তোমার জন্য কিছু গিফট আনা উচিত ছিলো। তাই ভাবলাম তোমাকে এই নোসপিনটায় খুব মানাবে,,,,,তাই এনেছি। তোমার ভালো না লাগলে আমি তোমায় অন্য কিছু উপহার কিনে দেই?
তিতলি: পরেরটা পরে! এখন যখন গিফট দিয়েছেন এটা আমি ফেরত দিবো না। এটা আমার কাছেই থাক।
সাজ্জাদ আর কিছু বলল না। হয়তো বলার মতো কিছু পায় নি। দুজনে অনেক্ষন একসাথে সময় কাটিয়ে বাসায় ফিরলো।
,
,
,
,
,
বাসায় ফিরে তিতলির চোখ চড়কগাছ! তার বাবা মা আবার ঝগড়া করছে। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাড়াতাড়ি হাতের জিনিসগুলো রেখে বাবা মায়ের কাছে গেলো। গিয়ে আগে দুইজনকে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,
তিতলি: আজ দুজন কি নিয়ে ঝগড়া করছো?(একবার বাবার দিকে তাকিয়ে, একবার মাম্মার দিকে তাকিয়ে)
বাবা: দেখ না মামনি! আমার কোন কথাই তোর মাম্মা শোনে না।
মাম্মা: একদম মিথ্যে কথা বলবে না। তুমি আমার কথা শুনছো না।
তিতলি:(হাত দিয়ে থামিয়ে) আরে আচ্ছা! আগে বলো কি নিয়ে ঝগড়া করছো।
মাম্মা: আরে আমি বলেছি বিয়েতে আমি শাড়ি পরবো,,,,,যেহেতু আমি শ্বাশুরি হতে যাচ্ছি। কিন্তু না তোর বাবা বলছে আমাকে লেহেঙ্গা পড়তে! আর উনি নাকি মাঞ্জা মেরে আসবে। আর আমাকে নিয়ে কাপল ডান্স করবে! বুড়ো বয়সে শখ কতো!
বাবা: তাতে দোষের কি আছে! তুমি চাইলে আমি তোমাকে আবার বিয়ে করে বাসরও করতে পারি,,,,,কাপল ডান্স তো কোন বিষয়ই না!(চোখ টিপ দিয়ে)
তিতলি তার বাবার কথা শুনে বিষম খেলো। আর গলা খাঁকারি দিয়ে বলতে লাগলো,
তিতলি: বাবা! আমি এখানে আছি! আর মাম্মাকে লেহেঙ্গা পড়তে বলছো! মাম্মার লেহেঙ্গা তুমি সামলাবা?
তিতাস সাহেব কিছু চিন্তা করে বললেন,
বাবা: ঠিক আছে লেহেঙ্গা পড়তে হবে না কিন্তু কাপল ডান্স করতে হবে।(জেদ ধরে)
তিতলি উপরে যেতে যেতে বলল,
তিতলি: সে তোমার আর মাম্মার বিষয়! তোমারাই সামলাও!
ব্যাস আর কি লাগে! আবার শুরু হয়ে গেলো তাদের খুনশুটিময় ঝগড়া!
তিতলি তার জিনিসগুলো নিয়ে উপরে চলে গেলো।
,
,
,
,
,
তিতলি অনেক্ষন ধরে চিন্তা ভাবনা করে কনিকাকে ফোন দিয়ে সকালে আসতে বলল।
,,
,,
,,
(চলবে),,,,
ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন।
Tor sohore valobasa
#তোর_শহরে_ভালোবাসা 💜
পর্ব-২৫
🌸🌸
সামান্তা গার্ডেনে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে।
বাড়িতে এসে আদিবাকে রুমে রেখেই গার্ডেনে চলে আসে।একটু শান্তিমতো কেদে নিজেকে হালকা করার প্রচেষ্টায়।আদিবা তার মাম্মাকে কাদতে দেখলে নিজেও কান্নাকাটি করবে তাই ওর আড়াল হতেই গার্ডেনে চলে আসে।তারপর জোরে জোরে কাদে।কাদতে কাদতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।এখন শুধু ফুপাচ্ছে।
"আদি কেন,,?কেন আবার আমার সামনে এসে আমাকে দূর্বল করে দিলে?নিজেকে তো মজবুত করে নিয়েছিলাম।তোমার দেওয়া আঘাত নিজের বুকে দাফন করে দিয়ে নতুন করে বাচতে চেয়েছিলাম।তবে আবার কেন এত বছর পর আমার সামনে এলে?এবার কোন ঝড় নিয়ে এলে?আমাকে আবার তছনছ করতে চাইছো?আদিবা...না আদিবা আমার মেয়ে,,আমার কাছ থেকে কেউ ওকে কেড়ে নিতে পারবেনা।তুমিও না।প্লিজ আদি আর এসো না আমার জীবনে?আমার সুখ কেড়ে নিতে।এসোনা।"
"আই নিড হার এট এনি কস্ট।গট ইট?।দুদিনের মধ্যে আমার খোজ চাই।সব ডিটেইলস আমি আগেই দিয়েছি।আর কিছু প্রয়োজন হলে আমাকে জানাবেন তবে আমার খোজ চাই।"
আদি ফোন রেখে দিলো।ঢাকা ব্যাক করার সমস্ত ব্যবস্থা করে ফেলেছে।সকালেই ঢাকা ব্যাক করবে।
আদি হোটেলের বারান্দায় গিয়ে দাড়ালো।আর নিজেকে নিজেই শান্তনা দিচ্ছে।
"আদি রিলেক্স,তুই যা ভাবছিস তাই হবে।ওই ছেলেটাকে দেখে হাসব্যান্ড ভেবেছিস,,ওর সাথে ছিলো বলেই কি হাসব্যান্ড হবে?এমন ও তো হতে পারে ওর ফ্রেন্ড বা আত্মীয় স্বজন কিংবা কলিগ,প্রতিবেশী অনেক কিছুই হতে পারে।"
আবারো বলছে,
আমি সামুকে বেবির কথা বলেছিলাম।আমরা আলাদা হয়েছি প্রায় পাচ বছর।আর মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্ছে ৪বছর হবে।৪বছরের কম হবেনা।ওর নাম আদিবা।আদি,,,আদিবা।সামু বলেছিলো আমাদের মেয়ে হবে আর মেয়ের নাম আদিবা।আমার নামের সাথে মিলিয়ে নাম আদিবা।বেবিটা যদি আমার না হয় তবে ওর নাম আদিবা কেন রাখবে?অন্য নাম রাখতে পারতো।আর ওখানে যা দেখেছি সেটাও।(বালিতে সামুর লাভ সেপের লিখাটা দেখেছে।অনেকে বলেছে লিখাটা তো থাকার কথা না।ঢেউয়ে মুছে যাওয়ার কথা। তাদের বলছি যেখানে ঢেউ আছড়ে পরেছে সেখানেই যে লিখেছে তা কিন্তু বলিনি।সাগড়ের পাড়ে লিখেছে।তবে কিছুটা দূরে।ওখানে বলেই দিয়েছি আদিবার চেয়ে কিছুটা দূরে।সাগর বা নদীতে ঢেউ যেখানে আছড়ে পড়ে তার চেয়ে বেশ কিছুটা জায়গা বেশি পর্যন্ত ভেজা থাকে।আর কিছু কিছু জায়গায় বালু পানি জমে থেকে সুন্দর প্রলেপের মতো তৈরি হয়।যারা গিয়েছেন দেখেছেন।আর যেহেতু রাত হয়ে গিয়েছিলো মানুষ জন কম ছিলো তাই কেউ নষ্ট করতে পারেনি।আশা করি উত্তর পেয়ে গেছেন।)হ্যা বেবিটা আমার।আমার বেবি।হ্যা আমার, আমার।"
আদি পাগল হয়ে যাচ্ছে।বিরবির করে এক কথাই বলছে।
সামান্তা শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে কিছুতেই ঘুম আসছেনা।অস্থির অস্থির লাগছে।আদির মুখটা ভেসে উঠছে।কেমন শুখিয়ে গেছে।চেহারায় ম্যাচুয়েড ভাব এসেছে।সেই চোখ, নাক,চুল সবকিছু একি আছে।সামান্তার কেমন ভয় হতে লাগলো আদি যদি আদিবার কথা জানতে পারে আদিবাকে নিয়ে যেতে চায় তাহলে?ও আর ভাবতে পারছেনা ওর কলিজার টুকরো আদিবা।সামু আদিবার গালে চুমু দিয়ে জড়িয়ে ধরলো।
মাই সানসাইন।
আদি কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফিরেছে।অফিসের কিছু কাজ আছে সেগুলো চুকিয়ে আবার কক্সবাজার যাবে।
রাতের বেলায়-
আদির মা আদির পাশে এসে বসলো।
আদি ল্যাপটপে চোখ রেখে বললো,
--মা কিছু বলবে?
--হ্যা,এভাবে আর কতদিন?সব ভুলে আবার নতুন করে শুরু কর।অনেকের জীবনেই অনেক দূর্ঘটনা ঘটে তাই বলে জীবন থেমে থাকেনা।আমাদের বয়স হয়েছে।তোর বাবার অবস্থাও দেখছিস।আমাদের ও তো ইচ্ছে হয় তোকে সুখী দেখতে।নাতি নাতনীর মুখ দেখতে।তুই আবার বিয়ে কর।
--সামুর খবর জানো কিছু?
আদির এমন প্রশ্নে আদির মা ঘাবড়ে যায়।থমথমে মুখে বলে,
--নাহ,,সামু আর যোগাযোগ করেনি।সামুর বাবাও তোর বাবার সাথে যোগাযোগ রাখেনি।৫বছর আগেই সব শেষ হয়ে গেছে।নিশিকে একদিন ফোন করেছিলো সামু।বলেছে ওর জব হয়েছে।ও ওর লাইফে ভালো আছে।তারপর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তুই ও তোর লাইফে ভালো থাক।বিয়ে কর।
--তোমার বউ লাগবে তো?ঠিক আছে এনে দিবো।
আদির এমন কথায় আদির মা খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়ে।
--সত্যি বলছিস?
--হুম,,তবে আমি আনবো।সময় হলেই আনবো।তোমরা নিজেরা কিছু করোনা।
--ঠিক আছে তুই যা ভালো মনে করিস।তোর খুশিতেই খুশি।
--আমি আগামীকাল আবার কক্সবাজার যাচ্ছি কাজ আছে।
--আজই তো এলি
--দরকার ছিলো তাই এসেছি।কাজ বাকি আছে কক্সবাজারে।শেষ করেই চলে আসবো।শুধু দোয়া করো যে কাজে যাচ্ছি তাতে যেন সফল হই।যদি কাজটা মন মতো হয় তবে আমার সাথে সাথে তোমরাও হ্যাপি হবে।
আদির মা ছেলের কথা কিছুই বুঝতে পারলো না তবুও বললো,
অবশ্যই সফল হবি।দোয়া করি।
আদি কক্সবাজারে এসেছে সাতদিন হয়ে গেছে কিন্তু সামুর কোনো খোজ কেউ এনে দিতে পারেনি।এদিকে সামান্তাও কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়েছে যে আদি আর ওদের লাইফে ব্যাক করছেনা।
আদির রাগ হচ্ছে।আগের মতো রাগ নেই তবে আজ রাগ হচ্ছে।এতদিন হয়ে গেলো কেউ খোজ দিতে পারলো না।সামনে থাকা লোকগুলোকে উদ্দেশ্য করে বললো,
--আপনারা কি হ্যা?সাতটা দিন পার হয়ে গেলো আর আপনারা কোনো খোজ দিতে পারলেন না।আপনাদের পিছনে অযথা টাকা খরচ করছি।
হটাৎ ফোন বেজে উঠলো।আদি নিজেকে শান্ত করে স্বাভাবিক হয়ে ফোন রিসিভ করলো।
কয়েক মিনিটের মাথায় আদির মুখে হাসি ফুটে।
ফোন রেখে বললো, আই গট ইউ।
সামু অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে চুলগুলো উচু করে বেধে কফি নিয়ে বসেছে খেতে।আদিবা ঘুমিয়ে আছে।তখনই কলিং বেল বেজে উঠলো।খালা ব্যস্ত তাই সামু উঠে দরজা খোলল।দরজা খোলে ওর চোখ চড়কগাছ।শরীর কাপছে।কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে।যেন বোবা হয়ে গেছে।
দরজায় আদি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
সামু অনেক কষ্ট করে ঢুক গিলে বললো,
--তুমি এখানে?
--কি আশ্চর্য ভিতরে ঢুকতে দিবে না?এক্স হাসব্যান্ড বলে কি ভদ্রতা করবে না?
উত্তরের অপেক্ষা না করেই ভিতরে ঢুকে গেলো।
সামান্তা কিছুই বুঝতে পারছেনা।ভয়ে ওর হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।এভাবে হুট করে এখানে আসার কারণ কি সেটাও বুঝতে পারছেনা।আর ঠিকানা কোথায় পেলো।সব গুলিয়ে যাচ্ছে।
আদি পুরো ড্রয়িং রুমে চোখ বুলিয়ে সোফায় আরাম করে বসতে বসতে বললো,
নাইচ হোম।
সামান্তা হাতে হাত ঘষতে ঘষতে মিনমিন করে বললো,
এখানে কেন এসেছো?
আদি সামান্তার কথার উত্তর না দিয়ে ওর দিকে চেয়ে আছে।সামান্তার চোখে চোখ পড়তেই অস্বস্তিতে সামান্তা চোখ সরিয়ে নেয়।আদি সামুকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখছে।
পড়নে কালো প্লাজো নেবি ব্লু কালার ঢিলাঢালা হাটু অবধি জামা।গলায় ওড়না জড়ানো।চুলগুলো উচু করে হেয়ার ব্যান্ড দিয়ে বাধা।গলায় একটা চিকুন চেইন।হাত,কান খালি।আগের চেয়ে কিছুটা মোটা হয়েছে।
আদির এভাবে চুপ করে বসে থাকা মেনে নিতে না পেরে কিছুটা জোরেই বললো,
--কি চাই এখানে?
আদি হালকা হেসে বললো,
--দেখতে এলাম।কেমন সংসার পেতেছো?কোথায় আছো কেমন আছো?
--দেখা হয়ে গেছে এবার যাও।
সামু বারবার বেডরুমের দরজার দিকে তাকাচ্ছে।আদিবার ঘুম থেকে উঠার সময় হয়ে গেছে।ঘুম থেকে উঠেই সামুর খোজ করবে।তখন ড্রয়িং রুমে আসবে,,আর তখন ওকে আদি দেখবে।তাই সামু চাইছে আদি তার আগেই চলে যাক।
--কি অদ্ভুৎ তাড়িয়ে দিচ্ছো কেন?আমি কি শুধু তোমাকে দেখতে এসেছি?তোমার হাসব্যান্ডের সাথে পরিচয় করাবে না?আরে ভয় পেওনা আমি কিছু জানাবো না।ফ্রেন্ড পরিচয় দেবো।আর তোমার মেয়ে কই?তাকে দেখছি না।তোমার মেয়ে মাশাল্লাহ।
--ও ঘুমাচ্ছে।বাড়িতে আমি একা আছি সো চলে যাও।
--মাম্মা!!
আদিবার ঘুম থেকে উঠে সামুকে ডাকছে।ডাকতে ডাকতে রুমের বাইরের দরজার সামনে এসে দাড়িয়েছে।আদি-সামু দুজনের দৃষ্টি সেদিকে।সামু বিরক্তিতে চোখ বন্ধ করে নিলো।
আদি বসা থেকে উঠে বললো,এইতো উঠে গেছে।
আদিবা আদির দিকে অবাক হয়ে চেয়ে আছে।ওদের বাড়িতে কে এসেছে বুঝতে পারছেনা।আদি আদিবার দিকে এগিয়ে গিয়ে হাটু গেড়ে বললো,
--কিউটি ভালো আছো?
--হ্যা,,
--স্কুলে পড়ো?
--হ্যা।
--গুড।আচ্ছা একটা কথা বলো তো,,
সামান্তা বুঝতে পারছেনা আদি কি করতে চাইছে।
আদিবা খুশি মনে বললো,কি?
--তোমার বাবার নাম কি?
সামু বাধা দেওয়ার আগেই আদিবা ফট করে বলে দিলো,
--পাপার নাম আদিল চৌধুরী।(হাত নাড়িয়ে)
আদি স্তব্ধ হয়ে গেল।পুরো রুম জোরে নীরবতা বিরাজ করছে।
আদি আদিবার গালে হাত ছোয়ালো।টপ করে ওর ডান চোখ থেকে পানি পড়লো।সামু কপালে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো।মেয়ে সব শেষ করে দিয়েছে।
--আংকেল তুমি কাদছো কেন?
আদি চোখ মুছে বললো,আমি কাদছি না।এমনিতেই পানি এসে পড়েছে।
সামু আদির চোখে এই প্রথম পানি দেখলো।আদির সাথে চোখ মিলানোর সাহস হচ্ছেনা।মাথা নিচু করে রাখলো।
--বেবি তুমি এখানে থাকো।তোমার মাম্মার সাথে আমার একটু কথা আছে।কেমন?
আদিবা মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো।আদি সামান্তার হাত ধরে টেনে বাইরে নিয়ে যাচ্ছে।
গার্ডেনে নিয়ে হাত ছেড়ে দেয়।সামান্তা মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।আদি নিজের কোমড়ে দুহাত দিয়ে সামুর দিকে চেয়ে আছে।দুজনের মধ্যে নীরবতা।সব নীরবতা ভেঙে আদি শান্ত কন্ঠে বললো,
--কেন আদিবাকে আমার কাছ থেকে আড়াল করতে চাইছো?
সামু মুখ কঠিন করে বললো,কেন চাইবো না?কে তুমি?
আদি বিস্ময় নিয়ে বললো,তুমি ভালো করেই জানো কে আমি?
--ওহ,,আচ্ছা,,তুমি ওর বাবা।তাই তো?কিসের বাবা হাহ,,কিসের?যে বাবা ওর মাকে তুচ্ছ একটা কারণে ডিভোর্স দিয়ে চোরের মতো পালিয়ে গিয়েছে সে বাবা?এতগুলো বছর যেখানে আমি ওকে একা কষ্ট করে মানুষ করেছি কই ছিলে তুমি?
--তুমি প্রেগন্যান্ট ছিলে সেটা কি আমি জানতাম?
--কেন জানবে না?তুমি সেদিন বেবি চাওনি?বলোনি তোমার বেবি লাগবে?আমরা ডক্তরের সাথে মিট করিনি?
কোনো উত্তর নেই তোমার কাছে?
--সামু মানছি আমার ভুল হয়েছে কিন্তু তুমি সেদিন বিচে আমাকে জানালে না কেন?
--আদিবা আমার মেয়ে।আমি ওকে জন্ম দিয়েছি।ও শুধু আমার কাছেই থাকবে।তোমার মতো মানুষের কাছে আমি ওকে দেবোনা।
--আমি ওর বাবা।
সামান্তা হাসছে।
--লাইক সিরিয়াসলি,একটা মেয়ে যখন প্রেগন্যান্ট থাকে তখন তার সবচেয়ে বেশি কাকে প্রয়োজন পড়ে?প্রেগন্যান্সির প্রথম খবর আহ্লাদী কন্ঠে স্বামীকে জানায়,প্রেগন্যান্সির সময় হাসব্যান্ডরা বেবি,বেবির মায়ের জন্য কত কি করে।অন্যদের দেখেছি আর কেদেছি।বেবি যখন প্রথম নড়াচড়া করে উচ্ছ্বসিত হয়ে তখন হাসব্যান্ডকে জানায়।যখন লেবার পেইন উঠে হসপিটালে ওটিতে নেওয়ার সময় একটা মেয়ে তার হাসব্যান্ডকে খোজে।আমার হাত ধরে কেউ বলে নি সামু ভয় পেওনা তোমার কিছু হবেনা।আমি আছি।বেবি আর তুমি ভালো থাকবে।
সামান্তা চোখের পানি মুছে বললো,আমি ওর খেয়াল রেখেছি,,লালন পালন করেছি।নিজের খেয়াল রেখেছি।পড়াশোনা করেছি।সব একা করেছি।
আর তখন তুমি নিশ্চয়ই তোমাতে মজে ছিলে,ফূর্তি করে বেরিয়েছো।
--মানছি আমার ভুল ছিলো কিন্তু আমার তো জানার অধিকার আছে।
--হ্যা,তুমি তো যাওয়ার আগে আমাকে বলে গিয়েছিলে,,কোথায় গিয়েছিলে বলে গিয়েছিলে।বাড়িতেও দুই বছর যোগাযোগ করোনি।
--হ্যা,আমি নিখোঁজ ছিলাম বাট আমার বাড়ির কাউকে জানাওনি,,তাদেরকে জানাতে পারতে।তারা তো তোমার কোনো খবর ই জানেনা।তারা জানলেও আজকে গল্প টা অন্য রকম হতো।
সামান্তা তাচ্ছিল্যের সুরে বললো,
--হ্যা,অন্যরকমই তো হতো।আমাকে ও বাড়িতে নিয়ে যেতো বেবির নিউস শুনে।এক্স পুত্রবধূ হিসেবে।তারপর তোমার কানে যখন বেবির নিউজ যেতো তখন তুমি পিতা হিসেবে উদয় হতো।তারপর তোমার মনের বাকি ক্ষোভ মেটাতে আমাকে পুরোপুরি ধ্বংস করার জন্য আমার মেয়েকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে।আমাকে ছুড়ে ফেলে দিতে।আমার কোনো অধিকার থাকতো না কেননা ডিভোর্স,,,
--সামু,,আমাকে তোমার এতটা খারাপ মনে হয়?
--কেন,,তুমি আমাকে ডিভোর্স কেন দিয়েছিলে?আমাকে ধ্বংস করতে নয়?তোমাকে তো বলেছিলাম আমাকে তুমি ছেড়ে দিলে আমি ধ্বংস হয়ে যাবো।তুমি তো সেই পয়েন্ট ব্যবহার করেছো।আর যখন দেখতে আমি মেয়েকে নিয়ে কিছুটা ভালো আছি।তখন মেয়েকে কেড়ে নিয়ে আমাকে পুরোপুরো শেষ করে দিতে।তুমি আমার সাথে যা করেছো তাতে তোমাকে এতটা ভালো মনে হওয়ার ও তো কোনো কারণ নেই।
আদি বাকা হেসে বললো,
--ঠিক বলেছো আমাকে এতটা ভালো মনে হওয়ার ও কিছু নেই।যাইহোক যেটা বলতে চাই।মাকে কথা দিয়েছি তাকে বউ এনে দেবো।পাচবছর তো একা আছি।আর কত দিন একা থাকবো।বিয়ে তো করতে হবে।তবে তার আগে ডিভোর্সের বিষয় নিয়ে কথা বলতে এসেছি।আমি তোমাকে ডিভোর্স পেপার সাইন করে দিয়ে গিয়েছি কিন্তু অফিসিয়ালি কিছুই হয়নি।আমি পেপারটাও পাইনি।আমি ডিভোর্স কনফার্ম করেই বিয়েতে বসতে চাই।দেখা গেলো বিয়ে করলাম তারপর তুমি এসে নাটক শুরু করলে ডিভোর্স নিয়ে তখন তো আরেক মছিবতে পড়তে হবে।তাই সব ঝামেলা চুকাতে চাই।
আদির কথা শুনে সামান্তার চোখে পানি চলে এলো।আদি আর বিয়ে করে নি।এখন বিয়ে করবে।আর ওকে এসব কথা শুনাচ্ছে।
--আমি তোমার লাইফে হস্তক্ষেপ করবো?ডিভোর্স নিয়ে নাটক করবো?এতটা ছোট লোক আমি নই।আমি তোমার লাইফে কখনও ইন্টারফেয়ার করবোনা নিশ্চিন্তে থাক।
--তুমি আমাকে ডিভোর্স পেপার দিয়ে দেও তবেই আমি নিশ্চিন্ত হবো।তারপর তুমি তোমার মতো আমি আমার মতো।
--এটা এখন আমার কাছে নেই।
--মিথ্যা বলোনা।তোমার কাছেই আছে।ঠিক আছে যতদিন তুমি আমাকে পেপার দিচ্ছোনা ততদিন আমি তোমাদের লাইফ থেকে যাবোনা।আর আদিবাকে,,,
সামু ঘাবড়ে গিয়ে বললো,
--আদিবাকে কি?
আদি রহস্যময় হাসি দিলো।
সামু ভয়ার্ত স্বরে বলে,আদিবা আমার কাছেই থাকবে।আমি পেপার দিলে তুমি ওকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিবে না,,
--ওকে ডান।
সামু বাড়ির দিকে হাটা দিলো আদিও বিজয়ের হাসি হেসে ওকে ফলো করছে।সামান্তার কাছে আপাতত আদিবার চেয়ে মূল্যবান কিছুই নেই।মায়ের কাছে সন্তানের চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই নেই।
সামু আলমারি থেকে পেপার বের করে টেবিল থেকে পেন নিতে যায় সাইন করার জন্য তখনই আদি ছু মেরে পেপার নিয়ে নেয়।
তারপর পেপার উল্টেপাল্টে দেখে বলে,
আমি জানতাম তুমি সাইন করোনি।আমার মন এটাই বলছিলো।
সামু আমতা আমতা করে বলল,করা হয়নি দেও করে দিচ্ছি।
আদি মুচকি হেসে সামুর দিকে চেয়ে পেপার দু'হাত দিয়ে মাঝ বরাবর টান দিয়ে ছিড়ে ফেলে।তারপর কয়েক টুকরো করে মেঝেতে ছেড়ে দেয়।
সামান্তা আদির কাজে অবাক হয়ে যায়।বিচলিত হয়ে বললো,
--এটা কি করলে তুমি?
আদি হাই তুলতে তুলতে বললো,আমার ডিভোর্স চাইনা।
সামু কিছু বলতে যাবে তখনই আদিবার প্রবেশ।আদিকে দেখে বলে,
--আংকেল তুমি কি আজকে এখানে থাকবে?
আদি ওকে কোলে নিয়ে বলে,যদি থাকি তুমি কি রাগ করবে?
--নাহ,,তুমি থাকো।তুমি থাকলে ভালো হবে তাইনা মাম্মা?
সামু কি বলবে বুঝতে পারছেনা। আদি সেটা দেখে বলে,
--আমি তোমার সাথে থাকবো।আচ্ছা আদিবা তোমার পাপা কই?
--মাম্মা বলেছে প্লেনে করে আকাশ দিয়ে বিদেশে থাকে।আমি বড় হলেই চলে আসবে।
--তোমার পাপাকে মনে পড়ে না?
--হ্যা,,প্লেনকে বলেছি ও যেন পাপাকে তাড়াতাড়ি আসতে বলে।
--তাই?দেখতে ইচ্ছে করে না?
--আমি ছবিতে দেখেছি।মাম্মা দেখিয়েছে।আমার পাপা অনেক সুন্দর একদম তোমার মতো।হিহি।
আদির চোখে পানি ছলছল করছে।সামু আর পারছেনা।কি বলবে বুঝতে পারছেনা।আদিবাকে কি বলবে এটাই ওর পাপা,,মেয়েকে আর কতদিন পাপার কাছ থেকে দূরে রাখবে।সামু ঠিক করলো বলে দিবে আদিবাকে।
তার আগেই আদি নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে বলে দিলো,
--আমিই তোমার পাপা,,
আদিবা অবাক হয়ে আদির মুখের দিকে চেয়ে আছে।তারপর সামুর দিকে চাইলো।আদিও অসহায়ের মতো সামুর দিকে চাইলো।আদি বুঝতে পারলো সামু না বললে আদিবা ওকে বিশ্বাস করবেনা।
সামু বড়সড় শ্বাস নেয় মাথা নাড়ে তারপর বলে,
হ্যা আদিবা,,এটা তোমার পাপা।
আদিবা আদির দিকে চেয়ে প্রশ্ন করে, তোমার নাম কি আদিল চৌধুরী?
আদি মাথা নেড়ে হেসে বলে,হুম।
আদিবার খুশি কে দেখে।ও পাপাকে পেয়ে অনেক খুশি।
--কি মজা আমার পাপা এসে পড়েছে।তুমি আর যাবে না তো?
--না,,
আদি আদিবাকে নামিয়ে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খায়।
সামু চোখ মুছে বাবা মেয়েকে একা ছেড়ে দিলো।
রাত হয়েছে সামু রাতের রান্নার ব্যবস্থা করে ডাইনিং টেবিলে ল্যাপটপ নিয়ে বসেছে।আদিবা সোফায় বসে কার্টুন দেখছে।তখনই আদি দুকাপ কফি নিয়ে সামুর সামনে একটা রেখে নিজে আরেকটা নিয়ে চেয়ার টেনে বসে পড়ল।সামু একবার আড়চোখে দেখে নিজের কাজে মন দিলো।
তা দেখে আদি বললো,কফি নিজে বানিয়েছি।ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।
নিজে বানিয়েছি শুনে সামু বিষম খেলো।এ ছেলে বলে কি।
সামু কফির দিকে চেয়ে তাচ্ছিল্যের সুরে বললো,
বাব্বা আদিল চৌধুরী কফি বানাতে পারে?
--শুধু কফি না আমি ইতালিয়ান,চাইনিজ, থাই,জাপানিজ খাবার ও বানাতে পারি।
সামান্তা টেবিলে ভর করে গালে হাত দিয়ে বসে ছিলো।ওর কথা শুনে হাত সরে পড়ে যেতে নেয়।
--আরে পড়ে গিয়ে থুতনি ভাংতে চাও।কফি খেয়ে বলো কেমন হয়েছে?নাকি ভাবছো কিছু মিশিয়ে দিয়েছি।ওয়েট,
আদি চেঞ্জ করে নিজেরটা সামুকে দিয়ে কফিতে চুমুক দিলো।
সামুর অসহ্য লাগছে।শুধু মাত্র আদিবার জন্য কিছু বলছেনা।আদিবা ঘুমালেই ওকে দেখে নিবে।ভদ্রতা বজায় রাখতে কফিতে চুমুক দিয়ে হা।
এত ভালো কফি ও কোনো দিন খেয়েছে কিনা মনে পড়ছেনা।এত ভালো কফি কোথায় বানানো শিখেছে।সামু আড়চোখে আদিকে দেখে ওর দিকে চেয়ে আছে জানার জন্য কফি কেমন হয়েছে।
সামু আদিকে উদ্দেশ্য করে বললো, জঘন্য হয়েছে!
বলেই ল্যাপটপ নিয়ে উঠে চলে গেলো।
আদি মুচকি হেসে বললো, তোমার অভিমান ভেংগে তোমার মনে আমার জন্য ভালোবাসার ফুল ফুটাবো।জানি সহজ হবেনা।তবে চেষ্টা করে যাবো যতদিন পর্যন্ত না মেনে নিচ্ছো।
চলবে....🐇
Tumi amr valobasa
#তুমি_আমার_ভালবাসা❤
#Part_27
.
🍁
.
আমি দাড়িয়ে ভাবছি ৩ মাস আগের কথা.....
৩ মাস আগে..!!
আহানে'র কথা শুনে আম্মু সেন্সলেস হয়ে যায়.... শুভ উঠে গিয়ে আহানে'র কলার ধরে বলে.....
_তুমি এসব কি বলছো?? আমার ভাইয়া কোথায়?? আমার ভাইয়ার কিছু হয়নি হতে পারেনা...!!
ভাইয়া এসে শুভ কে ছাড়িয়ে বলে....
_শুভ রিল্যাক্স জাস্ট কাম ডাউন.... আমাদের পুরো কথা আগে শোনো.... অভি ভাইয়া কে আমরা ফেরাতে পারিনি.... তারমানে এটা নয় যে অভি ভাইয়া বেঁচে নেই.... একচুয়েলি অভি ভাইয়ার কন্ডিশন খুব খারাপ ছিলো.... অপারেশন সাকসেসফুল হয়নি আর তাই.... অভি ভাইয়া কোমায় চলে গিয়েছে.... কোমা থেকে কবে ফিরবে আমরা জানিনা...!!
আহান আর ভাইয়া মাথা নিচু করে ফেলে.... এরপর অভি ভাইয়া কে অনেক ডক্টর দেখানো হয়.... বাবা বিদেশে নিতে চেয়েছিলো.... কিন্তুু ডক্টর তখন নিতে দেয়নি.... কারন ওই অবস্থায় নিলে লাইফ রিস্ক হতো.... রুপ আমাদের সাথেই থাকে.... কারো সাথে তেমন কথা বলেনা.... সারাদিন অভি ভাইয়ার রুমে থাকে.... অভি ভাইয়া কে বাড়িতে.... অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে.... বাড়িতেই ট্রিটমেন্ট করা হয়.... অভি ভাইয়ার কিছু হলে রুপ বাঁচতো না.... শান্ত কে শুভ'র কাছে দিয়ে রুপে'র কাছে এলাম.....
_রুপ সারাদিন তো কিছু খাসনি.... প্লিজ চল কিছু খেয়ে নিবি..!!
_না না আমি এখান থেকে কোথাও যাবোনা.... আমার অভি উঠে আমাকে না দেখলে.... অনেক রেগে যাবে আমি যাবোনা....
পাগলের মতো করছে আর বলছে...!!
_রুপ তুই কি চাস অভি ভাইয়া কষ্ট পাক?? অভি ভাইয়া কোমা থেকে ফিরে.... তোকে যদি এভাবে দেখে তাহলে কষ্ট পাবে.... এটা তুই কেন বুঝিস না??
রুপ আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো.... একটুপর আহান আর ভাইয়া এলো.... ওরা প্রতিদিন অভি ভাইয়া কে দেখে যায়.... রুপ কে কাঁদতে দেখে আহান বললো.....
_রুপ বি স্ট্রোং ওকে?? তুমি এভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না.... তোমাকে সুস্থ থাকতে হবে প্লিজ ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড...!!
.
.
🍁
.
.
আহান আর ভাইয়া রুপ কে বোঝালো.... রুপ চুপ করে বসে আছে.... আমি খাবার এনে ওকে খাইয়ে দিলাম.... কোনোরকম একটু খেলো.... একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে এলাম.... শান্ত কান্না করছে শুভ'র কাছ থেকে নিয়ে.... আগে ওকে খাইয়ে নিলাম...!!
_রুপ খেয়েছে তিশা??
শান্ত কে খাইয়ে বিছানায় বসিয়ে দিলাম.... ৬ মাস চলছে ওর.... ঠিকমত বসতে পারেনা তাই পাশ দিয়ে টেডিবিয়ার দিয়ে দিয়েছি.... এগুলো সব শুভ এনেছে নিজের ছেলের জন্য.... শান্ত কে বসিয়ে বললাম....
_হ্যা খাইয়েছি তবে না খাওয়ার মতো...!!
_কি থেকে কি হয়ে গেলো??
এরমাঝে রুপে'র চিৎকার কানে এলো.... শুভ দৌড়ে বেরিয়ে গেলো.... শান্ত কে কোলে নিয়ে আমিও চলে এলাম.... আম্মু, বাবা, রুপ কান্না করছে.... আহান আর ভাইয়া অভি ভাইয়া কে দেখছে.... অভি ভাইয়া জোড়ে শ্বাস নিচ্ছে.....
_ও মাই গড এটা কি করে হলো?? এত মাস তো ঠিক ছিলো...!!
আহানে'র কথা শুনে শুভ বললো....
_কেন কি হয়েছে?? আর ভাইয়া এমন করছে কেন??
_শুভ কথা বলার টাইম নেই.... অভি কে ইমিডিয়েটলি হসপিটালে নিতে হবে..!!
অভি ভাইয়া কে নিয়ে হসপিটালে চলে এলাম.... ডক্টররা যা বললো তা শুনে.... সবার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলো.... এখানে অভি ভাইয়ার ট্রিটমেন্ট করতে পারবে না.... কারন কন্ডিশন খুব বেশী খারাপ.... এখানে থাকলে হয়তো কোনদিন কোমা থেকে ফিরবে না.... তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিঙাপুর নিয়ে যেতে.... আম্মু আর রুপ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে.... সবাই ভেঙে পড়েছে কিন্তুু প্রকাশ করছে না.... ঠিক হলো সবাই সিঙাপুর যাবে.... আমি, শুভ, বাবা, আম্মু, ভাইয়া আর আহান....
.
.
🍁
.
.
১০ দিন পর সিঙাপুর হসপিটালে আমরা.... অভি ভাইয়া আগের মতোই কোমায় আছে.... ডক্টররা বলেছে সেন্স আসবে খুব তাড়াতাড়ি.... সবাই একটু হলেও শান্তি পেয়েছে.... সেন্স আসার অপেক্ষা এখন.... শুভ আমাকে হোটেলে নিয়ে এসেছে.... শান্ত কে নিয়ে হসপিটালে থাকা ঠিক হবেনা.... শান্ত তো ছোট অনেক.... এসবে আমার ছেলেটা ভয় পেয়ে যাচ্ছে.... প্লেনে প্রচুর কান্না করছিলো.... হসপিটালেও কান্না করেছে.... হোটেলে এসেই নিরব হয়ে গিয়েছে.... ও ভীর সহ্য করতে পারেনা....!!
রুপে'র বাবা, মা তো আসতে দিতে চায়নি ওকে.... কিন্তুু রুপ জোড় করে এসেছে.... কেউ আটকাতে পারেনি ওকে.... পারবে কি করে?? ভালবাসা তো এমনই কিন্তুু.... এত কষ্ট যে ওদের পেতো হবে.... এটা কোনদিন ভাবিনি.... হাসি, খুশি প্রানজ্জল অভি ভাইয়া ছিলো.... অথচ ভাগ্যের পরিহাসে প্রায় ৪ মাস হতে চললো.... একভাবে পড়ে আছে অক্সিজেন মুখে থাকে.... যার দিন রাত ২৪ ঘন্টা.... আল্লাহ জানে কবে সব ঠিক হবে.... কবে অভি ভাইয়া ঠিক হবে.... আর কবে সবার চোখের পানি.... রুপে'র বুকফাটা চিৎকার কান্না.... এসব কিছুর অবশান হবে.... মাঝে মাঝে ভাবি ভালবাসা এমন কেন?? কেন এত কষ্ট ভালবাসায়?? কেন কষ্টবিহীন ভালবাসা হয়না?? আমিও তো কম কষ্ট পাইনি.... আমার শুভ কে তো সবাই মৃত ধরে নিয়েছিলো.... কিন্তুুু আল্লাহর অশেষ রহমতে ওকে ফিরে পেয়েছি.... এখন আল্লাহ চাইলে রুপ ও আবার.... আগের মতো হাসবে সুখে থাকবে..!!
.
.
🍁
.
.
১ মাস পর ডক্টর পাঠিয়ে দিলো বাংলাদেশে.... কারন অভি ভাইয়ার সেন্স না এলেও.... কিছুটা রিকভার করেছে.... তাই বাড়িতে আগের মতো ট্রিটমেন্ট চলছে.... ড্রয়িংরুমে বসে আছি শান্ত ফ্লোর বসে খেলছে.... আমি ওর সামনে সোফায় বসে আছি.... তার অপজিটে শুভ আর আম্মু.... বাবা ও পাশেই বসা.... এমন সময় রুপ সবাই কে ডাক দিলো.... আমরা তাড়াতাড়ি উপরে গেলাম.... উপরে গিয়ে আমরা অবাক.... মনে মনে আল্লাহ কে শুকরিয়া জানালাম.... অভি ভাইয়া চোখ খুলেছে সেন্স এসেছে.... অভি ভাইয়া নিজেই উঠে বসলো.... আহান আর ভাইয়া ও চলে এসেছে.... সবার চোখ মুখ খুশিতে উজ্জল হয়ে গিয়েছে.... রুপ অভি ভাইয়া কে জড়িয়ে ধরলো.... অভি ভাইয়া ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে.... একটুপর রুপ কে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিলো.... রুপ অসহায় ভাবে তাকিয়ে আছে....!!
_কে আপনি?? আমাকে জড়িয়ে ধরলেন কেন??
অভি ভাইয়ার কথা শুনে.... সবাই চাওয়াচাওয়ি করছে.... আম্মু অভি ভাইয়া কে ধরে বললো.....
_অভি এসব কি বলছিস??
_অভি?? কে অভি?? আপনারা কারা??
_অভি আমি তোর মাম্মা....
_কে মাম্মা?? আমি আপনাদের কাউকে চিনিনা..!!
বলে অভি ভাইয়া মাথা চেপে ধরলো.... এবার সবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো...!!
#চলবে....🍁
[আগেই বলেছিলাম বিজি আছি.... কালকে ২টা পার্ট দিয়েছিলাম.... আজকেও দিয়ে দিলাম ছোট করে.... সবাই জানেন আমি রোজ গল্প দেই.... সরি বলে নিচ্ছি আগেই.... বিকজ কয়েকদিন আমি গল্প দিতে পারবো না.... সরি এফরিওয়ান এগেইন সরি]
The villain husband
The Villain Husband
অনেকক্ষন ধরে ড্রিংক করে যাচ্ছে রুদ্র, আজ অনেকদিন পর আবার ড্রিংক করছে রুদ্র। একটা সময় স্নেহাকে না পাওয়ার কষ্টে ড্রিংক করতো রুদ্র, কিন্তু আজ স্নেহাকে পেয়েও হারানোর ব্যাথায় ড্রিংক করছে রুদ্র।
তবে আজ তো তার কষ্ট পাওয়ার কথা না, সে তো এটাই চেয়েছিলো, স্নেহার বদনাম আর স্নেহার বাবা মায়ের অসম্মান!!
তবে কেন এমন হচ্ছে,
বোতলের পর বোতল ড্রিংক শেষ করছে রুদ্র। তবে আজ তার এ কষ্টের স্পষ্ট কোনো কারন রুদ্র নিজেও জানেনা,
আজ তার কষ্ট কি স্নেহার আজকের দেয়া থাপ্পড় নাকি নিজের বউ আর সন্তানের থেকে আলাদা হবার কষ্ট।
ড্রিংক করতে করতে টেবিলে ওপরে কোনো রকম ভাবে হাত ঝুলিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো রুদ্র,
রাত ১১ টা আশিসের ফোনে ঘুম ভাঙল রুদ্রের।
- হ্যালো, স্যার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে আমাদের, ( আশিস)
- কি হয়েছে?( রুদ্র)
- স্যার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে আপনি আগে এখানে আসুন সব নিজেই জানতে পারবেন!!
আশিসের কথা শুনে রুদ্র তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলো বাসা থেকে।
অফিসে গিয়েই সোজা নিজের কেবিনে ঢুকলো রুদ্র।
মাথা নিচু করে বসে আছে একটা লোক, আর পাশেই দাঁড়িয়ে চোখের পানি ফেলছে আশিস।
রুদ্র কেবিনে ঢুকতেই,
- করিম চাচা আপনি? এতো বছর পর?( রুদ্র)
বাবা আমাকে মাফ করে দাও বাবা, আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি। বলেই রুদ্রের পায়ে হাত দিয়ে বসে পড়লো করিম।
- আরে চাচা কি করছেন আর মাফই বা চাইছেন কেনো,
- বাবাগো আমি ভুল করছি তার কোনো ক্ষমা হয়না বাবা, আমাকে মাফ করে দেন।
রুদ্র করিমকে ধরে উঠালো,
- চাচা আমাকে বলুন কি হয়েছে, না বললে আমি কিভাবে বুঝবো আসল ঘটনা?
- বাবা অধরা আন্তহত্যা করেনি, ওকে মেড়ে ফেলা হয়েছে,
- মানে এসব কি করছেন চাচা?
-হ্যা বাবা, ওকে মেড়ে ফেলা হয়েছে আর ওর পেটে যে বাচ্চা ছিলো তাও মিথ্যা ছিলো, সব কিছু সাজানো গোছানো প্লেন ছিলো!!
- চাচা আপনি এসব কি বলছেন? আর এসব আপনি কিভাবে জানেন?
- আমি জানি বাবা, কারন খুন হওয়া আমি দেখেছিলাম,
আমি সত্যিটা সবাইকে জানাতেও চেয়েছিলাম কিন্তু তার আগেই আমাকে ওরা হুমকি দেয়,আমি কাউকে কিছু বললে ওরা আমাকে আর আমার দুই ছেলেমেয়েকে মেড়ে ফেলবে,
- তাই আপনাকে সেদিনের পর আর ওই এলাকায় দেখা যায়নি তাইনা?
- হ্যা বাবা ভয়ে আমি পালিয়েছিলাম,কিন্তু অনেকদিন পর ওই এলাকায় একদিন ফিরে যাই যেয়ে শুনে এই ব্যাপারে প্রতিবাদ করতে যেয়ে আপনাকে জেলে যেতে হয়েছে আর আপনার বাবা সেই কষ্ট মেনে নিতে না পেরে মাড়া গিয়েছে।
তারপর থেকে নিজেকে অপরাধী করি সব কিছুর জন্য আমি যদি আপনাদের সব সত্যি বলতাম তবে হয়তো সবার জীবন এলোমেলো হতোনা!! কথাগুলো বলেই কেঁদে দিলো করিম চাচা।
তার মানে আমরা এতোদিন আসল সত্যিটাই জানতাম না, তার মানে স্নেহার কারনে আত্নহত্যা করেনি অধরা আপু। রুদ্রের সব কিছু কেমন জানো গুলিয়ে যাচ্ছে। এতোদিন মিথ্যার ওপরে ভিত্তি করে, এতোকিছু করেছে,( মনে মনে কথাগুলো ভাবছে রুদ্র)
- আচ্ছা চাচা, আপনি তো স্নেহাদের বাড়ি কাজ করতেন এই ব্যাপারে তো আরো অনেক কিছুই জানবেন! আমাকে একটু সব খুলে বলুন।
- বাবা আমারে আশিস বাবা বলেছে যে তুমি স্নেহা মাকে কতো ভুল বুঝেছো,
বাবা স্নেহা মা তো অনেক ভালো তার মনে কোনো ভেজাল নেই,
কিন্তু আসল কালপিট হচ্ছে স্নেহা মায়ের মামা, সে স্নেহা মাকে অধরার নামে খারাপ খারাপ কথা বুঝিয়েছে, আর শ্রাবন বাবা অধরাকে ভালোবাসতো শ্রাবন বাবাকেও অধরার নামে খারাপ কথা বুঝিয়েছে।
সবাইকে বুঝিয়েছে যে অধরা খারাপ মেয়ে ছিলো, আর তার কারনেই অধরার পেটে বাচ্চা এসে গিয়েছিলো, সমাজের কথা ভেবে নিজেই আত্নহত্যা করে প্রান দিয়েছে,
এসব সইতে না পেরে শ্রাবন বাবা কষ্টে অভিমানে দেশ ছেড়ে চলে যায়।
এখান থেকে বউ বাচ্চা নিয়ে চলে গিয়েছিলাম ঠিকই কিন্তু কেও যেন কিছু বুঝতে না পারে তাই স্নেহার মামার কথায় বাদ্ধ্য হয়েই আমাকে আবার ওই বাড়িতে কাজে যেতে হয়।
বাবা স্নেহা আর শ্রাবন বাবাকে ওরা অনেক ভুল বুঝিয়েছে, তোমাদের নামে খারাপ কথা বলেছে তাই স্নেহা মা তোমাকে আর শ্রাবন বাবা অধরাকে ঘৃনা করে।
বাবা আর কেও না জানুক আমি জানি, স্নেহা মা তোমার জন্য অনেক কষ্ট ভোগ করেছে, দিন দিন পাগলের মতো কাটিয়েছে,
রুদ্র যেন আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না, পায়ের নিচের মাটি যেন সরে যাচ্ছে রুদ্রর। তারমানে সে অনেক বড় ভুল করে ফেলেছে।
স্নেহাকে ভুল বুঝেছে। দোষ না করেও শাস্তি পেতে হয়েছে স্নেহাকে।
রুদ্রের ইচ্ছা করছে নিজেকে গুলি করে ক্ষতবিক্ষত করে দিতে নিজেকে, কিন্তু না তাকে শক্ত হতে হবে।
স্নেহার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, ফিরিয়ে আনতে হবে স্নেহা আর তার বাচ্চাকে।
কিছু না বলেই রুদ্র বেড়িয়ে পড়লো,
মাথায় অনেক কথা ঘুরপাক খাচ্ছে রুদ্রের,
পাগলের মতো এদিক ওদিক খুজছে স্নেহাকে,
রুদ্র জানে না স্নেহা কোথায় আছে, তবে আজ স্নেহাকে সামনে পেলে স্নেহার পা ধরে ক্ষমা চাই, আর চিৎকার করে স্নেহাকে বলতো,
স্নেহা আমাকে শাস্তি দাও, আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি আজ তুমি আমায় যে শাস্তি দিবে আমি মাথা পেতে নিবো,
কিন্তু এমন কিছুই করতে পারছেনা রুদ্র কারন এসব বলার জন্য আজ স্নেহাকেইতো সে খুজে পাচ্ছেনা।
অনেকক্ষন খোজার পরও স্নেহানে খুজে পায়নি রুদ্র।
তাই বাসায় ফিরে স্নেহার ছবিটা বুকে নিয়ে সোফায় বসে চিৎকার করে কাঁদছে রুদ্র।
রুদ্রের এমন কান্না শুনে তিতির আর রুদ্রের মা দুজনেই ছুটে এলো,
- কি হয়েছে বাবা? কি হয়েছে? তুই এমন করছিস কেনো?( রুদ্রের মা)
রুদ্র তার মাকে পাশে দেখেই জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো, রুদ্র।
- মা আমি অনেক বড় ভুল করে আছি, সত্যিটা যদি আর দুইদিন আগেও জানতাম তাহলে এই ভুল আমি করতাম না মা,
- কি হয়েছে বাবা আমাকে সব বল,
তারপর কাঁদতে, কাঁদতে মাকে সব বললো রুদ্র,
- এ তুই কি করেছিস? একটা মেয়ের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সম্মান আর তুই তাতেই হাত দিয়েছিস? এটা তুই কিভাবে পাড়লি? তোকে ছেলে ভাবতেও আমার ঘৃনা করছে। আমি আজই স্নেহাকে আ বাড়িতে ফিরিয়ে আনবো।
- না মা, এতো কিছুর পর ও ফিরে আসবেনা। আর ও কোথায় আমি জানিনা।
- আমি জানি ভাইয়া( তিতির)
অবাক হয়ে তিতিরের দিকে তাকালো রুদ্র,
- তুই কিভাবে জানিস?
- আজ কলেজ থেকে আসার সময় আমি ভাবিকে দেখি তারপর ফলো করি, তারপর জানতে পারি ভাবি আমাদের কলেজ এর প্রিন্সিপ্যাল এর বাসায়,
কিন্তু ও সেখানে কি কিভাবে?
- আমি বেশি কিছু জানিনা ভাইয়া,
- তিতির আমাকে সেখানে নিয়ে চল, আমি স্নেহাকে ফিরিয়ে আনবো,
তারপর তিতির রুদ্র আর রুদ্রের মাকে নিয়ে তানিয়াদের বাসায় রওনা দিলো,
- তোর বেবিটা কিন্তু খুব কিউট হবে,( তানিয়া)
- কিভাবে বুঝলি?
- আরে তুই এতো কিউট আর তোর বেবিটা তো ডাবল কিউট হবে তাইনা।
- তুই ও না( স্নেহা)
- কি আমি? ও হ্যা আমি হচ্ছি ফিউচার খালামনি।
হাহা দুই বান্ধবী মিলে হাসাহাসি করছে আর গল্প করছে,
দরজায় কলিংবেল বাজতেই,
- মনে হয় ভাইয়া ফিরেছে তুই বস আমি দরজা খুলে আসছি!!
বলেই তানিয়া দরজা খুলতে চলে গেলো,
দরজা খুলেই,
- ইয়েস কারা আপনারা, ঠিক চিনলাম না তোহ?( তানিয়া)
- মা আগে ভেতরে আসি তারপর সব বলছি!!
- ঠিক আছে আসুন, বলেই তানিয়া সবাইকে ভেতরে আসতে বললো,
স্নেহা রুম থেকে মহিলা কন্ঠ শুনে বেড়িয়ে এলো,
স্নেহাকে দেখতেই রুদ্রের মা এগিয়ে গেলো,
- মা তুই ঠিক আছিস? স্নেহার গাল ধরে।
স্নেহা কিছুই বুঝতে পারছেনা, কাল যে তাকে চোখের সামনে দেখতে পারেনি আজ সে এভাবে এসেছে আর!! ভাবতে, ভাবতেই স্নেহা বললো,
- আপনারা এখানে?
- ভাবি আমরা তোমাকে নিতে এসেছি ভাইয়া আমাদের সত্যিটা বলেছে যে তোমার কোনো দোষ নেই,(তিতির)
- তোমরা এসব কি বলছো,
আমি বলছি স্নেহা, রুদ্র বলতে শুরু করলো, করিম চাচার আসা থেকে শুরু করে রুদ্রের সব সত্যি জানা সব কিছু রুদ্র স্নেহাকে বললো,
রুদ্রের বলা শেষ হতেই স্নেহা বলতে শুরু করলো,
- বাহ, বাহ খুব ভালো, আমার জীবনটা দেখি পুতুলখেলা হয়ে গিয়েছে যখন ইচ্ছা আমাকে আদর দিয়ে ঘরে তুলবেন আর আপনার ছেলের ভুল বোঝার কারনে তার মিথ্যা কথা বিশ্বাস করে আবার যখন ইচ্ছা আমাকে বাড়ি থেকে বেড় করে দিবেন। মা আমিতো কখনো আপনাকে মায়ের চোখে ছাড়া অন্য ভাবে দেখিনি।
আর এই অমানুষটার কথা আর কি বলবো,
যে নিজের স্ত্রীকে সবার সামনে মিথ্যা কথা বলে চরিত্রহীন প্রমান করে, আর শেষমেস নিজের সন্তানকে অবৈধ প্রমান করতেও যার অন্তর একটু কাপেনা।
আপনারা আমাকে কি পেয়েছেন বলুন? কি পেয়েছেন?
আমি একটা মেয়ে বলে, এ শহর থেকে আমার শেষ ঠিকানাও কেরে নিয়েছেন আমার বাবা মাকে বাদ্ধ্য করেছেন দেশেরবাড়ি চলে যেতে,
সেদিন আমি বেরিতে আসার পর একবার ও কি ভেবেছিলেন এতো রাতে একটা মেয়ে কতোটা খারাপ অবস্থায় পড়তে পারে?
সত্যিটা না জেনে শাস্তি দিয়েছেন আমাকে আমার সন্তানও রেহাই পায়নি।
আর কথা বলতে পারছেনা স্নেহা কাঁদতে, কাঁদতে বসে পড়েছে ফ্লোরে।
রুদ্র স্নেহাকে ধরতে যাবে তখনি,
- ডোন্ট টাচ মি! আপনার মতো লোক আমাকে টাচ করলে আমি নিজেকে অপবিত্র মনে করবো,,
- স্নেহা!!!
- অবাক হবেননা, যা বলেছি তা সত্যি বলেছি,
- আমার ছোয়ায় যদি তুমি অপবিত্র মনে করো নিজেকে তবে তোমার গর্ভে যে আছে সে তো আমার ভালোবাসার ছোয়ার চিহ্ন,
- কি বললেন আপনি( রাগে লাল হয়ে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে বললো স্নেহা) আপনার অংশ? দুইদিন আগে সবার সামনে ওকে অস্বীকার করে এখন অধিকার ফলাতে এসেছেন। শুনে রাখুন ও আপনার কেও না।
আমি ঘৃনা করি আপনাকে,
চেঁচিয়ে কথাটা বলেই রুদ্রকে জোরে ধাক্কা দিকো স্নেহা,,
চলবে,
( পড়াশুনা আর কাজে মাঝে গল্প লিখি, কিন্তু তারপর ও আপনারা অনেকেই নেক্সট বলেন। এতে কষ্ট পাই। আচ্ছা একটু কষ্ট করে আপনাদের মতামত জানিয়ে আমাকে একটি উৎসাহিত করতে পারবেন না?😞)