read.cash Log in

@Kamrul16

Joined 20 May 2020 · 129 posts

120 KT

0 KT · $1.98 received · 0 KT · 60¢ given

Posts

@Kamrul16

corona করোনায়_আক্রান্ত_এক_যুবকের_শেষ কথাগুলো_ছিল_এমন — হাসপাতালের_বিছানা থেকে বলছি, দয়া_করে শুনবেন কি মানুষ !! আমি এক তাগড়া যুবক, বয়স-২৭, নিরোগ, তরতাজা।। ভেবেছিলাম, এই করোনাভাইরাস ঘটিত মহামারি আমার রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাঙতে পারবে না। ষোলো দিন আগে, জ্বর হলো আমার; সাধারণ ফ্লু ভেবে চুপচাপ কাটিয়ে দিলাম দিনটা। পনেরো দিন আগে, শরীর ব্যথা; জ্বর কমে, বাড়ে; পেইনকিলার খেলাম দু'টো। চৌদ্দ দিন আগে, জ্বর আসে, যায়; শরীর ব্যথা বাড়ে তো বাড়েই; সিজন চেঞ্জ হচ্ছে, আমি ফ্লুতেই থাকলাম, আমি পেইনকিলারেই থাকলাম। তেরো দিন আগে, সারাদেহে ব্যথা কমলো, এলো গলা ব্যথা। বারো দিন আগে, খুশখুশে কাশি, গলা ব্যথা বাড়ে, কমে; জ্বর ছিলো; আশঙ্কিত আমি ডায়াগনোসিসে গেলাম। এগারো দিন আগের ভোরে, জানলাম, আমি কোভিড-১৯ পজিটিভ; স্বাদ ও ঘ্রাণ এই দুই ইন্দ্রিয় ক্ষমতা হারাতে আরম্ভ করলো। দশ দিন আগে, দু'কানের ভিতরে তীক্ষ্ণ ব্যথা; স্বাদ নেই, গন্ধ নেই; ব্যথা গলায়, কাশি, জ্বর দেহে। নবম দিন থেকে, বাকি সব উপসর্গের সাথে আরম্ভ হলো শ্বাসকষ্ট। অষ্টম, সপ্তম, ষষ্ঠ দিন গেলো; সে কী প্রাণপণ চেষ্টা আমার, একটু বাতাস নিতে বুকের ভিতরে! হায়, এ-জগতে একমুঠো হাওয়া কি নাই! আজ থেকে ছয় দিন আগে ঘর থেকে বের করা হয়েছিলো আমাকে- পুলিশ ছিলো দু'জন, দু'জন স্বাস্থ্যকর্মী ছিলো, ছিলো একটি অ্যাম্ব্যুলেন্স। আমার মাকে উঠতে দেওয়া হয়নি অ্যাম্বুলেন্সে, আমার বাবাকে আসতে দেওয়া হয়নি আমার সাথে, আমার ভাইকে আটকে দেওয়া হয়েছে ঘরের দুয়ারেই, আমার বোন তখন অজ্ঞান আমার শোকে। অ্যাম্বুলেন্স চলে আসছিলো তার প্রিয় সাইরেন বাজিয়ে; ভেতরে চিৎ শোওয়া আমি, একটু শ্বাসের খোঁজে আথালি পাথালি আমি, মাথাটা একটু তুলে আমার দু'পায়ের ফাঁক গলে, অ্যাম্বুলেন্সের দরজার ছোট্ট জানলা দিয়ে দেখেছিলাম- আমার_বিদায়পথের_দিকে_অপলক তাকিয়ে ধুলায় শুয়ে আছেন আমার মা, দু'হাতে মাথাটা চেপে দু'হাঁটু ধুলায় গেঁথে অবিশ্বাসে তাকিয়ে আছেন আমার বাবা। আমার বোন তখন ঘরের মেঝেয় অচেতন। আমি শেষ দেখা দেখেছিলাম আজন্ম প্রিয়তম মানুষগুলোকে আমার। আজ ছয়দিন, হাসপাতালের আইসিইউ-কক্ষের ভিতরে, শুভ্র বিছানায় শুয়ে আছি আমি; ওষুধ_নেই_এই_জগতে_এ- ব্যাধির; এই যে ছয়-ছয়টা দিন বেঁচে ছিলাম, রোগপ্রতিরোধী পথ্য খেয়ে, যদি মিরাকল হয়, যদি সেরে ওঠে পরাজিত দেহটা আমার! হাজারে-হাজারে তো এভাবেই ফিরে যেতে পেরেছে মায়ের কোলে, বাবার বুকে! আমি_ছিলাম_না_ফেরার_দলে; আজ, ডাক্তারের চোখের দিকে তাকিয়ে, বুঝতে অসুবিধে হয়নি, আমি মারা যাচ্ছি; নার্সের চোখে আমি জল দেখেছি গতকাল, জেনেছি এই জন্মভূমি, এই পৃথিবী, আমার মায়ের বুক, আর আমার নয়। এখন_আমি_মারা_যাচ্ছি। জানি, আমার লাশটাকে ছুঁতে দেওয়া হবে না আমার পরিজনদের কাউকেই, জানি, আমাকে দাহ করা হবে পাঁচজন পুলিশের সামনে, জানি, আমাকে নিয়ে যাওয়া হবে চারজন অনাত্মীয়ের কাঁধে চড়ে; মা নিষিদ্ধ, বাবা নিষিদ্ধ, নিষিদ্ধ আমার ভাই ও বোন, আমার কাছে, আমার লাশেরও কাছে। আমি সুস্থ, সবল যুবক ছিলাম এক, বয়স-২৭, করোনাভাইরাসের কাছে হেরে যাওয়া, কাবু। পৃথিবীতে আজ বেঁচে থাকা প্রিয় মানুষেরা, হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি, দয়া করে শুনবেন প্লিজ?- আজ থেকে সতেরো দিন আগে মায়ের নিষেধ সত্ত্বেও ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিলাম আমি। জানি না, আমার দেহতে বয়ে নেওয়া এ-মারণব্যাধি আমার মা, বাবা, ভাই কিংবা বোনের দেহে সংক্রমণ করে দিয়ে মরে যাচ্ছি কিনা। মানুষ, ঘরে_থাকবেন_প্লিজ? এ মৃত্যু, জগতের নির্মমতম মৃত্যু।। ঘরে_থাকি_সুস্থ_থাকি_পরিবারকে_সুস্থ_রাখি।

@Kamrul16

ভালবাসার রং #ভালোবাসার_রং #পর্ব - ২০ (শেষ পর্ব) জহির উদ্দিন আফরোজা বেগমের পাশে গিয়ে বসে, ---" দেখ বিহানের মা ভুল যেহেতু হয়েছে ক্ষমা চেয়ে নাও। ক্ষমা চাইলে কেউ ছোট হয় না বরং মহৎ হয়। ---" কার কাছ থেকে ক্ষমা চাইব?? বিহান নাকি অন্তরা থেকে?? ---" দরকার হলে দুজন থেকে। তোমাকে তো মানতে হবে কারো প্ররোচনায় হোক আর নিজের থেকে হোক অন্তরা কে নানাসময় কথা শুনিয়ে কষ্ট দিছ। যেখানে অন্তরার কোন দোষ ছিলো না। আল্লাহর রহমতে আর মেয়েটার ভালোবাসায় তোমার ছেলেকে ফিরে পেয়েছ। ---" হুম তুমি ঠিক বলছ। ---" বিহানের মা আজ যদি মুনিয়ার সাথে এমন হয় তুমি কি মেনে নতে পারবা,?? ---" না এসব বলিও না। আল্লাহ না করুক আমার মেয়েটার সাথে কখনো যেন এমন নাহয়। ---" বউকে মেয়ের জায়গায় বসালে বুঝা যায় কোন টা ভুল কোনটা ঠিক। জহির উদ্দিনের কথা শুনে আফরোজা বেগম নিজের ভুল বুঝতে পারছে। মনে মনে অনেক অনুতপ্ত কিন্তু ছেলেকে সাহস করে বলতে পারছে না। বিহান রুমে ঢুকে চুপ করে বসে আছে। চোখ থেকে দু ফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়লো। মায়ের সাথে গরম করে কথা বলাতে খারাপ লাগছে কিন্তু অন্তরা ওর স্ত্রী অন্তরার প্রতি অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ওর দায়িত্ব। এ বাড়িতে বিহান ছাড়া অন্তরার কে আছে?? বিয়ের প্রথম দিকে শুশুর বাড়িতে একটা মেয়ের কাছের মানুষ বলতে স্বামী ছাড়া কে বা থাকে। স্বামী যদি স্ত্রীর দুঃখ না বুঝে কে বুঝবে। তাই বলে কেউ কারো থেকে কম না। বিহান মা কে প্রচন্ড ভালোবাসে। ভেবেছিলো সুস্থ হয়ে ফিরে এসে সবার সাথে আনন্দে দিন কাটাবে। কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেলো। আমরা যা চিন্তা করি সবসময় সেটা হয় না। বিহানের কাঁধে হাত দিয়ে অন্তরা বলছে, ---" আপনার মায়ের সাথে এভাবে কথা বলা উচিত হয়নি। মা আমাকে কথা শুনিয়েছি এটা সত্যি কিন্তু তখন সিচুয়েশন অন্যরকম ছিলো। ---" যেমন সিচুয়েশনে থাকুক না কেন কাউকে অন্যায় ভাবে কথা শুনানো ঠিক না। ---" আপনি আর রাগ করে থাকবেন না প্লিজ। আমি চাইনা আর কোন অশান্তি হোক। আমরা সবাই মিলে আবার আগের মতো ভালো থাকতে চাই। --" হুম আর অশান্তি হবে না। ---" সত্যি বলছেন?? ---" হুম কারণ কালকে আমরা এ বাসা ছেড়ে চলে যাব। ---" কি বলছেন আপনি?? ---" যা বলছি একদম ঠিক। যে বাসায় তোমার জায়গা হয় না সে বাসায় আমি থাকতে চাই না। তাতে সবাই ভালো থাকবে। কেউ তোমাকে অলক্ষী বলবে না। তোমার জন্য কারো মনে সন্দেহ থাকবে না। সব দিক থেকে এটাই ভালো হবে। ---" আপনি এ বাসা ছেড়ে চলে গেলে মা খুব কষ্ট পাবে। আপনাকে ভালো বাসে বলে মা এমন আচরণ করেছিলো। এখন যদি আমরা চলে যাই মা আরো ভুল বুঝবে। ---" আমার কিছু করার নেই। মাঝেমধ্যে ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্য দুরুত্ব বজায় রাখা দরকার। ---" সত্যি চলে যাবেন?? ---" হুম কাল সকালে যাব। তুমি নিজের জিনিসপত্র রেডি রাখিও। এ বাসার কিছু নিয়ে যাব না। বিহানের খারাপ লাগছে ওর মা এখনো নিজের ভুল টা বুঝেনি। উল্টো ভাবছে অন্তরা ওর কান ভারি করেছে।বিহানের সব ভালো লাগা যেন এক নিমিষেই চোখের জলে পরিণত হলো। . . আফরা নিশান কে বলছে,, ---" ভাইয়া মনে হয় আমার সাথে রাগ করছে। ---" রাগ করাটাই স্বাভাবিক। ভাইয়ার জায়গায় আমি হলেও রাগ করতাম। ভুল করে হোক আর না বুঝে হোক আমরা ভাবীর সাথে খারাপ ব্যাবহার করেছি। ---" আমি কিন্তু ভাবী কে কিছু বলিনি। যা রাগ তোমার সাথে করেছি। ---" আফরা মণি সুখে থাকার জন্য অনেক সময় ভুল নাহলেও ভুল স্বীকার করে নিতে হয়। ভাইয়া চলে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকে মা ভাবীকে ঝোঁকের বশে অনেক কথা শুনিয়ে দিয়েছে। ---" হুম। আসলে ভাবীর মনের অবস্থা আমরা কেউ বুঝিনি। আমি কাল সকালে ভাইয়া,ভাবীর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইবো। --" এইতো আমার আফরা মণি বুঝদ্বার মেয়ের মতো কথা বলছে। এখন মনে হচ্ছে আমার আগের আফরামণি কে খুঁজে পাইছি। আফরার কথা শুনে নিশানের খুব ভালো লাগছে। আফরা যে নিজ থেকে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেছে সেটাই অনেক। সংসারে সবার এক্টু খানি সেক্রিফাইস সুখ এনে দেয়। তাই সবাইকে নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ টা দেয়া দরকার। . . আফরোজা বেগম বিহান কে ডিনারের জন্য ডাকছে। ---" বিহান মায়ের উপর রাগ করে থাকিস না খেতে আয়। আমি তোর জন্য বসে আছি। মায়ের ডাকে বিহানের কষ্ট হলেও দরজার ওপাশ থেকে বলছে,, ---" মা আমার খুদা নেই। ---" প্লিজ বাপ তোর জন্য মা না খেয়ে বসে আছি। আজকে আমি তোর প্রিয় রুই মাছের ঝোল করেছি। তুই না রুই মাছের ঝোল খেতে পছন্দ করিস না। ---" হ্যাঁ মা আগে করতাম এখন করি না। মানুষের পছন্দ অপছন্দ সময়ের সাথে বদলে যেমন করে বদলে যায় মানুষ গুলো। অন্তরা বিহানকে বুঝাচ্ছে, ---" কাল নাহয় চলে যাবেন আজ মা কে কষ্ট না দিলে হয় না। কত ভালোবেসে আপনার জন্য মাছ রসা করেছে। না খেলে মা খুব কষ্ট পাবে। আফরোজা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলছে এটা অন্তরার ভালো লাগছে না। অন্তরা বিহান কে জিজ্ঞেস না করে দরজা খুলে দিলো। আফরোজা বেগম অন্তরাকে দেখে বলছে, ---" বউমা তুমি একটু বিহান কে বুঝাও না। আমি অনেক ভালোবেসে ওর জন্য রান্না করছি। ছেলেটা আমার না খেয়ে শুকাই গেছে। এতদিন কি না কি খাইছে.. এ কথা বলে আফরোজা বেগম কান্নাভরা চোখে বিহান কে দেখছে। মায়ের কান্না শুনে বিহানের চোখ ভেসে গেছে। বুকটা ব্যাথায় কাতর হচ্ছে। অন্তরা আফরোজা বেগম কে ভরসা দিয়ে বলছে, ---" মা উনি খাবে আপনি কান্না করবেন না। ---" সত্যি বলছ?? ---" হুম উনি খেতে আসবে এখনি। ---" তাহলে আমি গিয়ে খাবার রেডি করছি। চোখ মুছতে মুছতে আফরোজা বেগম ঠোঁটের কোণে হাসি এনে ছেলের জন্য খাবার বাড়তে চলে গেছে। বিহান অন্তরাকে বলছে, ---" আমি কখন বললাম খাব। তুমি গিয়ে খেয়ে আসো আমার খুদা নেই। ---" আপনি মুখে বলেন নি কিন্তু আপনার চোখ বলেছে। মায়ের জন্য আপনি ও কষ্ট পাচ্ছেন তাহলে কেন এত রাগ পুষে রেখেছেন। ---" কে বলছে কষ্ট পাচ্ছি!! ---" কেউ না চলেন খেতে যাবেন। আপনি না খেলে আমিও খাব না। আপনার সাথে বসে খাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে সেটা হারাতে দিবেন না প্লিজ। অন্তরার কথাতে মায়ের কান্নার জন্য বিহান খাওয়ার জন্য রাজি হয়ে গেলো। উপরে না বুঝালেও বিহানের মন জানে মায়ের জন্য কতটা কষ্ট হচ্ছে। বিহানের সত্যি ইচ্ছে করছিলো মায়ের হাতে রুই মাছের ঝোল খেতে। বিহানের কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রান্না মায়ের হাতের রান্না। কেমন জানি মা মা গন্ধ পাওয়া যায়। কত জায়গায় কত রকমের খাবার খেয়েছে কিন্তু মায়ের মতো রান্না নাকি কেউ করতে পারে না। সব সন্তানের কাছে মায়ের রান্না বেশি মজা লাগে। বিহান চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে। খাওয়ার সময় বুঝায়নি মায়ের রান্না খেতে কত ভালো লাগছে। অবশ্য আফরোজা বেগম কয়েকবার কথা বলতে চেয়েছেন বিহান চুপ করে খাচ্ছে দেখে আর কিছু বলেনি। দিনশেষে বিহান আফরোজা বেগমের হাতের রান্না দিয়ে পেট ভরে খাচ্ছে সেটা দেখে শান্তি লাগছে। অন্তত ছেলে এতদিন পরে মায়ের রান্না খাচ্ছে সেটা একজন মায়ের জন্য কম কি!! . . অন্তরার কোলে বিহান মাথা রেখে জানালার পাশে তারার মেলা দেখছে। ---" সত্যি কি কাল আমরা চলে যাব?? ---" হুম। কারণ আজ যদি আমি বেঁচে না ফিরতাম তোমার কি এ বাড়িতে জায়গা হতো?? কেন স্বামীর সব কিছুতে স্ত্রী কে দোষারপ করা হবে। ---" যা হবার হয়ে গেছে আপনি ভুলে যেতে পারেন না। ---" না অন্তরা। আমার এ বাসায় দম বন্ধ হয়ে আসছে। তোমার মায়ের কথা গুলো এখনো কানে বাজছে আমার। নিজের মায়ের কথা কখনো এভাবে শুনতে হবে ভাবিনি। ---" আমার সাথে হয়েছে আমি ভুলে গেছি আপনিও ভুলে যান। ---" না আমি এখানে আর থাকতে চাই না। যদি আমি সত্যি মারা যেতাম তাহলে কেউ কি তোমার প্রতি সহানুভূতি দেখাতো! আমার মৃত্যুর জন্য তোমাকে দায়ী করতো। ---" আপনি দয়াকরে মরার কথা বলবেন না। আমি আপনাকে আর হারাতে চাই না। ---" আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি তাই না। ---" কোন কষ্ট দেন নাই। আপনার মতো স্বামী কপাল গুণে পেতে হয়। আপনি আমাকে বিয়ের তিনমাসে যে ভালোবাসা সম্মান দিয়েছেন সেটা অনেকে সারাজীবন সংসার করেও পায় না। ---" আমার মায়াবতী বউটা আরো বেশি পাওয়ার যোগ্য। বিহান অন্তরাকে কাছে টেনে আপন করে নিচ্ছে। একটু একটু করে ভালোবাসা জমিয়ে রেখেছিলো বুকের মাঝে । ভালোবাসার মানুষ কে ফিরে পাওয়ার অনুভূতি টাই আলাদা। যেই অনুভূতি কোন ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। . . সকাল হতেই বিহান ব্যাগ গুছিয়ে অন্তরাকে নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যাবার জন্য রুম থেকে বের হয়েছে। আফরোজা বেগম ছেলের হাতে ব্যাগ দেখে,রান্নাঘর থেকে দৌড়ে আসলেন। ---" তোরা কোথায় যাচ্ছিস ব্যাগ নিয়ে। ---" আমরা এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি। আফরোজা বেগগ চিৎকার করে বলছে, ---" ও বিহানের বাপ, নিশান, মুনিয়া তোরা কে কোথায় আছিস আমার বিহান বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আফরোজা বেগমের চিৎকার শুনে জহির উদ্দিন, নিশান আফরা সবাই ছুটে এলো। সবাই এসে বিহান কে যেতে নিষেধ করছে। আফরা বিহানের সামনে গিয়ে বলছে, ---" ভাইয়া আমাদের উপর রাগ করে চলে যাবেন না। জানি আমাদের সবার ভুল হয়েছে। ভাবী আমাকে ক্ষমা করে দেন আমি তখন বুঝতে পারিনি। ---" আমাদের কারো উপর কোন রাগ নেই আমি অন্তরা কে নিয়ে নিজের স্বইচ্ছায় এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি। আফরোজা বেগম অন্তরার হাত ধরে, ---" বউমা আমি অন্যায় করছি। আমারে মাফ করে দে। তখন আমার মাথা ঠিক ছিলো না। বিহান রে বুঝা তোরা কেউ আমারে ছেড়ে যাইস না। আমার সুখের সংসার ভেঙে যাবে। মায়ের ভুল কি সন্তানরা একবার ক্ষমা করতে পারে না। ---" মা আমি অনেক বুঝাইছি উনি কিছুতেই শুনছে না। আফরোজা বেগম ছেলেকে বলছে, ---" যাইস না মারে ছাড়ি। তোরা চলে গেলে আমি কি নিয়ে থাকবো। --" মা আমাকে ছেড়ে তো এতদিন ছিলা। তোমাদের কাছে আমি মৃত ছিলাম। ভেবে নাও আমি এখনো মৃত তাছাড়া অন্তরা এখানে থাকলে তোমাদের সংসারে অকল্যাণ হবে। অন্তরা অপয়া বলে তো এখানে ওর জায়গা হয়নি। যে বাড়িতে আমার স্ত্রীর জায়গা হয় না সে বাড়িতে আমার কি করে জায়গা হবে। যদি আবার আমার কিছু হয় তুমি অন্তরাকে কথা শুনাবে। ---" বাপ আমি স্বীকার করছি তো আমি ভুল করেছি। ছেলে হয়ে মারে একটা বার ক্ষমা করতে পারিস না। বিহান অন্তরার হাত ধরে সবার কথা উপেক্ষা করে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়লো। আফরোজা ছেলের জন্য কেঁদে যাচ্ছে। নিজের কৃতকর্মের নিজের প্রতি বিরক্তি আসছে। কেন আসেপাশের মানুষের কথা ধরে অন্তরাকে প্রতিনিয়ত অপমান করেছে। যদি অন্তরার প্রতি অন্যায় না করতো তাহলে আজ বিহান এ বাসায় সবার সাথে থাকতো। কেন বুঝলো না অন্তরার মতো সেও এ বাড়ির বউ ছিলো... ১ বছর পর...... জহির সাহেবের বাসা আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়েছে। আফরোজা বেগমের মুখের হাসি লেগে আছে। এ দিন টার জন্য অপেক্ষা করেছে। আজ যে বাড়ির সবাই ভীষণ খুশি কারণ ঘর আলোকিত করে আসতে চলেছে আফরোজা বেগমের বংশধর। মেহমানরা সবাই আসা শুরু করেছে। নিশান চারদিক ছুটাছুটি করছে নতুন মুখের আগমন হবে বলে কথা। খুশির বাদ যেন থামার নয়। একটু পর পর নিশান উঁকি দিয়ে আফরা কে দেখার চেষ্টা করছে। আজ কিভাবে সেজেছে দেখার জন্য। আফরাকে না জানি আজ কত সুন্দর লাগছে। আফরোজা বেগম নাতি নাতনী আসার আনন্দে কতক্ষণ পর পর খুশিতে কেঁদে দিচ্ছেন। হঠাৎ বিহানদের চলে যাওয়ার কথা মনে করে আঁতকে উঠেছেন। মনে মনে বলছেন, না না আমি আর সেদিনের কথা মনে করতে চাইনা এই আনন্দের দিনে। রিনা বলছে, ---" ভাবীর মুখ এত সহজে দেখতে দিব না আগে টাকা দাও। ---" নিজের বউকে দেখব আবার টাকা কিসের। তোরা পথ থেকে সরে দ্বারা তোরা তো আমাত ভাই বইন। ---" আমরা যে সুন্দর করে সাজিয়েছি সেটার পারিশ্রমিক দিবা না। ---" আমার বউ যে শরীর খারাপ নিয়ে সাজছে সেটাই অনেক। আজ অন্তরার ৭ মাসের অনুষ্ঠান হচ্ছে... সেদিন বের হবার পর পিছন ফিরে মায়ের চোখে পানি দেখে কিছু পথ হাঁটার পরে অন্তরাকে নিয়ে আবার ফিরে আসে। বিহান মনে মনে আগে ঠিক করে রেখেছিলো যাবে না। কিন্তু সেটা কাউকে বুঝতে দেয়নি। সেদিনের পর থেকে আফরোজা বেগম অন্তরাকে চোখে হারায়। আফরা এখন অন্তরার বেস্ট ফ্রেন্ড। দেখে কারো বুঝার উপায় নেই তারা ঝা..... আজ পুরো পরিবার ভালোবাসায় পরিপূর্ণ..... #সমাপ্ত আমি গল্পটাতে বুঝাতে চেয়েছিলাম বিয়ের পর পর স্বামীর কিছু হলে বউকে দোষ দেয়া হয়। আর এ সমাজে একটা বিধাবা মেয়েকে কত কিছু শুনতে হয় তার হিসেব নেই। কেউ তার মনের অবস্থা বুঝার চেষ্টা করে না। ভালো থাকুক সকল পবিত্র সম্পর্ক❤ গল্পটা কেমন হয়েছে সবাই জানাবেন কারণ আপনাদের ভালোবাসা আমার অনুপ্রেরণা ❣ #পাঁচ_ওয়াক্ত_নামাজ_পড়ুন_জীবন_সুন্দর_করুন 🖤

@Kamrul16

অদ্ভুদ অদ্ভুত ভালোবাসা সিজন ৩ পর্ব:১৬ writer:কামরুল , " শুনুন,দাড়ান,দাড়ান না প্লিজ। দুলাভাই"নীরার কথা শুনে নিলয় থেমে যায়। নিলয়কে দাড় করানোর জন্য "দুলাভাই"ডাকটা টনিক এর মতো কাজ করলো। নিলয় তো দাড়িয়ে গেলো। আর নীরার সামনে ফিরেও আসলো। এসেই আচমকা নীরার গালে ঠাসসসস করে একটা চড় বসিয়ে দেয়। নীরা বেচারি গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে ওর দিকে ভ্যালভ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। সেকেন্ডের মধ্যে ওর সাথে কি হয়ে গেলো সেটা বোঝার চেষ্টা করছে। "এখন যাবো মুনিরার কাছে, বিয়ে করতে। এতই যখন দুলাভাই ডাকার শখ হয়েছে। তোর শখ টা পূরণ করি। চল প্রথম স্বাক্ষী তুই হবি। " নিলয় নীরার হাত টেনে নিয়ে চলে যাবার আগেই নীরা নিলয়ের হাত টা টেনে ধরে। "s,,,sorry " "sorry কি আমার ব্যাথার সিরাপ না মেডিসিন?" "আ,,,,,আসলে কাল " কথাটা বলেই নীরা নিজের ওড়নাটা এক কানা নিলয়ের হাতের সাথে পেঁচিয়ে ধরে। "আমি সব জানি। খারাপ আমার এতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট লেগেছে তুমি সত্য মিথ্যা যাচাই না করেই আমার থেকে দুরে চলে যাবার জন্য তৈরি হয়ে গেছো। আমার কথাটা একবার ও ভাবলে না, ডাফার এর তো স্টুপিটের মতো ডাক ডাকছো আমায়। মুনিরা কি বললো সেটাই তোমার কাছে ইমপোর্টান্ট, আর আমি যে দিন রাত তোমার পিছে পড়ে আছি সেটার কোনো ভ্যালু নেই তোমার কাছে। তুমি আমাকে কেনো বিশ্বাস করবে।তুমি তো তোমার কাজিন কে বিশ্বাস করবে। তুমি তো আর আমাকে ভালোবাসোনা। ওই পলাশ কে ভালোবাসো "। "কে বললো আমি উনাকে ভালোবাসি"? "সব বুঝি আমি। ছোট বাচ্চা না আমি, কার মনে কি আছে আমি সব বুঝি। " অভিমানী কন্ঠে কথাটা বলেই ও উল্টোদিকে ঘুরে দাড়ায়।নীরা বেশ বুঝতে পারে। নীরা মুচকি হাসে। "এভাবে নাচানাচি করলে কিন্তু আমার ওড়নাটা খুলে যাবে। পরে কিছু বলতে পারবেন না। চুপচাপ দাড়ান"। নিলয় নীরার ওড়নার কানা টা নিজের হাত থেকে খুলে দেয়। জোরে সাথেই টেনে খুলে যার জন্য নিলয়ের হাতে লেগে যায়। "আউচ" নিলয়ের ব্যাথায় জরানো কন্ঠ নীরার বুকে গিয়ে আঘাত করে। চট করে নিলয়ের হাত টা মুঠো করে ধরতেই নিলয় হাত ছাড়িয়ে দেয়। " ঠিক আছে। তোমার ওড়না ধরার অধিকার আমার নেই। অধিকার টা অন্য কারো সেটা আমি জানি। সরি, আমার জন্য তোমার ওড়না নষ্ট হলো, আমি নিউ ওড়না কিনে দেবো"। , নিলয়ের কথায় নীরার প্রচন্ড রাগ হলো। এক ঝটকায় নিলয়ের সামনেই নিজের ওড়না খুলে মাঠে ছুঁরে মারে। নিলয় হতদম্ভ হয়ে যায় নীরার কাজটা দেখে। নিলয় টচ করে ওড়নাটা তুলে নীরাকে জরীয়ে দেয়। " তোমার সাহস দেখে আমি হতবাগ হয়ে যাচ্ছি। তুমি আমার সামনে দাড়িয়ে কিভাবে চিপ মেন্টালিটির কাজ করলে?টেনে ঠাস করে এমন একটা চড় দিবো না তোমার এতো সাহস কই থেকে আসে দেখে নিবো " দাঁতে দাঁত চিপে কথাটা বলে নিলয়। নীরা রাগে উল্টো দিকে ঘুরে দাড়ায়। নিলয় হেঁচকা দিয়ে নীরার ওড়নার এক কানা টেনে হাতের সাথে জরীয়ে নীরার সামনে নিজের হাত এগিয়ে দেয়। "নে ধর, খুসি এবার"?রাগে গজগজ করে কথাটা বলে নিলয়। নীরা মুচকি হেসে হাত টা টেনে ভালো করে জরীয়ে দেয়। "আমি কি উনাকে বলেছি আমার হাত ধরতে? উনি ধরেছে তো আমি কি করবো? আমি তো উনাকে ডেকে আনিনি যে আপনার নিজের ক্ষতি করতে হবে। " "আমার কারো জ্ঞ্যান চাই না" "আ,,,,পনাকে জ্ঞ্যান দিবো সেই ক্ষমতা আমার আছে নাকি? যে,,,,টা সত্য সেটা বলেছি। উনাকে আমার পছন্দ নয়। আমি চাই না উনি আমার সামনে আসুক" , নীরার কথাটা নিলয় ভালোমতোই বুঝতে পারে। নীরা ওকে কি বলতে পাচ্ছে। নীরা নিলয়ের হাত ধরে এনে গাড়ির সামনে দাড়ায়। নিলয় বোঝার চেষ্টা করছে নীরা কি করতে চাইছে। "এভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো? হসপিটালে যেতে হবে। গা,,,,গাড়িতে উঠেন। এভাবে তাকিয়ে ভয় দেখাতে হবে না" "আমি তোমাকে ভয় দেখাচ্ছি?" "না উঠেন আপনি " বলেই নিলয়কে গাড়িতে হালকা ধাক্কা দিয়ে বসিয়ে দেয়। , "ম্যাম হাত টা তো ওড়না দিয়ে বেধে রেখেছেন। আর ওড়নার বাকিটুকু আপনার শরীরে আছে। তো আমি না হয় এখানে বসলাম।আপনি কি করে গাড়িতে উঠবেন"? এই রে নীরার তো খেয়াল ছিলো না, কি করবে এখন ও "এটা কোনো ম্যাটার হলো আপনি নামেন। আমি আগে উঠি,তারপর আপনি উঠেন,হয়ে গেলো সিম্পল" , "আমার কাছে আরও একটা আইডিয়া আছে , আমাকেও নামতে হবে না আর তুমিও বসতে পারবে।" "কীভাবে"? নীরা কথাটা শেষ করতেই পারে না, তার আগেই নিলয় নীরাকে টেনে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে। "প্র্যাকটিক্যালি দেখিয়ে দিলাম।মজার না ব্যাপার টা?" , নীরা তো শক। "প্লিজ নামান আমাকে। এভাবে কেউ গাড়ি চালায় নাকি?" নীরার কথায় নিলয় কান দেয় না। "আর একটা সাউন্ড হলে ছুড়ে বাহিরে ফেলে দিবো দিবো " নীরা মুখ ফুলিয়ে চুপচাপ বসে। "নীর পাখি" নীরা চুপ করে থাকে নিলয়ের কথার উত্তর দেয় না। নিলয় চট করে নীরার কপালে চুমু এঁকে দেয়। নীরা নিলয়ের দিকে তাকায়। "দিন দিন তোমার বড্ড সাহস হয়ে যাচ্ছে। আমার কথাকে তুমি গুরুত্বই দিচ্ছো না " "আমি কি করলাম?" " তোমাকে বারন করেছিলাম না আমি, আমার দেওয়া কোনো জিনিস তুমি তোমার শরীর থেকে খুলবে না। কি বলেছিলাম না?" হালকা ধমকে নিলয় কথাগুলো বলে। নীরা চুপটি করে থাকে। "কাল রাতে সব নিজের হাতে পরিয়েছি, আর এটা আমি খুলবো আমাদের বাসর রাতে। তার আগে যেনো এগুলো না খোলা হয়। কারন বাসর রাতে তো কোনো কিছু " নিলয় নীরার কানে কানে ফিসফিসিয়ে কথা গুলো বলছিলো লাস্ট কথা শেষ হবার আগেই নীরা নিলয়ের মুখ চেপে ধরে। "মুখে লাগাম লাগান অসভ্য লোক। আপনার মুখে কি কিছু আটকায় না " , নিলয়ের কথায় নীরা বেশ লজ্জা পায়।নীরার মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। নিলয় নীরাকে দেখে মুচকি হেসে নীরার থুতনি টেনে থুতনিতে একটা কামড় দেয়। কামড় টা জোরেই দেয়। নীরা "আউচ" করে উঠে। নিলয় একটু জোরেই হেসে ফেলে। "এই টুকু কামড়েই এমন করছো? তাহলে বাসর রাতে কি করবা নীর" "আল্লাহর ওয়াস্তে মুখ টা বন্ধ করেন। দোহাই লাগে আপনার, এতো নির্লজ্য হতে নেই "। "i love you নীরপাখি" নিলয় ভালোবাসার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নীরার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। নীরা নিলয়ের চাউনি দেখে লজ্জা পেয়ে যায়। নীরা নিলয়ের থেকে চোখ নামিয়ে নেয়। "I'm sorry নীরু" "কেনো?" "কথা দিয়েছিলাম তোমাকে, তুমি না চাইলে তোমাকে টাচ্ করবো না,কিন্তু তোমাকে দেওয়া কথা আমি রাখতে পারিনি। বেশি কিছু করিনি জাস্ট তোমার উন্মুক্ত পেটে আলতো করে ঠোঁট দুটো ডুবিয়েছি। " , "আপনার কপালে বউ জুটবে না, নির্লজ্য লোক একটা। চুপচাপ গাড়ি চালান একটা কথা বলবেন না।" নিলয় বাঁকা হেসে নীরাকে আরও ক্লোজ করে জরীয়ে নিয়ে ড্রাইভ করে। নীরা কিছু বলার সাহস পায় না। হসপিটালে গিয়ে নিলয়ের হাত ব্যন্ডেজ করে নেয়। নিলয় নীরা কেও চেকাপ করিয়ে নেয়। তারপর নিলয় নীরাকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। , নীরা বাসায় এসে দেখে পলাশ ওর পরিবার নিয়ে সেজে গুজে বসে আছে। , be continue ♥♥♥

@Kamrul16

Tmai pabo bole #তোমায়_পাবো_বলে #পর্ব_০৩ . লিরা তাহিনের জন্য খাবার নিয়ে এসেছে।তাহিন ভেবে পায় না এ বাসার লোকজন এরকম কেনো?এই যে লিরা নামের মেয়েটা এলো একবার নক করার প্রয়োজন মনে করলো নাহ!আশ্চর্য!হতে তো পারতো ও নিনিতার বয়ফ্রেন্ড।তখন ওরা যদি অপ্রীতিকর অবস্থায় থাকতো!কারো নূন্যতম ম্যানারস নেই। তাহিনের রীতিমতো বিরক্ত লাগছে।শুধু নিনিতার জন্য এখানে আসা। নিনিতা ওয়াশরুম থেকে বের হতে হতে বললো, ___"এগুলো নিয়ে যাও।" লিরা নিনিতার কথামতো নিয়ে আসতে নিলো।দরজার এপাশে দাঁড়িয়ে বললো, ___"চা অর কফি আপু?" নিনিতা মিষ্টি হেসে বললো, ___"কিছু লাগবে না।" লিরাও প্রতিত্তোরে হেসে চলে গেল।তাহিন সোফায় গিয়ে ভদ্র ছেলের মতো বসে রইলো।নিনিয়া অপজিট পাশে বসে বললো, ___"হঠাৎ আমার বাসায়।কি মনে করে?" নিনিতা ভেবেছে বিকালে আশফাক চৌধুরীর সাথে কথা হয়েছে এ নিয়ে কথা বলতে এসেছে তাহিন।আসতেও পারে তাহিন যে কতটা বেপরোয়া নিনিতা আশফাক চৌধুরীর সাথে কথা বলে বুঝতে পেরেছে। তাহিন আমতাআমতা করে বললো, ___"আসলে তুমি তোমার ক্যামেরার লেন্স ফেলে এসেছিলে।আমি ভাবলাম দিয়ে যাই।" নিনিতা উঠে দাঁড়িয়ে তাহিনের দিকে বললো, ___"থ্যাঙ্কিউ।" তাহিন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।ও নিনিতাকে মিথ্যে বলেছে।নিনিতা কোনো লেন্স ফেন্স ফেলে আসেনি।তাহিন উল্টো নিজের টাকা খরচ করে লেন্স কিনে এসেছে।শুধু নিনিতার কাছাকাছি থাকবে বলে। নিনিতা বললো, ___"বিয়ার খাবেন?" ___"হুম খাওয়া যায়।চলো বাইরে যাই,এখানে আর যাই কিছু পাওয়া যাক না কেনো বিয়ার তো আর পাওয়া যাবে না।" তাহিন দাঁড়িয়ে গেল।তাহিনের খোঁচাটা নিনিতার বুঝতে একটুও সময় লাগেনি।নিনিতা মিষ্টি হেসে বললো, ___"কোথাও যেতে হবে না।এখানেই বসুন।" তাহিন বসলো না।নিনিতার রুমটা ছোট।ছোট এই রুমটাতে ছয়টা কর্ণার স্ট্যান্ড হারিকেন ল্যাম্প এবং দুইটা ম্যাজিক ল্যাম্প। চারদিকে সাদা ইয়া বড় বড় পর্দা।সোফা,কুশন,বিছানার চাদর,বালিশ,এমনকি মেঝেটা পর্যন্ত ঝকঝকে সাদা।একটা মানুষের সাদা এতো কেনো পছন্দ ভেবে পায় না তাহিন।শুধু নিনিতার বেডের মাথার ওপরে পেইন্টিংটা ছাড়া।পেইন্টিংটা বহু রঙে রঙিন।দেয়ালের মাঝামাঝি-তে রাখা পেইন্টিংটা।পেইন্টিংটাতে কোনো কিছু নেই শুধু রঙ ছাড়া।সাদার মাঝে রঙিন হয়ে ফুটে উঠেছে। সম্পূর্ণ ঘরের রঙ কেড়ে নিয়েছে এই পেইন্টিং।খুব একটা আসবাবপত্র নেই।নিনিতা মেয়ে কিন্তু একটা ড্রেসিংটেবিল ওর রুমে নেই।হাউ ইজ পসিবল!তাহিন বললো, ___"তোমার রুমটা খুব ছোট নিনিতা।" নিনিতা সাদা পর্দার আড়াল থেকে দুটো বিয়ারের বোতল বের করলো।একটা তাহিনের হাতে দিলো।তাহিন অনুভব করলো বিয়ারের বোতল ঠান্ডা শীতল।সবেমাত্র ফ্রিজ থেকে বের করা হয়েছে।নিনিতা বললো, ___"ছোট না।পর্দা দিয়ে ঢেকে ছোট করে ফেলেছি।পর্দার আড়ালে একেকটা ভাগ করা আছে।এতো বড় রুম যে দেখলে খেলার মাঠ মনে হয়।তাই এ ব্যবস্থা।" কথা বলতে বলতে নিনিতা বোতলের ছিপি খুলে ফেলল।তারপর এক চুমুকে কম অর্ধেক খেয়ে ফেলল।তাহিন অবাক হচ্ছে।ও তো ভেবেছিল নিনিতা অন্য টাইপের মেয়ে।এসব খায় না।তাহিন জিজ্ঞেস করলো, ___"সবসময়ই খাও?" ___"সবসময় না,মাঝেমধ্যে।বিয়ার খাওয়া ভালো।সপ্তাহে কিংবা মাসে একবার হলেও বিয়ার খাওয়া উচিত।বিয়ার অনেক ফল দিয়ে বানায়।সাইট এফ্যাক্ট থেকে বেনেফিট বেশি।আমি কিন্তু এলকোহল ফ্রি বিয়ারের কথা বলছি।" ___"বিয়ার নিয়ে পিএইচডি করেছো দেখছি।আর কি জানো?" নিনিতা চুপ করে গেল।সব কথা সবাইকে বলতে নেই।নিনিতাকে চুপ থাকতে দেখে তাহিন ভ্রু কুঁচকে বললো, ___"কিছু বলছো না যে।" ___"এমনি।বাদ দিন।" নিনিতা বারান্দায় গেল।তাহিনও ওর সাথে গেল।তাহিন বারান্দায় গিয়ে অবাক হয়ে গেল।বারান্দার দেয়ালের গা ঘেঁষে পাতাবাহার,মানিপ্লান্ট,বনসাই,ছোট পাম গাছ,ফরচুন ট্রি,চায়নিজ কামিনী নানা ধরনের গাছ।সেই সাথে অর্কিড সাজানো আছে।পাটের তৈরি শিকা ঝুলে তাতে মাটির হাঁড়িতে আরও রঙিন গাছ।দুটো টুল,সাইড টেবিল আর একটা রকিং চেয়ার।আরেক পাশে নিচে দেয়ালের গা ঘেঁষে অনেক হারিকেন লাইট। পাশে একটা বুক শেল্ফ। নিনিতা বাইরে সোডিয়ামের দিকে চোখ রেখে বললো, ___"বাইরে যাবেন।চলুন হেঁটে আসি।" তাহিন সঙ্গে সঙ্গে বললো, ___"হুম যাবো।" তাহিনের অবস্থা মেঘ না চাইতে জল পাওয়ার মতো।নিনিতা গায়ে জ্যাকেট জড়িয়ে নিলো।ফাল্গুন মাস শীত যাই যাই বলেও এখনো যায়নি। নিনিতা আর তাহিন পাশাপাশি হাঁটছে।পিনপতন নিরবতা।তাহিন বললো, ___"নিঃসন্দেহে তুমি ভালো ফটোগ্রাফি করো।কিন্তু তোমার ছবিতে ফিলিংস নেই।" নিনিতা দাঁড়িয়ে গেল।তারপর বললো, ___"ফিলিংস নেই।" তাহিন হেসে বললো, ___"উহুম নেই।যদিও তোমার মন রাখতে বলা উচিত ফিলিংস আছে।কিন্তু সত্যিটা হলো নেই।" ___"ফটোগ্রাফারের ফিলিংস কেউ দেখে না।যারা মডেলিং করে, যাদের ছবি তোলা হয় তাদের কেমিস্ট্রি দেখে,তাদের ফিলিংস উপলব্ধি করে।আপনি কিন্তু আমার কাজের দিকে আঙ্গুল তুলছেন।ডোন্ট ডু দিস।" ___"তুমি হাইপার হয়ো না।ফটোগ্রাফার এবং মডেল উভয়ের ফিলিংস প্রয়োজন।আচ্ছা বাদ দাও।কখনো প্রেম করেছো?" ___"ফটোগ্রাফি করতে প্রেম করা লাগে না।" তাহিন চুপ। নিনিতা এই ঠান্ডায় আইস্ক্রীম কিনলো।দুজনেই একসাথে হেঁটে হেঁটে আইস্ক্রীম খেল।আস্তে আস্তে হেঁটে বাসায় ফেরার সময় নিনিতা বললো, ___"সব মেয়ে একরকম না।তাই তাদের পটানোর ধাঁচ আলাদা করা উচিত।আমার টাইপের মেয়ে গুলোকে খাওয়ালে,গিফট করলে কিংবা নানা কৌশলে ইম্প্রেস করলেও পটে না।তাই বলে যে পটে না ব্যাপারটা এরকমও না।পটে তবে সেটা অনেক সাধনা তপস্যার ফল।কেউ টাইমপাস করতে এতো সময় নষ্ট করে না।তাহিন চৌধুরী এমন সস্তা পটানোর কৌশল অবলম্বন করবে বলে আমার জানা ছিলো না।" তাহিন থেমে গেল।নিনিতা জ্যাকেটের পকেট থেকে ক্যামেরার লেন্সটা তাহিনের হাতে দিয়ে বললো, ___"লেন্সটা আমার না।আমার কাছে আসার এটা শুধু মাত্র কৌশল ছিল।আমি আমার কাজ নিয়ে অনেক সেনসিটিভ।আমার ক্যামেরার প্রতিটা পার্ট আমার মুখস্ত।এখন বলতে পারেন যে আমি বুঝেও কেনো আপনাকে তখন কিছু বললাম না।প্রশ্ন করার আগে জবাব দিচ্ছি।কারণটা হচ্ছে আমি আপনার উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা করছিলাম।দ্বিতীয়বার এমনটা করবেন না।ভালো থাকবেন।" নিনিতা হেঁটে চলে গেল।একবার যদি পেছন ফিরে তাকাতো তবে তাহিনের হতভম্ব হওয়া চেহারা খানা দেখতে পেত। তাহিন ক্লাবে ঢুকে ইচ্ছা মতো মদ খাচ্ছে।নিনিতা ওকে সস্তা বলেছে।যে তাহিন দশমিনিটে মেয়ে পটিয়ে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে।আর সেই তাহিনকে কিনা সস্তা বলেছে।রাতুল অনেকবার তাহিনকে থামানোর চেষ্টা করেছে লাভ হয়নি রাতুল বললো, ___"আমি আগেই বলেছিলাম।প্লানটা স্কিপ করতে তুই তো আমার কোনো কথাই শুনিস না।" তাহিন মাতাল হাসি দিয়ে বললো, ___"নিনিতার দুর্বলতায় আঘাত হানলে কেমন হয় রাতুল?" ___"ইউ ডোন্ট ডু দিস তাহিন।মেয়েটা তোর কোনো ক্ষতি করেনি তুই কেনো মেয়েটার ক্ষতি করবি।হোয়াই?" তাহিন রেগে বললো, ___"আগে করেনি।এখন তো করেছে।ওই মেয়ের জন্য নিজের বাপ-মা চৌদ্দগুষ্টি কথা শোনায়।আমার বাপ অপদার্থ বলে।বাইরে বেরুতে পারি না যখন তখন মিডিয়ার হামলা করে আর বাড়িতে ডিজগাস্টিং।তারপরও বলবি ক্ষতি করেনি।" রাতুল খানিকক্ষণ চুপ থেকে বললো, ___"তাই বলে তুই মেয়েটার ফিলিংস নিয়ে খেলতে পারিস না।শেষ মেষ তুই এই নোংরা খেলায় নামবি।ছিঃ।" তাহিন মাতাল কণ্ঠে বললো, ___"তাহিন চৌধুরী সব পারে সব।" ___"ও যদি তোর বা আমার বোন হতো।" তাহিন চোখ-মুখ শক্ত করে বললো, ___"সস্তা শব্দটা বলার আগে জিভ টেনে ছিড়ে ফেলতাম।" ___"নিনিতা ঠিকই বলেছে তুই সত্যিই চিপ মাইন্ডের।" রাতুল কথাটা বলতেই তাহিন ওর মুখে ঘুষি মারলো।রাতুল ছিটকে নিচে পরে গেল।ক্লাবের অন্যরা রাতুলকে তুলে দাঁড় করালো।তাহিন আরেকটা ঘুষি দিলো।রাতুল এবার তাহিনের গায়ে হাত তুলতে গিয়েও তুললো না, কেঁদে দিলো।কখনো ভাবেনি বন্ধুত্বের মাঝে এমন একটা দিন আসবে। দ্বিতীয় ঘুষিতে রাতুলের নাক ফেটে গেছে,রক্ত বের হচ্ছে।তাহিন নিজেই আবার রাতুলকে জড়িয়ে ধরলো।জাপ্টে ধরে বললো, ___"আ'ম সরি।আমার মাথা ঠিক ছিলো না।সরি।" রাতুল কিছু না বলে তাহিনকে জড়িয়ে ধরলো। . . চলবে,,,

@Kamrul16

Basor rater গল্প :- বাসর রাতের কান্ড পর্ব :- ২ & শেষ লেখা :- kamrul . . ....আচ্ছা! আপনার সাথে কখনো আমার শারীরীক সম্পর্ক হয়েছে? . কথাটা শুনে আরোহী অবাক হয়ে গেল! . অবাক হওয়ার কিছু নেই। বলেন হয়েছে কি না? -না হয়নি? . আপনাকে কখনো জড়িয়ে ধরা তো দূরের কথা বিয়ের পর ঠিকমতো আপনার হাতটাও ধরার মতো সুভাগ্য আমার মতো অভাগার কপালে জুটেনি। আর আমি আজ শুনলাম আপনি অন্তঃসত্ত্বা। আমি কোন নষ্টা মেয়েকে স্ত্রীর পরিচয় দিতে পারবো না। আমি আপনাকে ডির্ভোস দিবো। . আরোহী আমার কথাটা শুনেই কান্না করে দিল। বিছানা থেকে নেমে আমার পা দুটি ঝাপটে ধরে বলতে লাগল- আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমাকে তাড়িয়ে দিয়ো না। আমি সত্যি এমন কাজ করিনি। বিশ্বাস করুন আমাকে। - হা, হা কিসের বিশ্বাস? যাকে আমি একটিবার স্পর্শ পর্যন্ত করিনি। সে যদি প্রেগনেন্ট হয় তাহলে কীভাবে বিশ্বাস করি? - প্লিজ তোমার পায়ে পড়ি মিথ্যা অপবাদ দিয়ো না আমায়। - তাহলে তুমি বলতে চাচ্ছো ডাক্তারের রির্পোট মিথ্যা? - আরোহী কোন কথা বলছে না। চোখ দিয়ে অঝরে পানি পড়ছে। - আমি না খেয়ে অফিসে চলে গেলাম। - রাতে বেলা শুয়ে আছি। হঠাৎ বুকটা ভারী ভারী লাগতেছে। চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি কথা আমাকে জরিয়ে ধরে আছে ছোট বাচ্চার মতো তার চোখের পানিতে আমার বুক ভিজে যাচ্ছে। - এই কি করছো তুমি? তোমার মতো নষ্টা মেয়ের আমাকে জরিয়ে ধরার কোন অধিকার নেই। কার সাথে এমন বাজে কাজ করছো। নাকি যে ছেলেটাকে বিয়ের দিন মাইর দিয়েছিলাম তার সাথে? - প্লিজ বিশ্বাস করো, ছোট বেলা থেকেই তোমাকে এটা সেটা নিয়ে রাগাতাম। একদিন আমার বান্ধবী জেরিন আমাকে বলে। সে নাকি তোমাকে ভালবাসে। তোমাকে দেওয়ার জন্য একটা চিঠিও দেয়। সেদিন চিঠিটা আমি তোমাকে দেয়নি। কেন যেন আমার খুব কান্না পাচ্ছিল। তাই জেরিন কে বলে দিয়েছি, তুমি অন্য কাউকে ভালবাসো। জানো সেদিন থেকেই তোমাকে ভালবেসে ফেলি। কিন্তু কখনো তোমায় বলতে পারিনি। তুমিতো সারাক্ষণ আমার সাথে ঝগড়া করতে। জানো যার সাথে বিয়ে ঠিক ছিল আমার,সে ছেলেটা আমার বান্ধবী নিধির বয়ফেন্ড। তাদের দুজনকে পালানোর টাকাটাও আমি দেয় তোমাকে পাওয়ার জন্য । আর তুমি যেন আমাকে ভালবাসো.. সে জন্য বিয়ে বাড়িতে বোরকা পড়ে ওই ছেলেটাকে অভিনয় করতে বলি। বিশ্বাস করো সত্যি তোমায় অনেক ভালবাসি। - ঠাস! লজ্জা করে না পাপ মুখে আমাকে ভালবাসার কথা বলতে। তুমি মনে করেছো। তোমার সাজানো গোছানো মিথ্যা কথা আমি বিশ্বাস করবো? কখনোই না। - আরোহী আমার কথা শুনে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। -আমি শুয়ে পড়লাম। সারাদিনের কর্ম ব্যস্ততায় শরীরটা নিতিয়ে পড়েছে। চোখ জোড়া বন্ধ করতেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম। - পরের দিন আরোহী কে নিয়ে ডির্ভোসের আবেদন করে আসলাম।আরোহী শুধু আমার দিকে করুণ চোখে চেয়ে আছে। আরোহী কি আর বলবে। আমার জায়গায় যে কেউ হলেও এটাই করতো। - বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে, টিভি দেখতে ছিলাম। এমন সময় দেখলাম আরোহী শাওয়ারে গেল। - রাতে শুয়ে আছি।হঠাৎ পাশের রুম থেকে চাঁপা কান্নার আওয়াজ আসছে। - আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি, রাত প্রায় দু'টা ছুঁই ছুঁই! বিছানা থেকে উঠে, পাশের রুমের দিকে চোখ পড়তেই চমকে উঠলাম! - আরোহী জায়নামাযে বসে মোনাজাতে কাঁদছে। আর বলছে ' হে পরম করুণাময় আল্লাহ্ তায়ালা। সারাজাহানের অধিপতি, তুমি তো জানো আমি ফুলের মতো পবিএ। কোন পরপরুষের সংস্পর্শে যায়নি। তবুও আজ আমার গর্বে সন্তান। হে আল্লাহ্, আমার করুণাময় আল্লাহ্ । আমি আমার স্বামীকে নিজের থেকে বেশি ভালবাসি। তুমি তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ো না আমায়। আমার সম্মান তুমি রক্ষা করো। সতি নারীর সম্মান তুমি রক্ষা করো। আমিন। - আরোহীর কান্না দেখে নিজের অজান্তেই চোখের কোণে জল এসে পড়ে। কারণ পাগলীটাকেও যে আমি বড্ড বেশি ভালবাসি। মনে মনে ভাবলাম অনেক হয়েছে আর না। খুব বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। ভালবাসার মানুষ এতো কষ্ট দিতে হয় না। আরোহী রুমে আসার আগেই, আলমারী থেকে সবুজ পাড়ের কালো তাঁতের শাড়িটা বের করলাম। কথা রুমে আসতেই বললাম' যাও শাড়িটা পড়ে আমার সামনে আসো'। - আরোহী এতো রাতে আমার পাগলামী দেখে কিছুটা বিস্মিত হলো। কারণ আজ কোর্ট থেকে আসার পর এই প্রথম কথা বললাম। - আরোহী কিছুক্ষণ পর শাড়ি পড়ে আসলে। তার মাঝে অন্য এক আরোহী কে দেখতে পায়। - নষ্টা মেয়ের দিকে এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? আমি তো নষ্টা তাই ভেবেছি, তোমাকে মুক্তি দিয়ে যাবো। আমি সুসাইড করবো। - আরোহীর মুখে সুসাইডের কথাটা আমার কলিজায় এসে বিঁধলো। মুখটা চেপে ধরলাম। এই কি বলছো? তোমাকে ছাড়া আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো। আমাকে ক্ষমা করে দাও। তোমার গর্ভের সন্তানটা আমার। - আরোহী আমার মুখে এমন কথা শুনার জন্য একদম প্রস্তুত ছিল না। তুততমি তো আমাকে স্পর্শ করোনি। তবে কেমনে মা হলাম? - একদিন ঘুমের বড়ি আর তার সাথে নেশার বড়ি মিক্সট করে দেয়। যদিও এটা অন্যায় ছিলো কিন্তু এ ছাড়া কোন উপায় ছিল না। তোমার ডাইরি পড়ে তোমার বলার আগেই। আমি জানতে পারি যে,তুমি আমার সাথে অভিনয় করেছো। আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসো। কিন্তু বলতে চাচ্ছো না। তাই কৌশলে এ বুদ্ধি করা। কথাটা বলার আগেই বুকে কারো কিল-ঘুষি অনুভব করলাম। এই কি করছো মরে যাবো তো। - তোকে যে আমি মরতে দিবো না। মালা বানিয়ে গলায় ঝুলিয়ে রাখবো। কথাটা বলে বুকে মুখ লোকালো। - এই রাত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফুলশর্য্যাটা সেরে নেয়। - এই লুচুর হাড্ডি আমার অনুমতি ছাড়াই তো সব করে ফেলছো। দেন মহর যে বাসর রাতে দিতে হয় দিয়েছিলে আমায়? -হি হি, আচ্ছা! কত টাকা চাও দেন মহর হিসেবে? - যা চাই দিতে পারবে তো? - সামর্থ্য থাকলে অবশ্যই দিবো। - আচ্ছা! দেন মহর হিসেবে তোমাকেই চাই। সারাজীবন তুমি পাশে থেকো আর কিছুই চাইনা। নয় মাস পর....... - হসপিটালে বসে বসে পুরোনো সব কথা গুলো ভাবছি আর চোখ থেকে পানি টপটপ করে পড়ছে। মনে মনে আল্লাহ্কে স্মরণ করছি। পাগলীটা অপারেশন থিয়েটারে। অপারেশন থিয়েটারে যেতে চাচ্ছিল না। আরোহীর চোখে চিকচিক করছিল পানি। হঠাৎ ডাক্তার সাথি অপারেশন রুম থেকে বের হয়ে বললো' মিঃ এ আর আপনার মেয়ে হয়েছে। ভেতরে যেতর পারেন। - আমি বেডে গিয়ে দেখি আরোহীর পাশে ফুটফুটে একটা বাচ্চা কান্না করছে। মেয়েটাকে কুলে তুলে নিয়ে কপালে ভালবাসার স্পর্শ এঁকে দিলাম! হঠাৎ আরোহীর দিকে চেয়ে দেখলাম সে নড়া চড়া করছে না। বুকটা কেমন যেন ধর্ক করে উঠলো। এই আরোহী , কি হলো চোখ খুলো কথা বলছো না কেন। আরোহী কোন কথা বলছে না। আমার বুকটা ফেঁটে যাচ্ছে। আরোহীয মাথাটা বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলাম। হঠাৎ বুকে কারো মৃদু কামড় অনুভব করলাম। চেয়েই দেখি পাগলীটা মিটিমিটি তারার মতো চোখ খুলছে। - কি হলো ভয় পেয়েছো? ভয় পেয়ে লাভ নেই। আমি তোমাকে ফেলে কোথাও যাচ্ছি না। এখন আমার দল ভারী। মা মেয়ে মিলে একসাথে ঝগড়া করবো। . কেমন হলো জানাতে ভুলবেন না কিন্তু . . * * * সমাপ্ত * * *

@Kamrul16

বিয়ে ছাড়াবউ বিয়ে_ছাড়া_বউ #পর্ব_7_&_ ইরাঃ - তাহলে ওরা আমাকে ভাবী ডাকলো কেনো? আমিঃ - আমি কি জানি? ইরাঃ- একদম মিথ্যে কথা বলবে না। আমিঃ - মিথ্যে কথা বলছি নাতো। ইরাঃ - তাহলে ওরা যে বলল,তুমি বলেছো....... ইরাকে আঠকিয়ে দিয়ে আমি বললাম, আমিঃ - আমি কি কি বলছি? ইরাঃ- আরে তোতলাচ্ছো কেনো? আমিঃ - কই না তো ওরা কি বলেছে? ইরাঃ - বলেছে তুমি নাকি বলেছো আমি তোমার বউ।আমি সস্তির নিশ্বাস নিলাম। আমিঃ - হ্যা,বলেছি তো। ইরাঃ- এহ,আমি কি তোমার বউ নাকি যে সবাইকে এটা বলে বেড়াতে হবে। আমিঃ - হ্যা বউইতো। ইরাঃ- উহু তোমার বউ হতে আমার বয়েই গেছে। ভেংচি কেটে বলে চলে যাচ্ছিলো। আমি ইরাকে টান মেরে বুকে নিয়ে এলাম, আমিঃ-কেনো বউ হলে কোনো সমস্যা? ইরাঃ- আরে ছাড়োফাইজলামি করো না। আমিঃ- বউয়ের সাথে ফাইজলামি করবো নাতো কার সাথে করবো? ইরাঃ- ছাড়ো, আমার কাজ আছে। ছেড়ে দিলাম। । রাতে আমি বসে বসে ল্যাপটপ এ কাজ করছিলাম আর ইরা আয়নার সামনে বসে চুল আঁচড়াচ্ছে। আমিঃ -ইপ্সিতা মেয়েটা খুব সুন্দর তাই না। ইরা পিছনে আমার দিকে ভ্রু কুচকে থাকালো। ইরাঃ- ইপ্সিতাকে তুমি কোথায় পেলে? আমিঃ - আজ কথা হয়েছিলো আর ওও বলল তোমাকে নাকি কি একটা কথা বলেছিলো আমাকে বলতে। ইরাঃ- ক কই কি বলেছিলো? আমিঃ - তোতলাচ্ছো কেনো? ইপ্সিতা আমাকে ভালোবাসে ইপ্সিতা তোমাকে বলেছিলো আমাকে এ কথা টা এসে বলতে। তুমি বললে না কেনো? ইরাঃ- অবাক হয়ে আর কিছুটা ভাঙা গলায় বলল,ওও বলেছিলো মনে হয় খেয়াল করি নি। আমিঃ- ওও,তবে আজ পার্কে প্রপোজ করেছিলো। ইরা কান্না স্বরে বলল, ইরাঃ- তুমি কি বললে? আমিঃ- এতো সুন্দর মেয়ের প্রপোজাল কি রিজেক্ট করতে পারি? ইরাঃ- তার মানে এক্সেপ্ট করে নিয়েছো। আমিঃ- হ্যা,কেনো তুমি খুশি হওনি? ইরাঃ- হ্যা,হ্যা হয়েছিতো। আমিঃ- ওও, তাহলে তো ভালোই। মেয়েটা কি সুন্দর? ইরাঃ- শুধু কি ইপ্সিতাই সুন্দর। আমি সুন্দর না। আমিঃ - আরে এটা তোমাকে কে বলল? ইরাঃ - তোমার কথায় বোঝা যাচ্ছে। তুমি ইপ্সিতার যা গুন শুনাচ্ছ। আমিঃ- তুমি কি জেলাস ফিল করছো। ইরা একটু স্বাভাবিক হয়ে বলল, ইরাঃ - উহু,জেলাস হবো কেনো? আমিঃ - ওও,জেলাস না হওয়াই ভালো। আর ইপ্সিতা যা সুন্দর জেলাস হয়ারই কথা ইরা রাগে জ্বলছে। তবে মুখে কিছু বলছে না। আমিঃ - আর ইপ্সিতা আমাকে ফিল করে ওও তোমার মতো না। ইরাঃ - মানে! আমিঃ - মানে তোমাকে কিস করলে তো আমার প্রতি তোমার কোনো ফিল হয়না। কিন্তু ইপ্সিতার আমার প্রতি ফিল হয়। ইরা চোখ বড়ো বড়ো করে বলল, ইরাঃ - কি? আমিঃ - হ্যা। ইরাঃ- তার মানে তুমি ইপ্সিতাকে কিস করেছো। আমি লজ্জা পেয়ে বললাম, আমিঃ- হ্যা। ইরাঃ- ইউ চিটার। বলে আমাকে বালিশ দিয়ে মারতে শুরু করলো। আমিঃ- আরে এখানে চিটারের কি হলো? ইরা মাইর বন্ধ করে দিয়ে বলল, ইরাঃ- না কিছু না। তুমি যে আমার সাথে আছো ইপ্সিতা এতে সন্ধেহ করবে নাতো। আমিঃ - ওও তোমার মতো না। ইরাঃ- মানে। আমিঃ - তুমিতো হলেতো সন্দেশ করতে কিন্তু ইপ্সিতা খুব ভালো ওও আমাকে বিশ্বাস করে সন্দেহ করার কোনো প্রশ্নই উঠে না। ইরাঃ- ভালোই একদিন ইপ্সিতাকে চিনে নিলে। আমিঃ - হ্যা কোনো কোনো মানুষকে প্রথম দেখায়ই চেনা যায়। যেমন তোমাকে দেখে আমি প্রথমেই বুজে নিয়েছিলাম তুমি ঝগড়াটে। ইরাঃ - কি আমি জগড়াটে। আমিঃ - হ্যা,ঝগড়াটেই তো। ইরাঃ - দাড়াও দেখাচ্ছি। অতঃপর দৌড় আরম্ভ। অর্ধেক দৌড়ে থেমে গেলাম ইপ্সিতা ফোন দিয়েছে। ইরা আমাকে মারতে শুরু করলো। আমিঃ - উহ, ইরা এখন ফাইজলামি করো নাতো ইপ্সিতা ফোন করেছে। ইরা থেমে গেলো কেঁদে দিবে বোধ হয়। আমি বারান্ধায় চলে গেলাম। আমিঃ - হ্যালো,ইপ্সিতা কেমন আছো বাবু?( খুব জোরে জোরে)। আধ ঘন্টা কথা বলার পর বারান্ধা থেকে রুমে এসে দেখলাম ইরা মুখ ভার করে বসে আছে। ইরাঃ- কথা শেষ। আমিঃ - হুম। ইপ্সিতা কাল দেখা করতে বলেছে। ইরাঃ - ওও ভালো। আমিঃ - তোমাকে আমার সাথে যেতে হবে। ইরাঃ - আমি গিয়ে কি করবো? আমিঃ - তোমাকে যেতে হবে ব্যাস। ইরাঃ- জয়,আমি...... আমি আর কিছু বলতে দিলাম না। রাতে না খেয়ে ইরা শুয়ে পড়লো। আমিঃ - ইরা,ইরা,এই ইরা। ইরাঃ -. .......................................... নিশ্চুপ। আমিঃ - এই ইরা। ইরা চোখ খুলল। চোখগুলো লাল আর ফুলে গেছে। আমিঃ - খেয়ে নাও। আর তোমার শরীর খারাপ নাকি। ইরাঃ - না, খাবো না। আমিঃ - আরে খেয়ে নাও। ইরাঃ - খাবো না বললাম তো। আমিঃ - খেতে হবে। আমি জোর করে খাইয়ে দিচ্ছি ইরা আমার দিকে থাকাচ্ছেই না। পরেরদিন ইরাকে নিয়ে শপিংয়ে গিয়ে ইপ্সিতার জন্য শাড়ি কিনলাম আরো অনেক কিছু। ইরা কিছু বলতে পারছে না। সারাদিন ইপ্সিতার হাত ধরে ঘুরলাম আর ইরা লুচির মতো ফুলছিলো। একটা রিক্সা নিয়ে আমি আর ইরা বাসায় ফিরছি। আমিঃ - আজ ইপ্সিতাকে খুব সুন্দর লাগছিলো তাই না। ( ইপ্সিতাকে সুন্দর লাগছিলো তবে আমার বিয়ে ছাড়া বউটাকে আরোও সুন্দর লাগছিলো। অনেকে থাকাচ্ছিলো আমার তখন খুব রাগ ধরছিলো) ইরাঃ - হ্যা। আমিঃ - মন খারাপ নাকি তোমার? ইরাঃ - নাহ। বাসায় ফিরলাম। ইরা এখন প্রায় রাতে জেগে থাকে আমি পর্দা সরিয়ে দেখি। কাজ হচ্ছে মনে হয়। আমি পর্দা সরিয়ে ইরাকে দেখছিলাম। ইরা আমাকে দেখে নিলো। ইরাঃ - কি দেখছো? এখন আর ইরা আমার সাথে ফাইজলামি করে না। সিরিয়াসলি কথা বলে। আমিঃ - তোমাকে। ইরাঃ - আমাকে দেখার কি আছে? আমিঃ - অনেক কিছু আছে তুমি বুঝবে না। ইরাঃ - ওও কাল কোথায় যাওয়া আছে নাকি? আমিঃ - হুম। ইপ্সিতাকে নিয়ে নতুন একটা জায়গায় যাবো?ইরাঃ - ওও তাহলে ঘুমিয়ে পড়ো। আমিঃ - হুম, গুড নাইট। ইরাঃ - গুড নাইট। ঘুমিয়ে পড়লয়াম। ইপ্সিতাকে নিয়ে নদীর পাড়ে গেলাম। ইপ্সিতাঃ - আর কতোদিন। আমিঃ - কি? ইপ্সিতাঃ - এই অভিনয়। আমিঃ - তুমি কি আমার বন্ধু হয়ে সারা জীবন থাকতে পারবে না। ইপ্সিতাঃ - হুম। তবে এই অভিনয় করে তো আমি তোমার উপর আরোও উইক হয়ে পড়ছি। আমি আর কিছু বললাম না। আমিঃ - আচ্ছা,এখন উঠতে হবে চলো। ইপ্সিতাঃ - হুম। ইপ্সিতাকে বাড়ি পৌছে দিয়ে বাসায় ফিরলাম। উপরে যাবো এমন সময়, বাড়িওয়ালাঃ - দাড়াও। আমিতো ভয় পেয়ে গেলাম। কি অঘটন ঘটালাম কে জানে। আমিঃ - জি বলুন। বাড়িওয়ালাঃ - তোমার সাথে একটা মেয়েকে দেখলাম। কে ঐ মেয়েটা? আমিতো শেষ। আমিঃ - ক্ককই কোন মেয়ে? বাড়িওয়ালাঃ - কোন মেয়ে মানে তোমার সাথে কোন মেয়ে ছিলো আমি বলবো কি করে? আমিঃ - ক কোথায় দেখেছেন? বাড়িওয়ালাঃ - ঐ তো নদীর পাড়ে। আমিঃ - ওওঅঅ ওটাতো আমার বন্ধু ছিলো। বাড়িওয়ালাঃ - বাড়িতে তোমার বউ থাকতে বাইরের মেয়ে মানুষের সাথে ঘুরা মোটেও ভালো না। আমিঃ - আরে আঙ্কেল ও আমার বন্ধুই। বাড়িওয়ালাঃ - তোমার বউ থাকতে মেয়ে বন্ধুর কি প্রয়োজন? আমিঃ - আসলে আঙ্কেল....... আমি কিছু বলার আগে উপর থেকে ইরা বলে উঠলো, ইরাঃ - আঙ্কেল ঐ মেয়েটা জয়ের কলেজের বন্ধু। আমিঃ- হ্যা,হ্যা। আঙ্কেল আমার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকালেন। আঙ্কেলঃ - তবুও ঘরে বউ থাকতে অন্য মেয়েকে নিয়ে ঘোরে ঠিক না। আমিঃ - জি, আঙ্কেল। আঙ্কেলঃ - হুম। আমিঃ - আঙ্কেল। আঙ্কেলঃ - কি? আমিঃ - আপনি হারবাল চিকিৎসালয়ে যাননি। আঙ্কেল ভ্রু কুচকে বললেন, আঙ্কেলঃ - কেনো? আমিঃ - আপনার টাক সমাধানের জন্য। আঙ্কেল গর্জন দিয়ে উঠলেন। ইরা আর আন্টি খিল খিল করে হাসছেন উপরে চলে এলাম। আমিঃ - খুব জোর বাঁচালে। ইরাঃ - হুম। আমিঃ - তুমি কখন এলে? ইরাঃ - এইতো কিছু সময় আগে। আমিঃ - ওও,,সরি তোমাকে নিয়ে আসতে পারিনি। ইপ্সিতাকে এক জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলাম তো তাই। ইরাঃ - ইট'স অকে। রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম। । আজ ২ মাস হয়ে গেলো আমার আর ইপ্সিতার প্রেমের অভিনয়। কিন্তু ইরাতো কোনো রেসপন্স দিচ্ছে না। যে জায়গায় ইরার আমাকে বলার কথা যে,ও আমাকে ভালোবাসে সে জায়গায় ইরা কিছুই বলছে না। ইপ্সিতাকে নদীর পার্কে ডাকলাম, আমিঃ - ইপ্সিতা। ইপ্সিতাঃ - হুম,বলো। আমিঃ - আমি আজই ইরাকে বলে দিবো আমার মনের কথা।ইপ্সিতা আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকালো, ইপ্সিতাঃ - ওও। ধন্যবাদ আমিঃ - কেনো? ইপ্সিতাঃ - আমাকে অনেক টাইম দেয়ার জন্য সেটা অভিনয়ই হোক। আমি ইপ্সিতার মনের কথাটা বুজতে পারলাম। আমিঃ - এখন যাই। বলে উঠছিলাম ইপ্সিতা আমার হাতটা ধরে ফেললো, ইপ্সিতাঃ - গিভ মি হাগ? ইপ্সিতা আমাকে জরিয়ে ধরলো মেয়েটা খুব কান্না করছে। আমি ইপ্সিতার মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম, আমিঃ - কেঁদো না ইপ্সিতা।ইপ্সিতাকে রিক্সা করে বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম। আমি রিক্সা নিয়ে ইরাকে নিয়ে আসতে গেলাম। ইরা অফিসের সামনে দাড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলো। আমিঃ - চলো। ইরা রিক্সায় উঠতে উঠতে বলল, ইরাঃ - আজ নিতে এলে যে। আমিঃ - এমনই। মামা নদীর দিকে চলুন। ইরাঃ - ওখানে গিয়ে কি করবে? আমিঃ - গেলেই দেখতে পারবে। ইরা আর আমি নদীর কিনারায় বসে আছি। আমিঃ - ইরা!!ইপ্সিতা আর আমার মাঝে কোনো সম্পর্ক নেই। ইরাঃ - মানে। আমিঃ - মানে!! তুমি আমাকে ভালোবাস কিন্য সেটা জানার জন্য আমি ইপ্সিতার সাথে অভিনয় করেছি। ইরাঃ - আমি কি কখন ও বলেছি তোমাকে ভালোবাসি। আমিঃ - জানি না। শুধু জানি আমি তোমাকে ভালোবাসি। আই লাভ ইউ ইরা। ঠাস। ইরা আমাকে চড় মারলো। ইরাঃ - তুমি জানো আমি অনাথ। আমাকে এই সমাজ মেনে নিবে না। আমি তোমাকে ভালোবাসি না। আমিঃ - ইরা আমার সমস্যা না হলে তোমার কি সমস্যা ? ইরাঃ - আমি তোমাকে ভালোবাসি না ব্যাস। আমিঃ - তুমি মিথ্যে বলছো। আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাস। ইরাঃ - আমি তোমাকে ভালোবাসি না। আমার কাছে কাটার ছিলো সেটা হাতে ধরলাম। আমিঃ - এখন ভালোবাসবে তো। ইরাঃ - তুমি যদি আমাকে সত্যিকারের ভালোবেসে থাকো তাহলে তুমি নিজের কোনো ক্ষতি করবে না। ইরা চলে যাচ্ছে। আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। কি করবো ভাবতে পারছি না। । রাত হয়ে গেছে আমি রাস্তায় হাটছি। বাসায় যাবো কি না ভাবছি। আব্বু আম্মু আর বোনটার কথা মনে পড়ছে। তখনি, একটা ছেলেঃ - কি ভাই কেমন আছেন? (ইরাকে ডিস্টার্ব করা ছেলেগুলো) আমি কিছু না বলে হাটা ধরলাম। ছেলেটা আবার বলল, ছেলেটাঃ - ভাইয়া কেমন আছেন? আমি ছেলেটার দিকে তাকালাম। সজোরে একটা ঘুসি মারলাম গালে। গাল কিছুটা কেটে গেলো রক্ত বের হয়ে গেছে। ছেলেটাঃ - আরে ভাই কি হয়েছে আপনার? আমি ছেলেটার দিকে এগিয়ে যেতেই মাঠি থেকে উঠে দিলো দৌড়। ইরা আমার নিজের ক্ষতি করতে মানা করেছে না হয়। । বাড়িতে এলাম দারোয়ান চাচা অন্ধকারের মধ্যে ও আমাকে চিনে ফেললেন। চিৎকার দিয়ে উঠলেন। দারোয়ান চাচাঃ - ছোট সাহেব এসেছেন। চিৎকার শুনে আব্বু,আম্মু,বোনটা,বাড়ির চাকররা সবাই বেরিয়ে এলো। আব্বু,আম্মু,বোন আমাকে দেখে জরিয়ে ধরে কেঁদে দিলো। আর অনেক জিজ্ঞাসাবাদ। আমি কিছু কিছু কথা বললাম। । আজ এক সপ্তাহ হয়ে গেছে বাসায় আসার। আমি কারো সাথে তেমন কথা বলি না। মাঝ রাতে ইরার কথা মনে করে কাদি। আর এর মাঝেই সবাই আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আমি বিষয় টা তাদের উপর ছেড়ে দিয়েছি। শুনলাম তারা বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। কনে আমি দেখিনি। । আজ আমার বিয়ে হয়ে গেলো মেহজাবিন নামে একটা মেয়ের সাথে। রাত ১ঃ৪০ রুমে ডুকলাম। মেহজাবিন এসে আমাকে সালাম করলো। আমিঃ - আমি আপনাকে স্বামী র অধিকার দিতে পারবো না।আমি অন্য একজন কে ভালোবাসি। মেহজাবিনঃ - ইউ চিটার। কি বললি তুই। সেদিন না বললি আমাকে ভালোবাসিস আর এখন বলছিস। আমিতো অবাক এটাতো ইরা। আমিঃ - ইরা ইরাঃ - হুম। আমিঃ - তুমি এখানে কি করে? ইরাঃ - কি করে আবার বিয়ে করে? আমিঃ - বুজিয়ে বলো। ইরাঃ - তোমার আব্বু মানে আমার শশুর আব্বু আমার আব্বু বন্ধু,আর শাশুড়ি আম্মু আমার আম্মুর বান্ধবী, আমাদের বিয়ে আগে থেকেই ঠিক করা সেই সুবাদে ননদীনির সাথে আমার বন্ধুত্ব। আমি তোমাকে সেই ছোটবেলা থেকেই ভালোবাসি আর তুমি বিয়ে করবে না বলে পালিয়ে গেলে। তাই আমি তোমাকে শাস্তি দেয়ার জন্য সব নাটক করেছি। আমিঃ - তাই বলে এরকম কষ্ট দিবে আমাকে। ( কেঁদে কেঁদে) ইরাঃ - আমিওতো কষ্ট পেয়েছি। আমি আর কিছু না বলে বারান্ধায় চলে গেলাম। ইরা ও আমার পিছনে এসে জরিয়ে ধরে বলল, ইরাঃ - সরি তো। এই কান ধরলাম। আমি কিছু না বলায় ইরা আমাকে তার দিকে ঘুরিয়ে আমার ঠোটে তার ঠোট বসিয়ে দিলো। 2 year pass,,,,,,,,,,,, 2 বসর পর তাদের একটা ফুটফুটে মেয়ে হয়েসে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, আপনারা সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন,,,,,,,,,, The story end,,,,,,,,,,,,,,,,,, গল্পের মাঝে যদি কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে বা আমার কথায় কেউ ব্যাথিত হয়ে থাকেন তাহলে দয়া করে ক্ষমা করে দিবেন,,,,, আর অবশ্যই জানাবেন গল্পটি কেমন হয়েছে,, ধন্যবাদ,,,।।।।।।।।।।।।

@Kamrul16

সংসার সংসার পর্বঃ০১ লেখা কামরুল . . ফুলশর্য্যার রাতে রাজ যখন মৌকে বলল 'এই নাও ডির্ভোস পেপার সাইন করে দাও। ' রাজের কথাটা মৌ এর কলিজায় গিয়ে বিঁধল।মা মরা মেয়েটার ফুলশর্য্যার রাতে ডির্ভোস পেপারে সাইন করতে হবে এটা কখনো ভাবে নাই সে। হাতের কাঁচা মেহেদীর সাজ! অপরুপা লাগছে মেয়েটাকে। ডির্ভোস পেপারে সাইন করতে গিয়ে এক ফোঁটা চোখের পানি টপ করে কাগজটার উপর পরল। জীবনটা সত্যিই অদ্ভূত চার ঘন্টা আগে যেমন একটি কাগজে সাইন করে নতুন সম্পর্ক আবদ্ধ হয়েছিল। আর এখন একটা সাইনে সে সম্পর্কটা প্রাণহীন হয়ে গেল। এদিকে সাইন করা কাগজটা হাতে নিয়েই, রাজ বলল' সরি মৌ আমার কিছু করার নেই।' পরে যদি তুমি আমাকে ডির্ভোস না দেও। তাই ঝামেলা আগেই মিটিয়ে নিলাম।আর হ্যাঁ আমার সাইনটা বাকি রাখলাম। চুক্তি যখন শেষ হবে আমার সাইনটা দিয়ে কাগজটা পরিপূর্ণ করব। মৌ কিছু না বলে মাথাটা নিচু করে আছে। বুকের ভেতরটা যেন কেমন কেমন করছে। জীবনে কাউকে কোনদিন ভালোবাসেনি। নিজের স্বামীকে সবটা দিবে বলে। কিন্তু আজ স্বপ্নগুলো স্বপ্নই থেকে গেল। রাজ মৌ এর পাশে থাকা বালিশটা নিয়ে যখনি খাঁট থেকে নামতে যাবে তখনি খেয়াল করল বিছানায় রক্ত! রক্ত দেখে খানিকটা আঁচ করতে পারল সে বিষয়টা কি। মৌকে বসে থাকতে বলে বের হয়ে গেল। .মৌ বিছানায় বসে বসে ভাবছে, জীবন নামক বহতা নদীর কথা। এ নদীর শেষ কোথায়। বান্ধবীদের কাছে শুনেছি বাসর রাতে এ হয় সে হয়। আর আমার! রাজকেই আর কি বা দোষ দিব। আমি নিজে ইচ্ছায় চুক্তির বিয়ে করেছি। যদিও রাজ আর আমি ছাড়া দ্বিতীয় কেউ জানে না। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে যায় খেয়াল নেই। রাজ ফার্মেসি থেকে প্যাড নিয়ে এসে রুমে ডুকতেই দেখে মৌ ঘুমাচ্ছে। জানালা দিয়ে চাঁদের জোছনা এসে মৌ এর চাঁদমাখা মুখটাতে ভর করছে। মনে হচ্ছে অষ্টাদশী কোন রাজকন্যা। রাজ মৌকে ডাক না দিয়ে বালিশটা নিয়ে সুফায় শুয়ে পড়ে। সুফায় শুয়ে থাকতে থাকতে রাজ সুমাইয়াকে ফোন দেয়। দু'বার রিং হতেই সুমাইয়া ফোন ধরে বলে' হ্যালো জান, তুমি কেমন আছো?' হ্যাঁ আমি ভালো। আর হ্যাঁ তোমার কথা মতো মা'কে খুশি করার জন্য বিয়ে করেছি। মেয়েটাও রাজি হয়েছে। আচ্ছা ছয়মাসের মাঝেই কিন্তু দেশে ফিরবে। -আচ্ছা! সুইর্ট হার্ট আমাকে ভুলে যেয়ো না। এখন রাখছি বাই। আচ্ছা। টেক কেয়ার। ২. সকালবেলা পাখির কিঁচির মিচিরে, রাজের ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে যখনি উঠতে যাবে ঠিক তখনি কে যেন বারবার দরজায় নর্ক করছে। রাজ তাড়াহুড়া করে বালিশ আর চাদর বিছানায় রাখে। মৌ এর দিকে তাকিয়ে দেখে মৌ এখনো ঘুমাচ্ছে। রাজ মৌকে ডাক না দিয়ে,দরজা খুলতেই দেখে রিত্ত চা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আজকে চাঁদ কোনদিকে উঠল যে আমার বোন আমার জন্য চা নিয়ে আসল? এ্যা চা দেখলেই মনে হয় তোমার জন্য নিয়ে আসছি। আসলে আমি চা তো ভাবীর জন্য নিয়ে আসছি। রিত্ত চা নিয়ে দেখে মৌ উঠে পড়েছে। মৌ এর কাছে চা টা রেখে বলল' ভাবী তোমার চা।' - তুমি চা নিয়ে আসছ কেন? আর আমি সকালে চা খায় না। - তো কি হয়েছে এখন থেকে খাবে। আচ্ছা। চা খেয়ে মৌ যখন শাওয়ার নিতে যাবে এমন সময় রাজ মৌ এর হাতটা ধরে ফেলল। মৌ রাজের হাতের স্পর্শে কেমন যেন কেঁপে ওঠলো। লজ্জামাখা দৃষ্টিতে রাজের দিকে তাকালো। রাজ প্যাডটা মৌ এর হাতে দিয়ে বলল' আমি তোমার স্বামী। আশা করি এসব কিছু গোপন রাখার দরকার নেই। আমি কাল রাতেই বুঝতে পেয়েছি তোমার সমস্যা হচ্ছে। - মৌ রাজের মুখে এমন কথা শুনে লজ্জায় জড়োসরো হয়ে গেল। মনে মনে ভাবতে লাগল, মানুষটাকে যতটা খারাপ ভেবেছিলাম ততটা খারাপ না। ' ভালোবাসায় যায়। মৌ রাজকে যতই দেখে ততই মুগ্ধ হয়। ঠিক তার কল্পনায় পুরুষটার মতো। মৌ ঘুমালেই একজনকে স্বপ্ন দেখতে। আর সেই স্বপ্নটা যে এভাবে সত্যি হবে সে কোনদিন ভাবতে পারে নাই। মৌ শাওয়ার শেষ করে। গোলাপী রঙের একটা শাড়ি পড়ে যখন রুম থেকে যখন বের হবে। তখন পিছন থেকে রাজ ডেকে বলল ' কি সবাইকে তোমার মেদহীন পেট দেখাবে নাকি? - নাকি তোমার নাভি দেখিয়ে আমাকে মুগ্ধ করতে চাইছো? এসব বাজে মেয়েরা করে। - মৌ রাজের কথা শুনে কাঁদো কাঁদো ভাবে বলল, কি করবো আমি শাড়ি পরতে পারি না। ' একটু পরিয়ে দিবে? - কাছে আসো। শাড়ি পরাটাও পারো না। কি পারো? রাজ ধমক দিয়ে মৌকে শাড়ি পরানো শিখিয়ে দিল। শাড়ি পড়া শেষ হলে -মৌকে দেখেি রাজের মা বলে' বউমা তুমি রান্না ঘরে আসছ কেন?' -কেন মা আপনি আসতে পারলে আমি কেন পারবো না? মা আমি আপনার মেয়ের মতো, আপনি এসব আর করবেন না। - ধূর পাগলী। আসই একসাথে রান্না করি। মৌ খুশি হয়ে যায়। সত্যিই মায়ের আদর বোধহয় এমনি হয়। . এদিকে দেখতে দেখতে দু'মাস হয়ে যায়। দু'মাসে মৌ রাজের পরিবারের একজন হয়ে যায়। পরিবারের প্রতিটা মানুষ মৌকে ভালোবাসে। শুধু রাজ ছাড়া। মৌ জানে রাজের হৃদয়ে শুধু সুমাইয়ার বসবাস। আর তাকে বিয়েটাও করেছে শুধু তার মায়ের জীবন বাঁচাতে। ওসময় যদি ওর মায়ের কথা না শুনতো তা হলে অনেক বড় বিপদ হয়ে যেত। চলবে

@Kamrul16

এক ঝাক জোনাকির আলো #একঝাঁক~~জোনাকির~~আলো🍁 . ---আর কত সময় নষ্ট করবে জোনাকির পিছনে ঘুড়ে??(নিভ্রর সরু চোখে বাঁকা প্রশ্ন) ---সময় নষ্টের কি আছে??আপনার ভালো না লাগলে যেতে পারেন।আমি এখানে আরো কিছুক্ষণ থাকবো।(জোনাকির দিকে তাকিয়ে বলে সাফা) . নিভ্র প্রতিবারের মত এবার আর বিরক্ত হয় না।সে পাশে থাকা দেয়ালটাতে ঠেস দিয়ে দাড়ায়।রাত একটু বেড়েছে।তবে এখনো ঘন কালো রাত হয়নি।এই বোদ হয় ৮টা বাজবে।সাফা সেই সন্ধ্যা থেকেই জোনাকি নিয়ে পরে আছে।নিভ্র তখন থেকেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সাফাকে দেখছে।ইদানীং তার সাথে কি হচ্ছে এটা সে নিজেই বুঝতে পারছে না।কেনো যে মেয়েটাকে দেখলেই তার মনের সেই ভয়ঙ্কর শব্দ গুলো দ্রুত থেকে দ্রুত গতিবেগে চলতে থাকে।মনের মাঝে অনেক কেনোর জন্ম হয়।কিন্তু সে উত্তর খুঁজে পায় না।তবে সে এটা যানে কোনো এক ভয়ঙ্কর মাতালতায় সে ডুবছে।তার অন্ধকারে অচ্ছন্ন জীবনে এক বিস্তর আলোর অগমন হচ্ছে।যেটা তার মত তুখড় ব্যক্তি বুঝতে পারছে না।তবে কেনো যেনো সে বুঝতেও চাইছে না।ভালোই লাগছে তার।মনে হয় বিষন্নতার চাদর ঠেলে মুগ্ধতা ডুকতে চাইছে। . সাফার বাবার কলে তার হুশ হয়।এত সময় সে জোনাকির আলো দেখতে এতটাই মুগ্ধ ছিল যে ভুলেই গেছে ঘড়িতে কয়টা বাজে।বাবার কল রিসিভ করে ফোন কানে নিতেই অপর পাশ থেকে চিন্তিত কন্ঠে তার বাবা বলে উঠে....... ---মা কোথায় তুমি?? আসবা কখন?এত রাতে তুমি বাইরে থাকার মেয়েনা!!কোনো কি বিপদ হয়েছে??আমি নিতে আসি??কোথায় তুমি বাবাকে বলো?? . বাবার চিন্তায় ডালা ডালা প্রশ্ন শুনে সাফা মোবাইল কান থেকে সরিয়ে টাইম দেখে।এত রাত হয়েগেছে দেখে সে জিহ্বায় কামড় দেয়।বিড়বিড় করে কি সব বলে।তারপর আবার বাবাকে উত্তর দেয়..... ---না বাবা আসতে হবে না।একটা কাজে এসেছি। তাড়াতাড়ি আসছি চিন্তা করোনা। . সাফা মোবাইলটা ব্যাগে নিয়ে নিভ্রর সামনে দাড়ায়।নিভ্র ফোন নিয়ে বিজি এমন একটা ভাব দেখায়।সাফা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।নিভ্র একটা ভ্রু তুলে বলে..... ---কি হয়েছে??জোনাকি দেখা এত তাড়াতাড়ি শেষ?? ---না। দেখার তো অনেক ইচ্ছে তাও অনেক্ষন পর্যন্ত। কিন্তু এখন বাসায় যেতে হবে।তবে আমার একটা কাজ আছে।যদি একটু হ্যাল্প করতেন?? নিভ্র এবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ফোন পকেটে নিতে নিতে বলে..... ---তা কি হ্যাল্প লাগবে তোমার?? ---একটা কাঁচের বোতল লাগবে??প্লিজজ এনে দেন। ---কেনো?? ---আগে যোগার করেন তারপরই দেখবেন কেনো।প্লিজজজ প্লিজজজ.. নিভ্র মুখটা কুঁচকে নিল।তাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে এবার বিরক্ত এবং সন্দেহ নিয়ে ভাবছে কি করবে।তবুও সোজা হাটাঁ দেয়।সেও দেখতে চায় কি করবে এই সাফা কাঁচের বোতল দিয়ে। . কিছুক্ষণ পরেই নিভ্র একটা ছোট কাঁচের বক্স নিয়ে আসে।সাফার হাত টেনে বক্সটা ধড়িয়ে দিয়ে বলে..... ---বোতল পাইনি।এটা ঢাকটা যুক্ত বক্স এটা দিয়ে কি করতে চাও করো। . সাফা বক্সে মুখ খুলে নিভ্রর হাতেই রাখে।আর বলে.... ---আমি কিছু জোনাকি ধরে এতে জমা করবো।আপনি কিন্তু ঢাকনাটা ঠিক ভাবে লাগিয়ে দিবেন।ঠিক আছে। . নিভ্র আহাম্মকের মত তাকিয়ে আছে।সাফা তার হাতে একটা চিমটি কেটেঁ হাত বাড়িয়ে জোনাকি ধরছে। . নিভ্র গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে আছে।সাফা গাড়ির একপাশে বক্সটা ধরে তাকিয়ে তাকিয়ে জোনাকি গুলো দেখছে।মাঝে মাঝে রিক্স বা সিএনজি আসলে ডাক দিচ্ছে। নিভ্র গাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসে বলে...... ---আমি দিয়ে আসব।গাড়িতে উঠে বসো। . সাফা যেনো এই সুযোগটাই খুজছিলো তবুও ভাব নিয়ে বলে... ---লাগবে না। আমি নিজে নিজেই যেতে পারবো। ---তাহলে আর কি করার যাও.. . সাফা ভাবতে পারেনি এমন করে বলবে নিভ্র।নিভ্র গাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে সাফা দৌড়ে এসে সামনে দাড়িয়ে বলে.... ---আপনি এমন কেনো বলেন তো??মেয়েদের সাথে কেউ এভাবে কথা বলে??বলে?? ---তাহলে কিভাবে কথা বলে।(চোখ বাঁকিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে নিভ্র) ---আরে মেয়েদের সাথে সুন্দর করে কথা বলতে হয়।মন থেকে কথা বলতে হয়।সবচাইতে বড় কথা এত পার্ট দেখিয়ে কথা বলতে নেই।বুঝলেন?? ---বুঝলাম।এবার কি তুমি যাবে?? ---অবশ্যই এত রাতে আমি একা কি ভাবে যাব বলেন??আমার ভয় করে না বুঝি?? ---আমাকে ভয় পাওনা তুমি??(গম্ভীর হয়ে বলে নিভ্র) ---আরে আপনাকে ভয় কেনো পাবো।আমার তো আপনাকে একটুও ভয় লাগে না।উল্ট আমার মনে হয় আপনি আমাকে ভয় পান। . কথাট বলেই সাফা ভ্রু নাচাতে লাগে।নিভ্র একবার সাফার দিকে তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে নেয়।গটগট করে হেঁটে গাড়িতে বসে পরে।বিপরিত পাশের দরজাটা খুলে দেয়।সাফা বক্সটা কোলে নিয়ে বসে পড়ে।নিভ্র গাড়ি স্টাট দেয়।নিভ্র গাড়ি চালাচ্ছে। সাফা বক্স ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে জোনাকি দেখছে।কিছুক্ষণ পরে নিভ্র সাফার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়।সে মনে মনে ভাবে........ ---এত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে গেলো??কিভাবে?? . নিভ্র গাড়ি থামায়।বক্সটা সাফার হাত থেকে নিয়ে গাড়ির পিছনে রাখে।ব্যাগটাও পিছনে রাখে তা না হলে পরে যাবে।যত্নের সাথে সাফার উড়ন্ত উড়নাটা ভালো করে গায়ে জড়িয়ে দেয়।জানালা দিয়ে হালকা বাতাস আসছে।নিভ্র অপলক সাফার দিকে তাকিয়ে আছে।সাফার মুখে উপর ছোটছোট চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পরে আছে।নিভ্র মনের বিরুদ্ধে গিয়ে সেই চুলগুলোকে তার গাল থেকে সরিয়ে দিলো।কানের এক পাশে গুঁচে দিয়ে বিড়বিড় করে বলে............ ----তুমি আমার কাছে আগুলের মত।আগুন যেভাবে এসে জ্বালিয়ে দেয় তুমিও জ্বালাচ্ছ। আর আগুন চলে গেলে যেমন পোড়া কয়লার ধোঁয়া উড়ে তুমি চলে গেলেও মনে অবস্থা তেমন হয়। কেনো?? . নিভ্র দীর্ঘশ্বাস নিয়ে গাড়ি চালায়।মাঝে মাঝে আড়চোখে সাফাকে দেখে।আবার বাতাসে উড়না উড়ে এলোমেলো হলে তা ঠিক করে দেয়।সাফার ঘরের সামনে গাড়ি থামায়।নিভ্র সাফাকে ডাকতে চাইছে না।মনের মাঝে যেনো তার দুই সত্তা কাজ করছে।একটা বলছে এটা সাধারন একটা মেয়ে।এত দরদ দেখানোর কি আছে।না চাইতেও তার প্রতি যত্ন, দরদ হচ্ছে কেনো এটা নিভ্রর অজানা।আর একটা বলছে এটা একটা ভয়ঙ্কর অনুভতি।যা এই মেয়েই তোমার মনে জাগিয়েছে।নিভ্র দুই সত্তাকে উপেক্ষা করে সাফাকে ডাকে..... ---সাফা... সাফা.... . সাফার এমন কঠিন ঘুম দেখে নিভ্র হতবাগ।এত গভীর ঘুম কিভবে তাও এত কম সময়ে??নিভ্র সাফার উড়নাটা হালকা নাড়ায়।সাফা সাথে সাথে ধড়ফড়িয়ে উঠে।নিভ্রকে দেখে কিছুক্ষণ ভাবে সে।তারপর বলে..... ---স্যরি আসলে বেশি বাতাসে আমার ঘুম চলে আসে তাই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। ---ইটস্ ওকে।যাও তোমার বাসা চলে এসেছে। ---আপনাকে ধন্যবাদ পৌছে দেওয়ার জন্য। ---তুমি আবার ধন্যবাদও দিতে পারো??(ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে নিভ্র) ---এভাবে বলেন কেনো??(মুখ গোমড়া করে বলে সাফা) . নিভ্র জবাব দিলোনা।সামনের দিকে তাকায়।সাফা ঠাস করে গাড়ি থেকে বেড়িয়ে ঠুসস করে দরজাটা বন্ধ করে দেয়।জানালার কাছে মাথা দিয়ে বলে..... ---আপনি কখনই বউ খুঁজে পাবেন না।বুঝলেন??বউ যদি পেতে চান তিতা করলার মত কথা বাদ দিয়ে মেয়েদের সাথে কিউট করে কথা বলতে শিখেন বুঝলেন ডা.সাহেব? . সাফা সোজা হেঁটে গেট দিয়ে ডুকে যায়।নিভ্র মুচকি হেসে তাকায়।আর মনে মনে বলে..... ---সত্যিই পোড়া কয়লার মত ধোঁয়া উঠছে।কিন্তু কেনো??? . . নিভ্র নিজের বাসার সামনে গাড়ি দাড় করিয়ে গাড়ি থেকে নামতে যাবে এমন সময় সাফার জোনাকির বক্সটা আর তার ব্যাগটা চোখে পরে।নিভ্র সেগুলো হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবে কি করবে এগুলো। তারপর এগুলো নিয়েই ঘরের দরজার সামনে দাড়ায়।.... . রিং রিং কলিং বেল বাজার শব্দে রাফা কান খাড়া করে।তার দৃষ্টি এখনো টিভির দিকে।হাতের রিমোটা টিপতেই আবার কলিং বেল বেজে উঠল।রাফা কিঞ্চিত বিরক্ত হল।এদিক ওদিক তাকিয়ে কাজের লোক গুলোকে খুঁজল। না পেয়ে সে আরো রেগে গেল।বাসায় পাঁচটা কাজের লোক কিন্তু প্রয়োজনের সময় একটাও কাজে আসেনা।সারা দিন এদিক ওদিক ছুটোছুটি।রাফ একরাশ বিরক্তি নিয়ে রিমোটটা টিটেবিলের উপড় রাখল।বড় বড় পা ফেলে দরজার সামনে দাড়াল।পিতলের কাজ খজ্জিত বিশাল দরজা।রাফা দরজার হেন্ডেল দুটিতে হাত রেখে টেনে তা খুলল।সামনের ব্যক্তিকে দেখে তার এত এত বিরক্তি আর রাগ নিমিষেই উদাউ হয়ে গেল।নিভ্র কানে ফোন নিয়ে কথা বলছে।তার এক হাতে সাফার জিনিস গুলো।রাফা অবাক হল।নিভ্রর প্রতি তার যে আলাদা ফিলিংস আছে তা ভাই বোনের মতই।আসল কথা নিভ্র ভাইয়াকে রাফার খুব অদ্ভুত লাগে।তার সব সময় কার ইচ্ছে সে নিভ্রের সাথে দুকাপ কফি হাতে বারান্দায় গল্পগুজব করবে।আর নিভ্র ভাইয়া উচ্চ শব্দে হেঁসে উঠবে।কিন্তু নিভ্র তেমন না।সে সব সময় এত গম্ভীর কেনো হয়ে থাকে এটা তার যানা নেই।তবে তার নিভ্র ভাইয়াকে দারূন লাগে।বান্ধবীরা যখন ডায়রির ভাঁজে তার ভাইয়ার ছবি লুকিয়ে রাখে আর মাঝে মাঝে উঁকি ঝুঁকি দিয়ে দেখে তখন তো তার আরো ভালো লাগে।সবাই কিছুক্ষণ পরপর তার ভাইয়া সম্পর্কে যানতে চায়।আর সে মুড নিয়ে বলে..... ---এখন অত সময় নেই।আর ভাইয়া ইদানিং কাজে বিজি থাকে তাই তার সাথে তেমন গল্প করা হয় না। . যদিও নিভ্রর সাথে তার মোটেও গল্প করা হয় না।তবুও সবাইকে ইনিয়েবিনিয়ে কত কত কথা যে সে বানিয়ে বলে তার কোন ইয়াতা নেই।নিভ্র এক ভ্রু তুলে বলে উঠে..... ---হা করে তাকিয়ে কি দেখছিস??দরজার সামনে থেকে সর আমি ভিতরে যাব। . রাফা নিজের ভাবনার সুত ছিড়ে এক পাশে হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে।নিভ্র ডুকতে ডুকতে বলে উঠে..... ---একটা গরম হট কফি পাঠাতে বল। . রাফা দৌড়ে রান্না ঘরে গিয়ে কফি পাঠাতে বলে নিভ্রর রুমে। . . নিভ্র নিজের এ্যাফ্রোনটা সোফায় মেলে দিয়ে জিনিস গুলো বেড রুমের চেয়ারের উপড় রাখতেই তার মনে হচ্ছে তার রুমে কেউ আছে।সাথে সাথে তার মেজাজ বখে যায়।রাগী চোখে এদিক ওদিক তাকায়।তারপর সে তার বিছানার দিকে তাকাতেই তার রাগ নূনে যায়।বিছানার লোকটি বলে উঠে.... ---হ্যায় চ্যাম্প।এদিকে এসো। . নিভ্র মুখে হাসির রেখা টেনে তার পাশে বসে পড়ে।মুখে বলে উঠে....... ----তা দাদাজান কি মনে করে আমার রুমে এলেন??? ----জড়ুরি একটা কথা ছিলল?? ---বলেন?? ---তোমার ওই দিনের অ্যাটাক কারী কে??আমি যানতে চাই কার এত বড় সাহস আমার নাতি নিভ্রনীলের মাথায় আঘাত করে??কার?? . নিভ্র এবার চিন্তায় মগ্ন হয়।তার মনে পরে যায় সাফার কথা।একবার চোখের পাতা ফেলতেই তার চোখে সাফার প্রতিবিম্ব ফুটে উঠে।সাথে সাথে সে আবার চোখ খুলে তাকায়।আবার কি ভেবে বাকা হাসে।সে মনে করেছিল মেয়েটা ভয়ঙ্কর সাহসি হবে কিন্তু তাকে ভুল প্রমান করেছে সাফা।যে মেয়ে গুলির শব্দেই হকচোটিয়ে যায়,সুইকে ভয় পায়,কানে হাত দিয়ে চোখ বুজে থাকে।আবার তো রক্ত দেখে কাঁপাকাঁপি করে, সেন্সলেস হয়ে যায় সে আর যাই হোক সাহসি হতে পারেনা।তবে নিভ্রকে কেনো যেন সে ভয় পায় না।এই কেনো তার জানা নেই।দাদার কথায় সে ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসল.... ---কি হল বলছনা যে?? ---তেমন কেউনা।মারামারি করতে গিয়েই হাতাহাতি হয়েছে।ইটস্ নট এ বিগ ম্যাটার।তুমি বল কি খবর তোমার??? ----আমার আর কি?? এই বুড়া বয়সে এসে রাজনীতির মত কাজ করলে যা হয় আর কি??কাল একটা মিটিংও আছে।তোমার চাচাকে যেতে বলেছি কিন্তু সে যাবে না আমাকেই যেতে হবে।আমি কি ভাবছি দাদুভাই পরের ইলেকশনে তোমাকে দাড় করাবো।তুমি এমনেই সেলিব্রেটি আবার নেতা হিসেবেও ভালো।আর ডাক্তারি পেশার কথা না হয় নাই বলি???কি বল?? ---এত কিছু এখনো ভাবি নি?? ---ভাবো দাদুভাই। তুমি আমার জায়গায় দাঁড়াবে। অভ্রটাতো রাজিই হচ্ছে না।যাই হক।ওকে ওর মত থাকতে দেওয়াই উত্তম। ---ওকে আজ দেখলাম না যে কোথায় গেছে??? ---আমি কি অত অত সেলিব্রেটি নাকি??আর আমি দশভুজা না যে এক হাতে তোর মত হাজার কাজ করব।কি বল দাদু?? . অভ্র নিজের চশমাটা ঠিক করতে করতে রুমে এগিয়ে এল।নিভ্র এক পলক তাকাল।দাদাও একবার তাকাল।অভ্রর গায়ের রং ফর্সা যদিও নিভ্রর চাইতে একটু চাপা তবে তার গোলগোল চোখগুলো দারূন যদিও এই দারূন চোখ সে চশমার মাঝে ডেকে রাখে।মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি।চোখ কাড়া সুঠাম দেহ।নিভ্র যেমন হিট সেও কম নয়।মেয়েরা যে রাজিবের ছেলে অভ্রনীল রাজিব চৌধুরী বলতে অজ্ঞান এটা সবার জানা।মেয়েদের থেকে দূরে থাকে না তবে প্রেমের প্যারায় পড়তে চায় না বলেই মেয়েদের রিজেক্ট করে আসে।অভ্র একগাল হেঁসে নিভ্রর কাধ চাপড়ে বসে পড়ে।আবার হেঁসে বলে উঠে...... ---নে দেখে নে মনের মত করে।কেমন লাগছে আমাকে বল?? . নিভ্র ভ্রু জোড়া তুলে ঠোঁট কামড়ে হাসে।অভ্র এই হাসি দেখে বলে....... ---ভাই তুই বেঁচে গেলি আমি ছেলে বলে।তা না হলে তোকে তুলে নিয়ে যেতাম। ---তা তুলে নিয়ে কি করতি??বিয়ে??তুই যে দিন দিন বলদ হয়ে যাচ্ছিস আমার জানা আছে।তুমিও যেনে নেও দাদু।এই ছেলের কথা বর্তা আমার মোটেও সুবিধার মনে হচ্ছে না?? ---শালা তোকে যত ভালো ভাবি অতটাও ভালো তুই না?? . কথাটা বলেই অভ্র বালিশ দিয়ে মারা শুরু করে।মাহবুব হাসে।তার হাসির তালে ঝুলে পড়া গালটাও লড়ে লড়ে উঠে।মনে মনে দোয়া করে এদের ভালোবাসায় যেন নজর না লাগে। . চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে অভ্র নিভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে..... ---ভাই যে মেয়েটা আমার কোমড় ভেঙেছে না?? ও আমাকে পেইন কিলারের দাম জিগ্যেস করছে।তা দামটা কত রে?? নিভ্র চোখ বাঁকিয়ে তাকায়।ডান হাত দিয়ে সামনে আশা চুলগুলো সরিয়ে দিতে দিতে বলে উঠে.... ---মেয়েদের চক্করে পড়েছিস মনে হয়?? ---মোটেও তেমন কিছুনা।তবে মেয়েটা এটু ভিন্ন ধাজের বুঝলি?? ইংলিশ নিয়ে তার ভয়ঙ্কর অবজেক্সান।কি কি বলে সবই অদ্ভুত... . বলে হেঁসে উঠে অভ্র।নিভ্র কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ভাবনায় ডুব দেয়।সাফাও যে তাকে পাচঁ টাকা দিতে চেয়েছে কথাট ভেবে সে মৃদূ ঠোঁট বাঁকায়।মুগ্ধ হয়ে সে চোখ বুঝে সাফার কানে হাত দিয়ে চোখ বুজে দৃশ্যটা দেখে নেয়।জোনাকির আলোতে চকচক করা সেই মুখ আর সেই টোল পড়া হাসি।চোখবুজেই হাসে নিভ্র।এবার সে কিছুক্ষণ চোখ বুজেই ছিল।ভালোই লাগছে তার।কেমন যেন স্নিগ্ধ অনুভুতি কাজ করছে।অভ্র নিজের ফোনটা পকেট থেকে বের করে ফোনটা অন করল।গ্যালারিতে ডুকতেই ক্যামেরা ফোল্ডারে একটা ঘুমন্ত মেয়ের ছবি ফুটে উঠে। তাতে ক্লিক করতেই তা সম্পূর্ন স্কিনে জুড়ে ভাসে।অভ্র অপলক তাকিয়ে দেখে। সাফাকে টেবিলে মাথা ফেলে ঘুমাতে দেখে তখনই মনের অজান্তেই ছবিটা তুলে নিয়েছে সে।অভ্র কিছুক্ষণ তাকাতেই তার কেমন যেন লেগে উঠে তাই আবার মোবাইল পকেটে রেখে দেয়।নিভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে...... ---নিচে যাচ্ছি। তুইত কাজ ছাড়া যাবি না।থাক এখানেই পড়ে। . বলেই বড় বড় পা ফেলে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।নিভ্র কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে। . সাফা তার বাবার সাথে বসে কথা বলছে।সে প্রচণ্ড রেগে আছে।তার একটাই কথা...... ---বাবা প্লিজজ না গেলে হয় না?? ---না মা কেইসটা অনেক ইম্পরট্যান্ট। তাই যেতেই হবে।আমি যদি পাড়তাম তাহলে কখনোই যেতে চাইতাম না।তুমি চিন্তা কর না। সাখাওত খুবই ভালো মানুষ।যদিও তোমাকে সে এই প্রথম দেখবে।তবে তোমাকে মেয়ের মত রাখবে।তাই চিন্তার কারন নেই।হলের জন্য এপ্লাই করেছ??? ---না বাবা।কাল করে দিবো। . সাফা দীর্ঘনিশ্বাস নিল।চোখে তার পানি চিকচিক করছে।যে কোনো সময় এক ফোটা গড়িয়ে পড়তে পারে।তার বাবার সিলেটে পুস্টিং হয়েছে।তাই তাকে ঢাকা ছেড়ে যেতে হবে কিন্তু সে চায় না বাবাকে ছাড়া থাকতে।তবে না চাইতেও এখন তাকে থাকতে হবে।বাবা মাকে ছাড়া সে একদিনও কোথাও কাটায় নি।এখন কিভাবে থাকবে ভাবতেই তার ভয় লাগছে।সাফা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে।রাতের আকাশটা সুন্দর।মনে হয় কাল রোদ হবে ভালো।তারা গুলো চিকচিক করে জ্বলছে।হঠাৎ নিজের ব্যগ আর জোনাকির বক্সের কথা মনে পড়তেই সে তার বাবার মোবাইল দিয়ে তার মোবাইলে কল করে......... . একটা সুন্দর রিংটোনে নিভ্র চোখ খুলে তাকায়।এটা তার ফোনের রিংটোন না।সে চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে সাফার ব্যাগ দেখতে পায় টেবিলের এক সাইডে চেয়ারের উপড় রাখা।ভাগ্যিস দাদা আর অভ্র দেখেনি।দেখলে তাকে কি ভাব তো কে যানে।নিভ্র ভাবতেও পারছে না তার কি হয়েছে।নিজেকে কেমন চোর চোর লাগছে।নিভ্র সাফার ব্যাগ থেকে ফোনটা হাতে নিতেই রিং বেজে উঠে।একটা লোক আর সাফার ছবি দেখে নিভ্র বুঝতে পাড়ছে এটা সাফার বাবা।স্কিনে বাবা নামটা ভেসে উঠছে বারবার। নিভ্র ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরে। সাফা ওই পাশ থেকে বলে..... ---আপনাকে তো ভালো মানুষ মনে করেছি শেষ মেষ আপনি আমার জোনাকি আর ব্যগ চুরি করেছেন??আল্লাহ আল্লাহ। ---ফালতু কথা রাখ।একেতো মরার মত ঘুমিয়ে ছিলে তার উপর এই সব আমার গাড়িতে রেখে দিয়েছ।তাই ফালতু কথা রাখ।আমার হসপিটালে এসে এগুলো নিয়ে যাবে।তোমার এই সব জিনিসে আমার বিন্দু মাত্রও ইন্টারেস্ট নেই।সো ফালতু বকা বন্ধ কর।আর এখন রাখ। . নিভ্র কল কেটেঁ দিয়ে বুকে হাত দেয়।মেয়েটার ভয়েস শুনলেও তার বুক ধাকধাক করে সাউন্ড করে।দম আটকে আসে।সাফার ব্যাগে একটা সাদা রুমাল দেখতে পায় নিভ্র।হাত বাড়িয়ে রুমালটা নেয়।সে জানে একজনের অনুমতি ছাড়া তার ব্যাগে হাত দেওয়া উচিত না তবুও সে রুমালটা নিল।রুমালটা নাকে ধরতেই এক মিষ্টি ঘ্রাণ নাকে আসে।নিভ্রর যেনো মুহূর্তে অদ্ভুত অনুভুতি হয়।শরীর যেন শিহরিত হচ্ছে। . সাফা হাবার মত তাকিয়ে আছে মোবাইলের দিকে।কি অদ্ভুত লোক।..... . . #চলবে........🍁 . ভুলগুলো আল্লাহর দেওয়া মহান গুন ক্ষমার চোখে দেখবেন.......দেড়িতে দেওয়ার জন্য স্যরি।🍂

@Kamrul16

এক্স গার্লফ্রেন্ড যখন অফিসের বস। গল্পঃ এক্স গার্লফ্রেন্ড যখন অফিসের বস। পর্বঃ ৬ লেখকঃkamrul স্বপ্নাঃ আপনি তো এই মাসের বেতন পাবেন না! মুহূর্তেই মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো.... বেতন পাবো না মানে? এটা কি ধরনের কথা? স্বপ্নাঃ হুম, পাবে না মানে পাবে না। আমিঃ কিন্তু কেন? আমার অপরাধ। স্বপ্নাঃ অফিসে টি-শার্ট পড়েছো, এটা অফিস রুলের বাইরে ছিলো। আরো অনেক জায়গায় ভুল করেছো। তাই এই মাসের বেতন পাবে না। আমিঃ বেতন পাবো না বললেই হলো নাকি? স্বপ্নাঃ হুম। আমিঃ তারমানে আপনি আমার বেতন দিবেন না, এইতো? স্বপ্নাঃ এই বেয়াদব তোকে এক কথা কয়বার বলবো? বলছি না দিবো না, কি করবি কর, যা এখান থেকে। আমিঃ কি করমু দেখবি? (ঠাসসস ঠাসসস) দুইটা চড় গালে বসিয়ে দিলাম, সে গালে হাত দিয়ে আমার দিকে রাগি দৃষ্টিতে চেয়ে আছে আমি বললাম.... লাগবে না তোর টাকা, তোকে আমার এই সামান্য টাকা ভিক্ষা দিলাম। তুই যদি এগুলো খেয়ে অনেক বড় হতে পারিস, তাতে আমার কোনো আপত্তি নাই। যাহ ছেড়ে দিলাম তোর চাকরি, আল্লাহ কাওকে মারে না, কথাটা মনে রাখিস। এ কথা গুলো বলে বাইরে চলে আসছিলাম। এমন সময় দেখি পিয়ন আমার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। মনে হয় সব কিছু শুনে ফেলেছে। আমি কোনো কথা না বলে সোজা বাইরে চলে গেলাম। গাছতলায় গিয়ে বসে রইলাম, যেখানে স্বপ্না আর আমি সব সময় বসে থাকতাম। অফিস থেকে সোজা ওখানে চলে আসছি। বসে বসে ভাবছি স্বপ্না আমার সাথে এগুলো কেন করছে? আমি তো ওর কোনো ক্ষতি করিনি। তবুও সে এগুলো কেন করছে? ধুর কেন যে ওর সাথে রিলেশনে ছিলাম। যদি না থাকতাম হয়তো আজকে এই দিনটা আর আসতো না। বাবা মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে, কি হবে ওদের। এই মুহূর্তে তো চাকরিও পাবো না, কি আছে কপালে আল্লাই জানে। বসে বসে এগুলো ভাবছি, এই দিকে আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, মনে হয় বৃষ্টি হবে। একটু পর বৃষ্টি শুরু হলো, আমিও বসে আছি। বৃষ্টিতে ভিজলে নাকি মন হালকা হয়। অনেক সময় নিয়ে ভিজলাম। পকেটে হাত দিয়ে দেখি ২০ টাকা আছে, তারমানে আজকে আর খাওয়া যাবে না। একটা টং দোকানে গিয়ে চা আর পাউরুটি খেয়ে বাসার দিকে হাটা দিলাম। কেমন জানি খারাপ লাগছে, স্বপ্নাকে চড় দেওয়া আমার উচিত হয়নি। যেটাই হোক না কেন,, সে তো এখন অফিসের বস। নিজেকে নিজের কাছেই অপরাধী মনে হতে লাগলো। এগুলো ভাবতে ভাবতে বাসায় চলে আসছি। কাপড় চেইঞ্জ করে শুয়েছি মাত্র। আমার হাত পা কাঁপতে শুরু করলো। মনে হয় ঠান্ডা লাগছে, বৃষ্টিতে ভিজলেই আমার জ্বর চলে আসে। রাত যতো গভীর হচ্ছে জ্বর ততো বাড়তেছে। আমার পুরো শরীর কাঁপতেছে। এরমধ্যে ছোট বোন কল দিলো.... ভাইয়া তুই যে টাকা দিলি সেখান থেকে আজকে আমি ৩ টা জামা নিয়েছি। আমিঃ কিহ! হুম, এ মাসে বেশি টাকা দেওয়ার কারণে অনেক কিছু নিয়েছি। আমিঃ টাকা কে দিয়েছে? আরে তোর অফিসের একটা ম্যাডাম আছে না, সে দিয়েছে। আমিঃ কোন ম্যাডাম? আরে ধুর আমি এতো কিছু চিনিনা, শুধু বলেছে তোর সাথে একসাথে কাজ করে। আমিঃ ওও আচ্ছা। কিরে ভাইয়া তুই টাকা দিয়েছিস আর তুই নিজেই ভুলে গেছিস। আমিঃ নারে, এমনি মনে পড়ছিলো না। ভাইয়া তোর কি শরীর খারাপ? গলা এমন লাগছে কেন? আমিঃ না আমি ঠিক আছি। টাকা কখন পেয়েছিস? গত পরশু দিন ভাইয়া। আমিঃ ও আচ্ছা পরে কথা হবে। রাখি এখন। তারমানে স্বপ্না টাকা টা বাড়িতে দিয়ে আসছে, তাও সবার আগে। আর আমি না জেনেই ওর গালে ছিঃ, ভাবতেই কেমন জানি লাগছে। রাতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি মনে নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠতে যাবো, কিন্তু পারছিনা। পুরো শরীর জ্বরে কাঁপতেছে, অনেক চেষ্টা করে বাথরুমে গেলাম, বাথরুমে থেকে বের হওয়ার পর আর কিছু মনে নেই। অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছিলাম। যখন জ্ঞান আসলো তখন নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করলাম, দেখলাম সিহাব আমার পাশে বসে আছে। আমিঃ কিরে আমি এখানে কেন? সিহাবঃ সব বলবো, আগে একটু ভালো হয়ে নে। আমিঃ আমি ভালো আছি বল এখানে কিভাবে আসলাম? সিহাবঃ ম্যাম আর আমি তোকে নিয়ে আসলাম, কাল রাত থেকে তোর মোবাইল অফ পাচ্ছি। ম্যামও অনেকবার তোকে কল দিয়েছে। আমিঃ তারপর? সিহাবঃ তারপর সকালে যখন তুই অফিসে আসিস নি, ম্যাম নিজেই তোর বাসায় যায়, গিয়ে দেখে তুই মেজেতে পড়ে আসিস। সাথে সাথে আমাকে কল দেয়। তারপর দুজনে মিলে তোকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। আমিঃ ম্যাম এখন কোথায়? সিহাবঃ এতোক্ষন এখানে বসে বসে কাঁদছিলো, আমি ম্যামকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি। আমিঃ আর কিছু বলেনি? সিহাবঃ এটা দিয়ে গেছে (একটা কাগজ) খুলে দেখলাম লেখা আছে "" ভালো হলে আবার অফিসে আসবেন"" হঠ্যাৎ করেই গত কাল রাতের ছোট বোনের কথা গুলো মনে পড়ে গেলো, তারপর সিহাবকে বললাম.... আচ্ছা দোস্ত ছোট বোনটা বলেছে বাসায় নাকি কোন ম্যাডাম টাকা দিয়ে আসছে। তুই কিছু জানিস? সিহাবঃ হুম ম্যাম নিজেই টাকা দিয়ে আসছে। আমিই ঠিকানা দিয়েছি। আমিঃ কিন্তু আমাকে কিছু বলেনি কেন? আর কখন করলো এই কাজ? সিহাবঃ সেদিন যখন ম্যাম তোকে ৮ টা ফাইল ধরিয়ে দিয়েছিলো সেদিন ভুলে মোবাইল ম্যাম এর রুমে রেখে চলে এসেছিলি তোর মনে আছে। আর তখন তোর বোন কল করেছিলো। যা যা বলেছে ম্যাম সব কিছু শুনেছে। আমাকে ডেকে নিয়ে তোর ঠিকানা জিজ্ঞেস করে তারপর নিজেই টাকা দিয়ে আসে। আমিঃ কিন্তু তুই আমাকে কিছু বলিস নি কেন? সিহাবঃ তোকে বললে আমার চাকরি থাকবেনা। এখনো অনেক কিছু তোর অজানা আছে যেগুলো তুই জানিস না। সময় হলে জানবি। আমিঃ ম্যাম আমার জন্য এতো কিছু করছে আর আমি কিনা.... সিহাবঃ কি করেছিস? আমিঃ না তেমন কিছু না (সত্যটা আর বললাম না) তারপর হাসপাতাল থেকে বাড়িতে চলে গেলাম, ২ দিন রেস্ট নেওয়ার পর মোটামুটি ভালো লাগেছে। চিন্তা করলাম অফিসে গিয়ে স্বপ্নার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবো। পরেরদিন অফিসে গেলাম, স্বপ্নার রুমের সামনে গেলাম... আমিঃ ম্যাম আসবো? স্বপ্নাঃ হুম আসেন। (আমার দিকে না তাকিয়ে) আমিঃ ম্যাম একটা কথা ছিলো। স্বপ্নাঃ হুম বলেন। আমিঃ ম্যাম সেদিনের জন্য আমি অনেক দুঃখিতো, আমাকে প্লিজ ক্ষমা করে দিয়েন। স্বপ্নাঃ আচ্ছা বাদ দেন সে সব কথা, ১১ টার সময় রেড়ি থাকবেন। একজায়গায় যাবো। আমিঃ জ্বি ম্যাম, কোথায় যাবেন? স্বপ্নাঃ সেটা গেলেই দেখবেন। আমিঃ ওকে ম্যাম। স্বপ্নাঃ হুম এবার কাজে যান। তারপর চলে আসলাম, নিজের ডেস্কে এসে বসে আছি। স্বপ্নার কথা ভাবছি, চোখমুখ সব লাল হয়ে ফুলে আছে। দেখে মনে হচ্ছে নেশা করেছে বা কান্না করেছে। কিন্তু নেশাতো করার কথা না,,,,, মনে হয় কান্নাই করেছে। একটু পর পিয়ন আসলো,.. "ম্যাম আপনাকে বাইরে গিয়ে দাড়াতে বলেছে"" আমি কিছু না বলে ড্রাইভারের কাছে গেলাম,,, ড্রাইভার আমাকে দেখে বললো... কি খবর ভাই? এখন কেমন আছেন? আমিঃ এইতো ভাই মোটামুটি, আপনার কি অবস্থা? ড্রাইভারঃ আছি আলহামদুলিল্লাহ ভালো, সেদিন আপনার জন্য ম্যাডাম যা করলো, চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতেন না। আমিঃ কোন দিন? ড্রাইভারঃ আরে ভাই ভুলে গেলেন নাকি, ওই যে আপনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন সেদিন। আমিঃ ও আচ্ছা। আচ্ছা আমরা এখন কোথায় যাবো, কিছু জানেন? ড্রাইভারঃ শপিংমলে, আপামনির বিয়ে তো তাই। আমিঃ কিহ! বিয়ে মানে? ড্রাইভারঃ হুম উনার বিয়ে ঠিক হইছে, পাত্রকে নাকি উনি নিজেই পছন্দ করছে। ড্রাইভারের কথা শুনে আমার পায়ের নিচে থেকে মাটি সরে যেতে লাগলো, বুকের মধ্যে কেমন জানি একটা ব্যাথা অনুভব হতে লাগলো। কথা বলার সময় দেখলাম স্বপ্না আসছে,,, আর কোনো কথা না বলে দাঁড়িয়ে আছি। সে এসে বললো.... গাড়িতে উঠেন। উঠে বসলাম, তারপর বললাম... আমিঃ ম্যাম আমরা কোথায় যাচ্ছি? স্বপ্নাঃ বিয়ের শপিং করতে? আমিঃ কিন্তু ম্যাম আমাকে কেন নিয়ে যাচ্ছেন? স্বপ্নাঃ ভুলে যাবেন না আপনি আমার পার্সোনাল সেক্রেটারি, সব গুলো কাজ আপনাকেই করতে হবে। আর শুনেন... আমিঃ জ্বি ম্যাম বলেন। স্বপ্নাঃ বিয়ের সব গুলো কাজ আপনি নিজ হাতে করবেন, দায়িত্বটা আপনার উপর দেওয়া হলো। আমিঃ ওকে ম্যাম। এদিকে আমার কলিজা ফেটে যেতে লাগলো, জোরে জোরে বলতে ইচ্ছা করছে স্বপ্না বিয়েটা করো না, আমি এখনো তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু সেটা আর possible না। একটু পর শপিংমলের সামনে চলে আসলাম। এরপর সবাই ভিতরে গেলাম,,,, #__চলবে......

@Kamrul16

Devil husband Devil Husband💗 Part_14 Kamrul _নিজের বউ হলেও এভাবে তাকাতে পারবেন না _সারারাত তো তাকিয়েছি,সাথে অনেক কিছু করেছি,এখন সমস্যা কী(শয়তানী হাসি দিয়ে) _ছি,মুখে কিছু আটকায় না,আপনি সরেন আমি ফ্রেশ হবো _গোছল করবে না _হুম করবো এই কথা শুনে ইমরান সিনহাকে নিজের কোলে তুলে নিলো _চলো তাহলে একসাথে গোছল হয়ে যাক _এই না না,একদম না _চুপ,তুমি বললে শুনবো নাকি -কেনো শুনবেন না,শুনতে হবে _তোমাকে আমার কথা শুনতে হবে বিকজ আমি তোমার স্বামী স্বামীর কথা মানা স্ত্রীর উপর ফরজ _বালের জামাই হন আপনি আমার -এই বেয়াদব মেয়ে তুমি আমাকে গালি দিলা(অবাক হয়ে) _আমি আপনাকে কখন গালি দিলাম(না জানার ভান করে) _এই মাত্র বালের জামাই বললা _বাল কে গালি মনে করে যেই জন বালের বাংগালী সেই জন _এখন মুড খারাপ করার কোনো ইচ্ছে নাই আমার,শুভ কাজে মুখ খারাপ করতে নেই -ওরে আল্লাহরে কি সাধু রে তা কোনটা শুভ কাজ শুনি _তোমাকে নিয়ে একসাথে গোছল করবো,এটা আমার জন্য শুভ কাজ _কিন্তু আমার জন্য অশুভ কাজ _তোমার অশুভ কাজকে আমি আমার শুভ কাজ দিয়ে মেরে মাটি চাপা দিয়ে দিবো -প্লিজ না,লজ্জা লাগে আমার🙈 -ওলে বাবালে আমার লজ্জাবতো ইমরান,সিনহার কথা না শুনে সিনহাকে ওয়াশরুমে নিয়ে কোল থেকে নিচে নামালো সিনহা দুইহাত দিয়ে এখনো কাথাটা দেহে জড়িয়ে নিয়েছে _কাথাটা ফেলো এতো লজ্জা পেলে চলে,আমি না তোমার জামাই _(শালা ডেভিলের বাচ্চা লুচ্চা তোরে আমি খুন করবো)এই একদম কাথা ফেলে দেওয়ার কথা মাথায় আনবেন না _তাহলে কীভাবে হবে _হবে টবে বুঝি না,ঝর্না ছাড়েন আমি মাথা ভিজিয়ে চলে যাই _তোমাকে এখানে এনেছি কি ঝর্না ছেড়ে দিয়ে তোমার মাথা ভিজানোর জন্য নাকি,আজব তো _এইসব আজব গুজব বাদ দিন আপনার হাবভাব ভালো ঠেকছে না আমি যাই সিনহা যাওয়া ধরলে ইমরান সিনহার কাধ ধরে আটকায় সিনহা থমকে দাঁড়ায় মুখ দিয়ে কথা বেরুচ্ছে না,তারপরও জোর করে বলল _ডেভিল ডোন্ট টাচ মি,ডোন্ট টাচ মি -টাচ তো করেই ফেলেছি জানু কাথাটা কি সরাবা নাকি আমি হেল্প করবো এরি ভিতরে ইমরান ঝর্নাটা ছেড়ে দেয়,ঝর্নার পানিতে সিনহা ইমরান দুজনেই ভিজে চুপসে যাচ্ছে ইমরান সিনহার কাধ টান দিয়ে নিজের নগ্ন পেটের সাথে একদম মিশিয়ে নিয়েছে,সিনহাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিয়েছে ইমরানের এমন সংস্পর্শে সিনহা কেপে উঠছে কাপা কাপা ঠোটে ইমরানকে বলে _এই একদম কা কাথায় হা হাত দিবেন না _দিলে কি করবা,বউ (ডেভিলের বাচ্চা তোরে তো এখন কিছু করতে পারবো না,এর শোধ আমি সেদিন নিবো যেদিন আমার এক ডজন বাচ্চা হবে বাচ্চাদের নিয়ে আমি তোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবো,বলে দিলাম) চলবে.

@Kamrul16

সেই মেয়েটা সেই মেয়েটা লেখকঃ মেঘলা মন পার্টঃ০১ সে দিন ছিলো আমার অফিসে ইন্টারভিউ। বাসা থেকে বের হয়েছি অফিসে ইন্টারভিউ দেওয়ার উদ্দেশ্যে।আমার বাসা থেকে অল্প একটু হেটে যাওয়ার পর বাসস্টপ। সেখান গিয়ে বাসার জন্য দাড়িছে এমন সময় লক্ষ্য করলাম একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে অন্য দিকে ঘুরে তবে তার মাথার লম্বা কালো চুল ছেড়ে দেওয়া।পিছন থেকে তাকে অনেক টা ভালই লাগছিলো।আমি তাকিয়ে ছিলাম তাকে দেখার জন্য আর মনে মনে বলতেছিল একটু ঘুর।হঠাৎ পিছনে তাকিয়েছে আর তার চোখ আর আমার মিলে গেলো মানে চোখে চোখ পড়লো।আমি তো পুরো হা হয়ে গেলাম আল্লাহ মনে হয় তাকে খুব যত্ন করে বানিয়েছে।সে আমার এমন ভাব দেখে হাসলো। এমন সময় আমার যাওয়ার বাস চলে আসলো।আমি তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম বাসে বসেও সে শুধু হাসলো। আমার চাকুরি টা হয়ে গেলো।আমার বস বললো আপনাকে রোজ সকালে ওখান থেকে অফিস বাস নিয়ে আসবে।আমি একটু খুসি হলাম আর চলে আসলাম।পরের দিন সকালে মেয়েটার কথা ভাবতে ভাবতেই বাসস্ট্যান্ডে গেলাম।দাড়িয়ে আছি এমন সময় লক্ষ্য করলাম সে দূর থেকে কাউকে আমাকে দেখিয়ে দিচ্ছে আর হাসছে বুঝলাম কালকের কথা বলে হাসছে।বাস আসলো চলে আসলাম।এভাবে কয়েক দিন চলে গেলো রোজ তার চোখের সাথে আমার চোখের মিলন হয়।তাই ভাবতে ভাবতে আসছি আজ কথা বলবো।কিন্তু তাকে আর সেখানে দেখতে পেলাম না।মনটা খরাপ হলো।আর মন খারাপ নিয়ে অফিসে চলে আসলাম।আসার পর বস বললো আজ কিছু লোকের ইন্টারভিউ আছে আর সেখানে আমাকে থাকতে হবে তাদের ইন্টারভিউ নিতে হবে।প্রায় ১২ থেকে ১৪ জনের ইন্টারভিউ নিলাম কিন্তু কাউকে সিলেক্ট করতে পারলাম না পরে জানাবো বলে বিদায় দিলাম। এভার যে ভিতরে আসছে তাকে দেখে আমি থ হয়ে গেলাম এতো সেই মেয়েটা যাকে রোজ দেখার জন্য ২০ মিনিট আগে বাসস্ট্যান্ডে আসি।সেও আমাকে দেখে মনে হলো একটু অবাক হয়েছে।সে আসলো পিয়ন তার ফাইল আমার সামনে দিলো।মনে মনে আমি ভাবলাম যাক নাম টা এখন শুনা যাবে। আমিঃ কেমন আছেন সেঃ জ্বি স্যার ভালো।স্যার আপনি কেমন আছেন। আমিঃ ভালো।আপনার নাম কি? সেঃ জ্বি স্যার আমার নাম ফারজানা আক্তার বৃষ্টি। সবাই বৃষ্টি বলেই ডাকে। আমিঃ আপনি কি কোথাও জব করছেন? বৃষ্টিঃ জি না স্যার। আমিঃ আপনি কেনো চাকুরি করবেন? বৃষ্টিঃ স্যার আমি নিজেকে প্রমান করতে চাই আমিঃ বিয়ের পর যদি স্বামী চাকরি করতে না দেয়? বৃষ্টিঃ তাকে বলেই বিয়ে করবো।আর যদি তা সে না মানে তবে করবো না।কারন স্বামীর অবাধ্য স্ত্রী কখনো সুখি হয় না। আমিঃ মনে মনে খুশি হলাম। চলবে

@Kamrul16

হ্মেত যখন বড় লোকের ছেলে #ক্ষেত_যখন_বড়লোকের_ছেলে #পর্ব_৬ #লেখকঃ sheikh fahim রেস্টুরেন্টে ডুকেই পড়লাম বিপদে।। দেখি সামনের টেবিলে দুলাভাই, আপু,আর আমার কিউট ভাগ্নি বসে আছে।। দুলাভাইকে এরা তিনজনেই ফাহিম গ্রুপের মালিকের মেয়ের জামাই হিসেবে চিনে।। অনেক ফাংশনে বাবার সাথে দেখেছে টিভিতে।। আমি ভাবছি কি করে এখান থেকে কেটে পড়ব।। তখন দেখি আপু আমাকে দেখছে।।। আর যখন ডাক দিবে তখন আমি ইশারায় না করি।।আপু বুঝে যায়,তারপর দুলাভাইকেও বুঝিয়ে বলে।। তারপর আমি তাদের থেকে ট্রিট নিয়ে মানে পেট ভরে খাওয়া দাওয়া করে বাসায় চলে আসি। এসে দেখি আপু টিভি দেখছে।তখন আপুকে বললাম- আমি- তুই এইসময় এই বাড়িতে কেন?? আপু- তার আগে তুই বল রেস্টুরেন্টে আমাদের দেখে না চিনার ভান করলি কেন?? তারপর আপুকে সব বললাম।। আপু শুনে হাসতে লাগল।। তখনা আপুকে বললাম এসেই।।। যেহেতু পড়েছিস কয়েকদিন থেকে যাবি।। আর নেক্সট ফ্রাইডে আমাদের একটা ইনভাইট আছে তকেও আমাদের সাথে যেতে হবে নাহলে তর ছোট ভাইয়ের হবু বউকে কিভাবে দেখবি।।। আপু- কি,, তুই করবি বিয়ে।।। নিশ্চয় মেয়েটা কালো।। এভাবে কিছুক্ষণ আপুর সাথে ঝগড়া করে রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে ভাগ্নির সাথে কিছুক্ষণ দুষ্টুমি করলাম।।তারপর রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।। সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে অফিসে চলে গেলাম। আজকে ভাগ্নি বায়না ধরল তাকে অফিসে নিয়ে যেতে হবে। তাই তাকেও নিয়ে এলাম।। কেবিনে গিয়ে বসে কিছু কাজ করতাছিলাম তখন মেনেজার সাহেব এসে বললেন বাবা তোমার জন্য যাদের সেক্রেটারি পদে নিয়োগ করা হয়েছে তারা এসে গেছে।। (কি ভাবছেন মেনেজার হয়ে আমাকে বাবা বলে ডাকলেন কেন??আসলে তিনি আমার বাবার বয়সী হবেন তাই ওনাকে বলেছি আমাকে বাবা বলে ডাকতে।।) আমি ওনাকে বললাম ওদের পাঠিয়ে দিতে।। তারপর তারা এসে বললেন -স্যার আমরা ভিতরে আসতে পারি। আমি-হ্যা আসুন।।আর আপনাদের এতো।দেরি হল কেন?? তিনজন- সরি স্যার।। রাস্তায় জ্যাম ছিল।। আমি ওকে বলে ওদের দিকে তাকাতেই তারা চমকে যায়।। দেখে মনে হচ্ছে আকাশ থেকে পড়েছে।। তখন সিয়াম বলল- তুই এতো বড়লোক আগে বলিস নি কেন??? আমি- লাস্ট এক্সামের দিন কি বলেছিলাম মনে আছে।। তিনজন- হ্যা মনে আছে।। তারপর তাদের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে।।। অফিসের কিছু কাজ করে।।।।বাসায় চলে আসি।। এভাবেই ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে কেটে যায় দুইদিন।। আজ শুক্রবার নিধির জন্মদিন।।।। তাই গিফট হিসেবে ব্রান্ড নিউ কার 🚗🚗তাকে পাঠাইছি।।তারপর সবাই রেডি হলাম নিধির বাসায় যাওয়ার জন্য। এদিকে নিধি গাড়িটা দেখে নিধি অভাক হয়।😱😱 আর তার বাবাকে বলে যে এতো দামি গাড়িকে 🚗🚗গিফট করল।। তখন তিনি বললেন- ফাহিম গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের নতুন এমডি ওমর ফারুক ফাহিম। নিধি আমার নাম শুনে মনে করার চেষ্টা করে যে সে এই নাম আগে কোথায় শুনেছে।।।🤔🤔 🤔🤔 কিন্তু মনে করতে পারতেছে না।।। তারপর তার বান্ধবীরা এসে তাকে বলল যে,,,,,,,,,, আজকে তার জন্মদিনে ফাহিম গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের নতুন এমডি ওমর ফারুক ফাহিম আসবে।।আর তিনি নাকি আমাদের ভার্সিটি থেকে আমাদের সাথেই পড়ালেখা করেছেন।।। আপনাদের সাড়া পেলে নেক্সট পর্ব দিব নয়তো দিব না।। সবাই নিয়মিত নামায আদায় করুন।।। (বিঃদ্রঃ ভুলট্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)

@Kamrul16

Ondo bow গল্প;অন্ধ বউ লেখক;অজানা সেই আমি ২য় পর্ব . অনেক খোজাখুজির পর কোথাও পেলাম না তখন দুই মন দু আশা করে আবার বাথরুমে গেলাম তাকাতেই দেখি বাথরুমে ফ্লোরে পড়ে আছে, জ্ঞান হারিয়েছে। একি হলো, কিভাবে হলো কিছুই বুঝতেছি না। কোলে তুলতেই শরিরটা এলিয়ে দিলো।, হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। আমি যতটা বুঝি হাত পা ঠান্ডা হওয়াটা খুব একটা ভাল লক্ষন না।। কারন আমার মা" ও এমন হাত পা ছেড়ে দিয়েছিলো, কিন্তু আর ফিরেনি। . কোনরকম কোলে তুলে চকির উপর শুইয়ে দিয়ে মুখে পানি ছিটা দিতেই জ্ঞান ফিরলো। অবস্থা তেমন একটা ভাল লক্ষ করলাম না।। দৌড় দিয়ে কালু ডাক্টারের কাছে সব খুলে বলে তাকে নিয়ে আসলাম।। ডাক্টার প্রেশার টেশার মেপে বল্লেন . -- উনিকি সকালে কিছু খেয়েছেন? . --না ঘুম থেকে উঁঠে বাথরুমে গিয়েই এ অবস্থা . --উনার প্রেশার একদম কম।। আমি ঔষধ লিখে দিচ্ছি।। আর হ্যাঁ ডিম দুধ ভাল করে খাওয়ায়েন। নইলে ঔষধে কোন কাজ হবে না।। তাছাড়া খেতে না চাইলেও জোর করে খাওয়াতে হবে।। . --আচ্ছা ঠিক আছে।। . ডাক্টার চলে যাওয়ার পর, বাজারে চলে গেলাম। দেরি হলে পরে আবার দুধ পাবো না। আধাকেজি দুধ আর হাঁসের ডিম নিয়ে এলাম। হাঁসের ডিমে নাকি পুষ্টি বেশি। দুধটা জাল দিয়ে ডিমটা বসিয়ে দিলাম। . ভাবতেছি বড় ডাক্টার দেখাবো, ছোট ডাক্টার দিয়ে বিস্বাস নাই, ডিম দুধ খাইয়ে দেখি কি হয়।। . --এইযে উঠুন একটু (আমি) . --আপনি নাস্তা করেছেন? (স্নেহা) . --হ্যাঁ, আপনি দুধটুকু খেয়ে, ডিমটা খান।। কাজে যেতে চাইছিলাম। আপনার শরিরটা ভাল না। তাই আজ যাবো না।। . --না না ঠিক আছি আমি। আর দুধ ডিম আনছেন কেন? টাকা পেলেন কই? . --আপনাকে অত ভাবতে হবে না।। আমি যা দিবো খাবেন।। আপনার দাইত্ব নিছি খাওয়াতেতো হবে বলেন।। . --আপনিওতো খান নি।। ডিমটা আমি একটু খাই আপনি একটু খান।। . --না, আমি ডিম খাই না। . --Okay আমিও খাবো না। . --দুর খাইলে খান না খাইলে যা ইচ্ছা করেন।। . উচু গলায় বলেই বেরিয়ে গেলাম। কি আল্লাদ জানে আল্লাহই ভাল জানে। খুদা পেটে নাকি রাগ বেশিই উঠে। আমারও তাই হলো।। বেশ রাগ করেই চলে এলাম। একা ছিলাম ভাল ছিলাম। না পারবো ফেলে দিতে, না পারবো কিছু করতে।। . চায়ের দোকানে বসে বসে শুধু ভাবছি মেয়েটা দেখতেও পায় না, কিছুু খেতেও পারবে না। তার উপর নতুন জায়গা কিভাবে কি করবে।। . ভাগ্যের পরিহাসেই আমার কাছে এসে পড়েছে। নইলে আমার মত ছেলের এত বাজে কথা ওর মত এত সুন্দর মেয়ে কোনদিন এভাবে শুনবে না।। তাই রাগ ভেঙেই বাসায় গেলাম। গিয়ে দেখি স্নেহা কাঁদছে। একি করলাম, মেয়েটাকে কাঁদিয়ে দিলাম। কি এমন বলেছে, আর আমিও এমন করলাম।। তাছাড়া ওর কান্নাটা এমন বুকে বিধছে কেন।। আর থাকতে পারলাম না। কাছে গিছে ওর হাতটি ধরলাম। . --I'm sorry, আমার ভুল হয়ে গেছে, মাফ করে দিন। .(চোখ মুছতে মুছতেই বল্লো) --কি বলেন এসব, আপনি আমার স্বামী, আপনি শত অন্যায় করলেও আমার কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন না। . --আমিতো ভুল করেছি। আমাকে ক্ষমা করো . -করতে পারি ১ শর্তে . --কি শর্ত? . -- আমি এই ডিমটা খাইয়ে দিবো, অর্ধেক খেতে হবে। . কোন উপায় না দেখে দুধ আর ডিমের অর্ধেকটা খাইয়ে দিলাম। লক্ষি মেয়ের মত খেতে খেতে কেঁদে দিলো। এইমেয়েটা শুধু কাঁদতেই পারে নাকি কে জানে।। . --এই আবার কাঁদছেন কেন? . --না এমনি। জানেন আমাকে এভাবে কেও কখনো খাওয়ার জন্য বকেনী। বাবা ছাড়া এভাবে কেও খাইয়ে দেয় নি। ছিলামতো পরিবারের বোঝা, আম্মুও জন্ম দিয়েই মরে গেছে।। এবার এসেছি আপনার বোঝা হতে। . --আপনিনা অনেক বাজে বকতে পারেন। আর বকবেন না।। আর হ্যাঁ একটু রেডি হয়ে থাকবেন, সংসারের কিছু জিনিস কিনতে হবে। আপনি পছন্দ করে দিবেন। . --আমিতো চোখেই... . --আবার সেই কথা। ও দুপুরে আজ বাইরে খাবো।। . --ঠিক আছে।। . বাসন্তি রঙের শাড়িটা বেশ মানিয়েছে, কপলের টিঁপটা এক পাশ হয়ে গ্যাছে, হয়তো দ্যাখেনি। . --এইযে শুনুন, টিপটাতো জায়গা মত বসেনি। . --আপনি বসিয়ে দিবেন তাহলে? . --আচ্ছা এদিকে আসুন।। . টিপ পড়ানোর ছলে খুব কাছে থেকে দেখছি, কি মায়াবী চোখ, যে কাওকে পাগল করতে পারে। ঠোঁটদুটোও কাপো কাপো, বেশ ছুয়ে দেখতে ইচ্ছে করে। . --একটা টিপ পরাতে এত সময় লাগে? (স্নেহা) . -- না ইয়ে মানে হয়ে গ্যাছে। . --আচ্ছা চলুন . ঘড়টা কোন মতে তালা দিয়ে বেরোলাম। ও দেখি আমার হাত শক্ত করে ধরে আছে। সবাই তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। দেখে কেমন যেন একটু লজ্জা লাগছে। কিন্তু কি করবো ও তো দেখতে পায় না, আর এমন ভাবে ধরেছে যেন ভয় পাচ্ছে। . --স্নেহা, আপনিকি ভয় পাচ্ছেন? . --আসলে কখোনো এভাবে বের হইনিতো, তাই একটু ভয় লাগছে। . --আচ্ছা আপনাকে যদি আমি এখন রেখে চলে যাই? . --আমি জানি আপনি কখনো যাবেন না। . --এমনটা মনে হলো কেন? . --কেওতো হাতই ধরেনি, আপনি যেহেতু ধরেছেন, আমার বিস্বাস আপনি ছাড়বেন না। . --যদি কখনো ছেড়ে দেই? . --যদি কখোনো ছেড়ে দেন তবে বুঝবো আমার ভালর জন্যই ছেড়েছেন।। . (কেন জানি আমিও শক্তকরে হাতটা ধরেই বল্লাম।) . --এ হাতটা ছাড়া যাবে না।। কোটি টাকার বিনিময়েও . রিক্সা করেই বড় একটা স্টোরে গেলাম, অনেক জিনিসই আছে।। ওর হাতটা তখনো ধরে আছি।। হাড়ি করাই একটা একটা করে দেখছি, আর ওর হাতে দিয়ে বলতেছি . --দ্যাখোতো এটা কেমন? . --ওনিতো কিছু চোখে দ্যাখে না। ওনাকে দেখিয়ে লাভ কি? আপনিই দ্যাখেন।। (দোকানী) . --দোকান্দারতো ঠিকই বলেছে।। আমিতো... (স্নেহা) . --চলেন এখান থেকে ( আমি) . --কি হলো? কেনাকাটা করবেন না? . --করবো কিন্তু এ দোকান থেকে না। . --কেন, এ দোকানে কি হইছে? . --দ্যাখলেন না? কিভাবে আপনাকে অপমান করলো। . --উনিতো ঠিকই বলেছেন, আমিতো দেখতে পাই না। . --এইযে শুনুন, টাকা দিয়ে কিনবো। আপনি ধরে দেখবেন, পছন্দ হলে তবেই নিবো।। . --আচ্ছা ঠিক আছে, এবার একটু শান্ত হোন।। . সংসারের যাবতীয় জিনিস কিনে বোঝাই করলাম, সবই ও পছন্দ করে দিছে। চয়েজ আছে বলতে হবে। শুধু একটু বিরক্ত হচ্ছিলাম, যখন ওর হাতে দিয়ে দেখাচ্ছিলাম, বাকি সব লোক কেমন যেন ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো। . যাইহোক দুজনে হোটেলে ঢুকে দুই প্লেট বিরানী নিয়ে নিলাম। এবং ম্যারেজারকে বল্লাম. . --মামা ২ টা বিরানী পার্সেল কইরেনতো। . --২ টা বিরানী কেন? ( স্নেহা) . --রাতের জন্য, আজতো গিয়ে আর রান্না করতে পারবো না। . --তাইবলে ২ টা কেন, ১ টাই দুইজনের হবে। ১৫০ টাকা দিয়ে ১ টা মুরগি নিলে ২ দিন হবে আমাদের।। . -- এত হিসেব? . --হুম, আমার সংসারনা? . --হ্যাঁ, তাইতো লোকে বলে, সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে।। আজ বুঝলাম কেন বলে।। .(এটা আমার নিউ আইডি তাই সবাই এড দিয়ে পাশে থাকবেন,,,ধন্যবাদ পড়ার জন্য) দুজনে খেয়ে দেয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। দুহাতে জিনিসপত্র তাই ওর হাতটা ধরতে পারলাম না। রাস্তায় এত জ্যাম, রিক্সাও পেলাম না।। কিভাবে পার হই এতগুলো জিনিস নিয়ে। . --আচ্ছা আপনি এখানে দাঁড়ান আমি রিক্সা নিয়ে আসি।। কোথাও এক চুলও নরবেন না।। আর কেও পথ দেখাতে চাইলেও যাবেন না।। . -- অতিপতি করে রিক্সা খুজতে চলে গেলাম।

@Kamrul16

Vampaer #ভ্যাম্পায়ার_বর #পর্ব_৯ নির্জন পাহাড়ি রাস্তা ধরে হেটে যাচ্ছে চাঁদনী আর শ্রাবনী। দুজনেরই মনটা ভিশন খারাপ। মিতুর বাসা থেকেই ফিরছে ওরা। কারো মুখে কোনো কথা নেই দুজনেই একদম নিরব হয়ে আছে। বেশ কিছুক্ষণ পর নিরবতা ভেঙে শ্রাবনী বলে উঠলো -- চাঁদ তুই এখন তারাতারি বাড়ি চলে যা, আমাকেও বাসায় যেতে হবে একটা কাজ আছে। আর হ্যা দ্রুতো চলে যাবি কিন্তু সন্ধার আগে। এখান থেকে তো তোর বাসা বেশি দুরে নয় তাই সমস্যা হবে না। -- এত তারাতারি তারাতারি করছিস কেনো বলতো। আমার তো এই সময় পাহাড়ি রাস্তা ধরে হাটতে ভালই লাগছে। তবে মিতুর কথা ভাবতেই বুকের ভিতরটা হু হু করে উঠছে। একদিনেই কি হাল হয়েছে মিতুর। জানিনা ওর সাথে ঠিক কি হয়েছিলো। -- হুমম তাই তো তোকে বলছি সন্ধার আগে বাসায় চলে যা। কারন আমরা ঠিক জানিনা মিতুর সাথে কি হয়েছে। আমি চাইনা তোর সাথেও এমন কিছু হোক। তাই সন্ধার আগেই বাসায় চলে যা। আর হ্যা সাবধানে থাকিস নিজের যত্ন নিস। কথাগুলো বলেই চাঁদনীকে আর কিছু বলার সুজোগ না দিয়েই শ্রাবনী উল্টো পথে দৌড়ে চলে গেলো। চাঁদনী সেখানেই কিছুক্ষণ অবাক হয়ে শ্রাবনীর চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বাসায় যাওয়ার জন্যে পা বাড়ালো। কিছুটা পথ হাটতেই চাঁদনীর মনে হতে লাগলো ওকে কেউ ফলো করছে। খুব শুক্ষ নজরে দেখছে কেউ ওকে। হঠাৎ এমন অনুভুতি হওয়ায় চাঁদনীর শরীরের শিরদাঁড়া বেয়ে একটা শীতল শ্রোত বয়ে গেলো। যেনো ভয়ে কাটা দিয়ে উঠলো সারা শরীর। পিছনে ঘুরে তাকানোর সাহসটাও চাঁদনীর হচ্ছে না এখন। চাঁদনী দ্রুতো পা চালাতে লাগলো। আর একা একাই বক বক করে বলতে লাগলো -- ইশশ কেনো যে আজকে স্কুটার টা সাথে আনলাম না। স্কুটার টা থাকলে এতটা ভয় করতে হতো না এখন আমার। কখন ভুউউ করে বাসায় পৌঁছে যেতাম আমি। নিচের দিকে তাকিয়ে আনমনে দ্রুতো হেটে চলেছে চাঁদনী আর ওপরের কথাগুলো ভাবছে। কোথায় যাচ্ছে কোন দিকে যাচ্ছে ওর সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই। হঠাৎ একটি দ্রুতগামী ট্রাক নিয়ন্ত্রন হাড়িয়ে ছুটে আসলো চাঁদনীর দিকে। চাঁদনীর খেয়াল হতেই দেখলো ট্রাকটা খুব কাছে চলে এসেছে ওর। ভয়ে চাঁদনী চোখ বন্ধ করে জোরে একটা চিৎকার দিলো। কিন্তু একটু পরেও যখন চাঁদনী বুঝতে পারলো ওর কিছু হয়নি বরং ও কারো বুকের সাথে লেপ্টে আছে তখন ভয়ে ভয়ে চোখ খুললো চাঁদনী। আর দেখলো শ্রাবন ওকে আষ্টেপৃষ্ঠে বুকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে আছে। যেনো ছেড়ে দিলেই হাড়িয়ে যাবে ও। শ্রাবনকে দেখে অবাক হয়ে পাশে থাকা ট্রাকের দিকে তাকালো চাঁদনী। ট্রাকটা পাশেই দাড়িয়ে আছে। কিন্তু ট্রাকের ভিতর কাউকে দেখা যাচ্ছে না। চাঁদনী ট্রাকের দিক থেকে চোখ সরিয়ে শ্রাবনের দিকে তাকিয়ে দেখলো শ্রাবনের মুখে ভয় স্পষ্ট। যেনো শ্রাবনের কলিজাটা কেউ বের করে নিতে চেয়েছিলো কিন্তু পারেনি। শ্রাবনকে দেখে ঠিক এমনই লাগছে। শ্রাবন রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ঐ ট্রাকের দিকে। একটুপর ট্রাকের দিক থেকে চোখ সরিয়ে চাঁদনীর দিকে তাকালো শ্রাবন। চাঁদনীও শ্রাবনকেই দেখছে। চাঁদনীর চোখে চোখ পরতেই কিছু না বলে আচমকাই চাঁদনীর কপালে আলতো করে চুমো একে দিলো শ্রাবন। তারপর আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরলো বুকের মাঝে। শ্রাবনের হার্টবিট গুলো গুনতে পারছে চাঁদনী। মুখে কিছু বলার ক্ষমতা যেনো হাড়িয়ে গেছে ওর। ও শুধু অবাক হয়ে সবটা বোঝার চেষ্টা করছে।একটু পর শ্রাবনের কথায় ধ্যান ভাঙলো চাঁদনীর। শ্রাবন চাঁদনীকে হালকা ছেড়ে দিয়ে বললো -- এই মেয়ে নিজের সাথে আমাকেও কি মেরে ফেলার প্ল্যান করেছো নাকি তুমি? রাস্তা দিয়ে হাটার সময় সামনে দেখে হাটতে হয় জানো না। আমার আসতে আর একটু দেরি হলে কি হতো ভেবেছো একবার। তুমি জানো কিছুক্ষনের জন্যে হার্টবিট থেমে গিয়েছিলো আমার। দম বন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছিলাম আমি। তোমার কিছু হলে আমি কি করে বাচতাম বলো। তোমার মাথায় কি দুষ্টুমি করা ছাড়া আর কোনো বুদ্ধি নাই? এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে থামলো শ্রাবন। শ্রাবনের কথা শুনে শ্রাবনের বুক থেকে মাথা তুলে শ্রাবনের দিকে তাকালো চাঁদনী। তারপর অবাক হয়ে বললো -- আমার কিছু হলে আপনার কি? আমি এক্সিডেন্ট হতে চলে ছিলাম বলে আপনার দম কেনো আটকে গিয়েছিলো? কেনো এত পাগলের মতো করছেন আপনি? কে হই আমি আপনার? আর আমাকে আপনি এভাবে জরিয়ে রেখেছেন কেনো আপনার বুকে, যেনো ছেড়ে দিলেই আমি হাড়িয়ে যাবো? চাঁদনীর কথা শুনে চাঁদনীকে ছেড়ে দিয়ে কিছুটা দুরে সরে দাঁড়ালো শ্রাবন। তারপর অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে বললো -- সরি চাঁদনী, আসলে তোমায় এক্সিডেন্ট করতে দেখে একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। প্লিজ তুমি কিছু মনে করো না। সন্ধা হয়ে গেলো তুমি তারাতারি বাসায় চলে যাও। কথাটা বলেই দৌড়ে শ্রাবন কোথায় যেনো চলে গেলো। চাঁদনী হা করে তাকিয়ে রইলো শ্রাবনের চলে যাওয়ার দিকে। কি হলো কিছুই মাথায় ঢুকছে না ওর। চাঁদনী মনে মনে বললো -- ইশশ আমিও না সত্যিই একটা ইডিয়ট, ছেলেটা আমায় দু দুবার এক্সিডেন্ট হওয়ার থেকে বাচালো। আর আমি কিনা ওনাকে একটা ধন্যবাদ না দিয়ে বরং শুধু প্রশ্ন করে গেলাম। এখন বাসায় চলে যাই কালকে বরং কলেজে গিয়ে ওনাকে ধন্যবাদ দিয়ে দিবো। কথাগুলো ভেবেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাসায় চলে গেলো চাঁদনী। চাঁদনীকে বাসায় পৌঁছাতে দেখে শ্রাবন ফিরে এলো সেই ট্রাকের কাছে। চাঁদনী বাসায় পৌঁছানো পর্যন্ত শ্রাবন আড়াল থেকে চাঁদনীর ওপর নজর রাখছিলো। ট্রাকের কাছে পৌঁছেই খাদে অজ্ঞান হয়ে পরে থাকা ট্রাক চালকের কাছে চলে গেলো শ্রাবন। ট্রাক চালক লোকটা নেশায় পুরোপুরি মাতাল হয়ে ট্রাক চালাচ্ছিল। অজ্ঞান ট্রাক চালোকের কাছে এসেই রাগে ফোস ফোস করতে লাগলো শ্রাবন। তারপর দাঁত কিড়মিড় করে বললো -- তোদের মতো নেশাখোর ড্রাইভারের জন্যেই কত শত নিরিহ মানুষ অকালে মারা যায়। আর আজকে তো তোর জন্যে আমি আমার চাঁদপাখিকে হাড়াতে বসে ছিলাম। তোর কোনো ক্ষমা নেই। কথাগুলো বলেই অজ্ঞান ট্রাক চালককে উচু করে তুলে ধরে গলায় নিজের বিশাল দাঁতগুলো বসিয়ে দিলো শ্রাবন। তারপর ঢক ঢক করে রক্ত চুষে খেতে লাগলো। রক্ত খাওয়া শেষ হতেই নিজের বিশাল বিশাল ধারালো নখ গুলো দিয়ে লোকটার শরীর ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে পাহাড় থেকে ছুড়ে নিচে ফেলে দিলো। তারপর রাগ কমাতে জোরে একটা গর্জন করে উঠলো শ্রাবন। শ্রাবনের গর্জনে কেপে উঠলো পুরো পাহাড়। ততক্ষণে সন্ধা পেরিয়ে অন্ধকার হয়ে গেছে চারিদিকে। হঠাৎ ঘারে কারো হাতের ছোঁয়া পেয়ে পিছনে ঘুরে তাকালো শ্রাবন। শ্রাবনের পিছনে শ্রাবনী ভ্রু কুচকে শ্রাবনের দিকে তাকিয়ে আছে।শ্রাবন তাকাতেই শ্রাবনী বলে উঠলো -- কি হয়েছে ভাইয়া তুমি এতটা রেগে আছো কেনো? আর ঐ লোকটাকে এভাবে মারলেই বা কেনো?কি করেছে ও? -- ও আমার চাঁদপাখিকে মারতে চেয়েছিলো। আমি যদি আজকে ঠিক সময় না আসতাম তাহলে ঐ ট্রাক দিয়ে আমার চাঁদপাখিকে পিষে দিতো ও। তাই ওর রক্ত খেয়ে ওকে মেরে ফেলেছি আমি।আমার চাঁদপাখির যে ক্ষতি করতে চাইবে তারই এমন হাল করবো আমি। কথাটা বলেই রাগ কন্ট্রল করতে না পেরে ট্রাকটাকে ধাক্কা দিয়ে পাহাড় থেকে ফেলে দিলো শ্রাবন। শ্রাবনের এমন আচরন দেখে শ্রাবনী বললো -- ভাইয়া তুমি কি সত্যিই চাঁদকে ভালবেসে ফেলেছো নাকি? তুমি কি ভুলে গেছো একটা পিয়র ভ্যাম্পায়ার কখনো কোনো মানুষের সাথে ভালবাসার সম্পর্ক করতে পারে না। এর পরিনতি কতটা ভয়াবহ? শ্রাবনীর কথা শুনে শরীরের সব শক্তি দিয়ে একটি গাছে জোরে করে ঘুষি মারলো শ্রাবন। সাথে সাথে গাছটা ভেঙে হুড়মুড়িয়ে নিচে পরে গেলো। শ্রাবনের এমন আচরনে ভয়ে কেপে উঠলো শ্রাবনী। শ্রাবন চিৎকার করে বললো -- হ্যা আমার মনে আছে শ্রাবনী ভুলিনি আমি যে আমি কোনো সাধারন মানুষ নই। বরং আমি একজন পিয়র রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার। আর কোনো পিয়র ভ্যাম্পায়ারের সাথে কখনো কোনো মানুষের মিলন সম্ভব নয়। এর পরিনতি অনেক ভয়ানক। তবুও আমি চাই আমার চাঁদপাখিকে। কারন আমি ওকে ভালবাসি খুব খুব খুব ভালবাসি আমি চাঁদনীকে। চাঁদনী আমার মন প্রান অস্তিত্ব জুরে মিশে গেছে। ওকে ছাড়া আমি আর এক মুহুর্তও নিজেকে ভাবতে পারিনা। আমি যে কোনো কিছুর মুল্যে হলেও চাঁদনীকে চাই। আমার ভালবাসাকে আমার বুকে সারাজীবনের জন্যে চাই আমি। কথাগুলো বলতে বলতে হাটু গেরে নিচে বসে পরলো শ্রাবন। শ্রাবনী কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে শ্রাবনের পাশে বসে নরম গলায় বললো -- সত্যিই ভাইয়া আমি এতদিন ভেবে ছিলাম তুমি হয়তো এমনিই চাঁদনীকে নিয়ে মজা করো। কিন্তু তুমি যে ওকে সত্যি সত্যিই এতটা ভালবেসে ফেলেছো ভাবতে পারিনি আমি। কিন্তু ভাইয়া তুমি যদি চাঁদনীকে নিজের করে নাও এতে যে চাঁদনীর জীবন কতটা রিস্কি হয়ে যাবে সেটা তো তোমার অজানা নয়? তুমি কি চাও ভাইয়া যে চাঁদনী তোমার সামনে ধুকে ধুকে মরুক? -- নাহ আমি সেটা কখনোই চাই না। আমি বেচে থাকতে আমার চাঁদপাখির কিছুই হতে দিবো না আমি। ওর জীবন সুখে ভড়ে দিবো আমি। কিন্তু আমি কখনোই এটা মানতে পারবো না যে আমার চাঁদনী অন্য কারো হবে। ও কোনো ছেলের সাথে কথা বললেই শরীর জ্বলে যায় আমার। আমি ওকে কি করে অন্য কারো সাথে সহ্য করবো তুই বলতে পারিস শ্রাবনী? আমি বিয়ে করবো চাঁদপাখিকে। নিজের করে নিবো ওকে আমি। -- ভাইয়া তুমি কি পাগল হয়ে গেছো? কি সব যা তা বলছো তুমি? এটা কখনোই সম্ভব নয় ভাইয়া। চাঁদনীর অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে এমন করলে? শ্রাবনীর কথার কোনো উত্তর দিলো না শ্রাবন। কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে গম্ভির গলায় বলে উঠলো -- তুই মিতুর কাছে যা শ্রাবনী, ওর কাছে এখন সব সময় থাকা প্রয়জন তোর। রাত হয়ে গেছে তিয়াসা আর এভিক যখন একবার মিতুর রক্তের স্বাদ পেয়েছে। যখন তখন আবার এটাক করতে পারে মিতুর ওপর। -- আর তুমি কোথায় যাবে ভাইয়া? শ্রাবনীর কথার উত্তর না দিয়ে শ্রাবন উড়ে চলে গেলো সেখান থেকে। আর শ্রাবনী একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মনে মনে বললো -- ভাইয়া তুমি নিজেও জানো না যে তুমি নিজের অজান্তেই চাঁদনীর কত বড় ক্ষতি করতে চলেছো। চাঁদনীকে বিয়ে করলে তোমরা কেউই কখনো সুখি হতে পারবে না। বরং নিজেদের বিপদ ডেকে আনবে তোমরা। কথাগুলো ভেবেই মিতুর বাসার দিকে উড়ে চলে গেলো শ্রাবনী। , 👹 , রাত ১২.০০ টা গভির ঘুমে ঘুমিয়ে আছে চাঁদনী। জানালার কাঁচটা সরিয়ে আস্তে করে রুমে ঢুকলো শ্রাবন। তারপর সোজা গিয়ে চাঁদনীর মুখোমুখি বসে তাকিয়ে রইলো চাঁদনীর দিকে। চাঁদনীর ঘুমন্ত মুখটা কেমন নিশ্পাপ লাগছে দেখতে। চাঁদনীর দিকে এক নজরে তাকিয়ে আছে শ্রাবন। শ্রাবনের চোখ থেকে এক ফোটা পানি গড়িয়ে চাঁদনীর হাতের ওপর গিয়ে পরলো। শ্রাবন সেটা খেয়াল করেনি। হাতে পানি পরতেই চাঁদনী ঘুমের ঘোরে বলে উঠলো,,,,, চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, কি হতে চলেছে শ্রাবন আর চাঁদনীর জীবনে? ওদের ভালবাসা কি পুর্নতা পাবে? নাকি ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠার আগেই ভেঙে যাবে??

@Kamrul16

Calendar গল্প: ক্যালেন্ডার! পর্ব: ১৩! লেখক: kamrul সকাল ৮ টা বাজে। সবাই জাফলং এর উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়েছে। হোটেল কায়কোবাদ এরিয়া থেকে জাফলং যাবার মাধ্যম ৪ টা তা হলো লোকাল বাস, অটো কিংবা সিএনজি, মাইক্রোবাস এবং লেগুনা। সবাই মিলে ঠিক করলো ওরা লেগুনা করে জাফলং যাবে। কারন এই বাস, টেম্পু, মাইক্রো এসবে ওরা সবাই'ই চড়েছে। কিন্তু লেগুনায় চড়েনি, আর লেগুনায় সচরাচর চড়াও হয় না। তাই লেগুনায় যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সবাই, একদম যৌথ ঐক্যমত। দুটো লেগুনা ভাড়া করা হলো, যাবে আসবে প্রতিটা লেগুনা ১২০০ টাকা দরে। ২১ জন হওয়ায় দুটো লেগুনায় অনায়াসেই ম্যানেজ হয়ে গেছে সবাই। লেগুনা খট খট আওয়াজ শুরু করে পথচলা শুরু করেছে। রাস্তাটা অনেকটা ছ্যাকাখাওয়া প্রেমিকের মতো, একদমই নিশ্চুপ নির্বিকার। কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ'ই আর্তনাদ দিয়ে চারপাশ ফাটিয়ে দেওয়া হৃদয়ভাঙন। রাস্তার এই হৃদয়ভাঙন মানে হলো রাস্তার বুকের খোপ খোপ গর্তগুলো। যখনই এই ছোট ছোট গর্তগুলো পিছনে ফেলে লেগুনাটা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে তখনই পুরো লেগুনাটা নেচে উঠছে, একদম উঠোন কাপানো নৃত্য যাকে বলে। লেগুনার এই অনাকাঙ্ক্ষিত নৃত্যের তাড়নায় সীমান্ত বিরক্ত হয়ে বলে, " এই বালের গাড়িতে উঠলাম ক্যা বাল? আমার পাছা তো নাই হইয়া গেলো। এইভাবে চলতে থাকলে আমি আর পাছা নিয়ে হোটেলে ফিরতে পারবো না। ডাইনোসর এর মতো আমার পাছাও বিলুপ্ত হয়ে যাবে! " সবাই'ই লেগুনার এই হেলদোলে বিরক্ত ছিলো। কিন্তু সীমান্তর কথায় সবারই বিরক্তি কেটে গেছে, সকালবেলার তাজা বিনোদনের প্রভাবে সবাই হো হো করে হেসে ওঠে। শাওন লেগুনার ড্রাইভারকে ডাক লাগায়, " মামা তোমার লেগুনা আর কতক্ষন এমন বিনা গানে নাচানাচি করবো? " লেগুনার ড্রাইভারের হাসিমুখের সরল উত্তর, " এই তো মামা আরোটটু! " এখন আর লেগুনা মহাশয় ক্ষ্যাপা ষাড়ের মতো পাগলামি করছে না। একদম ভদ্রগতিতে এগোচ্ছে। লেগুনার প্রবেশদ্বারের পাশের সিটেই বসেছে মুবিন, আর মুবিনের পাশেই মিছিল। একটু বাদে বাদেই মিছিল মুবিনের হাটুতে কনুই দিয়ে ভর দিয়ে বাইরেটা দেখছে। আজ যেনো রোদ আর প্রকৃতির বাসর, ঠিক এমনভাবেই রোদ উঠেছে। মাথার উপর লেগুনার এই লোহার ছাদটুকু না থাকলে হয়তো সবার চামড়া পুড়ে রুটি হয়ে যেতো। বাইরে প্রখর রোদ থাকলেও তেমন গরম লাগছে না, তেমন কি? কোনো গরমই লাগছে না। বরং লেগুনা দ্রুতগতিতে চলার ফলে ফুরফুরে বাতাস লাগছে। বাতাসের ফলে মিছিলের চুলগুলো এসে মুবিনের মুখের বা পাশটায় আছড়ে পড়ছে। মুবিন সেই চুলগুলোর দিকে তাকাতে গিয়ে আর মিছিল নিজের বেহায়া চুলগুলোকে শাসন করতে গিয়ে বারবার চোখাচোখি হচ্ছে দুজনে। মুবিনের বেশ ভালো লাগছে এই চোখাচোখি হওয়ার মুহুর্তটা। যখনই চোখদুটোর কেন্দ্রবিন্দু এক হয়ে যায় তখনই মনে হয় সময়টা যেনো থেমে গেছে, থেমে গেছে যেনো সব, থেমে গেছে নিঃশ্বাস, থেমে গেছে চারপাশ, থেমে গেছে বাতাস, থেমে গেছে আকাশ, চলছে শুধুই দুজনার মাতাল হৃদযন্ত্র। দুজনেই যেনো সেই মুহুর্তে শুনতে পাচ্ছে দুজনার হৃদযন্ত্রের উত্তাল, মাতাল ধ্বনি। নিজের পছন্দের মানুষটার পাশে বসে সকালের এই প্রকৃতিতে ভ্রমন করাটা চরম সৌভাগ্যের, সেই সৌভাগ্যটার রস নিগড়ে সৌভাগ্যটাকে উপভোগ করছে মুবিন। সকাল ১০ টায় ওরা সবাই জাফলং পৌছায়। সকাল থেকে এই অবধি কারো পেটে কিছু না পড়ায় সবার পেট ক্ষুধায় চো! চো! করছিলো। তাই দেরী না করে সবাই মিলে পাশের একটা ছোট হোটেলে পরোটা, ডিম, ডাল, ভাজি দিয়ে নাস্তা সেড়ে নেয়। তারপর সবাই মিলে ঘোরা শুরু করে জাফলং। আজ জাফলং এর পুরোটা ঘুরে নেবে ওরা, কারন ট্রিপ পাচদিনের। আর পাচদিনে পুরো সিলেট ঘুরতে হবে, পুরো সিলেট বলতে পুরো সিলেট না। কিছু কিছু বিখ্যাত ভ্রমনযোগ্য যায়গা আরকি। পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানিতে হাটছে সবাই। চারপাশটা এতোটা মনোমুগ্ধকর যে তা বলে প্রকাশ করা অসম্ভব। এই পৃথিবীতে এমন কিছু কিছু জিনিস থাকে যার সমন্ধ্যে বলার জন্য শব্দকোষে শব্দ কম পড়ে যায়, ওদের সামনের দৃশ্যপট'ও ঠিক তেমন। সবাই চোখ দিয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে বিচিত্র প্রকৃতির, বিচিত্র রঙ। মিছিলও দেখছে, মুবিন দেখছে তার প্রকৃতিকন্যাকে। হ্যা জাফলংকে অনেকেই প্রকৃতিকন্যা বলে, আর এটা সত্যিও যে জাফলং যায়গাটা এই খেতাব পাবার যোগ্য। কিন্তু মুবিনের কাছে যে তার প্রকৃতিকন্যা শুধুই মিছিল। একমাত্র মিছিলই! চারপাশ হেটে হেটে ঘুড়ে দেখা শেষ। এই অপরুপ প্রকৃতি দেখিয়ে নিজের চোখকে ধন্য ও সার্থক করা হয়ে গেছে সবার। এবার নিজের দেহটাকে প্রকৃতি মাখিয়ে সার্থক করার পালা। জাফলং এসে যদি ঝর্নার পানিতে গোসল না করা হয় তাহলে সেটা একদমই প্রকৃতিবিরোধী কাজ। কে না চাইবে? এই হীরার মতো সচ্ছ পানিতে নিজের দেহটাকে বিলিয়ে দিতে? কে না চাইবে এই ঝরনার আছড়ে পড়া পানির শব্দে হারিয়ে যেতে? প্রকৃতিপ্রেম থাকলে এসব চাইতে আপনাকে হবেই। সবাই প্রকৃতিকে সমর্থন করে ঝর্নার পানিতে গোসল করে নিলো। তারপর টুকটাক হালকা খাবার খেয়ে নিয়ে সবাই জাফলং এর আশপাশের যায়গাগুলো ঘুরে দেখা শুরু করলো। বিকাল ৪ টা বাজে। সারাদিনে কারো পেটেই ভাত পড়েনি। সবার পেট এখন ভাত চাই! ভাত চাই! করছে। তাই সবাই এখন পেটের দাবি পালনে হোটেলে ঢুকবে। সবাই মিলে জিন্দাবাজার এলাকার পালকি রেস্টুরেন্টে ঢুকলো। জিন্দাবাজার এলাকায় বেশ বিখ্যাত এই পালকি রেস্টুরেন্ট। এখানে প্রায় ত্রিশ রকমের ভিন্ন ভিন্ন ভর্তা পাওয়া যায়। অবশ্য জিন্দাবাজার এলাকার প্রায় সব হোটেলেই এরকম নানা পদের ভর্তা পাওয়া যায়। সবাই মিলে খাওয়া শুরু করলো। যেহেতু এখানের ওয়ান অফ দ্যা স্পেশাল ডিশ ভর্তা, তাই সবাই ভর্তা দিয়েই শুরু করলো। আর আশ্চর্যজনক বিষয় হলো সবাই এই বিভিন্ন ভর্তা দিয়ে ভাত টেষ্ট করতে গিয়েই ক্ষুধার্ত পেটকে ঢোল বানিয়ে ফেললো। পেট ঢোল হয়ে যাওয়ায় কেউ আর অন্য কোনো তরকারি টেষ্টই করতে পারলো না। সারাদিনের দৌড়ঝাঁপের পর, চায়ের দেশ সিলেটের স্পেশাল চা খেয়ে সবাই সন্ধ্যা সাতটায় হোটেলে ফেরে। হোটেলে ফিরে অনেকেই পেট নামক ঢোল আগলে ঘুমিয়ে পড়ে। মুবিনেরও ভর্তাগুলো বেশ ভালো লেগেছিলো, কিন্তু ও বেশি খায়নি। সেই কারনে ঘুমও আসেনি ওর। তবে শরীরটা ক্লান্তির চোটে ম্যাচ-ম্যাচ করছিলো। মুবিন আর মিছিলের ঘর একদম পাশাপাশি। মুবিন বেলকনিতে গিয়ে মিছিলকে ফোন লাগায়। দুবার টানা রিঙ হয়ে কেটে যায়, তিনবারের বার ফোন ধরে। ওপাশ থেকে মিছিলের কাতর কন্ঠ, " হ্যালো, এতোবার ফোন দিচ্ছো কেনো? " - " এভাবে কাতরাচ্ছো কেনো? এখনও পেটে ভর্তা দৌড়াদৌড়ি করতেছে নাকি? " - " উহহু! উহু! উহুহু! উহু! উহু " - " আরে নাকিকান্না কাদবা নাকি কিছু বলবা? " - " বেশি খেয়ে ফেলছি। এখন পেট ব্যাথা করতেছে! " - " আরে আস্তে আস্তে ঠিক হবে। শুধু শুধু প্যানিক হয়ে ঘ্যান ঘ্যান করবা না তো? " - " ফোন রাখ তুই! " মিছিল মুবিনকে ঝারি মেরে ফোন কেটে দেয়। মুবিনের পেট পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় মুবিন ফার্মেসিতে চলে যায়। আর ফার্মাসিস্টকে সবার পেট ঢোল হবার ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলে, মধ্যবয়স্ক ফার্মাসিস্ট মহাশয় তো হাসিতে অক্কা পায় পায় অবস্থা। অবশেষে হাসি কোনোমতে পকেটচাপা দিয়ে সে মুবিনকে এক বক্স হজমের ট্যাবলেট দেয়। মুবিন রিসেপশনে গিয়ে বলে এই ট্যাবলেট গুলো যাতে স্টাফ দিয়ে ওর সাথের সবার রুমে দিয়ে দেওয়া হয়। মুবিন একটা ট্যাবলেট নিয়ে মিছিলের রুমের দড়জার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় দুই মিনিট যাবৎ দড়জা ধাক্কাচ্ছে, কিন্তু মিছিল খুলছে না। তার একই প্যানপ্যান ঘ্যানঘ্যান সে নাকি নড়তেও পারবে না, কারন তার পেট ব্যাথা করছে। অবশেষে মুবিন কোনো উপায় না পেয়ে বেলকনি দিয়ে মিছিলের রুমে ঢোকে। ওদের রুম পাশাপাশি হওয়ায় বেলকনি দুটোও একদম পাশাপাশি, তাই এই বেলকনি পেড়িয়ে ওই বেলকনিতে যেতে মুবিনের তেমন কোনো কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। এই কাতর অবস্থায় মুবিনকে রুমে দেখে হতবাক হয়ে যায় মিছিল। সে তো দড়জা খোলেনি তাহলে মুবিন রুমে আসলো কোত্থেকে? বেশি খাবার ফলে কী হ্যালুসিনেশন হয় নাকি? মিছিল হাতদুটো পেট থেকে কোনোমতে সড়িয়ে নিয়ে চোখ দুটো একটু জোড়ালো ভাবে ডলে নেয়। এটা কীরকম হ্যালুসিনেশন? চোখ ডললাম তাও গেলোনা? কই ফিল্মে তো চোখ ডললেই চলে যায়? এসব ভেবে ভেবে আবারও চোখ ডলে নেয় মিছিল। না এবারও তো গেলো না, এখনও তো সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। মুবিন মিছিলের তামাশা দেখছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে, তামাশার সময়কাল দীর্ঘ না করে মুবিন ঝাড়ি মারে, " পেটে যতটুকু ধরে তার বেশি খাও ক্যান? এখন তোমার সাথে আমার প্রেম করার কথা ছিলো। তা না করে কী করছি আমি? ফার্মেসিতে গিয়ে হজমের ট্যাবলেট কিনে, বেলকনি টপকে তোমার রুমে তোমায় হজমের ট্যাবলেট খাওয়াতে আসছি। আমার কপালটারে এভাবে ফুটা কইরা দিলা ক্যান? " মিছিল খানিক কেপে ওঠে। আরে এ তো মুবিন'ই, কোনো হ্যালুসিনেশন ফ্যালুসিনেশন না। মিছিল মুবিনকে মুবিনের থেকেও জোরে ঝাড়ি মেরে বলে, " একেতো আমার প্রাইভেসি নষ্ট করে চোরের মতো আমার রুমে ঢুকছো। তারউপরে আমার উপরেই ঝারি মারতেছো? কেনো মারতেছো? আমার পেট আমি যা ইচ্ছা তাই করবো, আমার পেটে আমি খাবার ঢুকাবো, জাহাজ ঢুকাবো, গোলাবারুদ ঢোকাবো, ক্ষেপণাস্ত্র ঢোকাবো, বাচ্চা ঢোকাবো সেটা আমার ইচ্ছা। তোমার কী? " - " বাচ্চা ছাড়া বাকি যেসব বলছো ওগুলো পেটে ঢোকাতে ইচ্ছে করলে ঢোকাও। তবে তোমার পেটে বাচ্চা তো আমিই ঢোকাবো মিছিল মনি! " বলেই হালকা মৃদু মুচকি হাসে মুবিন। - " মুবিইইইন্না! পেটের এই অবস্থা না হলে এখনই তোর পিঠে আমি তবলা বাজাইতাম! " - " আমার পিঠে তবলা বাজানোর দরকার কী? নিজের পেটই তো ঢোল হয়ে আছে। ওটায় বাজাও, বেশ রিদম আসবে। এই আমি না ভালো ড্রাম বাজাই, বাজাবো তোমার পেটে? " মিছিল নাকিকান্না কাদে। মিছিল হতাশ অসহায় কন্ঠে বলে, " তুই কী আমায় জ্বালাইতে আসছস এখানে? " - " তুমি না একদমই জন্মনিরামিষ। আমি কই কেয়ারিং লাভারের মতো তোমার জন্য হজমের ঔষধ নিয়ে আসলাম। তোমায় রিলিফ দেবার জন্য, আর তুমি কিনা আমার কেয়ারিং ন্যাচারকে, আমার প্রেমকে জ্বালা বলে অপমান করছো! " - " মেডিসিন আনছো? তাহলে প্লিয বকবক না করে দাও! " মুবিন গ্লাসে পানি নিয়ে নিজের হাতে মিছিলকে ঔষধ খাইয়ে দেয়। তারপর পাশে বসে বলে, " আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেই, তুমি ঘুমাও। ঠিক আছে? " - " আহাহা! আলহাদ পাইছে উনি। ঢং! উনি আমার বিয়ে করা জামাই লাগে উনি মাথায় হাত বুলায় দিবে আর আমি ঘুমাবো। রুম থেকে বের হ তুই! " - " ফ্যাচফ্যাচ ভালো লাগতেছে না। তুমি জানো আমি বলছি মানে বলছি'ই। আর আমি তো কোনো অন্যায় আবদার করতেছি না, শুধু মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে চাচ্ছি। আর এটা তো আমি তোমার সেবা করছি, আচ্ছা তুমিই বলো বিয়ের পরে আমি অসুস্থ হলে তুমি আমার সেবা করবা না? তুমি যেটা বিয়ের পরে করবা, সেটা আমি বিয়ের আগে করছি। ব্যাস শেষ! " - " এতো লজিক আমি শুনবো না। আমি ঘুমায় গেলে যদি তুমি উল্টাপাল্টা কিছু করো? তখন? " - " তুমি হজমের ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমাচ্ছো কোনো স্লিপিং পিল কিংবা মদ খেয়ে ঘুমাচ্ছো না। যে আমি তোমার সাথে উল্টাপাল্টা করলে তুমি টের পাবা না! " - " তবুও তুমি বের হও রুম থেকে! " - " প্রমিস শুধু মাথায় হাত বুলিয়ে দেবো। আর তুমি ঘুমিয়ে গেলেই বেলকনি টপকে আমার রুমে চলে যাবো। উঠে তোমার দরজাও লাগাতে হবে না। আর ঘ্যানঘ্যান কইরো না, ঘুমাও। " বলেই মুবিন মিছিলের মাথায় হাত বোলানো শুরু করে। মিছিলও আর তর্কে না জড়িয়ে চুপচাপ চোখ বন্ধ করে নেয়, ঘুমানোর চেষ্টায়। চলবে!

@Kamrul16

না বললে ও ভালবাসি না_বললেও_ভালোকিন্তুবাসি part : 1 writer :কামরুল ☆: please জল্লাদ... ছেরে দিন আমাকে.... আমি আর কখনো এমন কিছু করবোনা... ছারুন আমার হাত.... আমার হাতটা ছিরে গেলে আমাকে বাজে লাগবে দেখতে.... please ছারুন.... ও বাবারে, ও ভাইয়ারে, ও দুলাভাইয়ারে... বাচাও রে.. ১টা অবলা মেয়েকে তোমরা কেউ বাচাচ্ছোনা... এতো বড় অন্যায় চুপচাপ দেখছো? আল্লাহ... তোমার দিলে কি দয়া হয় না.... 😭😭😭... একি এতো কাদছি তাও ছারছেন না। ছারুন না please ... রেদোয়ান চৌধুরী : এই সাগর ছার মামনি কে... কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস? সাগর : marriage registry office .... সবাই : 😱। ☆: কেন? সাগর : বিয়ে করতে.... ☆: হায় হায় বলে কি.... আমি কেবল সাড়ে নাইন থুরি.. পোনে টেনের student ... আমি ১৫ বছরের শিশু... কে শোনে কার কথা সাগর টেনে নিয়ে গাড়িতে বসালো। [[[ দারান দারান পরিচয় করাচ্ছি। যে জল্লাদ ব্যাক্তিটা টানাটানি করছে i mean টেনে নিয়ে যাচ্ছে তার নাম the জল্লাদ সাগর চৌধুরী.... ফ্যাশন জগতের গুপ্ত রত্ন & সেই সাথে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ১জন GM রেদোয়ান চৌধুরীর ছেলে। সাগরের মায়ের নাম শিখা চৌধুরী। বড় বোনের নাম শ্রাবনী চৌধুরী। মিসেস শ্রাবনী নিশান আহমেদ চৌধুরী। সাগর কেবলমাত্র mbbs 2nd year no no পোনে 3rd year এর student... ভীষন রাগী। কথা বলে কম রাগ করে বেশি। আর যেই অবলা অসহায় অবুঝ বাচ্চাটাকে গরুর মতো টেনে নিয়ে যাচ্ছে তার নাম মোহনা খান। 🙈😎🙊। মোহনার বাবার নাম শুভ্র খান। মোহনার মায়ের নাম সোহানা খান। মোহনার বড় ভাইয়ের নাম অভ্র খান আর বড় বোনের নাম অহনা খান। মিসেস অহনা সৌরভ মাহমুদ খান। ভাবির নাম দিপ্তী রায়হান খান। মোহনা class 9 এ পরে। october মাস। ৩মাস পর class 10 এ উঠবে তাই মোহনা এটাকে পোনে 10 বলে। বাকী কাহিনি পরে বলবো। ]]] . গাড়িতে... মোহনা: এ্যা.. হ্যা হ্যা...😭... সাগর : 😒। মোহনা: এভাবে তাকাচ্ছেন কেন? আপনি মানুষ না আলকাতরা বলুন তো? কোনো পিচ্চি কাদছে আর আপনি গরুর মতো তাকাচ্ছেন? সাগর: কাকা fast the car... মোহনা: মাগো আমার কান.... আপনি না ১টা cutie putie জল্লাদ.... মানে ভালোমানুষ। please আমাকে আমার সাথে এমন করবেন না। আমি আর কখনো আপনার টাকার চকোলেট খাবোনা। সাগর: ১টা থাপ্পর মারবো। ফাজিল মেয়ে। ... সব শয়তানি ছুটে যাবে.... মোহনা: না না আমি আপনাকে বিয়ে করবোনা। infact আমি বিয়েই করবো না.... আমি তো এখনো দুধের শিশু.... only awwe ki cute sweet 15... 16ও না।।। আমাকে কি এখন বিয়ে করা ঠিক হবে...? সাগর: দুধের শিশু? ১টা দুধের শিশু হয়ে আমার খাবার drugs মিশিয়ে রুষার ঘরে রুষার সাথে বন্দী করার ফন্দী কি করে আটলে? মোহনা: ওটা তো... মনে মনে: থেমে যা মোহো থেমে যা । এই জল্লাদ মার্কা ইচ্ছাধারী বাঙ্গীটাকে যদি এখন বলি যে ওটা রুষা আপু করেছে তবে তো ভবিষৎে জল্লাদের সাথে বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা মাইনাস পার্সেন্ট। আর যদি না বলি বিয়ে.... কি করি.... সাগর : কি হলো বলো। মোহনা: উফফ... এতো চিল্লান কেন? আমি তো আপনার কোলের মধ্যেই বসা নাকি.... 😬... সাগর: কিছু ask করেছি? মোহনা: কি?🤔। সাগর : কালকে রাতে অমন কাজ কেন করেছো? মোহনা : ইচ্ছা হয়েছে তাই করেছি... সমস্যা... যেন আপনার আর রুষা আপুর বিয়ে হয়। কথাটা শুনে সাগরের মাথা আরো গরম হয়ে গেলো। কারন ও ভালোমতোই জানে মোহনাকে রুষা এমনটা করতে বলেছে। মোহনা রুষার নাম লুকিয়েছে বলে সাগর সেই ক্ষেপে গেলো। যাও মাথা ঠান্ডা হয়ে আসছিলো তাও আবার আরো বেশি গরম হয়ে গেলো। . গাড়ি থামলো। সাগর মোহনাকে টেনে ভেতরে নিয়ে গেলো। registry paper রেডি করানোর order দিলো। কিন্তু ঝামেলা বাধলো মোহনার বয়স নিয়ে । কারন ওর বয়স মাত্র ১৫.... মেজিস্ট্রেট apply reject করে দিলো। সাগরের ইচ্ছা হচ্ছে সব ভেঙে ফেলতে.... মোহনার খুশি দেখে কে? লাফালাফি শুরু করলো। সাগর সামনে থাকা চেয়ারটাতে ভীষন জোরে লাথি মেরে বেরিয়ে গেলো। যেই সাগর বেরোলো মোহনা লাফালাফি দাপাদাপি শুরু করলো... মোহনা : 🎶🎵🎶 আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে.... জল্লাদ বুডঢা... আমি কিউটি পুচকু... বিয়ে বন্ধ... আর কি ল.... 🎶🎵🎶 মোহনা ঘুরতে ঘুরতে তার খাম্বা i mean সাগরের সাথে ধাক্কা খেলো। মোহনা: কোন শালারে.... ঘুরে দেখে সাগর। সাগর লাল লাল আগুনের গোলার মতো তাকিয়ে আছে । মোহনা : হাই... ভালো আছেন? 😅... মনে মনে: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ.... এইবারও বাচাও আল্লাহ.... সাগর আবার মোহনাকে টেনে গাড়িতে বসালো। তবে এখন front sit এ। মোহনা: ডল কাকা কোথায়? ( driver এর নাম ডালিম। মোহনা ডল কাকা বলে ডাকে। ) সাগর কোনো উত্তর দিলোনা । মোহনা: কি হলো পলকেই বোবা হয়ে গেলেন নাকি । আজব পাবলিক তো... আপনি.. সাগর : এই নাও... মোহনা: awwe ki cute flake.... মোহনা সাগরের হাত থেকে নিয়ে খেতে লাগলো। সাগর ভালো মতোই জানে এখন chocolate না দিলে মোহনা nonstop বকবক করতেই থাকবে। আর এখন সাগর যথেষ্ট রেগে আছে। তাই এখন মোহনার মুখ বন্ধ থাকাই ভালো। . আসলে সাগরের একমাত্র মামাতো ভাই আয়ানের বিয়ে। রিম্পা নামের ১টা মেয়ের সাথে। love marriage .... বিয়েটা হচ্ছে নারায়নগঞ্জে। সাগরদের মামার বাসায়। রিম্পারা ২বোন। রিম্পা & রুষা। ২জনই রুপে গুনে ১০০ তে ১০০। রুষাকে দেখলে তো মোহনাই ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকে। কারন তাক লাগানোর মতো সুন্দরী রুষা । ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। বাবা ১জন নেতা। প্রথম দেখাতেই রুষার সাগরকে ভালোলাগে। তাই নিজেই ১দিন propose করে বসে সাগরকে। সাগর accept করেনি । সাগর নাকি মোহনার মোহ তে পরে আছে। 🥱।😒। রুষা ওর বাবাকে দিয়েও কথা বলায়। কিন্তু সাগর-মোহনার বিয়ে আদিম যুগ থেকেই ঠিক হয়ে আছে। তাই রেদোয়ান না করে দেয়। কিন্তু রুষার তো সাগরকে চাই চাই। আর মোহনাও চায় বিয়ে ভাঙতে। কারন বিয়ে আর কাঠাল-বাঙ্গী-পাকা পেপে-আনারস একই।।। সবগুলাই just যঘন্য। বিয়ে মানে ওর কাছে নিজের awwwe ki cute family ছেরে অন্য গরুর ঘরে যাওয়া। আর ১বস্তা কান্না করা। কারন তার ভাবী & আপুকে তাই দেখেছে। . গতরাতের ঘটনা.... রুষা মোহনাকে ওই মাতাল করার drugsটা দিয়ে বলে সাগরের খাবারে মেশাতে। কারন মোহনাকে কেউ সন্দেহ করবেনা। মোহনা কথা মতো কাজ করলো । মোহনাকে খাবারের কাছে ঘুরঘুর করতে দেখে সাগরের সন্দেহ হচ্ছিলো। কিন্তু পিচ্চি বলে কিছু ভাবেনি। খাবার খেয়ে সাগরের মাথা কেন যেন ঝিমঝিম করতে লাগলো। কোনো রকমে রুমে পৌছালো। রুমে আগে থেকেই রুষা ছিলো। সাগর রুমে ঢুকতেই মোহনা দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিলো। রুষার কথা মতো। সাগর বুঝতে পারছে যে ওর নেশা হচ্ছে। কারন মাথা ঝিমঝিম করছে, ঝাপসা দেখছে। তারওপর দেখছে রুষা বসে আছে। সাগর দেরি না করে টলতে টলতে washroom এ গিয়ে চোখে মুখে পানি দিয়ে। গলায় আঙ্গুল দিয়ে বমি করারও চেষ্টা করলো। কিছুটা উপকার পেলো। যেই বের হলো রুষা জরিয়ে ধরলো। সাগর রুষাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ঠাস করে থাপ্পর মারলো। এরপর মিস্টার ৭মার পালোয়ান সাগর মশাই দরজার সাথে যুদ্ধ শুরু করলো... ভেঙেও ফেলল । দরজা ভাঙার শব্দে সারা বাড়ি ছুটে এলো। মোহনা ছারা। কারন সে ঘুম ।😴 সাগর সবাইকে রুমে থেকে বের করে চুপচাপ ঘুমিয়ে পরলো। কারন মাথা দার করানোই সম্ভব হচ্ছেনা.... ঘুমটা ভীষন দরকার.... সকালে উঠেই গন্ডারগিরি শুরু করলো। . এখন... চকোলেট খেতে খেতে মোহনা ঘুমিয়ে পরেছে। বিকালে ৩টা.... মোহনার ঘুম ভাঙলো। দেখে ও ওর ঘরেই । মোহনা: আমি বিয়ে বাড়িতে ছিলাম... ছিলাম তো ছিলাম কার বাপের কি... ক্ষুধা লেগেছে। ভাবি... ও ভাবি... ভাবি গো.... কি ব্যাপার আমার ভাবি সারা দেয়না কেন? 🤔। গিয়ে আবিষ্কার করি। ভাবিকে খুজতে খুজতে মোহনা রান্নাঘরে গেলো। দেখলো সাগর রান্না করছে। মোহনা নিজের চোখ ডলে আবার দেখলো। এরপর সাগরের সামনে গিয়ে ধপাস করে চিমটি দিলো । এটা ওর স্বভাব। কিছু বিশ্বাস না হলে চিমটি কেটে চেক করে। আহা তা... নিজের গায়ে বা হাতে না.... সামনে যে থাকে তার গায়ে চিমটি কেটে। চিমটি খেয়ে সাগর ouch করে উঠলো। সাগর: নাগিন... নখ কাটোনা? মোহনা: আপনি আমার ভাবির প্রথম ভালোবাসা & স্বামীর ( রান্নাঘর) সাথে পরকীয়া করছেন কেন? সাগর: তো কি করবো? যদি আপনাকে বিয়ে বাড়ির খাবার এখন না রান্না করে দেই তাহলে এই বাসার ইট-পাথার-সিমেন্টের সাথে আমিও ধ্বসে পরবো। যা গলা আপনার । পিচ্চি পারমানবিক bomb... মোহনা: কি বললেন আপনি? আমি জো.. ১মিনিট আমরা না বিয়ে বাড়ি ছিলাম তবে এখানে কেন? এ্যা আমি বিয়ে বাড়িতে যাবে। বিয়ে খাবো । 😭। সাগর জানতো এমন ভ্যা ভ্যা শুরু হবে তাই মোহনার কথা শুরু হতেই সাগর কানে তুলা গুজেছিলো। . রান্নাবান্নার পর.... সাগর খাবার বেরে নিয়ে এলো। মোহনার মুখে খাবার তুলে বলল: নাও হা করো। মোহনা: না আমি বিয়ে খাবো... ওখানে যাবো। সাগর : same খাবার। এগুলো খেয়ে নাও। মোহনা : না... সাগর : তুমি যদি চুপচাপ খেয়ে নাও তাহলে kitkat এর ৩৬ পিসের ১টা box পাবে... মোহনা: সত্যি? সাগর: হামম। মোহনা: তাহলে promise করুন যে আগামী ৩দিন আমাকে পড়াতে বসাবেন না.... সাগর মোহনার কান মলে বলল: তবেরে পড়া চোর.... এতো ফাকি দিলে ভালো result কিভাবে হবে? মোহনা: যেভাবে PEC & JSC হয়েছে। 😎। সাগর: এটা S.S.C।।। মোহনা: তো? সাগর: আচ্ছা খেয়ে নাও। এরপর তোমাকে রিতু ( মোহনার বেস্টু) বাসায় ড্রপ করে আমি বের হবো। মোহনা: রিতুদের বাসায়....😃.. সাগর: but no দুষ্টুমি... না হলে fruit salad খাওয়াবো। মোহনাকে রিতুদের বাসায় ড্রপ করে সাগর আবার মামা বাড়ি গেলো। . রিতু: কি রে কাহিনি কি? মোহনা : কার কাহিনি? রিতু: তোর এখানে থাকার কাহিনি? 😒। মোহনা: ওই তো জল্লাদ নিয়ে এলো। রিতু মোহনার মাথায় থাপ্পর মেরে বলল : গবেট বিয়ে খাওয়া বাদ দিয়ে নারায়গঞ্জ থেকে ঢাকা ক্যামনে কি? মোহনা : দারা বলছি তার আগে... বলেই মোহনা রিতুর পিঠে দামদুম কিল মেরে নিলো। এরপর সব বলল। সব শুনে রিতু হেসে গরাগরি খেতে লাগলো। মোহনা: তোকে কি কোনো রম্য গল্প শুনিয়েছি যে ৩২টা বের করে হাসছিস। তুই আমার গুষ্ঠির মতো মিরজাফর..... . ৭দিনপর... মোহনা গাড়িতে বসে ঝিমাচ্ছে আর অভ্র ওকে ফল খাইয়ে দিচ্ছে। অভ্র : বাবুইপাখি আরেকটু বাকী। হা করো। মোহনা ঘুমাতে ঘুমাতে খেলো। অভ্র : যেদিন school এ আসার হয় সেদিন time মতো ঘুমাতে হয়না বোকা.... মোহনা :উহু... অভ্র মোহনাকে স্কুলে পৌছে রিতুর হাত তুলে দিয়ে চলে গেলো। মোহনা ক্লাসে গিয়েও ঘুমাচ্ছে। রিতু : ওই মোহো... মোহো... ওঠ ম্যাম চলে আসবে। কে শোনে কার কথা... রিতু মোহনার কানের সামনে চিল্লিয়ে বলল: মোহো.... 📢📢📢 মোহনা ধরফরিয়ে উঠলো। মোহনা : কি হয়েছে? রিতু: আমার বাপের মাতা... মোহনা: সর শালা নোয়াখাইল্যা। রিতু: আজকে যখন স্কুলে আসবি তখন কালকে সকাল সকাল ঘুমাসনি কেন? মোহনা: কালকে তো ৭টা বাজেই শুয়ে পরেছিলাম। কিন্তু ২টা বাজে ঘুম ভেঙে গেলো। ক্ষুধাও লাগলো। খেলাম গান শুনলাম dorabian night দেখলাম ঘুমিয়ে পরলাম। রিতু: নতুন কিছু বল... ভূতের মতো রাত দুপুরে খাওয়ার অভ্যাস তোর বহুদিনের। এখন তো assignment দেখা তো। আমিও আমারটা বের করছি। মোহনা : হামম। কিন্তু মোহনা খুজেও কোথাও assignment পেলোনা। রিতু: কিরে... মোহনা: পাচ্ছিনা.... রিতু: what ? আনতে ভুলে গেছিস? এখন কালিপরী তোকে কি করবে? মোহনা: huh.... bye... রিতু: bunk মারবি? মোহনা: তা নয়তো কি বকা খাবো। রিতুও ব্যাগ গোছাতে লাগলো। মোহনা: কি রে... রিতু: lets bunk... কিন্তু আজকে কোন দিক দিয়ে বের হবো? মোহনা: পাচিল টপকে। ৩নং রোডের বাউন্ডারির ওখানে দেয়াল repair এর কাজ চলছে। রিতু: হায়... ২জন : awwwe ki cute.. ২জন পাচিল টপকে বের হলো। সামনে তাকিয়ে দেখলো.... ((( নায়িকার নাম মোহনা বলে আবার double meaning করবেনা কেউ। double meaning করলে এটা continue করবোনা। গল্প is গল্প। তবে কেমন লাগলো সেটা জানিও। ))) . চলবে....

@Kamrul16

অদ্ভুতভালবাসা অদ্ভুত ভালোবাসা সিজন ৩ পর্ব:১৫ writer: অন্না , নীরা আর টিয়া বাসা থেকে বের হয়েই দেখে নিলয় গাড়ি নিয়ে দাড়িয়ে আছে।নীরাকে দেখেই নিলয় যেই নীরার কাছে আসতে যাবে তখনই নীরা জলদি করে রিক্সায় উঠে পড়ে।নিলয় কি কম যায় নাকি। সোজা গিয়ে রিক্সার সামনে গিয়ে দাড়ায় পরে। টিয়া ভয় পেলেও নীরা আজ ভয় পায় না। কারন তাকে ঘিরে আছে এক পাহাড় অভিমান।নিলয়ের দিকে চোখ তুলেও তাকিয়ে দেখে না। নিলয় আস্তে করে নীরার পাশে এসে দাড়ায়। "নেমে এসো" নিলয়ের কথার উত্তরে নীরা কিছু বলে না। চুপটি মেরে থাকে। "আমি কিন্তু নেমে আসতে বলেছি নীর" নিলয়ের হালকা ধমকেও নীরা কোনো হেলদোল করে না।টিয়া পরিবেশ সামলানোর জন্য হালকা শব্দে হেসে ওঠে।তারপর নিজে নেমে পরে। টিয়া জানে নিলয়ের কথা না শুনলে নীরার কপালে দুঃখ আছে।"আপু নেমে এসো না" টিয়া নীরার হাত টেনে রিক্সা থেকে নামিয়ে নিতে গেলে নীরা হাত সরিয়ে নেয়। টিয়া মুচকি হেসে ভয়ে ভয়ে নিলয়ের দিকে তাকায়। "কাল সারা রাত ধরে বউ এর সেবা করলেন, আর এটা জানেন না আপুর শরীর ভালো না। ঠিক মতো দাড়াতে পারছে না" টিয়ার কথা শুনে নীরার চোখ রসগোল্লার মতো হয়ে গেলো। তার মানে কাল রাতে সত্যই নিলয় ওর কাছে ছিলো। ওটা নীরার কল্পনা না। আর কাল রাতে ও নিলয়ের বুকে ছিলো। সে কথা মনে হতেই নীরা একটু ব্লাসিং করে। তার পরে আবার মুনিরার কথা মনে হতেই ওর বেশ রাগ হয়। রাগি দৃষ্টিতে নিলয়ের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই "এখন যদি একটা সাউন্ড ও হয় রিক্সা সহ তোমাকে ভেঙে গুড়ো গুড়ো করে দিবো। সোজা রিক্সা থেকে নেমে গাড়িতে গিয়ে বসো" নিলয়ের ধমকে নীরার কান্না চলে আসে।"আমি কোথাও যাবো না। কেনো এমন করছেন আমার সাথে? দেখুন দুলাভাই আপনার মুনি আমাদের বড় বোন। আপনি এমন কিছু করেন না যার ফলে আপনার মুনি কষ্ট পায়" নীরা মাথা নিচু করে ফুপিঁয়ে ফুপিয়ে কান্না করতে থাকে। নিলয় একটু এগিয়ে গিয়ে যত্নসহকারে নীরাকে টেনে কোলে তুলে নেয়। কিন্তু ওর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে নিলয় বেশ শান্ত, নীরা বেশ বুঝতে পারে ঝড়ের আগের মুহুর্ত এটা। নীরা এক হাতে নিলয়ের গলা ধরে । অন্য হাতে নিলয়ের বুকের কাছে শার্ট মুঠো করে ধরে।"টিয়া বেপি তুমি কলেজে চলে যাও" নিলয় হনহন করে গিয়ে নীরাকে গাড়ির পেছনের ছিটে বসিয়ে দেয় নিজেও উঠে বসে ধরাম করে দরজা লাগিয়ে দেয়। নীরা তো কেঁপে ওঠে। নিলয় ফোনটা বের করে মুনিরাকে ফোন করে। নীরা নিলয়ের ফোনে উঁকি মেরে মুনিরার নাম দেখে গাড়ি থেকে নামতে যায়। নিলয় রাগে নীরার কবজি টেনে হেঁচকা টানে নিজের কাছে নিয়ে আসে। "ল,,,লাগছে আমার" এটা শুনে নিলয় আরও শক্ত করে নীরার হাত মুঠো করে ধরে। ব্যাথায় নীরার চোখ দিয়ে কয়েকফোঁটা পানি গড়িয়ে যায়।এতে নিলয়ের কোনো হেলদোল হয় না।ও হাত সেভাবেই ধরে রাখে।মুনিরা ফোন রিসিভ করলে নিলয় লাউস্পিকার দিয়ে কথা বলতে শুরু করে, "মুনি"? "আরে আমার ক্রাশড, আজ সূর্য কোন দিকে উঠেছে। হঠাৎ আমাকে ফোন করেছো "? মুনিরার কথা শুনে নীরা শক। "আরে মনে হলো তোর কথা। বলতি না তোরা আমি সারাজীবন সিংগেল থেকে গেলাম, এতে নাকি তোদের খুব কষ্ট হয়"? "হুম হয় তো। এতো ড্যাসিং ছেলে কত মেয়ে পাগল তোর জন্য আর তুই প্রেম।করিস না" "সব মেয়ে পাগল, তুই তো পাগল না। তাই না"? "বুঝলি কবে আমাকে? মেয়ে হয়ে নির্লজ্জের মতো প্রপোজ করলাম। আর তুই না করে দিলি,বললি আমি তোর টাইপ না " "দোস্ত তুই জানিস তো আমার কেমন মেয়ে পছন্দ?এতো ঝিকঝাক আমার পছন্দ না"। "হুম তোর তো গেঁয়ো টাইপের মেয়ে পছন্দ" নীরা তো শক। মুনিরার কথা শুনে। মুনিরা কাল নীরাকে কি বললো আর আজ কি বলছে। নিলয়ের সাথে ওর কোনো সম্পর্ক নেই।মুনিরা ওকে মিথ্যা বলেছে। নীরার মুখে হাসির রেখা ফুঁটে উঠেছে। "আচ্ছা দোস্ত জিসান কেমন আছে রে? ৩বছরের ডিপ রিলেশন তোদের" এটা শুনে তো নীরা চরম অবাকের শেষ পর্যায়ের শক। টিয়া কাল মিথ্যা বলেনি ওকে। কেনো যে টিয়ার কথা শুনলো না। "মুনিরার বাচ্চা ইচ্ছে করছে তোকে আমড়া গাছের মগডালে বেঁধে রাখি। বজ্জাত মাইয়া কোথাকার" নীরা মনে মনে মুনিরাকে বেশ বকা দেয়। "আচ্ছা মুনিরা ভালো থাকিস পরে কথা হবে" কথাটা বলেই নিলয় ফোন কেটে সিটের সাথে হেলান দিয়ে কপালে হাত রেখে চোখ বন্ধ করে নেয়। নীরা কি করবে বুঝতে পারছে না। নিলয় এখনও ওর হাত ধরে আছে।কিন্তুু মুখে কিছু বলছে না। নীরা বুঝতে পারছে না নিলয় এখন কি করবে ওর সাথে। কাল রাত থেকে বিনা করনে অনেক রুড ব্যবহার করেছে ও নিলয়ের সাথে। কিন্তু নীরার কি দোষ মুনিরা তো ওকে উল্টা পাল্টা বুঝিয়ে দেয়।নীরা এবার সাহস করে নিলয়ের সাথে কথা বলে। "শ,,,,শুনছেন" "এভাবে ডাকছিস কেনো? দুলাভাই লাগি না আমি তোর? দুলাভাই বল"দাঁতে দাঁত চিপে নিলয় কথাটা বলে। নীরা বেচারি নিলয়ের ধমকে ভয়ে কাচুমাচু হয়ে যায়। নীরা কিছু বলতে যাবে তার আগেই হুট করেই নিলয় নীরার হাত ছেরে গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। তারপর নীরাকে গাড়ি থেকে টেনে আবার কোলে তুলে পা দিয়ে ধরাম করে দরজা বন্ধকরে দেয়। তারপর সোজা গিয়ে একটা রিক্সায় আস্তে করে বসিয়ে দেয়। "মামা আমারর শ্যালিকা যেখানে যাবে নামিয়ে দিও" কথাটা বলেই নিলয় গাড়ি নিয়ে নীরার সামনে দিয়ে বের হয়ে যায়। নীরা বেশি অবাক হলোনা। কারন ও জানে এই রাক্ষসরাজা কি পরিমান ঘাড় ত্যারা। রাগ উঠলে সব করতে পারে। নীরা হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। "শয়তানের নানা। আমার শ্যালিকা যেখানে যাবে নামিয়ে দিও।বলি কেনো রে আমি না হয় ভুল বুঝে দুলাভাই বলেছি। বেশি তো বলিনি একটু খানি বলেছি, এতো রাগ করার কি আছে?রাগ তো আমার করার কথা। মুনি,মুনি, মুনি বলি কিসের মুনি বলতে হয়। নাম নাই ওর হুহ, রাগ আমার ও আছে। দেখি কত সময় কথা না বলে থাকে। উগন্ডার দৈত্য কোথাকার" "আপা কই যাবেন"রিক্সাওয়ালার কথায় নীরা বাস্তবে ফিরে। "জাহান্নামে যাবো। যাবেন"? নীরা লোকটাকে এক ধমক দিয়ে নীরা রিক্সা থেকে নেমে পরে। তারপর হাঁটতে শুরু করে। একটু খানি হেঁটেই দেখে নিলয়ের গাড়ি। নীরা বেশ বুঝতে পারে গাড়ি এখানে থাকার কারন কি।নীরা দুষ্টুমির হাসি হেসে ওঠে। দৌড়ে গাড়ির সামনে গিয়ে নিলয়ের পাশে দাড়ায়। নিলয় নীরাকে দেখেও ডোন্ট কেয়ারের মতো সামনে দিয়ে তাকিয়ে থাকে। "আমাকে একটু লিফ্ট দিবেন দুলাভাই"নীরার কথা শুনে নিলয় এবার তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে। তেরে উঠে গাড়ি থেকে নামে। "কানের নিচে ঠাস করে একটা বসালেই দুলাভাই বলার স্বাধ মিটে যাবে। আমি দুলাভাই তোমার? খুব দুলাভাই ডাকার শখ হয়েছে না?তো বলো মুনিরাকে বিয়ে করে নেই। দিন রাত দুলাভাই ডাকতে পারবে "। নীরা মুখ ভেঙিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। নিলয়ের বকাগুলোকে ডোন্ট কেয়ার হিসেবে নেয়। নিলয় আর কথা বলে না। গাড়িতে এমন ভাবে বসে যে পুরো গাড়ি কেঁপে ওঠে। নীরা কলেজ গেটে ঢুকেই দাড়িয়ে পরে। "হেই নীহারিকা, কেমন আছো"? পলাশের দেখে আর ওর কথায় নীরা চরম বিরক্ত হয়।। "ভালো ভাইয়া, আপনি কেমন আছেন"? "হেই ডোন্ট কল মি ভাইয়া। তুমি জানো তোমার সাথে আমার বিয়ে ফিক্স হয়ে গেছে সো প্লিজ ভাইয়া বলো না"। "আমি কি একবার ও বলেছি আপনাকে বিয়ে করবো"? "না ও তো বলোনি" "এখন বললাম। আমি আপনাকে বিয়ে করবোনা।" "আমি শুনলাম না" পলাশের কথায় নীরার খুব রাগ হয়। উনার সাথে আর কথা না বারিয়ে চলে যেতে নিলে পিছে থেকে পলাশ নীরার হাত টেনে ধরে। নীরা রেগে কিছু বলতে যাবে তার আগেই ধরাম করে একটাশব্দ হয়। নীরা তাকিয়ে দেখে নিলয়ের হাত থেকে গড়গড় করে রক্ত বের হচ্ছে, আর গাড়ির জানালার কাঁচ ভাঙা। নীরা দৌড়ে নিলয়ের হাত ধরার আগেই নিলয় সেখান থেকে চলে যায়। নীরাও নিলয়ের পেছনে দৌড় দেয়। পলাশ এটা দেখে কেমন শয়তানি হাসি দিয়ে কলেজ থেকে বের হয়ে যায়। " শুনুন,দাড়ান,দাড়ান না প্লিজ। দুলাভাই"নীরার কথা শুনে নিলয় থেমে যায়। , be continue ♥♥♥

@Kamrul16

ঘৃনা ঘৃণার মেরিন part : 18 season : 2 writer : Mohona . নীড় বাসায় এসে রুমে ঢুকে দেখে মেরিন নেই । নীড় : গেলো কোথায়? মেরিন... মেরিন... নীড় খুজতে লাগলো মেরিনকে। দেখে রান্নাঘরে মেরিন রান্না করছে। নীড় গিয়ে দুম করে পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো। . মেরিন : কি হলো? 😒। নীড়: কতোক্ষন ধরে ডাকছি.... সারা তো দিবে.... মেরিন: কি লাগবে? বলুন দিচ্ছি... নীড়: তোমাকে লাগবে... মেরিন আর জবাব না দিয়ে চুপচাপ কাজ করতে লাগলো। নিজেকে ছারানোর চেষ্টা করে লাভ হলোনা। তাই আর চেষ্টাও করলোনা। নীড় : কি রান্না করছো? মেরিন: আমার মাথা.... এখন ছারুন। নীড়: ছারুন ছারুন করছো কেন? নিজে যখন জরিয়ে ধরো তখন.... মেরিন : আর ধরবোনা। হইছে? এখন তো ছারবেন? নীড় : মানে কি হ্যা মানে কি? ধরবেনা কেন? ও হ্যা ঠিকই তো। ধরবে কেন? আমি তোমাকে জরিয়ে ধরবো। বলেই নীড়ের মেরিনের ঘাড়ে কিস করলো। মেরিন বেসামাল হয়ে গেলো। আর ক্যাচ করে হাত কেটে গেলো। কিন্তু কোনো আওয়াজ করলোনা। কারন এতোটুকু কেটে যাওয়া ওর কাছে কিছুইনা এখন। পানি ভরতি পাত্রে হাত ডুবিয়ে রাখলো। আর অন্য হাত দিয়ে রান্না করতে লাগলো। . নীড় তো নিজের কাজেই ব্যাস্ত। মেরিনের ঘাড়ে মুখ গুজে আছে। মেরিন ১হাতেই কোনোরকমে কাজ করছে। ১টা servant হঠাৎ করে চলে এলো । তার হাতে চায়ের কাপ ছিলো। নীড়-মেরিনকে দেখে হাত থেকে পরে গেলো। আর নীড়ের হুশ ফিরলো। servant লজ্জা পেয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো। নীড় : আজব পাবলিক.... romance কর.... একি তোমার হাত কাটলো কি করে? মেরিন: এমনিতেই.... নীড়: দেখি আসো ব্যান্ডেজ করে দেই। মেরিন: লাগবেনা। পরে করে নিবো। কাজটা শেষ করে নেই। নীড় কোনো কথা না বলে কাধে তুলে মেরিনকে রুমে নিয়ে গেলো। হাতে ব্যান্ডেজ করতে লাগলো । আর বকতে লাগলো। নীড়কে দেখে যে কেউই বুঝবে যে মেরিনের কাটা হাত দেখে ওরই বেশি কষ্ট হচ্ছে। মেরিন নীড়কে দেখছে। মেরিন দুম করে নীড়ের ঠোটে কিস করে দিলো। এরপর অন্যদিকে তাকিয়ে রইলো। নীড় মুচকি হাসি দিলো। . কিছুদিন পর.... নীরা সুস্থ হলো। ওকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো। নীড় : আমরা airport কেন এলাম বলবা? মেরিন: কাউকে welcome জানাতে.... নীড়: তোমার কাজ সত্যিই অদ্ভুদ। মেরিন: আমি জানি। নীড় : কাকে welcome জানাতে এসেছি সেটা তো বলবে...? মেরিন: সামনে তাকান বুঝে যাবেন.... নীড় সামনে তাকালো। দেখলো নীরা হেটে আসছে । সাথে ৬-৭জন গার্ড। নীড় : নীরা.... মেরিন: your love... নীড় : তু.... মেরিন দৌড়ে গিয়ে নীরাকে জরিয়ে ধরলো। মেরিন: আপু.... নীরা তো অবাক সেই সাথে হয়ও পাচ্ছে প্রচুর । মেরিন এতো নরমাল ব্যাবহার করছে। এরমানেই ঝামেলা আছে। মেরিন : thanks god... যে তুমি ঠিক আছো... সুস্থ আছো। তুমি না বাচলে যে আমার নীড় uffs.... তোমার নীড়ও... তোমার বিরহে তো নীড় পাগল হয়ে গেছে... সত্যি একেই বলে ভালোবাসা। যে ভালোবাসা কখনো আমায় দিয়ে হবেনা। আমার তো বন্দুক ঠেকানো ভালোবাসা... উনি তোমাকে মন থেকে ক্ষমা করে দিয়েছে। এমন ভালোবাসা আর কোথাও পাবেনা । যাও গিয়ে নতুন করে জীবন সাজাও। মেরিনের কাহিনি নীড়ের মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। তবে মেরিন যে অভিমানে সব করছে সেটা বেশ বুঝতে পারছে। মেরিন নীরার হাত টেনে এনে নীড়ের হাতে দিলো। এরপর ওদের হাতে ১টা envelope দিলো। মেরিন : এটাতে switzerland এর tickets আছে। এটা আপনাদের জন্য আমার gift... honeym.... uffs pre-honeymoon এর.... all the best... bye.... বলেই মেরিন চলে যেতে নিলে নীড় ওকে টেনে নিজের কাছে আনলো। নীড়: এসবের মানে ক.... আর বলতে পারলোনা। মেরিন নীড়ের ঘাড়ে ১টা injection মেরে দিলো। নীড় জ্ঞান হারালো। . ৩ঘন্টাপর.... দেখলো ও ১টা রুমের মধ্যে আবদ্ধ। বেশ বড় রুমটা। সাথে attached kitchen & washroom ও আছে। পাশ ফিরে দেখে নীরা শুয়ে আছে । নীড় লাফ দিয়ে ওখান থেকে সরে এলো। তখন নীড় কারো হাসির শব্দ পেলো। কিন্তু কাউকে পেলোনা। মেরিন : কি খুজছেন? আমাকে? পাবেন না... খু....ব শখ না আপনার আমাকে ফেলে নীরার কাছে যাওয়ার? ওর সাথে থাকার... নিন থাকুন। যতোদিন ইচ্ছা থাকুন... আপনার ইচ্ছা পূরন না করে পারি.... নীড় : ইচ্ছা পূরন? আমার আরো কতো ইচ্ছা ছিলো। পূরন করেছিলে... মেরিন : আপনাকে মুক্তি দেয়ার তো... সেটা তো সম্ভব না। তবে ১টা offer কিন্তু দিয়েছিলাম... আমার আম্মুকে যদি খুজে বের করেন তবে আপনাকে মুক্তি দিবো। নীড় : .... মেরিন : whatever ... আপনাকে ভালোবাসি। কিন্তু ভুলের শাস্তি দিবোনা এটা ভাবা ভুল। enjoy your punishment .... মানে pre-honeymoon.. নীড়: ভুল করলে মেরিন... পস্তাতে হবে তোমায়... ভালোভাবে বলছি আমাকে এখান থেকে বের করো.... মেরিন :না করলে? নীড় : তুমি কিন্তু ভালো মতোই আমকে চেনো। মেরিন : শাস্তি দিবেন? মেরিনের জন্য আর নতুন কোনো শাস্তি নেই। bye.... . একটুপর... মেরিন রুমটার camera on করলো। কিন্তু on হচ্ছেনা। মেরিন: মানে কি? মেরিন ফুটেজ দেখতে লাগলো। দেখলো নীড় ক্যামেরার সামনে এসে ঠাস করে ভেঙে দিলো। মানে ভাঙতে নিলো। ভাঙার পর তো আর দেখা যায়না। 😅। মেরিন ছুটে গেলো। আসলে ও তো পাশের রুমেই ছিলো। দেখলো দরজা ভাঙা। আর নীরা হাত-পা-মুখ বাধা অবস্থায় আছে। সেই সাথে থাপ্পরের দাগ। আর মাথা ফেটে রক্তও বের হচ্ছে । দেয়ালে রক্ত দেখলো । যার মানে দেয়ালে নীড় নীরার মাথা ফাটিয়েছে। কিন্তু কোথাও নীড় নেই। মেরিন নীরার চুলের মুঠি ধরে বলল: আমার নীড় কোথায়? বল আমার নীড় কোথায়? নীরার এমনিতেই হাল খারাপ। তারওপর মুখ বন্ধ। উত্তর দিবে কি করে? মেরিন : কথা বলছিস না কেন? জন.... জন... জন দৌড়ে এলো। মেরিন: নীড় কোথায়? জন: দেখিনি ম্যাম... মেরিন: কেন চুরি করতে গিয়েছিলে.... stupid ... এটাকে নজরে রেখো। বলেই মেরিন নীড়কে খুজতে বেরিয়ে গেলো। পাগলের মতো খুজতে লাগলো নীড়কে। পেলোইনা । লোক লাগিয়ে দিলো চারিদিকে লোক লাগিয়ে দিলো নীড়কে খোজার। কিন্তু পেলোনা। . ৩দিনপর.... নীড়ের কোনো খবর নেই। মেরিন তো পাগল প্রায়। খাওয়া-দাওয়া-ঘুম সব বন্ধ। অসুস্থ হয়ে পরেছে মেরিন। মেরিন : কেন সেদিন এমন করলাম... কেন এমন শাস্তি দিলেন আমায়.... আমি.... তখন নীলিমা পাগলের মতো দৌড়ে এলো। নীলিমা : নীড় ফিরেছে.... মেরিন কথাটা শুনে এই শরীর নিয়েই দৌড়ে নিচে নামলো। গিয়ে দেখে নীড় দারিয়ে আছে । ছুটে গিয়ে নীড়কে জরিয়ে ধরলো। হাউমাউ করে কাদতে লাগলো। মেরিন: কেন আমাকে ছেরে গিয়েছিলেন? কেন কেন কেন? এতো বড় শাস্তি কেন দিলেন? 😭 । আর কখনো আমি এমন করবোনা। আপনি কেন বোঝেন না.... কেন চলে গেলেন... আমাকে মারতেন বকতেন.. কথা দিন আর কখনো আমাকে ছেরে যাবেন না please ... নীড় বুঝতে পারলো মেরিনের মনের হাল। তাই নীড়ও মেরিনকে শক্ত জরিয়ে ধরলো। নীড় : যাবোনা.... মেরিন : promise .... নীড় : promise ... নীড় মেরিনের মাথায় চুমু দিলো। মেরিন নীড়কে ছারলো। কিন্তু ছেরে যেই নীড়ের পিছে নজর গেলো মেরিনের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেলো। কারন কনিকা-নাসিম দারিয়ে আছে। মেরিন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেনা। ও ধীর পায়ে কনিকার দিকে এগিয়ে গেলো। কনিকার মুখে হাত বুলিয়ে দিলো। না মেরিন আর মেনে নিতে পারলোনা। অজ্ঞান হয়ে গেলো। কবির মেরিনকে ধরতে এলে নীড় বাধা দিলো। ধরতে দিলোনা। সবাই হাজার চেষ্টা করেও মেরিনের জ্ঞান ফেরাতে পারলোনা। শেষে ডক্টর তপুকে ডাকা হলো। নীড়ের তপুকে সহ্য হয়না। কিন্তু তপুই মেরিনের treatment এর জন্য better .... তাই ওকেই ডাকলো। তপু চেক করলো।। তপু: কতোবার বলেছি ওকে tension free রাখতে.... ওকে চাপ না দিতে.... খেতে দেননা ওকে নাকি? এরপর ওর কিছু হলে আর আমাকে ডাকবেন না। বলেই তপু চলে গেলো। . রাতে.... ১টা বাজে.... নীড়ের চোখ লেগে এসেছিলো... তখন নীড় শুনতে পেলো : আম্মু.... নীড় তারাতারি চোখ মেলল। দেখল মেরিন চোখ মিটমিট করছে। আর চোখ বেয়ে পানি পরছে... নীড় : মেরিন.... মেরিন : আম্মু... নীড় নিহালকে ফোন করলো। ফিসফিস করে বলল : বাবা.... মেরিনের জ্ঞান ফিরেছে। মামনিকে বলো যে আম্মুকে ডেকে নিয়ে আসে। নিহাল : হামম। নীড় মেরিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। কিছুক্ষন পর সবাই রুমে ঢুকলো। . কনিকা মেরিনের পাশে বসলো। এরপর নিজের কোলে মেরিনের মাথাটা নিলো। এরপর মাথায় হাত বুলাতে লাগলো। কনিকা : আম্মুই... ও আম্মুই.... আম্মুইরে.... দেখো সোনাবাচ্চা আম্মু এসেছি। দেখো ছোট পাখি। আম্মুই টা.... ও আম্মুইটা.... মেরিন কানে সব শুনতে পাচ্ছে। কিন্তু চোখ মেলতে ইচ্ছা করছেনা। ভয় করছে। যদি চোখ মেলে আর কনিকাকে না পায়। কনিকা : আম্মুই... দেখো না... ও মা টা... মেরিন ধীরে ধীরে চোখ মেলল। উঠে বসলো। দুচোখ ভরে মাকে দেখতে লাগলো। চোখ দিয়ে অনবরত পানি পরছে। কনিকা মেয়ের চোখের পানি মুছে দিলো। মেরিন কনিকাকে জরিয়ে ধরে কাদতে লাগলো। আর কনিকাও কাদতে লাগলো। মেরিন : কেন আমাকে একা ফেলে চলে গিয়েছিলে ? কেন এই নষ্ট পৃথিবীতে আমার থেকে আলাদা হলে... কেন আমায় সাথে করে নিয়ে গেলেনা... কেন নিয়ে গেলেনা... কেউ আমাকে ভালোবাসেনা আম্মু.... আদর করেনা ... সবাই ঘৃণা করে... আমিও আমাকে ঘৃণা করি... তুমিও কি আমায় ঘৃণা করবে আম্মু... আম্মু আমি পচা হয়ে গেছি... তোমার আম্মুই পচা হয়ে গেছে... খারাপ হয়ে গেছে... তুমিও কি আমাকে ঘৃণা করবে? আমাকে আদর করবেনা? ও আম্মু... ও আম্মু... আম্মুরে... জানো বাবাও না আমাকে ঘৃণা করে... আগের মতো আদর করেনা, কোলে নেয় না, খাইয়েও দেয় না... জানো বাবা কি বলে... বাবা বলে আমি নাকি তার মেয়ে না... আম্মু তুমি না বলতে আমি নাকি বাবার মতো হয়েছি.... আমার চোখ নাক ঠোট পাপড়ি কপাল ... সব বাবার মতো... তুমি না বলতে রাগও করি বাবার মতো... হাসিও বাবার মতো... তাহলে বাবা কেন ওই কথা বলে... জানো আরো কি বলে... বলে আমি নাকি পাপের ফসল... আরো কি বলে জানো... বলে আমি নাকি তোমার মতো। চরিত্রহীনা... জানো আম্মু... এগুলো শুনলে আমার না ভীষন কষ্ট হয় এগুলো শুনলে... মনে হয় কেউ বুকের ওপর ছুড়ি চালাচ্ছে। ও আম্মু বাবাকে বলোনা যেন এমন কথা আর না বলে... আমার ভীষন কষ্ট হয়.... বলবে বলো... ও আম্মুরে... বলোনা বলবে.... বলোনা... বলবে... কনিকা কাদতে কাদতে বলল : হ্যা বলে দিবো... শান্ত হও মা। কান্না থামাও বাচ্চা... আর কেউ তোমাকে ঘৃণা করবেনা.... তোমার বাবাও আবার তোমাকে আদর করবে.... কাদতে কাদতে ১পর্যায়ে মায়ের বুকেই ঘুমিয়ে পরলো মেরিন। কনিকাও সারারাত মেয়েকে বুকে নিয়েই পার করলো। . রাত পার করতে করতে অতীতের বাকী অংশ জেনে আসি। {{{ কনিকা কোনোরকমে নিজের পরিবারের সূত্র জানতে পেরেছিলো। তাই তার গভীরে যাচ্ছিলো। যেটা শুনে সেতু যা তা বলছিলো। তাই নিজেই গোপনে সত্য খুজতে লাগলো। নাসিমকে ছারা কাউকে বলেনি... যদি বাকীরা মজা নেয়। যদি বলে এতিমের আবার নিজের পরিচয় জানার স্বাধ। সেই সত্যের সন্ধানে যেতো। অথচ যেই সেতুর ভয়ে কথাটা কনিকা গোপনে রেখেছিলো সেই সেতুই সুযোগ বুঝে কবিরের কান ভরেছিলো। মিথ্যা ছবি, মিথ্যা প্রমান সব বের করেছিলো। কবিরও বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছিলো। সেতু এটাও প্রমান করেছিলো যে মেরিন রনকের ছেলে। তবে মেরিনের নামে খান বাড়ির সব সম্পত্তি থাকায় মেরিনকে সাথে নিতে বাধা দিয়েছিলো কনিকাকে... কবির কনিকাকে মেরিনের কসম দিয়েছিলো যেন কনিকা আর কখনো ওদের সামনে না আসে। আসলে মেরিনের মরা মুখ দেখবে। তাই কনিকা এতোদিন কারো সামনে আসেনি। নাসিম যখন মাজার থেকে এসে সব শুনলো তখন কনিকাকে খুজতে বেরিয়ে গেলো। কিন্তু নিলয় এসে তাকে আটক করে ফেলল। তাই সেও আর ফিরলোনা। }}} . পরদিন... মেরিনের ঘুম ভাঙলো । দেখলো ও মায়ের বুকে। কনিকা : good morning বাচ্চা... মেরিন : আম্মু..... নীড় : বলি হলো মা-মেয়ের ঘুম হলো...? কনিকা-মেরিন পিছে ঘুরলো। নীড় : good morning... কনিকা : good morning ... নীড় : তারাতারি fresh হয়ে নাও ২জন... আধাঘন্টার মধ্যে press conference আছে... ২জন অবাক হলো। মেরিন : press conference ? নীড় : হামম। hurry up... একটুপর press conference হলো। সেখানে সবার সামনে কনিকার গায়ে মাখা কালির দাগ মুছে দিলো নীড় । সেই সাথে বেরিয়ে এলো কনিকার আসল পরিচয়। কনিকা হলো মাহমুদ বংশের মেয়ে। . কিছুক্ষনপর... সবাই বসে আড্ডা দিচ্ছে। কিন্তু মেরিন নেই। নীড় মেরিনকে খুজছে। সিড়ির দিকে তাকালো। দেখলো off-white রঙের ১টা শিফনের শাড়ি পরে চুল গুলো ছেরে দিয়ে নামছে। শাড়িতে চিকন গোল্ডেন রঙের পার। কোনো সাজ নেই। কেবল নাকে নাকফুল কানে দুল, হাতে চুরি, গলায় ছোট্ট ১টা চেইন। হাতে ১টা envelopeও আছে। নীড় সেটা নিয়ে মাথা ঘামালোনা। কারন ও মেরিনকে দেখতে ব্যাস্ত। বউ বউ লাগছে। মেরিনের মুখে ১প্রশান্তির হাসি । মেরিন এসে নীড়ের সামনে দারালো। নীড় বসা থেকে উঠে দারালো। মেরিন হাসি দিয়ে বলল : ধন্যবাদ... নীড় : !!! মেরিন : খামটা আপনার জন্য। ধরুন... নীড় ধরলো। মেরিন: খুলে দেখুন। নীড় খুলল। ভেতরের কাগজটা পড়ে সাংঘাতিক ক্ষেপে গেলো। কারন এটা divorce paper .. ঠাস করে ১টা থাপ্পর মারলো। . চলবে...

@Kamrul16

অনুভূতি #অনুভূতি_সিজন🍁২ #Roja_islam #part 29 ৮ বছর পড়..... ডাইনিং এ বসে বর্ণ! হাতে তার খাবার প্লেট পাশে বসে আদ্রিতা! বর্ণের মেয়ে! বর্ণ খাইয়ে দিচ্ছে তার মেয়েকে। ৭ বছর এর মেয়েটা বড্ড পাকা তোতা পাখির মতো পটর পটর করছে আর খাচ্ছে! বর্ণ অতি উৎসুক দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তা শুনছে। সারাদিন স্কুলে কি করেছে সেটা বানিয়ে চরিয়ে বলছে আদ্রতি তার বাবাকে! অনেক ইতিহাস বানিয়ে চরিয়ে বলে কিছুক্ষণ চুপ থাকে আদ্রিতা। তা দেখে বর্ণ সরু চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে! . -- কি চাই আমার তোতা পাখির??? -- আর দেরি করেনা আদ্রিতা বলে উঠে। বাবা কাল আমার সাইকেল চাই আমিও রাফির মত সাইকেল চালিয়ে বিকেলে খেলবো৷ তার পর রাফির সাথে ঘুরতে যাবো৷ . কথাটা বলেই আদ্রিতা ভীতু চোখে তাকায় বাবার দিকে!! বর্ণ কপাল কুচকে আদ্রিতার দিকে তাকিয়ে বললো। . -- হ্যাঁ রাফির সাথে ঘুরতে গিয়ে তারপর মার খেয়ে ভ্যা ভ্যা করে কান্না করতে করতে বাড়ী ফিরবে তাই তো?? -- আদ্রিতা এবার হেসে কুটিকুটি হয়ে বললো৷ হিহি বাবা একটা সিক্রেট বলি তোমায় কাউকে বলোনা মা কেও না!! আমায় রাফি কখনো মারে না। আমি ওকে মেরে কেদেদি জেনো ও আমায় না মারে আর ভয়ে কাউকে কিছু না বলতে পারে বুঝেছো?? ভালো বুদ্ধিনা 😎 -- বর্ণের হাসি পেলেও মেয়ের বুদ্ধিতে খুশী হলো৷ তাও বললো৷কিন্তু আমার তোতা পাখি রাফিকে মারে কেনো?? -- কারণ ও আমার থেকে বেশী মিলির সাথে পটর পটর করে বাবা এটা আমার একদম পছন্দ নয়৷ ও কেনো মিলির সাথে কথা বললে বলো আমি আছি তো জানি?? . বর্ণের মাথায় ঢুকছেনা এই টুকুনি মেয়ের ব্যাপার স্যাপার। এই টুকু মেরের জেলাসিও থাকে জানতো না বর্ণ!! এর মধ্যে পিছন থেকে আদ্রিতা তার মার কণ্ঠ শুনে ভীতু চোখে বাবার দিকে তাকিয়ে বলে উঠে! . -- বাবা মাকে বলে দিও না কিন্তু!! -- বর্ণ মাথা দোলায়! হু? -- কি করছো তোমার এখানে?? -- আদ্রিতা মাকে বলে উঠে। আম্মু বাবা আমায় সাইকেল কিনি দেবে বলেছে!! . আদ্রিতার কথায় বর্ণ তার বৌ এর মুখ এর দিকে তাকিয়ে মুখ কাচুমাচু করে। কারণ তার বৌ রেগে তার দিকে তাকিয়ে আছে। তা দেখে বর্ণ নিজেকে বাঁচাতে বলে উঠে। . -- তোতা পাখি আমি বলেছি না তুমি চেয়েছো?? -- আদ্রিতা রেগে বললো। ছিঃ বাবা তুমি মাম্মার ভয়ে আমার দোষ দিচ্ছো?? -- বর্ণ কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা। ইয়ে মানে.... -- চুপ করো তোমরা দু জন। তোমাদের জন্য আমি শান্তি পাচ্ছিনা জাস্ট!!পাগল হয়ে যাবো আমি। কি পেয়েছো তোমরা?? পুরো শহরের বিচার আমার বাসায় আনবে?? তাই তো সাইকেল কিনে দিচ্ছো মেয়েকে?? এই এই মেয়েরা সবাইকেল চালায়?? -- আরফা সরি আসলে সত্যি আমি বলি নি কিনে দিবো!! -- বর্ণের কথায় আদ্রিতা এবার রেগেই বললো। বাবাই কাট্টি।তুমি মিথ্যে বলছো আমার নামে। বলেই আদ্রিতা হন হন করে চলে গেলো। -- বর্ণ অসহায় দৃষ্টিতে আরফার দিকে তাকিয়ে বললো। আরফা আমি সত্যি বলছি বিশ্বাস করো আমি বলিনি!! -- আরফা রেগে চিৎকার করে বললো৷ কেনো বলো নি কেনো?? কয় টা সাইকেল বাপ বেটি মিলে ভাংছো হিসেব আছে আরো কিনে দাও আরো ভাঙো আমার কি আমার কথা তুমি তোমার মেয়ে শোনো?? পুরো শহরের বিচার আনাও বাসায় আমার কি? প্রতিদিন ১০০ টা বিচার আসে বাসায় তোমার জন্য আমি কিছু বলতে পারিনা তোমার মেয়েকে। এবার আমি পালিয়ে যাবো এই সংসার থেকে৷আমি জাস্ট আর পারছিনা!! . আরফা হাবিজাবি বলতে বলতে চলে গেলো। বর্ণ ভোতা মুখ করে বসে রইলো। এই টুকুনি মেয়ে তার কিভাবে ফাসিয়ে দিলো তাকে। সে ভেবে পাচ্ছেনা!! বর্ণ প্লেট ডাইনিং এ রেখে হাত ধুয়ে আরফার পিছন পিছন গেলো বৌ এর রাগ ভাঙাতে। . -- আরফা এই শোনো না?? -- তুমি কথা বলবেনা!! তোমরা কি ভেবেছ আমি শুনিনি ও রাফিকে মারে আমি সব শুনেছি। তোমরা মেয়ে কত দুষ্ট আর তুমি ওকে কিছুই বললে না সব শুনার পর ও?? -- আরে বাবা ও বাচ্ছা মেয়ে বুঝেই কত টুকু বলো?? -- ও বাচ্ছা?? . অদের কথার মাঝেই কানে এলো রাফির কান্নাকাটি আরফা বর্ণ দৌড়ে গেলো বাইরে। গিয়ে দুজন হকচকিয়ে গেলো কারণ৷ আদ্রিতা রাফির পিঠে চরে তাকে মারছে আর রাফি নিচে শুনে চিৎকার করে কাদছে! হাত পা ছুড়াছুড়ি করে। আরফা বর্ণ দৌড়ে যায় দুজনকে ছাড়াতে কিন্তু হাজার চেয়েও ছাড়াতে পারছেনা আদ্রিতাকে সে কিল-ঘুষি দিয়েই যাচ্ছে রাফির পিঠে আর চিৎকার করছে৷ আরফা না ছাড়াতে পেরে মাথায় হাত রেখে বসে পড়ে বর্ণ অনেক কষ্টে ছাড়ায় রাফিকে৷ আর জিজ্ঞেস করে আদ্রিতাকে। -- তোতা পাখি কেনো মারছো ওকে?? -- বাবা ও আবার মিলির সাথে কথা বলেছে! -- রাফি করুণ স্বরে বলে উঠে। তোতা পাখি আমি সত্যি কথা বলিনি ওই নিজেই এসে কথা বলেছে৷ -- এই কে তোতা পাখি আমি শুধু মাত্র বাবার তোতা পাখি আর কাউর না। -- হিহি তুমি আমার তোতা পাখি বাবা না। বলেই রাফি দৌড়৷ . আদ্রিতাও রাফির পিছন দৌড়। আরফা আর বর্ণ নিজেদের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে ফিক করে হেসে দিলো আদ্রিতা রাফির কথা শুনে। বর্ণ হাসতে হাসতে বললো! . -- আদ্রিতা একদম বেলার মতন হয়েছে বেলা ও..... এই টুকু বলেই চুপ হয়ে যায় বর্ণ। -- আরফা হাসি থামিয়ে বর্ণের হাত ধরে নিয়ে ড্রইং রুমে বসায়। নিজেও পাশে বসে বর্ণের কাধে মাথা রেখে বলে উঠে। তুমি মিস করো খুব বেলা কে তাই না? -- বর্ণ আরফার দিকে তাকিয়ে বললো। তুমি মিস করোনা রাফিন কে?? -- ভীষণ!! -- আমিও বেলাকে মিস করি ভীষণ!! জানো?? -- কি? -- আদ্রিতাকে এতো ভালোবাসার কারণ?? -- কাউকে ভালোবাসার কারণ থাকে?? -- আদ্রিতাকে ভালোবাসার আলাদা একটা কারণ আছে আমার মনে!! -- সেটা কি?? -- আদ্রিতার এই পাগলামো গুলো একদম বেলার মতো। বেলা বিয়ের পরেও প্রচুর বাচ্চা সভাবের ছিলো। সব কিছুতে দুষ্টুমি কতদিন যে খাবারে ঝাল মিসিয়ে খাইয়ে কাদিয়েছে। সেটা ও নিজেই জানত না৷ এই ঝাল ই আমার প্রথম কাছে আসার কারণ ছিলো। সব কতটা দ্রুত শেষ হয়ে গেলো আরফা! ওর জন্য আমার অনুভূতি গুলো মনেই দলা পাকিয়ে রইলো কিছুই বলা হলোনা আরফা কিছুইনা! কেনো এতো টা এলোমেলো হয়ে গেলো সব? . আরফা নিরবে মাথা নুইয়ে আছে। কিছুই বলার নেই যে। সেও তো ভাবে কোনদিন এভাবে আবার তাদের জীবনে ঝড় আসবে আর সব বদলে দিবে৷ কিন্তু এবার ওদের আলাদা করতে ঝড় আসেনি এসেছিলো ওদের এক করেদিতে। কিন্তু আরফা কোনদিন স্বপ্নেও এভাবে তাদের মিল হক সে চায় নি।চায়নি কাউর প্রাণ যাক। সেতো সব ভুলে নতুন করে শুরু করেছিলো। এটাও চেয়েছিলো।বর্ণ ভালো থাক বেলার সাথে তবে কেনো এমন হলো? . . ৮ বরছ আগে ঐদিন রাহি বেলাকে নিয়ে ডক্টর দেখাতে বের হয়। রাস্তায় তাদের গাড়ি টা এক্সিডেন্ট হয় মারাত্তক ভাবে। একটা বড় ট্রাক এর ধাক্কায় ওদের গাড়ি একটা বড় খাদে পড়ে যায়। ড্রাইভার এর বডি দুইদিন খুজার পড় পানি থেকে উদ্ধার করা হয়৷ রাহি আর বেলাকে গাড়ি থেকেই পাওয়া যায় এক্সিডেন্ট এর দিনি। কিন্তু বেলাকে তখনি মৃত ঘোষণা করা হয়। রাহির পালস চলছিলো তাকে ইমেডিয়েটলি হস্পিটাল এডমিট করা হয়। পরিবারের সবার কানে এই নিউজ যাওয়ার সাথে সাথেই সবার পাগল হয়ে যাওয়ার অবস্থা। সব থেকে অবস্থা খারাপ ছিলো। বর্ণ ও বেলার চাচ্চুর। বেলার চাচ্চু যে বেলাকে এতোটা ভালোবাসে তা দেখে ফ্যামিলির সবাই হতভাগ ছিলো৷ বেলার চাচী ইমান অজ্ঞান ছিলো কেদে। বর্ণ পাগলের মতন ছিলো বেলাকে হারিয়ে শুধু রাহির পাশে বসে ছিলো সে তাকে বোনের কাছ থেকে দূরে নেওয়া যায়নি তার ধারণা ছিলো রাহিকে একা ছাড়লে রাহিও বেলার মতন দূরে চলে যাবে। বর্ণ সব বুঝতে পারছিলো বেলা তাদের মধ্যে আর নেই কিন্তু সে এটা কিছুতেই মানতে পারছিলোনা মেয়েটা নেই আর তার কাছে। ঐদিকে বর্ণের বাবা ছেলে বৌ আর মেয়ের এই অবস্থা দেখে। স্ট্রোক করেন উনাকেই রাহির সাথে এডমিন করা হয় উনি এই অতিরিক্ত চাপ নিতে পারেন নি।অবশেষে বর্ণের বাবাকে হস্পিটাল এ রেখেই বেলা আর ড্রাইভার এর দাফন কাজ সম্পূর্ণ হয়। বর্ণ বেলা আর ড্রাইভার এর দাফন কাজের সময় থেকে কেমন শক্ত হয়ে যায়! সে শুধু নিচে তাকিয়ে থাকতো। খুব কষ্ট এর মাঝে ৭ টা দিন বেলা ড্রাইভার এর শকে চলে দুই পরিবারের বর্ণকে খুব সাপোর্ট করে ইমান বেলার চাচ্চু নিজের মেয়ে বোন হারিয়ে ও৷ ৭ দিনেও রাহির অবস্থা খুব একটা ভালোনা। ডক্টর ঠিক করে কিছু বলতেও পারেনা আধো রাহি ঠিক হবে কিনা। এর মধ্যে বর্ণের জন্য আরো কষ্ট চলে আসে বর্ণের বাবার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়৷ তিনি ছেলেকে দেখতে চায়। কিন্তু বর্ণ রাহির পাশ থেকে উঠেইনা তাকে এক প্রকার জোর করেই তার বাবার কাছে নেওয়া হয়। বর্ণ তার বাবার বেহাল চেহারা করুণ অবস্থা দেখে দৌড়ে গিয়ে বসে বাবার পাশে হাত ধরে পাগলামো শুরু করে বর্ণ। . -- এই বাবা তুমি ও চলে যাবে বেলার কাছে?? যেওনা বাবা আমি একা হয়ে যাবো বেলাকে ফিরে আসতে বলো বাবা আগের মতো এনে দাও ওকে বাবা৷ বর্ণ চিৎকার করে বাবার হাত ধরে কাদে। -- বর্ণ এর বাবা ছেলের হাহাকার সহ্য করতে পারেনা বহু করে বলে উঠে। আমায় ক্ষমা করে দে বাবা আমি তোদের ভালো চাইতে গিয়ে সব সময় তোদের খারাপি করে ফেলেছি। আমায় ক্ষমা করে দেএর একদিন পর বর্ণ এর সামনে তার বাবা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। বর্ণ আর ঠিক থাকতে পারেনি পাগলামো শুরু করে৷ রাহির কথাও সে ভুলে যায়। এক প্রকার অসুস্থ হয়ে পড়ে বর্ণ। তাকে কোনভাবেই স্বাভাবিক করা যায়নি। বেলার চাচ্চু হতভাগ হয়ে পড়ে ডক্টর বর্ণকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। বর্ণকে কিছুতেই স্বাভাবিক না করতে পারায়। বর্ণকে ছাড়াই বর্ণের বাবার দাফন কাজ সম্পূর্ণ করে। সবার প্রচুর খারাপ লাগে বর্ণের জন্য যথাসম্ভব সবাই পাশে থাকে বর্ণের৷ রাহির তখনো কোন জ্ঞান নেই সে জানেই না সে কত প্রিয় মানুষ কে হারিয়েফেলেছে তার বাবা ভাবী বেচে নেই৷ জানবে কিভাবে সে নিজেও যে মৃত্যুর সাথে লড়ছে১ মাস পেরিয়ে যায় বর্ণ আস্তে আস্তে মানোসিক রোগীতে পরিনত হয়। আল্লাহ জেনো বর্ণকে জীবনের সব কষ্ট এক বারে দিয়েছেন এই ১ মাসে। কিন্তু আল্লাহ দোয়া শিল তার দোয়ায় রাহি আস্তে আস্তে অনেক টা সুস্থ হতে থাকে। এতোটা কঠিন সময় সবাই পার করছিলো বর্ণ আর রাহিকে নিয়ে। যে তাদের কষ্টের ও সীমা ছিলো না। রাহির সুস্থতা দেখে সবার মনে একটু শাস্তি অনুভব হয়। বর্ণের অসুস্থতার পর ইমান ছিলো রাহির আগে পিছে। ইমান এমন ভাবেই রাহির পাশে ছিলো জেনো রাহি নয় বেলা অসুস্থ। রাহির সুস্থতায় সবার ভালোলাগলেও দুশ্চিন্তার শেষ ছিলোনা। চিন্তা একটাই এতোকিছুর পর মেয়েটা সুস্থ হচ্ছে এখুনি সব শুনলে তার কি অবস্থা হবে?? সব শুনে তো এভাবেই মরে যাবে রাহি। সবাই সিদ্ধান্ত নেয়। রাহিকে এখুনি কিছু জানাবেন না৷ কিন্তু বললেইকি আর তা করা সম্ভব?? ৩ মাস এর শেষ এর দিকে রাহি সুস্থ হয় মোটামুটি ভালোভাবেই। কিন্তু বর্ণের অবস্থা ততই খারাপ। রাহি পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগ থেকে ভাই ভাবী বাবাকে খুজে অস্থির কিন্তু ইমান বেলার চাচ্চু সব সামলে নেয়। রাহিও অসুস্থ অবস্থায় এতো চাপ দিতে পারেনা। কিন্তু রাহি পুরোপুরি সুস্থ হলে একদিন ইমান সব বলে দেয় রাহিকে। রাহি খুব কাদে কিন্তু ভেঙে পড়ে না। রাহি বরাবরই বুদ্ধিমান একটা মেয়ে। সে বুঝে যায় এখন তারো দুর্বল হলে চলবেনা। তার ভাইকে সুস্থ করতে হবে তার পাশে দাড়াতে হবে তাকে। বর্ণকে এভাবে অসুস্থ হতে দিতে পারেনা রাহি৷ সব জানার পরের ১ ঘণ্টার মধ্যেই বর্ণের সাথে দেখা করতে যায় রাহি। বর্ণকে মানোসিক হস্পিটাল এ রাখা হয়েছিলো৷ বর্ণের ঐখানের অবস্থা দেখে রাহি এক মুহূর্তের জন্য ভেঙে গুরিয়ে গিয়েছিলো । বর্ণ একি তার ভাই চিনছিলোনা রাহি। রোগী নয় পাগল বলবে যে কেউ বর্ণকে৷ রাহি এসব সহ্য করতে পারেনা ভাইকে নিয়ে বাড়ী ফিরে তৎক্ষনাৎ। রাহি বেলার চাচ্চু ইমান আর চাচীকে তাদের বাড়ীতেই থাকতে জোর করে। তারা রাজী হয়ে যায় দুই টা মানুষ কে এভাবে তো একা ছাড়া যায়না। বর্ণ কে বাড়ী আনারপর রাহিকে দেখেও চিনতে পারেনি তার বোনকে। বর্ণ পুরো পাগলের মতো আচরণ করে। সারাদিন আবোলতাবোল বকে কি জেনো। রাহি বুঝতে পারে অতিরিক্ত চাপ পরেছে বর্ণের উপর। বর্ণ ঐ ঘটনা মানতে পারেনি। রাহি বর্ণকে নিজে হ্যান্ডেল করার চেষ্টা করে ব্যার্থ রাহি শেষে বড় বড় ডক্টর দেখায়। এর পর প্রায় ২ বছর পড় ডক্টর এর পরামর্শ আর রাহি বেলার ফ্যামিলির সেবায় বর্ণ সুস্থ হতে থাকে৷ পুরোপুরি সুস্থ হয় বর্ণ আরো ১ বছর পড়। সুস্থ হওয়ার পড় থেকেও বর্ণ চুপচাপ ই থাকতো রাহি বলতোনা কিছু কারণ রাহি জানে বর্ণ বেলাকে নিয়েই ভাবে অনুশোচনায় ভোগেন বর্ণ। কিন্তু মুখে কিছুই প্রকাশ করেনা বর্ণ। কার কাছে করবে? যার কাছে করা দরকার সেত ঝড়ের বেগে চলে গেছে দূরে কোথাও। এখন বেলার কথা মনে পড়লেও বর্ণের চোখে ভাসে বেলার রক্তে ভেজা শরীরটা ফ্যাকাসে ক্ষতবিক্ষত মুখটা। আর ঝাপসা হয়ে আসে চোখ দুটো। সব অনুভূতি তখন একত্রে চোখের পানি হয়ে গরিয়ে পরতে চায় বর্ণের। রাহির অনেক বলায়। বর্ণ আবার তাদের অফিস জয়েন করে যেটা আপাদত অফিসের মেনেজার দেখছিলো৷ অফিস জয়েন করার পড়ে বর্ণ আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে পা রাখে। বেলার ফ্যামিলিকেও বর্ণ আর যেতে দেয়নি তারা রাহি আর বর্ণের সাথেই থাকে। বর্ণ সুস্থ হওয়ার পড় বেলাদের বাড়ী যায় ইমান কে নিয়ে। বেলার রুম থেকে তার প্রান প্রিয় পাখি গুলো আনতে। এনেছিলো ও কিন্তু সেগুলো মরে যায় অল্পদিন পড়েই কষ্ট হয় বর্ণের প্রচুর পাখি গুলো মরে যাওয়ায়। বর্ণ স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও। সে সারারাত জেগে থাকে সেই ডাইরিতে কিজেনো লিখে সারারাত হয়তো বেলাকে বলতে না পারা তার অনুভূতি গুলো লিখেই পার করে বর্ণ রাত টুকু। কারণ রাতেই বেলার মুখ টা তারা করে তাকে।ঘুমুতে দেয়না বর্ণকে। বর্ণের দিন গুলো এভাবেই চলছিল।তখনো বর্ণ ভাবেনি তার অতীত তার বর্তমান হবে আবারো। আরফা তার হবে আবারো৷ বর্ণ অফিস এর কাজে সিলেট যায়। সেটা প্রথম সুস্থ হওয়ার পর দূরে যাওয়া ভাবেনি বর্ণ তার জীবন এভাবে বদলে যাবে৷ কাজ শেষে ফিরার পথে দেখা হয় আরফার সাথে বর্ণের৷ আরফা তার শাশুড়ী তার মেয়ে আদ্রিতা এবং ননদীর সাথে বেরাতে যাচ্ছিলো। বর্ণ দূরে গাড়ি থেকেই আরফাকে দেখেছিলো। বর্ণের গাড়ী অনেক টুকুই চলে যায় বর্ণ থামাতে বলেনা গাড়ী ড্রাইভার কে৷ তারপর হঠাৎ ই মাথায় আসে সে আরফাকে কত কষ্ট দিয়েছে তার একবার অন্তত ক্ষমা চাওয়া উচিৎ আরফার কাছে৷ . . আরফা সবাইকে নিয়ে রাস্তা পার হবে পিছন থেকে নিজের নাম শুনতে পেয়ে আরফা পিছন ঘুরে অবাক না হয়ে পারেনা!! বর্ণ তার দিকে দৌড়ে আসছে কিছুদূর থেকে আরফা অবাক হয়ে তাকিয়ে রয় বর্ণের দিকে। কত বছর পড় দেখছে আরফা তার এক সময় এর এই প্রিয় মানুষ টাকে। আসলেই কি এক সময় এর শুধু? না সব সময়েরি কিন্তু সেটা অতীত হিসেবে৷ . বর্ণে দৌড়ে আরফার সামনে এসে দাড়িয়ে ফাপাতে থাকে তার পর ফ্যাকাসে হেসে বলে। . -- ভালো আছো?? . আরফা কি বলবে ভেবে পেলোনা৷ আরফা তার শাশুড়ী আর ননদ এর দিকে একবার তাকায় তারা বর্ণের দিকে তাকিয়ে আছে। আরফার কোলে ফুটফুটে আদ্রিতাকে দেখে বর্ণ আবার বলে।-- এটা তোমার মেয়ে??-- হু। বলেই আরফা শ্বাশুড়ি কে বলে উঠে৷ মা ও বর্ণ,, বর্ণ চৌধুরী আমার...আর কিছু বলতে পারেনা আরফা। তার আগেই মহিলা এসে বর্ণের হাত চেপে ধরে বর্ণের নাম শুনেই। বর্ণ আরফা অবাক হয়। তিনি কোনো কথা না বলে বর্ণকে সাথে নিয়ে রাফিনদের বাড়ী নিয়ে যায়৷বর্ণকে এক প্রকার জোর করে। আর বর্ণকে বলে তার বাবাকে এখানে আসতে বলতে।তাতে বর্ণ অবাক হয়ে বলে। -- আমার বাবা বেচে নেই। বর্ণের কথা শুনে আরফা অবাক হয় সাথে কষ্ট পায় বর্ণের জন্য।সে চলে যায় সেখান থেকে।আর বাবা নেই শুনে মহিলা বর্ণের হাত চেপে ধরেই বলে উঠে৷ -- তোমার আরফাকে বিয়ে করতে হবে আজি তুমি তোমার ফ্যামিলির কাউকে ডাকো এক্ষুনি। এই কথায় বর্ণ অবাক এর শেষে৷ কিন্তু সাফ না করে দেয় সে৷ .-- আমি পারবোনা আমার...... ! -- মহিলা রেগে বললো৷ কেমন ভালোবাসা তোমার মেয়েটা তোমার জন্য কতটা পাগল তুমি জানো৷ মহিলা আরফার রাফিনের বিয়ের প্রথম দু বছর এর আরফার তার জন্য করা সব পাগলামোর কথা খুলে বলে বর্ণ অবাক না হয়ে পারেনা সব শুনে। বর্ণ ভাবে সে কতটা ঠিক কতটা ভুল বুঝেছিলো আরফাকে। তার প্রচুর অনুশোচনা হলে বর্ণ আরফাকে বিয়ে করতে পারবেনা মনে মনে ঠান নেয় কারণ৷ বিয়ে করলে বেলাকে ঠকানো হবে৷ বর্ণ মহিলার সাথে পেরে উঠে না তিনি ইমোশনাল করে ফেলতে চাইছে বর্ণকে সে না পেরে রাহিকে কল লাগায়। রাহি জানায় সে আসছে সেখানে এড্রেস দিতে বর্ণ দিয়ে দেয়৷ এসবের কিছুই আরফা জানেনা না আরফা কিচেনে ছিলো। ঐদিন রাতেই রাহি কাজী সহ হাজির হয় আরফার শ্বশুর বাড়ী। আরফার শাশুড়ীর সাথে একা কথা বলে প্রায় ২ ঘণ্টা রাহি। আর সেদিন রাতেই তাদের বিয়ে হয়ে যায়৷ বর্ণ যদিও কিছুতেই রাজী ছিলোনা কিন্তু রাহি ভাইকে কান্নাকাটি করে রাজী করায়। আর আরফা এসবে পুরোটা সময় হতবিহ্বল হয়ে দাড়িয়ে ছিলো। আরফা ঘোরে ছিলো ঘোর কাটে যখন ওকে ওর ননদ আর রাহি বাসর ঘরে পাঠায়। আর সেখানে আরফা আদ্রিতা আর বর্ণের বন্ধুত্ব হতে দেখে। আরফা আর কিছু না ভেবে ওয়াশরুমে যায় দৌড়ে আর চিৎকার করে কাদে। বর্ণ আদ্রিতা শুনতে পায় সেই কান্না। দুজনেই তাকিয়ে থাকে ওয়াশরুমের দরজায়। বর্ণ সেদিকে তাকিয়ে থেকেই কোলে থাকা ছোট্ট আদ্রিতাকে জিজ্ঞেস করে -- তোমার বাবা কোথায়??ছোট্ট আদ্রিতা মাথা দুলায় শুধু সে দিন। ঐদিন এর পর দিন থেকে আরফা বর্ণের জীবন নতুন করে শুরু হয়৷ বেলা ফ্যামিলি আরফা বর্ণ রাফি এক সাথে পরিবারের মতন ই থাকে আরফাকে মেনে নেয় বেলার চাচী চাচ্চু। কিন্তু ইমান এর মন বুঝা যায় না...... ৷আরফার রাফিনের বাসায় যায় মাঝেমধ্যে তার শাশুড়ী রূপে মাকে দেখতে৷ আরফার মা বাবাও এখন মেয়ের খুশীতে খুশী৷ . বর্ণ আরফার কোলে মাথা রেখে সোফায় শুয়ে এতোক্ষণ অতীত এত স্মৃতি চারন করছিলো। আদ্রিতার মাথা দুলানো টা চোখে ভাসতেই সে চোখ খুলে আরফার দিকে তাকালো!! আরফা এক মনে বর্ণের চুলে বিলে কেটে দিচ্ছে। কিন্তু চোখ তার জানালা পেরিয়ে আকাশের দিকে৷ বর্ণ আবার চোখ বন্ধ করেই জিজ্ঞেস করলো আরফাকে। -- আরফা আদ্রিতার বাবার কি হয়েছিলো?? -- আরফা চমকে বললো। ডোন্ট ট্যাল মি। তুমি এখনো জানোনা?? আমাদের বিয়ের কত গুলো বছর পেরিয়ে গেছে!! -- রাহি বলতে চেয়েছিলো আমি শুনিনি৷ আমি শুধু জানি আদ্রিতার বাবা রাফিন আর বেঁচে নেই!! -- শুনোনি কেনো আমিতো শুনেছিলাম রাহির কাছে বেলার কথা। -- আরফা?? -- হু?? -- তুমিকি বিয়ের পর কোনদিন আমায় ভুলতে পারোনি?? ভালোবাসোনি রাফিনকে৷ -- রাফিনকে ভালোবেসেছি আমি তোমার পড়ে কিন্তু তোমায় ভুলতে পেরেছি কিনা জানি না৷ কারণ রাফিনকে ভালোবেসে ফেলেছি বুঝতে পেরে ওর সাথে নতুন করে শুরু করেছিলাম সব ভুলে। কিন্তু ভুলেও ভুলতে পারতাম না তোমায়৷ মাঝেমধ্যে তোমার কথা আমার মাথায় চরে বসতো আমি অস্থির হয়ে উঠতাম। ঐ সময় এর অনুভূতি টুকু কি ছিলো তার নাম আমি জানিনা... .আরফা কে অস্থির হতে দেখে বর্ণ উঠে জরিয়ে ধরে আরফাকে৷ তার পর বলে উঠে। -- বলবে কি হয়েছিল আদ্রিতার বাবার সাথে?? বর্ণের বুকে মাথা রেখেই আরফা বলতে শুরু করে। চলবে.. [ অনেক চেষ্টা করলাম আজকেই শেষ করার হলোনা। আর হ্যাঁ এখন গল্প টা ভালো না লাগলে আমার কিছু করার নেই কারণ আমি এভাবেই শুরু থেকে গল্প সাজিয়েছি। সব কিছুর হিন্ড ও আমি দিয়েছি আগেই। যে এমন হবে। আপনারা না বুঝলে আমারকি? 😑] Roja Islam

@Kamrul16

Love6 #বেলী_ফুলের_মালা #Mihrima_Mitali #পর্ব_২২ আবির হা করে তাকিয়ে আছে.... পাগল মেয়ে নাকি? রুহীর সাথে তর্ক করে লাভ নেই, তাই কিছু না বলে বেরিয়ে গেলো.... রুহী গোসল সেরে শাশুড়ীর সাথে সময় কাটাচ্ছে.. দুই ঘন্টা পর আবিরের ফোন.... - কি করছো পাগলী...?(আবির) - এই তো আম্মুর সাথে গল্প করি...( মলিন হাসি হেসে রুহী) - রেডি হয়ে নাও... আমি আসছি...(আবির) - মানে কি...? (অবাক হয়ে রুহী) - মানে আবার কি..? বাইরে যাবো তোমার সাথে... দ্রুত রেডি হয়ে নাও... আমি আসছি....(আবির) - ওকে.....(রুহী) - কি রে মা..? কি হয়েছে...? (আবিরের আম্মু) - আম্মু তোমার ছেলের ফোন, আমাকে রেডি হতে বলল.... কোথায় নাকি যাবে..... আমি এখন উঠি.....(রুহী) - আচ্ছা, যা.....(আবিরের আম্মু) রুহী রুমে এসে রেডি হচ্ছে, এর মাঝেই আবির হাজির..... - তোমার হলো.…?(আবির) - ও বাবা, এতো তাড়াতাড়ি তুমি চলে এসেছো...?(রুহী) - হুমম আসলাম..... কাজ শেষ তাই চলে আসলাম....(আবির) - কি কাজে গিয়েছিলে....? (চুল চিরুনী করতে করতে রুহী) - পরে বলব, এখন তুমি তাড়াতাড়ি করো.... চুল খুলে রাখবে না কিন্তু....(আবির) - কেন....?(রুহী) - আমি চাই না কেউ দেখুক..... আমি যেমন দেখে অজ্ঞান হচ্ছিলাম তেমন আর কেউ না হোক...(আবির) - ঢঙ... আমি এমনিতেই চুল খোলা রাখি না.... খোঁপা করে ফুলের মালা নিই....(রুহী) - সেদিন যে আভার কলেজে গেলে.... আমার মেজাজ তো ওই জন্যই আরও খারাপ হয়েছিলো...(আবির) - ওওও হিংসুক একটা..... ওই দিন তো আভা বার বার বলছিলো.... সেইজন্য গিয়েছিলাম.... (রুহী) - হুমম.... চলো এবার.... 🌺 একটা রেস্টুরেন্টে মুখোমুখি বসে আছে রুহী ও আবির... অর্ডার করা এমনকি খাওয়াও শেষ তবুও আবিরের ওঠার নাম নেই..... - কি হলো.….? উঠবে না....?(রুহী) - না, চুপচাপ বসে থাকো......(আবির) - কেন....? (রুহী) -........(আবির চুপচাপ ফেসবুকিং করে চলেছে, মেসেজিং করছে) - আবির, আমরা কি কারও জন্য অপেক্ষা করছি....? (রুহী) - হুমমম....(ফোনের দিকে তাকিয়েই আবির) - কার জন্য....?(উৎসাহ নিয়ে রুহী) - আরে বসেই থাকো না.... আসলেই দেখতে পাবে.... এতো কথা বলো কেন...?(আবির) রুহী মুখ গম্ভীর করে বসে আছে.. ফোনটাও আনেনি.. খচ্চর সাদা বিলাই...... মনে মনে আবিরের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্দ্বার করে চলেছে রুহী.... হঠাৎ আবির বলল..... - রুহী, তুমি উঠে ওই পাশের টেবিলে বসো... - কেন..? ওখানে কেন বসবো...?(রুহী) - এখন অন্তত এত কথা বলো না... প্লিজ যাও.....(আবির) রুহী এবার আর কোনো কথা বলল না... চুপচাপ গিয়ে পাশের টেবিলে বসে পড়লো... আবিরের উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে..... - তোকে তো আজ দেখে নেবো.. বেটা হনুমান... 😡 দেখি তোর কে এমন বিশেষ গেস্ট আসছে, যার সাথে মেসেজিং করতে গিয়ে তুই আমাকে ধমক দিস... আবার আমাকে উঠিয়ে পাশের টেবিলে বসতে বলিস....😡😡 শয়তান বেটা....(মনে মনে রুহী) আবির এবার ফোনটা পকেটে রেখে বসে আছে... কিছুক্ষণ পর একটা লোক এলো আর আবির দাঁড়িয়ে পড়লো..... - হাই, আমি আবির চৌধুরী..... (হ্যান্ডসেক করে আবির) - আমি সাকিব আহমেদ... রুহীর চোখ চড়কগাছ.... সাকিব এখানে, আবার আবিরের সাথে.... এই বজ্জাত এর জন্য আবির আমাকে ধমক দিলো.... এই উনার বন্ধু....😡 - কেমন আছেন...? (সাকিব) - জি আলহামদুলিল্লাহ.. আপনি...?(আবির) - অনেক ভালো.... তার উপর আপনার সাথে এভাবে দেখা হবে তা ভাবতেই পারিনি.... - তাই..(মুচকি হাসলো আবির) তো কি খাবেন...? কফি...? নাকি অন্য কিছু...? (আবির) - কোল্ড কফি....(সাকিব) আবির ওয়েটার ছেলেটাকে ডেকে অর্ডার করে দিলো..... - আপনার নাম অনেক শুনেছি, কিন্তু আপনার সাথে কখনও দেখা হবে সেটা ভাবতেই পারিনি....(সাকিব) - আমিও কখনো ভাবতেই পারিনি আপনাকে আমি এভাবে চিনবো....( ডেভিল মার্কা হাসি হেসে) - আপনি হঠাৎ আমাকে.... এখানে... এভাবে ডাকলেন যে.....(সাকিব) - আমার এলাকায় এতো ঘোরাঘুরি করেন, আর আমাকে চিনেন না, ব্যাপারটা কেমন হয়ে যায় না...? এইজন্যই.... (গম্ভীর গলায় আবির) - মা মা মানে....?(ঢোক গিলে সাকিব) - না না তেমন কিছু না (আবির) এর মাঝে ওয়েটার কফি দিয়ে গেলো... আবির রুহীকে ইশারা করলো ওর পাশে এসে বসতে... রুহী আবিরের পাশে বসতেই আবির বলল.... - তো, পরিচয় করিয়ে দেই... এ হলো আমার ওয়াইফ... তাসফিয়া চৌধুরী রুহী...(মুচকি হেসে আবির) রুহীকে দেখে সাকিব পুরো অবাক হয়ে গেছে... রুহী আবিরের ওয়াইফ... তবুও আবিরকে কিছু বুঝতে দিবে না ভেবে বলল.... - হায়...( কাঁপা গলায় সাকিব) রুহী কিছু বললো না... - আগে থেকেই চিনেন নাকি সাকিব সাহেব..?(আবির) - না না না তো...(সাকিব) - তাহলে তোতলাচ্ছেন কেন...?(আবির) - ক ক কই...? (সাকিব) - দেখুন, আমি অতো ভনিতা পছন্দ করি না.... স্ট্রেট কথা বলতে পছন্দ করি... আপনি হয়তো এবার বুঝতে পেরেছেন আমি আপনাকে কেন ডেকেছি.….?(আবির) -............. (সাকিব চুপ) - আপনাকে যদি নেক্সট টাইম আর রুহীর আশে পাশে দেখি, তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না.... আপনার সিনিয়র আমি, তবুও আজ সম্মান করে "আপনি" বললাম... কিন্তু তখন তুমিও নয়, তুই করে বলতে বাধ্য হবো.…...(আবির) -.............. - আর আপনার ভাইকে ওই দেশ থেকে ফেরত এনে রিমান্ডে দেওয়ার ক্ষমতা আমার আছে... কথাটা মাথায় রাখবেন..... আমার কথা বুঝতে পেরেছেন....? (আবির) - জি, জি.... আসলে আমি তো জানিনা রুহী আপনার ওয়াইফ......(সাকিব) - জানতেন না আজ জানলেন.... আর যেন না হয়.....(আবির) - না না কখনোই নয়..... আজকে তাহলে আমি উঠি.... পরে আবার কথা হবে....(সাকিব) - আচ্ছা... আর কড়া কথা বললাম.... কিছু মনে করবেন না.... আসলে রুহী আমার জন্য সবচেয়ে বড় দূর্বলতা.…... ওর কোনো সমস্যা আমি মেনে নিতে পারি না... (মুচকি হেসে আবির) - না না কোনো সমস্যা নেই..... আমি তাহলে আসি.....(সাকিব) - আচ্ছা, ভালো থাকবেন.... (আবির) - সরি রুহী... (রুহীর দিকে তাকিয়ে) বলেই সাকিব বেরিয়ে গেলো... রুহী হা করে তাকিয়ে আছে.... একবার সাকিবের চলে যাওয়ার দিকে, আরেকবার আবিরের মুখের দিকে..... - এই যে... হয়েছে.... আর হা করে থাকতে হবে না এবার বাসায় চলো....(তুড়ি বাজিয়ে আবির) - হুমম চলো.....(রুহী) - কাল থেকে নিয়মিত ক্লাস করবে.... পথে গাড়ি থামিয়ে আবির রুহীর জন্য অনেকগুলো ফুল কিনে এনে ওর হাতে দিয়ে আবার ড্রাইভিং শুরু করলো.... বাসায় পৌঁছে কলিং বেল বাজাতেই দরজা খুলে দিলো.... আবির ভিতরে চলে গেলো.. কিন্তু রুহী হা করে দাঁড়িয়ে আছে.... be continue..... 💖💖 💞 এখনও মন ভালো হয়নি.......🥺 গল্প লেখার কোনো আগ্রহ পাচ্ছি না.... 😔তাই আজ এক পর্ব দিলাম...☹ 💞

@Kamrul16

Love5 Devil Husband💗 Part_13 Imtihan Imran _ইমরান নিজের শার্ট খুলে নিচে ফেলে দেয় _এই কী কী করছেন কী আপনি _কোথায় কি করলাম _শার্ট খুলছেন কেনো -আমার ইচ্ছা আমি খুলছি ইমরান সিনহার দিকে এগিয়ে আসে _আমার দিকে এগিয়ে আসছেন কেনো ইমরান সিনহার কাছে এসে সিনহাকে ঝাপটিয়ে জড়িয়ে ধরে কানে ফিসফিস করে বলে _আজকে তোমাকে ভালবাসতে চাই,প্লিজ আমাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করো না সিনহা,ইমরানের কথা শুনে কেপে উঠে,ডেভিলটার এই মাত্র বলা কথা তার পুরো দেহে শিরশির অনুভূতি সৃষ্টি করেছে সিনহা বুঝতে পারছে না,তার কী বলা উচিত ইমরান সিনহার ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে আছে _ Your lips so beautiful.I love it😍 ইমরান সিনহার ঠোঁট জোড়ায় নিজের ঠোঁট জোড়া মিশিয়ে দেয় সিনহার দেহ কেপে উঠে শিরা-উপশিরায় শিনশিন শুরু হয়ে যায় সিনহা শান্ত থাকে,ইমরান কে বাধা দেয় না,বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে না,সে জানে বাধা দিয়ে লাভও হবে না ইমরান সিনহার ঠোঁট জোড়া ছেড়ে দেয়,সিনহা নিচের দিকে তাকিয়ে আছে ইমরান সিনহাকে বিছানায় শোয়ায় আজকে মনে হয় ইমরানের কানে ফিসফিস করে কথা বলার রোগ হয়েছে,সিনহার কানে আবার ফিসফিস করে বলে,আই লাভ ইউ বউ♥ ইমরান সিনহার জামা খুলে নিচে ছুড়ে ফেলে দিয়ে সিনহার উপর ঝাপিয়ে পড়ে,ইমরান আজকে সিনহাকে পুরোপুরি নিজের করে নিতে চায়,সে চায় না এই সিনহাকে অন্য কেউ নিয়ে যাক। মধ্যরাত ইমরান সিনহাকে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে সিনহার বুকের উপর মাথা দিয়ে খুব শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। সিনহার চোখে ঘুম নেই,সিনহা ভাবছে ডেভিলটার অস্তিত্ব, স্পর্শ সবকিছু আজকে তার দেহ জুড়ে বিরাজ করছে সিনহার এখন কান্না করা উচিত কিন্তু সিনহা কান্না করছে না ডেভিলটার প্রতি কি সিনহার কোনো মায়া জমে গেলো নাকি কিন্তু তা কি করে সম্ভব ডেভিলটা কি মায়া জন্মানোর মতো কিছু করেছে,হয়তো করেছে যেটা সিনহা এখন বুঝতে পারছে না এইসব ভাবতে ভাবতে একসময় সিনহাও ঘুমিয়ে যায় সকাল ৮ টা সিনহার ঘুম ভেংগে যায়,ইমরান এখনো ঘুমিয়ে আছে _ডেভিলের বাচ্চা ডেভিল এতো ঘুম কীভাবে যায়,রাতে তো আমাকে শান্তি দিলি না,এখনো কি শান্তি দিবি না(মনে) এই যে উঠুন,ওই উঠুন ইমরান নড়েচড়ে উঠলো কিন্তু তার ঘুম ভাংলো না সিনহার এবার প্রচন্ড মেজাজ খারাপ হতে লাগলো -ওই ডেভিলের বাচ্চা(চিৎকার করে) চিৎকার শুনে ইমরান সিনহার উপর থেকে ধড়পড়িয়ে উঠে সিনহা নিজেকে কাথা দিয়ে ঢেকে ফেলে _সমস্যা কি তোমার,কে মরেছে এতো জোরে চিৎকার দিলা কেনো(ধমক দিয়ে) - চিৎকার দিবো নাতো কি করবো আপনাকে কতোবার ডাকছি,আপনি উঠছেন না -এইজন্য বুঝি পুরো এলাকা নিয়ে চিৎকার করবে(ধমক দিয়ে) - পুরো এলাকা নিয়ে কখন চিৎকার করলাম -তো কেনো চিৎকার করছো শুনি -আপনি আমাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে ছিলেন,আমি উঠবো না, ফ্রেশ হবো না এবার ইমরানের নজর সিনহার দিকে গেলো,কাথা দিয়ে নিজেকে আবৃত করলেও সিনহার সবকিছুই ইমরানের কাছে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে -এভাবে লুচ্চার মতো তাকিয়ে কি দেখেন - তাকালে সমস্যা কী,নিজের বউয়ের দিকেই তাকিয়েছি,অন্য কারো দিকে না - নিজের বউ হলেও.. চলবে. ( ডেভিলের ভালোবাসার রাত😘)

@Kamrul16

Love4 #তোমায়_হৃদয়_মাঝে_রাখবো #Writer_Shila_Akter #part 19 আমি উঠে দাড়ালাম ছেলেটিকে দেখে। - অনেক ক্ষণ ধরেই দেখছি এখানে এভাবে বসে আছেন তাই ভাবলাম একটু কথা বলি। আমি ছেলেটির দিকে তাকিয়ে আছি এই ছেলের প্রশ্ন শুনে মনে হচ্ছে বসে থাকতে গেলে ও তার পারমিশন নিতে হবে এমনিতেই ভালো লাগছে না আবার এর কথা তবুও ও শান্ত দৃষ্টি তে তাকিয়ে রইল আগে কখনো দেখেছি বলে মনে পরে এ আবার কে। - এই যে মিস কি ভাবছেন এতো। হঠাৎ কথায় ঘোর কাটলো,,, জি - আপনার বাড়ি কি এখানেই আসলে আপনাকে চিনিনা তো তাই। আমি আর ও অবাক হয়ে তাকালাম ছেলেটির কথা বলে কী আমার এলাকায় আমাকে ই বলছে এখানেই কি না। - জি - ওহ আগে দেখেছি বলে মনে হয় না আপনি কি বাড়ি থাকেন না নাকি। - আমি ও তো আপনাকে আগে দেখি নি। আপনার বাড়ি কই। - আমার বাড়ি আমি এখানকার চেয়ারম্যানের ছেলে একমাস হয়েছে বাড়ি এসেছি। আপনার এবার বুঝলাম এ তাহলে চেয়ারম্যানের শহরে ছেলে শুনেছি লাম কিন্তু কখনো দেখিনি আজই দেখলাম। আগে কখনো তো আসে নি বাড়িতে তার নানা বাড়ি শহরে সেও সেখানেই থাকতো। - আপনার বাড়ি কোন পাশে। আমি হাতে ইশারায় দেখিয়ে দিলাম। - ওই দিকে তো আমার বাড়ি। কিন্তু আপনাকে তো আগে দেখি নি। - আমি ঢাকা ছিলাম এতো দিন। - ওহ তাই তো তোমার বাবার নাম টা কি? এবার আর কিছু বললাম না বেশি বেশি এতো কিছু জেনে কি করবে বাবার কথা বলতে গাল বেয়ে দু ফোটা জল বেয়ে পরলো আর না দাঁড়িয়ে সামনের দিকে হাটতে লাগলাম। ওই লোকটি অবাক হয়ে ভাবছে কি হয়েছে আমার নিজে ও দৌড়ে আমার পাশে হাটতে হাটতে বলল..... - এনি প্রবলেম আপনি চলে এলেন যে। আর কাদছেন কেন? - দয়া করে আমার পিছু ছারেন আমার ভালো লাগছে না। - কিন্তু কেন বাবার কথা বলা থে কাদছেন কেন? আমি রাগি চোখে ওনার দিকে তাকালাম। - ওকে ওকে কিছু বলছি না। আপনার নামটাকি জানা যাবে। - প্লিজ এবার অনতত বলেন। - নিলা উনি হয়তো আর ও কিছু বলতো আমি তারাতারি বাড়ি চলে এসেছি। রাতে রুমে শুয়ে আছি আর চোখের জল ফেলছি বাবা আমাদের এভাবে ছেরে চলে যাবে সত্যি ভাবি নি। সেদিন আম্মা ফোনে একথায় বলে বাড়ি এসে বাবা লাশ দেখতে হয় এমন কিছু আমার জন্য অপেক্ষা করছিল যে আমার ফুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যায়। জানতে পারি বাবার কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিলো কিন্তু আমি টেনশন করবো বলে আম্মা আমাকে কিছু জানায় নি। আম্মা নাকি বলতে চেয়েছিল কিন্তু বাবা বলেছে পরার ক্ষতি হবে আমি ঠিকে হয়ে যাব অযথা ওকে চিন্তায় ফেলার কি দরকার। আজ যদি আমাকে সব জানাতো তালে অন্তত বাবার সাথে শেষ বারের মতো একটা কথা বলতে পারতাম কিন্তু আমার পুরা কপাল তা কিছু ই হলো না। বাবা তুমি কেন আমাদের দুজনকে এভাবে একা ফেলে চলে গেলে এখন কে তোমার এই মেয়েকে দেখে রাখবে কে ভালোবাসবে। পরদিন নদীর পারে বসে আছি হঠাৎ কেউ পাশে এসে বসল তাকিয়ে দেখি ওই ছেলে টা। আমি তাকাতেই হাসি মুখ করে তাকাল। - হাই কেমন আছ নিলা? আমি অন্য দিকে ফিরে তাকালাম। - হে কিছু বলো আর আই আম সরি কাল তোমার কাছে বাবার নাম জিগ্গেস করার জন্য। - ইটস ওকে। - আমার নাম তো তুমি জান না তাই না। আমার নাম পাবেল। আমি এক ধ্যানের পুকুরের দিকে তাকিয়ে আছি ছোট পুলাপান পুকুরের গোসল করছে হাস আছে মেয়েরা ও আছে আর আমার পাশে বসে পাবেল একা নানা কথা বলে চলেছে আমি তার কথায় কান ও দিচ্ছি না। জয়ের কথা মনে পরেছ খুব কতো দিন হয়ে গেল যোগাযোগ নেই বাবা মারা যাবার পর থেকে এখানেই আছি কিছু বাবার রেখে যাওয়া টাকা ছিল যা দিয়ে কিছু মানুষ খাওয়ানো হয়েছে। আর যা আছে আম্মা বলে দিয়েছে এগুলো দিয়ে আমাকে বিয়ে দেবে। আর নাকি পরাবে না কথাটা শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পরেছিলো কিন্তু কি বলবো আমি আম্মা কে বলেছিলাম আমি বিয়ে করবো না পড়ালেখা করবো কিন্তু আম্মা বলে... দরকার নেই আর পরার কি হবে এত পরে... কবে দেখা সবে জয়ের সাথে জানা নেই। পাশে পাবেল কথা বলেই চলেছে আমি উঠে বাড়ির দিকে যেতে লাগলাম। - একি চলে যাচ্ছ কেন? আমি অবাক চোখে তাকালাম একটু আগেই তো আপনি করে বলছিল আর এখন তুমি বলছে। ছেলের মতি গতি ভালো না আর না দাড়িয়ে চলে গেলাম। দুইদিন আর বাড়ি থেকে বের হলাম না। সব সময় পাবেল ছেলে টা পেছনে লেগে থাকে।ক্ষেতে থেকে শাক তুলে বাড়ি যাচ্ছি হঠাৎ সামনে পাবেল কে দেখলাম। - হে নিলা তুমি কোথায় থাক দেখি না যে। আমি তাকে ইগনোর করে চলে আসতে নিলে সে আমার সামনে এসে বলে। - কি হলো কথা বলছো না যে যানো তোমায় কতো খুজেছি কিন্তু পায় নি। - কেন খুজেছেন? - নিলা আমি ভঙিতা পছন্দ না সরাসরি বলছি। আই লাভ ইউ আমি এটা শুনে নিরবে তার দিকে তাকিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে অসতে নিলে আমার হাত ধরে ফেলে। - কিহলো আমার উওর না দিয়ে যাচ্ছ যে। আমি তো রেগে তাকালাম এভাবে হাত ধরায়। - হাত ছারুন - আগে উওর দাও। এবার আর রাগ কন্টোল করতে পারলাম না ঠাস করে চর বসিয়ে দিলাম ওনার গালে ওনি আগুন চোখে তাকালো আমি জানি সে অনেক রেগে গেছে আর না দাড়িয়ে দৌড়ে বাড়ি চলে এলাম। পরদিন সকালে হঠাৎ আম্মা এসে আমাকে শাড়ি পরতে বলল আমি জিগ্গেস করলে ধমক দিয়ে চলে যায়। আমি কিছু বুঝতে না পেরে শারি রেখে ওই ভাবেই বসে থাকি একটু পর মা এসে আমাক বকে শাড়ি পরিয়ে মাথায় ইয়ি বড় ঘুমটা দিয়ে বাইরে নিয়ে আসে। এখানে এসে দেখি চেয়ারম্যান সাহেব বসে আছে তার সাথে তার বউ ও আছে আমাকে দেখে কিছু কথা জিগ্গেস করলো কি হচ্ছে কিছু আমার মাথায় ঢুকছে না। রাতে মা খুশি মনে আমার সাভনে এসে বলতে লাগে। - ওরা তোকে পছন্দ করেছে রে নিলু দুইদিন পরেই বিয়ে ঠিক করলো এতো ভালো একটা ছেলের হাতে তোকে তুলে দিতে পারবো আমি তো কল্পনা না তে ও ভাবি নি। মার কথা শুনে আমার পায়ের নিচে থেকে মাটি সরে গেল ভাকে জিগ্গেস করে জানতে পারলাম চেয়ারম্যান সাহেব তার ছেলের জন্য আমাকে দেখতে এসেছিল। আর দুইদিন পর বিয়ে? চলবে......

@Kamrul16

Love3 #গল্পটা_ভালোবাসার💞💞💞 #সিজন_2 #পর্বঃ৩২ #Misty_Meye(মরিয়ম) সকালে নিচে চিল্লাচিল্লির আওয়াজে রোদ আর আমি নিচে যাই আর গিয়ে দেখি একটা মেয়েকে নিয়ে যেন সকলের আহ্লাদের শেষ হচ্ছে না। এতো সকাল বেলা নতুন মেয়েটাকে দেখে আমি বেশ অবাকই হয়েছি। আমি শুধু একপাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবটাই দেখছি। মেয়েটা সবার সাথে কথা বলার পর রোদের কাছে আসে। আর তাই আমি ও রোদের একদম পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি। মেয়েটা আমার দিকে না তাকিয়ে রোদের কাছে গিয়ে কতো কথা বলছে। আর রোদ ও কথা শুরু করে দিচ্ছে। আর আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে কালকের স্বপ্নের কথা। এইটাই সেই মেয়েটা নয় তো। হলে ও হতে পারে। কিন্তু যদি সত্যি হয়। কালকেই স্বপ্ন দেখলাম আর আজকেই এই মেয়েটা। উফ! রোদের সাথে কথা বলার পর আমার কাছে এসে মেয়েটা বললো, " রোদ ভাইয়া এটাই বুঝি তোমার বউ।" আমি জানি রোদ কিছুই বলবে না তাই আমি নিজেই বললাম, "হুম আমিই তোমার রোদ ভাইয়ার বউ।" কথাটা বলার পর বেশ লজ্জাই পেলাম। কারণ ওখানে আমি ছাড়াও তো সবাই ছিলো ওদের সামনেই নিজেই নিজের পরিচয় দিলাম তাই। " ওহ,,,হুম আমি বুঝতে পেরেছি।" " আমিতো তোমাকে ঠিক চিনলাম না।" " আমি সিমা। রোদ ভাইয়া আমার মামাতো ভাই হয়।" " ও তাহলে তো তুমি আমার আরেকটা ননদ। তাই তো?" মেয়েটা আমার কথা শুনার পর ওর মুখ দেখে বেশ বুঝতে পারলাম মেয়েটার আমার কথা পচ্ছন্দ হয়নি। আমার শাশুড়ি মা আমাকে ডেকে বললেন, " মিষ্টি মা, তুমি তো বুঝতেই পারলা ও রোদের ফুফাতো বোন। আসলে ওর কলেজ থেকে ছুটি পায়নি তাই তোমাদের বিয়েতে আসতে পারেনি এজন্য তিয়াষ আর রোদ্দুরের বিয়েতে আগে থেকেই চলে আসছে। এবার তোমরা সবাই মিলে মিশে সব ব্যবস্থা করবে কেমন? " " হুম মা। করবো। " রোদেলা বলল," সিমা আপু চলো আমার রুমে তুমি আর আমি এক সাথে থাকবো।" তারপর ওরা ও চলে যায়। রোদ নাশতা করে অফিস চলে যায়। আমি আজকে ভার্সিটি যাই নি। মাথায় এখনো স্বপ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে। কিছুতেই ঝেরে ফেলতে পারছি না। আমি আমার রুমে বসেই ছিলাম। রুমে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে পিছনে ঘুরে দেখলাম সিমা। ও আমার দিকে কিভাবে একটা তাকিয়ে বললো, " তুমি দেখতে ভালোই তবে আমার থেকে বেশি নও। রোদ ভাইয়ার সাথে তুমি ঠিক যাচ্ছো না।" " তোমার মতো সুন্দর হতে যাবো কেনো আমি ? তুমি তো আমার থেকে কতো সুন্দর। এটা তো সবাই জানে। তোমার রোদ ভাইয়ার সাথে আমি যাই না কিন্তু কি আর করবো বলো তোমার রোদ ভাইয়ার সাথেই আমার বিয়েটা হয়ে গেলো। " "হুম। রোদ ভাইয়ার কপালটা আসলেই খারাপ। তোমার মতো একটা বউ পেলো।" "মেয়ের অভাব পড়ছিলো নাকি যে তোমার রোদ ভাইয়া আমাকে বিয়ে করে নিজের কপালটা খারাপ করলো।😬,,,," " সবাই যদি একবার আমাকে বলতো তাহলে তো আমিই,,,,," "তুমি কি?" "কিছু না।" বলে চলে যায়। "কতো খারাপ মেয়েটা। মেয়েটা প্রথমে এসেই আমাকে খোঁচা দিয়ে কথা বললো। কতো বড় সাহস। এই বাড়ির মেয়ে না হলে আমি ওর নাক ফাটাইয়া ফেলতাম। আমাকে অপমান করার সাহস কোথা থেকে পাইছে এই মেয়েটা। অসভ্য,বদমাইশ মাইয়া। আমি নাকি রোদের যোগ্য না। তো কে যোগ্য হ্যাঁ কে যোগ্য তুই? তুই তো রোদের ধার দিয়ে ও যাস না। তোরে যদি আমি ঠাটিয়ে একটা থাপ্পড় দিতে পারতাম তো খুশি হইতে পারতাম।" রাগ জেদ সব এক করে বসে আছি। সব কিছু মাথা পাগল করে দিচ্ছে। এই মেয়েটা যে মোটেই সুবিধার নয় তা আমি খুব ভালো করেই বুঝতে পারছি। কিন্তু কিছু করতে ও পারবো না। পরে আবার এই বাড়ির লোকেরা কি ভাববে। আল্লাহ্‌ই জানে এই মেয়েটা কতো দিন এখানে থাকবে। 😶,,,,,,, রাতে আমরা ঘুমাতে যাওয়ার সময়ে সিমা আমার রুমে সোজা ঢুকে পড়ে। আর রোদকে বলতে থাকে, "রোদ ভাইয়া চলো আজকে আমরা গল্প করি। কতোদিন পর আমি আসলাম তোমার সাথে তো ভালো করে কথাই হলো না। বিয়ে করে তো আমাকে ভুলেই গেছো তুমি? " "এখন ঘুমানোর টাইম তুমি জানো না। মানুষ কে ডিস্টার্ব করতে আসছো কেনো?" "আহ্ মিষ্টি এভাবে বলছো কেনো? ও গল্প করতে চাইছে তো করি কি হয়েছে।" "না এখন আমরা ঘুমাবো। আমার ভীষণ ঘুম পেয়েছে। ও কাল সকালে কথা বলবে।" "তুমি তো প্রায় রাতেই ঘুম ভাঙিয়ে দাও আর আমাকে জাগিয়ে রাখো নিজে ও জাগো । তো আজকে সিমার সাথে কথা বলতে ক্ষতি কোথায়? যদি তোমার ঘুম পায় তো তুমি ঘুমাও। তোমাকে আমরা ডিস্টার্ব করবো না।" "আমি না পারছি কিছু করতে আর না পারছি রাগ দেখাতে।" আমি চুপচাপ বিছানায় শুয়ে পড়লাম। রোদ আর সিমা গল্প করেই যাচ্ছে। বারোটা বেজে যাচ্ছে কিন্তু উঠার নাম নিচ্ছে না। আর এদিকে আমি এপাশ ওপাশ করতে করতেই সময় পার করছি। অনেকক্ষণ পর ওদের গল্প শেষ হয় আর রোদ আমাকে জেগে থাকতে দেখে বলে,,, "তুমি ঘুমাওনি।" "না।😒,,,," "কেনো?" " আপনি না কোন মেয়ের সাথে কথা বলেন না।" " হঠাৎ এই প্রশ্ন?" " তাহলে ওই মেয়েটার সাথে এতোক্ষণ কথা বললেন কেনো?" "কোন মেয়েটা? সিমার কথা বলছো তুমি?" "হ্যাঁ।" " ও আমার কাজিন। ও আর অন্য মেয়েরা এক নাকি? " " আলাদা নাকি?" "ও আমার কাজিন হয়।" " কই আমার সঙ্গে তো কখনো এতো গল্প করতে দেখলাম না। কথাই বলতে চান না। আর সিমার সঙ্গে রাত জেগে গল্প করলেন।" "তোমার মতো পাগল মেয়ের সাথে কে গল্প করবে? " আমি রোদের কথা শুনে,,,,,,,,,,, চলবে............... ( এখন তো গল্প প্রতিদিনই দিচ্ছি। একটু ছোট হলে কি হয়। তার জন্য সরি,,,,,😪)

@Kamrul16

Love2 স্বামী-স্ত্রী আর তাদের তিন মাস বয়সের একটি বাচ্চা রাতে বিছানায় ঘুমাচ্ছে। :হটাৎ :তিন মাসের বাচ্চা রাত তিনটার সময় জোরে জোরে কান্না করতে লাগলো। :বাচ্চার কান্না শুনে মা বাবা দুজনেরই ঘুম ভেঙ্গে গেলো। ,, স্বামী বললেন, ওকে একটু থামাও.....! আর মা বাচ্চাটিকে বুকে জরিয়ে নিয়ে এদিক-ওদিক হাঁটতে লাগলেন। : কিছুক্ষন পর , বাচ্চাটির বাবা বিছানা থেকে উঠে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন। : কিছুক্ষন পর বাচ্চাটির বাবা ঘরে ফিরে এলেন আর বাচ্চাটির মা তাকে জিজ্ঞাস করলেন, কোথায় গেছিলে ? : তিনি বললেন , : মায়ের কবরটা দেখতে গিয়েছিলাম। : বাচ্চাটির মা জিজ্ঞেস করলেন, : এত রাতে কেন ? : সে উত্তর দিল , আমাদের বাচ্চাটি যখন কাঁদতেছিলো তখন আমার খুব বিরক্ত লাগছিল। : কিন্তূ : তুমি ওকে কাঁধে নিয়ে আদর করতে করতে হাটতেছ। কারন, তুমি তার মা। : তখনি মনে পরে গেলো। : হয়তো , আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমার মা ও আমাকে এভাবেই যত্ন করেছিলেন। : তাই মাকে দেখতে গেছিলাম। : আজ আমি মায়ের যত্নে এত বড় হয়েছি। কিন্তু জানি না মা আমার সেখানে কতটুকু যত্নে আছেন। : পৃথিবীতে মা একমাত্র আপন। : হে আল্লাহ্ আপনি আমাদের মা বাবার সেবা করার তৌফিক দিন। যাদের মা বাবা পৃথিবী তে নেই তাঁদের কে জান্নাত বাসি করুন।(আমিন)

@Kamrul16

Love1 কোটিপতি স্বামী {৫} মেহেক স্যামথন ------এই ছোট লোকের মেয়ে। তোমার স্ট্যাটাস কি আমার সামনে। তোমার এতো বড় সাহস কি করে হয়। দুই টাকার মেয়ে,আর আমাকে নিচু দেখাও তুমি,,,[ এমন ভাবে কথা বলছে যেন আমায় গিলে খাবে ].. ------ আয়া,,আমি কি করেছি।ছাড়েন,,,আয়া,,, ------ কি করেছো মানে।কোনো দিন পড়াশোনা করেছো? গাই কোথাকার। মুর্খ। কে বলেছিল আমার জিনিসে হাত দিতে,,,কে..? [ রেগে ].. ------ আ,,আ,,,আ,, লাগছে। দয়া করে,ছেড়ে দিন। ----- এতো গুলা ফাইল দিয়েছো।কিন্তু আসল টা দাও নি। সবার সামনে আমাকে নিচু দেখানোর মানে কিইই,,,,কে বলেছিল এইসব করতে। তোমাকে আমি টাকা দিয়ে কিনেছি। কেন আমার বউয়ের দ্বায়িত্ব পালন করতে চাচ্ছো,,কেন..? ------ আর,,আর,,এমন হবে না। দয়া করে ছেড়ে দিন। ------ আরাম আয়েশ,, টাকা পয়সা,এইসব দেখে এখন কি আমার বউ হতে চাচ্ছো..? ছোট লোকের মেয়ে কোথাকার। তখন পিছন থেকে আকাশের দাদু বলে উঠল,,, ------ আকাশ,,। আকাশ তারাতাড়ি আমার হাত ছেড়ে দিয়ে তার দুই হাত দিয়ে আমার চোখের পানি মুছে ফেলল,,, পিছে ফিরে মুচকি হেসে বলল,,, ------ ওহ দাদু।তুমিও আসার সময় পাও না? মাত্রই রোমেন্স শুরু করলাম,আর তুমি কাবাবে হাড্ডি হয়ে এলে। দাদু আকাশের হাতে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলল,,, ------- ওরে সয়তান। বেশি বেশরমা হয়ে গেছিস না। ------ হবো না তো কি। মাত্র বিয়ে করলাম,একটাই বউ আমার। আকাশের প্রতিটি কথা আমার গায়ে সুচের মতো লাগছে। হাসি না আশার সত্যেও হাসার চেষ্টা করছি।হাসতে যে আমাকে হবেই।হুকুমের গোলাম আমি। ----- আচ্ছা এখন তুই সর তো,,মেঘলার সাথে কথা আছে। আমার হাত ধরল দাদু। ------ আরে,,আরে,,আরে,,,আমার বউকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো তুমি,? ------ আরে পাগল,,রোমেন্স ছাড়া দুনিয়াটা দেখিস।কাজ আছে, তাই নিয়ে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ পর আবার চলে আসবে। ------ আচ্ছা নিতে যাও,কিন্তু বেশিক্ষণ না,,, ------ হুম।পাগল একটা। আকাশের দাদু আমার হাত ধরে আমাকে নিচে নিয়ে গেলেন। সারা সন্ধ্যা,,আর রাতে আমি রুমে শুধু সাদকে নিয়ে যাওয়া ছাড়া প্রবেশ করিনি। এখন সবাই খেতে বসেছি। সাদ আমার সাথের চেয়ারে,,আমি সাদকে খাইয়ে দিচ্ছি।আমার ডানে আকাশের দাদু। আর আমার অপজিটে আকাশ। আকাশ খাচ্ছে আর ফোনে কথা বলছে।তখন দাদু ধমক সুরে বললেন,, ------ আকাশ,,,খাবারের টেবিলে কোনো ফোন না। আকাশ ফোন রেখে বলল,,, ------- সরি দাদু।একটা ইম্পর্ট্যান্ট কথা ছিল,আর হবে না। ------ হুম তো শুন। তোর সাথে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। ----- বলো দাদু। ----- তোদের বিয়েটা তারাহুরোর মধ্যে হয়েছে।তাই আমি চাই তোরা নিজেদের কে সময় দে,একটু ঘুরে বেরা। ------ দাদু,,আমাদের তো লাভ ম্যারেজ,, আমাদের সময় দিতে হবে না। উনার কথা শুনে অবাক হলাম।আমাদের আবার কিসের প্রেমের বিয়ে..? আর কি কি আছে যা আমি জানি না? ------ সে,যাই হোক।তুই তোর বিজন্যাসের জন্য মেঘলা কে সময় দিস না,,তাই আমি তোদের হানিমুনে যাওয়ার জন্য প্লেন করেছি। ------ কি বলো দাদু।কোথায়? ------ তুই তো দেশের বাহিরে যাবি না। তাই ভাবলাম কক্সবাজারে প্লেন করি। ------ কিন্তু দাদু আমার তো সময় নেই। অনেক ব্যাস্ত আমি। ------ সে যাই হোক।আমি বুঝি না এইসব। আমি হোটেল বুক করেছি। তোরা কাল রউনা দিবি। এক সপ্তাহ থাকবি ওইখানে। ----- কিন্তু দাদু??? ------ কোনো কিন্তু নয়। আমার কথাই শেষ। ----- আচ্ছা দাদু।তুমি যা বলবে। তাহলে এখন আমি একটু আসি।কিছু ইম্পর্ট্যান্ট কাজ আছে। ----- খাবার খেয়ে যা। ------ পরে এসে খাবো। মেঘলা তুমি রুমে যাওয়ার সময় খাবার নিয়ে এসো। আমি শুধু মাথা নাড়ালাম। আকাশ চলে গেল। ঘুড়ার কথা শুনে সাদ খুশিতে আত্ম হারা। সে চেয়ার থেকে নেমে দাদুর কাছে গেল আর দাদুর কোলে উঠে বসল। ------ এই বুলি।টমি তো তুব ভালু। ------ হুম।আমি অনেক ভালো। ------ কিন্তু ওই আকাত পাজি।আমার কতা চুনে না। ------ শুনো খোকা। আকাশ কোনো কথা না শুনলে তুমি ফোন দিয়ে আমার কাছে বিচার দিবা।আমি আকাশকে বকে দিবো। ----- সত্যি??? ----- হ্যা,,সত্যি। -----উমমাহ,,,[ দাদুকে জরিয়ে গালে চুমা দিলো সাদ। তখন দাদু আমাকে বলতে লাগল,,, ------ মেঘলা মা,,, সাদ তোমাকে বা সবাইকে নাম ধরে ডাকে কেন..? ----- আসলে দাদু।সাদ জন্মের পর থেকে দেখে বাবা আমাকে মেঘলা বলে ডাকে। তাই সাদ ও আমাকে মেঘলা বলে ডাকে। আর সব সময় ই দেখে সবাই একে অপরের নাম ধরে ডাকে।তাই সাদ ও ডাকে। আসলে বাচ্চারা তার আশে পাশের পরিবেশ থেকে যা দেখে তাই শিখে। সেই ক্ষেত্রে সাদও বিকল্প নয়। ------ হুম।তা যা বলেছিস। ------ হুম দাদু। কিছুক্ষণ দাদুর সাথে কথা বললাম। খাওয়া শেষ হওয়ার সাথে সাথে সাদ দৌড়ে চলে গেল হল রুমের দিকে।তখন আকাশের দাদু তার বুয়া কে বলল,, ------ মিনা। ছোট সাহেবের সাথে যা।খেয়াল রাখ। ------ জ্বী দাদি।যাইতাছি। বলে সাদের পিছে চলে গেল বুয়া। দাদু বলল,, ----- মেঘলা তোরে একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো। যদি মন খারাপ না করিস। ----- এইটা কি বলছো দাদু।আমি মন খারাপ করবো কেন। তুমি নিঃসন্দেহে আমাকে বলতে পারো। ------ আচ্ছা,,, দাদু। সাদের বয়স তো ৫ বছর তাই না? তো সাদ এখন এই ভাবে কথা বলে কেন..? এখন তো সব পরিষ্কার করে বলার কথা সাদের। ------ আসলে দাদু সাদ একটু অসুস্থ।ওর,,, তখন দোতালা থেকে আকাশ বলল,,, ----- মেঘলা।খাবার নিয়ে একটু রুমে আসো। ----- জ্বী। ------- ওই দেখ।পাগল হয়ে গেছে।যা,, যা খাবার নিয়ে ওর কাছে যা। আমি মুচকি হেসে আকাশের জন্য খাবার নিয়ে রুমে চলে গেলাম। আকাশ ল্যাপটপে কাজ করছে।আমি তার সামনের টেবিলে খাবার রেখে দিলাম। তখন আকাশ বলল,,, ------ আমি তোমার সাথে এইসব করতে চাইনি। যেই কাজে এসেছো সেই কাজ করো। অন্য কিছুতে নাক গলাবা না। রাগ উঠলে আমার মাথা ঠিক থাকে না। আমি কোনো জবাব না দিয়ে সাদকে দেখার জন্য রুম থেকে বের হয়ে পড়ি। সকালে★ সকাল সকাল আমার ঘুম ভাঙলো। আসলে মাটিতে শুয়ে থাকায় ঘুম এতোটা হয় না। তাই ভেঙে গেছে। আমি উঠে আগে বিছানার দিকে তাকাই। তখন যা দেখলাম।তা দেখে নিজের হাসি আটকাতে পারলাম না।দেখি আকাশ আর সাদ দুইজন দুইজনকে জরিয়ে ধরে একই সাথে ঘুমাচ্ছে। সাদের নড়াচড়ার অভ্যাস অনেক। আকাশ সোজা হয়ে ঘুমোচ্ছে আর সাদ আকাশের পেটে জরিয়ে ধরে তার এক পা আকাশের ঠিক মুখের উপর তুলে রেখেছে। আর এক পা আকাশের হাতের উপর। এই অবস্থায় দুইজনেকে দেখে আমার প্রচুর পরিমানে হাসি পাচ্ছে।কিন্তু সাদকে এই অবস্থায় আকাশ দেখলে অনেক রাগ করবে।তাই আমি তারাতাড়ি সাদের কাছে গিয়ে সাদকে ঠিক করে শুয়ে দিলাম। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ভোর ৬টা বাজে। কাপড় নিয়ে গোসল করতে গেলাম। দাদু বলেছে ১০ টায় আমরা রওনা দিবো।তাই ভাবলাম এখন শাড়িটা পড়ে ফেলি। কিছু ক্ষন পর গোসল করে রুমে এসে দেখি আকাশের এক হাত সাদের ঠিক মুখের উপর।আমি দৌড়ে গেলাম আকাশের কাছে।তাড়াতাড়ি আকাশের হাতটা সাদের মুখ থেকে সরালাম। আমার চুলের পানি আকাশের শরীরে পড়ছিল।আকাশ কিছুটা নেড়ে উঠল আর আমার দিকে ফিরে আমাকে জরিয়ে ধরল। আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম একি করছেন উনি।পড়ে দেখি উনি ঘুমের ঘোরে। আমি নিজেকে সরানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু হাজার হলেও মেয়ে মানুষ। ছেলেদের শক্তির সাথে পেরে উঠা যায় না। আমাকে আরো কাছে নিয়ে আসল আকাশ, একদম তার মুখের কাছে।এই প্রথম তাকে এতো কাছে থেকে দেখছি। ঘুমের মধ্যে তাকে অন্যরকম লাগছে। সাধারণ ভাবে একজন বদমেজাজি, অসভ্য, পাজি লোক মনে হয়।কিন্তু ঘুমের মাঝে একজন ভালো মনের মানুষ মনে হচ্ছে। আসলে আমরা মানুষ রাই অন্যরকম। ভিতরে একটা বাহিরে একটা। তখন ঘুমের ঘোরে আকাশ বলল,, ----- জান।।আই লাভ ইউ সো মাছ। আই লাভ ইউ।।। বলেই আমার গালে একটা চুমু বসিয়ে দিল।আমি তৎক্ষনাৎ কিছু না ভেবে এক ঝটকায় আকাশকে সরিয়ে ফেললাম। এতোক্ষণ দুর্বল গাই ছিলাম। হঠাৎ যেন কোথা থেকে শক্তি এসে পড়ল। আমি সোজা হয়ে দাড়িয়ে পড়লাম আকাশ কিছুটা নড়ে আবার ঘুমের মাঝে চলে গেল। এই ঘটনাতে নিজের কাছেই লজ্জা লাগছে। কি থেকে কি হয়ে গেল। চলবে,,,, [ ছোট পর্বের জন্য দুঃখিত। কাল আমার রেজাল্ট। মনটা ভালো না।সাথে শরীর টা ও ]

@Kamrul16

Corona শনিবারের রিপোর্ট। চট্টগ্রামে একদিনে ২৭৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত চট্টগ্রামে গত একদিনে (গত ২৪ ঘন্টায়) ১২১৯ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষায় ২৭৯ জনের পজিটিভ (নতুন) এসেছে। এর মধ্যে মহানগরের ১৮০ জন এবং উপজেলার ৯১ জন। ঠিকানাবিহিন ৮ জন। চট্টগ্রামে তিনটি করোনা পরীক্ষার ল্যাব এবং কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষা শেষে শনিবার (৩০ মে) রাতে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিআইটিআইডিতে ২৪, ২৫, ২৬শে মে তিনদিনের ৮১৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তৎমধ্যে ১১৬ টি পজিটিভ। মহানগরীতে ৬৭ টি, উপজেলায় ৪৩ টি। ঠিকানাবিহীন ৬জন। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ইউনিভার্সিটি (CVASU)'তে ১৩৮ টি নমুনা পরীক্ষায় ৪২ টি পজিটিভ। মহানগরের ২টি উপজেলায় ৩৮ টি। ঠিকানাবিহীন ২টি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিবেদনে ২৬০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তৎমধ্যে ১২০ জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়। মহানগরের ১১১ জন, উপজেলায় ৯ জন। অপর দিকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ টি নমুনা পরীক্ষায় ১ টি পজিটিভ। ১ জনই উপজেলার। এ নিয়ে চট্টগ্রামে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছালো ২ হাজার ৮৬৭ জনে।

@Kamrul16

Love গল্পঃ এক্স গার্লফ্রেন্ড যখন অফিসের বস। পর্বঃ ৫ লেখকঃ মো: রাশেদ আমিঃ ম্যাম আমি আর চাকরি করবো না। আমার এই মাসের বেতন আর সব গুলো কাগজপত্র দিয়ে দেন। স্বপ্নাঃ what! কাজ করবেন না মানে? বললেই হলো। আমিঃ জ্বি ম্যাম আমি আর চাকরিটা করবো না। স্বপ্নাঃ এখানে চাকরি না করলে অন্য কোথাও করতে পারবেন না। আমিঃ কেন পারবো না? তাছাড়া আমি আপনার কোন কেনা গোলাম নই যে আমার এখানেই কাজ করতে হবে। স্বপ্নাঃ এখানে যদি কাজ না করেন তাহলে আপনার এমন অবস্থা করবো যে,,,,, আপনি অন্য কোথাও চাকরি করতে পারবেন না। গ্রামে গিয়ে হাল চাষ করতে হবে আপনাকে। আর আপনার একটা কাগজও পাবেন না। সব গুলো আমি ছিঁড়ে ফেলবো নয়তো বা আগুনে পুড়ে ফেলবো। আমিঃ কিন্তু ম্যাম... স্বপ্নাঃ কোনো কিন্তু নয়, যেটা বলছি সেটাই হবে। আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। ৩ বছর আগের সেই পুরোনো কথা গুলো মনে পড়তে লাগলো, যেই স্বপ্না আমার জন্য কতো চিন্তা করতো আজ সেই আমাকে চাকরি না করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। আমি এবার সেই আগের মতোই বললাম.... প্লিজ স্বপ্না আমার সাথে এমন করো না। (ঠাসসস ঠাসসস) স্বপ্নাঃ তোর এতো সাহস কি করে হয় সামান্য একটা কর্মচারী হয়ে আমার নাম মুখে আনতে। তাও আবার তুমি করে বলতেছিস? আমিঃ সরি ম্যাম। স্বপ্নাঃ কিসের সরি!,,,,যা এখান থেকে। আমি উঠে নিজের ডেস্কে চলে গেলাম, সিহাব আমাকে দেখে বললো.... কিরে আজ এতো দেরি করে আসলি যে? আর তোর মুখে কি, লাল হয়ে আছে কেন? আমিঃ বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় ধাক্কা খাইছি তাই। সিহাবঃ ও আচ্ছা। এরপর কাজ করতে লাগলাম, একটু পর পিয়ন এসে বললো.... স্যার আপনাকে ম্যাডাম ডাকতেছে। আমিঃ ওকে আপনি যান, আমি আসতেছি। একটু পর স্বপ্নার রুমের সামনে গেলাম..... আমিঃ ম্যাম ডেকেছেন? স্বপ্নাঃ আমার জন্য কফি নিয়ে আসেন। আমিঃ ম্যাম এগুলো তো পিয়নের কাজ। স্বপ্নাঃ পিয়নের জন্যও নিয়ে আসেন। আমিঃ মানে? স্বপ্নাঃ বাংলা বুঝস না? আমার আর পিয়ন এর জন্য কফি নিয়ে আয়। যা তাড়াতাড়ি আসবি। আমি আর কিছু না বলে কফি আনতে গেলাম। আমার এমন কর্মকাণ্ড দেখে সবাই কেমন জানি অদ্ভুত ভাবে আমার দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু কিছু বলতে পারছে না। কিন্তু সিহাব জেনেও না জানার ভান করে বসে আছে। আমার সাথে এমন হচ্ছে তবুও সে কিছু বলছে না। না বলারও কথা,,, আমার জন্য কিছু বলতে গেলে পরে দেখা যাবে ওর চাকরিটাই নেই। কফি দিয়ে এসে আবার কাজ করতে লাগলাম। সেদিন অফিস শেষ করে বাইরে আসা মাত্রই পিয়নের ডাক.... স্যার আপনাকে ম্যাডাম ডেকেছে। আমিঃ এখন তো অফিস শেষ, আবার কেন? পিয়নঃ জানি না। আপনি গিয়ে জিজ্ঞেস করেন,? আমিঃ ওকে যাচ্ছি। একটু পর স্বপ্নার সামনে গেলাম.... আমিঃ ম্যাম আমাকে ডেকেছেন? স্বপ্নাঃ হুম। আমিঃ কিন্তু এখন তো অফিস ছুটি,,,, এখন আবার কেন? স্বপ্নাঃ তোকে ছুটি দিয়েছে কে? আমিঃ মানে? স্বপ্নাঃ তুই আমার পার্সোনাল সেক্রেটারি,,, তোর কোনো ছুটি নেই। সব সময় আমার সাথে থাকতে হবে তোকে। আমিঃ সেক্রেটারি বলে কি ছুটি পাবো না? স্বপ্নাঃ না, ফাইল গুলো গাড়িতে উঠা। মিটিং আছে। মিটিং এর কথা শুনেই আমার কলিজা শুকিয়ে গেলো। ওই দিন গাড়ির পিছন পিছন দৌড়াতে হইছে যদি আজকেও এই রকম কিছু করায়! আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছি, এমন সময় স্বপ্না আবার বললো.... কিরে কথা কানে যায় না? আমিঃ জ্বি ম্যাম নিচ্ছি। ফাইল গুলো গাড়িতে দিয়ে আমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছি, স্বপ্না ভিতরে বসলো। একটু পর বললো... গাড়িতে উঠো। যাক, আল্লাহ একটু রহমত করছে। না হলে যে কি হতো আল্লাই ভালো জানে। আমি ড্রাইভারের পাশে গিয়ে বসলাম,,,, স্বপ্না পিছনে বসে বসে মোবাইলে কার সাথে যেন কথা বলছে আর হাসাহাসি করছে। মনে হয় husband হবে কারণ আমাদের ব্রেকআপ হইছে ৩ বছর হইছে আর এতো বছর ধরে সিঙ্গেল থাকবে না। ওর দাদা হয়তো বিয়ে দিয়ে দিছে। এগুলো ভাবতে ভাবতে একটা রেস্টুরেন্টে চলে আসলাম। আমি ফাইল গুলো নিয়ে স্বপ্নার পিছু পিছু রেস্টুরেন্টে গেলাম। দেখলাম একটা ইয়াং ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। স্বপ্না গিয়ে ওর সাথে হাত মিলালো। আমি ফাইল গুলো টেবিলে রেখে বাইরে চলে আসলাম, ড্রাইভার গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল টিপতেছে, আমি তার কাছে গেলাম। আমাকে দেখে বললো.... ভাই আপনাকে একটা কথা বলার ছিলো,,, কিন্তু সুযোগ পাইতেছি না। আমিঃ কি কথা বলেন। ড্রাইভারঃ আপামনি আপনার সাথে এমন করেন কেন? আমিঃ ভাই আমি নিজেও জানি না। সারা দিন অফিস করে এখন আবার এখানে আসতে হলো, নিজের জন্যও একটু সময় নেই। ড্রাইভারঃ আপনার তো লেখাপড়া আছে,,, এখানে এতো কষ্ট না করে অন্য কোথাও চাকরি দেখেন। আমিঃ সেই সুযোগও নাই ভাই। আপনার আপামনি এমন সিস্টেম করে রাখছে যে আমি অন্য কোথাও চাকরি করতে পারবো না। ড্রাইভারঃ কিন্তু একটা জিনিষ আমার মাথায় আসে না। আমিঃ কি? ড্রাইভারঃ আপামনি তো আমাদের সবার সাথে ভালো ভাবে কথা বলে,,,, কিন্তু আপনার সাথে এমন করে কেন? আমি যে কাজ করছি সেটা জানলে তুইও আমারে বাটাম দিতি (মনে মনে) ড্রাইভারঃ কিছু বললেন? আমিঃ না কিছু বলিনি। আচ্ছা ভাই আপনার আপামনির বিয়ে কোথায় হইছে? ড্রাইভারঃ আপনি পাগল নাকি, উনার বিয়ে হলে জানতেন না? আমিঃ সত্যিই আমি কিছু জানি না। ড্রাইভারঃ আপামনির নাকি একজনের লগে সম্পর্ক ছিলো,,,, অনেক ভালোবাসতো ওই পোলাটারে,,, ফকিন্নি ওরে ছ্যাকা দিয়ে অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করে ফেলছে। সেই থেকে আপামনি আর কোনো ছেলেকে বিশ্বাস করে না,, আর বিয়ের জন্য অনেক চাপ দিছে কিন্তু উনি রাজি হয় না। হায়রে সেই অভাগা ছেলেটা যে আমি সেটা যদি ড্রাইভার জানতো,,,, সেও আমার কানের নিচে একটা থাপ্পড় দিতো। কথা বলতে বলতে স্বপ্না চলে আসলো..... এরপর আবার গাড়িতে করে অফিসের সামনে চলে আসলাম। রাত প্রায় ৮.০০ টা বাজে। আমি এবার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে fb তে loging করলাম, দেখলাম স্বপ্না আর ছেলেটার অনেক ছবি। ছবি গুলো দেখে অনেক রাগ হচ্ছে,,, আবার fb থেকে বের হয়ে,, খেয়ে ঘুমিয়ে নিলাম। পরের দিন অফিসে গেলাম। কাজ করতেছি একটু পর স্বপ্না আসলো, আমাকে বললো.... সমস্যা কি আপনার? আমিঃ মানে! আমি আবার কি করলাম? স্বপ্নাঃ অফিসে টি-শার্ট কেন? এটা আপনার শ্বশুর বাড়ি নাকি? আমিঃ আসলে ম্যাম.....(বলতে না দিয়ে) স্বপ্নাঃ কি আসলে? নেক্সট টাইম এগুলো দেখলে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো কথাটা মনে থাকে যেন। আমিঃ সরি ম্যাম আর হবে না। স্বপ্না চলে গেলো। আসলে অল্প টাকার বেতন আর সেটা দিয়ে ফ্যামিলি চালাতে হয়, বাবা মায়ের মেডিসিন খরচ, ছোট বোনের পড়ালেখার খরচ, আবার আমার নিজের খরচ। সব সময় টানাটানির মধ্যে থাকি, সেজন্য নিজের জন্য ভালো কোনো কাপড়ও নিতে পারি না। গত কাল সারা দিন স্বপ্নার সাথে থাকার কারনে শার্ট ময়লা হয়ে গেছে। রাতে ধুয়ে দিয়েছিলাম। আমি ভাবছি সকাল পর্যন্ত শুকিয়ে যাবে, কিন্তু শুকায়নি। তাই টি-শার্ট পড়ে গেছিলাম। স্বপ্না চলে যাওয়ার পর সবাই আমাকে এটা ওটা বলে খোটা দিতে লাগলো, লজ্জায় পুরো লাল হয়ে গেলাম। কাজ করতেছি এমন সময় পিয়ন আসলো.... স্যার আপনাকে ডাকছে। কিছু না বলে সোজা স্বপ্নার রুমে গেলাম। আমিঃ ম্যাম ডেকেছেন? স্বপ্নাঃ এই ফাইল গুলো নিয়ে যান। দুপুরের আগে রেড়ি করে দিবেন। নিয়ে দেখি ৮ টা ফাইল, আজকেও যে দুপুরে খাওয়া হবে না সেটা ভালোভাবেই জেনে গেছি। কাজ করতে করতে ৩.০০ টা বেজে গেছে, সবাই খাওয়া দাওয়া করে আসছে বাট আমি পারিনি। ছুটির আগে সবাইকে বেতন দেওয়া হলো,,, সবাই বেতন পেয়ে অনেক খুশি। কিন্তু আমাকে দেয়নি। আমি ভাবছি হয়তো পরে ডাকবে কিন্তু না।। অফিস ছুটি হয়ে গেলো। নিজের কাছেও কেমন জানি খারাপ লাগছে সবাই পেয়ে গেলো আমি পেলাম না। আমি আস্তে আস্তে স্বপ্নার রুমের কাছে গেলাম..... আমিঃ ম্যাম আসবো। স্বপ্নাঃ হুম। কিছু বলবে? আমিঃ ম্যাম আমার বেতনটা যদি দিতেন উপকার হতো। বাবা মায়ের মেডিসিন শেষ, বোনেরও সামনে পরীক্ষা। স্বপ্নাঃ আপনি তো এই মাসের বেতন পাবেন না! মুহূর্তেই মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো.... বেতন পাবো না মানে? এটা কি ধরনের কথা? স্বপ্নাঃ হুম, পাবে না মানে পাবে না। আমিঃ কিন্তু কেন? আমার অপরাধ। #__চলবে......!

@Kamrul16

Love নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট______ অবস্থিত? ক.আলফাডাঙ্গা,ফরিদপুর খ.আলমডাঙা,ফরিদপুর গ.মধুখালী,ফরিদপুর ঘ.হারুকান্দি,ফরিদপুর

@Kamrul16

Love #গোধূলীর_প্রেম #পর্ব-৬ #Nirzana(Tanima_Anam) -জানেন আমি আপনাকে বিয়ে করিনি।তবুও আপনি নিজেকে আমার বর ভাবছেন।বিষয়টা খুব কমপ্লিকেটেড। -কি সব বলছো?? -হুহ ঠিকই বলছি।আমি কবুল বলেছি আবার বলিনি।যেমন ধরুন আমি মুখে মুখে বললাম আমি আপনাকে স্বামী বলে মেনে নিয়েছি কিন্তু মনে মনে মানলাম না।আবার আপনাকে আমি একটুও পছন্দ করি না।স্বামী তো দূরের কথা আমার বাসার কেয়ার টেকারও আপনাকে কখনো বানাতাম না..।আপনি একটা মিথ্যে ছলনা করে রঙ্গনের সাথে আমার বিয়েটা ভেঙ্গে দিলেন আবার নিজে মহান সেজে আমাকে বিয়ে করলেন।আপনি আমাকে একটুও সন্মান করেন না অথচ বলেন ভালোবাসেন!!ওহ্ সরি ভালোবাসতেন।আর আমি যে আপনাকে চিনি না জানি না অথচ আপনি বলেন আমি নাকি অতীতে আপনার সাথে এটা করেছি ঐটা করেছি.....!!! এবার বলুন এটা কি কোনো বিয়ে হলো??? সায়ন মুচকি হাসি দিয়ে গরম দুধের মগটা অর্নীর দিকে এগিয়ে দিলো।মেয়েটা জ্বরের ঘোরে হয়তো আবল তাবল বকছে....।মেয়েটা যখন ঝালে লাফাচ্ছিলো সায়ন তখন ইচ্ছে করেই তাকে পানি দিচ্ছিলো না।অর্নী রাগে গজগজ করতে করতে টেবিলে রাখা গরম স্যুপ ভর্তি বাটিটা সায়নের গায়ে ছুড়ে মারে। -যদি ভেবে থাকেন আপনি সব সময় আমাকে এটা ওটা করে টর্চার করবেন আর আমি সব সময় মুখ বুজে মেনে নিবো তাহলে ভুল করছেন। এবার সায়ন রেগে গিয়ে অর্নীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ওয়াশরুমে পানি ভর্তি বার্থটব টার মধ্যে চুবিয়ে দিয়ে আসে।মোটামুটি ঘন্টা খানিক ওয়াশরুমে বন্দী থাকায় জ্বরটা বেঁধেছে..... সায়ন একটু ভুরু কুচকে অর্নীকে জবাব দেয়। -আচ্ছা হটাৎ আমাকে কেয়ার টেকার বানানোর কথা মাথায় এলো কেন অন্যকিছুও তো ভাবতে পারতে,না মানে তোমার কল্পনায়?? -বা রে স্বামী তো একজন মেয়ের কেয়ার টেকারের মতোই যেমন ধরুন মেয়েদের দুঃখ কষ্ট সন্মান অসম্মান ভালোলাগা মন্দ লাগা সুবিধা অসুবিধা সব কিছু তো স্বামীই দেখবে।একটা মেয়ের সব দিকে খেয়াল রাখা তো স্বামীরই কর্তব্য তাহলে হলো তো কেয়ার টেকার??য সায়ন অর্নীর হাতে দুধের গ্লাসটা ধরিয়ে দিয়ে অর্নীর পাশে বসে কিছুক্ষন অর্নীর দিকে তাকিয়ে থেকে বলতে শুরু করে -আজকাল তুমি বড্ড গুছিয়ে কথা বলতে পারো যা আগে পারতে না।তুমি বড্ড অচেনা হয়ে গেছো অর্নী সায়নের দিকে বাঁকা চোখে তাকায়।তারপর একদমে দুধটুকু খেয়ে মগটা সায়নের দিকে এগিয়ে দেয় -আমি আগেও গুছিয়েই কথা বলতাম এখনও বলি এটা নতুন কিছুই না।স্কুলে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আমিই ফার্স্ট হতাম। -ঔষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড় না হলে জ্বরের ঘোরে কতোই না নতুন নতুন কথা আবিষ্কার করবে আল্লাহ্ ভালো জানে! -অদ্ভুত তো আমার জ্বরটা বেশি হলেও আমি ঠিক আছি অন্তত বিলাপ,প্রলাপ কোনোটাই করছি না! অর্নী এইটুকু বলেই বিছানায় ধপ করে শুয়ে পড়ে। -যদি বলি বকছো....আমার জানা মতে তুমি বরাবরই স্কুলে ব্যাকব্রেঞ্চারস্ ছিলে।পড়াশোনাটাই কখনো ঠিক মতো করো নি আর তো বিতর্ক।আর কতোই মা মিথ্যা বলবা।তুমি তো এই ক বছরে ছোট খাটো মিথ্যার জাহাজ হয়ে গিয়েছো!! অর্নী রাগে গজগজ করতে করতে আবার উঠে বসে... -পৃথিবীর যতো রকম আজগুবি কথা আপনার মুখে।ভালো করে গিয়ে শুনে আসুন আমার স্কুলে তারপর কথা বলবেন।যতোসব..... এইটুকু বলেই অর্নী বিছানায় শুয়ে পড়ে।আপাতোতো তাদের কথা বার্তা এখানেই শেষ। সায়ন মোবাইলটা হাতে নিয়ে বারান্দায় চলে যায়।তারপর একটা খুব পরিচিত কাউকে ফোন করে বেশ ধীরে ধীরপ কথা বলতে শুরু করে "হুহ হয়ে গেছে এবার ওদেরকে ছেড়ে দাও।আর শোনো যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ওকে দূরে কোথাও পাঠিয়ে দাও।নেক্সট টাইম যেন আমাদের ধারের কাছেও ওকে না দেখি।আর শোনো আমি অর্নীর ডিটেইলস চাই।যেমন ধরো ও কেন আমার সাথে ওমন করলো,বা এতো বছর ও কেমন লাইফ লিড করেছে বা ওর ব্যাকগ্রাউন্ড সব কিছু জানতে চাই...ডিটেইলস" কথাগুলো বলেই সায়ন ফোনটা রেখে দেয়।এদিকে অর্নী চলে গেছে গভীর ঘুমে। সায়ন এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে একি নিষ্পাপ এই মুখ।কতো চেনা এই মানুষটা অথচ এই চিরচেনা মানুষটাই কখন কিভাবে এতো অচেনা হয়ে উঠলো তা সে নিজেও জানে না। সকাল সকাল অর্নী ঘুম থেকে উঠে গুটি গুটি পায়ে হাটা ধরে রান্না ঘরের দিকে।তারপর দুই মগ কফি বানিয়ে চলে আসে সায়নের কাছে।সায়ন তখন সোফায় হেলান দিয়ে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে।অর্নী সায়নের কাছে এসে সায়নকে বেশ মিষ্টি করে ডাক দেয়।সায়ন উঠে বসে অর্নীর হাতে কফি দেখে চোখ দুটো রসগোল্লা হয়ে যায়। -তোমার হাতে কি?? -কি আবার কফি! -কার জন্য? -আপনার জন্য..... -ওওও বাট তুমি!! -হুহ নিন..... কথাটা বলেই সায়নের দিকে কফি ভর্তি মগটা এগিয়ে দেয়।সায়ন মুচকি হাসি দিয়ে অর্নীর হাত থেকে কফি মগটা নেয়। তার কফি মগটায় চুমুক দিতেই সায়নে নাক কান দিয়ে ধোয়া বেরোবার অবস্থা দেখা যায়। কফিতে কফির বদলে গোল মরিচ মেশানো।সাথে অবশ্য যতোরকম মরিচ হাতের কাছে পেয়েছে তাও মিশেয়ে দিয়েছে। সায়ন ঝালে একে বারে নাজে হাল অবস্থা।এদিকে অর্নী হেসে হেসে কুল কিনারা পাচ্ছে না। সায়ন লাল লাল চোখে অর্নীর দিকে তাকায়।অর্নী কোনো রকমে হাসি থামিয়ে সায়নকে বলতে শুরু করে... -টিট ফর ট্যাট!!!ও ব্যাই দ্যা ওয়ে বলেছিলাম না আপনি আমার কাছ থেকে সেটাই পাবেন যেটা আপনি ডিজার্ভ করেন।ওহ্ এই নিন পানি খান। ব্যাপারটা সেখানেই শেষ হয়ে যায়।সায়নও অর্নীকে এই ব্যাপ্যার নিয়ে কিছুই বলে না।সন্ধ্যার দিকে সায়ন অর্নীরকে বেশ ঝাঝালো কন্ঠে জানিয়ে দেয় অর্নীকে যেতে হবে তার সাথে। অর্নী প্রথমে বেশ অবাক হয়। তারপর সায়নকে প্রশ্ন করতেই সায়ন সরাসরি জানিয়ে দেয়... -বিয়ে হলে মেয়েদের তো শ্বশুড় বাড়িতে যেতেই হয় তাকেও যেতে হবে এবার।তার শ্বশুড় বাড়ি। অর্নী প্রথমে রাজি না হলেও পরে সায়নের চাপে রাজি হয়ে যায়.... এবার হয়তো তার জন্য নতুন কিছু অপেক্ষা করছে..... চলবে..... (প্রথমে ভেবেছিলাম গল্পটা আর লিখবো না পরে ইনবক্সে বকা খেয়ে আবার লিখা শুরু করলাম।দয়া করে জানাবেন গল্পটা কেমন হয়েছে।ধন্যবাদ) ★

@Kamrul16

Love গল্প: ক্যালেন্ডার! পর্ব: ১২! লেখক: তানভীর তুহিন! মিছিল বলে, " হাত ছাড়ো মুবিন। এখন লিমিট ক্রস করছো তুমি! " মুবিন হেসে বলে, " কিছুই তো করলাম না। তাহলে লিমিট ক্রস হলো কোথায়? " মিছিল চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। মুবিনের স্পর্ষে তার বুকে ধ্রিম ধ্রিম শব্দে ঢাক, ঢোল, ড্রাম সব একসাথে বাজছে। মুবিন খানিক চওড়া হেসে মিছিলের হাতটা ধরে আছে, মিছিলের হাতের উল্টোপিঠে থাম্বফিংগার দিয়ে স্লাইড করছে মুবিন। মুবিনের এই অতিসাধারণ ছোয়ায়'ও মাতাল হয়ে উঠছে মিছিলের মন। মিছিল চোয়াল শক্ত করে বলে, " মুবিন ছাড়ো! " মুবিন সঙ্গে সঙ্গে মিছিলের হাত ছেড়ে দিয়ে বলে, " আচ্ছা ছেড়ে দিলাম। তবে এখান থেকে যেয়ো না, কিছুক্ষন দাড়াও এখানে! " মিছিল চুপচাপ ট্রেনের দরজার পাশের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মুবিন ট্রেনের অবিরাম পথচলা দেখছে, মিছিলও দেখছে। মুবিন বাইরের আধো ঝাপসা রেললাইনের পাশের চলমান রাস্তা দেখতে দেখতে মিছিলকে বলে, " আচ্ছা মিছিল তুমি আমায় ভালোবাসো এটা কবে বলবে? " মিছিলের চটজলদি জবাব, " কোনোদিনও না। কারন আমি তোমায় কোনোদিনও ভালোবাসবো না! " মুবিন দাত বের করে হেসে আত্মবিশ্বাসী বাক্যে বলে, " এজন্য'ই তো তোমায় আরো বেশি করে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। " মিছিল চোখ সরু করে বলে, " মানে? কীসের জন্য বেশি ভালোবাসতে ইচ্ছে করে? " - " এইযে তুমি এতো নিশ্চিতভাবে বলো যে কোনোদিনও ভালোবাসবে না। এটাই আমায় আভাস দিয়ে দেয় যে তুমি আমায় ভালোবাসতে শুরু করে দিয়েছো। আর এরকম আভাস পেলে যেকারোরই ভেতরকার প্রেম ফুলে-ফেপে উঠবে, এটাই স্বাভাবিক! " - " কোত্থেকে যে পাও এসব মুলাপচা লজিক, গড নৌস। " - " জানবে, তুমিও একদিন জানবে। আর যেদিন জানবে সেদিন এই মুলাপচা লজিকগুলোই তোমার কাছে চকলেট আইস্ক্রিমের মতো লাগবে! " - " হু! যা! তা! যত্তসব! " মুবিন আর মিছিল ছোটোখাটো ধরনের একটা তর্কে জড়াচ্ছিলো। তখনই শাওন এসে বলে, " কীরে তোরা এখানেই দাঁড়ায় থাকবি নাকি? এখানে যদি দাঁড়িয়েই থাকবি তাহলে টাকা খরচ করে ট্রেনের টিকেট কিনলি কেনো? " মুবিন শাওনকে ধমক দিয়ে বলে, " তুই শালা শান্তিতে প্রেমও করতে দিবি না। দেখছিস যখন এখানে দাঁড়িয়ে আছি, তারমানে নিশ্চই প্রেম করছি তাইনা? " মিছিল চোখ রাঙিয়ে তাকায় মুবিনের দিকে। তারপর শাওনকে বলে, " আমরা মোটেই প্রেম-ট্রেম করছি না রে এখানে। তুই সিটে চল তো! " বলেই মিছিল সিটের দিকে আগায়। শাওন মুবিনকে বলে, " কিরে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? যাবিনা? চল সিটে চল! " - " তোরা যা একটা সিগারেট টেনে আসছি! " - " আচ্ছা তাড়াতাড়ি আয়! " মিছিল মুবিনকে সিগারেট না খাওয়ার জন্য বলবে ভেবেছিলো। কিন্তু কী না কী ভেবে কথাটা না বলেই চলে যায় মিছিল। মিছিল আর শাওন চলে গেলেই মুবিন একটা সিগারেট জ্বালিয়ে ধোয়া টানা শুরু করে, ছোট ছোট টান দিয়ে সিগারেটের ধোয়া ভেতর বাহির করছে মুবিন। এক অদ্ভুত অস্থিরতা কাজ করছে তার মধ্যে! মুবিন একটা সেন্টার ফ্রুট মুখে দিয়ে চিবোতে চিবোতে গিয়ে সিটে বসলো। মুবিন গিয়ে বসতেই যেনো আড্ডাটা জমজমাট হলো। এতোক্ষন চারপাশে কথা তো হচ্ছিলো কিন্তু তেমন প্রান ছিলো না এই আড্ডায়। বগির প্রায় অর্ধেকটা জুড়েই ওরা, ২১ জনের প্রায় সবাই'ই সিট ছেড়ে উঠে সিটে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কথায় কথায় চৈতি মুবিনকে গান গাইতে বলে। মুবিন অবশ্য গান গাইবে বলে, নিজের গিটারটা নিয়ে এসেছিলো। তাই আর দেরি না করে গিটারের টুং! টাং! শব্দের সাথে সুর তোলে মুবিন, " মনে পড়ে রুবি রায় মনে পড়ে রুবি রায়, কবিতায় তোমাকে একদিন কত করে ডেকেছি! আজ হায় রুবি রায় ডেকে বল আমাকে তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি মনে পড়ে রুবি রায়, কবিতায় তোমাকে একদিন কত করে ডেকেছি! আজ হায় রুবি রায়, ডেকে বল আমাকে তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি রোদ জ্বলা দুপুরে, সুর তুলে নূপুরে বাস থেকে তুমি যবে নাবতে রোদ জ্বলা দুপুরে, সুর তুলে নূপুরে বাস থেকে তুমি যবে নাবতে একটি কিশোর ছেলে একা কেন দাঁড়িয়ে সে কথা কি কোনোদিন ভাবতে? মনে পড়ে রুবি রায়, কবিতায় তোমাকে একদিন কত করে ডেকেছি! আজ হায় রুবি রায় ডেকে বল আমাকে তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি দ্বীপ জ্বলা সন্ধ্যায় দ্বীপ জ্বলা সন্ধ্যায়, হৃদয়ের জানালায় কান্নার খাঁচা শুধু রেখেছি দ্বীপ জ্বলা সন্ধ্যায়, হৃদয়ের জানালায় কান্নার খাঁচা শুধু রেখেছি ও পাখি সেতো আসে নি তুমি ভালোবাসনি স্বপ্নের জাল বৃথা বুনেছি মনে পড়ে রুবি রায়, কবিতায় তোমাকে একদিন কত করে ডেকেছি! আজ হায় রুবি রায় ডেকে বল আমাকে তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি মনে পড়ে রুবি রায় মনে পড়ে রুবি রায়! " সবাই মুবিনের সাথে সুর মেলায়। তারপর একে একে সীমান্ত, চৈতি, অলোক, শ্রাবন সবাই'ই গান গায়। সীমান্ত অবশ্য একটা ইংলিশ গান গেয়েছিলো, কারন ওর ইংলিশ একসেন্ট এবং গানের সুর এককথায় চরম জোশ। তারপর গান গাওয়ার পালা আসে মিছিলের, প্রথমে গাইবে না গাইবে না করলেও পরে গেয়ে ফেলে। মিছিল গায় 'বাড়িয়ে দাও তোমার হাত!' গানটা। মিছিল যখন গান গাইছিলো তখন মুবিন ওর গানের তালে তালে গিটার বাজাচ্ছিলো আর স্থির মুগ্ধ নয়নে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিলো মিছিলকে। মুবিন যখন এভাবে স্থির মুগ্ধ নয়নে দেখছিলো মিছিলকে, তখন মিছিলের মনে হচ্ছিলো কেউ অতি নিকট থেকে তাকে আলিঙ্গন করছে।মিছিলের গান গাওয়া শেষ হতেই মুবিন নিজের হাতটা মিছিলের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে, " এই নাও বাড়িয়ে দিয়েছি আমার হাত, তুমি আমার আঙুল ধরে! আমায় ধরে হাটতে পারো। " মিছিল মিথ্যে চোখ গরম দেখিয়ে হেসে দিয়ে বলে, " ধুর! " সবাই একসাথে হো হো করে হেসে ওঠে মুবিন মিছিলের রঙ্গতামাশায়। আসলেই কী কেউ তাকিয়ে থেকেই এভাবে মাতাল করে দিতে পারে কাউকে? শুধুমাত্র চাহনিতেই কী যাদুর তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে অনুভুতির ঢেউ কে উত্তাল করে দেওয়া যায়? হ্যা যায় হয়তো, নাহলে মুবিন কীভাবে পারছে? ওর প্রত্যেকটা চাহনি'ই যেনো কামিয়াব এবং সফল। কীভাবে পারছে আমায় অদৃশ্যভাবে কাছে টেনে নিতে? এসব ভেবে ভেবে ছোট ছোট মুহুর্তগুলোকে অতীত করছে মিছিল। সামনেই মুবিন বসা। থুতনিতে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে রক্তিম আকাশের পানে, আকাশটাকে যেনো কেউ খুন করেছে। এলোপাথাড়ি যেনো কোপানো হয়েছে আকাশটাকে, পশ্চিম আকাশটা রক্তিম বর্ন ধারন করেছে। সেই রক্তিম আকাশের শেষ প্রান্তের নিভু হলুদ রঙের সূর্যটা আকাশের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে তলিয়ে যাচ্ছে অজানায়। অনেকটা অপরাধির মতো তলিয়ে যাচ্ছে, হয়তো অনুসন্ধান করলে জানা যাবে এই রক্তাক্ত আকাশের খুনি এই নিভু হলদে রঙা সূর্যটা। যার বুকে সে সারাটাদিন ছিলো তাকেই খুন করে পালিয়ে যাচ্ছে? কেনো খুন করলো? এতোটা স্বার্থপর কেনো হলো সূর্যটা? বেইমান! অকৃতজ্ঞ! বিশ্বাসঘাতক সূর্য! এসব আবোলতাবোল ভাবছে মিছিল। কেনো ভাবছে? এই প্রশ্নের তদন্ত করবে সে। হ্যা এখনই তদন্ত শুরু করবে। মিছিল অবান্তর বিষয়টা নিয়ে তদন্ত শুরু করতে যাবে তার আগেই মিছিলকে অবাক করে দিয়ে মুবিন মিছিলের হাতটা ধরে। হঠাৎ হাত ধরলো কেনো? এতক্ষন তো আকাশ নিয়ে গবেষনা করছিলো জনাব, হঠাৎ কথা নেই বার্তা নেই হাত ধরে বসলো? কথাটা ভেবেই মিছিল পাশে তাকালো। সবাই বেঘোরে ঘুমোচ্ছে। মিছিলের পাশে বসা চৈতি ঘুমোচ্ছে, মুবিনের পাশে বসা শাওন-সীমান্ত'ও ঘুমোচ্ছে। মিছিলের ইচ্ছে করছেনা মুবিনকে কটুকথা শুনিয়ে মুবিনের কাছ থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিতে, তাই হাতটা আর ছাড়িয়ে নিলো না মিছিল। শুধু মুখে একটা বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন এনে চোখ দিয়ে নিজের হাতের দিকে ইশারা করে চোখ নাচিয়ে ইঙ্গিতে মুবিনের কাছে হাত ধরার কারন জানতে চায় মিছিল। মুবিন প্রশ্ন বুঝেও কোনো উত্তর দেয় না, উত্তর না দিয়েই মিছিলের হাতটা আরেকটু শক্ত করে ধরে। মিছিলের চেহারার প্রশ্নবোধক চিহ্নটা আরো গাঢ়ো হয়ে ওঠে। মিছিলের চেহারায় থাকা গাঢ়ো প্রশ্নবোধক চিহ্নটা মুছে দেবার কোনো ভ্রুক্ষেপ'ই নেই মুবিনের। তার সমস্ত ভ্রুক্ষেপ এখন মিছিল! শুধুই মিছিল!, মিছিলের চেহারার প্রশ্নবোধক চিহ্ন না। মুবিন মিছিলের হাত ধরার শক্ততার মাত্রা বাড়িয়ে মিছিলের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, " আই লাভ ইউ মিছিল মনি! " কথাটা শুনতেই পরাপর লাগাতার বেশ কয়েকবার হার্ট বিট মিস করে মিছিল। প্রোপোজ করার একটা অতিসাধারণ ধরন আই লাভ ইউ বলা, এর আগেও বহু ছেলের মুখে বহুবার আই লাভ ইউ শুনেছে সে। কিন্তু কখনো এমন ভালোলাগা, এমন মুগ্ধতা, এমন স্নিগ্ধতা, এমন প্রাপ্তি অনুভব করেনি সে। কী আছে মুবিনের মধ্যে? কী দিয়ে দিন দিন আমায় পাগল করে নিচ্ছে ও? মুবিন একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে মিছিলের চোখ দুটোর পানে, মিছিলের চোখ দুটোও স্থিরভাবে তাক করা মুবিনের চোখদুটোর দিকে। মিছিল অস্ফুট বাক্যে বলে, " হঠাৎ এসব বলছো? " মুবিন মিছিলের হাতটা ছেড়ে দেয়, মিছিল চাচ্ছিলো মুবিন আরেকটু ধরে রাখুক হাতটা। একদম শক্ত করে ধরে রাখুক। কিন্তু মিছিলের ইচ্ছাটা অজানাই রয়ে যায় মুবিনের, মুবিন হাতটা ছেড়ে দিয়ে নরম গলায় বলে, " আকাশ দেখে খুব ইচ্ছে করছিলো আমার সাহিত্যকনাটাকে প্রেম নিবেদন করার। তাই দেরী না করে বলে দিলাম! " মিছিল নিভু গলায় ছোট করে বলে, " ওহ! " মুবিন আর কিছু না বলে, আকাশ দেখায় মনোযোগ দেয়। তার সবচেয়ে কাছের বস্তু এই আকাশ! যদিও অবস্থানের দিক থেকে অনেক দূরত্ব এই দুই বন্ধুর মাঝে। তবুও অন্তরাত্মার দিক থেকে তারা অতি সন্নিকটে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা ট্রেন এসে সিলেট রেলস্টেশনে দাড়িয়েছে। সবাই গা''ছেড়ে দিয়ে ট্রেন থেকে নেমেছে, সবারই ঘুম আধপাকা হয়ে আছে। শুধু মুবিন আর মিছিলের ছাড়া। রেলস্টেশন থেলে লেগুনায় চড়ে সবাই সিলেটের আম্বরখানার হোটেল কায়কোবাদে গিয়ে উঠলো। গতকাল রাতেই এখানে সবার জন্য রুম বুক করে রেখেছিলো মুবিন। সবাই হোটেলের ডাইনিং এরিয়ায় খাবার খেয়ে যে যার রুমে গিয়ে গা এলিয়ে দেয়। কার সবার'ই ক্লান্তিতে গা ছেড়ে দিয়েছে প্রায়। চলবে!