ভুলিনি_তোমায়
দুই বছরের সম্পর্কে আজ ওর সাথে দেখা করার জন্য জীবনে প্রথম শাড়ী পড়ে যাচ্ছিলাম।উদ্দেশ্য আজ ওকে চমকে দিবো।কিন্তুু গিয়ে যা দেখলাম তা দেখে আমি নিজেই চমকে গেলাম,,,
.
.
.
আমার বয়ফ্রেন্ড আমার সামনে আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড কে প্রপোজ করছে।আমার মনে হচ্ছিলো কেউ আমার কলিজাতে ছুরি চালাচ্ছে। আমি যতটা না অবাক হয়েছি আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড তার থেকেও বেশি অবাক হয়েছে।আমরা দুজনের মধ্যে কেউই কল্পনাও করতে পারি নি যে এমন কিছু ঘটবে।
মুমু অবাক হয়ে বললো,,"এসব কী বলছেন ভাইয়া?"
সৌরভ মাথা নিচু করে মাটির দিকে তাকিয়ে বললো,,"আমি ঠিকই বলছি,আমি তোমাকে ভালোবাসি।"
মুমুরর অবাকের ধাপ যেনো আরো বেড়ে গেলো,ও বিষ্ময় নিয়ে বললো,,,"কিন্তুু আপনি তো নায়লাকে ভালোবাসেন,তাছাড়া নায়লা আপনার গার্লফ্রেন্ড। "
সৌরভ এবারো মাথা নিচু করে বললো,,"আমি ওকে ভালোবাসি না ওর প্রতি আমার ফিলিংস ভালো লাগা ছিলো ভালোবাসা নয়।আমি বুঝতে পেরেছি আমি তোমাকে ভালোবাসি। "
একথা শুনে আমি অনুভূতিহীন হয়ে গেলাম,রাগ উঠতে লাগলো।তাও আমি নিজেকে শান্ত করে বললাম,,,"সৌরভ তুমি এসব কী বলছো?আমার সাথে মজা করছো তাই না?দেখো এ ধরনের মজা আমার মোটেও পছন্দ নয়।"
সৌরভ আমার দিকে তাকিয়ে বললো,,"আমি মোটেও মজা করছি না,আমি সত্যি বলছি।আমি মুমুকে ভালোবাসি।ও আমার ভালোবাসা।"
আমি ওর দিকে করুনভাবে তাকিয়ে বললাম,, "তাহলে আমি কী? "
সৌরভ মুখ ছোট করে বললো,,"আবেগ।তুমি আমার আবেগ ছিলে।"
আমি চিল্লিয়ে বললাম,,"হোয়াটট,সৌরভ!!দুইবছর পর তোমার মনে হচ্ছে আমি তোমার আবেগ ছিলাম।আমি তোমাকে গিয়ে বলেনি যে আমি ভালোবাসি, তুমি আমাকে এসে বলেছিলে যে তুমি আমাকে ভালোবাসো তাহলে এখন কেনো বলছো তুমি আমাকে ভালোবাসো না?"
সৌরভ আমাকে থামাতে থামাতে বললো,,"আস্তে বল,এত চেঁচাচ্ছো কেনো?সবাই আমাদের দেখছে।"
আমি সৌরভের কথা শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলাম,আরো জোরে চেঁচিয়ে বললাম,,,"আস্তে কেনো বলবো?সবাই দেখলে দেখুক।"
সৌরভ বললো,,"দেখো নায়লা তুমি কিন্তুু সিনক্রিয়েট করছো।আমি তোমাকে তো আর ধোকা দিচ্ছি না, আমি ক্লিয়ারলি বলতেছি যে আমি তোমাকে ভালোবাসি না।আর দুইবছর আগে আমার বয়স টা ছিলো আবেগের,, তোমার বয়সও ছিলো ঠিক তেমন।তুমি এখনও আবেগ দিয়ে চলতেছো।আমি প্রথমে বুঝতে পারি নি যে তোমার প্রতি আমার শুধু আবেগ ছিলো।কিন্তুু এখন বুঝতে পেরেছি যে তোমার প্রতি আমার ফিলিংস কেমন ছিলো।তোমার বয়সটাও এমন, তুমিও কিছু দিন পর বুঝতে পারতে যে তুমি আবেগ দিয়ে চলতেছো।তুমি দেখো কয়দিন পর সব ঠিকই ভুলে যাবা।"
সৌরভের কথা শুনে আমি হতভম্ভ হয়ে গিয়েছি,ও কী বললো?আমি ওর আবেগ?ওকে আমি ভুলে যাবো?
আমি রেগে বললাম,,,ইউ নো হোয়াট তুমি ঠিকই বলেছো,আমি আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেই,তাই তো তোমার মত ছেলেকে মন থেকে ভালোবেসেছিলাম।"
সৌরভ চেঁচিয়ে বললো,,"হোয়াট ডু ইউ মিন বাই আমার মত ছেলে!"
এসব নিয়ে সৌরভের সাথে কথা কাটাকাটি করতে লাগলাম,এক পর্যায় সৌরভ আমাকে বলে ফেললো,,"তুমিও তোমার মায়ের মতো।"আরো অনেক আজেবাজে কথা বললো,শেষে আমার চরিএ নিয়ে কথা বলে ফেললো।আমি হতবাক হয়ে গেলাম।অবাক হয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম।এদিকে সৌরভ আমাকে বলেই যাচ্ছে, আমি চুপ হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম।ও কতটা বদলে গেলো,ও একসময় আমাকে বলতো নায়লা তুমি না একদম অন্যরকম,তোমার মতো কেউ নেই,তোমার মতো এত নিষ্পাপ মেয়ে আমি কোথাও দেখি নি।আর আজ ও বললো আমি আমার মায়ের মতো!
আমি তাও আমার ইগোকে সাইড করে ওকে বুঝাতে লাগলাম,আমি ওকে ভালোবাসি,ও না ভালোবাসলেও চলবে।কিন্তুু ও আমাকে ধাক্কা দিয়ে বললো,,"তুমি বুঝো না আমি তোমাকে ভালোবাসি না।"
ওর ধাক্কার সাথে আমি পড়ে যেতে নিলাম কিন্তুু তার আগেই কেউ আমাকে ধরে ফেললো,আমি তাকিয়ে দেখি মুমু।মুমু রেগে সৌরভকে বললো,,,"দুই বছর ভালোবাসার পর আপনি আজ ওকে বলছেন ও আপনার আবেগ।তাহলে আমিও যে আপনার আবেগ নই এটা কীভাবে মেনে নিবো?"
সৌরভ মুমুর সামনে এসে বললো,,"আমি সত্যি তোমাকে ভালোবাসি।তাছাড়া নায়লার সাথে তো আমার তেমন সম্পর্ক নেই, আমি এই দুইবছরে ওর হাত টাও ঠিক মত স্পর্শ করি নি।তাহলে তোমার,,,
আর ওদের কথা শুনতে ভালো লাগছে না,ওদের কথার মাঝেই বলে উঠলাম,,"ভালো থেকো।"বলেই চলে আসতে লাগলাম।কত বার বুঝালাম একবারও আমার কথা শুনলো না।
আমার বুকের ভেতরটা হু হু করতে লাগলো।আমি বলে বুঝাতে পারবো না আমার কতটা কষ্ট হচ্ছিলো।চোখের পানি যেনো বাধঁ মানছিলো না,নদীর স্রোতের মতো বইতে লাগলো।
আমি সৌরভকে খুব ভালোবাসি,সৌরভও আমাকে ভালোবাসতো কিন্তুু আজ হঠাৎ কী হয়ে গেলো?কেনো এমন করলো?আমার না খুব খুব কষ্ট হচ্ছে।
ছোট থেকেই ছেলেদের সাথে কম মিশতাম, কারো সাথে তেমন কথা বলতাম না। বলতে গেলে ঘরবন্দী জীবন আমার,আমার এ জীবনের কারন হলো আমার মা। আমার যখন চার বছর বয়স তখন আমার মা চলে যায় আমাকে আর বাবাকে একা করে।মায়ের জন্য খুব কান্না করতাম, রাত দিন অপেক্ষা করতাম মা আসবে বলে।বাবা কেমন যেনো নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন,প্রথম প্রথম আমার খোজ -খবর নিলেও কিছুদিন পর আর আমার তেমন খবর নিতো না।
নিজে নিজে বড় হতে লাগলাম,সারাটা দিনদিন যেমন তেমন গেলেও রাতে আমি শুধু কান্না করতাম।কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পড়তাম,কেউ খবরও নিত না।মা ছাড়া সন্তান যে কতটা কষ্টে থাকে সেটা শুধু আমিই বুঝি।আমার বাবা চাকরী করে,সারাদিন কাজ করে রাত আট টায় এসে দেখতেন আমি ঘুমিয়ে পড়েছি, একবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়তো।
একবারও আমাকে তুলে প্রশ্ন করতো না,"মা, খেয়েছিস?"আর না আমাকে খাইয়ে দিতো।নিজে নিজে ছোট হাত দিয়ে যতটা খেতে পারতাম ততটা খেতাম।সকালে বাবা রান্না করে ফেলতো আর সেটাই খেতাম।বাবা আমার সাথে তেমন কথা বলতেন না।সবসময় একা একা থাকতেন।আমার না খুব কষ্ট হত। আকাশের দিকে তাকিয়ে তারার কাছে কেঁদে কেঁদে বলতাম, "আমার ভাগ্য কেনো এমন খারাপ?"যখন একটু বয়স হয়েছিলো ৮/১০ বছর তখন আশেপাশের মানুষের কাছে জানতে পেরেছিলাম আমার মা তার প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে চলে গিয়েছে।প্রথম না বুঝলেও পরে ঠিকই বুঝেছি এর মানে কী?এরপর থেকে মায়ের জন্য আর অপেক্ষা করতাম না।ছোট থেকেই আশেপাশের মানুষের কানা-ঘুষোতে অভ্যস্ত আমি।প্রথম প্রথম খুব বেশি খারাপ লাগতো,পরে আর এসবে নিজেকে মানিয়ে নিলাম।
যখন অষ্টম শ্রেনিতে উঠি তখন সৌরভকে আমার খুব ভালো লেগে যায়।সৌরভ তখন ইন্টারে পড়তো,স্কুল ছুটির পর প্রায় ওর সাথে দেখা হত।ও আমাদের এলাকারই কিন্তুু আমি চিনি না,কারন আমি সবসময় ঘরবন্দী থাকতাম তাই কোনো কিছুই চিনতাম না।সৌরভের সাথে আমার একটা সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে রিলেশন হয়ে যায়,কিন্তুু বিষয়টা শুধু আমি আর মুমু জানি।মুমু আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড, একই ক্লাসে পড়ি।ও অনেক মিশুক, আমার সাথে ওর ফ্রেন্ডশীপ টা ক্লাস ওয়ান থেকে।আমি একমাএ ওর সম্পর্কেই জানি, তাই সবসময় ওর কথা বলতাম।সৌরভের সাথে সবসময় ওর বিষয় নিয়ে পকপক করতাম।আমি কী জানতাম সৌরভ ওকে ভালোবেসে ফেলবে???
পুরোটা রাস্তা কান্না করতে করতে আসলাম,পথে অনেক মানুষ আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো।ঘরে ঢুকে সোজা রুমে চলে এসে দরজা লাগিয়ে দিলাম।হাতের ব্যাগ নিচে ছুড়ে মারলাম।আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেকে দেখতে লাগলাম,কী এমন নেই আমার মধ্যে যা মুমুর মধ্যে আছে?মুমু আমার থেকে একটু ফর্সা, কিন্তু আমি মুমুর থেকে লম্বা।ওর ঠোঁট দুটি চিকন, কিন্তুু আমার চোখ গুলো টানা টানা।আমাদের ফিগার তো প্রায় সেইম।তাহলে কেনো ও মুমুকে ভালোবাসলো?"
আমি হাতের ছুড়ি খুলে আয়না মারতেই আয়না ভেঙ্গে গেলো,ভাঙ্গা আয়নাতে প্রতিচ্ছবি দেখে পাগলের মত কান্না করতে লাগলাম।কান্না করতে করতে ফ্লোরে হাটু গেড়ে বসে পড়লাম।আমার ভেতরটা কষ্টে ফেটে যাচ্ছিলো,যা আমি কাউকে কখনও বুঝাতে পারবো কী না জানি না।বিচ্ছেদের যন্ত্রণা কেনো এত কষ্টের?সবসময় কী এত কষ্ট থাকবে আমার কপালে?
আমার কী হলো জানি না,আমি উঠে গিয়ে ঔষদের পাতা থেকে ১০/১২ টা ঔষদ নিয়ে খেয়ে ফেললাম,কীসের ঔষদ ছিলো জানি না।তাও যেনো আমার মনে শান্তি এলো না, নিচে পড়ে থাকা ভাঙ্গা আয়না দিয়ে আমার হাত বারবার কাটতে লাগলাম।পুরো ফ্লোর রক্তে ভেসে যেতো লাগলো,একসময় যখন বুঝতে পারলাম আমার শরীরে আর শক্তি নেই তখন জোরে এক চিৎকার দিয়ে উঠলাম,, বাবাআআআ।চোখ যখন বুঝে আসছিলো তখন বাবাকে অস্থির হয়ে আমার দিকে আসতে দেখলাম।আমার মনে হচ্ছিলো এ বুঝি আমার শেষ সময়,তাও শেষ মুহূর্তে বাবার মুখ টা দেখে মুখে কষ্টের মধ্যেও হাসি ফুটে উঠলো,,,,
চলবে,,,,
#ভুলিনি_তোমায়💔
#পর্ব :১
Shikalbaha
#শিকলবাহা_বাসির_দৃষ্টি_আকর্ষণ_করছি
আসসালামু আলাইকুম
করোনা ভাইরাসের কারনে আজ দেশ ও পৃথিবীর অবস্থা খুব ভয়াবহ।
আমাদের সকলের উচিত নিজের অবস্থান থেকে এগিয়ে এসে একসাথে কাজ করা।
আমি যা বলতে চাই।
আমাদের পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন সকল রাজনীতিক ও সামাজিক সংগঠন মিলে একটি সমন্বয় পরিষদ করে অলরেডি বিভিন্ন কাজ শুরু করে দিয়েছে।
আমরা ও কি এরকম একটি উদ্দ্যেগ নিতে পারি নাহ।
সকলে কাধেঁ কাধঁ মিলিয়ে সমন্বয় করে একটি ইউনিট তৈরি করে কাজ করতে পারি নাহ।
একনি সময় দেশ ও সমাজ এর জন্য কিছু করার।
ভুল হলে ক্ষমাপ্রার্থনা।
আমরা পুরো শিকলবাহাবাসী এক হয়ে করোনা কে প্রতিহত করতে চাই।
Truly
সততা | Tার মূল উদ্দেশ্য। অৰধ যুক্তির
এ ও বৈধতা
Truth and Validity
কপির অবৈধতা মতে, সত্যতা ও মিথ্যাত্ব বচনের সাথে জড়িত, যুক্তির সাথে নয়।
যুক্তির বৈধতা
সাথে জড়িত, বচনের সাথে নয় ক্ষেত্রে। সত্য-মিথ্যাত্ব এবং বৈধতা-ও
আর
মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে, বৈধ বা অবৈধ মান যুক্তির প্রযােজ্য আর সত্য বা মিথ্যামান অবৈধতার
আশ্রয়বচন ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রযােজ্য। যুক্তির
সাধারণত
পারে আবার পদার্থিক সত্য বলতে জগতের অস্তিত্বশীল বিষয়কে বােঝায়। এ অস্তিত্ব মনােজগতরে হতে
হতে পারে। এদিক থেকে সত্য আকারগত ও বস্তুগত- এ
দু'ধরনের হয়ে থাকে। আকারগত সত্যতার ক্ষেত্রে সত্য বলতে অন্তর্বিরােধহীনতাকে
বােঝায়। এরূপ ক্ষেত্রে প্রদত্ত বচনের সত্যতা পরীক্ষার জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রয়ােজন হয়
। যেমন, ত্রিভুজ হচ্ছে তিন বাহুর সমাহার’- এ বচন অনুসারে কোনাে কিছু যদি ত্রিভুজ
হয় তাহলে তার অবশ্যই তিনটি বাহু থাকবে। আর বস্তুগত সত্যতার ক্ষেত্রে সত্য হচ্ছে বস্তুর
সাথে ধারণার অনুরূপতা। এরূপ বচনের সত্যতা বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল।
যেমন, তিমি স্তন্যপায়ী প্রাণি ’। উল্লেখ্য যে, আকারগত সত্যতা আছে এমন বিষয়ের বস্তুগত
সত্যতা না-ও থাকতে পারে, কিন্তু যেসব বিষয়ের বস্তুগত সত্যতা আছে তার আকারগত
সত্যতা থাকতেই হবে।
পূর্বেই বলা হয়েছে যে, সত্যতা বচনের ক্ষেত্রে প্রযােজ্য। সেক্ষেত্রে কোনাে বচন সত্য হবে
বাস্তবের অনুরূপ হলে, আর মিথ্যা হবে বাস্তবের সাথে সঙ্গতিবিহীন হলে। উদাহরণস্বরূপ,
Bocon
অবস্থান প্যারিসে'- ‘ পক্ষিরাজ ঘােড়া উড়তে পারে ’-এ বচনটি মিথ্যা।
।
আইফেল ‘ আইফেল টাওয়ার টাওয়ারের রয়েছে। অন্যদিকে উড়তে পারে এমন পক্ষিরাজ কোনাে ঘােড়ার
আমরা কোথাও
অভিজ্ঞতায়
কারণ বাস্তব যুক্তি প্রণয়নে কিছু বিধি অনুসরণ করতে হয়। কোনাে যুক্তির সিদ্ধান্ত যদি
.
অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি।।
।
যুক্তিবিদ্যায় নিঃসৃত হয় তাহলে যুক্তিটি বৈধ হবে। বৈধ যুক্তির ক্ষেত্রে
| আশ্রয়বচন থেকে বিধিসম্মতভাবে।
।
আশ্রয়বচন ও সিদ্ধান্তের মধ্যে এমন সম্বন্ধ থাকে যে, আশ্রয়বচন সত্য বা মিথ্যা যা-ই হোক
স্বীকার করলে সিদ্ধান্তকে আর অস্বীকার করা যায় না। কাজেই
না, কেন নির্ভর আশ্রয়বচনটিকে করে যুক্তির গঠনকাঠামাে বা তার আকারের ওপর। সেক্ষেত্রে কোনাে যুক্তি বৈধ =
যুক্তির বৈধতা তার অন্তর্গত বচনগুলাের বাস্তবের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ার ওপর নির্ভর করে।
হলে সেই আকারের যে কোনাে যুক্তিই বৈধ হবে। যেমন,
সকল মানুষ হয় মরণশীল।
সকল দার্শনিক হয় মানুষ।
সুতরাং সকল দার্শনিক হয় মরণশীল।
এটি একটি বৈধ যুক্তি। কারণ, এর সিদ্ধান্ত আশ্রয়বচনদ্বয় থেকে নিয়মসঙ্গত উপায়ে
অনুসৃত হয়েছে, এবং যুক্তিটির অন্তর্গত প্রতিটি বচনই সত্য। আবার,
সকল মানুষ হয় সম্পদশালী।
সকল দরিদ্র হয় মানুষ।
সুতরাং সকল দারিদ্র হয় সম্পদশালী।
প্রদত্ত যুক্তিটির অন্তর্গত প্রথম আশ্রয়বচন ও সিদ্ধান্ত মিথ্যা হলেও যুক্তিটি বৈধ। কারণ
এ যুক্তিটির আকার পূর্বোক্ত যুক্তিটির আকারের অনুরূপ। যদিও উভয় যুক্তির বিষয়বস্তু ভিন্ন।
|
বস্তুত দুটি যুক্তিরই বৈধ আকার হলাে
AII M is P
AII S is M
..AII S is P
তার আশ্রয়বচন সিদ্ধান্ত বৈধ যুক্তির সত্য মিথ্যা হলে আকার এরূপ সিদ্ধান্ত কখনাে এমন আবশ্যিকভাবে হতে হবে পারে যে, না যুক্তিটির সত্য। যদি হবে এরূপ। অন্তর্গত একইভাবে হয় যে তাহলে কোনাে আশ্রয়বচন বাস্তব অবৈধ সত্য দৃষ্টান্তে অথচ
|
আর দৃষ্টান্তই সেই অবৈধ অবৈধ হবে যুক্তির। যেমন আকারটিও, অবৈধ হবে এবং সেই অবৈধ আকারের যুক্তি যে কোনো হবে।
সুতরাং সকল কবি সকল হয় মানুষ মানুষ। কবি
এ হয়
যুক্তির আশ্রয়বচন সত্য
মানুষ হলেই কিন্তু
যে কেউ হবে- একথা সিদ্ধান্ত
কবি মিথ্যা কারণ কবিরা
সঠিক নয়। মানুষ একথা সত্য।
H2
কান পানিকে বিশ্লেষণ করলে এর মধ্যে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে এ
বিখায়াটিকে প্রতীকের সাহয্যে সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করা হয় এভাবে পানি = H2O।
এভাবেই গণিত ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন সূত্রাবলি প্রতীকের সাহায্যে প্রকাশ করা হয়ে থাকে।
অবশ্য প্রতীক কেবল শাস্ত্রগত ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এছাড়াও ব্যক্তিগত,
সামাজিক, পেশাগত, ধর্মীয় প্রভৃতি দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতীকের বহুল
আনহার জ্যক্ষ করা যায়। যেমন, রাস্তার মােড়ে তীর (9) চিহ্নটি পরবর্তী রাস্তার নির্দেশ
করে, দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ দরজার বাইরে কোনাে ব্যক্তির উপস্থিতি ব্যক্ত করে, ঝড়ের
-
সময় বিপদসংকেত-সংখ্যা আসন্ন বিপদের মাত্রাকে নির্দেশ করে। এককথায়, দৈনন্দিন
বিনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষ সাধারণত কোনাে বিষয়কে অন্য বিষয় দ্বারা, অর্থাৎ কোনাে না
কোনাে ধরনের প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করার প্রয়ােজন অনুভব করে। আর এভাবেই জীবনের
সর্বক্ষেত্রেই প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
পূর্বেই বলেছি যুক্তিবিদ্যায় প্রতীকের ব্যবহার ও উপযােগিতা সর্বাধিক। এ কারণেই মূলত
আধুনিক যুক্তিবিদগণ যুক্তিবিদ্যার একটি পৃথক শাখা হিসেবে প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার উদ্ভব
ধর্টিান। তবে একথা উল্লেখ করা প্রয়ােজন যে, যুক্তিবিদ্যায় প্রতীকের ব্যবহার কেবল
আধুনিক যুগেই হয়েছে তা নয়। প্রাচীন কাল থেকেই যুক্তিবিদ্যায় প্রতীকের প্রচলন দেখা
গেছে। বিশেষত প্রাচীন গ্রিক মনীষী যুক্তিবিদ্যার জনক হিসেবে খ্যাত অ্যারিস্টটলের
যুক্তিবিদ্যায়ও কমবেশি প্রতীকের প্রয়ােগ লক্ষ করা গেছে, যা বর্তমান অধ্যায়ের আলােচনায়
Prtoik
ক প্রতীক-
তিন শ্ণির প্রতীকের ব্যাখ্যা আমরা পেয়েছি আধুনিক যুক্তিবিদ অধ্যাপক স্টাউটের
ুক্তিবিদ্যার আলােচনায়।
সাধারণ প্রতীক : সাধারণ প্রতীক দু'প্রকার- শান্দিক প্রতীক ও অশাব্দিক প্রতীক।
(ত) শাব্দিক প্রতীক (Verbal Symbol ) : ভাষায় ব্যবহৃত শব্দসমূহই হচ্ছে শাব্দিক
এতীক এক্ষেত্রে কোনাে শব্দ বা শব্দসমষ্টি কোনাে বিষয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে
কে অর্থাৎ যখন কোনাে শব্দ বা শব্দসমষ্টি কোনাে বস্তু বা গুণ বা ক্রিয়ার নির্দেশক
হিসেবে কাজ করে তখন তাকে শাব্দিক প্রতীক বলে। যেমন, 'বই শব্দটি বই নামক বস্তুর
প্রতীক, দয়ালু শব্দটি দয়া নামক গুণের প্রতীক বা 'খেলা করা শব্দটি ক্রিয়ার প্রতীক
হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
(খ) অশান্দিক প্রতীক (Non-Verbal Symbol) : স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থবােধক শব্দ ছাড়া বিভিন্ন
ভাষার বর্ণমালার বর্ণ বা গণিতের বিশেষ প্রতীক যখন কোনাে কিছুর নির্দেশক হিসেবে
ব্যবহৃত হয় তখন তাকে অশাব্দিক প্রতীক বলে। যেমন, বাংলা বর্ণমালার ক, খ, গ বা
ইংরেজি বর্ণমালার p, q. r, s অথবা গণিতের + (যােগ), - (বিয়ােগ), x (গুণ), + (ভাগ)
ইত্যাদি অশাব্দিক প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এ জন্য অনেক ক্ষেত্রে অশান্দিক
প্রতীককে বর্ণ প্রতীকও বলা হয়।
উল্লেখ্য যে, প্রায় ক্ষেত্রেই শাব্দিক প্রতীকগুলাের অর্থ অস্পষ্ট ও দ্ার্থক থাকে, যার ফলে
প্দের প্রকৃত অর্থের পরিবর্তন ঘটতে পারে। এবং এসব শব্দের মাধ্যমে অনেক সময়ই
এরতার কাছে বক্তার চিন্তা ও আবেগ ভুলভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। এ জন্যই আধুনিক
যুক্তিবিদগণ যুক্তিবিদ্যায় কেবল অশাব্দিক প্রতীককেই ব্যবহার করার পক্ষপাতি। কারণ
Bangladesh
কখনো রোদ - খরতাপ আবার কখনো তুমুল ঝড়-বৃষ্টি। এসবের মধ্যেই ঘুরেছেন হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে । কোথায়ও মেলেনি চিকিৎসা। শেষমেশ ঠাঁই হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
করোনা সংক্রমণের আতঙ্কের মধ্যেও প্রিয়তমা স্ত্রীকে পরম মমতায় বেঁচে থাকার সাহস দিচ্ছেন । বেঁচে ফিরলে বাকি জীবন পাশে থেকে আগলে রাখবেন❤। অপলোক দৃষ্টি যেন এটাই বলছে।
#বাংলাদেশ ভাল নেই😥😪😭😰
English 2nd paper
we achieve UCE
is essential
SSC English 2nd Paper
pajemp
students i
contained sixty Thousand 1)- verses (7S). Instead of giving gold
coins, he offered the poet only sixty thousand silver g) coins. The
noet refused to take the silver coins and left the court with h).
broken heart ( ). He was i)- grieved man. Later on the
Sultan realised ( ) that he had made j)-blender.
To learn at
jo (
o (8
Ans. a) the b) the c) a d) x e) the f) x g) x h) a i) a j)a
Use articles where necessary: Put a cross (X)
where an article is not needed.
16th December is b)
) sso
red letter day in the
architea
light of
literate
ret that
They
want.
history of Bangladesh. On this day we achieved victory at c)
bloody battle. Bangladesh came into being as e)
independent country, It occupied ( ) a place in the
map. Every year we observe g)-
cost of d)
day with due
world f)-
(NIT) solemnity (r). We remember h).
sacrifice ( 0 of our heroic sons. The day is i)
supreme (সর্বোচ্চ)
public
holiday. The day begins with gunshot. The national flag is hoisted
top () of cach house.
itions
(উত্তোলিত) on j).
Ans. a) The b) a c) the d) a e) an )x g) the h) the i) a j) the
Use articies where necessary: Put a cross (×)
18
where an article is not needed.
(x)
country. He can teach d) ignorant man e) important matter
undeveloped
educated man is b) asset for c)
withou: facing f) -obstruction. For this there is difference between
R)educated and h) uneducated. i)-role played by j)
-leu.rned is beyond description.
Sy
e) an
)x g) the h) the
Ans, a) An b) an
i) The j) the.
7 Use articles where necessary : Put a cross (x)
where an article is not needed.
c) an d) an
exact place of taking b) -
part in co-
Our school is a)
curricular activities. In c)-each week competitions are arranged in
auditorium of our school. Our teachers motivate us in e)
participating f)
awarded by our principal. i)
-battle of life by participating different co-curricular activities.
--
(8 sou -
student can easily face j)
winners are h)
Allama jubair
২০২০-২০২১ সালের বাজেট প্রতিক্রিয়ায়-অধ্যক্ষ আল্লামা জুবাইর
----------------------------------------------------------------
৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বিশালাকারের
বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
--------------------------------------------------------------------
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়খুল হাদিস অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর ২০২০-২০২১ সালের জন্য মাননীয় অর্থমন্ত্রী কর্তৃক ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকার বিশালাকারের জাতীয় বাজেট ঘোষনার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন-বর্তমান করোনা মহামারিতে গোটা বিশ্ব মানবিক বিপর্যয়ের শিকার। ফলে তাবৎ বিশ্ব অর্থনীতি মন্দা কবলিত। এমনিতর পরিস্থিতিতে ১ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীন ব্যাংকিং খাত থেকে এ ঘাটতি মেটানোর প্রস্তাবনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন কঠিনসাধ্য হয়ে পড়বে। উপরন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে ৮'২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা কেভিড-19 সংকট কাটিয়ে না উঠলে কখনও অর্জন করা সম্ভব নয়। এছাড়াও ঘোষিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা,স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বাজেটের আকার বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও তা বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অপচয়ের সম্ভাবনা সর্বাধিক বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন,- আগে ২ শতাংশ খেলাফি ঋণ জমা দিয়ে ১০ বছর পর্যন্ত ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। যেটি পরোক্ষভাবে বড় বড় ঋণ খেলাফিদের অধিকতর উৎসাহিত করবে। ১০ শতাংশ কর প্রদানের মাধ্যমে পূঁজিবাজারে (অপ্রদর্শিত আয়) কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাবনা বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে অনেকাংশে সহায়ক হতে পারে। এছাড়াও অর্থনৈতিক পূর্বাবস্থা ফিরিয়ে আনতে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন তথা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দুরীকরণে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়নি।
‘কাপড় পরেও উলঙ্গ’ মহিলা কারা
কাপড় পরেও উলঙ্গ নারীদের জন্য দুঃসংবাদ। ‘কাপড় পরেও উলঙ্গ’ মহিলা কারা?
মহানবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দুই প্রকার জাহান্নামী মানুষ আসবে,যাদেরকে আমি আমার যুগে দেখতে পাচ্ছিনা। এক প্রকার হচ্ছে, ঐ সকল মহিলা যারা ‘কাপড় পরিধান করেও উলঙ্গ’ থাকবে। তারা সাজ-সজ্জা করে পর পুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও অন্য পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট থাকবে। তাদের মাথার খোপা (সাজ সজ্জা ও ফ্যাশানের দরুণ) উটের কুঁজের মত এদিক ওদিক হেলানো থাকবে।তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি তারা জান্নাতের সুগন্ধিটুকুও পাবে না। অথচ, জান্নাতের সুগন্ধি পাঁচশ বছর রাস্তার দূরত্ব থেকেও অনুভব করা যাবে।’ সহীহ মুসলিমঃ ২১২৮।
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন,‘কাপড় পরেও উলঙ্গ হচ্ছে সেই সমস্ত নারী, যারা এতো পাতলা কাপড় পরিধান করে যে,কাপড়ের মধ্য দিয়ে তাদের গায়ের চামড়া দেখা যায়,অথবা এমন টাইট পোশাক পরে যে,যার কারণে তাদের শরীরের আকৃতি বোঝা যায়।’ মাজমু’ ফাতাওয়াঃ ১৪৬/২২।
Ami vindesi noi
আমি ভিনদেশী নই
Part: 1,2
হালকা ঝাঁকুনি দিয়ে কেপে উঠলো প্লেনটা। রাজা বাইরে তাকালো। প্লেন রানওয়েতে ছুটতে শুরু করেছে। সে সাথে রাজার ভেতরটা বেশ খচ খচ করছে। মনে হচ্ছে, সে যেন কিছু একটা ফেলে যাচ্ছে। কিন্তু কি ফেলে যাচ্ছে! হ্যাঁ..... সে তার হৃদয় ফেলে দিয়ে যাচ্ছে তার ঠাম্মির(নানি) কাছে। তার স্বপ্নের শহর কলকাতার কাছে। বারবার শুধু দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসছে। কয়েক ঘণ্টার পর সে বাংলাদেশে পৌঁছে যাবে। কিন্তু, একটুও আনন্দ বোধ করছে না। জীবন আসলে নদীর মতন বয়ে যায়, ফুলের মতন ফুটে না।
সাদা ফুলহাতা জামা কোনুই পর্যন্ত গোটানো, তার উপর বেশ মোটা একটা সাদা জ্যাকেট। পায়ে ফুল কটনের একটা স্যুট। মাথার চুলগুলো বেশ বড় এবং এলোমেলো। চোখে মাইনাস পাওয়ারের চশমা। প্লেনের বাকি যাত্রীরা হৈ-হুল্লোড় করলেও, রাজা চুপচাপ বসে রয়েছে। সে, কারুর সাথে বিন্দুমাত্রও পরিচয় হওয়ার চেষ্টা করছে না। শুধু কি আজ, তা নয়, আজ আঠারো বছর প্রয়োজন ছাড়া কারো সাথে পরিচয় তো দূরের কথা, সামান্য কথা বলেনি। এমনকি,ওর বেস্ট ফ্রেন্ড মানে, আকাশ আর অভি ওর এমন আচরণে বিন্দুমাত্র রাগ বা অভিমান করে না।কারণ, ওরা জানে রাজা ছোটবেলার অতিথি ওকে ভীতু, লাজুক করে দিয়েছে। শুধু কি, এখানেই শেষ, তা মোটেও নয়। সদ্য এক বছরের রিলেশন শিপের জরানো রানীর সাথেও প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে না। যদিও, রানী এমন একটা শান্তশিষ্ট বয়ফ্রেন্ড পেয়ে বেশ খুশি।
তবে, সবাই খুশি হলেও রাজার ঠাম্মি মোটেও খুশি নন। উনার মতে,
"18 বছর বয়সেও, যে ছেলে নিজের মান সম্মান নিজে রক্ষা করতে পারেনা সেটা, ওর গুণ নয় দুর্বলতা"।
তিনি, রাজাকে নিজের চাইতেও অনেক বেশি ভালোবাসেন। তবে,নাতির এই ভীতু, শান্তশিষ্ট, দুর্বলতা নিয়ে, তিনি খুবই চিন্তিত।
তাইতো ঠাম্মির কথা রাখতে রাজা আজ এক দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। যাত্রীদের কোলাহলের মধ্যে রাজা একটু বিরক্ত বোধ করলো। পকেট থেকে মোবাইল বের করতে গিয়ে বুঝলো ওর শেষ সম্বল টুকু ছেড়ে দিয়ে এসেছে। এয়ারপোর্টে, রানীকে ফোনটা দিয়ে বাথরুমে গিয়েছিল। কিন্তু ফিরে এসে আর নিতে মনে নেই। বেচারা রাজা, একদিকে ঠাম্মি- রানী কে ছেড়ে তিন বছর চলে যাচ্ছে, অন্যদিকে একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম মোবাইলটাও ফেলে দিয়ে এলো।
তবে,রাজাকে বাংলাদেশে অনেক মানুষকে একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ইন্ডিয়ায় এত বড় বড় কলেজ থাকতে, সে কেন বাংলাদেশে পড়াশোনা করতে এল! রাজা কি তবে কোনো গরিব পরিবারের ছেলে! বিদেশে পড়াশোনা করবে, তা বাংলাদেশে হলেও হবে। তা কিন্তু মোটেও নয়। তার বাবার,যা টাকা আছে তাতে তার সাত পুরুষ বসে আরামে খেতে পারবে। তবে কি জন্য তার বাংলাদেশে আসা! প্রতিটা রূপকথার পিছনে, একজন আদর্শ লেখক এর হাত থাকে। তেমনি রাজার বাংলাদেশের আসার একটা কারন ছিল।
ঢাকা এয়ারপোর্টে নামার পর সে ঘড়ির দিকে লক্ষ্য করলো। সময় তখন বিকেল পাঁচটা। যদিও ওটা ইন্ডিয়ার টাইম অনুযায়ী, এখন বাংলাদেশ সময় কত, সে অনুমান করতে পারলো না। বাইরে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা। তার হাত-পা কেঁপে উঠছে। নগরের বাইরে গেলেই বোঝা যায় পৌষ মাসে শীতের দাপটা কত থাকে। ঠাম্মির কথা মত, বাসে করে সুসং পরগনা চলে আসে। সুসং পরগনা এসে সমস্যায় পড়ে। এতক্ষণ, সমস্ত রাস্তার ঠিকঠাক মিললেও, সুসং পরগনা পর থেকে আর মিলল না। এই 15 বছরে অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে গ্রাম শহর,আর শহর নগরে পরিণত হয়েছে। তাইতো, আগে যে রাস্তায় গাড়ি গুলো যেত এখন আর যায় না। আগন্তুক রাজা, নতুন দেশে এসে মহা বিপদে পড়লো। কোন ট্যাক্সি ওর বাড়ির কাছে যেতে চাইল না। অনেকগুলো, ট্যাক্সিচালককে রিকুয়েস্ট করার পর, শেষমেষ একটি ট্যাক্সি যেতে রাজি হলো। যদিও, পুরোটা তিনি আবার যাবেন না। মেন রাস্তায় রাজাকে,ছেড়ে দিবেন তারপরে তাকে গ্রামের রাস্তা ধরে তিন কিলোমিটার হাঁটতে হবে। সে,আর কোনো উপায় না দেখে ট্যাক্সিতে উঠে পরলো। কথায় আছে না, 'নেই মামার চেয়ে,কানা মামা ভাল'।
মসৃণ রাস্তা দিয়ে ট্যাক্সি দ্রুত ছুটতে লাগলো। সেই সাথে শীতকালে ঠান্ডা কনকনে বাতাস তার কান ধাঁধিয়েএ দিল। তার চোখ যেদিকে যায় সে দিকে শুধু কুয়াশা আর কুয়াশা। ছোট্ট এক শুরু রাস্তার মধ্যে দিয়ে ট্যাক্সিটা ছুটছে। ট্যাক্সিটা সাথে সাথে তাল মিলিয়ে দু'পাশের গাছগুলোও দৌড়াচ্ছে।শীতের সন্ধ্যায় মাঠ-ঘাট দিগন্ত কুয়াশায় হালকা ওড়নায় ঢাকা।কুয়াশা ও শিশির ভেজা ঘাস গুলো হি হি করে উত্তরের হিমেল বাতাসে কাঁপছে। সর্বত্র বিরাজ করছে শীতের জড়তা, কুয়াশাচ্ছন্ বিষন্নতা।শীতের সন্ধ্যা হতে না হতে কৃষকের কুঠির দ্বারে গিয়ে দাঁড়ালে দেখা যায় কৃষক ও কৃষক বধু আরাম করে বিছানায় বসে রয়েছে। দূরে সর্ষে হলুদ ফুলের সতরভা প্রজাপতি রঙের বাহার দাঁড়িয়েছে। রাস্তার ধারে বাড়ি গুলো থেকে গাঁদা,ডালিয়া, সূর্যমুখী, চন্দ্রমল্লিকা সুগন্ধি ভেসে আসছে। কৌতুহলী রাজা, কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যেও গাড়ির কাচটি সরিয়ে দিয়ে, প্রাকৃতিক দৃশ্য অনুভব করতে লাগলো। এমন প্রাকৃতিক দৃশ্য সে, তার জীবনে প্রথমবার দেখছে। আসমুদ্রহিমাচল ব্যাপী বঙ্গভূমি, সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা সুন্দর এই বাংলা।সন্ধ্যার কুয়াশায় অস্পষ্টতা দূরের ছোট ছোট পাহাড় বা টিলা গুলি, চোখের সামনে ভেসে উঠছে। এমন দৃশ্য দেখে, সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের একটি কবিতার লাইন মনে পরল,
"যেন একরাশ ধোঁয়াটে মেঘ যেন
কারা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে
আসলে ওটা মেঘ নয় গারো
পাহাড়"।
সোনার বাংলার, প্রাকৃতিক রূপ দেখতে দেখতে কখন পৌঁছে গেল তা টের করতে পারলো না। এখানে পৌঁছেও সমস্যা, তার যেন পিছু ছাড়লো না। সেই ঘড়ির দেখল। তখন রাত 8:00। রাত আটটার মধ্যে প্রায় সমস্ত দোকানই বন্ধ হয়ে গেছে। এটা দেখে, সে মোটেও চিন্তা করলো না। এটা শহর নয়, যে রাত বারোটা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা থাকবে। এটা গ্রাম, এখানে রাত তাড়াতাড়ি নামে তার উপর শীতকাল। শহরের, রাতটা অনেক দেরিতে নামে, তাও আবার অল্প সময়ের জন্য।
আগন্তুক, অচেনা মুখ রাজাকে দেখে একটিমাত্র দোকানদার, তার দোকানটি বন্ধ করতে গিয়ে থামলেন।
- আসসালামুয়ালাইকুম ভাইয়া।
তার কাছে এই শব্দটি অচেনা নয়। তবুও, সে ঠিকঠাক উচ্চারণের ভয়ে নিজের ধর্মের সালাম জানালো।
-নমস্কার আঙ্কেল।
-দেখে তো অচেনা মনে হচ্ছে! তা কোথায় যাওয়া হবে?
সে এই সুযোগ ছাড়তে চাইলেও না। এই আঙ্কেল একমাত্র পারে, তার বাড়ির পথ দেখিয়ে দিতে।
- সোনালী পুরে, সুনয়না দেবীর বাড়িতে। আপনি কি,আমাকে উনার বাড়ির রাস্তাটা দেখিয়ে দিতে পারবেন!
কথাটি শুনে, লোকটি চমকে উঠলো। একটু হালকা স্বরে বললেন,
- কিন্তু...... আমি যতোটুকু জানি সুনয়না দেবী আজ থেকে 18 বছর আগে মারা গেছেন। তারপরই, উনার স্বামী,ছেলে সবাই ইন্ডিয়াতে চলে গেছেন। এখানে তো কেউ থাকেনা।
- হ্যাঁ জানি......., আমি উনারই হতভাগা ছেলে। যাকে জন্ম দিতে গিয়ে, নিজেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।
- দুঃখিত, আমি ঠিক বুঝতে পারিনি।
-আচ্ছা ঠিক আছে। এখন আমাকে রাস্তাটা দেখান। অনেক রাত হলোতো, আমাকে আবার বাড়ি ফিরতে হবে।
-কিন্তু এত রাতে, তুমি একা বাড়ি কি করে যাবে! বাড়ির দেখাশোনা যিনি করেন তিনি নিশ্চয়ই, এতক্ষণে উনার বাড়ি ফিরে গেছেন। তুমি বরং আমার বাড়িতে চলো। কাল সকালে আমি নিজে গিয়ে তোমাকে ছেড়ে দিয়ে আসব।
- না, তা কি করে হয়! আন্টিকে বলে দেওয়া হয়েছে আমি আজই আসবো। উনিতো, আবার আমার জন্য অপেক্ষা করতে থাকবেন।
- তাহলে, আর কি! ডান দিকে সরু রাস্তা ধরে এগিয়ে যাও।
- হ্যাঁ যাবো, থ্যাংকস।
কিছুটা যাওয়ার পর, লোকটি আবার পিছনে ডাকলো,
-ভাইয়া।
- জি বলেন।
-তোমার কাছে মোবাইল আছে তো!
-না আসলে ভুলে ফেলে এসেছি।
-তাহলে, অন্ধকারে কি করে বাড়ি ফিরবেন?
-কোনরকম চলে যাব।
-না, রাস্তাটা খুব ভয়ঙ্কর। তুমি বরং আমার টর্চ লাইটটা নিয়ে যাও।
-তাহলে আপনি কি করে বাড়ি ফিরবেন?
-আমিতো মেন রাস্তা দিয়ে যাব। তাছাড়া আমি ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করি। আমার কোন অসুবিধা হবেনা।
-ওকে, থ্যাংকস। চিন্তা করবেন না, আমি এখানে তিন বছর থাকবো,আপনার টর্চ ঠিক পেয়ে যাবেন।
তিন বছর কথাটি শুনে লোকটি একটু ঘাবড়ে গেলেন। তারপর তিনি বললেন,
-তিন বছর, তুমি এখানে কি করবে?
-কেন? পড়াশুনা করব।
কথাটি শুনে লোকটি খিলখিল করে হেসে উঠলেন
রাজা যেন কোন এক হাসির কথা বলল। রাজা একটু বিরক্ত হয়ে বলল,
-এতে হাসার কি আছে!
-হাসবো না, তোমার দেশে এত বড় বড় কলেজ থাকতে, তুমি শেষ পর্যন্ত কিনা থার্ড ওয়াল্ড কান্ট্রি বাংলাদেশ পড়াশোনা করতে এসেছ।
রাজাও উনার মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে দিলেন,
-নিজেরা যদি নিজের দেশকে ঘৃণা করো, তাহলে বিদেশীরা করবে না কেন?
-কিন্তু.... কথাগুলো তো সত্যি!
-কোনটাই সত্যি নয়।
Part 2
চারিদিকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা। দূরে বা কাছে কি আছে, তার দেখার উপায় নেই। টচ লাইট টা জালিয়ে দ্রুত পায়ে, সে এগিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে ঠান্ডা কনকনে হাওয়া, তার শরীর কাঁপিয়ে দিচ্ছে। চারিদিকে নিস্তব্ধ তার মাঝে শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। দু-চারটি বাদুড় চোখের সামনে নেচে বেড়াচ্ছে। সে এদিকে ওদিকে দেখল, কোথাও বাড়ি আছে কিনা! লোকটির কথা মত,সে যদি উনার বাড়িতে চলে যেতেন তাহলে এমন বিপদ আসতো না। সে শহরে আলোকউজ্জ্বল ময় পথে বড় হয়েছে। গ্রামে এমন বিকট অন্ধকার তার শরীর ভয়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। ভূতের ভয় যে, তার মধ্যে নেই সেটা বলা ভুল। সে ভূতকে ভীষণ ভয় পায়। এমন সব অদ্ভুত কথা ভাবছে। হঠাৎ, তারসামনে কেউ একটা হ্যারিকেনের ছোটো আলো নিয়ে এগিয়ে আসতে দেখল। সেই ভয়ে কাঁপতে থাকে। এমন ভূতের গল্প সে গল্পের বইতে কম পড়েনি। কিন্তু বুঝতে পারেনি, একদিন তাকে সত্যি সত্যি ভূতের মুখোমুখি হতে হবে।
-আরে রাজা ভাই! তুমি এখানে!
বিপরীতমুখী নারী কন্ঠ শুনে, রাজা একটু ইতস্তত বোধ করলেও, ওর মন থেকে ভয় টা কেটে যায়। এই বিদেশে থাকে একমাত্র উনার বাড়ি, যিনি দেখাশোনা করেন তিনি ছাড়া, আর তাকে কেউ চেনে না। নিশ্চয়ই ওর যেতে দেরী হচ্ছে দেখে, আন্টি এগিয়ে এসেছেন। তবুও না চেনার ভান করে সে বলল,
-হ্যাঁ.... কিন্তু আমিতো, আপনাকে চিনতে পারলাম না।
-আমি আরাধ্যা, ভুলে গেছো দেখছি!
আরাধ্যার নামটা তার কাছে নতুন নয়। সেই যখন বাংলাদেশে ছিল, তার প্রতিবেশী ছিল আরাধ্যা। বয়সে রাজা চাইতে 5 বছরের বড় হলেও সম্পর্ক ছিল বেশ মধুর। যদিও রাজার এসব কিছুই মনে নেই। কারণ তখন সে অনেক ছোট ছিল। আরাধ্যার সাথে, তারা লাস্ট যখন দেখা হয় তখন তার বয়স ছিল তিন বছর।আরাধ্যার সম্বন্ধে যেটুকু জেনেছ সবকটাই ওর ঠাম্মির কাছ থেকে।
-না, ভুলব কেন! তোমার, আমাকে চিনতে অসুবিধা হলো না।
আরাধ্যা কথাটি এড়িয়ে গেল। সে বলল,
-তুমি এত রাতে কোথায় যাবে?
-আমিতো বাড়ি ফিরব। আমাকে একটু পৌঁছে দেবে।
-কিন্তু, এত রাতে কি করে যাবে?
-কেন? তোমার বাড়িওতো ওইখানে, তুমিও তো নিশ্চয়ই যাবে!
-হ্যাঁ, 15 বছর আগে আমার বাড়ি ওইখানে ছিল। কিন্তু আমরা এখন এখানে থাকি।
কি উত্তর দিবে রাজা তা বুঝতে পারছেনা। তাও বলল,
-ওওওও
-হ্যাঁ, তুমি বরং আজ রাতে আমাদের বাড়িতে থেকে যাও। কাল সকালে চলে যাবে।
ভীতু রাজা আর না বলল না। একবার না বলে সে..........
-আচ্ছা চলো।
তারপর, আরাধ্যার পিছনে পিছনে, সে গল্প করতে করতে চলল। তার ঠাম্মি কেমন আছি? পড়াশুনা কেমন হচ্ছে, কলকাতা শহর কেমন? এই নিয়ে তারা গল্প করতে লাগলো।
সবকিছু ঠিক থাকলেও, মনে হল আরাধ্যার চোখটা ওর নিজের নয়। চোখটা স্বাভাবিক মানুষের নয়। ভিশন লাল,যেন উজ্জ্বল এক নক্ষত্র।
ঘরে পৌছেই আরাধ্যা বলল,
-নে হাত মুখ ধুয়ে আয়! আমি ভাত বাড়ছি, অনেক দূর থেকে এসেছিস খিয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়।
রাজা বাধ্য ছেলের মতো কোনো রকম প্রশ্ন না করে হাত-মুখ ধুয়ে নিল। সে সত্যি ভীষণ ক্লান্ত। সারাদিন কম ধকল যায়নি, তার উপর দিয়ে। খেতে বসে রাজা তার কাকু কাকিমা কে না দেখতে পেয়ে প্রশ্ন করল,
-দিদিভাই, কাকু কাকিমাকে দেখতে পাচ্ছি না কেন?
আরাধ্যা ওর দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলল,
-বাবা-মা, মামার বাড়ি গেছে। বাড়িতে আমি একা।
কথা শুনে ভাতটা রাজার গলায় লেগে গেল। একটু জল খিয়ে বলল,
-এখানে তো আসে পাশে কোন বাড়ী নেই। তোমার ভয় লাগছে না?
-না, আমি ভয় পাই না। তুমি রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।
-হ্যাঁ, তুমি ঘুমাবেনা?
-হ্যাঁ ঘুমাবো, তুমিতো খেয়ে নিলে। আমি খাই দিলে ঘুমাবো, আরাধ্যা হাসতে হাসতে বলল।
রাজাও আরাধ্যা দিকে তাকিয়ে হেসে উঠলো। ক্লান্ত শরীর নিয়ে, আর সাত-পাচ না ভেবে ঘুমিয়ে পড়ল। কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম সে জানেনা।
রাজা নিশ্চিন্তভাবে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। আরাধ্যা প্রথমে রাজার মাথায় কয়েকবার হাত বুলিয়ে দেয়। তারপর নিজের গলায় একটি লকেট বের করে হাতে নেয়।তা দিয়ে রাজার একটি হাতের কনুই থেকে শুরু করে কব্জি অব্দি সোজাসুজি বরাবর টান দেয় আরাধ্যা। রাজার কোন নড়াচড়া নেই। শুধু শ্বাস-প্রশ্বাস আছে তার। গল গল করে রক্ত বেরিয়ে আসে ভেতর থেকে। আরাধ্যার নাক ডুবিয়ে তার গন্ধ নেওয়া শুরু করে। রাজা মারা যাচ্ছে,কিছুক্ষণ পর পা দুটি এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করার পরে তার শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে। আর আরাধ্যা খুব নিখুঁত ও যত্ন সহকারে রাজার গায়ের চামড়া ছড়াচ্ছে আর খাছে সাথে মুখে অট্টহাসি।তারপর আরাধ্যা, রাজার পেটের ভেতর হাত ভরে হৃদপিণ্ডটা বের করে আনল। রাজা পুরো নিস্তেজ।কিছুক্ষণ পর ফারজানার ডাকে রাজা একটা আর্তনাদ করে জেগে উঠে।
-রাজা ভাই! রাজা ভাই! কি হয়েছে তোমার?
রাজা ধড়পড় উঠে হাপাতে লাগলো। এমন ঠান্ডার মধ্যেও, সে পুরো ঘেমে গেছে। হাপাতে হাপাতে বলল,
-না, কিছু না।
-রাজা ভাই, কোন খারাপ স্বপ্ন দেখেছো বুঝি!
রাজা অনেকক্ষণ চুপচাপ। বেশ খানিকক্ষণ পর সে নিচুস্বরে বলল,
- হ্যাঁ,
-তুমি ভীষণ ক্লান্ত, তার উপর নতুন জায়গা তাই একটু ভয় পেয়েছো। আমি তোমার কাছে বসে আছি।ঘুমিয়ে পড়ো।
তারপর, আরাধ্যা রাজার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে, একটা সুরেলা কন্ঠে গান ধরল। আরাধ্যা, রাজার নিজের দিদি নয়। তবুও, কখনো রাজাকে নিজের ভাই না, এটা কোনদিন ভাবেনি। দিদির স্নেহ পেয়ে রাজার চোখে আবার ঘুম জড়িয়ে আসে। কিন্তু, এবারও তাকে শান্তিতে ঘুমাতে দিল না। ভোর চারটা হতে না হতেই আরাধ্যা ডাক দিল,
-রাজা ভাই! রাজা ভাই! উঠে পড়ো, ভোর হয়ে গেছে।
চোখে একরাশ ঘুম নিয়ে রাজা উঠে পড়ল। সে
আরাধ্যা দিকে তাকিয়ে বলল,
-কই ভোর হয়েছে! এখনো তো অন্ধকার আছে।
-আসলে, এটাতো গ্রাম। সকালে সবাই যদি জানতে পেরে যায়, আমরা দুজন বাড়িতে কেউ নেই তাও একই সঙ্গে রাত কাটিয়েছি, তাহলে ওরা অনেক কথা শোনাবে।
-হুম, দিদিভাই, আমি বুঝতে পারছি।
-তাহলে আসছি।
আরাধ্যাকে বিদায় জানিয়ে রাজা অন্ধকার পথে আবার বেরিয়ে পরলো। শীতকাল, ভোর চারটায় ও অনেক অন্ধকার। কোন দিকে যাবে, কি করবে কোন উপায় না পেয়ে, সে একটা গাছে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।
দেখতে দেখতে, পুবআকাশে লালা আভায় ভরে গেল। রাত্রির কালো পর্দা সরিয়ে একটি রৌদ্রদীপ্ত দিনকে উপহারস্বরুপ শ্যামা ধরিত্রীর হাতে তুলে দেয় যে সে উসা তপনের দ্রুতি, অরুণ রমণী।
ঊষার আবির্ভাবে রাত্রি বিদায় নেয়।শ্রমিকেরা কাজে বেরিয়ে যায়। ছোট ছোট বাচ্চারা বাড়িতে বসে পড়ায় মনোযোগী হলো। পাখিরা খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে গেল গান করতে করতে। নতুন দেশে প্রথম সূর্যের আলো, রাজার ফর্সা গালে চকচক করে উঠলো। সূর্যের তাপে,তার ঘুম ভাঙলো। তবুও সে উঠলো না। অপেক্ষা করতে লাগল, কেউ যদি ওই রাস্তা দিয়ে যায়। নিশ্চয়ই ওকে সাহায্য করবে। কিন্তু 'সেগুড়ে বালি'কেউ এলোনা। কোন উপায় না দেখে, সে আবার হাঁটতে শুরু করল। বেশ খানিকটা হেঁটে যাওয়ার পর, সে আবার বিপদে পড়লো। তিন দিকে রাস্তা, কোন দিকে, তার বাড়ির রাস্তা সে বুঝতে পারল না। এবার খানিকটা হলেও সে বিরক্ত বোধ করলো। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে, ভাবছে এটা যেন এক নতুন পৃথিবী।
এদিকে ফারজানা সদ্য সাইকেল চালানো শিখেছে। বলতে গেলে এই রাস্তায় ফারজানাই দৈনিক পথচারী। প্রতিদিন ওই একমাত্র এই রাস্তা দিয়ে কলেজ যায় আবার আসে। আজও তার ব্যতিক্রম হল না। ফাঁকা রাস্তা পেয়ে দ্রুত গতিতে সাইকেল চালাচ্ছে সে। হঠাৎ রাজাকে মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, ফারজানা চিৎকার করতে লাগলো'সরে যান, সরে যান'। রাজা সরতে না সরতে ফারজানার সাইকেল রাজাকে ধাক্কা মারলো। রাজা কোনরকম নিজেকে সামলে নিয়ে, ফারজানা দিকে তাকালো। মেয়েটির পোশাক-আশাক দেখে বোঝা যায়। সে নিশ্চয়ই মুসলিম। মেয়েটি পড়ে যাওয়ায় তার মাথার হিজাব টা সরে গেছে। তাই মুখটা বেশ ভালোভাবে দেখা যাচ্ছে। একদৃষ্টিতে রাজা, ফারজানার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তাকে দেখে রাজার চোখে রীতিমতো কপালে উঠে গেছে। এত সুন্দর মানুষ হয়!
-কি ভাইয়া! এত ভূত দেখার মত তাকিয়ে আছেন কেন!
-আমি নারী, পরী নই......
-আপনি পরীদের থেকেও অনেক সুন্দর।
কথাটি রাজার মুখ থেকে যেন আপনা আপনি বেরিয়ে এলো। এমন প্রশংসা সে আজ পর্যন্ত কোন মেয়েকে করেনি। প্রথম দেখাতে এমন সুনামক পিয়ে ফারজানা একটু খুশি হলো। সে, নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে পড়ল।
-আপনার কোথাও লাগে নি তো?
-না ,একটু পায়ে.....
-তাহলে উঠে পড়ুন।রাস্তায় পড়ে থাকবেন না।তাতে আমার খারাপ লাগবে।
রাজা একটু লজ্জা বোধ করল। মেয়েটি আবার বলল,
-আমি নতুন সাইকেল চালানো শিখেছি।তাই.….....
রাজা মেয়েটির কথায় কান দিলো না। তার কাছে এটাই সুযোগ, এই মেয়েটি তাকে কোন ভাবে সাহায্য করতে পারি কি না,তা একবার দেখার চেষ্টা করল। সে কোন কথা না ভেবে মেয়েটিকে বলল,
-আচ্ছা, আপনি কি সোনালীপুরে, সুনয়না দেবী বাড়ি চেনেন?
-হ্যাঁ চিনি, কিন্তু ওই বাড়িতে তো কেউ থাকেনা।
-জানি, আমি উনারই ছেলে।
ফারজানা হা হা করে হেসে উঠলো। তার হাসির কারণ রাজা বুঝতে পারলাম না।
-ভাইয়া, আপনি সোনালী পুরের যাওয়ার রাস্তা জানেন না ওটা বলুন, মিছামিছি একজন ভদ্রমহিলাকে আপনার মা বানাচ্ছেন কেন?
-মিথ্যা বলছি না, উনি সত্যিই আমার মা।
-আপনি কি আমাকে পাগল ভাবেন। সুনয়না দেবী মারা যাওয়ার পর উনার স্বামী, ছেলে সবাই ইন্ডিয়ায় থাকে। তারা এত সকালে নিশ্চয়ই উড়ে আসবে না। নিশ্চয়ই অনেকটা সময় লাগবে।
কথাগুলো শুনে রাজার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে এলো।নিজের দেশে এসে প্রথমে ওকে নিজের মা টা আসল না নকল,সেটার পরিচয় দিতে হচ্ছে। রাজার চোখের জল দেখে সে বলল,
-আপনি কাঁদছেন কেন?
রাজার নিজের গলা থেকে একটা লকেট বের করে খুলে ফেলল, তার ভেতর তার মা-বাবার সাথে, তার ছোটবেলার ছবি।
-এই দেখুন। আমার মা সুনয়না দেবীর সাথে আমি।
মেয়েটি একটু অবাক হয়ে বললেন,
-তাহলে আপনি সত্যিই ভিনদেশী?
-না আমি ভিনদেশী নই। বাংলাদেশই আমার জন্ম।
-ওওও। কিন্তু এত সকালে আপনি এখানে কি করে এলেন? ঢাকা থেকে আসতে তো ন্যূনতম একটা সময় লাগবে।
-হ্যাঁ আমি কাল বিকালে এসেছি।
- তাহলে সারারাত কি এই মাঠে বসে ছিলেন?
-না, আরাধ্যার বাড়িতে ছিলাম।
আরাধ্যার নামটা শোনার সাথে সাথে ফারজানার মধ্যে এক অদ্ভুত পরিবর্তন এলো। এক লাভে সে রাজার থেকে অনেক দূরে চলে গেল। তারপর বেশ অনেকক্ষণ নীরবতা। ফারজানা আবার কাছে এসে বলল,
-আপনি, আমার হাতে চিমটি কাটুন তো।
রাজা কাছে, আর কোন উপায় নেই তাই বাধ্য হয়ে ওর হাতে চিমটি কাটলো।
-লাগছে, মানে আমি বেঁচে আছি।
-হ্যাঁ, বেঁচে থাকবেন না কেন?
না, আমি ভেবেছিলাম অ্যাক্সিডেন্টের পর আমরা দুজনই মারা গেছি।
-পাগল নাকি! ওইটুকু এক্সিডেন্টে কেউ মারা যায়।
ফারজানা কোন কথা না বলে, রাজারহাতে চিমটি কাটলো। সাথে সাথে রাজা আঁতকে উঠলো।
-কি করছেন লাগছে তো।
-লাগছে মানে তুমিও বেঁচে আছো।
-আচ্ছা পাজি মেয়ে তো তুমি। বলছি না আমরা দুজনই বেঁচে আছি।
-হ্যাঁ, বেঁচে আছি তো আরাধ্যা কোথা থেকে আসছে।
-কেন,আরাধ্যা কি করলো?
- কারণ আরাধ্যা আজ থেকে দু বছর আগে মারা গেছে। আর ওখানে কোনো বাড়ি নেই যেটা আছে সেটা অনেক পুরনো।
ফারজানাকে কি মনে হয় গল্পের নায়িকা না অন্য কেউ প্লিজ কমেন্ট করে জানাবেন।
Part 3 coming soon
Soinik
#সৈনিকঃ♥
পার্থক্য দুজনেই ১৮ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে ছিলাম.....
*তুমি ভার্সিটিতে এডমিশন নিলে আর আমি ডিফেন্স এ যোগ দিলাম.....।
তুমি পেলে জীবনের সব থেকে ভাল মূহুর্ত আর আমি জীবনের সবথেকে কষ্টকর সময়......
*তুমি ডিগ্রি অর্জনের চেষ্টা করছিলে। আর আমি নিয়েছিলাম কঠোর প্রশিক্ষন....!!
তোমার দিন শুরু হতো সকাল ৮ টায় শেষ বিকাল ৫ টায় আর আমার ভোর ৪ টাই শেষ রাত ১০ টাই....
*তোমার ছিলো সমাবর্তন ceremony..আর আমার passing out parade........
Best কোম্পানির best জবটাই তুমি পেয়েছিলে আর
আমি অনেক Responsibility নিয়ে section এ যোগ দিয়ে ছিলাম.....
*তোমার Responsibility ছিলো নিজেকে ও পরিবারকে save করা।
আর আমার দেশ রক্ষা করার!!
তুমি পেয়েছিলে Best job...!!!
আর আমি A Great way of life.!!
*প্রতি সন্ধায় তুমি পিতা মাতার দেখা পেতে।
আর আমি শুধু পিতা মাতাকে দেখবো বলে প্রর্থনা করতাম!!!!....
*তুমি অফিস যাওয়ার সময় তোমার সন্তানরা বলতো বাবা আসার সময় কি নিয়ে আসবে।
আর আমার ছুটি শেষ হলে বলতো বাবা আবার কবে আসবে!!!!!!!
*তুমি festival celebrate করতে গানবাজনা আর আলোকসজ্জা দিয়ে।
আর আমি unifrom আর Responsibility দিয়ে!!!
*তোমার মা-বাবা তোমায় প্রতিদিন দেখতে পেত।
আর আমার মা-বাবা আমার বেঁচে থাকার প্রার্থনা করত!!!!!
*আমরা উভায়েই Retired করলাম।আমাদের পরিবার কান্না থামাতে পারছিলোনা।
তুমি তাদের অশ্রু মুছে শান্তনা দিচ্ছিলে।
কিন্তু আমি?আমিপারিনি!!
*তুমি তাদের জড়িয়ে ধরেছিলে।
কিন্তু আমি? আমি পারিনি!!!!
# কারন.....
আমি লাল সবুজ পতাকা মোড়ানো কফিনে অর্জিত মেডেল গুলো নিয়ে শুয়ে ছিলাম!!
আমার way of Life সমাপ্ত!!!
But তোমার continue.......
মনে পড়ে কি?
দুজনেই"বাড়ি ছেড়েছিলাম ১৮ বছর বয়সে!!
সৈনিক,সে তো বেতনের বিনিময়ে চাকরিজীবী নয় বরং জীবনের বিনিময়ে দেশ রক্ষাকারী।
♥♥
Kostoer
কষ্টের একটা গল্প 😥😥😥😥 সবাই পড়বেন 😭
মেয়ে : আমি একটি কথা বলতে চাই।🥰
ছেলে: বলো🥰
মেয়ে : যদি বলি আমি তোমাকে ভালবাসি।🥰
ছেলে : তুমি আমাকে ভালবাসো কিন্তু আমি যে গরিব😢
মেয়ে : আমি তোমাকে চাই, তোমার সম্পদ নয়।🥰
ছেলে : আমিও তোমাকে ভালোবাসি।🥰
মেয়ে : তুমি আমাকে বিয়ে করে আমার কাছে কি চাইবা?🥰
ছেলে : আমি আমার মা বাবাকে অনেক ভালবাসি তোমার কাছে শুধু তাদের সুখ চাই আমাকে কিছু দাও আর না দাও🥰
কিছু দিন পর😓
মেয়ে : আমার মা বাবা তোমার কাছে আমাকে বিয়ে দিবে না।😢
ছেলে : তাহলে কি করবো আমি? তুমি কি চাও?😢
মেয়ে : আমার মা বাবাকে আমি ছাড়তে পারবো না, তোমাকেও না। তুমি ঘর জামাই চলে আসো 😢
ছেলে : আমি তোমাকে ছাড়া বাচবো না কি করবো বলো আমি রাজি কিন্তু এমন কিন্তু কথা ছিল না😢
মেয়ে : আমার জন্য এই টুকু করো তুমিতো আমাকে ভালোবাসো😢💖
ছেলে ↑ওকে ঠিক আছে 💖
আরো কিছু দিন পর
হঠাৎ করে 😥😥
মেয়ে : আমার বাবা বলেছে সরকারী চাকরিজীবী হলে বিয়ে দিবে না হলে নয়।😥😥
ছেলে : আমার তো এমন বড় চাকরির যোগ্যতা নাই।😥
মেয়ে : আমি কি করব বল? আমি কিছুই করতে পারবো না তুমি আমার মা বাবাকে বুঝাও।😥
অনেক বুঝানোর পরে-ও কিছু হলো না 😥😥
আরো কিছু দিন পর😥😥
মেয়ে : কালকে আমার বিয়ে😥
ছেলে : কষ্ট হচ্ছে না? 😥
মেয়ে : তুমি কিছুই করতে পারলে না। আমার পোড়া কপাল। কষ্ট নাই বাস্তব মানতেই হবে।।😥
ছেলে : আমিও মেনে নিলাম তোমার বানানো বাস্তব। তুমি ভালো থাকবে ভেবে আমারও কষ্ট নাই।😥
এই বলে ছেলে কেদে কেদে চলে গেলে সেখান থেকে।
আর কোন দিন তাদের দেখা হল না।😥
কয়েক বছর পর💔
মেয়েটি একটি দেখলো একটি কবরে লেখা
যদি বলি আমি তোমাকে ভালবাসি?
তুমার জন্য এই পৃথিবী ছাড়তে পারি।😥
মনে পড়ে গেলো সেই পুরোনো কথা 😥
মেয়েটি সেখানেই কাদতে কাদতে অজ্ঞান হয়ে যায়।
পরে খোজ নিয়ে দেখা গেল সেখানে তার ভালবাসার মানুষ ঘুমিয়ে আছে।
সত্যি কারের ভালোবাসা গুলো কখনো পূণ্যতা পায় না 😰😰😰
দোয়া করি সবার ভালোবাসা যেন পূণ্যতা পায় 🙃
কেমন লাগলো অবশ্যই একটা কমেন্ট 😊😊😊😊
প্রতিশোধ২য়
গল্পঃ প্রতিশোধ (২য় পর্ব)
জাফর চৌধুরি বাড়িতে যেয়ে রাইফাকে ডাকে,
- মা রাইফা?
- জ্বি আব্বা
- একটা কথা জিজ্ঞেস করবো সত্যি করে উত্তর দেবে?
- কি কথা আব্বা?
- রাতুল এর সাথে তোমার কি সম্পর্ক?
জাফর চৌধুরির এই কথা শুনে রাইফা ভয় পেয়ে যায়। এবং ভয়ে ভয়ে কাপা গলায় বলে,
- কেন আব্বা হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?
- এতো কথা না বলে যা বলছি তার উত্তর দাও।
- কেন আব্বা আপনি তো জানেনই রাতুল আমার ছোট বেলার বন্ধু।
- প্রথমেই বলছি মা মিথ্যা কথা বলবে না। ও কি তোমার শুধু বন্ধুই নাকি আরো অন্য কোনো সম্পর্ক আছে?
- আর কি সম্পর্ক থাকবে আব্বা। ও তো শুধু আমার বন্ধুই।
- আচ্ছা ঠিক আছে যাও এই বন্ধুত্ব যেনো শুধু বন্ধুত্বই থাকে তার চেয়ে বেশি কিছু যেনো আর না হয়।
রাইফা আর কোনো উত্তর না দিয়ে তার রুমে চলে গেলো। ভাবতে লাগলো আব্বা হঠাৎ এসব জিজ্ঞেস করলো কেন? এসব বলার মানে কি? তাহলে কি উনি আমাদের সম্পর্কের সত্যিটা জেনে গেলো?
পরের দিন রাতুল এবং রাইফা ইউনিভার্সিটিতে গেলো। এবং রাইফা রাতুলকে তার বাবার কথা সব খুলে বললো। রাতুল এই কথা শুনে অনেক ভয় পেয়ে যায়। কারন রাইফার পরিবার এবং বাবার ভয়েই রাতুল প্রথমে তার সাথে প্রেম করতে রাজি হয় নাই। রাতুলের পরিবার গরিব হলেও জাফর চৌধুরি রাতুলকে খুব স্নেহ করতো এবং রাতুলও তাকে খুব শ্রদ্ধা করতো। রাইফার বাবা যদি আমাদের কথা সত্যিটা জেনে যায় তাহলে কিভাবে তার সামনে মুখ দেখাবো? কিভাবে তার সামনে যাবো? আমাদের কথা জানার পর সে আমার সাথে কেমন আচরণ করবে? আমাকে কি আস্ত রাখবে?
এসব ভেবে রাতুল খুব ভয় পেয়ে গেলো। এবং রাইফাকে বলে দিলো রাইফা তুমি আমাকে ভুলে যাও। আমাদের সেই সম্পর্ক কখনো মেনে নেওয়া যাবে না। তোমার বাবা অনেক রাগী। তবুও উনি আমাকে অনেক স্নেহ করে। কিন্তু আমাদের এই কথা জানার পর আমার প্রতি উনার আর স্নেহ থাকবে না। হয়তো আমাকে অনেক শাস্তি দেবে তখন।
রাতুলের এসব কথা রাইফা মেনে নিলো না। তার একটা কথাই, যা হবার হবে কিন্তু আমি তোমাকে ছাড়তে পারবো না। কথা অনুযায়ী তারা তারা আবার তাদের ভালোবাসার সম্পর্ক আগের মত চালিয়ে গেলো।
অনেক দিন পর একদিন রাতুল ইউনিভার্সিটিতে গেলো না। কিন্তু রাইফা একাই গেলো। সেই দিন ইউনিভার্সিটি থেকে আসার সময় হঠাৎ রাইফার পথ আটকিয়ে সামনে দাঁড়ায় রাজন।
রাজন হল আকমল চেয়ারম্যানের ছেলে। রাজন সব সময় বাবার পাওয়ায় দেখিয়ে এলাকায় বখাটে ছেলেদের নিয়ে চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। এবং নেশা করে যার তার সাথে মাড়ামাড়ি করে। নিয়মিত এলাকার সব মেয়েদের ইভটিজিং করে। যাকে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এবং প্রস্তাবে রাজি না হলে সব সময় বিরক্ত তো করেই সুযোগ পাইলে গায়েও হাত দেয়। এলাকার কোনো মেয়ে তার জ্বালায় শান্তিতে বাড়ি থেকে বের হতে পারে না। ভালোভাবে স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। মেয়ে দেখলেই প্রেমের প্রস্তাব অথবা ইভটিজিং করবেই। কিন্তু এলাকার সব মেয়েকে করলেও এতো দিন রাইফার সাথে এরকম করে নাই। কারন জানতো রাইফা হলো তার বাবার বন্ধুর মেয়ে। সেই সম্মানে তাকে কিছু বলে নাই।
কিন্তু আজকে হঠাৎ করে পথ আটকিয়ে সামনে দাড়ালো এবং বললো,
- আপু আজকে উনি কই?
- উনি মানে? উনি কে আবার? পথ ছাড়েন আমার যেতে দেন আমাকে।
- আরে আপু এরকম করেন কেনো? পথ তো ছাড়বোই কিন্তু তার আগে কিছু কথা শুনে যান।
- এখন কোনো কথা শুনার সময় আমার নাই। আমাকে যেতে দেন।
- সম্মান করি বলে ভালো লাগে না তাইনা আপু? সম্মান করে মনের কথা বলি না বলে কি অন্য ছেলেদের সাথে প্রেম করতে হবে? তাহলে আমরা আছি কেন? প্রস্তাব দেই নাই তো কি হইছে আপনার মন চাইলে আমাকে বলতেন আমি রাজি হয়ে যেতাম।
- কি সব ফালতু কথা বলছেন সরেন এখান থেকে আমাকে যেতে দেন।
- যাবেই তো আপু। তবে শুনে রাখেন রাতুলের সাথে যেনো আপনাকে আর না দেখি। তাহলে কিন্তু পরিনাম খারাপ হবে। কারন আমি আপনাকে ভালোবাসি। আর আপনি শুধু আমারই বউ হবেন। অন্য কারো হতে পারবেন না। কথাটা মনে থাকে যেনো।
এই কথা বলে রাজন সরে যায়। এবং রাইফাও বাসায় ফিরে যায়। রাইফা বাসায় যেয়ে তার বাবার কাছে রাজনের সব কথা বলে দেয়। মেয়ের কথা শুনে জাফর চৌধুরি আকমল চেয়ারম্যানের বাড়িতে চলে যায় চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ করতে। কিন্তু বাড়িতে ঢুকেই দেখতে পেলো রাজনকে। এবং তাকে বললো,
- তুমি আমার মেয়ের সাথে এরকম ব্যাবহার করছো কেন?
- আংকেল রাইফাকে আজকাল রাতুলের সাথে বেশি দেখা যায়। খুব সন্দেহ লাগছিলো। তাই নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরিক্ষা করে দেখলাম ওদের সামনে যেয়ে। সত্যি সত্যি ওদের মধ্যে প্রেম চলছে। তাই আমি বড় ভাই হিসেবে রাইফাকে একটু শাসন করতে গেছিলাম আংকেল। এখন আপনিই বলেন এটা কি আমার দূষ।
রাজনের কথা শুনে জাফর আর কোনো উত্তর দিলো না। এবং আকমল চেয়ারম্যানের সাথেও দেখা করলো না। তখনি সে বাড়িতে চলে গেলো। বাড়িতে যেয়ে রাইফাকে বললো,
- আজ থেকে তোমার রাতুলের সাথে থাকা বন্ধ। এবং বাড়ির বাহিরেও যাওয়া বন্ধ।
- কিন্তু কেন বাবা হঠাৎ এরকম কথা কেন? আমি কি করছি?
- তুমি কিছুই করো নাই কিন্তু আমি যা বলছি তাই মানবে। না হলে পরিনাম অনেক খারাপ হবে।
রাইফা কিছুই বুঝতে পারলো না সে এখন কি করবে। রাতুলের সাথে কথা না বলে কিভাবে থাকবে? রাতুলকে না দেখে কিভাবে থাকবে? সে কোনো উপায় না পেয়ে সোজা চলে যায় রাতুলের বাড়িতে। যেয়ে রাতুলকে বলে,
- রাতুল তাড়াতাড়ি চলো আমরা পালাবো।
- রাইফা তুমি এগুলা কি বলতেছো হঠাৎ! কি হইছে খুলে বলো?
- এখন এতো সময় নাই তুমি তাড়াতাড়ি চলো আমরা পালাবো। অনেক দূরে চলে যাবো যেখানে আমাদের কেও খুজে পাবে না।
- কিন্তু আমি জাফর চাচার সাথে এরকম বেইমানি কিভাবে করবো? আর আমি চলে যাওয়ার পর যদি উনি আমার পরিবারের সাথে কিছু করে?
এসব কথা বলতে বলতেই কোথা থেকে যেনো ডাক এলো রাইফা...
রাইফা পিছনে তাকিয়ে দেখে তার বাবা জাফর চৌধুরি। রাইফা আর রাতুল ভয়ে কেও কোনো কথা বলছে না। দুজনেই মাথা নিচু করে আছে। জাফর চৌধুরি তখন মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যায়।
সন্ধ্যার পর জাফর চৌধুরি রাজনকে ও তার দল নিয়ে যায় রাতুলের বাড়িতে। হাতে মোটা মোটা লাঠি নিয়ে যেয়ে বাড়িতে পা রেখেই রাতুলকে ডাকে। ডাক শুনে রাতুল ঘর থেকে বেড় হলেই রাজন তার মাথায় লাঠি দিয়ে জোরে একটা আঘাত আঘাত করে। রাতুল মাটিতে পড়ে যায়। তারপর রাজনের দলের বাকিরা সবাই ইচ্ছা মত একের পর পর এক আঘাত করতে থাকে রাতুলের শরীরে। বৃষ্টির মত লাঠির আঘাত পড়তে থাকে রাতুলের শরীরে। রাতুলের চিৎকার শুনে তার মা বাবা দৌড়ে আসে এবং কাদতে কাদতে বলে তোমরা আমাদের রাতুলকে মারছো কেন? কি করছে ও? এভাবে মারছো কেন অকে? আল্লাহর দোহায় লাগে অকে আর মাইরো না। বখাটের দল গুলো রাতুলের মা বাবার কথায় কান না দিয়ে অবিরত মারতেই থাকে। অনেকক্ষণ মারার পর রাতুল জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তারপর জাফর চৌধুরির নির্দেশে মারা বন্ধ করে। ছেলেকে মেরে অজ্ঞান করার পর তার মা বাবাকে জাফর চৌধুরি বলে যায় তোমাদের ছেলেকে আজকের মত বাচিয়ে দিলাম। কিন্তু অকে যদি এরপর আর এলাকায় দেখি তাহলে আর বাচানো হবে না। সুতরাং ছেলেকে আজকে রাতের মধ্যেই এলাকা থেকে বিদায় করবে।
রমিজ মিয়া ও তার স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে। তাদের বড় ছেলে হলো রাতুল। যাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন তাদের। আজ সেই ছেলেকে মেরে অজ্ঞান করে ফেলেছে৷ এবং এলাকা ছাড়া করতে বলছে। কোথায় পাঠাবে তাদের ছেলেকে ভেবে পাচ্ছে না তারা। তবুও যে পাঠাইতেই হবে কারন এলাকার মাতাব্বর জাফর চৌধুরি বলে গেছে। না পাঠাইলে তাদের ছেলেকে সত্যি সত্যি চিরকালের জন্য হারাইতে হবে।
জাফর চৌধুরি মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য দেওয়ানা হয়ে যায়। কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি হঠাৎ করে এরকম ভালো ছেলে কোথায় পাবে যার সাথে মেয়ের বিয়ে দেওয়া যায়। মাতাব্বর সাহেবের একমাত্র মেয়ে যে কোনো ছেলের সাথে তো আর বিয়ে দেওয়া যায় না। অবশ্যই ভালো ছেলে লাগবে। কিন্তু হঠাৎ করে এখন এরকম যৌগ্য ছেলে কোথায় পাওয়া যাবে? জাফর চৌধুরি এই বিষয়ে পরামর্শ করার জন্য চলে গেলো আকমল চেয়ারম্যানের কাছে।
চলবে...
Valobasar rong
আফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় হঠাৎ খেয়াল করি আমাদের অফিসের একজন স্টাফ খালিদ হাতে একটা গোলাপ নিয়ে রাস্তায় পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আমি গাড়ির কাঁচটা নিচে নামিয়ে বললাম,
-- আরে খালিদ, এইখানে কি করছো?
খালিদ গোলাপটা পিছন দিকে আড়াল করে বললো,
-বাসায় যাবো স্যার, তাই রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে আছি
আমি বললাম,
--তোমার বাসা কোথায়?
খালিদ মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো,
- উত্তরাতে স্যার
আমি অবাক হয়ে বললাম,
-- আরে আমার বাসাও তো উত্তরাতে। আসো তোমার বাসায় নামিয়ে দিবো নে
খালিদ আমার কথা মত গাড়িতে উঠলো। ফুলটা যখন আমার চোখের সামনে থেকে আড়াল করতে চাইছিলো আমি তখন বললাম,
-- ফুল কার জন্য?
খালিদ লাজুক হাসি হেসে বললো,
- আমার স্ত্রী অর্পিতার জন্য?
-- আজ কোন স্পেশাল দিন নাকি?
-- জ্বি স্যার, আজকের দিনে আমি অর্পিতার প্রেমে পড়েছিলাম...
পরদিন অফিস থেকে যখন বাসায় ফিরবো তখন খালিদকে ডেকে বললাম, চলো একসাথে যাই।
গাড়ি দিয়ে যাবার সময় হঠাৎ খালিদ আমায় বললো,
-স্যার, সামনে ফুলের দোকানটাতে এক মিনিটের জন্য গাড়িটা একটু দাঁড় করাবেন?
আমি গাড়িটা দাঁড় করাতেই খালিদ তড়িঘড়ি করে গাড়ি থেকে নেমে ফুলের দোকানটাতে ঢুকলো আর কিছুক্ষণ পর একটা লাল গোলাপ নিয়ে আসলো। আমি বললাম,
-- আজকেও স্পেশাল দিন নাকি?
খালিদ আগের মতই লাজুক হাসি হেসে বললো,
-জ্বি স্যার, আজকের দিনে আমি অর্পিতাকে দেখে প্রেমে পড়েছিলাম।
আমি অবাক হয়ে বললাম,
-- তুমি না কালকে বলেছো কালকের দিনে তুমি তোমার স্ত্রীকে দেখে প্রেমে পড়েছিলে? আবার আজকে একই কথা বলছো?
খালিদ মাথা নিচু করে বললো,
-স্যার, আমি যতবার আমার স্ত্রীকে দেখি ততবার আমি প্রথম থেকে ওর প্রেমে পরি। তাই আমার কাছে প্রতিটা দিন স্পেশাল
ভালবাসার এমন সস্তা লজিক শুনে মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো। নিজের রাগটা কোন রকম কন্ট্রোল করে খালিদকে বললাম,
-- নতুন নতুন বিয়ে করেছো হয়তো তাই তোমার কাছে প্রতিটা দিন স্পেশাল মনে হচ্ছে। আমার মত দুই বছর সংসার করো তখন দেখবে সংসারটাকে জাহান্নাম মনে হবে
খালিদ আর কিছু বললো না। আমি রেগে গেছি হয়তো সেটা বুঝতে পেরেছে। শুধু গাড়ি থেকে নামার সময় বললো,
- স্যার, আমি বিয়ে করেছি ৫ বছর ৯ মাস হতে চললো। বিশ্বাস করেন আমাদের ভালোবাসাটা এখনো প্রথম দিনের মতই আছে...
|
|
বাসায় ঢুকার পর দেখি শ্রাবণী টিভি দেখছে। আমার আসার শব্দ শুনে শ্রাবণী কাজের মেয়ে শেফালিকে বললো,
- শেফালি তোর স্যার এসেছে। টেবিলে খাবার দে
খাওয়া দাওয়ার পর বিছানায় যখন শুয়ে আছি তখন শ্রাবণী এসে বললো,
- কাল আমার ৫০ হাজার টাকা লাগবে। একটা নেকলেস পছন্দ হয়েছে কাল সেটা কিনবো।
আমি রেগে গিয়ে বললাম,
-- তোমার দুইদিন পরপর এত গহনা লাগে কেন? টাকা তো নিজে ইনকাম করো না তাই টাকার মূল্য বুঝো না।
আমার কথা শুনে শ্রাবণী রেগে গিয়ে বললো,
- নিজের বউয়ের শখ আহ্লাদ পূরণ করতে পারো না কেমন পুরুষ তুমি?
আমি ওর কথার কোনো উত্তর দিলাম না।
শ্রাবণী বালিশ নিয়ে অন্য রুমে চলে গেলো আর আমি শুয়ে শুয়ে খালিদের কথা ভাবতে লাগলাম, হাদারাম বলে কি না স্ত্রীকে যখনি দেখে তখনি প্রেমে পরে। আরে আমারতো স্ত্রীর চেহারাটা দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় প্রেমে পরবো দূরের কথা...
---
------
অফিসে আসার পর খালিদকে আমার রুমে ডেকে এনে বললাম,
--তুমি খুব ভাগ্যবান পুরুষ। আমি আমার স্ত্রীর পিছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করেও ভালোবাসার রঙ ধরে রাখতে পারি নি আর তুমি মাত্র ১৫টাকা দামের গোলাপ দিয়ে এত বছর ধরে ভালোবাসার রঙ ঠিক রেখেছো
খালিদ মুচকি হেসে বললো,
- স্যার, ভালবাসার রঙ কখনোই বদলায় না শুধু বদলে যায় আমরা আর আমাদের পাশে থাকা মানুষটি
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম,
-- আমি বদলায় নি কিন্তু আমার স্ত্রী বদলে গেছে
খালিদ তখন বললো,
- বদলে যাওয়ার জন্য হয়তো আপনি নিজেই দায়ী
-- মানে?
খালিদ আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,
- স্যার, স্ত্রী হলো মাটির মত আর ভালোবাসা হলো পানি। আপনি দুইটা একসাথে মিশিয়ে আপনার ইচ্ছে মত আকৃতি দিতে পারবেন। আপনার স্ত্রী কখনোই আপনার কাছে লাখ টাকা দামের জিনিস চাইবে না যদি আপনি মাঝে মধ্যে স্ত্রীকে নিয়ে রাস্তার পাশে ৩০টাকার ফুচকা খান। আপনার স্ত্রী কখনোই আপনাকে বলবে না আমার দামী গাড়ি কিনে দাও যদি আপনি মাঝে মধ্যে স্ত্রীকে নিয়ে হুট খোলা রিকশায় এই শহরটা একটু ঘুরে বেড়ান। পুরো সংসারের কাজ কারার পরেও আপনার স্ত্রীর বলবে না কষ্ট হচ্ছে যদি আপনি আপনার স্ত্রীর কপালে ভালোবেসে একটা চুমু খান।
একজন স্ত্রীর চাহিদা তখনি বেড়ে যায় যখন স্বামীর সাথে তার দূরত্ব বেড়ে যায়। তখন সে গহনা, শাড়ি, দামী জিনিস এইসবের মাঝে নিজের ভালোলাগা খুঁজে বেড়ায়।
আমার চুপ করা দেখে খালিদ উঠে দাঁড়ালো। দরজার কাছে গিয়ে আবার আমার কাছে ফিরে এসে বললো,
-স্যার, ভালোবাসা শুধু দামী জিনিসের মধ্যে লুকিয়ে থাকে না। মাঝে মধ্যে ভালোবাসা ১৫ টাকা দামের গোলাপ আর রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া ২৫ টাকা দামের কাঁচের চুরির মধ্যেও লুকিয়ে থাকে। একটাবার ভাবীকে বলে দেখেন ভালোবাসি দেখবেন আপনার চেয়েও হাজার গুণ ভালোবাসা ভাবী আপনাকে ফিরিয়ে দিবে
বাসায় এসে দেখি শ্রাবণী ওর কিনে নতুন গহনা পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখে শেফালিকে বললো,
- টেবিলে খাবার দে
পিছনে লুকিয়ে রাখা গোলাপটা বের করে শ্রাবণীকে দিয়ে বললাম,
-- তোমায় খুব ভালোবাসি আমি
শ্রাবণী অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
- তোমার ঐ হাতে কি?
আমি বললাম,
-- তেমন কিছু না। এক ডজন কাঁচের চুড়ি এনেছিলাম তোমার জন্য। ভেবেছিলাম নিজ হাতে তোমায় পরিয়ে দিবো কিন্তু তোমার এই এত দামী সোনার গহনার সাথে এই কাঁচের চুড়ি মানাবে না।
আমার কথা শুনে শ্রাবণী গহনা খুলে ফেলে দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললো,
-- কাঁচের চুড়িগুলো পরিয়ে দাও বলছি...
একটা ১৫টাকা দামের গোলাপ আর ১ ডজন কাঁচের চুড়ির মাঝে কি আছে আমার জানা নেই। আমি শুধু অবাক হয়ে শ্রাবণীকে দেখছি। হুট করেই দুই বছরের চেনা মানুষটা অচেনা হয়ে গেছে। আজ সে নিজ হাতে আমার পছন্দের খাবার রান্না করছে অথচ কা'দিন আগেও আমার খাবারটা কাজের মেয়ে বেড়ে দিতো
#ভালোবাসার_রঙ
তোর কারনে
গল্পঃ তোর কারণে
পর্বঃ ২
আজ একটু ভালো লাগছে তাই কলেজে যাই । রেডি হয়ে কলেজে চলে গেলাম । আমাকে দেখে ,,, মামুন , রিজু , তিশা দৌড়ে আসলো । আর , তিশা আমাকে বললো ...............................................
তিশা :- কিরে আকাশ ,, এতোদিন কই ছিলি ..?
•
আকাশ :- আরে , একটু অসুস্থ ছিলাম ।
•
রিজু :- কিরে আকাশ , এই গুলা কিসের দাগ ..?? আকাশ কে মারছে তোকে ..?
•
আকাশ :- আরে , আমাকে কে মারবে ..? Accident করছিলাম ।
•
মামুন :- না , দোস্ত ..!! এই গুলা Accident এর দাগ না । বুঝায় যাচ্ছে ,, এই গুলা মারের দাগ .! কি হয়েছে , বল ..?
•
আকাশ :- আরে , কিছু না ..! চল ক্লাসের দেরি হয়ে যাচ্ছে ।
•
তিশা :- আচ্ছা , চল ।
¤
সবাই ক্লাসে গেলাম । ভাবছি ,,,, নাদিয়া যদি আমাকে দেখে , তাহলে আবার সমস্যা হবে ..!!
▪
না , আজ নাদিয়া আসেনি । ক্লাস শেষ করে কিছুক্ষণ আড্ডা দিলাম । তারপর মেসে চলে আসলাম । রুমে বসে বসে ফেসবুকিং করছিলাম । এমন সময় আমার Best Friend সবুজের ফোন ...........................
আকাশ :- হ্যালো ,, সবুজ ..! কেমন আছিস ..?
•
সবুজ :- আকাশ , তোকে ছাড়া আর কেমন থাকবো ,, বল ..? তুই চলে গেছিস , আমাদের গ্যাংও ভেঙ্গে গেছে ।
•
আকাশ :- আচ্ছা ; বাদ দে ওইসব । ওরা সবাই কেমন আছে রে ..?
•
সবুজ :- হুমমম ; সবাই ভালো আছে । তোকে খুব Miss করি রে , দোস্ত ..! 😍
•
আকাশ :- হুমমমম ; এতোই যখন Miss করছিস , তাহলে বরিশালে চলে আয় না ..?
•
সবুজ :- হুমমমম ; আমি এই কথাটা বলার জন্যই তোকে ফোন দিছি । আমি পরশু তোর ওইখানে আসতেছি ।
•
আকাশ :- OK...! আয় , অনেক মজা হবে । অনেকদিন ধরে তোকে দেখি না ।
•
সবুজ :- হুমমমম ; আসতেছি , দোস্ত ..!
•
আকাশ :- আচ্ছা ; ঠিক আছে ,, রাখি এখন । যা কথা হবে সরাসরি কথা হবে ,, দোস্ত ।
•
সবুজ :- আচ্ছা , দোস্ত ; ভালো থাকিস ।
¤
যাক অনেক দিন পর সবুজকে দেখতে পারবো । রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে ঘুমিয়ে পড়লাম । সকালে ঘুম ভাঙলো , মামুনের ফোনে ..........................
আকাশ :- হ্যালো ..!!
•
মামুন :- কিরে আকাশ ,,, এখনো ঘুমাচ্ছিস ..?
•
আকাশ :- হুমমমমমমমম ।
•
সবুজ :- ঘুম থেকে উঠে , ফ্রেশ হয়ে নে তাড়াতাড়ি । আজ একটু ঘুরতে যাবো । তাড়াতাড়ি কলেজ গেটের সামনে আয় ।
•
আকাশ :- OK....!! আসতেছি , রাখ ।
¤
ঘুম থেকে উঠে , ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করলাম । তারপর কলেজ গেটের সামনে গেলাম । একটু পর তিশা , রিজু আর মামুন চলে আসলো । তারপর সারাদিন ওদের সাথে ঘুরলাম । সবুজ আসার কথা ওদের বললাম । সারাদিন ওদের সাথে ঘুরে , মেসে ফিরলাম ।
¤
রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে , তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম । সকালে ঘুম ভাঙলো সবুজের ফোনে .................................
আকাশ :- হ্যালো ,, সবুজ , বল ..?
•
সবুজ :- বল মানে , শালা ..? আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবো এইখানে ..?
•
আকাশ :- কোথায় দাঁড়িয়ে আছিস ..?
•
সবুজ :- কোথায় মানে ..? আজ কোথায় থাকার কথা ছিলো ..?
•
আকাশ :- ওহ্ ,, Sorry , দোস্ত ..!! একেবারেই ভুলে গেছি ..! ৫ মিনিট দাঁড়া আমি আসতেছি ।
•
সবুজ :- হুমমমম ; সাবধানে আয় ।
¤
তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে , ফ্রেশ হয়ে , বাস স্ট্যান্ড এ গেলাম । বাস স্ট্যান্ড এ গিয়ে আমি তো পুরাই অবাক । আমার সব জানের জিগার ফ্রেন্ডরা আসছে । আমাকে দেখা মাত্রই সবাই আমার কাছে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো । তারপর সবাইকে নিয়ে মেসে চলে আসলাম ।
¤
মেসে এসে সব বন্ধুরা মিলে এক সাথে আড্ডা দিতে লাগলাম । সবুজ আমাকে বললো ...................................
সবুজ :- দোস্ত , তুই তো দেখছি ,, পুরাই চেঞ্জ হয়ে গেছিস ..!
•
আকাশ :- চেঞ্জ হতেই তো এইখানে আসা রে ,,, ভাই ।
•
সবুজ :- হুমমমম রে দোস্ত ,, তুই পারবি । দেখিস ও তোকে ঠিকি একদিন বুঝবে ..!!
•
আকাশ :- আচ্ছা ; বাদ দে ওইসব । তোরা রেস্ট নে ,, আমি কলেজ থেকে আসি ।
•
সবুজ :- না ,,, আমরাও যাবো তোর সাথে ।
•
আকাশ :- আচ্ছা ,,, চল তাহলে ।
•
সবুজ :- হুমমমম ; চল ।
¤
সবাই মিলে এক সাথে কলেজে গেলাম । মাঠে গিয়ে দেখি ,,, মামুন , তিশা , রিজু বসে আছে । আমরা ওদের কাছে গেলাম । তিশা আমাকে বললো .............................
তিশা :- কিরে আকাশ ,,, কারা এরা ..??
•
আকাশ :- আরে , বলেছিলাম না আমার ফ্রেন্ড আসবে । এরা হচ্ছে আমার জানের জিগার । এই হচ্ছে , সবুজ , সুমন , সুজন , রিপন আর এই হচ্ছে শরীফ ।
•
তিশা :- ওহ্ ,,, আচ্ছা । আর আমরা এখন ঢেউটিন হয়ে গেলাম না রে ..??
•
আকাশ :- আরে , না না ,,, তোরাও তো । তোরা না থাকলে তো আমি এইখানে থাকতেই পারতাম না।
•
মামুন :- হয়েছে , থাক ,,, আর পাম দিতে হবে না ।
¤
তারপর সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম । আমি ওদের কে বললাম ................................
আকাশ :- এই তোরা গল্প কর । আমি ক্যান্টিন থেকে কিছু নিয়ে আসি ।
•
রিজু :- দাঁড়া আকাশ ,,, আমিও তোর সাথে যাবো ।
•
আকাশ :- আচ্ছা ; চল ।
¤
দুজনে ক্যান্টিন থেকে খাবার নিয়ে ফিরছিলাম । হঠাৎ , করে নাদিয়া আমার সামনে চলে এলো । নাদিয়া আমাকে বললো .....................................
নাদিয়া :- কিরে , তোকে মানা করেছিলাম না কলেজে আসতে ..?? পুলিশের মার খেয়েও হয়নি । আরো মার খাবি । দাঁড়া ,, তোর আজ এমন হাল করবো ,,, যে জীবনে কলেজে কেনো , বরিশালে আসবি না ।
•
আকাশ :- I'm Sorry ..!! আমার ভুল হয়ে গেছে , মাফ করে দেন ..!! আমি আর কলেজে আসবো না ।
•
নাদিয়া :- ভুল যখন করেছিস ,, তখন তোকে শাস্তি পেতেই হবে । এই তোমরা মারো আকাশকে ...!! ( নাদিয়া ওর আব্বুর লোকদের বললো )
¤
ওমনি ৪-৫ জন লোক এসে আমাকে মারতে শুরু করলো । আমাকে মারতে দেখে রিজু দৌড়ে মাঠে ওদের কাছে গেলো । তিশা রিজুকে বললো .................................
তিশা :- কিরে , তুই এমন দৌড়ে আসলি কেনো ..? আকাশ কোথায় ..??
•
রিজু :- আকাশ , আকাশ , আকাশকে ওরা মারছে ।
•
সবাই দৌড়ে আমার কাছে আসলো । ততক্ষণে নাদিয়ার আব্বুর লোক আমাকে মেরে চলে গেছে । মামুন , রিজু , সবুজ , শরীফ সবাই মিলে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলো ।
¤
আমার জ্ঞান ফিরার পর দেখলাম সবুজ ওরা সবাই আমার সামনেই আছে । যাক , তাহলে কিছু করেনি সবুজ ওরা । একটু পর তিশা এসে বললো ..................................
তিশা :- আকাশ ,, তোকে যারা মেরে ছিলো ,, তাদের সবাইকে কারা যেনো মেরে হাত ভেঙ্গে দিছে ।
¤
আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে কাজটা কারা করতে পারে । সবুজ ওরা সবাই বাহিরে চলে গেলো । আমি তখন রিজুকে ডেকে বললাম ...................................
আকাশ :- রিজু ,, তুই কি সবুজ'কে কিছু বলছিস ..??
•
রিজু :- হুমমমম ,, দোস্ত ; সবুজকে আমি বলেছি । সবুজ আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলো , তোকে কারা মারছিলো , তখন আমি সবুককে বলে দিছি । পরে সবুজ ওদের দেখিয়ে দিতে বললো ,, তখন আমি সবুজকে নাদিয়ার আব্বুর লোকদের দেখিয়ে দিছি । কেনো মামা ,, কি হয়েছে ..? তোর কি মনে হয় ,, কাজটা সবুজ ওরা করছে ..?
•
আকাশ :- মনে হয় না রে ,,, এই কাজটা সবুজ ওরাই করছে । তুই অনেক বড় ভুল করেছিস , সবুজ'কে সবকিছু বলে । সবুজ তো এখন সব শেষ করে দিবে ।
•
রিজু :- কস কি , মামা ...??
•
আকাশ :- হুমমমম , দোস্ত । তুই কাউকে কিছু বলিস না ..?
•
রিজু :- আচ্ছা ; বলবো না ।
¤
সুস্থ হতে আমার কিছুদিন লাগলো । এই কয়েকদিন ওরা সবাই আমার পাশে ছিলো । আর , সবুজ তো পুরাই পাগল হয়ে গেছে । সবুজ আর আমাকে এখানে একা থাকতে দিবে না । অনেক বোঝানোর পর সবুজ রাজি হলো ।
¤
সুস্থ হয়ে , আবার কলেজে গেলাম । কলেজে গেটে ঢুকবো , এমন সময় নাদিয়া এসে পথ আটকালো । নাদিয়া আমাকে বললো ..................................
নাদিয়া :- কিরে ,, এতো মার খাস । তারপরেও তোর লজ্জা করে না । নেরি কুত্তার মতো আবার আসছিস ।
¤
নাদিয়া আমাকে এই কথা বলার সাথে সাথে সবুজ নাদিয়ার গালে একটা থাপ্পড় মারলো .............................
সবুজ :- ঠাসসসসসসসসসসসসসসসস ,,,, ( সবুজ নাদিয়াকে থাপ্পড় মারলো )
•
নাদিয়া :- .................................... ( নাদিয়া গালে হাত দিয়ে , নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে )
¤
সবুজ নাদিয়াকে বললো .....................................
সবুজ :- ওই তুই চিনস আকাশকে ..?? আকাশের কতো ক্ষমতা তুই জানিস ..?? অনেক জ্বালাইছিস আকাশকে আর না । ( সবুজ নাদিয়াকে বললো )
¤
নাদিয়াকে মারতে দেখে নাদিয়ার বাবার লোকেরা আসছিলো আমাদের মারতে । এমন সময় সবুজ ওর পিছন থেকে বন্দুক বের করে , সবুজ শূন্য একটা গুলি ছুরলো । নাদিয়ার বাবার লোকেরা আর কেউ এগোলো না ।
¤
পুরো কলেজ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে । অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ,, মামুন , তিশা আর রিজু । কলেজ থেকে বের হয়ে এলাম । পিছন থেকে মামুন ডাক দিলো ....................................
মামুন :- আকাশ , দাঁড়া ...?
•
আকাশ :- হ্যাঁ ,,, বল ..?
•
মামুন :- আকাশ , কে তুই ..?? আর , কেনো এখানে এসেছিস ..??
•
আকাশ :- হুমমমমমম ; আজ তোদের সব বলবো ...!!
•
মামুন :- হুমমমম ; আকাশ , বল ..?
•
আকাশ :- আমার এইখানে আসার মূল কারণ হচ্ছে ,, " মীম " ..!! .............................
চলবে...
লেখাঃ নীল
Mitta opobad
♥♥মিথ্যা অপবাদ♥♥
//part_27//
সন্ধ্যায় আশাকে হলুদ দেওয়ার জন্য বর পক্ষ হতে কনে বাড়ি যাচ্ছি।। আশাদের বাড়ি এসে দেখি সুমি আপু সাথে দুলাভাই চেয়ারে বসে আছে।।। দুলাভাই আমার সামনা সামনি?????
মুহর্তের মধ্যে যেন দুলাভাইয়ের হাসিমাখা মুখটা চুপ্সে গেছে।আমি দুলাভাইয়ের সামনে গিয়ে মুখে হাসি নিয়ে বললাম?
-- কেমন আছেন দুলাভাই?(আমি)
দুলাভাই আমার কথার কোনো উত্তর না দিয়ে মাথা নিচু করে কান্না করতে শুরু করে দিল।দুলাভাইয়ের এমন ব্যবহারে আমি হতবম্ভ প্রায়।দুলাভাই কাদছে কেন?
--কাদছেন কেন দুলাভাই,,আমাকে ত অপবাদ দিয়ে বাসা থেকে বের করিয়ে দিলেন। সুখে আছেন ত?(আমি মুখে হাসি নিয়েই বলছি)
--আসিফ আমি ভুল করেছি আমাকে মাফ করে দাও।(দুলাভাইয়ের কথা সুনে আপুও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে)
-- কি ভুল করছেন আপনি?আপনি আর মিথিলা মিলে আমার জিবন থেকে বাবা মায়ের আদর কেড়ে নিয়েছেন।এগুলোকে কি ভুল বলবেন?(আমার চোখ দিয়েও পানি চলে আসলো)
-- আসিফ তোমার সাথে কথা আছে,,সুমি আমাকে একটা নিরব জায়গাতে নিয়ে যাও।(দুলাভাই)
দুলাইয়ের সাথে নিরব জায়গায় আসলাম।সুনতে চাই দুলাভাই কি বলতে চায়।
-- আসিফ,,,তোমার বাসা থেকে বের হতে মিথিলার হাত ছিল না।মিথিলা তোমাকে অনেক ভালোবাসতো।কিন্তু আমার কথায় মিথিলা সব করতে বাধ্য হয়েছে?(দুলাভাই বলছে আর কান্না করছে)
-- কি বলছেন আপনি,মিথিলা বাধ্য হয়েছে?(মিথিলাকে নিয়ে কত ভুল ধারনা করেছিলাম,,,)
-- হুম,,আমি মিথিলাকে প্রথমে প্রেমের অফার দেই।তার পর আমার সাথে শারিরিক সম্পর্কে জড়ানোর জন্য নানা ভাবে ভয় দেখাই।এক পর্যায় মিথিলার বোনকে মেরে ফেলার হুমকিও দেই।সেই ভয়ে মিথিলা শুধু একবারের জন্য রাজি হয়ে যায়।নিজের বোনকে বাচাতে।আর সংসার রক্ষা করতে।।(দুলাভাই কত নিম্নমানের মানুষ ছিল,,,আপু পাশে থেকে এই কথা সুনে আটকে উঠে।আর চোখ বেয়ে পানি পড়তে থাকে)
-- যখন আমার আর মিথিলাকে তুমি দেখে ফেলো,,আমি ও মিথিলা অনেক ভয় পেয়ে যাই।তারপর মিথিলাকে এই অভিনয়টা করতে বলি।মিথিলা ভয়ে এইসব কিছু করেছে।পরে যখন তুমি বাসা থেকে চলে গিয়ে ভিডিওটা দেখাও।আমি ভয় পেয়ে মিথিলাকে নানা ভাবে ভয় দেখাতে শুরু করি যেন মিথিলা এই সত্যটা কারো কাছে না বলে?(দুলাভাই)
-- আপনি এত নিচে নামতে পারলেন?আপনার জন্য আমার প্রথম ভালোবাসা,মিথিলাকে হারিয়েছি।যাকে ভালোবেসেছিলাম তাকে ঘৃনা করেছি।সাজানো সংসারটা অন্ধকার নেমে এসেছে।আমার মা দিনরাত কেদেছে।আমি এই বয়সে বাসা ছেড়েছি।কিন্তু আজ কেন সব কিছু বলছেন?(আমি চোখের পানি ফেলে বলছিলাম)
-- আজ আমি বুজতে পারছি পাপ বাপকেও ছাড়ে না। সেদিন একটি এক্সিডেন্টে আমার পা চলে যায়।শুধু আল্লাহর কাছে বলছিলাম। আমাকে যেন সত্যিটা বলা পর্যন্ত বাচিয়ে রাখে?<(দুলাভাই)
-- আমার আব্বু,আম্মু পরিবারের সবার সামনে বলতে পারবেন?(আমি)
-- হুম,, তুমি এই পরিবারের জন্য এত ত্যাগ করলা।চাইলে তুমি সব কিছু দেখিয়ে দিতে পারতা।তুমি তা কর নাই,,,আর আমি তোমার মত ছেলেকে আমার পাপের শাস্তি দিয়েছি।আমি চাই তোমার পরিবারকে সব কিছু বলে যেন আমার মরন হয়।(দুলাভাই)
-- আচ্ছা তাহলে,,বিয়েটা শেষ হওক,,আপনি আব্বু,আম্মু পরিবারের সবার সামনে সত্যটা বলবেন।(আমি)
-- হুম,,,ঠিক আছে,,,,(দুলাভাই)
সুমি আপু কান্না করছিল।আর বলছিল,,,আমার জিবন,,সংসার বাচানোর জন্য তোরা দুজন এত বড় ত্যাগ করলি।ভাই জানিস আশার থেকে যখন তোর সাথে হয়ে যাওয়া কাহিনিটা জানতে পারি।একবার ও ভালোভাবে কথা বলি নাই।বিয়েতেও মিথিলার সামনে যাই নাই।।মিথিলাকে শুধু কাদতে দেখেছি,,,,।কিন্তু আমরা কেউ জানতাম না আসল সত্যটা কি?
আপুকে বলেছিলাম,-- আপু কান্না কর না,,,সব ঠিক হয়ে যাবে।যার পাপের শাস্তি সে পাবে।মাঝখান থেকে পরিবারের বন্ধন্টা নষ্ট হয়ে গেলো।আমরা না হয় আবার সেই বন্ধনটা জোড়ে দিয়ে দিব।।
আপু আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক্ষন কান্না করে।।,,,
-- এই আসিফ,,,এখানে কি করছো,,,হলুদ দিবে না?(রিমি)
-- আপু আসি,,,পরে কথা হবে?(আমি)
আপু মাথা নেড়ে সায় দিল।
আমি আশাকে হলুদ দিচ্ছিলাম আর বলছিলাম,,,
-- আশা তোর আনন্দের দিনে আমিও আজ খুশির খবর পেলাম?(আমি ফিসফিস করে বললাম)
-- কি খুশির খবর,,রিমির কি বাচ্চা হবে?(আশা)
-- আরে না,,,দুলাভাই সব স্বীকার করেছে।বাকি কথা ফ্রি হলে ফোন দিস বলব?(আমি কথা গুলো বলছিলাম আর হলুদ লাগানোর কাজ সেড়ে নিয়েছি)
--আচ্ছা,,(আশার আনন্দ যেন আরো বেড়ে গিয়েছে)
আমরা সবাই,,বাসায় এসে রিদয় ভাইয়াকে হলুদ লাগিয়ে।বসে রইলাম,,কিন্তু বসে থাকতে দিচ্ছে কই,,,। dj চলছে,,,,রিদয় ভাইয়ার ফ্রেন্ড আমাদের ফ্রেন্ড সব গুলো একসাথে। কিন্তু আমার মনে লাফালাফি করার মত আনন্দ নেই।।সুযোগ বুজে কেটে পরি।
আর ভাবতে থাকি,,মিথিলা ত আমাকে ভালোবাসতো শুধু আপুকে বাচাতে এত কিছু করতে হলো।।মিথিলা হয়ত সেদিন কলেজে সব কিছু বলতে চাইছিল।কিন্তু আমি কিছুই বলতে দেই নাই।।মিথিলার মনে কি চলছিল,,,আমি জানি না।তবে আমার সাথে যেহেতু এত কিছু চলেছে।মিথিলার সাথে কিছু কম চলে নি।।
হয়ত গল্পে প্রকাশ পায় নি মিথিলার কষ্ট,ত্যাগ আর ভালোবাসা।।
-- কি ব্যপার আসিফ,,একা বসে আছো কেন?(রিমি)
রিমিকে দেখেই জড়িয়ে ধরে,,সবকিছু বললাম,,,,,রিমিও অপরাধ বোধ করছে না জেনে কত খারাপ কথা বলেছিল রিমি,,মিথিলাকে।
আপনিও কিন্তু কিছু কম বলেন নি।তাই বলেছিলাম কোনো কিছুর সত্যটা না জেনে মন্তব্য করবেন না।প্রতিটি মানুষের লুকিয়ে থাকা কিছু সত্য থাকে।কেউ সাধুর বেশে খারাপ কাজ করে বেড়ায়।আর কেউ সাধুর পাপে নিজে শাস্তি পায়।
রিমি ও অনেক খুশি এবার তাহলে আমার বাসায় যাওয়া হচ্ছে।,,আশা রাত ১ টার পর ফোন দিয়েছিল,,, সব কিছু বলেছি।। কাল আশা আর রিদয় ভাইয়ার বিয়ে।বিয়ে পর্যন্ত না হয় একটু কষ্ট করে থেকে যাই।তার পর আব্বুকে জড়িয়ে ধরে বলবো।খুব ভালোবাসি আব্বু,,।তোমার ছেলে এমন কাজ করতে পারে না।আমি জানি যার প্রতি ভালোবাসা বেশি থাকে তার দেওয়া কষ্ট গুলো ও অনেক বেশি হয়।।।
রিমির সাথে রিমির সাথে রোমান্স হয় ঠিকই কিন্তু আমি মুখ খুলে বলতে পারি না।লেখক একটু লাজুক টাইপের কিনা তাই।,,,আর পাঠক ত আমার বাসার লোকজন আছেই,,,।
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে,,বিয়ের অনেক কাজ,রিমি আশাদের বাসায় চলে গেছে সকালেই।বেস্ট ফ্রেন্ড আশা আর রিমি।রিমির পাশে যেমন আশা ছিল ঠিক রিমিকেও থাকতে হবে।।বিয়েটা অনেক ধুমধামেই এগিয়ে যাচ্ছে দুই পরিবার অনেক খুশি। বর নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম,,,বিয়েটা খুব ভালোভাবেই আনন্দের সাথে কেটে যায়।।রাতে আশা মানে রিদয় ভাইয়ার বউ নিয়ে বাসায় চলে আসি।। বাসর ঘর সাজানো হয়েছে।কিন্তু আশাকে কোনো কিছু দেওয়ার কথা মাথায়ই আসে নাই।
আমি রিমি কাছে গিয়ে,,,
-- রিমি আশাকে কি দিয়েছো?(আমি)
-- কেন তুমি কিছু দেও নাই?(রিমি)
-- মনে ছিল না,,,,রাত ত অনেক হইছে।।(আমি)
-- এক কাজ করো আমাদের বিয়ের গিফট গুলো দিয়ে দেও?(রিমি)
-- পাগল হইছো,,,রাখো আমি এখনি যাচ্ছি।।
রিমির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে,,,অনেক কিছু একসাথে গিফট পেকেটে নিয়ে আসি।।আমাদের বিয়েতে পাওয়া কোনো কিছুই ছিল না।রুচিশীল জিনিসপত্র ছিল।কিন্তু আমি বলব না।
বাসায় এসে,,দেখি,, আশা রুমে বসে আছে,,রিদয় ভাইয়া ফ্রেন্ডের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। আমরা সেই সুযোগে গিফট দিয়ে আসি।।আশা বলেছিল এত লেইট করে কেন?স্পেশাল কিছু দেড়িতেই পাওয়া যায়।
জানতে চাইলো ফাহিম,আর রাহুলের মত কিছু কিনা।তাহলে এগুলো আর খুলবে না।রাহুল আর ফাহিমের গিফট নাকি খাটের নিচে রেখে দিছে।
ভালো হওক আর খারাপ।।
অবশেষে,,রিদয় ভাইয়া আসার পর আমরা ভলে যাই। সুখের হওক তাদের জবনের পথ চলা সেই দোয়া করে।
পরের দিন সকালে,,আশা আর রিদয় ভাইয়ার জন্য নাস্তার টেবিলে অপেক্ষা করছি।আমাদের সময় যেমন হয়েছিল।।।
আশাকে পেয়ে আংকেল আন্টি অনেক খুশি,,,আশা কেমন মেয়ে ওরা ত জানেই।।
আপু ফোন করে বললো,,,কাল নাকি বাসায় যাবে,,আমাকেও আসতে বললো।অনেক সপ্ন জমে চোখে।
মিথিলাকে দেখতে যাবো,,,মিথিলার কোনো ভুল ছিল না সব কিছু দুলাভাই বলেছে।সব বলব মিথিলাকে।মিথিলার চোখ গুলো কি আমাকে দেখে ছল ছল করে উঠবে??মিথিলা আমাকে দেখে কি অবাক হবে না।।হবে হয়ত।
আংকেল আন্টিকে বিষয়টা জানালাম,,।আব্বু,আম্মু বলতে বলেছিল কিন্তু আমার লজ্জাটা একটু বেশি ত বলতে পারি না।।
রাতে বসে সবাই আড্ডা দিচ্ছি,,,,আড্ডায় বাড়িটা মেতে উঠেছে।আশা,রিদয় ভাইয়া,রিমি আর আমি।নানা রকমের কথা আর আড্ডাতে অনেক রাত করে ফেলেছি।
রাতে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।রিমি আমার কাদে হাত রেখে,, বললো,
-- আসিফ কাল যদি সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে যায়।তোমার আব্বু আম্মু আমাকে মেনে নিবে ত?(রিমির কথায় যুক্তি আছে।)
কিন্তু আমার মনে হয় মেনে নিবে।রিমির পরিবার আমাকে এমন সাহায্য করেছে।প্রথম থেকে রিমি আমাকে সাপোর্ট দিয়েছে।এইসব জানার পর হয়ত রিমিকে খুব ভালো ভাবেই মেনে নিবে।
-- কেন নিবে না।তুমি কোনো দিক দিয়ে কম আছো নাকি।।দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে।।।(আশা দেখিয়ে)
-- আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।কাল সব কিছু ঠিকঠাক হলে আমার কথা বলবা কিন্তু?(রিমি)
-- হুম বলবো,,,চিন্তা করো না।।এখন ঘুমাও প্লিজ।(আমি)
-- হুম,,(রিমি আমাকে জড়িয়ে ধরলো)
-- রিমি গরম লাগছে।তুমি জানো না রোমান্স শুধু শীতকালের জন্য?(আমি)
-- রোমান্সের কোনো কাল নেই।ভালোবাসা থাকলে সবকাল ঈ রোমান্স কাল অকে?(রিমি)
-- তাই নাকি।,,,
তার পর আর কি রোমান্সের জগতে,,,
সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে রুমে এসে মোবাইলে দেখি।সুমি আপুর অনেক গুলো ফোন।।হয়তো আপু বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।।আমি কল ব্যাক করে,,,
-- হ্যলো আপু বলো?(আমি)
-- আসিফ,,তুই কই,,তোর দুলাভাই ত উপর থেকে নামার সময় সিড়ি থেকে পড়ে যায়।মাথা দিয়ে প্রচন্ড বেগে রক্ত বের হচ্ছিল। হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।।(সুমি আপু কান্না করছে মনে হচ্ছে)
-- আমি আসছি? (আমি)
তারাতারি করে হাসপাতালে ছোটলাম।যখনি বাসায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে তখনি বিপদ চলে আসে।।হাসপাতলে যাওয়ার পরই সুনতে পাই দুলাভাই আর নেই।।সবাই কান্না করছে।সুমি আপু নিজেও।জানি না লোক দেখানো কি না।
এখন আমি ভাবছি এই সত্যটা জেনেও কি বাসায় ফিরতে পারলাম না।।
চলবে,,,
বিদ্রঃভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন।।
ছোট সাহেবের অত্যাচার
ছোট সাহেবের অত্যাচার
Part:26
.
আবির একটু পর পর ছোঁয়ার দিকে তাকাচ্ছে।ছোঁয়া একদম নিশ্চুপ হয়ে বসে রয়েছে।আর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।বারবার প্রান্তিকের কথা মনে করছে।কতই না আনন্দে ছিল ওরা।
আবির কিছু একটা বলতে চাচ্ছে ছোঁয়াকে কিন্তু কিছুতেই বলতে পারছে না।নিরবতা বাদ দিয়ে আবির বলেই উঠল,,,
আবিরঃ- আচ্ছা আপনার পুরো নাম কি??
ছোঁয়াঃ- বুশরাতুজ্জামান ছোঁয়া।আর আপনার নাম কি সেটাই তো আমি জানি না।
আবিরঃ- আবির হাসান জয়।
ছোঁয়াঃ- আচ্ছা জয় বাবু আপনি আমাকে বিয়ে করতে রাজি হলেন কেন??সব কিছু জেনে যে আমি একজন বিধবা।
আবিরঃ- (নিশ্চুপ হয়ে বসে রয়েছে।আর ছোঁয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।)
ছোঁয়াঃ- কি হল কিছু বলছেন না যে??
আবিরঃ- আসলে কেউ কোনদিন জয় বলে ডাকেনি।সবাই আবির বলেই ডেকেছে।আপনি জয় বলে ডাকলেন।
ছোঁয়াঃ- ও আচ্ছা সরি।বুঝতে পারি না।
আবিরঃ- আপনার মুখে জয় নামটাই বেশি সুন্দর লাগে।আপনি আমাকে জয় বাবু বলেই ডাকবেন।তাহলে খুশি হব।
ছোঁয়াঃ- আচ্ছা।কিন্তু আপনি যে আমার কথার উত্তর দিলেন না যে??
জয়ঃ- কারন আপনারও যে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটা অধিকার আছে।আর বিধবাদের বিয়ে করা কোন খারাপ কাজ না আমি মনে করি।আর আপনার বয়সই বা কত হয়েছে।সবে মাত্র আঠার।
ছোঁয়াঃ- ও।
ছোঁয়া আর জয় সারা রাস্তায় আর কোন কথা বলল না।চুপ করে বসে রইল।জয় গাড়ি ড্রাইভ করাতে মনযোগ দিল।
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
••••••••••••••••••••••••••••••,
ওরা সবাই শপিং মলে পৌছে গেল।জয় প্রথমে গাড়ি থেকে নামল।তারপর ছোঁয়ার দরজাটা খুলে দিল।ছোঁয়া গাড়ি থেকে নামতে যেয়ে পা পিছলিয়ে পড়ে যাচ্ছিল।জয় সাথে সাথে ছোঁয়াকে ধরে ফেলল।ছোঁয়া ভয় পেয়ে আগ্রেপৃষ্ঠে ধরে রাখল।
সবাইও গাড়ি থেকে নামল।ওদের দুইজনকে এইভাবে দেখে সবাই বুঝে গেছে জয়ই একদম ছোঁয়ার খেয়াল রাখতে পারবে।ছোট খাট এক্সিডেন্ট থেকে বাঁচাচ্ছে।জয় ছোঁয়াকে ছেড়ে দিল।আর বলতে লাগল,,,
জয়ঃ- আপনি ঠিক আছেন??
ছোঁয়াঃ- হুম।ছোট সাহেবও ঠিক এইভাবে আমাকে প্রোটেকশন করত।
জয়ঃ- ও আচ্ছা।
ছোঁয়াঃ- হুম।
সবাই ওদের দুইজনের কাছে আসল।আমেনা বলে উঠল,,,
আমেনাঃ- কি হয়েছে ছোঁয়ার??
জয়ঃ- পা পিছলিয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন উনি।
আমেনাঃ- কি??ঠিক আছিস তো তুই মা।
ছোঁয়াঃ- হ্যা মা আমি ঠিক আছি।
রাবেয়াঃ- আর বেশিখন বাইরে দাঁড়িয়ে না থেকে সবাই ভিতরে যাই।আকাশ অনেক মেঘলা হয়ে রয়েছে।অনেক জোরে বৃষ্টি নামতে পারে।তাড়াতাড়ি শপিং করা উচিত আমাদের।
ফাহাদঃ- জ্বি সবাই ভিতরে চল।
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
•••••••••••••••••••••••••••••••,
সবাই ভিতরে চলে গেল।জয় আর ছোঁয়া পিছন পিছন আসছে।জয় ছোঁয়াকে সব কিছু থেকে প্রোটেকশন করছে।আর ছোঁয়ার বারবার শুধু প্রান্তিকের কথা মনে পড়ছে।
সবাই একটা শাড়ির দোকানের সামনে যেয়ে বসল।ছোঁয়ার বিয়ের জন্য শাড়ি পছন্দ করতে লাগল।কোন শাড়িই কারোর পছন্দ হচ্ছে না।
সবাই শুধু ভাবছে কোন কালারের শাড়িটা পড়লে ছোঁয়াকে বেশি ভালো দেখাবে।আমেনা হঠাৎ করেই বলে উঠল,,,
আমেনাঃ- কি গো বাবা।তোমার সাথে বিয়ে হচ্ছে মেয়েটার।তোমার কোন কালার বেশি পছন্দ হচ্ছে।
জয়ঃ- আমার তো পিংক কালারের শাড়িটা অনেক পছন্দ হয়েছে।পিংক কালার পড়লে উনাকে অনেক সুন্দর দেখাবে।
ছোঁয়া একটু অবাক হল।প্রান্তিকও ঠিক একই কথা বলত ছোঁয়াকে।আমেনা আবার বলল,,
আমেনাঃ- তাহলে পিংক কালারের শাড়িটা দিয়ে দিন।
দোকানদারঃ- জ্বি ম্যাডাম।
আরও অনেক কিছু কিনার জন্য ওরা আরও দোকানে গেল।ছোঁয়া জয়ের কাছেই রয়েই গেল।জয় ছোঁয়াকে বলছে,,,
জয়ঃ- আপনি উনাদের সাথে গেলেন না কেন??
ছোঁয়াঃ- আমার এত শপিং করতে ভালো লাগে না।আর এত কোলাহল।
জয়ঃ- ও আচ্ছা।
ছোঁয়াঃ- পিংক কালারের কোন কিছু পড়লে আমাকে নাকি অনেক সুন্দর দেখায় এই কথাটা আমার ছোট সাহেবও আমাকে বলত।
জয়ঃ- ও আচ্ছা।
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
•••••••••••••••••••••••••,
সবার শপিং করা শেষ।যে যার মত করে গাড়িতে উঠে বসল।আগের বারের মত ছোঁয়া এইবারও জয়ের সাথে।গাড়িতে উঠার সাথে সাথে অনেক জোরে বৃষ্টি নামা শুরু করল।
জয়ের ড্রাইভ করতে একটু কষ্ট হচ্ছে তবুও ড্রাইভ করছে।বাকি সবার গাড়ি আগে চলে গেছে।জয়ের গাড়িটা পিছনে পড়ে গেছে।
ছোঁয়া শুধু বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে রয়েছে।আর শুধু বৃষ্টিতে ভিজতে মন চাচ্ছে।প্রান্তি
কের সাথে।এই বৃষ্টি প্রান্তিকের কথা আরও বেশি করে মনে করিয়ে দিল।ছোঁয়ার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
জয় সেইটা লক্ষ্য করছে।জয় ছোঁয়ার দিকে টিস্যু পেপার এগিয়ে দিল।ছোঁয়া জয়ের দিকে তাকাল।প্রান্তিকও কোনদিন ছোঁয়ার চোখের জল হাত দিয়ে মুছে দিত না।
টিস্যু পেপার এগিয়ে দিত।প্রান্তিকের সব কাজ জয়ের সাথে কেন মিলছে??ছোঁয়া ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করছে,,,
ছোঁয়াঃ- আপনি কে বলুনতো??আপনার সব কাজ আমার ছোট সাহেবের সাথে কেন মিলে যাচ্ছে।
জয়ঃ- সময় হলে জানতে পারবে আমি কে??এখনও সময় হয়নি।
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
•••••••••••••••••••••••,
চলবে।
বসন্ত নয় অবহেলা
বসন্ত নয় অবহেলা
.
বসন্ত নয় আমার দরজায় প্রথম কড়া নেড়েছিল অবহেলা।
ভেবেছিলাম অনেকগুলো বর্ষা শেষে শরতের উষ্ণতা মিশিয়ে এলো বুঝি বসন্ত!
দরজা খুলে দেখি আমাকে ভালোবেসে এসেছে অবহেলা।
মধ্য দুপুরে তীর্যক রোদের মত অনেকটা নির্লজ্জের মত আমাকে আলিঙ্গন করে নিয়েছিলো অনাকাঙ্ক্ষিত অবহেলা।
আমি চারপাশে তাকিয়ে দেখেছিলাম আমার দীন দশায় কারো করুণা বা আর্তিব পেখম ছড়িয়ে আছে কী না!
ছিলো না।
বৃষ্টিহীন জনপদে খড়খড়ে রোদ যেমন দস্যুর মত অদমনীয়
তেমনি অবহেলাও আমাকে আগলে রেখেছিল নির্মোহ নিঃসঙ্কোচিত।
আমি অবহেলাকে পিছনে ফেলে একবার ভো-দৌড় দিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলাম।
তখন দেখি আমার সামনে কলহাস্যে দাঁড়িয়েছে উপেক্ষা।
উপেক্ষার সঙ্গেও একবার কানামাছি খেলে এগিয়ে গিয়েছিলাম তোমাদের কোলাহল মুখর আনন্দ সভায়।
কী মিলেছিলো?
ঠোঁট উলটানো ভৎসনা আর অভিশপ্ত অনূঢ়ার মত একতাল অবঙ্গা।
তাও শয়ে গিয়েছিলাম একটা সময়।
হ্যাঁ একবার তুমি বা তোমরা যেন দয়া করে বাঁকা চোখে তাকিয়েছিলে আমার দিকে।
তাচ্ছিল্য নয় একটু মায়াই যেন ছিল,
হতে পারে কাঁপা আবেগ ও মিশ্রিত ছিল তোমার দৃষ্টিতে।
ওইটুকুই আমার যা পাওয়া।
আমি ঝরে যাওয়া পাতা,
তুমি ছিলে আকষ্মিক দমকা হাওয়া।
তারপর ও অবহেলার চাদর ছাড়িয়ে উপেক্ষার দেয়াল ডিঙ্গিয়ে ও অবহেলার লাল দাগ মুছে জীবনের কোনো সীমারেখা ভাঙ্গতে পারিনি আমি।
একথা জানে শুধু অন্তর্যামী।
ডায়েরী
ডায়েরি
অমিয় চক্রবর্তী
আমি যেন বলি, আর তুমি যেন শোনো
জনমে জনমে তার শেষ নেই কোনো।
দিনের কাহিনী কত, রাত চন্দ্রাবলী
মেঘ হয়, আলো হয়, কথা যাই বলি ।
ঘাস ফুটে, ধান ওঠে, তারা জ্বলে রাতে,
গ্রাম থেকে পাড়ি ভাঙে নদীর আঘাতে ।
দুঃখের আবর্তে নৌকো ডোবে, ঝড় নামে,
নূতন প্রাণের বার্তা জাগে গ্রামে-গ্রামে —
নীলান্ত আকাশে শেষ পাইনি কখনো-
আমি যেন বলি, আর তুমি যেন শোনো ।।
তুমি যেন বলো, আর আমি যেন শুনি
প্রহরে-প্রহরে যায় কল্পজাল বুনি ।
কুমুদকহ্লার ভাসে থৈ-থৈ জলে,
কোথা মাঠ ফেটে যায় মারীর অনলে ।
আঙিনায় শিশু খেলে, ফুলে ধরে মৌ,
তুলসীতলায় দীপ জ্বালে মেজো বৌ,
সানাই বাজানো রাতে হঠাৎ জনতা
বিয়ে ভেঙে মালা ছিঁড়ে ছড়ায় মত্ততা ।
মানুষের প্রাণে তবু অনন্ত ফাল্গুনী—
তুমি যেন বলো আর আমি যেন শুনি ।।
বৃষ্টিতে ভেজা সেই রাত
বৃষ্টিতে ভেজা সেই রাত
পর্বঃ ৪
এই পতিতা মেয়েটাকে আমার ছেলের জীবন থেকে সরাতে হলে যে করে হোক তামান্নার সাথে ওর বিয়েটা দিতে হবে কিন্তু কীভাবে...
।
।
সাঈদঃ ইসস আমি তো ভুলেই গেছিলাম তুমি এক ড্রেসে এসেছিলে এখন তোমার ড্রেস কই পাবো..
।
।
আদ্রিতাঃ থাক লাগবে না এটাই হবে...
।
আপনার রুমটা তো খুব সুন্দর..
।
।
সাঈদঃ হুম দেখতে হবে না কার রুম😇
।
।
রাত তো অনেক হয় গেলো এবার ঘুমাতে হবে না হলে কাল সকালে উঠতে দেরি হবে...
।
।
আদ্রিতাঃ আমি আপনার সাথে ঘুমাতে পারবো না
।
।
সাঈদঃ আমি কী বলছি আমার সাথে ঘুমাতে তুমি বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ো আমি সোফায় গিয়ে ঘুমাচ্ছি..
।
।
এর পর মেয়েটাকে বিছানায় শুয়েই দিয়ে গায়ে একটা চাদর ঢেকে দিলাম কেনো না রুমে এসি চলতেছে মাঝ রাতে ঠান্ডা লাগবে..
।
।
এর পর আমিও গিয়ে সোফায় ঘুমিয়ে পড়লাম
।
।
মাঝ রাতে হঠাৎ ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো মনে হচ্ছে বুকের উপর কোনো ভারি কিছু শুয়ে আছে .
।
ঠিক তখনি ভুত আত্মার কথা মনে গেলো তাহলে কী আমাকে কোনো ভুতে ধরেছে😗
।
না এবার দেখতে হচ্ছে
এর পর আমি যা দেখলাম তা তো বিশ্বাসি করতে পারছি আদ্রিতা আমাকে জরিয়ে ধরে শুয়ে আছে কিন্তু কেনো একটু বিষয়টাভাবাচ্ছে...
।
।
তখনি বাইরে বৃষ্টি পড়ার আওয়াজ শুনতে পেলাম সাথে বজ্র পাতের তার মানে আদ্রিতা ভয় পেয়ে জরিয়ে ধরেছে যাক ভালোই লাগতেছে😁
।
।
এভাবে রাত কেটে দিনের আলো ফুটলো কিন্তু মেয়েটা কোথায় গেলো...
তাহলে কী ওটা স্বপ্ন ছিলো নাকি একবার বলবো থাক তখন খারাপ মনে করবে...
।
।
সাঈদঃ ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে আদ্রিতার জন্য কিছু নাস্তা নিয়ে আসলাম..
।
।
আদ্রিতাকে নিজের হাতে দিয়ে..
।
।
সাঈদঃ আমি একটু কাজে বাইরে যাচ্ছি আমি যতক্ষণ না বাড়ি আসছি তুমি রুম থেকে বেড় হবে না..
।
।
আদ্রিতাঃ হুম কিন্তু আমরা মার কাছে কখন যাবো
।
।
সাঈদঃ আমি আসলেই...
।
।
তার পর বাসা থেকে বেড় হয়ে গেলাম কিন্তু মেয়েটাকে একা রেখে যেতে কোথাও মন চাচ্ছে না তাই রাস্তা থেকে আবার গাড়িটা ঘুরিয়ে বাড়ির দিকে রাওনা দিলাম..
।
এর পর বাসায় এসে যা দেখতেছি তা বিশ্বাস এ হচ্ছে না যে আম্মু এমন করতে পারে..
।
।
মাঃ সাঈদ বাড়ি থেকে বেড়িয়েছে এটাই সুযোগ মেয়েটাকে তাড়ানোর..
।
।
মাঃ এই মেয়ে তোর লজ্জা করলো না একটা অবিবাহিত পর পুরুষের সাথে রাত কাটাতে তোর কী লজ্জা সরম বলতে কিছু নেই ছিঃ তোদের মতো মেয়েদের জায়গা হলো পতিতালয়...
।
।
আদ্রিতাঃ কিছু বলতে পারছি না আর কোন মুখেই বা বলবো আমরা নিচু জাতির মানুষ সকলের কাছে অবহেলিত তাই চুপচাপ মাথা নিচু করে সব শুনে যাচ্ছি..
।
।
।
মাঃ কী হলো কথা মাথায় ডুকছে না এই মুহূর্তে বেড়িয়ে যা বাড়ি থেকে দেখে তো মনে হচ্ছে ফকিরানির মেয়ে...
।
।
।
সাঈদঃ বাশ মা অনেক বলে ফেলেছো..
।
।
মাঃ সাঈদ তো বাইরে গেছিলো কখন আসলো...
।
।
।
সাঈদঃ আমার তো তোমাকে আম্মু বলে ডাকতে ঘৃণা করছে তোমাকে না বলেছি আদ্রিতাকে কিছু বলবে না...
।
।
মাঃ কেনো বলবো না কী হয় মেয়েটা তোর..
।
।
সাঈদঃ আমার যেই হোক না কেনো তুমি আর একবার যদি আদ্রিতাকে কিছু বলো তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না..
।
।
কথাটা বলেই আদ্রিতাকে নিয়ে রুমে চলে আসলাম..
।
।
মাঃ সাঈদ তো এইরকম ছিলো না নিশ্চয়ই মেয়েটা কিছু খাইয়েছে আমার ছেলেটাকে ততখনি তামান্নার ফোন
।
।
তামান্নাঃ হ্যালো আন্টি কেমন আছেন..
।
।
মাঃ ভালো আর কই এই মেয়েটার জালায় বাচি না..
!
।
।
তামান্নাঃ আরে আন্টি এত টেনশন করলে তো শরীর খারাপ হবে..
।৷
।
।
মাঃ এই টেনশন যে মাথা থেকে নামতেই চাইছে না..
।
।
তামান্নাঃ আন্টি এই টেনশনটাই না যদি বেচে থাকে
।
মাঃ মানে
।
তামান্নাঃ আন্টি যদি মেয়েটাই না বেচে থাকে তাহলে তো সাঈদ আর মেয়েটার সাথে থাকবে কীভাবে
।
।
আমি বলি কী আপনি আজ রাতে সাঈদ আর মেয়েটার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিবেন
।
।
আপনি যেহেতু ওর মা ও আপনাকে নিশ্চয়ই মাফ করে দিবে তার পর এক গ্লাস দুধের সাথে বিষ মিশিয়ে মেয়েটাকে কোনো মতো খাইয়ে দিবেন বাশ কাজ শেষ..
।
।
।
মাঃ বাহ খুব সুন্দর বুদ্ধি তো...
।
।৷
।
।
সাঈদঃ আম্মুর কথায় কিছু মনে করিও না..
ওনি এমনি..
।
।
আদ্রিতাঃ না কিছু মনে করিনি...
তবে পৃথিবীতে যদি আপন বলতে কেউ না থাকে তাহলেই বুঝা যায় মানুষ কত নিষ্ঠুর..
।
।
।
সাঈদঃ কে বললো তোমার আপন জন বলতে কেউ নেই আমি তো আছি ( মেয়েটা খুব কষ্ট পেয়েছে কিন্তু প্রকাশ করতে পারছে না)
।
।
সাঈদঃ এই দেখো তোমার জন্য কত গুলে কাপড় নিয়ে এসেছি ( জামা গুলো বেড় করে)
।
।
আদ্রিতাঃ সত্যি এগুলো আমার জন্য ( জামা গুলো খুব সুন্দর ছিলো. 😍)
।
সাঈদঃ হুম একা পড়ে দেখাও তো আমাক তোমাকে কেমন লাগছে..
।
।
আদ্রিতাঃ কোনটা পড়বো..
।
সাঈদঃ এই নীল রং এর শাড়িটা আর সাথে মেচিং চুড়ি আর সাথে ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক দিবা আমি বাইরে যাচ্ছি তুমি তায় রেডি হয়ে নাও...
।
এর পর আমি বাইরে বেড়িয়ে পড়লাম..
।
।
আদ্রিতাঃ মা আমাকে শাড়ি পড়ানো শিখিয়েছে তাই শাড়ি পড়তে কোনো সমস্যাই হচ্ছে না নীল শাড়িটা পড়ে তার সাথে মেচিং চুড়ি দুল আর লিপস্টিক টা লাগিয়ে রেডি হয়ে নিলাম..
।
এর পর যখন নিজেকে আয়নায় নিজেকে দেখলাম তখন তো আমারি মনে হচ্ছিলো এটা কী সত্যিই আমি নাকি অন্য কেউ...
।
।
ভিতরে আসুন আমি রেডি..
।
।
সাঈদঃ রুমের ভিতরে যেতেই মনে হলো পুরো পৃথিবীটা থমকে গেছে আদ্রিতাকে এতটাই সুন্দর দেখাচ্ছিলো যে সেট বলে প্রকাশ করতে পারবো...
।
।
এত সুন্দর মেয়ে আমি কখনো দেখি নি আর কখনো কল্পনাও করতে পারি না এমন সুন্দর একটা মেয়ে আমার লাইফ এ আসবে...
।
।
আদ্রিতাঃ ওমন ভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো মুখে তো মশা ডুকে যাবে..
।
।
সাঈদঃ আদ্রিতার কথায় ঘোর ভাঙ্গলো না মানে এমনি...
।
।
আদ্রিতাঃ আপনিই প্রথম পুরুষ যে আমাকে প্রথম দেখেছেন তাছাড়া মা ছাড়া আমাকে আর কেউ এই দুনিয়ার দেখে নি..
।
।
সাঈদঃ হুম তাই তো তুমি এত সুন্দর...
।
।
আচ্ছা আজ চলো না কোথাও থেকে ঘুরে আসি..
।
আদ্রিতাঃ না না আমি কোথাও যাবো না আমার ভয় করে..
।
।
সাঈদঃ আর এ ভয় কীসের আমি আছি তো..
।
।
আদ্রিতাঃ না তবুও আজ নয় কাল যাবো..
।
।
সাঈদঃ আচ্ছা..
।
।
এর পর সারাটা দিন আদ্রিতার সাথে গল্প করেই কাটিয়ে দিলাম রাতে এ..
।
।
মাঃ যাই গিয়ে ক্ষমা চেয়ে. নিয়ে আসি.
।
।
মাঃ সাঈদ আমাকে মাফ করে সাথে তুমিও ( মানে আদ্রিতা) ..
।
।
সাঈদঃ হঠাৎ আম্মুর আবার কী হলো..
।
।
মাঃ আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দেয়..
।
।
আদ্রিতাঃ ওনি যখন ওনার ভুল বুঝতে পেরেছে তখন ওনাকে মাফ করে দেন..
।
।
সাঈদঃ হুম মাফ করে দিলাম..
।
।
মাঃ সত্যি তো..
।
।
সাঈদঃ হুম
।
।
মাঃ তোদের জন্য খাবার নিয়ে আসতেছি তোরা বস..
।
।
আদ্রিতাঃ থাক লাগবে না..
।
।
মাঃ বলেই হলো আমি নিয়ে আসতেছি..
।
।
সাঈদঃ এর পর মা খাবার নিয়ে আসলো তার পর মা নিজের হাতে আদ্রিতাকে খাইয়ে দিলো বুঝতে ছি না মা এতটা বদলে গেলো কীভাবে...
।
।
মাঃ খাওয়া শেষ তোরা বস আমি দুধ নিয়ে আসি বলেই নিচে চলে আসলাম..
।
।
এর পর মেয়েটার গ্লাসে বিষ মিশিয়ে দিলাম
।
আজ বুঝবে কত ধানের কত চাল..
।
।
মাঃ এই নে দুধ..
।
।
আদ্রিতাঃ আমি খাবো না..
।
।
মাঃ এটা বললে হয় আমি তো তোমার মায়ের মতো আমি নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছি খাবে না তুমি..
।
।
আদ্রিতাঃ না খেয়ে আর পারলাম না ওনি খাইয়ে দিয়ে চলে গেলেন
।
।
তার কিছু খন পর মাথাটা কেমন যানি করছে চোখ গুলে ঝাপসা ঝাপসা লাগছে..
।
।
হঠাৎ মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে গেলাম..
।।
।
।
সাঈদঃ এটা কীসের আওয়াজ রুমে যেতেই আদ্রিতা...
মাটিতে পড়ে গিয়েছে মুখ থেকে সাদা সাদা ফেনা বেড় হচ্ছে তার মানে মা কিছু খাবারের সাথে খাইয়েছে ..
।
।
আদ্রিতা কথা বলো কী হলো তোমার এই তো মেয়েটা ঠিক ছিলো আদ্রিতা কথা বলো প্লিজ....
।
।
চলবে
তুমি_আছো_হৃদয়ে
#তুমি_আছো_হৃদয়ে 💙
পর্ব-১
"এইচএসসি পাশ করেছে,যথেষ্ট পড়াশোনা হয়েছে।এবার বিয়ে থা দিয়ে বিদায় করো।পরের মেয়ের পিছে এতো টাকা খরচা করার মানে হয়না বাপু।"
কথাটি আমার দাদির।দাদি কথাগুলো বাবাকে বলছিলো আমাকে উদ্দেশ্য করে।
আজকে আমার এইচএসসি রেজাল্ট পাবলিশ হয়েছে।গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছি অথচ তারা আমাকে আর পড়াতে চাইছেন না। বিয়ে দিয়ে আপদ বিদেয় করতে চায়।আমি তাদের কাছে আপদ।আপদ কেনই বা হবোনা।তাদের সাথে তো আমার রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই।আমি তাদের কাছে আশ্রিতা।
ঘটনা তবে খোলেই বলি।আমার যখন ৬ বছর বয়স তখন আমার বাবা-মায়ের ডিভোর্স হয়ে যায়।ডিভোর্সের কারণ আমার বাবা অন্য মহিলার সাথে জড়িয়ে পরেন।তাকে বিয়ে করার জন্য আমার মাকে ডিভোর্স দিয়ে দেয়।মাও মেনে নেন।যে লোক তার স্ত্রীকে রেখে অন্য মহিলার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পরে তার সাথে থাকার কোনো মানেই হয়না।তাই মাও ডিভোর্স নিতে রাজি হয়ে যায়।
মায়ের ডিভোর্সের পর আমি মায়ের সাথে মামা বাড়িতেই ছিলাম।আমার মামা খুভ ভালো মানুষ। মামিও অত্যন্ত ভালো।তারা আমাদের সাদরেই গ্রহণ করেন।মা চাকরির চেষ্টা করছিলো তখনই মামা মায়ের বিয়ের কথা বলেন।মা আবার বিয়ের কথা শুনতেই রেগে যায়।কিন্তু মামা হাল ছাড়ে না।তিনি মাকে বুঝান মেয়ে এখনো ছোট।জীবনের অনেকটা সময় পরে আছে।এভাবে একা আমাকে মানুষ করতে পারবেনা।আমার ও একজন বাবা প্রয়োজন আর মায়ের একজন সংগী।সারাজীবন আমাদের পাশে তো আর মামারা থাকতে পারবেনা।আমাদের শক্ত গাছ প্রয়োজন যে কিনা আমাদের মা-মেয়ে কে সকল ঝড় ঝাপটা থেকে রক্ষা করবেন।
কিন্তু মা আমাকে রেখে বিয়ে করবেন না সাফ জানিয়ে দিলেন।আমাকে রেখে স্বার্থপরের মতো নিজের কথা ভাবতে পারবেন না।যদি কেউ আমাকে সহ মাকে বিয়ে করতে রাজি হোন তবেই তিনি বিয়ের কথা ভেবে দেখবেন নয়তো নয়।
পরের সপ্তাহেই মামা মায়ের জন্য বিয়ের সমন্ধ নিয়ে এলেন।ভদ্রলোকের বিয়ের দুবছরের মাথায় স্ত্রী মারা যান তারপর আর বিয়ে করেন নি।৩বছর একা আছেন।ভদ্রলোকের বয়স ৩৩বছর, সুদর্শন,শিক্ষিত আর ভালো পরিবারের।ওনাদের নিজেদের ব্যবসা আছে।অবস্থা সম্পন্ন পরিবার।তাই মামা মায়ের জন্য এ সমন্ধ নিয়ে এলেন।আনার মা যথেষ্ট সুন্দরী,যথেষ্ট বললেও ভুল হবে অতিরিক্ত সুন্দরী, পড়াশোনা জানা মেয়ে তাই তাদের চট করেই পছন্দ হয়ে গেলো।মাকে নেওয়ার জন্য তারা পাগল হয়ে উঠলেন।কিন্তু মা তাদের সামনে শর্ত জোরে দিলেন।তিনি তখনই বিয়ের জন্য রাজি হবেন যদি আমাকে সহ ওনারা মাকে গ্রহণ করে।এই শর্তে তারা যেন ঝিমিয়ে পড়লেন।
আমার মায়ের হবু বর আমাকে একবার দেখতে চাইলেন।মা ওনাকে নিয়ে আমার কাছে আসলেন।আমি বারান্দায় বসে পুতুল পুতুল খেলছি।
তিনি এসে আমার পাশে বসলেন।আমি উনার দিকে তাকিয়ে হিহি করে হেসে দিয়ে বললাম,
--তুমি তাহলে আমার নতুন বাবা?
তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
--হ্যা মা।আমিই তোমার নতুন বাবা।
মা অবাক চোখে ওনার দিকে তাকালেন।
তিনি মায়ের বিস্ময় কাটানোর জন্য বললেন,এমন ফুলের মতো মেয়ের বাবা হওয়া কয়জনের ভাগ্যে থাকে বলুন তো?আমি এই ফুলের বাবা হতে চাই।আপনি কি আমাকে সে সুযোগ দিবেন??
আমার নতুন বাবার পরিবারের বেশ অসম্মতি থাকলেও তিনি মাকেই বিয়ে করবেন বলে সাফ জানিয়ে দিলেন।তাই তারাও না পেরে রাজি হয়ে গেলেন।এভাবেই আমার এই পরিবারে আসা।দীর্ঘ ১২বছর যাবৎ পরিবারে আছি।কারো কাছে পরিবারের একজন কারো কাছে আশ্রিতা।
"মা,আমি ফুলকে এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে চাইনা,বাচ্চা মেয়ে আরেকটু বড় হোক তারপর ভালো ঘর দেখে বিয়ে দিবো।"
বাবা দাদিকে এ কথা বলে আমাকে নিয়ে ঘরে চলে গেলেন।
আমার নাম ফুল নয়।তবে সেদিন আমাকে দেখার পর বাবা আমাকে ফুল বলেই ডাকেন।এ বাড়ির সবাই আমাকে তানহা বলেই জানেন।মাও আমাকে ফুল বলেই ডাকা শুরু করেন।মায়ের মতে এই নামটাই আমার সাথে যায়।আমি নাকি ফুলের মতোই সুন্দর।তাই এ নাম নিয়ে আমার ও কোনো আপত্তি নেই।নামটা আমারও যথেষ্ট ভালো লেগেছে।আমার আসল নাম তাইয়্যেবা তাসনীম তানহা।মা আর বাবাই আমাকে ফুল বলে ডাকে বাকি সবাই তানহা।
--ফুল তুই মায়ের কথায় কিছু মনে করিস না মা।আমি তোকে ভার্সিটি ভর্তি করে দিবো।
বাবা আমায় বললেন।
আমি মাথা নাড়ালাম।
--এখন দেখ তোর জন্য কি এনেছি?বলেই বাবা একটা প্যাকেট আমার হাতে দিলেন।প্যাকেট খোলে দেখলাম আমার পছন্দের সব চকলেট।
আমি হেসে দিলাম।
বাবা আমার অনেক ভালো মানুষ। আমার প্রতি তার ভালোবাসা দেখলে বুঝাই যায়না তিনি আমার আসল বাবা নয়।আমার নিজের বাবাও আমাকে কখনো এতটা ভালোবাসেনি,তিনি আমায় যতটা ভালোবেসেছেন।
আমি চকলেট বের করে মুখে দিবো তখনই শুনতে পেলাম,
--আপুনি তুই একাই খাবি?আমাকে দিবি না?
পিছনে ঘুরে দেখি তুহিন দাঁড়িয়ে আছে।
তুহিন আমার ছোট্ট ভাই।ওর বয়স ১০বছর।ও আমাকে খুব ভালোবাসে।যদিও এই বাড়ির মানুষ প্রতিনিয়ত ওর কানে বিষ ঢালে আমি ওর আপন বোন নই আমাকে যেন এতো ভালো না বাসে কিন্তু ও কাউকে পাত্তা দেয়না।এক মায়ের পেটের ভাইবোন বাবা আলাদা তাতে কি।উল্টো দিন দিন আমার প্রতি ওর ভালোবাসা বেড়ে চলেছে।
আমি ফিক করে হেসে ওর মুখে চকলেট পুরে দিলাম।দুই ভাইবোন মিলে চকলেট খাচ্ছি।
চকলেট খাওয়া বাদ দিয়ে কিছু মনে পরার ভংগীতে বললো, আপুনি তুই বস আমি আসছি।দৌড়ে কোথায় চলে গেলো।
তারপর আবার পাখির মতো উড়ে চলে এলো।
একটা প্যাকেট হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,
--আপুনি এটা তোর জন্য।
আমি অবাক হয়ে বললাম, কি এটা?
ও বললো, সারপ্রাইজ।
আমি খুশিতে গদগদ হয়ে প্যাকেট খুলতে লাগলাম।আমি প্যাকেট খুলে এক জোরা ঝুমকো দেখতে পেলাম।কি সুন্দর ঝুমকো।
ও খুশি খুশি মুখে আমার দিকে চেয়ে আছে।
আমি ওর গাল টেনে বললাম,
--তুহিন তুই তো দেখছি বড় হয়ে গেছিস।আপুর জন্য ঝুমকো কিনে এনেছিস।
তুহিন কোতুহল নিয়ে বললো,
--আগে বল কেমন হয়েছে,?
--অনেক সুন্দর।আমার খুব পছন্দ হয়েছে।
তুহিন বলল,
তুই এতো ভালো রেজাল্ট করেছিস তাই ভাবলাম তোকে কোনো গিফট দেওয়া যাক।আর তখনই মনে হলো তুই তো ঝুমকো অনেক পছন্দ করিস।তাই মার্কেটে ঘুরে অনেক দেখে তোর জন্য নিয়ে এসেছি।
আমার চোখে পানি এসে পরেছে।
ভাই আমার চোখে পানি দেখে বললো, আপুনি তুই কি এখন কাদতে বসবি?তোর মতো ডেমরা মেয়েকে কাদতে দেখলে লোকে কি বলবে শুনি?
-হিহি,,কই কাদছি।
তুহিন ও হেসে দিলো।
তখনই নিচ থেকে চেচামেচি শুনতে পেলাম।আমি খুব ভালোই বুঝতে পারছি চেচামেচিটা আমাকে নিয়েই হচ্ছে।এ বাড়িতে ৮০% চেচামেচি আমাকে ঘিরেই হয়।
আমি আর তুহিন পা টিপে টিপে নিচে গেলাম।
নিচে মিটিং বসেছে।বাবা-মা,দাদি,বড় চাচা,চাচি মিলে মিটিং করছে।
দাদি বলে উঠলো,
--পরের মেয়েকে নিয়ে তোর এই আহ্লাদি পনা আমার একদম সহ্য হচ্ছেনা।
কাকি বলছে,
--জামিল,দুদিন পর যদি এই মেয়ে আমাদের মুখে চুনকালি মেখে কোনো ছেলের হাত ধরে পালিয়ে যায় তখন সমাজে মুখ দেখাতে পারবে?
বাবা বললেন,
--কি বলছেন ভাবি?ফুল এমন মেয়েই না।আমার মেয়েকে নিয়ে এসব বলবেন না।
-তোমার মেয়ে?এই মেয়েকে নিয়ে তোমার এতো আদিখ্যেতা কেন?আমার মেয়ে আমার মেয়ে করে একদিন এই মেয়ের জন্য নিজের সর্বনাশ ডেকে আনবে।এই বলে দিলাম দেখে নিও।
বড় কাকা বললেন,আহ!সালমা চুপ থাকো তো।আমাকে কথা বলতে দেও।
জামিল,আমি জানি তুই তানহাকে নিজের মেয়ে মানিস,ওকে অনেক ভালোবাসিস।দেখ আমরা কেউ ওর খারাপ চাই না।এখনকার সময় কাল ভালো না।কখন কি থেকে কি হয়ে যায় বলা তো যায়না।যতটুকু পড়াশোনা করেছে সংসার করার জন্য যথেষ্ট।ও তোর আর ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে যাচ্ছেনা।তারপরও যদি পড়তে চায় বিয়ের পর পড়বে।কত মেয়েই তো বিয়ের পর পড়াশোনা করছে।
আমি শুধু চাই মান সম্মানের সাথে ও শ্বশুর বাড়ি যাক।ভালো থাকুক।
তাহমিনা(আমার মা)তুমি কি বলো?
এতো ক্ষন নির্বিকার মাথা নিচু করে বসে ছিলেন মা।মাথা তুলে বললেন,আমি আর কি বললো,আপনারা যা ভালো মনে করেন।
এই বাড়িতে মায়ের সব ব্যাপারে সব কিছু বলার অধিকার থাকলেও আমার ব্যাপারে কিছু বলার বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো অধিকার তার নেই।আমাকে নিয়ে যখন কথা হয় তখন তিনি নিরব দর্শক হয়ে শুনে যান।আমাকে যখন দাদি বা কাকি বকাঝকা করেন তখন মা চুপ করে থাকেন কোনো প্রতিবাদ করেন না।
মা আমার ভীতু,তবে জবার দিতে নয়,,আমাকে হারাতে ভয় পায়।মায়ের ধারণা মা যদি আমাকে নিয়ে কথা বলেন তবে আমাকে আর এখানে থাকতে দিবেনা।আর মা না পারবেন এই সংসার ছাড়তে আর না পারবেন আমাকে ছাড়তে।তাই আমাকে আকড়ে ধরে রেখেছে কোনো ভাবে।যতবার উনারা আমাকে বকাবকি করেন মা নিরবে চোখের জল ফেলেন।আমি অনেক বার দেখেছি মাকে কাদতে।
আমি ভালো রেজাল্ট করায় বাবা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমাকে ভালো কোনো প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি করবেন আর এখানেই যত বিপত্তি বাধলো।পরের বাড়ির মেয়ের জন্য এতো টাকা খরচ করার কোনো মানেই হয়না।যদিও এই পরিবারের আমার মতো ১০টা মেয়েকে প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়িয়ে,খাইয়ে মানুষ করার এবিলিটি আছে।কিন্তু ওই যে আমি পরের বাড়ির মেয়ে,,,।
আমি শাড়ি পড়ে সেজেগুজে পা ঝুলিয়ে বসে আছি বিছানায়।আজ আমাকে দেখতে আসবে।সেটা মায়ের সিদ্ধান্তে।তবে আমার সিক্স সেন্স বলছে এসব শুধু শুধু হচ্ছে।মা বলে গেছে আমি যেন এখানেই চুপটি করে বসে থাকি।তাই বসে আছি।
নিজেকে আয়নায় দেখতে ইচ্ছে করছে।তাই বেড থেকে নেমে আয়নার সামনে গিয়ে দাড়ালাম।ওমা আমি নিজেকে দেখে নিজেই হা।মা সবুজ কালার শাড়ি পড়িয়ে দিয়েছে।হালকা মেকাপ,কাজল,
হালকা লিপষ্টিক।সাথে অলংকার।নিজেকে দেখে নিজেই ক্রাশ খাচ্ছিলাম কিন্তু সেটা আর দীর্ঘস্থায়ী হলোনা।
কোথা থেকে রায়হান রাহাত এসে হাজির।আমাকে দেখে ভেংচি মেরে বললো,
--ওই ফক্কনি এভাবে সং সেজে বসে আছিস কেন?শাড়ি খোল,মেকাপ ধুয়ে ফেল।নয়তো রাস্তার ওপাশের পচা ডোবায় নিয়ে তোকে চুবানি দেবো।যে ছেলে দেখে এলাম মাগো মা।ওই ছেলের সাথে তোর বিয়ে দেবোনা।বুঝলি।
আমি ভাবলেশহীন ভাবে বললাম,বুঝলাম এবার যা।
রাহাত কটমট করতে করতে বললো, যাচ্ছি,,শাকচুন্নী।
আমি ভ্রু কুচকে তাকাতেই বেরিয়ে গেলো।আমি আবার আয়না দেখায় মন দিলাম।
এ হচ্ছে আমার সতিন।আমার জানে দুশমন রাহাত।বড় চাচার ছেলে।আমার আরেক শুভাকাঙ্ক্ষী।ও আমার একমাত্র বন্ধু থুরি শত্রু।ওকে আমি দিনে-রাতে দশবার কেটে পিচপিচ করি।ওই একমাত্র ব্যক্তি যার উপর আমি আমার সব রাগ ঢালতে পারি।ইচ্ছে মতো বকতে পারি।সবকিছু শেয়ার করতে পারি।আমরা এক ক্লাশে পড়ি।ছোট বেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছি।একি স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছি।বেচারা পড়াশোনায় মনোযোগী নয়।তাই টেনেটুনে অনেক চেষ্টায় A-পেয়েছে।বড় কাকিমার এখানেই সমস্যা যেখানে আমি গোল্ডেন পেয়েছি সেখানে ওর এমন রেজাল্ট কেন হবে।তাই আমাকে বিদায় করার প্ল্যান।যাইহোক এখন দেখার বিষয় প্ল্যান কতটুকু সাক্সেস হয়।
চলবে....
(নতুন গল্প নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম।যারা হারিকেন দিয়ে নায়ক খোজে পাননি তাদের বলছি খুব শীঘ্রই ওই হিটলারকে পেয়ে যাবেন।)
চুমু
#চুমু
পাশের ফ্লাটের ভাবির পাঁচ বছরের মেয়ে ঐশী এসে আমাকে বলল-
"- আন্টি তোমার ছেলে আমাকে চুমু খেয়েছে।💋
মেয়ের কথা শুনে আমি আকাশ থেকে জমিনে পরলাম। আমার ছেলে চুমু খেয়েছে। যার নিজের বয়সই সাত। ক্লাস ওয়ান এ পড়ে। আমার ছেলে প্রচুর ফাস্ট তিন বছর বসয় থেকেই ওর কথা একদম ক্লিয়ার। সে পাকনা জানতাম, তাই বলে যে
চুমুু দিবে তাও পাশের ফ্লাটের পিচ্চিকে এটা জানা ছিল না। আবার মেয়ে নালিশ নিয়ে এসেছে। আমি চিন্তিত গলায় বললাম-🙂
"- ঐশী মা তুই এসব কি বলছিস?
"- ঠিক বলছি। ও আমাকে চুমু খেয়েছে। তাও আবার আমার ঠোঁটে।😮
আমার ছেলে রুমে টিভি দেখছে। এবস কথা শুনে আমার মাথা ঘুরতেছে। বাচ্চা ছেলে-মেয়ে এসব কি করে আল্লাহ। ছেলেকে ডাকলাম -🤗
"- নিশাত, বাবাই বাইরের এসো।
ছেলে বাইরের এসে ঐশীকে দেখে মুচকি মুচকি হাসছে। আমি ওর দিকে চোখ গরম করে তাকাতেই -😡
"- মাম্মাম ডেকেছো।
"- তুই নাকি ঐশীকে চুমু খেয়েছিস? তুই এসব করিস কিভাবে? পাশের বাসার মেয়েকে চুমু খাওয়ার শিক্ষা দিয়েছি তোকে। তাও বয়স কত তোর বল আমাকে? (জর ধমক দিয়ে)
"- এহ্হ্ আমি একা চুমু দিয়েছি নাকি। ঐশীও আমাকে জাড়িয়ে ধরেছে।😮
হাই আল্লাহ এসব শুনে আমার মাটির নিচে চলে যেতে ইচ্ছা করছে। পাশ থেকে আমার সু পুত্রের
গুণধর পিতা হেসে হেসে বলে উঠলেন-🤔
"- সাবাশ! বেটা, একদম বাপ কা বেটা।
রানা চৌধুরীর ছেলে বলে কথা। জড়িয়ে ধরলে চুমু খেতেই হবে। রাইট পাপা?
ছেলে উত্তর দিল-
"- ইয়েস পাপা।
পিতা পুত্রের কথা শুনে মনডা চাইতেছে কচু গাছই শেষ অবলম্বন আত্নহত্যা করার জন্য।
ইতিমধ্যে ঐশীর মা, বাবা, দাদী চলে এসেছে। চুমু খাওয়ার বিচার চাইতে।🥴
"- ভাবি আপনার ছেলে আমার মেয়ে চুমু খেয়েছে কোনো? জানতে চান ওর কাছে? (সাথে বাকিরা তাল দিল)
নিশাতের পাপা বলে উঠলেন-
"- ভাবি আপনার সু কন্যাও আমার পুত্রকে জড়িয়ে ধরেছে তার বেলায়।
এবার ভাবি ক্ষেপে গেলো। 🙂
"- দেখুন ভাই আমার মেয়ে ছোট বুঝে না তাই, আপনার ছেলেকে জড়িয়ে ধরেছে। আপনার ছেলে কি কচি খোকা ও আমার মেয়েকে চুমু খেলো কেনো?
"- আপনার মেয়ে ছোট, আর আমার ছেলে কি বুড়ো হয়ে গেছে। না হয় চুমু খেয়েছে তাতে কি হয়ছে? 🤭
নিশাতের পাপা এই কথা বলার সাথে সাথে তুমুল আকারে বেধে গেলো? ওরা সবাই, আর নিশাতের পাপা একাই। সে কি ঝগড়া। 🙄
আমার স্বামী ঝগড়াটে আমি জানতাম। তাই বলে এইভাবে মহিলাদের সাথে ঝগড়া করবে। এ যে আমি ভাবতেই পারছি না। আমি নিরবে শুধু দেখে যাচ্ছি। আমার ভীষন কান্না পাচ্ছে। একপর্যায়ে আমার ছেলে জরে বলে উঠলো-😮
"- সবাই চুপ (চেঁচিয়ে) আমার কথা শুনো।
এবার সবাই নিশাতের দিকে তাকালো। খুব আগ্রহ নিয়ে চেয়ে আছে। নিশাত আবার বলল-
"- আমি ঐশী কে ভালোবাসি। ওকে দেখলে আমার শুধু চুমু খেতে ইচ্ছে করে। ঐশী কে আমি অনেক বলেছি ওকে আমি ভালোবাসি। কিন্তু ও আমাকে বলছে। আমরা শুধু বন্ধু। তাই ওকে জোর করে চুমু খেয়েছি বেশ করেছি।
🤗🤗
এবার আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না ধপ করে ফ্লোরে বসে পরলাম। এ আমি কেমন ছেলে জন্ম দিলাম। ইয়া আল্লাহ। নিশাত আবার বলে উঠলো ঐশীর বাবা-মা কে উদ্দেশ্য করে-
"- আন্টি আঙ্কেল আপনারা রাজি থাকলে আমি ঐশীকে বিয়ে করতে চাই।
এবার কান্না আটকে রাখতে পারি নাই। গড়িয়ে পরেই গেলো। ছেলেকে বললাম-
"- বাপ, আমার তুই তো নিজের ফিডার খাস। তুই আবার বিয়ে করতে চাস। বউরে কি খাওয়াবি।
আমার কথা শুনে আমার স্বামী বলে উঠলো-🤔
"- তুমি চিন্তা করো না ইশা। আমি আর একটা ফিডার কিনে আনবোনি। তুমি ছেলে আর ছেলের বউকে একসাথে ফিডার বানাই দিও। আর ভাবি আপনারা বিয়ের ব্যবস্থা করুন। আমি ঐশীকে তাড়াতড়ি পুত্রবধূ করতে চাই।😱
আমার একমাত্র ছেলের ইচ্ছা বলে কথা।
এই কথা শুনার সাথে সাথে ভাবি আমাকে বললেন-
"- ভাবি কি বলছে ভাই। সে কি পাগল হয়ে গেলো?
আমি কিছু উত্তর দেওয়ার আগেই আমার গুণধর স্বামী রানা জবাব দিলেন-
"- আরে ভাবি চুমু খাওয়া কি এমন বেপার। আমি ও তো কত মেয়েকে চুমু খেয়েছি জীবনে। কই তারা তো বাড়ি বয়ে নালিশ করতে আসে নাই। 🧐
তবে আমার ছেলের সাথে আপনার মেয়ের আজই বিয়ে দিব। আমার ছেলের ভালোবাসার দাম আছে না?
এবার আর সহ্য করতে পারি নাই আমি উঠেই রানার কলার ধরে বললাম-
"- তুমি তো আমাকে বলেছিলে আমিই তোমার প্রথম ভালোবাসা। তাইলে তুই অন্য মেয়েদের চুমু খাইলি কেমনে? (চেঁচিয়ে)
"- মিথ্যা বলেছিলাম। তুমি প্রথম ছিলে না।
আগে আরো ছ-সাত জন ছিল। (করুন গলায়)
আমাদের এসব কথা শুনে ভাবিরা ঐশীকে নিয়ে চলে গেলো আর বলে গেলে, পাগলের দলের কাছে আমরা আইছি চুমুর বিচার চাইছে।🤔
এসব কথা শুনে মেজাজ একদম খারাপ হয়ে গেলো। রাগে থরথর করে কাঁপছি। কান দিয়ে গরম ধোয়া বের হচ্ছে। রানাকে রেগে চিৎকার করে বললাম-
"-তুই থাক বাপ ছেলে মিলে তোদের #চুমু নিয়ে।
আমি এখনি বাপের বাড়ি চলে যাচ্ছি।
"- বউ দাঁড়াও।😁
"""সমাপ্ত"""
(ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
কস্টের প্রেম
কষ্টের সব
প্রেম কাহিনী
একটি হৃদয়স্পর্শী ভালোবাসার গল্প
একটি ছেলে তার প্রেমিকার "আমি তোমাকে ভালবাসি, তোমাকে মিস করি" এই টাইপ মেসেজ পেতে পেতে বিরক্ত হয়ে যেত !
এক রাতে প্রেমিকার কাছ হালকা কথা কাটাকাটির পর সে মোবাইল সাইলেন্ট করে দিলো, অনেকগুলো ফোন আসলো, একটি মেসেজ আসলো, কিন্তু সে সেটি না পড়ে ঘুমিয়ে গেল।
... পরদিন ভোর বেলায় মেয়ের মা'র ফোনে তার ঘুম ভাঙ্গল। মা বললেন, তার মেয়ে গতকাল রাতে এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছে।
বাকরুদ্ধ ছেলেটি তখন মেসেজটি চেক করলো। লেখা ছিল --
" প্লিজ, তুমি বাসার সামনে বের হও, তোমাকে দেখতে অনেক ইচ্ছে করছিল, তাই কাউকে না জানিয়ে এত রাতে বের হয়েছিলাম,
আমি এক্সিডেন্ট করেছি, আমার অবস্থা খুবই খারাপ, একবার তোমাকে দেখবো, আই এম সরি....
জীবনে কখনই কোন কিছু ইগ্নোর করবেন না।
অন্যরকম ভালবাসা
#অন্যরকম_ভালোবাসা
পার্ট-১
"এই চেহেরা নিয়ে এতো সুন্দরী একটা মেয়ের সাথে ঘুরছিস,তোর সাহস তো কম না,৫০বার কান ধরে উঠ বস কর।"ছেলেটিকে বলেই ফারাবি মেয়েটির দিকে ঘুরে দাড়ালো।মেয়েটি ভয়ে ভয়ে তাকাচ্ছে।
ফারাবি মেয়েটিকে ঘুরে ঘুরে দেখছে।তারপর বললো,
-আপু,ওহ না সুন্দরী আপু,তোমাকে বেশি কষ্ট দিবো না।তুমি ওই যে সাদা শার্ট পরা ছেলেটি দেখছো তাকে গিয়ে শুধু একটা কিস করবা,
ব্যাস,,আর সাজ্জাদ তোর কাজ হবে সেটা সুন্দর করে ভিডিও করা।
মেয়েটি কাদো কাদো হয়ে বললো,
দেখুন ভাইয়া প্লিজ এটা করবেন না,আমি ওইরকম মেয়ে নই।আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ,, আমি হাতজোড় করছি।আমার সাথে এটা করবেন না প্লিজ।
-সোনামণি তুমি কাদছো কেন?তোমাকে কেউ বকেছে,আমি বকেছি,সাজ্জাদ তুই বলেছিস,কেউ বকেনি।তুমি তোমার কাজ কমপ্লিট করো আর খুশি মনে ক্লাস এ যাও।
-আমি এটা করতে পারবো না।
-সিনিয়রদের মুখের উপর কথা??আমাদের কথা না মেনে চললে এই কলেজে একদিন ও টিকতে পারবে না।
"কেন কলেজ কি আপনার পারসোনাল প্রপার্টি ?" তিয়াশা এগিয়ে এসে কথাটা বললো।
আরাফ বাইকের উপর বসে মনোযোগ দিয়ে ফোন টিপছিলো,তিয়াশার কথা শুনে মাথা তুলে ওর দিকে তাকালো।মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে।ও ফারাবি আর সাজ্জাতের থেকে কিছুটা দুরত্বে বসেছে।
-কি হলো,কথা বন্ধ হয়ে গেলো? কলেজটা কি আপনার বাবার দেওয়া সম্পত্তি,যে আপনার কথা না শুনলে কলেজে থাকতে পারবে না,এখানে মেয়েটা পড়তে এসেছে,আপনার মতো আড্ডা মারতে কিংবা অসভ্যতা করতে আসে নি,আপনারা নিজেরা পড়াশুনা করবেননা আর অন্যদেরও পড়াশুনা করতে দিবেন না।তাই তো?
-দেখ তিয়াশা আমরা সিনিয়র, এটা অধিকার আমাদের।তুমি এর মধ্যে কথা বলতে এসো না।
-বিষয়টা যখন একটা মেয়ের সম্মানের তখন কথা তো আমাকে বলতেই হবে,নয়তো আপনাদের মতো ফালতু লোকের সাথে কথা বলে আমি সময় মোটেও নষ্ট করতাম না।সিনিয়র এসেছে, এইসব ফালতু কাজের বেলায় সিনিয়র, কই কাজের বেলায় তো খুজেও পাওয়া যায়না।নেক্স টাইমে যদি দেখি মেয়েটাকে বিরক্ত করছেন,তাহলে সোজা প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে যাবো। আর স্যারের কাছে গেলে কি হবে সেটা ভালো করেই জানেন।কথা শেষ করে মেয়েটির হাত ধরে চলে গেলো তিয়াশা।
ফারাবি আর কথা বারালো না।মনে মনে রাগে গজগজ করছে।আর সাজ্জাদকে উদ্দেশ্য করে বললো, কি মেয়ে দেখেছিস?মুডটাই দিলো খারাপ করে।
আরাফ সাজ্জাদকে ধাক্কা মেরে জিজ্ঞেস করলো,,মেয়েটি কে রে?আমাদের কলেজে যে এত সুন্দরী, সাহসী একটা মেয়ে আছে আর আমিই জানি না।
-খবরদার এই মেয়ের দিকে ভুলেও তাকাবি না।প্রিন্সিপাল স্যারের ধানি লংকা মেয়ে।লাইন মারার কথা কল্পনাও করিস না।
-এই প্রথম কাউকে ভালো লাগলো,, সে যদি প্রিন্সিপালের মেয়ে হয় আমার কি দোষ? আমি তো একে পেয়েই ছাড়বো।
-তোর যা খুশি কর,কিন্তু আমাকে এর মধ্যে জড়াবি না,তোর বাবার টাকা আছে তুই যা খুশি করতে পারিস।
ফারাবি রাগান্বিত ভাবে বললো,এই মেয়ে আমাকে এইভাবে অপমান করে গেলো আর তুই আরাফ এই মেয়েকে নিয়ে ভালোবাসার স্বপ্ন দেখছিস?
আরাফ হেসে বললো,দোস্ত রাগ করিস কেন,,ভাবিই তো।একটু না হয় বকেছেই।
-ভাবিইইই,,,
-হুম ভাবি। এইবার ডিটেইলস দে।
আমি এইসবে নেই বলেই ফারাবি উঠে গেলো। সাজ্জাদ উঠে যাবে সেই সময় আরাফ সাজ্জাদকে ধরে বসিয়ে দিলো। বন্ধু হয়ে শত্রুর মতো আচরণ করছিস।এ কেমন বন্ধু। একটু হেল্প করনা প্লিজ দোস্ত প্লিজ।
-ওকে ঠিক আছে। নাম তিয়াশা। প্রিন্সিপালের মেয়ে।
-বারবার প্রিন্সিপালের মেয়ে বলে ভয় দেখাস কেন। প্রিন্সিপালের মেয়েরা কি প্রেম, বিয়ে করেনা কখনো।
-ওকে বাবা আর ভয় দেখাবো না।আমাদের সাথেই ৩য় বর্ষে পড়ে,আমাদের ডিপার্টমেন্টে। কলেজ টপার।আজ পর্যন্ত কেউ ওকে টপকাতে পারে নি।
-কি বলিস আমাদের ক্লাসম্যাট আর আমিই চিনি না।৩বছরে আজ প্রথম দেখলাম।অদ্ভুত।
-হ্যা,অদ্ভুত। কারন এই মেয়েকে ক্লাস আর লাইব্রেরী ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যায়না।আর তুমি এই জীবনে ক্লাস আর লাইব্রেরীতে কয়বার পা রেখছো মনে করে দেখো।
-আচ্ছা, আমি যাই।
-কোথায়?
-ক্লাসে।
-কি??ক্লাসে!!!
-তুই ই তো বললি ওকে ক্লাস আর লাইব্রেরী ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যায়না। আজ থেকে তিয়াশা যেখানে আমি সেখানে। টাটা।
আরাফ ক্লাসে ঢুকে পিছে গিয়ে বসে পড়ল।পিছন থেকে তিয়াশাকে পর্যবেক্ষন করছে।স্যার ও চলে এলো।আরাফ কিছুটা ভয়ে আছে কেননা কোন সাবজেক্টের ক্লাস, কি লেকচার চলছে কিছুই জানেনা। স্যার যদি কিছু জিজ্ঞাসা করে এসব ভাবতে ভাবতেই স্যার আরাফকে দাড়াতে বলল,আরাফ মনে মনে ভাবছে যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত্রি হয়,,,,ইজ্জতের ১২টা বাজলো।
স্যার দাড় করিয়ে নানা প্রশ্ন করতে শুরু করলো, আরাফ কিছুই বলতে পারলোনা মাথা নিচু করে ইজ্জতের জলাঞ্জলি দিলো।
তিয়াশা কে জিজ্ঞেস করতেই তিয়াশা সুন্দর করে সব গুলোর উত্তর দিয়ে দিলো।আরাফের মাথায় সুন্দর একটা প্লান চলে এলো তিয়াশার কাছাকাছি যাওয়ার।
অফ পিরিয়ডে তিয়াশা লাইব্রেরীতে বসে বই পড়ছে।আরাফ তিয়াশার পাশে গিয়ে বসলো। তিয়াশার সেদিকে খেয়াল নেই,,আরাফ তিয়াশার মনোযোগ পাওয়ার জন্য কাশি দিলো।তিয়াশা চোখ তুলে আরাফের দিকে একবার তাকিয়ে আবার পড়ায় মনোযোগ দিলো।
আরাফ না পেরে এবার নিজেই কথা শুরু করলো,
-এক্সকিউজ মি.
-আমাকে বলছেন?
-হ্যা,আসলে কিভাবে বলব বুঝতে পারছিনা।আসলে আমার আপনার হেল্প প্রয়োজন।
-কি হেল্প?
-আমি আপনার ক্লাসম্যাট।আপনি হয়ত খেয়াল করেন নি আজকে স্যার এর কোন প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারিনি।তবে আমি খেয়াল করেছি আপনি সবগুলো উত্তর খুব সুন্দর করে দিয়েছেন।অন্যদেরকাছে জানতে পারলাম আপনি পড়াশোনা তে খুব ভালো।আমাকে প্লিজ হেল্প করুন নয়তো এই সেমিস্টারে নিশ্চিত ফেইল।
-তিয়াশা ভ্রু কুচকে বললো,এতদিন কই ছিলেন? ক্লাসে ও তো দেখিনি কোনোদিন, এখন হুট করে কোত্থেকে এলেন?
আরাফ ঢুক গিলে বললো, না মানে,ফ্যামিলি প্রব্লেম ছিলো, তাই কলেজ,ক্লাস কিছুই করতে পারিনি,অনেক ঝামেলায় ছিলাম।আপনি যদি হেল্প করতে না চান ইটস ওকে।
তিয়াশা কিছুক্ষণ ভেবে বলল,ঠিক আছে ৮-৯ টা।আর হ্যাঁ বই খাতা অন্তত নিয়ে আসবেন।বলেই আবার পড়ায় মনোযোগ দিলো।
-রাত ৮টা?
-জ্বি না।সকাল ৮টা।8 A.M
-কিহ!!এই ভোর বেলায় পড়াবেন আমায়?
-সকাল ৮টা ভোর? কোন গ্রহে থাকেন?
-আসলে এত সকালে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস আমার নেই।
-তাহলে আসবেন না।সিম্পল।
-না না তা নয়,টাইম টা চেঞ্জ করা যায়না?
তিয়াশা রাগান্বিত ভাবে বললো,
না যায়না,যদি আসার হয় আসবেন,নয়ত মানা করে দিন,অযথা আমার সময় কেন নষ্ট করছেন?পরবেন আপনি,লাভ আপনার, আমার কিছুইনা।সব কিছু তো আর আপনার মন মতো হবে না তাই না।
-ওকে ওকে আসব।
-এক মিনিট এদিক সেদিক যেন না হয়।কাল দেখা হচ্ছে। নাও বায়।
-হুম।বায়।
তিয়াশাকে সকাল সকাল বাসা থেকে বের হতে দেখেই তিয়াশার মা বললেন,
এত সকালে কই যাস?
-মামনি কালই তো বললাম।ভুলে গেছো?
-ওহ,হ্যাঁ আজ থেকে তো টিউশন শুরু। তা টিউশনের ফিস হিসেবে কি দিচ্ছে?মন নয় তো?
-উফফ,মামনি আমি চললাম।কেন্টিনে নাস্তা করে নিবো।বায়।
-আচ্ছা খেয়ে নিস কিন্তু।
চলবে কি??
আপনাদের সাড়া পেলে next পার্ট দিবো।
তোকে চাই
#তোকে চাই❤
....... (সিজন-২)
#writer: কামরুল
#part: 68
🍁
সকাল আটটা কি নয়টা বাজে। কারো হাসাহাসির শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো আমার। জোর করে চোখদুটো খুলে পাশ ফিরে তাকালাম। রুম একদম ফাঁকা। আওয়াজটা ড্রয়িং রুম থেকে আসছে বুঝতে পেরে আবারও চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইলাম আমি। কয়েক মিনিট পর ভারি মাথা নিয়ে উঠে বসে ওড়নাটা গায়ে পেচিঁয়ে চলে গেলাম নিচে। শুভ্র, মামু, মামানি,আপু, অভ্র ভাইয়া,দিদা সবাই মিলে হাসাহাসি করছেন। আমি সিঁড়ি বেয়ে নিচে গিয়ে দাঁড়াতেই সবাই ড্যাবড্যাব করে তাকালো। আমি খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে বললাম,
--- এনি প্রবলেম? কি হয়েছে?
আমার কথায় মামানি এগিয়ে এলেন। গালটা আলতো করে ছুঁয়ে দিয়ে বললেন,
--- আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না রে রোদ। এই বছরটা খুব লাকি আমার জন্য। দু' দুটো নাতি পেয়েছি। এখন আরো একজন আসছে। এতোদিনের ফাঁকা ঘরটা পুরো করে দিলি তোরা দুই বোন। সুখী হ মা।
দিদাও এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলেন আমায়। কপালে চুমু দিয়ে বলে উঠলেন,
--- ছোট নাতবউ? বড় নাতবউয়ের চেয়ে সবকিছুতেই তো তুই ডাবল। কথাতে, কান্নাতে,হাসিতে,দুষ্টামিতে তো অতিথির বেলায়ও ডাবলই হবে,তাই না? রানু? তুই বরং সবকিছু চার সেট করে কিনে রাখ বুঝলি?
দিদার কথায় আবারও হেসে উঠলো সবাই। আমি লজ্জা লাল মুখ নিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম। মামুও মুচকি হেসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। এমন সময় কোথা থেকে সাহেল ভাইয়া এসে শুভ্রকে হুট করেই জড়িয়ে ধরলেন। পিঠে কয়েকটি চড় থাপ্পড় দিয়ে দাঁত কেলিয়ে বললেন,
--- বাহ দোস্ত! আজ না খুব শান্তি শান্তি লাগছে। কনগ্রাচুলেশন বস। আজ থেকে দুই বন্ধু মিলে দুঃখের গল্প করবো। ভাবতেই এক্সাইটমেন্ট কাজ করছে।
শুভ্র অবাক হয়ে বললেন,
--- মানে? দুঃখের গল্প! কিসের দুঃখ।
সাহেল ভাইয়া হেসে বলে উঠলেন,
--- কিসের দুঃখ সেটা তো আজ থেকেই জানতে পারবি। বউ কতো প্যারাময় হতে পারে তা এই দশমাসে বুঝে যাবি। আমি তো এই পাঁচমাসেই শেষ! জীবন বের করে ফেলছে বন্ধু।
নাবিলা আপু সাহেল ভাইয়ার পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। সাহেল ভাইয়ার কথায় ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলেন,
--- সাহেল? তুমি কি বলতে চাইছো? আমি তোমাকে জ্বালাই?
সাহেল ভাইয়া হাসলেন। নাবিলা আপুর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,
--- আমি কি বলেছি তুমি জ্বালাও? এই শুভ্র? আমি এমন কিছু বলেছি? আমার বউয়ের মতো লক্ষ্মী বউ এই তৃভূবনে নেই বুঝলি? সে আমাকে একটুও জ্বালায় না। তার তো শুধু রাত দুটোয় আইসক্রিম,ফুসকা,চটপটি,কাবাব,চিপস, কুলফি ইত্যাদি ইত্যাদি খেতে হচ্ছে করে। রাত ৩/ ৪ টার সময় লুডু খেলতে ইচ্ছে করে। মাঝরাতে হুট করেই মরাকান্না করতে ইচ্ছে করে। মাংস রান্না করলে বমি করে ভাসিয়ে দিয়ে তার মাছ খেতে ইচ্ছে করে। মাছ রান্না করলে মাংস খেতে ইচ্ছে করে। মাঝরাতে ৫/৬ বার করে বেডশিট চেঞ্জ করতে ইচ্ছে করে। বাগানে গেলে ফুল চিবিয়ে খেতে ইচ্ছে করে। আর...
সাহেল ভাইয়ার কথায় মুখ চেপে হেসে উঠলো সবাই। নাবিলা আপু রাগী গলায় বললেন,
--- সাহেল! এতো জ্বালায় তোমায়? বেশ, এখন থেকে কিচ্ছু বলবো না। হ্যাপি?
সাহেল ভাইয়া মুচকি হেসে নাবিলা আপুকে নিজের কাছে দাঁড় করিয়ে বলে উঠলেন,
--- আরে রাগ করে না। মজা করছিলাম তো। আমার বউটা আসলেই অনেক লক্ষ্মী।
মামু,মামানি, দিদা হালকা হেসে আমাদের রেখে যার যার রুমের দিকে হাঁটা দিলেন। আমি শুভ্রর পাশে গিয়ে দাঁড়াতেই বলে উঠলেন উনি,
--- বাট আই উইল ম্যানেজ সাহেল। তোর জন্য নতুন হলেও আমার জন্য নতুন না।
উনার কথায় তিনজনেই চোখ বড়বড় করে তাকালাম। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে একসাথেই বলে উঠলাম,
--- মানে?
শুভ্র থতমত খেয়ে বলে উঠলেন,
--- তোরা এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? আমি তো রোদের কথা বলছিলাম। ও তো সবসময়ই এমনসব কাজ করে এটা তো নতুন কিছু না, এটাই বুঝাতে চাইছিলাম।
আমরা তিনজন একে অপরের দিকে তাকিয়ে একসাথেই বলে উঠলাম,
--- ওওওওওও।
শুভ্র যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো। একটু আধটু কথা বলে সবাই মিলে সোফায় গিয়ে বসতেই দৌঁড়ে এলো চিত্রা। ব্যাগটা সোফায় ছুঁড়ে মেরে আমাকে টেনে দাঁড় করিয়েই শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। এক্সাইটমেন্টে গলা বন্ধ হয়ে আসছে তার। তবুও লাফাতে লাফাতে বলে উঠলো,
--- আমি বলেছিলাম, তখন তো থাপ্পড় লাগাইলি। এখন মিললো তো? মাঝে মাঝে বাংলা সিনেমাও কাজে লাগে বুঝলি? এনিওয়ে, আই এম সো হ্যাপি জানু। আমার বেস্টুর বেবি হবে। উফফ, আমার তো নাচতে ইচ্ছে করছে। এই শোন? আমি বরং কাজ করি। বাচ্চাদের নাম ঠিক করে ফেলি। পাঁচটা ছেলের নাম আর পাঁচটা মেয়ের নাম। ছেলের নামগুলো "র" দিয়ে হবে আর মেয়ের নামগুলো "শ" দিয়ে হবে। দা...
চিত্রার এক্সাইটমেন্টের মাঝেই বিস্মিত কন্ঠে প্রশ্ন করলেন সাহেল ভাইয়া,
--- পাঁচটা পাঁচটা কেন?
উনার কথায় রেশ ধরে আমিও বললাম,
--- হ্যাঁ। পাঁচটা কেন?
চিত্রা সোফায় আরাম করে বসলো। তারপর স্বাভাবিক কন্ঠে বললো,
--- কেনো? কাল রাতে শুভ্র ভাইয়াই তো ফোনে বললো। "দশটা বাচ্চার নাম ঠিক করো চিত্রা। পাঁচটা মেয়ে, পাঁচটা ছেলে। কেবল তো শুরু কয়েকদিন পর দেখবে ভাগ্নে ভাগ্নি কোলে নেওয়ার জন্য কোনো হাত অবশিষ্ট থাকছে না। কেউ গলায় ঝুলে আছে তো কেউ পিঠে। দারুন না? "
সবাই একসাথে শুভ্রর দিকে তাকালো। শুভ্র সবার দিকেই একবার করে তাকিয়ে বলে উঠলো,
--- হোয়াট?
কেউ কিছু বললো না। সাহেল ভাইয়া হাসি চেপে বলে উঠলেন,
--- নাথিং! ১০ টা কনগ্রাচুলেশন ভাই। আগেই দিয়ে রাখলাম পরে যদি এতো এতো ভাস্তে ভাস্তির ভীরে তোকে খুঁজে না পাই।
শুভ্র ভ্রু কুঁচকে তাকালেন। ছোট্ট করে বললেন,"দাঁড়া তুই..." এটুকু বলতেই অট্টহাসি দিয়ে দৌঁড় লাগালেন সাহেল ভাইয়া আর তার পিছু নিলেন শুভ্র। ওদের যাওয়ার দিকে কয়েকসেকেন্ড তাকিয়ে থেকেই আবারও বকবক শুরু করলো চিত্রা। বই থেকে প্রেগনেন্সির উপর পাঁচ-ছয়টা বই বের করে বিজ্ঞদের মতো লেকচার দিতে লাগলো। আমি আর নাবিলা আপু শুধু অবাক চোখে তাকিয়েই রইলাম।
🍁
আজ নাবিলা আপুর ডেলিভারি। সবাই হসপিটালে গিয়েছে। আমার পাশে মাধবী আর রাহেলাকে বসিয়ে দিয়ে দশ মিনিট আগে শুভ্রও বেরিয়েছেন হসপিটালের উদ্দেশ্যে। জানালার পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি আমি। চারদিকে শেষ বিকেলের নরম আলো। সূর্যটাও পশ্চিমের দিগন্ত ছুঁই ছুঁই করছে। আমি চোখ বন্ধ করে ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেললাম। দেখতে দেখতে প্রেগনেন্সির পাঁচ পাঁচটি মাস কেটে গেলো। আমাদের জীবনের পাতা থেকে সময়গুলো কতো তাড়াতাড়িই না হারিয়ে যায়। এখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই অবাক চোখে দেখতে থাকি আমি। কেমন অদ্ভুত দেখতে লাগে আমায়। বিশ্বাস করতেই কষ্ট হয় এই ছোট্ট পেটটাতে আস্ত একটি জীবন টিকে আছে। ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে! এই পাঁচ মাসে শুভ্রকে খুব একটা জ্বালায়নি আমি। কারণ প্রেগনেন্সি জনিত তেমন কোনো প্রবলেমই হয় নি আমার। বমি,মুড সুয়িং, খাবারে অরুচি খুব কমই হয়েছে আমার। শুধু একটা জিনিস বেশি বেশি হয়েছে তা হলো ঘুম। সারাদিন পড়ে পড়ে ঘুমোনোই প্রতিদিনের রুটিন হয়ে উঠেছে আমার। তেমন কোনো সমস্যা না হলেও অফিসের কাজ কমিয়ে দিয়েছেন শুভ্র। এখন চারটার মাঝেই বাসায় ফিরেন উনি। আদ্র-রোদ্রও বেশ বড় হয়ে গিয়েছে এখন। বসে থাকতে পারে, একজন আরেকজনকে ছোট্ট ছোট্ট হাত দিয়ে চড় থাপ্পড়ও মারতে পারে। আপু আর চিত্রা প্রায় সারাক্ষণই আমার আশেপাশে থাকে এখন। চিত্রা প্রতিদিন বিকেলেই বাসায় এসে হাজির হয়। আমায় নিয়ে হাটাহাটি করে। তার ধারনা এই হাঁটাহাঁটিটা খুবই প্রয়োজন আমার নয়তো দিনদিন ফার্মের মুরগীর মতো ফুলে যাবো। ফোনের টোন কানে আসতেই ঘোর কাটলো আমার। জানালার বাইরে থেকে চোখ সরিয়ে বিছানায় পড়ে থাকা ফোনটির দিকে তাকালাম। মাধবী দৌঁড়ে এসে ফোনটা হাতে দিয়ে গেল আমার। আমি মুচকি হেসে ফোনটা রিসিভ করে কানে নিতেই ওপাশ থেকে আগ্রহী কন্ঠে বলে উঠলেন শুভ্র,
--- নাবিলার ছেলে হয়েছে রোদপাখি। মাশাআল্লাহ, বেশ কিউট হয়েছে। যদিও সব ছোট বাচ্চাকে আমার কাছে এক রকমই দেখতে লাগে।
--- আলহামদুলিল্লাহ! আপনি আমায় সাথে নিলেন না কেন, বলুন তো? সবাই তো দেখে নিলো বাবু আমিই শুধু রয়ে গেলাম। কোলেও নিতে পারলাম না।
--- মন খারাপ করছো কেন? এখানে এসেই কি লাভ হতো? নাবিলার নর্মাল ডিলেভারি হয়েছে কয়েক ঘন্টা পর রিলিজ করে দিবে। আসলে শুধু শুধু জার্নি হতো আর টেনশন করতে। হসপিটালের বাতাসটাই অসুস্থ বুঝলে? হসপিটালে ঢুকলে সুস্থ মানুষেরও নিজেকে মহারোগী বলে বোধ হয়। না এসেই ভালো করেছো, বুঝলে?
--- হয়েছে। ফাউল লজিক দিতে হবে না। পিচ্চির কয়েকটা ছবি পাঠান আমি দেখবো। আর হ্যাঁ, বাসায় ফিরেই বাবু দেখতে নিয়ে যাবেন আমায়, প্রমিজ?
শুভ্র হাসলেন। হাসিমুখেই বললেন,
--- ওকে প্রমিজ। বাট কাল সকালে। এই অবস্থায় রাতে তোমায় নিয়ে বের হচ্ছি না আমি।
--- কিন্তু....
--- নো আর্গিউমেন্ট। সকালে মানে সকালে। এখন বাই, রেস্ট নাও।
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে থেকেই ফোনটা বিছানায় ছুঁড়ে মারলাম। দিন যত বাড়ছে হুটহাট রাগটা ততই যেন বেড়ে যাচ্ছে আমার। চুলগুলো দু'হাতে হাতখোপা করে ধীর পায়ে বিছানায় গিয়ে বসলাম আমি। পা দুটো বেশ ব্যাথা করছে আমার। এ এক নতুন উপসর্গ দেখা দিয়েছে আমার। সন্ধ্যা হতেই দু পায়ে অসম্ভব রকম ব্যাথা শুরু হয়ে যায়। এটা কি প্রেগনেন্সির কারণেই হয়? কে জানে! কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই মাধুবী-রাহেলা কে রুম থেকে চলে যেতে বলে শুয়ে পড়লাম আমি। কিছুক্ষণ পরই ঘুম ছুঁটে গেলো আমার। ঘুমের মাঝেও কারো গভীর দুটো চোখ তাড়া করছিলো আমার। চোখ মেলে তাকাতেই শুভ্রকে চোখে পড়লো। আমাকে তাকাতে দেখে মুচকি হেসে বললেন,
--- শরীর কেমন?
আমি দুর্বল হাসি দিয়ে বললাম,
--- পা ব্যাথা করছে।
উনি কপাল কুঁচকে তাকালেন। তারপর কি ভেবে বললেন,
--- দাও, আমি টিপে দিচ্ছি।
কথাটা শুনেই লাফিয়ে উঠলাম আমি। উনি অবাক কন্ঠে বলে উঠলেন,
--- কি হলো?
---পায়ে হাত দিবেন না। দূরে বসুন।
উনি আরো কয়েকগুণ বিস্ময় নিয়ে বলে উঠলেন,
--- কেনো?
--- আমার ভালো লাগে না তাই। প্লিজ পায়ে হাত দিবেন না। আমার অস্বস্তি লাগে।
--- জাস্ট শাট আপ রোদু।
--- আ আমার মাথা ব্যাথা করছে। পা ব্যাথা করছে না। আপনি আমার মাথাটা টিপে দিন তো। আহ! কি মাথা ব্যাথা।
শুভ্র ভ্রু কুঁচকে তাকালেন। আমি আড়চোখে তাকাতেই হেসে উঠলেন উনি। আমি চুপচাপ তাকিয়ে আছি। উনার আকাঁবাঁকা দাঁতের টুল পড়া হাসি। ইশ! কি সুন্দর করে হাসেন উনি। উনার হাসিটা দেখলেই বুকে মোচড় দিয়ে উঠে। মনে হয়, এই বুঝি শেষ হলো দিন। ফুরিয়ে এলো বেলা! কেমন একটা অদ্ভুত চিনচিনে ব্যাথা সারা বুকজুড়ে....
#চলবে....
The villain husband
The Villain Husband
পার্ট : ১৮
অনেকক্ষন ধরে রুমে বসে আছে শ্রাবন এ বাসায় আসার পর থেকে রুদ্র একবার ও শ্রাবনের রুমে আসেনি,
কিন্তু রুদ্রের সাথে কথা বলাটা দরকার শ্রাবনের, নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে যে কষ্ট দিয়েছে তাকে নিজের হাতে শাস্থি দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে শ্রাবন।
তাই রুদ্রকে তার দরকার, কখন কিভাবে কি করবে সব প্লেন করতে হবে,
ভাবতে, ভাবতে রুম থেকে বেড় হলো শ্রাবন।
রুদ্রের রুম কোনটা শ্রাবন সঠিক জানে না তাই এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতেই যাচ্ছে শ্রাবন।
হঠাৎ কারেন্ট চলে গেলো, কারেন্ট চলে যাওয়াতে এবার শ্রাবন এক যায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে আছে, মোবাইলটাই রুমে রেখে এসেছে, মোবাইলটা থাকলে ফ্লাস জালিয়ে রুমে যেতে পারতো, কিন্তু তাও পারছে না, উপায় নেই তাই ঠায় দাঁড়িয়ে আছে,,,
ওগো তোমায় নিয়ে সখী,
যদি কোনো গল্প লেখি।
তুমি এসো চিলে কোঠায়,
শোনাই আমার বিনার বানী,
তুমি মন্ত্রতালে শোনো!
আজ আমার এ আবৃতি!!
অন্ধকার রুম থেকে কেও কবিতাটি আবৃতি করছে, অন্ধকার তবুও শ্রাবন চোখ বুজে আবৃতি শুনছে, যেন অন্তরের খুব গভীর কোথাও, ভেদ করছে আবৃতিটা।
- আরে ভাই আপনি এখানে দাঁড়িয়ে?
শ্রাবন চোখ খুলতেই দেখো কারেন্ট এসে গিয়েছে, কিন্তু তার চোখ বন্ধ থাকায় টের পায়নি, রুদ্রের কথায় চোখ খুললো শ্রাবন,
- হ্যা আসলে তোকেই ডাকতে যাচ্ছিলাম হঠাৎ কারেন্ট চলে গেলো,
- ওহ আচ্ছা চলেন আপনার রুমে যাই,
- আচ্ছা রুদ্র( মনে মনে ভাবছে শ্রাবন, আবৃতি কন্যার কথা রুদ্রকে জিজ্ঞেস করবে কিন্তু তারপর ও কোনো এক অজানা কারনে জিজ্ঞেস করলো না)
- কি হলো ভাই কিছু বলবেন?
- নাহ কিছুনা, কথা আছে একটু চল,
তারপর শ্রাবন আর রুদ্র রুমে গেলো,
বাহিরে খুব সুন্দর চাঁদ উঠেছে, জোছনা যেন রাতকেও রঙিন করে তুলেছে, রুমের ব্যালকনি ধরে দাঁড়িয়ে এই ফুরফুরে মেজাজে আবৃতি করছে তিতির। আবৃতি তিতির এমন একটা ভালোলাগা যাকে আবৃতি প্রেম ও বলা যায়,
চুল গুলো কাটার দিয়ে কোনো রকম বাধা চোখ বুজে আবৃতি করে যাচ্ছে তিতির, এমনটা সে প্রতিদিনই করে তবে আজ যেন আবৃতিটা নতুন করে প্রান ফিরে পেয়েছে মনে হচ্ছে তিতিরের কাছে,এমন মনে হওয়ার রহস্য তিতির নিজেও জানে না,
একলা একলা এক চঞ্চল সদ্য যৌবনে পা দেয়া একটি মেয়ের মনে অনেক ভাবনা জাগতে পারে,যে ভাবনাগুলো হয়তো কোনো ব্যাখ্যা হয়না তবে ভাবনাগুলো হয় সুন্দর, কারন সে ভাবনাগুলো আসে মনের অন্তরাল থেকে, সদ্য যৌবনে পা দেয়া মেয়েদের মন কখন কেমন থাকে কেও বলতে পারে না,এরা আচমকা কেঁদে দেয় কারনছাড়া হেসে দেয়। সহজ বিষয়কে জটিল আবার জটিল বিষয়কে সহজভাবে কল্পনা করে,
অনেকক্ষন ধরে বিছানায় বসে আছে স্নেহা, বাবা, মা,ভাই সবাইকে একসাথে পেয়ে হয়তো তার খুশিতে নাচার কথা কিন্তু সে তা পারছে না,
কারন তার মনে হচ্ছে এটা রুদ্রের আবার নতুনভাবে তার পরিবারকে ছোট করার ফন্দি, যে করেও হোক সে এবার তার পরিবারকে রক্ষা করবে,
খোট করে দরজা খুলে রুমে এসেই সোজা বিছানায় শুয়ে পড়লো রুদ্র।
- জান মাথাটা টিপে দাও অনেক ব্যাথা করছে,
রুদ্রের দিকে একবার আরচোকে তাকালো স্নেহা, মনে মনে ভাবতে লাগলো মাথা বা টিপে গলাটা টিপে দিলে কেমন হয়। সব ব্যাথা একেভারে সেরে যাবে।
মুখটা উঠিয়ে কিছুক্ষন স্নেহার দিকে তাকিয়ে,
- কি হলো এতো কি ভাবছো? মনে হচ্ছে ঘরে সতীন আনার কথা বলেছি যে মুখটাকে কালো মেঘ করে রেখেছো!!
- সতীন আনলেই বা কি? আই ডোন্ট কেয়ার। আপনি একটা না ১০ সতীন আনুন কিন্তু আমাকে আমার পরিবারকে আর আমার সন্তানকে প্লিজ মুক্তি দিন।
- তুমি আবার শুরু করলে তাইনা? সারাটাদিন খাই কি খাইনা একবার ও খোজ নাও তুমি? বাসায় আসার পর ও শুরু করো কি ভাবো আমাকে আমিকি মানুষ না, আর বার বার নিজের বাচ্চা নিজের বাচ্চা করো কেনো বাচ্চা কি আকাশ থেকে পড়েছে ওর কি বাবার পরিচয় নেই, নিজের বউ আর বাচ্চাকে নিজের কাছে রাখতে চাওয়া অপরাধ হলে হ্যা আমি অপরাধী। কি করবা বলো এই অপরাধের শাস্তি আমাকে যা দিবা তাই আমি মাথা পেতে নিবো,( চিৎকার করে কথাগুলো বলেই বেড়িয়ে গেলো রুদ্র।
স্নেহা বসে রুদ্রের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে,
টেবিলে খাবার দিচ্ছে আনোয়ারা বেগম, আজকে অনেক কিছু রান্না করেছে সে। অনেকদিন পর বাড়িতে আত্নীয়সজনে ভরপুর হয়ে গেছে, তাই ফুরফুরে মেজাজে আছে আনোয়ারা বেগম।
পাশেই মুখ দাঁড়িয়ে আছে তিতির,
- শোন তিতির তুই কিন্তু স্নেহার ভাইটার সাথে অনেক বেয়াদবি করেছিস, ও তোর অনেক বড় আর কোনো বেয়াদবি করবিনা,
- আমি বেয়াদবি করিনি মা, লোকটা জানেনা কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয়,
- মাড়বো টেনে এক চর লোকটা কি হ্যা? ভাইয়া বলবি।( আনোয়ারা বেগম)
- একি আপা আপনি ওকে বোকাবোকি করছেন কেন? কি মিষ্টি মেয়েটা, ( সিরি থেকে নামতে নামতে বললো স্নেহার মামনি)
- আরে আপা আপনি, আর বলবেন বা আপা মেয়েটা বড় হয়েছে কিন্তু বুদ্ধি সুদ্ধি হয়নি, নিজের মতো বকবক করেই যাই,( আনোয়ারা বেগম)
- থাক আপা এই বয়সে এমন একটু হয়, আমার স্নেহাও এমন ছিলো আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে,
তুমি কোন ক্লাসে পড়ো মা?
- ইন্টার 2nd ইয়ার আন্টি।
- বাহ খুব ভালো!!
- তিতির যা তো তোর ভাইয়া ভাবিকে ডেকে আন আর স্নেহাকে বল ভাই আর শ্রাবনকে নিয়ে আসতে,
- আচ্ছা মা, বলেই তিতির চলে গেলো,
- ভাবি ভাবি,
বিছানায় বসে আছে স্নেহা,
- হুম বলো?
- ভাবি মা খেতে ডাকছে, ভাইয়া কোথায়?
- জানিনা তোমার ভাইয়া কোথায় তুমি যাও আমি আসছি।
- ভাবি আংকেল কেও সাথে নিয়ে আসো আর ওই খাটাশটাকেও,
বলেই তিতির জ্বীভে কামড় দিলো,
- কি???? খাটাশ মানে??
- কিছুনা ভাবি মানে তোমার ভাইকেও,
নিচের দিকে তাকিয়ে বললো তিতির।
তিতিরের কথা শুনে স্নেহা হেসে দিলো,
মেয়ে কলেজে পড়লেও আচরণ সে বাচ্চাদের মতোই রয়ে গেছে কথা ভেবেই স্নেহা মুচকি হেসে দিলো,
তিতির কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,
স্নেহা বুঝতে পারলো তিতির হয়তো ওভাবে বলে ফেলাতে একটু লজ্জা পেয়েছে,
স্নেহা তিতিরের হাত ধরে বিছানায় বসালো,
- জানো ভাইয়া ছোট বেলা থেকেই এমন, খাটাশ একটা। বাবা চকলেট আনলে আমাকে একটা দুইটা দিয়ে ও বেশি নিতো, তুমি ঠিকই বলেছো ভাইয়াটা পচা,
তিতির মাথা উচু করে এক বিজয়ের হাসি দিলো, শেষমেস তার দলে কাউকে পেয়েছে ভেবেই ভালো লাগছে তিতিরে,
তিতির আর একটু শক্ত করে বসলো,
- দেখেছো ভাবি তুমি আমাকে ঠিক বুঝেছো, আর সবাই শুধু বোকা দেয়😞
আর কেও বোকা দিবেনা, আমি আছিনা আমি সবাইকে বলে দিবো।
- আমার লক্ষি ভাবি, বলেই তিতির স্নেহাকে জড়িয়ে ধরলো।
- হুম অনেক হয়েছে এখন চলো,পাপা আর ভাইয়াকে ডেকে আনি!!
- ভাবি আমি যাবো না তোমার ভাইয়া আমার দিকে কেমন রাগি লুকে তাকায় আমার ভয় লাগে!! (ভিতু হয়ে বললো তিতির)
- আরে আমি আছিনা কিছু হবে চলো,
স্নেহা বাবাকে ডেকে নিচে পাঠালো তারপর ভাইয়ের রুমের দিকে গেলো,
- ভাইয়া আসবো,
- হ্যা আয়,
স্নেহার পেছনে পেছনে তিতির ও ঢুকলো,
- ভাইয়া চলো নিচে খেতে যাই!!
- হুম যাবো ডাকতে তো একা আসলেই পারতি!!
- কেনো?? ভাইয়া তিতিরকে নিয়ে আসাতে তোমার কোনো সমস্যা হয়েছে?
- না রে সমস্যা হবে না, আমাকে খুনি আর চোর অলরেডি বানিয়ে ফেলেছে তো তাই আর নতুন করে কিছু হতে চাইনা তাই বললাম।
শ্রাবনের কথা তিতির কিছুটা লজ্জা পেলো কারন তিতির বুঝতে পেরেছে তাকে শোনানোর জন্যই কথাটা বলেছে শ্রাবন,
- ভাবি তোমরা আসো আমি নিচে যাচ্ছি, বলেই তিতির চলে গেলো সেখান থেকে,
- উফ ভাইয়া, এমন ভাবে না বললেও পাড়তি আসলে ওর মন একটু বেশি সরল তাই মুখে যা আসে তাই বলে দেয়, মারপেঁচ বোঝে না।
- হুম, আচ্ছা নিচে চল সবাই হয়তো ওয়েট করছে,( শ্রাবন)
- চলো,
শ্রাবন আর স্নেহা দুজনেই নিচে নামলো,
খাবার টেবিলে বসে আছে সবাই, রুদ্র ছাড়া সবাই আছে,
- স্নেহা না যা রুদ্রকে ডেকে আন,
স্নেহা অবাক হয়ে গেলো, কারন সে তার পাপার মুখে এমন কথা আশা করেনি। যে তাদের এতোবড় ক্ষতি করেছে যে সবার জীবনটা এভাবে ওলটপালট করে দিয়েছি, যাকে তার পাপা একদিন গুলি করে মাড়তেও চেয়েছিলো। সেই পাপার মুখেই রুদ্রজে ডাকার কথা শুনে স্নেহা যেন থমকে গেছে,
পরক্ষনেই স্নেহা ভাবলো,
হয়তো তার পাপা কোনো চাপে পড়ে এমন ভালো ভাবে রুদ্রকে ডাকার কথা বলেছে,
কারন রুদ্র এমনি এমনি তার মা বাবাকে আনার পাত্র না, কোনো না কোনো কারন তো আছে,
ভাবতে ভাবতে স্নেহা রুদ্রকে ডাকতে গেলো,
অনেকক্ষন ধরে গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে রুদ্র, তার রাগের জন্য স্নেহাকে আর কোনো কষ্ট দিতে চায়না সে, তবে দিয়ে ফেলে আর এটাই তার বড় কষ্ট, স্নেহার মাঝে তার সন্তান আছে।
দুজনের খেয়াল রেখেই যা করার করতে হবে,
- খেতে চলুন সবাই ডাকছে,
পেছন থেকে স্নেগার কণ্ঠ শুনে রুদ্র রুদ্র স্নেহার দিকে তাকালো,
- সবাই ডাকছে বলেই ডাকতে এসেছো? নিজে মন থেকে ডাকতে আসোনি??
- না আসিনি, নিচে আসুন প্লিজ!!
রুদ্র কিছু বলতে যাবে তার আগেই রুদ্রের মাথাটা ঘুরতে লাগলো নিমিষেই চারদিকে অন্ধকার দেখতে লাগলো রুদ্র, ঠাস করে ফ্লোরে পরে গেলো,,,
- ভাইয়ায়ায়ায়া( স্নেহা)
চলবে,,
( গল্পে আগে অনেক রেসপন্স ছিলো কিন্তু এখন তা একেবারেও কমে গিয়েছে খারাপ লাগছে ব্যাপারটা।😞)
heart
গল্পের নাম--------- HEART
একটি ১৯ বছরের মেয়ে
তার প্রেমিকের কাছে গিয়ে বলল,,,
মেয়ে: আমার ২০ তম জন্মদিনে তুমি আমাকে কি উপহার দিবে?
ছেলেটা মুচকি হেসে বললেন,,,
ছেলে: এখনও তো অনেক সময় আছে,আর সময় হলেই তুমি তোমার জন্মদিনের উপহার পেয়ে যাবে!
বেশ কিছুদিন যাবার পর,একদিন হঠাৎ করেই মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে যায়! বাসার সবাই বেশ অস্থির হয়ে পড়ে! কিছুই বুঝে উঠতে পাচ্ছিলো না কেও,কি হয়েছে মেয়েটার?
তারপর সবাই মিলে তাকে
হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হাসপাতালে ডাক্তার অনেক পরীক্ষা নিরিক্ষা করার পর,তার পরিবার কে বলল,,,সাদিয়ার হার্টে একটি ফুটো ধরা পড়েছে,এখন যদি খুব তাড়াতাড়ি হার্ট পরিবর্তন না করা যায়,তাহলে হয়তো সাদিয়াকে আর বাঁচানো সম্ভব হবে না!সবাই এই কথা শুনে কান্নায় ভেঙ্গে পরলো।সাদিয়ার মা বাবা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলনা। সাদিয়ার প্রেমিক আকাশ তার বিষয়ে ডাক্তার এর কাছে থেকে সব কিছু শুনে বলল এ কিছুতেই হতে দিবে না সে।
তারপর আকাশ মেয়েটির রুমে গেলো,দেখল তার ভালোবাসার মানুষটি বিছানায় শুয়ে আছে!
আকাশ কাছে যেতেই মেয়েটি বলল,মেয়ে: আকাশ আমি মনে হয় আর বাঁচব না!সাদিয়ার চোখের পানি মুছে দিলো আকাশ!
আর বলল,কে বলছে তুমি বাঁচবে না?তুমি খুব শীঘ্রই ভালো হয়ে যাবে।
মেয়ে: তুমি কি করে জানলে?
ডাক্তার তো বলেছে আমার হার্টে একটি ছিদ্র আছে,আর আমাকে
বাঁচানো সম্ভব না!আকাশ: ধুর পাগলী!তোমার কিচ্ছু হবে না
এভাবে বেশ কিছুদিন যাবার পর সাদিয়া সম্পুর্ন সুস্থ্য হয়ে উঠে এবং বাসায় ফিরে যায়!বাড়িতে ফিরেই সে আকাশ কে খুঁজতে থাকে!না পেয়ে,আকাশের
বাড়িতে চলে যায়।আকাশের বাড়িতে কেউ নেই,অবশেষে আকাশের ছোটো ভাই এর দেখা পেলো সাদিয়া!
সাদিয়া: কিরে তোমার ভাইয়া কোথায়?আকাশের ভাই কথা না
বলেই হাত দিয়ে ইশারা করে আকাশের রুমটি দেখিয়ে বলে উঠলো টেবিল এর উপরে আপনার
জন্য একটা চিরকুট রাখা
আছে!সাদিয়া কথাটা শুনে দৌড়ে
আকাশের রুমে গিয়ে চিরকুট হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করল!
প্রিয় তমা,আমি জানি
যেদিন তুমি এ চিরকুট পাবে,সেদিন তুমি সম্পূর্ন সুস্থ হয়ে যাবে।সব কিছু
ঠিক হয়ে যাবে আগের মত করে।
যেমনটা আমি তোমাকে
বলেছিলাম।আমি বলেছিলাম না তোমার কিচ্ছু হবে না।দেখছ তাই হয়েছে। তুমি আমার কাছে তোমার ২০ তম জন্মদিনে উপহার
চেয়েছিলে না।অনেক ভেবেছি কিন্তু তোমাকে কি উপহার দিব ভেবে পাচ্ছিলাম না?যখন দেখলাম doctor তোমার জন্য heart খুজছে।তখন আমার heart টাই উপহার দিয়ে দিলাম
বউ যখন অতিরিক্ত রোমান্টিক
গল্পঃ বউ যখন অতিরিক্ত রোমান্টিক।
পর্বঃ ১
লেখকঃ kamrul
লিমাঃ এটা কোন কিস হলো?
আমিঃ কিসতো এভাবেই করে।
লিমাঃ এভাবে গালে নয়,
-
এবার ঠোঁটে কিস করো।
-
আজকের রাতটা আমাদের জীবনের প্রথম রাত।
-
এই রাতটা নিয়ে আমার অনেক সপ্ন ছিল।
-
আজ সেই সপ্নগুলোকে বাস্তবে রুপ দিতে যাচ্ছি।
-
আমিঃ আমি ঠোঁটে কিস করতে পারব না।কেমন যেন আনইজি লাগে।
-
লিমাঃ পারবানা..?
-
আমিঃ না।পারবো না।
-
-
খপ করে পান্জাবীর কলার ধরে আমার ঠোঁটের সাথে নিজের ঠোঁট দুইটা মিশিয়ে দিল।
-
আরে আপনাদেরতো কিছুই বলা হয়নি।
-
এইমাত্র যেই মেয়েটি আমাকে কিস করল সে আমার রোমান্টিক বউ লিমা।
-
আর আমি রাশেদ।
-
পারিবারিকভাবেই আজ আমাদের বিয়েটা সম্পন্ন হয়েছে।
-
লিমা হলো আম্মুর বান্ধবীর মেয়ে।
-
তারা দুই বান্ধবী প্রতিজ্ঞা করেছিল আমাদের বিয়ে দেবার।
-
এই কথাটা আমি ও লিমা দুজনেই জানতাম।
-
-
কিন্তু আমার বয়স যখন ১২ তার পর থেকে লিমার সাথে কখনো আমার দেখা হয়নি।
-
এমনকি কথাও হয়নি।
-
আমার পড়াশুনা শেষ।
-
বর্তমানে একটা প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরি করি।
-
আর লিমা অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ।
-
আজ লিমাকে বিয়ে করে বাসায় নিয়ে আসলাম।
-
আর এখন আমি আর লিমা বাসর ঘরে আছি। তারপর কি হলো নিজেরাইতো দেখলেন_____!
-
-
টানা ১২ মিনিট আমার ঠোঁট নিজের দখলে নিয়ে রেখেছে লিমা।
-
একপ্রকার জোর করেই ধরে রেখেছিল।।
-
হালকা করেই নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে হাপাচ্ছি।
-
আর লিমা হেসেই চলেছে।
-
তার মিষ্টি হাসি দেখে আমিও ফিদা।
-
আমিও তার ঠোঁটে আলতো করে।
-
আমার ঠোঁটের স্পর্শ এঁকে দিলাম।
-
তারপর কি হলো আপনারা না জানলেও চলবে.!!
-
সকালে ঘুম ভাঙলো,
-
লিমার ভেজা চুলের ঝটকায় শরীরে এসে কুয়াশার মতো পানি পড়ায়।
-
আমিঃএই অবেলায় দিলাতো ঘুমটা নষ্ট করে!
-
লিমাঃ এটা অবেলা?
-
ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে দেখো কত্ত বেলা হয়েছে।
-
আমিঃ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সকাল ৫ টা বাজে।
-
এখনতো মাত্র পাঁচটা বাজে।
-
এত সকালে কেন ঘুমটা নষ্ট করলা?
-
রাতেও তো ভাল করে ঘুমাতে পারিনি তুমার জন্য।
-
লিমাঃ এখন ওঠে ওয়াশরুমে যাও।
-
গোসল করে এসো একসাথে নামাজ পড়ব।
-
আমিঃ আর একটু ঘুমাই প্লিজ।
-
লিমাঃ না, নামাজের সময় পাওয়া যাবেনা।
-
-
আমিঃহঠাৎ ঘাড়ে ব্যাথা অনুভব করলাম।
-
ইশশ পাজিটা কামড় বসিয়ে দিয়েছে।
-
এক লাফে ওঠে ওয়াশরুমে দৌড় দিলাম।
-
-
ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দুজন একসাথে নামাজ পড়লাম।
-
সারা রাত ঘুমাতে পারিনি,ঘুমে চোখ টলমল করছে,,,তাই আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।
#_চলবে.....!
Islamic
ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা হাশেমী রাঃ এর মাজার জিয়ারত করলেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।।।
আজ ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা কাজী নুরুল ইসলাম হাশেমী হুজুরের মাজার জিয়ারতে যান - ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট এম আবু নাসের তালুকদার সাহেব,যুগ্ন মহাসচিব অধ্যক্ষ আল্লামা আনোয়ারুল ইসলাম খান সাহেব, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এইচ এম মুজিবুল হক শুক্কুর ভাই,আরো উপস্থিত ছিলেন - ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও ইসলামী ছাত্রসেনার চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর জেলার নেতৃবৃন্দ।এসময় উপস্থিত ছিলেন -ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা হাশেমী হজুরের বড় শাহজাদা হযরত মাওলানা আবুল বয়ান হাশেমী মাঃজিঃআঃ,পীরে তরিকত আল্লামা সাদেকুর রহমান হাশেমী মাঃজিঃঅাঃ।।
ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা হাশেমী রঃ এর মাজার জিয়ারত করার পর হুজুরের ভাই আল্লামা কাজী আমিনুল ইসলাম হাশেমী রাঃ এর মাজার জিয়ারত করেন নেতৃবৃন্দ।।।
তাং-০৪-০৬-২০২০ ইং