infinitive love
💗Infinite Love💗 . Writer: hasan . Part: 57 . বলেই আমাকে বিছানায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো, উপুর হয়ে বালিশের ওপর পরে গেলাম, ও দ্রুত পদে শব্দ করে দরজাটা বন্ধ করে চলে গেলো। আমি ওভাবেই বালিশে মুখ গুজে শব্দ করে কাদতে লাগলাম কিন্তু আমার এই কান্না দেয়াল ভেদ করে কারো কাছে পৌছবে না আর যার কাছে পৌছবে তার কাছে এই কান্নার কোনো দাম নেই। আজ মনে হচ্ছে এর আগে আমি মরে কেনো গেলামনা। এর থেকে ভালো হতো যদি তুমি আমায় নিজের হাতে মেরে ফেলতে আদ্রিয়ান কিন্তু তুমিতো আমার বেচে থাকাটাকেও মৃত্যুর চেয়ে বেশি যন্ত্রণার করে দিলে। আমি তোমার হাত থেকে মুক্তি পাই বা না পাই, এই যন্ত্রণা থেকে কোনোদিন মুক্তি পাবোনা আদ্রিয়ান কোনোদিন না। বুকের মধ্যে অসহ্য এক ব্যাথা হচ্ছে যেনো কেউ কলিজায় ছুড়ি চালিয়ে দিচ্ছে, আদ্রিয়ান তুমি আমাকে বলেছিলে আর যাই করো বুকে আঘাত করোনা, কিন্তু তুমি নিজেই তো সেটা করলে, চরম আঘাত করেছো তুমি আমাকে আর আমি তোমাকে ক্ষমা করবো না কোনোদিন না। . ধীরে ধীরে কান্নার বেগ কমে গেলো এখন হিচকি উঠছে হালকা। অনেকক্ষণ পর দরজা খোলার আওয়াজে চোখ মুছে উঠে বসলাম। একটা মেয়ে ঢুকলো, কালো শার্ট কালো হাটু অবধি স্কার্ট চুলগুলো রিবন করা, ট্রে তে করে খাবার এনে খাটের পাশের টি-টেবিলের ওপর রেখে আমার সামনে এসে বলল . - ম্যাম!! স্যার আপনাকে খেয়ে নিতে বলে গেছেন। . স্যার শব্দটা শুনেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। ওর নাম শুনে যেটুকু খাওয়ার ইচ্ছে ছিলো তাও চলে গেলো। এমনিতেও মন ভালো না থাকলে আমি খাই না তেমন। আর এখন খাওয়ার মতো কোনো পরিস্হিতি বা রুচি কোনোটাই আমার নেই। তাই বললাম . - নিয়ে যান আমি খাবোনা এখন। . সেটা শুনে মনে হলো মেয়েটা ঘাবড়ে গেলো, রিকোয়েস্ট করে বলল . - প্লিজ ম্যাম এগুলো ফেরত নিয়ে গেলে কাল স্যার এসে আমাদের পানিস করবে। প্লিজ খেয়ে নিন। . বেশ অবাক হয়ে তাকালাম এতোটা ভয় পায় ওরা আদ্রিয়ানকে? এতোটাই রুড বিহেভ করে ওদের সাথে? পাবে নাই বা কেনো? টেরোরিস্ট একটা! আমি বেশ বিরক্ত হয়ে বললাম . - আচ্ছা রেখে যান। . - ওকে ম্যাম! . - আর আপনার আমাকে ম্যাম বলে ডাকার দরকার নেই, আমার নাম অনিমা। অনিমা বলেই ডাকতে পারেন আর এমনিতেও আমি আপনার ছোটই হবো তাই আমাকে তুমি করেও বলতে পারেন। . মেয়েটি কিছু না বলে চলে গেলো। আমি মাথা চেপে ধরে বসে আছি কিচ্ছু ভালোলাগছেনা। বাড়িতে সবাই নিশ্চই খুজছে আমাকে, কিন্তু এখান থেকে বেরোতেও পারবোনা, কোনো ভাবে ধরা পরে গেলে আদ্রিয়ান মেরেই ফেলবে আমাকে, এখনো বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে না যে আদ্রিয়ান এমন করতে পারে, কিন্তু সবটাতো আমার সামনেই হলো। এসব চিন্তা করেই চোখ দিয়ে দু ফোটা পানি গড়িয়ে পরল। ধ্যান ভাঙলো দরজায় নক করার আওয়াজে এখন আবার কে এলো? আদ্রিয়ান তো চলে গেছে! আমি চোখ মুছে বললাম . - কে? . - ম্যাম আমি অভ্র! আসতে পারি! . - জ্বী আসুন . বলার সাথে সাথেই অভ্র দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে দেখলো খাবার টি টেবিলে রাখা। মুখে একটা সুন্দর হাসি লেগেই থাকে ছেলেটার তবে আদ্রিয়ান একটু ধমক দিলেই মুখটা কাচুমাচু করে রাখে। মুখে হাসি রেখেই বলল . - খান নি এখোনো? . - এটা জিজ্ঞেস করতে এসেছেন? ( বিরক্ত হয়ে) . - নাহ আসলে... . বলেই একটা লাগেজ এনে রাখল খাটের ওপর, তারপর বলল . - এখানে আপনার দরকারী সব আছে আই মিন পোশাক, অন্যান্য সব। . আমি একবার লাগেজটার দিকে তাকিয়ে একটা নিশ্বাস দিলাম না জানি কতোদিন এভাবে আটকে রাখবে আমাকে। আমাকে চুপ থাকতে দেখে অভ্র বলল . - একটু পর সার্ভেন্ট এসে সব কাবার্ডে ভরে দিয়ে যাবে। . আমি ওর দিকে না তাকিয়েই বললাম . - তার দরকার নেই আমি পারবো . - কিন্তু ম্যাম স্যার তো.. . আমি এবার একটু রেগেই বললাম . - বললাম তো আমি পারব . - অ্ আচ্ছা আচ্ছা। রাগছেন কেনো? . আমি বেশ বিরক্ত হয়ে হাত ভাজ করে খাটে হেলান দিলাম, আমিও কেমন জানি রুড হয়ে যাচ্ছি। অভ্র হেসে বলল . - ম্যাম.. . - আমি আপনার টিচার নাকি বস যে ম্যাম ম্যাম করে যাচ্ছেন? . - বসের বউতো তাই! ( মুখ ছোট করে) . আমি কিছু না বলে একটা তাচ্ছিল্যের বাকা হাসি দিলাম, নিজেকেই নিজের কাছে একটা জোকার মনে হচ্ছে। বউ! হাহ! চোখ দুটো আবারো ছলছল করে উঠলো। অভ্র হয়তো ব্যাপারটা বুঝতে পারলো তাই ওর সেই হাসি মুখে গাম্ভীর্য চলে এলো, হাল্কা ইতোস্তত করে বলল . - ম্যাম আমার স্যার কিন্তু.. . - প্লিজ! আপনার স্যারের সম্পর্কে কিছু শোনার ইচ্ছে নেই আমার এখন। আপনার কাজ হয়ে গিয়ে থাকলে আসতে পারেন! . - খাবারটা খেয়ে নেবেন কিন্তু... নইলে.. . আমি চোখ গরম করে তাকাতেই অভ্র একটা কেবলাকান্ত হাসি দিয়ে বলল . - কিছু দরকার পরলে ডাকবেন আমি পাশের রুমেই আছি। . বলেই কেটে পরলো। ওর কান্ড দেখলে এখন যে কেউ হেসে দিতো কিন্ত হাসি পাওয়ার মতো মন মানসিকতা আমার নেই এখন তাই উঠে লাগেজটা খুললাম, একপাশে কতগুলো ফুল হাতা, হাফ হাতা শার্ট, গেন্জি আর ঢোলা টাউজার, ওপর পাশে টপস, কুর্তি জিনস, সালওয়ার সুট। কর্ণারে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, সাওয়ারজেল, ফেস ওয়াস, লৌশন, ক্রিম এক কথায় প্রয়োজনীয় সব আছে। আমার মনে হচ্ছে আমি এখানে অতিথী, যার সেবায় 10/12 জন কর্মচারী নিয়োজিত, কিন্তু আমাকে তো এখানে আটকে রেখে দিয়েছে তাও নিজের স্বার্থে এতো দরদ দেখানোর কী দরকার। এসব ভেবে আবারো একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। একে একে সব কাবার্ডে সাজিয়ে রেখে একটা এস কালার ফুল হাতার গেন্জি আর কালো টাওজার নিয়ে ওয়াসরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে চেন্জ করে বেরিয়ে এসে খাটে বসলাম। ফোনটাও নিয়ে গেছে আদ্রিয়ান কিচ্ছু ভালোলাগছে না, এবার ভালোভাবে চারপাশে তাকালাম, বেডটা বেশ বড়, রুমটাও বেশ সুন্দর করে সাজানো বিভিন্ন ফ্রেম আর শোপিছ দিয়ে, সোফা সেট, একটা টেবিল আর বুক সেলফ আছে। রুমের সাথে একটা ব্যালকনিও আছে ধীর পায়ে ব্যালকনিতে গেলাম। রেলিং ধরে চারপাশে তাকিয়ে দেখলাম যে গার্ডের অভাব নেই পালানোটা এককথায় প্রায় অসম্ভব। রুমে গিয়ে খাবারের প্লেটের দিকে একবার তাকালাম খাওয়ার কোনো ইচ্ছেই নেই আর ওর খাবার তো একদমি না তাই না খেয়েই চুপচাপ গিয়ে আবারো বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে পরলাম, সারাদিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ভেবে নিশব্দে চোখে পানি ফেলতে লাগলাম, কাদতে কাদতে কখন ঘুমিয়ে গেছি নিজেও জানিনা। . ঘুমের মধ্যেই হ্যাচকা টানে কেউ বসিয়ে দিলো আমায়, এমন আচমকা ঘুম থেকে ওঠার অভ্যেস নেই তারওপর হঠাৎ এভাবে টান মারাতে শরীর থরথর করে কাপছে, বুঝতে পারলাম সকাল হয়ে গেছে, ভালোভাবে চোখ ঝাপটে সামনে তাকিয়ে দেখি আদ্রিয়ান রাগী চোখে তাকিয়ে আছে, ভয়ে একটা ঢোক গিললাম আমি আর চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো। কেনো এমন করছে ও আমার সাথে ও তো জানে এমন আচমকা ঘুম থেকে ওঠার অভ্যেস নেই আমার। ও ধমক দিয়ে বললো . - খাবার টা খেয়ে ঘুমাও নি কেনো? . আমি মাথা নিচু করে ফেললাম, ও দাতে দাত চেপে বলল . - কী বলেছিলাম আমি? বেশি তেরিং বেরিং করতে বারণ করিনি? সাহস কী করে হলো আমার কথা না শোনার? . ওর একেকটা ধমকে কেপে উঠছি আমি, এই সেই আদ্রিয়ান যে আমি রাগ করে একবেলা না খেলে নিজের হাতে জোর করে খাইয়ে দিতো? ও ধমক দিয়ে বলল . - এখন চুপ করে আছো কেনো? . এবার ও টি টেবিল থেকে কাল রাতের সেই খাবারের ট্রে থেকে প্লেটটা নিলো, খাবারটা নিঃসন্দেহে নষ্ট হয়ে গেছে হালকা গন্ধও বেরোচ্ছে। ও প্লেটটার দিকে তাকিয়ে বলল . - মনে আছে প্রথম দেখায় কী বলেছিলাম? অপচয় পছন্দ করিনা আমি। . আমি ভ্রু কুচকে তাকালাম ওর দিকে ও আবারো বলল . - তাই এবার ব্রেকফাস্ট হিসেবে তুমি এই খাবারটাই খাবে। . আমি বেশ অবাক হয়ে তাকালাম ও এগুলো খাওয়াবে আমাকে? যেখানে আজ অবধি বাসি খাবারো খাইনি সেখানে এই নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবারটা খাবো? যদিও ওর দারা অসম্ভব কিছুই না। ও ওই প্লেট থেকে খাবার তুলে আমার মুখের কাছে ধরতেই মুখ ঘুরিয়ে নিলাম আমি, ও আমার গাল চেপে ধরে মুখটা ওর দিকে নিয়ে বলল . - হা করো! . - আদ্রিয়ান প্লিজ আমি খেতে পারবোনা এসব . - সেটা খাবারটা নষ্ট করার আগে মনে ছিলোনা? . বলেই জোর করে আমার মুখে ঢুকিয়ে দিলো, বাজে সাদ আর টকের কারণে মুখে রাখতে পারলাম না থু থু করে ফেলে দিলাম ওটা। ও আবারো প্লেট থেকে খাবার তুলে জোর করে মুখে ঢুকিয়ে দিয়ে বলল . - এবার ফেললে ঐ ফেলে দেওয়াটাই মুখে ঢুকিয়ে দেবো! . আমি আর ফেলার সাহস পেলাম না, প্রচন্ড খারাপ লাগছে, গিলতেও পারছিনা, এরকম জিনিস গলা দিয়ে নামে? মুখে নিয়ে বসে আছি চোখ দিয়ে অনরগল পানি পরছে। যখন বুঝলাম যে না খাইয়ে ও ছাড়বেনা তখন যেই গিলতে যাবো তখনি ও আবার মুখের সামনে প্লেট বারিয়ে দিয়ে বলল . - ফেলো! . আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। ও ধমক দিয়ে বলল . - কী হলো ফেলো!! . আমি তাড়তাড়ি মুখ থেকে ফেলে দিলাম ও গ্লাসে করে পানি এগিয়ে দিয়ে বলল . - কুলকুচি করে নেও! . আমিও আর কথা না বাড়িয়ে তাই করলাম। এরপর ও আমার গাল ধরে মাথাটা উচু করে বলল . - এরপর থেকে না খেয়ে থাকার আগে অাজকের কথাটা মাথায় রেখো! . এমনিতেই হঠাৎ করে টেনে তুলে জাগানোর জন্যে শরীর কাপছে তার ওপর এই ব্যাবহার, সব ঝাপসা লাগছে আমার কাছে। ও কোথাও একটা ফোন করে বলল . - রুমে ব্রেকফাস্টটা পাঠিয়ে দাও! . এটুকু বলেই ফোনটা রেখে আমার দিকে তাকালো, আমি এখনো থরথর করে কাপছি মাথাটা ব্যাথা করছে। ও হঠাৎ করেই আমাকে দুই হাত দিয়ে ওর বুকের সাথে খুব শক্ত করে চেপে ধরল। আমি ছাড়িনোর চেষ্টা করতেই ও ধমকে বলল . - একটু নড়াচড়া করলে খুব খারাপ হয়ে যাবে! . আমি আর কিছু বললাম না এতই শক্ত করে ধরেছে যে দুই মিনিটের মধ্যেই আমার কাপুনি থেমে গেলো, আমার কাপুনি থামতেই ও আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলল . - যাও ফ্রেশ হয়ে এসো! . আমি আর কিছু না বলে চুপচাপ ফ্রেশ হতে চলে গেলাম। বেরিয়ে এসে দেখি ব্রেকফাস্ট দিয়ে গেছে। আমাকে দেখে বলল . - বসো! . আমি খাটে গিয়ে বসতেই একটা স্যান্ডউইচ ধরল আমার মুখের সামনে। আমার খুব মেজাজ খারাপ হচ্ছে এবার, এখন তো আর এসব নাটকের কোনো দরকার নেই তাহলে এসব করে কী প্রমাণ করতে চাইছে ও? আমি নিচু কন্ঠে বললাম . - আমি নিজেই খেতে পারব . - এখন কী আমায় ঐ বাসি খাবারটার মতো করে খাওয়াতে হবে নাকি হা করবে? . আমি ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি হা করলাম ও ধীরে ধীরে বেশ সময় নিয়ে পুরোটা খাইয়ে দিলো আমাকে। এরপর সার্ভেন্ট ডেকে সব পরিষ্কার করিয়ে নিলো। তারপর খাটে হেলান দিয়ে বসে ফোন টিপতে লাগলো, আমি অবাক হয়ে দেখছি ওকে, একে দেখে মনে হচ্ছে সবকিছুই স্বাভাবিক আছে, এতো কান্ড ঘটিয়ে একটা মানুষ এতোটা স্বাভাবিক কীকরে থাকে? আমি বেশ বিরক্ত হয়ে বললাম . - কেনো আটকে রেখেছেন আমাকে? . ও ফোনে চোখ রিয়ে ভ্রু কুচকে বলল . - আপনি? . - সবাইকে তুমি বলা যায় না, ওই শব্দটা কাছের মানুষদের জন্যে আর কারো কাছের মানুষ হবার যোগ্যতা আপনার নেই। . ও কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো এরপর ফোনে চোখ দিয়ে বলল . - ওহ। ( একটা নিশ্বাস নিয়ে) হোয়াটএভার তুমি আমাকে তুমি বলো বা আপনি I don't care! . - এবার বলুন আটকে কেনো রেখেছেন? . - নিজের স্বার্থে। . প্রচন্ড রাগ লাগছে আমার এই বেঈমান স্বার্থপর লোকটাকে কীকরে এতো বিশ্বাস করলাম? কীকরে ভালোবাসলাম? . - এতোটা সেলফিস আপনি? কারো ভালোবাসার পাবার অধিকার নেই আপনার! আর কারো বিশ্বাসের তো যোগ্যই না আপনি! . এবার এ ফোন থেকে চোখ সরিয়ে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল . - এতোটা বিশ্বাস না করলেও পারতে। . - ভূল করেছি। . - হুমম এবার সেই ভূলের মাশুল দেও। . - তা আপনার স্বার্থসিদ্ধি কবে হবে? আমি মরার পর?( ছলছলে চোখে কান্নাজরিত কন্ঠে) . ও আবার ফোনে চোখ রেখেই একটু হেসে বললো . - উমহুম আমি মরার পর। . আমি ভ্রু কুচকে তাকালাম ওর দিকে ও ফোন থেকে চোখ না সরিয়েই বলল . - এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো? আমার কথা এতো সিরিয়াসলি নেবার কিছু নেই! . আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম . - বাড়িতে সবাই খুজছে না আমাকে? . - খুজছেতো! ইনফ্যাক্ট আমিও খুজছি, আমিতো তোমাকেই খুজতে বেরিয়েছি। . এটুকু বলে ফোন থেকে চোখ সরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে বলল . - সবাই এটাই জানে আরকি! . - সবার বিশ্বাস এভাবে ভাঙতে কষ্ট হচ্ছেনা আপনার? একবারো ভাবছেননা আপনার পরিবার, বন্ধুরা ওরা যখন এসব জানবে তখন ওরা কী করবে? . ও ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে আরো একবার ফোনে চোখ দিয়ে বলল . - কী আর করবে তোমার মতোই আমাকে স্বার্থপর বলবে, ঘৃণাও করবে হয়তো! . - এটা বলাকি স্বাভাবিক না? . ও আগের মতো একই ভঙ্গিতে বলল . - হ্যা! একদম স্বাভাবিক! . আমি মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে রইলাম। একটা মানুষ এতোটা খারাপ কীকরে হতে পারে? কারো বিশ্বাসের দাম দিতে জানেনা ও। ও হঠাৎ করেই উঠে গিয়ে সোফায় বসল ল্যাপটপ নিয়ে। বেশ ঘন্টা খানেকের মতো একমনে কাজ করলো। এরপর হঠাৎ কোথাও একটা ফোন করে কাউকে করে বলল . - কবে আসছো তোমরা? - .... - আজকেই? (অবাক হয়ে দাড়িয়ে গিয়ে) - .... - অব্ নো। কতোক্ষণ লাগবে আসতে? - .... - ওকেহ! . ফোনটা কেটেই আছাড় মারলো সোফার ওপর। দাত দিয়ে নিজের ঠোট কামড়ে ধরে ডায়ে বায়ে তাকালো। এরপর চুলগুলো নাড়তে নাড়তে সারা রুমে পায়চারী করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর কোমরে দুই হাত দিয়ে দাড়িয়ে গেলো, জিব দিয়ে ঠোট টা ভিজিয়ে উপরে তাকিয়ে একটা শ্বাস নিলো, তারপর সোফায় বসে মাথা থেকে ঘার পর্যন্ত দুই হাত দিয়ে একবার বুলিয়ে হালকা ঝুকে মাথাটা চেপে ধরল। আমি ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছি ওর দিকে হঠাৎ কী হলো? ও ওভাবেই কিছুক্ষণ বসে থেকে হঠাৎ কিছু একটা ভেবে দাড়িয়ে দাড়িয়ে গিয়ে ফোনটা তুলল তারপর কাউকে ফোন করে আসতে বলল। কিছুক্ষণের মধ্যেই দরজায় নক পরলো। আদ্রিয়ান বলল . - এসো! . সাথে সাথেই অভ্র ভেতরে এসে কিছু বলবে তার আগেই আদ্রিয়ান বলল . - উকিল আর কাজী দুটোই হাজির করো ইন ওয়ান আওয়ার! কেনো সেটাও নিশ্চই বলতে হবে না? . - স্যার আজকেই? . আদ্রিয়ান ভ্রু কুচকে তাকাতেই অভ্র হকচকিয়ে বলল . - ও্ ওকে স্যার। . - পেপারস সব রেডি থাকে জেনো! . - হুম..! . বলেই একপলক আমার দিকে তাকিয়ে চলে গেলো অভ্র। আমি তো অবাক উকিল যেকোন কাজেই আনতে পারে কিন্তু কাজী কেনো? আমার ভাবনায় ছেদ ঘটিয়ে আদ্রিয়ান বলল . - যাও গিয়ে একটা সালওয়ার সুট পরে নাও . আমি তো মহা অবাক আমি কেনো এখন সালওয়ার সুট পড়তে যাবো আজব? আমি ভ্রু কুচকে বললাম . - কেনো? . - যা বলছি চুপচাপ তাই করো, এক্সট্রা কথা বলবে না একদম! . - আমি পরতে পারবোনা এখন এসব! . - তুমি নিজে পরবে নাকি আমি পরিয়ে দেবো? ( ধমকে ) . আমি বেশ ভয় পেয়ে গেলাম ওর কথায় আমি জানি ওর দ্বারা কিছুই অসম্ভব নয়! তাই উঠে গিয়ে কাবার্ড খুলতেই ও বলল . - লালটা পরো! . আমি ভ্রু কুচকে তাকালাম ওর দিকে কিন্তু কিছু বললাম না চুপচাপ লাল একটা থ্রিপিচ পরে বেরিয়ে এলাম। বেরোতেই আদ্রিয়ান আমাকে আগা গোড়া স্কান করে হাত ধরে সোফায় বসিয়ে দিলো, তারপর একটা বক্স খুলল, বক্সটার ভেতরে কিছু হালকা গহনা রাখা হয়তো স্বর্ণের। একটা পাতলা চেইন লকেট সহ, একজোরা কানের দুল, চারটা চিকন চুরি। আমি অবাক হয়ে বললাম . - এসব কী আদ্রিয়ান? . আমার কথায় পাত্তা না দিয়ে একে একে সব পরিয়ে দিলো আমায়। বাধা দিতে গিয়েছিলাম কিন্তু এক ধমকে চুপ করিয়ে দিয়েছে। সব পরিয়ে ওরনাটা মাথায় দিয়ে বলল, একবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল . - পার্ফেক্ট . আমি বেশ রেগে বললাম . - এখন আবার কোন নতুন ড্রামা শুরু করলেন আপনি? . ও আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয় বলল . - চুপচাপ এখানেই বসে থাকো, আমি আসার আগে নড়বেনা এখান থেকে তাহলে খুব খারাপ হবে তাহলে! . বলেই চলে গেলো। কী করতে চাইছে ও আমি যেটা চাইছি সেটাই যদি হয় তাহলে তো! প্রায় বিশ মিনিট পর ও এলো একটা সাদা পান্জাবী আর কালো জিন্স পরে মাথায় সাদা টুপিও আছে।ওকে এইভাবে দেখে আমি অবাক, এসেই আমার হাত ধরে বলল . - চলো! . যদিও কিছুটা আন্দাজ করতে পারছি তবুও বললাম . - ক্ কোথায়? . - বিয়ে হবে এখন আমাদের! ( স্পষ্ট জবাব) . - পাগল হয়ে গেছেন আপনি? বিয়ে করবো আমি তাও আপনাকে? . ও বাকা হেসে বলল . - এতো অবাক হওয়ার কী আছে? বিয়ে আমাদর ঠিক হয়েই ছিলো, তুমিও রাজী ছিলে . ওর অঙ্গুলে আমার পরানো আংটি দেখিয়ে বলল . - এটাই তার প্রমাণ! . - হ্যা হয়েছিলাম কারণ তখন আপনার মুখশের আড়ালের এই হিংস্র দানব কে দেখেনি তাই . - আমি হিংস্র দানব? ( শান্ত গলায়) . - তার চেয়েও খারাপ। আর তাই আপনাকে বিয়ে করার কোনো প্রশ্নেই ওঠেনা। . - বেশি কথা না বলে যা বলছি তাই করো। . - বললাম তো আপনাকে বিয়ে করা সম্ভব নয় আমার পক্ষে। যা খুশি করুন! . ও আমাকে হাত ধরে ওর দিকে ঘুরিয়ে বলল . - এর পরিণাম কী হতে পারে জানো? . আমি হাত ঝাড়া দিয়ে কাদতে কাদতে বললাম . - কী করবেন আপনি? মেরে ফেলবেন আমাকে? ফেলুন না, এমনিতে তো মেরেই ফেলেছেন আমার মনটাকে, শরীরটাকে আর বাচিয়ে কেনো রাখবেন? এটাকেও মেরে ফেলুন! . ও আমার গাল ধরে বলল . - যদি তোমাকে মারার হতো অনেক আগেই মেরে ফেলতাম এতোক্ষণ বাচিয়ে রাখতাম না। . এরপর ও আমার গাল ছেড়ে ওর কপালে স্লাইড করতে করতে বলল . - কিন্তু সুইটহার্ট এখন তোমার হোল ফ্যামিলি তোমার বাড়িতেই আছে রাইট? এখন ধরো যদি তোমাদের বাড়িতে একটা বিশাল ব্লাস্ট হয় তাহলে কেমন হবে? . আমার পিলে চমকে উঠলো, কাপাকাপা গলায় বললাম . - মান্ নে . - তুমি এতোটাও বোকানা যে মানে টা বুঝতে পারছোনা। . আমি অবাক হয়ে দেখছি ওকে, কীকরে একটা মানুষ এতো নিচ হতে পারে? আমার পরিবারকে শেষ করার কথা ভাবছে ও? আমি কাপা গলাতেই বললাম . - আপনি এমন কিচ্ছু করবেন না? . - তুমি আমার কথা না শুনলে আমি এটা করতে বাধ্য হবো! ইউ নো আমি খুব সেলফিস! নিজের স্বার্থের জন্যে সব করতে পারি। আধ ঘন্টার মধ্যেই সব শেষ করে দিতে পারি আমি। জাস্ট একটা কল করতে হবে আমাকে। . ওর কথা শুনে চোখ নিয়ে অনবরত পানি পরছে আমার, আমি কাদতে কাদতে বললাম . - আদ্রিয়ান ওরা সবাই খুব ভালোবাসে তোমাকে। আমার মা তোমাকে আর কাব্যকে কোনোদিন আলাদা চোখে দেখেনি, আর বাকিরাও আদ্রিয়ান বলতে পাগল,ওহির অন্তর কথা ভাবো ওরাতো বাচ্চা! . ও আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল . - বাহ আবার তুমিতে চলে এসছো? যাই হোক আমি জানি সেটা! কিন্তু কী বলোতো তুমি যদি আমার কথা মতো না চলো এসব ভূলতে আমার এক মিনিট লাগবেনা। সো আমি কল করব নাকি.. . আমি এবার ওর সামনে হাত জোর করে বললাম . - আদ্রিয়ান প্লিজ! ওরাতো কিছুই করেনি, ফাইলটা তো আমি নিয়েছিলাম, যা ক্ষতি করার আমি করেছি তাই যা করার আমার সাথে করুন কিন্তু ওদের ছেড়ে দিন প্লিজ! আমার জন্যে ওদের কিছু হয়ে গেলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না আমি। . ও আমার হাত নামিয়ে বললো . - তো তুমি বিয়েতে রাজি? . আমি এবার অসহায় ভাবে তাকালাম ওর দিকে। তারপর ধীরে ধীরে সোফা ধরে বসে পরলাম। আমাকে কিছু বলতে না দেখে বললো . - ওকে ফাইন তাহলে আমি.. . ও ফোন তুলতেই আমি বলে উঠলাম . - আমি রাজি... . এটা শুনে ও মুচকি হেসে বলল . - that like my lady... . এরপর আমাকে দাড় করিয়ে দিলো আমি কান্নাজরিত কন্ঠে বললাম . - ওদের কিছু... . - কাম অন! ওদের ক্ষতি করে আমার কী লাভ? কিন্তু ওরা ততোক্ষণি সেভ থাকবে যতক্ষণ তুমি আমার কথা শুনবে। . বলেই ও আমাকে কিছুই বলার সুযোগ না দিয়ে হাত ধরে নিয়ে যেতে লাগল। যেতে যেতেই আমি বললাম . - কেনো বিয়ে করছেন আমাকে? আবার কী গেইম খেলতে চাইছেন আমার সাথে আপনি? . ও পেছনে ঘুরে বাকা হেসে বলল . - আমি গেইম খেলি না। গেইম এর নিয়ম তৈরী করি আর সবাই সেই অনুযায়ী খেলতে থাকে। . বলেই আমায় নিচে নিয়ে গেলো নিচে গিয়ে দেখলাম সোফায় কাজী, উকিল, বসে আছে পাশে অভ্র দাড়িয়ে আছে, আর কিছু লোক। আমাকে নিয়ে এগোতে নিলেই আমি দাড়ায়ে গেলাম আদ্রিয়ান ভ্রু কুচকে পেছনে তাকাতেই বললাম . - আদ্রিয়ান প্লিজ এভাবে.. . কিন্তু ও আমার কথা শেষ করতে দিয়েই টেনে নিয়ে গিয়ে গেলো, যারা বসা ছিলো তারা দাড়িয়ে গেলো, আমায়ে সোফায় বসিয়ে দিয়ে নিজেও আমার পাশে পায়ের ওপর পা তুলে বসতেই বাকিরা বসে পরল। উকিলের দিকে তাকাতেই উকিল তাড়াতাড়ি পেপার বের করে আদ্রিয়ান এর সামনে ধরল, আদ্রিয়ান হাত বাড়াতেই একটা পেন নিয়ে দিলো ওর হাতে, ও পেপারে একবার চোখ বুলিয়ে সাইন করে দিয়ে আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল . - সাইন করো! . আমি করুন চোখে ওর দিকে তাকালাম, কিন্তু ওর চোখের দৃষ্টি কঠোর ওকে কিছু বলে লাভ হবেনা তাই বাধ্য হয়ে সাইন করে দিলাম। চিৎকার করে কাদতে ইচ্ছে করছে আমার এখন। অভ্র হেসে বলল . - কনগ্রাচুলেশন স্যার আজ থেকে আইনত আপনি ম্যারিড। . আদ্রিয়ান বাকা হেসে এবার কাজী সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল . - এবার ধর্মীয় ভাবেও বিয়ে সম্পূর্ণ করে দিন! . এরপর ধর্মীয়ভাবেও বিয়ে হয়ে গেলো আমাদের। আদ্রিয়ান বেশ কয়েকবার ধমক দিলেও একমুহূর্তের জন্যেও কান্না থামিয়ে রাখতে পারিনি আমি,আজ আমার সাথে সেটাই হলো যেটা কল্পনাও করিনি আমি, নিজের বাবা মা পরিবার সকলকে ছেড়ে বিয়ে করতে হলো আমাকে, এই দিনটা নিয়ে কতো স্বপ্ন ছিলো আমার আর সেই স্বপ্নের প্রতিটা মুহূর্ত তোমাকে ঘিরেই ছিলো আদ্রিয়ান। কিন্তু তুমি নিজের হাতে সব শেষ করে দিলে। 'কবুল' শব্দটা বলার সময় বুক ফেটে কান্না আসছিলো। হ্যা আজ থেকে আমিও বিবাহিত, তাও সেই আমার স্বামী যাকে আমি ভালোবাসি, জীবনের প্রতিটা সপ্ন যাকে নিয়ে সাজিয়েছি। কিন্তু অবাক করা বিষয় এটাই যে আমি তবুও খুশি নই, কারণ ও আমাকে শুধু নিজের স্বার্থের জন্যেই বিয়ে করেছে আর আব্বুকে কী জবাব দেবো
1 comment
You are a nice story writer so i wish you will find real love and happiness in your life. Keep writing more like this.