Ex gf
গল্পঃ এক্স গার্লফ্রেন্ড যখন অফিসের বস।
পর্বঃ ৬
লেখকঃ hasan
স্বপ্নাঃ আপনি তো এই মাসের বেতন পাবেন না!
মুহূর্তেই মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো....
বেতন পাবো না মানে? এটা কি ধরনের কথা?
স্বপ্নাঃ হুম, পাবে না মানে পাবে না।
আমিঃ কিন্তু কেন? আমার অপরাধ।
স্বপ্নাঃ অফিসে টি-শার্ট পড়েছো,
এটা অফিস রুলের বাইরে ছিলো।
আরো অনেক জায়গায় ভুল করেছো।
তাই এই মাসের বেতন পাবে না।
আমিঃ বেতন পাবো না বললেই হলো নাকি?
স্বপ্নাঃ হুম।
আমিঃ তারমানে আপনি আমার বেতন দিবেন না,
এইতো?
স্বপ্নাঃ এই বেয়াদব তোকে এক কথা কয়বার বলবো?
বলছি না দিবো না,
কি করবি কর,
যা এখান থেকে।
আমিঃ কি করমু দেখবি?
(ঠাসসস ঠাসসস)
দুইটা চড় গালে বসিয়ে দিলাম,
সে গালে হাত দিয়ে আমার দিকে রাগি দৃষ্টিতে চেয়ে আছে আমি বললাম....
লাগবে না তোর টাকা,
তোকে আমার এই সামান্য টাকা ভিক্ষা দিলাম।
তুই যদি এগুলো খেয়ে অনেক বড় হতে পারিস,
তাতে আমার কোনো আপত্তি নাই।
যাহ ছেড়ে দিলাম তোর চাকরি,
আল্লাহ কাওকে মারে না,
কথাটা মনে রাখিস।
এ কথা গুলো বলে বাইরে চলে আসছিলাম।
এমন সময় দেখি পিয়ন আমার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে।
মনে হয় সব কিছু শুনে ফেলেছে।
আমি কোনো কথা না বলে সোজা বাইরে চলে গেলাম।
গাছতলায় গিয়ে বসে রইলাম,
যেখানে স্বপ্না আর আমি সব সময় বসে থাকতাম।
অফিস থেকে সোজা ওখানে চলে আসছি।
বসে বসে ভাবছি স্বপ্না আমার সাথে এগুলো কেন করছে?
আমি তো ওর কোনো ক্ষতি করিনি।
তবুও সে এগুলো কেন করছে?
ধুর কেন যে ওর সাথে রিলেশনে ছিলাম।
যদি না থাকতাম হয়তো আজকে এই দিনটা আর আসতো না।
বাবা মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে,
কি হবে ওদের।
এই মুহূর্তে তো চাকরিও পাবো না,
কি আছে কপালে আল্লাই জানে।
বসে বসে এগুলো ভাবছি,
এই দিকে আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে,
মনে হয় বৃষ্টি হবে।
একটু পর বৃষ্টি শুরু হলো,
আমিও বসে আছি।
বৃষ্টিতে ভিজলে নাকি মন হালকা হয়।
অনেক সময় নিয়ে ভিজলাম।
পকেটে হাত দিয়ে দেখি ২০ টাকা আছে,
তারমানে আজকে আর খাওয়া যাবে না।
একটা টং দোকানে গিয়ে চা আর পাউরুটি খেয়ে বাসার দিকে হাটা দিলাম।
কেমন জানি খারাপ লাগছে,
স্বপ্নাকে চড় দেওয়া আমার উচিত হয়নি।
যেটাই হোক না কেন,,
সে তো এখন অফিসের বস।
নিজেকে নিজের কাছেই অপরাধী মনে হতে লাগলো।
এগুলো ভাবতে ভাবতে বাসায় চলে আসছি।
কাপড় চেইঞ্জ করে শুয়েছি মাত্র।
আমার হাত পা কাঁপতে শুরু করলো।
মনে হয় ঠান্ডা লাগছে,
বৃষ্টিতে ভিজলেই আমার জ্বর চলে আসে।
রাত যতো গভীর হচ্ছে জ্বর ততো বাড়তেছে।
আমার পুরো শরীর কাঁপতেছে।
এরমধ্যে ছোট বোন কল দিলো....
ভাইয়া তুই যে টাকা দিলি সেখান থেকে আজকে আমি ৩ টা জামা নিয়েছি।
আমিঃ কিহ!
হুম, এ মাসে বেশি টাকা দেওয়ার কারণে অনেক কিছু নিয়েছি।
আমিঃ টাকা কে দিয়েছে?
আরে তোর অফিসের একটা ম্যাডাম আছে না, সে দিয়েছে।
আমিঃ কোন ম্যাডাম?
আরে ধুর আমি এতো কিছু চিনিনা, শুধু বলেছে তোর সাথে একসাথে কাজ করে।
আমিঃ ওও আচ্ছা।
কিরে ভাইয়া তুই টাকা দিয়েছিস আর তুই নিজেই ভুলে গেছিস।
আমিঃ নারে, এমনি মনে পড়ছিলো না।
ভাইয়া তোর কি শরীর খারাপ? গলা এমন লাগছে কেন?
আমিঃ না আমি ঠিক আছি। টাকা কখন পেয়েছিস?
গত পরশু দিন ভাইয়া।
আমিঃ ও আচ্ছা পরে কথা হবে। রাখি এখন।
তারমানে স্বপ্না টাকা টা বাড়িতে দিয়ে আসছে,
তাও সবার আগে।
আর আমি না জেনেই ওর গালে ছিঃ, ভাবতেই কেমন জানি লাগছে।
রাতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি মনে নেই।
সকালে ঘুম থেকে উঠতে যাবো,
কিন্তু পারছিনা।
পুরো শরীর জ্বরে কাঁপতেছে,
অনেক চেষ্টা করে বাথরুমে গেলাম,
বাথরুমে থেকে বের হওয়ার পর আর কিছু মনে নেই।
অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছিলাম।
যখন জ্ঞান আসলো তখন নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করলাম,
দেখলাম সিহাব আমার পাশে বসে আছে।
আমিঃ কিরে আমি এখানে কেন?
সিহাবঃ সব বলবো, আগে একটু ভালো হয়ে নে।
আমিঃ আমি ভালো আছি বল এখানে কিভাবে আসলাম?
সিহাবঃ ম্যাম আর আমি তোকে নিয়ে আসলাম,
কাল রাত থেকে তোর মোবাইল অফ পাচ্ছি।
ম্যামও অনেকবার তোকে কল দিয়েছে।
আমিঃ তারপর?
সিহাবঃ তারপর সকালে যখন তুই অফিসে আসিস নি,
ম্যাম নিজেই তোর বাসায় যায়,
গিয়ে দেখে তুই মেজেতে পড়ে আসিস।
সাথে সাথে আমাকে কল দেয়।
তারপর দুজনে মিলে তোকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।
আমিঃ ম্যাম এখন কোথায়?
সিহাবঃ এতোক্ষন এখানে বসে বসে কাঁদছিলো, আমি ম্যামকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি।
আমিঃ আর কিছু বলেনি?
সিহাবঃ এটা দিয়ে গেছে (একটা কাগজ)
খুলে দেখলাম লেখা আছে "" ভালো হলে আবার অফিসে আসবেন""
হঠ্যাৎ করেই গত কাল রাতের ছোট বোনের কথা গুলো মনে পড়ে গেলো,
তারপর সিহাবকে বললাম....
আচ্ছা দোস্ত ছোট বোনটা বলেছে বাসায় নাকি কোন ম্যাডাম টাকা দিয়ে আসছে।
তুই কিছু জানিস?
সিহাবঃ হুম ম্যাম নিজেই টাকা দিয়ে আসছে। আমিই ঠিকানা দিয়েছি।
আমিঃ কিন্তু আমাকে কিছু বলেনি কেন?
আর কখন করলো এই কাজ?
সিহাবঃ সেদিন যখন ম্যাম তোকে ৮ টা ফাইল ধরিয়ে দিয়েছিলো সেদিন ভুলে মোবাইল ম্যাম এর রুমে রেখে চলে এসেছিলি তোর মনে আছে।
আর তখন তোর বোন কল করেছিলো।
যা যা বলেছে ম্যাম সব কিছু শুনেছে।
আমাকে ডেকে নিয়ে তোর ঠিকানা জিজ্ঞেস করে তারপর নিজেই টাকা দিয়ে আসে।
আমিঃ কিন্তু তুই আমাকে কিছু বলিস নি কেন?
সিহাবঃ তোকে বললে আমার চাকরি থাকবেনা।
এখনো অনেক কিছু তোর অজানা আছে যেগুলো তুই জানিস না।
সময় হলে জানবি।
আমিঃ ম্যাম আমার জন্য এতো কিছু করছে আর আমি কিনা....
সিহাবঃ কি করেছিস?
আমিঃ না তেমন কিছু না (সত্যটা আর বললাম না)
তারপর হাসপাতাল থেকে বাড়িতে চলে গেলাম,
২ দিন রেস্ট নেওয়ার পর মোটামুটি ভালো লাগেছে।
চিন্তা করলাম অফিসে গিয়ে স্বপ্নার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবো।
পরেরদিন অফিসে গেলাম,
স্বপ্নার রুমের সামনে গেলাম...
আমিঃ ম্যাম আসবো?
স্বপ্নাঃ হুম আসেন। (আমার দিকে না তাকিয়ে)
আমিঃ ম্যাম একটা কথা ছিলো।
স্বপ্নাঃ হুম বলেন।
আমিঃ ম্যাম সেদিনের জন্য আমি অনেক দুঃখিতো, আমাকে প্লিজ ক্ষমা করে দিয়েন।
স্বপ্নাঃ আচ্ছা বাদ দেন সে সব কথা, ১১ টার সময় রেড়ি থাকবেন।
একজায়গায় যাবো।
আমিঃ জ্বি ম্যাম,
কোথায় যাবেন?
স্বপ্নাঃ সেটা গেলেই দেখবেন।
আমিঃ ওকে ম্যাম।
স্বপ্নাঃ হুম এবার কাজে যান।
তারপর চলে আসলাম,
নিজের ডেস্কে এসে বসে আছি।
স্বপ্নার কথা ভাবছি,
চোখমুখ সব লাল হয়ে ফুলে আছে।
দেখে মনে হচ্ছে নেশা করেছে বা কান্না করেছে।
কিন্তু নেশাতো করার কথা না,,,,,
মনে হয় কান্নাই করেছে।
একটু পর পিয়ন আসলো,..
"ম্যাম আপনাকে বাইরে গিয়ে দাড়াতে বলেছে""
আমি কিছু না বলে ড্রাইভারের কাছে গেলাম,,,
ড্রাইভার আমাকে দেখে বললো...
কি খবর ভাই?
এখন কেমন আছেন?
আমিঃ এইতো ভাই মোটামুটি, আপনার কি অবস্থা?
ড্রাইভারঃ আছি আলহামদুলিল্লাহ ভালো, সেদিন আপনার জন্য ম্যাডাম যা করলো, চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতেন না।
আমিঃ কোন দিন?
ড্রাইভারঃ আরে ভাই ভুলে গেলেন নাকি, ওই যে আপনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন সেদিন।
আমিঃ ও আচ্ছা। আচ্ছা আমরা এখন কোথায় যাবো,
কিছু জানেন?
ড্রাইভারঃ শপিংমলে,
আপামনির বিয়ে তো তাই।
আমিঃ কিহ! বিয়ে মানে?
ড্রাইভারঃ হুম উনার বিয়ে ঠিক হইছে, পাত্রকে নাকি উনি নিজেই পছন্দ করছে।
ড্রাইভারের কথা শুনে আমার পায়ের নিচে থেকে মাটি সরে যেতে লাগলো,
বুকের মধ্যে কেমন জানি একটা ব্যাথা অনুভব হতে লাগলো।
কথা বলার সময় দেখলাম স্বপ্না আসছে,,,
আর কোনো কথা না বলে দাঁড়িয়ে আছি।
সে এসে বললো....
গাড়িতে উঠেন।
উঠে বসলাম,
তারপর বললাম...
আমিঃ ম্যাম আমরা কোথায় যাচ্ছি?
স্বপ্নাঃ বিয়ের শপিং করতে?
আমিঃ কিন্তু ম্যাম আমাকে কেন নিয়ে যাচ্ছেন?
স্বপ্নাঃ ভুলে যাবেন না আপনি আমার পার্সোনাল সেক্রেটারি, সব গুলো কাজ আপনাকেই করতে হবে। আর শুনেন...
আমিঃ জ্বি ম্যাম বলেন।
স্বপ্নাঃ বিয়ের সব গুলো কাজ আপনি নিজ হাতে করবেন, দায়িত্বটা আপনার উপর দেওয়া হলো।
আমিঃ ওকে ম্যাম।
এদিকে আমার কলিজা ফেটে যেতে লাগলো,
জোরে জোরে বলতে ইচ্ছা করছে স্বপ্না বিয়েটা করো না, আমি এখনো তোমাকে ভালোবাসি।
কিন্তু সেটা আর possible না।
একটু পর শপিংমলের সামনে চলে আসলাম।
এরপর সবাই ভিতরে গেলাম,,,,
#__চলবে......
Devil husband
Devil Husband💗
Part_14
Hasan
_নিজের বউ হলেও এভাবে তাকাতে পারবেন না
_সারারাত তো তাকিয়েছি,সাথে অনেক কিছু করেছি,এখন সমস্যা কী(শয়তানী হাসি দিয়ে)
_ছি,মুখে কিছু আটকায় না,আপনি সরেন আমি ফ্রেশ হবো
_গোছল করবে না
_হুম করবো
এই কথা শুনে ইমরান সিনহাকে নিজের কোলে তুলে নিলো
_চলো তাহলে একসাথে গোছল হয়ে যাক
_এই না না,একদম না
_চুপ,তুমি বললে শুনবো নাকি
-কেনো শুনবেন না,শুনতে হবে
_তোমাকে আমার কথা শুনতে হবে
বিকজ আমি তোমার স্বামী
স্বামীর কথা মানা স্ত্রীর উপর ফরজ
_বালের জামাই হন আপনি আমার
-এই বেয়াদব মেয়ে তুমি আমাকে গালি দিলা(অবাক হয়ে)
_আমি আপনাকে কখন গালি দিলাম(না জানার ভান করে)
_এই মাত্র বালের জামাই বললা
_বাল কে গালি মনে করে যেই জন
বালের বাংগালী সেই জন
_এখন মুড খারাপ করার কোনো ইচ্ছে নাই আমার,শুভ কাজে মুখ খারাপ করতে নেই
-ওরে আল্লাহরে কি সাধু রে
তা কোনটা শুভ কাজ শুনি
_তোমাকে নিয়ে একসাথে গোছল করবো,এটা আমার জন্য শুভ কাজ
_কিন্তু আমার জন্য অশুভ কাজ
_তোমার অশুভ কাজকে আমি আমার শুভ কাজ দিয়ে মেরে মাটি চাপা দিয়ে দিবো
-প্লিজ না,লজ্জা লাগে আমার🙈
-ওলে বাবালে আমার লজ্জাবতো
ইমরান,সিনহার কথা না শুনে সিনহাকে ওয়াশরুমে নিয়ে কোল থেকে নিচে নামালো
সিনহা দুইহাত দিয়ে এখনো কাথাটা দেহে জড়িয়ে নিয়েছে
_কাথাটা ফেলো এতো লজ্জা পেলে চলে,আমি না তোমার জামাই
_(শালা ডেভিলের বাচ্চা লুচ্চা তোরে আমি খুন করবো)এই একদম কাথা ফেলে দেওয়ার কথা মাথায় আনবেন না
_তাহলে কীভাবে হবে
_হবে টবে বুঝি না,ঝর্না ছাড়েন আমি মাথা ভিজিয়ে চলে যাই
_তোমাকে এখানে এনেছি কি ঝর্না ছেড়ে দিয়ে তোমার মাথা ভিজানোর জন্য নাকি,আজব তো
_এইসব আজব গুজব বাদ দিন
আপনার হাবভাব ভালো ঠেকছে না
আমি যাই
সিনহা যাওয়া ধরলে ইমরান সিনহার কাধ ধরে আটকায়
সিনহা থমকে দাঁড়ায়
মুখ দিয়ে কথা বেরুচ্ছে না,তারপরও জোর করে বলল
_ডেভিল ডোন্ট টাচ মি,ডোন্ট টাচ মি
-টাচ তো করেই ফেলেছি জানু
কাথাটা কি সরাবা নাকি আমি হেল্প করবো
এরি ভিতরে ইমরান ঝর্নাটা ছেড়ে দেয়,ঝর্নার পানিতে সিনহা ইমরান দুজনেই ভিজে চুপসে যাচ্ছে
ইমরান সিনহার কাধ টান দিয়ে নিজের নগ্ন পেটের সাথে একদম মিশিয়ে নিয়েছে,সিনহাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিয়েছে
ইমরানের এমন সংস্পর্শে সিনহা কেপে উঠছে
কাপা কাপা ঠোটে ইমরানকে বলে
_এই একদম কা কাথায় হা হাত দিবেন না
_দিলে কি করবা,বউ
(ডেভিলের বাচ্চা তোরে তো এখন কিছু করতে পারবো না,এর শোধ আমি সেদিন নিবো যেদিন আমার এক ডজন বাচ্চা হবে
বাচ্চাদের নিয়ে আমি তোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবো,বলে দিলাম)
চলবে.
Corona update
█▒▒▒ব্রেকিং/Breaking▒▒▒█
*** ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৪০ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৬৫০।
*** ১১৮৭৬ টি নমুনা পরীক্ষায় ২৫৪৫ জনের করোনা শনাক্ত।
Vampower
#ভ্যাম্পায়ার_বর
#পর্ব_৯
#M_Sonali
নির্জন পাহাড়ি রাস্তা ধরে হেটে যাচ্ছে চাঁদনী আর শ্রাবনী। দুজনেরই মনটা ভিশন খারাপ। মিতুর বাসা থেকেই ফিরছে ওরা। কারো মুখে কোনো কথা নেই দুজনেই একদম নিরব হয়ে আছে। বেশ কিছুক্ষণ পর নিরবতা ভেঙে শ্রাবনী বলে উঠলো
-- চাঁদ তুই এখন তারাতারি বাড়ি চলে যা, আমাকেও বাসায় যেতে হবে একটা কাজ আছে। আর হ্যা দ্রুতো চলে যাবি কিন্তু সন্ধার আগে। এখান থেকে তো তোর বাসা বেশি দুরে নয় তাই সমস্যা হবে না।
-- এত তারাতারি তারাতারি করছিস কেনো বলতো। আমার তো এই সময় পাহাড়ি রাস্তা ধরে হাটতে ভালই লাগছে। তবে মিতুর কথা ভাবতেই বুকের ভিতরটা হু হু করে উঠছে। একদিনেই কি হাল হয়েছে মিতুর। জানিনা ওর সাথে ঠিক কি হয়েছিলো।
-- হুমম তাই তো তোকে বলছি সন্ধার আগে বাসায় চলে যা। কারন আমরা ঠিক জানিনা মিতুর সাথে কি হয়েছে। আমি চাইনা তোর সাথেও এমন কিছু হোক। তাই সন্ধার আগেই বাসায় চলে যা। আর হ্যা সাবধানে থাকিস নিজের যত্ন নিস।
কথাগুলো বলেই চাঁদনীকে আর কিছু বলার সুজোগ না দিয়েই শ্রাবনী উল্টো পথে দৌড়ে চলে গেলো। চাঁদনী সেখানেই কিছুক্ষণ অবাক হয়ে শ্রাবনীর চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বাসায় যাওয়ার জন্যে পা বাড়ালো।
কিছুটা পথ হাটতেই চাঁদনীর মনে হতে লাগলো ওকে কেউ ফলো করছে। খুব শুক্ষ নজরে দেখছে কেউ ওকে। হঠাৎ এমন অনুভুতি হওয়ায় চাঁদনীর শরীরের শিরদাঁড়া বেয়ে একটা শীতল শ্রোত বয়ে গেলো। যেনো ভয়ে কাটা দিয়ে উঠলো সারা শরীর। পিছনে ঘুরে তাকানোর সাহসটাও চাঁদনীর হচ্ছে না এখন। চাঁদনী দ্রুতো পা চালাতে লাগলো। আর একা একাই বক বক করে বলতে লাগলো
-- ইশশ কেনো যে আজকে স্কুটার টা সাথে আনলাম না। স্কুটার টা থাকলে এতটা ভয় করতে হতো না এখন আমার। কখন ভুউউ করে বাসায় পৌঁছে যেতাম আমি।
নিচের দিকে তাকিয়ে আনমনে দ্রুতো হেটে চলেছে চাঁদনী আর ওপরের কথাগুলো ভাবছে। কোথায় যাচ্ছে কোন দিকে যাচ্ছে ওর সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই। হঠাৎ একটি দ্রুতগামী ট্রাক নিয়ন্ত্রন হাড়িয়ে ছুটে আসলো চাঁদনীর দিকে। চাঁদনীর খেয়াল হতেই দেখলো ট্রাকটা খুব কাছে চলে এসেছে ওর। ভয়ে চাঁদনী চোখ বন্ধ করে জোরে একটা চিৎকার দিলো। কিন্তু একটু পরেও যখন চাঁদনী বুঝতে পারলো ওর কিছু হয়নি বরং ও কারো বুকের সাথে লেপ্টে আছে তখন ভয়ে ভয়ে চোখ খুললো চাঁদনী। আর দেখলো শ্রাবন ওকে আষ্টেপৃষ্ঠে বুকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে আছে। যেনো ছেড়ে দিলেই হাড়িয়ে যাবে ও। শ্রাবনকে দেখে অবাক হয়ে পাশে থাকা ট্রাকের দিকে তাকালো চাঁদনী। ট্রাকটা পাশেই দাড়িয়ে আছে। কিন্তু ট্রাকের ভিতর কাউকে দেখা যাচ্ছে না।
চাঁদনী ট্রাকের দিক থেকে চোখ সরিয়ে শ্রাবনের দিকে তাকিয়ে দেখলো শ্রাবনের মুখে ভয় স্পষ্ট। যেনো শ্রাবনের কলিজাটা কেউ বের করে নিতে চেয়েছিলো কিন্তু পারেনি। শ্রাবনকে দেখে ঠিক এমনই লাগছে। শ্রাবন রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ঐ ট্রাকের দিকে। একটুপর ট্রাকের দিক থেকে চোখ সরিয়ে চাঁদনীর দিকে তাকালো শ্রাবন। চাঁদনীও শ্রাবনকেই দেখছে। চাঁদনীর চোখে চোখ পরতেই কিছু না বলে আচমকাই চাঁদনীর কপালে আলতো করে চুমো একে দিলো শ্রাবন। তারপর আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরলো বুকের মাঝে। শ্রাবনের হার্টবিট গুলো গুনতে পারছে চাঁদনী। মুখে কিছু বলার ক্ষমতা যেনো হাড়িয়ে গেছে ওর। ও শুধু অবাক হয়ে সবটা বোঝার চেষ্টা করছে।একটু পর শ্রাবনের কথায় ধ্যান ভাঙলো চাঁদনীর। শ্রাবন চাঁদনীকে হালকা ছেড়ে দিয়ে বললো
-- এই মেয়ে নিজের সাথে আমাকেও কি মেরে ফেলার প্ল্যান করেছো নাকি তুমি? রাস্তা দিয়ে হাটার সময় সামনে দেখে হাটতে হয় জানো না। আমার আসতে আর একটু দেরি হলে কি হতো ভেবেছো একবার। তুমি জানো কিছুক্ষনের জন্যে হার্টবিট থেমে গিয়েছিলো আমার। দম বন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছিলাম আমি। তোমার কিছু হলে আমি কি করে বাচতাম বলো। তোমার মাথায় কি দুষ্টুমি করা ছাড়া আর কোনো বুদ্ধি নাই?
এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে থামলো শ্রাবন। শ্রাবনের কথা শুনে শ্রাবনের বুক থেকে মাথা তুলে শ্রাবনের দিকে তাকালো চাঁদনী। তারপর অবাক হয়ে বললো
-- আমার কিছু হলে আপনার কি? আমি এক্সিডেন্ট হতে চলে ছিলাম বলে আপনার দম কেনো আটকে গিয়েছিলো? কেনো এত পাগলের মতো করছেন আপনি? কে হই আমি আপনার? আর আমাকে আপনি এভাবে জরিয়ে রেখেছেন কেনো আপনার বুকে, যেনো ছেড়ে দিলেই আমি হাড়িয়ে যাবো?
চাঁদনীর কথা শুনে চাঁদনীকে ছেড়ে দিয়ে কিছুটা দুরে সরে দাঁড়ালো শ্রাবন। তারপর অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে বললো
-- সরি চাঁদনী, আসলে তোমায় এক্সিডেন্ট করতে দেখে একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। প্লিজ তুমি কিছু মনে করো না। সন্ধা হয়ে গেলো তুমি তারাতারি বাসায় চলে যাও।
কথাটা বলেই দৌড়ে শ্রাবন কোথায় যেনো চলে গেলো। চাঁদনী হা করে তাকিয়ে রইলো শ্রাবনের চলে যাওয়ার দিকে। কি হলো কিছুই মাথায় ঢুকছে না ওর। চাঁদনী মনে মনে বললো
-- ইশশ আমিও না সত্যিই একটা ইডিয়ট, ছেলেটা আমায় দু দুবার এক্সিডেন্ট হওয়ার থেকে বাচালো। আর আমি কিনা ওনাকে একটা ধন্যবাদ না দিয়ে বরং শুধু প্রশ্ন করে গেলাম। এখন বাসায় চলে যাই কালকে বরং কলেজে গিয়ে ওনাকে ধন্যবাদ দিয়ে দিবো।
কথাগুলো ভেবেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাসায় চলে গেলো চাঁদনী। চাঁদনীকে বাসায় পৌঁছাতে দেখে শ্রাবন ফিরে এলো সেই ট্রাকের কাছে। চাঁদনী বাসায় পৌঁছানো পর্যন্ত শ্রাবন আড়াল থেকে চাঁদনীর ওপর নজর রাখছিলো।
ট্রাকের কাছে পৌঁছেই খাদে অজ্ঞান হয়ে পরে থাকা ট্রাক চালকের কাছে চলে গেলো শ্রাবন। ট্রাক চালক লোকটা নেশায় পুরোপুরি মাতাল হয়ে ট্রাক চালাচ্ছিল। অজ্ঞান ট্রাক চালোকের কাছে এসেই রাগে ফোস ফোস করতে লাগলো শ্রাবন। তারপর দাঁত কিড়মিড় করে বললো
-- তোদের মতো নেশাখোর ড্রাইভারের জন্যেই কত শত নিরিহ মানুষ অকালে মারা যায়। আর আজকে তো তোর জন্যে আমি আমার চাঁদপাখিকে হাড়াতে বসে ছিলাম। তোর কোনো ক্ষমা নেই।
কথাগুলো বলেই অজ্ঞান ট্রাক চালককে উচু করে তুলে ধরে গলায় নিজের বিশাল দাঁতগুলো বসিয়ে দিলো শ্রাবন। তারপর ঢক ঢক করে রক্ত চুষে খেতে লাগলো। রক্ত খাওয়া শেষ হতেই নিজের বিশাল বিশাল ধারালো নখ গুলো দিয়ে লোকটার শরীর ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে পাহাড় থেকে ছুড়ে নিচে ফেলে দিলো। তারপর রাগ কমাতে জোরে একটা গর্জন করে উঠলো শ্রাবন। শ্রাবনের গর্জনে কেপে উঠলো পুরো পাহাড়। ততক্ষণে সন্ধা পেরিয়ে অন্ধকার হয়ে গেছে চারিদিকে। হঠাৎ ঘারে কারো হাতের ছোঁয়া পেয়ে পিছনে ঘুরে তাকালো শ্রাবন। শ্রাবনের পিছনে শ্রাবনী ভ্রু কুচকে শ্রাবনের দিকে তাকিয়ে আছে।শ্রাবন তাকাতেই শ্রাবনী বলে উঠলো
-- কি হয়েছে ভাইয়া তুমি এতটা রেগে আছো কেনো? আর ঐ লোকটাকে এভাবে মারলেই বা কেনো?কি করেছে ও?
-- ও আমার চাঁদপাখিকে মারতে চেয়েছিলো। আমি যদি আজকে ঠিক সময় না আসতাম তাহলে ঐ ট্রাক দিয়ে আমার চাঁদপাখিকে পিষে দিতো ও। তাই ওর রক্ত খেয়ে ওকে মেরে ফেলেছি আমি।আমার চাঁদপাখির যে ক্ষতি করতে চাইবে তারই এমন হাল করবো আমি।
কথাটা বলেই রাগ কন্ট্রল করতে না পেরে ট্রাকটাকে ধাক্কা দিয়ে পাহাড় থেকে ফেলে দিলো শ্রাবন। শ্রাবনের এমন আচরন দেখে শ্রাবনী বললো
-- ভাইয়া তুমি কি সত্যিই চাঁদকে ভালবেসে ফেলেছো নাকি? তুমি কি ভুলে গেছো একটা পিয়র ভ্যাম্পায়ার কখনো কোনো মানুষের সাথে ভালবাসার সম্পর্ক করতে পারে না। এর পরিনতি কতটা ভয়াবহ?
শ্রাবনীর কথা শুনে শরীরের সব শক্তি দিয়ে একটি গাছে জোরে করে ঘুষি মারলো শ্রাবন। সাথে সাথে গাছটা ভেঙে হুড়মুড়িয়ে নিচে পরে গেলো। শ্রাবনের এমন আচরনে ভয়ে কেপে উঠলো শ্রাবনী। শ্রাবন চিৎকার করে বললো
-- হ্যা আমার মনে আছে শ্রাবনী ভুলিনি আমি যে আমি কোনো সাধারন মানুষ নই। বরং আমি একজন পিয়র রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার। আর কোনো পিয়র ভ্যাম্পায়ারের সাথে কখনো কোনো মানুষের মিলন সম্ভব নয়। এর পরিনতি অনেক ভয়ানক। তবুও আমি চাই আমার চাঁদপাখিকে। কারন আমি ওকে ভালবাসি খুব খুব খুব ভালবাসি আমি চাঁদনীকে। চাঁদনী আমার মন প্রান অস্তিত্ব জুরে মিশে গেছে। ওকে ছাড়া আমি আর এক মুহুর্তও নিজেকে ভাবতে পারিনা। আমি যে কোনো কিছুর মুল্যে হলেও চাঁদনীকে চাই। আমার ভালবাসাকে আমার বুকে সারাজীবনের জন্যে চাই আমি।
কথাগুলো বলতে বলতে হাটু গেরে নিচে বসে পরলো শ্রাবন। শ্রাবনী কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে শ্রাবনের পাশে বসে নরম গলায় বললো
-- সত্যিই ভাইয়া আমি এতদিন ভেবে ছিলাম তুমি হয়তো এমনিই চাঁদনীকে নিয়ে মজা করো। কিন্তু তুমি যে ওকে সত্যি সত্যিই এতটা ভালবেসে ফেলেছো ভাবতে পারিনি আমি। কিন্তু ভাইয়া তুমি যদি চাঁদনীকে নিজের করে নাও এতে যে চাঁদনীর জীবন কতটা রিস্কি হয়ে যাবে সেটা তো তোমার অজানা নয়? তুমি কি চাও ভাইয়া যে চাঁদনী তোমার সামনে ধুকে ধুকে মরুক?
-- নাহ আমি সেটা কখনোই চাই না। আমি বেচে থাকতে আমার চাঁদপাখির কিছুই হতে দিবো না আমি। ওর জীবন সুখে ভড়ে দিবো আমি। কিন্তু আমি কখনোই এটা মানতে পারবো না যে আমার চাঁদনী অন্য কারো হবে। ও কোনো ছেলের সাথে কথা বললেই শরীর জ্বলে যায় আমার। আমি ওকে কি করে অন্য কারো সাথে সহ্য করবো তুই বলতে পারিস শ্রাবনী? আমি বিয়ে করবো চাঁদপাখিকে। নিজের করে নিবো ওকে আমি।
-- ভাইয়া তুমি কি পাগল হয়ে গেছো? কি সব যা তা বলছো তুমি? এটা কখনোই সম্ভব নয় ভাইয়া। চাঁদনীর অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে এমন করলে?
শ্রাবনীর কথার কোনো উত্তর দিলো না শ্রাবন। কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে গম্ভির গলায় বলে উঠলো
-- তুই মিতুর কাছে যা শ্রাবনী, ওর কাছে এখন সব সময় থাকা প্রয়জন তোর। রাত হয়ে গেছে তিয়াসা আর এভিক যখন একবার মিতুর রক্তের স্বাদ পেয়েছে। যখন তখন আবার এটাক করতে পারে মিতুর ওপর।
-- আর তুমি কোথায় যাবে ভাইয়া?
শ্রাবনীর কথার উত্তর না দিয়ে শ্রাবন উড়ে চলে গেলো সেখান থেকে। আর শ্রাবনী একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মনে মনে বললো
-- ভাইয়া তুমি নিজেও জানো না যে তুমি নিজের অজান্তেই চাঁদনীর কত বড় ক্ষতি করতে চলেছো। চাঁদনীকে বিয়ে করলে তোমরা কেউই কখনো সুখি হতে পারবে না। বরং নিজেদের বিপদ ডেকে আনবে তোমরা।
কথাগুলো ভেবেই মিতুর বাসার দিকে উড়ে চলে গেলো শ্রাবনী।
,
👹
,
রাত ১২.০০ টা
গভির ঘুমে ঘুমিয়ে আছে চাঁদনী। জানালার কাঁচটা সরিয়ে আস্তে করে রুমে ঢুকলো শ্রাবন। তারপর সোজা গিয়ে চাঁদনীর মুখোমুখি বসে তাকিয়ে রইলো চাঁদনীর দিকে। চাঁদনীর ঘুমন্ত মুখটা কেমন নিশ্পাপ লাগছে দেখতে। চাঁদনীর দিকে এক নজরে তাকিয়ে আছে শ্রাবন। শ্রাবনের চোখ থেকে এক ফোটা পানি গড়িয়ে চাঁদনীর হাতের ওপর গিয়ে পরলো। শ্রাবন সেটা খেয়াল করেনি। হাতে পানি পরতেই চাঁদনী ঘুমের ঘোরে বলে উঠলো,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
কি হতে চলেছে শ্রাবন আর চাঁদনীর জীবনে? ওদের ভালবাসা কি পুর্নতা পাবে? নাকি ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠার আগেই ভেঙে যাবে??
Calendar
গল্প: ক্যালেন্ডার!
পর্ব: ১৩!
লেখক: তানভীর তুহিন!
সকাল ৮ টা বাজে। সবাই জাফলং এর উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়েছে। হোটেল কায়কোবাদ এরিয়া থেকে জাফলং যাবার মাধ্যম ৪ টা তা হলো লোকাল বাস, অটো কিংবা সিএনজি, মাইক্রোবাস এবং লেগুনা। সবাই মিলে ঠিক করলো ওরা লেগুনা করে জাফলং যাবে। কারন এই বাস, টেম্পু, মাইক্রো এসবে ওরা সবাই'ই চড়েছে। কিন্তু লেগুনায় চড়েনি, আর লেগুনায় সচরাচর চড়াও হয় না। তাই লেগুনায় যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সবাই, একদম যৌথ ঐক্যমত। দুটো লেগুনা ভাড়া করা হলো, যাবে আসবে প্রতিটা লেগুনা ১২০০ টাকা দরে। ২১ জন হওয়ায় দুটো লেগুনায় অনায়াসেই ম্যানেজ হয়ে গেছে সবাই।
লেগুনা খট খট আওয়াজ শুরু করে পথচলা শুরু করেছে। রাস্তাটা অনেকটা ছ্যাকাখাওয়া প্রেমিকের মতো, একদমই নিশ্চুপ নির্বিকার। কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ'ই আর্তনাদ দিয়ে চারপাশ ফাটিয়ে দেওয়া হৃদয়ভাঙন। রাস্তার এই হৃদয়ভাঙন মানে হলো রাস্তার বুকের খোপ খোপ গর্তগুলো। যখনই এই ছোট ছোট গর্তগুলো পিছনে ফেলে লেগুনাটা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে তখনই পুরো লেগুনাটা নেচে উঠছে, একদম উঠোন কাপানো নৃত্য যাকে বলে। লেগুনার এই অনাকাঙ্ক্ষিত নৃত্যের তাড়নায় সীমান্ত বিরক্ত হয়ে বলে, " এই বালের গাড়িতে উঠলাম ক্যা বাল? আমার পাছা তো নাই হইয়া গেলো। এইভাবে চলতে থাকলে আমি আর পাছা নিয়ে হোটেলে ফিরতে পারবো না। ডাইনোসর এর মতো আমার পাছাও বিলুপ্ত হয়ে যাবে! "
সবাই'ই লেগুনার এই হেলদোলে বিরক্ত ছিলো। কিন্তু সীমান্তর কথায় সবারই বিরক্তি কেটে গেছে, সকালবেলার তাজা বিনোদনের প্রভাবে সবাই হো হো করে হেসে ওঠে। শাওন লেগুনার ড্রাইভারকে ডাক লাগায়, " মামা তোমার লেগুনা আর কতক্ষন এমন বিনা গানে নাচানাচি করবো? "
লেগুনার ড্রাইভারের হাসিমুখের সরল উত্তর, " এই তো মামা আরোটটু! "
এখন আর লেগুনা মহাশয় ক্ষ্যাপা ষাড়ের মতো পাগলামি করছে না। একদম ভদ্রগতিতে এগোচ্ছে। লেগুনার প্রবেশদ্বারের পাশের সিটেই বসেছে মুবিন, আর মুবিনের পাশেই মিছিল। একটু বাদে বাদেই মিছিল মুবিনের হাটুতে কনুই দিয়ে ভর দিয়ে বাইরেটা দেখছে। আজ যেনো রোদ আর প্রকৃতির বাসর, ঠিক এমনভাবেই রোদ উঠেছে। মাথার উপর লেগুনার এই লোহার ছাদটুকু না থাকলে হয়তো সবার চামড়া পুড়ে রুটি হয়ে যেতো। বাইরে প্রখর রোদ থাকলেও তেমন গরম লাগছে না, তেমন কি? কোনো গরমই লাগছে না। বরং লেগুনা দ্রুতগতিতে চলার ফলে ফুরফুরে বাতাস লাগছে। বাতাসের ফলে মিছিলের চুলগুলো এসে মুবিনের মুখের বা পাশটায় আছড়ে পড়ছে। মুবিন সেই চুলগুলোর দিকে তাকাতে গিয়ে আর মিছিল নিজের বেহায়া চুলগুলোকে শাসন করতে গিয়ে বারবার চোখাচোখি হচ্ছে দুজনে। মুবিনের বেশ ভালো লাগছে এই চোখাচোখি হওয়ার মুহুর্তটা। যখনই চোখদুটোর কেন্দ্রবিন্দু এক হয়ে যায় তখনই মনে হয় সময়টা যেনো থেমে গেছে, থেমে গেছে যেনো সব, থেমে গেছে নিঃশ্বাস, থেমে গেছে চারপাশ, থেমে গেছে বাতাস, থেমে গেছে আকাশ, চলছে শুধুই দুজনার মাতাল হৃদযন্ত্র। দুজনেই যেনো সেই মুহুর্তে শুনতে পাচ্ছে দুজনার হৃদযন্ত্রের উত্তাল, মাতাল ধ্বনি। নিজের পছন্দের মানুষটার পাশে বসে সকালের এই প্রকৃতিতে ভ্রমন করাটা চরম সৌভাগ্যের, সেই সৌভাগ্যটার রস নিগড়ে সৌভাগ্যটাকে উপভোগ করছে মুবিন।
সকাল ১০ টায় ওরা সবাই জাফলং পৌছায়। সকাল থেকে এই অবধি কারো পেটে কিছু না পড়ায় সবার পেট ক্ষুধায় চো! চো! করছিলো। তাই দেরী না করে সবাই মিলে পাশের একটা ছোট হোটেলে পরোটা, ডিম, ডাল, ভাজি দিয়ে নাস্তা সেড়ে নেয়। তারপর সবাই মিলে ঘোরা শুরু করে জাফলং। আজ জাফলং এর পুরোটা ঘুরে নেবে ওরা, কারন ট্রিপ পাচদিনের। আর পাচদিনে পুরো সিলেট ঘুরতে হবে, পুরো সিলেট বলতে পুরো সিলেট না। কিছু কিছু বিখ্যাত ভ্রমনযোগ্য যায়গা আরকি।
পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানিতে হাটছে সবাই। চারপাশটা এতোটা মনোমুগ্ধকর যে তা বলে প্রকাশ করা অসম্ভব। এই পৃথিবীতে এমন কিছু কিছু জিনিস থাকে যার সমন্ধ্যে বলার জন্য শব্দকোষে শব্দ কম পড়ে যায়, ওদের সামনের দৃশ্যপট'ও ঠিক তেমন। সবাই চোখ দিয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে বিচিত্র প্রকৃতির, বিচিত্র রঙ। মিছিলও দেখছে, মুবিন দেখছে তার প্রকৃতিকন্যাকে। হ্যা জাফলংকে অনেকেই প্রকৃতিকন্যা বলে, আর এটা সত্যিও যে জাফলং যায়গাটা এই খেতাব পাবার যোগ্য। কিন্তু মুবিনের কাছে যে তার প্রকৃতিকন্যা শুধুই মিছিল। একমাত্র মিছিলই!
চারপাশ হেটে হেটে ঘুড়ে দেখা শেষ। এই অপরুপ প্রকৃতি দেখিয়ে নিজের চোখকে ধন্য ও সার্থক করা হয়ে গেছে সবার। এবার নিজের দেহটাকে প্রকৃতি মাখিয়ে সার্থক করার পালা। জাফলং এসে যদি ঝর্নার পানিতে গোসল না করা হয় তাহলে সেটা একদমই প্রকৃতিবিরোধী কাজ। কে না চাইবে? এই হীরার মতো সচ্ছ পানিতে নিজের দেহটাকে বিলিয়ে দিতে? কে না চাইবে এই ঝরনার আছড়ে পড়া পানির শব্দে হারিয়ে যেতে? প্রকৃতিপ্রেম থাকলে এসব চাইতে আপনাকে হবেই। সবাই প্রকৃতিকে সমর্থন করে ঝর্নার পানিতে গোসল করে নিলো। তারপর টুকটাক হালকা খাবার খেয়ে নিয়ে সবাই জাফলং এর আশপাশের যায়গাগুলো ঘুরে দেখা শুরু করলো।
বিকাল ৪ টা বাজে। সারাদিনে কারো পেটেই ভাত পড়েনি। সবার পেট এখন ভাত চাই! ভাত চাই! করছে। তাই সবাই এখন পেটের দাবি পালনে হোটেলে ঢুকবে। সবাই মিলে জিন্দাবাজার এলাকার পালকি রেস্টুরেন্টে ঢুকলো। জিন্দাবাজার এলাকায় বেশ বিখ্যাত এই পালকি রেস্টুরেন্ট। এখানে প্রায় ত্রিশ রকমের ভিন্ন ভিন্ন ভর্তা পাওয়া যায়। অবশ্য জিন্দাবাজার এলাকার প্রায় সব হোটেলেই এরকম নানা পদের ভর্তা পাওয়া যায়। সবাই মিলে খাওয়া শুরু করলো। যেহেতু এখানের ওয়ান অফ দ্যা স্পেশাল ডিশ ভর্তা, তাই সবাই ভর্তা দিয়েই শুরু করলো। আর আশ্চর্যজনক বিষয় হলো সবাই এই বিভিন্ন ভর্তা দিয়ে ভাত টেষ্ট করতে গিয়েই ক্ষুধার্ত পেটকে ঢোল বানিয়ে ফেললো। পেট ঢোল হয়ে যাওয়ায় কেউ আর অন্য কোনো তরকারি টেষ্টই করতে পারলো না। সারাদিনের দৌড়ঝাঁপের পর, চায়ের দেশ সিলেটের স্পেশাল চা খেয়ে সবাই সন্ধ্যা সাতটায় হোটেলে ফেরে।
হোটেলে ফিরে অনেকেই পেট নামক ঢোল আগলে ঘুমিয়ে পড়ে। মুবিনেরও ভর্তাগুলো বেশ ভালো লেগেছিলো, কিন্তু ও বেশি খায়নি। সেই কারনে ঘুমও আসেনি ওর। তবে শরীরটা ক্লান্তির চোটে ম্যাচ-ম্যাচ করছিলো। মুবিন আর মিছিলের ঘর একদম পাশাপাশি। মুবিন বেলকনিতে গিয়ে মিছিলকে ফোন লাগায়। দুবার টানা রিঙ হয়ে কেটে যায়, তিনবারের বার ফোন ধরে।
ওপাশ থেকে মিছিলের কাতর কন্ঠ, " হ্যালো, এতোবার ফোন দিচ্ছো কেনো? "
- " এভাবে কাতরাচ্ছো কেনো? এখনও পেটে ভর্তা দৌড়াদৌড়ি করতেছে নাকি? "
- " উহহু! উহু! উহুহু! উহু! উহু "
- " আরে নাকিকান্না কাদবা নাকি কিছু বলবা? "
- " বেশি খেয়ে ফেলছি। এখন পেট ব্যাথা করতেছে! "
- " আরে আস্তে আস্তে ঠিক হবে। শুধু শুধু প্যানিক হয়ে ঘ্যান ঘ্যান করবা না তো? "
- " ফোন রাখ তুই! "
মিছিল মুবিনকে ঝারি মেরে ফোন কেটে দেয়।
মুবিনের পেট পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় মুবিন ফার্মেসিতে চলে যায়। আর ফার্মাসিস্টকে সবার পেট ঢোল হবার ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলে, মধ্যবয়স্ক ফার্মাসিস্ট মহাশয় তো হাসিতে অক্কা পায় পায় অবস্থা। অবশেষে হাসি কোনোমতে পকেটচাপা দিয়ে সে মুবিনকে এক বক্স হজমের ট্যাবলেট দেয়। মুবিন রিসেপশনে গিয়ে বলে এই ট্যাবলেট গুলো যাতে স্টাফ দিয়ে ওর সাথের সবার রুমে দিয়ে দেওয়া হয়।
মুবিন একটা ট্যাবলেট নিয়ে মিছিলের রুমের দড়জার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় দুই মিনিট যাবৎ দড়জা ধাক্কাচ্ছে, কিন্তু মিছিল খুলছে না। তার একই প্যানপ্যান ঘ্যানঘ্যান সে নাকি নড়তেও পারবে না, কারন তার পেট ব্যাথা করছে। অবশেষে মুবিন কোনো উপায় না পেয়ে বেলকনি দিয়ে মিছিলের রুমে ঢোকে। ওদের রুম পাশাপাশি হওয়ায় বেলকনি দুটোও একদম পাশাপাশি, তাই এই বেলকনি পেড়িয়ে ওই বেলকনিতে যেতে মুবিনের তেমন কোনো কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। এই কাতর অবস্থায় মুবিনকে রুমে দেখে হতবাক হয়ে যায় মিছিল। সে তো দড়জা খোলেনি তাহলে মুবিন রুমে আসলো কোত্থেকে? বেশি খাবার ফলে কী হ্যালুসিনেশন হয় নাকি? মিছিল হাতদুটো পেট থেকে কোনোমতে সড়িয়ে নিয়ে চোখ দুটো একটু জোড়ালো ভাবে ডলে নেয়। এটা কীরকম হ্যালুসিনেশন? চোখ ডললাম তাও গেলোনা? কই ফিল্মে তো চোখ ডললেই চলে যায়? এসব ভেবে ভেবে আবারও চোখ ডলে নেয় মিছিল। না এবারও তো গেলো না, এখনও তো সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। মুবিন মিছিলের তামাশা দেখছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে, তামাশার সময়কাল দীর্ঘ না করে মুবিন ঝাড়ি মারে, " পেটে যতটুকু ধরে তার বেশি খাও ক্যান? এখন তোমার সাথে আমার প্রেম করার কথা ছিলো। তা না করে কী করছি আমি? ফার্মেসিতে গিয়ে হজমের ট্যাবলেট কিনে, বেলকনি টপকে তোমার রুমে তোমায় হজমের ট্যাবলেট খাওয়াতে আসছি। আমার কপালটারে এভাবে ফুটা কইরা দিলা ক্যান? "
মিছিল খানিক কেপে ওঠে। আরে এ তো মুবিন'ই, কোনো হ্যালুসিনেশন ফ্যালুসিনেশন না। মিছিল মুবিনকে মুবিনের থেকেও জোরে ঝাড়ি মেরে বলে, " একেতো আমার প্রাইভেসি নষ্ট করে চোরের মতো আমার রুমে ঢুকছো। তারউপরে আমার উপরেই ঝারি মারতেছো? কেনো মারতেছো? আমার পেট আমি যা ইচ্ছা তাই করবো, আমার পেটে আমি খাবার ঢুকাবো, জাহাজ ঢুকাবো, গোলাবারুদ ঢোকাবো, ক্ষেপণাস্ত্র ঢোকাবো, বাচ্চা ঢোকাবো সেটা আমার ইচ্ছা। তোমার কী? "
- " বাচ্চা ছাড়া বাকি যেসব বলছো ওগুলো পেটে ঢোকাতে ইচ্ছে করলে ঢোকাও। তবে তোমার পেটে বাচ্চা তো আমিই ঢোকাবো মিছিল মনি! " বলেই হালকা মৃদু মুচকি হাসে মুবিন।
- " মুবিইইইন্না! পেটের এই অবস্থা না হলে এখনই তোর পিঠে আমি তবলা বাজাইতাম! "
- " আমার পিঠে তবলা বাজানোর দরকার কী? নিজের পেটই তো ঢোল হয়ে আছে। ওটায় বাজাও, বেশ রিদম আসবে। এই আমি না ভালো ড্রাম বাজাই, বাজাবো তোমার পেটে? "
মিছিল নাকিকান্না কাদে। মিছিল হতাশ অসহায় কন্ঠে বলে, " তুই কী আমায় জ্বালাইতে আসছস এখানে? "
- " তুমি না একদমই জন্মনিরামিষ। আমি কই কেয়ারিং লাভারের মতো তোমার জন্য হজমের ঔষধ নিয়ে আসলাম। তোমায় রিলিফ দেবার জন্য, আর তুমি কিনা আমার কেয়ারিং ন্যাচারকে, আমার প্রেমকে জ্বালা বলে অপমান করছো! "
- " মেডিসিন আনছো? তাহলে প্লিয বকবক না করে দাও! "
মুবিন গ্লাসে পানি নিয়ে নিজের হাতে মিছিলকে ঔষধ খাইয়ে দেয়। তারপর পাশে বসে বলে, " আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেই, তুমি ঘুমাও। ঠিক আছে? "
- " আহাহা! আলহাদ পাইছে উনি। ঢং! উনি আমার বিয়ে করা জামাই লাগে উনি মাথায় হাত বুলায় দিবে আর আমি ঘুমাবো। রুম থেকে বের হ তুই! "
- " ফ্যাচফ্যাচ ভালো লাগতেছে না। তুমি জানো আমি বলছি মানে বলছি'ই। আর আমি তো কোনো অন্যায় আবদার করতেছি না, শুধু মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে চাচ্ছি। আর এটা তো আমি তোমার সেবা করছি, আচ্ছা তুমিই বলো বিয়ের পরে আমি অসুস্থ হলে তুমি আমার সেবা করবা না? তুমি যেটা বিয়ের পরে করবা, সেটা আমি বিয়ের আগে করছি। ব্যাস শেষ! "
- " এতো লজিক আমি শুনবো না। আমি ঘুমায় গেলে যদি তুমি উল্টাপাল্টা কিছু করো? তখন? "
- " তুমি হজমের ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমাচ্ছো কোনো স্লিপিং পিল কিংবা মদ খেয়ে ঘুমাচ্ছো না। যে আমি তোমার সাথে উল্টাপাল্টা করলে তুমি টের পাবা না! "
- " তবুও তুমি বের হও রুম থেকে! "
- " প্রমিস শুধু মাথায় হাত বুলিয়ে দেবো। আর তুমি ঘুমিয়ে গেলেই বেলকনি টপকে আমার রুমে চলে যাবো। উঠে তোমার দরজাও লাগাতে হবে না। আর ঘ্যানঘ্যান কইরো না, ঘুমাও। " বলেই মুবিন মিছিলের মাথায় হাত বোলানো শুরু করে। মিছিলও আর তর্কে না জড়িয়ে চুপচাপ চোখ বন্ধ করে নেয়, ঘুমানোর চেষ্টায়।
চলবে!
Na bola valobasa
না_বললেও_ভালোকিন্তুবাসি
part : 1
writer : Mohona
.
☆: please জল্লাদ... ছেরে দিন আমাকে.... আমি আর কখনো এমন কিছু করবোনা... ছারুন আমার হাত.... আমার হাতটা ছিরে গেলে আমাকে বাজে লাগবে দেখতে....
please ছারুন.... ও বাবারে, ও ভাইয়ারে, ও দুলাভাইয়ারে... বাচাও রে.. ১টা অবলা মেয়েকে তোমরা কেউ বাচাচ্ছোনা... এতো বড় অন্যায় চুপচাপ দেখছো? আল্লাহ... তোমার দিলে কি দয়া হয় না.... 😭😭😭... একি এতো কাদছি তাও ছারছেন না। ছারুন না please ...
রেদোয়ান চৌধুরী : এই সাগর ছার মামনি কে... কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস?
সাগর : marriage registry office ....
সবাই : 😱।
☆: কেন?
সাগর : বিয়ে করতে....
☆: হায় হায় বলে কি.... আমি কেবল সাড়ে নাইন থুরি.. পোনে টেনের student ...
আমি ১৫ বছরের শিশু...
কে শোনে কার কথা সাগর টেনে নিয়ে গাড়িতে বসালো।
[[[
দারান দারান পরিচয় করাচ্ছি। যে জল্লাদ ব্যাক্তিটা টানাটানি করছে i mean টেনে নিয়ে যাচ্ছে তার নাম the জল্লাদ সাগর চৌধুরী.... ফ্যাশন জগতের গুপ্ত রত্ন & সেই সাথে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ১জন GM রেদোয়ান চৌধুরীর ছেলে। সাগরের মায়ের নাম শিখা চৌধুরী। বড় বোনের নাম শ্রাবনী চৌধুরী। মিসেস শ্রাবনী নিশান আহমেদ চৌধুরী। সাগর কেবলমাত্র mbbs 2nd year no no পোনে 3rd year এর student... ভীষন রাগী। কথা বলে কম রাগ করে বেশি।
আর যেই অবলা অসহায় অবুঝ বাচ্চাটাকে গরুর মতো টেনে নিয়ে যাচ্ছে তার নাম মোহনা খান। 🙈😎🙊।
মোহনার বাবার নাম শুভ্র খান। মোহনার মায়ের নাম সোহানা খান। মোহনার বড় ভাইয়ের নাম অভ্র খান আর বড় বোনের নাম অহনা খান। মিসেস অহনা সৌরভ মাহমুদ খান। ভাবির নাম দিপ্তী রায়হান খান। মোহনা class 9 এ পরে। october মাস। ৩মাস পর class 10 এ উঠবে তাই মোহনা এটাকে পোনে 10 বলে।
বাকী কাহিনি পরে বলবো।
]]]
.
গাড়িতে...
মোহনা: এ্যা.. হ্যা হ্যা...😭...
সাগর : 😒।
মোহনা: এভাবে তাকাচ্ছেন কেন? আপনি মানুষ না আলকাতরা বলুন তো? কোনো পিচ্চি কাদছে আর আপনি গরুর মতো তাকাচ্ছেন?
সাগর: কাকা fast the car...
মোহনা: মাগো আমার কান.... আপনি না ১টা cutie putie জল্লাদ.... মানে ভালোমানুষ। please আমাকে আমার সাথে এমন করবেন না। আমি আর কখনো আপনার টাকার চকোলেট খাবোনা।
সাগর: ১টা থাপ্পর মারবো। ফাজিল মেয়ে। ... সব শয়তানি ছুটে যাবে....
মোহনা: না না আমি আপনাকে বিয়ে করবোনা। infact আমি বিয়েই করবো না.... আমি তো এখনো দুধের শিশু.... only awwe ki cute sweet 15... 16ও না।।। আমাকে কি এখন বিয়ে করা ঠিক হবে...?
সাগর: দুধের শিশু? ১টা দুধের শিশু হয়ে আমার খাবার drugs মিশিয়ে রুষার ঘরে রুষার সাথে বন্দী করার ফন্দী কি করে আটলে?
মোহনা: ওটা তো...
মনে মনে: থেমে যা মোহো থেমে যা । এই জল্লাদ মার্কা ইচ্ছাধারী বাঙ্গীটাকে যদি এখন বলি যে ওটা রুষা আপু করেছে তবে তো ভবিষৎে জল্লাদের সাথে বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা মাইনাস পার্সেন্ট। আর যদি না বলি বিয়ে....
কি করি....
সাগর : কি হলো বলো।
মোহনা: উফফ... এতো চিল্লান কেন? আমি তো আপনার কোলের মধ্যেই বসা নাকি.... 😬...
সাগর: কিছু ask করেছি?
মোহনা: কি?🤔।
সাগর : কালকে রাতে অমন কাজ কেন করেছো?
মোহনা : ইচ্ছা হয়েছে তাই করেছি... সমস্যা... যেন আপনার আর রুষা আপুর বিয়ে হয়।
কথাটা শুনে সাগরের মাথা আরো গরম হয়ে গেলো। কারন ও ভালোমতোই জানে মোহনাকে রুষা এমনটা করতে বলেছে। মোহনা রুষার নাম লুকিয়েছে বলে সাগর সেই ক্ষেপে গেলো। যাও মাথা ঠান্ডা হয়ে আসছিলো তাও আবার আরো বেশি গরম হয়ে গেলো।
.
গাড়ি থামলো। সাগর মোহনাকে টেনে ভেতরে নিয়ে গেলো। registry paper রেডি করানোর order দিলো। কিন্তু ঝামেলা বাধলো মোহনার বয়স নিয়ে । কারন ওর বয়স মাত্র ১৫.... মেজিস্ট্রেট apply reject করে দিলো। সাগরের ইচ্ছা হচ্ছে সব ভেঙে ফেলতে.... মোহনার খুশি দেখে কে? লাফালাফি শুরু করলো। সাগর সামনে থাকা চেয়ারটাতে ভীষন জোরে লাথি মেরে বেরিয়ে গেলো। যেই সাগর বেরোলো মোহনা লাফালাফি দাপাদাপি শুরু করলো...
মোহনা :
🎶🎵🎶
আহা কি আনন্দ
আকাশে বাতাসে....
জল্লাদ বুডঢা...
আমি কিউটি পুচকু...
বিয়ে বন্ধ...
আর কি ল....
🎶🎵🎶
মোহনা ঘুরতে ঘুরতে তার খাম্বা i mean সাগরের সাথে ধাক্কা খেলো।
মোহনা: কোন শালারে....
ঘুরে দেখে সাগর। সাগর লাল লাল আগুনের গোলার মতো তাকিয়ে আছে ।
মোহনা : হাই... ভালো আছেন? 😅...
মনে মনে: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ....
এইবারও বাচাও আল্লাহ....
সাগর আবার মোহনাকে টেনে গাড়িতে বসালো। তবে এখন front sit এ।
মোহনা: ডল কাকা কোথায়?
( driver এর নাম ডালিম। মোহনা ডল কাকা বলে ডাকে। )
সাগর কোনো উত্তর দিলোনা ।
মোহনা: কি হলো পলকেই বোবা হয়ে গেলেন নাকি । আজব পাবলিক তো... আপনি..
সাগর : এই নাও...
মোহনা: awwe ki cute flake....
মোহনা সাগরের হাত থেকে নিয়ে খেতে লাগলো। সাগর ভালো মতোই জানে এখন chocolate না দিলে মোহনা nonstop বকবক করতেই থাকবে। আর এখন সাগর যথেষ্ট রেগে আছে। তাই এখন মোহনার মুখ বন্ধ থাকাই ভালো।
.
আসলে সাগরের একমাত্র মামাতো ভাই আয়ানের বিয়ে। রিম্পা নামের ১টা মেয়ের সাথে। love marriage .... বিয়েটা হচ্ছে নারায়নগঞ্জে। সাগরদের মামার বাসায়। রিম্পারা ২বোন। রিম্পা & রুষা। ২জনই রুপে গুনে ১০০ তে ১০০। রুষাকে দেখলে তো মোহনাই ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকে। কারন তাক লাগানোর মতো সুন্দরী রুষা । ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। বাবা ১জন নেতা। প্রথম দেখাতেই রুষার সাগরকে ভালোলাগে। তাই নিজেই ১দিন propose করে বসে সাগরকে। সাগর accept করেনি । সাগর নাকি মোহনার মোহ তে পরে আছে। 🥱।😒। রুষা ওর বাবাকে দিয়েও কথা বলায়। কিন্তু সাগর-মোহনার বিয়ে আদিম যুগ থেকেই ঠিক হয়ে আছে। তাই রেদোয়ান না করে দেয়। কিন্তু রুষার তো সাগরকে চাই চাই। আর মোহনাও চায় বিয়ে ভাঙতে। কারন বিয়ে আর কাঠাল-বাঙ্গী-পাকা পেপে-আনারস একই।।। সবগুলাই just যঘন্য। বিয়ে মানে ওর কাছে নিজের awwwe ki cute family ছেরে অন্য গরুর ঘরে যাওয়া। আর ১বস্তা কান্না করা। কারন তার ভাবী & আপুকে তাই দেখেছে।
.
গতরাতের ঘটনা....
রুষা মোহনাকে ওই মাতাল করার drugsটা দিয়ে বলে সাগরের খাবারে মেশাতে। কারন মোহনাকে কেউ সন্দেহ করবেনা। মোহনা কথা মতো কাজ করলো । মোহনাকে খাবারের কাছে ঘুরঘুর করতে দেখে সাগরের সন্দেহ হচ্ছিলো। কিন্তু পিচ্চি বলে কিছু ভাবেনি। খাবার খেয়ে সাগরের মাথা কেন যেন ঝিমঝিম করতে লাগলো। কোনো রকমে রুমে পৌছালো। রুমে আগে থেকেই রুষা ছিলো। সাগর রুমে ঢুকতেই মোহনা দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিলো। রুষার কথা মতো। সাগর বুঝতে পারছে যে ওর নেশা হচ্ছে। কারন মাথা ঝিমঝিম করছে, ঝাপসা দেখছে। তারওপর দেখছে রুষা বসে আছে। সাগর দেরি না করে টলতে টলতে washroom এ গিয়ে চোখে মুখে পানি দিয়ে। গলায় আঙ্গুল দিয়ে বমি করারও চেষ্টা করলো। কিছুটা উপকার পেলো। যেই বের হলো রুষা জরিয়ে ধরলো। সাগর রুষাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ঠাস করে থাপ্পর মারলো। এরপর মিস্টার ৭মার পালোয়ান সাগর মশাই দরজার সাথে যুদ্ধ শুরু করলো... ভেঙেও ফেলল । দরজা ভাঙার শব্দে সারা বাড়ি ছুটে এলো। মোহনা ছারা। কারন সে ঘুম ।😴 সাগর সবাইকে রুমে থেকে বের করে চুপচাপ ঘুমিয়ে পরলো। কারন মাথা দার করানোই সম্ভব হচ্ছেনা.... ঘুমটা ভীষন দরকার....
সকালে উঠেই গন্ডারগিরি শুরু করলো।
.
এখন...
চকোলেট খেতে খেতে মোহনা ঘুমিয়ে পরেছে।
বিকালে ৩টা....
মোহনার ঘুম ভাঙলো। দেখে ও ওর ঘরেই ।
মোহনা: আমি বিয়ে বাড়িতে ছিলাম... ছিলাম তো ছিলাম কার বাপের কি... ক্ষুধা লেগেছে। ভাবি... ও ভাবি... ভাবি গো....
কি ব্যাপার আমার ভাবি সারা দেয়না কেন? 🤔। গিয়ে আবিষ্কার করি।
ভাবিকে খুজতে খুজতে মোহনা রান্নাঘরে গেলো। দেখলো সাগর রান্না করছে। মোহনা নিজের চোখ ডলে আবার দেখলো। এরপর সাগরের সামনে গিয়ে ধপাস করে চিমটি দিলো । এটা ওর স্বভাব। কিছু বিশ্বাস না হলে চিমটি কেটে চেক করে। আহা তা... নিজের গায়ে বা হাতে না.... সামনে যে থাকে তার গায়ে চিমটি কেটে।
চিমটি খেয়ে সাগর ouch করে উঠলো।
সাগর: নাগিন... নখ কাটোনা?
মোহনা: আপনি আমার ভাবির প্রথম ভালোবাসা & স্বামীর ( রান্নাঘর) সাথে পরকীয়া করছেন কেন?
সাগর: তো কি করবো? যদি আপনাকে বিয়ে বাড়ির খাবার এখন না রান্না করে দেই তাহলে এই বাসার ইট-পাথার-সিমেন্টের সাথে আমিও ধ্বসে পরবো। যা গলা আপনার । পিচ্চি পারমানবিক bomb...
মোহনা: কি বললেন আপনি? আমি জো..
১মিনিট আমরা না বিয়ে বাড়ি ছিলাম তবে এখানে কেন? এ্যা আমি বিয়ে বাড়িতে যাবে। বিয়ে খাবো । 😭।
সাগর জানতো এমন ভ্যা ভ্যা শুরু হবে তাই মোহনার কথা শুরু হতেই সাগর কানে তুলা গুজেছিলো।
.
রান্নাবান্নার পর....
সাগর খাবার বেরে নিয়ে এলো। মোহনার মুখে খাবার তুলে
বলল: নাও হা করো।
মোহনা: না আমি বিয়ে খাবো... ওখানে যাবো।
সাগর : same খাবার। এগুলো খেয়ে নাও।
মোহনা : না...
সাগর : তুমি যদি চুপচাপ খেয়ে নাও তাহলে kitkat এর ৩৬ পিসের ১টা box পাবে...
মোহনা: সত্যি?
সাগর: হামম।
মোহনা: তাহলে promise করুন যে আগামী ৩দিন আমাকে পড়াতে বসাবেন না....
সাগর মোহনার কান মলে
বলল: তবেরে পড়া চোর.... এতো ফাকি দিলে ভালো result কিভাবে হবে?
মোহনা: যেভাবে PEC & JSC হয়েছে। 😎।
সাগর: এটা S.S.C।।।
মোহনা: তো?
সাগর: আচ্ছা খেয়ে নাও। এরপর তোমাকে রিতু ( মোহনার বেস্টু) বাসায় ড্রপ করে আমি বের হবো।
মোহনা: রিতুদের বাসায়....😃..
সাগর: but no দুষ্টুমি... না হলে fruit salad খাওয়াবো।
মোহনাকে রিতুদের বাসায় ড্রপ করে সাগর আবার মামা বাড়ি গেলো।
.
রিতু: কি রে কাহিনি কি?
মোহনা : কার কাহিনি?
রিতু: তোর এখানে থাকার কাহিনি? 😒।
মোহনা: ওই তো জল্লাদ নিয়ে এলো।
রিতু মোহনার মাথায় থাপ্পর মেরে
বলল : গবেট বিয়ে খাওয়া বাদ দিয়ে নারায়গঞ্জ থেকে ঢাকা ক্যামনে কি?
মোহনা : দারা বলছি তার আগে...
বলেই মোহনা রিতুর পিঠে দামদুম কিল মেরে নিলো। এরপর সব বলল। সব শুনে রিতু হেসে গরাগরি খেতে লাগলো।
মোহনা: তোকে কি কোনো রম্য গল্প শুনিয়েছি যে ৩২টা বের করে হাসছিস। তুই আমার গুষ্ঠির মতো মিরজাফর.....
.
৭দিনপর...
মোহনা গাড়িতে বসে ঝিমাচ্ছে আর অভ্র ওকে ফল খাইয়ে দিচ্ছে।
অভ্র : বাবুইপাখি আরেকটু বাকী। হা করো।
মোহনা ঘুমাতে ঘুমাতে খেলো।
অভ্র : যেদিন school এ আসার হয় সেদিন time মতো ঘুমাতে হয়না বোকা....
মোহনা :উহু...
অভ্র মোহনাকে স্কুলে পৌছে রিতুর হাত তুলে দিয়ে চলে গেলো।
মোহনা ক্লাসে গিয়েও ঘুমাচ্ছে।
রিতু : ওই মোহো... মোহো... ওঠ ম্যাম চলে আসবে।
কে শোনে কার কথা...
রিতু মোহনার কানের সামনে চিল্লিয়ে
বলল: মোহো.... 📢📢📢
মোহনা ধরফরিয়ে উঠলো।
মোহনা : কি হয়েছে?
রিতু: আমার বাপের মাতা...
মোহনা: সর শালা নোয়াখাইল্যা।
রিতু: আজকে যখন স্কুলে আসবি তখন কালকে সকাল সকাল ঘুমাসনি কেন?
মোহনা: কালকে তো ৭টা বাজেই শুয়ে পরেছিলাম। কিন্তু ২টা বাজে ঘুম ভেঙে গেলো। ক্ষুধাও লাগলো। খেলাম গান শুনলাম dorabian night দেখলাম ঘুমিয়ে পরলাম।
রিতু: নতুন কিছু বল... ভূতের মতো রাত দুপুরে খাওয়ার অভ্যাস তোর বহুদিনের। এখন তো assignment দেখা তো। আমিও আমারটা বের করছি।
মোহনা : হামম।
কিন্তু মোহনা খুজেও কোথাও assignment পেলোনা।
রিতু: কিরে...
মোহনা: পাচ্ছিনা....
রিতু: what ? আনতে ভুলে গেছিস? এখন কালিপরী তোকে কি করবে?
মোহনা: huh.... bye...
রিতু: bunk মারবি?
মোহনা: তা নয়তো কি বকা খাবো।
রিতুও ব্যাগ গোছাতে লাগলো।
মোহনা: কি রে...
রিতু: lets bunk... কিন্তু আজকে কোন দিক দিয়ে বের হবো?
মোহনা: পাচিল টপকে। ৩নং রোডের বাউন্ডারির ওখানে দেয়াল repair এর কাজ চলছে।
রিতু: হায়...
২জন : awwwe ki cute..
২জন পাচিল টপকে বের হলো। সামনে তাকিয়ে দেখলো....
((( নায়িকার নাম মোহনা বলে আবার double meaning করবেনা কেউ। double meaning করলে এটা continue করবোনা। গল্প is গল্প। তবে কেমন লাগলো সেটা জানিও। )))
.
চলবে....
ঘৃনা
ঘৃণার মেরিন
part : 18
season : 2
writer : Mohona
.
নীড় বাসায় এসে রুমে ঢুকে দেখে মেরিন নেই ।
নীড় : গেলো কোথায়? মেরিন... মেরিন...
নীড় খুজতে লাগলো মেরিনকে। দেখে রান্নাঘরে মেরিন রান্না করছে। নীড় গিয়ে দুম করে পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো।
.
মেরিন : কি হলো? 😒।
নীড়: কতোক্ষন ধরে ডাকছি.... সারা তো দিবে....
মেরিন: কি লাগবে? বলুন দিচ্ছি...
নীড়: তোমাকে লাগবে...
মেরিন আর জবাব না দিয়ে চুপচাপ কাজ করতে লাগলো। নিজেকে ছারানোর চেষ্টা করে লাভ হলোনা। তাই আর চেষ্টাও করলোনা।
নীড় : কি রান্না করছো?
মেরিন: আমার মাথা.... এখন ছারুন।
নীড়: ছারুন ছারুন করছো কেন? নিজে যখন জরিয়ে ধরো তখন....
মেরিন : আর ধরবোনা। হইছে? এখন তো ছারবেন?
নীড় : মানে কি হ্যা মানে কি? ধরবেনা কেন? ও হ্যা ঠিকই তো। ধরবে কেন? আমি তোমাকে জরিয়ে ধরবো।
বলেই নীড়ের মেরিনের ঘাড়ে কিস করলো।
মেরিন বেসামাল হয়ে গেলো। আর ক্যাচ করে হাত কেটে গেলো।
কিন্তু কোনো আওয়াজ করলোনা। কারন এতোটুকু কেটে যাওয়া ওর কাছে কিছুইনা এখন। পানি ভরতি পাত্রে হাত ডুবিয়ে রাখলো। আর অন্য হাত দিয়ে রান্না করতে লাগলো।
.
নীড় তো নিজের কাজেই ব্যাস্ত। মেরিনের ঘাড়ে মুখ গুজে আছে। মেরিন ১হাতেই কোনোরকমে কাজ করছে। ১টা servant হঠাৎ করে চলে এলো । তার হাতে চায়ের কাপ ছিলো। নীড়-মেরিনকে দেখে হাত থেকে পরে গেলো। আর নীড়ের হুশ ফিরলো। servant লজ্জা পেয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো।
নীড় : আজব পাবলিক.... romance কর.... একি তোমার হাত কাটলো কি করে?
মেরিন: এমনিতেই....
নীড়: দেখি আসো ব্যান্ডেজ করে দেই।
মেরিন: লাগবেনা। পরে করে নিবো। কাজটা শেষ করে নেই।
নীড় কোনো কথা না বলে কাধে তুলে মেরিনকে রুমে নিয়ে গেলো। হাতে ব্যান্ডেজ করতে লাগলো । আর বকতে লাগলো। নীড়কে দেখে যে কেউই বুঝবে যে মেরিনের কাটা হাত দেখে ওরই বেশি কষ্ট হচ্ছে। মেরিন নীড়কে দেখছে। মেরিন দুম করে নীড়ের ঠোটে কিস করে দিলো। এরপর অন্যদিকে তাকিয়ে রইলো। নীড় মুচকি হাসি দিলো।
.
কিছুদিন পর....
নীরা সুস্থ হলো। ওকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।
নীড় : আমরা airport কেন এলাম বলবা?
মেরিন: কাউকে welcome জানাতে....
নীড়: তোমার কাজ সত্যিই অদ্ভুদ।
মেরিন: আমি জানি।
নীড় : কাকে welcome জানাতে এসেছি সেটা তো বলবে...?
মেরিন: সামনে তাকান বুঝে যাবেন....
নীড় সামনে তাকালো। দেখলো নীরা হেটে আসছে । সাথে ৬-৭জন গার্ড।
নীড় : নীরা....
মেরিন: your love...
নীড় : তু....
মেরিন দৌড়ে গিয়ে নীরাকে জরিয়ে ধরলো।
মেরিন: আপু....
নীরা তো অবাক সেই সাথে হয়ও পাচ্ছে প্রচুর । মেরিন এতো নরমাল ব্যাবহার করছে। এরমানেই ঝামেলা আছে।
মেরিন : thanks god... যে তুমি ঠিক আছো... সুস্থ আছো। তুমি না বাচলে যে আমার নীড় uffs.... তোমার নীড়ও...
তোমার বিরহে তো নীড় পাগল হয়ে গেছে... সত্যি একেই বলে ভালোবাসা। যে ভালোবাসা কখনো আমায় দিয়ে হবেনা। আমার তো বন্দুক ঠেকানো ভালোবাসা...
উনি তোমাকে মন থেকে ক্ষমা করে দিয়েছে। এমন ভালোবাসা আর কোথাও পাবেনা । যাও গিয়ে নতুন করে জীবন সাজাও।
মেরিনের কাহিনি নীড়ের মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। তবে মেরিন যে অভিমানে সব করছে সেটা বেশ বুঝতে পারছে। মেরিন নীরার হাত টেনে এনে নীড়ের হাতে দিলো। এরপর ওদের হাতে ১টা envelope দিলো।
মেরিন : এটাতে switzerland এর tickets আছে। এটা আপনাদের জন্য আমার gift... honeym.... uffs pre-honeymoon এর.... all the best... bye....
বলেই মেরিন চলে যেতে নিলে নীড় ওকে টেনে নিজের কাছে আনলো।
নীড়: এসবের মানে ক....
আর বলতে পারলোনা। মেরিন নীড়ের ঘাড়ে ১টা injection মেরে দিলো। নীড় জ্ঞান হারালো।
.
৩ঘন্টাপর....
দেখলো ও ১টা রুমের মধ্যে আবদ্ধ। বেশ বড় রুমটা। সাথে attached kitchen & washroom ও আছে। পাশ ফিরে দেখে নীরা শুয়ে আছে । নীড় লাফ দিয়ে ওখান থেকে সরে এলো। তখন নীড় কারো হাসির শব্দ পেলো। কিন্তু কাউকে পেলোনা।
মেরিন : কি খুজছেন? আমাকে? পাবেন না... খু....ব শখ না আপনার আমাকে ফেলে নীরার কাছে যাওয়ার? ওর সাথে থাকার...
নিন থাকুন। যতোদিন ইচ্ছা থাকুন...
আপনার ইচ্ছা পূরন না করে পারি....
নীড় : ইচ্ছা পূরন? আমার আরো কতো ইচ্ছা ছিলো। পূরন করেছিলে...
মেরিন : আপনাকে মুক্তি দেয়ার তো... সেটা তো সম্ভব না। তবে ১টা offer কিন্তু দিয়েছিলাম... আমার আম্মুকে যদি খুজে বের করেন তবে আপনাকে মুক্তি দিবো।
নীড় : ....
মেরিন : whatever ... আপনাকে ভালোবাসি। কিন্তু ভুলের শাস্তি দিবোনা এটা ভাবা ভুল।
enjoy your punishment .... মানে pre-honeymoon..
নীড়: ভুল করলে মেরিন... পস্তাতে হবে তোমায়... ভালোভাবে বলছি আমাকে এখান থেকে বের করো....
মেরিন :না করলে?
নীড় : তুমি কিন্তু ভালো মতোই আমকে চেনো।
মেরিন : শাস্তি দিবেন? মেরিনের জন্য আর নতুন কোনো শাস্তি নেই।
bye....
.
একটুপর...
মেরিন রুমটার camera on করলো। কিন্তু on হচ্ছেনা।
মেরিন: মানে কি?
মেরিন ফুটেজ দেখতে লাগলো। দেখলো নীড় ক্যামেরার সামনে এসে ঠাস করে ভেঙে দিলো। মানে ভাঙতে নিলো। ভাঙার পর তো আর দেখা যায়না। 😅।
মেরিন ছুটে গেলো। আসলে ও তো পাশের রুমেই ছিলো। দেখলো দরজা ভাঙা। আর নীরা হাত-পা-মুখ বাধা অবস্থায় আছে। সেই সাথে থাপ্পরের দাগ। আর মাথা ফেটে রক্তও বের হচ্ছে । দেয়ালে রক্ত দেখলো । যার মানে দেয়ালে নীড় নীরার মাথা ফাটিয়েছে। কিন্তু কোথাও নীড় নেই। মেরিন নীরার চুলের মুঠি ধরে
বলল: আমার নীড় কোথায়? বল আমার নীড় কোথায়?
নীরার এমনিতেই হাল খারাপ। তারওপর মুখ বন্ধ। উত্তর দিবে কি করে?
মেরিন : কথা বলছিস না কেন? জন....
জন... জন দৌড়ে এলো।
মেরিন: নীড় কোথায়?
জন: দেখিনি ম্যাম...
মেরিন: কেন চুরি করতে গিয়েছিলে.... stupid ... এটাকে নজরে রেখো।
বলেই মেরিন নীড়কে খুজতে বেরিয়ে গেলো। পাগলের মতো খুজতে লাগলো নীড়কে। পেলোইনা । লোক লাগিয়ে দিলো চারিদিকে লোক লাগিয়ে দিলো নীড়কে খোজার। কিন্তু পেলোনা।
.
৩দিনপর....
নীড়ের কোনো খবর নেই। মেরিন তো পাগল প্রায়। খাওয়া-দাওয়া-ঘুম সব বন্ধ। অসুস্থ হয়ে পরেছে মেরিন।
মেরিন : কেন সেদিন এমন করলাম... কেন এমন শাস্তি দিলেন আমায়.... আমি....
তখন নীলিমা পাগলের মতো দৌড়ে এলো।
নীলিমা : নীড় ফিরেছে....
মেরিন কথাটা শুনে এই শরীর নিয়েই দৌড়ে নিচে নামলো। গিয়ে দেখে নীড় দারিয়ে আছে । ছুটে গিয়ে নীড়কে জরিয়ে ধরলো। হাউমাউ করে কাদতে লাগলো।
মেরিন: কেন আমাকে ছেরে গিয়েছিলেন? কেন কেন কেন? এতো বড় শাস্তি কেন দিলেন? 😭 । আর কখনো আমি এমন করবোনা। আপনি কেন বোঝেন না.... কেন চলে গেলেন... আমাকে মারতেন বকতেন.. কথা দিন আর কখনো আমাকে ছেরে যাবেন না please ...
নীড় বুঝতে পারলো মেরিনের মনের হাল। তাই নীড়ও মেরিনকে শক্ত জরিয়ে ধরলো।
নীড় : যাবোনা....
মেরিন : promise ....
নীড় : promise ...
নীড় মেরিনের মাথায় চুমু দিলো। মেরিন নীড়কে ছারলো। কিন্তু ছেরে যেই নীড়ের পিছে নজর গেলো মেরিনের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেলো। কারন কনিকা-নাসিম দারিয়ে আছে। মেরিন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেনা। ও ধীর পায়ে কনিকার দিকে এগিয়ে গেলো। কনিকার মুখে হাত বুলিয়ে দিলো। না মেরিন আর মেনে নিতে পারলোনা। অজ্ঞান হয়ে গেলো। কবির মেরিনকে ধরতে এলে নীড় বাধা দিলো। ধরতে দিলোনা। সবাই হাজার চেষ্টা করেও মেরিনের জ্ঞান ফেরাতে পারলোনা। শেষে ডক্টর তপুকে ডাকা হলো। নীড়ের তপুকে সহ্য হয়না। কিন্তু তপুই মেরিনের treatment এর জন্য better .... তাই ওকেই ডাকলো। তপু চেক করলো।।
তপু: কতোবার বলেছি ওকে tension free রাখতে.... ওকে চাপ না দিতে.... খেতে দেননা ওকে নাকি? এরপর ওর কিছু হলে আর আমাকে ডাকবেন না।
বলেই তপু চলে গেলো।
.
রাতে....
১টা বাজে....
নীড়ের চোখ লেগে এসেছিলো... তখন নীড় শুনতে
পেলো : আম্মু....
নীড় তারাতারি চোখ মেলল। দেখল মেরিন চোখ মিটমিট করছে। আর চোখ বেয়ে পানি পরছে...
নীড় : মেরিন....
মেরিন : আম্মু...
নীড় নিহালকে ফোন করলো।
ফিসফিস করে বলল : বাবা.... মেরিনের জ্ঞান ফিরেছে। মামনিকে বলো যে আম্মুকে ডেকে নিয়ে আসে।
নিহাল : হামম।
নীড় মেরিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। কিছুক্ষন পর সবাই রুমে ঢুকলো।
.
কনিকা মেরিনের পাশে বসলো। এরপর নিজের কোলে মেরিনের মাথাটা নিলো। এরপর মাথায় হাত বুলাতে লাগলো।
কনিকা : আম্মুই... ও আম্মুই.... আম্মুইরে.... দেখো সোনাবাচ্চা আম্মু এসেছি। দেখো ছোট পাখি। আম্মুই টা.... ও আম্মুইটা....
মেরিন কানে সব শুনতে পাচ্ছে। কিন্তু চোখ মেলতে ইচ্ছা করছেনা। ভয় করছে। যদি চোখ মেলে আর কনিকাকে না পায়।
কনিকা : আম্মুই... দেখো না... ও মা টা...
মেরিন ধীরে ধীরে চোখ মেলল। উঠে বসলো। দুচোখ ভরে মাকে দেখতে লাগলো। চোখ দিয়ে অনবরত পানি পরছে। কনিকা মেয়ের চোখের পানি মুছে দিলো। মেরিন কনিকাকে জরিয়ে ধরে কাদতে লাগলো। আর কনিকাও কাদতে লাগলো।
মেরিন : কেন আমাকে একা ফেলে চলে গিয়েছিলে ? কেন এই নষ্ট পৃথিবীতে আমার থেকে আলাদা হলে... কেন আমায় সাথে করে নিয়ে গেলেনা... কেন নিয়ে গেলেনা...
কেউ আমাকে ভালোবাসেনা আম্মু.... আদর করেনা ... সবাই ঘৃণা করে... আমিও আমাকে ঘৃণা করি... তুমিও কি আমায় ঘৃণা করবে আম্মু... আম্মু আমি পচা হয়ে গেছি...
তোমার আম্মুই পচা হয়ে গেছে... খারাপ হয়ে গেছে... তুমিও কি আমাকে ঘৃণা করবে? আমাকে আদর করবেনা? ও আম্মু... ও আম্মু... আম্মুরে...
জানো বাবাও না আমাকে ঘৃণা করে... আগের মতো আদর করেনা, কোলে নেয় না, খাইয়েও দেয় না...
জানো বাবা কি বলে... বাবা বলে আমি নাকি তার মেয়ে না... আম্মু তুমি না বলতে আমি নাকি বাবার মতো হয়েছি....
আমার চোখ নাক ঠোট পাপড়ি কপাল ... সব বাবার মতো...
তুমি না বলতে রাগও করি বাবার মতো...
হাসিও বাবার মতো...
তাহলে বাবা কেন ওই কথা বলে...
জানো আরো কি বলে...
বলে আমি নাকি পাপের ফসল...
আরো কি বলে জানো... বলে আমি নাকি তোমার মতো। চরিত্রহীনা...
জানো আম্মু... এগুলো শুনলে আমার না ভীষন কষ্ট হয় এগুলো শুনলে...
মনে হয় কেউ বুকের ওপর ছুড়ি চালাচ্ছে।
ও আম্মু বাবাকে বলোনা যেন এমন কথা আর না বলে...
আমার ভীষন কষ্ট হয়.... বলবে বলো...
ও আম্মুরে... বলোনা বলবে.... বলোনা... বলবে...
কনিকা কাদতে কাদতে
বলল : হ্যা বলে দিবো... শান্ত হও মা। কান্না থামাও বাচ্চা... আর কেউ তোমাকে ঘৃণা করবেনা.... তোমার বাবাও আবার তোমাকে আদর করবে....
কাদতে কাদতে ১পর্যায়ে মায়ের বুকেই ঘুমিয়ে পরলো মেরিন।
কনিকাও সারারাত মেয়েকে বুকে নিয়েই পার করলো।
.
রাত পার করতে করতে অতীতের বাকী অংশ জেনে আসি।
{{{
কনিকা কোনোরকমে নিজের পরিবারের সূত্র জানতে পেরেছিলো। তাই তার গভীরে যাচ্ছিলো। যেটা শুনে সেতু যা তা বলছিলো। তাই নিজেই গোপনে সত্য খুজতে লাগলো। নাসিমকে ছারা কাউকে বলেনি... যদি বাকীরা মজা নেয়। যদি বলে এতিমের আবার নিজের পরিচয় জানার স্বাধ। সেই সত্যের সন্ধানে যেতো। অথচ যেই সেতুর ভয়ে কথাটা কনিকা গোপনে রেখেছিলো সেই সেতুই সুযোগ বুঝে কবিরের কান ভরেছিলো। মিথ্যা ছবি, মিথ্যা প্রমান সব বের করেছিলো। কবিরও বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছিলো। সেতু এটাও প্রমান করেছিলো যে মেরিন রনকের ছেলে। তবে মেরিনের নামে খান বাড়ির সব সম্পত্তি থাকায় মেরিনকে সাথে নিতে বাধা দিয়েছিলো কনিকাকে...
কবির কনিকাকে মেরিনের কসম দিয়েছিলো যেন কনিকা আর কখনো ওদের সামনে না আসে। আসলে মেরিনের মরা মুখ দেখবে। তাই কনিকা এতোদিন কারো সামনে আসেনি। নাসিম যখন মাজার থেকে এসে সব শুনলো তখন কনিকাকে খুজতে বেরিয়ে গেলো। কিন্তু নিলয় এসে তাকে আটক করে ফেলল। তাই সেও আর ফিরলোনা।
}}}
.
পরদিন...
মেরিনের ঘুম ভাঙলো । দেখলো ও মায়ের বুকে।
কনিকা : good morning বাচ্চা...
মেরিন : আম্মু.....
নীড় : বলি হলো মা-মেয়ের ঘুম হলো...?
কনিকা-মেরিন পিছে ঘুরলো।
নীড় : good morning...
কনিকা : good morning ...
নীড় : তারাতারি fresh হয়ে নাও ২জন... আধাঘন্টার মধ্যে press conference আছে...
২জন অবাক হলো।
মেরিন : press conference ?
নীড় : হামম। hurry up...
একটুপর press conference হলো। সেখানে সবার সামনে কনিকার গায়ে মাখা কালির দাগ মুছে দিলো নীড় । সেই সাথে বেরিয়ে এলো কনিকার আসল পরিচয়। কনিকা হলো মাহমুদ বংশের মেয়ে।
.
কিছুক্ষনপর...
সবাই বসে আড্ডা দিচ্ছে। কিন্তু মেরিন নেই। নীড় মেরিনকে খুজছে। সিড়ির দিকে তাকালো। দেখলো off-white রঙের ১টা শিফনের শাড়ি পরে চুল গুলো ছেরে দিয়ে নামছে। শাড়িতে চিকন গোল্ডেন রঙের পার। কোনো সাজ নেই। কেবল নাকে নাকফুল কানে দুল, হাতে চুরি, গলায় ছোট্ট ১টা চেইন। হাতে ১টা envelopeও আছে। নীড় সেটা নিয়ে মাথা ঘামালোনা। কারন ও মেরিনকে দেখতে ব্যাস্ত। বউ বউ লাগছে। মেরিনের মুখে ১প্রশান্তির হাসি । মেরিন এসে নীড়ের সামনে দারালো। নীড় বসা থেকে উঠে দারালো।
মেরিন হাসি দিয়ে বলল : ধন্যবাদ...
নীড় : !!!
মেরিন : খামটা আপনার জন্য। ধরুন...
নীড় ধরলো।
মেরিন: খুলে দেখুন।
নীড় খুলল। ভেতরের কাগজটা পড়ে সাংঘাতিক ক্ষেপে গেলো। কারন এটা divorce paper ..
ঠাস করে ১টা থাপ্পর মারলো।
.
চলবে...
অনুভূতি
#অনুভূতি_সিজন🍁২
#Roja_islam
#part 29
৮ বছর পড়.....
ডাইনিং এ বসে বর্ণ! হাতে তার খাবার প্লেট পাশে বসে আদ্রিতা! বর্ণের মেয়ে! বর্ণ খাইয়ে দিচ্ছে তার মেয়েকে। ৭ বছর এর মেয়েটা বড্ড পাকা তোতা পাখির মতো পটর পটর করছে আর খাচ্ছে! বর্ণ অতি উৎসুক দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তা শুনছে। সারাদিন স্কুলে কি করেছে সেটা বানিয়ে চরিয়ে বলছে আদ্রতি তার বাবাকে! অনেক ইতিহাস বানিয়ে চরিয়ে বলে কিছুক্ষণ চুপ থাকে আদ্রিতা। তা দেখে বর্ণ সরু চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে!
.
-- কি চাই আমার তোতা পাখির???
-- আর দেরি করেনা আদ্রিতা বলে উঠে। বাবা কাল আমার সাইকেল চাই আমিও রাফির মত সাইকেল চালিয়ে বিকেলে খেলবো৷ তার পর রাফির সাথে ঘুরতে যাবো৷
.
কথাটা বলেই আদ্রিতা ভীতু চোখে তাকায় বাবার দিকে!! বর্ণ কপাল কুচকে আদ্রিতার দিকে তাকিয়ে বললো।
.
-- হ্যাঁ রাফির সাথে ঘুরতে গিয়ে তারপর মার খেয়ে ভ্যা ভ্যা করে কান্না করতে করতে বাড়ী ফিরবে তাই তো??
-- আদ্রিতা এবার হেসে কুটিকুটি হয়ে বললো৷ হিহি বাবা একটা সিক্রেট বলি তোমায় কাউকে বলোনা মা কেও না!! আমায় রাফি কখনো মারে না। আমি ওকে মেরে কেদেদি জেনো ও আমায় না মারে আর ভয়ে কাউকে কিছু না বলতে পারে বুঝেছো?? ভালো বুদ্ধিনা 😎
-- বর্ণের হাসি পেলেও মেয়ের বুদ্ধিতে খুশী হলো৷ তাও বললো৷কিন্তু আমার তোতা পাখি রাফিকে মারে কেনো??
-- কারণ ও আমার থেকে বেশী মিলির সাথে পটর পটর করে বাবা এটা আমার একদম পছন্দ নয়৷ ও কেনো মিলির সাথে কথা বললে বলো আমি আছি তো জানি??
.
বর্ণের মাথায় ঢুকছেনা এই টুকুনি মেয়ের ব্যাপার স্যাপার। এই টুকু মেরের জেলাসিও থাকে জানতো না বর্ণ!! এর মধ্যে পিছন থেকে আদ্রিতা তার মার কণ্ঠ শুনে ভীতু চোখে বাবার দিকে তাকিয়ে বলে উঠে!
.
-- বাবা মাকে বলে দিও না কিন্তু!!
-- বর্ণ মাথা দোলায়! হু?
-- কি করছো তোমার এখানে??
-- আদ্রিতা মাকে বলে উঠে। আম্মু বাবা আমায় সাইকেল কিনি দেবে বলেছে!!
.
আদ্রিতার কথায় বর্ণ তার বৌ এর মুখ এর দিকে তাকিয়ে মুখ কাচুমাচু করে। কারণ তার বৌ রেগে তার দিকে তাকিয়ে আছে। তা দেখে বর্ণ নিজেকে বাঁচাতে বলে উঠে।
.
-- তোতা পাখি আমি বলেছি না তুমি চেয়েছো??
-- আদ্রিতা রেগে বললো। ছিঃ বাবা তুমি মাম্মার ভয়ে আমার দোষ দিচ্ছো??
-- বর্ণ কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা। ইয়ে মানে....
-- চুপ করো তোমরা দু জন। তোমাদের জন্য আমি শান্তি পাচ্ছিনা জাস্ট!!পাগল হয়ে যাবো আমি। কি পেয়েছো তোমরা?? পুরো শহরের বিচার আমার বাসায় আনবে?? তাই তো সাইকেল কিনে দিচ্ছো মেয়েকে?? এই এই মেয়েরা সবাইকেল চালায়??
-- আরফা সরি আসলে সত্যি আমি বলি নি কিনে দিবো!!
-- বর্ণের কথায় আদ্রিতা এবার রেগেই বললো। বাবাই কাট্টি।তুমি মিথ্যে বলছো আমার নামে। বলেই আদ্রিতা হন হন করে চলে গেলো।
-- বর্ণ অসহায় দৃষ্টিতে আরফার দিকে তাকিয়ে বললো। আরফা আমি সত্যি বলছি বিশ্বাস করো আমি বলিনি!!
-- আরফা রেগে চিৎকার করে বললো৷ কেনো বলো নি কেনো?? কয় টা সাইকেল বাপ বেটি মিলে ভাংছো হিসেব আছে আরো কিনে দাও আরো ভাঙো আমার কি আমার কথা তুমি তোমার মেয়ে শোনো?? পুরো শহরের বিচার আনাও বাসায় আমার কি? প্রতিদিন ১০০ টা বিচার আসে বাসায় তোমার জন্য আমি কিছু বলতে পারিনা তোমার মেয়েকে। এবার আমি পালিয়ে যাবো এই সংসার থেকে৷আমি জাস্ট আর পারছিনা!!
.
আরফা হাবিজাবি বলতে বলতে চলে গেলো। বর্ণ ভোতা মুখ করে বসে রইলো। এই টুকুনি মেয়ে তার কিভাবে ফাসিয়ে দিলো তাকে। সে ভেবে পাচ্ছেনা!! বর্ণ প্লেট ডাইনিং এ রেখে হাত ধুয়ে আরফার পিছন পিছন গেলো বৌ এর রাগ ভাঙাতে।
.
-- আরফা এই শোনো না??
-- তুমি কথা বলবেনা!! তোমরা কি ভেবেছ আমি শুনিনি ও রাফিকে মারে আমি সব শুনেছি। তোমরা মেয়ে কত দুষ্ট আর তুমি ওকে কিছুই বললে না সব শুনার পর ও??
-- আরে বাবা ও বাচ্ছা মেয়ে বুঝেই কত টুকু বলো??
-- ও বাচ্ছা??
.
অদের কথার মাঝেই কানে এলো রাফির কান্নাকাটি আরফা বর্ণ দৌড়ে গেলো বাইরে। গিয়ে দুজন হকচকিয়ে গেলো কারণ৷ আদ্রিতা রাফির পিঠে চরে তাকে মারছে আর রাফি নিচে শুনে চিৎকার করে কাদছে! হাত পা ছুড়াছুড়ি করে। আরফা বর্ণ দৌড়ে যায় দুজনকে ছাড়াতে কিন্তু হাজার চেয়েও ছাড়াতে পারছেনা আদ্রিতাকে সে কিল-ঘুষি দিয়েই যাচ্ছে রাফির পিঠে আর চিৎকার করছে৷ আরফা না ছাড়াতে পেরে মাথায় হাত রেখে বসে পড়ে বর্ণ অনেক কষ্টে ছাড়ায় রাফিকে৷ আর জিজ্ঞেস করে আদ্রিতাকে।
-- তোতা পাখি কেনো মারছো ওকে??
-- বাবা ও আবার মিলির সাথে কথা বলেছে!
-- রাফি করুণ স্বরে বলে উঠে। তোতা পাখি আমি সত্যি কথা বলিনি ওই নিজেই এসে কথা বলেছে৷
-- এই কে তোতা পাখি আমি শুধু মাত্র বাবার তোতা পাখি আর কাউর না।
-- হিহি তুমি আমার তোতা পাখি বাবা না। বলেই রাফি দৌড়৷
.
আদ্রিতাও রাফির পিছন দৌড়। আরফা আর বর্ণ নিজেদের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে ফিক করে হেসে দিলো আদ্রিতা রাফির কথা শুনে। বর্ণ হাসতে হাসতে বললো!
.
-- আদ্রিতা একদম বেলার মতন হয়েছে বেলা ও..... এই টুকু বলেই চুপ হয়ে যায় বর্ণ।
-- আরফা হাসি থামিয়ে বর্ণের হাত ধরে নিয়ে ড্রইং রুমে বসায়। নিজেও পাশে বসে বর্ণের কাধে মাথা রেখে বলে উঠে। তুমি মিস করো খুব বেলা কে তাই না?
-- বর্ণ আরফার দিকে তাকিয়ে বললো। তুমি মিস করোনা রাফিন কে??
-- ভীষণ!!
-- আমিও বেলাকে মিস করি ভীষণ!! জানো??
-- কি?
-- আদ্রিতাকে এতো ভালোবাসার কারণ??
-- কাউকে ভালোবাসার কারণ থাকে??
-- আদ্রিতাকে ভালোবাসার আলাদা একটা কারণ আছে আমার মনে!!
-- সেটা কি??
-- আদ্রিতার এই পাগলামো গুলো একদম বেলার মতো। বেলা বিয়ের পরেও প্রচুর বাচ্চা সভাবের ছিলো। সব কিছুতে দুষ্টুমি কতদিন যে খাবারে ঝাল মিসিয়ে খাইয়ে কাদিয়েছে। সেটা ও নিজেই জানত না৷ এই ঝাল ই আমার প্রথম কাছে আসার কারণ ছিলো। সব কতটা দ্রুত শেষ হয়ে গেলো আরফা! ওর জন্য আমার অনুভূতি গুলো মনেই দলা পাকিয়ে রইলো কিছুই বলা হলোনা আরফা কিছুইনা! কেনো এতো টা এলোমেলো হয়ে গেলো সব?
.
আরফা নিরবে মাথা নুইয়ে আছে। কিছুই বলার নেই যে। সেও তো ভাবে কোনদিন এভাবে আবার তাদের জীবনে ঝড় আসবে আর সব বদলে দিবে৷ কিন্তু এবার ওদের আলাদা করতে ঝড় আসেনি এসেছিলো ওদের এক করেদিতে। কিন্তু আরফা কোনদিন স্বপ্নেও এভাবে তাদের মিল হক সে চায় নি।চায়নি কাউর প্রাণ যাক। সেতো সব ভুলে নতুন করে শুরু করেছিলো। এটাও চেয়েছিলো।বর্ণ ভালো থাক বেলার সাথে তবে কেনো এমন হলো?
.
.
৮ বরছ আগে ঐদিন রাহি বেলাকে নিয়ে ডক্টর দেখাতে বের হয়। রাস্তায় তাদের গাড়ি টা এক্সিডেন্ট হয় মারাত্তক ভাবে। একটা বড় ট্রাক এর ধাক্কায় ওদের গাড়ি একটা বড় খাদে পড়ে যায়। ড্রাইভার এর বডি দুইদিন খুজার পড় পানি থেকে উদ্ধার করা হয়৷ রাহি আর বেলাকে গাড়ি থেকেই পাওয়া যায় এক্সিডেন্ট এর দিনি। কিন্তু বেলাকে তখনি মৃত ঘোষণা করা হয়। রাহির পালস চলছিলো তাকে ইমেডিয়েটলি হস্পিটাল এডমিট করা হয়। পরিবারের সবার কানে এই নিউজ যাওয়ার সাথে সাথেই সবার পাগল হয়ে যাওয়ার অবস্থা। সব থেকে অবস্থা খারাপ ছিলো। বর্ণ ও বেলার চাচ্চুর। বেলার চাচ্চু যে বেলাকে এতোটা ভালোবাসে তা দেখে ফ্যামিলির সবাই হতভাগ ছিলো৷ বেলার চাচী ইমান অজ্ঞান ছিলো কেদে। বর্ণ পাগলের মতন ছিলো বেলাকে হারিয়ে শুধু রাহির পাশে বসে ছিলো সে তাকে বোনের কাছ থেকে দূরে নেওয়া যায়নি তার ধারণা ছিলো রাহিকে একা ছাড়লে রাহিও বেলার মতন দূরে চলে যাবে। বর্ণ সব বুঝতে পারছিলো বেলা তাদের মধ্যে আর নেই কিন্তু সে এটা কিছুতেই মানতে পারছিলোনা মেয়েটা নেই আর তার কাছে। ঐদিকে বর্ণের বাবা ছেলে বৌ আর মেয়ের এই অবস্থা দেখে। স্ট্রোক করেন উনাকেই রাহির সাথে এডমিন করা হয় উনি এই অতিরিক্ত চাপ নিতে পারেন নি।অবশেষে বর্ণের বাবাকে হস্পিটাল এ রেখেই বেলা আর ড্রাইভার এর দাফন কাজ সম্পূর্ণ হয়। বর্ণ বেলা আর ড্রাইভার এর দাফন কাজের সময় থেকে কেমন শক্ত হয়ে যায়! সে শুধু নিচে তাকিয়ে থাকতো। খুব কষ্ট এর মাঝে ৭ টা দিন বেলা ড্রাইভার এর শকে চলে দুই পরিবারের বর্ণকে খুব সাপোর্ট করে ইমান বেলার চাচ্চু নিজের মেয়ে বোন হারিয়ে ও৷ ৭ দিনেও রাহির অবস্থা খুব একটা ভালোনা। ডক্টর ঠিক করে কিছু বলতেও পারেনা আধো রাহি ঠিক হবে কিনা। এর মধ্যে বর্ণের জন্য আরো কষ্ট চলে আসে বর্ণের বাবার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়৷ তিনি ছেলেকে দেখতে চায়। কিন্তু বর্ণ রাহির পাশ থেকে উঠেইনা তাকে এক প্রকার জোর করেই তার বাবার কাছে নেওয়া হয়। বর্ণ তার বাবার বেহাল চেহারা করুণ অবস্থা দেখে দৌড়ে গিয়ে বসে বাবার পাশে হাত ধরে পাগলামো শুরু করে বর্ণ।
.
-- এই বাবা তুমি ও চলে যাবে বেলার কাছে?? যেওনা বাবা আমি একা হয়ে যাবো বেলাকে ফিরে আসতে বলো বাবা আগের মতো এনে দাও ওকে বাবা৷ বর্ণ চিৎকার করে বাবার হাত ধরে কাদে।
-- বর্ণ এর বাবা ছেলের হাহাকার সহ্য করতে পারেনা বহু করে বলে উঠে। আমায় ক্ষমা করে দে বাবা আমি তোদের ভালো চাইতে গিয়ে সব সময় তোদের খারাপি করে ফেলেছি। আমায় ক্ষমা করে দে।
.
এর একদিন পর বর্ণ এর সামনে তার বাবা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। বর্ণ আর ঠিক থাকতে পারেনি পাগলামো শুরু করে৷ রাহির কথাও সে ভুলে যায়। এক প্রকার অসুস্থ হয়ে পড়ে বর্ণ। তাকে কোনভাবেই স্বাভাবিক করা যায়নি। বেলার চাচ্চু হতভাগ হয়ে পড়ে ডক্টর বর্ণকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। বর্ণকে কিছুতেই স্বাভাবিক না করতে পারায়। বর্ণকে ছাড়াই বর্ণের বাবার দাফন কাজ সম্পূর্ণ করে। সবার প্রচুর খারাপ লাগে বর্ণের জন্য যথাসম্ভব সবাই পাশে থাকে বর্ণের৷ রাহির তখনো কোন জ্ঞান নেই সে জানেই না সে কত প্রিয় মানুষ কে হারিয়েফেলেছে তার বাবা ভাবী বেচে নেই৷ জানবে কিভাবে সে নিজেও যে মৃত্যুর সাথে লড়ছে।
.
১ মাস পেরিয়ে যায় বর্ণ আস্তে আস্তে মানোসিক রোগীতে পরিনত হয়। আল্লাহ জেনো বর্ণকে জীবনের সব কষ্ট এক বারে দিয়েছেন এই ১ মাসে। কিন্তু আল্লাহ দোয়া শিল তার দোয়ায় রাহি আস্তে আস্তে অনেক টা সুস্থ হতে থাকে। এতোটা কঠিন সময় সবাই পার করছিলো বর্ণ আর রাহিকে নিয়ে। যে তাদের কষ্টের ও সীমা ছিলো না। রাহির সুস্থতা দেখে সবার মনে একটু শাস্তি অনুভব হয়। বর্ণের অসুস্থতার পর ইমান ছিলো রাহির আগে পিছে। ইমান এমন ভাবেই রাহির পাশে ছিলো জেনো রাহি নয় বেলা অসুস্থ। রাহির সুস্থতায় সবার ভালোলাগলেও দুশ্চিন্তার শেষ ছিলোনা। চিন্তা একটাই এতোকিছুর পর মেয়েটা সুস্থ হচ্ছে এখুনি সব শুনলে তার কি অবস্থা হবে?? সব শুনে তো এভাবেই মরে যাবে রাহি। সবাই সিদ্ধান্ত নেয়। রাহিকে এখুনি কিছু জানাবেন না৷ কিন্তু বললেইকি আর তা করা সম্ভব?? ৩ মাস এর শেষ এর দিকে রাহি সুস্থ হয় মোটামুটি ভালোভাবেই। কিন্তু বর্ণের অবস্থা ততই খারাপ। রাহি পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগ থেকে ভাই ভাবী বাবাকে খুজে অস্থির কিন্তু ইমান বেলার চাচ্চু সব সামলে নেয়। রাহিও অসুস্থ অবস্থায় এতো চাপ দিতে পারেনা। কিন্তু রাহি পুরোপুরি সুস্থ হলে একদিন ইমান সব বলে দেয় রাহিকে। রাহি খুব কাদে কিন্তু ভেঙে পড়ে না। রাহি বরাবরই বুদ্ধিমান একটা মেয়ে। সে বুঝে যায় এখন তারো দুর্বল হলে চলবেনা। তার ভাইকে সুস্থ করতে হবে তার পাশে দাড়াতে হবে তাকে। বর্ণকে এভাবে অসুস্থ হতে দিতে পারেনা রাহি৷ সব জানার পরের ১ ঘণ্টার মধ্যেই বর্ণের সাথে দেখা করতে যায় রাহি। বর্ণকে মানোসিক হস্পিটাল এ রাখা হয়েছিলো৷ বর্ণের ঐখানের অবস্থা দেখে রাহি এক মুহূর্তের জন্য ভেঙে গুরিয়ে গিয়েছিলো । বর্ণ একি তার ভাই চিনছিলোনা রাহি। রোগী নয় পাগল বলবে যে কেউ বর্ণকে৷ রাহি এসব সহ্য করতে পারেনা ভাইকে নিয়ে বাড়ী ফিরে তৎক্ষনাৎ। রাহি বেলার চাচ্চু ইমান আর চাচীকে তাদের বাড়ীতেই থাকতে জোর করে। তারা রাজী হয়ে যায় দুই টা মানুষ কে এভাবে তো একা ছাড়া যায়না। বর্ণ কে বাড়ী আনারপর রাহিকে দেখেও চিনতে পারেনি তার বোনকে। বর্ণ পুরো পাগলের মতো আচরণ করে। সারাদিন আবোলতাবোল বকে কি জেনো। রাহি বুঝতে পারে অতিরিক্ত চাপ পরেছে বর্ণের উপর। বর্ণ ঐ ঘটনা মানতে পারেনি। রাহি বর্ণকে নিজে হ্যান্ডেল করার চেষ্টা করে ব্যার্থ রাহি শেষে বড় বড় ডক্টর দেখায়। এর পর প্রায় ২ বছর পড় ডক্টর এর পরামর্শ আর রাহি বেলার ফ্যামিলির সেবায় বর্ণ সুস্থ হতে থাকে৷ পুরোপুরি সুস্থ হয় বর্ণ আরো ১ বছর পড়। সুস্থ হওয়ার পড় থেকেও বর্ণ চুপচাপ ই থাকতো রাহি বলতোনা কিছু কারণ রাহি জানে বর্ণ বেলাকে নিয়েই ভাবে অনুশোচনায় ভোগেন বর্ণ। কিন্তু মুখে কিছুই প্রকাশ করেনা বর্ণ। কার কাছে করবে? যার কাছে করা দরকার সেত ঝড়ের বেগে চলে গেছে দূরে কোথাও। এখন বেলার কথা মনে পড়লেও বর্ণের চোখে ভাসে বেলার রক্তে ভেজা শরীরটা ফ্যাকাসে ক্ষতবিক্ষত মুখটা। আর ঝাপসা হয়ে আসে চোখ দুটো। সব অনুভূতি তখন একত্রে চোখের পানি হয়ে গরিয়ে পরতে চায় বর্ণের।
.
.
রাহির অনেক বলায়। বর্ণ আবার তাদের অফিস জয়েন করে যেটা আপাদত অফিসের মেনেজার দেখছিলো৷ অফিস জয়েন করার পড়ে বর্ণ আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে পা রাখে। বেলার ফ্যামিলিকেও বর্ণ আর যেতে দেয়নি তারা রাহি আর বর্ণের সাথেই থাকে। বর্ণ সুস্থ হওয়ার পড় বেলাদের বাড়ী যায় ইমান কে নিয়ে। বেলার রুম থেকে তার প্রান প্রিয় পাখি গুলো আনতে। এনেছিলো ও কিন্তু সেগুলো মরে যায় অল্পদিন পড়েই কষ্ট হয় বর্ণের প্রচুর পাখি গুলো মরে যাওয়ায়। বর্ণ স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও। সে সারারাত জেগে থাকে সেই ডাইরিতে কিজেনো লিখে সারারাত হয়তো বেলাকে বলতে না পারা তার অনুভূতি গুলো লিখেই পার করে বর্ণ রাত টুকু। কারণ রাতেই বেলার মুখ টা তারা করে তাকে।ঘুমুতে দেয়না বর্ণকে।
.
বর্ণের দিন গুলো এভাবেই চলছিল।তখনো বর্ণ ভাবেনি তার অতীত তার বর্তমান হবে আবারো। আরফা তার হবে আবারো৷ বর্ণ অফিস এর কাজে সিলেট যায়। সেটা প্রথম সুস্থ হওয়ার পর দূরে যাওয়া ভাবেনি বর্ণ তার জীবন এভাবে বদলে যাবে৷ কাজ শেষে ফিরার পথে দেখা হয় আরফার সাথে বর্ণের৷ আরফা তার শাশুড়ী তার মেয়ে আদ্রিতা এবং ননদীর সাথে বেরাতে যাচ্ছিলো। বর্ণ দূরে গাড়ি থেকেই আরফাকে দেখেছিলো। বর্ণের গাড়ী অনেক টুকুই চলে যায় বর্ণ থামাতে বলেনা গাড়ী ড্রাইভার কে৷ তারপর হঠাৎ ই মাথায় আসে সে আরফাকে কত কষ্ট দিয়েছে তার একবার অন্তত ক্ষমা চাওয়া উচিৎ আরফার কাছে৷
.
.
আরফা সবাইকে নিয়ে রাস্তা পার হবে পিছন থেকে নিজের নাম শুনতে পেয়ে আরফা পিছন ঘুরে অবাক না হয়ে পারেনা!! বর্ণ তার দিকে দৌড়ে আসছে কিছুদূর থেকে আরফা অবাক হয়ে তাকিয়ে রয় বর্ণের দিকে। কত বছর পড় দেখছে আরফা তার এক সময় এর এই প্রিয় মানুষ টাকে। আসলেই কি এক সময় এর শুধু? না সব সময়েরি কিন্তু সেটা অতীত হিসেবে৷
.
বর্ণে দৌড়ে আরফার সামনে এসে দাড়িয়ে ফাপাতে থাকে তার পর ফ্যাকাসে হেসে বলে।
.
-- ভালো আছো??
.
আরফা কি বলবে ভেবে পেলোনা৷ আরফা তার শাশুড়ী আর ননদ এর দিকে একবার তাকায় তারা বর্ণের দিকে তাকিয়ে আছে। আরফার কোলে ফুটফুটে আদ্রিতাকে দেখে বর্ণ আবার বলে।
.
-- এটা তোমার মেয়ে??
-- হু। বলেই আরফা শ্বাশুড়ি কে বলে উঠে৷ মা ও বর্ণ,, বর্ণ চৌধুরী আমার...
.
আর কিছু বলতে পারেনা আরফা। তার আগেই মহিলা এসে বর্ণের হাত চেপে ধরে বর্ণের নাম শুনেই। বর্ণ আরফা অবাক হয়। তিনি কোনো কথা না বলে বর্ণকে সাথে নিয়ে রাফিনদের বাড়ী নিয়ে যায়৷বর্ণকে এক প্রকার জোর করে। আর বর্ণকে বলে তার বাবাকে এখানে আসতে বলতে।তাতে বর্ণ অবাক হয়ে বলে।
.
-- আমার বাবা বেচে নেই।
.
বর্ণের কথা শুনে আরফা অবাক হয় সাথে কষ্ট পায় বর্ণের জন্য।সে চলে যায় সেখান থেকে।আর বাবা নেই শুনে মহিলা বর্ণের হাত চেপে ধরেই বলে উঠে৷
.
-- তোমার আরফাকে বিয়ে করতে হবে আজি তুমি তোমার ফ্যামিলির কাউকে ডাকো এক্ষুনি।
.
এই কথায় বর্ণ অবাক এর শেষে৷ কিন্তু সাফ না করে দেয় সে৷
.
-- আমি পারবোনা আমার...... !
-- মহিলা রেগে বললো৷ কেমন ভালোবাসা তোমার মেয়েটা তোমার জন্য কতটা পাগল তুমি জানো৷
.
মহিলা আরফার রাফিনের বিয়ের প্রথম দু বছর এর আরফার তার জন্য করা সব পাগলামোর কথা খুলে বলে বর্ণ অবাক না হয়ে পারেনা সব শুনে। বর্ণ ভাবে সে কতটা ঠিক কতটা ভুল বুঝেছিলো আরফাকে। তার প্রচুর অনুশোচনা হলে বর্ণ আরফাকে বিয়ে করতে পারবেনা মনে মনে ঠান নেয় কারণ৷ বিয়ে করলে বেলাকে ঠকানো হবে৷ বর্ণ মহিলার সাথে পেরে উঠে না তিনি ইমোশনাল করে ফেলতে চাইছে বর্ণকে সে না পেরে রাহিকে কল লাগায়। রাহি জানায় সে আসছে সেখানে এড্রেস দিতে বর্ণ দিয়ে দেয়৷ এসবের কিছুই আরফা জানেনা না আরফা কিচেনে ছিলো। ঐদিন রাতেই রাহি কাজী সহ হাজির হয় আরফার শ্বশুর বাড়ী। আরফার শাশুড়ীর সাথে একা কথা বলে প্রায় ২ ঘণ্টা রাহি। আর সেদিন রাতেই তাদের বিয়ে হয়ে যায়৷ বর্ণ যদিও কিছুতেই রাজী ছিলোনা কিন্তু রাহি ভাইকে কান্নাকাটি করে রাজী করায়। আর আরফা এসবে পুরোটা সময় হতবিহ্বল হয়ে দাড়িয়ে ছিলো। আরফা ঘোরে ছিলো ঘোর কাটে যখন ওকে ওর ননদ আর রাহি বাসর ঘরে পাঠায়। আর সেখানে আরফা আদ্রিতা আর বর্ণের বন্ধুত্ব হতে দেখে। আরফা আর কিছু না ভেবে ওয়াশরুমে যায় দৌড়ে আর চিৎকার করে কাদে। বর্ণ আদ্রিতা শুনতে পায় সেই কান্না। দুজনেই তাকিয়ে থাকে ওয়াশরুমের দরজায়। বর্ণ সেদিকে তাকিয়ে থেকেই কোলে থাকা ছোট্ট আদ্রিতাকে জিজ্ঞেস করে
.
-- তোমার বাবা কোথায়??
.
ছোট্ট আদ্রিতা মাথা দুলায় শুধু সে দিন। ঐদিন এর পর দিন থেকে আরফা বর্ণের জীবন নতুন করে শুরু হয়৷ বেলা ফ্যামিলি আরফা বর্ণ রাফি এক সাথে পরিবারের মতন ই থাকে আরফাকে মেনে নেয় বেলার চাচী চাচ্চু। কিন্তু ইমান এর মন বুঝা যায় না...... ৷আরফার রাফিনের বাসায় যায় মাঝেমধ্যে তার শাশুড়ী রূপে মাকে দেখতে৷ আরফার মা বাবাও এখন মেয়ের খুশীতে খুশী৷
.
বর্ণ আরফার কোলে মাথা রেখে সোফায় শুয়ে এতোক্ষণ অতীত এত স্মৃতি চারন করছিলো। আদ্রিতার মাথা দুলানো টা চোখে ভাসতেই সে চোখ খুলে আরফার দিকে তাকালো!! আরফা এক মনে বর্ণের চুলে বিলে কেটে দিচ্ছে। কিন্তু চোখ তার জানালা পেরিয়ে আকাশের দিকে৷ বর্ণ আবার চোখ বন্ধ করেই জিজ্ঞেস করলো আরফাকে।
.
-- আরফা আদ্রিতার বাবার কি হয়েছিলো??
-- আরফা চমকে বললো। ডোন্ট ট্যাল মি। তুমি এখনো জানোনা?? আমাদের বিয়ের কত গুলো বছর পেরিয়ে গেছে!!
-- রাহি বলতে চেয়েছিলো আমি শুনিনি৷ আমি শুধু জানি আদ্রিতার বাবা রাফিন আর বেঁচে নেই!!
-- শুনোনি কেনো আমিতো শুনেছিলাম রাহির কাছে বেলার কথা।
-- আরফা??
-- হু??
-- তুমিকি বিয়ের পর কোনদিন আমায় ভুলতে পারোনি?? ভালোবাসোনি রাফিনকে৷
-- রাফিনকে ভালোবেসেছি আমি তোমার পড়ে কিন্তু তোমায় ভুলতে পেরেছি কিনা জানি না৷ কারণ রাফিনকে ভালোবেসে ফেলেছি বুঝতে পেরে ওর সাথে নতুন করে শুরু করেছিলাম সব ভুলে। কিন্তু ভুলেও ভুলতে পারতাম না তোমায়৷ মাঝেমধ্যে তোমার কথা আমার মাথায় চরে বসতো আমি অস্থির হয়ে উঠতাম। ঐ সময় এর অনুভূতি টুকু কি ছিলো তার নাম আমি জানিনা...
.
আরফা কে অস্থির হতে দেখে বর্ণ উঠে জরিয়ে ধরে আরফাকে৷ তার পর বলে উঠে।
.
-- বলবে কি হয়েছিল আদ্রিতার বাবার সাথে??
.
বর্ণের বুকে মাথা রেখেই আরফা বলতে শুরু করে।
.
.
চলবে..
[ অনেক চেষ্টা করলাম আজকেই শেষ করার হলোনা। আর হ্যাঁ এখন গল্প টা ভালো না লাগলে আমার কিছু করার নেই কারণ আমি এভাবেই শুরু থেকে গল্প সাজিয়েছি। সব কিছুর হিন্ড ও আমি দিয়েছি আগেই। যে এমন হবে। আপনারা না বুঝলে আমারকি? 😑]
Roja Islam
Love 6
#বেলী_ফুলের_মালা
#Mihrima_Mitali
#পর্ব_২২
আবির হা করে তাকিয়ে আছে.... পাগল মেয়ে নাকি? রুহীর সাথে তর্ক করে লাভ নেই, তাই কিছু না বলে বেরিয়ে গেলো....
রুহী গোসল সেরে শাশুড়ীর সাথে সময় কাটাচ্ছে.. দুই ঘন্টা পর আবিরের ফোন....
- কি করছো পাগলী...?(আবির)
- এই তো আম্মুর সাথে গল্প করি...( মলিন হাসি হেসে রুহী)
- রেডি হয়ে নাও... আমি আসছি...(আবির)
- মানে কি...? (অবাক হয়ে রুহী)
- মানে আবার কি..? বাইরে যাবো তোমার সাথে... দ্রুত রেডি হয়ে নাও... আমি আসছি....(আবির)
- ওকে.....(রুহী)
- কি রে মা..? কি হয়েছে...? (আবিরের আম্মু)
- আম্মু তোমার ছেলের ফোন, আমাকে রেডি হতে বলল.... কোথায় নাকি যাবে..... আমি এখন উঠি.....(রুহী)
- আচ্ছা, যা.....(আবিরের আম্মু)
রুহী রুমে এসে রেডি হচ্ছে, এর মাঝেই আবির হাজির.....
- তোমার হলো.…?(আবির)
- ও বাবা, এতো তাড়াতাড়ি তুমি চলে এসেছো...?(রুহী)
- হুমম আসলাম..... কাজ শেষ তাই চলে আসলাম....(আবির)
- কি কাজে গিয়েছিলে....? (চুল চিরুনী করতে করতে রুহী)
- পরে বলব, এখন তুমি তাড়াতাড়ি করো.... চুল খুলে রাখবে না কিন্তু....(আবির)
- কেন....?(রুহী)
- আমি চাই না কেউ দেখুক..... আমি যেমন দেখে অজ্ঞান হচ্ছিলাম তেমন আর কেউ না হোক...(আবির)
- ঢঙ... আমি এমনিতেই চুল খোলা রাখি না.... খোঁপা করে ফুলের মালা নিই....(রুহী)
- সেদিন যে আভার কলেজে গেলে.... আমার মেজাজ তো ওই জন্যই আরও খারাপ হয়েছিলো...(আবির)
- ওওও হিংসুক একটা..... ওই দিন তো আভা বার বার বলছিলো.... সেইজন্য গিয়েছিলাম.... (রুহী)
- হুমম.... চলো এবার....
🌺
একটা রেস্টুরেন্টে মুখোমুখি বসে আছে রুহী ও আবির... অর্ডার করা এমনকি খাওয়াও শেষ তবুও আবিরের ওঠার নাম নেই.....
- কি হলো.….? উঠবে না....?(রুহী)
- না, চুপচাপ বসে থাকো......(আবির)
- কেন....? (রুহী)
-........(আবির চুপচাপ ফেসবুকিং করে চলেছে, মেসেজিং করছে)
- আবির, আমরা কি কারও জন্য অপেক্ষা করছি....? (রুহী)
- হুমমম....(ফোনের দিকে তাকিয়েই আবির)
- কার জন্য....?(উৎসাহ নিয়ে রুহী)
- আরে বসেই থাকো না.... আসলেই দেখতে পাবে.... এতো কথা বলো কেন...?(আবির)
রুহী মুখ গম্ভীর করে বসে আছে.. ফোনটাও আনেনি.. খচ্চর সাদা বিলাই...... মনে মনে আবিরের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্দ্বার করে চলেছে রুহী.... হঠাৎ আবির বলল.....
- রুহী, তুমি উঠে ওই পাশের টেবিলে বসো...
- কেন..? ওখানে কেন বসবো...?(রুহী)
- এখন অন্তত এত কথা বলো না... প্লিজ যাও.....(আবির)
রুহী এবার আর কোনো কথা বলল না... চুপচাপ গিয়ে পাশের টেবিলে বসে পড়লো... আবিরের উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে.....
- তোকে তো আজ দেখে নেবো.. বেটা হনুমান... 😡 দেখি তোর কে এমন বিশেষ গেস্ট আসছে, যার সাথে মেসেজিং করতে গিয়ে তুই আমাকে ধমক দিস... আবার আমাকে উঠিয়ে পাশের টেবিলে বসতে বলিস....😡😡 শয়তান বেটা....(মনে মনে রুহী)
আবির এবার ফোনটা পকেটে রেখে বসে আছে... কিছুক্ষণ পর একটা লোক এলো আর আবির দাঁড়িয়ে পড়লো.....
- হাই, আমি আবির চৌধুরী..... (হ্যান্ডসেক করে আবির)
- আমি সাকিব আহমেদ...
রুহীর চোখ চড়কগাছ.... সাকিব এখানে, আবার আবিরের সাথে.... এই বজ্জাত এর জন্য আবির আমাকে ধমক দিলো.... এই উনার বন্ধু....😡
- কেমন আছেন...? (সাকিব)
- জি আলহামদুলিল্লাহ.. আপনি...?(আবির)
- অনেক ভালো.... তার উপর আপনার সাথে এভাবে দেখা হবে তা ভাবতেই পারিনি....
- তাই..(মুচকি হাসলো আবির) তো কি খাবেন...? কফি...? নাকি অন্য কিছু...? (আবির)
- কোল্ড কফি....(সাকিব)
আবির ওয়েটার ছেলেটাকে ডেকে অর্ডার করে দিলো.....
- আপনার নাম অনেক শুনেছি, কিন্তু আপনার সাথে কখনও দেখা হবে সেটা ভাবতেই পারিনি....(সাকিব)
- আমিও কখনো ভাবতেই পারিনি আপনাকে আমি এভাবে চিনবো....( ডেভিল মার্কা হাসি হেসে)
- আপনি হঠাৎ আমাকে.... এখানে... এভাবে ডাকলেন যে.....(সাকিব)
- আমার এলাকায় এতো ঘোরাঘুরি করেন, আর আমাকে চিনেন না, ব্যাপারটা কেমন হয়ে যায় না...? এইজন্যই.... (গম্ভীর গলায় আবির)
- মা মা মানে....?(ঢোক গিলে সাকিব)
- না না তেমন কিছু না (আবির)
এর মাঝে ওয়েটার কফি দিয়ে গেলো... আবির রুহীকে ইশারা করলো ওর পাশে এসে বসতে... রুহী আবিরের পাশে বসতেই আবির বলল....
- তো, পরিচয় করিয়ে দেই... এ হলো আমার ওয়াইফ... তাসফিয়া চৌধুরী রুহী...(মুচকি হেসে আবির)
রুহীকে দেখে সাকিব পুরো অবাক হয়ে গেছে... রুহী আবিরের ওয়াইফ... তবুও আবিরকে কিছু বুঝতে দিবে না ভেবে বলল....
- হায়...( কাঁপা গলায় সাকিব)
রুহী কিছু বললো না...
- আগে থেকেই চিনেন নাকি সাকিব সাহেব..?(আবির)
- না না না তো...(সাকিব)
- তাহলে তোতলাচ্ছেন কেন...?(আবির)
- ক ক কই...? (সাকিব)
- দেখুন, আমি অতো ভনিতা পছন্দ করি না.... স্ট্রেট কথা বলতে পছন্দ করি... আপনি হয়তো এবার বুঝতে পেরেছেন আমি আপনাকে কেন ডেকেছি.….?(আবির)
-............. (সাকিব চুপ)
- আপনাকে যদি নেক্সট টাইম আর রুহীর আশে পাশে দেখি, তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না.... আপনার সিনিয়র আমি, তবুও আজ সম্মান করে "আপনি" বললাম... কিন্তু তখন তুমিও নয়, তুই করে বলতে বাধ্য হবো.…...(আবির)
-..............
- আর আপনার ভাইকে ওই দেশ থেকে ফেরত এনে রিমান্ডে দেওয়ার ক্ষমতা আমার আছে... কথাটা মাথায় রাখবেন..... আমার কথা বুঝতে পেরেছেন....? (আবির)
- জি, জি.... আসলে আমি তো জানিনা রুহী আপনার ওয়াইফ......(সাকিব)
- জানতেন না আজ জানলেন.... আর যেন না হয়.....(আবির)
- না না কখনোই নয়..... আজকে তাহলে আমি উঠি.... পরে আবার কথা হবে....(সাকিব)
- আচ্ছা... আর কড়া কথা বললাম.... কিছু মনে করবেন না.... আসলে রুহী আমার জন্য সবচেয়ে বড় দূর্বলতা.…... ওর কোনো সমস্যা আমি মেনে নিতে পারি না... (মুচকি হেসে আবির)
- না না কোনো সমস্যা নেই..... আমি তাহলে আসি.....(সাকিব)
- আচ্ছা, ভালো থাকবেন.... (আবির)
- সরি রুহী... (রুহীর দিকে তাকিয়ে)
বলেই সাকিব বেরিয়ে গেলো... রুহী হা করে তাকিয়ে আছে.... একবার সাকিবের চলে যাওয়ার দিকে, আরেকবার আবিরের মুখের দিকে.....
- এই যে... হয়েছে.... আর হা করে থাকতে হবে না এবার বাসায় চলো....(তুড়ি বাজিয়ে আবির)
- হুমম চলো.....(রুহী)
- কাল থেকে নিয়মিত ক্লাস করবে....
পথে গাড়ি থামিয়ে আবির রুহীর জন্য অনেকগুলো ফুল কিনে এনে ওর হাতে দিয়ে আবার ড্রাইভিং শুরু করলো....
বাসায় পৌঁছে কলিং বেল বাজাতেই দরজা খুলে দিলো.... আবির ভিতরে চলে গেলো.. কিন্তু রুহী হা করে দাঁড়িয়ে আছে....
be continue..... 💖💖
💞 এখনও মন ভালো হয়নি.......🥺 গল্প লেখার কোনো আগ্রহ পাচ্ছি না.... 😔তাই আজ এক পর্ব দিলাম...☹ 💞
Love 5
Devil Husband💗
Part_13
Imtihan Imran
_ইমরান নিজের শার্ট খুলে নিচে ফেলে দেয়
_এই কী কী করছেন কী আপনি
_কোথায় কি করলাম
_শার্ট খুলছেন কেনো
-আমার ইচ্ছা আমি খুলছি
ইমরান সিনহার দিকে এগিয়ে আসে
_আমার দিকে এগিয়ে আসছেন কেনো
ইমরান সিনহার কাছে এসে সিনহাকে ঝাপটিয়ে জড়িয়ে ধরে
কানে ফিসফিস করে বলে
_আজকে তোমাকে ভালবাসতে চাই,প্লিজ আমাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করো না
সিনহা,ইমরানের কথা শুনে কেপে উঠে,ডেভিলটার এই মাত্র বলা কথা তার পুরো দেহে শিরশির অনুভূতি সৃষ্টি করেছে
সিনহা বুঝতে পারছে না,তার কী বলা উচিত
ইমরান সিনহার ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে আছে
_ Your lips so beautiful.I love it😍
ইমরান সিনহার ঠোঁট জোড়ায় নিজের ঠোঁট জোড়া মিশিয়ে দেয়
সিনহার দেহ কেপে উঠে
শিরা-উপশিরায় শিনশিন শুরু হয়ে যায়
সিনহা শান্ত থাকে,ইমরান কে বাধা দেয় না,বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে না,সে জানে বাধা দিয়ে লাভও হবে না
ইমরান সিনহার ঠোঁট জোড়া ছেড়ে দেয়,সিনহা নিচের দিকে তাকিয়ে আছে
ইমরান সিনহাকে বিছানায় শোয়ায়
আজকে মনে হয় ইমরানের কানে ফিসফিস করে কথা বলার রোগ হয়েছে,সিনহার কানে আবার ফিসফিস করে বলে,আই লাভ ইউ বউ♥
ইমরান সিনহার জামা খুলে নিচে ছুড়ে ফেলে দিয়ে সিনহার উপর ঝাপিয়ে পড়ে,ইমরান আজকে সিনহাকে পুরোপুরি নিজের করে নিতে চায়,সে চায় না এই সিনহাকে অন্য কেউ নিয়ে যাক।
মধ্যরাত ইমরান সিনহাকে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে সিনহার বুকের উপর মাথা দিয়ে খুব শান্তিতে ঘুমাচ্ছে।
সিনহার চোখে ঘুম নেই,সিনহা ভাবছে ডেভিলটার অস্তিত্ব, স্পর্শ সবকিছু আজকে তার দেহ জুড়ে বিরাজ করছে
সিনহার এখন কান্না করা উচিত
কিন্তু সিনহা কান্না করছে না
ডেভিলটার প্রতি কি সিনহার কোনো মায়া জমে গেলো নাকি
কিন্তু তা কি করে সম্ভব
ডেভিলটা কি মায়া জন্মানোর মতো কিছু করেছে,হয়তো করেছে
যেটা সিনহা এখন বুঝতে পারছে না
এইসব ভাবতে ভাবতে একসময় সিনহাও ঘুমিয়ে যায়
সকাল ৮ টা
সিনহার ঘুম ভেংগে যায়,ইমরান এখনো ঘুমিয়ে আছে
_ডেভিলের বাচ্চা ডেভিল এতো ঘুম কীভাবে যায়,রাতে তো আমাকে শান্তি দিলি না,এখনো কি শান্তি দিবি না(মনে)
এই যে উঠুন,ওই উঠুন
ইমরান নড়েচড়ে উঠলো কিন্তু তার ঘুম ভাংলো না
সিনহার এবার প্রচন্ড মেজাজ খারাপ হতে লাগলো
-ওই ডেভিলের বাচ্চা(চিৎকার করে)
চিৎকার শুনে ইমরান সিনহার উপর থেকে ধড়পড়িয়ে উঠে
সিনহা নিজেকে কাথা দিয়ে ঢেকে ফেলে
_সমস্যা কি তোমার,কে মরেছে
এতো জোরে চিৎকার দিলা কেনো(ধমক দিয়ে)
- চিৎকার দিবো নাতো কি করবো
আপনাকে কতোবার ডাকছি,আপনি উঠছেন না
-এইজন্য বুঝি পুরো এলাকা নিয়ে চিৎকার করবে(ধমক দিয়ে)
- পুরো এলাকা নিয়ে কখন চিৎকার করলাম
-তো কেনো চিৎকার করছো শুনি
-আপনি আমাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে ছিলেন,আমি উঠবো না, ফ্রেশ হবো না
এবার ইমরানের নজর সিনহার দিকে গেলো,কাথা দিয়ে নিজেকে আবৃত করলেও সিনহার সবকিছুই ইমরানের কাছে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে
-এভাবে লুচ্চার মতো তাকিয়ে কি দেখেন
- তাকালে সমস্যা কী,নিজের বউয়ের দিকেই তাকিয়েছি,অন্য কারো দিকে না
- নিজের বউ হলেও..
চলবে.
( ডেভিলের ভালোবাসার রাত😘)
Love4
#তোমায়_হৃদয়_মাঝে_রাখবো
#Writer_Shila_Akter
#part 19
আমি উঠে দাড়ালাম ছেলেটিকে দেখে।
- অনেক ক্ষণ ধরেই দেখছি এখানে এভাবে বসে আছেন তাই ভাবলাম একটু কথা বলি।
আমি ছেলেটির দিকে তাকিয়ে আছি এই ছেলের প্রশ্ন শুনে মনে হচ্ছে বসে থাকতে গেলে ও তার পারমিশন নিতে হবে এমনিতেই ভালো লাগছে না আবার এর কথা তবুও ও শান্ত দৃষ্টি তে তাকিয়ে রইল আগে কখনো দেখেছি বলে মনে পরে এ আবার কে।
- এই যে মিস কি ভাবছেন এতো।
হঠাৎ কথায় ঘোর কাটলো,,, জি
- আপনার বাড়ি কি এখানেই আসলে আপনাকে চিনিনা তো তাই।
আমি আর ও অবাক হয়ে তাকালাম ছেলেটির কথা বলে কী আমার এলাকায় আমাকে ই বলছে এখানেই কি না।
- জি
- ওহ আগে দেখেছি বলে মনে হয় না আপনি কি বাড়ি থাকেন না নাকি।
- আমি ও তো আপনাকে আগে দেখি নি। আপনার বাড়ি কই।
- আমার বাড়ি আমি এখানকার চেয়ারম্যানের ছেলে একমাস হয়েছে বাড়ি এসেছি। আপনার
এবার বুঝলাম এ তাহলে চেয়ারম্যানের শহরে ছেলে শুনেছি লাম কিন্তু কখনো দেখিনি আজই দেখলাম। আগে কখনো তো আসে নি বাড়িতে তার নানা বাড়ি শহরে সেও সেখানেই থাকতো।
- আপনার বাড়ি কোন পাশে।
আমি হাতে ইশারায় দেখিয়ে দিলাম।
- ওই দিকে তো আমার বাড়ি। কিন্তু আপনাকে তো আগে দেখি নি।
- আমি ঢাকা ছিলাম এতো দিন।
- ওহ তাই তো তোমার বাবার নাম টা কি?
এবার আর কিছু বললাম না বেশি বেশি এতো কিছু জেনে কি করবে বাবার কথা বলতে গাল বেয়ে দু ফোটা জল বেয়ে পরলো আর না দাঁড়িয়ে সামনের দিকে হাটতে লাগলাম। ওই লোকটি অবাক হয়ে ভাবছে কি হয়েছে আমার নিজে ও দৌড়ে আমার পাশে হাটতে হাটতে বলল.....
- এনি প্রবলেম আপনি চলে এলেন যে। আর কাদছেন কেন?
- দয়া করে আমার পিছু ছারেন আমার ভালো লাগছে না।
- কিন্তু কেন বাবার কথা বলা থে কাদছেন কেন?
আমি রাগি চোখে ওনার দিকে তাকালাম।
- ওকে ওকে কিছু বলছি না। আপনার নামটাকি জানা যাবে।
- প্লিজ এবার অনতত বলেন।
- নিলা
উনি হয়তো আর ও কিছু বলতো আমি তারাতারি বাড়ি চলে এসেছি।
রাতে রুমে শুয়ে আছি আর চোখের জল ফেলছি বাবা আমাদের এভাবে ছেরে চলে যাবে সত্যি ভাবি নি। সেদিন আম্মা ফোনে একথায় বলে বাড়ি এসে বাবা লাশ দেখতে হয় এমন কিছু আমার জন্য অপেক্ষা করছিল যে আমার ফুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যায়। জানতে পারি বাবার কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিলো কিন্তু আমি টেনশন করবো বলে আম্মা আমাকে কিছু জানায় নি। আম্মা নাকি বলতে চেয়েছিল কিন্তু বাবা বলেছে পরার ক্ষতি হবে আমি ঠিকে হয়ে যাব অযথা ওকে চিন্তায় ফেলার কি দরকার। আজ যদি আমাকে সব জানাতো তালে অন্তত বাবার সাথে শেষ বারের মতো একটা কথা বলতে পারতাম কিন্তু আমার পুরা কপাল তা কিছু ই হলো না। বাবা তুমি কেন আমাদের দুজনকে এভাবে একা ফেলে চলে গেলে এখন কে তোমার এই মেয়েকে দেখে রাখবে কে ভালোবাসবে।
পরদিন নদীর পারে বসে আছি হঠাৎ কেউ পাশে এসে বসল তাকিয়ে দেখি ওই ছেলে টা। আমি তাকাতেই হাসি মুখ করে তাকাল।
- হাই কেমন আছ নিলা?
আমি অন্য দিকে ফিরে তাকালাম।
- হে কিছু বলো আর আই আম সরি কাল তোমার কাছে বাবার নাম জিগ্গেস করার জন্য।
- ইটস ওকে।
- আমার নাম তো তুমি জান না তাই না। আমার নাম পাবেল।
আমি এক ধ্যানের পুকুরের দিকে তাকিয়ে আছি ছোট পুলাপান পুকুরের গোসল করছে হাস আছে মেয়েরা ও আছে আর আমার পাশে বসে পাবেল একা নানা কথা বলে চলেছে আমি তার কথায় কান ও দিচ্ছি না। জয়ের কথা মনে পরেছ খুব কতো দিন হয়ে গেল যোগাযোগ নেই বাবা মারা যাবার পর থেকে এখানেই আছি কিছু বাবার রেখে যাওয়া টাকা ছিল যা দিয়ে কিছু মানুষ খাওয়ানো হয়েছে। আর যা আছে আম্মা বলে দিয়েছে এগুলো দিয়ে আমাকে বিয়ে দেবে। আর নাকি পরাবে না কথাটা শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পরেছিলো কিন্তু কি বলবো আমি আম্মা কে বলেছিলাম আমি বিয়ে করবো না পড়ালেখা করবো কিন্তু আম্মা বলে... দরকার নেই আর পরার কি হবে এত পরে... কবে দেখা সবে জয়ের সাথে জানা নেই।
পাশে পাবেল কথা বলেই চলেছে আমি উঠে বাড়ির দিকে যেতে লাগলাম।
- একি চলে যাচ্ছ কেন?
আমি অবাক চোখে তাকালাম একটু আগেই তো আপনি করে বলছিল আর এখন তুমি বলছে। ছেলের মতি গতি ভালো না আর না দাড়িয়ে চলে গেলাম।
দুইদিন আর বাড়ি থেকে বের হলাম না। সব সময় পাবেল ছেলে টা পেছনে লেগে থাকে।ক্ষেতে থেকে শাক তুলে বাড়ি যাচ্ছি হঠাৎ সামনে পাবেল কে দেখলাম।
- হে নিলা তুমি কোথায় থাক দেখি না যে।
আমি তাকে ইগনোর করে চলে আসতে নিলে সে আমার সামনে এসে বলে।
- কি হলো কথা বলছো না যে যানো তোমায় কতো খুজেছি কিন্তু পায় নি।
- কেন খুজেছেন?
- নিলা আমি ভঙিতা পছন্দ না সরাসরি বলছি। আই লাভ ইউ
আমি এটা শুনে নিরবে তার দিকে তাকিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে অসতে নিলে আমার হাত ধরে ফেলে।
- কিহলো আমার উওর না দিয়ে যাচ্ছ যে।
আমি তো রেগে তাকালাম এভাবে হাত ধরায়।
- হাত ছারুন
- আগে উওর দাও।
এবার আর রাগ কন্টোল করতে পারলাম না ঠাস করে চর বসিয়ে দিলাম ওনার গালে ওনি আগুন চোখে তাকালো আমি জানি সে অনেক রেগে গেছে আর না দাড়িয়ে দৌড়ে বাড়ি চলে এলাম।
পরদিন
সকালে হঠাৎ আম্মা এসে আমাকে শাড়ি পরতে বলল আমি জিগ্গেস করলে ধমক দিয়ে চলে যায়। আমি কিছু বুঝতে না পেরে শারি রেখে ওই ভাবেই বসে থাকি একটু পর মা এসে আমাক বকে শাড়ি পরিয়ে মাথায় ইয়ি বড় ঘুমটা দিয়ে বাইরে নিয়ে আসে। এখানে এসে দেখি চেয়ারম্যান সাহেব বসে আছে তার সাথে তার বউ ও আছে আমাকে দেখে কিছু কথা জিগ্গেস করলো কি হচ্ছে কিছু আমার মাথায় ঢুকছে না।
রাতে মা খুশি মনে আমার সাভনে এসে বলতে লাগে।
- ওরা তোকে পছন্দ করেছে রে নিলু দুইদিন পরেই বিয়ে ঠিক করলো এতো ভালো একটা ছেলের হাতে তোকে তুলে দিতে পারবো আমি তো কল্পনা না তে ও ভাবি নি।
মার কথা শুনে আমার পায়ের নিচে থেকে মাটি সরে গেল ভাকে জিগ্গেস করে জানতে পারলাম চেয়ারম্যান সাহেব তার ছেলের জন্য আমাকে দেখতে এসেছিল। আর দুইদিন পর বিয়ে?
চলবে......
Love3
#গল্পটা_ভালোবাসার💞💞💞
#সিজন_2
#পর্বঃ৩২
#Misty_Meye(মরিয়ম)
সকালে নিচে চিল্লাচিল্লির আওয়াজে রোদ আর আমি নিচে যাই আর গিয়ে দেখি একটা মেয়েকে নিয়ে যেন সকলের আহ্লাদের শেষ হচ্ছে না। এতো সকাল বেলা নতুন মেয়েটাকে দেখে আমি বেশ অবাকই হয়েছি। আমি শুধু একপাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবটাই দেখছি।
মেয়েটা সবার সাথে কথা বলার পর রোদের কাছে আসে। আর তাই আমি ও রোদের একদম পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি। মেয়েটা আমার দিকে না তাকিয়ে রোদের কাছে গিয়ে কতো কথা বলছে। আর রোদ ও কথা শুরু করে দিচ্ছে। আর আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে কালকের স্বপ্নের কথা। এইটাই সেই মেয়েটা নয় তো। হলে ও হতে পারে। কিন্তু যদি সত্যি হয়। কালকেই স্বপ্ন দেখলাম আর আজকেই এই মেয়েটা। উফ!
রোদের সাথে কথা বলার পর আমার কাছে এসে মেয়েটা বললো,
" রোদ ভাইয়া এটাই বুঝি তোমার বউ।"
আমি জানি রোদ কিছুই বলবে না তাই আমি নিজেই বললাম,
"হুম আমিই তোমার রোদ ভাইয়ার বউ।"
কথাটা বলার পর বেশ লজ্জাই পেলাম। কারণ ওখানে আমি ছাড়াও তো সবাই ছিলো ওদের সামনেই নিজেই নিজের পরিচয় দিলাম তাই।
" ওহ,,,হুম আমি বুঝতে পেরেছি।"
" আমিতো তোমাকে ঠিক চিনলাম না।"
" আমি সিমা। রোদ ভাইয়া আমার মামাতো ভাই হয়।"
" ও তাহলে তো তুমি আমার আরেকটা ননদ। তাই তো?"
মেয়েটা আমার কথা শুনার পর ওর মুখ দেখে বেশ বুঝতে পারলাম মেয়েটার আমার কথা পচ্ছন্দ হয়নি।
আমার শাশুড়ি মা আমাকে ডেকে বললেন,
" মিষ্টি মা, তুমি তো বুঝতেই পারলা ও রোদের ফুফাতো বোন। আসলে ওর কলেজ থেকে ছুটি পায়নি তাই তোমাদের বিয়েতে আসতে পারেনি এজন্য তিয়াষ আর রোদ্দুরের বিয়েতে আগে থেকেই চলে আসছে। এবার তোমরা সবাই মিলে মিশে সব ব্যবস্থা করবে কেমন? "
" হুম মা। করবো। "
রোদেলা বলল," সিমা আপু চলো আমার রুমে তুমি আর আমি এক সাথে থাকবো।"
তারপর ওরা ও চলে যায়। রোদ নাশতা করে অফিস চলে যায়। আমি আজকে ভার্সিটি যাই নি। মাথায় এখনো স্বপ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে। কিছুতেই ঝেরে ফেলতে পারছি না। আমি আমার রুমে বসেই ছিলাম। রুমে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে পিছনে ঘুরে দেখলাম সিমা। ও আমার দিকে কিভাবে একটা তাকিয়ে বললো,
" তুমি দেখতে ভালোই তবে আমার থেকে বেশি নও। রোদ ভাইয়ার সাথে তুমি ঠিক যাচ্ছো না।"
" তোমার মতো সুন্দর হতে যাবো কেনো আমি ? তুমি তো আমার থেকে কতো সুন্দর। এটা তো সবাই জানে। তোমার রোদ ভাইয়ার সাথে আমি যাই না কিন্তু কি আর করবো বলো তোমার রোদ ভাইয়ার সাথেই আমার বিয়েটা হয়ে গেলো। "
"হুম। রোদ ভাইয়ার কপালটা আসলেই খারাপ। তোমার মতো একটা বউ পেলো।"
"মেয়ের অভাব পড়ছিলো নাকি যে তোমার রোদ ভাইয়া আমাকে বিয়ে করে নিজের কপালটা খারাপ করলো।😬,,,,"
" সবাই যদি একবার আমাকে বলতো তাহলে তো আমিই,,,,,"
"তুমি কি?"
"কিছু না।" বলে চলে যায়।
"কতো খারাপ মেয়েটা। মেয়েটা প্রথমে এসেই আমাকে খোঁচা দিয়ে কথা বললো। কতো বড় সাহস। এই বাড়ির মেয়ে না হলে আমি ওর নাক ফাটাইয়া ফেলতাম। আমাকে অপমান করার সাহস কোথা থেকে পাইছে এই মেয়েটা। অসভ্য,বদমাইশ মাইয়া। আমি নাকি রোদের যোগ্য না। তো কে যোগ্য হ্যাঁ কে যোগ্য তুই? তুই তো রোদের ধার দিয়ে ও যাস না। তোরে যদি আমি ঠাটিয়ে একটা থাপ্পড় দিতে পারতাম তো খুশি হইতে পারতাম।"
রাগ জেদ সব এক করে বসে আছি। সব কিছু মাথা পাগল করে দিচ্ছে। এই মেয়েটা যে মোটেই সুবিধার নয় তা আমি খুব ভালো করেই বুঝতে পারছি। কিন্তু কিছু করতে ও পারবো না। পরে আবার এই বাড়ির লোকেরা কি ভাববে।
আল্লাহ্ই জানে এই মেয়েটা কতো দিন এখানে থাকবে। 😶,,,,,,,
রাতে আমরা ঘুমাতে যাওয়ার সময়ে সিমা আমার রুমে সোজা ঢুকে পড়ে। আর রোদকে বলতে থাকে,
"রোদ ভাইয়া চলো আজকে আমরা গল্প করি। কতোদিন পর আমি আসলাম তোমার সাথে তো ভালো করে কথাই হলো না। বিয়ে করে তো আমাকে ভুলেই গেছো তুমি? "
"এখন ঘুমানোর টাইম তুমি জানো না। মানুষ কে ডিস্টার্ব করতে আসছো কেনো?"
"আহ্ মিষ্টি এভাবে বলছো কেনো? ও গল্প করতে চাইছে তো করি কি হয়েছে।"
"না এখন আমরা ঘুমাবো। আমার ভীষণ ঘুম পেয়েছে। ও কাল সকালে কথা বলবে।"
"তুমি তো প্রায় রাতেই ঘুম ভাঙিয়ে দাও আর আমাকে জাগিয়ে রাখো নিজে ও জাগো । তো আজকে সিমার সাথে কথা বলতে ক্ষতি কোথায়? যদি তোমার ঘুম পায় তো তুমি ঘুমাও। তোমাকে আমরা ডিস্টার্ব করবো না।"
"আমি না পারছি কিছু করতে আর না পারছি রাগ দেখাতে।"
আমি চুপচাপ বিছানায় শুয়ে পড়লাম। রোদ আর সিমা গল্প করেই যাচ্ছে। বারোটা বেজে যাচ্ছে কিন্তু উঠার নাম নিচ্ছে না। আর এদিকে আমি এপাশ ওপাশ করতে করতেই সময় পার করছি। অনেকক্ষণ পর ওদের গল্প শেষ হয় আর রোদ আমাকে জেগে থাকতে দেখে বলে,,,
"তুমি ঘুমাওনি।"
"না।😒,,,,"
"কেনো?"
" আপনি না কোন মেয়ের সাথে কথা বলেন না।"
" হঠাৎ এই প্রশ্ন?"
" তাহলে ওই মেয়েটার সাথে এতোক্ষণ কথা বললেন কেনো?"
"কোন মেয়েটা? সিমার কথা বলছো তুমি?"
"হ্যাঁ।"
" ও আমার কাজিন। ও আর অন্য মেয়েরা এক নাকি? "
" আলাদা নাকি?"
"ও আমার কাজিন হয়।"
" কই আমার সঙ্গে তো কখনো এতো গল্প করতে দেখলাম না। কথাই বলতে চান না। আর সিমার সঙ্গে রাত জেগে গল্প করলেন।"
"তোমার মতো পাগল মেয়ের সাথে কে গল্প করবে? "
আমি রোদের কথা শুনে,,,,,,,,,,,
চলবে...............
( এখন তো গল্প প্রতিদিনই দিচ্ছি। একটু ছোট হলে কি হয়। তার জন্য সরি,,,,,😪)
Love2
স্বামী-স্ত্রী আর তাদের তিন মাস বয়সের একটি
বাচ্চা রাতে বিছানায় ঘুমাচ্ছে।
:হটাৎ
:তিন মাসের বাচ্চা রাত তিনটার সময় জোরে
জোরে কান্না করতে লাগলো।
:বাচ্চার কান্না শুনে মা বাবা দুজনেরই
ঘুম ভেঙ্গে গেলো।
,,
স্বামী বললেন,
ওকে একটু থামাও.....!
আর মা বাচ্চাটিকে বুকে জরিয়ে
নিয়ে এদিক-ওদিক হাঁটতে লাগলেন।
:
কিছুক্ষন পর ,
বাচ্চাটির বাবা বিছানা থেকে
উঠে ঘর থেকে
বের হয়ে গেলেন।
:
কিছুক্ষন পর বাচ্চাটির বাবা ঘরে
ফিরে এলেন
আর
বাচ্চাটির মা তাকে জিজ্ঞাস
করলেন,
কোথায় গেছিলে ?
:
তিনি বললেন ,
:
মায়ের কবরটা দেখতে
গিয়েছিলাম।
:
বাচ্চাটির মা জিজ্ঞেস করলেন,
:
এত রাতে কেন ?
:
সে উত্তর দিল ,
আমাদের বাচ্চাটি যখন
কাঁদতেছিলো
তখন আমার খুব বিরক্ত লাগছিল।
:
কিন্তূ
:
তুমি ওকে কাঁধে নিয়ে আদর করতে
করতে
হাটতেছ।
কারন,
তুমি তার মা।
:
তখনি মনে পরে গেলো।
:
হয়তো , আমি যখন ছোট ছিলাম
তখন
আমার মা ও আমাকে এভাবেই যত্ন
করেছিলেল্লাহ্ আপনি আমাদের মা
বাবার
সেবা করার তৌফিক দিন।
যাদের মা বাবা পৃথিবী তে নেই
তাঁদের কে জান্নাত বাসি করুন।(আমিন)
Love1
কোটিপতি স্বামী {৫}
মেহেক স্যামথন
------এই ছোট লোকের মেয়ে। তোমার স্ট্যাটাস কি আমার সামনে। তোমার এতো বড় সাহস কি করে হয়। দুই টাকার মেয়ে,আর আমাকে নিচু দেখাও তুমি,,,[ এমন ভাবে কথা বলছে যেন আমায় গিলে খাবে ]..
------ আয়া,,আমি কি করেছি।ছাড়েন,,,আয়া,,,
------ কি করেছো মানে।কোনো দিন পড়াশোনা করেছো? গাই কোথাকার। মুর্খ। কে বলেছিল আমার জিনিসে হাত দিতে,,,কে..? [ রেগে ]..
------ আ,,আ,,,আ,, লাগছে। দয়া করে,ছেড়ে দিন।
----- এতো গুলা ফাইল দিয়েছো।কিন্তু আসল টা দাও নি। সবার সামনে আমাকে নিচু দেখানোর মানে কিইই,,,,কে বলেছিল এইসব করতে। তোমাকে আমি টাকা দিয়ে কিনেছি। কেন আমার বউয়ের দ্বায়িত্ব পালন করতে চাচ্ছো,,কেন..?
------ আর,,আর,,এমন হবে না। দয়া করে ছেড়ে দিন।
------ আরাম আয়েশ,, টাকা পয়সা,এইসব দেখে এখন কি আমার বউ হতে চাচ্ছো..? ছোট লোকের মেয়ে কোথাকার।
তখন পিছন থেকে আকাশের দাদু বলে উঠল,,,
------ আকাশ,,।
আকাশ তারাতাড়ি আমার হাত ছেড়ে দিয়ে তার দুই হাত দিয়ে আমার চোখের পানি মুছে ফেলল,,,
পিছে ফিরে মুচকি হেসে বলল,,,
------ ওহ দাদু।তুমিও আসার সময় পাও না? মাত্রই রোমেন্স শুরু করলাম,আর তুমি কাবাবে হাড্ডি হয়ে এলে।
দাদু আকাশের হাতে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলল,,,
------- ওরে সয়তান। বেশি বেশরমা হয়ে গেছিস না।
------ হবো না তো কি। মাত্র বিয়ে করলাম,একটাই বউ আমার।
আকাশের প্রতিটি কথা আমার গায়ে সুচের মতো লাগছে। হাসি না আশার সত্যেও হাসার চেষ্টা করছি।হাসতে যে আমাকে হবেই।হুকুমের গোলাম আমি।
----- আচ্ছা এখন তুই সর তো,,মেঘলার সাথে কথা আছে।
আমার হাত ধরল দাদু।
------ আরে,,আরে,,আরে,,,আমার বউকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো তুমি,?
------ আরে পাগল,,রোমেন্স ছাড়া দুনিয়াটা দেখিস।কাজ আছে, তাই নিয়ে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ পর আবার চলে আসবে।
------ আচ্ছা নিতে যাও,কিন্তু বেশিক্ষণ না,,,
------ হুম।পাগল একটা।
আকাশের দাদু আমার হাত ধরে আমাকে নিচে নিয়ে গেলেন।
সারা সন্ধ্যা,,আর রাতে আমি রুমে শুধু সাদকে নিয়ে যাওয়া ছাড়া প্রবেশ করিনি।
এখন সবাই খেতে বসেছি। সাদ আমার সাথের চেয়ারে,,আমি সাদকে খাইয়ে দিচ্ছি।আমার ডানে আকাশের দাদু। আর আমার অপজিটে আকাশ।
আকাশ খাচ্ছে আর ফোনে কথা বলছে।তখন দাদু ধমক সুরে বললেন,,
------ আকাশ,,,খাবারের টেবিলে কোনো ফোন না।
আকাশ ফোন রেখে বলল,,,
------- সরি দাদু।একটা ইম্পর্ট্যান্ট কথা ছিল,আর হবে না।
------ হুম তো শুন। তোর সাথে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।
----- বলো দাদু।
----- তোদের বিয়েটা তারাহুরোর মধ্যে হয়েছে।তাই আমি চাই তোরা নিজেদের কে সময় দে,একটু ঘুরে বেরা।
------ দাদু,,আমাদের তো লাভ ম্যারেজ,, আমাদের সময় দিতে হবে না।
উনার কথা শুনে অবাক হলাম।আমাদের আবার কিসের প্রেমের বিয়ে..? আর কি কি আছে যা আমি জানি না?
------ সে,যাই হোক।তুই তোর বিজন্যাসের জন্য মেঘলা কে সময় দিস না,,তাই আমি তোদের হানিমুনে যাওয়ার জন্য প্লেন করেছি।
------ কি বলো দাদু।কোথায়?
------ তুই তো দেশের বাহিরে যাবি না। তাই ভাবলাম কক্সবাজারে প্লেন করি।
------ কিন্তু দাদু আমার তো সময় নেই। অনেক ব্যাস্ত আমি।
------ সে যাই হোক।আমি বুঝি না এইসব। আমি হোটেল বুক করেছি। তোরা কাল রউনা দিবি। এক সপ্তাহ থাকবি ওইখানে।
----- কিন্তু দাদু???
------ কোনো কিন্তু নয়। আমার কথাই শেষ।
----- আচ্ছা দাদু।তুমি যা বলবে। তাহলে এখন আমি একটু আসি।কিছু ইম্পর্ট্যান্ট কাজ আছে।
----- খাবার খেয়ে যা।
------ পরে এসে খাবো। মেঘলা তুমি রুমে যাওয়ার সময় খাবার নিয়ে এসো।
আমি শুধু মাথা নাড়ালাম।
আকাশ চলে গেল।
ঘুড়ার কথা শুনে সাদ খুশিতে আত্ম হারা। সে চেয়ার থেকে নেমে দাদুর কাছে গেল আর দাদুর কোলে উঠে বসল।
------ এই বুলি।টমি তো তুব ভালু।
------ হুম।আমি অনেক ভালো।
------ কিন্তু ওই আকাত পাজি।আমার কতা চুনে না।
------ শুনো খোকা। আকাশ কোনো কথা না শুনলে তুমি ফোন দিয়ে আমার কাছে বিচার দিবা।আমি আকাশকে বকে দিবো।
----- সত্যি???
----- হ্যা,,সত্যি।
-----উমমাহ,,,[ দাদুকে জরিয়ে গালে চুমা দিলো সাদ।
তখন দাদু আমাকে বলতে লাগল,,,
------ মেঘলা মা,,, সাদ তোমাকে বা সবাইকে নাম ধরে ডাকে কেন..?
----- আসলে দাদু।সাদ জন্মের পর থেকে দেখে বাবা আমাকে মেঘলা বলে ডাকে। তাই সাদ ও আমাকে মেঘলা বলে ডাকে। আর সব সময় ই দেখে সবাই একে অপরের নাম ধরে ডাকে।তাই সাদ ও ডাকে। আসলে বাচ্চারা তার আশে পাশের পরিবেশ থেকে যা দেখে তাই শিখে। সেই ক্ষেত্রে সাদও বিকল্প নয়।
------ হুম।তা যা বলেছিস।
------ হুম দাদু।
কিছুক্ষণ দাদুর সাথে কথা বললাম। খাওয়া শেষ হওয়ার সাথে সাথে সাদ দৌড়ে চলে গেল হল রুমের দিকে।তখন আকাশের দাদু তার বুয়া কে বলল,,
------ মিনা। ছোট সাহেবের সাথে যা।খেয়াল রাখ।
------ জ্বী দাদি।যাইতাছি।
বলে সাদের পিছে চলে গেল বুয়া। দাদু বলল,,
----- মেঘলা তোরে একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো। যদি মন খারাপ না করিস।
----- এইটা কি বলছো দাদু।আমি মন খারাপ করবো কেন। তুমি নিঃসন্দেহে আমাকে বলতে পারো।
------ আচ্ছা,,, দাদু। সাদের বয়স তো ৫ বছর তাই না? তো সাদ এখন এই ভাবে কথা বলে কেন..? এখন তো সব পরিষ্কার করে বলার কথা সাদের।
------ আসলে দাদু সাদ একটু অসুস্থ।ওর,,,
তখন দোতালা থেকে আকাশ বলল,,,
----- মেঘলা।খাবার নিয়ে একটু রুমে আসো।
----- জ্বী।
------- ওই দেখ।পাগল হয়ে গেছে।যা,, যা খাবার নিয়ে ওর কাছে যা।
আমি মুচকি হেসে আকাশের জন্য খাবার নিয়ে রুমে চলে গেলাম।
আকাশ ল্যাপটপে কাজ করছে।আমি তার সামনের টেবিলে খাবার রেখে দিলাম।
তখন আকাশ বলল,,,
------ আমি তোমার সাথে এইসব করতে চাইনি। যেই কাজে এসেছো সেই কাজ করো। অন্য কিছুতে নাক গলাবা না। রাগ উঠলে আমার মাথা ঠিক থাকে না।
আমি কোনো জবাব না দিয়ে সাদকে দেখার জন্য রুম থেকে বের হয়ে পড়ি।
সকালে★
সকাল সকাল আমার ঘুম ভাঙলো। আসলে মাটিতে শুয়ে থাকায় ঘুম এতোটা হয় না। তাই ভেঙে গেছে। আমি উঠে আগে বিছানার দিকে তাকাই। তখন যা দেখলাম।তা দেখে নিজের হাসি আটকাতে পারলাম না।দেখি আকাশ আর সাদ দুইজন দুইজনকে জরিয়ে ধরে একই সাথে ঘুমাচ্ছে। সাদের নড়াচড়ার অভ্যাস অনেক। আকাশ সোজা হয়ে ঘুমোচ্ছে আর সাদ আকাশের পেটে জরিয়ে ধরে তার এক পা আকাশের ঠিক মুখের উপর তুলে রেখেছে। আর এক পা আকাশের হাতের উপর। এই অবস্থায় দুইজনেকে দেখে আমার প্রচুর পরিমানে হাসি পাচ্ছে।কিন্তু সাদকে এই অবস্থায় আকাশ দেখলে অনেক রাগ করবে।তাই আমি তারাতাড়ি সাদের কাছে গিয়ে সাদকে ঠিক করে শুয়ে দিলাম।
ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ভোর ৬টা বাজে।
কাপড় নিয়ে গোসল করতে গেলাম। দাদু বলেছে ১০ টায় আমরা রওনা দিবো।তাই ভাবলাম এখন শাড়িটা পড়ে ফেলি।
কিছু ক্ষন পর গোসল করে রুমে এসে দেখি আকাশের এক হাত সাদের ঠিক মুখের উপর।আমি দৌড়ে গেলাম আকাশের কাছে।তাড়াতাড়ি আকাশের হাতটা সাদের মুখ থেকে সরালাম। আমার চুলের পানি আকাশের শরীরে পড়ছিল।আকাশ কিছুটা নেড়ে উঠল আর আমার দিকে ফিরে আমাকে জরিয়ে ধরল। আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম একি করছেন উনি।পড়ে দেখি উনি ঘুমের ঘোরে। আমি নিজেকে সরানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু হাজার হলেও মেয়ে মানুষ। ছেলেদের শক্তির সাথে পেরে উঠা যায় না। আমাকে আরো কাছে নিয়ে আসল আকাশ, একদম তার মুখের কাছে।এই প্রথম তাকে এতো কাছে থেকে দেখছি। ঘুমের মধ্যে তাকে অন্যরকম লাগছে। সাধারণ ভাবে একজন বদমেজাজি, অসভ্য, পাজি লোক মনে হয়।কিন্তু ঘুমের মাঝে একজন ভালো মনের মানুষ মনে হচ্ছে। আসলে আমরা মানুষ রাই অন্যরকম। ভিতরে একটা বাহিরে একটা।
তখন ঘুমের ঘোরে আকাশ বলল,,
----- জান।।আই লাভ ইউ সো মাছ। আই লাভ ইউ।।।
বলেই আমার গালে একটা চুমু বসিয়ে দিল।আমি তৎক্ষনাৎ কিছু না ভেবে এক ঝটকায় আকাশকে সরিয়ে ফেললাম।
এতোক্ষণ দুর্বল গাই ছিলাম। হঠাৎ যেন কোথা থেকে শক্তি এসে পড়ল।
আমি সোজা হয়ে দাড়িয়ে পড়লাম আকাশ কিছুটা নড়ে আবার ঘুমের মাঝে চলে গেল।
এই ঘটনাতে নিজের কাছেই লজ্জা লাগছে। কি থেকে কি হয়ে গেল।
চলবে,,,,
[ ছোট পর্বের জন্য দুঃখিত। কাল আমার রেজাল্ট। মনটা ভালো না।সাথে শরীর টা ও ]
Corona viras
শনিবারের রিপোর্ট।
চট্টগ্রামে একদিনে ২৭৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত
চট্টগ্রামে গত একদিনে (গত ২৪ ঘন্টায়) ১২১৯ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষায় ২৭৯ জনের পজিটিভ (নতুন) এসেছে। এর মধ্যে মহানগরের ১৮০ জন এবং উপজেলার ৯১ জন। ঠিকানাবিহিন ৮ জন।
চট্টগ্রামে তিনটি করোনা পরীক্ষার ল্যাব এবং কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষা শেষে শনিবার (৩০ মে) রাতে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিআইটিআইডিতে ২৪, ২৫, ২৬শে মে তিনদিনের ৮১৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তৎমধ্যে ১১৬ টি পজিটিভ। মহানগরীতে ৬৭ টি, উপজেলায় ৪৩ টি। ঠিকানাবিহীন ৬জন।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ইউনিভার্সিটি (CVASU)'তে ১৩৮ টি নমুনা পরীক্ষায় ৪২ টি পজিটিভ। মহানগরের ২টি উপজেলায় ৩৮ টি। ঠিকানাবিহীন ২টি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিবেদনে ২৬০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তৎমধ্যে ১২০ জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়। মহানগরের ১১১ জন, উপজেলায় ৯ জন।
অপর দিকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ টি নমুনা পরীক্ষায় ১ টি পজিটিভ। ১ জনই উপজেলার।
এ নিয়ে চট্টগ্রামে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছালো ২ হাজার ৮৬৭ জনে।
Love
Crush যখন বর😍
#Season_4
#Part_50
#Writer_Afnan_Lara
তনু-হুমম,,আপনি??
শিশির-আমার কথা বাদ দাও,তোমার এত বড় সাহস হলো কি করে তুমি আমাকে সরিয়ে নিজের জীবন বিপদে ফেলে দিলা???
তনু-আমি আসলে...
শিশির-চুপ,
বেশি বেশি না???একটা থাপ্পড় মেরে দিব তোমাকে,
আর কখনও এমন ভুল করবা না,
আমার গায়ে গুলি লাগলে আমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যেতাম,
কিন্তু তোমার তো লাইফ রিস্ক হয়ে যাচ্ছিলো,
তনু-তাও তো আপনাকে সেভ করতে পেরেছি এতেই আমার জীবন
শিশির-আর ইমোশান দেখাতে হবে না আমাকে!
একটা মানুষকে এত ভালোবাসার কোনো কারণ আমি পাই না,
কম ভালোবাসো আমাকে,তোমার এই ভালোবাসা তোমাকে আজ কবরে নিয়ে যাচ্ছিলো
তনু-আপনার টানে আবার ফিরে আসলাম
তনু একটু কাছে গিয়ে শিশিরকে জড়িয়ে ধরলো
শিশির আরও কিছু বলতে চাইছিলো, আরেকটু বকতে চাইসিলো তনুকে,
কিন্তু পারলো না,তনু খুব যত্ন করে শিশিরকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে,
এই মেয়েটা খুব সুন্দর করে জড়িয়ে ধরতে জানে
তনু-আমি আপনাকে খুঁজে পেয়েছি এত বড় একটা দেশে,
শিশির হাসলো,সেও হাত এগিয়ে এনে তনুকে জড়িয়ে ধরলো
তনু-দেখেছেন,সেদিন আমি ঢাকায় পা রাখার পর সবার আগে আপনার সাথেই দেখা হয়েছে আমার আর সুইজারল্যান্ডেও আমার আপনার সাথে দেখা হয়ে গেলো,
শিশিরের চোখের পানি বেরিয়ে আসলো
ছেলেরা তাদের অশ্রু মেয়েদের দেখায় না
শিশির হাত দিয়ে চোখ মুছে ফেললো
তনু শিশিরকে ছেড়ে তাকিয়ে আছে
শিশির-তোমার হাতে ব্যান্ডেজ কেন,নার্সরা হাতে ব্যান্ডেজ করলো কেন,হাতে কি হয়েছে
তনু-রাকিব আমাকে বেঁধে রেখেছিল দড়ি দিয়ে সেটাই খুলতে গিয়ে চুড়ি ভেঙ্গে হাত কাটা গেসে,
শিশির-তার পাপের শাস্তি সে পেয়ে গেছে
তনু-মানে?
শিশির-সে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে
তনু-কিহহ,রিনাকে কি বলবো আমি, ও তো এসবের কিছুই জানে না
শিশির-সব জানলে ও নিজেই ঘৃনা করবে নিজের ভাইকে,
তনু-একটা কথা বলেন আপনি এখানে কি করে এলেন?
শিশির-আমার অফিসের কাজেই আমি আসছি তোমাকে জানাতে পারিনি তুমি এক্সাম হলে ছিলে,
তনু -ওহহ,,
শিশিরবাবু আমাকে কিছু খেতে দাও,আমার খুব খিধে পেয়েছে কাল থেকে কিছু খাইনি আমি
শিশির-হুম,আমি ডাক্তারের সাথে কথা বলে তোমার জন্য খাবার আনতেসি বসে থাকো,শিশির উঠে চলে গেলো
তনু শিশিরের চলে যাওয়া দেখতেসে,
আজ যেনো নতুন করে এই ছেলেটার প্রেমে পড়েছি আমি,
এটা ভাবতে ভাবতেই শিশির খাবার এনে তনুর মুখের সামনে ধরলো
তনু শিশিরের হাতে খেতে লাগলো বসে বসে,হঠাৎ ওর মনে হলো শিশিরও নিশ্চয় কিছু খায়নি
তনু শিশিরের হাত ঘুরিয়ে ওকেও খাওয়ায় দিলো
তারপর খাওয়া শেষে শিশির মাকে কল করে জানালো সব কিছু,
মা তো রীতিমত অবাক , কি থেকে কি হয়ে গেলো এসব,!
শিশির তনুকে হসপিটাল থেকে ছাড়িয়ে হোটেলে নিয়ে এসেছে
তনু ঘুমায়,ওকে ঘুমের ঔষুধ দিয়েছে ডাক্তার
শিশির গায়ের থেকে শার্ট খুলে শাওয়ারের নিচে কিছুক্ষন বসে রইলো ফ্লোরে
দরজা লাগায়নি,বসে বসে তনুকে দেখতেসে শিশির
তনু চাদর টেনে গভীর ঘুমে আছে
শিশির তনুর মুখের দিকে চেয়ে আছে,
ঝর্নার পানি শিশিরের মাথা গড়িয়ে ওর মুখ থেকে টপটপ করে গিয়ে বুকের দিকে যাচ্ছে,
আজ হয়ত তনু জেগে থাকলে ওকে শাওয়ারের নিচে টেনে আনতো শিশির,
আজকের এই incidence এর পর থেকে শিশির বুঝেছে সে তনুকে ছাড়া থাকতে পারবে না,,কেমন একটা ফিলিংস যোগ হয়েছে,
এখন শুধু তনুকেই দেখতে মন চায়,
১ঘন্টা হয়ে গেসে,শিশির এখনও বসে আছে শাওয়ারের নিচে, তনুর মুখই দেখতেসে শুধু
তনু এপাশ ওপাশ করে জেগে গেলো,
চোখ ডলে ডলে উঠে বসলো,চুল মুখের সামনের থেকে সরিয়ে সামনে তাকিয়ে দেখলো শিশির শাওয়ারের নিচে বসে তার দিকে তাকিয়ে আছে
তনু-একি?আপনি এখানে এমন করে বসে আছেন কেন,
কথাটা বলে তনু নামতে গেলো
শিশির -নামবা না,আমি আসতেসি
শিশির উঠে ঝর্না অফ করে তোয়ালে নিয়ে বেরিয়ে আসলো
তনু-কি হয়েছে আপনার?
শিশির-কিছু হয়নি,উঠসো কেন?
তনু-এমনিতেই মাথা চিনচিন করে উঠলো তাই আর ঘুমাতে পারলাম না
শিশির-বসো আমি কফি অর্ডার করতেসি
শিশির চুল মুছতে মুছতে ফোন নিয়ে কল করে অর্ডারটা করে নিলো
শিশির শার্ট পরতে পরতে তনুর দিকে তাকিয়ে দেখলো তনু গা চুলকাচ্ছে,
চুলকানোরই কথা,জামা এটা কাল থেকে পরে আছে,তার উপর এত দখল গেসে
শিশির-এটা change করে ফেলো
তনু অবাক চোখে শিশিরের দিকে তাকালো,
ব্রু নাচিয়ে বললো আপনার মাথা ঠিক আছে,?আমি কি সাথে করে কিছু এনেছি?কি পরবো?
শিশির নিজের শার্টটা ব্যাগ থেকে নিয়ে তনুর দিকে এগিয়ে ধরলো
শিশির-তোমার জামাটা আমি ধুয়ে দিব,ওটা শুকাতে শুকাতে এটা পরে থাকো আপাতত,
তনু-আপনি কেন ধুবেন,আমি ধুয়ে দিচ্ছি
তনু নামতে গেলো
শিশির-খবরদার নামবা না!!,হাতে ইয়া বড় ব্যান্ডেজ আর উনি জামাকাপড় ধুবে
তনু-😒
শিশির-আর নয়তো থাকো আমি বাইরে থেকে ড্রেস কিনে আনতেসি
তনু-না,প্লিস আমাকে ছেড়ে কোথাও যাইয়েন না
শিশির-ফাইন,তাহলে শার্টটা পরে নাও
শিশির শার্টটা তনুর সামনে এনে রাখলো,
নাও পরে নাও আমি বারান্দায় আছি
এটা বলে শিশির বারান্দার দিকে চলে গেলো
তনু শিশিরের দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসতেসে
তারপর শার্ট টা পরে চেয়ারে রেখে দিলো খাট থেকে নেমে,
আস্তে আস্তে এগিয়ে গিয়ে তনু শিশিরকে ওর বাহু জড়িয়ে ধরলো পিছন থেকে
শিশির তনুর দিকে ফিরে দাঁড়ালো
তনু-কি ব্যাপার?আজ আপনি আমাকে শুধু শার্টে দেখে ঘামতেসেন না যে??
শিশির-কারনটা পরে বলি?
তনু-ঠিক আছে
কলিংবেল বাজতেই শিশির গিয়ে কফির দুটো মগ নিয়ে আসলো
তনু খাটে গোল হয়ে বসে পড়লো,
হাঁটু দেখা যায় বলে জিহ্বায় কামড় দিয়ে চাদর দিয়ে ঢেকে ফেললো তনু,
শিশির হাসতেসে আর কফি খাচ্ছে তনুর কান্ড দেখে
কফিটা শেষ করে তনুর জামাটা ধুয়ে বারান্দায় ঝুলিয়ে দিলো শিশির
তনু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতেসিলো,জামায় এখনও রক্তের দাগ আটকে আছে
তনু হাসতে হাসতে বললো জীবনে কি জামাকাপড় পরিষ্কার করেন নাই?
শিশির-নাহ,আমার জামা কাপড় বুয়া ধুয়ে দেয়
তনু-হুম বুঝলাম
শিশির-কেন?জামা ধোয়া হয়নি নাকি?
তনু-হয়েছে,খুব ভালো হয়েছে,একটা কথা বলবো?
শিশির-বলো
তনু-আমার আর এখানে থাকতে ইচ্ছে করছে না আমি বাংলাদেশে ফিরে যাব,
শিশির-একটা কথা বলো,রাকিব তোমার পাসপোর্ট পেলো কই???
তনু-সেটায় বুঝতেসিলাম না পরে রাকিব নিজেই বলসে সে আমাদের বাসায় ফেক কাজের লোক পাঠিয়ে পাসপোর্ট চুরি করাইসে
শিশির-কি?আমার বাসায় চুরি!
তনু-আমি বাসায় এখন ফেরত যাব কি করে?পাসপোর্ট তো আমার কাছে নেই
শিশির-সেটার ও সলুশন হয়ে গেসে,
পুলিশ রাকিবের পকেটে ওর আর তোমার পাসপোর্ট পেয়েছে,সেটা দিয়েই কাজ হবে
তনু-বাব্বাহ আমি তো ভয় পেয়ে গেসিলাম, ভাবসি আর যেতে পারব না
শিশির-আমি চাইলে ২দিনেই তোমার পাসপোর্ট বানিয়ে নিতে পারি Switzerland থেকে
তনু-ওহ তাই নাকি
শিশির তনুর দুই কাঁধে তার হাতদুটো রেখে বললো হুম তাই
তনু ইয়া বড় হা করে শিশিরের মুখের দিকে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে আছে
তনু-এই পোলার হলোটা কি,?এমন করতেসে কেন,
গাঁজা টাজা খাইসে নাকি,??
এমন রোমান্টিক মুডে আছে কেন,?
কিছু সুবিধা লাগতেসে না,
আমার চোখের দিকে কি সাহস করে তাকিয়ে আছে আর আগে চোখে চোখ রাখতেই পারতো আর এখন চেয়েই আছে,ঘামতেসেও না!!😲😱
শিশির তনুর কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললো কি হয়েছে?এমন হা করে চেয়ে আছো কেন?
তনু-না কিছু না,এমনিতেই
শিশির ফোন নিয়ে সোফায় গিয়ে বসলো
তনু খাটে বসে চাদর টেনে গালে হাত দিয়ে শিশিরের দিকে তাকিয়ে ভাবতেসে শিশিরের এমন স্বভাব পাল্টানোর কারন কি?আমার প্রেমে পড়ে নাই তো?
নাহ সেটা হবে কেন,এতদিন ধরে এত কাঠ খড় পোড়াইলাম লাভ হয়নি আর এখন কেন হতে যাবে,
অন্য কোনো কারন হতে পারে হয়ত,
উনার জন্মদিন নাকি আমার?না সেগুলো তো দেরি আছে,তাহলে আর কি কারন?
শিশির ফোনের থেকে চোখ উঠিয়ে ধাঁধালো চোখে তনুর দিকে তাকালো
তনু কেঁপে উঠলো,এমন করে চাহনি দিচ্ছে কেন আমাকে
তনু ঢোক গিলে পানি নিয়ে খেলো,
শিশির বাঁকা একটা হাসি দিয়ে আবার ফোনের দিকে তাকালো
তনু উঁচু হয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেকে একবার দেখে নিলো
নাহ সব তো ঠিক আছে,আর আমাকে তো রুগীর মত লাগে,এই চেহারাতে তো উনার আমার উপর ক্রাশ খাওয়ার কথা না,উফ পাগল হয়ে যাবো আমি এই ধাঁধার উত্তর খুঁজতে গিয়ে,কেউ তো বলো শিশিরের এমন বিহেভের কারণটা কি???
চলবে♥
Love
#তোর_শহরে_ভালোবাসা 💜
পর্ব-২২
ফাবিহা নওশীন
🍂🍂
ঘুম ভাংতেই সামুর মাথাটা চিনচিন করছে।সারারাত ঘুম হয়নি।প্রচুর কেদেছে তাই মাথা ভারের সাথে প্রচন্ড ব্যথা।মাথা চেপে ধরে উঠে বসে।ঘড়িতে সময় দেখে লাফিয়ে উঠলো।
৯টা৪৪মিনিট।সকালের দিকে ঘুমিয়েছে কখন চোখ লেগে এসেছে।বিছানা থেকে নেমে ফ্রেশ হয়ে বাইরে যেতেই একজন সার্ভেন্ট এসে একটা বড় খাম দিয়ে গেলো।সামু কিছুই বুঝতে পারছেনা।কে দিলো এটা।
তাই সার্ভেন্টকে জিজ্ঞেস করলো,
--এটা কার?কে দিয়েছে?
--আদি স্যার পাঠিয়েছে।
সামু বুঝতে পারছেনা কিসের খাম দিবে আদি এত সকালে।সামু আর কিছুনা বলে উপরের দিকে একবার চেয়ে খামটা খুলে ধপ করে মেঝেতে বসে পড়ল।দুচোখ বেয়ে অঝোর ধারায় পানি পড়ছে।সামু জোরে চিতকার করে উঠলো।ওর চিতকার শুনে সবাই হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো।
আদির বাবা,মা,বোন সবাই এসে হাজির।সবাই জিজ্ঞেস করছে কি হয়েছে কিন্তু ওর মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছেনা।নিশি ওকে টেনে উঠানোর চেষ্টা করছে কিন্তু তুলতে পারছেনা।ওর হাতে থাকা কাগজগুলো হাতে নিলো।
তাতে একটা চিঠি আর আদির সাইন করা ডিভোর্স পেপার।নিশির হাত থেকে পেপারটা পড়ে গেলো।সবাই স্তব্ধ হয়ে ডিভোর্স পেপারের দিকে চেয়ে আছে।
নিশি চিঠিটা খুলে জোরে জোরে পড়া শুরু করলো,
"আমার সাথে থাকা যায়না তাই না?মুক্তি দিয়ে দিলাম আজীবনের জন্য মুক্তি দিয়ে দিলাম।আমি চলে যাচ্ছি আর কোনো দিন ফিরবোনা।তুমি আমার ভালোবাসার কোনো দাম দেওনি,,শুরু পাগলামিটাই দেখেছো।এখন দেখো আমাকে ছাড়া কতটা ভালো থাকতে পারো।তুমি আমাকে ভেঙে কয়েক টুকরো করেছো আর আমি তোমাকে শত টুকরো করে দিয়ে গেলাম।নিজের টুকরো গুলো হাতরেও খোজে পাবেনা।শেষ কথা আমি তোমাকে ঘৃণা করি।খুব ঘৃণা করি।
বিদায়।"
আদির খোজ করে জানা গেলো সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে গেছে।নিশি ফোনে বারবার ট্রাই করছে কিন্তু সুইচড অফ।
সামু কিছু না বলে পেপারগুলো নিয়ে উপরে চলে গেলো।আদির মা নিশি সামুর পিছু পিছু গেলো।সামু দরজা বন্ধ করে দিয়েছি।
বাইরে থেকে দরজা ধাক্কাচ্ছে।
--নিশি আপু প্লিজ আমাকে একটু একা থাকতে দেও।
সামু আবারো চিঠিটা খোলে,,
চোখের পানিতে চিঠিটা ভেসে যাচ্ছে।
সামান্য একটা কথার জন্য এতবড় শাস্তি দিলে আদি?এত ঘৃণা করো এত?আমি বলেছি থাকা যায়না কিন্তু এটা তো বলি নি তোমার সাথে থাকবো না।এটা তো একবারো বলিনি,,কেন এমন করলে আদি?আমি শুধু তোমাকে বুঝাতে চেয়েছিলাম।এতদিন তোমার সব কথা মেনে চলেছি,ভালোবেসেছি তার কি কোনো মূল্যই নেই।এভাবে আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারলে তুমি?
সামু চিঠিটা বুকে জড়িয়ে হাওমাও করে কাদছে।
আহনাফ চৌধুরী কপালে হাত দিয়ে বসে আছে।আদির মা কাদছে।নিশি পাইচারি করছে আর বারবার চেষ্টা করছে আদির খোজ করার।কিন্তু পারছেনা।বাবা-মাকে উদ্দেশ্য করে বললো,
---ভাইয়া এটা কি করলো?রাগ অভিমান হয়েছে কিছুদিন নাহয় দূরে থাকতে পারতো কিন্তু ডিভোর্স??
আহনাফ চৌধুরী আদির মাকে উদ্দেশ্য করে বললো,
--দেখোছো কি ছেলে পেটে ধরেছো?বাবার উপরের ক্ষোভ বউয়ের উপর দেখালো।আমি থাপ্পড় মেরেছি,,দুচার কথা বলেছি।সামুকে ওর সাথে বিয়ে দিয়ে ভুল করেছি এসব বলেছি তাই সামুকে তার শাস্তি দিলো।
ওকে আমি কোনোদিন ক্ষমা করবোনা।ও আমার ছেলেই না।সামু আমার মেয়ে হয়েই এ বাড়িতে আজীবন থাকবে।ওর মতো ছেলের দরকার নেই আমার।
কেউ কোনো কথা বলছেনা।সামু নিচে নামছে।ওকে দেখে বুঝাই যাচ্ছে কোথাও যাচ্ছে।সবাই উঠে দাড়ালো।
সামু কোথাও যাচ্ছিস?
সামু শুখনো মুখে বললো,
--আমি চলে যাচ্ছি বাবা।
সবাই ওর কথা শুনে হতবাক।নিশি বলছে,
--সামু কি বলছিস তুই পাগল হয়ে গেছিস?
--আমি ঠিকই আছি।ডিভোর্সের পর কোন মেয়ে শ্বশুর বাড়ি থাকে?তাই আমি চলে যাচ্ছি।
আদির বাবা,
--না তুই কোথাও যাবি না,,তুই আমার মেয়ে।তুই এখানেই থাকবি।
আদির মা,
--সামু তুই যাস না,,আদি রাগের মাথায় এসব করেছে দেখবি ঠিক চলে আসবে।
--না মা,,আদি রাগের মাথায় করেনি।ভেবেচিন্তে করেছে।চিঠি পড়ে বুঝোনি।ওর আমার উপর রাগ হয়েছে ও রাগ করে কোথাও চলে যেতে পারতো কিন্তু তা করেনি আমাকে একবারে ওর জীবন থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থাও করে গেছে।তাহলে আমি এখানে কেন থাকবো?কিসের টানে থাকবো।
আদির বাবা,,
--সামু তুই কোথাও যাবি না।
--আমাকে আটকিও না।আমার এখানে অনেক কষ্ট হচ্ছে।দম বন্ধ হয়ে আসছে।আমার জন্য আর কঠিন করোনা।আমাকে তোমরা ক্ষমা করে দিও।আমি অনেক কষ্ট দিয়েছি তোমাদের।মাফ করে দিও।তোমরা আমার জন্য যা করেছো তার ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারবোনা।ভালো থেকো।
সামু বেরিয়ে গেলো।হাজার চেষ্টা করেও কেউ ওকে আটকাতে পারেনি।আদি যাওয়াতে ওরা যতটা না ভেঙে পড়েছে তার চেয়ে বেশি সামুর জন্য ভেঙে পড়েছে।মেয়েটার জীবন ধ্বংস হয়ে গেলো।
সামু গাড়িতে বসে আছে।চোখের পানি বাধ মানছে না।ওড়না দিয়ে বারবার চোখের পানি মুছে নিচ্ছে।এ-শহর ওকে এত স্বপ্ন দেখিয়ে ওর সাথে এমন প্রতারণা করবে ভাবতে পারেনি।
অতিরিক্ত কোনো কিছুই নাকি ভালোনা।অতিরিক্ত ভালোবাসা,জেদ,রাগ,বিশ্বাস,ইগো,লোভ।লোকে বলে অতিরিক্ত জিনিস মানুষের জীবনে দুঃখ ডেকে আনে।আর সেটা যদি অতিরিক্ত রাগ হয় তাহলে তার ফলাফল অতি ভয়াবহ।অতিরিক্ত রাগ জীবন ধ্বংস করে দেয়।রাগের বশে নেওয়া একটা ভুল ডিসিশন সব তছনছ করে দেয়।
🍁🍁
Jinke darmiyan guzri thi abhi
Kal tak yeh meri zindegi
Lo unn bahon ko thandi chao ko
Hum bhi kar chale alvida
.. Alvida abvida
Meri rahein alvida
meri sasein kehti hai alvida
Alvida alvida ab kehna aur kiya
Jab tune keh diya alvida.......
💔💔💔💔💔
গাড়ি গিয়ে সামুদের বাসার গেইটের সামনে থামলো।নিজেকে মৃত মনে হচ্ছে।গাড়ি থেকে নামার শক্তি পাচ্ছে না।শরীরে শক্তি সঞ্চয় করে গাড়ি থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে গেইটের সামনে দাড়িয়ে রইলো।গেইট খোলা।ভিতরটা দেখা যাচ্ছে।সামু ধীর পায়ে হেটে যাচ্ছে।যেন বোধ নেই।রোবটের মতো এগিয়ে চলেছে।মেইন ডোরের সামনে গিয়ে বেল বাজিয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে রইলো।
সামুর আম্মু এসে দরজা খোলে সামুকে দেয়ালের সাথে হেলান দেওয়া অবস্থায় দেখে।ওর চোখমুখ শুখনো।চুলগুলো এলোমেলো কেমন বিধ্বস্ত লাগছে।ওর মায়ের বুক ধক করে উঠলো।
উদ্বিগ্ন হয়ে বললো,
--সামু,,,কি হয়েছে?
সামু মায়ের দিকে শান্ত চাহনি দিয়ে হুট করেই জড়িয়ে ধরে জোরে জোরে কেদে দিলো।সামুকে কিছুতেই শান্ত করা যাচ্ছেনা।ভিতরে নিয়ে বসিয়ে সামুর আব্বুকে ফোন করে বাসায় ডেকে আনে।সবাই মিলে অনেক চেষ্টা করেও কোনো কথা বের করতে পারেনি।কেদেই যাচ্ছে।
সামুর বাবা উপায় না দেখে আহনাফ চৌধুরীকে ফোন করে,,তিনি সবটা বলেন না শুধু বলেন আদি আর সামুর মধ্যে ঝামেলা হয়েছে।কোন মুখে বলবেন সবটা।তাই এটুকুই বলেন।
রাতের বেলা সামু নিজের ঘরে বসে বাবা-মাকে সবটা খোলে বলে।আদি ওকে চিরদিনের মতো ছেড়ে চলে গেছে আর ফিরবেনা।সামুও আর ও বাড়ি ফিরবেনা সব জানায়।সামুর বাবা রেগে গিয়ে আদির বাবাকে ফোন করতে গেলে সামু বাধা দেয় আর বলে ওদের কোনো দোষ নেই।সামুর মা সামুকে জড়িয়ে কেদেই চলেছে।
সেদিন রাতে একবুক কষ্ট নিয়ে মায়ের কোলে ঘুমিয়ে পড়ে।
সামু খাওয়া নাওয়া সব ছেড়ে ঘরেই পরে থাকে।চারদেয়ালে নিজেকে বন্ধি করে নিয়েছে।কারো সাথে কথাও বলেনা।সারাদিন রাত কেদেই চলেছে।
এক সপ্তাহ পর,,,
ভোরবেলা আজানের শব্দে সামুর ঘুম ভেঙে যায়।বিছানা ছেড়ে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নামাজে দাড়ায়।আজ থেকে নতুন ভোরের শুরু।নামাজ শেষ করে মোনাজাত ধরে।সেখানে তার মনের গোপন বাসনা গুলো আল্লাহর দরবারে পেস করে।
নামাজ শেষে ছাদে যায়।চারদিকে আলো ফুটছে।পাখিরা কিচিরমিচির করছে।স্নিগ্ধ বাতাস বইছে।বাতাসেরা সামুকে ছুয়ে যাচ্ছে।টপে ফুটে থাকা ফুল গুলো ছুয়ে ছুয়ে দেখছে।অন্য রকম ভালোলাগা কাজ করছে।রেলিং ধরে দাড়ায়।আকাশের দিকে চেয়ে বলে,
"আদি আজকের পর আমি আর তোমার জন্য কাদবোনা,তোমার জন্য কষ্ট পাবোনা।আজ থেকে আমার নতুন জীবন শুরু।আমি তোমাকে বলেছিলাম তুমি আমাকে ছেড়ে দিলে আমি ধ্বংস হয়ে যাবো আর তুমি সেই পয়েন্ট ব্যবহার করেছো।তুমি ভেবেছিলে আমাকে ধ্বংস করে দিবে কিন্তু না আমি সেটা হতে দিবোনা।আমিও ভালো থাকবো।তুমি আমাকে ঘৃণা করো তাই না ঠিক আছে তাই করো।কারণ তুমি আমাকে কখনো ভালোবাসোনি।ভালোবাসলে তুমি এটা করতে পারতে না।আমিও আর তোমাকে নিয়ে ভাববোনা।
হে মাবুদ!তুমি আমাকে শক্তি দেও,,এমন কিছু করো যাতে আমার জীবনে বেচে থাকার শক্তি জোগায়।আমাকে লড়াই করার সাহস দেয়।আমাকে শক্তি দেও।আমার বেচে থাকার শক্তির উৎসর সন্ধান দেও।মনে শান্তি দেও।"
সকাল ১০টা।সামু আহনাফ চৌধুরীকে ফোন করলো,,
--আসসালামু আলাইকুম বাবা।
--অলাইকুম আসসালাম।কেমন আছিস?
--জ্বী ভালো। আপনি?
--দীর্ঘশ্বাসের শব্দ।
বাড়িটা কেমন যেন হয়ে গেছে।মনে হচ্ছে কেউ মারা গেছে।
সামু কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,
--আমার তোমার একটা সাহায্যের প্রয়োজন।আমার ভার্সিটির ট্রান্সফারের ব্যবস্থা করে দিন।আমি পড়াশোনা কন্টিনিউ করতে চাই।আমি চাইলেই হোস্টেল কিংবা অন্যভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারতাম কিন্তু আমি আর ওই শহরে ফিরতে চাইনা।
আদির বাবা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো, আচ্ছা।আমি ব্যবস্থা করে দিবো।তোর খুশিতেই আমি খুশি।তোর বাবাকে বলিস আমাকে মাফ করে দিতে।
--ভালো থাকবেন।নিজের খেয়াল রাখবেন।
.
.
সামু নিজ শহরের ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে গেলো।শুরু হলো নতুন পথচলা।নিজেকে অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছে।পড়াশোনা করছে।নিয়মিত ভার্সিটি যাচ্ছে।তবে শরীর ঠিক যাচ্ছেনা।ইদানীং মাথা ঘুরায়,,কিছু খেতে ইচ্ছে করেনা,গা মেজমেজ করে।শরীর অনেক দূর্বল লাগে।শুধু ঘুম পায়।
ডিভোর্স পেপার খুব যত্নে রেখেছে।অনেক বার সেখানে সাইন করার চেষ্টা করেছে কিন্তু সাহসে কুলোয় নি।কিসের যেন একটা বাধা আসে বারবার।কিসের যেন টান,,,বারবার এই টান উপেক্ষা করতে চাইলেও পারেনা।
শরীর ভালো না লাগায় ভার্সিটি থেকে বাড়িতে চলে এসেছে।শরীর অনেক দূর্বল লাগছে।কলিং বেল বাজিয়েই ধপাস করে পড়ে গেলো।
সামুর মা দরজা খোলে এভাবে সামুকে পড়ে থাকতে দেখে ভয় পেয়ে চিতকার করে উঠলো।
.
.
সিডনি রাতেরবেলা-
আদি নাইট ক্লাবে বসে বসে মদ খাচ্ছে।নেশায় পুরো টুইটুম্বুর।পকেট থেকে ফোন বের করে সামুর একটা ছবি বের করে বলে,,
আই হেইট ইউ সামু,,হেইট ইউ।।হেইট ইউ,,
তারপর নেশায় ঢলে পড়ে।
সামু নিজের ঘরের বিছানায় শুয়ে আছে।পাশেই ওর আম্মু,আব্বু,সামির আর একজন ডাক্তার বসে আছে।তিনি সামুকে চেকাপ করছে।গুরুগম্ভীর অবস্থা,,,
সামুর বাবাকে উদ্দেশ্য করে বললো,
--উনি মা হতে চলেছেন।
পুরো ঘরে পিনপতন নীরবতা।
সামুর চোখে পানি ছলছল করছে।আল্লাহ ওর দিকে মুখ তুলে চেয়েছেন।ওর জীবনে বেচে থাকার শক্তি পাটিয়েছে।ওর সানসাইন,,ওর বেবি।যে ওকে বেচে থাকার শক্তি দিবে।লড়াই করার সাহস জোগাবে।
কিন্তু ওর মা-বাবার মুখ দেখে কিছু বুঝা যাচ্ছেনা।কেমন চুপসে আছে।তাতে কি সামু তো খুশি।
চলবে...
(ছোট বলিবেন না।গতকাল অনেক বড় পার্ট দিয়েছি।)
Love
#গোধূলীর_প্রেম
#পর্ব-৬
#Nirzana(Tanima_Anam)
-জানেন আমি আপনাকে বিয়ে করিনি।তবুও আপনি নিজেকে আমার বর ভাবছেন।বিষয়টা খুব কমপ্লিকেটেড।
-কি সব বলছো??
-হুহ ঠিকই বলছি।আমি কবুল বলেছি আবার বলিনি।যেমন ধরুন আমি মুখে মুখে বললাম আমি আপনাকে স্বামী বলে মেনে নিয়েছি কিন্তু মনে মনে মানলাম কখনো বানাতাম না..।আপনি একটা মিথ্যে ছলনা করে রঙ্গনের সাথে আমার বিয়েটা ভেঙ্গে দিলেন আবার নিজে মহান সেজে আমাকে বিয়ে করলেন।আপনি আমাকে একটুও সন্মান করেন না অথচ বলেন ভালোবাসেন!!ওহ্য়ন মুচকি হাসি দিয়ে গরম দুধের মগটা অর্নীর দিকে এগিয়ে দিলো।মেয়েটা জ্বরের ঘোরে হয়তো আবল তাবল বকছে....।মেয়েটা যখন ঝালে লাফাচ্ছিলো সায়ন তখন ইচ্ছে করেই তাকে পানি দিচ্ছিলো না।অর্নী রাগে গজগজ করতে করতে টেবিলে রাখা গরম স্যুপ ভর্তি বাটিটা সায়নের গায়ে ছুড়ে মারে।
-যদি ভেবে থাকেন আপনি সব সময় আমাকে এটা ওটা করে টর্চার করবেন আর আমি সব সময় মুখ বুজে মেনে নিবো তাহলে ভুল করছেন।
এবার সায়ন রেগে গিয়ে অর্নীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ওয়াশরুমে পানি ভর্তি বার্থটব টার মধ্যে চুবিয়ে দিয়ে আসে।মোটামুটি ঘন্টা খানিক ওয়াশরুমে বন্দী থাকায় জ্বরটা বেঁধেছে.....
সায়ন একটু ভুরু কুচকে অর্নীকে জবাব দেয়।
-আচ্ছা হটাৎ আমাকে কেয়ার টেকার বানানোর কথা মাথায় এলো কেন অন্যকিছুও তো ভাবতে পারতে,না মানে তোমার কল্পনায়??
-বা রে স্বামী তো একজন মেয়ের কেয়ার টেকারের মতোই যেমন ধরুন মেয়েদের দুঃখ কষ্ট সন্মান অসম্মান ভালোলাগা মন্দ লাগা সুবিধা অসুবিধা সব কিছু তো স্বামীই দেখবে।একটা মেয়ের সব দিকে খেয়াল রাখা তো স্বামীরই কর্তব্য তাহলে হলো তো কেয়ার টেকার??য
সায়ন অর্নীর হাতে দুধের গ্লাসটা ধরিয়ে দিয়ে অর্নীর পাশে বসে
কিছুক্ষন অর্নীর দিকে তাকিয়ে থেকে বলতে শুরু করে
-আজকাল তুমি বড্ড গুছিয়ে কথা বলতে পারো যা আগে পারতে না।তুমি বড্ড অচেনা হয়ে গেছো
অর্নী সায়নের দিকে বাঁকা চোখে তাকায়।তারপর একদমে দুধটুকু খেয়ে মগটা সায়নের দিকে এগিয়ে দেয়
-আমি আগেও গুছিয়েই কথা বলতাম এখনও বলি এটা নতুন কিছুই না।স্কুলে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আমিই ফার্স্ট হতাম।
-ঔষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড় না হলে জ্বরের ঘোরে কতোই না নতুন নতুন কথা আবিষ্কার করবে আল্লাহ্ ভালো জানে!
-অদ্ভুত তো আমার জ্বরটা বেশি হলেও আমি ঠিক আছি অন্তত বিলাপ,প্রলাপ কোনোটাই করছি না!
অর্নী এইটুকু বলেই বিছানায় ধপ করে শুয়ে পড়ে।
-যদি বলি বকছো....আমার জানা মতে তুমি বরাবরই স্কুলে ব্যাকব্রেঞ্চারস্ ছিলে।পড়াশোনাটাই কখনো ঠিক মতো করো নি আর তো বিতর্ক।আর কতোই মা মিথ্যা বলবা।তুমি তো এই ক বছরে ছোট খাটো মিথ্যার জাহাজ হয়ে গিয়েছো!!
অর্নী রাগে গজগজ করতে করতে আবার উঠে বসে...
-পৃথিবীর যতো রকম আজগুবি কথা আপনার মুখে।ভালো করে গিয়ে শুনে আসুন আমার স্কুলে তারপর কথা বলবেন।যতোসব.....
এইটুকু বলেই অর্নী বিছানায় শুয়ে পড়ে।আপাতোতো তাদের কথা বার্তা এখানেই শেষ।
সায়ন মোবাইলটা হাতে নিয়ে বারান্দায় চলে যায়।তারপর একটা খুব পরিচিত কাউকে ফোন করে বেশ ধীরে ধীরপ কথা বলতে শুরু করে
"হুহ হয়ে গেছে এবার ওদেরকে ছেড়ে দাও।আর শোনো যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ওকে দূরে কোথাও পাঠিয়ে দাও।নেক্সট টাইম যেন আমাদের ধারের কাছেও ওকে না দেখি।আর শোনো আমি অর্নীর ডিটেইলস চাই।যেমন ধরো ও কেন আমার সাথে ওমন করলো,বা এতো বছর ও কেমন লাইফ লিড করেছে বা ওর ব্যাকগ্রাউন্ড সব কিছু জানতে চাই...ডিটেইলস"
কথাগুলো বলেই সায়ন ফোনটা রেখে দেয়।এদিকে অর্নী চলে গেছে গভীর ঘুমে।
সায়ন এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে একি নিষ্পাপ এই মুখ।কতো চেনা এই মানুষটা অথচ এই চিরচেনা মানুষটাই কখন কিভাবে এতো অচেনা হয়ে উঠলো তা সে নিজেও জানে না।
সকাল সকাল অর্নী ঘুম থেকে উঠে গুটি গুটি পায়ে হাটা ধরে রান্না ঘরের দিকে।তারপর দুই মগ কফি বানিয়ে চলে আসে সায়নের কাছে।সায়ন তখন সোফায় হেলান দিয়ে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে।অর্নী সায়নের কাছে এসে সায়নকে বেশ মিষ্টি করে ডাক দেয়।সায়ন উঠে বসে অর্নীর হাতে কফি দেখে চোখ দুটো রসগোল্লা হয়ে যায়।
-তোমার হাতে কি??
-কি আবার কফি!
-কার জন্য?
-আপনার জন্য.....
-ওওও বাট তুমি!!
-হুহ নিন.....
কথাটা বলেই সায়নের দিকে কফি ভর্তি মগটা এগিয়ে দেয়।সায়ন মুচকি হাসি দিয়ে অর্নীর হাত থেকে কফি মগটা নেয়।
তার কফি মগটায় চুমুক দিতেই সায়নে নাক কান দিয়ে ধোয়া বেরোবার অবস্থা দেখা যায়।
কফিতে কফির বদলে গোল মরিচ মেশানো।সাথে অবশ্য যতোরকম মরিচ হাতের কাছে পেয়েছে তাও মিশেয়ে দিয়েছে।
সায়ন ঝালে একে বারে নাজে হাল অবস্থা।এদিকে অর্নী হেসে হেসে কুল কিনারা পাচ্ছে না।
সায়ন লাল লাল চোখে অর্নীর দিকে তাকায়।অর্নী কোনো রকমে হাসি থামিয়ে সায়নকে বলতে শুরু করে...
-টিট ফর ট্যাট!!!ও ব্যাই দ্যা ওয়ে
বলেছিলাম না আপনি আমার কাছ থেকে সেটাই পাবেন যেটা আপনি ডিজার্ভ করেন।ওহ্ এই নিন পানি খান।
ব্যাপারটা সেখানেই শেষ হয়ে যায়।সায়নও অর্নীকে এই ব্যাপ্যার নিয়ে কিছুই বলে না।সন্ধ্যার দিকে সায়ন অর্নীরকে বেশ ঝাঝালো কন্ঠে জানিয়ে দেয় অর্নীকে যেতে হবে তার সাথে।
অর্নী প্রথমে বেশ অবাক হয়।
তারপর সায়নকে প্রশ্ন করতেই সায়ন সরাসরি জানিয়ে দেয়...
-বিয়ে হলে মেয়েদের তো শ্বশুড় বাড়িতে যেতেই হয় তাকেও যেতে হবে এবার।তার শ্বশুড় বাড়ি।
অর্নী প্রথমে রাজি না হলেও পরে সায়নের চাপে রাজি হয়ে যায়....
এবার হয়তো তার জন্য নতুন কিছু অপেক্ষা করছে.....
চলবে.....
(প্রথমে ভেবেছিলাম গল্পটা আর লিখবো না পরে ইনবক্সে বকা খেয়ে আবার লিখা শুরু করলাম।দয়া করে জানাবেন গল্পটা কেমন হয়েছে।ধন্যবাদ)
★
Love
গল্প: ক্যালেন্ডার!
পর্ব: ১২!
লেখক: তানভীর তুহিন!
মিছিল বলে, " হাত ছাড়ো মুবিন। এখন লিমিট ক্রস করছো তুমি! "
মুবিন হেসে বলে, " কিছুই তো করলাম না। তাহলে লিমিট ক্রস হলো কোথায়? "
মিছিল চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। মুবিনের স্পর্ষে তার বুকে ধ্রিম ধ্রিম শব্দে ঢাক, ঢোল, ড্রাম সব একসাথে বাজছে। মুবিন খানিক চওড়া হেসে মিছিলের হাতটা ধরে আছে, মিছিলের হাতের উল্টোপিঠে থাম্বফিংগার দিয়ে স্লাইড করছে মুবিন। মুবিনের এই অতিসাধারণ ছোয়ায়'ও মাতাল হয়ে উঠছে মিছিলের মন। মিছিল চোয়াল শক্ত করে বলে, " মুবিন ছাড়ো! "
মুবিন সঙ্গে সঙ্গে মিছিলের হাত ছেড়ে দিয়ে বলে, " আচ্ছা ছেড়ে দিলাম। তবে এখান থেকে যেয়ো না, কিছুক্ষন দাড়াও এখানে! "
মিছিল চুপচাপ ট্রেনের দরজার পাশের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মুবিন ট্রেনের অবিরাম পথচলা দেখছে, মিছিলও দেখছে। মুবিন বাইরের আধো ঝাপসা রেললাইনের পাশের চলমান রাস্তা দেখতে দেখতে মিছিলকে বলে, " আচ্ছা মিছিল তুমি আমায় ভালোবাসো এটা কবে বলবে? "
মিছিলের চটজলদি জবাব, " কোনোদিনও না। কারন আমি তোমায় কোনোদিনও ভালোবাসবো না! "
মুবিন দাত বের করে হেসে আত্মবিশ্বাসী বাক্যে বলে, " এজন্য'ই তো তোমায় আরো বেশি করে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। "
মিছিল চোখ সরু করে বলে, " মানে? কীসের জন্য বেশি ভালোবাসতে ইচ্ছে করে? "
- " এইযে তুমি এতো নিশ্চিতভাবে বলো যে কোনোদিনও ভালোবাসবে না। এটাই আমায় আভাস দিয়ে দেয় যে তুমি আমায় ভালোবাসতে শুরু করে দিয়েছো। আর এরকম আভাস পেলে যেকারোরই ভেতরকার প্রেম ফুলে-ফেপে উঠবে, এটাই স্বাভাবিক! "
- " কোত্থেকে যে পাও এসব মুলাপচা লজিক, গড নৌস। "
- " জানবে, তুমিও একদিন জানবে। আর যেদিন জানবে সেদিন এই মুলাপচা লজিকগুলোই তোমার কাছে চকলেট আইস্ক্রিমের মতো লাগবে! "
- " হু! যা! তা! যত্তসব! "
মুবিন আর মিছিল ছোটোখাটো ধরনের একটা তর্কে জড়াচ্ছিলো। তখনই শাওন এসে বলে, " কীরে তোরা এখানেই দাঁড়ায় থাকবি নাকি? এখানে যদি দাঁড়িয়েই থাকবি তাহলে টাকা খরচ করে ট্রেনের টিকেট কিনলি কেনো? "
মুবিন শাওনকে ধমক দিয়ে বলে, " তুই শালা শান্তিতে প্রেমও করতে দিবি না। দেখছিস যখন এখানে দাঁড়িয়ে আছি, তারমানে নিশ্চই প্রেম করছি তাইনা? "
মিছিল চোখ রাঙিয়ে তাকায় মুবিনের দিকে। তারপর শাওনকে বলে, " আমরা মোটেই প্রেম-ট্রেম করছি না রে এখানে। তুই সিটে চল তো! " বলেই মিছিল সিটের দিকে আগায়।
শাওন মুবিনকে বলে, " কিরে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? যাবিনা? চল সিটে চল! "
- " তোরা যা একটা সিগারেট টেনে আসছি! "
- " আচ্ছা তাড়াতাড়ি আয়! "
মিছিল মুবিনকে সিগারেট না খাওয়ার জন্য বলবে ভেবেছিলো। কিন্তু কী না কী ভেবে কথাটা না বলেই চলে যায় মিছিল। মিছিল আর শাওন চলে গেলেই মুবিন একটা সিগারেট জ্বালিয়ে ধোয়া টানা শুরু করে, ছোট ছোট টান দিয়ে সিগারেটের ধোয়া ভেতর বাহির করছে মুবিন। এক অদ্ভুত অস্থিরতা কাজ করছে তার মধ্যে!
মুবিন একটা সেন্টার ফ্রুট মুখে দিয়ে চিবোতে চিবোতে গিয়ে সিটে বসলো। মুবিন গিয়ে বসতেই যেনো আড্ডাটা জমজমাট হলো। এতোক্ষন চারপাশে কথা তো হচ্ছিলো কিন্তু তেমন প্রান ছিলো না এই আড্ডায়। বগির প্রায় অর্ধেকটা জুড়েই ওরা, ২১ জনের প্রায় সবাই'ই সিট ছেড়ে উঠে সিটে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কথায় কথায় চৈতি মুবিনকে গান গাইতে বলে। মুবিন অবশ্য গান গাইবে বলে, নিজের গিটারটা নিয়ে এসেছিলো। তাই আর দেরি না করে গিটারের টুং! টাং! শব্দের সাথে সুর তোলে মুবিন,
" মনে পড়ে রুবি রায়
মনে পড়ে রুবি রায়, কবিতায় তোমাকে
একদিন কত করে ডেকেছি!
আজ হায় রুবি রায় ডেকে বল আমাকে
তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি
মনে পড়ে রুবি রায়, কবিতায় তোমাকে
একদিন কত করে ডেকেছি!
আজ হায় রুবি রায়, ডেকে বল আমাকে
তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি
রোদ জ্বলা দুপুরে, সুর তুলে নূপুরে
বাস থেকে তুমি যবে নাবতে
রোদ জ্বলা দুপুরে, সুর তুলে নূপুরে
বাস থেকে তুমি যবে নাবতে
একটি কিশোর ছেলে একা কেন দাঁড়িয়ে
সে কথা কি কোনোদিন ভাবতে?
মনে পড়ে রুবি রায়, কবিতায় তোমাকে
একদিন কত করে ডেকেছি!
আজ হায় রুবি রায় ডেকে বল আমাকে
তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি
দ্বীপ জ্বলা সন্ধ্যায়
দ্বীপ জ্বলা সন্ধ্যায়, হৃদয়ের জানালায়
কান্নার খাঁচা শুধু রেখেছি
দ্বীপ জ্বলা সন্ধ্যায়, হৃদয়ের জানালায়
কান্নার খাঁচা শুধু রেখেছি
ও পাখি সেতো আসে নি
তুমি ভালোবাসনি
স্বপ্নের জাল বৃথা বুনেছি
মনে পড়ে রুবি রায়, কবিতায় তোমাকে
একদিন কত করে ডেকেছি!
আজ হায় রুবি রায় ডেকে বল আমাকে
তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি
মনে পড়ে রুবি রায়
মনে পড়ে রুবি রায়! "
সবাই মুবিনের সাথে সুর মেলায়। তারপর একে একে সীমান্ত, চৈতি, অলোক, শ্রাবন সবাই'ই গান গায়। সীমান্ত অবশ্য একটা ইংলিশ গান গেয়েছিলো, কারন ওর ইংলিশ একসেন্ট এবং গানের সুর এককথায় চরম জোশ। তারপর গান গাওয়ার পালা আসে মিছিলের, প্রথমে গাইবে না গাইবে না করলেও পরে গেয়ে ফেলে। মিছিল গায় 'বাড়িয়ে দাও তোমার হাত!' গানটা। মিছিল যখন গান গাইছিলো তখন মুবিন ওর গানের তালে তালে গিটার বাজাচ্ছিলো আর স্থির মুগ্ধ নয়নে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিলো মিছিলকে। মুবিন যখন এভাবে স্থির মুগ্ধ নয়নে দেখছিলো মিছিলকে, তখন মিছিলের মনে হচ্ছিলো কেউ অতি নিকট থেকে তাকে আলিঙ্গন করছে।মিছিলের গান গাওয়া শেষ হতেই মুবিন নিজের হাতটা মিছিলের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে, " এই নাও বাড়িয়ে দিয়েছি আমার হাত, তুমি আমার আঙুল ধরে! আমায় ধরে হাটতে পারো। "
মিছিল মিথ্যে চোখ গরম দেখিয়ে হেসে দিয়ে বলে, " ধুর! "
সবাই একসাথে হো হো করে হেসে ওঠে মুবিন মিছিলের রঙ্গতামাশায়।
আসলেই কী কেউ তাকিয়ে থেকেই এভাবে মাতাল করে দিতে পারে কাউকে? শুধুমাত্র চাহনিতেই কী যাদুর তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে অনুভুতির ঢেউ কে উত্তাল করে দেওয়া যায়? হ্যা যায় হয়তো, নাহলে মুবিন কীভাবে পারছে? ওর প্রত্যেকটা চাহনি'ই যেনো কামিয়াব এবং সফল। কীভাবে পারছে আমায় অদৃশ্যভাবে কাছে টেনে নিতে? এসব ভেবে ভেবে ছোট ছোট মুহুর্তগুলোকে অতীত করছে মিছিল। সামনেই মুবিন বসা। থুতনিতে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে রক্তিম আকাশের পানে, আকাশটাকে যেনো কেউ খুন করেছে। এলোপাথাড়ি যেনো কোপানো হয়েছে আকাশটাকে, পশ্চিম আকাশটা রক্তিম বর্ন ধারন করেছে। সেই রক্তিম আকাশের শেষ প্রান্তের নিভু হলুদ রঙের সূর্যটা আকাশের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে তলিয়ে যাচ্ছে অজানায়। অনেকটা অপরাধির মতো তলিয়ে যাচ্ছে, হয়তো অনুসন্ধান করলে জানা যাবে এই রক্তাক্ত আকাশের খুনি এই নিভু হলদে রঙা সূর্যটা। যার বুকে সে সারাটাদিন ছিলো তাকেই খুন করে পালিয়ে যাচ্ছে? কেনো খুন করলো? এতোটা স্বার্থপর কেনো হলো সূর্যটা? বেইমান! অকৃতজ্ঞ! বিশ্বাসঘাতক সূর্য! এসব আবোলতাবোল ভাবছে মিছিল। কেনো ভাবছে? এই প্রশ্নের তদন্ত করবে সে। হ্যা এখনই তদন্ত শুরু করবে। মিছিল অবান্তর বিষয়টা নিয়ে তদন্ত শুরু করতে যাবে তার আগেই মিছিলকে অবাক করে দিয়ে মুবিন মিছিলের হাতটা ধরে।
হঠাৎ হাত ধরলো কেনো? এতক্ষন তো আকাশ নিয়ে গবেষনা করছিলো জনাব, হঠাৎ কথা নেই বার্তা নেই হাত ধরে বসলো? কথাটা ভেবেই মিছিল পাশে তাকালো। সবাই বেঘোরে ঘুমোচ্ছে। মিছিলের পাশে বসা চৈতি ঘুমোচ্ছে, মুবিনের পাশে বসা শাওন-সীমান্ত'ও ঘুমোচ্ছে। মিছিলের ইচ্ছে করছেনা মুবিনকে কটুকথা শুনিয়ে মুবিনের কাছ থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিতে, তাই হাতটা আর ছাড়িয়ে নিলো না মিছিল। শুধু মুখে একটা বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন এনে চোখ দিয়ে নিজের হাতের দিকে ইশারা করে চোখ নাচিয়ে ইঙ্গিতে মুবিনের কাছে হাত ধরার কারন জানতে চায় মিছিল। মুবিন প্রশ্ন বুঝেও কোনো উত্তর দেয় না, উত্তর না দিয়েই মিছিলের হাতটা আরেকটু শক্ত করে ধরে। মিছিলের চেহারার প্রশ্নবোধক চিহ্নটা আরো গাঢ়ো হয়ে ওঠে। মিছিলের চেহারায় থাকা গাঢ়ো প্রশ্নবোধক চিহ্নটা মুছে দেবার কোনো ভ্রুক্ষেপ'ই নেই মুবিনের। তার সমস্ত ভ্রুক্ষেপ এখন মিছিল! শুধুই মিছিল!, মিছিলের চেহারার প্রশ্নবোধক চিহ্ন না।
মুবিন মিছিলের হাত ধরার শক্ততার মাত্রা বাড়িয়ে মিছিলের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, " আই লাভ ইউ মিছিল মনি! "
কথাটা শুনতেই পরাপর লাগাতার বেশ কয়েকবার হার্ট বিট মিস করে মিছিল। প্রোপোজ করার একটা অতিসাধারণ ধরন আই লাভ ইউ বলা, এর আগেও বহু ছেলের মুখে বহুবার আই লাভ ইউ শুনেছে সে। কিন্তু কখনো এমন ভালোলাগা, এমন মুগ্ধতা, এমন স্নিগ্ধতা, এমন প্রাপ্তি অনুভব করেনি সে। কী আছে মুবিনের মধ্যে? কী দিয়ে দিন দিন আমায় পাগল করে নিচ্ছে ও?
মুবিন একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে মিছিলের চোখ দুটোর পানে, মিছিলের চোখ দুটোও স্থিরভাবে তাক করা মুবিনের চোখদুটোর দিকে। মিছিল অস্ফুট বাক্যে বলে, " হঠাৎ এসব বলছো? "
মুবিন মিছিলের হাতটা ছেড়ে দেয়, মিছিল চাচ্ছিলো মুবিন আরেকটু ধরে রাখুক হাতটা। একদম শক্ত করে ধরে রাখুক। কিন্তু মিছিলের ইচ্ছাটা অজানাই রয়ে যায় মুবিনের, মুবিন হাতটা ছেড়ে দিয়ে নরম গলায় বলে, " আকাশ দেখে খুব ইচ্ছে করছিলো আমার সাহিত্যকনাটাকে প্রেম নিবেদন করার। তাই দেরী না করে বলে দিলাম! "
মিছিল নিভু গলায় ছোট করে বলে, " ওহ! "
মুবিন আর কিছু না বলে, আকাশ দেখায় মনোযোগ দেয়। তার সবচেয়ে কাছের বস্তু এই আকাশ! যদিও অবস্থানের দিক থেকে অনেক দূরত্ব এই দুই বন্ধুর মাঝে। তবুও অন্তরাত্মার দিক থেকে তারা অতি সন্নিকটে।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা ট্রেন এসে সিলেট রেলস্টেশনে দাড়িয়েছে। সবাই গা''ছেড়ে দিয়ে ট্রেন থেকে নেমেছে, সবারই ঘুম আধপাকা হয়ে আছে। শুধু মুবিন আর মিছিলের ছাড়া।
রেলস্টেশন থেলে লেগুনায় চড়ে সবাই সিলেটের আম্বরখানার হোটেল কায়কোবাদে গিয়ে উঠলো। গতকাল রাতেই এখানে সবার জন্য রুম বুক করে রেখেছিলো মুবিন।
সবাই হোটেলের ডাইনিং এরিয়ায় খাবার খেয়ে যে যার রুমে গিয়ে গা এলিয়ে দেয়। কার সবার'ই ক্লান্তিতে গা ছেড়ে দিয়েছে প্রায়।
চলবে!
Live
#তুমি_আমার_ভালবাসা❤
#Part_23
#Writer:#Tisha_Islam_Nabila❤
.
🍁
.
আমাদের কারো মুখে কোনো কথা নেই.... রুপ ধপ করে বসে পড়লো.... আমি শান্ত কে শুভ'র কোলে দিয়ে.... রুপ'কে বসা থেকে উঠিয়ে দাড় করালাম.... রুপ কিছু বলছে না ঠিক.... কিন্তুু ওর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে.... ঠোটগুলো ভীষন রকম কাঁপছে.... যেন কিছু বলতে চাইছে.... কিছুক্ষণ পর রুপ চিৎকার করে কেঁদে উঠলো.... আমরা সবাই হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছি.... রুপ আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদছে.... আমার চোখে ও পানি বুঝতে পারছি ওর কষ্ট.... ভালবাসার মানুষটা ছেড়ে গেলে কত কষ্ট হয়.... সেটা আর কেউ না জানুক আমি জানি.... আমার শুভ ও তো দুরে ছিলো.... তখন প্রতিটা দিন আমার বিষের মত লেগেছে.... শান্ত আমার পেটে না থাকলে হয়তো মরেই যেতাম.... অভি ভাইয়া কাছে থেকেও রুপে'র থেকে দুরে.... রুপ কাঁদতে কাঁদতে বললো...!!
_তিশা আমার কি দোষ বল?? অভি কেন এমন করলো?? যখন ভালবাসে না আমাকে.... তাহলে কেন স্বপ্ন দেখালো?? তিশা সবাই বলে ভালবাসা নাকি বাঁচতে শেখায়?? তাহলে সেই ভালবাসাই যে একটা সময়.... মানুষ কে তিলে তিলে যর্ন্তনা দেয়.... এটা কেন বলে না?? ভালবাসা মানুষ কে স্বপ্ন দেখায়.... তাহলে সেই স্বপ্ন যে ভেঙে চুরমার করে দেয়.... এটা মানুষ কেন বলে না?? বললে আমি ভালবাসতাম না অভি কে.... তিশা এখন আমি কি করবো?? আমার খুব কষ্ট হচ্ছে রে.... আমাকে মেরে ফেল প্লিজ.... প্লিজ আমাকে মেরে ফেল.....
বলতে বলতে রুপ সেন্সলেস হয়ে গেলো.... আমরা ওকে ধরে সোফায় শুইয়ে দিলাম.... আন্টি কান্নাকাটি করছে.... আর করারই কথা একটা মেয়ে.... রুপে'র মুখে পানি ছেটানোর পর সেন্স এলো.... বাবা, আম্মু অভি ভাইয়ার হয়ে ক্ষমা চাইলো.... রুপ কে বুঝিয়ে রেখে চলে এলাম.... আমি থাকতাম বাট শান্ত'র জন্য চলে এসেছি...!!
ড্রয়িংরুমে বসে আছি আমরা.... বাড়িতে পিনপনতা বিরাজ করছে.... অথচ কাল ও আমরা এই বিয়ে নিয়ে কত আনন্দ করেছি.... এক নিমিষে সব শেষ হয়ে গেলো.... আচ্ছা মানুষের জীবন এমন কেন?? আমি এখন ভাবছি.... আমি যদি পারতাম সব ঠিক করে দিতাম.... অনেকক্ষণ হলো বসে আছি.... শান্ত কে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছি আরো আগে.... বাবা গম্ভীর হয়ে বললো....
_আমি ভাবতে পারছি না.... অভি এতটা নিচ কি করে হলো?? ওই মেয়েটার সাথে এটা কি করে করলো??
আমি নিজেও ভাবতে পারছি না.... আসলে কি অভি ভাইয়া নাটক করেছে?? আমি তো এই অভি ভাইয়া কে চিনিনা.... বাবা, আম্মু কে বুঝিয়ে রুমে পাঠিয়ে দিলাম.... কারন রাত হয়ে গিয়েছে.... আমরা গিয়েছিলাম সেই বিকেলে.... অভি ভাইয়া সেই যে ওখান থেকে বেরিয়েছে.... আর এখনো বাড়িতে ফেরেনি.... আমি আর শুভ রুমে চলে এলাম.... এরপর আন্টি কে ফোন করে.... রুপে'র খবর জেনে নিলাম.... মেয়েটা একদম ভেঙে পড়েছে...!!
.
.
🍁
.
.
রাত ১২ টা ব্যালকনিতে দাড়িয়ে.... আজকের ঘটে যাওয়া কথা ভাবছি.... মনটা খুব বেশী খারাপ.... হঠাৎ কাধে কেউ হাত রাখলো.... বুঝলাম এটা শুভ ছাড়া কেউ না....!!
_এরকম কেন হলো শুভ?? সবকিছু ঠিক থাকলে আজ বাড়িতে.... আনন্দের বন্যা বয়ে যেতো.... আমরা সবসময় যেটা ভাবি.... সেটা কেন হয়না শুভ?? কেন তার উল্টোটা হয়??
বলতে বলতে আমার চোখ দিয়ে.... কয়েকফোট অশ্রু গড়িয়ে পড়লো.... শুভ আমাকে ওর দিকে ঘুরিয়ে.... শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো....
_তিশা দেখো এটা হয়তো হওয়ার ছিলো.... আমরা তো কিছু হওয়া আটকাতে পারিনা.... আর তুমি না বলো?? আল্লাহ যা করে ভাল'র জন্য করে....
কিছু বললাম না শুভ'র বুকে মুখ লুকিয়ে ভাবছি.... হ্যা আল্লাহ যা করে সেটা.... আমাদের ভাল'র জন্যই করে.... কিন্তুু আজকের এই ঘটনায় কার ভাল হলো??
এমন সময় ড্রয়িংরুম থেকে.... বাবা আর আম্মুর কথা শুনতে পেলাম.... শুভ'র দিকে তাকিয়ে নিচে চলে এলাম.... আমার সাথে শুভ ও এলো.... ড্রয়িংরুমে এসে একদফা শকড হলাম.... অভি ভাইয়া হেলতে দুলতে হাটছে.... কিন্তুু ঠিকমত হাটতে পারছে না.... তারমানে অভি ভাইয়া ড্রিংক করেছে?? বাবা চেচিয়ে বললো....
_এসবের মানে কি অভি??
অভি ভাইয়া ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললো....
_ওফ পাপা কোন সব??
আম্মু ও রেগে গিয়ে বললো...!!
_অভি তুই ড্রিংক করেছিস??
অভি ভাইয়া হো হো করে হেসে.... মাতালদের মত বললো.... অবশ্য মাতালই তো এখন...!!
_ও সুইট মাম্মা এন্ড পাপা.... ওয়াটস রং উইথ ইউ গাইস?? এটা কি নতুন নাকি?? এমন তো না এই বাড়িতে এটা নতুন হচ্ছে.... শুভ ও তো আগে এটাই করতো.... ড্রিংক করতো লেট নাইট পার্টি রাইট?? সো তোমরা এত চমকাচ্ছো কেন??
.
.
🍁
.
.
শুভ মাথা নিচু করে ফেললো.... হয়তো কষ্ট পেয়েছে.... শুভ তো এখন এটা করেনা.... আমি সামনে গিয়ে বললাম...!!
_অভি ভাইয়া তুমি ড্রিংক করেছো??
_হ্যা করেছি বেবী তুই কি রেগে যাচ্ছিস??
অভি ভাইয়ার কথা শুনে অবাক হয়ে বললাম....
_এভাবে কথা বলছো কেন?? আর তুমি আগে তো ড্রিংক করতে না.....
অভি ভাইয়া মুচকি হেসে বললো..!!
_আগে করতাম না এখন করছি করবো.... আগের অভি আর এই অভি.... আকাশ পাতাল ডিফরেন্স.... এনিওয়ে বাই গাইস, গুড নাইট....
আমরা হতবাক হয়ে দেখছি.... একটা মানুষ এত চেন্জ কি করে হলো?? সেটাও মাএ একদিনে.... এই একদিনে কি এমন হলো?? তবে হতাশ হওয়া ছাড়া আর কি করবো?? অভি ভাইয়া তো ছোট বাচ্চা না.... ওকে কি করে বোঝাবো?? একরাশ হতাশা নিয়ে রুমে চলে এলাম.... এমন কেন হচ্ছে??
সকালে ঘুম থেকে উঠে.... আগে ফ্রেশ হয়ে নিলাম.... শুভ আর শান্ত দুই বাপ ব্যাটা ঘুমে আছে.... আমি এটা বুঝতে পারিনা.... সব বাচ্চারা ফজরের সময় উঠে আর নাকি ঘুমায় না.... আর আমার ছেলে এ তো একদম শুভ'র মত.... দুজন এক টাইমে ওঠে.... আয়নার সামনে দাড়িয়ে.... লম্বা চুলগুলো খোপা করছিলাম.... হঠাৎ শুভ জড়িয়ে ধরেই গলায় মুখ ডুবালো.... চুপচাপ দাড়িয়ে আছি.... একে মাএ দেখলাম ঘুমানো.... আর এখন এসেই শুরু হয়ে গিয়েছে.... বিরক্তি নিয়ে বলে উঠলাম..!!
_তুমি না মাএ ঘুমানো ছিলে??
_হ্যা সোনা মাএ ঘুমানো ছিলাম.... মাএই ঘুম থেকে উঠলাম.... আর মাএই রোমান্স স্টার্ট করবো....
বলে শুভ ঠোট কামড় দিলো নিজের.... আমি বুঝতে পারলাম.... এনার মনে আসলে কি চলছে.... তাই যেই সরতে যাবো ওমনি.... শুভ আমাকে টেনে ধরলো.... এরপর একটু একটু করে.... আমার ঠোটের দিকে আগাতে লাগলো.... আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম.... এরমাঝে শান্ত কান্না শুরু করলো.... শুভ কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে.... তাড়াতাড়ি শান্ত কে কোলে নিলাম...!!
_এই যে বাবা কাঁদেনা.... মাম্মা চলে এসেছে শান্ত তো গুড বয় তাইনা??
_গুড বয় না ছাই ব্যাড বয়..!!
.
.
🍁
.
.
শুভ'র কথায় ভ্রু কুঁচকে তাকালাম.... শুভ গাল ফুলিয়ে বললো..!!
_এই ছেলেটা অলওয়েজ.... নিজের মাম্মা, পাপার রোমান্সে.... ঘোরতর বাধা সৃষ্টি করে.....
আমি হু হা করে হেসে দিলাম.... শুভ ভেংচি কেটে ওয়াসরুমে গেলো.... আমি শান্ত কে ফ্রেশ করিয়ে নিচে নিয়ে এলাম.... নিচে আসতেই অভি ভাইয়া ওকে কোলে নিয়ে.... হনহন করে নিজের রুমে চলে গেলো.... আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম.... বিকজ অন্য সময় আগে কথা বলে.... এরপর শান্ত কে কোলে নেয়.... আর আজ কিছু না বলে নিলো.... অভি ভাইয়ার ভাবগতি বুঝতে পারছি না.... শুভ নিচে এসে বললো...!!
_তিশা শান্ত কোথায়??
_অভি ভাইয়া নিয়ে গিয়েছে.....
বলে সোফায় বসে পড়লাম.... আজকে ভার্সিটি যেতে হবে.... একটা ইমপরটেন্ট নোট দেবে.... সামনের পরিক্ষায় কাজে লাগবে.... আর নোট দিয়ে ক্লাসও করাবে.... কিন্তুু যাওয়ার মুড নেই.... কারন আমি জানি রুপ আসবে না.... মুখ ফুলিয়ে বসে আছি শুভ বললো....
_তিশা কি ভাবছো??
_শুভ আজ ভার্সিটি যেতে হবে....
_ওকে দেন চলো আমি নিয়ে যাচ্ছি..!!
_কিন্তুু শান্ত ওকে রেখে কি করে যাবো??
_ওকে রেখে যাবোনা তো নিয়ে যাবো....
শুভ'র সাথে কথা বলে.... শান্ত কে নিয়েই ভার্সিটি তে এলাম.... ভার্সিটি তে এসে আমি অবাক.... রুপ হাসি মুখে দাড়িয়ে আছে.... আমাদের দেখে ছুটে এসে শান্ত কে নিলো...!!
_বাবা মামনি কে মিস করোনি?? মামনি কিন্তুু অনেক মিস করেছে তার ছেলে কে....
আমি আর শুভ দুজন দুজনের দিকে তাকাচ্ছি.... রুপ মুচকি হেসে বললো....!!
_তিশা চল আমরা ক্লাসে যাই....
শান্ত কে শুভ'র কাছে রেখে ক্লাসে যাচ্ছি.... ভার্সিটির প্রায় সবাই শান্ত কে আদর করছে.... হঠাৎ চোখ গেলো তুলি'র দিকে.... মুখে কেমন রাগ ফুটে আছে.... এই রাগের মানে আমার অজানা নয়.... নোট নিয়ে ক্লাস করে বাড়ি চলে এলাম....!!
এভাবে কয়েকদিন কেটে গিয়েছে.... অভি ভাইয়া রোজ রাতে ড্রিংক করে বাড়ি আসে.... বাবা, আম্মু অতিষ্ট হয়ে গিয়েছে.... বাবা তো অভি ভাইয়া কে একদম সহ্য করতে পারেনা.... অভি ভাইয়া বাড়ি বসেও ড্রিংক করে.... রাত ১১:৩০ টা ড্রয়িংরুমে বসে আছি.... আজ বাবা প্রচুর রেগে আছে.... তাই কি না কি করে বসে এরজন্য বসে আছি.... এরমাঝে অভি ভাইয়া হেলতে দুলতে বাড়ি ঢুকলো.... অভি ভাইয়া কে দেখে আকাশ থেকে পড়লাম.... চুলগুলো উস্কো খুস্কো শার্টের বোতাম কয়েকটা খোলা.... বুকে লিপস্টিকের দাগ.... ঠোটের দিকেও লিপস্টিক স্পষ্ট.... বাবা গিয়ে অভি ভাইয়া কে থাপ্পর মেরে বললো...!!
_এসব কি অভি?? কি করে এসেছিস তুই??
অভি ভাইয়া হেলতে দুলতে বললো....
_ইনজয় উইথ গার্লস ড্যাড.... এটা এমন কি বলো?? আফটার অল আই এম অভি চৌধুরী.... ওয়েট বাইরে একজন আছে.... হেই বেবী কাম প্লিজ....!!
অভি ভাইয়া বলতেই একটা মেয়ে ঢুকলো.... যার পড়নে শর্ট টপস.... যার কারনে হাটু বেরিয়ে আছে.... পায়ে হাই হিল মেয়েটার লিপস্টিক ছড়ানো.... মেয়েটাও হেলতে দুলতে ঢুকে এসে.... অভি ভাইয়া কে জড়িয়ে ধরলো.... অভি ভাইয়া ও জড়িয়ে ধরলো.... আমি জাস্ট থ হয়ে দেখছি.... বাবার আর সহ্য হলো না.... বাবা মেয়েটা কে বের করে দিয়ে.... একটানে অভি ভাইয়া কে সোফায় ফেলে.... প্যান্টের বেল্ট দিয়ে মারতে লাগলো.... আম্মু নিঃশব্দে কেঁদে যাচ্ছে.... অভি ভাইয়া চুপচাপ আছে.... শুভ গিয়ে আটকালো বাবা কে.... আমি বুঝতে পারছি না এসব কেন হচ্ছে?? কার নজর লাগলো আমাদের সংসারে??
#চলবে....🍁
[বেশ কয়েকদিন বিজি থাকবো.... তাই ছোট করেই দেবো.... আর যদি বড় করে পার্ট চান.... তাহলে কয়েকদিন ওয়েট করতে হবে.... বিজি শেষ হলে একসাথে গল্প দেবো...]
Love
#তুমি_আমার_ভালবাসা❤
#Part_23
#Writer:#Tisha_Islam_Nabila❤
.
🍁
.
আমাদের কারো মুখে কোনো কথা নেই.... রুপ ধপ করে বসে পড়লো.... আমি শান্ত কে শুভ'র কোলে দিয়ে.... রুপ'কে বসা থেকে উঠিয়ে দাড় করালাম.... রুপ কিছু বলছে না ঠিক.... কিন্তুু ওর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে.... ঠোটগুলো ভীষন রকম কাঁপছে.... যেন কিছু বলতে চাইছে.... কিছুক্ষণ পর রুপ চিৎকার করে কেঁদে উঠলো.... আমরা সবাই হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছি.... রুপ আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদছে.... আমার চোখে ও পানি বুঝতে পারছি ওর কষ্ট.... ভালবাসার মানুষটা ছেড়ে গেলে কত কষ্ট হয়.... সেটা আর কেউ না জানুক আমি জানি.... আমার শুভ ও তো দুরে ছিলো.... তখন প্রতিটা দিন আমার বিষের মত লেগেছে.... শান্ত আমার পেটে না থাকলে হয়তো মরেই যেতাম.... অভি ভাইয়া কাছে থেকেও রুপে'র থেকে দুরে.... রুপ কাঁদতে কাঁদতে বললো...!!
_তিশা আমার কি দোষ বল?? অভি কেন এমন করলো?? যখন ভালবাসে না আমাকে.... তাহলে কেন স্বপ্ন দেখালো?? তিশা সবাই বলে ভালবাসা নাকি বাঁচতে শেখায়?? তাহলে সেই ভালবাসাই যে একটা সময়.... মানুষ কে তিলে তিলে যর্ন্তনা দেয়.... এটা কেন বলে না?? ভালবাসা মানুষ কে স্বপ্ন দেখায়.... তাহলে সেই স্বপ্ন যে ভেঙে চুরমার করে দেয়.... এটা মানুষ কেন বলে না?? বললে আমি ভালবাসতাম না অভি কে.... তিশা এখন আমি কি করবো?? আমার খুব কষ্ট হচ্ছে রে.... আমাকে মেরে ফেল প্লিজ.... প্লিজ আমাকে মেরে ফেল.....
বলতে বলতে রুপ সেন্সলেস হয়ে গেলো.... আমরা ওকে ধরে সোফায় শুইয়ে দিলাম.... আন্টি কান্নাকাটি করছে.... আর করারই কথা একটা মেয়ে.... রুপে'র মুখে পানি ছেটানোর পর সেন্স এলো.... বাবা, আম্মু অভি ভাইয়ার হয়ে ক্ষমা চাইলো.... রুপ কে বুঝিয়ে রেখে চলে এলাম.... আমি থাকতাম বাট শান্ত'র জন্য চলে এসেছি...!!
ড্রয়িংরুমে বসে আছি আমরা.... বাড়িতে পিনপনতা বিরাজ করছে.... অথচ কাল ও আমরা এই বিয়ে নিয়ে কত আনন্দ করেছি.... এক নিমিষে সব শেষ হয়ে গেলো.... আচ্ছা মানুষের জীবন এমন কেন?? আমি এখন ভাবছি.... আমি যদি পারতাম সব ঠিক করে দিতাম.... অনেকক্ষণ হলো বসে আছি.... শান্ত কে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছি আরো আগে.... বাবা গম্ভীর হয়ে বললো....
_আমি ভাবতে পারছি না.... অভি এতটা নিচ কি করে হলো?? ওই মেয়েটার সাথে এটা কি করে করলো??
আমি নিজেও ভাবতে পারছি না.... আসলে কি অভি ভাইয়া নাটক করেছে?? আমি তো এই অভি ভাইয়া কে চিনিনা.... বাবা, আম্মু কে বুঝিয়ে রুমে পাঠিয়ে দিলাম.... কারন রাত হয়ে গিয়েছে.... আমরা গিয়েছিলাম সেই বিকেলে.... অভি ভাইয়া সেই যে ওখান থেকে বেরিয়েছে.... আর এখনো বাড়িতে ফেরেনি.... আমি আর শুভ রুমে চলে এলাম.... এরপর আন্টি কে ফোন করে.... রুপে'র খবর জেনে নিলাম.... মেয়েটা একদম ভেঙে পড়েছে...!!
.
.
🍁
.
.
রাত ১২ টা ব্যালকনিতে দাড়িয়ে.... আজকের ঘটে যাওয়া কথা ভাবছি.... মনটা খুব বেশী খারাপ.... হঠাৎ কাধে কেউ হাত রাখলো.... বুঝলাম এটা শুভ ছাড়া কেউ না....!!
_এরকম কেন হলো শুভ?? সবকিছু ঠিক থাকলে আজ বাড়িতে.... আনন্দের বন্যা বয়ে যেতো.... আমরা সবসময় যেটা ভাবি.... সেটা কেন হয়না শুভ?? কেন তার উল্টোটা হয়??
বলতে বলতে আমার চোখ দিয়ে.... কয়েকফোট অশ্রু গড়িয়ে পড়লো.... শুভ আমাকে ওর দিকে ঘুরিয়ে.... শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো....
_তিশা দেখো এটা হয়তো হওয়ার ছিলো.... আমরা তো কিছু হওয়া আটকাতে পারিনা.... আর তুমি না বলো?? আল্লাহ যা করে ভাল'র জন্য করে....
কিছু বললাম না শুভ'র বুকে মুখ লুকিয়ে ভাবছি.... হ্যা আল্লাহ যা করে সেটা.... আমাদের ভাল'র জন্যই করে.... কিন্তুু আজকের এই ঘটনায় কার ভাল হলো??
এমন সময় ড্রয়িংরুম থেকে.... বাবা আর আম্মুর কথা শুনতে পেলাম.... শুভ'র দিকে তাকিয়ে নিচে চলে এলাম.... আমার সাথে শুভ ও এলো.... ড্রয়িংরুমে এসে একদফা শকড হলাম.... অভি ভাইয়া হেলতে দুলতে হাটছে.... কিন্তুু ঠিকমত হাটতে পারছে না.... তারমানে অভি ভাইয়া ড্রিংক করেছে?? বাবা চেচিয়ে বললো....
_এসবের মানে কি অভি??
অভি ভাইয়া ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললো....
_ওফ পাপা কোন সব??
আম্মু ও রেগে গিয়ে বললো...!!
_অভি তুই ড্রিংক করেছিস??
অভি ভাইয়া হো হো করে হেসে.... মাতালদের মত বললো.... অবশ্য মাতালই তো এখন...!!
_ও সুইট মাম্মা এন্ড পাপা.... ওয়াটস রং উইথ ইউ গাইস?? এটা কি নতুন নাকি?? এমন তো না এই বাড়িতে এটা নতুন হচ্ছে.... শুভ ও তো আগে এটাই করতো.... ড্রিংক করতো লেট নাইট পার্টি রাইট?? সো তোমরা এত চমকাচ্ছো কেন??
.
.
🍁
.
.
শুভ মাথা নিচু করে ফেললো.... হয়তো কষ্ট পেয়েছে.... শুভ তো এখন এটা করেনা.... আমি সামনে গিয়ে বললাম...!!
_অভি ভাইয়া তুমি ড্রিংক করেছো??
_হ্যা করেছি বেবী তুই কি রেগে যাচ্ছিস??
অভি ভাইয়ার কথা শুনে অবাক হয়ে বললাম....
_এভাবে কথা বলছো কেন?? আর তুমি আগে তো ড্রিংক করতে না.....
অভি ভাইয়া মুচকি হেসে বললো..!!
_আগে করতাম না এখন করছি করবো.... আগের অভি আর এই অভি.... আকাশ পাতাল ডিফরেন্স.... এনিওয়ে বাই গাইস, গুড নাইট....
আমরা হতবাক হয়ে দেখছি.... একটা মানুষ এত চেন্জ কি করে হলো?? সেটাও মাএ একদিনে.... এই একদিনে কি এমন হলো?? তবে হতাশ হওয়া ছাড়া আর কি করবো?? অভি ভাইয়া তো ছোট বাচ্চা না.... ওকে কি করে বোঝাবো?? একরাশ হতাশা নিয়ে রুমে চলে এলাম.... এমন কেন হচ্ছে??
সকালে ঘুম থেকে উঠে.... আগে ফ্রেশ হয়ে নিলাম.... শুভ আর শান্ত দুই বাপ ব্যাটা ঘুমে আছে.... আমি এটা বুঝতে পারিনা.... সব বাচ্চারা ফজরের সময় উঠে আর নাকি ঘুমায় না.... আর আমার ছেলে এ তো একদম শুভ'র মত.... দুজন এক টাইমে ওঠে.... আয়নার সামনে দাড়িয়ে.... লম্বা চুলগুলো খোপা করছিলাম.... হঠাৎ শুভ জড়িয়ে ধরেই গলায় মুখ ডুবালো.... চুপচাপ দাড়িয়ে আছি.... একে মাএ দেখলাম ঘুমানো.... আর এখন এসেই শুরু হয়ে গিয়েছে.... বিরক্তি নিয়ে বলে উঠলাম..!!
_তুমি না মাএ ঘুমানো ছিলে??
_হ্যা সোনা মাএ ঘুমানো ছিলাম.... মাএই ঘুম থেকে উঠলাম.... আর মাএই রোমান্স স্টার্ট করবো....
বলে শুভ ঠোট কামড় দিলো নিজের.... আমি বুঝতে পারলাম.... এনার মনে আসলে কি চলছে.... তাই যেই সরতে যাবো ওমনি.... শুভ আমাকে টেনে ধরলো.... এরপর একটু একটু করে.... আমার ঠোটের দিকে আগাতে লাগলো.... আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম.... এরমাঝে শান্ত কান্না শুরু করলো.... শুভ কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে.... তাড়াতাড়ি শান্ত কে কোলে নিলাম...!!
_এই যে বাবা কাঁদেনা.... মাম্মা চলে এসেছে শান্ত তো গুড বয় তাইনা??
_গুড বয় না ছাই ব্যাড বয়..!!
.
.
🍁
.
.
শুভ'র কথায় ভ্রু কুঁচকে তাকালাম.... শুভ গাল ফুলিয়ে বললো..!!
_এই ছেলেটা অলওয়েজ.... নিজের মাম্মা, পাপার রোমান্সে.... ঘোরতর বাধা সৃষ্টি করে.....
আমি হু হা করে হেসে দিলাম.... শুভ ভেংচি কেটে ওয়াসরুমে গেলো.... আমি শান্ত কে ফ্রেশ করিয়ে নিচে নিয়ে এলাম.... নিচে আসতেই অভি ভাইয়া ওকে কোলে নিয়ে.... হনহন করে নিজের রুমে চলে গেলো.... আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম.... বিকজ অন্য সময় আগে কথা বলে.... এরপর শান্ত কে কোলে নেয়.... আর আজ কিছু না বলে নিলো.... অভি ভাইয়ার ভাবগতি বুঝতে পারছি না.... শুভ নিচে এসে বললো...!!
_তিশা শান্ত কোথায়??
_অভি ভাইয়া নিয়ে গিয়েছে.....
বলে সোফায় বসে পড়লাম.... আজকে ভার্সিটি যেতে হবে.... একটা ইমপরটেন্ট নোট দেবে.... সামনের পরিক্ষায় কাজে লাগবে.... আর নোট দিয়ে ক্লাসও করাবে.... কিন্তুু যাওয়ার মুড নেই.... কারন আমি জানি রুপ আসবে না.... মুখ ফুলিয়ে বসে আছি শুভ বললো....
_তিশা কি ভাবছো??
_শুভ আজ ভার্সিটি যেতে হবে....
_ওকে দেন চলো আমি নিয়ে যাচ্ছি..!!
_কিন্তুু শান্ত ওকে রেখে কি করে যাবো??
_ওকে রেখে যাবোনা তো নিয়ে যাবো....
শুভ'র সাথে কথা বলে.... শান্ত কে নিয়েই ভার্সিটি তে এলাম.... ভার্সিটি তে এসে আমি অবাক.... রুপ হাসি মুখে দাড়িয়ে আছে.... আমাদের দেখে ছুটে এসে শান্ত কে নিলো...!!
_বাবা মামনি কে মিস করোনি?? মামনি কিন্তুু অনেক মিস করেছে তার ছেলে কে....
আমি আর শুভ দুজন দুজনের দিকে তাকাচ্ছি.... রুপ মুচকি হেসে বললো....!!
_তিশা চল আমরা ক্লাসে যাই....
শান্ত কে শুভ'র কাছে রেখে ক্লাসে যাচ্ছি.... ভার্সিটির প্রায় সবাই শান্ত কে আদর করছে.... হঠাৎ চোখ গেলো তুলি'র দিকে.... মুখে কেমন রাগ ফুটে আছে.... এই রাগের মানে আমার অজানা নয়.... নোট নিয়ে ক্লাস করে বাড়ি চলে এলাম....!!
এভাবে কয়েকদিন কেটে গিয়েছে.... অভি ভাইয়া রোজ রাতে ড্রিংক করে বাড়ি আসে.... বাবা, আম্মু অতিষ্ট হয়ে গিয়েছে.... বাবা তো অভি ভাইয়া কে একদম সহ্য করতে পারেনা.... অভি ভাইয়া বাড়ি বসেও ড্রিংক করে.... রাত ১১:৩০ টা ড্রয়িংরুমে বসে আছি.... আজ বাবা প্রচুর রেগে আছে.... তাই কি না কি করে বসে এরজন্য বসে আছি.... এরমাঝে অভি ভাইয়া হেলতে দুলতে বাড়ি ঢুকলো.... অভি ভাইয়া কে দেখে আকাশ থেকে পড়লাম.... চুলগুলো উস্কো খুস্কো শার্টের বোতাম কয়েকটা খোলা.... বুকে লিপস্টিকের দাগ.... ঠোটের দিকেও লিপস্টিক স্পষ্ট.... বাবা গিয়ে অভি ভাইয়া কে থাপ্পর মেরে বললো...!!
_এসব কি অভি?? কি করে এসেছিস তুই??
অভি ভাইয়া হেলতে দুলতে বললো....
_ইনজয় উইথ গার্লস ড্যাড.... এটা এমন কি বলো?? আফটার অল আই এম অভি চৌধুরী.... ওয়েট বাইরে একজন আছে.... হেই বেবী কাম প্লিজ....!!
অভি ভাইয়া বলতেই একটা মেয়ে ঢুকলো.... যার পড়নে শর্ট টপস.... যার কারনে হাটু বেরিয়ে আছে.... পায়ে হাই হিল মেয়েটার লিপস্টিক ছড়ানো.... মেয়েটাও হেলতে দুলতে ঢুকে এসে.... অভি ভাইয়া কে জড়িয়ে ধরলো.... অভি ভাইয়া ও জড়িয়ে ধরলো.... আমি জাস্ট থ হয়ে দেখছি.... বাবার আর সহ্য হলো না.... বাবা মেয়েটা কে বের করে দিয়ে.... একটানে অভি ভাইয়া কে সোফায় ফেলে.... প্যান্টের বেল্ট দিয়ে মারতে লাগলো.... আম্মু নিঃশব্দে কেঁদে যাচ্ছে.... অভি ভাইয়া চুপচাপ আছে.... শুভ গিয়ে আটকালো বাবা কে.... আমি বুঝতে পারছি না এসব কেন হচ্ছে?? কার নজর লাগলো আমাদের সংসারে??
#চলবে....🍁
[বেশ কয়েকদিন বিজি থাকবো.... তাই ছোট করেই দেবো.... আর যদি বড় করে পার্ট চান.... তাহলে কয়েকদিন ওয়েট করতে হবে.... বিজি শেষ হলে একসাথে গল্প দেবো...]
Love
#একঝাঁক~~জোনাকির~~আলো🍁
#writer~~হাফসা~~আলম 🍂
.
.
৯
.....২বছর আগে............🍁
.
সাফা রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে বাসায় যাচ্ছে। হুট করে তার চোখ আটকা পরে পাচঁ বছরের একটা বাচ্চার উপড়।একটা পাচঁ বছরের মেয়ে মাথায় হাত দিয়ে কাদঁছে। মাথা ফেঁটে গেছে মনে হয়।সাফা রাস্তা ক্রশ করে মেয়েটার সামনে দাঁড়ায়।নিজের এক হাত তার কপালে চেপে ধরে।আস্তে করে জিগ্যেস করে......
---"নাম কি তোমার বাবু??"
মেয়েটা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে উঠে.....
---"নিহা"
---"মাথা ফেঁটেছে কিভাবে"??
---"রাস্তায় পড়ে গেছি ইটের সাথে লেগে"
--"তুমি এখানে কি করো??"
--"মায়ের সাথে এসেছি।মাকে খুজে পাচ্ছি না তাই খুঁজতে ছিলাম।কোথায় যেন গেছে??"
.
সাফা বুঝতে পারছে মেয়েটার কষ্ট হচ্ছে তাই সে কান্না করছে।সাফা মেয়েটাকে কোলে তুলে নিলো।মেয়েটা অদ্ভুত ভাবে তাকে দেখছে।সাফা একটা সিএনজিকে দাড় করিয়ে উঠে পড়ে।যাওয়ার আগে পাশের ফলের দোকনদারকে বলে যায় ওর আম্মু খুঁজতে আসলে বলবেন.....
"NSC হসপিটালে নিয়ে গেছি।"
দোকানদার মাথা ঝাঁকিয়ে ঠিক আছে বলেছে।সাফা বাচ্চাটাকে ধরে আছে।মাথা থেকে প্রচুর রক্ত বের হয়েছে।তবে সাফা সেদিকে তাকাতে পাড়ছেনা। রক্তে তার প্রচণ্ড রকমের ফুভিয়া আছে।তাই সে এত রক্ত একসাথে দেখতে পারে না।দেখলেই মাথা ঘুড়ে।সাফা বাচ্চাটার সাথে নানা ভঙিতে কথা বলছে।যাতে সে তার ব্যাথা ভুলে থাকতে পারে।
.
.
নিভ্র রোগী দেখছে।এখন বাচ্চাদের ওয়াডে আছে।বাচ্চাদের প্রতি তার বিষেশ ভালোবাসা কাজ করে।বাচ্চাদের সাথে থাকলে তাকে মোটেও রাগি, ভয়ঙ্কর মনে হয় না।মনে হয় কত ভালোবাসে সে সবাইকে।সবার ভালোবাসাই তার প্রাপ্য।বাচ্চারাও তাকে খুব ভালোবাসে এক কথায় নিভ্রর জন্য পাগল এরা।নিভ্র বাচ্চাদের সাথে নানা ভঙ্গিতে গল্প করছে।আর যুবতী নতুন নার্স গুলো তাকে দেখছে।এক কথায় ড্যাবড্যাব করে দেখছে।নিভ্র একটা বাচ্চাকে কোলে নিয়েছে।নিয়ে হাত নাচিয়ে নাচিয়ে তাকে নাচ করাচ্ছে আর বাচ্চাটা খিলখিল করে হেঁসে উঠেছে।তা দেখে নিভ্রও হাসছে।নিভ্রর আজকের মত কাজ প্রায় শেষ তাই উঠে দাঁড়িয়েছে। আজ তার অপারেশন নেই।তাই বিকেলেই বাসায় যাবে বলে ঠিক করে।নিভ্র কাঁচের গ্লাসের দরজা ঠেলে বাইরে আসতেই ধাক্কা।নিভ্র নিজের সাথে ধাক্কা ধাক্কি মোটেও পছন্দ করে না।কারন হসপিটালের নার্সরা প্রায় অজুহাত দিয়ে বা এমনেই গায়ে পরে তার উপর হসপিটালে বেশির ভাগ মানুষ চিকিৎসার বদলে তাকে দেখতে আসে তাই কড়া সিকিউরেটির ব্যবস্থা করেছে সে।রোগী ছাড়া হসপিটালে আসা নিষেধ। নিভ্র রেগে সামনে তাকায়।সাফাকে এভাবে বাচ্চা কোলে নিয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখে সে অবাক হয়।পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার পর্যবেক্ষণ করে।সাদা গোল জামায় সাফাকে সাদা পরী লাগছে।চুলগুলো আজ খোঁপা করে রেখেছে তবুও কিছু অবাধ্য চুল সামনে এসে তার নীলাভ চোখের পাপড়ির উপড় পরছে।ক্লান্ত লাগছে তাকে।কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম সাথে নাকেও ঘাম জমে আছে।সাফার চিৎকারে নিভ্র তার দিকে তাকায়......
---"আপনি এখানেও??আজব তো হসপিটাল কি আপনার বাপের?? মনে তো হয় তাই। তা না হলে এখানেও মডেলিং করতে চলে আসতেন না।"??
---"আজেবাজে কথা রাখো আর বাচ্চাটার কি হয়েছে বলো?"
.
সাফা অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে দেখছে নিভ্রকে। তার ধারনা মতে পৃথিবীর সবচাইতে ভয়ঙ্কর পেশা হল ডাক্তারি।এটার মত ভয়ঙ্কর আর কিছু নেই।আর সব ডাক্তার গুলো খারুস আর ভায়াবহ হয় তা ছাড়া ডাক্তারদের চেহারা দেখলেও তার ভয় করে।কেমন যেন বদসুরত হয় তারা।তার জীবনে এই প্রথম তার মনে হচ্ছে এই পোষাক টাতে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটাকেই পারফেক্ট লাগছে।সাদা এ্যাফ্রোন, ভিতরে সাদা শার্ট কালো প্যান্ট।গলায় ঝুলানো স্টেথোস্কোপ। আর সেই সবুজ চোখ। যা মেয়েদের দূর্বল করার একমাত্র হাতিয়ার এই ছেলের কাছে।ভয়ঙ্কর সৌন্দর্যে মন্ডিত এই ছেলে।নিভ্র সাফার চোখের সামনে বিরক্তি নিয়ে তুরি বাজিয়ে বলে উঠে......
---"সমস্যাটা কি?? এভাবে তাকিয়ে না থেকে বলো কি হয়েছে বাচ্চাটার??আর বাচ্চাটা তোমার কে??
---"আমার কেউ না বাচ্চাটা।রাস্তায় পেয়েছি। কিন্তু এত কথা আপনাকে কেনো বলবো??ডাক্তার কই??
--"সিস্টার দিয়া"(নিভ্র চেঁচিয়ে ডেকে উঠে)
---"ইয়েস স্যার"
---"বাচ্চাটাকে ওর কোল থেকে নেও মাথায় ব্লেডিং হচ্ছে ইমিডিয়েটলি সেলাই দিতে হবে।"
---"এই এই আপনি কি সব বলছেন??দেখেন এটা শুটিং করার টাইম না। বাচ্চাটা সত্যিই অসুস্থ ওকে সত্যিই সত্যিই ডাক্তারের প্রয়োজন আপনার মত নকল ডাক্তার মানে মডেল ফডেল কে না বুঝলেন।"
.
নিভ্র জবাব দিল না।বাচ্চাটাকে কোল থেকে নিয়ে নিল।সে যানে এই মেয়েকে একটা বললে এ আরো তিনটে শুনিয়ে দিবে।নার্স দিয়া বলে.....
---"আরে ম্যাম আপনি যানেন না উনিই ডাক্তার ??আরে উনি ডা.নিভ্রনীল।
.
সাফা হা করে নিভ্রর দিকে তাকিয়ে আছে।এবার আবার ডাক্তার??সাফা অবাক হয়ে বলে উঠে.....
---এই আপনি কি দশভুজা?? কত কিছু করেন আপনি??একবার ভিলেন,একবার মডেল আর এখন ডাক্তার। হাউ ক্যান দিস পসিবল?? কেমনে??
নিভ্র সাফার চোখ বড় করা দেখে হালকা হাসে। যা দেখে দিয়ার মুখ হা হয়ে যায়।তার তিন বছরের চাকরিতে সে কখনো নিভ্রনীলকে কোনো মেয়েকে দেখে হাঁসতে দেখেনি।নিভ্র বাচ্চাটাকে দিয়ার কোলে দিয়ে বলে উঠে......
---"দ্রুত জরুরি বিভাগে নিয়ে যাও আমি আসছি"
.
দিয়া হাটাঁ দেয় বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে আর বারবার পিছনে ঘুড়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে।তার তো মাথায় ডুকছেনা এই ভয়ঙ্কর প্রানি নিভ্র বিনা করানে নোটিশ ছাড়া হসলো কেমনে??ভায়াবহ ব্যাপার।এটা নিয়ে আজ সবার সাথে একটা সমালোচনার পাহাড় তৈরি করা যাবে।নিভ্র এ্যাফ্রোনের নিচ দিয়ে প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে সোজা হয়ে বলে......
---"বাচ্চাটার ফ্যামিলি মেম্বর কোই??"
---"আমি কি যানি??"আমি তো ওকে রাস্তায় পেয়েছি।এসব ছাড়েন শুধু এটা বলেন আপনি সত্যিই ডাক্তার???
--"তোমার এখনো সন্দেহ আছে??"(ভ্রু কুঁচকে বলে উঠে)
---"হুম আছে"
---"হোয়াট?? "
---"না মানে আপনি একজন হয়ে এত কিছু কিভাবে করেন সেটাই সন্দেহ হচ্ছে। আর কি কি পেশায় আপনি নিয়জিত আছেন বলবেন??? "
---"তোমার মনে হয় আর কয়টা বাকি আছে??"
---"মনে তো হয় আরো দশ বারো টা"
.
নিভ্র আবার মুখ টিপে হাসলো।তারপরে পিছনে ঘুড়ে বলে..
---"আর নেই"
--"আপনার বাকি পেশা গুলোর মাঝে এটা সুন্দর বেশি তাই আজ থেকে আপনার নাম চেঞ্জ করা হলো"
নিভ্র আবার পিরে তাকায়।তাকিয়ে বলে.....
---"তা কি নাম দিবে এবার??"
---ভিলেন বাদ,মডেল ফডেলও বাদ শুধু ডাক্তার সাহেব...
.
বলেই একটা মিষ্টি হাসি দেয়।নিভ্র অদ্ভুত নজরে দেখে সেই হাসি।মুখের চারপাশে চোখ বুলিয়ে গালের টোলটা খুঁজে।কিন্তু ব্যর্থ হয় সে।চোখমুখ না খিঁচলে বা দাঁত বের না করলে সাফার টোল দেখা যায় না।নিভ্র ডান হাত দিয়ে সামনের চুলগুলো পিছনে নিলো।সবুজ চোখগুলো সরু করে সাফার দিকে তাকালো।কিছুক্ষণ তাকিয়েই পিছনে ঘুড়ে সামনে হাটাঁ দেয়।সাফা সামনে আসা চুলগুলো হাত দিয়ে সরাতেই ভিঁজা ভিঁজা লাগে হাতটা সামনে এনে রক্তাক্ত হাত দেখেই সাফার মাথা ঘুড়ে উঠে ঘামে তার কপাল ভিজেঁ উঠে।হঠাৎ চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে।আজ দুপুরে সে লাঞ্চ করেনি।বাবা বাসায় ছিলোনা আর তার বাবা না থাকলে তার খেতে ভালো লাগে না।সব মিলিয়ে শরীর দূর্বল থাকায় সাফা ধাম করে সেন্সলেস হয়ে পড়ে যায়।নিভ্র অনেকটাই চলে এসেছে পিছনে কিছু পড়ার হালকা আওয়াজে নিভ্র পিছনে ঘুড়েই সাফাকে দেখলো না। নিচের দিকে তাকিয়ে সে চকিতেই সাফার কাছে গেলো।ডান হাত ধরে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে পাল্লর্স রেট চেক করলো।খুব ধীর গতি দেখেই বুঝতে পারে দূর্বলতাটা।নিভ্র চারপাশে একবার তাকালো।একবার ভাবছে কোলে তুলে নিবে আবার কেনো যেন নিতে পারছে না।তবুও সব কিছু উপেক্ষা করে সাফাকে কোলে তুলে নিলো।সাথে সাথে নিভ্রর হার্ট দ্রুত গতিতে চলতে শুরু করে।নিঃশ্বাস দীর্ঘ হয়ে আসে।নিভ্র চোখ বুজে কয়েকটা নিঃশ্বাস নিলো।জীবনে প্রথম সে এমন কম বয়সের কোনো যুবতীকে কোলে নিয়েছে।তার মত স্ট্রং লোকেরও কাঁপাকাঁপি হচ্ছে ভাবতেই তার অবাক লাগে।নিভ্র সাফাকে বেডে শুয়ে দিল।এক হাতের রক্ত পরিষ্কার করে দিল।নার্সকে সেলাইন নিয়ে আসতে বললো।স্যালাইন আনতেই ডান হাতে লাগিয়ে দিলো।নার্স অবাক হয়ে দেখছে।বয়স্ক হওয়াই তার অদ্ভুত লাগছে ব্যাপারটা।নিভ্র সাধারনত মেয়েদের থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রাখে।এখানে নিজের রুমের চেকআপ বেডি শুয়ে দিয়েছে।ব্যাপারটা ভিন্ন তবুও নিভ্র রোগীদের প্রতি যত্নবান ভেবে তিনি এড়িয়ে গেলেন।নিভ্র নিজের রুম থেকে বেড়িয়ে গেল।মনে মনে একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলে উঠে....
---"কি হচ্ছে তোর নিভ্র??"এভাবে ড্যাসপারেট হওয়ার মত কিছু নেই। কুল কুল।
.
নিভ্র বাচ্চা মেয়েটার মাথায় ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে।তাকে একটা কেবিনে রেখেছে।রক্ত একটু বেশিই গেছে তাই তাকে এক ব্যাগ রক্তও দিতে হয়েছে।সাফার জ্ঞান ফিড়তেই নিজেকে এভাবে বেডে দেখে সে একটু ভয় পেয়ে যায়।সুই স্যালাইন, ইনজেকশন এসবে তার ভয় হয় খুব।আর হসপিটাল তো তার সবচাইতে অপছন্দের জায়গা।সাফা উঠে দাড়িয়ে পড়ে।স্যালাইনটা হাত থেকে কিভাবে খুলবে ভেবে পাচ্ছেনা।তাই সম্পূর্ণ স্যালাইন নিয়েই হাটাঁ দেয়।এক হাতে স্যালাইন ব্যাগ নিয়ে সাফা নিভ্রর রুমে ঘুড়ছে।এত এত ডিগ্রি আর প্রাইজ দেখে সে মনে মনে বলে উঠে........
---"বাপরে বাপ কি ব্রিলিয়েন্ট। এত জ্ঞান রাখে কোই??সব সময় তো দেখি রামগরুড়ের ছানা হাসতে তার মানা হয়ে ঘুড়ে বেড়ায়।আক্রুড় মত।
.
সাফা দুষ্টু বুদ্ধি নিয়ে নিভ্রকে নকল করা শুরু করে.......
---"এই মেয়ে সমস্যা কি??তুমি বেশি কথা বলো??চুপ করো তা না হলে ফেলে দিবো!!
সাফা নিভ্রর এ্যাফ্রোনটা গায়ে জড়িয়ে নেয়।বেশ কষ্ট হয় তার।ব্যাথাও পায়।তবুও এ্যাফ্রোনটা পড়ে স্টেথোস্কোপ কানে দিয়ে রোগী দেখার ভঙিতে বলে উঠে.......
---"কি সমস্যা আপনার"(নিভ্রর গলা নকল করে)
নিজেই আবার রোগীর জায়গায় জবাব দেয়....
---"পেটে ব্যাথা"।
---"প্যারাসিটেমাল দুই বেলা খাবেন ভালো হয়ে যাবে।আর আপনার কি সমস্যা।"
---জ্বর
---প্যারাসিটেমাল তিন বেলা খাবেন। আর আপনার??
---মাথা ব্যাথা
---প্যারাসিটেমাল চার বেলা।সকালে, দুপুরে, বিকেলে,আর রাতে।
.
বলেই হি হি করে হেসেঁ উঠে।সাফা এ্যাফ্রোনটা পড়ে নাচতে নাচতে সামনে তাকিয়ে থ হয়ে দাড়িয়ে যায়।তাড়াতাড়ি নিজের গায়ের এ্যাফ্রোনটা নিয়ে টানাটানি করছে।নিভ্র বুকে হাত গুঁজে দরজায় ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।তার প্রচণ্ড হাসি পাচ্ছে।আর মনে মনে ভাবছে এই মেয়ে ডাক্তার হলে সব রোগী মারা পড়তো। সব রোগের জন্য প্যারাসিটেমাল দিয়ে দিবে।তাও তিন বেলা।সাফা ভয়ে এ্যাফ্রোনটা খুলতে যাচ্ছে তাই হাতের স্যালাইনের কারনে ব্যাথা পাচ্ছে।নিভ্র বুকের হাতগুলো নামিয়ে নেয়।সোজা হয়ে সাফার সামনে এসে দাড়ায়।সাফার হাতগুলো এ্যাফ্রোন থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ধীরে ধীরে হাত দিয়ে সাফার গাঁ থেকে এ্যাফ্রোনটা খুলে দেয়।কান থেকে স্টেথোস্কোপটাও খুলে পাশের টেবিলে রেখে দেয়।সাফা অবাক হয়ে দেখছে।সে ভেবেছে তাকে আজ বেশ ঝাড়ি খেতে হবে। ভাগ্য ভালো এমন কিছুই হয় নি।নিভ্র এবার সরু চোখে তাকিয়ে বলে......
---প্যারাসিটেমাল যদি সব রোগের ঔষুধ হয় তবে আমাদের মতো ডাক্তারের প্রয়োজন ছিলো না।ভাগ্যিস তুমি ডাক্তারি পড়নি।তা না হলে রোগীরা এমনেই মারা যেতো।যে হারে প্যারাসিটেমল দুই বেলা তিন বেলা চার বেলা করছো হার্ট অ্যাটাক করলেও তুমি এই প্যারাসিটেমাল দিতে।মাই গড
.
বলে হালকা মাথা ঝাঁকিয়ে হেঁসে উঠে।সাফা সব ভুলে অপলক তাকিয়ে আছে।সে জানতোইনা এই গোমড়া মুখো ছেলেটা হাঁসতেও পারে।আর হাসলেও একে এতো সুন্দর লাগে??ভাবা যায়।সাফা অবাক হয়ে দেখছে।সাফাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে নিভ্র হাসি থামিয়ে দিল।সাফার ভাবনার ইতি হলেই সে বলে.........
---"মেয়েটা কেমন আছে??"
---ভালো আছে।
---"দেখা করতে পারি??"
---চল আমার সাথে।তবে তার আগে তোমার স্যালাইন খুলে দি।তা না হলে স্যালাইন প্রায় শেষ যে কোনো সময় রক্ত উঠে যেতে পারে।এদিকে এসো।"
সাফা লাফিয়ে দু কদম দুরে গিয়ে করুন সুরে বলে উঠে.......
----"না না খুলতে হবে না।ব্যাথা পাবো।প্লিজজজ"
---খুলতে হবে না মানে কি??এটা না খুললে তোমার হাতের রক্ত স্যালাইনের নলে উঠে যাবে।এদিকে এসো মানে এসো।ফাইজলামি করবা না।
---দেখেন আমি কি আপনাকে এটা লাগাতে বলেছি??না তো আপনি নিজেই লাগিয়েছেন। এখন আমি খুলতে চাই না তাই খুলবো না।প্লিজজজ আপনি এটা খুলিয়েন না।যানেন কত ব্যাথা হবে??আউ আমার তো এখনই কষ্ট হচ্ছে।
সাফার কথা শুনে নিভ্র বিরক্ত হলো।একপা দু পা করে এগিয়ে গেলো সাফার কাছে।এক টানে ওকে নিজে কাছে এনে।কোমড় জড়িয়ে নিতেই সাফা যেনো অকাশ থেকে পরেছে।এমন করে তাকিয়ে আছে।চোখ বড় বড় হয়ে গেছে।নিভ্র এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে হাতের স্যালাইনটা খুলে দিতে সাফা ব্যাথা পায়।ব্যাথার কারনে সাফার চোখে পানি চলে আসে।নিভ্র বলে.....
---"কিছুক্ষণ পরেই ভালো হয়ে যাবে।এখন কান্নাকাটি করবে না।ঝগড়ায় তো এক নাম্বার আর সামান্য সুইকে ভয় পাও।আজব মেয়ে তুমি।আমি তো তোমাকে সাহসি মনে করেছি।যেভাবে সবার সামনে আমার মাথা ফাটিয়েছ!!এভাবে তাকাবে না।চলো মেয়েটার কাছে।
নিভ্র মনে মনে হাসলো।সাফার এমন মুখ ফুলানো দৃশ্য দেখে তার ভালোই লাগে সাথে হাসি পায়।পরক্ষনেই আবার নিজেকে সামলে নেয় নিভ্র।
.
সাফা বাচ্চা মেয়েটার সাথে কথা বলছে।তাকে গল্প শুনাচ্ছে।নিভ্র সোফায় বসে দেখছে ওদের।সাফা হাত নাড়িয়ে গল্প বলছে।নিভ্র স্থির দৃষ্টি দিয়ে রেখেছে তাদের দিকে।হঠাৎ একটা মহিলা হাউমাউ করে কেঁদে রুমে ডুকে পরে।সাফা নিভ্র দুজেই অবাক হয়।সাফার হাতের ভাজ থেকে বাচ্চাটা চেঁচিয়ে বলে.........
---"আম্মু আম্মু আমি এখানে তুমি কোথায় ছিলে??"
সাফা বুঝতে পারে বাচ্চাটার মা এ।সাফা সরে উনাকে জায়গা করে দেয়।আর মুচকি হেঁসে নিভ্রর পাশে বসে পরে।নিভ্র কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বুঝতে পারে এরা মা মেয়ে।সাথে সাথে তার মাথার রগ গুলো ফুলে উঠে।মনে মনে বলে....কেমন মা মেয়েকে রাস্তায় একা রেখে ঘুড়ে। নিভ্র বিরক্তির সাথে রাগ নিয়ে মহিলাটাকে কিছু বলবে বলে বসা থেকে উঠে দাড়ায়। সাফা নিভ্রর হাত ধরে বসিয়ে দেয়।আর তাদের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে..............
---"🍁
মায়ের গায়ে স্পেশাল একটা গন্ধ থাকে বুঝলেন সে গন্ধ শুধু সন্তানরাই পায়। আমি যখন ভূতের মুভি দেখে তার কোলে গুটিশুটি মেরে জড়িয়ে ঘুমাতাম তখনই এটা পেতাম......মা তো জোনাকির আলোর মতই আমাদেরকে আলোকিত করে..........দেখেন বাচ্চাটা এতক্ষণ চুপ করে ছিলো।কিন্তু মাকে পেয়ে সে ব্যাথা ভুলে তার সাথে কেমন হেঁসে হেঁসে কথা বলছে।কত খুশি দেখাচ্ছে।মাকে জড়িয়ে গায়ের ঘ্রান নিচ্ছে।
নিভ্র সাফার দিকে তাকিয়ে আছে।মায়ের সম্পর্কে বলা কথাগুলো তার কলিজা ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে। চোখ ভিজেঁ আসছে।হঠাৎ পুরনো কথা মনে হতেই সে সাফার হাত ঝাড়ি দিয়ে উঠে দাড়ায়।বাচ্চাটাকে আর তার মাকে একবার দেখে কাঁচের গ্লাস ঠেলে বেড়িয়ে যায়।সাফা অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে নিভ্রর পিছনে ছুট লাগায়।নিভ্র সোজা নিচে চলে যায়।হসপিটালের সামনে বিশাল বাগান।ফুলের গাছে ভরপুর জায়গাটা।বাগানের পাশেই পার্কিং এরিয়া।নিভ্র বাসায় যাবে বলে সেদিকে হাটাঁ দেয়।এখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে।এই দিকটার লাইটগুলো এখনো জ্বালান হয়নি।নিভ্র এগোতেই সাফা ওর হাত ধরে ফেলে।রাগি রাগি গলায় হাঁপাতে হাঁপাতে বলে......
---আপনি কি মানুষ বলেন তো??আমার কিন্তু সন্দেহ আছে।মনে হয় এলিয়ে টাইপের কিছু হবেন।তা না হলে এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে নিচে নেমে এলেন???
---"তুমি হয়তো যানো না লিফট আছে হসপিটালে। আমি লিফট দিয়েই নেমেছি।আর রাত হয়ে এসেছে প্রায় বাসায় যাও।"
---আরে দাঁড়ান না।এই বাগানটা সুন্দর তো!!এটার চাইতে বড় কথা ওই বাচ্চাটার সাথে দেখা না করে চলে এলেন যে??ওকে বাই তো বলে আসতে পারেন??চলেন?
---না বাই বলতে হবে না।মুড নেই।আমি বাসায় যাবো।আর বকবক না করে যাও এখান থেকে।
সাফা গাল ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে পরে।এই লোক এমন কেনো??একটু নরমাল বিহেভ করলে কি হয়।সাফা চারপাশে চোখ বুলাতেই চেঁচিয়ে উঠে।নিভ্র এমন চেঁচামিচি শুনে দ্রুত সাফার কাছে এসে দাড়ায়।সাফা খুশিতে গদগদ হয়ে হাত দুটো একসাথে মুষ্টি বদ্ধ করে বলে.......
---ওয়াওওও জোনাকির আলো
নিভ্র ঘুড়ে দাঁড়ালো। সামনে তাকিয়ে দেখে সারা বাগান জোনাকির আলোতে আলোকিত হয়ে আছে।নিভ্র আবার সাফার দিকে তাকালো।সাফার গায়ে এসে জোনাকি বসছে।সাফাকে জোনাকিরা নিজের আলো দিয়ে আলোকিত করছে।হলুদ আলোয় আলোকিত। নিভ্র অবাক হয়ে দেখছে।তার মনে হচ্ছে তার সাথে কিছু একটা হচ্ছে। ভয়ঙ্কর কিছু হচ্ছে।হঠাৎ সে সাফার পিছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পরে।এক হাত সাফার কোমড়ে রেখে আর এক হাত সাফার ডান হাতে রাখে।সাফা চকতেই তাকায়।তার সারা শরীরে শিহরণ দিচ্ছে মনে হয়।সাফা ঘাড় ঘুড়িয়ে তাকায়।নিভ্র ইশারায় চুপ থেকে সামনে তাকাতে বলে।সাফা চোখ সরিয়ে সামনে তাকায়।নিভ্র সাফার ডান হাতের পিঠ নিজের ডান হাতে নিয়ে তা সামনে লম্বা করে বাড়িয়ে দিলো।সাথে সাথে একঝাঁক জোনাকি উড়ে এসে সাফার হাতে বসে।সাফা তো খুশিতে নেচেদিবে টাইপের অবস্থা।সাফা ঘুড়ে নিভ্রর দিকে তাকায়।নিভ্রও তাকায়।দুজন দুজনের চোখে অদ্ভুত ভাবে হারায়।নিভ্রর সবুজ চোখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সাফার নীলাভ চোখ।নিভ্রের মনে হচ্ছে আর বেশিক্ষণ থাকলে না জানি কি হয় তাই ধীরে হাত সরিয়ে নিয়ে দুরে দাড়ায়।সাফা জোনাকি গুলোর দিকে তাকায়।তার চোখে মুখেও জোনাকি উড়ে এসে বসছে।সাফা মুখ কুঁচকে আছে।আবার সেই টোল দৃশ্যমান হয়ে উঠে।জোনাকির আলোতে তা আরো সুন্দর দেখাচ্ছে।নিভ্রর ইচ্ছে করছে এবার হাত রাখতে সেই ভয়ঙ্কর গর্তে।নিভ্র মনের অজানতেই পকেট থেকে মোবাইল বের করে কিছু ছবি তুলে নেয়।সাফা জোনাকিগুলো নিয়ে খেলছে।এদিক ওদিক ঘুড়ছে।এবার কিছু জোনাকি মুঠোয় ভড়ে নিভ্রর সামনে দাড়ায় নিভ্র তখন চকিতে ফোনটা পকেটে ডুকিয়ে নেয়।তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে চুরি করেছে।সাফা ভ্রুকুঁচকে বলে......
---কি করছেন??আপনাকে দেখে কেমন চোর চোর গন্ধ আসছে।
নিভ্র মনে মনে আওড়ায়.....
---আমি কি সত্যিই চুরি করেছি??নাকি আমার গুরুত্বপূর্ণ কিছু চুরি হয়েগেছে??
সাফার দিকে রাগ মিশ্রিতো চোখে তাকাতেই সাফা বলে.....
---"আরে মজা করছিলাম।এত বড় ডাক্তার সাহেব কি চুরি করতে পারে আবার আপনি দশভুজা। যাই হোক হাতের দিকে তাকান।
নিভ্র ভ্রুকুঁচকাতেই সাফা শাসনের সুরে বলে.....
---এভাবে তাকাচ্ছেন কেনো??সুন্দর করে তাকান।
নিভ্র ভ্রু ঠিক করে তাকাতেই সাফা তার হাতের একঝাঁক জোনাকি ছেড়ে দেয়। জোনাকিগুলো নিভ্রর গায়ে মুখে আছড়ে পরে।আর সাফা খিলখিল করে হেসেঁ বলে.....
---অন্ধকার জায়গাটাকে...আলোকিত করতে তো বেশি কিছু না একঝাঁক আলোই যথেষ্ট.. আর তা যদি হয় জোনাকির আলো তবে তো আর কথাই নেই..জোনাকির সোনালি আলোয় ডেকে যাবে অন্ধকার......🍁
.
#চলবে................🍁
কালকের পর্ব পড়ে অনেকেই বলছে বুঝতে পারছি না।এটা কি হল???আসলে ৮তম পর্ব ছিল বর্তমান আর ৭তম পর্ব পর্যন্ত ছিল অতীত।আর আজকের এই পর্ব থেকে আবার অতীত শুরু।আলাদা ভাবে গল্প লেখতে পছন্দ করি তাই এভাবে সাজিয়েছি।গল্প শেষ পর্যন্ত না পড়লে সব বুঝা মুশকিল হয়।আর আমি দ্রুত গতিতে হেন তেন লিখে গল্প আগাতে পাড়ি না।তাই একটু ভেবে ভেবে লিখি।সবার মত প্রথম পার্টেই বর্তমান টেনে আনিনি।একটু ভিন্ন হতে চেয়েছি।আর আপনারা যারা আমার আগের গল্প পড়েছেন তারা জানেন আমি ভিন্ন ভাবে লিখতে পছন্দ করি।যদিও কিছু জিনিস হালকা মিলে তবে কখনোই বেশি মিল রেখে আমি গল্প লেখি না।গল্প পড়তে থাকেন। যাদের কাছে জগাখিচুড়ি লাগছে তারাও বুঝতে পাড়বেন।গল্প মানেই হাসি থাকবে, প্রেম থাকবে,ভালোবাসা থাকবে,বিরহ থাকবে,কষ্ট থাকবে,মান অভিমান থাকবে, কান্না থাকবে।এটাই স্বাভাবিক। সব গল্পে যদি নায়ক নায়িকাকে ভালোবাসার নামে অত্যাচার করে তবে আর এটা ভালোবাসা না।এই কারনেই আমি আমার #ভয়ঙ্কর_ভালোবাসা গল্পটা লিখা বন্ধ করে দিয়েছি।ভালোবাসার মানুষকে ভালোবেসে আপন করতে হয় জোড় করে না। কিন্তু ওই গল্পটা আমি বাকি অনেকের মত লিখে ফেলেছি।প্রথমে আমি অত বুঝে লিখতে বসিনি।সবাই ওই রকম গল্প পড়ে তাই লিখেছি।কিন্তু এখন আমার মনে হচ্ছে ভুল করেছি তাই লেখা বাদ দিয়েছি।এই ভুলটাও আপনাদের মত পাঠকের কাছে শিখা।তাই ভুল ধরবেন। অপমান করে নয় ভালোবেসে শিখাবেন।আমি শিখবো।শিখতে চাই।শিখার কোনো বিকল্প নেই।আমি আমার ছোটদের কাছে থেকেও শিখতে চাই।পৃথিবীর সবার মাঝেই গুন থাকে।তাই সবার কাছেই শিখা যায়।
ভুলগুলো আল্লাহর দেওয়া মহান গুন ক্ষমার চোখে দেখবেন........🍂
Love
#হয়তো_ভালোবাসি
#Writer_Eshetaq_Nora
#Part_06
নীড়ের চোখ টলোমলো করছে।হয়তো বন্ধ করলেই পানির ফোটা গুলো পড়ে যাবে।সায়ান নীড়ের ব্যাপার টা বুঝতে পারলো।গিয়ে নীড়ের পাশে দাড়িয়ে তার কাধে হাত দিলো।নীড় সায়ানের দিকে তাকালো।মনে হচ্ছে এখোনি কেদে দিবে।
নীড়ঃ সসায়াননন🥺🥺
সায়ানঃ নীড় প্লিজ কন্ট্রোল কর নিজেকে।আগে দেখ কি হয়।
নেশা আর ছেলেটি তো এখনো দুইজনকে দুইজনে জড়িয়ে আছে।হঠাৎ সব লাইট জ্বলে উঠলো। আর ওরা দুইজন দুইজনকে ছেড়ে দিলো।নেশা নিসুর দিকে তাকালো আর দেখলো তারা হা করে তাকিয়ে আছে।যার অর্থ এই তারা কিছুই বুঝেনি।নেশা ওদের দিকে তাকিয়ে হেসে দিলো।
নেশাঃ আকাশ কাম।।সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।
(ছেলেটি হলো আকাশ। আকাশ চৌধুরী।। বিসন্যাসম্যান।নেশা সিডনিতে তার কাছেই থাকতো।দুইজন দুইজনকে ভালোবাসে।কিভাবে তাদের পরিচয় তা না হয় পরে জানবেন😊)
আকাশঃ হ্যা চলো।
নিসুঃ ননেশা এটা কে?
নেশাঃ আমার লাইফ।আমার এইম।[বলেই নেশা মুচ
নেশাঃ ওর বিয়েতেই আমরা এসেছি।আর ও হলো রাফি।নিসুর হবু হাসবেন্ড।
আকাশঃ নাইস টু মিট ইউ😊
নেশা সায়ান আর নীড়কে দেখতে পেল নাহ । কিন্তু সেদিকে মাথা না ঘামিয়ে আকাশ কে নিয়ে ঘরে চলে গেল।
সায়ান আসলে নীড়কে নিয়ে গেছে।কেননা এখানে থাকলে নীড় কিছু একটা করে ফেলবে আকাশকে।
।
রাতে--
নেশা মাত্র শুতে যাবে সব লাইট গুলো অফ হয়ে গেল।
নেশাঃ লাইটের আবার কি হলো ধুর।বাইরে গিয়ে দেখি।
নেশা যেই নাহ পা বাড়াবে কেউ তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো। আর প্রচন্ড পরিমাণে কান্না করছে।নেশা জানেই মানুষটি কে।তাই চুপ করে আছে।আর মানুষটি কেন কান্না করছে তাও জানে।হ্যাঁ মানুষটি আর কেউ নাহ নীড়.। নেশা চাইছে নীড়কে সরাতে। কিন্তু কেন জানি পারছে নাহ। অনেক দিন পর সেই চিরচেনা ছোয়া।নেশার ও ইচ্ছা করছে শক্ত করে নীড়কে আঁকড়ে ধরতে। ঠিক যতোটা শক্ত করে ধরলে নীড় আর তাকে ছেড়ে যেতে পারবে নাহ।কিন্তু এটা অন্যায় নীড় তো তার নাহ।আর নাহ নীড় তাকে ভালোবাসে। ও শুধু নীড়ের আবেগ। নীড় তো নিহাকে ভালোবাসে।
নেশা কথা গুলো ভাবতে ভাবতে নীড়কে খুব জোরে ধাক্কা দিলো। নীড় অনেক দুরে গিয়ে পড়লো।
নীড়ঃ নেশা আমি....
নেশাঃ চলে যান এখান থেকে চলে যান।[চিৎকার করে]
হঠাৎ সব লাইট জ্বলে উঠলো। আর নেশা নীড়কে কোথাও দেখতে পেলো নাহ।নেশা কিছুক্ষন চুপ করে বসে থাকলো।নাহ আজ তার কান্না পাচ্ছে নাহ।বরং হাসি পাচ্ছে।কারন সে পেরেছে নিজেকে বদলাতে।নিজের ফিলিংস গুলো দমিয়ে রাখতে।।।এইটা তো তার জন্য খুব খুশির খবর তাই নাহ।।
।
।
সকালে নীড় ফ্রেশ হয়ে নিচে গেল।যদিও সারারাত তার ঘুম হয়নি।।সকালে নিচে গিয়ে আরো মাথা নষ্ট হয়ে গেল।কারন নেশা মোবাইলে কি যেন করছে আর আকাশ তাকে খাইয়ে দিচ্ছে।নীড়ের চোখ গুলো আবার ছলছল হয়ে গেল।
নেশাঃ আমি আর খাবো নাহ।
আকাশঃ যাস্ট এতো টুকু খেলে হবে নাহ জান।।আর একটু খাও।।দেখ বেশি নাহ খেলে বিয়ের পর আমার বেবি গুলোও তোমার মতো কাঠি হবে।
নেশাঃ কিহ আমি কাঠি😡।তুমি তো একটা কুমড়া।মুটু।আমি ঠিক আছি😒।
আকাশঃ হুহ আমি মটু হলে তুমি ও তো মুটকি।উফ সেদিন কোলে নিয়েছিলাম।কি ভারি।পাঁচদিন পর্যন্ত কোমড়ে ব্যাথা ছিলো।
নেশাঃ কি বললি তুই🤬🤬।আমি মুটকি।।কে বলেছিলো আমায় কোলে নিতে।হুহ।লাগবে নাহ কোলে নেওয়ার। যে চিকন তাকে গিয়ে কোলে নে। হুহহহহহহ।[বলেই হনহন করে চলে গেল।আকাশ ও নেশার পিছন পিছন ছুটে গেল৷ ]
আকাশঃ আরে জানু আমি তো দুষ্টুমি করছিলাম।তুমি তো অনেক পাতলা।একদম বাতাসের মতো।ওহহ বেবি রাগ করে নাহ।
নেশাঃ হুহ😒
আকাশঃ সরি তো।এই যে কান ধরছি।
নেশাঃ 😒😒
আকাশঃ আচ্ছা আর এমন করবো নাহ প্রমিজ।
নেশাঃ নাহ একটা কাজ করলে শুধু মাফ করবো।
আকাশঃ কি?
নেশাঃ আমাকে কোলে নিয়ে পুরো রিসোর্ট ঘুরতে হবে।
আকাশ তো যেন হাতে চাঁদ পেল।যতোদিনই নেশাকে কোলে নিয়েছে নিজে থেকে নিয়েছে।কখনো নেশা নিজে বলেনি আজ বললো।আকাশ ছলছল চোখে নেশার দিকে তাকিয়ে আছে।খুব ভালোবাসে এই পাগলিটাকে।পারলে আকাশের চাঁদ টাও হয়তো এনে দিতে পারবে।যেদিন প্রথম দেখেছিলো সেদিন থেকেই ভালোবাসে।দিন দিন ভালোবাসা যেন বাড়ছে বই কমছে নাহ।
নেশাঃ কি হলো নিবা নাহ🥺
আকাশঃ ইয়েস সুইটহার্ট। তোমাকে না নিলে কাকে নিবো।[বলেই নেশাকে কোলে তুলে নিলো৷ ]
নেশাঃ একি আকাশ তুমি কাদছো কেন?কষ্ট হচ্ছে বুঝি। তাহলে নামিয়ে দেও.(নামতে চেয়ে)
আকাশঃ একটা মাইর দিবো নামতে চাইলে।আমার যতক্ষণ মন চাইবে ততোক্ষণ রাখবো।
নেশাঃ তুমি আমায় মারবে🥺
আকাশঃ নারে পাগলি।এইটা তো কথার কথা।আচ্ছা চলো যাওয়া যাক।
নেশাঃ হুম।
[বলেই নীড়ের সামনে দিয়ে নেশাকে কোলে করে নিয়ে চলে গেল আকাশ।নীড়ের মনে হচ্ছে কেউ তার কলিজাটা টেনে নিয়ে যাচ্ছে ]
হঠাৎ পিছন থেকে সায়ান নীড়ের কাধে হাত দিলো।নীড় ঘুরে তাকালো।
সায়ানঃ কিরে কষ্ট হচ্ছে?
নীড়ঃ জানি নাহ রে কিন্তু কাউকে সহ্য করতে পারছি নাহ ওর সাথে।
সায়ানঃ এইটাই ভালোবাসা নীড়। আর কবে বুঝবি যে তুই নেশাকে ভালোবাসিস।
নীড়ঃ আমি নেশাকে ভালোবাসি নাহ।
সায়ানঃ তুই নেশাকে ভালোবাসিস। তোর চোখ বলে তুই নেশাকে ভালোবাসিস।
নীড়ঃ ভালো তো আমি নিহাকে ও বাসতাম।দেখ ওকে ছাড়া তো বেচে আছি।আর নেশাকে তো আমি কখন ভালোবাসি বলিইনি। তাহলে তুই কিভাবে এইটা বলছিস।
সায়ানঃ তুই নিহাকে ভালোবাসোসনি কখন।।ও যাস্ট তোর অভ্যাস ছিলো।যদি ভালোই বাসতি তাহলে নিহাকে খুজতে যেতি।খোঁজ নিয়েছোস তার। নিসনি।তাহলে এইটা কিসের ভালোবাসা?
নীড়ঃ খোঁজ তো আমি নেশার ও নেই নি তাহলে ওকে ভালোবাসি কিভাবে বলছিস।।
সায়ানঃ নিহা চলে যাওয়ার আগে তুই যেমন ছিলি এখনো তেমনই আছিস।অথছ নেশা যেদিন চলে গেছিলো তুই নিজের সব কিছু ছেড়ে দিয়েছিলি।হাসতে ভুলে গেছিলি।তাহলে তুই কাকে ভালোবাসিস তুই নিজেকে জিজ্ঞাসা কর।আর কিছু তোকে বুঝানো আমার পক্ষে সম্ভব নাহ। তুই নিজেই ভেবে দেখিস। এখনো টাইম আছে নীড় নেশাকে ফিরিয়ে আনার।এখনো তুই ওকে তোর জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারিস যদি চাস।।আমার কথা গুলো ভেবে দেখিস
[বলেই সায়ান চলে গেল ]
নীড় চুপচাপ রুমে চলে এলো
নীড়ঃ সত্যিই কি আমি নেশাকে ভালোবাসি।সত্যিই তো নিহা যখন চলে গেছিলো ওর জন্য ওতোটা মন খারাপ হয়নি যতোটা নেশা চলে যাওয়ার পর হয়েছিলো।আর না নিহাকে ওতো মনে পড়েছে।শুধু নেশাকে মনে পড়েছে।।ওর পাগলামো গুলো মনে পড়েছে ওর সাথে কাটানো সময় গুলো।তাহলে কি আমি নেশাকে ভালোবাসি😥।আচ্ছা আমি #হয়তো_ভালোবাসি। কিন্তু নেশা।ও কি আজ ও আমায় ভালোবাসে🥺আমার জন্য ফিল করে😥।।আচ্ছা ও তো আকাশকে ভালোবাসে।তাহলে আমায় কি আবার ভালোবাসবে।নাহ করলে নাই আবার জাগিয়ে দিবো।না হলে জোর করবো।আফটার অল আমি নীড় আহমেদ। ফাইনালি কারো প্রেমে পড়েছি বলে কথা।এতো সহজে ছেড়ে দিবো নাকি😎।।এখন তুমি দেখতে থাকো নেশা খান তোমাকে কিভাবে এই নীড় নিজের করে নেয়😁😎
।
।
অন্যদিকে --
আকাশ এখনো নেশাকে কোলে নিয়ে ঘুরছে।আর নেশা কোলে বসে আইসক্রিম খাচ্ছে আর বকবক করছে।আর আকাশ সে তো মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে।।
আকাশঃ মনে মনে- তোমার কাছে থাকলে যে নিজের উপর কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলি কেন বুঝো নাহ তুমি নেশা।কতো মেয়েই তো আমার লাইফে এসেছে গেসেছে।তাদের সাথে সম্পর্ক ছিলো যাস্ট ওয়ান নাইটের।অথচ এতো আনন্দ তো পাইনি।তোমার সামনে আসার অনুভূতি যেন সুখের সাগরে ভাসিয়ে দেয়।সব সুখ তার কাছে কিছুই নাহ।খুব ভালোবাসি তোমায় জান খুব।।যেদিন তোমায় আমার ঘরের আর আমার মনের রানী করে নিতে পারবো সেদিন আমার সব স্বপ্ন পুর্ন হবে😊😊
।
।
চলবে😁😀😎
(পাঠকরা প্লিজ ধাক্কাধাক্কি করবেন নাহ🙈🙉🙉।।আপনারা খালি টুইস্ট চান তাই গল্প ৩৬০° এঙ্গেল এ ঘুরিয়ে দিলাম।এখন আপনারাই বলেন নেশা কার। আকাশ নাকি নীড়ের🙊🤧)
Love
অসীম_সীমানায়_আকাশ
part : 15 (last)
writer : Mohona
.
কিছুদিনপর...
অসীম-আকাশ আলাদা হয়ে গেলো। তা দেখে কেউ পৈশাচিক হাসি হাসছে।
☆: এখন... এখন কোথায় গেলো বন্ধুত্ব ? কোথায় গেলো ভালোবাসা? এখন হাসবো আমি কাদবে তোমরা....
.
অরনী: hello...
☆: হামম।
অরনী: অসীম আকাশের তালাক হয়ে গেছে। গোপন রাখা হয়েছে।
☆: হামম।
অরনী: এখন কি আমি আকাশকে বিয়ে করতে পারি?
☆: নিশ্চয়ই পারো। তবে কিছুদিন পর....
অরনী: কেন?
☆: বলেছি তাই.....
অরনী: আপনার কি আরো কোনো plan আছে?
☆:তোমার সাহস দেখে অবাক হচ্ছি। তুমি আমাকে প্রশ্ন করছো....
অরনী: sorry....
☆: রাখছি....
.
অপূর্ব: স্যার অসীম-আকাশের divorce হয়ে গেছে।
☆: জানি....
অপূর্ব: স্যার next plan কি?
☆: জেনে যাবে....
অপূর্ব: স্যার অসীমকে আমি ভীষন ভালোবাসি।
☆: no worry .. তোমার সাথেই ওর বিয়ে হবে। no worry ...
অপূর্ব: thank u sir...
☆: bye...
অপূর্ব : bye sir...
.
☆: হায়রে পিরিতি... পাগল বানাইলো
কিন্তু অসীম তো আর কারোনা । কেবল আমার। আমার খাচায় বন্দী থাকতে হবে অসীমকে। আর মরতে হবে আকাশকে। এটাই হয়তো ইতিহাস হবে। কারন প্রথম অসীম বন্দী হবে।
আমি বন্দী করবো। আর এউ প্রথম আকাশ ধংব্স হবে।
অসীমের সীমানায় থেকে আকাশ হারিয়ে যাবে। অসীম সীমানায় কেবল ১জন থাকবে আর সে আমি।
.
১মাসপর...
আকাশ : জানু... আমরা বিয়ে কবে করবো?
অরনী : তুমি বললে আজই....
আকাশ : সত্যি? 😀 ।
অরনী: হামম।
আকাশ : তাহলে কাল করবো... কেমন ?
অরনী: হামম।
আকাশ : অবশেষে আমি তোমায় পাবো।
অরনী: অবশেষে আমি তোমার হবো। ভালোবাসি।
আকাশ : আমিও অসী......ম ভালোবাসি।
অরনী : অসীমের নামটা না নিলেই নয়?
আকাশ : আরে ভাই এই অসীম সেই অসীম না। এটা অসমাপ্ত অসীম । যার সীমা নেই। অসীম ভালোবাসা মানে সীমাহীন ভালোবাসা। আকাশের ভালোবাসা হলো সীমাহীন ভালোবাসা। অসমাপ্ত ভালোবাসা.... যা কখনো শেষ হবেনা।
অরনী : তুমি আমায় এতো ভালোবাসো।
আকাশ : yes বেবি... i love my love.....
.
ওদিকে....
অপূর্ব : কবে তুমি আমি এক হবো।
অসীম: যেদিন আপনি বলবেন....
অপূর্ব : এখনো আপনি করে বলবে?
অসীম : হামম। you are special one...
অপূর্ব : তাই বুঝি?
অসীম : হামম।
অপূর্ব : আমি তোমাকে সুবিশাল সাগরের মতো ভালোবাসি....
অসীম : আর আমার ভালোবাসা অন্তহীন আকাশ ....
অপূর্ব : হায় ম্যা মারজাওয়া.... দেখি কালই court marriage করতে পারি কিনা...
.
রাতে...
অসীম : রাত ১১ বাজে... হতচ্ছারাটা কোথায়? ধরা-টরা পরেনি তো?
আকাশ : কার এতো ক্ষমতা যে আকাশকে ধরে?
অসীম : এতো লেট হলো কেন আসতে? actually আসার কি দরকার ছিলো? অরনীর কাছে থাকলেই তো পারতে? 😤।
আকাশ : হামম। থাকবোই তো। তবে কাল থেকে... afterall কালকে ওকে বিয়ে করবো যে। 😜।
অসীম : যা তুই কর বিয়ে। ১০০টা বিয়ে কর। এসেছিস কেন? দূর হয়ে যা...
আকাশ : এমা কাদছো কেন?
অসীম : সরতে বলেছিনা...
আকাশ অসীমকে বুকে জরিয়ে নিলো।
আকাশ : কাদছো কেন ? তোমার চোখের পানি যে আমার সহ্য সীমার বাইরে...
অসীম : ভয় করছে... কাল কি হবে?
আকাশ : কিছুই হবেনা... সব ঠিক হবে। সত্য সামনে আসবে।
অসীম : তবুও ভয় করছে। কে শত্রু সেটাও জানিনা... আর বিয়ে?
আকাশ : আরে ধুর বোকা.... বিয়ে কেন হবে? আমাদের কি divorce হয়েছে? হয়নি। তাইনা? আর বিয়ে ? বিয়ে কি করে হবে? divorce না হলে কি বিয়ে হয়? divorce paper এ যেমন আমাদের নকল signature ছিলো তেমনি marriage registry paper এও নকল signature করবো।
অসীম : জানিনা তবুও ভয় কেন করছে? যদি ওরা বুঝে যায়?
আকাশ : যখন ওটাতে বোঝেনি তখন এটাতে কিভাবে বুঝবে? ওরা ওদের ধংব্স খেলায় এতোটাই মত্ম যে ওরা এটা চেক করার অবস্থাতেই নেই। এটা ওরা দেখেই নি যে পেপারে আকাশ-অসীম actually signature নেই.... এমনিতেই কিছু কারুকাজ... আমি আছি তো... বিশ্বাস রাখো। অসীম-আকাশ এক থাকলে সারা দুনিয়াকে হারাতে পারি।
অসীম : অনেক বেশি ভালোবাসি তোমায় কোনো কিছুর বিনিময়েই তোমাকে হারাতে পারবোনা। তুমি আমার সব...
আকাশ : হামমম। এখন তোমাকে ভালোবাসতে দাও....
.
পরদিন...
marriage registry office ...
আকাশ-অরনী আর অপূর্ব-অসীম আলাদা আলাদা ভাবে পৌছালো। তবে একসাথে পৌছালো। অসীম-আকাশ ২জন ২জনকে ১টা লুক দিয়ে ভেতরে ঢুকলো। আকাশের সাথে আছে তাপস, আভা , রিহান , রুবেল।। আর অসীমের সাথে আছে দীপ্ত, জ্যোতি, তমা, সভ্য।
আগে আকাশ-অরনী registry হলো। আকাশ signature করে দিলো। তবে সেটা ওর signature না। তবে ভুলভাল। কিছুটা একই দেখতে। যেটা আকাশ না হয়ে বাতাস লেখা হয়। এখন অপূর্ব-অসীমের পালা... অসীম signature করলো। নকল। সসীম লেখার মতোন । অপূর্ব করবে তখনই
অপূর্বর ১টা ফোন এলো। সেই বসের ফোন থেকে। তাই অপূর্ব গেলো। কথা বলে এসে পেপারে signature করলো।
.
বিয়ে টিয়ে করে ওর বের হচ্ছে। গাড়িতে উঠবে তখন কোথায় থেকে অনেক গুলো মুখোশ পরা লোক এসে আকাশ-অরনী আর অপূর্ব-অসীমকে তুলে নিয়ে গেলো। চোখ-মুখ কালো কাপড়ে বেধে।
আকাশ মনে মনে : অসীম nervous হয়ো না please ... একটু সামলে রাখো। আল্লাহ চোখ মেলে যেন অসীমকে পাই....
অসীম মনে মনে : আমার আকাশ যেন ঠির থাকে... জানি না কি হবে?
অপূর্ব মনে মনে : এটা কি হলো? স্যারের কোনো চাল নয়তো? আমি কি ভুল কিছু করলাম?
অরনী মনে মনে: কি হচ্ছে এসব? স্যারই করছে। যদি স্যার কিছু উল্টা পাল্টা করে তবে i swear আমি কি করবো নিজেও জানিনা।
.
কিছুক্ষনপর...
১টা অন্ধকার রুমে বসে আছে। ওদের ওপর হঠাৎ লাইট জ্বলে উঠলো। অসীমের পাশে আকাশকে বসা দেখে সবাই অবাক।
☆:
🎶🎵🎶
ইয়ে দোস্তি....
হাম নেহি তোরেঙ্গে...
তোরেঙ্গে দাম মাগার
তেরে সাথ না ছোরেঙ্গে...
🎶🎵🎶
uffs... এটা? নাকি
🎶🎵🎶
ভালোবাসবো বাসবো
রে বন্ধু
তোমায় যতনে...
🎶🎵🎶
অসীম-আকাশ কন্ঠ শুনে আন্দাজ করতে পারলো কে? তবুও যেন বুঝতে চাইছে না। কারন এমনটাও হতে পারে? সে অন্ধকার ছেরে আলোতে বেরিয়ে আসছে । ধীরে ধীরে...
অসীম-আকাশ দোআ করছে যেন এটা সে না হয়। কিন্তু ওদের দোআ কবুল হলোনা । অন্ধকার থেকে সভ্য বেরিয়ে এলো।
হ্যা ওদের বন্ধু সভ্য।
.
অসীম-আকাশ : সভ্য?তুই?
আকাশ : এটা কেমন বেহুদা মজা সভ্য? hey you... অসীম মিষ্টি... এসবের মানে কি?
অসীম : shut up... এই সভ্য...
তুই আমাদের এখানে তুলে এনেছিস কেন? পাগল টাগল হলি নাকি?
সভ্য: হ্যা আমি পাগল। বদ্ধ উন্মাদ। তোর ভালোবাসায়... ছোটথেকে। কিন্তু তুই তো আকাশ বলতে অজ্ঞান... তোদের bloody friendship ...এর জন্য...
আকাশ : কি বলতে চাইছিস কি?
সভ্য: খুব স্বাভাবিক ১টা কথা। সেটা হলো এই যে আমি অসীম-আকাশের বন্ধুত্বকে ঘৃণা করি... ভালোবাসাকে ঘৃণা করি... আকাশকে ঘৃণা করি... অনেক বেশি।
যতোটা না অসীমকে ভালোবাসি তার থেকে বেশি আকাশকে ঘৃণা করি...
অসীম : মানে? কি বলছিস তুই?
.
সভ্য:কেন? শুনতে পাসনি? পাবি কি করে? তুই তো কেবল আকাশ আকাশ আকাশ ... কিন্তু এখন তো আকাশকে ঘৃণা করিস। তবে কেন আমায় নিয়ে উদাসীন। কেন বুঝতে পারছিসনা যে তোকে ভালোবাসি...
i just love you..
অপূর্ব: স্যার... she is my wife now... so.. mind your language ..
সভ্য রেগে ওর দিকে তাকালো।
সভ্য: your wife.. ?
হাহাহাহা... no mr. fool... she is now my wife... মিসেস সভ্য অসীম মিষ্টি... যাই হোক তোমার সাথে পরে কথা বলবো।
আকাশ : তোর যা মন চায় কর। আমাকে আর অরনীকে ছেরেদে...
সভ্য: তোকে ছেরে দিলে তোকে মারবো কি করে? আজকে তো তুই মরবি। কিন্তু না অসীমকে ভালোবেসে মরবি আর না অসীমের বন্ধুত্ব নিয়ে। মরবি অসীমকে ঘৃণা করে।
অরনী: আমার আকাশের যদি টোকাও লাগে i will kill you...
সভ্য: নিজেকে বাচিও তাই বেশি। কোথায় যেন ছিলাম? ও হ্যা...
তোদের ২জনকে একসাথে দেখে তো আমার বিরক্ত লাগে। তোদের লাগেনা? ক্লাসে অসীমের সাথে কে বসবে? আকাশ ।
অসীমের best friend কে? আকাশ ...
অসীম যাকে ভালোবেসে সে কে? আকাশ ...
আকাশ ... আকাশ ... আকাশ ....
এতোগুলো বছর অসীমের কাছে কে ছিলো? সভ্য...
অসীমকে অসীম ভালোবাসে কে? সভ্য।
অসীম কার জীবন? সভ্যর।
তবে? তবে কেন আকাশ আসবে? যে এতো বছর কাছেই নেই।
.
অসীম : তুই বলছিস কি? পাগল নাকি?
সভ্য: হ্যা । তোর জন্য...
ছোটবেলা থেকেই...
মনে আছে তোর সাথে কথা বলতে চাইতাম বলে, বসতে চাইতাম বলে আকাশ কেমন করতো? তোদের বন্ধুত্বেক জন্যেই সেদিন আমার accident হয়। আমার ডান পা খারাপ হয়ে যায়। খুরিয়ে খুরিয়ে চলতে হয় আমাকে। player হওয়ার ইচ্ছাও পূরন হলোনা। সব তোদের বন্ধুত্বের জন্য।
অসীম: কি বলছিস? it was an accident ...
সভ্য: accident ? কি হতো যদি ১টা বার আমার সাথে boating করলে...? কতোবার বলেছিলাম boating কর boating কর। না করলে পাহাড় থেকে ঝাপ দিবো। শুনেছিলি? শুনিসনি। তোদের সাথে জেদ দেখিয়েই ঝাপ দিয়েছিলাম। জানে বেচে গেলেও আমার ...
সেদিন ভেবেছিলি..
আকাশ : তুই কি বলছিস কি? সেদিন হাসি মজার মধ্যে তুই সত্যি ঝাপ দিবি সেটা কে জানতো? আর তখন আমরা ছিলামই কতোটুকু...
সভ্য: চুপ... জ্ঞান দিবিনা। যেদিন সুস্থ হই সেদিনই ঠিক করি তোদের বন্ধুত্ব ভাঙবো। অসীমকে নিজের করবো। কিন্তু... ১দিন শুনলাম তোর বিয়ে হয়ে গেছে। মাথা হলো আরো গরম.... কি করি কি করি....
পেয়েগেলাম বুদ্ধি। তোর বাবার চোখে তোকে খারাপ বানানোর plan করলাম। যে তুই তোদের বিয়েটাকে কেন্দ্র করে খারাপ হয়ে যাচ্ছি। বউ জিনিসটা কে নিয়ে বড়দের মতো ভাবছিস। plan success হলো। তবে ভেবেছিলাম যে তোদের বিয়ে ভেঙে দিবে। কিন্তু তা না করে তোকে australia পাঠিয়ে দিলো। ভালোই করেছিলো। ভাবলাম তুই ফিরতে ফিরতে অসীমকে নিজের করতে পারবো।
হায় আফসোস। ছোটবেলার বিয়ে অসীমের মন থেকে মুছেনি। সেটাকে ধরেই রইলো। কতো চেষ্টা করলাম কিন্তু পারলাম না অসীমের মনের সীমানা থেকে ়আকাশকে সরাতে।
.
অসীম : তুই এতো খারাপ?
সভ্য: আরে শোন না। পরে ভাবলাম যে অসীমের মন থেকে যখন আকাশকে সরাতে পারলামই না তখন আকাশকেই সরাই। সেটাও পারলাম না। আকাশ অসীমের সীমানায় বন্দী। পরে মাথায় এলো আরো ১টা plan...যাতে সাপও মরে আর লাঠিও না ভাঙে। আকাশের গুলির নাটক সাজালাম । আকাশ আমার আশানুযায়ীই কাজ করলো। অরনী-আকাশের বিয়ে ভাঙায় আমি sure ছিলাম যে অসীমকে জোর করে আকাশের বিয়ে দেয়া হবে। কি করি ভাবছিলাম। তখন জানতে পারলাম হাতের লেখা দেখে অসীম বুঝতে পারলো যে ওটা আকাশের লেখা। তাই অরনীকে দিয়ে ফোন করালান অসীমকে। এরপর কি হলো তা সবাই জানি....
অসীম : ছিঃ...
.
সভ্য: হাহাহাহা... সব ঠিকই ছিলো। কিন্তু জানিনা কিভাবে আবার সব ঠিক হয়ে গেলো? চিন্তায় পরে গেলাম। আবার নতুন করে planning শুরু করলাম। তবে এবার আর আমায় কষ্ট করতে হলোনা। তোরাই করলি.... কোথায় গেলো তোদের বন্ধুত্ব? ভালোবাসা? খুব তো গর্ব করতি... অহংকার করতি.. কোথায় গেলো সব?
আকাশ ... অসীম তোর সব। অথচ দেখ তোর মৃত্যুর আগে তোরা আলাদা। না আছে বন্ধুত্ব না আছে ভালোবাসা। আছে ঘৃণা।
মৃত্যুর আগে অন্যের স্বামী হয়ে গেলি...
আর দেখে গেলি অসীম আমার বউ। যখন অসীম sign করে তখন অপূর্ব করার আগে ওর ফোন আসে। সবাই অন্যমনষ্ক হতেই paper change...😎😎...
i just proud of me......
আকাশ এবার তোমার মৃত্যুর সময় এসে গেছে।
বলেই ১টা গান বের করলো।
অরনী: না আমার আকাশকে মেরো না।
সভ্য: এর মুখ বাধতো... তোরা নিজেরাই আলাদা হয়েছিস তাই বলে আমার guild টা ক...
তখন অসীম-আকাশ একসঙ্গে হাসতে শুরু করলো। সভ্য-অরনী-অপূর্ব অবাক।
আকাশ : পিছে দেখ...
সভ্য পিছে ঘুরে দেখলো যে রুবেল ওর মাথায় গান ঠেকিয়ে রেখেছে। সাথে আছে আরো ১দল লোক। তারা অসীম-আকাশ কে মুক্ত করে সভ্যকে বেধে দিলো।
ওরা ৩জন তো হা...
আকাশ ইশারা করতেই দলবল বাইরে গিয়ে দারালো।
আকাশ অসীমের কোমড় ধরে সামনে এনে ১টা deep lip kiss করলো।
৩জন: 😱।
এরপর ১টা চেয়ার টেনে অসীমকে কোলে নিয়ে বসলো।
আকাশ : সবার আগে ১টা good news দেই... we are pregnant ...
তোমরা মামা, কাকা , ফুপু, খালা হচ্ছো। খুব শীঘ্রই ১টা princess আসতে চলেছে..
অসীম : মোটেও না... prince ...
আকাশ : princess ...
অসীম : prince ..
আকাশ : pri...
wait wait.... বেচারাদের সত্যিটা আগে জানিয়ে নেই।
অসীম : ও হ্যা। না হলে যে এরা confusion এই মরে যাবে...
আকাশ : তাহলে সেই আমার car accident থেকেই বলি...কি বলো কলিজাপাখি....
অসীম : yeah... জানপাখি।
আকাশ সব বলল।
সব শুনে ৩জনের মাথায় বাজ পরলো।
.
আকাশ : যার অন্ত নেই সেটাই আকাশ .... আর যা সীমাহীন তাই অসীম । মানে যা দারায় তা হলো এই যে অসীম = আকাশ ।
অসীম : অসীম-আকাশ কে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা একসাথে করে রেখেছে। কার সাধ্য আছে আলাদা করার? তবে সভ্য... আকাশের পর তোকেই সেরা বন্ধু ভাবতাম। কিন্তু তুই মানুষরূপী শয়তান।
আকাশ :
#অসীম_সীমানায়_আকাশ চিরকাল ছিলো আছে আর থাকবে। অন্যকারো সীমানায় যাবেনা। তোর সব কুকর্মের কথা আমার camera তে video হয়েছে। এই যে আমার বাটনে থাকা। রুবেল। come...
রুবেল এলো।
রুবেল: yes sir...
আকাশ : এরা ৩জনই তোমার যা ইচ্ছা করো।
রুবেল: yes sir...
আকাশ-অসীম বেরিয়ে এলো।
.
এরপর থেকে অসীম-আকাশ নরমাল ভাবে জীবন কাটাতে লাগলো। যেখানে কোনো ভিলেন নেই। কেবল ভালোবাসা আছে। কিছুদিন পর ওদের ঘরে ১টা ছোট্ট পরী এলো। নাম রাখা হলো অধরা। #অধরা-অসীম-আকাশ । cute & happy family ....
.
💗💗সমাপ্ত💗💗
Love
#The_Cobra_King
#Mafia_Boss_Season4
Tabassum Riana
part:74
→পরীক্ষা গুলো চলছে।রোয়েনের বেশ সাহায্য ও পাচ্ছে রুহী।ও ভেবেই পায়না কিভাবে একজন মাফিয়া একাধারে হাসবেন্ড,প্রেমিক,শুভাকাঙ্ক্ষী আর শিক্ষক হতে পারে?ও নিজে ও এতোটা ভাল নয় যে এমন ভালো স্বামী পাবে।আসলে ও ভালো নয় ওর ভাগ্য।ওর সৌভাগ্য বলেই রোয়েনকে পেয়েছে।লোকটা ওর খুব খেয়াল রাখছে।ওর প্রত্যেকটা ব্যাপার দেখে শুনে রাখছে।পরীক্ষায় রুহীকে পড়ানোর পাশাপাশি ওকে প্রচন্ড কেয়ার আর ভালবাসাও দিচ্ছে।তিনটা পরীক্ষা সবে শেষ হলো আর বাকি মাত্র তিনটা সাবজেক্ট।পরীক্ষাগুলোর মাঝে ১০-১২ দিন করে ছুটি তার মানে পড়ার জন্য অনেক সময় পাচ্ছে ও।পরীক্ষা দিয়ে সবে বের হলো।বেশ ভালো ও হচ্ছে পরীক্ষা গুলো।আর এই ভালোর ক্রেডিট ওর স্বামী নামক লোকটার।
কলেজ থেকে বেরিয়ে বান্ধুবীদের সাথে কিছুক্ষন গল্প করলো আর ফুচকা খেলো রুহী।
কিছুদিন যাবৎ অদ্ভুত এক পরিবর্ন লক্ষ করছে রুহী নিজের শরীরে। ব্যাপারটা ওকে বেশ ভাবাচ্ছে।দুশ্চিন্তা নামক পাখিটা ও মনের মাঝে উঁকি দিচ্ছে।বান্ধুবীদের সাথে শেয়ার করবে কিনা ভাবছে।কিছুটা সংকোচ বোধ ও হচ্ছে। আরো কটা দিন অপেক্ষা করবে রুহী।তারপর নাহলে হাসপাতালে যাবে।কথা গুলো ভাবার মাঝেই কাঁধে কারোর স্পর্শ পায় রুহী।শেষ ফুচকাটা মুখে দিয়েই পিছনে ফিরে দেখলো রোয়েন দাঁড়িয়ে আছে।ভ্রু কুঁচকে চেয়ে আছে সে।রুহী দুহাতে মুখ চেঁপে ধরে ও।কারন লোকটা জাংক ফুড খাওয়া পছন্দ করেনা।তার ওপর যদি সেটা খায় রুহী তাহলে কথাই নেই।ফুচকা টা খেতে পারছেনা রুহী।রোপাশ থেকে রুহী-''ভাইয়া আসলে ও সচরাচর খায়না।আমরা জোরওদের কথায় পাত্তা না দিয়ে রোয়েন একটা টিস্যু নিয়ে রুহীর মুখের সামনে ধরে এবং ইশারা করে মুখের ফুচকা টা ফেলে দেয়ার জন্য।রুহী প্রতিবাদ না করে ফুচকাটা টিস্যুতে রাখে।রোয়েন সেটা ফেলে দিয়ে রুহীর হাত টেনে গাড়িতে বসায়।তারপর রুহীর পাশে এসে ড্রাইভিং সিটে বসে রোয়েন।রুহী মন খারাপ করে নিচে তাকিয়ে আছে।রোয়েন গাড়ি স্টার্ট দেয়।গাড়ি মন হয়েছে এক্সাম?"
-''ভালো
রোয়েন আর কিছু না বলে গাড়ি চালানোয় মন দেয়।ঘরে ফিরেই রোয়েন আর রুহী ফ্রেশ হয়ে নেয়।দুপুরে খেয়ে নেয় ওরা।রুহী প্লেট বাটি ধুয়ে বিছানায় এসে শুয়ে পড়ে। রোয়েন ও রুহীর পাশে শুয়ে ওর কাঁধে মুখ ডুবায়।রুহী সোজা হয়ে শুয়ে রোয়েনকে জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে।রোয়েন রুহীর গলায় ভারি ভারি চুমুতে ভরিয়ে দিতে শুরু করে।রুহীর চোখজোড়ায় আসা ঘুম আস্তে আস্তে কেঁটে যেতে শুরু করে।জেগে উঠতে থাকে তীব্র নেশা।রোয়েনের মুখ খানাকে নিজের ওপর নিয়ে আসে রুহী।তারপর রোয়েন অনূভব করে একজোড়া নরম ঠোঁট ওর ঠোঁটজোড়া শুষে নিচ্ছে।আর অপেক্ষা করতে পারেনা রোয়েন।নিজেও রুহীকে ভালবাসায় মাতিয়ে তোলে।ডুব দেয় গভীর প্রেমের সমুদ্রে।বিকেলে দুজন কফি নিয়ে খাটে''কোয়েশ্চেন পেপারটা দেখি তো?"
-''জি আ
রুহী উঠে ব্যাগ থেকে প্রশ্ন টা নিয়ে আসে।রোয়েন প্রশ্ন দেখতে শুরু করে
রুহী এসে রোয়েনের বুকে মাথা রেখে ও গায়ে কিছুটা ঘেঁষে বসলো।রুহীর চুল হাতিয়ে দিতে থাকে রোয়েন।অপরদিকে জয়ের অস্থিরতা কোন ভাবেই কাঁটছেনা।আজ বিকেলে মিষ্টি পাখিকে দেখেছিলো ওর বান্ধুবীদের সাথে।ফুচকা খাচ্ছিলো।জয় কিছু বলতে যাবে তখনই একজন লোক এসে মিষ্টি পাখিকে নিয়ে গেলো।নাহ আর অপেক্ষা করতে পারছেনা জয়।মেয়েটাকে চাই ওর।ভাবতে ভাবতে সামনের বারে ঢুকে পড়ে জয়।সেখানে ঢুকতেই অশ্লীল পোষাকে জয়কে ধরতে থাকে।
.
.
-''হেই হ্যান্ডসাম!!!ওয়ান্না হ্যাভ ইঞ্জয়?"
-''হাউ ক্যান ইউ এন্টারটেইন মি?(নেশাযুক্ত কন্ঠে)"
-''কাম উইদ আস।উই উইল শো ইউ আওয়ার'স বেস্ট।"
-''সিওর"
.
.
জয়কে ওরা টেনে একটা আলাদা জায়গায় নিয়ে গেলো।মেয়েগুলো ওকে একটা ওয়াইনের বোতল আর গ্লাস এগিয়ে দেয় আর সেই গ্লাসে একটু ওয়াইন ঢেলে দেয়।জয় ওয়াইনের গ্লাসে সিপ দিয়ে মেয়ে গুলোর নাচ দেখতে থাকে।মেয়ে গুলো একটা ইংরেজি গানে নাচছে।জয় নেশাযুক্ত চোখে ওদের নাচ দেখছে।তাদের মাঝে দুটো মেয়ে নাচতে নাচতে জয়কে ধরে ওর গালে চুমু খেতে চেষ্টা করে। কিন্তু জয় মুখ সরিয়ে নেয়।গান যতোই হচ্ছে মেয়েগুলোর অশ্লীলতা বেড়ে চলছে।জয়ের কাছে ওরা আরো বেশি আসতে চাইছে।জয় এতোসময় ওদের সাথে ঘেঁষলেও হঠাৎ মিষ্টি পাখির চেহারাটা ওর সামনে আসতেই জয় মেয়ে গুলো জোর করে সরিয়ে বেরিয়ে যায় বার থেকে।বার থেকে বেরিয়ে এসে সোজা চলে যাচ্ছিলো জয়।তখনই ওর ড্রাইভার টেনে গাড়িতে বসিয়ে দেয়।ঘরে পৌছে ড্রাইভার জয় কে বাসায় পৌছে দেয়।তখন বেশ রাত।সবাই ঘুম।ড্রাইভার ওকে রুমে নিয়ে যেতে চাইলে জয় বারন করে।ড্রাইভার চলে গেলে ও রুমে যাওয়ার চেষ্টা করে।কিন্তু সোফায় বাড়ি খেয়ে সোফার উপরেই পড়ে যায়।এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।এদিকে সেরাতে রোয়েন রুহীকে বুকে নিয়ে জানালার পাশে বসে আছে।রোয়েন আকাশের চাঁদের দিকে তাকিয়ে গান ধরলো,
Hum Tere Bin Ab Reh Nahi Sakte
Tere Bina Kya Wajood Mera
Hum Tere Bin Ab Reh Nahi Sakte
Tere Bina Kya Wajood Mera
Tujhse Juda Gar Ho Jaayenge
Toh Khud Se Hi Ho Jaayenge Judaa
Kyunki Tum Hi Ho
Ab Tum Hi Ho
Zindagi Ab Tum Hi Ho
Chain Bhi, Mera Dard Bhi
Meri Aashiqui Ab Tum Hi Ho
রুহীর মুখে মুগ্ধতার হাসি ফুঁটে উঠে।ওর বরটার আর কতো কতো গুন দেখতে হবে?ও বলল,
.
.
-''খুব ভালো হয়েছে।"
-''হুম।তোমার সৌন্দর্যের কাছে গানের সৌন্দর্যটাও ফিকে পড়ে গেছে।"
-''আপনার চোখজোড়াই সুন্দর রোয়েন।নাহলে কতো ভুল করেছি কিন্তু ভালবেসে ঠিকই বুকে টেনে নিয়েছেন।"
-''প্রচন্ড ভালবাসা বুঝো?প্রচন্ড ভালবাসলে কখনো ভালবাসার মানুষটা থেকে দূরে থাকা যায়না।"
.
.
রুহী সরে এসে রোয়েনের দিকে ফিরে বসে।তারপর ওর একদম কাছে মুখ এনে বলল,
.
.
-''প্রচন্ড ভালবাসি আমি ও রোয়েন।"
-''অতোসতো বুঝিনা।তোমাকে এখন লাগবে আমার।"
.
.
রুহী সরে যাচ্ছিলো।তখনই রোয়েন ওকে জাপটে ধরে।ওর কাঁধে নাক ঘষতে থাকে।রুহী আর কিছু বলতে পারেনা।রোয়েন ওকে নিয়ে শুয়ে পড়ে।ওর গলায় চুমু খেতে খেতে শাড়ীর আঁচল সরিয়ে ফেলে।রুহী জড়িয়ে ধরে শক্ত করে তার ভালবাসার মানুষটাকে।এদিকে সকালে বিজলি বেগম নিচে এসে দেখলেন জয় সোফায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে নাক ডেকে ঘুমুচ্ছে।বিজলি বেগমের প্রচন্ড হাসি পায়।সোফায় এসে নাতির চুলে হাত বুলাতে থাকেন।
.
.
-''জয় উঠ দাদু।"
-''উমম দাদি ডেকোনা তো।ঘুম পাচ্ছে।"
-''দেখ নয়টা বাজতে চলেছে।অফিস আছেনা?"
.
.
জয় আর ঘুমিয়ে থাকতে পারেনা।কষ্ট করে উঠে বসে ও।নাতির চুল হাতিয়ে দেন বিজলি বেগম।ওনি বললেন,
.
.
-''যা ফ্রেশ হয়ে নেয়।নাস্তা দিচ্ছি।"
-''জি দাদি।"
.
.
জয় উঠে রুমে গিয়ে ফ্রেশ হতে থাকে।এদিকে রুহীর শরীর ভালো লাগেনা।সেদিন সকালে রোয়েন কফি খাওয়ার জন্য কাছে টেনে নেয়।কফির ঘ্রানে রুহীর শরীর ঘুলিয়ে আসতে চায়।কোনমতে রোয়েনের সাথে কফিটা খেয়ে নেয়।রোয়েন বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই বাথরুমে দৌড়ে যায় রুহী।মাথায় পানি দেয়।কারন খুব বেশিই খারাপ লাগছে।বেরিয়ে এসে একটু নাস্তা খেয়ে নেয় ও শুয়ে পড়ে।আজকাল বেশি কাজ ও করতে পারেনা।খুব জলদি ক্লান্ত হয়ে পড়ে ও।অপরদিকে রোয়েন আজ অনেকদিন পর বন্ধু রামীনকে দেখতে পায়।এতোদিন অফিসে আসেনি ও।রোয়েনের সাথে ও তেমন একটা যোগাযোগ রাখেনি।কেমন একটা একঘরে হয়ে পড়ে।অফিসে নিজের কক্ষে ঢুকে রামীনকে দেখতে পায় রোয়েন।রামীন মুখ টিপে হেসে বলল,
.
.
-''ভাল আছিস?"
-''ওহ তুই চিনিস আমাকে?এতদিন কোন খবরই ছিলো না তোর।কল দিয়ে ও পাইনি।মনে হচ্ছিলো ভুলেই গেছিস।"
-''কি যে বলিস?তোকে ভুলবো?একটু সমস্যায় ছিলাম।মানসিক ভাবে অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম।তাই নিজেকে গুঁটিয়ে নিয়েছিলাম।"
-''এখন স্বাভাবিক হলি কি করে?"
.
.
জবাবে রামীন মুচকি হাসে।
চলবে
Love
Devil Husband💗
part_12
Imtihan Imran
ইমরান সিনহাকে কোল থেকে নামিয়ে মাঠিতে শোয়ায়।
ঝড়ের গতিতে এসে আয়ানের শার্টের কলার চেপে ধরে
-সেদিন,সিনহাকে কিছু বদমাশের হাত থেকে বাচিয়েছিস
তাই তোকে আজ কিছু করলাম না
নাহলে তোকে এখানেই মাঠি চাপা দিয়ে দিতাম
তুই আমার সিনহার সাথে টাইম স্পেন্ড করস,তাকে ফুল দিস,এর পরিনাম খুব ভয়াবহ হতো(রাগী সুরে)
ইমরান আয়ানের কলার ছেড়ে দিয়ে
সিনহাকে কোলে নিয়ে হাটা ধরল
আর এইদিকে আয়ান এইসব কথা শুনে হতবাক হয়ে যায়
_আমার সিনহা বলতে উনি কি বুঝিয়েছে,আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না
ইমরান থেমে গিয়ে আয়ানের উদ্দেশ্যে বলে,
আর হ্যা নেক্সট টাইম আমার বউয়ের আশেপাশে যেনো না দেখি
_কিই বউউ(আয়ান আকাশ থেকে পড়ে)
ভাগ্যিস প্রপোজ টা করি নাই,নাহলে বড় ধরনের ছ্যাকা খেতাম
এই নিয়ে তাহলে ৭ টা হতো
আমার আবারো আলিফ,সামসু ভাইয়ের বিরহী গান শুনতে হতো
ও আম্মাগো এবারো তোমার ছেলের বউ হলো না যোগাড়
আয়ান নিজে নিজে এইসব বিরবির করছে,পরক্ষনে আবার তার মনে পড়ে
-আমার কেনো জানি মনে হয়,আমি ছ্যাকা খাইছি
মনের ছ্যাকাই তো বড় ছ্যাকা😔
ইমরান সিনহাকে গাড়িতে তার কাধে হেলান দিয়ে বসিয়ে খুব দ্রুত ড্রাইভিং করে,আজকের সিনহার এসপার না হয় অসপার করেই ছাড়বে
ইমরান বাড়িতে এসে সিনহাকে কোলে তুলে রুমে নিয়ে বিছানায় শোয়ায়,তারপর এক গ্লাস পানি এনে সিনহার মুখে ছুড়ে মারে
সিনহা ধড়পড়িয়ে উঠে যায়
সে চারিদিকে তাকায়,সে কোথায়
পরক্ষনে তার কিছুক্ষন আগের ঘটনা মনে পড়ে
সিনহা আবার ভয়ে কাপতেছে
ডেভিলটা কোথায়,সিনহা সামনে তাকিয়ে দেখে ডেভিলটা সোফায় বসে তার দিকে তাকিয়ে আছে
-আল্লাহ ডেভিলটা কি শান্ত ভাবে বসে আছে,কখন জানি আমার উপর ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প শুরু হয়ে যায়
আল্লাহ এবারের মতো বাচাই দেও
আর জীবনে ডেভিলের কথা অমান্য করবো না(বিরবির করে)
ইমরান খুব শান্ত ভাবে বলে
-কি মনে করছো,আমি তোমার খোজ খবর রাখি না,তুমি কি করো,কার সাথে কোথায় যাও কিচ্ছু জানি না
তাহলে তুমি খুব বড় ভুল করে ফেলেছো
এখন বলোতো তোমাকে কী শাস্তি দেওয়া যায়
সিনহার শাস্তির কথা শুনে কেপে উঠে,তারপর মাথা নত করে বলে
-এবারের মতো মাফ করে দেওয়া যায় না
ইমরান কথা বলে না
-চলো আমার সাথে
_কোথায়
-গেলেই দেখতে পাবে
ইমরান সিনহার কাছে এসে সিনহার হাত ধরে হাটা ধরে
বাইরে এসে গাড়িতে উঠে।সিনহার অনেক কিছু জিজ্ঞাস করতে ইচ্ছে করছে কিন্তু ভয়ে মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না
ইমরান সিনাহকে নিয়ে একটা কাজী অফিসে এলো
সিনহা কাজী অফিস দেখে অবাক হয়ে যায়
-এখানে আনছেন কেনো
-আজকে আমরা বিয়ে করবো
-মানে কি এসবের
_একদম মুখে মুখে কথা বলবে না,বিয়ে করবো আমরা এটাই শেষ কথা
এর পরেও যদি মুখ দিয়ে বেশি কথা বের
হয়,আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ হবে না(রাগী সুরে)
_ কিন্তু বাবা
-তোমার বাবাকে জানিয়েছি আমি
_এভাবে হঠাৎ বিয়ে না করলে হয় না
_মেজাজ টা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করতেছি
প্লিজ আমাকে রাগাইস না
সিনহা চুপ হয়ে যায়,আর কথা বাড়ায় না
সব নিয়মনীতি মেনে সিনহা ইমরানের বিয়ে হয়ে যায়💑
ইমরান সিনহাকে বাসায় এনে বিছানায় ছুড়ে ফেলে
ইমরান নিজের শার্ট খূলে নিচে ফেলে দেয়.
চলবে.
(আয়ানঃমনের ছ্যাকাই বড় ছ্যাকা😂)
( আপনাদের তো বলছি পার্ট বড় না হওয়ার কারন
তারপরও কেনো পার্ট বড় করে দিতে বলছেন)
Love
গল্প: ক্যালেন্ডার!
পর্ব: ১২!
লেখক: তানভীর তুহিন!
মিছিল বলে, " হাত ছাড়ো মুবিন। এখন লিমিট ক্রস করছো তুমি! "
মুবিন হেসে বলে, " কিছুই তো করলাম না। তাহলে লিমিট ক্রস হলো কোথায়? "
মিছিল চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। মুবিনের স্পর্ষে তার বুকে ধ্রিম ধ্রিম শব্দে ঢাক, ঢোল, ড্রাম সব একসাথে বাজছে। মুবিন খানিক চওড়া হেসে মিছিলের হাতটা ধরে আছে, মিছিলের হাতের উল্টোপিঠে থাম্বফিংগার দিয়ে স্লাইড করছে মুবিন। মুবিনের এই অতিসাধারণ ছোয়ায়'ও মাতাল হয়ে উঠছে মিছিলের মন। মিছিল চোয়াল শক্ত করে বলে, " মুবিন ছাড়ো! "
মুবিন সঙ্গে সঙ্গে মিছিলের হাত ছেড়ে দিয়ে বলে, " আচ্ছা ছেড়ে দিলাম। তবে এখান থেকে যেয়ো না, কিছুক্ষন দাড়াও এখানে! "
মিছিল চুপচাপ ট্রেনের দরজার পাশের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মুবিন ট্রেনের অবিরাম পথচলা দেখছে, মিছিলও দেখছে। মুবিন বাইরের আধো ঝাপসা রেললাইনের পাশের চলমান রাস্তা দেখতে দেখতে মিছিলকে বলে, " আচ্ছা মিছিল তুমি আমায় ভালোবাসো এটা কবে বলবে? "
মিছিলের চটজলদি জবাব, " কোনোদিনও না। কারন আমি তোমায় কোনোদিনও ভালোবাসবো না! "
মুবিন দাত বের করে হেসে আত্মবিশ্বাসী বাক্যে বলে, " এজন্য'ই তো তোমায় আরো বেশি করে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। "
মিছিল চোখ সরু করে বলে, " মানে? কীসের জন্য বেশি ভালোবাসতে ইচ্ছে করে? "
- " এইযে তুমি এতো নিশ্চিতভাবে বলো যে কোনোদিনও ভালোবাসবে না। এটাই আমায় আভাস দিয়ে দেয় যে তুমি আমায় ভালোবাসতে শুরু করে দিয়েছো। আর এরকম আভাস পেলে যেকারোরই ভেতরকার প্রেম ফুলে-ফেপে উঠবে, এটাই স্বাভাবিক! "
- " কোত্থেকে যে পাও এসব মুলাপচা লজিক, গড নৌস। "
- " জানবে, তুমিও একদিন জানবে। আর যেদিন জানবে সেদিন এই মুলাপচা লজিকগুলোই তোমার কাছে চকলেট আইস্ক্রিমের মতো লাগবে! "
- " হু! যা! তা! যত্তসব! "
মুবিন আর মিছিল ছোটোখাটো ধরনের একটা তর্কে জড়াচ্ছিলো। তখনই শাওন এসে বলে, " কীরে তোরা এখানেই দাঁড়ায় থাকবি নাকি? এখানে যদি দাঁড়িয়েই থাকবি তাহলে টাকা খরচ করে ট্রেনের টিকেট কিনলি কেনো? "
মুবিন শাওনকে ধমক দিয়ে বলে, " তুই শালা শান্তিতে প্রেমও করতে দিবি না। দেখছিস যখন এখানে দাঁড়িয়ে আছি, তারমানে নিশ্চই প্রেম করছি তাইনা? "
মিছিল চোখ রাঙিয়ে তাকায় মুবিনের দিকে। তারপর শাওনকে বলে, " আমরা মোটেই প্রেম-ট্রেম করছি না রে এখানে। তুই সিটে চল তো! " বলেই মিছিল সিটের দিকে আগায়।
শাওন মুবিনকে বলে, " কিরে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? যাবিনা? চল সিটে চল! "
- " তোরা যা একটা সিগারেট টেনে আসছি! "
- " আচ্ছা তাড়াতাড়ি আয়! "
মিছিল মুবিনকে সিগারেট না খাওয়ার জন্য বলবে ভেবেছিলো। কিন্তু কী না কী ভেবে কথাটা না বলেই চলে যায় মিছিল। মিছিল আর শাওন চলে গেলেই মুবিন একটা সিগারেট জ্বালিয়ে ধোয়া টানা শুরু করে, ছোট ছোট টান দিয়ে সিগারেটের ধোয়া ভেতর বাহির করছে মুবিন। এক অদ্ভুত অস্থিরতা কাজ করছে তার মধ্যে!
মুবিন একটা সেন্টার ফ্রুট মুখে দিয়ে চিবোতে চিবোতে গিয়ে সিটে বসলো। মুবিন গিয়ে বসতেই যেনো আড্ডাটা জমজমাট হলো। এতোক্ষন চারপাশে কথা তো হচ্ছিলো কিন্তু তেমন প্রান ছিলো না এই আড্ডায়। বগির প্রায় অর্ধেকটা জুড়েই ওরা, ২১ জনের প্রায় সবাই'ই সিট ছেড়ে উঠে সিটে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কথায় কথায় চৈতি মুবিনকে গান গাইতে বলে। মুবিন অবশ্য গান গাইবে বলে, নিজের গিটারটা নিয়ে এসেছিলো। তাই আর দেরি না করে গিটারের টুং! টাং! শব্দের সাথে সুর তোলে মুবিন,
" মনে পড়ে রুবি রায়
মনে পড়ে রুবি রায়, কবিতায় তোমাকে
একদিন কত করে ডেকেছি!
আজ হায় রুবি রায় ডেকে বল আমাকে
তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি
মনে পড়ে রুবি রায়, কবিতায় তোমাকে
একদিন কত করে ডেকেছি!
আজ হায় রুবি রায়, ডেকে বল আমাকে
তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি
রোদ জ্বলা দুপুরে, সুর তুলে নূপুরে
বাস থেকে তুমি যবে নাবতে
রোদ জ্বলা দুপুরে, সুর তুলে নূপুরে
বাস থেকে তুমি যবে নাবতে
একটি কিশোর ছেলে একা কেন দাঁড়িয়ে
সে কথা কি কোনোদিন ভাবতে?
মনে পড়ে রুবি রায়, কবিতায় তোমাকে
একদিন কত করে ডেকেছি!
আজ হায় রুবি রায় ডেকে বল আমাকে
তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি
দ্বীপ জ্বলা সন্ধ্যায়
দ্বীপ জ্বলা সন্ধ্যায়, হৃদয়ের জানালায়
কান্নার খাঁচা শুধু রেখেছি
দ্বীপ জ্বলা সন্ধ্যায়, হৃদয়ের জানালায়
কান্নার খাঁচা শুধু রেখেছি
ও পাখি সেতো আসে নি
তুমি ভালোবাসনি
স্বপ্নের জাল বৃথা বুনেছি
মনে পড়ে রুবি রায়, কবিতায় তোমাকে
একদিন কত করে ডেকেছি!
আজ হায় রুবি রায় ডেকে বল আমাকে
তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি
মনে পড়ে রুবি রায়
মনে পড়ে রুবি রায়! "
সবাই মুবিনের সাথে সুর মেলায়। তারপর একে একে সীমান্ত, চৈতি, অলোক, শ্রাবন সবাই'ই গান গায়। সীমান্ত অবশ্য একটা ইংলিশ গান গেয়েছিলো, কারন ওর ইংলিশ একসেন্ট এবং গানের সুর এককথায় চরম জোশ। তারপর গান গাওয়ার পালা আসে মিছিলের, প্রথমে গাইবে না গাইবে না করলেও পরে গেয়ে ফেলে। মিছিল গায় 'বাড়িয়ে দাও তোমার হাত!' গানটা। মিছিল যখন গান গাইছিলো তখন মুবিন ওর গানের তালে তালে গিটার বাজাচ্ছিলো আর স্থির মুগ্ধ নয়নে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিলো মিছিলকে। মুবিন যখন এভাবে স্থির মুগ্ধ নয়নে দেখছিলো মিছিলকে, তখন মিছিলের মনে হচ্ছিলো কেউ অতি নিকট থেকে তাকে আলিঙ্গন করছে।মিছিলের গান গাওয়া শেষ হতেই মুবিন নিজের হাতটা মিছিলের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে, " এই নাও বাড়িয়ে দিয়েছি আমার হাত, তুমি আমার আঙুল ধরে! আমায় ধরে হাটতে পারো। "
মিছিল মিথ্যে চোখ গরম দেখিয়ে হেসে দিয়ে বলে, " ধুর! "
সবাই একসাথে হো হো করে হেসে ওঠে মুবিন মিছিলের রঙ্গতামাশায়।
আসলেই কী কেউ তাকিয়ে থেকেই এভাবে মাতাল করে দিতে পারে কাউকে? শুধুমাত্র চাহনিতেই কী যাদুর তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে অনুভুতির ঢেউ কে উত্তাল করে দেওয়া যায়? হ্যা যায় হয়তো, নাহলে মুবিন কীভাবে পারছে? ওর প্রত্যেকটা চাহনি'ই যেনো কামিয়াব এবং সফল। কীভাবে পারছে আমায় অদৃশ্যভাবে কাছে টেনে নিতে? এসব ভেবে ভেবে ছোট ছোট মুহুর্তগুলোকে অতীত করছে মিছিল। সামনেই মুবিন বসা। থুতনিতে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে রক্তিম আকাশের পানে, আকাশটাকে যেনো কেউ খুন করেছে। এলোপাথাড়ি যেনো কোপানো হয়েছে আকাশটাকে, পশ্চিম আকাশটা রক্তিম বর্ন ধারন করেছে। সেই রক্তিম আকাশের শেষ প্রান্তের নিভু হলুদ রঙের সূর্যটা আকাশের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে তলিয়ে যাচ্ছে অজানায়। অনেকটা অপরাধির মতো তলিয়ে যাচ্ছে, হয়তো অনুসন্ধান করলে জানা যাবে এই রক্তাক্ত আকাশের খুনি এই নিভু হলদে রঙা সূর্যটা। যার বুকে সে সারাটাদিন ছিলো তাকেই খুন করে পালিয়ে যাচ্ছে? কেনো খুন করলো? এতোটা স্বার্থপর কেনো হলো সূর্যটা? বেইমান! অকৃতজ্ঞ! বিশ্বাসঘাতক সূর্য! এসব আবোলতাবোল ভাবছে মিছিল। কেনো ভাবছে? এই প্রশ্নের তদন্ত করবে সে। হ্যা এখনই তদন্ত শুরু করবে। মিছিল অবান্তর বিষয়টা নিয়ে তদন্ত শুরু করতে যাবে তার আগেই মিছিলকে অবাক করে দিয়ে মুবিন মিছিলের হাতটা ধরে।
হঠাৎ হাত ধরলো কেনো? এতক্ষন তো আকাশ নিয়ে গবেষনা করছিলো জনাব, হঠাৎ কথা নেই বার্তা নেই হাত ধরে বসলো? কথাটা ভেবেই মিছিল পাশে তাকালো। সবাই বেঘোরে ঘুমোচ্ছে। মিছিলের পাশে বসা চৈতি ঘুমোচ্ছে, মুবিনের পাশে বসা শাওন-সীমান্ত'ও ঘুমোচ্ছে। মিছিলের ইচ্ছে করছেনা মুবিনকে কটুকথা শুনিয়ে মুবিনের কাছ থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিতে, তাই হাতটা আর ছাড়িয়ে নিলো না মিছিল। শুধু মুখে একটা বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন এনে চোখ দিয়ে নিজের হাতের দিকে ইশারা করে চোখ নাচিয়ে ইঙ্গিতে মুবিনের কাছে হাত ধরার কারন জানতে চায় মিছিল। মুবিন প্রশ্ন বুঝেও কোনো উত্তর দেয় না, উত্তর না দিয়েই মিছিলের হাতটা আরেকটু শক্ত করে ধরে। মিছিলের চেহারার প্রশ্নবোধক চিহ্নটা আরো গাঢ়ো হয়ে ওঠে। মিছিলের চেহারায় থাকা গাঢ়ো প্রশ্নবোধক চিহ্নটা মুছে দেবার কোনো ভ্রুক্ষেপ'ই নেই মুবিনের। তার সমস্ত ভ্রুক্ষেপ এখন মিছিল! শুধুই মিছিল!, মিছিলের চেহারার প্রশ্নবোধক চিহ্ন না।
মুবিন মিছিলের হাত ধরার শক্ততার মাত্রা বাড়িয়ে মিছিলের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, " আই লাভ ইউ মিছিল মনি! "
কথাটা শুনতেই পরাপর লাগাতার বেশ কয়েকবার হার্ট বিট মিস করে মিছিল। প্রোপোজ করার একটা অতিসাধারণ ধরন আই লাভ ইউ বলা, এর আগেও বহু ছেলের মুখে বহুবার আই লাভ ইউ শুনেছে সে। কিন্তু কখনো এমন ভালোলাগা, এমন মুগ্ধতা, এমন স্নিগ্ধতা, এমন প্রাপ্তি অনুভব করেনি সে। কী আছে মুবিনের মধ্যে? কী দিয়ে দিন দিন আমায় পাগল করে নিচ্ছে ও?
মুবিন একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে মিছিলের চোখ দুটোর পানে, মিছিলের চোখ দুটোও স্থিরভাবে তাক করা মুবিনের চোখদুটোর দিকে। মিছিল অস্ফুট বাক্যে বলে, " হঠাৎ এসব বলছো? "
মুবিন মিছিলের হাতটা ছেড়ে দেয়, মিছিল চাচ্ছিলো মুবিন আরেকটু ধরে রাখুক হাতটা। একদম শক্ত করে ধরে রাখুক। কিন্তু মিছিলের ইচ্ছাটা অজানাই রয়ে যায় মুবিনের, মুবিন হাতটা ছেড়ে দিয়ে নরম গলায় বলে, " আকাশ দেখে খুব ইচ্ছে করছিলো আমার সাহিত্যকনাটাকে প্রেম নিবেদন করার। তাই দেরী না করে বলে দিলাম! "
মিছিল নিভু গলায় ছোট করে বলে, " ওহ! "
মুবিন আর কিছু না বলে, আকাশ দেখায় মনোযোগ দেয়। তার সবচেয়ে কাছের বস্তু এই আকাশ! যদিও অবস্থানের দিক থেকে অনেক দূরত্ব এই দুই বন্ধুর মাঝে। তবুও অন্তরাত্মার দিক থেকে তারা অতি সন্নিকটে।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা ট্রেন এসে সিলেট রেলস্টেশনে দাড়িয়েছে। সবাই গা''ছেড়ে দিয়ে ট্রেন থেকে নেমেছে, সবারই ঘুম আধপাকা হয়ে আছে। শুধু মুবিন আর মিছিলের ছাড়া।
রেলস্টেশন থেলে লেগুনায় চড়ে সবাই সিলেটের আম্বরখানার হোটেল কায়কোবাদে গিয়ে উঠলো। গতকাল রাতেই এখানে সবার জন্য রুম বুক করে রেখেছিলো মুবিন।
সবাই হোটেলের ডাইনিং এরিয়ায় খাবার খেয়ে যে যার রুমে গিয়ে গা এলিয়ে দেয়। কার সবার'ই ক্লান্তিতে গা ছেড়ে দিয়েছে প্রায়।
চলবে!
Love
#তোর_শহরে_ভালোবাসা💜
পর্ব-২১
ফাবিহা নওশীন
🍀🍀
সামু ৪দিনের জায়গায় আজ ৫দিন যাবত বাবার বাড়ি আছে।আদি রেগে বোম হয়ে আছে।গতকাল থেকে ওর সাথে কথা বলেনা।আজ সকালে আসার কথা।আদি রুমে পাইচারি করছে।আজ আর অফিসে যাবেনা।রাগের মাথায় যদি উল্টো পাল্টা কিছু করে ফেলে তাই বাড়িতেই আছে।তখনই সামুর ফোন।এসময়ে সামুর ফোন দেখে চমকে যায় আদি।তাড়াতাড়ি ফোন রিসিভ করে,,
--হ্যালো,,
সামু নিশ্চুপ।বিষয়টি আদির ঠিক লাগছেনা।
তারপর চিতকার করে বললো,
--কথা বলছো না কেন?আই থিংক তুমি আরো কিছুদিন থাকার পাইতারা করো।ডোন্ট টেল মি,,যে তুমি আজ আসছোনা।
সামু একটা ঢুক গিলে বললো,
আদি রাগ করোনা প্লিজ।অনেক দিন পড়ে এসেছি,,সবাই অনেক জোর করছে।তাই,,
--তাই কি,,সবাই জোর করছে।সবার কথা বলছো তুমি আর আমি,,আমি কি?আমি কেউ না?আমার প্রজেক্টের কাজ চলছে তুমি জানতে আমি কতটা বিজি কাজটা নিয়ে,,তবুও তুমি তোমার মতো গেলে,,ওকে ফাইন গিয়েছো,,ভালো কথা।
কিন্তু কি করছো তুমি, তোমার এতো থাকার ইচ্ছে তুমি পরে যেতে আমাকে নিয়ে,, আর কি বলেছিলে পরে আবার যাবে আমাকে নিয়ে,,কিন্তু কি করলে তুমি,,?
--আদি আমি সরি।প্লিজ আর একদিন আগামীকাল সকালে চলে আসবো।
আদি রাগে শক্ত করে জানালার পর্দা মুঠো করে ধরে রেখেছে।তারপর একটান দিয়ে ছিড়ে ফেলে বললো,
--তোর ডানা গজিয়ে গিয়েছে না,,?অনেক উড়ছিস তুই।দাড়া আমি আসছি তোর ডানা কাটতে।
--আদি প্লিজ আমার,,
আদি খট করে ফোন কেটে দিলো।সামান্তা ভয়ে জমে যাচ্ছে।ওর ভয় আদিকে নিয়ে না বরং আদি যদি এখানে এসে উল্টো পাল্টা কিছু করে বসে।
আদি নিচে গিয়ে জানালো কিছুক্ষণ পর ই সামুকে আনতে যাচ্ছে।তাই আদির মা যাবার সব ব্যবস্থা করলেন।ছেলে বিয়ের পর প্রথম বার শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছে।উপহার,ফল,মিষ্টি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যবস্থা করে ফেললেন।সামুকে ফোন করে সব বুঝিয়ে দিলেন।সামু নিজে এ বাসায় জানিয়ে দিলো আদি আসছে।বাড়িতে জামাই আপ্যায়নের তোড়জোড় ব্যবস্থা চলছে।
দুপুর বেলা আদি গিয়ে উপস্থিত।আদি ভিতরে গিয়ে সবার সাথে কুশল বিনিময় পর্ব সাড়লো।সামু শুধু আল্লাহ আল্লাহ করছে।কিন্তু না আদি সম্পুর্ন ঠান্ডা।
সামু আম্মু বললো,
--সামু আদিকে উপরে নিয়ে যা।আমি নাস্তা পাঠিয়ে দিচ্ছি।
--আচ্ছা।
সামু আদির দিকে তাকিয়ে নিজের রুমের দিকে যাচ্ছে আদিও ওকে অনুসরণ করছে।
সামুর বুক ঢিপঢিপ করছে।আদি যে একটা হাঙ্গামা করবে সেটা শিওর,,
রুমে ঢুকতেই আদি দরজা লাগিয়ে লক করে দিলো।সামু ঘুরে দাড়াতেই আদির রক্তবর্ণ চেহেরা দেখলো।চোখ লাল হয়ে আছে।আদি সামুর দুবাহু চেপে ধরে চোয়াল শক্ত করে বললো,
--কি বলে এসেছিলি?কি বলে দিয়েছিলাম তোকে? আসলে তোকে আসতে দেওয়াই ঠিক হয়নি,,
সামু কাচুমাচু হয়ে বললো,
--আদি,,
--চুপ একদম চুপ,,কথা বলবিনা।তুই একটা মিথ্যেবাদী।তুই তো ভালো করেই আমাকে জানিস,,তুই জানিস না আমি তোকে ছাড়া এতদিন থাকতে পারবোনা।
--আমি জানি কিন্তু এরাও তো পরিবার।এদের চাওয়া পাওয়া নিয়েও তো আমাকে ভাবতে হবে।সবাই খুব মন খারাপ করছিলো,
--মন খারাপ করলে আজীবন থেকে যাবি?হু?বিয়ে হয়েছে এখন আমার বাড়িই তোর সব।বাপের বাড়ি আসবি দুদিন থাকবি ব্যাস।একা এসে এতদিন থাকছিস,,জামাই ছাড়া।
--তোমাকে তো বলেছিলাম,,
--কি বলেছিলি?তুই জানতি আমি আসতে পারবোনা কতটা পেরায় আছি,,দায়সারা হয়ে বলেছিস।
--আদি আমি মন থেকেই বলেছি।
--আমার এখন এসব জানার দরকার নেই।সন্ধ্যায় আমরা ব্যাক করছি।এখন বাজে ২টা,,৬টায় রওনা দিবো।এতক্ষণে যত কথা যত ব্যথা সব বাড়ির মানুষের সাথে শেয়ার কর।তারপর প্যাকিং কর।
--আজ প্রথমবার এসেছো এভাবে চলে গেলে সবাই কি বলবে?
--আই ডোন্ট কেয়ার।আমরা আজই যাচ্ছি।তুই যদি না যাস থাক,,মানা করবো না আমি চলে যাবো।
--ঠিক আছে,চলে যাবো তোমার সাথে। (ছলছলে চোখে)
আদি সামুকে ছেড়ে দিলো।সামু নিচে চলে গেলো।কিছুক্ষণ পর নাস্তা নিয়ে এসে দেখে আদি ফুল স্পিডে ফ্যান ছেড়ে শার্টের বোতাম সব খোলে খাটে বসে আছে।সামু বুঝতে পারলো ওর গরম লাগছে।
তাই ট্রে রেখে ওয়াশরুমে গিয়ে তোয়ালে ভিজিয়ে এনে আদির গলা মুছতে গেলেই আদি সরিয়ে দেয়।সামু আবার মুছতে যায়।
আদি এক ঝাটকায় সরিয়ে দেয়।তারপর বলে,
--এতো ভালোবাসা দেখাতে হবেনা,,এতদিন এই ভালোবাসা কই ছিলো?
সামু থমকে যায়।তারপর আবার জোর করে মুছতে যায়।আদি কিছু বলতে যাবে তখনই শীতল কণ্ঠে বলে,
--এতো রাগ করছো কেন?তোমার কথা তো মেনেই নিয়েছি,,ঢাকা ব্যাক করছি।তাহলে এমন করছো কেন?(তোমার কষ্ট আমাকে স্পর্শ করলেও আমার কষ্ট তোমাকে কেন স্পর্শ করেনা।কেন তুমি স্বার্থপরের মতো নিজের কথাই কেবল ভাবো?আমার কথা একটু ভাবতে পারোনা)
আদি আর কিছু বললো না।সামু ওর পুরো শরীর মুছে দিয়ে ঘরের দক্ষিনের জানালা খোলে দিলো।ঝড়ের বেগে বাতাস আসছে।আদি অবাক হয়ে সেদিকে চেয়ে রইলো।পুরো ঘর মুহুর্তেই ঠান্ডা হয়ে গেলো।
যাকে বলে আল্লাহর রহমত।
সামু মিষ্টি হেসে বললো,
এমনই,,আল্লাহর রহমত।আমার রুমে ফ্যান ছাড়া লাগে না।সবসময় আল্লাহর রহমত বহে।
দুপুরের খাবারের পর সামু ওর আম্মুকে চলে যাওয়ার কথা বলতেই ওর আম্মু শকড,,
--কি বলছিস,,জামাই এতদিন পর এলো।আর তুই বলছিস আজকেই চলে যাবি।আমি আদির সাথে কথা বলবো।
--আম্মু বলে লাভ হবেনা।ও একটা প্রজেক্ট নিয়ে অনেক বিজি আছে।এত ব্যস্ততার মধ্যে শুধু আমাকে নিতে এসেছে।থাকার জন্য আসেনি।অন্য সময় আসবো।
--তবুও,
--আম্মু প্লিজ বাদ দেও,,মেয়েকে বিয়ে দিয়েছো সে এখন পর হয়ে গেছে।আসবে দুদিন থাকবে এই,,
সামুর আম্মু সামুর চোখে অভিমান দেখতে পেলো।ওর ভিতরে যে ঝড় বইছে বুঝতে পারছে।
--তুই অনেক বদলে গেছিস সামু,,নিজেকে আড়াল করতে শিখে গেছিস।তোর চঞ্চলতাও হারিয়ে গেছে।
সামু এবার ডুকরে কেঁদে উঠে।আম্মুকে জড়িয়ে ধরে বলে,
--তোমাদের সামু বিলীন হয়ে গেছে আম্মু,,
--কাদেনা,,,বোকা মেয়ে কাদিস কেন?শোন আদি তোকে চোখে হারায় তাই এমন পাগলামি করে।দেখিস না কাজ ফেলে তোকে নিতে ছুটে এসেছে।
তিনি সামুকে শান্তনা দিচ্ছেন।
সামুকে জড়িয়ে তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
অবশেষে সামু আদির সাথে বাসায় ফিরে।সামু শাশুড়ী মায়ের সাথে টুকটাক কথা বলে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালো।
ফ্রেশ হয়ে চাদর জড়িয়ে শুয়ে পরলো।রাতে খাবে না বলে দিয়েছে।কেউ যেন না ডাকে।কিছুক্ষণ পর আদি সামুর পাশে বসে ওর মাথায় বিলি কাটছে।সামুর এই মুহুর্তে আদিকে প্রচন্ড বিরক্ত লাগছে।এত কষ্ট দিয়ে এখন সোহাগ দেখাচ্ছে।তাই হাত সরিয়ে দিয়ে বিরক্তিকর মুখে বললো,
--প্লিজ বিরক্ত করোনা,ভালো লাগছেনা।
--আমি তোমাকে বিরক্ত করছি?আমাকে এখন তোমার বিরক্ত লাগছে??বাহ ভালো।
বলেই আদি উঠে চলে গেলো।আদি যে রাগ করলো সেটা সামু বুঝতে পারলো কিন্তু এ নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।চাদরটা মাথা পর্যন্ত তুলে শুয়ে পরলো।জার্নির কারণে ক্লান্তিতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে।হটাৎ মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলো।পাশ ফিরে আদিকে খোজছে কিন্তু আদি নেই।সামু উঠে বসে।বিছানা দেখে বুঝাই যাচ্ছে এখানে কেউ শুয়নি।সামু উঠে ওয়াশরুম চেক করলো।সেখানেও নেই।বারান্দার দরজা খোলা।বারান্দায় গিয়ে কোমড়ে হাত দিয়ে দাড়িয়ে পড়লো।
আদি বারান্দায় বেডে শুয়ে আছে।
--উফফ এই ছেলেকে নিয়ে পারিনা,,এত্ত অভিমান।আমি রাগ করেছি কই আমার রাগ ভাংগাবে তা না নিজেই অভিমান করে বসে আছে।জীবনটা তেজপাতা।
সামু আদির পাশে গিয়ে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পরলো।আদিকে জড়িয়ে ধরতেই আদি বললো,
--কেন এসেছো এখানে?
সামু চমকে গেলো।মনে হচ্ছে ভূত দেখেছে।
--এই তুমি এখনো ঘুমাওনি?
--না,,ঘুম আসছে না।তুমি কেন এসেছো?আমি তো শুধু তোমাকে বিরক্ত করি।
--আদি তুমি কবে বুঝবে আমাকে?কেন বুঝো না?তুমি আমার সাথে কি ব্যবহার করেছো ভুলে গেলে?আমি তোমার ব্যবহারে কষ্ট পেয়েছি।বাড়ি থেকে এসেছি মন খারাপ ছিলো।আর তুমি এ নিয়ে উল্টো রাগ করে আছো?
--তাহলে কার সাথে রাগ করবো?তুমি জানো না তোমাকে ছাড়া আমার সব শূন্য লাগে।তবুও কেন এতদিন থাকলে?আরো থাকতে চাইলে?তুমি তো আমাকে একটুখানিও মিস করোনি।
--কে বলেছে করিনি,,মিস করেছি কিন্তু,,
--থাক আর বলতে হবে না।কি মিস করেছো জানা আছে,,
--তুমি জানো তুমি অনেক স্বার্থপর,,শুধু নিজেরটা বুঝো।
--নিজেরটা বুঝবো না তো রাস্তার মানুষের টা বুঝবো?আর নিজের মানে কি,,?আমি তোমার খেয়াল রাখি না?
--হ্যা রাখো,,আচ্ছা বাদ দেও।ঘুমাও অফিস আছে তোমার।আজকে অফিসে যাওনি।
--হুম।
এভাবে কেটে গেছে আরো অনেক সময়।সামান্তার ফার্স্ট ইয়ার এক্সাম শেষ।তাই ভার্সিটি অফ।বাসায় বেকার কি করবে,,,আদিকে বলেছিলো পরীক্ষার পর একসাথে ওদের বাড়িতে যাবে কিন্তু আদি যে সিনক্রিয়েট করেছে তাতে সামুর আর ইচ্ছে হয়না।সামু ভাবছে রুমের ডেকোরেশন চেঞ্জ করবে।
তাই শুরু হলো।নিশি আর সামু মিলে সব পছন্দ করলো।তারপর ডেকোরেশন শুরু।আদি অফিস থেকে এসে রুমে ঢুকে থ,,
--এ কার রুম?আমার রুম তো,,না ভুলে অন্য রুমে এসে পড়েছি।তখনই চোখ গেলো বেডের সাথের দেয়ালে বড়সড় করে ঝুলানো ওদের বিয়ের ছবিটা।বিভিন্ন জায়গায় ওদের ছবি।
না সব ই তো ঠিক আছে।তার মানে আমার রুম ই।ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে সামু বেডে বসে পা ঝুলাচ্ছে।
সামুকে দেখে হালকা হেসে বললো,
--আমি তো ভেবেছিলাম ভুল করে অন্য কারো রুমে চলে এসেছি।তুমি তো দেখছি আমার রুম পুরো পাল্টে দিয়েছো।চিনায় যাচ্ছেনা।
সামু ভ্রু কুচকে বললো,
--তোমার রুম মানে?বিয়ের পর ছেলেদের আর নিজের রুম থাকে না।বউয়ের হয়ে যায় সব।পুরো রুমের সবকিছুর মালিক সে।সো,,এই রুম আর এই রুমের সবকিছুর মালিক থুরি মালকিন আমি।তুমি গেস্ট।
আদি সামুর দুহাত তুলে নিজের সাথে মিশিয়ে বললো,
--তোমার লজিকে ভুল আছে।মানলাম সবকিছু তোমার।কিন্তু বউটা তো আমার।আর বউয়ের সম্পদ মানে আমার সম্পদ।তাই বউয়ের সাথে এই রুমের ও মালিক আমি।
--তাই তো,,এই লজিক আমার মাথায় আগে আসেনি কেন?
--কারণ তুমি বোকা।হিহি,
--হিহি,,তুমি আমাকে যতটা বোকা ভাবো জনাব আমি ততটা বোকা নই।প্রুফ চাও,,ওয়েট।
এই ধরো তুমি বাইরে যেমন ভিতরে অন্য রকম।বাইরে হাসিখুশি সাদাসিধা বাচ্চা একটা ছেলে দেখাও কিন্তু ভিতরে খুবই চালাক প্রকৃতির মানুষ।যেমন তেমন চালাক নয় ভয়ংকর চালাক।কোনো কিছুতেই তোমার কিছু যায় আসেনা।নিজেরটা ঠিক থাকলেই হলো।আর এই যে এত ভালোবাসা দেখাও তুমি,,তোমার ভালোবাসার চাইতে পাগলামি বেশি।
--তুমি বলতে চাও আমি তোমাকে ভালোবাসি না?
--বাসোনা কে বলেছে বাসো।তবে ভরসা করোনা।অনেক ইনসিকিউরড ফিল করো।বেধে রাখতে চাও।জানো তো অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না।বাট আমি ভিতরে যেমন বাইরে তেমন।তুমি আমার ভিতর বাহির দুটোই জানো।একদম খোলা মেলা বই।কিন্তু আমি তোমার ভিতরটা এখনো ছুতে পারিনি।তুমি ছুতে দেওনি।আমি শক্ত মনের হলেও আমারও কিছু দূর্বলতা আছে।যেখানে আঘাত করলে আমি শত শত টুকরো হয়ে যাবো যার টুকরো খোজেও পাওয়া যাবেনা।আমি ধ্বংস হয়ে যাবো।তার মধ্যে অন্যতম দূর্বলতা তুমি।তুমি যদি আমাকে ছেড়ে দেও তবে আমি,,,
--সামু কি বলছো আমি তোমাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা কল্পনাও করতে পারিনা।এসব ভাবতেও চাইনা।আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।
--তুমি আমাকে ছাড়বে না।তোমার উপর আমার সে বিশ্বাস থাকলেও তোমার রাগ,জেদের উপর আমার বিশ্বাস নেই।তুমি রাগের বশে যা খুশি করতে পারো।ভালোবাসার কাছে হারলেও রাগের কাছে তুমি হারবেনা।সেটাই আমার ভয়।অনেক ভয় হয় জানো তো,,
আদি আর কিছু ভাবতে পারছেনা।সত্যিই এই রাগ ওর জীবন ধ্বংস করে দিবে না তো?
🍂🍂🍂
দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে এক সপ্তাহ ধরে।ক্লাস শেষে জানভি সামুকে বললো,
--দোস্ত আমার একটু তোর হেল্পের প্রয়োজন।
--হ্যা,বল।
--আম্মুর জন্য ওষুধ নিতে হবে,,কিন্তু ওষুধটা এখানে পাওয়া যায়না।কিছুটা দূরে যেতে হবে।আমার একা যেতে ইচ্ছে করছে না,তুই সাথে চল না প্লিজ।
--কিন্তু আমাকে তো এখন বাসায় যেতে হবে।
--ওষুধ টা আমার নিতেই হবে।খুব দরকার।প্লিজ চল।
সামু কিছুক্ষণ ভেবে বললো,
--ঠিক আছে চল।
ওদের গাড়ি একটা বিল্ডিংয়ের সামনে এসে থামলো।এখানে ফার্মেসী আছে বলে মনে হচ্ছে না।তাই সামু জানভিকে জিজ্ঞেস করলো,
--ওই কোথায় এসেছিস?এখানে কি ওষুধ পাওয়া যাবে?
--হুম এখানেই পাওয়া যাবে।চল।
কিছুক্ষণ ইতস্তত করে সামুর ইচ্ছে না থাকা স্বত্তেও বন্ধুর মন রাখতে যাচ্ছে।দুতলা বিল্ডিংয়ে উঠে কাচের একটা বড় গেইট দেখতে পেলো।সেখানে একজন ওয়াচম্যান দাড়িয়ে আছে।সামু জানভিকে ফিসফিস করে বললো,
--ওই এখানে কি??
--এখানেই পাওয়া যাবে।না পেলে আমি শেষ।তুই ভয় পাস না।
সামু কিছুই বুঝতে পারছেনা।জানভি একটা কার্ড বের করে ওয়াচম্যানকে দেখাতেই ওদের ঢুকতে দিলো।ভিতরে ঢুকে কিছুটা জায়গা ফাকা তারপর দেখলো কিছুটা শোরগোল শুনা যাচ্ছে।সামু জানভির হাত চেপে ধরে।
--জান আমার ভয় লাগছে।কোথায় এসেছি।আগে জানলে আমি আসতাম না।
--বেকুব ভয় পাচ্ছিস কেন?ভিতরে যাবো কথা বলে নিয়ে চলে আসবো,,
--কিসের মেডিসিন বলতো?
জানভি কিছুটা হেসে বললো,
--তুই বুঝবি না।নাম শুনলে হার্ট এটাক করবি।তাই চুপচাপ থাক।
চারদিকে অনেক ছেলে মেয়ে,,সবাই মর্ডান ড্রেস পড়া।হৈ-হুল্লোড় করছে।গান বাজছে।সামু বুঝে গেলো ও কোনো ক্লাবে আছে।কিন্তু এই ক্লাবে কি নিতে এসেছে জানভি।জানভিকে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই জানভি ওকে দাড়াতে বলে কয়েকজন ছেলে মেয়ে একটা টেবিলে গোল করে বসে আছে তাদের দিকে এগিয়ে গেলো।সেখানে গিয়ে কথা জোরে দিলো।কি বলছে সামু শুনতে পারছে না।সামু ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। ওর খুব ভয় লাগছে।কিছুক্ষণ পরে আর না পেরে জানভিকে ডাকতে লাগলো কিন্তু জানভি চিন্তিত ভংগীতে কি যেন বলছে ওদের সাথে।সামুর কথা শুনছেই না।কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে জানভিকে ফোন দিলো কিন্তু রিসিভ করছে না।কত মানুষ জন ওকে ওভার টেক করে যাচ্ছে সামুর আর ভালো লাগছেনা।চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো।কিন্তু ওখান থেকে বেরিয়ে গেইটের সামনে যেতে নিলেই একটা ছেলে ওর সামনে এসে দাড়ায়।কি যেন বিরবির করে বলছে।সামুর বিষয়টি ভালো ঠেকছেনা।তাই অন্য পাশে গিয়ে দাড়ালো।কিন্তু ছেলেটা সেখানেও চলে গেলো।ওর কাছে গেলেই সামু দু'হাতে জোরে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় ছেলেটাকে।ছেলেটা এতে ক্ষেপে যায় আর আজেবাজে কথা বলতে থাকে।সামু কিছুটা ঘাবড়ে যায়।ওর সামনে আরো দুজন ছেলে এসে দাড়ায়।এমন একটা জায়গায় তিনজন নেশাগ্রস্ত মানুষের সাথে লড়াই করা ওর পক্ষে সম্ভব নয়।তাই উল্টো দিকে হাটা ধরে ওরাও ওকে ফলো করছে।সামুর হাত পা,শরীর কাপছে।পা আটকে যাচ্ছে বারবার।সামনে একটা ওয়াশরুম দেখতে পেয়ে দৌড়ে ঢুকে যায় ভিতরে।ছেলেগুলোও দৌড় দেয় কিন্তু ততক্ষণে সামু দরজা লক করে ফেলছে।সামুর ভয়ে সারা শরীর কাটা দিয়ে উঠছে।ওরা দরজা ধাক্কাচ্ছে।সামু তাড়াতাড়ি জানভিকে ফোন দিলো।কিন্তু জানভি ফোন তুলছে না।মেসেজ করেও কাজ হচ্ছেনা।এদিকে ওরা দরজা ধাক্কাচ্ছে মনে হচ্ছে ভেঙে ফেলবে।সামুর মাথা কাজ করছেনা।ও আদিকে ফোন করলো।এদি জানতে পারলে ওকে খুন করবে তবুও এখন আদির চেয়ে ওরা বেশি ডেঞ্জারাস।আদিকে ফোন দিতেই রিসিভ করলো।আদি অফিস থেকে বাসায় ফিরছে।
--হ্যালো,,সামু,
সামু কাদতে কাদতে বললো,
--কোথায় তুমি?
আদি সামুর কান্না শুনে ব্রেক কষে বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
--সামু কি হয়েছে জান আমার কাদছো কেন?
---আদি আমি বিপদে পরেছি।
সামুর কথা শুনে আদি ঘাবড়ে গেলো।
--সামু কি হয়েছে,,,কোথায় তুমি?তুমি কি ভার্সিটিতে না রাস্তায়?টেল মি ডেম ইট।
সামু কান্না করতে করতে বললো,
--আমি জানি না কোথায় আছি,,জানভি আমাকে ওষুধ কিনার কথা বলে একটা ক্লাবে নিয়ে এসেছে।আমি যখন দেখলাম এটা ক্লাব আমি ওকে রেখে একাই চলে আসছিলাম।তখন কয়েকটা ছেলে আমার পিছু নেয়।
অজানা ভয়ে আদির হাত-পা কাপতে শুরু করে,
--ছেছেছে,,,লে,,?
--হ্যা,আমি ওয়াশরুমে দরজা লক করে আছি।ওরা বাইরে। আমার খুব ভয় করছেম
--সামু রিলেক্স,ভয় পেওনা।আগে বলো কিভাবে ওখানে গিয়েছো,,জায়গাটা কোথায়?আমি আসছি।
--ড্রাইভারকে নিয়ে এসেছি।মেইনরোডের সামনে ৫তলা বিল্ডিংয়ের ২তলায়।
--আচ্ছা আমি ড্রাইভারের কাছ থেকে ঠিকানা নিচ্ছি।তুমি ফোন কাটবেনা।
--আচ্ছা,তুমি তাড়াতাড়ি এসো।
আদি ড্রাইভারের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে রকেটের গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে।ড্রাইভারকে বলছে ক্লাবের যেতে কিন্তু কার্ড ছাড়া ওনাকে ঢুকতে দিচ্ছেনা।ছেলেগুলো দরজার বাইরে থেকে নানান কথা বলছে।আদি এত স্পিডে গাড়ী চালাচ্ছে তবুও মনে হচ্ছে রাস্তা শেষ হচ্ছেনা।সামুর সাথে ফোনে কানেক্টেড ছিলো।বিল্ডিংয়ের সামনে গাড়ি থামিয়ে দৌড়ে দুতলায় উঠে গেলো।গেইটের সামনে গিয়ে ওয়াচম্যানকে সজোরে ধাক্কা মেরে ভিতরে ঢুকে গেলো।
সামু,,আমি ক্লাবে এসে পরেছি।ভয় পেওনা।কোনদিকে আছো সেটা বলো।
সামুর ভয় পুরোপুরি কেটে গেছে।ও আদিকে সবটা বললো।
আদি ওয়াশরুমের বাইরে ৩জন ছেলে দেখতে ওদেরকে হালকা ধোলাই দিয়ে সামুকে বললো,
--আমি দরজার বাইরে,বাইরে এসো।
সামু আস্তে আস্তে দরজা খোলে আদিকে দেখে দৌড়ে বের হয়ে এসে আদিকে জাপটে ধরে।সামুর সারা শরীর কাপছে।আদি ভয়ে,চিন্তায় ঘেমে একাকার।ও সামুকে ধরে মাথায় চুমু খেয়ে বললো,
--ভয় পেওনা,আমি এসে গেছি জান।
তারপর সোজা করে দাড় করিয়ে ছেলেগুলো কে দেখিয়ে বললো,
এরা?
সামু হ্যা বললো।আদি সামুকে ছাড়িয়ে ওদের একজনকে ধরে কাচের টেবিলে মাথা বারি দিলো।সাথে সাথেই ছেলেটা রক্তাক্ত মাথা নিয়ে মেঝেতে পড়ে গেলো।বাকি দুইজনকে ধরে দেয়ালে আঘাত করে চিতকার করে বললো,
--কুকুরের বাচ্চারা,,তোরা আমার বউয়ের দিকে হাত বাড়িয়েছিস?বাজে নজর দিয়েছিস?তোদের চোখ তুলে নিবো।
ততক্ষণে ভিড় জমে গেছে।মারামারির এক পর্যায়ে কিছু লোক আদিকে ওদের থেকে দূরে সরাচ্ছে।ভীর ঠেলে জানভি এলেই আদি ওকে দেখে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে।ওর গালে সজারো একটা থাপ্পড় মেরে বলে,
--তোকে যদি আর সামুর আসেপাশে দেখি কেটে কুচিকুচি করে ফেলবো।মনে রাখবি।
বলেই সামুকে টানতে টানতে বেরিয়ে গেলো।
চৌধুরী বাড়ির লিভিংরুমে পিনপতন নীরবতা বিরাজমান।সবাই বসে আছে আর সামু মাথা নিচু করে ভয়ে ভয়ে তাকাচ্ছে। আদি হাতের মুঠো শক্ত করে এদিক সেদিক পাইচারি করছে।মাঝেমধ্যে কপালে আংগুল ঘষছে যাতে রাগটা কমাতে পারে।
আদি নীরবতা ভেঙে বললো,
--বাবা বুঝতে পারছো কি সাংঘাতিক বন্ধু পাতিয়েছে।ওই মেয়ে ড্রাকস খায়।ড্রাকস নিতে ক্লাবে গিয়েছিলো আর সেখানে সামু নাচতে নাচতে চলে গেছে।
আদির বাবা বললো,
--ও তাও বলছে ও এসবের কিছুই জানেনা।ওকে মায়ের মেডিসিনের কথা বলে জোর করে নিয়ে গিয়েছে।
--যাবে কেন?কত বড় অঘটন ঘটতে যাচ্ছিলো বুঝতে পারছো?
সামুর পাশ থেকে নিশি বললো,
--ভাইয়া,সামু তো ঠিক আছে।এখন আর ওকে বকাবকি করিস না।আসার পর থেকেই বকে যাচ্ছিস।এমনিতেই ভয় পেয়ে আছে।
আদির বাবা বললো,
--হ্যা,,অনেক হয়েছে।বলছে তো ভুল হয়েছে আর এমন হবেনা।এবার ছাড় মেয়েটাকে।
আদির মা বললো,সামু যা ফ্রেশ হয়ে নে।
সামু আড়চোখে তাকাতেই আদি হনহন করে উপরে চলে গেলো।সামুও পিছু পিছু হাটা ধরলো।
আদি কপালে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে বেডে শুয়ে আছে।গভীর ভাবে কিছু ভাবছে।সামু আস্তে আস্তে ওর কাছে গিয়ে বসে ওর চুলে হাত বুলিয়ে বলল,
--তুমি কি এখনো রেগে আছো?
আদি হাত সরিয়ে চোখ মেলে বললো,নো,,কেন এখন কি আমাকে বকবে,,না মানে সবসময় তো এমনি করো।আমার রাগ কমলে তোমার রাগ দেখানো শুরু হয়।
সামু আদির মাথায় মাথা ঠেকিয়ে বললো,
--না,,কারণ এবার দোষ আমার ছিলো।
আদি একটানে সামুকে বুকে মিশিয়ে নিয়ে বললো,
--জানো কত ভয় পেয়েছিলাম আমি।আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছিলো।
--আমারও,, আমার মনে হচ্ছিলো আমি আর তোমার কাছে ফিরতে পারবোনা।অনেক ভয় পেয়েছিলাম।
--থাক ভুলে যাও এসব।
কিছুক্ষণ পর--
--সামু,,
--হুম।
--আমি ভাবছি আমরা বেবি নিবো।
--বেবি!!আদি কি বলছো তুমি?আমার পড়াশোনা,,,
--আই নো তোমার গ্রাজুয়েশন শেষ হয়নি।বয়স ২০হয়নি,,আমার ২৭হয়নি কিন্তু আমার বেবি চাই।প্লিজ না করোনা।সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে।পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হবে না।আমার এক ফ্রেন্ডের বেবি হয়েছে অনেক কিউট।ওকে দেখে,,
--ওকে দেখে তোমারও ইচ্ছে হচ্ছে।তাই তো,,আচ্ছা ঠিক আছে।
--রিয়েলি,,চলো বেবির নাম ঠিক করি,,
--আমি ঠিক করে ফেলেছি।আমার প্রথম মেয়ে হবে।আর আমাদের প্রিন্সেসের নাম হবে আদিবা।আদির মেয়ে আদিবা,,
--ওয়াও,,ওকে ডান।
(সরি বেব,,এখন আমিও বেবি চাইনি কিন্তু তোমাকে ঘরবন্দী করার এর চেয়ে ভালো কোনো ওয়ে নেই।আমি চাই তোমার লাইফ আমি, আমার পরিবার আর এই বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকুক।আর একমাত্র বেবিই পারে তোমার স্টাডি বন্ধ করে বাসায় রাখতে।তোমাকে নিয়ে আমি কোনো রিক্স নিতে চাইনা)
এক সপ্তাহ পর রাতের বেলা --
আদি লিভিং রুমে ওর মা-বাবার সাথে বসে আছে।আহনাফ চৌধুরী বুঝতে পারছে গুরুতর কিছু।
--বাবা,,সামু আর স্টাডি করবেনা?
--কিহ!!
--হ্যা,,আমি চাইনা সামু আর স্টাডি করুক।
--আদি তোর মাথা ঠিক আছে।সামু এসব বলেছে?ও বললেও আমি শুনবোনা।
--না সামু বলেনি,,আমি বলেছি।আমি চাইনা ও আর পড়ুক।ওর বাইরে যাওয়ার দরকার নেই।
--আদি তুই ওই সামান্য ঘটনার জন্য এমন করছিস?আমি তোর এই অন্যায় আবদার মেনে নিবোনা।
--বাবা আমার বউ,,আমি ডিসিশন নিবো।
--আদি!!সামু আমার মেয়ে।ওর সাথে কোনো অবিচার আমি হতে দেবোনা।
চিতকার শুনে সবাই ড্রয়িং রুমে চলে এলো।
সামু সিড়িতে দাড়িয়ে সব শুনেছে।সামু এগিয়ে এসে বলল,
--আদি তুমি এই ডিসিশন নেওয়ার আগে আমাকে জিজ্ঞেস করেছো,?
--আমি তোমার ভালোটাই ভেবেছি।
--এতো ভালোই ভেবেছো যে আমার স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করছো।
আমাকে ঘরবন্দী করতে চাইছো?
--আমি বলেছি তুমি আর পড়বে না ব্যাস পড়বেনা।
--আদি আমি তোমার স্ত্রী,দাসী নই।তুমি যা বলবে তাই মেনে নিবো?তোমার অনেক অন্যায় আবদার এতোদিন মেনে এসেছি।টু শব্দ করিনি।কিন্তু তুমি আজ অনেক বাড়াবাড়ি করছো,,।
--অন্যায় আবদার?তুমি,,
--হ্যা নয়তো কি,,এটা করোনা,ওটা করোনা।পার্টিতে যাবেনা,,বাপের বাড়ি বেড়াবে না,,তাহলে সারাজীবন থেকে যাও,,কোচিং-এর স্যার ফোন করেছে কেন,,ওই কোচিং-এ আর পড়বেনা,কাদবে না,,কাদলে খুন করে ফেলবো,,তাই আর তোমার সামনে কাদিনি,আড়ালে কেদেছি।কিন্তু সে কান্না তোমাকে স্পর্শ করেনি কখনো।অনেক কাদিয়েছো,কষ্ট দিয়েছো,,এখন ফ্রেন্ড ড্রাগস নেয় তাই আমি পড়বোনা।তোমার কথামতো উঠছি বসছি তুমি কি করেছো।
আর হ্যা,,বেবি,,ওইসব বানানো গল্প তাই না আদি?আর কত এভাবে আমাকে বোকা বানাবে?কেন আদি কেন?তুমি আমার অস্তিত্বের বিলীন করে দিয়েছো দিনের পর দিন।
আমি আর পারছিনা,,আদি,,তুমি আর কত আমার সাথে এমন করবে?(কাদতে কাদতে)
সবাই সামুর কথা শুনে স্তব্ধ।আদি সামুর সাথে এসব করেছে,এত অন্যায় করেছে,,কেউ কিচ্ছু জানেনা।
আদি বাবা ক্ষেপে উঠলেন।
--আদি তুই দিনের পর দিন মেয়েটাকে এভাবে কষ্ট দিয়েছিস?তুই এতবড় অমানুষ?তুই আমার ছেকে?তোর জন্য এই পরিবারের জন্য কি না করেছে ও?
--আমি ওর হাসব্যান্ড আমার জন্য করবেনা তো বাইরের লোকের জন্য করবে?কার জন্য করবে তুমি সামু?
--আদি তুমি সিক।তোমার সাথে কোনো সুস্থ মানুষ থাকতে পারেনা,,
--কি বললে,,?(সামুর দিকে তেড়ে গিয়ে)
--তোর মতো অমানুষ ওকে ডিজার্ভ ই করেনা।অসভ্য ইতর ছেলে।আমি নিজের হাতেই ওর জীবনটা নষ্ট করেছি।
--তাই নাকি সামু?(সামুর দিকে তাকিয়ে)
সামু মাথা নিচু করে রেখেছে।
আদি চিতকার করে উঠলো,, কথা বলো সামু,,
সামুরও প্রচন্ড রাগ উঠে গেলো।
--কি বলবো?কি শুনতে চাও?তুমি আমার বিশ্বাস ভালোবাসা নিয়ে খেলা করেছো,,তোমার সাথে কি করে থাকবো আমি যেখানে আমার ইচ্ছে অনিচ্ছার কোনো মূল্য নেই তোমার কাছে।সারাজীবন কি কি করবে আমার সাথে তা আর বুঝতে বাকি নেই।এমন করলে কিভাবে থাকবো তোমার সাথে?
আদির মাথা গরম হয়ে গেলো।কপালের রগ ফুটে উঠেছে।মাথায় রক্ত টগবগ করছে।
--কি বললি তুই আমার সাথে থাকা যায়না?
বলেই সামুর গালে সর্বশক্তি দিয়ে থাপ্পড় মারলো।সামু ছিটকে পড়ে গেলো।নিশি ওকে তুলে দাড় করালো।
সাথে সাথেই আদির বাবা আদির দুগালে দুটো থাপ্পড় দিলো।পুরো বাড়ি স্তব্ধ হয়ে গেলো সামু ঘটনা বুঝতে পেরে ডুকরে কেঁদে ওঠে।
--কুলাঙ্গার,বদমাইশ ছেলে, তুই এসব করছিস ওর সাথে এতদিন?তোর সাহস দেখে আমি অবাক হয়ে যাই আমার সামনে এভাবে তুই সামুর গায়ে হাত তুললি?
কোন পাপে যে তুই আমার ছেলে হয়ে জন্ম নিয়েছিলি,,আর দ্বিতীয় পাপ করেছি তর মতো কুলাঙ্গারের সাথে সামুর মতো মেয়েকে বিয়ে দিয়ে।ওর সাথে অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছি।এই অপরাধের ক্ষমা হয়না।দূর হয়ে যা,,আমার সামনে থেকে।
আদি সামুর দিকে বিস্ফোরিত চোখে একবার চেয়ে উপরে চলে গেলো।সামু আদির পিছনে যেতে নিলেই আদির বাবা ওকে আটকে দেয়।
--তুই আজকে আর ওর আশেপাশে যাবিনা।গেস্ট রুমে থাকবি।
আর পারলে আমাকে ক্ষমা করিস।
বলেই তিনি চোখের কোনে পানি মুছে নিজের রুমে চলে গেলেন।সামু বাবার কথা অমান্য করতে পারেনি।তাই একবার উপরের দিকে চেয়ে নিচের গেস্ট রুমে চলে গেলো।
আদি অনেক রাত পর্যন্ত রুমে পাইচারি করছে।সামুর আসলে ওর সাথে কঠোর বুঝাপড়া আছে।কিন্তু সামু আসেনি,,
মাঝরাতে আদি কাউকে ফোন করে বললো, আগামীকাল সকালের ফ্লাইটে সিডনির টিকিট কনফার্ম করতে।আর্জেন্ট।
তারপর উকিলকে ফোন করে বলে,
--ডিভোর্স পেপার রেডি করুন।আগামীকাল সকালেই সব রেডি চাই।আমি ইমেইল করে ডিটেইলস পাঠিয়ে দিচ্ছি।
তারপর ফোন রেখে দিয়ে বললো,
--আমার সাথে থাকা যায়না।তাহলে থাক তুই তোর মতো।
চলবে...
(ভাভাগো ভাভা রোজা থেকেও অনেক বড় পর্ব লিখেছি।তবুও অনেকেই আজকে আমাকে নোবেল না দিয়ে বকা দিবো)
Love
#আমি_শুধু_তোমাকেই_চেয়েছি
❤🦋
#writer_Sumaia_Islam_Mim
#part_17
🍁
.
.
.
গাড়িতে বসে আছে সাজ্জাদ, তিতলি আর কনিকা। কনিকা তো তখন থেকে বকবক করছে,,,কিন্তু তার দিকে তিতলির বিন্দু মাত্র খেয়াল নেই। সে আপন মনে বাইরে তাকিয়ে আছে মন খারাপ করে। যা সাজ্জাদের চোখ এড়ায় নি। তাই সাজ্জাদ তিতলির মন ভালো করার জন্য বলল,
সাজ্জাদ: কেউ কি আমার সাথে আইসক্রিম খেতে যাবে?(আড়চোখে তিতলির দিকে তাকিয়ে)
তিতলি বুঝতে পেরেও কোন উত্তর দেয় নি। কিন্তু কনিকা লাফিয়ে বলে উঠলো,
কনিকা: ভাইয়া তুই আইসক্রিম খেতে নিয়ে যাবি? জানিস আমার আর তিতলির একই ফ্লেবার পছন্দ। এই তিতলি চুপ করে আছিস কেন?
তিতলি: কিছু না। আমি আইসক্রিম খাবো না। তোদের ইচ্ছে হলে খা।
সাজ্জাদ: ওকে বুঝতে পেরেছি।
সাজ্জাদ আইসক্রিম কিনে কনিকাকে ধরিয়ে দিলো। আর কনিকাকে বাসায় ড্রপ করলো। যাওয়ার আগে কনিকা সাজ্জাদকে বলল,
কনিকা: এই ভাইয়া! তুই এখন তিতলিকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আয়। মেয়েটার মন ভালো না। বুঝতে পেরেছিস?
সাজ্জাদ কিছু না বলে মুচকি হেসে তিতলিকে নিয়ে চলে যায়। তিতলির মন খারাপ থাকার কারণে আর ভালো করে দেখেনি কোথায় যাচ্ছে! গাড়ি থামায় তিতলি একবার সাজ্জাদের দিকে তাকিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখে এটা সেই জায়গা যেখানে তিতলি আর সাজ্জাদ দুজনেই মন খারাপ হলে আসে। তিতলি অবাক চোখে সাজ্জাদের দিকে তাকায়। সাজ্জাদ চোখের ইশারায় তিতলিকে নামতে বলে। তিতলি সাজ্জাদের কথা মতো নেমে দাড়ায় আর সাজ্জাদও গাড়ি লক করে আসে। তিতলির কাছে এসে ওর হাত ধরে নদীর পাড়ে নিয়ে আসে। নদীর পাড়ে সারি সারি কাশফুল ফুটে আছে। একপাশে বহমান নদী,,,, এ যেন এক প্রকৃতি অন্যতম সুন্দর অংশ। শুধু সাদা আর সবুজের সমারোহ। তিতলি মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে। আর তার দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে সাজ্জাদ। হঠাৎ সাজ্জাদের দিকে তাকিয়ে তিতলি লজ্জা পেয়ে গেলো তার চাহনি দেখে। তিতলিকে লজ্জা পেতে দেখে সাজ্জাদ হেসে দিলো।
সাজ্জাদ: যাবে আমার সাথে ওই নদীর পাড়ে হাত ধরে পা ভিজাতে??
তিতলি:(মুচকি হেসে) হুম যাবো!
সাজ্জাদ তিতলির হাত ধরে পানিতে পা ভিজিয়ে হাটতে লাগলো। অনেকক্ষন দুজনেই চুপ ছিলো,,,,, কিন্তু প্রকৃতি তার ছন্দ দিয়ে পরিবেশটা মুখরিত করে রেখেছে সাথে আছে আরো দুটি যন্ত্রের শব্দ যা একে অপরের কাছাকাছি আসায় এক ভিন্ন ছন্দের সৃষ্টি করেছে। আর তা হলো সাজ্জাদ আর তিতলির হৃদযন্ত্র। নিরবতা ভেঙে সাজ্জাদ বলতে লাগলো,
সাজ্জাদ: মিসেস ওয়াইফ! আপনার মন ভালো হয়েছে?(তিতলির দিকে পাশ ফিরে তাকিয়ে)
তিতলি:(সাজ্জাদের দিকে তাকিয়ে) হুম! একটু খারাপ আছে।
সাজ্জাদ: তা কি করলে আমার মিসেস এর মন ভালো হবে?
তিতলি কিছু না বলে শুধু হাসলো। কিন্তু সে হয়তো জানেনা সাজ্জাদ তাকে তার চেয়েও বেশি জানে। সাজ্জাদ তিতলিকে কিছু না বলে দোড়ে গিয়ে একগুচ্ছ কাশফুল নিয়ে এলো। এসে তিতলির দিকে তাকিয়ে হাটু গেড়ে তিতলির সামনে বসে পড়লো। তিতলি সাজ্জাদের কান্ড দেখে অবাক হয়ে গেছে। সাজ্জাদ তিতলির দিকে ফুলগুচ্ছ বাড়িয়ে দিয়ে বলতে লাগলো,
সাজ্জাদ: আমি তোমাকে তোমার চাইতেও বেশি জানি প্রিয়। হয়তো তা তোমার আড়ালে। তোমার ওই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ে অবাক হওয়া! তোমার ওই ফুলের সুবাস নেওয়া, সকালে ঠান্ডা হাওয়া গায়ে জড়িয়ে নেওয়া,, প্রতিটি বিষয় আমাকে মুগ্ধ করে। আমি তোমার সাথে সেই সকল মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই। দেবে কি আমায় অনুমতি??? চাই তোমার সাথে সকাল হওয়া দেখতে! দুজনে মিলে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হতে চাই! দেবে আমায় অনুমতি?? আমি তোমার ভালোবাসা নয় বিশ্বাস অর্জন করতে চাই। ভালোবাসা তো এমনেই দেবে। আমি তোমাকে খুব করে চাই। হবে আমার? #আমি_শুধু_তোমাকেই_চেয়েছি। তোমাকেই চাই,,,,তোমাকেই চাইবো! দেবে নিজেকে আমায়?
তিতলির চোখ থেকে জল গড়িয়ে পরলো আর সাথে সাথে তা মুছে সাজ্জাদের দিকে হ্যা বোধক মাথা নেড়ে কাশফুল গুলো নিলো। সাজ্জাদ তাড়াতাড়ি উঠে তিতলিকে জড়িয়ে ধরলো। আজ দুজনের চোখেই খুশির জল।
,
,
,
,
,
,
,
তখন থেকে তিতলি ওই কাশফুলগুলো বুকের সাথে জড়িয়ে রেখেছে আর মুচকি মুচকি হাসছে। সাজ্জাদ তিতলিকে আড় চোখে তাকিয়ে দেখে গাড়ি চালানো শুরু করলো। গাড়িতে কেউ কোন কথা বলে নি। হয়তো বলতে চায় নি। কিন্তু দুজনের নিরবতা বলে দিচ্ছে অনেক কথা যা তারা মুখে না বলেও বুঝে নিচ্ছে। তিতলির বাড়ির সামনে এসে সাজ্জাদ তিতলির দিকে তাকালো। কিন্তু তিতলি তখনও ভাবলেশহীন ভাবে বসে আছে। তা দেখে সাজ্জাদ মৃদু হাসলো। সাজ্জাদ কিছু বলতে যাবে তার আগেই তিতলি বলে উঠলো,
তিতলি: ধন্যবাদ। (মুচকি হেসে)
সাজ্জাদ:(একটু হেসে) আমি এভাবে ধন্যবাদ নিই না।(দুষ্টু হেসে)
তিতলি:(অবাক হয়ে) মানে?
সাজ্জাদ: মানে আমার রিটার্ন গিফট চাই, তবেই ধন্যবাদ গ্রহণযোগ্য হবে।
তিতলি খুব ভালো ভাবেই বুঝলো সাজ্জাদ কোন জিনিষের কথা বলেছে! তাই চোখ বুঝে সাজ্জাদের গালে চুমু দিয়েই গাড়ি থেকে নেমে এক দোড়ে বাসায় চলে গেলো। আর সাজ্জাদ এখনো হা করে তিতলির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। ধ্যান ভাঙে তিতলির মেসেজে,
" আমার দিকে না তাকিয়ে সাবধানে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি যান। সবাই অপেক্ষা করছে। পরে কথা হবে।"
তিতলির মেসেজ দেখে সাজ্জাদ হেসে দিলো। আর মনে মনে বলল,
সাজ্জাদ: রাতের তো এমনেই খুব কস্টে ঘুমাতাম কিন্তু এখন তো তা হারাম করে দিলা তিতলি জান!!(বুকে হাত দিয়ে, মাথা সিটে এলিয়ে দিয়ে)
বলেই সাজ্জাদ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলো।
,
,
,
তিতলি ঘরে ঢুকতে না ঢুকতে তার বাবা সামনে হাজির। মুখে খুবই অদ্ভুত হাসি। যার কোন মানে তিতলি খুঁজে পাচ্ছে না। তাই বনিতা না করে তিতলি জিজ্ঞাসা করলো,
তিতলি: বাবা তুমি এখানে?
বাবা: সাজ্জাদ ভিতরে আসেনি?
তিতলি:(ভ্রু কুচকে) মানে? উনি কেন আসবে?
বাবা: হইছে আর নাটক করা লাগবে না। আমি দেখেছি তুই সাজ্জাদকে চুমু দিয়ে দোড় দিয়েছিস!(দুষ্টু হেসে)
তিতলি:(হা করে) বিশ্বাস করো তোমার সাথে আমার চেহারার মিল আছে দেখে বিশ্বাস করেছি তুমি আমার বাবা! নয়তো জীবনেও বিশ্বাস করতাম না।
বাবা: আহা! বলনা!(করুন সুরে)
তিতলি: মাম্মা!মাম্মা! (চিৎকার করে) দেখো তোমার হাসবেন্ড আমাকে জ্বালাচ্ছে। কিছু করো। প্লিজ!
তিতলি তার মাকে ডাকতে ডাকতে নিজের রুমে চলে গেলো। আর তিতলির বাবা বলছে,
বাবা: যাহ! চলে গেলো?(আহাম্মকের মতো)
,
,
,
,
,
সাজ্জাদ বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে তিতলিকে ফোন দিলো। আর ফোন পেয়ে তিতলির মুখে হাসি ফুটে উঠলো যেনো ও সাজ্জাদের কলের অপেক্ষায় ছিলো।
,,
,,
,,
(চলবে),,,,
ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন।
লাভ
#গল্পটা_ভালোবাসার💞💞💞
#সিজন_2
#পর্বঃ৩১
#Misty_Meye(মরিয়ম)
বিয়ের সময় রোদ ভীষণ হাসি খুশি হয়ে আছে । আমাকে যেন বাড়ির কেউই চিনছে না সকলের এমন ভাব। আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। আচ্ছা এরা পরে আমাকে সারপ্রাইজ দিবে না তো। রোদ তো আমার দিকে তাকাচ্ছেই না। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেকটা মেয়ে লাল শাড়ি পড়ে আসলো। আর রোদের সাথে বিয়েটা ও করে নিলো। এবার আমি কেঁদেই দিলাম। আমার এগুলা একদম সহ্য হচ্ছে না। আর তারপর আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে ওরা আমারই রুমে ঢুকে গেলো।
আর সেটা দেখে নিরা আর তিশা দুইজনই আমাকে নিয়ে টিটকারি করছিলো। আমি রেগে মেগে নিরা আর তিশার চুল ধরে এমন টানছি যে ওরা ব্যথায় ছটফট করছে। ওরা আমাকে ছাড়াতে ব্যস্ত কিন্তু আমার সেদিকে কোন খেয়ালই নাই। আমি টানছি তো টানছিই। হাতাহাতি চুলাচুলির মধ্যে আমাকে কেউ ধাক্কা দিলো আর আমি সোজা মাটিয়ে গিয়ে পড়লাম। আমি ব্যথায় চিৎকার করে উঠলাম। আর চোখ খুলে তাকিয়ে দেখি রোদ তার মাথার চুলে হাত দিয়ে আমার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আছে। আর আমি নিজেকে দরজার বাইরে না দেখে খাটের নিচে দেখে অবাক হয়ে গেলাম।
সারাঘর চোখ বুলিয়ে দেখার চেষ্টা করছি বউ সাজা মেয়েটা কই? লুকিয়ে টুকিয়ে রাখে নাই তো আবার। আর নিরা ও তিশা কই? ওদের তো চুল ধরে টানছিলাম।
রোদ আমার দিকে অগ্নিময় দৃষ্টি দিয়ে বললো "এদিক ওদিক কি দেখছো তুমি ? তোমার জন্য এখন আমার মাথা ব্যথা করছে। আমার চুল টানছিলা কেনো তুমি? আমার চুল কি দোষ করছিলো?"
আমি তখনো স্বাভাবিক হতে পারছিলাম না। নিচে বসে তখনো ভাবছি মেয়েটা কই গেলো?
রোদ তা দেখে আমাকে একটা ধমক দিয়ে বললো "কানে শুনতে পাচ্ছো না তুমি। কি বলছি আমি এতোক্ষণ।"
আমি রোদের ধমকে এক লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে বলি "ওই মেয়েটা কই?"
রোদ অবাক হয়ে বলে "কোন মেয়েটা।"
আমি রাগ নিয়ে বলি "আরে ওই মেয়েটা।"
রোদ আবারো অবাক হয়ে বললো "রাতের বেলায় কি ভূতে ধরছে তোমাকে কোন মেয়েটার কথা বলছো তুমি? "
"আরে ওই মেয়েটার যার সাথে আপনার বি.........."
"কি হলো বলো।"
আমি এবার ভালো করে রোদের দিকে তাকালাম। ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলাম। এইটা ওই টি-শার্ট টা যেটা পরে রোদ রাতে আমার সাথে ঘুমিয়েছিলো। তারমানে এতোক্ষণ স্বপ্ন ছিলো। আমি স্বপ্ন দেখছিলাম। কোন সারপ্রাইজ টারপ্রাইজ ছিলো না। আর আমি নিরা আর তিশার বদলে রোদের চুল ধরে ইশ! আল্লাহ্ কিভাবে করলাম এইটা।
রোদ এবার আরো বেশি রাগ দেখিয়ে বললো," বোবা হয়ে গেছো নাকি তুমি?"
"আপনার চুল ধরে আমি টানি নাই।"
"তো কে টানছে?"
"আমি না।"
"তাহলে কি আমিই মিথ্যা বলতাছি?"
"না মানে আমি ইচ্ছা করে টানি নাই। আমি তো ওই মেয়েটার জন্য রেগে গিয়ে..........."
" বারে বারে এক কথা। কোন মেয়ের কথা বলছো তুমি? আমাকে একটু সোজাভাবে বলবা। "
" আসলে,,,, কিছু না। আপনার চুল টানার ফলে আপনার মাথা ব্যথা করছে তাই না।"
"😡"
"এক কাজ করুন আপনি বরং আপনার মাথাটা কেটে ফেলুন।"
" কি যাতা বলছো? পাগল হয়ে গেছো নাকি? মাথা কেটে ফেলবো মানে? "
" আচ্ছা আপনি কি কাউকে ভালোবাসেন। সত্যি বলবেন।"
" হঠাৎ এই প্রশ্ন?"
"বলুন না প্লিজ,,,,,
" হুম বাসি।"
"😱,,,কাকে?"
" কেনো?"
" বলতে ক্ষতি কি?"
" আমার ফ্যামিলি কে।"
"আমি ওই ভালোবাসা বলতে চাইনি। আমি বলতে চাইছি যে কোন মেয়েকে মানে হলো যে,,,,,,,,"
" হুম। বাসি।"
"😳, কাকে? "
"একটা মেয়েকে।"
" নাম বলুন।"
"সিক্রেট বলা যাবে না।"
" কেনো?"
" ওকে তুমি দেখতেই পাবে। এখন ঘুমাও। এতো রাতে দয়া করে আমার মাথার চুল ধরে আর টেনো না প্লিজ,,,,"
বলে রোদ হালকা মুচকি হেসে শুয়ে পরে।
" আমি রোদের হেয়ালি করে বলা কথাটা মাথায় নিয়ে শুয়ে পড়লাম। ওর ভালোবাসার মানুষ আছে। তাহলে আমাকে বিয়ে করলো কেনো? সাধু সাজতে চাইছে সবার কাছে। আসলে ওর ফ্যামিলির কাছে ভালো সাজছে যে উনার কোন মেয়ের সাথে কিছুই নাই। আসলে উনি মনে মনে সেই মেয়েটাকে,,,,😔। তাহলে কি আমার স্বপ্ন সত্যি হবে। ওই মেয়েটা সত্যি সত্যি রোদকে বিয়ে করে নিবে তাও আবার আমার চোখের সামনে । উফঃ! আর ভালো লাগছে না।
সারারাত এসব ভাবতে ভাবতেই আমার সময় গেলো। চোখ বন্ধ করতেই পারছিলাম না। খালি চোখের সামনে রোদ আর ওই মেয়েটার রুমে ঢুকে যাওয়ার দৃশ্যটা বার বার মনে পড়ে যাচ্ছে।
আমার এতো খারাপ লাগছে কেনো? এটাই বুঝতে পারছি না। উনি কাকে ভালোবাসে সেটা আমার জানার কি দরকার। আমার এতো খারাপ লাগার কারণ কি? ওই স্বপ্নই আমাকে এতো ভাবাচ্ছে কেনো এটা ও বুঝতে পারছি না। এসব ভাবতে ভাবতেই আর এপাশ ওপাশ করতে করতে আমার আর ঘুম হলো না। সারারাত জেগেই রইলাম।
,
,
,
,
,
সকালে নিচে চিল্লাচিল্লির আওয়াজে রোদ আর আমি নিচে যাই আর গিয়ে দেখি,,,,,,,,,,,,,,,
চলবে...............