Love
#আমার_সংসার
#লেখাঃ_নুসরাত_জাহান
#সিজনঃ_২
#পর্বঃ_২৭_অন্তিম_পর্ব
আপনি কি শুনছেন..? আমি কি বলছি..! আপনি শুনতে পারছেন নাকি অন্যমনস্ক হয়ে গেছেন।
আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
- তুমি বল, আমি শুনছি।
- হুম তাহলে বলছি। মানুষের জীবনটা একটা রঙ্গমঞ্চ তাই না! সব সময় নিজের চাওয়া-পাওয়া বিসর্জন দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নাম জীবন। জীবন এত সস্তা নয়। আমার জীবনের পিছনে একটা গোপন তথ্য আছে। বলব কিন্তু কেনো জানি সাহস পাচ্ছি না। যদি আপনি আমাকে ভুল বুঝেন তাহলে আমি মনে করব এটা আমার ভাগ্যে এটা লেখা ছিল। তবুও আমাকে কথাটা বলতে হবে। সত্যি কখনও চাপা থাকে না।
আজ না হয় কাল প্রকাশ পাবে। আমি এখন যদি আপনাকে জানিয়ে রাখি পরে যদি সত্যিটা জানতে পারেন তবুও আমাকে ভুল বুঝবেন না।
সোনিয়া টেনশন হচ্ছে খুব। তাড়াতাড়ি বল প্লিজ।
- হ্যাঁ বলবো। তন্ময় নামের একটা ছেলের সাথে আমার রিলেশন ছিল কয়েক মাসের। প্রথমে আমি রিলেশন করতে রাজি হয়নি পরে তন্ময় সুইসাইড করার হুমকি দিয়ে আমাকে বাধ্য করে রিলেশনে আবদ্ধ হতে। তবে অনিচ্ছা স্বত্বেও আমি রিলেশন করেছি তন্ময়ের সাথে। রিলেশনের কয়েক মাস পরেই তন্ময়ের ভাবসাব আমার ভালো লাগছিল না। তার শুধু আমার শরীরের প্রতি ঝোঁক ছিল। কয়েকদিনের কথাবার্তায় বুঝতে পারি। তবুও আমি রিলেশন টিকিয়ে রাখার জন্য তন্ময়কে অনেকভাবে বুঝালাম। কিন্তু তন্ময়কে বুঝিয়ে কোন লাভ হয়নি। যতদিন যাচ্ছিল সে আরও বেশি করে আমাকে ইমোশনাল ব্লাক মেইল করতে লাগল। বারবার বলতে থাকে তার সাথে ফিজিক্যাল রিলেশন করতে না হলে সে কিছু একটা করে বসবে। এক পর্যায়ে আমি ভীষণ বিরক্ত হয়ে যাই কারণ তন্ময় বারবার আমাকে সুইসাইড করবে বলে হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল। তারপর থেকে কথা বলা কমিয়ে দিলাম।
একদিন রাত প্রায় দু'টো বাজে তখন ফোনটা বেজে উঠল। প্রতিদিন রাত বারোটা বাজলেই ফোন বন্ধ করে রাখি আর সকালে ঘুম ভাঙার পরে ওপেন করি। কিন্তু ঐদিন কিভাবে যেন বন্ধ করতে মনে ছিল না তাই কল ঢুকছে দেখে মেজাজটা পুরোই চড়ে গেল। রাগান্বিত হয়ে ফোনটা হাতে নিলাম। স্ক্রিনের উপরে তন্ময়ের নামটা ভাসছে। এতরাতে সে কল দেয়াতে মেজাজটা আরও বিগড়ে গেল। কলটা ধরতেই ওপাশ থেকে ভেসে আসল তন্ময়ের কন্ঠস্বর।
তন্ময় হাসছিলো।
আমি বললাম,
- তুমি এতরাতে কল দিয়েছো কেনো..? সমস্যা কি তোমার..?
- কোন সমস্যা নেই। তুমি কি ভেবেছিলে তোমাকে ছাড়া আমি অন্য কাউকে পাবো না...? তাহলে ভুল ভাবছিলে...? আমি তোমার মতো ভিক্ষারীর মেয়েকে নিয়ে পড়ে থাকব সেটা তুমি বুঝলে কি করে..? আমার পাশে তুহিনা বসে আছে কেনো জানো..? আমি বলছি তোমার জানার প্রয়োজন নেই তবুও বলছি।
আজ রাতে বেড শেয়ার করব বলেই হাসলো তন্ময়।
কথাটা শোনার পরে আমি তন্ময়কে বললাম,
- ভালোই হয়েছে তোমার আসল চেহারাটা তুমি নিজেই সামলে নিয়ে আসলে। আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তোমার সাথে বেড শেয়ার করব। কিন্তু দেখ আল্লাহর কি অশেষ রহমত আমাকে তোমার মতো লম্পট চরিত্রের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জীবনে চলার পথে চলতে গিয়ে আমার এই মুখ তোমাকে আর কোনদিন দেখাবো না। আর তুমি যদি তোমার মায়ের বুকের দুধ খেয়ে থাকো আমাকে আর বিরক্ত করবে না বলেই কল কেটে দিলাম। কিছুদিন পরে সিমটা পাল্টে ফেলি। সেদিনের পর থেকে তন্ময়ের সাথে আজ অব্দি আমার দেখা হয়নি।
সাহিলের চোখ বড় বড় হয়ে যায়। মনে হচ্ছে সোনিয়ার কাহিনীর সাথে সে আগে থেকেই পরিচিত। তাই সে সোনিয়াকে বলল,
- সোনিয়া তোমাকে তন্ময় রেড রোজ বলে ডাকাত..?
সাহিলের কথায় আমার মুখ হা হয়ে গেল। হতভম্ব হয়ে আমতা আমতা করে বললাম,
- হ্যাঁ। কিন্তু আপনি কি করে জানলেন..?
- কারণ তন্ময় আমার বন্ধু। সেদিন যে কল করেছিল সে তোমার এক্স বয়ফ্রেন্ড।
- সাহিল প্লিজ এক্স বলে দয়া করে আমার ভালোবাসাকে অপমান করবেন না। আমি আপনাকে ভালোবাসি। অনেক ভালোবাসি। সারাজীবন বাসবো। আর তন্ময় ছিল আমার একটা দুঃস্বপ্ন। তাই আমাদের পবিত্র বন্ধনের মাঝে অশুভ ছায়াকে মনে করবেন না।
সাহিল আমার কাছে এসে বুকে জড়িয়ে ধরে তারপর বলল,
- তুমি কোন চিন্তা করো না আমি তোমাকে কখনও ভুল বুঝবো না বা ছেড়ে যাবো না। তুমি এতটুকু বিশ্বাস রাখতে পারো আমার উপরে। আরেকটা কথা সোহানের বিয়েতে আমরা যাচ্ছি না ঠিকাছে।
- কেনো যাবেন না..?
- তন্ময় আসবে বিয়েতে। তোমার মুখ থেকে পুরো ঘটনা শোনার পরে আমি চাই না যে তন্ময়ের সাথে আবার তোমার দেখা হোক। পুরনো প্রেম দেখা হলে একবার না একবার উতলে উঠবে তন্ময়ের ভিতরে। তোমাকে দেখলে এতদিনের চেপে থাকা আগুনটা আবার দাউ দাউ করে জ্বলবে। তাই আমি কোন কিছুর বিনিময়ে ঝামেলা চাই না। আর সবচেয়ে বড় কথা তোমাকে হারাতে চাই না। কারণ নিজের জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসি তোমায়। আচ্ছা সোনিয়া তুমি থাকো আমি আরমানের কাছে যাচ্ছি।
- এখুনি যাবেন..?
- হুম। না হলে পরে আরও দেরী হয়ে যাবে। রানীকে যেভাবেই হোক বাঁচাতে হবে।
- আচ্ছা তাহলে যান জলদী আসবেন।
মাথাটা নাড়িয়ে ঠোঁটের কোণে অস্ফুট হাসি এনে তারপর রুম থেকে বেরিয়ে যায় সাহিল।
বেলা গড়িয়ে বিকেল হয়ে এলো সাহিল এখন আসছে না দেখে চিন্তার ছাপ চোখে মুখে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে আমার। মনে হচ্ছে হাজার বছর সাহিলের সাথে দেখা হয়নি। বুকের ভেতরটা হাহাকার করছে। চারদিকটা অন্ধকারে ছেয়ে গেছে এখুনি বৃষ্টি শুরু হবে। সময় যত গড়াচ্ছে বুকের ভেতরটা আরও ছটফট করছে। মোবাইলটা হাতে নিলাম সাহিলকে কল করব কিন্তু সাহস পাচ্ছিলাম না। কল করব কি করব না এটা নিয়ে দ্বিধা-দন্দে পড়ে গেলাম। আরেকটু অপেক্ষা করি কারণ সে তো কাজের জন্যই বের হলো। তাই এভাবে তাকে বিরক্ত করাটা ঠিক মনে করিনি বলে মোবাইলটা ওয়াডড্রবের উপরে রাখলাম। ভালো লাগছে না দেখে বিছানার উপরে কাৎ হয়ে শুয়ে পড়তেই ঘুমিয়ে যাই। কারও স্পর্শে চোখ খুলে তাকিয়ে দেখি সাহিল। স্বপ্ন ভেবে ভ্রুক্ষেপ না করে আবার শুয়ে পড়তেই কারও আওয়াজ শুনে চমকে উঠলাম। এবার পুরো ঘুম গায়েব হয়ে গেল। বসা ছেড়ে উঠে বসে তাকিয়ে দেখি রানী।
রানীকে দেখে চমকে উঠলাম। বিছানা দিয়ে নিচে নেমে রানীকে জড়িয়ে ধরলাম অনেকক্ষণ। সাহিল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছে।
রানী তুই আমার কাছে দাঁড়িয়ে আছিস আমি তো ভাবতেই পারছি না। আমি সাহিলের দিকে তাকালাম।
সাহিল বলল,
- সোনিয়া তোমাকে বলেছিলাম না যেভাবেই হোক রানীকে উদ্ধার করে আনবো। দেখ আমি সফল হয়েছি। নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে। এতটাই গর্বিত যেটা বলে বুঝানো যাবেনা।
তবে রানীর সাহসিকতার জন্য আমরা রানীকে এ নরক থেকে বের করে আনতে পেরেছি।
সোনিয়া তুমি কল্পনাও করতে পারবে না আমরা সকাল থেকে রাত আব্দি রানীকে বের করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে গেছি। কতবার যে পুলিশ নিয়ে ওই বাড়িতে সার্চ করিয়েছি তুমি চোখে না দেখলে বিশ্বাস করবে না। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওরা রানীকে ফ্লাটের গোপন রুমে বন্দি করে রাখে। তিনবার খোঁজ করার পরে রানীকে না পেয়ে আমরা যখন চলে আসতে নিব তখনি ছোট্ট একটা কাগজের টুকরা বিছানার পাশের টেবিলের উপরে গ্লাস চাপা দিয়ে রাখা ছিল। অনেক বুদ্ধি খাটিয়ে কাগজের টুকরাটা নিলাম। বাহিরে এসে খুলে দেখি কাগজে লেখা, আপনারা আমাকে পাবেন না আমাকে এখানেই গোপন রুমে আটকে রেখেছে। রাত ৮ টার পরে আমাকে এই জায়গা থেকে অন্যত্র নিয়ে যাবে এমন কিছু শোনা যাচ্ছে। আমি কখনও এই নরক থেকে বের হতে পারবো না। বুঝতে পারলাম এটা রানীর লেখা। ফ্লাট থেকে বেরিয়ে আমরা দূরে ফাঁদ পেতে ছিলাম যে কখন ওরা রানীকে নিয়ে নামবে।
আরমান পুলিশ ফোর্স খবর দিয়ে রেখেছিল। রাত তখন ৮.৪৫ বাজে তখনি দুইজন লোক রানীকে নিয়ে নিচের দিকে নামতেই আগে থেকে পুলিশ প্রস্তুত রাখা ছিল তারা এসে সবাইকে এ্যারেস্ট করে নিলো।
সেখান থেকেই রানীকে নিয়ে থানায় গেলাম এফ. আই. আর লিখে সোজা তোমার কাছে নিয়ে এলাম সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য।
তবে একটা কথা আমার মাথায় আসলো না।
- কি কথা..?
- আমি যে এত রাত পর্যন্ত বাসায় আসিনি তুমি তো একবারের জন্যও কল দাওনি। আমি কোথায় আছি এটা জানার জন্য।
- আমি কল দেয়নি কারণ আমার মনে একটু সন্দেহ হচ্ছিলো আপনি তো গুরুত্বপূর্ণ কাজে গেছেন আমারর একটামাত্র কল আপনার ভোগান্তি কারণ হতে পারে।
- সোনিয়া তুমি খুব জিনিয়াস একটা মেয়ে। তুমি কল না দিয়ে অনেক ভালো করেছো, না হলে অনেক বিপদে পড়তাম। রানীকে উদ্ধার করে রানীর বাবাকে কল করে বলেছি সে তো কেঁদেই দিয়েছে। অসুস্থ থাকার কারণে এখন আসতে পারবে না। কাল সকালে এসে রানীকে নিয়ে যাবে।
রানীর মুখে হাসির ঝলক ফুটে উঠেছে। আমরা তিনজনে হাসতে লাগলাম। ঠিক সেই মূহুর্তে তাহিয়া এসে দরজায় ঠকঠক আওয়াজ করল,
- আমি কি ভিতরে আসতে পারি...?
সাহিল হাসিমাখা মুখে বলল,
- হ্যাঁ তাহিয়া আয়। তোর হাতের চা খাওয়ার জন্য আমরা ওয়েট করছি।
- আমিও জানতাম, সবার মনের ইচ্ছা জেগেছে ঠান্ডা আবহাওয়াতে এক কাপ গরম গরম চা হলে মন্দ হয় না। তাই তো দেরি না করে নিয়ে চলে আসলাম। এবার ফটাফট খেয়ে নিন তারপর টেবিলে খাবার পরিবেশন করব। রাত তো অনেক হয়েছে।
তাহিয়া সবার হাতে চায়ের মগগুলো হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,
- আপনারা চা খেতে খেতে গল্প করুণ আমি তরকারি গরম করে টেবিলে রাখছি। তবে হ্যাঁ গল্প একটু কম করবেন না হলে তরকারি ঠান্ডা হয়ে বরফ জমে যাবে।
তাহিয়ার কথা শুনে না হেসে পারলাম না। আমার হাসি দেখে সবাই হাসতে লাগলো। কোন রকমে হাসি থামিয়ে বললাম,
- চা খেয়ে নিন। না হলে পানি হয়ে যাবে।
চা পান করা হয়ে গেলে আমি রানীকে বললাম,
- আমি আলমারি খুলে আমার এক সেট ড্রেস বের করে রানীর হাতে দিলাম। রানী তুই ফ্রেস হয়ে ড্রেস চেইঞ্জ করে আমার ড্রেস পড়ে নে।
- হুম।
রানী চা খেয়ে ড্রেস হাতে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো। তারপর বেরিয়ে আসলো।
- রানী, চল এবার খেতে যাবো।
- হ্যাঁ চল।
ডিনার শেষ করে রানীকে তাহিয়ার রুমে দিয়ে আমরা রুমে গেলাম। রুমে গিয়ে বসে আছি তখন সাহিল এসে দাঁত ব্রাশ করে আমার পাশে বসলো। আমি আড়চোখে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম। মুখটা দেখলে খুব বিশ্বস্ত মনে হয়।
সাহিল বুঝতে পারল আমি তাকে দেখছি তবুও কিছু না বলে আমার মুখ থেকে শোনার অপেক্ষা করছে।
দুজনে অনেকক্ষণ নিশ্চুপ থাকার পরে তার কথা ভাবলাম সারাদিন তো ঝামেলার ভিতরে ছিল। দুপুরবেলা না খেয়ে কাটিয়ে এখন ক্লান্ত। তাই নিজের বিবেক জাগ্রত হলে প্রথমেই সাহিলকে বললাম,
- আপনি শুয়ে পড়েন সারাদিন খাটাখাটুনি করে এসেছেন।
সাহিল মাথাটা ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে নিচু করে থাকে। অনেকক্ষণ পরে অনুনয়ের সুরে বলল,
- শুতে পারি তবে এক শর্তে!
শর্তের কথা শুনে খানিকটা চমকে গিয়ে আস্তে করে বললাম,
- কি শর্ত..? আচ্ছা আপনি এত প্যাঁচান কেনো...? আগে তো এমন ছিলেন না। তাহলে এখন এত বাঁচাল হলেন কেনো..? সত্যি আপনাকে যত দেখছি ততই অবাক হচ্ছি কারণ কি জানেন...?
মাথাটা তুলে চোখদুটো এতটাই বড়বড় করে তাকালো সাহিল, দেখেই ভয় পেয়ে আমার কথা বলা মুখটা বন্ধ হয়ে গেল।
আমি মুখটা কালো করে বিছানার উপরে শুয়ে পড়লাম তখনি সাহিল আমার পাশে শুয়ে গায়ের উপরে হাত পা দিয়ে বলল,
- বাহ্! আমার কোলবালিশটা তো বড্ড নরম হয়ে গেছে। যাক ভালোই হলো জড়িয়ে ধরতে কষ্ট হবে না। আমার সাধের কোলবালিশ। সাহিল পা তুলে দেয়ায় আমি নড়তে পারছিলাম না। তাই চুপচাপ চেপে শুয়ে থাকি। সাহিল ব্যাপারটা বুঝতে পরে আমার চুলগুলো সরিয়ে খোলা পিঠে চুমো খেতেই সমস্ত শরীর শিউরে উঠল। সাহিলের দিকে কোন রকমে ফিরে বললাম,
- কি করছেন এসব..?
- বাহ্ রে কি আর করছি, আমার একমাত্র বউকে আদর করছি। আমি হাসলাম। সাহিল ও হাসলো। আমি সাহিলের দিকে লজ্জা রাঙা মুখ নিয়ে তাকালে সাহিল চোখ টিপ মারলো।
আমি সাথে সাথে দুহাত দিয়ে চোখ ঢেকে দিলাম। আমার হাত দুটো সরিয়ে নিয়ে চোখের উপরে কিস করতেই সমস্ত শরীর কাপন দিয়ে উঠলো। মনে হচ্ছে শরীরটা ছেড়ে দিয়েছে। একটুও শক্তি নেই। একটু বাদে কপাল থেকে ঠোঁট অব্দি একাধারে চুমো খেল। আমার তো লজ্জায় মরে যাওয়ার উপক্রম তৈরী হয়েছে। দিশাবিশা না পেয়ে সাহিলকে জড়িয়ে ধরলাম। সাহিল আমার চোখের ভাষা বুঝতে পেরে আমায় আরও বেশি উত্তেজিত করল। উত্তেজিতর এক পর্যায়ে দুজন দুজনের মাঝে ডুব দিলাম। আমি সাহিলের মাঝে আর সাহিল আমার মাঝে। হারিয়ে গেলাম অথৈ সমুদ্রের তলদেশে।
মধ্যরাতে,
দুজনে উঠে লজ্জায় কেউ কারও দিকে তাকাতে পারছিলাম না। একটুবাদে সাহিল বলল,
- এবার চল, দুজনে একত্রে শাওয়ার নিব।
যেই বলা সেই কাজ। আমাকে কোলে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকল। ঝরণার পানি ছেড়ে দিয়ে তারপর সাবান গায়ে মেখে শাওয়ার নিয়ে দুজনে এক টাওয়ালে পেঁচিয়ে বেরিয়ে আসলাম। আলমারি খুলে কাপড় বের করে দুজনে পড়ে নিলাম। ফজরের আযান দিলে দুজনে দুপাশে নামায আদায় করে ছাদে উঠলাম।
ছাদে বসে সাহিল আমাকে বলল,
-সোনিয়া,,
- হুম।
- তোমার নিজেরও সন্তান হবে এটা সত্যি কিন্তু তোমার কাছে শুধু একটাই অনুরোধ সানিকে কখনও সৎ ছেলে মনে করে অবহেলা করবে না।
আমি করুণ চোখে সাহিলের কাঁধে হাত দিয়ে বললাম,
- আপনি এটা নিয়ে চিন্তা করবেন না
আমি কখনও সন্তান নিবো না। সানি আমার সন্তান।
- না সোনিয়া এমনটা করবে না কখনও। তুমি একজন মেয়ে তাই তোমারও মা হওয়ার অধিকার আছে। তাই নিজের সন্তান হলেও সানিকে নিজের সন্তান মনে করে মায়ের ভালোবাসা দিবে। সানি যেন কখনও বুঝতে না পরে তুমি সানির আপন মা নও। তোমার কাছে শুধুমাত্র এটাই চাওয়া।
- আমার প্রতি বিশ্বাস রাখতে পারেন। নিজের সর্বস্ব উজার করে দিয়ে আগলে রাখবো আমার সন্তানকে।
আমাকে জড়িয়ে ধরলো সাহিল।
তারপর সাহিল বলল,
- সোনিয়া নিচে চল। রানীকে নাস্তা করিয়ে আমরা ওর বাসায় দিয়ে আসবো।
- ঠিকাছে চলুন।
রানীকে ডেকে নাস্তা খাওয়ালাম। সাথে আমরাও খেলাম।
নাস্তা খাওয়া শেষ হলে রানীকে বললাম,
- রানী রেডী হও তোকে আমরা তোর বাসায় দিয়ে আসবো। আন্টি তোর জন্য পাগল প্রায়। আংকেলকে কষ্ট করে আসতে হবে না এতদূরে। আমরা গিয়ে তোকে দিয়ে আসি।
সাহিল রানীকে বলল,
- রানী আমার অফিসে তোমার জন্য একটা জবের ব্যবস্থা করেছি। তুমি বাসায় গিয়ে সুস্থ হয়ে কাজে জয়েন্ট করবে কেমন।
- সত্যি বলছেন ভাইয়া।
- হ্যাঁ সত্যি। এই নাও আমার ভিজিটিং কার্ডটা রাখো। জয়েন্ট করার আগেরদিন আমাকে কল করবে। সোনিয়া এবার চল।
আমরা রানীকে নিয়ে বাসায় যেতেই রানীকে দেখে রানীর মা সুস্থ হয়ে উঠলো। তারপর আমরা সেখান থেকে আমার বাবার বাড়িতে গেলাম। বাবার সাথে দেখা করে তারপর বাসায় আসতে লাগলাম।
রাস্তায় জ্যাম থাকার কারণে গাড়িটা দাঁড় করায় তখনি চোখ পড়ল রানা অন্য একটা মেয়ের হাত ধরে হাঁটছে। সাহিল রানাকে ডাকাল। রানা আমাদের দেখে তারপর গাড়ির কাছে আসতেই সাহিল রানাকে গাড়িতে বসতে বলল। রানা গাড়িতে বসলো। সাহিল গাড়ি স্টার্ট দিল।
তারপর রানাকে বলল,
- রানা তানহা কেমন আছে..?
- জানিনা।
- কেনো..?
- আমি তানহাকে ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছি। আর আগামী মাসে নাদিয়াকে বিয়ে করব।
- তানহাকে ডিভোর্স দিয়েছো কেনো..?
- ডিভোর্স দিবো না তো কি করবো..? তানহা তোমাকে ভুলতেই পারছিল না। তার উপরে আমার সাথে কোন ফিজিক্যাল রিলেশন করতে আগ্রহী ছিল না। আমি একটা পুরুষ আমার ও শারীরিক চাহিদা আছে। এতদিন ধৈর্য ধরেছি কিন্তু যখন দেখলাম তানহা শুধরাচ্ছে না তখন ডিভোর্স ছাড়া আর কোন পথ খোলা ছিল না আমার কাছে। তাই ডিভোর্স দিয়ে দিলাম।
সাহিল এইখানে রাখ। আমরা এখানে নামবো।
রানার কথায় সাহিল গাড়ি একপাশে দাঁড় করালো। রানা তার হবু বউকে নিয়ে গাড়ি থেকে নামলো।
সাহিল আর আমি রানার যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে তাকলাম।
সাহিল দীর্ঘশ্বাস নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। তারপর বলল,
- কষ্ট লাগছে তানহার করুণ পরিণতির জন্য। সাহিল গাড়ি ড্রাইভ করে বাড়িতে আসলো। রুমে এসে বিছানার উপরে টানটান হয়ে শুয়ে আছে।
আমি সাহিলে পাশে গিয়ে বসলাম। কপালে হাত দিয়ে চুল টেনে দিয়ে বললাম,
- চিন্তা করবেন না প্লিজ। অতীতকে মনে করে কষ্ট পাওয়া বোঁকামী ছাড়া আর কিছু না। তাই সবারই বর্তমানে কি হচ্ছে তার দিকে ফোকাস করা উচিত নতুবা জীবনে কেউ সুখি হতে পারবে না। বিশ্বাস এমন একটা জিনিস একবার ভেঙে গেলে যতই জোরা তালি দেয়ার চেষ্টা করেন কিছুতেই কাজ হবে না। জোরা লাগবে ঠিকি আবার দু'দিন পরে ভেঙে যাবে।
সাহিল আমার দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে একরাশ হাসি এনে বলল,
- সোনিয়া আমার বর্তমানে দুনিয়া তুমি। জান আর পরাণও তুমি। এছাড়া আর কিছু ভাবছি না আর ভাববো না। এখন শুধু স্বপ্ন একটাই মায়ের সেবা করা। দ্বায়িত্ব হলো, ছোট বোনটা দু'টোর বিয়ে দেয়া, সানিকে মানুষ করা আর, আর...
- আর আর করছেন কেনো বলুন...
- আর হলো আমার যেন একটা কণ্যা সন্তান হয় তার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি আর বউকে সারাক্ষণ আদর-সোহাগ করা বলেই সাহিল আমার ঠোঁটের উপরে তার ঠোঁট ডুবিয়ে দিল।
আমি কিছু বলার জন্য মুখটা খুলতে পারলাম না। মনেমনে ভাবলাম যাক লুচু একটা স্বামী পেলাম। যে শুধুমাত্র আমাকে ভালোবাসার জন্য মরিয়া হয়ে থাকে। আমারও ভালো লাগে সাহিলের খুনসুটিগুলো। সত্যি এমন স্বামী পেয়ে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে।
গল্পটা দিয়ে শিখলাম যেমন কর্ম তেমন ফল। কারও সাথে বেঈমানি করে কেউ কখনো সুখি হতে পারে না। ধৈর্যের ফল সব সময়ই মিষ্টি হয় সেটা আবারও প্রমাণ পেলো গল্পটায়।
জানিনা কেমন লেগেছে গল্পটা তোমাদের। তবুও চেষ্টা করেছি নিজের সবটা দিয়ে উপস্থাপন করার।
সমাপ্ত
Love
#অবশেষে_তুমি_আমার
পর্বঃ ১২
#তাসনিম_রাইসা
- এভাবে হাসছো কেন? আমার কান্না দেখে তুমি হাসছো?
- আরে হাসবো না কি করবো? এ মেয়ে কি আমার বউ হবার যোগ্য? আরে বিয়ে করেছি কয়দিন পর তালাক দিয়ে দিবো।
- কি বলছো এসব?
- সত্যি বলছি। এই সেই মেয়ে যার জন্য আমার মা -বাবা হারিয়ে আমি এতিম হয়েছি । যার বাবার জন্য আমার বাবা মা-সুসাইড করেছিল। এখন সেই প্রতিশোধই নিচ্ছি।
- রাজ এটা তাহলে রাফিয়া বিনতে অধরা ? যে কি না অধরা হিসেবে এ বাড়িতে আছে?
- হ্যাঁ এই সে রাফিয়া বিনতে অধরা! যার জন্য আমি আমার সব হারিয়েছি। একটা রাতও যার জন্য আমি ঘুমাতে পারি না।
তোমরা তো কোনদিন আমাদের গ্রামে যাওনি! তাহলে শোন আজ থেকে ১২ বছর আগের ঘটনা। আমি আর রাফিয়া বিনতে অধরা দু'জনেই ভালোবাসাটা কিছু বুঝতে শিখেছি। পাড়ার একটা স্কুলে আমি , আর অধরা পড়তাম। অধরার বাবার সাথে আমার বাবার খুব সখ্যতা ছিল। অধরা যখন জন্ম নেয় তখন থেকেই বাবা -মা অধরার সাথে আমার বিয়ে ঠিক করে রাখে।
-পাশাপাশি বাসা থাকার সুবাধে আমি আর অধরা সারাদিন একসাথে খেলা করতাম। অনেক ঝগড়া করতাম। আবার ক্ষানিক পরেই, মিলে যেতাম।
এভাবেই আমাদের ছোটবেলার দিনগুলো অতিবাহিত হতে লাগলো। দিনগুলো ছিল স্বপ্নের মতো সুন্দর।
- একদিন অধরা আমাকে বললো,' রাজ চলো না আমরা জামাই বউ খেলি?''
- জামাই বউ খেলে কিভাবে?
-অ্যামা তুমি জানো না জামাই -বউ কিভাবে খেলে?
- না, তো জানি না। মাকে জিজ্ঞেস করতে হবে।
- আরে আমিই বলছি। শোন আমি নতুন শাড়ি পরবো। তুমি আমার ঘোমটা তুলে আমার দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকাবে। আমি লজ্জা পাবো। আর তুমি বলবে ওরে আমার লজ্জাবতী বউটা। আমি তোমাকে ওগো বলে ডাকবো। টিভিতে দেখেছি। আর মাটি দিয়ে সুন্দর করে ঘর বানাবো। যেভাবে এখন বানিয়ে খেলি। তারপর বালু দিয়ে তোমার জন্য রান্না করবো। সেগুলো তুমি খাবে।'"
-পাগল হইছোস বালু কেন খাবো? আর তোকে বউ ডাকলে আমার সত্যি সত্যি বিয়ে হয়ে যাবে? পরে বউ পাবো না।''
- তোমার কি আমাকে ছাড়া আরো বিয়ে করার ইচ্ছে আছে? এই জন্যই তো বলি নিশি আমাকে কেন বলে, ''সময় হলে বুঝাবো আমি কি করতে পারি?'' আর তুমি তো সত্যি সত্যি খাবে না তো। '
- তারপর কতো বার আমরা দু'জনে জামাই বউ খেলছি হিসেব নেই। সেই ছোট্টবেলা থেকেই ছোট্ট মনে বিন্দু বিন্দু ভালোবাসার উদ্রেক হয়। অধরাদের বাসায় কিছু রান্না হলেই অধরা প্লেটে করে লুকিয়ে আনতো পুকুর পাড়ে। সেখানে বসিয়ে নিজ হাতে খাইয়ে দিতো। যখন বলতাম তুমি খেয়েছ? তখন বলতো তুমি খাইয়ে দিবে বলে খায়নি। তখন অধরাকেও খাইয়ে দিতাম। মা-বাবা অধরা আর আমার পাগলামী দেখে হাসত। অধরাকে অন্য কোন ছেলের সাথে কথা বলতে দেখলে অনেক রাগ হতো। এখনো মনে আছে একদিন অধরার সাথে সিফাত জামাই বউ খেলতে চেয়েছিল। আর অধরাও আমার সাথে রাগ করে তার সাথে খেলতে রাজি হয়েছিল। যখন শুনতে পায় এ কথা তখন অধরাকে গিয়ে চড় দেয়। অধরা আর কিছু বলেনি আমাকে। কান্না করতে করতে বাসায় গিয়েছিল। এর পর একটানা চারদিন কথা বলিনি। অধরা কথা বললেও পাশ কেটে চলে গিয়েছি। চারটা দিন শুধু অধরার দেওয়া মেয়ে পুতুলটার সাথে কথা বলেছি।
- পুতুল দু'টো দুজনে মেলায় থেকে কিনেছি। কিনার পর আমার পুতুলটা অধরাকে দিয়ে বলেছিলাম,' এই নাও পুতুল রাতে তো তোমার সাথে কথা বলতে পারি না। এছাড়া যখনি আমার কথা মনে পড়বে তখন এই পুতুলের সাথে কথা বলবে। মনে হবে তুমি আমার সাথে কথা বলছো। এই পুতুলটাকে সাথে নিয়ে ঘুমাবে মনে হবে আমাকে নিয়ে ঘুমাচ্ছো। এ পুতুলকে কখনো কষ্ট দিবে না তো?
- অধরা তখন ছোঁ মেয়ে আমার হাতের পুতুলটা তার হাতে নিয়ে বললো,' বাহ্ পুতুলটা তো খুব সুন্দর! ঠিক তোমার মতো। আমি কখনো পুতুলটাকে কষ্ট দিবো না। সবসময় নিজের কাছেই রাখবো। কিন্তু?
- কিন্তু কী?
- তুমি আমাকে পুতুল দিলে। তাহলে আমার মেয়ে পুতুলটা তুমি নাও। আমার সাথে যখন কথা হবে না তখন তুমি পুতুলটার সাথে কথা বলবে। আর মনে রেখো আমাকে যেমন সারাদিন বকা দাও, তেমনি পুতুলটাকে দিয়ো না বকা। পুতুলকে বকা দিলে পুতুল কান্না করবে।কথা দাও পুতুলকে বকবে না? আরেকটা কথা পুতুলটাকে বুকে নিয়ে ঘুমাবে? '
- আরে না। বুকে নিয়েই ঘুমাবো । এসব ভাবতে ভাবতে অধরার কথা খুব মনে পড়ে।
চারদিন পর সকালে ঘুম থেকে উঠার পর বুঝতে পারি গায়ে জ্বর উঠেছে। আগেরদিন বৃষ্টিতে ভিজে গোসল করার ফল এটা । মা জলপট্টি দিয়ে চলে গেছে আমি তাকাতে পারছি না রাজ।
- এদিকে অধরা বাসায় এসে মাকে বললো,' আন্টি রাজ কোথায়?''
- মা বললো, ' আর বলিস না মা কাল বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলছে। আর আজকে জ্বরে কাতরাচ্ছে!
- কি বলো এসব? আগে বলবে না। অধরা দৌড়ে আমার পাশে এসে বসে। মাথা থেকে জলপট্টি সরিয়ে হাত রাখতেই রাজ বললো,' ছুঁবে না আমায়!
- তোমার জ্বর আমাকে বলোনি কেন?''
- কি বলবো? তুই সিফাতের বউ। সিফাতের কাছে যা।
- রাজ প্লিজ তুমি এভাবে বলো না তোমার না জ্বর?আমাকে ক্ষমা করে দাও এর পর আর কোনদিন খেলবো না সিফাতের সাথে।
- ক্ষমা করতে পারি এক শর্তে!
- কি শর্ত?
- ১০০ বার কান ধরতে হবে।
- এতোবার? কিছু কম করলে হয় না?
- হয় তবে ৫ টা পাপ্পি দিলে কান ধরতে হবে না।
- ছিঃ পচা কথা বলো না।
- তোর ইচ্ছা। শুনেছি পাপ্পি দিলে নাকি জ্বর কমে যায়। তাই তোকে বললাম।
- সত্যি বলছো? পাপ্পি দিলে জ্বর কমে যায়?
- আমি তো তাই শুনেছি। এখন ভেবে দেখো আমার জ্বর তুমি পাপ্পি দিয়ে সারিয়ে দিবে না কান ধরে উঠবস করবে?
- আচ্ছা দিচ্ছি। এই বলে অধরা রাজের কপালে পাপ্পি দিয়ে দেয়। পাপ্পি দিয়ে অধরা আর রাজের দিকে তাকাতে পারে না। লজ্জার চোখ মুখ অস্ত যাওয়ার পূর্বে সূর্য যে রূপ ধারণ করে অধরার মুখটাও তেমন বর্ণ ধারণ করে। অধরা ভয়ে ভয়ে রাজের কপালে হাত দিয়ে দেখে রাজের জ্বর কমেনি আরো জ্বর বাড়ছে। কি হলো কমেনি তো?
- তোমার পাপ্পি ঠিকমতো দিতে পারো নি? আবার দাও। এখন দশটা দিতে হবে নয়ত জ্বর আরো দ্বিগুণ বাড়বে।
- সত্যি তো দশটা দিলে জ্বর কমে যাবে?
- কমবে না মানে আলবৎ কমবে। ওহ্ অধরা জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে।
- অধরা রাজের গালে মুখে গুনে গুনে দশটা পাপ্পি দিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বুঝতে পারলো রাজ তাকে মিথ্যা বলেছে।
অধরা রাগে অগ্নি শর্মা হয়ে বললো,' তুমি খুব পচা মিথ্যা বলে আমাকে দিয়ে পাপ্পি দেওয়ালে। জ্বর তো কমেনি আরো বেড়েছে। তুমি সত্যিই খারাপ।
- হ্যাঁ আমি খারাপ আমি মরে গেলেই ভালো হবে। কেউ অন্তত কারো বকা শুনবে না। সিফাত তো আছেই ভালো। চলে যা তুই সিফাতের কাছে। খারাপের কাছে কেন আছছিস? আর শোন আমি কি জানতাম পাপ্পি দিলে জ্বর ভালো হয় না? সিজান ভাইয়াকে বলতে শুনেছি। সিজান ভাইয়া সিনহা আপুরে বলতো, আপুর পাপ্পিতেই নাকি সিজান ভাইয়ার জ্বর ভালো হয়েছে। সিনহা আপুরে তুই বলিস যে সিজান ভাইয়া বলছে কি না? আর প্লিজ চলে যা। আমি মরলেই তোর কি?আমার জ্বর হয়েছে খুশি তো তুই?
- রাজের মুখে মরার কথা শুনে অধরা ছোট্ট চোখে কোথায় থেকে যেন জল এসে ভর করে। অধরা তার চোখের পানি মুছতে মুছতে বলে, ''তুমি ভুল বুঝো না। আমার খুব রাগ হয়েছিল। আমি আর কোনদিন সিফাতের সাথে কথা বলবো না। আমি প্রমিজ করছি তোমাকে।আর তুমি, অপরী, কণা, এবং নিশি এদের সাথে কথা বলো না। ওদের হাব-ভাব ঠিক নাই। আর হ্যাঁ মরার কথা বলো না আমার কান্না পায়। তুমি মরে গেলে আমার কি হবে? আরেকটা কথা বাসায় পায়েস রান্না করছে মা। আমি তোমার জন্য নিয়ে আসবো কেমন? এখন আসি তাহলে।
- অধরা চলে যায়! রাজ চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে।
এ দিকে সারা গ্রামে রাজ আর অধরা ছোটাছুটি করে। দেখতে রাজ আর অধরা অনেক কিছুই বুঝতে শিখে যায়। এরই মাঝে সময় চলে যায় দু'বছর।
একদিন বিকেলে অধরা রাজকে বলে,' রাজ চলো না শাপলা তুলতে যায়? পদ্মপুকুরে নাকি অনেক শাপলা ফুটেছে।
- রাজ অধরাকে নিয়ে শাপলা ফুল তুলতে যায়। পুকুরের মাঝখান থেকে ফুল তুলে আনার সময় অধরা নৌকা থেকে পড়ে যায়। রাজ কোনরকম অধরাকে সাতয়ে ডাঙায় তুলে শুইয়ে দেয়। অধরাকে শুইয়ে দিয়ে রাজ অধরাকে ডাকতে থাকে, এই বলে,' এই অধরা কি হয়েছে কথা বলছো না কেন? কথা বলো। অধরা তবুও কোন কথা বলছে না।
- রাজের খুব কান্না পাচ্ছে। চিৎকার করে অধরাকে বলছে, ' এই অধরা আমি আর তোমাকে কোনদিন বকা দিবো না। তুমি যা বলবে তাই করবো। কি হলো কথা বলছো না কেন? তোমার কিছু হয়ে গেলে আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো? আমি যে তোমাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি?'' ও আল্লাহ আমার অধরাকে ভালো করে দাও। আমি যে ওকে বড্ডবেশি ভালোবাসি। ওকে ছাড়া আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো?
- অধরা রাজের মুখে ভালোবাসি কথা শুনে বললো,' সত্যি তুমি আমাকে ভালোবাসি? এই কথাটা শুনার জন্য কতোক্ষণ ধরে ভং ধরে আছি।''
- অধরার কথা শুনে রাজ তার গালে ঠাস করে চড় বসিয়ে দেয় আর বলে,' ভালোবাসি শুনার জন্য এমন পাগলামী করে কেউ?'
- পাগলামী না করলে কি তুমি বলতে আমাকে ভালোবাসো?
- রাজ অধরাকে আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে জড়িয়ে ধরে।
- এই কি করছো মানুষ দেখবে তো?
- দেখুক। তার আগে বলো আমাকে কখনো ছেড়ে যাবে না তো? বড্ডবেশি ভালোবাসি তোমায়!
- হুম ছেড়ে যাবো না। আমিও তোমায় বড্ডবেশি ভালোবাসি।
- দিনগুলি ভালোই কাটতেছিল। একদিন হঠাৎ অধরার বাবা বললো,' সামনে অধরার বার্থডে তাই ভাবছিলাম কাজি ডেকে অধরা আর রাজের বিয়েটা দিয়ে বন্ধুত্বটাকে আরো মজবুত করি। কি বলো তুমি?
- কিন্তু বন্ধু রাজ তো ছোট অধরাও ছোট!
- আরে বন্ধু বিয়েটা শুধু কাজি পড়িয়ে দিবে। প্রাপ্ত বয়স্ক হলে সম্পূর্ণ আইনী প্রক্রিয়ার বিয়ে হবে। তুমি কি বলো?
- আচ্ছা তাহলে অধরার বার্থডেতে কাজি ডেকে গোপনে বিয়ে পড়িয়ে রাখবো।
- রাজ আর অধরার বাবার কথা অনুযায়ী রাজ আর অধরার বিয়ে পড়িয়ে দেয় কাজি। যেদিন অধরার বিয়ে হয় সেদিন
চলবে''''''''''
বিঃদ্রঃঅসুস্থতার জন্য গল্প দিতে লেট হচ্ছে।
Love
#সেলিব্রেটি_স্বামী
#পর্ব_০৪
#Mst_Liza
উনি জুতা পরা অবস্থায় আমার পায়ের উপরে উঠে হেঁটে আমার বুক পর্যন্ত এসে দাড়ায়। আমার ভেতরটা ব্যাথায় ফেটে যাচ্ছে।কিন্তু শরীর আমার নিস্তেজ।কিছু করতে পারছি না শুধুই শুনছি।উনি আমার মুখের উপরে জুতা পরা পা নিয়ে আসতেই আমি নিজের চোখদুটো বন্ধ করে দিয়।আর উনি লাফ দিয়ে নেমে যায় আমার উপর থেকে।
-তোকে বিয়ে করে একদিন থেকে ভালোই হয়েছে।সেদিন যে থাপ্পড়টা দিলি তুই আমায়? তারপর গল্পটা সাজালাম।মিডিয়াতে জানিয়ে দিলাম স্ট্রাটার্স দিয়ে প্রথম থাপ্পড়ে বোরখাওলীর সাথে প্রেম।আর আগামী সপ্তাহে বিয়ে। সকলে ভাবে আমাদের মধ্যে অনেক প্রেম।আমাদের প্রেমের কাহিনী শুনে কত বড় বড় রোমান্টিক মুভির অফার দিয়েছে কতজন; তোকে যে কি বলবো না? মেরে ফেলার হলে তো তোকে আগেই মেরে ফেলতাম।কিন্তু যেই সার্ভিসটা দিচ্ছিস তাতে আর মারলাম না।তুই বেঁচে থাক আর চার দেয়ালের মধ্যে এই যন্ত্রণাটা ভোগ কর।
কথাগুলো বলে আমাকে একটা লাথি দিয়ে উনি বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরলেন।
আমি ব্যাথায় কাতরাচ্ছি।শরীরের যন্ত্রণায় ছটফট করছি।আমার দিকে তাকিয়ে দেখার ইচ্ছাটাও উনার নেয়। বরংচ বিছানায় শুয়ে আমার কান্নার কুনকুন শব্দ নিয়ে আমাকে বকা দিচ্ছেন।উনার ঘুমের নাকি খুব ডিস্টার্ব হচ্ছে? উনার ভয়ে নিজের মুখটা টিপে কাঁদছি। নিজের কান্না ভেতরে দমিয়ে রাখার চেস্টা করছি।সারাটা রাত আমি নিচে পরে থেকে ছটফট করেছি।আর উনি নাক ডেকে রাতে শান্তির ঘুম ঘুমিয়েছেন বিছানায়।
ফজরের আজান কানে ভেসে আসে। আমি বুঝতে পারি সকাল হয়ে গেছে।উঠে বসার শক্তিটুকুও আমার নেয়। বুঝতে শিখেছি ধরে জীবনে কখনো এক ওয়াক্ত নামাজ কাযা দিয়েছি কিনা তাই নিয়ে সন্দেহ।কিন্তু আজ? আমি কিভাবে নামাজ পরবো? নামাজ না পরলে যে আমি আমার কস্টগুলো স্রষ্টাকে বলতে পারবো না।আর স্রষ্টা ছাড়া দুনিয়ায় এমন কেউ নেয় যে আমার কথা শুনবে।
আমি উঠতে না পেরে মাটিতে গড়িয়ে দেয়াল পর্যন্ত আসি।তারপর তায়াম্মুম করে ওজু করে নিয়।আল-কোরআনের একটা আয়াত আছে।সেটা মনে পরে আমার,, কেউ যদি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে না পারে, বসে পড়বে! বসে না পারলে, শুয়ে পড়বে! শুয়েও না পারলে, ইশারায় নামাজ পড়বে!(বুখারী শরীফঃ১০৬৬)
তবুও শরীরে নিশ্বাস থাকা পর্যন্ত অবশ্যই নামাজ পড়তে হবে। (15-সূরা হিজর 99)
আমি শুয়ে নামাজ পরে নিয়।নামাজ শেষে নিরবে কাঁদি আর স্রষ্ঠার দরবারে দু'হাত তুলে লুটিয়ে পরি।স্রষ্ঠাকে সুধায়, হে আল্লাহ! তোমার মতোন আর কে আছে যে আমাকে বুঝবে? নিশ্চয় তুমি যা করো তার মধ্যেই বান্দার সুখ নিহিত থাকে। আমাকে বোঝার আর কেউ নাই। তাই তোমাকেই বলি, এই নির্মম অত্যাচার, এই নির্দরতা থেকে আমাকে মুক্তি দাও।না চাইতেও যাকে আমার জীবন সঙ্গী রূপে নিয়ে এসেছো হয় তার থেকে আমাকে পরিত্রাণ পাইয়ে দাও না হয় তার ভেতরে সঠিক বুঝ দান কর।-আমিন।
আমার মোনাজাত শেষে ঘাঢ় ঘুরিয়ে দেখি উনি বিছানার উপরে বসে আছেন।কিছু একটা ভাবছেন।আমার দিকে ঘুরে তাকাবে আমি বুঝতে পেরে আমার মুখটা শাড়ির আঁচল দিয়ে ঢেকে নিয়।ঘুমের ভাঙ ধরে শুয়ে থাকি সেখানেই।
উনি ধীর পায়ে এসে আমার পাশে বসেন।আমার খুব ভয় হতে থাকে। ভয়ে আমি নিজের চোখদুটোও শক্ত করে বন্ধ করে রাখি।উনি আমায় অবাক করে দিয়ে কোলে তুলে নেয়। তারপর বিছানায় শুইয়ে দিয়ে আমার সারা শরীরের ক্ষত গুলোতে আলতো হাত বুলায়।ক্ষত গায়ে তার স্পর্শ পেয়ে আমার যেন আরও বেশি ব্যাথা করছে।কিন্তু চিৎকার করার সাহস পাচ্ছি না।উনি যদি আমাকে আরও মারে সেই ভয়ে নিরব আছি।হঠাৎ খেয়াল করি উনি আমার মুখ থেকে ঘোমটাটা উঠিয়ে ফেলেছেন।আমার সারা মুখে নিজের ঠোঁটের পরস দিয়ে চলেছেন।তারপর আমার শাড়ির আঁচলটা বুক থেকে ফেলে দিয়ে নিজের নাক ডুবিয়ে দিয়েছেন আমার বুকে।
উনার পিঠের উপরে আমার হাতটা চলে আসে। আমি খুব শক্ত করে উনার পিঠ চেপে ধরি।
-আমার ব্যাথা করছে খুব।পারছি না আর নিতে।
আমার কন্ঠ পেয়ে উনি আমায় ছেড়ে দিয়ে আমার উপর থেকে উঠে আসেন।এক দৃষ্টিতে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন উনি। আর আমি উনার দিকে তাকিয়ে কাঁদি।উনি কিচ্ছু বলে না।শুধু চুপ হয়ে থাকেন।কিছুক্ষণ পর খুব জোড়ে খাটের পায়ার সাথে নিজের হাতে একটা ঘুষি মেরে আমার গালটা এসে শক্ত করে চেপে ধরেন উনি।
-তুই ভাবলি কিভাবে তুই বললেই আমি তোকে ছেড়ে দেবো? সুপারস্টার আহান খান আমি।নিজের যা ইচ্ছা শুধু মাত্র তাই করি।কাউকে মানি না।কাউকে শুনি না।আজ পর্যন্ত কেউ আমার দিকে তাকিয়ে কখনো চোখ রাঙিয়ে কথা বলে নি।আর তুই কিনা সকলের সামনে আমার গালে চর মারলি? এতো সাহস তোর? কি ভাবিস তুই নিজেকে?
উনি আমার হাত দুটো বিছানার সাথে খুব শক্ত করে চেপে ধরে।
-আমার খুব কস্ট হচ্ছে আহান! আপনার মনে কি একটুও দয়া-মায়া নেই?
উনি আমার গালে একটা চর বসিয়ে দেয়। চুলের মুঠি টেনে ধরে বলে,
-না, ওসব আমার মনে নেই।আর তোর প্রতি আমার করুণাও হয় না।তোকে কস্ট দিতে পারলেই আমার শান্তি।শরীরের তৃপ্তি।
কথাটা বলে একটানে উনি আমার ব্লাউজের হাতা দু'পাশ থেকে টেনে ছিঁড়ে ফেলেন।দাঁত দিয়ে কামড়ে সামনের হুকগুলো সব খুলে ফেলেন। তারপর পৈচাসিক রূপে ঝাপিয়ে পড়ে আমার শরীরের উপর। আমার বুকে অজস্র কামড় দিতে থাকেন উনি।আমার খুব যন্ত্রণা হয়।তাতে উনার কি! উনি আমার গলায়, বুকে, ঠোঁটে কামড়ে কামড়ে ক্ষত বিক্ষত করে ফেলছে।দুই ঘন্টা ধরে উনার এই শারীরিক অত্যাচার চলছে।তারপর উনি ক্লান্ত হয়ে গেলেলার কোণ ঘেঁষে সূর্যের হালকা কিরণ এসে পরেছে রুমে।আমার দু'চোখের পানিতে বালিশ ভিজে যাচ্ছে।ওয়াশরুম থেকে সাওয়ার নিয়ে বের হয়েছেন উনি।আমার দিকে রাগি দৃস্টিতে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে আছেন।কিছুক্ষণ পর খেয়াল করেন আমি নিরব।উনি এগিয়ে এসে আমার হাত খুব শক্ত করে খামছে ধরে আমাকে টেনে উঠিয়ে বসান।আর বলেন,
-এখনো শুয়ে আছিস তুই? কিছুক্ষণ পরই সব প্রেস, মিডিয়া চলে আসবে।বিয়ের সময় তো বোরখা পরে ছিলি।তোকে দেখার জন্য কত মানুষ মরিয়া হয়ে আছে সেটা কি তুই জানিস? আর তাও শুধুমাত্র এই সুপারস্টার আহান খানের ওয়াইফ বলে। এখন যা! ওঠ! গিয়ে রেডি হয়ে নে!
আমার মুখের উপরে তোয়ালে ছুড়ে মারলেন উনি।তারপর একটা প্যাকেট এনে আমার সামনে রাখলেন।
-সাওয়ার নিয়ে এটা পরে নিস।
আমি কিচ্ছু বলছি না।এক ধ্যানে তাকিয়ে আছি উনার দিকে।আর ভাবছি একটা মানুষ কতোটা নির্দয়, নিষ্ঠুর আর পাষাণ হতে পারে?
-হে আল্লাহ! এতো নোংরা কেন এই লোকটা? (মনে মনে)
-কিছু বললি?
-হুমমম। আমার দিকে তাকান আহান। আপনার মনে কি এতোটুকুও অনুশোচনা নেয়? সারাটা রাত যেই অত্যাচার চালিয়েছেন আমার শরীরের উপর।তারপরও বলছেন আমাকে রেডি হয়ে প্রেস, মিডিয়ার সামনে নিয়ে যাবেন?
উনি আমার হাত মোচড় দিয়ে আমাকে নিজের বাহুতে চেপে ধরেন।দাঁত কটমট করে বলেন,
-এই!! কোন কথা না বলে তোকে আমি যেটা বলেছি সেটা কর!
-কিভাবে করবো আহান? আমি তো পারছি না উঠে দাড়াতে।একটু ভালো ভাবে দেখুন না কি করেছেন আপনি আমার সাথে?
উনি আমার দিকে তাকিয়ে হাতটা ছেড়ে দেয়। মুখে আঙুল ভরে দিয়ে দাঁত দিয়ে হাতের নক কামড়াতে থাকে আর কিছু একটা ভাবতে থাকে।তারপর আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
-না, এই অবস্থায় তোকে প্রেস, মিডিয়ার সামনে নেওয়া যাবে না।তুই আগে একটু সুস্থ হ।
আমাকে বিছানায় ধাক্কা দিয়ে চলে যান উনি।উনি যাওয়ার পর আমি বিছানায় আবার শুয়ে পরি।কম্বলটা গলা অবদি উঠিয়ে নিয়ে হিচকি তুলে কাঁদতে থাকি।কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পরি আমি।যখন ঘুম ভাঙলো চোখের সামনে মাকে দেখতে পেলাম।মা আহানের রুমের আলমারি খুলে ভালো ভালো শাড়ি, গহনা একটা ব্যাগে ভরছে।আমি ব্যাথায় উঠতে পারছি না।তাই শুয়ে থেকেই বলছি,
-একি মা! এসব কি করছো তুমি?
-থাপ। দেখছিস না কি করছি? এতো বড়লোক জামাই পেয়েছি।সুপারস্টার আহান খানের শ্বাশুড়ি মা বলে কথা।একটু সাজ পোশাকের দরকার আছে না?
আমি কম্বলটা আমার বুকে ভালোভাবে জড়িয়ে নিয়ে আস্তে করে উঠে বসলাম।মাকে বললাম,
-মা প্লিজ এটা করো না।উনার কাছে তুমি ছোট হয়ে যাবে।তোমাকে চোর ভাববেন উনি।প্লিজ মা ওগুলো রেখে দাও।
মা এগিয়ে এসে আমার গালে একটা জোড়ে থাপ্পড় মেরে বসে।
-বেয়াদ্দপ মেয়ে।নিজের মাকে চোর বলিস। এই সব তুই একা ব্যবহার করবি তাই না? এতো শাড়ি, গহনা পারবি তুই একা পরে শেষ করতে? শোন আমি এই সব নিয়ে যাচ্ছি।দেখেই যখন ফেলেছিস তখন তোকে বলেই নিয়ে যাচ্ছি।তাই একদম চুরি বলবি না। তোদের অনেক টাকা আবার কিনে নিস।
মায়ের থাপ্পড়ে আমার একটুও খারাপ লাগছে না।কারণ এমন থাপ্পড় আগে কত খেয়েছি,, মায়ের হাতে।আমার এসব সহে গেছে।আমি আবার মাকে বলি,
-এগুলো নিও না মা।যেখানের জিনিস সেখানেই রেখে দাও।প্লিজ মা আমায় ভুল বুঝো না।এটা জানাজানি হলে উনার পরিবার তোমার অসম্মান করবে।তোমাকে নানান কথা শোনাবে।আমি সইতে পারবো না মা রেখে দাও ওগুলো।
আমার কথার কোনো তোয়াক্কা না করেই মা ওগুলো নিয়ে বেড়িয়ে যায়।
মা যাওয়ার পর পরই উনি রুমের ভেতরে ঢোকে।হয়তো মায়ের হাতের ব্যাগটা উনি দেখে নিয়েছেন।
আল্লাহ! এখন কি হবে? উনি তো আমাকেও ভুল বুঝবে।নানান কথা শোনাবে। (মনে মনে)
আমাকে অবাক করে দিয়ে উনি বলে ওঠেন,
-কিরে, আর কতক্ষণ এইভাবে বিছানায় পরে থাকবি? যে কেউ রুমে এসে গেলে কি বলবে? যা সাওয়ার নিয়ে কাপড় পরে নে। একটু চুপ থেকে, আচ্ছা! তুই উঠতে পারবি নাকি ওয়াশরুমে আমি নিয়ে যাবো?
আমি উনার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। কোনো কথা বলছি না।যেভাবে অত্যাচার করেছেন উনি আমার উপর তা মনে পরলেই প্রচন্ড রাগ হচ্ছে।কিন্তু উনাকে কিছু বলার সাহস আমার নেয়।উনি যে আমার স্বামী।উনার পায়ের কাছেই আমার জান্নাত।
উনি আমার শরীর থেকে কম্বলটা ফেলে দেয়।তারপর আমার শরীরে কাল রাতের পড়নের শাড়িটা দিয়ে ঢেকে আমাকে কোলে তুলে ওয়াশরুমে নিয়ে যায়।
চলবে,,,,,
Love
#একঝাঁক~~জোনাকির~~আলো🍁
#writer~~হাফসা~~আলম 🍂
.
.
৯
.....২বছর আগে............🍁
.
সাফা রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে বাসায় যাচ্ছে। হুট করে তার চোখ আটকা পরে পাচঁ বছরের একটা বাচ্চার উপড়।একটা পাচঁ বছরের মেয়ে মাথায় হাত দিয়ে কাদঁছে। মাথা ফেঁটে গেছে মনে হয়।সাফা রাস্তা ক্রশ করে মেয়েটার সামনে দাঁড়ায়।নিজের এক হাত তার কপালে চেপে ধরে।আস্তে করে জিগ্যেস করে......
---"নাম কি তোমার বাবু??"
মেয়েটা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে উঠে.....
---"নিহা"
---"মাথা ফেঁটেছে কিভাবে"??
---"রাস্তায় পড়ে গেছি ইটের সাথে লেগে"
--"তুমি এখানে কি করো??"
--"মায়ের সাথে এসেছি।মাকে খুজে পাচ্ছি না তাই খুঁজতে ছিলাম।কোথায় যেন গেছে??"
.
সাফা বুঝতে পারছে মেয়েটার কষ্ট হচ্ছে তাই সে কান্না করছে।সাফা মেয়েটাকে কোলে তুলে নিলো।মেয়েটা অদ্ভুত ভাবে তাকে দেখছে।সাফা একটা সিএনজিকে দাড় করিয়ে উঠে পড়ে।যাওয়ার আগে পাশের ফলের দোকনদারকে বলে যায় ওর আম্মু খুঁজতে আসলে বলবেন.....
"NSC হসপিটালে নিয়ে গেছি।"
দোকানদার মাথা ঝাঁকিয়ে ঠিক আছে বলেছে।সাফা বাচ্চাটাকে ধরে আছে।মাথা থেকে প্রচুর রক্ত বের হয়েছে।তবে সাফা সেদিকে তাকাতে পাড়ছেনা। রক্তে তার প্রচণ্ড রকমের ফুভিয়া আছে।তাই সে এত রক্ত একসাথে দেখতে পারে না।দেখলেই মাথা ঘুড়ে।সাফা বাচ্চাটার সাথে নানা ভঙিতে কথা বলছে।যাতে সে তার ব্যাথা ভুলে থাকতে পারে।
.
.
নিভ্র রোগী দেখছে।এখন বাচ্চাদের ওয়াডে আছে।বাচ্চাদের প্রতি তার বিষেশ ভালোবাসা কাজ করে।বাচ্চাদের সাথে থাকলে তাকে মোটেও রাগি, ভয়ঙ্কর মনে হয় না।মনে হয় কত ভালোবাসে সে সবাইকে।সবার ভালোবাসাই তার প্রাপ্য।বাচ্চারাও তাকে খুব ভালোবাসে এক কথায় নিভ্রর জন্য পাগল এরা।নিভ্র বাচ্চাদের সাথে নানা ভঙ্গিতে গল্প করছে।আর যুবতী নতুন নার্স গুলো তাকে দেখছে।এক কথায় ড্যাবড্যাব করে দেখছে।নিভ্র একটা বাচ্চাকে কোলে নিয়েছে।নিয়ে হাত নাচিয়ে নাচিয়ে তাকে নাচ করাচ্ছে আর বাচ্চাটা খিলখিল করে হেঁসে উঠেছে।তা দেখে নিভ্রও হাসছে।নিভ্রর আজকের মত কাজ প্রায় শেষ তাই উঠে দাঁড়িয়েছে। আজ তার অপারেশন নেই।তাই বিকেলেই বাসায় যাবে বলে ঠিক করে।নিভ্র কাঁচের গ্লাসের দরজা ঠেলে বাইরে আসতেই ধাক্কা।নিভ্র নিজের সাথে ধাক্কা ধাক্কি মোটেও পছন্দ করে না।কারন হসপিটালের নার্সরা প্রায় অজুহাত দিয়ে বা এমনেই গায়ে পরে তার উপর হসপিটালে বেশির ভাগ মানুষ চিকিৎসার বদলে তাকে দেখতে আসে তাই কড়া সিকিউরেটির ব্যবস্থা করেছে সে।রোগী ছাড়া হসপিটালে আসা নিষেধ। নিভ্র রেগে সামনে তাকায়।সাফাকে এভাবে বাচ্চা কোলে নিয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখে সে অবাক হয়।পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার পর্যবেক্ষণ করে।সাদা গোল জামায় সাফাকে সাদা পরী লাগছে।চুলগুলো আজ খোঁপা করে রেখেছে তবুও কিছু অবাধ্য চুল সামনে এসে তার নীলাভ চোখের পাপড়ির উপড় পরছে।ক্লান্ত লাগছে তাকে।কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম সাথে নাকেও ঘাম জমে আছে।সাফার চিৎকারে নিভ্র তার দিকে তাকায়......
---"আপনি এখানেও??আজব তো হসপিটাল কি আপনার বাপের?? মনে তো হয় তাই। তা না হলে এখানেও মডেলিং করতে চলে আসতেন না।"??
---"আজেবাজে কথা রাখো আর বাচ্চাটার কি হয়েছে বলো?"
.
সাফা অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে দেখছে নিভ্রকে। তার ধারনা মতে পৃথিবীর সবচাইতে ভয়ঙ্কর পেশা হল ডাক্তারি।এটার মত ভয়ঙ্কর আর কিছু নেই।আর সব ডাক্তার গুলো খারুস আর ভায়াবহ হয় তা ছাড়া ডাক্তারদের চেহারা দেখলেও তার ভয় করে।কেমন যেন বদসুরত হয় তারা।তার জীবনে এই প্রথম তার মনে হচ্ছে এই পোষাক টাতে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটাকেই পারফেক্ট লাগছে।সাদা এ্যাফ্রোন, ভিতরে সাদা শার্ট কালো প্যান্ট।গলায় ঝুলানো স্টেথোস্কোপ। আর সেই সবুজ চোখ। যা মেয়েদের দূর্বল করার একমাত্র হাতিয়ার এই ছেলের কাছে।ভয়ঙ্কর সৌন্দর্যে মন্ডিত এই ছেলে।নিভ্র সাফার চোখের সামনে বিরক্তি নিয়ে তুরি বাজিয়ে বলে উঠে......
---"সমস্যাটা কি?? এভাবে তাকিয়ে না থেকে বলো কি হয়েছে বাচ্চাটার??আর বাচ্চাটা তোমার কে??
---"আমার কেউ না বাচ্চাটা।রাস্তায় পেয়েছি। কিন্তু এত কথা আপনাকে কেনো বলবো??ডাক্তার কই??
--"সিস্টার দিয়া"(নিভ্র চেঁচিয়ে ডেকে উঠে)
---"ইয়েস স্যার"
---"বাচ্চাটাকে ওর কোল থেকে নেও মাথায় ব্লেডিং হচ্ছে ইমিডিয়েটলি সেলাই দিতে হবে।"
---"এই এই আপনি কি সব বলছেন??দেখেন এটা শুটিং করার টাইম না। বাচ্চাটা সত্যিই অসুস্থ ওকে সত্যিই সত্যিই ডাক্তারের প্রয়োজন আপনার মত নকল ডাক্তার মানে মডেল ফডেল কে না বুঝলেন।"
.
নিভ্র জবাব দিল না।বাচ্চাটাকে কোল থেকে নিয়ে নিল।সে যানে এই মেয়েকে একটা বললে এ আরো তিনটে শুনিয়ে দিবে।নার্স দিয়া বলে.....
---"আরে ম্যাম আপনি যানেন না উনিই ডাক্তার ??আরে উনি ডা.নিভ্রনীল।
.
সাফা হা করে নিভ্রর দিকে তাকিয়ে আছে।এবার আবার ডাক্তার??সাফা অবাক হয়ে বলে উঠে.....
---এই আপনি কি দশভুজা?? কত কিছু করেন আপনি??একবার ভিলেন,একবার মডেল আর এখন ডাক্তার। হাউ ক্যান দিস পসিবল?? কেমনে??
নিভ্র সাফার চোখ বড় করা দেখে হালকা হাসে। যা দেখে দিয়ার মুখ হা হয়ে যায়।তার তিন বছরের চাকরিতে সে কখনো নিভ্রনীলকে কোনো মেয়েকে দেখে হাঁসতে দেখেনি।নিভ্র বাচ্চাটাকে দিয়ার কোলে দিয়ে বলে উঠে......
---"দ্রুত জরুরি বিভাগে নিয়ে যাও আমি আসছি"
.
দিয়া হাটাঁ দেয় বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে আর বারবার পিছনে ঘুড়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে।তার তো মাথায় ডুকছেনা এই ভয়ঙ্কর প্রানি নিভ্র বিনা করানে নোটিশ ছাড়া হসলো কেমনে??ভায়াবহ ব্যাপার।এটা নিয়ে আজ সবার সাথে একটা সমালোচনার পাহাড় তৈরি করা যাবে।নিভ্র এ্যাফ্রোনের নিচ দিয়ে প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে সোজা হয়ে বলে......
---"বাচ্চাটার ফ্যামিলি মেম্বর কোই??"
---"আমি কি যানি??"আমি তো ওকে রাস্তায় পেয়েছি।এসব ছাড়েন শুধু এটা বলেন আপনি সত্যিই ডাক্তার???
--"তোমার এখনো সন্দেহ আছে??"(ভ্রু কুঁচকে বলে উঠে)
---"হুম আছে"
---"হোয়াট?? "
---"না মানে আপনি একজন হয়ে এত কিছু কিভাবে করেন সেটাই সন্দেহ হচ্ছে। আর কি কি পেশায় আপনি নিয়জিত আছেন বলবেন??? "
---"তোমার মনে হয় আর কয়টা বাকি আছে??"
---"মনে তো হয় আরো দশ বারো টা"
.
নিভ্র আবার মুখ টিপে হাসলো।তারপরে পিছনে ঘুড়ে বলে..
---"আর নেই"
--"আপনার বাকি পেশা গুলোর মাঝে এটা সুন্দর বেশি তাই আজ থেকে আপনার নাম চেঞ্জ করা হলো"
নিভ্র আবার পিরে তাকায়।তাকিয়ে বলে.....
---"তা কি নাম দিবে এবার??"
---ভিলেন বাদ,মডেল ফডেলও বাদ শুধু ডাক্তার সাহেব...
.
বলেই একটা মিষ্টি হাসি দেয়।নিভ্র অদ্ভুত নজরে দেখে সেই হাসি।মুখের চারপাশে চোখ বুলিয়ে গালের টোলটা খুঁজে।কিন্তু ব্যর্থ হয় সে।চোখমুখ না খিঁচলে বা দাঁত বের না করলে সাফার টোল দেখা যায় না।নিভ্র ডান হাত দিয়ে সামনের চুলগুলো পিছনে নিলো।সবুজ চোখগুলো সরু করে সাফার দিকে তাকালো।কিছুক্ষণ তাকিয়েই পিছনে ঘুড়ে সামনে হাটাঁ দেয়।সাফা সামনে আসা চুলগুলো হাত দিয়ে সরাতেই ভিঁজা ভিঁজা লাগে হাতটা সামনে এনে রক্তাক্ত হাত দেখেই সাফার মাথা ঘুড়ে উঠে ঘামে তার কপাল ভিজেঁ উঠে।হঠাৎ চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে।আজ দুপুরে সে লাঞ্চ করেনি।বাবা বাসায় ছিলোনা আর তার বাবা না থাকলে তার খেতে ভালো লাগে না।সব মিলিয়ে শরীর দূর্বল থাকায় সাফা ধাম করে সেন্সলেস হয়ে পড়ে যায়।নিভ্র অনেকটাই চলে এসেছে পিছনে কিছু পড়ার হালকা আওয়াজে নিভ্র পিছনে ঘুড়েই সাফাকে দেখলো না। নিচের দিকে তাকিয়ে সে চকিতেই সাফার কাছে গেলো।ডান হাত ধরে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে পাল্লর্স রেট চেক করলো।খুব ধীর গতি দেখেই বুঝতে পারে দূর্বলতাটা।নিভ্র চারপাশে একবার তাকালো।একবার ভাবছে কোলে তুলে নিবে আবার কেনো যেন নিতে পারছে না।তবুও সব কিছু উপেক্ষা করে সাফাকে কোলে তুলে নিলো।সাথে সাথে নিভ্রর হার্ট দ্রুত গতিতে চলতে শুরু করে।নিঃশ্বাস দীর্ঘ হয়ে আসে।নিভ্র চোখ বুজে কয়েকটা নিঃশ্বাস নিলো।জীবনে প্রথম সে এমন কম বয়সের কোনো যুবতীকে কোলে নিয়েছে।তার মত স্ট্রং লোকেরও কাঁপাকাঁপি হচ্ছে ভাবতেই তার অবাক লাগে।নিভ্র সাফাকে বেডে শুয়ে দিল।এক হাতের রক্ত পরিষ্কার করে দিল।নার্সকে সেলাইন নিয়ে আসতে বললো।স্যালাইন আনতেই ডান হাতে লাগিয়ে দিলো।নার্স অবাক হয়ে দেখছে।বয়স্ক হওয়াই তার অদ্ভুত লাগছে ব্যাপারটা।নিভ্র সাধারনত মেয়েদের থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রাখে।এখানে নিজের রুমের চেকআপ বেডি শুয়ে দিয়েছে।ব্যাপারটা ভিন্ন তবুও নিভ্র রোগীদের প্রতি যত্নবান ভেবে তিনি এড়িয়ে গেলেন।নিভ্র নিজের রুম থেকে বেড়িয়ে গেল।মনে মনে একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলে উঠে....
---"কি হচ্ছে তোর নিভ্র??"এভাবে ড্যাসপারেট হওয়ার মত কিছু নেই। কুল কুল।
.
নিভ্র বাচ্চা মেয়েটার মাথায় ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে।তাকে একটা কেবিনে রেখেছে।রক্ত একটু বেশিই গেছে তাই তাকে এক ব্যাগ রক্তও দিতে হয়েছে।সাফার জ্ঞান ফিড়তেই নিজেকে এভাবে বেডে দেখে সে একটু ভয় পেয়ে যায়।সুই স্যালাইন, ইনজেকশন এসবে তার ভয় হয় খুব।আর হসপিটাল তো তার সবচাইতে অপছন্দের জায়গা।সাফা উঠে দাড়িয়ে পড়ে।স্যালাইনটা হাত থেকে কিভাবে খুলবে ভেবে পাচ্ছেনা।তাই সম্পূর্ণ স্যালাইন নিয়েই হাটাঁ দেয়।এক হাতে স্যালাইন ব্যাগ নিয়ে সাফা নিভ্রর রুমে ঘুড়ছে।এত এত ডিগ্রি আর প্রাইজ দেখে সে মনে মনে বলে উঠে........
---"বাপরে বাপ কি ব্রিলিয়েন্ট। এত জ্ঞান রাখে কোই??সব সময় তো দেখি রামগরুড়ের ছানা হাসতে তার মানা হয়ে ঘুড়ে বেড়ায়।আক্রুড় মত।
.
সাফা দুষ্টু বুদ্ধি নিয়ে নিভ্রকে নকল করা শুরু করে.......
---"এই মেয়ে সমস্যা কি??তুমি বেশি কথা বলো??চুপ করো তা না হলে ফেলে দিবো!!
সাফা নিভ্রর এ্যাফ্রোনটা গায়ে জড়িয়ে নেয়।বেশ কষ্ট হয় তার।ব্যাথাও পায়।তবুও এ্যাফ্রোনটা পড়ে স্টেথোস্কোপ কানে দিয়ে রোগী দেখার ভঙিতে বলে উঠে.......
---"কি সমস্যা আপনার"(নিভ্রর গলা নকল করে)
নিজেই আবার রোগীর জায়গায় জবাব দেয়....
---"পেটে ব্যাথা"।
---"প্যারাসিটেমাল দুই বেলা খাবেন ভালো হয়ে যাবে।আর আপনার কি সমস্যা।"
---জ্বর
---প্যারাসিটেমাল তিন বেলা খাবেন। আর আপনার??
---মাথা ব্যাথা
---প্যারাসিটেমাল চার বেলা।সকালে, দুপুরে, বিকেলে,আর রাতে।
.
বলেই হি হি করে হেসেঁ উঠে।সাফা এ্যাফ্রোনটা পড়ে নাচতে নাচতে সামনে তাকিয়ে থ হয়ে দাড়িয়ে যায়।তাড়াতাড়ি নিজের গায়ের এ্যাফ্রোনটা নিয়ে টানাটানি করছে।নিভ্র বুকে হাত গুঁজে দরজায় ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।তার প্রচণ্ড হাসি পাচ্ছে।আর মনে মনে ভাবছে এই মেয়ে ডাক্তার হলে সব রোগী মারা পড়তো। সব রোগের জন্য প্যারাসিটেমাল দিয়ে দিবে।তাও তিন বেলা।সাফা ভয়ে এ্যাফ্রোনটা খুলতে যাচ্ছে তাই হাতের স্যালাইনের কারনে ব্যাথা পাচ্ছে।নিভ্র বুকের হাতগুলো নামিয়ে নেয়।সোজা হয়ে সাফার সামনে এসে দাড়ায়।সাফার হাতগুলো এ্যাফ্রোন থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ধীরে ধীরে হাত দিয়ে সাফার গাঁ থেকে এ্যাফ্রোনটা খুলে দেয়।কান থেকে স্টেথোস্কোপটাও খুলে পাশের টেবিলে রেখে দেয়।সাফা অবাক হয়ে দেখছে।সে ভেবেছে তাকে আজ বেশ ঝাড়ি খেতে হবে। ভাগ্য ভালো এমন কিছুই হয় নি।নিভ্র এবার সরু চোখে তাকিয়ে বলে......
---প্যারাসিটেমাল যদি সব রোগের ঔষুধ হয় তবে আমাদের মতো ডাক্তারের প্রয়োজন ছিলো না।ভাগ্যিস তুমি ডাক্তারি পড়নি।তা না হলে রোগীরা এমনেই মারা যেতো।যে হারে প্যারাসিটেমল দুই বেলা তিন বেলা চার বেলা করছো হার্ট অ্যাটাক করলেও তুমি এই প্যারাসিটেমাল দিতে।মাই গড
.
বলে হালকা মাথা ঝাঁকিয়ে হেঁসে উঠে।সাফা সব ভুলে অপলক তাকিয়ে আছে।সে জানতোইনা এই গোমড়া মুখো ছেলেটা হাঁসতেও পারে।আর হাসলেও একে এতো সুন্দর লাগে??ভাবা যায়।সাফা অবাক হয়ে দেখছে।সাফাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে নিভ্র হাসি থামিয়ে দিল।সাফার ভাবনার ইতি হলেই সে বলে.........
---"মেয়েটা কেমন আছে??"
---ভালো আছে।
---"দেখা করতে পারি??"
---চল আমার সাথে।তবে তার আগে তোমার স্যালাইন খুলে দি।তা না হলে স্যালাইন প্রায় শেষ যে কোনো সময় রক্ত উঠে যেতে পারে।এদিকে এসো।"
সাফা লাফিয়ে দু কদম দুরে গিয়ে করুন সুরে বলে উঠে.......
----"না না খুলতে হবে না।ব্যাথা পাবো।প্লিজজজ"
---খুলতে হবে না মানে কি??এটা না খুললে তোমার হাতের রক্ত স্যালাইনের নলে উঠে যাবে।এদিকে এসো মানে এসো।ফাইজলামি করবা না।
---দেখেন আমি কি আপনাকে এটা লাগাতে বলেছি??না তো আপনি নিজেই লাগিয়েছেন। এখন আমি খুলতে চাই না তাই খুলবো না।প্লিজজজ আপনি এটা খুলিয়েন না।যানেন কত ব্যাথা হবে??আউ আমার তো এখনই কষ্ট হচ্ছে।
সাফার কথা শুনে নিভ্র বিরক্ত হলো।একপা দু পা করে এগিয়ে গেলো সাফার কাছে।এক টানে ওকে নিজে কাছে এনে।কোমড় জড়িয়ে নিতেই সাফা যেনো অকাশ থেকে পরেছে।এমন করে তাকিয়ে আছে।চোখ বড় বড় হয়ে গেছে।নিভ্র এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে হাতের স্যালাইনটা খুলে দিতে সাফা ব্যাথা পায়।ব্যাথার কারনে সাফার চোখে পানি চলে আসে।নিভ্র বলে.....
---"কিছুক্ষণ পরেই ভালো হয়ে যাবে।এখন কান্নাকাটি করবে না।ঝগড়ায় তো এক নাম্বার আর সামান্য সুইকে ভয় পাও।আজব মেয়ে তুমি।আমি তো তোমাকে সাহসি মনে করেছি।যেভাবে সবার সামনে আমার মাথা ফাটিয়েছ!!এভাবে তাকাবে না।চলো মেয়েটার কাছে।
নিভ্র মনে মনে হাসলো।সাফার এমন মুখ ফুলানো দৃশ্য দেখে তার ভালোই লাগে সাথে হাসি পায়।পরক্ষনেই আবার নিজেকে সামলে নেয় নিভ্র।
.
সাফা বাচ্চা মেয়েটার সাথে কথা বলছে।তাকে গল্প শুনাচ্ছে।নিভ্র সোফায় বসে দেখছে ওদের।সাফা হাত নাড়িয়ে গল্প বলছে।নিভ্র স্থির দৃষ্টি দিয়ে রেখেছে তাদের দিকে।হঠাৎ একটা মহিলা হাউমাউ করে কেঁদে রুমে ডুকে পরে।সাফা নিভ্র দুজেই অবাক হয়।সাফার হাতের ভাজ থেকে বাচ্চাটা চেঁচিয়ে বলে.........
---"আম্মু আম্মু আমি এখানে তুমি কোথায় ছিলে??"
সাফা বুঝতে পারে বাচ্চাটার মা এ।সাফা সরে উনাকে জায়গা করে দেয়।আর মুচকি হেঁসে নিভ্রর পাশে বসে পরে।নিভ্র কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বুঝতে পারে এরা মা মেয়ে।সাথে সাথে তার মাথার রগ গুলো ফুলে উঠে।মনে মনে বলে....কেমন মা মেয়েকে রাস্তায় একা রেখে ঘুড়ে। নিভ্র বিরক্তির সাথে রাগ নিয়ে মহিলাটাকে কিছু বলবে বলে বসা থেকে উঠে দাড়ায়। সাফা নিভ্রর হাত ধরে বসিয়ে দেয়।আর তাদের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে..............
---"🍁
মায়ের গায়ে স্পেশাল একটা গন্ধ থাকে বুঝলেন সে গন্ধ শুধু সন্তানরাই পায়। আমি যখন ভূতের মুভি দেখে তার কোলে গুটিশুটি মেরে জড়িয়ে ঘুমাতাম তখনই এটা পেতাম......মা তো জোনাকির আলোর মতই আমাদেরকে আলোকিত করে..........দেখেন বাচ্চাটা এতক্ষণ চুপ করে ছিলো।কিন্তু মাকে পেয়ে সে ব্যাথা ভুলে তার সাথে কেমন হেঁসে হেঁসে কথা বলছে।কত খুশি দেখাচ্ছে।মাকে জড়িয়ে গায়ের ঘ্রান নিচ্ছে।
নিভ্র সাফার দিকে তাকিয়ে আছে।মায়ের সম্পর্কে বলা কথাগুলো তার কলিজা ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে। চোখ ভিজেঁ আসছে।হঠাৎ পুরনো কথা মনে হতেই সে সাফার হাত ঝাড়ি দিয়ে উঠে দাড়ায়।বাচ্চাটাকে আর তার মাকে একবার দেখে কাঁচের গ্লাস ঠেলে বেড়িয়ে যায়।সাফা অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে নিভ্রর পিছনে ছুট লাগায়।নিভ্র সোজা নিচে চলে যায়।হসপিটালের সামনে বিশাল বাগান।ফুলের গাছে ভরপুর জায়গাটা।বাগানের পাশেই পার্কিং এরিয়া।নিভ্র বাসায় যাবে বলে সেদিকে হাটাঁ দেয়।এখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে।এই দিকটার লাইটগুলো এখনো জ্বালান হয়নি।নিভ্র এগোতেই সাফা ওর হাত ধরে ফেলে।রাগি রাগি গলায় হাঁপাতে হাঁপাতে বলে......
---আপনি কি মানুষ বলেন তো??আমার কিন্তু সন্দেহ আছে।মনে হয় এলিয়ে টাইপের কিছু হবেন।তা না হলে এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে নিচে নেমে এলেন???
---"তুমি হয়তো যানো না লিফট আছে হসপিটালে। আমি লিফট দিয়েই নেমেছি।আর রাত হয়ে এসেছে প্রায় বাসায় যাও।"
---আরে দাঁড়ান না।এই বাগানটা সুন্দর তো!!এটার চাইতে বড় কথা ওই বাচ্চাটার সাথে দেখা না করে চলে এলেন যে??ওকে বাই তো বলে আসতে পারেন??চলেন?
---না বাই বলতে হবে না।মুড নেই।আমি বাসায় যাবো।আর বকবক না করে যাও এখান থেকে।
সাফা গাল ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে পরে।এই লোক এমন কেনো??একটু নরমাল বিহেভ করলে কি হয়।সাফা চারপাশে চোখ বুলাতেই চেঁচিয়ে উঠে।নিভ্র এমন চেঁচামিচি শুনে দ্রুত সাফার কাছে এসে দাড়ায়।সাফা খুশিতে গদগদ হয়ে হাত দুটো একসাথে মুষ্টি বদ্ধ করে বলে.......
---ওয়াওওও জোনাকির আলো
নিভ্র ঘুড়ে দাঁড়ালো। সামনে তাকিয়ে দেখে সারা বাগান জোনাকির আলোতে আলোকিত হয়ে আছে।নিভ্র আবার সাফার দিকে তাকালো।সাফার গায়ে এসে জোনাকি বসছে।সাফাকে জোনাকিরা নিজের আলো দিয়ে আলোকিত করছে।হলুদ আলোয় আলোকিত। নিভ্র অবাক হয়ে দেখছে।তার মনে হচ্ছে তার সাথে কিছু একটা হচ্ছে। ভয়ঙ্কর কিছু হচ্ছে।হঠাৎ সে সাফার পিছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পরে।এক হাত সাফার কোমড়ে রেখে আর এক হাত সাফার ডান হাতে রাখে।সাফা চকতেই তাকায়।তার সারা শরীরে শিহরণ দিচ্ছে মনে হয়।সাফা ঘাড় ঘুড়িয়ে তাকায়।নিভ্র ইশারায় চুপ থেকে সামনে তাকাতে বলে।সাফা চোখ সরিয়ে সামনে তাকায়।নিভ্র সাফার ডান হাতের পিঠ নিজের ডান হাতে নিয়ে তা সামনে লম্বা করে বাড়িয়ে দিলো।সাথে সাথে একঝাঁক জোনাকি উড়ে এসে সাফার হাতে বসে।সাফা তো খুশিতে নেচেদিবে টাইপের অবস্থা।সাফা ঘুড়ে নিভ্রর দিকে তাকায়।নিভ্রও তাকায়।দুজন দুজনের চোখে অদ্ভুত ভাবে হারায়।নিভ্রর সবুজ চোখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সাফার নীলাভ চোখ।নিভ্রের মনে হচ্ছে আর বেশিক্ষণ থাকলে না জানি কি হয় তাই ধীরে হাত সরিয়ে নিয়ে দুরে দাড়ায়।সাফা জোনাকি গুলোর দিকে তাকায়।তার চোখে মুখেও জোনাকি উড়ে এসে বসছে।সাফা মুখ কুঁচকে আছে।আবার সেই টোল দৃশ্যমান হয়ে উঠে।জোনাকির আলোতে তা আরো সুন্দর দেখাচ্ছে।নিভ্রর ইচ্ছে করছে এবার হাত রাখতে সেই ভয়ঙ্কর গর্তে।নিভ্র মনের অজানতেই পকেট থেকে মোবাইল বের করে কিছু ছবি তুলে নেয়।সাফা জোনাকিগুলো নিয়ে খেলছে।এদিক ওদিক ঘুড়ছে।এবার কিছু জোনাকি মুঠোয় ভড়ে নিভ্রর সামনে দাড়ায় নিভ্র তখন চকিতে ফোনটা পকেটে ডুকিয়ে নেয়।তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে চুরি করেছে।সাফা ভ্রুকুঁচকে বলে......
---কি করছেন??আপনাকে দেখে কেমন চোর চোর গন্ধ আসছে।
নিভ্র মনে মনে আওড়ায়.....
---আমি কি সত্যিই চুরি করেছি??নাকি আমার গুরুত্বপূর্ণ কিছু চুরি হয়েগেছে??
সাফার দিকে রাগ মিশ্রিতো চোখে তাকাতেই সাফা বলে.....
---"আরে মজা করছিলাম।এত বড় ডাক্তার সাহেব কি চুরি করতে পারে আবার আপনি দশভুজা। যাই হোক হাতের দিকে তাকান।
নিভ্র ভ্রুকুঁচকাতেই সাফা শাসনের সুরে বলে.....
---এভাবে তাকাচ্ছেন কেনো??সুন্দর করে তাকান।
নিভ্র ভ্রু ঠিক করে তাকাতেই সাফা তার হাতের একঝাঁক জোনাকি ছেড়ে দেয়। জোনাকিগুলো নিভ্রর গায়ে মুখে আছড়ে পরে।আর সাফা খিলখিল করে হেসেঁ বলে.....
---অন্ধকার জায়গাটাকে...আলোকিত করতে তো বেশি কিছু না একঝাঁক আলোই যথেষ্ট.. আর তা যদি হয় জোনাকির আলো তবে তো আর কথাই নেই..জোনাকির সোনালি আলোয় ডেকে যাবে অন্ধকার......🍁
.
#চলবে................🍁
কালকের পর্ব পড়ে অনেকেই বলছে বুঝতে পারছি না।এটা কি হল???আসলে ৮তম পর্ব ছিল বর্তমান আর ৭তম পর্ব পর্যন্ত ছিল অতীত।আর আজকের এই পর্ব থেকে আবার অতীত শুরু।আলাদা ভাবে গল্প লেখতে পছন্দ করি তাই এভাবে সাজিয়েছি।গল্প শেষ পর্যন্ত না পড়লে সব বুঝা মুশকিল হয়।আর আমি দ্রুত গতিতে হেন তেন লিখে গল্প আগাতে পাড়ি না।তাই একটু ভেবে ভেবে লিখি।সবার মত প্রথম পার্টেই বর্তমান টেনে আনিনি।একটু ভিন্ন হতে চেয়েছি।আর আপনারা যারা আমার আগের গল্প পড়েছেন তারা জানেন আমি ভিন্ন ভাবে লিখতে পছন্দ করি।যদিও কিছু জিনিস হালকা মিলে তবে কখনোই বেশি মিল রেখে আমি গল্প লেখি না।গল্প পড়তে থাকেন। যাদের কাছে জগাখিচুড়ি লাগছে তারাও বুঝতে পাড়বেন।গল্প মানেই হাসি থাকবে, প্রেম থাকবে,ভালোবাসা থাকবে,বিরহ থাকবে,কষ্ট থাকবে,মান অভিমান থাকবে, কান্না থাকবে।এটাই স্বাভাবিক। সব গল্পে যদি নায়ক নায়িকাকে ভালোবাসার নামে অত্যাচার করে তবে আর এটা ভালোবাসা না।এই কারনেই আমি আমার #ভয়ঙ্কর_ভালোবাসা গল্পটা লিখা বন্ধ করে দিয়েছি।ভালোবাসার মানুষকে ভালোবেসে আপন করতে হয় জোড় করে না। কিন্তু ওই গল্পটা আমি বাকি অনেকের মত লিখে ফেলেছি।প্রথমে আমি অত বুঝে লিখতে বসিনি।সবাই ওই রকম গল্প পড়ে তাই লিখেছি।কিন্তু এখন আমার মনে হচ্ছে ভুল করেছি তাই লেখা বাদ দিয়েছি।এই ভুলটাও আপনাদের মত পাঠকের কাছে শিখা।তাই ভুল ধরবেন। অপমান করে নয় ভালোবেসে শিখাবেন।আমি শিখবো।শিখতে চাই।শিখার কোনো বিকল্প নেই।আমি আমার ছোটদের কাছে থেকেও শিখতে চাই।পৃথিবীর সবার মাঝেই গুন থাকে।তাই সবার কাছেই শিখা যায়।
ভুলগুলো আল্লাহর দেওয়া মহান গুন ক্ষমার চোখে দেখবেন........🍂
Love
আমি শুধু তোমাকেই চেয়েছি
পর্বঃ১৭
সুমাইয়া
গাড়িতে বসে আছে সাজ্জাদ, তিতলি আর কনিকা। কনিকা তো তখন থেকে বকবক করছে,,,কিন্তু তার দিকে তিতলির বিন্দু মাত্র খেয়াল নেই। সে আপন মনে বাইরে তাকিয়ে আছে মন খারাপ করে। যা সাজ্জাদের চোখ এড়ায় নি। তাই সাজ্জাদ তিতলির মন ভালো করার জন্য বলল,
সাজ্জাদ: কেউ কি আমার সাথে আইসক্রিম খেতে যাবে?(আড়চোখে তিতলির দিকে তাকিয়ে)
তিতলি বুঝতে পেরেও কোন উত্তর দেয় নি। কিন্তু কনিকা লাফিয়ে বলে উঠলো,
কনিকা: ভাইয়া তুই আইসক্রিম খেতে নিয়ে যাবি? জানিস আমার আর তিতলির একই ফ্লেবার পছন্দ। এই তিতলি চুপ করে আছিস কেন?
তিতলি: কিছু না। আমি আইসক্রিম খাবো না। তোদের ইচ্ছে হলে খা।
সাজ্জাদ: ওকে বুঝতে পেরেছি।
সাজ্জাদ আইসক্রিম কিনে কনিকাকে ধরিয়ে দিলো। আর কনিকাকে বাসায় ড্রপ করলো। যাওয়ার আগে কনিকা সাজ্জাদকে বলল,
কনিকা: এই ভাইয়া! তুই এখন তিতলিকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আয়। মেয়েটার মন ভালো না। বুঝতে পেরেছিস?
সাজ্জাদ কিছু না বলে মুচকি হেসে তিতলিকে নিয়ে চলে যায়। তিতলির মন খারাপ থাকার কারণে আর ভালো করে দেখেনি কোথায় যাচ্ছে! গাড়ি থামায় তিতলি একবার সাজ্জাদের দিকে তাকিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখে এটা সেই জায়গা যেখানে তিতলি আর সাজ্জাদ দুজনেই মন খারাপ হলে আসে। তিতলি অবাক চোখে সাজ্জাদের দিকে তাকায়। সাজ্জাদ চোখের ইশারায় তিতলিকে নামতে বলে। তিতলি সাজ্জাদের কথা মতো নেমে দাড়ায় আর সাজ্জাদও গাড়ি লক করে আসে। তিতলির কাছে এসে ওর হাত ধরে নদীর পাড়ে নিয়ে আসে। নদীর পাড়ে সারি সারি কাশফুল ফুটে আছে। একপাশে বহমান নদী,,,, এ যেন এক প্রকৃতি অন্যতম সুন্দর অংশ। শুধু সাদা আর সবুজের সমারোহ। তিতলি মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে। আর তার দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে সাজ্জাদ। হঠাৎ সাজ্জাদের দিকে তাকিয়ে তিতলি লজ্জা পেয়ে গেলো তার চাহনি দেখে। তিতলিকে লজ্জা পেতে দেখে সাজ্জাদ হেসে দিলো।
সাজ্জাদ: যাবে আমার সাথে ওই নদীর পাড়ে হাত ধরে পা ভিজাতে??
তিতলি:(মুচকি হেসে) হুম যাবো!
সাজ্জাদ তিতলির হাত ধরে পানিতে পা ভিজিয়ে হাটতে লাগলো। অনেকক্ষন দুজনেই চুপ ছিলো,,,,, কিন্তু প্রকৃতি তার ছন্দ দিয়ে পরিবেশটা মুখরিত করে রেখেছে সাথে আছে আরো দুটি যন্ত্রের শব্দ যা একে অপরের কাছাকাছি আসায় এক ভিন্ন ছন্দের সৃষ্টি করেছে। আর তা হলো সাজ্জাদ আর তিতলির হৃদযন্ত্র। নিরবতা ভেঙে সাজ্জাদ বলতে লাগলো,
সাজ্জাদ: মিসেস ওয়াইফ! আপনার মন ভালো হয়েছে?(তিতলির দিকে পাশ ফিরে তাকিয়ে)
তিতলি:(সাজ্জাদের দিকে তাকিয়ে) হুম! একটু খারাপ আছে।
সাজ্জাদ: তা কি করলে আমার মিসেস এর মন ভালো হবে?
তিতলি কিছু না বলে শুধু হাসলো। কিন্তু সে হয়তো জানেনা সাজ্জাদ তাকে তার চেয়েও বেশি জানে। সাজ্জাদ তিতলিকে কিছু না বলে দোড়ে গিয়ে একগুচ্ছ কাশফুল নিয়ে এলো। এসে তিতলির দিকে তাকিয়ে হাটু গেড়ে তিতলির সামনে বসে পড়লো। তিতলি সাজ্জাদের কান্ড দেখে অবাক হয়ে গেছে। সাজ্জাদ তিতলির দিকে ফুলগুচ্ছ বাড়িয়ে দিয়ে বলতে লাগলো,
সাজ্জাদ: আমি তোমাকে তোমার চাইতেও বেশি জানি প্রিয়। হয়তো তা তোমার আড়ালে। তোমার ওই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ে অবাক হওয়া! তোমার ওই ফুলের সুবাস নেওয়া, সকালে ঠান্ডা হাওয়া গায়ে জড়িয়ে নেওয়া,, প্রতিটি বিষয় আমাকে মুগ্ধ করে। আমি তোমার সাথে সেই সকল মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই। দেবে কি আমায় অনুমতি??? চাই তোমার সাথে সকাল হওয়া দেখতে! দুজনে মিলে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হতে চাই! দেবে আমায় অনুমতি?? আমি তোমার ভালোবাসা নয় বিশ্বাস অর্জন করতে চাই। ভালোবাসা তো এমনেই দেবে। আমি তোমাকে খুব করে চাই। হবে আমার? আমি_শুধু_তোমাকেই_চেয়েছি। তোমাকেই চাই,,,,তোমাকেই চাইবো! দেতখন থেকে তিতলি ওই কাশফুলগুলো বুকের সাথে জড়িয়ে রেখেছে আর মুচকি মুচকি হাসছে। সাজ্জাদ তিতলিকে আড় চোখে তাকিয়ে দেখে গাড়ি চালানো শুরু করলো। গাড়িতে কেউ কোন কথা বলে নি। হয়তো বলতে চায় নি। কিন্তু দুজনের নিরবতা বলে দিচ্ছে অনেক কথা যা তারা মুখে না বলেও বুঝে নিচ্ছে। তিতলির বাড়ির সামনে এসে সাজ্জাদ তিতলির দিকে তাকালো। কিন্তু তিতলি তখনও ভাবলেশহীন ভাবে বসে আছে। তা দেখে সাজ্জাদ মৃদু হাসলো। সাজ্জাদ কিছু বলতে যাবে তার আগেই তিতলি বলে উঠলো,
তিতলি: ধন্যবাদ। (মুচকি হেসে)
সাজ্জাদ:(একটু হেসে) আমি এভাবে ধন্যবাদ নিই না।(দুষ্টু হেসে)
তিতলি:(অবাক হয়ে) মানে?
সাজ্জাদ: মানে আমার রিটার্ন গিফট চাই, তবেই ধন্যবাদ গ্রহণযোগ্য হবে।
তিতলি খুব ভালো ভাবেই বুঝলো সাজ্জাদ কোন জিনিষের কথা বলেছে! তাই চোখ বুঝে সাজ্জাদের গালে চুমু দিয়েই গাড়ি থেকে নেমে এক দোড়ে বাসায় চলে গেলো। আর সাজ্জাদ এখনো হা করে তিতলির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। ধ্যান ভাঙে তিতলির মেসেজে,
" আমার দিকে না তাকিয়ে সাবধানে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি যান। সবাই অপেক্ষা করছে। পরে কথা হবে।"
তিতলির মেসেজ দেখে সাজ্জাদ হেসে দিলো। আর মনে মনে বলল,
সাজ্জাদ: রাতের তো এমনেই খুব কস্টে ঘুমাতাম কিন্তু এখন তো তা হারাম করে দিলা তিতলি জান!!(বুকে হাত দিয়ে, মাথা সিটে এলিয়ে দিয়ে)
বলেই সাজ্জাদ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলো।
,
,
,
তিতলি ঘরে ঢুকতে না ঢুকতে তার বাবা সামনে হাজির। মুখে খুবই অদ্ভুত হাসি। যার কোন মানে তিতলি খুঁজে পাচ্ছে না। তাই বনিতা না করে তিতলি জিজ্ঞাসা করলো,
তিতলি: বাবা তুমি এখানে?
বাবা: সাজ্জাদ ভিতরে আসেনি?
তিতলি:(ভ্রু কুচকে) মানে? উনি কেন আসবে?
বাবা: হইছে আর নাটক করা লাগবে না। আমি দেখেছি তুই সাজ্জাদকে চুমু দিয়ে দোড় দিয়েছিস!(দুষ্টু হেসে)
তিতলি:(হা করে) বিশ্বাস করো তোমার সাথে আমার চেহারার মিল আছে দেখে বিশ্বাস করেছি তুমি আমার বাবা! নয়তো জীবনেও বিশ্বাস করতাম না।
বাবা: আহা! বলনা!(করুন সুরে)
তিতলি: মাম্মা!মাম্মা! (চিৎকার করে) দেখো তোমার হাসবেন্ড আমাকে জ্বালাচ্ছে। কিছু করো। প্লিজ!
তিতলি তার মাকে ডাকতে ডাকতে নিজের রুমে চলে গেলো। আর তিতলির বাবা বলছে,
বাবা: যাহ! চলে গেলো?(আহাম্মকের মতো)
,
,
,
,
,
সাজ্জাদ বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে তিতলিকে ফোন দিলো। আর ফোন পেয়ে তিতলির মুখে হাসি ফুটে উঠলো যেনো ও সাজ্জাদের কলের অপেক্ষায় ছিলো।
,,
,,
,,
(চলবে),,,,
ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন।
Love
গল্পঃ অপ্রাপ্তি
#
পর্বঃ১
লেখক:: রাইসার আব্বু
ছাত্রীকে অংক করতে দিয়ে, তার ইংরেজী বইটা হাতে নিতেই বই থেকে একটা ছবি নিচে পড়ে গেল। আমি ছবিটা, হাতে নিতেই দেখতে পারলাম,ছবিটা আমার ! ছবির নিচে ছোট্ট করে লেখা ' ভালবাসি তোমায়! ছবিটা যেখানে ছিল ঠিক সেখানেই রেখে দিলাম। কথা আড় চোখে তাকিয়ে আবারো অংক করায় মন দিল। এসির মাঝেও শরীরটা ঘামছে! কথার দিকে তাকিয়ে দেখি সে আজ নীল শাড়ি পড়েছে! দিন দিন মেয়েটার পাগলামি কেন জানি বেড়েই চলছে।
- স্যার এই নেন খাতা, অংক করা শেষ।
- অংক দেখছি।
- এমন সময় কথা বলল' স্যার আজ আমাকে কেমন লাগছে?'
- ভালো।
-শুধু ভালো আর কিছু না?স্যার আমাকে শাড়িতে কেমন লাগছে? সুন্দর না?
- অংকে দিনদিন খারাপ করছ তুমি। কিন্তু কেন?
- স্যার আপনাকে অংকের কথা বলিনি। স্যার আমার দিকে তাকান।
- হুম।কি বলবে বলো।
- আচ্ছা স্যার, পৃথিবীতে সকল মানুষ সমান তাই না?
- হুম সমান।
- স্যার সবাই যদি সমান থাকে, তাহলে ধনী হয়ে গরীবকে কেন ভালবাসা যায় না?
- কথা, তোমার না টেস্ট পরিক্ষা। তা কত তারিখ থেকে?
- স্যার আমার প্রশ্নের উওর পায়নি?
- এমন সময় কাজের মেয়েটা এসে চা আর পাঁচ-সাতটা বিস্কুট দিয়ে গেল! স্যার খেয়ে নিয়েন।
- আমি কাজের মেয়েটার দিকে তাকিয়ে মুঁচকি একটা হাসি দিয়ে চা'তে বিস্কুট ভিজিয়ে খেতে লাগলাম। কারণ প্রতিদিন, কয়েক প্রকারের বিস্কুট থাকলেও, আজ শুধু শক্ত টোস্ট বিস্কুট!
- কথার খুব রাগ হচ্ছে আমার সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। আমি চা'তে বিস্কুট ভিজিয়ে খেতে লাগলাম।
-হঠাৎ কথা আমার সামনে থেকে বিস্কুটের প্লেট'টা সরিয়ে নিল।
- আমি খানিকটা লজ্জা পেয়ে কথার দিকে তাকালাম।
-মেয়েটা আজ কাঁজল দিয়েছে। কালো পাড়ের নীল শাড়ি পড়েছে।কিন্তু কাঁজলটুকু তার চোখে ধরে রাখতে পারছে না। স্পর্ষ্ট দেখতে পারছি, কোন এক অজানা ঢেউ তার চোখের কাজলটুকু ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
- আজ আমি উঠি!এই বলে বের হয়ে আসলাম।
- কথা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল।
-আমি ফুটপাত দিয়ে হাটছি। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত আটটা বাজে ' প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছে। প্রতিদিন রাতে টিউশনীতে কিছু না কিছু খেতে দেয়। আর রাতে খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু আজ বড্ড বেশি ক্ষুধা পেয়েছে। পকেটে হাত দিয়ে দেখি ১৩০ টাকা আছে ভাবলাম ' ত্রিশ টাকায় কিছু খেয়ে নিব। এই ভেবে যখনি হোটেলে ঢুকতে যাবো তখনি, পকেটে থাকা ফোনটা বাজতে লাগল। সেই চেনা রিংটোন।
- ফোনটা বের করতেই দেখি বাবা ফোন দিয়েছে।
- ফোন রিসিভ করেই বললাম' হ্যাঁ বাবা বল।
- বাজান তুই কিভা আছিস?
- হ্যাঁ। বাবা ভালো আছি। তুমি কেমন আছ?
- হুম ভালাই। তোর মা'টার অসুখ বাড়ছে আবার। ওষুধ শেষ তো তাই।
- আচ্ছা বাবা কাল বা পরশু টাকা পাঠাবো কেমন?
- আইচ্ছা। বাজান তুই খাইছিস?
- হ্যাঁ বাবা তোমরা খাইছ?
- হুমম, বাজান তোর ছুটকি কথা বলবে তোর সাথে।
- আচ্ছা দাও তো ওকে।
-এই নে কথা বল।
- আসসালামু আলাইকুম, ভাইয়া কেমন আছ?
- হুম ছুটকি ভালো আছি। আমার কুটনি বুড়িটা কেমন আছে?
- তুমি আমাকে কি বললা ভাইয়া?
-কিছু বলিনি। আচ্ছা মহারাণী পড়ালেখা কেমন চলছে?
- ভাইয়া জান আমি ফাস্ট হইছি, অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায়। ভাইয়া স্কুলের সবার না নতুন জামা আছে, আমার নেই।
- আচ্ছা পরশু টাকা পাঠালে ওখান থেকে তোকে জামা কিনে দিবেনি কেমন? এবার মন দিয়ে পড়তে হবে কিন্তু।
- হুম ভাইয়া। বাবাকে ফোনটা দে।
- আচ্ছা।
- বাবার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে ফোনটা রেখে দিলাম। হোটেলে ঢুকতে গিয়েও ফিরে আসলাম। কেন জানি হোটেলে খেতে যেতে পারলাম না। রওয়ানা দিলাম মেসের উদ্দেশ্যে।
- এদিকে কথার কোন ভাবেই ঘুম আসছে না। কল্পনাকে ফোন দিয়ে অনেক গুলো ঝাড়ি দিল। কারণ কল্পনার বুদ্ধিতেই বইয়ের ভেতর ছবি রেখেছিল। কথা জানে স্যারের রাতের খাওয়ার টাকা থাকে না। থাকলেও খায় না বাড়ির কথা ভেবে। এমনিতেই আজ ফেলানিকে, শুধু টোস্ট-বিস্কুট দিতে বলেছে। তার উপর খাবার সামনে থেকে সরিয়ে নিয়েছে।
-আচ্ছা স্যার কি বুঝে না তাকে আমি ভালোবাসি। কেন আমাকে বুঝতে চাই না। কথা কিছু ভাবতে পারছে না বালিশে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে লাগে। ফেলানি এসে ডেকে গেল ডিনার করতে।
- কিন্তু কথা ভাবছে ' স্যার তো আজ খায়নি। আমি কিভাবে খাবো?
- হঠাৎ মনে পড়ে, রাতুল ভাইয়ার কথা। রাতুল ভাইয়া স্যারের রুমমেট। রাতুল ভাইয়াকে ফোন করে সব খুলে বলে।
- আচ্ছা তুমি চিন্তা করো না আর তুমি কাঁদছ কেন? রাজের খাওয়া নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। মেসে আসলে আমি ওকে খাওয়াবো।
- কথা ফোন কেটে দিয়ে আবারো চিন্তা করতে লাগল সত্যি তো খাওয়াবে?
- স্যারকে ফোন দিয়ে দেখি।
- আমি হেঁটে হেটেঁ প্রায় মেসের সামনে এসে পড়েছি এমন সময় ফোনটা বাজতে লাগল ' ফোনটা বের করতেই দেখি কথা ফোন দিয়েছে।
- আমি ফোনটা কেটে দিয়ে বন্ধ করে রাখি। কারণ আমি জানি বাস্তবতা কি। এটাও জানি মেয়েটা আমায় ভালবাসে বড্ড বেশি ভালবাসে। তার এলোকেশে যে কেউ নিজেকে হারিয়ে ফেলতে পারে। তার মায়াবি মুখটা দেখে মানুষ হাসতে হাসতে নিজের জীবন দিয়েও দিতে পারে। কিন্তু আমি পারি না। কারণ আমি যে শিক্ষক। আমি যে সবাইকে শিক্ষা দিব কোনটা ভালো কোনটা খারাপ।
ভালবাসা আমার জন্য নয়। কারণ যার টিউশনির টাকায় পুরো সংসার চলে। চলে নিজের পড়াশোনা। আমি চাই না কথার জন্য টিউশনিটা চলে যাক। কত কষ্ট করে ঢাকা ভার্সিটি চান্স পেয়েছি। বাবা-মা'র স্বপ্ন শিক্ষক হবো। আর অন্যদিকে কথা' ধনীর দুলালি। এইবার এইচএসসি দিবে। সোনার চামচ মুখে দিয়ে যে বড় হয়েছে।
- এদিকে মেসে আসতেই দেখি, রাতুল আমার বিছানায় বসে আছে। টেবিলে দেখলাম বিরিয়ানির প্যাকেট।
- দোস্ত আসছিস? যা ফ্রেশ হয়ে নে তোর জন্য ট্রিট আছে।
- হঠাৎ তোর আবার কি হলো? যে একটা চকলেট পর্যন্ত খাওয়াতে চায় না সে আবার আমাকে ট্রিট দিবে ব্যাপার কি?
- যা ফ্রেশ হয়ে আয়। আর শুন আজ জুঁইকে প্রপোজ করেছিলাম রাজি হয়েছে। তাই তোকে ট্রিট দিলাম।
- এদিকে ফ্রেশ হয়ে, রাতুলের দেওয়া খাবার খেয়ে নিলাম।
- খাওয়ার শেষ করতে না করতেই দেখলাম রাতুল কাকে যেন ফোন করে বলল' রাজ খেয়েছে তুমি চিন্তা করো না।
- রাতুল কথায় কিছুটা আঁচ করতে পারলাম। এ সব কথারই কাজ। কাল মেয়েটাকে বলতে হবে কিছু। পরের দিন সকালে বন্ধু ফয়সাল বললাম 'দোস্ত আমার একটা পার্ট টাইম চাকরির দরকার। টিউশনি দিয়ে চলে না। ফয়সাল যে কোম্পানীতে চাকরি করে সেখানে একটা আবেদন করতে বলল। বিকেল বেলা একটা আবেদন করে। সন্ধ্যায় পড়াতে গিয়ে দেখি, কথা পড়ার টেবিলে বসে আছে।
- আমি চেয়ার টেনে বসে বললাম। অংকতে পিছিয়ে পড়েছে। পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে হবে। এভাবে রেজাল্ট ভালো হবে না।
- কথা কিছু বলছে না। বুঝতে পারলাম কথা কাঁদছে' এই পর্যন্ত বলেই চুপ করে থাকলাম। চশমাটা খুলে চোখ দু'টি মুছে নিলাম। সেই বিশ বছর আগের ঘটনা। বুকের ভেতরটা কেমন যেন করছে। চুলগুলো পাক ধরেছে। আজ আমি বিসিএস প্রাপ্ত লেকচারাল। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষক।
- সমস্ত ক্লাসে পিনপিনে নীরবতা। সবাই নিশ্চুপ হয়ে শুনছে। এমন সময় ' হৃদয় নামে একটা ছেলে বলল' স্যার তার পর কি হলো? আপনি কি কথা ম্যাডাম কে পেয়েছিলেন? আচ্ছা স্যার আপনিও কি ম্যাডাম কে ভালবাসতেন।
আমি চশমাটা পড়ে আবারো বলতে লাগলাম'
যখন দেখলাম কথা কাঁদছে। তার কান্না গুলো কেন যেন সহ্য করতে পারছিলাম। আবার এটাও পারছিলাম না যে কথার চোখের পানিটা মুছে দেয়। কারণ শিক্ষকতা যে মহান পেশা।
- তাই কথাকে বললাম, আজ তাহলে উঠি, কাল আসব।
-না স্যার যাবেন না।
চলবে ''''
Love
গোধূলী_বেলায়_তুমি
পর্বঃ০৪
লেখাঃতাসনিম রাইসা।
'' আগামী সাতদিন তুমি আমার স্ত্রীর মতো হয়ে থাকবে। যা বলবো তাই করবে। '' ভয় পেয়ো না স্বামীর অধিকার চাইবো না। আর কোনদিন তোমার সামনে এ মুখ নিয়ে দাঁড়াবো না। আর হ্যাঁ আজ অফিস থেকে আসার সময় ডির্ভোস লেটার নিয়ে এসেছি। সাতদিন পর সই করে দিবো। এখন বলো তুমি শর্তে রাজি কি না?''
''আচ্ছা আমি তোমার শর্তে রাজি।''
'' তাহলে কাল সকাল থেকে সাতদিন শুরু।
" আচ্ছা, তবে আবারো বলে দিচ্ছি স্বামীর অধিকার তুমি কখনো পাবে না আমার থেকে।''
'' রাজ মুচকি হেসে বললো,' চিন্তা করো না ওসব কিছু করবো না। এখন ঘুমিয়ে যাও। ''
'' ফজরের আযানের সময় রাজ, জয়াকে ডেকে দিতেই জয়া বললো,' আমি নামায পড়বো না আমাকে ঘুমাতে দাও। কেন শুধু শুধু বিরক্ত করো?''
'' জয়া ভুলে যেয়ো না এ সাতদিন আমার কথা মতো চলবে। যাও অযু করে আসো। রাজ জয়াকে অযু করতে পাঠিয়ে দিয়ে নিজেও অযু করে নামায পড়ে নিন।
- সকালে জয়া যখন রান্না করছে, তখন রাজ জয়ার সাথে থেকে হেল্প করে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও জয়া এসব সহ্য করে যায়। আর মনে মনে ভাবে সাতদিনই তো। ''
- এদিকে প্রতিদিনের মতো, ' রাজ আজকেও অফিস থেকে আসার সময় বেলী ফুলের মালা নিয়ে এসে নিজ হাতে জয়ার খোঁপায় পরিয়ে দেয়! জয়া না করতে পারে না। ''
- রাতে জয়া আর রাজ ডিনার করতে বসছে। রাজ খেয়াল করলো জয়া খাচ্ছে না। '
- এই তুমি খাচ্ছো না কেন?''
- হাত কেটে গেছে দুপুরে ফল কাটতে গিয়ে। ''
- ওহ্ আচ্ছা তাই বুঝি? আচ্ছা হা করো। ''
-না আমি খেতে পারবো। আপনার খাইয়ে দিতে হবে না। ''
- এ সাতদিন কোন কৈফিয়ত শুনতে চাই না। হা করো, জয়া রাজের দিকে চেয়ে আছে এক দৃষ্টিতে আর খাবার খাচ্ছে।''
- তিনদদিন খুব ভালো কাটল। তৃতীয় দিন রাজ অফিসে এমন সময় বৃষ্টি নামল! জয়া ছোটবেলা থেকেই বৃষ্টি পাগল। বৃষ্টি শুরু হলেই, জয়া ছাদে গিয়ে ভিজতে লাগে। প্রায় ঘন্টাখানেক ভিজার পর রুমে এসে কাপড় চেঞ্জ করতেই। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এসে যায়!
রাজ বাসায় এসেই দেখে জয়া বিছানায় শুয়ে আছে। জয়াকে দু'বার ডাক দিতেও যখন বিছানা থেকে উঠছিল না তখন মাথায় হাত দিয়ে দেখে জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে!
রাজ কি করবে বুঝতে পারছে না। কিছুক্ষণ জলপট্টি দিয়ে দেখলো জ্বর কমছে না। তাই আর দেরী না করে রাতেই, হসপিটালে নিয়ে যায়। হসপিটাল দুই দিন রাজ জয়ার পাশেই থাকে। তিনটা দিন এক মুহূর্তের জন্যও রাজ জয়ার চোখের আড়াল হয়নি। জয়াকে খাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে মেডিসিন দেওয়া সব করেছে। দুই দিন পর হসপিটাল থেকে বাড়ি ফিরে আসে।
- বাড়ি ফিরার পর রাজ জয়াকে রান্না করতে দেয়নি। এদিকে রাজ রান্না করতে গিয়ে তার হাত পুড়ে ফেলে। এর আগে কোনদিন তো রান্না করেনি সে জন্য। দুপুরে রাজ যখন জয়াকে খাইয়ে দিতে যায়। তখন জয়া খেয়াল করে রাজের ডান হাতে ফুসকা পড়েছে অনেকগুলো। রাজকে জিজ্ঞেস করতেই বলে, ' ওই একটু খানি হাত তেলের ছিটা লেগেছিল। '' তুমি কিছু ভেবো না ঠিক হয়ে যাবে। আর হ্যাঁ তুমি তো গোসল করোনি। আমি পানি তুলে কাপড় রেখে আসছি তুমি গোসল করে আসো। ঠিকমত গোসল না করলে তো শরীর আরো খারাপ লাগবে।
- জয়া গোসল করে বের হতেই রাজ বিছানায় বসিয়ে, জয়ার মাথায় চুল আঁচড়ে তেল লাগিয়ে দেয়। জয়ার এসব সহ্য হয়না কিন্তু সহ্য করা ছাড়া এ মুহূর্তে কোন উপায় নেই। আর কয়েকটা দিনই তো মাত্র!
আর বাকি দু'দিন জয়া এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। এদিকে জয়ার দিনগুলি যেন যাচ্ছে না। আর মাত্র দু'টি দিন তারপরেই সে জারিফ কে পেতে যাচ্ছে! কিন্তু এ দু'টি দিন জয়ার কাছে দু'টি মাসের সমান লাগছে।
- দেখতে দেখতে ছয়দিন চলে যায়। আজকের রাতটা পেরুলেই কাল সকালে অপেক্ষার সাতদিন পূর্ণ হবে। রাজ জয়ার মাথায় হাত বুলাচ্ছে, জয়ার বড্ড রাগ হচ্ছে তবুও কিছু বলছে না। সে নতুন সকালের নতুন একটি সুন্দর ভোরের আশা করছে। যে ভোরে থাকবে না কোন খুনির ছায়া!
- এদিকে রাজ জয়ার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললো,' জয়া সত্যিই কি জারিফ আমার চেয়ে তোমাকে বেশি ভালোবাসে?'
- রাজ দেখলো জয়া ঘুমিয়ে গেছে। চাঁদের আলো জানালার কাচ ভেদ করে জয়ার মুখে পড়ছে। এমনিতেই রুপকথার রাজকুমারীর মতো দেখতে জয়া, চাঁদের আলোতে আরো বেশি সুন্দর লাগছে। রাজের মন চাচ্ছে জয়ার কপালের চুলগুলো সরিয়ে তার কপালে চুমু এঁকে দিতে। কিন্তু না।
- এদিকে জয়ার মাঝরাতে কারো কান্না শুনে ঘুম ভেঙে যায়! জয়া বুঝতে পারে পাশের রুমে কে যেন কাঁদছে। তাড়াহুড়া করে ঘুম থেকে উঠে পাশের রুমে উঁকি দিতেই দেখে রাজ জায়নামাযে বসে মোনাজাত ধরে কান্না করছে আর কি যেন বলছে।
- জয়া, একটু মনোযোগ দিয়ে শুনতে পেল। রাজ বলছে,' হে আল্লাহ রাত্রি যতই গভীর হয় ততই তোমার দরজা বান্ধার জন্য উন্মুক্ত হয়। তুমি না শেষ রাতে বান্দার ফরিয়াদ শোনার জন্য শেষ আসমানে আসো। ও আল্লাহ আমি আমার প্রিয়তমা স্ত্রীকে তোমার পথে আনার জন্য, চেষ্টা করেছি। হেদায়াত দানের মালিক তুমি। আমি আমার কর্মের জন্য তোমার কাছে তওবা করছি। ও আমার আল্লাহ তুমি জয়াকে আমার জন্য কবুল করে নাও। '' তুমি তো জানো কতটা ভালোবাসি আমি তাকে। তুমি তো সত্যিটাও জানো। ও আল্লাহ জয়াকে আমার করে দাও।''
-জয়ার কাছে রাজের কান্না অসহ্য লাগছে। তাই তাড়াতাড়ি বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল।
- রাজ সারারাত ওভাবেই কাটিয়ে দিল।
- সকাল বেলা ভোরের আলো পড়তেই জয়ার ঘুম ভেঙে যায়! ঘুম ভাঙতেই তার খুব খুশি লাগে। আজ থেকে সে মুক্ত। কিন্তু কোথাও রাজকে দেখতে পাচ্ছে না। রাজ কী তাকে ডির্ভোস দিবে না? হঠাৎ খেয়াল করলো টেবিলের উপর ডির্ভোস পেপার। তার পাশেই একটা চিরকুট। জয়া দেখলো ডির্ভোস পেপারে রাজ সাইন করে দিয়েছে। সাইনটা দেখেই ঈদের চাঁদ দেখার আনন্দ হচ্ছে। ডির্ভোস লেটারের পাশে থাকা চিরকুট খুলে পড়তে শুরু করলো '
তোমাকে কি বলে সম্বোধন করবো সে ভাষা আমার জানা নেই,
আজ থেকে তোমার প্রতি আমার কোন অধিকার রইল না। আজ থেকে তুমি মুক্তি। তুমি তো এটাই চেয়েছিলে। আজকের পর থেকে আর কেউ বেলী ফুলের মালা নিয়ে এসে তোমাকে বলবে না ভালোবাসি। বলবে না তোমাকে নীল শাড়িতে অনেক সুন্দর লাগে। আর কেউ তোমাকে জোর করে খাইয়ে দিবে না। আর কেউ হয়তো তোমার জন্য হাত পুড়ে রান্না করবে না। বলবে না নামায পড়তে। জানো খুব করে চেয়েছিলাম জান্নাতে তোমাকে নিয়ে একসাথে থাকতে। জানি তোমার রাত্রে উঠতে কষ্ট হতো, তারপরেও সাতটা দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ানোর চেষ্টা করেছি।
জানো জয়া আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসতাম, তুমি যতক্ষণ আমার পাশে থাকতে মনে হতো পুরো পৃথিবীটাই আমার পাশে। কিন্তু আমি এ জিনিসটা বুঝতাম না জোর করে ভালোবাসা হয় না। তুমি তো আমাকে ভালোবাসতে একটা সময় কলিজা ছাড়া ডাকতেই না। কিন্তু আজ বুঝতে পারলাম তুমি আমাকে ঘৃণা করো প্রচন্ড ঘৃণা করো। আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো জোর করে তোমাকে বিয়ে করার জন্য। আর হ্যাঁ আজকের পর থেকে বিরক্তিটা আর কোনদিন তোমার সামনে আসবে না। ভালো থেকো। আর হ্যাঁ তুমি না বলেছিলে,' কবুল কবুল কবুল তিনবার বললেই বিয়ে হয় না? ' তুমি হয়তো ভুলে গেছো বিয়ে হয় আল্লাহর পবিত্র কালাম পড়ে। আর পবিত্র কালামের একটা বন্ধন থাকে। এ বন্ধনটাই একদিন তোমাকে খুব করে কাঁদাবে।
ভালো থেকো বিরক্তিটা আর তোমার জীবনে আসবে না।
- চিঠি পড়া শেষ হলেই, জয়ার চোখের সামনে তার বোনের সুসাইড করার চেহারাটা ভেসে উঠল। জয়া মনে মনে বললো,' যাক অবশেষে খুনির হাত থেকে বাঁচলাম।''
- জয়া ডির্ভোস লেটার টা নিয়ে সোজা জারিফের বাসায় চলে যায়। জারিফের রুমের কাছে যেতেই শুনতে পায়,
-আরে কি বলিস ওই বিয়ে করা মেয়েকে আমি আবার বিয়ে করবো? শুনেছি আজ ডির্ভোস নিবে। ভাবছি হোটেলে নিয়ে ব্যবহার করে ছেড়ে দিবো। মেয়েটা সুন্দর তাই একটু বেশিই সময় দিতে হচ্ছে। ''
- আরে দোস্ত তুই একলাই খাবি না কি? আমাদের নিবি না?
- আরে তোরাও আসিস, আগে আমি যাবো তারপর তোরা। আর হোটেল বুক করার টাকা কিন্তু তুই দিবি।''
-জারিফের কথা শুনে জয়ার পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। জারিফ তাকে নয় তার শরীরটাকে ভালোবাসে। জয়া জারিফের সাথে কথা না বলেই তার বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বাসা থেকে বের হতেই ফোনটা ক্রিং ক্রিং করে বেজে উঠে,' ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একটা মেয়ে বলে, ' আপু আপনি একটু ইবনেসিনা হসপিটালে দেখা করেন। ''
- জয়া হসপিটালে গেলে নার্স একটা রোগীর সামনে নিয়ে যায়। বিছানায় শুয়ে আছে মুখে অক্সিজেন মাক্স থাকা সত্ত্বেও লোকটাকে চিনতে ভুল হয় না জয়ার এটা আপুর ফেন্ড হাবীব!
- জয়াকে দেখেই হাবীব বললো,' আমি আর বাঁচবো না হয়ত। তাই সত্যিটা বলে যেতে চাই। তোমার আপু সুসাইড করিনি, আমি ধর্ষণ করে মেরেছি। ''
''' চলবে'''''''''''
Love
গল্পের নাম:#♥অচেনা ক্লাসমেট😍
writer:Akash hossain
পর্ব ৬__
(আগের পর্ব গুলা আমার টাইমলাইনে দেওয়া আছে)
আব্বু আম্মুর এইসব কথা শুনে আমি অনেকটা হকচকিয়ে গেলাম।
আমি কখনওই ভাবতে পারি নাই যে আব্বু আম্মু এই সিদ্ধান্ত নিবে,যাই হোক
আমি তারপর এই কথা গুলা শোনার পর ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালে_____
আম্মু:উঠ, সকাল হয়ে গেছে
আমি:কয়টা বাজে?
আম্মু:আগে উঠ তুই,তারপর দেখিছ
আমি উঠলাম,তারপর ফ্রেশ হলাম।
আম্মু:খাবার খেয়ে নে
আমি খাবার খেয়ে নিলাম,তারপর কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হতে নিলাম
আম্মু:আজকে কলেজে যেতে হবে না
আমি:কেন কি হইছে?
আম্মু:আজকে তোরে নিয়া এক জায়গায় যাবো
আমি:কই যাবা?
আম্মু:এতো কথা বলছিস কেন,জাইলেই তো দেখতে পারবি
আমি আর কথা বললাম না,কিছুসময় পর আব্বু আসলো, তারপর আমাকে একটা শার্ট,একটা প্যান্ট দিল,তারপরে বললো এইগুলা পরে নেও।
আমি আর কথা না বলে পরে নিলাম।
আমি কিছুটা আচ করতে পারছি কি হবে আজকে,কেননা কালকেই শুনছিলাম
তারপর সবাই মিলে চলে এলাম চাচ্চুর বাসায়।
চাচ্চু:কেমন আছো আব্বু?
আমি:আলহামদুলিল্লাহ ভালো চাচ্চু তুমি?
চাচ্চু:ভালই
ছোট মা:আমার আব্বুটাকে নাকি মারছে?
আমি:আরে না মারে নাই😒
চাচ্চু:আচ্ছা যাইহোক এখন থেকে আর মারতে পারবে নাহ
তারপর সবাই মিলে কথা বলতাছি,তখন দেখলাম অনেক গুলা লোক বাসায় প্রবেশ করলো,আর চাচ্চু সবাইকে বসার জন্য বলতাছে,একটু পর দেখি নুরিও আসছে।
আমি খুব বেশি একটা অবাক হই নাই কারন,আমি জানতান এমন কিছু হইতে পারে।
তারপর___
আব্বু:আকাশ ভিতরে যাও
আমি:আচ্ছা।
বলেই চলে আসলাম,আর ভাবতাছি এখন কি হবে আল্লাই জানে।
অনেকক্ষন বসে থাকার পর আর পারতেছি না,ওই খানে কি হচ্ছে কে জানে?
একটু শুনার চেষ্টা করলাম,কিন্তু সবাই তখন হাসাহাসি করতেছিল তাই কিছু বুঝতে পারলাম নাহ,
আরও কিছুক্ষন পর আমার ডাক আসলো
আমি যাওয়ার সাথে দেখলাম কাজি বসে আছে। আমার তখন এতো খুশি লাগতেছিল কেন বুজতে পারতেছিলাম না।
আব্বু:ওইখানে দাড়িয়ে কি করছো এইখানে বসো
আমি গিয়ে আব্বুর পাশে বসলাম।
আব্বু:এখন খুশি তো?
আমি:...........
চাচ্চু:হ্যা খুশি ভাইয়া
অনেকক্ষন পর বিয়ের সকল কাজ শেষ হলো তারপর কাজি সাহেব চলে গেলেন।
তারপর রাতের খাবার খেয়ে যে যার রুমে চলে গেলো, আর আমাকে আর নুরি কে একটা রুমে থাকতে দেওয়া হলো।
কিন্তু আমার কেমন জানি লাগতেছিল,তাই রুমে না গিয়ে ছাদে গেলাম,ওইখানে অনেক সময় পার হওয়ার পর সিমা এলো(সিমা আমার চাচাতো বোন),
সিমা:কিরে ভাইয়া তারাতারি ভাবির কাছে যা কয়টা বাজে দেখছিস?
আমি:ঘড়ির দিকে তাকাইয়ে দেখি ১২টা বাজে
আজকে মনে হয় নুরি আমার ১২টা বাজাবে,
এইগুলা ভাবতে ভাবতে রুমে প্রবেশ করলাম__
চলবে?????
next part coming soon.........
এতো কষ্ট কইরা লেখি তাও অনেকেই পইরা লাইক কমেন্ট করে না😞।
গল্প গুলা ভালো লাগলে পাশে থাইকেন রিকুয়েস্ট দিয়ে।
বানানের ভুল ত্রুটি হলে মাফ কইরেন।
লাভ
#একজীবনে_শুধু_তুমি
,
লেখনীতেঃ #রাফিজা_আখতার_সাথী
পর্ব_১
ইন্টারভিউ বোর্ডে নেহালকে দেখে ভীষণ অবাক হলাম।
,
আজ কে চাকরির জন্য এখানে ইন্টারভিউ দিতে এসেছিলাম।
,
এই কম্পানির এমডি যে নেহাল হবে সেটা ভাবতেই পারিনি।
খুব কষ্ট করে কান্না আটকে রেখেছি।
,
চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করছে,
" কেন ফিরিয়ে দিয়েছিলে আমাকে? তোমাকে তো ভালোই বেসেছিলাম। এটা কি আমার অপরাধ? দেখ না তোমার মায়ায় এমনভাবে জড়িয়ে আছি যে আজ অবধি কারোরই হইনি।"
কিন্তু আপসোস আমি কিছুই বলতে পারছিনা।
,
ইন্টারভিউ শেষ নেহাল বলল,
,
মিসেস রাত্রি আপনি একটু আমার কেবিনে আসুন। গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার আছে।
,
সরি স্যার, আপনি ভুল করছেন মিসেস না, মিস রাত্রি। আর হ্যা আপনার সাথে আমার কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা থাকতে পারে বলেতো আমার মনে হয়না।
,
রাত্রি!!!
,
করুন চোখে তাকালো।
কিন্তু তার চোখের দিকে চোখ আমি রাখতে পারলাম না।
কেন যেন মনে হচ্ছে এই চোখে সেই মায়া রয়েছে যা ছিলো কয়েক বছর আগে।
তাই চোখ নামিয়ে নিলাম।
,
পাশথেকে আরেকজন বলল,
,
স্যার, আপনি কি ওনাকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনেন?
,
হ্যা, মানে না।
,
বুঝলাম নেহাল বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।
তাই এখান থেকে যত দ্রুত সম্ভব বের হওয়ায় ভালো।
,
এক্সকিউজ মি স্যার আমি আসি। বলে নিজের ফাইলের ফিতাটা লাগিয়ে বের হতে নিলাম।
,
নেহাল আবার রিকুয়েষ্ট করলো।
ফেলতে পারলাম না যেমনটা ফেলতে পারিনি ৫ বছর আগে। পার্থক্য একটাই এখনকার অনুরোধ হলো কথা বলতে চাওয়ার আর তখনকার অনুরোধ ছিলো আর যেন কথা না বলি সেটার।
,
নেহালের পিছন পিছনে তার কেবিনের দিকে যেতে লাগলাম, ওর কর্মী দুইটা কেমন যেন সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখলো আমাকে। কিন্তু আমার এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই।
,
নেহালের কেবিনে,
,
কেমন আছো রাত্রি?
,
"কেমন আছো তুমি কি জানো না।
জীবন্ত লাশ হয়ে আছি।
তোমাকে ছাড়া কিভাবে আছি তা বোঝানোর ভাষা নেই আমার।
তোমার কি একটুও কষ্ট হয়না আমার জন্য?
এতো পাষাণ কেন তুমি? যদি আমাকে ছেড়েই দিবে তাহলে সেই ৯ বছর আগে মিথ্যা মায়ায় কেন জড়িয়েছিলে।
কিন্তু মনের কথা মনেই রেখে দিলাম।"
,
জি, আমি খুব ভালো আছি।
,
কত বছর পর দেখা বলো! কিন্তু রাত্রি চৌধুরীর হঠাৎ চাকরির কেন প্রয়োজন?
যার নিজের বাবার কম্পানিতেই ১৫০০০ কর্মচারী রয়েছে।
,
সেটা আপনাকে জানাতে চাইনা আমি।
,
তুমি না জানাতে চাইলে জোর করবো না। কিন্তু তুমি কি জানো আমি তোমাকে অনেক খুজেছি? তোমার বাসাতে গিয়ে দেখি সেই বাসার মালিক এখন অন্যকেও।
কোনো ভাবেই আমি তোমাদের খোজ পাইনি। পাগলের মত খুজেছি তোমাকে।
আমি কোনো গুপ্তধন নই যে আমাকে আপনি পাগলের মত খুজবেন, মিস্টার নেহাল।
,
নেহাল মুচকি একটা হাসি দিলো।
এটা সাধারণ হাসি না। কেমন যেন অদ্ভুত একটা অনুভূতি আছে এই হাসিতে। যা বোঝার ক্ষমতা আমার নেই।
,
তুমি জানো না তোমাকে কেন খুজেছি?
,
আজব! আমি কি ভাবে জানবো আপনি আমাকে কি জন্য খুজেছেন?
,
নেহালের এই কথা বোঝার ক্ষমতা আমার নেই। নিজেই সম্পর্কের ইতি টেনে আবার নিজেই খুজেছে। বিষয় টা হাস্যকর।
,
না আমি জানি না আপনি আমাকে কেন খুজেছেন।
আমার ইন্টারভিউ কেমন হলো আমি জানিনা। তবে যদি ভালোও হয় তাহলে দয়া করে আমাকে সিলেক্ট করবেন না।
,
তোমার রাগ আর অভিমান সেই আগের মতই আছে।
,
মনে আবারও বলে উঠলো "শুধু রাগ আর অভিমান না নেহাল, আমার ভালোবাসাটাও যে আগের মতই আছে। শুধু তুমি সেটা দেখতে পাচ্ছোনা"।
,
আপনি আমার এমন কেও না যার জন্য আমার রাগ বা অভিমান কিছু থাকবে।
,
কে!! সেতো তুমিই ভালো জানো।
,
বললাম তো জানিনা। আমি এখন আসি।
,
-রাত্রি। আমি জানিনা কি হয়েছে তোমার সাথে। কিন্তু তুমি যেহেতু বলতে চাওনা তবে একটা কথা বলছি, তুমি যেহেতু আমার এখানে জবের জন্য এসেছিলে জবটা আমি তোমাকে দিচ্ছি।
,
আমি কোনো ভিকারি না যে আমার জন্য আপনার এতো দয়া দেখাতে হবে।
আমার যোগ্যতায় ইনশাআল্লাহ আমি অন্য অনেক জব পেয়ে যাবো।
আর হ্যা যদি জানতাম আপনি এখানে আছেন তাহলে আমি কোনোদিন এই অফিসের ত্রিসিমানায় পা দিতাম না। আপনার দয়া আমার চাইনা। আমি এখন আসি।
,
বলে বের হতে নিলাম নেহাল আমার হাতটা ধরে ফেলল।
,
দাড়াও রাত্রি যেওনা। এটা দয়া না রাত্রি।
,
হাতটা ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে নিলাম নেহালের হাত থেকে।
,
এটা দয়া না তো কি মিস্টার নেহাল। আরেকটা কথা। এইযে আপনি ইন্টারভিউ এর পর কেবিনে পারসোনালি কথা বলছেন এর পর যদি আমি আপনার অফিসে কাজ করি তাহলে সবাই কি ভাবে বিষয়টা নিবে বুঝতে পারছেন?
,
কারো পরোয়া আমি করি না।
,
কিন্তু আমি করি মিস্টার নেহাল। আপনি একটা পুরুষ মানুষ সব কিছু ফেলে দিয়ে সামনে আগাতে পারেন কিন্তু আমি পারিনা। কিছু সৃতি আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে দেয়না। তাছাড়া লোকজনের কথা আমি আর শুনতে চাইনা।
,
রাত্রি আগেই এত কিছু ভেবে ফেলোনা। আমিতো আছি তোমার সাথে।
,
আমার সাথে না থেকে নিজের স্ত্রীর পাসে থাকেন তাহলে সে খুশি হবে।
,
সেটা তো থাকবোই। তোমাকেও সাহায্য করতে চাই।
,
আমার কথা যে জবাব নেহাল দিলো তাতে করে বুঝেগেছি যে তার বিয়ে হয়ে গেছে তাহলে কেন সে আমার প্রতি এত কেয়ার দেখাচ্ছে।
,
আমি এখন আসি।
আর হ্যা আপনি যতই চাকরিটা দিতে চাননা কেন আমি এইটা করবো না।
,
দেখা যাক, চাকরিটা করো কি না!
,
মিস্টার নেহাল ভুলে যাবেন না। আমার প্রতি আপনার কোনো অধিকার নেয়।
,
যদি বলি আছি। আমাদের সম্পর্ক টা....
,
যেটা আপনি শেষ করেছেন।
এখন তো আপনার চরিত্রের উপর সন্দেহ হচ্ছে।
নিজের স্ত্রীর প্রতি সম্পর্ক, ভালোবাসা দেখাবেন।
একটা অচেনা মেয়েকে এতো আদিখ্যেতা দেখাবেন না।
,
রাত্রি!!
,
চিৎকার করবেন না মিস্টার নেহাল।
আমি সেই আগের রাত্রি নেই। যে সব কিছু মাথানত করে মেনে নেব।
আমি আমার মত বাচতে শিখেছি।
আমি আসি এখন।
ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
,
নেহালের কেবিন থেকে বের হয়ে আসলাম। মনে আছে, যখন আমাদের বাবা-মা বলতো, "এইসব বন্ধুবান্ধব একটা সময় আর থাকবে না, আর আমরা তাদের কথা শুনে রেগে যেতাম!" কিন্তু ভেবে দেখো তো, কে সঠিক ছিলো?'❤
বাকী পর্ব গুলো আমার আইডিতে আছে, যারা পড়তে ছান তারা friend request দিয়ে সাথে নক করবেন তাহলে তাড়াতাড়ি request accpet করতে পারবো।
,
,
বাসাতে ফিরতে হবে তাই অনেক্ষন ধরে গাড়ির জন্য দাড়িয়ে আছি।
,
চলবে।
লাভ
#বদরাগী
#Orin_Nusha_Ra
ParT 02
.
নিহানের মা মর্ডান টাইপের তাই আমাকে উনি নিহানের সকম স্পেশাল সাইট দিয়ে দিয়েছে।এমন টাতে খুশিই হয়েছি কারণ আন্টি ফ্রেন্ডলি।
..........
আর নিহানের আইডির মাধ্যমেই ওর ব্যাপারে টুকটাক জেনেছি। সবার সাথেই নাকি উনি ফ্রি, চুপচাপ,ভদ্র। কিন্তু ভদ্রতার আড়ালে যে কি আছে সেটা আমি ভালো করেই জানি।কি করে যে এর সাথে সারাজীবন কাটাবো কে জানে।হঠাৎ বৃষ্টির কারণে কথার ধ্যান ভাংলো।
---ওয়াও ইয়ায়ার নিহান ভাইয়া যেমন কিউট তেমনি তার এবাউট।
---ভুতের মুখে রামরাম?
---এই কথা কেন বলছিস?আমাকে কি ভুত মনে হচ্ছে?
---আরে আরে না নিজের মুখে প্রশংসা করতে নেই।
---কুত্তিইই তোকে তো আমি পরে দেখে নিবো।(রেগে)
---এখনি দেখ না মানা করলো কে?(হেসে)
---তুই নিহান ভাইয়াকে একেবারে খেয়ে ফেলবি বুঝেছি।
---কেন রে তোর নিহান ভাইয়ার মাথা টা কি বার্গার নাকি যে খেয়ে ফেলবো
---ও আল্লাহ মাবুদ এর সাথে তর্ক করার শক্তি দাও আমায়।
---হে আল্লাহ তুমি ওর দোয়া কবুল করিও নাহ।আমিন।
---কুত্তি তুই আমাকে এতো জালাস কেন বলতো?
---তোরে না জালাইরে খাবারের স্বাদ একদম পারফেক্ট হয় না।
---ওইটা কেমনে?
---কারণ তুই খাবারে লবণ দেস বেশি।
---তবে রে......
বলেই বৃষ্টি আমার দিকে ধেয়ে আসছিলো। আমি দিলাম বুলেট ট্রেনের মতো দৌড়। সারা বাসায় দুইজন দৌড়াতে লাগলাম চোর পুলিশ এর মতো।
---এই ফইন্নি দাড়া,দাড়া বলছি।
---চিটিং নট এলাউ।
বলেই বৃষ্টির আম্মুর পিছে গিয়ে লুকালাম।
---দেখো আন্টি তোমার মাইয়া সারাক্ষণ আমার পিছে পইরা থাকে।
---আর তুই যে আমারর জালাস তার বেলায়(রেগে)
---তুই চুলা নাকি যে তোরে জালামু?
---আহ থাম তো তোরা।তোদের বকবক শুনতে শুনতে আমার কান আর কান নেই।
---ওহ আন্টি তোমার দুইটা কান ই আছে।
---রাহা মা একটু অন্তত সিরিয়াস হ।তা শুনলাম তোর নাকি বিয়ে ঠিক হয়েছে?
---তোমায় কে বললো?(অবাক হয়ে)
---আমি আগে থেকে জানি তোর মা ফোন করে বলেছে।
---উফফফফ এই বিয়ের কথা বাদ দাও তো অসহ্য।
বলেই সোফায় গিয়ে বসলাম।
---কেন মা বাদ দিবো কেন?আমাদের রাহার বিয়ে বলে কথা।
---বিয়ে না জিরা।
---কেন পাত্র দেখতে খারাপ নাকি?
---আরে না মা তোমাদের রাহা একেবারে হিরোর মতো বর পেয়েছে।দাড়াও আমি তোমাকে দেখাচ্ছি।বলেই বৃষ্টি এক দৌড়ে আমার মোবাইলটা রুম থেকে নিয়ে আসলো।তারপর ছবি বের করে আন্টিকে দেখালো।
---মাশাল্লাহ পুরোই সোনার টুকরো ছেলে।ভাগ্য করে একে আমাদের রাহা পেয়েছে।
এগুলো শুনে আমি ডোন্ট কেয়ার ভাব নিলাম।আবার কেন জানিনা এতো প্রসংশা শুনে ভালো লাগা কাজ করছে।ভালো লাগাটা বেশিক্ষণ রইলো না ওনার রাগ গুলো মনে পড়ে গেলো।সাথে সাথে আমিও রেগে যাই।
---ভালো লাগছে না আন্টি এসব কথা। চম বৃষ্টি বাইরে থেকে ঘুরে আসি।
---ওকে তুই দাড়া আমি রেডি হয়ে আসছি।
---ওকে যা।
বলেই বৃষ্টি আর কথা না বাড়িয়ে রুমে চলে গেলো রেডি হতে।কিছুক্ষনের মধ্যেই রেডি হয়ে আসলো।
তারপর দুইজন মিলে লেক এ গেলাম।এমন চুপচাপ ঠান্ডা বাতাস উপভোগ করতে গেলাম।এমন সময় নিহানের মা কম দিলো।আমিও রিসিভ করলাম এবং বললাম,
---আসসালামু ওয়ালাইকুম।
---ওয়লাইকুম আসসালাম। কেমন আছো?
---জি আলহামদুলিল্লাহ। আপনি কেমন আছেন?
---আলহামদুলিল্লাহ ভালো। কি করছো?
---এইতো আন্টি ফ্রেন্ডের সাথে লেকে আসলাম।
---ওহ আচ্ছা।তা আমি নিহানকে পাঠিয়ে দেই কেমন?
---আরে আরে না আন্টি উনি কেন কষ্ট করতে যাবেন আর ওনার অফিসও আছে।
---তো কি তোমায় একা ছাড়বো নাকি আমি পাঠিতে দিচ্ছি।
---আরে না না আন্টি লাগবে না আর আমি এমনিতেও একা নেই আমার বান্ধুবি তো আছেই।
---আরে এমন করছিস কেন আসলে কি হয়?
চোখ রাঙিয়ে বৃষ্টির দিকে তাকালাম। বৃষ্টি ভয়ে আর কিছু বললো না।
---তোমার কোন কথাই আমি শুনছি না।বাই।
---আরে আন্টি.....যা কেটে দিলো ধুর এখন প্রব্লেম টা আবার আসবে।
---আচ্ছা তুই নিহান ভাইয়াকে সহ্য করতে পারিস না কেন বলতো?
---রাগের জন্য(রেগে তাকালাম বৃষ্টির দিকে)
---নিহান ভাইয়া রাগি তা তো একদম বোঝাই যায় না।
---বুঝবি কেমনে চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে রাখলে?(রেগে)
---তার মানে তুই কি বলতে চাস আমি কানা?
---তা তো অবশ্যই।
---তোরে পচা মাছ খাওয়ামু।(রেগে)
---আর তোরে পচা মাছের নাড়ি ভুড়ি।
বৃষ্টি তো রেগে আগুন।আমি ওর ওই অবস্থা দেখে বললাম,
--- তোর যেমন আমাকে অনেক কিছু করতে ইচ্ছে করছে ঠিক তেমনি ওই নিহানের বাচ্চা সিহান কেও অনেক কিছু করতে ইচ্ছে করছে।(রেগে)
বৃষ্টি আর কিছু বললো না কারণ সে জানে আমার সাথে পেরে উঠবে না।
এইদিকে,
নিহানের মা নিহান কে ফোন করলো,
--- হ্যা মা বলো।
--- কোথায় আছিস তুই?
--- এইতো মা অফিসে কেন কিছু লাগবে?
--- তুমি এখনি লেকের ধারে যাও।
--- কিন্তু কেন?(অবাক হয়ে)
--- রাহা তোমার জন্য অপেহ্মা করছে তাই।
--- কিন্তু মা আমিতো অফিসে।
--- কোন কথা শুনতে চাইনা তুই যাবি মানে যাবি ওকে। আমি রাহা কে একা ছাড়তে চাইনা।
--- কিন্তু.....
--- এটা আমার আদেশ নিহান।
--- ওকে যাচ্ছি।(গম্ভীর সুরে)
--- যা বাই।
--- বাই মা।
বলেই নিহান ফোন রেখে দিলো এবং ভাবতে লাগলো,
---( মেয়েটা এই দুইদিনেই মায়ের মাথা খেয়ে ফেলেছে। তাই মায়ের কাছে বাহানা দিয়ে দিয়ে যা ইচ্ছা করায়। কিন্তু আমি ওর পাতা ফাদে সহজে পা দিচ্ছি না হুম। লোভি মেয়ে কোথাকার।বললাম বিয়ে ভেঙ্গে দিতে কিন্তু ভাঙ্গলো না। টাকার লোভে বিয়ে করছে। একবার বিয়েটা হতে দাও মিস রাহা তারপর দেখো তোমার কি হাল করি। এই নিহান কে এখনো চিনোনি। জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ।)
এগুলো ভেবেই নিহান রাগে ফুসতে লাগলো।
.
.
.
.
.
চলবে⁉
Campus
Confessions no: ০3
Name: Saima Ahmed Tuhin
College: kapas gola city corporation girls university
Department: Accounting
Dear পাগলি,
খুব অল্প সময়ে,কোনো এক অজানা পথে হাটতে হাটতে তোমায় পাওয়া,
প্রত্যেকের জীবনে এমন একজন মানুষ দরকার,যাকে সব খুলে বলা যায়,যাকে সব সময় পাশে পাওয়া যায় ।
কি লিখবো,বুজে উঠতে পারছি না,কারণ কিছুতে তোমার মনটা আমি বুঝতে পারি না, আজো বোঝার চেষ্টায় আছি,
তোমাকে ছাড়া যে আজ কিছুই ভাবতে পারি না,সব কিছুই যে অসম্ভব লাগে...
পারলে একটু বুজতে চেষ্টা করো আমায়
ইতি
তোমার পরিচিত কেও
Love
#তোমাকে আমার প্রয়োজন💞💞
#মেঘ পরী🍀🍀
🌺🌺পর্ব-২৮🌺🌺
.
🌿
.
দেখতে দেখতে তিথির গায়ে হলুদের দিন এগিয়ে এলো। আবির ব্যাস্ত ডেকরেশনের কাজে সাহায্য করতে। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান বাড়ির পাশের ছোট্ট বাগানটায় অনুষ্ঠিত হবে।বাগানটায় ফুল দিয়ে সুন্দর করে ডেকোরেশন করে সাজানো হয়েছে।তিথিকে হলুদ শাড়ি পড়ানো হয়েছে আজ এবং কাঁচা ফুলের গহনা দিয়ে সাজানো হয়েছে,,, চুলগুলো বেনী করে এক সাইডে ছারানো,,,দু হাতে সোনার দুটো মোটা বালা। খুব সুন্দর লাগছে আজ তিথিকে দেখতে,,, চোখ ফেরানো দায় হয়ে পড়েছে।বাড়ির সব মেয়েরাই হলুদ শাড়ি পরেছে শুধু তফাৎ নিশির এবং তিথি শাড়ির পাড়ের রং লাল আর বাকি সবার শাড়ির পাড়ের রং সবুজ।তিথিকে সুন্দর করে সাজিয়ে স্টেজে আনা হলো।
কিছুক্ষণের মধ্যেই গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হল,,,একে একে সবাই তিথিকে গায়ে হলুদ লাগিয়ে দিলো। আবির ও এসেছিল তিথিকে গায়ে হলুদ দেবার জন্য কিন্তু স্টেজ এর পাশে নিশির দিকে চোখ পড়তেই তার মুখ অটোমেটিকলি হাঁ হয়ে গেল,,,তিথির সাথে নিশিকে ও আজ অসম্ভব সুন্দর লাগছে।
হলুদ শাড়ি দুই হাতে চিকন চিকন চারটে সোনার বালা,,কানে ছোট দুল,,, আর চুলে হাত খোঁপা করে তাতে বেলিফুল লাগানো,, এই সামান্য সাজে নিশিকে ও আজ খুব সুন্দর লাগছে।সবার শেষে নিশি আর আবির এসে তিথিকে গায়ে হলুদ লাগিয়ে দিল।
নিশি আড়চোখে একবার আবিরের দিকে তাকালো,, আবিরকে রেড কালার সুতির পাঞ্জাবি,,আর সাদা চুরি প্যান্টে খুব সুন্দর লাগছে। পাঞ্জাবির হাতা গুলো কনুই পর্যন্ত গোটানো আর হাতে একটা রিস্ট ওয়াচ। সবমিলিয়ে আবিরকে ও আজ খুব সুন্দর লাগছে।তবুও নিজেকে কন্ট্রোল করে আরও একবার আড়চোখে তাকিয়ে নিজের চোখ নামিয়ে নিল।
তিথির পুরো গা হলুদময় হয়ে গিয়েছে,,, তিথি তাই ফ্রেশ হওয়ার জন্য স্টেজ ছেড়ে নিজের রুমের দিকে অগ্রসর হতে লাগলো। নিজের রুমে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে সামনের দিকে তাকাতেই,,,তিথি অবাক হয়ে গেল,,,হাত দিয়ে একবার চোখ কোচলে আবার সামনের দিকে তাকালো সে। কিন্তু আবারও সেই একই প্রতিচ্ছবি দেখতে পারছে সে হ্যা তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে তার প্রিয় মানুষটা,, যে কিনা আজ রাতে পর তার স্বামী হবে। মানুষটি আর কেউ নয় নিলয়।কাঁচা হলুদ কালারের পাঞ্জাবি,,, সাদা চুরি প্যান্ট,,পাঞ্জাবির হাতা গুটানো,,আর এক হাতে রিস্ট ওয়াচ।নিলয় চুল এমনিতেই খুব সিল্কি সুতরাং সামান্য হওয়াতেই তার চুল কপালে এসে পড়ছে বারবার। তিথি চোখ ফেরাতে পারছে না আজ,,,,মানুষটার দিক থেকে।
তিথির এমন তাকানোতে,,নিলয় কিছুটা মুচকি হেসে,,তিথির দিকে এগোতে লাগল।আস্তে আস্তে সে তিথির অনেকটা কাছে এসে দাঁড়ালে।তিথি এবার হুশে এলো,, নিলয় থেকে দূরে যেতে চাইলেই নিলয় তার দুই বাহু ধরে,, দরজার সাথে চেপে ধরলো।তারপর তিথিকে আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর তিথির চোখে চোখ রেখে,,,নিশাময় কন্ঠে বলে উঠল-;
-:এই মারাত্মক সাজে সাজতে আজ তোমায় কে বলেছে তিথু পাখি???
নিলয়ের এমন কোথায় তিথি কিছুটা কেঁপে উঠলো।তারপর নীলয়ের দিকে তাকিয়ে,,কাঁপা গলায় বলে উঠলো-;
-:আ..আপনি এ..এখানে কি..কি..কি করছেন?? আপনার তো..তো...
আর কিছু বলতে দিল না নিলয় তাকে,,,তার আগেই নিজের বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে তিথির ঠোঁটে হালকা করে স্লাইড করতে লাগলো।তারপর তিথির চোখের দিকে তাকিয়ে,, দুই হাতে তিথির কোমর শক্ত করে পেঁচিয়ে,,বলে উঠল-;
-:শিশশশ চুপ!!!এত কথা যদি তুমি বলো তাহলে আমি যে কাজে এসেছি,,,সেই কাজটাই তো করতে পারবোনা।
তিথি একটা ঢোক গিলে জিজ্ঞেস করল-;
-:ক..কি কাজ??
নিলয় মুচকি হেসে বলে উঠলো-;
-: খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ। যে কাজটা না করলে,, আমার ভীষণ বিপদ।দেখো পাখি এমনিতেই এরকম সাজ সেজে আমার মাথা তুমি অলরেডি খারাপ করেই দিয়েছো,,,তার ওপরেআমি নিজের বাড়ি অতি কষ্টে পালিয়ে আবার তোমাদের বাড়ির সবার চোখে ফাঁকি দিয়ে তোমার রুমে প্রবেশ করেছি,,,কোথায় একটু নিজের হবু স্বামীকে আদর যত্ন করবে,,তা নয় তাকে হাজারটা প্রশ্ন করতে শুরু করেছে।
-:না মানে,,আপনি এসময় এখানে,,তাই...
-:আরে বউ আমার,,এখানে থাকবে না তো কোথায় থাকব আমি!!! এইজন্য লোকেরা একদম ঠিকই বলে বাচ্চা মেয়েকে কোনদিনও বিয়ে করতে নেই।
-: তাহলে আমাকে বিয়ে করছেন কেন,,বিয়ে না করলেই পারতেন।
কিছুটা অভিমানী শুরে বলে উঠলো তিথি।
-: আরে বৌ রাগ করছো কেন??আরে বাবা দেখতে হবে না আমার বউকে গায়ে হলুদের সাজে কেমন লাগছে। তাই জন্য তো তোমাকে দেখতে এসেছি আর এমনিতেও একবার দেখো আমাকে ভালো করে।আমি এখন আমার গায়ে হলুদ ই দিইনি।
নিলয়ের কথা শুনে তিথি একবার নিলয় দিকে তাকিয়ে দেখল সত্যিই তার গায়ে হলুদের ছিটেফোঁটাও নেই। তিথি অবাক হয়ে নীলার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল-;
-: একি!! আপনার এখনো হলুদ লাগানো হয়নি।
-: হুম তো।
-: কিন্তু কেন??
-: তোমার থেকে সবার প্রথম হলুদ লাগাবো বলে কাউকে আমি হলুদ লাগাতে দিইনি।
-:মা.. মানে
-:মানেটা খুবই পরিষ্কার।
এই বলে নিলয় তিথিকে নিজের সাথে সম্পূর্ণ মিশিয়ে নিল,,তারপর তিথির দিকে ঝুঁকে পড়ল কিছুটা।নিলয়কে এমন ঝুঁকে পড়তে দেখে তিথি নিজের মাথাটা সরানোর চেষ্টা করলো,,,কিন্তু পারলো না।নিলয় তাকে দেওয়ালের সাথে শক্ত করে চেপে ধরায়,,,সে কিছুতেই নিজেকে নিলয়ের থেকে ছাড়াতে পারছে না।
-: বৃথা চেষ্টা করো না পাখি।আমি যতক্ষণ না তোমায় ছাড়বোনা ততক্ষণ তুমি চাইলেও আমার কাছ থেকে ছাড়া পাবে না।
এই বলে নিলয় নিজের গাল তিথির গালের সাথে লাগিয়ে দিল,,তারপর তিথির গাল থেকে নিজের গালে হলুদ লাগিয়ে নিল।নিলয়ের এমন আচরণে তিথি পুরো শরীর অবশ হয়ে হয়ে উঠলো।নিলয় ক্লিন শেভিং করলেও নিলয়ের গালের ছোট ছোট দাড়ির খোঁচায় তিথি নরম গালে কিছুটা ব্যথার অনুভূতি হল।নিলয় তিথির দিকে তাকিয়ে বলল-;
-:এখন তোমার কাছ থেকে প্রথম হলুদ মেখে নিলাম।এবার আর এখানে বেশিক্ষণ থাকা যাবে না,,,নইলে আমি আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবো না।ভালো থেকো পাখি আর শুধু আজকের রাতটা!!ব্যস এরপর তোমাকে আমি আমার ছোট্ট নীড়ের রাজরানী করে নিয়ে যাব। যেখানে আমরা ছোট্ট একটা টোনাটুনির সংসার সাজাবে।
এই বলে তিথির কপালে একটা গভীর চুমু এঁকে,,,ব্যালকনি থেকে নিচে নেমে গেল।নিলয় চলে যাওয়ার পর,,তিথি কপালে হাত দিয়ে আনমনে হেসে উঠলো।
.
.
🌿
.
.
এদিকে আবির বেশ কিছুদিন ধরে খেয়াল করছে,,নিশি তাকে এড়িয়ে চলছে।এই ব্যাপারটা আবিরের কিছুতেই ভালো লাগছেনা।যখনই সে নিশির কাছে আসে,,,তখনই কিছু না কিছু একটা অজুহাতে দিয়ে সে তার থেকে দূরে চলে যাই।
আবির আনমনেই ভাবছিলো কথাগুলো। হঠাৎ দেখল নিশি তার সামনে দিয়ে যাচ্ছে।নিশিকে দেখে আবির তাকে ডাকলো নিজের কাছে আসার জন্য।আবিরের ডাকে নিশি একবার তার দিকে তাকিয়ে,,,সঙ্গে সঙ্গে নিজের চোখ সরিয়ে নিল।
তারপর ধীরে পায়ে তার দিকে এগিয়ে গিয়ে,, জিজ্ঞাসা করল-;
-:বলুন কি হয়েছে??
-:আমাকে এক গ্লাস পানি দে তো।
নিশি আবিরের কথার উওর না দিয়ে,,,রান্না ঘরে চলে গেল।কিছুক্ষণ পর এক গ্লাস পানি এনে আবিরের হাতে ধরিয়ে দিল।আবির কিছু বলতে যাবে তার আগে নিশি সেখান থেকে চলে গেল। আবির নিশি যাওয়ার পানে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।তারপর পানি খেয়ে নিজের কাজে চলে গেল।
.
.
🌿
.
.
হুট করেই নিশির লেহেঙ্গার আচঁল টেনে খুলে নিলো আবির।নিশি বিস্মিত চোখে নিলয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।
কিছুক্ষণ আগের কথা,,,নিচে মেহেন্দির অনুষ্ঠান হচ্ছিল।সবাই নিজেদের হাতে নিজেদের মনের মত মেহেন্দি লাগাতে ব্যস্ত।মেহেন্দির জন্য মেহেন্দি আর্টিস্ট ভাড়া করে আনা হয়েছে,, তাই বড়-ছোট কেউই বাদ যাচ্ছে না নিজেদের হাতে মেহেন্দি লাগাতে।
তিথি হালকা সবুজ রঙের লেহেঙ্গা,,দু হাত ভর্তি চুরি,, গলায় সুন্দর নেকলেস,, দু পায়ে নুপুর,,,কোমড়ে কোমর বন্ধনী,, চোখে গাঢ় করে কাজল,,, ঠোটের লাল কালারের লিপস্টিক আর মুখে হালকা মেকআপ,, ব্যাস এতেই তিথিকে খুব সুন্দর লাগছে।
নিশিকেও খুব সুন্দর লাগছে দেখতে,,,গোলাপি কালারের লেহেঙ্গা,, সাথে ম্যাচিং করে চুরি পরেছে দুই হাতে,, ঠোঁটে মিষ্টি কালার লিপস্টিক,,চোখে আইলাইনার মোটা করে পড়ানো,, গলায় শুধু একটা চেন পরেছে। নিশি কোমর বন্ধনী পরেনি পায়ে শুধু নূপুর পরেছে।
নিশি তিথির পাশেই বসেছিল প্রথম থেকে।তিথির মেহেন্দি পড়ানো প্রায় শেষ,,এরপর তার পালা মেহেন্দি পড়ার।অনেকক্ষণ ধরে একভাবে তিথির পাশে বসে থাকার জন্য কিছুটা আনইজি ফিল করছিল তাই একটু ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশরুমে যায়।
ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হতেই এই পরিস্থতির স্বীকার হলো সে।আবির যে এমন কাজ করতে পারে তা নিশির ধারনার বাইরে ছিলো।আবিরের এতদিনের ব্যবহার মুখ বুজে সহ্য করতে পারলেও আজ তার এমন কাজের পর নিজেকে শান্ত রাখতে পারলো না সে।চোখে রাগের আগুন জ্বলে উঠলো,,, আবিরের গালে একটা প্রচন্ড জোরে চড় বসিয়ে দিলো।
নিশি যে এমন কিছু করতে পারে তা আবিরের জানা ছিলো না,,,আগে থেকেই রেগে ছিলো আবির,,,এবার আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলো না।দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো নিশিকে।নিজেকে ছাড়ানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করে,,,এবার চেচাঁতে লাগলো নিশি,,,সাথে গড়িয়ে পড়ছে চোখের জল,,,
-:ছাড়ুন,,,ছাড়ুন আমায়।।।।এটা কোন ধরনের অভদ্রতা (চেঁচিয়ে টলটলে চোখে)
-:ওহহ্ এখন অভদ্রতা??নিজে যখন ছেলেদের সাথে ঢলাঢলি করো,, তখন ওইটাকে বুঝি খুবই ভদ্রতা বলে?(আরো জোড়ে চেপে ধরে)
নিশি কিছুক্ষন আবিরের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে,,,বলে উঠলো-;
-:মাইন্ড ইউর ল্যাংগুয়েজ মিস্টার আবির আহমেদ।আমি কিছু বলছি না তারমানে এই নয় যে আপনি আমাকে যা তা বলবেন।আমি এতদিন চুপ করে থাকলেও আর চুপ করে থাকবো না।(রাগী চোখে)
-:ও রিয়েলি?? তো কি করবে আমায় শুনি?? যাদের সাথে ঢলাঢলি করছিলে তারা নিশ্চয় খুব ভালো তাই না??তো কোথায় কোথায় টাচ করেছে শুনি??খুব ভালো লেগেছে বুঝি???(দাঁতে দাতঁ চেপে)
।
আবিরের ভাষা শুনে নিশি হতবাক। এই মানুষটা তাকে এতটা ভুল বুঝবে সে বুঝতে পারেনি।
আসলে তিথির কয়েকজন কাজিন নিশি সাথে কথা বলছিল।যেহেতু তারা নিজের ইচ্ছায় তার সাথে কথা বলছিল,,তাই সে না করতে পারে নি।তো নিশি ও তাদের সাথে হেসে হেসে কথা বলছিল। তাদের মধ্যে একজন ছেলে নিশির বেশ গা ঘেঁষে কথা বলছিল।নিশি প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরে বুঝতে পেরে সেখান থেকে সরে আসে।আর আবির ঠিক সেই সময় টা দেখেছে যখন ছেলেটা নিশির গা ঘেঁষে কথা বলছিল আর নিশি হাসছিল।এইটা দেখেই তার মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
এবার নিশি আর চুপচাপ দাড়িয়ে থাকতে পারলো না,,ডানহাতটা হেচঁকা টানে ছাড়িয়ে নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আবিরের গালে চড় বসালো।রাগের মাথায় কাজটা করলেও আবিরের চোখের দিকে তাকিয়ে থমকে গেলো,,,রক্তলাল চোখগুলোতে নিশি যেনো তার ধ্বংসই দেখতে পাচ্ছে।
কিছু বুঝে উঠার আগেই নিশির ঠোঁটগুলি নিজের আয়াত্তে নিয়ে নিলো আবির।নিজের রাগগুলোকে নিশির ঠোঁটের উপর ঝাড়তে ব্যস্ত সে।অসহ্য যন্ত্রনায় নিজেকে ছাড়াতে ব্যর্থ হয়ে,, চোখ খিঁচে পাথরের মুর্তির ন্যায় দাড়িয়ে আছে নিশি।আবির কেনো এমন করছে কিছুই বুঝতে পারছে না নিশি। আবির তো এমন ছিলো না,,,,তাহল আজ কেন এমন করছে সে????আবিরের কামড়গুলো এখন ভালোবাসার পরশে পরিনত হয়েছে,,,নিশির ঠোঁটে পাগলের মতো কিস করে চলেছে সে,,,আর হাত দিয়ে কোমরে ধীরে ধীরে স্লাইড করছে।আবির যেনো নিশিতে ডুব দিতে চাইছে,,,গভীর রূপ নিচ্ছে তার ভালোবাসার পরশগুলো।নিশির শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে।।এবার আর সহ্য করতে না পেড়ে নিজের সর্ব্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিলো আবিরকে,,,,,ধাক্কায় তাল সামলাতে না পেড়ে দু'পা পিছিয়ে গেলো সে।ফ্লোরে ধপ করে বসে পড়ে,, দুই হাতে মুখ চেপে ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাদঁতে শুরু করলো নিশি.............
.
.
.
.
[বাকিটা নেক্সট পর্ব]
.
.
.
.
👉👉সবাইকে একটা ইম্পরট্যান্ট কথা বলে রাখি সবাই একটা প্রশ্ন আমাকে করবেই আর সেটা হলো এতদিন পর আমি কেন গল্প দিলাম???? প্রায় 10 দিন হল আমি কোন গল্প দিইনি,,,তাহলে আজ এতদিন পর কেন দিলাম???
তাদেরকে বলে রাখি আমাদের এখানে আমফান ঝরে আমরা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমফান ঝড় হয়ে ছিল বুধবার আর আজ শুক্রবার আমাদের বাড়িতে ইলেকট্রিসিটি বলতে কিছুই নেই,,,ফোনে চার্জ দিতে পারছিনা খুব কষ্ট করে দোকানে টাকা দিয়ে ফোনে চার্জ দিয়ে গল্প লিখেছিলাম কিন্তু নেটওয়ার্ক এতই স্লো ছিল যে দুইবার আমার পোস্ট ডিলিট হয়ে গিয়েছে।
আজ অনেক কষ্টে নেটওয়ার্ক একটু স্বাভাবিক হয়েছে,, তাই গল্পটা লিখতে পেরেছি। কিন্তু ফোনের চার্জ খুবই কম মাত্র ২০% তাও তোমাদেরকে বলে রাখছি আমি গল্প দেওয়ার চেষ্টা করব এবং আর দুই পর্বের মধ্যেই গল্পের ইতি টানবো। কিন্তু গল্পের পরবর্তী ২ টো পার্ট আজকের মতোই বড় বড় পার্ট হবে।আশা করি আমার পাঠক-পাঠিকা বন্ধুগণ আমাকে বোঝার চেষ্টা করবে এবং আমার পরিস্থিতিটাকেও বোঝার চেষ্টা করবে।ধন্যবাদ।আর ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন প্লিজ।👈👈
Love
#ভিলেন
#পার্টঃ২৫
#লেখনীঃ Gazi Snigdha Hossain (মনা)
মেঘলাঃ আপনি কে জানি না তবে আপনার সাথে আমার কথা বলাটা জরুরী কোথায় পাব আপনাকে?
আপনি কি আমায় ভালোবাসেন যদি বেসে থাকেন সামনে এসে কেন বলছেন না আপনার এই অদ্ভুত ভালোবাসা যে আমার জীবন নরক করে তুলছে বুঝতে পারছেন না আমি এত প্রেসার আর নিতে পারছি না সত্যিই পারছি না কথাগুলি বলতে বলতে কাঁদতে কাঁদতে কখন ঘুমিয়ে গিয়েছি জানি না।
।
।
।
।
পরদিন সকালে ভাইয়ার জন্য নাস্তা নিয়ে হাসপাতালে গেলাম ভেবেছিলাম আমি খাবার নিয়ে গেলে হয়ত ভাইয়া খুশি হবে কিন্তু সেখানে গিয়ে মনে হল আমি যেন ক্ষমার অযোগ্য কোন অপরাধ করে ফেলেছি।
আকাশঃ তুই আবার এসেছিস কেন?
মেঘলাঃ খাবার টা...
আকাশঃ নিকুচি করেছে তোর খাবারের...নাবিল এখানে ছিল না? ও কি আমাকে না খায়িয়ে রাখত?
এত বড় হয়েছিস এখনো স্কুলে পরিস তাও তোর লজ্জা করে না তাই না? এভাবে ফাঁকি দিলে তো তুই ৮০ বছরেও স্কুলের গন্ডি পার হতে পারবি না।
মেঘলা এবার রেগে গেল
মেঘলাঃ না হতে পারলে নাই তাতে তোর কি পড়াশুনা করতেই হবে এটা কোথাও লিখা আছে?
আকাশঃ বাহ বাহ মুখে দেখছি খই ফুটছে...কি ভেবেছিস পড়াশুনা না করে কারো ঘাড়ে চেপে সারাজীবন পায়ের উপড় পা তুলে কাটিয়ে দিবি তাই না...?? জ্বি না এত সহজ না মুর্খ মেয়েকে কেউ বিয়ে করবে না আর বিয়ে না দিতে পারলে তো আমার ঘাড়েই সারাজীবন পড়ে থাকবি সেটা আমি কি করে মেনে নিব?
মেঘলাঃ এ্যা কি আমার চাকরীজীবি রে...নিকুচি করেছে তোর খরচে চলার কোন ইচ্ছা নেই আমার, আমার বর আছে বুঝলি..??
কথা টা শুনে আকাশ আর নাবিল দুজনেই অবাকের চরম সীমায় পৌছে গেল।
আকাশঃ কি আছে তোর? আবার বল শুনতে পাই নি.
নাবিল বুঝতে পারল এখন মেঘলার কপালে দুঃখ আছে তাই তাড়াহুড়ো করে এগিয়ে এসে বলল কিছু বলে নি,মেঘলা বের হ তোর স্কুলের দেরি হয়ে গিয়েছে তাড়াতাড়ি যেতে হবে... বলেই মেঘলাকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল।
আকাশঃ নাবিল কি করছিস ডাক ওকে. কি বলল শুনি একটু...এত সাহস পায় কোথায় আমার মুখে মুখে কথা বলার..??
নাবিলঃ পাগল ছাগল নিয়ে আমার হয়েছে যত জ্বালা, তোরা ২ টাই সাইকো কখন কি বলিস কি করিস কোন ঠিক ঠিকানা নেই।
আকাশঃ ও বুঝে শুনে বলল তো আমি ওর কেউ না ওর বর আছে তাই না? আচ্ছা আমিও দেখি এই বর ওকে কতটা ভাল রাখতে পারে..
।
।
।
এদিকে,
মেঘলাঃ আমাকে পেয়েছে টা কি শুনি এত সকালে উঠে কত কষ্ট করে রান্না করলাম আর বিনিময়ে আমাকে মুর্খ বলল আরও কত কি বলে অপমান করল।আমার যেন কোন আত্মসম্মানেই নেই।
যা তোকে আর ভালবাসব না ভালবাসার শখ আমার মরে গেছে এর চেয়ে নীরবেই ভালো আমার কত খেয়াল রাখে একবারো অপমান করে না...
এদিকে আকাশ রাগে গজ গজ করছে
আকাশঃ হাতে ব্যাথা না থাকলে আজ মেঘলার খবর করে ছেড়ে দিত কিন্তু তা পারছে না বলে রাগে নিজেই নিজের মাথার চুল ছিড়ছে..
নাবিলঃ হয়েছে আর রাগ দেখাতে হবে না নে খেয়ে নে..
আকাশঃ এই ডায়নিবুড়ির খাবার আমি খাব না সরা সামনে থেকে।ভালোর জন্য বল্লাম স্কুলে যেতে আর জবাবে কি বলল শুনলি?
নাবিলঃ আপনিও ভালভাবে বলেন নি সুন্দর করে বল্লেই হত,আর ওর হাতের খাবার খেতে না পারলে একটু পর তো নিজেই সোসাইড করার উপক্রম করবি, চিনি না আমি তোকে?সালা নে খা এখানে ফ্রিজ নেই যে তোর রাগ থামা পর্যন্ত খাবার রাখা যাবে।
আকাশঃ তো রাগ করব না তো কি করব? ওকে মানা করেছি না রান্না ঘরে যেতে তবুও গেল কেন...
নাবিলঃ তোর মতই ত্যাড়া তাই গেল...আর মেয়েদের ত রান্না করতেই হয় নাহলে বর কে খাওয়াবে কি করে?কষ্ট হলেও এর মধ্যে তৃপ্তি আছে।
আকাশঃ তা নাহয় বুঝলাম কিন্তু রান্না করে যে ভুতের মত কাল হবে তখন?
আচ্ছা সেটাও নাহয় মেনে নিলাম কোথাও নিয়ে বের হব না কারো সামনেও নিব না অসুবিধা নেই কিন্তু আমার বাচ্চাগুলা যে উগান্ডার বাচ্চাদের মত দেখতে হবে তখন কি হবে...?? তুই ত বলবিই তুই তো চাস আমার বাচ্চারা কাল হোক..
নাবিল হাসিতে গড়াগড়ি খেতে খেতে বলল...ভাই তুই থাম আর হাসাস নে হাসতে হাসতে আমি এখন শহিদ হয়ে যাব, ও গড কি পরিমান ছেলে মানুষ তোরা ভাবা যায়...
আকাশঃ দেখিস তোকে আমি শাকচুন্নির সাথে বিয়ে দিব...
নাবিলঃহা হা হা আচ্ছা দিস,আর তা না পারলে তোর আর মেঘলার উগান্ডার মত বাচ্চাদের আমার বাচ্চাদের সাথে বিয়ে দিস ঠিক আছে?
এখন খেয়ে নে পাগলা আমি গিয়ে দেখি তোকে কোনভাবে বাসায় নেয়ার পারমিশন পাই কিনা...
আকাশঃ হুম দেখ গিয়ে যদি পারমিশন দেয় খুব ভাল হয় বাসায় নাহয় বেড রেস্টেই থাকব।
নাবিল চলে গেল...
।
।
।
।
।
।
এদিকে মেঘলার হটাৎ মনে পড়ল নীরবকে ত ভিলেন তুলে নিয়ে গিয়েছিল তাই তাড়াতাড়ি নীরব কে ফোন দিল।
নীরবঃ হ্যা মেঘলা বলো?
মেঘলাঃ ফোন ধরেছো মানে ঠিক আছো আচ্চগা কোথায় তুমি..??
নীরবঃ হাসপাতালে...
মেঘলাঃ মানে কি...
নীরবঃ মানে টা তো আমিও জানি না কাল এরা কারা ছিল সেটাও জানি না এই মাস্ক পড়া ছেলেটাই বা কে ছিল কারন ছাড়াই ধুলাই দিয়ে চলে গেল।আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই সব ঘটে গেল।
মেঘলাঃ কোন হাসপাতালে আছো বলো আমি আসব।
নীরবঃ সিটি হাসপাতাল ২০৪ নাম্বার বেড।
মেঘলাঃ কি...?? ২০৩ নাম্বার বেডে তো আকাশ ভাইয়া আছে।
নীরবঃ ওমা আকাশের আবার কি হল...??
মেঘলাঃ এক্সিডেন্ট তোমাকে সব বলব আগে আসি।
নীরবঃ হুম এসো আমাকে মেরে ওরাই আবার হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে গিয়েছে।
মেঘলাঃ তারমানে ভাইয়াকেও ওরাই...
নীরবঃ কিছু কি বলছো শুনতে পাচ্ছি না।
মেঘলাঃ কিছু না থাক আসছি...
।
।
।
।
কিছুক্ষন পর মেঘলা আকাশের বেডের সামনে যাচ্ছিল নাবিল সেটা লক্ষ্য না করলেও আকাশের চোখ এড়াতে পারে নি মেঘলা..
আকাশঃ সামনে দিয়ে কে গেল রে..??
নাবিলঃ হাসপাতালে কত মানুষ আছে
আকাশঃ মেঘলাকে দেখলাম মনে হল...
নাবিলঃ আরে না ও এতক্ষনে চলে গিয়েছে।
আকাশঃ একবার বাইরে গিয়ে দেখতো।
নাবিল গিয়ে দেখে আসল কিন্তু মেঘলা রুমে ঢুকে গিয়েছে তাই পেল না।
এর মধ্যেই ডাক্তার এসে বলল আকাশকে বাসায় নিয়ে যেতে পারবে তবে কয়েকদিন বেড রেস্টে থাকতে হবে নাবিল সব ফরমালিটি শেষ করে এসে আকাশ কে নিতে আসল।
আকাশ নাবিলের উপড় ভর ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগল।
হঠাৎ আকাশ থেমে গেল..
নাবিলঃ কি রে দাঁড়িয়ে গেলি যে... কষ্ট হচ্ছে? বসবি একটু..??
আকাশ গম্ভির গলায় উত্তর দিল হুম কষ্ট খুব কষ্ট হচ্ছে রে...আচ্ছা বসলে কি বুকের বাম পাশের ব্যাথা কমে নাবিল?
নাবিল অবাক হয়ে আকাশের দিকে তাকাল আর দেখল আকাশের ছল ছল চোখে তাকিয়ে আছে।
নাবিল আকাশের দৃষ্টির দিকে চোখ রাখল আর দেখল নীরব বেডে শুয়ে আছে মেঘলা বসে বসে কাঁদছে।
নাবিল আকাশকে সাত্ত্বনা দেয়ার জন্য বলল,
নাবিলঃ এই যুগে এগুলা ব্যাপার নাকি..?? বোকা মন খারাপ করছিস কেন.. ফ্রেন্ড থাকতে পারে না?
আকাশঃ এটাই মেঘলার বর তাই না?
নাবিল যদিও নীরব কে চিনে কিন্তু বলল না উল্টে বলল কি জানি আমি চিনি না।
আকাশ হেসে বলল আমার সাথে লুকুচুরি করিস?আজ থেকে ১,৪৭১ দিন আগে ছেলেটাকে দেখেছিলাম মেঘলার হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিল সেই দৃশ্য আমি এখনো ভুলি নি কোনদিন ভুলব ও মা এই চেহেরা ভুল হওয়ার নয়।
নাবিলঃ আকাশ মেঘলাকে ডাকব..?
আকাশঃ প্রশ্নই আসে না প্রতিটা মানুষের নিজের মত চলাফেরা করার অধিকার আছে। চল আমরা যাই। আমাদের দেখলে মেঘলা হয়ত তার হাজবেন্ডের সাথে ফ্রিলি সময় কাটাতে পারবে না হাজার হোক বড় ভাই তো নাকি।
নাবিলঃ আকাশ....কিসব বলছিস বিয়েই হয়নি কিসের বর।
আকাশঃ এটা আমার নয় মেঘলার কথা...নাবিল চল প্লিজ আমার দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে তুই তো দেখি ভুলেই গেছিস আমি অসুস্থ।
নাবিল বুঝল আকাশ খুব কষ্ট পেয়েছে কারন আকাশ রেগে গেলে ভাংচুর করে চেঁচামেচি করে আর রাগের মাত্রা বেশি বেড়ে গেলে না কষ্ট পেলে একদম চুপ হয়ে যায় আর কিছু বললেও খুব শান্ত গলায় বলে যেমন টা এখন বলল।
তাই আর কথা না বাড়িয়ে আকাশ কে নিয়ে বেরিয়ে গেল।
।
।
।
।
।
চলবে....!!!
Love
#গল্পটা_ভালোবাসার💞💞💞
#সিজন_2
#পর্বঃ৩০
#Misty_Meye(মরিয়ম)
আমিঃ এই যে শুনুন।
রোদঃ কি?
আমিঃ আইসক্রিমের দোকান খুলেছে।
রোদঃ তো?
আমিঃ তো মানে? আইসক্রিম খাবো না।
রোদঃ তুমি না চা খেলে।
আমিঃ তো কি হইছে। চা খাইয়া আইসক্রিম খাইতে নাই নাকি?
রোদঃ এতো সকালে আইসক্রিম কিনতে দেখলে না সবাই তোমাকে পাগল ভাববে।
আমিঃ ভাবুক। আপনি চলুন।
এরপর রোদ আমাকে আইসক্রিম কিনে দেয়। আর আমরা আইসক্রিম খেতে খেতে বাসায় আসি। বাসায় এসে দেখি তিয়াষ,রোদ্দুর,রোদেলা সবাই বসার রুমে বসে আছে।
আমি আর রোদ সবাইকে দেখে অবাক হয়ে গেছি। এতো তাড়াতাড়ি ওরা উঠলো কিভাবে?
রোদঃ তোরা কখন উঠলি?
রোদ্দুরঃ তোমরা কই ছিলা ভাইয়া?
রোদঃ বাইরে।
রোদেলাঃ তোমাদের জন্য আমরা অপেক্ষা করছিলাম। দরজা খুলা ছিলো তাই তোমার রুমে গিয়ে দেখলাম তোমরা কেউই নাই। ও ভাইয়া তুমি ভাবীকে নিয়ে ঘুরতে গেছিলা। আমাদের ও নিতা।
মিষ্টিঃ আমি বলছিলাম তোমাদের ও নিতে । কিন্তু তোমার ভাইয়া আমাকে জোর করে নিয়ে গেছে কিন্তু তোমাদের নেওয়ার কথা শুনলোই না। (ইচ্ছা করেই মিথ্যা কথা বললাম।)
রোদঃ 😡
আমিঃ☺
এরপর ওরা সবাই রোদকে ইচ্ছা মতো বলছে। আর রোদ ও চুপ করে শুনছে। আর রাগছে। আমি রুমে গিয়ে পায়ের উপর পা তুলে আরামে মোবাইল গুতাচ্ছি। আর ওদিকে রোদ ওদের সাথে ঝগড়া করছে।
রুমে এসে আমার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে রোদ ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে অফিসে চলে যায়। আমাকে কিছুই বললো না। অফিসে গিয়ে রোদের মনে পড়ে মিষ্টির কথা। ভাবছে ও কিভাবে কাল রাতে মিষ্টির পাগলামি সহ্য করলো। এতো কান্না তারপর আমার ওর টি-শার্টে এগুলা ভাবতেই রোদের হাসি পাচ্ছে। রোদ আরো আশ্চর্য হচ্ছে ওর একটুও রাগ হচ্ছে না। বরং ভালো লাগছে।
ও তো মিষ্টিকে একদম সহ্যই করতে পারেনা কিন্তু আজকে ওর সেটা একদমই মনে হচ্ছে না। ওর মিষ্টির হাসিটা মনে পড়তেই নিজে ও হেসে দেয়। মিষ্টির ঝগড়াটাকে মনে পড়তেই আরো খুশি হয়ে যায়। রোদের মনটা মুহূর্তেই খুশি হয়ে যায়। সারাদিন ওর মিষ্টির কথা ভাবতে ভাবতেই শেষ হয়ে যায়। এক রাতেই নিজের এতো পরিবর্তনে নিজেই অবাক হয়ে যাচ্ছে ও ।
রাতে বাসায় আসার সময় রোদ মিষ্টির জন্য আইসক্রিম নিয়ে আসে। মিষ্টি তো সেই খুশি। ও রোদকে একটা থ্যাংকস দিয়ে খেতে শুরু করে।
এভাবে একমাস কেটে যায়। এ একমাসে রোদ মিষ্টির প্রতি কিছুটা দূর্বল হয়ে পড়েছে। ও সেটা বেশ বুঝতে পারছে। মিষ্টি আর রোদের সম্পর্ক আগের থেকে একটু স্বাভাবিক হয়েছে। আগের মতো কথায় কথায় ঝগড়া হয়না তবে যখন হয় তখন সেই রকমের ঝগড়া হয়।
,
,
,
,
,
বসার ঘরে আমার শ্বশুর -শাশুড়ি আমাদের সবাইকে ডেকে পাঠিয়েছে। ওখানে গিয়ে শুনলাম ঊনারা রোদ্দুর আর তিয়াষের বিয়ের জন্য সবাইকে ডেকেছেন। ওদের বিয়েটা ও উনারা তাড়াতাড়ি দিয়ে দিতে চাইছে। আর এ কাজে আমি উনাদের সাহায্য করছি। রোদ্দুর আর তিয়াষ তো লজ্জা আর খুশিতে লাল হয়ে গেছে। আর রোদ অবাক হয়ে গেছে। কারন ও এতোদিন তো জানতোই না যে তিয়াষ আর রোদ্দুর নিরা আর তিশাকে ভালোবাসে। ও শুধু চুপচাপ শুনেই যাচ্ছে। আমি ওর অবস্থাটা বেশ বুঝতে পারছি।
রুমে এসে ও আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে।
আমিঃ আপনি জানবেন কিভাবে? ভাই-বোনের ব্যাপারে তো কোন খোঁজ খবর রাখেন না তো জানবেন কিভাবে? শুনুন ওরা না অনেক আগে থেকেই একে অপরকে ভালোবাসে। আমাদের বিয়ের আগ থেকেই।
রোদঃ এতো আগে থেকে। বাবা মা ও জানে অথচ আমিই জানলাম না।
আমিঃ ওই যে বললাম খবর রাখলে না জানবেন।
রোদঃ এক জনই বাড়িটারে পালটিয়ে দিলো আর বাকি দুই জন আসলে আল্লাহ্ই জানে কি হয়?
আমিঃ 😈,,,,,,,,
,
,
,
,
,
সারাবাড়ি লাইট, ফুল দিয়ে খুব সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে। সাথে হৈ চৈ এ পুরো বাড়ি মেতে আছে। হবে নাই বা কেনো বিয়ে বাড়ি বলে কথা। আমার ও ভীষণ আনন্দ হচ্ছে আমার দুই বোন এখানে চলে আসবে। তারপর আমরা তিনজন একসাথে কতো মজা করবো। আহঃ!
তিয়াষ, রোদ্দুর আর রোদেলা আরো কয়েকজন সবাই একসাথে গল্প করছে। আজকে তো ওদের গায়ে হলুদ। কিন্তু ওদের দেখে একদম মনেই হচ্ছে না যে ওদের আজকে বিয়ে। আমি ও বাড়ি সাজাতে ব্যস্ত।কিছুক্ষণের মধ্যেই গায়ে হলুদ শুরু হবে। আমিই সব কিছুর আয়োজন করছি। কিন্তু রোদ্দুর আর তিয়াষের বদলে রোদকে দেখে অনেক অবাক হয়ে যাচ্ছি। রোদের ভাইয়ের বিয়েতে রোদ কেনো? রোদকে সকলে গায়ে হলুদ দিচ্ছে। আমি ও দিচ্ছি। কিভাবে এগুলা হচ্ছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। কিন্তু রোদের বিয়ে কার সাথে হচ্ছে সেটা ও আমি জানি না।
বিয়ের সময় রোদ ভীষণ হাসি খুশি হয়ে আছে । আমাকে যেন বাড়ির কেউই চিনছে না সকলের এমন ভাব। আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। আচ্ছা এরা পরে আমাকে সারপ্রাইজ দিবে না তো। রোদ তো আমার দিকে তাকাচ্ছেই না। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেকটা মেয়ে লাল শাড়ি পড়ে আসলো। আর রোদের সাথে বিয়েটা ও করে নিলো। এবার আমি কেঁদেই দিলাম। আমার এগুলা একদম সহ্য হচ্ছে না। আর তারপর আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে ওরা আমারই রুমে ঢুকে গেলো।
চলবে...............
█▒▒▒ ব্রেকিং/ Breaking News ▒▒▒█
█▒▒▒ ব্রেকিং/ Breaking News ▒▒▒█
** ১১৩০১ নমুনা পরীক্ষায় ২৫২৩ নতুন করোনা রোগী শনাক্ত।
** ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫৮২ জনের।
** গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ৫৯০ জন, মোট সুস্থ হয়েছেন ৯০১৫।
** এ পর্যন্ত দেশে মোট ৪২,৮৪৪ জনের করোনা শনাক্ত।
রুই মাছ রেসিপি
উপকরনঃ
রুই মাছ – ৬ টুকরা
রসুন বাটা – ১/২ চা চামচ
আদা বাটা – ১/২ চা চামচ
জিরা বাটা – ১/৩ চা চামচ
ধনে গুঁড়া – ১/২ চা চামচ
পেঁয়াজ কুচি – ৩ টেবিল চামচ
মরিচ গুঁড়া – ১/২ চা চামচ
হলুদ গুঁড়া – ১/৪ চা চামচ
টমেটো ফালি করা – ১ কাপ
কাঁচা মরিচ – ৩/৪ টা (ফালি করা)
ধনেপাতা কুচি – ২ টেবিল চামচ
তেল – ২ টেবিল চামচ
লেবুর রস – ১ চা চামচ
লবণ – পরিমানমতো
পানি পরিমানমতো (৩ কাপ পরিমাণ)
পদ্ধতি:
১।মাছের টূকরাগুলো ধুয়ে লবণ ও হলুদ মেখে তেলে হালকা করে ভেজে নিন।
২। অন্য একটি পাত্রে মাছ ভাজার গরম তেল দিয়ে পেয়াজ কুচি দিয়ে নেড়ে ভাজুন।
৩। পেয়াজ বাদামী রঙ ধারণ করলে চুলার আঁচ কমিয়ে দিন।
৪। এবার আদা-রসুন বাটা, হলুদ-মরিচ গুঁড়া, জিরা বাটা, ধনে গুঁড়া এবং লবণ দিয়ে কষাতে থাকুন।
৫। সব মশলা ২/৩ মিনিট কষানো হলে মাছের ভাজা টূকরাগুলো মশলায় ছেড়ে দিন।
৬। এবার তিন কাপ পানি দিয়ে আবার হালকা করে নেড়ে ঢেকে দিয়ে রান্না হতে দিন। এসময় চুলার আঁচ স্বাভাবিক থাকবে।
৭। পাঁচ মিনিট রান্না হলে ঢাকনা তুলে টমেটো ও কাঁচামরিচ দিয়ে আরো ১০মিনিট রান্না করুন। ঝোল একটু ঘন হবে।
৮। ঝোল-ঝোল অবস্থায় ধনে পাতা কুচি ছড়িয়ে দিয়ে নামিয়ে ফেলুন