বাস্তবতা
#কিছু_বাস্তবতা
(১) কিছু মানুষ আছে যারা অল্পতেই খুব খুশি হয়,কিন্তু তারা হাসার জন্য সেই অল্প কারণটাই খুঁজে পায়না।
(২) কিছু মানুষ আছে এই পৃথিবীতে যাদের সাথে কখনোই ভালো কিছু হয়না।নানান রকম সমস্যা যেন সৃষ্টি হয়েছে তাদের জন্য।
(৩) কিছু মানুষ আছে যারা মানুষের ভালো করার জন্য নিজেকে সবসময় বিলিয়ে দিয়ে রাখে, কিন্তু তাদের মঙ্গল কামনায় কাউকে পাশে পায়না।
(৪) কিছু মানুষ আছে যারা একা একা খুব করে কাঁদে কিন্তু মানুষের সামনে হাসি মুখ ছাড়া কথা বলেনা।
(৫) কিছু মানুষ আছে যারা মানুষকে অল্পতেই বিশ্বাস করে বসে,কিন্তু এর বিনিময়ে তারাই সবচেয়ে বেশি ঠকে।
(৬) কিছু মানুষ আছে যারা ভালোবাসে খুব করে, কিন্তু ভালোবাসার মানুষটাকে সেটা বুঝাতে পারেনা।
(৭) কিছু মানুষ আছে যারা অল্পতেই রাগারাগি করে,কিন্তু রাগ শেষে তারাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায়।
(৮) কিছু মানুষ আছে যারা ভেতর থেকে মরে গেছে অনেক আগেই শুধু মাত্র বাবা মায়ের কথা ভেবেই আত্নহত্যা না করে বেঁচে আছে।
(৯)কিছু মানুষ আছে যাদের কে কেউ কখনোই বুঝতে পারেনা,আর সেই মানুষ গুলোও তাদের সমস্যা গুলো কাউকে বুঝাতে পারেনা।
(১০) কিছু মানুষ আছে যারা কষ্টের সাথে ধৈর্য ধরে বেঁচে আছে এই ভেবে একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে,কিন্তু এখনো কিছুই ঠিক হয়নি সবকিছুই এলোমেলো।
Sterility
#Sterility বা বন্ধাত্ব
#বিবাহিত জীবনে সন্তান না হওয়াকে বন্ধাত্ব বা sterility বা infertility বলে।
আমাদের দেশে এ সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বন্ধাত্ব ব্যাপারটি মহিলা এবং পুরুষের দুজনের ত্রুটি সমস্যার জন্যই হতে পারে। তবে মহিলাদের সমস্যার কারণে বেশি হয়। এক সন্তানের পর আর সন্তান হয় না এটিও বন্ধাত্বের আওতায় পড়ে অর্থাৎ এদেরকে কাক বন্ধা বলে৷
#মহিলাদের বন্ধাত্বতার কারণ ঃ
১. মেয়েদের ডিম্বাণু তৈরির ঘটনা প্রবাহের কোনো সমস্যা থাকলে তা বন্ধাত্বের প্রধান কারণ।
২.ডিম্বনালি যদি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায় -(যেমন ঃligation or blockage of fallopian tube).তাহলে ডিম্বানুর সাথে শুক্রাণুর মিলনের সম্ভাবনা লোপ পায়।
৩.গনোরিয়া,সিফিলিসটিউবারকুলোসিস,ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এই রোগগুলো মেয়েদের বন্ধাত্বতার ২য় প্রধান কারণ।
৪.ডিম্বাশয়ের টিউমার বা cyst, জরায়ুর টিউমার(fibroid tumour), সারভিক্স ক্যানসার, জরায়ুর অবস্থান পরিবর্তন।
৫.মেয়েদের সাদাস্রাব অতিরিক্ত হতে থাকলে এবং তা একটু বেশি মাত্রায় ক্ষার জাতীয় হয়ে উঠলে জনননালীতে শুক্রাণুগুলোর মৃত্যু হয় ফলে বন্ধাত্বতার সৃষ্টি হয়।
৬. ঋতুস্রাবের গন্ডগোল, বাধক বেদনা,হরমোনের সমস্যা, শারিরীক দুর্বলতা,মেদ প্রবন বা মোটা ইত্যাদি।
৭.মেয়েেদর ধুমপান,মদ্যপান,নিয়মিত দীর্ঘদিন ধরে জন্মনিরোধক বড়ি খাওয়া।
৮. সঙ্গমের পর স্ত্রী তার জরায়ুতে সিমেন ধরে রাখতে না পারা। এ বিষয় টি একটু ভিন্ন রকম অর্থাৎ মিলনের পরে স্তীর যোনীপথ হতেই সমস্ত বীর্য বের হয়ে আসে ফলে শুক্রাণু জরায়ুতে প্রবেশ করে না।
৯. এছাড়াও কিছু মানষিক কারণ যেমন-স্বামির প্রতি ঘৃনা,স্বামীর সঙ্গসুখ না পওয়া ইত্যাদি।
#ছেলেদের বন্ধাত্বতার কারণঃ
সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বন্ধাত্বতার শতকরা ২৫% স্বামীদের কারনে হয়ে থাকে।
১.শুক্রাণুর নির্জীবকরণ(Azoospermia and oligospermia) পুরুষদের বন্ধাত্বতার প্রধান কারণ।
২.ধ্বজভঙ্গতা(impotency or imperfection of penis)এটি ছেলেদের বন্ধাত্বতার ২য় কারণ।
৩.গনোরিয়া, সিফিলিস, টিউবারকুলোসিস, ডায়াবেটিস, প্রস্টেটগ্রন্থির ক্যান্সার,শুক্রাশয়ের প্রদাহ(orchitis)ইত্যাদি বন্ধাত্বতার কারণ।গনোরিয়া, সিফিলিস, টিউবারকুলোসিস ছেলেদের বংশানুক্রমিক বন্ধাত্বতার সৃষ্টি করে।
৪.অত্যধিক মানষিক অশান্তি, মানসিক অস্থিরতা,অতিরিক্ত মদ্যপান ও ধুমপান, রক্তসল্পতা ইত্যাদিও ছেলেদের বন্ধাত্বতার কারন।
৫.cryptoorchism or underdevelopment of testes or abdominal testes ও আরেকটি কারন।তবে সংখ্যায় খুব কম।
#বন্ধাত্বতার কারণ জানার জন্য প্রয়োজনীয় পরিক্ষা ঃ
1.Infertility profile test.
2.USG of whole abdomen.
3.HSG for fellopian tube.
4.Accurate measurment of endometrial layer of uterus.
5.T3,T4,THS,LH,Prolactin Hormone test.
6.Ovulogram
7.TORCH
বন্ধাত্বতা আসলে কোন রোগ নয়। এটি এক বা একাধিক সমস্যার ফল।তাই বন্ধাত্বতার চিকিৎসার জন্য আগে এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে তারপর চিকিৎসা করতে হবে।তবে অনেক ক্ষেত্রে আমরা স্বমীর মধ্যেও সমস্যার কারন খুজেঁ পাই। তাই যেসকল দম্পতি সন্তান লাভের আশায় স্ত্রীর সমস্যা ভেবে শুধু স্ত্রীর চিকিৎসা করাচ্ছেন তাদেরকে বলবো আপনারা উভয়েই আমাদের কাছে আসুন আমরা উভয়ের সাথে কনসাল্ট করে সমস্যা কার ও কি সমস্যা তা অনুযায়ী চিকিৎসা দিব আশাকরি নিরাশ হবেন না। আল্লাহর অশেষ রহমতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিয়ে বহু দম্পতির সন্তান হয়েছে।
লকডাউনে কীভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন
কোয়ারাইন্টাইনে থেকে আমাদের মানসিক ও শারীরিক উভয়েরই পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে আরো একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে ওজন বৃদ্ধি।
করোনাভাইরাসের জন্য সবাই এখন লকডাউনে সারাদিন খেয়ে, ঘুমিয়েই কেটে যায় সময়।খেয়ে, বসে, শুয়ে আপনার বেড়ে যাচ্ছে ওজন। আর ওজন বাড়া মানেই রোগের উৎপত্তি।এছাড়া অনেকেই সারারাত না ঘুমিয়ে ভোরবেলা ঘুমোতে যাচ্ছেন। এইযে সুস্থ জীবনযাপনে আসলো কিছু বিপত্তি, তার সমাধানে আমার আজকের পর্ব **কীভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।**
প্রথমেই বলি সেসকল খাবার যা আপনার সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে নিতে সাহায্য করবে –
**মধু-লেবুর পানি**
ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস খুব হালকা কুসুম পানির সঙ্গে মধু ও লেবু মিশিয়ে পান করুন। খালিপেটে এই পানীয়টি খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। এটি আপনার শরীরের ওজন কমানোর পাশাপাশি শরীর থেকে **বিষাক্ত পদার্থ (টক্সিন)** বের করতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
**পানি**
নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে ভুলবেন না। এটি আপনাকে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকিং থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে এবং ত্বক, হজম ইত্যাদির জন্য ভাল। **অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বাঁচতে খাওয়ার ৩০মিনিট আগে ১-২ গ্লাস পানি পান করুন।**
**গ্রিন টি**
মানসিক চাপ ও ওজন কমানোতে সাহায্য করে এমন একটি পানীয় হচ্ছে গ্রিন টি। ডা. নিকো বলেন, **‘গ্রিন টি এর প্রধান সক্রিয় পুষ্টি হচ্ছে অ্যামাইনো অ্যাসিড এল-থিয়েনিন।’**
বায়োকেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল বুলেটিনে প্রকাশিত গবেষণায় পাওয়া গেছে, লো ক্যাফেইন গ্রিন টি এর **এল-থিয়েনিন**মস্তিষ্কের ওপর ঘুমাচ্ছন্ন প্রভাব না ফেলেই মনকে শিথিল করতে পারে এছাড়াও গ্রিন টি তে উপস্থিত **কেটাচিন** পেটের মেদ ঝরাতে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।
তাই সকাল বেলা ব্রেকফাস্টের আগে এক কাপ চিনি ছাড়া গ্রিন টি পান করে নিলেন।
**ওটমিল**
২০১৬ সালে জার্নাল অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্সেসে প্রকাশিত রিভিউ গবেষণা অনুসারে, এক বাটি উষ্ণ ওটমিল শিথিলতা ও প্রশান্তির মাত্রা যোগ করতে পারে।
ডা. দেবজি বলেন, **‘জটিল কার্বোহাইড্রেট খেলে সেরোটোনিনের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এই কেমিক্যালটি স্ট্রেস হরমোন হ্রাস করে।’** ওটস হচ্ছে **ট্রিপ্টোফ্যানের** ভালো উৎস, যা শরীরে **সেরোটোনিনে** রূপান্তরিত করে। এছাড়াও এটি ফাইবার, আয়রন, প্রোটিন ও ভিটামিন যুক্ত একটি খাবার। ওটসে থাকা ভিটামিন-বি ও কার্বোহাইড্রেট হজমে সাহায্য করে। এছাড়াও কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
**মৌসুমী ফল**
যতটা সম্ভব মৌসুমী ফল অন্তর্ভুক্ত করুন। প্রতিদিন কমপক্ষে ২-৩ টি ফল রাখার অভ্যাস করুন। বিশেষ করে টক ফল যেমন – আমড়া, জাম্বুরা, লেবু এছাড়াও ভিটামিন-সি যুক্ত ফল যেমন- আমলকি, পেয়ারা ইত্যাদি। এছাড়াও আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল তো রয়েছেই। তবে ছোটো **আম ২টির**বেশি কোনো ভাবেই এখন খাবেন না। বেশি আম ওজন বৃদ্ধি করে।
**সবুজ শাকসবজি**
সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টস, বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও মিনারেলস ইত্যাদি থাকে। এ সমস্ত শাকসবজি শরীরের গঠন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাই রোজ দুপুরের খাবারে এক বাটি করে মিক্স সবজি খান। বিশেষ করে যেসব খাবারে প্রোটিন ও ফাইবার দুই রয়েছে সেগুলি শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাই দুপুর এবং রাতের খাবারে নিয়মিত রাখতে পারেন ব্রকলি, কচুশাক, মিষ্টি আলুর শাক, কলমি শাক, পুদিনা পাতা, পুঁইশাক, মুলা শাক, ডাঁটা শাক, লাউ ও মিষ্টি কুমড়ার আগা-ডোগা শাক, সাজনা, কলার মোচা, ঢেঁড়স, ডাঁটা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি, গাজর, শিম, পটল, কচু, বেগুন, বরবটি ও মটরশুঁটি ইত্যাদি।
**কার্বোহাইড্রেট কম, প্রোটিন বেশি**
যদি আপনি ওজন হ্রাস করার দিকে মনোনিবেশ করে থাকেন তবে ভাল কার্বস এবং খারাপ কার্বসের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম হওয়া জরুরী। সাদা রুটি, সিরিয়াল, পাস্তা এবং ডোনাট এবং কেকের মতো চিনির জিনিস আপনার ওজন বৃদ্ধি করে, জটিল কার্বোহাইড্রেট বা পুরো গমের তৈরী খাবারগুলি আপনার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। পাশাপাশি মাছ, ডিম, মুরগী রাখতে হবে।
মাছের তেলে থাকে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং মাছে থাকে প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেল যা শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমতে দেয় না এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করে। মুরগিতে থাকা ভিটামিন-বি৬ শরীরে বিপাকের মাত্রা উন্নত করে, খাবার হজম করতে সাহায্য করে। তবে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সাহায্য করে।
**আপেল**
কথায় বলে, **‘একটা করে আপেল খান, আর ডাক্তারের ঠিকানা ভুলে যান!’**
আপেলে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা খিদের মাত্রাকে কমায় এবং জমে থাকা ফ্যাট দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও আপেল ভিটামিন এবং মিনারেল যুক্ত হওয়ায় ওজন কমাতে দ্রুতো কাজ করে। তাই রোজ একটি করে আপেল খেতে পারেন তবে মিষ্টি লাল আপেল নয়, সবুজ একটু টক আপেল।
**অ্যাভোকাডো**
এই ফলটা একটু দামি ঠিকই। কিন্তু নিয়মিত যদি খেতে পারেন, তাহলে যে উপকার পাবেই পাবেন, সেকথা হলফ করে বলতে পারি। আসলে অ্যাভোকাডোতে ফাইবারের পাশাপাশি রয়েছে **monounsaturated oleic acid**নামক উপকারী ফ্যাট, যা ভুঁড়ি কামতে বিশেষ ভূমিকা নেয়।
**দই**
হজম ক্ষমতা বাড়লেও কিন্তু ওজন কমে। তাই তো নিয়মিত দই খাওয়া উচিত। কারণ, এতে উপস্থিত উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলি হজম ক্ষমতাকে অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে প্রদাহের মাত্রাও কমে। ফলে মেদ ঝরতে সময় লাগে না। তাই মাস খানেকের মধ্যে যদি ওজন কমানোর ইচ্ছা থাকে, তাহলে প্রতিদিন লাঞ্চের শেষে এক বাটি করে টক দই খেতে ভুলবেন না যেন!
**ডিম**
ঝটপট ওজন কমাতে চান তো কাল ব্রেকফাস্টে সিদ্ধ ডিম খাওয়া শুরু করেন। ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, যা বহুক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে বারে বারে মুখ চালানোর ইচ্ছা আর থাকে না। তাই শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরির প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে পারে। সপ্তাহে ৪দিন কুসুম ছাড়া ও বাকি ৩ দিন কুসুম সহ ডিম খেতেই পারেন।
**কলা**
ওজন কমানোর ইচ্ছা থাকলে তাহলে ব্রেকফাস্টে নিয়ম করে খান দুয়েক কলা খাওয়া উচিত। ভাবছেন, তাতে কী লাভ হবে? তাহলে জেনে রাখা ভাল যে এই ফলটি পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামে ঠাসা, যা হজমে সহায়ক উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়তে সাহায্য করে। ফলে মেটাবলিজম রেট এতটাই বেড়ে যায় যে দ্রুত মেদ ঝরতে শুরু করে। তবে টক মিষ্টি যে কলা রয়েছে যেমন – চম্পা কলা, এমন কলা খেতে হবে। আর একটি প্যাকেজ হতে পারে, টকদই-চিড়া-কলা যা রাতে অনায়েশে আপনার চমৎকার খাবার হতে পারে।
আপনার পেটের একটা বন্ধু আছে নাম **ডায়েটিশিয়ান**। খাবারের চার্ট করতে তার সাহায্য নিন।
রাত ৮-৯ মধ্যে রাতের খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। আপনি ঘুমানোর কয়েক ঘন্টা আগে যদি বেশিরভাগ খাবার খান তবে আপনার শরীর আরও ভাল হজম করতে সক্ষম হয়। স্বাস্থ্যকর ওজন -পরিচালনার জন্য ভাল হজম গুরুত্বপূর্ণ।
দিনে লিটারচারেক পানি খাবেন, এতে করে দেহে ওয়াটার রিটেনশন হওয়ার আশঙ্কা কমে, যে কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকতে বাধ্য হয়।
অতিরিক্ত আম খাওয়া থেকে বিরতো থাকুন।
আপনার বড় খাবারগুলি একাধিক ছোট খাবারে ভাগ করুন। কারণ মনের ক্ষুধা বড় ক্ষুধা। উদাহরণ – যখন ছোটো প্লেটে খাবার নিবেন, সাইন্টিফিকেলি আপনার কাছে মনে হবে বেশি খেয়ে ফেলেছেন। আর এই কাজটি আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে কিন্তু।
রেগুলার কাজ করুন। ঘর মোছা, ঝাড়ু দেয়া, টবে পানি দেয়া ইত্যাদি কাজে হাত দিন, ক্যালরি ক্ষয় হবে।
অবশ্যই নিয়ম করে প্রতিদিন ঘরের রুমে দরকার হলে হাঁটুন।
সকাল বেলা ছাদে গিয়ে গায়ে রোদ লাগিয়ে আসুন।
রাত জাগা বন্ধ করুন, আপনার হরমোনাল পরিবর্তন, স্ট্রেস সবকিছু কিন্তু দায়ী এই অনিয়মিতো ঘুম।
পরিবারকে সময় দিন, মেডিটেশন করুন।
দুপুরে রাতে খাবারের পর সালাদ, দই রাখুন।
শাক জাতীয় খাবার রাখুন। রাতে নয়, দুপুরে। তবে যেদিন বেশি খেয়ে ফেলবেন সেদিন শাক রাতেও রাখতে পারেন।
অতিরিক্ত পরিমাণে লবণ ওজন বাড়িয়ে দেয়। অতএব, শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় পরিমাণ লবণ গ্রহণ করতে হবে।
বিষণ্নতায় ভুগলে করণীয় এবং বর্জনীয়
বিষণ্নতায় ভুগলে করণীয় এবং বর্জনীয়
যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয়, বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠতে আপনি ঠিক কী কী করে থাকেন? কিংবা যদি জিজ্ঞেস করা হয়, কাউকে বিষণ্ণতায় নিমজ্জিত অবস্থায় দেখলে তখন আপনার ভূমিকা কী হয়? আপনি হয়তো তখন এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আপনার সাধ্যমতো এবং আন্তরিকভাবে কিছু একটা করেন। কিন্তু আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও নিজের অজান্তেই ছোটখাটো কোনো ভুল করে বসছেন না তো, যা হয়তো সমস্যাকে প্রশমিত করার বদলে আরো দীর্ঘস্থায়ী করে তুলবে?
প্রকৃতপক্ষে, বিষণ্ণতা মোকবেলায় সকলেরই কমবেশি প্রস্তুতি থাকা উচিত। বর্তমান যুগে মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন কাঠামো থেকে শুরু করে সকল ধরনের সামাজিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রথা-প্রতিষ্ঠান, যেগুলো কোনো না কোনোভাবে মানুষের জীবনযাপনের সাথে জড়িত, সেগুলোর সাথে মানুষের আন্তঃক্রিয়া ও লেনদেনের সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল একটি পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। যান্ত্রিক সভ্যতার আধুনিক এ যুগ আমাদের কাজে এনেছে অবিরাম গতি। কিন্তু এ কৃত্রিমতার সাথে আমাদের প্রাকৃতিক ও সহজাত যেসব প্রবৃত্তিগুলো রয়েছে, সেগুলো এখনও পুরোপুরি খাপ খাইয়ে উঠতে পারেনি। তাই জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশ সফলতা অর্জন করেও একজন মানুষ তীব্র বিষণ্ণতায় ভুগতে পারেন।
বিষণ্ণতা আসলে কী
বিষণ্ণতাকে অনেকেই দুঃখ, রাগ, ক্রোধ বা আর দশটা সাধারণ মানবীয় অনুভূতির মতোই একটি বিশেষ অনুভূতি হিসেবে গণ্য করে থাকেন। তবে এটি বড় একটি ভুল; প্রকৃতপক্ষে বিষণ্ণতাকে একপ্রকার মানসিক ব্যাধি হিসেবে বিবেচনা করাটা যুক্তিসঙ্গত। আপনার বন্ধুদের মাঝে খুঁজলে হয়তো এমন কাউকে পাওয়া যাবে, যে কি না অল্পতেই মন খারাপ করে বসে বা রেগে যায়। আপনারা হয়তো এটা নিয়ে মজাও করে থাকেন। অথচ ভেবেও দেখেন না যে, এটা হেসে উড়িয়ে দেওয়ার মতো ছোটখাটো কোনো বিষয় নয়, এটি হয়তো বিষণ্ণতারই একটি লক্ষণ।
আবার একটি শিশু যদি কোনো কারণে বিষণ্নতায় ভোগে বা ভুগছে বলে মনে হয়, তাহলে দ্রুতই ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে উপযুক্ত চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে। কেননা, বিষণ্নতা শিশুদের মানসিক বিকাশকে সবচেয়ে বেশি বাধাগ্রস্থ করে।
আবার ঠিক তার উল্টো চিত্রও পরিলক্ষিত হয়। সাময়িক দুঃখ বা দুশ্চিন্তাকেও কেউ কেউ বিষণ্নতা বলে চালিয়ে দেন, যদিও এতে তেমন দোষের কিছু নেই। আপনি প্রায়ই পরীক্ষার আগে আপনার কোনো না কোনো বন্ধুকে বলতে শুনবেন, “প্রচন্ড ডিপ্রেশনে আছি।" যদিও এটা মোটেই ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা নয়; সে বিষণ্নতার অর্থ সঠিকভাবে জানে না বলেই হয়তো এটা বলছে। আবার পরীক্ষাটা যদি তার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বা চাকরির ইন্টারভিউ হয়ে থাকে, সেটির উপর তার চাকরি পাওয়া-না পাওয়া নির্ভর করে, সেই সাথে তার চাকরির উপর তার পরিবার নির্ভর করে এবং কোনো কারণে সেই চাকরিটা তার না পাওয়ার আশংকা থাকে, তাহলে সে সত্যিই বিষণ্নতায় ভুগতে পারে। সেক্ষেত্রে এটাকে সহজ করে দেখা যাবে না।
তাহলে ঠিক কখন ও কীভাবে বুঝবেন যে, আপনি বা আপনার পরিচিত একজন মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছে? এ বিষয়ে প্রথম বিবেচ্য বিষয় হলো, বিষণ্নতা দুঃখ বা দুশ্চিন্তার মতো সাময়িক নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা। এ সমস্যাটি সাধারণত অচিরেই গড়ে ওঠে না, আবার খুব দ্রুতই এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। বিষণ্নতা একজন মানুষকে গ্রাস করলে এর স্পষ্ট কিছু লক্ষণ তার কাজকর্মে ফুটে ওঠে। সেগুলো দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়, সে মানুষটি বিষণ্নতায় ভুগছে। বিষণ্নতার কিছু মারাত্মক লক্ষণ নিয়ে রোর বাংলার এই আর্টিকেলটি পড়ুন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ৩০ কোটি মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছে, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার শতকরা চার ভাগের চেয়ে বেশি। তবে সংখ্যাটা অবশ্যই আরও বেশি হতে পারে। খেয়াল করুন, এটি কিন্তু দুঃখী মানুষের সংখ্যার হিসাব নয়; যারা অনবরত বিষণ্নতায় ভুগছেন এবং বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠতে লড়াই করে যাচ্ছেন, তাদের হিসাব। অর্থাৎ, আপনার আশেপাশের প্রতি পঁচিশজন মানুষের মধ্যে অন্তত একজনকে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, যে কি না বিষণ্নতায় ভুগছে। এখন একটু গুণে দেখুন তো, আপনার পরিচিত মানুষের সংখ্যা কতজন হতে পারে? এবং তাদের মধ্যে কতজনকেই আপনার কাছে বিষণ্নতায় আচ্ছন্ন বলে মনে হয়?
কী করবেন বিষণ্নতায় ভুগলে
নানাবিধ কারণে একজন মানুষ বিষণ্নতায় ভুগতে পারেন। যখনই বুঝতে পারবেন আপনি বিষণ্নতায় ভুগছেন, দেরি না করে তা কাটিয়ে উঠতে সচেষ্ট হোন। জেনে নিন বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠতে আপনার কী কী করা উচিত, আর কী কী করা উচিত নয়।
যা যা করবেন
১. বিষণ্নতার কারণ শনাক্ত করুন: এ কাজটাই আপনার সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বিষণ্নতায় ভোগা মানুষগুলোর মধ্যে অধিকাংশই জানেন না যে, ঠিক কী কারণে তারা বিষণ্নতায় ভুগছেন কিংবা বিষণ্নতার যথাযথ কারণ নির্ণয় করতে ব্যর্থ হন। আপনি যদি এর সঠিক কারণই বের করতে না পারেন, তাহলে এর সমাধান কিছুতেই মিলবে না। ওষুধ দেওয়ার আগে জানতে হয়, সমস্যাটা ঠিক কোথায়। বিষণ্নতার কারণ বের করতে পারলে খুব সম্ভবত চিকিৎসকের সহায়তা ছাড়া আপনি নিজেই এর থেকে মুক্তির উপায় বের করে ফেলতে পারবেন।
২. দ্বন্দ্ব নিরসন: যদি মনে আপনার সাথে কারো কোনো প্রকার দ্বন্দ্ব রয়েছে কিংবা যদি মনে হয় আপনি কারো সাথে কোনোরূপ খারাপ আচরণ করেছেন, এবং সেটার কারণেই আপনার মধ্যে বিষণ্নতা ভর করেছে, তাহলে আর বসে না থেকে সেটির সমাধান করুন। কারো সাথে দ্বন্দ্ব থাকলে তা মিটমাট করে ফেলুন। সম্ভব হলে দ্বন্দ্ব মিটিয়ে সম্পর্ককে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনুন, আর সম্ভব না হলে সেই সম্পর্ক থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসুন; দীর্ঘমেয়াদে আপনার জন্য তা ভালো হবে। আর কারো সাথে ভুল কিছু করে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করুন বা ক্ষমা চান। এমনকি সেই ব্যক্তি আপনাকে ক্ষমা না করলেও আপনি মানসিক প্রশান্তি লাভ করবেন। কেননা, আপনি ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন, ফলে অনুশোচনার কিছু বাকি নেই।
৩. যেকোনো মূল্যে শারীরিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখুন: একজন বিষণ্নতায় আচ্ছন্ন মানুষকে খেয়াল করলে দেখবেন, তার চেহারায় বিষণ্নতার ছাপ বেশ স্পষ্টভাবেই পড়ে যায়। কেননা, এ অবস্থায় সাধারণত মানুষ তার শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি একদমই যত্নহীন হয়ে পড়ে। অথচ, এ স্বাস্থ্য ঠিক রাখাই তার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তা না হলে কিছুতেই বিষণ্নতা থেকে মুক্তিলাভ সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় বিশেষ করে ঘুম, খাওয়া ও শারীরিক ব্যায়ামের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। বেশি রাতজাগার অভ্যাস সাধারণত বিষণ্নতা বাড়িয়ে তোলে। তাই চেষ্টা করতে হবে বেশি রাত না জাগার এবং অন্তত ৬-৯ ঘন্টা ঘুমানোর। পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছে যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে, তা নিয়মিত গ্রহণ করলে সেটি বিষণ্নতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। আর প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিটের ব্যায়াম তাৎক্ষণিকভাবে বিষণ্নতাকে দূরে ঠেলে দেয়। এ কাজটি নিয়মিত কয়েক সপ্তাহ করে গেলে বিষণ্নতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসার কথা। আপনি জোরে হাঁটতে বা দৌঁড়াতে পারেন, কিংবা সাঁতার কাটতে পারেন, অথবা সাইকেল চালাতে পারেন। শারীরিক পরিশ্রমের পর মানুষের দেহে ‘এন্ডোরফিন’ নামক হরমোনের প্রভাব বেড়ে যায়, যা মানুষের ভালো লাগাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. নতুন কিছু করুন: আপনাকে যে জোর করে আপনার মনের বিরুদ্ধে নতুন কিছু করতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। মনে করে দেখুন, অতীতে এমন কোনো কিছুর কথা ভেবেছিলেন কি না, যা করা হয়ে ওঠেনি। যদি এমন কিছু থাকে, তাহলে সেটি হাতে নিন। আপনি নতুন কোনো কাজ শিখতে পারেন, কিংবা নিত্যনতুন অভিজ্ঞতা অর্জনে বেরিয়ে পড়তে পারেন।
আপনার আগ্রহ থাকলে কম্পিউটার বা ভাষা শিক্ষা সংক্রান্ত কোনো কোর্স করে নিতে পারেন। অথবা আপনি নিজে নিজেই ছবি আঁকা শিখতে পারেন। কিংবা আপনি কোনো গ্রামে ছুটে গিয়ে খুব কাছ থেকে গ্রামের বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবন-যাপন পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। প্রত্যেকটা নতুন অভিজ্ঞতাই মানুষকে নতুন আঙ্গিকে ভাবতে শেখায়। মাঝেমধ্যে এসব ভাবনা থেকে ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা মানুষ পেয়ে থাকে, যা নিশ্চিতভাবেই বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।
৫. রুটিন তৈরি করুন: রুটিনটা এমন হবে, যেন আপনি সেটা নিয়মিত অনুসরণ করতে পারেন। হোক সেটা সবচেয়ে সহজ কোনো রুটিন। প্রতিদিনই কয়েকটি নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার টার্গেট নিন এবং সেগুলো পূর্ণ করুন। প্রয়োজনে লক্ষ্য হিসেবে কম সংখ্যক এবং সহজ কাজগুলোকে নির্ধারণ করুন। দিনশেষে যখন দেখবেন আপনার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে, তখন আপনি এমনিতেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবেন এবং বিষণ্নতা থেকে মুক্তি পেতে থাকবেন।
৬. আধ্যাত্মিকতার সন্ধান: মেডিটেশন বা ধ্যান করতে পারেন। এতে নিজের মনের উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। আপনার ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী উপাসনা বা প্রার্থনা করতে পারেন। এতে মানসিক স্থিতিশীলতা আসবে এবং বিষণ্নতা কাটাতে তা বড় ভূমিকা পালন করবে।
৭. দায়িত্বশীলতা: একজন মানুষ হিসেবে আপনার অনেকগুলো পরিচয় আছে। আপনি কারো সন্তান, কারো ভাই অথবা বোন কিংবা কারো বন্ধু। এরকম অসংখ্য পরিচয় আছে আপনার। আর প্রত্যেকটি পরিচয়ের সাথে জড়িয়ে আছে কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য। সেগুলোর বিষয়ে সচেতন থাকুন এবং সেগুলো পালন করতে সচেষ্ট হোন। বিষণ্নতা মোকাবেলায় এ বিষয়টি অনেক কাজে দেবে। আবার অন্যদেরকে যদি সহায়তা করেন কোনো কাজে, তা-ও আপনাকে আনন্দের অনুভূতি এনে দেবে, যা বিষণ্নতায় আচ্ছন্ন একজন মানুষের কাছে খুবই মূল্যবান।
৮. আনন্দের উৎস খুঁজুন: আপনি হয়তো সাপ্তাহিক ছুটির দিনটায় কোথাও বেড়াতে যান বা নতুন কোনো জায়গায় ভ্রমণ করে থাকেন। কিন্তু বিষণ্নতার কারণে এ কাজটা ইদানীং করা হয়ে ওঠে না। আপনি হয়তো ভাবেন, “এমনিতেই মন ভালো নেই। তাই কোথাও গিয়ে ভালো লাগবে না” এ ভাবনাটা পুরোপুরি ভুল। মানুষের আনন্দ লাভের যতগুলো উপায় আছে, তার মধ্যে একটা হলো ‘ভ্রমণ’। প্রায় যেকোনো পরিস্থিতিতে ভ্রমণ মানুষের মনকে চাঙ্গা করে তুলতে পারে।
৯. ঘরের বাইরে সময় কাটান: খেয়াল করে দেখুন, আপনি ঘরে থাকা অবস্থায় যতটা বিষণ্ন থাকেন, ঘরের বাইরেও কি ততটা থাকেন? অবশ্যই না! ঘরের বাইরে থাকা অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আমাদের বিভিন্ন ইন্দ্রিয় হরেকরকম ঘটনায় মনোনিবেশ করে থাকে। ফলে বিষণ্নতার মাত্রা কমে যায়। তাছাড়া দিনের বেলায় বাইরে থাকলে শরীরে সে সূর্যালোক পড়ে, তাতে দেহে ভাইটামিন ‘ডি’ উৎপন্ন হয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় বিষণ্নতা হ্রাসে এই ভাইটামিন ‘ডি’ এর কার্যকরী ভূমিকার কথা জানা গেছে।
১০. বন্ধুদেরকে সময় দিন: শুধুমাত্র সেসব বন্ধুদের সাহচর্যেই থাকুন, যারা ইতিবাচক মনমানসিকতার এবং আপনার প্রতি যত্নশীল ও আন্তরিক। নেতিবাচক চিন্তাভাবনার বন্ধুদেরকে পরিহার করুন বেশ কিছুদিনের জন্য, কেননা, নেতিবাচক চিন্তাভাবনা ও আচার-আচরণ সংক্রামক ব্যাধির মতো।
১১. ডায়েরি লিখুন: প্রতিদিন আপনার সাথে ভালো-খারাপ কী কী ঘটলো, তা সম্ভব হলে একটা ডায়েরিতে লিখে রাখুন। পরবর্তীতে ডায়েরির সেই পাতাগুলো ছিঁড়ে ফেলে দেবেন কি না, সেটা নিতান্ত আপনার ইচ্ছা, তবে ডায়েরি লিখুন। যেকোনো কিছু লিখতে গেলে মস্তিষ্কের সৃজনশীল অংশটুকু কর্মোদ্দীপ্ত হয়ে উঠে। এটি বিষণ্নতা কাটাতে সহায়তা করবে।
১২. তিক্ত অনুভূতিগুলোকে মোকাবেলা করুন: যেসব তিক্ত অনুভূতি আপনার মন খারাপ করে দেয়, সেগুলোকে এড়িয়ে না গিয়ে মোকাবেলা করুন। এতে আপনার মানসিক বল বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিষণ্নতা কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে। আপনি তিক্ত অনুভূতিগুলোকে যতোই এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করবেন, সেগুলো ততই আপনাকে পেয়ে বসবে এবং আরো বেশি বিষণ্নতার দিকে ঠেলে দেবে। এরচেয়ে বরং সেগুলোকে মোকাবেলা করে সেগুলোর সাথে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া ভালো।
১৩. চিকিৎসকের কাছে যান: আপনার মানসিক অবস্থা আপনার চেয়ে ভালো আর কে বুঝবে? যদি তীব্র প্রয়োজন বোধ করেন, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। বিশেষ করে ঘন ঘন আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসলে ধরে নেবেন, দেরি না করে এখনই একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখানোর সময় হয়েছে!
১৪. ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ করুন: চিকিৎসক আপনাকে ওষুধ দিলে অবশ্যই তা নিয়ম মেনে গ্রহণ করবেন। এমনকি কয়েকদিন ওষুধ সেবন করার পর পুরোপুরি সুস্থ অনুভব করলেও ওষুধ সেবন করা বন্ধ করবেন না। প্রয়োজনে পুনরায় চিকিৎসকের সাথে দেখা করে আপনার অবস্থার উন্নতির কথা বলুন এবং তার পরামর্শকেই প্রাধান্য দিন।
যা যা করবেন না
১. নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা: বিষণ্নতায় ভুগতে থাকা মানুষগুলো সাধারণত এমনিতেই দুর্বল মনের অধিকারী হয়ে থাকেন। তার উপর এরা যখন অন্য কোনো ব্যক্তির (বিশেষ করে সফল ব্যক্তি) সাথে নিজের তুলনা করতে যান, তখন তিনি আরও ভেঙে পড়েন। খেয়াল করে দেখবেন, একজন মানুষ সবদিক থেকে পরিপূর্ণ হতে পারে না। যে ‘সফল’ বা ‘সুখী’ ব্যক্তির সাথে নিজেকে তুলনা করতে চাচ্ছেন, তিনি হয়তো কিছু দিক থেকে সত্যিই আপনার তুলনার সফল বা সুখী। কিন্তু তারও যে অনেক দুর্বলতা বা নেতিবাচক দিক রয়েছে, তা হয়তো আপনার চোখে পড়ছে না, কিংবা কখনো পড়বেও না। তাই অন্যের সাথে নিজের তুলনা করতে যাবেন না এবং কোনো অবস্থাতেই নিজেকে তাচ্ছিল্য করবেন না।
২. নেতিবাচক চিন্তাকে প্রশ্রয় দেবেন না: বিষণ্নতায় নিমজ্জিত একজন ব্যক্তি বেশিরভাগ সময় নিজের অস্তিত্ববোধ নিয়ে একপ্রকার দ্বিধার মধ্যে থাকেন। এ ভাবনাটি তাকে অনেক ক্ষেত্রেই আত্মহত্যার দিকে ধাবিত করতে পারে। আবার এ সময়ে একটা প্রবণতা দেখা যায়, শুধু নিজের দোষ খুঁজে বের করার; “আমি এমন না”, “আমি তেমন”, “আমি এটার যোগ্য না”, “আমি কিছুই পারি না”, “আমার দ্বারা কিছুই হবে না” ইত্যাদি। এভাবে চিন্তা না করে বরং ভাবুন, কেন আপনার দ্বারা কিছু হবে না? কিছ করার জন্য সত্যি সত্যিই কি আপনি কোনো চেষ্টা করেছেন? নাকি চেষ্টা না করেই বলছেন যে, আপনার দ্বারা কিছুই হবে না?
এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসুন।
৩. নিজেকে গুটিয়ে নেবেন না: বিষণ্নতায় আক্রান্ত একজন মানুষ খুব স্বাভাবিকভাবেই নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এটা বড় একটা ভুল। হয়তো আপনার কোনো আত্মীয়ের বিয়ে এবং আপনি ভাবছেন আপনার গিয়ে কোনো লাভ নেই, বরং গেলে খারাপ লাগবে। কিন্তু সেই বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যদের ছবি দেখবেন, তখন তাদের আনন্দ দেখে আপনার বিষণ্নতা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। কেননা, তখন নিজের অজান্তেই আপনি আবারও তাদের সাথে নিজের তুলনা করতে যাবেন এবং ভাববেন, “ওরা আমার তুলনায় কত সুখে আছে…।” তাই এভাবে নিজেকে গুটিয়ে না নিয়ে সামাজিক হোন এবং বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে নিজের অংশগ্রহণ বাড়ান। দেখবেন সেটা ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।
৪. সবাইকে বলে বেড়াবেন না: আপনার মানসিক অবস্থার কথা সবাইকে বলে বেড়াবেন না। বিশেষ করে অল্প-পরিচিত বা কিছুদিনের পরিচিত ব্যক্তিদেরকে তো অবশ্যই না। শুধুমাত্র আপনার হাতেগোনা যে কয়জন বন্ধু বা পরিবারের সদস্য আপনাকে খুব ভালো করে বোঝে এবং বিপদে আপদে সবসময় আপনার পাশে থাকে, তাদেরকেই মন খুলে সব বলুন।
৫. মাদককে তীব্রভাবে না বলুন: এ পরামর্শটা শুনতে শুনতে হয়তো আপনি বিরক্ত হয়ে গেছেন। কিন্তু সত্যি সত্যিই মাদক দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে বিষণ্নতার জন্য জ্বালানী যোগায়! যেকোনো মাদক কিছুক্ষণের জন্য আপনার স্নায়ুকে শিথিল করে কিংবা হরমোনকে প্রভাবিত করে আপনার খারাপ লাগাকে একটু প্রশমিত করলেও এটি আপনার স্নায়ুকে এমনভাবে পরিবর্তিত করে যে, পরবর্তী অল্প সমস্যাতেই আপনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে যান। ফলে আবার আপনি মাদকের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এভাবে আপনি নতুন একটা জীবনে প্রবেশ করেন, নতুন মানুষদের সাথে আপনার চলাচল শুরু হয়, তাদের দ্বারা আপনি প্রভাবিত হন এবং সে অনুসারে আপনার লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আসে; সে জীবন থেকে বের হয়ে আসাটা দুঃসাধ্য ব্যাপার। সে জীবন আপনার শেষ সম্ভাবনাটুকুকেও নষ্ট করে দিতে পারে। তাই প্রথম থেকেই মাদক হতে দূরে থাকুন।
৬. দোদুল্যমান অবস্থায় থাকবেন না: বিশেষ করে হৃদয়ঘটিত সম্পর্ক ভেঙে গেলে মানুষ বিষণ্নতায় বেশি ভুগে থাকে। বর্তমান যুগে এ সমস্যাটি অহরহ ঘটছে। এক্ষেত্রে ভালো করে ভেবে দেখতে হবে, সম্পর্ক পুনরায় ঠিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না। প্রয়োজনে অপরপক্ষের সাথে পরিষ্কারভাবে এবং বিস্তারিত কথা বলতে হবে এ ব্যাপারে। যদি সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা ও পারস্পরিক ইচ্ছা থাকে, তাহলে দ্রুতই তা ঠিক করে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তা হলে সেটি হতে একদম সম্পূর্ণরূপে বেরিয়ে আসতে হবে।
অনেকেই এ সময়টাতে যে ভুল করেন, তা হলো- সম্পর্ক শেষ হওয়ার পরও গোপনে তিনি তার প্রাক্তন সঙ্গীর খোঁজখবর রাখেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত তার প্রোফাইল চেক করতে থাকেন এবং অন্যের কাছে তার কথা জানতে চান। এ বিষয়টা পরিহার না করলে বিষন্নতা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যথার্থই বলেছেন, “অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।"
৭. গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন না: যখন আপনি বিষণ্নতায় ভুগছেন, তখন আপনি নিজের অজান্তেই কিছুটা একগুঁয়ে আচরণ করে থাকেন। এ অবস্থায় আপনি মূলত আবেগ দ্বারা চালিত হন, যুক্তির দ্বারা নয়। তাই এ অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার মস্তিষ্ক আদৌ গভীরভাবে ভেবে দেখার অবকাশ পায় না যে, সে সিদ্ধান্তটি কতটা যুক্তিযুক্ত বা বাস্তবসম্মত। এবং একটা সিদ্ধান্ত আপনার জীবনে অনেক বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিষণ্নতা কাটিয়ে ওঠার আগ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত একেবারেই নেবেন না। তবে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়লে নির্ভরযোগ্য কয়েকজন ব্যক্তির সাথে সেই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কথা বলে, তাদের মতামতকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে কোনো একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারেন। আবার এ সময়টাতে কাউকে কোনো বিষয়ে কথা দেবেন না বা কারো সাথে কোনোকিছুর ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবেন না।
৮. চিকিৎসা ছাড়া ওষুধ নয়: তীব্র পর্যায়ের বিষণ্নতা কাটিয়ে ওঠার জন্য অনেক সময় চিকিৎসক এন্টি-ডিপ্রেসেন্ট ড্রাগ বা ওষুধ দিয়ে থাকেন। তবে চিকিৎসক অবশ্যই আপনার সামগ্রিক অবস্থা বুঝে এবং আপনার অন্য কোনো রোগ আছে কি না বা অন্য ওষুধ সেবন করেন কি না- তা জেনেই আপনাকে নির্দিষ্ট ধরনের ওষুধ দেবেন। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজ থেকে কখনোই কোনো ওষুধ ছুঁতেও যাবেন না।
৯. কান্না আটকাবেন না: চক্ষুলজ্জার কারণে প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত কান্না করতে লজ্জা বোধ করেন। বিশেষ করে পুরুষেরা নারীদের তুলনায় বেশি সংকোচ বোধ করে থাকেন। তবে কান্না মানসিক চাপ কমাতে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কান্নার উপক্রম হলে সেটা আটকাবেন না। প্রয়োজনে নিরিবিলি কোথাও গিয়ে খানিকটা চোখের জল গড়াতে দিন। এতে করে অনেকটা চাপমুক্ত হবেন।
শেষকথা
শক্ত মনের একজন মানুষও কখনো কখনো বিষণ্নতায় ভুগতে পারেন। আপনার পরিচিত কোনো মানুষ যদি বিষণ্নতায় ভোগেন, তবে আপনারও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। আপনি অবশ্যই তার পাশে দাঁড়াবেন এবং তার প্রতি আন্তরিক হবেন। তবে তার মনস্তত্ত্বও আপনাকে বুঝতে হবে; এমন কিছু বলবেন না, যাতে করে তার মনে হয় যে আপনি তার সমস্যাটিকে ছোট করে দেখছেন। “এত চিন্তা করো না”, “আমি তোমার সমস্যাটা বুঝতে পারছি”, “সব ঠিক হয়ে যাবে” – এমন ধরনের কথা তাকে বলা উচিত হবে না। কেননা, পরোক্ষভাবে এসব কথার মাধ্যমে তার সমস্যাটাকে ছোট করেই দেখা হয়। বরং আপনি তাকে কথা বলানোর চেষ্টা করুন। আপনি তার বিশ্বস্ত ও কাছের মানুষ হয়ে থাকলে তার সমস্যাগুলো সে যেন আপনাকে খুলে বলে, সে বিষয়ে তাকে উৎসাহিত করুন, তবে চাপাচাপি করবেন না।
আপনি শুধুমাত্র তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনলেই সে অনেক উপকৃত হবে। আপনাকে খুব বেশি কিছু বলতে হবে না, শুধু শুনে যান। আর হ্যাঁ, অবশ্যই আপনার খুব কাছের বন্ধুটি কখনো চুপচাপ বা মন খারাপ করে থাকলে, সবাই মিলে সেটা নিয়ে মজা করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন, সে বিষণ্নতায় ভুগছে না.
পৃথিবী উল্টা দিকে ঘুরা শুরু করলে কি হবে?
অনেকের মনে প্রশ্ন আসে যে যদি কখনো পৃথিবী উল্টা দিকে ঘুরা শুরু করে তাহলে কি হবে?
যদি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলটি তার নিজের গতি বজায় রাখা অবস্থায় হঠাৎ থেমে যায়, তবে হাজার হাজার মাইল বেগে ঝড় হতে থাকবে যা মাটির উপরে উপস্থিত প্রায় সবাইকেই মেরে ফেলবে।
তার উপর যদি পৃথিবী হঠাৎ উল্টো দিকে ঘোরে, তাহলে তো পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে!
অধিকাংশ বাড়ি-ঘর ধ্বংস হয়ে যাবে, এবং কোটি কোটি মানুষ মারা যাবে। কিন্তু আপনি যদি বেঁচে থাকতে সক্ষম হন, তাহলে দেখবেন, মাটির ওপরে প্রায় সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়া ছাড়াও বাকি সবকিছু একটু আলাদা মনে হবে।
কী হবে যদি পৃথিবী উল্টো দিকে ঘোরে?
এই উত্তরটি কিছুটা আমার অনুমান এবং এই ধারণার উপর ভিত্তি করে লেখা যে, পৃথিবী যদি হঠাৎ না থেমে বা নিজের গতি না কমিয়ে উল্টো দিকে ঘোরে, এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সমেত সবকিছুই, তার নিষ্ক্রিয়তা বজায় রেখে স্বাভাবিকভাবে চলে, যেমনটা শুরু থেকেই ছিল। বিশদে জানতে ইন্টারনেট ঘেঁটে অনেক বিশ্লেষণ পাওয়া যেতে পারে, সেটাও একবার পড়ে দেখতে পারেন।
যদি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলটি তার নিজের গতি বজায় রাখা অবস্থায় হঠাৎ থেমে যায়, তবে হাজার হাজার মাইল বেগে ঝড় হতে থাকবে যা মাটির উপরে উপস্থিত প্রায় সবাইকেই মেরে ফেলবে।
তার উপর যদি পৃথিবী হঠাৎ উল্টো দিকে ঘোরে, তাহলে তো পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে!
অধিকাংশ বাড়ি-ঘর ধ্বংস হয়ে যাবে, এবং কোটি কোটি মানুষ মারা যাবে। কিন্তু আপনি যদি বেঁচে থাকতে সক্ষম হন, তাহলে দেখবেন, মাটির ওপরে প্রায় সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়া ছাড়াও বাকি সবকিছু একটু আলাদা মনে হবে।
• সূর্য পশ্চিম দিকে উঠবে এবং পূর্ব দিকে অস্ত যাবে। ফলস্বরূপ, "আজকে সূর্য পশ্চিম দিকে উঠেছে?" কথাটা চিরদিনের জন্য সত্যে পরিণত হয়ে যাবে।
• পশ্চিমা দেশগুলি তখন পূর্ব, এবং পূর্বের দেশগুলি পশ্চিমাঞ্চলীয় হিসেবে পরিচিত হবে।
প্রায় সব দেশের সময় এবং তারিখ গণনার একটি নাটকীয় পরিবর্তন হয়ে যাবে, অথবা বিপরীত হয়ে যাবে। তার উপর, দিন রাত হয়ে যাবে এবং রাত দিন হয়ে যাবে।
• আবহাওয়া নিদর্শন এবং মহাসাগরীয় স্রোতগুলি ভীষণভাবে কোরিওলিস প্রভাব দ্বারা চালিত হবে — আবহাওয়া পূর্বাভাস সত্যিই তখন খুব চমকপ্রদ হবে! পাশাপাশি, পৃথিবীর আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে খুব শক্তিশালী ঢেউ আসতে পারে, যা উপকূল ধ্বংস করে দেবে।
• উল্টো দিকে ঘুরতে থাকা পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ যখন চক্কর কাটবে, তখন সে পৃথিবীর জোয়ার এবং ঘূর্ণমান নিষ্ক্রিয়তার উপর কিছু আকর্ষণীয় (এবং ধ্বংসাত্মক) প্রভাব ফেলতে পারে।
• পৃথিবীর অক্ষের ঘূর্ণন চাঁদের কক্ষপথের ঘূর্ণনের বিপরীত হবে, তাই মাধ্যাকর্ষণ ধীরে ধীরে কমে গিয়ে পৃথিবীর দিনকে দীর্ঘায়িত করবে, এবং চাঁদকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে।
• ম্যাগমা প্রবাহ এবং টেকটনিক প্লেটেরও কিছু কিছু পরিবর্তন হতে পারে। হয়তো, কিছু নতুন আগ্নেয়গিরি অপ্রত্যাশিত স্থানে ফুটে উঠবে! হয়তো, ভারতীয় উপমহাদেশ বিপরীত দিকে যাওয়া শুরু করবে, এবং হিমালয় আবার সঙ্কুচিত হওয়া শুরু করবে!
• আবহাওয়া এবং জলবায়ুর নিদর্শন পাল্টে যাবে।
গাছপালার জীবনও কিছুটা প্রভাবিত হবে।
নতুন মরুভূমি তৈরী হবে, এবং বর্তমান মরুভূমিগুলি সবুজ ঘাসভূমিতে পরিণত হবে।
মোটা হওয়ার সহজ উপায়
মোটা হওয়ার সহজ উপায় | ১০টি কার্যকরী টিপস জানা আছে কি?
ওজন কম হওয়ার কারণ:
বিভিন্ন কারণে ওজন কম হতে পারে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, জেনেটিক কারণ, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, ডায়রিয়া, ক্যান্সার, ডায়বেটিস, এইডস, হাইপারথাইরয়েডিজম, আর্থ্রাইটিস, যক্ষ্মা, কিডনির সমস্যা, ফুসফুসের সমস্যা, ড্রাগ নেওয়া ইত্যাদি। এছাড়া বয়সের জন্যও ওজন কমবেশি হয়ে থাকে। ওজন বাড়ানোর ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম এইদিকগুলো লক্ষ্য রাখতে হবে।
চলুন জেনে নেই মোটা হওয়ার সহজ উপায়গুলো
সমস্যা যখন রয়েছে তখন এর সমাধানও আছে। মোটা হওয়ার জন্য কিছু সহজ পদ্ধতি চলুন জেনে নেই।
(১) ব্যায়াম করা
অনেকেই ভেবে থাকেন ওজন কমাতেই ব্যায়াম প্রয়োজন, কিন্তু এই ধারণা মোটেও ঠিক না। ওজন কমাতে যেমন ব্যায়াম প্রয়োজন ঠিক তেমনি ওজন বাড়াতেও ব্যায়াম করা খুবই প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শুধু দৌড় ঝাঁপই যথেষ্ট না। দরকার প্রতিদিন নিয়ম করে জিম করা। জিমে অভিজ্ঞ ট্রেইনার থাকেন। আপনার ওজন এবং চেহারা দেখে তিনিই আপনাকে বলে দিবেন কোন ব্যায়াম আপনার করতে হবে।
(২) বার বার খাবার গ্রহণ
বার বার খাবার গ্রহণ প্রতিটি মানুষেরই করা উচিৎ। প্রতি ২ ঘন্টা অন্তর অন্তর অল্প করে কিছু খেতে হবে। কিন্তু যারা ওজন বৃদ্ধি করতে চাচ্ছেন তারা ২ ঘন্টা পর পর বেশি করে খেতে হবে। এসময় আপনি দুধ, দই, ফল, ছানা ইত্যাদি দিয়েই পূরণ করতে পারেন। এতে আপনার শরীরে পুষ্টির পাশাপাশি ওজনও বৃদ্ধি পাবে। এটি মোটা হওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায়।
(৩) খাবারে রাখুন কার্বোহাইড্রেড
ওজন বৃদ্ধিতে কার্বোহাইড্রেড খুবই প্রয়োজন। খাবারের তালিকায় কার্বোহাইড্রেড অবশ্যই রাখবেন। ভাত ও রুটি কার্বোহাইড্রেডের প্রধান উৎস। তাই প্রতিদিন অন্তত ২ বার কার্বোহাইড্রেড খাবেন। ভাত ও রুটি কার্বোহাইড্রেডের প্রধান উৎস তার মানে এই নয় যে বেশি বেশি খাবেন। আপনাকে অতিরিক্ত ফ্যাটের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। তাই প্রতিদিন কার্বোহাইড্রেড খাবেন পরিমিত কিন্তু সাধারণের তুলনায় কিছুটা বেশি। মোটা হওয়ার সহজ উপায় গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
৪) বেশি ক্যালোরি গ্রহন
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে আমরা বেশি ক্যালোরি বার্ন করি এবং কম ক্যালোরি গ্রহণ করি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে উলটা হবে যতটুকু ক্যালোরি বার্ন করবেন তার দ্বিগুণ ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে। ওজন বৃদ্ধির জন্য শরীরের চাহিদার তুলনায় বেশি ক্যালোরি নিন। ওজন দ্রুত বৃদ্ধি করতে চাইলে দিনে ৬০০-৭০০ ক্যালোরি বেশি গ্রহণ করতে হবে আর যদি ওজন আস্তে আস্তে বাড়াতে চান তাহলে প্রতিদিন ৪০০-৫০০ ক্যালোরি বেশি গ্রহণ করতে হবে। এভাবে এক সপ্তাহ করলেই আপনার ওজন বৃদ্ধি পাবে।
(৫) সঠিক প্রোটিন গ্রহণ
ওজন বৃদ্ধি করতে শুধুমাত্র ক্যালোরিই যথেষ্ট না। ক্যালোরির পাশাপাশি সঠিক প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে। সঠিক প্রোটিন গ্রহন না করলে ক্যালোরি বাড়তি ফ্যাটের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন ডিম, ডাল ও দুধ অবশ্যই রাখবেন।
(৬) ড্রাই ফ্রুটস খাবেন
ড্রাই ফ্রুটসে আছে প্রচুর ক্যালোরি ও ফ্যাট যা ওজন বৃদ্ধিতে অনেক কাজে দিবে। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই ২টি কাজু ও ২টি কিসমিস খাবেন। এইটা কোনভাবেই ভুলবেন না। আর সকালের নাস্তায় রাখুন আমন্ড বা পেস্তা। ওজন বৃদ্ধিতে আপনার ডায়েট চার্টে বাদামের পরিমাণ বেশি রাখুন। এভাবে নিয়ম মেনে ড্রাই ফ্রুটস খেলে দেখবেন এক মাসের মধ্যেই আপনার ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
(৭) টেনশনমুক্ত থাকুন
সব সমস্যার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে টেনশন। ওজন বৃদ্ধিতে যেমন টেনশনমুক্ত থাকা প্রয়োজন ঠিক তেমনি ওজন কমাতেও টেনশনমুক্ত থাকা খুবই আবশ্যক। আজকাল টেনশনমুক্ত থাকা খুবই কঠিন তাও চেষ্টা করবেন যতটা সম্ভব টেনশনমুক্ত থাকার।
(৮) ঘুম
শরীর ঠিক রাখতে ঘুম খুবই প্রয়োজন। প্রতিদিন ৮ ঘন্টা অবশ্যই ঘুমাতে হবে। এর থেকে কম হওয়া যাবে না। এছাড়া ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন নিয়ম করে ইয়োগা বা যোগাসন করুন। এতে আপনার ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
(৯) ঘুমানোর আগে দুধ মধু খান
ঘুমোতে যাওয়ার আগে এমন কিছু খেতে পারেন যা বেশ পুষ্টিকর এবং ক্যালোরিযুক্ত। কারণ সেটা ঘুমিয়ে পরছেন বলে খরচ হচ্ছে না এবং পুরো রাত আপনার শরীরে ক্যালোরির কাজ করবে এবং ওজন বৃদ্ধি করবে। তাই প্রতিদিন ঘুমানোর আগে দুধ ও মধু মিশিয়ে খান। এটি ওজন বৃদ্ধিতে পরীক্ষিত এবং মোটা হওয়ার সহজ উপায়।
(১০) বাহিরের খাবার
সচরাচর বাহিরের খাবার খেতে আমরা নিষেধ করে থাকি। কিন্তু ওজন বৃদ্ধিতে বাহিরের খাবার যেমন আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিঙ্কস, পেস্ট্রি, বার্গার ইত্যাদি খাবার খুবই কার্যকরী। তাই আপনি চাইলে এগুলো খেতে পারেন কিন্তু তা হবে পরিমাণমতো। আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে চকলেট এবং চিজও রাখতে পারেন।
ওজন বৃদ্ধি, হ্রাস অথবা শারীরিক যেকোন কাজের ক্ষেত্রেই পানি খুব উপকারী। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। নিয়ম করে এই মোটা হওয়ার সহজ উপায় লক্ষ্য করলেই আপনি ওজন বৃদ্ধি করে পাবেন সুন্দর স্বাস্থ্য। নিজের যত্ন নিন ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন।
চুল পড়া কমাতে পেয়ারা পাতার জাদুকরী কাজঃ
চুল পড়া কমাতে পেয়ারা পাতার জাদুকরী কাজঃ
✔ চুল পড়া এখন প্রতিদিনের একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত এই সমস্যাই ভুগছি। চুল পড়া রোধে দামি দামি ওষুধ ও প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু কিছুতেও কিছু হয় না। তবে চুল পড়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। কারণ ভেদেই মূলত চুল পড়া সমস্যার সমাধান করাটাই ভালো। তবে পেয়ারা পাতার ব্যবহারে আপনি পেতে পারেন জাদুকরী সমাধান।
তৈরি নিয়ম জানতে কমেন্ড করুন।
ঘরোয়া_পদ্ধতি :
পেয়ারা পাতায় অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান রয়েছে যা মাথার তালু সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
এমনকি এটি মাথার খুশকি হওয়া রোধ করে। ভিটামিন সি মাথার তালুতে ফলিক অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রেখে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
কতদিন পর পর ব্যবহার করবেন:
চুল পড়া বন্ধ করবে যদি চুল পড়া সমস্যা অনেক বেশি থাকে তবে সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করুন এটি চুল পড়া বন্ধ করবে । আর যদি চুল শাইনি সিল্কি করে তুলতে চান তবে সপ্তাহে দুইবার এটি ব্যবহার করুন।
পাতা পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি চুলে লাগিয়ে নিবেন।এমনকি পাতা বেটে সেই রস তেলের সাথে মিশিয়ে দিতে পারেন।আধঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন।
সাইক্লোট্রনের ইতিকথা
#ভাঙনের_বাঁশিতে_মিলনের_সুর
#সাইক্লোট্রনের_ইতিকথা
‘এখন থেকে যিনি নতুন কণা আবিষ্কার করবেন, তাঁকে দশ হাজার ডলার জরিমানা করা উচিৎ’ - কথাটা ঠাট্টা করে বলেছিলেন নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী উইলিস ল্যাম্ব। এই ঠাট্টার কারণও আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পর যখন কণা পদার্থবিজ্ঞানে নতুন করে প্রাণ ফিরে আসে, মার্কিন বিজ্ঞানীরা পরমাণু বোমা তৈরির কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন ঠিকই, কিন্তু গাঁট হয়ে লেগে থাকেন পরমাণুর অন্দরমহলে। তারই পরিণামে একের পর আবিষ্কার হচ্ছিল নতুন কণা আর আবিষ্কারকরা বগলদাবা করছিলেন নোবেল পুরষ্কার। কণা পদার্থবিজ্ঞানে এত এত নোবেল পুরষ্কার দেখেই ঠাট্টা করেছিলেন ল্যাম্ব। কিন্তু এই বিংশ শতাব্দীতে এসে নতুন কণা আবিষ্কার করা কিন্তু ৫০-৮০ দশকের মতো ডালভাত বলে মনে হয় না, এখন এটা চলে গেছে বিগ সায়েন্সের দখলে। যেখানে দুতিন জন বিজ্ঞানী মিলে গবেষণা করেন না। কয়েক শ বা কয়েক হাজার বিজ্ঞানীর মিলিত প্রয়াস- সার্নের মতো এলএইচসি কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের লাইগো প্রকল্পের মতো বিশাল বিশাল প্রজেক্টের হাত ধরেই এগিয়ে চলেছে এখনকার বিগ সায়েন্স। মহাকশ গবেষণার কথা বাদই দিলাম, শুধু যদি কণা ক্ষুদে কণাদের যে অতি ক্ষুদ্র জগত সেই জগতে পাড়ি দিতেই এখন বিশাল বিশাল কণা ত্বরক যন্ত্রের সাহায্য নিতে হয়। কতটা বিশাল সেই যন্ত্র, যারা সার্নের লার্জ হ্যাড্রন কোলইডারের খবর রাখেন না, তাঁদের চোখ কপালে উঠে যাবে। হিগস বোসনের মতো ভরহীন একটা কণা, যার পেছনে বিজ্ঞানীরা লেগে ছিলেন চিনে জোঁকের মতো প্রায় চল্লিশটি বছর, সেই কণার সন্ধান দিয়েছে এলএইচসির যে সাইক্লোট্রোনটি, তার দৈর্ঘ্য পাক্কা তেইশ কিলোমিটার। এই যে মহাযজ্ঞ, এর ইতিহাস কিন্তু অনেক লম্বা। আর শুরুর দিকে যেসব কণা ত্বরক যন্ত্র আবিষ্কার করা হয়, সেগুলোর দৈর্ঘ্য মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার। বিন্দু বিন্দু জল থেকে যেমন বিশাল সিন্ধু কণা ত্বরক যন্ত্রের বিবর্তনের ইতিহাস বিন্দু থেকে সিন্ধুর মতোই। আর এর পেছনে জড়িয়ে অসম্ভব অধ্যাবসয়ী কিছু বিজ্ঞানী নিজেকে নিংড়ে দেওয়া শ্রম।
কণা ত্বরক যন্ত্র, যেটাকে আজকাল আমরা সাইক্লোট্রন বলছি, এর শুরুটা হয়েছিল প্রকৃতি থেকেই । সেটা আবার কেমন? আসলে মহাবিশ্বে সব কণারা সুখে শান্তিতে পরমাণুর ভেতর চুপটি করে বাস করে না। কিছু পদার্থ অতি উত্তেজিত, নিজেকে নিজে না ভাঙলে ওদের চলে না। তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণ করে, নিজে ভেঙে অন্য মৌলের পরমাণুতে রূপ বদল করে। মৌলিক পদার্থের পরমাণুরে নিউক্লিয়াসে থাকে প্রোটন আর নিউট্রন নামে কণা। এসব কণা কণরা প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে গিয়ে জন্ম দেয় গতিশীল তেজস্ক্রিয় রশ্মির। সেসব রশ্মি আলোক রশ্মির মতো হলেও এর মধ্যে থাকে নানা রকম কণা আর শক্তি হিসেবে থাকে আলো বা ফোটন। নিউট্রন, প্রোটন আবিষ্কারের আগেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি আবিষ্কার হয়। তেজস্ক্রিয় রশ্মি কেন বিকিরিত হয়, আর এর মধ্যে থাকেই বা কোন কোন কণা সে সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা ছিল না কণা পদার্থবিজ্ঞানীদের ১৯১১ সালের আগ পর্যন্ত।
সাইক্লোট্রনের জন্মই হয়েছে কণা গতিশীল থেকে আরও গতিশীল অর্থাৎ ত্বরিত করতে। তার আগে তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে ছুটে বেরিয়ে আসা কণারাই ছিল বিজ্ঞানীদের কামানের গোলা। এই গোলাই কাজে লাগিয়েছিলেন আর্নেস্ট রাদারফোর্ড। আলফা কণা পরীক্ষায়।
কেন এই ত্বরণের দরকার। কণারা এমনিতেই অতি ক্ষুদ্র, গতি অনেক বেশি হলেও ভর খুব কম। তাই এদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটানো কঠিন। কিন্তু কণাদের যদি আরও গতিশীল করা যায়, তারপর এদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটানো যেতেই পারে। কথা হলো সংঘর্ষের আদৌ কি দরকার আছে?
আছে। প্রকৃতির মন পুরোপুরি এখনো বুঝে উঠতে পারেনি মানুষ। এখনকার পদার্থবিজ্ঞানের দুটো শাখা। বড়দের জগৎকে অর্থাৎ গ্রহ নক্ষত্রের গতি, ভর, বেগ, বল, মহাকর্ষ ইত্যাদি ব্যাখ্যা করে করে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা। অন্যদিকে পরমাণুর অন্দরমহলের যে জগৎ সেটা ব্যাখ্যার জন্য দরকার হয় কোয়ান্টাম বল্যবিদ্যা। কোয়ন্টাম বলবিদ্যা দিয়ে বড়দের জগৎ ব্যাখ্যা করা যায় না, অন্যদিকে সাধারণ আপেক্ষিকতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না খুদে কণাদের জগৎ। অথচ মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব ব্যাখ্য করতে, অর্থাৎ বিগব্যাং তত্ত্বের সত্যিকার প্রমাণ পেতে হলে দরকার এই দুই তত্ত্বের মিলন। আবার ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের ভেতরের খবরও আমরা জানি না। সেটা জানতে হলে এই দুই তত্ত্বের মিলন জরুরি। জরুরি একটি সার্বিক তত্ত্বের, যেটি কোয়ান্টাম মহাকর্ষকে ব্যাখ্যা করতে পারবে।
মহাবিশ্বের জন্মের পর পরই কোনো কণার জন্ম হয়নি। এমনকী প্রকৃতির যে চার বল- মহাকর্ষ, বিদুৎচুম্বক, সবল ও দুর্বল নিউক্লীয় বল- এগুলোর আলাদা কোনো অস্তিত্ব ছিল না শুরুতে। চার বল একসঙ্গে ছিল। বিজ্ঞানীরা তাই নিশ্চিত, মহাবিশ্বের জন্ম-ইতিহাস, মহাবিশ্বের গোপন রহেস্যর সবটকু জানতে হলে, এই চার বলকে একত্রিত করতে শিখতে হবে। বিদ্যুৎচম্বকীয় দুর্বল নিউক্লীয় বলকে একত্রিত করা গেছে গত শতাব্দীর ৭০ দশকে। কিন্তু মহাকর্ষ আর সবল নিউক্লীয় বল সেই তড়িৎ-দুর্বল বলের সঙ্গে এখনো একত্রিত করা যায়নি। এই কাজটাই করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
মৌলিক বলগুলোর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে গিয়েই তাই বিজ্ঞানীরা একের পর এক কণার হদিস পাচ্ছিলেন, আর সেজন্যই উইলিস ল্যাম্বের ওই রসালো মন্তব্য।
কিন্তু কণা আবিষ্কারের পথটা সহজ ছিল না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কণাদের ভাঙনের ইতিহাস। আর সেটা শুরই হয়েছিল গত শতাব্দীর শুরুর দিকে। ১৯০৮ দুর্ভাগ্যক্রমে রসায়নে নোবেল পেয়ে যান রাদারফোর্ড। দুর্ভাগ্য এইজন্য, তিনি ছিলেন আপদমস্কত পদার্থবিজ্ঞানী। এমনকী রসায়নবিজ্ঞানীদের খাটো করে দেখার একটা প্রবণতা তার মধ্যে ছিল, সেই তিনিই কিনা পেলেন রসায়নে নোবেল! যাইহোক, নোবেল বক্তৃতা দিতে গিয়েই আলফা কণা শনাক্ত করার একটা পথ বাতলে দেন তিনি। তখনও জানাতেন না আলফা কণা আসলে কী? পরে নিশ্চিত হন, তেজস্ক্রিয় বস্তু থেকে যে আলফা কণা বেরিয়ে আসে সেগুলো আসলে হিলিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াস।
এরপর সেই সুবর্ণ বছর- ১৯১১ সাল- করলেন তাঁর বিখ্যাত স্বর্ণপাত পরীক্ষা। রাদারফোর্ড একটা যন্ত্র বানালেন, সেই যন্ত্রের ভেতরে ছিল কিছু তেজস্ক্রিয় পদার্থ। যন্ত্রের সামনের দিকে ছিল একটা ছিদ্র। সেই ছিদ্র দিয়ে তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে বেরিয়ে আসে আলাফ কণা আঘাত সামনে থাকা স্বর্ণপাতকে। স্বর্ণপাতের চারপাশ জিংক সালফাইডের পদার্য় গিয়ে আঘাত করে স্বর্ণপাত ভেদ করে বা স্বর্ণের নিউক্লিয়াসে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসা আলফা কণা। এ পরীক্ষা থেকেই রাদারফোর্ড নিশ্চিত হন পরমাণুর কেন্দ্রে আছে ধনাত্মক চার্জযুক্ত নিউক্লিয়াস। অর্থাৎ স্বর্ণপাতের সঙ্গে আলফা কণার সঘর্ষ ঘটিয়ে রাদারফোর্ড পেলেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সন্ধান। এক্ষেত্রে পরমাণুটি ছিল গোল্ড বা স্বর্ণের। দ্রতগামী কণার সঘর্ষ ঘটিয়ে কণা আবিষ্কারের পথ বাতলে দেয় রাদারফোর্ডের এই পরীক্ষাটিই।
এর কিছূদিন পরে, ১৯১৫ সালে আরেক নিউজিল্যান্ডার আর্নেস্ট মার্সডেন একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করেন। আলফাকণাকে বাতাসের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটান তিনি। এই সংঘর্ষের ফলে এক ধরনের কণার জন্ম হচ্ছে। কণাগুলো বেশ ভারি। তিনি কণাগুলোর কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করে দেখেন, এ ধরনের কণার দেখা রাদারফোর্ড আগেই পেয়েছেন। রাদারফোর্ড হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াসে আলফা কণা দিয়ে আঘাত করে এই কণার সন্ধান পেয়েছিলেন। মার্সডেন ভাবলেন এটাই বোধহয় হাইড্রোজেনে নিউক্লিয়াস। ব্যাপারটা দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাদারফোর্ডেরও। তিনি ভাবলেন, এটা অন্য কিছুও হতে পারে। ১৯১৭ সালে তিনি লেখেন, বাতাসে আলফা কণার সংঘর্ষে যে সব কণা তৈরি হচ্ছে সেগুলো শুধু হাইড্রোজেন নয়, বাতাসে অন্য যেসব উপাদান আছে--নোইট্রোজেন, হিলিয়াম, লিথিয়ামেরও হতে পারে। তিনি বিষয়টা নিয়ে আরো গবেষণা চালিয়ে গেলেন। তারপর দীর্ঘ দুবছর গবেষণার পর ১৯১৯ সালে একটা প্রবন্ধ লিখলেন। শিরোনাম কলাইশন অব আলফা পার্টিকেল উইথ লাইট অ্যাটোম, অর্থাৎ হালকা পরমাণুর সঙ্গে আলফা কণার সংঘর্ষ। সেই প্রবন্ধে রাদারফোর্ড যা বললেন, তা ছিল মধ্যযুগের অ্যালকেমিস্টদের সেই অধরা স্বপ্ন ! অ্যালকেমিস্টরা চেয়েছিলেন সঞ্জিবীনী রস তৈরি করতে, যা খেয়ে মানুষ অমর হবে। তাঁদের আরেকটা স্বপ্ন ছিল লোহাকে সোনায় রূপান্তর করা। সেযুগে কণা পদার্থবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠিত হয়নি, আধুনিক রসয়ান থেকেও বিস্তুর দূরত্ব, সুতারাং অ্যালকেমিস্টরা তখন যেন ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। রাদারফোর্ড লোহাকে সোনায় পরিণত করার পথে প্রথম বাতলে দিলেন। বললেন আলফা কণা দিয়ে যদি নাইট্রোজেনকে আঘাত করা হয়, তাহলে সেই নাইট্রোজেন নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে হাইড্রোজেন। আর এই হাইড্রোজেরে জন্ম হয়েছে ওই নাইাট্রোজেনের বুক থেকেই। এটাই ছিল নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া ঘটিয়ে এক পদার্থ থেকে আরেক পদার্থ জন্ম দেওয়ার পথে প্রথম পদক্ষেপ। সেই সঙ্গে গতিশীল কণাদের দিয়ে আঘাত করিয়ে প্রকৃতির রহস্য উন্মোচনের দুয়ারও খুলে গিয়েছিল তখন।
১৯১৭ সালে রাদারফোর্ড আরেকটা পরীক্ষা করেন। সেই পরীক্ষার ফল তিনি প্রকাশ করেন ১৯১৯ সালে। পরীক্ষাটিতে রাদারফোর্ড নাইট্রোজেন নিউক্লিয়াসকে আঘাত করেন আলফা কণা দিয়ে। এই সংঘর্ষ থেকে জন্ম হয় একটি অক্সিজেন নিউক্লিয়াস আর একটি ধনাত্মক চার্জ যুক্ত কণা। এতদিন সেই কণাটি শুধু হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াসেই পাওয়া যেত এতদিন। রাদারফোর্ড নিশ্চিত হলেন, যেটাকে এতদিন তিনি শুধু হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস বলেই মনে করতেন, সেই কণাটি আসলে সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভেতরেই থাকে। এর ভর ইলেকট্রনের ১৮৩৬ গুণ। চার্জ ইলেকট্রনের সমান কিন্তু বিপরীত। ১৮১৫ সালে এমন একটি কণার কথা বলেছিলেন উইলিয়াম প্রাউট। আর এটাকেই হাইড্রোজেন আয়ন বলে পরিচিতি দিয়েছিলেন জার্মান বিজ্ঞানী ইউজিন গোল্ডস্টাইন। রাদারফোর্ডই প্রথম কণাটি শণাক্ত করে দেখালেন।
এরপর থেকে কণা পদার্থবিজ্ঞান তরতর করে এগিয়ে চলল। এখন দরকার আরেকটা কণা, যেটা চার্জ নিরপেক্ষ। এরজন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করেই রেখেছিলেন রাদারফোর্ড। তিনি অনুমান করেন এমন কিছু হাইড্রোজন পরমাণু আছে, যার কক্ষপথ থেকে ইলেকট্রন শক্তি বিকিরণ করে নিউক্লিয়াসে পতিত হবে। তখন হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস আর ইলেকট্রন পরস্পরের চার্জকে নাকচ করে দিয়ে চার্জ নিরপেক্ষ কণায় পরিণত হবে। আর বিকিরিত হবে গামা রশ্মি। ১৯২০ সালে এক বৃক্তৃতায় এই অনুমানের কথা বলেন রাদারফোর্ড। সেই বক্তৃতা দৃষ্টি আকর্ষণ করে জার্মান বিজ্ঞানী ওয়ালথার বোথেকে। তিনি এই কণার খোঁজে নামেন।
বেরিলিয়ামকে তিনি আঘাত করেন আলফা কণা দিয়ে। এর ফলে জন্ম হয় গামা রশ্মির। তিনি ধরে নিলেন এই সংঘর্ষের ফলে এমন একটা হাইড্রোজেন পরমাণু তৈরি হয়েছে, যার নিউক্লিয়াসে নিউট্রন পতিত হয়ে একটা চার্জ নিরেপক্ষ কণা তৈরি করেছে। আর ইলেকট্রন-প্রোটন একত্রিত হওয়ার পরে উৎপন্ন হয়েছে গামা রশ্মি। অর্থাৎ হাইড্রোজেনের ইলেকট্রন আর নিউক্লিয়াস মিলে আসলে জন্ম হয় একটি চার্জ নিরপেক্ষ কণা। পরে তার নাম হয় নিউট্রন। সেই নিউট্রনের খোঁজেই পরমাণুর গভীর ধর্না দেন ফরাসী বিজ্ঞানী দম্পত্তি আইরিন কুরি আর ফ্রেডেরিক জোলিও। এঁরা ছিলেন আরেক বিখ্যাত বিজ্ঞানী দম্পত্তি পিয়েরে কুরি ও মেরি কুরির মেয়ে জামাতা। নতুন কুরি দম্পত্তি বোথের পরীক্ষাটাকেই আরেকটু এগিয়ে নেন। দেখান, বোথে যে গামা রশ্মির সন্ধান পেয়েছিলেন, সেটা দিয়ে প্যারাফিনকে আঘাত করলে এর ভেতর থেকে প্রোটন বের করে দিতে পারে। এটা কঠিন একটা কাজ। সাধারণ আলোকরশ্মি ফটোতড়িৎক্রিয়ায় আলোকরশ্মির আঘাতে ইলেকট্রন ধাতু থেকে আলগা হয়ে যায় এবং ছুটে বেরিয়ে আসে ধাতব বন্ধন ছেড়ে। কিন্তু প্রোটনের ভর ইকেট্রনের চেয়ে অনেক অনেকগুণ বেশি। সেটাকে নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে কীভাবে বের করে আনে গামা রশ্মি। এত শক্তি এই রশ্মি পাচ্ছে কোথায়? তাহলে আলফা ও বিটা রশ্মির মতো এই রশ্মিতেও লুকিয়ে আছে কোনো কণা?
আইরিন ও জুলিও দম্পত্তির গবেষণার কথা জানতে পারেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জেমস চ্যাডউইক। তিনি গামা রশ্মি দিয়ে আঘাত করেন হিলিয়াম ও নাইট্রোজেন পরমাণুকে। এর ফলে সেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াস বের হয়ে আসা প্রোটনের ধর্ম, গতি, শক্তি বিশ্লেণ করে চ্যাডউইক নিশ্চিত হন গামা রশ্মিতে চার্জ নিরপেক্ষ কণা আছে। যেটার নাম আগেই ঠিক করা হয়েছে নিউট্রন বলে।
কণা আবিষ্কারকরা এখানেই থামলেন না। রশ্মি বা কণা দিয়ে ভারী নিউক্লিয়াস বা কণাকে আঘাত করার নেশা তাঁদের পেয়ে বসে। তবে এর জন্য চাই আরও গতিশীল কণা। স্বাভিকভাবে বেজস্ক্রিয় রশ্মিতে যে গতিশক্তির কণা থাকে, এরচেয়েও বেশি শক্তির কণা তাঁরা চান। এজন্য চাই কণাকে গতিশীল করার যন্ত্র। যে যন্ত্র বন্দুকের মতো কণাকে ছুড়েই শুধু দেবে না। প্রতি মহূর্তে বাড়িয়ে দেবে কণার গতি।
১৯২৫ দুই মার্কিন বিজ্ঞানী জি ব্রাইট ও এমটুভে তাঁদের সহযোগিদের নিয়ে একটা টান্সফর্মার তৈরি করলেন। এই ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে কণাকে ত্বরিত করার উপায় তাঁরা বের করেন। কিন্তু খুব বেশি সফলতা পাননি। তারপর একদল জার্মান বিজ্ঞানী প্রোটন ত্বরক যন্ত্র তৈরি করেন। ত্বরিত প্রোটন দিয়ে তাঁরা পরমাণুর নিউক্লিয়াসকেও ভাঙতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেই দলের নেতৃত্বে ছিলেন এ ব্যাস্ক ও এফ ল্যাংলে। তাঁদের ত্বরক যন্ত্র কতটুকু সফল হত কে জানে, মাঝপথেই থেমে যায় তাঁদের কর্মকাণ্ড। বিদ্যুস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান একজন পদার্থবিদ।
কৃত্রিম ত্বরকযন্ত্র দিয়ে প্রথম সফলভাবে পরমাণুর নিউক্লিয়াস ভাঙতে সক্ষম হলেন দুই বৃটিশ বিজ্ঞানী ডগলাস ককক্রফট ও আর্নেস্ট ওয়ালটন। তারা ক্ষরণ যন্ত্রে উচ্চ বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্য তৈরি করে কণাকে উচ্চ শক্তিতে ত্বরিত করতে সক্ষম হন। অতি উচ্চ বিভব পার্থক্য তৈরির জন্য তাঁরা একটা শক্তিশালী ট্রান্সফরমার বানালেন। সেটার বিভিব ছিল ২ লাখ ভোল্ট! সত্যিকার অর্থে এটাই ছিল প্রথম শক্তিশালী ও সফল কণা ত্বরকযন্ত্র।
এরপরই কণা রঙ্গমঞ্চে আবির্ভাব কণাত্বরক যন্ত্রের মহানায়ক আর্নেস্ট অরনাল্ডো লরেন্সের। নরওয়েজিন বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম এই মার্কিন বিজ্ঞানীর যতটা ছিল তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে ঝোঁক, তার অনেক বেশি ঝেৎাক ছিল যন্ত্রপাতির প্রতি। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগদেন ১৯২৮ সালে। সেখানকার লাইব্রেরির একটা জার্নাল পড়তে গিয়ে তাঁর মাথায় সাইক্লোট্রোন তৈরির চিন্তা আসে। এর আগে যেসব ত্বরক যন্ত্র তৈরি হয়েছির সেগুলো, কণাকে ত্বরিত করত সোজা পথে। লরেন্স ধরলেন একটু ভিন্ন পথ। তার যন্ত্রে ছিল একটা বৃত্তাকার পথ, সেই পথে কণাদের বার বার ঘু্রিয়ে এদের গতি বাড়ানো হয় প্রতিটা বাঁকে। এজন্য একটা বিশেষ উপায় বের করেছিলেন লরেন্স। তার যন্ত্রের ভেতর তৈরি করেছিলেন উচ্চ শক্তির চৌম্বক বলক্ষেত্র। চুম্বকক্ষেত্রর ভেতর রাখা ঞয় একটা আয়ন উৎস। উৎসটা এমনভাবে রাখা হয় তা থেকে নির্গত কণার কণার চৌম্বকক্ষেত্রের বলরেখার লম্বভাবে ছুটবে। কিন্তু চৌম্বকক্ষেত্রের প্রভাবে সে আর সোজা পথে চলতে পারবে না। তার চলার পথ হবে বৃত্তাকার। এরপর পড়বে এসি কারেন্টের পাল্লায়- জলন্ত উনন থেকে ফুটন্ত কড়াই আরকি। বৃত্ত পথে এই কারেন্টের বিদ্যুৎক্ষেত্র ভেতর চলতে গিয়ে পড়বে এর কম্পাংকের ধাক্কায়। কণাকে বৃত্তপথে ছুটতে গিয়ে মুখোমুখি হতে হবে মুহূর্মুহূ বিদ্যৎ কম্পােঙ্কের পাল্লায়। কম্পন পথের ব্যস প্রতিবার অতিক্রম করার সময় বাড়বে কণার বেগ। প্রতি সেকেন্ডেই ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কম্পন, কণার বেগও তাই হুহু করে বাড়বে। লাভ করবে প্রবল গতিশক্তি। সেই পরাক্রমশালী কণা দিয়ে পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে আঘতে করলে কী ঘটবে ভাবা যায়! ভেঙে চুরমার হবে নিউক্লিয়াস মুক্ত হবে বিপুল পরিমাণ শক্তি। এটাই ছিল লরন্সের সাইক্লোট্রনের মূলনীতি। আজকের এলএইচসির মতো সাইক্লোট্রনেও এই মূলনীতি মেনে চলা হয়।
লরেন্স প্রথম যে সাইক্লোট্রন তৈরি করেন সেটার ব্যাস ছিল কয়েক ইঞ্চি মাত্র। এর পর একের পর এক সাইক্রোট্রনের তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বিজ্ঞানীরা। ১৯৩৯ সাল নাগাদ সাইক্লোট্রনের ব্যাস গিয়ে দাঁড়ায় ১৫৫ ইঞ্চিতে। এস সাইক্ল্রোট্রনে সাহায্যে ভারি পরমাণুর নিউক্লিয়াস ভেঙে তৈরি হলো না ধরনের আইসোটোপ। আর এই যন্ত্রের বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৩৯ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পান লরেন্স।
এরপর বাজে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা। যক্তরাষ্ট্র আর জার্মান বিজ্ঞানীরা তখন নিউক্লিয়ার বোমা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আর সেকাজে বড় সহায়ক হয়ে ওঠে কণা ত্বরকযন্ত্র। আর মার্কিন নিউক্লিয়ার বোমা তৈরির অগ্রগামী নায়ক রবার্ট ওপেনহাইমর। সেও বন্ধু লরেন্সে অনুরোধ ও সুপারিশে।
যুদ্ধের পর কণা পদার্থবিজ্ঞান প্রাণ ফিরে পায়। আর গবেষণাও চলে যায় বিগ সায়েন্সেরে দখলে। একের পর এক কণার ভবিষ্যদ্বাণী করছেন বিজ্ঞানীরা; কিন্তু সেগুলোর হদিস পাওয়ার জন্য চায় কণাদের মধ্যে সংঘর্ষ। এখন আর নিউক্লিয়াসকে কণা দিয়ে আঘাত করলে চলবে না। কিন্তু অতি হালকা এসব কণা একে অন্যের সঙ্গে সংঘর্ষ করবে কনে? তাছাড়া সমচার্জের কণারা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। তাহলে?
সংঘর্ষ ঠবে যদি সাইক্লোট্রনে কণাদের গতি কয়েক হাজর গুণ বাড়ানো যায়। সেই পরিমাণ গতিতে কণা ছুড়ে দেওয়া লরেন্সের সাইক্লোট্রনের পক্ষে সম্ভব নয়। সম্ভব নয় সেসময় প্রচলিত কোনো ত্বরক যন্ত্রের পক্ষেই। সত্তর দশকের শেষ দিকে আবদুস সালাম, স্টিভেন ওয়েনবার্গ আর শেলডন গ্ল্যাশোরা দুর্বল নিউক্লিয় বল আর বিদ্যুৎচুম্বকীয় বলকে তাত্ত্বিকভাবে একত্রিত করতে সক্ষম হলেন। দুই বলের মিলনে জন্ম হলো তড়িৎদুর্বল বলের। আর এই বলের বাহক কণা W-, W+ এবং Z0 কণা। ইউরোপিয়ান কণা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সার্নের বিজ্ঞানীরা ১৭৪ সালের মধ্যে আবিষ্কার করে ফেললেন এই কণাগুলি। আর্ এই কাজের কাজী সার্নের শক্তিশালী কণা ত্বরকযন্ত্রগুলি। তখন সার্নের বিজ্ঞানীদের চোখ উঠে যায় আরও পরে। বস্তুর ভরের জন্য দায়ী যে কণা, সেই হিগস বোসন বা ইশ্বর কণার ইঙ্গিত ছিল আগেই। কিন্তু সেই কণা পেতে হলে যে পরিমাণ শক্তির দরকার, কণাকে সংঘর্ষ ঘটাতে যতটা ত্বরণের দরকার, সেই শক্তি বা ত্বরণ দান করার কষ্শতা তখনকার কণা ত্বরক যন্ত্রগুলো ছিল না। দরকার এরচেয়ে লক্ষকোটি গুণ শক্তিশালী সাইক্লোট্রন। আর সেজন্য সার্নের বিজ্ঞানীরা ভাবলেন এলএইচসির অর্থাৎ লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার। নামের মধ্যেই রয়েছে বিশালত্বের আভাস। কয়েক ইঞ্চি ব্যাস নিয়ে যে সাইক্লোট্রনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, এলএইচসিতে গিয়ে দাঁড়ায় ২৩ কিলোমিটার পরিধিতে। কিন্তু এত বিশাল দক্ষযজহ্ঞের আয়োজনটা সহজ ছিল। তাছাড়া টাকাওয়া প্রতিদ্বন্দ্বীর চোখ রাঙানিতে থমকে শুরুর আগেই হোঁট খেয়েছিল এলএইচসির পরিকল্পনা।
জেড জিরো বোসন আবিষ্কারের পর নড়েচড়ে মার্কিন কণাবিজ্ঞানীরা। কণা আবিষ্কারের সাফল্য একের পর ঘর এক ঘরে তুলছে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রের ভৎাড়ার পরিণত হতে চলেছে শূন্য কলসিতে। এ অবস্থান থেকে উত্তরণের উপায় এলএইচসি তৈরির আগেই এর চেয়ে বড় সাক্লোট্রন তৈরি করা। এর তড়িঘরে করে শুর হয় এসএসি প্রকল্প। অর্থাৎ সুপারকন্ডাক্টিং সুপার কোলাইডার। পরিধি ৮৭ কিলো, এলএচসির মতো এটাও বসানোর পরিকল্পনা ছিল মাটির নিচে সুড়ঙ্গ করে। রাশি রাশি টাকা ঢেলে শুরুও হয় কাজ। কিন্তু নোংরা রাজনীতি আর ষড়যন্ত্রের বলি হয়ে মাঝপথেই পণ্ড হয় পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী কণা ত্বরক যন্ত্রের কাজ।
এএসসির ডামাডোলে থমকে গিয়েছিল এলএইচসির শুরুর কাজ। কিন্তু ওটার বাতিলে আবার আশা দেখলেন সার্নের বিজ্ঞানীরা। জোর কদমে শুরু হলো এলএইচসি প্রকল্পের কাজ। প্রায় দুই দশকের নির্মাণ কাজ শেষে ২০০৮ সালে চালু হয় এলএইচসি। এরপরই শুরু ঞয় হিগস বোসন আবিষ্কারের তোজড়। এলএইচসি’র সাইক্লোট্রনে প্রবল গতি নিয়ে প্রোটন কণার স্রোত ছুটে যায়, ধাক্কা মারে একে অপরকে। তা থেকে তৈরি হয় বহুরকমের কণা। কিছু ভারী কণাও তৈরি হয়। তবে তা অস্থায়ী। দ্রুতই সেই কণা কয়েকটা হালকা কণার জন্ম দিয়ে নিজে বিলুপ্ত হয়ে যায়। হিগস কণার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটার কথা। সাইক্লোট্রনে জন্ম নেয়া নানা ধরনের কণাকে পর্যবেক্ষণ করে, তাদের উৎস যে অন্য কণা নয়, হিগ্স কণা, এটা প্রতিষ্ঠা করাই ছিল পদার্থবিদদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
২০১২ সালের ৪ জুলাই জেনেভায় এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে এলএইচসির পড়্গ থেকে জানানো হয়, হিগস বোসন কণার অসিত্মত্ব প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ওই সম্মেলনে একথাও বলা হয়, হিগস বোসন প্রাপ্তি সম্পর্কে মোটমুটি নিশ্চিত হলেও শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে বলা যাচ্ছে না নতুন আবিষ্কৃত কণাটিই হিগস বোসন কণা। তবে এই সন্দেহের কফিনে এলএইচসির বিজ্ঞানীরা শেষ পেরেক ঠোকেন ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ ইতালির এক সম্মেলেনে। তাঁরা এখন শতভাগ নিশ্চিত নতুন আবিষ্কৃত কণাটিই হিগস বোসন। হিগস বোসন আবিষ্কারে সাথে সাথে বিজ্ঞান জগতে খুলে যায় এক নতুন দিগন্ত। মেলে ‘বস্তুর ভরের উত্স কী’ প্রশ্নের উত্তর। সেই সঙ্গে মহাবিশ্বের সৃষ্টিরহস্য উন্মোচনের জন্য যে মহামিলনের পথ খুঁজনে বিজ্ঞানীরা, সেই দিকেই বিজ্ঞানীদের এক ধাপ এগিয়ে দেয় কণা ভাঙনের এই যন্ত্র। তাই ভাঙনের বাশিতেই আজ আমরা শুনছি মিলনের গান।
শূন্য থেকে মহাবিশ্ব
"শূন্য থেকে মহাবিশ্ব"
✍️ কিভাবে এটি সম্ভব যে, একেবারে শূন্য থেকেই আমাদের এই পুরো মহাবিশ্বটা সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে?কেউ বিশ্বাস করুক বা না করুক, পদার্থবিদ্যার সূত্র কিন্তু বলে ব্যাপারটা সম্ভব।তাও আবার একেবারে পদার্থবিদ্যার পিওর সূত্র মেনে।আর পদার্থবিদ্যার নিয়ম মেনে যা কিছু সম্ভব তা অবশ্যই সম্ভব,তা যতই অসম্ভব বলে মনে হোক না কেন।কাজেই যাদের পদার্থবিদ্যার প্রতি পদার্থবিদ্যার সূত্রগুলোর প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে তারা ব্যাপারটাকে অবশ্যই স্বভাবিকভাবেই নেবে।মূল কথায় আসা যাক।
"কিছু না" থেকেই আমাদের পুরো মহাবিশ্বটা কিভাবে সৃষ্টি হয় তা বুঝতে হলে প্রাথমিকভাবে অন্তত দুটো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে আমাদের।এই দুটো প্রশ্ন প্রায় সময় আমাদের ধাঁধার মধ্যে ফেলে রাখে।প্রশ্ন দুটো হচ্ছে-
১.শুধুমাত্র যে শূন্য থেকেই এতবড় মহাবিশ্বটা সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে সে শূন্যতা আসলে কী?
২. এতবড় মহাবিশ্বে এত এত যে বস্তু ও শক্তির উপস্থিতি আমরা দেখতে পাচ্ছি কি করে তা শূন্য থেকেই সৃষ্টি হল,এতে কি শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতির ভংগ হচ্ছে না?
দুটো প্রশ্নের উত্তর আমি একই সাথে দিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি-মহাবিশ্বের সকল কণা তথা মহাবিশ্বের সবকিছু ক্ষেত্র দ্বারা তৈরি,কিন্তু ক্ষেত্রকে অত্যন্ত কাছ থেকে দেখলেই কেবল আমরা তার কণারূপ দেখতে পাব।
(চিত্র:১-ক)
আমাদের মহাবিশ্বে যতগুলো মৌলিক কণা আছে তারা প্রত্যকেই হচ্ছে এক একটা ঢেউ।প্রত্যেক মৌলিক কণার সাথে জড়িত থাকে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্র। এই ক্ষেত্র আবার প্রতি নিয়ত অস্থির অবস্থায় বিদ্যমান থাকে।ক্ষেত্রের অস্থিরতার ফলে সৃষ্ট যে ঢেউ তাই হচ্ছে ওই ক্ষেত্রের সাথে জড়িত কণা।যেমন কোয়ার্ক কণা হচ্ছে,কোয়ার্ক ক্ষেত্রের সাথে জড়িত ঢেউ,W কণা হচ্ছে W ক্ষেত্রের সাথে জড়িত ঢেউ, আলোক কণা ফোটন হচ্ছে তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্রের ঢেউ, ইত্যাদি। নিজ নিজ ক্ষেত্রের সাথে জড়িত এসকল কণার ভর কত হবে তা নির্ভর করে ক্ষেত্রটিকে কম্পমান করতে যে পরিমাণ শক্তি লাগে তার উপর,অথবা বলা যায় কণাটি ক্ষেত্রের সাথে কিভাবে মিথষ্ক্রিয়া করে তার উপর।এখন এমন একটি স্থান কল্পনা করা যাক যেখানে কোন কণার উপস্থিতি নাই কোন বিকিরণের উপস্থিতি নাই। এধরনের একটি স্থানকে আমরা শুন্যস্থান বলে থাকি।যেহেতু শুন্যস্থানে কোন ধরনের কণা ও বিকিরণের উপস্থিতি নাই, কাজেই এটিই স্বাভাবিক যে শুন্যস্থানে কোন ক্ষেত্রের উপস্থিতিও নাই।কিন্তু না,শুন্যস্থানে কণার উপস্থিতি না থাকলেও ক্ষেত্রের উপস্থিতি সবসময়ই বিদ্যমান থাকে।এবং সবসময়ই এ ক্ষেত্রের একটি অশূন্য মান থাকে। এই ক্ষেত্রটিকে বলে কোয়ান্টাম ক্ষেত্র বা হিগস ক্ষেত্র।যেহেতু ক্ষেত্রের অস্থিরতাই(বা ঢেউ) হচ্ছে সে ক্ষেত্রের সাথে জড়িত কণা,কিন্তু শুন্যস্থানে কণার উপস্থিতি নাই,কাজেই আশা করা যায় শুন্যস্থানের সাথে জড়িত ক্ষেত্রের কোন ধরনের অস্থিরতা(বা ঢেউ) থাকবে না।অর্থাৎ ক্ষেত্রটি হবে একেবারে স্থির শান্ত।এ ধরনের স্থির শান্ত একটি ক্ষেত্রের প্রত্যেক বিন্দুতে একই মান পাওয়া যাবে অর্থাৎ ক্ষেত্রটির মান হবে ধ্রুবক। কিন্তু এখানেই কোয়ান্টাম মেকানিক্স বরাবরের মতোই আমাদের কমনসেন্স কে ধাক্কা দেয়।কোয়ান্টাম মেকানিক্স বলে, এমনকি শুন্যস্থানের সাথে জড়িত প্রত্যেক বিন্দুতে কোয়ান্টাম ক্ষেত্রের বা হিগস ক্ষেত্রের মান ধ্রুবক না হয়ে এটি সামান্যতম হলেও উঠানামা করতে থাকে।
(চিত্র:১-খ)
শূন্যস্থানে কোয়ান্টাম ক্ষেত্রের এই উঠানামা বা অস্থিরতাকেই বলা হয় কোয়ান্টাম অস্থিরতা বা কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন বা ভ্যাকুয়াম ফ্লাকচুয়েশন।এই হিগস ক্ষেত্রের সাথে জড়িত ঢেউটি হিগস বোসন নামে পরিচিত।যদিও স্থানের বৃহত্তর পরিসরে ক্ষেত্রের এই উঠানামা বা অস্থিরতা দৃষ্টিগ্রাহ্য হবে না।স্থানের বৃহত্তর পরিসরে ক্ষেত্রকে স্থির শান্ত বলেই মনে হবে।কিন্তু স্থানের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর পরিসরে গেলে(১০^-৩৫মি.) আমরা দেখব সেখানে ক্ষেত্রের স্থির শান্তশিষ্ট সেই চরিত্র আর নাই।তার বদলে দেখা যাবে,ক্ষেত্র টগবগে অস্থির অশান্ত।
(চিত্র:২)
ক্ষেত্রের এসব অস্থিরতাকে কোয়ান্টাম ফোম বা কোয়ান্টাম বুদবুদ ও বলা হয়।যেমন একটি পুল টেবিলের উপরিস্তরকে সাধারনভাবে দেখলে একে খুবই মসৃণ দেখায়,কিন্তু যদি বড় করে অনেক অনেক কাছ থেকে দেখা হয় তবে দেখা যাবে তাতে অনেক এবড়োখেবড়ো রয়েছে।এখন প্রশ্ন হচ্ছে,কেন শুন্যস্থানে কোয়ান্টাম ক্ষেত্রের মান ধ্রুবক না হয়ে উঠানামা করে,অথবা বলা যায় কেন শুন্যস্থানে কোয়ান্টাম ক্ষেত্র অস্থিরতা ভাব দেখায়?উত্তর হচ্ছে হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি।এই নীতি বলে,যে কোন কঞ্জুগেট চলকের(কঞ্জুগেট চলক হচ্ছে,পরস্পর সম্পর্কিত সে সকল জোড়া রাশি বা চলক যাদের গুণফলের একক সবসময় কাজের একক বা প্লানকের ধ্রুবকের এককের সমান হয়।যেমন:অবস্থান-ভরবেগ,শক্তি-সময় ইত্যাদি) মান যুগপৎভাবে সঠিকতার সাথে নির্ণয় করা যায় না।একটি যত সঠিকভাবে নির্ণয় করা হবে অন্যটি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ততই অনিশ্চয়তা বেড়ে যায়।যেমন ধরুন একটি বাটিতে একটি মার্বেল রাখা হল।কী দেখব আমরা?মার্বেলটি বাটিতে স্থির হয়ে বসে আছে।
(চিত্র:৩)
এখন মার্বেলটিকে যদি অনেক ক্ষুদ্র চিন্তা করা হয়(ইলেকট্রন প্রোটন পর্যায়ের) যেটিকে অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি বাটিতে রাখা হল,তাহলে আমরা দেখব মার্বেলটি কখনো স্থির হয়ে বসে থাকতে পারছে না।এটি এদিক ওদিক দুলছে।এর কারণ অনিশ্চয়তা নীতি।কারণ এই নীতি অনুসারে কোয়ান্টাম স্তরে কোন কিছুকেই ১০০ ভাগ সঠিকতার সাথে নির্ণয় করা যায় না।মার্বেলটি যদি স্থির হয়ে বসে থাকত তাহলে আমরা তার অবস্থান ১০০ ভাগ সঠিকতার সাথে নির্ণয় করে ফেলতাম যা কিনা অনিশ্চয়তা নীতিকে লংঘন করছে।অনিশ্চয়তা নীতিকে রক্ষা করতে গিয়েই মার্বেলটি এদিক ওদিক দুলতে বাধ্য হচ্ছে।ঠিক একইভাবে যদি শুন্যস্থানে কোয়ান্টাম ক্ষেত্রের মান ধ্রুবক হতো তাহলে তা অনিশ্চয়তা নীতিকে লংঘন করত(কারণ ক্ষেত্রের মান ধ্রুবক বলে তার অবস্থান আমরা ১০০ ভাগ সঠিকতার সাথে জেনে যেতে পারছি)।কিন্তু অনিশ্চয়তা নীতিকে কখনোই লংঘন করা যায় না।কাজেই কোয়ান্টাম ক্ষেত্র অস্থির হতে বা উঠানামা করতে বাধ্য,যাতে করে এর মান এবং সময়ের সাথে এটি কিভাবে পরিবর্তীত হচ্ছে তা আমরা একইসাথে জানতে না পারি।শুন্যস্থানে কোয়ান্টাম ক্ষেত্রের এই অস্থিরতার ফলে সৃষ্টি হতে পারে বিশাল পরিমাণ শক্তি।আসলে এখানে শক্তি সৃষ্টি হতে পারে,না বলে সৃষ্টি হতে বাধ্য বলাটাই মনে হয় অধিকতর শ্রেয়।কারণ যদি শুন্যস্থানে কোন শক্তি না থাকত অর্থাৎ শুন্য শক্তি থাকত তাহলে এটি অনিশ্চয়তা নীতিকে অমান্য করা হতো। যেহেতু '০' একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা তাই শুন্য শক্তি আছে বলা মানে আমরা ১০০ ভাগ নিশ্চয়তার সাথে শক্তি নির্ণয় করে ফেললাম, যা কিনা অনিশ্চয়তা নীতি বিরোধী।কাজেই,শুন্যস্থানে শক্তির উদ্ভব অনিবার্য এবং এর মানের পরিবর্তন হবে সম্পূর্ণ এলোমেলো,এই এলোমেলো মানের পরিবর্তনের অনিশ্চয়তার একটি সর্বনিম্ন পরিমাণ থাকবে।শুন্যস্থানের এই শক্তিকে বলা হয় শুন্যবিন্দু শক্তি বা Zero point energy। কোয়ান্টাম ক্ষেত্রের অবিরত অস্থিরতার ফলে স্বতঃস্ফূর্ত-ভাবে সৃষ্টি হয় কণা-প্রতিকণা যুগল।এদেরকে বলা হয় ভার্চুয়াল পার্টিকেল বা অসদ কণা।এদের ভার্চুয়াল পার্টিকেল বা অসদ কণা বলার কারণ হলো-এরা বাস্তব কণা নয়। কেননা এদেরকে কণা নিরূপক যন্ত্রের মাধ্যমে সরাসরি দেখা যায় না।কিন্তু এদের উপস্থিতি অপ্রত্যক্ষভাবে মাপা যায়। এমনি একটি পরীক্ষণ হলো কাসিমির প্রভাব।১৯৪৮ সালে ডাচ পদার্থবিদ হেন্ডরিক কাসিমির দেখান যে তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্রের অস্থিরতা পরীক্ষনের মাধ্যমে নির্ণয় করা সম্ভব।শূন্যস্থানে খুবই পাতলা দুটি ধাতব প্লেটকে খুব কাছাকাছি রাখা হয়।যেহেতু প্লেট দুটির মধ্যে মহাকর্ষীয় আকর্ষন বল খুবই নগন্য কাজেই আশা করা যায় প্লেট দুটি স্থির হয়ে থাকবে।কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় এভাবে স্থাপিত প্লেট দুটি আস্তে আস্তে পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে।যেহেতু প্লেট দুটি শূন্যস্থানে স্থাপিত করা হয়েছে তাই বলা যায়,প্লেট দুটির মধ্যবর্তী অতি ক্ষুদ্র গ্যাপে ভ্যাকুয়াম ফ্লাকচুয়েশনের ফলে শুধুমাত্র ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যর(বা উচ্চ কম্পাংকের) কম্পন মোডের সৃষ্টি হয়।কিন্তু প্লেটের দুপাশে বিশাল জায়গায় সকল তরংগদৈর্ঘ্যর(বা সকল কম্পাংক) মোডেরই সৃষ্টি হতে পারে।কাজেই পাতের গ্যাপের ভেতরের তুলনাই বাইরের চাপ বেশি হবে।এই দুই চাপের পার্থক্যের কারণে পাত দুটি পরস্পরের দিকে আকর্ষিত হয়।
(চিত্র:৪)
যেখানে স্থানকাল বক্রতা যত বেশি এবং যেখানে স্থানকাল বক্রতা দ্রুত পরিবর্তীত হয় সেখানে অসদ কণাযুগল সৃষ্টির হার তত বেশি। মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রারম্ভে সকল প্রকার ক্ষেত্র ছিল প্রচণ্ড রকমের অস্থির যার মধ্যে মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রও উপস্থিত ছিল।ক্ষেত্রের অস্থিরতা তাপমাত্রা বাড়ার সাথে বাড়ে অনেকটা তাপমাত্রা বাড়ালে যেমন পানি ফুটতে থাকে তেমন।সৃষ্টির প্রারম্ভে মহাবিশ্বের তাপমাত্রা প্রচন্ড রকম বেশি ছিল,যেমন মহাবিশ্ব সৃষ্টির ১০^-৪৩ সেকেন্ড পর এর তাপমাত্রা ছিল ১০^৩২ কেলভিন)।এত তাপমাত্রায় ক্ষেত্রের অস্থিরতাও ছিল প্রচুর।এই অস্থিরতার কারণে স্থানকাল বক্রতাও বেড়ে হয় অত্যন্ত বেশি এবং এর পরিবর্তন হার ও হয়ে যায় দ্রুত।অর্থাৎ এক কথায় স্থানকাল বক্রতারও অস্থিরতা যায় বেড়ে।কাজেই তখন অসদ কণাযুগল সৃষ্টির হার ছিল অত্যন্ত বেশি।শুন্যস্থান হতে বা কোয়ান্টাম অস্থিরতা হতে কণা-প্রতিকণা যুগল স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রে উদ্ভব হয় এরপর খুব অল্প সময় ব্যবধানে পরস্পরের সাথে মিলে শক্তি আকারে বিনাশ হয়ে যায়।আর যেহেতু হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি অনুসারে, "কোন সিষ্টেমের পরিমাপকৃত শক্তি,আমরা ওই সিষ্টেমকে কত সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করছি তার ব্যস্তানুপাতিক"
∆E∆t ~ ħ
কাজেই বিনাশকৃত ওই শক্তির পরিমাণ হবে প্রায় অসীম।শুন্যস্থানে এভাবে কণা সৃষ্টি ও বিনাশ অনবরত চলতেই থাকে।
(চিত্র-৫)
তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি,যাকে আমরা শূন্যস্থান বলে জানি(বস্তু বিকিরণহীন স্থান)তা আসলে ক্ল্যাসিক্যাল শূন্যস্থান।কিন্তু এই শূন্যস্থানের আরো গভীরে গেলে অর্থাৎ কোয়ান্টাম লেভেলে গেলে দেখা যাচ্ছে তা আসলে বস্তু শক্তি ও ক্ষেত্র দ্বারা পরিপূর্ণ।একে বলা যায় কোয়ান্টাম শূন্যস্থান। কাজেই ক্ল্যাসিক্যাল শূন্যস্থান আর কোয়ান্টাম শূন্যস্থান দুটো আসলে এক নই। কোয়ান্টাম শূন্যস্থান শূন্য নই,তা বস্তু শক্তি ও ক্ষেত্র দ্বারা পরিপূর্ণ।অর্থাৎ কোয়ান্টাম শূন্যতা মানেই কোন কিছুর উপস্থিতি।এখানে নাথিং মানেই সামথিং।কোয়ান্টাম শূন্যতায়, Nothing is not nothing,nothing is something।
কোয়ান্টাম শূন্যতার এই nothingness থেকে ভ্যাকুয়াম ফ্লাকচুয়েশনের মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের এই পুরো মহাবিশ্বটাই সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে।অর্থাৎ একেবারে শূন্য থেকেই এই পুরো মহাবিশ্বটার উদ্ভব হতে পারে শক্তির সংরক্ষন সূত্রের কোন ধরনের ব্যাঘাত না ঘটিয়েই।তবে তার জন্য একটা চরম মাত্রার ধাক্কা খেতে হবে আমাদের।হিসাব করে দেখা যায়,মহাবিশ্বের মোট শক্তি শূন্য বা প্রায় শূন্য।কি করে এটি সম্ভব?প্রথমেই বলে রাখা দরকার মহাবিশ্বের মোট শক্তি শূন্য বা প্রায় শূন্য হতে পারে শুধুমাত্র সমতল বিশ্বের ক্ষেত্রে,মহাবিশ্ব বক্র হলে মোট শক্তি শূন্য হয় না আর সেক্ষেত্রে শূন্য থেকে মহাবিশ্ব সৃষ্টিও সম্ভব হবে না।পর্যবেক্ষণে মহাবিশ্বের সমতল বৈশিষ্ট্য প্রমাণিত হয়েছে(তবে গবেষণা চলছে)।এবার দেখা যাক কি করে মহাবিশ্বের মোট শক্তি শূন্য হয়।আমরা জানি মহাকর্ষীয় শক্তি,
U(r) = -GMm/r
এখান থেকে দেখা যাচ্ছে দুটি বস্তু পরস্পর হতে অসীম দূরত্বে থাকলে তাদের মধ্যকার মহাকর্ষীয় শক্তি '০' হয়।m বস্তুটি যত M বস্তুর কাছাকাছি আসতে থাকে তত তাদের মধ্যকার মহাকর্ষীয় শক্তি বেশি ঋণাত্মক(কম ধনাত্মক) হতে থাকে।আর তখন এদের পৃথক করতে আমাদেরকে মহাকর্ষীয় বলের বিরুদ্বে তত বেশি কাজ করতে হবে বা তত বেশি শক্তি প্রয়োগ করতে হবে।যেহেতু বস্তু দুটিকে পৃথক করতে আমরা যে শক্তি প্রয়োগ করছি তা ধনাত্মক কাজেই বস্তু দুটি যে শক্তিতে পরস্পরকে টেনে ধরে রাখার চেষ্টা করছে তা অবশ্যই ঋণাত্মক।অর্থাৎ এক্ষেত্রে মহাকর্ষীয় শক্তি ঋণাত্মক।
(চিত্র:৬)
অথবা এভাবে চিন্তা করা যায়,সূর্যের মহাকর্ষীয় সিষ্টেম থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করে সৌরজগতের বাইরে নিয়ে যেতে চাইলে আমাদের ধনাত্মক শক্তি প্রয়োগ করতে হবে।আর যেহেতু সৌরজগতের বাইরে পৃথিবীর শক্তি হবে শূন্য কাজেই অবশ্যই পৃথিবী যখন সূর্য এর মহাকর্ষীয় সিষ্টেমে আবদ্ব ছিল তখন তাদের মহাকর্ষীয় শক্তি ছিল ঋণাত্মক।এভাবে মহাবিশ্বে যত পদার্থ আছে সকল পদার্থর মোট ভর(ধনাত্মক শক্তি)আর তাদের মোট ঋণাত্মক মহাকর্ষীয় শক্তি হিসেব করে যোগ করলে দেখা যায় তা ঠিক ঠিক 'শূন্য' বা প্রায় 'শূন্য' হয়।অর্থাৎ মহাবিশ্বের মোট শক্তি দাঁড়ায় 'শূন্য' বা প্রায় 'শূন্য'।কাজেই শূন্য থেকে শূন্য শক্তির পুরো মহাবিশ্ব সৃষ্টি হলে তাতে শক্তির সংরক্ষণ সূত্রের লংঘন হচ্ছে না। অনিশ্চয়তা নীতি অনুসারে শূন্যস্থানের কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের মাধ্যমে আমাদের পুরো মহাবিশ্ব কোয়ান্টাম বুদবুদ আকারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আবির্ভূত হয়ে আজকের এই পর্যায়ে এসেছে।এখন প্রশ্ন হতে পারে কিভাবে মহাবিশ্ব এত সময় ধরে টিকে আছে,কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের মাধ্যমে আবির্ভাব হওয়ার পর কেন শক্তি আকারে শূন্যস্থানেই বিলীন হয়ে গেলো না?ঠিক এখানেই মহাবিশ্বের মোট শক্তি শূন্য বা প্রায় শূন্য হওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছিল।কারণ অনিশ্চয়তা নীতি অনুসারে কোন সিষ্টেমের মোট শক্তি যত কম হয় সিষ্টেমটি তত বেশি সময় ধরে বিদ্যমান থাকতে পারে,কাজেই শুরুতে মহাবিশ্বের মোট শক্তি যদি বিশাল হতো তবে তা খুব দ্রুত শূন্যস্থানেই বিলীন হয়ে যেত।আজকের এই পর্যায়ে আসতে পারত না।কিন্তু যেহেতু মহাবিশ্বের মোট শক্তি শূন্য বা প্রায় শূন্য, তাই এটি বিশাল সময় ধরে টিকে থাকার সময় পেয়েছে এবং আজকের এই পর্যায়ে পৌঁছতে পেরেছে। এখানে আরো একটি প্রশ্ন আসতে পারে,পুরো মহাবিশ্ব ধারণকারী কোয়ান্টাম বুদবুদটির স্থান-কাল বক্রতা ছিল অসীম কাজেই আইনষ্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বানুসারে বুদবুদটির মহাকর্ষীয় প্রভাব অসীম থাকার কথা।আর সেক্ষেত্রে শূন্যস্থান থেকে মহাবিশ্ব উদ্ভুত হওয়ার পর তা আজকের পর্যায়ে বিবর্তিত হতে পারার কথা না,তার আগেই মহাকর্ষীয় প্রভাবের কারণে পুরো মহাবিশ্ব চুপসে গিয়ে শূন্যস্থানেই বিলীন হয়ে যাওয়ার কথা।তাহলে কিভাবে মহাবিশ্ব আজকের এ পর্যায়ে আসল?আর যদি মহাকর্ষীয় প্রভাব কাটিয়ে আজকের এ পর্যায়ে আসে তাহলে মহাকর্ষীয় প্রভাব কাটানোর মতো বিশাল সে ধাক্কাটি মহাবিশ্বকে দিল কে ? কিভাবে দিল? কেন দিল?ঠিক এখানেই এলান গুথের মতো একজন পদার্থবিদের দরকার হয়েছিল।যিনি এসকল সমস্যা সহ বিশ্বসৃষ্টি-তত্ত্বের আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে তার "স্ফীতি তত্ত্ব" প্রধান করেন।
পেঁপের যত ঔষধি গুণাগুণ
পেঁপের যত ঔষধি গুণাগুণঃ-
পেঁপে কাঁচা হোক বা পাকা এর ঔষধি গুণ নিমিষেই শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে পারে। তবে জেনে নিন কোন কোন রোগের মহাষৌধ পেঁপে-
১। রক্ত আমাশয় নিরাময়ে
প্রত্যেহ সকালে কাঁচা পেপের আঠা ৫/৭ ফোঁটা ৫/৬ টি বাতাসার সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। ২/৩ দিন খাওয়ার পর রক্তপড়া কমতে থাকবে।
২। ক্রিমি ধ্বংসে
যেকোনো প্রকারের ক্রিমি হলে, পেঁপের আঠা ১৫ ফোঁটা ও মধু ১চা চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। এরপর আধা ঘন্টা পরে উঞ্চ পানি আধ কাপ খেয়ে তারপরে ১ চামচ বাখারি (শসা-ক্ষীরার মতো এর স্বাদ) চুনের পানি খেতে হয়। এভাবে ২ দিন খেলে ক্রিমির উপদ্রব কমে যাবে।
৩। আমাশয় নিরাময়ে
আমাশয় ও পেটে যন্ত্রনা থাকলে কাঁচা পেপের আঠা ৩০ ফোঁটা ও ১ চামচ চুনের পানি মিশিয়ে তাতে একটু দুধ দিয়ে খেতে হবে। একবার খেলেই পেটের যন্ত্রণা কমে যাবে এবং আমাশয় কমে যাবে।
৪। উচ্চ রক্তচাপ কমাতে
কাঁচা পেঁপে দেহের সঠিক রক্ত সরবরাহে কাজ করে। দেহে জমা থাকা সোডিয়াম দূর করতে সহায়তা করে যা হৃদপিণ্ডের রোগের জন্য দায়ী। চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ বছরের পর থেকে মানুষের রক্তচাপসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেয় । হয়তো রক্তচাপ বাড়ে নয়তো কমে। রক্তচাপ বাড়লে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। হঠাৎ পড়ে গেলে শরীরের কোনো অংশ অকেজো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, শরীরে অসাড়তা দেখা যায়। উচ্চ রক্তচাপ আক্রান্তরা কাঁচা বা পাঁকা পেঁপে ব্যবহার করতে পারেন।
দুটোই উপকারি। তবে খাবেন কয়েক টুকরো এবং নিয়মিত। কয়েক মাস খেয়ে যেতে হবে। আশা করা যাই নিয়মিত পেঁপে খেলে উচ্চ রক্ত চাপের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এমনকি এতে করে হৃদপিণ্ড জনিত যেকোনো সমস্যার সমাধান হয়।
৫। ক্ষুধা ও হজম শক্তিতে
প্রত্যেকদিন সকালে ২/৩ ফোঁটা পেপের আঠা পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে এর দ্বারা ক্ষুধাও বেড়ে যাবে এবং হজমও ঠিকভাবে হবে।
৬। পেট ফাঁপায়
কয়েক টুকরো পাকা পেপের শাঁষ, আর সামান্য লবন এবং একটু গোলমরিচের গুঁড়ো। একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা পেট ফাঁপার উপশম হয়।
৭। প্রবল জ্বরে
দেড় চামচ পেঁপে পাতার রস এক কাপ পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে। জ্বরের বেগ, বমি, মাথার যন্ত্রণাসহ শরীরে দাহ কমে যাবে। জ্বর কমে গেলে আর খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
৮। মাসিক ঋতু বন্ধে
যাদের মাসিক ঋতু বন্ধ হওয়ার সময় হয়নি অথচ বন্ধ হয়ে গিয়েছে অথবা যেটুকু হয় তা না হওয়ারই মত, সেক্ষেত্রে ৫/৬ টি পাকা পেঁপের বিচি গুঁড়ো করে রোজ সকালে ও বিকালে দু’বার পানিসহ খেতে হবে। এর ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই মাসিক ঋতু ঠিক হয়ে যাবে, তবে অন্য কোনো কারণে এটা বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।
৯। দাঁদ
সে যে কোনো প্রকারের দাদ হোক না কেন, কাঁচা পেঁপের/গাছের আঠা দাঁদে লাগিয়ে দিতে হবে, একদিন লাগিয়ে পরের দিন লাগাতে হবে না, এরপরের দিন আবার লাগাতে হবে, এইভাবে ৩/৪ দিন লাগালে দাঁদ মিলিয়ে যাবে।
১০। একজিমায়
যে একজিমা শুকনো অথবা রস গড়ায় না, সেখানে ১ দিন অথবা ২ দিন অন্তর পেঁপের আঠা লাগালে ওটার চামড়া উঠতে উঠতে পাতলা হয়ে যায়।
১১। উকুন হলে
১ চামচ পেঁপের আঠার সঙ্গে ৭/৮ চামচ পানি মিশিয়ে ফেটিয়ে নিতে হয়। তারপর ওই পানি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর মাথা ধুঁয়ে ফেুঁন। এইভাবে একদিন অন্তর আর একদিন বা ২ দিন লাগালে উকুন মরে যায়।
১২। ওজন নিয়ন্ত্রণে
শরীরের মেদ ঝরাতে যারা তৎপর তাদের খাদ্য তালিকায় পেঁপে রাখুন। একদিকে যেমন কম ক্যালরি আছে, অন্যদিকে থাকা আঁশ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে সবজি হিসেবে পেঁপে অনন্য।
১৩। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায়
দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারে ভূমিকা রাখে পেঁপে। নিয়মিত পেঁপে খেলে সাধারণ রোগবালাই দূরেই থাকে।
১৪। ডায়াবেটিস রোগের পথ্য
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ফল। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁপে শুধু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যই প্রয়োজনীয় ফল নয়, ডায়াবেটিস রোগ এড়ানোর জন্যও পেঁপে খান।
১৫। দৃষ্টিশক্তি
অপথ্যালমোলজি আর্কাইভস প্রকাশিত একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায়, প্রতিদিন তিনবার পেঁপে খেলে চোখের বয়সজনিত ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। বয়স্কদের মধ্যে দৃষ্টি ক্ষতি প্রাথমিক কারণ, প্রতিদিনের খাবারে তুলনামূলকভাবে কম পুষ্টি গ্রহণ করা। পেঁপে চোখের জন্য উপকারি এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন এ, সি, ও ই এর উপস্থিতির কারণে।
১৬। ক্যান্সারের ঝুঁকি
পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিটা ক্যারোটিন, ফ্লেভানয়েড, লুটেইন, ক্রিপ্টোক্সান্থিন আছে। এছাড়াও আরো বহু পুষ্টি উপাদান আছে যেগুলো শরীরের জন্য খুবই উপকারি। ক্যারোটিন ফুসফুস ও অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
১৭। ব্রণের দাগ
ব্রনসহ মুখের অন্যান্য যেকোনো দাগ যেমন মেছতা, ফুস্কুরির দাগ খুব সহজেই দূর করে দিতে পারে পেঁপে। মুখের বিভিন্ন দাগ দূর করার পাশাপাশি পেঁপে ফলটি মুখের উজ্জ্বলতাও ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।
১৮। শরীর শুকিয়ে গেলে
কোনো কারণ নেই অযথা শরীর শুকিয়ে যাচ্ছে, এমন অবস্থায় মুখোমুখি অনেককেই হতে দেখা যায়। বিশেষ করে অল্পবয়সীদের ক্ষেত্রে এ উপসর্গের প্রকোপ বেশি। শরীরে অবসাদজনিত ক্লান্তি, একটা মনমরা ভাব, পড়াশোনা বা কাজকর্মে অনীহা প্রভৃতি উপসর্গ এর সঙ্গেই আসে।
প্রায়ই এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কোষ্ঠকাঠিন্য। এক্ষেত্রে পেঁপে খুবই ফলপ্রসূ। কাঁচা বা পাকা যে অবস্থায়ই হোক। সকালে ও বিকেলে প্রতিদিন কয়েক টুকরো করে খেতে হবে। অন্তত এক মাস নিয়মিত খেতে হবে।
মেয়েদের_মুখে_পুরুষের_মত_লোম_গজানোর_কারণ_ও_প্রতিকার
#মেয়েদের_মুখে_পুরুষের_মত_লোম_গজানোর_কারণ_ও_প্রতিকার:
নারী-পুরুষ সবার শরীরেই কম বেশি লোম রয়েছে। এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু পুরুষ আর নারীভেদে লোমের ধরন ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির। নারীর ক্ষেত্রে লোম অনেক হালকা পাতলা ধরনের। পুরুষদের ক্ষেত্রে ঘন কালো, মোটা লোমই আমরা দেখতে পাই। এই ব্যাপারটি যদি অন্য রকম হয়, তবেই তা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মেয়েদের মুখে যদি ছেলেদের মত লোম গজাতে শুরু করে তথা মুখে অবাঞ্ছিত লোম গজাতে থাকে, তবে তা খুব বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যই নয়, শরীরের অনেক রোগের কারণেও এমন অবস্থা হতে পারে। তাই চিকিৎসা নেয়াটাও জরুরী।
#কেন_মুখে_অবাঞ্ছিত_লোম_গজাতে_শুরু_করে?
হরমোনের ভারসাম্যহীনতাই মূলত এর জন্য দায়ী। প্রত্যেক নারী ও পুরুষের শরীরে টেসটোসটেরন( Testosteron) নামক এক ধরনের হরমোন রয়েছে। এই টেসটোসটেরন হরমোনকে ‘পুরুষ হরমোন’ নামে অভিহিত করা হয়। পুরুষের পাশাপাশি মেয়েদের শরীরেও এই টেসটোসটেরন হরমোন সামান্য পরিমাণ থাকে। কিন্তু মেয়েদের শরীরে এই হরমোনের পরিমাণ বেশি থাকলে অথবা হরমোনের পরিমাণ বেড়ে গেলে মেয়েদের শরীরেও পুরুষের মত অধিক লোম গজাতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মেয়েদের এই শারীরিক সমস্যাটিকে হারসুটিজম (Hirsutism) বলা হয়৷ উল্লেখ্য, মহিলারা মহিলা,কারণ তাদের দেহে মহিলা হরমোন (ইস্ট্রোজেন) বেশি থাকে৷ আর পুরুষরা পুরুষ, কারণ তাদের দেহে পুরুষ হরমোন (টেস্টোস্টেরন) বেশি থাকে৷
লোম ঘন হওয়া ছাড়াও আরো কিছু সমস্যা দেখা দেয় যেমন: শারীরিক গঠনে পুরুষালি ভাব, ঘাড়ে কালো দাগ, গলার স্বরে অস্বাভাবিকতা, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, ওজন বৃদ্ধি, ব্রণ ইত্যাদি৷
#কাদের_হারসুটিজম_হতে_পারে?
– সাধারণত মেনোপজ হয়ে গিয়েছে বা হচ্ছে এই সময়টা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।মেনোপজ হল সেই বয়স যখন মাসিক একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়ে হরমোন পরিবর্তন হয়ে যায়, তাই ঝুঁকি বেশি। তবে যে কোন বয়সেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
– অবিবাহিত মহিলাদের মাসিকের অনিয়মিত অবস্থাও এর সাথে বিদ্যমান থাকতে দেখতে হবে।
– বিবাহিত হলে অনিয়মিত মাসিকের সাথে সন্তান হওয়া বা না হওয়ার সম্পর্ক জড়িত থাকে। সেক্ষেত্রেও রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিতে হবে।
#অন্যান্য_কারণগুলো_হল:
✅কুশিং সিনড্রোম
✅মেনোপজ এবং তৎসংযুক্ত হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
✅কোনও ওষুধের কারণে
✅এড্রিনাল হাইপারপ্লেসিয়া
✅থাইরয়েডের নিষ্ক্রিয়তা
✅অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে, এন্ড্রোজেন-ক্ষরণকারী টিউমারগুলি হারসুটিজমের কারণ হতে পারে৷
#কখন_চিকিৎসকের_পরামর্শ_নিতে_হবে?
১) লোম খুব দ্রুত হারে বাড়তে থাকলে।
২) আরও কিছু পুরুষদের লক্ষণ বিদ্যমান থাকলে, যেমন-কণ্ঠস্বর পরিবর্তন,ব্রণ হওয়া , পেশি বেড়ে যাওয়া, ব্রেস্ট ছোট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।
৩) সাথে যদি পিরিয়ডের সমস্যা থাকে।
#রোগ_নির্ণয়_(Diagnosis):
ব্লাড টেস্ট করে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। কিছু হরমোন লেভেল দেখতে হয়। যেমন-
– Testosterone
– Dihydroepiandrosterone sulfate (DHEA-S)
– Luteinizing hormone (LH)
– Follicle stimulating hormone (FSH)
– Prolactin
– 17-hydroxyprogesterone
#মুখে_অবাঞ্ছিত_লোম_এর_চিকিৎসাঃ
১) বাড়িতে বসে চিকিৎসা: এটি একটি দীর্ঘদিনের রোগ। চিকিৎসাও অনেক ধৈর্য নিয়ে করতে হয়। যদি বাড়তি ওজন থাকে, নিয়মিত ব্যায়াম করে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে হবে। কম ক্যালরি যুক্ত খাবার খেতে হবে।
অবাঞ্ছিত লোম দূরীকরণ:
– ব্লিচ করার মাধ্যমে লোম হালকা করা যায়, যাতে চোখে না পড়ে।
– শেভিং করা যেতে পারে, যদিও এতে লোমের গোঁড়া মোটা হয়ে যায়।
– ওয়াক্সিং করে লোম দূর করা যায়।
– হেয়ার রিমুভাল ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।
– প্লাকিং করেও লোম তোলা যেতে পারে।
– থ্রেডিং করেও লোম থেকে সাময়িকভাবে মুক্তি পাওয়া যায়।
২) লেজার চিকিৎসা:
উপরের সবগুলো পদ্ধতি থেকে এই পদ্ধতি তুলনামূলক ভাবে স্থায়ী এবং কার্যকরী। তবে এক্ষেত্রে কয়েকবার চিকিৎসা নিতে হয়। এ পদ্ধতিতে লোমের গোঁড়ায় রশ্মি ফেলা হয় যাতে গোঁড়াটা নষ্ট হয়ে যায় এবং নতুন ভাবে গজাতে না পারে। এটি কিছুটা ব্যয়বহুল এবং দক্ষ চিকিৎসকের প্রয়োজন হয়।
৩) ইলেক্ট্রোলাইসিস: এর মাধ্যমেও লোম স্থায়ীভাবে নির্মূল করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ইলেকট্রিক মেশিনের সাহায্যে হেয়ার ফলিকল নষ্ট করা হয়।
৪) ম্যাডিকেশন: জন্ম বিরতিকরণ পিল
অ্যান্টি-এন্ড্রোজেন ম্যাডিকেশন- যেমন স্পাইরোনোল্যাকটোন (Spironolactone)। এই চিকিৎসাগুলো সময়সাপেক্ষ।
এভাবেই ঘরোয়া যত্ন, ওজন কমানো , খাদ্যাভ্যাস, লোম অপসারণ এবং চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে আপনি সহজেই মুখের অবাঞ্ছিত লোম থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
পৃথিবী থেকে মহাকাশ পর্যবেক্ষণের অভিনব কৌশল
পৃথিবী থেকে মহাকাশ পর্যবেক্ষণের অভিনব কৌশল
অন্বেষণ |
চিলিতে এক্সট্রিমলি লার্জ টেলিস্কোপ, ইএলটি
হাবল টেলিস্কোপ মহাকাশ থেকে মূল্যবান ছবি পাঠিয়ে চলেছে৷ এদিকে অভিনব এক কৌশল কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর বুকে বসেই মহাকাশের আরও উন্নত মানের দৃশ্য ধরা হচ্ছে একঝাঁক টেলিস্কোপের মাধ্যমে৷
ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচশো কিলোমিটার উচ্চতায় ভাসছে হাবল টেলিস্কোপ৷ জ্যোতির্বিদ্যার ক্ষেত্রে সম্ভবত সবচেয়ে পরিচিত বস্তু এটি৷ প্রায় তিন দশক ধরে এই টেলিস্কোপ আমাদের অসাধারণ ছবি সরবরাহ করে আসছে৷ সেই জ্ঞান মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণায় বিপ্লব এনেছে৷ এই টেলিস্কোপ থেকে মানবজাতি মহাকাশের গভীরের প্রায় নিখুঁত ছবি পেয়ে এসেছে এবং বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, যে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের গতি নাকি বেড়ে চলেছে৷
কিন্তু প্রায় স্কুল বাসের মাপের একটি টেলিস্কোপকেপৃথিবীর কক্ষপথে বসানোর এত ঝক্কি পোয়ানোর কী প্রয়োজন ছিল? কারণটি ভালো করে বোঝাতে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইয়খেন লিসকে একটি অ্যাকোয়ারিয়াম ও আন্ডারওয়াটার ক্যামেরা কাজে লাগিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘ভূপৃষ্ঠের উপর কোনো টেলিস্কোপের সমস্যা হলো, সেটিকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করতে হয়৷ সেই বায়ুমণ্ডল মিডিয়াম হিসেবে অত্যন্ত অস্থির৷ এ যেন কোনো সুইমিং পুলের নীচে বসে পানির স্তর ভেদ করে আকাশ দেখার মতো৷ পানি স্থির না থাকলে, ঢেউয়ের আলোড়ন ঘটলে বাইরের জগত বিকৃত দেখাবে৷ নিখুঁতভাবে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করতে চাইলে পৃথিবীর বুকে টেলিস্কোপের ঠিক একই সমস্যা হয়৷’’
টাইগার ফিশ
⭕ টাইগার ফিশ
🔘 আফ্রিকার টাইগার ফিশ নামে স্বাদু পানির মাছ পানিঘেঁষে উড়ে যাওয়া পাখিও শিকার করে। গবেষকেরা দেখেছেন, টাইগার ফিশ পানি থেকে শূন্যে লাফিয়ে উঠে পাখি ধরে খায়। এই মাছগুলোর ছুরির মতো লম্বা আর ধারালো দাঁত আছে। ধারালো দুই সারি দাঁতের জন্যই মূলত এই মাছের নামকরণ করা হয়েছে টাইগার ফিশ। এদের বাস আফ্রিকাতে এবং এরা এলেসটাইডি (Alestidae) পরিবারভুক্ত মাছ। এরা মূলত স্বাদুপানিতে বাস করে। সাধারণত হাইড্রোসাইনাস (Hydrocynus) গণের এলেসটাইডি পরিবারের বিভিন্ন প্রজাতির মাছকে টাইগার ফিশ বলে অভিহিত করা হয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে ‘গোলিয়াথ টাইগার ফিশ’ (goliath tigerfish)। আফ্রিকার কঙ্গো নদীর অববাহিকায় এদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। এছাড়াও লুয়ালাবা নদী এবং উপেম্বা ও টানগানয়িকা লেকে (Lake Upemba and Lake Tanganyika) এদের দেখা মেলে। দক্ষিণ আফ্রিকার লিমপোপো প্রদেশের একটি কৃত্রিম হ্রদে টাইগার ফিশের উড়ন্ত পাখি শিকারের ভিডিও দৃশ্য ধারণ করেছেন একদল গবেষক। দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থ ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ওই গবেষক দলের গবেষণা প্রতিবেদন ফিশ বায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক নিকো স্মিট বলেন, টাইগার ফিশ আফ্রিকার স্বাদু পানির মাছের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রজাতির একটি। টাইগার ফিশ পাঁচ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে এবং এদের ওজন হয় ১৫০। এদের পিঠের দিকটা অনেকটা জলপাই রঙের। আর পেটের অংশ রুপালী। এদের রয়েছে দুই সারি ৩২টি ব্লেডের মতো ধারালো ও তীক্ষ্ণ দাঁত। যার একেকটি কম করে হলেও এক ইঞ্চি লম্বা! এদের ঠোঁট নেই বললেই চলে। দাঁতগুলো মুখের সামনের দিকের চোয়ালে সারিবদ্ধভাবে সাজানো। প্রাকৃতিকভাবে এরা ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। টাইগার ফিশ সাধারণত ভোরে ও সন্ধ্যায় অন্য ছোট মাছ শিকার করে। আর দিনের বেলায় গভীর পানিতে গিয়ে বিশ্রাম নেয়। তবে গ্রীষ্মের সকালে এরা অন্য রকম আচরণ করে। এ সময় প্রায়ই লাফ দিয়ে পানির অনেক ওপরে ওঠে। কখনো কখনো পানির ওপর দিয়ে উড়ে চলা পাখিদের খপ করে কামড়ে ধরে। টাইগার ফিশের এমন অদ্ভুত আচরণ দেখে গবেষকেরা ‘যারপরনাই বিস্মিত’ বলে জানান স্মিট। তিনি বলেন, পানিতে নামা বা জলাশয়ের কিনারে বসা পাখিদের শিকার করে, এমন অনেক প্রজাতির মাছের কথা আমরা এত দিন জেনে এসেছি। এই প্রথম দেখা মিলল উড়ন্ত পাখি শিকার করা বিরল প্রজাতির টাইগার ফিশের।
The perfect fear
The perfect fear
ছবিতে চিলির ক্যালবুকো আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের সময় "ডার্টি স্ট্রম" এর সবচেয়ে হিংস্র মুহূর্ত দেখানো হয়েছে। ("ডার্টি স্ট্রম" এমন এক বৈজ্ঞানিক শব্দ যখন অগ্ন্যুৎপাত ঘটে এবং আগ্নেয়গিরির নীচ থেকে নিক্ষিপ্ত উপাদানগুলি দিকে ধাক্কা দেয় যা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যা ইতিবাচক এবং নেতিবাচক চার্জ সৃষ্টি করে।) ক্যালবুকো আগ্নেয়গিরি এবং এর সহিংস বিস্ফোরণের ফলে আগ্নেয়গিরির নিকটবর্তী অনেক সেক্টরের ভয়াবহতার জন্যে আশেপাশে প্রায় 3,000 এরও বেশি লোককে সরাতে হয়েছিল। ক্যালবুকো আগ্নেয়গিরি চিলির সবচেয়ে বিপজ্জনক আগ্নেয়গিরির তালিকায় রয়েছে৷
ছবিটি ফেইক নয় বা এডিট করা নয়৷ ছবিটি তুলেছেন Fransisco negroni ছবিটির জন্যে তিনি পুরস্কৃত হয়েছিলেন৷ ছবিটির নাম "The perfect fear" .
প্রাকৃতিক মমি তৈরির এক আজব কারখানা
লেক ন্যাট্রন :: প্রাকৃতিক মমি তৈরির এক আজব কারখানা
=======================
প্রাচীন মিসরীয়রা বিশ্বাস করত মৃত্যুর পরেও আর একটা জীবনের অস্তিত্ব আছে। তাই মৃত দেহকে তারা মৃত্যুর পরে মমিতে রূপান্তরিত করত। তবে এই রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়াটা ছিল খুবই ব্যয়বহুল। তাই অভিজাত কেউ ছাড়া মৃতদেহ মমিতে রূপান্তরিত হওয়ার সুযোগ পেত না।
.
তবে পৃথিবীতে এমন একটি স্থানে রয়েছে যেখানে বেশিক্ষণ অবস্থান করলে যে কোন প্রাণী আপনা আপনিই মমিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। খুবই আজব এই জায়গাটির নাম লেক ন্যাট্রন। এটির অবস্থান আফ্রিকার তানজানিয়ায় আরুশা অঞ্চলে।
.
এই লেকের পাশেই রয়েছে ওল দইন্নো লেঙ্গাই নামে একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। আগ্নেয়গিরিটি একটু ব্যতিক্রমধর্মী কারণ এটি সোডিয়াম ও পটাশিয়াম কার্বনেট সমৃদ্ধ লাভা উদগীরণ করে থাকে যা ন্যাট্রোকার্বনাটাইট (Natrocarbonatite) বা সংক্ষেপে ন্যাট্রন নামে পরিচিত।
.
এই রাসায়নিক যৌগটি এতই ক্ষারীয় যে এই লেকের পিএইচ সর্বদা 10 এর উপরে থাকে।এই রাসায়নিক দ্রব্যটি ছিল প্রাচীন মিশরের মমি বানানোর মূল উপাদান।
.
এই লেকের পানিতে নেমে সাথে সাথে উঠে গেলে সমস্যা হয় না। তবে দীর্ঘক্ষন অবস্থান করলে এই রাসায়নিকের প্রভাবে চামড়া ধীরে ধীরে শুকিয়ে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে চামড়া পানিশূন্য হয়ে পাথরের মত শক্ত হয়ে যায়। ফলে মৃত প্রাণী গুলো এখানে বছরের পর বছর মমি আকারে সংরক্ষিত থাকে।
.
কিন্তু আফ্রিকার অন্যতম সুন্দর পাখি ফ্লেমিঙ্গো এখানে অবাধে চরে বেড়ায়। এদের নাকে অবস্থিত বিশেষ গ্রন্থি পানি থেকে ন্যাট্রন আলাদা করতে পারে। এদের শক্তিশালী পাকস্থলী লেকের পানিতে জন্মানো দূষিত এলজি হজমের উপযোগী।
.
এছাড়াও এদের পায়ের চামড়া বিশেষ আঁশযুক্ত এবং পানি প্রতিরোধী। লেকের পানিতে দীর্ঘক্ষন অবস্থান করলেও তাদের কিছুই হয় না। আবার লেকটি বিষাক্ত হওয়াতে অন্যান্য শিকারী প্রাণীর আগমন নেই। ফলে এটি ফ্লেমিঙ্গোদের বংশবিস্তারের উপযুক্ত জায়গা।
.
এই লেকের বিষাক্ত পানিতে জন্ম নেয় সায়ানোব্যাকটেরিয়া নামে এক ধরনের অণুজীব। ফটোসিনথেসিসের ফলে এই ব্যাকটেরিয়ার শরীরে জন্ম নেয় এক ধরনের বিশেষ পিগমেন্ট। এই বিশেষ পিগমেন্ট লেক ও ফ্লেমিঙ্গোদের গোলাপি রঙের জন্য দায়ী।
.
অন্যান্য প্রাণীদের জন্য যে পরিবেশ মৃত্যুকূপ , ফ্লেমিঙ্গোদের জন্য তা হয়ে উঠেছে অভয়ারণ্য।
"The Great Void"
আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্বে এখন পর্যন্ত জানা সবচেয়ে রহস্যময় একটি বড় ফাঁকা জায়গার খোঁজ পাওয়া গেছে যার নাম "The Great Void" বা "Bootes Void". এটি প্রায় 330 Million light Years এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। মহাবিশ্বের এই অন্ধকার অংশটুকু বিজ্ঞানীদের আজও এক বড় ধাঁধার মধ্যে রেখেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে এই অঞ্চলে প্রায় 2000 Galaxy থাকার কথা, অথচ আপনি জেনে অবাক হবেন যে আজ পর্যন্ত কেবল মাত্র 60 টি Galaxy খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা যা তুলনায় অনেক কম।
এমনও তো হতে পারে যে বাকি Galaxy গুলোও এখানেই আছে কিন্তু হয়তো সেখানে Type-3 Civilization এর রাজত্ব চলছে যারা সেখানকার সকল Galaxy কে Dyson Sphere দিয়ে ঢেকে দিয়েছে নিজেদের প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চারের জন্য! যার ফলে Galaxy- গুলোর আলো Observer তথা আমাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না! এমন সম্ভাবনার কথা বিজ্ঞান মহলের অনেকেই সাপোর্ট করে থাকেন।
Dyson Sphere মূলত একটি হাইপোথেটিকেল Satellite Network যা একটি নক্ষত্রকে চারিদিক থেকে ঘিরে রাখে এবং ঐ সৌরমমন্ডলের প্রাণবহনকারী গ্রহের শক্তির জোগান দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে কোন সভ্যতা চাইলে তার সূর্যের সমস্ত শক্তি ব্যবহার করতে পারবে নিজেদের প্রয়োজন মাফিক। ১৯৬০ সালে পদার্থ বিজ্ঞানী Freeman Dyson এ ধারণাটি সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন।
তো আপনাদের কি মনে হয়? আসলে কি Type-3 Civilization এর কারসাজি নাকি অন্য কোন রহস্য লুকিয়ে আছে এর মাঝে?
কিভাবে বুঝবেন সিলিন্ডারের মেয়াদ আছে কিনা?
#মেয়াদ_উত্তীর্ণ_গ্যাস_সিলিন্ডার_ঘরে_রাখা_আর_বোমা_ঘরে_রাখা_একই_কথা:
অনেক সময় শোনা বা দেখা যায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বাসায় বা সিএনজি-তে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর জন্য একটু সচেতন হলে হয়তো দুর্ঘটনা হতে পরিত্রান পাওয়া যায়।
কিভাবে বুঝবেন সিলিন্ডারের মেয়াদ আছে কিনা?
যেসব এলাকায় গ্যাস সংযোগ নেই তাদের একমাত্র ভরসাই হলো সিলিন্ডার গ্যাস। কিন্তু এই সিলিন্ডার গ্যাস সুবিধা দিলেও এর ভয়াবহতা কিন্তু কম নয়। গত কয়েক বছরে অসংখ্য প্রাণ হারিয়েছে শুধু এই গ্যাসের সিলিন্ডার বিষ্ফোরণ হয়ে।
গ্যাসের সিলিন্ডার বিষ্ফোরণ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ মেয়াদউত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার করা। প্রত্যেকটি সিলিন্ডারের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে এবং এই মেয়াদসীমা শেষ হয়ে গেলে সিলিন্ডার তার চাপ ক্ষমতা হারায়।
সাধারণত গ্যাসকে উচ্চ চাপে তরলীকরণ করে সিলিন্ডারে প্রবেশ করানো হয়। তাই কোন মেয়াদউত্তীর্ণ সিলিন্ডারে যদি উচ্চ চাপে গ্যাস ঢুকানো হয় তবে উক্ত সিলিন্ডার গ্যাসের চাপ রক্ষা করতে না পেরে বিষ্ফোরিত হয়ে যায়।
তাই মেয়াদ উত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার ঘরে রাখা আর বোমা রাখার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার চিনবেন কীভাবে? সাধারণভাবে সিলিন্ডারের গায়ে লেখা দেখে বোঝার উপায় নেই এর মেয়াদকাল সম্পর্কে কারণ এখানে কিছু সাংকেতিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় যেটা দেখে কিছুই বোঝা যায় না।
তাহলে আমরা চিনব কিভাবে যে সিলিন্ডার মেয়াদ উত্তীর্ণ।
ছবিতে মার্ক করা কালো রংগের লেখাটাই হল এক্সপায়ার ডেট। এখানে A,B,C,D সংকেত দিয়ে বোঝানো হয়েছে।
A= বছরের প্রথম তিন মাস যেমন জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ।
B= তার পরের তিন মাস যেমন, এপ্রিল, মে, জুন। একইভাবে C,D দ্বারা ক্রমানুসারে বাকি ছয় মাসকেই বোঝানো হয়। আর সবার শেষে বছরের শেষ দুই ডিজিট থাকে, অর্থাৎ C13 (2013 ইং) যদি C18 থাকে তারমানে হল 2018 সালের জুলাই, আগস্ট, অথবা সেপ্টেম্বর মাসেই আপনার সিলিন্ডারের মেয়াদ বা (expire date) হবে।
অর্থ্যাৎ
A = মার্চ এ মেয়াদ শেষ হবে
B = জুন এ মেয়াদ শেষ হবে
C = সেপ্টেম্বর এ মেয়াদ শেষ হবে
D = ডিসেম্বর এ মেয়াদ শেষ হবে
মহাকাশ বিদ্যার ইতিহাসে একটা রোমাঞ্চকর ঘটনা
20. 10.2020 তারিখে মহাকাশ বিদ্যার ইতিহাসে একটা রোমাঞ্চকর ঘটনা ঘটেছে। এদিন সর্বপ্রথম নাসার স্পেস ক্রাফট OSIRIS-REx পৃথিবীর কাছাকাছি গ্রহাণু Bennu তে সন্ধ্যা 6 টা 12 মিনিটে অবতারণা করেছে। Bennu পৃথিবী থেকে 200 মিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থিত। এই মিশনের মূল লক্ষ্য হলো গ্রহাণু Bennu থেকে পদার্থ সংগ্রহ করে তা দিয়ে গবেষণা করা। এরপরে আমরা সৌরজগতের আদি অবস্থার কথা জানতে পারবো। আগামী 10 দিনের মধ্যে গ্রহাণু থেকে ধূলিকণা এবং পাথর সংগ্রহ করা যাবে। 2016 সালে OSIRIS- REx মিশন পাঠানো হয়েছিল গ্রহাণু টির ভৌগলিক অবস্থান পরিমাপ করার জন্য। বর্তমান মিশন এটা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য ঐ গ্রহাণু 1640 ফুট চওড়া। OSIRIS-REx গ্রহাণু এর একটি উপত্যকা আছে যাকে বলা হয় নাইটিঙ্গেল। সেখান থেকে স্যাম্পেল সংগ্রহ করা হবে। কারণ এই উপত্যকায় মিহি পদার্থের কণা পাওয়া যাবে যেটা মহাবিশ্বের কর্কশ পরিবেশের সাথে এখনো পরিচিতি লাভ করেনি। তবে এই কাজটা এত সহজ নয়। কারণ উপত্যকার ভৌগোলিক পরিবেশ বাধা সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি এই উপত্যকার পাশে Mount Doom আছে। এইজন্য ঐ স্পেস ক্রাফট টি যেটা 15 টা লোক বসার মত একটি ভ্যান গাড়ি মাপের সেটি বোল্ডার মুক্ত মাটিতে যাওয়ার চেষ্টা করবে। OSIRIS-REx সর্বপ্রথম এই গ্রহাণুর মাটিতে নাইট্রোজেন গ্যাস দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাবে। এর ফলে ধূলিকণা এবং মিহি পদার্থের গুড়ো উড়তে থাকবে যেটি স্পেস ক্রাফট তার রোবটিক বাহু দিয়ে দিয়ে সংগ্রহ করবে। এই ল্যান্ডিংয়ের ছবি আমরা 21.10 .2020 তারিখে পাব। এই মিশনের মূল লক্ষ্য হল 4 কেজি স্যাম্পেল সংগ্রহ করা। Bennu গ্রহাণু কার্বন সমৃদ্ধ জৈব পদার্থ এবং হাইড্রেটেড পদার্থ যুক্ত একটি গ্রহাণু। এটি পৃথিবী কে জীবনের প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে বাসযোগ্য করে তুলেছিল। যদি সবকিছু ঠিকঠাক হয় তবে OSIRIS-REx , 2021 সালের মার্চ মাসে Bennu কে বিদায় জানাবে। আর আমরা 2023 সালে এই স্যাম্পেল হাতে পাব।
বৃহস্পতি গ্রহের তৃতীয় বৃহত্তম উপগ্রহ
Io হল বৃহস্পতি গ্রহের তৃতীয় বৃহত্তম উপগ্রহ। জ্যোতির্বিদরা সর্বপ্রথম এই উপগ্রহের আগ্নেয়গিরি থেকে সালফার ডাই অক্সাইডের ধোঁয়া বের হতে দেখেন। Io উপগ্রহে সৌরজগতের মধ্যে সবথেকে বেশি আগ্নেয়গিরি দেখা যায়। এখানে 400 এর বেশি আগ্নেয়গিরি আছে। এটি বৃহস্পতি এবং অন্যান্য তিনটি উপগ্রহ দ্বারা মহাকর্ষীয় ভাবে জড়িত হওয়ার আভ্যন্তরীণ চাপের প্রকাশ। Io এর পাতলা বায়ুমণ্ডল আছে এবং ভূপৃষ্ঠে সালফার ডাই অক্সাইডের প্রাধান্য খুব বেশি। আগ্নেয়গিরি থেকে গ্যাস হিসাবে বেরিয়ে রাতের মাটিতে শীতল হয় এবং উপগ্রহের ভূপৃষ্ঠে ফিকে হলুদ ও কমলা রঙের ছোপ রেখে যায়। কিন্তু কতটা গ্যাস আগ্নেয়গিরি থেকে বেরিয়ে আসছে বা ভূপৃষ্ঠে জমে যাওয়া সালফার ডাই অক্সাইড এর কতটা আবার পুনরায় উত্তপ্ত হয়ে বায়ুমন্ডলে ফিরে যাচ্ছে এটাই হলো সবথেকে বড় প্রশ্ন। গবেষকরা এর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা দেখেছেন Io এর পাতলা বায়ুমণ্ডল দিয়ে বেশিরভাগ গ্যাস বৃহস্পতি গ্রহ এবং এর নিজস্ব চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে পালিয়ে যায় যার পরিমাণ হল প্রায় 1 মেট্রিক টন প্রতি সেকেন্ড। এটি একটি প্লাজমার আবরণ তৈরি করে যা Io প্লাজমা নামে পরিচিত এবং এটি বৃহস্পতি কে প্রদক্ষিণ করে। বায়ুমণ্ডলের বাকি অংশ আমাদের কে ভূপৃষ্ঠের জিওলজিক্যাল প্রসেস বোঝাতে সাহায্য করে। জ্যোতির্বিদরা এইজন্য ALMA কে ব্যবহার করে রেডিও ওয়েভ লেন্থ দিয়ে Io কে পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করেছেন বিশেষ করে যখন Io বৃহস্পতির ছায়ায় চলে যায় এবং পরে এই ছায়া থেকে বেরিয়ে আসে যাকে বলা হয় Jovian eclipse। তারা লক্ষ্য করেন Io এর বায়ুমন্ডলে সালফার ডাই অক্সাইড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। রাতে তাপমাত্রা সালফার ডাই অক্সাইডের হিমাঙ্কের নিচে চলে যায়। দিনের বেলায় হিমায়িত সালফার ডাই অক্সাইড আবার উত্তপ্ত হয়ে বায়ুমন্ডলে ফিরে আসে এবং 10 মিনিটের মধ্যে পুনরায় পূরণ করে নেয় যেটা প্রত্যাশার থেকে অনেক দ্রুত। যখন Io বৃহস্পতির ছায়ায় চলে যায় তখন সূর্যালোক থেকে সরাসরি বঞ্চিত হয়। তখন Io অপেক্ষাকৃত শীতল হয়। এই সময় সালফার ডাই অক্সাইড ভূপৃষ্ঠে জমে যায়। ঠিক তখনই আমরা আগ্নেয়গিরি থেকে উদ্ভূত সালফার ডাই অক্সাইড খুব precise ভাবে দেখতে পারবো এবং এটি কতটা বায়ুমণ্ডল কে প্রভাবিত করে তা জানতে পারবো। ALMA ইমেজ ব্যবহার করে তা আমরা জানতে পারি। যে আগ্নেয়গিরি অঞ্চলে সালফার-ডাই-অক্সাইড বা সালফার মনোঅক্সাইড নেই সেখানে আমরা পটাশিয়াম ক্লোরাইড দেখতে পাবো।এই ঘটনা এটি প্রমাণ করে বিভিন্ন আগ্নেয়গিরিতে বিভিন্ন Magma reservoir আছে। বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন Volcanic activity এর জন্য 30 থেকে 50 পার্সেন্ট সালফার ডাই অক্সাইড Io বায়ুমন্ডলে জমা হয়। The research is published in The Planetary Science Journal
ব্ল্যাক হোল তত্ত্ব
* ব্ল্যাকহোলকে বাংলায় কৃষ্ণগহ্বর বলা হয়।
*একে বিতর্কের এক নামও বলা হয়।
* ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রথম প্রস্তাব করা হয় অষ্ট দশ শতাব্দীতে।
* ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রথম প্রস্তাব করা হয় অষ্ট দশ শতাব্দীতে প্রচলিত মাধ্যাকর্ষণ সূত্রগুলোর উপর ভিত্তি করে।
* 1783 সালে John Michell , Dark Star সিরো নামে একটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেন। তিনি বলেছিলেন যদি একটি বস্তুর আকার যথেষ্ট ছোট ও ভর যথেষ্ট হয় কোনো কিছুর পক্ষে তার আকর্ষন বল হতে বাঁচা সম্ভব নয় এমনকি আলোও চিরকালের জন্য আটকে যেতে পারে।
* John Micher এর মতো একই রকম ভাবনা আসে Marquis De Laplace এর মাথায়ও। তিনি তার বই ' The System of The World ' এ তার ধারণাটি প্রকাশ করেন।
* 1967 সালে John Wheeler ব্লাকহোল নামটির সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন।
* Albert Einstein এর আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশের পর Karl Schwarzschild এ ধরনের বস্তুর জন্যে একটি গাণিতিক সমাধান বের করেন।
* এর বেশ কিছুদিন পরে 1930 এ দশকের দিকে ওপেন - হাইমার ভলকক সিনডার মহাবিশ্বে এ ধরনের বস্তু থাকার সম্ভাবনা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে থাকে। পরে এ তিন গবেষক প্রমাণ করে দেখান যে ' একটি যথেষ্ট ভর যুক্ত নক্ষত্র যখন তার সব জ্বালানি হারিয়ে ফেলে তখনই এতে নিউক্লীয় বিক্রিয়ার বহির্মুখী চাপ থাকে না বলে এটি এর নিজস্ব অভিকর্ষের চাপে চুপসে যেতে থাকে। এভাবেই বিকর্ষিত হয় ব্ল্যাকহোলের ধারণা।
*নাম ব্ল্যাকহোল হলেও এর নামের সাথে এর কোন মিল নেই।
*ব্লাকহোল হল মহাবিশ্বের এমন একটি বস্তু বা জায়গার নাম যা আয়তনে খুবই ছোট কিন্তু এর ভর এত বেশি যে ব্ল্যাকহোলের নিজস্ব মহাকর্ষীয় শক্তি কোনোকিছু - কেই তার ভেতর থেকে বাইরে আসতে দেয় না। এমন কি তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ যেমন আলোকেও না।
*প্রকৃত পক্ষে এর বা এর স্থানের সাধারণ মহাকর্ষীয় বলের মান এত বেশি যে এটি মহাবিশ্বের অন্য সকল ভরকে অতিক্রম করে।ফলে এর থেকে কোন কিছুই বের হয়ে আসতে পারে না।
*ব্ল্যাকহোল হতে কোন আলোই বের হয়ে আসতে পারে না বলে আমরা আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়েও একে দেখতে পারি না।
*ব্ল্যাকহোল তার নিকটবর্তী বস্তুসমূহ কে আকর্ষন করে। এর আকর্ষন বলের ফলে ব্ল্যাকহোলের নিকটবর্তী নক্ষত্র হতে কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে ব্ল্যাকহোলের দিকে ধাবিত হয়। যতই ওরা কাছে যেতে থাকে এদের তাপমাত্রা, উজ্জ্বলতা ও গতিবেগ বেড়ে যায়।
*ব্ল্যাকহোল তৈরি হয় মৃত্যু মুখী তারাদের দ্বারা।
* আমাদের সূর্যের ভরের ২০ গুন ভরবিশ্ষিস্ট কোন একটি তারা তার জীবনী শেষ পর্যায়ে কোন একটি ব্ল্যাকহোল এ পরিণত হয়।
*সাধারণত একটি নক্ষত্রে হাইড্রোজেন গ্যাস এর বিক্রিয়ার ফলে পরস্পরের সাথে মিশে হিলিয়াম গ্যাস এ উৎপন্ন হয়।এ বিক্রিয়ার ফলে নক্ষত্রে প্রচুর তাপ ও চাপ উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন তাপ নক্ষত্রকে উজ্জ্বল করে এবং উৎপন্ন চাপ নক্ষত্রের কেন্দ্রে বহির্মুখী চাপের সৃষ্টি করে। যা মহাকর্ষীয় বলের কারণে নক্ষত্রের কেন্দ্রে সংকোচন ধর্মী চাপ সৃষ্টি হয় এবং এক সময় এই নক্ষত্রের জ্বালানি সৃষ্টি হয়। এতে সংকোচন ধর্মী চাপ বহির্মুখী চাপের উপর বিজয় লাভ করে এতে সকল কিছু কেন্দ্রের দিকে যেতে থাকে এবং এতে ব্ল্যাকহোল তৈরি হয়।
হ্যালির ধুমকেতু
হ্যালির ধুমকেতু প্রতি ৭৫-৭৬ বছর পর পর পৃথিবীর আকাশে দৃশ্যমান হয়ে উঠা একটি ধুমকেতু। বিখ্যাত ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমান্ড হ্যালির নাম অনুসারে এই ধুমকেতুর নামকরণ করা হয়।এর অফিসিয়াল ডেসিগনেশন হচ্ছে ১ পি/হ্যালি। মাঝেমধ্যে একে "কমেট হ্যালি" তথা "ধুমকেতু হ্যালি" নামে ডাকতে দেখা যায়। এটিকে ১৯৮৬ সালে দেখা গেছে । একে আবার ২০৬২-২০৬২ এর মধ্যে দেখা যাওয়ার কথা।
হান্না ক্লার্ক এমন এক মেয়ে যার হার্টের সংখ্যা দুটি
হান্না ক্লার্ক এমন এক মেয়ে যার হার্টের সংখ্যা দুটি।পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে চিকিৎসকেরা একটি জীবনদায়ী হার্ট প্রতিস্থাপন করেন। হান্নার বয়স তখন মাত্র দুই। তবে অসুস্থ হার্টটিকে না সরিয়ে তাঁরা ডোনার হার্টটিকে হান্নার নিজস্ব হার্টটির পাশে প্রতিস্থাপন করলেন। উদ্দেশ্য দুর্বল হার্টটি যাতে বিশ্রাম নিতে পারে এবং শরীরের ভেতরেই পুনর্নির্মিত হতে পারে।হান্নার শরীরের সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিস্থাপিত হার্টটিকে ধীরে ধীরে বাতিল করতে শুরু করে। তবে কয়েক বছর পরে আশ্চর্যজনকভাবে হান্নার আসল হার্টটি কাজ করতে শুরু করে। ফল হল এটাই যে হান্নার শরীরে এখন দুটি হার্ট কাজ করছে।
আইনস্টাইন
প্রচলিত আছে, আইনস্টাইন ছিলেন অতিমাত্রায় খারাপ ছাত্র। এমনকি তিনি গণিতে ফেলও মেরেছিলেন। ধারণা করা হয়, এ গুজবটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহ যোগাতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এমনকি রিপলি’স বিলিভ ইট অর নট-এর এডিশনেও তথ্যটি যুক্ত করা হয়েছে।
মূল সত্যটা হলো, আইনস্টাইন অত্যন্ত মেধাবী একজন শিক্ষার্থী ছিলেন, যিনি ১৫ বছর বয়স হওয়ার আগেই ডিফারেনশিয়াল ও ইন্টিগ্রাল ক্যালকুলাসে পারদর্শী হয়ে ওঠেন।
King cobra
#কিং_কোবরা (King cobra) যাকে বাংলায় শঙ্খচূড়, রাজগোখরা বলা হয়। এটি এলাপিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি বিষধর সাপ। নামের মধ্যে কোবরা থাকলেও এটি কোবরা থেকে ভিন্ন। এটিকে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ পূর্ব-এশিয়া এবং চীনের দক্ষিণ বনাঞ্চলে দেখা যায়। বাংলাদেশে সুন্দরবনের গহীনে এই সাপ বেশি দেখা যায়।
বৈশিষ্ট্যঃ কিং কোবরা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিষধর সাপ। এটি দৈর্ঘ্যে সর্বোচ্চ ১৯ ফুট এবং ভর ৩০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হয়। এদের পুরো শরীরে সাদা-কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে। সাধারণ কোবরার মতো এর ফনা এতো চওড়া নয় এবং সাধারণ কোবরার মতো এর ফনার পিছনে চিহ্ন থাকে না। কিং কোবরা নিজের শরীরের অর্ধেক উচ্চতায় দাঁড়িয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ একটা ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের কিং কোবরা দাঁড়িয়ে আপনার কপালেও দংশন করতে পারবে।
ট্যাক্সোনমিঃ যেহেতু এটি একটি সাপ তাই এটির বিষের কথা খেয়াল রাখতে হবে। কিং কোবরার বিষ প্রধানত নিউরোটক্সিন। এই বিষ প্রাণীদেহের স্নায়ু কোষকে আক্রমণ করে। কিং কোবরার এক কামড়ে যতটুকু বিষ থাকে তা প্রাপ্ত বয়স্ক ২০ জন মানুষকে মেরে ফেলতে সক্ষম। কিং কোবরার দংশনে আক্রান্ত ব্যক্তি ৩০ মিনিটের মধ্যে মারা যায়। এই সাপের কামড়ে বাঁচার সম্ভাবনা ২৫%। উল্লেখ্য যে, কিং কোবরার কামড়ে হাতি মারা যায় ২-৩ ঘন্টার মধ্যে।
খাদ্য তালিকাঃ অন্যান্য সাপেদের থেকে কিং কোবরাদের দৃষ্টিশক্তি অনেক উন্নত। এরা চোখে খুব ভালোভাবে দেখতে পায়। কিং কোবরাদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে অন্যান্য সাপ। এরা কেবল সাপ-ই খায়। আর এজন্য একে কিং বলা হয়। এরা রেট স্নেক, পিট ভাইপার, ছোট আকৃতির পাইথন, কিল ব্যাক স্নেক ইত্যাদি সাপ খেয়ে থাকে। এছাড়া এরা নিজেদের প্রজাতির সাপও খেয়ে থাকে।
প্রজননঃ কিং কোবরা বছরে একবার প্রজনন করে। মার্চ-মে মাসে। এরা পৃথিবীর একমাত্র সাপ যারা শুকনো পাতা দিয়ে বাসা বানায়। সে বাসায় এরা ১০-৪০ টা ডিম পাড়ে এবং ডিমে তা দেয়। ডিম ফুটে বাচ্চা বের না হওয়া পর্যন্ত এরা বাসায় খুব সতর্ক অবস্থানে থাকে। আপনি যখন সে বাসার ১০-১২ মিটার কাছ দিয়ে যাবেন তখনি এরা বিদ্যুৎ বেগে বাসা থেকে বেড়িয়ে এসে আপনাকে আক্রমণ করে মহাশূন্যে পাঠিয়ে দিবে। এ-ক্ষেত্রে কিং কোবরা-রা প্রচন্ড হিংস্র হয়।
কিং কোবরা হচ্ছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিষধর সাপ। তবুও এটি অনেক নিরীহ প্রকৃতির। কেবলমাত্র খাবার এবং আত্মরক্ষার জন্য এরা আক্রমণ করে থাকে।
সামাহ জোহায়ের মোবারক
১৬ বছর বয়সী আমাদের দ্বীনি হাফেজা বোন, নাম সামাহ জোহায়ের মোবারকের নিথর দেহ খানা পড়ে আছে রাস্তার এক পাশে। আল-কুদসের দিকে হেটে যাচ্ছিলো সে, রাস্তার চৌকিতে থাকা খিঞ্জির ইহুদী এক সৈনিক তার পথ আটকে দাঁড়ায়, আদেশ করে মুখের নিক্বাবটা সড়িয়ে ফেলতে। কিন্তু আমার বোন নিক্বাব সরাবে না।
বলে সরাসরি না করে দেয়, আর সাথে সাথেই ফায়ার করে দেয় ইহুদী সৈনিকটি।পিচঢালা পথে ঢলে পড়তে দেরী হয়নি আমার বোনের পর্দাবৃত নিথর দেহখানা। বিঃদ্রঃ গত সপ্তাহেই আল্লাহর ঘর জিয়ারত করে ফিলিস্তিনে ফিরে এসেছিলো বোন " সামাহ জোহায়ের মোবারক"। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতের পাখি হিসেবে কবুল করেন।
বোর্ডে চ্যালেঞ্জ
এইচএসসি পরীক্ষার মাসছয়েক আগে অজপাড়া গায়ের অখ্যাত কলেজের একজন শিক্ষক শহরের বিখ্যাত কলেজে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করে আসলেন, "আপনাদের অমুক ছাত্র নাকি এবার বোর্ডে ফার্স্ট হওয়ার টার্গেট নিয়েছে? তাকে বলে দিয়েন, যদি ফার্স্ট হওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে যেন এই বছর এইচএসসি পরীক্ষা না দেয়। কারণ, এই বছর আমার কলেজের গৌরাঙ্গ বোর্ডে ফার্স্ট হবে।"
অথচ এই গৌরাঙ্গ ঢাকার নামকরা এক কলেজ থেকে পরপর দুই বছর সাইন্স বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করেন। তৃতীয়বার গ্রামের এই কলেজে এসে কমার্স নিয়ে ভর্তি হন। এমন একজন ছাত্রকে নিয়ে বোর্ডে ফার্স্ট হওয়ার চ্যালেঞ্জ করা সত্যিই স্পর্ধার ব্যাপার। কেন সেই শিক্ষক এমন স্পর্ধা দেখালেন, সেই গল্পই আজ আমি বলব।
গৌরাঙ্গ দেবনাথের জন্ম একটি বিত্তবান পরিবারে। তার বাবার লুঙ্গির ব্যবসা ছিল, যেখানে ৩০ জন কর্মচারী কাজ করতেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, প্রাইমারির গণ্ডি পেরুনোর আগেই তার বাবা মারা যান। ইন্টারে পড়ুয়া তার বড় ভাই শত চেষ্টা করেও বাবার ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে পারলেন না, শুরু হলো তাদের দুঃখ দুর্দশার দিন।
বাড়ির অভাব-অনটন দিনকেদিন বাড়তে থাকায় হাইস্কুলে ওঠার পর তার মা তাকে কক্সবাজারে মামার বাসায় পাঠানোর চিন্তা করেন। কিন্তু অন্য শহরে পরে যাওয়ার মতো একটা প্যান্টও ছিল না তার। এক বন্ধুর কাছে ১০ টাকা দিয়ে পুরোনো একটা প্যান্ট কিনে রওনা করেন। ভাগ্য সেখানেও তার সহায় হলো না। ১৯৯১ সালের সেই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর ফিরে আসেন।
এরপর নিজ এলাকার এক হাইস্কুলে এসে ভর্তি হন। গণিতে তিনি এতটাই ভালো ছিলেন যে, গণিত স্যার তাকে দিয়ে বোর্ডে অংক করাতেন। এসসসিতে তার স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৯৮ নম্বর পেয়ে তিনি ৫ স্টার গ্রেডে উত্তীর্ণ হন। ইচ্ছা ছিল, ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়ার৷ কিন্তু সে বছর ঢাকা কলেজে আবেদন করার জন্য ন্যূনতম ৮০০ নম্বরের প্রয়োজন ছিল। মাত্র 'দু' নম্বরের ব্যবধান বলে তিনি কলেজে গিয়ে অনুনয়-বিনয়ও করেছিলেন, কিন্তু লাভ হয়নি কোনো। পরে পুরান ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ভর্তি হন।
সোহরাওয়ার্দী কলেজে ভর্তি হওয়ার পর তিনি বুঝতে পারলেন যে, এই কলেজ তার মতো গরীবদের জন্য নয়। এখানে ক্লাস হয় না কোনো। সবাই প্রাইভেট পড়েই কভার করে। গৌরাঙ্গ তার ভাইকে জানালেন যে, "আমাকে এখান থেকে টিসি নিয়ে গ্রামে পাঠাও, নতুবা আমাকে প্রাইভেট পড়াও।" তখন বড় ভাই তাকে বললেন যে, "তোর গ্রামে যাওয়া হবে না। এখানেই পড়বি। তোকে প্রাইভেট দিব, তবে একমাসের জন্য। এরমধ্যেই যা করার করে নিবি।"
ক্লাস না করে ও মাত্র একমাস প্রাইভেট পড়ে ইন্টার পরীক্ষা দিলেন তিনি। যা হওয়ার ছিল, তাই হলো। বিস্ময়কর বিষয় এই যে, গণিতে এত ভালো গৌরাঙ্গ গণিতেই ফেল করলেন। বাড়ি থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তাকে আর পড়ানো হবে না। বরং কাজ করে সংসারে সাহায্য করবে। কিন্তু তিনি পড়বেন। এভাবে ছয়মাস সিদ্ধান্ত নিতেই ব্যয় হলো। দ্বিতীয়বার এইচএসসি দেওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে লাগলেন তিনি। কিন্তু বিধিবাম, পরেরবারও তিনি ফেইল করলেন।
তখনকার সময়ে নিয়ম ছিল, পরপর তিনবার ফেইল না করলে কলেজ থেকে কাগজপত্র তোলা যেত না। গৌরাঙ্গ মনঃস্থির করলেন, যেভাবেই হোক কাগজপত্র তুলে গ্রামে গিয়ে ভর্তি হবেন। কলেজের একজন কর্মচারীর কাছে পরামর্শ চাইলে তিনি বলেন, "অফিসে গেলে অনেকেই টাকা পয়সা চাইবেন, কিন্তু কাজ হবে না। তারচেয়ে বরং আপনি বোর্ড থেকে অমুকের একটা স্বাক্ষর নিয়ে আসেন, আমি কাগজ তুলে দিব।"
অফিস খোলার আধাঘণ্টা আগে সেখানে পৌঁছলেন তিনি। হাতে একটা দরখাস্ত। অফিসার সব শুনে বললেন, "এভাবে কাগজপত্র তোলার নিয়ম নেই। আর একবার পরীক্ষা দাও, পাশ করলে তো করলাই, আর না করলে তবুও কাগজপত্র তুলতে পারবা।"
শ্রাবণের আকাশ সেদিন অঝোরে কাঁদতে লাগল। অফিসারের রুম থেকে বের হয়ে বাইরেই দাঁড়িয়ে রইলেন তিনি। সকাল ১১টার দিকে একজন কর্মকর্তা তাকে দেখে অফিসে ঢুকেছিলেন, বিকেলে বের হয়েও তাকে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন। সবকিছু শুনে তার মন গলল। তিনি অফিসারকে অনুরোধ করে স্বাক্ষর নিয়ে দিলেন।
গল্পের আসল টুইস্ট অপেক্ষা করছে এরপরই। গ্রামে এসে কলেজে ভর্তি হতে ছয়শত টাকা লাগবে, কিন্তু বাড়ি থেকে আর টাকা দিবেই না। এমন সময় এগিয়ে আসেন একই পাড়ার এক বিত্তবান বন্ধু। গৌরাঙ্গকে কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য পাঁচশত টাকা দেয় সে। এই টাকার ব্যাপারে গৌরাঙ্গ দাদা বলেছেন, "আমি আমার নিজ অবস্থান থেকে অনেকের জন্য অনেক কিছু করেছি। কিন্তু ঐ পাঁচশত টাকার ঋণ আজও শোধ করতে পারিনি। কখনোই পারব না।"
রাস্তা দিয়ে যখন তিনি হাঁটতেন, গ্রামের ছেলেমেয়েরা তাকে দেখে হাসাহাসি করত। সহপাঠীরা তাকে "আদু ভাই" বলে ডাকত। আজীবন প্রথম বেঞ্চে বসে অভ্যাস তার। কলেজেও প্রথম বেঞ্চে বসতে শুরু করেন, কিন্তু তাকে প্রথম বেঞ্চে দেখলে সহপাঠীরা ঐ বেঞ্চে আর কেউ বসত না। বাড়ি থেকে প্রায় ১৫দিন কলেজ করার পর একদিন রাতে খেতে বসেছেন, তার বড় ভাই মাকে বললেন যে, ওরে ভাত দিও না। ওরে ছাই খাইতে দাও।" তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, বাড়িতে আর থাকবেন না৷ এই কঠিন সময়েও তার এক কলেজ ফ্রেন্ড এবং এলাকার এক বড় ভাই তাকে অনুপ্রেরণা দেন। বুকে সাহস সঞ্চয় করিয়ে দিয়ে বলেন যে, তুই পারবি। শুধু লেগে থাক।
কলেজের এক স্যারকে অনুরোধ করে লজিংয়ের ব্যবস্থা করে নেন। সেসময় বাড়ির ছেলেমেয়েকে দুই বেলা পড়ানো ও কলেজে ক্লাস করা- এসব বাদ দিয়ে তিনি দিনে ১০ঘণ্টা করে পড়তেন। যতক্ষণ অব্দি ১০ঘণ্টা হয়নি, ঘুমোতে যেতেন না। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন যে, এই বাড়ির আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না। শুধু স্যারের কথা রাখতে গিয়েই তাকে লজিং রেখেছেন। তাই একসময় তিনি সেই বাসা থেকে চলে আসেন৷
এবার ওঠেন তার এক বান্ধবীর বাসায়। তাদের দোতালা বাড়ি ছিল। সেখানে একটা ঘরে থেকে পড়াশোনা করতে থাকেন। এদিকে গ্রামের মানুষ নানান কুৎসা রটাতে থাকে। ফলে সেই বাসাও ছেড়ে দিতে হয়। এবার তিনি অকূল পাথারে পড়ে যান। কলেজ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন হোস্টেলে একটা সিটের জন্য, কিন্তু হোস্টেলে কোনো সিট ফাঁকা নেই। পরে সহপাঠীদের এভাবে ম্যানেজ করে একটা সিটের বন্দোবস্ত হয় যে, আমি সারাটাদিন বাইরে থাকব, শুধু রাতে একটু থাকার জায়গা হলেই হবে।
থাকার চিন্তার ইতি ঘটল। এবার শুরু হলো খাওয়ার চিন্তা। হোস্টেলে প্রতিবেলা খেতে ১০টাকা করে লাগত। কিন্তু তার কাছে একটা কানাকড়িও ছিল না। এমনও সময় গেছে, দুইদিন-তিনদিন ধরে শুধু পানি খেয়ে ছিলেন। কলেজের অদূরেই এক জেঠাতো বোনের বাসা ছিল, দুই-তিনদিন পর তার বাসায় যেতেন। ভাই আসছে বলে বোন খেতে দিত, ওটুকু খেয়েই দিনযাপন করছিলেন।
এমন সময় এক শিক্ষকের কল্যাণে পাঁচ কিলোমিটার দূরে একটা টিউশনি পান। ছাত্রের বড় ভাই বিদেশে থাকে, মাসে ৫০০ করে টাকা দিবেন। গৌরাঙ্গ লুফে নেন এই সুযোগ। এবার তিনি হোস্টেলে একবেলা করে খেতে শুরু করেন, বাকি টাকা জমিয়ে রাখতেন, যদি কখনো টিউশনি চলে যায়, তখন যেন কিছুদিন চলতে পারেন। ছাত্রের বাসা যাওয়ার পথে একটা নদী পড়ত, সেই নদী পাড় হতে ২টাকা ভাড়ার প্রয়োজন ছিল। টিউশনিতে তিনি একটা গামছা নিয়ে যেতেন। যাওয়ার সময় নৌকা করেই নদী পাড় হতেন, কিন্তু ফেরার পথে সাঁতরে আসতেন। তার মুখেই শুনুন, "সাঁতরে এ কারণেই আসতাম যে, নৌকা না চড়লে ৩০দিনে আমার ৬০টাকা বাঁচবে। আর ৬০টাকা হলে আমি ৬বেলা খেতে পারব।"
হোস্টেলে যে সময়টা ছিলেন, একটা দিনও তিনি সকালের মিল খাননি। বন্ধুদের বলতেন, "ডাক্তার আমাকে সকালে খেতে বারণ করেছেন।" বন্ধুরা যখন খেত, তখন তিনি বাইরে বেরিয়ে যেতেন।
এত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও তিনি কলেজে ভালো রেজাল্ট করতে থাকেন। দুর্ভাগ্যবশতঃ অন্যান্য মেধাবী ছাত্রকে কলেজ থেকে বৃত্তি প্রদান করা হলেও তাকে দেওয়া হতো না, কারণ তিনি ফেইল করা ছাত্র। এক শিক্ষকের অনুরোধে কলেজ কর্তৃপক্ষ তার প্রতি সদয় হোন। ফলে তার আর খাওয়ার চিন্তাও রইল না।
টেস্ট পরীক্ষা শেষ হলো। এরই মাঝে তার এক স্যার বাইরের কলেজে গিয়ে প্রথম প্যারার সেই ঘোষণা দিয়ে আসলেন। তারপর তাকে ডেকে বললেন, "গৌরাঙ্গ, আমি এভাবে বলে আসছি। তুই আমার মান রাখিস।" স্যারের কথা তার মনে প্রভাব ফেলল। এখন তার থাকারও চিন্তা নেই, খাওয়ারও চিন্তা নেই, টিউশনিও নেই কোনো।। দিনে ২২ঘণ্টা(!) করে পড়তে শুরু করলেন। হ্যাঁ ভাই, ঠিকই পড়েছেন, ২২ ঘণ্টা! এক থেকে দেড় ঘণ্টা ঘুমোতেন, বাকি পুরোটা সময় পড়তেন। বোর্ডিং গিয়ে খাবার আনলে যেতে-আসতে দুই-তিন মিনিট সময় নষ্ট হবে জন্য, কাজের বুয়া তার ঘরে খাবার দিয়ে যেত!
বাড়ি থেকে মাত্র ৩-৪ কি.মি. দূরে থাকা সত্ত্বেও এই দুটো বছরে তিনি বাড়ি গিয়েছিলেন মাত্র দু'বার। একবার মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে, আরেকবার পরীক্ষার আগের দিন মায়ের সাথে দেখা করতে। এছাড়া মাঝেমাঝে পাশের বাজারে গিয়ে বাড়ির খোঁজখবর জেনে আসতেন। ইতোমধ্যে গতবছর তার ছোট ভাই এইচএসসিতে কুমিল্লা বোর্ডে সপ্তম হয়েছেন। গৌরাঙ্গের মাথায় সবসময় কাজ করত, অন্তঃত ছোট ভাইয়ের চেয়ে ভালো রেজাল্ট করতে হবে। এমতাবস্থায় পরীক্ষার আগের দিন তার মা যখন বললেন যে, "এমন রেজাল্ট করবি, যেন অমুকের মতো সাংবাদিকরা এসে ছবি তুলে নিয়ে যায়", তখন প্রথম হওয়ার সংকল্পটা আরও দৃঢ় হয়ে যায়।
তার ছোট ভাই নিজের বন্ধুবান্ধবদের কাছ হতে অনেক বই সংগ্রহ করে তাকে দিয়ে সাহায্য করেন। পরীক্ষার কিছুদিন আগের ঘটনা। স্যার তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন,
- অমুক বইয়ে ৫৫টা প্রশ্ন আছে, সবগুলো পড়েছিস তো?
- ৫৪টা পড়েছি, স্যার।
স্যার তখন রাগে তাকে দুটো থাপ্পড় মারলেন।
- স্যার, পরীক্ষায় ১০টা প্রশ্ন আসবে, উত্তর করতে হবে ৫টা। এটা সহ আসলেও তো আমার ৯টা প্রশ্ন কমন থাকবে।
স্যার তখন আরও একটা থাপ্পড় দিয়ে বললেন, "এটাও মুখস্থ করতে হবে।"
যথারীতি পরীক্ষা শুরু হলো। গৌরাঙ্গের সিট পড়ল শেষবেঞ্চে। তিনি এসে মেজিস্ট্রেটের কাছে কেঁদে কেঁদে বললেন, "স্যার, আমি সামনের বেঞ্চ ছাড়া পরীক্ষা দিতে পারি না।" মেজিস্ট্রেট সিট বদল করে দিলেন এবং প্রতিটি পরীক্ষায় এসে তার খোঁজ নিতেন। হলগার্ডকে বলে দিয়েছিলেন যে, গৌরাঙ্গকে যেন কেউ ডিস্টার্ব না করে! আপনি জেনে অবাক হবেন, যেদিন পরীক্ষার রেজাল্ট বের হয়, সেদিন মেজিস্ট্রেট নিজেই তাদের কলেজে এসেছিলেন শুধু গৌরাঙ্গের রেজাল্ট জানার জন্য।
তখনকার সময় নিয়ম ছিল, বোর্ডে যে ফার্স্ট হোবে রেজাল্টের দিনই বিটিভিতে তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হতো। রেজাল্টের কয়েকদিন আগেই গৌরাঙ্গ ঢাকায় তার স্যারের বাসায় চলে যান। রেজাল্টের আগের রাতে তিনি একটা ভালো শার্ট আয়রন করে এনে রাখেন, যাতে সেটা পরে সাক্ষাৎকার দিতে যেতে পারেন। চিন্তা করুন একবার, কী পরিমাণ আত্মবিশ্বাস!
রেজাল্টের দিন সকালবেলা তিনি বাইরে চলে যান। বাসায় এসে স্যারের স্ত্রীর মুখে জানতে পারেন, তিনি অষ্টম হয়েছেন। মন পুরোই খারাপ হয়ে যায় তার। একটুপর স্যার ফোন করে গৌরাঙ্গকে বলেন, "তুমি আমার মান রেখেছ, তুমি ফার্স্ট হয়েছ বোর্ডে।" নিজের কানকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। স্যারের স্ত্রী অবাক হয়ে স্যারকে বললেন, "তাহলে যে তুমি বললে যে, গৌরাঙ্গ অষ্টম হয়েছে?" স্যারের প্রত্যুত্তরটি আপনার শরীরে শিহরণ জাগাতে বাধ্য। তিনি বললেন,"আমি এটা চাইনি যে, গৌরাঙ্গ ফার্স্ট হয়েছে, এটা সে আমি ছাড়া অন্য কারও মুখ থেকে শুনুক!"
গল্পের খানিকটা এখনো বাকি আছে। এরপর মাত্র ২৫-২৬ দিনের প্রিপারেশন নিয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ভর্তি হোন। এটা ২০০০ সালের ঘটনা। ম্যানেজমেন্টের একটা ম্যাথের বই ১৯৭৪ সাল হতে পড়ানো হতো, যেটার কোনো সল্যুশন বের হয়নি। তিনি দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালীন সেই ম্যাথের বইটার সল্যুশন বের করেন। বইটিতে ইন্টিগ্রেশন, ডিফারেন্সিয়েশন ইত্যাদি জটিল জটিল বিষয় ছিল, যা সাধারণত কমার্সের ছাত্ররা পড়ে না। কিন্তু গৌরাঙ্গের মাথায় একটা জেদ কাজ করত যে, আমি গণিতে ফেল করেছি! গণিতকে আমি দেখে নিব!
যে গৌরাঙ্গ একসময় মাত্র ২টাকা বাঁচানোর জন্য সাতরে নদী পাড় হতো, সেই গৌরাঙ্গ এরপর শুধু প্রাইভেট পড়িয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করতে শুরু করেন। তিনি ১৫০ জন ছাত্রছাত্রীকে পড়াতেন, তন্মধ্যে ৫০ জনকে ফ্রি পড়াতেন। কারণ, জীবনে টাকার ক্রাইসিসটা তিনি খুব ভালো করে অনুধাবন করেছেন। ঢাবি থেকে অনার্স-মাস্টার্স কম্পলিট করে তিনি সম্পূর্ণ নিজের টাকায় লন্ডন থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসেন।
এরপর কর্মজীবনে যোগ দেন ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে কয়েকবছর শিক্ষকতা করে ভারতে গিয়ে পিএইচডি করে আসেন। বর্তমানে তিনি সেখানকার ডিপার্টমেন্টাল হেড হিসেবে কর্মরত আছেন।
এই সুদীর্ঘ লেখাটি যারা কষ্ট করে পড়লেন এতক্ষণ যাবত, তাদের প্রতি একটাই অনুরোধ থাকবে, জীবনে কখনো আশাহত হবেন না। সৃষ্টিকর্তা যা করেন, মঙ্গলের জন্যই করেন। আপনার কাজ শুধু সৎভাবে শ্রম দিয়ে যাওয়া। গৌরাঙ্গ দেবনাথ এটাই বলছিলেন যে, "আমি যদি প্রথমবারেই পাশ করতাম, তাহলে হয়তো আজকের এই অবস্থানে থাকতাম না।"
জীবনে চড়াই-উতরাই আসবেই। এসব পেরিয়ে যারা অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে, তারাই সফল হবে। ইতিহাসে তাদের নাম জ্বলজ্বল হরফে লেখা থাকবে। আর যদি আপনি হাল ছেড়ে দেন, তাহলে ব্যর্থতার চোরাবালিতে ডুবে যাবেন। জীবন আপনার, সিদ্ধান্তও আপনার। ভেবে দেখুন, ইতিহাস হবেন? নাকি হারিয়ে যাবেন অন্ধকারের অতল গহ্বরে!
ক্রু-১
ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে স্পেস এক্সের ঐতিহাসিক মিশন শেষ হতে যাচ্ছে চলতি বছরের ২ আগস্ট তারিখে।
আর মাত্র দুই সপ্তাহ পরে 'বব' এবং 'ডোগ' পৃথিবীতে অবতরণ করতে যাচ্ছে।
গত ১৭ জুলাই এজেন্সির প্রধান জিম জানান তারা ২রা আগস্টকেই বেছে নিয়েছেন 'বব' এবং 'ডোগ' কে আটলান্টিক মহাসাগরে অবতরন করানোর জন্য।
আরো জানান, সবকিছু যদি ঠিক থাকে 'বব' এবং 'ডোগ' ১লা আগস্ট আইএসএস ত্যাগ করবেন এবং একদিন পরে ভূ-পৃষ্ঠে পৌছাবেন। তবে ঠিক সময়মতো পৌছবেন কি না তা আবহাওয়া নিজেই ঠিক করে দিবে।
চলতি বছরের ৩০ মে ফ্যালকন-৯ রকেটে চরে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে পারি জমায় ডেমো-২। তাদের মিশনের সময়কাল এখনো অনিশ্চিত।
তবে নাসা জানিয়েছিলো, ডেমো-২ এর সময়কাল হতে পারে ১-৪ মাস। তবে এটি নির্ভর করে ক্রু ড্রাগন কেমন কাজ করছে।
২০১১ সালের জুলাইয়ের পর ডেমো-২ ই প্রথম মানববাহী ফ্লাইট, যেটি কি না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমি থেকে উড়াল দিয়েছে।
'ডেমো-২' এর সফল অবতরণের পর আগামী ৩০ আগস্ট স্পেস এক্স তত্ত্বাবধায়নে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে 'ক্রু-১' উড়াল দিবে মহাকাশে।
অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি হ্যালো
অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি হ্যালো
সান হ্যালো মুন হ্যালো দেখেছেন৷ ছবিটি আমাদের সবচেয়ে কাছের গ্যালাকটিক প্রতিবেশী অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সীর হ্যালো৷ নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা আমাদের নিকটতম বৃহৎ গ্যালাকটিক প্রতিবেশী অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সিকে ঘিরে একটি হ্যালো দেখতে পেরেছেন৷ বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে জানতে পেরেছে যে ছড়িয়ে পড়া প্লাজমার প্রায় অদৃশ্য এই হ্যালো তার নিজস্ব ছায়াপথ থেকে আমাদের মিল্কিওয়ের দিকে প্রায় 2 মিলিয়ন আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর অর্থ অ্যান্ড্রোমিডার হ্যালো ইতিমধ্যে আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সির হ্যালোর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে!!!
Theodora
Theodora (৪৯৭-৫৪৮খ্রিস্টাব্দ) এর জীবন শুরু হয় একটি শিশু পতিতা হিসাবে Constantinople মধ্যে একটি গণিকালয়ে। চোদ্দ বছর বয়স তিনি "অভিনয়" শুরু করে, যেখানে তাকে মঞ্চে যৌন ক্রিয়া এবং নগ্ন রঙ্গভঙ্গী করে দেখাতে হতো বিশ বছর বয়সে তার প্রেমিকা তাকে পরিত্যগ করে। এরপর সে পতিতাবৃত্তি ছেড়ে দেয় এবং জীবিকার জন্য উল বোনা শুরু করে এবং খ্রীষ্টধর্ম গ্রহন করে। এই সময় তিনি কনস্ট্যাণ্টিনোপলের উত্তরাধিকারী Justinian এর চোখে পড়েন। তারা খ্রিস্টাব্দ ৫২৫ সালে বিয়ে করেন। এর দুই বছর পরে Justinian সম্রাট হোন এবং Theodora রোমে সম্রাঙ্গী।
Theodora হয়ে ওঠে কনস্ট্যাণ্টিনোপলের ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মহিলা যিনি ধর্ষণ জন্য মৃত্যুদন্ড সাজা, নারীদের বিবাহবিচ্ছেদের এবং নিজস্ব সম্পত্তি পাওয়ার অধিকার, যৌন দাসত্ব বিলুপ্ত করেন এবং পতিতালয় ভেঙ্গে ফেলে পতিতাদের সৎভাবে বাসবাসের ব্যবস্থা করে। যদিও সে অনেক ভাল কাজ করেছিল কিন্তু ইতিহাসে তাকে আমরা একজন নির্মম ও হিংসুক নারী হিসাবেই চিনি। যারা তার বা তার স্বামীর বিরুদ্ধাচারন করতো তাদেরকে সে নির্যাতন ও বিষক্রিয়া হত্যা করতো। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ Procopius তাকে একজন রক্তপিপাসু দৈত্য হিসেবে বর্নণা করেছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে দামী আইসক্রিম যার নাম "ব্লাক ডায়ামন্ড"
বিশ্বের সবচেয়ে দামী আইসক্রিম যার নাম "ব্লাক ডায়ামন্ড"।যার দাম আমেরিকান ডলারে $৮১৭।বাংলাদেশী টাকায় যার মূল্য ৬৯,২৬৫ টাকা।ভাই এক কাপের দাম কিন্তু এটা😂😂।দুবাইয়ের স্কুপি কেইফে এইটা পাওয়া যায়।