Join 94,396 users already on read.cash

বয়স যখন ষোল |১|

2 10 exc
Avatar for Urbee_tasnim
Written by   162
1 year ago

পার্ট-১

লিফটে উঠে বাটন চাপার সময় আদনান বুঝতে পারলো এই বাটনগুলির মধ্যে কোথাও একটা গড়বড় আছে। গড়বড়টা ঠিক কী, সে বুঝতে পারছে না, কিন্তু কোথাও একটা ঝামেলা অবশ্যই আছে। সে ভ্রূ কুঁচকে সুইচবোর্ডটার দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো ঝামেলাটা ঠিক কোথায়। এই মুহূর্তে সেটা ধরা পড়ছে না। সে ভ্রূ কুঁচকেই রইলো। মনের ভেতরটা খচখচ করছে। লিফট ওপরের দিকে উঠছে, খচখচানিও বাড়ছে। গড়বড়টা বুঝে ফেলতে পারলে এই খচখচ করা কমে যেতো। আদনান জোর করে চোখ সরিয়ে এলইডি স্ক্রিনের দিকে তাকালো। ফ্লোর নাম্বার দেখাচ্ছে। জি এর পর ওয়ান, টু, থ্রি কিছুক্ষণ থ্রি-ই উঠে রইলো, এরপর উঠলো ফাইভ। আদনান সাথে সাথে চোখ নামিয়ে সুইচবোর্ডে তাকালো। মনে মনে বললো, "ইয়েস!" বাটনের গড়বড় ধরা গেছে। ফোর লেখা বাটনটা লিফটে নেই। মানুষের মস্তিষ্ক নিয়মে অভ্যস্ত। তাই অতো সহজ জিনিসটা দেখেও মস্তিষ্ক দেখাতে চায়নি তাকে। আদনানের মনের খচখচানি কমে গেছে। ফিফথ ফ্লোরে লিফট থামার পর সে গুণগুণ করে একটা গান গাইতে গাইতে সামনের কাঁচের দরজার দিকে হাঁটা দিলো।

নতুন অফিসে আজকে আদনানের প্রথম দিন। এই বিল্ডিং-এ সে আগে আসে নি। ইন্টারভিউ হয়েছে আরেক জায়গায়। সে ভেবেছিলো, যে অফিসে তার ইন্টারভিউ হয়েছে, সেখানেই তাকে কাজ করতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পেয়ে সে দেখলো, তাকে দুই নাম্বার ব্রাঞ্চে জয়েন করতে বলা হয়েছে। এই দুই নাম্বার ব্রাঞ্চটা হচ্ছে এই বিল্ডিং এর ছয়তলায়। আদনান রিসেপশনে গিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারটা দেখালো।রিসেপশনিস্ট তাকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের রুম দেখিয়ে দিলো। তার একটু একটু নার্ভাস লাগছে। এই নার্ভাস ভাবটা একটু পরেই কেটে গেলো। ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মানুষটা হাসিখুশি মাইডিয়ার টাইপ মানুষ। সুন্দর করে কাজকর্ম, অফিসের নিয়মকানুন বুঝিয়ে দিলেন। নিজেই সাথে করে নিয়ে গেলেন সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। নিজের ডেস্কে ফিরে এসে আদনান আরাম করে বসলো। তার নার্ভাসনেস পুরোপুরি কেটে গেছে। অফিস, অফিসের পরিবেশ এবং সহকর্মী- সবকিছুই তার অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে।

অফিস আওয়ার শেষ হয় পাঁচটায়। সবকিছু গুছিয়ে বের হতে হতে আদনানের সাড়ে পাঁচটা বেজে গেলো। আজকে তার তেমন কাজকর্ম ছিলো না। নিজের ডেস্কের সবকিছু নিজের মতো গুছিয়েছে, আর আগের পেন্ডিং প্রোজেক্টগুলি বুঝে নিয়েছে। আগামীকাল থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করে দিতে হবে। ছয়তলা থেকে নামার জন্য লিফটে উঠেই আবার চোখ আটকে গেলো সুইচবোর্ডে। ফোর লেখা বাটনটার জায়গাটাই ফাঁকা। একটু কাছে এগিয়ে গেলো আদনান। বাটনটা বোধহয় খুলে পড়ে গেছে। যে কোম্পানি লিফট বানিয়েছে, তাদের নাম, ফোন নাম্বার, ইমেইল একটা স্টিকারে প্রিন্ট করে কোণায় লাগানো আছে। এই নাম্বারে ফোন করে যদি তাকে বলা হয়, "এইযে ভাই, আপনি অমুক কোম্পানীর লিফটের অফিস থেকে বলছেন?" ফোন রিসিভ করা লোকটা বলবে, "জ্বী, বলুন।" আদনান বলবে, "কী লিফট বানান ভাই, দুইদিন যায় না, লিফটের বাটন খুলে পড়ে যায়? স্ক্রীনে লেখা ওঠে না!" তখন লোকটা কী উত্তর দেবে? আদনানের খুব হাসি পেলো। সে খুকখুক শব্দ করে হেসে ফেললো।

পার্ট-২

প্রতিদিন ছয়তলায় উঠার সময় আদনান লিফট এর বাটনগুলোর দিক তাকিয়ে থাকে.......

Story will be continued....

Thank you...

5
$ 0.00
Sponsors of Urbee_tasnim
empty
empty
empty
Avatar for Urbee_tasnim
Written by   162
1 year ago
Enjoyed this article?  Earn Bitcoin Cash by sharing it! Explain
...and you will also help the author collect more tips.

Comments

darun lekha বয়স যখন ষোল |১|..amar post doya kore dekhun...pase thakbo

$ 0.00
1 year ago