read.cash Log in

@Nipa1234

Joined 9 June 2020 · 320 posts

120 KT

0 KT received · 0 KT given

Posts

N@Nipa1234

পুরুষোত্তম ব্রত শ্রেষ্ঠ ব্রত || পুরুষোত্তম মাস চলাকালীন স্মার্ত মতে কোন সংস্কারাদি অথবা বিবাহের কোন অনুমোদন নেই । জাগতিক মানুষ ও স্মার্তরা এই মাসকে পছন্দ করে না , কিন্তু এই মাসটি বিশেষ করে পারমার্থিক কার্যাবলির মাধ্যমে অধিক পরমার্থ আয় করা যায় । দুটি বিষয় জানা দরকার : ( ১ ) কর্ম এবং ২ ) সুকৃতি । ১ ) কর্ম : কর্মের মধ্যে পাপ এবং পুণ্য থাকে । কেউ হয়ত প্রচুর সম্পত্তি দান করতে পারে এবং প্রচুর পুণ্য অর্জন করতে পারে , কিন্তু যেসস্ত পাপ ও অপরাধ তারা করেছে , এই প্রকার পুণ্য অর্জন তাদের প্রাপ্য অর্থ বা অপরাধ নষ্ট করতে পারে না । উপরন্তু তারা হয়ত আরো পাপ কর্মে লিপ্ত হয়ে তাদের পাপের অথবা অপরাধের বোঝা বাড়িয়ে তোলে । লোকজন প্রথমেই তাদের পুণ্যফল ভোগ করে নেয় এবং যখন তা শেষ হয়ে যায় , তারা তাদের কৃত পাপ অথবা অপরাধের ফলাফলের মুখামুখি হয় । ২ ) সুকৃতি : সুকৃতি হচ্ছে পারমার্থিক আয় এবং এর কোন ক্ষয় নেই । এটি কেবল যোগ হতে থাকে , কিন্তু অপরাধের দ্বারা ক্ষতিপ্রাপ্ত হয় । কেউ যদি বৈষ্ণব অথবা দিব্য ধামের প্রতি অপরাধ করে । পবিত্র মাস অথবা শুদ্ধ ভক্তের প্রতি অপরাধ করে , এ ধরনের অপরাধ কারো সুকৃতি বিনষ্ট করে । অন্যদিক , যদি কেউ অপরাধ করা থেকে বিরত থাকে , তবে সুকৃতি যুক্ত হতে থাকবে , তিনি চিন্ময় ধামে ফিরে যাবেন । মাটি , জল, আগুন , বায়ু ও আকাশ দ্বারা গঠিত এই জড় দেহটি আত্মা থেকে ভিন্ন । বস্তুতপক্ষে যে জড় উপাদানগুলি দিয়ে দেহটি গঠিত হয়েছে , তা থেকে আত্মা সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন । কিন্তু দেহের প্রতি আসক্তির ফলে মানুষ কাউকে তার পতি , কাউকে তার পুত্র , ইত্যাদি বলে মনে করে । এই সমস্ত মায়িক সম্পর্কের কারণ হচ্ছে অজ্ঞানতা বা অবিদ্যা । “হে ভক্তবৃন্দ , তোমরা ভগবানকে ভজনা কর । তিনি সকলের প্রভু , তিনি সকলের শত্রুদমনকারী এবং তিনি সকলের হৃদয়ে বিরাজমান । পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ বা বাসুদেবই সকলকে সর্বমঙ্গলময় আশীর্বাদ প্রদান করতে পারেন , কারণ তিনিই হচ্ছেন সমগ্র জগতের গুরু । সেই দীনবৎসল ভগবান তোমার অভিলাষ পূর্ণ করবেন । কারণ ভগবদ্ভক্তি অব্যর্থ । ভগবদ্ভক্তি ব্যতীত অন্য সমস্ত পন্থাই নিষ্ফল । সেটিই আমার অভিমত”। “ হে পরম সৌভাগ্যবতী , তুমি তোমার মনকে শুদ্ধ চেতনায় স্থির করে , এই পুরুষোত্তম ব্রত অনুষ্ঠানের দ্বারা অব্যয় স্বরূপ ভগবান কেশবের ভজনা কর । এই পুরুষোত্তম ব্রতকে সর্ব্যজ্ঞও বলা হয় । অর্থাৎ এই যজ্ঞ অনুষ্ঠানের ফলে আপনা থেকেই অন্য সমস্ত যজ্ঞের অনুষ্ঠান হয়ে যায় । এটি সমস্ত ধর্ম অনুষ্ঠানের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ । হে ভদ্রে , এটি সমস্ত তপস্যার সার , এটিই দান এবং এটিই ভগবানের প্রসন্নতা বিধানের উপায় । যার দ্বারা অবাধে ভগবান তুষ্ট হন , তা - ই শ্রেষ্ঠ নিয়ম , শ্রেষ্ঠ তপস্যা , শ্রেষ্ঠ দান , শ্রেষ্ঠ ব্রত ও শ্রেষ্ঠ যজ্ঞ । অতএব , হে কল্যাণী , তুমি এই নিয়ম সহকারে শ্রদ্ধাযুক্ত হয়ে ব্রত আচরণ কর । তার ফলে ভগবান শীঘ্রই তোমার প্রতি প্রসন্ন হয়ে তোমার মনকামনা পূর্ণ করবেন । ” (সবাই like, share ও comment করুন) ।।জয় সনাতন ধর্ম।।জয় শ্রীকৃষ্ণ।। 🙏🏿sodkirti das🙏🏿 ————————————— ''হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে''।। ॐ━❀꧁꧂হরে কৃষ্ণ꧁꧂❀━ ॐ

N@Nipa1234

সিস্ট অনেকের কাছেই সিস্ট সম্পর্কে অনেককিছু শুনতাম। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুনতাম সিস্টেরধরন অনেকরকম। তবে কিছু কিছু সিস্টের ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্ব হতে পারে। কিন্তু কখনো কল্পনা করি নি এই সিস্টের জন্য আমার জীবন ও কাল হয়ে দাঁড়াবে। আমার জীবনে এইচএসসি পর্যন্ত অনেক সুখ ছিল। হাসিখুশি একটা মেয়ে ছিলাম। আমার চার বোনের মধ্যে আমি ছিলাম অনেক আদরের। মেঝো মেয়ে হলেও আব্বু-আম্মু কেন জানি আমাকেই বেশি আদর করতো। অধিকাংশ গ্রামের মেয়েদের এইচএসসির পরেই বিয়ে হয়ে যায় বা মা-বাবা দিয়ে দেয়। ঠিক আমার বেলায় ও তাই হলো। বড় আপুর তো এসএসসির পরেই বিয়ে হয়ে গেসিলো। আমার স্বামী বিদেশে ছিল। লেখাপড়া আমার চেয়েও কম ছিল। কিন্তু টাকাপয়সা বেশি হওয়ায় বাবা-মা আমার স্বামীকেই আমার জন্য সঠিক মনে করেছিলো। প্রেম করতাম না বলেই মা-বাবার সিদ্ধান্তকেই মেনে নিয়ে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু কে জানতো আমার ভাগ্যে এগুলো হবে। বলে রাখি, আমার পেটে প্রায়ই ব্যথা হতো। পিরিয়ড এর সময় আরও বেশি ব্যথা হতো। আম্মু গাইনি ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে উনি বলেছিলো এটা পিরিয়ডের ব্যথা। সেটাকে স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছিলাম আমি। কিন্তু বিয়ের পর আমি শ্বশুর বাড়িতেই ছিলাম বলে আমার প্রায়ই যে পেট ব্যথা হতো, সেটা শ্বাশুড়ি লক্ষ্য করলো এবং গাইনি ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। প্রথম প্রথম গাইনি ডাক্তার আগের মতোই বলতো এটা পিরিয়ডের ব্যথা। তাই শ্বাশুড়ি আর বেশি কিছু বলে নি। কিন্তু দুই মাস পরে আমার এক খালাশ্বাশুড়ি আমার এই পেট ব্যথার কথা শুনে উনার বাসার কাছে এক গাইনি ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। তখন আমাকে বলা হলো এমআরআই করাতে। সেটা করানোর পর গাইনি ডাক্তার বলেছিল- ~ মিস ফাল্গুনী আপনার সিস্ট হয়েছে। আপনার সিস্ট টা পলিসিস্টিক (পিসিওএস) সিস্ট। যেটা সাধারণত ওভারিতে যে ছোট ফলিকল থাকে সেগুলো পূর্ণাঙ্গ না হলে হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে যদি আপনি অবিবাহিত হন তাহলে সমস্যা হতে পারে। কারণ এই সিস্টের জন্য ছোট বয়সের এবং বিবাহিতদের মেয়েদের ও অনিয়মিত পিরিয়ড হতে পারে, এমন কি বন্ধ্যত্বও হতে পারে। শুধু এতটুকু কথা আমার শ্বশুড় বাড়ি কেড়ে নিল। এই কথার মানে বুঝলেন নাতো? দাঁড়ান বুঝাচ্ছি। আমার খালাশ্বাশুড়ি সবাইকে বলেছিল আমি বন্ধ্যা। আমার কখনো বাচ্চা হবে না। এই কথা ধরে নিয়ে আমার স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির সবাই ডিভোর্স করাতে উঠে পরে লেগেছিল। অবশেষে আমার বিয়ের চার মাস পরেই ডিভোর্সি ট্যাগে যুক্ত হলো আমার নাম। গ্রামে মা-বাবাকে সবাই কেন জানি অনেক কথা শুনাতো। মা-বাবা অজান্তেই আমাকে আর আদর করতো না। আমার পরে উনাদের আরও দুই মেয়ে ছিল, তাদের বিয়ে কীভাবে দিবে এটা নিয়েই কথা শুনাতো। এক বছর এভাবে যাওয়ার পর আমার খাওয়া পড়া নিয়েও কথা শুনাতে লাগলো। সবার কাছে শুনতাম মেয়েদের নিজস্ব কোনো বাড়ি থাকে না। সে সময়ে সত্যিই তা প্রমাণ হয়েছিলো। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম না নিজে কিছু করি। এভাবে আর কতদিন। কতো যে কান্না করতাম জায়নামাযে বসে তার হিসেব ছিলো না। এরকিছু দিন পরেই একটা জব পেয়েছিলাম। সেটা করছি এখনো এবং সিস্ট এর জন্য ভালো ডাক্তার দেখিয়েছি। কিছু মেডিসিন দিসে তা নিয়মিত খেতে হবে তাহলে এটার কিছুটা সারতে পারে। আমার সিস্ট বেশি বড় হয়নাই নাকি। এখন আর মা-বাবার থেকে খাওয়া পড়া নিয়ে কথা শুনি না। কিন্তু ডিভোর্সি ট্যাগ টা যাকিছুই করি না কেন থেকেই যাবে। আপনাদের জন্য কিছু কথা বলে রাখি, শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত লোকের মধ্যে অনেক তফাৎ আছে। টাকাপয়সা থাকলেই আপনার মেয়েকে একজন সুখী রাখতে পারবে এবং টাকাপয়সা না থাকলে সুখী রাখতে পারবে না, এই দুটোর মধ্যে একটার গ্যারান্টিও কেউ দিতে পারবে না। কিন্তু শিক্ষিত লোকের কাছে আপনার মেয়েকে বিয়ে দিলে আর যাই হোক সে সমস্যাগুলো যুক্তি দিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করবে। শেষ কথা সিস্ট এখন প্রায় কমন শব্দ এবং আল্লাহ প্রদত্ত। সিস্ট ধরা পড়লে অবহেলা না করে ট্রিটমেন্ট করুন এবং যত দ্রুত ট্রিটমেন্ট করতে পারবেন ততো দ্রুত এটি ভালো হবে। দ্বিতীয় কথা চেষ্টা করুন শিক্ষিত ছেলের সাথে আপনার মেয়েকে বিয়ে দিতে, হোক না সে একটু কম বিত্তশালী। তবুও আপনার মেয়েকে সুখী রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে আমি মনে করি।

N@Nipa1234

অপয়া অপয়া পর্ব- ৩ শ্বশুড়বাড়িতে পা দিয়ে কুসুমের জীবনে শুরু হলো অন্য একটি কষ্টের অধ্যায়।নতুন বউ ঘরে পা রাখতে না রাখতেই তাকে নিয়ে শুরু হলো কানাকানি।রাফসানের নানী হাসতে হাসতে বলে বসলো,"নতুন বউ এর বয়সের তো দেখি গাছ পাথর নেই।তা শুনলাম এক ঘর ঘুরে আইছো।তোমার তো আমার থেইকাও অভিজ্ঞতা বেশি।" কথাটা বলার সাথে চারিদিকে হাসির রোল পড়ে গেলো।অথচ কুসুম মাত্র ৪ বছরের বড় চাপার।কুসুমের ইচ্ছে করছে মাটির নীচে ঢুকে যেতে।এতোটা অপমান ও বুঝি তার পাওয়া ছিলো! এদিকে রাফসানের মা সোয়েদা বেগম কাঁদতে কাঁদতে অস্থির।নিজের ঘরে শুয়ে আছেন তিনি।স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ওই মেয়ের মুখ তিনি দেখবেন না।তার অমন সোনার টুকরো ছেলের পাশে কোনো দোজবর মেয়ে তিনি মানবেন না।ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে চলেছেন তিনি আর পাশে বসে বাতাস করছে আর সান্তনা দিচ্ছে ওনার বোন আমেনা বেগম। -আপা চুপ কর তো।আর কতো কাঁদবি। এভাবে কেঁদে কোনো লাভ আছে?বিয়ে তো আর আটকাতে পারিস নাই। -ওই মিনসে(রাফসানের বাবা) আমার এতো বড় সব্বনাশ করবে আমি কি জানতাম?ওই মেয়েরে কিছুতেই ঘর করতে দেবো না আমি বেঁচে থাকতে। -এইভাবে কান্নাকাটি করে আটকাবি কি করে শুনি?তার থেকে শান্ত হয়ে বুদ্ধি খাঁটিয়ে এমন কিছু করতে হবে যাতে ওই মেয়েই পালিয়ে যায়।বুঝলি কিছু? -কি করা যায় বলতো তাইলে। -ধীরে সুস্থে যা করার করবি।কিন্তু মানুষের কাছে খারাপ হবি কেন?মুখে মুখে ভালো ব্যবহার করে দোষমুক্ত থাকবি।বোঝা গেলো? -আচ্ছা।তাহলে তুই থেকে যা।তোর জামাইরে বল একলা চলে যাইতে।এসব আমার একলার বুদ্ধিতে কুলাবে না। -আচ্ছা এইবার তুই চোখটা মুছে খেয়ে নে তো।আমি দেখছি। এদিকে কুসুম একা ঘরে বসে আছে।তার পাশে কেউ নেই।তার জায়গায় চাপা থাকলে হয়তো এখানে অনেকেই থাকতো। "চাপা কোথায় চলে গেলি রে বোইন।"দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে কুসুম। খুব জোর টয়লেট পেয়েছে তার।কিন্তু এই বাড়ির কিছুই চেনে না সে।আর নতুন বউ হেঁটেচলে বেড়ানোটাও ঠিক না।কুসুম ঘরটা দেখতে থাকে।যে ঘরে সে বসে আছে এটা খুব সম্ভবত রাফসানের ঘর।কারণ ঘরভর্তি রাফসানের নানারকমের ছবি।ঘরটাও খুব বিলাসবহুল আর সুন্দর করে সাজানো।বড় খাট,দামী আসবাবপত্র সব জায়গায় যেন আভিজাত্য ছড়ানো। এর আগে এতো বড় বাড়ি বা এতো বিলাসবহুলতা দেখেনি কুসুম।সায়নের বাবা ও বেশ বড়লোক ছিলো।তবে গ্রাম্য বড়লোক।পাকা বাড়ি ছিলো তবে উপরে টিনের চালা। আবার সায়ন! উফফ সায়নের কথা ভাবতেই কুসুমের চোখ ছলছল করে উঠলো।এমনসময় দুজন মহিলা ঘরে ঢুকলো।একজন মধ্যবয়সী অন্যজন নিতান্তই কম বয়সী। উঁহু একেবারেই মহিলা বলা যায় না।কুসুম শাড়ি ঠিক করে নিয়ে বসলো। মহিলা বলে উঠলো, -কিগো নতুন বউ,বসে ঝিম মারছো যে।ঘুম পাচ্ছে বুঝি?তা তো পাবেই যা ধকল গেলো। হা করে তাকিয়ে আছে কুসুম।এদের কাউকেই চেনে না সে।ভদ্রমহিলাও সম্ভবত সেটা বুঝলেন। তাই নিজেই বললেন, -ওহ আমাদের তো চেনো না।।আমি তোমার চাচী শ্বাশুড়ি।আর এই হলো তোমার ননদ রায়া। -তুমি চেঞ্জ করবে না ভাবী?সেই কখন থেকে এভাবে বসে আছো। রায়া বলে উঠলো। -একটু বাথরুমে যাব। -ওমা!আগে বলবা তো।তোমার ঘরের সাথেই তো বাথরুম আছে।আসো তোমাকে দেখিয়ে দেই। বাথরুম থেকে ফ্রেস হয়ে আসতেই কুসুমের চাচীশ্বাশুড়ী বললেন, -একা একা শাড়ি পড়তে পারবা না সাহায্য লাগবে? -না আমি পারি। -তা তো পারবাই।তোমার তো আবার বিয়ের অভিজ্ঞতা আছে।তা বাপু তোমার শ্বাশুড়ি যা শুরু করছে এইখানে কয়দিন ভাত খাইতে পারবা কে জানে! -আহ কাকী।কি যা তা বলো। ঝাঝিয়ে ওঠে রায়া। -হ রে বাপু।তোমার মায়ের নামে বললে তোমার খারাপ লাগবেই।থাক পরের সংসারের ব্যপারে আমি আর কিছু বলছি না।তা নতুন বউ পেটে দানাপানি পড়েছে?কথায় আছে পেটে খেলে পিঠে সয়। -না খাওয়া হয় নি। -শেষ কখন খেয়েছো? -কাল রাতে। -বলো কি?এতোক্ষন না খেয়ে!আমি হলে তো বেহুঁশ হয়ে যাইতাম।অবশ্য তুমি গ্রামের মেয়ে তারপর আবার চাষী বাড়ির।অভ্যাস আছে।কি বলো? কুসুম কোনো কথা বলছে না।চুপ করে আছে। রায়া বলে উঠলো, -দাড়াও ভাবী আমি তোমার খাবার আনছি। রায়া যেতেই দরজাটা হাল্কা বন্ধ করে মহিলা আবার শুরু করলেন, -ভালো করে বুঝে শুনে থেকো বাপু।তোমার শ্বাশুড়ি মোটেও ভালোমানুষ না।কি দিয়ে কি প্যাচ যে লাগাবে শেষে দেখা গেলো তোমার এই সংসার ও আর হইলো না। কুসুম চুপ করে আছে।উনি আবার বলতে শুরু করলেন, -নিজের স্বামী কে আঁচলে বেধে রাখবা।স্বামী ঠিক তো জগৎ ঠিক। হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে চুপ করে গেলেন তিনি।রায়া খাবার নিয়ে চলে এসেছে।কুসুমকে খাইয়ে দিচ্ছে ওর চাচীশ্বাশুড়ি।ভদ্রমহিলা একটু কথা বেশি বললেও বেশ দয়ালু।কুসুমকে খুব যত্ন করে খাওয়াচ্ছেন।খাওয়া দাওয়া শেষে কুসুমকে হালকা সাজিয়ে দিলো রায়া আর সাথে কিছু হলকা গয়না পড়িয়ে দিলো।তারপর দুজনই ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছিল হঠাৎ রায়া ফিরে আসলো তারপর কুসুমের কানে কানে বললো, -ভাবী একটু ওয়েট করো।ভাইয়া কে পাঠিয়ে দিচ্ছি।তারপর কেউ ডিস্টার্ব করবে না।বেস্ট অফ লাক। এরপর দৌড়ে পালিয়ে গেলো সে। রাত ১২ টা।কুসুম একা ঘরে বসে আছে।সেই যে রায়া গিয়েছে আর আসেনি।এরপর আর কেউ উঁকি দেয় নি এ ঘরে।কুসুমের খুব ঘুম পাচ্ছে।কিন্তু নতুন বউ এভাবে ভোস ভোস করে ঘুমানোও ঠিক না।অসহ্য লাগছে কুসুমের।কে জানে কোথায় ফেসে গিয়েছে সে। হঠাৎ কারো মেকি কাশির আওয়াজে ঘোর কাটলো কুসুমের।এই কাশির অর্থ দরজার বাইরের মানুষটা ভেতরে ঢুকতে চাচ্ছে। কুসুম নিজের কাপড় ঠিক করে নিলো।দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো রাফসান।রাফসানকে দেখেই কুসুমের কলিজা শুকায় গেলো। না জানি কি বলে।টেনশনে কুসুম নিজেই দাঁড়িয়ে বলতে লাগলো, -বিশ্বাস করেন আমি এই বিয়েটা করতে চাইনি।আমি জানি আপনার পক্ষে চাপার জায়গায় আমাকে মেনে নেওয়া অসম্ভব।আমি আশা ও করছি না তেমন কিছু।আমি কাজের মেয়ের মতো পড়ে থাকবো কিন্তু দয়া করে আপনি তাড়িয়ে দেবেন না আমাকে। কথা বলতে বলতে কুসুমের ঘোমটা টা সরে গিয়েছে।এই প্রথম কুসুমকে দেখছে রাফসান।দেখছে বলতে হা করে তাকিয়ে আছে।মেয়েটা অসম্ভব সুন্দরী। শুধু সুন্দরী বলতে ভুল হবে একেবারে মায়াবতী উঁহু মায়াময়ী। চাঁদের মতো মুখে ঠোঁটের কাছের তিলটা যেন আরও বহুগুন বাড়িয়ে তুলেছে তার রুপ।চাপার থেকে ঢের বেশি সুন্দরী কুসুম।এমনকি গায়ের রঙটাও বেশি সুন্দর। রাফসানকে চুপ থাকতে দেখে কুসুম আরও ভয় পেয়ে গেলো।তারপর কাঁদো কাঁদো মুখে বললো, -কথা বলছেন না কেনো?আপনি কি আমাকে বের করে দেবেন? -আপনি এতো ভয় পাচ্ছেন কেনো বলুন তো?আমাকে দেখে কি খুব রাগী মনে হচ্ছে?আর না মেনে নেওয়ার কি আছে?আপনি আমার বিয়ে করা বউ।কলেমা পড়ে বিয়ে করেছি নিজের সম্মতিতে।আর এটা কি নাটক সিনেমা নাকি যে মেনে নেবো না? -আপনি কি আমার অতীত জানেন?আপনি কি জানেন আমি বিধবা? -আচ্ছা এই বিধবা শব্দটা কি আপনি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন?কি ভাবছেন?আমি ঝাঁপিয়ে পড়বো আপনার উপর?তাই জন্য বুঝি বিধবা পরিচয় দিয়ে এড়াতে চাচ্ছেন আমাকে।নাকি অন্যকিছু? রাফসানের কথা শুনে রিতিমত অবাক কুসুম।আমতা আমতা করে সে বললো, -না মানে........ -না মানে আসলে কিছুই না।আপনি হেজিটেট ফিল করবেন না।বিধবা বিয়ে করা আমার নবীর সুন্নাহ।আর তাছাড়া আমি বিশ্বাস করি আপনার দ্বারা আমার কল্যাণ আছে বলেই আল্লাহ আপনাকে আমার জন্য তৈরী করেছেন।আর আমার আল্লাহ আমাকে যা নিয়ামত দিয়েছে আমি খুশি মনে গ্রহণ করেছি।আল্লাহ না চাইলে এই বিয়েটা হতোনা।তাই আমি না মানার কেউ নই।বোঝা গেলো? রাফসানের কথায় মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে কুসুম।আল্লাহ বুঝি সত্যিই তার কষ্টের দিন ঘুচালো।একটা মানুষ এতো ভালো হয়! রাফসান আবার বললো, -এই যে ম্যাডাম।হা করে দাঁড়িয়ে না থেকে ওযু করে আসেন।নামায পড়তে হবে। কুসুম কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু হঠাৎ দরজায় দুমদুম আওয়াজে দুজনেই সেদিকে মন দেয়। বাইরে থেকে রাফসানের খালা চিল্লাচ্ছে। -রাফসান দরজা খোল বাবা। তাড়াতাড়ি এসে দেখে যা কি সব্বনাশ হলো রে বাপ! রাফসানের পিছু পিছু কুসুমও গেলো রাফসানের মায়ের ঘরে।ভদ্রমহিলা বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন।রাফসান গিয়ে মায়ের পাশে বসে তার গায়ে হাত রেখে বললো, -কি হয়েছে মা তোমার? -দেখ না বাবা হাটুর ব্যথা টা বেড়েছে।কিছুতেই উঠতে পারছি না বিছানা থেকে।কিন্তু তোরা আবার উঠে আসতে গেলি কেনো? -খালাই তো ডেকে নিয়ে এসেছে। বলেই রাফসান আমেনা বেগমের দিকে তাকালেন।আমেনা বেগম আমতা আমতা করতে লাগলেন, -না মানে আসলে আমি ভাবলাম বাবুকে একবার ডাকি। -কাজটা তুই মোটেও ঠিক করিস নি। নিজের বোনের ওপর কপট রাগ দেখায় সোয়েদা বেগম। -খালা তো ঠিকই করেছে মা। পাশ থেকে বলে উঠলো কুসুম। রাফসান অবশ্য সেদিকে কান দিলো না।তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে ভীষণ বিরক্ত।ছোটবেলা থেকেই নিজের খালার বাড়িয়ে বলা স্বভাবটা সে জানে।আমেনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বেশ কর্কশ গলায় সে বললো, -খালা তুমি বরং ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ো।মায়ের কাছে আমরা আছি। আমেনা বেগম চলে যেতেই কুসুমকে পাশে বসতে ইশারা করে রাফসান মায়ের পা টিপতে লাগলো।কুসুম অবশ্য অনেকবার চেয়েছিলো নিজে শ্বাশুড়ির পা টিপতে কিন্তু রাফসান তা করতে দেয় নি। রাত্রি ৩টার দিকে সোয়েদা বেগম ঘুমের অতলে চলে গেলেন।রাফসান আর কুসুম তখনও বসে আছে তার পাশে।কুসুম অবশ্য হাতের ওপর ভর দিয়ে বসে বসেই ঘুমাচ্ছে।সারাদিন যা ধকল গেলো তাতে ওর একটু বিশ্রামের দরকার ছিলো।মেয়েটার ঘুমন্ত মুখ দেখে খুব মায়া হচ্ছে রাফসানের।হঠাৎ রাফসান খেয়াল করলো কুসুম একেবারে খাটের ধারে বসে আছে।যখন তখন পড়ে যেতে পারে ঘুমের ঘোরে। কুসুমের গায়ে আলতো করে হাত রেখে রাফসান ডাকলো, -কুসুম। রাফসানের ডাকে আকস্মিকভাবে ঘুম ভেঙে যাওয়ায় নিজেকে সামলাতে পারে না কুসুম।পেছনের দিকে পড়ে যেতে নিলে রাফসান ধরে ফেলে তাকে।তারপর জড়িয়ে নেয় নিজের সাথে।কুসুমের মাথাটা চেপে ধরে নিজের বুকে। কুসুম ও হুট করে এমনকিছু হবে আশা করে নি।লজ্জা পেয়ে যায় সে।তারপর নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে লজ্জিত ভঙ্গিতে বলে, -সরি।আমি আসলে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। -কোনো ব্যপার না।আসলে আমারই ভুল হয়েছে।আপনার ঘুমের প্রয়োজন ছিলো।এখন তো মা ঘুমিয়ে পড়েছেন।চলুন ঘুমানো যাক। -উঁহু এখন আর ঘুমিয়ে কাজ নেই।ঘণ্টাখানিক পর ফজরের আযান দেবে।এখন ঘুমালে ফজরের নাযায কাযা হয়ে যাবে। -তা ঠিক বলেছেন।কেউ তো উঠেনি।তাইলে চলেন ছাদে যাই।এইফাঁকে আপনাকে ছাদটাও দেখানো হয়ে যাবে।জানেন তো ছাদে সবজি বাগান করেছি আমি। -ঠিক আছে চলুন। -দাঁড়ান আগে দুকাপ কফি বানিয়ে আনি।খাবেন তো কফি? -আমি তো কফি খাইনা।কখনো খাইনি আসলে সেভাবে। -তাহলে চা।চলবে? -হুম চলবে।আমাকে রান্নাঘর টা দেখিয়ে দিন আমি বানিয়ে নিয়ে আসছি। -আরে না।বউ হয়ে যখন এসেছেন হেঁশেলের দ্বায়িত্ব তো নিতেই হবে।আজকে বরং রাফসানস স্পেশাল টি খান। -আপনি চা বানাতে পারেন নাকি? -সব পারি ম্যাডাম।আমাকে তুচ্ছ ভাববেন না। একসাথে হেসে উঠলো দুজন। রাফসান খুব পাকা হাতে চা বানাচ্ছে।পাশে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে দেখছে কুসুম।এই ছেলেটা সত্যিই অন্যরকম। সবার থেকে আলাদা। চা খেতে খেতে অন্ধকার রাত্রির শেষে ভোরের আলো ফোঁটা দেখছে রাফসান আর কুসুম।কুসুমের মনে হচ্ছে ঠিক এভাবেই পাশে দাঁড়ানো মানুষটার ছোঁয়ায় তার জীবনের আধার কালো রাত কেটে যাবে। ফজরের আযান দিয়েছে অনেক্ষণ।চাপা এখনো ঘুম থেকে উঠেনি।অনিক অনেক্ষণ ধরে ডেকে চলেছে নামাযের জন্য।কিন্তু মেয়ের কোনো হুশ নেই। -চাপা উঠো না।আযান দিয়ে দিয়েছে।নামায পড়ে না হয় ঘুমিও। -উফ অনিক ঘুমাতে দাও প্লিজ।সারাটা রাত ঘুমাতে দাও নি।সারা রাত জ্বালিয়ে পুড়িয়ে এখন ডাকছো কেনো।যাও না প্লিজ। -কই জ্বালিয়েছি।শান্তিতে একটু আদরও করতে দাও নি।এখন আবার জ্বালানোর বদনাম।রেগে যাচ্ছি কিন্তু। -ওলে আমাল বাবুতা।রাগ করে না।প্লিজ ঘুমাতে দাও। -নামায পড়ে ঘুমাও।কিন্তু এভাবে শুয়ে থাকা যাবে না। -আমি যদি নামায পড়ি সকালের নাস্তা তোমাকে বানাতে হবে। -ঠিক আছে রাজি।ভার্সিটিতে যাওয়ার আগে আমি নাস্তা বানিয়ে দেবো। -ঠিক আছে উঠছি। -এইতো আমার মিষ্টি বউ টা। চাপার কপালে আলতো করে চুমু একে বাথরুমের দিকে পা বাড়ায় অনিক।কি মনে করে আবার ফিরে আসে। জগ থেকে পানি নিয়ে ছিটিয়ে দেয় চাপার চোখে মুখে।তারপর এক দৌড়ে গিয়ে বাথরুমে ঢোকে।চাপাও কম যায় না।বাইরে থেকে ছিটকিনি দিয়ে দেয় বাথরুমের।তারপর জোরে জোরে হাসতে হাসতে বলে, -নে ব্যাটা এবার সামলা। এদিকে নামায শেষে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছে রাফসান।কুসুমের অবশ্য ঘুম পেলেও ঘুমোনোর সাহস হচ্ছে না।নতুন বউ ঘুমিয়ে পড়লে আবার কে কি বলবে কে জানে!বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো কুসুম।হঠাৎ পেছন থেকে কেউ শক্তভাবে জড়িয়ে ধরলো কুসুমকে।ঘটনার আকস্মিকতায় চমকে উঠলো কুসুম। (চলবে)

N@Nipa1234

ঈদী(আমি কান পেতে রই, দ্বিতীয় পর্ব) সব গল্পের দুটো দিক থাকে।গতকাল আমি' কান পেতে রই' গল্পটি পড়ে যারা মিতুর প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখাচ্ছিলেন, তারা আজকে ছেলেটির দিকটা জানতে পারবেন। বরাবরের মতোই রিপোস্ট হাইলাইট করে দিয়েছি, সুতরাং অতীতে পড়ে থাকলে এড়িয়ে যাবেন।আর যারা মনে করেন আমি খালি দুঃখের গল্প লিখতে পারি, তারা গল্পটি পড়ে আমার সম্বন্ধে মতামত বদলাবেন বলে আমার ধারণা। কালকে শেষ পর্ব পাবেন। প্রথম পর্ব না পড়ে থাকলে উপরের সার্চ ইঞ্জিনে' আমি কান পেতে রই' লিখে সার্চ দিবেন। আপনাদের মতামত জানাতে ভুলবেন না কিন্তু! রিপোস্ট ছোট গল্প শাহাদুল চৌধুরী ১ ইংরেজীতে একটা কথা আছে "মর্নিং শোজ দ্য ডে।"সারা দিন কেমন যাবে তা কিন্তু সকালবেলায়ই কিছুটা আন্দাজ করা যায়। প্রায় চার বছর পর দেশে ফিরছে রাজিব। সবকিছু ঠিক ঠাক মতোই চলছিলো। হঠাৎ মধ্যপ্রাচ্যের এই শহরটিতে এসেই বিপত্তি ঘটলো। প্লেন ডিলে করল। এমনিতে রাজিব বেশ ধৈর্যশীল। কিন্তু কোন এক বিচিত্র কারণে, প্লেন এশিয়ায় ঢুকবার পর পর তার মনের মধ্যে ভীষন এক আলোড়ন শুরু হয় দেশের মাটির জন্য। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা গেলেই দেশ। দেশমা তার নিজস্ব ভাষায় সন্তানদের ডাকে। যারা কখনো বিদেশে যান নাই, তারা ভাবতেই পারবেন না কি তীব্র সেই ডাক। ২ সে যখন মাস্কোট এয়ার পোর্টের ওয়েটিং লাউঞ্জে বসে ম্যাগাজিনের পাতা উল্টাচ্ছিল, তখনই সে দুঃসংবাদ টা শুনতে পেল । গালফ এয়ারের ঢাকাগামী ফ্লাইটটি উড্ডয়নে দেরী হবে। যে সময় এর কথা বলছি তখন গাল্ফ এয়ার বলে একটি এয়ারলাইন ছিল। সময়টা ২০০০ সন, জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ। নতুন শতাব্দী এবং সহস্রাব্দের শুরু হয়েছে মাত্র। রমজান মাসের শেষ দিন তখন মাত্র শুরু হচ্ছে বাংলাদেশে। সেদিনটা পেরোলেই শতাব্দীর প্রথম ঈদ। ৩ যদিও তার দেহটি পড়েছিল একটি বিদেশি এয়ারপোর্টে, তবে মনে মনে সে তখন পৌঁছে গেছে তার প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশে। মনোজগতের এই অদ্ভুত আনন্দময় পরিস্থিতিতে এই বিপত্তিকর ঘোষণা তাকে এলোমেলো করে দিল। সে কান খাড়া করে যা শুনতে পেল তা হচ্ছে, গালফ এয়ার আকস্মিক এই সমস্যার জন্য দুঃখিত, তারা পার্শ্ববর্তী রেস্টুরেন্টে সকল যাত্রীকে হালকা নাস্তা খাবার জন্য আমন্ত্রণ করেছে। ৪ সে প্রায় এক যুগের উপর আমেরিকায় থাকে।পাশ্চাত্যের দেশগুলোর নিয়ম হলো আপনি যখন কাউকে নাস্তা খেতে ডাকবেন, নরম পানীয় তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। আর তাই হালকা নাস্তা হিসেবে দেয়া দুটি সামুচা খেয়ে তার যখন পিপাসা লাগলো, তখন আশেপাশে পানির সন্ধানে তাকিয়ে সে দেখল পার্শ্ববর্তী সালাদ বারে বরফ কুচির ভিতরে বেশ কিছু পানি উল্টো করে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে। সেগুলোর একটা হাতে তুলে নিতেই দেখল বেশ কিছু কর্মচারী আরবি ভাষায় আউখা খাউখা বলতে বলতে তার দিকে ছুটে আসছে। তাদের আসার ভঙ্গি তার কাছে ভাল লাগলো না। তারা খুব সম্ভবত ভেবেছে সে এই পানিটা চুরি করছে।সে স্পষ্ট তার মনশ্চক্ষে দেখতে পারলো আগামী জুমার নামাজের দিন এই চুরির অপরাধে তার হাত কাটা হচ্ছে। সে বেশ ঘাবড়ে গেল। তাকে তারা ম্যানেজারের কাছে নিয়ে গেল। সৃষ্টিকর্তা সব নবীজিকে যে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছেন তার একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগটাকে আলোকিত করতে চেয়েছিলেন । সামান্য শিক্ষার আলো যে সেখানে পৌঁছায় নি তা বলা যাবে না। ম্যানেজার ভদ্রলোককে বেশ শিক্ষিত মনে হল। রাজিব তার পানি নেবার ব্যাপারটা তাকে বুঝিয়ে বলার পর, তিনি বললেন "নো ব্রবলেম।" সে যে এত সহজে ছাড়া পাবে তা সে ভাবতেই পারেনি। সে নিজের সৌভাগ্যকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। যদিও তখনো সে জানেনা তার সমস্যার মাত্র শুরু। সে বিক্রমপুরের ছেলে। বিক্রমপুরের আঞ্চলিক ভাষায় একটি কথা প্রচলিত রয়েছে,"হপাই শুরু!"তার দুর্ভাগ্যেরও তখন সবে শুরু ! ৫ রাজীবকে বহনকারী গালফ এয়ার টির চাকা যখন ঢাকার রানওয়ের মাটি স্পর্শ করছিল,তখন চারদিকে আলো করে সবে মাত্র ভোর হচ্ছে এই তিলোত্তমা নগরীটিতে। বসে থাকতে থাকতে তার একটু তন্দ্রা মতো এসেছিল। প্লেনের চাকা মাটি স্পর্শ করা মাত্র যে প্রচন্ড ঝাঁকুনির সৃষ্টি হল,তাতে তার তন্দ্রা ভাব উবে গিয়ে প্রচণ্ড উত্তেজনার সৃষ্টি হল।নিজের সেই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রন করে সে যখন এয়ারপোর্টের লম্বা করিডোর পেরিয়ে ইমিগ্রেশন এর সামনে পৌঁছালো, তখন সত্যি সত্যি ভোর হয়ে গেছে। ৬ ইমিগ্রেশন এর ঝামেলা শেষ করে সে যখন ব্যাগেজ ক্লেইম এরিয়ায় পৌঁছাল তখন ঘড়িতে বাজে সাতটা।বাইরে তাকে নিতে আসা আত্মীয়-স্বজনরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তার বেরিয়ে আসবার জন্য। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবার পর সে তার দুটো লাগেজ এর একটি লাগেজ পেল।অন্যটি কেন পাওয়া যাচ্ছে না তার কারণ অনুসন্ধান করতে যেয়ে সে যে তথ্য আবিষ্কার করল ,তা তাকে ভাবিত করে তুলল। কাল ঈদ হবার কারণে আজ একসঙ্গে ৬টি বোয়িং নেমেছে। যাত্রী সংখ্যা প্রায় বারোশো। এদের সাথে আড়াইহাজার লাগেজ। এত লাগেজ কার্গো থেকে নামানোর মত যথেষ্ট লোকবল কর্তৃপক্ষের নেই। সুতরাং অধিকাংশ লোকই তাদের সব লাগেজ ফিরে পেল না। এই বিশাল হতাশ জনগোষ্ঠীর মধ্যে রাজিবও রয়েছে।হারানো লাগেজ পুনরুদ্ধার এর প্রক্রিয়া সম্বন্ধে অনুসন্ধান করে রাজিব আরো হতাশ হয়ে গেল। ৭ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একজন লোক একটি ডেস্ক এর পিছনে বসে রয়েছে। তার পিছনে একটি পোস্টার লাগানো রয়েছে দেয়ালে। সেই পোস্টারে বিভিন্ন ধরনের লাগেজের ছবি। যাত্রীদের ঐ পোস্টার টির দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে চিহ্নিত করতে হবে তার লাগেজ দেখতে কি রকম এবং বলতে হবে কি রংয়ের। রাজিব ঠিক করলো সে লাইনে দাঁড়াবে না। কিন্তু অনুসন্ধানে বের হয়ে আসলো সে যদি কিছু না জানিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে যায়,তবে কতৃপক্ষ ধরে নেবে সে তার হারানো লাগেজটির দাবী চিরতরে ত্যাগ করেছে।এই কথা জানার পর মত বদলিয়ে রাজিব যখন সেই লাইনে দাঁড়ানোর জন্য উদ্যত হলো ,ততক্ষনে লাইনটি অজগর সাপের মতো এঁকেবেঁকে বেশ লম্বা হয়ে গেছে। তার স্থান হলো একেবারে শেষের দিকে। ৮ ঘুম ভেঙ্গে ইদ্রিস প্রথম যে কাজটি করে তা হল বালিশের নীচে রাখা সস্তা ঘড়িটার ডায়ালটির দিকে তাকায়। ঘড়িটি তার বাবার দেয়া। মেট্রিক পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় তার বাবা হাত থেকে খুলে তাকে এই ঘড়িটি দিয়েছিল। সে মেট্রিক পাশ করেছে বহুদিন হলো। এত সস্তা ঘড়ির এতদিন সময় দেবার কথা নয়।কিন্তু ঘড়িটার মধ্যে বাবার ভালোবাসা জড়িয়ে আছে বলেই হয়তো বা এতদিন টিকে রয়েছে। ঘড়িতে সাতটা বেজে গেছে। সে ট্যাক্সি চালায়।একজন ট্যাক্সি চালকের জন্য এত দেরিতে ঘুম থেকে উঠা খুবই অন্যায়। কিন্তু গাড়ি জমা দিয়ে ফিরতে ফিরতে বেশ রাত হয়ে যায়। ইচ্ছা থাকলেও সে কোনোদিনই ভোরবেলা উঠতে পারে না। ৯ প্রতিবার ঈদের সময় ব্যবসায়ীরা একটা নতুন কোন পণ্য বাজারজাত করেন, যা কি না সেই ঈদের বিশেষ পণ্য বলে বিবেচিত হয়। কয়েকদিন আগে এরকম ডিস্কো শার্টের চল হয়েছিল। মূল শার্টটি যে রংয়ের তারচাইতে ভিন্ন রংয়ের একটি কাটপিস শার্টের উপরের অংশে তৃতীয় বন্ধনীর মত সেলাই করে জুড়ে দেয়া হতো। এইবারের ঈদে তেমনি বিশেষ পণ্যের নাম সিনডেরালা হিল জুতা। ইদ্রিস এর একটিই মেয়ে ,নাম হানিফা। সে রোজার শুরুতেই তার বাবার কাছে এই হিল জুতার আবদার করে রেখেছে। কোন এক বিচিত্র কারণে ইদ্রিস তার মেয়ের কোন কথাই মানা করতে পারে না।এই ব্যাপারটিতেও তার কোন ব্যতিক্রম ঘটেনি। সে ঘাড় নাড়িয়ে সায় দিয়েছিল। ভেবেছিলে প্রতিদিন একটু একটু করে টাকা সরিয়ে রাখবে। মাস শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সিনডেরালা ফান্ডে একটা টাকাও জমা পড়েনি। তবে আজকে চাঁদ রাত। প্রচুর লোক মার্কেটে যাবে ঈদের কেনাকাটা করতে। হয়তো আজ দিন শেষে কিছু টাকা জমলেও জমতে পারে। ১০ মানুষ ভাবে এক, আর হয় আরেক।আজ সারাদিন প্রচণ্ড চেষ্টার পরেও ইদ্রিস জমার টাকাটাই তুলতে পারল না। সারাদিন গাড়ি চালানোর মতো তেলের টাকাও ছিল না তার কাছে। তবে তার চেনা একটা বাসা আছে, যেখানে চুরির পেট্রোল পাওয়া যায়। চুরির জিনিস কিনতে তার ঠিক মন সায় দেয় না, তবুও সেখান থেকে ইদ্রিস এর তেল কেনার পেছনে একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। এরা খুব সস্তায় এবং বাকীতে তেল বেচে। তাছাড়া ইংরেজীতে একটা কথা আছে ,"Beggars cannot be choosers."সকাল বেলা সেখান থেকে বেশ কিছুটা তেল নিয়েছিল। সারাদিনের ঘোরাঘুরিতে সেই তেল এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সে বাড়ির অবশ্য একটা বিশেষ নিয়ম রয়েছে, নতুন করে তেল নিতে হলে পুরনো হিসাব চুকিয়ে ফেলতে হবে। তার পকেটে যে টাকা আছে, এটা দিয়েই মহাজনকে জামার টাকা দিতে হবে। সুতরাং সেখান থেকে টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে খুব কাছেই বিমানবন্দর। সেখানে গিয়ে একটু চেষ্টা করা যেতে পারে। যদি কোনো যাত্রী পাওয়া যায়,তবে সেখানে থেমে যাত্রীর থেকে টাকা নিয়ে পুরনো হিসেব চুকিয়ে দেবে। ১১ ইদ্রিস যখন বিমানবন্দরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ালো, কাকতলীয় ভাবে তখনও তার ঘড়ির ডায়ালে সাত টাই বাজে। এত রাতে যাত্রী পাবার সম্ভাবনা খুবই কম। তাছাড়া বিদেশ ফেরত যাত্রীরা অপরিচিত ট্যাক্সিতে উঠতে ভয় পায়। তবে আপনারা কি সেই বাউল গানটি শুনেছেন, যদি থাকে নসিবে, আপনি আপনি আসিবে? ১২ পিঁপড়ার সাড়ি কতটা মন্থর গতিতে এগিয়ে যায় তা আমার জানা নেই,তবে রাজীব যে লাইনটিতে দাঁড়িয়ে ছিল সেটি যে তার চাইতে মন্থর গতিতে এগিয়েছিল সে ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নেই! রাজিব যখন তার হারানো লাগেজের বর্ণনা দিয়ে বিমানবন্দরের বাইরে বের হয়ে আসলো তখন চারদিক অন্ধকার করে সবে সন্ধ্যা নামছে তার প্রিয় শহরটিতে।তার আত্মীয় স্বজনেরা তার জন্য অপেক্ষা করতে করতে একসময় আশা ছেড়ে দিয়ে বাসায় চলে গেছে। তাকে পুরো বারটা ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। গত ৪৮ ঘন্টা ধরে সে একই কাপড় পড়ে রয়েছে। তার পুরো শরীর তখন ভেঙে আসছে ক্লান্তিতে। আর তাই ইদ্রিস যখন তাকে তার ট্যাক্সিতে আহ্বান করলো, তখন তার ডাকে সাড়া দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না রাজীবের। তখন তার মনে' যা হবার হবে' ধরনের একটি বেপরোয়া ভাব চলে এসেছে। ১৩ বিমানবন্দর থেকে যে রাস্তাটি মহাখালীর দিক গিয়েছে,ইদ্রিস সে পথে কিছু দূর এগোবার পর হঠাৎ করে বাম দিকের একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন গলিতে ঢুকে গেল। যদিও রাজিব বহুদিন দেশের বাইরে, তবুও সে জানে এই পথ ধানমন্ডির দিকে যায় না। সে কিছু জিজ্ঞেস করবার আগেই গাড়িটি একটি বাড়ির উঠোনে এসে থামল। উঠোনটির তিন দিকেই সেমি পাকা কিছু ঘর । তারই একটির বারান্দায় উঠে এসে ইদ্রিস কড়া নাড়তে শুরু করল। ১৪ এই মুহূর্তে রাজিবের মনে কোন সন্দেহ নেই কি হতে চলেছে। এই ট্যাক্সির ড্রাইভারটি খুব সম্ভবত এই লোকগুলোর কাছে তাকে তুলে দেবে।তারা এসে তার পকেটে হাত দিয়ে তার সাথে থাকা ১০ হাজার ডলার নিয়ে যাবে এবং সে যেন পুলিশকে চিনিয়ে এই বাসায় না নিয়ে আসতে পারে, তাই তাকে খুন করে কাছেপিঠে কোথাও পুঁতে রাখবে। সচরাচর সে এত টাকা নিয়ে দেশে ফেরে না। দেশে এক মাস চলার মত যত টাকা খরচ হতে পারে, আনুমানিক সেই পরিমাণ টাকা নিয়ে সে আসে। তবে এবার তার একটি বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। বছর দুয়েক আগে তার একটি বিয়ের কথা পাকা হয়েছিল। একটি বিশেষ দিন ধার্য করা হয়েছিল যেদিন তার মা এবং দুলাভাই যেয়ে মেয়েটিকে আংটি পরিয়ে দিয়ে আসবেন। কিন্তু সেই দিনটির কয়েকদিন আগে সে একটি অভূতপূর্ব ব্যবসার সুযোগ পায়। আপনাদের একটি মজার কথা বলি। প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি বিশেষ সুযোগ আসে। সাহসী এবং বুদ্ধিমান মানুষেরা সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে জীবন বদলে ফেলে, নির্বোধ এবং ভীত মানুষেরা সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারে না। তারা কুয়োর ব্যাঙের মতো একই জায়গায় আটকে থাকে। ১৫ আমাদের এই গল্পের নায়ক রাজীব অত্যন্ত বুদ্ধিমান। সে হঠাৎ পাওয়া সুযোগটির উপর ঝাপিয়ে পড়ে, এবং তার মাকে জানায় আগামী দুই বছর সে দেশে আসতে পারবে না। তার মা যেন পাত্রী পক্ষকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলেন। এখানে তার মা একটি ভয়ানক অন্যায় করেন, তিনি পাত্রীপক্ষকে ব্যাপারটি জানান না।পাত্রী পক্ষ যথারীতি নির্ধারিত দিনে তাদের আত্মীয় স্বজন কে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসে পানচিনি উপলক্ষে।নির্ধারিত দিনে মেয়েটি তার আত্মীয়-স্বজনের সামনে ভীষণভাবে লজ্জা পায় যখন কিনা পাত্রপক্ষ আংটি পরিয়ে দিতে আসে না অথবা কোন ফোন করে না। যার মাধ্যমে এই বিয়ের কথা এসেছিল, তিনি সম্পর্কে রাজিবের মার পিঠাপিঠি বোন। তিনি যখন পুরো ব্যাপারটা রাজীবকে জানান, তখন রাজিব মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে,যখনি সে দেশে ফিরবে ,তখন সে মেয়েটির সাথে কথা বলে পুরো ব্যাপারটা তাকে বুঝিয়ে বলবে, এবং মেয়েটি তাকে ক্ষমা করলে সে মেয়েটিকে পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব দিবে। ১৬ তবে এখন অন্ধকারাচ্ছন্ন উঠোনে বসে রাজিব নিশ্চিত, এই ভুল বোঝাবুঝির ব্যাপারটা মেয়েটির আর কোনদিন জানা হবে না। কারণ এখানেই শেষ হয়ে যাবে ৩০ বছর বয়সী এই যুবকের ইতিহাস। কিন্তু রাজিব এর ধারণায় ভুল ছিল। ইদ্রিসের ডাকে সে ভাবনার জগত থেকে আবার বাস্তবে ফিরে আসে। "স্যার আপনার কাছে কি ১০০ টা টাকা হবে? সকালে তেল নিছিলাম বাকিতে। সেই টাকা শোধ না করলে নতুন করে তেল দিব না বলতে আছে।" ইদ্রিস এর কথায় রাজিব যেন হালে পানি পেল। টাকা যখন চাচ্ছে তখন এরা তাকে নিয়ে কোন অন্যায় করবে না। সাধারণত দেশের থেকে ফিরবার আগের রাতে, সে সামান্য কিছু টাকা রেখে সব টাকা ড্রাইভার এবং কাজের লোকের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে যায়। ভাগ্যক্রমে তার মানিব্যাগে ১০০টা টাকাই ছিল। সেই টাকা আজকে ভীষণ ভাবে কাজে লেগে গেল। ১৭ সামান্য কিছু পেট্রোল ভরে তারা যখন আবার বড় রাস্তার উপর উঠলো, তখন রাত বেশ গভীর হতে শুরু করেছে। মৃত্যু ভয় কেটে গেলে মানুষ কিন্তু বেশ সহজ হয়ে যায়। তার কাছে মনে হয় সে যেন নতুন জীবন পেল। রাজিব ও এর ব্যতিক্রম নয়। সে খুব সহজভাবেই ইদ্রিসের সাথে গল্প করতে শুরু করল। "আপনার নাম কি ভাই?" "ইদ্রিস" "বিয়ে-শাদী করছেন?" "জি স্যার করছি ,মেয়েও আছে একটা।" "বউ-বাচ্চা নিয়া ঈদের বাজার করতে যাবেন না, চান রাতে কাজ করতেছেন?" "গরিবের আবার ঈদ, স্যার। মেয়ে একটা জুতা চাইছিল ঈদে,ঈদের দিন একটু পোলাও কোরমা খাইতে চাইছিল ,ভাবছিলাম গাড়ি জমা দিয়া নিয়া যাবো মেয়েকে মার্কেটে। গাড়ির জমার টাকাই তুলতে পারলাম না স্যার। আপনার ভাড়ার টাকা পাইলে যদি গাড়ির জমার টাকা উঠে।তার মধ্যে ১০০ টাকা তো আবার হাওলাত নিয়ে নিলাম তেল কিনার জন্য।" "আপনি ওই টাকা নিয়ে চিন্তা কইরেন না, ঐটা আপনাকে আমি বখশিস দিলাম, চাঁদরাতে কাজ করতেছেন। ভালো কথা, আপনার মেয়ের নাম কি?" "ওর নাম হানিফা, বয়স কম তো সার , টাকা পয়সার ব্যাপারটা ঠিক বুঝে না। এই জন্য এরকম অন্যায় আবদার করে।" ১৮ কথায় কথায় কখন যে তারা ধানমন্ডি এসে হাজির হয়েছে, রাজিব খেয়ালই করেনি। অথচ এখান থেকেই সে কলেজের বাসে উঠত।সে যখন তাদের বাসার সামনে নামলো তখন গভীর রাত। সে ইদ্রিসকে রেখে ভিতরে গেল। বাসার লোকেরা তখন মশারি টানিয়ে ঘুমানোর পায়তারা করছে। তারা ধরেই নিয়েছে আজকে রাজিব দেশে ফিরতে পারেনি। ১৯ রাজিবের মা সব সময় কিছু টাকা ঘরে রাখেন, হঠাৎ করে কখন কি প্রয়োজন পড়ে। সে এমন কিছু টাকা না ,তবে একেবারে কম ও নয়। প্রায় হাজার দশেক টাকা। রাজীব সেই পুরোটা টাকা এনে ইদ্রিস এর হাতে দিয়ে বলল, আজ আর কাজ করবার দরকার নাই। গাড়ি জমা দিয়ে বাসায় চলে যান।তারপর একটা রিকশা ডেকে বউ-বাচ্চা নিয়ে মার্কেটে যেয়ে ঈদের বাজার করেন। অবশ্যই হানিফাকে ওর পছন্দের জুতা কিনে দিবেন, সাথে মিলিয়ে সুন্দর জামা কাপড় কিনে দিবেন। ভাবিকেও একটা শাড়ি কিনে দিবেন। কালকে ভাবি যেন পোলাও রান্না করতে পারে সে ব্যবস্থাও করবেন। তারপর যদি কিছু বাঁচে তাহলে সেটা হানিফার হাতে দিয়ে বলবেন, বিদেশ থেকে তার একজন চাচা আসছে,সে তাকে ঈদী দিছে।" ২০ এ পৃথিবীতে কোন রকম কার্য কারণ ছাড়াই কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। ইদ্রিস হঠাৎ করে রাজীবের হাত দুটো ধরে বাচ্চাদের মত ঝরঝর করে কাঁদতে শুরু করল। গল্পটি শুরু করেছিলাম একটি ইংরেজি প্রবাদ দিয়ে। আসুন গল্প শেষও করি আরেকটি ইংরেজি প্রবাদ দিয়ে। "It is not how you start, it is how you finish that counts." রাজিবের দিনটি শুরু হয়েছিল খুবই খারাপ ভাবে, কিন্তু দিনটি কি ভাবে শেষ হয়েছে বলে আপনাদের ধারণা?

N@Nipa1234

মন_যে_আমার_হারিয়ে_ফেলেছি পর্ব-1,2 লাল শাড়ি, লাল চুড়ি, দুই হাত ভরা মেহেদি, মীরার এই নতুন রূপ দেখে বাড়ির সবাই তো অবাক, যেন রাতের বেলা সূর্য দেখছে সবাই। একদম পূর্ণিমার চাঁদের মত সুন্দর লাগছে মীরাকে। ড্রইং রুমের সবাই নিজেদের আলোচনা বাদ দিয়ে মীরার দিকে তাকিয়ে আছে অপলক ভাবে, এবার মীরার কিছুটা লজ্জা ও বিব্রত লাগছে তাকে এভাবে দেখার কি আছে? সবার ঘোর কাটিয়ে মীরার চাচাতো বোন কনিকা বলেই ফেলল- -- মীরা আজ তোকে একদম বাঙালি মেয়েদের মত লাগছে, মীরার দাদিমা বললো- --শুধু বাঙালি মেয়েদের মতো না বল একদম বাঙালি নতুন বউ এর মতো লাগছে, আমার মীরাকে, বাড়ির সবাই মীরার দাদির কথায় সায় দিয়ে, একই কথা বললো, মীরাকে একদম বাঙালি নতুন বউয়ের মত লাগছে। মীরা দাদির পাশে বসতে বসতে বললো- -- আচ্ছা তোমরা সবাই এভাবে বলছো যেন আমি বিদেশী! আমি বাঙালি মেয়ে আমাকে তো বাঙালির মতো লাগবে তাই না? এর আগে কোনদিন শাড়ি পড়ি নি ঠিক আছে, তার মানে তো এই নয় যে আমি বিদেশী মেয়ে? মীরার মা বললো- -- হুম তাইতো, তোমরা শুধু শুধু আমার মেয়ের দিকে এভাবে তাকাচ্ছো, আমার মেয়ে একদম খাঁটি বাঙালি, কথাটা শেষ করেই হেসে দিলো মীড়ার মা। -- মা তুমিও কিন্তু আমার বিপক্ষে বলছো, -- আমি আবার বিপক্ষে বললাম কই আমিতো তোর পক্ষেই বললাম। এভাবেই বাড়ির সবাই মীরাকে নিয়ে নানান ধরনের দুষ্টুমি করছে, আর মীরাও সবার সাথে অনেক মজা করছে। মীরার বাবা আশরাফ চৌধুরী ইঞ্জিনিয়ারি পাশ করে আমেরিকায় পাড়ি জমায় মীড়ার জন্মের অনেক আগেই। এর পরে নিজের আপন চাচাতো বোন নিলুফা (মীরার মা) কে বিয়ে করে আমেরিকায় নিয়ে যায় আশরাফ চৌধুরী। সেখানেই জন্ম হয় মীরার বড় ভাই শিহাব, এবং তার তিন বছর পরে মীরার। শিহাব আর মীরা এক ভাই এক বোন, জন্ম থেকে আমেরিকায় বড় হওয়ার কারণে তাদের আচরণ চলাফেরা অনেকটাই বিদেশীদের মত। তবে মীরার মা নিলুফা ও বাবা আশরাফ চৌধুরী প্রায় ৩,৪ বছর পর পরই তাদেরকে নিয়ে বাংলাদেশে ঘুরতে আসতো। আর যেহেতু মীরার মা আর বাবা আপন চাচাতো ভাইবোন ছিল তাই মীরার নানাবাড়ি আর দাদা বাড়ি একটাই। মীরার ভাই শিহাব আমেরিকান মেয়ে বিয়ে করেছে প্রায় ২বছর হয়েছে। শিহাবের স্ত্রী প্রেগন্যান্ট থাকার কারণে এবার মীরাদের সাথে দেশে আসতে পারেনি শিহাব। মীরার মামাতো বোন কনার বিয়ে, এই বিয়ে উপলক্ষেই এবার দেশে এসেছে মীরা আর তার মা, অবশ্য তার বাবা আশরাফ সাহেবও আসবে কিছু দিন পরে, বিয়ের এখনো ১মাস বাকি। বিয়ের দু'দিন আগেই আশরাফ সাহেব চলে আসবে। আজ কণার আনুষ্ঠানিক এঙ্গেজমেন্ট হবে, এর আগে ঘরোয়াভাবে ছেলের মা, বাবা তাদের কয়েকজন আত্মীয় স্বজন নিয়ে কণাকে দেখে গেছে, তাদের সবাই কণাকে অনেক পছন্দ করেছে। আর পছন্দ তো করতেই হবে কনা দেখতেও মা শা আল্লাহ অনেক মিষ্টি একটা মেয়ে। তবে পাত্রকে এখনো সরাসরি দেখেনি কনা শুধু ছবি দেখেছে, ছবি দেখেই মুগ্ধ হয়ে গেছে, এত সুন্দর একজন জীবনসঙ্গী স্বামী হিসেবে পাবে কখনো ভাবতেই পারেনি কনা। মীরা আর কনা এক মাসের ছোট বড় তাই দুজন দুজনকে নাম ধরেই ডাকে, সন্ধ্যা হয়ে গেছে একটু পরেই হয়তো ছেলেপক্ষ চলে আসবে। কনা পার্লার থেকে এসে নিজের রুমে বসে আছে সাথে তার অনেক বান্ধবী, এর মধ্যে মীরা কনার রুমে এলো। মীরার এই শাড়ি পরা রূপ দেখে কনাও একদম অবাক হয়ে তাকিয়ে বললো- -- ও মাই গড এ আমি কাকে দেখছি? মীরা বললো- -- কনা এবার তুই শুরু হয়ে যাস না প্লিজ, এতক্ষণ সবার মুখে বাঙালি রূপ শুনতে শুনতে নিজেকে ফরেনার মনে হওয়া শুরু হয়েছে, -- তুইতো বিদেশী-ই তুই আবার বাঙালি কবে হলি? আজ প্রথম তোকে বাঙালি লাগছে মীরা, মা শা আল্লাহ একদম ডানা কাটা পরি। -- তাই না! আর তোকে?তোকে দেখে তো মনে হচ্ছে আজ শুধু এঙ্গেজমেন্ট করে তোকে রেখে যেতে পারবেনা তোর জামাই, এক বারে সাথে করে নিয়ে যেতে চাইবে। মীরার কথা শুনে কনা একটু লজ্জা পেলো, মীরা আবার বললো- -- এই তোর হাসব্যান্ড দেখতে কেমন রে? -- আরে আমি কি দেখেছি নাকি! -- দেখিস নি মানে! সামনাসামনি না দেখলে কি হয়েছে ছবিতো দেখেছিস, -- একদম ভূতের মতো, -- তাই না, তাহলে আমরাও দেখি এ কেমন ভূত যা দেখে আমার বোন কনা বিয়ে করার জন্য একদম পাগল হয়ে গেল, -- আমি পাগল হলাম কবে, বাবা জোর করলো তাই না করিনি। -- ও আচ্ছা তাই তো, তোর এত সুন্দর করে সাজুগুজু দেখলেই বোঝা যাচ্ছে তোকে জোর করে বিয়ে দেয়া হচ্ছে। এমনই অনেক মজার কথা বলে কনা আর মীরা দুষ্টুমি করছে, এর মধ্যে একজন এসে বলে গেলো ছেলেপক্ষ চলে এসেছে। কনার ছোট খালা কনাকে নিয়ে যেতে এলো, -- কনা মীরা চলো সবাই বসে আছে মীরা বললো- -- আন্টি আপনি কনাকে নিয়ে যান আমি আসতেছি, -- মীরা তুই আবার কোথায় যাচ্ছিস? বললো কনা, -- তুই যা আমি আমার ক্যামেরা টা নিয়ে আসতেছি। কনার খালা কনাকে নিয়ে এলো, ছেলে পক্ষের সামনের সোফায় বসানো হলো কনাকে। পাত্রকে সামনে থেকে দেখে ছবির থেকেও অনেক বেশি সুন্দর লাগছে কনার কাছে। গোলাপ ফুলের পাপড়ি দিয়ে সাজানো টেবিলের ওপরে ছেলে পক্ষের একটা আংটি আর মেয়ে পক্ষের একটা আংটি রাখা হলো। এর মধ্যে মীরা এসে বললো- -- দেখি দেখি আমি রিং দুইটার ছবি তুলে নেই, আংটির ছবি তুলেই ছেলে পক্ষের দিকে ক্যামেরা ধরলো মীরা, ক্যামেরায় যার মুখ দেখা গেল তা যেন কল্পনায়ও কোনদিন ভাবেনি মীরা। কনার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে আকাশের, আর ক্যামেরা ধরে আকাশ কে সামনে দেখেই মীরার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। ক্যামেরা টা নামিয়ে একদম আকাশের সামনে দাড়িয়ে আছে মীরা, মীরাকে দেখে আকাশও যেন একদম তলিয়ে যাচ্ছে গভীর সমুদ্রের মাঝে। এত বছর পরে সেই অপরিচিত চেনা মুখ তার সামনে! তাও এমন মূহুর্তে যখন সে কাউকে আপন করতে যাচ্ছে, নিজের জীবনসঙ্গী বানাতে যাচ্ছে। আকাশের ভাবনা শেষ না হতেই তার হাতে আংটি টা দিয়ে তার মা বললো- -- আকাশ বাবা এবার কনাকে আংটি টা পরিয়ে দে, কনার পরিবারের সবাই কনার পাশে বসে আছে, কনার মা মীরাকে কনার পাশে বসালো, কনার অন্য পাশে আকাশ কে বসানো হলো। মীরার ইচ্ছে করছে এখান থেকে উঠে যেতে কিন্তু তা পারছে না, এদিকে সবাই বলাবলি করছে আংটি পড়িয়ে দেবার জন্য। কনার হাতটা ধরে মীরার দিকে একবার তাকিয়ে, কনার হাতে এঙ্গেজমেন্ট এর আংটি টা পরিয়ে দিলো আকাশ। এবার কনাও আকাশকে আংটি পরিয়ে দিল। সম্পন্ন হয়ে গেল আকাশ আর কনার এংগেজমেন্ট। দু'পক্ষের সবাই অনেক খুশি, বন্ধু বান্ধবের অনেক নাচ-গান আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে গেল তাদের এংগেজমেন্ট অনুষ্ঠান। তবে নাচ গান অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে আকাশের চোখ সবার আড়ালে অনেকবার দেখেছে মীরাকে। রাত ১টা বাজে মীরার চোখে কোনো ঘুম নেই, এত বছর পরে এভাবে আকাশের সাথে কোনদিন দেখা হবে তা কখনো ভাবতেই পারেনি মীরা। আকাশের সাথে জীবনের চারটা দিন সামান্য কিছু কথা হয়েছিল মীরার, কথা বললে ভুল হবে একটা ডিল বা চুক্তি হয়েছিল। আচ্ছা আকাশ কি কখনো তাকে ভেবেছে? এদিকে আকাশের চোখেও ঘুম নেই, তার এখন কনার কথা ভাবা উচিৎ কিন্তু না তার ভাবনায় বার বার একটা চেহারাই ভেসে উঠছে তা হলো মীরা.....শুধুই মীরা। আচ্ছা মীরা কি তাকে নিয়ে কখনো ভেবেছে? একটা চুক্তি, একটা সিগনেচার, একসাথে কাটানো চারটা দিন কিছু কথা কিছু সময়। যদিও এমন কোন বেশি কথা হয়নি তার সাথে মীরার, তাও মীরা কি তাকে কখনো ভাবেনি? কনট্রাকের শেষ সিগনেচার টা আজও করা হয়নি, সে হিসেবে মীরা আজও...... আকাশের ভাবনা শেষ হবার আগেই তার ফোনে রিং বেজে উঠল, মোবাইলে তাকিয়ে দেখে কনা ফোন করেছে, মোবাইল টা হাতে নিয়ে কপালের সাথে লাগিয়ে চুপ করে বসে আছে আকাশ।........... চলবে.......... #মন_যে_আমার_হারিয়ে_ফেলেছি লেখা- তানজীলা হাসান পর্ব-২ যদিও এমন কোন বেশি কথা হয়নি তার সাথে মীরার, তাও মীরা কি তাকে কখনো ভাবেনি? কনট্রাকের শেষ সিগনেচার টা আজও করা হয়নি, সে হিসেবে মীরা আজও...... আকাশের ভাবনা শেষ হবার আগেই তার ফোনে রিং বেজে উঠল, মোবাইলে তাকিয়ে দেখে কনা ফোন করেছে, মোবাইল টা হাতে নিয়ে কপালের সাথে লাগিয়ে চুপ করে বসে আছে আকাশ।........... সম্পূর্ণ রিং হয়ে কেটে যাওয়ার পরে, আর কল দিলো না কনা, আকাশ চুপ করে বসে আছে কিছুই যেন ভালো লাগছে না, কনা এত সুন্দর একটা মেয়ে, তার মা বাবা কনাকে পছন্দ করেছে, আজ সে কণাকে আন্টি পড়িয়েছে আর মাত্র একমাস পরে তাদের বিয়ে। এখন তার শুধু কনাকে নিয়ে ভাবার কথা অথচ তার ভাবনা জুড়ে বসে আছে মীরা। নাহ্ এখন এসব ভাবলে চলবে না, কনা নিজে থেকে কল দিয়েছে, এখন তাকে কল না করলে সে হয়তো মাইন্ড করবে, ভেবে কনার নাম্বারে কল দিলো আকাশ। প্রায় ৩০মিনিট কথা হলো দুজনের, ফার্মাসি কমপ্লিট করেছে কনা, বেশ স্মার্ট তাই তার কথা বলার বাচন ভঙ্গিও যথেষ্ট সুন্দর। তার সাথে কথা বলতে বেশ ভালোই লেগেছে আকাশের, কিন্তু তার পরেও মনের মধ্যে কোথাও যেন মীরা শব্দ টা আটকে আছে। সকাল ১০ঃ৩০ মীরা এখনো ঘুমিয়ে আছে, কনা আর কনিকা দুই বোন এসে মীরাকে টেনে তুললো, চোখ কচলাতে কচলাতে মীরা বললো- -- কি হইছে এত সকাল-সকাল টানাটানি করছ কেন? আমি আর একটু ঘুমাবো, -- মীরা এখন এতো সকাল না ১০ঃ৩০ বাজে, জলদি ওঠো ফ্রেশ হও রেডি হয়ে নাও। -- রেডি হব মানে কিসের রেডি? -- একটু পরে আমরা তিনজন ছেলে পক্ষের সাথে বিয়ের শাড়ি, লেহেঙ্গা, আরো অন্যান্য কেনাকাটা করতে যাবো। -- না না কানা, কনিকা তোমরা যাও প্লিজ, আমার একটু অন্য কাজ আছে, -- অন্য কাজ সব পরে হবে মীরা, আমার বিয়ের শাড়ি লেহেঙ্গা কেনার সময় তোমাকে সাথে থাকতেই হবে, বললো কনা। -- কনা, আমি শাড়ি লেহেঙ্গা এসব কোনটা কেমন ডিজাইন হলে ভালো হয় ওসব কিচ্ছু বুঝিনা। আমি কি এসব পোশাক পরি বলো? প্যান্ট, শার্ট, টি-শার্ট, স্কার্ট, টপস, এসব হলে একটা কথা ছিল কিন্তু শাড়ি লেহেঙ্গা এসবের তো আমি কিছুই বুঝিনা, আমি গিয়ে কি করবো বলো? -- এত কিছু জানিনা মীরা তুমি আমাদের সাথে যাচ্ছো ব্যাস। মীরা অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলো কিন্তু কনা আর কনিকা কিছুতেই রাজি হলো না তাই মীরাকে সঙ্গে নিয়েই মার্কেট এলো। যমুনা ফিউচার পার্কে কনা দের জন্য অপেক্ষা করছিলো, আকাশ সাথে তার বোন ও দুইজন বন্ধু। আকাশ দের সামনে এসে দাঁড়াল মীরা কনা ও কনিকা, আকাশের চোখে একবার চোখ পড়তেই নিচ দিকে তাকিয়ে আছে মীরা। আজ মীরা সাদা রঙের একটা হাতাকাটা টপস পরা, ব্রাউন কালারের খোলা চুল, কানে একটা সিলভার রঙের দুল পরা, আজ তাকে একদম সেই পুরনো মীরার মতো লাগছে, ছয় বছর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় যেই মীরাকে দেখেছিল আকাশ, আজ ঠিক তেমনই লাগছে তাকে। সবার সাথে কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে আকাশ বারবার মীরাকেই দেখছে, মীরাও বিষয়টা ভালো করেই বুঝতে পারছে। শাড়ির শোরুমে বসে সবাই শাড়ি দেখছে, কিন্তু না চাইতেও আকাশের চোখ বার বার মীরাকে দেখছে, এভাবে আকাশের সামনে বসে থাকতে মীরার যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে। কিন্তু কিছু করার তো নেই, তাই চুপ করে বসে আছে। সব কিছু কেনাকাটা শেষ। সবাই উপরে খাবারের টেবিলে বসে আছে, অনেক রকমের খাবার অর্ডার দেয়া হয়েছে, সবাই পিজা খাচ্ছে কিন্তু মীরা শুধু ফ্রেন্স ফ্রাই খাচ্ছে। এর মধ্যে হঠাৎ করে আকাশ বলে উঠলো- -- মীরা তোমার তো পিজা অনেক পছন্দ, পিজাটা খেতে পারো বেশ ভালো হয়েছে, আকাশের মুখে এমন কথা শুনে মীরা চমকে গেল, আর সবাই একটু অবাক হয়ে আকাশের দিকে তাকালো, কনিকা বললো- -- আকাশ ভাইয়া মীরা পিজা পছন্দ করে আপনি কিভাবে জানলেন? আকাশ নিজেই যেন চমকে গেল হঠাৎ করে এরকম একটা কথা বের হয়ে যাবে সে নিজেও বুঝতে পারেনি, তাও কাউকে কিছু বুঝতে দিলো না বেশ বুদ্ধিমত্তার সাথে উত্তর দিল- -- আসলে শুধু মীরা না, যেসব ছেলে মেয়েরা আমেরিকায় বড় হয় তাদের বেশিরভাগ সবাই পিজা খুব পছন্দ করে। তাই বললাম যেহেতু মীরাও আমেরিকায় বড় হয়েছে। এবার সবাই আবার স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছে, নানান কথার মাঝে আকাশের বোন মীরাকে বললো- -- মিরা তোমার কথা শুনলে বোঝা যায় না তুমি আমেরিকায় জন্মেছ ওখানে বড় হয়েছ, এত সুন্দর করে বাংলা তো এখন বাঙালিরাও বলে না, -- আসলে আপু আম্মু একজন খাটি বাঙালি, তাছাড়া বাংলা সাহিত্যে অনার্স মাস্টার্স করেছে, তাই আমরা আমেরিকার বড় হলেও আম্মু সব সময় বাসায় আমাদের সাথে বাংলায় কথা বলতো, শুদ্ধভাবে বাংলা শেখাতো, আর আম্মুর সাথে সব সময় বাসায় আমাদের বাংলায়-ই কথা বলতে হতো, না হলে আম্মু বকা বকি করত। ভাইয়া আমি দুইজনই বাসায় তার সাথে সব সময় বাংলায় কথা বলি, তাই বাংলা বলতে কোনো সমস্যা হয় না। তাছাড়া আমি নিজেও বাংলা ভাষাকে অনেক ভালোবাসি। -- তোমার আম্মুর কথা শুনে খুব খুশি হলাম, আজকালকের বাবা-মা তো ছেলে মেয়েকে শুধু ইংরেজি শেখাতে চায়, আর তোমার আম্মু আমেরিকায় থেকেও তোমাদেরকে বাংলা শিখিয়েছে, খুব ভালো লাগলো। কথাগুলো বললো আকাশের বোন। অনেক গল্পগুজব করে দু'পক্ষ যে যার মত বাসায় চলে এলো, বাড়ির সবাই বিয়ের শপিং দেখা নিয়ে ব্যস্ত, মীরার মা কাকি তারাও আলোচনা করছে আগামীকাল তারাও শপিং করতে যাবে। এ বিয়ে নিয়ে সবাই অনেক আনন্দিত কারো মনে কোন কষ্ট নেই, শুধু মীরাই বুঝতে পারছেনা তার কি আসলেই ভালো লাগছে? না কি লাগছে না? আকাশকে দেখার আগ পর্যন্ত এ বিয়ে নিয়ে মীরারও অনেক জল্পনা-কল্পনা ছিল, অনেক গানের নাচের প্র্যাকটিস করেছে, কত আয়োজন কিন্তু এখন যেন কিছুই ভেতর থেকে আসছে না। মন যেন ছয় বছর আগের ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে গেছে। আকাশের আজও মনে আছে মীরা পিজা খেতে পছন্দ করে, অবশ্য মনে থাকারই কথা আকাশের সাথে কাটানো চারদিন সময় মীরা শুধু পিজাই খেয়েছিল। কিছুই যে ভালো লাগছেনা মীরার, মোবাইল টা হাতে নিয়ে গেমস খেলছে, এর মধ্যে কনা রুমে এলো লেহেঙ্গার ওড়নাটা মাথায় দিয়ে বারবার নিজেকে আয়নায় দেখছে কনা, আসলে বিয়ের কনে মনে হয় এমনই হয়, হোক সে বাঙালি অথবা আমেরিকান, আমেরিকায় মীরার অনেক বান্ধবীর বিয়ে দেখেছে মীরা। তারাও বিয়ের আগে বিয়ের জন্য অনেক এক্সাইটেড ছিল। -- আর দেখতে হবে না কনা অনেক সুন্দর লাগছে, বললো মীরা, -- মীরা এখন মনে হচ্ছে পিংক লেহেঙ্গা টা নিলে আরো বেশি ভালো লাগতো। -- আরে না তোমার গায়ে এটাই অনেক বেশি ভালো লাগছে। -- হুম আকাশও মনে হয় এটাই পছন্দ করেছে তাই আমি আর না করিনি, -- হুম, এখনই আকাশের জন্য এত ভাবনা আগে আগে যেন কি হবে... মীরার কথা শেষ না হতেই তার মোবাইলে রিং বেজে উঠল, একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন, কল রিসিভ করার সাথে সাথেই ওপাশ থেকে বললো- -- মীরা! কেমন আছো, মীরা বুঝতে পারলো কে কথা বলছে, তাও একটু শিওর হওয়ার জন্য বললো- -- কে বলছেন প্লিজ? -- ক্যালিফোর্নিয়ায় সাহায্যের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা এক অসহায় বাঙালি ছেলে আকাশ। আকাশের কথা শুনে মীরা কি উত্তর দিবে বুঝতে পারছে না, তার সামনে কনা দাঁড়িয়ে আছে, মনের অজান্তেই যেন হার্ট বিট বেড়ে যাচ্ছে মীরার, এর মধ্যে কনা বললো- -- মীরা আমি নিচে যাচ্ছি, কথা শেষ করে তুমিও নিচে চলে এসো প্লিজ সবাই এখন খেতে বসবে, -- ওকে, কনা চলে গেলো, মীরা মোবাইল কানে নিয়ে চুপ করে আছে, আকাশ বললো- -- কেমন আছো? -- হুম ভালো, আমার নাম্বার পেলে কোথায়? -- মীরা মন থেকে চাইলে সবকিছু পাওয়া যায় আর তোমার নাম্বার এটা তো খুব সাধারণ একটা বিষয়, -- আমাকে কল দিয়েছ কেন? -- মীরা তোমার সাথে অনেক জরুরি কথা আছে, --আমাকে ফোন দেওয়া তোমার একদম ঠিক হয়নি। -- অবশ্যই হয়েছে, তোমার সাথে আমার অনেক জরুরি কথা আছে, -- আচ্ছা বলো কি বলতে চাও! -- মীরা আমি যা বলতে চাই ফোনে বলা যাবে না, আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই। -- কি বলছো আকাশ! তোমার সাথে দেখা করা কিভাবে সম্ভব, সরি আমি পারবো না। আর প্লিজ তুমি আমাকে আর কল দিও না, -- মীরা শুধু আমার নয়, আমার মনে হয় তোমারও আমাকে কিছু বলার আছে, মীরা কি উত্তর দিবে নিজেও বুঝতে পারছে না, তাও বললো- -- কয়েক দিন পরে কনার সাথে তোমার বিয়ে, এছাড়া তোমার সাথে কিছুই বলার নেই আমার, আমি রাখছি আকাশ। বলেই ফোন কেটে দিল মীরা। মীরার সমস্ত শরীর যেন ঝিমঝিম করছে কেন হচ্ছে এমন? কিছুই ভালো লাগছে না, আকাশ কি বলতে চায় তাকে, তাছাড়া দুদিন পরে আকাশের সাথে তার বোনের বিয়ে, না আর ভাবতে পারছে না, কেন এত অস্থির লাগছে? রুমের দরজা, লাইট বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়লো মীরা। এর মধ্যেই আকাশ আবার ফোন দিল, এবার মীরা রিসিভ করল না, তবে অসহ্য রকমের একটা অনুভুতি হচ্ছে, ইচ্ছে করছে ফোনটা রিসিভ করে আকাশের সাথে কথা বলতে। কিন্তু না ফোন রিসিভ করলো না মীরা। এর মধ্যেই মোবাইলে একটা মেসেজ এলো- -- মীরা কাল সকাল ৭টায় রমনাপার্কের ২নাম্বার গেটে আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো, আমি জানি তুমি আসবে, আর ডিভোর্স পেপারে সিগনেচার টা কিন্তু আজও করা হয়নি..... চলবে.......

N@Nipa1234

আদু ভাই আবুলের মা আজ বড় মাছের মাথা রেঁধেছেন। আবুলের বাপ আর আবুল দুই জনেরই সুষম খাদ্যের প্রয়োজন। ভোরে উঠেই আবুলের বাপ রওনা দিলো হাঁটে। বাজারের সবাই তাঁকে দেখেই প্রশ্ন করেন, "ভাই, বেঁচে আছেন তাহলে! দিন কাল কেমন যায়?" আবুলের বাপ সহজ সরল মানুষ। চোখ খুলে বাজারে যায় ,কান বন্ধ করে আবার ফিরে আসে।তাঁর ধারণা লোকে তাঁর সাথে রসিকতা ছাড়া অন্য কারণে কথা বলতে চান না। যথারীতি তিনি বাইরে হাঁটতে বের হন, পাশের বাসার আকবর সাহেবের ছোট ছেলের কাছ থেকে বই আনতে বের হন কিন্তু তাঁর কান টোটালি বন্ধ। তাঁর মতে" পাছে লোকে কতো কথাই না বলে"_ বলবেই! আকবর সাহেবের ছোট ছেলেও" আঙ্কেল আঙ্কেল এই নেন "বলে আবুলের বাপের হাতে একগাদা বই ধরিয়ে দেয়। সবাই মোটামুটি একটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। আবুলের থেকেও আবুলের বাপকে নিয়ে সবার বেশি দুশ্চিন্তা। যাক, মাছের মাথার কাছে ফিরে আসি।আবুলের মা খুবই দ্বিধার মধ্যে আছে। মাছের মাথা একটা কিন্তু খেতে বসেছে দুজন। কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে আবুলের মা তরকারি রেখেই উঠে বলছে" হ্যাঁ, আবুল তরকারি নে। কি গো তরকারি নিতাছো না ক্যান!" আবুলের বাপ"সুষম খাদ্যে মস্তিষ্কের বিকাশ " এই ধরণের একটি বাক্য শিখেছিলেন কিন্তু হাজার বার চেষ্টা করেও মনে করতে পারছেন না" সেক্ষেত্রে তাঁর ইজ্জতে আঘাত লাগতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন। খেতে বসেই ছেলেকে প্রশ্ন করছে "সুষম খাদ্যে কি করে রে?"আবুল মাথা চুলকাচ্ছে আর ভাবছে। কোন সমাধান না পেয়ে বলে বসলো" আব্বা ইন্টারে আমি আছি দুই বছর কিন্তু আপনে এই বারো বছর এক জায়গায় আছেন। আমি কিছু কমু না পাশ আমারো করা লাগবো।দরকার হইলে খাইলাম না মাথা তয় আমি উত্তর কইতে পারুম না"। বাপের মুখের উপর এমন কথা বলায় আবুলের বাপ ওরফে "আদু ভাই " হতাশার সমুদ্রে গা ভাসালেন। বাহিরে বের হলে কোন কথা কানে নিতেন না কিন্তু আজ তাঁর ছেলে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। তিনি বিষয়টা নিয়ে খুবই আহত।মনের উপর দিয়ে এতবড় ঝড় গেলো। খাবার রেখেই আবুলের বাপ উঠে পরলেন। লেখাপড়া করতে করতে রাত পেরিয়ে সকাল হয়। এদিকে লক ডাউনে আদু ভাই কোন স্যারের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। আপাতত তাঁর ইন্টারের বারো বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন। দিন নেই রাত নেই সংসার ত্যাগ করে তিনি লেখাপড়ায় মনোযোগ দিলেন। ছেলে পাশ করবে ভেবে ভেবেই আদু ভাইয়ের বাপ পৃথিবী ত্যাগ করলেন। নিজের স্বামীর ইজ্জতের কথা ভেবে রহিমা খাতুন সাংসারিক সব কাজ একাই সামাল দিচ্ছেন। বাপ বেটা দুই রুমে গলা ছেড়ে দিনরাত পড়ছে। এভাবে কেটে গেলো লক ডাউনের ৬ মাস। আদু ভাই এখন অস্বাভাবিক আচরণ করছে।মাঝে মাঝে চেঁচিয়ে উঠছে আবার কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলছে "আমি আদু দুনিয়াতে চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেঁচে থাকা এক সাধু।" এই অবস্থায় এলাকার লোকজন ডেকে মিটিং করা হয় "আদু ভাইকে স্বাভাবিক ভাবে বাঁচতে দেওয়া হোক"। তাঁকে নিয়ে মজা করা যেন বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি যেন শান্তিতে মরতে পারেন। রহিমা খাতুন স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা চাইছেন কিন্তু আদু ভাই ক্ষণে ক্ষণে চেঁচিয়ে বলছেন " আমি আদু পৃথিবীতে চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেঁচে থাকা সাধু।" সবাই বুঝতে পারলো পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। আদু ভাই পরিক্ষা দিয়েই মরতে চান। তাঁকে মেন্টাল থেরাপি দিয়ে আবার পড়ার সুযোগ দেওয়া হলো। ঠিক একমাস পরেই কয়েকজন লোক আদু ভাইয়ের বাড়ির সামনে এসে দাড়িয়ে আছেন। আদু ভাই এদের চেনেন না কারণ লক ডাউনে তিনি তাঁর স্যারদের চেহারাই ভুলে গেছেন! আদু ভাইকে সালাম দিয়েই তাঁর স্যার একটা মিষ্টি তাঁর মুখে দিয়ে বললেন "ট্রিট কবে পাচ্ছি আদু?" আদু ভাই লক ডাউনে শিক্ষিত হয়েছেন। ট্রিটের মানে বুঝে বললেন "কেনো,কি হয়েছে? " এদিকে পাড়ার লোকে মালা নিয়ে হাজির।<আদু, তুই তো পাশ কইরা লাইছছ>বলেই এলাকার চা দোকানদার তাঁকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। আদু ভাইয়ের দুচোখ ছলছল করছে।কেঁদে দিবে বলে মনে হচ্ছে। আকাশ বাতাস সব উজার করে আদু ভাই জায়নামাজে দাঁড়িয়ে শিক্ষমন্ত্রীর জন্য দোয়া করতে লাগলেন। এখন পাড়ার চায়ের দোকানে রোজ আড্ডা দেন।জানতে পারলেন "ফেইসবুক " নামক একটা বইতে সব খবরাখবর পাওয়া যায় তাই বাপের জমি বেঁচে একটা স্মার্টফোন কিনলেন। ভালোই যাচ্ছে দিন। আপাতত স্বস্তি নিয়ে মরবেন বলে জানা গেছে। রাতে খেতে বসে জানতে পারলেন এক মেয়ে পরিক্ষা দেওয়ার জন্য আগ্রহ এবং অনুরোধ প্রকাশ করেছে। এবেলায় আদু ভাই না খেয়ে বেরিয়ে গেলেন। মনে অশান্তি শুরু। পাড়ার মোড়ে এসেই একজন জানালেন "পরিক্ষা হচ্ছে " আজ ১৭ দিন আদু ভাই আইসিইউ তে। কে জানে আর কখনো বের হলে কান বন্ধ রাখতে পারবেন কিনা! নাকি "পরিক্ষা হচ্ছে " এটাই কানে বেজে যাবে আমৃত্যু।; আদু ভাই এখন আইসিইউতে!

N@Nipa1234

সুখপাখি আবির কাচুমাচু করছে। শিমু তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে রইলো আবিরের দিকে। কড়া গলায় বললো, -- "এই কয়দিন ধরে রাতের বেলা কোথায় যান আপনি?" আবির মুখটা হা করে একহাত দিয়ে চেপে ধরে বললো, -- "তুমি জানতে আমি যে বেরিয়ে যেতাম?" -- "ঢং রাখুন। এবার বলুন কোথায় যান?" -- "বলা যাবে না এখন। সারপ্রাইজ।" শিমু ভ্রু কুচকে বললো, -- "কিরকম সারপ্রাইজ?" আবির বিরক্ত হয়ে "চ" রকমের শব্দ উচ্চারণ করলো। তারপর কপাল কুচকে বললো, -- "বলে দিলে তো আর সারপ্রাইজ থাকবে না তাই না? অপেক্ষা করো খুব তাড়াতাড়ি জানতে পারবে।" শিমু কিছু না বলেই শুয়ে পরলো। আবির বেশ বুঝতে পারছে শিমু গাল ফুলিয়ে রেখেছে। আবিরও শুয়ে পরলো। মনে মনে বললো, -- "এখন তোমার খারাপ লাগবে জানি। কিন্তু কাল যখন সারপ্রাইজ পাবে তখন দ্বিগুণ খুশি হবে।" পরেরদিন আবির বাজার করে দিয়ে অফিসের জন্য তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায়। বারোটার সময় ফিরে আসে। শিমুকে নিচে ডাকলো। শিমু আসতেই চোখে হাত দিয়ে নিয়ে গেলো একটা রুমে। রুমে এনে চোখ খুলে দেয়। শিমু পুরো রুমটা দেখে অনেক অবাক হয়েছে। আবিরের দিকে তাকিয়ে বললো, -- "এটা আগে বার ছিলো না?" -- "হ্যাঁ।" শিমু আরো অবাক হলো। পুরো ঘরের নকশা বদলে দিয়েছে আবির। মদের যেসব সরঞ্জাম ছিলো সব ফেলে দিয়ে এটাকে নামাজের ঘর বানিয়েছে। জানালা দিয়ে হুরহুর করে বাতাস আসছে। পুরো রুম সাদা রঙের। পর্দাও সাদা রঙের। জায়নামাজ আর কোর'আন এর জন্য আলাদা তাক বানিয়েছে। বড় একটা বুকসেল্ফে সব হাদিস এবং কিছু উপন্যাসের বই। একটা পড়ার টেবিল আছে। সেখানে দুইটা চেয়ার। টেবিলের উপর একটা খাম আর একটা প্যাকেট রাখা। শিমু সেখানে গিয়ে দেখলো টেবিলের অপর পাশে শিমুর সব বই রাখা। শিমু অবাক হলো। আবিরের দিকে তাকালে আবির মুচকি হাসি দেয়। খামটা খুলে দেখলো তাকে কলেজে ভর্তি করানো হয়ে গেছে। প্যাকেট খুলে দেখলো কলেজের ড্রেস। শিমু খুশিতে খাম এবং কলেজ ড্রেস জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো। দৌড়ে এসে আবিরকে জড়িয়ে ধরে। আবির মুচকি হাসে। বললো, -- "প্রতদিন রাতে চুপিচুপি এখানে আসতাম সবকিছু ঠিক করার জন্য। এবার খুশি? সত্যি বলে দিয়েছি।" শিমু আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আবিরকে। এতোটা খুশি লাগছে আজ বলে বোঝানো যাবে না। পরেরদিন থেকেই শিমু কলেজে যাওয়া শুরু করে দেয়। পড়ালেখা করে মনোযোগ দিয়ে। ---------------------------------------- কয়েকদিন ধরে আবিরের শরীরটা খারাপ করছে। চোখ, মুখ কেমন যেনো শুকিয়ে গেছে। আজ আবির অফিসে যায়নি। বিছানা থেকে উঠতে পারছে না। শিমুও তাই কলেজে যায়নি। শিমুর খুব চিন্তা হচ্ছে হঠাৎ কি হলো যার কারণে এতো শরীর খারাপ তার। শিমু আনমনে রান্না করছিলো তখনই আবিরের ডাক শুনা যায়। শিমু বলে ডাক দেয়। শিমু আতকে উঠে। এভাবে ডাকছে যেনো কোনো বিপদ হয়েছে। চুলা বন্ধ করে দৌড়ে রুমে যায়। দেখলো আবিরের পুরো শরীর কাপছে। দুইহাতে মাথা চেপে ধরেছে। অবস্থা বেগতিক। শিমু দৌড়ে এসে খাটের উপর বসলেই আবির বললো, -- "শিমু আমার পুরো শরীর অবশ হয়ে যাচ্ছে। আমার মাথায় ভিষণ যন্ত্রণা হচ্ছে। আমি পারছি না শিমু। আমার শরীর অবশ হয়ে যাচ্ছে।" শিমু কেঁদে দেয়। আবিরের মাথাটা টেনে এনে বুকের সাথে চেপে ধরে। দিশেহারা হয়ে গেছে শিমু। কি করবে বুঝতেই পারছে না। বুকের সাথে মাথাটা শক্ত করে চেপে ধরে সূরা ফাতেহা পড়তে শুরু করে। অনেকক্ষণ পড়ার পর আবিরের মোবাইল থেকে আবিরের বন্ধু আরফানকে কল দেয়। আবির হাত পা ছেড়ে দিয়েছে। শিমু ভয় পেয়ে যায়। আরফান এবং শাকিল আসে। দারোয়ান চাচাও দৌড়ে আসে। শিমু বোরকা পরে নেয়। তারা আবিরকে ধরে গাড়িতে বসায় শিমু আবিরের মাথার পাশে বসে মাথাটা কোলে নিয়ে বসে। কিছুই বুঝতে পারছে না শিমু। কান্না করেই যাচ্ছে নিরবে। আরফান বললো, -- "হঠাৎ কি হলো ভাবি?" -- "কয়েকদিন ধরেই শরীর খারাপ যাচ্ছিলো। আজ খুব বেশি অসুস্থ হওয়ায় অফিসে যায়নি। একটু আগে আমাকে ডেকে বললো উনার পুরো শরীর নাকি অবশ হয়ে যাচ্ছে। তারপরই এই অবস্থা।" হাসপাতালে পৌছে গেলে ডাক্তার আবিরকে দেখে ইমারজেন্সীতে ভর্তি করে। শিমুর চাচি, দাদি চলে আসেন তাথইকে নিয়ে। শিমু কান্না করেই চলেছে। সৈয়দা খাতুন শিমুকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। রাবেয়া তাথইকে নিয়ে শিমুর পাশে বসে আছে। শিমু কেঁদে কেঁদে বললো, -- "দাদি উনার কেনো এই অবস্থা হয়ে গেলো? এতোদিন তো ভালোই সুস্থ একজন মানুষ ছিলো। হঠাৎ আজ এমন কেনো হলো? দাদি উনার কিছু হলে আমি কিভাবে থাকবো?" শিমু কান্নায় ভেঙে পরে। এরই মধ্যে আফরাও আসে। শিমুর দাদি সরে গেলে আফরা শিমুর পাশে বসে। আফরার কাধে মাথা রেখে কেঁদেই যাচ্ছে। আফরা বললো, -- "শিমু এভাবে ভেঙে পরো না। ধৈর্য্য ধরো। আল্লাহকে ডাকো। বিপদ তিনি দিয়েছেন তিনিই সমাধান করে দিবেন। ভরসা করো আল্লাহর উপর।" শিমু কান্নার বেগ কমিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে বললো, -- "যেই ড্রাগ নিতো সেটা অনেক পাওয়ারফুল ছিলো। এতোদিন না নেয়ায় সাইড ইফেক্ট পরেছে। ঠিক সময়ে হাসপাতালে না আনলে উনি হয়তো সারাজীবন এর জন্য প্যারালাইজড বা কোমায় চলে যেতো।" শিমুর বুকটা ধক করে উঠে। সারা শরীর কেপে উঠে। ভয়ে আফরার হাত শক্ত করে ধরে। আফরা ওকে শান্তনা দেয়। শাকিল এসে বললো, -- "ওরে আমি অনেক বলেছি মাহিনের সাথে এতো বেশি না মিশতে কিন্তু কথা শুনেনি। ওর দেয়া ড্রাগের জন্য আজ এ অবস্থা।" রাবেয়া লুকিয়ে চোখ মুছেন। তিনি ভাবতেই পারছেন না কিসের পাপের ফল স্বরুপ তিনি মাহিনকে পেলেন। দুপুরে আফরা জোর করে শিমুকে খাইয়ে দিয়ে বাসায় যায়। রাবেয়া শিমুকে জড়িয়ে ধরে রাখেন। সৈয়দা খাতুন তাথইকে খাইয়ে দেয়। বিকেলে ডাক্তার এসে বললো, -- "পেসেন্টের জ্ঞান ফিরেছে। আপনি দেখে আসতে পারেন।" শিমুর যেনো জানে পানি এলো। ধীর পায়ে উঠে আবিরের কেবিনের দিকে গেলো। আবির চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। শিমু আবিরের পায়ের কাছে বসে। আবিরের মুখের দিকে তাকিয়ে শিমুর চোখের পানি অঝোরে পরতে থাকে। পায়ে গরম কিছুর স্পর্শ পেয়ে আবির চোখ খুলে তাকায়। আবিরের হাতে ক্যানেলা ফিট করা। ইশারায় শিমুকে কাছে ডাকে। শিমু পাশে বসতেই আবির বললো, -- "এই বউ আমি মরিনি। ভাবলাম মরে গেছি।" আবির হাসছে। শিমুর রাগ উঠে গেলো। আবিরের বুকে কিল ঘুসি দিচ্ছে আর কান্না করছে। আবির বললো, -- "বউ আমি ব্যাথা পাচ্ছি। সুস্থ হলে বেশি করে মেরো। এমনিতেও সকালে আরবি পড়তে বসলে কি কম মারো?" শিমু থেমে যায়। আবিরের বুকে মাথা রেখে বললো, -- "আপনি অনেক পচা। অনেক অনেক অনেক বেশি। এমন কেন আপনি? আপনি জানেন না, আপনার কিছু হলে আমি কিভাবে থাকবো? আপনার কিছু হলে মাহিন ভাইয়া আমাকে আরেকজনের কাছে নিয়ে যাবে টাকার জন্য। আপনি কেনো এসব ভাবেন না? আমার জন্য চিন্তা হয়না আপনার? আপনার একটুও মায়া নেই আমার জন্য। ভালোবাসাও নেই।" আবির একহাতে শিমুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো, -- "তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না আমি। আমার সুখপাখি কান্না থামাও।" শিমু কান্না থামিয়ে সোজা হয়ে বসে। বললো, -- "এখন কেমন লাগছে আপনার? জানেন তখন ডাক্তার কি বলেছে? বলেছে আপনাকে সঠিক সময়ে না আনলে সারাজীবনের জন্য প্যারালাইজড না হয় কোমায় চলে যেতেন।" শিমু আবার কেঁদে দেয়। আবির শান্ত চাহনি নিয়ে শিমুর আদুরে মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। শিমুর নাকটা লাল হয়ে গেছে। নাকের ডগার তিলটা আরো বেশি ফুটে উঠেছে। আবির মৃদু হেসে বললো, -- "কপালে একটু ভালোবাসা দিবে আমায়?" শিমু কান্না থামিয়ে ভেজা নয়নে আবিরের দিকে তাকায়। আবিরের এখনো শীতল চাহনি। আবারো বললো, -- "প্লিজ।" শিমু এগিয়ে গিয়ে আবিরের কপালে ভালোবাসার পরশ দিলো। আবির চোখ বন্ধ করে রাখে। খুব ভালো লাগছে তার। শিমুকে বললো, -- "তখনের মতো বুকে মাথা রাখো প্লিজ।" শিমু তাই করলো। এভাবে অনেকক্ষণ পেরিয়ে গেলো। আবিরের খুব ভালো লাগছে। কেনো যেনো মনে প্রশান্তি। নিজের মন বলছে, যাক এতোদিনে কাউকে পেলি যে তোকে হারানোর ভয়ে কাঁদে। আবির কথাটা ভেবেই মুচকি হাসলো। শিমুর চুলে চুমু দেয়। ---------------------------------------- আবির এখন পুরোপুরি সুস্থ। ডাক্তার বারবার বলেছে কোনো ভাবেই যেনো ড্রাগ এবং ড্রিংকস এর আশেপাশে না যায়। আবিরকে বাসায় আনা হলো। দাদি এবং তাথই এখানেই রয়ে গেলো। রাবেয়া বাসায় গেলেন। কারণ ওই বাড়িটা খালি রাখা ঠিক হবে না। মাহিন আবার কি কান্ড রটায় সেই ভয়ে চলে গেলেন। তাথই আবিরের হাতের উপর মাথা রেখে শুয়ে আছে। এক পা আবিরের পেটের উপর। দুজনে কথার ঝুলি খুলে বসেছে। বকবক করেই যাচ্ছে। শিমু আবিরের জন্য খাবার নিয়ে এলো। এসে ওদের দুজনকে এভাবে দেখে হেসে দিলো। হাসির আওয়াজে দুজনে মাথা তুলে তাকিয়ে মুখ ভেঙিয়ে আবার নিজেদের মতো গল্প শুরু করে। শিমু মনে মনে বললো, -- "বাপরে আজ আমি পাত্তা পেলাম না। হুহ।" আবিরের পাশে দাঁড়িয়ে বললো, -- "উঠুন। নাস্তা এনেছি খেয়ে নিন।" -- "তুমি খাইয়ে দাও।" -- "নিজের খাবার নিজে খান।" তাথই বসে বললো, -- "শিমুপু আমাকে আর আবিরকে খাইয়ে দাও না।" তাথই এর এমন আদুরে আবদারে শিমু না করলো না। তাথই সূতির লাল ফ্রক পরেছে। পিঠ পর্যন্ত নেমে আসা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে আছে। শিমু পাশে বসতেই আবিরও উঠে বসে। তাথইর কপালের চুল সরিয়ে দিয়ে কপালে চুমু দেয়। আবির বসলে তাথই আবিরের কোলে বসে। শিমু প্রথমে তাথই এর মুখে খাবার দেয় তারপর আবিরকে। দুইজনকে খাইয়ে দিচ্ছে। আবির তাথই এর চুল গুলো ঝুটি করে দেয়। নিজের বাচ্চাকে যেভাবে আদর করে আবির তাথইকে ঠিক সেভাবেই আদর করছে। যদিও তাথই শালিকা হবে আবিরের। কিন্তু আবির সে নজরে দেখে না। একটা বাবার মতোই স্নেহ করে। দুজনকে খায়ানো শেষ হলে আবিরকে ওষুধ খাইয়ে দেয়। দুজনে আবার আগের মতো শুয়ে শুয়ে গল্প জুড়ে দেয়। তাথই নিজের মনগড়া হাজার গল্প আবিরকে শুনাচ্ছে। আর আবির হাসছে। দেখে মনে হচ্ছে বাবা, মেয়ে। সৈয়দা খাতুন ওদের দেখে হাসলো। তাথই কখনো বাবার আদর পায়নি। আর মাহিন কখনো ওকে কাছে টেনে নেয় না। তাথই মাহিনের কাছে আসলেই বকা দিবে আর নাহয় থাপ্পড় দিয়ে দূরে সরিয়ে দিবে। আবির ওকে এভাবে স্নেহ করায় এতো শত গল্প জুড়ে দিয়েছে তার সাথে। এভাবে কয়েকদিন কেটে গেলো। তাথই এবং দাদি চলে যায়। আবির আবার নিজের কর্মজীবন শুরু করে। শিমু তার পড়ালেখা শুরু করে। শিমু কমার্সের ছাত্রী। কোনোকিছু না বুঝলে আবির ওকে বুঝিয়ে দেয়। বাসায় ওয়াই ফাই লাগিয়েছে আবির। কারণ আবির যখন বাসায় থাকবে না শিমু যদি কোনো পড়া না বুঝে তাহলে যেনো ইন্টারনেটে সার্চ করে পড়া বুঝে নেয়। আবির রাতে শিমুকে বুকে জড়িয়ে শুয়ে শুয়ে ভাবে তার আগের জীবনের কথা। কেমন রগচটা মানুষ ছিলো সে। আর এখন একদম সাধারণ একটা জীবনে সে ফিরে এসেছে। শিমু বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। শিমুর মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিলো। মেয়েটার চেহারার দিকে তাকালে বাচ্চা বাচ্চা লাগে। শিমুর কপালে চুমু দিয়ে মনে মনে বললো, -- "সত্যিই স্বামী স্ত্রী দুজনে একে অপরের পরিপূরক। তোমাকে না পেলে বুঝতাম না। আমার পিচ্চি বউ।" --------------------------------------- কয়েকদিন ধরেই আবির খুব মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা ভাবে। সেদিন সন্ধ্যায় ফিরে আবির নামাজের ঘরে এসে একটা হাদিসের বই পড়লো। এরপর থেকে খুব বেশি গভীর চিন্তায় মগ্ন থাকে। একটা ডিসিশান নিচ্ছে আবির। আজ ডিসিশান নেয়া শেষ। সে মনে মনে খুব খুশি। হাদিসের বইয়ে পড়েছে, "মেয়ের ফ্যামিলি যদি বিয়েতে রাজি না হয় তাহলে সে বিয়ে বাতিল করেছে রাসূল (সাঃ)।" শিমুর বিয়েতে তার পরিবার রাজি ছিলো না। স্বয়ং শিমুও রাজি ছিলো না। তাই আবির খুব গভীর ভাবে চিন্তা করলো কিভাবে কি করা যায়। এছাড়াও অপর এক হাদিসে পড়েছে, "চুপি চুপি যদি কেউ বিবাহ করে তাহলে তা বিবাহ বলে গণ্য হবে না। তা হবে জেনা (পরকিয়া)। কারণ বিবাহ গোপণে করার কাজ নয় কিন্তু জেনা গোপনে করার কাজ। তাই বিবাহের সময় সবাইকে জানিয়ে বিবাহ করতে বলেছে। --(ওমর ফারুক রাঃ)" আবির ডিশিশান নিলো সে আবার শিমুকে বিয়ে করবে। এবার সে সবাইকে জানিয়ে বিয়ে করবে। আবির শিমুর বাসায় গেলো। চাচি এবং দাদি দুজনকেই জিজ্ঞেস করলেন, -- "শিমুর সাথে যখন আমার বিয়ে হয় আপনারা কি রাজি ছিলেন?" সৈয়দা ইতস্তত করে বললেন, -- "আসলে...।" -- "দাদি আপনি ইতস্তত করবেন না প্লিজ। সত্তিটাই বলুন।" -- "না বাবা আমরা কেউ রাজি ছিলাম না।" -- "ইসলামের দৃষ্টিভঙি অনুসারে আমাদের বিয়ে বাতিল হয়েছে। দাদি আমি শিমুকে আবার বিয়ে করতে চাই। আপনারা এবার রাজি?" সৈয়দা খাতুন এবং রাবেয়া হেসে বললেন, -- "হ্যাঁ আমরা রাজি।" -- "আজই আপনারা আমার বাসায় যাবেন। যেহেতু আমরা এখন পাত্র পাত্রী তাই একই ঘরে একা থাকা ঠিক হবে না।" আবির সব বুঝিয়ে বেরিয়ে এলো। একটু পর আবিরের ড্রাইভার ওদের আবিরের বাড়িতে নিয়ে যাবে। আবির একটা ক্যাবে করে আফরানের অফিসে গেলো। শাকিলও সেখানেই কাজ করে। তাদের দুইজনকে বলতেই তারাও খুশি হলো। আবির অফিসে এলো। অফিসের সব কলিগদের দাওয়াত দেয়া হলো। আবির বাসায় এলো। দাদিকে বললো শিমুর সাথে কথা বলবে। দাদি একটু দূরে দাঁড়িয়ে রইলেন। আবির বললো, -- "শিমু এর আগে আমাদের যেভাবে বিয়ে হয়েছে সেটা তো ইসলামের নিয়ম অনুসারে বাতিল হলো। আমি তোমাকে আবার বিয়ে করতে চাই। তুমি রাজি আছো?" -- "না।" আবির হতাশ হলো। সাথে অবাকও হলো। শিমু আর তাকে চায়না। আবিরের ঘাম ছুটে গেলো। এদিকে শিমু মুখ টিপে হাসছে। আবিরের দিকে এক নজর তাকিয়ে খিলখিল করে হেসে দিলো। আবির হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো শিমুর দিকে। আবির আবার বললো, -- "তুমি রাজি?" -- "হ্যাঁ।" আমার ঘাম ছুটিয়ে তিনি হাসছেন। বিয়ে হোক তারপর মজা দেখাবো। আবির চলে গেলো। বিয়ের জন্য যা যা প্রয়োজন সবকিছু আবির, বাড়ির দারোয়ান এবং গাড়ির ড্রাইভার তিনজনে মিলে পালন করলো। তারা যেনো মন ছোটো না করে তাই বাজার সদাই তাদের নিয়ে করলো। শিমুর চাচি, দাদি, আফরা আর অফিসের কয়েকজন মেয়ে মিলে হলুদ লাগালো শিমুকে। এরপর বউ সাজিয়ে নিচে নেয়া হলো। একদিনেই সব আয়োজন করা হয়েছে। আবির সোনালি রঙের পাঞ্জাবি পরেছে। শিমু লাল রঙের হালকা ডিজাইনের কাতান শাড়ি। শিমুকে নিয়ে নামার সময় শিমু একটা মেয়ের থেকে শুনলো, -- "আবির স্যারকে কত পটাতে চেয়েছি তিনি পটলোই না। পটা তো দূরে থাক কোনোদিন ভালো করে তাকায়ও নি। আর আজ বিয়ে করছে। মেয়েটা সত্যিই লাকি।" আরেকজন বললো, -- "হ্যাঁ। উনিতো অফিসে কোনো মেয়ের দিকে তাকাতো না। কিন্তু রগচটা ছিলেন অনেক।" শিমু মুচকি হাসলো। তাদের বিয়ে সম্পন্ন হলো। আবির তাথইকে কোলে নিয়ে খেতে বসেছে। নিজেও খাচ্ছে তাথইকেও খাইয়ে দিচ্ছে। সবাই চলে গেলো। শিমুর দাদি, চাচি তারা রইলেন। তাথই আবিরের কোলে ঘুমিয়ে গেলে তাকে রাবেয়ার কাছে রেখে রুমে গেলো। আবির রুমে ঢুকলেই শিমু সালাম দেয়। আবিরও সালাম দেয়। আবির এগিয়ে গিয়ে শিমুর ঘোমটা তুলে। মায়াবী লাগছে খুব। হাত বাড়িয়ে কপালে হাত রাখতে গেলে শিমু দুকদম পিছয়ে যায়। আবির হো হো করে হেসে দেয়। বললো, -- "ভয় পাওয়ার দরকার নেই। আমি আর সেই অমানুষ নেই।" শিমুকে কাছে টেনে কপালে হাত রেখে দোয়া পড়লো। দুজনে নামাজ পড়ে নেয়। সবশেষে দুজন বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায়। শিমু আমতা-আমতা করে বললো, -- "আজও কি প্রপ্রথম ররাতের মমতো..।" শিমুকে টেনে বুকে জড়িয়ে নেয়। আবির বললো, -- "চলো শুয়ে পরি। ঘুম আসছে।" দুজনে শুয়ে পরে। মাথার কাছের জানালা খোলা রেখেছে। পুরো চাঁদের আলো এসে পরছে দুজনের উপরে। হালকা বাতাসে শিমুর চুল উড়ছে। আবির শিমুর চুল কানে গুজে দিয়ে বললো, -- "শিমু আমি হয়তো সবসময় তোমাকে নিয়ে চাঁদ দেখা, আকাশ দেখা, লং ড্রাইবে নিয়ে যাওয়া, অনেক অনেক শপিং করে দেয়া এসব আবদার পূরণ করে দিতে পারবো না। সবসময় ভালোবাসি ভালোবাসি বলে মুখে ফেনা তুলতে পারবো না। তবে প্রতিদিন রাতে তোমাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে ঘুমাবো। তোমাকে নিজের হাতে খাইয়ে দেবো। অসুস্থ হলে সেবা করবো। মন খারাপ হলে হয়তো হাসাতে পারবো না। তবে শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরবো। তুমি কি তাতে খুশি হবে শিমু? নাকি আমাকে ছবির নায়কের মতো রোমান্টিক হতে হবে?" শিমু আবিরের বুকে দুইহাত ভাজ করে রেখে হাতের উপর থুতনি রেখে বললো, -- "পরিবর্তন হওয়ার দরকার নেই যেমন আছেন আমি তেমনই চাই আপনাকে। শুধু সুন্নাহ মেনে চললেই হবে।" শিমুর গালে এক হাত রেখে মায়াবী মুখটার দিকে তাকালো। চাঁদের আলো পরায় আরো স্নিগ্ধ লাগছে শিমুকে। মুখটা টেনে ধরে কপালে ঠোঁট ছুয়ে দিয়ে বুকে জড়িয়ে নিলো। তাদের জীবনের নতুন পথ চলা শুরু হলো। চলবে,,,

N@Nipa1234

English বিসিএস লিখিত ভাবনা ইংরেজি . এর আগে আলোচনা করেছি ইংরেজির পার্ট- A নিয়ে। আজ আলোচনা করবো পার্ট- B নিয়ে ক. E2B & B2E অনুবাদ- ২৫*২=৫০. অনুবাদ সবসময় ভাবানুবাদ করতে হয়। ওয়ার্ড টু ওয়ার্ড অনুবাদ করলে অনুবাদের যোগ্যতা হারায় আর নম্বর কম আসবে। অনুবাদের ভাষা হতে হবে প্রাঞ্জল এবং সহজবোধ্য। আর অনুবাদের জন্য নিয়মিত প্র‍্যাকটিস করতে হবে। আমি পরীক্ষার আগে প্রতিদিন দুটো করে অনুবাদ প্র‍্যাকটিস করেছি। কারণ নিয়মিত চর্চা না করলে এক্সাম হলে গিয়ে নাস্তানাবুদ হতে হবে। অনুবাদের প্র‍্যাকটিস এর জন্য ডেইলি স্টার, প্রজেক্ট সিন্ডিকেট ফলো করতে পারেন। কিছু টপিক দিলাম যা b2e & e2b তে কমন। এসব টপিক্সের উপর প্রচুর পরিমাণে Collocation & Phrases খাতায় নোট করবেন। Topics- Liberation war, environment, corruption, violence against women, sdg, literature & art, tourism, export industry, human trafficking & narcotics, women empowerment, politics & government. প্রিভিয়াস বিসিএস লিখিত অনুবাদ, ব্যাংক অনুবাদ গুলো শেষ করবেন। তাহলে আইডিয়া হবে। খ। Essay Writing-50 ইজি কমন পড়া বা না পড়ার ব্যাপার একান্তই নিজের চেষ্টা। ইজি মিনিমাম ১০ পেইজ লিখতে হবে ভালো নম্বরের জন্য। আপনি ওই রচনাটাই সিলেক্ট করবেন লেখার জন্য যেটা কমন না পড়লেও আপনি লিখতে পারেন আর সাথে প্রচুর ডাটা দিতে পারেন। ৪০লিখিততে তিনটা ইজি ছিলো (a) Literature and society (b) Democracy and Good Governance (c) Corruption: The Invincible Monster. যেহেতু একটিও ভালো করে কমন পড়েনি সেহেতু অপশন C লিখি। আর করাপশন নিয়ে অনুবাদ চর্চা করেছি, বাংলাদেশ বিষয়াবলির জন্য পড়েছি সেহেতু আমার জন্য বেটার অপশন ছিলো এটাই লিখা । আবারো রিপিট করছি যা লিখবেন শুদ্ধ লিখবেন, বানান ভুল, ব্যাকরণগত ভুল যেনো না হয়। কোটেশন দেয়ার জন্য নীলকলম ব্যবহার করবেন। আমি নিচে কিছু টপিক্স দিচ্ছি এইগুলো বিসিএস লিখিত এর জন্য হট টপিক্স। Bangladesh Delta Plan-2100. Mujibborsho. Government Fast Track Projects. Blue Economy. Green Economy. Environment Pollution. Climate Change. Natural Disaster of Bangladesh. RMG/ Leather Industry /Tourism Industry. The Spirit of Liberation War. SDG's & Bangladesh. Terrorism / Religious Extremism. Digital Bangladesh / Vision 2041. Bangladesh Perspective Plan 2021-2041. Communal Harmony. Women Empowerment / Violence Against Women. Narcotics & its Effects. Graduation From LDC. Natural Resources of Bangladesh. Good Governance. Rohingya Crisis. এর বাইরেও পড়তে পারেন, এতে আপনার জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে। উপরের টপিক্সগুলো যদি ভালো করে শেষ করতে পারেন তাহলে সেগুলো বাংলা রচনা, ইংরেজি রচনা, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি তে কাভার দিবে। নেক্সট অন্য একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

N@Nipa1234

GOLDEN Marks ১২০ পাবার প্ল্যান বিসিএস বোদ্ধারা বলেন, ১২০ হচ্ছে গোল্ডেন নম্বর। এটা পেলে জয় নিশ্চিত ফুটবলের সেই গোল্ডেন গোলের মত; যেই দল আগে গোল দিবে, সেই দল হবে বিজয়ী। তাই স্টাডি প্ল্যান নয় বরং নম্বর প্ল্যান দিলাম। ১২০ পেলে খুব সম্ভবত ৩-৫ হাজার পাস করালেও আপনি তার মধ্যে থাকবেন তবে ১২০ পাওয়া না পাওয়া প্রশ্নের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যাই হোক, ১২০ নম্বর অনুযায়ী স্টাডি প্ল্যান সেট করুন। আপনার স্টাডি প্ল্যানে যদি সব বিষয়ে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় তাহলে সেটা হবে বড্ড বোকামি। ম্যাথ আর আন্তর্জাতিক কখনই একই গুরুত্বের হতে পারে না। ভকাবুলারি আর ইংরেজি লিটারেচার একই গুরুত্বের হতে পারে না। আশা করি বুঝাতে পেরেছি। Chief guest কে গুরুত্ব বেশি দিতেই হবে। নিচে যেগুলো বোল্ড করে দেওয়া সেগুলোকে chief guest ধরে স্টাডি প্ল্যান সেট করুন। ইংরেজি ২২ (৩৫) বিজ্ঞান ১২ (১৫) কম্পিউটার ১০ (১৫) ম্যাথ ২৬ (৩০) বাংলা ২০ (৩৫) বাংলাদেশ ১৫ (৩০) আন্তর্জাতিক ১০ (২০) ভূগোল ৫ (১০) মোট ১২০ (১৯০) কারও কাছে মনে হতে পারে এটা বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য করা হয়েছে। আমি আপনার কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি না। গত কয়েক বছরের বিসিএস পরীক্ষায় মেধা তালিকায় যারা শীর্ষে আছেন তাদের বেশিরভাগই বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। আপনি বিজ্ঞান বিভাগে পড়েন নি তাতে কী? আপনি যদি প্রথম বার পছন্দের ক্যাডার না পান তাহলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বার পেতে হলে আপনাকে প্রায় মোট ৩-৪ বছর এর জন্য সময় খরচ করতে হয়। আপনি কেন এ সময় সর্বোত্তম ব্যবহার জন্য মনোযোগ দিবেন না? কেন শুধু শুধু অতীত নিয়ে মন খারাপ করবেন? এখন তো আপনি চাইলে আরও সুন্দরভাবে অনেক কিছু বুঝতে পারবেন যদি এর জন্য সঠিকভাবে সময় দেন। আবার কারও মনে হতে পারে ম্যাথে বেশি নম্বর টার্গেট করেছি। যিনি VVIP গেস্ট তাকে তো সেভাবেই ট্রিট করতে হবে। আমার ৪ বছরের অভিজ্ঞতা বলে ম্যাথ এবং ইংলিশ এই দুইটা সাবজেক্টই নির্ধারণ করবে আপনি চাকরি পাবেন, না কি পাবেন না। আর পেলেও কোন মানের চাকরি পাবেন এবং এর মধ্যে ম্যাথকেই আমি বেশি গুরুত্ব দিব বিসিএস এবং অন্য প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করার জন্য কারণ ইংরেজির উত্তর করতে কিন্তু বেশি সময় লাগবে না। যারা পারেন, তাদের প্রায় একই সময় লাগবে। কিন্তু ম্যাথ কেউ ১ মিনিটে করেন আর কেউ ১০ সেকেন্ডে করেন। তাই যেসব চাকরিতে প্রিলিমিনারি ধাপে খুব কম পাস করানো হয় সেখানে ম্যাথ একটা বিশাল ফ্যাক্টর হতে পারে। কেন আপনি ২-৩ বছর বা এর চেয়ে বেশি সময় পেয়েও ম্যাথে উন্নতির করার জন্য ট্রাই করবেন না? আশা করি আপনার স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন করবেন কিনা ভেবে দেখবেন। বাংলাদেশ আর আন্তর্জাতিক যতই পড়েন কমন পাবার কোন গ্যারান্টি নাই। মোটামুটি পড়লেও সবাই যা পারে আপনি তা পেরে যাবেন। তাই Sustainable Development এর জন্য chief guest দের গুরুত্ব দিন। নোটঃ নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়েছি। কেউ চাইলে ৩৫তম থেকে ৪০তম বিসিএস এর প্রশ্নগুলো পড়তে পারেন। আমি ৩৭, ৩৮ এবং ৪০তম বিসিএস প্রিলিতে এগুলোতে কখনো একটিও উত্তর করি নাই আবার কখনও ২-৩টি উত্তর করেছি। আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রতিবারই পাস করেছি। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাবেন প্লিজ। ধন্যবাদ।

N@Nipa1234

বাংলা_ব্যাকরণ ১। ভাষার মূল উপকরণ – বাক্য ২। ভাষার মূল উপাদান – ধ্বনি ৩। ভাষার বৃহত্তম একক – বাক্য ৪। ভাষার ক্ষুদ্রতম একক – ধ্বনি ৫। বাক্যের মৌলিক উপাদান – শব্দ ৬। বাক্যের মূল উপাদান – শব্দ ৭। বাক্যের মূল উপকরণ – শব্দ ৮। বাক্যের ক্ষুদ্রতম একক – শব্দ ৯। শব্দের মূল উপাদান – ধ্বনি ১০। শব্দের মূল উপকরণ – ধ্বনি ১১। শব্দের ক্ষুদ্রতম একক – ধ্বনি ১২। ধ্বনি নির্দেশক চিহৃ – বর্ণ ১৩। ভাষার ইট বলা হয় – বর্ণকে ১৪। ভাষার স্বর বলা হয় – ধ্বনিকে ১৫। ভাষার ছাদ বলা হয় – বাক্যকে ১৬। ভাষার রীতি – ২ টি (সাধু ও চলিত) ১৭। সারা পৃথিবীতে ভাষা প্রচলিত আছে – ৩৫০০ (প্রায়) ১৮। ভাষার মৌলিক অংশ – ৪ টি ১৯। ভাষার আলোচ্য বিষয় – ৪টি ২০। বাংলা ভাষায় ধ্বনি – ২ প্রকার (স্বর ধ্বনি ও ব্যঞ্জণ ধ্বনি) ২১। বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ আছে – ৫০টি ২২। বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ – ১১ টি ২৩। বাংলা বর্ণমালায় ব্যঞ্জনবর্ণ – ৩৯টি ২৪। বাংলা বর্ণমালায় মৌলিক স্বরবর্ণ – ৭টি ( অ,আ,ই,উ,এ,অ্যা,ও ) ২৫। বাংলা বর্ণমালায় মাত্রা বিহীন বর্ণ – ১০ টি ( এ,ঐ,ও,ঔ,ঙ,ঞ,ৎ,ং,ঃ,ঁ ) ২৬। বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রাযুক্ত বর্ণ – ৮টি ( ঋ,খ,গ,ণ,থ,প,ধ,শ ) ২৭। বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা বর্ণ – ৩২ টি ( অ,আ,ই,ঈ,উ,ঊ, ক,ঘ,চ,ছ,জ,ঝ,ট,ঠ,ড,ঢ,ত,দ,ন,ফ,ব,ভ,ম,য,র,ল,ষ,স,হ,ড়,ঢ়,য় ) ২৮। পূর্ণমাত্রাযুক্ত স্বরবর্ণ – ৬ টি ( অ,আ,ই,ঈ,উ,ঊ ) ২৯। পূর্ণমাত্রাযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ - ২৬টি ( ক,ঘ,চ,ছ,জ,ঝ,ট,ঠ,ড,ঢ,ত,দ,ন,ফ,ব,ভ,ম,য,র,ল,ষ,স,হ,ড়,ঢ়,য় ) ৩০। বাংলা ধ্বনির মতো বর্ণ – দুই প্রকার। ১. স্বরবর্ণ, ২. ব্যঞ্জনবর্ণ। ৩১। স্বরবর্ণের ‘কার’ চিহ্ন – ১০টি আ=া, ই= ি, ঈ=ী, উ=ু, ঊ=ূ,ঋ ‍ৃ, এ= ে, ঐ= ৈ, ও= ো, ঔ= ৌ। ৩২। কার চিহ্ন নেই এমন স্বরবর্ণ – ১ টি (অ) ৩৩। বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বজ্ঞাপক বর্ণ – ২ টি (ঐ এবং ঔ) ৩৪। বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা – ২৫ টি ৩৫। মাত্রাহীন স্বরবর্ণ – ৪ টি (এ, ঐ, ও, ঔ) ৩৬। মাত্রাহীন ব্যঞ্জণবর্ণ – ৬ টি ( ঙ,ঞ,ৎ,ং,ঃ,ঁ ) ৩৭। অর্ধমাত্রাযুক্ত স্বরবর্ণ – ১ টি (ঋ) ৩৮। অর্ধমাত্রাযুক্ত ব্যঞ্জণবর্ণ – ৭টি ( খ,গ,ণ,থ,ধ,প,শ ) ৩৯। বাংলা বর্ণমালায় হ্রস্বস্বর – ৪টি ( অ,ই,উ,ঋ ) ৪০। বাংলা বর্ণমালায় দীর্ঘস্বর - ৭টি ( আ,ঈ,ঊ,এ,ঐ,ও,ঔ ) ৪১। বাংলা বর্ণমালায় যে দুটি ধ্বনি উচ্চরণে কোন পার্থক্য নেই - ঙ,ং ৪২। বাংলা বর্ণমালায় বর্গ আছে – ৫টি ৪৩। ঠোঁট ও নাকের ছিদ্রের সাহায্যে উচ্চরিত হয – ম ধ্বনি। ৪৪। শিশ ধ্বনি বা উষ্ণ ধ্বনি – ৪টি ৪৫। স্পর্শ ধ্বনি – ২৫ টি ৪৬। কন্ঠ ধ্বনি বা জিহবামূলীয় ধ্বনি – ৫ টি (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) ৪৭। তালব্য ধ্বনি – ৫ টি (চ, ছ, জ, ঝ, ঞ) ৪৮। মূর্ধন্য ধ্বনি – ৫ টি (ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) ৪৯। দন্ত ধ্বনি – ৫ টি (ত, থ, দ, ধ, ন) ৫০। পার্শ্বিক ধ্বনি – ১ টি (ল) ৫১। নাসিক্য ধ্বনি – ৫ টি (ঙ, ঞ, ণ, ন, ম) ৫২। অন্তঃস্থ ধ্বনি – ৪ টি (য, র, ল, ব) ৫৩। তাড়নজাত ধ্বনি – ২টি (ড়, ঢ়) ৫৪। কম্পনজাত ধ্বনি – ১ টি (র) ৫৫। পরাশ্রায়ী ব্যঞ্জণবর্ণ – ৩ টি ৫৬। স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রুপকে বলা হয় – কার ৫৭। ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রুপকে বলা হয় – ফলা ৫৮। নিলীন বর্ণ হচ্ছে – অ ৫৯। বাংলা সন্ধি প্রধানত – ২ প্রকার স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জন সন্ধি ৬০। তৎসম সন্ধি/সংস্কৃত সন্ধি – ৩ প্রকার । যথা: স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জন সন্ধি, বিসর্গ সন্ধি। ৬১। ক্রমবাচক সংখ্যা – ৪ প্রকার ৬২। কারক কত প্রকার? = ৬ প্রকার । কর্তৃকারক, কর্মকারক, করণ, অপাদান, সম্প্রদান, অধিকরণ । ৬৩। সমাস সাধারণত কত প্রকার? = ৬ প্রকার । দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, অব্যয়ীভাব, দ্বিগু, বহুব্রিহি । ৬৪। বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সমাস ৪ প্রকার । যথা: অব্যয়ীভাব, তৎপুরুষীয়, দ্বন্দ্বমূলক, বহুব্রিহিমূলক । ৬৫। বাংলা ভাষায় মৌলিক ধ্বনিগুলো – ২ ভাগে বিভক্ত যথা: স্বরধ্বনি (১১টি) , ব্যঞ্জনধ্বনি (৩৯) । ৬৬। ণ -ত্ব বিধানের নিয়ম = ৪ টি । ৬৭। লিঙ্গ কত প্রকার = ৪ প্রকার । (পুং লিঙ্গ, স্ত্রী লিঙ্গ, উভয় লিঙ্গ ও ক্লীব লিঙ্গ) ৬৮। বচন কত প্রকার? = ২ প্রকার । যথা: একবচন, বহু বচন ৬৯। উপসর্গ কত প্রকার = ৩ প্রকার । খাঁটি বাংলা (২১), তৎসম (২০) ও বিদেশি) ৭০। প্রত্যয় কত প্রকার? = ২ প্রকার । ধাতুপ্রত্যয় বা কৃৎপ্রত্যয় ও তদ্ধিত প্রত্যয় । ৭১। দ্বিরুক্তি কত প্রকার? = ৩ প্রকার । শব্দের দ্বিরুক্তি, পদের দ্বিরুক্তি, অনুকার দ্বিরুক্তি । ৭২। বিভক্তি কত টি? = ৭টি । ৭৩। সমাসের প্রতীতি কয়টি? = ৫টি । যথা: সমস্তপদ , পূর্বপদ , পরপদ , ব্যাসবাক্য ও সমস্যমান পদ । ৭৪। বাক্য প্রধানত কত প্রকার? = ৩ প্রকার । সরল, জটিল বা মিশ্র, যৌগিক । ৭৫। বাক্যের অংশ ২টি > উদ্দেশ্য ও বিধেয়; ৭৬। বাক্যের গুণ ৩টি: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা। ৭৭। অর্থ অনুসারে বাক্য কত প্রকার? ৫ প্রকার ৭৮। উৎপত্তিগত ভাবে শব্দ কত প্রকার? = ৫ প্রকার । তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি । ৭৯। গঠনগত ভাবে শব্দ কত প্রকার? = ২ প্রকার। মৌলিক ও সাধিত । ৮০। অর্থগত ভাবে শব্দ কত প্রকার? = ৩ প্রকার । যৌগিক, রুঢ়, যোগরুঢ় ৮১। কতটি উপায়ে শব্দ গঠন করা যায়? = ৮টি । ৮২। পদ প্রধানত কত প্রকার? = ২ প্রকার । যথা: নামপদ ও ক্রিয়াপদ । ৮৩। নামপদ কত প্রকার? = ৪ প্রকার (বিশেষ্য, বিশেষণ, অব্যয়, সর্বনাম) ৮৪। অব্যয় কত প্রকার? = ৪ প্রকার । (যথা: সমুচ্চয়ী বা সম্বন্ধবাচক, অনন্বয়ী, অনুসর্গ, অনুকার অব্যয়) ৮৫। যতিচিহ্ন কয়টি? = ১২ টি । ৮৬। অক্ষর কত প্রকার? = ২ প্রকার । মুক্তাক্ষর ও বদ্ধাক্ষর ৮৭। বাংলা ছন্দ কত প্রকার? = ৩ প্রকার । যথা: অক্ষরবৃত্ত, স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ৮৮। ব্যাকরণে অলঙ্গকার কত প্রকার? = ২ প্রকার । যথা: শব্দালঙ্কার, অর্থালঙ্কার । ৮৯। ক্রিয়ার কাল কত প্রকার? = ৩ প্রকার । বর্তমান কাল, অতীতকাল, ভবিষ্যৎকাল ৯০। ক্রিয়ার ভাব কত প্রকার? = ৪ প্রকার । নির্দেশক, সাপেক্ষ, আকাঙ্ক্ষা, অনুজ্ঞা

N@Nipa1234

Capital punishment for rape *************************** শিরোনাম: Capital punishment for rape =ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড; But can legislation alone deter rape? =তবে কেবল আইন কি ধর্ষণ ঠেকাতে পারে? Prepared by; Md Mohiuddin *************************** প্রথমে শব্দার্থগুলি জেনে নিই ================== ১। Capital punishment-মৃত্যুদণ্ড; ২। rape-ধর্ষণ; ৩। legislation-আইন; ৪। deter rape-ধর্ষণ বাধা দেওয়া/নিবৃত্ত করা/ঠেকানো; ৫। At last-অবশেষে; ৬। the government has proposed-সরকার প্রস্তাব করেছে; ৭। an amendment -একটি সংশোধনী; ৮। to the current law-বর্তমান /বিদ্যমান আইনের; ৯। related to rape-ধর্ষন সম্পর্কিত/বিষয়ক; ১০। enhancing the level of punishment-শাস্তির মাত্রা বৃদ্ধি করে; ১১। Rape and sexual violence-ধর্ষণ এবং যৌন সহিংসতা; ১২। has assumed -ধরে নেয়া হয়েছে; অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; ১৩। an epidemic proportion-ব্যাপক/মহামারি অংশ; ১৪। The recent horrific gang rape-সম্প্রতি ঘটে যাওয়া লোমহর্ষক সংঘবদ্ধ ধর্ষণ/গণধর্ষণ; ১৫। in Noakhali-নোয়াখালীতে; ১৬। and the one in Sylhet-এবং আরেকটি ঘটনা সিলেটে; ১৭। as well as-এবং; ও; ১৮। innumerable others within a very short period of time-একদম অল্প/স্বল্প সময়ের মধ্যে আরো অসংখ্য ঘটনা; ১৯। has led to public outrage-জনরোষ তৈরি হয়েছে; জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়ছে; ২০। culminating into protests on the streets-সড়কে প্রতিবাদ চরম মাত্রায়; ২১। Culminate into-চরম মাত্রায় পৌছানো; ২২। According to Ain-o-Salish Kendra (ASK)-আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে; ২৩। at least 975 rape cases were reported in the country-দেশে অন্তত ৯৭৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে; ২৪। between January and September 2020-২০২০ সালের জানুয়ারি ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে; ২৫। And that includes 208 gang rapes-এবং ২০৮ টি সংঘবদ্ধ ধর্ষণও রয়েছে; ২৬। in light of public demand-জন দাবির মুখে/আলোকে; ২৭। The government has announced-সরকার ঘোষণা করেছে; ২৮। the death penalty for the crime of rape-ধর্ষণ অপরাধের সাজা/শাস্তি মৃত্যুদণ্ড; ২৯। well intentioned-সদিচ্ছাপ্রণোদিত ৩০। point out-উল্লেখ করা; ৩১। merely changing-শুধু/স্রেফ পরিবর্তন; ৩২। the existing law-বিদ্যমান আইন; ৩৩। or bringing in new legislations-অথবা নতুন আইন আনা; ৩৪। would not automatically stem-স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠেকানো যাবেনা; ৩৫। the plague-মহামারী; উপদ্রব; ৩৬। beset with-বেষ্টন করা; চারদিক থেকে ঘেরাও করা; অবরোধ করা; ৩৭। several aspects-কতিপয় দৃষ্টিভঙ্গি/দিক; ৩৮। cognisant of-জ্ঞাত; অবগত; ৩৯। without addressing-সমাধান ছাড়া; ৪০। would not be possible-সম্ভব হবেনা; ৪১। to prevent rape-ধর্ষণ ঠেকানো; ৪২। the legal, the procedural-আইনগত এবং পদ্ধতিগত; ৪৩। as well as the societal angles-এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ; ৪৪। In so far as the legal aspect-যতদূর/যতটা আইনের বিশেষ অংশে; ৪৫। is concerned-জড়িত; ৪৬। there is unanimity-সর্বসম্মতি রয়েছে; ৪৭। in the demand for defining or redefining rape-ধর্ষণের সংজ্ঞায়ন অথবা পুন:সংজ্ঞায়ন করার দাবিতে; ৪৮। Section 375 of the Bangladesh Penal Code 1860-বাংলাদেশ দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর ৩৭৫ ধারা; ৪৯। anachronistic-সেকেলে; ৫০। the explanation therein-তাতে ব্যাখ্যা; ৫১। We feel that-আমরা মনে করি যে; ৫২। attempting to rape-ধর্ষণের চেষ্টা(ও); ৫৩। should also be considered as rape-ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত; ৫৪। Apart from this-এছাড়াও; ৫৫। laws should be brought in-আইন আনা উচিত; ৫৬। to provide protection -সুরক্ষা দিতে; ৫৭। for not only the victims but also the witnesses-শুধু ভুক্তভোগীর জন্য নয়, সাক্ষীর জন্যও; ৫৮। simplifying the Evidence Act-সাক্ষ্য আইন সহজ করে; ৫৯। related to rape-ধর্ষণ সম্পর্কিত; ৬০। the process of investigation-তদন্ত প্রক্রিয়া; ৬১। more often than not -বেশি ঘন ঘন; বারবার; ৬২। consequently-ফলশ্রুতিতে; ৬৩। irreparably traumatised-অপূরণীয় মানসিক আঘাপ্রাপ্ত; ৬৪। a former Justice of the High Court Division says-হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক/প্রাক্তন একজন বিচারপতি বলেন; ৬৫। There is need for careful drafting-কার্যকর পরিকল্পনা দরকার; ৬৬। coordination of medical and psycho-social responses-চিকিৎসা ও মানসিক-সামাজিক সাড়াদানের সমন্বয়; ৬৭। with legal responses-আইনি সাড়াসহ; আইনি জবাবের সাথে; আইনগত ব্যবস্থাসহ; ৬৮। The second aspect is-দ্বিতীয় দিক হলো; ৬৯। the procedural-পদ্ধতিগত বিষয়; ৭০। delink with the social aspect-সামাজিক দিক/প্রেক্ষাপটে বিচ্ছিন্ন হওয়া; ৭১। because of-কারণে; ৭২। the taboo-নিষিদ্ধ; নিষেধ; ৭৩। the victim-ভুক্তভোগী; ৭৪। subjected to-অধীন; মুখাপেক্ষী; ৭৫। We should ask ourselves-আমাদের নিজেদের কাছে জানতে চাওয়া উচিত; ৭৬। 78 percent of rape victims-৭৮ শতাংশ ধর্ষিতা; ৭৭। chose not to pursue their cases-তাদের মামলা করতে পছন্দ করতো না; ৭৮। even after taking the initial step of seeking medical treatment-এমনকি চিকিৎসা সেবা নেয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরও; ৭৯। This is the data from the government established one stop crisis centres -এটা সরকারের স্থাপিত অন স্টপ ক্রইসিস সেন্টার (ওসিসি)পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্য; ৮০। The fault is in the system-পদ্ধতিতে ভুল আছে; ৮১। despite the appropriate laws-উপযুক্ত আইন সত্ত্বেও; ৮২। Thus-সুতরাং; ৮৩। a need for making the legal procedure and investigation process-আইনি পদ্ধতি ও তদন্ত প্রক্রিয়া তৈরি করার দরকার; ৮৪। more victim friendly-অধিক ভুক্তভোগী/ধর্ষিতা বান্ধব; ৮৫। the onus of proof-প্রমাণের দায়িত্ব; ৮৬। should not be on the rape survivor-ধর্ষিতার(বেচে যাওয়া ধর্ষিতা) ওপর বর্তানো উচিত নয়; ৮৭। Furthermore-তাছাড়া; ৮৮। settlement of rape cases-ধর্ষণ মামলার সমঝোতা; ৮৯। through local arbitration-স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে; ৯০। should be made-করা উচিত (হবে); ৯১। a punishable offence-শাস্তিযোগ্য অপরাধ; ৯২। because of flawed investigation-ত্রুটিপূর্ণ তদন্তের কারণে; ৯৩। political influence and money-রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থ; ৯৪। most of the cases fail to reach convictions-অধিকাংশ মামলা সাজায় পৌছাতে ব্যর্থ; ৯৫। As another NGO report-আরেকটি বেসরকারি প্রতিবেদন মতে; ৯৬। on the incidents of reported rape cases-ঘটে যাওয়া ধর্ষণ মামলার ঘটনার ব্যাপারে; ৯৭। only five people were convicted-মাত্র ৫ জন সাজা পেয়েছে (পেয়েছিল); ৯৮। The reasons are evident-কারণগুলো সুস্পষ্ট; ৯৯। redeem a situation-পরিবেশ/হাল রক্ষা করা/মুক্ত করা; ১০০। effective implementation of law-আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন; ১০১। the prevention of rape-ধর্ষণ নিরোধ; *************************** Prepared by; Md Mohiuddin ******এবার মূল সম্পাদকীয়টি পড়ি********

N@Nipa1234

The United Nations বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক ▶ মাত্র 25 বছরের ব্যবধানে পৃথিবীতে 2 টি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয় ( প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-1914-1918 , দ্বিতীয় বিশ্ব বিশ্বযুদ্ধ- 1939-1945) (1914-1939=25 বছর ) । ▶ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য 1920 সালে গঠিত হয় জাতিপুঞ্জ/ লীগ অফ নেশন্স । বিভিন্ন দেশের স্বার্থ সংঘাতের কারণে সংস্থাটি স্থায়িত্ব লাভ করেনি । ▶ 1939 সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পৃথিবীকে গ্রাস করে এবং আণবিক বোমার বোমার বলি হয় জাপানের দুটি শহর- হিরোশিমা ও নাগাসাকি । ▶ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা দেখে 1941 সাল থেকে বিশ্ব নেত্রীবৃন্দ জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা শুরু করে । ▶তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্টের উদ্যোগে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করে । ▶ 1941 খ্রিস্টাব্দ থেকে 1945 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়সীমাকে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে গণ্য করা যায়। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া বিভিন্ন সনদ ও ঘোষণা... ⏩ আটলান্টিক সনদ: 9 আগস্ট, 1941 ➡ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট (FDR) ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল আমেরিকার নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের কাছে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে 'প্রিন্স অফ ওয়েলস' নামে একটি যুদ্ধজাহাজে পৃথিবীতে স্থায়ী শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যেএকটি আটদফা সুত্র সম্বলিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তিটি ''আটলান্টিক সনদ'' ('Atlantic charter' 1941 ) নামে পরিচিত। ➡আটলান্টিক সনদ মূলত শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে একটি আন্তর্জাতিক সনদ। পৃথিবীর মোট 26 টি দেশ এই আটলান্টিক সনদকে সমর্থন করেছিল। ⏩UN ডিক্লারেশন / ওয়াশিংটন ঘোষণা: 1 জানুয়ারী, 1942 ➡ওয়াশিংটন ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয় । ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিল, সোভিয়ত প্রতিনিধি ম্যাকসিস লিটভিনভ, চীনের প্রতিনিধি টি. ভি. শুং। ⏩ মস্কো সম্মেলন : 19-30 অক্টোবর, 1943 ➡ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য আন্তর্জাতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার জন্য ৭ দফা ঘোষণা করেন। এ সম্মেলন রাশিয়ার মস্কোতে অনুষ্ঠিত হয় ⏩ ডাম্বারটন ওকস্ সম্মেলন : 21-29 আগস্ট, 1944 ➡ওয়াশিংটনের ডাম্বারটন ওকস্ ভবনে জাতিসংঘের রূপরেখা, নিরাপত্তা পরিষদ গঠন ও স্থায়ী সদস্য নির্বাচন এবং সংগঠন (জাতিসংঘ) নামকরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং চীন সম্মেলনে মিলিত হয়। ➡ জাতিসংঘ সনদের খসড়া / ড্রাফট করা হয় ➡এ সম্মেলনেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য ও নির্ধারিত হয়। ⏩ ইয়াল্টা সম্মেলন: 4-11 ফেব্রুয়ারী , 1945 ➡ ইউক্রেনের ইয়াল্টায় ডাম্বারটন সম্মেলনের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত হয়। ৫ টি স্থায়ী সদস্যেকে Veto(আমি মানি না) ক্ষমতা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ⏩ ইয়াল্টা সম্মেলন: 4 - 11 ফেব্রুয়ারী , 1945 ➡ ইউক্রেনের ইয়াল্টায় ডাম্বারটন সম্মেলনের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত হয়। ৫ টি স্থায়ী সদস্যেকে Veto(আমি মানি না) ক্ষমতা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ⏩ সানফ্রান্সিসকো সম্মেলন : 26 জুন, 1945 ➡ ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা ১১১ ধারা সম্মলিত জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষর করেন। ⏩ জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা : 24 অক্টোবর, 1945 ➡1945 সালের 15 অক্টোবর 51 তম দেশ হিসেবে পোল্যান্ড জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষর করে । তাই জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালিন মোট সদস্য সংখ্যা 51 । শুরুতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র 50 ( নবম- দশম শ্রেণীর বোর্ড বই) । ➡1945 সালের 24 অক্টোবর এ সনদ কার্যকরী হয়। 1945 সালের 24 অক্টোবরই জাতিসংঘের জন্মদিন । ▶ বর্তমান সদস্য: 193 ▶ সদর দপ্তর : নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র । ▶ মহাসচিব : প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা ➡ প্রথম মহাসচিব : ট্রিগভেলি( নরওয়ে ), ➡বর্তমান মহাসচিব : আন্তোনিও গুতেরেস (পর্তুগাল) ▶পতাকা : জাতিসংঘের পতাকা হালকা নীল রঙের, মাঝখানে সাদা রঙের বিশ্ব মানচিত্র যার দুই পাশে দুটি জলপাই পাতার ঝাড় দিয়ে বেষ্টিত । ▶ উন্নয়নমূলক সংস্থা: ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, বিশ্ব মানবাধিকার কমিশন, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা । সার্ক, ওআইসি, কমনওয়েলথ কিন্তু জাতিসংঘের উন্নয়নমূলক সংস্থা নয় । ▶ জাতিসংঘের 6 টি সংস্থা বা শাখা রয়েছে । সেগুলো হলো : 1. সাধারণ পরিষদ, 2. নিরাপত্তা পরিষদ, 3. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, 4. অছি পরিষদ, 5. আন্তর্জাতিক আদালত, 6. জাতিসংঘ সচিবালয়.

N@Nipa1234

৪১তম বিসিএস প্রিলি প্রস্তুতি-২০২০, ১ম দিনের সিলেবাসের আলোকে( বাংলা ব্যাকরণ) ০১) ভাষাভাষীর দিক থেকে বাংলার অবস্থান কত ➫ চতুর্থ । ০২) ভাষার মুল উপাদান কি ? ➫ ধ্বনি । ০৩) কোন ভাষা নাটকের সংলাপে অনুপযোগী ? ➫ সাধুভাষা । ০৪) কোন ভাষায় তৎসম শব্দ বহুল ? ➫ সাধুভাষা । ০৫) কোন ভাষায় তদ্বব শব্দ বহুল ? ➫ চলিত ভাষায় । ০৬) বন্য শব্দের চলিত রূপ কোনটি ? ➫ বুনো । ০৭) ভাষার কোন রীতি সহজবোধ্য ও নাটকের সংলাপের উপযোগী ? ➫ চলিত রীতি । ০৮) চন্দ্র , সূর্য , ভবন , নক্ষত্র এগুলো কোন ধরনের শব্দ ? ➫ তৎসম শব্দ । ০৯) হস্ত কোন ধরনের শব্দ ? ➫ সংস্কৃত শব্দ । ১০) কুলা , চোঙা , টোপর , ডিঙ্গা এগুলো কোন ধরনের শব্দ ? ➫ দেশী শব্দ । ১১) রাজা - বাদশা শব্দটি কোন কোন ভাষার সমন্বয়ে গঠিত ? ➫ তৎসম + ফারসি । ১২) খ্রিস্টাব্দ শব্দটি কোন কোন ভাষার সমন্বয়ে গঠিত ? ➫ ইংরেজি + তৎসম । ১৩) চৌহদ্দি শব্দটি কোন কোন ভাষার সমন্বয়ে গঠিত ? ➫ ফারসি + আরবি । ১৪) পকেটমার শব্দটি কোন কোন ভাষার সমন্বয়ে গঠিত ? ➫ ইংরেজি + বাংলা । ১৫) বিভক্তিহীন নাম শব্দকে কি বলে ? ➫ প্রাতিপ্রাদিক ১৬) ধ্বনি নির্দেশক চিহ্নকে কি বলা হয় ? ➫ বর্ণ । ১৭) বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ কয়টি ? ➫ ১১ টি । ১৮) বাংলা বর্ণমালায় ব্যন্জনবর্ণ কয়টি ? ➫ ৩৯ টি । ১৯) দ্বি স্বর বা যুগ্ম স্বরধ্বনি কোনগুলো ? ➫ ঐ , ঔ ( যেমন - অ+ই = অই বা ঐ ) । ২০) স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কি বলে ? ➫ কার । ২১) ব্যন্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কি বলে ? ➫ ফলা । ২২) পরাশ্রয়ী বর্ণ কোনগুলো ? ➫ ং , ঃ , ঁ । ২৩) বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা কয়টি ? ➫ ২৫ টি । ২৪)যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় তাকে কি বলে ? ➫ ঘোষ ধ্বনি (যেমন - গ , ঘ )। ২৫) যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের স্বল্পতা থাকে তাকে কি বলা হয় ? ➫ অল্পপ্রাণ ধ্বনি । ২৬) ‘ ক - বর্গীয় ধ্বনি কোনগুলো ?➫ ক , খ , গ , ঘ , ঙ । ২৭) যে বর্ণ উচ্চারণের সময় আমরা যতক্ষণ খুশি শ্বাস ধরে রাখতে পারি তাকে কি বলে ? ➫ উষ্মধ্বনি বা শিশ ধ্বনি । ২৮) ” হ ” কোন ধরনের ধ্বনি ? ➫ ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি । ২৯) কম্পনজাত ধ্বনি কোনটি ? ➫ র । ৩০) পাশ্বিক ধ্বনি কোনটি ? ➫ ল । ৩১) তাড়নজাত ধ্বনি কোনটি ? ➫ ড় , ঢ় । ৩২) আজি > অাইজি এটি কিসের উদাহরণ ? ➫ অপিনিহিতি । ৩৩) শব্দের মধ্যে দুটি ব্যন্জনের পরপর পরিবর্তন ঘটলে তাকে কি বলে ? ➫ ধ্বনি বিপর্যয় । ৩৪) পদের মধ্যে কোন ব্যন্জন ধ্বনি লোপ পেলে তখন তাকে কি বলে ? ➫ অন্তর্হতি । ৩৫) পরের ই - কার বা উ - কার আগে উচ্চরিত হলে তাকে কি বলে ? ➫ অপিনিহিতি । ৩৬) গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ - হ্ন = হ + ন , হ্ম = হ + ম , ক্ষ = ক + ষ , জ্ঞ = জ + ঞ । ৩৭) মূধর্ণ্য - ণ এর ব্যবহার নেই কোন ভাষায় ? ➫ বাংলা ভাষায় । ৩৮) মূধর্ণ্য ধ্বনি ব্যবহৃত হয় কোন শব্দে ? ➫ তৎসম শব্দে । ৩৯) ঋ , র , ষ এ পরে কি বসে ? ➫ মূধর্ণ্য - ণ । ৪০ ) ইন্দো - ইউরোপিয়ান ভাষার প্রধান দুটি অংশ কি কি ? ➫ কেন্তুম ও শতম । ৪১ ) কৃত্তিমতা বর্জিত ও পরিবর্তসশীল কোন ভাষা ? ➫ চলিত ভাষা । ৪২) বাংলা ভাষার রূপ কয়টি ? ➫ ২ টি ( সাধু ও চলিত ) । ৪৩) ♦♦একনজরেঃপার্ট-০১ ১.ভাষার মূল উপাদান > ধ্বনি ২. ভাষার ক্ষুদ্র একক> ধ্বনি । ৩. ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন > বর্ণ ৪. ভাষার ইট বলা হয় > বর্ণ ৫. ভাষার মূল উপকরণ > বাক্য ৬. ভাষার মুখ্য উপাদান> শব্দ ৭. বাক্যের একক> শব্দ ৮. বাক্যের মৌলিক উপাদান> শব্দ ৯. ভাষার স্বর বলা হয় > ধ্বনি ১০. ভাষার বৃহত্তম একক > বাক্য ১১. ভাষার ছাদ বলা হয় > বাক্য ♦♦একনজরেঃপার্ট-০২ ১.পরাশ্রযূীবর্ণ>>> ং, :, ঁ ২. যৌগিক স্বরধ্বনি> ২৫টি ৩. মৌলিক স্বর ধ্বনি> ৭টি ৪.অল্পপ্রাণ ধ্বনি> ১ম ও ৩য় বর্ণ ৫. মহাপ্রাণ ধ্বনি> ২য় ও ৪র্থ বর্ণ ৬. অঘোষ ধ্বনি> ১ম ও ২য় বর্ণ ৭. ঘোষ ধ্বনি> ৩য় ও ৪র্থ বর্ণ ৮.যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ> ঐ, ঔ ৯. উষ্ম বর্ণ> শ, স, ষ ১০.প্বার্শিক ধ্বনি> ল ১১. তাড়ন জান ধ্বনি> ড়, ঢ় ১২. বাংলায় ফলা> ৫টি ১৩. কম্পন জান বর্ণ> র ১৪. অন্তস্থ বর্ণ> য, ব ১৫.কেন্দ্রীয় স্বরবর্ণ> আ ♦সেলফ টেস্ট♦♦পার্ট-০৩ঃ ১। ভাষার মূল উপাদান কী? ক. অক্ষর খ. ধ্বনি গ. বর্ণ ঘ. শব্দ ২। ধ্বনির সৃষ্টি হয় কিসের সাহায্যে? ক. সাউন্ড বক্সের দ্বারা খ. ঠোঁটের সাহায্যে গ. বাগ্যন্ত্রের দ্বারা ঘ. মুখবিবরের সাহায্যে ৩। ধ্বনি উচ্চারণের উত্স কোনটি? ক. কণ্ঠ খ. শ্বাসনালি গ. স্বরতন্ত্রী ঘ. ফুসফুস ৪। ধ্বনি উত্পাদনের ক্ষেত্রে মুখবিবরে উচ্চারণের মূল উপকরণ বা উচ্চারক হলো— ক. ফুসফুস ও ওষ্ঠ্য খ. দাঁতের পাটি ও আলজিব গ. জিহ্বা ও ওষ্ঠ্য ঘ. নরম তালু ও জিহ্বা ৫। ধ্বনি কিসের দ্বারা সৃষ্টি হয়? ক. ফুসফুস খ. জিহ্বা গ. বাগ্যন্ত্র ঘ. কণ্ঠধ্বনি ৬। কোন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস তাড়িত বাতাস মুখবিবরের কোথাও না কোথাও বাধা পায়? ক. কণ্ঠধ্বনি খ. স্বরধ্বনি গ. ব্যঞ্জনধ্বনি ঘ. ইংরেজি ধ্বনি ৭। ধ্বনি নির্দেশক চিহ্নকে কী বলে? ক. অক্ষর খ. বর্ণ গ. বর্ণমালা ঘ. চিহ্ন ৮। ‘ক্’ ধ্বনিকে ‘ক’ অক্ষর বলতে চাইলে কোন ধ্বনি যোগ করে নিতে হয়? ক. স্বরধ্বনি খ. ব্যঞ্জনধ্বনি গ. ‘অ’ ধ্বনি ঘ. ‘আ’ ধ্বনি ৯। যেকোনো ভাষায় ব্যবহূত বর্ণসমষ্টিকে সে ভাষার কী বলে? ক. বর্ণ খ. বর্ণমালা গ. ব্যঞ্জনবর্ণ ঘ. স্বরবর্ণ ১০। Symbol অর্থ কী? ক. প্রতীক খ. শব্দ গ. বাক্য ঘ. বর্ণ ১১। বাংলা বর্ণমালার উত্স কী? ক. সংস্কৃতলিপি খ. ব্রাহ্মীলিপি গ. তিব্বতীলিপি ঘ. দেবনাগরীলিপি ১২। বাংলা ভাষায় মাত্রাহীন বর্ণ কয়টি? ক. ৭টি খ. ৮টি গ. ১০টি ঘ. ৯টি ১৩। অর্ধমাত্রাযুক্ত স্বরবর্ণ কতটি? ক. ৪টি খ. ৬টি গ. ১টি ঘ. ২টি ১৪। বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি? ক. ৭টি খ. ৬টি গ. ৫টি ঘ. ৪টি ১৫। বাংলা বর্ণমালায় মোট কতটি সরল বা অসংযুক্ত বর্ণ আছে? ক. ১১টি খ. ৩৯টি গ. ৪৯টি ঘ. ৫০টি ১৬। বাংলা বর্ণমালায় ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা কতটি? ক. ১৩টি খ. ১১টি গ. ৪৯টি ঘ. ৩৯টি ১৭। স্বরবর্ণের পূর্ণরূপ লেখা হয় কখন? ক. স্বরধ্বনি যখন ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয় খ. স্বরবর্ণ যখন স্বাধীন বা নিরপেক্ষভাবে ব্যবহূত হয় গ. ব্যঞ্জনবর্ণের আগে ব্যবহূত হলে ঘ. ব্যঞ্জনবর্ণের পরে ব্যবহূত হলে ১৮। স্বরবর্ণের প্রাথমিক রূপ কাকে বলে? ক. স্বরবর্ণের স্বাধীন ব্যবহারকে খ. শব্দের আদিতে স্বরবর্ণের ব্যবহারকে গ. সংক্ষিপ্ত আকারে স্বরবর্ণের ব্যবহারকে ঘ. যুক্তবর্ণের ব্যবহারকে ১৯। স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কী বলে? ক. আ-কার খ. ই-কার গ. ঈ-কার ঘ. কার ২০। স্বরবর্ণ সংক্ষিপ্তাকারে ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে তাকে কী বলে? ক. ফলা খ. কার গ. রেখা ঘ. যুক্তবর্ণ ২১। যেসব ব্যঞ্জনবর্ণে স্বরধ্বনি সংযুক্ত হয় না, তাকে বলে— ক. উষ্মধ্বনি খ. অল্পপ্রাণ ধ্বনি গ. অন্তঃস্ত ধ্বনি ঘ. হসন্ত ধ্বনি ২২। ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কী বলা হয়? ক. কার খ. ফলা গ. মাত্রা ঘ. কষি ২৩। বাংলা বর্ণমালায় ফলা কয়টি? ক. ৫টি খ. ৮টি গ. ১০টি ঘ. ১১টি ২৪। শরীরের কোন অঙ্গটিকে ধ্বনি তৈরির যন্ত্র বলা হয়? ক. ঠোঁট খ. ফুসফুস গ. দাঁত ঘ. জিহ্বা ২৫। Phoneme অর্থ কী? ক. ধ্বনিমূল খ. শব্দমূল গ. বাক্যমূল ঘ. পদমূল ২৬। প-বর্গীয় ধ্বনিগুলোর উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী নাম কী? ক. কণ্ঠধ্বনি খ. তালব্য ধ্বনি গ. মূর্ধন্য ধ্বনি ঘ. ওষ্ঠ্য ধ্বনি ২৭। এক অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ সব সময়— ক. হ্রস্ব হয় খ. দীর্ঘ হয় গ. হ্রস্ব হয় না ঘ. দীর্ঘ হয় না ২৮। পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয়—এরূপ স্বরধ্বনিকে কী বলে? ক. মৌলিক স্বর খ. যৌগিক স্বর গ. সাধিত স্বর ঘ. অল্প স্বর ২৯। বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা কয়টি? ক. ১১টি খ. ২৫টি গ. ৪০টি ঘ. ৫০

N@Nipa1234

Celebrity রেডি হয়ে বাইরে বেরুতে যাবো, বউ বললো কোথায় যাবে? আমি বললাম, বইমেলায় একটা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে যাবো, বিশাল একজন সেলিব্রিটির বই বের হচ্ছে, আমাকে থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ করেছে! বউ তাচ্ছিল্য করে বললো, বাহ! আজকাল দেখছি তুমি নিজেও বড় মাপের সেলিব্রিটি হয়ে যাচ্ছো,তোমাকেও সেলিব্রিটিরা আমন্ত্রণ জানায়! হাউ ফানি, জরিনার নানি! ওগো, যাওয়ার আগে আমাকে একটা অটোগ্রাফ দিয়ে যাও!! উপহাস করছো? আফসোস! আমার মতো গুনীজনকে চিনতে পারলে না,যেদিন সত্যি সত্যি বড়ো মাপের সেলিব্রিটি হয়ে যাবো, সেদিন বুঝবে আমি কী চিজ। লাইন দিয়েও আমার অটোগ্রাফ পাবে না, অবশ্য তোমার মতো থার্ডক্লাশ আদমিকে অটোগ্রাফ দিবো কিনা সেইটা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে! সেলিব্রিটি লোকজন আমাকে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায়, এইটা কী সোজা কথা? কত হাতি ঘোড়া গেল তল, হানিফ ওয়াহিদ কয় কত জল! আচ্ছা ঠিক আছে, তখন দেখা যাবে, এখন বাজারে দৌড় দাও,বাসায় কাঁচা বাজার কিছুই নাই, ফ্রীজ একেবারে ফকফকা! বাজার আনলে তারপর রান্না করতে হবে। ছিঃ! মূর্খ মহিলার মতো কথা বলবে না, কই যাচ্ছি সেলিব্রিটির বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে,আমাকে সাজিয়ে গুছিয়ে দিবে, তা না, কাঁচা বাজারের ব্যাগ ধরিয়ে দিচ্ছে! তোমাদের মতো বউদের কারনেই স্বামী বেচারাদের কোন উন্নতি হলো না! আমি এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি!! যতোই তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাও, বাজার না আনলে দুপুরের খাবার বন্ধ। বাজার করে দিয়ে তারপর যাও। তুমি কি প্রধান অতিথি? তাহলে তো দেরি করে গেলেও সমস্যা নাই। প্রধান অতিথিকে যে কোন অনুষ্ঠানে দেরি করে যেতে হয়,এটাই নিয়ম!! খাবার বন্ধের হুমকি দিয়ে তুমি আমাকে সাহিত্য চর্চা থেকে আঁটকে রাখতে পারবে না। আমার মতো মানুষ পৃথিবীতে আসে, জ্ঞানার্জনের জন্য, বউয়ের হুকুম পালনের জন্য নয়! চললাম। জি জাঁহাপনা! তবে দুপুরের খাবার বন্ধ, এইটা যেন মনে থাকে! আমি নতুন জামাকাপড় পরে দামী সেন্ট মেখে নাকেমুখে সামান্য কিছু খেয়ে দৌড় শুরু করলাম। সেলিব্রিটির অনুষ্ঠান বলে কথা! বউয়ের কথায় পাত্তা দিলে চলবে? গতবছর বইমেলার ঘটনা। বিটিভিতে বহু বছর আগে "জানা অজানা" নামে একটা শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান হতো। সেই অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করতেন যে ভদ্রলোক, তার নামটা ছিল বোধ হয় আনিসুজ্জামান। উনি একজন নামকরা কবি। এখন তিনি ভয়েস অব আমেরিকায় চাকরি করেন।বাতিঘর থেকে তার একটা কবিতার বই বের হয়েছে। উনার সাথে কথা বলার সময় ভদ্রলোকের সাথে পরিচয়। উনি আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড। দেখে চিনতে পারলেন। কথায় কথায় জানলাম, আগামী কাল সকালে উনার একটা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হবে মুক্ত মঞ্চে। আমি উপস্থিত হলে উনি ভীষণ খুশি হবেন। তিনি আমার লেখা আগ্রহ নিয়ে পড়েন। ফিরে আসার সময় তিনি তার একটা কার্ড দিয়ে দিলেন। ফেসবুকে উনার লেখা আমি দেখেছি। দুই-চার লাইন লিখেন,এতেই বহু লাইক কমেন্ট পড়ে যায়।বেশির ভাগ লেখা বানী নির্ভর। উনার বেশির ভাগ ভক্ত মেয়েরা। পরের দিন সকালেও তিনি আমাকে নক করলেন উপস্থিত হওয়ার জন্য। বউয়ের হুমকিধামকি উপেক্ষা করে, ধুলাবালি সহ্য করে, গাড়ির প্যা পো হর্ন শুনতে শুনতে, অসহ্য জ্যামে আঁটকে পড়ে ঘামে ভেজা শার্ট নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলাম। ততক্ষণে অনুষ্ঠান প্রায় শেষ হয়ে গেছে। ভদ্রলোক নারী বেষ্টিত হয়ে আছেন। নারী ভক্তদের সাথে গল্প করছেন, অটোগ্রাফ দিচ্ছেন। আমাকে দেখে একটা শুকনো হাসি দিয়ে আবার নারী ভক্তদের সাথে কথা বলতে লাগলেন। আমি হ্যাবলা কান্তের মতো দাঁড়িয়ে রইলাম। লক্ষ্য করলাম, আমার মতো আরও কিছু আবুল দাঁড়িয়ে থেকে মজা দেখছে! নারী ভক্তদের সাথে উনার কথা শেষ হচ্ছে না,আমি অপেক্ষা করছি, উনার সাথে একটু সৌজন্য দেখিয়ে চলে আসবো। নারীদেরকে এমন সুন্দর করে তিনি আপু আপু করছেন, যেন তিনি পাঁচ বছরের বালক, আপুদের ছাড়া তিনি অসহায় এবং আপুরা না থাকলে উনি বইমেলা থেকে হারিয়ে যেতে পারেন! অথচ উনার মাথায় বিশাল একটা টাক!! একজন সুন্দরী মহিলা লেখক সাহেবকে বললেন, ভাইয়া,আমাদেরকে চা খাওয়াতে হবে। লেখক সাহেব নিশ্চয়ই আপু,নিশ্চয়ই আপু, বলতে বলতে চললেন চা খাওয়াতে। আমরা হাঁদারাম গাধা হয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলাম!! ফিরে আসার সময় দেখলাম লেখক সাহেব চা খাচ্ছেন আর খোশগল্প করছেন। আমাকে দেখে বললেন, ভাইজান, চা খাবেন? রাগে আমার গা জ্বলে যাচ্ছে। আমি বললাম, জি না ভাই, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বউ আমাকে আদর করে দুধ চা খাইয়ে তারপর আদা চা খাইয়ে দিয়েছে! এসেছেন যখন একটা বই কিনে নিয়ে যাবেন। একজন সুন্দরী মহিলা একটা বই আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, নিশ্চয়, নিশ্চয়! ভাইয়া তো বই কিনতেই এসেছেন! ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধও উপেক্ষা করা যায় কিন্তু সুন্দরী মেয়েদের অনুরোধ ফেলা যায় না। আমি মানিব্যাগ বের করে দুইশো চল্লিশ টাকা সুন্দরী মহিলার হাতে ধরিয়ে দিলাম!! লেখক সাহেব উঠে এসে বইয়ের অটোগ্রাফে লিখলেন, হানিফ ওয়াহিদ সাহেব আমার পছন্দের এবং প্রিয় একজন মানুষ। আমি উনার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করি! আমি মনে মনে বললাম, হারামজাদা, তুই তো মোটেই ভালমানুষ নস। কীভাবে মানুষের সাথে ব্যবহার করতে হয় তা শিখিস নি! আমি তোর অমঙ্গল কামনা করি!! খুলে দেখি কবিতার বই! আমি আমার সারাজীবনে একটাও কবিতার বই কিনিনি। কেননা আমি কবিতা বুঝি না। বোমা মারলেও আমার পেট থেকে একটা কবিতা বের হবে না। একজন একটা কবিতার বই আমাকে উপহার দিয়েছিল, আমি পড়ে দেখিনি। লেখক হচ্ছেন, আমাদের জাতীয় কাকু হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ। ক্ষমতায় থাকতে কাকুর কবিতা লেখার শখ হয়েছিল। কিন্তু বিদিশার কারনে কাকু দিশা হারিয়ে কবিতা লেখা ছেড়ে দেন!! রাস্তা দিয়ে হাঁটছি আর ভাবছি, আমি থাকি কেরানীগঞ্জ। কেরানীগঞ্জ থেকে পোস্তগোলা আসতে সিএনজি ভাড়া লেগেছে একশো টাকা। পোস্তগোলা থেকে বইমেলা আসতে সিএনজি ভাড়া লেগেছে আড়াইশ টাকা। মোট হলো সাড়ে তিনশো। ফিরে যেতেও লাগবে সাড়ে তিনশো। বই কিনলাম দুই,শো চল্লিশ টাকা দিয়ে। হাজার টাকা খসে গেল। লাভ কী হলো? এরচেয়ে ব্লকবাস্টারে গিয়ে একটা মুভি দেখলে কাজ হতো। অবশ্য লাভ একটা হয়েছে, দুপুরে না খেয়ে থাকতে হতে পারে! সেই সাথে বউয়ের গালি তো ফ্রী থাকছেই!! সেদিনই কানে ধরে প্রতিজ্ঞা করেছি, সবসময় সেলিব্রিটি লোকজন থেকে আড়াইশো মাইল দূরে থাকবো!!

N@Nipa1234

Helpless mother একজন অসহায় 'মা' বাসের সীটে বসে নিরুপায় ভাবে ডানে বামে তাকাচ্ছেন! সে-যে কি ছটফটানি!!! . কিছুক্ষণ আগেও কোলের শিশুটি শান্ত ছিল। ছোট ছোট হাতে 'চিপ্স' চটকে মুখে মাখাচ্ছিলো। হঠাৎ হালকা কাশি শুরু হয়েগেলে শিশুটির মা দ্রুত পানি বের করতে উনার সীটের নীচে রাখা বেশ বড় সর ব্যাগটি কোনভাবে টেনেটুনে সামনের দিকে আনেন। কিন্তু ব্যাগের 'চেইন' এ ঘটলো বিপত্তি! কোনভাবেই নিচু হয়ে খুলতে পারছেন না, আর পানি বের করতেও পারছেন না। একেতে কোলে ছোট্ট শিশু তার উপর সহী সুন্নত মোতাবেক একজন পর্দা করা নারীর পক্ষে বেশ খানিক টা কঠিনই শিশু সহ নীচু হয়ে এই অল্প যায়গার ভেতর নাড়াচাড়া করে কিছু করা। তার উপর যদি পাশে অপরিচিত একজন পুরুষ মানুষ বসে থাকে!!! . তখন সকাল ৮ টা বেজে ৪৯ মিনিট, হালুয়াঘাট যাওয়ার উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহের ব্রীজ মোড় থেকে বাসে উঠেছি। প্রথম দিকের বাস তার উপর আজ শুক্রবার। ঢাকা থেকেই প্রায় পূর্ণ হয়ে এসেছে বাসটি। কিছু যাত্রী ব্রীজ মোড় নেমে যাওয়ার পর সীট ফাঁকা আছে কি না বাসের 'হেল্পার' মামাকে জিজ্ঞেস করে উঠে দেখি একদম শেষ সারির সামনে বিভক্ত হওয়া উভয় পাশে দুটি দুটি আসন খালি। কি আর করা আমার জরুরী তার উপর প্রচন্ড ভীড়, পবিত্র জুমার দিন। পেছনে বসেই আজ চলে যাই, এই ভেবে ডান পাশের দুটির একটিতে বসে গেলাম। আমার সাথেই আরেক জন বসতে চাইলো, উনি জানালেন উনি জানালার পাশে বসতে চান- উনার বমির সমস্যা আছে। আমি উনাকে জানালার পাশে বসতে দিয়ে আমি এপাশে বসলাম। তো আমার ডান পাশের কলামের দুটি আসনে আরেকজন পুরুষ জানালার পাশে বসেছেন। কিছুক্ষণ পর একজন আপাদমস্তক ঢাকা 'মা' একটি বাচ্চা শিশু সহ আসলেন। পেছনে পেছনে একজন দাঁড়ি পাঞ্জাবি পরা ভদ্রলোক - যার হাতে একটি বড় ব্যাগ। উনি আমার দু-তিন সীট সামনের একজন পুরুষকে অনুরোধ করলেন যেন উনি পেছনে চলে আসেন আর উনার সীট এই মহিলা(মা) বসতে পারেন। তাহলে মহিলা মহিলার সাথে বসতে পারবেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় আমার দু'তিন সীট সামনের পুরুষ রাজি হন নি পেছনে আসতে!!! কিছু উপায় না দেখে পাঞ্জাবি পরা ভদ্রলোক লোকটি আমার পাশের কলামের ওই ফাঁকা সীটেই উনাকে বসালেন পায়ের কাছে ব্যাগটি রেখে কিছু কথাবার্তা বলে বিদায় নিলেন। এতক্ষণে বাস পুরো ঠাসা মানুষজনে!!! . যাইহোক, ওই মা'য়ের এমন অসহায় ভাবে ব্যাগ টানাটানি দেখে আমি নীচু হয়ে ব্যাগটি টান দিয়ে মেঝের দিকে নিয়ে বললাম কোন 'পার্ট' খুলবো? উনি হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে দেখালেন। আমি খুলে পানির একটা 'পট' বের করে উনার হাতে দিয়ে 'চেইন' আটকে ব্যাগটি রেখে দিলাম। বাচ্চা শিশুটি পানি পান করলো। ওই মহিলার পাশে থাকা লোকটি দিব্যি ফোন চাপাচাপি করছেন ফুল ভলিউম এ কিসের যেন ভিডিও দেখছেন!! অথচ উনি একটু 'হেল্প' করতে পারতেন। উনার যায়গা থেকে ওটা আরো বেশি 'ইজি' হতো!! . কিছুটা সময় পার হয়ে গেছে। কিছুটা পথ চলে এসেছি। পেছনের সীটে বসলে বরাবর ই আমার 'আরব বেদুঈনদের' কথা মনে পরে! আর যদি রাস্তার অবস্থা থাকে বেশামাল তাহলে তো কথাই নেই!!! নিজেকে উটের পিঠে আরোহনকারী মনে হয়। যদিও উটে চড়া হয় নি এখনো!! . আমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি অনেকটা বিরক্তি নিয়ে। প্রচন্ড রোদ উঠেছে আর আমাদের জানালা দিয়েই ঢুকছে সাথে জানালাটাও খোলা তাই ঢুকছে ধুলো! জানালার পাশে পর্দা বাঁধা থাকে কিন্তু এই জানালায় নেই!! আমার পাশের লোকটি দিব্যি ঘুমোচ্ছেন, যাক তাও ভাল বমির সমস্যাটি হচ্ছে না উনার ঘুমের কারণে। তীব্র রোদ উনার মুখে পরছে। এমন সময় প্রচন্ড কান্নার শব্দ! হ্যাঁ ওই শিশুটি প্রচন্ড কান্না করছে, কোনভাবে 'মা' নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। শিশু বাচ্চাটির সম্ভবত ক্ষুধা লেগেছে তাই তার মা'কে এভাবে বার বার অস্থির করে তুলে কান্না করছে। আমি একবার ওদিকে তাকালাম। তাকিয়ে দেখি ওই 'মা' খুব অসহায় ভাবে এপাশে ওপাশে তাকাচ্ছেন, লজ্জায় কাচুমাচু হচ্ছেন এবং খুব অস্থির হয়ে পরেছেন এটি স্পষ্ট!! কি করবেন উনি বুঝতে পারছেন না, আমি কিছু বলব কি না দোটানায় আছি, কি-ই বা বলবো!!?!! এতক্ষণে আমার পাশের লোকটির ঘুম ভেঙে গেছে। উনি জিজ্ঞেস করে বসলেন একটু বিরক্তি নিয়েই 'এত কাঁদছে কেন!?? এবার 'মা'য়ের মুখ থেকে আওয়াজ এলো। কাঁপা গলায় বললেন- 'ক্ষিদা লাগছে তো তাই কানতাছে ' এইটুকু বলেই শিশুটিকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন - ' বাবা বাবা, এইযে আয়া পরছি। কাইন্দো না কাইন্দো না বাবা...' কিন্তু কোলের অবুঝ শিশুকে বুঝ দেয়া যায়?!! বোঝের পরিণত মানুষ-ই আমরা যেখানে অনেক সময়ই বুঝতে চাই না কত শত ব্যাপার! আর সেখানে দুধের অবুঝ শিশু!!! . কিছুক্ষণ চুপ করেই ছিলাম কেননা কি করতে পারি আমি ?!- কিছুই না। শিশুটির কান্না থামছেই না। হঠাৎ মনে হলো অসহায় মা'য়ের জন্য কিছু করা অবশ্যই দরকার!! এতক্ষণে আমার পাশের সীটের লোকটি নেমে গেছেন। বাসও কিছু টা ভীড় মুক্ত যদিও ম্যাক্সিমাম সীট এই লোক বসা। বাসের ' কন্ট্রাক্টর' মামাকে ডাক দিলাম জিজ্ঞেস করলাম - সামনেদিকে তিন-চারজনের মত যায়গা হবে?? উনি হ্যাঁ বললেন কিন্তু জানালেন ড্রাইভার এর পাশের ডালাউ যে সীট ওখানে বসা লাগবে। আমি বললাম ঠিক আছে। আমি উঠে দাঁড়িয়ে আমার পেছনে (বাসের শেষ সারির) লোকদের বললাম ভাই এখান থেকে দু'জন আমার সীটে এসে বসুন। আর আপ্নারা তিন জন দয়াকরে কিছু সময়ের জন্য হলেও সামনের দিকে একটু গিয়ে বসুন। এই শিশুটিকে নিয়ে ওর মা পেছনের সীটে বসুক। এরচেয়ে বেশি কিছু বলতে হয় নি সবাই বুঝে নিয়েছে বিষয়টি। শিশুর মা' কোনো আপত্তি করেন নি। আমার কথা বলার সাথে সাথে আমার পেছনের একজন ভাই দাঁড়িয়ে গেলেন বের হতে হতে বললেন ঠিক বলেছেন ভাই। উনিও বাকিদের অনুরোধ করলেন আসেন ভাই। ধীরে ধীরে সবাই সামনের দিকে চলে গেলো। এতক্ষণ যে দু'জন মুরব্বী পেছন থেকে বাচ্চার কান্নার থামানোর নানান পরামর্শ দিচ্ছিলেন উনারাও উঠে গেলেন আর যাওয়া আগে বলে বলে গেলেন ভবিষ্যতে যেন এভাবে একা না মহিলাটি(মা) বের না হন। সাথে যেন কেউ থাকে ইত্যাদি ইত্যাদি বলে চলে গেলেন সামনের দিকে। আমিও সামনের দিকে এসে বাসের দরজার দিকে এসে দাঁড়িয়েছি। এতক্ষণে শিশুটি তার মা'কে নিয়ে পেছনের ফাঁকা সীটে চলে গেছে। কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমরাও প্রায় আমাদের গন্তব্যের কাছাকাছি এগোচ্ছি। ' কন্ট্রাক্টর ' মামাকে বলে দিয়েছি আপাতত বাসের পেছনের দিকে কাউকে না যেতে। উনি খুব-ই ভদ্র ভাবে বিষয়টি মেনে নিয়েছেন এবং আস্বস্ত করেছেন কেউ না যাওয়ার ব্যাপারে। অসহায় মা'য়ের কোলে শান্ত শিশুটিকে নিয়ে এগোচ্ছে বাস। . #আমরা_চাইলেই_সম্ভব_অনেক_কিছু #কিছু_নিকৃষ্টের_জন্য_সবাই_দোষী_নয়

N@Nipa1234

শৈশব ছেলেবেলায় সকাল সকাল মা উঠে তেল মিশিয়ে আটার কাঁই করতেন। আমরা ভাই বোনেরা সবেমাত্র আড়মোড়া ভেঙে তড়িঘড়ি স্কুলের জন্য তৈরী হতে শুরু করেছি। ততক্ষনে রান্নাঘর থেকে শোবার ঘরে মার গলা ভেসে আসতো। "নাস্তা খাবিনা তোরা? স্কুলের ভ্যান এসে পড়বে তো" চুলার পাশেই ভাই বোনেরা সব বাঁশের মোড়া পেতে বসতাম। মা লোহার তাওয়ায় চারকোনা পরোটা মেলে দিতেন। চামচে করে তেল ছিটিয়ে দিতেন পরোটার চারপাশে। কখনো সখনো আবার বয়াম থেকে ছোট টুকরো করে কেটে রাখা ডালডায় কড়া করে ভেজে নিতেন। ডালডার আরেক নাম হচ্ছে বনস্পতি। আমাদের নাসারন্ধ্রে এসে সে সুবাস তখন পেটের ভেতর ধুন্ধুমার বাঁধিয়ে দিয়েছে। লম্বা হাতল ওয়ালা খুন্তি দিয়ে আরেক পাশ উল্টে দিতেই গ্যাস বেলুনের মতন ফুলে ঢোল হয়ে যেতো একেকটা পরোটা। সোনালী বাদামী রঙের গরম গরম পরোটা প্লেটে দিতেই ছোট ভাই বায়না শুরু করে দিতো। " মা একটু চিনি দাও না" মা প্লেটের একপাশে চা চামচে করে চিনি দিতেন। ওপরে মচমচে অথচ ভেতরে মোলায়েম পরোটা আঙুল দিয়ে ছিঁড়ে চিনি মিশিয়ে মুখে পুরে দিতাম একেকজন। পাশ থেকে দেখতাম মা আঁচলে ঘাম মুছছেন। চুলার পাশে সেই সকাল থেকে বসে। তবুও যেন ক্লান্তি স্পর্শ করেনা তাকে। অনুরোধ করে বলতেন, " আলু ভাজি নে একটু" খাবোনা বলে আপত্তি তুললেই জোর করে মুখে ভরে দিতেন। বাধ্য হয়ে প্রবল অনিচ্ছায় গিলে নিতাম। বলতেন, " আলু খেলে শক্তি হয় জানিস, টিফিনও তো ঠিকমতো খাস না তোরা" আস্ত একটা পরোটা খেয়ে শেষ করতেই সদর দরজা থেকে স্কুল ভ্যানের ক্রিং ক্রিং ধ্বনি কানে আসতো। শুকনো পরোটা খেয়ে জগ থেকে ঢগঢগ করে পানি খেতে খেতেই দেখতাম মা ব্যাগে টিফিন ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু তখন ও যেতাম না স্কুলে। আরো মিনিট দুয়েক ট্যাঁ ট্যাঁ করে ঘুরতাম তার পিছন পিছন। " ও মা দুই টাকা দাও না" "মা বলতেন, ওই তো টিফিন দিলাম, টাকা নেয়া ভালো না কিন্তু" " আজ দাও শেষবার, আর একদিনও চাইবো না" শেষে বিরক্ত হয়ে ভ্রু কুঁচকে দোয়েল পাখি আঁকা চকচকে দুই টাকার নোট গছিয়ে দিতেন হাতে। এরপর এক দৌড়ে সোজা স্কুলের ভ্যানে গিয়ে উঠতাম। উঠেই পাশে বসা প্রিয় বন্ধুটিকে বলতাম, " বুট মামা আজ আসবে তো? আজ জমিয়ে ছোলা বুট আর লাঠি লজেন্স খাবো, তুই ক'টাকা এনেছিস রে?" পাশে থাকা বন্ধুটিও ব্যাগের পকেট থেকে নতুন কড়কড়ে নোট বের করতো। দেখতাম সেখানেও একটা দোয়েল পাখি আঁকা। শৈশবের সেই দু'টাকার নির্ভেজাল আনন্দ এখন লক্ষ কোটি টাকায়ও মেলা অসম্ভব। এমন টুকরো টুকরো অসংখ্য শৈশব স্মৃতি নিয়েই আমরা দিব্যি পার করে দিচ্ছি জীবনের করাল সময়। এই তো জীবন। "শৈশব

N@Nipa1234

Vocabulary_71:#ADEPT Word-71#Adept (adj) -সুদক্ষ, পারদর্শী #Synonyms Expert - সুদক্ষ; অভিজ্ঞ Skillful - দক্ষ, পটু Adroit- দক্ষ, নিপুন Clever- চালাক, চতুর, দক্ষ Dexterous - দক্ষ, হাতের কাজে পারদর্শী Competent - উপযুক্ত, সক্ষম, দক্ষ Capable - সক্ষম, শক্তিমান, দক্ষ Able - কোন কিছু করতে সমর্থ/সক্ষম Deft- পটু, দক্ষ #Antonyms Inexpert - অদক্ষ, অনভিজ্ঞ Clumsy - কদাকার, আনাড়ি, অপটু Inept - অপটু, অযােগ্য Unfit - অযােগ্য, অনুপযুক্ত Maladroit - অনিপুন, অদক্ষ, জবুথবু Bungling - অনৈপুণ্য, ভুল #Example 1- He's adept in several languages. 2- he's an adept pitcher, and the team is lucky to have him. 3- The Angels exploited center-fielder Bernie Williams's weak throwing arm in the division series against the Yankees and are adept at scampering from first to third on hits to the outfield. — Jack Curry, New York Times, 20 Oct. 2002 #Mostafizar_Moshtak

N@Nipa1234

মৃত্যুদন্ড # কোটের বাইরে গেটের সামনে আমার নিঃশর্ত মুক্তির জন্য কয়েকশো মানুষ ভিড় করেছে। আমি বুঝতে পারছিনা এরা কেন আমাকে বাঁচাতে চাইছে! আমি তো বাঁচতে চাইনা। যে পৃথিবীর বুকে আমার ছোট্ট মেয়ের জায়গা হল না সেই পৃথিবীতে আমিও থাকতে চাইনা। জজ সাহেবা ছোট করে একটি নিঃশ্বাস ফেলে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন আপনি এই কেসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বার বার স্বীকার করেছেন আপনি সজ্ঞানে,নিজের ইচ্ছায় রাতুল নামের ছেলেটিকে হত্যা করেছেন। আমি মা হিসেবে আপনার কষ্ট বুঝতে পারছি , কিন্তু আপনি যেটা করেছেন সেটা কোন ভাবেই কাম্য নয়। আপনার উচিত ছিল আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে, আইনের উপর বিশ্বাস রাখা। যেহেতু আপনি নিজেই হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তাই আমি আপনাকে মৃত্যুদন্ড দিতে বাধ্য হলাম। উনার রায় পড়ে শুনানো শেষ হলে উনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন - আপনি আর কিছু বলতে চান? আমি উনার দিকে তাকিয়ে আকুল ভাবে বললাম - জজ সাহেবা আজ রাতেই আমার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আদেশ দিন। একটু দয়া করুন এই পৃথিবীর আলো বাতাস আমার কাছে অসহ্য লাগছে। আমার মেয়েটি গত দুই মাস থেকে অন্ধকার ঘরে একা একা ভয় পাচ্ছে। আমি তাড়াতাড়ি আমার মেয়েটির কাছে যেতে চাই। উনি ব্যাথিত চোখে কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থেকে চোখ মুছতে মুছতে নিজের চেয়ার ছেড়ে ভিতরে চলে গেলেন। হাতকড়া পরানো অবস্থায় আমাকে এজলাস থেকে বাহিরে নিয়ে আসা হল। আমাকে দেখেই আমার পরিবারের সকলে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। আমি অবাক হয়ে লক্ষ করলাম এদের কারো জন্য আমার বিন্দু মাত্র খারাপ লাগছেনা । আমি তো এই দুই মাস শুধু এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। আমার মেয়ের বাবা আমার হাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন রাখি তুমি কোন চিন্তা করো না। যতো দ্রুত সম্ভব হাইকোর্টে আপিল করবো আমি কোন মতেই তোমাকে মরতে দিব না । আমি ঠাণ্ডা চোখে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম তুমি,আমি আমরা কেউ কি 'রুপকথা' কে বাঁচাতে পেরেছি? পারিনি। তুমি যদি আমাকে আর আমার মেয়েকে ভালোবাস তাহলে আমাকে বাঁচানোর কোন চেষ্টা তুমি করবেনা। তোমরা সবাই কেন বুঝতে পারছোনা গত দুই মাস থেকে আমি একটি রাতও ঘুমতে পারিনি। যখনই আমি দুই চোখের পাতা এক করেছি তখনই আমার মেয়ের ক্ষতবিক্ষত ছোট্ট শরীরটা আমার চোখে ভেসে উঠেছে। আমি যদি বেঁচে থাকি কোন রাতে আমি ঘুমুতে পারবোনা। দিনগুলি আমার কাছে নরকের মত মনে হয়। আমাকে আমার মেয়ের কাছে যেতে দেও,আমি আমার কাজ শেষ করেছি। এই পৃথিবীতে আমার আর কোন প্রয়োজন নেই। ও কিছু বলতে চাচ্ছিল কিন্তু সাংবাদিকদের জন্য আর সুযোগ পেল না। সকলে আমাকে ঘিরে ধরল যদিও পুলিশ চারদিক থেকে আমাকে ধরে রেখেছে। একেকজন আমাকে একেক প্রশ্ন করতে লাগলো। আমি কিছুক্ষন তাদের দিকে তাকিয়ে থেকে বললাম- আমি আপনাদের আজ আমার জীবনের একটি ঘটনা বলি। সেটা শুনলেই আমার মনে হয় আপনারা আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। আমার বিয়ের পাঁচ বছর পরেও যখন আমার কোন সন্তান হচ্ছিল না সেই সময় আমি পাগলের মত হয়ে গেলাম। আমার স্বামীর অনেক টাকা পয়সা । কিন্তু সেই টাকা ভোগ করার কোন মানুষ নেই। আমি আর আমার শাশুড়ি যে যেখানে বলছে সেইখানেই ছুটে গিয়েছি। ডাক্তার,কবিরাজের কতো ঔষধ আমি খেয়েছি তার কোন হিসেব নেই । কারো ছোট বাচ্চা দেখলেই আমি কাঁদতে থাকতাম। আমার শাশুড়ি আমাকে আগলে ধরলেন। নানা ভাবে আমাকে বুঝাতেন, বলতেন আল্লাহ্‌কে ডাকো বৌমা আল্লাহ্‌ ছাড়া কেউ তোমার কোল ভরে দিতে পারবেনা। আল্লাহ্‌ মানুষকে অনেক জ্ঞান দিয়েছেন কিন্তু দুটি জিনিস তিনি নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন এক জন্ম, দুই মৃত্যু। এই দুইটি উনি ছাড়া কেউ করতে পারেন না। আমি রাত দিন নামায পড়ে আল্লাহ্‌র কাছে একটি সন্তানের জন্য কাঁদতে লাগলাম। যাদের বাচ্চা হয়না এই কষ্ট শুধু তারাই বুঝবেন । অবশেষে আল্লাহ্‌ আমার দোয়া কবুল করলেন। ডাক্তার আমাকে বললেন খুবই সাবধানে থাকতে হবে। যেহেতু আগে আমার সমস্যা ছিল তাই যেকোনো সময় আমার মিসক্যারেজ হয়ে যেতে পারে। সেইদিনের পর থেকে নয় মাস পর্যন্ত আমি সারাক্ষন আতংকে থাকতাম, কি জানি কি হয় । শেষের দিকে এমন অবস্থা হয়েছে আমি ঘুমাতে পারতাম না টেনশনে। আমার প্রেশার হাই হয়ে গিয়েছিলো। ছয় মাসের সময় আমার কোমরের হাড় এক ইঞ্চি পরিমান ফাঁক হয়ে গিয়েছিলো। কি পরিমান কষ্ট যে আমি এই নয় মাস ভোগ করেছি সেটা বলে বুঝাতে পারবোনা। অবশেষে আমার কোল আলো করে আমাদের একমাত্র মেয়ে 'রুপকথা' পৃথিবীতে এলো। রুপকথার জন্মের পরে আমাদের ঘর আনন্দে ভরে গেল। এত সুখ, এতো সুখ আমার জীবনে ভরে গেলো। রুপকথার জন্মের তিন বছরের সময় আমার শাশুড়ি মারা গেলেন। আমাদের সংসারে আবারও শোকের ছায়া নেমে এলো। কিন্তু আস্তে আস্তে আমরা সেই শোক কাটিয়ে উঠলাম। রুপকথা কে পাঁচ বছরের সময় আমাদের বাসার পাশেই একটা স্কুলে দিয়ে দিলাম। আমিই ওকে প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে যেতাম নিয়ে আসতাম। আমার মেয়ের কথা শুনলে, ও দুষ্টুমি করলে, ওর হাসি দেখলে আমি নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ভাবতাম। কিন্তু আমার জন্য যে কি কঠিন সময় অপেক্ষা করছিল আমি সেটা বিন্দুমাত্র বুঝতে পারিনি। সেইদিন ছিল সোমবার। মেয়ের বাবা যথারীতি সকালে অফিসে চলে গেলো, আমি মেয়েকে নিয়ে স্কুলে । মেয়ের বয়স তখন ছয়, আমি কখনো ওকে একা একা কোথাও যেতে দিতাম না। স্কুলেও সারাক্ষন বসে থাকতাম, যদিও স্কুল থেকে বাসা খুব কাছে ছিল। সেইদিন আমার স্কুলে বসে থাকাকালীন অবস্থায় শরীর খুব খারাপ করলো। আমি আর বসে থাকতে না পেরে বাসায় চলে আসলাম ভাবলাম ছুটির সময় গিয়ে ওকে নিয়ে আসবো। কিন্তু ছুটির সময় হয়ে গেলো আমার শরীর ঠিক হল না । বাসার কাজের খালাকে বললাম খালা আপনি যাবার সময় রুপকথাকে কি একটু বাসায় এনে দিয়ে যেতে পারবেন? উনি রাজি হলেন। মেয়েকে স্কুল থেকে এনে উনি ফোন করে আমাকে বললেন খালাম্মা আপামনিরে লিফটে উঠাই দিছি আপনি দরজা খুলে দাঁড়ান। আমি তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দাঁড়ালাম। কিন্তু পাঁচ -ছয় মিনিট পার হয়ে গেলেও মেয়ে উপরে আসলো না। আমাদের এই দশ তলা বিল্ডিং এর পাঁচ তলায় আমরা থাকি। লিফটে করে পাঁচ তলায় উঠতে এতো সময় লাগার কথা না । আমি তাড়াতাড়ি লিফটের সামনে গিয়ে দেখি লিফট নিচের দিকে নামছে। আমি দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে দেখি লিফট খালি । দারোয়ানকে জিজ্ঞাসা করাতে ও বলল আপামনিরে তো কাজের মহিলা লিফটে উঠিয়ে দিয়েছে আমি দেখলাম কেন উনি বাসায় যায় নাই? আমি না বলাতে দারোয়ান আর আমি মিলে আবার উপরে গেলাম ও বাসায় গিয়েছে কিনা দেখতে। কিন্তু গিয়ে দেখি না আমার বাসা খালি। এই বার আমি ভয় পেলাম। সেই ভয় যে ভয় আমি রুপকথাকে পেটে রেখে নয় মাস পেয়েছিলাম, ওকে হারানোর ভয়। আমি রুপকথার বাবাকে ফোন করে তাড়াতাড়ি বাসায় আসতে বলে এক তলা থেকে দশ তলার মোট বিশটি ফ্লাটের সব বাসায় মেয়েকে খোঁজ করলাম কিন্তু কেউ আমার সোনামণির কোন খোঁজ দিতে পারলনা। আমি পাগলের মত ছোটাছুটি করতে লাগলাম। আশেপাশের কিছু মহিলাও আমার সাথে মিলে ওকে খুঁজতে লাগলো। দারোয়ান বার বার বলতে লাগলো আপা এই বিল্ডিং এই আছে। আমি গেটের থেকে কোথাও যাই নাই । মেয়ের বাবা পুলিশ নিয়ে আসলেন। পুলিশ এসে নানা প্রশ্ন করতে লাগলো। হটাৎ করে আমার মনে হল ছাদে তো দেখলাম না । আমি এক দৌড় দিয়ে ছাদের দিকে ছুটে গেলাম গিয়ে যে দৃশ্য দেখলাম তাতে আমার সারা শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গেলো, আমার রুপকথা, আমার আদরে মানিক, আমার কলিজার টুকরা ছাদের ফ্লোরে পড়ে আছে। ওর মাথার এক পাশ থেঁতলানো সারা শরীর ক্ষত-বিক্ষত। সমস্ত মুখে,শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঁচড়ের দাগ। আমার সোনার ছোট্ট শরীরে কোন কাপড় নেই। সারা শরীর লাল রক্তে ভেসে যাচ্ছে। আমি আমার মেয়েকে টেনে কোলে তুলে নিলাম। তখনো আমার সোনার শরীরে প্রান আছে ও আমাকে দেখেই অনেক কষ্টে বলে উঠল আম্মু অনেক ব্যাথা ,অনেক ব্যাথা। এই ছিল আমার অনেক সাধনার ফসল,আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান, আমার আদরের একমাত্র মেয়ের বলা শেষ কথা । আমি পাথর হয়ে গেলাম। আমি চিৎকার করে কাঁদতে চেয়েছি আমার গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হয়নি। আমার চোখ দিয়ে কোন পানি পড়েনি। ওর বাবা আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদেছে আর বার বার বলেছে রাখি একবার কাঁদো, একটু খানি কাঁদো। রাখি তুমি যদি এমন করো তাহলে আমি কি নিয়ে বাঁচব? আমি কাঁদতে পারিনি। কিছুক্ষন পরে পুলিশের একজন এসে বলল রহমান সাহেব আপনাদের বিল্ডিং এর তিন তলার ডান পাশের ফ্লাটের একটি ছেলেকে আটক করেছি। মনে হচ্ছে ওই এই কাজ টা করেছে। আমার শরীরে যেন বিদুৎ খেলে গেলো। চোখের সামনে ভেসে উঠল ডাক্তার দম্পত্তির বড় ছেলের মুখ। রুপকথাকে যখন আমি খুঁজছিলাম এই ছেলেটি দরজা খুলে বলেছে না আমি তো আপনার মেয়েকে দেখিনি। আসলে ঐ সময় আমার মেয়েটি ঐ বাসায় ছিল । মেয়ের বাবা পুলিশের সাথে নিচে গেলেন। আমি উঠে দাঁড়িয়ে আমার রুমে গেলাম। বড় নামাযের ওড়নাটা দিয়ে সারা শরীর ঢেকে নিলাম। তারপরে রান্না ঘরের বটিটা সেই ওড়নার নিচে নিয়ে তিন তলায় নেমে আসলাম। দেখি ওইখানে অনেক ভিড়। আমি ওদের ঠেলে সামনে গেলাম ছেলেটি দাঁড়িয়ে আছে ওর বাবা-মা দুইজনই ওকে দুই পাশ থেকে ধরে রেখেছে। আমার মেয়ের বাবা ছেলেটিকে বেশ কয়েকবার থাপ্পড় দিল। ওর মা আমাকে দেখে বলে উঠল ভাবি জানেন তো ও নেশা করে কিন্তু এই রকম একটা কাজ করবে ভাবতেও পারিনি। বলেই হু হু করে কাঁদতে লাগলেন। আমি ছেলেটির সামনে গিয়ে ওকে জিজ্ঞাসা করলাম মেরে ফেললে কেন? তোমার যা করার তা তো করেছো, আমার মেয়েটিকে মারলে কেন? জানো ওকে পৃথিবীতে আনার জন্য আমি কতো কষ্ট করেছি?ওকে জন্ম দিবার সময় আমার কতো কষ্ট হয়েছে? এই ছয় বছর থেকে তিল তিল করে আমি ওকে বড় করেছি। ওকে নিয়ে কতো স্বপ্ন দেখেছি। তুমি মাত্র দশ মিনিটের লালসার জন্য আমার এতো বছরের সব স্বপ্ন মুহূর্তের মধ্যে শেষ করে দিলে ?কেন মেরেছ ওকে? ছেলেটি মিনমিন করে উত্তর দিল ও বার বার বলছিল আমি যে ওর সাথে এমন করেছি সব কথা ও আপনাকে বলে দিবে। তাই আমি ওকে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে দিয়েছি। আমি আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করিনি। কেউ কিছু বলার আগে আমি বঁটি দিয়ে এক কোপে আমার কাজ শেষ করে দিয়েছি। চারপাশে হৈ চৈ পড়ে গেলো আমার মেয়ের বাবা বলে উঠলেন কি করেছো রাখি!! আমি বললাম আমার মেয়েকে আমি জন্ম দিয়েছি। আমি এতো কষ্ট করে মেয়ে বড় করেছি। সেই মেয়েকে যে নরপিশাচ এমন নিশংসভাবে মেরেছে আমি তাঁর বিচার করলাম। আমার আমার কথা বলা শেষ করে তাকিয়ে দেখি সবাই তাদের চোখের পানি মুচছেন । আমি বললাম আপনারা ঘরে ফিরে যান আমি বাঁচতে চাইনা । আপনাদের কাছে শুধু আমার একটি অনুরোধ থাকবে। আপনার আদরের মেয়েকে এক মুহূর্তের জন্যও চোখের আড়াল করবেন না। কারন সবখানেই মানুষরূপী জানোয়ারগুলো ঘাপটি মেরে বসে আছে। সুযোগ পেলেই ওরা আমার রুপকথার মত আপনার রুপকথাকেও খুবলে খুবলে খাবে।

N@Nipa1234

Sory- letter সুতা দিয়ে শালিক পাখির পা বাঁধা হয়েছে। তার আগে পানিতে ভিভিয়ে সেই সুতা নরম করে নেয়া হয়েছে। এনায়েত মোল্লার ধারণা এতে পাখিটার কষ্ট কম হবে। তিনি বিরক্ত চোখে শালিকটার দিকে তাকিয়ে আছেন। আজ প্রায় সাত দিন ধরে তিনি পাখিটাকে কথা শেখানোর চেষ্টা করছেন। পাখি কথা বলা শেখেনি। চেষ্টার ফলস্বরূপ তার দুই আঙ্গুলে ব্যান্ডেজ। সুযোগ বুঝে শালিকটা ঠোকর বসিয়ে দিয়েছে। “বজ্জাত পাখি। কথা কইতে তোর সমস্যা কী? কথা ক কইলাম” এনায়েত মোল্লা ধমক দিলেন। ধমকে কাজ হলো। পাখিটার পায়ের দিক নোংরা হয়ে গেল সাথে সাথেই। অনেক কষ্টে তিনি খাঁচাটায় লাথি দেয়ার ইচ্ছাটা দমন করলেন। মনে মনে তার আফসোস হলো। পাখি না হয়ে মানুষ হলে তিনি এতক্ষণে মনের আনন্দে শালিকটাকে চড় লাগাতে পারতেন। চড় দিতে না পেরে এনায়েত মোল্লা যখন আশাহত ঠিক সেই মুহুর্তেই পিয়ন এলো। প্রতিবারের মতো চিঠি ছুড়েই বিদেয় হলো না। এনায়েত মোল্লাকে সিগনেচার করে চিঠি রাখতে হলো। চিঠির উপরে একটা এরোপ্লেনের ছবি। এনায়েত মোল্লার শরীর কাঁপতে লাগলো। বিদেশি চিঠি। তার মেয়ে, মনিকা মেলবোর্ন থাকে। সে দেশ ছেড়েছে প্রায় পাঁচ বছর আগে। এর মধ্যে বাবাকে চিঠি লেখার সুযোগ পায়নি। এনায়েত মোল্লা চিঠি খুললেন না। তার মনে ক্ষীণ সন্দেহ, চিঠিটাতে খারাপ কোন খবর আছে। আজ থেকে এগারো বছর আগের কথা। এরকম এক দুপুরে তার বড় ছেলে, তুহিনের কাছ থেকে একটা চিঠি এলো। তুহিন অবশ্য চিঠি না লিখলেও পারতো। সে দেশের বাইরে থাকতো না। পড়াশোনা করার জন্য সে ঢাকা গিয়েছে। ঢাকা কতদূর এনায়েত মোল্লা জানেন না। তিনি কখনো ঢাকা যাননি। শুধু জানেন গ্রাম থেকে সহজেই ঢাকা যাওয়া যায়। সেই দূরত্ব কম। কিন্তু ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরে আসা কঠিনসাধ্য ব্যাপার। বাবার কাছে ফিরে যাওয়ার সময় সেই দূরত্ব বেড়ে যায়। ছেলের চিঠি তিনি বেশ আগ্রহ নিয়ে খুললেন। চিঠি পড়ে জানতে পারলেন তুহিন কী একটা ঋণের ঝামেলায় ফেঁসে গেছে। পুলিশ তাকে খুঁজছে। দশ লাখ টাকা জোগাড় করতে না পারলে পুলিশ তাকে ছাড়বে না। এনায়েত মোল্লা সেই চিঠি পড়ে শান্ত হয়ে বসেছিলেন। তার ছেলেটা কলেজ পাশ করে ভার্সিটি ভর্তির হওয়ার জন্য ঢাকা যায়। পড়াশোনা শেষ করে চাকরিও পেয়ে যায় সে। এর মধ্যে লোক মারফত তিনি জানতে পারেন তুহিন বিয়ে করেছে। তিনি না-কি দাদাও হয়ে গেছেন। এই রকম খুশির সংবাদ শুনেও এনায়েত মোল্লার চোখ ভিজে আসে। এই খবরটা জানিয়ে তুহিন একটা চিঠি তো লিখতে পারতো। অবশ্য ততদিনে তিনি জেনে গেছেন এসব আনন্দের সংবাদ জানিয়ে ছেলেরা বাবাদের চিঠি লেখে না। বাবাকে চিঠি লিখতে হয় বিপদের দিনে। এনায়েত মোল্লা জমি বিক্রি করে দিলেন। টাকা জোগাড় করে তিনি ঢাকা গেলেও তুহিনকে খুঁজে বের করতে পারলেন না। যেই ঠিকানা থেকে চিঠি এসেছে সেই ঠিকানায় গিয়ে জানতে পারলেন- তুহিন স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়েছে। স্ত্রীর ফ্যামিলি থেকে মামলা করার পর থেকেই তুহিন নিখোঁজ। এনায়েত মোল্লা মনিকার চিঠি খুললেন। চিঠিতে কোন ধরনের সম্মোধন নেই। এমন ভাবে চিঠিটা লেখা হয়েছে যেন দু'জন মানুষ পাশাপাশি বসে গল্প করছে। --------“জানো বাবা, বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। সুন্দর মাঝারি ধরণের বৃষ্টি। মফি-মগ হাতে আমি লনে চলে এসেছি। ছোট একটা ছাউনির তলে বসে বৃষ্টি দেখছি আর তোমাকে লিখছি। আজ প্রায় সাত মাস পর মেলবোর্নে বৃষ্টি হলো। সবাই খুব খুশি। যে যার মতো বৃষ্টিতে ভিজছে। মেলবোর্নের বৃষ্টি আসলেই খুব সুন্দর। মিনিট পাঁচেক বৃষ্টি হলেই রাস্তাগুলো চকচক করতে থাকে। ধুলোবালি কম বলে গাছগুলো গাঢ় সবুজ দেখায়। যারা সাব কন্টিনেন্টের বৃষ্টি নিয়ে বড়াই করে তারা হয়তো মেলবোর্নের বৃষ্টি দেখেনি। এই বৃষ্টি দেখলে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। তবে হ্যাঁ, একটা সমস্যা কিন্তু আছে। এখানে টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ শোনার কোন ব্যাবস্থা নেই। এজন্য আমার কিছুটা মন খারাপ। আমি একবার ভাবলাম শহর থেকে দূরে টেম্পারেট ফরেস্টের কাছাকাছি ছোট্ট একটা ঘর বানাবো। সেই ঘরের ছাদ দেয়া হবে টিন দিয়ে। একদম আমাদের দাক্ষিণ ভিটার ঘরটার মতো। বর্ষা এলেই আমরা দলবল মিলে সেখানে বর্ষাযাপন করতে চলে যাবো। তবে আমার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। সিফাত রাজি হয়নি। এমন অদ্ভুত চিন্তা আমার মাথায় কী করে এলো সেটাই না-কি সে বুঝতে পারছে না। তুমি তো জানোই বাবা- আমি ছোট থেকেই এমন অদ্ভুত সব চিন্তা করি। আমি খুব বেশি ভাবুক প্রকৃতির ছিলাম বলে তুমি আমাকে ‘ভাবুক রাণী’ ডাকতে। আমি তখন রাগের ভাণ করলেও তোমার এই ডাকটা কী যে ভালো লাগতো! অথচ তুমি সেটা বুঝতে পারতে না। আচ্ছা বাবা তুমি কি আগের মতোই সবসময় একটা রাগ রাগ ভাব নিয়ে থাকো? আগে তো হুটহাট মানুষকে চড় লাগিয়ে দিতে। ভয়ে কেউ তোমার সামনে পড়তে চাইতো না। সবাই ভয় পেলেও আমি বুঝতে পারতাম, রাগটা তোমার বাইরের রূপ। তোমার ভেতরটা অন্যরকম। রাগের মাথায় কাউকে চড় দিয়ে তুমি নিজেই অনুশোচনায় ভুগতে। তারপর ছুটে গিয়ে সেই মানুষটার মন ভালো করার জন্য নানান কান্ড করতে। আমার ভাগ্য ভালো ছিলো যে তুমি আমার সাথে কোনদিন রাগ করোনি। এসএসসির টেস্ট পরীক্ষায় আমি গণিতে ফেল করে বসলাম। হেড স্যার তো রেগে আগুন। সে তোমাকে স্কুলে ডেকে নিয়ে গেল আমাকে বকাঝকা করার জন্য। সে তোমাকে বলল, আমাকে কিছু কড়া কথা শোনানোর জন্য। তুমি কিছুই বলতে পারলে না। তুমি এমন ভাবে আমার দিকে তাকালে যে আমার হাসি পেয়ে গেল খুব অসহায় লাগছিলো তোমাকে। সেই কথা মনে পড়লে আজও হাসি পায় আমার। আজ ছেলেবেলার কথা খুব মনে পড়ছে বাবা। তোমার কাঁধে চড়ে মেলায় যাওয়া, পশ্চিম পাড়ার ঝিলে মাছ ধরা, চকচকে দুই টাকার নোট দিয়ে মালা বানানো কিংবা ছেলেদের সাথে পাল্লা দিয়ে ঘুড়ি উড়ানো- সবকিছুই মনে পড়ছে আজ। ইচ্ছা করছে কোন এক জাদুমন্ত্রবলে অতীতে ফিরে যাই। তোমার মনে আছে বাবা- যখন বর্ষায় প্রথম বৃষ্টি আসতো আমি আর তুহিন ভাইয়া দ্রুত উঠোনে নেমে যেতাম। তুমি শত হাক-ডাক দিয়েও আমাদের উঠোন থেকে তুলতে পারতে না। শেষমেশ তুমিও নেমে যেতে। তিন জন একসাথে ভিজতাম। তখন মা বেঁচে থাকলে কত ভালো হতো তাই না বাবা? মা'কে আমি দেখিনি। তোমার মুখে শুনেছি আমার জন্মের সময়ই মারা যান উনি। কাজেই মায়ের আদর-ভালোবাসা কেমন তা আমি বলতে পারবো না। তবে এটা নিয়ে আমার কখনোই কোনরকম অভাব বোধ হয়নি। সেই অভাব বুঝতে দাওনি তুমি। পৃথিবীর সকল বাবাই তাদের সন্তানদের ভালোবাসে। তবে যেই পরিমাণ ভালোবাসা তুমি আমাদের দুই ভাই-বোনকে দিয়েছো তা হাজারো সন্তানের ভাগে ভাগ করে দিলেও কারোরই এতটুকু কম পড়বে না। আমাদের দূর্ভাগ্য, তোমার এই প্রবল ভালোবাসার মূল্য আমরা বুঝতে পারিনি। তুমি আদর্শ বাবা হলেও আমরা আদর্শ সন্তান ছিলাম না। তুহিন ভাইয়া তোমাকে না জানিয়ে বিয়ে করে ফেললো। নানান কান্ড ঘটিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে গেল সে। আমরা ভাইয়ার জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করলাম। সে ফিরে এলো না। দেখতে দেখতে আমিও বড় হয়ে গেলাম। ভালো ঘর দেখে তুমি বিয়ে ঠিক করলে আমার। তুমি সবসময় চাইতে আমাকে কাছাকাছি কোথাও বিয়ে দিতে। অথচ ভাগ্যের ফেরে বিয়ের দুই মাসের মাথাতেই আমরা এখানে চলে আসলাম। এখানে আছি প্রায় পাঁচ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে তোমার সাথে যোগাযোগ করিনি আমি। জানি তোমার মনে ক্ষোভের পাহাড় জমে আছে। সেই পাহাড় সরানোর সাধ্য আমার নেই। এখানে আসার পরই আমরা একটা ঝামেলায় পড়ে যাই। সিফাত যেই কম্পানিতে জব নিয়ে মেলবোর্ন আসে সেটির মালিক, কোম্পানি বিক্রি করে দেয়। নতুন মালিক বেশ কিছু বিদেশি এমপ্লয়ি ছাঁটাই করে। এর মধ্যে সিফাতও ছিল। ও নতুন জব খোঁজা শুরু করে। সব কিছু স্বাভাবিক হতে বেশ কিছুদিন চলে যায়। তারপর আমি চাইলেই তোমাকে চিঠ লিখতে পারতাম। তবে লজ্জায় লিখিনি। আমি জানি আমার সামান্য এই লজ্জার জন্য তোমাকে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে। আমারও ভীষণ কষ্ট হচ্ছে বাবা। ভীষণ কষ্ট। বাবাকে চিঠি লিখলে সবাই শুরুতেই জিজ্ঞেস করে- বাবা, তুমি কেমন আছো? আমি তা করতে পারিনি। কারণ তোমাকে সেই প্রশ্ন করার যোগ্যতাটুকুও আমি হারিয়ে ফেলেছি। কিভাবে তোমার কাছে ক্ষমা চাব আমি জানি না বাবা। শুধু জানি তোমার মনে আমার জন্য এখনো যেই ভালোবাসাটুকু রয়ে গেছে তা উপেক্ষা করার সাধ্য তোমার নিজেরও নেই। তোমার রাগের চেয়ে সেই ভালোবাসার পরিমাণ অনেক বেশি। তাই সাহস করে লিখতে বসে গেলাম। ওহ হ্যাঁ, তোমাকে আসল কথাই বলা হয়নি বাবা। আমার একটা মেয়ে হয়েছে। তোমার নামের সাথে মিল রেখে ওর নাম রেখেছি- এনি।” তোমার নিশ্চয়ই ওকে দেখতে ইচ্ছা করছে তাই না বাবা? তুমি ওকে দেখতে পারবে। সিফাত অফিসে ছুটির এপ্লিকেশন দিয়েছে। ছুটি মঞ্জুর হলেই আমরা চলে আসবো। এমনও হতে পারে এই চিঠি পৌছানোর আগেই আমরা চলে আসতে পারি। কারণ চিঠি পৌছাতে মাস খানেক সময় লাগবে। আমরা হয়তো এর মধ্যেই চলে আসবো। আমি ভেবে রেখেছিলাম যখন ভালো কোন সংবাদ দিতে পারবো তখনই তোমাকে চিঠি লিখবো। আর আমি জানি আমি দেশে ফিরে আসবো- তোমার কাছে এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কিছু হতে পারে না। তুমি কি আমাকে ক্ষমা করতে পেরেছো বাবা? এতদিন পর ফিরছি, প্লিজ আমাকে বকাঝকা করবে না একদম। নিজের মেয়ের সামনে বকা শুনতে ভালো লাগবে না। এলোমেলো চিঠিটা অনেক বড় হয়ে গেলো। আজ আর লিখবো না বাবা। দুয়া কর আমাদের জন্য যেন খুব দ্রুত চলে আসতে পারি। ইতি, তোমার আদরের ‘ভাবুক_রাণী’ পুনশ্চঃ বাবা, দুই টাকার নোটে দোয়েল পাখির ছবিটা কি এখনো আছে? কিছু চকচকে দুই টাকার নোট রেখো। আমার মেয়েকে উপহার দেবে তুমি। #পরিশিষ্ট - চিঠি শেষ করে এনায়েত মোল্লা উঠোনে বসে রইলেন। দুই মাস আগের লেখা চিঠি। মনিকা ফিরলে এর মধ্যে চলে আসতো। হয়তো সিফাত ছুটির ব্যাবস্থা করতে পারেনি। এনায়েত মোল্লা ক্লান্ত পায়ে পুকুর ঘাটে গেলেন। সময় নিয়ে ওজু করলেন তিনি। আছরের ওয়াক্ত হয়ে গেছে। ওজু শেষ করে উঠে আসবেন ঠিক এমন সময় তার মনে হলো কিছু একটা ঠিক নেই। তিনি চোখে ভুল দেখছেন। তার উঠোনে একটা বিদেশি বাচ্চা। টকটকে লাল জামা পড়া মেয়েটা উঠোন জুড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। এনায়েত মোল্লা গামছা দিয়ে চোখ মুছলেন। আবার তাকালেন। তিনি নিশ্চিত হলেন তার মাথায় গন্ডগোল দেখা দিয়েছে। কারণ এবারে তিনি দেখছেন বিদেশি বাচ্চাটার পিছু পিছু মনিকা এসে ঢুকেছে। দূরে একটা গাড়ি রাখা। সিফাত গাড়ি থেকে লাগেজ নামাচ্ছে। মনিকা প্রথমেই বাবার ঘরের দিকে গেল। ঘরে বাবাকে না পেয়ে সোজা আসতে লাগলো পুকুর পাড়ের দিকে। এনায়েত মোল্লা অপ্রস্তুত বোধ করলেন। এখন তার ঠিক কী করা উচিত তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি কি মেয়েকে জড়িয়ে ধরবেন? না-কি এতদিন যোগাযোগ করেনি বলে মেয়েকে বকাঝকা করবেন! তিনি মনিকাকে পাশ কাটিয়ে বারান্দার দিকে চলে গেলেন। মনিকাও গেল তার পিছুপিছু। মনিকা আদ্র বলল, “বাবা কথা বলবে না আমার সাথে?” এনায়েত মোল্লা বললেন, “বুঝলি রে মা, পাখিটারে কথা শিখানের চেষ্টা করতেছি। এমন বজ্জাত পাখি, একটা কথাও কইতে পারে না।” মনিকা বলল, “বাবা পাখিটাকে ছেড়ে দাও। কথা শেখাতে হবে না।” এনায়েত মোল্লা সাথে সাথেই পাখিটাকে আকাশে উড়িয়ে দিলেন। তারপর মৃদু স্বরে বললেন, “খুব বজ্জাত পাখি। এত চেষ্টা করলাম। একটা কথাও শিখে নাই।” মনিকা বিস্ময় নিয়ে দেখলো তার বাবা কাঁদছে। তিনি গামছা দিয়ে চোখ মুছছেন ঠিকই। কিন্তু সাথে সাথেই চোখ জল দিয়ে ভরে যাচ্ছে। ( সমাপ্ত)

N@Nipa1234

মোল্লা নাসিরউদ্দীন মোল্লা নাসিরউদ্দীনের নাম অনেকেই শুনেছেন। তুরস্কের এই রসিক ও অত্যন্ত মেধাবী লোকের নাম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল। একদিন এক স্কুলছাত্র মোল্লা নাসিরউদ্দীনকে জিজ্ঞাস করলো : -মোল্লা, আপনি এখনও বিয়ে করেননি কেন? মোল্লা বললেন : -ব্যাপারটি হলো এই যে, আমি সারাজীবন একটি পারফেক্ট মেয়ে খুঁজে বেরিয়েছি। পরিচয় হয়েছে অনেক সুন্দরী, অনেক বুদ্ধিমতী , অনেক ভাল ফিগারের মেয়েদের সঙ্গে কিন্তু পারফেক্ট মেয়ে খুঁজে পাইনি। এবার তিনি বড় একটি দীর্ঘশ্বাস নিলেন। তারপর বললেন : -অনেকদিন আগে এক মেয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। যে মুহুর্তে তাকে দেখলাম মনে হলো আমার স্বপ্ন সার্থক হলো। আমি জীবনে যা চেয়েছিলাম তা পেয়ে গেছি। এত সুন্দরী, এত বুদ্ধিমতী, এত সুন্দর ফিগার। এবার ছাত্র বলল: -তবে আপনি তাকে বিয়ে করলেন না কেন? মোল্লা এবার উত্তর দিলেন : -কারণ সেই মেয়েটিও একটি পারফেক্ট ছেলে খুঁজছিল। তারিক হক

N@Nipa1234

Story- last wish -হয়ত এটা আপনার ভালো লাগতে পারে।( দোকানদার) -আচ্ছা দেখি তো সত্যি কাপড়টা তো খুব সুন্দর! আমার পাগলিটাকে খুব মানাবে।(আমি) -সবুজ রং কী ওনার ওর প্রিয়। -হ্যা এটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে এটাই দিয়ে দাও। -এই নিন ভাইয়া। -ধন্যবাদ। -ভাইয়া কিছু মনে না করলে একটা কথা জিঙ্গাসা করব ? -হ্যা করো । -ভাইয়া আপনি সে দুইঘন্টা যাবত আমার দোকানের এক একটা কাপড় দেখে অনেক যাচাই বাচাই করে এই ওড়নাটা কিনেছেন। এটা কি স্পেশাল কারো জন্য কিনেছেন ? -হ্যা এই ওড়নাটা যার জন্য কিনেছি সে আমার জন্য অনেক অনেক স্পেশাল। আমার হুবু বউ আমার পাগলিটার জন্য এই ওড়নাটা। এটা মাথায় দিয়ে আজকে ওর সাথে আমার বিয়ে হবে। -ও আজকে আপনার বিয়ে অনেক অনেক অভিনন্দন ভাইয়া শুভকামনা রইল। তা ভাইয়া আপনার পাগলিটার নাম কি ভাইয়া ? -আমার পাগলিটার নাম খেয়া। আচ্ছা এখন আমি আসি। দেরি হলে আমার পাগলিটা আবার যাতে মনে না করে যে আমি পালিয়েছি। -আচ্ছা ভাইয়া । অবশেষে অনেক অপক্ষার পর আমার আর পাগলিটার বিয়ে হচ্ছে। আমার পাগলি খেয়া এই ছোট থেকে পরিচয় আমাদের ইনফেক্ট ও আমার ছোট চাচা মেয়ে। আমার আপন চাচা নয় আমার বাবার চাচাতো ভাই ছিল। দূরসম্পর্কের হয়ে ও উনি আমাকে খুব যত্নের সাথে লালন পালন করেছেন। আমার মা-বাবা এক দুর্ঘটনায় মারা যায় আমার বয়স তখন সবে মাত্র নয় বছর ছিল। কেউ যখন আমার পাশে ছিল না তখন উনি আমার মাথায় পরম যত্নে হাত রাখেন। সেই হাত আজও আমার মাথায় আছে আমি নতুন মা বাবা পায়, পায় নতুন পরিবার। সেই সাথে পায় আমার এক নতুন বন্ধু আমার পাগলি খেয়াল। যখন চাচা আমাকে প্রথম উনিদের বাসায় নিয়ে যায় আর আমাকে চাচীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে তখন পর্দার আড়ালে কে যেনো আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছিলো এমনসময় চাচা একজনকে ডেকে বললো,,, -খেয়া মামনি ওইখানে কেনো দাড়িয়ে আছ এইদিকে আস দেখ কে এসেছে ! দেখলাম পর্দার আড়াল থেকে ৫ বছরের এক পিচ্ছি পরি বের হয়ে আসে। চাচা বলে ও আমার মেয়ে খেয়া। খেয়া ও তোমার নতুন বন্ধু। আজ থেকে ও আমাদের সাথে থাকবে আর ও আমাকে দেখে ও একটা মুচকি হাসি দেয়। এরপর ধীরেধীরে দিন যেতে থাকে চাচা -চাচী আমাকে অনেক আদর করত। আমার সবদিক থেকে খেয়াল রাখত। কিন্ত তবুও আমার মা-বাবার জন্য মাঝে মাঝে খুব মন কাঁদত। একদিন মা বাবার কথা মনে পরাই খুব খারাপ লাগছিল। মন মরা হয়ে বসেছিলাম হঠাৎ কোথা থেকে খেয়া এসে আমার পাশে বসল। আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। আমি ওকে এইভাবে তাকিয়ে আছে কেন জিঙ্গাসা করলে ও বললো, -তোমার কি মন খারাপ? -আমার মা বাবার কথা খুব মনে পরছে। -মন খারাপ করিও না আমরা আছি তো, আমি তোমার সাথে খেলব আমার বন্ধু হবে। ওর কথা শুনে আমি হেসে দিই আমার হাসি দেখে ওইয়ো হাসতে থাকে। এরপর থেকে আমরা অনেক ভালো বন্ধু হয়ে যায়। একসাথে খেলতাম একসাথে বসে অনেক গল্প করতাম স্কুলে যেতাম আইস্কিম খেতাম। ধীরেধীরে সময় পার হতে থাকে এইভাবে কেটে যায় ১১ বছর। এই ১১ বছরে দেখতে দেখতে আমি কবে আমার পাগলিটার প্রেমে পড়ে যায় আমি নিজে ও টের পাই নি। আর কেনও বা ওর প্রেমে পরব না। আমার পাগলি টা যে এমন ওর প্রেমে পরতে আমি বাধ্য হয়েছি। আমি বলতে ও পাগল ছিল সবসময় আমার পেছনে পড়ে থাকত। আমি বাইরে থাকলে প্রতি ঘন্টায় আমাকে কল করত। -ভাই কখন আসবে? ? ভাই কি খাচ্ছ? ? ভাই বেশি স্পীডে বাইক চালাবে না। আমাকে পাগল বানিয়ে ফেলত। আর বাসায় থাকলে কিছুক্ষন পর ভাইয়া কি করছ? ? ভাইয়া তুমি কি ফ্রি আছ? চল না বাইরে থেকে হেটে আসি। আর রাতে মেডাম এর সাথে ছাদে গিয়ে প্রতিদিন আমাকে আকাশের তারা গুনতে হত। আমার সবকাজ ও নিজেই করত আমি ধীরেধীরে ওর মায়ায় জড়িয়ে পরি। ও হ্যা আমি ওকে যতভালোবাসি এর থেকে বেশি ভালো ও আমাকে বাসে। এইকথা আমি টিকই কিন্তু বুঝতে পারেছি। কিন্তু এই কথা আমি খেয়া কে বুঝেও বুঝতে দেয়নি। কারন আমি চাচার কাছে ওর হাত চাওয়ার আগে ওর যোগ্য হয়ে উঠতে চেয়েছিলাম। তাই ওর মনের কথা জেনে ও না জানার ভান করে থাকতাম। কারন আমি চাইনি পরে ও কোন কষ্ট পাক। আর আমার কারনে খেয়া আর ওর পরিবার এর মধ্যে কোন প্রকার অশান্তির হোক। তাই আগে নিজেকে এমনভাবে করে তুলতে চেয়েছি যাতে চাচা নিজে খুশি মনে খেয়া কে আমার হাতে তুলে দেয়। একটা সুযোগের অপেক্ষাই ছিলাম নিজেকে যোগ্য করে তুলার। একদিন সেই সুযোগ পেয়ে যায় আমি ফুলশিপ স্কলারশিপ পাই ইঞ্জিয়ারিং এর উপর তাও আবার লন্ডন এ। আমি এইকথা চাচাচাচিকে জানলে ওরা খুব খুশি হয়। কিন্তু একজন এর মন খুব খারাপ ছিল আর কেও নয় খেয়া এর। আমি দূরে চলে যাব তাই এইভেবে ওর মন খুব খারাপ ছিল। উপরে ও খুব খুশি এটা দেখালেও ভিতর ভিতর কতটা কষ্ট পাচ্ছিল টিকই বুঝতে পেরেছিলাম। কিন্তু ও জানেনা আমি এইসব ওর জন্যেই করছি। ওকে নিজের করে পাওয়ার জন্য আমাকে আগে ওর যোগ্য হয়ে উঠতে হবে আর এর জন্যে আমাকে যে যেতে হবে। যে দিন আমি চলে যাচ্ছিলাম ওইদিন ও শুধু একটা কথা বলেছিল, - নিজের খেয়াল রেখ ভাই। ওইখানে এই খেয়া থাকবে না তোমার খেয়াল রাখার জন্য। চারবছর পর আমি আমার পড়ালেখা শেষ করে আমি দেশে ফিরে আসি। আমি দেশে ফিরে আসার কথা কাউকে জানায় নি কারন আমি সবাইকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম। আমি খুব খুশি কারন আমি এখন চাচা বলতে পারব আমি খেয়াল কে বিয়ে করতে চাই। আর দেরি সহ্য হচ্ছে না পুরো চারবছর পর আমি আমার পাগলিটাকে দেখতে পারব। বাসায় গিয়ে কলিং বেল বাজাই খালা এসে দরজা খুলে দেয় উনি আমাকে দেখে অবাক হয়ে যায়। আর বললেন, -বাবা তুমি এসেছো -তাহলে খেয়ার বাবাকি তোমাকে খেয়ার কথা বলে দিয়েছে ? -খেয়া কি হয়েছে খেয়ার খেয়া কোথায় খালা? ? হঠ্যাৎ এক ঝাঁকুনিতে ভাবনার জগৎ থেকে বাস্তবে ফিরে আসি। -ভাই আমরা এসে গেছি। আমি গাড়ি থেকে নেমে ভিতরে যায়। -চাচা সব টিক আছে খেয়া রেড়ি তো ? -হ্যা বাবা তুমি ভিতরে যাও। আমি রুমের ভিতরে গিয়ে দেখি আমার পাগলিটা শুয়ে আছে। আজ আমাদের বিয়ে অথচ আমার পাগলিটার গায়ে এতটুকু শক্তি নেয় যে উঠে দাঁড়াবে। কত স্বপ্ন ছিল আমার এই বিয়ে নিয়ে অথচ আজ আমাদের এই বিয়ে হচ্ছে হসপিটাল এ। ব্রেন টিউমার আমাদের এই স্বপ্ন পূরন হতে দেয়নি। আমার খেয়ার ব্রেন টিউমার হয়েছে আর কালকেই ওর অপারেশন হবে। আজ দেশে ফিরে যখন এই কথা খালা থেকে জানতে পারি এক মুহূর্ত দেরি না করে হসপিটালের দিকে ছুটে যায়। গিয়ে সবার আগে চাচার সাথে দেখা হয়। চাচা আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দেয়। খেয়ার কথা আমাকে জানায়নি কেন এই কথা চাচাকে জিঙ্গাসা করলে উনি জানায়, -খেয়া নাকি মানা কিরেছে আমাকে কিছু না জানাতে কারন আমি জানতে পারলে সব কিছু ফেলে চলে আসব এই কথা ও ভালো করে জানত। তাই আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। আমি খেয়ার কাছে গিয়ে দেখি কেমন হয়ে গেছে মেয়েটা চোখের নিচে কালো দাগ পড়েছে। অনেক শুকিয়ে গেছে ও কিন্তু আগের থেকে ওকে আরো বেশি মায়াবি লাগছে। ঘুমিয়ে ছিলও চাচী ওকে ডেকে তুলে চোখ মেলে তাকায় আমার দিকে। আমার দিকে তাকিয়ে বলে, - তুমি এসেছ ভাই মনে করেছিলাম আর দেখা হবে না তোমার সাথে, না দেখেই চলে যাব। আমি ওকে এক ধমক দিয়ে বলি, -কোথায় যাবি তুই শুনি? ? কোথাও যাবি না তুও শুনতে পেয়েছিস আমার কথা। - আমাকে মিথ্যা সান্তনা দিও না ভাই কারন আমি জানি আমার হাতে সময় অনেক কম আমি খুব তাড়াতাড়ি অনেক দূরে চলে যাব। -এমন কথাবলিস না পাগলি এখনো তুই জীবনে কি দেখেছিস যে এত তাড়াতাড়ি চলে যাবি ? আর তোর আশা স্বপ্ন ওইগুল কে পূরন করবে। -সত্যি বলতে কি ভাই আমার সব স্বপ্ন পূরন হয়েছে শুধু একটা স্বপ্ন এখনো পূরন করা বাকি আছে। -কি সে স্বপ্নটা আমাকে একবার বল ? -থাক ভাই ওটা আর পূরন করা হবে না। -একবার আমাকে বলে দেয় হয়ত আমি তোর স্বপ্ন পূরনে কিছুটা হলেও সাহায্য করতে পারব। বল আমাকে তোর কি ইচ্ছা আছে ! -আসলে আমার সেই স্বপ্ন হল তোমাকের বিয়ে করে তোমার বউ হওয়া। ভাই পারবেন আমার এই স্বপ্নটা পুরন করতে। অন্তত একদিনের জন্য হলেও আমি তোমার বউ হয়ে থাকতে চাই। আমার সেই স্বপ্ন প্লাস শেষ ইচ্ছাটা কি আপনি পুরন করবেন। ভাই আজ তোমাকে বলতে চাই আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আর আমি অনন্ত কাল তোমাকে ভালোবেসে যাব। ভাই কিছু বল আমার এই ইচ্ছা কি তুমি পুরন করবে ? আমি ওর কথা শুনে ওর হাতটা ছেড়ে দরজার দিকে যায় আর যাওয়ার আগে বলে যায় ওই পাগলি রেড়ি থাকিস মআমি আসছি আমাদের বিয়ের কেনাকাটা করে। আমি ওয়াসরুমে গিয়ে কলটা ছেড়ে কান্না করতে লাগলাম। কেন যেন আজ চোখের বাধ মানতে চায়ছে না। খেয়া আমার পাগলি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে এ হতে পারে না। আমি পারব না থাকতে ওকে ছাড়া কিভাবে কাটাব সারা জীবন! ! না ও বাঁচবে আমাকে যা করতে হবে সব খুব দ্রুত করতে হবে। ওর মধ্যে বেঁচে থাকার ইচ্ছাটা জাগিয়ে তুলতে হবে সময় খুব কম। -খেয়া উঠ দেখ আমি কি এনেছি তোমার জন্যেই বলে ওড়নাটা ওকে পরিয়ে দিলাম। কাজি সাহেব এসে আমাদের বিয়েটা পড়িয়ে দিল। সে দিন সারারাত ও আমার বুকে মাথা রেখে শুয়ে ছিল। হইতো অনেক কিছু বলতে চেয়েছিল আমাকে কিন্তু দূর্বলতার কারনে বেশি কিছু বলতে পারে নি। শুধু একটা কথা বার বার বলছিল, -নিজের খেয়াল রেখ তুমি ভালো থেকো ডিয়ার স্বামী। তুমি ভালো থাকলে আমি ভালো থাকবো আর আব্বু আম্মুর খেয়াল রেখো। আর আমি যাওয়ার পর কিন্ত আবার বিয়ে করে নিবে। সকালে ওকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। যখন ওকে নিয়ে যাচ্ছিল আমার হাতটা শক্ত করে ধরে ছিল। আমি ওকে শুধু একথাটা বললাম -তোমাকে ফিরে আসতে হবে খেয়া তুমি ছাড়া আর কেউ আমার খেয়াল রাখতে পারবে না। খেয়াকে ভিতর এ নিয়ে যাওয়া হয় আর থিয়েটারের লাইট অন হয় আর আমি অপেক্ষা করতে থাকি। টানা চার ঘন্টা অপারেশনের পর অবশেষে অপারেশন থিয়েটারের লাইট অফ হলো আর ডাক্তার বেরিয়ে এলো। -আর তারপর কি হলো ভাইয়া? ? -আমার পাগলিটা আর এলো না সবাইকে ফাঁকি দিয়ে অনেক দূরে চলে গেল। -কি খেয়া কি তাহলে মারা গেছে? ? ভাইয়া যেদিন প্রথম আপনি আমার দোকান থেকে ওড়না কিনে নিয়ে গিয়েছিলেন। ওই দিন আমি আপনাকে দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম আমি খেয়ালকে অনেক ভালোবাসেন। কখনো ভাবিনি যে আজ ২৫ বছর পর এইভাবে আবার আপনার সাথে এই অবস্থায় দেখা হবে। আপনার ভালোবাসার মানুষ আপনাকে এইভাবে ফেলে চলে যাবে। -কে বলেছে ও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে " ও কোথাও যাই নি ও আছে আমার সাথে। আমার অস্তিত্বের সাথে ও মিশে আছে সারাজীবন থাকবে আমার পাগলিটা আমার সাথে। আর আমি চিরদিন ওকে ভালোবাসব। তবে আপসোস শুধু এ যে খেয়া ওর শেষ ইচ্ছা পূরন করতে পারল। আমাকে ভালোবাসে এই কথা বলে যেতে পারল কিন্তু আমার ইচ্ছাটা পূরন হয় নি। শুধু একমবার আমি ওকে বলতে পারি নি "আমি তোকে বড্ড ভালোবাসি রে পাগলি"।

N@Nipa1234

বিবশ_রজনী#পর্ব-০১ ঘড়ির কাটায় রাত ঠিক দুইটা বেজে দশ মিনিট, ঈশান ছাদের রেলিংয়ের উপর দিয়ে হাঁটছে। সামান্য এদিক সেদিক হলে ষোলো তলার উপর থেকে সে নিচে পড়ে যাবে। ড. নিজাম আহমেদ মনোযোগ সহকারে ঈশানের দিকে তাকিয়ে আছেন। ঈশান রেলিংয়ের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে নিখুঁতভাবে হেঁটে যাচ্ছে। রেলিংয়ের শেষপ্রান্তে গিয়ে আবারও উল্টো হয়ে হাঁটতে শুরু করছে। ঈশানের দুই চোখ বন্ধ, চোখ বন্ধ রেখে এত সরু একটা রেলিংয়ের উপর দিয়ে সে হাঁটছে কি করে? নিজাম সাহেব অবাক হয়ে গেলেন। তিনি মিনিট দশেক ঈশানের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। ঈশানের বাবা আব্দুল মালেক মৃদুস্বরে নিজাম সাহেবকে বললেন, "ঘরে চলুন।" নিজাম সাহেব মালেক সাহেবের পেছন পেছন ঈশানদের বসার ঘরে গিয়ে সোফায় বসলেন। মালেক সাহেব একটা সিগারেট ধরিয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে বললেন, "গত একবছর থেকে রাত ঠিক দুইটা বাজার সাথেই ঈশান বিছানা থেকে উঠে ছাদে চলে যায়। এভাবেই প্রতি রাতে রেলিংয়ের উপরে হাঁটা-হাঁটি করে। আমি বাবা হয়ে এই দৃশ্য কিছুতেই আর সহ্য করতে পারছি না। কখন জানি ছেলেটা নিচে পড়ে গিয়ে মরে যায়, আমাদের একটাই সন্তান। আপনি কি বুঝতে পারছেন?" নিজাম সাহেব বললেন, "জ্বী, বুঝতে পারছি। ঈশানকে এর আগে কেউ দেখেছে?" --"ডাক্তার, কবিরাজ দেখাতে বাদ রাখিনি ফলাফল শূন্য, কোনো লাভ হয়নি।" --"কোনো সাইক্রিয়াটিস্ট দেখেছে?" --"দুইজন দেখেছে।" --"তারা কি বলেছে?" --"একজন সপ্তাহখানেক চেষ্টা করে বলেছে তারপক্ষে এই রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব না। আরেকজন সপ্তাহ তিনেক চেষ্টা করে বলেছেন, ওর ঘরের দরজা রাতে বাইরে থেকে বন্ধ রাখতে।" --"দরজা বন্ধ রেখেছিলেন?" --"হ্যাঁ, বেশ কয়েকদিন বন্ধ রেখেছি।" --"দরজা বন্ধ রাখার পর কি দেখলেন?" --"দরজা বাইরে থেকে লাগানোর পর প্রতিরাতে ও দরজায় মাথা ঠুকতো, সেটা আরও অসহনীয়। মাথা ফেটে দুই রাতে রক্ত বের হয়ে গেছে। এরপর থেকে দরজা বাইরে থেকে লাগানো বন্ধ করে দিয়েছি।" --"ঈশান ছাদ থেকে ফিরে আসে কখন?" --"রাত তিনটায়।" --"ঘরে এসে কি সাথে সাথে বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে নাকি অন্যকিছু করে?" --"সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়ে।" --"এসব কিছুই ঘুম থেকে উঠবার পর ঈশানের মনে থাকে না তাই না?" --"জ্বী, কিছুই মনে থাকে না।" রাত তিনটা বাজে, সিঁড়িতে পায়ের শব্দ শুনে আব্দুল মালেক বললেন, "শুনতে পাচ্ছেন? সিঁড়িতে পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে।" --"হ্যাঁ শোনা যাচ্ছে।" --"ঈশান ঘরে ফিরছে।" --"আমি ঈশানকে একটু দেখে আসি।" নিজাম সাহেব দ্রুত ঘরের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। ঈশান সিঁড়ি দিয়ে নামছে সাধারণ মানুষের মতোই কিন্তু তার চোখ দুটো বন্ধ, ঠোঁট নড়ছে, বিড়বিড় করে সে কিছু একটা বলছে, কি বলছে তা বোঝা যাচ্ছে না। নিজাম সাহেব বেশ অবাক হয়ে ভাবলেন, ছেলেটার মস্তিষ্ক প্রত্যেকটা স্টেপ এত নিখুঁতভাবে নিচ্ছে কি করে? প্রথমে সে বিছানা থেকে উঠছে, বিছানা থেকে উঠে চোখ বন্ধ অবস্থায় গিয়ে দরজার লক খুলছে, সিঁড়ি বেয়ে ছাদে গিয়ে উঠছে, ছাদে গিয়ে রেলিংয়ের উপর উঠছে, রেলিংয়ের এক মাথা থেকে আরেক মাথা পর্যন্ত হাঁটছে, আবার ঠিক রাত তিনটা বাজতেই সে ঘরে ফিরে এসে দরজা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়ছে, পুরোটা প্রক্রিয়া সংগঠিত হচ্ছে তার চোখ বন্ধ অবস্থায়, এটা কি করে সম্ভব? আব্দুল মালেক নিজাম সাহেবের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, "দেখলেন?" নিজাম সাহেব বললেন, "জ্বী, বেশ অদ্ভুত ব্যাপার।" --"আসুন ঘরে আসুন।" নিজাম সাহেব পুনরায় বসার ঘরে সোফায় গিয়ে বসে বললেন, "ঈশানের মাকে দেখছি না।" --"সে ঈশান ঘরে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত ঈশানের পাশের ঘরে চুপচাপ বসে থাকে। আগে ছাদে গিয়ে বসে থাকতো। সাইক্রিয়াটিস্ট যারা ঈশানকে দেখেছে তাদের একজন বলেছে, ঈশান ছাদে হাঁটার সময় তার আশেপাশে কোনরকম শব্দ করা যাবে না। যদি কোনভাবে তার জ্ঞান ফিরে আসে তবে ছাদ থেকে পড়ে একটা দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সেই ভয়ে এখন সে আর ছাদে যায় না।" --"জ্বী, এরকম হবার সম্ভাবনা আছে। আচ্ছা ঈশানই কি আপনাদের প্রথম সন্তান?" মালেক সাহেব একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "ঈশান আমাদের তৃতীয় সন্তান। ঈশানের আগে দুই দুইটা বাচ্চা সন্তান আমাদের হয়েছিল, এক ছেলে, এক মেয়ে। একজন মৃত অবস্থায় জন্ম নিয়েছে, আরেকজন জন্মের সপ্তাহ খানেক পর মারা গিয়েছে।" --"আমি দুঃখিত।" --"দুঃখিত হবার কিছু নেই নিজাম সাহেব, যা ঘটেছে তা তো সত্য। মৃত দুই সন্তানের কথা মনে পড়লে খানিক কষ্ট হয়, তবে সৃষ্টিকর্তার উপরে তো কারও হাত নেই, তাঁর সৃষ্টি তিনি ফিরিয়ে নিয়েছেন, আমাদের কিইবা করার আছে। আমার সাথে তাদের স্মৃতি কম সেজন্যেই হয়তো খুব বেশি খারাপ লাগে না কিন্তু ওদের মা এখনো প্রায়ই ওদের জন্যে কান্নাকাটি করে।" মালেক সাহেব কিছু সময় চুপচাপ থেকে নিজাম সাহেবের চোখে চোখ রেখে বললেন, "নিজাম সাহেব, দুই সন্তানকে হারিয়ে ঈশানকে অবলম্বন করে আমরা বেঁচে আছি। ওকে হারালে আমাদের বেঁচে থাকবার আর কোন অবলম্বন থাকবে না। হয়তো বেঁচে থাকবো কিন্তু বাকিটা জীবন নির্জীব হয়ে থাকতে হবে।" --"আমি বুঝতে পারছি।" নিজাম সাহেব সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, "আমি আজ যাচ্ছি।" আব্দুল মালেক কাতর চোখে নিজাম সাহেবের দিকে তাকিয়ে বললেন, --"আপনি কি ওকে সুস্থ করে তুলতে পারবেন? যত টাকা লাগে আমি দেবো। দেখুন আমাদের একটাই সন্তান। ওর কিছু হয়ে গেলে আমরা বেঁচে থাকবো কি করে?" নিজাম সাহেব বললেন, "আমি ঈশানকে এই সমস্যা থেকে মুক্ত করতে পারবো কি না জানি না, তবে চেষ্টা করবো, আজ যাচ্ছি, কাল রাতে আবার আসতে পারি।" নিজাম সাহেব ঈশানদের বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বের হলেন। ভোর চারটা বেজে গেছে। নিজাম সাহেব বাড়ির প্রধান ফটক দিয়ে গাড়ি নিয়ে ঢুকতে ঢুকতে ভাবলেন, হামিদুল নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে আছে, জেগে থাকলে এক কাপ চা বানিয়ে দিতে পারতো। এত ভোরে সচরাচর হামিদুলের ঘুম ভাঙেনা, এর উপর কয়দিন থেকে সে সর্দি-কাশির ঔষধ খাচ্ছে। এমনিতেই হামিদুল ঘুমালে তাকে ডেকে তোলা যায় না, এখন আরও সর্দি-কাশির ঔষধের ক্রিয়া-বিক্রিয়া ঘুমের সাথে যুক্ত হয়েছে সুতরাং তার সামনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও সে কিছুই বুঝবে না। তিনি হামিদুলকে ঘুম থেকে জাগানোর বিশেষ কোন কারণও খুঁজে পেলেন না। বাচ্চা একটা ছেলেকে চা বানানোর জন্যে ঘুম থেকে টেনে-হিচড়ে উঠানোর মতো বিশ্রী কাজ জগতে আর হতে পারে না। নিজাম সাহেব গাড়ি পার্ক করে দোতলায় গিয়ে হামিদুলকে চেতন অবস্থায় বসে থাকতে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, "কিরে তুই এখনো ঘুমাসনি?" হামিদুল কোন উত্তর না দিয়ে চুপচাপ বসে রইলো। তার মুখে ভীতির ছাপ। নিজাম সাহেব জিজ্ঞাসা করলেন, "তোর মুখ এমন কেন?" হামিদুল নিজাম সাহেবের দিকে আতংকিত চোখে তাকিয়ে বলল, "কে জানি ঢিল মেরে জানালার একটা কাঁচ ভেঙে দিছে।" --"কোন জানালার?" --"আপনার ঘরের।" --"চল তো দেখি।" হামিদুল সমেত নিজাম সাহেব ঘরে গিয়ে দেখলেন, জানালার একটা কাঁচ গোল করে ভাঙা। তিনি ঘরে ভাল ভাবে খুঁজে দেখলেন কোন পাথর বা ইটজাতীয় কিছু পড়ে আছে কি না, এমন কিছু তিনি খুঁজে পেলেন না তবে তাঁর পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে জানালার কাঁচ ঢিল ছুড়েই ভাঙা হয়েছে, নিচে গিয়ে খুঁজলে নিশ্চয়ই ইট বা পাথর পাওয়া যাবে। নিজাম সাহেবের নিচে গিয়ে খুঁজে দেখতে ইচ্ছা হলনা। তিনি হামিদুলকে জিজ্ঞাসা করলেন, "কয়টার দিকে ঘটনা?" হামিদুল বলল, "এই রাত আড়াইটায়।" --"কেউ ঢিল মেরেছে। এইসব নিয়ে ভয় পাবার কোন কারণ নেই, কিছু দুষ্ট ছেলে আছে ওরা রাত বিরাতে মানুষকে ভয় দেখানোর জন্যে এইসব করে। তুই আমাকে এক কাপ চা বানিয়ে দিয়ে যা।" হামিদুল ঘর থেকে বের হয়ে রান্নাঘরে ঢুকে গেল। নিজাম সাহেব মুখ হাত ধুয়ে বেলকনিতে গিয়ে রিল্যাক্স চেয়ারে বসে ভাবলেন, "জানালার ঢিল ছুড়বে কে? দুষ্ট কোন ছেলে? নাকি অন্য কেউ? রাত বারোটার মধ্যে হলে ব্যাপারটা স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেওয়া যেত কিন্তু এত রাতে নিশ্চয়ই কেউ নিছক ফাজলামি করতে বাসা থেকে বের হয়ে আসবে না। তাছাড়া গত পরশু গভীর রাতে কুকুরটা খুব চেঁচাচ্ছিল, সে কি কারও উপস্থিতি টের পেয়েছিল?" হামিদুল চা বানিয়ে নিয়ে এসেছে। নিজাম সাহেব জিজ্ঞাসা করলেন, "আজ ঔষধ খেয়েছিলি?" হামিদুল কাশতে কাশতে বলল, "আজকে খাই নাই।" --"সেজন্যেই কাঁচ ভাঙার শব্দ শুনতে পেরেছিস, যা ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়।" হামিদুল চলে গেল, নিজাম সাহেব চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ভাবতে শুরু করলেন, ঈশানের সমস্যা ঠিক কী? স্লিপ ওয়াকিং! ঈশান ঘুমের মধ্যে হাঁটে, একবছর থেকে সে প্রতিরাতে ঠিক দুইটা বাজে ঘর থেকে বের হয়ে ছাদে গিয়ে রেলিংয়ের উপর দিয়ে রাত তিনটা পর্যন্ত হাঁটতে থাকে। ঘর থেকে বের হয়ে ছাদে হাঁটার প্রক্রিয়া এবং ঘরে ফিরে শুয়ে পড়া পর্যন্ত পুরোটা প্রক্রিয়া সংগঠিত হয় ঈশানের চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায় যা খুবই আশ্চর্যজনক ব্যাপার। হাঁটার সময় সে বিড়বিড় করে কি যেন বলতে থাকে। ঘুম থেকে উঠবার পর তার আর কিছুই মনে থাকে না। পৃথিবীতে এই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অত্যন্ত বিরল। নিজাম সাহেব এর আগে এরকম কোন রোগীর দেখা পাননি। ঈশানের সমস্যার সমাধান কেমন হবে নিজাম সাহেব এখনো জানেন না, তবে তিনি বিশ্বাস করেন প্রত্যেকটা সমস্যার একটা সমাধান নিশ্চয়ই আছে, ঈশানকে তিনি সমস্যা থেকে মুক্ত করতে চান। নিজাম সাহেব বেলকনি থেকে উঠে ল্যাবঘরে গিয়ে নাইটভিশন ক্যামেরা, মাইক্রোফোনগুলো বের করে টেবিলের উপরে রাখলেন। .....

N@Nipa1234

Semantics and #Syntax #Vocabulary_৩-৪ Word-03 & 04: #Semantics and #Syntax #Semantics: (#শব্দার্থবিদ্যা) বাংলায় যেমন ব্যবহারের ভিত্তিতে একই শব্দের অর্থ একেক জায়গায় একেক রকম হয়, তেমনি ইংরেজিতেও হয়। ✅এই ব্যবহারভেদে শব্দের অর্থের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করার যে বিদ্যা সেটা হল Semantics বা শব্দার্থবিদ্যা। যেমন: মাথা ঘামানো- মানে আসলে মাথা গরমে ঘেমে যাওয়া না, বরং চিন্তা করা। এটা ভাষাবিদ্যার অর্থতত্ত্বে খুব গুরুত্ত্বের সাথে আলোচিত হয়। #English_meaning: a)The study or science of meaning in language. b)The branch of linguistics that deals with the study of meaning, changes in meaning, and the principles that govern the relationship between sentences or words and their meanings. #Examples: 📌1.Since I did not understand the farmer’s semantics, I was confused when he referred to his wife as a filly. 📌2.Only a computer programmer can understand the semantics behind that line of code. 📌3.Because surely those semantics would be okay if someone were talking about her in the same manner. — Jean Bentley, refinery29. com, "R29 Binge Club: Selling Sunset Season 2 Recap," 27 May 2020 #SYNTAX: Syntax বোঝা খুব সহজ, এটা হলো বাক্যের আমরা যে একটা বৈশিষ্ট্য পড়েছি “আসত্তি” সেটাই। যেমন: ‘আমি খাই ভাত’, এটা বললে বক্তার বক্তব্য বোঝা যায় কিন্তু ‘আমি ভাত খাই’ বললে ভাল শোনা যায়। ✅কোন পদের পর কোন পদ বসবে এটার আলোচনাই হলো Syntax, সোজা কথায় বাক্যে পদবিন্যাস হল Syntax. #English_meaning: the way in which words are put together to form phrases, clauses, or sentences. #Examples: 👉1.For the ease of the reader I have, made necessary changes in syntax. 👉2.We should use a syntax checker for freshers. 👉3.Its previous handiwork, much of which was riddled with poor syntax and grammatical errors, hardly required a discerning eye to identify. — Franklin Foer, The Atlantic, "The 2016 Election Was Just a Dry Run," 11 May 2020

N@Nipa1234

রৌদ্রছায়া -১ এই নিয়ে সাফওয়ানের জন্য মেয়ে দেখা হল মোট পনেরো টা।কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারেও মেয়ে সাফওয়ানের পছন্দ হয় নি।পছন্দ না হওয়ার একমাত্র কারণ মেয়ে অস্বাভাবিক ফর্সা ও রূপবতী ! এর আগের দেখা চৌদ্দটি মেয়েও খুব তুচ্ছ ধরনের কারণে প্রত্যাখ্যান হয়েছে।প্রতিবারই দেখা যায় সব ঠিকঠাক, শেষে হঠাৎ সাফওয়ান বলছে মেয়েকে তার ভালো লাগে নি অথবা মেয়েটিকে সে আগে থেকেই চেনে,মেয়েটির একাধিক পাণিপ্রার্থী রয়েছে।ফলাফল বিয়ে ভেঙে যায় এবং ফের মেয়ে দেখা হয়। এই সমন্ধটা এনেছিল সাফওয়ানের বড়বোন সায়মা।সায়মা ও সাফওয়ান বাবা-মায়ের দুইমাত্র সন্তান। সায়মার বাবা এই অঞ্চলের বিশিষ্ট আইনজীবী সোবহান আজিজ। আইনজীবী হলেও বাস্তবে সোবহান সাহেব রসিক মানুষ।সায়মাকে বাবা কখনোই খুকুমণি ছাড়া ডাকেন না। বাড়িতে যতক্ষণ তিনি থাকেন স্ত্রীর সাথে তার নটখট লেগেই থাকে।কোহিনূর উষ্ণ মেজাজের মানুষ অল্পতেই রেগে যান।তবে সোবহান আজিজ মেজাজ সর্বদাই শীতল ।স্ত্রী কে বাপের বাড়ি নিয়ে দু'একটা খোঁচা দিয়ে তিনি চুপ হয়ে যান।এরপর সেই বিষ কোহিনূর সারাদিন ধরে পুরো সংসারের ওপর ঢালেন শুধু সাফওয়ান কে বাদ রেখে । মায়ের মতে সাফওয়ান হল এই ধরিত্রীর সবচেয়ে নিঃস্পাপ ও অবুঝ ছেলে।যে গুছিয়ে কোন কাজ করতে পারে না, এক গ্লাস পানি পর্যন্ত নিজে নিয়ে খেতে পারে না,বাইরে বের হবার সময় চুল আঁচড়াতে ভুলে যায়। নিতান্ত অসহায় এক যুবক! সাফওয়ানের জন্য তাই মা কোহিনূর আরা সর্বদাই আহ্লাদিত বোধ করেন।দিনরাত বলতে থাকেন, 'আহারে!আমার সোজা সরল ছেলেটা। এই জটিল পৃথিবীতে ও কিভাবে বেঁচে থাকবে!ওর মুখের খাবার কেড়ে নিলেও তো ও কিছুই বলতে পারবে না। আল্লাহ তুমি আমার মেয়েটার ভেতর এত পেঁচ দিলা, ছেলেটাকে কেন এত সোজা বানাইলা ? ছেলেটার একটু বুদ্ধি থাকলে তো আমার আর চিন্তা ছিল না।' মায়ের কথা শুনে সায়মা ভুরু কুঁচকে মুখে ভেঙচি কাটে, রাগে ফোসফাস করতে থাকে। সায়মার মন মেজাজ আজ বিক্ষিপ্ত। মেয়ে দেখতে আসার আগে মাকে গলা উঁচিয়ে সে বলে এসেছে, 'শোন আম্মা,এই মেয়ে হল নিখুঁত রূপবতী। একেবারে ফার্স্টক্লাস। আগে যে মেয়েগুলোকে দেখেছিলাম ওরা এর সাথে দাঁড়াতেই পারবে না।দাঁড়ালে এর রূপের আগুনে এমনিতেই ভস্ম হয়ে যাবে।বুঝলে? এরপরও যদি তোমার গুনধর পুত্রের পছন্দ না হয় তাহলে আমিও বলে দিলাম সায়মুমের বাবার সাথে ঝগড়া করা আমি চিরজীবনের মতো ছেড়ে দেব। এই আমার এক জবান, হুহ্ ।' সায়মা জবান দিয়েছিল ঠিক। অথচ এখন মনে হচ্ছে জবানটা সে রাখতে পারবে না।কারণ এই সীমাতিক্রান্তি রূপবতীকেও নাকি সাফওয়ানের পছন্দ হয় নি! মেয়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠে বসে সাফওয়ানের কানে ঠোঁট তুলে সায়মা হিসহিসিয়ে বলল, 'তুই শুধু দেখ আমি কি করি।বাড়ি গিয়ে আজ যদি আমি কুরুক্ষেত্র না বাঁধাই তবে আমার নামও সায়মা আজিজ না।হুহ্। ' সাফওয়ান গুরুতর অপরাধের আসামির মতো শুকনো ঢোক গিলল।তার ফর্সা মুখটা ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে বর্ণ ধারন করছে।মিন মিন করে সে বলল,'আমি কি বেশি কিছু বলেছি? শুধু বললাম যে মেয়েটা ভুতের মতো সাদা।এত সাদা যে রাত-বিরেতে হঠাৎ দেখলে ভয় পেয়ে হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম করে হলেও নাইনটি পার্সেন্ট। ' সায়মা তীক্ষ্ণ চোখে তাকালো।সে তাকানো দেখে মনে হল চোখের চাহনির দ্বারাই সাফওয়ানকে সে ভস্ম করে দেবে। সারা রাস্তা সাফওয়ান আর কথা বলার সাহস পেল না। বাড়ি ফিরতেই কোহিনূর আরা আহ্লাদিত হয়ে বললেন, 'তোরা এসেছিস? মেয়ে কেমন দেখলি? তারপর হঠাৎ সাফওয়ানের দিকে তাকিয়ে উত্তেজিত হয়ে বললেন, 'ওকি! বাবু, তোর মুখটা ওমন দেখাচ্ছে কেন? কি হয়েছে? ' -'কি আবার হবে আম্মা।তোমার ছেলের এই মেয়েকেও পছন্দ হয়নি।আমার যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে। আমি ভাই মাফও চাই,দুয়াও চাই।তোমার ছেলের জন্য তুমি নিজেই মেয়ে দেখ।আমাকে আর ডাকবে না।'বলে সায়মা মুখ ঝামটা মেরে চলে গেল। কোহিনূর সন্দিহান গলায় বললেন, 'সায়মা কি বলে বাবু? তোর কি সত্যিই মেয়ে পছন্দ হয়নি। এই মেয়ের যে তবে এত প্রসংশা শুনলাম.....! ' মায়ের মন ভেজাতে সাফওয়ান তার গুপ্ত কৌশল প্রয়োগ করল।কোহিনূরের কাছে এসে অসহায় বালকের মতো বলল,'জানো মা,কাল রাতে খুব খারাপ একটা স্বপ্ন দেখেছি।স্বপ্নটা দেখে তো আমি ভীষণ..... ' কোহিনূর আতঙ্কিত হয়ে বললেন-'সেকি! তুই আমাকে জানাস নি কেন? কি দেখেছিস বাবু ?' -'বুঝলে মা, স্বপ্নে দেখলাম একটা ডাইনি আমার গলা চেপে ধরেছে। ডাইনির পুরো মুখ চুলে ঢাকা।তাই মুখটা দেখা যাচ্ছিল না। একসময় সে নিজেই চুলগুলো সরালো। কি আর বলব মা, ডাইনির মুখটা ভয়াবহ রকমের সাদা।ভয়ে একেবারে আমার ঘুমটাই ভেঙে গেল। তারপর আজ ওবাড়ি গিয়ে দেখি কালকে রাতে স্বপ্নে দেখা ডাইনিটাই লাল শাড়ী পরে ভুতনির মতো সেজে বসে আছে।এই মেয়েকে বিয়ে করলে নিশ্চিত এ আমার রক্ত চুষে খাবে।তাই আমি বলেছিলাম পছন্দ হয়নি। তারপরও যদি তুমি বল......।' কোহিনূর আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে বললেন,'হায় আল্লাহ! এইসব তুই কি বলিস! আমাকে আগে কেন জানালি না বাবু? তাহলে তো তোকে আমি ওই ডাইনির বাড়ি পাঠাতামই না।তোকে যে কিছু করেনি সেই তো আমার ভাগ্য। আমি আজই পাঁচটা দেশি মুরগি সদকা দেব।আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া, আজ আমাকে এতবড় বিপদ থেকে বাঁচিয়েছেন।' সেদিনের মতো ঘটনা এখানেই সমাপ্ত হল।সায়মার কুরুক্ষেত্র বাঁধানোর কথা থাকলেও সে কুরুক্ষেত্র বাঁধালো না।রাগ করে মানুষ বাপেরবাড়ি যায়, আর সে রাগ করে নিজের মেয়েকে নিয়ে শশুড়বাড়ি চলে গেল। কোহিনূর এবার নিজেই মেয়ে দেখার তোরজোর শুরু করলেন। দু-তিনটে মেয়ে দেখাও হল।তবে কোনটিই বেশিদূর এগোলো না।কারণ সাফওয়ানের কাউকেই বিশেষ পছন্দ হচ্ছে না।কারো বা নাক বেশি চোখা,কারো আবার মুখটা বেশি লম্বা! এদিকে কোহিনূরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিন মাসের মধ্যে ছেলের বিয়ে তিনি দিয়েই ছাড়বেন।এই দৃঢ়তার পেছনে অবশ্য লম্বা ইতিহাস আছে..। ছোট বোন হিরার মেয়ে রুমিকে তার মোটামুটি পছন্দ ছিল।হাতের কাছেই ভালো মেয়ে রেখে তিনি দূরে যেতে চাইছিলেন না।তাই প্রথমে রুমির সাথে সাফওয়ানের বিয়ের কথা তুলেছিলেন।ছেলের বিষয়ে তিনি সর্বদাই নিঃসন্দেহ।তাই বিয়ের দিন-তারিখ একেবারে পাকা করে তবে ছেলেকে জানালেন। রুমিকে বিয়ের কথা শুনে সাফওয়ান একেবারে আকাশ থেকে পড়ল। বলল রুমিকে সে নিজের আপন ছোট বোন ছাড়া আর কিছুই ভাবে না।তাছাড়া ছোট বেলায় রুমিকে সে কত কোলেপিঠে নিয়েছে, রুমি কতবার তার কোলে হিসু করেছে সে হিসাবও দিল। অগ্যতা কোহিনূর হুট করেই সে বিয়ে ভেঙে দিলেন। সেই থেকে হিরার সাথে তার সম্পর্ক হল সাপে-নেউলে । হিরা সেদিন ভেংচি কেটে বললেন কোহিনূর বিয়ে না ভাঙলে তিনি নিজেই নাকি এ বিয়ে ভেঙে দিতেন।সাথে এও বললেন যে মায়ের আঁচল ধরা এই ছেলের কোনদিনও বিয়ে হবে না। পাল্টা আক্রমণ সরূপ কোহিনূর ঘোষণা করলেন তিন মাসের মধ্যেই তিনি ছেলের বিয়ে দেবেন এবং সেটাও অতি রূপবতী কন্যার সাথে। সেই তিনমাসের দুইমাস ইতিমধ্যে শেষ।কিভাবে এত অল্প সময়ের মধ্যে ছেলের বিয়ে দেবেন সেই ভেবে ভেবে কোহিনূর দিনরাত অস্থির হচ্ছেন।তাছাড়া ছোট বোনের কাছে এভাবে হেরে যাবেন এও তিনি মানতে পারছেন না। সকালে হঠাৎ সায়মার শাশুড়ী কল করলেন।কোহিনূর ভাবলেন সায়মা রাগ করেছে তাই হয়তো শাশুড়ী কে দিয়ে কথা বলাচ্ছে।পরে দেখা গেল ব্যাপার আলাদা।সায়মার বরের ছোট ভাইয়ের বিয়ে।বিয়ের দাওয়াত দিতেই তিনি কল করেছিলেন। সাফওয়ানের বাবা সোবহান আজিজ সারাবছর বাতের ব্যাথায় ভোগেন। তাই তার যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সে কারণে কোহিনূরের যাওয়াও মোটামুটি অনিশ্চিত।তাই ঠিক হল সাফওয়ান একাই যাবে দাওয়াত রক্ষা করতে। সায়মার শশুড়বাড়ি সুসং দুর্গাপুর। পাহাড় ঘেঁষে ছোট সাদা বাংলোর মতো বাড়ি।কাছেপিঠে আরো কিছু বাড়ি রয়েছে। সামনে পেছনে উঁচুনিচু টিলা।কিছুটা দূরেই সোমেশ্বরী নদী।সাদা মাটির পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে বয়ে গেছে অপরূপ নীলের স্রোতধারা। মনে ভালো করে দেয়ার মতো সমস্ত উপাদান এখানে একইসাথে বিদ্যমান। সাফওয়ান সুসং এ এসে পৌঁছালো সন্ধ্যা নাগাদ। অপরাহ্নের ছায়া নেই, আকাশে খন্ড মেঘ ভেলার মতো ভেসে বেড়াচ্ছে,বিকেলের সূর্যের আলো মরে ক্রমেই লালচে বর্ণ ধারন করেছে।ঝিরিঝিরি বাতাস আর দূর থেকে ভেসে আসা সোমেশ্বরীর কলকল ধ্বনি মিলেমিশে একাকার। সাফওয়ান বাড়ির সামনে এসে হঠাৎ থমকে দাঁড়ালো।চারদিকে একবার শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে মূহুর্তের জন্য তার শরীরে শিহরণ হল।প্রকৃতি কি তাকে বিমোহিত করতেই আজ হঠাৎ এত বিশেষভাবে সেজেছে? নাকি এই রূপ সর্বদাই এত স্নিগ্ধ! সাফওয়ান ভেতরে যাওয়া মাত্র তাকে দেখে চারিদিকে হৈচৈ পড়ে গেল। বেহাই বাড়ির কুটুম বলে কথা।তাছাড়া মায়ের চকলেট বয় যে এতদূর জার্নি করে এসেছে সেও এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার। সায়মার শাশুড়ী, ননদ,ভৃত্যরা মিলে একেবারে হুলুস্থুল কান্ড শুরু করে দিল।ঠান্ডা শরবত, গোসলের জন্য গরম পানি,চা-কফি........সাফওয়ান বিভ্রান্ত হয়ে গেল। চলবে............।

N@Nipa1234

Regular useing 20 small sentence: Part : 13 ♪ভলিউম বাড়িয়ে দাও। ♪Turn the volume up. ♪ভলিউম কমিয়ে দাও। ♪Turn the volume down. ♪লাইট টি অন করো। ♪Switch the light on. ♪লাইট টি বন্ধ করো। ♪Switch the light off. ♪সতর্কতার সাথে গাড়ি চালাও। ♪Drive carefully. ♪একটু ধৈর্য ধর। ♪Have a little patience. ♪বেশি কথা বলা বন্ধ করো। ♪Stop talking much. ♪এতে অনেক কিছুই যায় আসে! ♪It matters much! ♪আসল কথায় আসো। ♪Come to the point. ♪আজগুবি কথা বন্ধ কর! ♪Stop talking absurd! ♪যোগাযোগ রাখবে। ♪Stay in touch. ♪সংযুক্ত থাকুন। ♪Stay connected. ♪দূরে থাকুন। ♪Stay away. ♪নিরব থাকুন। ♪Stay silent. ♪শান্ত থাকুন। ♪Stay cool. ♪আমাকে হাসাবে না। ♪Don't make me laugh. ♪তোমার মাকে কাঁদাবে না। ♪Don't make your mom cry. ♪কি প্রয়োজনে এলে? ♪What brings you here? ♪একদিন ও না। ♪Not a single day. ♪গত দুইদিন। ♪Last couple of days. #Happy learning

N@Nipa1234

ফিবনোক্সি" ৩৮তম বিসিএস প্রিলিতে ফিবনোক্সি থেকে প্রশ্ন এসেছিল কিন্তু গণিতের ছাত্র-ছাত্রী ছাড়া অধিকাংশ সাধারণ পরীক্ষার্থী জানত না ফিবনোক্সি আসলে কী ! অথচ ক্লাস এইটের নতুন সিলেবাসের বইয়ে ছিল টপিকসটা - ফিবনোক্সিঃ-ফিবোনাক্কি রাশিমালা সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি? আকাশে পাখি উড়ে, প্রথমে একটা পাখি উড়াল দেয়। তারপর আরেকটা। এরপর একসাথে দুইটা। এরপর একসাথে তিনটা। এরপর একসাথে ৫টা। আচ্ছা এরা তো সব গুলো একসাথেই উড়তে পারতো। নাহ? তারা সৃষ্টি থেকেই একটা ধারাবাহিতা বজায় রেখে এ কাজ গুলো করে আর এর নামই ফিবনোক্সি! আসুন ফিবনোক্সি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই- ফিবনোক্সি সংখ্যায় সংখ্যাটি তার আগের দুটি সংখ্যার যোগফলে নির্ধারণ হয়। যেমন- ১, ১, ২, ৩, ৫, ৮, ১৩, ২১...... এভাবে চলতে থাকবে। এটি বাস্তবিক জীবনে বিভিন্ন জায়গায় প্রয়োগ হয়েছে। আমার নিজের জানা- এই সিরিজ অনুযায়ী একটি পাখি উড়ে এসে কোথাও বসে। অর্থাৎ প্রথমে ১টি তারপরে ১টি তারপরে ২টি তারপরে ৩টি তারপরে ৫টি ইত্যাদি ইত্যাদি। এই রাশিমালাটির আবিস্কারক ছিলেন লিওনার্দ দ্যা পিসা। যিনি ফিবনোক্সি নামেই পরিচিত ছিলেন এবং রাশিমালাটি তার পরিচিত নামেই নামকরণ করা হয়েছে। তিনি মনে করতেন, প্রকৃতির মূল রহস্য এই রাশিমালায়ই লুকায়িত আছে। তাঁর এটি মনে করার কারণ ছিল প্রকৃতির বিভিন্ন বিন্যাসে এই রাশিমালার ব্যবহার। এছাড়া কিছু প্রয়োগ হলোঃ - সূর্যমূখী ফুলের পাপড়ি ফিবনোক্সি সিরিজ অনুযায়ী বিন্যাস হয়। - শামুকের প্যাঁচেও ফিবনোক্সি সিরিজ লক্ষণীয়। - পাইন গাছের মোচায়ও এই সিরিজ দেখা যায়। - মৌমাছির পরিবার তন্ত্রে ফিবনোক্সি সিরিজ দেখা যায়। - ফুলকপির বিন্যাস ফিবনোক্সি সিরিজ অনুযায়ী হয়। - বিভিন্ন গাছের শাখাও ফিবনোক্সি সিরিজ অনুযায়ী বিন্যাসিত থাকে। যেমন :- 0+1=1 1+1 = 2 1+2 = 3 2+3 = 5 অর্থাৎ - 1 1 2 3 5 8 13 21 34 ... এভাবে চলতে থাকে। ঠিক একই ভাবে প্রতিটি সংখ্যাই তার পরবর্তী দুটি সংখ্যার বিয়োগ ফল- যেমন : 3-2 = 1 5-3 = 2 8-5 = 3 অর্থাৎ ...34 21 13 8 5 3 2 1 1 0 এটি খুবই মজার এবং আশ্চর্য একটি সিরিজ

N@Nipa1234

ভেজা চিরকুট -- ৫৬তম পর্ব প্রায় ২০মিনিট সময় পেরিয়ে গেল অনু স্থির হয়ে বিছানায় বসে আছে। কেউ ডাকেনি এখন পর্যন্ত। নিশ্চয়ই সবাই ভাবছে অনু ফ্রেশ হয়ে জামা-কাপড় চেঞ্জ করছে, তাই এই মুহূর্তে ডাকাডাকি করছে না। আধ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর নিশ্চয়ই দরজায় টোকা দেওয়া শুরু হবে। অনু আরও দশ মিনিট একইভাবে বসে থাকল, যাতে পরে ওয়াশরুমে গিয়ে আরও আধ ঘণ্টা কাঁটাতে পারে। একজন উকিল, অন্যজন অতবড় সিনিয়র অফিসার, ওরা নিশ্চয়ই কাজ ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই বাড়িতে বসে থাকবে না। দু'জনেরই কর্মব্যস্ততা খুব বেশি। যেমনটা ভাবা, কাজটাও তেমনই করল অনু। ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় জামা-কাপড় আর তোয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল। দুপুরের উত্তপ্ত রোদে ঘাম আর রাস্তার ধুলোবালিতে শরীরের অবস্থা হয়েছে ভয়াবহ। তাই বেশ অনেকটা সময় নিয়ে শাওয়ার নিলো। এরপর শুকনো কাপড় পরে ওয়াশরুম থেকে বেরোলো। একটা হলুদ রঙের থ্রি-পিস পরল অনু। বিদেশ যাওয়ার আগে শুভ্র'র সাথে গিয়ে কিছু কেনাকাটা করেছিল। বিদেশে গিয়েও কিছু কিনেছিল, তবে সেই জামাগুলো এখন পর্যন্ত পড়ার সুযোগ হয়নি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাথায় পেঁচিয়ে রাখা তোয়ালেটা খুলে নিলো অনু। আধভেজা চুলগুলো পিঠের উপর দিয়ে এমন ভাবে নিচে নেমে গেল, যেন একটা ঝরনার রাস্তা তৈরি হলো। এখন বেশ স্নিগ্ধ দেখতে লাগছে তাকে। মুখটা মায়াবী।। শরীরের সাথে সাথে হৃদয়টাও শীতল। কিন্তু ড্রয়িংরুমে অর্ক আর ওর পরিবারের কথা মনে পড়তেই মনটা আবার বিষিয়ে গেল। মুখটা মলিন করে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে শুরু করল। দরজায় করাঘাত হতেই অনুর বুকের ভিতরটা ধক করে উঠল। অস্বস্তিকর একটা কম্পন শুরু হলো হৃদপিণ্ডে। ভীত গলায় অনু জানতে চাইল, "কে?" "আমি, বৃষ্টি।" সঙ্গে সঙ্গে বাইরে থেকে জবাব দিলো বৃষ্টি। অনু ভুরু কুঁচকালো। ধীর পায়ে বিছানা থেকে দরজার দিকে এগোলো কিছুটা। আবার জানতে চাইল, "কিছু বলবে, ভাবী?" বাইরে থেকে আবার বৃষ্টি সুস্পষ্ট স্বরে বলে উঠল, "বাইরে অতিথি বসে আছেন, তুমি দরজা আটকিয়ে ঘরে বসে আছো কেন?" অনু বলল, "দাঁড়িয়ে আছি এখন।" "দরজা খোলো।" অনু মিনমিন করে বলল, "গোসল শেষ হয়নি।" অসন্তুষ্ট হলো বৃষ্টি। একপলক পিছনে তাকিয়ে আবার একরাশ ক্ষোভ নিয়ে সামনে তাকালো। দরজায় সামান্য জোরে ধাক্কা দিয়ে বলল, "গোসল করতে এত সময় লাগে?" অনু দরজার কাছে দাঁড়িয়েই ক্ষীণ গলায় বলল, "অনেকক্ষণ লাগে।" "তুমি দরজা খোলো, তারপর আমি দেখছি।" অগত্যা একরাশ বিরক্তি নিয়ে দরজাটা খুলে দিলো অনু। বৃষ্টিকে দেখল চোখ গরম করে তাকিয়ে থাকতে। নিশ্চয়ই রেগে আছে ভীষণ। অনুও রেগে আছে বেশ; তাই বৃষ্টির রাগ প্রভাবিত করে তাকে দমাতে পারল না। বরং অনু রাগান্বিত স্বরে বলে উঠল, "ভাবী, একটু আগেই এলাম। বিশ্রাম তো নিতে দিবে।" কথাটা স্বাভাবিকের তূলনায় জোরে বলল অনু। যাতে বাইরের লোকগুলো শুনতে পায়। বৃষ্টি মুখের সামনে আঙ্গুল দিয়ে বলল, "আস্তে কথা বলো। শখ করে এখানে আসিনি আমি। বাবা বললেন তোমাকে রেডি করে ড্রয়িংরুমে নিয়ে যেতে।" "আমি কি কাঠের পুতুল, যে আমাকে নিয়ে যেতে হবে? হাত-পা নেই আমার?" "তুমি এইরকম আচরণ করছ কেন আমার সাথে?" বৃষ্টি ক্ষুব্ধ হলো। ভয়ঙ্কর চোখ করে অনুকে শাসাতে শুরু করল। অনু ডোন্ট কেয়ার টাইপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলল, "রেডি-ফেডি হতে পারব না আমি। বাবা ডেকেছে যখন, দেখা করে আসবো শুধু।" নেহাৎ-ই শ্বশুর মশাইয়ের হুকুম বলে এখনো নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বৃষ্টি। না হলে এতক্ষণে একটা তুমুল কাণ্ড বাঁধিয়ে দিতো। অনুর রূঢ় আচরণ কিছুতেই সহ্য করত না সে। পাল্টা আক্রমণ করে তবে খ্যান্ত হতো। এখন শ্বশুর মশাই বলেছেন, অনু নিয়ে যেতে। আর বাড়িতেও অতিথি। সুতরাং কাজটা সম্পন্ন করতেই হবে। দীর্ঘঃশ্বাস ছেড়ে নিজেকে শান্ত করল বৃষ্টি। হাতটা বুকে রেখে হৃদয়টাকে স্থির করে বলল, "এভাবে যাওয়া যাবে না। ওরা তোমাকে বিয়ের জন্য দেখতে এসেছে।" অনু মুখ শক্ত করে বলল, "আমাকে না জানিয়ে আমাকে দেখতে এসেছে? ভাবলে কীভাবে এরপরও ওখানে যাব আমি?" মুখ বাঁকিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক স্বরে বৃষ্টি বলল, "তোমার সৌভাগ্য যে ওরা তোমায় দেখতে এসেছে।" অনু হেসে উপহাস করল এমন সৌভাগ্যকে৷ কিছুটা সময় নিয়ে বলল, "এসেছে যখন, চলো একবার দর্শন দিয়ে আসি।" গম্ভীর গলায় বৃষ্টি বলল, "চুলগুলো অন্তত আঁচড়ে যাও।" বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে অনু বলল, "আজ থেকে ৪ বছর আগে আমার প্রথম এবং একমাত্র প্রেমিক বলেছিল, চুল খুলে রাখলেই আমাকে সবচেয়ে বেশি সুন্দরী দেখতে লাগে। মায়াবতী মনে হয়।" "তুমি কি মজা করছ আমার সাথে? না পাগল হয়ে গেছ?" বিস্ময়ে বৃষ্টির মুখ 'হা' হয়ে গেল একেবারে। এই অচেনা অনু ক্রমাগত তাকে ভড়কে দিচ্ছে। মুখ গম্ভীর করে 'ফলো মি', কথাটা বলে অনু বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। অনুকে স্বাভাবিক বেশে দেখে একটু বিব্রতই হলেন নুরুল ইসলাম। মুখটা তাঁর ফেকাসে হয়ে গেল। তবে অনুর সামনে বসে থাকা তিনজনের মুখে হাসি দেখে তাঁর মলিনতা বেশিক্ষণ স্থায়ী থাকলো না। অনু সামনে এসে উকিল আর উনার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আবারও বিনয়ী সুরে সালাম দিলো। অর্ক'র দিকে একনজরও তাকালো না। বসল বাবার পাশে। অর্ক'র বাবা-ই শুরু করলেন। অনুর উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, "অনু মা, তুমি তো আমাকে ভালো করেই চেনো। আমি যে তোমাকে নিজের মেয়ের মতোই ভাবি, সেটাও নিশ্চয়ই জানো?" জবাবের আশায় নীরব হলেন উকিল। অনু ভুরু সামান্য তুলে অর্ক'র বাবার দিকে তাকিয়ে মৃদুস্বরে জবান দিলো, "জি আঙ্কেল। আমি জানি।" সুপ্রসন্ন হেসে উকিল আবার বলতে শুরু করলেন, "তোমার জীবনে আগে কী ঘটেছে, সেসব আমরা জানি। তবে আমরা কেউই চাই না অতীতের ঘটনাগুলো পরবর্তীতে তোমার উপর কোনোরকম প্রভাব ফেলুক। এইসব মনে রাখতে চাই না আমরা। সেজন্যই আমাদের সবার ইচ্ছা, তুমি নতুন করে জীবনটা শুরু করো।" অনু বলল, "জীবন একটাই। আর এই এক জীবন শেষ হবে আমার মৃত্যুর সাথে সাথে।" অনুর এইরকম স্পষ্ট কথা শুনে অপ্রস্তুত হলেন উকিল। তবে সেটা কাটিয়ে দিলেন নুরুল ইসলাম। তিনি বলে উঠলেন, "নতুন জীবন বলতে, ও বলতে চাইছে আগের সবকিছু ভুলে গিয়ে তুই জীবনটাকে সম্পূর্ণ নতুন রূপে সাজা। খারাপ স্মৃতিগুলো মুছে ফেল মাথা থেকে। এখন থেকে ভবিষ্যতের কথা ভাব। কীভাবে বাকি জীবনটা কাঁটাবি, সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা কর।" অনু মাথা নুইয়ে নিচের ঠোঁটটা আলতো করে কামড় দিয়ে বলল, "হুম, তাই করব।" উকিল স্বস্তি অনুভব করতেই আবার বলতে লাগলেন, "আর সেজন্যই আমরা সবাই চাই, তোমার সাথে অর্ক'র বিয়ে হোক। এই বিয়েটা হলে আমাদের সম্পর্কটা শক্ত হবে। অর্ক সম্মতি দিয়েছে। আশা করি তোমার অমত নেই এই বিয়েতে।" চোখ-মুখ শক্ত করে রাখল অনু। বিয়ের কথা শুনতেই কান জোড়া লাল হয়ে এলো তাঁর। সাথে এটাও মনে হলো, কান দিয়ে উত্তপ্ত ধোঁয়া বেরোচ্ছে। কোনো কথাই বলল না সে। চুপচাপ বসে থাকল বাবার পাশে। উকিল নিজে নিজেই বুঝে নিলেন সবকিছু। তাঁর মধ্যে পরিবর্তন দেখা গেল। ঝলকানিতে পরিপূর্ণ চোখ-মুখ। উজ্জীবিত মুখ করে তিনি বললেন, "বেশ, এভাবে বলতে অসুবিধা হলে তুমি পরে বাবাকে মতটা জানিয়ে দিও। এরপর না হয় আবার একদিন এসে বিয়ের দিনতারিখ ঠিক করব।" উকিল ধরেই নিলেন অনু রাজি। উকিলের স্ত্রীও এমনটাই ভাবলেন। তিনিও খুশি বেশ। তবে অর্ককে খুব ভীতসন্ত্রস্ত, খুব নিরীহ দেখালো। এখন পর্যন্ত কোনো কথাই বলেনি সে। চুপচাপ বসেছিল। সে ভেবেছিল অনু তৎক্ষনাৎ অমানবিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে, এতে তাঁর মা-বাবা অপমানিত হবে, সেজন্য একটু কাচুমাচু হয়ে ছিল শুরু থেকেই। এখন স্বস্তি পেলো। তবে অনুর নীরব রাগটা তাঁর চোখ এড়ালো না। এত সহজে যে অনুকে পাবে না, এ ব্যাপারে নিশ্চিত সে। অর্ক আর ওর মা-বাবা, সবাই চলে যাওয়ার পর অনু বাবার দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট ভাবে বলল, "বাবা, দয়া করে এখন আমার বিয়ের চিন্তা বাদ দাও। তোমার আজকের কাণ্ডে আমি খুবই দুঃখ পেয়েছি। আমাকে একবার জানানোর প্রয়োজনবোধ করলে না তুমি।" দৃঢ় গলায় নুরুল ইসলাম বললেন, "আরে মা, তুই ভুল বুঝছিস আমাকে। আমিও জানতাম না ওরা আসবে। সাভার এসেই আমাকে ফোন দিয়েছে। তোর কাছে তো মোবাইলও নেই, যে জানাবো। ভাগ্য ভালো একটু পরই তুই এসে গেলি।" অনু বিড়বিড় করে বলল, "এটা আমার জন্য দূর্ভাগ্য। আরও দেরি করে এলে ভালো হতো।" নুরুল ইসলাম ভ্রু কুঁচকে বললেন, "কী বলছিস?" ঠোঁট ভিজিয়ে অনু বলল, "বলছি, তুমি আঙ্কেলকে জানিও দাও আমি বিয়ে করব না।" "কেন?" "আমি চাই না এই মুহূর্তে কারোর সাথে সম্পর্কে জড়াতে। যেভাবে আছি, বেশ ভালো আছি।" স্পষ্ট এবং দৃঢ় কণ্ঠে কথাগুলো বলল অনু। কোনো দ্বিধা নেই এখানে। নুরুল ইসলাম মনোক্ষুণ্ণ হলেন। চোখ নামিয়ে নিয়ে কাতর গলায় বলতে লাগলেন, "আমি জানি তোর সাথে যে অন্যায় হয়েছিল, এর জন্য আমি দায়ি। ইনফ্যাক্ট কাজটা আমিই করেছিলাম। কিন্তু মা, এভাবে বাকি জীবন একা থেকে আমাকে কষ্ট দিস না। না হলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজেকে নিয়ে অনুশোচনা হবে আমার। সবসময় মনে হবে আমি নিজের হাতে মেয়ের জীবনটা শেষ করেছি। মরার আগে তোকে সুখী দেখতে পারলে আমি শান্তি পাবো।" "বাবা, এই কথাগুলো বলে আমাকে দুর্বল করার চেষ্টা করো না তুমি। এর আগেও মায়ের মৃত্যু নিয়ে আমাকে অনেক ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করেছিলে তুমি। অনেক কাণ্ড করেছিলে। আবার ওইরকম কিছু করো না প্লিজ। তাহলে আমার অবস্থা হবে বেঁচে থেকেও মৃত প্রায়! তুমি আমার চিকিৎসা না করালে আমি যতটা কষ্ট পেতাম, তাঁর থেকেও বেশি কষ্ট পাবো যদি তুমি আমাকে ঠকাও, আমার সাথে ছলনা করো। আমি বড় হয়েছি, বাবা। আমি সব বুঝি। কখন কোন পদক্ষেপ নিতে হবে, সেটা না হয় এবার আমার উপর ছেড়ে দাও।" মনোযোগ দিয়ে কথাগুলো শুনলেন নুরুল ইসলাম। এরপর কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে ঘরে চলে গেলেন তিনি। অনু একবার মায়ের দিকে তাকালো। রাগে কটমট করে তাকিয়ে আছেন মমতাজ বেগম। বৃষ্টি আবার মিটমিট করে হেসে মজা নিচ্ছে। অনু বৃষ্টির দিকে ধারালো চোখ করে তাকিয়ে বলল, "খুব সেয়ানা মাল।" অনু জানে, তাঁর বাবাকে আড়াল থেকে উস্কানি দিচ্ছে এই বৃষ্টি। মেয়েটা মনপ্রাণ দিয়ে চায়, অনুর বিয়ে হোক। এই চাওয়াটা অনুর ভালোর জন্য নয়, অনু যাতে বাড়ি থেকে বিদেয় হয়, সেটার তাঁর চাওয়া। অনু বিদেয় হলেই এই বাড়িতে তাঁর প্রমোশন হবে। মমতাজ বেগম এখন অনেকটা নীরব; অনুকে বিদেয় করে নিজের জায়গা উপরের নিয়ে যাওয়ার এটাই সুযোগ। অনুর শেষ কথা শুনে বাকরুদ্ধ বৃষ্টি। হতবিহ্বল মমতাজ বেগমও। তাঁরা কিছু বলার আগেই ঝড়েরবেগে ড্রয়িংরুম পেরিয়ে নিজের ঘরে চলে গেল অনু। ১০৭. পরদিন সকালে ব্রেকফাস্ট এর সময় টেবিলের কাছে এলো অনু। চেয়ার টেনে বসতেই মায়ের চওড়া গলা কানে ভেসে এলো। টেবিলের কাছে আসতে আসতে মমতাজ বেগম বললেন, "এবার তো আর অসুস্থতার অজুহাত দিতে পারবি না; তা এবার থেকে বাড়ির কিছু কাজকর্ম কর। বসে বসে খেতে লজ্জা করে না?" অনু মনেমনে হেসে বলল, "দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেলে আল্লাহ পাপ দিবেন, মা। এটা জানো না? সবসময় বসে বসে খেতে হয়।" মেয়ের এমন রসিকতা দেখে গর্জে উঠলেন মমতাজ বেগম, "ফাজলামি করিস আমার সাথে? আমি বলছি কাম-কাজ না করে মহারানীর মতো বসে বসে খেতে লজ্জা করে না?" অনু আগের মতোই কৌতুকের সুরে বলল, "মহারানী'রা যখন লজ্জা পায় না, তখন আমার লজ্জা পাওয়াটা কি উচিত? তাছাড়া এই পদটা অনেক সম্মানের।" "হায় খোদা!" মাথায় হাত দিয়ে অনুর পাশে এসে দাঁড়ালেন মমতাজ বেগম। চেঁচিয়ে উঠলেন আবার, "এই মেয়ে দেখি পুরাই পাগল হয়ে গেছে। সমস্যা কী?" ভয়ঙ্কর চোখ করে মেয়েকে দমাতে চাইলেন মমতাজ বেগম। বৃষ্টি সামান্য দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। শ্বাশুড়িকে সঙ্গ দিতে এগিয়ে এলো এবার। এসেই উচ্চস্বরে বলে উঠল, "বিদেশের হাওয়া গায়ে লাগছে না, তাই সোজা কথা বাঁকা করে বলতে শিখেছে।" অনু বৃষ্টির দিকে কটমট করে তাকালো একবার। বৃষ্টি নিভে যেতেই আবার মায়ের দিকে তাকালো। মমতাজ বেগম বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে বললেন, "তা কীকরে হয়? বিদেশ থেকে আসার পর তো সব ঠিকই ছিল। কালকের পর থেকেই তো এইরকম করছে।" অনু বলল, "দোষটা বিদেশ বা বিদেশের আবহাওয়ার না। দোষটা হলো এক বিজ্ঞানীর। মনোবিজ্ঞানী সে। কাল আমি তাঁর সাথে দেখা করেছিলাম। সে-ই বলেছে, সবসময় উদাস থাকা উচিত না। এটা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সুস্থ থাকতে হলে হাসিখুশি থাকতে হবে। মাঝে মাঝে বাড়ির লোকদের সাথে বিটলামি করতে হবে। তাহলে মন, শরীর, সব ঠিক থাকবে। উনার পরামর্শেই তোমাদের সাথে একটু বিটলামি করছি। আর তোমরা ভাবছ আমি সোজা কথা বাঁকিয়ে বলছি।" অনুর কথা শুনে বৃষ্টি থতমত খেয়ে গেল। মমতাজ বেগম মুখ 'হা' করে বললেন, "তুই তো বলেছিলি বান্ধবীর বাড়িতে গেছিস।" "আরে ওই বান্ধবীই তো মনোবিজ্ঞানী। বিরাট এক বিজ্ঞানী। তেমন নাম-ডাক নেই, তবে দারুণ। উনার পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হলে একটু হাসিঠাট্টা করতেই হবে। আর বাড়িতে তোমাদের ছাড়া আর কার সাথেই বা হাসিঠাট্টা করব?" বৃষ্টি ফোঁস করে উঠল, "তুমি কি আমাদের জোঁকার ভাবছ?" অনু হতাশ হয়ে বলল, "সোজা কথাকে উল্টিয়ে অর্থটাই পাল্টে দিলে। ধ্যাত!" বৃষ্টি দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখে বলল, "আচ্ছা, সহজ কথাই বলছি। মনোবিজ্ঞানী যদি তোমার বান্ধবীই হয়ে থাকে, তাহলে আপনি করে বলছ কেন?" অনু চমকালো হঠাৎ। এই বিষয়টি খেয়াল করেনি সে। মামুনের সাথে সম্পর্কটা বেশ ঘনিষ্ঠ হয়েছে এতদিনে, তবুও দু'জন দু'জনকে আপনি বলে সম্মোধন করে। এবার অন্তত তুমিতে আশা উচিত। বৃষ্টিকে মনেমনে ধন্যবাদ দিয়ে অনু প্লেটে ভাত নিলো। আড়চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, "বাবা কোথায়?" ঝাড়ি মারার মতো কণ্ঠস্বর করে মমতাজ বেগম বললেন, "আল্লাহ জানে আর তিনিই জানে। আমি কীভাবে জানবো? সকালবেলা শার্ট-প্যান্ট পরে বেরিয়ে গেল। মানুষটা কাল সারারাত ঘুমায়নি। যে লোকটা তোর জন্য নিজের সর্বস্ব ব্যয় করল, সেই মানুষটাকে এভাবে অপমান করলি।" অনু ব্যথাতুর গলায় বলল, "আমি বাবাকে অপমান করিনি, মা। শুধু আমার মতামত জানিয়েছি। আমি এখন বিয়ে করতে চাই না। বাবা ভাবছে, এতে আমার ভালো হবে। কিন্তু আমি জানি, এই বিয়ে করলে আমার জীবনটা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে। বিয়ের পর কিছুই আর মেয়েদের হাতে থাকে না। ভাগ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। আমি আগে নিজের পায়ের তলার জমি শক্ত করি, এরপর বিয়ের কথা ভাবব; যাতে কোনো অঘটন ঘটলে দিশেহারা হতে না হয়। তুমিই বলো, এবার বাড়ি থেকে বেরোলে কি আর আমাকে ঢুকতে দিবে? মন থেকে বলো, দিবে?" মমতাজ বেগমের মুখটা মলিন হয়ে গেল। বৃষ্টি মুখ বাঁকিয়ে ব্যাঙ্গ করল। বিড়বিড় করে নিজের মনে বলল, "সেই বান্ধবীর প্রসঙ্গটাই পাল্টে দিলো। একেই তো সেয়ানা বলে। কে বলবে, ওই বিজ্ঞানী বন্ধু বা বান্ধবী।" খাওয়াদাওয়া শেষ করে বাড়ি থেকে বের হলো অনু। গেইটের আসতেই দারোয়ানকে দেখল। মামুন বলেছিল, ওর খবর দারোয়ান জানতো। অনু এখানেই ভুল করেছে। একবার যদি দারোয়ানের কাছে মামুনের ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করতো, তাহলে মামুনকে খুঁজে বের করা সহজ হতো। টানা সাত দিন পাগলের মতো ঢাকা শহর ঘুরে-বেড়াতে হতো না। অনু মনেমনে বলল, "দারোয়ান একটা আহাম্মক! নিজে থেকে একবার বলবে না মামুনের কথা!" দারোয়ানের হাতে খবরের কাগজ দেখে অনু খপ করে নিয়ে নিলো। এরপর কয়েকটা পাতা উল্টাতেই দেখল মামুনের লেখা। উজ্জ্বলতায় ভরে উঠল অনুর মুখ-চোখ। তাঁর মন বলছিল মামুন আর ঘরে বসে থাকবে না। আবার লেখা শুরু করবে। এবং সেটাই হয়েছে। কাগজটা নিতে চাইলে দারোয়ান বলে উঠল, "আপা, স্ট্যাণ্ডে গেলেই কাগজ পাইবেন। এইডা নিয়েন না।" অনু ভাবল কয়েক মুহূর্ত। এরপর মাথা ঝাঁকিয়ে কাগজটা দারোয়ানের হাতে দিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়ালো। হঠাৎ দেখল পরিচিত এক মুখ। স্কুল পড়ুয়া ছেলেদের মতো দাঁড়িয়ে আছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে, তাঁর অপেক্ষাতেই দাঁড়িয়ে আছে। অনু মুখটা শক্ত করে অন্যদিকে চোখ ঘুরিয়ে নিলো। নাকের নরম দুই পাশ সামান্য ফুলিয়ে ফুঁসতে লাগল। ৫৬ পর্ব এখানেই সমাপ্ত। পরবর্তী পর্ব শীঘ্রই আসছে।

N@Nipa1234

৪১তস বিসিএস প্রিলি প্রস্তুতি-২০২০(বাংলা) আজ সাড়ে দশটার সিলেবাস থেকে (১২.১০.২০২০) কিছু চরিত্রের ক্ষেত্রে শুধু গ্রন্থের নাম কিছুর ক্ষেত্রে শুধু তাদের স্রষ্টার নাম আবার অনেক ক্ষেত্রে উভয়ের নাম দেওয়া হলঃ ১.অনোয়ারা- নজিবর রহমানের আনোয়ারা উপন্যাস অন্নদাদিদি, অভয়া, ইন্দ্রনাথ , রাজলক্ষ্মী – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রীকান্ত উপন্যাস। ২.অপর্ণা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিসর্জন কাব্যনাট্য অমল, সুধা, মাধব, দত্ত, ঠাকুর দা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ডাকঘর নাটক ৩.অমিত ও লাবন্য- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা উপন্যাস ৪.অর্জুন- সমরেশ মজুমদার। ৫.অর্জুন- চিত্রাঙ্গদা ৬.আদুরী- নীলদর্পণ ৭.আব্দুল্লাহ- আবদুল কাদেরের আবদুল্লাহ ৮.আয়েশা, তিলোত্তমা – দুর্গেশনন্দিনী ৯.ঈশ্বরী পাটনী, হীরা মালিনী, বিদ্যা ও সুন্দর- অন্নদামঙ্গল কাব্য ১০.ঋজুদা- বুদ্ধদেব গুহ। ১১.কদম্বিনী- জীবিত ও মৃত গল্প-ভানসিংহ ১২.কর্নেল নিলাদ্রী সরকার- সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ। ১৩.কাকাবাবু- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। ১৪.কালকেতু, ফুল্লরা , মুরারি শীল ,ভাঁড়ুদত্ত, ধনপতি, খুল্লনা, কলিঙ্গের রাজা- চন্ডীমঙ্গলমুকুন্দরাম ১৫.কিরীটী রায়- নীহার রঞ্জন গুপ্ত। ১৬.কিশোর, নন্দিনী- রক্তকরবী-রবিঠাকুর ১৭.কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিষবৃক্ষ উপন্যাস ১৮.কুবের মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাস ১৯.কৃষ্ণকুমারী, ভীম সিং, বিলাসবতী, মর্দানকী, তপস্বিনী কৃষ্ণকুমারী নাটক ২০.কেনারাম, ঘটিরাম ডেপুটি ও নিমচাঁদ দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী ২১.কেল্টুদা- নারায়ণ দেবনাথ। ২২.খুল্লনা ও লহনা- চণ্ডীমঙ্গল ২৩.গফুর, আমিনা- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মহেশ গল্প গোগোল- সমরেশ বসু। ২৪.গোবিন্দলাল ও রোহিনী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কৃষ্ণকান্তের উইল ২৫.গৌরমোহন, সুচরিতা, ললিতা, বিনয়, লবণ্য- গোরা গয়া- মামলার ফল ২৬.ঘটিরাম ডেপুটি ও নিমচাঁদ দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী ২৭.চাঁদ সওদাগর, মনসা, লখিন্দর পদ্মপুরাণ কাব্য চারু- নষ্টনীড় গল্প ২৮.জগুমামা- ত্রিদেবকুমার চট্টোপাধ্যায়। জমিলা, মজিদ , আমেনা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লালসালু ২৯.জোহরা- জোহরা ৩০.জোহরা, জরিনা, হিরণবালা, ইব্রাহীম কার্দি- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটক ৩০.জয়গুন, হাসু, মায়মুন আবু ইসহাকের সূর্যদীঘল বাড়ী [২৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি] ৩১.জয়ন্ত , মাণিক- হেমেন্দ্রকুমার রায়। ৩২.টেনিদা , প্যালা , হাবুল , ক্যাবলা- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়। ৩৩.ঠকচাচা, বাঞ্ছারাম, বাবুরাম বাবু- প্যারীচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরে দুলাল [২৬, ১৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি] ৩৪.ঠাকুর ঝি, নিতাই- তারাশঙ্করের কবি ৩৫.ডমরুধর – ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়। ৩৬.তিলোত্তমা – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ৩৭.তোরাপ, নবীন, মাধবী, আদুরী- নীলদর্পণ নাটক ৩৮.দামিনী, শচীশ, শ্রী বিলাস- চতুরঙ্গ ৩৯.দীপাঙ্কর দীপু, সতী, লক্ষ্মী- বিমল মিত্রের কড়ি দিয়ে কিনলাম ৪০.দীপাবলী- সমরেশ মজুমদারের সাতকাহন ৪১.দুঃখিরাম ও চন্দরা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাস্তি গল্প। [৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি] ৪২.দূর্গা, অপু, সর্বজয়া, হরিহর- বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় পথের প্যাচালী ৪৩.দেবদাস,পার্বতী ও চন্দ্রমূখী- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর দেবদাস ৪৪.দেবযানী – অমৃতলাল বসুর বিদায়-অভিশাপ ৪৫.নদের চাঁদ- মহুয়া ৪৬.নন্দলাল- অমৃতলাল বসুর বিবাহ-বিভ্রাট ৪৭.নন্দিনী, রঞ্জন – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রক্তকরবী নাটক ৪৮.নবকুমার কপালকুন্ডলা- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর কপালকুণ্ডলা ৪৯.নবীন মাধব- দীনবন্ধু মিত্রের নীল দর্পণ ৫০.নিখিলেশ, বিমলা, মেজরানী – ঘরে বাইরে ৫১.নিমচাঁদ- সধবার একাদশী ৫২.নিরঞ্জন- শূন্য পূরণ ৫৩.নূরু, মাহবুবার- কাজী নজরুল ইসলাম এর বাঁধনহারা ৫৪.নোলেদা- অহিভূষণ মল্লিক। ৫৫.পদ্মাবতী , হিরামন পাখি- পদ্মাবতী কাব্য ৫৬.পাণ্ডব গোয়েন্দা- ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়। ৫৭.পার্বতী ও চন্দ্রমূখী- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর দেবদাস ৫৮.পিনডিদা , সোনাবৌদি- আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। ৫৯.প্যাকালে ,মেজবউ,গজালের ,রুবি, আনসার কাজী নজরুল ইসলাম এর মৃত্যুক্ষুধা ৬০.ফটিক, মাখন ছুটি রবীন্দ্রনাথের গল্প ৬১.ফুল্লরা, ভাড়ুদত্ত, মুরারীশীল- চন্ডীমঙ্গল কাব্য ৬২.ফেকু- আত্মজা ও একটি করবী গাছ গল্প ৬৩.বিরিঞ্চি বাবা , জটাধর বক্সী , চাটুজ্যেমশাই- ৬৪.রাজশেখর বসু পরশুরাম ৬৫.বিলাসী , মৃত্যুঞ্জয়- বিলাসী গল্প ৬৬.বৃন্দাবন, কুসুম- পণ্ডিত মশাই গল্প ৬৭.বেহুলা , লখীনদর- মনসামঙ্গল কাব্য। ৬৮.ব্যোমকেশ , সদাশিব , অজিত , সত্যবতী , বরদা- শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। ৬৯.ব্রজদা- গৌরকিশোর ঘোষ। ৭০.ভাডুদত্ত – চণ্ডীমঙ্গল ৭১.ভিখু, পেহলাদ, পাঁচী- প্রাগৈতিহাসিক গল্প ৭২.ভ্রমর, রোহিনী, হরলাল, গোবিন্দলাল – কৃষ্ণকান্তের উইল ৭৩.মধুসূদন, কুমুদিনী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের-যোগাযোগ ৭৪.মহিম, সুরেশ ও অচলা, মৃণাল – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়এর গৃহদাহ ৭৫.মহিষী ময়নামতি, রাজা লোর- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য ৭৬.মহেন্দ্র, বিনোদিনী- চোখের বালি ৭৭.মাধবী, সুরেশ – বড়দিদি গল্প ৭৮.মানসিংহ, আয়েশা, তিলোত্তমা – দুর্গেশনন্দিনী ৭৯.মালা, কুবের, হোসেন মিয়া, কপিলা- পদ্মা নদীর মাঝি ৮০.মিতিন মাসি- সুচিত্রা ভট্টাচার্য্য। ৮১.মুর্দা ফকির – কবর ৮২.মৃন্ময়ী ও অপূর্ব – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমাপ্তি ছোট গল্প ৮৩.মেঘনাদ, বীরবাহু, চিত্রাঙ্গদা, রাবণ, সীতা, লক্ষণ, রাম, বিভীষণ মেঘনাদবধ কাব্য ৮৪.ম্যাগী- ফুলের মূল্য গল্প

N@Nipa1234

1000 vocabulary in variety examination 1: Fortuitous -আকস্মিক 2: Inherent – স্বাভাবিক 3: Legible -সহজপাঠ্য 4: Indelible -অমোচোনীয় 5: Endurable -সহনীয়/টেকসই 6: gregarious -মিশুক /সামাজিক 7: Introverted -অন্তর্মুখী ব্যক্তি (আত্মকেন্দ্রিক চিন্তা চেতনা ) 8: Alleviate -উপশম করা 9: Aggravate -অধিক গুরুতর/ শোচনীয় করে তোলা 10: Elevate -উত্তোলন করা,উন্নীত করা 11: Desultory -নিয়মশৃংখলাহীন 12: Methodical -সুশৃংখল 13: Integral -অপরিহার্য অংশ 14: Dissipate – দূর করা/অপচয় করা 15: Exempt -রেহাই /অব্যহতি দেয়া 17: Obliged -বাধিত বা ঋণী হয়েছে এমন 18: Steadfast -অবিচলিত 19: Valiant -সাহসী 20: Repute -সুখ্যাতি 21: Susceptible -স্পর্শকাতর 22: opaque- অস্বচ্ছ 24: Tepid -অল্প গরম বা কুসুম কুসুম গরম 25: Seething -ফুটে উপচে পড়া এমন 26: Intimate -অন্তরঙ্গ 27: Turbid – ঘোলাটে 28: Swollen – ফোলা বা ফুলে যাওয়া 29: Accretion -সংযোজনের মাধ্যমেবৃদ্ধি 30: Procession : মিছিল বা শোভাযাত্রা 31: Applaud -প্রশংসা 32: Evasion -এড়িয়ে যাওয়া 33: Transmit -প্রেরণ বা হস্তান্তর করা 34: Obscure -অন্ধকার 35: Withhold -পেছনে টেনে রাখা বা আটকিয়ে রাখা 36: Generous -উদার 37: Craven -কাপুরুষ 38: Ulterior – গোপন বা অপ্রকাশিত 39: Stated -প্রকাশিত হওয়া 40: Rampage -উত্তেজিত অবস্থা 41: Strident-কর্কশ 42: Euphonious -সুমধুর 43: Laconic -স্বল্পভাষী 44: Verbose -বাকসর্বস্ব 45: Wicked -দুশ্চরিত্র 46: Bureaucrat -সরকারী কর্মকর্তা 47: Reinstate -পুনর্বহাল করা 48: Indict -অভিযুক্ত করা 49: Scam -জালিয়াতি করা 50: Extempore -পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া কোন বক্তব্য দেয়া 51: Elocution – বাচনভঙ্গি 52: Cupid -ধনসম্পত্তির জন্য লোভাতুর 53: Sneer – বিদ্রুপ করা 54: Cynic – যে সর্বদা অপরের ভূল ধরে 55: Tipped – একপাশ বা প্রান্তে উঠানো 56: Sparkle -জ্বলজ্বল করা 57: Lethargic -অলস 58: Distasteful-অপছন্দনীয় 59: Fragrance -সুগন্ধী 60: Restless-অস্থির 61: Crone – বিগত যৌবনা (ঘৃণা অর্থে) 62: Kleptomania -চৌর্য উন্মাদ 63: Anemometer- বাতাসের বেগ নির্ণায়ক যন্ত্র 64: Jaunt : লঘু প্রমোদ ভ্রমণ 65: voyage :সমুদ্র যাত্রা 66: Philatelist -ডাকটিকেট সংগ্রহকারী 67: Vendor -বিক্রেতা 68: Philanthropist -মানবহিতৈষী ব্যক্তি (বিশ্বপ্রেমিক) 69: Misanthrope -মানববিদ্বেষ 70: Highbrow -বড়াইকারী 71: Aristocrat -অভিজাত 72: Expand -আয়তনে বৃদ্ধি করা 73: Proliferate -সংখ্যায় বৃদ্ধি পাওয়া 74: Deflect -ঘুরে যাওয়া 75: Cynical -নৈরাশ্যবাদী 76:Traitor -বিশ্বাসঘাতক 77: Unequivocal -সুস্পষ্ট 78: Gloss -উজ্জ্বল তল 79: Barrier -প্রতিবন্ধক 80: Agile -তৎপর 81: Frisky -চঞ্চল 82: Parallelism -সমান্তরাল 83: Obliquity -বক্রতা 84: Divergence -কেন্দ্রচ্যুতি 85: Disparity -বৈসাদৃশ্য 86: Contrast -বৈপরিত্য 87: Debonair -সদা হাসি খুশি 88: Balmy -স্নিগ্ধ 88: Awkward -বেমানান 89: Windy -ঝড়ো 90: Landscape -প্রাকৃতিক ভূ -দৃশ্য 91: Intellectual -বুদ্বিবৃত্তিক সংস্কৃতিবান 92: Lexicographer -অভিধান রচয়িতা 93: Venerate -সম্মান করা 94: Severe -প্রকট 95: Condemn -তিরস্কার 96: Inculcate -চিত্তনিষ্ঠ 97: Ascend -আরোহণ করা 98: Stern – কঠোর 99: Bend -বাঁকানো 100: Eulogistic -উচ্চ প্রশংসাযোগ্য 101: Deleterious -ক্ষতিকর/অনিষ্টকর 102: Impulsive -আবেগপ্রবণ 103: Salubrious -স্বাস্থ্যকর 104: Inclusive -অন্তর্ভুক্তিমূলক 105: Usurp -জবরদখল 106: Discordant – শ্রুতিকটু 107: Harsh -কর্কশ 108: Insouciance -ঔদাসীন্য 109:Composure -ধৈর্য্য 110: Slumber -তন্দ্রা 111: Pretentious -দাম্ভিক 112: Egoistic -স্বার্থপর 113: Grandiose -জমকালো/সুবিশাল 114: Indolent/Lethargic -অলস 115: Disinterested -নির্লিপ্ত 116: Halcyon -শান্ত/শান্তিপূর্ণ 117: Motionless -নিশ্চল 118: Casual -আকস্মিক 119: Harmonious -সুরেলা 120: Venerate -শ্রদ্ধা করা 121: Defame -মানহানি 122: Accuse -অভিযুক্ত 123: Obdurate -অনমনীয় 124: Contrary -বিপরীত 125: Stubborn -একগুঁয়ে 126: Callous -অনুভূতিহীন 127: Pathetic -করুন/মর্মস্পর্শী 128: Rise rapidly -দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি 129: Modest -বিনয়ী 130: Rightfully -বৈধ ভাবে 131: Abuse -অপব্যবহার 132: Pithy – সংক্ষিপ্ত 133: Illusive -মায়াময় 134: Luminous -উজ্জ্বল 135: Enigmatic/Puzzling -বিভ্রান্তিকর 136: Notion -ধারণা 137: Congenial -বন্ধুভাবাপন্ন 138: Intrinsic -স্বকীয়/জন্মগত. 139: Reprimand /Rebuke -তিরস্কার 140: Humble -বিনীত 141: Obsolete -পুরাতন/অপ্রচলিত 142: Legitimate -আইনসম্মত 143: Fragile – দুর্বল 144: Bona-fide – খাঁটি 145: Spurious -ভেজাল 146: Bondage -বন্দিদশা 147: Debacle -ধ্বংস হওয়া/পতন হয়ে যাওয়া 148: Occupy -দখলে রাখা 149: Amalgamate -একসাথে করা 150: Materialize -দৃষ্টি গোচর হওয়া /বাস্তবে পরিণত হওয়া 151: Generate -উৎপাদন করা 152: Equip -প্রস্তুত করা /সজ্জিত করা 153: Mercury -পারদ/বুধগ্রহ/ দেবরাজের দেবতা 154: Humidity -আদ্রতা 155: Entrepreneur -উদ্যোক্তা 156: Conflict -সংগ্রাম করা 157: Communism -সাম্যবাদ 158: Capitalist -পূঁজিতান্ত্রিক 159: Conduit -পয়ঃপ্রণালী 160: Scissors -কাঁচি 161: Wagon -মালবাহী গাড়ি 162: Saw -করাত 163: Exclusion -বর্জন 164: Condone -উপেক্ষা করা (অপরাধ ) 165: Isolation -বিচ্ছিন্নতা 166: Discover -আবিষ্কার করা 167: Suppress -চেপে রাখা 168: Redirect -পুননির্দেশ 169: Belittle -ছোট করা 170: Exhort -উত্সাহিত করা /প্রণোদিত করা /আহ্বান করা 171: Magnanimous : দয়ালু 172: Genesis -শুরু 173: Adapt -খাপ খাওয়ানো 174: Innovate -আবিষ্কার করা 175: Ponder -গভীরভাবে চিন্তা করা 176: Vacillate -দ্বিধা করা 177: Revert -ফিরে আসা 178: Upheld -উপরের দিকে নেওয়া 179: Resist -প্রতিরোধ করা 180: Publicize -প্রচার করা 181: Subvert -ক্ষমতা ধ্বংস করা 182: Refinery -পরিশোধনাগার 183: Ore -আকরিক 184: Merchandise -মালপত্র 185: Mine -খনি 186: Warehouse -মালপত্র রাখার স্থান 187: Lumber -খুব কষ্ট করে হাঁটা 188: Grain -শস্য 189: Gargantuan -খুব বড় 190: Tiny in size -খুব ছোট 191: Irritate -বিরক্ত করা 192: Amplification -ভাবসম্প্রসারণ করা 193: Loaf -পাউরুটি 194: Stale -টাটকা নয় (বাসি ) 195: Butter -মাখন 196: Forecast -পূর্বাভাস 197: Override -অগ্রাহ্য করা 198: Diagnosis -রোগ নির্ণয় 199: Estimate -হিসাব 200: Appraisal -কোন কিছুর মূল্য পরিমাপ করা. 201: Trivial – নগণ্য /তুচ্ছ 202: Fade -বিবর্ণ হওয়া 203: Inscribe -অন্তর্লিখিত 204: Epitaph -সমাধিস্তম্ভ লিপি 205: Epithet – ডাকনাম/উপাধি 206: Epitome – সংক্ষিপ্ত 207: Scenic -দৃশ্যময় 208: Melancholy -দুঃখ 209: Barren -অনুর্বর 210: Skepticism – সংশয়বাদ 211: Audacity -দুঃসাহস 212: Plausibility -বিশ্বাসযোগ্যতা 213: Conviction-দৃঢ় বিশ্বাস 214: Harmony -সাদৃশ্য 215: Glow -খুশিতে ঝলমল করা 216: Mild -শান্ত 217: Untamed -অশান্ত/বন্য 218: Feeble -দুর্বল 219: Unruly -অবাধ্য 220: Compliance -সম্মতি/প্রতিপালন 221: Adverse -প্রতিকূল 222: In deep water -বিপদে থাকা 223: Hostile -প্রতিকূল/ বিরোধী 224: Brevity – সংক্ষিপ্ত ভাবে 225: Wallet -মানি ব্যাগ 226: Tomb -কবর 227: Flexible -নমনীয় 228: Obese -মোটা /স্থূলকায় 229: Tough/Rigid -শক্ত 230: Breakable -ভঙ্গুর 231: Complacency -আত্মতৃপ্তি 232: Conger -সামুদ্রিক বানমাছ 233: Dispatch -কারো উদ্দেশে কোন কিছু পাঠানো 234: Postulate -স্বীকার্য 235: Invisible -অদৃশ্য 236: Inevitable -অনিবার্য 237: Inaudible -যা শোনা যায় না 238: Irresistible -অপ্রতিরোধ্য 239: Expose/Reveal/Uncover/Unearth-প্রকাশ করা 240: Inadvertent/Unintended -অনিচ্ছাকৃত 241: Intentional /Deliberately -ইচ্ছাকৃতভাবে 242: Accidental -আকষ্মিক 243: Gratifying -তৃপ্তিদায়ক 244: Gracious -সদয় 245: Splendid/Glorious -জমকালো 246: Disgraceful -বাজে/অসুন্দর 247: Conceal -গোপন করা 248: Conciliate -শান্ত করা 249: Benevolent -হিতৈষী 250: Curious -অদ্ভুত 251: Flashy -লোক দেখানো 252: Velocity -বেগ 253: Doctrine -মতবাদ 254: Expound -ব্যাখ্যা করা 254: Confound -বিভ্রান্ত করা 255: Perplex -জটিল করা 256: Multiple -বহুবিধ 257: Composite -যৌগিক 258: Barter -বিনিময় করা 259: Transient -অস্থায়ী 260: Relevant -প্রাসঙ্গিক 261: Enlarge -দীর্ঘায়িত করা 262: Shrink -সংকুচিত করা 263: Slip -পলায়ন/এড়িয়ে যাওয়া 264: Pact -চুক্তি 265: Expand -বিস্তৃত করা 266: Repercussion -প্রতিক্রিয়া 267: Aftermath -পরিণাম /ফলাফল 268: Influence -প্রভাব 269: Scatter -ছড়িয়ে যাওয়া 270: Accumulate -একত্রিত করা বা জমানো 271: Tentative -অনিশ্চিত/দোদুল্যমান 272: Hyperbolic -অতিরঞ্জিত করে বলা 273: Argumentative -তর্ক বিতর্ক 274: Reasoning -যুক্তিতর্ক 275: Astute -জ্ঞানী/বিচক্ষণ 276: Cogent -প্রবল/অকাট্য 277: Deceived -প্রতারিত হওয়া বা করা 278: Coherent -সামঞ্জস্যপূর্ণ 279: Ailment -ছোট খাটো অসুস্থতা 280: Indigent -অত্যন্ত গরীব 281: Assiduous -অধ্যবসায়ী 282: Harbinger -অগ্রদূত 283: Autocrat -একনায়ক/স্বৈরশাসক 284: Inauspicious -অশুভ /অকল্যাণসূচক 285: Untenable -টিকিয়ে রাখা যায়না এমন 286: Defensible -টিকানো বা টিকিয়ে রাখা যায় এমন 287: Hypothetical -অনুমান কৃত /প্রকল্পিত 288: Precise -সংক্ষিপ্ত করা 289: Recidivist -অপরাধপ্রবণ 290: Depart -স্থান ত্যাগ করা 291: Recuperative-আরোগ্য হয় এমন/পুনরুদ্ধার হয় এমন 292: Evasive/Elusive -এড়িয়ে যায় এমন বা ধরা যায়না এমন 293: Pensive -চিন্তানিমগ্ন 294: Plethora -আধিক্য বা প্রচুর পরিমাণ 295: Despair -হতাশ 296: Aversion -অনিহা 297: Scarcity -স্বল্প 298: Put up with -সহ্য করা 299: Overt -প্রকাশ্য 300: Erratic -ত্রুটিপূর্ণ/উল্টাপাল্টা 301: Appall/Dismay -আতঙ্কিত করা,মর্মাহত করা 302: Dearth -অভাব 303: Abundance -আধিক্য 304: Superannuate -কাজ বা ব্যবহারের জন্য অতি প্রাচীন /বয়স উত্তীর্ন 305: Innate -সহজাত 306: Solace -সান্ত্বনা 307: Engross -সবসময় কাজে লেগে থাকা 308: Garrulous -বাচাল 309: Punctilious -খুঁটিনাটি ব্যাপারে অতি সতর্ক 310: Observant -দৃষ্টিশীল,মনোযোগী 311: Buried -সমাহিত বা কবর দেয়া হয়েছে এমন 312: Tender -কোমল ,পেশা ,প্রস্তাব 313: Preamble -প্রস্তাবনা 314: Commencement -শুরু 315: Preface -প্রস্তাবনা 316: Postscript -অতিরিক্ত বা সর্বশেষ তথ্য 316: Sycophancy -তোষামুদি 317: Escape -পালিয়ে যাওয়া 318: Abscond -আত্মগোপন করা 319: Eternal -চিরন্তন 320: Exult -অত্যন্ত আনন্দিত 321: Jubilate -আনন্দ করা 322: Imprudent -অবিবেচক 323: Sagacity -প্রখর জ্ঞান 324: Reverential -শ্রদ্ধামিশ্রিত 325: Redundant-বাড়তি, অনাবশ্যক 326: Incautious -অবিবেচক 327: Synopsis -সারাংশ 328: Encumber -পথরোধ করা 329: Recapitulate -আলোচনা করা 330: Gourmet -পান ও ভোজন রসিক ব্যক্তি 331: Omnipotent -সর্বশক্তিমান (আল্লাহ ) 332: Asylum -আশ্রয় ,নিরপত্তা 333: Sanatorium -স্বাস্থ্যনিবাস 334: Impostor- ভন্ড 335: Mountebank -যে ব্যক্তি চটকদার কথা বলে মানুষকে ঠকানোর চেষ্টা করে 336: Acrimonious -তিক্ত 337: Severe -মারাত্মক 338: Cursive -টানা টানা হাতের লেখা (জড়ানো ) 339: Anomalous -ব্যতিক্রম 340: Vicious -ঘৃণ্য 341: Capacious -সুপ্রশস্ত 342: Intractable -অবাধ্য 343: Wayward -স্বেচ্ছাচারী 344: Easygoing – বাধ্য 345: Bleak -নিরানন্দ,মলিন 346: Abstinent -সংযমী 347: Segregate -পৃথক করা 348: Abolish -বিলুপ্তকরা 349: Darken -অন্ধকার করা 350: Compile -একত্র করা 351: Reclusive -সন্ন্যাসী 352: Urban -শহুরে 353: A bone to pick -রাগান্বিত হওয়া 354: Knotty -ঝামেলাযুক্ত 355: Errant -ভ্রমণরত 356: Bucolic -গ্রাম্য 357: Castigate -নিন্দা করা 358: Hidebound -সংকীর্ণমনা 359: Evaluate -মূল্যায়ন করা 360: Corroborate -দৃঢ় করা 361: Refute -যুক্তি/তর্ক খন্ডন করা 362: Contradict -অস্বীকার করা 363: Contravene -আইন বা রীতি লংঘন করা 364: Profane -অপবিত্র করা 365: Vulgarity -অশ্লীলতা 366: Compensate -ক্ষতিপূরন দেয়া 367: Deprecate -নিন্দা করা 368: Enhance -বৃদ্ধি করা 369: Bait- টোপ 370: Disparage -কাউকে ছোট /তুচ্ছ করা 371: Heckle -প্রশ্নবানে জর্জরিত করা 372: Adequate -পর্যাপ্ত 373: Muddle – বিহ্বলতা 374: Abatement -কমানো 375: Incapacitate -অযোগ্য করা 376: Stout -শক্তিশালী,নির্ভীক 377: Hook -ফাঁদ 378: Crook -বাঁকা 379: Biased/Partial/Partisan/Prejudiced -পক্ষপাতী 380: Axle -অক্ষ 381: Build in -অন্তর্গত 382: leaning -ঝোঁক 383: Yield -বশ্যতা স্বীকার করা 384: Gloomy -অন্ধকারাচ্ছন্ন 385: Provincial -সীমাবদ্ধ 386: Cosmopolitan -সার্বজনীন 387: Extol -প্রশংসা 388: Monotonous -একঘেয়ে 389: Rite -রীতিনীতি,প্রথা 390: Writ- কোন বিষয় সম্পর্কে কোর্টের লিখিত অর্ডার 391: Laid back -অলস 392: Inflated -অত্যধিক 393: Reasonable -যৌক্তিক 394: Ingenuous -অকপট 395: Sophisticated -কৃত্রিম 396: Exorbitant -অতিরিক্ত 397: Devious -আঁকাবাঁকা 398: Cunning -দক্ষ 399: Debacle -মহাবিপর্যয় 400: Friction -বিরোধ 401: Disputation /Argument -বিতর্ক 402: Counterfeit-ভেজাল,কৃত্রিম 403: Shaky -দুর্বল 404: Expedite -অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা 405: Impede – ব্যাহত করা 406: Torpor/Lassitude/Languor -অলস 407: Apathetic/Lukewarm -উদাসীন 408: Rush -দ্রুত ধাবন 409: Hexagon -ষড়ভূজ 410: Subtraction -বিয়োগ 411: Fathom -গভীরতা নির্ণয় করা 412: Truant -যে ব্যক্তি তার কর্মস্থল হতে পালায় 413: Malingerer -যে ব্যক্তি কর্তব্য এড়ানোর জন্য অসুস্থতার ভান করে 414: Hypocrite -ভন্ড 415: Concubine -উপস্ত্রী 416: Telepathy -অন্যের চিন্তার অনুভূতি দ্রুত বুঝে নেয়ার ক্ষমতা 417: Elegy -শোকগাঁথা 418: Utopia -কল্পরাজ্য 419: Statesman -কূটনীতিজ্ঞ ব্যক্তি 420: Demagogue -জননেতা 421: Dictator -একনায়ক 422: Martinet -নিয়মনিষ্ঠ 423: Malign -ক্ষতিকর 424: Meager/Scanty -স্বল্প 425: proportionate -আনুপাতিক 426: Ancillary -আনুষঙ্গিক 427: Unstable -অস্থির 428: Conventional -প্রচলিত 429: Potty -তুচ্ছ 430: Reparation -ক্ষতিপূরণ 431: Decay -ক্ষয় হওয়া 432: Transmission -ছড়ানো,প্রচার 434: Frugal/ Parsimonious -মিতব্যয়ী 435: Bigot -অন্ধ বিশ্বাসী 436: Indispensable -অপরিহার্য 437: Inconsiderate -অবিবেচক 438: Hasty -দ্রুতগতি 439: Conceited -আত্মভিমানী 440: Wrath -রাগ 441: Prompt -দ্রুত 442: Divine -স্বর্গীয় 443: Malign -ক্ষতিকর 444: Meager/Scanty -স্বল্প 445: proportionate -আনুপাতিক 446: Hindrance/Barrier -বাঁধা 447: Discontented -অসন্তুষ্ট,অতৃপ্ত 448: Miserable -শোচনীয় 449: Myopic -ক্ষীনদৃষ্টি/সংকীর্ণমনা 450: Intolerant -অসহনীয় 451: Affirm/Assert -দৃঢ়ভাবে কোন কিছু বলা 452: Deny -দৃঢ়ভাবে কোন কিছু অস্বীকার করা 453: Panic -ভয় পাওয়া 454: Abandon/Desert -ছেড়ে যাওয়া 455: Waive -মওকুফ করা 456: Evenhanded -নিরপেক্ষ 457: Enunciate -উচ্চারন করা 458: Consolidation -ঐক্যবদ্ধ/ একসাথে 459: Instigation -উত্তেজনা 460: Provocation -প্ররোচনা 461: Painstaking/ Persevering -পরিশ্রমী 462: Stimulus/ Impetus -আবেগ,প্রেরণা 463: Revulsion/Abhorrence/ Aversion/Repugnance -প্রতিক্রিয়া 464: Evanescent/Fleeting -ক্ষনস্থায়ী 465: Limpid -স্পষ্ট466: Evident -স্পষ্ট 467: Subtlety -অস্পষ্ট 468: Prima facie -প্রথম দর্শনে 469: Subterfuge /Trickery -প্রতারনা 470: Simplicity -সরল 471: Applause -সাধুবাদ 472: Impinge -আঘাত হানা 473: Facilitate -সহজতর 474: Trespass -পাপ/সীমালঙ্গন 475: Profligate -লম্পট 476: Intermittent- অনিয়মিতভাবে 477: Broker -দালাল 478: Merchant prince -মহা ধনবান বণিক 479: Persistent -নাছোড়বান্দা 480: Destitute -দরিদ্র 481: Teller -ব্যাংকের ক্যাশিয়ার 482: Intense -তীব্র 483: Abrasive -ঘর্ষণের মাধ্যমে তুলে ফেলা 484: Attempts -চেষ্টা করা 485: Screams -আর্তনাদ করা 486: Admits -স্বীকার করা 487: Lucrative -লাভজনক 488: Ridiculous -হাস্যকর 489: Continuation -ধারাবাহিকতা 490: Offshore -সাগরমুখী 491: Solemn -আনুষ্ঠানিক 492: Wholesale -পাইকারী 493: Retail -খুচরা 494: Push sale -জোর করে বিক্রি করা 495: Slothful -নিষ্ক্রিয় 496: Quarrelsome -ঝগড়াটে 497: Flat out -সোজা 498: Backtrack -প্রত্যাখ্যান করা 499: Curved -বক্ররেখা 500: To do away with / To drive off -পরিহার করা 501: Hastening -দ্রুত চলা 502: Braking -গতিরোধ 503: Slackening -ঝিমুনি 504: Vigorous -সবল 505: Sluggish -আলস্যপরায়ণ,কুড়ে 506: Infuriate -ক্রোধে ক্ষিপ্ত হওয়া 507: Commend -প্রশংসা করা 508: Manifest -স্পষ্ট 509: Apparent -দৃশ্যমান 510: Circulation -প্রচার,প্রচলন,মুদ্রণ 511: Surreal - পরাবাস্তব 512: Appeal -আবেদন 513: Repression -দমন,নিপীড়ন 514: Greeting -অভিবাদন 515: Notorious/Ominous -ভয়ংকর 516: Robbery -ডাকাতি 517: Cursory -দ্রুত নিষ্পন্ন 518: Demur -আপত্তি/আশংকা প্রকাশ করা 519: Convicted -দোষী/অপরাধী 520: Culpable -শাস্তি পাবার যোগ্য 521: Pay off old scores -প্রতিশোধ নেয়া 522: Worth yours -দক্ষ 523: Host in himself -আয়োজক 524: Hang in balance -সাফল্যের জন্য কোন কিছুর উপর নির্ভর করা 525: Pusillanimous -ভীতু 526: Venturesome/Valorous/plucky/ Spunky -সাহসী 527: Reproach/Chide/ Rebuke/Scold -তিরস্কার করা 528: Bustling -হৈ চৈ পূর্ণ 529: Tranquil -শান্ত 530: Prodigal -বেহিসাবী ভাবে ব্যয় করা 531: Thrifty/Parsimonious/ Niggardly/Skinflint -মিতব্যয়ী,কিপটে 532: Sage -জ্ঞানী 533: Cretin/ Imbecile/Dullard/Ninny -বোকা জাতীয় 534: Pretty Penny -অত্যন্ত ব্যয় বহুল 535: On their toes -সজাগ সতর্ক হওয়া 536: Step on somebody’s toes -অনুভূতি বা সংস্কারে আঘাত হানা 537: Toot your own horn -গর্ব করা 538: Possess -করায়ত্ব করা 539: Destruction -ধ্বংস 540: Intimacy -গভীর সুসম্পর্ক 541: Alluring -লোভনীয় 542: Arouse -জাগানো 543: Tenacity -কোন কিছুর প্রতি আগ্রহ,জিদ 544: Elusiveness -বুঝতে বা স্মরণ করতে কষ্টকর এমন 545: Adornment -অলংকরণ 546: Anonymous -নামহীন/বেনামী 547: Namesake - মিতা,অন্যের নামের সাথে মিল 548: Pseudonym -ছদ্মনাম 549: Cannibal -নরখাদক 550: Holocaust -ব্যাপক হত্যাকাণ্ড 551: Nugatory -বাদ দেয়া 552: Judiciary -আইন বিভাগ 553: Jurisdiction -আইনগত অধিকার 554: Famish -প্রচন্ড ক্ষুধায় মৃতপ্রায় হওয়া 555: Keen -তীব্র 556: Amenable -ব্ন্ধুভাবাপন্ন 557: Covenant -আইনসম্মত চুক্তিপত্র 558: Summons -ডেকে পাঠানো 559: Subpoena -আদালতে ডাকা 560: Tract -ধর্ম বা নৈতিকতা বিষয়ে পুস্তিকা 561: Treatise -গবেষণামূলক আলোচনা গ্রন্থ 562: Chronic -নিয়মিত ঘটা 563: Impute -আরোপ করা 564: Honorary -বিনাবেতনে 565: Interpret -ব্যাখ্যা করা 566: Memento -স্মারকচিহ্ন,অভিজ্ঞ 567: Elegy -বিষাদসঙ্গীত 568: Cosmos -নিসর্গ 569: Duffer -নির্বোধ লোক 570 : Snob -উন্নাসিক লোক (যে ব্যক্তি নিম্নতর সামাজিক শ্রেণীর মানুষকে অবজ্ঞার চোঁখে দেখে) 571: Licentious -দুশ্চরিত্র লোক 572: Suspect – সন্দেহভাজন 573: Trick/Deceit -প্রতারনা 574: Hazardous -বিপজ্জনক 575: Represent- চিত্রিত করা 576: Superior -শ্রেষ্ঠ 577: Revealing -প্রকাশ করা 578: Complexity -জটিলতা 579: Vigilant -সজাগ 580: Diversion -গতিপরিবর্তন,অপসারণ 581: Alienation - বিচ্ছেদ,বিচ্ছিন্নতা 582: Worthy of -যোগ্য 583: Emulation -অনুকরণীয় 584: Exploration -অনুসন্ধান 585: Trial -চেষ্টা 586: Demise -মৃত্যু 587: Unimaginable -অকল্পনীয় 588: Inexplicable -বর্ণনাতীত 589: Entertain -আপ্যায়ন 590: Enamoured -প্রেমমুগ্ধ 591: Possessed -অধিকারী 592: Fanciful schemes -কাল্পনিক পরিকল্পনা 593: Unforeseen -অপ্রত্যাশিত 594: To blow hot and cold -অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া 595: Initiate -সূচনা করা 596: Blaze -আলোকচ্ছটা 597: Horn -শিঙা 598: visionary -কাল্পনিক 599: Newborn -নবজাত 600: Trustworthy -বিশ্বস্ত 601: Gratitude -কৃতজ্ঞবোধ 602: Thankless -অকৃতজ্ঞ 603: Indebted/Grateful -কৃতজ্ঞ 604: Owe -ঋণী থাকা 605: Ingest -গলাধঃকরণ করা 607: Inertia -জড়তা 608: Inadvertent -অনিচ্ছাকৃত 609: Inundate -প্লাবিত হওয়া 610: Trapped -আটকা পরা 611: Coherent -সুসজ্জিত,যৌক্তিত 612: Amity -মিত্রতা 613: Vague -অস্পষ্ট 614: Vocation -বৃত্তি,ব্যবসায় 615: Vital -অত্যাবশ্যক ,সজীব 616: Faculty -অনুষদ ,কর্মদক্ষতা 617: Vehemently -তীব্রভাবে 618: Meticulous /Precise /fussy -অতিসতর্ক 619: Colossal /Enormous /Mammoth /Massive /Titanic - বিশাল 620: Homogeneous /Uniform /Identical -সমজাতীয় 621: Allay /Mitigate /Ameliorate -প্রশমিত করা (কষ্ট,যন্ত্রণা ) 622: Worsen /Exacerbate -শোচনীয় হওয়া 623: Inquisitive -সন্ধানী 624: Proximate -নিকটতম 625: Idyllic -শান্ত 626: Contemplative /brooding /Cogitating /Ruminative - চিন্তানিমগ্ন 628: Affinity /Kinship/ Rapport -ঘনিষ্ট সম্পর্ক 629: Suffrage -ভোটাধিকার 630: Dearth -স্বল্পতা 631: Amass -পুঞ্জীভূত করা 632: Accrue -বৃদ্ধি 633: Disperse -ছত্রভঙ্গ 634: Plenty -প্রচুর 635: Animate /Lively -প্রশান্ত,সজীব 636: Squalor -নোংরা,অস্বস্তিকর অবস্থা 637: Pressurizing -চাপ প্রয়োগ 638: Arouse -জাগ্রত করা 639: Pressing/Urgency -জরুরী 640: Odds and ends -ছোটখাট জিনিস 641: Exhausted -নিঃশেষ হওয়া 642: Dead and buried -পুরোপুরি থেমে যাওয়া 643: At bottom -প্রকৃতপক্ষে 644: Offended -বিক্ষুব্ধ 645: Cut and dried -রুক্ষ 646: Dealings -আচরণ 647: Above board /Frank -অকপট,খোলাখুলি 648: Abate /Soothe -প্রশমিত করা,কমানো 649: Grant -অনুদান 650: Frown -তিরস্কার করা 651: Regret -অনুশোচনা করা 652: Head and Ears -পুরোপুরি 653: Interrupt /Eat into vitals -ছিন্ন করা ,ব্যাঘাত করা 654: Square meal -সুষম খাদ্য 655: Rank and file -সাধারণ জনগণ 656: Plainness -সরলতা 657: Adequacy -সাদৃশ্য 658: Drowsiness -আলস্য 659: Vigor -শারীরিক বা মানসিক শক্তি 660: Mild -হালকা ,কোমল 661: Artistic -শৈল্পিক 662: Shortcoming -ত্রুটি,সীমাবদ্ধতা 663: Extravagance -অমিতব্যয়ি,সীম ালঙ্ঘন 664: Enduring -স্থায়ী 665: Ball to the wall -পুরোদমে 666: Pitfall -ফাঁদ 667: Toppling -ডিগবাজি খাইয়ে পড়া 668: Regime -শাসন 669: Tantamount -সমপরিমাণ 670: Arbitrary -বিধিবহির্ভূত,স ্বৈরচারী 671: Worship -পূজা 672: Bibliography -গ্রন্থপুঞ্জি 673: Amicable person -বন্ধুভাবাপন্ন 674: Naive/ Candour -সাধাসিধা,বিশ্বাসপ্রবণ 675: Lenient -দয়ামায়া প্রবণ 676: Obstinate /Adamant -একগুঁয়ে 677: Exaggeration -বাড়িয়ে বলা 678: Hegemony/Predominance -আধিপত্য 679: Subordination -অধীনস্থ 680: Fiasco -বড় ধরনের ব্যর্থতা 681: Fruitful -ফলপ্রসূ 682: Triumph -বিজয় 683: Adopted -গ্রহণ করা 684: Forsaken -পরিত্যক্ত করা 685: Discarded -বাদ দেয়া 686: Vociferous -শব্দবহুল ,গোলমালকারী 687: Courageous -সাহসী 688: Mockery -উপহাস 689: Mean -নীচ 690: Negotiation -আলাপালোচনা 691: Shallow -ভাসাভাসা 692: Excessive -অতিরিক্ত 693: Wear out -ব্যবহারের ধারা ক্ষয় হওয়া 694: Brittle -ভঙ্গুর 695: Negligible -অবহেলার যোগ্য 696: Uninfluenced -প্রভাবমুক্ত 697: Thorough -পুঙ্খানুপুঙ্খ 698: Imprison -শৃঙ্খলাবদ্ধ করা 699: Expel -বহিষ্কার করা 700: Exonerate /Exculpate / Acquit -অভিযোগ হতে মুক্তি দেয়া 701: Castigate -তিরস্কার করা 702: Fastidious -খুঁতখুঁতে 703: Aloof -একাকী ,নির্লিপ্ত 704: Lawn -বনভূমি 705: Stream -জলপ্রবাহ 706: Petrology -শিলাতত্ব 707: Shore -তীরভূমি,কূল 708: Flatten -সমতল হয়ে যাওয়া 709: Valley -উপত্যকা 710: Interminable -থামেনা এমন ,অন্তহীন 711: Easygoing -সহজে মেনে নেয়া 712: Indictment -অভিযোগ 713: Tirade -তিরস্কারপূর্ণ দীর্ঘ বক্তৃতা 714: Taciturn -স্বল্পভাষী 715: Placatory -আপোস 716: Espy -পর্যবেক্ষণ করা 717: Cogitate -বুঝতে পারা 718: Attribute -আরোপ করা 719: Reassurance -পুনরায় নিশ্চিত করা 720: Dilemma -উভয়সংকট 721: Constraint -বাঁধা 722: Agitation -অশান্ত 723: Stir -আলোড়িত করা 724: Void -বাতিল 725: Refute -অস্বীকার করা 726: Optimist-আশাবাদী 727: Idealistic -আদর্শবাদী 728: Pessimist -হতাশাবাদী 729: Peak -সর্বোচ্চ চূড়া 730: Extreme -চরম 731: Get along -দুজনের মাঝে চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক 732: Pragmatic -বাস্তবধর্মী প্রয়োগবাদী 733: Insectivorous-পতঙ্গভূক 734: Electorate -নির্বাচকমন্ডলী 735: Exigency -জরুরী প্রয়োজন 736: Complacent -সন্তুষ্টি 737: Austere -উগ্র,কঠোর 738: Artillery -কামান 739: Docile -ভদ্র 740: Biased -পক্ষপাতদুষ্ট 741: Salient -প্রধান বৈশিষ্ট 742: Shove -ধাক্কা মারা 743: Visible -দৃশ্যমান 744: Omission -ভ্রান্তি 745: Inamorata -প্রণয়ী 746: Come round -আরোগ্য লাভ করা 747: Hit Upon -খুঁজে পাওয়া 748: Depart -গমন করা 749: Conclude -শেষ করা 750: Elective -নির্বাচক 751: Craft -দক্ষতা 752: Impede -ব্যাহত করা 753: Mutation -পরিবর্তন 754: Commence -শুরু করা 756: Episodic -অনিয়মিত 757: Conventional -গতানুগতিক 758: Recapture -পুনরুদ্ধার করা 759: Conducive -সহায়ক 760: Facile -সাবলীল 761: Crank -বাঁকা 762: Formless -আকৃতিহীন 763: Equitable -ন্যায়সঙ্গত 764: Cereal /grain -খাদ্যশস্য 765: Queue -লাইন 766: Inimical -শত্রুভাবাপন্ন 767: Impel / Goad -অনুপ্রাণিত করা 768: Orchestrate -সুসমন্বিত করা (সঙ্গীত) 769: Repent -অনুশোচনা করা 770: Braggart -দাম্ভিক 771: Dilettante -অপটুকর্মী 772: Pilferer -ছিঁচকে চোর 773: Prevaricator -সত্যের আলাপকারী 774: Raconteur -গল্পকথক 775: Scurrilous -অমার্জিত,অপমান করা 776: Compassionate -করুণাময় 777: Servile -ক্রীতদাস সুলভ 778: Strict -কঠোর 779: Outshine/Steal a march -ঔজ্বল্যে ছাপিয়ে যাওয়া 780: Hole and Corner -গোপনীয় 781: Defy -বাধা দেয়া 782: State of Shock -কিংকর্তব্যবিমূঢ় 784: Amateur -অপেশাদার 785: Anticipated -অনুমান বা বুঝতে পারা 786: Antagonism -প্রতিদ্বন্দীতা 787: Delirious - বিকারগ্রস্থ 788: Hefty -প্রবল,তাগড়া 789: Delusive -ভ্রান্তি 790: Heinous -জগন্য 791: Inveigle -চাটুকারিতায় মুগ্ধ করা 792: Monopoly -একচেটিয়া অধিকার 793: Rational -যুক্তিসঙ্গত 794: Demolish -চূর্ণ করা 795: Understatement -কমিয়ে বলা 796: Tenure -কার্যকাল 797: Protract -দীর্ঘায়িত করা 798: Distract -বিভ্রান্ত করা 799: Currency -প্রচলিত 800: Obsolescence -অপ্রচলিত 801: Propensity -প্রবণতা 802: Inebriated /Intoxicated -মদ্যপ 803: Befuddled -বিভ্রান্ত 804: Sane /Rational -বিবেকী ,যুক্তিসম্মত 805: Arrogant -অহংকারী 806: Vicissitudes -উথানপতন 807: Bohemian -ভবঘুরে ধরনের লোক 808: Sinister -অপকারী ,অশুভ 809: Meditative -চিন্তাশীল 810: Categorical -নিরপেক্ষ 811: Sermon -নৈতিক বক্তৃতা 812: Fire and brimstone -জাহান্নামের অনুমিত শাস্তি 813: Agnostic -অজ্ঞানবাদী 814: Oracular -জ্ঞানবিশিষ্ট 815: Sacrilegious -পবিত্র ব্যক্তির অসম্মানকারী 816: Empirical -গবেষণামূলক 817: Puerile -তুচ্ছ 820: Nonchalant -উদাসীন 821: Sardonic -ঘৃণাপূর্ণ 822: Voluptuous -আনন্দবাদী 823: Rotund -গোলাকার 824: Gourmand -পেটুক 825: Condiment -আচার ,মশলা 826: Piquant -তীব্র,কটু 827: Repast -আহার 828: Nourishing -পুষ্টিকর 829: Gifted -প্রতিভাধর 830: Prolific -উর্বর 831: Revolution -বিপ্লব 832: Warlock -মায়াবী 833: Adopt -গ্রহণ করা 834: Pose -জাহির করা 835: Infrared -অবলোহিত 836: Finagle/ Swindle -প্রতারণা করা 837: Supplant -স্থানচ্যুত 838: Incite -উৎসাহিত করা 839: Abyss -গহ্বর 840: Alabaster -সাদা পাথর 841: Boaster -অহংকারী ব্যক্তি 843: Fatalist -অদৃষ্টবাদী 844: Tenterhooks -উদ্বেগপূর্ণ অনিশ্চিত অবস্থা 845: Reproof -অসমর্থন 846: Impertinence -অপ্রাসঙ্গিকতা 847: Denigration -দুর্নাম 848: Imbecility -মূর্খতা 849: Senility -বার্ধক্য 850: Dotage -ভীমরতি 851: Notwithstanding -তথাপি,যদিও 852: Adoring -প্রেমপূর্ণ 853: Myriad -অসংখ্য 854: Shortcomings -ত্রুটি 855: Idolatrous -পরম ভক্তিশীল 856: Exaltation -পদমর্যাদায় উন্নতিসাধন 857: Venture -উদ্যোগ 858: Conspire -চক্রান্ত করা 859: Reimburse -পরিশোধ করা 860: Pretend -সাজা ,মিথ্যা বর্ণনা করা 861: Incongruous -বেমানান 862: Hedge -প্রতিবন্ধক 863: Derrick -ভার উত্তোলন যন্ত্র 864: Sacrosanct -অলঙ্ঘনীয় 865: Resentment -আক্রোশ 866: Equanimity -প্রশান্তি 867: Dubiousness -অনিশ্চয়তা 868: Supercilious -অহংকৃত,গর্বিত 869: Flagitious -নিষ্ঠুর 870: Frivolous -ছেলেমানুষীপূর্ ণ,নগণ্য 871: Impair -দুর্বল করা 872: Spool/Reel -নাটাই 873: Thread -সুতা 874: Convolution -কুণ্ডলী 875: Queer -অদ্ভুত 876: Orderly -গোছালো 877: Murky -আবছা,অস্পষ্ট 878: Archives -নথিপত্র 879: Pedestal -স্তম্ভের পাদভূমি 880: Regicide -রাজহত্যা 881: Belittlement -হীনতা,খর্বতা 882: Zest -রুচি,প্রানবন্ততা 883: Fiddling -তুচ্ছ 884: Linguistic -ভাষাবিজ্ঞান 885: Polyglot -বহুভাষী 886: Green eye -ঈর্ষান্বিত 887: Taunting -বিদ্রুপ 888: Deter -নিরুৎসাহিত করা 889: Blight -ক্ষয় করা 890: Theist -আস্তিক 891: Theologist -ধর্মতত্ত্ববিৎ 892: Pantheist -সর্বেশ্বরবাদী 893: Monotheist -একেশ্বরবাদী 894: Debris -ধ্বংসাবশেষ 895: Relics -পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন 896: Prick – ছিদ্র করা 897: Paleontology -জীবাশ্ম বিজ্ঞান 898: Encyclopedia -বিশ্বকোষ 899: Bygone -বিগত 900: Polity -রাষ্ট্র ব্যবস্থা 901: Muster -সমবেশ 902: Demobilize -সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া 903: Troops -দল বা পাল 904: Jury -নির্ণায়ক সভা 905: Laggard -পিছিয়ে পড়া ব্যক্তি 906: Haggler -যে ব্যক্তি দরকষাকষি করে 907: Perjury -শপথভাঙ্গ 908: Embezzlement -অর্থ আত্মসাৎ 909: Oath /Vow -শপথ করা 910: Encomium -উচ্চ প্রশংসা 911: Aphorism -সংক্ষিপ্ত জ্ঞানগর্ব 912: Insolent -অপমানজনক 913: Delicate -কোমল,উপাদেয় 914: Effusive -উচ্ছ্বাস প্রবণ 915: Mercenary -ভাড়াটে সৈনিক 916: Altruistic -পরের জন্য মঙ্গলজনক 917: Deceptive -প্রতারণামূলক 918: Far-fetched -অস্বাভাবিক,সন্ দেহজনক 919: Paucity -অভাব 920: Plaintiff -বাদী 921: Preponderance -ভারাধিক্য 922: Indulgent -প্রশ্রয়,ক্ষমাশীল 923: Pampered -অত্যাধিক প্রশ্রয় 924: Pout -বিরক্তিভাব,ঠোঁট ফুলিয়ে রাগ দেখানো 925: Sullen -চাপা ক্রোধযুক্ত 926: Elated -অত্যন্ত আনন্দিত 927: Desolation -নির্জন 928: Pittance -সামান্য বেতন 929: Enthralling -বিমুগ্ধ 930: Pedestrian -পথচারী 931: Ravages -ধ্বংস বা নষ্ট করা 932: Masterful -দক্ষ 933: Critique -সমালোচনামূলক নিবন্ধ 934: Towered high -মাথা উঁচু করে দাড়ানো 935: Electrify -উত্তেজিত করা 936: Bankrupt -দেওলিয়া 937: Solvent -দেনা পরিশোধে সক্ষম 938: Unwitting -অনিচ্ছাকৃত 939: Zenith -চূড়া 940: Nadir/lowest point -সর্বনিম্ন বিন্দু 941: Poignant -গ্লানিকর/দুঃখ উদ্রেককারী 942: Freak -খামখেয়াল 943: Prodigy -দৈত্য 944: Resemble -অনুরূপ 945: Renowned -বিখ্যাত 946: Revamp -পুনর্গঠন 947: Esteem -সম্মান করা 948: Furtive -চুপিচুপি 949: Cud chew -জাবর কাটা স্তন্যপায়ী প্রাণী 950: Grasp accurately -বুঝতে পারা 951: Misconstrue -ভূল বোঝা 952: Effeminacy -মেয়েলী স্বভাব 953: Boorishness -রুক্ষতা 954: Celibacy /Chastity -সতীত্ব 955: Misogyny -নারীদের ঘৃণা করে যে 956: Matrimony -বিবাহিত 957: Eat drink and be merry -খাও,দাও ফুর্তি করা জাতীয় ব্যক্তি 958: Epicurean -ইন্দ্রিয় সুখে বিশ্বাসী 959: Versatility -বহুমুখী 960: Extradition -আসামী হস্তান্তর 961: Patronage -সহযোগিতা 962: Correspond -মিল 963: Manliness -সাহসিকতা 964: Instability -অস্থায়ীত্ব 965: Materialistic -প্রকৃতিবাদী 966: Remnants -ধ্বংসাবশেষ 967: Abeyance -স্থগিতাবস্থা 968:Chagrin/Irk -বিরক্তি 969: Distraught -অত্যধিক বিমর্ষ 970: Lodge a complaint -অফিসিয়ালি অভিযোগ করা 971: Tenant -ভাড়াটিয়া 972: Recluse -সন্নাসী 973: Prevalent -প্রচলিত 974: Implacable -নির্দয়,ক্ষমাশীল 975: Sober -গাম্ভীর্যপূর্ণ 976: Frantic -নিয়ন্ত্রণহীন 977: Ambiguous -অস্পষ্ট 978: Admonish -সতর্ক করা 979: Reconcile -মিলনসাধন করা 980: Equilibrate -ভারসাম্য 981: Undertake -দায়িত্বভার গ্রহণকরা 982: Intake -পানাহার 983: Ambivalent -বিপরীত 984: Ambidextrous -সব্যসাচী 985: Retractable -সংকোচনীয় 986: Conscript/Recruit/Novice/Rookie-নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত অনভিজ্ঞ কর্মী 987: Devoid -বর্জিত 988: Repeal/Quash/ Rescind/Annul-বাতিল করা 989: Arduous/Onerous/Grueling/ Laborious-কষ্টসাধ্য বা পরিশ্রমসাধ্য কিছু 990: Hoard -মজুতদারি 991: Unfathomable -অতল/গভীর 992: Traduce/Disparage/Denigrate/ Vilify -নিন্দা করা,অপবাদ দেয়া 993: Emigrant -দেশান্তরী 994: Immigrant -অভিবাসী 995: Wander -উদ্দেশ্যহীনভাবে ভ্রমণ করা 996: Meddle -হস্তক্ষেপ করা 997: Discern -দৃশ্যমান হওয়া 998: Refugees -শরনার্থী 999. nostalgia - গৃহের প্রতি আকুলতা 1000. Panacea -সর্ব রোগের ওষুধ।

N@Nipa1234

সংবিধান নিয়ে ১৫০টি প্রশ্নঃ 1. যুদ্ধপরাধীদের বিচারসংক্রান্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদটি হলো - উত্তর: ৪৭ 2. বাংলাদেশ সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল? উত্তর: চতুর্থ 3. বাংলাদেশ সংবিধানের কোন ভাগে মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে? উত্তর: তৃতীয় ভাগে বাংলাদেশ সংবিধানে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি কোন অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত হয়েছে? উত্তর: ১১৭ 4. “আইনের চোখে সব নাগরিক সমান।” – বাংলাদেশের সংবিধানের কত নম্বর ধারায় এ নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে? উত্তর: ধারা ২৭ 5. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে রদ করা হয়েছে? উত্তর: ১৫ তম 6) বাংলাদেশের সংবিধানের প্রনয়ণের প্রক্রিয়া শুরু হয় কবে? উঃ- ২৩ মার্চ, ১৯৭২। 7) বাংলাদেশের সংবিধান কবে উত্থাপিত হয়? উঃ- ১২ অক্টোবর, ১৯৭২। 8) গনপরিষদে কবে সংবিধান গৃহীত হয়? উঃ- ০৪ নভেম্বর,১৯৭২। 9) কোন তারিখে বাংলাদেশের সংবিধান বলবৎ হয়? উঃ- ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২। 10) বাংলাদেশে গনপরিষদের প্রথম অধিবেশন কবে অনুষ্ঠিত হয়? উঃ- ১০ এপ্রিল, ১৯৭২। 11) সংবিধান প্রনয়ণ কমিটি কতজন সদস্য নিয়ে গঠন করা হয়? উঃ- ৩৪ জন। 12) সংবিধান রচনা কমিটির প্রধান কে ছিলেন? উঃ- ডঃ কামাল হোসেন। 13) সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য কে ছিলেন? উঃ- বেগম রাজিয়া বেগম। 14) বাংলাদেশ সংবিধানের কয়টি পাঠ কয়েছে? উঃ- ২ টি। বাংলা ও ইংরেজি। 15) কি দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধান শুরু ও শেষ হয়েছে? উঃ- প্রস্তাবনা দিয়ে শুরু ও ৭টি তফসিল দিয়ে শেষ। 16) বাংলাদেশের সংবিধানে কয়টি ভাগ আছে? উঃ- ১১ টি। 17) বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ/ধারা কতটি? উঃ- ১৫৩ টি। 18) বাংলাদশের প্রথম হস্তলেখা সংবিধানের মূল লেখক কে? উঃ- আবদুর রাউফ। 19) প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া কোন কাজ রাষ্ট্রপতি এককভাবে করতে সক্ষম? উঃ- প্রধান বিচারপতির নিয়োগ দান। 20) রাষ্ট্রপতির মেয়াদকাল কত বছর? উঃ- কার্যভার গ্রহনের কাল থেকে ৫ বছর। 21) একজন ব্যক্তি বাংলাদশের রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন কত মেয়াদকাল? উঃ- ২ মেয়াদকাল। 22) কার উপর আদালতের কোন এখতিয়ার নেই? উঃ- রাষ্ট্রপতি। 23) জাতীয় সংসদের সভাপতি কে? উঃ- স্পিকার। 24) রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে কাকে উদ্দেশ্য করে পদত্যাগ পত্র লিখবেন? উঃ- স্পিকারের উদ্দেশ্যে। 25) প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদের নিয়োগ প্রদান করেন কে? উঃ- রাষ্ট্রপতি। 26) এ্যার্টনি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করেন কে? উঃ- রাষ্ট্রপতি। 27) সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য আছে কতটি? উ:১২টি। 28) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত কোনটি? উঃ- সুপ্রীম কোর্ট। 29) সুপ্রীম কোর্টের কয়টি বিভাগ আছে? উঃ- ২টি । আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ 30) সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের মেয়াদকাল কত? উঃ- ৬৭ বছর পর্যন্তু। 31) বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম মূলনীতি কি ছিল? উঃ- ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, গনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। 32) কোন আদেশবলে সংবিধানের মূলনীতি “ধর্মনিরপেক্ষতা” বাদ দেয়া হয়? উঃ- ১৯৭৮ সনে ২য় ঘোষনাপত্র আদেশ নং ৪ এর ২ তফসিল বলে। 33) কোন আদেশবলে সংবিধানের শুরুতে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” সন্নিবেশিত হয়? উঃ- ১৯৭৮ সনে ২য় ঘোষনাপত্র আদেশ নং ৪ এর ২ তফসিল বলে। 34) কোন আদেশবলে বাংলাদেশের নাগরিকগণ “বাংলাদেশী” বলে পরিচিত হন? উঃ- ১৯৭৮ সনে ২য় ঘোষনাপত্র আদেশ নং ৪ এর ২ তফসিল বলে। 35) সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে “গনতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকারের” নিশ্বয়তা দেয়া আছে? উঃ- ১১ অনুচ্ছেদ। 36) সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে “কৃষক ও শ্রমিকের” মুক্তির কথা বলা আছে? উঃ- ১৪ অনুচ্ছেদ। 37) সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে “নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ” এর কথা বলা হয়েছে? উঃ- ২২ অনুচ্ছেদ। 38) “সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী” বর্ণিত কোন অনুচ্ছেদে? উঃ- ২৭ অনুচ্ছেদে। 39) জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষিত রয়েছে কোন অনুছেদে? উঃ- ৩য় ভাগে, ৩২ অনুচ্ছেদে। 40) গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কিত রক্ষাকবচের কোন অনুচ্ছেদ? উঃ- ৩য় ভাগে, ৩৩ অনুচ্ছেদে। 41) জবরদস্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে? উঃ- ৩য় ভাগে, ৩৪ অনুচ্ছেদে। 42) চলাফেরার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে? উঃ- ৩য় ভাগে, ৩৬ অনুচ্ছেদে। 43) সমাবেশের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে? উঃ- ৩য় ভাগে, ৩৭ অনুচ্ছেদে। 44) সমিতি ও সংঘ গঠনের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে? উঃ- ৩য় ভাগে, ৩৮ অনুচ্ছেদে। 45) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে? উঃ- ৩য় ভাগে, ৩৯ (১) অনুচ্ছেদে। 46) বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে কোন অনুছেদে? উঃ- ৩য় ভাগে, ৩৯(২) ক অনুচ্ছেদে। 47) সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে কোন অনুছেদে? উঃ- ৩য় ভাগে, ৩৯ (২) খ অনুচ্ছেদে। 48) পেশা ও বৃত্তির স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে কোন অনুছেদে? উঃ- ৩য় ভাগে, ৪০ অনুচ্ছেদে। 49) ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে কোন অনুছেদে? উঃ- ৩য় ভাগে, ৪১ অনুচ্ছেদে। 50) সম্পত্তির অধিকারের কথা বর্ণিত হয়েছে কোন অনুছেদে? উঃ- ৩য় ভাগে, ৪২ অনুচ্ছেদে। 51) স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ কোনটি? উঃ- ৭৪ অনুচ্ছেদ। “বইওয়ালা বিসিএস সল্যুশন” এর সাথেই থাকুন। 52) ন্যায়পাল নিয়োগ সংক্রান্ত কথা বলা হয়েছে? উঃ- ৭৭ অনুচ্ছেদে। 53) জাতীয় সংসদে ন্যায়পাল আইন কবে পাস হয়? উঃ- ১৯৮০ সালে। 55) ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ কবে জারী করা হয়? উঃ- ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫। 56) ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ কবে বাতিল করা হয়? উঃ- ১২ নভেম্বর, ১৯৯৬। 58) বাংলাদেশের আইন সভার নাম কি? উঃ- জাতীয় সংসদ। 59) জাতীয় সংসদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়? উঃ- ১৯৬২ সালে। 60) জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি কে? উঃ- লুই আই কান। 61) লুই আই কান কোন দেশের নাগরিক? উঃ- যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। বইওয়ালা বিসিএস সল্যুশন এর সাথেই থাকুন। 62) জাতীয় সংসদ ভবনের ছাদ ও দেয়ালের স্ট্রাকচারাল ডিজাইনার কে? উঃ- হ্যারি পাম ব্লুম। 63) জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণ কাজ শুরম্ন হয় কবে? উঃ- ১৯৬৫ সালে। 64) জাতীয় সংসদ ভবনের ভূমির পরিমান কত? উঃ- ২১৫ একর। 65) জাতীয় সংসদ ভবন উদ্বোধন করা হয়? উঃ- ২৮ জানুয়ারী, ১৯৮২। 66) জাতীয় সংসদ ভবন কত তলা বিশিষ্ট? উঃ- ৯ তলা। 67) জাতীয় সংসদ ভবনের উচ্চতা কত? উঃ- ১৫৫ ফুট। 68) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রতীক কি? উঃ- শাপলা ফুল। 69) জাতীয় সংসদ ভবন কে উদ্বোধন করেন? উঃ- রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার। 70) বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন কবে বসে? উঃ- ১৫ ফেব্রুয়ারী, ১৯৮২। 71) বাংলাদেশের সংসদের মোট আসন সংখ্যা কতটি? উঃ- ৩৫০ টি। 72) বাংলাদেশের সংসদের সাধারন নির্বাচিত আসন সংখ্যা কতটি? উঃ- ৩০০ টি। 73) সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন স্যখ্যা কতটি? উঃ- ৫০ টি। 74) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ১ নং আসন কোনটি? উঃ- পঞ্চগড়-১। 75) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০ নং আসন কোনটি? উঃ- বান্দরবান। 76) জাতীয় সংসদের কাস্টি ভোট বলা হয়? উঃ- স্পিকারের ভোটকে। 77) সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ব্যবধান কতদিন? উঃ- ৬০ দিন। 78) গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এবং মৌলিক অধিকার বলবৎকরন কোন কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে? উত্তর: যথাক্রমে ১১ ও ৪৪ অনুচ্ছেদ। 79) সাধারন নির্বাচনের কতদিনের মধ্যে সংসদ অধিবশন আহবান করতে হবে? উঃ- ৩০ দিন। 80) সংসদ অধিবেশন কে আহবান করেন? উঃ- রাষ্ট্রপতি। 81) সংসদ অধিবেশনের কোরাম পূর্ন হয় কত জন সংসদ হলে? উঃ- ৬০ জন। বইওয়ালা বিসিএস সল্যুশন এর সাথেই থাকুন 82) সংবিধান সংশোধনের জন্য কত সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়? উঃ- দুই-তৃতীয়াংশ। 83) একাধারে কতদিন সংসদে অনুপস্থিত থাকলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়? উঃ- ৯০ কার্যদিবস। 84) গণ-পরিষদের প্রথম স্পিকার কে? উঃ- শাহ আব্দুল হামিদ। 85) গণ-পরিষদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার কে? উঃ- মোহাম্মদ উল্ল্যাহ। 86) এ দেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাস কবে থেকে চর্চা শুরু হয়? উঃ- ১৯৩৭ সালে। 87) কোন কোন বিদেশী প্রথম জাতীয় সংসদে ভাষণ দেন? উঃ- যুগোশ্লেভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল জোসেফ টিটো-৩১ জানু, ১৯৭৪ এবং ভারতের প্রেসিডেন্ট ভি.ভি. গিরি-১৮ জুন, ১৯৭৪। 88) বাংলাদেশের অষ্টম জাতীয় সংসদ নিবার্চনে নির্বাচিত একজন সদস্য নিজেই নিজের শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন, তিনি কে? উঃ- এডভোকেট আবদুল হামিদ। বইওয়ালা বিসিএস সল্যুশন এর সাথেই থাকুন 89) নির্বাচন কমিশন কার সমমর্যাদার অধিকারী? উঃ- সুপ্রীম কোর্ট। 90) বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচন কমিশনার কে? উঃ- বিচারপতি এম ইদ্রিস। 91) বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচন কমিশনার কে? উঃ- কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ 92) নির্বাচন কমিশন কেমন প্রতিষ্ঠান? উঃ- স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। 93) “তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল” কবে সংসদে পাশ হয়? উঃ- ২৭ মার্চ, ১৯৯৬। 94) বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে? উঃ- সৈয়দ নজরুল ইসলাম (অস্থায়ী)। 95) এডভোকেট আবদুল হামিদ বাংলাদেশের কততম প্রেসিডেন্ট? উঃ- ২০তম। বইওয়ালা বিসিএস সল্যুশন এর সাথেই থাকুন 96) বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে? উঃ- তাজউদ্দিন আহমেদ। 97) শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের কততম প্রধানমন্ত্রী? উঃ- ১৪ তম। 98) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হতে হলে বয়স কমপক্ষে কত হবে? উঃ- ৩৫ বছর। 99) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে হলে বয়স কমপক্ষে কত হতে হবে? উঃ- ২৫ বছর। 100) জাতীয় সংসদের সদস্য হতে হলে বয়স কমপক্ষে কত হতে হবে? উঃ- ২৫ বছর। 101. প্রশ্ন: সংবিধান অনুযায়ী মালিকানা কয় ধরনের? উত্তর: ৩ 102. প্রশ্ন: মানুষের মৌলিক চাহিদা কতটি? উত্তর: ৫ 103. প্রশ্ন: যুদ্ধাপরাধীর বিচার সংক্রান্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদটি হলো-- উত্তর: ৪৭ 104. প্রশ্ন: সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে “রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন” বলা আছে? উত্তর: ২৮ (২) নং অনুচ্ছেদে 105. প্রশ্ন: সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবেন? উত্তর: ৬ (২) 106. প্রশ্ন: বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ বলে রাষ্ট্র নারী, শিশু বা অনগ্রসর নাগরিকদের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান তৈরির ক্ষমতা পায়? উত্তর: ২৮ 107. প্রশ্ন: বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর উদ্দেশ্য কি ছিল? উত্তর: ৯৩ হাজার যুদ্ধবন্দির বিচার অনুষ্ঠান 108. প্রশ্ন: গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় কোন তারিখ থেকে? উত্তর: ডিসেম্বর ১৬, ১৯৭২ 109. প্রশ্ন: বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থা সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে পুনঃপ্রবর্তিত হয়? উত্তর: দ্বাদশ 110. প্রশ্ন: চতুর্দশ সংশোধনীর প্রধান বৈশিষ্ট্য কি? উত্তর: মহিলাদের সংরক্ষিত আসন 111. প্রশ্ন: বাংলাদেশের সংবিধানের কত ধারা মোতাবেক রাষ্ট্রপতি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নিযুক্তি দেন ? উত্তর: ৫৬ (২) ধারা 112. প্রশ্ন: 'অর্থ বিল' সম্পর্কিত বিধানাবলী আমাদের সংবিধানের কোন আর্টিক্যালে উল্লেখ আছে? উত্তর: ৮১ (১) 113. প্রশ্ন: বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ কর্মকমিশন গঠিত হয়? উত্তর: ১৩৭ 114. প্রশ্ন: বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে কে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন? উত্তর: জাতীয় সংসদ 115. প্রশ্ন: সংবিধানের কত ধারা অনুযায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যাল অধ্যাদেশ-২০০২ করা হয়েছে? উত্তর: ৯৩ (১) 116. প্রশ্ন: 'প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ' ঘোষণাটি বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে? উত্তর: ৭ 117. প্রশ্ন: সংবিধানের কত অনুচ্ছেদ 'ন্যায়পাল' নিয়োগের বিধান আছে? উত্তর: ৭৭ নং অনুচ্ছেদে 118. প্রশ্ন: ইংরেজীতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাংবিধানিক নাম - উত্তর: House of Nation 119. প্রশ্ন: সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন' বলা আছে? উত্তর: ২৮ (২) নং অনুচ্ছেদে 120. প্রশ্ন: সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে সর্বাধিক কতজনকে Technocrat মন্ত্রী নিয়োগ করা যায়? উত্তর: এক-দশমাংশ 121. প্রশ্ন: সংবিধান বা শাসনতন্ত্র হচ্ছে - উত্তর: রাষ্ট্রের মৌলিক আইন 122. প্রশ্ন: বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ (২) ধারায় বলা হয়েছে "সকল সময়ে ---- চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য"। শূন্যস্থানটি পূরণ কর। উত্তর: জনগনের সেবা করিবার 123. বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী জাতীয় সংসদের কোন তারিখে পাস হয়েছিল? উত্তর: ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫ 124. জরুরী অবস্থা জারির বিধান সংবিধানে সন্নিবেশি124. প্রশ্ন: জরুরী অবস্থা জারির বিধান সংবিধানে সন্নিবেশিত হয় - উত্তর: দ্বিতীয় সংশোধনীতে 125. বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর বা অন্যভাবে বিলি-ব্যবস্থা করার অধিকার থাকবে' বলে বলা হয়েছে বাংলাদেশ সংবিধানের - উত্তর: ৪২ নং অনুচ্ছেদ 126.বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন একটি - উত্তর: সাংবিধানিক সংস্থা 127. প্রশ্ন: সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে? উত্তর: ১১৮ নং অনুচ্ছেদে 128. প্রশ্ন: সংবিধানের কোন সংশোধনী দ্বারা বাংলাদেশে উপ-রাষ্ট্রপতি পদ বিলুপ্ত করা হয়? উত্তর: দ্বাদশ 129. বাংলাদেশের সংবিধানে কতটি ভাগ বা অধ্যায় আছে? উত্তর: ১১ টি 131.বাংলাদেশের সংবিধানে আইনের ব্যাখ্যা দেয়া আছে কোন অনুচ্ছেদে? উত্তর: ১৫২ 132. সংসদের 'বিশেষ অধিকার কমিটি' কোন ধরনের কমিটি? উত্তর: সাংবিধানিক স্থায়ী কমিটি 133. প্রশ্ন: ইসলামকে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয় কত সালে? উত্তর: ১৯৮৮ 134. প্রশ্ন: বাংলাদেশের সংবিধানের এখন পর্যন্ত (২০১৬) কতটি সংশোধনী আনা হয়েছে? উত্তর: ১৬ 135. বাংলাদেশ সংবিধানের তফসিল কতটি? উত্তর: ৭ টি 137. বাংলাদেশের সংবিধানের কত ধারায় শিক্ষার জন্য সাংবিধানিক অঙ্গীকার ব্যক্ত আছে? উত্তর: ১৭ নং ধারা 138. বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারী করেন কে? উত্তর: শেখ মুজিবুর রহমান 139. বাংলাদেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সর্বপ্রথম কোন সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তন করা হয়? উত্তর: ৮ম 140. বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য - উত্তর: বেগম রাজিয়া বানু 141) বাংলাদেশে কোন ধরনের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রচলিত? উঃ- সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র। 142) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন কি? উঃ- সংবিধান। 143) কোন দেশের কোন লিখিত সংবিধান নাই? উঃ- বৃটেন, নিউজিল্যান্ড, স্পেন ও সৌদি আরব। 144) বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংবিধান কোন দেশের? উঃ- ভারত। 145) বিশ্বের সবচেয়ে ছোট সংবিধান কোন দেশের? উঃ- আমেরিকা। 146. বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৭ নং ধারায় প্রতিষ্ঠিত সংস্থা কোনটি? উত্তর: বাংলাদেশ সরকারী কর্মকমিশন 147. বাংলাদেশের সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক কে? উত্তর: সুপ্রিমকোর্ট 148. সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ভোটার তালিকার বিধান বর্ণিত আছে? উত্তর: ১২১ নং অনুচ্ছেদে 149. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন - উত্তর: দুই-তৃতীয়াংশ 150. সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে তত্তাবধায়ক সরকার বাতিল হয় -১৫তম

Everything by @Nipa1234, by month