অদ্ভুতভালবাসা
অদ্ভুত ভালোবাসা সিজন ৩ পর্ব:১৫ writer: অন্না , নীরা আর টিয়া বাসা থেকে বের হয়েই দেখে নিলয় গাড়ি নিয়ে দাড়িয়ে আছে।নীরাকে দেখেই নিলয় যেই নীরার কাছে আসতে যাবে তখনই নীরা জলদি করে রিক্সায় উঠে পড়ে।নিলয় কি কম যায় নাকি। সোজা গিয়ে রিক্সার সামনে গিয়ে দাড়ায় পরে। টিয়া ভয় পেলেও নীরা আজ ভয় পায় না। কারন তাকে ঘিরে আছে এক পাহাড় অভিমান।নিলয়ের দিকে চোখ তুলেও তাকিয়ে দেখে না। নিলয় আস্তে করে নীরার পাশে এসে দাড়ায়। "নেমে এসো" নিলয়ের কথার উত্তরে নীরা কিছু বলে না। চুপটি মেরে থাকে। "আমি কিন্তু নেমে আসতে বলেছি নীর" নিলয়ের হালকা ধমকেও নীরা কোনো হেলদোল করে না।টিয়া পরিবেশ সামলানোর জন্য হালকা শব্দে হেসে ওঠে।তারপর নিজে নেমে পরে। টিয়া জানে নিলয়ের কথা না শুনলে নীরার কপালে দুঃখ আছে।"আপু নেমে এসো না" টিয়া নীরার হাত টেনে রিক্সা থেকে নামিয়ে নিতে গেলে নীরা হাত সরিয়ে নেয়। টিয়া মুচকি হেসে ভয়ে ভয়ে নিলয়ের দিকে তাকায়। "কাল সারা রাত ধরে বউ এর সেবা করলেন, আর এটা জানেন না আপুর শরীর ভালো না। ঠিক মতো দাড়াতে পারছে না" টিয়ার কথা শুনে নীরার চোখ রসগোল্লার মতো হয়ে গেলো। তার মানে কাল রাতে সত্যই নিলয় ওর কাছে ছিলো। ওটা নীরার কল্পনা না। আর কাল রাতে ও নিলয়ের বুকে ছিলো। সে কথা মনে হতেই নীরা একটু ব্লাসিং করে। তার পরে আবার মুনিরার কথা মনে হতেই ওর বেশ রাগ হয়। রাগি দৃষ্টিতে নিলয়ের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই "এখন যদি একটা সাউন্ড ও হয় রিক্সা সহ তোমাকে ভেঙে গুড়ো গুড়ো করে দিবো। সোজা রিক্সা থেকে নেমে গাড়িতে গিয়ে বসো" নিলয়ের ধমকে নীরার কান্না চলে আসে।"আমি কোথাও যাবো না। কেনো এমন করছেন আমার সাথে? দেখুন দুলাভাই আপনার মুনি আমাদের বড় বোন। আপনি এমন কিছু করেন না যার ফলে আপনার মুনি কষ্ট পায়" নীরা মাথা নিচু করে ফুপিঁয়ে ফুপিয়ে কান্না করতে থাকে। নিলয় একটু এগিয়ে গিয়ে যত্নসহকারে নীরাকে টেনে কোলে তুলে নেয়। কিন্তু ওর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে নিলয় বেশ শান্ত, নীরা বেশ বুঝতে পারে ঝড়ের আগের মুহুর্ত এটা। নীরা এক হাতে নিলয়ের গলা ধরে । অন্য হাতে নিলয়ের বুকের কাছে শার্ট মুঠো করে ধরে।"টিয়া বেপি তুমি কলেজে চলে যাও" নিলয় হনহন করে গিয়ে নীরাকে গাড়ির পেছনের ছিটে বসিয়ে দেয় নিজেও উঠে বসে ধরাম করে দরজা লাগিয়ে দেয়। নীরা তো কেঁপে ওঠে। নিলয় ফোনটা বের করে মুনিরাকে ফোন করে। নীরা নিলয়ের ফোনে উঁকি মেরে মুনিরার নাম দেখে গাড়ি থেকে নামতে যায়। নিলয় রাগে নীরার কবজি টেনে হেঁচকা টানে নিজের কাছে নিয়ে আসে। "ল,,,লাগছে আমার" এটা শুনে নিলয় আরও শক্ত করে নীরার হাত মুঠো করে ধরে। ব্যাথায় নীরার চোখ দিয়ে কয়েকফোঁটা পানি গড়িয়ে যায়।এতে নিলয়ের কোনো হেলদোল হয় না।ও হাত সেভাবেই ধরে রাখে।মুনিরা ফোন রিসিভ করলে নিলয় লাউস্পিকার দিয়ে কথা বলতে শুরু করে, "মুনি"? "আরে আমার ক্রাশড, আজ সূর্য কোন দিকে উঠেছে। হঠাৎ আমাকে ফোন করেছো "? মুনিরার কথা শুনে নীরা শক। "আরে মনে হলো তোর কথা। বলতি না তোরা আমি সারাজীবন সিংগেল থেকে গেলাম, এতে নাকি তোদের খুব কষ্ট হয়"? "হুম হয় তো। এতো ড্যাসিং ছেলে কত মেয়ে পাগল তোর জন্য আর তুই প্রেম।করিস না" "সব মেয়ে পাগল, তুই তো পাগল না। তাই না"? "বুঝলি কবে আমাকে? মেয়ে হয়ে নির্লজ্জের মতো প্রপোজ করলাম। আর তুই না করে দিলি,বললি আমি তোর টাইপ না " "দোস্ত তুই জানিস তো আমার কেমন মেয়ে পছন্দ?এতো ঝিকঝাক আমার পছন্দ না"। "হুম তোর তো গেঁয়ো টাইপের মেয়ে পছন্দ" নীরা তো শক। মুনিরার কথা শুনে। মুনিরা কাল নীরাকে কি বললো আর আজ কি বলছে। নিলয়ের সাথে ওর কোনো সম্পর্ক নেই।মুনিরা ওকে মিথ্যা বলেছে। নীরার মুখে হাসির রেখা ফুঁটে উঠেছে। "আচ্ছা দোস্ত জিসান কেমন আছে রে? ৩বছরের ডিপ রিলেশন তোদের" এটা শুনে তো নীরা চরম অবাকের শেষ পর্যায়ের শক। টিয়া কাল মিথ্যা বলেনি ওকে। কেনো যে টিয়ার কথা শুনলো না। "মুনিরার বাচ্চা ইচ্ছে করছে তোকে আমড়া গাছের মগডালে বেঁধে রাখি। বজ্জাত মাইয়া কোথাকার" নীরা মনে মনে মুনিরাকে বেশ বকা দেয়। "আচ্ছা মুনিরা ভালো থাকিস পরে কথা হবে" কথাটা বলেই নিলয় ফোন কেটে সিটের সাথে হেলান দিয়ে কপালে হাত রেখে চোখ বন্ধ করে নেয়। নীরা কি করবে বুঝতে পারছে না। নিলয় এখনও ওর হাত ধরে আছে।কিন্তুু মুখে কিছু বলছে না। নীরা বুঝতে পারছে না নিলয় এখন কি করবে ওর সাথে। কাল রাত থেকে বিনা করনে অনেক রুড ব্যবহার করেছে ও নিলয়ের সাথে। কিন্তু নীরার কি দোষ মুনিরা তো ওকে উল্টা পাল্টা বুঝিয়ে দেয়।নীরা এবার সাহস করে নিলয়ের সাথে কথা বলে। "শ,,,,শুনছেন" "এভাবে ডাকছিস কেনো? দুলাভাই লাগি না আমি তোর? দুলাভাই বল"দাঁতে দাঁত চিপে নিলয় কথাটা বলে। নীরা বেচারি নিলয়ের ধমকে ভয়ে কাচুমাচু হয়ে যায়। নীরা কিছু বলতে যাবে তার আগেই হুট করেই নিলয় নীরার হাত ছেরে গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। তারপর নীরাকে গাড়ি থেকে টেনে আবার কোলে তুলে পা দিয়ে ধরাম করে দরজা বন্ধকরে দেয়। তারপর সোজা গিয়ে একটা রিক্সায় আস্তে করে বসিয়ে দেয়। "মামা আমারর শ্যালিকা যেখানে যাবে নামিয়ে দিও" কথাটা বলেই নিলয় গাড়ি নিয়ে নীরার সামনে দিয়ে বের হয়ে যায়। নীরা বেশি অবাক হলোনা। কারন ও জানে এই রাক্ষসরাজা কি পরিমান ঘাড় ত্যারা। রাগ উঠলে সব করতে পারে। নীরা হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। "শয়তানের নানা। আমার শ্যালিকা যেখানে যাবে নামিয়ে দিও।বলি কেনো রে আমি না হয় ভুল বুঝে দুলাভাই বলেছি। বেশি তো বলিনি একটু খানি বলেছি, এতো রাগ করার কি আছে?রাগ তো আমার করার কথা। মুনি,মুনি, মুনি বলি কিসের মুনি বলতে হয়। নাম নাই ওর হুহ, রাগ আমার ও আছে। দেখি কত সময় কথা না বলে থাকে। উগন্ডার দৈত্য কোথাকার" "আপা কই যাবেন"রিক্সাওয়ালার কথায় নীরা বাস্তবে ফিরে। "জাহান্নামে যাবো। যাবেন"? নীরা লোকটাকে এক ধমক দিয়ে নীরা রিক্সা থেকে নেমে পরে। তারপর হাঁটতে শুরু করে। একটু খানি হেঁটেই দেখে নিলয়ের গাড়ি। নীরা বেশ বুঝতে পারে গাড়ি এখানে থাকার কারন কি।নীরা দুষ্টুমির হাসি হেসে ওঠে। দৌড়ে গাড়ির সামনে গিয়ে নিলয়ের পাশে দাড়ায়। নিলয় নীরাকে দেখেও ডোন্ট কেয়ারের মতো সামনে দিয়ে তাকিয়ে থাকে। "আমাকে একটু লিফ্ট দিবেন দুলাভাই"নীরার কথা শুনে নিলয় এবার তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে। তেরে উঠে গাড়ি থেকে নামে। "কানের নিচে ঠাস করে একটা বসালেই দুলাভাই বলার স্বাধ মিটে যাবে। আমি দুলাভাই তোমার? খুব দুলাভাই ডাকার শখ হয়েছে না?তো বলো মুনিরাকে বিয়ে করে নেই। দিন রাত দুলাভাই ডাকতে পারবে "। নীরা মুখ ভেঙিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। নিলয়ের বকাগুলোকে ডোন্ট কেয়ার হিসেবে নেয়। নিলয় আর কথা বলে না। গাড়িতে এমন ভাবে বসে যে পুরো গাড়ি কেঁপে ওঠে। নীরা কলেজ গেটে ঢুকেই দাড়িয়ে পরে। "হেই নীহারিকা, কেমন আছো"? পলাশের দেখে আর ওর কথায় নীরা চরম বিরক্ত হয়।। "ভালো ভাইয়া, আপনি কেমন আছেন"? "হেই ডোন্ট কল মি ভাইয়া। তুমি জানো তোমার সাথে আমার বিয়ে ফিক্স হয়ে গেছে সো প্লিজ ভাইয়া বলো না"। "আমি কি একবার ও বলেছি আপনাকে বিয়ে করবো"? "না ও তো বলোনি" "এখন বললাম। আমি আপনাকে বিয়ে করবোনা।" "আমি শুনলাম না" পলাশের কথায় নীরার খুব রাগ হয়। উনার সাথে আর কথা না বারিয়ে চলে যেতে নিলে পিছে থেকে পলাশ নীরার হাত টেনে ধরে। নীরা রেগে কিছু বলতে যাবে তার আগেই ধরাম করে একটাশব্দ হয়। নীরা তাকিয়ে দেখে নিলয়ের হাত থেকে গড়গড় করে রক্ত বের হচ্ছে, আর গাড়ির জানালার কাঁচ ভাঙা। নীরা দৌড়ে নিলয়ের হাত ধরার আগেই নিলয় সেখান থেকে চলে যায়। নীরাও নিলয়ের পেছনে দৌড় দেয়। পলাশ এটা দেখে কেমন শয়তানি হাসি দিয়ে কলেজ থেকে বের হয়ে যায়। " শুনুন,দাড়ান,দাড়ান না প্লিজ। দুলাভাই"নীরার কথা শুনে নিলয় থেমে যায়। , be continue ♥♥♥
No comments yet