কিসত
#কিসমত
#পর্ব-১৬
.
.
.
.
-নিরু তোর সাথে আমার কিছু কথা ছিলো(লিমা)
.
-হুম বল(নিরু ফোন টিপতে টিপতে)
.
- আজ কাল নেহালের সাথে তোকে বেশি দেখ যাচ্ছে
.
-হুম তো?(লিমার দিকে তাকিয়ে)
.
-নাহ কিছু নাহ
.
-ও আচ্ছা.. (আবার ফোনের দিকে তাকিয়ে)
.
-৫ মিনিট পরে আবার
.
-নিরু..
.
-হুম বাবা বল
.
-তুই কি নেহালের প্রেমে পরেছিস?
.
-হোয়াট দ্যা ( নিজেকে কিছুটা সামলিয়ে নিয়ে) নেহাল আমার জাস্ট ফেন্ড।ওকে.
.
-হুম ওকে.
.
.
.
-মনি নিজের হাতে ফোন নিবে। তখন নিশির ফোনে ফোন আসে 📞📞📞
.
-এক সেকেন্ড মনি(নিশি)
.
-হুম(মনি মুচকি হেসে)
.
-আসসালামু আলাইকুম খালা বলেন.(নিশি)
.
-(......)
.
-কখন (দাঁড়িয়ে)
.
-(......)
.
-আমি এখনি আসছি.
.
-মনি খালামনির হঠাৎ পেশার লো হয়ে গেছে আমার এখনি যেতে হবে..
.
-ও আচ্ছা। যাও তাহলে।
.
-তুমি তো আছো কিছু দিন নাকি?
.
-নাহ আপু কাল চলে যেতে হবে
.
-তাহলে তো আর দেখা হলো নাহ আমি আসি।ফোনে কথা হবে..
.
.
.
-নিশান তাহলে আসি মনিটা একা. (শুভ্র )
.
-হুম যা আমিও যাই(নিশান)
.
.
.
-কিরে মনি তোর আপু কই(শুভ্র মনির পিছনে দাঁড়িয়ে)
.
-ইশ্ ভাইয়া আর এক মিনিট আগে আসলে দেখতে পেতে।মাত্র গেলো।একটু প্রবলেম ছিলো(মনি)
.
-ওকে।নেক্সট টাইম
.
-হুম চলো এখন
.
.
.
-নিশান নিশি গাড়িতে দু'জনের মাঝেই অস্থিরতা কাজ করছে তাদের খালামনির কাছে কখন যাবে তা নিয়ে..বাসার সামনে আসতেই নিশি নিশান দ্রুত ভিতরে ঢুকে..
.
-খালামনি তোমার শরীর ভালো এখন (নিশান পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে)
.
-কিছু হয়নি আমি ঠিক আছি বারবার নাহ করলাম ফোন দিতে দিয়েই দিলো(রহিমা বেগম)
.
-বেশ করেছে (নিশি পাশে বসে কান্না কন্ঠে )
.
-পাগল মেয়ে কিছু হয়নি তো আমার(রহিমা বেগম বসে)
.
-হুম (নিশি)
.
-দেখা হয়েছে
.
-হুম।আচ্ছা আমি ফ্রেশ হয়ে আসি। (দাঁড়িয়ে নিশি)
.
-খালামনি জানো আজ নাহ শুভ্রর সাথে দেখা হয়ে গেল হঠাৎ (নিশান)
.
-শুভ্র নাম শুনতেই দরজা দাঁড়িয়ে পরে নিশি।দুচোখ জলে ভরে আসে।আসিয়া খালাকে আসতে দেখে নিজের রুমে চলে যায় নিশি. চোখের জল গাল বেয়ে নিচে পরছে নিজের পেটে হাত রেখে চোখ বন্ধ করে ফেলে নিশি...
.
.
.
-আপা আমি বুঝতে পারছি নাহ কি করবো আমি(রহেলা বেগম কান্না কন্ঠে )
.
-দেখ কি বলবো তুই তো বুঝতে পারছিস।(আছিয়া বেগম)
.
-নিজের স্বামীর জন্য নিজের মেয়ে এত সর্বনাশ করবো।দিশা ছোট একটা মেয়ে। কি বুঝে বলো।
.
-এমন তো হতে পারে দিশাকে ভালো লাগতে পারে সারাজীবন রেখে দিতে পারে
.
-হসপিটাল থেকে এসে আড়াল থেকে সবটা শুনে নিশি রুমে আসে..
.
-কি করতে চাচ্ছো তোমরা দিশার সাথে? (নিশি)
.
-তুই শুনে কি করবি(আছিয়া বেগম)
.
-মা বলো কি করতে চাচ্ছো (নিশি রাহেলা বেগমকে উদ্দেশ্য করে)
.
-নিশ্চুপ (কান্না করছে)
.
-কি হলো মা বলো।কান্না করছো কেনো?(নিশি)
-তোর বোনকে ১মাসের বিয়ে দিবে ছেলে টাকা দিবে তোর বাপের চিকিৎসা করার জন্য দেশের বাহিরে নিয়ে যাবে(আছিয়া বেগম)
.
-খালা(চেঁচিয়ে নিশি)
.
-চেঁচাছিস কেনো।
.
- দিশা তোমার বোন ঝি এমন বলতে পারলে
.
-তোর তো বোন তুই নিজে ১ মাসের জন্য যা নাহ। বোন টাকে বাঁচা।
.
-আপা নিশি কেনো যাবে দিশাই যাবে।নিজের বাপের জন্য এইটুকু করতে পারবে( রাহেলা বেগম কান্না করতে করতে নিজের রুমে চলে যায় দরজা লাগিয়ে দেয় )
.
-মা শুনো আমার টাকা জোগাড় করে ফেলবো।(নিশি)
.
-এতো টাকা কই পাবি।কালকের বিকালের মাঝে সব টাকা দিতে হবে। আর ছেলেকেও বলে দিতে হবে বিকালের মাঝে। (আছিয়া বেগম রুম থেকে বের হয়ে যায়)
.
-রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে নিশি।কি করবে কিছু বুঝতে পারছে নাহ। এতো টাকা কি করে ব্যবস্থা করবে।বিকাল থেকে সব কাছের মানুষের কাছে টাকা ধার চাচ্ছে কেউ দিতে রাজি নাহ আর মাত্র একরাতের মাঝে সব পাল্টে যাবে। কিছুই করার থাকবে নাহ। সব চিন্তা করতে করতে রাস্তার মধ্যে বসে পরে নিশি।দুচোখ জোরে অন্ধকার। দিশার এতো বড় সর্বনাশ কখনোই হতে দিতে পারে নাহ।চায় নিজের খারাপ হোক।দু'হাতে নিজের চোখ মুছে দাঁড়ায় নিশি।বাসায় উদ্দেশ্য রওনা..
.
-রাতে ব্যাগ থেকে কলম বের করার সময় শুভ্র দেওয়া কার্ডটা বের হয়ে আসে..
.
-
-সকালে থেকে বের হয়ে বিকেলে বাসায় ঢুকে নিশি একজন মধ্য বয়স্ক লোক আর দুজন মহিলাকে দেখতে পায় নিশি।
.
-দেখুন আমার আপনার মেয়ে কে পছন্দ এক মাসের জন্য নিতে চাই। আর এই একমাস আমি যা বললো তাই করতে হবে । পছন্দ হলে রাখবো নয় দিয়ে যাবো।বুঝতেই তো পারছেন ।(মধ্য বয়স্ক লোক বিশ্রী হাসি দিয়ে )
.
-আমরা রাজি নাহ আপনি আসতে পারেন (নিশি)
.
-সবাই নিশির কথায় কিছুটা অবাক হয়ে যায়..
.
-দেখুন আপনারা ভেবে চিন্তে বলছেন কি(মধ্য বয়স্ক লোক)
.
-হুম (নিশি)
.
-আমি কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবো
.
-আপনি বের হোন।নাহ বের হলে লোক ডেকে অপমান করতে বাধ্য হবো.
.
-ওকে যাচ্ছি
.
-ঠাসস্ নিশি কি করছিস এখন টাকা কই পাবো (রাহেলা বেগম)
.
-মা(নিশি গালে হাত দিয়ে )
.
-বোনের সুখ ভালো লাগে নি?(চোখে জল)
.
-নিশি নিজের ব্যাগ থেকে কয়েকটা টাকার বান্ডিল রাহেলা বেগম এর হাতে দেয়..আরো লাগলে আরো পাবা তবু দিশার গায়ে কোনো আঁচ আসবে নাহ।
.
-এতো টাকা কোথায় পেলি(আছিয়া বেগম)
.
-তোমার জানতে হবে নাহ। বোনকে বাঁচাতে সব করতে পারি। টাকা জমা দিয়ে বাহিরে যাবার ব্যবস্থা করো তোমাদের তিন জনের( টাকা দিয়ে নিশি নিজের রুমে দিকে এগিয়ে যায়)
.
-আর তুই ?(রাহেলা বেগম)
.
- যাবো নাহ(দাঁড়িয়ে)
.
-একা থাকতে পারবি নাহ তুইও যাবি
.
- তোমার চিন্তা করতে অনেক দেরি হয়ে গেছে মা (তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে)
.
-নিজের রুমে অঝোরে কাঁদতে থাকে নিশি।তোমার বোন দিশাকে বিয়ে দিতে নাহ রক্ষিতা করতে চেয়ে ছিলো মা। খোঁজ নিয়েছি আমি কিন্তু তোমায় বললে তো বিশ্বাস করবে নাহ। কেউ আপন নাহ সবাই পর।হঠাৎ নিশির ফোন বেজে ওঠে। .দু'হাতে চোখ মুছে নিশি।ফোনের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য একটা হাসি দেয় নিশি..
.
.
চলবে....
তোমাই পাবো বলে
#তোমায়_পাবো_বলে
#হাসান
#পর্ব_০৫
.
তাম্মি চৌধুরী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
___"তুমিই নিনিতা?"
নিনিতার এই প্রশ্ন শোনার পর অস্বস্তি হতে লাগলো।ও প্রশ্নটা শুনে এতোটা অস্বস্তিবোধ করতো না।অস্বস্তিবোধ করার কারণ হচ্ছে তাম্মি চৌধুরী কটমট করে আশফাক চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে আছেন।আচ্ছা তাহিনের ভাইরাল হওয়ার বিষয়টা কি তিনি স্বাভাবিকভাবে নেননি?আশফাক চৌধুরী তো বললো এতে তাদের উপকার হয়েছে তবে কেনো তিনি এমনভাবে স্বামীর দিকে তাকিয়ে আছেন?নাকি অন্যকিছু?নিনিতা ইতস্তত করতে করতে বললো,
___"জ্বি আমি নিনিতা।"
তাম্মি কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে আশফাক চৌধুরীকে বললেন,
___"এ যদি নিনিতা হয়,তবে তুমি এর সাথে ফোনে কথা বলতে!একটা হাঁটুর বয়সী মেয়ের প্রেমে পড়তে তোমার লজ্জা করলো না!এতো আমার ছেলে তাহিনের চাইতেও ছোট।"
নিনিতা অবাক হয়ে গেলো।আশফাক চৌধুরী নিনিতার প্রেমে পড়েছে!এটা আদোও সম্ভব!
আশফাক চৌধুরী কাচুমাচু করে বললেন,
___"ছিঃ এগুলা কি বলো?নিনিতা তো আমার আম্মা।"
তাম্মি রেগে আগুন হয়ে বললেন,
___"যেই ধরা পড়লে ওমনি ও তোমার আম্মা হয়ে গেলো।বাহ!"
আশফাক চৌধুরী নিনিতাক বললেন,
___"নিনিতা আমি না তোমায় আম্মা ডাকি?"
নিনিতা জোরে জোরে মাথা নাড়ালো।যার অর্থ হ্যাঁ ওকে আশফাক চৌধুরী আম্মা ডাকে।
তাম্মি চৌধুরী কিছুটা নিভলো।তারপর বললেন,
___"ঠিক আছে,ঠিক আছে।এবারের মতো ক্ষমা করলাম।পরের বার এরকম কিছু শুনলে প্রথমে তোমাকে খুন করবো তারপর নিজে বিষ খাবো।কথাটা মনে থাকে যেন।"
আশফাক চৌধুরী একটু হেসে বললেন,
___"তোমার কাছে এ আজগুবি খবর গুলো কে দেয় বলো তো?এখন কি আমার নিনিতার প্রেমে পড়ার বয়স?হ্যাঁ নিনিতার মা হলে অন্য কথা ছিল।"
তাম্মি চৌধুরী রণচণ্ডী রূপ নিয়ে তার সামনে দাড়ালেন।আশফাক চৌধুরী ভুল মানুষের সামনে ভুল কথা বলে ফেলেছেন।তিনি গুটি গুটি পায়ে চোরের মতো ড্রয়িংরুম থেকে চলে গেলেন।
নিনিতা এতোক্ষণ হওয়া কোনোকিছুরই মানে বুঝতে পারলো না।
তাম্মি চৌধুরী নিনিতাকে নিয়ে সোফায় বসলেন।নিনিতার দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন,
___"কেমন আছো?"
কি সুন্দর হাসি!এই যে একটু আগে রাগারাগি করলেন এখন তার চোখে-মুখে কোনো রাগ নেই।অপরূপ সুন্দরী একজন মহিলা।
নিনিতা হাসি মুখে বললো,
___"আলহামদুলিল্লাহ।"
আশফাক চৌধুরী রুম থেকে বেড়িয়ে বললেন,
___"শুধু গল্প করবে।ওদিকে তোমার গুণী সন্তান যে তোমায় কখন থেকে ডাকছে শুনছো না?"
তাম্মি চৌধুরী সামান্য বিরক্তি নিয়ে উঠে চলে গেলেন।আশফাক চৌধুরী নিনিতার অপজিট সোফায় বসে বললেন,
___"তুমি কিছু মনে করো না।তাম্মি বুড়ো বয়সেও আমাকে হারানোর ভয় পায়।"
আশফাক চৌধুরী উচ্চস্বরে হেসে দিলেন।তার সাথে তাল মিলালো নিনিতা।
আশফাক চৌধুরী হাসিটা কোনোরকম ভাবে থামিয়ে বললো,
___"তোমার আন্টি বিয়ের আগে আমার বন্ধুদের থেকে খবর নিতো,আর এখন নেয় সুমনের থেকে।সুমন একটা গর্দভ ওর জন্যই তোমাকে এ সিচুয়েশনে পড়তে হলো।গর্দভটা তাম্মিকে বলেছে নিনিতা নামের এক মেয়েকে আমি ফুলের বুকে পাঠিয়েছি।কি কারণে পাঠিয়েছি,তোমার বয়স কত এসব নিয়ে কিছু বলেনি।সেই থেকে তোমার সাথে দেখা করার জন্য বাসায় ঝড় তুলেছে,গতকাল আমি ইচ্ছে করে তাম্মিকে জ্বালানোর জন্য তোমায় ভিডিও কল করেছিলাম।তুমি আম্মা মাইন্ড করো না।তাম্মির মাঝে ছেলেমানুষী এখনো রয়ে গেছে।ওর হয়ে আমি ক্ষমা চাইছি।"
নিনিতা এতোক্ষণ মজা নিয়ে এসব কথা শুনছিলো।আশফাক চৌধুরীর শেষ কথা শুনে নিনিতা বললো,
___" না, না,না।আমি কিছু মনে করিনি।ক্ষমার কথা বলে আমাকে ছোট করবেন না।"
আশফাক চৌধুরী সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললেন,
___"জানো নিনিতা ভাইরাল হওয়ার বিষয়টা নিয়ে যদি তোমার কোনো ক্ষতি হতো।ক্ষতিটার কারণ সবার প্রথম আমি হতাম।"
নিনিতা আৎকে উঠলো।মুখের হাসিটা বিলীন হয়ে গেল।আশফাক চৌধুরী নিনিতার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,
___"ভয় পেও না।এখন আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না।ইনফ্যাক্ট, সারাজীবন আমার দ্বারা তোমার এক চিমটি ক্ষতি হবে না।তাহিন যতই বিগড়ে যাক।ও তো আমারই সন্তান।যখন নিউজটা ভাইরাল হলো,মুহুর্তের মাঝেই আমি তোমার ঠিকুজিকোষ্ঠীর খবর নিয়ে নিয়েছিলাম।যখন বিষয়টা সবাই পজিটিভলি নিয়েছে তখন আমি শান্ত হয়েছি।মনে হয়েছে বিগড়ে যাওয়া ছেলেটা সঠিক পথে আসুক।কিছু একটা করুক আমি আর কয়দিনই বা থাকবো?তোমাকে ধন্যবাদ।কথাগুলো বলতাম না বলার কারণ জানো?"
নিনিতা মাথা নাড়ালো।যার অর্থ সে জানে।নিনিতা নিচু স্বরে বললো,
___"আমি জানি আঙ্কেল ছবিগুলো পোস্ট করার আগে আমার অনুমতি নেয়া প্রয়োজন ছিলো।আমার মাথায় তখন পজিটিভ চিন্তাভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছিলো।আর আমি তো কোনো জার্নালিস্টকে হেল্প করবো, কিংবা আপনার মান-সম্মান নিয়ে খেলবো,আমার এরকম বাজে উদ্দেশ্য ছিলো না।ওইরকম বাজে উদ্দেশ্য নিয়ে আমি ছবিগুলো তুলিনি।বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আব্বুকে বলে এসেছি আপনার আর আন্টির কাছে এটা নিয়ে ক্ষমা চাইবো।আ'ম সরি।"
আশফাক চৌধুরী হাসি দিয়ে বললেন,
___"ইটস ওঁকে, মাই চাইল্ড।
তাম্মক চৌধুরী এলে তারা তিনজন মিলে একসাথে হল্প গুজব করতে লাগলো।
______________________
খাওয়ার টেবিলে,,,
তাম্মি চৌধুরী তাহিনকে খাইয়ে দিচ্ছেন।আশফাক চৌধুরীর পাশে নিনিতা বসেছে।
তাম্মি চৌধুরী বললেন,
___"তোমার বাবা কি করেন নিনিতা?"
নিনিতা খাবার নাড়তে নাড়তে জবাব দেয়,
___"রিটায়ার্ড সিনিয়র ব্যাংকার।এখন এলুমিনিয়ামের বিজনেস করছেন।"
___"আর মা?"
নিনিতা শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাম্মিকে বললো,
___"মা নেই।আমি এতিম।"
তাম্মির অনেক খারাপ লাগলো।তাহিন অবাক হয়ে গেল, কারণ তাহিনের কাছে খবর আছে নিনিতার মা আছেন।আশফাক চৌধুরী নিনিতার দিকে একপলক তাকিয়ে কিছু বললো না।
তাহিন খাবার টেবিল থেকে উঠে গেল।কিছুক্ষণ বাদে আশফাক চৌধুরী উঠে গেলেন।টেবিলে তাম্মি চৌধুরী আর নিনিতা।নিনিতা মাথা নিচের দিকে দিয়ে প্লেটের দিকে তাকিয়ে আছে।চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে প্লেটে পড়লো।তাম্মি চৌধুরী নিনিতার মুখের সামনে লোকমা ধরলো।তিনি বললেন,
___"ভাত সামনে রেখে কাঁদতে নেই।"
নিনিতার গলা পাকিয়ে কান্না আসছে।কোনো এতিম, মা বিহীন সন্তান জানে,চোখের সামনে কোনো মা যদি তার সন্তানকে খাইয়ে দেয়।তখন মা বিহীন মানুষটার বুকের ভেতর কিভাবে মোচড় দেয়,রক্তক্ষরণ হয়।সেই সাথে কলিজাটা কেঁপে বুকের ভেতরে ব্যাথাগুলো পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে।
নিনিতা ভাতের লোকমা মুখে না তুলে কেঁদে দিলো।সেই সাথে তাম্মিকে জড়িয়ে ধরলো।তাম্মিও বাম হাত দিয়ে নিনিতার পিঠে হাত বুলিয়ে দিলেন।
বিকেলে তাম্মি চৌধুরী নিনিতাকে যেতে দিলেন না।একেবারে ডিনার করে তাহিন বাসায় পৌঁছে দিবে বলেছেন।তিনি এখন নিনিতার জন্য পিঠে বানাচ্ছেন।
তাহিন নিনিতাকে নিয়ে ছাদে গেল।নিনিতা দোলনায় বসলো।তাহিন বললো,
___"এখানে প্রতিরাতে আম্মু-আব্বু বসে।দুজনে একসাথে হাসে-খেলে-গান গায়।সে কি এক সুন্দর দৃশ্য তোমাকে বলে বুঝাতে পারবো না।দেখলে বুঝতে।"
নিনিতা বললো,
___"আপনি তাদের সন্তান হয়ে এরকম কেনো?"
তাহিন চুপ।নিনিতা দোল খেতে খেতে বললো,
___"থ্যাঙ্কিউ।"
তাহিন ভ্রু কুঁচকে তাকালো নিনিতার দিকে।নিনিতা বললো,
___"আন্টি বলেছেন।আমাকে বাসায় আনার প্ল্যানটা আপনার ছিলো।আন্টি শুধু আঙ্কেলকে ফোর্স করেছেন।"
তাহিন হালকা হেসে মাথার চুল চুলকালো।নিনিতা দোলনার একপাশে তাহিনকে বসার জন্য জায়গা দিলো।তাহিন ঝটপট বসে পরলো।নিনিতা আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো,
___"জীবনের প্রথম আমি একটা পরিবারের সাথে এতোটা গভীরভাবে মিশতে পারলাম।এতোটা সময় স্পেন্ড করলাম,আঙ্কেল-আন্টি খুব ভালো মনের মানুষ।আমি কখনো মায়ের আদর পাইনি।আন্টি আমাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছে,আধঘন্টা সময় নিয়ে মাথায় তেল দিয়ে দিলেন।বিকেলে ঘুমোনের সময় কাছে টেনে জড়িয়ে ধরলেন।ছাদে উঠার আগে আঙ্কেল আমার সাথে দাবা খেললেন।তিনি জিতেও হেরে গিয়ে আমাকে জিতিয়ে দিলেন।তাহিন আপনার জীবনটা কতটা মধুর তা উপলব্ধি করতে পারলাম।আপনাকে ভালোবাসার কতগুলো মানুষ আছে।জানেন আফসোস হচ্ছে আমার জীবনেও যদি এমন মানুষ থাকতো।ট্রাস্ট মি তাহিন, আমি তাদের কখনোই হার্ট করতাম না।সারাজীবন আগলে রাখতাম।"
তাহিন কিছু বললো না।চুপ করে রইলো।দোলনা থেকে উঠে নিনিতা ছাদের রেলিং ধরে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইলো।বেশকিছু সময় কাটিয়ে তাহিন বললো,
___"নিচে যাওয়া যাক।"
নিনিতা অন্ধকারে চোখ মুছে তাহিনের সাথে নিচে নেমে গেল।
তাম্মি চৌধুরী নিনিতার জন্য পিঠেপুলি, পাটিসাপটা পিঠে বানিয়েছেন।আশফাক চৌধুরীকে দিয়ে আগেই খেজুরের রস আনিয়েছেন।নিনিতার বেশ ভালো লাগছে।
রাত এগারোটার দিকে
তাহিন নিনিতাকে বাসায় পৌঁছে দেয়ার জন্য বাসা থেকে বের হলো।নিনিতা বললো,
___"আপনি শুধু শুধু কেনো কষ্ট করতে যাবেন, ড্রাইভারই তো আমাকে বাসায় দিয়ে আসতে পারে।"
তাহিন ভ্রু কুঁচকে বললো,
___"আমি গেলে কি খুব বেশি অসুবিধে হবে?"
___"এমা অসুবিধে হবে কেন?আমি তো আপনার কথা ভেবে বললাম।"
___"আমার কথা এতো তাড়াতাড়ি ভাবতে হবে না।আমাকে নিয়ে পরে ভাবলেও চলবে।"
তাহিন গাড়ির দরজা খুলে নিনিতাকে বসার জন্য বললো।নিনিতা তাহিনের দিকে তাকালো।তাহিন এবার সাহস নিয়ে নিনিতার হাত ধরে বললো,
___"ভয় পেও না।তুমি যতোটা বাজে ভাবছো আমি ততোটা বাজে নই।কেউ কাছে না টানলে আমি কাছে যাই না।"
নিনিতা বসে পড়লো।তাহিন ড্রাইভ করতে লাগলো।দুজনেই চুপ।তাহিন বললো,
___"শুধু চুপ করেই থাকবে?কিছু তো বলো।"
সামনের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে পাশ ফিরে দেখে নিনিতা জানালার কাঁচে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেছে।তাহিন গাড়ি থামিয়ে বেশ কিছুক্ষণ নিনিতার দিকে চেয়ে রইলো।নিনিতার মাথাটা নিজের কাঁধে রাখলো। তারপর বাঁকা হাসি দিয়ে গাড়ি চালাতে শুরু করলো।
নিনিতার বাসার সামনে গাড়ি থেমেছে প্রায় পনের মিনিট।তাহিন জানালা খুলে দিলো।তাহিন নিনিতার সিট বেল্ট বাম হাত দিয়ে খুলে ফেলল।নিনিতা এবার ঘুমের ঘোরে নড়েচড়ে তাহিনকে জাপ্টে ধরলো।তাহিনের মেরুদণ্ড বেয়ে শীতল ঠান্ডা হাওয়া বয়ে গেল।তাহিন ডান হাত দিয়ে নিনিতার খোঁপা খুলে দিলো।নিনিতার চুল গুলো ঠান্ডা হাওয়ায় উড়তে লাগলো।তাহিন নিনিতার গাল ছুঁতেই হাতটা কেঁপে উঠলো।নিনিতার গাল ঠান্ডা বরফ।তাহিন আস্তে আস্তে নিনিতাকে ডাকতে লাগলো,
___"নিনিতা,এই নিনিতা উঠো।তোমার বাসায় পৌঁছে গেছি।"
নিনিতা নড়েচড়ে তাহিনকে দেখে আর তাহিনের সাথে লেপ্টে আছে দেখে তাহিনকে ধাক্কা দিলো,নিজেও গাড়ির ভেতরে ছিটকে দূরে সরে গেল।তাহিন ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বললো,
___"কুল,কুল।কিচ্ছু হয়নি।আমি এক্সপ্লেইন করছি,তুমি ঘুমিয়ে গিয়েছিলে।বার বার জানালার সাথে বারি খাচ্ছিলে দেখে আমি তোমার মাথাটা আমার কাঁধে রাখি।আর তোমার বাসার সামনে এসে তোমাকে ডাকতেই তুমি নড়েচড়ে আমাকে ধরো।ইজ সিম্পল ম্যাটার।লিভ ইট।"
নিনিতা গাড়ি থেকে নামলো।তাহিনও নেমে দাঁড়ালো।নিনিতা তাহিনকে থ্যাংকস বলে চলে যাচ্ছিলো।তাহিন নিনিতাকে ডাক দিলো।তারপর বললো,
___"বলেছিলাম না তোমায়,বাজে ছেলে হতে পারি কিন্তু ধর্ষক নই।আমি বাঘ-ভালুক নই তোমার মতো রক্তে মাংসে গড়া মানুষ।"
কথাগুলো বলে তাহিন নিনিতাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চলে গেল।
______________________________________
একটা রেস্টুরেন্টে বসে আছে তাহিন,নবীন,নিনিতা।নবীন বেশ কিছুক্ষণ পরে বললো,
___"সমস্যা কি নিনিতা,একটা মাত্র অ্যালবামের গানই তো।"
___"ভাই আমি ক্যামেরার পিছনে থাকা মানুষ।ক্যামেরার সামনে না।তাছাড়া তাহিনেরও তো শুটিং আছে।"
নবীন তাহিনের দিকে তাকালো।তাহিন বললো,
___"আমার সমস্যা নেই।ডিরেক্টর কামাল শেখ অসুস্থ।তিনি চিকিৎসার জন্য জাপান গেছেন।আপাতত শুটিং বন্ধ।"
নিনিতা নবীনকে বললো,
___"ভাইয়া আমি তোমায় নতুন মডেলের সন্ধান দিতে পারি।"
নবীন রেগেমেগে বললো,
___"তুই চুপ থাক।একটা কথাও বলবি না।আসছে নতুন মডেল দিতে।মডেলয়ালি।"
___"ভাইয়া তুমি শুধু শুধু হাইপার হচ্ছো।তাহিন আমি ভাইয়ার সাথে একটু কথা বলবো।"
___"ইয়াহ সিউর।ইউ ক্যারি অন।"
তাহিন উঠে চলে গেল।
নিনিতা নবীনকে বললো,
___"পাগলামি করছো কেনো?তুমি জানো আমার মাঝে অভিনয় করার ক্ষমতা নেই,ফিলিংস নেই।হোয়াই ইউ ফোর্স মি?"
___"বিকজ আই ওয়ান্ট।তোর মাঝে ফিলিংস আসুক তুই ভালো থাক।আর এটা মাত্র তিন মিনিটের গান শুট করতে কতক্ষণ লাগবে শুনি?"
___"তুমি পাগল হয়ে গেছো।তুমি তো সবটাই জানো তবুও এই পাগলামি করছো।আমার রঙচঙ ক্যামেরার পিছনেই ভালো লাগে,সামনে না।তবুও তুমি যেহেতু ফোর্স করছো কাজটা আমি করতাম।কিন্তু তাহিন আর আমার মধ্যে কেমিস্ট্রি ভালো না।"
নবীনের মুখে হাসির ঝিলিক। নবীন বললো,
___"কেমিস্ট্রি ভালো হয়ে যাবে।ডোন্ট ওয়ারি।"
নিনিতা ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই নবীন বললো,
___"আই ক্যান নট সে লাভ কেমিস্ট্রি।ফ্রেন্ডলি হয়ে যাবি ওটা বললাম।"
___"ওকে ডান।"
নবীন নিনিতাকে খুশি হয়ে জড়িয়ে ধরলো।এবার নবীনের পরিচয় দেই।নবীন হলো নিনিতার ফুফাতো ভাই।তিনি ছয়টি গান দিয়ে একটা অ্যালবাম বানাবেন।একটা গানে নিনিতা এবং তাহিনকে রাখতে চান।
তাহিন দূর থেকে দেখলো।নবীন নিনিতাকে জড়িয়ে ধরেছে।তাহিন কিছু বললো না।চট্টগ্রাম যেতে হবে।বাকি কাজ চট্টগ্রাম।
নিনিতা-তাহিন একসাথে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন গেল।রাতে ট্রেনেই চট্টগ্রাম যাবে।রাত ৯:৩০ নয়টায় ট্রেন ছাড়বে।মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠে খুব সহজেই নবীনদের পেয়ে গেল।নিনিতা অবাক হয়ে বললো,
___"ভাইয়া হানিমুনে যাচ্ছো নাকি?কেমন আছো ভাবি?"
নবীন বললো,
___"জোড় ভেঙ্গে বিজোড় হবার প্রচেষ্টায় যাচ্ছি।"
নবীনের স্ত্রী মাধুবী নবীনের কথায় অনেক লজ্জা পেল।নিনিতাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
___"আলহামদুলিল্লাহ। তুমি কেমন আছো?"
___"আলহামদুলিল্লাহ।"
তাহিন নবীনের স্ত্রী আছে দেখে খুশি হলো।এরই মধ্যে কেউ একজন বললো,
___"আমি যে চিতায় এখনো উঠিনি তার খেয়ালকি আছে?"
নিনিতা 'আরে শিবুদা' বলে হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলো।
শিবুকে হাত মিলাতে দেখে একটা মেয়ে কড়া গলায় বললো,
___"শিবু তুমি কার হাত ধরেছো?"
শিবু ভয়ে ভয়ে বললো,
___"পূর্ণা,উনি আমার দিদি।"
পূর্ণা মিষ্টি হেসে নিনিতাকে বললো,
___"নমস্কার দিদি।"
নিনিতা আহাম্মক হয়ে গেল।ও শিবুদার দিদি কবে হলো।মাধুবী নিনিতার কানে কানে বললো,
___"শিবুর গার্লফ্রেন্ড পূর্ণা।হেব্বি ডেঞ্জারাস।আমাদের শিবু এবার ফেঁসে গেছে।"
অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা চললো।বেচারা শিবু আড্ডাতে উপস্থিত থাকতে পারলো না।তাহিন আর নিনিতা পাশাপাশি বসেছে।অনেক আগেই তাহিন ঘুমিয়ে গেছে।নিনিতা তাহিনের মাথা নিজের কাঁধে রাখলো।তাহিনের নিঃশ্বাস ঘাড়ে পরতেই সেদিনের মতো ভয়ংকর অনুভূতি হতে লাগলো।হাত-পা বরফের মতো জমে আসছে।ভেতরটা কাঁপছে।নিনিতা কাঁপা কাঁপা হাতে তাহিনের মাথাটা সরিয়ে দিলো।
ট্রেনের সবাই ঘুমিয়ে গেছে।সামনে থাকা নবীন-মাধুবী কি সুন্দর একে অপরকে ধরে ঘুমিয়ে আছে।ট্রেন দ্রুত গতিতে সামনে এগুচ্ছে।
নিনিতাও এক সময় জানালার সাথে মাথা ঠেকিয়ে ঘুমিয়ে যায়।
রাত ১: ২০ মিনিটে তাহিনের ঘুম ভাঙে।সবাই তখন গভীর ঘুমে।তাহিন ব্যাগ থেকে পাতলা চাদর বের করে নিনিতাকে কাছে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরে।নিনিতার মাথা তাহিনের বুকে।নিনিতা ঘুমের ঘোরে তাহিনের বুকে নাক দিয়ে ঘষা দেয়।তাহিন তখন শক্ত হয়ে বসে থাকে।তারপর আস্তে আস্তে নিনিতার মুখটা উপরে তোলে।তারপর নিনিতার গালে ঠোঁট ছোঁয়ায়।তাহিনের মনের মাঝে একপ্রকার তরঙ্গ সঞ্চার ঘটে।ও নিনিতার চোখে-মুখে-নাকে ঠোঁট ছোঁয়ায়।পুরো মুখে দশ পনেরটা চুমু দিয়ে নিনিতাকে বুকের সাথে চেপে রাখে।
তাহিন মনে মনে বললো,
___"জীবনে তো আর কম পাপ করিনি।এর থেকে মারাত্মক পাপ করেছি।তবুও এটাকে ভয়ংকর বলে মনে হচ্ছে।"
কথাটা বলে নিনিতার কপালে চুমু দিলো।তারপর তাহিন চোখ বুজে রইলো।
.
.
চলবে,,,,,,,
সিনিয়র ভাবি যখন বউ
সিনিয়র_ভাবি_যখন_বউ
পার্ট_2
– বোকা। সবার সামনে ভাবী ভাবী করবে নাকি। আম্মু এতে কষ্ট পাবে।
– তাহলে…
ভাবী কিছুক্ষণ ভাবল,
– নাম ধরে ডাকতে পারো।
– নাম ধরে!! 😲
– হুম। সমস্যা নেই তো?
– না, কিন্তু।
আমি মাথা চুলকাতে লাগলাম।
– আচ্ছা, যাই ডাকো সবার সামনে ভাবী ডেকো না শুধু।
– ওকে, যাও শুয়ে পড়ো। গুড নাইট।
– গুড নাইট।
আমি গিয়ে সোফায় শুয়ে পড়লাম। কিন্তু, মিরা জানালার পাশেই দাঁড়িয়ে রইল।
– কি হলো ঘুমুবে না? [আমি] – ঘুম আসবে না।
– কেনো? [আমি] – প্রতি রাতে তো নিশান আমার মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতো। এখন তো নিশান নেই। তাই ঘুমও নেই।
– কিন্তু, তোমার তো ঘুমানো প্রয়োজন।
– কিন্তু, আমার তো ঘুম আসবে না।
– এক কাজ করতে পারি।
– কি?
– আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিই। ঘুমিয়ে পড়ো।
মিরা আশ্চর্য হয়ে তাকাল আমার দিকে। ইতস্তবোধ করছে। নিজেকে অপরাধী মনে করছে।
– কি হলো?
– না না, লাগবে না। আমি ঘুমুতে পারব।
– কিভাবে?
– চেষ্টা করলে এমনিতেই ঘুম আসবে।
আমি সোফা থেকে উঠে মিরার কাছে গেলাম।
– আমি জানি তোমার ঘুম আসবে না। চল আমি মাথায় হাত বুলিতে দিচ্ছি।
আমি মিরার হাত ধরে টেনে বিছানার দিকে যেতে লাগলাম। মিরা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। কিছু বলতে পারছে। আমি মিরাকে শুইয়ে দিয়ে মাথায় হাত বুলাতে লাগলাম।
মিরা লজ্জায় চোখ বুঝে নিল। মিরার কেমন কেমন লাগছে। এতোদিন দিন নিশানের সাথে সংসার করল। আর এখন তার আপন ছোট ভাইয়ের সাথে….। ছিঃ। নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে মিরার।
.
মিরা ঘুমিয়ে গেলে আমি উঠে। সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়ি। কখন ঘুমুলাম মনেই নেই। যখন ঘুম ভাঙল চোখ খুলে দেখলাম সকাল হয়ে গেছে। হাত-পা উপরে তুলে বড় করে হাই তুললাম। বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখলাম মিরা এখনো ঘুমিয়ে আছে। ঘুমন্ত অবস্থায় পরীর মতো লাগছে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম। মোবাইলটা হাতে নিয়ে অন করলাম। নীলার ১০ টা মেসেজ দেখে আমার চোখ চড়কগাছ। মেসেজ ওপেন করলাম,
১ম – কংগ্রেস মিঃ কাব্য।
২য় – আপনার বিবাহিত জীবন সুখী হোক।
৩য় – তুমি কি জানতে না যে, আমি তোমাকে কতোটুকু ভালোবাসতাম। কেনো এমন করলে আমার সাথে। কি দোষ করেছিলাম আমি? আমার অপরাধটা কি ছিল ?
৪র্থ – ইউ আর এ চিটার কাব্য। ইউ আর এ লায়ার।
৫ম – সেদিন কি বলেছিলে মনে আছে। জীবন চলে গেলেও আমাকে তোমার কাছ থেকে কেউ আলাদা করতে পারবে না। এই তার নমুনা?
– লাষ্ট একটা জিনিসই চাই, তুমি সুখে থাকো।
মেসেজগুলো পড়ে আর বুঝতে বাকি রইল না যে, নীলা আমার বিয়ের ব্যাপারটা জেনে গেছে।
– শিট…এখন কি করে বুঝাবো নীলাকে যে, আমি নিজ থেকে এই বিয়ে করতে চাই নি।
কি করে বোঝাবো? উফফ! কি করি এখন? সত্যিইই নীলা আমাকে অনেকটাই ভালোবাসে। তাই হয়তো ব্যাপারটা সহ্য করতে পারেনি। তাড়াতাড়ি করে নীলার ফোনে কল করলাম। নাহ! বন্ধ দেখাচ্ছে। নীলা তাহলে সত্যি আমাকে প্রতারক ভেবে নিল। আমি আর কি করতাম? কিন্তু, নীলা যাই করোক? নীলাকে ছাড়াতো আমি থাকতে পারব না। আম্মুকে নীলার কথাটা বলা হয়নি। বলার সময় পাইনি। হঠাৎ করেই বিয়েটা হয়ে গেল।
– কাব্য, কোনো সমস্যা?
নীলাতেই মগ্ন ছিলাম। হঠাৎ কারো কন্ঠ শুনে চোখ তুলে তাকালাম। মিরা দাঁড়িয়ে আছে।
– উঠে, পড়েছো?
– হুম, বললে না তো।
– না, তেমন কিছু না।
– আমি জানি সমস্যাটা।
আমি অসহায় দৃষ্টিতে তাকালাম মিরার দিকে। মেয়েটার আশ্চর্য এক ক্ষমতা আছে, মনে কথা বুঝে নিতে পারে।
– নীলা বিয়ের ব্যাপারে জেনে গেছে তাই না?
আমি মাথা নাড়ালাম।
– হুম।
– ভয় পেয়ো না। তুমি শুধু আমার আর নীলার যোগাযোগ করিয়ে দিয়ো। বাকিটা আমি দেখে নিবো।
– হুম।
– আচ্ছা মনে থাকে যেনো।
বলে মিরা ওয়াসরুমে ডুকল। ফ্রেস হয়ে বেরিয়ে এলো।
– ফ্রেস হয়ে নিচে আসো।
বলে মিরা নিচে চলে গেলো। আমি বুঝি না মেয়েটা আমার কেয়ার করছে না আমি মেয়েটার কেয়ার করছি।
.
ফোনটা হাতে নিয়ে নীলার ফোনে আরেকবার ট্রাই করলাম। নাহ, সংযোগ বন্ধ দেখাচ্ছে। এই মেয়েটাও না একটুতে অভিনয় করে ফেলে। কিন্তু, এই ব্যাপারটাতো একটু না অনেক বড়ই। কারো ভালোবাসার মানুষের অন্য কারো সাথে বিয়ে হয়ে গেলে কেউই স্বভাবিক থাকে না। নীলাকে নিয়ে প্রচুর টেনশন হচ্ছে। আমার এমন কর্মকান্ডে অনেক কষ্ট পেয়েছে মেয়েটা। এসব ভাবতে ভাবতেই ওয়াসরুমে ডুকলাম।
.
মিরা নিচে নেমে এলো। খুব অস্থির লাগছে নিজেকে। রাতে একটুও ঘুময়নি। কাব্য ভেবেছিল আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। কিন্তু, আমি ঘুমইনি। কি করে ঘুমুবে মিরা? এতোদিন যার স্পর্শে ও ঘুমের দেশে তলিয়ে যেতো এখনতো সেই নেই। তাহলে মিরা ঘুমুবে কি করে?নিশান কি আর ফিরে আসবে না? যদিও আসে তাহলে শুনে যদি ওর ছোট ভাইয়ের সাথে আমার বিয়ে হয়েছে তখন কি ভাববে? নিশ্চয়ই খারাপ ভাববে। মিরা ভাবে, ওর জন্যই কাব্য ওর ভালোবাসাকে হারাতে চলেছে। নিজেকে কঠোর শাস্তি দিতে ইচ্ছে হচ্ছে মিরার। যে করেই হোক নীলার কাব্যের ভালোবাসা সহজ করে দিতে হবে। সমস্যার সমাধান করতে হবে।
.
আমি ফ্রেস হয়ে একটা শার্ট পড়ে নিচে নামলাম। বাসাটা বেশ উৎসব মুখর। তেমনটা না হলেও একমত আর কি? যতই হোক ছোট ছেলের বিয়ে। নিচে নামতেই দেখলাম মিরা আর আম্মুর মধ্যে কথোপকথন চলছে।
– কিরে মা এতো তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙে গেলো? [আম্মু] – হুম।
ছোট্র করে উত্তর দিলো মিরা। আম্মু মিরার থুঁতনি ধরে মুখটা উঁচু করে ধরলেন।
– তুই কিন্তু আমাকে প্রমিস করেছিলি। নিজেকে শক্ত রাখবি। নিশানের কথা ভেবে কষ্ট পাবি না। [যদিও আম্মুর চোখে পানি আছে। তবুও বললেন। ] – তাহলে তুমি কাঁদছ কেনো আম্মু? [মিরা ভাঙা গলায় বলল ] আম্মু ধুকরে কেঁদে উঠল।
– আমার ছেলেটা এখন কোথায় আছে কে জানে?
কাঁদতে কাঁদতে বললেন।
– আম্মু, তোমার যেমন কষ্ট হচ্ছে। আমারও তেমনি কষ্ট হচ্ছে। তাহলে আমি নিজেজে সহজ করব কি করে বলো?
আম্মু মিরাকে জরিয়ে ধরে কেঁদে দিলেন। দুজনেই কাঁদছে।
– আম্মু, কাব্যকে এসবের মধ্যে জড়ানোর কি দরকার ছিল?
– তোর মতো এতো ভালো আর মিষ্টি মেয়েকে হারাতে চাই না যে তাই।
মিরা আম্মুকে জরিয়ে ধরল শক্ত করে।
– কিন্তু, কাব্যের জীবন আর ভবিষ্যৎটা যে নষ্ট করে দিলে।
– আমার বিশ্বাস এতে কাব্যের জীবন নষ্ট নয় বরং আরোও ভালো হবে। সুন্দর হবে। যার তোর মতো একটা বউ আছে তার জীবন নষ্ট হয় কিভাবে?
মিরা নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আম্মুর দিকে।
– আচ্ছা যা এখন টেবিলে গিয়ে বস। আমি নাস্তা রেডি করাচ্ছি।
আম্মু আমার দিকেই আসল। আমাকে দেখতেই মিষ্টি একটা হাসি দিলেন।
– ঘুম ভাঙল তোর?
– হুম।
– যা, টেবিলে যা।
আমি টেবিলের দিকে না গিয়ে একটু বাইরের দিকে গেলাম। নীলাকে ফোনে ট্রাই করলাম। দেখি পাই কি না?
কিন্তু, না এখনো সুইচড অফ দেখাচ্ছে।
.
হঠাৎ করে আরেকবার ট্রাই করতেই ফোন ডুকে গেলো। ২/৩ রিং হওয়ার পর রিসিভ ও করল,
– হ্যালো নীলা…।[আমি]......
চলবে..?
কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না প্লিজ?
শোকাহত
إِنَّا لِلَّٰهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ
খুবই ভারাক্রান্ত মন নিয়ে জানাতে হচ্ছে এইবার শতশত নক্ষত্রের সাথে বাংলাদেশের আরেকটি নক্ষত্র খসে পড়ল...😭
বাংলাদেশের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ আলেম, ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা, ইমামে আহলে সুন্নাত, বাংলাদেশের হাজার হাজার আলেমের উস্তাদ, শায়খুল হাদিস, পীরে তরিকত, শায়খ মুহাম্মাদ নুরুল ইসলাম হাশেমি আজ চট্টগ্রামে ভোর রাতে তাঁর প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের এই খনিকের দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। 😞😞
তিঁনি দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন।
সবচেয়ে আফসোসের বিষয় দু'দিন আগেও চট্টগ্রামের সুখ্যাতিপ্রাপ্ত ক্লিনিক তাঁকে ভর্তি নেয়নি।
অথচ তিঁনি একজন অনেক উঁচু মাপের আলেম পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
এই ক্ষতি শুধু বাংলাদেশের নয় গোটা মুসলিম জাহানের জন্য বিশাল ক্ষতি হয়ে গেলো।
আল্লাহ শায়খকে জান্নাতের উত্তম স্থানে আদিষ্ট করুক।
😭💙🙏📿🤲
শেষ ঠিকানা
#শেষ ঠিকানা
পর্ব:১
লেখাঃহাসান
বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখতেই পুরানো স্মৃতিগুলো মনে পরে যাচ্ছে। আমি আহাদ। গত দশ বছর পর দেশে ফিরছি। এই দশটি বছরে আমার ফ্যামিলি অনেক বার দেশে ফিরতে বলছে কিন্তু আমি নিজের প্রতিষ্ঠিত করতে করতে দশ বছর চলে গেলো।
বাসায় যেতে যেতে পুরানো স্মৃতি গুলো মনে পরছে। নিলুফা কে ভালোবেসে আপন করতে চেয়েছিলাম। আমাদের পরিচয়না ফেসবুকে হলেও ভালোবাসাটা অনেক গভির ছিলো। ওদের বাসায় পস্তাব নেওয়া ওর বাবা আমদের ভালোবাসা টাকে মেনে নেয়নি। ওর বাবা বলেছিলো যদি কখনো ঢাকা নিজের ফ্লাট করতে পারি তখন নিলুকে আমার হাতে তুলে দিবে। কিন্তু গত 5বছর আগে নিলুর বিয়ে হয়ে যায়। আজ ঢাকা আমার ফ্লাট আছে গাড়ি আছে নিজের বিজনেস আছে সব আছে কিন্তু আমার ভালোবাসাটা নেই। নিলুফা আমার সাথে কি করে প্রতারনা করলো ভাবতেই পারলাম না। হয়তো এটাই আমার ভাগ্যের লিখন। আমার ভাইয়ারা এখন ঢাকাই থাকে। একজনের দুই ছেলে আর একজনের এক ছেলে। ছোট ছেলেটি এবার প্লে তে পরে আর ঐ দুজন বড় হয়ে গেছে ক্লাস সেভেনে এ পরে। ঢাকা এসে নিজের বিজনেস শুরু করতে করতে আরে দুই মাস কেটে গেলো। এক রাতে নিজের রুমে বসে কিছু কাজ করছিলাম হঠাৎ আমার ছোট ভাবির আগমন~~
ভাবি এসে বলে গেলো কালকে মাহিন(আমার ভাতিজা) এর বেষ্ট ফ্রেন্ড এর বার্থডে মাহিন মাত্র প্লে এ পরে আর স্কুলের হেড মেডাম এর মেয়েই মাহিন এর বেষ্টফ্রেন্ড। ভাবির নাকি মেডাম এর সাথে গলায় গলায় ভাব। পরের দিন সন্ধ্যায় মাহিন আর ভাবিকে নিয়ে অনুষ্টানে আসলাম। ছোট একটা ফ্লাট মা মেয়ে নিয়েই তাদের সংসার। ফ্লাট টা সাজানোটা খুফ সুন্দর হয়েছে। আমি সোফায় বসে ফোনে গেমস খেলছি এমন সময় মাহিন এসে বললো
মাহিন: চাচ্চু ও চাচ্চু
আমি:হুম চাচ্চু
মাহিন: একটা পাচ বছরের পিচ্চি কে দেখিয়ে এটা আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড জিনিয়া।
জিনিয়া নামটা শুনেই বুকে বা পাশে চিন চিনি ব্যাথ্যা অনভুব করলাম কারন আমি আর নিলুফার স্বপ্ন দেখেছিলাম আমাদের মেয়ে হলে জিনিয়া নামটাই রাখবো। জিনিয়া দিকে তাকিয়ে মনে হয়ে এ যেনো সত্যিই আমাদের মেয়ে। নিলুর মতোই মায়াবি চোখ তার। নিজের অজান্তেই মেয়েটিকে একটা চুমু দিলাম। তখন পাশের রুম থেকে একজন মেয়ে বের হলো। সাদা রংঙের কালো পাইরে শাড়ি। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। খোপা করা চুল। সেই ময়াবি চোখ। এ যে নিলুফা আমার ভালোবাসা। পাশ থেকে জিনিয়া পিচ্চিটি মাম্মি মাম্মি বলে দৌড়ে নিলুর কোলে উঠলো তার মানে এটা নিলুর মেয়ে।নিলু সুখেই আছে দেখা যায়।
চলবে
মিথ্যা_অপবাদে_অপরাধী
#মিথ্যা_অপবাদে_অপরাধী
#লেখা: #hasan
#পর্ব:তিন(০৩)
লাগেজ টা খুলতেই অবাক হয়ে যাই লাগেজটা টাকা দিয়ে ভর্তি। কিন্তু এগুলা কার টাকা??
দেখি তো লাগেজে কোন কার্ড বা ঠিকানা আছে কি না?
একটা কাগজ দেখতে পেলাম,,,,
- হ্যাঁ তোমাকেই বলছি, সন্ত্রাসীরা আমার পিছু নিচে জানি হয়তো আমাকে মেরে ফেলবে প্লিজ টাকাগুলোও আমার বাসায় পৌঁছে দিও। নয়তো আমার পরিবার রাস্তায় বসবে।
ঠিকানা-1206/2 তেজগাঁও,ঢাকা ।
এখন কি করবো বুঝতেছি না এতো গুলা টাকা🤔🤔
টাকা গুলা নিয়ে ঢাকায় চলে আসি। আম্মুর জন্য মনটা কাঁদছে জানিনা আমাকে না পেয়ে আম্মু এখন কি করছে। কাগজে লেখা ঐ ঠিকানায় সিএনজি করে যাচ্ছি আর মনে পরছে আম্মুকে । সামনে একটা একটা কার ও পিকআপ মারাত্মক এক্সিডেন্ট হয়। রক্তাক্ত হয়ে গাড়িতে একজন লোক পরে আছে কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না। সিএনজিটিকে থামিয়ে দৌড়ে গাড়িটির কাছে গিয়ে লোকটিকে বের করলাম। অনেক যায়গায় আঘাত পাইছে মাথা ফেটে গেছে পায়ে ও ক্ষতের সৃষ্টি হইছে রক্ত বের হচ্ছে।
-ভাইয়া একটু এদিকে লোকটিকে হাসপাতালে নিতে হবে বেশিক্ষণ এভাবে থাকলে লোকটি মারা যাবে (সিএনজি চালক লোকটিকে বললাম)
-ভাই ছারুন তো এসব আমার আমার আবার আপনাকে নামিয়ে অন্য পেছেন্জার নিতে হবে। এসব পুলিশ দেখবে আপনি গাড়িতে উঠুন। (সিএনজি চালক)
-আপনাকে ডাবল ভাড়া দিবো লোকটিকে নিয়ে আগে হাসপাতালে চলুন।(আমি)
এদিকে লোকটির অবস্থা আরো খারাপ হতে লাগলো। তারাতারি সামনের একটা হাসপাতালে নিয়ে আসলাম। ডাঃ লোকটিকে কেবিনে নিয়ে,,,,,,,,,,,
-প্যার্সেন্ট এর অবস্থা খুবই খারাপ এমারজেন্সি অপারেশন করতে হবে। আপনি ওনার কি হোন?(ডাঃ)
-🤔😟........ছেলে (আমি)
-এখুনি ক্যাশ কাউন্টারে 5 লাখ টাকা জমা দিন আমরা অপারেশন শুরু করে দিচ্ছি নয়তো ওনাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। (ডাঃ)
-,,,,ওকে ডাঃ আমি টাকা জমা দিচ্ছি আপনি অপারেশন শুরু করে দেন।
কি করবো ভাবছি আমার কাছে তো আর ৫০০ টাকাও নাই। এই টাকা গুলা ও তো আমার না।😇😇 সবার আগে জীবন বাঁচানো ফরজ। তাই আর কিছু না ভেবে টাকা জমা দিলাম। লোকটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিল,,,,
একটু পর নার্স এসে 1 টা ফোন হাতে ধরিয়ে দিলো,,,
-এই ফোনটা প্যাসেন্টের কাছে ছিল। আর জরুরী 2 ব্যাগ ও(O-)নেগেটিভ রক্তের ব্যাবস্থা করুন।
-আমি দিব রক্ত, আমার রক্তের গ্রুপ ও নেগেটিভ। আপনি তো এক ব্যাগ দিতে পারবেন। আর এক ব্যাগ??? ডাঃ আমার শরীর থেকে ই ২ ব্যাগ নিন প্লিজ। তাছাড়া আমি এখন রক্ত কই পাবো। আমার শরীর থেকে নীন প্লিজ।
-না নাহ তা কি করে হয়।(পাশে থাকা ডাঃ বললো)
-অনেক রিকোয়েস্ট করার পর নিলো।
কিছুক্ষন পর....
রিংটন বেজে উঠলো। লোকটির ফোনে ফোন দিছে । রিসিভ করে সালাম দিলাম ....
-কে আপনি? আমার আব্বুর ফোন আপনার কাছে কেন?(ও পাশ থেকে একটা মেয়ে বলতে লাগলো)
-আপনার বাবা এক্সিডেন্ট করেছেন। হাসপাতালে চলে আসেন।
কিছুক্ষণ পর মেয়েটি ও তার মা চলে আসলো। মেয়েটি দেখতে অপ্সরীর মতো।
-আপনি ফোন রিসিভ করেছিলেন তাই না,,,??
-হ্যাঁ (আমি)
-ওনাকে এই হসপিটালে কে এনেছে???(মেয়েটি মা)
-আমি
- এই ফালতু মার্কা হসপিটালে ভর্তি করতে কে বলছে আপনাকে??? বলেই গালের মধ্যে কসে একটা থাপ্পড় লাগিয়ে দিল।(মেয়েটি)
এমন সময় নার্স বেরিয়ে আসে,,,
-তারাতারি এই মেডিসিন গুলা নিয়ে আসুন।(নার্স)
-আন্টি এই নেন ফোন ও মেডিসিন গুলা তারাতারি নিয়ে আসেন। আমি চলে যাই।
- ছোটলোকের বাচ্চা যা ভাগ। আম্মু কাগজটা আমাকে দাও আমি নিয়ে আসছি।
হায় রে মানুষ ওনার বাবাকে বাঁচাতে কত কি করলাম আর ওনি আমার গায়ে হাত তুললো অপমান করলো। আমার কপাল টাই হয়তো খারাপ তাই এমন কষ্ট পাই।
বাহিরে এসে কাগজের ঠিকানায় যাওয়ার জন্য সিএনজিতে উঠলাম।
তেজগাঁও এসে সিএনজি থেকে নামলাম। একটা লোক কে জিজ্ঞেস করলাম'
-ভাইয়া এই ঠিকানা একটু দেখিয়ে দিবেন?
- সামনে গিয়ে ডানে যাবেন আশেপাশে খুঁজে দেখবেন পেয়ে যাবেন।
অবশেষে বাসা খুঁজে পাইলাম। কিন্তু এটা কি বাসা নাকি রাজ প্রসাদ। অনেক সুন্দর ফুলের গাছ ও লাগানো।
-ভাই এটা কি 1206/2 বাসা? দারোয়ান কে জিজ্ঞেস করলাম।
-হ্যাঁ আপনি কে ? (দারোয়ান)
-আমাকে চিনবেন না এই বাসার লোকের সাথে কিছু কথা আছে। দেখা করতে চাই।
- ওকে দাঁড়ান । মেডাম একটা লোক আসছে আপনার সাথে দেখা করতে চায়।
-ওকে ভিতরে পাঠিয়ে দিন
-আসসালামু অলাইকুম। এই টাকা গুলা মনে হয় আপনার স্বামীর। এই চিরকুট টা পড়ুন। (পকেটে হাত দিয়ে খুঁজে পেলাম না মনে হয় হারিয়ে ফেলছি।)
কই গেল পকেটেই তো ছিল
- কি হলো কি বীর বীর করছেন? কিসের টাকা? কই দেখি।(আন্টি টা বলল)
-লাগেজের চেন টা খুলে, দেখুন?(আমি)
-ইমির বাবা তো এই টাকা নিয়ে আসার কথা উনি কই?
-আমি জানি না,, আমি তো,,,,
আমাকে কথা বলতে না দিয়ে তুমি আমার বাবাকে খুন করোনি তো। কই সব দারোয়ান ?(আন্টি টা)
- সবাই এসে আমাকে বেধে ফেলে ও মারধর করে মুখে পেছিয়ে রাখে কথা বলতে পারছি না।
-টাকা গোনার পর,,, এখানে তো 95 লাখ আর বাকি 5 লাখ টাকা কোথায়? একটা মেয়ে সিরি দিয়ে নামছে। একি মেয়েটিকে তো আমি ট্রেন থেকে নেমে স্টেশনে দেখি।
-এই কুত্তার বাচ্চা বল আমার বাবা কই? আটকে রাখছিছ কোথায়? (মেয়েটি)
আম্মু পুলিশ কে ফোন দাও।
একটু পর পুলিশ এসে নিয়ে গেল আমাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে,,,,তাই ইচ্ছা মতো 3rd ডিগ্রি দিচ্ছে
-এই কূতা বল আমান সাহেব কে কই রাখছিস? আর 5 লাখ টাকা বের কর।
এদিকে ডাঃ বললো,,,,
-প্যাসেন্ট আউট অফ ডেন্জার। আপনার ছেলে ঠিক সময় মতো না নিয়ে আসলে হয়তো প্যাসেন্ট সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতেন (ডাঃ)
।
।
।
।
#চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
force
Force Love
part:02
#hasan
মিমি বাসায় আসার পর,,,
তার মা তাকে জিজ্ঞাসা করলো,,,
আম্মু: কিরে মামনি,, আজকের ভার্সিটির প্রথম দিন কেমন কাটলো!!!
মিমি: আর ভার্সিটির কথা বলো না তো,,অসহ্যকর মন টা চায়তাছে অইটারে সামনে পাইলে যে কি করতাম,,,, কুত্তা,, একটা,, কোথাথেকে আসছে শালা,, আমারে সবার সামনে অপমান করে,,, শেষ করে ফেলব ওইটাকে,,, (রাগে ফুপাতে ফুপাতে)
আম্মু: ওইইই কাকে কি বলছিশ এইসব,, কি হয়েছে বলবি তো,,অার তোর মুখের একি ভাষা শুনি,,, ভালোভাবে কথা বল,,
মিমি: উফফফ,, আম্মু আর কথা বল না তো।। এমনিতেই মাথাটা অনেক গরম হয়ে আছে,, (রাগে সিড়ি দিয়ে উঠছে আর বলতাছে)
মিমি রাগে তার রুমে চলে যায়,,,
আম্মু: হায়য়য় আল্লাহ !!! এই মেয়ে কোন কথা শুনে না,,, কি যে করব এই মেয়ে টা কে নিয়ে,,,
ওইদিকে জয় মিমির প্রেমে পাগল হয়ে যায়,, ,,সারাক্ষন শুধু মিমির কথা ভাবে,, তার সেই চেহারা বার বার জয়ের সামনে ভেসে উঠে,,
রাত ১১.৪৫ দিকে,,,
মিমি ফেইসবুকে ডুকলে হঠাৎ করে notification আসে,,,
মিমি : হঠাৎ এত রাতে,, কে friend request দিল,,
সেটা দেখে মিমির চোখ উপরে উঠে গেল,,
জয় স্যার আমাকে request দিল,,, আল্লাহ কেন,, শালা আমার পিছনে পরেই আছে,,আমার fb id পেল কি ভাবে,,
মিমি আার জয়ের request accept না করে,,একশো একটা গালি দিয়ে ঘূমিয়ে পড়ল,,
জয়: কি ব্যাপার! মিমি কি আমার request দেখল না নাকি,,
জয়ও মন খারাপ করে ঘুমিয়ে পড়লো,,
সকাল ১০.০০ টার দিকে,, ভার্সিটিতে মিমি আর জয় আসলো,,
ক্লাস এ ঢুকতেই মিমি আর জয় একসাথে ধাক্কা লেগে একে অপরের উপরে পরে যায়,,
সামনে আমাকে নিয়ে পড়ছে,,, আর কাউকে পাইলো না,, (রেগে গিয়ে)
এদিকে জয়ের মনে যে কত লাডডু ফুটলো,, তার হিসাব নেই
ক্লাস করানোর সময় জয় বারবার মিমির দিকে তাকিয়ে থাকতো,, কিন্তু মিমি ওইদিকে খেয়াল দিল না,,
তুলি: কিরে তোর। আর স্যারের তো ভালোই চলছে ( একটু কাশি দিয়ে)
মিমি: হওওও ভালোই চলছে,,, এই স্যার এর ভালো ছুটাবো,,দেখিস
তুলি: কি করবি তুই,, শুনি
মিমি: সেটা ছুটির পরেই দেখতে পারবি
তুলি : আল্লাহ জানে এই মেয়ে কি করবে (মনে মনে বলতে থাকে)
ছুটির পর মিমি আার। তুলি জয়ের এর গাড়ির সামনে, এসে হাজির
তুলি: কিরে মিমি তুই জয় স্যারের গাড়ির সামনে আসলি কেন??
মিমি: কেন যে আসছি সেটা এখনি দেখতে পারবি,,
যেই মিমি পিন বের করে গাড়ির চাকা ফুটা করতে যাবে,, ঠিক তখনি জয় তার সামনে এসে হাজির ্
মিমি: এই মরেছি রে,,, আজকে আমি শেষ,, আল্লাহ আমাকে এই লুচুর কাছ থেকে বাচাও
( ভয়ে মনে মনে বলতে থাকে)
ওইদিকে তুলি ভয়ে দিল দৌড় ।।
মিমি:ওই দাড়া চুন্নি,,, আমিও আসতাছি,
যেই মিমি দৌড় দিতে যাবে,, অমনি জয় মিমির হাত ধরে ফেলে,,
জয় সোজা মিমিকে টেনে ভার্সিটিতে তার অফিস রুমে নিয়ে যায়,,
মিমি অনেক চেষ্টা করলো,,কিন্তু জয়ের সাথে পারছিল না,, তখনি অফিস রুমে ঢুকে
মিমি : স্যার প্লিজ আমার হাতটা ছাড়েন,,(কাদো কাদো গলায়)
জয়:তখন কি করতে চাচ্ছিলে?? আমার গাড়ির টায়ার ফাটানোর ধান্দা ছিল?(মিমির হাত টা ছেড়ে দিয়ে)
মিমি: নাা স্যাাররর,, কি বলেন, আমি এইসব করতে যাবো কেন (ভয়ে কাদো গলায়)
জয় : ওহহহ তাই নাকি,, তাহলে ওইখানে কি করছিলে,
মিমি : স্যার কিছুই না,,
জয় দেখলো মিমি অনেকটা ভয় পেয়ে গেল,,
জয়:ওকে left it,btw তোমাকে যে fb তে request দিয়েছি accept করো নাই কেনো,
(রেগে গিয়ে)
মিমি কি,,, বলবে কিছু বুঝতে পারছিল নাা,,
জয়:কি হল!!বল না কেনো(রেগে বেঞ্চে বারি দিয়ে মিমির সামনে যেতে লাগলো)
পারছে
চলবে......
ভাবি যখন বউ
ভাবি যখন বউ ....
পর্ব_০২
আমি আর কোনো কথা না বলে ভাইয়ার মুখের উপর থাকা সাদা কাপড়টা সরিয়ে দিলাম।
ভাইয়াকে দেখে আম্মু একটা চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়, বাবা এসে জড়িয়ে ধরে। ভাবি ঠাস করে বসে যায়।
অঝোর ধারায় সবাই কান্না করতে থাকে। এরপর ভাইয়ার কাফন দাপন শেষ হয়, আমি আর বাবা অনেক সময় ভাইয়ার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম, বাবা বাসায় আসতে চায়নি। একসময় আমি জোর করে বাসায় নিয়ে আসি।
বাসায় আসার পর ভাবি আর আম্মু আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্না করে, আমিও নিষেধ করিনি।
আমি স্ট্রং ছিলাম, কারণ আমিও যদি ভেঙ্গে পড়ি ফ্যামিলির কেউই হয়তো ভালো থাকবে না।
সেদিন থেকে আমাদের পরিবারের মুখের হাসি টা উড়ে গেলো। ভাবি একদম স্তব্ধ হয়ে যায়।
ভাইয়া মারা যাওয়ার পর ফ্যামিলিতে ক্রাইসিস শুরু হয়, কারণ আগে ভাইয়ার টাকা দিয়েই সব খরচ হতো। আব্বুর দোকানটাও বিক্রি করে দিছে।
আর আব্বুর এখন যে অবস্থা তার দ্বারা কোনো কাজ করা পসিবল না। বাধ্য হয়ে আমি নেমে গেলাম জীবন যুদ্ধে।
অনার্স টা শেষ না করার কারনে ভালো কোনো চাকরি পাইনি,একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি নিই।
আমার কাজ হচ্ছে বাজারের প্রত্যেকটা দোকানে গিয়ে কার কি মাল রাখবে সেটা লিখে এনে মাল গুলো আবার পৌঁছে দেওয়া। যাকে বলা হয় এস আর,,,
ভাইয়ার কথা খুব মনে পড়তো, কতো কষ্ট করে ভাইয়া টাকা ইনকাম করতো এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।
বেতন ছিলো কম, মাত্র ৮ হাজার টাকা। যেটা দিয়ে ফ্যামিলি কোনোমতে চললেও আব্বু আম্মুর মেডিসিন কেনা প্রায় অসম্ভব।
তাই বন্ধুদের বলে কয়েকটা টিউশনি নিয়ে নিলাম।
সকাল ৬ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত আমার এই যুদ্ধ চলতে থাকে। নিজের পড়ালেখা প্রায় শেষ করেই দিলাম, কিন্তু ভাবিরটা কন্টিনিউ রাখলাম।
এরমাঝে ভাবির বাবা মা অনেক বার এসেছে আমাদের বাসায় ভাবিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু আব্বু উনার হাত ধরে অনেক রিকুয়েস্ট করে ভাবিকে রেখে দেয়।
ভাবিকে এতো ভালোবাসতো যে অন্য কারো ঘরে পাঠানোর চিন্তাও আব্বু আম্মু করতো না।
সেদিন আমি কাজ শেষ করে টিউশনি করিয়ে বাসায় আসলাম, রুমে গিয়ে চেইঞ্জ করে নিলাম তখন বাবা আমার রুমে আসলো….
আমিঃ আরে আব্বু! আসো ভিতরে আসো।
বাবাঃ আমার পাশে বস,,,,
আমি গিয়ে বাবার পাশে বসলাম,,,, বাবা আমার হাত ধরে বললো….
বাবাঃ তোর খুব কষ্ট হচ্ছেরে?
আমিঃ আরে ধুর এগুলো কি বলো?
বাবাঃ তোর জন্য আমরা কিছুই করতে পারিনি, তুই আমাদের মাফ করে দিস।
আমিঃ আব্বু তুমি কি পাগল হইছো, এগুলো কি বলো। আমার ফ্যামিলি আমি না দেখলে কে দেখবে? আর আমার কোনো কষ্ট হচ্ছে না।
বাবাঃ অবন্তীর বাবা আসছিলো।
আমিঃ হুম কি বললো?
বাবাঃ ওরে নিয়ে যেতে চায়, এভাবে নাকি দিন যায় না।
আমিঃ তুমি কি বললে?
বাবাঃ আমি তো বলে দিয়েছি আমি আমার মেয়েকে জীবনেও দিবো না।
আমিঃ ও আচ্ছা।
বাবাঃ বেয়াই যদি আবার আসে?
আমিঃ আসবে না, টেনশন করার দরকার নেই।
বাবাঃ তোর কাছে কিছু টাকা হবে? (করুনার সুরে)
আমিঃ এভাবে কেন বলো? কত টাকা লাগবে সেটা বলো।
বাবাঃ অবন্তীর বই নাই, বই কিনতে হবে তাই।
আমি মানিব্যাগ চেক করে দেখলাম মাত্র ৫৭৬ টাকা আছে, যেটা আমার পুরো মাসের পকেট ও যাতায়াত খরচ। এটা যদি দিয়ে দিই তাহলে পুরো মাস পায়ে হেটে কাজ করতে হবে।
ধুর এতো কিছু চিন্তা করে লাভ নেই, পুরো টাকাটা বাবা হাতে দিয়ে দিলাম।
বাবা টাকা হাতে নিয়ে চোখ মুছতে মুছতে নিজের রুমে চলে গেলো।
পরের তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলাম কেননা আমাকে পায়ে হেটে যেতে হবে, গাড়ি ভাড়া নাই।
তাই তাড়াতাড়ি উঠে রওনা দিলাম। তারপরও অফিস পর্যন্ত যেতে ২০ মিনিট দেরি হয়। বস ইচ্ছা মতো ঝাড়ি দিলো। তারপর গত কালকে রে মাল গুলোর রিসিট কেটে নিয়ে আসছি সেগুলো দোকানে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটা কভার ভ্যান নিয়ে রওনা দিলাম।
অন্য একজন ভ্যান চালাচ্ছে আমি পিছন দিক থেকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। হাতে অনেক গুলো মালের সেম্বল,,,
একটা দোকানে মাল দিয়ে আসার পথে ভাবিকে দেখলাম অনেক গুলো মেয়ের সাথে, মনে হয় ক্লাস শেষ করে বাসায় যাচ্ছে। ভাবির চোখ দেখেই চিনে ফেললাম যে এটা ভাবিই হবে।
আমি তখন ভ্যান ঠ্যালতেছি। ভাবি আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, আমি উনার চোখে স্পর্শ পানি দেখলাম। আমি ভাবিকে দেখেও না দেখার ভান ধরে চলে গেলাম।
এভাবেই আমাদের দিন যাচ্ছে। বাস্তবতা কি জিনিষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।
আজকে শুক্রবার, চাকরি টিউশনি সব কিছুই বন্ধ। তাই ঘুমিয়ে আছি, অনেক ধরে ঠিক মতো ঘুমাতে পারি না।
ভাবি আমার রুমে আসলো,,,,
ভাবিঃ জুয়েল! এই জুয়েল,,,,
আমিঃ আরে ভাবি আপনি কখনো আসলেন?
ভাবিঃ এই তো একটু আগে, অনেক বেলা হইছে এবার ঘুম থেকে উঠো।
আমিঃ হুম উঠতেছি, আসলে শরীরটা কেমন যেন ব্যাথা করতেছে, তাই ঘুমটা একটু বেশিই হলো।
ভাবিঃ তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না?
আমিঃ আরে ধুর এগুলো কি বলেন, আমি তো সুন্দর লাইফ
কাটাচ্ছি। কোনো প্রবলেম হচ্ছে না।
ভাবিঃ আমি দেখেছি কেমন সুন্দর লাইফ কাটাচ্ছো।
আমিঃ আচ্ছা আপনার পড়ালেখার কি অবস্থা? (কথা ঘুরিয়ে নিলাম)
ভাবিঃ মোটামুটি তুমি আর পড়বে না?
আমিঃ দেখি কি করা যায়, কলেজে যাওয়ার মতো তো সময় নাই। পরীক্ষাটা দিবো। যদি কপালে পাশ লেখা থাকে তাহলে তো আলহামদুলিল্লাহ্,,,,
ভাবিঃ হুম, আসো খেয়ে নাও।
আমিঃ আপনি যান, আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
তারপর ভাবি চলে গেলো, আমি ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিলাম।
এভাবেই আমাদের দিন যাচ্ছিলো, এমন একটা লাইফ কাটাচ্ছি যেটাতে নিজের স্বাধীনতা বলে কিছু নাই। পরিবারের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে সব ত্যাগ করতে হয়।
একদিন খেয়াল করে দেখলাম মায়ের শাড়ি গুলো সব পুরাতন হয়ে গেছে, ভাবিও প্রতিদিন একটা ড্রেস গায়ে দিয়ে কলেজে যায়। বাবারও পাঞ্জাবি গুলোতে ময়লা জমে গেছে। ভাবির মোবাইলটা হাত থেকে পড়ে ভেঙ্গে যায় এরপর আর মোবাইল নেয়নি। তারপর লজ্জায় আর আমাদের কাওকে বলেনি। সব কিছু মিলিয়ে সবারই অবস্থা খারাপ।
নিজের শখের জিনিষ গুলা বিক্রি করে দিলাম, হুম আমার কম্পিউটার, গিটার, হাতের ঘড়ি এবং শখের মোবাইলটাও বিক্রি করে দিলাম সবার অজান্তে।
তারপর আব্বু আম্মু আর ভাবিকে নিয়ে শপিং এ গেলাম। আব্বুর জন্য কয়েকটা লুঙ্গি, পাঞ্জাবি আর গেঞ্জি নিয়ে নিলাম। আম্মুর জন্য শাড়ি, ছায়া, ব্লাউজ আরো টুকটাক জিনিষ নিলাম।
ভাবিকে উনার পছন্দ মতো নিতে বললাম, উনি কয়েকটা থ্রি পিছ, জুতা, কিছু কসমেটিক্স নিলো।
আম্মু বললো…..
আম্মুঃ তোর জন্য কিছু নিবি না?
আমিঃ নাহ! আমার সব আছে। (মুছকি হাসি দিয়ে)
তারপর উনাদের বাইরে দাঁড়িয়ে রেখে আমি একটা মোবাইলের দোকানে গেলাম, আমার জন্য একটা নরমাল মোবাইল নিলাম আর ভাবির জন্য একটা স্মার্ট ফোন নিলাম।
তারপর উনাদের নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
রাতের বেলা সবাই আমার রুমে আসলো,,,,
আমিঃ কি ব্যাপার সবাই একসাথে?
আম্মুঃ কেন আসতে পারি না?
আমিঃ আরে আজব না পারার কি আছে? আসো,,,,,
সবাই এসে বসলো, আমি ব্যাগ থেকে ভাবির জন্য কেনা মোবাইলটা ভাবির হাতে দিলাম।
ভাবিঃ কি এটা?
আমিঃ মোবাইল আপনার জন্য নিলাম।
ভাবিঃ আমার তো এখন মোবাইলের কোনো দরকার নেই, টাকা নষ্ট করলে কেন?
বাবাঃ সত্যি করে বলতো তুই টাকা কোথায় ফেলি?
আমিঃ আমার কাছে জমানো ছিলো।
আম্মুঃ মিথ্যা বলিস কেন? সত্যি করে বল টাকা কোথায় পাইছিস?
আমিঃ কম্পিউটার, গিটার আর মোবাইলটা বিক্রি করে দিয়েছি। (মাথা নিচু করে)
বাবাঃ কেন তোরে এগুলো বিক্রি করতে কে বলেছে?
আমিঃ তোমাদের সবার কাপড়চোপড় গুলো পুরাতন হয়ে গেছে, দেখতেই তো খারাপ লাগে। সেজন,,,,,
ভাবিঃ তাই বলে এগুলো বিক্রি করে দিবে?
আমিঃ আরে কোনো সমস্যা নাই, আমি এখন কম্পিউটার চালানোর মতো সময় পাই না। আর গিটার তো বিলাসিতা ছাড়া কিছুই না। এগুলো একটারও আমার দরকার নেই?
ভাবিঃ মোবাইল কেন বিক্রি করলে?
আমিঃ এতো দামি মোবাইলের কাজ নেই এখন, সারাদিন কাজে থাকি মোবাইল চালানোর সময় কই, আর মোবাইলের প্রতি এতো শখ নাই। একটা নরমাল হলেই চলবে।
কেউ আর কিছু বললো না, নির্বাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। সবার চোখে যে পানি চলে আসছে সেটা আমি ভালো করেই দেখছি।
কিছুদিন পর আমি শুয়ে আছি, সকাল ১০.০০ টার মতো বাজে,, সোফা রুমে চিল্লাচিল্লি শুনে তাড়াতাড়ি সেখানে গেলাম, গিয়ে দেখি তালোই মানে ভাবির বাবা আর মা এসেছে।
আমি গিয়ে সালাম দিলাম, কৌশল বিনিময় করে বাজারে গেলাম বাজার আনতে, কারণ মেহমান আসছে ভালোমন্দ কিছু না হলে খারাপ দেখা যায়।
আমি বাজার থেকে কিছু বাজার করে নিয়ে আসলাম। তারপর রান্না ঘরে দিয়ে আসলাম ভাবি আর মা রান্না করতেছে।
আমি গিয়ে উনাদের সাথে কিছুক্ষণ গল্প করলাম।
দুপুরবেলা খাওয়াদাওয়া করে সবাই সোফা রুমে গিয়ে বসলাম। আমি বসিনি আব্বু আম্মু আর ভাবির বাবা মা সবাই বসছে, মনে হয় কিছু বলবে। ভাবি দরজা পাশে ঘোমটা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
কিছুক্ষণ পরই ভাবি আব্বু মানে আংকেল বললো….
আংকেলঃ দেখেন বেয়াই সাব যেজন্য আমরা আসছিলাম।
বাবাঃ জ্বি বেয়াই বলুন।
আংকেলঃ আমার মেয়েটার বয়স খুব একটা বেশি না। এই বয়সে সে বিধবা হয়ে যাবে কল্পনাও করিনি। যাইহোক আল্লাহর যা পছন্দ হয়েছে তাই করেছে। আমার মেয়েটা মাত্র দুইমাস জামাইয়ের সাথে ছিলো। তারপর কি হলো সেটা তো জানেন।
এখন কথা হচ্ছে ওর তো একটা ভবিষ্যৎ আছে, এভাবে তো আর তার জীবন চলবে না।
বাবাঃ তো এখন কি করতে পারি?
আংকেলঃ আপনাদের কিছু করতে হবে না, আমাদের মেয়েকে আমরা নিয়ে যাবো। ওর অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিবো। এভাবে থাকলে তো আর হবে না।
বাবাঃ না বেয়াই এটা করবেন না, আমার মেয়েকে আমার কাছ থেকে নিয়ে যাবেন না।
আংকেলঃ দেখেন আবেগ দিয়ে তো আর জীবন চলে না। বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।
হুম এটা ঠিক যে আমার মেয়ের কপাল অনেক ভালো, আপনাদের মতো শ্বশুর শাশুড়ি পেয়েছে। খুব কম মেয়েই এই রকম শ্বশুর শাশুড়ি পেয়ে থাকে। কিন্তু আপনারা তো আর ওর কিছু করতে পারবেন না। ওকি আপনাদের সাথে জীবন কাটাতে পারবে? আপনাদের ওতো বয়স হয়েছে। মরতে তো হবেই। আপনাদের কিছু হয়ে গেলে আমার মেয়েটার কি হবে?
ভাবি নির্বাক দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে আছে, না পারছে বাবার পক্ষে কিছু বলতে না পারছে শ্বশুরের পক্ষে কিছু বলতে।
বাবাঃ কিন্তু এখানে তো ওর কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সব ঠিকঠাক মতো আছে।
আংকেলঃ হুম সব আছে বাট স্বামী তো নাই। একটা মেয়ে কি এভাবে লাইফ কাটাতে পারে? আপনিই বলুন, আপনার মেয়ে হলে আপনি কি করতেন?
বাবাঃ……….(মাথা নিচু করে বসে আছে)
আংকেলঃ আমি জানি আপনি অবন্তীকে অনেক ভালোবাসেন, নিজের মতোই দেখেন। কিন্তু অনন্তীকে আমরা আর এখানে থাকতে দিতে পারি না। অন্তত পক্ষে ওর বাবা হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব।
বাবাঃ আমার মেয়ে আমার কাছেই থাকবে, আমি আমার মেয়েকে যেতে দিবো না।
আংকেলঃ আপনি এসব কি বলছেন?
বাবাঃ হুম, আমার এক ছেলে হয়তো আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু আরেকজন তো আছে, আপনি না অবন্তীকে বাইরে বিয়ে দিয়ে চেয়েছেন? বাইরে দেওয়ার দরকার নেই। আমার ছোট ছেলের কাছেই ওর বিয়ে দিবো। এবার তো আর বলতে পারবেন না যে আপনার মেয়ে বিধবা? ওর স্বামী নাই। এগুলো তো আর বলতে পারবেন না।
আমি বাবার কথা শুনে চোখ বড় বড় করে উনার দিকে তাকালাম, এটা কেমনে হয়, এখনো আমি অবন্তীকে ভাবি ডাকে আর সে নাকি আমার,,,,
না এটা কিছুতেই সম্ভব না, আমার মাথা ঘুরতেছে। হঠ্যাৎ করে বাবা আমার দুহাত চেপে ধরে বলে…..
বাবাঃ প্লিজ বাবা, তুই না করিস না। তুই অবন্তীকে বিয়ে কর, আমার মেয়েকে আমার কাছে থাকতে দে। প্লিজ বাবা, আমার অনুরোধ টা রাখ। নাহলে যে আমি মরেও শান্তি পাবো না।
বাবা কথা শুনে আমি কি বলবো কিছুই বুঝতেছি না, আম্মুও করুণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
আম্মুঃ জুয়েল! বাপ আমার প্লিজ না করিস না।
আমি বাবা হাত ধরে হ্যা সূচক মাথা নাড়ালাম। ভাবির দিকে তাকিয়ে দেখি উনি চোখ মুছতে মুছতে রুমে চলে গেলো।
ভাবির আব্বু বললো…..
আংকেলঃ বেয়াই (বাবাকে) আপনি মানুষ না, ফেরেশতা। একটা মানুষ এতো ভালো হয় কেমনে? আমি নিজেও জীবনে আমার মেয়ের জন্য এতোকিছু করিনি যেটা আপনি করলেন।
বাবাঃ আচ্ছা বেয়াই মশাই, বিয়েটা আজকেই হয়ে যাক। আমি কাজী ডেকে নিয়ে আসি।
আংকেলঃ আচ্ছা ঠিক আছে, আমি আমার ছেলেকে আর ছেলের বউকে আসতে বলি। আর অবন্তীকে বাইরে নিয়ে গিয়ে সাজিয়ে আনার জন্য বলবো।
বাবাঃ আচ্ছা আমি বাজারে গেলাম।
কোনো রকম অনুষ্ঠান ছাড়াই বিয়েটা হয়ে গেলো। ভাবি কে আজকে একটু অন্যরকম সুন্দর লাগছে। প্রথম বিয়ের ছেয়েও বেশি, শুধু একটা জিনিষের অভাব। সেটা হচ্ছে মুখের হাসিটা।
ভাইয়ার সাথে যখন বিয়ে হয়েছিলো তখন ভাবির মুখে খুব সুন্দর হাসি ছিলো, আজকে সব আছে সেটাই নেই। হয়তো এমন কিছু হয়ে যাবে কল্পনাও করেনি।
তারপর……
চলবে…..
Infinitive love
💗Infinite Love
.
Part: 57
.
বলেই আমাকে বিছানায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো, উপুর হয়ে বালিশের ওপর পরে গেলাম, ও দ্রুত পদে শব্দ করে দরজাটা বন্ধ করে চলে গেলো। আমি ওভাবেই বালিশে মুখ গুজে শব্দ করে কাদতে লাগলাম কিন্তু আমার এই কান্না দেয়াল ভেদ করে কারো কাছে পৌছবে না আর যার কাছে পৌছবে তার কাছে এই কান্নার কোনো দাম নেই। আজ মনে হচ্ছে এর আগে আমি মরে কেনো গেলামনা। এর থেকে ভালো হতো যদি তুমি আমায় নিজের হাতে মেরে ফেলতে আদ্রিয়ান কিন্তু তুমিতো আমার বেচে থাকাটাকেও মৃত্যুর চেয়ে বেশি যন্ত্রণার করে দিলে। আমি তোমার হাত থেকে মুক্তি পাই বা না পাই, এই যন্ত্রণা থেকে কোনোদিন মুক্তি পাবোনা আদ্রিয়ান কোনোদিন না। বুকের মধ্যে অসহ্য এক ব্যাথা হচ্ছে যেনো কেউ কলিজায় ছুড়ি চালিয়ে দিচ্ছে, আদ্রিয়ান তুমি আমাকে বলেছিলে আর যাই করো বুকে আঘাত করোনা, কিন্তু তুমি নিজেই তো সেটা করলে, চরম আঘাত করেছো তুমি আমাকে আর আমি তোমাকে ক্ষমা করবো না কোনোদিন না।
.
ধীরে ধীরে কান্নার বেগ কমে গেলো এখন হিচকি উঠছে হালকা। অনেকক্ষণ পর দরজা খোলার আওয়াজে চোখ মুছে উঠে বসলাম। একটা মেয়ে ঢুকলো, কালো শার্ট কালো হাটু অবধি স্কার্ট চুলগুলো রিবন করা, ট্রে তে করে খাবার এনে খাটের পাশের টি-টেবিলের ওপর রেখে আমার সামনে এসে বলল
.
- ম্যাম!! স্যার আপনাকে খেয়ে নিতে বলে গেছেন।
.
স্যার শব্দটা শুনেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। ওর নাম শুনে যেটুকু খাওয়ার ইচ্ছে ছিলো তাও চলে গেলো। এমনিতেও মন ভালো না থাকলে আমি খাই না তেমন। আর এখন খাওয়ার মতো কোনো পরিস্হিতি বা রুচি কোনোটাই আমার নেই। তাই বললাম
.
- নিয়ে যান আমি খাবোনা এখন।
.
সেটা শুনে মনে হলো মেয়েটা ঘাবড়ে গেলো, রিকোয়েস্ট করে বলল
.
- প্লিজ ম্যাম এগুলো ফেরত নিয়ে গেলে কাল স্যার এসে আমাদের পানিস করবে। প্লিজ খেয়ে নিন।
.
বেশ অবাক হয়ে তাকালাম এতোটা ভয় পায় ওরা আদ্রিয়ানকে? এতোটাই রুড বিহেভ করে ওদের সাথে? পাবে নাই বা কেনো? টেরোরিস্ট একটা! আমি বেশ বিরক্ত হয়ে বললাম
.
- আচ্ছা রেখে যান।
.
- ওকে ম্যাম!
.
- আর আপনার আমাকে ম্যাম বলে ডাকার দরকার নেই, আমার নাম অনিমা। অনিমা বলেই ডাকতে পারেন আর এমনিতেও আমি আপনার ছোটই হবো তাই আমাকে তুমি করেও বলতে পারেন।
.
মেয়েটি কিছু না বলে চলে গেলো। আমি মাথা চেপে ধরে বসে আছি কিচ্ছু ভালোলাগছেনা। বাড়িতে সবাই নিশ্চই খুজছে আমাকে, কিন্তু এখান থেকে বেরোতেও পারবোনা, কোনো ভাবে ধরা পরে গেলে আদ্রিয়ান মেরেই ফেলবে আমাকে, এখনো বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে না যে আদ্রিয়ান এমন করতে পারে, কিন্তু সবটাতো আমার সামনেই হলো। এসব চিন্তা করেই চোখ দিয়ে দু ফোটা পানি গড়িয়ে পরল। ধ্যান ভাঙলো দরজায় নক করার আওয়াজে এখন আবার কে এলো? আদ্রিয়ান তো চলে গেছে! আমি চোখ মুছে বললাম
.
- কে?
.
- ম্যাম আমি অভ্র! আসতে পারি!
.
- জ্বী আসুন
.
বলার সাথে সাথেই অভ্র দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে দেখলো খাবার টি টেবিলে রাখা। মুখে একটা সুন্দর হাসি লেগেই থাকে ছেলেটার তবে আদ্রিয়ান একটু ধমক দিলেই মুখটা কাচুমাচু করে রাখে। মুখে হাসি রেখেই বলল
.
- খান নি এখোনো?
.
- এটা জিজ্ঞেস করতে এসেছেন? ( বিরক্ত হয়ে)
.
- নাহ আসলে...
.
বলেই একটা লাগেজ এনে রাখল খাটের ওপর, তারপর বলল
.
- এখানে আপনার দরকারী সব আছে আই মিন পোশাক, অন্যান্য সব।
.
আমি একবার লাগেজটার দিকে তাকিয়ে একটা নিশ্বাস দিলাম না জানি কতোদিন এভাবে আটকে রাখবে আমাকে। আমাকে চুপ থাকতে দেখে অভ্র বলল
.
- একটু পর সার্ভেন্ট এসে সব কাবার্ডে ভরে দিয়ে যাবে।
.
আমি ওর দিকে না তাকিয়েই বললাম
.
- তার দরকার নেই আমি পারবো
.
- কিন্তু ম্যাম স্যার তো..
.
আমি এবার একটু রেগেই বললাম
.
- বললাম তো আমি পারব
.
- অ্ আচ্ছা আচ্ছা। রাগছেন কেনো?
.
আমি বেশ বিরক্ত হয়ে হাত ভাজ করে খাটে হেলান দিলাম, আমিও কেমন জানি রুড হয়ে যাচ্ছি। অভ্র হেসে বলল
.
- ম্যাম..
.
- আমি আপনার টিচার নাকি বস যে ম্যাম ম্যাম করে যাচ্ছেন?
.
- বসের বউতো তাই! ( মুখ ছোট করে)
.
আমি কিছু না বলে একটা তাচ্ছিল্যের বাকা হাসি দিলাম, নিজেকেই নিজের কাছে একটা জোকার মনে হচ্ছে। বউ! হাহ! চোখ দুটো আবারো ছলছল করে উঠলো। অভ্র হয়তো ব্যাপারটা বুঝতে পারলো তাই ওর সেই হাসি মুখে গাম্ভীর্য চলে এলো, হাল্কা ইতোস্তত করে বলল
.
- ম্যাম আমার স্যার কিন্তু..
.
- প্লিজ! আপনার স্যারের সম্পর্কে কিছু শোনার ইচ্ছে নেই আমার এখন। আপনার কাজ হয়ে গিয়ে থাকলে আসতে পারেন!
.
- খাবারটা খেয়ে নেবেন কিন্তু... নইলে..
.
আমি চোখ গরম করে তাকাতেই অভ্র একটা কেবলাকান্ত হাসি দিয়ে বলল
.
- কিছু দরকার পরলে ডাকবেন আমি পাশের রুমেই আছি।
.
বলেই কেটে পরলো। ওর কান্ড দেখলে এখন যে কেউ হেসে দিতো কিন্ত হাসি পাওয়ার মতো মন মানসিকতা আমার নেই এখন তাই উঠে লাগেজটা খুললাম, একপাশে কতগুলো ফুল হাতা, হাফ হাতা শার্ট, গেন্জি আর ঢোলা টাউজার, ওপর পাশে টপস, কুর্তি জিনস, সালওয়ার সুট। কর্ণারে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, সাওয়ারজেল, ফেস ওয়াস, লৌশন, ক্রিম এক কথায় প্রয়োজনীয় সব আছে। আমার মনে হচ্ছে আমি এখানে অতিথী, যার সেবায় 10/12 জন কর্মচারী নিয়োজিত, কিন্তু আমাকে তো এখানে আটকে রেখে দিয়েছে তাও নিজের স্বার্থে এতো দরদ দেখানোর কী দরকার। এসব ভেবে আবারো একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। একে একে সব কাবার্ডে সাজিয়ে রেখে একটা এস কালার ফুল হাতার গেন্জি আর কালো টাওজার নিয়ে ওয়াসরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে চেন্জ করে বেরিয়ে এসে খাটে বসলাম। ফোনটাও নিয়ে গেছে আদ্রিয়ান কিচ্ছু ভালোলাগছে না, এবার ভালোভাবে চারপাশে তাকালাম, বেডটা বেশ বড়, রুমটাও বেশ সুন্দর করে সাজানো বিভিন্ন ফ্রেম আর শোপিছ দিয়ে, সোফা সেট, একটা টেবিল আর বুক সেলফ আছে। রুমের সাথে একটা ব্যালকনিও আছে ধীর পায়ে ব্যালকনিতে গেলাম। রেলিং ধরে চারপাশে তাকিয়ে দেখলাম যে গার্ডের অভাব নেই পালানোটা এককথায় প্রায় অসম্ভব। রুমে গিয়ে খাবারের প্লেটের দিকে একবার তাকালাম খাওয়ার কোনো ইচ্ছেই নেই আর ওর খাবার তো একদমি না তাই না খেয়েই চুপচাপ গিয়ে আবারো বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে পরলাম, সারাদিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ভেবে নিশব্দে চোখে পানি ফেলতে লাগলাম, কাদতে কাদতে কখন ঘুমিয়ে গেছি নিজেও জানিনা।
.
ঘুমের মধ্যেই হ্যাচকা টানে কেউ বসিয়ে দিলো আমায়, এমন আচমকা ঘুম থেকে ওঠার অভ্যেস নেই তারওপর হঠাৎ এভাবে টান মারাতে শরীর থরথর করে কাপছে, বুঝতে পারলাম সকাল হয়ে গেছে, ভালোভাবে চোখ ঝাপটে সামনে তাকিয়ে দেখি আদ্রিয়ান রাগী চোখে তাকিয়ে আছে, ভয়ে একটা ঢোক গিললাম আমি আর চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো। কেনো এমন করছে ও আমার সাথে ও তো জানে এমন আচমকা ঘুম থেকে ওঠার অভ্যেস নেই আমার। ও ধমক দিয়ে বললো
.
- খাবার টা খেয়ে ঘুমাও নি কেনো?
.
আমি মাথা নিচু করে ফেললাম, ও দাতে দাত চেপে বলল
.
- কী বলেছিলাম আমি? বেশি তেরিং বেরিং করতে বারণ করিনি? সাহস কী করে হলো আমার কথা না শোনার?
.
ওর একেকটা ধমকে কেপে উঠছি আমি, এই সেই আদ্রিয়ান যে আমি রাগ করে একবেলা না খেলে নিজের হাতে জোর করে খাইয়ে দিতো? ও ধমক দিয়ে বলল
.
- এখন চুপ করে আছো কেনো?
.
এবার ও টি টেবিল থেকে কাল রাতের সেই খাবারের ট্রে থেকে প্লেটটা নিলো, খাবারটা নিঃসন্দেহে নষ্ট হয়ে গেছে হালকা গন্ধও বেরোচ্ছে। ও প্লেটটার দিকে তাকিয়ে বলল
.
- মনে আছে প্রথম দেখায় কী বলেছিলাম? অপচয় পছন্দ করিনা আমি।
.
আমি ভ্রু কুচকে তাকালাম ওর দিকে ও আবারো বলল
.
- তাই এবার ব্রেকফাস্ট হিসেবে তুমি এই খাবারটাই খাবে।
.
আমি বেশ অবাক হয়ে তাকালাম ও এগুলো খাওয়াবে আমাকে? যেখানে আজ অবধি বাসি খাবারো খাইনি সেখানে এই নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবারটা খাবো? যদিও ওর দারা অসম্ভব কিছুই না। ও ওই প্লেট থেকে খাবার তুলে আমার মুখের কাছে ধরতেই মুখ ঘুরিয়ে নিলাম আমি, ও আমার গাল চেপে ধরে মুখটা ওর দিকে নিয়ে বলল
.
- হা করো!
.
- আদ্রিয়ান প্লিজ আমি খেতে পারবোনা এসব
.
- সেটা খাবারটা নষ্ট করার আগে মনে ছিলোনা?
.
বলেই জোর করে আমার মুখে ঢুকিয়ে দিলো, বাজে সাদ আর টকের কারণে মুখে রাখতে পারলাম না থু থু করে ফেলে দিলাম ওটা। ও আবারো প্লেট থেকে খাবার তুলে জোর করে মুখে ঢুকিয়ে দিয়ে বলল
.
- এবার ফেললে ঐ ফেলে দেওয়াটাই মুখে ঢুকিয়ে দেবো!
.
আমি আর ফেলার সাহস পেলাম না, প্রচন্ড খারাপ লাগছে, গিলতেও পারছিনা, এরকম জিনিস গলা দিয়ে নামে? মুখে নিয়ে বসে আছি চোখ দিয়ে অনরগল পানি পরছে। যখন বুঝলাম যে না খাইয়ে ও ছাড়বেনা তখন যেই গিলতে যাবো তখনি ও আবার মুখের সামনে প্লেট বারিয়ে দিয়ে বলল
.
- ফেলো!
.
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। ও ধমক দিয়ে বলল
.
- কী হলো ফেলো!!
.
আমি তাড়তাড়ি মুখ থেকে ফেলে দিলাম ও গ্লাসে করে পানি এগিয়ে দিয়ে বলল
.
- কুলকুচি করে নেও!
.
আমিও আর কথা না বাড়িয়ে তাই করলাম। এরপর ও আমার গাল ধরে মাথাটা উচু করে বলল
.
- এরপর থেকে না খেয়ে থাকার আগে অাজকের কথাটা মাথায় রেখো!
.
এমনিতেই হঠাৎ করে টেনে তুলে জাগানোর জন্যে শরীর কাপছে তার ওপর এই ব্যাবহার, সব ঝাপসা লাগছে আমার কাছে। ও কোথাও একটা ফোন করে বলল
.
- রুমে ব্রেকফাস্টটা পাঠিয়ে দাও!
.
এটুকু বলেই ফোনটা রেখে আমার দিকে তাকালো, আমি এখনো থরথর করে কাপছি মাথাটা ব্যাথা করছে। ও হঠাৎ করেই আমাকে দুই হাত দিয়ে ওর বুকের সাথে খুব শক্ত করে চেপে ধরল। আমি ছাড়িনোর চেষ্টা করতেই ও ধমকে বলল
.
- একটু নড়াচড়া করলে খুব খারাপ হয়ে যাবে!
.
আমি আর কিছু বললাম না এতই শক্ত করে ধরেছে যে দুই মিনিটের মধ্যেই আমার কাপুনি থেমে গেলো, আমার কাপুনি থামতেই ও আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলল
.
- যাও ফ্রেশ হয়ে এসো!
.
আমি আর কিছু না বলে চুপচাপ ফ্রেশ হতে চলে গেলাম। বেরিয়ে এসে দেখি ব্রেকফাস্ট দিয়ে গেছে। আমাকে দেখে বলল
.
- বসো!
.
আমি খাটে গিয়ে বসতেই একটা স্যান্ডউইচ ধরল আমার মুখের সামনে। আমার খুব মেজাজ খারাপ হচ্ছে এবার, এখন তো আর এসব নাটকের কোনো দরকার নেই তাহলে এসব করে কী প্রমাণ করতে চাইছে ও? আমি নিচু কন্ঠে বললাম
.
- আমি নিজেই খেতে পারব
.
- এখন কী আমায় ঐ বাসি খাবারটার মতো করে খাওয়াতে হবে নাকি হা করবে?
.
আমি ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি হা করলাম ও ধীরে ধীরে বেশ সময় নিয়ে পুরোটা খাইয়ে দিলো আমাকে। এরপর সার্ভেন্ট ডেকে সব পরিষ্কার করিয়ে নিলো। তারপর খাটে হেলান দিয়ে বসে ফোন টিপতে লাগলো, আমি অবাক হয়ে দেখছি ওকে, একে দেখে মনে হচ্ছে সবকিছুই স্বাভাবিক আছে, এতো কান্ড ঘটিয়ে একটা মানুষ এতোটা স্বাভাবিক কীকরে থাকে? আমি বেশ বিরক্ত হয়ে বললাম
.
- কেনো আটকে রেখেছেন আমাকে?
.
ও ফোনে চোখ রিয়ে ভ্রু কুচকে বলল
.
- আপনি?
.
- সবাইকে তুমি বলা যায় না, ওই শব্দটা কাছের মানুষদের জন্যে আর কারো কাছের মানুষ হবার যোগ্যতা আপনার নেই।
.
ও কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো এরপর ফোনে চোখ দিয়ে বলল
.
- ওহ। ( একটা নিশ্বাস নিয়ে) হোয়াটএভার তুমি আমাকে তুমি বলো বা আপনি I don't care!
.
- এবার বলুন আটকে কেনো রেখেছেন?
.
- নিজের স্বার্থে।
.
প্রচন্ড রাগ লাগছে আমার এই বেঈমান স্বার্থপর লোকটাকে কীকরে এতো বিশ্বাস করলাম? কীকরে ভালোবাসলাম?
.
- এতোটা সেলফিস আপনি? কারো ভালোবাসার পাবার অধিকার নেই আপনার! আর কারো বিশ্বাসের তো যোগ্যই না আপনি!
.
এবার এ ফোন থেকে চোখ সরিয়ে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল
.
- এতোটা বিশ্বাস না করলেও পারতে।
.
- ভূল করেছি।
.
- হুমম এবার সেই ভূলের মাশুল দেও।
.
- তা আপনার স্বার্থসিদ্ধি কবে হবে? আমি মরার পর?( ছলছলে চোখে কান্নাজরিত কন্ঠে)
.
ও আবার ফোনে চোখ রেখেই একটু হেসে বললো
.
- উমহুম আমি মরার পর।
.
আমি ভ্রু কুচকে তাকালাম ওর দিকে ও ফোন থেকে চোখ না সরিয়েই বলল
.
- এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো? আমার কথা এতো সিরিয়াসলি নেবার কিছু নেই!
.
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম
.
- বাড়িতে সবাই খুজছে না আমাকে?
.
- খুজছেতো! ইনফ্যাক্ট আমিও খুজছি, আমিতো তোমাকেই খুজতে বেরিয়েছি।
.
এটুকু বলে ফোন থেকে চোখ সরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে বলল
.
- সবাই এটাই জানে আরকি!
.
- সবার বিশ্বাস এভাবে ভাঙতে কষ্ট হচ্ছেনা আপনার? একবারো ভাবছেননা আপনার পরিবার, বন্ধুরা ওরা যখন এসব জানবে তখন ওরা কী করবে?
.
ও ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে আরো একবার ফোনে চোখ দিয়ে বলল
.
- কী আর করবে তোমার মতোই আমাকে স্বার্থপর বলবে, ঘৃণাও করবে হয়তো!
.
- এটা বলাকি স্বাভাবিক না?
.
ও আগের মতো একই ভঙ্গিতে বলল
.
- হ্যা! একদম স্বাভাবিক!
.
আমি মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে রইলাম। একটা মানুষ এতোটা খারাপ কীকরে হতে পারে? কারো বিশ্বাসের দাম দিতে জানেনা ও। ও হঠাৎ করেই উঠে গিয়ে সোফায় বসল ল্যাপটপ নিয়ে। বেশ ঘন্টা খানেকের মতো একমনে কাজ করলো। এরপর হঠাৎ কোথাও একটা ফোন করে কাউকে করে বলল
.
- কবে আসছো তোমরা?
- ....
- আজকেই? (অবাক হয়ে দাড়িয়ে গিয়ে)
- ....
- অব্ নো। কতোক্ষণ লাগবে আসতে?
- ....
- ওকেহ!
.
ফোনটা কেটেই আছাড় মারলো সোফার ওপর। দাত দিয়ে নিজের ঠোট কামড়ে ধরে ডায়ে বায়ে তাকালো। এরপর চুলগুলো নাড়তে নাড়তে সারা রুমে পায়চারী করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর কোমরে দুই হাত দিয়ে দাড়িয়ে গেলো, জিব দিয়ে ঠোট টা ভিজিয়ে উপরে তাকিয়ে একটা শ্বাস নিলো, তারপর সোফায় বসে মাথা থেকে ঘার পর্যন্ত দুই হাত দিয়ে একবার বুলিয়ে হালকা ঝুকে মাথাটা চেপে ধরল। আমি ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছি ওর দিকে হঠাৎ কী হলো? ও ওভাবেই কিছুক্ষণ বসে থেকে হঠাৎ কিছু একটা ভেবে দাড়িয়ে দাড়িয়ে গিয়ে ফোনটা তুলল তারপর কাউকে ফোন করে আসতে বলল। কিছুক্ষণের মধ্যেই দরজায় নক পরলো। আদ্রিয়ান বলল
.
- এসো!
.
সাথে সাথেই অভ্র ভেতরে এসে কিছু বলবে তার আগেই আদ্রিয়ান বলল
.
- উকিল আর কাজী দুটোই হাজির করো ইন ওয়ান আওয়ার! কেনো সেটাও নিশ্চই বলতে হবে না?
.
- স্যার আজকেই?
.
আদ্রিয়ান ভ্রু কুচকে তাকাতেই অভ্র হকচকিয়ে বলল
.
- ও্ ওকে স্যার।
.
- পেপারস সব রেডি থাকে জেনো!
.
- হুম..!
.
বলেই একপলক আমার দিকে তাকিয়ে চলে গেলো অভ্র। আমি তো অবাক উকিল যেকোন কাজেই আনতে পারে কিন্তু কাজী কেনো? আমার ভাবনায় ছেদ ঘটিয়ে আদ্রিয়ান বলল
.
- যাও গিয়ে একটা সালওয়ার সুট পরে নাও
.
আমি তো মহা অবাক আমি কেনো এখন সালওয়ার সুট পড়তে যাবো আজব? আমি ভ্রু কুচকে বললাম
.
- কেনো?
.
- যা বলছি চুপচাপ তাই করো, এক্সট্রা কথা বলবে না একদম!
.
- আমি পরতে পারবোনা এখন এসব!
.
- তুমি নিজে পরবে নাকি আমি পরিয়ে দেবো? ( ধমকে )
.
আমি বেশ ভয় পেয়ে গেলাম ওর কথায় আমি জানি ওর দ্বারা কিছুই অসম্ভব নয়! তাই উঠে গিয়ে কাবার্ড খুলতেই ও বলল
.
- লালটা পরো!
.
আমি ভ্রু কুচকে তাকালাম ওর দিকে কিন্তু কিছু বললাম না চুপচাপ লাল একটা থ্রিপিচ পরে বেরিয়ে এলাম। বেরোতেই আদ্রিয়ান আমাকে আগা গোড়া স্কান করে হাত ধরে সোফায় বসিয়ে দিলো, তারপর একটা বক্স খুলল, বক্সটার ভেতরে কিছু হালকা গহনা রাখা হয়তো স্বর্ণের। একটা পাতলা চেইন লকেট সহ, একজোরা কানের দুল, চারটা চিকন চুরি। আমি অবাক হয়ে বললাম
.
- এসব কী আদ্রিয়ান?
.
আমার কথায় পাত্তা না দিয়ে একে একে সব পরিয়ে দিলো আমায়। বাধা দিতে গিয়েছিলাম কিন্তু এক ধমকে চুপ করিয়ে দিয়েছে। সব পরিয়ে ওরনাটা মাথায় দিয়ে বলল, একবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল
.
- পার্ফেক্ট
.
আমি বেশ রেগে বললাম
.
- এখন আবার কোন নতুন ড্রামা শুরু করলেন আপনি?
.
ও আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয় বলল
.
- চুপচাপ এখানেই বসে থাকো, আমি আসার আগে নড়বেনা এখান থেকে তাহলে খুব খারাপ হবে তাহলে!
.
বলেই চলে গেলো। কী করতে চাইছে ও আমি যেটা চাইছি সেটাই যদি হয় তাহলে তো! প্রায় বিশ মিনিট পর ও এলো একটা সাদা পান্জাবী আর কালো জিন্স পরে মাথায় সাদা টুপিও আছে।ওকে এইভাবে দেখে আমি অবাক, এসেই আমার হাত ধরে বলল
.
- চলো!
.
যদিও কিছুটা আন্দাজ করতে পারছি তবুও বললাম
.
- ক্ কোথায়?
.
- বিয়ে হবে এখন আমাদের! ( স্পষ্ট জবাব)
.
- পাগল হয়ে গেছেন আপনি? বিয়ে করবো আমি তাও আপনাকে?
.
ও বাকা হেসে বলল
.
- এতো অবাক হওয়ার কী আছে? বিয়ে আমাদর ঠিক হয়েই ছিলো, তুমিও রাজী ছিলে
.
ওর অঙ্গুলে আমার পরানো আংটি দেখিয়ে বলল
.
- এটাই তার প্রমাণ!
.
- হ্যা হয়েছিলাম কারণ তখন আপনার মুখশের আড়ালের এই হিংস্র দানব কে দেখেনি তাই
.
- আমি হিংস্র দানব? ( শান্ত গলায়)
.
- তার চেয়েও খারাপ। আর তাই আপনাকে বিয়ে করার কোনো প্রশ্নেই ওঠেনা।
.
- বেশি কথা না বলে যা বলছি তাই করো।
.
- বললাম তো আপনাকে বিয়ে করা সম্ভব নয় আমার পক্ষে। যা খুশি করুন!
.
ও আমাকে হাত ধরে ওর দিকে ঘুরিয়ে বলল
.
- এর পরিণাম কী হতে পারে জানো?
.
আমি হাত ঝাড়া দিয়ে কাদতে কাদতে বললাম
.
- কী করবেন আপনি? মেরে ফেলবেন আমাকে? ফেলুন না, এমনিতে তো মেরেই ফেলেছেন আমার মনটাকে, শরীরটাকে আর বাচিয়ে কেনো রাখবেন? এটাকেও মেরে ফেলুন!
.
ও আমার গাল ধরে বলল
.
- যদি তোমাকে মারার হতো অনেক আগেই মেরে ফেলতাম এতোক্ষণ বাচিয়ে রাখতাম না।
.
এরপর ও আমার গাল ছেড়ে ওর কপালে স্লাইড করতে করতে বলল
.
- কিন্তু সুইটহার্ট এখন তোমার হোল ফ্যামিলি তোমার বাড়িতেই আছে রাইট? এখন ধরো যদি তোমাদের বাড়িতে একটা বিশাল ব্লাস্ট হয় তাহলে কেমন হবে?
.
আমার পিলে চমকে উঠলো, কাপাকাপা গলায় বললাম
.
- মান্ নে
.
- তুমি এতোটাও বোকানা যে মানে টা বুঝতে পারছোনা।
.
আমি অবাক হয়ে দেখছি ওকে, কীকরে একটা মানুষ এতো নিচ হতে পারে? আমার পরিবারকে শেষ করার কথা ভাবছে ও? আমি কাপা গলাতেই বললাম
.
- আপনি এমন কিচ্ছু করবেন না?
.
- তুমি আমার কথা না শুনলে আমি এটা করতে বাধ্য হবো! ইউ নো আমি খুব সেলফিস! নিজের স্বার্থের জন্যে সব করতে পারি। আধ ঘন্টার মধ্যেই সব শেষ করে দিতে পারি আমি। জাস্ট একটা কল করতে হবে আমাকে।
.
ওর কথা শুনে চোখ নিয়ে অনবরত পানি পরছে আমার, আমি কাদতে কাদতে বললাম
.
- আদ্রিয়ান ওরা সবাই খুব ভালোবাসে তোমাকে। আমার মা তোমাকে আর কাব্যকে কোনোদিন আলাদা চোখে দেখেনি, আর বাকিরাও আদ্রিয়ান বলতে পাগল,ওহির অন্তর কথা ভাবো ওরাতো বাচ্চা!
.
ও আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল
.
- বাহ আবার তুমিতে চলে এসছো? যাই হোক আমি জানি সেটা! কিন্তু কী বলোতো তুমি যদি আমার কথা মতো না চলো এসব ভূলতে আমার এক মিনিট লাগবেনা। সো আমি কল করব নাকি..
.
আমি এবার ওর সামনে হাত জোর করে বললাম
.
- আদ্রিয়ান প্লিজ! ওরাতো কিছুই করেনি, ফাইলটা তো আমি নিয়েছিলাম, যা ক্ষতি করার আমি করেছি তাই যা করার আমার সাথে করুন কিন্তু ওদের ছেড়ে দিন প্লিজ! আমার জন্যে ওদের কিছু হয়ে গেলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না আমি।
.
ও আমার হাত নামিয়ে বললো
.
- তো তুমি বিয়েতে রাজি?
.
আমি এবার অসহায় ভাবে তাকালাম ওর দিকে। তারপর ধীরে ধীরে সোফা ধরে বসে পরলাম। আমাকে কিছু বলতে না দেখে বললো
.
- ওকে ফাইন তাহলে আমি..
.
ও ফোন তুলতেই আমি বলে উঠলাম
.
- আমি রাজি...
.
এটা শুনে ও মুচকি হেসে বলল
.
- that like my lady...
.
এরপর আমাকে দাড় করিয়ে দিলো আমি কান্নাজরিত কন্ঠে বললাম
.
- ওদের কিছু...
.
- কাম অন! ওদের ক্ষতি করে আমার কী লাভ? কিন্তু ওরা ততোক্ষণি সেভ থাকবে যতক্ষণ তুমি আমার কথা শুনবে।
.
বলেই ও আমাকে কিছুই বলার সুযোগ না দিয়ে হাত ধরে নিয়ে যেতে লাগল। যেতে যেতেই আমি বললাম
.
- কেনো বিয়ে করছেন আমাকে? আবার কী গেইম খেলতে চাইছেন আমার সাথে আপনি?
.
ও পেছনে ঘুরে বাকা হেসে বলল
.
- আমি গেইম খেলি না। গেইম এর নিয়ম তৈরী করি আর সবাই সেই অনুযায়ী খেলতে থাকে।
.
বলেই আমায় নিচে নিয়ে গেলো নিচে গিয়ে দেখলাম সোফায় কাজী, উকিল, বসে আছে পাশে অভ্র দাড়িয়ে আছে, আর কিছু লোক। আমাকে নিয়ে এগোতে নিলেই আমি দাড়ায়ে গেলাম আদ্রিয়ান ভ্রু কুচকে পেছনে তাকাতেই বললাম
.
- আদ্রিয়ান প্লিজ এভাবে..
.
কিন্তু ও আমার কথা শেষ করতে দিয়েই টেনে নিয়ে গিয়ে গেলো, যারা বসা ছিলো তারা দাড়িয়ে গেলো, আমায়ে সোফায় বসিয়ে দিয়ে নিজেও আমার পাশে পায়ের ওপর পা তুলে বসতেই বাকিরা বসে পরল। উকিলের দিকে তাকাতেই উকিল তাড়াতাড়ি পেপার বের করে আদ্রিয়ান এর সামনে ধরল, আদ্রিয়ান হাত বাড়াতেই একটা পেন নিয়ে দিলো ওর হাতে, ও পেপারে একবার চোখ বুলিয়ে সাইন করে দিয়ে আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল
.
- সাইন করো!
.
আমি করুন চোখে ওর দিকে তাকালাম, কিন্তু ওর চোখের দৃষ্টি কঠোর ওকে কিছু বলে লাভ হবেনা তাই বাধ্য হয়ে সাইন করে দিলাম। চিৎকার করে কাদতে ইচ্ছে করছে আমার এখন। অভ্র হেসে বলল
.
- কনগ্রাচুলেশন স্যার আজ থেকে আইনত আপনি ম্যারিড।
.
আদ্রিয়ান বাকা হেসে এবার কাজী সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল
.
- এবার ধর্মীয় ভাবেও বিয়ে সম্পূর্ণ করে দিন!
.
এরপর ধর্মীয়ভাবেও বিয়ে হয়ে গেলো আমাদের। আদ্রিয়ান বেশ কয়েকবার ধমক দিলেও একমুহূর্তের জন্যেও কান্না থামিয়ে রাখতে পারিনি আমি,আজ আমার সাথে সেটাই হলো যেটা কল্পনাও করিনি আমি, নিজের বাবা মা পরিবার সকলকে ছেড়ে বিয়ে করতে হলো আমাকে, এই দিনটা নিয়ে কতো স্বপ্ন ছিলো আমার আর সেই স্বপ্নের প্রতিটা মুহূর্ত তোমাকে ঘিরেই ছিলো আদ্রিয়ান। কিন্তু তুমি নিজের হাতে সব শেষ করে দিলে। 'কবুল' শব্দটা বলার সময় বুক ফেটে কান্না আসছিলো। হ্যা আজ থেকে আমিও বিবাহিত, তাও সেই আমার স্বামী যাকে আমি ভালোবাসি, জীবনের প্রতিটা সপ্ন যাকে নিয়ে সাজিয়েছি। কিন্তু অবাক করা বিষয় এটাই যে আমি তবুও খুশি নই, কারণ ও আমাকে শুধু নিজের স্বার্থের জন্যেই বিয়ে করেছে আর আব্বুকে কী জবাব দেবো আমি? কীভাবে দাড়বো ওনার সামনে? সবকিছু বিষের মতো লাগছে আজ। এমন কেনো করলে আদ্রিয়ান? কোনোদিন ক্ষমা করবোনা আমি তোমাকে..
.
.
The cobra king
#The_Cobra_King
#Mafia_Boss_Season4
part:76
→রুহী কে ধরে জয়।ফিদাও ভয় পেয়ে যায়।সেই তখন থেকেই মেয়েটা বলছিলো খারাপ লাগছে।ফিদা অতোটা কানে নেয়নি।এখন কি করবে ও?রোয়েন ভাইয়ের ও দেরি হচ্ছে।ফিদা কিছু বলতে গেলে জয় বলল,
.
.
-''ওনার মেইবি শরীর ভালো নেই।হসপিটালে নেয়া উচিৎ।জয়ের কথায় আর কিছু ভাবতে পারেনা ফিদা।ও সাথে সাথে রাজি হয়ে যায়।রুহীকে নিয়ে হাসপাতালে রওনা হয় ওরা।ফিদা রোয়েনকে কল দিয়ে জানিয়ে দেয় রুহীর অসুস্থতার খবর আর হাসপাতালের নাম।রোয়েন জানায় ও এক্ষুনি আসছে।এদিকে জয় ফিদা রুহী কে নিয়ে হাসপাতালে চলে আসে।সেখানকার গাইনোকোলজিস্ট জয়া মাহবুব জয়কে বললেন,-''ওনার স্পাউজ কি আপনি?"
-''না।বাট কেন?"
-''এক্চুয়ালি সি ইজ প্রেগন্যান্ট অফ টু মান্থস।"
-''হোয়াট?.অবাক হয়ে যায় জয়।এদিকে ফিদা প্রচন্ড খুশি।রুহীর ও জ্ঞান ফিরে আসে।রোয়েন প্রায় দৌড়ে আসে ফিদা আর জয়ের কাছে।এসেই শুধু-রোয়েনকে এভাবে আসতে দেখে ফিদা বুঝতে পারে ভালবাসার মানুষটার জন্য কতোটা অস্থির হয়ে আছে সে।ডাক্তা-''মিসেস রুহী মাহবুব চৌধুরীর স্পাউজ আপনি?"-''ইয়েস। ওর কি হয়েছে?ও ঠিক আছে?"-''কি হয়েছে সেটা আপনার ওয়াইফ বলবে।যান দেখা করে আসুন।রোয়েন রুহীর রুমটায় ঢুকে যায়।রুহী বসে আছে খাটের ওপর।রোয়েন যেয়েই বুকে জড়িয়ে নেয় রুহীকে।রুহী মুচকি হাসে।-''আ'ম সরি ছিলাম না তোমার পাশে।তুমি ঠিক আছো তো?"
-''আমি ঠিক আছি।চিন্তা করছো কেন?"
-''ডাক্তার কি বলছিলো তুমি জানি কি বলবে আমাকে।"
.
.
রুহী মিষ্টি হেসে রোয়েনের কানের সামনে ঠোঁট এগোয়।আর রোয়েনের এক হাত নিজের পেটের ওপর রেখে বলল,
.
.
-''কংগ্রাচুলেশনস উড বি ড্যাড।"
.
.
রোয়েন যেন চমকে যায়।ওভাবে থেকে রুহীর পেটে হাত রেখে বলল''আমি সত্যিই বাবা হচ্ছি রুহী?"
-''ইয়েস মাই লাভ।"রোয়েনের খুশি আর ধরেনা।রুহীকে সামনে এনে ওর ঠোঁটে তীব্র চুমু খায়।রুহীর চোখে খুশির অরুহী নিজের পেটে হাত-''সেই ভালবাসাটা এখানে রোয়েন।আমাদের ভালবাসার প্রতীক ও রোয়েন।এখানে আমাদের ছোট্ট জান আছে রোয়েন।যে আপনাকে বাবাই আর আমাকে মাম্মাম ডাকবে।"
-''ভাবতে পারবেনা রুহী আমার কতটা ভালো লাগছে।বলে বুঝাতে পারবোনা।অনেক ভালবাসি তোমাকে।"
-''আমি ও খুব ভালোবাসি রোয়েন।আমাদের সোনা বাচ্চাটা আমাদের কাছে আল্লাহর দেয়া সবচেয়ে বড় উপহারোয়েন রুহীকে আবার ও বুকে টেনে নেয়।এদিকে সব কিছু জয়ের মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে।কি শুনছে ও?ওর মিষ্টি পাখি প্রেগন্যন্ট আবার ম্যারিড।জয় কিছুই বুঝতে পারছেনা।ওর গলা ছেড়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।রোয়েন রুহীকে নিয়ে বেরিয়ে আসে।রুহীকে প্রায় জড়িয়ে ধরে আছে রোয়েন।রোয়েনকে বেরিয়ে আসতে দেখে ফিদা জয়কে দেখিয়ে -''ভাইয়া ওনি না থাকলে রুহীকে হাসপাতালে নিয়ে আসতেই পারতামনা হয়ত। অনেক হেল্প ক-''থ্যাংক ইউ সো মাচ।জয় কিছু বলতে পারেনা।ওর চোখ জোড়া প্রচন্ড লাল হয়ে আছে।রুহীর দিকে তাকিয়ে রোয়েনের দিকে তাকিয়ে প্রচন্ড রেগে বেরিয়ে যায় জয়।রোয়েন রুহী আর ফিদা কে নিয়ে বেরিয়ে যায়।ফিদা রাস্তায় নিজের বাসার গলির সামনে নেমে যায়।রুহীকে নিয়ে ফিরে আসে রোয়েন।রুহী গাড়ি থেকে নেমে আসে।রোয়েন গাড়ি পার্ক করে রুহীর হাত ধরে ঘরে প্রবেশ করে।রুহীকে এবার কোলে তুলে নেয় রোয়েন।
রুহী অবাক হয় রোয়েনের কাজে।রোয়েন নিজেদের রুমে চলে আসে।তারপর রুহীকে খাটে বসিয়ে ''এখন থেকে এভাবে তোমাকে আমাদের রুমে নিয়ে আসবো।"
-''আমি হাঁটতে পারবো।"-''শশশ একদম কোন কথা না।আমার সোনা বাচ্চাটার মাম্মামের জন্য সব করবো।কারন অনেক ভালবাসি তারুহী হেসে জড়িয়ে ধরে রোয়েনকে।কিছুক্ষন পর সরে আসে ওরা।রুহী বলল-''ফ্রেশ হয়ে নিন।খাবার গরম করছি আমি।"-''একদম নড়বেনা।সব ব্যাবস্থা হয়ে যাবে।এখন আর কোন হাঁটাহাঁটি করবেনা।নো কাজ।এখন অনেক বেশি বিশ্রাম করতে হবে।"
-''বোর হয়ে যাবো আমি।"-''বোর হওয়ার সুযোগ দেবোনা।এখন চলো ফ্রেশ হবে।বলে রুহীর হাত ধরে ওয়াশরুমে নিয়ে যায় রোয়েন।নিজ হাতে রুহীকে গোসল করিয়ে দেয়।ফ্রেশ হয়ে রুহীকে বের করে নিয়ে আসে রোয়েন।রুহীর চুল মুছে দিতে থাকে তোয়ালের আলতো ঘষায়।রুহী মিষ্টি হেসে স্বামীকে দেখছে।রুহী নিজের চুলে খোপা করে নিয়ে রোয়েনের সাথে বেরিয়ে আসে।রুহী খেয়াল করে টেবিল ভর্তি খাবার।রুহী চমকে গিয়ে রোয়েনের দিকে তাকায়। রোয়েন হেসে রুহীকে চেয়ারে বসায়।রুহী খেয়াল করলো ছোট মাছের তরকারি,ভর্তা, ডাল,সালাদ,দুধ আরো অনেক কিছু।রুহী বলল,-''কখন করলেন এগুলো?"-''আমি করিনি।"-''তো?"-''আনিলা মা করেছেন এগুলো।"রুহীর মনটা একটু খারাপ হয়ে যায়।রোয়েন রুহীকে খাইয়ে দিতে শুরু করে।খাবারের মাঝেই রুহীর শরীর কেমন যেন করে উঠে।তাই আর খেতে চায়না ও।উঠে দাঁড়ায় রুহী।রোয়েন বলল,-''কি হলো?"-''আমার না খারাপ লাগছে।খেতে পারবোনা।"-''আর এক লোকমা।আসো খেয়ে নাও।"-''না আমি খেতে পারবোনা।"বলেই দৌড়ে রুমে গেলো রুহী।রোয়েন দুধের গ্লাস নিয়ে রুমে এসে দেখলো খাটের ওপর কাঁথার নিচে কি যেন উঁচু হয়ে আছে।রোয়েন সেটার পাশে গিয়ে কাঁথাটা উঠিয়ে দেখলো রুহী বসে আছে।রোয়েন কে দেখতে দাঁত বের করে হাসলো রুহী।রোয়েন কি বলবে বুঝতে পারছেনা।হঠাৎ এমন শুরু করলো কেন রুহী।রোয়েন কাঁথাটা সরিয়ে দিয়ে রুহীর পাশে এসে বসে।রোয়েনের এর গাল জড়িয়ে অপর গালে চুমু খায় রুহী।ও বলল,
.
.
-''জানো মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় তোমাকে খেয়ে ফেলি।ঐযে তোমার গাল দুটো উফফ লা জাবাব,তোমার লাল ঠোঁটজোড়া উফ উম্মাহ আর তোমার কিলার টাইপ চোখ মারজাওয়া।আচ্ছা কি করে আমার হাসবেন্ড হলে বলো তো?তোমার জন্য দরকার ছিলো ক্যাটরিনা কাইফের মতো লম্বা কারিনার মতো একজন বৌ।আমি কি করে জুটে গেলাম কে জানে?"
.
.
রোয়েন অবাক হয়।রুহী আগে কখনোই এমন কথা বলেনি।আর আজ কি বলছে এগুলো।রোয়েন এবার রুহীকে জড়িয়ে ধরে ওর দুপায়ের ওপর রুহীকে বসালো।রুহীর মুখ রোয়েনের দিকে ঘুরানো।রোয়েন বলল-''একটা কথা বলি ক্যাটরিনা কারিনা তোমার কাছে কিছুইনা।কারন আমার মায়াবতী সবচেয়ে সুন্দর অনেক মূল্যবান।যেটা হাজার লক্ষ ক্যাটরিনা কারিনার চেয়ে ও দামি।কারন আমার মায়াবতী শুধুই আমার ভালবাসা আর কেউনা।রুহীর চোখে পানি চলে এলো।কাঁদতে লাগলো ও।রোয়েনের গলা জড়িয়ে কাঁদতে শুরু করে।রোয়েন বলল-''কি হলো?"
-''এতো ভালবাসো কেন?"
-''অনেক ভালবাসি।কিন্তু কাঁদছো কেন?"
-''জানিনা কিন্তু কান্না পাচ্ছেরোয়েন দুধের গ্লাস হাতে নিয়ে -আগে দুধটুকু খেয়ে নাও।পরে কান্না করো।"
-''না গন্ধ লাগছে।খেতে পারবোনা।"
-''গন্ধ লাগছে???"
-''হ্যা খুব গন্ধ।আমার বমি পাচ্ছে।"
-''তুমি না,খাওয়ার জন্য বলছো না তো?"
-''একদম না।সত্যিরোয়েন কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়।কি বলে এই মেয়ে?গন্ধ কেন লাগবে।না রোয়েন আজই হাসপাতালে গিয়ে কোন গাইনোকোলজিস্ট এর সাথে কথা বলবে।এদিকে সেদিন ঘরে ফিরে না জয়।প্রচন্ড স্পীডে গাড়ি ড্রাইভ করতে থাকে।শুধু মিষ্টি পাখিকে মনে পড়ছে ওর।মিষ্টি পাখিকে তো ভালবেসে ফেলেছিলো ও।কিন্তু কি হয়ে গেলো।মেয়েটা ম্যারিড।ওর বর আছে।ও তার হাসবেন্ডকে অনেক ভালবাসে।জয়ের জন্য কোন ভালবাসা নেই। কোন কিছু নেই।এদিকে বিজলি বেগম ভীষন চিন্তিত নাতি এখনো ঘরে আসেনি।কি করছে ছেলেটা?কই গেলো?কখনো এতো সময় করে বাহিরে থাকেনি।রাত একটায় ফিরে আসে জয়।অবশ্য দাদির কল পেয়েই এসেছে ও।বিজলি বেগম জিজ্ঞেস করেন,
.
.
-''কজয় দাদির দিকে তাকায়।চোখ জোড়া খুব লাল।কিছু বলেনা ও।দাদী ও কিছু বলতে পারেনা।জয় রুমে চলে যায়।
পরদিন সকালে অফিসে না গিয়ে নিজের কলোনির হাসপাতালে আসে রোয়েন।সেখানকার গাইনোকোলজিস্ট রুবীনা খানমের সাথে দেখা করবে ও।রুবীনা রোয়েনকে দেখে বলে-''স্যার আপনি?"
-''হুম।একটু দরকার ছিলো।"
-''জি বলুন।"-''আমার ওয়াইফ রুহী প্রেগন্যান্ট।দুমাস চলছে।ও না কিছু খেতে পারছেনা।বলছে গন্ধ লাগছে।আর খুব উদ্ভট বাচ্চামো আচরন করোয়েনের কথা শুনে একটু হাসেন রুবীনা খানম।তারপর বললেন,-''স্যার ফাস্ট সময় গুলোতে গন্ধ লাগবে কিছু কিছু খাবারে কারন হরমোন চেঞ্জ হতে থাকে।আর দ্বিতীয়ত হরমোন পরিবর্তনের কারনেই নানারকম সিম্পটমস দেখা যায়।কেউ কেউ স্লিপওয়াক করে,বাচ্চামো করে,একটুতে হাসা বা কেঁদে দেয়া এটা নরমাল স্যার।এসময় গুলোয় মায়েদের সাথে খুব সতর্কতার সাথে আচরন করতে হয় কারন মায়ের অনুভূতি বাচ্চাদের ওপর এফেক্ট করে।ভালো অনুভূতি হলে বাচ্চা হাসি খুশি থাকবে সুস্থ থাকবে।আর মা দুশ্চিন্তায় থাকলে কিংবা কান্না কাটি করলে বাচ্চার সমস্যা হতে পারে।"
-''আচ্ছা।"
-''হা আর ওনার প্রত্যেক মাসে হাসপাতালে নিয়ে আসবেন।বাচ্চার ওয়েট চেক করতে হবে।আর হেলদি ফুড খাওয়াবেন।"
-''অবশ্যই।আমি আসি তা
Crush jokon bor
Crush যখন বর😍
#Season_4
#Part_52
তনু ফোনটা রেখে দিয়ে হাসতে হাসতে বারান্দায় চলে গেলো,
আর ভাবতে লাগল শিশিরের সাথে আজ একটু মজা করবে,,
তনু সব রেডি করে নিলো, এবার শুধু শিশির আসার পালা
শিশির দুপুরবেলায় বাসায় ফিরলো,,
রুমে ঢুকে দেখলো তনু নেই,
কি ব্যাপার আসার সময় তো ওকে ড্রয়িং রুমেও দেখলাম না, তাহলে গেলো কই
শিশির পিছন ফিরতে যাবে তার আগেই তনু একটা লাল ফিতা দিয়ে শিশিরের চোখটা বেঁধে দিলো
শিশির-কে?
তনু-আপনার বউ
শিশির-আচ্ছা তো দুপুরবেলা রোমান্স করতে মন চাইতেসে বুঝি?
তনু-লুকোচুরি খেলবো
শিশির-আমি কিন্তু তোমাকে নিমিষেই ধরে ফেলতে পারবো
তনু-দেখা যাক
শিশির হাত থেকে ব্যাগটা রেখে তনুকে খুঁজতে লাগলো
তনু রুম থেকে বেরিয়ে গেছে
শিশির ও আস্তে আস্তে রুম থেকে বের হলো,
কারন তনুর গায়ের ঘ্রান রুম থেকে চলে গেসে সেটা শিশির বুঝতে পেরেছে
তনু ঠিক যেদিকে যেদিকে যাচ্ছে শিশির ঠিক সেদিকেই যাচ্ছে
তনু হাঁপিয়ে গেসে পালাতে পালাতে,উফ এই ছেলেটা এত ফার্স্ট,ভালো করেই ফিতা বেঁধেছি,আমাকে তো দেখার চান্স নাই,তাহলে পিছে পিছে আসে কেমনে
তনু মা বাবার রুমের দরজার সামনে এসে হাঁপাচ্ছে,,পুরো বাসা শিশির চক্কর দেওয়াইসে
শিশির হাসতে হাসতে আসতেসে
তনু ভয়ে রুমের ভিতরে চলে গেলো
ভিতরে ঢুকতেই পা পিছলিয়ে দুম করে নিচে পড়ে বসে গেলো তনু,
শিশির-তনু??
রুমে মা বাবা নেই তারা ১১টার দিকে একটা দাওয়াতে গেসে, অপু আন্টির ছেলের আকিকায়
শিশিরের বাবা মদ খায়, তাই উনার সোফার পাশের সেন্টার টেবিলে এক গ্লাস মদ নেওয়া ছিল,আকিকাতে তাড়াহুড়ো করে রেডি হয়ে চলে যাওয়ায় এই গ্লাসের মদ খাওয়া হয়নি উনার,
তনু নিচে বসে ঢোক গিলতেসে শিশিরের মুখে হাসি দেখে,
শিশির শার্টের হাতা উঠাতে উঠাতে এগোচ্ছে
তনু টেবিলে তাকিয়ে দেখলো এক গ্লাস কোকাকোলা,
এটা যে মদ হতে পারে তা তনু জানে না,কারন শেখর চৌধুরীকে তনু অনেক অনেক ভালো জানেন,আর ভালো মানুষ যে মদ খায় সেটা তনু মানে না,,আর এ বয়সে কেনোই বা উনি মদ খাবেন?
তনু তাই একদমই ভাবেনি এটা মদ হতে পারে,
কোকাকোলা ভেবে ঢকঢক করে পুরা গ্লাসের মদটা খেয়ে নিলো,
মুখ মুছতে ব্রু কুঁচকিয়ে গ্লাসটার দিকে কিছুক্ষন চেয়ে রইলো তনু,এটা কি জিনিস ছিল,টেস্ট পুরা ফালতু,মনে হয় ডেট ওভার হয়ে গেসে,
শিশির-তনু?
৫মিনিট হয়ে গেসে শিশির রুমে হেঁটে তনুকে খুঁজেই পেলো না, তনু নিচে বসে চোখ মুখ ডলতেসে শুধু
তারপর উঠে দাঁড়ালো,
এগিয়ে গিয়ে শিশিরকে ধরে ফেললো
তনু-ধরে ফেলেছি😍
শিশির-মানে?
শিশির ওর চোখ থেকে ফিতা খুলে নিলো
শিশির-ধরবো তো আমি তোমাকে,তুমি আমাকে ধরসো কেন?
তনু দাঁত কেলিয়ে তাকিয়ে থেকে শিশিরের শার্টের বোতাম খুলায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো
শিশির -আবার কি,বোতাম খুলো কেন
তনু ২/৩টা বোতাম খুলে শার্ট টেনে ধরে ভিতরে নিজের মুখ লুকালো
শিশির-তনু?
তনু-উমমমম শিশিরবাবু
শিশির তনুর কথা শুনে চোখ কপালে তুলে তনুর মুখ টেনে নিজের দিকে ফিরালো
শিশির-আমাকে এখন এটা বলো না যে তুমি মদ খেয়েছো?
তনু-হুম খাইসি,কোকাকোলা
শিশির-কই পেলে?
তনু আঙ্গুল তুলে টেবিলের দিকে দেখালো
শিশির-মনে হয় বাবার বিয়ারের বোতলের মদ খাইসে,
খাইসে রে আমি শেষ!!!,বাবা যে ব্রান্ডের মদ খায় ওটা একবার খেয়ে আমারই নেশা হয়ে গেসিলো,its too dangerous, গোটা ২দিনেও এটার নেশা ছাড়ে না,শেষমেষ তনুই খেয়ে নিলো?আমি শেষ
তনু শিশিরের বুকে আবার মুখ ডুবালো
শিশির-তনু, তুমি না লক্ষী মেয়ে চলো আমার সাথে
শিশির তনুর হাত ধরে টেনে ওদের রুমে নিয়ে আসলো
তনু দুম করে নিয়ে বসে গিয়ে শিশিরের পা জড়িয়ে ধরলো
তনু-আমি যাব না কোথাও
শিশির -বেডে এসে শোও, আমি তোমার জন্য তেতুলের জুস আনতেসি,
তনু-কোনো জুস না, ঐবার জুস খাওয়ায় আমার নেশা কাটাইসো,এবার আমি নেশা কাটাতে দিব না, এই নেশাই ভালো,পৃথিবী হাল্কা লাগে,সব হাল্কা লাগে
শিশির-আমার পা ছাড়ো তনু
শিশির তনুকে ধরে এনে বিছানায় বসিয়ে দিলো
তনু মুচকি হেসে শিশিরের শার্ট টেনে ধরে ওকে কাছে নিয়ে আসলো
শিশির টান টা সামাল দিতে না পেরে তনুর গায়ে গিয়ে পড়লো
তনু-আহা কত কিউট লাগতেসে আমাদের দুজনকে
তনু বেডের পাশে থাকা দেয়ালের বিরাট বড় আয়নার দিকে চেয়ে কথাটা বললো
শিশির তনুর তাকানো দেখে নিজেও তাকালো আয়নার দিকে
তনু শুয়ে আছে তার উপর শিশির
শিশির-তোমার মাথা পুরা গেসে
শিশির উঠে দাঁড়িয়ে গেলো
তনু-যাও যাও তেতুলের জুস আনো,আমি তোমারে খাওয়াই দিব
শিশির-ওটা তোমার জন্য😒
শিশির নিজে রান্নাঘরে গিয়ে তেতুলের জুস বানিয়ে নিলো,চিনি দিলোই না,কারন ভালো করে টক না খেলে ওর মাথার থেকে নেশা নামবে না
শিশির অফিস থেকে এসে এখনও fresh ও হয়নি,,
রুমে ঢুকে দেখলো তনু নেই কোথাও,আবার গেলো কোথায় মেয়েটা উফ!!
শিশির টেবিলের উপর গ্লাসটা রেখে পিছনে তাকাতেই ওর চোখ কপালে উঠলো
তনু একটা ওড়না নিয়ে শাড়ী বানিয়ে পরেছে,ব্যাস!!
এই পাতলা ওড়না ছাড়া তার গায়ে একটা ছিটেফোটা কাপড় ও নেই
তনু মডেলদের মতো ঢুলে ঢুলে শিশিরের দিকে চেয়ে আছে
শিশির তনুর এমন বেশ দেখে হা করে টেবিল থেকে পানির গ্লাসের বদলে তেতুলের জুসটা নিয়ে ঢকঢক করে ৩ঢোক গিলে চোখ মুখ খিঁচে আবার রেখে দিলো,
ইস তনুর জন্য আনা এই টক চিনি ছাড়া তেতুলের জুস কিনা আমি খেলাম
শিশির কাশতে কাশতে খাটে বসে পড়লো
তনু-কি হইসে শিশির বাবু
তনু কথাটা বলতে বলতে এগিয়ে আসলো আর ওড়না ওর পায়ের নিচে পড়ে ঘুরে ঘুরে খুলে গেলো,একদম নিচে ফ্লোরে পড়ে গেলো
তনুর সেদিকে খেয়াল নেই,,হনহনিয়ে শিশিরের সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে
শিশির মাথার চুল একটু টেনে চোখটা খুলে তনুকে এমন অবস্থায়য় দেখে ওর চোখ আগে ছিল কপালে এবার আসমানে চলে গেসে
চিৎকার দিয়ে বিছনা থেকে বেড শিটটা নিয়ে তনুকে ঢেকে নিলো শিশির
তনু-কি হয়েছে,এমন চিল্লান কেন?
মা দরজা নক করতেসে,মনে হয় এসে গেসে
মা-কিরে শিশির চিৎকার দিলি কেন,কি হয়েছে,তনু ঠিক আছে তো ?
শিশির-(না মা কিছু ঠিক নাই,)না আসলে হুম সব ঠিক আছে
মা-দরজা খুল
শিশির কি করবে এখন??,তনুর গায়ে শুধু বেডশিট তাও সেটা নিয়ে তনু টানাটানি করতেসে, শিশির তনুর হাত ধরে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে বাইরে দিয়ে দরজা লক করে তারপর গিয়ে মাকে দরজা খুলে দিলো
মা ভিতরে ঢুকে বললো তনু কোথায়
শিশির-ও তো বাথরুমে গেসে
তনু-শাশুমা আমি বাথরুমে ইচ্ছে করে আসিনি,তোমার ছেলে আমাকে আটকায় রাখসে
শিশির-মজা করতেসে মা,কি কারনে আসছো বলো
মা-তুই এখনও ফ্রেশ হস নাই,fresh হয়ে নে,,
শিশির-তোমরা না আকিকা অনুষ্ঠানে গেসিলে,এত তাড়াতাড়ি ফিরে আসলে যে
মা-আরে বলিস না আমি আকিকাতে যে গিফট দিব ভাবসিলাম সেটা নিতেই ভুলে গেসি,তোর বাবা জানে না সেটা কোথায় রেখেছি আমি,তাই নিজেই চলে এলাম নেওয়ার জন্য,
শিশির-ওহ আচ্ছা নিয়ে যাও তাহলে তাড়াতাড়ি
মা-না শুধু সেই কারন না তো,ওরা বলেছে তনুকে একটু দেখবে,অপু বিয়েতে তো আসে নাই,তুই তনুকে বল রেডি হয়ে আসতে,আমরা একসাথে যাব
শিশির-নাহহহহহহহ
মা-কেন?কি হইসে?
শিশির-আসলে তনুর শরীর ভালো না,যেতে পারবে না
তনু-শাশুমা মিথ্যা কথা বলতেসেন উনি,আমি একদম ঠিক আছি
মা-হুম,শিশির ওকে রেডি হয়ে আসতে বল,ততক্ষনে আমি গিফটটা নিই
মা চলে যাওয়ার সাথে সাথে শিশির দরজাটা আটকিয়ে বাথরুমের দরজাটা খুললো
তনু বেডশিট টেনে বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসলো
তনু-কেমন হাসবেন্ড আপনি??আমাকে উনারা দেখতে চাইসে আমি সেজে গুজে যাব না?
শিশির-তোমার হুস নাই,তুমি ওখানে গিয়ে গণ্ডগোল করতে চাও নাকি,মাথা কাটা যাবে আমার
তনু-কাটা গেলে ব্যান্ডেজ করে দিবোনি
কথাটা বলে তনু বেডশিট গায়ের থেকে ফেলে দিলো
শিশির চোখে হাত দিয়ে আরেকদিকে ফিরে গেলো
তনু হেসে দিয়ে আলমারি থেকে একটা জামা নিয়ে পরে শিশিরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো
তনু-চলুন যাই
শিশির-না,তুমি মাকে বলবা আমরা যাচ্ছি না
তনু-মা চলো যাই,দেরি হচ্ছে তো😜
তনু নিমিষেই উধাও হয়ে গেলো
শিশির মাথায় হাত দিয়ে ভাবতেসে কিভাবে কি করবে
♦
মা-কিরে শিশির এখনও রেডি হস না কেন,দেরি হয়ে যাচ্ছে তো আমাদের
শিশির শার্টের বোতাম লাগিয়ে আসলো,তনু মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ঢুলতেসে
♦
গাড়ীতে বসে তনু হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে শিশিরকে জ্বালাচ্ছে,
মা ফোনে বাবার সাথে কথা বলতেসে,
অপু আন্টির বাসায় এসেই মা শিশির আর তনুর আগেই চলে গেলো
তনু বারবার পড়ে যাচ্ছে আর শিশির টেনে টেনে ধরতেসে,কি মহা ঝামেলায় পড়লাম
ভিতরে ঢুকে শিশির আর তনু মিলে অপু আন্টি আর তার হাসবেন্ড জিসান আহমেদকে সালাম করলো
অপু আন্টি-বাহ বউতো বেশ এনেছিস
মা-কার পছন্দ দেখতে হবে না
শিশির দাঁত কেলিয়ে সবার সাথে কথা বলতেসে আর পাশে তাকিয়ে দেখলো তনু নেই
শিশির-তনু গেলো কই,,!!!!
শিশির চারিদিকে তনুকে খুঁজতে খুঁজতে গিয়ে দেখলো তনু কোকাকোলা গ্লাসে ঢেলে নিয়ে বিশ্ব জয়ের হাসি দিয়ে আসতেসে
শিশির-কি?তোমাকে না বলসি আমার পাশে পাশে থাকতে
তনু-আরে কোকাকোলা বাবার রুমে খেয়েছিলাম যে ওগুলা খুব মজা ছিল,তাই এখন আবার নিলাম
তনু মুখে দিয়ে মুখ বাঁকিয়ে বললো এগুলা তো সেই কোকাকোলা না,
শিশির-কারন তখন কার গুলো বিয়ার ছিল,আর তোমার হাতের এগুলা আসল কোকাকোলা
তনু-তাহলে আমাকে নকল কোকাকোলা এনে দাও না প্লিস শিশিরবাবু
শিশির-না,চুপ থাকো,
তনু-না, এ্যা এ্যা😭
শিশির-চুপ চুপ,আস্তে আস্তে,আচ্ছা খাওয়াবো,কান্না থামাও
মা-শিশির তনুকে নিয়ে এদিকে আয় তো,,তোর রাফেজ আঙ্কেলের সাথে কথা বলে নে,উনিও আকিকাতে এসেছেন
শিশির তনুর হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো
মিঃরাফেজ-আরে তনু না?যে শিশিরকে ওর বিয়ের দিন নাতাশার মত একটা মেয়ের থেকে বাঁচিয়ে ছিল,
মা-হুম
মিঃ রাফেজ-একটা কথা বলতে হবে আপনাদের বউয়ের মধ্যে দম আছে
মা-আর তাই সে চৌধুরী বাড়ির বড় বউ হয়েছে
তনু ফিসফিসিয়ে শিশিরকে বললো এই মিঃ রাফেজ নাকি শিশিরের বিয়ের সময় লুকিয়ে লুকিয়ে চিকেন লেগ পিস ৪টা খেয়েছিল তনু সেটা নিজের চোখে দেখেছে
শিশির তনুর কথা শুনে ফিক করে হেসে দিলো
মিঃ রাফেজ-কি এমন বললো তনু যেটা এত হাসির??আমিও শুনি
শিশির-আসলে ও বললো আর কি নাতাশাকে কেমনে বিদায় করেছে
মিঃ রাফেজ-ওহহ, আচ্ছা
শিশির তনুর গায়ে হেলান দিয়ে কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছে,
মাঝে মাঝে পড়ে যাওয়া ধরে শিশির তনুর পিঠের পিছন দিয়ে হাত দিয়ে ওকে আগলে ধরে আছে
চলবে♥
হয়তো ভালবাসি
#হয়তো_ভালোবাসি
#part_07
পরেরদিন সকালে
নেশা আর আকাশ বসে ব্রেকফাস্ট করছে।।হঠাৎ নেশার চোখে কিছু গেল।
নেশাঃ আহহ
আকাশঃ কি হলো😟
নেশাঃ জানি নাহ আকাশ মনে হয় চোখে কিছু পরেছে
আকাশঃ দেখি
আকাশ নেশার চোখ দেখার জন্য তার সামনে দাড়ালো।একটু পর আকাশ নেশার চোখের দিকে ভালো করে তাকালো।কেমন ঘোর লেগে যাচ্ছে তার। নেশাও আকাশের দিকে তাকালো।আকাশের চোখ গেল নেশার ঠোঁটের দিকে। নেশার ঠোঁট গুলো অতিমাত্রায় লাল।যা দেখে আকাশের ঘোর লেগে গেল।হাত দিয়ে কিছুক্ষণ স্লাইড করলো।নেশা এখনো আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।মুখে দুষ্টু হাসি।আকাশ ধীরে ধীরে নেশার ঠোঁটে যেই নাহ কিস করতে যাবে নেশা আকাশের বুকে মুখ লুকালো🙈🙈।।আকাশ ও ব্যাপার টা বুঝে মুচকি হেসে নেশাকে জড়িয়ে ধরলো।
আকাশঃ আমার কলিজাটার বুঝি লজ্জা করছে
নেশাঃ জানি নাহ🙈🙈[আরো জোরে আকাশকে জড়িয়ে]আকাশ ও হেসে নেশাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
আর এই সব গুলো ঘটনা চোখে পড়লো নীড়ের।কিন্তু তাদের মধ্যে যে লিপ কিস হয়নি তাতো নীড় দেখেনি।দেখেছে আকাশ আর নেশা কাছাকাছি দাড়িয়ে আছে,খুব ক্লোজ হয়ে।আর কি লাগে। ভেবে নিলো ওদের মধ্যে ইন্টিমেট চলছে।।নীড় তো রেগে বোম।
নীড়ঃ কাজটা তুমি ভালো করলে নাহ নেশা। এর ফল তোমাকে পেতে হবে।[বলেই হনহন করে চলে গেল ]
সবাই মিলে অনেক ঘুরলো কিন্তু নীড়ের কোন খোঁজ পাওয়া গেল নাহ।সবাই ভেবেছে হয়তো কোন কাজে বিজি আছে।
রাতে-নেশা ঘুমের মধ্যে অনুভব করলো কেউ তার দম আটকে রেখেছে।সাথে সাথে ঘুম ভেঙে গেল।আর দেখলো কেউ তাকে লিপ কিস করছে😳।কিন্তু অন্ধকারে মুখ দেখা যাচ্ছে নাহ।নেশা খুব জোরে ধাক্কা দিলো লোকটি খাটের একদম অপর পাশে সরে গেল।নেশা গিয়ে লাইট অন করলো।
নেশাঃ আপনি😡😡[সবাই যা ভাবসো তাই।নীড় ছাড়া আর কে।নেশা নীড়ের দিকে তাকিয়ে দেখলো ওর চোখ গুলো মারাত্নক পরিমানে লাল হয়ে আছে।যেন চোখ দিয়েই জ্বালিয়ে দেবে নেশাকে।নেশা চোখ দেখে ভয় পেয়ে গেল।তবুও সাহস জুগিয়ে বললো]নেশাঃ আপপনি একখনে কে....আর বলতে পারলো নাহ।কারন নীড় আবার নেশার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিয়েছে। নেশা ছাড়ার জন্য মোচড়ামুচড়ি করছে। কিন্তু লাভ হলো নাহ।নীড় অনেক শক্ত করে ধরে রেখেছে তাকে।খুব রুডলি কিস করছে।সব রাগ কমার অনেক্ক্ষণ পর ছাড়লো। তারপর নেশার দিকে তাকালো।নেশার চোখ থেকে পানি পরছে।নীড় তা ঠোঁট দিয়ে শুষে নিলো।নেশা কেপে উঠলো। নেশার কাপনি দেখে নীড় মুচকি হাসলো। নেশার ঠোঁট গুলো কাপাকাপি করছে।যা দেখে নীড়ের আরো লোভ লাগলো।আলতো করে ঠোঁটে কিস করলো।তারপর খুব জোরে একটা কামড় দিয়ে ছেড়ে দিলো।
নেশাঃ আহহ😣
নীড়ঃ সরি জান।খুব লেগেছে তাই নাহ[নেশার ঠোঁটে হাত বুলাতে বুলাতে ]
নীড়ঃ জানো আমার ও খুব লেগেছিলো।যখন তোমাকে আকাশের সাথে দেখেছিলাম।প্লিজ পরের বার থেকে এমন করো নাহ।তুমি শুধু আমার কাছে আসবে।আর কারো নাহ। না হলে আজ যেটুকু বাকি আছে সেটুকু ও পরের বার করে ফেলবো [বলেই মুচকি হেসে নেশার কপালে কিস করে বেরিয়ে গেল রুসকালে
নীড় চুপচাপ জুস খাচ্ছে। আর দেখছে।কেননা নেশা হোটেলের অলমোস্ট সব ভেঙে ফেলেছে রাগে।কিন্তু নেশাকে থামানোর চেষ্টা করছে নাহ নীড়। কারন সে জানে এখন নেশার সামনে গেলে তাকে খুন ও করে ফেলতে পারে নেশা।সায়ান,রাফি,নিসু কেউই থামাতে পারছে নাহ নেশাকে। হঠাৎ আকাশ আসলো।আসলে সে বাইরে গেছিলো। এখন আসলো।আর এসেই দেখে সব তছনছ করে ফেলেছে নেশা।
আকাশঃ নেশা এইসব কি😟😟😟
নেশা কোন কথা বলছে নাহ শুধু ভেঙেই যাচ্ছে।আকাশ গিয়ে দৌড়ে নেশাকে জড়িয়ে ধরলো নেশাকে।
আকাশঃ জান প্লিজ ঠান্ডা হও।কি হয়েছে আমায় বল।
নেশাঃ আমায় ছাড়ুন আকাশ। ছাড়ুন [বলতে বলতে আকাশের কোলে ঢলে পড়লো ]
আকাশ নেশাকে তার দিকে ঘুরালো।।অজ্ঞান হয়ে গেছে নেশা। আকাশ তাকে কোলে করে নিয়ে রুমে চলে গেল। নেশাকে কোলে নেয়াটা নীড়ের একদম পছন্দ হলো নাহ।রাগে হাতে থাকা জুসের গ্লাস টা জোরে চেপে ধরলো।যার ফলে গ্লাস টা ভেঙে হাতে ডুকে গেল। কিন্তু নীড়ের তো সেদিকে খেয়াল নেই সে তো নেশাকে আকাশ কোলে করে নিয়ে যাচ্ছে সেদিকে তাকিয়ে আছে।সায়ান দেখলো ব্যাপার টা।
সায়ানঃ একি তোর হাত কাটলো কিভাবে।রক্ত পড়ছে তো।
নীড়ঃ ওর সাহস কি করে হলো নেশাকে কোলে নেয়ার।মেরে ফেলবো একে
সায়ানঃ মানে।এই নীড় কি বলছিস এইসব[নীড় কে ঝাকি দিয়ে]
নীড়ের হুস আসলো.সায়ানের দিকে তাকালো
নীড়ঃ কি হয়েছে?
সায়ানঃ তোর কি হয়েছে কিসব বিড়বিড় করছিস?
নীড়ঃ কিছু নাহ।
সায়ানঃ আচ্ছা। চল তোর হাতে ব্যান্ডেজ করে দেই।
নীড়ঃ লাগবে নাহ[বলে নীড় চলে গেল]।
এইদিকে
ডাক্তার এসে নেশাকে চেক করে গেল।অতিরিক্ত মেন্টাল প্রেসারের কারনে এমন হয়েছে।
ধীরে ধীরে নেশার জ্ঞান ফিরল
আকাশঃ এখন কেমন লাগছে তোমার??কিছু খাবে?অডার দেই??
নেশাঃ আমি ঠিক আছি আকাশ। আপনি শান্ত হোন।
আকাশঃ কিভাবে শান্ত হবো।তোমার কি হয়েছিল আগে বল।এমন করলে কেন? কেউ কিছু বলেছে?
নেশাঃ নাহ কেউ কিছু বলেনি।
নিসুঃ তাহলে এতো পাগলামি কেন করলি বইন।আমরা তো ভয়ই পেয়ে গেছিলাম।হোটেল তো ভেঙে পুরো গুড়ো গুড়ো করে দিয়েছিস😑
আকাশঃ এমন হোটেল দশটা ভাঙলেও কিছু হবে নাহ আমার।কিন্তু নেশা প্লিজ সত্যি করে বলো কেউ কি তোমায় কিছু বলেছে। না হলে তুমি শুধু শুধু এইভাবে রাগ করলে কেন?
নেশাঃ মনে মনে- যদি নীড়ের কথা বলি আকাশ ওকে মেরেই ফেলবে।
নেশাঃ নাহ কেউ কিছু বলে নি।আপনি সকালে নাহ বলে চলে গেছিলেন তাই রাগ উঠে গেছে😐
আকাশঃ যাস্ট এইজন্য? সকালে তোমার রুমের দরজা লক ছিলো তাই ডিস্টার্ব করিনি।তুমি তো আমায় ফোন দিলেই পারতে।।
নেশাঃ ফোন আপনিও তো দিতে পারতেন।জানেন যে রাগলে আমার মাথা ঠিক থাকে নাহ😒
আকাশঃ খানিকটা হেসে- ওকে আমার ভুল হয়ে গেসে আপনাকে বলে নাহ যেয়ে। আই এম সো সরি🙉🙉
নেশাঃ ইটস ওকে 😒।
আকাশঃ আচ্ছা তুমি বরং এখন একটু রেস্ট নাও।
নেশাঃ আকাশ আমি বাড়ি যেতে চাই।
আকাশঃ এখন?!!
নেশাঃ হুম কেন নিয়ে যাবে নাহ🥺
আকাশঃ কেন নেবো নাহ। কিন্তু কাল তো এমনিতেই চলে যাবে তো আজ কেন যেতে চাইছো?
নেশাঃ আমি যাবো মানে যাবো।এখনি যাবো।আকাশঃ তুম....নেশাঃ আকাশ আমি বলেছি যখন যাবো তখন যাবোই।তুমি নিয়ে যেতে নাহ পারলে বল আমি একাই চলে যাবো।আকাশঃ আরে নাহ।।আচ্ছা রেডি হও একটু পর বের হবো।নিসুঃ মানে কি তুই আজ কেন যাবিনেশাঃ আমার ভালো লাগছে নাহ নিসু।প্লিজ জোর করিস নাহ।নিসুঃ নাহ মানে নাহ।তুই যাবি নাহ।।তাহলে আমি ও চলে যাবোনেশাঃ নিসু পাগলামি করিস নাহ।আমি তো সাংগীত এ যাচ্ছি ই। তাহলে প্রবলেম কোথায়নিসুঃ নাহ তুই আমার বেস্টফ্রেন্ড। তুই আমায় একা রেখে যেতে পারিস নাহ😢😢😢😢নেশাঃ উফফ কি জ্বালা।তুই এখন কান্না অফ কর যাবো নাহ আমি কোথাও। হেপি।নিসুঃ হেপি নাহ মানে খুব হেপি। উম্মাহহহহ😘😘
নেশাঃ 😳😳🙊🙈আকাশঃ নেশা তোমার হাতে এগুলো কিসের দাগ??নেশাঃ নাহ কিছুর নাহ। দরজার সাথে লেগে এমন হয়ে গেছে [আসলে নীড় যে ওইসময় নেশার হাত চেপে ধরেছিলো তখন এমন দাগ হয়ে গেছে ]আকাশঃ দরজার সাথে লাগলো কিভাবে🤨নেশাঃ উফফ তুমি অফ করবা তোমার এই জেরা।আমি একজন অসুস্থ মানুষ কই একটু রেস্ট নিবো নাহ খালি প্রশ্ন আর প্রশ্ন। বিরক্তকর
আকাশঃ ওকে ওকে সরি তুমিচলবে
বিড়ালচোখী
#বিড়ালচোখী
পর্ব-১৬
হুমায়রা, ইপ্সিতা আর সোনিয়া তিনজন মিলে কথা বলায় ব্যস্ত থাকে আর শোভন আয়াত নিজেদের মধ্যে কথা বলে।
কথা বলার এক পর্যায়ে হুমায়রা কে বলে,
"আচ্ছা আপু, এই ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কাঠফাটা রোদে যেখানে দম নেওয়াটাই একরকম মুশকিল হয়ে দাড়িয়েছে, সেখানে গায়ে এত বিশাল বোরখা জড়িয়ে রেখেছ, আচ্ছা তোমার গরম লাগে না?"
,
"লাগে আপু। লাগবে না কেন? আমিও তো রক্ত মাংসে গড়া মানুষ। কিন্তু দুনিয়ার আগুনের প্রখরতার চেয়েও ৭০ গুন বেশি উত্তপ্ত হচ্ছে জাহান্নামের কালো আগুন। সেই গরমের তুলনায় এই গরম এমন আর কি বলো? বেপর্দা নারীদের জাহান্নামের আগুনের নিক্ষেপ করা হবে। জাহান্নামের সেই ভয়াবহতার কথা মনে পড়লে আমি কেপে উঠি। আর এই ভয় আমাকে বেপর্দা হতে উৎসাহিত করে না। সেই ভয়ই পরবর্তীতে এক পর্যায়ে আল্লাহর প্রতি আমার ভালবাসায় রুপ নেয়। এখন ৩৫ ডিগ্রি কেন, এর দিগুন তিনগুন তাপমাত্রা থাকলেও তার উত্তপ্ততা আমাকে আল্লাহর হুকুম থেকে দূরে করতে পারবে না।
একটি হাদিস বলি শুনো,
আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:
«نَارُكُمْ جُزْءٌ مِنْ سَبْعِينَ جُزْءًا مِنْ نَارِ جَهَنَّمَ»، قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ كَانَتْ لَكَافِيَةً قَالَ: «فُضِّلَتْ عَلَيْهِنَّ بِتِسْعَةٍ وَسِتِّينَ جُزْءًا كُلُّهُنَّ مِثْلُ حَرِّهَا»
“তোমাদের দুনিয়ার আগুন, জাহান্নামের আগুনের ৭০ ভাগের ১ ভাগ। তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, এটা কি যথেষ্ট নয়? তিনি উত্তরে বলেন: এর সাথে আরো ৬৯ গুন যোগ করা হবে এবং প্রত্যেকটির গুণ এ আগুনের মতো।” (বুখারী, ৩২৬৫ ও মুসলিম, ২৮৪৩)
ইপ্সিতা হুমায়রার বলা কথা শুনে চুপ হয়ে যায়। ও তো পর্দা করে না, আর এত গভীর ভাবে কখনো ভাবেও নি এটা নিয়ে। ভাবতে যেয়ে ওর মন খারাপ হয়ে যায়।
সোনিয়াও পর্দা করে, বাট ফুল না তাই ওর ও খারাপ লাগা শুরু করে।
হুমায়রা হয়ত বুঝতে পারে তাই ওদের দুজনকে স্বাভাবিক করার জন্য অন্য টপিকস এ কথা বলা শুরু করেট্রাকে খুব ইজিলি উঠে যায় আরাফ, সমস্যা হয় যখন আয়েশা উঠবে, বোরকা পড়া আর একদিকে উঁচু, কীভাবে কি করবে বুঝতে পারতেছিল না আয়েশা। আরাফও ব্যাপারটা বুঝতে পেরে কি করবে ভাবতে থাকে, ভেবে কিছু যখন পায় না তখন পাশের একটা দোকানে টুল রাখা দেখতে পায়।"আপনি এটার উপর দাঁড়িয়ে উপরে উঠুন। তাহলে সমস্যা হবে না"বাট পড়ে গেলে।"আচ্ছা আমি দেখছি।"আরাফ নিজে ট্রাকে উঠে হাত বাড়িয়ে দেয় আয়েশার দিকে। "জানি আপনার আনইজি লাগবে বাট এছাড়া তো উপায় নেই।আমি পারব, আপনার চিন্তা করতে হবে না।" আয়েশা বলল।আরাফ আয়েশার কথা শুনে নিচে নেমে এসে দাঁড়ায়। আয়েশা একা উঠতে যায়, অনেক ট্রাই করার পর যখনই উঠবে তখনই বোরকায় পা আটকে পড়ে যেতে নেয়, সাথে সাথে পিছন থেকে ধরে ফেলে আরাফ। ঘটনার আকস্মিকতায় আয়েশা ফ্রীজড হয়ে যায়।অনেক সময় চুপ করে ওভাবেই থাকে আয়েশা, আর আরাফ মিটমিট করে হাসতে থাকে।যখন আয়েশা স্বাভাবিক হয় তখন তাড়াহুরো করে নামতে যায়আস্তে আস্তে নামুন আয়েশা, নাহলে পড়ে যাবেন।", ""ধন্যবাদ মি.আরাফ, আপনি না থাকলে তো নিচেই পড়ে যেতাম।" নিচে নেমে বলল।"আগেই তো বললাম, আমার হাত ধরে উঠুন, শুনেন নি।"আয়েশা চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে, তারপর অনেক ভেবে রাজী হয়ে যায়।এশা আকাশপথে করেই চলে আসে, তাই সবার আগেই পৌঁছে যায় সিলেটে। হোটেলে রুম বুকিং করে ফ্রেশ হয়ে ভাবতে থাকে আরাফের সাথে কি করে দেখা করবে কারণ আরাফ কোথায় উঠবে, কি করবে কিছুই ওর জানা নেই। "আরাফ তো ফেবুতেও ওতো এক্টিভ না যে সেখানে কোন আপডেট পাবো। এসে তো পড়লাম ভালো মত কিছু না জেনে, এখন যে কি করব! আয়াত ইপ্সিতার ফেবুতেও তো কিছু থাকতে পারে।"ভেবেই একটা শয়তানি হাসি দেয়।
.
আয়াতরা দীর্ঘ ৭-৮ ঘন্টা জার্নির পর সিলেটে এসে পৌঁছায়। আয়াত আরাফকে ফোন দিয়ে কোন হোটেলে রুম বুক করা আর কার নামে তা জেনে নেয়।
"আপনার ভাইয়া কে একটু জিঞ্জাসা করবেন যে তারা কতদূর আসছে? " পাশ থেকে হুমায়রা বলে উঠল।
হুমায়রার কন্ঠ শুনে সেদিকে ভ্রু কুঁচকে তাকায় আয়াত।
,
"কি রে ভাইয়া, হুমায়রা আপু যা বলল সেটা না করে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?" ইপ্সিতা আয়াতকে উদ্দেশ্য করে বলল।
,
"তোমার ভাইয়ার তো আমার কথা শুনলে জ্বর উঠে যাবে।"
হুমায়রার কথায় আয়াত চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে থাকে আর ওদের কাছ থেকে দূরে যেয়ে কথা শেষ করে আবার ওদের কাছে এসে দাঁড়ায়।
"মিস চাশমিস, তোমার সমস্যা কী হা? সবসময় ঝগড়া করার মুডে থাকো। তোমার নাম হুমায়রা না রেখে ঝগড়াটে রাখা উচিত ছিল, সেটাই তোমার সাথে যায়।"
,
"আপনি আমাকে তুমি করে বলছেন কেন? আপনাকে কখন বললাম আমাকে তুমি করে বলতে? ফাজিল কোথাকার, ম্যাএসব নিয়ে পরে কথা বলা যাবে, অনেক ক্লান্ত তো সবাই, আমরা আগে হোটেলে যেয়ে ফ্রেশ হয়ে নি, তারপর না হয় ঝগড়া করা যাবে হা।"
ইপ্সিতার জন্য ঝগড়াটা ও পর্যন্তই দীর্ঘ হয়। ওরা হোটেলের দিকে যখন রওনা হয় তখন সোনিয়া ইপ্সিতা কে ডাক দেয়।
"এই ইপ্সি, আয়াত আর হুমায়রা এত ঝগড়া কেন করে রে? ওরা দুজনকে কী আগে থেকেই চেনে?"
,
"আপু অনেক কাহিনী, সময় করে বলব।"
.
ট্রাকটা মালবাহী ছিল তাই বেশী জায়গা ছিল না খালি, তবুও আয়েশা আর আরাফ অনেকটা দূরত্ব নিয়ে বসে ছিল। আয়েশা ফোন হাতে নিল হুমায়রা কে কল দেওয়ার জন্য বাট দেখল ফোনের চার্জ শেষ হয়ে ফোন অফ হয়ে আছে, যদিও তখন আরাফ আয়াতকে বলে দিয়েছে ওদের যেতে হয়ত একটু লেইট হতে পারে তাই ফোন না দিলেও সমস্যা নেই। তবুও ভাবছিল একটু হুমায়রার সাথে কথা বলে ও কি করছে সেটা জানা যেত। ওখানে ওর চেনা তো শুধু সোনিয়া ই আছে বাট সোনিয়ার সাথে তো আবার শোভন আছে তাই একটু চিন্তা হচ্ছে ।
"আপনার সমস্যা হচ্ছে না তো আয়েশা?" আরাফের ডাকে ভাবনার জগৎ থেকে ফিরে আসে আয়েশা।
,
"কিছু বললেন মি.আরাফ?"
,
"বললাম আপনার এভাবে যেতে সমস্যা হচ্ছে না তো?"
,
"না, ভালোই লাগতেছে আমার, প্রথম এরকম জার্নি করতেছি, অন্যরকম অনুভূতি, যেমন মাথার উপর খোলা আকাশ, প্রাকৃতিক স্নিগ্ধ বাতাস, সব মিলিয়ে ভালোই লাগছে। শুধু চাঁদটা মিসিং আকাশে।"
আয়েশার কথা শুনে আরাফের চোখ কপালে উঠে যায়, আয়েশা যে এরকম কিছু ভাববে ও তা ভাবে নি। ও ভাবছে হয়ত আয়েশার খারাপ লাগবে। আরাফ হেসে দেয়।
"আর একটা কথা বলি?" আরাফ জিঞ্জাসা করল।
,
"জ্বী, শিওর।"
,
"আপনার বৃষ্টি কেমন লাগে? না মানে আকাশে মেঘ দেখা যাচ্ছে, হয়ত বৃষ্টি আসবে।" আরাফ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল।
,
"অনেক ভালো লাগে। বৃষ্টিকে অনেক কাছের মনে হয়। আর তাছাড়া আল্লাহ্ তা'আলা যখন অনেক খুশি হন তখন বৃষ্টি প্রবাহিত করেন পৃথিবীতে। জানেন আমার মন খারাপ থাকলে বৃষ্টি দেখলে মন ভালো হয়ে যায়।"
,
"হুমম বুঝলাম, বৃষ্টি আপনার অনেক পছন্দের। তার মানে এখন বৃষ্টি হলে আপনার খুব ভালো লাগবে? আকাশে তো ভালোই মেঘ জমেছে।" আরাফ আধশোয়া অবস্থায় বলল।
,
"খারাপ লাগবে না বাট ভালো ও লাগবে না। একটা অড সিচ্যুয়েশন তৈরী হবে, বাহিরে তো।"
আরাফ ভাবল আসলেই একটা অড সিচ্যুয়েশন তৈরী হবে, আরাফ আরও একটা জিনিস খেয়াল করল, তা হল আয়েশা ওর সাথে ফ্রী হচ্ছে দিন দিন যা আরাফের কাছে ভালো লাগল।
"মি. আরাফ আপনার বৃষ্টি কেমন লাগে? বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগে?" আয়েশা নিজ থেকে প্রশ্ন করায় আরাফের প্রচন্ড ভালো লাগা কাজ করে।
,
"আমার বৃষ্টি দেখতে খুব ভালো লাগে, ভিজতেও ইচ্ছে করে।"
,
"ভিজতে ইচ্ছে করে? ভেজা হয় না?"
,
"না, আসলে আমার কোল্ড অ্যালার্জি আছে তাই ঠান্ডা এগুলো এভয়েড করে চলার চেষ্টা করি।"
আয়েশা আর আরাফ এরপর চুপ করে থাকে, আরাফ আড়চোখে আয়েশা কে দেখে আর আয়েশা নিষ্পলক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।
.
এরা তিনটা রুম বুকে করে নিজেদের জন্য। এক রুম শোভন, আয়াত আর আরাফের জন্য, তিনজন ছেলে একরুমে থাকতেই পারব। আর দুইটা রুম আয়েশা, হুমায়রা, ইপ্সিতা আর সোনিয়ার জন্য। ইপ্সিতা তা শোনার পরেই হুমায়রা কে রিকোয়েস্ট করে হুমায়রা কে ওর সাথে থাকার জন্য। হুমায়রা ও না করে না কারণ আয়েশা তো কাজই করবে রুমে বসে, ওর বই গুলো থাকলে না হয়ত পড়া যেত, তাও তো নেই, ব
ভিলেন
#ভিলেন
#পার্টঃ২৮
আকাশকে না বলেই মেঘলা নিরবের কাছে চলে গেল. নিলিমাও মেঘলার পিছু পিছু গেল।
নীরবঃ এসবের কি দরকার ছিল মেঘলা... হাসপাতাল থেকে ত খাবার দিতই...
মেঘলাঃ আমি থাকতে হাসপাতালের খাবার কেন খাবে? আমি বুঝি তোমার কেউ নই..
নীরবঃ কেউ নও মানে? তুমিই তো আমার সব..আমার সবচেয়ে আপনজন।
মেঘলাঃ মানে...
নীরবঃ বাড়ে...তুমি ত আমার বউ.. ১০ টা না ৫ টা না ১ টাই বউ আমার।
কথাটা শুনে মেঘলা একটু বিচলিত হয়ে গেল।
নীরব ব্যাপার টা বুঝতে পেরে হা হা করে হেসে মেঘলাকে চিন্তা মুক্ত করার চেস্টা করতে লাগল,
নীরবঃ আরে মেঘলা কি চিন্তা করছো...??? আমি ত মজা করছিলাম আমি খুব ভাল করেই জানি, আমি হাজার চাইলেও তুমি কখনও আমার হবে না কারন তুমার মনে আকাশ বাস করে তাই আমার সেখানে কো৷ জায়গা নেই আর আমি সেখানে ঢুকতেও চাই না তোমাকে আমার ভাল লাগে এটা সত্যি কিন্তু তুমার বিরুদ্ধে গিয়ে কখনো কোন দাবি করব না তুমি আমার খুব ভাল একজন বন্ধু এর বেশি কিছু না ঠিক আছে? এবার ত একটু হাসো প্লিজ।
মেঘলাঃ এমন মজা কেউ করে আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
নীরবঃ থাক থাক আর ভয় পেতে হবে না...
মেঘলাঃ তুমি তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও তো আমাকে যেতে হবে।ভাইয়া অসুস্থ জানই তো।
নীরবঃ আচ্ছা তুমি রেখে যাও আমি খেয়ে নিব।
মেঘলাঃ রেখে যেতে হবে কেনো এখনী খেয়ে নাও না..
নীরবঃ আমি মানে... আসলে আমার হাতে ত বেন্ডেজ মেঘলা আমি কি করে খাব?
মেঘলাঃ তারমানে তুমি কাল থেকে কিছু খাও নি?
নাবিলঃ না মানে আসলে... আমার পরিচিত কেউ এখানে নেই ত তাই আর কি...তুমি রেখে যাও আমি অফিসের কোম স্টাফ কে আসতে বলি, আসলে আসলে খেয়ে নিব...
মেঘলাঃ কে কখন আসবে সেই আশায় বসে থাকবে
.???
নীরবঃ আচ্ছা দাও আমি খাচ্ছি.
হাতের বেন্ডেজ খোলার চেস্টা করতে করতে বলল নীরব...
মেঘলাঃ আরে আরে কি করছ...??
নীরবঃতুমি রান্না করেছো আর আমি সেটা খাব না তা কি করে হয় তুমি দাও আমার যত কষ্টই হোক খাব।
মেঘলাঃ আরে থামো খেতে হবে না...
নীরবঃ না না তুমি কষ্ট করে রান্না করেছো...
মেঘলাঃ তুমাকে না খায়িয়ে আমিও যাব না কিন্তু তার জন্য তোমার বেন্ডেজ খুলতে হবে না। আমার কি হাত নেই নাকি?
নীরবঃ মানে..??
মেঘলাঃ তোমাকে আমি খায়িয়ে দিব..
নীরবঃ কিন্তু...
মেঘলাঃ একটু আগেই ত বললে আমরা ভাল বন্ধু তাহলে বন্ধু কি বন্ধুকে খায়িয়ে দিতে পারে না?
নীরবঃ অবশ্যই পারে
মেঘলাঃ হুম এখন আর কথা না বাড়িয়ে খেয়ে নাও তাড়াতাড়ি।
মেঘলা নিজের হাতে নীরবকে খায়িয়ে দিল।
ততক্ষনে নিলিমা তা ফ্রেমবন্দী করতে ভুলে নি...
মেঘলা বাসায় ফিরার আগেই...নিলিমা ফিরে এলো
নিলিমা আকাশের ঘরে গেল।
নিলিমাঃ আসতে পারি..
আকাশঃ মানা করলেও আসবে জানি, তাই ভনিতা না করে যা বলার আছে বলে ফেলো
নিলমা; তুমি হেরে গিয়ে ছো আকাশ মেঘলা...
আকাশঃ আমার চোখ আছে মেঘলা যে বাইরে গিয়েছস সেটা দেখেছি. ..
নিলিমা মেঘলার আর নাবিল একটা ছবি দেখিয়ে বলক,
নিলিমাঃ কিন্তু এটা নিশ্চুই দেখ নি
..
আকাশ ছবিটা দেখে বলল তুমি এখন যাও নিলিমা..
নিলিমাঃ যা করার করে ফেলেছি বাকি টা আকাশ নিজেই করবে আজ তো তুমার কপালে দুঃখ আছে মেঘলা ভাবতে ভাবতে নিলিমা চলে গেল।
কিছুক্ষন পরেই মেঘলা চলে আসল..
মেঘলা এসেই আকাশের ঘরে গেল...
আকাশ চুপচাপ বসে আছে...
মেঘলাঃ তুই বসে আছিস কেন ভাইয়া ডাক্তার তোকে বেড রেস্টে থাকতে বলেছে...
আকাশ খুব শান্তভাবে বলল সেটা তোর না ভাবলেও চলবে...
মেঘলাঃ কিছু কি হয়েছে...??
আকাশঃ না কিছু হয় নি তুই এখান থেকে যা মেঘলা
মেঘলাঃ তোর মন খারাপ কেন..??
আকাশঃ ক্ষুদা পেয়েছে তাই,
মেঘলাঃ আমি এখনী খাবার নিয়ে আসছি।
মেঘলা গিয়ে খাবার নিয়ে আসল...
আকাশঃ খায়িয়ে দে...
মেঘলাঃ তুই আমার হাতে খাবি...
আকাশঃ এক কথা বারবার বলি না আমি খায়য়ে দিতে না চাইলে যেতে পারিস জোর করব না।
মেঘলাঃ কেন দিব না অবশ্যই দিব এই নে খা...
আকাশ মেঘলার দিকে তাকিয়ে খাবার টা মুখে নিল..
মেঘলাঃ এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন..??
কথাটা বলার সাথে সাথেই আকাশ মেঘলার হাতে কামড় বসিয়ে দিল...
মেঘলাঃ আহ... কি করছিস আমার লাগছে ত ছাড় ভাইয়া...
আকাশের কানে যেন মেঘলার কথ ঢুকছে না।সে হাতে কামড় দিয়ে ধরে আছে...
মেঘলা ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে কেঁদে দিল।আকাশ এবার হাত টা ছেড়ে বলল,আমার ঘর থেকে বের হ
..আর কখনো আমার ঘরে আসবি না আমি তোর মুখ দেখতে চাইনা।
মেঘলা আকাশের আচারনে অবাক হল হাতে প্রচুর ব্যাথা হচ্ছে তবুও সে ব্যাথা যেন মেঘলাকে ছুতে পারল না কারন সে আকাশের চিন্তায় ব্যাস্ত।
আকাশ মেঘলার ধ্যান ভাংগিয়ে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল...
সেই থেকে আকাশ মেঘলার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে...মেঘলা অনেক চেষ্টা করেও কথা বলতে পারল না...
কেটে গেছে অনেক গুলি দিন নীরব ততদনে সুস্থ হয়ে গিয়েছে আকাশের হাত ও ভাল হয়ে গিয়েছে কিন্তু আকাশ মেঘলার সাথে কথা বলে নি।এই কয় দিনে ভিলের কথা ভুলেই গিয়েছে,
প্রতিদিনের মত মেঘলা আজও নির্ভয়ে ঘুমিয়েছিল,
এর মধ্যে সেই ভিলেনেরও আগমন ঘটে নি কোনদিন।
তবে আজকের ব্যাপার টা প্রতিদিনের মত ঘটল না মেঘলা ঘুমাচ্ছিল হঠাৎ কেউ মেঘলাকে টেনে তুলল।
মেঘলা ঘুম ঘুম অবস্থায় ঠিক বুঝতে পারল না কি হচ্ছে।চোখ খুলে কিছু বোঝার আগেই ছেলেটি মেঘলার মুখ আর হাত বেঁধে দিল।
ছেলেটিঃ ছটফট করে লাভ নেই এর আগেও নিয়ে গিয়েছি এবারো নিয়ে যাব বাঁধা দেয়ার চেস্টা করে নিজের কষ্ট বাড়িও না।কথার অবাধ্যতা আমার পছন্দ না।বলেই ছেলেটি মেঘলাকে কোলে তুলে নিল।
মেঘলা কিছু বলতে পারছে না কিছু করতেও পারছে না। শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখ দেখছে,
ছেলেটি মেঘলাকে কোলে নিয়ে নির্ভয়ে বাসার মেইন দরজা দিয়ে বের হল...
মেঘলাঃ এর ভাব ভংগী দেখে ত কোনভাবেই মনে হচ্ছে না যে তার মনে কোন প্রকার ভয় আছে..
কারোর বাসায় এসে এভাবে কি করে এসব করছে? তাকে কেউ দেখে ফেলার ভয়ও কি করে না? এত নির্ভয়ে বাইরের কেউ কি বাসায় ঢুকতে পারবে তাও একটা মেয়েকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে এত সাহস..?? তাহলে কি ও কি আমার বাসারেই কেউ?
ছেলেটি মেঘলাকে নিয়ে গাড়িতে বসিয়ে দিল...
মেঘলাঃ এবার ছটফট করছে...
ছেলেটিঃউফফ শুরু করে দিলে?আচ্ছা খুলে দিচ্ছি কি বলবে বলো...
ছেলিটি মেঘলাকে সীট বেল্ট পড়িয়ে দিয়ে মুখ খুলে দিল তবে হাত বাঁধা..
মেঘলাঃ আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ছাড়ুন বলছি আমি কিন্তু চেঁঁচাব...
ছেলেটিঃ আমাকে ভয় দেখাতে চাইছ ব্যাপার টা হাস্যকর।
ছেকেটি ড্রাইভ করছে মেঘলা বাঁচাও বাঁচাও বমে চেঁচাচ্ছে কিন্তু গাড়ির গ্লাসে জন্য আওয়াজ বাইরে বের হচ্ছে না।
।
।
।
চলবে..!!!
(আজকে পার্ট দিতে চাই নি কিন্তু অনেকেই রিকুয়েষ্ট করেছেন তাই দিয়েছি কি লিখেছি নিজেই জানি না তাই আজ ভুল ধরে বা পর্ব ছোট বলে লজ্জা দিবেন না প্লিজ)
Devil husband
Devil Husband💗
part_16
_সিনহা গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়
ইমরান সিনহার হাত ধরে সিড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে একটা নার্সকে জিজ্ঞেস করে ঐ ছেলেগুলো কোন কেবিনে
সিনহা কিছু বলছে না শুধু ইমরানের কাজকর্ম দেখছে
ইমরান সিনহাকে নিয়ে একটা কেবিনে প্রবেশ করে,কেবিনে প্রবেশ করেই সিনহার চোখ কপালে
সিনহা অবাক হতবাক
সিনহা নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছে না
যেসব ছেলেগুলো সিনহাকে ডিস্টার্ব করতো তাদের পুরো হাত পায়ে ব্যান্ডেজ করা
যে ছেলেটা সিনহাকে হুমকি দিয়েছে
সেই ছেলের হাত পা কপালে গালে সব জায়গায় ব্যান্ডেজ, দেখে বুঝা যাচ্ছে গনধলায় এর উপর দিয়ে গেছে
সিনহা ভয় সাথে অবাক দৃষ্টিতে ইমরানের দিকে তাকায়
_তোমাকে যে ছেলেটা হুমকি দিয়েছে,তাকে তোমার জুতা দিয়ে ঠাস ঠাস করে দুইটা থাপ্পড় মারো
সিনহা ইমরানের কথা শুনে অবাক হয়,এই ছেলে তো এমনিতেই আধমরা হয়ে আছে,একে আর কি মারবো
সিনহা ইমরানকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইমরান বলল
_ভুলেও মাফ করে দেওয়ার কথা বলবে না,ওরে জুতা দিয়ে মারতে বলছি মারো নাহলে সেই জুতার বারি তুমি খাবে(রাগী সুরে)
(শালারপুত ডেভিল বলে কী,আমাকে নাকি জুতা দিয়ে মারবে
না ভাই আমি জুতার বারি খেতে পারবো না, মান ইজ্জতের ব্যাপার
তার থেকে এই ছেলেটাকেই মেরে দি)
_কি হলো মারো(ধমক দিয়ে)
-মারছি তো,ধমক দেওয়ার কী আছে আজব
সিনহা তার জুতা হাতে নিয়ে ছেলেটার কাছে আসে
ছেলেটাকে ফিসফিস করে বলে
_কীরে ভাই তুই না আমাকে ভালোবাসবি,এখন দেখি কেবিনে শুয়ে আছিস,এটাই বুঝি তোর ভালোবাসা,ধিক্কার জানাই তোর ভালোবাসাকে
সিনহা বিসমিল্লাহ বলে জুতা দিয়ে ঠাস ঠাস করে ছেলেটার গাল বরাবর দুইটা থাপ্পড় মারে
সাথে সাথে গাল দিয়ে টুপটুপ করে রক্ত পড়া শুরু হয়ে গেলে
সিনহা এসে ইমরানের সামনে দাঁড়ায়
-রক্ত পড়ছে তো
_পড়ুক সমস্যা নাই,কিন্তু বাব্বাহ,তোমার শরীরে দেখি অনেক শক্তি
-হি
সিনহা সরাসরি ইমরানকে কিছু বলে না কিন্তু মনে মনে ঠিকি বলে, কচুর শক্তি আছে আমার
যেদিন এক লাত্থি দিয়ে তোরে উগান্ডায় পাঠাবো,সেদিন মনে করবো আমার শক্তি আছে
-চলো যাওয়া যাক
_আই Have এ Deep প্রশ্ন
_তো এতো ঢং করার কি আছে
তুমি ইংরেজি পারো সেটা বললেই হই
_আরে মিয়া রাখেন এইসব
ছেলেগুলোকে কেনো মারছেন আগে সেটা বলেন
_আমার তো বক্সিং খেলার অনেক শখ,তাই এদেরকে মেরে রিয়ের্সাল করছি(রাগী সুরে)
_আবে হালা চেতস কা(সিনহা মুখ হাত দিয়ে ফেলে,মুখ ফসকে ও কি বলে ফেলল ইমরানকে)
_কীই আমি হালা,আবার তুই করেও বলা হচ্ছে(রাগী সুরে)
_আপনাকে বলি নাই,সত্যি
_তো কাকে বলছো
_আমাকে,হিহি
-আসলেই তুমি একটা হালা
সিনহা এই কথা শুনে রাগে ফসফস করতেছে
(শালারপুত ডেভিলের বাচ্চা তোর মুখে জুতার বাড়ি😠)
_চলো যাই
-হাটেন আসতেছি
ইমরান হাটা ধরলো,সিনহা ছেলেটার কাছে এসে বলল
_ভাইরে ভাই ডেভিলটা খুবি ভয়ংকর
ভুলেও আর আমার আশেপাশে ঘুরঘুর করস না,নাহলে পরেরবার মেরে মাঠি চাপা দিয়ে দিবে.
চলবে.
(সিনহার সাহস বাড়তেছে,বিয়ে হতে না হতে এই অবস্থা.
:আবে হালা চেতস কা😂)
গল্পটা ভালবাসার
#গল্পটা_ভালোবাসার💞💞💞
#সিজন_2
#পর্বঃ৩৪
"মিষ্টি মা আমাকে একটু হেল্প কর না। সকাল থেকে দুইটা কি যে সাজতাছে কে জানে। আমাদের একটু হেল্প কর না তুই। "
"মা আমি কি হেল্প করবো। তোমরা আস্তে আস্তে করো।"
আসলে আসার পর থেকে সিমা রোদের আশেপাশেই ঘুরঘুর করছে। তাই আমি ও সবসময় রোদের সাথেই ছিলাম কিন্তু এখন মা আমাকে কাজ করতে বলছে এবার কি হবে? এবার তো সিমা রোদের সাথেই আরো বেশি করে মিশে থাকবে। আর রোদ বান্দরটা ও কিছুই বলবে না। অসহ্য।,,,,,
মা আমাকে কাজ দিয়ে বসিয়ে রাখছে। কিন্তু আমার মন তো ওইদিকে। কাজ কি আর হয়। কাজের বদলে অকাজ টাই বেশি করছি। তা দেখে মা আমাকে বললো,
"মিষ্টি তুই কি করছিস এতোক্ষণ ধরে। একটা কাজ দিছি এই একটা নিয়েই পড়ে আছিস। এখনো কিছুই করতে পারলি না।"
আমার মায়ের কথায় মেজাজ গরম হয়ে যাচ্ছে কিন্তু চুপ থেকে কাজটা কোন মতে করে দিয়ে চলে যেতে নিলে মা আরেকটা কাজ দিয়ে বসিয়ে রাখলো। কি একটা অবস্থা। এদিকে মাকে বলতে ও পারছি না আমি কিসের জন্য এমন করছি। অসভ্য রোদ তোরে আজকে আমি গরম পানিতে চুবামু খালি একবার বাড়ি যাইতে দে তারপর বুঝবি মজা!
সব কাজ করার পর আমি বাইরে গিয়ে দেখি সিমা শাঁকচুন্নিটা আমার রোদের সাথে সেল্ফি তুলছে। তা ও বিভিন্ন রকমের স্টাইলে। আর প্রতিটা সেল্ফিতেই রোদের গা ঘেসে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে। সিমা আবার ও রোদের গা ঘেসে সেল্ফি নিতে যায় । আমার তো রাগ এবার চরমে উঠে গেছে। তাই আমি এক দৌড়ে সিমাকে ইচ্ছা করে ধাক্কা দিয়ে রোদের পাশে দাঁড়িয়ে বলি,
"আমি ও তোমাদের সাথে সেল্ফি তুলবো। "
সিমা আমার ধাক্কা খেয়ে সোজা মাটিতে পড়ে গেছে। সাথে ওর দামী ফোনটা ও। 😂,,,,,,
রোদ সিমার পড়ে যাওয়া দেখে আমার দিকে তাকায়। তারপর জোরে জোরে হেসে দেয়। সিমা লজ্জায় চোখ মুখ লাল করে উঠে দাঁড়ায়। আর আমাকে বলে,
"এটা কি করলা তুমি?"
"ও সরি সরি। আমি তো বুঝতেই পারিনি তুমি পড়ে যাবে। আমি তো ভাবছিলাম তুমি খাম্বার মতো শক্ত করে দাঁড়িয়ে থাকবা। হাজার ধাক্কালে ও তোমাকে নড়াতে পারবো না। "
"মজা করছো আমার সাথে তুমি?"
"ইশ তোমার সাথে মজা করতে আমার বয়েই গেছে।"
"তোরে ইচ্ছা মতো পিটাইতে পারলে শান্তি পেতে পারতাম আরকি।"(মনে মনে)
"রোদ ভাইয়া তুমি হাসলা কেনো? আমাকে পড়ে যেতে দেখে তুমি আমাকে না তুলে হাসলে? "
"কি আর করবে বলো তোমার ধপাস করে পড়ে যাওয়াটা দেখে যে কেউই হাসবে। আমি তো.... "
"রোদ ভাইয়া।"
"উফঃ! বারে বারে রোদ ভাইয়া, রোদ ভাইয়া করো কেনো তুমি? রোদ ভাইয়া ছাড়া কি চোখে কিছু দেখো না তুমি? "
"😡"
"চলো সেল্ফি তুলবা না। আসো আমি ও তুলবো।"
সিমা আমার উপর রেগে গিয়ে ভিতরে চলে যায়। আর আমি রোদের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বলি,
"আপনি আসলেই লুচু।"
"কি বললা তুমি? তুমি আমাকে কি বললা?"
"কানে শুনতে পান নাই। আরেকবার বলতে হবে নাকি?"
"আমাকে তুমি লুচু বললা? "
"এইতো ভালো শুনেছেন আপনি।"
"তোমার আমাকে কোন দিকে লুচু মনে হয় হ্যাঁ।"
"সব দিক দিয়ে। সকাল থেকে দেখছি আপনি ওই সিমার সাথেই মিষ্টি মিষ্টি করে কথা বলেই যাচ্ছেন তো বলেই যাচ্ছে। শুধু আজকে সকাল না যেই দিন থেকে ওই শাঁকচুন্নিটা বাড়িতে আসছে সেই দিন থেকেই দেখে আসছি। আর আজকে তো আমি এতো সুন্দর করে সাজলাম আপনি কিছুই বললেন না। উলটা আমাকে সব মুছে ফেলতে বললেন আর ওই সিমা সাজলো তো ও খুব সুন্দর লাগছে। কেনো হ্যা কেনো? আমাকে কি কম খারাপ লাগছিলো নাকি? তারপর ওই শাঁকচুন্নি আমাকে গাইয়া বললো আর আপনি সবটা শুনলেন । কিন্তু একটু কথা ও বললেন না। এখন আবার ওই সিমা আপনার গা একেবারে ঘেসে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলো আর আপনি ও সুন্দর করে ওর সাথে পোজ নিচ্ছিলেন। তো এতো কিছুর পর লুচু বলবো না তো কি বলবো আপনাকে হ্যাঁ। "
একদমে পুরো কথাটা শেষ করি। তা দেখে রোদ বলে,
"আস্তে আস্তে। একদমে এতো কথা বললে তো দম আটকিয়ে যাবে।"
"😡"
"আচ্ছা সিমা শাঁকচুন্নি হলো কবে থেকে?"
"জানি না।"
রোদ আমার কানে কানে ফিসফিস করে বললো, "তুমি কি সিমাকে হিংসা করছো?"
"মোটেই না। আমি কেনো ওকে হিংসা করবো।"
"তাহলে সিমাকে নিয়ে তোমার এতো প্রবলেম হচ্ছে কেনো? হুম "
"আপনি না,,,আপনি,,,,আপনি আসলেই লুচু। "
বলে ওখান থেকে চলে আসি। বিয়ের কথাবার্তা সব ঠিক হয়ে গেছে। আজকেই এংগেজমেন্ট হয়ে গেছে। নিরা আর তিশা তো সেই খুশি। আর আমি ও। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ওদের বিয়েটা হয়ে যাবে সিমা ও ততো তাড়াতাড়ি চলে যাবে। আর আমি নিশ্চিন্ত হবো।
তারপর সবাই বাড়ি চলে আসি। এখানে এসে সিমা আবারো ন্যাকামি শুরু করে দিছে।
"রোদ ভাইয়া তোমাকে খুব টায়ার্ড লাগছে। তুমি রুমে যাও আমি তোমার জন্য কফি আনছি।"
"তুমি কেনো? মিষ্টি তুমি কফি নিয়ে এসো প্লিজ,,,। সিমা তুমি যাও ফ্রেশ হয়ে নাও। তোমাকে আনতে হবে না।"
"হ্যাঁ আমি এক্ষুনি যাচ্ছি। " বলে আমি কফি আনতে গেলে সিমা আমাকে আটকিয়ে বলে,
"রোদ ভাইয়া। আজকে আমি আনলে কি হয়? আমি তো কফি ভালোই বানাই। তুমি একবার আমার হাতের কফি খেয়ে দেখো তুমি আবারো খেতে চাইবে। আমি তোমার জন্য স্পেশাল কফি বানিয়ে আনছি। "
রোদ বেশি কিছু না বলে শুধু "ঠিক আছে" বলেই চলে যায়।
এদিকে আমি রাগে জ্বলে যাচ্ছি। রোদ টায়ার্ড সেটা আমার থেকে বেশি এই শাঁকচুন্নিটা খেয়াল রাখছে। অসহ্য। এখন আবার কফি ও খাওয়াতে চাচ্ছে। কতো খারাপ মেয়ে। আমি খাওয়াচ্ছি চা। দাড়া তুই,,,।
সিমা কফি বানাচ্ছে। আমি লুকিয়ে লুকিয়ে সব দেখছি। কিন্তু আমি তো ভালো কফি কিছুতেই বানাতে দিবো না। তাই ওৎ পেতে আছি। কখন সিমা একটু সরবে আর আমি কিছু একটা করবো। কিন্তু ওই অসভ্য সিমা সরছেই না। আর আমি তার জন্য সিমাকে একশো বারোটা গালি দিয়েই যাচ্ছি।
সিমা কিসের জন্য জানি রান্না ঘর থেকে বের হইছে। আর আমি সেই সুযোগে ভিতরে ঢুকে ভাবছি কি করা যায়। কিছুই মাথায় আসছে না। হাতের কাছে কফির বয়াম টা পেলাম। সাথে সাথেই কফি পাউডার অনেকগুলো মিশিয়ে দেই। আর সাথে তো লবন, চিনি সবই বেশি বেশি দিয়ে দিয়েছি। কালারটা কেমন একটা দেখাচ্ছে। এটা খেতে কি হইছে আল্লাহ্ই জানে।
ইচ্ছা করেই এটা করেছি। একবার খেলে খালি খেতেই ইচ্ছা করবে তাই না। খাওয়া এবার তোর রোদ ভাইয়াকে। বেশি করে খাক। বেশি শক হইছে তাই না তোর হাতের কফি খাওয়ার। খাও ব্যাটা রোদ। বেশি করে খাও। বউয়ের হাতের কফি না খেয়ে কাজিনের হাতে কফি খাওয়ার শকটা পূরণ করো।
সিমা আসছে তাই আমি আবার সরে গেলাম। সিমার দিকে তাকাতেই বুঝতে পারলাম ও ওর ঘরে গেছে লিপস্টিক লাগাইতে। লিপস্টিক লাগিয়ে সাজুগুজু করে রোদের রুমে যাওয়া না। আজকে তোর সাজুগুজু বের হবে অসভ্য বান্দরনী।
সিমা ঢেং ঢেং করে নাচতে নাচতে রোদের রুমে গিয়ে মিষ্টি করে একটা হাসি দিয়ে রোদকে কফিটা দেয়। রোদ একটা থ্যাংকস দিয়ে কফিটা মুখে নিয়েই সবটা ফেলে দেয়।
"রোদ ভাইয়া ফেলে দিলে কেনো? আমি এতো কষ্ট করে বানালাম। আর তুমি খেলে না। ফেলে দিলে।"
"এটা কি বানিয়েছো সিমা তুমি?"
"কেনো কফি। আমি তো রোজ এরকম কফিই খাই। আমার কাছে তো খুবই ভালো লাগে।"
"হুম আসলেই খুব ভালো। আমি আর এই কফি খেতে চাই না। এতো ভালো কফি খেলে না আমি পাগলই হয়ে যাবো। "
" তুমি কফিটা খাবে না।"
এতোক্ষণ আমি লুকিয়ে লুকিয়ে শুনছিলাম। এখন আমি এসে বলি, "না গো। তোমার রোদ ভাইয়া তোমার স্পেশাল কফি খাবে না। ও আমার হাতের কফিই বেশি পচ্ছন্দ করে" বলে আমি রোদের দিকে আমার বানানো কফি এগিয়ে দেই।রোদ সেটা নিয়ে খাওয়া শুরু করে। আর সিমা,,,,,,,,,,
চলবে...............
Tumi cara
#তুমি_ছাড়া
৫ম ও শেষ পর্ব
লেখনীতেঃ #hasan
,
দেখতে দেখতে একমাস কেটে গেছে।এই একমাসে দানিয়া খুব হাসি খুশি কাটিয়েছে। স্বপ্নে আর কষ্ট হয়না। প্রতিরাতে কেও যেন তার একবুক অনুভূতি দানিয়াকে দিয়ে যায়। অনুভূতি গুলো জটলা করতে করতে সময়টা কিভাবে চলে গেছে দানিয়া বুঝতেই পারেনি। কিন্তু বারবার মনে হয় মানুষটা কবে আমার সামনে আসবে।
,
,
মেয়েকে ভালো থাকতে দেখে দানিয়ার মাবাবা খুব খুশি। তারা এসেছিলো দানিয়ার অতিত জানতে কিন্তু কি জানবে তারা নিজেও জানে না। অবশ্য ডক্টর মেহেরাবের সাথে ফোনে কথা বলার সময় উনি বলেন, "যার অতিত সে নিজের বের করে নিবে"।
,
ডক্টর নেহেরাবের কথা মিস্টার ওয়াহিদের বুঝতে কষ্ট হয় না। কারণ দানিয়ার অতিত দানিয়া নিজেই খুজে নেবে। তবে মেয়ের এই ভালো থাকা দেখে দেখে তারা আর চিন্তা করেন না। এমনকি সিদ্ধান্তও নিয়্র ফেলেছেন যে এখন থেকে বাংলাদেশেই থাকবেন মেয়েকে নিয়ে।
,
এই একমাসে অচেনা মানুষটাকে খুজে পাওয়ার ইচ্ছাটা যেন বেড়েই চলেছে দানিয়ার মধ্যে।
,
মেয়ের কষ্ট আর হয়না ঠিকই কিন্তু মেয়েটা দেশে আশার পর থেকেই সারাদিন হাসি খুশি থাকলেও সকাল বেলা যেন খুব উদাসীন থাকে।
,
মিস্টার ওয়াহিদ নিজে তো আর মেয়ের সাথে এই বিষয়ে কথা বলতে পারেন না তাই স্ত্রীকে দায়িত্ব দিলেন।
,
দানিয়া ছোট্ট বাচ্চার মত করে মায়ের কোলে চুপটি করে শুয়ে আছে। মা মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
,
-আচ্ছা দানিয়া মা, তোকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো?
,
- পারমিশন নেওয়ার কি আছে মা জিজ্ঞাসা করোতো!
,
-না মানে বাংলাদেশে আসার পর থেকে তোকে খুব হাসিখুশিই দেখেছি। শুধু মাত্র সকাল্টা ছাড়া।
,
দানিয়া শুয়ে থাকা অবস্থায় মাকে জড়িয়ে ধরে,
-জানো মা, সারা রাত টা আমি খুব মজাই মজাই কাটাই। ভালবাসার মানুষটার হাত ধরে ঘুরে বেড়ানো, তার কাধে মাথা রেখে তার পাশে বসে তার বলা কিছু কবিতার লাইন শুনে নিজেকে হারিয়ে ফেলা। এভাবেই রাতটা কাটে কিন্তু সকাল হলেই যখন বুঝতে পারি মানুষটা একটা ভ্রম তখন মনটা খারাপ হয়ে যায়।
,
দানিয়া মায়ের সাথে খুব ফ্রি তাই নিজের মনের অনুভূতিগুলো মাকে জানিয়ে দেয়।
,
-কিন্তু তুই যাকে স্বপ্ন দেখে ভালোবেসেছিস তার অস্তিত্ব তো নাও থাকতে পারে।
,
-জানো মা কেন জানি মনে হয়। সে আসবে আমার জীবনে। বার বার একটা কথায় বলে আগের বার ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারিনি। কিন্তু এবার সে আমাকে তার মনের ভাষা জানাবেই।
,
- একটা স্বপ্ন নিয়ে এভাবে পড়ে থাকিস না মা।
,
- মা এটা কোনো স্বপ্ন না। স্বপ্ন তো মানুষ ভুলে যায় কিন্তু এই অনুভূতি গুলো এমন যে আমার মনে গিথে আছে। আমি কোনো ভাবেই ভুলতে পারিনা।
,
মিসেস ওয়াহিদ মেয়ের সাথে আর তর্কে জড়ালেন না। যায়হোক মেয়েটা ভালো তবে আছে এটাই শান্তি।
এভাবে আরো কয়েকদিন চলে যায়। দানিয়ার সাথে অনেকেরই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। তার মধ্যে রায়মা,রিয়া,তানিয়া জানের দোস্ত হয়ে উঠেছে।
,
দানিয়া একদিন বাসায় ফিরে মাবাবাকে জানায় যে সে সিলেট বেড়াতে যেতে চায়। মাবাবা প্রথমে রাজি না হলেও রিয়া এসে জোর করায় তারা রাজি না হয়ে পারে না। তাছাড়া মেয়েটা একটু ঘুরতে গেলে স্বপ্ন ওসব আজগুবি চিন্তাও হয়তো ভুলতে পারবে। তাই তারা রাজি হয়ে যায়।
,
কালকেই সিলেট যাবে। কিন্তু কোনো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করবে না। তানিয়া নিজেদের প্রাইভেট কার নিবে যাওয়ার জন্য। কারণ চারজন যাওয়ার এটাই পারফেক্ট উপায়। সাথে আশে পাশের পরিবেশ কে উপলব্ধি করতে পারবে।
,
পরদিন সকালে মাবাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রায়মা,রিয়া,তানিয়া, আর দানিয়া সিলেটের উদ্দেশ্যে বের হয়।
,
পথমধ্যে,
দানিয়া রিয়াকে জিজ্ঞাসা করে,
- আচ্ছা আমরা সিলেটের কোথায় যাচ্ছি সেটাতো জানালি না?
,
রিয়া- তানিয়ার মামার বাসা সেখানেই যাচ্ছি আমরা।
,
-জায়গাটার নাম কি?
,
রায়মা বলল- কেন শ্বশুর বাড়ি বানাবি নাকি? জায়গার নাম শোনার এতো ইচ্ছা কেন?
,
-আরে না এমনিতেই জিজ্ঞাসা করছি।
,
তানিয়া- বিজয় নগর।
,
-হোয়াট।
দানিয়া একরকম চিল্লে কথাটা বললো।
,
-কি ব্যপার তুই এতো অবাক হলি কেন? চিনিস নাকি জায়গাটা?
সবাই একসাথে জিজ্ঞাসা করলো।
,
-না মানে, কিছু না এমনিতেই বললাম।
দানিয়ার মাথা ভনভন করতে লাগলো। বিজয়নগর নামটা তো আগেও শুনেছে। সেই স্বপ্ন! রিতু রিমনের গন্তব্য! কিন্তু কেও সেখানে যাতে পারে না যাওয়ার আগেই মরে যায়।
,
রাস্তার মাঝে হঠাৎ গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়।
চারজন মিলে জোগেজাগে গাড়িটা ধাক্কা দিয়ে রাস্তার ধারে নিয়ে যায়। এখন কি করবে তারা ভেবে পায়না।
,
তাই তারা সিদ্ধান্ত নেয় কারো কাছথেকে হেল্প চাইবে। হঠাৎ রাস্তায় দিয়ে একটা ইস্কর্পিয়ন কার আসতে দেখে। তারা ইশারা করে যে তাদের হেল্প লাগবে?
,
গাড়িটা ওদের সামনেই রাখে। ৫০ এর কাছাকাছি বয়সের একজনকে বের হতে দেখে সবাই কিন্তু দানিয়া ফেইসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকায় লোকটার দিকে তাকানো হয়না।
,
-এনি প্রব্লেম?
,
-আসলে আংকেল আমাদের গাড়িটা নষ্ট হয়ে গেছে এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা।
,
-আচ্ছা, তোমরা আমার সাথে চলো। সামনেই গ্যারেজ আছে ওখান থেকে মিস্ত্রি নিয়ে আসা যাবে।
,
-আপনি যদি একটু গিয়ে মিস্ত্রিকে খবর দিতেন খুব উপকার হতো।
,
-তা দেব। কিন্তু জায়গাটা ভালো না। তোমরা গাড়িতে ওঠো। মিস্ত্রি এসে ঠিক করে গ্যারেজে নিয়ে গেলে তোমাদের গাড়িও পেয়ে গেলে নিজেরাও সুরক্ষিত থাকলে।
,
লোকটার কথা শুনে সবাই ভরসা পায়। তারা গাড়িতে উঠতে গিয়ে দেখে দানিয়া এখনও দাড়িয়ে আছে। ফেইসবুক নিয়ে ব্যস্ত।
তাই রিয়া দানিয়া নাম ধরার আগেই,
লোকটা বলে বলে,
-রিতু গাড়িতে এসে বসো।
,
বারবার রিতু নামটা শুনে রিতু এবার সত্যিই মনে হচ্ছে যে তার পুনর্জন্ম এটা। তার মানে স্বপ্ন অদেখা সেই মানুষটাই আগের জন্মের রিমন? রিমন আর সেই কবিটা যদি একজনই হয় তাহলে কেন একজনের চেহারা ইস্পষ্ট দেখা যায় আর আরেকজনের আবছা?
,
-দানিয়া ওর নাম। (রিয়া লোকোটাকে বলল)
,
এবার দানিয়া লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ মুখ ফসকে বলে ফেলল,
-আমান ভাইয়া?
,
রায়মা,রিয়া, তানিয়া দানিতার মুখে নামটা শুনে অবাক হয়ে যায়।
,
সবাই একসাথে জিজ্ঞাসা করে,
-তুই ওনাকে আগে থেকেই চিনিস?
,
লোকটা বলে- না ও আমাকে কিভাবে চিনবে।হয়তো পরিচিত কারো নাম আমান আর তার চেহারার সাথে আমার মিল পেয়েছে। তাই হয়তো আমাকে আমান ভাইয়া বলেছে।
,
সবাই গাড়িতে বসে আছে। দানিয়ার এখন সব পরিষ্কার যে তার দেখা স্বপ্নগুলো ছিলো তার আগের জন্মের।
,
হঠাৎ সামনে থেকে একটা বড় ট্রাক আসতে থাকে।
,
দানিয়া গাড়িটাকে দেখে চমকে ওঠে। যেন আগেত বারের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে। লোকটা গাড়ি সাইড করার আগেই বড় গাড়িটা এসে ধাক্কা দিয়ে দেই। সবাই গাড়ি থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে।
,
দানিয়ার চোখ নিভুনিভু হয়ে আসে। হঠাৎ সামনে কারো অস্তিত্ব লক্ষ্য করে।
,
যদি চলে যাও
আবার ডেকে নিবো
যদি পালিয়ে যাও
ধরে নিবো।
শুন্য আমি
তুমি ছাড়া।
থাকতে চাইনা
তুমি হীনা।
,
অজান্তেই দানিয়ার মুখ থেকে বের হয়ে যায়
,
- রিমন!!!!!!
,
-হ্যা রিমন।
কথাটা বলে রিমন দানিয়ার হাতে হাত রাখে।
,
হাতের স্পর্শ পেয়ে দানিয়ার যেন মনে হয় ও তার আগের জন্মেই ফিরে গেছে। সেই আগের জায়গায় আছে। যেখানে আগের বার নিজেদেত অনুভুতি না জানিয়ে পৃৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যেতে হয়।
তাই দানিয়া আবারো মুখ ফসকে বলে ফেলে,
-আগেরবার ভালোবাসার কথা জানাসনি আজকে তুই জানিয়ে দে। যদি আবার না বলায় হয়ে থাকে।
,
এবার আর কোনো কিছুই না বলা থাকবে না।
তোকে যতটুকু ভালোবেসেছি হাজারবার জন্ম নিলেও আমার এই ভালোবাসা শেষ হবে না। আগের বারের আর এবারের ভালোবাসা একসাথে তোর সামনে নিয়ে বলছি। আমি তোকে ভালোবাসি আমার জীবনের থেকেও তুই কি আমাকে ভালোবাসবি।
,
-ভালোবাসি রিমন। তোকে অনেক ভালোবাসা এবার আর তোকে ছাড়বো না। আমাকে ফাকি দিতে পারবিনা।
,
-তুইও তবে ফাকি দিয়েছিলি আমাকে।
,
-আর ফাকি দেবনা রিমন। সারাজীবন তোর পাশে থাকবো।
,
রিমুন মুচকি হেসে জবাব দেয়,
-সারাজীবন নারে। সারামরণ।
,
-মানে কি বলছিস তুই? আর এখন আমি কোথায়?
,
-আয় তোকে দেখাচ্ছি।
এই বলে দানিয়ার হাতটা ধরে রিমন দানিয়াকে ঊঠায়। দানিয়া দাড়িয়ে পিছন ফিরে অবাক হয়ে যায়। ওতো এখনও রাস্তায় পড়েই আছে। বাকিরা নড়াচড়া করছে কিন্তু দানিয়ার নিজের দেহটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে।
,
-সব বুঝতে পারছিস তো? আমাকে ছাড়াতো একজমন বেচে ছিলি। কিন্তু বিধাতা আমাকে আর দুনিয়ায় পাঠায়নি রে। এতো দিন পর এটাই হয়তো তার ইচ্ছা ছিলো। তুই আবার ফিরে এসেছিস। এখন থেকে সারাজীবন মরবো একসাথে। দানিয়া মরলেও নিজের ভালোবাসা ফিরপেয়েছে এটাই তার প্রাপ্তি। বেচেথেকে বলা হয়নি তো কি হয়েছে মরে গিয়ে তো বলা হল "ভালোবাসি"। দানিয়া, সরি, রিতু রিমনের কাধে মাথা রেখে আকাশের দিকে তাদের গন্তব্যে যেতে থাকে।
যাওয়ার পথে রিমন পিছন ফিরে সেই লোকটা টাকে চোখের ইশারায় বলে দেই।
,
ধন্যবাদ, আমান ভাইয়া।
,
,
,
সমাপ্ত।
,
বানান ভুল হলে মাফ করবেন।
,
বিঃদ্রঃ আমিও পুনর্জন্মে বিশ্বাসী না। এটা জাস্ট একটা গল্প। তাই বাস্তবতা দিয়ে দেখবেন না আশাকরি।
বেলী ফুলের মালা
#বেলী_ফুলের_মালা
#হাসান
#পর্ব_২২
আবির হা করে তাকিয়ে আছে.... পাগল মেয়ে নাকি? রুহীর সাথে তর্ক করে লাভ নেই, তাই কিছু না বলে বেরিয়ে গেলো....
রুহী গোসল সেরে শাশুড়ীর সাথে সময় কাটাচ্ছে.. দুই ঘন্টা পর আবিরের ফোন....
- কি করছো পাগলী...?(আবির)
- এই তো আম্মুর সাথে গল্প করি...( মলিন হাসি হেসে রুহী)
- রেডি হয়ে নাও... আমি আসছি...(আবির)
- মানে কি...? (অবাক হয়ে রুহী)
- মানে আবার কি..? বাইরে যাবো তোমার সাথে... দ্রুত রেডি হয়ে নাও... আমি আসছি....(আবির)
- ওকে.....(রুহী)
- কি রে মা..? কি হয়েছে...? (আবিরের আম্মু)
- আম্মু তোমার ছেলের ফোন, আমাকে রেডি হতে বলল.... কোথায় নাকি যাবে..... আমি এখন উঠি.....(রুহী)
- আচ্ছা, যা.....(আবিরের আম্মু)
রুহী রুমে এসে রেডি হচ্ছে, এর মাঝেই আবির হাজির.....
- তোমার হলো.…?(আবির)
- ও বাবা, এতো তাড়াতাড়ি তুমি চলে এসেছো...?(রুহী)
- হুমম আসলাম..... কাজ শেষ তাই চলে আসলাম....(আবির)
- কি কাজে গিয়েছিলে....? (চুল চিরুনী করতে করতে রুহী)
- পরে বলব, এখন তুমি তাড়াতাড়ি করো.... চুল খুলে রাখবে না কিন্তু....(আবির)
- কেন....?(রুহী)
- আমি চাই না কেউ দেখুক..... আমি যেমন দেখে অজ্ঞান হচ্ছিলাম তেমন আর কেউ না হোক...(আবির)
- ঢঙ... আমি এমনিতেই চুল খোলা রাখি না.... খোঁপা করে ফুলের মালা নিই....(রুহী)
- সেদিন যে আভার কলেজে গেলে.... আমার মেজাজ তো ওই জন্যই আরও খারাপ হয়েছিলো...(আবির)
- ওওও হিংসুক একটা..... ওই দিন তো আভা বার বার বলছিলো.... সেইজন্য গিয়েছিলাম.... (রুহী)
- হুমম.... চলো এবার....
🌺
একটা রেস্টুরেন্টে মুখোমুখি বসে আছে রুহী ও আবির... অর্ডার করা এমনকি খাওয়াও শেষ তবুও আবিরের ওঠার নাম নেই.....
- কি হলো.….? উঠবে না....?(রুহী)
- না, চুপচাপ বসে থাকো......(আবির)
- কেন....? (রুহী)
-........(আবির চুপচাপ ফেসবুকিং করে চলেছে, মেসেজিং করছে)
- আবির, আমরা কি কারও জন্য অপেক্ষা করছি....? (রুহী)
- হুমমম....(ফোনের দিকে তাকিয়েই আবির)
- কার জন্য....?(উৎসাহ নিয়ে রুহী)
- আরে বসেই থাকো না.... আসলেই দেখতে পাবে.... এতো কথা বলো কেন...?(আবির)
রুহী মুখ গম্ভীর করে বসে আছে.. ফোনটাও আনেনি.. খচ্চর সাদা বিলাই...... মনে মনে আবিরের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্দ্বার করে চলেছে রুহী.... হঠাৎ আবির বলল.....
- রুহী, তুমি উঠে ওই পাশের টেবিলে বসো...
- কেন..? ওখানে কেন বসবো...?(রুহী)
- এখন অন্তত এত কথা বলো না... প্লিজ যাও.....(আবির)
রুহী এবার আর কোনো কথা বলল না... চুপচাপ গিয়ে পাশের টেবিলে বসে পড়লো... আবিরের উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে.....
- তোকে তো আজ দেখে নেবো.. বেটা হনুমান... 😡 দেখি তোর কে এমন বিশেষ গেস্ট আসছে, যার সাথে মেসেজিং করতে গিয়ে তুই আমাকে ধমক দিস... আবার আমাকে উঠিয়ে পাশের টেবিলে বসতে বলিস....😡😡 শয়তান বেটা....(মনে মনে রুহী)
আবির এবার ফোনটা পকেটে রেখে বসে আছে... কিছুক্ষণ পর একটা লোক এলো আর আবির দাঁড়িয়ে পড়লো.....
- হাই, আমি আবির চৌধুরী..... (হ্যান্ডসেক করে আবির)
- আমি সাকিব আহমেদ...
রুহীর চোখ চড়কগাছ.... সাকিব এখানে, আবার আবিরের সাথে.... এই বজ্জাত এর জন্য আবির আমাকে ধমক দিলো.... এই উনার বন্ধু....😡
- কেমন আছেন...? (সাকিব)
- জি আলহামদুলিল্লাহ.. আপনি...?(আবির)
- অনেক ভালো.... তার উপর আপনার সাথে এভাবে দেখা হবে তা ভাবতেই পারিনি....
- তাই..(মুচকি হাসলো আবির) তো কি খাবেন...? কফি...? নাকি অন্য কিছু...? (আবির)
- কোল্ড কফি....(সাকিব)
আবির ওয়েটার ছেলেটাকে ডেকে অর্ডার করে দিলো.....
- আপনার নাম অনেক শুনেছি, কিন্তু আপনার সাথে কখনও দেখা হবে সেটা ভাবতেই পারিনি....(সাকিব)
- আমিও কখনো ভাবতেই পারিনি আপনাকে আমি এভাবে চিনবো....( ডেভিল মার্কা হাসি হেসে)
- আপনি হঠাৎ আমাকে.... এখানে... এভাবে ডাকলেন যে.....(সাকিব)
- আমার এলাকায় এতো ঘোরাঘুরি করেন, আর আমাকে চিনেন না, ব্যাপারটা কেমন হয়ে যায় না...? এইজন্যই.... (গম্ভীর গলায় আবির)
- মা মা মানে....?(ঢোক গিলে সাকিব)
- না না তেমন কিছু না (আবির)
এর মাঝে ওয়েটার কফি দিয়ে গেলো... আবির রুহীকে ইশারা করলো ওর পাশে এসে বসতে... রুহী আবিরের পাশে বসতেই আবির বলল....
- তো, পরিচয় করিয়ে দেই... এ হলো আমার ওয়াইফ... তাসফিয়া চৌধুরী রুহী...(মুচকি হেসে আবির)
রুহীকে দেখে সাকিব পুরো অবাক হয়ে গেছে... রুহী আবিরের ওয়াইফ... তবুও আবিরকে কিছু বুঝতে দিবে না ভেবে বলল....
- হায়...( কাঁপা গলায় সাকিব)
রুহী কিছু বললো না...
- আগে থেকেই চিনেন নাকি সাকিব সাহেব..?(আবির)
- না না না তো...(সাকিব)
- তাহলে তোতলাচ্ছেন কেন...?(আবির)
- ক ক কই...? (সাকিব)
- দেখুন, আমি অতো ভনিতা পছন্দ করি না.... স্ট্রেট কথা বলতে পছন্দ করি... আপনি হয়তো এবার বুঝতে পেরেছেন আমি আপনাকে কেন ডেকেছি.….?(আবির)
-............. (সাকিব চুপ)
- আপনাকে যদি নেক্সট টাইম আর রুহীর আশে পাশে দেখি, তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না.... আপনার সিনিয়র আমি, তবুও আজ সম্মান করে "আপনি" বললাম... কিন্তু তখন তুমিও নয়, তুই করে বলতে বাধ্য হবো.…...(আবির)
-..............
- আর আপনার ভাইকে ওই দেশ থেকে ফেরত এনে রিমান্ডে দেওয়ার ক্ষমতা আমার আছে... কথাটা মাথায় রাখবেন..... আমার কথা বুঝতে পেরেছেন....? (আবির)
- জি, জি.... আসলে আমি তো জানিনা রুহী আপনার ওয়াইফ......(সাকিব)
- জানতেন না আজ জানলেন.... আর যেন না হয়.....(আবির)
- না না কখনোই নয়..... আজকে তাহলে আমি উঠি.... পরে আবার কথা হবে....(সাকিব)
- আচ্ছা... আর কড়া কথা বললাম.... কিছু মনে করবেন না.... আসলে রুহী আমার জন্য সবচেয়ে বড় দূর্বলতা.…... ওর কোনো সমস্যা আমি মেনে নিতে পারি না... (মুচকি হেসে আবির)
- না না কোনো সমস্যা নেই..... আমি তাহলে আসি.....(সাকিব)
- আচ্ছা, ভালো থাকবেন.... (আবির)
- সরি রুহী... (রুহীর দিকে তাকিয়ে)
বলেই সাকিব বেরিয়ে গেলো... রুহী হা করে তাকিয়ে আছে.... একবার সাকিবের চলে যাওয়ার দিকে, আরেকবার আবিরের মুখের দিকে.....
- এই যে... হয়েছে.... আর হা করে থাকতে হবে না এবার বাসায় চলো....(তুড়ি বাজিয়ে আবির)
- হুমম চলো.....(রুহী)
- কাল থেকে নিয়মিত ক্লাস করবে....
পথে গাড়ি থামিয়ে আবির রুহীর জন্য অনেকগুলো ফুল কিনে এনে ওর হাতে দিয়ে আবার ড্রাইভিং শুরু করলো....
বাসায় পৌঁছে কলিং বেল বাজাতেই দরজা খুলে দিলো.... আবির ভিতরে চলে গেলো.. কিন্তু রুহী হা করে দাঁড়িয়ে আছে....
be continue..... 💖💖
💞 এখনও মন ভালো হয়নি.......🥺 গল্প লেখার কোনো আগ্রহ পাচ্ছি না.... 😔তাই আজ এক পর্ব দিলাম...☹ 💞
Ami sudu tmk ceyeci
#আমি_শুধু_তোমাকেই
❤🦋
#writer_hasan
#part_19
🍁
.
.
.
তিতলি সাজ্জাদের হাতে হাত রেখে পার্ক এর রাস্তা ধরে হেটে যাচ্ছে। সাজ্জাদ তো গুন গুন করে গান ও গাইছে। তা শুনে তিতলি অবাক হয়ে সাজ্জাদকে দেখছে আর লজ্জা পাচ্ছে। তিতলি নিরবতা ভেঙে বলে উঠলো,
তিতলি: কি জনাব? ভালো লাগছে না এভাবে হাটতে?(পাশে সাজ্জাদের দিকে তাকিয়ে)
সাজ্জাদ: আরে ভালো লাগবে না মানে! আমার বউ কিছু বলবে,,,, তা আমার ভালো না লেগে কই যাবে! আমার তো ইচ্ছে হচ্ছে এই সময়টা যেন থেমে যায়। যেন সারাজীবন তোমার সাথে হাটতে পারি। হাটবে তো আমার সাথে সারাজীবন?
তিতলি: উহুম না!
সাজ্জাদ:(উত্তেজিত হয়ে) কেন?
তিতলি: কারন আমার পা ব্যাথা হয়ে যাবে।(হেসে দিয়ে)
সাজ্জাদ হাফ ছেড়ে বলল,
সাজ্জাদ: ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে! তা তুমি চাইলে আমি তোমাকে কোলে নিয়েও হাটতে পারবো! চলবে?
তিতলি:(থুতনিতে আঙুল দিয়ে) ভেবে দেখতে হবে!
সাজ্জাদ হুট করে তিতলিকে কোলে তুলে নেয় আর বলে,
সাজ্জাদ: ভাবাভাবি পরে করো। এখন চলো।(মুচকি হেসে)
তিতলি সাজ্জাদের কাজে হা হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি কোল থেকে নামার জন্য ছটফট করতে থাকে আর বলে,
তিতলি: কি করছেন সাজ্জাদ? নামান আমাকে! সবাই কিভাবে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে।(আশেপাশে তাকিয়ে)
সাজ্জাদ: আই ডোন্ট কেয়ার! আর বেশি ছটফট করলে কিন্তু সবার সামনে চুমু দিয়ে দিবো। আর তুমি খুব ভালো করেই জানো আমার লজ্জা নামক জিনিসটার বড্ড অভাব।(চোখ টিপ দিয়ে)
তিতলি সাজ্জাদের কথা শুনে খুব ভালো ভাবে বুঝতে পেরেছে এখানে তার কথা খাটবে না। তাই লজ্জায় মাথা নিচু করে রেখেছে। আর সাজ্জাদ ওকে কোলে নিয়ে হাটছে।
,
,
,
,
,
,
সাজ্জাতকে তিতলি জোর করে একটা মেলায় নিয়ে গেছে। তিতলির এরকম মেলা খুব পছন্দ। সাজ্জাদ বারণ করেছিল কিন্তু তিতলি সাজ্জাদের কথা শুনে নি। তাই সাজ্জাদকেও বাধ্য হয়ে আসতে হয়েছে। মেলায় এসে তিতলি অনেক খুশি। এদিক সেদিক যাচ্ছে। সাজ্জাদ আর তিতলি একটা স্টলে ঢুকে জিনিসপত্র দেখছিল তখন সাজ্জাদের চোখ যায় তিতলির দিকে। সে খুব মনযোগ দিয়ে চুড়ি দেখছিল। সাজ্জাদ কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে,
সাজ্জাদ: কি ম্যাডাম! পছন্দ হয়েছে?
তিতলি মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলে। সেখান থেকে অনেক গুলো চুড়ি কেনে। তারপর একসাথে ফুচকা খায়। তিতলি সাজ্জাদকে নিয়ে প্রথম ফুচকা খেল! সাজ্জাদ প্রথমে খেতে চায় নি কিন্তু তিতলির জেদের কাছে হার মানতে হলো। প্রায় অনেক্ষন ঘুরাঘুরির পর সাজ্জাদ তিতলিকে নিয়ে সেই নদীর পাড়ে আসে। দুজনেই পাড়ে বসে আছে। কি সুন্দর সূর্যটা অস্ত যাচ্ছে আর তার লালিমা সাজ্জাদ আর তিতলির গায়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিকেলের মিষ্টি রোদটা তিতলির খুব প্রিয়।
হঠাৎ করে সাজ্জাদ বলে উঠলো,
সাজ্জাদ: কি সুন্দর বিকেল তাইনা?(তিতলির দিকে তাকিয়ে)
তিতলি:(নদীর দিকে সোজা তাকিয়ে) হুম! খুব সুন্দর। জানেন সাজ্জাদ যখন প্রিয় মানুষটা সাথে থাকে তখন সবকিছুই অনেক ভালো লাগে,,,মিষ্টি লাগে।(মুচকি হাসি দিয়ে) নিজেই জানি না কখন আপনার এতো কাছে চলে এলাম! প্রথমে তো আপনাকে সহ্যই হতো না।
সাজ্জাদ: হয়তো এর জন্যই একে ভালোবাসা বলে। কিন্তু আমি জানি তোমার মনে এখনো আমাকে নিয়ে অনেক কনফিউশন আছে। তা আমি ধীরেধীরে ক্লিয়ার করবো। চিন্তা করো না। আমি তোমাকে অনেক আগে থেকে জানলেও তুমি আমাকে নতুন চেনো তাই এমন মনে হচ্ছে।
তিতলি:(এক দীর্ঘ শ্বাস ফেলে) হুম।
,
,
,
সাজ্জাদ আর তিতলি কিছুক্ষন দুজনেই চুপ ছিল। নিরবতা ভেঙে সাজ্জাদ বলে উঠলো,
সাজ্জাদ: তিতলি জান! তোমাকে আমি কিছু দিতে ভুলে গেছি।(পকেটে হাত দিতে দিতে)
তিতলি ভ্রু কুচকে জিজ্ঞাসা করে কি? সাজ্জাদের হাতে একটা বক্স। ছোট বক্স,,, খুব কিউট ভাবে র্যাপিং এ মোড়া। তিতলি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালে সাজ্জাত বক্সটা খুলতে বলে। তিতলি ও বক্সটা হাতে নিয়ে খুলে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে আর মুচকি হেসে সাজ্জাদের দিকে তাকায়। তা দেখে সাজ্জাদ বলে,
সাজ্জাদ: পছন্দ হয়নি?
তিতলি:(হালকা হেসে) পছন্দ হয়েছে কিন্তু আমার তো নাক ফোঁড়ানো নেই। আমি এটা কি করে পড়বো?(ঠোট উলটে)
সাজ্জাদ: আসলে আমি বুঝতে পারিনি। তোমার জন্য কিছু গিফট আনা উচিত ছিলো। তাই ভাবলাম তোমাকে এই নোসপিনটায় খুব মানাবে,,,,,তাই এনেছি। তোমার ভালো না লাগলে আমি তোমায় অন্য কিছু উপহার কিনে দেই?
তিতলি: পরেরটা পরে! এখন যখন গিফট দিয়েছেন এটা আমি ফেরত দিবো না। এটা আমার কাছেই থাক।
সাজ্জাদ আর কিছু বলল না। হয়তো বলার মতো কিছু পায় নি। দুজনে অনেক্ষন একসাথে সময় কাটিয়ে বাসায় ফিরলো।
,
,
,
,
,
বাসায় ফিরে তিতলির চোখ চড়কগাছ! তার বাবা মা আবার ঝগড়া করছে। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাড়াতাড়ি হাতের জিনিসগুলো রেখে বাবা মায়ের কাছে গেলো। গিয়ে আগে দুইজনকে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,
তিতলি: আজ দুজন কি নিয়ে ঝগড়া করছো?(একবার বাবার দিকে তাকিয়ে, একবার মাম্মার দিকে তাকিয়ে)
বাবা: দেখ না মামনি! আমার কোন কথাই তোর মাম্মা শোনে না।
মাম্মা: একদম মিথ্যে কথা বলবে না। তুমি আমার কথা শুনছো না।
তিতলি:(হাত দিয়ে থামিয়ে) আরে আচ্ছা! আগে বলো কি নিয়ে ঝগড়া করছো।
মাম্মা: আরে আমি বলেছি বিয়েতে আমি শাড়ি পরবো,,,,,যেহেতু আমি শ্বাশুরি হতে যাচ্ছি। কিন্তু না তোর বাবা বলছে আমাকে লেহেঙ্গা পড়তে! আর উনি নাকি মাঞ্জা মেরে আসবে। আর আমাকে নিয়ে কাপল ডান্স করবে! বুড়ো বয়সে শখ কতো!
বাবা: তাতে দোষের কি আছে! তুমি চাইলে আমি তোমাকে আবার বিয়ে করে বাসরও করতে পারি,,,,,কাপল ডান্স তো কোন বিষয়ই না!(চোখ টিপ দিয়ে)
তিতলি তার বাবার কথা শুনে বিষম খেলো। আর গলা খাঁকারি দিয়ে বলতে লাগলো,
তিতলি: বাবা! আমি এখানে আছি! আর মাম্মাকে লেহেঙ্গা পড়তে বলছো! মাম্মার লেহেঙ্গা তুমি সামলাবা?
তিতাস সাহেব কিছু চিন্তা করে বললেন,
বাবা: ঠিক আছে লেহেঙ্গা পড়তে হবে না কিন্তু কাপল ডান্স করতে হবে।(জেদ ধরে)
তিতলি উপরে যেতে যেতে বলল,
তিতলি: সে তোমার আর মাম্মার বিষয়! তোমারাই সামলাও!
ব্যাস আর কি লাগে! আবার শুরু হয়ে গেলো তাদের খুনশুটিময় ঝগড়া!
তিতলি তার জিনিসগুলো নিয়ে উপরে চলে গেলো।
,
,
,
,
,
তিতলি অনেক্ষন ধরে চিন্তা ভাবনা করে কনিকাকে ফোন দিয়ে সকালে আসতে বলল।
,,
,,
,,
(চলবে),,,,
ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন।
Tor sohore love
#তোর_শহরে_ভালোবাসা 💜
পর্ব-২৫
🌸🌸
সামান্তা গার্ডেনে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে।
বাড়িতে এসে আদিবাকে রুমে রেখেই গার্ডেনে চলে আসে।একটু শান্তিমতো কেদে নিজেকে হালকা করার প্রচেষ্টায়।আদিবা তার মাম্মাকে কাদতে দেখলে নিজেও কান্নাকাটি করবে তাই ওর আড়াল হতেই গার্ডেনে চলে আসে।তারপর জোরে জোরে কাদে।কাদতে কাদতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।এখন শুধু ফুপাচ্ছে।
"আদি কেন,,?কেন আবার আমার সামনে এসে আমাকে দূর্বল করে দিলে?নিজেকে তো মজবুত করে নিয়েছিলাম।তোমার দেওয়া আঘাত নিজের বুকে দাফন করে দিয়ে নতুন করে বাচতে চেয়েছিলাম।তবে আবার কেন এত বছর পর আমার সামনে এলে?এবার কোন ঝড় নিয়ে এলে?আমাকে আবার তছনছ করতে চাইছো?আদিবা...না আদিবা আমার মেয়ে,,আমার কাছ থেকে কেউ ওকে কেড়ে নিতে পারবেনা।তুমিও না।প্লিজ আদি আর এসো না আমার জীবনে?আমার সুখ কেড়ে নিতে।এসোনা।"
"আই নিড হার এট এনি কস্ট।গট ইট?।দুদিনের মধ্যে আমার খোজ চাই।সব ডিটেইলস আমি আগেই দিয়েছি।আর কিছু প্রয়োজন হলে আমাকে জানাবেন তবে আমার খোজ চাই।"
আদি ফোন রেখে দিলো।ঢাকা ব্যাক করার সমস্ত ব্যবস্থা করে ফেলেছে।সকালেই ঢাকা ব্যাক করবে।
আদি হোটেলের বারান্দায় গিয়ে দাড়ালো।আর নিজেকে নিজেই শান্তনা দিচ্ছে।
"আদি রিলেক্স,তুই যা ভাবছিস তাই হবে।ওই ছেলেটাকে দেখে হাসব্যান্ড ভেবেছিস,,ওর সাথে ছিলো বলেই কি হাসব্যান্ড হবে?এমন ও তো হতে পারে ওর ফ্রেন্ড বা আত্মীয় স্বজন কিংবা কলিগ,প্রতিবেশী অনেক কিছুই হতে পারে।"
আবারো বলছে,
আমি সামুকে বেবির কথা বলেছিলাম।আমরা আলাদা হয়েছি প্রায় পাচ বছর।আর মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্ছে ৪বছর হবে।৪বছরের কম হবেনা।ওর নাম আদিবা।আদি,,,আদিবা।সামু বলেছিলো আমাদের মেয়ে হবে আর মেয়ের নাম আদিবা।আমার নামের সাথে মিলিয়ে নাম আদিবা।বেবিটা যদি আমার না হয় তবে ওর নাম আদিবা কেন রাখবে?অন্য নাম রাখতে পারতো।আর ওখানে যা দেখেছি সেটাও।(বালিতে সামুর লাভ সেপের লিখাটা দেখেছে।অনেকে বলেছে লিখাটা তো থাকার কথা না।ঢেউয়ে মুছে যাওয়ার কথা। তাদের বলছি যেখানে ঢেউ আছড়ে পরেছে সেখানেই যে লিখেছে তা কিন্তু বলিনি।সাগড়ের পাড়ে লিখেছে।তবে কিছুটা দূরে।ওখানে বলেই দিয়েছি আদিবার চেয়ে কিছুটা দূরে।সাগর বা নদীতে ঢেউ যেখানে আছড়ে পড়ে তার চেয়ে বেশ কিছুটা জায়গা বেশি পর্যন্ত ভেজা থাকে।আর কিছু কিছু জায়গায় বালু পানি জমে থেকে সুন্দর প্রলেপের মতো তৈরি হয়।যারা গিয়েছেন দেখেছেন।আর যেহেতু রাত হয়ে গিয়েছিলো মানুষ জন কম ছিলো তাই কেউ নষ্ট করতে পারেনি।আশা করি উত্তর পেয়ে গেছেন।)হ্যা বেবিটা আমার।আমার বেবি।হ্যা আমার, আমার।"
আদি পাগল হয়ে যাচ্ছে।বিরবির করে এক কথাই বলছে।
সামান্তা শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে কিছুতেই ঘুম আসছেনা।অস্থির অস্থির লাগছে।আদির মুখটা ভেসে উঠছে।কেমন শুখিয়ে গেছে।চেহারায় ম্যাচুয়েড ভাব এসেছে।সেই চোখ, নাক,চুল সবকিছু একি আছে।সামান্তার কেমন ভয় হতে লাগলো আদি যদি আদিবার কথা জানতে পারে আদিবাকে নিয়ে যেতে চায় তাহলে?ও আর ভাবতে পারছেনা ওর কলিজার টুকরো আদিবা।সামু আদিবার গালে চুমু দিয়ে জড়িয়ে ধরলো।
মাই সানসাইন।
আদি কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফিরেছে।অফিসের কিছু কাজ আছে সেগুলো চুকিয়ে আবার কক্সবাজার যাবে।
রাতের বেলায়-
আদির মা আদির পাশে এসে বসলো।
আদি ল্যাপটপে চোখ রেখে বললো,
--মা কিছু বলবে?
--হ্যা,এভাবে আর কতদিন?সব ভুলে আবার নতুন করে শুরু কর।অনেকের জীবনেই অনেক দূর্ঘটনা ঘটে তাই বলে জীবন থেমে থাকেনা।আমাদের বয়স হয়েছে।তোর বাবার অবস্থাও দেখছিস।আমাদের ও তো ইচ্ছে হয় তোকে সুখী দেখতে।নাতি নাতনীর মুখ দেখতে।তুই আবার বিয়ে কর।
--সামুর খবর জানো কিছু?
আদির এমন প্রশ্নে আদির মা ঘাবড়ে যায়।থমথমে মুখে বলে,
--নাহ,,সামু আর যোগাযোগ করেনি।সামুর বাবাও তোর বাবার সাথে যোগাযোগ রাখেনি।৫বছর আগেই সব শেষ হয়ে গেছে।নিশিকে একদিন ফোন করেছিলো সামু।বলেছে ওর জব হয়েছে।ও ওর লাইফে ভালো আছে।তারপর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তুই ও তোর লাইফে ভালো থাক।বিয়ে কর।
--তোমার বউ লাগবে তো?ঠিক আছে এনে দিবো।
আদির এমন কথায় আদির মা খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়ে।
--সত্যি বলছিস?
--হুম,,তবে আমি আনবো।সময় হলেই আনবো।তোমরা নিজেরা কিছু করোনা।
--ঠিক আছে তুই যা ভালো মনে করিস।তোর খুশিতেই খুশি।
--আমি আগামীকাল আবার কক্সবাজার যাচ্ছি কাজ আছে।
--আজই তো এলি
--দরকার ছিলো তাই এসেছি।কাজ বাকি আছে কক্সবাজারে।শেষ করেই চলে আসবো।শুধু দোয়া করো যে কাজে যাচ্ছি তাতে যেন সফল হই।যদি কাজটা মন মতো হয় তবে আমার সাথে সাথে তোমরাও হ্যাপি হবে।
আদির মা ছেলের কথা কিছুই বুঝতে পারলো না তবুও বললো,
অবশ্যই সফল হবি।দোয়া করি।
আদি কক্সবাজারে এসেছে সাতদিন হয়ে গেছে কিন্তু সামুর কোনো খোজ কেউ এনে দিতে পারেনি।এদিকে সামান্তাও কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়েছে যে আদি আর ওদের লাইফে ব্যাক করছেনা।
আদির রাগ হচ্ছে।আগের মতো রাগ নেই তবে আজ রাগ হচ্ছে।এতদিন হয়ে গেলো কেউ খোজ দিতে পারলো না।সামনে থাকা লোকগুলোকে উদ্দেশ্য করে বললো,
--আপনারা কি হ্যা?সাতটা দিন পার হয়ে গেলো আর আপনারা কোনো খোজ দিতে পারলেন না।আপনাদের পিছনে অযথা টাকা খরচ করছি।
হটাৎ ফোন বেজে উঠলো।আদি নিজেকে শান্ত করে স্বাভাবিক হয়ে ফোন রিসিভ করলো।
কয়েক মিনিটের মাথায় আদির মুখে হাসি ফুটে।
ফোন রেখে বললো, আই গট ইউ।
সামু অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে চুলগুলো উচু করে বেধে কফি নিয়ে বসেছে খেতে।আদিবা ঘুমিয়ে আছে।তখনই কলিং বেল বেজে উঠলো।খালা ব্যস্ত তাই সামু উঠে দরজা খোলল।দরজা খোলে ওর চোখ চড়কগাছ।শরীর কাপছে।কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে।যেন বোবা হয়ে গেছে।
দরজায় আদি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
সামু অনেক কষ্ট করে ঢুক গিলে বললো,
--তুমি এখানে?
--কি আশ্চর্য ভিতরে ঢুকতে দিবে না?এক্স হাসব্যান্ড বলে কি ভদ্রতা করবে না?
উত্তরের অপেক্ষা না করেই ভিতরে ঢুকে গেলো।
সামান্তা কিছুই বুঝতে পারছেনা।ভয়ে ওর হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।এভাবে হুট করে এখানে আসার কারণ কি সেটাও বুঝতে পারছেনা।আর ঠিকানা কোথায় পেলো।সব গুলিয়ে যাচ্ছে।
আদি পুরো ড্রয়িং রুমে চোখ বুলিয়ে সোফায় আরাম করে বসতে বসতে বললো,
নাইচ হোম।
সামান্তা হাতে হাত ঘষতে ঘষতে মিনমিন করে বললো,
এখানে কেন এসেছো?
আদি সামান্তার কথার উত্তর না দিয়ে ওর দিকে চেয়ে আছে।সামান্তার চোখে চোখ পড়তেই অস্বস্তিতে সামান্তা চোখ সরিয়ে নেয়।আদি সামুকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখছে।
পড়নে কালো প্লাজো নেবি ব্লু কালার ঢিলাঢালা হাটু অবধি জামা।গলায় ওড়না জড়ানো।চুলগুলো উচু করে হেয়ার ব্যান্ড দিয়ে বাধা।গলায় একটা চিকুন চেইন।হাত,কান খালি।আগের চেয়ে কিছুটা মোটা হয়েছে।
আদির এভাবে চুপ করে বসে থাকা মেনে নিতে না পেরে কিছুটা জোরেই বললো,
--কি চাই এখানে?
আদি হালকা হেসে বললো,
--দেখতে এলাম।কেমন সংসার পেতেছো?কোথায় আছো কেমন আছো?
--দেখা হয়ে গেছে এবার যাও।
সামু বারবার বেডরুমের দরজার দিকে তাকাচ্ছে।আদিবার ঘুম থেকে উঠার সময় হয়ে গেছে।ঘুম থেকে উঠেই সামুর খোজ করবে।তখন ড্রয়িং রুমে আসবে,,আর তখন ওকে আদি দেখবে।তাই সামু চাইছে আদি তার আগেই চলে যাক।
--কি অদ্ভুৎ তাড়িয়ে দিচ্ছো কেন?আমি কি শুধু তোমাকে দেখতে এসেছি?তোমার হাসব্যান্ডের সাথে পরিচয় করাবে না?আরে ভয় পেওনা আমি কিছু জানাবো না।ফ্রেন্ড পরিচয় দেবো।আর তোমার মেয়ে কই?তাকে দেখছি না।তোমার মেয়ে মাশাল্লাহ।
--ও ঘুমাচ্ছে।বাড়িতে আমি একা আছি সো চলে যাও।
--মাম্মা!!
আদিবার ঘুম থেকে উঠে সামুকে ডাকছে।ডাকতে ডাকতে রুমের বাইরের দরজার সামনে এসে দাড়িয়েছে।আদি-সামু দুজনের দৃষ্টি সেদিকে।সামু বিরক্তিতে চোখ বন্ধ করে নিলো।
আদি বসা থেকে উঠে বললো,এইতো উঠে গেছে।
আদিবা আদির দিকে অবাক হয়ে চেয়ে আছে।ওদের বাড়িতে কে এসেছে বুঝতে পারছেনা।আদি আদিবার দিকে এগিয়ে গিয়ে হাটু গেড়ে বললো,
--কিউটি ভালো আছো?
--হ্যা,,
--স্কুলে পড়ো?
--হ্যা।
--গুড।আচ্ছা একটা কথা বলো তো,,
সামান্তা বুঝতে পারছেনা আদি কি করতে চাইছে।
আদিবা খুশি মনে বললো,কি?
--তোমার বাবার নাম কি?
সামু বাধা দেওয়ার আগেই আদিবা ফট করে বলে দিলো,
--পাপার নাম আদিল চৌধুরী।(হাত নাড়িয়ে)
আদি স্তব্ধ হয়ে গেল।পুরো রুম জোরে নীরবতা বিরাজ করছে।
আদি আদিবার গালে হাত ছোয়ালো।টপ করে ওর ডান চোখ থেকে পানি পড়লো।সামু কপালে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো।মেয়ে সব শেষ করে দিয়েছে।
--আংকেল তুমি কাদছো কেন?
আদি চোখ মুছে বললো,আমি কাদছি না।এমনিতেই পানি এসে পড়েছে।
সামু আদির চোখে এই প্রথম পানি দেখলো।আদির সাথে চোখ মিলানোর সাহস হচ্ছেনা।মাথা নিচু করে রাখলো।
--বেবি তুমি এখানে থাকো।তোমার মাম্মার সাথে আমার একটু কথা আছে।কেমন?
আদিবা মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো।আদি সামান্তার হাত ধরে টেনে বাইরে নিয়ে যাচ্ছে।
গার্ডেনে নিয়ে হাত ছেড়ে দেয়।সামান্তা মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।আদি নিজের কোমড়ে দুহাত দিয়ে সামুর দিকে চেয়ে আছে।দুজনের মধ্যে নীরবতা।সব নীরবতা ভেঙে আদি শান্ত কন্ঠে বললো,
--কেন আদিবাকে আমার কাছ থেকে আড়াল করতে চাইছো?
সামু মুখ কঠিন করে বললো,কেন চাইবো না?কে তুমি?
আদি বিস্ময় নিয়ে বললো,তুমি ভালো করেই জানো কে আমি?
--ওহ,,আচ্ছা,,তুমি ওর বাবা।তাই তো?কিসের বাবা হাহ,,কিসের?যে বাবা ওর মাকে তুচ্ছ একটা কারণে ডিভোর্স দিয়ে চোরের মতো পালিয়ে গিয়েছে সে বাবা?এতগুলো বছর যেখানে আমি ওকে একা কষ্ট করে মানুষ করেছি কই ছিলে তুমি?
--তুমি প্রেগন্যান্ট ছিলে সেটা কি আমি জানতাম?
--কেন জানবে না?তুমি সেদিন বেবি চাওনি?বলোনি তোমার বেবি লাগবে?আমরা ডক্তরের সাথে মিট করিনি?
কোনো উত্তর নেই তোমার কাছে?
--সামু মানছি আমার ভুল হয়েছে কিন্তু তুমি সেদিন বিচে আমাকে জানালে না কেন?
--আদিবা আমার মেয়ে।আমি ওকে জন্ম দিয়েছি।ও শুধু আমার কাছেই থাকবে।তোমার মতো মানুষের কাছে আমি ওকে দেবোনা।
--আমি ওর বাবা।
সামান্তা হাসছে।
--লাইক সিরিয়াসলি,একটা মেয়ে যখন প্রেগন্যান্ট থাকে তখন তার সবচেয়ে বেশি কাকে প্রয়োজন পড়ে?প্রেগন্যান্সির প্রথম খবর আহ্লাদী কন্ঠে স্বামীকে জানায়,প্রেগন্যান্সির সময় হাসব্যান্ডরা বেবি,বেবির মায়ের জন্য কত কি করে।অন্যদের দেখেছি আর কেদেছি।বেবি যখন প্রথম নড়াচড়া করে উচ্ছ্বসিত হয়ে তখন হাসব্যান্ডকে জানায়।যখন লেবার পেইন উঠে হসপিটালে ওটিতে নেওয়ার সময় একটা মেয়ে তার হাসব্যান্ডকে খোজে।আমার হাত ধরে কেউ বলে নি সামু ভয় পেওনা তোমার কিছু হবেনা।আমি আছি।বেবি আর তুমি ভালো থাকবে।
সামান্তা চোখের পানি মুছে বললো,আমি ওর খেয়াল রেখেছি,,লালন পালন করেছি।নিজের খেয়াল রেখেছি।পড়াশোনা করেছি।সব একা করেছি।
আর তখন তুমি নিশ্চয়ই তোমাতে মজে ছিলে,ফূর্তি করে বেরিয়েছো।
--মানছি আমার ভুল ছিলো কিন্তু আমার তো জানার অধিকার আছে।
--হ্যা,তুমি তো যাওয়ার আগে আমাকে বলে গিয়েছিলে,,কোথায় গিয়েছিলে বলে গিয়েছিলে।বাড়িতেও দুই বছর যোগাযোগ করোনি।
--হ্যা,আমি নিখোঁজ ছিলাম বাট আমার বাড়ির কাউকে জানাওনি,,তাদেরকে জানাতে পারতে।তারা তো তোমার কোনো খবর ই জানেনা।তারা জানলেও আজকে গল্প টা অন্য রকম হতো।
সামান্তা তাচ্ছিল্যের সুরে বললো,
--হ্যা,অন্যরকমই তো হতো।আমাকে ও বাড়িতে নিয়ে যেতো বেবির নিউস শুনে।এক্স পুত্রবধূ হিসেবে।তারপর তোমার কানে যখন বেবির নিউজ যেতো তখন তুমি পিতা হিসেবে উদয় হতো।তারপর তোমার মনের বাকি ক্ষোভ মেটাতে আমাকে পুরোপুরি ধ্বংস করার জন্য আমার মেয়েকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে।আমাকে ছুড়ে ফেলে দিতে।আমার কোনো অধিকার থাকতো না কেননা ডিভোর্স,,,
--সামু,,আমাকে তোমার এতটা খারাপ মনে হয়?
--কেন,,তুমি আমাকে ডিভোর্স কেন দিয়েছিলে?আমাকে ধ্বংস করতে নয়?তোমাকে তো বলেছিলাম আমাকে তুমি ছেড়ে দিলে আমি ধ্বংস হয়ে যাবো।তুমি তো সেই পয়েন্ট ব্যবহার করেছো।আর যখন দেখতে আমি মেয়েকে নিয়ে কিছুটা ভালো আছি।তখন মেয়েকে কেড়ে নিয়ে আমাকে পুরোপুরো শেষ করে দিতে।তুমি আমার সাথে যা করেছো তাতে তোমাকে এতটা ভালো মনে হওয়ার ও তো কোনো কারণ নেই।
আদি বাকা হেসে বললো,
--ঠিক বলেছো আমাকে এতটা ভালো মনে হওয়ার ও কিছু নেই।যাইহোক যেটা বলতে চাই।মাকে কথা দিয়েছি তাকে বউ এনে দেবো।পাচবছর তো একা আছি।আর কত দিন একা থাকবো।বিয়ে তো করতে হবে।তবে তার আগে ডিভোর্সের বিষয় নিয়ে কথা বলতে এসেছি।আমি তোমাকে ডিভোর্স পেপার সাইন করে দিয়ে গিয়েছি কিন্তু অফিসিয়ালি কিছুই হয়নি।আমি পেপারটাও পাইনি।আমি ডিভোর্স কনফার্ম করেই বিয়েতে বসতে চাই।দেখা গেলো বিয়ে করলাম তারপর তুমি এসে নাটক শুরু করলে ডিভোর্স নিয়ে তখন তো আরেক মছিবতে পড়তে হবে।তাই সব ঝামেলা চুকাতে চাই।
আদির কথা শুনে সামান্তার চোখে পানি চলে এলো।আদি আর বিয়ে করে নি।এখন বিয়ে করবে।আর ওকে এসব কথা শুনাচ্ছে।
--আমি তোমার লাইফে হস্তক্ষেপ করবো?ডিভোর্স নিয়ে নাটক করবো?এতটা ছোট লোক আমি নই।আমি তোমার লাইফে কখনও ইন্টারফেয়ার করবোনা নিশ্চিন্তে থাক।
--তুমি আমাকে ডিভোর্স পেপার দিয়ে দেও তবেই আমি নিশ্চিন্ত হবো।তারপর তুমি তোমার মতো আমি আমার মতো।
--এটা এখন আমার কাছে নেই।
--মিথ্যা বলোনা।তোমার কাছেই আছে।ঠিক আছে যতদিন তুমি আমাকে পেপার দিচ্ছোনা ততদিন আমি তোমাদের লাইফ থেকে যাবোনা।আর আদিবাকে,,,
সামু ঘাবড়ে গিয়ে বললো,
--আদিবাকে কি?
আদি রহস্যময় হাসি দিলো।
সামু ভয়ার্ত স্বরে বলে,আদিবা আমার কাছেই থাকবে।আমি পেপার দিলে তুমি ওকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিবে না,,
--ওকে ডান।
সামু বাড়ির দিকে হাটা দিলো আদিও বিজয়ের হাসি হেসে ওকে ফলো করছে।সামান্তার কাছে আপাতত আদিবার চেয়ে মূল্যবান কিছুই নেই।মায়ের কাছে সন্তানের চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই নেই।
সামু আলমারি থেকে পেপার বের করে টেবিল থেকে পেন নিতে যায় সাইন করার জন্য তখনই আদি ছু মেরে পেপার নিয়ে নেয়।
তারপর পেপার উল্টেপাল্টে দেখে বলে,
আমি জানতাম তুমি সাইন করোনি।আমার মন এটাই বলছিলো।
সামু আমতা আমতা করে বলল,করা হয়নি দেও করে দিচ্ছি।
আদি মুচকি হেসে সামুর দিকে চেয়ে পেপার দু'হাত দিয়ে মাঝ বরাবর টান দিয়ে ছিড়ে ফেলে।তারপর কয়েক টুকরো করে মেঝেতে ছেড়ে দেয়।
সামান্তা আদির কাজে অবাক হয়ে যায়।বিচলিত হয়ে বললো,
--এটা কি করলে তুমি?
আদি হাই তুলতে তুলতে বললো,আমার ডিভোর্স চাইনা।
সামু কিছু বলতে যাবে তখনই আদিবার প্রবেশ।আদিকে দেখে বলে,
--আংকেল তুমি কি আজকে এখানে থাকবে?
আদি ওকে কোলে নিয়ে বলে,যদি থাকি তুমি কি রাগ করবে?
--নাহ,,তুমি থাকো।তুমি থাকলে ভালো হবে তাইনা মাম্মা?
সামু কি বলবে বুঝতে পারছেনা। আদি সেটা দেখে বলে,
--আমি তোমার সাথে থাকবো।আচ্ছা আদিবা তোমার পাপা কই?
--মাম্মা বলেছে প্লেনে করে আকাশ দিয়ে বিদেশে থাকে।আমি বড় হলেই চলে আসবে।
--তোমার পাপাকে মনে পড়ে না?
--হ্যা,,প্লেনকে বলেছি ও যেন পাপাকে তাড়াতাড়ি আসতে বলে।
--তাই?দেখতে ইচ্ছে করে না?
--আমি ছবিতে দেখেছি।মাম্মা দেখিয়েছে।আমার পাপা অনেক সুন্দর একদম তোমার মতো।হিহি।
আদির চোখে পানি ছলছল করছে।সামু আর পারছেনা।কি বলবে বুঝতে পারছেনা।আদিবাকে কি বলবে এটাই ওর পাপা,,মেয়েকে আর কতদিন পাপার কাছ থেকে দূরে রাখবে।সামু ঠিক করলো বলে দিবে আদিবাকে।
তার আগেই আদি নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে বলে দিলো,
--আমিই তোমার পাপা,,
আদিবা অবাক হয়ে আদির মুখের দিকে চেয়ে আছে।তারপর সামুর দিকে চাইলো।আদিও অসহায়ের মতো সামুর দিকে চাইলো।আদি বুঝতে পারলো সামু না বললে আদিবা ওকে বিশ্বাস করবেনা।
সামু বড়সড় শ্বাস নেয় মাথা নাড়ে তারপর বলে,
হ্যা আদিবা,,এটা তোমার পাপা।
আদিবা আদির দিকে চেয়ে প্রশ্ন করে, তোমার নাম কি আদিল চৌধুরী?
আদি মাথা নেড়ে হেসে বলে,হুম।
আদিবার খুশি কে দেখে।ও পাপাকে পেয়ে অনেক খুশি।
--কি মজা আমার পাপা এসে পড়েছে।তুমি আর যাবে না তো?
--না,,
আদি আদিবাকে নামিয়ে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খায়।
সামু চোখ মুছে বাবা মেয়েকে একা ছেড়ে দিলো।
রাত হয়েছে সামু রাতের রান্নার ব্যবস্থা করে ডাইনিং টেবিলে ল্যাপটপ নিয়ে বসেছে।আদিবা সোফায় বসে কার্টুন দেখছে।তখনই আদি দুকাপ কফি নিয়ে সামুর সামনে একটা রেখে নিজে আরেকটা নিয়ে চেয়ার টেনে বসে পড়ল।সামু একবার আড়চোখে দেখে নিজের কাজে মন দিলো।
তা দেখে আদি বললো,কফি নিজে বানিয়েছি।ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।
নিজে বানিয়েছি শুনে সামু বিষম খেলো।এ ছেলে বলে কি।
সামু কফির দিকে চেয়ে তাচ্ছিল্যের সুরে বললো,
বাব্বা আদিল চৌধুরী কফি বানাতে পারে?
--শুধু কফি না আমি ইতালিয়ান,চাইনিজ, থাই,জাপানিজ খাবার ও বানাতে পারি।
সামান্তা টেবিলে ভর করে গালে হাত দিয়ে বসে ছিলো।ওর কথা শুনে হাত সরে পড়ে যেতে নেয়।
--আরে পড়ে গিয়ে থুতনি ভাংতে চাও।কফি খেয়ে বলো কেমন হয়েছে?নাকি ভাবছো কিছু মিশিয়ে দিয়েছি।ওয়েট,
আদি চেঞ্জ করে নিজেরটা সামুকে দিয়ে কফিতে চুমুক দিলো।
সামুর অসহ্য লাগছে।শুধু মাত্র আদিবার জন্য কিছু বলছেনা।আদিবা ঘুমালেই ওকে দেখে নিবে।ভদ্রতা বজায় রাখতে কফিতে চুমুক দিয়ে হা।
এত ভালো কফি ও কোনো দিন খেয়েছে কিনা মনে পড়ছেনা।এত ভালো কফি কোথায় বানানো শিখেছে।সামু আড়চোখে আদিকে দেখে ওর দিকে চেয়ে আছে জানার জন্য কফি কেমন হয়েছে।
সামু আদিকে উদ্দেশ্য করে বললো, জঘন্য হয়েছে!
বলেই ল্যাপটপ নিয়ে উঠে চলে গেলো।
আদি মুচকি হেসে বললো, তোমার অভিমান ভেংগে তোমার মনে আমার জন্য ভালোবাসার ফুল ফুটাবো।জানি সহজ হবেনা।তবে চেষ্টা করে যাবো যতদিন পর্যন্ত না মেনে নিচ্ছো।
চলবে....🐇
Tumi amar love
#তুমি_আমার_ভালবাসা❤
#Part_27
.
🍁
.
আমি দাড়িয়ে ভাবছি ৩ মাস আগের কথা.....
৩ মাস আগে..!!
আহানে'র কথা শুনে আম্মু সেন্সলেস হয়ে যায়.... শুভ উঠে গিয়ে আহানে'র কলার ধরে বলে.....
_তুমি এসব কি বলছো?? আমার ভাইয়া কোথায়?? আমার ভাইয়ার কিছু হয়নি হতে পারেনা...!!
ভাইয়া এসে শুভ কে ছাড়িয়ে বলে....
_শুভ রিল্যাক্স জাস্ট কাম ডাউন.... আমাদের পুরো কথা আগে শোনো.... অভি ভাইয়া কে আমরা ফেরাতে পারিনি.... তারমানে এটা নয় যে অভি ভাইয়া বেঁচে নেই.... একচুয়েলি অভি ভাইয়ার কন্ডিশন খুব খারাপ ছিলো.... অপারেশন সাকসেসফুল হয়নি আর তাই.... অভি ভাইয়া কোমায় চলে গিয়েছে.... কোমা থেকে কবে ফিরবে আমরা জানিনা...!!
আহান আর ভাইয়া মাথা নিচু করে ফেলে.... এরপর অভি ভাইয়া কে অনেক ডক্টর দেখানো হয়.... বাবা বিদেশে নিতে চেয়েছিলো.... কিন্তুু ডক্টর তখন নিতে দেয়নি.... কারন ওই অবস্থায় নিলে লাইফ রিস্ক হতো.... রুপ আমাদের সাথেই থাকে.... কারো সাথে তেমন কথা বলেনা.... সারাদিন অভি ভাইয়ার রুমে থাকে.... অভি ভাইয়া কে বাড়িতে.... অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে.... বাড়িতেই ট্রিটমেন্ট করা হয়.... অভি ভাইয়ার কিছু হলে রুপ বাঁচতো না.... শান্ত কে শুভ'র কাছে দিয়ে রুপে'র কাছে এলাম.....
_রুপ সারাদিন তো কিছু খাসনি.... প্লিজ চল কিছু খেয়ে নিবি..!!
_না না আমি এখান থেকে কোথাও যাবোনা.... আমার অভি উঠে আমাকে না দেখলে.... অনেক রেগে যাবে আমি যাবোনা....
পাগলের মতো করছে আর বলছে...!!
_রুপ তুই কি চাস অভি ভাইয়া কষ্ট পাক?? অভি ভাইয়া কোমা থেকে ফিরে.... তোকে যদি এভাবে দেখে তাহলে কষ্ট পাবে.... এটা তুই কেন বুঝিস না??
রুপ আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো.... একটুপর আহান আর ভাইয়া এলো.... ওরা প্রতিদিন অভি ভাইয়া কে দেখে যায়.... রুপ কে কাঁদতে দেখে আহান বললো.....
_রুপ বি স্ট্রোং ওকে?? তুমি এভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না.... তোমাকে সুস্থ থাকতে হবে প্লিজ ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড...!!
.
.
🍁
.
.
আহান আর ভাইয়া রুপ কে বোঝালো.... রুপ চুপ করে বসে আছে.... আমি খাবার এনে ওকে খাইয়ে দিলাম.... কোনোরকম একটু খেলো.... একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে এলাম.... শান্ত কান্না করছে শুভ'র কাছ থেকে নিয়ে.... আগে ওকে খাইয়ে নিলাম...!!
_রুপ খেয়েছে তিশা??
শান্ত কে খাইয়ে বিছানায় বসিয়ে দিলাম.... ৬ মাস চলছে ওর.... ঠিকমত বসতে পারেনা তাই পাশ দিয়ে টেডিবিয়ার দিয়ে দিয়েছি.... এগুলো সব শুভ এনেছে নিজের ছেলের জন্য.... শান্ত কে বসিয়ে বললাম....
_হ্যা খাইয়েছি তবে না খাওয়ার মতো...!!
_কি থেকে কি হয়ে গেলো??
এরমাঝে রুপে'র চিৎকার কানে এলো.... শুভ দৌড়ে বেরিয়ে গেলো.... শান্ত কে কোলে নিয়ে আমিও চলে এলাম.... আম্মু, বাবা, রুপ কান্না করছে.... আহান আর ভাইয়া অভি ভাইয়া কে দেখছে.... অভি ভাইয়া জোড়ে শ্বাস নিচ্ছে.....
_ও মাই গড এটা কি করে হলো?? এত মাস তো ঠিক ছিলো...!!
আহানে'র কথা শুনে শুভ বললো....
_কেন কি হয়েছে?? আর ভাইয়া এমন করছে কেন??
_শুভ কথা বলার টাইম নেই.... অভি কে ইমিডিয়েটলি হসপিটালে নিতে হবে..!!
অভি ভাইয়া কে নিয়ে হসপিটালে চলে এলাম.... ডক্টররা যা বললো তা শুনে.... সবার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলো.... এখানে অভি ভাইয়ার ট্রিটমেন্ট করতে পারবে না.... কারন কন্ডিশন খুব বেশী খারাপ.... এখানে থাকলে হয়তো কোনদিন কোমা থেকে ফিরবে না.... তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিঙাপুর নিয়ে যেতে.... আম্মু আর রুপ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে.... সবাই ভেঙে পড়েছে কিন্তুু প্রকাশ করছে না.... ঠিক হলো সবাই সিঙাপুর যাবে.... আমি, শুভ, বাবা, আম্মু, ভাইয়া আর আহান....
.
.
🍁
.
.
১০ দিন পর সিঙাপুর হসপিটালে আমরা.... অভি ভাইয়া আগের মতোই কোমায় আছে.... ডক্টররা বলেছে সেন্স আসবে খুব তাড়াতাড়ি.... সবাই একটু হলেও শান্তি পেয়েছে.... সেন্স আসার অপেক্ষা এখন.... শুভ আমাকে হোটেলে নিয়ে এসেছে.... শান্ত কে নিয়ে হসপিটালে থাকা ঠিক হবেনা.... শান্ত তো ছোট অনেক.... এসবে আমার ছেলেটা ভয় পেয়ে যাচ্ছে.... প্লেনে প্রচুর কান্না করছিলো.... হসপিটালেও কান্না করেছে.... হোটেলে এসেই নিরব হয়ে গিয়েছে.... ও ভীর সহ্য করতে পারেনা....!!
রুপে'র বাবা, মা তো আসতে দিতে চায়নি ওকে.... কিন্তুু রুপ জোড় করে এসেছে.... কেউ আটকাতে পারেনি ওকে.... পারবে কি করে?? ভালবাসা তো এমনই কিন্তুু.... এত কষ্ট যে ওদের পেতো হবে.... এটা কোনদিন ভাবিনি.... হাসি, খুশি প্রানজ্জল অভি ভাইয়া ছিলো.... অথচ ভাগ্যের পরিহাসে প্রায় ৪ মাস হতে চললো.... একভাবে পড়ে আছে অক্সিজেন মুখে থাকে.... যার দিন রাত ২৪ ঘন্টা.... আল্লাহ জানে কবে সব ঠিক হবে.... কবে অভি ভাইয়া ঠিক হবে.... আর কবে সবার চোখের পানি.... রুপে'র বুকফাটা চিৎকার কান্না.... এসব কিছুর অবশান হবে.... মাঝে মাঝে ভাবি ভালবাসা এমন কেন?? কেন এত কষ্ট ভালবাসায়?? কেন কষ্টবিহীন ভালবাসা হয়না?? আমিও তো কম কষ্ট পাইনি.... আমার শুভ কে তো সবাই মৃত ধরে নিয়েছিলো.... কিন্তুুু আল্লাহর অশেষ রহমতে ওকে ফিরে পেয়েছি.... এখন আল্লাহ চাইলে রুপ ও আবার.... আগের মতো হাসবে সুখে থাকবে..!!
.
.
🍁
.
.
১ মাস পর ডক্টর পাঠিয়ে দিলো বাংলাদেশে.... কারন অভি ভাইয়ার সেন্স না এলেও.... কিছুটা রিকভার করেছে.... তাই বাড়িতে আগের মতো ট্রিটমেন্ট চলছে.... ড্রয়িংরুমে বসে আছি শান্ত ফ্লোর বসে খেলছে.... আমি ওর সামনে সোফায় বসে আছি.... তার অপজিটে শুভ আর আম্মু.... বাবা ও পাশেই বসা.... এমন সময় রুপ সবাই কে ডাক দিলো.... আমরা তাড়াতাড়ি উপরে গেলাম.... উপরে গিয়ে আমরা অবাক.... মনে মনে আল্লাহ কে শুকরিয়া জানালাম.... অভি ভাইয়া চোখ খুলেছে সেন্স এসেছে.... অভি ভাইয়া নিজেই উঠে বসলো.... আহান আর ভাইয়া ও চলে এসেছে.... সবার চোখ মুখ খুশিতে উজ্জল হয়ে গিয়েছে.... রুপ অভি ভাইয়া কে জড়িয়ে ধরলো.... অভি ভাইয়া ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে.... একটুপর রুপ কে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিলো.... রুপ অসহায় ভাবে তাকিয়ে আছে....!!
_কে আপনি?? আমাকে জড়িয়ে ধরলেন কেন??
অভি ভাইয়ার কথা শুনে.... সবাই চাওয়াচাওয়ি করছে.... আম্মু অভি ভাইয়া কে ধরে বললো.....
_অভি এসব কি বলছিস??
_অভি?? কে অভি?? আপনারা কারা??
_অভি আমি তোর মাম্মা....
_কে মাম্মা?? আমি আপনাদের কাউকে চিনিনা..!!
বলে অভি ভাইয়া মাথা চেপে ধরলো.... এবার সবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো...!!
#চলবে....🍁
[আগেই বলেছিলাম বিজি আছি.... কালকে ২টা পার্ট দিয়েছিলাম.... আজকেও দিয়ে দিলাম ছোট করে.... সবাই জানেন আমি রোজ গল্প দেই.... সরি বলে নিচ্ছি আগেই.... বিকজ কয়েকদিন আমি গল্প দিতে পারবো না.... সরি এফরিওয়ান এগেইন সরি]
The villain husband
The Villain Husband
পার্ট : ১৪ ( রহস্যভেদ)
অনেকক্ষন ধরে ড্রিংক করে যাচ্ছে রুদ্র, আজ অনেকদিন পর আবার ড্রিংক করছে রুদ্র। একটা সময় স্নেহাকে না পাওয়ার কষ্টে ড্রিংক করতো রুদ্র, কিন্তু আজ স্নেহাকে পেয়েও হারানোর ব্যাথায় ড্রিংক করছে রুদ্র।
তবে আজ তো তার কষ্ট পাওয়ার কথা না, সে তো এটাই চেয়েছিলো, স্নেহার বদনাম আর স্নেহার বাবা মায়ের অসম্মান!!
তবে কেন এমন হচ্ছে,
বোতলের পর বোতল ড্রিংক শেষ করছে রুদ্র। তবে আজ তার এ কষ্টের স্পষ্ট কোনো কারন রুদ্র নিজেও জানেনা,
আজ তার কষ্ট কি স্নেহার আজকের দেয়া থাপ্পড় নাকি নিজের বউ আর সন্তানের থেকে আলাদা হবার কষ্ট।
ড্রিংক করতে করতে টেবিলে ওপরে কোনো রকম ভাবে হাত ঝুলিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো রুদ্র,
রাত ১১ টা আশিসের ফোনে ঘুম ভাঙল রুদ্রের।
- হ্যালো, স্যার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে আমাদের, ( আশিস)
- কি হয়েছে?( রুদ্র)
- স্যার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে আপনি আগে এখানে আসুন সব নিজেই জানতে পারবেন!!
আশিসের কথা শুনে রুদ্র তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলো বাসা থেকে।
অফিসে গিয়েই সোজা নিজের কেবিনে ঢুকলো রুদ্র।
মাথা নিচু করে বসে আছে একটা লোক, আর পাশেই দাঁড়িয়ে চোখের পানি ফেলছে আশিস।
রুদ্র কেবিনে ঢুকতেই,
- করিম চাচা আপনি? এতো বছর পর?( রুদ্র)
বাবা আমাকে মাফ করে দাও বাবা, আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি। বলেই রুদ্রের পায়ে হাত দিয়ে বসে পড়লো করিম।
- আরে চাচা কি করছেন আর মাফই বা চাইছেন কেনো,
- বাবাগো আমি ভুল করছি তার কোনো ক্ষমা হয়না বাবা, আমাকে মাফ করে দেন।
রুদ্র করিমকে ধরে উঠালো,
- চাচা আমাকে বলুন কি হয়েছে, না বললে আমি কিভাবে বুঝবো আসল ঘটনা?
- বাবা অধরা আন্তহত্যা করেনি, ওকে মেড়ে ফেলা হয়েছে,
- মানে এসব কি করছেন চাচা?
-হ্যা বাবা, ওকে মেড়ে ফেলা হয়েছে আর ওর পেটে যে বাচ্চা ছিলো তাও মিথ্যা ছিলো, সব কিছু সাজানো গোছানো প্লেন ছিলো!!
- চাচা আপনি এসব কি বলছেন? আর এসব আপনি কিভাবে জানেন?
- আমি জানি বাবা, কারন খুন হওয়া আমি দেখেছিলাম,
আমি সত্যিটা সবাইকে জানাতেও চেয়েছিলাম কিন্তু তার আগেই আমাকে ওরা হুমকি দেয়,আমি কাউকে কিছু বললে ওরা আমাকে আর আমার দুই ছেলেমেয়েকে মেড়ে ফেলবে,
- তাই আপনাকে সেদিনের পর আর ওই এলাকায় দেখা যায়নি তাইনা?
- হ্যা বাবা ভয়ে আমি পালিয়েছিলাম,কিন্তু অনেকদিন পর ওই এলাকায় একদিন ফিরে যাই যেয়ে শুনে এই ব্যাপারে প্রতিবাদ করতে যেয়ে আপনাকে জেলে যেতে হয়েছে আর আপনার বাবা সেই কষ্ট মেনে নিতে না পেরে মাড়া গিয়েছে।
তারপর থেকে নিজেকে অপরাধী করি সব কিছুর জন্য আমি যদি আপনাদের সব সত্যি বলতাম তবে হয়তো সবার জীবন এলোমেলো হতোনা!! কথাগুলো বলেই কেঁদে দিলো করিম চাচা।
তার মানে আমরা এতোদিন আসল সত্যিটাই জানতাম না, তার মানে স্নেহার কারনে আত্নহত্যা করেনি অধরা আপু। রুদ্রের সব কিছু কেমন জানো গুলিয়ে যাচ্ছে। এতোদিন মিথ্যার ওপরে ভিত্তি করে, এতোকিছু করেছে,( মনে মনে কথাগুলো ভাবছে রুদ্র)
- আচ্ছা চাচা, আপনি তো স্নেহাদের বাড়ি কাজ করতেন এই ব্যাপারে তো আরো অনেক কিছুই জানবেন! আমাকে একটু সব খুলে বলুন।
- বাবা আমারে আশিস বাবা বলেছে যে তুমি স্নেহা মাকে কতো ভুল বুঝেছো,
বাবা স্নেহা মা তো অনেক ভালো তার মনে কোনো ভেজাল নেই,
কিন্তু আসল কালপিট হচ্ছে স্নেহা মায়ের মামা, সে স্নেহা মাকে অধরার নামে খারাপ খারাপ কথা বুঝিয়েছে, আর শ্রাবন বাবা অধরাকে ভালোবাসতো শ্রাবন বাবাকেও অধরার নামে খারাপ কথা বুঝিয়েছে।
সবাইকে বুঝিয়েছে যে অধরা খারাপ মেয়ে ছিলো, আর তার কারনেই অধরার পেটে বাচ্চা এসে গিয়েছিলো, সমাজের কথা ভেবে নিজেই আত্নহত্যা করে প্রান দিয়েছে,
এসব সইতে না পেরে শ্রাবন বাবা কষ্টে অভিমানে দেশ ছেড়ে চলে যায়।
এখান থেকে বউ বাচ্চা নিয়ে চলে গিয়েছিলাম ঠিকই কিন্তু কেও যেন কিছু বুঝতে না পারে তাই স্নেহার মামার কথায় বাদ্ধ্য হয়েই আমাকে আবার ওই বাড়িতে কাজে যেতে হয়।
বাবা স্নেহা আর শ্রাবন বাবাকে ওরা অনেক ভুল বুঝিয়েছে, তোমাদের নামে খারাপ কথা বলেছে তাই স্নেহা মা তোমাকে আর শ্রাবন বাবা অধরাকে ঘৃনা করে।
বাবা আর কেও না জানুক আমি জানি, স্নেহা মা তোমার জন্য অনেক কষ্ট ভোগ করেছে, দিন দিন পাগলের মতো কাটিয়েছে,
রুদ্র যেন আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না, পায়ের নিচের মাটি যেন সরে যাচ্ছে রুদ্রর। তারমানে সে অনেক বড় ভুল করে ফেলেছে।
স্নেহাকে ভুল বুঝেছে। দোষ না করেও শাস্তি পেতে হয়েছে স্নেহাকে।
রুদ্রের ইচ্ছা করছে নিজেকে গুলি করে ক্ষতবিক্ষত করে দিতে নিজেকে, কিন্তু না তাকে শক্ত হতে হবে।
স্নেহার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, ফিরিয়ে আনতে হবে স্নেহা আর তার বাচ্চাকে।
কিছু না বলেই রুদ্র বেড়িয়ে পড়লো,
মাথায় অনেক কথা ঘুরপাক খাচ্ছে রুদ্রের,
পাগলের মতো এদিক ওদিক খুজছে স্নেহাকে,
রুদ্র জানে না স্নেহা কোথায় আছে, তবে আজ স্নেহাকে সামনে পেলে স্নেহার পা ধরে ক্ষমা চাই, আর চিৎকার করে স্নেহাকে বলতো,
স্নেহা আমাকে শাস্তি দাও, আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি আজ তুমি আমায় যে শাস্তি দিবে আমি মাথা পেতে নিবো,
কিন্তু এমন কিছুই করতে পারছেনা রুদ্র কারন এসব বলার জন্য আজ স্নেহাকেইতো সে খুজে পাচ্ছেনা।
অনেকক্ষন খোজার পরও স্নেহানে খুজে পায়নি রুদ্র।
তাই বাসায় ফিরে স্নেহার ছবিটা বুকে নিয়ে সোফায় বসে চিৎকার করে কাঁদছে রুদ্র।
রুদ্রের এমন কান্না শুনে তিতির আর রুদ্রের মা দুজনেই ছুটে এলো,
- কি হয়েছে বাবা? কি হয়েছে? তুই এমন করছিস কেনো?( রুদ্রের মা)
রুদ্র তার মাকে পাশে দেখেই জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো, রুদ্র।
- মা আমি অনেক বড় ভুল করে আছি, সত্যিটা যদি আর দুইদিন আগেও জানতাম তাহলে এই ভুল আমি করতাম না মা,
- কি হয়েছে বাবা আমাকে সব বল,
তারপর কাঁদতে, কাঁদতে মাকে সব বললো রুদ্র,
- এ তুই কি করেছিস? একটা মেয়ের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সম্মান আর তুই তাতেই হাত দিয়েছিস? এটা তুই কিভাবে পাড়লি? তোকে ছেলে ভাবতেও আমার ঘৃনা করছে। আমি আজই স্নেহাকে আ বাড়িতে ফিরিয়ে আনবো।
- না মা, এতো কিছুর পর ও ফিরে আসবেনা। আর ও কোথায় আমি জানিনা।
- আমি জানি ভাইয়া( তিতির)
অবাক হয়ে তিতিরের দিকে তাকালো রুদ্র,
- তুই কিভাবে জানিস?
- আজ কলেজ থেকে আসার সময় আমি ভাবিকে দেখি তারপর ফলো করি, তারপর জানতে পারি ভাবি আমাদের কলেজ এর প্রিন্সিপ্যাল এর বাসায়,
কিন্তু ও সেখানে কি কিভাবে?
- আমি বেশি কিছু জানিনা ভাইয়া,
- তিতির আমাকে সেখানে নিয়ে চল, আমি স্নেহাকে ফিরিয়ে আনবো,
তারপর তিতির রুদ্র আর রুদ্রের মাকে নিয়ে তানিয়াদের বাসায় রওনা দিলো,
- তোর বেবিটা কিন্তু খুব কিউট হবে,( তানিয়া)
- কিভাবে বুঝলি?
- আরে তুই এতো কিউট আর তোর বেবিটা তো ডাবল কিউট হবে তাইনা।
- তুই ও না( স্নেহা)
- কি আমি? ও হ্যা আমি হচ্ছি ফিউচার খালামনি।
হাহা দুই বান্ধবী মিলে হাসাহাসি করছে আর গল্প করছে,
দরজায় কলিংবেল বাজতেই,
- মনে হয় ভাইয়া ফিরেছে তুই বস আমি দরজা খুলে আসছি!!
বলেই তানিয়া দরজা খুলতে চলে গেলো,
দরজা খুলেই,
- ইয়েস কারা আপনারা, ঠিক চিনলাম না তোহ?( তানিয়া)
- মা আগে ভেতরে আসি তারপর সব বলছি!!
- ঠিক আছে আসুন, বলেই তানিয়া সবাইকে ভেতরে আসতে বললো,
স্নেহা রুম থেকে মহিলা কন্ঠ শুনে বেড়িয়ে এলো,
স্নেহাকে দেখতেই রুদ্রের মা এগিয়ে গেলো,
- মা তুই ঠিক আছিস? স্নেহার গাল ধরে।
স্নেহা কিছুই বুঝতে পারছেনা, কাল যে তাকে চোখের সামনে দেখতে পারেনি আজ সে এভাবে এসেছে আর!! ভাবতে, ভাবতেই স্নেহা বললো,
- আপনারা এখানে?
- ভাবি আমরা তোমাকে নিতে এসেছি ভাইয়া আমাদের সত্যিটা বলেছে যে তোমার কোনো দোষ নেই,(তিতির)
- তোমরা এসব কি বলছো,
আমি বলছি স্নেহা, রুদ্র বলতে শুরু করলো, করিম চাচার আসা থেকে শুরু করে রুদ্রের সব সত্যি জানা সব কিছু রুদ্র স্নেহাকে বললো,
রুদ্রের বলা শেষ হতেই স্নেহা বলতে শুরু করলো,
- বাহ, বাহ খুব ভালো, আমার জীবনটা দেখি পুতুলখেলা হয়ে গিয়েছে যখন ইচ্ছা আমাকে আদর দিয়ে ঘরে তুলবেন আর আপনার ছেলের ভুল বোঝার কারনে তার মিথ্যা কথা বিশ্বাস করে আবার যখন ইচ্ছা আমাকে বাড়ি থেকে বেড় করে দিবেন। মা আমিতো কখনো আপনাকে মায়ের চোখে ছাড়া অন্য ভাবে দেখিনি।
আর এই অমানুষটার কথা আর কি বলবো,
যে নিজের স্ত্রীকে সবার সামনে মিথ্যা কথা বলে চরিত্রহীন প্রমান করে, আর শেষমেস নিজের সন্তানকে অবৈধ প্রমান করতেও যার অন্তর একটু কাপেনা।
আপনারা আমাকে কি পেয়েছেন বলুন? কি পেয়েছেন?
আমি একটা মেয়ে বলে, এ শহর থেকে আমার শেষ ঠিকানাও কেরে নিয়েছেন আমার বাবা মাকে বাদ্ধ্য করেছেন দেশেরবাড়ি চলে যেতে,
সেদিন আমি বেরিতে আসার পর একবার ও কি ভেবেছিলেন এতো রাতে একটা মেয়ে কতোটা খারাপ অবস্থায় পড়তে পারে?
সত্যিটা না জেনে শাস্তি দিয়েছেন আমাকে আমার সন্তানও রেহাই পায়নি।
আর কথা বলতে পারছেনা স্নেহা কাঁদতে, কাঁদতে বসে পড়েছে ফ্লোরে।
রুদ্র স্নেহাকে ধরতে যাবে তখনি,
- ডোন্ট টাচ মি! আপনার মতো লোক আমাকে টাচ করলে আমি নিজেকে অপবিত্র মনে করবো,,
- স্নেহা!!!
- অবাক হবেননা, যা বলেছি তা সত্যি বলেছি,
- আমার ছোয়ায় যদি তুমি অপবিত্র মনে করো নিজেকে তবে তোমার গর্ভে যে আছে সে তো আমার ভালোবাসার ছোয়ার চিহ্ন,
- কি বললেন আপনি( রাগে লাল হয়ে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে বললো স্নেহা) আপনার অংশ? দুইদিন আগে সবার সামনে ওকে অস্বীকার করে এখন অধিকার ফলাতে এসেছেন। শুনে রাখুন ও আপনার কেও না।
আমি ঘৃনা করি আপনাকে,
চেঁচিয়ে কথাটা বলেই রুদ্রকে জোরে ধাক্কা দিকো স্নেহা,,
চলবে,
( পড়াশুনা আর কাজে মাঝে গল্প লিখি, কিন্তু তারপর ও আপনারা অনেকেই নেক্সট বলেন। এতে কষ্ট পাই। আচ্ছা একটু কষ্ট করে আপনাদের মতামত জানিয়ে আমাকে একটি উৎসাহিত করতে পারবেন না?😞)
Corona
করোনায়_আক্রান্ত_এক_যুবকের_শেষ
কথাগুলো_ছিল_এমন —
হাসপাতালের_বিছানা থেকে বলছি,
দয়া_করে শুনবেন কি মানুষ !!
আমি এক তাগড়া যুবক, বয়স-২৭, নিরোগ, তরতাজা।।
ভেবেছিলাম, এই করোনাভাইরাস ঘটিত মহামারি আমার রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাঙতে পারবে না।
ষোলো দিন আগে, জ্বর হলো আমার; সাধারণ ফ্লু ভেবে চুপচাপ কাটিয়ে দিলাম দিনটা।
পনেরো দিন আগে, শরীর ব্যথা; জ্বর কমে, বাড়ে; পেইনকিলার খেলাম দু'টো।
চৌদ্দ দিন আগে, জ্বর আসে, যায়; শরীর ব্যথা বাড়ে তো বাড়েই; সিজন চেঞ্জ হচ্ছে, আমি ফ্লুতেই থাকলাম, আমি পেইনকিলারেই থাকলাম।
তেরো দিন আগে, সারাদেহে ব্যথা কমলো, এলো গলা ব্যথা।
বারো দিন আগে, খুশখুশে কাশি, গলা ব্যথা বাড়ে, কমে; জ্বর ছিলো; আশঙ্কিত আমি ডায়াগনোসিসে গেলাম।
এগারো দিন আগের ভোরে, জানলাম, আমি কোভিড-১৯ পজিটিভ; স্বাদ ও ঘ্রাণ এই দুই ইন্দ্রিয় ক্ষমতা হারাতে আরম্ভ করলো।
দশ দিন আগে, দু'কানের ভিতরে তীক্ষ্ণ ব্যথা; স্বাদ নেই, গন্ধ নেই; ব্যথা গলায়, কাশি, জ্বর দেহে।
নবম দিন থেকে, বাকি সব উপসর্গের সাথে আরম্ভ হলো শ্বাসকষ্ট।
অষ্টম, সপ্তম, ষষ্ঠ দিন গেলো; সে কী প্রাণপণ চেষ্টা আমার, একটু বাতাস নিতে বুকের ভিতরে! হায়, এ-জগতে একমুঠো হাওয়া কি নাই!
আজ থেকে ছয় দিন আগে ঘর থেকে বের করা হয়েছিলো আমাকে-
পুলিশ ছিলো দু'জন, দু'জন স্বাস্থ্যকর্মী ছিলো, ছিলো একটি অ্যাম্ব্যুলেন্স।
আমার মাকে উঠতে দেওয়া হয়নি অ্যাম্বুলেন্সে, আমার বাবাকে আসতে দেওয়া হয়নি আমার সাথে, আমার ভাইকে আটকে দেওয়া হয়েছে ঘরের দুয়ারেই, আমার বোন তখন অজ্ঞান আমার শোকে।
অ্যাম্বুলেন্স চলে আসছিলো তার প্রিয় সাইরেন বাজিয়ে;
ভেতরে চিৎ শোওয়া আমি, একটু শ্বাসের খোঁজে আথালি পাথালি আমি, মাথাটা একটু তুলে আমার দু'পায়ের ফাঁক গলে, অ্যাম্বুলেন্সের দরজার ছোট্ট জানলা দিয়ে দেখেছিলাম-
আমার_বিদায়পথের_দিকে_অপলক তাকিয়ে ধুলায় শুয়ে আছেন আমার মা,
দু'হাতে মাথাটা চেপে দু'হাঁটু ধুলায় গেঁথে অবিশ্বাসে তাকিয়ে আছেন আমার বাবা।
আমার বোন তখন ঘরের মেঝেয় অচেতন।
আমি শেষ দেখা দেখেছিলাম আজন্ম প্রিয়তম মানুষগুলোকে আমার।
আজ ছয়দিন, হাসপাতালের আইসিইউ-কক্ষের ভিতরে, শুভ্র বিছানায় শুয়ে আছি আমি;
ওষুধ_নেই_এই_জগতে_এ- ব্যাধির;
এই যে ছয়-ছয়টা দিন বেঁচে ছিলাম, রোগপ্রতিরোধী পথ্য খেয়ে, যদি মিরাকল হয়, যদি সেরে ওঠে পরাজিত দেহটা আমার!
হাজারে-হাজারে তো এভাবেই ফিরে যেতে পেরেছে মায়ের কোলে, বাবার বুকে!
আমি_ছিলাম_না_ফেরার_দলে;
আজ, ডাক্তারের চোখের দিকে তাকিয়ে, বুঝতে অসুবিধে হয়নি, আমি মারা যাচ্ছি;
নার্সের চোখে আমি জল দেখেছি গতকাল, জেনেছি এই জন্মভূমি, এই পৃথিবী, আমার মায়ের বুক, আর আমার নয়।
এখন_আমি_মারা_যাচ্ছি।
জানি, আমার লাশটাকে ছুঁতে দেওয়া হবে না আমার পরিজনদের কাউকেই,
জানি, আমাকে দাহ করা হবে পাঁচজন পুলিশের সামনে,
জানি, আমাকে নিয়ে যাওয়া হবে চারজন অনাত্মীয়ের কাঁধে চড়ে;
মা নিষিদ্ধ, বাবা নিষিদ্ধ, নিষিদ্ধ আমার ভাই ও বোন, আমার কাছে, আমার লাশেরও কাছে।
আমি সুস্থ, সবল যুবক ছিলাম এক, বয়স-২৭, করোনাভাইরাসের কাছে হেরে যাওয়া, কাবু।
পৃথিবীতে আজ বেঁচে থাকা প্রিয় মানুষেরা, হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি, দয়া করে শুনবেন প্লিজ?-
আজ থেকে সতেরো দিন আগে মায়ের নিষেধ সত্ত্বেও ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিলাম আমি।
জানি না, আমার দেহতে বয়ে নেওয়া এ-মারণব্যাধি আমার মা, বাবা, ভাই কিংবা বোনের দেহে সংক্রমণ করে দিয়ে মরে যাচ্ছি কিনা।
মানুষ, ঘরে_থাকবেন_প্লিজ?
এ মৃত্যু, জগতের নির্মমতম মৃত্যু।।
ঘরে_থাকি_সুস্থ_থাকি_পরিবারকে_সুস্থ_রাখি।
ভালবাসা
#ভালোবাসার_রং
#পর্ব - ২০ (শেষ পর্ব)
#সারার_গল্পকথা (কাজী সারা)
জহির উদ্দিন আফরোজা বেগমের পাশে গিয়ে বসে,
---" দেখ বিহানের মা ভুল যেহেতু হয়েছে ক্ষমা চেয়ে নাও। ক্ষমা চাইলে কেউ ছোট হয় না বরং মহৎ হয়।
---" কার কাছ থেকে ক্ষমা চাইব?? বিহান নাকি অন্তরা থেকে??
---" দরকার হলে দুজন থেকে। তোমাকে তো মানতে হবে কারো প্ররোচনায় হোক আর নিজের থেকে হোক অন্তরা কে নানাসময় কথা শুনিয়ে কষ্ট দিছ। যেখানে অন্তরার কোন দোষ ছিলো না। আল্লাহর রহমতে আর মেয়েটার ভালোবাসায় তোমার ছেলেকে ফিরে পেয়েছ।
---" হুম তুমি ঠিক বলছ।
---" বিহানের মা আজ যদি মুনিয়ার সাথে এমন হয় তুমি কি মেনে নতে পারবা,??
---" না এসব বলিও না। আল্লাহ না করুক আমার মেয়েটার সাথে কখনো যেন এমন নাহয়।
---" বউকে মেয়ের জায়গায় বসালে বুঝা যায় কোন টা ভুল কোনটা ঠিক।
জহির উদ্দিনের কথা শুনে আফরোজা বেগম নিজের ভুল বুঝতে পারছে। মনে মনে অনেক অনুতপ্ত কিন্তু ছেলেকে সাহস করে বলতে পারছে না।
বিহান রুমে ঢুকে চুপ করে বসে আছে। চোখ থেকে দু ফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়লো। মায়ের সাথে গরম করে কথা বলাতে খারাপ লাগছে কিন্তু অন্তরা ওর স্ত্রী অন্তরার প্রতি অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ওর দায়িত্ব। এ বাড়িতে বিহান ছাড়া অন্তরার কে আছে??
বিয়ের প্রথম দিকে শুশুর বাড়িতে একটা মেয়ের কাছের মানুষ বলতে স্বামী ছাড়া কে বা থাকে। স্বামী যদি স্ত্রীর দুঃখ না বুঝে কে বুঝবে। তাই বলে কেউ কারো থেকে কম না। বিহান মা কে প্রচন্ড ভালোবাসে। ভেবেছিলো সুস্থ হয়ে ফিরে এসে সবার সাথে আনন্দে দিন কাটাবে। কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেলো। আমরা যা চিন্তা করি সবসময় সেটা হয় না।
বিহানের কাঁধে হাত দিয়ে অন্তরা বলছে,
---" আপনার মায়ের সাথে এভাবে কথা বলা উচিত হয়নি। মা আমাকে কথা শুনিয়েছি এটা সত্যি কিন্তু তখন সিচুয়েশন অন্যরকম ছিলো।
---" যেমন সিচুয়েশনে থাকুক না কেন কাউকে অন্যায় ভাবে কথা শুনানো ঠিক না।
---" আপনি আর রাগ করে থাকবেন না প্লিজ। আমি চাইনা আর কোন অশান্তি হোক। আমরা সবাই মিলে আবার আগের মতো ভালো থাকতে চাই।
--" হুম আর অশান্তি হবে না।
---" সত্যি বলছেন??
---" হুম কারণ কালকে আমরা এ বাসা ছেড়ে চলে যাব।
---" কি বলছেন আপনি??
---" যা বলছি একদম ঠিক। যে বাসায় তোমার জায়গা হয় না সে বাসায় আমি থাকতে চাই না। তাতে সবাই ভালো থাকবে। কেউ তোমাকে অলক্ষী বলবে না। তোমার জন্য কারো মনে সন্দেহ থাকবে না। সব দিক থেকে এটাই ভালো হবে।
---" আপনি এ বাসা ছেড়ে চলে গেলে মা খুব কষ্ট পাবে। আপনাকে ভালো বাসে বলে মা এমন আচরণ করেছিলো। এখন যদি আমরা চলে যাই মা আরো ভুল বুঝবে।
---" আমার কিছু করার নেই। মাঝেমধ্যে ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্য দুরুত্ব বজায় রাখা দরকার।
---" সত্যি চলে যাবেন??
---" হুম কাল সকালে যাব। তুমি নিজের জিনিসপত্র রেডি রাখিও। এ বাসার কিছু নিয়ে যাব না।
বিহানের খারাপ লাগছে ওর মা এখনো নিজের ভুল টা বুঝেনি। উল্টো ভাবছে অন্তরা ওর কান ভারি করেছে।বিহানের সব ভালো লাগা যেন এক নিমিষেই চোখের জলে পরিণত হলো।
.
.
আফরা নিশান কে বলছে,,
---" ভাইয়া মনে হয় আমার সাথে রাগ করছে।
---" রাগ করাটাই স্বাভাবিক। ভাইয়ার জায়গায় আমি হলেও রাগ করতাম। ভুল করে হোক আর না বুঝে হোক আমরা ভাবীর সাথে খারাপ ব্যাবহার করেছি।
---" আমি কিন্তু ভাবী কে কিছু বলিনি। যা রাগ তোমার সাথে করেছি।
---" আফরা মণি সুখে থাকার জন্য অনেক সময় ভুল নাহলেও ভুল স্বীকার করে নিতে হয়। ভাইয়া চলে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকে মা ভাবীকে ঝোঁকের বশে অনেক কথা শুনিয়ে দিয়েছে।
---" হুম। আসলে ভাবীর মনের অবস্থা আমরা কেউ বুঝিনি। আমি কাল সকালে ভাইয়া,ভাবীর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইবো।
--" এইতো আমার আফরা মণি বুঝদ্বার মেয়ের মতো কথা বলছে। এখন মনে হচ্ছে আমার আগের আফরামণি কে খুঁজে পাইছি।
আফরার কথা শুনে নিশানের খুব ভালো লাগছে। আফরা যে নিজ থেকে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেছে সেটাই অনেক। সংসারে সবার এক্টু খানি সেক্রিফাইস সুখ এনে দেয়। তাই সবাইকে নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ টা দেয়া দরকার।
.
.
আফরোজা বেগম বিহান কে ডিনারের জন্য ডাকছে।
---" বিহান মায়ের উপর রাগ করে থাকিস না খেতে আয়। আমি তোর জন্য বসে আছি।
মায়ের ডাকে বিহানের কষ্ট হলেও দরজার ওপাশ থেকে বলছে,,
---" মা আমার খুদা নেই।
---" প্লিজ বাপ তোর জন্য মা না খেয়ে বসে আছি। আজকে আমি তোর প্রিয় রুই মাছের ঝোল করেছি। তুই না রুই মাছের ঝোল খেতে পছন্দ করিস না।
---" হ্যাঁ মা আগে করতাম এখন করি না। মানুষের পছন্দ অপছন্দ সময়ের সাথে বদলে যেমন করে বদলে যায় মানুষ গুলো।
অন্তরা বিহানকে বুঝাচ্ছে,
---" কাল নাহয় চলে যাবেন আজ মা কে কষ্ট না দিলে হয় না। কত ভালোবেসে আপনার জন্য মাছ রসা করেছে। না খেলে মা খুব কষ্ট পাবে।
আফরোজা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলছে এটা অন্তরার ভালো লাগছে না। অন্তরা বিহান কে জিজ্ঞেস না করে দরজা খুলে দিলো।
আফরোজা বেগম অন্তরাকে দেখে বলছে,
---" বউমা তুমি একটু বিহান কে বুঝাও না। আমি অনেক ভালোবেসে ওর জন্য রান্না করছি। ছেলেটা আমার না খেয়ে শুকাই গেছে। এতদিন কি না কি খাইছে..
এ কথা বলে আফরোজা বেগম কান্নাভরা চোখে বিহান কে দেখছে।
মায়ের কান্না শুনে বিহানের চোখ ভেসে গেছে। বুকটা ব্যাথায় কাতর হচ্ছে।
অন্তরা আফরোজা বেগম কে ভরসা দিয়ে বলছে,
---" মা উনি খাবে আপনি কান্না করবেন না।
---" সত্যি বলছ??
---" হুম উনি খেতে আসবে এখনি।
---" তাহলে আমি গিয়ে খাবার রেডি করছি।
চোখ মুছতে মুছতে আফরোজা বেগম ঠোঁটের কোণে হাসি এনে ছেলের জন্য খাবার বাড়তে চলে গেছে।
বিহান অন্তরাকে বলছে,
---" আমি কখন বললাম খাব। তুমি গিয়ে খেয়ে আসো আমার খুদা নেই।
---" আপনি মুখে বলেন নি কিন্তু আপনার চোখ বলেছে। মায়ের জন্য আপনি ও কষ্ট পাচ্ছেন তাহলে কেন এত রাগ পুষে রেখেছেন।
---" কে বলছে কষ্ট পাচ্ছি!!
---" কেউ না চলেন খেতে যাবেন। আপনি না খেলে আমিও খাব না। আপনার সাথে বসে খাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে সেটা হারাতে দিবেন না প্লিজ।
অন্তরার কথাতে মায়ের কান্নার জন্য বিহান খাওয়ার জন্য রাজি হয়ে গেলো। উপরে না বুঝালেও বিহানের মন জানে মায়ের জন্য কতটা কষ্ট হচ্ছে।
বিহানের সত্যি ইচ্ছে করছিলো মায়ের হাতে রুই মাছের ঝোল খেতে। বিহানের কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রান্না মায়ের হাতের রান্না। কেমন জানি মা মা গন্ধ পাওয়া যায়। কত জায়গায় কত রকমের খাবার খেয়েছে কিন্তু মায়ের মতো রান্না নাকি কেউ করতে পারে না। সব সন্তানের কাছে মায়ের রান্না বেশি মজা লাগে।
বিহান চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে। খাওয়ার সময় বুঝায়নি মায়ের রান্না খেতে কত ভালো লাগছে। অবশ্য আফরোজা বেগম কয়েকবার কথা বলতে চেয়েছেন বিহান চুপ করে খাচ্ছে দেখে আর কিছু বলেনি। দিনশেষে বিহান আফরোজা বেগমের হাতের রান্না দিয়ে পেট ভরে খাচ্ছে সেটা দেখে শান্তি লাগছে। অন্তত ছেলে এতদিন পরে মায়ের রান্না খাচ্ছে সেটা একজন মায়ের জন্য কম কি!!
.
.
অন্তরার কোলে বিহান মাথা রেখে জানালার পাশে তারার মেলা দেখছে।
---" সত্যি কি কাল আমরা চলে যাব??
---" হুম। কারণ আজ যদি আমি বেঁচে না ফিরতাম তোমার কি এ বাড়িতে জায়গা হতো?? কেন স্বামীর সব কিছুতে স্ত্রী কে দোষারপ করা হবে।
---" যা হবার হয়ে গেছে আপনি ভুলে যেতে পারেন না।
---" না অন্তরা। আমার এ বাসায় দম বন্ধ হয়ে আসছে। তোমার মায়ের কথা গুলো এখনো কানে বাজছে আমার। নিজের মায়ের কথা কখনো এভাবে শুনতে হবে ভাবিনি।
---" আমার সাথে হয়েছে আমি ভুলে গেছি আপনিও ভুলে যান।
---" না আমি এখানে আর থাকতে চাই না। যদি আমি সত্যি মারা যেতাম তাহলে কেউ কি তোমার প্রতি সহানুভূতি দেখাতো! আমার মৃত্যুর জন্য তোমাকে দায়ী করতো।
---" আপনি দয়াকরে মরার কথা বলবেন না। আমি আপনাকে আর হারাতে চাই না।
---" আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি তাই না।
---" কোন কষ্ট দেন নাই। আপনার মতো স্বামী কপাল গুণে পেতে হয়। আপনি আমাকে বিয়ের তিনমাসে যে ভালোবাসা সম্মান দিয়েছেন সেটা অনেকে সারাজীবন সংসার করেও পায় না।
---" আমার মায়াবতী বউটা আরো বেশি পাওয়ার যোগ্য।
বিহান অন্তরাকে কাছে টেনে আপন করে নিচ্ছে। একটু একটু করে ভালোবাসা জমিয়ে রেখেছিলো বুকের মাঝে । ভালোবাসার মানুষ কে ফিরে পাওয়ার অনুভূতি টাই আলাদা।
যেই অনুভূতি কোন ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
.
.
সকাল হতেই বিহান ব্যাগ গুছিয়ে অন্তরাকে নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যাবার জন্য রুম থেকে বের হয়েছে। আফরোজা বেগম ছেলের হাতে ব্যাগ দেখে,রান্নাঘর থেকে দৌড়ে আসলেন।
---" তোরা কোথায় যাচ্ছিস ব্যাগ নিয়ে।
---" আমরা এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি।
আফরোজা বেগগ চিৎকার করে বলছে,
---" ও বিহানের বাপ, নিশান, মুনিয়া তোরা কে কোথায় আছিস আমার বিহান বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
আফরোজা বেগমের চিৎকার শুনে জহির উদ্দিন, নিশান আফরা সবাই ছুটে এলো। সবাই এসে বিহান কে যেতে নিষেধ করছে। আফরা বিহানের সামনে গিয়ে বলছে,
---" ভাইয়া আমাদের উপর রাগ করে চলে যাবেন না। জানি আমাদের সবার ভুল হয়েছে। ভাবী আমাকে ক্ষমা করে দেন আমি তখন বুঝতে পারিনি।
---" আমাদের কারো উপর কোন রাগ নেই আমি অন্তরা কে নিয়ে নিজের স্বইচ্ছায় এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি।
আফরোজা বেগম অন্তরার হাত ধরে,
---" বউমা আমি অন্যায় করছি। আমারে মাফ করে দে। তখন আমার মাথা ঠিক ছিলো না। বিহান রে বুঝা তোরা কেউ আমারে ছেড়ে যাইস না। আমার সুখের সংসার ভেঙে যাবে। মায়ের ভুল কি সন্তানরা একবার ক্ষমা করতে পারে না।
---" মা আমি অনেক বুঝাইছি উনি কিছুতেই শুনছে না।
আফরোজা বেগম ছেলেকে বলছে,
---" যাইস না মারে ছাড়ি। তোরা চলে গেলে আমি কি নিয়ে থাকবো।
--" মা আমাকে ছেড়ে তো এতদিন ছিলা। তোমাদের কাছে আমি মৃত ছিলাম। ভেবে নাও আমি এখনো মৃত তাছাড়া অন্তরা এখানে থাকলে তোমাদের সংসারে অকল্যাণ হবে। অন্তরা অপয়া বলে তো এখানে ওর জায়গা হয়নি। যে বাড়িতে আমার স্ত্রীর জায়গা হয় না সে বাড়িতে আমার কি করে জায়গা হবে। যদি আবার আমার কিছু হয় তুমি অন্তরাকে কথা শুনাবে।
---" বাপ আমি স্বীকার করছি তো আমি ভুল করেছি। ছেলে হয়ে মারে একটা বার ক্ষমা করতে পারিস না।
বিহান অন্তরার হাত ধরে সবার কথা উপেক্ষা করে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়লো।
আফরোজা ছেলের জন্য কেঁদে যাচ্ছে। নিজের কৃতকর্মের নিজের প্রতি বিরক্তি আসছে। কেন আসেপাশের মানুষের কথা ধরে অন্তরাকে প্রতিনিয়ত অপমান করেছে। যদি অন্তরার প্রতি অন্যায় না করতো তাহলে আজ বিহান এ বাসায় সবার সাথে থাকতো। কেন বুঝলো না অন্তরার মতো সেও এ বাড়ির বউ ছিলো...
১ বছর পর......
জহির সাহেবের বাসা আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়েছে। আফরোজা বেগমের মুখের হাসি লেগে আছে। এ দিন টার জন্য অপেক্ষা করেছে। আজ যে বাড়ির সবাই ভীষণ খুশি কারণ ঘর আলোকিত করে আসতে চলেছে আফরোজা বেগমের বংশধর।
মেহমানরা সবাই আসা শুরু করেছে। নিশান চারদিক ছুটাছুটি করছে নতুন মুখের আগমন হবে বলে কথা। খুশির বাদ যেন থামার নয়।
একটু পর পর নিশান উঁকি দিয়ে আফরা কে দেখার চেষ্টা করছে। আজ কিভাবে সেজেছে দেখার জন্য। আফরাকে না জানি আজ কত সুন্দর লাগছে।
আফরোজা বেগম নাতি নাতনী আসার আনন্দে কতক্ষণ পর পর খুশিতে কেঁদে দিচ্ছেন। হঠাৎ বিহানদের চলে যাওয়ার কথা মনে করে আঁতকে উঠেছেন। মনে মনে বলছেন,
না না আমি আর সেদিনের কথা মনে করতে চাইনা এই আনন্দের দিনে।
রিনা বলছে,
---" ভাবীর মুখ এত সহজে দেখতে দিব না আগে টাকা দাও।
---" নিজের বউকে দেখব আবার টাকা কিসের। তোরা পথ থেকে সরে দ্বারা তোরা তো আমাত ভাই বইন।
---" আমরা যে সুন্দর করে সাজিয়েছি সেটার পারিশ্রমিক দিবা না।
---" আমার বউ যে শরীর খারাপ নিয়ে সাজছে সেটাই অনেক।
আজ অন্তরার ৭ মাসের অনুষ্ঠান হচ্ছে...
সেদিন বের হবার পর পিছন ফিরে মায়ের চোখে পানি দেখে কিছু পথ হাঁটার পরে অন্তরাকে নিয়ে আবার ফিরে আসে। বিহান মনে মনে আগে ঠিক করে রেখেছিলো যাবে না। কিন্তু সেটা কাউকে বুঝতে দেয়নি। সেদিনের পর থেকে আফরোজা বেগম অন্তরাকে চোখে হারায়।
আফরা এখন অন্তরার বেস্ট ফ্রেন্ড। দেখে কারো বুঝার উপায় নেই তারা ঝা.....
আজ পুরো পরিবার ভালোবাসায় পরিপূর্ণ.....
#সমাপ্ত
আমি গল্পটাতে বুঝাতে চেয়েছিলাম বিয়ের পর পর স্বামীর কিছু হলে বউকে দোষ দেয়া হয়। আর এ সমাজে একটা বিধাবা মেয়েকে কত কিছু শুনতে হয় তার হিসেব নেই। কেউ তার মনের অবস্থা বুঝার চেষ্টা করে না।
ভালো থাকুক সকল পবিত্র সম্পর্ক❤
গল্পটা কেমন হয়েছে সবাই জানাবেন কারণ আপনাদের ভালোবাসা আমার অনুপ্রেরণা ❣
#পাঁচ_ওয়াক্ত_নামাজ_পড়ুন_জীবন_সুন্দর_করুন 🖤
অদ্ভুত
অদ্ভুত ভালোবাসা সিজন ৩
পর্ব:১৬
,
" শুনুন,দাড়ান,দাড়ান না প্লিজ। দুলাভাই"নীরার কথা শুনে নিলয় থেমে যায়।
নিলয়কে দাড় করানোর জন্য "দুলাভাই"ডাকটা টনিক এর মতো কাজ করলো। নিলয় তো দাড়িয়ে গেলো। আর নীরার সামনে ফিরেও আসলো। এসেই আচমকা নীরার গালে ঠাসসসস করে একটা চড় বসিয়ে দেয়।
নীরা বেচারি গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে ওর দিকে ভ্যালভ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। সেকেন্ডের মধ্যে ওর সাথে কি হয়ে গেলো সেটা বোঝার চেষ্টা করছে। "এখন যাবো মুনিরার কাছে, বিয়ে করতে। এতই যখন দুলাভাই ডাকার শখ হয়েছে। তোর শখ টা পূরণ করি। চল প্রথম স্বাক্ষী তুই হবি। " নিলয় নীরার হাত টেনে নিয়ে চলে যাবার আগেই নীরা নিলয়ের হাত টা টেনে ধরে। "s,,,sorry "
"sorry কি আমার ব্যাথার সিরাপ না মেডিসিন?"
"আ,,,,,আসলে কাল "
কথাটা বলেই নীরা নিজের ওড়নাটা এক কানা নিলয়ের হাতের সাথে পেঁচিয়ে ধরে।
"আমি সব জানি। খারাপ আমার এতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট লেগেছে তুমি সত্য মিথ্যা যাচাই না করেই আমার থেকে দুরে চলে যাবার জন্য তৈরি হয়ে গেছো। আমার কথাটা একবার ও ভাবলে না, ডাফার এর তো স্টুপিটের মতো ডাক ডাকছো আমায়। মুনিরা কি বললো সেটাই তোমার কাছে ইমপোর্টান্ট, আর আমি যে দিন রাত তোমার পিছে পড়ে আছি সেটার কোনো ভ্যালু নেই তোমার কাছে। তুমি আমাকে কেনো বিশ্বাস করবে।তুমি তো তোমার কাজিন কে বিশ্বাস করবে। তুমি তো আর আমাকে ভালোবাসোনা। ওই পলাশ কে ভালোবাসো "।
"কে বললো আমি উনাকে ভালোবাসি"?
"সব বুঝি আমি। ছোট বাচ্চা না আমি, কার মনে কি আছে আমি সব বুঝি। "
অভিমানী কন্ঠে কথাটা বলেই ও উল্টোদিকে ঘুরে দাড়ায়।নীরা বেশ বুঝতে পারে। নীরা মুচকি হাসে।
"এভাবে নাচানাচি করলে কিন্তু আমার ওড়নাটা খুলে যাবে। পরে কিছু বলতে পারবেন না। চুপচাপ দাড়ান"।
নিলয় নীরার ওড়নার কানা টা নিজের হাত থেকে খুলে দেয়। জোরে সাথেই টেনে খুলে যার জন্য নিলয়ের হাতে লেগে যায়।
"আউচ" নিলয়ের ব্যাথায় জরানো কন্ঠ নীরার বুকে গিয়ে আঘাত করে। চট করে নিলয়ের হাত টা মুঠো করে ধরতেই নিলয় হাত ছাড়িয়ে দেয়। " ঠিক আছে। তোমার ওড়না ধরার অধিকার আমার নেই। অধিকার টা অন্য কারো সেটা আমি জানি। সরি, আমার জন্য তোমার ওড়না নষ্ট হলো, আমি নিউ ওড়না কিনে দেবো"।
,
নিলয়ের কথায় নীরার প্রচন্ড রাগ হলো। এক ঝটকায় নিলয়ের সামনেই নিজের ওড়না খুলে মাঠে ছুঁরে মারে। নিলয় হতদম্ভ হয়ে যায় নীরার কাজটা দেখে। নিলয় টচ করে ওড়নাটা তুলে নীরাকে জরীয়ে দেয়। " তোমার সাহস দেখে আমি হতবাগ হয়ে যাচ্ছি। তুমি আমার সামনে দাড়িয়ে কিভাবে চিপ মেন্টালিটির কাজ করলে?টেনে ঠাস করে এমন একটা চড় দিবো না তোমার এতো সাহস কই থেকে আসে দেখে নিবো "
দাঁতে দাঁত চিপে কথাটা বলে নিলয়।
নীরা রাগে উল্টো দিকে ঘুরে দাড়ায়।
নিলয় হেঁচকা দিয়ে নীরার ওড়নার এক কানা টেনে হাতের সাথে জরীয়ে নীরার সামনে নিজের হাত এগিয়ে দেয়।
"নে ধর, খুসি এবার"?রাগে গজগজ করে কথাটা বলে নিলয়। নীরা মুচকি হেসে হাত টা টেনে ভালো করে জরীয়ে দেয়।
"আমি কি উনাকে বলেছি আমার হাত ধরতে? উনি ধরেছে তো আমি কি করবো? আমি তো উনাকে ডেকে আনিনি যে আপনার নিজের ক্ষতি করতে হবে। "
"আমার কারো জ্ঞ্যান চাই না"
"আ,,,,পনাকে জ্ঞ্যান দিবো সেই ক্ষমতা আমার আছে নাকি? যে,,,,টা সত্য সেটা বলেছি। উনাকে আমার পছন্দ নয়। আমি চাই না উনি আমার সামনে আসুক"
,
নীরার কথাটা নিলয় ভালোমতোই বুঝতে পারে। নীরা ওকে কি বলতে পাচ্ছে। নীরা নিলয়ের হাত ধরে এনে গাড়ির সামনে দাড়ায়। নিলয় বোঝার চেষ্টা করছে নীরা কি করতে চাইছে।
"এভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো? হসপিটালে যেতে হবে। গা,,,,গাড়িতে উঠেন। এভাবে তাকিয়ে ভয় দেখাতে হবে না"
"আমি তোমাকে ভয় দেখাচ্ছি?"
"না উঠেন আপনি "
বলেই নিলয়কে গাড়িতে হালকা ধাক্কা দিয়ে বসিয়ে দেয়।
,
"ম্যাম হাত টা তো ওড়না দিয়ে বেধে রেখেছেন। আর ওড়নার বাকিটুকু আপনার শরীরে আছে। তো আমি না হয় এখানে বসলাম।আপনি কি করে গাড়িতে উঠবেন"?
এই রে নীরার তো খেয়াল ছিলো না, কি করবে এখন ও
"এটা কোনো ম্যাটার হলো আপনি নামেন। আমি আগে উঠি,তারপর আপনি উঠেন,হয়ে গেলো সিম্পল"
,
"আমার কাছে আরও একটা আইডিয়া আছে , আমাকেও নামতে হবে না আর তুমিও বসতে পারবে।"
"কীভাবে"?
নীরা কথাটা শেষ করতেই পারে না, তার আগেই নিলয় নীরাকে টেনে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে।
"প্র্যাকটিক্যালি দেখিয়ে দিলাম।মজার না ব্যাপার টা?"
,
নীরা তো শক। "প্লিজ নামান আমাকে। এভাবে কেউ গাড়ি চালায় নাকি?"
নীরার কথায় নিলয় কান দেয় না।
"আর একটা সাউন্ড হলে ছুড়ে বাহিরে ফেলে দিবো দিবো "
নীরা মুখ ফুলিয়ে চুপচাপ বসে।
"নীর পাখি" নীরা চুপ করে থাকে নিলয়ের কথার উত্তর দেয় না। নিলয় চট করে নীরার কপালে চুমু এঁকে দেয়। নীরা নিলয়ের দিকে তাকায়।
"দিন দিন তোমার বড্ড সাহস হয়ে যাচ্ছে। আমার কথাকে তুমি গুরুত্বই দিচ্ছো না "
"আমি কি করলাম?"
" তোমাকে বারন করেছিলাম না আমি, আমার দেওয়া কোনো জিনিস তুমি তোমার শরীর থেকে খুলবে না। কি বলেছিলাম না?"
হালকা ধমকে নিলয় কথাগুলো বলে। নীরা চুপটি করে থাকে।
"কাল রাতে সব নিজের হাতে পরিয়েছি, আর এটা আমি খুলবো আমাদের বাসর রাতে। তার আগে যেনো এগুলো না খোলা হয়। কারন বাসর রাতে তো কোনো কিছু "
নিলয় নীরার কানে কানে ফিসফিসিয়ে কথা গুলো বলছিলো লাস্ট কথা শেষ হবার আগেই নীরা নিলয়ের মুখ চেপে ধরে।
"মুখে লাগাম লাগান অসভ্য লোক। আপনার মুখে কি কিছু আটকায় না "
,
নিলয়ের কথায় নীরা বেশ লজ্জা পায়।নীরার মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। নিলয় নীরাকে দেখে মুচকি হেসে নীরার থুতনি টেনে থুতনিতে একটা কামড় দেয়। কামড় টা জোরেই দেয়। নীরা "আউচ" করে উঠে। নিলয় একটু জোরেই হেসে ফেলে।
"এই টুকু কামড়েই এমন করছো? তাহলে বাসর রাতে কি করবা নীর"
"আল্লাহর ওয়াস্তে মুখ টা বন্ধ করেন। দোহাই লাগে আপনার, এতো নির্লজ্য হতে নেই "।
"i love you নীরপাখি"
নিলয় ভালোবাসার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নীরার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। নীরা নিলয়ের চাউনি দেখে লজ্জা পেয়ে যায়। নীরা নিলয়ের থেকে চোখ নামিয়ে নেয়।
"I'm sorry নীরু"
"কেনো?"
"কথা দিয়েছিলাম তোমাকে, তুমি না চাইলে তোমাকে টাচ্ করবো না,কিন্তু তোমাকে দেওয়া কথা আমি রাখতে পারিনি। বেশি কিছু করিনি জাস্ট তোমার উন্মুক্ত পেটে আলতো করে ঠোঁট দুটো ডুবিয়েছি। "
,
"আপনার কপালে বউ জুটবে না, নির্লজ্য লোক একটা। চুপচাপ গাড়ি চালান একটা কথা বলবেন না।"
নিলয় বাঁকা হেসে নীরাকে আরও ক্লোজ করে জরীয়ে নিয়ে ড্রাইভ করে। নীরা কিছু বলার সাহস পায় না। হসপিটালে গিয়ে নিলয়ের হাত ব্যন্ডেজ করে নেয়। নিলয় নীরা কেও চেকাপ করিয়ে নেয়। তারপর নিলয় নীরাকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।
,
নীরা বাসায় এসে দেখে পলাশ ওর পরিবার নিয়ে সেজে গুজে বসে আছে।
,
be continue ♥♥♥
Tomai pabo bole
#তোমায়_পাবো_বলে
#পর্ব_০৩লিরা তাহিনের জন্য খাবার নিয়ে এসেছে।তাহিন ভেবে পায় না এ বাসার লোকজন এরকম কেনো?এই যে লিরা নামের মেয়েটা এলো একবার নক করার প্রয়োজন মনে করলো নাহ!আশ্চর্য!হতে তো পারতো ও নিনিতার বয়ফ্রেন্ড।তখন ওরা যদি অপ্রীতিকর অবস্থায় থাকতো!কারো নূন্যতমনিনিতা ওয়াশরুম থেকে বের হতে হতে বললো,
___"এগুলো নিয়ে যাও।"কিছু লাগবে না।"
লিরাও প্রতিত্তোরে হেসে চলে গেল।তাহিন সোফায় গিয়ে ভদ্র ছেলের মতো বসে রইলো।নিনিয়া অপজিট পাশে বসে বললো,
___"হঠাৎ আমার বাসায়।কি মনে করে?"
নিনিতা ভেবেছে বিকালে আশফাক চৌধুরীর সাথে কথা হয়েছে এ নিয়ে কথা বলতে এসেছে তাহিন।আসতেও পারে তাহিন যে কতটা বেপরোয়া নিনিতা আশফাক চৌধুরীর সাথে কথা বলে বুঝতে পেরেছে।
তাহিন আমতাআমতা করে বললো,
___"আসলে তুমি তোমার ক্যামেরার লেন্স ফেলে এসেছিলে।আমি ভাবলাম দিয়ে যাই।"
নিনিতা উঠে দাঁড়িয়ে তাহিনের দিকে বললো,
___"থ্যাঙ্কিউ।"
তাহিন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।ও নিনিতাকে মিথ্যে বলেছে।নিনিতা কোনো লেন্স ফেন্স ফেলে আসেনি।তাহিন উল্টো নিজের টাকা খরচ করে লেন্স কিনে এসেছে।শুধু নিনিতার কাছাকাছি থাকবে বলে।
নিনিতা বললো,
___"বিয়ার খাবেন?"
___"হুম খাওয়া যায়।চলো বাইরে যাই,এখানে আর যাই কিছু পাওয়া যাক না কেনো বিয়ার তো আর পাওয়া যাবে না।"
তাহিন দাঁড়িয়ে গেল।তাহিনের খোঁচাটা নিনিতার বুঝতে একটুও সময় লাগেনি।নিনিতা মিষ্টি হেসে বললো,
___"কোথাও যেতে হবে না।এখানেই বসুন।"
তাহিন বসলো না।নিনিতার রুমটা ছোট।ছোট এই রুমটাতে ছয়টা কর্ণার স্ট্যান্ড হারিকেন ল্যাম্প এবং দুইটা ম্যাজিক ল্যাম্প।
চারদিকে সাদা ইয়া বড় বড় পর্দা।সোফা,কুশন,বিছানার চাদর,বালিশ,এমনকি মেঝেটা পর্যন্ত ঝকঝকে সাদা।একটা মানুষের সাদা এতো কেনো পছন্দ ভেবে পায় না তাহিন।শুধু নিনিতার বেডের মাথার ওপরে পেইন্টিংটা ছাড়া।পেইন্টিংটা বহু রঙে রঙিন।দেয়ালের মাঝামাঝি-তে রাখা পেইন্টিংটা।পেইন্টিংটাতে কোনো কিছু নেই শুধু রঙ ছাড়া।সাদার মাঝে রঙিন হয়ে ফুটে উঠেছে।
সম্পূর্ণ ঘরের রঙ কেড়ে নিয়েছে এই পেইন্টিং।খুব একটা আসবাবপত্র নেই।নিনিতা মেয়ে কিন্তু একটা ড্রেসিংটেবিল ওর রুমে নেই।হাউ ইজ পসিবল!তাহিন বললো,
___"তোমার রুমটা খুব ছোট নিনিতা।"
নিনিতা সাদা পর্দার আড়াল থেকে দুটো বিয়ারের বোতল বের করলো।একটা তাহিনের হাতে দিলো।তাহিন অনুভব করলো বিয়ারের বোতল ঠান্ডা শীতল।সবেমাত্র ফ্রিজ থেকে বের করা হয়েছে।নিনিতা বললো,
___"ছোট না।পর্দা দিয়ে ঢেকে ছোট করে ফেলেছি।পর্দার আড়ালে একেকটা ভাগ করা আছে।এতো বড় রুম যে দেখলে খেলার মাঠ মনে হয়।তাই এ ব্যবস্থা।"
কথা বলতে বলতে নিনিতা বোতলের ছিপি খুলে ফেলল।তারপর এক চুমুকে কম অর্ধেক খেয়ে ফেলল।তাহিন অবাক হচ্ছে।ও তো ভেবেছিল নিনিতা অন্য টাইপের মেয়ে।এসব খায় না।তাহিন জিজ্ঞেস করলো,
___"সবসময়ই খাও?"
___"সবসময় না,মাঝেমধ্যে।বিয়ার খাওয়া ভালো।সপ্তাহে কিংবা মাসে একবার হলেও বিয়ার খাওয়া উচিত।বিয়ার অনেক ফল দিয়ে বানায়।সাইট এফ্যাক্ট থেকে বেনেফিট বেশি।আমি কিন্তু এলকোহল ফ্রি বিয়ারের কথা বলছি।"
___"বিয়ার নিয়ে পিএইচডি করেছো দেখছি।আর কি জানো?"
নিনিতা চুপ করে গেল।সব কথা সবাইকে বলতে নেই।নিনিতাকে চুপ থাকতে দেখে তাহিন ভ্রু কুঁচকে বললো,
___"কিছু বলছো না যে।"
___"এমনি।বাদ দিন।"
নিনিতা বারান্দায় গেল।তাহিনও ওর সাথে গেল।তাহিন বারান্দায় গিয়ে অবাক হয়ে গেল।বারান্দার দেয়ালের গা ঘেঁষে পাতাবাহার,মানিপ্লান্ট,বনসাই,ছোট পাম গাছ,ফরচুন ট্রি,চায়নিজ কামিনী নানা ধরনের গাছ।সেই সাথে অর্কিড সাজানো আছে।পাটের তৈরি শিকা ঝুলে তাতে মাটির হাঁড়িতে আরও রঙিন গাছ।দুটো টুল,সাইড টেবিল আর একটা রকিং চেয়ার।আরেক পাশে নিচে দেয়ালের গা ঘেঁষে অনেক হারিকেন লাইট।
পাশে একটা বুক শেল্ফ।
নিনিতা বাইরে সোডিয়ামের দিকে চোখ রেখে বললো,
___"বাইরে যাবেন।চলুন হেঁটে আসি।"
তাহিন সঙ্গে সঙ্গে বললো,
___"হুম যাবো।"
তাহিনের অবস্থা মেঘ না চাইতে জল পাওয়ার মতো।নিনিতা গায়ে জ্যাকেট জড়িয়ে নিলো।ফাল্গুন মাস শীত যাই যাই বলেও এখনো যায়নি।
নিনিতা আর তাহিন পাশাপাশি হাঁটছে।পিনপতন নিরবতা।তাহিন বললো,
___"নিঃসন্দেহে তুমি ভালো ফটোগ্রাফি করো।কিন্তু তোমার ছবিতে ফিলিংস নেই।"
নিনিতা দাঁড়িয়ে গেল।তারপর বললো,
___"ফিলিংস নেই।"
তাহিন হেসে বললো,
___"উহুম নেই।যদিও তোমার মন রাখতে বলা উচিত ফিলিংস আছে।কিন্তু সত্যিটা হলো নেই।"
___"ফটোগ্রাফারের ফিলিংস কেউ দেখে না।যারা মডেলিং করে, যাদের ছবি তোলা হয় তাদের কেমিস্ট্রি দেখে,তাদের ফিলিংস উপলব্ধি করে।আপনি কিন্তু আমার কাজের দিকে আঙ্গুল তুলছেন।ডোন্ট ডু দিস।"
___"তুমি হাইপার হয়ো না।ফটোগ্রাফার এবং মডেল উভয়ের ফিলিংস প্রয়োজন।আচ্ছা বাদ দাও।কখনো প্রেম করেছো?"
___"ফটোগ্রাফি করতে প্রেম করা লাগে না।"
তাহিন চুপ।
নিনিতা এই ঠান্ডায় আইস্ক্রীম কিনলো।দুজনেই একসাথে হেঁটে হেঁটে আইস্ক্রীম খেল।আস্তে আস্তে হেঁটে বাসায় ফেরার সময় নিনিতা বললো,
___"সব মেয়ে একরকম না।তাই তাদের পটানোর ধাঁচ আলাদা করা উচিত।আমার টাইপের মেয়ে গুলোকে খাওয়ালে,গিফট করলে কিংবা নানা কৌশলে ইম্প্রেস করলেও পটে না।তাই বলে যে পটে না ব্যাপারটা এরকমও না।পটে তবে সেটা অনেক সাধনা তপস্যার ফল।কেউ টাইমপাস করতে এতো সময় নষ্ট করে না।তাহিন চৌধুরী এমন সস্তা পটানোর কৌশল অবলম্বন করবে বলে আমার জানা ছিলো না।"
তাহিন থেমে গেল।নিনিতা জ্যাকেটের পকেট থেকে ক্যামেরার লেন্সটা তাহিনের হাতে দিয়ে বললো,
___"লেন্সটা আমার না।আমার কাছে আসার এটা শুধু মাত্র কৌশল ছিল।আমি আমার কাজ নিয়ে অনেক সেনসিটিভ।আমার ক্যামেরার প্রতিটা পার্ট আমার মুখস্ত।এখন বলতে পারেন যে আমি বুঝেও কেনো আপনাকে তখন কিছু বললাম না।প্রশ্ন করার আগে জবাব দিচ্ছি।কারণটা হচ্ছে আমি আপনার উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা করছিলাম।দ্বিতীয়বার এমনটা করবেন না।ভালো থাকবেন।"
নিনিতা হেঁটে চলে গেল।একবার যদি পেছন ফিরে তাকাতো তবে তাহিনের হতভম্ব হওয়া চেহারা খানা দেখতে পেত।
তাহিন ক্লাবে ঢুকে ইচ্ছা মতো মদ খাচ্ছে।নিনিতা ওকে সস্তা বলেছে।যে তাহিন দশমিনিটে মেয়ে পটিয়ে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে।আর সেই তাহিনকে কিনা সস্তা বলেছে।রাতুল অনেকবার তাহিনকে থামানোর চেষ্টা করেছে লাভ হয়নি রাতুল বললো,
___"আমি আগেই বলেছিলাম।প্লানটা স্কিপ করতে তুই তো আমার কোনো কথাই শুনিস না।"
তাহিন মাতাল হাসি দিয়ে বললো,
___"নিনিতার দুর্বলতায় আঘাত হানলে কেমন হয় রাতুল?"
___"ইউ ডোন্ট ডু দিস তাহিন।মেয়েটা তোর কোনো ক্ষতি করেনি তুই কেনো মেয়েটার ক্ষতি করবি।হোয়াই?"
তাহিন রেগে বললো,
___"আগে করেনি।এখন তো করেছে।ওই মেয়ের জন্য নিজের বাপ-মা চৌদ্দগুষ্টি কথা শোনায়।আমার বাপ অপদার্থ বলে।বাইরে বেরুতে পারি না যখন তখন মিডিয়ার হামলা করে আর বাড়িতে ডিজগাস্টিং।তারপরও বলবি ক্ষতি করেনি।"
রাতুল খানিকক্ষণ চুপ থেকে বললো,
___"তাই বলে তুই মেয়েটার ফিলিংস নিয়ে খেলতে পারিস না।শেষ মেষ তুই এই নোংরা খেলায় নামবি।ছিঃ।"
তাহিন মাতাল কণ্ঠে বললো,
___"তাহিন চৌধুরী সব পারে সব।"
___"ও যদি তোর বা আমার বোন হতো।"
তাহিন চোখ-মুখ শক্ত ___"সস্তা শব্দটা বলার আগে জিভ টেনে ছিড়ে ফেলতাম।"
___"নিনিতা ঠিকই বলেছে তুই সত্যিই চিপ মাইন্ডের।"
রাতুল কথাটা বলতেই তাহিন ওর মুখে ঘুষি মারলো।রাতুল ছিটকে নিচে পরে গেল।ক্লাবের অন্যরা রাতুলকে তুলে দাঁড় করালো।তাহিন আরেকটা ঘুষি দিলো।রাতুল এবার তাহিনের গায়ে হাত তুলতে গিয়েও তুললো না, কেঁদে দিলো।কখনো ভাবেনি বন্ধুত্বের মাঝে এমন একটা দিন আসবে। দ্বিতীয় ঘুষিতে রাতুলের নাক ফেটে গেছে,রক্ত বের হচ্ছে।তাহিন নিজেই আবার রাতুলকে জড়িয়ে ধরলো।জাপ্টে ধরে বললো,_"আ'ম সরি।আমার মাথা ঠিক ছিলো না।সরি।"
রাতুল কিছু না বলে তাহিনকে জড়িয়ে ধরলোচলবে,,,
Bosor rater
গল্প :- বাসর রাতের কান্ড
পর্ব :- ২ & শেষ
লেখা :- hasan
.
.
....আচ্ছা! আপনার সাথে কখনো আমার শারীরীক সম্পর্ক হয়েছে?
.
কথাটা শুনে আরোহী অবাক হয়ে গেল!
.
অবাক হওয়ার কিছু নেই। বলেন হয়েছে কি না?
-না হয়নি?
.
আপনাকে কখনো জড়িয়ে ধরা তো দূরের কথা বিয়ের পর ঠিকমতো আপনার হাতটাও ধরার মতো সুভাগ্য আমার মতো অভাগার কপালে জুটেনি। আর আমি আজ শুনলাম আপনি অন্তঃসত্ত্বা। আমি কোন নষ্টা মেয়েকে স্ত্রীর পরিচয় দিতে পারবো না। আমি আপনাকে ডির্ভোস দিবো।
.
আরোহী আমার কথাটা শুনেই কান্না করে দিল। বিছানা থেকে নেমে আমার পা দুটি ঝাপটে ধরে বলতে লাগল- আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমাকে তাড়িয়ে দিয়ো না। আমি সত্যি এমন কাজ করিনি। বিশ্বাস করুন আমাকে।
- হা, হা কিসের বিশ্বাস? যাকে আমি একটিবার স্পর্শ পর্যন্ত করিনি। সে যদি প্রেগনেন্ট হয় তাহলে কীভাবে বিশ্বাস করি?
- প্লিজ তোমার পায়ে পড়ি মিথ্যা অপবাদ দিয়ো না আমায়।
- তাহলে তুমি বলতে চাচ্ছো ডাক্তারের রির্পোট মিথ্যা?
- আরোহী কোন কথা বলছে না। চোখ দিয়ে অঝরে পানি পড়ছে।
- আমি না খেয়ে অফিসে চলে গেলাম।
- রাতে বেলা শুয়ে আছি। হঠাৎ বুকটা ভারী ভারী লাগতেছে। চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি কথা আমাকে জরিয়ে ধরে আছে ছোট বাচ্চার মতো তার চোখের পানিতে আমার বুক ভিজে যাচ্ছে।
- এই কি করছো তুমি? তোমার মতো নষ্টা মেয়ের আমাকে জরিয়ে ধরার কোন অধিকার নেই। কার সাথে এমন বাজে কাজ করছো। নাকি যে ছেলেটাকে বিয়ের দিন মাইর দিয়েছিলাম তার সাথে?
- প্লিজ বিশ্বাস করো, ছোট বেলা থেকেই তোমাকে এটা সেটা নিয়ে রাগাতাম। একদিন আমার বান্ধবী জেরিন আমাকে বলে। সে নাকি তোমাকে ভালবাসে। তোমাকে দেওয়ার জন্য একটা চিঠিও দেয়। সেদিন চিঠিটা আমি তোমাকে দেয়নি। কেন যেন আমার খুব কান্না পাচ্ছিল। তাই জেরিন কে বলে দিয়েছি, তুমি অন্য কাউকে ভালবাসো। জানো সেদিন থেকেই তোমাকে ভালবেসে ফেলি। কিন্তু কখনো তোমায় বলতে পারিনি। তুমিতো সারাক্ষণ আমার সাথে ঝগড়া করতে। জানো যার সাথে বিয়ে ঠিক ছিল আমার,সে ছেলেটা আমার বান্ধবী নিধির বয়ফেন্ড। তাদের দুজনকে পালানোর টাকাটাও আমি দেয় তোমাকে পাওয়ার জন্য । আর তুমি যেন আমাকে ভালবাসো.. সে জন্য বিয়ে বাড়িতে বোরকা পড়ে ওই ছেলেটাকে অভিনয় করতে বলি। বিশ্বাস করো সত্যি তোমায় অনেক ভালবাসি।
- ঠাস! লজ্জা করে না পাপ মুখে আমাকে ভালবাসার কথা বলতে। তুমি মনে করেছো। তোমার সাজানো গোছানো মিথ্যা কথা আমি বিশ্বাস করবো? কখনোই না।
- আরোহী আমার কথা শুনে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল।
-আমি শুয়ে পড়লাম। সারাদিনের কর্ম ব্যস্ততায় শরীরটা নিতিয়ে পড়েছে। চোখ জোড়া বন্ধ করতেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম।
- পরের দিন আরোহী কে নিয়ে ডির্ভোসের আবেদন করে আসলাম।আরোহী শুধু আমার দিকে করুণ চোখে চেয়ে আছে। আরোহী কি আর বলবে। আমার জায়গায় যে কেউ হলেও এটাই করতো।
- বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে, টিভি দেখতে ছিলাম। এমন সময় দেখলাম আরোহী শাওয়ারে গেল।
- রাতে শুয়ে আছি।হঠাৎ পাশের রুম থেকে চাঁপা কান্নার আওয়াজ আসছে।
- আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি, রাত প্রায় দু'টা ছুঁই ছুঁই! বিছানা থেকে উঠে, পাশের রুমের দিকে চোখ পড়তেই চমকে উঠলাম!
- আরোহী জায়নামাযে বসে মোনাজাতে কাঁদছে। আর বলছে ' হে পরম করুণাময় আল্লাহ্ তায়ালা। সারাজাহানের অধিপতি, তুমি তো জানো আমি ফুলের মতো পবিএ। কোন পরপরুষের সংস্পর্শে যায়নি। তবুও আজ আমার গর্বে সন্তান। হে আল্লাহ্, আমার করুণাময় আল্লাহ্ । আমি আমার স্বামীকে নিজের থেকে বেশি ভালবাসি। তুমি তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ো না আমায়। আমার সম্মান তুমি রক্ষা করো। সতি নারীর সম্মান তুমি রক্ষা করো। আমিন।
- আরোহীর কান্না দেখে নিজের অজান্তেই চোখের কোণে জল এসে পড়ে। কারণ পাগলীটাকেও যে আমি বড্ড বেশি ভালবাসি। মনে মনে ভাবলাম অনেক হয়েছে আর না। খুব বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। ভালবাসার মানুষ এতো কষ্ট দিতে হয় না। আরোহী রুমে আসার আগেই, আলমারী থেকে সবুজ পাড়ের কালো তাঁতের শাড়িটা বের করলাম। কথা রুমে আসতেই বললাম' যাও শাড়িটা পড়ে আমার সামনে আসো'।
- আরোহী এতো রাতে আমার পাগলামী দেখে কিছুটা বিস্মিত হলো। কারণ আজ কোর্ট থেকে আসার পর এই প্রথম কথা বললাম।
- আরোহী কিছুক্ষণ পর শাড়ি পড়ে আসলে। তার মাঝে অন্য এক আরোহী কে দেখতে পায়।
- নষ্টা মেয়ের দিকে এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? আমি তো নষ্টা তাই ভেবেছি, তোমাকে মুক্তি দিয়ে যাবো। আমি সুসাইড করবো।
- আরোহীর মুখে সুসাইডের কথাটা আমার কলিজায় এসে বিঁধলো। মুখটা চেপে ধরলাম। এই কি বলছো? তোমাকে ছাড়া আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো। আমাকে ক্ষমা করে দাও। তোমার গর্ভের সন্তানটা আমার।
- আরোহী আমার মুখে এমন কথা শুনার জন্য একদম প্রস্তুত ছিল না। তুততমি তো আমাকে স্পর্শ করোনি। তবে কেমনে মা হলাম?
- একদিন ঘুমের বড়ি আর তার সাথে নেশার বড়ি মিক্সট করে দেয়। যদিও এটা অন্যায় ছিলো কিন্তু এ ছাড়া কোন উপায় ছিল না। তোমার ডাইরি পড়ে তোমার বলার আগেই। আমি জানতে পারি যে,তুমি আমার সাথে অভিনয় করেছো। আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসো।
কিন্তু বলতে চাচ্ছো না। তাই কৌশলে এ বুদ্ধি করা। কথাটা বলার আগেই বুকে কারো কিল-ঘুষি অনুভব করলাম। এই কি করছো মরে যাবো তো।
- তোকে যে আমি মরতে দিবো না। মালা বানিয়ে গলায় ঝুলিয়ে রাখবো। কথাটা বলে বুকে মুখ লোকালো।
- এই রাত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফুলশর্য্যাটা সেরে নেয়।
- এই লুচুর হাড্ডি আমার অনুমতি ছাড়াই তো সব করে ফেলছো। দেন মহর যে বাসর রাতে দিতে হয় দিয়েছিলে আমায়?
-হি হি, আচ্ছা! কত টাকা চাও দেন মহর হিসেবে?
- যা চাই দিতে পারবে তো?
- সামর্থ্য থাকলে অবশ্যই দিবো।
- আচ্ছা! দেন মহর হিসেবে তোমাকেই চাই। সারাজীবন তুমি পাশে থেকো আর কিছুই চাইনা।
নয় মাস পর.......
- হসপিটালে বসে বসে পুরোনো সব কথা গুলো ভাবছি আর চোখ থেকে পানি টপটপ করে পড়ছে। মনে মনে আল্লাহ্কে স্মরণ করছি। পাগলীটা অপারেশন থিয়েটারে। অপারেশন থিয়েটারে যেতে চাচ্ছিল না। আরোহীর চোখে চিকচিক করছিল পানি। হঠাৎ ডাক্তার সাথি অপারেশন রুম থেকে বের হয়ে বললো' মিঃ এ আর আপনার মেয়ে হয়েছে। ভেতরে যেতর পারেন।
- আমি বেডে গিয়ে দেখি আরোহীর পাশে ফুটফুটে একটা বাচ্চা কান্না করছে। মেয়েটাকে কুলে তুলে নিয়ে কপালে ভালবাসার স্পর্শ এঁকে দিলাম! হঠাৎ আরোহীর দিকে চেয়ে দেখলাম সে নড়া চড়া করছে না। বুকটা কেমন যেন ধর্ক করে উঠলো। এই আরোহী , কি হলো চোখ খুলো কথা বলছো না কেন। আরোহী কোন কথা বলছে না। আমার বুকটা ফেঁটে যাচ্ছে। আরোহীয মাথাটা বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলাম। হঠাৎ বুকে কারো মৃদু কামড় অনুভব করলাম। চেয়েই দেখি পাগলীটা মিটিমিটি তারার মতো চোখ খুলছে।
- কি হলো ভয় পেয়েছো? ভয় পেয়ে লাভ নেই। আমি তোমাকে ফেলে কোথাও যাচ্ছি না। এখন আমার দল ভারী। মা মেয়ে মিলে একসাথে ঝগড়া করবো।
.
কেমন হলো জানাতে ভুলবেন না কিন্তু .
.
* * * সমাপ্ত * * *
বিয়ে ছাড়াবউ
বিয়ে_ছাড়া_বউ
#পর্ব_7_&_শেষ
RJ MOSTAKIM 💘💖
ইরাঃ - তাহলে ওরা আমাকে ভাবী ডাকলো
কেনো?
আমিঃ - আমি কি জানি?
ইরাঃ- একদম মিথ্যে কথা বলবে না।
আমিঃ - মিথ্যে কথা বলছি নাতো।
ইরাঃ - তাহলে ওরা যে বলল,তুমি বলেছো.......
ইরাকে আঠকিয়ে দিয়ে আমি বললাম,
আমিঃ - আমি কি কি বলছি?
ইরাঃ- আরে তোতলাচ্ছো কেনো?
আমিঃ - কই না তো ওরা কি বলেছে?
ইরাঃ - বলেছে তুমি নাকি বলেছো আমি তোমার
বউ।আমি সস্তির নিশ্বাস নিলাম।
আমিঃ - হ্যা,বলেছি তো।
ইরাঃ- এহ,আমি কি তোমার বউ নাকি যে সবাইকে এটা
বলে বেড়াতে হবে।
আমিঃ - হ্যা বউইতো।
ইরাঃ- উহু তোমার বউ হতে আমার বয়েই
গেছে। ভেংচি কেটে বলে চলে
যাচ্ছিলো। আমি ইরাকে টান মেরে বুকে নিয়ে
এলাম,
আমিঃ-কেনো বউ হলে কোনো সমস্যা?
ইরাঃ- আরে ছাড়োফাইজলামি করো না।
আমিঃ- বউয়ের সাথে ফাইজলামি করবো নাতো
কার সাথে করবো?
ইরাঃ- ছাড়ো, আমার কাজ আছে। ছেড়ে দিলাম।
।
রাতে আমি বসে বসে ল্যাপটপ এ কাজ করছিলাম
আর ইরা আয়নার সামনে বসে চুল আঁচড়াচ্ছে।
আমিঃ -ইপ্সিতা মেয়েটা খুব সুন্দর তাই না। ইরা
পিছনে আমার দিকে ভ্রু কুচকে থাকালো।
ইরাঃ- ইপ্সিতাকে তুমি কোথায় পেলে?
আমিঃ - আজ কথা হয়েছিলো আর ওও বলল
তোমাকে নাকি কি একটা কথা বলেছিলো
আমাকে বলতে।
ইরাঃ- ক কই কি বলেছিলো?
আমিঃ - তোতলাচ্ছো কেনো? ইপ্সিতা আমাকে
ভালোবাসে ইপ্সিতা তোমাকে বলেছিলো
আমাকে এ কথা টা এসে বলতে। তুমি বললে না
কেনো?
ইরাঃ- অবাক হয়ে আর কিছুটা ভাঙা গলায় বলল,ওও
বলেছিলো মনে হয় খেয়াল করি নি।
আমিঃ- ওও,তবে আজ পার্কে প্রপোজ
করেছিলো। ইরা কান্না স্বরে বলল,
ইরাঃ- তুমি কি বললে?
আমিঃ- এতো সুন্দর মেয়ের প্রপোজাল কি
রিজেক্ট করতে পারি?
ইরাঃ- তার মানে এক্সেপ্ট করে নিয়েছো।
আমিঃ- হ্যা,কেনো তুমি খুশি হওনি?
ইরাঃ- হ্যা,হ্যা হয়েছিতো।
আমিঃ- ওও, তাহলে তো ভালোই। মেয়েটা কি
সুন্দর?
ইরাঃ- শুধু কি ইপ্সিতাই সুন্দর। আমি সুন্দর না।
আমিঃ - আরে এটা তোমাকে কে বলল?
ইরাঃ - তোমার কথায় বোঝা যাচ্ছে। তুমি ইপ্সিতার যা
গুন শুনাচ্ছ।
আমিঃ- তুমি কি জেলাস ফিল করছো। ইরা একটু
স্বাভাবিক হয়ে বলল,
ইরাঃ - উহু,জেলাস হবো কেনো?
আমিঃ - ওও,জেলাস না হওয়াই ভালো। আর ইপ্সিতা যা
সুন্দর জেলাস হয়ারই কথা
ইরা রাগে জ্বলছে। তবে মুখে কিছু বলছে না।
আমিঃ - আর ইপ্সিতা আমাকে ফিল করে ওও তোমার
মতো না।
ইরাঃ - মানে!
আমিঃ - মানে তোমাকে কিস করলে তো আমার
প্রতি তোমার কোনো ফিল হয়না। কিন্তু ইপ্সিতার
আমার প্রতি ফিল হয়। ইরা চোখ বড়ো বড়ো
করে বলল,
ইরাঃ - কি?
আমিঃ - হ্যা।
ইরাঃ- তার মানে তুমি ইপ্সিতাকে কিস করেছো।
আমি লজ্জা পেয়ে বললাম,
আমিঃ- হ্যা।
ইরাঃ- ইউ চিটার। বলে আমাকে বালিশ দিয়ে মারতে
শুরু করলো।
আমিঃ- আরে এখানে চিটারের কি হলো? ইরা মাইর
বন্ধ করে দিয়ে বলল,
ইরাঃ- না কিছু না। তুমি যে আমার সাথে আছো ইপ্সিতা
এতে সন্ধেহ করবে নাতো।
আমিঃ - ওও তোমার মতো না।
ইরাঃ- মানে।
আমিঃ - তুমিতো হলেতো সন্দেশ করতে
কিন্তু ইপ্সিতা খুব ভালো ওও আমাকে বিশ্বাস
করে সন্দেহ করার কোনো প্রশ্নই উঠে না।
ইরাঃ- ভালোই একদিন ইপ্সিতাকে চিনে নিলে।
আমিঃ - হ্যা কোনো কোনো মানুষকে প্রথম
দেখায়ই চেনা যায়। যেমন তোমাকে দেখে
আমি প্রথমেই বুজে নিয়েছিলাম তুমি ঝগড়াটে।
ইরাঃ - কি আমি জগড়াটে।
আমিঃ - হ্যা,ঝগড়াটেই তো।
ইরাঃ - দাড়াও দেখাচ্ছি। অতঃপর দৌড় আরম্ভ। অর্ধেক
দৌড়ে থেমে গেলাম ইপ্সিতা ফোন
দিয়েছে। ইরা আমাকে মারতে শুরু করলো।
আমিঃ - উহ, ইরা এখন ফাইজলামি করো নাতো ইপ্সিতা
ফোন করেছে। ইরা থেমে গেলো
কেঁদে দিবে বোধ হয়। আমি বারান্ধায় চলে
গেলাম।
আমিঃ - হ্যালো,ইপ্সিতা কেমন আছো বাবু?( খুব
জোরে জোরে)। আধ ঘন্টা কথা বলার পর
বারান্ধা থেকে রুমে এসে দেখলাম ইরা মুখ ভার
করে বসে আছে।
ইরাঃ- কথা শেষ।
আমিঃ - হুম। ইপ্সিতা কাল দেখা করতে বলেছে।
ইরাঃ - ওও ভালো।
আমিঃ - তোমাকে আমার সাথে যেতে হবে।
ইরাঃ - আমি গিয়ে কি করবো?
আমিঃ - তোমাকে যেতে হবে ব্যাস।
ইরাঃ- জয়,আমি...... আমি আর কিছু বলতে দিলাম না।
রাতে না খেয়ে ইরা শুয়ে পড়লো।
আমিঃ - ইরা,ইরা,এই ইরা।
ইরাঃ -. .......................................... নিশ্চুপ।
আমিঃ - এই ইরা। ইরা চোখ খুলল। চোখগুলো লাল
আর ফুলে গেছে।
আমিঃ - খেয়ে নাও। আর তোমার শরীর খারাপ
নাকি।
ইরাঃ - না, খাবো না।
আমিঃ - আরে খেয়ে নাও।
ইরাঃ - খাবো না বললাম তো। আমিঃ - খেতে
হবে। আমি জোর করে খাইয়ে দিচ্ছি ইরা আমার
দিকে থাকাচ্ছেই না।
পরেরদিন ইরাকে নিয়ে শপিংয়ে গিয়ে ইপ্সিতার
জন্য শাড়ি কিনলাম আরো অনেক কিছু। ইরা কিছু
বলতে পারছে না। সারাদিন ইপ্সিতার হাত ধরে
ঘুরলাম আর ইরা লুচির মতো ফুলছিলো। একটা রিক্সা
নিয়ে আমি আর ইরা বাসায় ফিরছি।
আমিঃ - আজ ইপ্সিতাকে খুব সুন্দর লাগছিলো তাই না।
( ইপ্সিতাকে সুন্দর লাগছিলো তবে আমার বিয়ে
ছাড়া বউটাকে আরোও সুন্দর লাগছিলো।
অনেকে থাকাচ্ছিলো আমার তখন খুব রাগ
ধরছিলো)
ইরাঃ - হ্যা।
আমিঃ - মন খারাপ নাকি তোমার?
ইরাঃ - নাহ। বাসায় ফিরলাম। ইরা এখন প্রায় রাতে
জেগে থাকে আমি পর্দা সরিয়ে দেখি। কাজ
হচ্ছে মনে হয়। আমি পর্দা সরিয়ে ইরাকে
দেখছিলাম। ইরা আমাকে দেখে নিলো।
ইরাঃ - কি দেখছো? এখন আর ইরা আমার সাথে
ফাইজলামি করে না। সিরিয়াসলি কথা বলে।
আমিঃ - তোমাকে।
ইরাঃ - আমাকে দেখার কি আছে?
আমিঃ - অনেক কিছু আছে তুমি বুঝবে না।
ইরাঃ - ওও কাল কোথায় যাওয়া আছে নাকি?
আমিঃ - হুম। ইপ্সিতাকে নিয়ে নতুন একটা জায়গায়
যাবো?ইরাঃ - ওও তাহলে ঘুমিয়ে পড়ো।
আমিঃ - হুম, গুড নাইট।
ইরাঃ - গুড নাইট। ঘুমিয়ে পড়লয়াম। ইপ্সিতাকে নিয়ে
নদীর পাড়ে গেলাম।
ইপ্সিতাঃ - আর কতোদিন।
আমিঃ - কি?
ইপ্সিতাঃ - এই অভিনয়।
আমিঃ - তুমি কি আমার বন্ধু হয়ে সারা জীবন থাকতে
পারবে না।
ইপ্সিতাঃ - হুম। তবে এই অভিনয় করে তো আমি
তোমার উপর আরোও উইক হয়ে পড়ছি। আমি
আর কিছু বললাম না।
আমিঃ - আচ্ছা,এখন উঠতে হবে চলো।
ইপ্সিতাঃ - হুম। ইপ্সিতাকে বাড়ি পৌছে দিয়ে বাসায়
ফিরলাম। উপরে যাবো এমন সময়,
বাড়িওয়ালাঃ - দাড়াও। আমিতো ভয় পেয়ে গেলাম।
কি অঘটন ঘটালাম কে জানে।
আমিঃ - জি বলুন।
বাড়িওয়ালাঃ - তোমার সাথে একটা মেয়েকে
দেখলাম। কে ঐ মেয়েটা? আমিতো শেষ।
আমিঃ - ক্ককই কোন মেয়ে?
বাড়িওয়ালাঃ - কোন মেয়ে মানে তোমার সাথে
কোন মেয়ে ছিলো আমি বলবো কি করে?
আমিঃ - ক কোথায় দেখেছেন?
বাড়িওয়ালাঃ - ঐ তো নদীর পাড়ে।
আমিঃ - ওওঅঅ ওটাতো আমার বন্ধু ছিলো।
বাড়িওয়ালাঃ - বাড়িতে তোমার বউ থাকতে বাইরের
মেয়ে মানুষের সাথে ঘুরা মোটেও ভালো
না।
আমিঃ - আরে আঙ্কেল ও আমার বন্ধুই।
বাড়িওয়ালাঃ - তোমার বউ থাকতে মেয়ে বন্ধুর কি
প্রয়োজন?
আমিঃ - আসলে আঙ্কেল....... আমি কিছু বলার
আগে উপর থেকে ইরা বলে উঠলো,
ইরাঃ - আঙ্কেল ঐ মেয়েটা জয়ের
কলেজের বন্ধু।
আমিঃ- হ্যা,হ্যা। আঙ্কেল আমার দিকে অগ্নি
দৃষ্টিতে তাকালেন।
আঙ্কেলঃ - তবুও ঘরে বউ থাকতে অন্য
মেয়েকে নিয়ে ঘোরে ঠিক না।
আমিঃ - জি, আঙ্কেল।
আঙ্কেলঃ - হুম।
আমিঃ - আঙ্কেল।
আঙ্কেলঃ - কি?
আমিঃ - আপনি হারবাল চিকিৎসালয়ে যাননি। আঙ্কেল ভ্রু
কুচকে বললেন,
আঙ্কেলঃ - কেনো?
আমিঃ - আপনার টাক সমাধানের জন্য। আঙ্কেল
গর্জন দিয়ে উঠলেন। ইরা আর আন্টি খিল খিল
করে হাসছেন
উপরে চলে এলাম।
আমিঃ - খুব জোর বাঁচালে।
ইরাঃ - হুম।
আমিঃ - তুমি কখন এলে?
ইরাঃ - এইতো কিছু সময় আগে।
আমিঃ - ওও,,সরি তোমাকে নিয়ে আসতে পারিনি।
ইপ্সিতাকে এক জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলাম তো
তাই।
ইরাঃ - ইট'স অকে। রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে
পড়লাম।
।
আজ ২ মাস হয়ে গেলো আমার আর ইপ্সিতার
প্রেমের অভিনয়। কিন্তু ইরাতো কোনো
রেসপন্স দিচ্ছে না। যে জায়গায় ইরার আমাকে
বলার কথা যে,ও আমাকে ভালোবাসে সে
জায়গায় ইরা কিছুই বলছে না। ইপ্সিতাকে নদীর
পার্কে ডাকলাম,
আমিঃ - ইপ্সিতা।
ইপ্সিতাঃ - হুম,বলো।
আমিঃ - আমি আজই ইরাকে বলে দিবো আমার
মনের কথা।ইপ্সিতা আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকালো,
ইপ্সিতাঃ - ওও। ধন্যবাদ
আমিঃ - কেনো?
ইপ্সিতাঃ - আমাকে অনেক টাইম দেয়ার জন্য সেটা
অভিনয়ই হোক। আমি ইপ্সিতার মনের কথাটা
বুজতে পারলাম।
আমিঃ - এখন যাই। বলে উঠছিলাম ইপ্সিতা আমার হাতটা
ধরে ফেললো,
ইপ্সিতাঃ - গিভ মি হাগ? ইপ্সিতা আমাকে জরিয়ে
ধরলো মেয়েটা খুব কান্না করছে। আমি ইপ্সিতার
মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম,
আমিঃ - কেঁদো না ইপ্সিতা।ইপ্সিতাকে রিক্সা করে
বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম। আমি রিক্সা নিয়ে ইরাকে নিয়ে
আসতে গেলাম। ইরা অফিসের সামনে দাড়িয়ে
গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলো।
আমিঃ - চলো। ইরা রিক্সায় উঠতে উঠতে বলল,
ইরাঃ - আজ নিতে এলে যে।
আমিঃ - এমনই। মামা নদীর দিকে চলুন।
ইরাঃ - ওখানে গিয়ে কি করবে?
আমিঃ - গেলেই দেখতে পারবে। ইরা আর আমি
নদীর কিনারায় বসে আছি।
আমিঃ - ইরা!!ইপ্সিতা আর আমার মাঝে কোনো
সম্পর্ক নেই।
ইরাঃ - মানে।
আমিঃ - মানে!! তুমি আমাকে ভালোবাস কিন্য সেটা
জানার জন্য আমি ইপ্সিতার সাথে অভিনয় করেছি।
ইরাঃ - আমি কি কখন ও বলেছি তোমাকে
ভালোবাসি।
আমিঃ - জানি না। শুধু জানি আমি তোমাকে ভালোবাসি।
আই লাভ ইউ ইরা। ঠাস। ইরা আমাকে চড় মারলো।
ইরাঃ - তুমি জানো আমি অনাথ। আমাকে এই সমাজ
মেনে নিবে না। আমি তোমাকে ভালোবাসি না।
আমিঃ - ইরা আমার সমস্যা না হলে তোমার কি সমস্যা ?
ইরাঃ - আমি তোমাকে ভালোবাসি না ব্যাস।
আমিঃ - তুমি মিথ্যে বলছো। আমি জানি তুমি আমাকে
ভালোবাস।
ইরাঃ - আমি তোমাকে ভালোবাসি না। আমার কাছে
কাটার ছিলো সেটা হাতে ধরলাম।
আমিঃ - এখন ভালোবাসবে তো।
ইরাঃ - তুমি যদি আমাকে সত্যিকারের
ভালোবেসে থাকো তাহলে তুমি নিজের
কোনো ক্ষতি করবে না। ইরা চলে যাচ্ছে।
আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। কি করবো
ভাবতে পারছি না।
।
রাত হয়ে গেছে আমি রাস্তায় হাটছি। বাসায় যাবো
কি না ভাবছি। আব্বু আম্মু আর বোনটার কথা মনে
পড়ছে। তখনি,
একটা ছেলেঃ - কি ভাই কেমন আছেন? (ইরাকে
ডিস্টার্ব করা ছেলেগুলো) আমি কিছু না বলে হাটা
ধরলাম। ছেলেটা আবার বলল,
ছেলেটাঃ - ভাইয়া কেমন আছেন? আমি
ছেলেটার দিকে তাকালাম। সজোরে একটা ঘুসি
মারলাম গালে। গাল কিছুটা কেটে গেলো রক্ত
বের হয়ে গেছে।
ছেলেটাঃ - আরে ভাই কি হয়েছে আপনার? আমি
ছেলেটার দিকে এগিয়ে যেতেই মাঠি
থেকে উঠে দিলো দৌড়।
ইরা আমার নিজের ক্ষতি করতে মানা করেছে না
হয়।
।
বাড়িতে এলাম দারোয়ান চাচা অন্ধকারের মধ্যে ও
আমাকে চিনে ফেললেন। চিৎকার দিয়ে
উঠলেন।
দারোয়ান চাচাঃ - ছোট সাহেব এসেছেন। চিৎকার
শুনে আব্বু,আম্মু,বোনটা,বাড়ির চাকররা সবাই
বেরিয়ে এলো। আব্বু,আম্মু,বোন আমাকে
দেখে জরিয়ে ধরে কেঁদে দিলো। আর
অনেক জিজ্ঞাসাবাদ। আমি কিছু কিছু কথা বললাম।
।
আজ এক সপ্তাহ হয়ে গেছে বাসায় আসার। আমি
কারো সাথে তেমন কথা বলি না। মাঝ রাতে ইরার
কথা মনে করে কাদি। আর এর মাঝেই সবাই
আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে
লেগেছে। আমি বিষয় টা তাদের উপর ছেড়ে
দিয়েছি। শুনলাম তারা বিয়ে ঠিক করে
ফেলেছে। কনে আমি দেখিনি।
।
আজ আমার বিয়ে হয়ে গেলো মেহজাবিন
নামে একটা মেয়ের সাথে। রাত ১ঃ৪০ রুমে
ডুকলাম। মেহজাবিন এসে আমাকে সালাম
করলো।
আমিঃ - আমি আপনাকে স্বামী র অধিকার দিতে
পারবো না।আমি অন্য একজন কে ভালোবাসি।
মেহজাবিনঃ - ইউ চিটার। কি বললি তুই। সেদিন না বললি
আমাকে ভালোবাসিস আর এখন বলছিস। আমিতো
অবাক এটাতো ইরা।
আমিঃ - ইরা
ইরাঃ - হুম।
আমিঃ - তুমি এখানে কি করে?
ইরাঃ - কি করে আবার বিয়ে করে?
আমিঃ - বুজিয়ে বলো।
ইরাঃ - তোমার আব্বু মানে আমার শশুর আব্বু আমার
আব্বু বন্ধু,আর শাশুড়ি আম্মু আমার আম্মুর বান্ধবী,
আমাদের বিয়ে আগে থেকেই ঠিক করা সেই
সুবাদে ননদীনির সাথে আমার বন্ধুত্ব। আমি
তোমাকে সেই ছোটবেলা থেকেই
ভালোবাসি আর তুমি বিয়ে করবে না বলে
পালিয়ে গেলে। তাই আমি তোমাকে শাস্তি
দেয়ার জন্য সব নাটক করেছি।
আমিঃ - তাই বলে এরকম কষ্ট দিবে আমাকে।
( কেঁদে কেঁদে)
ইরাঃ - আমিওতো কষ্ট পেয়েছি। আমি আর কিছু না
বলে বারান্ধায় চলে গেলাম। ইরা ও আমার পিছনে
এসে জরিয়ে ধরে বলল,
ইরাঃ - সরি তো। এই কান ধরলাম। আমি কিছু না বলায় ইরা
আমাকে তার দিকে ঘুরিয়ে আমার ঠোটে তার
ঠোট বসিয়ে দিলো।
2 year pass,,,,,,,,,,,,
2 বসর পর তাদের একটা ফুটফুটে মেয়ে হয়েসে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, আপনারা সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন,,,,,,,,,,
The story end,,,,,,,,,,,,,,,,,,
গল্পের মাঝে যদি কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে বা আমার কথায় কেউ ব্যাথিত হয়ে থাকেন তাহলে দয়া করে ক্ষমা করে দিবেন,,,,, আর অবশ্যই জানাবেন গল্পটি কেমন হয়েছে,, ধন্যবাদ,,,।।।।।।।।।।।।
সংসার
সংসার
পর্বঃ০১
ফুলশর্য্যার রাতে রাজ যখন মৌকে বলল 'এই নাও ডির্ভোস পেপার সাইন করে দাও। '
রাজের কথাটা মৌ এর কলিজায় গিয়ে বিঁধল।মা মরা মেয়েটার ফুলশর্য্যার রাতে ডির্ভোস পেপারে সাইন করতে হবে এটা কখনো ভাবে নাই সে। হাতের কাঁচা মেহেদীর সাজ! অপরুপা লাগছে মেয়েটাকে। ডির্ভোস পেপারে সাইন করতে গিয়ে এক ফোঁটা চোখের পানি টপ করে কাগজটার উপর পরল। জীবনটা সত্যিই অদ্ভূত চার ঘন্টা আগে যেমন একটি কাগজে সাইন করে নতুন সম্পর্ক আবদ্ধ হয়েছিল। আর এখন একটা সাইনে সে সম্পর্কটা প্রাণহীন হয়ে গেল। এদিকে সাইন করা কাগজটা হাতে নিয়েই, রাজ বলল' সরি মৌ আমার কিছু করার নেই।' পরে যদি তুমি আমাকে ডির্ভোস না দেও। তাই ঝামেলা আগেই মিটিয়ে নিলাম।আর হ্যাঁ আমার সাইনটা বাকি রাখলাম। চুক্তি যখন শেষ হবে আমার সাইনটা দিয়ে কাগজটা পরিপূর্ণ করব। মৌ কিছু না বলে মাথাটা নিচু করে আছে। বুকের ভেতরটা যেন কেমন কেমন করছে। জীবনে কাউকে কোনদিন ভালোবাসেনি। নিজের স্বামীকে সবটা দিবে বলে। কিন্তু আজ স্বপ্নগুলো স্বপ্নই থেকে গেল।
রাজ মৌ এর পাশে থাকা বালিশটা নিয়ে যখনি খাঁট থেকে নামতে যাবে তখনি খেয়াল করল বিছানায় রক্ত! রক্ত দেখে খানিকটা আঁচ করতে পারল সে বিষয়টা কি। মৌকে বসে থাকতে বলে বের হয়ে গেল।
.মৌ বিছানায় বসে বসে ভাবছে, জীবন নামক বহতা নদীর কথা। এ নদীর শেষ কোথায়। বান্ধবীদের কাছে শুনেছি বাসর রাতে এ হয় সে হয়। আর আমার! রাজকেই আর কি বা দোষ দিব। আমি নিজে ইচ্ছায় চুক্তির বিয়ে করেছি। যদিও রাজ আর আমি ছাড়া দ্বিতীয় কেউ জানে না। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে যায় খেয়াল নেই।
রাজ ফার্মেসি থেকে প্যাড নিয়ে এসে রুমে ডুকতেই দেখে মৌ ঘুমাচ্ছে। জানালা দিয়ে চাঁদের জোছনা এসে মৌ এর চাঁদমাখা মুখটাতে ভর করছে। মনে হচ্ছে অষ্টাদশী কোন রাজকন্যা। রাজ মৌকে ডাক না দিয়ে বালিশটা নিয়ে সুফায় শুয়ে পড়ে। সুফায় শুয়ে থাকতে থাকতে রাজ সুমাইয়াকে ফোন দেয়। দু'বার রিং হতেই সুমাইয়া ফোন ধরে বলে' হ্যালো জান, তুমি কেমন আছো?'
হ্যাঁ আমি ভালো। আর হ্যাঁ তোমার কথা মতো মা'কে খুশি করার জন্য বিয়ে করেছি। মেয়েটাও রাজি হয়েছে। আচ্ছা ছয়মাসের মাঝেই কিন্তু দেশে ফিরবে।
-আচ্ছা! সুইর্ট হার্ট আমাকে ভুলে যেয়ো না। এখন রাখছি বাই।
আচ্ছা। টেক কেয়ার।
২.
সকালবেলা পাখির কিঁচির মিচিরে, রাজের ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে যখনি উঠতে যাবে ঠিক তখনি কে যেন বারবার দরজায় নর্ক করছে। রাজ তাড়াহুড়া করে বালিশ আর চাদর বিছানায় রাখে। মৌ এর দিকে তাকিয়ে দেখে মৌ এখনো ঘুমাচ্ছে।
রাজ মৌকে ডাক না দিয়ে,দরজা খুলতেই দেখে রিত্ত চা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আজকে চাঁদ কোনদিকে উঠল যে আমার বোন আমার জন্য চা নিয়ে আসল?
এ্যা চা দেখলেই মনে হয় তোমার জন্য নিয়ে আসছি। আসলে আমি চা তো ভাবীর জন্য নিয়ে আসছি।
রিত্ত চা নিয়ে দেখে মৌ উঠে পড়েছে। মৌ এর কাছে চা টা রেখে বলল' ভাবী তোমার চা।'
- তুমি চা নিয়ে আসছ কেন? আর আমি সকালে চা খায় না।
- তো কি হয়েছে এখন থেকে খাবে।
আচ্ছা।
চা খেয়ে মৌ যখন শাওয়ার নিতে যাবে এমন সময় রাজ মৌ এর হাতটা ধরে ফেলল। মৌ রাজের হাতের স্পর্শে কেমন যেন কেঁপে ওঠলো। লজ্জামাখা দৃষ্টিতে রাজের দিকে তাকালো। রাজ প্যাডটা মৌ এর হাতে দিয়ে বলল' আমি তোমার স্বামী। আশা করি এসব কিছু গোপন রাখার দরকার নেই। আমি কাল রাতেই বুঝতে পেয়েছি তোমার সমস্যা হচ্ছে।
- মৌ রাজের মুখে এমন কথা শুনে লজ্জায় জড়োসরো হয়ে গেল। মনে মনে ভাবতে লাগল, মানুষটাকে যতটা খারাপ ভেবেছিলাম ততটা খারাপ না। ' ভালোবাসায় যায়। মৌ রাজকে যতই দেখে ততই মুগ্ধ হয়। ঠিক তার কল্পনায় পুরুষটার মতো। মৌ ঘুমালেই একজনকে স্বপ্ন দেখতে। আর সেই স্বপ্নটা যে এভাবে সত্যি হবে সে কোনদিন ভাবতে পারে নাই।
মৌ শাওয়ার শেষ করে। গোলাপী রঙের একটা শাড়ি পড়ে যখন রুম থেকে যখন বের হবে। তখন পিছন থেকে রাজ ডেকে বলল ' কি সবাইকে তোমার মেদহীন পেট দেখাবে নাকি?
- নাকি তোমার নাভি দেখিয়ে আমাকে মুগ্ধ করতে চাইছো? এসব বাজে মেয়েরা করে।
- মৌ রাজের কথা শুনে কাঁদো কাঁদো ভাবে বলল, কি করবো আমি শাড়ি পরতে পারি না। ' একটু পরিয়ে দিবে?
- কাছে আসো। শাড়ি পরাটাও পারো না। কি পারো? রাজ ধমক দিয়ে মৌকে শাড়ি পরানো শিখিয়ে দিল। শাড়ি পড়া শেষ হলে
-মৌকে দেখেি রাজের মা বলে' বউমা তুমি রান্না ঘরে আসছ কেন?'
-কেন মা আপনি আসতে পারলে আমি কেন পারবো না? মা আমি আপনার মেয়ের মতো, আপনি এসব আর করবেন না।
- ধূর পাগলী। আসই একসাথে রান্না করি। মৌ খুশি হয়ে যায়। সত্যিই মায়ের আদর বোধহয় এমনি হয়।
.
এদিকে দেখতে দেখতে দু'মাস হয়ে যায়। দু'মাসে মৌ রাজের পরিবারের একজন হয়ে যায়। পরিবারের প্রতিটা মানুষ মৌকে ভালোবাসে। শুধু রাজ ছাড়া। মৌ জানে রাজের হৃদয়ে শুধু সুমাইয়ার বসবাস। আর তাকে বিয়েটাও করেছে শুধু তার মায়ের জীবন বাঁচাতে। ওসময় যদি ওর মায়ের কথা না শুনতো তা হলে অনেক বড় বিপদ হয়ে যেত।
চলবে
এক ঝাক জোনাকির আলো
#একঝাঁক~~জোনাকির~~আলো🍁
.
.
১০.
.
---আর কত সময় নষ্ট করবে জোনাকির পিছনে ঘুড়ে??(নিভ্রর সরু চোখে বাঁকা প্রশ্ন)
---সময় নষ্টের কি আছে??আপনার ভালো না লাগলে যেতে পারেন।আমি এখানে আরো কিছুক্ষণ থাকবো।(জোনাকির দিকে তাকিয়ে বলে সাফা)
.
নিভ্র প্রতিবারের মত এবার আর বিরক্ত হয় না।সে পাশে থাকা দেয়ালটাতে ঠেস দিয়ে দাড়ায়।রাত একটু বেড়েছে।তবে এখনো ঘন কালো রাত হয়নি।এই বোদ হয় ৮টা বাজবে।সাফা সেই সন্ধ্যা থেকেই জোনাকি নিয়ে পরে আছে।নিভ্র তখন থেকেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সাফাকে দেখছে।ইদানীং তার সাথে কি হচ্ছে এটা সে নিজেই বুঝতে পারছে না।কেনো যে মেয়েটাকে দেখলেই তার মনের সেই ভয়ঙ্কর শব্দ গুলো দ্রুত থেকে দ্রুত গতিবেগে চলতে থাকে।মনের মাঝে অনেক কেনোর জন্ম হয়।কিন্তু সে উত্তর খুঁজে পায় না।তবে সে এটা যানে কোনো এক ভয়ঙ্কর মাতালতায় সে ডুবছে।তার অন্ধকারে অচ্ছন্ন জীবনে এক বিস্তর আলোর অগমন হচ্ছে।যেটা তার মত তুখড় ব্যক্তি বুঝতে পারছে না।তবে কেনো যেনো সে বুঝতেও চাইছে না।ভালোই লাগছে তার।মনে হয় বিষন্নতার চাদর ঠেলে মুগ্ধতা ডুকতে চাইছে।
.
সাফার বাবার কলে তার হুশ হয়।এত সময় সে জোনাকির আলো দেখতে এতটাই মুগ্ধ ছিল যে ভুলেই গেছে ঘড়িতে কয়টা বাজে।বাবার কল রিসিভ করে ফোন কানে নিতেই অপর পাশ থেকে চিন্তিত কন্ঠে তার বাবা বলে উঠে.......
---মা কোথায় তুমি?? আসবা কখন?এত রাতে তুমি বাইরে থাকার মেয়েনা!!কোনো কি বিপদ হয়েছে??আমি নিতে আসি??কোথায় তুমি বাবাকে বলো??
.
বাবার চিন্তায় ডালা ডালা প্রশ্ন শুনে সাফা মোবাইল কান থেকে সরিয়ে টাইম দেখে।এত রাত হয়েগেছে দেখে সে জিহ্বায় কামড় দেয়।বিড়বিড় করে কি সব বলে।তারপর আবার বাবাকে উত্তর দেয়.....
---না বাবা আসতে হবে না।একটা কাজে এসেছি। তাড়াতাড়ি আসছি চিন্তা করোনা।
.
সাফা মোবাইলটা ব্যাগে নিয়ে নিভ্রর সামনে দাড়ায়।নিভ্র ফোন নিয়ে বিজি এমন একটা ভাব দেখায়।সাফা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।নিভ্র একটা ভ্রু তুলে বলে.....
---কি হয়েছে??জোনাকি দেখা এত তাড়াতাড়ি শেষ??
---না। দেখার তো অনেক ইচ্ছে তাও অনেক্ষন পর্যন্ত। কিন্তু এখন বাসায় যেতে হবে।তবে আমার একটা কাজ আছে।যদি একটু হ্যাল্প করতেন??
নিভ্র এবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ফোন পকেটে নিতে নিতে বলে.....
---তা কি হ্যাল্প লাগবে তোমার??
---একটা কাঁচের বোতল লাগবে??প্লিজজ এনে দেন।
---কেনো??
---আগে যোগার করেন তারপরই দেখবেন কেনো।প্লিজজজ প্লিজজজ..
নিভ্র মুখটা কুঁচকে নিল।তাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে এবার বিরক্ত এবং সন্দেহ নিয়ে ভাবছে কি করবে।তবুও সোজা হাটাঁ দেয়।সেও দেখতে চায় কি করবে এই সাফা কাঁচের বোতল দিয়ে।
.
কিছুক্ষণ পরেই নিভ্র একটা ছোট কাঁচের বক্স নিয়ে আসে।সাফার হাত টেনে বক্সটা ধড়িয়ে দিয়ে বলে.....
---বোতল পাইনি।এটা ঢাকটা যুক্ত বক্স এটা দিয়ে কি করতে চাও করো।
.
সাফা বক্সে মুখ খুলে নিভ্রর হাতেই রাখে।আর বলে....
---আমি কিছু জোনাকি ধরে এতে জমা করবো।আপনি কিন্তু ঢাকনাটা ঠিক ভাবে লাগিয়ে দিবেন।ঠিক আছে।
.
নিভ্র আহাম্মকের মত তাকিয়ে আছে।সাফা তার হাতে একটা চিমটি কেটেঁ হাত বাড়িয়ে জোনাকি ধরছে।
.
নিভ্র গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে আছে।সাফা গাড়ির একপাশে বক্সটা ধরে তাকিয়ে তাকিয়ে জোনাকি গুলো দেখছে।মাঝে মাঝে রিক্স বা সিএনজি আসলে ডাক দিচ্ছে। নিভ্র গাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসে বলে......
---আমি দিয়ে আসব।গাড়িতে উঠে বসো।
.
সাফা যেনো এই সুযোগটাই খুজছিলো তবুও ভাব নিয়ে বলে...
---লাগবে না। আমি নিজে নিজেই যেতে পারবো।
---তাহলে আর কি করার যাও..
.
সাফা ভাবতে পারেনি এমন করে বলবে নিভ্র।নিভ্র গাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে সাফা দৌড়ে এসে সামনে দাড়িয়ে বলে....
---আপনি এমন কেনো বলেন তো??মেয়েদের সাথে কেউ এভাবে কথা বলে??বলে??
---তাহলে কিভাবে কথা বলে।(চোখ বাঁকিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে নিভ্র)
---আরে মেয়েদের সাথে সুন্দর করে কথা বলতে হয়।মন থেকে কথা বলতে হয়।সবচাইতে বড় কথা এত পার্ট দেখিয়ে কথা বলতে নেই।বুঝলেন??
---বুঝলাম।এবার কি তুমি যাবে??
---অবশ্যই এত রাতে আমি একা কি ভাবে যাব বলেন??আমার ভয় করে না বুঝি??
---আমাকে ভয় পাওনা তুমি??(গম্ভীর হয়ে বলে নিভ্র)
---আরে আপনাকে ভয় কেনো পাবো।আমার তো আপনাকে একটুও ভয় লাগে না।উল্ট আমার মনে হয় আপনি আমাকে ভয় পান।
.
কথাট বলেই সাফা ভ্রু নাচাতে লাগে।নিভ্র একবার সাফার দিকে তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে নেয়।গটগট করে হেঁটে গাড়িতে বসে পরে।বিপরিত পাশের দরজাটা খুলে দেয়।সাফা বক্সটা কোলে নিয়ে বসে পড়ে।নিভ্র গাড়ি স্টাট দেয়।নিভ্র গাড়ি চালাচ্ছে। সাফা বক্স ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে জোনাকি দেখছে।কিছুক্ষণ পরে নিভ্র সাফার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়।সে মনে মনে ভাবে........
---এত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে গেলো??কিভাবে??
.
নিভ্র গাড়ি থামায়।বক্সটা সাফার হাত থেকে নিয়ে গাড়ির পিছনে রাখে।ব্যাগটাও পিছনে রাখে তা না হলে পরে যাবে।যত্নের সাথে সাফার উড়ন্ত উড়নাটা ভালো করে গায়ে জড়িয়ে দেয়।জানালা দিয়ে হালকা বাতাস আসছে।নিভ্র অপলক সাফার দিকে তাকিয়ে আছে।সাফার মুখে উপর ছোটছোট চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পরে আছে।নিভ্র মনের বিরুদ্ধে গিয়ে সেই চুলগুলোকে তার গাল থেকে সরিয়ে দিলো।কানের এক পাশে গুঁচে দিয়ে বিড়বিড় করে বলে............
----তুমি আমার কাছে আগুলের মত।আগুন যেভাবে এসে জ্বালিয়ে দেয় তুমিও জ্বালাচ্ছ। আর আগুন চলে গেলে যেমন পোড়া কয়লার ধোঁয়া উড়ে তুমি চলে গেলেও মনে অবস্থা তেমন হয়। কেনো??
.
নিভ্র দীর্ঘশ্বাস নিয়ে গাড়ি চালায়।মাঝে মাঝে আড়চোখে সাফাকে দেখে।আবার বাতাসে উড়না উড়ে এলোমেলো হলে তা ঠিক করে দেয়।সাফার ঘরের সামনে গাড়ি থামায়।নিভ্র সাফাকে ডাকতে চাইছে না।মনের মাঝে যেনো তার দুই সত্তা কাজ করছে।একটা বলছে এটা সাধারন একটা মেয়ে।এত দরদ দেখানোর কি আছে।না চাইতেও তার প্রতি যত্ন, দরদ হচ্ছে কেনো এটা নিভ্রর অজানা।আর একটা বলছে এটা একটা ভয়ঙ্কর অনুভতি।যা এই মেয়েই তোমার মনে জাগিয়েছে।নিভ্র দুই সত্তাকে উপেক্ষা করে সাফাকে ডাকে.....
---সাফা... সাফা....
.
সাফার এমন কঠিন ঘুম দেখে নিভ্র হতবাগ।এত গভীর ঘুম কিভবে তাও এত কম সময়ে??নিভ্র সাফার উড়নাটা হালকা নাড়ায়।সাফা সাথে সাথে ধড়ফড়িয়ে উঠে।নিভ্রকে দেখে কিছুক্ষণ ভাবে সে।তারপর বলে.....
---স্যরি আসলে বেশি বাতাসে আমার ঘুম চলে আসে তাই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম।
---ইটস্ ওকে।যাও তোমার বাসা চলে এসেছে।
---আপনাকে ধন্যবাদ পৌছে দেওয়ার জন্য।
---তুমি আবার ধন্যবাদও দিতে পারো??(ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে নিভ্র)
---এভাবে বলেন কেনো??(মুখ গোমড়া করে বলে সাফা)
.
নিভ্র জবাব দিলোনা।সামনের দিকে তাকায়।সাফা ঠাস করে গাড়ি থেকে বেড়িয়ে ঠুসস করে দরজাটা বন্ধ করে দেয়।জানালার কাছে মাথা দিয়ে বলে.....
---আপনি কখনই বউ খুঁজে পাবেন না।বুঝলেন??বউ যদি পেতে চান তিতা করলার মত কথা বাদ দিয়ে মেয়েদের সাথে কিউট করে কথা বলতে শিখেন বুঝলেন ডা.সাহেব?
.
সাফা সোজা হেঁটে গেট দিয়ে ডুকে যায়।নিভ্র মুচকি হেসে তাকায়।আর মনে মনে বলে.....
---সত্যিই পোড়া কয়লার মত ধোঁয়া উঠছে।কিন্তু কেনো???
.
.
নিভ্র নিজের বাসার সামনে গাড়ি দাড় করিয়ে গাড়ি থেকে নামতে যাবে এমন সময় সাফার জোনাকির বক্সটা আর তার ব্যাগটা চোখে পরে।নিভ্র সেগুলো হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবে কি করবে এগুলো। তারপর এগুলো নিয়েই ঘরের দরজার সামনে দাড়ায়।....
.
রিং রিং কলিং বেল বাজার শব্দে রাফা কান খাড়া করে।তার দৃষ্টি এখনো টিভির দিকে।হাতের রিমোটা টিপতেই আবার কলিং বেল বেজে উঠল।রাফা কিঞ্চিত বিরক্ত হল।এদিক ওদিক তাকিয়ে কাজের লোক গুলোকে খুঁজল। না পেয়ে সে আরো রেগে গেল।বাসায় পাঁচটা কাজের লোক কিন্তু প্রয়োজনের সময় একটাও কাজে আসেনা।সারা দিন এদিক ওদিক ছুটোছুটি।রাফ একরাশ বিরক্তি নিয়ে রিমোটটা টিটেবিলের উপড় রাখল।বড় বড় পা ফেলে দরজার সামনে দাড়াল।পিতলের কাজ খজ্জিত বিশাল দরজা।রাফা দরজার হেন্ডেল দুটিতে হাত রেখে টেনে তা খুলল।সামনের ব্যক্তিকে দেখে তার এত এত বিরক্তি আর রাগ নিমিষেই উদাউ হয়ে গেল।নিভ্র কানে ফোন নিয়ে কথা বলছে।তার এক হাতে সাফার জিনিস গুলো।রাফা অবাক হল।নিভ্রর প্রতি তার যে আলাদা ফিলিংস আছে তা ভাই বোনের মতই।আসল কথা নিভ্র ভাইয়াকে রাফার খুব অদ্ভুত লাগে।তার সব সময় কার ইচ্ছে সে নিভ্রের সাথে দুকাপ কফি হাতে বারান্দায় গল্পগুজব করবে।আর নিভ্র ভাইয়া উচ্চ শব্দে হেঁসে উঠবে।কিন্তু নিভ্র তেমন না।সে সব সময় এত গম্ভীর কেনো হয়ে থাকে এটা তার যানা নেই।তবে তার নিভ্র ভাইয়াকে দারূন লাগে।বান্ধবীরা যখন ডায়রির ভাঁজে তার ভাইয়ার ছবি লুকিয়ে রাখে আর মাঝে মাঝে উঁকি ঝুঁকি দিয়ে দেখে তখন তো তার আরো ভালো লাগে।সবাই কিছুক্ষণ পরপর তার ভাইয়া সম্পর্কে যানতে চায়।আর সে মুড নিয়ে বলে.....
---এখন অত সময় নেই।আর ভাইয়া ইদানিং কাজে বিজি থাকে তাই তার সাথে তেমন গল্প করা হয় না।
.
যদিও নিভ্রর সাথে তার মোটেও গল্প করা হয় না।তবুও সবাইকে ইনিয়েবিনিয়ে কত কত কথা যে সে বানিয়ে বলে তার কোন ইয়াতা নেই।নিভ্র এক ভ্রু তুলে বলে উঠে.....
---হা করে তাকিয়ে কি দেখছিস??দরজার সামনে থেকে সর আমি ভিতরে যাব।
.
রাফা নিজের ভাবনার সুত ছিড়ে এক পাশে হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে।নিভ্র ডুকতে ডুকতে বলে উঠে.....
---একটা গরম হট কফি পাঠাতে বল।
.
রাফা দৌড়ে রান্না ঘরে গিয়ে কফি পাঠাতে বলে নিভ্রর রুমে।
.
.
নিভ্র নিজের এ্যাফ্রোনটা সোফায় মেলে দিয়ে জিনিস গুলো বেড রুমের চেয়ারের উপড় রাখতেই তার মনে হচ্ছে তার রুমে কেউ আছে।সাথে সাথে তার মেজাজ বখে যায়।রাগী চোখে এদিক ওদিক তাকায়।তারপর সে তার বিছানার দিকে তাকাতেই তার রাগ নূনে যায়।বিছানার লোকটি বলে উঠে....
---হ্যায় চ্যাম্প।এদিকে এসো।
.
নিভ্র মুখে হাসির রেখা টেনে তার পাশে বসে পড়ে।মুখে বলে উঠে.......
----তা দাদাজান কি মনে করে আমার রুমে এলেন???
----জড়ুরি একটা কথা ছিলল??
---বলেন??
---তোমার ওই দিনের অ্যাটাক কারী কে??আমি যানতে চাই কার এত বড় সাহস আমার নাতি নিভ্রনীলের মাথায় আঘাত করে??কার??
.
নিভ্র এবার চিন্তায় মগ্ন হয়।তার মনে পরে যায় সাফার কথা।একবার চোখের পাতা ফেলতেই তার চোখে সাফার প্রতিবিম্ব ফুটে উঠে।সাথে সাথে সে আবার চোখ খুলে তাকায়।আবার কি ভেবে বাকা হাসে।সে মনে করেছিল মেয়েটা ভয়ঙ্কর সাহসি হবে কিন্তু তাকে ভুল প্রমান করেছে সাফা।যে মেয়ে গুলির শব্দেই হকচোটিয়ে যায়,সুইকে ভয় পায়,কানে হাত দিয়ে চোখ বুজে থাকে।আবার তো রক্ত দেখে কাঁপাকাঁপি করে, সেন্সলেস হয়ে যায় সে আর যাই হোক সাহসি হতে পারেনা।তবে নিভ্রকে কেনো যেন সে ভয় পায় না।এই কেনো তার জানা নেই।দাদার কথায় সে ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসল....
---কি হল বলছনা যে??
---তেমন কেউনা।মারামারি করতে গিয়েই হাতাহাতি হয়েছে।ইটস্ নট এ বিগ ম্যাটার।তুমি বল কি খবর তোমার???
----আমার আর কি?? এই বুড়া বয়সে এসে রাজনীতির মত কাজ করলে যা হয় আর কি??কাল একটা মিটিংও আছে।তোমার চাচাকে যেতে বলেছি কিন্তু সে যাবে না আমাকেই যেতে হবে।আমি কি ভাবছি দাদুভাই পরের ইলেকশনে তোমাকে দাড় করাবো।তুমি এমনেই সেলিব্রেটি আবার নেতা হিসেবেও ভালো।আর ডাক্তারি পেশার কথা না হয় নাই বলি???কি বল??
---এত কিছু এখনো ভাবি নি??
---ভাবো দাদুভাই। তুমি আমার জায়গায় দাঁড়াবে। অভ্রটাতো রাজিই হচ্ছে না।যাই হক।ওকে ওর মত থাকতে দেওয়াই উত্তম।
---ওকে আজ দেখলাম না যে কোথায় গেছে???
---আমি কি অত অত সেলিব্রেটি নাকি??আর আমি দশভুজা না যে এক হাতে তোর মত হাজার কাজ করব।কি বল দাদু??
.
অভ্র নিজের চশমাটা ঠিক করতে করতে রুমে এগিয়ে এল।নিভ্র এক পলক তাকাল।দাদাও একবার তাকাল।অভ্রর গায়ের রং ফর্সা যদিও নিভ্রর চাইতে একটু চাপা তবে তার গোলগোল চোখগুলো দারূন যদিও এই দারূন চোখ সে চশমার মাঝে ডেকে রাখে।মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি।চোখ কাড়া সুঠাম দেহ।নিভ্র যেমন হিট সেও কম নয়।মেয়েরা যে রাজিবের ছেলে অভ্রনীল রাজিব চৌধুরী বলতে অজ্ঞান এটা সবার জানা।মেয়েদের থেকে দূরে থাকে না তবে প্রেমের প্যারায় পড়তে চায় না বলেই মেয়েদের রিজেক্ট করে আসে।অভ্র একগাল হেঁসে নিভ্রর কাধ চাপড়ে বসে পড়ে।আবার হেঁসে বলে উঠে......
---নে দেখে নে মনের মত করে।কেমন লাগছে আমাকে বল??
.
নিভ্র ভ্রু জোড়া তুলে ঠোঁট কামড়ে হাসে।অভ্র এই হাসি দেখে বলে.......
---ভাই তুই বেঁচে গেলি আমি ছেলে বলে।তা না হলে তোকে তুলে নিয়ে যেতাম।
---তা তুলে নিয়ে কি করতি??বিয়ে??তুই যে দিন দিন বলদ হয়ে যাচ্ছিস আমার জানা আছে।তুমিও যেনে নেও দাদু।এই ছেলের কথা বর্তা আমার মোটেও সুবিধার মনে হচ্ছে না??
---শালা তোকে যত ভালো ভাবি অতটাও ভালো তুই না??
.
কথাটা বলেই অভ্র বালিশ দিয়ে মারা শুরু করে।মাহবুব হাসে।তার হাসির তালে ঝুলে পড়া গালটাও লড়ে লড়ে উঠে।মনে মনে দোয়া করে এদের ভালোবাসায় যেন নজর না লাগে।
.
চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে অভ্র নিভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে.....
---ভাই যে মেয়েটা আমার কোমড় ভেঙেছে না?? ও আমাকে পেইন কিলারের দাম জিগ্যেস করছে।তা দামটা কত রে??
নিভ্র চোখ বাঁকিয়ে তাকায়।ডান হাত দিয়ে সামনে আশা চুলগুলো সরিয়ে দিতে দিতে বলে উঠে....
---মেয়েদের চক্করে পড়েছিস মনে হয়??
---মোটেও তেমন কিছুনা।তবে মেয়েটা এটু ভিন্ন ধাজের বুঝলি?? ইংলিশ নিয়ে তার ভয়ঙ্কর অবজেক্সান।কি কি বলে সবই অদ্ভুত...
.
বলে হেঁসে উঠে অভ্র।নিভ্র কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ভাবনায় ডুব দেয়।সাফাও যে তাকে পাচঁ টাকা দিতে চেয়েছে কথাট ভেবে সে মৃদূ ঠোঁট বাঁকায়।মুগ্ধ হয়ে সে চোখ বুঝে সাফার কানে হাত দিয়ে চোখ বুজে দৃশ্যটা দেখে নেয়।জোনাকির আলোতে চকচক করা সেই মুখ আর সেই টোল পড়া হাসি।চোখবুজেই হাসে নিভ্র।এবার সে কিছুক্ষণ চোখ বুজেই ছিল।ভালোই লাগছে তার।কেমন যেন স্নিগ্ধ অনুভুতি কাজ করছে।অভ্র নিজের ফোনটা পকেট থেকে বের করে ফোনটা অন করল।গ্যালারিতে ডুকতেই ক্যামেরা ফোল্ডারে একটা ঘুমন্ত মেয়ের ছবি ফুটে উঠে। তাতে ক্লিক করতেই তা সম্পূর্ন স্কিনে জুড়ে ভাসে।অভ্র অপলক তাকিয়ে দেখে। সাফাকে টেবিলে মাথা ফেলে ঘুমাতে দেখে তখনই মনের অজান্তেই ছবিটা তুলে নিয়েছে সে।অভ্র কিছুক্ষণ তাকাতেই তার কেমন যেন লেগে উঠে তাই আবার মোবাইল পকেটে রেখে দেয়।নিভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে......
---নিচে যাচ্ছি। তুইত কাজ ছাড়া যাবি না।থাক এখানেই পড়ে।
.
বলেই বড় বড় পা ফেলে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।নিভ্র কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে।
.
সাফা তার বাবার সাথে বসে কথা বলছে।সে প্রচণ্ড রেগে আছে।তার একটাই কথা......
---বাবা প্লিজজ না গেলে হয় না??
---না মা কেইসটা অনেক ইম্পরট্যান্ট। তাই যেতেই হবে।আমি যদি পাড়তাম তাহলে কখনোই যেতে চাইতাম না।তুমি চিন্তা কর না। সাখাওত খুবই ভালো মানুষ।যদিও তোমাকে সে এই প্রথম দেখবে।তবে তোমাকে মেয়ের মত রাখবে।তাই চিন্তার কারন নেই।হলের জন্য এপ্লাই করেছ???
---না বাবা।কাল করে দিবো।
.
সাফা দীর্ঘনিশ্বাস নিল।চোখে তার পানি চিকচিক করছে।যে কোনো সময় এক ফোটা গড়িয়ে পড়তে পারে।তার বাবার সিলেটে পুস্টিং হয়েছে।তাই তাকে ঢাকা ছেড়ে যেতে হবে কিন্তু সে চায় না বাবাকে ছাড়া থাকতে।তবে না চাইতেও এখন তাকে থাকতে হবে।বাবা মাকে ছাড়া সে একদিনও কোথাও কাটায় নি।এখন কিভাবে থাকবে ভাবতেই তার ভয় লাগছে।সাফা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে।রাতের আকাশটা সুন্দর।মনে হয় কাল রোদ হবে ভালো।তারা গুলো চিকচিক করে জ্বলছে।হঠাৎ নিজের ব্যগ আর জোনাকির বক্সের কথা মনে পড়তেই সে তার বাবার মোবাইল দিয়ে তার মোবাইলে কল করে.........
.
একটা সুন্দর রিংটোনে নিভ্র চোখ খুলে তাকায়।এটা তার ফোনের রিংটোন না।সে চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে সাফার ব্যাগ দেখতে পায় টেবিলের এক সাইডে চেয়ারের উপড় রাখা।ভাগ্যিস দাদা আর অভ্র দেখেনি।দেখলে তাকে কি ভাব তো কে যানে।নিভ্র ভাবতেও পারছে না তার কি হয়েছে।নিজেকে কেমন চোর চোর লাগছে।নিভ্র সাফার ব্যাগ থেকে ফোনটা হাতে নিতেই রিং বেজে উঠে।একটা লোক আর সাফার ছবি দেখে নিভ্র বুঝতে পাড়ছে এটা সাফার বাবা।স্কিনে বাবা নামটা ভেসে উঠছে বারবার। নিভ্র ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরে। সাফা ওই পাশ থেকে বলে.....
---আপনাকে তো ভালো মানুষ মনে করেছি শেষ মেষ আপনি আমার জোনাকি আর ব্যগ চুরি করেছেন??আল্লাহ আল্লাহ।
---ফালতু কথা রাখ।একেতো মরার মত ঘুমিয়ে ছিলে তার উপর এই সব আমার গাড়িতে রেখে দিয়েছ।তাই ফালতু কথা রাখ।আমার হসপিটালে এসে এগুলো নিয়ে যাবে।তোমার এই সব জিনিসে আমার বিন্দু মাত্রও ইন্টারেস্ট নেই।সো ফালতু বকা বন্ধ কর।আর এখন রাখ।
.
নিভ্র কল কেটেঁ দিয়ে বুকে হাত দেয়।মেয়েটার ভয়েস শুনলেও তার বুক ধাকধাক করে সাউন্ড করে।দম আটকে আসে।সাফার ব্যাগে একটা সাদা রুমাল দেখতে পায় নিভ্র।হাত বাড়িয়ে রুমালটা নেয়।সে জানে একজনের অনুমতি ছাড়া তার ব্যাগে হাত দেওয়া উচিত না তবুও সে রুমালটা নিল।রুমালটা নাকে ধরতেই এক মিষ্টি ঘ্রাণ নাকে আসে।নিভ্রর যেনো মুহূর্তে অদ্ভুত অনুভুতি হয়।শরীর যেন শিহরিত হচ্ছে।
.
সাফা হাবার মত তাকিয়ে আছে মোবাইলের দিকে।কি অদ্ভুত লোক।.....
.
.
#চলবে........🍁
.
ভুলগুলো আল্লাহর দেওয়া মহান গুন ক্ষমার চোখে দেখবেন.......দেড়িতে দেওয়ার জন্য স্যরি।🍂