Join 94,415 users already on read.cash

💔💔বিচ্ছেদ 💔💔

0 8 exc
Avatar for Habiba22
Written by   119
1 year ago

সাল ২০১৯ । সবেমাত্র একাদশে ভর্তি হলো আবির।ক্লাস এখনো শুরু হয়নি।তাই পড়াশোনার চাপ একদম নেই বললেই চলে।সারাদিন ঘুরাঘুরি আর ফোন নিয়েই দিন কেটে যায় আবিরের। হঠাৎ একদিন এক অপরিচিত নাম্বার থেকে আবিরের ফোনে মেসেজ আসে।সচরাচর আবির অপরিচিত কারো সাথেই সেভাবে কথা বলে না।কিন্তু কেন জানি মেসেজটা বারবার টানছে আবিরকে।দ্বিধাগ্রস্থে পড়ে মেসেজটা সিন করেই বসে।দেখে সালাম দিয়ে কেউ জানতে চেয়েছে “কেমন আছো.?”কিছুক্ষণ ভেবে আবির না চাইতেও মেসেজের রিপ্লাইটা দিয়ে দেয়,

- কে বলছেন?

সঙ্গে সঙ্গে আবার একটা মেসেজ আসে।মনে হয় ঐ পাশের ব্যক্তিটি আবিরের মেসেজের অপেক্ষায় ছিলো।আবিরের মেসেজ পেয়েই রিপ্লাই দেয়,

- আমি তোমার গার্লফ্রেন্ড বলছি।

আচমকা এমন মেসেজ পেয়ে আবির ঘাবড়ে যায়।জীবনে একটাও রিলেশন করলো না,এখন কি না বলে গার্লফ্রেন্ড। তার প্রতি উত্তরে আবির টেক্সট করে,

-সরি!বুঝতে পারলাম না।কে বলছেন? পরিচয় দিন।

- আমায় তুমি চিনতে পারছো না.?আজ এই দিনটাও আমায় দেখতে হচ্ছে।

- হেয়ালি না করে আপনার পরিচয়টা দিলে বড়ই উপকৃত হতাম।নইলে ব্লাক লিস্টে আপনার জায়গা হবে।

- আরে আমি মেহু।এবার দে দেখি কিভাবে ব্লাক লিস্টে আমার নাম্বার রাখিস.?

আবির আশ্চর্য হয়ে বলে,

- আরে তুই! এই রকম ফাজলামো করার কোনো মানে হয়.?আর এতোদিন পর.?

- আরে! তোকে একটু পরীক্ষা করে দেখলাম।

- তা কি পরীক্ষা করলি.?

- এই যে তোর কোনো গার্লফ্রেন্ড আছে কি না.?

- তা পরীক্ষায় আমি পাশ করলাম নাকি ফেল.?

- একটুর জন্য পাশ করে গেলি।

- হাহা।সে যাই হোক।এটা কার নাম্বার?

- আমার নতুন সিম এটা।

এভাবেই একটা অচেনা ফোন নাম্বার থেকে চেনা মানুষের কথা বলো শুরু হলো আবিরের।

কলেজের নতুন বন্ধু আর মেহুকে নিয়েই শুরু হয় আবিরের উচ্চমাধ্যমিকের পথচলা।যদিও বা মেহু আবির আলাদা আলাদা কলেজে পড়তো। তবে অন্যান্য বন্ধুদের চেয়ে মেহুর সাথেই আবিরের বেশি কথা হতো।রাত হলেই ভয়েস কলে কথা বলা আর মেসেজ আদান-প্রদানই ছিলো তাদের নিত্যকার কাজকর্ম। প্রথমের দিকে চার-পাঁচদিন পরপর ভয়েস কলে কথা হতো আবির মেহুর।তবে মেহুর একটা বদ অভ্যাস ছিলো। সে কোনোদিনই মিসড কল ব্যতিত কল দিতো না কাউকে।অবশ্য কিছু এমন টাইপের মেয়েও থাকে।যারা সবসময় মিসড কল দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।কয়েকদিন কথা বলার পর হঠাৎ একদিন তাদের দেখা হয়ে যায় রাস্তায়।যদিও বা সেটা ক্ষণিকের জন্য ছিলো।কেউ সেভাবে দেখা করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে আসেনি।

এভাবেই কেটে যায় তিন-চার মাস।এই কয়েক মাসে তাদের বন্ধুত্ব আরও গাঢ় হয়ে উঠে।যেখানে তিন-চার দিন পর ভয়েস কলে কথা হতো সেখানে প্রায় প্রতিদিনই কথা হতো।

মেহু ছিলো তার বাবা-মায়ের আদরের মেয়ে।তাই তো মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য গ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে শহরে পাঠায় পড়াশোনার জন্য। তবে মজার বিষয় হলো মেহুর অনেক দূর্বলতা ছিলো।তারমধ্যে ভূতে বিশ্বাস করা অন্যতম। এছাড়া মেহু কোনো রান্না করতে পারতো না,কোথায় একা যেতে ভয় পেতো,মানুষের সাথে কথা বলতেও ভয় পেতে।

আর এসব নিয়েই আবির-মেহুর খুনসুটি লেগেই থাকতো।আবির মেহুকে ভূতের ভয় আর রান্না করতে না পারার জন্য জ্বালাতন করতো। মেহু বেচারি কিছু বলতেও পারতো না। নীরবে সব জ্বালাতন সহ্য করে নিতো।আর সহ্য না করে উপায়ও ছিলো না।একমাত্র আবিরই ছিলো তার নিত্যদিনের কথা বলার সঙ্গি।

এভাবে চলতে চলতে আবিরের সেই পুরোনো ভালোলাগা,ভালোবাসা আবার মাথায় চড়ে বসে।সেই পুরোনো বলতে আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগের কথা।

আবির সেই সময় তার গ্রামের স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়তো।সেই একই স্কুলের একই ক্লাসে মেহুও পড়তো।প্রথম দেখায় মেহুকে আবিরের ভালো লেগে যায়।বলতে গেলে লাভ এট ফার্স্ট সাইট। কিন্তু আবির তার চাপা স্বভাবের জন্য মেহুকে সেই সময় কিছুই বলতে পারেনি।বহিঃপ্রকাশ করতে পারেনি তার অনুভূতিগুলো। কিন্তু চেষ্টা করছিলো যদি কোনোভাবে তার ফিলিংস এর কথা মেহুকে বলতে পারে।কিন্তু তন্ময়ের জন্য তা আর হলো না।

স্কুলে আবিরের বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো তন্ময়।কোন একদিন ফাজলামো করতে গিয়ে তন্ময় বলে ফেলে সে মেহুকে পছন্দ করে।আর এই কথাটা আবির কোনো ভাবে শুনতে পেয়ে যায়।নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড নিজের ভালোর মানুষটাকে পছন্দ করে শুনে আবির পিছপা হতে বাধ্য হয়।বলতে পারেনি কাউকে তার মনের কথা।নিজের ভেতরেই থেকে যায় সব অনুভূতি, ভালোলাগা,ভালোবাসা। সেই থেকে আজ পর্যন্ত পুরো পাঁচ-পাঁচটা বছর নিভৃতেই মেহুকে ভালোবেসে যায়।কেউ জানতেও পারলো না আবিরের ভেতরটা।

শহরে এসে মেহুর সাথে পুনরায় কথা বলা শুরু করায় আবিরের সেই পুরোনো প্রেম জাগ্রত হয়ে উঠে।এদিকে শহরে এসেও মেহুর কলেজের কয়েকজন মেহুকে প্রোপজাল দেয়।কিন্তু মেহু তাদের প্রোপজালের জবাব এমন ভাবে দেয় তা আবিরের কল্পনার বাহিরে ছিলো। মেহু সবাইকে বলতো, “আবির ওর বয়ফ্রেন্ড।তাই সে রিলেশন জড়াতে পারবে না।”পেয়ে গেলো আবির বয়ফ্রেন্ডের পরিচয়। কিন্তু সেটা লোক দেখানো মাত্র।আসলে মেহু সবার প্রোপজাল রিজেক্ট করার জন্যই আবিরকে তার বয়ফ্রেন্ড বানাতো।

আস্তে আস্তে আবির আরও মেহুর প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ে।একদিন কথা না বললে যেন ওর সারাদিনটাই মাটি হয়ে যেতো।মেহুর ফোন কলের অপেক্ষায় কেটে যেতো অনেকটা সময়।ফোন কল না আসা পর্যন্ত অনেক অসহায়ত্ব বোধ করতো আবির।তাই নিজের এই চাপানো ভালোবাসাটা আর নিজের মধ্যে রাখতে পারলো না।একদিন ববহিঃপ্রকাশ করেই দিলো।

একাদশ শ্রেণিতে আবিরের ফাইনাল সেমিস্টার পরীক্ষার সময় প্রাকটিক্যাল পরীক্ষার দিন পরীক্ষা শেষ করে সে মেহুর সাথে দেখা করতে চলে যায়।অনেকক্ষণ নীরব থাকার পর আবির বলে,

- মেহু আমি কিছু বলতে চাই তোকে.?

- সেটা শোনার জন্যই তো এতোক্ষণ অপেক্ষা করে আছি।তাড়াতাড়ি বল।মেসে ফিরতে হবে আমার।

- মেহু! তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলি,আসিস আর ভবিষ্যতেও থাকবি।হঠাৎ করে কেন এসব বলতেছি তাই ভাবিতেছিস তাই না.?এটা হঠাৎ করে না।

- তাহলে.?কি বলতে চাস সোজাসুজি বল।

- গত ৪০-৫০ দিন যাবৎ তুই আমার মাথায় ঘুরতেছিস।

অবাক হয়ে মেহু বলে,

- মানে.?

- মানে টা আমি তোকে বুঝিয়ে বলছি।তুই একটু ধৈর্য্য সহকারে আমার কথাগুলো শোন।

- আচ্ছা বল।

- জানি না তুই এই বিষয়টা কিভাবে নিবি.? আশা করি ভালো ভাবেই নিবি।একমাত্র তুইই আমাকে সাহায্য করতে পারিস।তীর প্রতি না আমার একা আলাদা অনুভূতি তৈরি হয়েছে।

এটা শুনে মেহু আবিরের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকায়।আবির সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে মাথা নিচু করে বলতেই থাকে,

- “এখন কেন জানিনা তোর একটা ফোন কল বা মেসেজের আশায় আমি সারাদিন ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকি।এমনটা চললে আমি তো পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে পারবো না।এখন কিছুই ভালো লাগে না।সব জায়গায় শুধু তুই আর তুই।তাই বলছি তোর হাসি,চঞ্চলতা, মিথ্যা কথা বলা,সবার সাথে মিলেমিশে থাকা সবটাই কেন জানি না আমার ভালো লাগে।তোর প্রেমে মনে হয় আমি সত্যি পড়ে গেছি রে।আমায় কি তোর মিথ্যে বয় ফ্রেন্ড থেকে সসত্যিকারের বয় ফ্রেন্ড বানানো যায় না.?

দেখ তোর উত্তর হ্যাঁ বা না যেটাই হোক না কেন,আমাদের বন্ধুত্ব যেমন ছিলো তেমনটাই কিন্তু থাকবে।আমার অনুভূতি তোকে জানানোর প্রয়োজন বোধ করছিলাম।তাই জানালাম।”

এরপর হঠাৎ করেই আবির মেহুর হাত ধরে বলে,

- ”এসব তুই আর আমি ছাড়া যেন আর কেউ না জানে।প্লিজ!”

আচমকা মেহু ওর হাতটা সরিয়ে নেয়।আবির ভেবেছিলো হয়তো ওর মতো মেহুর মনেও আবিরের জন্য কিছু ছিলো।প্রোপজ করায় হয়তো বেস্ট ফ্রেন্ডের সম্পর্কটা আরও দৃঢ় হবে।কিন্তু না।মেহুর আবিরের ভাবনায় সম্পুর্ণ জল ঢেলে দিয়ে আবিরকে ফিরিয়ে দেয়।বলে,

- “তোকে আমার জাস্ট বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবতাম।আর তুই কি না.?ছিহ! আবির।আজ থেকে তোর আর আমার কোনো সম্পর্ক নেই।এখানেই আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক শেষ। আজ থেকে তুই আলাদা আর আমিও আলাদা।”

এক নিমিষেই সব শেষ হয়ে যায়।এতোদিনের বন্ধুত্ব, ভালোলাগা, খারাপ লাগা,অনুভূতি সব যেন ধূলিসাৎ হয়ে যায়।কিন্তু আবির শক্ত মনের মানুষ।ওনেক চেষ্টা করেছিলো ওদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কটা ঠিক করতে কিন্তু পারেনি।ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়লেও বাইরের কাউকে জানতে দেয়নি।

আজও আবির তার মেহুর অপেক্ষায় আছে।সে জানে, একদিন মেহু ঠিক বুঝতে পারবে তার আবিরকে।তার ভালোবাসায় ধরা দিয়ে মেহুকে ফিরতেই হবে।

কিন্তু শেষ বিকেলের বিষন্ন বাতাসের মতো মাঝে মাঝে ঝরা পাতা হয়ে যায়।একসময় সন্ধ্যে ঘনিয়ে আসে।তারপর রাত।রাতের পর ভোরটা হয়তো অনেকের দেখা হয় না।কিন্তু কাঞ্চনজঙ্ঘা কষ্ট আর ক্ষতবিক্ষত স্মৃতি বুকের মধ্যে আগলে রেখে কেউ কেউ সারারাত জেগে থেকে ভোরের সূর্যটা দেখে দেখে বেহিসেবী জীবন কাটিয়ে দেয়।যেমনটা এখন আবির করছে।

ভালো থাকুক সবাই।ভালো থাকুক আবিরের মেহু।

#_বিচ্ছেদ

2
$ 0.00
Avatar for Habiba22
Written by   119
1 year ago
Enjoyed this article?  Earn Bitcoin Cash by sharing it! Explain
...and you will also help the author collect more tips.

Comments