অন্যকে পরামর্শ দেওয়ার আগে নিজের দিকটা ভাবুন
আজকাল আমরা অনেকেই অনেক নীতির কথা বলি।অনেককে পরামর্শ ও দেই যে এটা করোনা, সেটা করোনা, এটা উচিত নয়, সেটা উচিত ইত্যাদি ইত্যাদি । কিন্তু যখন পরিস্থিতি নিজের আওতায় পরে তখন সবাই নীতির কথা ভুলে যাই। কাউকে মিথ্যা বলতে দেখলে নীতিবান লোকেরা বলে, মিথ্যা বলোনা,মিথ্যা বলা পাপ।অথচ তাদের নিজের বিপদে মিথ্যা বলা পূণ্য। অনেকে আবার ধর্মের কাজের জ্ঞান দান করেন।অথচ নিজের ধর্মের কাজে খবর নাই। রাস্তায় চলার পথে নীতিবান লোকেরা কোনো বাচ্চাকে কাজ করতে দেখলে ওদের বাবা মা কে শিশু শ্রমের অপরাধে যা তা উল্টা পাল্টা বলে যাবেন,কারণ তারা নীতিবান।অথচ নিজের ঘরেই দেখা যায় বাচ্ছা মেয়েকে দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। কাউকে পানির অপচয় করতে দেখলে নীতিবান লোকেরা একগাদা lecture দিয়ে বলেন,পানির ওপর নাম জীবন।অথচ তাদের ঘরের ট্যাঙ্ক ভরে পানি পরছে সেটার কোনো অপচয় নাই। মূলকথা: আমরা অনেক সময় অনেককেই অনেক ভালো মন্দ কথা বলে থাকি।কিন্তু সেটা তাদের পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে চিন্তা করিনা।একটা বাচ্চা ছেলে যখন চোরি করে তখন তাকে ধরে বড়ই কোটা দিয়ে দেই।কিন্তু একটিবার তার পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ভাবি না যে সে এই ছোট্ট বয়সে কেন চুরি করছে।কখনোই তাঁর চুরির পথে আসার কারণ খুঁজি না ,কারণ আমরা সভ্য সমাজের নীতিবান মানুষ।একটি বাচ্চাকে তার নিজের বাবা মা কেনো এই বয়সে হাতে বই তুলে না দিয়ে কাজের জন্য দিলো সেটা কখনো খুঁজতে যাইনা।কিন্তু ওই বাবা মা দের আমাদের এই সভ্য সমাজের সুন্দর সুন্দর বক্তব্য দিয়ে আসতে পারি। হায়রে সভ্য সমাজের নীতি! সুতরাং কাউকে কোনো বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার আগে,কোনো কিছুর বিরোধীতা করার আগে আমাদেরও একবার ভাবা উচিত যে আমরা সেটা অনুসরণ করি কি না,আমরা সেই পথে চলি কি না। আমাদের এই সভ্য সমাজের নীতিবান লোকদের জন্য একটাই কথা- এখনও সময় আছে ।আগে নিজেকে পরিবর্তন করেন,পরে দেশ ও সমাজকে পরিবর্তন করবেন।
2 comments
জি আপু একদম ঠিক বলেছেন।সবাই এখন শুধু নিজের দিকটা দেখে নিজের বেলায় সাত খুন মাপ।আর অন্যে কোন অপরাধ করলে তার বেলায় ক্ষমা নেই।উপদেশ দিতে সবাই পটু
হ্যাঁ আপু। আজকাল সবাই আর কিছু পারুক বা না পারুক সস্তায় উপদেশ দিতে সবাই পারে ।