"আপনি সুখী হবেন না অসুখী তার সিদ্ধান্ত কে নিবে?"
উত্তর : আপনি নিজে
এরা সুখে লাগি চাহে প্রেম
প্রেম মেলে না
শুধু সুখ চলে যায়.....
রবি ঠাকুরের একটা গানের কিছু কলি দিয়ে লেখাটা শুরু করলাম। লেখার বিষয়টা খুব সাধারণ মনে হলেও তা কিন্তু নয়। সাধারণ একটা প্রশ্ন, "আপনি সুখী হবেন না অসুখী তার সিদ্ধান্ত কে নেবে?" ভাবনার জগতটাকে আলোড়িত করার জন্য যথেষ্ট। প্রশ্নের উত্তরটা সকলেরই জানা, তবুও যেন অস্পষ্ট, কিছু প্রশ্নবোধক চিহ্ন মনের মধ্যে ভেসে ওঠে।
উক্ত প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে," আপনি সুখী হবেন না অসুখী তার সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে।" উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি এবং ব্যাখ্যা দেয়া অবশ্যকর্তব্য।
বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব আমেরিকার সবচেয়ে সফল রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকন বলেছেন, " মানুষ যতটা সুখী হতে চায়, সে ততোটাই হতে পারে। সুখের কোনো পরিসীমা নেই। ইচ্ছে করলেই সুখকে আমরা আকাশ অভিসারী করে তুলতে পারি।" এই উক্তিটি পুরোনো বলে অগ্রাহ্য করবেন না।
ভেবে দেখুন এটি অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত তিন কালের জন্যেই পরম সত্য।
এই উক্তির সাথে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে মনে "কীভাবে?" এই প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছেন আরেক বিশ্বখ্যাত জ্ঞানী জোনাথন সুইফট, বলেছেন,"সংসারে যারা সবকিছু মেনে নেয়ার চেষ্টা করে, তাদের দুঃখ নেই।"
অর্থাৎ যারা জীবনের প্রত্যেকটি ভালো এবং খারাপ ঘটনা সমান ভাবে মেনে নেয়ার চেষ্টা করে তারা সুখের স্বাদ অবশ্যই পায়। এখন আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি মেনে নেয়ার চেষ্টা করবেন নাকি তর্কে জড়াবেন প্রতিটা ক্ষেত্রে।
হ্যাঁ এটা অবশ্যই মানতে হবে যে সবকিছু সবসময় মেনে নেওয়া যায় না। মেনে নিলেও বুকের মধ্যে অদৃশ্য রক্তক্ষরণ হয়। তবুও মেনে নেওয়াই উচিত। কারণ, মেনে নেওয়াটাই অলিখিত এক সংবিধান।
এই "কীভাবে?" এর উত্তর উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের একটি উক্তিতেও পাওয়া যায়, " আমি সবসময় নিজেকে সুখী ভাবি। কারণ, আমি কখনো কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করি না,কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করাটা সবসময়ই দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।" একটু নিজের সাথে আলোচনা করে দেখুন তো এখনো পর্যন্ত যত কষ্ট পেয়েছেন তার বেশিরভাগই আশা করা এবং আশা ভঙ্গ হওয়ার কারণে কিনা? এখন সিদ্ধান্ত আপনার, অন্যের উপর প্রত্যাশা বাড়াবেন নাকি বন্ধ করবেন।
সবাই সবার উপরে নিজের মতো করে আমরা আশা স্থাপন করি। কিন্তু তা করা উচিত না। কারণ, প্রত্যেকে স্বতন্ত্র, প্রত্যেকে প্রত্যেকের থেকে ভিন্ন। কেউ কারোর আশা পূরণের জন্য চেষ্টা করতে পারে কিন্তু সফল হবেই বা হতেই হবে এমন চিন্তা করা মোটেই উচিত না। এতে শেষপর্যন্ত উভয়েরই কষ্ট পেতে হয়।
হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন," স্বাস্থ্যের চাইতে বড় সম্পদ এবং অল্পে তুষ্টির চাইতে বড় সুখ আর কিছু নেই।" এই উক্তি জীবনে প্রয়োগ করলে সুখ অবশ্যই আপনাকে ধাওয়া করবে আপনাকে সুখের খোঁজে যেতে হবে না। এখন আপনার উপরেই সমস্ত নির্ভর করছে, আপনি অল্পে সন্তুষ্ট হতে পারবেন কিনা।
বারট্রান্ড রাসেলের চমৎকার একটি উক্তি আপনাকে অবশ্যই সুখের পথ দেখাবে,"সংসারে জ্বালা-যন্ত্রণা এড়াবার প্রধান উপায় হচ্ছে, মনের ভেতর আপন ভুবন সৃষ্টি করে নেওয়া এবং বিপদকালে তার ভেতর ডুব দেয়া। যে যত বেশি ভুবন সৃষ্টি করতে পারে যন্ত্রণা এড়াবার ক্ষমতা তার ততো বেশি।" অর্থাৎ নিজের একটা আলাদা জগৎ তৈরি করুন মনোজগতে, যা আপনাকে দুঃখগুলো সহ্য করতে এবং তা কাটিয়ে উঠতে অবশ্যম্ভাবীভাবে সাহায্য করবে।
সর্বোপরি বলতে চাই, সুখী বা অসুখী হওয়া সম্পূর্ণভাবে নিজের উপরে নির্ভর করছে। আমাদের শুধু জানতে হবে এবং প্রয়োগ করতে হবে জীবনে। কারণ শুধু সুখ বা শুধু দুঃখ নিয়ে জীবন নয়। দুটোকে নিয়েই আমাদের সুন্দর করে বাঁচতে হয় পৃথিবীটাকে সাজাতে হয়। আমরা যদি সিদ্ধান্ত নিই আমরা সুখী হবো তবেই কেবল সুখী হওয়া সম্ভব। তাই আসুন নিজেকে ভালোবাসি, তবেই গোটা পৃথিবীটাকে ভালোবাসতে পারবো।
8
29
দুক্ষের সময়ে কেউ সাপোর্ট দিলে সুখী হওয়া যায়