read.cash Log in
@Arif.12 more from that month

ক্ষতি পুষিয়ে চাঙ্গার আশায় কটেজ-রিসোর্ট মালিকরা

মেঘের উপত্যকা সাজেক ভ্যালি

নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘ পাঁচ মাস ১৩ দিন বন্ধের পর অবশেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে খুলেছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে সাজেকে অবস্থিত কটেজ-রিসোর্ট, খাবারের দোকানগুলোয়। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে আবারো নেমেছে মাহিন্দ্র-চাঁদের গাড়ি (জিপ)। সর্বোপরি করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘসময় মন্দা কাটানোর পর ক্ষতি পুষিয়ে চাঙ্গা হওয়ার আশায়  প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চলছে সংশ্লিষ্টদের। সূত্রে জানা গেছে, নভেল করোনাভাইরাসের  প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত ১৮ মার্চ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাঙ্গামাটির সব পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র  ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে জেলা প্রশাসন। তবে ঈদুল ফিতরের পর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাঙ্গামাটি জেলা শহরের হোটেল-মোটেল খোলা হলেও এর আওতার বাইরে ছিল  দেশের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি। ঈদুল আজহার পর একে একে খুলতে শুরু করেছে পার্বত্য তিন জেলার পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো। রাঙ্গামাটির অন্যসব পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র  খোলার সবশেষে খুলেছে সাজেক ভ্যালি। ভৌগোলিকভাবে সাজেক রাঙ্গামাটি জেলায়  অবস্থিত হলেও সাজেকের প্রবেশের পথ খাগড়াছড়ি হয়েই। এদিকে ১ সেপ্টেম্বর থেকেই সাজেক ভ্যালির রুইলুই চূড়া ও কংলাক পাহাড়ে পর্যটকদের আনাগোনা  ক্রমে বাড়ছে। করোনার ভয়কে উপেক্ষা করেই ‘মেঘের রাজ্যে’ বসে সকাল-সন্ধ্যা, গোধূলী বিকাল কাটাতে ছুটে চলছেন ভ্রমণপাগল পর্যটক ও স্থানীয়রা। তবে প্রশাসনের কড়া নির্দেশনা রয়েছে, সাজেক উপত্যকা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হলেও সবাইকে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। তাই সাজেক কটেজ মালিক সমিতিও প্রশাসনের  সঙ্গে নিজেরাও নতুন বিধান করেছেন। স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করলেই অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে গুনতে ৫ হাজার টাকা জরিমানা। রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আহসান হাবিব জিতু বণিক বার্তাকে জানান, শর্তসাপেক্ষেই বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে পর্যটকদের সাজেক ভ্যালি খুলে দেয়া হয়েছে। যতটুকু জেনেছি, পর্যটকরা মোটামুটি সাড়া দিচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি মানতে কটেজ-রিসোর্ট মালিকদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা কটেজ-রিসোর্ট মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেই সাজেক ভ্যালির হোটেল-রিসোর্ট খুলেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে আমি তাদের বারবার অনুরোধ করেছি। এছাড়া মালিক সমিতি স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে নিজেরাও মনিটরিং টিম গঠন করেছেন। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানবেন না তাদের ৫ হাজার টাকা জরিমানার একটি বিধান করেছেন। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালালেও আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ জানিয়েছেন, সাজেক খুলেছে মাত্র ক’দিন  হলো। এখনো অনেকেই জানেও না সাজেক খুলেছে। প্রথম দিন হিসেবে মোটামুটি ভালোই পর্যটক এসেছেন। কটেজ-রিসোর্ট মালিকরাও বুকিং পেতে শুরু করেছেন। আশা করছি, সামনের ছুটির দিনগুলোয় পর্যটক ও স্থানীয়দের জনসমাগম আরো বাড়বে। সুপর্ণ বলেন, দীর্ঘ পাঁচ মাসের বেশি সাজেক বন্ধ থাকায় এখানকার প্রায় শতাধিক কটেজ-রিসোর্টের মালিকদের সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন সবাই কীভাবে ক্ষতি পুষিয়ে ব্যবসা চাঙ্গা করা যায় সেদিকে ভাবছেন। সাজেকে অবস্থিত এভারেস্ট রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মোসলেম উদ্দিন জানান, দীর্ঘ বিরতির পর সাজেক খুলেছে। এতে আমরা ব্যবসায়ীরাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই খুশি। অলসতা ভেঙে শ্রমিক-কর্মচারীরাও কাজে ফিরেছেন। মোটামুটি রুমের বুকিংও আসছে। এছাড়া সাজেক মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি ডাবল বেডের রুমের প্রতিটি বেডে একজনের বেশি থাকতে দেয়া হচ্ছে না। যারা সাজেক ভ্যালি প্রবেশ করছেন; প্রবেশ পথেই তাদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রবেশের পর বাইরে ঘোরাঘুরি করলেই মাস্ক  পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সর্বোপরি পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মানাতে আমরা  প্রাণান্ত চেষ্টা করছি। নিজেরাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি।

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকগামী মাহিন্দ্র ও চাঁদের  গাড়ির (জিপ) লাইনম্যান অরুণ কুমার দে জানিয়েছেন, সাজেক খোলার পর থেকেই প্রতিদিন  খাগড়াছড়ি শহর থেকে ১০টির মতো গাড়ি  সাজেকের উদ্দেশে পর্যটক নিয়ে যাচ্ছে। জেলার দীঘিনালা থেকেও চাঁদের গাড়ি যায় সাজেক ভ্যালিতে। এছাড়া স্থানীয় অনেকেই মোটর-সাইকেল কিংবা অন্যান্য যানে করে সাজেকে পৌঁছান। সবে মাত্র সাজেক খুলল, ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসা শুরু করবেন। বিশেষ করে শুক্র-শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে এ সংখ্যা আরো  বেড়ে  যায়।

5 comments

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.