হৃদরোগ ♥ বিশ্বের এক নম্বার মরণ ব্যাধি রোগ হলো হৃদরোগ।কোনো রকম পূর্বাভাস ছাড়াই যে কোনো সময় মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে। পুষ্টি ফাউন্ডেশনের গবেষনা মতে - দেহের অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি অনুজীব মাইক্রোবায়োম যদি সুস্থ থাকে এবং কোমরের আকার খুব বেশি বেড়ে না যায়, পাশা-পাশি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখা যায়,তাহলেই হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ♥ ব্লক সহ সকল হৃদরোগীর গ্রহন যোগ্য খাদ্য : ★ মাশরুম : এক ধরনের অ্যান্টি - অক্সিডেন্ট ও প্রোটিন সমৃদ্ধ,যা হার্ট অ্যাটাক, ক্যানসার প্রতিরোধ করে। ★আলিভ অয়েল : ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় ও ক্যানসার প্রতিরোধের পাশা-পাশি হার্টের জন্য উপকারী। এর ওলিয়েট নামক উপকারী ফ্যাট দুর্বল হার্টের জন্য জ্বালানি হিসেবে প্রয়োজনীয় চর্বি যোগান দেয়। ★ ব্ল্যাক কফি : এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট নার্ভ সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণ ও হার্ট সতেজ রাখে। ★কাঠবাদাম :এর মনো- স্যাচুরেটেড ফ্যাট,প্রোটিন ও পটাশিয়াম হার্ট ভালো রাখে। - এর ভিটামিন - ই হার্টের রোগ- প্রতিরোধ করে। - এর ম্যাগনেসিয়াম হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে এবং এর পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন - অ্যালমন্ড,ছেললা এবং আখরোট ফল। ★সূর্যমুখী তেল বা বীজ : ভিটামিন - ই সমৃদ্ধ, যা এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে হৃদরোগ প্রতিরোধ করে এবং আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেম বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। - এই তেল ব্যবহারে ত্বক সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে সুরক্ষিত হবে। হাপানি ( অ্যাজমা) আথ্রাইটিস এর তীব্রতা কম করে। ★মাছ : সামুদ্রিক মাছ - স্যালমন,ম্যাকরেল এবং টুনা মাছে প্রচুর ওমেগা - ৩, ওমেগা - ৬ ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন - ডি সহ অন্যান্য উপাদান রয়েছে,যা হার্টের জন্য উপকারী। - সপ্তাহে কমপক্ষে ২ দিন সামুদ্রিক মাছ খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। - ছোট মাছ - মলা,কাচকি,টাকি,বেলে,শিং,পাবদা,কৈ,মাগুর ইত্যাদি হার্টের জন্য ভালো। - ইলিশ মাছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড বেশি থাকে।আমাদের দেশে পর্যাপ্ত ইলিশ মাছ রয়েছে,যা হার্ট ভালো রাখে। - মিঠা পানির সব মাছ খাওয়া যাবে, তবে মাছের চর্বি বাদদ দিয়ে। ★সয়াফুড : সয়াবিন থেকে তৈরি পন্যকে সয়া ফুড বলে বা সয়া প্রোডাক্ট বলে। যেমন -সয়া দুধ,সয়াবিন,টফু ইত্যাদি কোলেস্টেরল ও অসাস্থ্যকর ফ্যাট শরীর থেকে দূর করে এবং ভাস্কুলার ফাংশন নিয়ন্ত্রণ সাহায্য করে। - আঁশ সমৃদ্ধ সয়াবিন হার্টের জন্য ভালো। প্রতি ১০০ গ্রাম সয়াবিনে ৪০ গ্রাম প্রোটিন থাকে। - সয়াবিন ভালো করে সিদ্ধ করে খেতে হবে। কারণ ট্রিপসিনের কার্যকলাপ ব্যাহত করে সয়াবিন। ★টক ফল : আমলকিতে প্রায় সব ধরণের কার্ডিওভাসকুলার রোগ -প্রতিরোধের ক্ষমতা রয়েছে। - এছাড়াও লেবু, মাল্টা,তেতুল সহ সকল টকফল হার্টের জন্য উপকারী। ★হলুদ : এর অ্যান্টি - অক্সিডেন্ট প্রদাহ জনিত আক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে। ব্লাঞ্চিং ( গরম পানিতে ২ মিনিট ফুটানো) করেও খাওয়া যায়। ★রসুন : প্রাকৃতিক ভাবেই হার্টের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটা রক্ত চলাচলকে স্বাভাবিক রাখে এবং হার্টকেও সুস্থ রাখে। ★ আদা : রক্ত নালীকে বিশ্রাম দেয় এবং রক্ত প্রবাহকে চালু রাখে।হার্টের অসুখের বিরুদ্ধে অ্যান্টি - ফ্ল্যামেটরি হিসেবে যুদ্ধ করে। ★বিলবেরি : এটি রক্ত চলাচল সচল রাখে এবং হার্টের জন্য উপকারী। ★লাল মরিচ : হাটের সঠিক ওষুধের কাজ করে। এটা হার্টের জন্য পুষ্টিকর খাবার। ★সবুজ চা : রক্তের শিরাকে সচল রাখে, শিরা রক্ষা করে ও ওষুধের মতে কাজ করে। ★ ডিম : ডিমের সাদা অংশে ওমেগা ৩ আছে,যা হার্টের জন্য ভালো। একজন হৃদরোগী সপ্তাহে অন্তত ৪ দিন সকালে সিদ্ধ ডিম কুসুম সহ খেতে পারবে। তবে কুসুম কম খেলেই ভালো। ★পুদিনা পাতা : রক্তের শিরায় অঅক্সিজেন চলাচলে সাহায্য করে। এটা খেলে হার্টের রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে না। যাদের হার্টের রোগ আছে তাদের জন্যও উপকারী। ★ডার্ক চকোলেট : এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েড মস্তিষ্কের নার্ভ সিস্টেম ও হার্ট সুস্থ রাখে। রাতে খাবার খাওয়ার পর ১ টুকরো খেতে পারেন। - হাইপারটেনশন ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ★আঁশ যুক্ত খাদ্য : এগুলো খেলে শরীরে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়। যা কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখে -শিম,মটরশুঁটি জাতীয় সবজি,কলাই। ডাল জাতীয় শস্য, ফলমূল,হোলগ্রেইন,আটার রুটি ও বাদামী চাল,শিকড় ও খোসা সহ সবজি। ★ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাদ্য : ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো খনিজ উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করে। - ভিটামিন ও মিনারেলের মতো ঘাটতি পূরণে প্রয়োজন পুষ্টিবিদ ও ডায়টেশিয়ানের পরামর্শ। ★কম চর্বি ও কম কোলেস্টেরল যুক্ত খাদ্য : ননীতোলা দুধ, অসম্পৃক্ত চর্বি ( PUFA) - সয়াবিন, ক্যানোলা,ভুট্টার তেল বা সূর্যমুখী তেল হার্টের জন্য ভালো। এগুলোতে ওমেগা -৩ ও ওমেগা -৬ রয়েছে। ★ তরল ও নরম খাবার : কম তেল ও কম মসলাযুক্ত তরল খাবার - স্যুপ,ঝোলের তরকারি,লাল চিড়া ইত্যাদি হার্ট ভালো রাখে। ★ শাক- সবজি ও সালাদ : এতে ভিটামিন, মমিনারেল, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে,যা হার্টের জন্য ভালো। ★উদ্ভিদ জাতীয় খাদ্য বেশি গ্রহণ করতে হবে - এই খাবার গুলোতে কোলেস্টেরল কম বা নেই বললেই চলে। ♥ হৃদরোগীদের বর্জনীয় খাদ্য : ★কলিজা,মগজ,হাড়ের মজ্জা : এই অংশগুলোতে কোলেস্টেরল বেশি থাকে। ★চিংড়ি : ক্যালরি ও ফ্যাট কম থাকলেও কোলেস্টেরল প্রচুর। - হাইব্রড মাছ,পাঙ্গাস,তেলাপিয়া, রুই মাছ হার্টের রোগীর এরিয়ে চলতে হবে। ★মাছের মাথা : এতে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল (LDL) ও ট্রাইগ্লিসারাইড রয়েছে। ★ফাস্ট ফুড : ফাস্ট ফুড খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি ৮০% ★ সোডা জাতীয় খাবার,প্রসেস ফুড,আচার, হ্যাম,সসেজ, কোল্ড ড্রিংস হার্টের জন্য ক্ষতিকর। ★ঘি- মাখন, ডালডা : এটি উচ্চ স্যাচুরেটেড ফ্যাট, পালমিটিক এসিড। যা আর্টারি ব্লকের কারন হতে পারে। ★অতিরিক্ত ভাজা ও তৈলাক্ত খাবার : খাবার যত ভাজা হয়,তত যুক্ত হয় ক্ষতিকর ফ্যাট। ★চর্বিযুক্ত খাবার : রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল হলে রক্তনালীর দেয়াল মোটা ও শক্ত হয়। ফলে রক্তচাপ বেড়ে হৃদরোগ দেখা দিতে পারে। -খাশি বা গরুর গোশত,কলিজা,মগজ,গ্রিল কম খেতে হবে। - রান্নার তেল কম ব্যবহার করতে হবে। ★চিনিযুক্ত খাবার : কেক,পেস্ট্রি, পুডিং,আইসক্রিম ইত্যাদি চিনি যুক্ত খাবার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ★ধুমপান : তামাক পাতা,জরদা,গুল ইত্যাদি গ্রহণ বর্জন করতে হবে। এগুলো গ্রহণে উচ্চ রক্তচাপ সহ ধমনী,শিরার নানা রোগ ও হৃদরোগ দেখা দেয়। ★মদ্য পান : বেশি অ্যালকোহল গ্রহণ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। ★লাল মাংস বা রেড মিট : রেডমিট ভেঙ্গে কারনিটাইন যৌগ তৈরি হয়। যা ট্রি মাথাইলেমাইন এন অক্সাইড নিঃসরণ করে আর্টারিতে ব্লক তৈরি করে। ★নারিকেল : এটা স্যাচুরেটেড ফ্যাট,যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ★অতিরিক্ত লবণ : এর সোডিয়াম রক্তের জলীয় অংশ বাড়িয়ে রক্তের আয়তনও বাড়িয়ে দেয় এবং রক্তচাপও বাড়ে। - প্রতিদিন ১ চা-চামচের বেশি লবণ খাওয়া যাবে না। ★স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা জমাট বাধা ফ্যাট : এগুলো খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায় - দই লাল মাংস, চিজ,মাখন,কেক,বিস্কুট ও নারিকেল। ♥ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে : ★ডায়াবেটিস : ডায়াবেটিস রোগীদের এ্যাথারোস্ক রোসিস বেশি হয়। ফলে বয়সের সাথে সাথে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। ★উচ্চ রক্তচাপ : জীবন- যাত্রায় পরিবর্তন এনে উচ্চ রক্ত চাপের ঝুঁকি কমাতে হবে। ★অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা হ্রাস : মোটা হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি। তাই পুরুষের কোমর ৩৭" আর নারীর কোমর ৩১.৫" বেশি হলে ওজন কমাতে হবে। - ক্যালরি গ্রহণের পরিমান কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।তবে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে। ♥ কিছু দিক- নির্দেশনা মেনে চলতে হবে - ★মানসিক ও শারীরিক চাপ - অতিরিক্ত রাগ,উত্তেজনা,ভীতি,অতিরিক্ত চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ★নিয়মিত বিশ্রাম,সময় মতো ঘুমানো,শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে বিশ্রাম দিতে হবে। ★ওজন ভারসাম্যপূর্ন রাখতে হবে -ওজন বেশি যেমন ক্ষতিকর,তেমনি ঔষধ খেয়ে ওজন কমাতে চাইলেও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ★ যৌন কার্যকলাপ বজায় রাখতে হবে।কারণ সেক্স করলে প্রচুর হরমোন নিঃসৃত হয়।ফলে স্ট্রেস কমে। ★হার্ট ব্লক সহ সকল হৃদরোগে উপযুক্ত মেডিসিন গ্রহণ করতে হবে সাক্তারের পরামর্শ নিয়ে। ★নিরাপদ মাত্রায় কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম করতে হবে। ★ মুখের স্বাস্থের দিকে নজর দিতে হবে। কারণ গবেষনায় দেখা গেছে মুখের স্বাস্থের সাথে হার্টের স্বাস্থ্যগত সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রতিদিন দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কার রাখতে হবে। ★লিফটের পরিবর্তে সিড়ি ব্যবহার করতে হবে। ★ জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে হার্ট ব্লকের কারণে যাদের হার্ট ফেইলুর দেখা দিয়েছে,তাদের রিং,বাইপাস বা ইসিপি থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। ★মেডিটেশনের মাধ্যমে হৃদরোগ নিরাময় এবং প্রতিরোধ করা যেতে পারে। ★হলিস্টিক পদ্ধতিতে ( ডায়েট ম্যানেজমেন্ট, স্ট্রেস ফ্রি টেকনিক,মেডিটেশন, যোগ্য ব্যায়াম, প্রাণায়াম,নিউরোবিক,আকুপ্রেশার ও ইসিপি) চিকিৎসা করা যেতে পারে। ★♦★ সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার উপায় - - একটি পাত্রে ১ কাপ ( লেবির রস ,আদার রস,রসুনের রস,আপেল সিডার ভিনেগার)মিশিয়ে হাল্কা পানিতে ১০ মিনিট ফুটিয়ে ৪ কাপ থেকে ৩ কাপ পরিনত করতে হবে। - এরপর মিশ্রণটি ঠান্ডা করে এর সাথে ৩ কাপ মধু মিশিয়ে রেখে দিন এবং প্রতিদিন সকালে খাবারের ৩০ মিনিট আগে ১ চা-চামচ করে খেতে হবে। - এ মিশ্রন হার্টের যে কোন সমস্যায় উপকারী। ★ হৃদ - বান্ধব খাদ্যাভ্যাস অনুশীলন করতে পুষ্টিবিদ বা ডায়টেশিয়ানের পরামর্শ নিতে হবে।
No comments yet