read.cash Log in
@Tarabi more from that month

গন্তব্যহীন

২৯.০৯.২০২০ প্রিয়, বিনা সম্বোধনের চিঠি বোধহয় এই প্রথম লিখছি। তোমাকেই লিখছি। উদ্বোধনটা তোমাকে দিয়েই হলো। কেন বলো তো? কেন নিয়মের বাইরে গেলাম? কারণ খুবই সহজ, সরল এবং সাবলীল। কোন সম্বোধনে তোমায় আটকে রাখতে চাই না, চাচ্ছি না। তুমি যে সবটা, অনেকাংশে পুরোটা। এ বিষয়ে পরে আসছি। তারিখটা অদ্ভুত। চার বছর পর আবার আসবে। এই চার বছরে এই স্মৃতি রোমন্থন হবে না। চার বছর পর হয়তো মনেই থাকবে না। জেনে বুঝেই আজকের তারিখটা বেছে নিয়েছি, পাগলামিটা করার জন্য। পাগলামি মানে বিশেষ কিছু না, চিঠি লেখার বিষয়টা বুঝাচ্ছি। তুমি আবার অন্যকিছু ভাবছো না তো? হুট করেই মন চাইলো কিছু লিখি। সেই লেখাটার বিষয়বস্তু হবে ভিন্ন কিছু। সকালে ঘুম থেকে উঠেছো কী না, রাতে ঘুম ভালো হলো কী না, খেয়েছো কী না, কী খেলে, কী দিয়ে খেলে, ক্লান্ত কী না, কথা বলতে পারবে কী না, কণ্ঠ শুনতে পারবো কী না, দেখতে পারবো কী না, দেখা কবে পাবো...... এসবের বাইরেও কিছু কথা থাকে গো, বলা হয় না। সাহস হয় না। বলবো? না থাক... বললেই তো বলা হয়ে যায়। আগ্রহ কমে যায়। আচ্ছা তুমি কি রাত জাগো? রাত জেগে কখনও কেঁদেছো? না ক্ষুধা বা বিশেষ কারো জন্য না! বই পড়ে বা গান শুনে? প্রচণ্ড অন্ধকারের বুকে কয়েকশ তারা দেখে চোখে পানি আসে? চাঁদটা হঠাৎ মেঘে ঢেকে গেলে? বা ঘোর অমাবস্যায় চাঁদটাকে হাতড়ে খুঁজে না পেলে অস্থির হয়ে উঠেছো কখনও? আমি হয়েছি। কেন জানো? ওরা না আমার সঙ্গী। আমি ওদের সাথে গল্প করতে করতে বড় হয়েছি। আমার প্রচণ্ড একা লাগে এদের না পেলে। ততটাই একা লাগে তুমি ছাড়া। বাড়াবাড়ি লাগছে? তাহলে তো বুঝিয়ে বলতেই হয়! নাহ বলবোনা! বরং তুমি নিজ দায়িত্বে কারণ খুঁজে বের করবে। পারবে না? আচ্ছা তোমার মন খারাপ হয় না? কখন হয়? কোন সময়ে বেশি হয়? আমি না তোমাকে জানতে চাই, পুরোটা জানতে চাই। আমি দেখতে চাই চায়ে চিনির বদলে লবণ দিয়ে দিলে তোমার মুখের অবস্থা কেমন হয়, আমি দেখতে চাই। গোসল করে এসে ভেজা চুলে তোমায় কেমন লাগে, আমি দেখতে চাই। বিন্দু বিন্দু ঘামে তোমায় দেখতে কেমন লাগে, সেটাও দেখতে চাই বা প্রচণ্ড রেগে গেলে কেমন করে থাকো, সেটাওতো দেখা হয়নি আমার! জানো তুমি? তোমার হাসিটা কী দারুণ মিষ্টি! যেদিন প্রথম দেখায় হ্যান্ডশেক করে পরিচিত হলাম, ঐদিন একটা হাসি দিয়েছিলে। ভুবন ভোলানো হাসি বলতে মনে হয় এটাই বুঝায়? এত নির্মল হাসি অনেকদিন দেখিনি। শিশুর হাসি। আরেকবার ওভাবে হাসবে আমার সামনে? আমি মুগ্ধ হতে চাই আবার। সব ভুলে গিয়ে তোমার হাসিতে মেতে থাকতে চাই। হাসবে? কী ছন্নছাড়া লেখনি লিখছি দেখো! জানতেই চাই নি কেমন আছো! মানুষ বোধহয় অপ্রয়োজনীয় কাজ করতেই বেশি ভালোবাসে। তাই না গো? ভালো আছো? কতটা? আচ্ছা আমি তোমার সেই 'তুই' হতে চাই। যার কাছে তুমি তোমার সব খারাপটা জমা রাখবে। আমি একটু একটু করে জমাবো। জমিয়ে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দিয়ে আসবো। আর বলবো, "কীভাবে ছিলে এতদিন এত ভারি বোঝা নিয়ে?" মানুষ টাকা জমিয়ে সমুদ্র দেখতে যায়। আমি কখনও সমুদ্র দেখি নি। আমি তোমাকে দেখতে চাই। তোমার মধ্যে থাকা সমুদ্রটাকে উজার করে দিবে আমার কাছে? আমি আবার মুগ্ধ হয়ে তোমার কান্না দেখবো। যত কান্না আছে, কাঁদবে। আমার কাছে, কাঁদবে তো? তোমার হাউমাউ করে কাঁদার জায়গা হবো আমি। হবে আমার সমুদ্রমানব? আমার রাজকুমার? আমার প্রিন্স চার্মিং? আমার জীবনের সেই টার্নিং পয়েন্ট যাকে নিয়ে পারি দিবো ক্লান্তিহীন কয়েক কোটি বর্গমাইল। ভালো থেকো প্রিয়! (লিখেছিলাম কয়েক মাস আগে, আজ স্মৃতি হাতড়ে বের করলাম।) Lamia Tanjin Mahmud

No comments yet

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.