read.cash Log in

@ShainaraBegum

Joined 15 November 2020 · 5 posts

120 KT

0 KT · 1¢ received · 0 KT given

Posts

@ShainaraBegum

কিসের লন্ডন কিসের আমেরিকা মুসলমানদের সবচেয়ে দামি শহর মক্কা 🕋 মদিনা 🕌 হে আল্লাহ,বিশ্বের ১৮০ কোটি মুসলমানের মধ্যে,যার। হাতটি আপনার পছন্দ হয়,তার হাতের উসিলায় করোনা ভাইরাস থেকে আমাদের হেফাজত করুন😞 (আমিন)❤❤❤সবাই আমাকে Follow দিন প্লিজ 🙏👆👆 ❤💞এক বিন্দু ভালোবাসা দাও 💝❣ 💖💕ভালোবাসা হচ্ছে জীবনের বন্ধু 💘💗 💜💓ভালোবাসা দাও ভালোবাসা নাও❣ 💝

@ShainaraBegum

নীতিকথা মানুষ কে বিশ্বাস করতে শিখো😔 মানুষ কে টকানোর অভ্যাস পরিহার করো।😍 ঠিক দেখবে আপনার জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে😏🤩🤩

@ShainaraBegum

"এ পথচলা" ক্যাটাগরি: সেড এন্ডিং তারিখ: ১ ৫/১১/২০ "ঘন কালো মেঘের আড়ালে আমি হারিয়ে যাচ্ছি। নিস্তব্ধতা ভর করছে সবখানে...দিনশেষে আমি এক একলা পথিক!" বেলা ১২টা, মাত্র বাসায় ফিরছিলো সাবা, সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে তার মনে কথাটি নিজের অজান্তেই বিড়বিড় করে উঠলো। তিনজন মেয়ে মিলে এক ফ্ল্যাট নিয়ে থাকে সাবারা। বাকি দু'জন নিজেদের কাজে চলে গিয়েছে। বাসায় আপাতত সে একাই! তালা খুলে ভিতরে ঢুকে সাবা। ক্লান্ত শরীরটা নিমিষেই যেন আরো ক্লান্ত হয়ে উঠে। জুতো জোড়া খুলে সাবা খালি পায়ে এগিয়ে যায় নিজের রুমের দিকে। শরীরটা এতোই ক্লান্ত যে একগ্লাস পানিও হাতে তুলে নিয়ে খেতে ইচ্ছে করছে না। সিঁড়ি বেয়ে যখন উপরে উঠছিল তখনও ক্ষুধায় তার হাত পা কাঁপছিল। বিছানায় গা এলিয়ে দেয় সাবা, সোজা হয়ে শুয়ে পড়ে। চোখ বরাবর ফ্যানের দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে থাকে সাবা, চোখের সামনে মেলে ধরে নিজের বাম হাত। আঙুলগুলো তুলে ধরে সে, হাত টানটান করে আঙুলগুলো একনাগাড়ে দেখতে থাকে। হঠাৎ তার মনে হলো, সে দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে, বেশ শুকিয়ে যাচ্ছে। নিঃশব্দে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে সাবা। মাত্রই সে হাসপাতাল থেকে ফিরেছে, ডাক্তার আজকে তার হাতে রিপোর্ট ধরিয়ে দিল। রিপোর্টটা আবার দেখতে সাবা ব্যাগে হাত দিবে, মুহূর্তেই ব্যাগের ভেতর থেকে ফোনের রিং বেজে উঠলো। ফোন বের করতেই সাবা দেখলো, মায়ের ফোন এসেছে। দ্রুত ফোন রিসিভ করে কানের কাছে ধরে সাবা। ওপাশ থেকে সাবার মা বলে উঠলো, __"কী রে, কই তুই? তোকে কতক্ষণ আগেও ফোন দিলাম। কী করিস?" শান্ত কণ্ঠেই সাবা বলল, __"কাজ করছিলাম মা। তোমরা কেমন আছো? বাবার শরীরটা ভালো আছে তো?" আজকে আর সাবার কণ্ঠে অন্যদিনের মতো বাবা মায়ের সাথে কথা বলার উদ্বিগ্নতা প্রকাশ পায় না। বাকি দিনগুলোর মতো সে আজ মায়ের সাথে কথা বলতে উৎফুল্লতা বোধ করছে না। তার কাছে আজ সব‌ই বিরক্তিকর! ওপাশ থেকে মা বললেন, __"হ্যাঁ, আমরা তো ভালোই আছি। কিন্তু শোন না? অনেক জরুরী কাজে ফোন দিলাম রে। তোর বাবার ওষুধ তো শেষ। হাতের জমানো টাকাও শেষ। এই মাসে বেতন পেয়েছিস? বাড়ি আসবি কবে? কিছু টাকা দিতে পারবি এখন?" আবারও সাবা বড়ো সরো এক দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। নিজের কণ্ঠ যথেষ্ট স্বাভাবিক রেখেই সে বলল, __"আচ্ছা আমি টাকা পাঠাচ্ছি। একটু অপেক্ষা করো!" মা ফোন রেখে দেয় ওপাশ থেকে। ফোন রেখেই সাবা হতাশ ভঙ্গিতে জানালার বাহিরে তাকিয়ে থাকে। হঠাৎ তার মনে হলো, টাকা তো নেই হাতে! এখন কোথা থেকে টাকা আনবে সে? মাথা ধরে যাচ্ছে সাবার। ক'দিন আগেও তো ফ্ল্যাটমেট দু'জনের থেকে টাকা ধার নিলো সে। এইতো মাত্র ক'দিন আগে! আবার চাইবে সে এখন? সাবার এই মুহূর্তে নিজেকে খুব অসহায় লাগছে। আসলেই, ঢাকা শহরে একা চলতে বড্ড কষ্ট! অনেক বেশি কষ্ট! তার আবার মনে পড়লো, তার স্টুডেন্ট সেলিমার কথা। আজকে তাহলে একটু আগে আগে পড়াতে যাবে, তখন তার মায়ের কাছ থেকে এডভান্স টাকা আনার চেষ্টা করবে সাবা। এরপর বাবার জন্যেও টাকা পাঠাতে পারবে আবার নিজের জন্যেও কিছু রাখবে। ফোন হাতে তুলে সাবা আবারও মাকে ফোন দেয়। ফোন রিসিভ হতেই সাবা বলল, __"মা, বিকেলে টাকা পাঠাই? এখন সম্ভব না। পড়াতে যাচ্ছি!" ওপাশ থেকে মা বললেন, __"আচ্ছা, তবে জলদিই পাঠাস। বেশি দেরি করিস না!" ফোন রাখতেই আবার একদলা দীর্ঘশ্বাস পালাক্রমে নাক দিয়ে বেরিয়ে যায় সাবার। মায়ের কথা বলার ধরণ কেমন যেন ছিল। ভারী ছিল কণ্ঠ! সাবা বুঝে মায়ের এ কণ্ঠের পিছে কতো অজানা কথা লুকিয়ে ছিল। পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় বাবার অসুস্থতার জন্যে সাবাকে মাত্র ২০ বছর বয়সে পুরো পরিবারের চাপ মাথায় নিয়ে পথে নামতে হয়। আপাতত পড়ালেখার পাশাপাশি চারটে স্টুডেন্ট পড়ায় সাবা। মাসে এই যা ইনকাম। হয় না, চলে না এইটুকু টাকায়। তবুও লবণ ভাত তো খেতে পারে? তাতেও তো সুখ আছে! অন্তত বাবাকে, মা'কে তো কষ্ট করতে হচ্ছে না! বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় সাবা। সময়ের অপচয় করা হচ্ছে তার। একটু পরেই তো বের হতে হবে। নিজেকে ফ্রেশ করে ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে সাবা। গরম করে খেতে বসে, প্রথম লোকমা হাতে তুলে মুখে পুরতে নিবে তখনই সাবার পেট গুলিয়ে আসে, বমি পায়। সাবার হাতের অঞ্জলি থেকে গড়িয়ে পড়ে খাবার। বাজে খাবার, পানি খেয়ে উঠে যায় সাবা, এই খাবার খাওয়ার যোগ্য না! ক্ষুধা পেটে নিয়েই বেরিয়ে পড়ে সাবা। স্টুডেন্টের বাসায় গিয়ে কিছু একটা খাওয়া যাবে। দিবে তো কিছু একটা হলেও! ক্ষুধায় মোড়ানো পেট নিয়ে ছাত্রকে পড়াতে বসায় সাবা। অপেক্ষার পালা ভারী হয়, সাবার ক্ষুধার্ত শরীর আরো কাতর হয়ে উঠছে। হাত পা ভীষণ রকমের কাঁপছে। শেষে না পেরে সাবা তার ছাত্রকে বলেই বসলো, __"তোমার আম্মু কোথায়?" ছাত্রের সোজা জবাব, __"আম্মু তো বাইরে, সন্ধ্যায় আসবে।" ঠিক সে মুহূর্ত! ঠিক এই মুহূর্তে সাবার কাছে মনে হলো, এর থেকে লজ্জার বিষয় আর কিছু হতে পারে না। না পারছে ক্ষুধা সহ্য করতে আর না পারছে কিছু চেয়ে খেতে। বেচারি সাবা পেটের ক্ষুধা নিয়েই পড়ানো শেষে বেরিয়ে পড়ে। বিল্ডিং এর থেকে নেমে দ্রুত হাঁটা ধরে সাবা। আরেকজনকে পড়াতে হবে এখন, দেখা যাক! তার বাসায় গিয়ে কিছু অগ্রীম টাকা পাওয়া যায় কি-না আর যদি পেটের ক্ষুধা মেটানো যায়! সাবার মাথায় বুদ্ধি আসছে, যদি এখানেও কিছু খেতে না দেয়, টাকা পেলে কোনো হোটেলে গিয়ে সে এক প্লেট ভাত খেয়ে নিবে। __"আন্টি, একটা কথা ছিল। আমাকে কি এই মাসের বেতনটা অগ্রিম দেওয়া যাবে?" __"হ্যাঁ হ্যাঁ, অবশ্যই! তুমি একটু বসো মা আমি নিয়ে আসছি।" হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো যেন সাবা, এমন ভঙ্গিমায় নিঃশ্বাস ছাড়লো। প্রত্যেকটা স্টুডেন্টের বাসায় আজকে কোনো না কোনো সমস্যা ছিলই। শেষবেলায় এসে যেন সে তার পুরো সুখ খুঁজে পেলো। পেটে খাবারও পড়লো আর হাতে টাকাও পেলো। বিকাশে টাকা পাঠিয়েই সাবা মা'কে ফোন দিয়ে জানিয়ে দেয়। বেলাশেষে ঘরে ফিরে সাবা। এটা সম্ভবত তার রোজকার রুটিন হয়ে যাচ্ছে। বিরক্ত লাগছে তার এই জীবন। খেতে পারছে না, উঠতে পারছে না, একটু ঘুমোতে পারছে না ঠিক মতো! এভাবে ক'দিন? রাতেরবেলা ফ্ল্যাটমেট দু'জনের সাথে সাবা আড্ডায় বসে। দু'জনই জানে সাবার অসুস্থতার কথা! দিন দিন তার দুর্বলতা আর ক্রমশ এভাবে চুল পড়া, শুকিয়ে যাওয়া, চোখ বেরিয়ে আসা দেখে তারা দু'জনই সাবাকে জোর করে হাসপাতালে পাঠায়। গত সপ্তাহের শুরুতে টেস্ট করেছিল। আজকে ড. এর কাছে যায় রিপোর্ট নিয়ে। ড. সাফ জানিয়ে দিয়েছে সাবাকে, ওর ব্লাড ক্যান্সার। প্রতি মাসে মাসে রক্ত বদলাতে হবে। আর বাকি স্টেজগুলো তো পড়েই আছে। ওদের দু'জনকে জানাতেই ওরা বলল, __"কী করবি এখন?" সাবার কাটকাট জবাব, __"কিছুই করার নেই! যতদিন বেঁচে আছি, বাবা মায়ের জন্যে করে যাই। যেটুকু পারি অল্প হলেও জমিয়ে যাই।" __"এভাবে ক'দিন সাবা?" __"জানি না!" ধীরে ধীরে রাত ঘনিয়ে আসছে। ঘুমন্ত সাবা এই মুহূর্তে বেশ শান্ত, বেশ! রাত পেরিয়ে আবার শুরু হবে নতুন ভোরের খেলা, আবার শুরু হবে সময়ের স্রোতের ঢেউয়ের তালে ছুটে চলা...কিন্তু ক'দিন শুধু! ক'দিন পর শেষ হয়ে যাবে সাবার পথচলা। শেষবেলায় এসে হাহাকার উঠবে একটি পরিবারের! পথচলা...একাকী পথচলা খুব কঠিন, খুব! __সমাপ্ত।

@ShainaraBegum

#শূণ্যতালেখনীতে অফিস থেকে কাজ শেষ করে কপালের ঘাম আঁচল দিয়ে মুছে নিয়ে মোটা ফ্রেমের চশমাটা ঠিক করে বাসায় ফেরার জন্য রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকানটার সামনে সোজা হয়ে রিক্সার জন্য দাঁড়াতেই মুগ্ধর থেকে খানিকটা দূরে চোখে পড়লো একটা পঁচিশ অথবা ছাব্বিশ বছর বয়সী লাল শাড়ী পরা মেয়েকে আর সাথে দুই অথবা তিন বছরের একটা মিষ্টি বাচ্চা মেয়েকে।ছোট্ট মেয়েটা একটা সাদা রংয়ের ড্রেস পরে আছে।সাদা রংয়ের শুভ্রতায় মিশ্রিত থাকায় তাকে যেন আরো মিষ্টি লাগছিলো।পিচ্চি মেয়েটা আধো আধো কথা বলা শিখেছে হয়তো কিংবা শিখে নি।লাল শাড়ীর মেয়েটা তার চেনা তবে গত চার বছরেও যোগাযোগ হয়নি তার সাথে। পিচ্চি মেয়েটা হয়তো তারই মেয়ে।ছোট্ট মেয়েটার দিকে মনভরে তাকাতেই তাদের পেছন পেছন একটা কালো রংয়ের পাঞ্জাবী পরিহিত ছেলেকে চোখে পড়লো তার। ছেলেটা তার খুব পরিচিত ও বলা যায় আবার নিজের প্রাক্তন ও বলা যায় বটে।হঠাৎ তাদের চোখে পড়তেই মুখটা নিচু করে নিলো মুগ্ধ ।নিজেকে লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টায় ব্যস্ত হয়েই অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়ালো সে।অস্বস্তিতে কেমন এক অদ্ভুত অনুভূতি হতে লাগলো।কেমন যেন এক দমবন্ধকর অবস্থা।যেন তাকে না দেখলেই হয়তো সে রেহাই পাবে। সত্যিই কী তাই? কেন এই লুকোচুরি?সে কী অন্যায় করেছে তার প্রাক্তনের সাথে?একমুঠো সুখ নিজের প্রিয় মানুষটাকে এনে দেওয়া কী অন্যায়?ভাবনার মাঝেই নিজের মুখ লুকানোর চেষ্টাকে ব্যর্থ প্রমাণিত করে পিচ্চি মেয়েটা তার হাত জড়িয়ে বলেই উঠলো, - এই যে আন্তি তোমার কাগজ পড়ে গেলো তো। নিজের ফাইলের কাগজপত্র পড়ে গেছে ভেবেই উল্টো ফিরে তাঁকালো সে।নিচে পড়ে থাকা কাগজটা ব্যাগে নিলো।ছোট্ট মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আরো এক ধাপ অবাক হলো সে।কথাটা যে ছোট মেয়েটার তা আর বুঝতে দেরি হলো না। তার ধারণা ভুল।মেয়েটা অাদৌ আদৌ নয় পুরোপুরিই কথা বলতে পারে।মুখে হাসি ফুঁটিয়ে ছোট মেয়েটার গালে হাত দিয়ে বলে উঠলো মুগ্ধ, - থেংকিউ মামনি। কথাটা শুনেই খিলখিল করে হেসে উঠলো বাচ্চা মেয়েটি।সেও বললো, - ওলকাম আন্তি। মেয়েটির মুখে " ওয়েলকাম" শব্দটিকে "ওলকাম" শুনে হাসি ফুটলো তার কথিত অান্তির মুখে ও।সেও বাচ্চা মেয়েটাকে সাথে সাথেই কোলে নিয়ে ব্যাগ থেকে কয়েকটা চকলেট বের করে বলে উঠলো মুগ্ধ, - চকলেট নিবে? বাচ্চা মেয়েটি চকলেট গুলো হাতে নিয়েই বললো, - হ্যাঁ,চকলেত তো আমার খুব প্রিয় তাই না মাম্মাম? বাচ্চাটার কথা শুনেই তার দৃষ্টি অনুসরন করে তার মায়ের দিকে তাকালো মুগ্ধ।তার মা আর বাবা দুজনই যে মুগ্ধকে দেখে খানিকটা অবাক আর অস্বস্তিতে পড়েছে তা মুহুর্তেই তাদের চোখের দৃষ্টি দেখে বুঝতে পারে মুগ্ধ।তাই নিজে থেকেই বলে উঠে, - নীলাদ্রী কেমন আছিস? লাল শাড়ীর মেয়েটাই নীলাদ্রী।সে মুখে বৃথা হাসি ফোটানোর চেষ্টা করে বলে উঠলো, - ভালোই,তুই? - যেমনটা দেখছিস। কথাটা বলেই মৃদু হাসি ফোঁটালো নিজের ঠোঁটের কোণে।আর এই হাসিটা হয়তো সুদর্শন পুরুষ মানুষটির হৃদয়টাকে টুকরো টুকরো করার জন্য যথেষ্ট ছিলো। মুহুর্তেই তার প্রাক্তন নামক পুরুষটি বলে উঠলো, - তুমি ভালো নেই মুগ্ধ? - তাই মনে হচ্ছে বুঝি সায়ন? হ্যাঁ তার প্রাক্তনের নাম সায়ন।শুধু প্রাক্তন বলা যায় না তাকে তো মুগ্ধ এখন ও ভালোবাসে।সব ভালোবাসাতো পূর্ণতা পায় না।কিছু কিছু অপূর্ণতার মাঝেও থাকে হৃদয় ভরা ভালোবাসা।তাই আজও একাকীত্বকে সঙ্গী করে বেশ আছে মুগ্ধ।অন্য দিকে সায়ন নিজের প্রিয় মানুষটার এমন ক্লান্ত মাখা মুখ দেখে বুঝেই নিলো ভালো নেই সে।মোটা ফ্রেমের চশমার ভিতরের চোখজোড়ায় যেন অনেক কথা লুকায়িত ছিলো।কচু পাতা রংয়ের শাড়ীতে যেন অদ্ভুত সুন্দর লাগছিলো মুগ্ধকে।কিছুক্ষন তার উজ্জ্বল শ্যামলা মুখটা,কালো লম্বা চুলের বেনুনি আর কাজল দেওয়া চোখগুলোকে গভীর নয়নে দেখেই বলে উঠলো সায়ন, - অনেক সময় তো মনই সত্যি কথা বলে। কথাটাকে ঘোরানোর জন্যই মুগ্ধ নীলাদ্রীকে উদ্দেশ্য করেই বলে উঠলো, - নীল তোর মেয়েটা তো ভারী মিষ্টি।পুরো সায়নের মতোই দেখতে হয়েছে বল?নাম কী ওর? - মুসকান আহমেদ স্নিগ্ধ। নামটা শুনেই একধাপ চমকে উঠলো মুগ্ধ।এই নামটা সে আর সায়ন চারবছর আগে যখন একে অপরকে ভালোবাসতো তখন তাদের ভবিষ্যৎ এ যদি কন্যা সন্তান হয় তার জন্যই ঠিক করেছিলো।কিন্তু সে নামটাই সায়ন আর নীলাদ্রীর মেয়ের নাম হবে সে ভাবেই নি।পুরোনো স্মৃতি গুলো আবার ঝাপসা হয়ে চোখের সামনে ভাসতে লাগলো।চারবছর আগে সে নিজেই নিজের ভালোবাসাকে নিজের সবথেকে কাছের বান্ধবীর হাতেই তুলে দিয়েছিলো শুধু সে কখনো মা হতে পারবে না বলে। না শুধু সে কারণ নয়।সায়নের প্রতি নিজের বান্ধবীর দুর্বলতাটা জানাও ছিলো একটা কারণ।আর তারপর থেকে তাদের থেকে দূরে, তাদের স্মৃতি ভুলে থাকার চেষ্টাতেই জীবন কাঁটছে তার। কিন্তু চাইলেই কী সবকিছু ভোলা যায়?সায়ন অনেকবার বলেছিলো আমার সন্তান চাই না শুধু তোমাকে চাই তবুও আজ নীলাদ্রী তাকে কন্যা সন্তান দিয়ে যে সুখ দিয়েছে তা কী আদৌ মুগ্ধ দিতে পারতো?নাহ তো।নিজের ভালোবাসার মানুষের জন্য এটুকু ত্যাগ আর কীই বা?কথাগুলো ভাবতেই চোখের পানিটা চোখের কোণে খুব করে জমতে লাগলো।যেন এখনই বৃষ্টি আকারে ঝরে পড়বে গাল বেয়ে। তাও নিজের কান্নাকে লুকানোর চেষ্টা করেই বলে উঠলো, - আমাকে একবার ফোন করে বলতে পারতি।তোদের মেয়েকে দেখার অধিকার কি নেই আমার? - ওর আকিকার অনুষ্ঠুানে তোকে বলবো ভেবেছিলাম কিন্তু সবাই বললো যে তোর মতো মেয়েরা নাকি শুভ অনুষ্ঠানে আসলে খারাপ কিছু হয় তাই।আসলে তুই যে স্নিগ্ধকে কোলে নিলি এটাও নাকি ওর জন্য খারাপ। এই কথাটা শুনে সে আর কান্না চেপে রাখতে পারে নি।বাচ্চা মেয়েটাকে মুহুর্তেই কোল থেকে নামিয়ে বলে উঠলো, - স্যরি রে, আমি বুঝতে পারিনি আমি ওর জন্য অশুভ তাই ভুল করে কোলে নিয়ে পেলেছি।তাছাড়া এটা তো আমার ভুল না নীল।আমার প্রবলেমের কথা তুই জানতি তো।পিরিয়ড়ের সময় এতো পেট ব্যাথার জন্য অপারেশনটা করতে বলেছিলো ডক্টর।কিন্তু আমি যে অপারেশনের পর মা হওয়ার ক্ষমতাই হারিয়ে পেলবো কে জানতো?শুধু ঐ অপারেশনের পর থেকে আমি শূণ্য হয়ে গেছি।একদম শূণ্য। মুগ্ধর চোখের পানিতে হয়তো ভিতর থেকে শেষ হয়ে যাচ্ছিলো সায়ন।কেন জানি তার নিজেকেই মুগ্ধর এই অবস্থার জন্য দায়ী মনে হয়।নীলাদ্রীকে বিয়ে না করলে হয়তো আজ মুগ্ধর জীবনটা অনেক আনন্দের থাকতো।কিন্তু মুগ্ধই তো সেদিন তাকে রাজি করালো অাত্মহত্যা করবে বলে।নিজের প্রেয়সীকে বাঁচানোর জন্যই তো সে অন্য একজনকে আপন করে নিয়েছিলো।সত্যিই কী আপন হতে পেরেছে নীলাদ্রী?নাহ তো।নীলাদ্রী তার কামনায় জড়ালেও ভালোবাসায় জড়াতে পারে নি।কেন?তার উত্তর তো কারো কাছেই নেই।মুগ্ধর চোখের পানি দেখেই সায়ন নীলাদ্রীর দিকে তাঁকিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠলো, - নীলাদ্রী, এসব না বললেও তো হতো।তোমার তো একসময়ের ব্রেস্টফ্রেন্ড ছিলো।তাকে কষ্ট দিতে ভালো লাগছে তোমার? - তোমার তো প্রাক্তন ভালোবাসা!তো এই জন্য জ্বলছো? - প্লিজ স্টপ। সবসময় এই কথাটা ভালো লাগে না। মুগ্ধর দিকে তাঁকিয়েই বলে উঠলো সায়ন, - মুগ্ধ নীলাদ্রী এমনটা বলতে চায় নি ঠিক।স্যরি তোমায় কষ্ট দেওয়ার জন্য। - কষ্ট?কে কষ্ট পেয়েছে?আমি সবসময় সুখী।আমার জীবনে কোন কষ্ট নেই সায়ন। - মুগ্ধ তুমি চাইলে আবার জীবনটাকে শুরু করতে পারো।শুধু কী সন্তানের জন্যই মানুষ বিয়ে করে?কেউ একজনকে জীবন সঙ্গী করে নাও। - চাইলে তো চারবছর আগেও জীবনটাকে আরো সুন্দর করে শুরু করতে পারতাম।আমি এই বিষয়ে আর বলতে চাই না।আমায় বাসায় ফিরতে হবে।এমনিতেই বাসায় অনুষ্ঠানের জন্যই ছুটি নিয়েছিলাম কিন্তু সেই দেরি হলো। - স্যরি তোমার সময় নষ্ট করার জন্য মুগ্ধ। - তেমন কিছু না।আসি সায়ন,নীলাদ্রী।মামনি বাই বাই। বাচ্চা মেয়েটি মুচকি হেসে বললো, - টা টা আন্তি। মুগ্ধ তখন মুখে হাসি ফুটিয়ে সেখান থেকে সরে আসলো।আর ওরা তিনজন তখন পথ বাড়ালো।মুগ্ধ পেঁছন ফিরে একবার তাদের যাওয়ার পথে তাকালো।তারপর আবার সামনে ফিরে একটা রিক্সা ডেকে নিয়ে উঠে বসলো সে।আজ সে শূণ্য।শূণ্যতায় ঘিরে রেখেছে চারপাশটা।এভাবে কতশত কারণে প্রতিদিন হাজারো ভালোবাসার পরিণতি হয় অপূর্ণ্যতা আর শূণ্যতা।হ্যা তার জীবনটা ভালোবাসার অার সন্তানের শূণ্যতায় কাঁটবে।রাতের আঁধারে তাকে যে হাজারো শূণ্যতা ঘিরে ধরে। এই শূণ্যতার শেষ হয়তো কখনোই হবে না।