অভিমান
গল্পের মেয়েটার নাম নাবিলা।
গল্পের এই মেয়েটা বিয়ের এক অনুষ্টানে আসে।বিয়ের অনুষ্টান টা হল তার এক বান্ধবীর বোনের।
কিন্তু অনুষ্টানে আসার পর থেকেই...
একটা ছেলের জন্য সে ঠিক মত কোনো কিছুই করতে পারছে না।
কারণ ছেলেটা তার পিছনে আঠার মত লেগেছে।যেখানেই সে যায়. সেখানেই ছেলেটা তার পিছে পিছে যায়.
(মনে মনে ছেলেটাকে.. অনেক গালি দিয়েও তার মনে শান্তি পায় না).
একটু সময়ের জন্য তাকে ছেলেটার চোখের আড়াল হতে দিতেছে না
(মনে মনে বলতে থাকে.. কি এমন দোষ করেছি ছেলেটার কাছে. কিসের জন্য সে আমার পিছে লেগেছে)
সময় চলতে থাকে সে ও তার পিছে লেগেই থাকে।
মাঝে মাঝে তার চোখে চোখ রেখে... মুচকি মুচকি হাসে।
এটা দেখে নাবিলা রাগে ফাটে।তা দেখে ছেলেটা আরও মজা নিয়ে হাসে।ছেলেটা দেখে নাবিলা রাগে নাক মুখ লাল করে ফেলেছে।
তখন নাবিলাকে আরও রাগানোর জন্য ছেলেটা কি করল জানেন.!
নাবিলার চোখে চোখ রেখে তাকে চোখ মেরেছে।এটা দেখে নাবিলা আরও রেগে যায়...(মনে মনে বলতে থাকে... কি বেহায়া ছেলে রে)
তখন নাবিলা ছেলেটার দিকে বড় বড় চোখ বের করে... দাঁতে দাঁত লাগিয়ে কট মট করতে থাকে... যেন সে ছেলেটা কে খেয়ে ফেলবে।
আর গল্পের ছেলেটা... মনে মনে বলতে থাকে... রাগ কুমারী কেন তুমি আমাকে এখনো চিনোনি।
আমি যে তোমার বাবুনি... কেন তোমার সাথে আমি টাংকি মারতেছি
আর কেনই বা তুমি রাগে ফাটতেছ...
কাছে এসে তার কারণ টা তো জেনে যাবে।
•
তার কিছুক্ষন পরেই যোহরের আযান পড়ে।
তখন নাবিলা নামাজ পড়তে চলে যায়।
নামাজ শেষে নিচ্চুপ রংধনুকে খুঁজে ফেসবুকে ডুকে।কিন্তু নিচ্চুপ রংধনুর কোনো খবর নেই।সে যে ম্যাসেজ দিয়েছিল তার ও কোনো উত্তর নেই।
কারণ নিচ্চুপ রংধনু তার সাথে অভিমান করেছে।নিচ্চুপ রংধনু বলেছিল তার সাথে একটু সময়ের জন্য দেখা করতে
কিন্তু নাবিলা তার সাথে দেখা করে নি।তাতে নিচ্চুপ রংধনু কি অনেক কষ্ট পায়।
তাই অভিমান করে নাবিলার কোনো ফোন ধরে না।ম্যাসেজ করলে ও তার কোনো উত্তর দেয় না।
•
নিচ্চুপ রংধনু ম্যাসেজ দিবেনা জেনেও নাবিলা আবার ম্যাসেজ দেয়।
নিচ্চুপ রংধনু... নিচ্চুপ রংধনু তুমি আমার সাথে কথা বলবে না.! আমার ফোনটা ধরবে না.! ম্যাসেজের উত্তর দিবেনা.!
আজ চার দিন ধরে তোমার সাথে আমার কোনো কথা হয় না।তাই আমার কিছুই ভাল লাগে না।তুমি কি বুঝ না.! তোমাকে প্রতিটা মুহূর্ত খুব মিস করছি।
কেন তুমি আমাকে এত কষ্ট দিতেছ.? নিজেই বা কেন কষ্ট পাইতেছ তার কারণ টা তো বলবে
এই... নিচ্চুপ রংধনু তুমি জানো না.! তোমার কন্ঠটা না শুনে আমি একটা দিন ও থাকতে পারি না।
প্লীজ আমার ফোনটা ধর.
ম্যাসেজ টা পাঠিয়ে নাবিলা নীরব কান্না করতে থাকে।
মনে মনে বলতে থাকে.. কি করব বল তোমাকে বলার মত যে আমার সাহস নেই।তোমাকে না বলে যে, এই বাড়িতে এসে পড়েছি।তাই তো তোমাকে কিছুই বলতে পারেনি আর দেখাও করতে পারেনি তোমাকে না করে দিয়ে কি আমি ও কষ্ট কম পেয়েছি।প্লীজ একটি বার কথা বল..
বলেই চোখের পানি ফেলতে থাকে
•
নাবিলা চলে যাওয়ার পর আমি (নিচ্চুপ রংধনু)নামাজ পড়তে চলে যায়।
এই ছেলেটা আর কেউ নয় সেই হল নাবিলার নিচ্চুপ রংধনু ।নামাজ শেষে নিচ্চুপ রংধনু ফেসবুকে ডুকেই নাবিলার একটা ছবির দিকে তাকিয়েই থাকে।
কারণ নাবিলার চোখের দিকে একবার তাকালে আর চোখ ফিরানো যায় না।
তার চোখে যে অনেক মায়া।
নাবিলার এই কাজল কালো চোখের মায়ায় নিচ্চুপ রংধনু তার প্রেমে পড়ে।
ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই সম্যাসেজ টা আসে।ম্যাসেজ টা পড়ে ঐ নীল আকাশের দিকে... নিচ্চুপ রংধনু তাকিয়ে থাকে।
•
এই নাবিলার সাথে নিচ্চুপ রংধনু র পরিচয় হয় ফেসবুকে।নিচ্চুপ রংধনু ফেসবুুকে টুকটাক লেখা-লিখি করত।
একটা পেইজে র একটা গল্প নাবিলারখুব ভাল লাগে।তারপর অনেক কষ্টে তাকে পায়... নাবিলা ফ্রেন্ড হতে চাইলে
সে না করে।
কিন্তু নাবিলা ফ্রেন্ড হবেই।তারপর নাবিলা তার সম্পর্কে সব বলে এবং তার অনেক ছবি ও নিচ্চুপ রংধনু কে দেয়।পরে সে রাজী হয়।
•
তারপর ধীর ধীরে একটু কাছে আসা... একটু ভাল লাগা.. সেই ভাল লাগা
থেকে. একটু ভালবাসা।
একটু ভালবাসা দিয়ে. শুরু হয় তাদের নতুন পথ চলা...
দুজন জনের দুঃখ-কষ্টের গল্প বলত হাসি-আনন্দের গল্প বলত।
মাজে মাজে রাগ অভিমান করত।এভাবেই তাদের দিন কাটাত।আবার কখনো কখনো নাবিলা যদি তার ছবি দেওয়ার কথা বলত
তাহলে বলত ছবি দিয়ে কি করবে মানুষটাকেই দেইখো।
এভাবে প্রতিদিন শেয়ারিং কেয়ারিং এর মাধ্যমে তাদের দিন গুলি ভালই যাচ্ছিল।
•
হঠাৎ করেই নিচ্চুপ রংধনু র মামাতো বোনের বিয়ে ঠিক হয়ে যায়।বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার আগের দিন রাতে
নিচ্চুপ রংধনু(আরমান) স্বপ্ন দেখে নাবিলা রোড এক্সিডেন্টে মরে গেছে।এই স্বপ্নটা দেখে ঘুম থেকে উঠেই হাপাতে থাকে।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে এখনো অনেকটা রাত।ঐ রাতে তার আর ঘুম আসেনি।পরের দিন সকালে নাবিলা কে ফোন করে বলে দেখা করতে।
কিন্তু নাবিলা দেখা করে নি।কি করে দেখা করবে সে তো তার বাড়িতে নেই।আর এ বিষয়ে নিচ্চুপ রংধনু কেও কিছু বলেনি...
যদি নিচ্চুপ রংধনু রাগ করে।কিন্তু দেখা না করার কারণে সে নাবিলার সাথে অভিমান করে এবং খুব কষ্ট পায়।
মনে মনে বলতে থাকে নাবিলা একটি বার ও আমার কথাটাই শুনলে না কি বলতে চেয়েছিলাম।
সেই কষ্টে এখন পর্যন্ত নাবিলার সাথে একটু যোগাযোগ করেনি।
•
ঐ দিকে নাবিলা চোখ মুছতে থাকে আর ফোনটা হাতে নিয়ে নিচ্চুপ রংধনু র ম্যাসেজের অপেক্ষা করতে থাকে।কিন্তু ম্যাসেজ আর আসে না।
রুম থেকে বের হয়ে ঘুরাঘুরি করতে থাকে যেন মনটা একটু ভাল হয়।
হঠাৎ ছেলেটার কথা মনে পড়ল।ছেলেটা এখন আর তাকে ফলো করছে না এবং ছেলেটাকেও কোথাও দেখছে না।মনে মনে বলে বাচা গেল।
সে তার মত করে ঘুরতে থাকে ছেলেটাকেও খুঁজতে থাকে... কারন তার সাথে ঐ রকম ব্যবহার কেন করল
তা জানার জন্য।
ঘুরাঘুরি করার পরেও তার মন ভাল হয় নি।তার এখন খুব কান্না করতে ইচ্ছা করছে।
কারণ নিচ্চুপ রংধনু র সাথে কথা বলতে পারছে না।
নিচ্চুপ রংধনু কি করছে.. কোথায় আছে... কেমন আছে... সে কিছুই জানতে পারছে না।
তাই একটু একা থাকতে বাড়ির পাশে আসে।বাড়ির পাশে আসতেই অবাক হয় কারণ ঐ ছেলেটা যে ছেলেটা তাকে জ্বালিয়েছিল।
দেখে ছেলেটা এক দৃষ্টিতে ঐ নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।
তখন নাবিলা ডাক দেয় এই যে শুনছেন.!
নাবিলার দিকে ফিরতেই নাবিলা দেখে তার চোখে পানি টলমল করছে।
নাবিলা কে দেখে সেও অবাক হয়।কারণ নাবিলার চোখ গুলোও ফোলা ফোলা ছিল।তার বুঝতে আর বাকি নেই নাবিলাকে দেখে চলে যেতে থাকে।
পিছন থেকে নাবিলা ডাক দিলেও (নিচ্চুপ রংধনু) দাঁড়ায় নি।
•
ঐ সময় এর পর থেকে সে আর নাবিলার সামনে পরেনি।নাবিলা অনেক খুঁজেও তাকে পায়নি।রাতে নাবিলা দেখে তার বান্ধবির সাথে ছেলেটা কথা বলতেছে।
তখন সে আর কিছু বলার সুযোগ পায়নি শুধু তাদের কথা গুলো শুনছিল।
কিন্তু ছেলেটার কন্ঠটা তার কাছে খুব চিনা চিনা লাগছে।
তার কাছে মনে হচ্ছে এই কন্ঠটা আরও কোথাও শুনেছে
কিন্তু মনে হয়েও মনে হচ্ছে না।
•
তখন রাত প্রায় ১১টা বাজে ছেলেটাকে খুঁজতে খুঁজতে ছাদে আসে দেখে
চাঁদের দিকে আপন মনে থাকিয়ে আছে।
নাবিলা এসেই বলতে থাকে
আপনার সমস্যা টা কি.! তখন ডাকলাম কথা না শুনেই চলে আসলেন কেন.!
আবার চলে যেতে চেয়েছিল কিন্তু নাবিলার বাধা দেয়।তাই আর যেতে পারল না আবার কি সমস্যা.!
কথা না বলে চলে যাচ্ছেন কেন.?
আজ সকালে আমার সাথে ঐ রকম ব্যবহার করছিলেন কেন.! কি হল কথা বলেন।
তখন তো দেখলাম আমার বান্ধবির সাথে খুব কথা বলছিলেন কিন্তু এখন কথা বলছেন না কেন.!
আপনার পরিচয় দেন আপনার পরিবারের কাছে বিচার দিব তবুও কিছু বলে না।
•
আবার কথা বলতে শুরু করতেই মারে এক চর নাবিলা চর খেয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তখন সে পকেট থেকে ফোনটা বের করে তার হাতে দিয়ে তার সামনে থেকে চলে যায়।নাবিলা ফোনের দিকে তাকিয়েই অবাক সে যে তার নিচ্চুপ রংধনু
তার সামনে যায়।আবার কথা বলতে যাবে তখনেই আর একটা চর মারে।চর খেয়ে নাবিলার চোখে পানি এসে পড়ে।নাবিলা বলতে থাকে মারো আরও মারো তার পরেও একটি বার আমার সাথে কথা বল
•
তখন তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে(নিচ্চুপ রংধনু কিছু বলেনি)আর বলতে থাকে কি করব বল ঐ দিন আমি এই বাড়িতে ছিলাম তাই দেখা করতে পারেনি এবং ভয়ে কিছুই বলতে পারেনি।যদি তুমি রাগ কর কিন্তু এত কষ্ট পাবে যে এটা বুঝতে পারেনি।
আরমান(নিচ্চুপ রংধনু) ক্ষমা করে দাও না.! আর কখনো তোমাকে না বলে কোথাও যাব না কথা দিচ্ছি।
আমি কে কেন আপনার সাথে কথা বলব কথা বলার কোনো প্রয়োজন নেই।
কেন ঐ দিন দেখা করতে চেয়েছিলাম জানেন আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম আমি মরে গেছি।পরে দেখি যে বেচে আছি।
তাই আপনাকে এক নজর দেখতে চেয়েছিলাম।
তারপর এখানে এসে দেখি আপনি এই বাড়িতে।
এই টা আমার নানার বাড়ি পরে বোনের কাছে জানলাম আপনি তার বান্ধবি।
এই আপনি আপনি ডাকতেছো কেন.!
সকালে আমার সাথে ঐ রকম ব্যবহার করলে কেন(অভিমানী ভাবে)
•
নাবিলা কে আর কিছু বলার সুযোগ দেয়নি। তখন নাবিলার কপালে চুমু খেয়ে তাকে পরম আদরে জড়িয়ে ধরে
নাবিলা বলতে থাকে আমাকে কষ্ট দিলে নিজেও কষ্ট পেলে তাতে কি পেলে।দুইটা চর মারতে পেরেছি... এই লাভ টাই হয়েছে।
দেখ তো গালটা লাল বানিয়ে ফেলেছো মানুষ এই ভাবে মারে
---বেশ করেছি।।
আমি আমার নাবিলাকে মারব
আবার আদর করব… কোনো সমস্যা.!
তখন নাবিলা তার কাঁধে মাথা রেখে বলে
না কোনো সমস্যা না।
আবার শুরু হয় অভিমানী ভালোবাসা।
tree plantation
**Tree-planting** is the process of transplanting tree seedlings, generally for forestry, land reclamation, or landscaping purpose. It differs from the transplantation of larger trees in arboriculture, and from the lower cost but slower and less reliable distribution of tree seeds. Trees contribute to their environment over long periods of time by providing oxygen, improving air quality, climate amelioration, conserving water, preserving soil, and supporting wildlife. During the process of photosynthesis, trees take in carbon dioxide and produce the oxygen we breathe. https://en.m.wikipedia.org/wiki/Transplanting https://en.m.wikipedia.org/wiki/Seedling https://en.m.wikipedia.org/wiki/Forestry https://en.m.wikipedia.org/wiki/Land_reclamation https://en.m.wikipedia.org/wiki/Landscaping https://en.m.wikipedia.org/wiki/Trees https://en.m.wikipedia.org/wiki/Arboriculture
In silviculture the activity is known as reforestation, or afforestation, depending on whether the area being planted has or has not recently been forested. It involves planting seedlings over an area of land where the forest has been harvested or damaged by fire, disease or human activity. Tree planting is carried out in many different parts of the world, and strategies may differ widely across nations and regions and among individual reforestation companies. Tree planting is grounded in forest science, and if performed properly can result in the successful regeneration of a deforested area. Reforestation is the commercial logging industry's answer to the large-scale destruction of old growth forests, but a planted forest rarely replicates the biodiversity and complexity of a natural forest.[*citation needed*] https://en.m.wikipedia.org/wiki/Silviculture https://en.m.wikipedia.org/wiki/Reforestation https://en.m.wikipedia.org/wiki/Afforestation https://en.m.wikipedia.org/wiki/Forest https://en.m.wikipedia.org/wiki/Logging https://en.m.wikipedia.org/wiki/Wildfire https://en.m.wikipedia.org/wiki/Forest_pathology https://en.m.wikipedia.org/wiki/Forest_science https://en.m.wikipedia.org/wiki/Old_growth_forest https://en.m.wikipedia.org/wiki/Plantation https://en.m.wikipedia.org/wiki/Biodiversity https://en.m.wikipedia.org/wiki/Wikipedia:Citation_needed
Because trees remove carbon dioxide from the air as they grow, tree planting can be used as a geoengineering technique to remove CO
2 from the atmosphere. Desert greening projects are also motivated by improved biodiversity and reclamation of natural water systems, but also improved economic and social welfare due to an increased number of jobs in farming and forestry. https://en.m.wikipedia.org/wiki/Carbon_dioxide https://en.m.wikipedia.org/wiki/Climate_engineering https://en.m.wikipedia.org/wiki/Atmosphere https://en.m.wikipedia.org/wiki/Desert_greening
আইঁ_কি_কম_ভাব_জানি_নাকি
-এ বছরের সেরা পোষ্ট...
-আজ_দুপুরে_চুল_কেটে_বাসায়_ফিরতাছি
।
হঠাৎ কোন হারামী যেনো একটা ধাক্কা মারলো সোজা গিয়ে একটা মেয়ের উপর পরলাম
।
মেয়ে:-এই যে চোখে দেখতে পারেন না
।
আমি:-আপাতত আপনাকে ছাড়া কিছুই দেখতে পাচ্ছি না
।
মেয়ে:----ফাইজলামি করেন
।
আমি:----আপনি আমার বউ ও না বিয়ানী ও না তাহলে ফাইজলামি করবো কেনো
।
মেয়ে:----স্টুপিড একটা
।
আমি:----হম আমার মা ও তাই বলে
।
মেয়ে:----ওমন হা করে কি দেখছেন
।
আমি:----দেখছি না,ভাবছি.
।
মেয়ে:----মানে
।
আমি:----ভাবছি যে আপনি যখন ছোট ছিলেন নিশ্চই হাফ্-প্যান্ট পরতেন তখন দেখতে অনেক সুন্দর লাগতো মনে হয়
।
মেয়ে:----ছিঃ অসভ্য কোথাকার
।
আমি:----হুম আমার বান্ধবীরাও তাই বলে
।
মেয়ে:----উফ্ বিরক্তিকর
।
আমি:----হুম আমার ছোট ভাই ও তাই বলে.
।
মেয়ে:---ইসসসসসস্ আপনি যে কি না
।
আমি:---কি
।
মেয়ে:---হারামী একটা
।
আমি:---হুম আমার বন্ধুরাও তাই বলে
।
মেয়ে:---উফফ, ইডিয়েট একটা
।
আমি:----হুম আমার কলেজের ম্যাডাম ও তাই বলে.
।
মেয়ে:---ফালতু.
।
আমি:---হুম যানি তো,অনেকেই বলে
।
মেয়ে:---আপনাকে এসব কথা যে বলে আপনার গায়ে লাগে না
।
আমি:---না,শুনতে শুনতে অভ্যাস হয়ে গেছে
।
মেয়ে:----ইসসসসসসস্, আচ্ছা আপনাকে বলেনি এমন কোনো কথা আছে
।
আমি:----হ্যা আছে তো.
।
মেয়ে:---কি সেটা
।
আমি:----আমাকে আজ পর্যন্ত কেউ বলেনি যে। তুমি খুব ভালো
।
মেয়ে:---ও আচ্ছা,তাহলে আমি বলছি.. ভাইয়া আপনি খুব ভালো
।
# কথাটা_বলার_সাথে_সাথে_মেয়েটার_
গালে_
# ঠাস্_কইরা_এক্টা_থাবরা_মারলাম_আর_
# বললামঃ :
----হারামজাদী,আমি যদি ভালো ছেলে হয়েই থাকি তাহলে হুদাই এতক্ষন বকা দিলি কেন
।
মেয়েটা আর কিছু বললো না,
চুপচাপ বেক্কেলের মতো দাড়িয়ে বেহুশ হয়ে গেলো??
।
# আর________
।
মুই পকেটে হাত ঢুকিয়ে সোজা বাড়ি চলে আসলাম।
যেমন কর্ম তেমন ফল
# এক বৃদ্ধ ট্রেনে উঠেছে!!
উপরোক্ত বগিতে
বৃদ্ধ একাই ছিলো!!
হঠাৎ ১২ জন যুবক চলন্ত ট্রেনের
ঐ বগিতে উঠেই চিৎকার করে গান গাচ্ছিলো!!
ছুরি দিয়ে আম কেটে কেটে খাচ্ছিলো!!
হঠাৎ একটি যুবক বলে উঠলোঃ
"চল আমরা ট্রেনের চেইনটা টেনে ট্রেনটাকে
থামিয়ে দেই!!"
# ২য় যুবকঃ "না দোস্ত, লেখা আছে পাঁচ
শত টাকা জরিমানা অনাথায় ছয় মাস জেল,!!"
# ১ম যুবকঃ "আমরা একশো টাকা করে
চাঁদা তুলি!! বারোশো টাকা হবে বাকী
সাত শো টাকা দিয়ে লাঞ্চ করবো।
Let's fun friends" (বারোশো টাকা
তুলে ১ম যুবকের পকেটে রাখলো)
# ৩য় যুবকঃ "দোস্ত, আমরা চেইন টেনে
ঐ বুইড়াটাকে দেখিয়ে দিলে পাঁচ শো
টাকাও বাঁচলো Fun হলো!!আমরা ১২
জনে সাক্ষী দিলে টিটি মেনে যাবে!!"
বৃদ্ধ কাঁদতে কাঁদতে হাত জোড় করে
বললোঃ "বাবা, তোমরা আমার ছেলের
বয়সী!! কেনো আমাকে বিপদের মধ্যে
ফেলবে?"
যুবকগুলো বৃদ্ধের অনুরোধ অবজ্ঞা করে
চেইনটা টান দিতেই!!টিটি চলে এসে
জিজ্ঞাসা করলোঃ "কে চেইন টেনেছে?"
যুবকগুলো বৃদ্ধকে দেখিয়ে বললোঃ
"ঐ চাচা মিয়া টেনেছে!!"
টিটি বৃদ্ধকে বললোঃ "অকারনে চেইন
টানলে পাঁচ শত টাকা জরিমানা অথবা
ছয় মাস জেল!!"যুবকগুলো চিৎকার
করে বললোঃ "স্যার, বুইড়া অকারনেই
টেনেছে। হো হো হো হো........."
বৃদ্ধ একটু দাঁড়িয়ে বললোঃ
"টিটি সাহেব আমি বিপদে পড়েই চেইন
টেনেছি।"
টিটি বললোঃ "কি বিপদ?"
বৃদ্ধ বললোঃ "ঐ যুবকগুলো আমার
গলায় ছুরি ধরে আমার বারো শো টাকা
ছিনতাই করেছে।"
টিটি বললোঃ "কি সর্বনাশ?"
বৃদ্ধ বললোঃ "দেখুন ঐ যুবকটির পকেটে
টাকা আর ঐ ব্যাগে ছুরি।"
টিটি পুলিশ কল করে ১২জন যুবককে
গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছিলো।
তখন বৃদ্ধ তার পাকা চুল/দাড়ি দেখিয়ে
যুবকগুলোকে বললোঃ
" # এইগুলো_বাতাসে_পাকে_নাই "
গল্প পইরা কমেন্ট না করে চলে যাবে
তার মাথার একটা চুল ও থাকবে না হু!!
সময় আসবেই
একজন চা ওয়ালা যদি দেশের প্রধান
মন্ত্রি হতে পারে৷(নরেন্দ্র মোদি)
-
হাইস্কুলের বাস্কেটবল টিম থেকে বাদ
পড়া ছেলেটা যদি পৃথিবির সেরা
বাস্কেটবল প্লেয়ার হতে পারে৷(মাইকেল
জর্ডান)
-
একটি ছেলে,যার গার্লফ্রেন্ড তাকে
ব্রেকাপ করে এবং তাকে সমস্ত Social সাইড
থেকে ব্লোক করে দেয়৷ পরবর্তিতে সে
যদি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় Social নেটওয়ার্ক
Facebook তৈরি করতে পারে৷ (মার্ক
জুকারবার্গ)
-
এক ব্যাক্তি যার পুরো বডি অচল৷
চলাফেরা তো দুরের কথা যে হাত-পা
নাড়াতে ও পারে না৷ সে যদি পৃথিবীর
সেরা বিজ্ঞানী হতে পারে৷ (স্টিফেন
হকিং)
-
এক ব্যক্তি যে সফল হওয়ার জন্য ৯৯৯ বার
ফেল করে ১০০০ বারে বৈদ্যুতিক বাল্প
আবিস্কার করতে পারে৷(থমাস আলভা
এডিসন)
* এক সময় বিল গেটস একটি ব্যাংক থেকে কিছু লোন
চেয়েছিলেন।কিন্তু ব্যাংক তাঁকে লোন দেয়নি।
সেই ছেলেটি একদিন সেই ব্যাংকটিই কিনে নিয়েছিলেন।
ছেঁড়া শার্টের কারণে এন্ড্রু কার্নেগিকে পার্কে ঢুকতে
দেওয়া হয়নি। সেই বস্তির ছেলে একদিন অন্যতম ধনী
ব্যক্তি হওয়ার পর পুরো পার্কটি ক্রয় করেন
এবং সেখানে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছিলেন,
''আজ থেকে পার্ক সবার জন্য উন্মুক্ত''।
* আজ গলা ধাক্কা খেয়েছেন? কোন ব্যাপার না।
একদিন সেই গলায় ফুল দেওয়ার জন্য সেই
লোকগুলোই লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে।
*আজ কেউ আপনাকে ঠকিয়েছে?
কোন ব্যাপার না।
একদিন সে-ই আপসোস করে বলবে,
আপনাকে ঠকিয়ে সে উল্টো নিজেরই সর্বনাশ করেছে।
* আজ আপনাকে দেখে "ক্ষ্যাত" বলে কেউ দূরে সরে যাচ্ছে?
ব্যাপার না।
একদিন আপনাকে একটু ছুঁয়ে দেখার জন্য সে-ই
আপনার কাছে আসবে।
* আজ গরিব বলে কেউ আপনাকে অবজ্ঞা করছে?
ব্যাপার না।
এসব পিছুগল্পের দিকে তাকিয়ে থাকলে আপনি চিরকাল
অপমান, লাথি, গুঁতা, বাঁশ, ক্রাশ ইত্যাদি
খেয়েই যাবেন।
* কে কী করছে, কী ভাবছে-সেসব বাদ দিয়ে নিজের লক্ষ্যে
এগিয়ে গেলেই কেবল একদিন আপনি উদাহরণ কিংবা
দৃষ্টান্ত হতে পারবেন।
* জীবনে ছোট খাট বিষয় নিয়ে পড়ে থাকার কোন মানে হয়না।
জীবনে বেঁচে থাকার জন্য অনেক কিছু করতে হয়,
মেনে নিতে হয়।
* সময় যখন পক্ষে থাকে না তখন অনেক কিছু সহ্য করেও মুখ
বুজে কাজ করে যেতে হয়।
* একটু বেঁচে থাকার জন্য জগতের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিরা
যুগে যুগে নজরুলের মতো চায়ের দোকানে কাজ করে
জীবন বাঁচিয়েছেন।
ব্রেইনে শুধু একটি কথা গেঁথে রাখুনঃ "সময় এখন আপনার
পক্ষে না।
একদিন সময় আপনার হবে!
ইনশাআল্লাহ,,
সময়_পরিবর্তনশীল
* ১০ বছর আগে ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দরী
নজর কাড়া মেয়েটাও এখন দুই সন্তানের মা..
কিন্তু সেই রুপ আর নাই....
* সব পরীক্ষায় নকল করে পাস করা
ছেলেটিও এখন বিসিএস ক্যাডার.....
* ক্লাসের পড়াশুনোয় সবচেয়ে বেশি সময়
ব্যয় করা ছেলেটিও এখন বেকার ঘুরছে...
*অন্যের গার্ল ফ্রেন্ড ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়া
বাইকওয়ালা ছেলেটার হবু বউও এখন
আরেক প্রতিষ্ঠিত টাকাওয়ালার বিয়ে করা বউ...
* ৮ বছর আগে ক্লাসে সবচেয়ে অহংকার
নিয়ে চলাফেরা করা ছেলেটাও এখন
ঋণের বোঝা নিয়ে কোন মতে বেচে আছে....
* ১০ বছর আগে ক্লাসের লাস্টে বসা
প্রতিনিয়ত খারাপ রেজাল্ট করা ছেলেটাও
এখন ডাক্তারি পড়া শেষ করে ফেলেছে...
* ৬-৭ বছর ধরে বারবার বয়ফ্রেন্ড চেঞ্জ করা
ফর্সা সুন্দরী মেয়েটাও এখন পাত্র পক্ষের কাছে
বার বার রিজেক্ট হচ্ছে....
* ৫ বছর আগের সবচেয়ে সেরা জুটিটা
এখন একজন আরেকজনের ব্লক লিস্টে....
* ৭-৮ বছর ধরে নিজের ইচ্ছামতো একের
পর এক প্রেম করা মেয়েটিও এখন নিজের
অনিচ্ছায় অপছন্দের মানুষের সাথে সংসার করছে...
* ১০ বছর আগে আড্ডা জমানো ছেলেটাকে
বন্ধু সার্কেল থেকে সরিয়ে দেওয়া মানুষটা
এখনো বন্ধুত্তহীনতায় ভুগছে....
কখন কার কপালে কি ঘটে তা আগে থেকে জানা সম্ভব নয়। অর্থ-বিত্ত,রুপ-গুনের কারনে সাময়িক কিছু দিনের জন্য আপনি-আমি হয়তো সময়কে নিজের মতো করে চালাতে পারবো.. কিন্তু সময় সবসময় আমার-আপনার
ইচ্ছামত চলবে,এমন আশা করা টা ভুল.. সময় সময়ের মতো করে শোধটা নিয়ে নেয়...
এত অহংকার কিসের আমাদের..?
জীবনের প্রথম গোসল করছি অন্যজনের হাতে,
শেষ গোসল টা ও হবে অন্যজনেরই হাতে....
তন্বী
সামনের ক্যানভাসটার দিকে গভীর মনোযোগে তাকিয়ে আছে তন্বী। মুখে কিছুটা বিরক্তির ছাপ। চোখের নিচের রংটা কিছুতেই ঠিক মতো দিতে পারছে না। বারবার কেমন কালো কালো হয়ে যাচ্ছে। শান্ত যখন কাজ করতে করতে ঘুমাতে ভুলে যায়, তখন ওর চোখের নিচে এমন কালি পড়ে। ছেলেমানুষী মুখটাতে কেমন একটা বয়ষ্ক ভাব এসে যায়। তন্বীর ইচ্ছে করে বকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। কিন্তু কোনোভাবেই শান্তর উপর রাগ করতে পারে না। চোখের দিকে তাকালেই আর রাগ ধরে রাখা যায় না। . . অনেকগুলো পেইন্টিং ছড়ানো চারপাশে। বেশিরভাগ তেল রঙের। কিছু জল রঙ। সারাদিন বাসায় একা একা থেকে পেইন্টিং করে তন্বী। বেশিরভাগ সময় কাটে বাসার ভেতর এই ছোট্ট স্টুডিওটাতেই। মানুষের ছবি কখনোই ভালো আঁকতে পারে না। তারপরও ভেবেছিলো শান্তকে আজকে ছবিটা উপহার দিবে। কিন্তু চোখের নিচের রংটা কোনোভাবেই ঠিক করতে পারছে না। মুখ দিয়ে বিরক্তির একটা শব্দ করে উঠে দাড়ালো। এক কাপ চা বানিয়ে আনবে। চা খেয়ে শুরু করলো আবার। . . সারাদিন চেষ্টা করেও ছবিটা কোনোভাবেই ঠিক করতে পারলো না। শান্তকে বলেছিলো আজ একটু তাড়াতাড়ি আসতে। কিন্তু শান্ত এলো রাত নয়টায়। ক্যানভাসটাকে খালি ক্যানভাসগুলোর আড়ালে লুকিয়ে রেখে দরজা খুলে দিলো। ও চায় না ছবিটা শেষ করার আগে শান্ত দেখুক। এমনিতে শান্ত অবশ্য তন্বীর স্টুডিওতে ঢোকেনা। কিংবা বলা যায় ঢোকার সময় পায়না। তবুও ছবিটা কোনোভাবেই শান্তকে দেখতে দিতে চায় না ও। . . .. . দরজা খুলে হাতে কিছু একটা দেখবে ভেবেছিলো। কিন্তু শান্ত এসেছে খালি হাতে। তন্বীর দিকে তাকিয়ে দায়সারা একটা হাসি দেয়ার চেষ্টা করলো। কাপড় চেঞ্জ না করেই হাতের কাগজগুলো নিয়ে আবার বাসার ল্যাবে ঢুকে গেলো। তন্বীর মাথার ভেতরটা ফাকা লাগতে শুরু করলো হঠাৎ । মনটা প্রচন্ড খারাপ হয়ে যায়। এই শান্তকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো সে। অথচ আজ তাদের প্রথম এনিভার্সারীটাও শান্তর মনে নেই। প্রচন্ড অভিমানে চোখে পানি চলে আসে ওর। আটকানোর চেষ্টাও করছে না। ভেতরের সমস্ত কষ্টগুলো বাষ্পের মতো চোখে এসে জমা হচ্ছে। অঝোর ধারায় ঝরে পড়ছে গাল বেয়ে। আবার স্টুডিওতে ঢুকলো। সাদা ক্যানভাসগুলোর আড়াল থেকে টেনে বের করলো শান্তর ছবিটা।ছেলেমানুষ ী মুখটার দিকে তাকিয়ে আরো খারাপ লাগছে। ক্যানভাসটা স্ট্যান্ডে বসিয়ে আবার রঙ গুলে নিলো। কিন্তু তুলি দিয়ে কিছুতেই কিছু করতে পারছে না। চোখ দুটো বারবার ঝাপসা হয়ে আসছে। ক্যানভাসটা একটা সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে উঠে গেলো। . মন খারাপ হলেই গোসল করে তন্বী। অনেকক্ষন ধরে ঠান্ডা পানির নিচে দাঁড়িয়ে থাকে। আজকেও দাঁড়িয়ে আছে। ঝর্ণার অবিরাম জলধারা ভিজিয়ে দিচ্ছে ওকে। চোখ থেকেও অবিরাম ধারায় গড়াচ্ছে অশ্রু। ঝর্ণার পানি ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে অশ্রুগুলোকে। মিশে গিয়ে এক হয়ে যাচ্ছে। আলাদা করে কারো কোনো অস্তিত্ব নেই। আবার কাউকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। হারিয়ে যাচ্ছে অশ্রুগুলো। যেমন করে তন্বী হারিয়ে গিয়েছিলো শান্তর মাঝে। নিজের সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে জড়িয়ে ধরেছিলো। অথচ সেই শান্ত আজ তন্বীর চোখে জল মুছে দেয়ার জন্য কাছে নেই। কত কাছে অথচ কত দূরে। ও এখানে দাঁড়িয়ে ভিজছে , শান্ত হয়তো ল্যাবে বসে নোট নিচ্ছে। অথচ এই শান্তই একসময় বৃষ্টিতে বৃষ্টিতে ভিজেছে ওকে নিয়ে। একবার। বারবার। অনেকবার। অসংখ্যবার। মনে হতে তন্বীর কেমন যেন আবার কান্না পাচ্ছে। ভেজা চোখদুটো ভিজে যাচ্ছে আবার। . . শাওয়ার শেষ করে আবার কিচেনে এসে ঢুকলো ও। আধভেজা চুল বেয়ে তখনো ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়ছে পানি। অনেকপক্ষণ কাঁদার সুফল হিসেবে লাল হয়ে আছে চোখ দুটো। পানি গরম হতে দিয়ে চা পাতার কৌটার দিকে হাত বাড়ালো।জায়গামতো নেই। যাবে কোথায়? বাসায় তো কেউ নেই। শান্ত তো চা খায় না। আর কোনোবভাবে যদি খেতে ইচ্ছে হয়ও, শান্ত কিচেনে এসে চা বানিয়ে নেবে এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। দুপুরে কোথায় রেখেছিলো মনে করার চেষ্টা করলো। জায়গামতোই তো রেঝেছিলো। শেষমেষ পেলো কোটাটা। চুলার দিকে তাকিয়েই একহাতে। চামিচ দিয়ে পাতা নিতে গিয়ে কেমন যেনো ঠেকলো। তাকিয়ে দেখে ভেতরে একটা কাগজ। দলা পাকানো। এটা এখানে কোত্থেকে এলো? মেজাজটা প্রচন্ড খারাপ লাগছে। দেখে মনে হচ্ছে শান্তর ল্যাব নোটের একটা ছেঁড়া অংশ। দলা পাকিয়ে চা পাতার কোটার ভেতর ঢুকানো। শান্তর সেই বিশ্রী প্যাঁচানো হাতের লেখা দেখা যাচ্ছে। ফেলে দিতে গিয়েও কি মনে করে খুলে দেখলো। শান্তর লেখাই। পরিষ্কার করে বোঝার কোনো উপায় নেই। আবার দলা পাকাতে গিয়ে একটা শব্দে চোখ আটকে গেলো। পাগলী । শান্ত আদর করে তন্বীকে মাঝে মাঝে পাগলী বলে ডাকতো। অনেকদিন এই নামে ডাকেনা। খুলে পড়তে শুরু করলো। পড়তে রীতিমতো কষ্ট হয়। তারপরও বিশ্রী লেখাগুলো পড়তে শুরু করলো। হইছে পাগলী। এখন রাত দুপুরে আর একা একা চা খাওয়া লাগবে না। দুই কাপ কফি বানিয়ে ল্যাবে নিয়ে এসো। একসাথে খাবো। . . . পুনশ্চ ১ : গিফট আনতে মনে নেই। পুনশচ ২ : ছবিটা একদম ভালো হয়নি। আমার চোখের নিচে মোটেও আলকাতরা গোলানো রঙ না। পুনশ্চ ৩ : একটা নীল পাড় সাদা শাড়ি পরে আসতে পারবে? অনেকদিন তো সাজতে দেখিনা। আজকে একটু সাজো প্লিজ পুনশ্চ ৪ : হাতের লেখা দিনদিন আরো খারাপ হচ্ছে। কি করা যায় বলো তো? পুনশচ ৫ : একেবারে ভূলে যাবো ভাবলে কি করে? ভালোবাসি তো। .. . এক হাতে চিঠিটা ধরে রেখেই কাঁপা কাঁপা আরেক হাতে কফির পটটা খুঁজতে শুরু করলো তন্বী। চোখ দুটো ভিজে আসছে আবার।
ন্যয় প্রতারক
...................................................
তখন আমি ক্লাস নাইনে পড়তাম, Samia571/aisonso দু’টি রবি সার্কেল আইডি।
আইডি দুইটা হলেও মানুষ একটাই ছিলো, প্রথম প্রথম একজন আরেকজনকে কমেন্ট করতাম, (যারা রবি সার্কেল ব্যবহার করেছেন বলতে পারবেন কমেন্টটা কি? )কমেন্ট হতো ঠিকই কিন্তু কোনোদিন হাই কিংবা হ্যালো কোনোটাই হয়নি। এমনিতে একজন আরেকজনকে ভালোবাসার এস এম এস সেন্ড করতাম। তখনকার দিনগুলো এভাবেই যাচ্ছিলো, তারপর আমি নতুন একটি রবি সিম কিনলাম, সেটাতে নতুন একটি আইডি ওপেন করি, এরপরই Adonis234 আমার এই আইডিটা বন্ধ করে দিলাম, বন্ধ করার আগে আমার এই আইডির নাম্বারটাও সাউট দিলাম। বলে দিলাম ‘‘কেউ যদি মিস করে থাকো তো কল দিও’’ আর এই ফাঁকে নতুন নাম্বারের নতুন আইডি থেকে সামিয়াকে মেসেজ দিলাম, নিজেই নিজের বন্ধু সেঁজে, ‘‘আপনাকে আমার বন্ধু খুব কাছের মানুষ ভাবে আর আপনি তাকে পাত্তাই দেন না’’ নতুন আইডিও অফ করে দিলাম। তারপরের দিনই আননোন নাম্বার থেকে কল আসেঃ-
:- হ্যালো (আমি)
:- চিনেছেন? আমি জান্নাত? (সামিয়া)
:- নাহহ্, কোন জান্নাত?(জান্নাত বলায় চিনতে পারিনি)
:- Samia571, এবার চিনেছেন?
:- হুম চিনেছি, তো হঠাৎ কল দিলেন? নাম্বার কোথায় পেলেন?
:- সাইটে নাম্বার দিয়েছিলেন?
:- কবে?
:- সার্কেল অফ করার আগে, মনে নেই।
:- ওহ হ্যা, তো কেমন আছেন?
:- ভালো, আপনি?
:- ভালো, কোনোদিন তো কোনো মেসেজ করেন নাই শুধু কমেন্টই করতেন, আজকে একবারে কল দিলেন?
:- আপনিও তো মেসেজ দিতেন না, শুধু কমেন্ট করতেন।
:- তাও কথা।
তারপর থেকে শুরু হলো মোবাইলে কথা বলা, সামিয়া যখনি সময় পেত তখনি কল দিতো। ওহ হ্যা, শুনেছিলাম তার নাকি বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, এস এস সি দিলেই বিয়ে হবে। পরে বললো ছেলেকে নাকি ওর পছন্দ না, জিজ্ঞেস করলাম ‘‘তাহলে বিয়ে কেন করছেন’’ বলেছিলো ‘‘বাবাকে কষ্ট দিতে চাই না তাই’’ তারপর আর কিছু বলার সাহস পেলাম না।
তারপর দু’জনেরর সম্পর্কটা ক্রমান্বয়ে গভীরতার দিকে যাচ্ছিলো, আমারও খুব ভালো লাগতো ওর সাথে কথা বলতে, খুব সুন্দর কন্ঠ ছিলো, ভালো না লাগার তো কথা নেই। তারপর মাঝে মাঝে কিস চাইতাম তাও দিতো।
ভেবেছি ভালোবেসে পেলেছে তাই দিচ্ছে না হয় দিবে কেন? তারপর একদিন মোবাইলেই প্রপোজ করে বসলাম। উত্তরটা হ্যা ভেবেছিলাম কিন্তু না হ্যা আসেনি। বড় করে একটা মেসেজ দিয়েছিমঃ- ‘‘ আমি আর তোমাকে কোনোদিন কল, এস এম এস কোনোটাই দিবো না, তুমি জানো আমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে, তারপরও তুমি আমাকে প্রপোজ করলে। আমি বাবার পছন্দ করা ছেলেই বিয়ে করবো, আমি শুধু তোমার সাথে বন্ধু ভেবেই কথা বলি, আমার সাথে যদি বন্ধু হিসেবে কথা বলতে পারো তাহলে আমাকে মেসেজ করো’’ কি আর করবো ওর কথাই মেনে নিলাম। বন্ধু হয়েই কথা হতো, তার কিছুদিন পরই দু’জনের ফটো আদান প্রদান হলো। আমার মোবাইল ছিলো Nokia1200 Model, (আমার বলতে আম্মুর) ফটোগুলো নিয়ে ছিলাম চাচাতো বোনের ইমোর সাহায্যে। খুব সুন্দর একটা মেয়ে কিন্তু আমার ভালো লাগতো না কারণ একটু চিকন বেশিই ছিলো তার উপর পিকগুলোতে কোনো হাসি নেই। কিন্তু কথা থামেনি কথা হতো, ভালোবাসি তখনো বলতাম তেমন রাগ দেখাতো না। তার ডিসেম্বর মাসের ১৬তারিখ আমাদের নতুন একটি সম্পর্ক রুপ নিলো যার নাম ‘‘ভালোবাসা’’। তারপর থেকে প্রতিটা দিন প্রতিটা সময় ওর সাথেই কথা হতো। এরপর আমার নতুন মোবাইল হাতে আসে কিন্তু সামনে কোনো ক্যামেরা না থাকায় ইমো ব্যবহার করতে পারতাম না। শুরু করলাম ফেসবুক ব্যবহার, আমি জানি না আমার কি দেখে সে আমাকে ভালোবেসে কারণ আমি দেখতে সুন্দর না। বিয়েটাও ভেঙ্গে পেললো আমার জন্য। তখন কিন্তু আমি মেয়েদের বিশ্বাস করতাম না, ও বিয়েটা ভাঙ্গার কারণে আর কোনো সন্দেহ রইলো না পূর্ণ বিশ্বাস ওর প্রতি জন্মালাম।
ওর সাথে আমার খুব বেশি ঝগড়া হতো কারণ ছেলেদের সাথে মেসেজ করে, যেটা আমার একদমই সহ্য হতো না, পরে আমার কসম ভালোবাসার কসম টসম দিয়ে বন্ধ করালাম, কিন্তু আমার সাথে রাগ হলেই আবার শুরু হতো।
শত ঝগড়ার মাঝেও আমাদের ভালোবাসাটা ছিলো বেশি, আমার যেমন রাগ ছিলো তারও তেমনি রাগ ছিলো, মজার ব্যাপার হলো রাগটা আমার কিন্তু সরিটা আমাকেই বলতে হতো। কারণ আমাকে বলতো ‘‘আমার সাথে কেন কথা বলবে, আমি তো তোমার কেউই না? আমাকে ভালোবাসলে তো কথা বলবে’’ ইত্যাদি কিছু কথা বলতো যার জন্য আমি আগুন হয়ে থাকলেও তখন পানিতে রুপ নিতে হতো আমাকে, তারপর আবার তার রাগ ভাঙ্গিয়ে শুরু হতো ছোট্ট ছোট্ট ভালোবাসার কথা, দু’জনের স্বপ্নগুলো নিয়ে না না কল্পনায় ভাসতাম দু’জন।
তারপর আমার এস এস সি পরিক্ষা শেষ, এস এস সির পরই আমরা দেখা করবো এমনটাই কথা ছিলো, কিন্তু যে সময় ওর দেখা করার কথা ছিলো সেই সময় ও অসুস্থ হয়ে যায়। তারপর আর দেখা হয়নি, আমি চলে যাই তাবলীগে, ৪০দিনের জন্য, আমার ভাগ্যটা মোটামুটি ভালো আমার স্থানটা পড়ে চাঁদপুর কচুয়াতে, সামিয়াদের বাড়ি ছিলো চাঁদপুরে। আমি যেখানে আছি সেখানে আসতে ওর সময় লাগবে ৩ঘন্টা, আসা যাওয়ায় ৬ঘন্টা লাগবে, এত বড় জার্নি তাই আমি নিজেই আসতে নিষেধ করেছি, তার উপর রাস্তাটা ছিলো প্রচন্ড ভাঙ্গাচুরা ওর কষ্ট হবে, অনেক জোর করার পরেও আসতে দেইনি।
তারপর ৩১দিনের মাথায় ওর জন্য আমির সাহেবের সাথে রাগ করে বাড়ি চলে আসা, সেই থেকে শুরু হলো অভিশপ্ত জীবনের। হুজুরের বদদোয়া, একালাকার মানুষের চোখে পড়া, এস এস সি রেজাল্ট খারাপ। এস এস এসির রেজাল্টের দোষটা নিজের গাড়েই নিয়েছে কারণ পরিক্ষা চলাকালীন আমরা সন্ধ্যা থেকে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত মোবাইলে কথা বলতাম, ওর রেজাল্ট ছিলো গোল্ডেন এ+ আর আমার ৪.২৮ পয়েন্ট, আমার থেকে অনেক খারাপ ছাত্ররাও আমার থেকে অনেক ভালো রেজাল্ট করে যার জন্য আমার খুব বেশি খারাপ লাগতেছিলো, আর আমাকে সান্তনা দিতেই দোষটা নিজের গাড়ে নিলো।
কিন্ত আমি ওকে শান্তনা দিলাম ‘‘রেজাল্ট খারাপ হয়েছে তাতে কি হয়েছে, ফেল তো করিনি’’ তারপর কোনোভাবে সব স্বাভাবিক করলাম।
আমি তাবলীগে থাকা অবস্থায় ও ফেসবুক ব্যবহার করতো কিন্তু আমায় কিছুই জানায়নি। কিন্তু আমার মেসেঞ্জারে আমি ওর নাম্বারটা দেখতে পেতাম। জিজ্ঞেস করলে অস্বীকার করতো, তারপর নিজের বুদ্ধিতে মেসেঞ্জারে দেখা নাম্বারটা ই-মেইল, আর সার্কেল নাম্বারটা দিলাম পাসওয়ার্ড, কাজও হয়ে গেলো।
কার সাথে কি মেসেজ করেছে সব মেসেজ দেখেছি, তারপর আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি, বলে দিলাম ব্রেকআপ, সেই সাথে অনেক বাজে কথাও বলেছি। কিন্তু ও এমন স্বভাবের মেয়ে সেই শর্তেও ওর ছাড়তে পারছিলাম না, আবার ব্যাক করতাম। অনেক কান্নাকাটি করে ওরে আবার স্বাভাবিক করলাম, নিজের হাত পর্যন্তও কাটতে হয়েছে, বোকামি জেনেও কতটা ভালোবাসি তা বুঝলাম। রাগটা বেশি হয়েছিলো কিছু ছেলে বোন ডেকে এমন মেসেজ করেছে যেগুলো আমিও ওরে কোনোদিন ডাকিনি (জান, সোনা এমন) যার জন্য কষ্টটা বেশি হয়েছে।
আবার সব ঠিকঠাক রিলেশন চলছে আগের মতোই, কিন্তু আপদ হচ্ছে ওর ফুফাতো ভাই, ওকে অনেক আগে থেকেই লাভ করে, কিন্তু ও তাকে দু’চোখেও সহ্য করতে পারে না। কিন্তু ইদানীং ওর ফুফির আগমন বেশি ওদের বাড়িতে ছেলের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। কিন্তু ও অনেক রাগী যার কারণে ওর বাবা ওর সব কথা মেনে নিতো। কিন্তু পরে কি হলো সেও জানে না, বিয়ের কথা ঠিক, ফুফাতো ভাইকে বিয়ে করলে কলেজ ভর্তি করাবে না হয় করাবে না। আমার মাথাও কাজ করছিলো না কি বলবো ওকে। ওর যেদিন বিয়ে হবে তার ঠিক পাঁচমিনিট আগে বুঝতে পারে ওর যে বিয়ে, অতঃপর বিয়েটা হয়ে গেলো। আমার জীবনটা পুরো অন্ধকার হয়ে গেলো যাকে এতো বেশি ভালোবাসি সে আজকে অন্য কারও হয়ে গেলো। তারপরও আমাদের কথা হতো, আমি সারাক্ষণ কাঁদতাম আর ও আমাকে সান্তনা দিতো। ভিডিও কলেও কথা হতো। তারপর আস্তে আস্তে শুরু হলো কথা কমে যাওয়া। এক পর্যায়ে ও আমাকে বলে ভুলে যেতে, আমার সাথে আর কথা বলা সম্ভব হচ্ছে না কিন্তু আমি যে পারবো না ওকে ভুলে যেতে। আমায় একদিন বলেছিলো ‘‘আমি তোমায় বলেছিলাম তুমি আমাকে বিয়ে করতে পারবে কিনা’’ আমার উত্তর নাকি ছিলো ‘‘আমি এখন মাত্র কলেজে ভর্তি হলাম এখন তোমায় কিভাবে বিয়ে করবো?’’ যার কারণে সে বিয়েটা কর নিলো। এরপর বলে ‘‘তোমাকে তোমার ভালোর জন্য বলছি তুমি আমাকে ভুলে যাও, আমার থেকে অনেক ভালো মেয়ে তুমি পাবে, তোমায় খুব ভালোবাসবে, এতো ভালোবাসবে যে আমাকে ভুলিয়ে দিবে।’’ বিয়ের পর কোনো কিছু ভেবে না পেয়ে আমি ওকে বলেছিলাম পালিয়ে আসতে আমি ওকে বিয়ে করবো ভাগ্য যা হবার হবে। রাজিও হলো, কিন্তু প্রতিদিন একটা না একটা কারণ দেখা তো সুযোগ হয় না, বের হওয়ার, সবাই চোখে চোখে রাখে, এক রুম থেকে অন্য রুমে যাওয়ার সময়ও জিজ্ঞেস করে কোথায় যাচ্ছে ইত্যাদি।
রাগ হয়ে ওকে খুব বাজে কথা বলতাম, কারণ কখন কি হচ্ছে সবই আমাকে বলতো, কষ্ট হলেও আমি সব শুনতাম। আর এজন্য খুব বেশি রাগে বাজে কথা বলতাম।
একদিন মেসেজ দিলো, ‘‘একটা ছেলে আমাকে নিয়ে খেলেছে আর আমি ছেলেটাকে দেখিয়ে দশটা ছেলেকে নিয়ে খেলেছি সবার শেষে ছিলাম তুমি, আর এজন্য আমাকে যত নিচে নামতে হয়েছে আমি নেমেছি’’ ওর এমন মেসেজ দেখে ওর মাকে কল দিলাম, পরে জানতে পারলাম ও আমাকে যত কাহিনী বলেছে সব মিথ্যে, যার সাথে (ফুফাতো ভাই জ্যাকি) বিয়ে হয়েছে এই নামের কেউই নেই। কিন্তু ওর কাছে জিজ্ঞেস করলে বলতো আছে? আমি পড়ে গেলাম কনফিউশানের মধ্যে কিন্তু ওর মা আমাকে অনেক অাল্লাহ্ খোদা বলে নিজের মেয়ে খারাপ একটা ছেলের সাথে ভেগে গিয়ে বিয়ে করেছিলো, সেখানে তিনমাস ছিলো অনেক মামলা মকর্দমা করে আনে এরপর বিয়ে দিলো কুষ্টিয়াতে। সেখানে তার একটা বাচ্চা হয় যার নাম অর্নব, বাচ্চাটা অনেক কিউট ছিলো, আমি সব সময় ওর সাথেই ভিডিও কলে দেখতে পেতাম বাচ্চাটাকে, কিন্তু ও বাচ্চাটার পরিচয় দিয়েছিলো বাচ্চাটা ওর আপুর, সব মিলিয়ে বিয়ের তিনটা কাহিনী হলো। কিন্তু ভালোবাসি তো খুব ওকে তাই ওর সব কথা মেনে নিলাম। তারপরও কনফিউজড।
প্রায় পাঁচ থেকে সাত মাস কোনো কথা হয়নি ওর সাথে, কল দিলেও ধরতো না, ইমোতে ব্লক, ফেসবুকেও ব্লক। ফেসবুকে অবশ্য আসে না।
এরপর হঠাৎ খুব মনে পড়তেছিলো, কোনো রিপ্লে পাবো না জেনেও অনেকগুলো মেসেজ দিলাম, মূল কথাটা ছিলো ‘‘জ্যাকি বলতে কি কেউ আছে’’ পরেরদিন সকালে রিপ্লে দিলো ‘‘না, জ্যাকি বলতে কেউ নেই। আজকে তোমাকে সব বলব, আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়তাম বাবা আমাকে একটা বড় লোকের ছেলের সাথে বিয়ে দেয়, কিন্তু ছেলেটার গার্লফ্রেন্ড থাকায় আমাকে কোনো পাত্তা দিতো না। তারপরও আমি ওর জন্য পাগল ছিলাম, বিয়ের তিনমাস পর আমার শুশুড় শাশুড়ী আমাকে বললো বেবি নিতে, বেবিও নিলাম, কিন্তু বেবি হওয়ার পর ও আমাকে বলে বাচ্চাটা তোমার ইচ্ছেতে এটা আমার কেউ না। এরপর থেকে আমি আমার বাবার বাড়িতে থাকি, আমি তোমাকে অনেক মিস করি, কিন্তু তোমাকে মেসেজ করার সাহস পাইনা কারণ আমি তোমার সাথে প্রতারণা করেছি, অর্নবকে নিয়েই আজো বেঁচে আছি’’
এটাই ছিলো ওর শেষ মেসেজ, আমাদের সম্পর্কের আগেই ওর বিয়েটা হয় তারপর বাচ্চাটা।
আমার প্রশ্নঃ- ওর বিয়েটা হলো, বাচ্চাও আছে, তাহলে আমার সাথে ভালোবাসার অভিনয় করে আমার জীবনটাকে এভাবে শেষ করে ও পেল টা কি? আমায় যদি ভালোবেসে থাকে তাহলে দূরে কেন সরিয়ে দিলো? সবই যখন কাহিনী ছিলো তাহলে বিয়ে হয়নি এমন একটা কাহিনী কেন বানালো না? আমি তো ওকে আজো চাই, আজও পাগলের মতো ভালোবাসি, তাহলে কেন আমার সাথে কথা বলে না?.
আমার ভালো চায় বলে আমাকে এতো দূরে সরিয়ে দিয়েছে, যদি তাহলে আমি ওকে বলতে চাই, আদৌ কি আমার ভালো হয়েছে? যদি হতো তাহলে আমি এখন প্রতিদিন কলেজে যেতাম, ভাইদের আদরের হতাম, হতাম না ভাইদের কাছে বেয়াদব, এটাই কি আমার ভালো। আজকে পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে ভাইদের কাছে আমি বড় আকারের বোঝা।
তারপরও বাবুনি মনে রেখো এই পাগলটা শুধু তোমায় ভালোবাসে। পৃথিবীর কোনো মেয়ে নেই যে আমায় এতো ভালোবাসতে পারবে। যে ভালোবাসা তোমায় ভুলিয়ে দিবে, কখনো হবে না এমন মেয়ে, তুমি আমার সাথে প্রতারণা করলেও, ভালোবাসার অভিনয় করলেও আমি তোমার এই অভিনয়ের ভালোবাসাকে ১০০% সত্যি ভেবে নিয়েছি। আর সারাজীবন এটাই ভাববো, আজও বলি আমি শুধু তোমায় ভালোবাসি, শুধু তোমায়।
Angry Love
আর কতক্ষন যে লাগবে মোটিটার আসতে আল্লাহই জানে।
সেই কখন থেকে বলতেছে ৫ মিনিট দাড়া, আজ সিউর ক্লাসের বাইরে দাড় করিয়ে রাখবে শয়তান ম্যাডামটা।
বজ্জাত মেয়ে একটা কোন অলুক্ষনে সময় যে মেয়েটার সাথে পরিচয় হইল।
- কি রে চিকন আলী ভাল আছস তো ??
- দেখ তো কয়টা বাজে ???
- জানি ২০ মিনিট লেইট হইছে, জানতাম আজ ক্লাসের বাইরে দাড়িয়ে থাকতে হবে আর একা একা দাড়িয়ে থাকলে ওই বদি নামে বজ্জাত ছেলেটা হা কইরা তাকাই থাকে। আর আজে বাজে কথা বলে, তাই তুই থাকলে একটু আড্ডা মারতে পারব।
- তুই তো দেখি বদিরুলের থেকে বজ্জাত।
একটু আগে বের হইতে পারিস না ??
- আর বলিস না ঘুম থেইক্কাই উঠতে পারি না।
জানিস আজ অনুপম মানে ভূতুম আমার সপ্নে আসছিল।
- সারাজীবন সপ্নেই শুধু দেইখা যাবি চল এইবার।
- কি ব্যাপার রে চিকনা মুড বন্ধ কেন ??
- দেখ নিয়াশা মেজাজ খুব খারাপ। রিমুকে দেখলাম একটা ছেলের হাত ধরে রিক্সায় যাচ্ছে।
- হা হা হা তুইও যেমন রিমুও তেমন।
তুই যদি একটা ধইরা আর একটা ধরতে পারিস তাইলে ও কেন পারবে না ??
শোন দোস্ত চিন্তা করিস না, আজকের মধ্যে আরেকটা জুটাই ফেলবি।
- হ্যা রে মোটি দোয়া কর আজকের মধ্যে যেন পাইয়া যাই।
এই নিয়াশ দেখ দেখ মাইয়াটা কত্ত কিউট।
দোস্ত আমি গেলাম, ভাগ্য বুঝি আমার খুলছেরে।
- এ্যাঁ কি বলে ছেলে, এর মধ্যে আবার ??
শয়তান ছেলের জন্য আজ আবার একা একা বাইরে দাড়াইতে হবে।
তোর এই শোধ আমি নিবই।
..
..
ক্লাস শেষে বাসার দিকে যাচ্ছি হঠাৎ দেখি চিকন আলী ওই কিউট মাইয়া মানে আমাদের দুই ব্যাচ জুনিয়র মেয়ে টুম্পার হাতে হাত রেখে বটতলা বসে আছে।
এই পোলায় পারেও বটে এর মধ্যে পটিয়ে ফেলছে।
মেয়েরাও আছে চিকন আলী বলতে দেরী করে রাজি হইতে সময় লাগে না।
যেই সব ছেলেদের চেহারা গুলু গুলু হয় তারা হাজারটা প্রেম করে।
আরাফ ঠিক তেমনই, সিনিয়ার আপুদের পর্যন্ত ছাড়ে না।
ছাড়বেই বা কেন ? আন্টিদের উপর ক্রাশ খায় এই বদ পোলায়। তবে ওর আরেকটা গুন আছে খুব ভাল গান গাইতে পারে। কলেজে মোটামুটি নাম ডাক আছে।
কেন যে আমার মত এত সাধারন মেয়ের বন্ধু হইল সেইটা বুঝলাম না।
যেদিন প্রথন কলেজে আসলাম মাথায় একটা গাট্টি মেরে আমার পাশে বসল।
- আরে কি আজব আপনি আমার মাথায় গাট্টি মারলেন কেন ?
- এই তুই আর আমি একই সাথে পড়ি, তাইলে আপনি কইরা কথা বলিস কেন ??
- হুম (ভ্রু কুচকে) কি অসভ্য ছেলে প্রথম কথাই তুই, ভদ্রতার খাতিরেও তো মানুষ আপনি অথবা তুমি বলে।
সেদিন থেকেই এই বদ পোলা আস্তে আস্তে ভাল বন্ধু হয়ে উঠে।
কিভাবে যে এতটা সময় পার হয়ে গেল বুঝতেই পারি নাই।
শুধু বলে অনেক মেয়ের সাথেই চলাফেরা করছি তোর মত বেহায়াপনা মায়াবী মেয়ে একটাও দেখি নাই।
- আমিও তোর মত ইনোসেন্ট মার্কা লুইচ্চা একটাও দেখি নাই। যে কিনা আন্টিদের উপর ক্রাশ খায়।
- ওই নিয়াশ তোর সাথে আমি কি করছি? আন্টিরা যদি কিছু না কয় তোর এত গায়ে লাগে কেন ??
- ওই হারামি আমার নাম নিয়াশা কত্ত কিউট একটা নাম আর তুই কি না...
- এত বড় নাম আমি ডাকতে পারব না।
- শয়তানের হাড্ডি একটা।
এর পর থেকে কখনো ভাল নামে ডাকে নাই।
আমিও ওরে ভাল নামে ডাকি না, আমিও কম নাকি ??
..
..
এই মোটি এই মোটি কানে কম শুনিস নাকি ??
কার কথা ভাবিস ??
(ওর ডাকে ঘোর কাটল)
- কি রে লম্বু ডেটিং শেষ ?
- ধুর আর বলিস না মাইয়া আমারে নিয়া শপিংয়ে যাইতে চায়, তাই ফাক বুইজা দৌড়।
- হি হি হি হি
- দেখ ওই ভাবে হাসিস না কইলজাডা মোচর দিয়া উঠে।
- এ্যাঁ কি বললি ??? ওই কুত্তা তুই আমার লগেও মজা নিতাছস ?? আজ তোর একদিন কি আমার একদিন।
- আরে আরে আমি কি পাগল তোর মত মেয়ের লগে মজা নিমু। কলার ছাড় বলছি, এইটা মেয়ে নাকি লেডী কিলার। পাক্কা লাল মরিচ একটা।
- ওই চল ক্ষিধা লাগছে ফুচকা খামু।
- এইরকম মারামারি করলে তো ক্ষিধা লাগবেই।
..
..
মামা দুই প্লেট ফুচকা দেন তো॥ একটাতে বেশি করে খুইদ্দা মরিচ দিবেন।
- দেখ লম্বু মাইর খাওয়ার কাজ করিস না। এই মাইয়ারে ফুচকা খাওয়াইতে পারলেই মাথা ঠান্ডা হয়। খাইতেছি এমন সময় নিশা হাজির।
- এই আরাফ তুমি না বললা ফুচকা ভাল না, এই গুলা খাইলে পেট খারাপ করে আর তুমি খাইতেছ ?? (নিশা)
- আরে বেবী তোমার মত কিউট মেয়ে এগুলা খাইলে পেট খারাপ করবে, আর এই মোটি তো খুইদ্দা মরিচ ওর এতে কিছু হবে না।
- মুখের মধ্যে বাকি একটা ফুচকা দিয়ে, ওর দিকে তাকালাম। (আমি)
- এই নিয়াশ রাগ করিস না মজা করতেছি (আস্তে আস্তে বলল)।
ওর হাত থেকে ফুচকার প্লেট নিয়া টপাটপ খেয়ে ফেললাম।
- এটা কি হল (হা করে তাকিয়ে)
- লাল মরিচ তো তাই বুঝলি, বলেই উঠে দাড়ালাম।
যাচ্ছি গো বেএএবী
*****************
- এই মেয়েটা দিন দিন বেহায়াপনা বেড়ে চলেছে। এই তো সেই দিন রিমুর সাথে বসে ছিলাম। হঠাৎ কোথা থেকে যেন মোটি উদয় হইল, শার্টের কলার ধরে টানতে টানতে নিয়া আসল রিমুর কাছ থেকে।
শুধু শুধুই কি বলি লাল মরিচ !! ঝাঝটা একটু বেশিই। আমার জীবনটারে তেজপাতা বানাই ফেলছে।
তবে ও অন্যদের থেকে একটু আলাদা, যখন প্রথম কলেজে আসলাম। মেয়েটাকে দেখে মনে করেছিলাম ইনোসেন্ট হবে হয়ত।
ওর পোষাক আসাক ছিল অন্যদের থেকে আলাদা।
কালো বোরকা আর কালো স্কার্প পরা, তাই ভুল ভাবছিলাম।
আমার সব ধারনা পাল্টে দিল যখন ওর সাথে মিশছি।
কিন্তু ওর ভিতর অদ্ভুদ এক শক্তি আছে।
যা অন্য মেয়েদের মধ্যে নাই।
খুব সহজে মানুষকে আপন করে নিতে পারে।
- এই আরাফ কি ভাবছ চল ওইখানে বসি। (নিশা)
- ও বেবী তুমি তো জানো দুই দিন পর কলেজে ফাংশন আছে অনেক কাজ করতে হবে বলেই দৌড়।
এই মেয়ে গুলা অসময় খালি বিরক্ত করে।
এখন যদি মোটি থাকত হাসতে হাসতে গাল দুটো লাল করে ফেলত।
তখন ইচ্ছা করে থাপ্পর দিয়া আরো লাল করে দেই বদ মেয়ে একটা।
****
ভূমিকম্পে আমার আরামের ঘুম হারাম করছে। মেজাজটা চরম মাত্রায় পোছে গেছে। লম্বু আইজকা তোর খবর আছে।
ওই হারামি কল করার আর সময় পাইলি না ???
- কয়টা বাজে দেখছস জলদি কলেজে আয়।
কলেজে আসলাম কিন্তু লম্বুকে কোথাও খুজে পাচ্ছি না।
এই দিকে চাচাত বোন ফোন দিছে, ওর ননদ মানে আখি আপু খুব অসুস্থ বেবীটা নাকি মারা গেছে, এখন নাকি তার রক্ত লাগবে।
আরাফকে কত করে কল করতেছি, কিন্তু কাইটা দিতাছে। হবে হয়ত কোন মেয়ের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। খুব রাগ লাগতেছে।
উপায় না দেখে মিল্টনকে বলছি।
ও নাকি ম্যানেজ করতেছে, হসপিটালে যেতে হবে।
বট তলায় আইসা দেখি টুম্পার সাথে বইসা রইছে।
- দোস্ত একটু অপেক্ষা কর আসতাছি। (আরাফ)
- বান্দর ছেলে তুই জীবনে আমার সাথে কথা বলবি না।
লুইচ্চামির একটা সীমা থাকে, কখনও ফোন দিবি না তুই আমারে।
কত বার ফোন দিছি তোরে, একবারো বুঝলি না। ভাল থাক তুই এই সব মেয়েদের নিয়া।
- এই নিয়াশ কি হইছে বল, ফোন আমার কাছে ছিল না।
টুম্পার কাছে ছিল, কান্না করিস না প্লিজ।
- কই যাচ্ছিস এই বৃষ্টির মধ্যে ?
- খবরদার সাথে আসবি না।
বলেই চলে আসলাম
..
..
ফোনটা অনবরত বেজেই চলেছে, মোটি ফোন ধরছে না। তিন দিন থেকে কলেজে আসে না। ওরে ছাড়া যে কলেজটা ফাঁকা ফাঁকা লাগে সেইটা বুঝতে পারছি ও না থাকায়। ফাজিল মেয়েটা এখনও ফোন ধরে না। আসছি দাড়া তোর খবর আছে।
এত রাগ কিসের ??
আমি মিল্টন, দিপু, আর নাফিসা চলে গেলাম মোটির খোজ নিতে।
কলিং বেল চাপতেই আন্টি দরজা খুলে দিল।
- আরে নাফিসা তোমরা? আসো ভিতরে আসো।
- না মানে আন্টি নিয়াশা কলেজে যাচ্ছে না তাই দেখতে চলে আসলাম। (নাফিসা)
- আর বইল না জ্বর বাধাই বসে আছে, যাও গিয়া দেখ।
..
..
বাহ ঘরটা তো বেশ পরিপাটি, ওর পড়ার টেবিলের উপরে দেয়ালে আমার আর নিয়াশে ছবিটা সুন্দর করে বাধান।
আর কাগজের প্রজাপতি দিয়ে দেয়ালটা সুন্দর করে সাজান।
নাফিসা গিয়ে ডাকতেই ঘুম ঘুম চোখে অবাক হয়ে বলল তোরা কখন আসলি। ভাবতেই পারে নাই আমরা আসব।
এই প্রথম নিয়াশকে বোরকা ছাড়া দেখলাম।
মোটি আমারে বলে চিকন আলী আয়নায় নিজেকে দেখছে কখনও ?
কালো একটা থ্রি পিছ পরা, চুল গুলো খোলা, ঘুম জড়ানো চোখ, অবাক করা দৃষ্টি, আর ঠোটের পাশে কাল তিল টা ওর রুপের উজ্জলতা বহুগুন বাড়িয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে অন্য রকম মায়া কাজ করছে।
- এই তুই আসছস কেন ?? (নিয়াশা)
- তুই ফোন ধরস না কেন ?? তাইতো ছুটে আসতে হলো রে পাগলী।
- কেন এখন আর টুম্পা, নিশা, রিমুর সাথে কথা হয় না ? আর তোর সেই আন্টি গুলা কই ?? যাদের দেখলে তোর মাথা ঠিক থাকে না!!
- ধুর মোটি ওদের সাথে তো ফাইজলামি করি। তুই তো সব জানস। তারপরও এমন করিস কেন ?? এই দেখ কান ধরে আছি কিন্তু তুই মুখ ফিরিয়ে থাকিস না। জানিস কত কষ্ট হইছে, এই তিন দিনে।
- এই চুপ থাক শয়তান ছেলে।
- এই নিয়াশ জানিস আমার মনে হয় আমি সত্যি সত্যি প্রেমে পরছি।
- আবার ??
তুই জীবনেও শুধরাবি না যা এইখান থেকে।
- হ্যা দোস্ত সত্যি তোকে ছাড়া এক মূহুর্তও থাকা যায় না।
- তোর সাহায্য লাগবে রে নিয়াশ।
- ঠিক আছে।
- কাল কিন্তু আসতেই হবে, বোরকা ছাড়া আসবি, বলে উঠল নাফিসা।
- আচ্ছা
ওরা চলে গেছে কেন জানি খুব কষ্ট হচ্ছে।
আরাফের কথা শুনে মনে হল সত্যি প্রেমে পরছে।
আরে চিকন আলী কলিং ?
মাত্রই গেল আবার ফোন !!
- হুম বল
- কিরে মন খারাপরে চিকনী ??
- নাহ
- তোকে কিন্তু আজ সেই লাগছেরে।
- আমারে কি টুম্পা মনে হইতেছেরে হারামি ??
- রাগ করিস কেন দোস্ত ??
- আচ্ছ পরে কথা বলব।
আজ আমার এমন লাগছে কেন, যাক গে ও ওর মত থাক।
..
..
কি ব্যাপার কলেজের সবাই কই ?? কোথাও খুজে পাচ্ছি না কাউকে, অডিটরিয়ামে ঢুকতেই সবাই এক সাথে বলে উঠল "শুভ জন্মদিন নিয়াশা"। খুশিতে লোনা পানি টুকু আটকে রাখতে পারলাম না। হঠাৎ কাধে শীতল ছোয়ায় ঘুরে তাকালাম। একি আরাফ হাটু গেরে বসে আছে।
কি হচ্ছে এসব!!
- এই নিয়াশা তোর ভূতুম হইতে চাই দিবি তো সেই সুযোগ ?? সুযোগ দিবি, তোর পুচকুর বাবা হতে ?? তোর চলার পথের সঙ্গী হতে পারি ? আমি আমার লাল মরিচের বর হইতে চাই দিবি তো বল ?? তোর ওই হাতটা শক্ত করে ধরতে দিবি ?? সবাই এক সাথে বলে উঠল হ্যা হ্যা রাজি হয়ে যা নিয়াশা।
- চুপ করে থাকিস না নিয়াশ তোর জন্য আমি সব ছাড়তে পারব।
- শয়তান ছেলে আর যদি লুচু গিরি করতে দেখছি। তাইলে তোর একদিন কি আমার একদিন বলেই হাতটা শক্ত করে ধরলাম।
হয়ত টুম্পা রিমু নিশা আরো অনেকে হিংসায় জ্বলছে। জ্বলছে জলুক তবে ভূতুম তোরে এইবার আমি জ্বালামু। তখন বুঝবি লাল মরিচের কত ঝাঁঝ॥
লাল মরিচের র্ঝাঝ
আর কতক্ষন যে লাগবে মোটিটার আসতে আল্লাহই জানে।
সেই কখন থেকে বলতেছে ৫ মিনিট দাড়া, আজ সিউর ক্লাসের বাইরে দাড় করিয়ে রাখবে শয়তান ম্যাডামটা।
বজ্জাত মেয়ে একটা কোন অলুক্ষনে সময় যে মেয়েটার সাথে পরিচয় হইল।
- কি রে চিকন আলী ভাল আছস তো ??
- দেখ তো কয়টা বাজে ???
- জানি ২০ মিনিট লেইট হইছে, জানতাম আজ ক্লাসের বাইরে দাড়িয়ে থাকতে হবে আর একা একা দাড়িয়ে থাকলে ওই বদি নামে বজ্জাত ছেলেটা হা কইরা তাকাই থাকে। আর আজে বাজে কথা বলে, তাই তুই থাকলে একটু আড্ডা মারতে পারব।
- তুই তো দেখি বদিরুলের থেকে বজ্জাত।
একটু আগে বের হইতে পারিস না ??
- আর বলিস না ঘুম থেইক্কাই উঠতে পারি না।
জানিস আজ অনুপম মানে ভূতুম আমার সপ্নে আসছিল।
- সারাজীবন সপ্নেই শুধু দেইখা যাবি চল এইবার।
- কি ব্যাপার রে চিকনা মুড বন্ধ কেন ??
- দেখ নিয়াশা মেজাজ খুব খারাপ। রিমুকে দেখলাম একটা ছেলের হাত ধরে রিক্সায় যাচ্ছে।
- হা হা হা তুইও যেমন রিমুও তেমন।
তুই যদি একটা ধইরা আর একটা ধরতে পারিস তাইলে ও কেন পারবে না ??
শোন দোস্ত চিন্তা করিস না, আজকের মধ্যে আরেকটা জুটাই ফেলবি।
- হ্যা রে মোটি দোয়া কর আজকের মধ্যে যেন পাইয়া যাই।
এই নিয়াশ দেখ দেখ মাইয়াটা কত্ত কিউট।
দোস্ত আমি গেলাম, ভাগ্য বুঝি আমার খুলছেরে।
- এ্যাঁ কি বলে ছেলে, এর মধ্যে আবার ??
শয়তান ছেলের জন্য আজ আবার একা একা বাইরে দাড়াইতে হবে।
তোর এই শোধ আমি নিবই।
..
..
ক্লাস শেষে বাসার দিকে যাচ্ছি হঠাৎ দেখি চিকন আলী ওই কিউট মাইয়া মানে আমাদের দুই ব্যাচ জুনিয়র মেয়ে টুম্পার হাতে হাত রেখে বটতলা বসে আছে।
এই পোলায় পারেও বটে এর মধ্যে পটিয়ে ফেলছে।
মেয়েরাও আছে চিকন আলী বলতে দেরী করে রাজি হইতে সময় লাগে না।
যেই সব ছেলেদের চেহারা গুলু গুলু হয় তারা হাজারটা প্রেম করে।
আরাফ ঠিক তেমনই, সিনিয়ার আপুদের পর্যন্ত ছাড়ে না।
ছাড়বেই বা কেন ? আন্টিদের উপর ক্রাশ খায় এই বদ পোলায়। তবে ওর আরেকটা গুন আছে খুব ভাল গান গাইতে পারে। কলেজে মোটামুটি নাম ডাক আছে।
কেন যে আমার মত এত সাধারন মেয়ের বন্ধু হইল সেইটা বুঝলাম না।
যেদিন প্রথন কলেজে আসলাম মাথায় একটা গাট্টি মেরে আমার পাশে বসল।
- আরে কি আজব আপনি আমার মাথায় গাট্টি মারলেন কেন ?
- এই তুই আর আমি একই সাথে পড়ি, তাইলে আপনি কইরা কথা বলিস কেন ??
- হুম (ভ্রু কুচকে) কি অসভ্য ছেলে প্রথম কথাই তুই, ভদ্রতার খাতিরেও তো মানুষ আপনি অথবা তুমি বলে।
সেদিন থেকেই এই বদ পোলা আস্তে আস্তে ভাল বন্ধু হয়ে উঠে।
কিভাবে যে এতটা সময় পার হয়ে গেল বুঝতেই পারি নাই।
শুধু বলে অনেক মেয়ের সাথেই চলাফেরা করছি তোর মত বেহায়াপনা মায়াবী মেয়ে একটাও দেখি নাই।
- আমিও তোর মত ইনোসেন্ট মার্কা লুইচ্চা একটাও দেখি নাই। যে কিনা আন্টিদের উপর ক্রাশ খায়।
- ওই নিয়াশ তোর সাথে আমি কি করছি? আন্টিরা যদি কিছু না কয় তোর এত গায়ে লাগে কেন ??
- ওই হারামি আমার নাম নিয়াশা কত্ত কিউট একটা নাম আর তুই কি না...
- এত বড় নাম আমি ডাকতে পারব না।
- শয়তানের হাড্ডি একটা।
এর পর থেকে কখনো ভাল নামে ডাকে নাই।
আমিও ওরে ভাল নামে ডাকি না, আমিও কম নাকি ??
..
..
এই মোটি এই মোটি কানে কম শুনিস নাকি ??
কার কথা ভাবিস ??
(ওর ডাকে ঘোর কাটল)
- কি রে লম্বু ডেটিং শেষ ?
- ধুর আর বলিস না মাইয়া আমারে নিয়া শপিংয়ে যাইতে চায়, তাই ফাক বুইজা দৌড়।
- হি হি হি হি
- দেখ ওই ভাবে হাসিস না কইলজাডা মোচর দিয়া উঠে।
- এ্যাঁ কি বললি ??? ওই কুত্তা তুই আমার লগেও মজা নিতাছস ?? আজ তোর একদিন কি আমার একদিন।
- আরে আরে আমি কি পাগল তোর মত মেয়ের লগে মজা নিমু। কলার ছাড় বলছি, এইটা মেয়ে নাকি লেডী কিলার। পাক্কা লাল মরিচ একটা।
- ওই চল ক্ষিধা লাগছে ফুচকা খামু।
- এইরকম মারামারি করলে তো ক্ষিধা লাগবেই।
..
..
মামা দুই প্লেট ফুচকা দেন তো॥ একটাতে বেশি করে খুইদ্দা মরিচ দিবেন।
- দেখ লম্বু মাইর খাওয়ার কাজ করিস না। এই মাইয়ারে ফুচকা খাওয়াইতে পারলেই মাথা ঠান্ডা হয়। খাইতেছি এমন সময় নিশা হাজির।
- এই আরাফ তুমি না বললা ফুচকা ভাল না, এই গুলা খাইলে পেট খারাপ করে আর তুমি খাইতেছ ?? (নিশা)
- আরে বেবী তোমার মত কিউট মেয়ে এগুলা খাইলে পেট খারাপ করবে, আর এই মোটি তো খুইদ্দা মরিচ ওর এতে কিছু হবে না।
- মুখের মধ্যে বাকি একটা ফুচকা দিয়ে, ওর দিকে তাকালাম। (আমি)
- এই নিয়াশ রাগ করিস না মজা করতেছি (আস্তে আস্তে বলল)।
ওর হাত থেকে ফুচকার প্লেট নিয়া টপাটপ খেয়ে ফেললাম।
- এটা কি হল (হা করে তাকিয়ে)
- লাল মরিচ তো তাই বুঝলি, বলেই উঠে দাড়ালাম।
যাচ্ছি গো বেএএবী
*****************
- এই মেয়েটা দিন দিন বেহায়াপনা বেড়ে চলেছে। এই তো সেই দিন রিমুর সাথে বসে ছিলাম। হঠাৎ কোথা থেকে যেন মোটি উদয় হইল, শার্টের কলার ধরে টানতে টানতে নিয়া আসল রিমুর কাছ থেকে।
শুধু শুধুই কি বলি লাল মরিচ !! ঝাঝটা একটু বেশিই। আমার জীবনটারে তেজপাতা বানাই ফেলছে।
তবে ও অন্যদের থেকে একটু আলাদা, যখন প্রথম কলেজে আসলাম। মেয়েটাকে দেখে মনে করেছিলাম ইনোসেন্ট হবে হয়ত।
ওর পোষাক আসাক ছিল অন্যদের থেকে আলাদা।
কালো বোরকা আর কালো স্কার্প পরা, তাই ভুল ভাবছিলাম।
আমার সব ধারনা পাল্টে দিল যখন ওর সাথে মিশছি।
কিন্তু ওর ভিতর অদ্ভুদ এক শক্তি আছে।
যা অন্য মেয়েদের মধ্যে নাই।
খুব সহজে মানুষকে আপন করে নিতে পারে।
- এই আরাফ কি ভাবছ চল ওইখানে বসি। (নিশা)
- ও বেবী তুমি তো জানো দুই দিন পর কলেজে ফাংশন আছে অনেক কাজ করতে হবে বলেই দৌড়।
এই মেয়ে গুলা অসময় খালি বিরক্ত করে।
এখন যদি মোটি থাকত হাসতে হাসতে গাল দুটো লাল করে ফেলত।
তখন ইচ্ছা করে থাপ্পর দিয়া আরো লাল করে দেই বদ মেয়ে একটা।
****
ভূমিকম্পে আমার আরামের ঘুম হারাম করছে। মেজাজটা চরম মাত্রায় পোছে গেছে। লম্বু আইজকা তোর খবর আছে।
ওই হারামি কল করার আর সময় পাইলি না ???
- কয়টা বাজে দেখছস জলদি কলেজে আয়।
কলেজে আসলাম কিন্তু লম্বুকে কোথাও খুজে পাচ্ছি না।
এই দিকে চাচাত বোন ফোন দিছে, ওর ননদ মানে আখি আপু খুব অসুস্থ বেবীটা নাকি মারা গেছে, এখন নাকি তার রক্ত লাগবে।
আরাফকে কত করে কল করতেছি, কিন্তু কাইটা দিতাছে। হবে হয়ত কোন মেয়ের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। খুব রাগ লাগতেছে।
উপায় না দেখে মিল্টনকে বলছি।
ও নাকি ম্যানেজ করতেছে, হসপিটালে যেতে হবে।
বট তলায় আইসা দেখি টুম্পার সাথে বইসা রইছে।
- দোস্ত একটু অপেক্ষা কর আসতাছি। (আরাফ)
- বান্দর ছেলে তুই জীবনে আমার সাথে কথা বলবি না।
লুইচ্চামির একটা সীমা থাকে, কখনও ফোন দিবি না তুই আমারে।
কত বার ফোন দিছি তোরে, একবারো বুঝলি না। ভাল থাক তুই এই সব মেয়েদের নিয়া।
- এই নিয়াশ কি হইছে বল, ফোন আমার কাছে ছিল না।
টুম্পার কাছে ছিল, কান্না করিস না প্লিজ।
- কই যাচ্ছিস এই বৃষ্টির মধ্যে ?
- খবরদার সাথে আসবি না।
বলেই চলে আসলাম
..
..
ফোনটা অনবরত বেজেই চলেছে, মোটি ফোন ধরছে না। তিন দিন থেকে কলেজে আসে না। ওরে ছাড়া যে কলেজটা ফাঁকা ফাঁকা লাগে সেইটা বুঝতে পারছি ও না থাকায়। ফাজিল মেয়েটা এখনও ফোন ধরে না। আসছি দাড়া তোর খবর আছে।
এত রাগ কিসের ??
আমি মিল্টন, দিপু, আর নাফিসা চলে গেলাম মোটির খোজ নিতে।
কলিং বেল চাপতেই আন্টি দরজা খুলে দিল।
- আরে নাফিসা তোমরা? আসো ভিতরে আসো।
- না মানে আন্টি নিয়াশা কলেজে যাচ্ছে না তাই দেখতে চলে আসলাম। (নাফিসা)
- আর বইল না জ্বর বাধাই বসে আছে, যাও গিয়া দেখ।
..
..
বাহ ঘরটা তো বেশ পরিপাটি, ওর পড়ার টেবিলের উপরে দেয়ালে আমার আর নিয়াশে ছবিটা সুন্দর করে বাধান।
আর কাগজের প্রজাপতি দিয়ে দেয়ালটা সুন্দর করে সাজান।
নাফিসা গিয়ে ডাকতেই ঘুম ঘুম চোখে অবাক হয়ে বলল তোরা কখন আসলি। ভাবতেই পারে নাই আমরা আসব।
এই প্রথম নিয়াশকে বোরকা ছাড়া দেখলাম।
মোটি আমারে বলে চিকন আলী আয়নায় নিজেকে দেখছে কখনও ?
কালো একটা থ্রি পিছ পরা, চুল গুলো খোলা, ঘুম জড়ানো চোখ, অবাক করা দৃষ্টি, আর ঠোটের পাশে কাল তিল টা ওর রুপের উজ্জলতা বহুগুন বাড়িয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে অন্য রকম মায়া কাজ করছে।
- এই তুই আসছস কেন ?? (নিয়াশা)
- তুই ফোন ধরস না কেন ?? তাইতো ছুটে আসতে হলো রে পাগলী।
- কেন এখন আর টুম্পা, নিশা, রিমুর সাথে কথা হয় না ? আর তোর সেই আন্টি গুলা কই ?? যাদের দেখলে তোর মাথা ঠিক থাকে না!!
- ধুর মোটি ওদের সাথে তো ফাইজলামি করি। তুই তো সব জানস। তারপরও এমন করিস কেন ?? এই দেখ কান ধরে আছি কিন্তু তুই মুখ ফিরিয়ে থাকিস না। জানিস কত কষ্ট হইছে, এই তিন দিনে।
- এই চুপ থাক শয়তান ছেলে।
- এই নিয়াশ জানিস আমার মনে হয় আমি সত্যি সত্যি প্রেমে পরছি।
- আবার ??
তুই জীবনেও শুধরাবি না যা এইখান থেকে।
- হ্যা দোস্ত সত্যি তোকে ছাড়া এক মূহুর্তও থাকা যায় না।
- তোর সাহায্য লাগবে রে নিয়াশ।
- ঠিক আছে।
- কাল কিন্তু আসতেই হবে, বোরকা ছাড়া আসবি, বলে উঠল নাফিসা।
- আচ্ছা
ওরা চলে গেছে কেন জানি খুব কষ্ট হচ্ছে।
আরাফের কথা শুনে মনে হল সত্যি প্রেমে পরছে।
আরে চিকন আলী কলিং ?
মাত্রই গেল আবার ফোন !!
- হুম বল
- কিরে মন খারাপরে চিকনী ??
- নাহ
- তোকে কিন্তু আজ সেই লাগছেরে।
- আমারে কি টুম্পা মনে হইতেছেরে হারামি ??
- রাগ করিস কেন দোস্ত ??
- আচ্ছ পরে কথা বলব।
আজ আমার এমন লাগছে কেন, যাক গে ও ওর মত থাক।
..
..
কি ব্যাপার কলেজের সবাই কই ?? কোথাও খুজে পাচ্ছি না কাউকে, অডিটরিয়ামে ঢুকতেই সবাই এক সাথে বলে উঠল "শুভ জন্মদিন নিয়াশা"। খুশিতে লোনা পানি টুকু আটকে রাখতে পারলাম না। হঠাৎ কাধে শীতল ছোয়ায় ঘুরে তাকালাম। একি আরাফ হাটু গেরে বসে আছে।
কি হচ্ছে এসব!!
- এই নিয়াশা তোর ভূতুম হইতে চাই দিবি তো সেই সুযোগ ?? সুযোগ দিবি, তোর পুচকুর বাবা হতে ?? তোর চলার পথের সঙ্গী হতে পারি ? আমি আমার লাল মরিচের বর হইতে চাই দিবি তো বল ?? তোর ওই হাতটা শক্ত করে ধরতে দিবি ?? সবাই এক সাথে বলে উঠল হ্যা হ্যা রাজি হয়ে যা নিয়াশা।
- চুপ করে থাকিস না নিয়াশ তোর জন্য আমি সব ছাড়তে পারব।
- শয়তান ছেলে আর যদি লুচু গিরি করতে দেখছি। তাইলে তোর একদিন কি আমার একদিন বলেই হাতটা শক্ত করে ধরলাম।
হয়ত টুম্পা রিমু নিশা আরো অনেকে হিংসায় জ্বলছে। জ্বলছে জলুক তবে ভূতুম তোরে এইবার আমি জ্বালামু। তখন বুঝবি লাল মরিচের কত ঝাঁঝ॥
দিনটি ছিলো ফেব্রুয়ারি ১৪
ভীষণ কিউট দেখতে মেয়েটি। ফেসবুক একাউন্ট খুলতে খুলতে সে অনেক দেরি করে ফেলেছে। কিন্তু তাতে কি! খুব অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সে পেয়ে গেছে প্রায় সাতশ’র মতো বন্ধুতার আহবান। তার ইনবক্স ভর্ত্তি এত্ত এত্ত ক্ষুদেবার্তায়। অপরিচিত কারও বন্ধুতার আহবানে মেয়েটি সাড়া দেয় না। উত্তর দেয়না অপরিচিত কারও কাছ থেকে আসা ক্ষুদেবার্তারও। পাছে খাল কেটে কুমির আনা হয়ে যায়- এই ভয়ে। একদিন হলো কি, মোটা কাচের চশমা পরা একটা ছেলের কাছ থেকে একটা বন্ধুতার আহবান এলো। একদম অচেনা ছেলেটি। তবুও কেন কে জানে মেয়েটি গ্রহণ করে ফেলল তার বন্ধুতার আহবান! তারা বন্ধু হলো। তাদের মধ্যে প্রায়ই ফেসবুক-মেসেঞ্জারে কথোপকথন হয়। কিন্তু একটাই সমস্যা। দু’জনের কথোপকথনের মাঝখানে ছেলেটি প্রায়ই ভুলভাল ইমো ব্যবহার করে বসে। যেমন, যখন মেয়েটি লেখে খুব সুন্দর একটা ড্রেস কিনেছি আজ, তখন উত্তরে ছেলেটি পাঠিয়ে দেয় মুখ বেজার করা একটা ইমো। তারপর এই ধরুন, অন্য আর একদিন মেয়েটি যখন লিখেছে জানো আমার খুব মন খারাপ, তখন ছেলেটি ছেড়ে দেয় একটা হাসির ইমো। মেয়েটি রেগে গিয়ে বলে, ‘এই ছেলে, তুমি উল্টাপাল্টা ইমো দাও কেন?’ ‘কি করব বলো? আমি তো ঠিক মতো দেখতে পাই না চোখে। একটা বাটন চাপতে গিয়ে আর একটা চেপে ফেলি।’ বলে ছেলেটি। মেয়েটিও যেন কেমন! ছেলেটি চোখে ঠিকমতো দেখতে পায়না শুনে কোথায় মন খারাপ করবে তা না, পাঠিয়ে দেয় একটা হাসির ইমো। এভাবেই চলে গেল যায় বছরখানেক। মেয়েটি একদিন ছেলেটিকে বলে, ‘তোমার সঙ্গে দেখা করতে চাই।’ ছেলেটি বলে, ‘অসম্ভব। আমি তোমার সামনে যাব না। মরে গেলেও না।’ সত্যি বলতে কি, ছেলেটির ভয় ছিল সামনাসামনি মেয়েটা তাকে দেখলে হয়তো মেয়েটি তাকে অপছন্দ করে দূরে সরে যাবে, আগের মতো আর কথোপাকথন হবে না, তাদের এই অম্লমধুর সম্পর্কটারও ইতি ঘটবে। তাই যেতে রাজি হয় না প্রথমটাতে। কিন্তু মেয়েটাও সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নয়। ছেলেটিকে রাজি করিয়ে ফেলে, যেভাবেই হোক। অবশেষে একদিন এলো সেই বিশেষ দিনটি। রমনা পার্কের বেঞ্চে মেয়েটি বসে আছে। ছেলেটিরও এখানে আসার কথা রয়েছে। আজই প্রথম তারা একজন আর একজনকে দেখবে। সামনাসামনি। এক সময় মেয়েটা দেখতে পেল, চোখে মোটা আর ঘোলা কাচের চশমা পরা ছেলেটা আসছে, তার চোখ মাটির দিকে। যেন হারিয়ে ফেলা কোন কিছু খুঁজে ফিরছে! মেয়েটি তাকে দেখেই চিনতে পারল। কিন্তু একি! ছেলেটি চলে যাচ্ছে তাকে পাশ কাটিয়ে, তাকে পিছনে ফেলে। লজ্জার মাথা খেয়ে মেয়েটি জোরে বলে উঠল, ‘এই ছেলে, কোথায় যাচ্ছ? আমি এখানে।’ ছেলেটি খুব লজ্জা পেয়ে বললো, ‘তুমি তো জানোই, আমি চোখে দেখি না ঠিকমতো।’ তারপর অনেকটা সময় কাটল পার্কের বেঞ্চিতে বসে। দু’জনে অনেক কথা হলো। তার অধিকাংশই এলোমেলো, ভীষণ রকমের অদরকারী। ঘড়ির কাঁটাগুলোও যেন বদ্ধ উন্মাদ, ত্রিশ সেকেণ্ডেই বানাতে লাগল এক একটা মিনিট। সন্ধ্যা ঘনানোর আগে মেয়েটি উঠে দাঁড়াল চলে যাবে বলে। হাঁটা শুরু করার আগে বললো ছেলেটিকে, ‘তোমাকে আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। তোমার হাত দু’টো একটু ধরতে দেবে?’ ছেলেটি চশমা খুলে চোখ মুছল। ‘এ কি, কাঁদছ কেন! তোমার তো খুশি হওয়ার কথা।’ বিস্মিত মেয়েটা জিজ্ঞেস করল। ‘সব সময় তো আমি ভুল ইমো’ই দিই। আজও না হয় তা’ই দিলাম।’ বললো ছেলেটি। তারপর হেসে উঠল। বলতে ভুলে গেছি। রমনা পার্কে তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল ঠিক এক বছর আগের আজকের এই দিনটাতে। দিনটা ছিল ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০১৩। বৃহষ্পতিবার।
বন্ধুত্ব থেকে শুরু
সূর্যটা নেমে গেছে। কিন্তু তার রেশ এখনো রয়ে গেছে। এখনো সূর্যের শেষ বিন্দুগুলির বর্ণচ্ছটা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্রভাবে আলো বিলিয়ে দিচ্ছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে সন্ধ্যেটা আরো বর্ণময় হয়ে ধরা দিয়েছে।
জানালার কার্নিশে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে জান্নাত। সূর্যের সেই লাল আভায় ওর মুখটা অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে ধরা দিয়েছে।
- এখন বের হবে? (জান্নাত)
- একটু ভেবে বললাম, চলো !
- আমি কি পড়বো ?
- আমি মুচকি হেসে বললাম, তোমার ইচ্ছা।
- একটু আহ্লাদী কন্ঠে বললো, না তুমি বলো।
- শাড়ি পড়ো।
অনেকক্ষণ পর শাড়ির কুচি ঠিক করতে করতে বের হলো। লম্বা চুল, ঠিক যেনো স্বর্ণকেশী, চোখে কাজল ...... পৃথিবীর সেরা সুন্দরী আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
- এই চলো।
- ও কাছে আসতেই কানে চুলগুলো গুঁজে দিলাম।
আমি রূপকথার রাপান্জেল এর নাম শুনেছি যাকে ছোটোবেলায় চুরি করে এনেছিলো এক ডাইনি। আর উদ্ধার করেছিলো প্রিন্স চার্মিং। তবে আমার রাপান্জেল কে কেউ নিতে পারবে না আমি থাকতে।
ওর হাত ধরে চলার ইচ্ছেটা গোপন রেখেই হাঁটছি। পাশাপাশি থাকায় হয়তো গোপন ইচ্ছেটা ট্রান্সফার হয়ে ওর মনে পৌঁছে গেছে। আমার হাতটা ও ধরতেই হালকা শিহরণ বয়ে গেলো। আসলে ক্লোজ ফ্রেন্ড থাকাকালীন এতো দুষ্টুমী করেছি এখন তাই হাত ধরতে ইতস্তত হচ্ছে।
সাতদিন হয়েছে আমাদের বিয়ের। তবে পুরোটা কৃতিত্ব জান্নাত এবং আমার ফ্যামিলীর। জান্নাতের বিয়ের কথা শুনে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলাম কারণ মনে মনে ওকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম। অবশ্য আমার এমন উদাসীনতা আর ওর বিয়ের ঠিক করা পাত্রপক্ষের গাফিলতীর জন্য একটু সহজ হয়েছে কাজটা। কখন যে তারা (আমার ফ্যামিলী) সব ঠিক করে ফেলেছে সেটা বিয়ের দিন ছাড়া বুঝে উঠতে পারিনী।
জান্নাত ওর আঙুলগুলো দিয়ে আমার হাতে খেলছে। ল্যাম্পপোস্টের বাতির আলোতে ওর মুখটার দিকে চেয়ে থাকার ইচ্ছা জাগছে। কিন্তু ওই যে ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিলো....
হাঁটতে হাঁটতে একটা রেস্টুরেন্টের সামনে আসলাম।
রেস্টুরেন্টে ওর সামনাসামনি বসে খেতে বসলাম। ওর খাওয়ার দিকে চেয়ে আছি। ওর চোখে চোখ পড়লে আমি চোখ নামিয়ে নিচ্ছি আর ওর ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসির রেখা ফুটে উঠছে। ওর ঠোঁটের কোণে খাবারের ছোট্ট অংশ লেগে আছে। আমি কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার পর আঙুল দিয়ে সেটা মুছে দিলাম। ওর চোখের ভাষাটা এমন .... লজ্জা পাচ্ছো কেন নিজের বউকে ছুঁতে ?
খাবার শেষে আবার হাত ধরে হাঁটা শুরু। অনেকক্ষণ হাত ধরে থাকার জন্য বুঝি একটু সাহস হলো ওর। মাঝে মাঝে ওর আঙুল দিয়ে আমার হাতের তালুতে সুড়সুড়ি দিচ্ছে। আমি ওর দিকে না তাকিয়ে হাসছি। জান্নাত সেটা লক্ষ্য করছে।
- হাসছো কেনো ?
- না এমনি।
- মুচকি হাসা দুষ্টুদের লক্ষণ।
- আচ্ছা এখন চলো বাসায় যাই।
- না. . . . রিক্সা তে ঘুরব।
- জান্নাতের এখনকার আবদারগুলো কেনো জানি পূরণ করতে খুব ইচ্ছা জাগে।
আগে যে করিনি তা নয়, তবে বন্ধুত্বের সময়গুলো আর বিয়ের পরের সময়গুলো সত্যিই আলাদা। বন্ধুত্বের সময় রাগ দেখালেও যেমন আবদারগুলো পূরণ করি, বিয়ের পরে মনে হয় আরো বেশী করে আমাকে আবদারগুলো করুক।
রিক্সাতে পাশাপাশি গা ঘেষে বসেছি। হালকা বাতাসে ওর অশান্ত চুলগুলো আমার মুখের উপর চলে আসছে।
ইচ্ছে করেই ও সরাচ্ছে না, যেনো আমিই ওর চুলগুলো সরিয়ে দেই।
কিন্তু ওর চুল থেকে আসা ঘ্রাণটায় আমি ডুবে আছি।
রাস্তা খারাপ থাকায় রিক্সাটা হোঁচট খেল। ভালোই হয়েছে। জান্নাত আমার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরেছে। আমি ওর হাতের বাঁধনটা সরিয়ে আমিই ওর হাতটা শক্ত করে চেপে ধরলাম।
জান্নাতের চোখেমুখে হাসির ঝিলিক খেলা করছে।
- আচ্ছা তুমি অপরিচিতের মতো আচরণ করছো কেনো ? আমিতো তোমার বিয়ে করা বউ তাইনা।
- ওর কথা শুনে মনে হলো আমার আচরণগুলোতে ওর মনক্ষুণ্ণ হয়েছে।
আমি ছোট্ট করে বললাম, স্যরি।
- এখানে স্যরির কি হলো ? যখন ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা হাত ধরবা।
আমি ওর ঠোঁটের কোণে আবারো সেই হাসির ঝিলিক দেখতে পেলাম।
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে দেখি আমার হাতের উপর ওর মাথাটা চলে এসেছে। আর ওর হাত আমার বুকের উপর।
আমি ওর হাতটা ধরে, হাতের তালুতে চুমু খেলাম। ওর মুখের পড়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে ওর হাসিখুশী মুখটার দিকে চেয়ে আছি। ওর কপালে চুমু খেয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলাম।
গত দুইদিন আমি অফিস থেকে ফিরলেই ডাইনিং টেবিলে আমার পছন্দের খাবারগুলো দেখে খুব আপ্লুত হতাম।
আজ সেটার অস্তিত্ব না দেখে বুকটা ছ্যাৎ করে উঠলো। জান্নাত ঠিক আছে তো ?
পাশের রুমে গিয়ে দেখলাম ব্যাগে কাপড় তুলছে।
- কি ব্যপার, কই যাওয়া হচ্ছে ?
- ( চুপ )
- ওর চুপ থাকা দেখে মনে হলো কোনো ভুল করে ফেলেছি।
- কি হলো, কথা বলো।
- আমার সাথে আবার কি কথা আছে তোমার ? যাও ওই তিথির সাথেই কথা বলো।
- বুঝলাম এইবার ভুলটা কোথায়...
তিথি আমার জুনিয়র ছিলো। ভার্সিটি থাকাকালীন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগীতায় প্রথম দেখা হয়েছিলো। তারপর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় একসাথে প্রেজেন্টেশনগুলো জমা দিতে থাকি।
আর আজকেও কথা বলার সময় কোনো না কোনো ভাবে হয়তো এই খবরটা ও ভুলভাবে নিয়েছে তাই এতো রাগ।
- আচ্ছা স্যরি, আর ও তো আমার জুনিয়র। আমার সহকর্মী। আর তোমাকে ছাড়া অন্য কারো সাথে কথা বলে কি আমার ভালো লাগবে নাকি !!
- হয়েছে, এতো ঢং দেখাতে হবে না। আমি বাপের বাড়ি চলে যাচ্ছি।
- একটু সাহস যেনো বেড়ে গেলো।
বাপের বাড়ি ? হুমম.... কোথাও যাবে না তুমি।
- তুমি বলার কে ?
- আমি তোমার স্বামী। আমি না বলেছি মানে না।
আমি ওকে খুব জোরে জড়িয়ে ধরলাম।
আমি তোমাকে ছাড়া আর একমুহুর্ত অন্য কিছু কল্পনা করতে পারি না।
- এতোদিন পর তাহলে জড়িয়ে ধরার সাহস হয়েছে !! ডোজটা কাজে দিয়েছে।
- আমি মুখ তুলে বললাম, মানে ?
- আমি আর তিথি মিলেই ... এটুকু বলেই ও হাসলো। এতদিন পর তোমার সাহস হলো।
- আর আমি ওর দুষ্টুমীভরা আচরণে আপ্লুত হয়ে ওকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলাম। ওর কাজল দেয়া চোখ দুটোতে ভালোবাসার প্রচন্ড গভীরতা খুঁজে পাচ্ছি।
বেলকনিতে দাঁড়িয়ে হালকা ঠান্ডা বাতাস উপভোগ করছি দুজনে। ওর তুলতুলে নরম গাল আমার গালের সাথে লেগে যাওয়াতে দুষ্টুমীর ইচ্ছা জাগছে। দুজনের কাউকেই ঠান্ডা লাগছে না, লাগার কথাও নয়। দুজনেই যে দুজনকে শরীরের সব উষ্ণতা দিয়ে জড়িয়ে রেখেছি।
গভীরতর ভালোবাসা
আমি কত করে বলছি আমি শাড়ী পরব না। আমি কখনও শাড়ী পরি নাই। আর শাড়ী পড়লে হাটতে পারব না।
তবুও ভাবী বলল সবাই যখন পরছে, তাই আমাকেও পরতে হবে।
কি আর করার, আজ আবার খালাতো বোন এর বিয়ে। সেই ছোট বেলায় খালা বাড়ি আসছিলাম তারপর আর আশা হয় নাই।
সব কিছুই পাল্টে গেছে, আগের মত নেই।
কাচা বাড়ি পাকা হইছে। বড় খালাও আর আগের মত খারাপ ব্যবহার করে না। এখন সবাই ভালবাসে অনেক দিন পর আসাতে এমন আদর। ঘন ঘন আসলে দেখা যাইত কে কি রকম।
আর কাল আবার সেই ছোট রিবার বিয়ে।
এই রিবাকে কত কোলে নিছি, কান্না করলে কোলে নিয়ে আদর করতাম। আর কিছু দিন পর ও কার কান্না থামাবে এইটাই হয়ত নিয়ম।
রিবার কাছে গিয়ে বললাম, তোর কি আর পড়তে ইচ্ছা করে না ?? আর এই বিয়েতে মত আছে তোর ?
উত্তরে বলল আব্বায় যেইডা কইবে হেইডাই হইবে।
আমি আবার কি কমু,
কি বলব বুঝতে পারছি না।
এইটাই হয়ত আমাদের সমাজ।
ও ভালো কথা আমি আফরিন দেখতে মাসাল্লাহ খারাপ না। আমি বলি নাই সবাই ই বলে। যদিও অামি দেখতে একটু কালো, বাবার নাকি আদরের মেয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভাগ্যের জোরে হইলাম না। যাক সে কথা আজ রিবার গায়ে হলুদ ছোট ছোট মেয়েরা হলুদ শাড়ী পরছে। একদম হলুদ পরীর মত লাগছে, এখন আবার আমারও শাড়ী পরতে হইছে।
আজ আমি শাড়ী পরছি, কাল পাইর আর জমিনে কমলা।
আজ অনেক দিন পর আয়নার সামনে দাড়িয়ে আছি। আয়নায় নিজেকে দেখলে মায়ের খুনী মনে হয়। তাই তেমন একটা আয়না দেখা হয় না।
বাহ !!
আমি তো দেখতে মাসাল্লাহ অনেক সুন্দর হইছি, মামনিকে বলতে হবে।
,,
এক তো নতুন পরিবেশ কেউকে ভালো করে চিনি না। আর ভাবী যে কি কাজ করে আল্লাহই যানে।
এইখানে আমার একজনের সাথে ভাব হইছে, সে হল ভাবী।
একা একা কতক্ষন থাকা যায়। ফেইসবুকে ঢুকলাম, কত দিন হইছে ফেইসবুকে ঢুকি নাই।
উফফ!! আল্লাহ এইখানে নেট এত্ত প্রবলেম করে কেন ???
হটাৎ কে যেন আফরু বলে ডাক দিল। অনেকটা জোরেই আর আফরু ??
এই নামেতো ভুতুম ডাকে। পিছনে তাকাতেই শরীর ঠান্ডা হতে লাগল। ছাদমান ভাই যে...
আল্লাহ এই ভাইয়া কোথা থেকে আসলো ????
ছাদমান ভাই আমার একমাত্র মামার একমাত্র ভদ্র ছেলে, উনি খুবই শান্ত। আমি যখন এস এস সি পরীক্ষা দিছি তখন ছাদমান ভাই তখন বি বি এ শেষ। আমি মামা বাড়ি থেকে এইচ এস সি পরিক্ষা দিছি। মামার কাছেই বড় হইছি, মা মারা যাওয়ার পর সবাই যখন আমাকে নিয়া সংসয় ছিল, আর অলুক্ষনে বলে বাবা যখন মুখ ফিরিয়ে নিছিল। তখন মামা মামী নিজের মত করে বড় করছে। আর এই মামাকে কষ্ট দিয়ে বাবার সাথে পালিয়ে গেছিল মা। আর এখন তারাই আমাকে মেয়ের মত করে বড় করছে। বাবার সব দায়িত্ব পালন করে মামা,
কি অদ্ভুদ না ??
মামা ঠিকই বাবার দায়িত্ব পালন করছে কিন্তু বাবা বলে ডাকতে পারি নাই। আর মামী মানে আমার মামনি যে আমার মায়ের চাহিদা পূরন করছে। এদের সাথেই আমার জীবন, সব মজার আর সব চেয়ে কষ্টের দিন গুলো ছিলো। তাদের এক মাত্র ছেলে মানে ভুতুম,
ওই বদজাত ছেলেটা ছিল আমার এক চিরশত্রু।
আমার কথা মেয়ে মানুষের এত পইরা কি হবে, সেইতো রান্না আর সংসার সামলাইতেই হবে।
তাইলে এত পড়ার দরকার কি ??
আর তখন সে রাগী রাগী একটা লুক নিয়ে তাকাইত আর বলত, কানে ধর বলছি, আর এক পায়ে দাড়িয়ে থাকতে হবে।
ঠিক এই জন্যই তাকে আমি ভুতুম বইলা ডাকি।
আমি কখনই ভালো ছাত্রী ছিলাম না। এক কথায় ছিলাম পড়া চোর।
রাতে যখন পড়তে পড়তে ঘুম চলে আসত, তখন এক পায়ে দাড়িয়ে পরতে হইত। খুব ভয় পাই তাকে, তার চোখের দিকে তাকাইতে সাহস পাই না। আমার ছিল দুইটা রুপ। ছাদমান ভাইয়ের সামনে ভদ্র মেয়ে আর সবার সামনে দুষ্ট।
যদিও বুঝত যে আমি তার সামনে ভাল মেয়ে হওয়ার অভিনয় করি।
ডাক দিয়ে বলত,
- জানিস আফরু একটা কথা সত্যি যে কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না।
- আচ্ছা তাইলে কয়লা ধোয়ার কি দরকার ??
- কি বললি ??
- বলছি কয়লা ধোয়ার কি.......
- ওই চুপ করবি ??? তুই কি কখনও মানুষ হবি না ??
- আমি তো মানুষই (আস্তে আস্তে)
- এই যা পড়তে বস গিয়া মেজাজ খারাপ করবি না..
- এই শুরু হইছে পড়া আর পড়া।
তবে আমার ভাল রেজাল্ট করার পিছনে ভুতুমের অবদান অনেক।
যেদিন এইচ এস সি রেজাল্ট দিবে, খুব টেনশনে ছিলাম। ভুতুম আমার হাতটা খুব শক্ত করে ধরে ছিল।
ভয়ে মাঠে দাড়িয়ে ছিলাম, ভুতুমটা গম্ভীর একটা লুক নিয়া বলল এই নে তোর সামনে এগিয়ে যাওয়ার চাবি-কাঠি। এখন থেকে তোকে যেন কেউ অলুক্ষনে না বলতে পারে।
কলেজে সবার সামনে জড়িয়ে ধরে খুব কেঁদেছিলাম।
- হুম শেষ বারের মত কান্না আর আর যেন কাঁদতে না দেখি।
**
এইবার পালা আসল আমার, এই বুজি কপাল আমার খুলছে।
অনেক কষ্টে ভুতুমটার হাত থেকে বাঁচতে পারব। বাসা থেকে তেমন দুরে না কলেজটা, তবুও হোষ্টেলে থাকার অনুমতি পাই বহু কষ্টে।
কিন্তু ওতোটা পাকা কপাল আমার না, প্রথম সেমিষ্টার রেজাল্ট খারাপ হওয়াতে ভুতুমটা আবার বাসায় নিয়া আসল।
আল্লাহ এই ভুতুমটার হাত থেকে কি কখনও মুক্তি পামু না ??
ভুতুমটা যখন অফিসে থাকে তখন কত ভাল থাকি।
আচ্ছা এই রিমি যে কি দেইখা এই পোলারে পছন্দ করে আল্লাহই জানে। দেখতে সুর্দশন হলে কি হবে, হাসি বলতে ছিটে ফোটাও নাই।
মনে হয় প্রেম ট্রেম করে, এই তো সেই দিন, যখন কলেজে দেড়ি হচ্ছে বলে আমাকে যেন পৌছে দেয়। রুমে ঢুকে দেখি আয়নার সামনে নিজেকে বার বার দেখছে ভুতুম।
প্রেমে না পরলে কেউ কি ওই ভাবে আয়না দেখে ??
আহারে এই পোলার লগে যে প্রেম করবে তার কপাল পুড়ছে।
রোমান্টিক মুডে হাত ধরে বসে থাকবে। তখন সে হাতটা ছাড়িয়ে বলবে যাও এখন পড়তে বস। হি হি হি ★★★
- এই আফরিন উনাকে কি আমার কথা বলছিস ?? (রিমি)
- কাকে ??
- ওই যে ছাদমানকে ।
- তোর টা তুই বল আমি পারব না।
- তাইলে আমার সব টাকা ফেরত দে। তুই বলছিলি আমার কথা তার কাছে বলবি। আর এখন বলতে পারবি না কেন ? আমার সব টাকা ফেরত দিবি। ধুর বাবা এখন আমি এত টাকা কই পামু। মাথাটা খুব ব্যাথা করছে। এ কি আমার সাধের ঘরের এ কি হাল হলো ?? মামনি আমার রুমের এরকম অবস্থা কে করল ?? এই রুমে কি গরু ছাগল ছিল ?? রাগ উঠলে আমি যে কি বলি নিজেও জানি না। অনেক কথা বলছি।
এইবার ভুতুমটা আইসা বলল
-রুমে আমি ছিলাম এখন বল কি হইছে ??
- আপনি কেন আমার রুমে ঢুকছেন ??
- তোর রুম মানে, তুই থাকিস বলে তোর হয়ে গেল ?
-........
- এই কাঁদবি না বলে দিলাম।
- আমি থাকব না আমার বাসায় চলে যাব।
- কই যাবি তুই ??
-......
- আম্মা দেখেন আফরু কি করতেছে।
ভুতুমটা যখন অফিসে গেছে তখন মামনি কে বলে চলে আসছি।
অনেক বার ফোন দিছে ধরি নাই,
ধরব না কিছুতেই।
***********"**'
- এই এরকম হা করে আছিস ক্যান ??
- আআপনি এএই খানে ??
- তোর ফোনটা দে, তোর ফোন ইউজ করা লাগবে না ।
- আরে ছাদমান যে, কখন আসলা ? (ভাবী)
- এই তো মাত্র আসলাম, সবাই ভাল আছে তো ?
- হ্যা তোমরা কথা বল আমি আসছি।
- এই তুই কই যাস ?
- বস এইখানে, তুই এত ফাজিল কেন ??
আর না বইলা আসছস কেন ?
- আমি পানি খামু
- একটা থাপ্পর খাবি বলে দিলাম, আমি জানি তুই পানি খাবি না।
- এইটা আপনার বাসা না যে যা মন চায় তাই বলবেন, আমার খালা বাড়ি।
- তো কি আমারও ফুপু বাড়ি।
- হুম ওই ভাবে তাকাই রইছেন কেন ?
- কিছু না, তুই শাড়ী পরতে পারিস ?
আরে ধুর আর বইলেন না ভাবী জোর করে পরাইছে।
- হুম খারাপ লাগছে না, শাড়ীটায় খুব মানাইছে।
- আমি সুন্দরতো তাই। হি হি
- এই এত কথা বলিস কেন ?? একদম চুপ করে থাকবি।
- হাহ !!
,,
ভুতুমটা আসাতে খুব ভাল লাগছে। এত্তগুলা ছবি তুইলা দিছে।
এইখানে আমার একদম ভাল লাগে নাই।
সবাই আমাকে নিয়া কথা বলে, যারা এই কালের তার বলে " আহারে মা মরা মাইয়া, আর যারা বুড়ো তারা বলে, মাইয়াডা অওনের সময় মা ডারে খাইছে, কেউবা বলে, ওমা আলেয়ার মাইয়া তো অনেক বড় হইছে।
এই সব কথা একদম ভাল লাগে না। কি আর করার রাগ করে আসাতে এত দিন থাকা।
রাতে গানের আসর জমছে, ভুতুমটা যে কই।
হঠাৎ পিছনে তাকাই দেখি ভুতুমটা আমার পিছনে বইসা রইছে।
- কি গো আফরিন তুমি নাকি গান গাইতে পার ?
একটা গান শুনাও।
ভুতুমটার দিকে তাকাইলাম, ইশারায় বুঝিয়েছে গাইতে।
- ওই গানটা শুনা "" মমো চিত্তে""
"""""""""”"""""""""""""""""""""""""""
বাবা সবাই কি বাহবা দিচ্ছে, আমি কি বেশি ভাল গাইছি নাকি ??
ও মা গো ভুতুমটা ওই ভাবে তাকাই রইল কেন ???
রিবাকে আজ নিয়ে যাবে, বাড়িটা খুব সুন্দর করে সাজান হয়েছে।
সবাই হইচই করছে। আজ আমি কাল রং এর শাড়ী পরছি, কালো চুরি, কালো গলার টা কানের টা সব কালো। কালো রং টা আমার খুব ভাল লাগে।
তবে কালো ছেলে পছন্দ না, যদি কাল ছেলে বিয়ে হয় তাইলে আমার ছেলে, মেয়েও কাল হবে।
আর আমি চাই না আমার পুচকুরা কাল হোক। তাই কিউট একটা ছেলে বিয়ে করব। শাড়ী পরে হাটতে কষ্ট হলেও খারাপ লাগছে না। কেন জানি খুব ভাল লাগছে। সবাই কাজ করতেছে, বর পক্ষের লোকজন এসে পরছে।
আমি যে কার সাথে বসে কথা বলব তার উপায় নেই।
তাই বসে বসে মোবাইল টারে গুতাচ্ছি। এই মোবাইল হল আমার একাকীত্তের সঙ্গী। মোবাইলের যদি হাত থাকত তাইলে এতক্ষনে আমার অবস্থা খারাপ করত। হিহিহি..
- হাই আমি রাসেদ, বসতে পারি ??
- বসেন (মোবাইলের দিকে তাকিয়েই) বললাম
- আপনার নাম কি ?
- আমি আফফ..by tha রাস্তা কে আপনি ?
- রাস্তা মানে.??
- বলুন কি বলতে চাইছেন..?
- বললাম না আমি রাসেদ, বর এর কাজিন।
- ওহ !! আবার মোবাইল টিপায় মনযোগ দিলাম।
- আপনার বাবা কি করেন ??
- মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল, জানি না।
- মানে ???
- এই আফরু তুই এই খানে কি করস ???( ভুতুম)
- কিছু না।
- এই দিকে আয়।
- আমিও ভাল মেয়ের মত গেলাম।
- এইখানে বস।
- কি ওই ভাবে তাকাই রইছেন কেন ?
- কিছু না এই খানে বসে থাকবি কারো সাথে কথা বলবি না।
- আইচ্ছা !!
- আপনাকে খুব সুন্দর লাগছে।( রাসেদ)
- আপনি আবার এই খানে কেন.??
-এমনি শাড়ীতে খুব মানাইছে।
- এইসব বইলা লাভ নাই।
- কেন আপনার কি বিয়ে হইছে ?? আর এতক্ষন যে ছেলেটার সাথে কথা বলছিলেন সে আপনার কী হয় ? আপনার বর নাকি ?? ( রাসেদ)
- এইবার মেজাজটা খারাপ হইয়া গেছে, একা একাই এত কিছু ভাবছে, হায়রে মানুষ, হ্যা উনি আমার স্বামী হয়। এই বার যান এইখান থেকে।
- এই আফরু তোর প্রবলেম কি ??
- ভাই ভাবীর সাথে পরিচিত হইলাম। ভাবীরে খুব ভালোবাসেন বুঝি? আসলে ভাবীর গালে টোল দেইখাই বুঝতে পারছি। (রাসেদ)
- মানে ??
(ভুতুম)
- এই রে ভুতুম পেচা !!! লোকটা কি বলতেছে এইসব ।
- এই আপনি এত কথা বলছেন কেন যান বলছি।
- কি হইছে রে? তোরে ভাবী বলল কেন ??
- না মানে লোকটা বেশি কথা বলে,
- কি বলছে ???
- না মানে জানতে চাইছিল আপনি আমার কি হন!!
- আর তুই কি বলছস ?
- রাগ লাগছে খুব তাই বলছি আপনি আমার স্বামী হন।
- কি ???
- বিশ্বাস করুন আমি বলতে চাই নাই, মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে।
- তুই কি কখন ও সিরিয়াস হবি না ??
- এমন ভাবে তাকাচ্ছেন কেন ?? বললাম তো লোকটা আমার বাবার কথা জানতে চাইছিল, তাইতো রাগ করে বলছি।
- ঠিক আছে যা রেডি হ গিয়া একটু পর আমরাও রওনা দিব।
- কোথায়.????
- কোথায় আবার বাসায় যাওয়া লাগবে না ??
- না আমি যাব না।
- থাপ্পর দিয়া দাত ফালাই দিব।
- আপনার বাড়ি আমি কেন যাব ?
- আচ্ছা সরি এইবার চল দেরি হয়ে যাচ্ছে। আর শোন শাড়ী পইরাই চল, আর সাজা লাগবে না এমনিতে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
- আমি শাড়ী পরে হাটতে পারব না।
- কত টুকুই বা হাটবি সারাক্ষন তো বাসেই থাকবি।
- ঠিক আছে।
- ছাদমান আজ না গেলে হয় না বাবা ( খালু)
- না ফুপা আমার ছুটি শেষ, কাল জয়েন করতে হবে।
- আফরিন কে রাইখা যাও।
- না খালু আমার ও কলেজ খোলা।
- সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা দিলাম। গ্রামের রাস্তা অনেকটা হেটে তারপর রিক্সা নিতে হবে।
- ভুতুম পেচা..
- কি..??
- থুক্কু ছাদমান ভাই আপনারে বলছি আমি শাড়ী পরে হাটতে পারি না।
- এখন থেকে চেষ্টা করতে পারস না ?
- কেন..??
- কেন বিয়ের পর তো শাড়ী পরবি।
- না তো শাড়ী আমি পরতে ও পারি না, আর পইরা হাটতে পারি না।
- আরে একটু তারাতারি আয় না বাস চলে যাবে।
- আমি আর হাটতে পারব না।
- উফফ!!! দে হাত দে তোরে নিয়া যে কি হবে। ও ভাইজান আপনার মন মনে হয় আজ খুব ভাল।
- তুই এত কথা কিভাবে বলস রে।
- আপনিও চেষ্টা করতে পারেন..। হিহিহি..
আল্লাহ গো কত যে কষ্ট হইছে, এইবার শান্তি। অবশেষে বাসে উঠতে পারলাম।
- নে ধর এত ভার কেন ?? কী আছে এটার ভিতর ??
- কত্ত কিছু, আমার ক্ষিধা লাগছে।
- এই একটু আগে না খাইলি, আবার খাবি..??
- ঠিক আছে খাব না।
- চুপ থাক, দাড়া দেখি হকার আসে নাকি।
- আমি দাড়াতে পারব না।
- একটা থাপ্পর খাবি সবসময় ফাইজলামি না..??
- এইবার মুখে হাত দিয়ে রাখতে হবে, কখন কি মুখ ফসকে বেরিয়ে যাবে আল্লাহই জানে।
- এই উঠ আমরা চলে আসছি, এত ঘুমাস কিভাবে..?
- আল্লাহ আমি এত ঘুমাছি..যাক বাবা চলে আসলাম তাহলে।
মামনি ও মামনি কই তুমি কত দিন তোমারে দেখি না।
- ফাজিল মেয়ে এতদিন পর মামনির কথা মনে পরল..?
- ও মামনি রাগ কর কেন.?
- এই অনেক হইছে আর বলতে হবে না, এখন থেকে আবার পরতে হবে। ( ভুতুম)
- আল্লাহ তুমি তারে হেদায়েত কর।
অনেক দিন পর আরামছে একটা ঘুম দিলাম।
হটাৎ কান্নার আওয়াজে ঘুম ভাঙল, মা কান্না করে কেন, দৌড়ে কাছে গিয়ে দেখি মামা অসুস্ত হয়ে পরছে।
কি করব এখন, ভুতুম কে বলতে হবে। মোবাইল ও বন্ধ কি করব এখন..?
মামা এখন অনেকটা ভালো, আমি পেরেছি মামাকে হাসপাতাল আনতে।
আজ বাসায় মিটিং বসছে, ভুতুমের বিয়ে দিবে। মামা অসুস্থ হবার পর এই সিন্ধান্ত নিছে,
- আহা !! ভুতুমের বিয়ে কত মজা করব।
- কিন্তু ভুতুম আইসা বলল আগে আমাকে বিয়ে দিবে।
- কিছুতেই আমি বিয়ে করব না।
- তোরে আগে বিয়ে দিবো।
- না না না কিছুতেই আমি এখন বিয়ে করব না।
ঝগড়া দেখে মামা বলল তোরা থামবি..? আমার কথা তো শুনবি ? তোদের একসাথে বিয়ে দিব।
- মানে..??
- মানে আফরিনের আর তোর বিয়ে, তোর মা আর আমি অনেক দিন ধরে ভেবে রেখেছি।
- কি বলছ এসব আমি আফরু কে বিয়ে করতে পারব না।
- আমার কথাই শেষ কথা। ( মামা )
- আমি কি বলব এই প্রথম নিজের ভিতর গম্ভীর একটা ভাব আসল, মামার কথাও না শুনেও উপায় নাই। আমি কি করব বুঝতে পারছি না। নিজেকে বড় বড় লাগছে। কিভাবে যে কি হল বুঝতে পারি নাই।
- আমার আজ বিয়ে, ওই ভুতুমটা যে আমার বর হবে ভাবতেও পারি নাই। ফ্রেন্ডগুলা হাসিঠাট্টা করছে।
- এই ভারী ভারী গহনা পরে বসে আছি, আচ্ছা আমি বসে আছি কার আসায় ?
- ভুতুম তো আর বাচ্চা না যে তাকে ঘুম পারাতে হবে..??
- কিন্তু আমি উঠতে পারছি না কেন.? ভয় ?? নাতো আমি কেউকে ভয় পাই না, অমনি ভুতুমের আগমন!! ঘরে ঢুকে ভুতুমটা বলল, রাত অনেক হইছে এখন ঘুমা।
- ভুতুমটা শুয়ে পরছে, খুব মন খারাপ লাগছে কিন্তু কেন ? সবাই ঘুমাই পরছে আমার ঘুম আসছে না। ছাদে চলে আসলাম, এত কান্না পায় কেন..? সবকিছু নিরব, আকাশে অনেক তারা। শান্ত পরিবেশ, নিঝুম রাত মায়ের কথা খুব মনে পরছে। আকাশে তাকাই থাকতে ইচ্ছা করছে। আচ্ছা মা কি ওই আকাশে তারা হয়ে আছে.??
- মা ও মা তুমি কি দেখত পাচ্ছ আমাকে.?? আজ আমি অনেক বড় হইছি তাই না মা..,?
হটাৎ শীতল কারো হাতের ছোয়া..ঘুরে তাকালাম।
- ও ভুতুম আপনি !!
- কি রে মন খারাপ ??
- আচ্ছা ভুতুম মানুষ মারা গেলে কি ওই আকাশের তারা হয়ে যায় ??
- বাদ দে, এই কথা আর ফুপু যেখানে আল্লাহ যেন তাকে ভাল রাখেন।
আর হ্যা রাত অনেক হইছে এবার নিচে চল।
- ভুতুম এখন কি আপনি আমারে পরতে বলবেন ???
- হা হা হা !!! নারে বোকা মেয়ে চল।
- বাবা ভুতুম এত সুন্দর করে হাটতে পারে ??
সব কিছুই আগের মতই আছে কিন্তু আমি আর আগের মত নেই। ভুতুমটা যখন অফিসে থাকে তখন আর ভাল লাগে না। অপেক্ষায় থাকি কখন সে বাসায় আসবে। কিন্তু ভুতুমটা আগের মতই আছে।
- এই যে ছাদমান ভাই আমার মাথা ব্যাথা করছে।
- মাইর খাবি বলে দিলাম খালি পড়ার ফাকি দেওয়া তাই না ?
এই রে ৮ টা বেজে গেছে ভুতুমটার জন্য নাস্তা বানাতে হবে। মামনি থাকলে হাতে হাতে করে দিত। উঠতে যাব তখনি মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠল, সব কিছু অন্ধকার লাগছে।
শুধু এইটুকু শুনতে পেলাম এই আফরু তোর কি হইছে ?
- ভুতুম আপনি অফিসে যাবেন না, নাস্তা করতে হবে তো।
- এই মেয়ে তোর যে জ্বর আসছে একবারও বলছিস ??
- আপনি অফিসে যাবেন না ?
- না বউ ঘরে অসুস্থ থাকলে অফিসে কি মন বসে। ভুতুম আমাকে বউ বলেছে, আমি কি ঠিক শুনলাম।
- কি এই ভাবে তাকাই আছস কেন ? ৭ দিনের ছুটি নিছি অফিস থেকে। কি রে আমারে কি তোর স্বামি হিসাবে পছন্দ হয় না ??
- হুম
- শুধুই হুম ?
জানিস এত কিছুর মাঝে যে কিভাবে তোকে ভালোবেসে ফেলি বুঝতে পারি নাই। তুই যখন বাসা থেকে চলে গেছিলি, তখন তোকে খুব মিস করতাম। বুঝেছি তোকে ছাড়া আমি অচল। আর তখন তুই আমাকে ভয় পাচ্ছিলি। তাই আমি চাইছিলাম যখন তুই আমাকে ভালবাসবি তখন তোকে বলব। তোর চোখে আমি ভয় না ভালবাসা দেখতে চাইছি। এখন আমি জানি আমার বউটাও এখন আমাকে ভালোবাসে।
কী ঠিক বলছি তো ???
- শয়তান, বান্দর কুত্তা, বিড়াল, ভুতুম পেচা আগে বললে কি হত।
- এই ছাড় বলছি, তোর গায়ে এত জোর ??
- ছাড়ব না বাদর বর আমার।
এই এই এই আমার বান্ধবী রিমির সাথে আপনি মোটেও কথা বলবেন না।
- কেন কি হইছে ??
- নাহ কিছু কথা না জানাই ভাল।
নিরব অনুভূতি
..........................
ভার্সিটির ক্লাস শেষে বের হতেই দেখি আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। মনে হচ্ছে প্রচণ্ড বৃষ্টি হবে। এই আবহাওয়াটা যদিও আমার খুব ভাল লাগে। কিন্তু তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরার তাড়া মাথায় নিয়ে রওনা হতেই ঝমঝম করে বৃষ্টি শুরু হল।
এই রেহ! ছাতাই তো আনিনি। তাই আর এগিয়েও লাভ নেই। আবার ভার্সিটিতে গিয়ে ঢুকলাম।
কোথায় যাব ভাবছি। হঠাৎ মনে হল, আরে ক্লাসে যাচ্ছি না কেন? যেই ভাবা, সেই কাজ।
কিন্তু ক্লাসে গিয়েই আমি অবাকের চেয়েও বেশি অবাক হলাম। অবশ্য হাসিও পাচ্ছে খুব! একটা মেয়ের কান্না দেখে যদিও আমার মত ছেলের হাসি পাওয়ার কথা না। তবুও হাসি চাপাতে পারছি না!
--কিরে অরণী, কাঁদছিস কেন?
কোনো রকমে হাসি চাপিয়ে অরণীকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম।
অরণী আমার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। কারণ অরণীর সাথে সাধারণত কেউ কথা বলে না! টানা দুই বছর একসাথে ক্লাস করার পরও আমিও তো ওর সাথে কোনোদিন কথা বলিনি! অবশ্য ও বড়লোকের মেয়ে বলে অনেকে ওর সাথে ভাব জমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তারা কেউই অরণীর সত্যিকারের বন্ধু না।
--জানিস তূর্য, আমাকে না রাজ অনেক বাজে বাজে কথা শুনিয়েছে! আমি এখন কি করব বলতো?
এতক্ষণে আমি অরণীর কান্নার অর্থ খুঁজে পেলাম। রাজ আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে স্মার্ট ছেলে। কথাবার্তায়, চালচলনে কেউই ওর সমান হতে পারবে না। আর অনেক ধনীও।
আমি ভার্সিটির সেই প্রথম দিন থেকেই দেখছি, অরণী রাজের পিছনে ঘুরছে। রাজ ওকে তো পাত্তা দিচ্ছেই না, উল্টো যা নয় তাই বলে যায়। ইচ্ছে মত ওকে দিয়ে এটা ওটা করিয়ে নিচ্ছে। ক্লাসের যত এ্যাসাইনম্যান্ট আছে, সব তো অরণীই ওকে করে দেয়। তারপরেও মেয়েটাকে বাজেভাবে গালিগালাজ করে রাজ। শুধু অরণী বোকাসোকা আনস্মার্ট একটা মেয়ে বলে। রাজ পারেও বটে!
রাজকেও অবশ্য দোষ দেওয়া যায় না। ও আমাদের ক্লাসেরই সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে অর্পাকে পছন্দ করে। অর্পা আর রাজকে প্রায়ই একসাথে ঘুরতে, আড্ডা দিতে দেখা যায়। তারপরেও দেখছি অরণী হাল ছাড়েনি!
--কি বলল রাজ তোকে আজকে?
--আমি আজকে রাজকে আমার মনের কথা, আমার ফিলিংসের কথা সব বলেছি। কিন্তু ও আমাকে কি বলল জানিস?
বলেই আবার ফোঁপাতে শুরু করল অরণী।
--আরে বলনা! এত নাটক করছিস কেন?
--ও বলেছে, কোনোদিন পেঁচা দেখেছ? আয়নায় গিয়ে দেখ, তাহলেই দেখতে পাবে! বলে ও আর ওর বন্ধুরা সবাই মিলে হাসাহাসি করেছে।
এই বলে অরণী আবার কাঁদতে শুরু করল। আমি ওর দিকে তাকিয়ে হাসি চাপিয়ে বললাম,
--আসলে কি হয়েছে জানিস? আমরা সবাই সবসময় সোনার হরিণের পিছনে ছুটতে থাকি। যা আমার কোনোদিনই হবার নয়, তার দিকেই হাত বাড়াই। আমাকেই ধর, আমি ভার্সিটির প্রথম দিন থেকেই অর্পার উপরে ক্রাশ খেয়েছিলাম। তারপর আস্তে আস্তে যখন দিন গেল, তখন নিজে থেকেই বুঝলাম, ওর পিছনে ছুটে লাভ নেই। তাইতো এখন আর ওকে নিয়ে কোন ফিলিংস কাজ করে না।
--কিন্তু আমি যে রাজকে সত্যিই খুব ভালবাসি। আমি ওকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারি না..
আমি আর হাসি ঠেকিয়ে রাখতে পারলাম না। হাসতে হাসতেই বললাম,
--তাহলে তো তোকে ম্যাডাম ফুলির মত চেঞ্জ হতে হবে। অর্পার মত না হলে তো রাজ তোর দিকে ফিরেও তাকাবে না..
আমার কথায় দেখলাম অরণীর চোখ চকচক করছে! আমাকে জিজ্ঞেস করল,
--কিভাবে নিজেকে চেঞ্জ করব? বলনা!
আমার হাসি এবার আর থামছে না। মেয়েটা আমার মজাকেও যে সত্যি ভাববে, তা কে জানত?
কতক্ষণ হাসার পর খুব সিরিয়াস লুক নিয়ে বললাম,
--তোর গেট আপে চেঞ্জ আনতে হবে! তোর এই খ্যাত মোটা ফ্রেমের চশমা আর এই অতি সাধারণ লুক, সব বদলাতে হবে।
আমি এবার অরণীর দিকে ভাল করে তাকিয়ে বললাম,
--তোর চেহারা তো ঠিকই আছে, গায়ের রঙও ভাল। কিন্তু তুই তো একটু সাজিসও না। আর এত লম্বা চুলে বেণী করিস কেন? আসলেই তুই একটা খ্যাতের ডিব্বা!
--আচ্ছা, এগুলো চেঞ্জ করার জন্য কি কি লাগে?
আমি এবার আরও সিরিয়াস লুক নিয়ে বললাম,
--সাইকিয়াট্রিস্ট আর ফ্যাশন ডিজাইনার!
এবার আমার হাসি আর কোনো বাধাই মানল না। আমি হো হো করে হেসে উঠলাম।
--সাইকিয়াট্রিস্ট আর ফ্যাশন ডিজাইনার? ওরা কি করবে?
--ওরা তোর এই বোকা বোকা ভাব আর বোকা বোকা চেহারা চেঞ্জ করবে। বুদ্ধু কোথাকার!
বৃষ্টি থেমেছে। তাই আমি ওখানে বসে থেকে মেয়েটার বোকা বোকা কথা আর শুনতে চাইলাম না। অরণীকে ওখানে বোকার মত চিন্তিত অবস্থায় বসিয়ে রেখেই আমি হাসতে হাসতে চলে এলাম।
কয়েকদিন পর।
অরণী এখন রাজের পিছনে না, বরং আমার পিছনে ঘুরছে। আর সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে। আমার মনে হচ্ছে আমি উটপাখির মত গর্তে মাথা দিয়ে মাটি চাপা দেই! কি যে করব কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।
ক্লাসের সবাই ভাবছে, অরণী এখন রাজকে ছেড়ে আমাকে ধরেছে। সুমন তো সরাসরি বলেই বসল,
--তূর্য, তোর তো দারুণ লাভ হয়েছে রে দোস্ত!
--কেন দোস্ত?
--আরে ব্যাটা আগে মিষ্টি তো খাওয়া!
--কারণ না বললে মিষ্টি খাওয়াব কিভাবে?
--আরে ব্যাটা এত ধনী একটা মেয়েকে পটাইলি, এখন তো তুই সোনায় সোহাগা!
--ধনী আবার কে?
--আরে আমাদের ক্লাসের ধলা চশমা, অরণী!
--ফালতু কথা বাদ দে। আমি গেলাম।
বলে না হয় ওর কাছ থেকে ছোটা গেল, কিন্তু ক্লাসের বাকিরা? ওদের কাছ থেকে কিভাবে পালাব? কি বলব ওদেরকে?
আজকে আবার অরণী আমার কাছে এসেছে। আজকে আর পালালাম না। যা হয় হবে,ওর মুখোমুখি হলাম।
-- কি চাস তুই?
--এতবার তোকে ডাকি, তোর কি কানেও ঢোকে না নাকি? কানে তুলো দিয়ে রেখেছিস?
--আমি কানে ভালই শুনি। কি বলবি সরাসরি বল।
--সরাসরি বলার জন্যই তো তোর পিছনে এতদিন ঘুরছি!
--আরে বলনা!
--তুই যে সাইকিয়াট্রিস্ট আর ফ্যাশন ডিজাইনারের কথা বলেছিলি, ইটা একটু খুলে বল।
--আগে বল, আমি তোকে এই ব্যাপারে সাহায্য করলে তুই আমাকে আমার ব্যাপারে সাহায্য করবি?
--আচ্ছা করব।
--শোন, আমি যেটা এতদিনে বুঝেছি, তা হল, তোর সবকিছুতেই স্মার্টনেসের অভাব আছে। তোর চলাফেরা, কথাবার্তায় চেঞ্জ আনার জন্য একটা সাইকিয়াট্রিস্ট আর গেট আপে চেঞ্জ আনার জন্য একটা ফ্যাশন ডিজাইনার লাগবে। এটাই আমি সেদিন বলেছিলাম।
কোনোমতে একটা কিছু অরণীকে বুঝিয়ে দিলাম। কারণ আমার এখন দরকার ওর কাছ থেকে দূরে থাকা আর ক্লাসমেটদের বিরক্তিকর হাসাহাসি থেকে বাঁচা।
অরণী আমার কথা শুনে বলল,
--সেটা নাহয় বুঝলাম। আমার পরিচিত একজন সাইকিয়াট্রিস্ট আছে। কিন্তু ফ্যাশন ডিজাইনার কোথায় পাই?
এবার আমি পকেট থেকে আমার চেনাজানা এক আপুর কার্ড বের করে অরণীর হাতে ধরিয়ে দিলাম। আমার চেনাজানা সবার কার্ড আমি সবসময় পকেটেই রাখি।
অরণী আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসল। আমি এতদিনে ওর হাসি দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। মেয়েটার হাসিটা তো খুব সুন্দর! একেবারে যেন বুকে গিয়ে বিঁধে। আমি অরণীর দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি, হঠাৎ শুনলাম ও বলছে,
--কিরে, কিছু বলছিস না যে?
আমি বাস্তবে ফিরে এসে বললাম,
--কি বলব?
--জিজ্ঞেস করছিলাম, তোকে কি ব্যাপারে যেন সাহায্য করার কথা বলছিলি। কাজটা কি?
--ও, হ্যা। কাজটা হল, এই এক বছর তুই আমার সামনে ভার্সিটিতে আসতে পারবি না। কোনো দরকার হলে ফোনে কথা বলবি, কিন্তু সবার সামনে কথা বলতে পারবি না। দেখছিসই তো, সবাই আমাদেরকে নিয়ে উল্টাপাল্টা গুজব ছড়ায়, এতে তোরই ক্ষতি হবে।
--আচ্ছা ঠিক আছে। আর কিছু?
--আমার জন্য এইটুকু করলেই চলবে।
বলে আমার মোবাইল নাম্বারটা অরণীর হাতে দিয়ে চলে আসলাম।
রাতে হঠাৎ দেখি আমার মোবাইলে অচেনা নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে। তাতে লেখা-
'তুই কি সত্যিই মনে করিস আমি চেঞ্জ হতে পারব?-অরণী'।
কেন যেন ওর প্রতি খুব মায়া হল। মনে হল মেয়েটাকে সাহস দেই। এই মূহুর্তে ওর সাহসের খুব দরকার। আমি ওকে সাহস দিয়ে মেসেজ পাঠালাম, 'আমার বিশ্বাস, তুই একদিন নিজেকে চেঞ্জ করে খুব সহজেই রাজের মনে জায়গা করে নিবি। তখন দেখবি, তুই না, রাজই তোর পিছে পিছে ঘুরবে!'
অরণী রিপ্লাই দিল, 'আমার এই বিপদের সময় তোর মত একজন ভাল ফ্রেন্ডের সাহসই আমার খুব দরকার ছিল রে।'
এরপরের দিন থেকে অবাক হয়ে লক্ষ করলাম, ক্লাসে স্যার অরণীর রোল ডাকলে একটা বোরকা পড়া মেয়ে এটেনডেন্স দেয়। বুঝলাম, আমার সাথে যাতে দেখা না হয়, তাই অরণী বোরকা পড়া শুরু করেছে! আমি সেদিন বাসায় ফিরে অনেক হাসলাম। এত সহজ সরল মেয়ে আসলে আমি আমার জীবনে এই পর্যন্ত দেখিনি!
এর কয়েকদিন পর দেখি অরণী আর কারো সাথেই মিশছে না! সবার থেকেই আলাদা হয়ে চলছে। তিন্নি ওর খুব ভাল ফ্রেন্ড। ওকে জিজ্ঞেস করতেই ও রেগে বলল,
--ওই ম্যাডাম ফুলির কথা বলছিস? ওকে তো এতদিন আমরা ভালমত চিনতেই পারিনি যে, ও এত দেমাগি! কি হয়েছে জানিস?
--কি হয়েছে?
--অরণী সেদিন এসে আমাদেরকে বলেছে, ও নাকি নিজেকে চেঞ্জ করে ম্যাডাম ফুলি হবে! আমরা কি বলব? হাসতে হাসতেই গড়াগড়ি খাচ্ছি। বললাম, যা কখনো সম্ভব না, তা করার চেষ্টাও করিস না, পস্তাবি। আর তুই হবি চেঞ্জ? আয়নায় নিজের চেহারা দেখেছিস? ও তখন কি বলল জানিস?
--কি বলল?
--ও বলল যে, আমরা নাকি কেউই ওর দুঃসময়ের বন্ধু না। বলে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল! ন্যাকা একটা।
আমি তিন্নির কথা শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। বুঝতে আর বাকি রইল না, অরণী নিজেকে পরিবর্তন করার জন্য সবকিছু বিসর্জন দিচ্ছে! কেন যেন এই ভেবে অরণীর জন্য মন খারাপ হতে লাগল যে, এখন থেকে ওকে পুরো একাই চলাফেরা করতে হবে!
একবছর পর।
এত তাড়াতাড়ি যে কিভাবে একবছর পার হয়ে গেল টেরই পেলাম না! এই বছরটায় অনেক ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি। অবশ্য এই ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও বারবার কেন যেন অরণীর কথা খুব মনে হয়েছে! ওর সরলতা, প্রথম খেয়াল করা সেই মিষ্টি হাসি, ওর বোকা বোকা কথা, সবকিছুই বারবার মনে পড়তে লাগল। অরণীর এই এক বছরের পুরো একাকিত্বকে ভেবে কেন যেন ওর প্রতি আমার মায়া হতে লাগল।
এই এক বছরে যে অরণীর সাথে একেবারেই যোগাযোগ বন্ধ ছিল, তা না। প্রায়ই ওর খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে, সরাসরি না। টেক্সট করে। ওকে সাহস যুগিয়েছি, ওর হতাশা কাটানোর চেষ্টা করেছি। মাঝে মাঝে ওকে মজার কথা বলে হাসানোরও চেষ্টা করেছি। অরণীও কোনো সমস্যায় পড়লে আমাকে মেসেজ দিত।
আজ ভার্সিটি বন্ধ। তাই টিউশনি করানোর জন্য বিকালে বের হচ্ছি, হঠাৎ দেখি মোবাইলে অরণীর মেসেজ এসেছে। সেখানে লেখা-
'এক বছর পর এখন তো আর তোর আমার সাথে সরাসরি দেখা করতে বা কথা বলতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না!'
আমি এর রিপ্লাইয়ে 'না' লিখে পাঠিয়ে দিলাম। এরপর আর কোনো মেসেজই আসল না!
দুইদিন পর।
আজ ভার্সিটিতে গিয়ে দেখি একটা নতুন মেয়ে আমাদের ক্লাসে এসেছে! কিন্তু ভার্সিটির কোর্সের মাঝখানে কিভাবে নতুন স্টুডেন্ট ভর্তি হতে পারে, তা আমার মাথায় ঢুকল না। আর এই নতুন মেয়ের চেহারার সাথে কার যে চেহারার খুব মিল আছে, তাও মনে করতে পারছি না!
সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে এই মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে। সবার মনেই হয়তবা একই প্রশ্ন, কে এই স্মার্ট মেয়েটা যে আমাদের ক্লাসের অর্পাকেও হার মানিয়েছে!
স্যার ক্লাসে এসে যখন রোল ডাকছেন, সবাই খুব সাগ্রহে মেয়েটার রোলের জন্য অপেক্ষা করছিল। স্যার অরণীর রোল ডাকতেই মেয়েটা এটেনডেন্স দিল! সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। আর আমি এতক্ষণে খেয়াল করলাম, হ্যা, এটাই তো সেই অরণী!ও যাই চেঞ্জ করুক, ওর তো চেহারার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ক্লাস শেষে আমি বের হয়ে যাচ্ছি, দেখি অরণী আমাকে পিছন থেকে ডাকছে।
--এই তূর্য, একটু দাঁড়া।
আমি পিছন ফিরে বললাম,
--কি বলবি বল।
--আমি তোর সাথে বাসায় যাব। আমাকে বাসায় পৌঁছে দিতে পারবি না?
আমি চারদিকে তাকিয়ে দেখলাম, আজকেও সেই এক বছর আগের মতই সবার দৃষ্টি আমার দিকে। কিন্তু সে দৃষ্টিতে এখন আর আগের মত বিদ্রূপ নেই, আছে হিংসা।
আমি অরণীকে কিছু বলতে যাব, সেই মূহুর্তে দেখি, রাজ অরণীকে ডাকছে! অরণী প্রায় না শোনার ভান করে আমাকে টেনে নিয়ে সেখান থেকে চলে গেল।
এরপরের দিনগুলো থেকে দেখা গেল, অরণী সারাক্ষণ আমার সাথেই থাকে! ক্লাসের সবাই এখন ওকে ফ্রেন্ড বানাতে চায়, ওর সাথে মিশতে চায়, কিন্তু ও কাউকেই পাত্তা দেয় না। এর মধ্যে অনেকে ওকে প্রপোজও করে ফেলেছে। কিন্তু ও সারাক্ষণ আমার সাথেই আঠার মত লেগে থাকে। আর সবাই আমার দিকে হিংসুটে চোখে তাকায়। আমার অবশ্য ভালই লাগে! কেন যেন মাঝে মাঝে মনে হয়, ও যদি সবসময়ের জন্য এভাবেই আমার সাথে আঠার মত লেগে থাকত! কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামাল দেই। এটা কখনওই হওয়ার নয়। একে তো আমি মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির, তার ওপরে আবার রাজের জন্যই অরণী নিজেকে পরিবর্তন করেছে। সে রাজকেই পছন্দ করবে, আমাকে কখনোই করবে না।
তিন সপ্তাহ পর।
রাজ এতদিন অরণীকে কিছু বলার সু্যোগ পায়নি। কারণ রাজ ডাকলেই অরণী আমাকে নিয়ে প্রায় কোনোরকমে পালিয়েছে! আজকে আর রাজের সহ্য হল না। অরণী বের হওয়ার আগেই রাজ বের হয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে রইল। যেই অরণী বাইরে বের হয়েছে, অমনি রাজ তার হাত ধরে বলল,
--চল আমার সাথে।
অরণী বলল, যাব কিন্তু আমার সাথে তূর্যও যাবে!
বলে আমার হাত ধরে প্রায় টানতে টানতে রাজ যেখানে অরণীকে নিয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে নিয়ে চলল। তারপর রাজকে বলল,
--এবার যা বলার বল, তূর্যকে সামনে রেখেই তোমাকে বলতে হবে।
রাজ আমার দিকে ক্ষুব্ধ দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে তারপর বলল,
--আমি তোমাকে খুব ভালবাসি। তুমি কি আমাকে এখনো আগের মত ভালবাসো?
রাজের কথা শুনে প্রথমদিকে অরণী না করে দিল। কিন্তু রাজ অনেক কাকুতিমিনতি করার পর অরণী শেষ পর্যন্ত রাজি হল।
আমি এরপর বাসায় ফিরে আসলাম। কিন্তু এক অদ্ভুত অনুভূতিতে নিজেকে আবিষ্কার করলাম! রাজের সাথে অরণীর এই প্রেম হয়ে যাওয়ায় আমি খুশিও হলাম, আবার কেমন যেন কষ্টও আমাকে কুড়ে খাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, আমার কি যেন হারিয়ে গেছে! খুব শূন্য শূন্য লাগছে সবকিছু। আমি কি তাহলে সেদিনই অরণীর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম, যেদিন প্রথম ওর মিষ্টি হাসিটা খেয়াল করেছিলাম? কিন্তু এখন আর বুঝে কি হবে? আমি তো এতদিন নিজেই নিজেকে বুঝতে পারিনি! যা হওয়ার সব তো হয়েই গেছে। সব শেষ এখন আমার!
অরণীকে এখন প্রতিদিনই রাজের সাথে বের হতে দেখি। আমাকে সময় দেয় না, তা না। ক্লাসে সারাক্ষণ আমার সাথেই থাকে, আর ক্লাসের পর রাজের সাথে। কিন্তু আমার সবসময় মনে হয়, আমার সাথে অরণীর কাটানো সময়গুলো খুব তাড়াতাড়িই কেটে যায়! এখনো প্রতিদিন অরণীর সাথে মেসেজের মাধ্যমে কথা হয়। ও আমাকে প্রায়ই বলে একটা সুন্দর মেয়ে দেখে প্রেম বা বিয়ে করে ফেলতে। কিন্তু আমি তো ওর মাঝেই আটকে গেছি। অরণীই যে আমার প্রথম আর সত্যিকারের প্রেম, তা কি আমি তাকে কখনো বলতে পারব? নাকি নিজের মধ্যে চেপে রেখেই আস্তে আস্তে নিজেকে নিঃশেষ করে দেব?
এক বছর পর।
আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারি। সবাই যার যার ভালবাসার মাঝে আজ সুখ খুঁজে নিচ্ছে! কিন্তু আমি যাচ্ছি অরণীর বাসায় অরণীর দাওয়াতে। সবাইকেই ও আজকে দাওয়াত দিয়েছে। অরণীর বাবা মা নাকি ওকে চাপ দিচ্ছে বিয়ে করার জন্য। তাই সে আজ সবাইকে ডেকেছে যাতে সবার সামনে রাজের সাথে ওর রিলেশনশিপের কথা এনাউন্স করতে পারে। আমি প্রথমে যেতে চাইনি। কি দরকার আমার কাটা ঘায়ে আরও নুনের ছিটা লাগানোর? কিন্তু শেষ পর্যন্ত অরণীর অনুরোধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।
অরণীদের বাসায় গিয়ে একটা ধাক্কা খেলাম। এত সুন্দর গোছগাছ বাসা আমি খুব কমই দেখেছি! বাসাটায় ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ অরণীকে দেখতে পেলাম। এত সুন্দর লাগছে ওকে যে আমি চোখই ফেরাতে পারছি না ওর দিক থেকে! এখন আর সেই মোটা ফ্রেমের চশমা ওর চোখে নেই, তার পরিবর্তে এখন লেন্স পরে। শাড়ি পরে খুব সুন্দর করে খোঁপা করে খোঁপায় ফুল গুঁজেছে! এতেই এত অপূর্ব লাগছে ওকে!
আমাকে দেখেই অরণী তার চিরচেনা সেই মিষ্টি হাসিটা আমাকে উপহার দিল, যেটা দেখেই আমি প্রথম ওর প্রতি দূর্বল হয়ে পড়েছিলাম।
আমিও অরণীর দিকে তাকিয়ে মলিন হাসি হাসলাম।
তারপর ওর বাবা মা এল সবাইকে আপ্যায়ন করতে। খুব হাসিখুশি তাঁরা। মেয়ের পছন্দকেই উনারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
একটু পরেই অরণী এল। পাশেই রাজ দাঁড়িয়ে আছে। সে এসে বলল,
--আজকে ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ভালবাসা দিবস। আর তাই আজকেই আমি আমার পছন্দের মানুষের কথা সবাইকে বলতে চাই, যাকে আমি বিয়ে করব বলে ঠিক করেছি। যাকে আমি আমার একাকিত্বের সেই এক বছরে চিনতে পেরেছি, বুঝতে পেরেছি যে তাকেই আমার দরকার! তার চেয়ে যোগ্য আর ভাল ছেলে হয়তবা আমার জন্য কেউই হবে না। যার উৎসাহ প্রদানের জন্যই এতদূর অতিক্রম করে আমি নিজেকে জানতে পেরেছি, নিজের মাঝে পরিবর্তন আনতে পেরেছি। যার হয়ত টাকা নেই কিন্তু মেধা আছে, মানুষকে উপকারের মন আছে..
অরণীর কথাগুলো আমি শুনতে পাচ্ছি কিনা তাও টের পাচ্ছি না, নিচের দিকে তাকিয়ে আছি আর প্রমাদ গুনছি। আর কিছুক্ষণ পরেই আমার অরণী আর আমার থাকবে না। রাজের সাথে সুখের সংসার করবে সে, সাথে থাকবে সুন্দর ফুটফুটে বাচ্চা। আর চিন্তা করতে পারছি না আমি, চলে যাব ভাবছি। কিন্তু এখন এতজনের সামনে থেকে কি চলে যাওয়া ঠিক হবে?
অরণী আবার বলতে শুরু করল,
--কেউ জানতে চাইবেন না এত কেয়ারিং সে ছেলেটা কে? সে হল আমাদের ভার্সিটিতে আমার ক্লাসেই পড়ুয়া তূর্য! আমি তাকেই ভালবাসি।
আমি অরণীর কথা শুনে যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না! কিন্তু অরণী আমার দিকে তাকিয়েই মিষ্টি হেসে বলতে লাগল,
--তুমি নিশ্চয়ই ভেবেছিলে আমি রাজকে ভালবাসি? কিন্তু তুমি ভুল ভেবেছ! আমি রাজকে ওভাবে ভালবাসতে পারিনি যেভাবে তোমাকে ওই একটা বছর ভালবাসা শুরু করেছিলাম! আমি যখন থেকে মানুষ চিনতে শিখেছি, তখনই বুঝেছি, রাজ নয়, তুমিই আমার যোগ্য। রাজ কখনোই আমার প্রেমে পড়েনি, পড়েছে আমার স্মার্টনেসের প্রেমে। আর এটা তো রাস্তার অহরহ ছেলেরাই পড়ে। কিন্তু তুমি ছিলে আমার বিপদে সাহস যোগানোর সত্যিকারের বন্ধু। আমি আমার সেই একাকিত্বের এক বছরেই তোমার প্রেমে পড়েছি, তূর্য। তোমার কি এর বিরুদ্ধে কোনো অবজেকশন আছে?
আমি হাসতে হাসতে মাথা নেড়ে 'না' বোঝালাম। এই বোকা মেয়েটা যে কখন আমাকে ভালবেসেছে, আমি টেরই পাইনি!
আর রাজ? সে তো আমার দিকে তার ক্ষুব্ধ দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে আছে! মনে হচ্ছে আমাকে হাতের কাছে পেলে সে আস্ত চিবিয়ে খাবে!
অরণী এসে আমাকে বলল,
--কি হল? চুপ করে দাঁড়িয়ে আছ কেন? কিছু তো বল!
আমি আনন্দে কি বলব খুঁজে না পেয়ে বললাম,
--তুই আমাকে তুমি করে বললি যে?
--এখন থেকে তুমিও তাই করবে। কারণ আগামী মাসেই আমাদের বিয়ে হবে! বউকে নিশ্চয় ফ্রেন্ডের মত তুই করে ডাকতে পারবে না! ডাকলে তা বেমানান লাগবে।
--কিন্তু আমি কি তোমাকে সুখী করতে পারব?
--সুখ কি শুধুই টাকা-পয়সা দিয়ে হয়? তুমি আমার পাশে থাকলে আমি এমনিতেই সুখী হব। আর বাবা মা তো আমি যাকেই বিয়ে করি না কেন, তাতেই রাজি। কারণ উনারা আমাকে বিশ্বাস করেন। আর আমি তোমাকে।
--আমি কখনোই তোমার বিশ্বাস ভাঙব না, দেখো।
বলে অরণীকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।
তিন বছর পর।
--কি ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব, একটু তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে পারেন না? জানেন না, আপনি দেরি করে বাসায় ফিরলে বাবু রাগ করে!
অভিমানী গলায় অরণীর কথা শুনে হেসে বললাম,
--বাবু রাগ করে নাকি বাবুর মা রাগ করে?
--দুজনেই!
--তাহলে তো রাগ ভাঙাতেই হয়। কিভাবে ভাঙাব?
--যদি বাবুর বাবা সারাক্ষণ বাবুর মায়ের পাশে থাকে তাহলে দুজনেরই রাগ ভাঙবে।
--আছি তো, সারাজীবন থাকব।
বলে অরণীর দিকে তাকালাম। অরণী আমার দিকে তাকিয়ে সেই মিষ্টি হাসি হাসল। যা দেখার জন্য আমি প্রতিনিয়ত ওকে খুশিতে রাখার প্রচেষ্টায় থাকি।
এই তিন বছরে অনেক কিছু ঘটেছে আমাদের জীবনে, আর সবই সুখের ঘটনা। অরণী আমার জীবনে আসার পর থেকে যেন সুখে ভরে যাচ্ছে জীবন!
আমি ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছি। খুব ভাল বেতন পাই, আর সম্মানও। আর আমার অরণীও কম যায় না! সে এখন একটা কলেজের প্রফেসর। আমাদের এই সুখের সংসারে একটা নতুন অতিথি আসতে চলেছে! এর চেয়ে আনন্দের খবর আর আমার কাছে নেই। সবাই তাই আমাদের সবার জন্য, বিশেষ করে আমাদের বাবুটার জন্য দোয়া করবেন। ও যেন ওর মায়ের মতই সাহসী আর আত্নবিশ্বাসী হতে পারে।।।
তুমি কি আমার বউ হবে ৩
পর্ব:৩ (শেষ)
যেই কান্না কেউ বুঝে না সেই কান্না কারও দেখে লাভ নেই। ----------------------------------------- কাদায় কেডস জুতা জোড়া একেবারে শেষ। বৃষ্টির দিন । একটা স্যান্ডেল পরে চলে আসবে। না, কি সব কেডস পরে আসতে হবে স্মার্ট হবার জন্য। জিন্স এর প্যান্টটা পায়ের কাছ দিয়ে ভিজে গেছে অনেক খানি। পিছন দিক দিয়ে কাদার ছিটেও আছে। জিন্স ফোল্ড করা যাবে না। প্রিয়তির মানা আছে। জিন্স ফোল্ড করলে নাকি কামলা কামলা লাগে। আরে কামলা কি জিন্স পরে কাজ করে? ওরা তো লুঙ্গি পরে। কে বুঝাবে কাকে। শরীরে কড়া বডি স্প্রে দিয়ে এসেছে আজ গালিব। কেমন বমি আসছে গন্ধে নিজেরই। আজ নিশ্চয় প্রিয়তি কোন ভুল ধরতে পারবে না। আনস্মার্ট বলতে পারবে না। এই বৃষ্টির মধ্যেও প্রিয়তি এসে দাঁড়িয়ে আসে। মাথায় ছাতা। একটা ড্রেস পরা। হালকা গোলাপি কালারের। সালওয়ার কামিজ না তাই নাম জানেনা ড্রেসটার গালিব। সামনে এসে ছাতা মাথায় দাঁড়াল গালিব। আজ স্মার্ট হয়ে এসেছে তাই মনটা অনেক খুশি গালিবের। যতগুলো সম্ভব দাঁত বের করে হাসি দিল গালিব। প্রিয়তি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে গালিবের দিকে। মনে মনে খুব খুশি গালিব। একটু একটু লজ্জাও করছে। কিভাবে দেখছে মেয়েটা। - এসবের মানে কি? তুমি এমন সং সেজে আসছ কেন? - কেন কি হইছে? - এই বৃষ্টির মধ্যে চোখে ঐটা কি লাগিয়ে রাখছ। খোল ঐটা। গালিব rain glass বা sun glass টা খুলে হাতে নিল। - জুতার কি অবস্থা কাদা দিয়ে। প্যান্টে কাদা। চুল বানিয়ে আসছ সজারুর মতন। you are just looking like a joker. গালিবের হাসি মাখা মুখটা মলিন হয়ে গেল। ও বলল- তুমিই না বলছ স্মার্ট হতে। আমি কি করব? আমি তোমাকে ভালবাসি। তুমি যেভাবে বলছ আমি তো সেভাবেই চলছি। - এই তোমার স্মার্টনেস? - হ্যাঁ, আর কিভাবে হব? - ও unbearable. তোমার সাথে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব না। একটা মানুষ এত বিরক্তিকর হয় কি করে। যাও আমার সামনে থেকে তুমি যাও। যেদিন স্মার্ট হতে পারবা সেদিন আমার সামনে আসবা। - আমি এখন তাহলে স্মার্ট না? - আমার মাথা। এমন একটা সং এর সাথে আমি ঘুরতে পারব না।থাকতে পারব না। আমি তোমাকে সময় দিচ্ছি, তুমি স্মার্ট হবা তারপর আমার সাথে দেখা করবা। আমার সামনে থেকে যাও তো তুমি। - এমন করছ কেন তুমি? - ওকে। তুমি যাবা না? আমিই যাচ্ছি। যদি পার নিজেকে পরিবর্তন কইর। এমন থাকলে কোন মেয়েই জুটবে না কপালে। প্রিয়তি চলে যাচ্ছে ছাতা মাথায় দিয়ে বৃষ্টি ভেঙ্গে। গালিব তাকিয়ে দেখছে। ফিরিয়ে আনার সাধ্য নেই ওর। কষ্ট হচ্ছে হয়ত। বুঝতে পারছে না। খুব অসহায় লাগছে নিজেকে। এত কিছু করল তাও মনের মত হতে পারল না গালিব। কষ্ট ভুলে থাকার জন্য কিছু করতে হবে। কিছুই মাথায় আসছে না। বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে গালিব। ছাতাটা ফেলে দিয়েছে। ঐ ছোট্ট ছাতার কোন দরকার নেই। এর চেয়ে বাবার ছাতা অনেক ভাল। চুল গুলো এলোমেলো করে ফেলল। জুতা খুলে হাতে নিয়ে জিন্সটা ফোল্ড করল। ভাল লাগছে এখন হাঁটতে। হঠাৎ মাথায় আসল আচ্ছা এখন এই পার্কের মধ্যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট করলে কেমন হয়? বৃষ্টির মধ্যে কেউ খেয়াল করবে না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট করছে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে গালিব। প্রিয়তি হারানোর কষ্ট খুব সহজেই চলে যাচ্ছে যতই আনস্মার্ট নোংরা করছে। তার জন্য কষ্ট পাওয়া যায় যে কষ্ট বুঝে। সাদিয়া এতক্ষণ শুধু শুধু কাঁদল। অনিক কখনও ভালবাসেনি সাদিয়াকে। পুরটাই মোহ ছিল। পার্কে কিছু বাচ্চা ছেলে কাদা নিয়ে ছোরাছোরি করছে। সাদিয়া ওদের সাথে গিয়ে যোগ দিল। কাদা ছোরাছোরি করছে ওদের সাথে। ওদের খেলা এক ছেলে জুতা হাতে নিয়ে দেখছে। সাদিয়া তার কাছে গিয়ে ওর জুতা জোড়া দিয়ে বলল- আপনি কি আমার জুতা জোড়া একটু ধরবেন? আপনার হাতে তো জুতাই আছে। আমি ওদের সাথে একটু খেলি। গালিব প্রিয়তির হাত থেকে জুতা জোড়া নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। খেলা দেখছে। কাদা দিয়ে। কিছু বাচ্চা ছেলে আর এক মেয়ের। মেয়েটার চোখের কাজল লেপটে আছে। ঠোঁটে হাসি। গালিবও দাঁড়িয়ে হাসছে। কি পাগল মেয়েটা। আর সাদিয়া গালিবকে দেখে হাসছে, জুতা জোড়া নিয়ে কেমন মদনের মত দাঁড়িয়ে আছে ছেলেটা। যারা ভালবাসা বুঝে না। যাদের কাছে মন না , ভালবাসার মাপকাঠি অন্য কিছু। তাদের জন্য কষ্ট পেয়ে লাভ নেই। বরং এটা ভেবে নিলেই হয়, ঐ মানুষটার ভালবাসা মোহের উপর। মোহ কেটে গেলে ভালবাসা কেটে যাবে। তার সাথে থাকার থেকে দূরে থাকা ভাল। এর চেয়ে পাগলি হয়ে কাদায় খেলা, আর মদন হয়ে জুতা নিয়ে দাঁত বের করে দাঁড়িয়ে থাকা ভাল। প্রিয়তি , অনিক ভালবাসা যেখানে খুঁজেছে ভালবাসা সেখানে না। ভালবাসা অন্য কোথাও।
গভীরতর ভালোবাসা
...........................
আমি কত করে বলছি আমি শাড়ী পরব না। আমি কখনও শাড়ী পরি নাই। আর শাড়ী পড়লে হাটতে পারব না।
তবুও ভাবী বলল সবাই যখন পরছে, তাই আমাকেও পরতে হবে।
কি আর করার, আজ আবার খালাতো বোন এর বিয়ে। সেই ছোট বেলায় খালা বাড়ি আসছিলাম তারপর আর আশা হয় নাই।
সব কিছুই পাল্টে গেছে, আগের মত নেই।
কাচা বাড়ি পাকা হইছে। বড় খালাও আর আগের মত খারাপ ব্যবহার করে না। এখন সবাই ভালবাসে অনেক দিন পর আসাতে এমন আদর। ঘন ঘন আসলে দেখা যাইত কে কি রকম।
আর কাল আবার সেই ছোট রিবার বিয়ে।
এই রিবাকে কত কোলে নিছি, কান্না করলে কোলে নিয়ে আদর করতাম। আর কিছু দিন পর ও কার কান্না থামাবে এইটাই হয়ত নিয়ম।
রিবার কাছে গিয়ে বললাম, তোর কি আর পড়তে ইচ্ছা করে না ?? আর এই বিয়েতে মত আছে তোর ?
উত্তরে বলল আব্বায় যেইডা কইবে হেইডাই হইবে।
আমি আবার কি কমু,
কি বলব বুঝতে পারছি না।
এইটাই হয়ত আমাদের সমাজ।
ও ভালো কথা আমি আফরিন দেখতে মাসাল্লাহ খারাপ না। আমি বলি নাই সবাই ই বলে। যদিও অামি দেখতে একটু কালো, বাবার নাকি আদরের মেয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভাগ্যের জোরে হইলাম না। যাক সে কথা আজ রিবার গায়ে হলুদ ছোট ছোট মেয়েরা হলুদ শাড়ী পরছে। একদম হলুদ পরীর মত লাগছে, এখন আবার আমারও শাড়ী পরতে হইছে।
আজ আমি শাড়ী পরছি, কাল পাইর আর জমিনে কমলা।
আজ অনেক দিন পর আয়নার সামনে দাড়িয়ে আছি। আয়নায় নিজেকে দেখলে মায়ের খুনী মনে হয়। তাই তেমন একটা আয়না দেখা হয় না।
বাহ !!
আমি তো দেখতে মাসাল্লাহ অনেক সুন্দর হইছি, মামনিকে বলতে হবে।
,,
এক তো নতুন পরিবেশ কেউকে ভালো করে চিনি না। আর ভাবী যে কি কাজ করে আল্লাহই যানে।
এইখানে আমার একজনের সাথে ভাব হইছে, সে হল ভাবী।
একা একা কতক্ষন থাকা যায়। ফেইসবুকে ঢুকলাম, কত দিন হইছে ফেইসবুকে ঢুকি নাই।
উফফ!! আল্লাহ এইখানে নেট এত্ত প্রবলেম করে কেন ???
হটাৎ কে যেন আফরু বলে ডাক দিল। অনেকটা জোরেই আর আফরু ??
এই নামেতো ভুতুম ডাকে। পিছনে তাকাতেই শরীর ঠান্ডা হতে লাগল। ছাদমান ভাই যে...
আল্লাহ এই ভাইয়া কোথা থেকে আসলো ????
ছাদমান ভাই আমার একমাত্র মামার একমাত্র ভদ্র ছেলে, উনি খুবই শান্ত। আমি যখন এস এস সি পরীক্ষা দিছি তখন ছাদমান ভাই তখন বি বি এ শেষ। আমি মামা বাড়ি থেকে এইচ এস সি পরিক্ষা দিছি। মামার কাছেই বড় হইছি, মা মারা যাওয়ার পর সবাই যখন আমাকে নিয়া সংসয় ছিল, আর অলুক্ষনে বলে বাবা যখন মুখ ফিরিয়ে নিছিল। তখন মামা মামী নিজের মত করে বড় করছে। আর এই মামাকে কষ্ট দিয়ে বাবার সাথে পালিয়ে গেছিল মা। আর এখন তারাই আমাকে মেয়ের মত করে বড় করছে। বাবার সব দায়িত্ব পালন করে মামা,
কি অদ্ভুদ না ??
মামা ঠিকই বাবার দায়িত্ব পালন করছে কিন্তু বাবা বলে ডাকতে পারি নাই। আর মামী মানে আমার মামনি যে আমার মায়ের চাহিদা পূরন করছে। এদের সাথেই আমার জীবন, সব মজার আর সব চেয়ে কষ্টের দিন গুলো ছিলো। তাদের এক মাত্র ছেলে মানে ভুতুম,
ওই বদজাত ছেলেটা ছিল আমার এক চিরশত্রু।
আমার কথা মেয়ে মানুষের এত পইরা কি হবে, সেইতো রান্না আর সংসার সামলাইতেই হবে।
তাইলে এত পড়ার দরকার কি ??
আর তখন সে রাগী রাগী একটা লুক নিয়ে তাকাইত আর বলত, কানে ধর বলছি, আর এক পায়ে দাড়িয়ে থাকতে হবে।
ঠিক এই জন্যই তাকে আমি ভুতুম বইলা ডাকি।
আমি কখনই ভালো ছাত্রী ছিলাম না। এক কথায় ছিলাম পড়া চোর।
রাতে যখন পড়তে পড়তে ঘুম চলে আসত, তখন এক পায়ে দাড়িয়ে পরতে হইত। খুব ভয় পাই তাকে, তার চোখের দিকে তাকাইতে সাহস পাই না। আমার ছিল দুইটা রুপ। ছাদমান ভাইয়ের সামনে ভদ্র মেয়ে আর সবার সামনে দুষ্ট।
যদিও বুঝত যে আমি তার সামনে ভাল মেয়ে হওয়ার অভিনয় করি।
ডাক দিয়ে বলত,
- জানিস আফরু একটা কথা সত্যি যে কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না।
- আচ্ছা তাইলে কয়লা ধোয়ার কি দরকার ??
- কি বললি ??
- বলছি কয়লা ধোয়ার কি.......
- ওই চুপ করবি ??? তুই কি কখনও মানুষ হবি না ??
- আমি তো মানুষই (আস্তে আস্তে)
- এই যা পড়তে বস গিয়া মেজাজ খারাপ করবি না..
- এই শুরু হইছে পড়া আর পড়া।
তবে আমার ভাল রেজাল্ট করার পিছনে ভুতুমের অবদান অনেক।
যেদিন এইচ এস সি রেজাল্ট দিবে, খুব টেনশনে ছিলাম। ভুতুম আমার হাতটা খুব শক্ত করে ধরে ছিল।
ভয়ে মাঠে দাড়িয়ে ছিলাম, ভুতুমটা গম্ভীর একটা লুক নিয়া বলল এই নে তোর সামনে এগিয়ে যাওয়ার চাবি-কাঠি। এখন থেকে তোকে যেন কেউ অলুক্ষনে না বলতে পারে।
কলেজে সবার সামনে জড়িয়ে ধরে খুব কেঁদেছিলাম।
- হুম শেষ বারের মত কান্না আর আর যেন কাঁদতে না দেখি।
**
এইবার পালা আসল আমার, এই বুজি কপাল আমার খুলছে।
অনেক কষ্টে ভুতুমটার হাত থেকে বাঁচতে পারব। বাসা থেকে তেমন দুরে না কলেজটা, তবুও হোষ্টেলে থাকার অনুমতি পাই বহু কষ্টে।
কিন্তু ওতোটা পাকা কপাল আমার না, প্রথম সেমিষ্টার রেজাল্ট খারাপ হওয়াতে ভুতুমটা আবার বাসায় নিয়া আসল।
আল্লাহ এই ভুতুমটার হাত থেকে কি কখনও মুক্তি পামু না ??
ভুতুমটা যখন অফিসে থাকে তখন কত ভাল থাকি।
আচ্ছা এই রিমি যে কি দেইখা এই পোলারে পছন্দ করে আল্লাহই জানে। দেখতে সুর্দশন হলে কি হবে, হাসি বলতে ছিটে ফোটাও নাই।
মনে হয় প্রেম ট্রেম করে, এই তো সেই দিন, যখন কলেজে দেড়ি হচ্ছে বলে আমাকে যেন পৌছে দেয়। রুমে ঢুকে দেখি আয়নার সামনে নিজেকে বার বার দেখছে ভুতুম।
প্রেমে না পরলে কেউ কি ওই ভাবে আয়না দেখে ??
আহারে এই পোলার লগে যে প্রেম করবে তার কপাল পুড়ছে।
রোমান্টিক মুডে হাত ধরে বসে থাকবে। তখন সে হাতটা ছাড়িয়ে বলবে যাও এখন পড়তে বস। হি হি হি ★★★
- এই আফরিন উনাকে কি আমার কথা বলছিস ?? (রিমি)
- কাকে ??
- ওই যে ছাদমানকে ।
- তোর টা তুই বল আমি পারব না।
- তাইলে আমার সব টাকা ফেরত দে। তুই বলছিলি আমার কথা তার কাছে বলবি। আর এখন বলতে পারবি না কেন ? আমার সব টাকা ফেরত দিবি। ধুর বাবা এখন আমি এত টাকা কই পামু। মাথাটা খুব ব্যাথা করছে। এ কি আমার সাধের ঘরের এ কি হাল হলো ?? মামনি আমার রুমের এরকম অবস্থা কে করল ?? এই রুমে কি গরু ছাগল ছিল ?? রাগ উঠলে আমি যে কি বলি নিজেও জানি না। অনেক কথা বলছি।
এইবার ভুতুমটা আইসা বলল
-রুমে আমি ছিলাম এখন বল কি হইছে ??
- আপনি কেন আমার রুমে ঢুকছেন ??
- তোর রুম মানে, তুই থাকিস বলে তোর হয়ে গেল ?
-........
- এই কাঁদবি না বলে দিলাম।
- আমি থাকব না আমার বাসায় চলে যাব।
- কই যাবি তুই ??
-......
- আম্মা দেখেন আফরু কি করতেছে।
ভুতুমটা যখন অফিসে গেছে তখন মামনি কে বলে চলে আসছি।
অনেক বার ফোন দিছে ধরি নাই,
ধরব না কিছুতেই।
***********"**'
- এই এরকম হা করে আছিস ক্যান ??
- আআপনি এএই খানে ??
- তোর ফোনটা দে, তোর ফোন ইউজ করা লাগবে না ।
- আরে ছাদমান যে, কখন আসলা ? (ভাবী)
- এই তো মাত্র আসলাম, সবাই ভাল আছে তো ?
- হ্যা তোমরা কথা বল আমি আসছি।
- এই তুই কই যাস ?
- বস এইখানে, তুই এত ফাজিল কেন ??
আর না বইলা আসছস কেন ?
- আমি পানি খামু
- একটা থাপ্পর খাবি বলে দিলাম, আমি জানি তুই পানি খাবি না।
- এইটা আপনার বাসা না যে যা মন চায় তাই বলবেন, আমার খালা বাড়ি।
- তো কি আমারও ফুপু বাড়ি।
- হুম ওই ভাবে তাকাই রইছেন কেন ?
- কিছু না, তুই শাড়ী পরতে পারিস ?
আরে ধুর আর বইলেন না ভাবী জোর করে পরাইছে।
- হুম খারাপ লাগছে না, শাড়ীটায় খুব মানাইছে।
- আমি সুন্দরতো তাই। হি হি
- এই এত কথা বলিস কেন ?? একদম চুপ করে থাকবি।
- হাহ !!
,,
ভুতুমটা আসাতে খুব ভাল লাগছে। এত্তগুলা ছবি তুইলা দিছে।
এইখানে আমার একদম ভাল লাগে নাই।
সবাই আমাকে নিয়া কথা বলে, যারা এই কালের তার বলে " আহারে মা মরা মাইয়া, আর যারা বুড়ো তারা বলে, মাইয়াডা অওনের সময় মা ডারে খাইছে, কেউবা বলে, ওমা আলেয়ার মাইয়া তো অনেক বড় হইছে।
এই সব কথা একদম ভাল লাগে না। কি আর করার রাগ করে আসাতে এত দিন থাকা।
রাতে গানের আসর জমছে, ভুতুমটা যে কই।
হঠাৎ পিছনে তাকাই দেখি ভুতুমটা আমার পিছনে বইসা রইছে।
- কি গো আফরিন তুমি নাকি গান গাইতে পার ?
একটা গান শুনাও।
ভুতুমটার দিকে তাকাইলাম, ইশারায় বুঝিয়েছে গাইতে।
- ওই গানটা শুনা "" মমো চিত্তে""
"""""""""”"""""""""""""""""""""""""""
বাবা সবাই কি বাহবা দিচ্ছে, আমি কি বেশি ভাল গাইছি নাকি ??
ও মা গো ভুতুমটা ওই ভাবে তাকাই রইল কেন ???
রিবাকে আজ নিয়ে যাবে, বাড়িটা খুব সুন্দর করে সাজান হয়েছে।
সবাই হইচই করছে। আজ আমি কাল রং এর শাড়ী পরছি, কালো চুরি, কালো গলার টা কানের টা সব কালো। কালো রং টা আমার খুব ভাল লাগে।
তবে কালো ছেলে পছন্দ না, যদি কাল ছেলে বিয়ে হয় তাইলে আমার ছেলে, মেয়েও কাল হবে।
আর আমি চাই না আমার পুচকুরা কাল হোক। তাই কিউট একটা ছেলে বিয়ে করব। শাড়ী পরে হাটতে কষ্ট হলেও খারাপ লাগছে না। কেন জানি খুব ভাল লাগছে। সবাই কাজ করতেছে, বর পক্ষের লোকজন এসে পরছে।
আমি যে কার সাথে বসে কথা বলব তার উপায় নেই।
তাই বসে বসে মোবাইল টারে গুতাচ্ছি। এই মোবাইল হল আমার একাকীত্তের সঙ্গী। মোবাইলের যদি হাত থাকত তাইলে এতক্ষনে আমার অবস্থা খারাপ করত। হিহিহি..
- হাই আমি রাসেদ, বসতে পারি ??
- বসেন (মোবাইলের দিকে তাকিয়েই) বললাম
- আপনার নাম কি ?
- আমি আফফ..by tha রাস্তা কে আপনি ?
- রাস্তা মানে.??
- বলুন কি বলতে চাইছেন..?
- বললাম না আমি রাসেদ, বর এর কাজিন।
- ওহ !! আবার মোবাইল টিপায় মনযোগ দিলাম।
- আপনার বাবা কি করেন ??
- মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল, জানি না।
- মানে ???
- এই আফরু তুই এই খানে কি করস ???( ভুতুম)
- কিছু না।
- এই দিকে আয়।
- আমিও ভাল মেয়ের মত গেলাম।
- এইখানে বস।
- কি ওই ভাবে তাকাই রইছেন কেন ?
- কিছু না এই খানে বসে থাকবি কারো সাথে কথা বলবি না।
- আইচ্ছা !!
- আপনাকে খুব সুন্দর লাগছে।( রাসেদ)
- আপনি আবার এই খানে কেন.??
-এমনি শাড়ীতে খুব মানাইছে।
- এইসব বইলা লাভ নাই।
- কেন আপনার কি বিয়ে হইছে ?? আর এতক্ষন যে ছেলেটার সাথে কথা বলছিলেন সে আপনার কী হয় ? আপনার বর নাকি ?? ( রাসেদ)
- এইবার মেজাজটা খারাপ হইয়া গেছে, একা একাই এত কিছু ভাবছে, হায়রে মানুষ, হ্যা উনি আমার স্বামী হয়। এই বার যান এইখান থেকে।
- এই আফরু তোর প্রবলেম কি ??
- ভাই ভাবীর সাথে পরিচিত হইলাম। ভাবীরে খুব ভালোবাসেন বুঝি? আসলে ভাবীর গালে টোল দেইখাই বুঝতে পারছি। (রাসেদ)
- মানে ??
(ভুতুম)
- এই রে ভুতুম পেচা !!! লোকটা কি বলতেছে এইসব ।
- এই আপনি এত কথা বলছেন কেন যান বলছি।
- কি হইছে রে? তোরে ভাবী বলল কেন ??
- না মানে লোকটা বেশি কথা বলে,
- কি বলছে ???
- না মানে জানতে চাইছিল আপনি আমার কি হন!!
- আর তুই কি বলছস ?
- রাগ লাগছে খুব তাই বলছি আপনি আমার স্বামী হন।
- কি ???
- বিশ্বাস করুন আমি বলতে চাই নাই, মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে।
- তুই কি কখন ও সিরিয়াস হবি না ??
- এমন ভাবে তাকাচ্ছেন কেন ?? বললাম তো লোকটা আমার বাবার কথা জানতে চাইছিল, তাইতো রাগ করে বলছি।
- ঠিক আছে যা রেডি হ গিয়া একটু পর আমরাও রওনা দিব।
- কোথায়.????
- কোথায় আবার বাসায় যাওয়া লাগবে না ??
- না আমি যাব না।
- থাপ্পর দিয়া দাত ফালাই দিব।
- আপনার বাড়ি আমি কেন যাব ?
- আচ্ছা সরি এইবার চল দেরি হয়ে যাচ্ছে। আর শোন শাড়ী পইরাই চল, আর সাজা লাগবে না এমনিতে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
- আমি শাড়ী পরে হাটতে পারব না।
- কত টুকুই বা হাটবি সারাক্ষন তো বাসেই থাকবি।
- ঠিক আছে।
- ছাদমান আজ না গেলে হয় না বাবা ( খালু)
- না ফুপা আমার ছুটি শেষ, কাল জয়েন করতে হবে।
- আফরিন কে রাইখা যাও।
- না খালু আমার ও কলেজ খোলা।
- সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা দিলাম। গ্রামের রাস্তা অনেকটা হেটে তারপর রিক্সা নিতে হবে।
- ভুতুম পেচা..
- কি..??
- থুক্কু ছাদমান ভাই আপনারে বলছি আমি শাড়ী পরে হাটতে পারি না।
- এখন থেকে চেষ্টা করতে পারস না ?
- কেন..??
- কেন বিয়ের পর তো শাড়ী পরবি।
- না তো শাড়ী আমি পরতে ও পারি না, আর পইরা হাটতে পারি না।
- আরে একটু তারাতারি আয় না বাস চলে যাবে।
- আমি আর হাটতে পারব না।
- উফফ!!! দে হাত দে তোরে নিয়া যে কি হবে। ও ভাইজান আপনার মন মনে হয় আজ খুব ভাল।
- তুই এত কথা কিভাবে বলস রে।
- আপনিও চেষ্টা করতে পারেন..। হিহিহি..
আল্লাহ গো কত যে কষ্ট হইছে, এইবার শান্তি। অবশেষে বাসে উঠতে পারলাম।
- নে ধর এত ভার কেন ?? কী আছে এটার ভিতর ??
- কত্ত কিছু, আমার ক্ষিধা লাগছে।
- এই একটু আগে না খাইলি, আবার খাবি..??
- ঠিক আছে খাব না।
- চুপ থাক, দাড়া দেখি হকার আসে নাকি।
- আমি দাড়াতে পারব না।
- একটা থাপ্পর খাবি সবসময় ফাইজলামি না..??
- এইবার মুখে হাত দিয়ে রাখতে হবে, কখন কি মুখ ফসকে বেরিয়ে যাবে আল্লাহই জানে।
- এই উঠ আমরা চলে আসছি, এত ঘুমাস কিভাবে..?
- আল্লাহ আমি এত ঘুমাছি..যাক বাবা চলে আসলাম তাহলে।
মামনি ও মামনি কই তুমি কত দিন তোমারে দেখি না।
- ফাজিল মেয়ে এতদিন পর মামনির কথা মনে পরল..?
- ও মামনি রাগ কর কেন.?
- এই অনেক হইছে আর বলতে হবে না, এখন থেকে আবার পরতে হবে। ( ভুতুম)
- আল্লাহ তুমি তারে হেদায়েত কর।
অনেক দিন পর আরামছে একটা ঘুম দিলাম।
হটাৎ কান্নার আওয়াজে ঘুম ভাঙল, মা কান্না করে কেন, দৌড়ে কাছে গিয়ে দেখি মামা অসুস্ত হয়ে পরছে।
কি করব এখন, ভুতুম কে বলতে হবে। মোবাইল ও বন্ধ কি করব এখন..?
মামা এখন অনেকটা ভালো, আমি পেরেছি মামাকে হাসপাতাল আনতে।
আজ বাসায় মিটিং বসছে, ভুতুমের বিয়ে দিবে। মামা অসুস্থ হবার পর এই সিন্ধান্ত নিছে,
- আহা !! ভুতুমের বিয়ে কত মজা করব।
- কিন্তু ভুতুম আইসা বলল আগে আমাকে বিয়ে দিবে।
- কিছুতেই আমি বিয়ে করব না।
- তোরে আগে বিয়ে দিবো।
- না না না কিছুতেই আমি এখন বিয়ে করব না।
ঝগড়া দেখে মামা বলল তোরা থামবি..? আমার কথা তো শুনবি ? তোদের একসাথে বিয়ে দিব।
- মানে..??
- মানে আফরিনের আর তোর বিয়ে, তোর মা আর আমি অনেক দিন ধরে ভেবে রেখেছি।
- কি বলছ এসব আমি আফরু কে বিয়ে করতে পারব না।
- আমার কথাই শেষ কথা। ( মামা )
- আমি কি বলব এই প্রথম নিজের ভিতর গম্ভীর একটা ভাব আসল, মামার কথাও না শুনেও উপায় নাই। আমি কি করব বুঝতে পারছি না। নিজেকে বড় বড় লাগছে। কিভাবে যে কি হল বুঝতে পারি নাই।
- আমার আজ বিয়ে, ওই ভুতুমটা যে আমার বর হবে ভাবতেও পারি নাই। ফ্রেন্ডগুলা হাসিঠাট্টা করছে।
- এই ভারী ভারী গহনা পরে বসে আছি, আচ্ছা আমি বসে আছি কার আসায় ?
- ভুতুম তো আর বাচ্চা না যে তাকে ঘুম পারাতে হবে..??
- কিন্তু আমি উঠতে পারছি না কেন.? ভয় ?? নাতো আমি কেউকে ভয় পাই না, অমনি ভুতুমের আগমন!! ঘরে ঢুকে ভুতুমটা বলল, রাত অনেক হইছে এখন ঘুমা।
- ভুতুমটা শুয়ে পরছে, খুব মন খারাপ লাগছে কিন্তু কেন ? সবাই ঘুমাই পরছে আমার ঘুম আসছে না। ছাদে চলে আসলাম, এত কান্না পায় কেন..? সবকিছু নিরব, আকাশে অনেক তারা। শান্ত পরিবেশ, নিঝুম রাত মায়ের কথা খুব মনে পরছে। আকাশে তাকাই থাকতে ইচ্ছা করছে। আচ্ছা মা কি ওই আকাশে তারা হয়ে আছে.??
- মা ও মা তুমি কি দেখত পাচ্ছ আমাকে.?? আজ আমি অনেক বড় হইছি তাই না মা..,?
হটাৎ শীতল কারো হাতের ছোয়া..ঘুরে তাকালাম।
- ও ভুতুম আপনি !!
- কি রে মন খারাপ ??
- আচ্ছা ভুতুম মানুষ মারা গেলে কি ওই আকাশের তারা হয়ে যায় ??
- বাদ দে, এই কথা আর ফুপু যেখানে আল্লাহ যেন তাকে ভাল রাখেন।
আর হ্যা রাত অনেক হইছে এবার নিচে চল।
- ভুতুম এখন কি আপনি আমারে পরতে বলবেন ???
- হা হা হা !!! নারে বোকা মেয়ে চল।
- বাবা ভুতুম এত সুন্দর করে হাটতে পারে ??
সব কিছুই আগের মতই আছে কিন্তু আমি আর আগের মত নেই। ভুতুমটা যখন অফিসে থাকে তখন আর ভাল লাগে না। অপেক্ষায় থাকি কখন সে বাসায় আসবে। কিন্তু ভুতুমটা আগের মতই আছে।
- এই যে ছাদমান ভাই আমার মাথা ব্যাথা করছে।
- মাইর খাবি বলে দিলাম খালি পড়ার ফাকি দেওয়া তাই না ?
এই রে ৮ টা বেজে গেছে ভুতুমটার জন্য নাস্তা বানাতে হবে। মামনি থাকলে হাতে হাতে করে দিত। উঠতে যাব তখনি মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠল, সব কিছু অন্ধকার লাগছে।
শুধু এইটুকু শুনতে পেলাম এই আফরু তোর কি হইছে ?
- ভুতুম আপনি অফিসে যাবেন না, নাস্তা করতে হবে তো।
- এই মেয়ে তোর যে জ্বর আসছে একবারও বলছিস ??
- আপনি অফিসে যাবেন না ?
- না বউ ঘরে অসুস্থ থাকলে অফিসে কি মন বসে। ভুতুম আমাকে বউ বলেছে, আমি কি ঠিক শুনলাম।
- কি এই ভাবে তাকাই আছস কেন ? ৭ দিনের ছুটি নিছি অফিস থেকে। কি রে আমারে কি তোর স্বামি হিসাবে পছন্দ হয় না ??
- হুম
- শুধুই হুম ?
জানিস এত কিছুর মাঝে যে কিভাবে তোকে ভালোবেসে ফেলি বুঝতে পারি নাই। তুই যখন বাসা থেকে চলে গেছিলি, তখন তোকে খুব মিস করতাম। বুঝেছি তোকে ছাড়া আমি অচল। আর তখন তুই আমাকে ভয় পাচ্ছিলি। তাই আমি চাইছিলাম যখন তুই আমাকে ভালবাসবি তখন তোকে বলব। তোর চোখে আমি ভয় না ভালবাসা দেখতে চাইছি। এখন আমি জানি আমার বউটাও এখন আমাকে ভালোবাসে।
কী ঠিক বলছি তো ???
- শয়তান, বান্দর কুত্তা, বিড়াল, ভুতুম পেচা আগে বললে কি হত।
- এই ছাড় বলছি, তোর গায়ে এত জোর ??
- ছাড়ব না বাদর বর আমার।
এই এই এই আমার বান্ধবী রিমির সাথে আপনি মোটেও কথা বলবেন না।
- কেন কি হইছে ??
- নাহ কিছু কথা না জানাই ভাল।
আবার ভালোবাসা
খালাতো বোনের বিয়ে ঠিক হয়েছে। বাসার সবার এক দাবি বিয়ের অন্তত ৩ দিন আগে আমার বিয়ে বাড়ি উপস্থিত থাকতে হবে। অনেক বোঝালাম সবাইকে, নতুন চাকরি পেয়েছি। এখন ছুটি নেওয়াটা ঠিক হবে না। কিন্তু আদুরে বোনটির আদুরে অভিমানের কাছে অবশেষে হার মানলাম।
আমি আবিদ। একটা কর্পরেট ফার্মের জুনিয়র ম্যানেজার হিসেবে জয়েন করেছি। বেশ ভাল স্যালারি। দুই বছর আগে যখন ছাত্র ছিলাম, এই স্যালারির অভাবটাই আমাকে সুপ্তির থেকে আলাদা করে দিয়েছিল। ছেলেটি ব্যাংকে জব করত, হয়ত এজন্যই আমাদের ২ বছরের রিলেশনটা হাসি মুখে ভেঙে গায়ে বেনারসি জড়াতে তার কোন কষ্টই হয় নি। আজ আমার সবই হয়েছে। কিন্তু যেটা সবথেকে বেশি চেয়েছিলাম তা হারিয়ে ফেলেছি।
কুষ্টিয়া যেতে হবে, ট্রেনে যেতে ইচ্ছা হল খুব। অনেকদিন ট্রেনে ওঠা হয় না। সন্ধায় কমলাপুর স্টেশনে পৌছুলাম। টিকেট কেটে বসে আছি, কিছুক্ষন পরে ট্রেন ছাড়বে। হটাৎ খেয়াল করলাম কিছুটা দূরে বসে একটা সুন্দরী মেয়ে কাদছে। পোশাক বলে দিচ্ছে অবস্থাসম্পন্ন ঘরের মেয়ে। শুরুতে গুরুত্ব দিলাম না। মেয়েদের প্রতি একটা ঘৃনা জন্মেছিল, সেজন্যই হয়ত। কিন্তু অসহায় একটা মেয়েকে এতক্ষন কাদতে দেখে বিবেকে বাধা দিল।
* হ্যালো, কাদছেন কেন, কোন সাহায্য করতে পারি।
= না, এমনিতেই। সাহায্য দরকার নেই। (মেয়েটি)
এসে নিজ জায়গাই বসলাম, জানি সাধারন কেস। কারো জন্য হয়ত পালিয়ে এসেছে। কিন্তু সে আসে নি। এখন এটা খুব কমন একটা ব্যাপার।
= শুনুন...
তাকিয়ে দেখি মেয়েটি আমার সামনে দাড়িয়ে।
* জ্বী বলুন।
= আসলে এখানে আসার পর আমার ব্যাগ চুরি হয়ে গেছে। ব্যাগে ফোন টাকা ট্রেনের টিকেট সব ছিল। আপনি যদি এই ঘড়িটা রেখে আমাকে ২০০ টাকা দেন তবে আমি মেসে ফিরে যাব।
* ( একটু হেসে) কোথায় যাচ্ছিলেন?
= বাড়িতে, কুষ্টিয়া।
* আমি আপনার টিকেট করে দিচ্ছি, বাড়ি পৌছে নাহয় আমাকে টাকা টা দিয়ে দিবেন। আপনার এত দামি ঘড়িটা ২০০ টাকায় বিক্রির দরকার নেই।
= (একটু ভেবে) ঠিক আছে।
নিজ জেলার একটা মেয়েকে বিপদে রাখতে মনে চায়লো না তাই সিদ্ধান্ত নিলাম সাহায্যই করব। প্রায় ১ ঘন্টা লেট করে ট্রেন আসল। আমি মেয়েটির টিকেট কেটে দিলাম। ট্রেন বেশ ফাকা, তাই মেয়েটি আমার পাশের সিটেই বসল। দেখেয় বোঝা যাচ্ছে, আমাকে খুব ভয় পাচ্ছে মেয়েটি। পাক না, আমারো বেশ মজা লাগছে সুন্দরীর ভীত চাহনী টা।
= আমি সায়মা।(মেয়েটি)
* বেশ সুন্দর নাম।
= আপনার নামটা জানতে পারি..?
*...........আবিদ।
= কোথায় যাবেন..?
* আপনার গন্তব্য যেখানে......
= আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
* এখানে কি করেন..?
= একটা প্রায়ভেট ইউনিতে ২য় বর্ষে পড়ি। একটা বিয়েতে এটেন্ড করতে বাড়ি যাচ্ছিলাম। পথে ব্যাগ চুরি হয়ে গেল। আর আপনি কি করেন...?
* টাকার জন্য কামলা খাটি। তো শহরের কোথায় আপনার বাসা..?
= সদরপুর।
খায়ছে, এই মেয়ে দেখি খালার এলাকার, যেখানে আমি যাচ্ছি। তবে কি বিয়েটাও ওটাই..! ট্রেনের বাতাসে বেশ ঘুম পাচ্ছে। কয়েক বছর আগে হলেও এমন সুন্দরীর পাশে বসে সারারাত জেগে যেতাম। এখন সেই ইচ্ছা টা মরে গেছে। আজ আবার সুপ্তিকে খুব মনে পড়ছে। সপ্ন ছিল ওর হাতে হাত রেখে সারারাত জেগে ট্রেনে জার্নি করার।
= আমরা চলে এসেছি। উঠুন।(সায়মা)
* আপনি ঘুমান নি রাতে...?
= ঘুম আসেনি রাতে...।
* সায়মা, আপনাকে আপনার বাড়ি পর্যন্ত লিফ্ট দিতে পারি। যদি একটা উপকার করেন।
= কি উপকার... (ভয়ে)
* পৌছানর পরে আপনি ভুলে যাবেন আমার সাথে কখন আপনার দেখা হয়েছিল।
সায়মা শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, যার ভয়ে সে সারা রাত জেগে কাটিয়েছে কেন যেন তাকে এখন ভালমানুষ ভাবতে ইচ্ছা করছে। আচ্ছা লোকটা পাগল নয়ত। কথা গুল এমন উল্টাপাল্টা কেন। চেহারাটাও কঠিন। মাপা হাসি ছাড়া মন খুলে হাসতেও দেখেনি। এমন সুন্দরী মেয়ে পাশে, অথচ কথা বলার কোন ইচ্ছাই নেই তার ভেতরে। এই শেষ রাতে কোন গাড়ি পাওয়া যাবে না। কেন যেন মনে হচ্ছে মানুষটিকে বিশ্বাস করলে ঠকবে না।
আমার খালার বাড়ির দুই বাড়ি পরেই সায়মাদের বাড়ি। ওকে পৌছে দিয়ে আমি গিয়ে বাড়ি ঢুকলাম। ফ্রেশ হয়েই লম্বা ঘুম। ঘুম থেকে উঠেই দেখি আমার খালাতো বোন সুমির সাথে সায়মা। আমাকে দেখেই হা হয়ে গেছে।
= আবিদ সাহেব আপনি...?(সায়মা)
> সায়মা, তুই আবিদ ভাইয়াকে চিনিস? ভাইয়া তুমি চেন নাকি সায়মাকে..? (সুমি)
না, চিনি না। বলে সোজা কেটে পড়লাম। সারা বাড়ির সব খবর দুষ্টু সুমিটা ঠিক বের করে নেয়। জানি, এটাও বের করে ফেলবে।
বড় ভাই হিসাবে পরবর্তি দুই দিন খুব ব্যাস্ত কাটালাম। আর সবসময় দেখছি সায়মা আমার আশপাশেই থাকে। আবার আমি তাকালেই গায়েব। দুর থেকে মিষ্টি করে হাসি দেয়। কেন জানি মেয়েটা চোখের সামনে না থাকলে আমারো ভালো লাগে না। আমার মনে কি ওর জন্য যায়গা তৈরি হচ্ছে। না এ সম্ভব না। আমার যে কোন মন ই নেই।
বিয়ের আগের রাত। সব কিছু গুছিয়ে রেখে সিগারেট হাতে ছাদে এসে দাড়ালাম। চকচকে বিয়ে বাড়ি। একদিন আমারো এমন একটা বিয়ে বাড়ির সপ্ন ছিল। সেই সপ্ন আজ সিগারেটের ধুয়া হয়ে উড়ে যায়।
= কিছু জিনিষ ভুলে যেতে হয়। মনে রেখে নিজের ক্ষতি করতে হয় না।(পেছনে ঘুরে দেখি সায়মা দাড়িয়ে। ও কি তাহলে সব জেনে গেছে..?)
* আপনি এখানে কেন...?
= আপনার টাকাটা দিতে এসেছিলাম। এখন ভাবছি দেব না।
* কেন..?
= টাকাটা বাকি থাকলে আপনি আমাকে নিয়ে ভাববেন। আর আমাকে সহজে ভুলতেও পারবেন না। তাই দিবনা টাকাটা।
* চিন্তা করবেন না ভুলে যাব।
= (হাত থেকে সিগারেট কেড়ে নিয়ে) এসব যেন আর কখন খেতে না দেখি।
অন্য সময় হলে যে কাউকে বেশ কিছু কড়া কথা শুনিয়ে দিতাম। কিন্তু মেয়েটিকে কেন যেন বকা দিতে ইচ্ছা হচ্ছে না। শুধু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করছে। না না, আমাকে শক্ত হতে হবে।
* আমার বিষয়ে কথা বলার আপনি কে..?
= এখনো কেউ না, তবে সবকিছু হতে চায়।
কথাটা বলেই সায়মা দৌড়ে চলে গেল। আমি শুধু তাকিয়েই রইলাম। বাড়ির ভেতরে গিয়ে দেখে মা কেও সায়মা পটিয়ে ফেলেছে। পুরো বিয়ে বাড়ি কানাকানি চলছে পরবর্তী বিয়ে আবিদ আর সায়মার। নাহ্ আর থাকা যাবে না। ব্যাগটা গুছিয়ে পালিয়ে যেই মাত্র বাড়ির গেট পেরিয়েছি, কেউ একজন আমার হাত টেনে ধরল। তাকিয়ে দেখি সায়মা। শাড়িতে মেয়েটাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। তার সাথে করুন দৃষ্টি আর চোখের পানি যেন কলিজায় আঘাত করছে।
= আমাকে আপনার পছন্দ না সেকথা বলে দিলেই হতো। এভাবে কেন পালাচ্ছেন। আমি আর কখন আপনার সামনে আসবো না। তবু প্লিজ চলে যাবেন না।
* কে বলেছে তোমাকে আমার পছন্দ হয়নি..? আমি শুধু ভয় পেয়েছি। এখানে থাকলে সেই ভুলটা আবার করে ফেলব, যেটা একবার আমার স্বাভাবিক জীবনটাকেই কেড়ে নিয়েছে।
= আমাকে নাহয় একটা সুযোগ দিন আপনাকে সেই পুরনো আপনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার।
* কখন ছেড়ে যাবে না তো...?
এবার আর মুখে জবাব পেলাম না। তবে কেউ একজন আমাকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। আর না। আমি ওকে আর ছাড়তে পারব না। ও ই আমার অগোছালে জীবনটা জড়িয়ে ধরে রাখুক না।
তুমি কি আমার বউ হবে ২
পর্ব:২
ময়লা জামা পরে যাচ্ছে না আজ।সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখতে হবে যে। ------------------------------------------------------ সাদিয়া কখন থেকে অপেক্ষা করছে। অনিক মোবাইল এ কল করছে না। মেসেজও না। ফেসবুকেও নেই। আজ দেখা হচ্ছে দুজনের প্রথম বারের মতন। একটু সাজগোজ করে এসেছে আজ সাদিয়া। কখনও সাজে না। কিন্তু অনিক এর সাথে দেখা করতে আসছে না সাজলেই নয়। আসার আগে সাদিয়ার ছোট বোনটা ওকে দেখে হা করে তাকিয়ে ছিল। - আপু তোকে না পরীর মত লাগছে। শুনে একটু লজ্জাই পেয়েছিল সাদিয়া। কেউ এভাবে সুন্দর বললে খুব লজ্জা লাগে। শাড়ি পড়েছে একটা নীল রঙের। নাকে ছোট্ট পাথর বসানো একটা নাক ফুল। কপালে ছোট্ট একটা নীল টিপ। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সত্যি নিজেকে অনেক সুন্দর লাগছিল। ধ্যাৎ কি একটা ছবি দেখাল অনিককে। আজকে একটা ছবি তুলে ওকে দেখালে কত ভাল হত। এভাবে কখনও সাজেনি সাদিয়া। সাজগোজ করা একদম পছন্দ না সাদিয়ার। শুধু অনিকের জন্যই করা। ভালবাসার মানুষের জন্য মাঝে মাঝে কিছু কিছু করতে হয়। হ্যাঁ, ভালবাসার মানুষ। একটু লাজুক প্রকৃতির মেয়ে সাদিয়া। ফেসবুকে পরিচয় অনিকের সাথে। হুটহাট করে যে কারও রিকুয়েস্ট এসেপ্ট করত না সাদিয়া। পরিচিত ছাড়া অন্য কেউ ফ্রেন্ডলিস্ট এ ছিল না। অনিক রিকুয়েস্ট পাঠানোর পর থেকেই মেসেজ করতে থাকে সাদিয়াকে এসেপ্ট করার জন্য। আকুতি মিনতি কিংবা কাকুতি শুনে মন কিছুটা নরম হওয়াতে , অপরিচিত অনিককে ফ্রেন্ড লিস্টে জায়গা দেয় সাদিয়া। অপরিচিত কারও সাথে বড্ড বেশিই কথা বলা হত। দিন রাত সারাক্ষণ ২ জনের চ্যাট হত। ভাললাগা মন্দলাগা বিনিময় করতে করতে কখন যেন আবেগ অনুভূতিগুলোও বিনিময় হয়ে গেল। বোঝার সাধ্য দুজনের কারই ছিল না। ঘুম থেকে উঠার আগে মেসেজ চেক,রাতে ঘুমে টলে টলে ভুল ভাল বানানে মেসেজ দেওয়া। কখনও সারারাত জাগা। একদিন অনিক বলল, তোমাকে খুব বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে। - হুম কর। - যদি সারাজীবন করতে চাই? - হ্যাঁ, করবে। - পাশে থাকবে? - থাকব। এমন অনেক কথাই হয়। সাদিয়ারও মনে হল অনেক দিনের পর অনেক বেশি বিশ্বাস করার মত কাউকে পেয়েছে। যার জন্য আবেগ কাজ করে। কখনও দেরি হলে মেসেজ দিতে কষ্ট কাজ করে। সাদিয়াকে একদিন অনিক বলল- তোমার কথা শুনতে বড্ড বেশি ইচ্ছা করে। কথা বলবে আমার সাথে? তারপর অনিক নিজের নাম্বারটা দিয়ে বলে, জোর করব না।যদি কখনও ইচ্ছা করে। বিশ্বাস করতে পার। মনে হয় আমার সাথে কথা বললে বিরক্ত লাগবে না। তাহলে ফোন দিও। এতদিন ধরে তোমার সাথে ফেসবুকে চ্যাট করি । খুব শুনতে করে তোমার কথা। তাই বললাম। আমাকে খারাপ ভেবো না আবার।আমি সব মেয়ের নাম্বার চেয়ে বেরাই না। আমি এটা নিয়ে আর কিছু বলব না। যদি ইচ্ছা করে তো কথা হল। না ইচ্ছা করলে এই জিনিস নিয়ে আর কখনও কথাও বলব না। এই মেসেজটা দেখার পর সাদিয়ার ভিতরে কেমন যেন করে উঠেছিল। খুব বেশি দোটানায় পরে গিয়েছিল কল করবে কি করবে না। ২ দিন খুব অস্বস্তিতে থাকার পর সাদিয়ার মনে হল , না ছেলেটা তো খারাপ না। কথা বলা যায়। আর বিশ্বাস তো অবশ্যই করে ওকে। কয়েকবার নাম্বারটা ডায়েল করেও কেটে দিল সাদিয়া। কেমন যেন লজ্জা লাগছিল কথা বলতে। কারও সাথে যে কথা বলে না তা না। কিন্তু অনিকের সাথে কথা বলতে লজ্জা লাগছে কেন বুঝল না। অবশেষে কল করল। অনিক ধরেই বলল, কে সাদিয়া? একটু অবাক হল সাদিয়া। কোন কথা বলার আগেই বুঝল কি করে সাদিয়া ফোন দিয়েছে। কারণটা এখনও জানে না সাদিয়া। তবে অনিক বলে, ভালবাসার মানুষের নিঃশ্বাস এর শব্দ শুনলেই বুঝা যায়। যদিও তখন ভালবাসার সম্পর্ক ছিল না দুজনের। কথা হত মোবাইল এ। অনেক বেশিই। ফেসবুকের চেয়ে এখন মোবাইল এ কথা বলাটাই বেশি গুরুত্ব পেত। সারাদিন মোবাইল এ কথা বলত। কি বলত না বলত। এত কি বলত? সময় এত তারাতারি কি করে যেত বোঝা খুব কঠিন ছিল। কথা বলতে বলতে দুজন খুব বেশি দুর্বল হয়ে পরল দুজনের প্রতি। সব বাদ দিয়ে দুজনের মনে সারাক্ষণই দুজনের ভাবনা। অনিক এর মাঝে কয়েকবার বলল, তোমাকে দেখতে ইচ্ছা করে। - আমি সুন্দর না। দেখে কি করবে? - যে এত সুন্দর করে যে কথা বলে ,সে সুন্দর না হয়ে পারে নাকি? - আমি আসলেই সুন্দর না। দেখ না ফেসবুকে কোন পিকচার দেই না। - আচ্ছা তুমি সুন্দর না হও। আমি তোমাকে দেখব। তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করে। প্লিজ আমার এই ইচ্ছাটা পূরণ করবে না? এমন করে অনেক দিন আবদার করেছে। সাদিয়া কখনই নিজের ছবি দেখায় নি। মুখে না বলুক। দুজনই বুঝতে পারত দুজন দুজনকে ভালবাসে। সারাদিন সময় দিচ্ছে। ভালবাসা না থাকার কথাই না। অনিক মাঝে মাঝে বড্ড বেশি বাচ্চা ছেলের মত করত, মোবাইল করেই কান্নাকাটি করত। আর বলত, আমাকে ভুলে যাবে না কিন্তু কখনও। আরে পাগল সাদিয়াও তো পারবে না ভুলে থাকতে। কান্নাকাটির কি আছে? ভালবাসার কথা যেদিন অনিক বলল, সেদিন সাদিয়া একদমই চুপ হয়ে গিয়েছিল। গম্ভির হয়ে বলেছিল, আমাকে ভালবাসার কিছু নেই। - না থাকুক। আমি ভালবাসি। কেন বাসি ওটা আমার ব্যাপার। আমাকে বাসা না বাসা তোমার ব্যাপার। না বাসলে কষ্ট পাব, বাসলে আমি আরও ভালবাসব। সোজা সাপটা কথা অনিকের। না করতে পারেনি সেদিন সাদিয়া। কতক্ষণ পর কান্নাকাটি শুরু করে দেয় অনিক। কেন বাসবে না ভাল। ও কি এতই খারাপ। তাই হ্যাঁ বলেই দিল সাদিয়া। আর সাদিয়া যে বাসে না তা তো না। সাদিয়াও ভালবাসে। হৃদয়ের এক কোণে লুকিয়ে রাখা ভালবাসা অনিক এর জন্যই শুধু সায় দিয়েছিল। জীবনে সব কিছু, দুঃখ , সুখ ,আনন্দ, যার সাথে ভাগ করে নিয়েছে তাকে ভাল না বাসার কিছু নেই। অনিক যদি সাদিয়াকে না দেখে অন্ধের মত ভালবাসতে পারে। সাদিয়া কেন পারবে না এই ছেলেটার পবিত্র ভালবাসা টাকে সায় দিতে। সেদিন রাতে সাদিয়া ফোন দিয়ে বলল অনিককে। - অনিক, আজ আমরা সারারাত কথা বলি? - হ্যাঁ, কেন বলব না। তোমার কথা আমার শুনতে অনেক ভাল লাগে। - আজ আমি সারারাত কাঁদবো। তুমি শুনবে। - এই কাঁদবে কেন? কি হইছে? - কিছু হয় নি। শুনবে না কান্না আমার? অনিক শুনবে তুমি বল? বলেই নীরবে কাঁদতে লাগল সাদিয়া।অনিক কয়েকবার জিজ্ঞাসা করল কেন কাঁদছে। কোন উত্তর দিল না। অনিক চুপচাপ কান্নার শব্দ শুনে গেল। কান্না শেষে সাদিয়া অনিককে বলল- অনিক, আমিও তোমাকে অনেক ভালবাসি। আমার জীবনটা শুধু কষ্টেই কেটেছে সবসময়। আমি তোমার মত এত কাছে কখনও কাউকে পাই নি। এত ভালবাসাও না। আমার পাশে থাকবে না তুমি সবসময়? - থাকব। কেদনা তো আর। পাগলি, কাঁদো কেন? তুমি আমাকে ছেড়ে না গেলে আমিও কখনও যাব না। - promise কর। - আমাকে তুমি বিশ্বাস কর না? promise কেন করতে হবে? - করি তো। - তাহলে? আমি তোমাকে ভালবাসি। তোমাকে ছেড়ে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। সাদিয়া একটা কথা বলব? - বল। - রাখবে কিন্তু? না করতে পারবে না। - আচ্ছা। - আমি তোমাকে দেখতে চাই।কতদিন তোমার ছবি দেখতে চাইলাম দিলে না। চল না আমরা কাল দেখা করি। ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ছাড়ল সাদিয়া। আচ্ছা কাল বিকেলে আমরা দেখা করব। - সত্যি তো? - হ্যাঁ। রাতেই একটা ছবি মেসেজ করে পাঠিয়ে দিয়েছিল সাদিয়া।আর এখন অপেক্ষা করছে অনিকের জন্য দাঁড়িয়ে। সত্যি সুন্দর লাগছে তো দেখতে? নাকি ছোট বোনটা মিথ্যা বলল। মোবাইল টা বের করে তার স্ক্রিনে নিজের চেহারাটা আর একবার দেখল সাদিয়া। আজ চোখে কাজলও দিয়েছে। সত্যি সুন্দর লাগছে তো। নিজেকে এত সুন্দর লাগে নি কখনও। শুধু গায়ের রঙটা একটু কালো। মোবাইল স্ক্রিনে চেহারা দেখতে দেখতেই হঠাৎ আলো জ্বলে উঠল। অনিক মেসেজ করেছে। খুব স্বস্তি লাগছে। নিশ্চয় লিখে পাঠিয়েছে ওর আসতে আর বেশি সময় লাগবে না। মেসেজটা ওপেন করল সাদিয়া। মেসেজ এ লেখা- আমি জানি আমার কাজটা করা ঠিক হচ্ছে না। তবুও কঠিন হলেও সত্য যে আমি আমার জীবনে সবসময় একটা পরীকে চেয়েছি ভালবাসার মানুষ হিসেবে। আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছিলাম ঠিক আছে। তোমার কথা শুনে, একটানা কথা বলতে বলতে আমি দুর্বল হয়ে গিয়েছিলাম। আমার কল্পনাতে আমি তোমার একটা ছবি একেছিলাম। সেই তোমাকে আমি ভালবেসেছিলাম। কাল তোমার ছবি দেখার পর আমার ভাবনা সব বদলে গেছে। নিজের সাথে অনেক বেশি যুদ্ধ করেছি। বুঝানর চেষ্টা করেছি, তুমি অনেক ভাল মেয়ে , তোমাকে ভালবাসি আমি। কিন্তু আমি পারিনি। আমি আজ হয়ত তোমাকে মেনে নিলাম, কিন্তু ২ দিন পরই আবার তোমাকে আমার অসহ্য লাগবে। তোমার ছবি দেখে তোমাকে আমার পছন্দ হয় নি। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্যি। এতদিন তোমার সাথে ভালবাসার কথা বলার জন্য আমি সরি। তুমি চাইলে আমরা ভাল বন্ধু হয়ে থাকতে পারি। মাফ করে দিও আমাকে। আমার কাছে আমার ভালবাসার মানুষকে দেখতে সুন্দর হতে হবে। আর তুমি যদি কষ্ট পেয়ে থাকো তার জন্য তুমিই দায়ি। তুমি আমাকে আগেই ছবি দেখালে তোমার আমাদের সম্পর্কটা এত দূর আসত না। হাতটা কাপছে সাদিয়ার মেসেজটা পড়ার পর। চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরছে। কালো পানি। চোখের কাজলের সাথে মিশে কালো পানি পরছে। হয়ত কাঁদছে কেউ বুঝতে পারবে না। সাদিয়া নিজেই তো কালো। কালো মানুষের কালো চোখের পানি কে দেখতে যাবে? কাজল লেপটে চোখ ভরে যাচ্ছে। এতদিন কিসের পিছনে ঘুরেছে সাদিয়া এখন ভেবে পাচ্ছে না। বৃষ্টি শুরু হয়েছে । তুমুল বৃষ্টি। বৃষ্টির ভিতর কাঁদছে সাদিয়া। কেউ দেখতে পাচ্ছে না সাদিয়া কাঁদছে। যেই কান্না কেউ বুঝে না সেই কান্না কারও দেখে লাভ নেই।
তুমি কি আমার বউ হবে
পর্ব:১
ছোটখাটো একটা ছাতা মাথার উপর। আগের ছাতাটা কত ভাল ছিল। আব্বুর ছাতাটা। খুব সহজে ২-৩ জন থাকা যেত। আর এখন এই পিচ্চি ছাতায় ভিজে শেষ গালিব। ছোট ছাতা ব্যবহার না করলে নাকি স্মার্ট হওয়া যায় না। তাই একটা ছোট ছাতা কিনেছে কাল। এই বৃষ্টির মধ্যে চোখে sun glass. এটাকে এখন rain glass বলে মনে হচ্ছে। খুব বিরক্ত লাগছে চোখে এটা পরে থাকতে। চশমা ! ওহ কি বিরক্তিকর একটা জিনিস। কিন্তু কিছু করার নেই, স্মার্ট হতে হলে sun glass টাকে rain glass বানিয়ে হলেও পরতে হবে। প্রিয়তিকে খুব ভালবাসে গালিব। আর মেয়েটার জন্য একটু স্মার্ট হতেই হবে। সম্পর্ক নয়ত টিকবে না, বলে দিয়েছে প্রিয়তি। বড় ছাতাটা দেখে সেদিন কি চিল্লাচিল্লি না করল প্রিয়তি। তাই ছোট ছাতা কেনা। অবশ্য ঠিকই বলছে । প্রিয়তি কত স্মার্ট অত সুন্দর। ও যদি একটা পাগল পাগল টাইপ , আনস্মার্ট ছেলের সাথে ঘুরে কেমন লাগে না। গালিব এক জামা দিয়েই অনায়েসে সপ্তাহ পার করে দিতে পারে। কিন্তু এখন আর তা করলে হয় না।- তোমার কি এই একটাই জামা? - না, তা হবে কেন? - তাহলে এই ময়লা জামা পরে প্রতিদিন আসো কি ব্যাপার? - খুব আলসেমি লাগে জামা বের করতে। - জামা কি সব সিন্দুকে ঢুকিয়ে রাখছ নাকি? যে বের করতে আলসেমি লাগে। - আরে না। কি বল। এই যুগে সিন্দুক পাব কই? ঘুছিয়ে রেখে দিছি মাথার কাছে। প্রিয়তি বাম ভ্রু উঁচু করে তাকাল গালিবের দিকে। প্রিয়তিকে এই অবস্থায় দেখতে অসাধারণ লাগে। গালিবও একটু বাম ভ্রুটা উঁচু করার চেষ্টা করল।খুব অদ্ভুত লাগছে দেখতে। - এই এই চোখ এমন করছ কেন তুমি? - একটু তোমার মত করার চেষ্টা করছি। - আণ্ডা। চোরের মত লাগতেছে তোমাকে। - এসব কি কথা। তোমাকে না কি সুন্দর লাগে। - আমাকে লাগবেই। আমি তোমার মত ময়লা জামা পরে ঘুরি নাকি। তুমি কি নোংরা!! - জামা পরলে পুরনো হয়ে যাবে না? তাই এটা নষ্ট হবে আগে তারপর অন্যটা পরবো। একটু পাশে এসে গালিব হাত ধরতে যাচ্ছিল প্রিয়তির। দূরে সরে গিয়ে প্রিয়তি বলল- একদম ধরবা না আমাকে ময়লা জামা পরে। কি জঘন্য। ভাবা যায় তুমি নতুন জামা তুলে রেখে এই পচা ময়লা জামা পরে আমার সাথে দেখা করতে আসছ। তুমি এমন কেন? একটু স্মার্ট হতে পার না? আসলেই তো গালিব এমন কেন? একটু স্মার্ট হতে পারে না? আজ স্মার্ট হয়ে আসছে গালিব। মাথার চুল গুলো উপরের দিকে স্পাইক করে এসেছে হেয়ার জেল দিয়ে। - তুমি কি এভাবেই চুল আঁচড়াবে? - কিভাবে? - এই মদন মদন ভাবে। - কই? ভালই তো এটা। সবাই ভদ্র বলে চুল দেখে আমার। একদিন কি হল জানো, এক লোক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট করছে। বসে করলেও হত। খুব মেজাজ খারাপ হল। আমি পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম হাতে আমড়ার আচার নিয়ে। এই দুর্গন্ধে। খাওয়া যায় বল? কি আর করা। আসতে করে দিলাম এক লাথি ব্যাটাকে পিছন থেকে। লোক তো তারাতারি করে ঠিকঠাক হয়ে পিছন ফিরে তাকাল। কে এই কাজ করল দেখার জন্য। আমার চেহারা দেখে তার মনে হয়নি যে আমি এই কাজ করেছি। বুঝ না, চেহারায় তো আমার innocent ভাব। উনি আমার কাছে জানতে চাইলেন আমি দেখেছি কিনা এই কাজ কে করেছে। আমি দুর্গন্ধের মধ্যে আচার খেতে খেতে বললাম, না তো আংকেল। তবে এক ছেলেকে দৌড়ে যেতে দেখলাম। আংকেল তো খুব আক্ষেপ নিয়ে স্থান ত্যাগ করলেন। শান্তি মতন পরিবেশও নষ্ট করতে পারলেন না। হাহা। - এই চুপ। কি সব কথা বলতেছ। এর সাথে চুলের কি সম্পর্ক? - আছে। আমার চুল দেখেই উনি বুঝলেন যে এই অপকর্ম আমাকে দিয়ে করা সম্ভব না। - তুমি কি হেয়ার স্টাইল চেঞ্জ করবা কি করবা না বল। - না করলে হয় না? - না হয় না। আমার এই মদনের সাথে ঘুরতে অস্বস্তি লাগে। তুমি হেয়ার স্টাইল চেঞ্জ করে আসবা পরের দিন। একটু স্মার্ট হও না প্লিজ। আমার ভাল লাগে তোমাকে। - আচ্ছা। গালিব চুপ করে কথাটা বলল। প্রিয়তি হয়ত খুব রেগে গেছে। আজ তাই চুলের স্টাইল চেঞ্জ করে যাচ্ছে গালিব।চোখে sun glass বা rain glass . হাতে ছোট ছাতা। ভিজে শরীর শেষ। নতুন জামা ভিজে একাকার। ময়লা জামা পরে যাচ্ছে না আজ।সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখতে হবে যে। ---------------
তুমার নাম কি
: ঐ মেয়ে, তোমার নাম কি ?
-: আমার নাম দিয়ে আপনার কি কাম ?
(ঐ ছেরি, এত কস ক্যান ? যেটা জিগাইছি সেটার উত্তর দে) -: না মানে..... এমনি !
-: না মানে..... এমনি ?
এমনি মানে কি ? আমি প্রায় সময় খেয়াল করি আমি ছাদে উঠলে আপনি আমার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকেন ! আপনার জ্বালায় আমি ছাদে পর্যন্ত উঠতে পারি না । আপনাদের মত ছেলেদের আমি খুব ভাল করেই চিনি ! প্রথম দিন বলবেন- হাই ! দ্বিতীয় দিন- নাম্বারটা চাই ! তৃতীয় দিন- ভালবাসি তোমায় ! যত্তসব !
(ও খোদা ! এ মাইয়্যা কয় কি ? গত ছয় মাস ধরে নাকের আগায় আগায় ঘুরতেছে । কোনদিন তো কথাও বলি নাই ! আজ প্রথম বারের মত কথা বলতে গিয়েই এই ব্যবহার ! ধুর, কি দরকার ছিল গায়ে পড়ে গিয়ে কথা বলার ? ভাগ্যটাই খারাপ আমার ! এর সামনে আর বেশিক্ষণ থাকা যাবে নাহ ! মুখ লুকিয়ে কিভাবে পালিয়ে বাঁচা যায় সেটা ভাবছি, এমন সময় সে বলে উঠল-)
-: By the way, আমার নাম পিয়া ! আপনার নাম কি ?
(কোন সুন্দরী তার নাম বললে খানিকক্ষণ তার নামের প্রশংসা করতে হয়- এটাই নিয়ম । কিন্তু এ মাইয়া প্রথমেই যে বাঁশ দিল, তাতে প্রশংসা করার আর মুড় নাই !) -: নীল । আমার নাম নীল ।
-: হি হি হি ! আমার এক বান্ধবীর নাম নীলা ! (আশ্চার্য ! তার বান্ধবী একটা মেয়ে আর একটা মেয়ের নাম নীলা হতেই পারে । এখানে হাসার কি হল ?)
-: না মানে... আমার নাম নিলয় । নিলয় থেকে সংক্ষিপ্তরূপ নীল !
-: নিলয়.....? হা হা হা ! আমার এক কাজিন ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজে পড়ে । তার নাম নিলয় !! আপনার তো দেখি পুরাই মেয়েদের নাম !
(নিলয় মেয়েদের নাম ?? জীবনে এ কথা প্রথম বারের মত কেউ আমাকে বলল ! এ মেয়েকে এখন মজায় পাইছে ! এখন আমি যদি বলি আমার নাম আলবার্ট আইনস্টাইন, আমি ড্যাম শিউর যে এ মেয়ে তখন বলে উঠবে- হো হো হো ! আমার ছোট খালার নাম তো আলবার্ট আইনস্টাইন ! যাগ্গে ! সে রিক্স আর নিলাম না । হাসুক । যত খুশি হাসুক । তাতে আমার কি আসে যায় ?)
:- ও আচ্ছা ! কি আর করব বল ? আম্মায় আব্বায় রাখছে । তখন ছোট ছিলাম তো, তাই বুঝতে পারি নি এটা ছেলেদের নাকি মেয়েদের নাম !!
:- হুম । সেটাই ! আচ্ছা, আপনি যদি আপনার নাম রাখার সুযোগ পেতেন তবে কি রাখতেন ?
(এ মেয়ে তো দেখি পিতির পিতির অনেক কথা কয় ! তাইলে প্রথমে এমন বাঁশ দিল ক্যান ?) -: উইলিয়াম শেক্সপিয়ার !
-: হা হা হা ! খারাপ হত না । তবে নীল নামটাও খারাপ না । মেয়েরা সাধারণ ছেলেদের নামের প্রশংসা করে না । কিন্তু এ মেয়ে তো দেখি তাও করে ফেলল । এখন যদি তারে একটু পাম্প না দিই তবে সেটা একটু খারাপ দেখায়)
-: তোমার নামটাও খারাপ না । পিয়া ! অনেক সুন্দর একটা নাম । আমি যখন স্কুলে ছিলাম তখন আমাদের সাথে পিয়া নামে একটা মেয়ে ছিল । এত্ত সুন্দর ! বলার বাইরে ! আমার জীবনে এত সুন্দর মেয়ে আর দ্বিতীয়টি দেখি নি ! মিস ইউনিভার্সও তার কাছে হার মানবে ! কিন্তু সমস্যা হল- মেয়েটা হিন্দু ছিল ! পিয়া রানী পাল ! নইলে নির্ঘাত তার সাথে প্রেমে করতাম !
(মেয়েরা নাকি কখনোই তার সামনে অন্য মেয়ের প্রশংসা সহ্য করতে পারে না । পরীক্ষামূলক বাঁশ)
-: অনেক সুন্দর ছিল বুঝি ?
-: হুম । অনেক..... (মেয়ের মন খারাপ হয়ে গেছে । যাক, ডোজ তাহলে জায়গামত পড়ছে)
-: তুমিও অবশ্য কম সুন্দর না !
(পাম্প ! পাম্প !! পাম্প !!!)
-: থ্যাংকস । (মেয়ের মুখে হাসি ফুটছে । আরেকবার বাঁশ দিব কিনা ভাবতেছি । না থাক । বেশি দিলে আবার মাইন্ড খাইতে পারে ! মেয়েও চুপ । আমিও চুপ । কারো মুখে কোন কথা নাই । একবার ভাবলাম জিজ্ঞাসা করি- প্রথমে এমন করলে কেন ? পরে ভাবলাম- থাক । কি দরকার ? সব কারণ জানতে হয় না । মেয়েই আবার শুরু করল-)
-: আপনি এখন নিয়মিত ছাদে আসেন না কেন ? (হায় আল্লাহ ! কয় কি এ মাইয়্যা ? আমি যে এখন রেগুলার ছাদে আসি না সেটা তো আমি নিজেও জানি না ! এ মাইয়া এসব খেয়াল করে নাকি ?)
-: কই আসি তো !
-: না । আগের মত আসেন না । আগে প্রতিদিন বিকেলে ছাদে উঠলে আপনাকে দেখতাম । কিন্তু গত দুই সপ্তাহ দেখি নাহ !
-: ও আচ্ছা ! আসলে আগে বিকেলে বাসায় থাকতাম । এখন থাকি না । জিমে যাই ।
-: জিম ? আপনি ?
হা হা হা ! এমনিতেই তো স্বাস্থ্যমন্ত্রী ! জিমে গিয়ে কি করবেন ?
(এ মেয়ে এত হাসে ক্যান ? হাসুনি গোটা খাইছে নাকি ? সেই তখন থেকে হাসতেছে । যত্তসব) -: মাইন্ড করলেন নাকি ?
-: না তো ! মাইন্ড অনেক দামি জিনিস । এত দামি জিনিস আমি খাই না । হজম হয় না !
(আমার ফেবারেট ডায়ালগ !) -: ওহ ! সেটাই ভাল ! আপনার ফেসবুক আইডিটা দেন তো ?
(ওরে বাবা ! ডিরেক্ট একশন ! জটিল মেয়ে)
-: আমি তো ফেসবুক ইউজ করি না !
-: কি বলেন ? আপনি ফেসবুক ইউজ করেন না ? কোন যুগে বাস করেন আপনি ?
(মেয়ে, তুমি কি নিজেকে ইসমাট ভাব ? তাইলে মনে রাইখো- আমি হইলাম উভার ইসমাট !)
-: আসলে ফেসবুক খুব কমন হয়ে গেছে ইদানীং ! এত কমন জিনিস ইউজ করতে ভাল লাগে না আমার । আমি সব সময় ইউনিক টাইপ জিনিস খুঁজি । আমি টুইটার ইউজ করি ! (
পার্ট লইছি ! পুরাই পার্ট!!) -: নাহ ! আসলে টুইটার অনেক হার্ড ! কিছুই বুঝি না ।
-: হুম সেটাই ! সবাই টুইটার ইউজ করতে পারে না । টুইট করার জন্য এক্সটা কোয়ালিফিকেশনের দরকার হয় ! সবার সেটা থাকে না !!
(সুন্দরী, তুমি প্রথমে আমাকে বাঁশ দিছিলা ! বাঁশ কিন্তু আমিও দিতে জানি- মনে রাখবা)
-: কি ভাবে টুইটার ইউজ করতে হয় সেটা আমাকে শেখাবেন ?
-: আমি তো ফ্রি কোন কিছু কাউকে শিখাই না ! এর জন্যে তো চার্জ দিতে হবে !!
-: আপনি এত হিংসুক কেন ?
-: আমি হিংসুক না ! আমি হলাম বাস্তববাদী । তুমি চারপাশে একটু তাকিয়ে দেখ । আজকাল কি কোন কিছু ফ্রি আছে ?
-: হয়েছে । হয়েছে । থাক । আর লেকচার দিতে হবে না । যান, দেবনে.... শিখাবেন তো ?
-: হুম । শিখাবো ! (এমন সময় ছাদে একটা পিচ্ছি এল । কি জানি বলল ওকে)
-: আম্মায় ডাকছে । এখন যাই । পরে কথা হবে
। -: ঠিক আছে । যাও !
-: ভাল থাকবেন ।
-: হুম । তুমিও ।
-: বাই ।
-: বিদায় ! (মেয়ে, যে কথাটি তোমাকে বলা হয় নি- পরে আর কথা বলার সুযোগ তুমি আর পাবে না ! বাসা চেইন্জ্ঞ করা হয়েছে । জিনিসপত্র ট্রান্সফার চলছে । কাল বিকেল কিংবা পরশু সকালে চলে যাব । জীবনে হয়ত আর কোনদিন দেখাও হবে না । কোন দিন বলাও হবে না- মেয়ে, তোমাকে ভেবে অনেক কবিতা লিখেছিলাম । দেখেছিলাম অনেক স্বপ্নও ! থাক । সব কথা সব সময় বলতে হয় না । শুধু বলব- ভালো থেকো তুমি ।)
নিঃশব্দ ভালোবাসা
নিঃশব্দ ভালবাসা' আকাশ কিছুটা মেঘলা হয়ে আছে । পার্কে তাই তেমন কোন মানুষ নেই এখন । নিঃশব্দা পার্কের একটি ব্যাঞ্চে চুপচাপ বসে আছে । কি যেন ভাবছে সে । আকাশের দিক থেকে চোখ সরিয়ে পাশের ব্যাঞ্চে বসে থাকে দুজন তরুণ তরুণীর দিকে তাকাল সে । হঠাত্ করে কি যেন তার মনে পরে গেল । চোখের কোনে অশ্রুকণা জমতে শুরু করল তার । প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে তার । কিন্তু বাইরে বলে কাঁদতে পারছে না । অস্তে করে চোখ বন্ধ করলো নিঃশব্দা । একটি অশ্রু কণা এসে তার হাতে পরলো । খুব নিঃশ্ব লাগছে নিজেকে তার । মনে হচ্ছে যেন সব কিছু হারিয়ে ফেলেছে সে । নিজের উপর প্রচন্ড রাগ উঠছে তার । নিজেকে বার বার ধিক্কার দিচ্ছে সে । তিন বছর আগেও তার সুযোগ ছিল । কিন্তু সে বুঝতে পারে নি । আজ বড় একা সে । চোখ দুটো খুললো নিঃশব্দা । চোখ আবারো ঝাপসা হয়ে আসছে তার । কি ছিল আর সে আজ কি হয়েছে । তিন বছর আগে নিঃশব্দা প্রানবন্তর একটি মেয়ে ছিল । পড়াশুনা আর বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে সময় কাটাতো । কিন্তু কি হতে যেন কি হয়ে গেল তার । সব কিছুই এলোমেলো হয়ে গেছে তার জীবনে । এখন আর কিছুই ঠিক নেই । (তিন বছর আগে) 'প্রারম্ভিকা' নিঃশব্দা চুপচাপ অনলাইনে বসে আছে । কেউ নেই । হঠাত্ মনে হল তার কেউ একজন অনলেইনে ঢুকেছে । তাকিয়ে দেখলো জিসাত ঢুকেছে । সাথে সাথে মুখে বিরক্তির ছাপ ভেসে উঠলো তার । জিসাত কয়েক মাস যাবত তার সাখে কেমন যেন ব্যবহার করছে । নিঃশব্দার তা মোটেও ভাললাগে না । নিঃশব্দা বুঝতে পেরেছে যে জিসাত তার প্রেমে পরেছে । কিন্তু নিঃশব্দা এটা মোটেও চায়না । জিসাত আর নিঃশব্দা খুবই ভাল বন্ধু । বন্ধুক্তের মাঝখানে সে এই প্রেম ভালবাসা আনতে চায় না । আর নিঃশব্দা অন্য এক জনকে ভালবাসে । অবশ্য সেই ছেলে নিঃশব্দাকে ভালবাসে কিনা সেটা নিঃশব্দা জানে না । নিঃব্দার কাছে মনে হয় সেই ছেলেটি তাকে হয়তো তাকে ভালবাসে না । নিঃশব্দা জানে ছেলেটি সেটা বুঝে যে নিঃশব্দা তাকে ভালবাসে । কিন্তু কেন যেন ছেলেটি তাকে দুরে সরিয়ে রাখে । আর আরেক জন আছে যে কি না নিঃশব্দার জন্য পাগল হয়ে আছে । এসব ভাবতে ভাবতে নিঃশব্দা খেয়াল করলো জিসাত এতক্ষনে তাকে চ্যাট করার জন্য আমন্ত্রন জানিয়েছে । -কেমন আছিশ ? জিসাত লিখে পাঠালো । নিঃশব্দা তার নিজের চোখ উল্টে লিখলো , ভাল । -কি করছিশ ? কিছুটা বিরক্ত হয়েই নিঃশব্দা তাকে বললো , নাচতেছি । জিসাত হাসতে হাসতে বললো , আর কি করছিশ ? -আর গান গাইছি । -কি গান ? -ঐ যে তপুর নতুন অ্যালবামের গান বের হলো না আনিলা সহ গানটা গেয়ে ছিলো । সেই গানটা । 'এক পায়ে নুপূর আমার অন্য পা খালি' গানটা । একট হেসে জিসাত লিখলো , কিন্তু আমিতো তোর পায়ে জুতা দেখছি । নিঃশব্দা অবাক হয়ে গেল , ও কি করে জানে যে সে পায়ে জুতা পড়ে আছে ! সে জিসাত কে কৌতহলী হয়ে জিজ্ঞাস করেই ফেললো , জিসাত তখন হেসে বললো , তোর প্রো পিক এই দেওয়া আছে । আত তো নিঃশব্দা এতোক্ষন খেয়ালই করে নি । তার প্রো পিক এ একটি মেয়ে বই এর দোকানের সামনে দারিয়ে আছে । আর তার পায়ে এক জোরা কফি রং এর জুতা । নিঃশব্দা মনে মনে নিজেকে কিছুক্ষন বকলো । প্রচন্ড রাগ উঠছে তার । সে কেন এতক্ষন খেয়াল করেনি ! কিছুক্ষন চুপ থেকে নিঃশব্দা লিখলো , ঠিক আছে আমি এখন বিদায় নিচ্ছি । পড়তে বসতে হবে । আর তুইও পড়তে বস । পরে কথা হবে । বাই জিসাতের কোন উত্তরের আশা না করেই অফলাইন হয়ে গেল নিঃশব্দা । জিসাত ড্রইংরুমে তার লেপটপ নিয়ে বসে আছে । তার মনের আকাশে এখন রোদ মেঘ দুটোই আছে । নিঃশব্দার সাথে কথা বললে তার মন এমনিতেই অনেক ভাল হয়ে যায় । কিন্তু আজ সে চেয়েছিলো তার অনুভুতিটা নিঃশব্দার কাছে তুলে ধরতে । কিন্তু কিভাবে শুরু করবে সেটা সে বুঝে উঠতে পারছে না । আর এমনিতেই তারা দুজন খুব ঝগরা করে ।তাদের বন্ধুক্তটাও ঝগড়ার মাধ্যমে হয় । বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম যে দিন নিঃশব্দাকে দেখেছিল , জিসাত সে দিনই প্রেমে পড়ে গিয়েছিল তার । কিন্তু তার পরেও তখন বুঝতে দেয় নি তাকে । আজ যখন তার যাওয়ার সময় হয়েছে তখন বোঝানোর চেষ্টা করেও পারছে না । আর বলতেও পারছে না কোন কিছু তাকে । কি করে বলবে , জিসাত তো শুধু তার সাথে ঝগড়া করে । সব সময় খেপায় নিঃশব্দাকে । নিঃশব্দা খুব মিষ্টি একটা মেয়ে । খুব সুন্দর করে কথা বলে । তার কথার মধ্যে এক ধরনের চঞ্চলতা আছে । আর এই চঞ্চলতাই জিসাতকে নিঃশব্দার কাছে আরো টেনে এনেছে । নিঃশব্দার টানা টানা চোখ যেন তাকে আরো পাগল করে ফেলে । আর দুষ্টমি ভরা কথাতে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে থাকে সে । সব মিলিয়ে জিসাতের চোখে খুব সুন্দর একটা মেয়ে নিঃশব্দা । এতো সুন্দর বলেই জিসাত ভয় পায় , এই মেয়ে যদি অন্য কারো হয়ে যায় । সে যদি অন্য কাউকে পছন্দ করে ফেলে । এ জন্য সে যত তারাতারি সম্ভব তাকে তার মনের কথাটি জানিয়ে দিতে চায় । আরতো কয়েক মাস । মার্স্টাস করার জন্য আবার বিদেশ চলে যেতে হবে । তখন তো আর সুযোগ পাবে না সে । কিন্তু দুর্ভাগ্য তার , আজও পারলো না সে নিঃশব্দাকে মনের কথা জানাতে । একেক সময একেকটা বাধা আসে । কি করে বলবে সে তার মনের কথা নিঃশব্দাকে ! বুঝতে পারে না সে কিছুতেই । নিজের উপর রাগ উঠে তার । আবার পরক্ষনেই নিঃব্দার কথা মনে করে রাগটা উবে যায় । তবে আর যাই হোক , বলতেই হবে তাকে । জিসাত ভাবে কি করে তার মনের কথা নিঃশব্দাকে বলবে । যত তারাতারি সম্ভব তাকে বলতেই হবে । আরতো কয়েক মাস পরেই সে USA চলে যাবে । জিসাত লেপটপটা বন্ধ করলো । আরমোরা দিয়ে উঠলো সোফা থেকে । ড্রইংরুম থেকে বের হয়ে বারান্দায় চলে গেল জিসাত । বারান্দার গ্রীল ধরে বাইরে তাকিয়ে আকাশ দেখতে লাগলো । আকাশে কিছু মেঘ জমেছে । মেঘ গুলোর দিকে তাকিয়ে জিসাত যেন তার ছোটবেলার স্মৃতিতে ডুবে গেল । মেঘগুলোতে যেন সে ছোটবেলার সকল স্মৃতি খুজে পাচ্ছে। খুব সকালে ঘুম ভাঙ্গলো নিঃশব্দার । আজ এতো তারাতারি ঘুম ভাঙ্গাতে লেপটপ নিয়ে বসলো সে । অনলাইন হতে না হতে আবার জিসাতের আক্রমন । হ্যালো , হাই বলার পর জিসাত হঠাত্ নিঃশব্দাকে বললে , - আচ্ছা নিশ্ , তুই আমার সাথে USA যাবি ? নিঃশব্দা অবাক হয়ে বললো , কেন ? আমি তোর সাথে USA যাবো কেন ? - না মানে , আমি যদি তোকে আমার সাথে নিয়ে যাই ! - আশ্চর্য ! আমি তোর সাথে USA কেন যাব ? নিঃশব্দা খুব বিরক্ত হল । জিসাতের মতলব কি ? মনে মনে ভাবল সে । তার পর আবার বললো , আমার বাংলাদেশ ভাললাগে , আমি আমার বাংলাদেশেই থাকব । আর যদি আমার USA তে যেতেই হয় আমি নিজে আসতে পারব । তোর সাথে আমি কেন যাব ? জিসাত অনেক্ষন চুপ করে থেকে শেষের দিকে বললো , আমাকে এখান জরুরি একটা কাজে বাইরে যেতে হবে । তোর সাথে পরে কথা হবে । বাই এই বলে জিসাত অফলাইন হয়ে গেল । নিঃশব্দা কিছুই বুঝতে পারলো না । আর বুঝতেও চায় না সে । কেন বুঝবে সে ? বুঝে লাভ কি ? সে এখন কিছুই বুঝতে চায় না । সব কিছু ভুলে গুণ্ গুণ্ করে গান গাইতে লাগলো নিঃশব্দা - -যদি অজানা মনে খোজ আমায় তাকাবেনা তবু চোখ চলে যায় আমার পানে -- । 'অদ্ভুত মেয়ে তো । এতো ইঙ্গিত দেই তার পরও বোঝে না ।' জিসাত মনে মনে বির বির করছে । তার পর আবার ভাবলো , 'নাহ্ থাক , মেয়েরাতো এমনই । কখনই তারা তাদের মনের কথা মুখ ফুটে বলে না । যা বলার ছেলেদেরই বলতে হয় । কিন্তু কি করা যায় এখন ? কিভাবে বলবো কথাটি যে আমি তোকে ভালবেসে ফেলেছি । নাহ্ , তুই করে বলবো না । তুমি করে বলবো । যাহ্ , সে যদি কিছু মনে করে ! পরে যদি আমার সাথে আর কথাই না বলে !' জিসাত ভাবতে ভাবতে মাথা চুলকাচ্ছিল । এমন সময় জিসাতের মা তার ঘরে ঢুকলো । - কিরে ! কি নিয়ে চিন্তা করছিশ এতো ? এমন করে মাথা চুলকাচ্ছাশ কেন ? - মা , খুব জটিল একটা পরীক্ষা দিতে হবে । কি ভাবে দিব সেটাই চিন্তা করছি । - কি এমন জটিল পরীক্ষা যে আমার সোনামানিক কে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে ? কি রকম পরীক্ষা ? - মা , ও তুমি বুঝবে না । অন্য এক বিষয় এর । এটা তোমার বোঝার বিষয় না । - হুম । বড় হয়েছিশতো , এখন আমাকে বলবিই বা কেন । যাই হোক , এখন পর্যন্ত প্রত্যেকটি পরীক্ষার ফল যেমন ভাল করেছিশ , দোয়া করি এবারেরটাও যেন সেই রকমই ভাল হয় । জিসাত তার মাকে জরিয়ে ধরে বললো , দোয়া কর মা , তোমার ছেলে যেন সকল কিছুতেই জয়ি হয় । - অবশ্যই , মা বাবারা তো সব সময় সন্তানদের জন্যই দেওয়া করে । এর পর জিসাত বলল , ঠিক আছে মা , এখন তুমি যাও । আমি আরেকটু চিন্তা করি পরীক্ষা নিয়ে । - আরে তোকে তো আসল কথাটাই বলে হয় নি । যে কারনে এসেছিলাম । তোর জন্য একটা ভাল পাত্রী দেখেছি ।খুব সুন্দরী মেয়েটি । নম্র , ভদ্র , লেখাপড়ায় ভাল । তোর সাথে ভালই..... মাঝ খান দিয়ে কথা আটকিয়ে জিসাত তার মা কে বললো , মা , তোমাকে না কতবার বলেছি , এখন আমি বিয়ে করব না । আগে পড়ালেখা শেষ করি তার পর নিজের ক্যারিয়ার গঢ়ে তুলি । তার পর দেখা যাবে । - দেখা যাবে মানে ? আমি কি আর তত দিন বাচঁবো ? যদি মরে যাই ! - মা , তুমি মরবে না । তোমার জন্য আমি তখন একটা হুলপরী এনে দেব । - আচ্ছা ঠিক আছে , ঠিক আছে । তাহলে আমি আর এই প্রস্তাবে এগুই না । তুই যা ভাল মনে করিশ তাই হবে । -আচ্ছা ঠিক আছে । এখন আমাকে একটু ভাবতে দাও কিভাবে পরীক্ষাটা দিব । - হেরে , প্রশ্ন কি খুব কঠিন হবে ? পরীক্ষা দেওয়ার পর আমাকে বলিশ । - আচ্ছা ঠিক আছে মা । এখন যাও তো । জিসাতের মা রুম থেকে বের হয়ে গেল । জিসাত আবারও নিঃশব্দার কথা চিন্তা করতে লাগলো । বিকেলের আবহাওয়া আজ খুব সুন্দর
রাগি বউ
. আনুশা কাপড়ের ব্যাগটা হাতে নিয়ে দরজার সামনে দাড়িয়ে আবারো বললো ,,, .. ---
আনুশাঃ আমি কিন্তু সত্যি সত্যিই চলে যাচ্ছি। আর ফিরবোনা কখনো। .. আমি পেপারটা মুখের সামনে ধরে রেখেই বললাম .. ---
তপুঃ হুম। গেলে একবারে যাওয়াই ভালো। বারবার ঝামেলা করার কি দরকার? ---
আনুশাঃ কি... আমি ঝামেলা করি? ঝামেলাতো তুমি করো। তোমার মত দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষকে বিয়ে করে জীবনটা শেষ করে দিলাম। আর থাকছিনা এখানে। ---
তপুঃ আচ্ছা যাবেতো চলে যাও। এখানে দাড়িয়ে দাড়িয়ে তর... ওহ স্যরি মানে কথা বলার কি দরকার। .. (যদি তর্ক করছে বলি তবে আরো আধা ঘন্টা ঝারবে আমাকে। তাই আর বললাম না) .. --- আনুশাঃ ঐ তুমি কি বললে? আমি তর্ক করছি? ---
তপুঃ না না আমি সেটা কখন বললাম? আমি বলছিলাম যে তাড়াতাড়ি যাও। নইলে ট্রেন মিস করবে। ---
আনুশাঃ এই আমি কি যা তা ফ্যামিলির মেয়ে যে ট্রেনে ধাক্কাধাক্কি করে যাবো? আমি CNG করে যাবো। ---
তপুঃ আচ্ছা বাবা যাও CNG তেই যাও। --- আনুশাঃ ছিঃ কি বললা তুমি এটা? আমি তোমার WIFE, আর তুমি আমার সাথে কথা বলার সময় বাবা শব্দ উচ্চারণ করলা। এই তোমার কি কমন সেন্স বলতে কিছু নেই? ---
তপুঃ আরে ওটাতো কথার কথা বলেছি। --- আনুশাঃ কথার কথাই বলবা কেন তুমি? কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় জানোনা তুমি? ---
তপুঃ ওকে এরপর আর কখনো তোমার সাথে কথা বলার সময় ঐ শব্দটা উচ্চারণ করবোনা। :) --- আনুশাঃ আরে তুমি আমাকে পাবা কই যে কথা বলবা? আমিতো এক্ষুনি চলে যাচ্ছি। ---
তপুঃ ও হ্যাঁ। তুমিতো চলে যাচ্ছো। ভালোভাবে যেও। আনুশাঃ আমি ভালোভাবে যাই আর মন্দভাবে যাই সেটা আমার ব্যাপার। তুমি বলার কে? ---
তপুঃ ওহ তাইতো! আমি বলার কে? ওকে স্যরি। ---আনুশাঃ স্যরি বললেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়? বিয়ের পর থেকে কত কত ভুল করেছো তুমি আমার সাথে? কতবার স্যরি বলবে আর। লজ্জা করেনা তোমার এতবার ভুল করতে আর স্যরি বলতে? ---
তপুঃ আমার লজ্জা শরম একটু কমই। আর সেটাতো তুমি জানোই। ---
আনুশাঃ কেন লজ্জা কম থাকবে তোমার? তুমি একটা পুরুষ মানুষ না? পার্সোনালিটি বলতে কিছু নেই কেন তোমার? ---
তপুঃ লজ্জাতো নারীর ভূষণ। ওটা পুরুষদের একটু কমই থাকে। ---
আনুশাঃ কম কি বলছো? ওটাতো তুমার একবারেই নেই। .. এইবার আমি আর কিছু বললাম না। কেবল চুপ করে রইলাম। পেপারটা এখনো মুখের উপরেই ধরা আছে। ওর দিকে তাকাচ্ছিনা আমি। তাকালে আরো জোড়ালোভাবে ঝগড়া করবে। আসলে মেয়েটা আমাকে খুব ভালোবাসে। ছয় বছর প্রেম করে বিয়ে করেছি আমরা। ও অনেক বড়লোক বাপের মেয়ে। ওর বোনদের সব বড় বড় ঘরে বিয়ে হয়েছে। ওর পরিবার বারবার না করা সত্বেও ও আমাকেই বিয়ে করছে। পাঁচ বছর হয় বিয়ে করেছি আমরা। আমি ওকে তেমন কিছুই দিতে পারিনি। আর ও কিছু চায়ওনা আমার থেকে শুধু ভালোবাসা ছাড়া। কিন্তূ এই ভালোবাসাটাতে ঘাটতি পরলেই যত সমস্যা। তখন ও বউ থেকে কাঁচা ধানী লংকা হয়ে যায়। ব্যাগপত্র গুছিয়ে চলে যাবার হুমকি দেয়। যদিও আমি জানি যে ও কখনো আমাকে ছেড়ে যাবেনা। কারণ ও আমাকে ছাড়া থাকতে পারবেনা সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি। আর ওর রাগটা কমে গেলে পড়ে গভীর রাতে যখন ঘুমিয়ে থাকি তখন আমার পা ধরে এত কান্নাকাটি করে যে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। কিন্তূ আজকে আমি নিজেই অনেক ভয় পাচ্ছি। কারণ গতকাল আমাদের ম্যারিজ ডে ছিলো। কিন্তু আমি অফিসের কাজের জন্য বাসায় আসতে পারিনি রাতে। ও আমার জন্য কেক নিয়ে বসে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পরেছিলো। তাই আজ একটু বেশী রেগে আছে। মনে মনে ভাবছি যদি সত্যি সত্যিই চলে যায়, তাহলেতো আমি শেষ। আমি একদিনও চলতে পারবোনা ওকে ছাড়া। মনে মনে আইডিয়া করে রেখেছি যদি সত্যি সত্যি গেটের বাহিরে চলে যায় তবে কোলে করে নিয়ে আসবো। কিন্তু তার আগে ওর ভাবটা দেখি। আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে গেলেতো হেরে যাবো। আনুশা এখনও ব্যাগ হাতে দরজার সামনে দাড়িয়ে আমার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। আমি একটা ইনোসেন্ট ভাব নিয়ে সামনে থেকে পত্রিকাটা সরিয়ে ওকে আবারো জিজ্ঞাসা করলাম ,,, .. ---
তপুঃ কি ব্যাপার যাওনি এখনো? ---
আনুশাঃ আমি কি তোমার পকেট থেকে টাকা চুরি করি যে, টাকা থাকবে আমার কাছে? ভাড়া না দিলে যাবো কিভাবে? :/ এইবার আর হাঁসি চেপে রাখতে পারলাম না। শব্দ করে হেঁসে দিলাম। আর সাথে সাথেই ও ছিঁচকাঁদুনে মেয়েদের মত কাঁদতে লাগলো। আমি তখন উঠে গিয়ে ওর চোখ দুটো মুছে দিতে দিতে একটু ভঙ্গিমা করে বললাম ,,, .. ---
তপুঃ থাক সোনা। তাহলে আর যেতে হবেনা। .. ও কিছু না বলে কেবল আমার কাঁধে মাথা রাখলো। আমিও ভীষণ ভালোবাসি আমার লক্ষিটাকে। .. কার কার এমন রাগি বউ আর রাগি গার্লফ্রেন্ড আছে, যে কিনা রাগ করলে আপনিও ইচ্ছে করে মজা করে ওর রাগ বাড়িয়ে দেন আর ও কাঁদলে আপনিও কেঁদে দেন??
ভালোবাসা
ভালোবাসা হচ্ছে কোনো বিশেষ মানুষের প্রতি স্নেহ, আবেগ, অনুভূতি ও দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। ভালোবাসার গল্প বলে আসলে শেষ করা যাবে না। ভালোবাসা অসীম। ভালোবাসা আছে বলেই মানুষ সামাজিক জীব। ভালোবাসা দেখা যায় না, এটা অনুভব করে নিতে হয়। তাই ভালোবাসা হচ্ছে ব্যক্তিগত অনুভূতি যা একজন অন্যজনের প্রতি অনুভব করে। এ পৃথিবীতে ভালোবাসা আছে বলেই ভালোবাসার গল্প আছে। আর এই ভালোবাসার অনুভূতি, মিলন ও বিচ্ছেদ থেকেই ভালোবাসার গল্পের সৃষ্টি। ভালোবাসার গল্প বা রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প পড়ে মানুষ তার মনের খোরাক জোগায়। রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প ও ভালোবাসার গল্পের মধ্যে পার্থক্য খুবই সামান্য।তবে সাধারণত যে গল্পে অতিরিক্ত রোমান্স থাকে তাকে রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প বলা হয়।
ভুতের গল্প
শুরু হয়ে গেল আমাদের রেগুলার হরর শো, হার্ট অ্যাটাআআআআক! আপনাদের সাথে আছি আমি আরজে পাপ্পু। আপনারা জানেন, এই প্রোগ্রামে আমাদের গেস্টরা এসে হার্ট অ্যাটাক করার মতো ভয়ংকর ভূতের গল্প শেয়ার করেন। আজকেও সে রকম ভয়ংকর ঘটনা নিয়ে আমাদের গেস্ট আপনাদের সামনে হাজির হয়েছেন।’
স্টুডিওতে বসে থাকা অল্পবয়সী একটি ছেলেকে ইশারা করে আরজে পাপ্পু বললেন, ‘আপনার ভয়ংকর ঘটনাটা শোনার জন্য আমরা সবাই অপেক্ষা করছি। আপনি স্টার্ট করেন।’
ছেলেটি কাঁপা কাঁপা গলায় মাইক্রোফোনের সামনে বলতে শুরু করলেন, ‘থ্যাংকস পাপ্পু ভাই, আমাকে এখানে ডাকার জন্য। তবে আমি সবচেয়ে বড় থ্যাংকস জানাতে চাই আমার গার্লফ্রেন্ড টিয়াকে। ও না থাকলে…’
‘আপনার নাম বলে ঘটনাটা শুরু করেন প্লিজ!’ আরজে পাপ্পু একটু অধৈর্য গলায় বলে ওঠেন।
‘ও হ্যাঁ হ্যাঁ!’ ছেলেটা একটু থতমত খেলেও সামলে নিয়ে বলতে শুরু করে, ‘আমার নাম বুলবুল। আমি এসেছি কাঠবাগান থেকে। তো, পাপ্পু ভাই, আমি আজকে যে ভয়ংকর ঘটনাটা শেয়ার করতে যাচ্ছি, সেটা আসলে আমার সাথে ঘটেনি, আমার গার্লফ্রেন্ড টিয়ার সাথেও ঘটেনি। ঘটনাটা ঘটেছিল আসলে আমাদের চায়ের দোকানদার রঞ্জু মামার সাথে। এখানে একটা কথা বলে রাখি পাপ্পু ভাই, রঞ্জু মামার গ্রামের বাড়ি এবং আমার গার্লফ্রেন্ড টিয়ার গ্রামের বাড়ি কিন্তু একই গ্রামে। সুতরাং…’
বুলবুলকে থামিয়ে দিয়ে আরজে পাপ্পু একটু কঠিন গলায় বলে ওঠেন, ‘আপনি প্লিজ সরাসরি ভয়ংকর ঘটনাটি বলা শুরু করেন। আমাদের হাতে সময় কম!’
‘জি আচ্ছা পাপ্পু ভাই।’ বুলবুল এবার বেশ সিরিয়াস হয়েই বলতে শুরু করে, ‘আমি তাহলে সরাসরি ঘটনায় চলে যাচ্ছি। এই ঘটনাটা আমি নিজের কানে রঞ্জু মামার কাছ থেকে শুনেছি। হয়েছে কি, রঞ্জু মামা একদিন কোনো কারণ ছাড়াই হাঁটতে শুরু করলেন। তো হাঁটতে হাঁটতে তিনি হাজির হলেন একটা পোড়োবাড়ির সামনে। সেই পোড়োবাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল সাদা কাপড় পরা এক বুড়ি। বুড়ি রঞ্জু মামাকে দেখেই খনখনে গলায় হেসে উঠল। রঞ্জু মামা একটু অবাক হলেন। অবাক হয়েই তিনি বুড়িকে জানতে চাইলেন, ওহে বুড়ি, তুমি হাসছ কেন?
‘বুড়ি তখন আরও জোরে জোরে হাসতে লাগল। আর বলল, তোকে দেখে আমি হাসব না কেন, বল তো? নিজের চেহারাটা আয়নায় দেখিস একবারও? এই বলে বুড়ি আবার হাসতে লাগল। এখানে একটা কথা শেয়ার করি পাপ্পু ভাই, আমার গার্লফ্রেন্ড টিয়াও কেন যেন রঞ্জু মামাকে দেখেই খালি হাসে। আর বলে…’
বুলবুলকে আবার থামিয়ে দিয়ে আরজে পাপ্পু বলেন, ‘না না, আমরা এই হাসাহাসির গল্প শুনতে চাই না। আপনি বরং ওই ভয়ংকর বিড়ালের ঘটনাটা আমাদের সাথে শেয়ার করেন।’
আরজে পাপ্পুর কথা শুনে বুলবুল যেন আকাশ থেকে পড়ে, ‘বিড়ালের ঘটনা মানে? আমি তো কোনো বিড়ালের ঘটনা জানি না!’
আরজে পাপ্পু প্রাণপণ চেষ্টা করেন নিজের গলাটা স্বাভাবিক রাখার, তবু তার কণ্ঠস্বর খানিকটা খেঁকিয়ে ওঠার মতো শোনায়, ‘স্টুডিওর বাইরে বসে আপনি আমাকে যে গল্পটা বলেছিলেন, সেটাই এখন শুনতে চাইছি।’
এবার যেন ঘটনাটা মনে পড়ে বুলবুলের। বলে, ‘ও হ্যাঁ, সেই গল্পটা? কিন্তু ওটা তো বিড়ালের ঘটনা না, তেলাপোকার ঘটনা। আপনি ভুল করেছেন, পাপ্পু ভাই। আর ঘটনাটা ঘটেছিল আমার গার্লফ্রেন্ড টিয়ার সাথে।’
‘সেই গল্পটাই যদি আমাদের বলতেন, যেটা আপনার গার্লফ্রেন্ড টিয়ার সাথে ঘটেছিল!’ আরজে পাপ্পু বিদ্রূপাত্মক গলায় বলে ওঠেন।
বুলবুল অবশ্য আরজে পাপ্পুর বিদ্রূপ গায়েই মাখে না। সে স্বাভাবিকভাবেই ঘটনা বলতে শুরু করে, ‘আমি তাহলে ওই ভয়ংকর ঘটনাটাই বলে ফেলি। সেদিন রাতে ভয়ংকর বৃষ্টি হচ্ছিল, আর সাথে ঘন ঘন বজ্রপাত। বৃষ্টির তোড়ে এক হাত দূরের জিনিসও চোখে পড়ে না, এমন অবস্থা। আর বজ্রপাতের সে কী শব্দ, পাপ্পু ভাই! এমনই এক ভয়ংকর বৃষ্টির রাতে আমার গার্লফ্রেন্ড টিয়া খুব ভয় পাচ্ছিল, কারণ সেই রাতে ও ছিল বাসায় সম্পূর্ণ একা। টিয়ার হাজবেন্ড সেদিন সকালেই কী একটা জরুরি কাজে বরিশাল গিয়েছিল…’
‘এক মিনিট।’ বুলবুলকে থামিয়ে দিয়ে আরজে পাপ্পু নিশ্চিত হওয়ার জন্য জানতে চান, ‘টিয়ার হাজবেন্ড তো আপনিই, তাই না?’
‘অসম্ভব, আমি কেন টিয়ার হাজবেন্ড হতে যাব?’ নিখাদ বিস্ময়ে বুলবুল পাল্টা জানতে চায়।
‘আপনি টিয়ার হাজবেন্ড নন? তাহলে টিয়ার হাজবেন্ড কে?’
‘হবে কোনো একটা ছেলে!’ বুলবুল উদাস গলায় জবাব দেয়।
‘তাহলে টিয়া কীভাবে আপনার গার্লফ্রেন্ড হয়?’
‘সে এক লম্বা ইতিহাস, পাপ্পু ভাই। আসলে হয়েছিল কি...’
এবার আর আরজে পাপ্পু সহ্য করতে পারেন না। অত্যন্ত নির্দয়ভাবে বুলবুলের মাইক্রোফোনের লাইন অফ করে দিয়ে বলতে শুরু করেন, ‘ডিয়ার লিসেনার্স, আমাদের বাধ্য হয়ে একটা ছোট্ট ব্রেকে যেতে হচ্ছে। কসম, বিরতির পর আপনাদের জন্য আরও অনেক ভয়ংকর ভূতের গল্প নিয়ে হাজির হব। বিশ্বাস করুন, পাশে থাকুন আর গাম্ভীর্য বজায় রেখে শুনতে থাকুন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় হরর শো—হার্ট অ্যাটাআআআক!’
A Journey by boat
A journey by boat is very pleasant as well as interesting. A few days ago, I made such a journey with some of my friends from Demra to Gorashal. It was something like a thrilling adventure to me. It gave me a golden oppourtunity to enjoy the beauty of nature.
It was 15 october 2019, we started our journey just at 8 am. The boatmen began to row the boat and it was moving swiftly. A gentle breeze was blowing and small waves were beating against the boat. We enjoyed the beautiful sights on both sides of the river. We saw the fisherman catching fishes and boys and girls bathing and swimming in the river. At about 12pm our boat touched the ghat of a village market. Some of my friends got down from the boat and bought a large 'Hilsha fish'. The boatmen cooked it and we had a nice meal.
At about 4 pm. We started our jouney again. We reached Ghorashal at about 5 pm. Some of our friends were waiting for us at the ghat. They accorded us a hearty reception. We spent a happy time with them. After a pause of about five hours we again got into the boat and started our return journey. The return journey was equally pleasant.
The next morning when we woke up it was just daylight. Our boat reached Demra and we got down from the boat. Thus our journey came to an end.