দেশ স্বাধীন হবার কয়েক বছর পরের ঘটনা। ভাদ্র মাসের শেষ সময়। পুরো এলাকা তখনও বন্যার পানিতে তলানো। পানির উপরে ধান গাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকায় পুরো মাঠ ধনক্ষেত বোঝা গেলেও পানির পরিমাণ বোঝা যায় না। দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ হলেও সবুজ ধান গছের নিচেই এক বুক, এক গলা পরিমাণ পানি। পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমার কারণে প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে। আমরাও মাছ ধরার জন্য ধান ক্ষেতের আইলে চাঁই পেতেছি। আমাদের বাড়ির পিছনে ছোট নালার মত আছে। খুব গভীর নয় আবার সমতলও নয়। নালাটি উঁচু জমি থেকে এক হাঁটু পরিমাণ নিচু। বর্ষা শেষে এই নিচু জমি দিয়ে উজানের পানি নেমে যায়। বাড়ি থেকে তিন চারশ’ গজ দক্ষিণে এবং রাস্তা থেকে পঞ্চাশ গজ পশ্চিমেই বড়ই গাছ। এই বড়ই গাছের তলেই কয়েক বছর আগে আয়তন নেছা সন্ধ্যা রাতে জ্ঞান হারিয়েছিল। যে কারণে এই বড়ই গাছকে সবাই ভূতুড়ে বড়ই গাছ হিসাবে জানে। বড়ই গাছ থেকে পশ্চিমে নালার অপর প্রান্ত পর্যন্ত পুরো নালাটিই বাঁশের বানা দিয়ে ঘের দেয়া হয়েছে। প্রায় দুই থেকে আড়াইশ গজ বাঁশের বানার মাঝে মাঝে দশ পনরো হাত পরপর চার ছয় ইঞ্চি ফাঁক রেখে সেই ফাঁকের মুখে একটি করে চাঁই বসানো আছে। ভাদ্র মাসের শেষ সময়ে চাঁইয়ে প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে। বড় বড় রুই কাতলা চাঁইয়ের ভিতর আটকা পড়লে বের হওয়ার জন্য দাপাদাপি করে চাঁই ভেঙ্গে ফেলে। দিনে বড় মাছের শব্দ শুনলে তাড়াতাড়ি গিয়ে চাঁই ভাঙ্গার আগেই মাছ উঠানো যায়। কিন্তু রাতে পাহাড়া না দিয়ে ঘুমিয়ে থাকলে অনেক সময় মাছ চাঁই ভেঙ্গে বের হয়ে যায়।
Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.
No comments yet