read.cash Log in

@Raiyan

Joined 31 May 2020 · 45 posts

120 KT

0 KT received · 0 KT · 65¢ given

Posts

@Raiyan

Tumi cara #তুমি_ছাড়া ৫ম ও শেষ পর্ব লেখনীতেঃ #raiyan , দেখতে দেখতে একমাস কেটে গেছে।এই একমাসে দানিয়া খুব হাসি খুশি কাটিয়েছে। স্বপ্নে আর কষ্ট হয়না। প্রতিরাতে কেও যেন তার একবুক অনুভূতি দানিয়াকে দিয়ে যায়। অনুভূতি গুলো জটলা করতে করতে সময়টা কিভাবে চলে গেছে দানিয়া বুঝতেই পারেনি। কিন্তু বারবার মনে হয় মানুষটা কবে আমার সামনে আসবে। , , মেয়েকে ভালো থাকতে দেখে দানিয়ার মাবাবা খুব খুশি। তারা এসেছিলো দানিয়ার অতিত জানতে কিন্তু কি জানবে তারা নিজেও জানে না। অবশ্য ডক্টর মেহেরাবের সাথে ফোনে কথা বলার সময় উনি বলেন, "যার অতিত সে নিজের বের করে নিবে"। , ডক্টর নেহেরাবের কথা মিস্টার ওয়াহিদের বুঝতে কষ্ট হয় না। কারণ দানিয়ার অতিত দানিয়া নিজেই খুজে নেবে। তবে মেয়ের এই ভালো থাকা দেখে দেখে তারা আর চিন্তা করেন না। এমনকি সিদ্ধান্তও নিয়্র ফেলেছেন যে এখন থেকে বাংলাদেশেই থাকবেন মেয়েকে নিয়ে। , এই একমাসে অচেনা মানুষটাকে খুজে পাওয়ার ইচ্ছাটা যেন বেড়েই চলেছে দানিয়ার মধ্যে। , মেয়ের কষ্ট আর হয়না ঠিকই কিন্তু মেয়েটা দেশে আশার পর থেকেই সারাদিন হাসি খুশি থাকলেও সকাল বেলা যেন খুব উদাসীন থাকে। , মিস্টার ওয়াহিদ নিজে তো আর মেয়ের সাথে এই বিষয়ে কথা বলতে পারেন না তাই স্ত্রীকে দায়িত্ব দিলেন। , দানিয়া ছোট্ট বাচ্চার মত করে মায়ের কোলে চুপটি করে শুয়ে আছে। মা মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। , -আচ্ছা দানিয়া মা, তোকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো? , - পারমিশন নেওয়ার কি আছে মা জিজ্ঞাসা করোতো! , -না মানে বাংলাদেশে আসার পর থেকে তোকে খুব হাসিখুশিই দেখেছি। শুধু মাত্র সকাল্টা ছাড়া। , দানিয়া শুয়ে থাকা অবস্থায় মাকে জড়িয়ে ধরে, -জানো মা, সারা রাত টা আমি খুব মজাই মজাই কাটাই। ভালবাসার মানুষটার হাত ধরে ঘুরে বেড়ানো, তার কাধে মাথা রেখে তার পাশে বসে তার বলা কিছু কবিতার লাইন শুনে নিজেকে হারিয়ে ফেলা। এভাবেই রাতটা কাটে কিন্তু সকাল হলেই যখন বুঝতে পারি মানুষটা একটা ভ্রম তখন মনটা খারাপ হয়ে যায়। , দানিয়া মায়ের সাথে খুব ফ্রি তাই নিজের মনের অনুভূতিগুলো মাকে জানিয়ে দেয়। , -কিন্তু তুই যাকে স্বপ্ন দেখে ভালোবেসেছিস তার অস্তিত্ব তো নাও থাকতে পারে। , -জানো মা কেন জানি মনে হয়। সে আসবে আমার জীবনে। বার বার একটা কথায় বলে আগের বার ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারিনি। কিন্তু এবার সে আমাকে তার মনের ভাষা জানাবেই। , - একটা স্বপ্ন নিয়ে এভাবে পড়ে থাকিস না মা। , - মা এটা কোনো স্বপ্ন না। স্বপ্ন তো মানুষ ভুলে যায় কিন্তু এই অনুভূতি গুলো এমন যে আমার মনে গিথে আছে। আমি কোনো ভাবেই ভুলতে পারিনা। , মিসেস ওয়াহিদ মেয়ের সাথে আর তর্কে জড়ালেন না। যায়হোক মেয়েটা ভালো তবে আছে এটাই শান্তি। এভাবে আরো কয়েকদিন চলে যায়। দানিয়ার সাথে অনেকেরই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। তার মধ্যে রায়মা,রিয়া,তানিয়া জানের দোস্ত হয়ে উঠেছে। , দানিয়া একদিন বাসায় ফিরে মাবাবাকে জানায় যে সে সিলেট বেড়াতে যেতে চায়। মাবাবা প্রথমে রাজি না হলেও রিয়া এসে জোর করায় তারা রাজি না হয়ে পারে না। তাছাড়া মেয়েটা একটু ঘুরতে গেলে স্বপ্ন ওসব আজগুবি চিন্তাও হয়তো ভুলতে পারবে। তাই তারা রাজি হয়ে যায়। , কালকেই সিলেট যাবে। কিন্তু কোনো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করবে না। তানিয়া নিজেদের প্রাইভেট কার নিবে যাওয়ার জন্য। কারণ চারজন যাওয়ার এটাই পারফেক্ট উপায়। সাথে আশে পাশের পরিবেশ কে উপলব্ধি করতে পারবে। , পরদিন সকালে মাবাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রায়মা,রিয়া,তানিয়া, আর দানিয়া সিলেটের উদ্দেশ্যে বের হয়। , পথমধ্যে, দানিয়া রিয়াকে জিজ্ঞাসা করে, - আচ্ছা আমরা সিলেটের কোথায় যাচ্ছি সেটাতো জানালি না? , রিয়া- তানিয়ার মামার বাসা সেখানেই যাচ্ছি আমরা। , -জায়গাটার নাম কি? , রায়মা বলল- কেন শ্বশুর বাড়ি বানাবি নাকি? জায়গার নাম শোনার এতো ইচ্ছা কেন? , -আরে না এমনিতেই জিজ্ঞাসা করছি। , তানিয়া- বিজয় নগর। , -হোয়াট। দানিয়া একরকম চিল্লে কথাটা বললো। , -কি ব্যপার তুই এতো অবাক হলি কেন? চিনিস নাকি জায়গাটা? সবাই একসাথে জিজ্ঞাসা করলো। , -না মানে, কিছু না এমনিতেই বললাম। দানিয়ার মাথা ভনভন করতে লাগলো। বিজয়নগর নামটা তো আগেও শুনেছে। সেই স্বপ্ন! রিতু রিমনের গন্তব্য! কিন্তু কেও সেখানে যাতে পারে না যাওয়ার আগেই মরে যায়। , রাস্তার মাঝে হঠাৎ গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। চারজন মিলে জোগেজাগে গাড়িটা ধাক্কা দিয়ে রাস্তার ধারে নিয়ে যায়। এখন কি করবে তারা ভেবে পায়না। , তাই তারা সিদ্ধান্ত নেয় কারো কাছথেকে হেল্প চাইবে। হঠাৎ রাস্তায় দিয়ে একটা ইস্কর্পিয়ন কার আসতে দেখে। তারা ইশারা করে যে তাদের হেল্প লাগবে? , গাড়িটা ওদের সামনেই রাখে। ৫০ এর কাছাকাছি বয়সের একজনকে বের হতে দেখে সবাই কিন্তু দানিয়া ফেইসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকায় লোকটার দিকে তাকানো হয়না। , -এনি প্রব্লেম? , -আসলে আংকেল আমাদের গাড়িটা নষ্ট হয়ে গেছে এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা। , -আচ্ছা, তোমরা আমার সাথে চলো। সামনেই গ্যারেজ আছে ওখান থেকে মিস্ত্রি নিয়ে আসা যাবে। , -আপনি যদি একটু গিয়ে মিস্ত্রিকে খবর দিতেন খুব উপকার হতো। , -তা দেব। কিন্তু জায়গাটা ভালো না। তোমরা গাড়িতে ওঠো। মিস্ত্রি এসে ঠিক করে গ্যারেজে নিয়ে গেলে তোমাদের গাড়িও পেয়ে গেলে নিজেরাও সুরক্ষিত থাকলে। , লোকটার কথা শুনে সবাই ভরসা পায়। তারা গাড়িতে উঠতে গিয়ে দেখে দানিয়া এখনও দাড়িয়ে আছে। ফেইসবুক নিয়ে ব্যস্ত। তাই রিয়া দানিয়া নাম ধরার আগেই, লোকটা বলে বলে, -রিতু গাড়িতে এসে বসো। , বারবার রিতু নামটা শুনে রিতু এবার সত্যিই মনে হচ্ছে যে তার পুনর্জন্ম এটা। তার মানে স্বপ্ন অদেখা সেই মানুষটাই আগের জন্মের রিমন? রিমন আর সেই কবিটা যদি একজনই হয় তাহলে কেন একজনের চেহারা ইস্পষ্ট দেখা যায় আর আরেকজনের আবছা? , -দানিয়া ওর নাম। (রিয়া লোকোটাকে বলল) , এবার দানিয়া লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ মুখ ফসকে বলে ফেলল, -আমান ভাইয়া? , রায়মা,রিয়া, তানিয়া দানিতার মুখে নামটা শুনে অবাক হয়ে যায়। , সবাই একসাথে জিজ্ঞাসা করে, -তুই ওনাকে আগে থেকেই চিনিস? , লোকটা বলে- না ও আমাকে কিভাবে চিনবে।হয়তো পরিচিত কারো নাম আমান আর তার চেহারার সাথে আমার মিল পেয়েছে। তাই হয়তো আমাকে আমান ভাইয়া বলেছে। , সবাই গাড়িতে বসে আছে। দানিয়ার এখন সব পরিষ্কার যে তার দেখা স্বপ্নগুলো ছিলো তার আগের জন্মের। , হঠাৎ সামনে থেকে একটা বড় ট্রাক আসতে থাকে। , দানিয়া গাড়িটাকে দেখে চমকে ওঠে। যেন আগেত বারের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে। লোকটা গাড়ি সাইড করার আগেই বড় গাড়িটা এসে ধাক্কা দিয়ে দেই। সবাই গাড়ি থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে। , দানিয়ার চোখ নিভুনিভু হয়ে আসে। হঠাৎ সামনে কারো অস্তিত্ব লক্ষ্য করে। , যদি চলে যাও আবার ডেকে নিবো যদি পালিয়ে যাও ধরে নিবো। শুন্য আমি তুমি ছাড়া। থাকতে চাইনা তুমি হীনা। , অজান্তেই দানিয়ার মুখ থেকে বের হয়ে যায় , - রিমন!!!!!! , -হ্যা রিমন। কথাটা বলে রিমন দানিয়ার হাতে হাত রাখে। , হাতের স্পর্শ পেয়ে দানিয়ার যেন মনে হয় ও তার আগের জন্মেই ফিরে গেছে। সেই আগের জায়গায় আছে। যেখানে আগের বার নিজেদেত অনুভুতি না জানিয়ে পৃৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যেতে হয়। তাই দানিয়া আবারো মুখ ফসকে বলে ফেলে, -আগেরবার ভালোবাসার কথা জানাসনি আজকে তুই জানিয়ে দে। যদি আবার না বলায় হয়ে থাকে। , এবার আর কোনো কিছুই না বলা থাকবে না। তোকে যতটুকু ভালোবেসেছি হাজারবার জন্ম নিলেও আমার এই ভালোবাসা শেষ হবে না। আগের বারের আর এবারের ভালোবাসা একসাথে তোর সামনে নিয়ে বলছি। আমি তোকে ভালোবাসি আমার জীবনের থেকেও তুই কি আমাকে ভালোবাসবি। , -ভালোবাসি রিমন। তোকে অনেক ভালোবাসা এবার আর তোকে ছাড়বো না। আমাকে ফাকি দিতে পারবিনা। , -তুইও তবে ফাকি দিয়েছিলি আমাকে। , -আর ফাকি দেবনা রিমন। সারাজীবন তোর পাশে থাকবো। , রিমুন মুচকি হেসে জবাব দেয়, -সারাজীবন নারে। সারামরণ। , -মানে কি বলছিস তুই? আর এখন আমি কোথায়? , -আয় তোকে দেখাচ্ছি। এই বলে দানিয়ার হাতটা ধরে রিমন দানিয়াকে ঊঠায়। দানিয়া দাড়িয়ে পিছন ফিরে অবাক হয়ে যায়। ওতো এখনও রাস্তায় পড়েই আছে। বাকিরা নড়াচড়া করছে কিন্তু দানিয়ার নিজের দেহটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে। , -সব বুঝতে পারছিস তো? আমাকে ছাড়াতো একজমন বেচে ছিলি। কিন্তু বিধাতা আমাকে আর দুনিয়ায় পাঠায়নি রে। এতো দিন পর এটাই হয়তো তার ইচ্ছা ছিলো। তুই আবার ফিরে এসেছিস। এখন থেকে সারাজীবন মরবো একসাথে। দানিয়া মরলেও নিজের ভালোবাসা ফিরপেয়েছে এটাই তার প্রাপ্তি। বেচেথেকে বলা হয়নি তো কি হয়েছে মরে গিয়ে তো বলা হল "ভালোবাসি"। দানিয়া, সরি, রিতু রিমনের কাধে মাথা রেখে আকাশের দিকে তাদের গন্তব্যে যেতে থাকে। যাওয়ার পথে রিমন পিছন ফিরে সেই লোকটা টাকে চোখের ইশারায় বলে দেই। , ধন্যবাদ, আমান ভাইয়া। , , , সমাপ্ত। , বানান ভুল হলে মাফ করবেন। , বিঃদ্রঃ আমিও পুনর্জন্মে বিশ্বাসী না। এটা জাস্ট একটা গল্প। তাই বাস্তবতা দিয়ে দেখবেন না আশাকরি।

@Raiyan

বেলী ফুলের মালা #বেলী_ফুলের_মালা #পর্ব_২২ আবির হা করে তাকিয়ে আছে.... পাগল মেয়ে নাকি? রুহীর সাথে তর্ক করে লাভ নেই, তাই কিছু না বলে বেরিয়ে গেলো.... রুহী গোসল সেরে শাশুড়ীর সাথে সময় কাটাচ্ছে.. দুই ঘন্টা পর আবিরের ফোন.... - কি করছো পাগলী...?(আবির) - এই তো আম্মুর সাথে গল্প করি...( মলিন হাসি হেসে রুহী) - রেডি হয়ে নাও... আমি আসছি...(আবির) - মানে কি...? (অবাক হয়ে রুহী) - মানে আবার কি..? বাইরে যাবো তোমার সাথে... দ্রুত রেডি হয়ে নাও... আমি আসছি....(আবির) - ওকে.....(রুহী) - কি রে মা..? কি হয়েছে...? (আবিরের আম্মু) - আম্মু তোমার ছেলের ফোন, আমাকে রেডি হতে বলল.... কোথায় নাকি যাবে..... আমি এখন উঠি.....(রুহী) - আচ্ছা, যা.....(আবিরের আম্মু) রুহী রুমে এসে রেডি হচ্ছে, এর মাঝেই আবির হাজির..... - তোমার হলো.…?(আবির) - ও বাবা, এতো তাড়াতাড়ি তুমি চলে এসেছো...?(রুহী) - হুমম আসলাম..... কাজ শেষ তাই চলে আসলাম....(আবির) - কি কাজে গিয়েছিলে....? (চুল চিরুনী করতে করতে রুহী) - পরে বলব, এখন তুমি তাড়াতাড়ি করো.... চুল খুলে রাখবে না কিন্তু....(আবির) - কেন....?(রুহী) - আমি চাই না কেউ দেখুক..... আমি যেমন দেখে অজ্ঞান হচ্ছিলাম তেমন আর কেউ না হোক...(আবির) - ঢঙ... আমি এমনিতেই চুল খোলা রাখি না.... খোঁপা করে ফুলের মালা নিই....(রুহী) - সেদিন যে আভার কলেজে গেলে.... আমার মেজাজ তো ওই জন্যই আরও খারাপ হয়েছিলো...(আবির) - ওওও হিংসুক একটা..... ওই দিন তো আভা বার বার বলছিলো.... সেইজন্য গিয়েছিলাম.... (রুহী) - হুমম.... চলো এবার.... 🌺 একটা রেস্টুরেন্টে মুখোমুখি বসে আছে রুহী ও আবির... অর্ডার করা এমনকি খাওয়াও শেষ তবুও আবিরের ওঠার নাম নেই..... - কি হলো.….? উঠবে না....?(রুহী) - না, চুপচাপ বসে থাকো......(আবির) - কেন....? (রুহী) -........(আবির চুপচাপ ফেসবুকিং করে চলেছে, মেসেজিং করছে) - আবির, আমরা কি কারও জন্য অপেক্ষা করছি....? (রুহী) - হুমমম....(ফোনের দিকে তাকিয়েই আবির) - কার জন্য....?(উৎসাহ নিয়ে রুহী) - আরে বসেই থাকো না.... আসলেই দেখতে পাবে.... এতো কথা বলো কেন...?(আবির) রুহী মুখ গম্ভীর করে বসে আছে.. ফোনটাও আনেনি.. খচ্চর সাদা বিলাই...... মনে মনে আবিরের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্দ্বার করে চলেছে রুহী.... হঠাৎ আবির বলল..... - রুহী, তুমি উঠে ওই পাশের টেবিলে বসো... - কেন..? ওখানে কেন বসবো...?(রুহী) - এখন অন্তত এত কথা বলো না... প্লিজ যাও.....(আবির) রুহী এবার আর কোনো কথা বলল না... চুপচাপ গিয়ে পাশের টেবিলে বসে পড়লো... আবিরের উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে..... - তোকে তো আজ দেখে নেবো.. বেটা হনুমান... 😡 দেখি তোর কে এমন বিশেষ গেস্ট আসছে, যার সাথে মেসেজিং করতে গিয়ে তুই আমাকে ধমক দিস... আবার আমাকে উঠিয়ে পাশের টেবিলে বসতে বলিস....😡😡 শয়তান বেটা....(মনে মনে রুহী) আবির এবার ফোনটা পকেটে রেখে বসে আছে... কিছুক্ষণ পর একটা লোক এলো আর আবির দাঁড়িয়ে পড়লো..... - হাই, আমি আবির চৌধুরী..... (হ্যান্ডসেক করে আবির) - আমি সাকিব আহমেদ... রুহীর চোখ চড়কগাছ.... সাকিব এখানে, আবার আবিরের সাথে.... এই বজ্জাত এর জন্য আবির আমাকে ধমক দিলো.... এই উনার বন্ধু....😡 - কেমন আছেন...? (সাকিব) - জি আলহামদুলিল্লাহ.. আপনি...?(আবির) - অনেক ভালো.... তার উপর আপনার সাথে এভাবে দেখা হবে তা ভাবতেই পারিনি.... - তাই..(মুচকি হাসলো আবির) তো কি খাবেন...? কফি...? নাকি অন্য কিছু...? (আবির) - কোল্ড কফি....(সাকিব) আবির ওয়েটার ছেলেটাকে ডেকে অর্ডার করে দিলো..... - আপনার নাম অনেক শুনেছি, কিন্তু আপনার সাথে কখনও দেখা হবে সেটা ভাবতেই পারিনি....(সাকিব) - আমিও কখনো ভাবতেই পারিনি আপনাকে আমি এভাবে চিনবো....( ডেভিল মার্কা হাসি হেসে) - আপনি হঠাৎ আমাকে.... এখানে... এভাবে ডাকলেন যে.....(সাকিব) - আমার এলাকায় এতো ঘোরাঘুরি করেন, আর আমাকে চিনেন না, ব্যাপারটা কেমন হয়ে যায় না...? এইজন্যই.... (গম্ভীর গলায় আবির) - মা মা মানে....?(ঢোক গিলে সাকিব) - না না তেমন কিছু না (আবির) এর মাঝে ওয়েটার কফি দিয়ে গেলো... আবির রুহীকে ইশারা করলো ওর পাশে এসে বসতে... রুহী আবিরের পাশে বসতেই আবির বলল.... - তো, পরিচয় করিয়ে দেই... এ হলো আমার ওয়াইফ... তাসফিয়া চৌধুরী রুহী...(মুচকি হেসে আবির) রুহীকে দেখে সাকিব পুরো অবাক হয়ে গেছে... রুহী আবিরের ওয়াইফ... তবুও আবিরকে কিছু বুঝতে দিবে না ভেবে বলল.... - হায়...( কাঁপা গলায় সাকিব) রুহী কিছু বললো না... - আগে থেকেই চিনেন নাকি সাকিব সাহেব..?(আবির) - না না না তো...(সাকিব) - তাহলে তোতলাচ্ছেন কেন...?(আবির) - ক ক কই...? (সাকিব) - দেখুন, আমি অতো ভনিতা পছন্দ করি না.... স্ট্রেট কথা বলতে পছন্দ করি... আপনি হয়তো এবার বুঝতে পেরেছেন আমি আপনাকে কেন ডেকেছি.….?(আবির) -............. (সাকিব চুপ) - আপনাকে যদি নেক্সট টাইম আর রুহীর আশে পাশে দেখি, তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না.... আপনার সিনিয়র আমি, তবুও আজ সম্মান করে "আপনি" বললাম... কিন্তু তখন তুমিও নয়, তুই করে বলতে বাধ্য হবো.…...(আবির) -.............. - আর আপনার ভাইকে ওই দেশ থেকে ফেরত এনে রিমান্ডে দেওয়ার ক্ষমতা আমার আছে... কথাটা মাথায় রাখবেন..... আমার কথা বুঝতে পেরেছেন....? (আবির) - জি, জি.... আসলে আমি তো জানিনা রুহী আপনার ওয়াইফ......(সাকিব) - জানতেন না আজ জানলেন.... আর যেন না হয়.....(আবির) - না না কখনোই নয়..... আজকে তাহলে আমি উঠি.... পরে আবার কথা হবে....(সাকিব) - আচ্ছা... আর কড়া কথা বললাম.... কিছু মনে করবেন না.... আসলে রুহী আমার জন্য সবচেয়ে বড় দূর্বলতা.…... ওর কোনো সমস্যা আমি মেনে নিতে পারি না... (মুচকি হেসে আবির) - না না কোনো সমস্যা নেই..... আমি তাহলে আসি.....(সাকিব) - আচ্ছা, ভালো থাকবেন.... (আবির) - সরি রুহী... (রুহীর দিকে তাকিয়ে) বলেই সাকিব বেরিয়ে গেলো... রুহী হা করে তাকিয়ে আছে.... একবার সাকিবের চলে যাওয়ার দিকে, আরেকবার আবিরের মুখের দিকে..... - এই যে... হয়েছে.... আর হা করে থাকতে হবে না এবার বাসায় চলো....(তুড়ি বাজিয়ে আবির) - হুমম চলো.....(রুহী) - কাল থেকে নিয়মিত ক্লাস করবে.... পথে গাড়ি থামিয়ে আবির রুহীর জন্য অনেকগুলো ফুল কিনে এনে ওর হাতে দিয়ে আবার ড্রাইভিং শুরু করলো.... বাসায় পৌঁছে কলিং বেল বাজাতেই দরজা খুলে দিলো.... আবির ভিতরে চলে গেলো.. কিন্তু রুহী হা করে দাঁড়িয়ে আছে.... be continue..... 💖💖 💞 এখনও মন ভালো হয়নি.......🥺 গল্প লেখার কোনো আগ্রহ পা

@Raiyan

আমি শুধু তো #আমি_শুধু_তোমাকেই_চেয়েছি ❤ 🍁 তিতলি সাজ্জাদের হাতে হাত রেখে পার্ক এর রাস্তা ধরে হেটে যাচ্ছে। সাজ্জাদ তো গুন গুন করে গান ও গাইছে। তা শুনে তিতলি অবাক হয়ে সাজ্জাদকে দেখছে আর লজ্জা পাচ্ছে। তিতলি নিরবতা ভেঙে বলে উঠলো, তিতলি: কি জনাব? ভালো লাগছে না এভাবে হাটতে?(পাশে সাজ্জাদের দিকে তাকিয়ে) সাজ্জাদ: আরে ভালো লাগবে না মানে! আমার বউ কিছু বলবে,,,, তা আমার ভালো না লেগে কই যাবে! আমার তো ইচ্ছে হচ্ছে এই সময়টা যেন থেমে যায়। যেন সারাজীবন তোমার সাথে হাটতে পারি। হাটবে তো আমার সাথে সারাজীবন? তিতলি: উহুম না! সাজ্জাদ:(উত্তেজিত হয়ে) কেন? তিতলি: কারন আমার পা ব্যাথা হয়ে যাবে।(হেসে দিয়ে) সাজ্জাদ হাফ ছেড়ে বলল, সাজ্জাদ: ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে! তা তুমি চাইলে আমি তোমাকে কোলে নিয়েও হাটতে পারবো! চলবে? তিতলি:(থুতনিতে আঙুল দিয়ে) ভেবে দেখতে হবে! সাজ্জাদ হুট করে তিতলিকে কোলে তুলে নেয় আর বলে, সাজ্জাদ: ভাবাভাবি পরে করো। এখন চলো।(মুচকি হেসে) তিতলি সাজ্জাদের কাজে হা হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি কোল থেকে নামার জন্য ছটফট করতে থাকে আর বলে, তিতলি: কি করছেন সাজ্জাদ? নামান আমাকে! সবাই কিভাবে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে।(আশেপাশে তাকিয়ে) সাজ্জাদ: আই ডোন্ট কেয়ার! আর বেশি ছটফট করলে কিন্তু সবার সামনে চুমু দিয়ে দিবো। আর তুমি খুব ভালো করেই জানো আমার লজ্জা নামক জিনিসটার বড্ড অভাব।(চোখ টিপ দিয়ে) তিতলি সাজ্জাদের কথা শুনে খুব ভালো ভাবে বুঝতে পেরেছে এখানে তার কথা খাটবে না। তাই লজ্জায় মাথা নিচু করে রেখেছে। আর সাজ্জাদ ওকে কোলে নিয়ে হাটছে। , , , , , , সাজ্জাতকে তিতলি জোর করে একটা মেলায় নিয়ে গেছে। তিতলির এরকম মেলা খুব পছন্দ। সাজ্জাদ বারণ করেছিল কিন্তু তিতলি সাজ্জাদের কথা শুনে নি। তাই সাজ্জাদকেও বাধ্য হয়ে আসতে হয়েছে। মেলায় এসে তিতলি অনেক খুশি। এদিক সেদিক যাচ্ছে। সাজ্জাদ আর তিতলি একটা স্টলে ঢুকে জিনিসপত্র দেখছিল তখন সাজ্জাদের চোখ যায় তিতলির দিকে। সে খুব মনযোগ দিয়ে চুড়ি দেখছিল। সাজ্জাদ কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে, সাজ্জাদ: কি ম্যাডাম! পছন্দ হয়েছে? তিতলি মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলে। সেখান থেকে অনেক গুলো চুড়ি কেনে। তারপর একসাথে ফুচকা খায়। তিতলি সাজ্জাদকে নিয়ে প্রথম ফুচকা খেল! সাজ্জাদ প্রথমে খেতে চায় নি কিন্তু তিতলির জেদের কাছে হার মানতে হলো। প্রায় অনেক্ষন ঘুরাঘুরির পর সাজ্জাদ তিতলিকে নিয়ে সেই নদীর পাড়ে আসে। দুজনেই পাড়ে বসে আছে। কি সুন্দর সূর্যটা অস্ত যাচ্ছে আর তার লালিমা সাজ্জাদ আর তিতলির গায়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিকেলের মিষ্টি রোদটা তিতলির খুব প্রিয়। হঠাৎ করে সাজ্জাদ বলে উঠলো, সাজ্জাদ: কি সুন্দর বিকেল তাইনা?(তিতলির দিকে তাকিয়ে) তিতলি:(নদীর দিকে সোজা তাকিয়ে) হুম! খুব সুন্দর। জানেন সাজ্জাদ যখন প্রিয় মানুষটা সাথে থাকে তখন সবকিছুই অনেক ভালো লাগে,,,মিষ্টি লাগে।(মুচকি হাসি দিয়ে) নিজেই জানি না কখন আপনার এতো কাছে চলে এলাম! প্রথমে তো আপনাকে সহ্যই হতো না। সাজ্জাদ: হয়তো এর জন্যই একে ভালোবাসা বলে। কিন্তু আমি জানি তোমার মনে এখনো আমাকে নিয়ে অনেক কনফিউশন আছে। তা আমি ধীরেধীরে ক্লিয়ার করবো। চিন্তা করো না। আমি তোমাকে অনেক আগে থেকে জানলেও তুমি আমাকে নতুন চেনো তাই এমন মনে হচ্ছে। তিতলি:(এক দীর্ঘ শ্বাস ফেলে) হুম। , , , সাজ্জাদ আর তিতলি কিছুক্ষন দুজনেই চুপ ছিল। নিরবতা ভেঙে সাজ্জাদ বলে উঠলো, সাজ্জাদ: তিতলি জান! তোমাকে আমি কিছু দিতে ভুলে গেছি।(পকেটে হাত দিতে দিতে) তিতলি ভ্রু কুচকে জিজ্ঞাসা করে কি? সাজ্জাদের হাতে একটা বক্স। ছোট বক্স,,, খুব কিউট ভাবে র‍্যাপিং এ মোড়া। তিতলি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালে সাজ্জাত বক্সটা খুলতে বলে। তিতলি ও বক্সটা হাতে নিয়ে খুলে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে আর মুচকি হেসে সাজ্জাদের দিকে তাকায়। তা দেখে সাজ্জাদ বলে, সাজ্জাদ: পছন্দ হয়নি? তিতলি:(হালকা হেসে) পছন্দ হয়েছে কিন্তু আমার তো নাক ফোঁড়ানো নেই। আমি এটা কি করে পড়বো?(ঠোট উলটে) সাজ্জাদ: আসলে আমি বুঝতে পারিনি। তোমার জন্য কিছু গিফট আনা উচিত ছিলো। তাই ভাবলাম তোমাকে এই নোসপিনটায় খুব মানাবে,,,,,তাই এনেছি। তোমার ভালো না লাগলে আমি তোমায় অন্য কিছু উপহার কিনে দেই? তিতলি: পরেরটা পরে! এখন যখন গিফট দিয়েছেন এটা আমি ফেরত দিবো না। এটা আমার কাছেই থাক। সাজ্জাদ আর কিছু বলল না। হয়তো বলার মতো কিছু পায় নি। দুজনে অনেক্ষন একসাথে সময় কাটিয়ে বাসায় ফিরলো। , , , , , বাসায় ফিরে তিতলির চোখ চড়কগাছ! তার বাবা মা আবার ঝগড়া করছে। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাড়াতাড়ি হাতের জিনিসগুলো রেখে বাবা মায়ের কাছে গেলো। গিয়ে আগে দুইজনকে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, তিতলি: আজ দুজন কি নিয়ে ঝগড়া করছো?(একবার বাবার দিকে তাকিয়ে, একবার মাম্মার দিকে তাকিয়ে) বাবা: দেখ না মামনি! আমার কোন কথাই তোর মাম্মা শোনে না। মাম্মা: একদম মিথ্যে কথা বলবে না। তুমি আমার কথা শুনছো না। তিতলি:(হাত দিয়ে থামিয়ে) আরে আচ্ছা! আগে বলো কি নিয়ে ঝগড়া করছো। মাম্মা: আরে আমি বলেছি বিয়েতে আমি শাড়ি পরবো,,,,,যেহেতু আমি শ্বাশুরি হতে যাচ্ছি। কিন্তু না তোর বাবা বলছে আমাকে লেহেঙ্গা পড়তে! আর উনি নাকি মাঞ্জা মেরে আসবে। আর আমাকে নিয়ে কাপল ডান্স করবে! বুড়ো বয়সে শখ কতো! বাবা: তাতে দোষের কি আছে! তুমি চাইলে আমি তোমাকে আবার বিয়ে করে বাসরও করতে পারি,,,,,কাপল ডান্স তো কোন বিষয়ই না!(চোখ টিপ দিয়ে) তিতলি তার বাবার কথা শুনে বিষম খেলো। আর গলা খাঁকারি দিয়ে বলতে লাগলো, তিতলি: বাবা! আমি এখানে আছি! আর মাম্মাকে লেহেঙ্গা পড়তে বলছো! মাম্মার লেহেঙ্গা তুমি সামলাবা? তিতাস সাহেব কিছু চিন্তা করে বললেন, বাবা: ঠিক আছে লেহেঙ্গা পড়তে হবে না কিন্তু কাপল ডান্স করতে হবে।(জেদ ধরে) তিতলি উপরে যেতে যেতে বলল, তিতলি: সে তোমার আর মাম্মার বিষয়! তোমারাই সামলাও! ব্যাস আর কি লাগে! আবার শুরু হয়ে গেলো তাদের খুনশুটিময় ঝগড়া! তিতলি তার জিনিসগুলো নিয়ে উপরে চলে গেলো। , , , , , তিতলি অনেক্ষন ধরে চিন্তা ভাবনা করে কনিকাকে ফোন দিয়ে সকালে আসতে বলল। ,, ,, ,, (চলবে),,,, ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন।

@Raiyan

Tumi amar love #তুমি_আমার_ভালবাসা❤ #Part_27 #Writer:#Tisha_Islam_Nabila❤ . 🍁 . আমি দাড়িয়ে ভাবছি ৩ মাস আগের কথা..... ৩ মাস আগে..!! আহানে'র কথা শুনে আম্মু সেন্সলেস হয়ে যায়.... শুভ উঠে গিয়ে আহানে'র কলার ধরে বলে..... _তুমি এসব কি বলছো?? আমার ভাইয়া কোথায়?? আমার ভাইয়ার কিছু হয়নি হতে পারেনা...!! ভাইয়া এসে শুভ কে ছাড়িয়ে বলে.... _শুভ রিল্যাক্স জাস্ট কাম ডাউন.... আমাদের পুরো কথা আগে শোনো.... অভি ভাইয়া কে আমরা ফেরাতে পারিনি.... তারমানে এটা নয় যে অভি ভাইয়া বেঁচে নেই.... একচুয়েলি অভি ভাইয়ার কন্ডিশন খুব খারাপ ছিলো.... অপারেশন সাকসেসফুল হয়নি আর তাই.... অভি ভাইয়া কোমায় চলে গিয়েছে.... কোমা থেকে কবে ফিরবে আমরা জানিনা...!! আহান আর ভাইয়া মাথা নিচু করে ফেলে.... এরপর অভি ভাইয়া কে অনেক ডক্টর দেখানো হয়.... বাবা বিদেশে নিতে চেয়েছিলো.... কিন্তুু ডক্টর তখন নিতে দেয়নি.... কারন ওই অবস্থায় নিলে লাইফ রিস্ক হতো.... রুপ আমাদের সাথেই থাকে.... কারো সাথে তেমন কথা বলেনা.... সারাদিন অভি ভাইয়ার রুমে থাকে.... অভি ভাইয়া কে বাড়িতে.... অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে.... বাড়িতেই ট্রিটমেন্ট করা হয়.... অভি ভাইয়ার কিছু হলে রুপ বাঁচতো না.... শান্ত কে শুভ'র কাছে দিয়ে রুপে'র কাছে এলাম..... _রুপ সারাদিন তো কিছু খাসনি.... প্লিজ চল কিছু খেয়ে নিবি..!! _না না আমি এখান থেকে কোথাও যাবোনা.... আমার অভি উঠে আমাকে না দেখলে.... অনেক রেগে যাবে আমি যাবোনা.... পাগলের মতো করছে আর বলছে...!! _রুপ তুই কি চাস অভি ভাইয়া কষ্ট পাক?? অভি ভাইয়া কোমা থেকে ফিরে.... তোকে যদি এভাবে দেখে তাহলে কষ্ট পাবে.... এটা তুই কেন বুঝিস না?? রুপ আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো.... একটুপর আহান আর ভাইয়া এলো.... ওরা প্রতিদিন অভি ভাইয়া কে দেখে যায়.... রুপ কে কাঁদতে দেখে আহান বললো..... _রুপ বি স্ট্রোং ওকে?? তুমি এভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না.... তোমাকে সুস্থ থাকতে হবে প্লিজ ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড...!! . . 🍁 . . আহান আর ভাইয়া রুপ কে বোঝালো.... রুপ চুপ করে বসে আছে.... আমি খাবার এনে ওকে খাইয়ে দিলাম.... কোনোরকম একটু খেলো.... একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে এলাম.... শান্ত কান্না করছে শুভ'র কাছ থেকে নিয়ে.... আগে ওকে খাইয়ে নিলাম...!! _রুপ খেয়েছে তিশা?? শান্ত কে খাইয়ে বিছানায় বসিয়ে দিলাম.... ৬ মাস চলছে ওর.... ঠিকমত বসতে পারেনা তাই পাশ দিয়ে টেডিবিয়ার দিয়ে দিয়েছি.... এগুলো সব শুভ এনেছে নিজের ছেলের জন্য.... শান্ত কে বসিয়ে বললাম.... _হ্যা খাইয়েছি তবে না খাওয়ার মতো...!! _কি থেকে কি হয়ে গেলো?? এরমাঝে রুপে'র চিৎকার কানে এলো.... শুভ দৌড়ে বেরিয়ে গেলো.... শান্ত কে কোলে নিয়ে আমিও চলে এলাম.... আম্মু, বাবা, রুপ কান্না করছে.... আহান আর ভাইয়া অভি ভাইয়া কে দেখছে.... অভি ভাইয়া জোড়ে শ্বাস নিচ্ছে..... _ও মাই গড এটা কি করে হলো?? এত মাস তো ঠিক ছিলো...!! আহানে'র কথা শুনে শুভ বললো.... _কেন কি হয়েছে?? আর ভাইয়া এমন করছে কেন?? _শুভ কথা বলার টাইম নেই.... অভি কে ইমিডিয়েটলি হসপিটালে নিতে হবে..!! অভি ভাইয়া কে নিয়ে হসপিটালে চলে এলাম.... ডক্টররা যা বললো তা শুনে.... সবার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলো.... এখানে অভি ভাইয়ার ট্রিটমেন্ট করতে পারবে না.... কারন কন্ডিশন খুব বেশী খারাপ.... এখানে থাকলে হয়তো কোনদিন কোমা থেকে ফিরবে না.... তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিঙাপুর নিয়ে যেতে.... আম্মু আর রুপ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে.... সবাই ভেঙে পড়েছে কিন্তুু প্রকাশ করছে না.... ঠিক হলো সবাই সিঙাপুর যাবে.... আমি, শুভ, বাবা, আম্মু, ভাইয়া আর আহান.... . . 🍁 . . ১০ দিন পর সিঙাপুর হসপিটালে আমরা.... অভি ভাইয়া আগের মতোই কোমায় আছে.... ডক্টররা বলেছে সেন্স আসবে খুব তাড়াতাড়ি.... সবাই একটু হলেও শান্তি পেয়েছে.... সেন্স আসার অপেক্ষা এখন.... শুভ আমাকে হোটেলে নিয়ে এসেছে.... শান্ত কে নিয়ে হসপিটালে থাকা ঠিক হবেনা.... শান্ত তো ছোট অনেক.... এসবে আমার ছেলেটা ভয় পেয়ে যাচ্ছে.... প্লেনে প্রচুর কান্না করছিলো.... হসপিটালেও কান্না করেছে.... হোটেলে এসেই নিরব হয়ে গিয়েছে.... ও ভীর সহ্য করতে পারেনা....!! রুপে'র বাবা, মা তো আসতে দিতে চায়নি ওকে.... কিন্তুু রুপ জোড় করে এসেছে.... কেউ আটকাতে পারেনি ওকে.... পারবে কি করে?? ভালবাসা তো এমনই কিন্তুু.... এত কষ্ট যে ওদের পেতো হবে.... এটা কোনদিন ভাবিনি.... হাসি, খুশি প্রানজ্জল অভি ভাইয়া ছিলো.... অথচ ভাগ্যের পরিহাসে প্রায় ৪ মাস হতে চললো.... একভাবে পড়ে আছে অক্সিজেন মুখে থাকে.... যার দিন রাত ২৪ ঘন্টা.... আল্লাহ জানে কবে সব ঠিক হবে.... কবে অভি ভাইয়া ঠিক হবে.... আর কবে সবার চোখের পানি.... রুপে'র বুকফাটা চিৎকার কান্না.... এসব কিছুর অবশান হবে.... মাঝে মাঝে ভাবি ভালবাসা এমন কেন?? কেন এত কষ্ট ভালবাসায়?? কেন কষ্টবিহীন ভালবাসা হয়না?? আমিও তো কম কষ্ট পাইনি.... আমার শুভ কে তো সবাই মৃত ধরে নিয়েছিলো.... কিন্তুুু আল্লাহর অশেষ রহমতে ওকে ফিরে পেয়েছি.... এখন আল্লাহ চাইলে রুপ ও আবার.... আগের মতো হাসবে সুখে থাকবে..!! . . 🍁 . . ১ মাস পর ডক্টর পাঠিয়ে দিলো বাংলাদেশে.... কারন অভি ভাইয়ার সেন্স না এলেও.... কিছুটা রিকভার করেছে.... তাই বাড়িতে আগের মতো ট্রিটমেন্ট চলছে.... ড্রয়িংরুমে বসে আছি শান্ত ফ্লোর বসে খেলছে.... আমি ওর সামনে সোফায় বসে আছি.... তার অপজিটে শুভ আর আম্মু.... বাবা ও পাশেই বসা.... এমন সময় রুপ সবাই কে ডাক দিলো.... আমরা তাড়াতাড়ি উপরে গেলাম.... উপরে গিয়ে আমরা অবাক.... মনে মনে আল্লাহ কে শুকরিয়া জানালাম.... অভি ভাইয়া চোখ খুলেছে সেন্স এসেছে.... অভি ভাইয়া নিজেই উঠে বসলো.... আহান আর ভাইয়া ও চলে এসেছে.... সবার চোখ মুখ খুশিতে উজ্জল হয়ে গিয়েছে.... রুপ অভি ভাইয়া কে জড়িয়ে ধরলো.... অভি ভাইয়া ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে.... একটুপর রুপ কে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিলো.... রুপ অসহায় ভাবে তাকিয়ে আছে....!! _কে আপনি?? আমাকে জড়িয়ে ধরলেন কেন?? অভি ভাইয়ার কথা শুনে.... সবাই চাওয়াচাওয়ি করছে.... আম্মু অভি ভাইয়া কে ধরে বললো..... _অভি এসব কি বলছিস?? _অভি?? কে অভি?? আপনারা কারা?? _অভি আমি তোর মাম্মা.... _কে মাম্মা?? আমি আপনাদের কাউকে চিনিনা..!! বলে অভি ভাইয়া মাথা চেপে ধরলো.... এবার সবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো...!! #চলবে....🍁 [আগেই বলেছিলাম বিজি আছি.... কালকে ২টা পার্ট দিয়েছিলাম.... আজকেও দিয়ে দিলাম ছোট করে.... সবাই জানেন আমি রোজ গল্প দেই.... সরি বলে নিচ্ছি আগেই.... বিকজ কয়েকদিন আমি গল্প দিতে পারবো না.... সরি এফরিওয়ান এগেইন সরি]

@Raiyan

The villain husband The Villain Husband পার্ট : ১৪ ( রহস্যভেদ) অনেকক্ষন ধরে ড্রিংক করে যাচ্ছে রুদ্র, আজ অনেকদিন পর আবার ড্রিংক করছে রুদ্র। একটা সময় স্নেহাকে না পাওয়ার কষ্টে ড্রিংক করতো রুদ্র, কিন্তু আজ স্নেহাকে পেয়েও হারানোর ব্যাথায় ড্রিংক করছে রুদ্র। তবে আজ তো তার কষ্ট পাওয়ার কথা না, সে তো এটাই চেয়েছিলো, স্নেহার বদনাম আর স্নেহার বাবা মায়ের অসম্মান!! তবে কেন এমন হচ্ছে, বোতলের পর বোতল ড্রিংক শেষ করছে রুদ্র। তবে আজ তার এ কষ্টের স্পষ্ট কোনো কারন রুদ্র নিজেও জানেনা, আজ তার কষ্ট কি স্নেহার আজকের দেয়া থাপ্পড় নাকি নিজের বউ আর সন্তানের থেকে আলাদা হবার কষ্ট। ড্রিংক করতে করতে টেবিলে ওপরে কোনো রকম ভাবে হাত ঝুলিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো রুদ্র, রাত ১১ টা আশিসের ফোনে ঘুম ভাঙল রুদ্রের। - হ্যালো, স্যার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে আমাদের, ( আশিস) - কি হয়েছে?( রুদ্র) - স্যার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে আপনি আগে এখানে আসুন সব নিজেই জানতে পারবেন!! আশিসের কথা শুনে রুদ্র তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলো বাসা থেকে। অফিসে গিয়েই সোজা নিজের কেবিনে ঢুকলো রুদ্র। মাথা নিচু করে বসে আছে একটা লোক, আর পাশেই দাঁড়িয়ে চোখের পানি ফেলছে আশিস। রুদ্র কেবিনে ঢুকতেই, - করিম চাচা আপনি? এতো বছর পর?( রুদ্র) বাবা আমাকে মাফ করে দাও বাবা, আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি। বলেই রুদ্রের পায়ে হাত দিয়ে বসে পড়লো করিম। - আরে চাচা কি করছেন আর মাফই বা চাইছেন কেনো, - বাবাগো আমি ভুল করছি তার কোনো ক্ষমা হয়না বাবা, আমাকে মাফ করে দেন। রুদ্র করিমকে ধরে উঠালো, - চাচা আমাকে বলুন কি হয়েছে, না বললে আমি কিভাবে বুঝবো আসল ঘটনা? - বাবা অধরা আন্তহত্যা করেনি, ওকে মেড়ে ফেলা হয়েছে, - মানে এসব কি করছেন চাচা? -হ্যা বাবা, ওকে মেড়ে ফেলা হয়েছে আর ওর পেটে যে বাচ্চা ছিলো তাও মিথ্যা ছিলো, সব কিছু সাজানো গোছানো প্লেন ছিলো!! - চাচা আপনি এসব কি বলছেন? আর এসব আপনি কিভাবে জানেন? - আমি জানি বাবা, কারন খুন হওয়া আমি দেখেছিলাম, আমি সত্যিটা সবাইকে জানাতেও চেয়েছিলাম কিন্তু তার আগেই আমাকে ওরা হুমকি দেয়,আমি কাউকে কিছু বললে ওরা আমাকে আর আমার দুই ছেলেমেয়েকে মেড়ে ফেলবে, - তাই আপনাকে সেদিনের পর আর ওই এলাকায় দেখা যায়নি তাইনা? - হ্যা বাবা ভয়ে আমি পালিয়েছিলাম,কিন্তু অনেকদিন পর ওই এলাকায় একদিন ফিরে যাই যেয়ে শুনে এই ব্যাপারে প্রতিবাদ করতে যেয়ে আপনাকে জেলে যেতে হয়েছে আর আপনার বাবা সেই কষ্ট মেনে নিতে না পেরে মাড়া গিয়েছে। তারপর থেকে নিজেকে অপরাধী করি সব কিছুর জন্য আমি যদি আপনাদের সব সত্যি বলতাম তবে হয়তো সবার জীবন এলোমেলো হতোনা!! কথাগুলো বলেই কেঁদে দিলো করিম চাচা। তার মানে আমরা এতোদিন আসল সত্যিটাই জানতাম না, তার মানে স্নেহার কারনে আত্নহত্যা করেনি অধরা আপু। রুদ্রের সব কিছু কেমন জানো গুলিয়ে যাচ্ছে। এতোদিন মিথ্যার ওপরে ভিত্তি করে, এতোকিছু করেছে,( মনে মনে কথাগুলো ভাবছে রুদ্র) - আচ্ছা চাচা, আপনি তো স্নেহাদের বাড়ি কাজ করতেন এই ব্যাপারে তো আরো অনেক কিছুই জানবেন! আমাকে একটু সব খুলে বলুন। - বাবা আমারে আশিস বাবা বলেছে যে তুমি স্নেহা মাকে কতো ভুল বুঝেছো, বাবা স্নেহা মা তো অনেক ভালো তার মনে কোনো ভেজাল নেই, কিন্তু আসল কালপিট হচ্ছে স্নেহা মায়ের মামা, সে স্নেহা মাকে অধরার নামে খারাপ খারাপ কথা বুঝিয়েছে, আর শ্রাবন বাবা অধরাকে ভালোবাসতো শ্রাবন বাবাকেও অধরার নামে খারাপ কথা বুঝিয়েছে। সবাইকে বুঝিয়েছে যে অধরা খারাপ মেয়ে ছিলো, আর তার কারনেই অধরার পেটে বাচ্চা এসে গিয়েছিলো, সমাজের কথা ভেবে নিজেই আত্নহত্যা করে প্রান দিয়েছে, এসব সইতে না পেরে শ্রাবন বাবা কষ্টে অভিমানে দেশ ছেড়ে চলে যায়। এখান থেকে বউ বাচ্চা নিয়ে চলে গিয়েছিলাম ঠিকই কিন্তু কেও যেন কিছু বুঝতে না পারে তাই স্নেহার মামার কথায় বাদ্ধ্য হয়েই আমাকে আবার ওই বাড়িতে কাজে যেতে হয়। বাবা স্নেহা আর শ্রাবন বাবাকে ওরা অনেক ভুল বুঝিয়েছে, তোমাদের নামে খারাপ কথা বলেছে তাই স্নেহা মা তোমাকে আর শ্রাবন বাবা অধরাকে ঘৃনা করে। বাবা আর কেও না জানুক আমি জানি, স্নেহা মা তোমার জন্য অনেক কষ্ট ভোগ করেছে, দিন দিন পাগলের মতো কাটিয়েছে, রুদ্র যেন আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না, পায়ের নিচের মাটি যেন সরে যাচ্ছে রুদ্রর। তারমানে সে অনেক বড় ভুল করে ফেলেছে। স্নেহাকে ভুল বুঝেছে। দোষ না করেও শাস্তি পেতে হয়েছে স্নেহাকে। রুদ্রের ইচ্ছা করছে নিজেকে গুলি করে ক্ষতবিক্ষত করে দিতে নিজেকে, কিন্তু না তাকে শক্ত হতে হবে। স্নেহার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, ফিরিয়ে আনতে হবে স্নেহা আর তার বাচ্চাকে। কিছু না বলেই রুদ্র বেড়িয়ে পড়লো, মাথায় অনেক কথা ঘুরপাক খাচ্ছে রুদ্রের, পাগলের মতো এদিক ওদিক খুজছে স্নেহাকে, রুদ্র জানে না স্নেহা কোথায় আছে, তবে আজ স্নেহাকে সামনে পেলে স্নেহার পা ধরে ক্ষমা চাই, আর চিৎকার করে স্নেহাকে বলতো, স্নেহা আমাকে শাস্তি দাও, আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি আজ তুমি আমায় যে শাস্তি দিবে আমি মাথা পেতে নিবো, কিন্তু এমন কিছুই করতে পারছেনা রুদ্র কারন এসব বলার জন্য আজ স্নেহাকেইতো সে খুজে পাচ্ছেনা। অনেকক্ষন খোজার পরও স্নেহানে খুজে পায়নি রুদ্র। তাই বাসায় ফিরে স্নেহার ছবিটা বুকে নিয়ে সোফায় বসে চিৎকার করে কাঁদছে রুদ্র। রুদ্রের এমন কান্না শুনে তিতির আর রুদ্রের মা দুজনেই ছুটে এলো, - কি হয়েছে বাবা? কি হয়েছে? তুই এমন করছিস কেনো?( রুদ্রের মা) রুদ্র তার মাকে পাশে দেখেই জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো, রুদ্র। - মা আমি অনেক বড় ভুল করে আছি, সত্যিটা যদি আর দুইদিন আগেও জানতাম তাহলে এই ভুল আমি করতাম না মা, - কি হয়েছে বাবা আমাকে সব বল, তারপর কাঁদতে, কাঁদতে মাকে সব বললো রুদ্র, - এ তুই কি করেছিস? একটা মেয়ের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সম্মান আর তুই তাতেই হাত দিয়েছিস? এটা তুই কিভাবে পাড়লি? তোকে ছেলে ভাবতেও আমার ঘৃনা করছে। আমি আজই স্নেহাকে আ বাড়িতে ফিরিয়ে আনবো। - না মা, এতো কিছুর পর ও ফিরে আসবেনা। আর ও কোথায় আমি জানিনা। - আমি জানি ভাইয়া( তিতির) অবাক হয়ে তিতিরের দিকে তাকালো রুদ্র, - তুই কিভাবে জানিস? - আজ কলেজ থেকে আসার সময় আমি ভাবিকে দেখি তারপর ফলো করি, তারপর জানতে পারি ভাবি আমাদের কলেজ এর প্রিন্সিপ্যাল এর বাসায়, কিন্তু ও সেখানে কি কিভাবে? - আমি বেশি কিছু জানিনা ভাইয়া, - তিতির আমাকে সেখানে নিয়ে চল, আমি স্নেহাকে ফিরিয়ে আনবো, তারপর তিতির রুদ্র আর রুদ্রের মাকে নিয়ে তানিয়াদের বাসায় রওনা দিলো, - তোর বেবিটা কিন্তু খুব কিউট হবে,( তানিয়া) - কিভাবে বুঝলি? - আরে তুই এতো কিউট আর তোর বেবিটা তো ডাবল কিউট হবে তাইনা। - তুই ও না( স্নেহা) - কি আমি? ও হ্যা আমি হচ্ছি ফিউচার খালামনি। হাহা দুই বান্ধবী মিলে হাসাহাসি করছে আর গল্প করছে, দরজায় কলিংবেল বাজতেই, - মনে হয় ভাইয়া ফিরেছে তুই বস আমি দরজা খুলে আসছি!! বলেই তানিয়া দরজা খুলতে চলে গেলো, দরজা খুলেই, - ইয়েস কারা আপনারা, ঠিক চিনলাম না তোহ?( তানিয়া) - মা আগে ভেতরে আসি তারপর সব বলছি!! - ঠিক আছে আসুন, বলেই তানিয়া সবাইকে ভেতরে আসতে বললো, স্নেহা রুম থেকে মহিলা কন্ঠ শুনে বেড়িয়ে এলো, স্নেহাকে দেখতেই রুদ্রের মা এগিয়ে গেলো, - মা তুই ঠিক আছিস? স্নেহার গাল ধরে। স্নেহা কিছুই বুঝতে পারছেনা, কাল যে তাকে চোখের সামনে দেখতে পারেনি আজ সে এভাবে এসেছে আর!! ভাবতে, ভাবতেই স্নেহা বললো, - আপনারা এখানে? - ভাবি আমরা তোমাকে নিতে এসেছি ভাইয়া আমাদের সত্যিটা বলেছে যে তোমার কোনো দোষ নেই,(তিতির) - তোমরা এসব কি বলছো, আমি বলছি স্নেহা, রুদ্র বলতে শুরু করলো, করিম চাচার আসা থেকে শুরু করে রুদ্রের সব সত্যি জানা সব কিছু রুদ্র স্নেহাকে বললো, রুদ্রের বলা শেষ হতেই স্নেহা বলতে শুরু করলো, - বাহ, বাহ খুব ভালো, আমার জীবনটা দেখি পুতুলখেলা হয়ে গিয়েছে যখন ইচ্ছা আমাকে আদর দিয়ে ঘরে তুলবেন আর আপনার ছেলের ভুল বোঝার কারনে তার মিথ্যা কথা বিশ্বাস করে আবার যখন ইচ্ছা আমাকে বাড়ি থেকে বেড় করে দিবেন। মা আমিতো কখনো আপনাকে মায়ের চোখে ছাড়া অন্য ভাবে দেখিনি। আর এই অমানুষটার কথা আর কি বলবো, যে নিজের স্ত্রীকে সবার সামনে মিথ্যা কথা বলে চরিত্রহীন প্রমান করে, আর শেষমেস নিজের সন্তানকে অবৈধ প্রমান করতেও যার অন্তর একটু কাপেনা। আপনারা আমাকে কি পেয়েছেন বলুন? কি পেয়েছেন? আমি একটা মেয়ে বলে, এ শহর থেকে আমার শেষ ঠিকানাও কেরে নিয়েছেন আমার বাবা মাকে বাদ্ধ্য করেছেন দেশেরবাড়ি চলে যেতে, সেদিন আমি বেরিতে আসার পর একবার ও কি ভেবেছিলেন এতো রাতে একটা মেয়ে কতোটা খারাপ অবস্থায় পড়তে পারে? সত্যিটা না জেনে শাস্তি দিয়েছেন আমাকে আমার সন্তানও রেহাই পায়নি। আর কথা বলতে পারছেনা স্নেহা কাঁদতে, কাঁদতে বসে পড়েছে ফ্লোরে। রুদ্র স্নেহাকে ধরতে যাবে তখনি, - ডোন্ট টাচ মি! আপনার মতো লোক আমাকে টাচ করলে আমি নিজেকে অপবিত্র মনে করবো,, - স্নেহা!!! - অবাক হবেননা, যা বলেছি তা সত্যি বলেছি, - আমার ছোয়ায় যদি তুমি অপবিত্র মনে করো নিজেকে তবে তোমার গর্ভে যে আছে সে তো আমার ভালোবাসার ছোয়ার চিহ্ন, - কি বললেন আপনি( রাগে লাল হয়ে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে বললো স্নেহা) আপনার অংশ? দুইদিন আগে সবার সামনে ওকে অস্বীকার করে এখন অধিকার ফলাতে এসেছেন। শুনে রাখুন ও আপনার কেও না। আমি ঘৃনা করি আপনাকে, চেঁচিয়ে কথাটা বলেই রুদ্রকে জোরে ধাক্কা দিকো স্নেহা,, চলবে, ( পড়াশুনা আর কাজে মাঝে গল্প লিখি, কিন্তু তারপর ও আপনারা অনেকেই নেক্সট বলেন। এতে কষ্ট পাই। আচ্ছা একটু কষ্ট করে আপনাদের মতামত জানিয়ে আমাকে একটি উৎসাহিত করতে পারবেন না?😞)

@Raiyan

Corona করোনায়_আক্রান্ত_এক_যুবকের_শেষ কথাগুলো_ছিল_এমন — হাসপাতালের_বিছানা থেকে বলছি, দয়া_করে শুনবেন কি মানুষ !! আমি এক তাগড়া যুবক, বয়স-২৭, নিরোগ, তরতাজা।। ভেবেছিলাম, এই করোনাভাইরাস ঘটিত মহামারি আমার রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাঙতে পারবে না। ষোলো দিন আগে, জ্বর হলো আমার; সাধারণ ফ্লু ভেবে চুপচাপ কাটিয়ে দিলাম দিনটা। পনেরো দিন আগে, শরীর ব্যথা; জ্বর কমে, বাড়ে; পেইনকিলার খেলাম দু'টো। চৌদ্দ দিন আগে, জ্বর আসে, যায়; শরীর ব্যথা বাড়ে তো বাড়েই; সিজন চেঞ্জ হচ্ছে, আমি ফ্লুতেই থাকলাম, আমি পেইনকিলারেই থাকলাম। তেরো দিন আগে, সারাদেহে ব্যথা কমলো, এলো গলা ব্যথা। বারো দিন আগে, খুশখুশে কাশি, গলা ব্যথা বাড়ে, কমে; জ্বর ছিলো; আশঙ্কিত আমি ডায়াগনোসিসে গেলাম। এগারো দিন আগের ভোরে, জানলাম, আমি কোভিড-১৯ পজিটিভ; স্বাদ ও ঘ্রাণ এই দুই ইন্দ্রিয় ক্ষমতা হারাতে আরম্ভ করলো। দশ দিন আগে, দু'কানের ভিতরে তীক্ষ্ণ ব্যথা; স্বাদ নেই, গন্ধ নেই; ব্যথা গলায়, কাশি, জ্বর দেহে। নবম দিন থেকে, বাকি সব উপসর্গের সাথে আরম্ভ হলো শ্বাসকষ্ট। অষ্টম, সপ্তম, ষষ্ঠ দিন গেলো; সে কী প্রাণপণ চেষ্টা আমার, একটু বাতাস নিতে বুকের ভিতরে! হায়, এ-জগতে একমুঠো হাওয়া কি নাই! আজ থেকে ছয় দিন আগে ঘর থেকে বের করা হয়েছিলো আমাকে- পুলিশ ছিলো দু'জন, দু'জন স্বাস্থ্যকর্মী ছিলো, ছিলো একটি অ্যাম্ব্যুলেন্স। আমার মাকে উঠতে দেওয়া হয়নি অ্যাম্বুলেন্সে, আমার বাবাকে আসতে দেওয়া হয়নি আমার সাথে, আমার ভাইকে আটকে দেওয়া হয়েছে ঘরের দুয়ারেই, আমার বোন তখন অজ্ঞান আমার শোকে। অ্যাম্বুলেন্স চলে আসছিলো তার প্রিয় সাইরেন বাজিয়ে; ভেতরে চিৎ শোওয়া আমি, একটু শ্বাসের খোঁজে আথালি পাথালি আমি, মাথাটা একটু তুলে আমার দু'পায়ের ফাঁক গলে, অ্যাম্বুলেন্সের দরজার ছোট্ট জানলা দিয়ে দেখেছিলাম- আমার_বিদায়পথের_দিকে_অপলক তাকিয়ে ধুলায় শুয়ে আছেন আমার মা, দু'হাতে মাথাটা চেপে দু'হাঁটু ধুলায় গেঁথে অবিশ্বাসে তাকিয়ে আছেন আমার বাবা। আমার বোন তখন ঘরের মেঝেয় অচেতন। আমি শেষ দেখা দেখেছিলাম আজন্ম প্রিয়তম মানুষগুলোকে আমার। আজ ছয়দিন, হাসপাতালের আইসিইউ-কক্ষের ভিতরে, শুভ্র বিছানায় শুয়ে আছি আমি; ওষুধ_নেই_এই_জগতে_এ- ব্যাধির; এই যে ছয়-ছয়টা দিন বেঁচে ছিলাম, রোগপ্রতিরোধী পথ্য খেয়ে, যদি মিরাকল হয়, যদি সেরে ওঠে পরাজিত দেহটা আমার! হাজারে-হাজারে তো এভাবেই ফিরে যেতে পেরেছে মায়ের কোলে, বাবার বুকে! আমি_ছিলাম_না_ফেরার_দলে; আজ, ডাক্তারের চোখের দিকে তাকিয়ে, বুঝতে অসুবিধে হয়নি, আমি মারা যাচ্ছি; নার্সের চোখে আমি জল দেখেছি গতকাল, জেনেছি এই জন্মভূমি, এই পৃথিবী, আমার মায়ের বুক, আর আমার নয়। এখন_আমি_মারা_যাচ্ছি। জানি, আমার লাশটাকে ছুঁতে দেওয়া হবে না আমার পরিজনদের কাউকেই, জানি, আমাকে দাহ করা হবে পাঁচজন পুলিশের সামনে, জানি, আমাকে নিয়ে যাওয়া হবে চারজন অনাত্মীয়ের কাঁধে চড়ে; মা নিষিদ্ধ, বাবা নিষিদ্ধ, নিষিদ্ধ আমার ভাই ও বোন, আমার কাছে, আমার লাশেরও কাছে। আমি সুস্থ, সবল যুবক ছিলাম এক, বয়স-২৭, করোনাভাইরাসের কাছে হেরে যাওয়া, কাবু। পৃথিবীতে আজ বেঁচে থাকা প্রিয় মানুষেরা, হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি, দয়া করে শুনবেন প্লিজ?- আজ থেকে সতেরো দিন আগে মায়ের নিষেধ সত্ত্বেও ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিলাম আমি। জানি না, আমার দেহতে বয়ে নেওয়া এ-মারণব্যাধি আমার মা, বাবা, ভাই কিংবা বোনের দেহে সংক্রমণ করে দিয়ে মরে যাচ্ছি কিনা। মানুষ, ঘরে_থাকবেন_প্লিজ? এ মৃত্যু, জগতের নির্মমতম মৃত্যু।। ঘরে_থাকি_সুস্থ_থাকি_পরিবারকে_সুস্থ_রাখি

@Raiyan

ভালবাসা #ভালোবাসার_রং #পর্ব - ২০ (শেষ পর্ব) জহির উদ্দিন আফরোজা বেগমেরপাশে গিয়ে বসে, ---" দেখ বিহানের মা ভুল যেহেতু হয়েছে ক্ষমা চেয়ে নাও। ক্ষমা চাইলে কেউ ছোট হয় না বরং মহৎ হয়। ---" কার কাছ থেকে ক্ষমা চাইব?? বিহান নাকি অন্তরা থেকে?? ---" দরকার হলে দুজন থেকে। তোমাকে তো মানতে হবে কারো প্ররোচনায় হোক আর নিজের থেকে হোক অন্তরা কে নানাসময় কথা শুনিয়ে কষ্ট দিছ। যেখানে অন্তরার কোন দোষ ছিলো না। আল্লাহর রহমতে আর মেয়েটার ভালোবাসায় তোমার ছেলেকে ফিরে পেয়েছ। ---" হুম তুমি ঠিক বলছ। ---" বিহানের মা আজ যদি মুনিয়ার সাথে এমন হয় তুমি কি মেনে নতে পারবা,?? ---" না এসব বলিও না। আল্লাহ না করুক আমার মেয়েটার সাথে কখনো যেন এমন নাহয়। ---" বউকে মেয়ের জায়গায় বসালে বুঝা যায় কোন টা ভুল কোনটা ঠিক। জহির উদ্দিনের কথা শুনে আফরোজা বেগম নিজের ভুল বুঝতে পারছে। মনে মনে অনেক অনুতপ্ত কিন্তু ছেলেকে সাহস করে বলতে পারছে না। বিহান রুমে ঢুকে চুপ করে বসে আছে। চোখ থেকে দু ফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়লো। মায়ের সাথে গরম করে কথা বলাতে খারাপ লাগছে কিন্তু অন্তরা ওর স্ত্রী অন্তরার প্রতি অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ওর দায়িত্ব। এ বাড়িতে বিহান ছাড়া অন্তরার কে আছে?? বিয়ের প্রথম দিকে শুশুর বাড়িতে একটা মেয়ের কাছের মানুষ বলতে স্বামী ছাড়া কে বা থাকে। স্বামী যদি স্ত্রীর দুঃখ না বুঝে কে বুঝবে। তাই বলে কেউ কারো থেকে কম না। বিহান মা কে প্রচন্ড ভালোবাসে। ভেবেছিলো সুস্থ হয়ে ফিরে এসে সবার সাথে আনন্দে দিন কাটাবে। কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেলো। আমরা যা চিন্তা করি সবসময় সেটা হয় না। বিহানের কাঁধে হাত দিয়ে অন্তরা বলছে, ---" আপনার মায়ের সাথে এভাবে কথা বলা উচিত হয়নি। মা আমাকে কথা শুনিয়েছি এটা সত্যি কিন্তু তখন সিচুয়েশন অন্যরকম ছিলো। ---" যেমন সিচুয়েশনে থাকুক না কেন কাউকে অন্যায় ভাবে কথা শুনানো ঠিক না। ---" আপনি আর রাগ করে থাকবেন না প্লিজ। আমি চাইনা আর কোন অশান্তি হোক। আমরা সবাই মিলে আবার আগের মতো ভালো থাকতে চাই। --" হুম আর অশান্তি হবে না। ---" সত্যি বলছেন?? ---" হুম কারণ কালকে আমরা এ বাসা ছেড়ে চলে যাব। ---" কি বলছেন আপনি?? ---" যা বলছি একদম ঠিক। যে বাসায় তোমার জায়গা হয় না সে বাসায় আমি থাকতে চাই না। তাতে সবাই ভালো থাকবে। কেউ তোমাকে অলক্ষী বলবে না। তোমার জন্য কারো মনে সন্দেহ থাকবে না। সব দিক থেকে এটাই ভালো হবে। ---" আপনি এ বাসা ছেড়ে চলে গেলে মা খুব কষ্ট পাবে। আপনাকে ভালো বাসে বলে মা এমন আচরণ করেছিলো। এখন যদি আমরা চলে যাই মা আরো ভুল বুঝবে। ---" আমার কিছু করার নেই। মাঝেমধ্যে ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্য দুরুত্ব বজায় রাখা দরকার। ---" সত্যি চলে যাবেন?? ---" হুম কাল সকালে যাব। তুমি নিজের জিনিসপত্র রেডি রাখিও। এ বাসার কিছু নিয়ে যাব না। বিহানের খারাপ লাগছে ওর মা এখনো নিজের ভুল টা বুঝেনি। উল্টো ভাবছে অন্তরা ওর কান ভারি করেছে।বিহানের সব ভালো লাগা যেন এক নিমিষেই চোখের জলে পরিণত হলো। . . আফরা নিশান কে বলছে,, ---" ভাইয়া মনে হয় আমার সাথে রাগ করছে। ---" রাগ করাটাই স্বাভাবিক। ভাইয়ার জায়গায় আমি হলেও রাগ করতাম। ভুল করে হোক আর না বুঝে হোক আমরা ভাবীর সাথে খারাপ ব্যাবহার করেছি। ---" আমি কিন্তু ভাবী কে কিছু বলিনি। যা রাগ তোমার সাথে করেছি। ---" আফরা মণি সুখে থাকার জন্য অনেক সময় ভুল নাহলেও ভুল স্বীকার করে নিতে হয়। ভাইয়া চলে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকে মা ভাবীকে ঝোঁকের বশে অনেক কথা শুনিয়ে দিয়েছে। ---" হুম। আসলে ভাবীর মনের অবস্থা আমরা কেউ বুঝিনি। আমি কাল সকালে ভাইয়া,ভাবীর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইবো। --" এইতো আমার আফরা মণি বুঝদ্বার মেয়ের মতো কথা বলছে। এখন মনে হচ্ছে আমার আগের আফরামণি কে খুঁজে পাইছি। আফরার কথা শুনে নিশানের খুব ভালো লাগছে। আফরা যে নিজ থেকে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেছে সেটাই অনেক। সংসারে সবার এক্টু খানি সেক্রিফাইস সুখ এনে দেয়। তাই সবাইকে নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ টা দেয়া দরকার। . . আফরোজা বেগম বিহান কে ডিনারের জন্য ডাকছে। ---" বিহান মায়ের উপর রাগ করে থাকিস না খেতে আয়। আমি তোর জন্য বসে আছি। মায়ের ডাকে বিহানের কষ্ট হলেও দরজার ওপাশ থেকে বলছে,, ---" মা আমার খুদা নেই। ---" প্লিজ বাপ তোর জন্য মা না খেয়ে বসে আছি। আজকে আমি তোর প্রিয় রুই মাছের ঝোল করেছি। তুই না রুই মাছের ঝোল খেতে পছন্দ করিস না। ---" হ্যাঁ মা আগে করতাম এখন করি না। মানুষের পছন্দ অপছন্দ সময়ের সাথে বদলে যেমন করে বদলে যায় মানুষ গুলো। অন্তরা বিহানকে বুঝাচ্ছে, ---" কাল নাহয় চলে যাবেন আজ মা কে কষ্ট না দিলে হয় না। কত ভালোবেসে আপনার জন্য মাছ রসা করেছে। না খেলে মা খুব কষ্ট পাবে। আফরোজা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলছে এটা অন্তরার ভালো লাগছে না। অন্তরা বিহান কে জিজ্ঞেস না করে দরজা খুলে দিলো। আফরোজা বেগম অন্তরাকে দেখে বলছে, ---" বউমা তুমি একটু বিহান কে বুঝাও না। আমি অনেক ভালোবেসে ওর জন্য রান্না করছি। ছেলেটা আমার না খেয়ে শুকাই গেছে। এতদিন কি না কি খাইছে.. এ কথা বলে আফরোজা বেগম কান্নাভরা চোখে বিহান কে দেখছে। মায়ের কান্না শুনে বিহানের চোখ ভেসে গেছে। বুকটা ব্যাথায় কাতর হচ্ছে। অন্তরা আফরোজা বেগম কে ভরসা দিয়ে বলছে, ---" মা উনি খাবে আপনি কান্না করবেন না। ---" সত্যি বলছ?? ---" হুম উনি খেতে আসবে এখনি। ---" তাহলে আমি গিয়ে খাবার রেডি করছি। চোখ মুছতে মুছতে আফরোজা বেগম ঠোঁটের কোণে হাসি এনে ছেলের জন্য খাবার বাড়তে চলে গেছে। বিহান অন্তরাকে বলছে, ---" আমি কখন বললাম খাব। তুমি গিয়ে খেয়ে আসো আমার খুদা নেই। ---" আপনি মুখে বলেন নি কিন্তু আপনার চোখ বলেছে। মায়ের জন্য আপনি ও কষ্ট পাচ্ছেন তাহলে কেন এত রাগ পুষে রেখেছেন। ---" কে বলছে কষ্ট পাচ্ছি!! ---" কেউ না চলেন খেতে যাবেন। আপনি না খেলে আমিও খাব না। আপনার সাথে বসে খাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে সেটা হারাতে দিবেন না প্লিজ। অন্তরার কথাতে মায়ের কান্নার জন্য বিহান খাওয়ার জন্য রাজি হয়ে গেলো। উপরে না বুঝালেও বিহানের মন জানে মায়ের জন্য কতটা কষ্ট হচ্ছে। বিহানের সত্যি ইচ্ছে করছিলো মায়ের হাতে রুই মাছের ঝোল খেতে। বিহানের কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রান্না মায়ের হাতের রান্না। কেমন জানি মা মা গন্ধ পাওয়া যায়। কত জায়গায় কত রকমের খাবার খেয়েছে কিন্তু মায়ের মতো রান্না নাকি কেউ করতে পারে না। সব সন্তানের কাছে মায়ের রান্না বেশি মজা লাগে। বিহান চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে। খাওয়ার সময় বুঝায়নি মায়ের রান্না খেতে কত ভালো লাগছে। অবশ্য আফরোজা বেগম কয়েকবার কথা বলতে চেয়েছেন বিহান চুপ করে খাচ্ছে দেখে আর কিছু বলেনি। দিনশেষে বিহান আফরোজা বেগমের হাতের রান্না দিয়ে পেট ভরে খাচ্ছে সেটা দেখে শান্তি লাগছে। অন্তত ছেলে এতদিন পরে মায়ের রান্না খাচ্ছে সেটা একজন মায়ের জন্য কম কি!! . . অন্তরার কোলে বিহান মাথা রেখে জানালার পাশে তারার মেলা দেখছে। ---" সত্যি কি কাল আমরা চলে যাব?? ---" হুম। কারণ আজ যদি আমি বেঁচে না ফিরতাম তোমার কি এ বাড়িতে জায়গা হতো?? কেন স্বামীর সব কিছুতে স্ত্রী কে দোষারপ করা হবে। ---" যা হবার হয়ে গেছে আপনি ভুলে যেতে পারেন না। ---" না অন্তরা। আমার এ বাসায় দম বন্ধ হয়ে আসছে। তোমার মায়ের কথা গুলো এখনো কানে বাজছে আমার। নিজের মায়ের কথা কখনো এভাবে শুনতে হবে ভাবিনি। ---" আমার সাথে হয়েছে আমি ভুলে গেছি আপনিও ভুলে যান। ---" না আমি এখানে আর থাকতে চাই না। যদি আমি সত্যি মারা যেতাম তাহলে কেউ কি তোমার প্রতি সহানুভূতি দেখাতো! আমার মৃত্যুর জন্য তোমাকে দায়ী করতো। ---" আপনি দয়াকরে মরার কথা বলবেন না। আমি আপনাকে আর হারাতে চাই না। ---" আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি তাই না। ---" কোন কষ্ট দেন নাই। আপনার মতো স্বামী কপাল গুণে পেতে হয়। আপনি আমাকে বিয়ের তিনমাসে যে ভালোবাসা সম্মান দিয়েছেন সেটা অনেকে সারাজীবন সংসার করেও পায় না। ---" আমার মায়াবতী বউটা আরো বেশি পাওয়ার যোগ্য। বিহান অন্তরাকে কাছে টেনে আপন করে নিচ্ছে। একটু একটু করে ভালোবাসা জমিয়ে রেখেছিলো বুকের মাঝে । ভালোবাসার মানুষ কে ফিরে পাওয়ার অনুভূতি টাই আলাদা। যেই অনুভূতি কোন ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। . . সকাল হতেই বিহান ব্যাগ গুছিয়ে অন্তরাকে নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যাবার জন্য রুম থেকে বের হয়েছে। আফরোজা বেগম ছেলের হাতে ব্যাগ দেখে,রান্নাঘর থেকে দৌড়ে আসলেন। ---" তোরা কোথায় যাচ্ছিস ব্যাগ নিয়ে। ---" আমরা এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি। আফরোজা বেগগ চিৎকার করে বলছে, ---" ও বিহানের বাপ, নিশান, মুনিয়া তোরা কে কোথায় আছিস আমার বিহান বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আফরোজা বেগমের চিৎকার শুনে জহির উদ্দিন, নিশান আফরা সবাই ছুটে এলো। সবাই এসে বিহান কে যেতে নিষেধ করছে। আফরা বিহানের সামনে গিয়ে বলছে, ---" ভাইয়া আমাদের উপর রাগ করে চলে যাবেন না। জানি আমাদের সবার ভুল হয়েছে। ভাবী আমাকে ক্ষমা করে দেন আমি তখন বুঝতে পারিনি। ---" আমাদের কারো উপর কোন রাগ নেই আমি অন্তরা কে নিয়ে নিজের স্বইচ্ছায় এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি। আফরোজা বেগম অন্তরার হাত ধরে, ---" বউমা আমি অন্যায় করছি। আমারে মাফ করে দে। তখন আমার মাথা ঠিক ছিলো না। বিহান রে বুঝা তোরা কেউ আমারে ছেড়ে যাইস না। আমার সুখের সংসার ভেঙে যাবে। মায়ের ভুল কি সন্তানরা একবার ক্ষমা করতে পারে না। ---" মা আমি অনেক বুঝাইছি উনি কিছুতেই শুনছে না। আফরোজা বেগম ছেলেকে বলছে, ---" যাইস না মারে ছাড়ি। তোরা চলে গেলে আমি কি নিয়ে থাকবো। --" মা আমাকে ছেড়ে তো এতদিন ছিলা। তোমাদের কাছে আমি মৃত ছিলাম। ভেবে নাও আমি এখনো মৃত তাছাড়া অন্তরা এখানে থাকলে তোমাদের সংসারে অকল্যাণ হবে। অন্তরা অপয়া বলে তো এখানে ওর জায়গা হয়নি। যে বাড়িতে আমার স্ত্রীর জায়গা হয় না সে বাড়িতে আমার কি করে জায়গা হবে। যদি আবার আমার কিছু হয় তুমি অন্তরাকে কথা শুনাবে। ---" বাপ আমি স্বীকার করছি তো আমি ভুল করেছি। ছেলে হয়ে মারে একটা বার ক্ষমা করতে পারিস না। বিহান অন্তরার হাত ধরে সবার কথা উপেক্ষা করে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়লো। আফরোজা ছেলের জন্য কেঁদে যাচ্ছে। নিজের কৃতকর্মের নিজের প্রতি বিরক্তি আসছে। কেন আসেপাশের মানুষের কথা ধরে অন্তরাকে প্রতিনিয়ত অপমান করেছে। যদি অন্তরার প্রতি অন্যায় না করতো তাহলে আজ বিহান এ বাসায় সবার সাথে থাকতো। কেন বুঝলো না অন্তরার মতো সেও এ বাড়ির বউ ছিলো... ১ বছর পর...... জহির সাহেবের বাসা আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়েছে। আফরোজা বেগমের মুখের হাসি লেগে আছে। এ দিন টার জন্য অপেক্ষা করেছে। আজ যে বাড়ির সবাই ভীষণ খুশি কারণ ঘর আলোকিত করে আসতে চলেছে আফরোজা বেগমের বংশধর। মেহমানরা সবাই আসা শুরু করেছে। নিশান চারদিক ছুটাছুটি করছে নতুন মুখের আগমন হবে বলে কথা। খুশির বাদ যেন থামার নয়। একটু পর পর নিশান উঁকি দিয়ে আফরা কে দেখার চেষ্টা করছে। আজ কিভাবে সেজেছে দেখার জন্য। আফরাকে না জানি আজ কত সুন্দর লাগছে। আফরোজা বেগম নাতি নাতনী আসার আনন্দে কতক্ষণ পর পর খুশিতে কেঁদে দিচ্ছেন। হঠাৎ বিহানদের চলে যাওয়ার কথা মনে করে আঁতকে উঠেছেন। মনে মনে বলছেন, না না আমি আর সেদিনের কথা মনে করতে চাইনা এই আনন্দের দিনে। রিনা বলছে, ---" ভাবীর মুখ এত সহজে দেখতে দিব না আগে টাকা দাও। ---" নিজের বউকে দেখব আবার টাকা কিসের। তোরা পথ থেকে সরে দ্বারা তোরা তো আমাত ভাই বইন। ---" আমরা যে সুন্দর করে সাজিয়েছি সেটার পারিশ্রমিক দিবা না। ---" আমার বউ যে শরীর খারাপ নিয়ে সাজছে সেটাই অনেক। আজ অন্তরার ৭ মাসের অনুষ্ঠান হচ্ছে... সেদিন বের হবার পর পিছন ফিরে মায়ের চোখে পানি দেখে কিছু পথ হাঁটার পরে অন্তরাকে নিয়ে আবার ফিরে আসে। বিহান মনে মনে আগে ঠিক করে রেখেছিলো যাবে না। কিন্তু সেটা কাউকে বুঝতে দেয়নি। সেদিনের পর থেকে আফরোজা বেগম অন্তরাকে চোখে হারায়। আফরা এখন অন্তরার বেস্ট ফ্রেন্ড। দেখে কারো বুঝার উপায় নেই তারা ঝা..... আজ পুরো পরিবার ভালোবাসায় পরিপূর্ণ..... #সমাপ্ত আমি গল্পটাতে বুঝাতে চেয়েছিলাম বিয়ের পর পর স্বামীর কিছু হলে বউকে দোষ দেয়া হয়। আর এ সমাজে একটা বিধাবা মেয়েকে কত কিছু শুনতে হয় তার হিসেব নেই। কেউ তার মনের অবস্থা বুঝার চেষ্টা করে না। ভালো থাকুক সকল পবিত্র সম্পর্ক❤ গল্পটা কেমন হয়েছে সবাই জানাবেন কারণ আপনাদের ভালোবাসা আমার অনুপ্রেরণা ❣ #পাঁচ_ওয়াক্ত_নামাজ_পড়ুন_জীবন_সুন্দর_করুন 🖤

@Raiyan

অদ্ভুত অদ্ভুত ভালোবাসা সিজন ৩ পর্ব:১৬ , " শুনুন,দাড়ান,দাড়ান না প্লিজ। দুলাভাই"নীরার কথা শুনে নিলয় থেমে যায়। নিলয়কে দাড় করানোর জন্য "দুলাভাই"ডাকটা টনিক এর মতো কাজ করলো। নিলয় তো দাড়িয়ে গেলো। আর নীরার সামনে ফিরেও আসলো। এসেই আচমকা নীরার গালে ঠাসসসস করে একটা চড় বসিয়ে দেয়। নীরা বেচারি গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে ওর দিকে ভ্যালভ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। সেকেন্ডের মধ্যে ওর সাথে কি হয়ে গেলো সেটা বোঝার চেষ্টা করছে। "এখন যাবো মুনিরার কাছে, বিয়ে করতে। এতই যখন দুলাভাই ডাকার শখ হয়েছে। তোর শখ টা পূরণ করি। চল প্রথম স্বাক্ষী তুই হবি। " নিলয় নীরার হাত টেনে নিয়ে চলে যাবার আগেই নীরা নিলয়ের হাত টা টেনে ধরে। "s,,,sorry " "sorry কি আমার ব্যাথার সিরাপ না মেডিসিন?" "আ,,,,,আসলে কাল " কথাটা বলেই নীরা নিজের ওড়নাটা এক কানা নিলয়ের হাতের সাথে পেঁচিয়ে ধরে। "আমি সব জানি। খারাপ আমার এতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট লেগেছে তুমি সত্য মিথ্যা যাচাই না করেই আমার থেকে দুরে চলে যাবার জন্য তৈরি হয়ে গেছো। আমার কথাটা একবার ও ভাবলে না, ডাফার এর তো স্টুপিটের মতো ডাক ডাকছো আমায়। মুনিরা কি বললো সেটাই তোমার কাছে ইমপোর্টান্ট, আর আমি যে দিন রাত তোমার পিছে পড়ে আছি সেটার কোনো ভ্যালু নেই তোমার কাছে। তুমি আমাকে কেনো বিশ্বাস করবে।তুমি তো তোমার কাজিন কে বিশ্বাস করবে। তুমি তো আর আমাকে ভালোবাসোনা। ওই পলাশ কে ভালোবাসো "। "কে বললো আমি উনাকে ভালোবাসি"? "সব বুঝি আমি। ছোট বাচ্চা না আমি, কার মনে কি আছে আমি সব বুঝি। " অভিমানী কন্ঠে কথাটা বলেই ও উল্টোদিকে ঘুরে দাড়ায়।নীরা বেশ বুঝতে পারে। নীরা মুচকি হাসে। "এভাবে নাচানাচি করলে কিন্তু আমার ওড়নাটা খুলে যাবে। পরে কিছু বলতে পারবেন না। চুপচাপ দাড়ান"। নিলয় নীরার ওড়নার কানা টা নিজের হাত থেকে খুলে দেয়। জোরে সাথেই টেনে খুলে যার জন্য নিলয়ের হাতে লেগে যায়। "আউচ" নিলয়ের ব্যাথায় জরানো কন্ঠ নীরার বুকে গিয়ে আঘাত করে। চট করে নিলয়ের হাত টা মুঠো করে ধরতেই নিলয় হাত ছাড়িয়ে দেয়। " ঠিক আছে। তোমার ওড়না ধরার অধিকার আমার নেই। অধিকার টা অন্য কারো সেটা আমি জানি। সরি, আমার জন্য তোমার ওড়না নষ্ট হলো, আমি নিউ ওড়না কিনে দেবো"। , নিলয়ের কথায় নীরার প্রচন্ড রাগ হলো। এক ঝটকায় নিলয়ের সামনেই নিজের ওড়না খুলে মাঠে ছুঁরে মারে। নিলয় হতদম্ভ হয়ে যায় নীরার কাজটা দেখে। নিলয় টচ করে ওড়নাটা তুলে নীরাকে জরীয়ে দেয়। " তোমার সাহস দেখে আমি হতবাগ হয়ে যাচ্ছি। তুমি আমার সামনে দাড়িয়ে কিভাবে চিপ মেন্টালিটির কাজ করলে?টেনে ঠাস করে এমন একটা চড় দিবো না তোমার এতো সাহস কই থেকে আসে দেখে নিবো " দাঁতে দাঁত চিপে কথাটা বলে নিলয়। নীরা রাগে উল্টো দিকে ঘুরে দাড়ায়। নিলয় হেঁচকা দিয়ে নীরার ওড়নার এক কানা টেনে হাতের সাথে জরীয়ে নীরার সামনে নিজের হাত এগিয়ে দেয়। "নে ধর, খুসি এবার"?রাগে গজগজ করে কথাটা বলে নিলয়। নীরা মুচকি হেসে হাত টা টেনে ভালো করে জরীয়ে দেয়। "আমি কি উনাকে বলেছি আমার হাত ধরতে? উনি ধরেছে তো আমি কি করবো? আমি তো উনাকে ডেকে আনিনি যে আপনার নিজের ক্ষতি করতে হবে। " "আমার কারো জ্ঞ্যান চাই না" "আ,,,,পনাকে জ্ঞ্যান দিবো সেই ক্ষমতা আমার আছে নাকি? যে,,,,টা সত্য সেটা বলেছি। উনাকে আমার পছন্দ নয়। আমি চাই না উনি আমার সামনে আসুক" , নীরার কথাটা নিলয় ভালোমতোই বুঝতে পারে। নীরা ওকে কি বলতে পাচ্ছে। নীরা নিলয়ের হাত ধরে এনে গাড়ির সামনে দাড়ায়। নিলয় বোঝার চেষ্টা করছে নীরা কি করতে চাইছে। "এভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো? হসপিটালে যেতে হবে। গা,,,,গাড়িতে উঠেন। এভাবে তাকিয়ে ভয় দেখাতে হবে না" "আমি তোমাকে ভয় দেখাচ্ছি?" "না উঠেন আপনি " বলেই নিলয়কে গাড়িতে হালকা ধাক্কা দিয়ে বসিয়ে দেয়। , "ম্যাম হাত টা তো ওড়না দিয়ে বেধে রেখেছেন। আর ওড়নার বাকিটুকু আপনার শরীরে আছে। তো আমি না হয় এখানে বসলাম।আপনি কি করে গাড়িতে উঠবেন"? এই রে নীরার তো খেয়াল ছিলো না, কি করবে এখন ও "এটা কোনো ম্যাটার হলো আপনি নামেন। আমি আগে উঠি,তারপর আপনি উঠেন,হয়ে গেলো সিম্পল" , "আমার কাছে আরও একটা আইডিয়া আছে , আমাকেও নামতে হবে না আর তুমিও বসতে পারবে।" "কীভাবে"? নীরা কথাটা শেষ করতেই পারে না, তার আগেই নিলয় নীরাকে টেনে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে। "প্র্যাকটিক্যালি দেখিয়ে দিলাম।মজার না ব্যাপার টা?" , নীরা তো শক। "প্লিজ নামান আমাকে। এভাবে কেউ গাড়ি চালায় নাকি?" নীরার কথায় নিলয় কান দেয় না। "আর একটা সাউন্ড হলে ছুড়ে বাহিরে ফেলে দিবো দিবো " নীরা মুখ ফুলিয়ে চুপচাপ বসে। "নীর পাখি" নীরা চুপ করে থাকে নিলয়ের কথার উত্তর দেয় না। নিলয় চট করে নীরার কপালে চুমু এঁকে দেয়। নীরা নিলয়ের দিকে তাকায়। "দিন দিন তোমার বড্ড সাহস হয়ে যাচ্ছে। আমার কথাকে তুমি গুরুত্বই দিচ্ছো না " "আমি কি করলাম?" " তোমাকে বারন করেছিলাম না আমি, আমার দেওয়া কোনো জিনিস তুমি তোমার শরীর থেকে খুলবে না। কি বলেছিলাম না?" হালকা ধমকে নিলয় কথাগুলো বলে। নীরা চুপটি করে থাকে। "কাল রাতে সব নিজের হাতে পরিয়েছি, আর এটা আমি খুলবো আমাদের বাসর রাতে। তার আগে যেনো এগুলো না খোলা হয়। কারন বাসর রাতে তো কোনো কিছু " নিলয় নীরার কানে কানে ফিসফিসিয়ে কথা গুলো বলছিলো লাস্ট কথা শেষ হবার আগেই নীরা নিলয়ের মুখ চেপে ধরে। "মুখে লাগাম লাগান অসভ্য লোক। আপনার মুখে কি কিছু আটকায় না " , নিলয়ের কথায় নীরা বেশ লজ্জা পায়।নীরার মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। নিলয় নীরাকে দেখে মুচকি হেসে নীরার থুতনি টেনে থুতনিতে একটা কামড় দেয়। কামড় টা জোরেই দেয়। নীরা "আউচ" করে উঠে। নিলয় একটু জোরেই হেসে ফেলে। "এই টুকু কামড়েই এমন করছো? তাহলে বাসর রাতে কি করবা নীর" "আল্লাহর ওয়াস্তে মুখ টা বন্ধ করেন। দোহাই লাগে আপনার, এতো নির্লজ্য হতে নেই "। "i love you নীরপাখি" নিলয় ভালোবাসার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নীরার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। নীরা নিলয়ের চাউনি দেখে লজ্জা পেয়ে যায়। নীরা নিলয়ের থেকে চোখ নামিয়ে নেয়। "I'm sorry নীরু" "কেনো?" "কথা দিয়েছিলাম তোমাকে, তুমি না চাইলে তোমাকে টাচ্ করবো না,কিন্তু তোমাকে দেওয়া কথা আমি রাখতে পারিনি। বেশি কিছু করিনি জাস্ট তোমার উন্মুক্ত পেটে আলতো করে ঠোঁট দুটো ডুবিয়েছি। " , "আপনার কপালে বউ জুটবে না, নির্লজ্য লোক একটা। চুপচাপ গাড়ি চালান একটা কথা বলবেন না।" নিলয় বাঁকা হেসে নীরাকে আরও ক্লোজ করে জরীয়ে নিয়ে ড্রাইভ করে। নীরা কিছু বলার সাহস পায় না। হসপিটালে গিয়ে নিলয়ের হাত ব্যন্ডেজ করে নেয়। নিলয় নীরা কেও চেকাপ করিয়ে নেয়। তারপর নিলয় নীরাকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। , নীরা বাসায় এসে দেখে পলাশ ওর পরিবার নিয়ে সেজে গুজে বসে আছে। , be continue ♥♥♥

@Raiyan

Tomai pabo bole #তোমায়_পাবো_বলে #পর্ব_০৩ . লিরা তাহিনের জন্য খাবার নিয়ে এসেছে।তাহিন ভেবে পায় না এ বাসার লোকজন এরকম কেনো?এই যে লিরা নামের মেয়েটা এলো একবার নক করার প্রয়োজন মনে করলো নাহ!আশ্চর্য!হতে তো পারতো ও নিনিতার বয়ফ্রেন্ড।তখন ওরা যদি অপ্রীতিকর অবস্থায় থাকতো!কারো নূন্যতম ম্যানারস নেই। তাহিনের রীতিমতো বিরক্ত লাগছে।শুধু নিনিতার জন্য এখানে আসা। নিনিতা ওয়াশরুম থেকে বের হতে হতে বললো, ___"এগুলো নিয়ে যাও।" লিরা নিনিতার কথামতো নিয়ে আসতে নিলো।দরজার এপাশে দাঁড়িয়ে বললো, ___"চা অর কফি আপু?" নিনিতা মিষ্টি হেসে বললো, ___"কিছু লাগবে না।" লিরাও প্রতিত্তোরে হেসে চলে গেল।তাহিন সোফায় গিয়ে ভদ্র ছেলের মতো বসে রইলো।নিনিয়া অপজিট পাশে বসে বললো, ___"হঠাৎ আমার বাসায়।কি মনে করে?" নিনিতা ভেবেছে বিকালে আশফাক চৌধুরীর সাথে কথা হয়েছে এ নিয়ে কথা বলতে এসেছে তাহিন।আসতেও পারে তাহিন যে কতটা বেপরোয়া নিনিতা আশফাক চৌধুরীর সাথে কথা বলে বুঝতে পেরেছে। তাহিন আমতাআমতা করে বললো, ___"আসলে তুমি তোমার ক্যামেরার লেন্স ফেলে এসেছিলে।আমি ভাবলাম দিয়ে যাই।" নিনিতা উঠে দাঁড়িয়ে তাহিনের দিকে বললো, ___"থ্যাঙ্কিউ।" তাহিন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।ও নিনিতাকে মিথ্যে বলেছে।নিনিতা কোনো লেন্স ফেন্স ফেলে আসেনি।তাহিন উল্টো নিজের টাকা খরচ করে লেন্স কিনে এসেছে।শুধু নিনিতার কাছাকাছি থাকবে বলে। নিনিতা বললো, ___"বিয়ার খাবেন?" ___"হুম খাওয়া যায়।চলো বাইরে যাই,এখানে আর যাই কিছু পাওয়া যাক না কেনো বিয়ার তো আর পাওয়া যাবে না।" তাহিন দাঁড়িয়ে গেল।তাহিনের খোঁচাটা নিনিতার বুঝতে একটুও সময় লাগেনি।নিনিতা মিষ্টি হেসে বললো, ___"কোথাও যেতে হবে না।এখানেই বসুন।" তাহিন বসলো না।নিনিতার রুমটা ছোট।ছোট এই রুমটাতে ছয়টা কর্ণার স্ট্যান্ড হারিকেন ল্যাম্প এবং দুইটা ম্যাজিক ল্যাম্প। চারদিকে সাদা ইয়া বড় বড় পর্দা।সোফা,কুশন,বিছানার চাদর,বালিশ,এমনকি মেঝেটা পর্যন্ত ঝকঝকে সাদা।একটা মানুষের সাদা এতো কেনো পছন্দ ভেবে পায় না তাহিন।শুধু নিনিতার বেডের মাথার ওপরে পেইন্টিংটা ছাড়া।পেইন্টিংটা বহু রঙে রঙিন।দেয়ালের মাঝামাঝি-তে রাখা পেইন্টিংটা।পেইন্টিংটাতে কোনো কিছু নেই শুধু রঙ ছাড়া।সাদার মাঝে রঙিন হয়ে ফুটে উঠেছে। সম্পূর্ণ ঘরের রঙ কেড়ে নিয়েছে এই পেইন্টিং।খুব একটা আসবাবপত্র নেই।নিনিতা মেয়ে কিন্তু একটা ড্রেসিংটেবিল ওর রুমে নেই।হাউ ইজ পসিবল!তাহিন বললো, ___"তোমার রুমটা খুব ছোট নিনিতা।" নিনিতা সাদা পর্দার আড়াল থেকে দুটো বিয়ারের বোতল বের করলো।একটা তাহিনের হাতে দিলো।তাহিন অনুভব করলো বিয়ারের বোতল ঠান্ডা শীতল।সবেমাত্র ফ্রিজ থেকে বের করা হয়েছে।নিনিতা বললো, ___"ছোট না।পর্দা দিয়ে ঢেকে ছোট করে ফেলেছি।পর্দার আড়ালে একেকটা ভাগ করা আছে।এতো বড় রুম যে দেখলে খেলার মাঠ মনে হয়।তাই এ ব্যবস্থা।" কথা বলতে বলতে নিনিতা বোতলের ছিপি খুলে ফেলল।তারপর এক চুমুকে কম অর্ধেক খেয়ে ফেলল।তাহিন অবাক হচ্ছে।ও তো ভেবেছিল নিনিতা অন্য টাইপের মেয়ে।এসব খায় না।তাহিন জিজ্ঞেস করলো, ___"সবসময়ই খাও?" ___"সবসময় না,মাঝেমধ্যে।বিয়ার খাওয়া ভালো।সপ্তাহে কিংবা মাসে একবার হলেও বিয়ার খাওয়া উচিত।বিয়ার অনেক ফল দিয়ে বানায়।সাইট এফ্যাক্ট থেকে বেনেফিট বেশি।আমি কিন্তু এলকোহল ফ্রি বিয়ারের কথা বলছি।" ___"বিয়ার নিয়ে পিএইচডি করেছো দেখছি।আর কি জানো?" নিনিতা চুপ করে গেল।সব কথা সবাইকে বলতে নেই।নিনিতাকে চুপ থাকতে দেখে তাহিন ভ্রু কুঁচকে বললো, ___"কিছু বলছো না যে।" ___"এমনি।বাদ দিন।" নিনিতা বারান্দায় গেল।তাহিনও ওর সাথে গেল।তাহিন বারান্দায় গিয়ে অবাক হয়ে গেল।বারান্দার দেয়ালের গা ঘেঁষে পাতাবাহার,মানিপ্লান্ট,বনসাই,ছোট পাম গাছ,ফরচুন ট্রি,চায়নিজ কামিনী নানা ধরনের গাছ।সেই সাথে অর্কিড সাজানো আছে।পাটের তৈরি শিকা ঝুলে তাতে মাটির হাঁড়িতে আরও রঙিন গাছ।দুটো টুল,সাইড টেবিল আর একটা রকিং চেয়ার।আরেক পাশে নিচে দেয়ালের গা ঘেঁষে অনেক হারিকেন লাইট। পাশে একটা বুক শেল্ফ। নিনিতা বাইরে সোডিয়ামের দিকে চোখ রেখে বললো, ___"বাইরে যাবেন।চলুন হেঁটে আসি।" তাহিন সঙ্গে সঙ্গে বললো, ___"হুম যাবো।" তাহিনের অবস্থা মেঘ না চাইতে জল পাওয়ার মতো।নিনিতা গায়ে জ্যাকেট জড়িয়ে নিলো।ফাল্গুন মাস শীত যাই যাই বলেও এখনো যায়নি। নিনিতা আর তাহিন পাশাপাশি হাঁটছে।পিনপতন নিরবতা।তাহিন বললো, ___"নিঃসন্দেহে তুমি ভালো ফটোগ্রাফি করো।কিন্তু তোমার ছবিতে ফিলিংস নেই।" নিনিতা দাঁড়িয়ে গেল।তারপর বললো, ___"ফিলিংস নেই।" তাহিন হেসে বললো, ___"উহুম নেই।যদিও তোমার মন রাখতে বলা উচিত ফিলিংস আছে।কিন্তু সত্যিটা হলো নেই।" ___"ফটোগ্রাফারের ফিলিংস কেউ দেখে না।যারা মডেলিং করে, যাদের ছবি তোলা হয় তাদের কেমিস্ট্রি দেখে,তাদের ফিলিংস উপলব্ধি করে।আপনি কিন্তু আমার কাজের দিকে আঙ্গুল তুলছেন।ডোন্ট ডু দিস।" ___"তুমি হাইপার হয়ো না।ফটোগ্রাফার এবং মডেল উভয়ের ফিলিংস প্রয়োজন।আচ্ছা বাদ দাও।কখনো প্রেম করেছো?" ___"ফটোগ্রাফি করতে প্রেম করা লাগে না।" তাহিন চুপ। নিনিতা এই ঠান্ডায় আইস্ক্রীম কিনলো।দুজনেই একসাথে হেঁটে হেঁটে আইস্ক্রীম খেল।আস্তে আস্তে হেঁটে বাসায় ফেরার সময় নিনিতা বললো, ___"সব মেয়ে একরকম না।তাই তাদের পটানোর ধাঁচ আলাদা করা উচিত।আমার টাইপের মেয়ে গুলোকে খাওয়ালে,গিফট করলে কিংবা নানা কৌশলে ইম্প্রেস করলেও পটে না।তাই বলে যে পটে না ব্যাপারটা এরকমও না।পটে তবে সেটা অনেক সাধনা তপস্যার ফল।কেউ টাইমপাস করতে এতো সময় নষ্ট করে না।তাহিন চৌধুরী এমন সস্তা পটানোর কৌশল অবলম্বন করবে বলে আমার জানা ছিলো না।" তাহিন থেমে গেল।নিনিতা জ্যাকেটের পকেট থেকে ক্যামেরার লেন্সটা তাহিনের হাতে দিয়ে বললো, ___"লেন্সটা আমার না।আমার কাছে আসার এটা শুধু মাত্র কৌশল ছিল।আমি আমার কাজ নিয়ে অনেক সেনসিটিভ।আমার ক্যামেরার প্রতিটা পার্ট আমার মুখস্ত।এখন বলতে পারেন যে আমি বুঝেও কেনো আপনাকে তখন কিছু বললাম না।প্রশ্ন করার আগে জবাব দিচ্ছি।কারণটা হচ্ছে আমি আপনার উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা করছিলাম।দ্বিতীয়বার এমনটা করবেন না।ভালো থাকবেন।" নিনিতা হেঁটে চলে গেল।একবার যদি পেছন ফিরে তাকাতো তবে তাহিনের হতভম্ব হওয়া চেহারা খানা দেখতে পেত। তাহিন ক্লাবে ঢুকে ইচ্ছা মতো মদ খাচ্ছে।নিনিতা ওকে সস্তা বলেছে।যে তাহিন দশমিনিটে মেয়ে পটিয়ে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে।আর সেই তাহিনকে কিনা সস্তা বলেছে।রাতুল অনেকবার তাহিনকে থামানোর চেষ্টা করেছে লাভ হয়নি রাতুল বললো, ___"আমি আগেই বলেছিলাম।প্লানটা স্কিপ করতে তুই তো আমার কোনো কথাই শুনিস না।" তাহিন মাতাল হাসি দিয়ে বললো, ___"নিনিতার দুর্বলতায় আঘাত হানলে কেমন হয় রাতুল?" ___"ইউ ডোন্ট ডু দিস তাহিন।মেয়েটা তোর কোনো ক্ষতি করেনি তুই কেনো মেয়েটার ক্ষতি করবি।হোয়াই?" তাহিন রেগে বললো, ___"আগে করেনি।এখন তো করেছে।ওই মেয়ের জন্য নিজের বাপ-মা চৌদ্দগুষ্টি কথা শোনায়।আমার বাপ অপদার্থ বলে।বাইরে বেরুতে পারি না যখন তখন মিডিয়ার হামলা করে আর বাড়িতে ডিজগাস্টিং।তারপরও বলবি ক্ষতি করেনি।" রাতুল খানিকক্ষণ চুপ থেকে বললো, ___"তাই বলে তুই মেয়েটার ফিলিংস নিয়ে খেলতে পারিস না।শেষ মেষ তুই এই নোংরা খেলায় নামবি।ছিঃ।" তাহিন মাতাল কণ্ঠে বললো, ___"তাহিন চৌধুরী সব পারে সব।" ___"ও যদি তোর বা আমার বোন হতো।" তাহিন চোখ-মুখ শক্ত করে বললো, ___"সস্তা শব্দটা বলার আগে জিভ টেনে ছিড়ে ফেলতাম।" ___"নিনিতা ঠিকই বলেছে তুই সত্যিই চিপ মাইন্ডের।" রাতুল কথাটা বলতেই তাহিন ওর মুখে ঘুষি মারলো।রাতুল ছিটকে নিচে পরে গেল।ক্লাবের অন্যরা রাতুলকে তুলে দাঁড় করালো।তাহিন আরেকটা ঘুষি দিলো।রাতুল এবার তাহিনের গায়ে হাত তুলতে গিয়েও তুললো না, কেঁদে দিলো।কখনো ভাবেনি বন্ধুত্বের মাঝে এমন একটা দিন আসবে। দ্বিতীয় ঘুষিতে রাতুলের নাক ফেটে গেছে,রক্ত বের হচ্ছে।তাহিন নিজেই আবার রাতুলকে জড়িয়ে ধরলো।জাপ্টে ধরে বললো, ___"আ'ম সরি।আমার মাথা ঠিক ছিলো না।সরি।" রাতুল কিছু না বলে তাহিনকে জড়িয়ে ধরলো। . . চলবে,,,

@Raiyan

Bosor rater গল্প :- বাসর রাতের কান্ড পর্ব :- ২ & শেষ লেখা :-raiyan . . ....আচ্ছা! আপনার সাথে কখনো আমার শারীরীক সম্পর্ক হয়েছে? . কথাটা শুনে আরোহী অবাক হয়ে গেল! . অবাক হওয়ার কিছু নেই। বলেন হয়েছে কি না? -না হয়নি? . আপনাকে কখনো জড়িয়ে ধরা তো দূরের কথা বিয়ের পর ঠিকমতো আপনার হাতটাও ধরার মতো সুভাগ্য আমার মতো অভাগার কপালে জুটেনি। আর আমি আজ শুনলাম আপনি অন্তঃসত্ত্বা। আমি কোন নষ্টা মেয়েকে স্ত্রীর পরিচয় দিতে পারবো না। আমি আপনাকে ডির্ভোস দিবো। . আরোহী আমার কথাটা শুনেই কান্না করে দিল। বিছানা থেকে নেমে আমার পা দুটি ঝাপটে ধরে বলতে লাগল- আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমাকে তাড়িয়ে দিয়ো না। আমি সত্যি এমন কাজ করিনি। বিশ্বাস করুন আমাকে। - হা, হা কিসের বিশ্বাস? যাকে আমি একটিবার স্পর্শ পর্যন্ত করিনি। সে যদি প্রেগনেন্ট হয় তাহলে কীভাবে বিশ্বাস করি? - প্লিজ তোমার পায়ে পড়ি মিথ্যা অপবাদ দিয়ো না আমায়। - তাহলে তুমি বলতে চাচ্ছো ডাক্তারের রির্পোট মিথ্যা? - আরোহী কোন কথা বলছে না। চোখ দিয়ে অঝরে পানি পড়ছে। - আমি না খেয়ে অফিসে চলে গেলাম। - রাতে বেলা শুয়ে আছি। হঠাৎ বুকটা ভারী ভারী লাগতেছে। চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি কথা আমাকে জরিয়ে ধরে আছে ছোট বাচ্চার মতো তার চোখের পানিতে আমার বুক ভিজে যাচ্ছে। - এই কি করছো তুমি? তোমার মতো নষ্টা মেয়ের আমাকে জরিয়ে ধরার কোন অধিকার নেই। কার সাথে এমন বাজে কাজ করছো। নাকি যে ছেলেটাকে বিয়ের দিন মাইর দিয়েছিলাম তার সাথে? - প্লিজ বিশ্বাস করো, ছোট বেলা থেকেই তোমাকে এটা সেটা নিয়ে রাগাতাম। একদিন আমার বান্ধবী জেরিন আমাকে বলে। সে নাকি তোমাকে ভালবাসে। তোমাকে দেওয়ার জন্য একটা চিঠিও দেয়। সেদিন চিঠিটা আমি তোমাকে দেয়নি। কেন যেন আমার খুব কান্না পাচ্ছিল। তাই জেরিন কে বলে দিয়েছি, তুমি অন্য কাউকে ভালবাসো। জানো সেদিন থেকেই তোমাকে ভালবেসে ফেলি। কিন্তু কখনো তোমায় বলতে পারিনি। তুমিতো সারাক্ষণ আমার সাথে ঝগড়া করতে। জানো যার সাথে বিয়ে ঠিক ছিল আমার,সে ছেলেটা আমার বান্ধবী নিধির বয়ফেন্ড। তাদের দুজনকে পালানোর টাকাটাও আমি দেয় তোমাকে পাওয়ার জন্য । আর তুমি যেন আমাকে ভালবাসো.. সে জন্য বিয়ে বাড়িতে বোরকা পড়ে ওই ছেলেটাকে অভিনয় করতে বলি। বিশ্বাস করো সত্যি তোমায় অনেক ভালবাসি। - ঠাস! লজ্জা করে না পাপ মুখে আমাকে ভালবাসার কথা বলতে। তুমি মনে করেছো। তোমার সাজানো গোছানো মিথ্যা কথা আমি বিশ্বাস করবো? কখনোই না। - আরোহী আমার কথা শুনে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। -আমি শুয়ে পড়লাম। সারাদিনের কর্ম ব্যস্ততায় শরীরটা নিতিয়ে পড়েছে। চোখ জোড়া বন্ধ করতেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম। - পরের দিন আরোহী কে নিয়ে ডির্ভোসের আবেদন করে আসলাম।আরোহী শুধু আমার দিকে করুণ চোখে চেয়ে আছে। আরোহী কি আর বলবে। আমার জায়গায় যে কেউ হলেও এটাই করতো। - বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে, টিভি দেখতে ছিলাম। এমন সময় দেখলাম আরোহী শাওয়ারে গেল। - রাতে শুয়ে আছি।হঠাৎ পাশের রুম থেকে চাঁপা কান্নার আওয়াজ আসছে। - আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি, রাত প্রায় দু'টা ছুঁই ছুঁই! বিছানা থেকে উঠে, পাশের রুমের দিকে চোখ পড়তেই চমকে উঠলাম! - আরোহী জায়নামাযে বসে মোনাজাতে কাঁদছে। আর বলছে ' হে পরম করুণাময় আল্লাহ্ তায়ালা। সারাজাহানের অধিপতি, তুমি তো জানো আমি ফুলের মতো পবিএ। কোন পরপরুষের সংস্পর্শে যায়নি। তবুও আজ আমার গর্বে সন্তান। হে আল্লাহ্, আমার করুণাময় আল্লাহ্ । আমি আমার স্বামীকে নিজের থেকে বেশি ভালবাসি। তুমি তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ো না আমায়। আমার সম্মান তুমি রক্ষা করো। সতি নারীর সম্মান তুমি রক্ষা করো। আমিন। - আরোহীর কান্না দেখে নিজের অজান্তেই চোখের কোণে জল এসে পড়ে। কারণ পাগলীটাকেও যে আমি বড্ড বেশি ভালবাসি। মনে মনে ভাবলাম অনেক হয়েছে আর না। খুব বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। ভালবাসার মানুষ এতো কষ্ট দিতে হয় না। আরোহী রুমে আসার আগেই, আলমারী থেকে সবুজ পাড়ের কালো তাঁতের শাড়িটা বের করলাম। কথা রুমে আসতেই বললাম' যাও শাড়িটা পড়ে আমার সামনে আসো'। - আরোহী এতো রাতে আমার পাগলামী দেখে কিছুটা বিস্মিত হলো। কারণ আজ কোর্ট থেকে আসার পর এই প্রথম কথা বললাম। - আরোহী কিছুক্ষণ পর শাড়ি পড়ে আসলে। তার মাঝে অন্য এক আরোহী কে দেখতে পায়। - নষ্টা মেয়ের দিকে এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? আমি তো নষ্টা তাই ভেবেছি, তোমাকে মুক্তি দিয়ে যাবো। আমি সুসাইড করবো। - আরোহীর মুখে সুসাইডের কথাটা আমার কলিজায় এসে বিঁধলো। মুখটা চেপে ধরলাম। এই কি বলছো? তোমাকে ছাড়া আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো। আমাকে ক্ষমা করে দাও। তোমার গর্ভের সন্তানটা আমার। - আরোহী আমার মুখে এমন কথা শুনার জন্য একদম প্রস্তুত ছিল না। তুততমি তো আমাকে স্পর্শ করোনি। তবে কেমনে মা হলাম? - একদিন ঘুমের বড়ি আর তার সাথে নেশার বড়ি মিক্সট করে দেয়। যদিও এটা অন্যায় ছিলো কিন্তু এ ছাড়া কোন উপায় ছিল না। তোমার ডাইরি পড়ে তোমার বলার আগেই। আমি জানতে পারি যে,তুমি আমার সাথে অভিনয় করেছো। আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসো। কিন্তু বলতে চাচ্ছো না। তাই কৌশলে এ বুদ্ধি করা। কথাটা বলার আগেই বুকে কারো কিল-ঘুষি অনুভব করলাম। এই কি করছো মরে যাবো তো। - তোকে যে আমি মরতে দিবো না। মালা বানিয়ে গলায় ঝুলিয়ে রাখবো। কথাটা বলে বুকে মুখ লোকালো। - এই রাত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফুলশর্য্যাটা সেরে নেয়। - এই লুচুর হাড্ডি আমার অনুমতি ছাড়াই তো সব করে ফেলছো। দেন মহর যে বাসর রাতে দিতে হয় দিয়েছিলে আমায়? -হি হি, আচ্ছা! কত টাকা চাও দেন মহর হিসেবে? - যা চাই দিতে পারবে তো? - সামর্থ্য থাকলে অবশ্যই দিবো। - আচ্ছা! দেন মহর হিসেবে তোমাকেই চাই। সারাজীবন তুমি পাশে থেকো আর কিছুই চাইনা। নয় মাস পর....... - হসপিটালে বসে বসে পুরোনো সব কথা গুলো ভাবছি আর চোখ থেকে পানি টপটপ করে পড়ছে। মনে মনে আল্লাহ্কে স্মরণ করছি। পাগলীটা অপারেশন থিয়েটারে। অপারেশন থিয়েটারে যেতে চাচ্ছিল না। আরোহীর চোখে চিকচিক করছিল পানি। হঠাৎ ডাক্তার সাথি অপারেশন রুম থেকে বের হয়ে বললো' মিঃ এ আর আপনার মেয়ে হয়েছে। ভেতরে যেতর পারেন। - আমি বেডে গিয়ে দেখি আরোহীর পাশে ফুটফুটে একটা বাচ্চা কান্না করছে। মেয়েটাকে কুলে তুলে নিয়ে কপালে ভালবাসার স্পর্শ এঁকে দিলাম! হঠাৎ আরোহীর দিকে চেয়ে দেখলাম সে নড়া চড়া করছে না। বুকটা কেমন যেন ধর্ক করে উঠলো। এই আরোহী , কি হলো চোখ খুলো কথা বলছো না কেন। আরোহী কোন কথা বলছে না। আমার বুকটা ফেঁটে যাচ্ছে। আরোহীয মাথাটা বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলাম। হঠাৎ বুকে কারো মৃদু কামড় অনুভব করলাম। চেয়েই দেখি পাগলীটা মিটিমিটি তারার মতো চোখ খুলছে। - কি হলো ভয় পেয়েছো? ভয় পেয়ে লাভ নেই। আমি তোমাকে ফেলে কোথাও যাচ্ছি না। এখন আমার দল ভারী। মা মেয়ে মিলে একসাথে ঝগড়া করবো। . কেমন হলো জানাতে ভুলবেন না কিন্তু . . * * * সমাপ্ত * * *

@Raiyan

বিয়ে ছাড়া বউ বিয়ে_ছাড়া_বউ #পর্ব_7 ইরাঃ - তাহলে ওরা আমাকে ভাবী ডাকলো কেনো? আমিঃ - আমি কি জানি? ইরাঃ- একদম মিথ্যে কথা বলবে না। আমিঃ - মিথ্যে কথা বলছি নাতো। ইরাঃ - তাহলে ওরা যে বলল,তুমি বলেছো....... ইরাকে আঠকিয়ে দিয়ে আমি বললাম, আমিঃ - আমি কি কি বলছি? ইরাঃ- আরে তোতলাচ্ছো কেনো? আমিঃ - কই না তো ওরা কি বলেছে? ইরাঃ - বলেছে তুমি নাকি বলেছো আমি তোমার বউ।আমি সস্তির নিশ্বাস নিলাম। আমিঃ - হ্যা,বলেছি তো। ইরাঃ- এহ,আমি কি তোমার বউ নাকি যে সবাইকে এটা বলে বেড়াতে হবে। আমিঃ - হ্যা বউইতো। ইরাঃ- উহু তোমার বউ হতে আমার বয়েই গেছে। ভেংচি কেটে বলে চলে যাচ্ছিলো। আমি ইরাকে টান মেরে বুকে নিয়ে এলাম, আমিঃ-কেনো বউ হলে কোনো সমস্যা? ইরাঃ- আরে ছাড়োফাইজলামি করো না। আমিঃ- বউয়ের সাথে ফাইজলামি করবো নাতো কার সাথে করবো? ইরাঃ- ছাড়ো, আমার কাজ আছে। ছেড়ে দিলাম। । রাতে আমি বসে বসে ল্যাপটপ এ কাজ করছিলাম আর ইরা আয়নার সামনে বসে চুল আঁচড়াচ্ছে। আমিঃ -ইপ্সিতা মেয়েটা খুব সুন্দর তাই না। ইরা পিছনে আমার দিকে ভ্রু কুচকে থাকালো। ইরাঃ- ইপ্সিতাকে তুমি কোথায় পেলে? আমিঃ - আজ কথা হয়েছিলো আর ওও বলল তোমাকে নাকি কি একটা কথা বলেছিলো আমাকে বলতে। ইরাঃ- ক কই কি বলেছিলো? আমিঃ - তোতলাচ্ছো কেনো? ইপ্সিতা আমাকে ভালোবাসে ইপ্সিতা তোমাকে বলেছিলো আমাকে এ কথা টা এসে বলতে। তুমি বললে না কেনো? ইরাঃ- অবাক হয়ে আর কিছুটা ভাঙা গলায় বলল,ওও বলেছিলো মনে হয় খেয়াল করি নি। আমিঃ- ওও,তবে আজ পার্কে প্রপোজ করেছিলো। ইরা কান্না স্বরে বলল, ইরাঃ- তুমি কি বললে? আমিঃ- এতো সুন্দর মেয়ের প্রপোজাল কি রিজেক্ট করতে পারি? ইরাঃ- তার মানে এক্সেপ্ট করে নিয়েছো। আমিঃ- হ্যা,কেনো তুমি খুশি হওনি? ইরাঃ- হ্যা,হ্যা হয়েছিতো। আমিঃ- ওও, তাহলে তো ভালোই। মেয়েটা কি সুন্দর? ইরাঃ- শুধু কি ইপ্সিতাই সুন্দর। আমি সুন্দর না। আমিঃ - আরে এটা তোমাকে কে বলল? ইরাঃ - তোমার কথায় বোঝা যাচ্ছে। তুমি ইপ্সিতার যা গুন শুনাচ্ছ। আমিঃ- তুমি কি জেলাস ফিল করছো। ইরা একটু স্বাভাবিক হয়ে বলল, ইরাঃ - উহু,জেলাস হবো কেনো? আমিঃ - ওও,জেলাস না হওয়াই ভালো। আর ইপ্সিতা যা সুন্দর জেলাস হয়ারই কথা ইরা রাগে জ্বলছে। তবে মুখে কিছু বলছে না। আমিঃ - আর ইপ্সিতা আমাকে ফিল করে ওও তোমার মতো না। ইরাঃ - মানে! আমিঃ - মানে তোমাকে কিস করলে তো আমার প্রতি তোমার কোনো ফিল হয়না। কিন্তু ইপ্সিতার আমার প্রতি ফিল হয়। ইরা চোখ বড়ো বড়ো করে বলল, ইরাঃ - কি? আমিঃ - হ্যা। ইরাঃ- তার মানে তুমি ইপ্সিতাকে কিস করেছো। আমি লজ্জা পেয়ে বললাম, আমিঃ- হ্যা। ইরাঃ- ইউ চিটার। বলে আমাকে বালিশ দিয়ে মারতে শুরু করলো। আমিঃ- আরে এখানে চিটারের কি হলো? ইরা মাইর বন্ধ করে দিয়ে বলল, ইরাঃ- না কিছু না। তুমি যে আমার সাথে আছো ইপ্সিতা এতে সন্ধেহ করবে নাতো। আমিঃ - ওও তোমার মতো না। ইরাঃ- মানে। আমিঃ - তুমিতো হলেতো সন্দেশ করতে কিন্তু ইপ্সিতা খুব ভালো ওও আমাকে বিশ্বাস করে সন্দেহ করার কোনো প্রশ্নই উঠে না। ইরাঃ- ভালোই একদিন ইপ্সিতাকে চিনে নিলে। আমিঃ - হ্যা কোনো কোনো মানুষকে প্রথম দেখায়ই চেনা যায়। যেমন তোমাকে দেখে আমি প্রথমেই বুজে নিয়েছিলাম তুমি ঝগড়াটে। ইরাঃ - কি আমি জগড়াটে। আমিঃ - হ্যা,ঝগড়াটেই তো। ইরাঃ - দাড়াও দেখাচ্ছি। অতঃপর দৌড় আরম্ভ। অর্ধেক দৌড়ে থেমে গেলাম ইপ্সিতা ফোন দিয়েছে। ইরা আমাকে মারতে শুরু করলো। আমিঃ - উহ, ইরা এখন ফাইজলামি করো নাতো ইপ্সিতা ফোন করেছে। ইরা থেমে গেলো কেঁদে দিবে বোধ হয়। আমি বারান্ধায় চলে গেলাম। আমিঃ - হ্যালো,ইপ্সিতা কেমন আছো বাবু?( খুব জোরে জোরে)। আধ ঘন্টা কথা বলার পর বারান্ধা থেকে রুমে এসে দেখলাম ইরা মুখ ভার করে বসে আছে। ইরাঃ- কথা শেষ। আমিঃ - হুম। ইপ্সিতা কাল দেখা করতে বলেছে। ইরাঃ - ওও ভালো। আমিঃ - তোমাকে আমার সাথে যেতে হবে। ইরাঃ - আমি গিয়ে কি করবো? আমিঃ - তোমাকে যেতে হবে ব্যাস। ইরাঃ- জয়,আমি...... আমি আর কিছু বলতে দিলাম না। রাতে না খেয়ে ইরা শুয়ে পড়লো। আমিঃ - ইরা,ইরা,এই ইরা। ইরাঃ -. .......................................... নিশ্চুপ। আমিঃ - এই ইরা। ইরা চোখ খুলল। চোখগুলো লাল আর ফুলে গেছে। আমিঃ - খেয়ে নাও। আর তোমার শরীর খারাপ নাকি। ইরাঃ - না, খাবো না। আমিঃ - আরে খেয়ে নাও। ইরাঃ - খাবো না বললাম তো। আমিঃ - খেতে হবে। আমি জোর করে খাইয়ে দিচ্ছি ইরা আমার দিকে থাকাচ্ছেই না। পরেরদিন ইরাকে নিয়ে শপিংয়ে গিয়ে ইপ্সিতার জন্য শাড়ি কিনলাম আরো অনেক কিছু। ইরা কিছু বলতে পারছে না। সারাদিন ইপ্সিতার হাত ধরে ঘুরলাম আর ইরা লুচির মতো ফুলছিলো। একটা রিক্সা নিয়ে আমি আর ইরা বাসায় ফিরছি। আমিঃ - আজ ইপ্সিতাকে খুব সুন্দর লাগছিলো তাই না। ( ইপ্সিতাকে সুন্দর লাগছিলো তবে আমার বিয়ে ছাড়া বউটাকে আরোও সুন্দর লাগছিলো। অনেকে থাকাচ্ছিলো আমার তখন খুব রাগ ধরছিলো) ইরাঃ - হ্যা। আমিঃ - মন খারাপ নাকি তোমার? ইরাঃ - নাহ। বাসায় ফিরলাম। ইরা এখন প্রায় রাতে জেগে থাকে আমি পর্দা সরিয়ে দেখি। কাজ হচ্ছে মনে হয়। আমি পর্দা সরিয়ে ইরাকে দেখছিলাম। ইরা আমাকে দেখে নিলো। ইরাঃ - কি দেখছো? এখন আর ইরা আমার সাথে ফাইজলামি করে না। সিরিয়াসলি কথা বলে। আমিঃ - তোমাকে। ইরাঃ - আমাকে দেখার কি আছে? আমিঃ - অনেক কিছু আছে তুমি বুঝবে না। ইরাঃ - ওও কাল কোথায় যাওয়া আছে নাকি? আমিঃ - হুম। ইপ্সিতাকে নিয়ে নতুন একটা জায়গায় যাবো?ইরাঃ - ওও তাহলে ঘুমিয়ে পড়ো। আমিঃ - হুম, গুড নাইট। ইরাঃ - গুড নাইট। ঘুমিয়ে পড়লয়াম। ইপ্সিতাকে নিয়ে নদীর পাড়ে গেলাম। ইপ্সিতাঃ - আর কতোদিন। আমিঃ - কি? ইপ্সিতাঃ - এই অভিনয়। আমিঃ - তুমি কি আমার বন্ধু হয়ে সারা জীবন থাকতে পারবে না। ইপ্সিতাঃ - হুম। তবে এই অভিনয় করে তো আমি তোমার উপর আরোও উইক হয়ে পড়ছি। আমি আর কিছু বললাম না। আমিঃ - আচ্ছা,এখন উঠতে হবে চলো। ইপ্সিতাঃ - হুম। ইপ্সিতাকে বাড়ি পৌছে দিয়ে বাসায় ফিরলাম। উপরে যাবো এমন সময়, বাড়িওয়ালাঃ - দাড়াও। আমিতো ভয় পেয়ে গেলাম। কি অঘটন ঘটালাম কে জানে। আমিঃ - জি বলুন। বাড়িওয়ালাঃ - তোমার সাথে একটা মেয়েকে দেখলাম। কে ঐ মেয়েটা? আমিতো শেষ। আমিঃ - ক্ককই কোন মেয়ে? বাড়িওয়ালাঃ - কোন মেয়ে মানে তোমার সাথে কোন মেয়ে ছিলো আমি বলবো কি করে? আমিঃ - ক কোথায় দেখেছেন? বাড়িওয়ালাঃ - ঐ তো নদীর পাড়ে। আমিঃ - ওওঅঅ ওটাতো আমার বন্ধু ছিলো। বাড়িওয়ালাঃ - বাড়িতে তোমার বউ থাকতে বাইরের মেয়ে মানুষের সাথে ঘুরা মোটেও ভালো না। আমিঃ - আরে আঙ্কেল ও আমার বন্ধুই। বাড়িওয়ালাঃ - তোমার বউ থাকতে মেয়ে বন্ধুর কি প্রয়োজন? আমিঃ - আসলে আঙ্কেল....... আমি কিছু বলার আগে উপর থেকে ইরা বলে উঠলো, ইরাঃ - আঙ্কেল ঐ মেয়েটা জয়ের কলেজের বন্ধু। আমিঃ- হ্যা,হ্যা। আঙ্কেল আমার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকালেন। আঙ্কেলঃ - তবুও ঘরে বউ থাকতে অন্য মেয়েকে নিয়ে ঘোরে ঠিক না। আমিঃ - জি, আঙ্কেল। আঙ্কেলঃ - হুম। আমিঃ - আঙ্কেল। আঙ্কেলঃ - কি? আমিঃ - আপনি হারবাল চিকিৎসালয়ে যাননি। আঙ্কেল ভ্রু কুচকে বললেন, আঙ্কেলঃ - কেনো? আমিঃ - আপনার টাক সমাধানের জন্য। আঙ্কেল গর্জন দিয়ে উঠলেন। ইরা আর আন্টি খিল খিল করে হাসছেন উপরে চলে এলাম। আমিঃ - খুব জোর বাঁচালে। ইরাঃ - হুম। আমিঃ - তুমি কখন এলে? ইরাঃ - এইতো কিছু সময় আগে। আমিঃ - ওও,,সরি তোমাকে নিয়ে আসতে পারিনি। ইপ্সিতাকে এক জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলাম তো তাই। ইরাঃ - ইট'স অকে। রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম। । আজ ২ মাস হয়ে গেলো আমার আর ইপ্সিতার প্রেমের অভিনয়। কিন্তু ইরাতো কোনো রেসপন্স দিচ্ছে না। যে জায়গায় ইরার আমাকে বলার কথা যে,ও আমাকে ভালোবাসে সে জায়গায় ইরা কিছুই বলছে না। ইপ্সিতাকে নদীর পার্কে ডাকলাম, আমিঃ - ইপ্সিতা। ইপ্সিতাঃ - হুম,বলো। আমিঃ - আমি আজই ইরাকে বলে দিবো আমার মনের কথা।ইপ্সিতা আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকালো, ইপ্সিতাঃ - ওও। ধন্যবাদ আমিঃ - কেনো? ইপ্সিতাঃ - আমাকে অনেক টাইম দেয়ার জন্য সেটা অভিনয়ই হোক। আমি ইপ্সিতার মনের কথাটা বুজতে পারলাম। আমিঃ - এখন যাই। বলে উঠছিলাম ইপ্সিতা আমার হাতটা ধরে ফেললো, ইপ্সিতাঃ - গিভ মি হাগ? ইপ্সিতা আমাকে জরিয়ে ধরলো মেয়েটা খুব কান্না করছে। আমি ইপ্সিতার মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম, আমিঃ - কেঁদো না ইপ্সিতা।ইপ্সিতাকে রিক্সা করে বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম। আমি রিক্সা নিয়ে ইরাকে নিয়ে আসতে গেলাম। ইরা অফিসের সামনে দাড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলো। আমিঃ - চলো। ইরা রিক্সায় উঠতে উঠতে বলল, ইরাঃ - আজ নিতে এলে যে। আমিঃ - এমনই। মামা নদীর দিকে চলুন। ইরাঃ - ওখানে গিয়ে কি করবে? আমিঃ - গেলেই দেখতে পারবে। ইরা আর আমি নদীর কিনারায় বসে আছি। আমিঃ - ইরা!!ইপ্সিতা আর আমার মাঝে কোনো সম্পর্ক নেই। ইরাঃ - মানে। আমিঃ - মানে!! তুমি আমাকে ভালোবাস কিন্য সেটা জানার জন্য আমি ইপ্সিতার সাথে অভিনয় করেছি। ইরাঃ - আমি কি কখন ও বলেছি তোমাকে ভালোবাসি। আমিঃ - জানি না। শুধু জানি আমি তোমাকে ভালোবাসি। আই লাভ ইউ ইরা। ঠাস। ইরা আমাকে চড় মারলো। ইরাঃ - তুমি জানো আমি অনাথ। আমাকে এই সমাজ মেনে নিবে না। আমি তোমাকে ভালোবাসি না। আমিঃ - ইরা আমার সমস্যা না হলে তোমার কি সমস্যা ? ইরাঃ - আমি তোমাকে ভালোবাসি না ব্যাস। আমিঃ - তুমি মিথ্যে বলছো। আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাস। ইরাঃ - আমি তোমাকে ভালোবাসি না। আমার কাছে কাটার ছিলো সেটা হাতে ধরলাম। আমিঃ - এখন ভালোবাসবে তো। ইরাঃ - তুমি যদি আমাকে সত্যিকারের ভালোবেসে থাকো তাহলে তুমি নিজের কোনো ক্ষতি করবে না। ইরা চলে যাচ্ছে। আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। কি করবো ভাবতে পারছি না। । রাত হয়ে গেছে আমি রাস্তায় হাটছি। বাসায় যাবো কি না ভাবছি। আব্বু আম্মু আর বোনটার কথা মনে পড়ছে। তখনি, একটা ছেলেঃ - কি ভাই কেমন আছেন? (ইরাকে ডিস্টার্ব করা ছেলেগুলো) আমি কিছু না বলে হাটা ধরলাম। ছেলেটা আবার বলল, ছেলেটাঃ - ভাইয়া কেমন আছেন? আমি ছেলেটার দিকে তাকালাম। সজোরে একটা ঘুসি মারলাম গালে। গাল কিছুটা কেটে গেলো রক্ত বের হয়ে গেছে। ছেলেটাঃ - আরে ভাই কি হয়েছে আপনার? আমি ছেলেটার দিকে এগিয়ে যেতেই মাঠি থেকে উঠে দিলো দৌড়। ইরা আমার নিজের ক্ষতি করতে মানা করেছে না হয়। । বাড়িতে এলাম দারোয়ান চাচা অন্ধকারের মধ্যে ও আমাকে চিনে ফেললেন। চিৎকার দিয়ে উঠলেন। দারোয়ান চাচাঃ - ছোট সাহেব এসেছেন। চিৎকার শুনে আব্বু,আম্মু,বোনটা,বাড়ির চাকররা সবাই বেরিয়ে এলো। আব্বু,আম্মু,বোন আমাকে দেখে জরিয়ে ধরে কেঁদে দিলো। আর অনেক জিজ্ঞাসাবাদ। আমি কিছু কিছু কথা বললাম। । আজ এক সপ্তাহ হয়ে গেছে বাসায় আসার। আমি কারো সাথে তেমন কথা বলি না। মাঝ রাতে ইরার কথা মনে করে কাদি। আর এর মাঝেই সবাই আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আমি বিষয় টা তাদের উপর ছেড়ে দিয়েছি। শুনলাম তারা বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। কনে আমি দেখিনি। । আজ আমার বিয়ে হয়ে গেলো মেহজাবিন নামে একটা মেয়ের সাথে। রাত ১ঃ৪০ রুমে ডুকলাম। মেহজাবিন এসে আমাকে সালাম করলো। আমিঃ - আমি আপনাকে স্বামী র অধিকার দিতে পারবো না।আমি অন্য একজন কে ভালোবাসি। মেহজাবিনঃ - ইউ চিটার। কি বললি তুই। সেদিন না বললি আমাকে ভালোবাসিস আর এখন বলছিস। আমিতো অবাক এটাতো ইরা। আমিঃ - ইরা ইরাঃ - হুম। আমিঃ - তুমি এখানে কি করে? ইরাঃ - কি করে আবার বিয়ে করে? আমিঃ - বুজিয়ে বলো। ইরাঃ - তোমার আব্বু মানে আমার শশুর আব্বু আমার আব্বু বন্ধু,আর শাশুড়ি আম্মু আমার আম্মুর বান্ধবী, আমাদের বিয়ে আগে থেকেই ঠিক করা সেই সুবাদে ননদীনির সাথে আমার বন্ধুত্ব। আমি তোমাকে সেই ছোটবেলা থেকেই ভালোবাসি আর তুমি বিয়ে করবে না বলে পালিয়ে গেলে। তাই আমি তোমাকে শাস্তি দেয়ার জন্য সব নাটক করেছি। আমিঃ - তাই বলে এরকম কষ্ট দিবে আমাকে। ( কেঁদে কেঁদে) ইরাঃ - আমিওতো কষ্ট পেয়েছি। আমি আর কিছু না বলে বারান্ধায় চলে গেলাম। ইরা ও আমার পিছনে এসে জরিয়ে ধরে বলল, ইরাঃ - সরি তো। এই কান ধরলাম। আমি কিছু না বলায় ইরা আমাকে তার দিকে ঘুরিয়ে আমার ঠোটে তার ঠোট বসিয়ে দিলো। 2 year pass,,,,,,,,,,,, 2 বসর পর তাদের একটা ফুটফুটে মেয়ে হয়েসে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, আপনারা সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন,,,,,,,,,, The story end,,,,,,,,,,,,,,,,,, গল্পের মাঝে যদি কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে বা আমার কথায় কেউ ব্যাথিত হয়ে থাকেন তাহলে দয়া করে ক্ষমা করে দিবেন,,,,, আর অবশ্যই জানাবেন গল্পটি কেমন হয়েছে,, ধন্যবাদ,,,।।।।।।।।।।।।

@Raiyan

এক ঝাক জোনাকির আলো #একঝাঁক~~জোনাকির~~আলো. . ---আর কত সময় নষ্ট করবে জোনাকির পিছনে ঘুড়ে??(নিভ্রর সরু চোখে বাঁকা প্রশ্ন) ---সময় নষ্টের কি আছে??আপনার ভালো না লাগলে যেতে পারেন।আমি এখানে আরো কিছুক্ষণ থাকবো।(জোনাকির দিকে তাকিয়ে বলে সাফা) . নিভ্র প্রতিবারের মত এবার আর বিরক্ত হয় না।সে পাশে থাকা দেয়ালটাতে ঠেস দিয়ে দাড়ায়।রাত একটু বেড়েছে।তবে এখনো ঘন কালো রাত হয়নি।এই বোদ হয় ৮টা বাজবে।সাফা সেই সন্ধ্যা থেকেই জোনাকি নিয়ে পরে আছে।নিভ্র তখন থেকেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সাফাকে দেখছে।ইদানীং তার সাথে কি হচ্ছে এটা সে নিজেই বুঝতে পারছে না।কেনো যে মেয়েটাকে দেখলেই তার মনের সেই ভয়ঙ্কর শব্দ গুলো দ্রুত থেকে দ্রুত গতিবেগে চলতে থাকে।মনের মাঝে অনেক কেনোর জন্ম হয়।কিন্তু সে উত্তর খুঁজে পায় না।তবে সে এটা যানে কোনো এক ভয়ঙ্কর মাতালতায় সে ডুবছে।তার অন্ধকারে অচ্ছন্ন জীবনে এক বিস্তর আলোর অগমন হচ্ছে।যেটা তার মত তুখড় ব্যক্তি বুঝতে পারছে না।তবে কেনো যেনো সে বুঝতেও চাইছে না।ভালোই লাগছে তার।মনে হয় বিষন্নতার চাদর ঠেলে মুগ্ধতা ডুকতে চাইছে। . সাফার বাবার কলে তার হুশ হয়।এত সময় সে জোনাকির আলো দেখতে এতটাই মুগ্ধ ছিল যে ভুলেই গেছে ঘড়িতে কয়টা বাজে।বাবার কল রিসিভ করে ফোন কানে নিতেই অপর পাশ থেকে চিন্তিত কন্ঠে তার বাবা বলে উঠে....... ---মা কোথায় তুমি?? আসবা কখন?এত রাতে তুমি বাইরে থাকার মেয়েনা!!কোনো কি বিপদ হয়েছে??আমি নিতে আসি??কোথায় তুমি বাবাকে বলো?? . বাবার চিন্তায় ডালা ডালা প্রশ্ন শুনে সাফা মোবাইল কান থেকে সরিয়ে টাইম দেখে।এত রাত হয়েগেছে দেখে সে জিহ্বায় কামড় দেয়।বিড়বিড় করে কি সব বলে।তারপর আবার বাবাকে উত্তর দেয়..... ---না বাবা আসতে হবে না।একটা কাজে এসেছি। তাড়াতাড়ি আসছি চিন্তা করোনা। . সাফা মোবাইলটা ব্যাগে নিয়ে নিভ্রর সামনে দাড়ায়।নিভ্র ফোন নিয়ে বিজি এমন একটা ভাব দেখায়।সাফা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।নিভ্র একটা ভ্রু তুলে বলে..... ---কি হয়েছে??জোনাকি দেখা এত তাড়াতাড়ি শেষ?? ---না। দেখার তো অনেক ইচ্ছে তাও অনেক্ষন পর্যন্ত। কিন্তু এখন বাসায় যেতে হবে।তবে আমার একটা কাজ আছে।যদি একটু হ্যাল্প করতেন?? নিভ্র এবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ফোন পকেটে নিতে নিতে বলে..... ---তা কি হ্যাল্প লাগবে তোমার?? ---একটা কাঁচের বোতল লাগবে??প্লিজজ এনে দেন। ---কেনো?? ---আগে যোগার করেন তারপরই দেখবেন কেনো।প্লিজজজ প্লিজজজ.. নিভ্র মুখটা কুঁচকে নিল।তাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে এবার বিরক্ত এবং সন্দেহ নিয়ে ভাবছে কি করবে।তবুও সোজা হাটাঁ দেয়।সেও দেখতে চায় কি করবে এই সাফা কাঁচের বোতল দিয়ে। . কিছুক্ষণ পরেই নিভ্র একটা ছোট কাঁচের বক্স নিয়ে আসে।সাফার হাত টেনে বক্সটা ধড়িয়ে দিয়ে বলে..... ---বোতল পাইনি।এটা ঢাকটা যুক্ত বক্স এটা দিয়ে কি করতে চাও করো। . সাফা বক্সে মুখ খুলে নিভ্রর হাতেই রাখে।আর বলে.... ---আমি কিছু জোনাকি ধরে এতে জমা করবো।আপনি কিন্তু ঢাকনাটা ঠিক ভাবে লাগিয়ে দিবেন।ঠিক আছে। . নিভ্র আহাম্মকের মত তাকিয়ে আছে।সাফা তার হাতে একটা চিমটি কেটেঁ হাত বাড়িয়ে জোনাকি ধরছে। . নিভ্র গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে আছে।সাফা গাড়ির একপাশে বক্সটা ধরে তাকিয়ে তাকিয়ে জোনাকি গুলো দেখছে।মাঝে মাঝে রিক্স বা সিএনজি আসলে ডাক দিচ্ছে। নিভ্র গাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসে বলে...... ---আমি দিয়ে আসব।গাড়িতে উঠে বসো। . সাফা যেনো এই সুযোগটাই খুজছিলো তবুও ভাব নিয়ে বলে... ---লাগবে না। আমি নিজে নিজেই যেতে পারবো। ---তাহলে আর কি করার যাও.. . সাফা ভাবতে পারেনি এমন করে বলবে নিভ্র।নিভ্র গাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে সাফা দৌড়ে এসে সামনে দাড়িয়ে বলে.... ---আপনি এমন কেনো বলেন তো??মেয়েদের সাথে কেউ এভাবে কথা বলে??বলে?? ---তাহলে কিভাবে কথা বলে।(চোখ বাঁকিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে নিভ্র) ---আরে মেয়েদের সাথে সুন্দর করে কথা বলতে হয়।মন থেকে কথা বলতে হয়।সবচাইতে বড় কথা এত পার্ট দেখিয়ে কথা বলতে নেই।বুঝলেন?? ---বুঝলাম।এবার কি তুমি যাবে?? ---অবশ্যই এত রাতে আমি একা কি ভাবে যাব বলেন??আমার ভয় করে না বুঝি?? ---আমাকে ভয় পাওনা তুমি??(গম্ভীর হয়ে বলে নিভ্র) ---আরে আপনাকে ভয় কেনো পাবো।আমার তো আপনাকে একটুও ভয় লাগে না।উল্ট আমার মনে হয় আপনি আমাকে ভয় পান। . কথাট বলেই সাফা ভ্রু নাচাতে লাগে।নিভ্র একবার সাফার দিকে তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে নেয়।গটগট করে হেঁটে গাড়িতে বসে পরে।বিপরিত পাশের দরজাটা খুলে দেয়।সাফা বক্সটা কোলে নিয়ে বসে পড়ে।নিভ্র গাড়ি স্টাট দেয়।নিভ্র গাড়ি চালাচ্ছে। সাফা বক্স ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে জোনাকি দেখছে।কিছুক্ষণ পরে নিভ্র সাফার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়।সে মনে মনে ভাবে........ ---এত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে গেলো??কিভাবে?? . নিভ্র গাড়ি থামায়।বক্সটা সাফার হাত থেকে নিয়ে গাড়ির পিছনে রাখে।ব্যাগটাও পিছনে রাখে তা না হলে পরে যাবে।যত্নের সাথে সাফার উড়ন্ত উড়নাটা ভালো করে গায়ে জড়িয়ে দেয়।জানালা দিয়ে হালকা বাতাস আসছে।নিভ্র অপলক সাফার দিকে তাকিয়ে আছে।সাফার মুখে উপর ছোটছোট চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পরে আছে।নিভ্র মনের বিরুদ্ধে গিয়ে সেই চুলগুলোকে তার গাল থেকে সরিয়ে দিলো।কানের এক পাশে গুঁচে দিয়ে বিড়বিড় করে বলে............ ----তুমি আমার কাছে আগুলের মত।আগুন যেভাবে এসে জ্বালিয়ে দেয় তুমিও জ্বালাচ্ছ। আর আগুন চলে গেলে যেমন পোড়া কয়লার ধোঁয়া উড়ে তুমি চলে গেলেও মনে অবস্থা তেমন হয়। কেনো?? . নিভ্র দীর্ঘশ্বাস নিয়ে গাড়ি চালায়।মাঝে মাঝে আড়চোখে সাফাকে দেখে।আবার বাতাসে উড়না উড়ে এলোমেলো হলে তা ঠিক করে দেয়।সাফার ঘরের সামনে গাড়ি থামায়।নিভ্র সাফাকে ডাকতে চাইছে না।মনের মাঝে যেনো তার দুই সত্তা কাজ করছে।একটা বলছে এটা সাধারন একটা মেয়ে।এত দরদ দেখানোর কি আছে।না চাইতেও তার প্রতি যত্ন, দরদ হচ্ছে কেনো এটা নিভ্রর অজানা।আর একটা বলছে এটা একটা ভয়ঙ্কর অনুভতি।যা এই মেয়েই তোমার মনে জাগিয়েছে।নিভ্র দুই সত্তাকে উপেক্ষা করে সাফাকে ডাকে..... ---সাফা... সাফা.... . সাফার এমন কঠিন ঘুম দেখে নিভ্র হতবাগ।এত গভীর ঘুম কিভবে তাও এত কম সময়ে??নিভ্র সাফার উড়নাটা হালকা নাড়ায়।সাফা সাথে সাথে ধড়ফড়িয়ে উঠে।নিভ্রকে দেখে কিছুক্ষণ ভাবে সে।তারপর বলে..... ---স্যরি আসলে বেশি বাতাসে আমার ঘুম চলে আসে তাই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। ---ইটস্ ওকে।যাও তোমার বাসা চলে এসেছে। ---আপনাকে ধন্যবাদ পৌছে দেওয়ার জন্য। ---তুমি আবার ধন্যবাদও দিতে পারো??(ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে নিভ্র) ---এভাবে বলেন কেনো??(মুখ গোমড়া করে বলে সাফা) . নিভ্র জবাব দিলোনা।সামনের দিকে তাকায়।সাফা ঠাস করে গাড়ি থেকে বেড়িয়ে ঠুসস করে দরজাটা বন্ধ করে দেয়।জানালার কাছে মাথা দিয়ে বলে..... ---আপনি কখনই বউ খুঁজে পাবেন না।বুঝলেন??বউ যদি পেতে চান তিতা করলার মত কথা বাদ দিয়ে মেয়েদের সাথে কিউট করে কথা বলতে শিখেন বুঝলেন ডা.সাহেব? . সাফা সোজা হেঁটে গেট দিয়ে ডুকে যায়।নিভ্র মুচকি হেসে তাকায়।আর মনে মনে বলে..... ---সত্যিই পোড়া কয়লার মত ধোঁয়া উঠছে।কিন্তু কেনো??? . . নিভ্র নিজের বাসার সামনে গাড়ি দাড় করিয়ে গাড়ি থেকে নামতে যাবে এমন সময় সাফার জোনাকির বক্সটা আর তার ব্যাগটা চোখে পরে।নিভ্র সেগুলো হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবে কি করবে এগুলো। তারপর এগুলো নিয়েই ঘরের দরজার সামনে দাড়ায়।.... . রিং রিং কলিং বেল বাজার শব্দে রাফা কান খাড়া করে।তার দৃষ্টি এখনো টিভির দিকে।হাতের রিমোটা টিপতেই আবার কলিং বেল বেজে উঠল।রাফা কিঞ্চিত বিরক্ত হল।এদিক ওদিক তাকিয়ে কাজের লোক গুলোকে খুঁজল। না পেয়ে সে আরো রেগে গেল।বাসায় পাঁচটা কাজের লোক কিন্তু প্রয়োজনের সময় একটাও কাজে আসেনা।সারা দিন এদিক ওদিক ছুটোছুটি।রাফ একরাশ বিরক্তি নিয়ে রিমোটটা টিটেবিলের উপড় রাখল।বড় বড় পা ফেলে দরজার সামনে দাড়াল।পিতলের কাজ খজ্জিত বিশাল দরজা।রাফা দরজার হেন্ডেল দুটিতে হাত রেখে টেনে তা খুলল।সামনের ব্যক্তিকে দেখে তার এত এত বিরক্তি আর রাগ নিমিষেই উদাউ হয়ে গেল।নিভ্র কানে ফোন নিয়ে কথা বলছে।তার এক হাতে সাফার জিনিস গুলো।রাফা অবাক হল।নিভ্রর প্রতি তার যে আলাদা ফিলিংস আছে তা ভাই বোনের মতই।আসল কথা নিভ্র ভাইয়াকে রাফার খুব অদ্ভুত লাগে।তার সব সময় কার ইচ্ছে সে নিভ্রের সাথে দুকাপ কফি হাতে বারান্দায় গল্পগুজব করবে।আর নিভ্র ভাইয়া উচ্চ শব্দে হেঁসে উঠবে।কিন্তু নিভ্র তেমন না।সে সব সময় এত গম্ভীর কেনো হয়ে থাকে এটা তার যানা নেই।তবে তার নিভ্র ভাইয়াকে দারূন লাগে।বান্ধবীরা যখন ডায়রির ভাঁজে তার ভাইয়ার ছবি লুকিয়ে রাখে আর মাঝে মাঝে উঁকি ঝুঁকি দিয়ে দেখে তখন তো তার আরো ভালো লাগে।সবাই কিছুক্ষণ পরপর তার ভাইয়া সম্পর্কে যানতে চায়।আর সে মুড নিয়ে বলে..... ---এখন অত সময় নেই।আর ভাইয়া ইদানিং কাজে বিজি থাকে তাই তার সাথে তেমন গল্প করা হয় না। . যদিও নিভ্রর সাথে তার মোটেও গল্প করা হয় না।তবুও সবাইকে ইনিয়েবিনিয়ে কত কত কথা যে সে বানিয়ে বলে তার কোন ইয়াতা নেই।নিভ্র এক ভ্রু তুলে বলে উঠে..... ---হা করে তাকিয়ে কি দেখছিস??দরজার সামনে থেকে সর আমি ভিতরে যাব। . রাফা নিজের ভাবনার সুত ছিড়ে এক পাশে হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে।নিভ্র ডুকতে ডুকতে বলে উঠে..... ---একটা গরম হট কফি পাঠাতে বল। . রাফা দৌড়ে রান্না ঘরে গিয়ে কফি পাঠাতে বলে নিভ্রর রুমে। . . নিভ্র নিজের এ্যাফ্রোনটা সোফায় মেলে দিয়ে জিনিস গুলো বেড রুমের চেয়ারের উপড় রাখতেই তার মনে হচ্ছে তার রুমে কেউ আছে।সাথে সাথে তার মেজাজ বখে যায়।রাগী চোখে এদিক ওদিক তাকায়।তারপর সে তার বিছানার দিকে তাকাতেই তার রাগ নূনে যায়।বিছানার লোকটি বলে উঠে.... ---হ্যায় চ্যাম্প।এদিকে এসো। . নিভ্র মুখে হাসির রেখা টেনে তার পাশে বসে পড়ে।মুখে বলে উঠে....... ----তা দাদাজান কি মনে করে আমার রুমে এলেন??? ----জড়ুরি একটা কথা ছিলল?? ---বলেন?? ---তোমার ওই দিনের অ্যাটাক কারী কে??আমি যানতে চাই কার এত বড় সাহস আমার নাতি নিভ্রনীলের মাথায় আঘাত করে??কার?? . নিভ্র এবার চিন্তায় মগ্ন হয়।তার মনে পরে যায় সাফার কথা।একবার চোখের পাতা ফেলতেই তার চোখে সাফার প্রতিবিম্ব ফুটে উঠে।সাথে সাথে সে আবার চোখ খুলে তাকায়।আবার কি ভেবে বাকা হাসে।সে মনে করেছিল মেয়েটা ভয়ঙ্কর সাহসি হবে কিন্তু তাকে ভুল প্রমান করেছে সাফা।যে মেয়ে গুলির শব্দেই হকচোটিয়ে যায়,সুইকে ভয় পায়,কানে হাত দিয়ে চোখ বুজে থাকে।আবার তো রক্ত দেখে কাঁপাকাঁপি করে, সেন্সলেস হয়ে যায় সে আর যাই হোক সাহসি হতে পারেনা।তবে নিভ্রকে কেনো যেন সে ভয় পায় না।এই কেনো তার জানা নেই।দাদার কথায় সে ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসল.... ---কি হল বলছনা যে?? ---তেমন কেউনা।মারামারি করতে গিয়েই হাতাহাতি হয়েছে।ইটস্ নট এ বিগ ম্যাটার।তুমি বল কি খবর তোমার??? ----আমার আর কি?? এই বুড়া বয়সে এসে রাজনীতির মত কাজ করলে যা হয় আর কি??কাল একটা মিটিংও আছে।তোমার চাচাকে যেতে বলেছি কিন্তু সে যাবে না আমাকেই যেতে হবে।আমি কি ভাবছি দাদুভাই পরের ইলেকশনে তোমাকে দাড় করাবো।তুমি এমনেই সেলিব্রেটি আবার নেতা হিসেবেও ভালো।আর ডাক্তারি পেশার কথা না হয় নাই বলি???কি বল?? ---এত কিছু এখনো ভাবি নি?? ---ভাবো দাদুভাই। তুমি আমার জায়গায় দাঁড়াবে। অভ্রটাতো রাজিই হচ্ছে না।যাই হক।ওকে ওর মত থাকতে দেওয়াই উত্তম। ---ওকে আজ দেখলাম না যে কোথায় গেছে??? ---আমি কি অত অত সেলিব্রেটি নাকি??আর আমি দশভুজা না যে এক হাতে তোর মত হাজার কাজ করব।কি বল দাদু?? . অভ্র নিজের চশমাটা ঠিক করতে করতে রুমে এগিয়ে এল।নিভ্র এক পলক তাকাল।দাদাও একবার তাকাল।অভ্রর গায়ের রং ফর্সা যদিও নিভ্রর চাইতে একটু চাপা তবে তার গোলগোল চোখগুলো দারূন যদিও এই দারূন চোখ সে চশমার মাঝে ডেকে রাখে।মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি।চোখ কাড়া সুঠাম দেহ।নিভ্র যেমন হিট সেও কম নয়।মেয়েরা যে রাজিবের ছেলে অভ্রনীল রাজিব চৌধুরী বলতে অজ্ঞান এটা সবার জানা।মেয়েদের থেকে দূরে থাকে না তবে প্রেমের প্যারায় পড়তে চায় না বলেই মেয়েদের রিজেক্ট করে আসে।অভ্র একগাল হেঁসে নিভ্রর কাধ চাপড়ে বসে পড়ে।আবার হেঁসে বলে উঠে...... ---নে দেখে নে মনের মত করে।কেমন লাগছে আমাকে বল?? . নিভ্র ভ্রু জোড়া তুলে ঠোঁট কামড়ে হাসে।অভ্র এই হাসি দেখে বলে....... ---ভাই তুই বেঁচে গেলি আমি ছেলে বলে।তা না হলে তোকে তুলে নিয়ে যেতাম। ---তা তুলে নিয়ে কি করতি??বিয়ে??তুই যে দিন দিন বলদ হয়ে যাচ্ছিস আমার জানা আছে।তুমিও যেনে নেও দাদু।এই ছেলের কথা বর্তা আমার মোটেও সুবিধার মনে হচ্ছে না?? ---শালা তোকে যত ভালো ভাবি অতটাও ভালো তুই না?? . কথাটা বলেই অভ্র বালিশ দিয়ে মারা শুরু করে।মাহবুব হাসে।তার হাসির তালে ঝুলে পড়া গালটাও লড়ে লড়ে উঠে।মনে মনে দোয়া করে এদের ভালোবাসায় যেন নজর না লাগে। . চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে অভ্র নিভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে..... ---ভাই যে মেয়েটা আমার কোমড় ভেঙেছে না?? ও আমাকে পেইন কিলারের দাম জিগ্যেস করছে।তা দামটা কত রে?? নিভ্র চোখ বাঁকিয়ে তাকায়।ডান হাত দিয়ে সামনে আশা চুলগুলো সরিয়ে দিতে দিতে বলে উঠে.... ---মেয়েদের চক্করে পড়েছিস মনে হয়?? ---মোটেও তেমন কিছুনা।তবে মেয়েটা এটু ভিন্ন ধাজের বুঝলি?? ইংলিশ নিয়ে তার ভয়ঙ্কর অবজেক্সান।কি কি বলে সবই অদ্ভুত... . বলে হেঁসে উঠে অভ্র।নিভ্র কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ভাবনায় ডুব দেয়।সাফাও যে তাকে পাচঁ টাকা দিতে চেয়েছে কথাট ভেবে সে মৃদূ ঠোঁট বাঁকায়।মুগ্ধ হয়ে সে চোখ বুঝে সাফার কানে হাত দিয়ে চোখ বুজে দৃশ্যটা দেখে নেয়।জোনাকির আলোতে চকচক করা সেই মুখ আর সেই টোল পড়া হাসি।চোখবুজেই হাসে নিভ্র।এবার সে কিছুক্ষণ চোখ বুজেই ছিল।ভালোই লাগছে তার।কেমন যেন স্নিগ্ধ অনুভুতি কাজ করছে।অভ্র নিজের ফোনটা পকেট থেকে বের করে ফোনটা অন করল।গ্যালারিতে ডুকতেই ক্যামেরা ফোল্ডারে একটা ঘুমন্ত মেয়ের ছবি ফুটে উঠে। তাতে ক্লিক করতেই তা সম্পূর্ন স্কিনে জুড়ে ভাসে।অভ্র অপলক তাকিয়ে দেখে। সাফাকে টেবিলে মাথা ফেলে ঘুমাতে দেখে তখনই মনের অজান্তেই ছবিটা তুলে নিয়েছে সে।অভ্র কিছুক্ষণ তাকাতেই তার কেমন যেন লেগে উঠে তাই আবার মোবাইল পকেটে রেখে দেয়।নিভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে...... ---নিচে যাচ্ছি। তুইত কাজ ছাড়া যাবি না।থাক এখানেই পড়ে। . বলেই বড় বড় পা ফেলে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।নিভ্র কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে। . সাফা তার বাবার সাথে বসে কথা বলছে।সে প্রচণ্ড রেগে আছে।তার একটাই কথা...... ---বাবা প্লিজজ না গেলে হয় না?? ---না মা কেইসটা অনেক ইম্পরট্যান্ট। তাই যেতেই হবে।আমি যদি পাড়তাম তাহলে কখনোই যেতে চাইতাম না।তুমি চিন্তা কর না। সাখাওত খুবই ভালো মানুষ।যদিও তোমাকে সে এই প্রথম দেখবে।তবে তোমাকে মেয়ের মত রাখবে।তাই চিন্তার কারন নেই।হলের জন্য এপ্লাই করেছ??? ---না বাবা।কাল করে দিবো। . সাফা দীর্ঘনিশ্বাস নিল।চোখে তার পানি চিকচিক করছে।যে কোনো সময় এক ফোটা গড়িয়ে পড়তে পারে।তার বাবার সিলেটে পুস্টিং হয়েছে।তাই তাকে ঢাকা ছেড়ে যেতে হবে কিন্তু সে চায় না বাবাকে ছাড়া থাকতে।তবে না চাইতেও এখন তাকে থাকতে হবে।বাবা মাকে ছাড়া সে একদিনও কোথাও কাটায় নি।এখন কিভাবে থাকবে ভাবতেই তার ভয় লাগছে।সাফা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে।রাতের আকাশটা সুন্দর।মনে হয় কাল রোদ হবে ভালো।তারা গুলো চিকচিক করে জ্বলছে।হঠাৎ নিজের ব্যগ আর জোনাকির বক্সের কথা মনে পড়তেই সে তার বাবার মোবাইল দিয়ে তার মোবাইলে কল করে......... . একটা সুন্দর রিংটোনে নিভ্র চোখ খুলে তাকায়।এটা তার ফোনের রিংটোন না।সে চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে সাফার ব্যাগ দেখতে পায় টেবিলের এক সাইডে চেয়ারের উপড় রাখা।ভাগ্যিস দাদা আর অভ্র দেখেনি।দেখলে তাকে কি ভাব তো কে যানে।নিভ্র ভাবতেও পারছে না তার কি হয়েছে।নিজেকে কেমন চোর চোর লাগছে।নিভ্র সাফার ব্যাগ থেকে ফোনটা হাতে নিতেই রিং বেজে উঠে।একটা লোক আর সাফার ছবি দেখে নিভ্র বুঝতে পাড়ছে এটা সাফার বাবা।স্কিনে বাবা নামটা ভেসে উঠছে বারবার। নিভ্র ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরে। সাফা ওই পাশ থেকে বলে..... ---আপনাকে তো ভালো মানুষ মনে করেছি শেষ মেষ আপনি আমার জোনাকি আর ব্যগ চুরি করেছেন??আল্লাহ আল্লাহ। ---ফালতু কথা রাখ।একেতো মরার মত ঘুমিয়ে ছিলে তার উপর এই সব আমার গাড়িতে রেখে দিয়েছ।তাই ফালতু কথা রাখ।আমার হসপিটালে এসে এগুলো নিয়ে যাবে।তোমার এই সব জিনিসে আমার বিন্দু মাত্রও ইন্টারেস্ট নেই।সো ফালতু বকা বন্ধ কর।আর এখন রাখ। . নিভ্র কল কেটেঁ দিয়ে বুকে হাত দেয়।মেয়েটার ভয়েস শুনলেও তার বুক ধাকধাক করে সাউন্ড করে।দম আটকে আসে।সাফার ব্যাগে একটা সাদা রুমাল দেখতে পায় নিভ্র।হাত বাড়িয়ে রুমালটা নেয়।সে জানে একজনের অনুমতি ছাড়া তার ব্যাগে হাত দেওয়া উচিত না তবুও সে রুমালটা নিল।রুমালটা নাকে ধরতেই এক মিষ্টি ঘ্রাণ নাকে আসে।নিভ্রর যেনো মুহূর্তে অদ্ভুত অনুভুতি হয়।শরীর যেন শিহরিত হচ্ছে। . সাফা হাবার মত তাকিয়ে আছে মোবাইলের দিকে।কি অদ্ভুত লোক।..... . . #চলবে........🍁 . ভুলগুলো আল্লাহর দেওয়া মহান গুন ক্ষমার চোখে দেখবেন.......দেড়িতে দেওয়ার জন্য স্যরি।🍂

@Raiyan

Ex gf গল্পঃ এক্স গার্লফ্রেন্ড যখন অফিসের বস। পর্বঃ ৬ লেখকঃ মো:kamrul স্বপ্নাঃ আপনি তো এই মাসের বেতন পাবেন না! মুহূর্তেই মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো.... বেতন পাবো না মানে? এটা কি ধরনের কথা? স্বপ্নাঃ হুম, পাবে না মানে পাবে না। আমিঃ কিন্তু কেন? আমার অপরাধ। স্বপ্নাঃ অফিসে টি-শার্ট পড়েছো, এটা অফিস রুলের বাইরে ছিলো। আরো অনেক জায়গায় ভুল করেছো। তাই এই মাসের বেতন পাবে না। আমিঃ বেতন পাবো না বললেই হলো নাকি? স্বপ্নাঃ হুম। আমিঃ তারমানে আপনি আমার বেতন দিবেন না, এইতো? স্বপ্নাঃ এই বেয়াদব তোকে এক কথা কয়বার বলবো? বলছি না দিবো না, কি করবি কর, যা এখান থেকে। আমিঃ কি করমু দেখবি? (ঠাসসস ঠাসসস) দুইটা চড় গালে বসিয়ে দিলাম, সে গালে হাত দিয়ে আমার দিকে রাগি দৃষ্টিতে চেয়ে আছে আমি বললাম.... লাগবে না তোর টাকা, তোকে আমার এই সামান্য টাকা ভিক্ষা দিলাম। তুই যদি এগুলো খেয়ে অনেক বড় হতে পারিস, তাতে আমার কোনো আপত্তি নাই। যাহ ছেড়ে দিলাম তোর চাকরি, আল্লাহ কাওকে মারে না, কথাটা মনে রাখিস। এ কথা গুলো বলে বাইরে চলে আসছিলাম। এমন সময় দেখি পিয়ন আমার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। মনে হয় সব কিছু শুনে ফেলেছে। আমি কোনো কথা না বলে সোজা বাইরে চলে গেলাম। গাছতলায় গিয়ে বসে রইলাম, যেখানে স্বপ্না আর আমি সব সময় বসে থাকতাম। অফিস থেকে সোজা ওখানে চলে আসছি। বসে বসে ভাবছি স্বপ্না আমার সাথে এগুলো কেন করছে? আমি তো ওর কোনো ক্ষতি করিনি। তবুও সে এগুলো কেন করছে? ধুর কেন যে ওর সাথে রিলেশনে ছিলাম। যদি না থাকতাম হয়তো আজকে এই দিনটা আর আসতো না। বাবা মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে, কি হবে ওদের। এই মুহূর্তে তো চাকরিও পাবো না, কি আছে কপালে আল্লাই জানে। বসে বসে এগুলো ভাবছি, এই দিকে আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, মনে হয় বৃষ্টি হবে। একটু পর বৃষ্টি শুরু হলো, আমিও বসে আছি। বৃষ্টিতে ভিজলে নাকি মন হালকা হয়। অনেক সময় নিয়ে ভিজলাম। পকেটে হাত দিয়ে দেখি ২০ টাকা আছে, তারমানে আজকে আর খাওয়া যাবে না। একটা টং দোকানে গিয়ে চা আর পাউরুটি খেয়ে বাসার দিকে হাটা দিলাম। কেমন জানি খারাপ লাগছে, স্বপ্নাকে চড় দেওয়া আমার উচিত হয়নি। যেটাই হোক না কেন,, সে তো এখন অফিসের বস। নিজেকে নিজের কাছেই অপরাধী মনে হতে লাগলো। এগুলো ভাবতে ভাবতে বাসায় চলে আসছি। কাপড় চেইঞ্জ করে শুয়েছি মাত্র। আমার হাত পা কাঁপতে শুরু করলো। মনে হয় ঠান্ডা লাগছে, বৃষ্টিতে ভিজলেই আমার জ্বর চলে আসে। রাত যতো গভীর হচ্ছে জ্বর ততো বাড়তেছে। আমার পুরো শরীর কাঁপতেছে। এরমধ্যে ছোট বোন কল দিলো.... ভাইয়া তুই যে টাকা দিলি সেখান থেকে আজকে আমি ৩ টা জামা নিয়েছি। আমিঃ কিহ! হুম, এ মাসে বেশি টাকা দেওয়ার কারণে অনেক কিছু নিয়েছি। আমিঃ টাকা কে দিয়েছে? আরে তোর অফিসের একটা ম্যাডাম আছে না, সে দিয়েছে। আমিঃ কোন ম্যাডাম? আরে ধুর আমি এতো কিছু চিনিনা, শুধু বলেছে তোর সাথে একসাথে কাজ করে। আমিঃ ওও আচ্ছা। কিরে ভাইয়া তুই টাকা দিয়েছিস আর তুই নিজেই ভুলে গেছিস। আমিঃ নারে, এমনি মনে পড়ছিলো না। ভাইয়া তোর কি শরীর খারাপ? গলা এমন লাগছে কেন? আমিঃ না আমি ঠিক আছি। টাকা কখন পেয়েছিস? গত পরশু দিন ভাইয়া। আমিঃ ও আচ্ছা পরে কথা হবে। রাখি এখন। তারমানে স্বপ্না টাকা টা বাড়িতে দিয়ে আসছে, তাও সবার আগে। আর আমি না জেনেই ওর গালে ছিঃ, ভাবতেই কেমন জানি লাগছে। রাতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি মনে নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠতে যাবো, কিন্তু পারছিনা। পুরো শরীর জ্বরে কাঁপতেছে, অনেক চেষ্টা করে বাথরুমে গেলাম, বাথরুমে থেকে বের হওয়ার পর আর কিছু মনে নেই। অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছিলাম। যখন জ্ঞান আসলো তখন নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করলাম, দেখলাম সিহাব আমার পাশে বসে আছে। আমিঃ কিরে আমি এখানে কেন? সিহাবঃ সব বলবো, আগে একটু ভালো হয়ে নে। আমিঃ আমি ভালো আছি বল এখানে কিভাবে আসলাম? সিহাবঃ ম্যাম আর আমি তোকে নিয়ে আসলাম, কাল রাত থেকে তোর মোবাইল অফ পাচ্ছি। ম্যামও অনেকবার তোকে কল দিয়েছে। আমিঃ তারপর? সিহাবঃ তারপর সকালে যখন তুই অফিসে আসিস নি, ম্যাম নিজেই তোর বাসায় যায়, গিয়ে দেখে তুই মেজেতে পড়ে আসিস। সাথে সাথে আমাকে কল দেয়। তারপর দুজনে মিলে তোকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। আমিঃ ম্যাম এখন কোথায়? সিহাবঃ এতোক্ষন এখানে বসে বসে কাঁদছিলো, আমি ম্যামকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি। আমিঃ আর কিছু বলেনি? সিহাবঃ এটা দিয়ে গেছে (একটা কাগজ) খুলে দেখলাম লেখা আছে "" ভালো হলে আবার অফিসে আসবেন"" হঠ্যাৎ করেই গত কাল রাতের ছোট বোনের কথা গুলো মনে পড়ে গেলো, তারপর সিহাবকে বললাম.... আচ্ছা দোস্ত ছোট বোনটা বলেছে বাসায় নাকি কোন ম্যাডাম টাকা দিয়ে আসছে। তুই কিছু জানিস? সিহাবঃ হুম ম্যাম নিজেই টাকা দিয়ে আসছে। আমিই ঠিকানা দিয়েছি। আমিঃ কিন্তু আমাকে কিছু বলেনি কেন? আর কখন করলো এই কাজ? সিহাবঃ সেদিন যখন ম্যাম তোকে ৮ টা ফাইল ধরিয়ে দিয়েছিলো সেদিন ভুলে মোবাইল ম্যাম এর রুমে রেখে চলে এসেছিলি তোর মনে আছে। আর তখন তোর বোন কল করেছিলো। যা যা বলেছে ম্যাম সব কিছু শুনেছে। আমাকে ডেকে নিয়ে তোর ঠিকানা জিজ্ঞেস করে তারপর নিজেই টাকা দিয়ে আসে। আমিঃ কিন্তু তুই আমাকে কিছু বলিস নি কেন? সিহাবঃ তোকে বললে আমার চাকরি থাকবেনা। এখনো অনেক কিছু তোর অজানা আছে যেগুলো তুই জানিস না। সময় হলে জানবি। আমিঃ ম্যাম আমার জন্য এতো কিছু করছে আর আমি কিনা.... সিহাবঃ কি করেছিস? আমিঃ না তেমন কিছু না (সত্যটা আর বললাম না) তারপর হাসপাতাল থেকে বাড়িতে চলে গেলাম, ২ দিন রেস্ট নেওয়ার পর মোটামুটি ভালো লাগেছে। চিন্তা করলাম অফিসে গিয়ে স্বপ্নার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবো। পরেরদিন অফিসে গেলাম, স্বপ্নার রুমের সামনে গেলাম... আমিঃ ম্যাম আসবো? স্বপ্নাঃ হুম আসেন। (আমার দিকে না তাকিয়ে) আমিঃ ম্যাম একটা কথা ছিলো। স্বপ্নাঃ হুম বলেন। আমিঃ ম্যাম সেদিনের জন্য আমি অনেক দুঃখিতো, আমাকে প্লিজ ক্ষমা করে দিয়েন। স্বপ্নাঃ আচ্ছা বাদ দেন সে সব কথা, ১১ টার সময় রেড়ি থাকবেন। একজায়গায় যাবো। আমিঃ জ্বি ম্যাম, কোথায় যাবেন? স্বপ্নাঃ সেটা গেলেই দেখবেন। আমিঃ ওকে ম্যাম। স্বপ্নাঃ হুম এবার কাজে যান। তারপর চলে আসলাম, নিজের ডেস্কে এসে বসে আছি। স্বপ্নার কথা ভাবছি, চোখমুখ সব লাল হয়ে ফুলে আছে। দেখে মনে হচ্ছে নেশা করেছে বা কান্না করেছে। কিন্তু নেশাতো করার কথা না,,,,, মনে হয় কান্নাই করেছে। একটু পর পিয়ন আসলো,.. "ম্যাম আপনাকে বাইরে গিয়ে দাড়াতে বলেছে"" আমি কিছু না বলে ড্রাইভারের কাছে গেলাম,,, ড্রাইভার আমাকে দেখে বললো... কি খবর ভাই? এখন কেমন আছেন? আমিঃ এইতো ভাই মোটামুটি, আপনার কি অবস্থা? ড্রাইভারঃ আছি আলহামদুলিল্লাহ ভালো, সেদিন আপনার জন্য ম্যাডাম যা করলো, চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতেন না। আমিঃ কোন দিন? ড্রাইভারঃ আরে ভাই ভুলে গেলেন নাকি, ওই যে আপনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন সেদিন। আমিঃ ও আচ্ছা। আচ্ছা আমরা এখন কোথায় যাবো, কিছু জানেন? ড্রাইভারঃ শপিংমলে, আপামনির বিয়ে তো তাই। আমিঃ কিহ! বিয়ে মানে? ড্রাইভারঃ হুম উনার বিয়ে ঠিক হইছে, পাত্রকে নাকি উনি নিজেই পছন্দ করছে। ড্রাইভারের কথা শুনে আমার পায়ের নিচে থেকে মাটি সরে যেতে লাগলো, বুকের মধ্যে কেমন জানি একটা ব্যাথা অনুভব হতে লাগলো। কথা বলার সময় দেখলাম স্বপ্না আসছে,,, আর কোনো কথা না বলে দাঁড়িয়ে আছি। সে এসে বললো.... গাড়িতে উঠেন। উঠে বসলাম, তারপর বললাম... আমিঃ ম্যাম আমরা কোথায় যাচ্ছি? স্বপ্নাঃ বিয়ের শপিং করতে? আমিঃ কিন্তু ম্যাম আমাকে কেন নিয়ে যাচ্ছেন? স্বপ্নাঃ ভুলে যাবেন না আপনি আমার পার্সোনাল সেক্রেটারি, সব গুলো কাজ আপনাকেই করতে হবে। আর শুনেন... আমিঃ জ্বি ম্যাম বলেন। স্বপ্নাঃ বিয়ের সব গুলো কাজ আপনি নিজ হাতে করবেন, দায়িত্বটা আপনার উপর দেওয়া হলো। আমিঃ ওকে ম্যাম। এদিকে আমার কলিজা ফেটে যেতে লাগলো, জোরে জোরে বলতে ইচ্ছা করছে স্বপ্না বিয়েটা করো না, আমি এখনো তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু সেটা আর possible না। একটু পর শপিংমলের সামনে চলে আসলাম। এরপর সবাই ভিতরে গেলাম,,,, #__চলবে......

@Raiyan

Devil husband Devil Husband💗 Part_14 Kamrul _নিজের বউ হলেও এভাবে তাকাতে পারবেন না _সারারাত তো তাকিয়েছি,সাথে অনেক কিছু করেছি,এখন সমস্যা কী(শয়তানী হাসি দিয়ে) _ছি,মুখে কিছু আটকায় না,আপনি সরেন আমি ফ্রেশ হবো _গোছল করবে না _হুম করবো এই কথা শুনে ইমরান সিনহাকে নিজের কোলে তুলে নিলো _চলো তাহলে একসাথে গোছল হয়ে যাক _এই না না,একদম না _চুপ,তুমি বললে শুনবো নাকি -কেনো শুনবেন না,শুনতে হবে _তোমাকে আমার কথা শুনতে হবে বিকজ আমি তোমার স্বামী স্বামীর কথা মানা স্ত্রীর উপর ফরজ _বালের জামাই হন আপনি আমার -এই বেয়াদব মেয়ে তুমি আমাকে গালি দিলা(অবাক হয়ে) _আমি আপনাকে কখন গালি দিলাম(না জানার ভান করে) _এই মাত্র বালের জামাই বললা _বাল কে গালি মনে করে যেই জন বালের বাংগালী সেই জন _এখন মুড খারাপ করার কোনো ইচ্ছে নাই আমার,শুভ কাজে মুখ খারাপ করতে নেই -ওরে আল্লাহরে কি সাধু রে তা কোনটা শুভ কাজ শুনি _তোমাকে নিয়ে একসাথে গোছল করবো,এটা আমার জন্য শুভ কাজ _কিন্তু আমার জন্য অশুভ কাজ _তোমার অশুভ কাজকে আমি আমার শুভ কাজ দিয়ে মেরে মাটি চাপা দিয়ে দিবো -প্লিজ না,লজ্জা লাগে আমার🙈 -ওলে বাবালে আমার লজ্জাবতো ইমরান,সিনহার কথা না শুনে সিনহাকে ওয়াশরুমে নিয়ে কোল থেকে নিচে নামালো সিনহা দুইহাত দিয়ে এখনো কাথাটা দেহে জড়িয়ে নিয়েছে _কাথাটা ফেলো এতো লজ্জা পেলে চলে,আমি না তোমার জামাই _(শালা ডেভিলের বাচ্চা লুচ্চা তোরে আমি খুন করবো)এই একদম কাথা ফেলে দেওয়ার কথা মাথায় আনবেন না _তাহলে কীভাবে হবে _হবে টবে বুঝি না,ঝর্না ছাড়েন আমি মাথা ভিজিয়ে চলে যাই _তোমাকে এখানে এনেছি কি ঝর্না ছেড়ে দিয়ে তোমার মাথা ভিজানোর জন্য নাকি,আজব তো _এইসব আজব গুজব বাদ দিন আপনার হাবভাব ভালো ঠেকছে না আমি যাই সিনহা যাওয়া ধরলে ইমরান সিনহার কাধ ধরে আটকায় সিনহা থমকে দাঁড়ায় মুখ দিয়ে কথা বেরুচ্ছে না,তারপরও জোর করে বলল _ডেভিল ডোন্ট টাচ মি,ডোন্ট টাচ মি -টাচ তো করেই ফেলেছি জানু কাথাটা কি সরাবা নাকি আমি হেল্প করবো এরি ভিতরে ইমরান ঝর্নাটা ছেড়ে দেয়,ঝর্নার পানিতে সিনহা ইমরান দুজনেই ভিজে চুপসে যাচ্ছে ইমরান সিনহার কাধ টান দিয়ে নিজের নগ্ন পেটের সাথে একদম মিশিয়ে নিয়েছে,সিনহাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিয়েছে ইমরানের এমন সংস্পর্শে সিনহা কেপে উঠছে কাপা কাপা ঠোটে ইমরানকে বলে _এই একদম কা কাথায় হা হাত দিবেন না _দিলে কি করবা,বউ (ডেভিলের বাচ্চা তোরে তো এখন কিছু করতে পারবো না,এর শোধ আমি সেদিন নিবো যেদিন আমার এক ডজন বাচ্চা হবে বাচ্চাদের নিয়ে আমি তোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবো,বলে দিলাম) চলবে.

@Raiyan

Sei meyeta সেই মেয়েটা লেখকঃ মেঘলা মন পার্টঃ০১ সে দিন ছিলো আমার অফিসে ইন্টারভিউ। বাসা থেকে বের হয়েছি অফিসে ইন্টারভিউ দেওয়ার উদ্দেশ্যে।আমার বাসা থেকে অল্প একটু হেটে যাওয়ার পর বাসস্টপ। সেখান গিয়ে বাসার জন্য দাড়িছে এমন সময় লক্ষ্য করলাম একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে অন্য দিকে ঘুরে তবে তার মাথার লম্বা কালো চুল ছেড়ে দেওয়া।পিছন থেকে তাকে অনেক টা ভালই লাগছিলো।আমি তাকিয়ে ছিলাম তাকে দেখার জন্য আর মনে মনে বলতেছিল একটু ঘুর।হঠাৎ পিছনে তাকিয়েছে আর তার চোখ আর আমার মিলে গেলো মানে চোখে চোখ পড়লো।আমি তো পুরো হা হয়ে গেলাম আল্লাহ মনে হয় তাকে খুব যত্ন করে বানিয়েছে।সে আমার এমন ভাব দেখে হাসলো। এমন সময় আমার যাওয়ার বাস চলে আসলো।আমি তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম বাসে বসেও সে শুধু হাসলো। আমার চাকুরি টা হয়ে গেলো।আমার বস বললো আপনাকে রোজ সকালে ওখান থেকে অফিস বাস নিয়ে আসবে।আমি একটু খুসি হলাম আর চলে আসলাম।পরের দিন সকালে মেয়েটার কথা ভাবতে ভাবতেই বাসস্ট্যান্ডে গেলাম।দাড়িয়ে আছি এমন সময় লক্ষ্য করলাম সে দূর থেকে কাউকে আমাকে দেখিয়ে দিচ্ছে আর হাসছে বুঝলাম কালকের কথা বলে হাসছে।বাস আসলো চলে আসলাম।এভাবে কয়েক দিন চলে গেলো রোজ তার চোখের সাথে আমার চোখের মিলন হয়।তাই ভাবতে ভাবতে আসছি আজ কথা বলবো।কিন্তু তাকে আর সেখানে দেখতে পেলাম না।মনটা খরাপ হলো।আর মন খারাপ নিয়ে অফিসে চলে আসলাম।আসার পর বস বললো আজ কিছু লোকের ইন্টারভিউ আছে আর সেখানে আমাকে থাকতে হবে তাদের ইন্টারভিউ নিতে হবে।প্রায় ১২ থেকে ১৪ জনের ইন্টারভিউ নিলাম কিন্তু কাউকে সিলেক্ট করতে পারলাম না পরে জানাবো বলে বিদায় দিলাম। এভার যে ভিতরে আসছে তাকে দেখে আমি থ হয়ে গেলাম এতো সেই মেয়েটা যাকে রোজ দেখার জন্য ২০ মিনিট আগে বাসস্ট্যান্ডে আসি।সেও আমাকে দেখে মনে হলো একটু অবাক হয়েছে।সে আসলো পিয়ন তার ফাইল আমার সামনে দিলো।মনে মনে আমি ভাবলাম যাক নাম টা এখন শুনা যাবে। আমিঃ কেমন আছেন সেঃ জ্বি স্যার ভালো।স্যার আপনি কেমন আছেন। আমিঃ ভালো।আপনার নাম কি? সেঃ জ্বি স্যার আমার নাম ফারজানা আক্তার বৃষ্টি। সবাই বৃষ্টি বলেই ডাকে। আমিঃ আপনি কি কোথাও জব করছেন? বৃষ্টিঃ জি না স্যার। আমিঃ আপনি কেনো চাকুরি করবেন? বৃষ্টিঃ স্যার আমি নিজেকে প্রমান করতে চাই আমিঃ বিয়ের পর যদি স্বামী চাকরি করতে না দেয়? বৃষ্টিঃ তাকে বলেই বিয়ে করবো।আর যদি তা সে না মানে তবে করবো না।কারন স্বামীর অবাধ্য স্ত্রী কখনো সুখি হয় না। আমিঃ মনে মনে খুশি হলাম। চলবে