জীবনের খুঁজে#১ম পর্ব
রাইটার#দিলরুবা হাসান পামি আমি অন্বেষা আহমেদ।আমি যখন খুব ছোট,তখন আমার আম্মু মারা যান।আম্মু চলে যাওয়ার পর আব্বু কেমন জানি হয়ে যান।তিনি আমার সাথে ঠিকমত কথা বলেন না।সবসময় খারাপ আচরণ করেন।তাই আমার খালামুনি বাধ্য হয়ে আমাকে তার কাছে নিয়ে আসেন।খালু আমাকে নিজের সন্তানের মত ভালবাসতেন তাই তিনি তাকে বাধা দেন নি।তাদের নিজেরদের কোন সন্তান ছিল।তাদের আদর যত্নে বড় হতে থাকে অন্বেষা।অনেক বছর কেটে গেছে।অন্বেষা আজ ২৫বছরে পা দিল।আজ অন্বেষার জন্মদিন।সকাল থেকে হৈ চৈ শুরু হয়েছে অন্বেষার খালার বাসার।অবশ্য সবকিছু অন্বেষার চোখের আড়ালে খুব গোপনে করার হচ্ছে। ঘড়িতে এখন সকাল সাতটা বাজছে।অন্বেষা এখন গভীর ঘুমে।তার সকাল শুরু হয়ে তার খালামুনির মুখ দেখে।প্রতিদিনের মত আজও অন্বেষার খালামুনি তাকে ঘুম থেকে উঠানোর জন্য তার (অন্বেষার)রুমে যান।তিনি অন্বেষাকে ডাকছেন, খালামুনি:Good Morning, মামুনি।উঠে পড় মামুনি।সাতটা বাজছে। অন্বেষা:সাতটাই তো বাজছে।আরেকটু ঘুমাই না,মুনি প্লিজ। খালামুনি:না মামুনি।এখন লক্ষী মেয়ের মত উঠে পড়।আর আজ তো তোমার? অন্বেষা:কথা বলতে বলতে থেমে গেলে কেন?আজ কি খালামুনি?আজ কি বিশেষ দিন? খালামুনি:ওহ,হ্যা আজ তো তোমার job interview . আর আমি কি না ভুলে গেছি।মামুনি,তোমার খালামুনির বয়স হয়ে গেছে তো।আজকাল মনেই থাকে না কিছু।তুমি মন খারাপ কর না। খালু:মরিয়ম,কোথায় তুমি?দেখ,আমি বাজার থেকে ফিরেছি।ওহ আমার গিন্নি,কোথায় তুমি? খালামুনি:আরে বাবা,আসছি।চিংকার কর না।আস্তে কথা বল।তুমি কি ভুলে গেছো অন্বেষা বাসায় রয়েছে।চিংকার চেঁচামিচিতে অন্বেষা সব জেনে যাবে তো।আর জেনে গেলে আমাদের সব plan এর জল পড়বে।তুমি কি তাই চাও? খালু:ও সরি,আমি তো ভুলেই গেছি। অন্বেষা:আজ আমার জন্মদিন অথচ কারোও মনে নেই।সবাই যার যার কাছে ব্যস্ত। আমার কথা কেউ ভাবে না আর।আমাকে কেউ আর ভালবাসে না।ওহ মা,মা গো কেন আমায় ছেড়ে চলে গেছো।মা😭😭অন্বেষার তার আম্মুর ছবিটিকে জড়িয়ে ধরে কাদছে। খালামুনি:অন্বেষা,মামুনি ৯:৩০বেজে গেছে।আজ তো তোমার interview রয়েছে।তাড়াতাড়ি কর মা। অন্বেষা ready হয়ে নিচে নেমে এসে দেখে তার খালু এখন ready হন নি।উনার আজ অন্বেষার সাথে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু তিনি excuse দিলেন।তিনি অন্বেষাকে বললেন, খালু:সরি,অন্বেষা মামুনি।আজ আমার শরীরটা খুব খারাপ তাই আমার পক্ষে তোমার সাথে আজ যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্বেষা:ডাক্তার চাচুকে কল দিয়েছো? আহ,বুঝেছি কর নি।ওকে,আমি দিচ্ছি। অন্বেষার খালু তার খালামুনিকে চোখের ইশারায় না করলেন। খালামুনি:তোমার দেরী হয়ে যাচ্ছে।তুমি যাও।টেনশন কর না মামুনি।আমি আছি তো।আমি তোমার খালু খেয়াল রাখব।প্রয়োজন হলে তোমার ডাক্তার চাচুকেও কল দিয়ে ডেকে নিবে,কেমন?
1 comment
Excellent story