পৃথিবীতে সব মানুষই চিন্তাশীল রকমের
পৃথিবীতে সব মানুষই চিন্তাশীল রকমের। তারা বেশ চিন্তা করে... কত রকমের কত যে চিন্তা.... গুণে শেষ হবে বলে আমার মনেহয় না। যে মানুষ'টা আজ বিখ্যাত হয়ে আছে সেও একজন চিন্তাশীলের কাতারে পড়বে। চিন্তাশীল হলেই হয়না.... চিন্তা করেই যেতে হয়.... থামা যাবে না, একদম না! কবিরা চিন্তা করে -বৃষ্টি কেন পড়ছে? আকাশ কাঁদে? আচ্ছা বৃষ্টি কি আকাশের কাঁন্নার নাম? আমাদের কাঁন্নার নাম কি দেওয়া যায়? বৃষ্টি বা ঝর্না..! আচ্ছা ওই বাড়ির রুপবতী কাঁন্না করে কেন! তারও কি আকাশ আছে? এমন কি হয় না, এটা আকাশ, আকাশ বেয়ে নেমে পড়ে রুপবতীর কাঁন্না! তাদের মধ্যে এক বেশ যোগসূত্র আছে। একটা কবিতা লেখা যায়। কবি ভাবছে কবি লিখছে. কবিতার নাম , 'বৃষ্টি নামের ছদ্মবেশী রুপবতীর কাঁন্নারা আকাশ বেয়ে টুপ করে ঝড়ে পড়ে!' . চিন্তাশীল মানুষ'দের একটা সমস্যা সবসময় থাকে। তারা একটা ব্যাপার নিয়ে পরে থাকতে একদম পছন্দ করেনা, তারা অনেক কিছু নিয়ে চিন্তা করবে... অনেক রকম রঙ নিয়ে তাদের হবে সমস্যা। - আচ্ছা ওটা কি রঙ? - কালো! - কালো রঙের নাম কালো কেন? মাঝেমাঝে জট বাধে! একুল-ওকুল খুঁজে না পেয়ে খুব হতাশায় ডুবে যেতে হয়। চিন্তাশীল মানুষদের সমস্যা হচ্ছে তারা বেশ হতাশাগ্রস্ত। হরেক রকম চিন্তা কখনো সফল হবেনা, দশটা চিন্তার একটা ভালো হবে বাকি নয়টা নিয়ে তাকে ডুবে যেতে হবে হতাশায়। . আমি বরং ওসব মানুষের কাতারে পড়ি না। সমাজের কাতারে তো নয়-ই! মানুষ চিন্তা করবে, সমাজ, সমাজের মানুষ, সমাজের আমিকে নিয়ে! আমি বরং এসব কাতারে যেতে পারি না। চিন্তাশীল ব্যাপারটা আমার জন্য না! মাঝেমাঝে একা একা রাস্তা মাপি। এক পা দু'পা করে ন'হাজার তেতাল্লিশ পা! মাঝেমাঝে ঘন্টার পর ঘন্টা হাঁটি। পাঁচ টাকা বাঁচানোর জন্য নয়, বরং অভ্যেস; বদ অভ্যেস! হুট করে রাস্তার একটা মানুষ দেখে কেমন যেন লাগলো.... সে কেমন টুপটাপ করে টাইপিং করে লিখে ফেলি কোনরকম চিন্তাভাবনা ছাড়া। আগে চিন্তা করতাম -এখন হয় না, চিন্তা করা আমার জন্য বেশ ভয়াবহ সমস্যা। মজার ব্যাপার হচ্ছে চিন্তাহীন লেখা গুলো মানুষ খুব ভালোভাবেই নিচ্ছে! খারাপ না! অচিন্তাশীলদের একটা সমস্যা তারা পৃথিবীর জন্য না। তারা সমাজের জন্য না, তারা অসামাজিক কাতারের মানুষ! . পৃথিবী নিয়ে যাদের ভাবনা নেই তাদের কোনোই ভাবনা নেই। ব্যাপারটা অত জটিল কিছু না! নীল আকাশ নিয়ে ভাবতে বসলে অনেক কিছু ভাবা যায়। রঙও ছুড়ে মারা যাবে হরেকরকম কতগুলো রঙ। কিন্তু যখন হুট করেই বৃষ্টি নেমে পড়ে তখন আমার ভাবনা গুছে যাবে, গুছানো ভাবনারা নিংড়ে জলে ধুয়ে মুছে যাবে, রঙ হয়ে যাবে রঙছাই... একেবারে জল ধোয়া ফাগুনের মত! এজন্য ভাবা হয়না, একদম না! . চিন্তাশীল মানুষরা মোহগ্রস্ত হয় তাদের চিন্তার প্রতি! বেশির ভাগ মানুষ মৃত্যুকে সহজ ভাবে নিতে পারেনা। তাদের জন্য মৃত্যুরূপ খুবই নোংরা! একদিন মারা যাবো -ব্যাপারটা কে'উ সহজ ভাবে নিচ্ছে না। প্রায় সবার মৃত্যুর প্রতি এক ধরনের অনীহা আছে। একদিন মারা যাবো -কেন মারা যাবো! মারা গেলে আবার জন্ম নেয়ার মানে কি! আচ্ছা যদি মৃত্যু না হতো? কেউ কেউ খুশি হয়ে যেত। অনেকে আবার বেঁচে থাকার জন্য কত কি যে করে....! সে কথা থাক! আমরা কেন মরতে চাচ্ছি না? ব্যাপার ঘটে মূলত মোহ! পৃথিবীর সুন্দরের প্রতি মোহ! পৃথিবীর প্রতি ভালোবাসা, পৃথিবীতে রেখে যাওয়া কত গুলো কর্ম ! . মৃত্যু নিয়ে আমার কিঞ্চিৎ ভাবনা আছে। সে বেশ আগেকার ভাবনা! একদিন মারা যাবো! সেদিন হবে ঘোর বর্ষা অথবা জোৎস্না আলোকিত একটা চাঁদ আকাশে। আচ্ছা সে রাতে জোৎস্না কেমন হবে? আলোকিত জোৎস্না মাটির নিচে চুপ করে ঢুকে পড়বে! কবরের ভেতর জোৎস্নার আলো? ভাবা যায় এমন কোনো দৃশ্য? কবুও হয়েছিল এমনটা!! আমরা ইচ্ছে হয়, আমার হারানো হবে খুব ভোরে, চারিপাশে লজ্জা লাল সূর্য দেখা যাবে; আমি বিধাতার কাছে মাথা নুয়ে থাকার সময় টুপ করে হারিয়ে যাবো! আচ্ছা সেদিন কি এমন হবে? খুব ঝড়ঝড়ে বৃষ্টি, বিকেল বেলা রঙ্গিন রঙধুন; রাতে আলোকিত জোৎস্না! কবরের চারপাশে জোনাকিপোকা জ্বল জ্বল করবে। আমার বরং মৃত্যু নিয়ে খানিক চিন্তা আছে! একদিন মারা যাবো। মুড়িয়ে নেয়া হবে সাদা কাফনে, সাদা কাফন বেশ পবিত্র। চারিপাশে আগর বাতির সোদা গন্ধ ছড়িয়ে পড়বে, আমি বরং বর্ষার জ্বলে ভিজে যাবো অথবা জোৎস্না খাবো টুপ করে গিলে। একদিন আমি মারা যাবো -বেশ ভয়াবহ ব্যাপার হবে সেদিন, নাকের ডগায় আগর বাতির সোদা গন্ধ, আগর বাতির ধোয়ার মত প্যাঁচিয়ে প্যাঁচিয়ে একদিন আমিও হারিয়ে যাবো!! একদিন আমিও হারিয়ে যাবো... একদিন আমিও হারিয়ে যাবো হারিয়ে যাওয়া মানুষের ভিড়ে.......................................................!
7 comments
Khub valo hoise apu
Thanks 😄😄
আপনি কি বাংলাদেশি আমায় হেল্প করবেন 😘
জি আমি বাংলাদেশি😄 অবশ্যই হেল্প করবো। একে অপরকে সাহায্য করার মাধ্যমেই আমরা সহজে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবো😁
Thanku 😁
হুম সব জিনিসের একটা ভালো সাইড আর একটা খারাপ সাইড থাকে এটার ব্যাতিক্রম কিছুনা।যারা চিন্তাশীল তারা তাদের লাইফ টা কে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে গেছে।আমরা প্রত্যেকটা বিষয় যদি এইভাবে লজিক দিয়ে চিন্তা করি তাহলে আমরা ও অনেক কিছু আবিষ্কার করতে পারবো।আমরা যদি এখন বলি পড়াশোনা আমরা কেন করি তাহলে এটার ও একটা মিনিং বের হয়ে যাবে এতে আমাদের জ্ঞান অর্জন হবে।বাট জ্ঞান অর্জন ও লাইফের একটা পার্ট যদি এইভাবে সব কিছুর মিনিং খুজতে জাই তাহলে লাইফের ইনজয় টা করতে পারবো না,লাইফটা কে উপভোগ করতে পারবো না,রিলাক্সে থাকতে পারবো না।তাই বেঁচে থাকার জন্য ম্যাচুরিটি ইম্যাচুরিটি সব কিছুর প্রয়োজন আছে।ভালো ট্রপিক, পড়ে খুব ভালো লাগলো।ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ