read.cash Log in
N@Nipa1234

দিনলিপি হাতে চল্লিশতম দিনে -

যার নামের আগে বা পরে ,অপরাধীর যেকোনো তকমা- অনায়েসে জুড়ে দেওয়া যায় ৷ অন্ধ বললেও মন্দ হয় না ,যে প্রাক্তনের প্রেমে মজে ছিল পবিত্র প্রেম যার চোখে পড়ে নি ৷ খুনি তকমা জুড়লেও অতি নগণ্য মনে হবে- যে ভালোবাসা খুন করেছে ,কত কল্পণা খুন করেছে , জন্ম হওয়ার আগেই খুন করেছে কত ইচ্ছেদের ! তবুও কিছু ইচ্ছে দিনলিপির বুক ছুঁয়েছে আজ যা আমার হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে , দুচোখের অশ্রুতে ভিজে যাচ্ছে বুক পকেটের দিকটাও! এই যেমন ইচ্ছে ছিল- আমার বুকে মাথা রেখে আর্তনাদ শোনা , দুষ্টুমি করে, বুকের হৃদস্পন্দন গুনা ! অথচ বুক কেন! ভালোবেসে কখনও- পায়ের কাছেও বসতে দেয় নি ৷ কত বার যে আমাকে নিয়ে ফুচকা খেতে চেয়েছিল ; বলতে গেলে হয়তো আরো বছর চারেক লেগে যাবে ৷ আমি খুব আইসক্রিম পছন্দ করতাম কখনও জানা হয় নি , সেও খুব আইসক্রিম প্রিয়সী ছিল ৷ আমাকে সাথে নিয়ে আইসক্রিম খাবে বলে- আর আইসক্রিম খাওয়াই হলো না ! "একটা আইসক্রিম দু'জনে মিলে খাবো , ইচ্ছে করেই তোমার গালে লেপ্টে দেবো৷" এই লাইন দু'টো যে কত বার লেখা- নতুন করে লিখতে গেলে কলম ক্লান্ত হবে ৷ চোখের জলে লেপ্টে যাওয়া কালিই বলে সেদিন সে কতটা কেঁদেছিল , যেদিন সামান্য আমার বালিশে মাথা রাখার জন্য , কত কিছুই না বলেছিলাম ৷ দিনলিপির সাতশতম পৃষ্ঠা স্পষ্ট বলে , কতটা অপমান বোধ করতো সে , চায়ের কাপের হাতলের দিকটায় পান করাকে- যখন খুব বিশ্রীভাবে অপমান করতাম ৷ কিন্তু আজ- আমার তৃষ্ণার্ত বুকে , মাথা না রাখতে পারার চাপা কষ্ট বোধ করি ৷ ফুচকার নাম শুনলে আর সবার মতো জিভে নয়,চোখে জল আসে ৷ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত , আইসক্রিম না খাওয়ার ব্রত পালন করছি ৷ আজ আমার বালিশ সরিয়ে , তার বালিশে মাথা রাখি,চুলের সুবাস খুঁজি ৷ বিছানার যে পাশটায় সে শুয়ে থাকতো , সেখানেই সারাদিন ঘুমাতে ইচ্ছে করে খুঁজতে থাকি তার গাঁয়ের সুঘ্রাঁণ ! জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত , এই বালিশে,এই চাদরে তার আদর খুঁজে যাবো ৷ চিহ্ন দেওয়া চায়ের কাপটা ভেঙে , তার ঠোঁট লাগানো কাপটায় ,ঠিক হাতলের দিকটায় ; ঠোঁট লাগিয়ে থাকি চা শূন্য কাপে ৷ শেষ ইচ্ছেটাও আমি রাখতে পারলাম না , "আমায় তুমি ক্ষমা করো" ৷ যতটুকু ভালোবাসা পেলে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত- ভালোবাসার অভাববোধ হবে না , ঠিক ততটুকু ভালোবাসা তুমি দিয়েই গিয়েছ ৷ তাই ইহলোক ও পরলোকে , আর ভালোবাসার প্রয়োজন নেই ৷ শুধু তোমাকে প্রয়োজন ,শুধু তোমাকে ৷ কবিতা:এপিটাফের ঠিকানায় রচয়িতা:শাহিদুল ইসলাম

No comments yet

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.