read.cash Log in
N@Nipa1234 more from that month

Patience is very important for success

আমার ইউনিভার্সিটি লাইফে যে কয়টা উড়নচণ্ডী টাইপের ছেলেমেয়ে দেখেছি তাদের খুব কম সংখ্যককেই একটা ভালো পর্যায়ে যেতে দেখেছি । কোন এক অজ্ঞাত কারণে আমাদের ইয়াং জেনারেশনের অনেকের কাছেই মনে হয় সারাদিন গিটার নিয়া পড়ে থাকা একটা প্রতিভা, বেশি কথা বলা হলো স্মার্টনেস , হলের রুমে দরজা লাগিয়ে গাজা সেবন হইলো আর্ট । এইগুলো না করলে জীবনের মানে খুঁজে পাওয়া যায় না। কলেজের সেই সহজ সরল ছেলেটাকে কে জানি বুঝালো রাত না জাগলে এইটা কোন লাইফ হলো না । নেশা না করলে তুমি জীবনের টেস্ট নিতে পারো নাই। মফস্বল থেকে উঠে আসা মেয়েটাকে কে জানি বুঝালো উড়নাটা এক সাইড করে না পরলে তুমি স্মার্ট না । সিনিয়র ভাইদের সাথে হাত না মেলালে তুমি সামাজিক না। মাথায় টিপ দিয়ে স্টেজে ডান্স না করলে তুমি ঘরকুনো। কেন জানি এইসব আর্ট একটা সময় গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে। কোন কাজে আসে নাই । একটা ছেলেকে দেখতাম পলিটিক্সের সেই তোড়জোড় নিয়ে থাকতে। প্রতিপক্ষের কোপ খেয়ে তার মানসিক ভারসাম্য গেল হারিয়ে । ইউনিভার্সিটির পড়াশুনা শেষ করতে পারে নাই । এখন কেউ তাকে বড় ভাই হিসাবে সালাম দেয় না। একজন ঠিক করেছিল গান আর কবিতা লিখে বিশ্ব জয় করবে । পারে নাই । বই তো লিখল । কিন্তু সাড়া পেল না। আজকাল সে ফেসবুকে সেলিব্রিটি হওয়ার ট্রাই করছে । কোন কাজের সাথে জড়িত নেই এক ছেলে এপ্ল্যাইড ফিজিক্সের মতো সাবজেক্টে চান্স পেলো । এই চান্স সবাই পায় না । ছেলে করতো তাবলীগ। ইয়া লম্বা দাড়ি । মানানসই জুব্বা । কী কারণে জানি তার দাড়ি দিন দিন ছোট হতে শুরু করল । একদিন আবিষ্কার করলাম বেচারা ক্লিন শেভ । খবর পেলাম ছেলে নাকি পালিয়ে বিয়ে করেছে । বউয়ের চাপেই এই অবস্থা । আধুনিক হওয়ার চিন্তা । বছর না পেরোতেই শুনলাম ডিভোর্স । মেয়ের বাপ এসে মেয়েকে নিয়ে গেছে । শোকে ছেলে হয়ে গেল পাগল । ভার্সিটি থেকে ড্রপ আউট । অনেক বড় ভাইদের কাছে শুনতাম ইউনিভার্সিটি হলো বিন্দাসের জায়গা । এখানে পড়াশুনা নাই । সেইসব বড় ভাইয়েরা এখন আর নাই । নিজেদের ফিউচারের সাথে সাথে জুনিয়রগুলোর ফিউচারও জলে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে । একদল পাব্লিক আপনাকে এতো বেশি এক্সট্রা কারিকুলামের সাথে যুক্ত করবে যে, মেইন পড়াই ভুলে যাবেন। সকালে এই কনফারেন্স , বিকেলে জেলা সমিতির মিটিং , রাতে বন্ধুদের সময় , বন্ধের দিনে বারবিকিউ পার্টি । ভাইরে নিজের জন্য সময়টা কই ? টিউশন করতে করতে নিজের নামে খুলে বসেছে কোচিং সেন্টার । মাসে লাখ খানেক টাকা । ভেবেই নিচ্ছেন জীবন এভাবেই চলে যাবে । আসলেই কি তাই ? আজকে পাহাড়ে চড়ব। কাল মল চত্বরে যাব। পরশু রুমডেট। তুমি নিজের জন্য কী রাখলে ? জীবনে সব কিছুরই দরকার আছে । এক্সট্রা কারিকুলামের যেমন দরকার আছে, তেমনি দরকার আছে পরিমিত পড়াশুনারও। দরকার আছে একটা স্ট্যান্ডার্ড জিপিএর । শার্টের বোতাম খুলে, সিটের উপর দুই পা উঠিয়ে নিজেকে নবাব ভাবাটাই জীবন না । গ্রামারের গ না জানলেও ফেসবুকে ঠুসঠাস ইংরেজিতে স্ট্যাটাস দেওয়াটাই স্মার্টনেস না । ইমোশোনের ঝুলি খুলে দুটো কবিতা লিখলেই কবি হওয়া যায় না। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১২ টা হাদিস শেয়ার করলেই বিরাট ইসলামিস্ট হওয়া যায় না । কোচিং সেন্টার খুলে বসলেই বুদ্ধিজীবী হওয়া যায় না । যে সময়টা পড়াশুনার সেটা শুধু পড়াশুনারই হোক । জীবনে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করতে পারাই আসল কথা । নতুবা আজকে উড়নচণ্ডী হয়ে যে জীবনটা উপভোগ করছেন, কয়েকদিন পর সেই জীবনটাই কাঁটার মতো বিঁধবে । #সংগৃহীত

No comments yet

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.