read.cash Log in
N@Nipa1234

স্বপ্ন+বউ= দুঃস্বপ্ন

স্বপ্ন+বউ= দুঃস্বপ্ন ফরহাদ ইবনে মালেক রাত আনুমানিক ঠিক ৩.৪৫ বা তার দুই-এক মিনিট এদিক সেদিকে হঠাৎ করেই ঘুম ভাঙলো রাতুলের। আপনারা নিশ্চয়ই ভাবছেন দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙেছে? ধারণা ভুল। দুঃস্বপ্ন বা সু-স্বপ্ন কোনটাই নয়। ভাবতে পারেন গরম পড়েছে বেশি, হঠাৎ হঠাৎ বিদ্যুৎ মামা জ্ঞান হারায় গরমে। তাই বুঝি গরমেই ঘুমটা ভাঙলো? এই উত্তরটাও ভুল। যে উত্তরটা এরপর আসতে পারে কিংবা আপনার মাথায় আসছেই না, সেই উত্তরটাই কারেক্ট। হিসু চাপার ইস্যুতে ঘুম ভেঙে গেছে। ঘুম ঘুম চোখে রুমের লাইট জ্বেলে দিল রাতুল। লাইট জ্বেলে বাথরুম থেকে এসে ঘুম ঘুম চোখেই টলতে টলতে লাইটটা অফ করে আন্দাজ মতো বিছানা বরাবর এসে ধপাস করে পড়ে গেল বিছানার ওপর। ল্যান্ডিং টা নরম হবার কথা থাকলেও কেমন যেন বন্ধুর(কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু'র এক কথায় প্রকাশ) মনে হলো। সাথে সাথে মাগো বলে একটা আওয়াজ! "ওয়েট, হোয়াট? মেয়ে? তাও আবার আমার রুমে? আমার বেডে! কী করে সম্ভব?" ভাবছে রাতুল। "ওই গাধা। চামচিকার শরীরে এতো ওজন! পিঠের হাড্ডিটা ভাইঙ্গা ফালাইছে। কাইল বুঝামুনে, শয়তান। ঘুমে ধরলে আর খবর থাকে না। আব্বা আর কোন পোলা পায় নাই। একটা গাধা, গন্ডারের চামড়া ওয়ালা পোলার কাছে আমারে তুইল্লা দিছে আর জীবনডা শ্যাষ কইরা দিছে।" চোখ বন্ধ করে এক নিঃশ্বাসে শুনলো সব রাতুল। এপাশ ফিরে শুয়ে শুয়ে ভাবছে, এ কেমন কথা? আমি বিবাহিত? আর তা আমি নিজেই জানি না! মেয়েটা দেখতে কেমন তাও তো জানি না! মনে যদিও চাইছে এখনই একবার দেখি লাইট জ্বেলে। কেমন মেয়ে বিয়ে করলাম, যার চেহারাও মনে নাই আমার। ফর্সা নাকি কালো তাও জানি না। পূর্ণিমা নাকি রিনা খান এসব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে গেছে সে নিজেই টের পায়নি। এবার ঘুমে স্বপ্ন এসেছে বোধহয়। স্বপ্নে দেখে, পরীমনির মতো চোখ, নাক আর লম্বা চুলওয়ালী এক মেয়ে বিয়ে করেছে রাতুল। সে কী ভুবন ভোলানো হাসি রে বাবা! বিছানার এক পাশে হাতে ভর দিয়ে শুয়ে তার দিকে তাকিয়ে হাসছে। সিলিং ফ্যানের অত্যাচারে ভালোমতো দেখতেও পারছেনা চেহারাটা। চুল তার কবেকার এমন সিল্কি ছিলো কে জানে! সব এসে নাকেমুখের সামনে পর্দা তৈরি করে দিচ্ছিলো। রাতুল তার হাতে ভর দেয়া মাথার নিচে নিজের মাথা ঢুকিয়ে দিলো, এবার বউ তার ওপর মুখ রেখে হাসছে। তার মাথা বউয়ের হাতের সাথে ঘষা খাচ্ছে। বউ এবার হাত বাড়িয়ে দিলো রাতুলের মাথার নিচে। রাতুল মাথা এলিয়ে দিলো তার হাতের ওপর। বউ ননস্টপ হেসেই যাচ্ছে। আহা হাসি! হঠাৎ খেয়াল করলো বউ পান চিবোচ্ছে। পান! ওহ নো। তবে খারাপও না। পানের রসে তার লাল ঠোঁট আরও লাল হয়ে যাচ্ছে। ঠোঁটের দু পাশ দিয়ে পিচকির আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। এবার বউকে 'মোল্লা বাড়ির বউ' সিনেমার শাবনূরের মতো লাগছে। তাও ভালো, নায়িকা তো। রাতুল আবারও দেখেই যাচ্ছি তাকে৷ সে পান খাচ্ছে আর হাসছে, খাচ্ছে আর হাসছে। এবারও তার চুল মুখের সামনে এসে আড়াল করে দিচ্ছে তার হাসি। রাতুল এবার চোখ বন্ধ করে বউয়ের পান চিবানোর আওয়াজ ফিল করলো। শুনতে পেল বউ "পুচ" করে পানের পিচকি ফেললো এক পাশে। আহা! কী মধুর সুর সে পিচকি ফেলার। কেমন যেন টলছি রাতুল এই শব্দ আর হাসির নেশায়। টলছে তো টলছে, টলছে তো টলছেই। রাতুল হাত বাড়ালো তার গালের দিকে, ঠোঁটের দিকে। হাতে চুল লাগছে। কিন্তু এই চুল সিল্কি নয়, কোঁকড়ানো! মুখও খসখসে লাগছে রাতুলের কাছে। যুবতী চেহারায় ভাঁজ পড়ে গেছে হঠাৎ করেই বউয়ের! বন্ধ চোখে রাতুলেরও কপালে ভাঁজ। এমন সময় সজোরে হাত ঝাড়ি দিয়ে এক ধাক্কা দিলো রাতুলকে ধমকের সাথে কে যেন! ঘুম ভাঙলো রাতুলের ট্রেনের মাঝে। পাশে তাকিয়ে দেখে, কোথায় শাবনূর কোথায় পরীমনি; এ তো সাক্ষাৎ ভিলেন ইলিয়াস কোবরার উত্তরসূরী! মাঝবয়সী লোকটা পান চিবোতে চিবোতে বলছে, "ওই ছেরা, হিজলা নি তুই? অত ঘষাঘষি করস ক্যারে? বেশভুষা দেইক্কা ত বালা গরের ফুলাওই মনে অইতাছে। ইত্তা ঘষাঘষি শিখছত কইত্তে, হ্যাঁ?" রাতুল এখনও ঘোরের মাঝে আছে। কী ঘটলো এতক্ষণ? মানে সে স্বপ্ন দেখছিলো? যাক, তারমানে সে অবিবাহিত। কিন্তু স্বপ্নটা ভালো ছিলো। রাতুল একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেল পাশের সিটে বসা মুরুব্বীর সাথে এমন ঘটে যাওয়ায়। তাই কিছুক্ষণ ট্রেনের দরজার সামনে থেকে বাতাস খেয়ে আসলে মন্দ হয় না। অস্বস্তিবোধটাও কেটে যাবে। কিন্তু........ কিন্তু খেয়াল করলো রাতুল, উঠতে গিয়েই তো সব বিপত্তি। স্বপ্নে যে বাথরুম থেকে ঘুরে এসেছিলো রাতুল!

No comments yet

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.