read.cash Log in
@Munia edited

প্রথম যা কিছু

ছোটবেলা থেকে বিশ্বাস করতাম আমি সব কিছু করতে পারি চেষ্টা করলে, বিশ্বাস নয় শুধু, বলতে গেলে একটা অহংকার কাজ করতো সবসময়। মোটামুটি ভালো ছাত্রী ছিলাম, টাকা পয়সার কোন অভাব ছিলো না, ছিলাম বাবা মার আদরের। দিন গড়াতে থাকে আর ধীরে ধীরে আনন্দের রঙ গুলো ফিকে হতে শুরু করে, বাবার পকেটের অবস্থা খারাপের সাথে সাথে আশেপাশের খুব কাছের মানুষ গুলো হঠাৎ করেই বদলাতে শুরু করে,এমনকি পরম আশ্রয়ের মা-বাবার আচরণ ও! কিশোরী হয়ে উঠতে উঠতেই বলা যায় জীবনের কুৎসিত দিকটাও দেখা হয়ে যায়, আর ধীরে ধীরে নিজেকে আবিষ্কার করি একজন মেয়ে হিসেবে, মানে বলছিলাম এতোদিন ধরে বাঁধনহারা পাখির মতো যা কিছু করে আসছিলাম, তার দিন ফুরালো, গল্পের এই দিকটা বোধহয় সব নারীর জীবনেই মোটামুটি একই। অলীক অবাস্তব কল্পনা ছিলো আকাশ ছোঁয়া, কতো কিছু করবো। এ পোড় খাওয়া দেশে খুব কম মানুষই নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই এই ঘন্টার কথিত মেধা ভিত্তিক পরীক্ষার সাথে পরিবারের এক্সপেক্টেশনের বেড়াজালে আটকে দিয়ে আমাদের স্বপ্নটা এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সিস্টেম গলা টিপে হত্যা করে। আমারো ঠিক তেমনই অবস্থা আরকি। খুব সাধারণ একটা বিষয় নিয়ে গ্র‍্যাজুয়েশন শেষ করলাম,মোটামুটি রেজাল্ট নিয়ে। আকাশ থেকে পা নামিয়ে আনলাম মাটিতে। খেয়ে পড়ে সাধারন চাকরি নিয়ে বেঁচে থাকাটাই তো আসল কথা আমাদের মতো ছা-পোষা মধ্যবিত্ত বাঙালিদের জন্য। এই যা, কি দিয়ে শুরু করেছিলাম, কোথায় আসলাম। আসলে সমসাময়িক পরিস্থিতে পুরো মাথা আবোলতাবোল, অলসতা চেপে বসছে। কোনকিছুতেই যেন আর কোন কিছু যাই আসে না। আমি তো বেঁচে আছি এখনো, এটাতেই যেন সব সুখ। প্রথম লেখাতেই এভাবে একান্ত নিজের কথার পশরা সাজিয়ে বসবো, সেটা লেখা শুরু করার আগেও ভাবিনি। তবে ভরসা এটাই, বেশি মানুষের নজরে লেখাটা আসার সম্ভাবনা ক্ষীন। ইংরেজি ভাষাতে দূর্বল খুব, তাই পরবর্তীতে যদি কখনো লিখতে ইচ্ছা করে সেটা পাঠের অযোগ্য হলেও মাতৃভাষাতেই লিখবো। শুভ কামনা, আপনার জন্য, যিনি এই মুহুর্তে লেখাটি পড়ছেন।

16 comments

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.