সরিষার তেল
আজ জানব..
বহুগুণেগুণান্বিত সরিষার তেল সম্পর্কে..
শরীর,স্বাস্থ্য,এবং ত্বকের সুরক্ষায় সরিষার তেলের জুড়ি নেই।
সম্পূর্ণ কাঠের তৈরী যন্ত্রে ঘানি ভাঙানো সরিষা তেল হলে নিশ্চিন্তমনে ব্যবহার করা যায়।
সরিষার তেল হৃদপিণ্ডের সক্ষমতা বাড়ায়,
হৃদপিন্ডকে ৭০ ভাগ হৃদপিন্ডের বিভিন্ন রোগে থেকে মুক্ত রাখে।
হার্টের সমস্যায় যারা বিভিন্ন ভোজ্য তেল পরিহার করছেন তাদের জন্য অবশ্যই খাঁটি ঘানি ভাঙা সরিষার তেল এর দ্বারা হার্টের কোন রকম ক্ষতিই হয় না বরং উপকারী।
কোলেস্টেরল কমাই, শরীরের সর্বস্তরে রক্তসঞ্চালনে সহায়ক।
এতে রয়েছে ভিটামিন ই এন্টি অক্সিডেন্ট সহ আরো অন্যান্য উপাদান। যার কারণে এটি ত্বকের জন্য বেশ উপকারী।
বাচ্চা দের ত্বকে ম্যাসাজ করা গোসলের সময় ব্যবহারে বেশ উপাদেয়
তাছাড়া ত্বকে নিয়মিত ব্যবহারে যেমন রোদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও বাঁচা যায়
তেমনি ত্বককে করে দাগ হীন প্রাণবন্ত।
আরো বিস্তারিত জানতে জয়েন করুন আমাদের অফিসিয়াল ফেইসবুক গ্রুপে❤
https://www.facebook.com/groups/1007996569649709/?ref=share
মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী
আজ তোমরা জানবে ইসলামি সোনালি যুগের অন্যতম বহুবিদ্যাজ্ঞ আল-রাজি সম্পর্কে। তিনি বিশ্বের সেরা মনীষীদের একজন। একইসাথে তিনি চিকিৎসক, চিকিৎসাবিজ্ঞানী, দার্শনিক ও রসায়নবিদ হিসেবে খ্যাতিমান। আল-রাজির পুরো নাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আল-রাজি। তবে তিনি আল-রাজি বা আর-রাজি নামে বেশি পরিচিত। পশ্চিমা বিশ্বে তিনি জযধুবং বা জধংরং নামে পরিচিত। বিশ্ব সভ্যতায় তার অবদান অসামান্য।
আল-রাজি ছিলেন তার সময়ের মুসলিম জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসক। জ্ঞানরাজ্যের অন্যান্য শাখাতেও তিনি অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। জন্ম পারস্যের (ইরান) রাই নগরে, যা বর্তমানে বৃহত্তর তেহরানের অংশ, ৮৬৫ সালে মতান্তরে ৮৬৪ সালে। মৃত্যু ৯২৫ সালে মতান্তরে ৯৩০ সালে।
রাই নগরে আল-রাজি অঙ্কশাস্ত্র, জ্যোতির্বিজ্ঞান, দর্শন প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেন। প্রথম দিকে বিজ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহ ছিল না। ঘটনা বৈচিত্র্য আর প্রয়োজনের তাগিদে এ বিষয়ে তিনি ধীরে ধীরে আগ্রহী হন। এরপর চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী হিসেবে অসামান্য প্রতিভার পরিচয় দিয়ে দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান থেকে বিজ্ঞানের প্রতি তার অনুরাগ শুরু হয়।
প্রথমে তিনি রাই সুলতানের চিকিৎসক ছিলেন এবং তার
রাজকীয় হাসপাতালের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বাগদাদের হাসপাতালে একই পদে কাজ করেন।
তিনি চিকিৎসা বিদ্যায় এতই খ্যাতি অর্জন করেন যে, তাকে বিভিন্ন দেশের শাসনকর্তা বা রাজা-বাদশাহদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াতে হয়। হাম ও গুটিবসন্তের পার্থক্য নির্ণয়ে তার অবদান অসামান্য।
কেরোসিনসহ তিনি অনেক যৌগ ও রাসায়নিক পদার্থ আবিষ্কার করেন। ৯ শতকে তিনি তার বই কিতাব আল আসরার (ইড়ড়শ ড়ভ ঝবপৎবঃং)-এ কেরোসিন উৎপাদনের দু’টি পদ্ধতির কথা লিখেন।
এর অনেক পরে ১৮৪৬ সালে আব্রাহাম গেসনার পিচজাত কয়লা ও তেলশিলা থেকে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে ঝরানো পাতনের সাহায্যে কেরোসিন শোধন করেন। কেরোসিনের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় ১৮৫৪ সালে।
আল-রাজি রসায়ন শাস্ত্রে অনেক নতুন বিষয় প্রবর্তন করেন। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রতীক চিহ্ন অন্যতম। তাকে বর্তমান রসায়ন শাস্ত্রের অন্যতম প্রবর্তক হিসেবে অভিহিত করা যায়। চিকিৎসাশাস্ত্রের তিনি বহু বই লিখেন। জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যামিতির ওপরেও তিনি বই লিখেন। বল-বিজ্ঞানে ওজন সম্পর্কিত তার একটি বইয়ের খোঁজ পাওয়া যায়, যার নাম মিজান তাবিই। পদার্থ ও আলোকবিজ্ঞান সম্পর্কেও তিনি বই লিখেন, যার বহুসংখ্যকই বিলুপ্ত।
১৯৫৪ নির্বাচন
১৯৫৪ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক সোনালী অধ্যায়। এ নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়ের পর প্রথমবারের মত বাংলার শাসনভার যায় জনসাধারনের দল যুক্তফ্রন্টের নিকট। যুক্তফ্রন্ট সরকার ৩ এপ্রিল ১৯৫৪ সালের শপথ গ্রহন করার ১৬ দিনের মাথায় বাংলা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গৃহীত হয়। যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতা গ্রহনের শুরুতেই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের চক্ষুশূলে পরিনত হয়। ক্ষমতা হতে যুক্তফ্রন্টকে সরানোর পরিকল্পনা হিসেবে আদমজী জুট মিল দাঙ্গার সূত্রপাত ঘটায়। এই ঘটনায় বাঙালী-অবাঙালী মিলে নিহত হয় প্রায় ৬০০ জন। এমন ঘটনায় পাকিস্তানের গভর্নর গোলাম মুহাম্মদ খান ২ মাসের কম সময়ের মধ্যেই যুক্তফ্রন্ট সরকার বাতিল ঘোষনা করে গভর্নর শাসন জারি করেন এবং জেনারেল ইস্কান্দার মির্জাকে বাংলার গভর্নর নিয়োগ দেন। এবং শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এর এক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দেশদ্রোহী হিসেবে উল্লেখ করে। এভাবেই ১৯৪০ সালের পাকিস্তানের রাষ্ট্র ঘোষক হয়ে যায় পাকিস্তানেরই দেশদ্রোহী।
মূল ভিডিও ইউটিউবেঃ https://youtu.be/1pjDyOBKsPI
আমাদের আরো নতুন নতুন আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে যুক্ত হতে পারেন।
লিংকঃ- https://www.facebook.com/Eyes-of-History-103560618041200/
Home Tutor
টিউশন বন্ধ! টিউশনকে হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার জীবিকা উপার্জনের জন্য একমাত্র অবলম্বন হিশেবে নিয়েছে এমন ছাত্রের সংখ্যা নেহাৎ কম নয়। রানিং স্টুডেন্ট ও সদ্য পাশ করা ছাত্রদের জীবিকার একমাত্র উপায় হচ্ছে রাজ্যের অনিচ্ছা মাথায় থাকা সত্ত্বেও মানুষের বাড়িতে কলিং বেল টেপা।
করোনা ভাইরাস নামক মহামারির তোপে লকডাউন দেওয়ার সময় থেকে আজ অবধি এই বিশাল সংখ্যার উচ্চ শিক্ষিত যুবক যুবতি চরমভাবে আর্থিক সংকটে ভুগছে। না খেয়ে থাকছে। বাড়িওয়ালার ভাড়ার জন্য উপর্যুপরি চাপে বিধ্বস্ত। পেঠকে না খাইয়ে বুঝ দেওয়া যায় কিন্তু বাড়িওয়ালা নামক মধ্যযুগীয় জমিদার শ্রেণীদের বুঝ দেওয়া সম্ভব নয়। বেশিরভাগ টিউশন পেশাদারি ছেলে- মেয়েই মফস্বল এলাকা তথা নিন্ম মধ্যবিত্ত ফ্যামিলি থেকে উঠে আসা। সরকারের তাদেরকে নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই, তাদেরকে নিয়ে কারো কথা বলার লেশমাত্র চিন্তা নেই, সামনের সারির সবগুলো মিডিয়াও নিশ্চুপ।
পত্রিকায় পড়েছি ভারতে একজন টিউশন পেশাজীবীর টগববে স্নাতক পাশ যুবক সংসার চালাতে না পেরে আত্মহত্যা নামক মুক্তির পথ বেঁছে নিয়ে চিরস্থায়ী সংসারে পদার্পণ করেছে। সে জগতে তার না আছে করোনার টেনশান না আছে টিউশানের টেনশান। সুযোগ থাকলে তার অনুভূতির কথা সত্যিই সে বলে যেতো। একজন বিখ্যাত লেখকের একটা বই আছে "কেউ শখ করে মরেনা" উচ্চ বিদ্যাপীঠের উচ্চ সার্টিফিকেটধারী বেকার যুবকটি এমনি এমনি মরেনি— মরে গিয়ে দায়িত্বশীলদের একটি শক্ত বার্তা দিয়ে গেছে যে আমাদের কথাটা ভাবুন নয়তো— এ পথের লাইটা একটু দীর্ঘই হবে। যদিও এ লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হওয়াতে কারো কিছু যায় আসেনা।
উচ্চ শিক্ষিত বেকারদের আত্মসম্মানের পারদ এভারেস্টের চূড়া সমতুল্য! আত্মসম্মানবোধের কারণে কোথাও ত্রানের জন্য লাইনে দাঁড়াতে পারছেনা।পাছে আবার কর্তাব্যক্তিদের ফটোসুটের ভয়। যে ছেলেটা বা মেয়েটা মাস শেষে টিউশনের ন্যায্য টাকাটা চাইতে গিয়ে লজ্জায় বলতে পারেনা, দেড় মাসের বেতন এক মাসের বেতন হিশেবে পাওয়ার পরে বলে থাকগা! সে কি করে বলবে— এমন দূর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতে আমাদের বেতন চালু রাখুন কিংবা আমাকে কিছু এডভান্স বেতন দিন।
দেশে লকডাউন পড়েছে পঁচিশে মার্চ থেকে অথচ অনেক অভিভাবক সেই মাসের মাইনেটাও বাদুর ঝুলা ঝুলিয়ে রেখেছে। জগতের সবচেয়ে আনন্দময় বেদনাদায়ক চাকরি বুঝি এই টিউশন করা। এইতো এক বাসায় আপনি এমন সম্মান, মর্যাদা পেলেন, তৃপ্তির পূর্ণ ঢেকুর তুলে বলতে পারবেন —এর চাইতে বুঝি আর মহৎ প্রাপ্তি থাকতে পারেনা। অনুভূতির পারদের মাত্রা অনেকটা এরকম, "সম্মান" পাইলাম আমি ইহাকে পাইলাম। আরেকবাসায় এমন বেদনাদায়ক কিছু ঘটবে, শুধু কপালে হাত মেরে বলবেন হায়! এতোদিন, এত বছর আমি কী করেছি, আমি কী করলাম , কী করে যাচ্ছি?
আমরা গাঁধার খাটুনি খেটে বছরের পর বছর শুধু ছাত্র-ছাত্রীদের স্বর্ণ প্লাস আর রুপালি এ প্লাস পাইয়ে নিজেকে এবং তাদেরকে তাদের পরিবার সমেত আনন্দ এবং অহকাংরের সমুদ্রে অবগাহন করিয়েছি। তাদের কারো কারো ডায়মন্ড প্লাসের ইতিবৃত্ত কয়েকদিনের মধ্যে ফুলে ফেপে দেশের স্বনামধন্য কোন এক প্রত্রিকায় প্রকাশিত হয় এই শিরোনামে "আমাদের সোনামনি অমুক এ বছর গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে।" যার কৃতিত্বের ভাগিদার হচ্ছে তার মা-বাবা ও ইশকুলের অমুক শিক্ষকের। (ইশকুলের শিক্ষক নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথা নেই) অথচ যে গৃহ শিক্ষক অথবা কোচিংয়ের শিক্ষক বছরের পর তার পিছনে খেটেছে, কিছু পারিশ্রমিকের বিনিমিয়ে বিশেষ যত্ন নিয়েছে, তার নামটা ভুল করে প্রিয় শিক্ষক হিশেবে উচ্চরণ করেনা। ঠিক সেই ছাত্র/ছাত্রীটি তাঁর (গৃহ/কোচিং শিক্ষকের) সম্মুখে বসে ঠিকই তাকে দেবতা জ্ঞান করে, হাজার বার বলেছে আপনি আমার ফেবারিট শিক্ষক কথাটি। মনে হয় যেনো পাবলিক প্লেসে এই কথা বলটা লজ্জাজনক কিংবা মহাপাপ! (তবে ব্যতিক্রম অল্পস্বল্প আছে)।
বলতে পারেন কোচিংয়ের স্যারেরা তো শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য করছে। ওয়েল, বলতে পারেন! জগতের উন্নত সকল দেশেই এই শিক্ষা বাণিজ্য চলে। আমাদের দেশের দায়িত্বশীলরা কি আমদেরকে এখনো এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা দিতে পেরেছে কিংবা অর্থনীতিক সাম্যের ছিটে ফোটাও কি নিশ্চিত করতে পেরেছে —যে আমরা বলতে পারি যে বাণিজ্য করা কোচিং গুলো একেবারে শীকড় সহ এখনি উপড়ে ফেলা যাবে? বরং কিছু মানুষ নিজেদের ফায়দা লুটে নিলেও লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত ছেলেদের সংকটকালীন অস্থায়ী কর্মসংস্থানের যোগান দিচ্ছে এই বাণিজ্যিক কোচিং গুলো। বাণিজ্য করার পাশাপাশি অন্তত কিছু মেধাবী ছাত্রছাত্রী তৈরিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে এই কোচিং গুলো। তাহলে তাদের কাজ তারা যদি নিষ্ঠার সাথে করতে পারে, আমরা যারা উপকৃত হচ্ছি, তাদেরকে ন্যূনতম স্বীকৃতি দিতে এতো হীনমন্যতা কেনো?
অভিভাবকদের মাইনাসের খাতায় রেখে বলি, আমরা কলিং বেল টেপা পেশাজীবীরা আমাদের ছাত্রদের ভেতরে মানবিকতার সামান্য এই বোধটুকু তৈরি করে দিতে পেরেছি কি? —তারা (যাদের সামর্থ আছে) তাদের অভিভাবকদের বলবে আব্বু, আম্মু এই সংকটময় মূহুর্তে স্যারদের বেতন চালিয়ে যাওয়া উচিত। নয়তো স্যারেরা চলতে পারবেন না। তাদের সাথে জড়িয়ে আছে অনেক গুলো মানুষের জীবন আর অন্নের যোগান। আমাদের এতো এতো অর্জন তাদের ছাড়া কল্পনাও করা যেতোনা। দিনশেষে এইটুকু ব্যর্থতার দায় আমাদেরকে মাথায় নিতেই হবে। যেটা আগামীর টিউশনজীবীদের জন্য বড় রকমের একটি উচিত শিক্ষা।
বিসিএস নামক কচ্ছপ দৌড় প্রতিযোগিতায় মেতে ছোট খাটো সোনালি সুযোগ মিস করা দুর্ভাগাদের দলটা এখন অনেক বড়। এহেন পরিস্থিতে তাদের নিয়ে ভাবার কারো টাইম নেই। আমার এই অরোন্য রোদনও কোনো দায়িত্বশীলের লৌহ প্রাচীরে নির্মিত বিবেকের কর্ণ দ্বারে মৃদু নাড়া দিবেনা জেনেও মনের কিছু কথা টিউশন পেশাজীবীদের হয়ে বলার এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা। অভিরাম ভালবাসা রইলো এই অবহেলিত পেশাজীবীদের জন্য।
My Life
আমরা এমন একটা দেশে বাস করি, যে দেশের মানুষদের পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় একরকম বিপদে পরে ! কখনো বাবার মৃত্যুর পর বা কখনো বড়ভাইয়ের মৃত্যুর পর। এই দুর্বিষহ সময়গুলোতেই একজন যুবকের কাঁধে পরিবারের দায়িত্ব উঠে আসে। আমাদের কর্মজীবন শুরু হয় অঘটন দিয়ে…
বাবার অবর্তমানে একটা ছেলেকে জীবনে প্রথম কোন দায়িত্বটা নিতে হয় জানেন? বাবার মৃতদেহ দাফন কাফনের ব্যবস্থা করা। তারপর শুরু হয় চারদিনের মিলাদের জন্য খরচাপাতির ব্যবস্থা করা। চল্লিশার জন্য বাজারে ঘুরেফিরে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট গরুটা কিনে নিয়ে আসা…
…এভাবেই আমাদের দেশের ছেলেরা সংসারের হাল ধরা শিখে !
আফসোস ! যে দেশের ছেলেদের দায়িত্ববহ জীবনটাই শুরু হয় অপ্রত্যাশিত ঘটনা দিয়ে। সেখানে তারা আর কতটাই বা সুখে থাকবে?
শত অনিচ্ছাস্বত্বেও কোনোরকম সংগ্রাম করে সমাজে টিকে থাকার জন্যই কর্মজীবনে যেতে হয় এদেশের যুবকদের। বড় হয়ে কিছু হবার স্বপ্ন দেখাটাই এখন ভুল মনে হয়…
মাঝেমাঝে কি মনে হয় জানেন? এদেশে কোনো এন্টারটেইনমেন্টের দরকার নাই। এদেশের ছেলেমেয়েদের ছোটকাল থেকে হার্ডওয়ার্ক করার টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখানো উচিত। যাতে বড় হয়ে এই ধাক্কাগুলো সামলাতে তাদের কষ্ট না হয়। আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে থাকতে পারে…
খুব আফসোস করেই বললাম কথাগুলো !
❤রুকাইয়া পানি❤
#রুকইয়াহ_পানি
#পড়া_পানি
বৃষ্টি ...মহান আল্লাহ এর বিশেষ নেয়ামত। জমজমের পানির পর এতে বিশেষ আসমানী শেফা আছে।
যারা জীন, জাদু, বদনজর এবং শারীরিক নানা রোগে আক্রান্ত তারা সরাসরি খোলা আকাশ থেকে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে রাখেন রুকইয়াহ পানি তৈরির জন্য। সংগ্রহ করার জন্য পাত্র এমন জায়গায় রাখবেন যেন তা সরাসরি খোলা আকাশ বরাবর হয়, অর্থাৎ গাছের অথবা অন্য কিছুর সংস্পর্শ থেকে মুক্তভাবে এই পানি সংগ্রহ করবেন।
পাশাপাশি সুস্থতার নিয়তে বৃষ্টিতে ভিজলে উপকার পাবেন ইনশাআল্লাহ। বৃষ্টিতে ভেজার সময় দোয়া করতে থাকবেন আর দুরুদ, তিন কুল, আর সূরা আনফাল : ১১ , সূরা সোয়াদ : ৪১-৪২ আয়াত গুলো বার বার পাঠ করবেন। অথবা আল কুরআন থেকে যাই পারেন ওইটাই পাঠ করবেন সাধ্যমত। সংগ্রহ করা পানি একই নিয়মে পাঠ করে পানিতে ফু দিবেন প্রতিটা আয়াত পাঠের পর। সেই দম করা পানি খালি পেটে সকাল, সন্ধ্যা ও রাতে পান করবেন সুস্থতার নিয়তে। পাশাপাশি প্রচুর দোয়া করতে হবে।
বৃষ্টিতে গোসল করলে জ্বর ঠান্ডা হয় এটা ভুল ধারণা। বরকতময় নেয়ামত কখনো অনিষ্ট করতে পারে না, ঠান্ডা লাগে বাতাস বেশি থাকলে। তাই
বৃষ্টিতে ভিজে এসে দ্রুত শরীর মুছে ফেলবেন এবং এক কাপ গরম চা খাবেন বা দুধ খাবেন ।
রাকি ভাইয়েরা আপনারাও বৃষ্টি হলে একটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন গামলা খোলা আকাশের নিচে রেখে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করতে পারেন রুকইয়াহ পানি তৈরি করার জন্য।
পোস্ট টি শেয়ার করুন যাতে অন্যরাও উপকৃত এবং শিখতে পারে কারো সাহায্য ছাড়াই।
#রুকইয়াহ্ একটি ইসলামিক সুন্নাহ চিকিৎসা।
একটি ছোট গল্প
মার্কিন যুক্তরাষ্টে এক কৃষ্ণাঙ্গের বিনা অপরাধে ৩৬ বছর জেল-কাটার গল্প।
১৯৮২ সালের ৯ ডিসেম্বর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা রাজ্যের ব্যাটন রুজ শহরে জেনিফার থম্পসন নামে এক শ্বেতাঙ্গ নারী নিজ বাসায় ধর্ষণ এবং ছুরিকাঘাতের শিকার হন। সেই অপরাধে অভিযুক্ত হন ২২ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ আর্চি উইলিয়ামস। যদিও ঘটনার সময় তিনি নিজের বাসায় ঘুমাচ্ছিলেন। এমনকি যিনি ঘটনা ঘটিয়েছিলেন তার আঙুলের ছাপের সাথে উইলিয়ামসের আঙুলের ছাপও মেলেনি। কিন্তু থম্পসন তাকেই ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত করেন।
কারণ সেই নারী বলেছিলেন ধর্ষকের কাঁধে পুরনো ক্ষতের দাগ আছে। এরপর যখন উইলিয়ামসের শার্ট খুলতে বলা হয় তখন দেখা যায় তার কাঁধেও ক্ষতের দাগ। তখন তাকে ধর্ষণ এবং হত্যা চেষ্টার অপরাধে যাবজ্জীবন জেল দেওয়া হয়। কিন্তু উইলিয়ামস একে-তো কৃষ্ণাঙ্গ, সেই সাথে গরিব। মামলায় লড়ার মতো সামর্থ্য তার ছিলো না। যার ফলে তার জেলে কেটে প্রায় ৩৬টি বছর।
জামিনের অযোগ্য সাজা হওয়ায় তার পক্ষে এই সময় একবারের জন্যও জেলের বাইরে আসার সুযোগ হয়নি। উইলিয়ামসের মা ছেলের সাথে দেখা করার জন্য বাসা পরিবর্তন করে জেলখানার কাছাকাছি চলে যান। তিনিও ১৯৯৯ সালে মারা যান। আর ২০০৩ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর পুরোপুরি একা হয়ে যান উইলিয়ামস। জেলখানায় তার সাথে দেখা করতে আসার মতো আর কেউ ছিলেন না। কিন্তু তিনি আশা হারাননি। তার বিশ্বাস ছিল তিনি একদিন ন্যায় বিচার পাবেন।
১৯৯৫ সালের মার্চে এক দশকের বেশি সময় জেলে-কাটানোর পর উইলিয়ামস তার হাতে লেখা একটি নোট 'ইনোসেন্স প্রজেক্ট' এর প্রতিষ্ঠাতা বেরি শেকের কাছে পাঠান। তবে এরপরও তিনি সহসা মুক্তি পাননি। তাকে লড়াই করতে হয়েছে আরো দুই যুগ। ১৯৯৯ সালে উইলিয়ামস আরো একবার তার হাতের ছাপ মিলিয়ে দেখার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু প্রসিকিউটর তার সেই অনুরোধ আমলে নেননি। এদিকে তিনি গরিব হওয়ার কারণে কোনো আইনজীবীও তার পক্ষে লড়াই করেনি। অপরদিকে ধর্ষণের শিকার হওয়া সেই নারীর স্বামী ছিলেন বেশ প্রভাবশালী।
উইলিয়ামস যে অভিযোগে ৩৬ বছর জেল-কেটেছেন তার প্রকৃত অপরাধী ছিলেন স্টিফেন ফোর্বস নামের এক ব্যক্তি। যিনি উইলিয়ামসের সাথে একই জেলেই ছিলেন। ফোর্বস নিজের মুখেই কমপক্ষে পাঁচটি ধর্ষণের কথা শিকার করেছিলেন। কিন্তু তিনি ১৯৯৬ সালে মারা গেলেও মুক্তি মেলেনি উইলিয়ামসের। কারণ ফোর্বস যে সেই ধর্ষণের সাথে জড়িত ছিলেন তা খোলাসা করে বলে যাননি।
পরবর্তীতে ইনোসেন্স প্রজেক্টের আইনি সহায়তায় ২০১৯ সালে মার্চে আরো একবার আঙুলের ছাপ মিলিয়ে দেখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ডেটাবেস থেকে বিচারক নিশ্চিত হন এই অপরাধের সাথে উইলিয়ামস জড়িত নন। জড়িত ছিলেন সেই ফোর্বস। অবশেষে ৫৮ বছর বয়সে মুক্তি পান উইলিয়ামস। কিন্তু তার জীবন থেকে হারিয়ে যায় ৩৬টি বছর। যার মূল্য হিসেবে প্রদান করা হয়েছে আড়াই লাখ ডলার। কিন্তু জীবনের এতগুলো বছরের মূল্য কী কখনো অর্থ দিয়ে নির্ধারণ করা সম্ভব?
বিশ্বের প্রতিটি দেশেই আইন তৈরি করা হয় অভিজাত, ধনী এবং সংখ্যাগরিষ্ঠদের স্বার্থে। যুক্তরাষ্ট্রকে তার ব্যতিক্রম ভাবার কোনো সুযোগ নেই। শুধু আমেরিকা নয়। কালো রঙের মানুষের প্রতি নাক সিটকানোর স্বভাব প্রত্যেক সাদা চামড়ার মানুষের আছে। ইউরোপের ফুটবলে কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলারদের কলা দিয়ে ঢিল ছুড়ে বানর হিসেবে ব্যঙ্গ করা হয়। বালোতেল্লির মতো উগ্র স্বভাবের মানুষও বর্ণবাদের শিকার হয়ে বাচ্চাদের মতো কেঁদেছেন। অথচ তারাই মানবতার গল্প শোনায়।
বর্ণবাদ নিয়ে জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে বলেছিলেন,,
এ-কোনোদিন যাবার নয়। যতোদিন সাদা গাড়ির চাকা থাকবে কালো, যতোদিন সাদা হবে বিয়ের পোশাক আর কালো হবে মৃত্যুর পোশাক। যতোদিন কালো থাকবে শোকের আর সাদা হবে শান্তির প্রতীক।
Diet Control
যারা লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন, তারা কিভাবে ব্যালেন্স ডায়েট করে ওজন স্বাভাবিক রাখতে পারবেন।
ব্যালেন্স ডায়েট কি? ও কিভাবে করবেন...
ব্যালেন্স ডায়েট বলতে এমন খাদ্যাভ্যাস কে বুঝায়, যা মেনে খাবার গ্রহণ করলে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদানের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ হবে। শারীরিক চাহিদার চাইতে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করলে ওজন বাড়বে, কম ক্যালরি নিলে ওজন কমবে, আর সমান ক্যালরি গ্রহণ করলে ওজন ঠিক থাকবে। ব্যায়াম করলে বা শারীরিক কাজ করলে, শরীরে তাপ উৎপন্ন হয়ে শক্তি খরচ হয়, ফলে ক্যালরি বার্ন হয়।
'
খাবার একটা জ্বালানি, আগে বুঝতে হবে আপনি এটা কতটুকু জ্বালাতে পারবেন, এটাই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি অনেক পরিশ্রম করো, কিন্তু আপনার ভাই অথবা বোন সারাদিন বাসায় বসে থাকে, দু জনের শরীরের পুষ্টি উপাদানের চাহিদা কি এক? এক না। অথবা দুটো গাড়ি একটা ১০০ কিঃ মিঃ দৌড়ানো হয়েছে, আরেকটা সারাদিন গ্যারেজে ফেলে রাখছে, তাহলে দুটার তেল কি সমপরিমাণ দিতে হবে? কখনোই না। কিন্তু বাড়িতে রান্না হলে তো দুজন একই খাবার খাচ্ছেন, প্রায় একই মাত্রায় গ্রহণ করছো। এটা কি ব্যালেন্স ডায়েট হলো? না,
'
বুঝলাম আপনি অনেক কাজ করেন, কতক্ষন কাজ করেন, কি কি কাজ করেন, ঘুমান কত সময়, আপনার বয়স, ওজন ইত্যাদি বিষয় গুলো হিসেব করে, আপনার দৈনন্দিন শক্তি ও পুষ্টি চাহিদা নির্ধারণ করা হয়। তারপর ওই পরিমাণ পুষ্টি সহজে পেতে কোন কোন খাবার কি পরিমাণ খেতে হবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, এটাকেই ব্যালেন্স ডায়েট বলে বিজ্ঞজনেরা। আমি নিছে বিষয় গুলা উল্লেখ করেছি।
মূলত আসলেই ব্যালেন্স ডায়েট কি? অতি মোটা মানেই যেমন এই ব্যক্তি শক্তিশালী নয়, দামী দামী খাবার মানেও তেমন ব্যালেন্স ডায়েট নয়।
একটা খাবারে থাকবে সব ধরনের খাদ্য উপাদান, পর্যাপ্ত পরিমাণে। কোন উপাদানেরই বাহুল্য থাকবে না, যেটা যতটুকু দরকার ততটুকুই থাকবে, যার যতটুকু ক্যালারি দরকার তার জন্য ততটুকুই থাকবে। এটাই তার জন্য ব্যালেন্স ডায়েট হবে। ব্যালেন্স ডায়েট হবে ব্যাক্তি বিশেষের জন্য আলাদা আলাদা।
আচ্ছা এটা মূলত ক্যালরি না কিলোক্যালরি?
আমরা সচরাচর খাদ্যের ক্যালরি বলতে কিলোক্যালরি বুঝি। খাদ্যের ক্যালরি মূল্য সাধারণত: কিলোক্যালরিতে প্রকাশ করা হয়। যেমন: কেউ যদি বলেন যে, আজকে তিনি ১৫০০ ক্যালরি খেয়েছেন, তার মানে তিনি ১৫০০ কিলোক্যালরি খেয়েছেন। আবার কোনো খাদ্যের লেবেলে যদি লেখা থাকে, ৯৫ ক্যালরি, তার মানে সেটির ক্যালরি মান ৯৫×১০০০=৯৫০০০ ক্যালরি =৯৫ কিলোক্যালরি।
জেনে রাখা ভালো যে, ১০০০ ক্যালরি= এক কিলোক্যালরি| এবং ৩৫০০ ক্যালরি = এক পাউন্ড/ এক কেজি শরীরের ওজন বা ফ্যাট।
আমাদের শরীরে ক্যালরির প্রভাবঃ-
১/ শারীরিক চাহিদার চাইতে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করলে ওজন বেড়ে যাবে যেমন, কম ক্যালরি নিলে ওজন কমে যাবে তেমনই, আর সমান ক্যালরি গ্রহণ করলে তোমার ওজন ঠিক থাকবে।
২/ কম ক্যালরি খাওয়া ছাড়াও, ক্যালরি বার্ন করার একটি সহজ উপায় হলো নিয়মিত ব্যায়াম করা। এছাড়াও হাঁটা চলা করা, মানে শরীরটাকে কর্মঠ রাখা ইত্যাদি। এছাড়াও ঘরের কাজ বা নিজের কাজ করলেও কিছু ক্যালরি বার্ন হয়।
৩/ মাঝে মাঝেই আমরা অনেক ক্যালরির খাবার খেয়ে থাকি, যা ওজন বাড়ার কারণ। অতিরিক্ত ওজন বাড়লে, অনেক স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়তে হতে পারে। যেমন: উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাইপারটেনশন, আর্থ্রাইটিস, ক্যান্সার, অবসাদ ইত্যাদি।
৪/ তাই এই অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে জমে ফ্যাট হয়ে যাতে ওজন না বাড়ে, তাই আমাদের উচিত কিছু ক্যালরি বার্ন করা, মানে শরীরচর্চা করা প্রতিদিন।
৫/এছাড়া নিয়মিত বেশি ক্যালরি যুক্ত খাবার, যেমন: সরাসরি চিনিযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত বাজে তেল, প্রসেস ফুড খাবার ইত্যাদি বেশি খেলেও ওজন বাড়ে, তখনে ব্যায়াম করলেও ঠিক মতো ব্যায়ামের ফল পাওয়া যায় না বা ওজন কমে না।
৬/ গবেষনায় মোটামুটি প্রমানিত হয়েছে যে, নিয়মিত কম ক্যালরির খাবার খেলে আয়ু বৃদ্ধির পাশাপাশি সে সুস্থ থাকে, দেখতে কম বয়স্ক মনে হয়, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, শারীরিক ফিটনেস বজায় থাকে এবং মনও প্রফুল্ল থাকে।
৭/ একটা মানুষের দৈনিক ১২০০ ক্যালরির কম খাবার খাওয়া ঠিক নয়, এতে শরীরের কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়, মেটাবলিজম কমে যায়, শরীর ঠিক মতো পুষ্টি পায় না।
৮/ শারীরিক চাহিদার চাইতে খুব কম ক্যালরি অনেক দিন ধরে খেলে, শরীরের ওজন কমে যাবে, শরীর দুর্বল হবে, অঙ্গ-প্রত্বঙ্গগুলো ঠিক মতো কাজ করবে না এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যাবে।
আমরা যে খাবারের মাধ্যমে ক্যালরি পাই, তা আমরা সবই ব্যায়ামের মাধ্যমে বার্ন করবো না, আমাদের শরীরকে কাজ করার জন্য, যেমন: হৃদকম্পনের জন্য, শ্বাস নেয়ার জন্যও আমাদের কিছু ক্যালরির দরকার।
৯/ তাছাড়া দৈনন্দিন অন্যান্য কাজের জন্যও, যেমন: হাঁটা চলা করা, ঘরের কাজ করা, ব্রেইনের কাজ করা ইত্যাদির জন্যেও আমাদের কিছু ক্যালরি দরকার। আমাদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্বঙ্গগুলোর কাজ করার জন্যই অনেক ক্যালরি দরকার।
ক্যালরি গ্রহণ কিভাবে করবেন আপনি?
যেহেতু, খাদ্যে বিদ্যমান তাপ বা ক্যালরি দেহযন্ত্রকে সচল রাখে, দেহের কাজ করার শক্তি যোগায়, তাই কিভাবে ক্যালরি গ্রহণ করবা, তা জানা ও বোঝা খুবই গুরুত্বপুর্ণ।
আমি আপনাদের আবারো বলি, একজন মানুষ দৈনিক কত ক্যালরি গ্রহণ করবে, তা নির্ভর করে তার উচ্চতা, বয়স, লিঙ্গ, তিনি কতটা কর্মঠ, এবং তার শরীরের মাসেলের ঘনত্ব কত, BMR, তিনি ওজন বাড়াতে, কমাতে, না ঠিক রাখতে চান, এবং তিনি ব্যায়ামের মাধ্যমে কত ক্যালরি বার্ন করেন, তার ওপর। তাই প্রতিদিন, প্রতি বেলা ক্যালরি মেপে খাবার নিলে ভালো। ওজন ঠিক রাখতে বা কমাতে নিয়মিত কম ক্যালরির খাবার খেতে হবে। আর মাঝে মাঝে অল্প পরিমানে বেশি ক্যালরির খাবার খেলেও ক্ষতি নেই। তবে সেদিন একটু বেশি ব্যায়াম করা যেতে পারে। তাহলে, সেদিনের মোট ক্যালরির চাহিদার সমতা বজায় থাকবে। আর অধিক ক্যালরির খাবার খেলে, সেটা দিনের প্রথম ভাগে খেলে ভালো, কারণ, তাহলে তা সারাদিনের কাজের মাধ্যমে এটা বার্ন হয়ে যাবে। রাতে যেহেতু কম কাজ করা হয়, তাই তা রাতে খেলে শরীরে ফ্যাট হিসাবে জমতে পারে। তবে আপনি চাইলে রাতেও খেতে পারেন।
অধিক ফাইবার যুক্ত খাবার খাবেন ডায়েটে থাকেন আর না থাকেন, যেমন: শাক-সবজি বেশি করে, ফল, বাদাম ইত্যাদি খেলে তা হজমেও সাহায্য করে। আর এগুলোর অন্যান্য উপকারিতা তো আছেই। এগুলোতে ক্যালরিও কম থাকে। একবেলা বেশি ক্যালরি খেলে অন্য বেলা চেষ্টা করবেন যাতে কম ক্যালরি খাওয়ার।
অধিক ক্যালরি যুক্ত খাবারগুলোর মধ্যে হচ্ছে: তেল, চর্বি, ফাস্ট ফুড, ডুবন্ত তেলে ভাজা খাবার, সালাদ ড্রেসিং রেস্টুরেন্টের গুলো, কেক, অধিকাংশ বিস্কিট, পনির, মেয়নেইস, চকলেট, আইসক্রিম, ক্রিম, চিনি যুক্ত খাবার, বিরিয়ানি, তেহারি, ফ্রাইড রাইস, কোমল পানীয় ইত্যাদি।
অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তির খাদ্যতালিকায় তাই তেল, চর্বি, ভাত, রুটি, শর্করা জাতীয় খাদ্য, তেলে ভাজা খাবার এবং মিষ্টি মিষ্টি খাবারের পরিমাণ কম করতে হয়, আর স্যারের ডায়েটে তো একদম নিষেধই। আর ওজন ঠিক রাখতেও এগুলো মেপে খেতে হবে।
বেশি ক্যালরি হলেই যে সেটা খাওয়া যাবে না, তা কিন্তু নয়। কিছু ক্যালরি বহুল খাবার, যেমন: বাদাম, ভালো মানের চকলেট, পিনাট বাটার, মধু, পনির, টক দই অল্প পরিমানে খেলে এগুলোর উপকারিতাগুলো পাওয়া যায়। কম ক্যালরির খাবার বা লো কার্বো হতে পারে: ডাল, সালাদ, ফল, শাক-সবজি, লাল আটা বা লাল চালের ভাত, সাদা মাছ বা সমুদ্রের তৈলাক্ত মাছ, মুরগির মাংশ, গমের পাস্তা বা নুডুলস, লো ফ্যাট দুধ, লো ফ্যাট টক দই, লো ফ্যাট পনির, চিনি ছাড়া যে কোনো খাবার ইত্যাদি।
আপনারা যেহেতু ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য এটা করবেন, তাই কোন খাবারে কত ক্যালরি সেটা জানা থাকলে ভালো হবে । নিছে একটা চার্ট করে দিচ্ছি এটা থেকে জেনে নিতে পারবেন কোন খাবারে কী পরিমাণে ক্যালরি আছে তার আনুমানিক পরিমাণ। আর প্রতিদিন আমাদের কী পরিমাণ ক্যালরি প্রয়োজন তা জানা থাকলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা খুব সহজেই হবে।
মহিলাদের জন্য কার কতটুকু ক্যালারি দরকারঃ-
১/ লিঙ্গ, মেয়ে, বয়স ১৯-৩০ ভিতরে, সেডেন্টারি বা অপ্রিশ্রমী ১৮০০-২০০০ ক্যালারি দরকার, মোটামুটি পরিশ্রমী ২০০০-২২০০ ক্যালারি দরকার, পরিশ্রমী ২৪০০ ক্যালারি দরকার।
২/ লিঙ্গ মেয়ে, বয়স ৩১-৫০ ভিতরে
সেডেন্টারি বা অপ্রিশ্রমী ১৮০০ ক্যালারি দরকার, মোটামুটি পরিশ্রমী ২০০০ ক্যালারি দরকার, পরিশ্রমী ২২০০ ক্যালারি দরকার।
৩/ লিঙ্গ মেয়ে, বয়স ৫০+ সেডেন্টারি বা অপ্রিশ্রমী ১৬০০ ক্যালারি দরকার, মোটামুটি পরিশ্রমী ১৮০০ ক্যালারি দরকার, পরিশ্রমী ২০০০-২১০০ ক্যালারি দরকার।
পুরুষের জন্য কার কতটুকু ক্যালারি দরকারঃ-
১/ লিঙ্গ, পুরুষ, বয়স ১৯-৩০ ভিতরে, সেডেন্টারি বা অপ্রিশ্রমী ২৪০০-২৬০০ ক্যালারি দরকার, মোটামুটি পরিশ্রমী ২৬০০-২৮০০ ক্যালারি দরকার, পরিশ্রমী ৩০০০ ক্যালারি দরকার।
২/ লিঙ্গ, পুরুষ, বয়স ৩১-৫০ ভিতরে সেডেন্টারি বা অপ্রিশ্রমী ২২০০-২৪০০ ক্যালারি দরকার, মোটামুটি পরিশ্রমী ২৪০০-২৬০০ ক্যালারি দরকার, পরিশ্রমী ২৮০০-৩০০০ ক্যালারি দরকার।
৩/ লিঙ্গ, পুরুষ, বয়স ৫০+ সেডেন্টারি বা অপ্রিশ্রমী ২০০০-২২০০ ক্যালারি দরকার, মোটামুটি পরিশ্রমী ২২০০-২৪০০ ক্যালারি দরকার, পরিশ্রমী ২৪০০-২৮০০ ক্যালারি দরকার।
প্রচলিত কিছু খাবারে ক্যালরির পরিমাণ আপনাদের দিলাম, এটা আপনাদের সামনে থাকলে আপনার খাবারটা গ্রহন করতে সহজ হবে।
খাবার --পরিমান --ক্যালরির পরিমান(আনুমানিক)
সকাল থেকে শুরু করি,
সিদ্ধ ডিম-- ১ -- ৮০ ক্যালারি
ডিম পোচ --১ --- ৮০ ক্যালারি
ডিম ভাজি --১ --১১০ ক্যালারি
ডিমের ওমলেট--১ -- ১২০ ক্যালারি
এক স্লাইস পাউরুটি--১ --৪৫ ক্যালারি
এক স্লাইস পাউরুটি + বাটার-- ১ --৯০ ক্যালারি
রুটি বা চাপাতি-- ১ -- ৬০ ক্যালারি
পরোটা --১ --১৫০ ক্যালারি
সবজি ১-২ কাপ ১৫০ ক্যালারি
লাঞ্চ/ ডিনার
সাদাভাত ১ কাপ ২৫০ ক্যালারি
লাল চালের ভাত ১ কাপ ১৮০ ক্যালারি
ফ্রাইড রাইচ ১ কাপ ১৭০ ক্যালারি
বিরিয়ানী ১ কাপ ২০০ ক্যালারি
চাপাতি ১ -- ৬০ ক্যালারি
পুরি ১ -- ৭৫ ক্যালারি
নানরুটি-- ১-- ১৫০ ক্যালারি
ডাল ১ কাপ ১৫০ ক্যালারি
দই ১ কাপ ১০০ ক্যালারি
সবজির তরকারী ১ কাপ ১৫০ ক্যালারি
মাংস ১ কাপ অথবা ২-৩ পিস ১৭৫ ক্যালারি
সালাদ ১ কাপ ১০০ ক্যালারি
কাটলেট ১ -- ৭৫ ক্যালারি
আচার 1 tsp ৩০ ক্যালারি
ক্লিয়ার স্যুপ ১ কাপ ৭৫ ক্যালারি
ঘন স্যুপ ১ কাপ ৭৫ ক্যালারি
ফল ১ টা ১৫০ ক্যালারি
মুগ ডাল খিচুড়ি ৩/৪ কাপ ১৭৬-২১৫ ক্যালারি
প্লেন পোলাউ ১ কাপ ২৫৮ ক্যালারি
চিকেন বিরিয়ানি ১ কাপ ৪১৮ ক্যালারি
সবজি বিরিয়ানি ১ কাপ ২২০ ক্যালারি
খাসির বিরিয়ানি ১ প্লেট ৪৭০ ক্যালারি
ফ্রাইড রাইস ১ কাপ ১২০-৩৯০ ক্যালারি
রুটি জাতীয়/ অন্যান্য শর্করা সাদা পাউরুটি ১ স্লাইস ৬৭-৯৬ ক্যালারি
লাল পাউরুটি ১ স্লাইস ৬০-৮৯ ক্যালারি
বান রুটি ১টি ১৫০ ক্যালারি
সাদা আটার রুটি ১টি ৭২ ক্যালারি
লাল আটার রুটি ১টি ৬০ ক্যালারি
আলু পরোটা ১টি ৩০০ ক্যালারি
লুচি ১টি ১৪০ ক্যালারি
নান রুটি ১টি ৩১২ ক্যালারি
নান রুটি মাখন সহ ১টি ৪২৪ ক্যালারি
চালের রুটি ১টি ১০৫ ক্যালারি
রুমালি রুটি ১টি ২০০ ক্যালারি
রুমালি রুটি ঘি সহ ১টি ২৪৫ ক্যালারি
তন্দুরি রুটি ঘি সহ ১টি ১০২-১২০ ক্যালারি
তন্দুরি রুটি ঘি ছাড়া ১টি ১৪৭ ক্যালারি
নুডুলস সিদ্ধ ১ কাপ ২২০ ক্যালারি
চাওমেই ১ প্লেট ১৮২০-২৪৩০ ক্যালারি
কর্ণ ফ্লাকেস ১ কাপ (৩৫ গ্রাম) ৩৭০ ক্যালারি
ময়দা ১ কাপ ৪৫৫ ক্যালারি
সাদা আটা ১ কাপ ৪০০ ক্যালারি
লাল আটা ১ কাপ ৩৫৫ ক্যালারি
চালের আটা ১ কাপ ৫৭৮ ক্যালারি
দুধ ১ কাপ ১৪৬ ক্যালারি
লো ফ্যাট দুধ ১ কাপ/২৪০ মিলি ৯০ ক্যালারি
কনডেন্সড মিল্ক ১/২ কাপ ৪৯০ ক্যালারি
সয়া দুধ ১ কাপ ৯০ ক্যালারি
মসুর ডাল রান্না করা ১ কাপ ১০০ গ্রাম অথবা ১১০ গ্রাম ২২৬ ক্যালারি
মুগ ডাল রান্না করা ১ কাপ ১৫০ ক্যালারি
বুটের ডাল রান্না করা ১ কাপ ১০৭- ১০০ গ্রাম ১৪৫ ক্যালারি
মুরগি টিক্কা মুরগি ১০০ গ্রাম ১৪৮ ক্যালারি
মুরগি ভুনা ১০০ গ্রাম/১/২ কাপ ১৩২-৩২৩ ক্যালারি
মুরগির কোর্মা ১০০ গ্রাম ২৫০ ক্যালারি
চিকেন ফ্রাই ১টি/১২৮ গ্রাম ৩৯০ ক্যালারি
চিকেন কাটলেট ১টি ৩৭৫ ক্যালারি
মুরগির কলিজা ১০০ গ্রাম ১৭২ -১ কাপ ২৩৪ -৩৫৩ ক্যালারি
মাছ ১০০ গ্রাম ৩২৩ ক্যালারি, সব একরকম না
চিংড়ি মাছ ১০০ গ্রাম ২৬১ ক্যালারি
চিংড়ি মাছ (বড়, সেদ্ধ) ১০০ গ্রাম ১০০ ক্যালারি
গরু গরু ভুনা ১ কাপ ৪৩৪ ক্যালারি
গরুর কোর্মা ১১৫ গ্রাম ১৬৭ ক্যালারি
গরুর শিক কাবাব ১টি শিক ১৬০ ক্যালারি
গরুর সামি কাবাব ১টি ২১০ ক্যালারি
গরুর কিমা রান্না করা ২৫০ গ্রাম/১কাপ ৫৫৫ ক্যালারি
গরুর কাটলেট ১টি ৫০০ ক্যালারি
গরুর কলিজা ১০০ গ্রাম ১৩৫ ক্যালারি
খাসির রোস্ট ১০০ গ্রাম ৩০০ ক্যালারি
খাসির কোর্মা ১১৪ গ্রাম ১৪৩ ক্যালারি
খাসির কিমা রান্না ১০০ গ্রাম ১৭৫ ক্যালারি
শাক/ সব্জি মিক্সড সবজি সিদ্ধ ১ কাপ ৫০ ক্যালারি
মিক্সড সবজি ভাজি ১ কাপ ১১০ ক্যালারি
মিক্সড সবজির কোর্মা ১/২ কাপ ১৭৩ ক্যালারি
সবজির কোফতা কারি ১০০ গ্রাম ১৪৭ ক্যালারি
লাল শাক ভাজি ১/২ কাপ ৫০ ক্যালারি
মিষ্টি কুমড়া ১০০ গ্রাম ৫২ ক্যালারি
বিট / রুট বিট ১০০ গ্রাম ৪৫ ক্যালারি
পালং শাক সিদ্ধ ১ কাপ ৪১ ক্যালারি
ভর্তা, বেগুন ভর্তা ১০০ গ্রাম ৭০ ক্যালারি
আলু ভর্তা ১০০ গ্রাম ১৫০ ক্যালারি
ঢেরস ভাজি ১ কাপ ১৩০ ক্যালারি
আলুর দম ১০০ গ্রাম ১০৫ ক্যালারি
মিষ্টি আলু ১০০ গ্রাম ৭০ ক্যালারি
শালগম ১০০ গ্রাম ২৩ ক্যালারি
ফাস্ট ফুড আলুর চিপস ১ মুঠো ১৬০ ক্যালারি
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ১০০ গ্রাম ২৯৪ ক্যালারি
বিফ বার্গার ১টি ১১০-৬৬০ ক্যালারি
চিকেন বার্গার ১টি ২১০-৪৫০ ক্যালারি
চিকেন স্যান্ডউইচ ১টি ২৭৫ ক্যালারি
পিজ্জা ছোট আকারের ১৬৮০-২৩১০ ক্যালারি
চিকেন রোল ১টি ২৩৫ ক্যালারি
চিকেন শর্মা ১টি ৪৭৫ ক্যালারি
ফুসকা ১টি ৫০ ক্যালারি
চটপটি ১/২ কাপ ৫০০ ক্যালারি
পাপড় তেলে ভাজা ১টি ৪৩ ক্যালারি
পাপড় গ্রিল্ড/ মাইক্রোওভেন ১টি ৩০ ক্যালারি
From: Dr. Jahangir Kabir

জমিদার বাড়ি
বড় উঠান জমিদার বাড়ি বাংলাদেশ এর চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী উপজেলার বড় উঠান নামক এলাকায় অবস্থিত এক ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি। যা চট্টগ্রামে মিয়া বাড়ি ও স্থানীয়দের কাছে দেয়াঙ পাহাড়ের জমিদার বাড়ি নামে বেশ পরিচিত।
আনুমানিক ১৭০০ শতকের দিকে এই জমিদার বাড়ি গোড়াপত্তন হয়। তবে জমিদার বংশধররা ১৬০৯৪-৯৬ শতকের মধ্যে এই স্থানে বসবাস শুরু করেন। এই বংশের জমিদারী শুরু হয় জমিদার মনোহর আলী খানের মাধ্যমে। তিনি বাংলার নবাব শায়েস্তা খানের কাছ থেকে এই জমিদারী লাভ করেন। তবে এই জমিদার মনোহর আলী খানকে নিয়ে দ্বিমত প্রচলিত রয়েছে। কারো কারো মতে তিনি আগে থেকেই মুসলিম ছিলেন। আবার কারো কারো মতে তিনি জমিদারী লাভের পর হিন্দু ধর্মালম্বী থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরীত হন। তার পূর্ব নাম ছিল দেওয়ান রাজা শ্যাম রায়। তার মাধ্যমে এখানে জমিদারী প্রতিষ্ঠার পর একাধারে তার বংশধররা এখানে জমিদারী পরিচালনা করতে থাকেন। তারা হলেন, রুস্তম আলী খান, দেওয়ান হোসাইন খান, আলী মর্দন খান, আলীয়ার খান, ফাজিলখান, ইলিয়াছ খান, আমীর খান, করিম খান, আছদ আলী খান, জিন্নত আলী খান, আকরাম আলী খান, আছত আলী খান, আনোয়ার আলী খান এবং ছালামত আলী খান। আনোয়ার আলী খানের বংশধররা হলেন মাহাবুব আলী খান (নিঃসন্তান), শের আলী খান এবং আনোয়ার হোসেন খান। আনোয়ার হোসেন খানের বংশধররা হলেন ছানোয়ার আলী খান, শের আফজল খান এবং সাজ্জদ খান। অপরদিকে ছালামত আলী খানের দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর গর্বে তিন ছেলে। তারা হলেন আলী নেওয়াজ খান, আলী নবাব খান এবং আলী আহম্মদ খান। দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই সন্তান হলেন, আলী আকবর খান ও আলী আশরাফ খান। আলী আকবর খানের পুত্ররা হলেন শওকত আলী খাঁ, ওকাইয়ুম খান। আলী আশরাফ খানের পুত্ররা হলেন আলী আমজাদ খান, রেজাউল করিম খান, মোশারফ হোসেন খান এবং আলী আজম খান। এনারা সকলেই বংশ পরামপণায় একের পর এক প্রায় ৩০০ বছর ধরে মোঘলদের শাসনামল থেকে ব্রিটিশদের শাসনামল পর্যন্ত এই জমিদারী পরিচালনা করতে থাকেন। তাদের এই ৩০০ বছরের জমিদারী আস্তে আস্তে চট্টগ্রাম ছেড়ে হাতিয়া ও নোয়াখালির বিভিন্ন এলাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাদের অধীনে চট্টগ্রামের অনেক ছোটছোট জমিদাররা কাজ করতো। অর্থাৎ ঐ জমিদাররা এই জমিদারদের আওতায় তালুকি জমিদার ছিল। এই জমিদার বংশধররা তাদের বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজের সুবিধার জন্য কাজি, মহুরি, সিকদার, নাপিত, ধোপা, কামার–কুমারসহ অনেক পেশাজীবী কর্মচারী রাখতেন। এইসকল কর্মচারী সকলেই জমিদার বাড়িতে বসবাস করতেন।
সোর্সঃ উইকিপিডিয়া
❤Islamic Post❤
#যারা_মাযহাবের_প্রয়োজনীয়তা_বুঝতে_চান
বেসিক আলোচনা
ছোট বেলা থেকে না জেনেই হানাফী মাজহাব পালন করে বড় হয়েছি। নামাজ শিক্ষার যে বই গুলি বাসায় ছিল - সব ছিল নিউজপ্রিন্টের। ভিতরে খালি মাসআলা ছিল। কুরআন হাদিসের কোন রেফারেন্স ছিলোনা। ছিল ব্র্যাকেটে ফতোয়ায়ে আলমগিরির রেফারেন্স। যা কি জিনিস জানতাম না।
বড় হলে আহলে হাদীস ও সালাফিদের বই পড়লাম। কুরআন ও হাদিসের প্রচুর রেফারেন্স দেয়াতে খুব ভালো লাগলো। তারা বললো: তুমি এসব মাজহাব ছাড়। সহীহ হাদিস মেনে ইবাদত করো। অন্ধ তাকলীদ করো না।
হানাফীরা ইমাম আবু হানিফা ও অন্যন্য মুকাল্লিদরা অন্যন্য ইমামদের ফিকহ মানে, এর চেয়ে সহীহ হাদিস মানো । একটু এক্সট্রিম কেউ কেউ তাকলীদকে শিরক বললো, বললো বুদ্ধি থাকলে তাকলীদ করতে হবে কেনো। এরকমই আরো কিছু কথা সুন্দর সুন্দর কথা ।
আমার কথা গুলো বেশ মনে ধরলো। হানাফী থেকে আহলে হাদীস ইচ্ছা জাগলো । মাজহাবের তাকলীদ বাদ দিয়ে সহীহ হাদিসের উপর আমল করার ইচ্ছা জাগলো। হাতে টাকা ছিল - জোগাড় করলাম সিহাহ সিত্তাহ, বাংলা-আরবী। আরবী স্কিপ করে বাংলায় সহীহ হাদিস পড়া শুরু করলাম।
কিন্তু ওযু ও গোসল অধ্যায়ই শেষ করতে পারলাম না। নামাজ তো আরো পরে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ওযুর বিভিন্ন ধরণের বর্ণনা আছে। কোনটা মেনে ওযু করবো ? ছোট একটা জিনিসই ধরি। কিছু জায়গায় অঙ্গ দুবার করে ধোয়ার কথা বলা আছে , কিছু জায়গায় তিনবার, কিছু জায়গায় একবার। আমি যদি দুবার করে ধৌত করি তাহলে একটা সহীহ হাদিস আমি মান্য করছিনা, তিন বার ধুলে অন্য আরেকটি সহীহ হাদিস মান্য করছিনা ।
প্রশ্ন ১: আমি এই যে কিছু সহীহ হাদিস মানতে যেয়ে অন্য সহীহ হাদিস মান্য করছিনা, সেগুলো খুঁজে খুঁজে বের করে রেফারেন্স দিয়ে কেউ যদি বলে আমি সহীহ হাদিস মানিনা সেটা কি ঠিক হবে ? এর মানে কি আমি সহীহ হাদিস অমান্যকারী ?
এখন আমার কথা না হয় বাদই দিলাম। আমি পড়ালেখা করেছি, বই পড়ার উৎসাহ আছে, ইসলামের প্রতি ঝোক আছে। এদের কথা ধরেন : আমাদের বাসার বুয়া বা বিল্ডিং এর কেয়ারটেকার পড়াশোনা করতে পারেনা। আমার বন্ধু কয়েকজন যারা পড়ালেখা জানলেও ইসলামী বই অধ্যায়ন করেনা কারণ ইসলামের প্রতি আগ্রহ নেই । আমার ছেলে যার বয়স যখন ৭ হয়েছে। এদের কেউ ওযু পারেনা।
প্রশ্ন ২: তাদের কে শিখানোর জন্য যদি আমি যদি বুখারীর ও অন্যন্য হাদিস গ্রন্হের ওযু অধ্যায়ের সহীহ হাদিস গুলি সিরিয়ালি তাদের কাছে শুধু বাংলায় রিডিং পড়া শুরু করি, তারা কি সেগুলি বুঝে ঠিক মতো আমল করতে পারবে ?
প্রশ্ন ৩: যদি তারা না বুঝে তাহলে তো আমাকে তাদের দেখিয়ে দিতে হবে কিভাবে ওযু করতে হয় । তখন আমি বুখারীর ও অন্যন্য হাদিস গ্রন্হের ওযু অধ্যায়ে উল্লেখিত বাংলা সহীহ হাদিস গুলি সমন্বয় করে বা সেখান থেকে বেছে নিয়ে আমার বুঝ অনুযায়ী তাদের শিখাবো। এতে কি তারা সহীহ হাদিস মানলো নাকি আমার বুঝ ও ব্যাখ্যা মানলো ? এই ব্যাখ্যাই কি ফিকহ না ?
প্রশ্ন ৪: যখন আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি, তখন আমার হাদিসের টেক্সট ও রেফারেন্স দেয়া কি আমার জন্য জরুরি হবে ? বাস্তবেই কি তারা প্রত্যেকটির শিক্ষার পিছনের হাদিসের রেফারেন্স চাবে ? নাকি বলবে শুধু ওযু শিখিয়ে দাও ? এটি কি আমার উপর বিশ্বাস করে অন্ধ তাকলীদ করা নয় কি ? যদি রেফারেন্স দিয়েও দি তাও কি তারা সহীহ থেকে জাল হাদিস পার্থক্য করতে পারবে ?
প্রশ্ন ৫:একটি হাদিস যে আমি সহীহ হাদিস কিভাবে বুঝছি ? ব্র্যাকেটে লেখা আছে বলে। আমার অওকাদ নাই হাদিস শাস্ত্র অধ্যয়ন করে সহীহ যঈফ আলাদা করার। কেউ তাহকীক করে লিখে দিয়েছে। সেটাই চোখ বন্ধ করে মেনে নিচ্ছি। কেউ বুখারী অনুবাদ করে দিয়েছে, আমিও মেনে নিচ্ছি সেটা সঠিক অনুবাদ, কারণ আমার পক্ষে আরবি বুঝে অনুবাদের ত্রুটি ধরা সম্ভব না । এই তাহকীক ও অনুবাদ যে সঠিক মেনে নেয়া হচ্ছে সেটা কি অন্ধ তাকলীদ নয় ?
প্রশ্ন ৬: ওযুর মতো অতি সহজ ব্যাপারে আমার যদি এই অবস্থা হয়, নামাজের মতো অতি জটিল ব্যাপারে কি আমার মতো নিকম্মার পক্ষে সহীহ হাদিস পড়ে নামাজ শিক্ষা করা কিভাবে সম্ভব ? যদি আমার পক্ষেই সম্ভব না হয় আমার ৭ বছরের ছেলে কিংবা পড়ালেখা না জানা বুয়ার পক্ষেই বা কিভাবে সম্ভব ?
প্রশ্ন ৭: যদি সম্ভব না হয় তাহলে আমাকে এমন একজনের আলিমের দারস্ত হতে হবে যে সব হাদিস পড়ে বুঝে আমাকে নামাজের নিয়ম কানুন বুঝিয়ে দিবে তাইনা ? হাদিস গুলির সমন্বয় করে যদি উনি ব্যাখ্যাই করেন তাহলেই ফিকহ তো ফিকহ হয়ে গেলো । এই ক্ষেত্রে আমি কি সহীহ হাদিস মানছি নাকি ফিকহ ? এই ফিকহ মানার মাধ্যমে আমি কি বাস্তবে আমি সমন্বয়কৃত সহীহ হাদিসই মানছি না ?
প্রশ্ন ৮: আমি যদি আরেকজন আলিমের কাছে যাই এবং একই অনুরোধ করি হাদিস ঘেটে নিয়ম কানুন বানিয়ে দেয়ার জন্য । উনিও সব হাদিস ঘেটে আমাকে নিয়ম বানিয়ে দিলেন। প্রথম আলিমের নিয়ম গুলি আর দ্বিতীয় আলিমের নিয়ম গুলি কি হুবুহু একই হবে ? নাকি তাদের দুজনের সমন্বয় পদ্ধতি আলাদা হতে পারে ?
একজনের কাছে এক হাদিস বেশি সহীহ অন্য জনের কাছে কম সহীহ লাগতে পারে না ? দুজন একই হাদিসের অর্থ কে দুই ভাবে নিতে পারে ? তারা কি আরবি ইবারত ভিন্ন ভাবে পড়তে পারেনা ? হাদিসের শত শত কিতাবের উনি হয়তো কিছু পড়েছেন অন্যজন কিছু ? রাবী দুর্বল কিনা এই নিয়ে ইখতেলাফ আছেনা ? কারো কারো মতে বুখারী সব চেয়ে সহীহ, কারো মতে মুয়াত্তা ইমাম মালিক, এরকম অচেনা ?
আরো কত কারণ আছে, হাদিস শাস্ত্র কি অংকের মতো যে রেজাল্ট একটাই হবে ? তাহলে দুজনেরই সহীহ হাদিস মানা সত্ত্বেও দুজনের নামাজের নিয়ম দুই ধরণের হতে পারেনা ? আমার কি সেই যোগ্যতা আছে যে আমি বলতে পারবো প্রথম জন বেশি ঠিক না দ্বিতীয় জন ?
প্রশ্ন ৯: ধরেন আমি প্রথম আলিমের কাছে যাওয়ার পর উনি আমার অনুরোধে সকল হাদিস ঘেটে আমার জন্য নামাজের নিয়ম বানিয়ে দিয়েছেন। এখন আমার ভাই যদি তার কাছে যেয়ে একই অনুরোধ করে তাহলে কি তিনি এই কাজটি হাদিস ঘাটার কাজটি কি আবার করবেন ? নাকি আমাকে যে নিয়ম গুলি উনি দিয়েছেন সেগুলিই আমার ভাইকেও দিয়ে দিবেন ? আমার ভাই আজ থেকে ১০ বছর পর গেলে একই নিয়মি তো পাবেন ওই আলিম থেকে তাইনা (কারণ যে হাদিস দেখে নিয়ম তৈরী করেছেন সেই হাদিস তো আর ১০ বছরে পরিবর্তন হয়নি) ? ৫০ বছর পর কেউ গেলে ? এখানে কি নামাজের নিয়ম পরিবর্তন হওয়ার খুব বেশি সুযোগ আছে ? ১৩০০ বছর পর ? নাকি প্রত্যেকবার শুরু থেকে হাদিস ঘাটতে হবে ?
যদি পরে আমরা প্রথম আলিমের বের করা নিয়ম কে মাজহাব বা ফিকহে X ও দ্বিতীয় আলিমের বের করা নিয়ম কে মাজহাব বা ফিকহে Y নাম দি , তাহলে X ও Y ফলো করা কি ১৩০০ বছর পর হারাম হয়ে যাবে, যেখানে এটি ১৩০০ বছর আগে সহীহ ছিল ?
প্রশ্ন ১০: নামাজ তো আর নতুন জিনিস না। এটি ইসলামের শুরু থেকে চলছে। তাহলে এই হাদিস ঘাটাঘাটি করে নামাজের নিয়ম বের করার কাজও তখন থেকেই হওয়ার কথা। তখন থেকেই যদি ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বা ইমাম মালিক (রহঃ) বা ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বা ইমাম আহমদ (রহঃ) যদি এই হাদিস ঘাটাঘাটি করে নামাজের নিয়ম বের করার কাজটি করে গিয়ে থাকেন, নামাজের নিয়ম তো আর পরিবর্তন হয়নি, তাহলে এখন সেগুলি মানতে সমস্যা কোথায় ?
ইমাম নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেব এই যুগে এসে হাদিস ঘাটাঘাটি করে যে নিয়ম বের করেছেন তা ওগুলোর উপর প্রাধান্য পাবে কেন ? ওই চার ইমামের কারো যোগ্যতা কি ইমাম নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেবের চেয়ে কম ছিল ?
প্রশ্ন ১১: এখন যদি কেউ বলেন যে সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ওফাতের পর সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে দুটি বিষয় হতে পারে।
হয়তো প্রধান সাহাবীরা যেসব এলাকায় গিয়েছিলেন বা ছিলেন সেসব জায়গায় নামাজ সম্পর্কিত সব হাদিস ছিল। এই ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফার কাছে কুফায় বা ইমাম মালিকের কাছে মদিনায় নামাজ সংক্রান্ত সব হাদিস ছিল। এই ক্ষেত্রে তারা এসব বেছেই নামাজের নিয়ম বানিয়েছেন। ওই নিয়ম ফলো করতে আপত্তি কোথায় ?
অথবা . সাহাবীরা যেসব এলাকায় গিয়েছিলেন সেখানে নামাজ সম্পর্কিত সব হাদিস ছিলোনা, কিছু হাদিস ছিল।
তাই কোনো এক এলাকায় যেমন ইমাম আবু হানিফার কুফায় কিংবা ইমাম মালিকের মদিনায় সব হাদিস ছিলোনা। পরে সব হাদিস একত্রিত হয়েছে। তাই সব হাদিস বাছাই করে বানানো ল্যাটেস্ট ইমাম আলবানী সাহেবের নামাজের নিয়ম বেশি শুদ্ধ।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে ওই সব এলাকায় আংশিক হাদিস থেকে বানানো আংশিক নামাজের নিয়ম পালন করে যদি সালাফ তথা তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈনরা শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম হয় তাহলে ওই আংশিক নিয়ম পালন করলে আমরা কেন ধরা খাব কিংবা সাওয়াব কম পাবো ?
প্রশ্ন ১২: সুন্নাহর বিস্তার এর একমাত্র মাধ্যম কি হাদিস ? এছাড়া কোন মাধ্যম নেই ? ওযুর কথাই ধরুন না। যখন সাহাবীরা তাদের সন্তান বা তাবেঈদের ওযু শিক্ষা দিতেন তখন কি শুধু হাদিস বর্ণনা করতেন ?
নাকি হাতে কলমে নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছ থেকে শেখা ওযুর মতো করে ওযু করে অন্যদের শিক্ষা দিতেন ?
তাহলে তাবেঈ বা তাবে-তাবেঈনদের সংস্পর্শে এসে প্র্যাকটিকাল নামাজ শিক্ষার পদ্ধতি ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) কিংবা ইমাম মালিকের (রহঃ) বেশি জানার কথা নাকি ইমাম নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেবের।
ইমাম আলবানীর কাছে তো শুধু হাদিস আছে , কিন্তু ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিকের কাছে হাদিসের সাথে সাথে প্র্যাকটিকাল শিক্ষাও তো ছিল। কার নামাজের নিয়ম বেশি শুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ?
প্রশ্ন ১৩ : ইমাম চতুষ্টয়ের বানানো নামাজের নিয়ম প্রায় ১৩০০ বছর ধরে মুসলিম উম্মাহ ফলো করে আসছে। উম্মাহর ইতিহাসের বাঘা বাঘা আলিম এগুলি মেনে নামাজ পড়েছেন । এমন সময় যখন ইসলাম দুনিয়াতে বিজয়ী ছিল, যখন মুসলিমদের ঈমান আমল ও ইখলাস বর্তমান মুসলিমদের চেয়ে বেশি ছিল। আর ইমাম নাসিরুদ্দিন আলবানীর তৈরী নামাজের নিয়ম অপেক্ষাকৃত অনেক কম মানুষ অনেক কম দিনের জন্য ফলো করছে, যখন মুসলিমদের ঈমান, আমল ও আখলাক সব চেয়ে নিচে। প্রথমোক্ত গ্রূপের বহু মুসলিমদের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি নাকি দ্বিতীয় গ্রূপের কম মুসলিমদের ?
প্রশ্ন ১৪: কুরআনে বলা আছে শুধু মাত্র বাপ দাদারা করতো বলে কোন কিছু করা উচিত না। কিন্তু তা কি মুশরিক বাপ্ দাদাদের ব্যাপারে বলা হয়নি ? বাপ্ দাদা যদি মুসলিম হয় তাহলে তো তাদের মান্য করতে কোনো দোষ আছে ?
যেমন নবী ইয়াকুব (আঃ) মৃত্যুর সময় তার পুত্রদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন তারা তার পরে কার ইবাদত করবে । তার ছেলেরা উত্তর দিয়েছিলেন তাদের বাপ্ দাদাদের উপাস্যের। বাপ্ দাদা সঠিক রাস্তায় থাকলে সেই রাস্তা দিয়ে হাটা যাবেনা এমন কথা কি বলা আছে ? নূহ (আঃ) এর ছেলে যদি এই যুক্তি দিত যে বাপ্ দাদা মেনে আসছে বলে আমরা মানবোনা এটা কি সঠিক হতো ?
এসব প্রশ্নের উত্তর আমাকে সালাফী হতে দিলোনা।
আমি হানাফীই থাকলাম। এবং মন ভরে দুআ করলাম সেই সব আলিমদের যারা আমাদের জন্য নিজেদের সারা জীবন বিলিয়ে দিয়ে সহজ ফিকহের কিতাব লিখে গিয়েছেন, যা মাত্র ১০০/২০০ টাকা দিয়ে কিনে কিংবা আলিমের সোহবতে শিখে আমল করে আমরা অমূল্য অফুরন্ত অনিঃশেষ জান্নাতের জন্য কাজ করতে পারি।
বি. দ্রঃ- ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) একজন তাবেয়ী।
Online Business
করোনা মহামারী যেন একপ্রকার আর্শীবাদ হয়েই এসেছে বিশ্ববিখ্যাত অনলাইন বেচাকেনার প্ল্যাটফর্ম 'অ্যামাজন'- এর জন্যে।
ডিসেম্বর থেকে এখন অবধি, বিশ্বের নামকরা, বাঘা বাঘা শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান যেখানে অচল হয়ে আছে, পৃথিবী-ব্যাপী মানুষ যখন ঘরের দরোজা লাগিয়ে ভাইরাস থেকে বাঁচতে মরিয়া, তখন যেন সত্যিকারের 'আঙুল ফুলে কলাগাছ' হয়ে আছে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা মালিক জেফ বেজোসের। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, অ্যামাজন তাদের তো বটেই, পণ্য বেচাকেনায় তারা হালের অনেক ডাকাবুকো রেকর্ডকে অনায়েশে টপকে গেছে এবার।
জানা যায়, এই ক'মাসেই অ্যামাজনের শেয়ারের দাম বেড়ে গেছে ২৬% যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
অ্যামাজন বই বেচার জন্যে এদেশে বিখ্যাত হলেও, পুরো বিশ্বে অ্যামাজন নিত্য প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যাদি বেচাকেনার জন্যে সুপরিচিত।
বলতে চাচ্ছি, একটা আইডিয়া কখন এবং কিভাবে যে আপনার জন্য শাপে বর হয়ে উঠবে, তা আপনি ধারণাও করতে পারবেন না। অ্যামাজনের দিকেই তাকান। পুরো বিশ্বে যেখানে মন্দা আর অর্থনীতির বেজায় দূর্দশা, সেখানে তারা করছে স্মরণকালের সেরা ব্যবসাটাই।
বিদেশী অ্যামাজনের কথা নাহয় বাদ-ই দিলাম। স্বদেশের সুপরিচিত অনলাইন বেচাবিক্রির প্ল্যাটফর্ম 'চালডাল ডট কম'- এর কথা যদি বলি, তারাও সম্ভবত তাদের প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে রেকর্ড পরিমাণ বিক্রিটা করছে এখন।
আমি খোঁজ নিয়েছি, চালডাল ডট কমে আজকে অর্ডার দিলে সেই অর্ডার দিতে তারা নাকি সাত থেকে দশদিন সময় নিচ্ছে। কি পরিমাণ অর্ডার জমা হলে আজকের অর্ডার আপনাকে সাত থেকে দশদিন পর দেওয়া লাগে ভাবতে পারেন?
না, তাদের ব্যবসাগুলোকে দোষারোপ কিংবা নিন্দা-মন্দ করছিনা আমি, কেবল তাদের আইডিয়াগুলো যে কি 'সুপার ক্লিক' করেছে এই সময়ে, সেটা বলাই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য।
সুতরাং, আমি আসলে কি বলতে চাচ্ছি?
আমি বলতে চাচ্ছি, ব্যবসা করেন। চাকরির পেছনে হন্যে হয়ে না ছুটে, অনেক বেশি ব্যবসায় জড়িত হোন। ব্যবসায়ে আছে অন্যরকম বারাকাহ। কুরআনে বলা আছে, 'আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন, সুদকে করেছেন হারাম'।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাটা এমন যে, এখানে আপনার পছন্দ এবং আগ্রহের বিষয়ে নিজেকে বিকশিত করার খুব বেশি সুযোগ আপনার সামনে থাকে না। যে ছেলেটার অঙ্ক পছন্দ, তাকে মুখস্ত করতে হয় পদ্মা সেতুর পিলারের দৈর্ঘ্য আর প্রস্থ। যে লিখতে ভালোবাসে, তাকে শিখতে হয় ম্যানেজমেন্টের তত্ত্বকথা। যে হয়তো-বা ভালো ব্যবসায়ী কিংবা ভালো উদ্যোক্তা হবার যোগ্যতা রাখে, সে হয়ে বসে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। মোদ্দাকথা, প্রতিভা বিকাশের সুযোগ খুব স্বল্পই আপনার সামনে।
ব্যবসা করতে বলার উদ্দেশ্যে কয়েকটা। প্রথমত, এখানে আপনি আপনার প্রতিভার সবটুকু দেওয়ার সুযোগ পাবেন। যেহেতু নিজেই উদ্যোক্তা হবেন, তাই আপনার মেধা আর মননকে বিকশিত করার এরচেয়ে ভালো পন্থা আর পাবেন-ই না। দ্বিতীয়ত, একটা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা মানে কেবল আপনি একা নন, সেখানে যুক্ত হবে অনেক অনেক মানুষ। আপনার একটা উদ্যোগের ফলে, আপনি হয়ে উঠবেন অনেকগুলো মানুষের হালাল রিযিকের মাধ্যম।
তবে, ব্যবসা-ই যে করতে হবে, তা নয়। লেখাটার সারবস্তু হচ্ছে, নিজের পছন্দের বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে, সেটাতেই লেগে থাকা। সেটা ব্যবসা হতে পারে, লেখালেখি হতে পারে, হতে পারে হালাল যেকোনকিছু।
ব্যবসা মানে অনেকের চোখে কেবল তরি-তরিকারি বিক্রির দৃশ্য ফুটে উঠে। আদতে ব্যবসার সংজ্ঞা, অর্থ এবং পরিধি অনেক অনেক বিশাল। একটা আইটি ফার্মও একটা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। আপনি হতে পারেন সেটার উদ্যোক্তা। যার নিজের একটা ছাপাখানা আছে যেখানে মানুষেরা বই ছাপায়, ওটাও একটা ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান। আবার যে লোক টুপি বেচে, কিংবা অনলাইনে মধু বিক্রি করে, তারটাও ব্যবসা।
তাই, নিজের আগ্রহের জায়গাটা খুঁজে বের করে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। An idea can change your life.
Blood Plasma
Blood plasma is the yellow liquid part of blood. In normal blood, the blood cells are suspended in the plasma.
Plasma makes up about 55% of the total blood volume. It is mostly water (90% by volume) and contains dissolved proteins, glucose, clotting factors, mineral ions, hormones and carbon dioxide. Plasma is the transport medium for excretion.
In hospitals, blood plasma is extracted to either for medical therapy (plasmapheresis) or diagnostics tests (clinical chemistry, immunology,…) : an anti-coagulant stops the blood clotting. Then tubes of blood are spun very fast in a centrifuge. The blood cells go to the bottom of the tubes. The plasma is poured into another container.
Blood serum is blood plasma without fibrinogen or the other clotting factors (that is, whole blood minus both the cells and the clotting factors).
Source: https://www.horiba.com/en_en/technology/measured-and-controlled-objects/liquid/blood-plasma/
Covid-19 & Safety
করোনাকে সঙ্গে নিয়ে বাঁচবেন কী করে?
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অমিতাভ নন্দী বললেন, “নিয়ম মানলে তো ভাল। কিন্তু যা হচ্ছে তা কোনও নিয়ম নয়। অবৈজ্ঞানিক সব ব্যাপার। এই যে গরমের মধ্যে ঘণ্টায় ঘণ্টায় গরম জল খাচ্ছেন, চা খাচ্ছেন, কী এর কারণ? ভাইরাস মরবে? ভাইরাসকে মারতে গেলে জলের তাপমাত্রা যা হতে হবে, তাতে তো মানুষই মরে যাবে! অত চা খেলে অম্বল বাড়বে না!’’ অমিতাভবাবু বলছেন, কেউ আবার রোদে দাঁড়িয়ে থাকছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কারণ তাতে ভিটামিন ডি তৈরি হবে, করোনা পালাবে! ভিটামিন ডি দরকার। এখন বলে নয়, সব সময়েই দরকার। কিন্তু বাড়াবাড়ি করলে তো বিপদ। তাঁর অভিমত: ‘‘আসলে মানুষকে ভাল করে বোঝানো হচ্ছে না। স্রেফ বলে দেওয়া হচ্ছে এটা করো, ওটা করো। কেন করতে হবে, না করলে কী হবে তা না বুঝলে যা হয়। কেউ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কেউ বাড়াবাড়ি করছেন। আর রোগ থেকে যাচ্ছে রোগের মতো। অতিমারির মোকাবিলা এ ভাবে হয় না।’’ তাঁর পরামর্শ, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হয়। ট্রেনিং দিতে হয় লাগাতার। তারপর সবাই যখন বোঝেন এই পথে চললে ভাল হবে, তাঁরা নিজেরাই ঠিকঠাক নিয়ম মানেন, উপর থেকে চাপিয়ে দিতে হয় না।”
ঠিকঠাক নিয়মগুলি কী কী
• ‘‘রোগ ঠেকানোর ৮০ শতাংশ চাবিকাঠি আছে হাত ধোওয়ার মধ্যে।” বলছেন জনস্বাস্থ্য বিষয়ক চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী, “কিন্তু তার মানে এই নয় যে ঘণ্টায় ঘণ্টায় হাত ধুতে হবে। আপনি যদি এমন জায়গায় হাত দেন যেখানে জীবাণু থাকার আশঙ্কা আছে, যেমন গণপরিবহণে উঠলে, ভিড় কাটিয়ে বেরলে, লিফটের বোতাম-দরজার হাতল বা সিঁড়ির রেলিং ধরলে, পাঁচ জন ব্যবহার এমন কিছুতে হাত দিলে, টাকা দেওয়া-নেওয়া করলে ইত্যাদি, সেই হাত নাকে-মুখে-চোখে বা অন্য কোথাও লাগার আগেই ভাল করে ধুয়ে নিতে হয়। ধুতে হয় খাওয়ার আগে, টয়লেট থেকে এসে। কাজেই বাইরে বেরনোর সময় সঙ্গে ছোট একটা সাবান ও ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল আছে এমন স্যানিটাইজার নিন। কিছু টিস্যু পেপার বা পরিষ্কার রুমাল রাখুন। হাত ধোওয়ার সুযোগ থাকলে সাবান জলে হাত ধুয়ে নিন। না হলে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। সাধারণ সাবান হলেই হবে। অ্যান্টিব্যাক্টিরিয়াল সাবানের কোনও দরকার নেই। তার আলাদা কোনও ভূমিকা নেই। তা ছাড়া আপনার লড়াই তো ব্যাক্টিরিয়ার বিরুদ্ধে নয়, ভাইরাসের বিরুদ্ধে।”
• সাধারণ মানুষের গ্লাভস পরার দরকার নেই। নিয়ম মেনে না পরলে উল্টে বিপদের আশঙ্কা বেশি। তার চেয়ে হাত ধুয়ে নেওয়া অনেক নিরাপদ।
• রাস্তায় বেরলে মাস্ক বাধ্যতামূলক। অফিসেও পরে থাকবেন। কাপড়ের ট্রিপল লেয়ার মাস্ক সবচেয়ে ভাল। তবে গরমে অসুবিধে হলে ডাবল লেয়ারই পরুন। বেশ বড় মাপের। নাকের উপর থেকে চিবুকের নীচ ও কান পর্যন্ত গালের পুরোটাই ঢাকা থাকতে হবে। আপনার ৬ ফুটের মধ্যে কেউ যেন মাস্ক না পরে আসেন, সে দিকে খেয়াল রাখবেন। বাড়ি ফিরে সাবান জলে মাস্ক ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। বা যদি ৫টা মাস্ক থাকে ও আলাদা করে রাখার জায়গা থাকে, পর পর ৫ দিন আলাদা আলাদা মাস্ক পরে আবার ষষ্ঠ দিন আবার এক নম্বর মাস্ক দিয়ে শুরু করতে পারেন। রোগ ঠেকানোর ২০ শতাংশ দায়িত্ব আছে মাস্কের উপর।
• মাস্ক পরছেন বলে মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখবেন না, এমন যেন না হয়। ৬ ফুটের বেশি দূরত্ব রাখতে পারলে সবচেয়ে ভাল। নয়তো কম করে ৩ ফুট।
• চোখে চশমা থাকলে আর কোনও সাবধানতা লাগবে না। না থাকলে রোদচশমা পরে বেরন। কারণ চোখ দিয়েও কিন্তু জীবাণু ঢুকতে পারে।
• বড় চুল হলে চুল ভাল করে বেঁধে স্কার্ফ বা ওড়নায় মাথা ঢেকে নেবেন। কারণ বাসে-ট্রামে খোলা চুল অন্যের নাকে-মুখে উড়ে লাগতে পারে। তাঁদের রোগ আছে কি না তা তো জানেন না। সেই চুল আপনার নাকে-মুখে লাগলে বিপদ হতে পারে। তা ছাড়া বড় চুলে রোজ শ্যাম্পুও করা যায় না। বিপদ বাড়ে তা থেকে।
• নিয়মিত ধোওয়া যায় এমন চটি বা জুতো পরে বেরবেন।
• গয়নাগাটি পরে বেরবেন না। কারণ ধাতুর উপর প্রায় পাঁচ দিন থেকে যেতে পারে জীবাণু। ঘড়ি পরারও দরকার নেই।
• অফিসে নিজস্ব কাপ রেখে দেবেন। সাবান-জলে ধুয়ে সেই কাপে চা বা কফি খাবেন। ক্যান্টিন থেকে যে পাত্রেই আসুন, চা-কফির তাপে সেখানে জীবাণু থাকবে না। ভয় নেই।
• বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে যাবেন। নয়তো খোসা ছাড়িয়ে খেতে হয় এমন ফল খাবেন। প্যাকেটের বিস্কুট বা বাদাম খেতে পারেন মাঝেমধ্যে। প্যাকেট খুলে পরিষ্কার করে ধোওয়া পাত্রে ঢেলে তারপর হাত ধুয়ে খাবেন।
• রাস্তার কিছু খাওয়া এ সময় ঠিক নয়। বড় রেস্তরাঁয় যদি সব নিয়ম মেনে খাবার বানানো হয়, এক-আধ বার খেতে পারেন। তবে সে সবও যত এড়িয়ে যেতে পারবেন তত ভাল। খাবার বাড়িতে এনে গরম করে খেলে অবশ্য অসুবিধে নেই।
• জুতো বাইরে খুলে ঘরে ঢুকবেন। পাঁচ জোড়া জুতো থাকলে এক এক দিন এক একটা পরতে পারেন। ষষ্ঠ দিনে আবার প্রথম জোড়াটা পরবেন। কারণ ৫ দিন পর্যন্ত ভাইরাস লেগে থাকতে পারে জুতোয়। না থাকলে সাবান-জলে জুতো ধুয়ে তবে ঘরে ঢোকাতে পারবেন। এর পর নির্দিষ্ট কাবার্ড বা ঝোলায় ব্যাগ রেখে বাথরুমে গিয়ে জামাকাপড়, চশমা সাবান-জলে ধুয়ে, তুলোয় স্যানিটাইজার ভিজিয়ে মোবাইল পরিষ্কার করে ভাল করে সাবান মেখে, শ্যাম্পু করে স্নান করবেন।
• বাড়িতে কাজের লোক বা অন্য কেউ এলে ঘরে ঢোকার আগে হাত এবং পা ভাল করে সাবান জলে ধুয়ে নিতে হবে। ধোওয়া মাস্ক পরতে হবে। স্নান করে জামাকাপড় বদলে নিতে পারলে আরও ভাল।
• খাওয়াদাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে। বাহুল্য বর্জিত হালকা খাবারই ভাল এই সময়। ঘরে বানানো সাধারণ বাঙালি খাবার। ভাজা-মিষ্টি একটু কম খাওয়া ভাল। ফল খাবেন সুবিধেমতো। মাছ-মাংস-ডিম, যাঁর যেমন সুবিধে।
বাসে-ট্রেনে ওঠার সময় নিয়ম মেনে চলতে হবে।
• প্রচুর জল খাওয়ার কোনও দরকার নেই। শরীর যতটুকু চায় ততটুকু খেলেই হবে।
• ভেষজ উপাদান খেতে ইচ্ছে হলে খাবেন। না খেলেও ক্ষতি নেই। কারণ আদা, ভিনিগার ইত্যাদিরা ভাইরাস মারতে পারে না। পুষ্টিকর সহজপাচ্য খাবার খেলে, অল্প ব্যায়াম করলে ও ভাল করে ঘুমোলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিই ঠিক থাকবে।
• গায়ে হালকা রোদ লাগানো খুবই দরকার। সকালের দিকে একটু মর্নিং ওয়াকে গেলে ব্যায়ামও হবে, রোদও লাগবে গায়ে। ভাইরাস বাতাসে ভেসে বেরায় না। কাজেই ভয় নেই। সময় থাকলে একটু বেলার দিকেও বেরতে পারেন। চড়া রোদ ঠেকাতে ছাতা নিয়ে নেবেন। মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখাও সহজ হবে।
• অনেকের ধারণা সান বাথ নিলে ভাইরাস মরে। ভুল ধারণা। গরমের মধ্যে ও সব করার দরকার নেই।
• জিম বা বিউটি পার্লারেও এখনই যাওয়ার দরকার নেই।
COURTESY: Dr.Amitava Nandi ...
Covid-19
★ Covid 19 থেকে ফিরে আসা একজনের অভিজ্ঞতা:
1. ভিটামিন সি (যথাসম্ভব)
2. ভিটামিন ই (ট্যাবলেট পাওয়া যায়)
3. প্রতিদিন সকাল ১১টার মধ্যে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রোদ পোহানো.
4. কমপক্ষে একটি করে ডিম প্রতিদিন।
5. প্রতিদিন কমপক্ষে ৭-৮ ঘন্টা ঘুম।
6. প্রতিদিন কমপক্ষে ১.৫ লিটার পানি পান এবং প্রতি বেলায় গরম খাবার খাওয়া.
এই কাজ গুলোই হাসপাতালে করা হয়।
★ করোনা ভাইরাসের দেহের pH এর মান 5.5 থেকে 8.5
★ তাই এর চেয়ে বেশি pH level এর খাবার গ্রহনের মাধ্যমে আমরা এর রাসায়নিক গঠন ভেংগে দিতে পারি।
★ 5.5 থেকে 8.5 এর থেকে বেশি pH level এর কিছু খাবার হল :
* লেবু - 9.9 pH
* পাতিলেবু - 8.2 pH
* রসুন- 13.2 pH *
* আম- 8.7pH
* ছোট কমলা - 8.5pH
* আনারস- 12.7 pH
* ডালিয়া ফুল - 12.7 pH
* কমলালেবু - 9.2 pH
★ আপনি কিভাবে বুঝবেন যে আপনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত?
1. গলা চুলকাবে
2. গলা শুকিয়ে আসবে
3. শুকনা কাশি হবে
4. তীব্র জ্বর
5. শ্বাস ছোট হয়ে আসবে
6. গন্ধ ও স্বাদের অনুভুতি চলে যাবে
★ তাই এই লক্ষনগুলো দেখার সাথে সাথে গরম পানি ও লেবুর রস খেতে শুরু করুন।
ঘরে থাকুন সুস্থ থাকুন
Stay home, stay safe
-------------------@Read.Cash--------------
I can, I will, I must-Eric Thomas
Eric Thomas is a fantastic speaker, and in this classic motivational speech he empowers us to believe that we can always get through adversity, no matter what the challenge is.
Thomas repeats this line throughout the speech: “I can get through this. I will get through this. I must get through this.”
He also cleverly uses our loved ones as a source of inspiration in this motivational speech.
He asks us to focus on the 3 people we love the most, and challenges us to question our own decisions when it comes to motivation.
“You gotta think about those people every day.”
“You have some days when you think about hitting the snooze button? […] The days you don’t feel like getting up, just think about them.”
Instead of being lazy and complacent, we need to think about our loved ones, and question what they’d think if we were slacking off.
Honestly, it’s fine doing something for yourself, but knowing that you’ve made your loved ones proud just makes everything feel 10 times better. This is one of the main messages from this motivational speech.
And that’s why this is one of the best motivational speeches of all time. It takes the onus away from working for yourself, and instead focuses on putting in the work for people you couldn’t bare to let down.
ইসলামী সংগীত (কাজী নজরুল ইসলাম)
শ্যামা সঙ্গীতের রেকর্ডিং শেষে কাজী নজরুল ইসলাম বাড়ি ফিরছেন। যাত্রাপথে তাঁর পথ আগলে ধরেন সুর সম্রাট আব্বাস উদ্দীন। একটা আবদার নিয়ে এসেছেন তিনি। আবদারটি না শোনা পর্যন্ত নজরুলকে তিনি এগুতে দিবেন না।
আব্বাস উদ্দীন নজরুলকে সম্মান করেন, সমীহ করে চলেন। নজরুলকে তিনি ‘কাজীদা’ বলে ডাকেন। নজরুল বললেন, “বলে ফেলো তোমার আবদার।”
আব্বাস উদ্দীন সুযোগটা পেয়ে গেলেন। বললেন, “কাজীদা, একটা কথা আপনাকে বলবো বলবো ভাবছি। দেখুন না, পিয়ারু কাওয়াল, কাল্লু কাওয়াল এরা কী সুন্দর উর্দু কাওয়ালী গায়। শুনেছি এদের গান অসম্ভব রকমের বিক্রি হয়। বাংলায় ইসলামি গান তো তেমন নেই। বাংলায় ইসলামি গান গেলে হয় না? আপনি যদি ইসলামি গান লেখেন, তাহলে মুসলমানদের ঘরে ঘরে আপনার জয়গান হবে।”
বাজারে তখন ট্রেন্ড চলছিলো শ্যামা সঙ্গীতের। শ্যামা সঙ্গীত গেয়ে সবাই রীতিমতো বিখ্যাত হয়ে যাচ্ছে। এই স্রোতে গা ভাসাতে গিয়ে অনেক মুসলিম শিল্পী হিন্দু নাম ধারণ করেন। মুনশী মোহাম্মদ কাসেম হয়ে যান ‘কে. মল্লিক’, তালাত মাহমুদ হয়ে যান ‘তপন কুমার’। মুসলিম নামে হিন্দু সঙ্গীত গাইলে গান চলবে না। নজরুল নিজেও শ্যামা সঙ্গীত লেখেন, সুর দেন।
গানের বাজারের যখন এই অবস্থা তখন আব্বাস উদ্দীনের এমন আবদারের জবাবে নজরুল কী উত্তর দেবেন? ‘ইসলাম’ শব্দটার সাথে তো তাঁর কতো আবেগ মিশে আছে। ছোটবেলায় মক্তবে পড়েছেন, কুর’আন শিখেছেন এমনকি তাঁর নিজের নামের সাথেও তো ‘ইসলাম’ আছে।
আব্বাস উদ্দীনকে তো এই মুহূর্তে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বলা যাচ্ছে না। স্রোতের বিপরীতে সুর মেলানো চট্টিখানি কথা না। আবেগে গা ভাসালে চলবে না। গান রেকর্ড করতে হলে তো বিনিয়োগ করতে হবে, সরঞ্জাম লাগবে। এগুলোর জন্য আবার ভগবতী বাবুর কাছে যেতে হবে। ভগবতী বাবু হলেন গ্রামোফোন কোম্পানির রিহার্সেল-ইন-চার্জ।
নজরুল বললেন, “আগে দেখো ভগবতী বাবুকে রাজী করাতে পারো কিনা।” আব্বাস উদ্দীন ভাবলেন, এইতো, কাজীদার কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেলাম, ভগবতী বাবুকে কিভাবে রাজী করাতে হয় সেটা এখন দেখবেন।
গ্রামোফোনের রিহার্সেল-ইন-চার্জ ভগবতী বাবুর কাছে গিয়ে আব্বাস উদ্দীন অনুরোধ করলেন। কিন্তু, ভগবতী বাবু ঝুঁকি নিতে রাজী না। মার্কেট ট্রেন্ডের বাইরে গিয়ে বিনিয়োগ করলে ব্যবসায় লালবাতি জ্বলতে পারে। আব্বাস উদ্দীন খান যতোই তাঁকে অনুরোধ করছেন, ততোই তিনি বেঁকে বসছেন। ঐদিকে আব্বাস উদ্দীনও নাছোড়বান্দা। এতো বড় সুরকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি ভগবতী বাবুর পিছু ছাড়ছেন না। অনুরোধ করেই যাচ্ছেন। দীর্ঘ ছয়মাস চললো অনুরোধ প্রয়াস। এ যেন পাথরে ফুল ফুটানোর আপ্রাণ চেষ্টা!
একদিন ভগবতী বাবুকে ফুরফুরে মেজাজে দেখে আব্বাস উদ্দীন বললেন, “একবার এক্সপেরিমেন্ট করে দেখুন না, যদি বিক্রি না হয় তাহলে আর নেবেন না। ক্ষতি কী?” ভগবতী বাবু আর কতো ‘না’ বলবেন। এবার হেসে বললেন, “নেহাতই নাছোড়বান্দা আপনি। আচ্ছা যান, করা যাবে। গান নিয়ে আসুন।” আব্বাস উদ্দীনের খুশিতে চোখে পানি আসার উপক্রম! যাক, সবাই রাজী। এবার একটা গান নিয়ে আসতে হবে।
নজরুল চা আর পান পছন্দ করেন। এক ঠোঙা পান আর চা নিয়ে আব্বাস উদ্দীন নজরুলের রুমে গেলেন। পান মুখে নজরুল খাতা কলম হাতে নিয়ে একটা রুমে ঢুকে পড়লেন। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন। ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে আব্বাস উদ্দীন খান অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বের মতো সময় যেন থমকে আছে। সময় কাটানোর জন্য আব্বাস উদ্দীন পায়চারী করতে লাগলেন।
প্রায় আধ ঘন্টা কেটে গেলো। বন্ধ দরজা খুলে নজরুল বের হলেন। পানের পিক ফেলে আব্বাস উদ্দীনের হাতে একটা কাগজ দিলেন। এই কাগজ তাঁর আধ ঘন্টার সাধনা। আব্বাস উদ্দীন খানের ছয় মাসের পরিশ্রমের ফল।
আব্বাস উদ্দীন খান কাগজটি হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলেনঃ-
“ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ।”
আব্বাস উদ্দীনের চোখ পানিতে ছলছল করছে। একটা গানের জন্য কতো কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাঁকে। সেই গানটি এখন তাঁর হাতের মুঠোয়। তিনি কি জানতেন, তাঁর হাতে বন্দী গানটি একদিন বাংলার ইথারে ইথারে পৌঁছে যাবে? ঈদের চাঁদ দেখার সাথে সাথে টিভিতে ভেজে উঠবে- ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে...?
...
দুই মাস পর রোজার ঈদ। গান লেখার চারদিনের মধ্যে গানের রেকর্ডিং শুরু হয়ে গেলো। আব্বাস উদ্দীন খান জীবনে এর আগে কখনো ইসলামি গান রেকর্ড করেননি। গানটি তাঁর মুখস্তও হয়নি এখনো। গানটা চলবে কিনা এই নিয়ে গ্রামোফোন কোম্পানি শঙ্কায় আছে। তবে কাজী নজরুল ইসলাম বেশ এক্সাইটেড। কিভাবে সুর দিতে হবে দেখিয়ে দিলেন।
হারমোনিয়ামের উপর আব্বাস উদ্দীনের চোখ বরাবর কাগজটি ধরে রাখলেন কাজী নজরুল ইসলাম নিজেই। সুর সম্রাট আব্বাস উদ্দীনের বিখ্যাত কণ্ঠ থেকে বের হলো- “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ...”। ঈদের সময় গানের এ্যালবাম বাজারে আসবে। আপাতত সবাই ঈদের ছুটিতে।
রমজানের রোজার পর ঈদ এলো। আব্বাস উদ্দীন বাড়িতে ঈদ কাটালেন। কখন কলকাতায় যাবেন এই চিন্তায় তাঁর তর সইছে না। গানের কী অবস্থা তিনি জানেন না। তাড়াতাড়ি ছুটি কাটিয়ে কলকাতায় ফিরলেন।
ঈদের ছুটির পর প্রথমবারের মতো অফিসে যাচ্ছেন। ট্রামে চড়ে অফিসের পথে যতো এগুচ্ছেন, বুকটা ততো ধ্বকধ্বক ধ্বকধ্বক করছে। অফিসে গিয়ে কী দেখবেন? গানটা ফ্লপ হয়েছে? গানটা যদি ফ্লপ হয় তাহলে তো আর জীবনেও ইসলামি গানের কথা ভগবতী বাবুকে বলতে পারবেন না। ভগবতী বাবু কেন, কোনো গ্রামোফোন কোম্পানি আর রিস্ক নিতে রাজী হবে না। সুযোগ একবারই আসে।
আব্বাস উদ্দীন যখন এই চিন্তায় মগ্ন, তখন পাশে বসা এক যুবক গুনগুনিয়ে গাওয়া শুরু করলো- ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’। এই যুবক গানটি কোথায় শুনলো? নাকি আব্বাস উদ্দীন খান ভুল শুনছেন?
না তো। তিনি আবারো শুনলেন যুবকটি ঐ গানই গাচ্ছে। এবার তাঁর মনের মধ্যে এক শীতল বাতাস বয়ে গেলো। অফিস ফিরে বিকেলে যখন গড়ের মাঠে গেলেন তখন আরেকটা দৃশ্য দেখে এবার দ্বিগুণ অবাক হলেন। কয়েকটা ছেলে দলবেঁধে মাঠে বসে আছে। তারমধ্য থেকে একটা ছেলে গেয়ে উঠলো- ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’। আব্বাস উদ্দীন এতো আনন্দ একা সইতে পারলেন না। তাঁর সুখব্যথা হচ্ছে।
ছুটে চললেন নজরুলের কাছে। গিয়ে দেখলেন নজরুল দাবা খেলছেন। তিনি দাবা খেলা শুরু করলে দুনিয়া ভুলে যান। আশেপাশে কী হচ্ছে তার কোনো খেয়াল থাকে না। অথচ আজ আব্বাস উদ্দীনের গলার স্বর শুনার সাথে সাথে নজরুল দাবা খেলা ছেড়ে লাফিয়ে উঠে তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন। নজরুল বললেন, “আব্বাস, তোমার গান কী যে হিট হয়েছে!”
অল্প কয়দিনের মধ্যেই গানটির হাজার হাজার রেকর্ড বিক্রি হয়। ভগবতী বাবুও দারুণ খুশি। একসময় তিনি ইসলামি সঙ্গীতের প্রস্তাবে একবাক্যে ‘না’ বলে দিয়েছিলেন, আজ তিনিই নজরুল-আব্বাসকে বলছেন, “এবার আরো কয়েকটি ইসলামি গান গাও না!” শুরু হলো নজরুলের রচনায় আর আব্বাস উদ্দীনের কণ্ঠে ইসলামি গানের জাগরণ।
বাজারে এবার নতুন ট্রেন্ড শুরু হলো ইসলামি সঙ্গীতের। এই ট্রেন্ড শুধু মুসলমানকেই স্পর্শ করেনি, স্পর্শ করেছে হিন্দু শিল্পীদেরও।
একসময় মুসলিম শিল্পীরা শ্যামা সঙ্গীত গাইবার জন্য নাম পরিবর্তন করে হিন্দু নাম রাখতেন। এবার হিন্দু শিল্পীরা ইসলামি সঙ্গীত গাবার জন্য মুসলিম নাম রাখা শুরু করলেন। ধীরেন দাস হয়ে যান গণি মিয়া, চিত্ত রায় হয়ে যান দেলোয়ার হোসেন, গিরিন চক্রবর্তী হয়ে যান সোনা মিয়া, হরিমতি হয়ে যান সাকিনা বেগম, সীতা দেবী হয়ে যান দুলি বিবি, ঊষারাণী হয়ে যান রওশন আরা বেগম।
তবে বিখ্যাত অনেক হিন্দু শিল্পী স্ব-নামেও নজরুলের ইসলামি সঙ্গীত গেয়েছেন। যেমনঃ অজয় রায়, ড. অনুপ ঘোষল, আশা ভোঁসলে, মনোময় ভট্টাচার্য, রাঘব চট্টোপাধ্যায়।
দুই.
কাজী নজরুল ইসলামের ইসলামি গান লেখার সহজাত প্রতিভা ছিলো। খাতা কলম দিয়ে যদি কেউ বলতো, একটা গান লিখুন, তিনি লিখে ফেলতেন।
একদিন আব্বাস উদ্দীন নজরুলের বাড়িতে গেলেন। নজরুল তখন কী একটা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আব্বাস উদ্দীনকে হাতের ইশারায় বসতে বলে আবার লেখা শুরু করলেন। ইতোমধ্যে যুহরের আযান মসজিদ থেকে ভেসে আসলো। আব্বাস উদ্দীন বললেন, “আমি নামাজ পড়বো। আর শুনুন কাজীদা, আপনার কাছে একটা গজলের জন্য আসছি।”
কবি শিল্পীকে একটা পরিস্কার জায়নামাজ দিয়ে বললেন, “আগে নামাজটা পড়ে নিন।” আব্বাস উদ্দীন নামাজ পড়তে লাগলেন আর নজরুল খাতার মধ্যে কলম চালাতে শুরু করলেন।
আব্বাস উদ্দীনের নামাজ শেষ হলে নজরুল তাঁর হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বললেন, “এই নিন আপনার গজল!” হাতে কাগজটি নিয়ে তো আব্বাস উদ্দীনের চক্ষু চড়কগাছ। এই অল্প সময়ের মধ্যে নজরুল গজল লিখে ফেলছেন? তা-ও আবার তাঁর নামাজ পড়ার দৃশ্যপট নিয়ে?
“হে নামাজী! আমার ঘরে নামাজ পড়ো আজ,
দিলাম তোমার চরণতলে হৃদয় জায়নামাজ।”
তিন.
কাজী নজরুল ইসলাম বিখ্যাত হয়ে আছেন তাঁর রচিত নাতে রাসূলের জন্য।
১। ‘ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়
আয় রে সাগর আকাশ-বাতাস দেখবি যদি আয়’
২। ‘মুহাম্মদ নাম জপেছিলি, বুলবুলি তুই আগে,
তাই কি রে তোর কন্ঠের গান, এমন মধুর লাগে।'
৩। ‘আমি যদি আরব হতাম মদীনারই পথ
আমার বুকে হেঁটে যেতেন, নূরনবী হজরত’
৪। ‘হেরা হতে হেলে দুলে নূরানী তনু ও কে আসে হায়
সারা দুনিয়ার হেরেমের পর্দা খুলে যায়।
সে যে আমার কামলিওয়ালা, কামলিওয়ালা।’
..
গানগুলো ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়েছে। গানগুলো রচনার প্রায় নব্বই বছর হয়ে গেছে। আজও মানুষ গুনগুনিয়ে গানগুলো গায়।
তথ্য উৎসঃ
১। আব্বাসউদ্দীনের আত্মজীবনী - ‘দিনলিপি ও আমার শিল্পী জীবনের কথা'।
২। Roar Media, বাংলা ইসলামি গান ও কাজী নজরুল ইসলাম।
৩। যুগান্তর, 'নজরুল এবং ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে', শামস আরেফিন।
৪। যুগান্তর, 'হামদ-নাতে নতুন ধারা সৃষ্টি করেছিলেন নজরুল', আদিল মাহমুদ।
৫। Risingbd, সুরের আকাশে উজ্জল নক্ষত্র আব্বাসউদ্দীন।
৬। সিলেট টুডে টুয়েন্টি-ফোর, মানবতাবাদী নজরুল থেকে ইসলামি কবি বিলকুল।
।। কাজী নজরুল ইসলামের ইউটার্ন ।। (প্রথম পর্ব এবং সংক্ষেপিত)
.............................................................................
টমাস আলভা এডিসন
“টমাস আলভা এডিসন”
পিতৃহারা ৭-৮ বছর বয়সের ছেলেটি স্কুল হতে বাড়ীতে এসে মাকে বলল,
"মা, প্রিন্সিপাল আমাকে আদর করে কিছু ক্যান্ডি দিয়েছে। আর, তোমার জন্য এই চিঠিটা।"
মা চিঠিখানা খুলে পড়ে কেঁদে ফেললেন।
মায়ের চোখে জল দেখে ছেলেটি বলল, "মা,
কাঁদছ কেনো?"
চোখ মুছতে মুছতে মা বললেন, "বাবা,
এটা আনন্দের কান্না!"
বলেই ছেলেটিকে চুমু দিয়ে বললেন, "আমার
জিনিয়াস বাবা, তোকে চিঠিটা পড়ে শোনাই।"
মা আনন্দের সাথে চিৎকার করে স্যারের লেখার ভাষা বদলে নিজের মত করে পড়তে লাগলেন, "ম্যাম,
আপনার ছেলেটি সাংঘাতিক জিনিয়াস।
আমাদের ছোট্ট শহরে ওকে শিক্ষা দেওয়ার মত
শিক্ষক আমাদের নেই।
তাই, যদি পারেন আপনার ছেলেকে বড় শহরে
কোনো স্কুলে ভর্তি করে দিলে ভালো হয়। এই ছেলেটি একদিন বিশ্বে প্রচুর সুনাম অর্জন করবে।"
পত্রখানা পড়েই মা, ছেলেটিকে চুমু দিয়ে বললেন, "এই জিনিয়াস ছেলেটিকে আমি নিজেই পড়াব।"
মা নিজেই শিক্ষা দিয়ে ছেলেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের তথা সমগ্ৰ পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক বানালেন
"টমাস আলভা এডিসন"
বৈদ্যুতিক বাল্ব, শব্দ রেকর্ডিং, মুভি ক্যামেরা বা চলমান ছবি ইত্যাদি সহ হাজারো আবিষ্কার তাঁর।
মায়ের মৃত্যর পর টমাস এডিসন একদিন সেই ছোট্ট গ্রামে মায়ের সেই ছোট্ট বাড়ীতে গিয়ে ঘর পরিষ্কারের সময় স্কুলের প্রিন্সিপ্যালের দেয়া চিঠিটা পেল। চিঠিখানা পড়ে টমাস কেঁদে দিল।
তাতে লেখা ছিল,
"ম্যাডাম,
আপনার ছেলে টমাস এডিসন একজন মেন্টালি রিটার্ডেড।
সে এতটাই নির্বোধ যে, তাকে শিক্ষা দেওয়ার মত ক্ষমতা আমাদের নেই।
কার'ও আছে বলেও আমাদের জানা নেই। আপনার ছেলের কারণে আমাদের স্কুলটির সুনাম ক্ষুন্ন হবে।
তাই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপনার ছেলেকে স্কুল থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হল।"
শিশুদের সাথে সর্বদাই পজিটিভ আচরন করবেন।
সন্তানের জন্য শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মা।
মা ভিত্তি স্থাপনটা শক্ত করে দিলে সন্তান একদিন বটবৃক্ষ হয়ে সবাইকে ছায়া দেয়।
সন্তানকে সুশিক্ষা দেয়া আপনার কর্তব্য।
আপনি যদি উচ্চমানের মানুষ হয়ে থাকেন তার বুনিয়াদ মায়ের হাতে গড়া।
Steve Jobs
Steve Jobs, one of the key figures behind tech giant Apple’s success, is next up on our list of the best motivational speeches of all time.
In his 2005 Stanford commencement speech the former Apple CEO dives deep into his own journey as an entrepreneur, and he speaks openly about the issues that he’s faced along the way, and how he overcame them.
During this classic motivational speech Jobs talks about how he was actually a college dropout, and that this was one of the most important times of his life.
Why?
He mentioned that he dropped out of college to take classes which he was truly interested in, rather than studying topics which he wasn’t deeply passionate about.
One of those classes that he took up after dropping out was calligraphy. He was so compelled by the high standard of handwriting.
To many, this might seem like a strange choice, but he connects his experience that he gained from that class to the font choices that he installed in Apple computers.
If Jobs had never taken that calligraphy class, he wouldn’t have cared so much about a seemingly small detail, like fonts, but Apple was the first company to add different typefaces to their operating systems.
He goes on to say: “You can’t connect the dots if you’re looking forward, you can only do it looking backwards. So, you need to keep moving forward and hope that the dots align somehow.”
The key message from this famous motivational speech is that we’re always learning. We’re always growing and finding out new information. It’s all about what we choose to do with that information which really defines us.
As Jobs said: “Your time is limited, so don’t waste it living someone else’s life.”
কিছু কথা
যে যত সুন্দর মিথ্যা কথা বলে ধোঁকা দেয় সে এই পৃথিবীতে যতই সফল হোক না কেন, না সে কারোর মনে জায়গা পাবে, না নিজের মনে শান্তি পাবে। আমরা কত অদ্ভুত কারোর স্মৃতি চিহ্ন খুব যত্নে রাখি কিন্তু সেই লোক গুলোকে হারিয়ে ফেলি, তার সঙ্গে তো থাকা যায়, যার শরীর খারাপ, কিন্তু তার সঙ্গে কখনোই থাকা যাবে না যার উদ্দেশ্য খারাপ, দুইটাইমের খাবার মোটেও সস্তা নয়, কেউ এটা রোজগার করার জন্য সারাদিন দৌড়ে বেড়ায়, আর কেউ এটি কে বাঁচানোর জন্য।
জীবনে আপনার সম্পর্কে ভালো চিন্তা করার লোক খুব কম পাবেন, আপনাকে চিন্তা দেওয়ার লোক অনেক বেশি পাবেন, আর যদি কাউকে পেয়ে যান যে আপনার জন্য ভালো চিন্তা করে তাহলে তাকে সামলে রাখুন।
জীবনে যদি বেঁচে থাকতে হয় তাহলে আয়নার মতো হয়ে থাকুন, যেখানে অভিনন্দন তো সবারই হবে, কেউ স্থায়ী হবে না, বোকা,মানুষ সম্পত্তির জন্য মনের শান্তি তাও নষ্ট করে দেয়, আর বুদ্ধিমান লোক মনের শান্তির জন্য নিজের সম্পত্তি নষ্ট করে দেয়।
জীবনকে সম্পূর্ণ করার ইচ্ছাতে মানুষ জীবনে অনেক কিছু কে হারিয়ে ফেলে, কিন্তু মানুষ ভুলে যায় অর্ধেক চাঁদ অনেক সুন্দর হয়, যখন কোন কাজ আপনার ইচ্ছা মত হবে তখন খোদাকে শুকরিয়া জানান, যে তিনি আপনার ইচ্ছা কে এতটা মূল্য দিয়েছেন। কিন্তু যখন কোন কাজ আপনার ইচ্ছে মত হবে না তখন খোদাকে আরো বেশি শুকরিয়া জানান কারণ এখন ওই কাজটি খোদার ইচ্ছা মত হবে আর খোদা সবার ভালো করেন।
ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব এই দুটি এমনই জিনিস,যা যে কোন সমস্যার সাথে লড়াই করতে পারে, কিন্তু এমন একটি জিনিস আছে যা দুটোকেই শেষ করে দিতে পারে, আর সেটি হলো অবিশ্বাস।
জীবন প্রতিটি দিন বদলে যাচ্ছে, তাই জীবনের প্রতি যতই অভিযোগ থাকে না কেন সব সময় হাসতে থাকুন । কারণ এই জীবন যেমনি হোক এটা কেবল একবারই পাওয়া যায়, কোন বাগানে পাওয়া যায়না খুশিকে, কোন দোকানেও পাওয়া যায় না, নিজের ভিতরে খুঁজে পাবেন অফুরন্ত । সবশেষে আমার পক্ষ থেকে সবার খেয়াল রাখুন, কিন্তু নিজের ও খেয়াল রাখুন আর সবসময় হাসতে থাকুন, কখনো নিজের জন্য, কখনো আপন জনের জন্য।
সময় কে সঠিক কাজে ব্যবহার
আপনি যত সফল লোক কে দেখবেন হতে পারে বিল গেটস, মার্ক জুকারবার্গ বা যেকোনো হাইলি সাকসেসফুল লোক । এরা সফল কারণ এরা সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করেছে এই কারণে সফল কারণ এরা লাইফটাইম লার্নার হয়ে থাকে এরা নিজের কাছে প্রমিস করে প্রতিদিন নতুন নতুন কিছু শেখা ওয়ারেন বাফেট,প্রতিদিন 5 ঘন্টা বই পড়ে থাকেন বিল গেটস,প্রতি সপ্তাহে একটি বই পড়ে মার্ক জুকারবাগ, রোজ ৪ ঘন্টা বই পড়েন সবার মধ্যে আপনি একটি কমন জিনিস খেয়াল করেছেন সফল লোক কখনো শেখা বন্ধ করে না আপনি একবার ভাবুন আপনার কাছে ৮৬৪০০ টাকা আছে যা আপনাকে একদিনে খরচ করতে হবে আর দিনের শেষে বাকি টাকা অটোমেটিক হারিয়ে যাবে আর আপনি সেটা কখনো ফিরে পাবেন না তাহলে আপনি কি টাকাটা চলে যাওয়ার আগে খরচ করবেননা, আপনি কি এটা সঠিক কাজে ব্যবহার করতে চাইবেন না যা আপনার ফিউচার কে ভালো করবে কিন্তু আপনি শুনে অবাক হবেন আপনার কাছে রোজগার মাত্র ৮৬৪০০ সেকেন্ড থাকে বেশির ভাগ লোক এটা ফালতু কাজে ব্যবহার করে এর কোন মূল্য দেয় না যে সময় একবার আমাদের কাছ থেকে চলে যাবে সে আর কখনোই আমাদের কাছে ফিরে আসবে না তাই আমাদের সবসময় একে ভালো কাজে ব্যবহার করা উচিত ।
আমাদের সময়কে সেই সব কাজে ব্যবহার করা উচিত যা আমাদের সফলতা দেবে, খুশি দেবে, বা আমাদের জীবনকে ব্যাবহার করার জন্য তৈরি করা উচিত যাতে ভবিষ্যতে আমরা সেটি করতে পারি যা আমরা করতে চাই, আমি এমন অনেক ছেলে মেয়েকে দেখেছি যারা মিনিনলেন্স অনেক কিছুতে টাইম নষ্ট করে থাকে যেমন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া টিভি দেখা গেম খেলা বন্ধুরা এ সমস্ত জিনিস গতকালকেও ছিল আজও আছে আগামী তো থাকবে কিন্তু যদি আজকের সময় তুমি না পারো তাহলে আগামী দিনে টিভি দেখাও তোমার ভাগ্যে আর থাকবে না যে সব সময় তুমি আজ নষ্ট করছো এই সময় কখনো ফিরে আসবে না ।
আপনার টার্গেট এই কারণে পূরণ হয়না কারণ আপনি সবসময় ভাবেন কিভাবে আপনার টার্গেট পূর্ণ করবেন আপনি শুধুমাত্র আপনার তারগেট সম্পর্কে ভাবেন প্রতিদিনের কাজ সম্পর্কে নয় আর এই কারনেই আপনি আপনার টার্গেট পূর্ণ করতে পারেন না , আপনি আপনার প্রতিদিনের কাজ কে ইনজয় করে দেখুন দেখুন কিভাবে আপনার টার্গেট পূর্ণ হয় যখন তুমি তোমার জীবনের শেষ প্রান্তে চলে আসবে তখন তুমি সেই সবকিছু নিয়ে আফসোস করবে যা তুমি করোনি সেটার জন্য কখনোই হবে না যা তুমি করেছো তাই যা করতে হবে আজি করো যা পড়তে হবে আজি পড়ো কাল কেউ দেখেনি কালকের অপেক্ষা করা বন্ধ করো ।
তো বন্ধরা কেমন লাগলো আমাদের এই পোস্টটি তা অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন,খোদা হাফেজ ।
Being Positive
Being positive, and staying positive is a choice
When we get to the battlefield, we should pick the right luggage and opt for the bullet proof. Life’s options give us arrays of more options. In life’s battle, we will get hit and bruised. Wearing bullet proof armor in life means “self change” – change that comes from within. Our attitude, our behavior, and our way of thinking.
Eventually, building your self esteem will lead to self improvement. If we become responsible for who we are, what we have and what we do, it will be like a flame spreading from the inside out.
When we develop our self esteem, we have to take control of our self discipline, our mission, and our values.
Self esteem brings about self improvement. How do you start to put up the blocks of self esteem?
Be positive. Be contented and happy. Be appreciative. Never miss an opportunity to compliment. A positive way of living will help you to self improvement by building a good self esteem first.
মনুষ্যত্ব
সেই কবে নিউজপেপার পড়া ছেড়ে দিয়েছি, এখন ফেসবুক টাইমলাইন স্ক্রল করতেও ইচ্ছা করে না আর,মানুষের চেয়ে পশুপাখি অনেক ভাল, তারা কখনও নিজ গোত্রের সাথে এত নৃশংস হয় না,,বিশ্ব যেখানে এগিয়ে চলেছে জ্ঞান বিজ্ঞানে সেই আমরা এগিয়ে চলেছি নৃশংসতায়, মানবতা হারিয়ে গেছে, মনুষ্যত্ব আজ বিলুপ্ত প্রায়, মানুষ আজ বিক্রি হয় টাকার কাছে, টাকায় মানুষের আসল পরিচয়, মানুষের পাশে মানুষকেই তো দাড়াতে হবে, আমরা ভুলে যাই মানুষ মানুষের জন্য, জ্ঞান বিজ্ঞানের এই যুগে আমরা সবাই যেন এক একটা রোবট, বিশ্বের এই ক্রান্তিলগ্নেও আমরা ভাল হতে পারলাম না, অর্জন করতে পারিনি মনুষ্যত্ব, এর শেষ কোথায়? তবু্ও আমরা স্বপ্ন দেখি সুন্দর এক পৃথিবীর, এমন এক পৃথিবীর যেটা হবে শুধুই মানুষ আর মনুষ্যত্বের।
Humanity and World
When I quit reading newspapers, now Facebook doesn't even want to scroll the timeline anymore. Animals are much better than humans. They are never so cruel to their tribe. The world is advancing in science but we are advancing in atrocities. Humanity is lost, Humanity is almost extinct today. People are sold to money today. Money is the real identity of people. People have to stand by people. We forget that people are for people. In this age of science we are all like a robot. We could not be better in this crisis of the world, Could not achieve humanity, where is the end? Yet we dream of a beautiful world, a world that will only belong to man and humanity.
#mjmurshed