read.cash Log in
@Kamrul16

Love

কোটিপতি স্বামী 🖤 পর্বঃ৩+৪ মেহেক স্যামথন চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে গেছে। ঠোঁটের মধ্যে কিছুটা ব্যাথা অনিভুব করছি। তখন ভদ্রলোক আমার হাত ধরে টেনে তুলে দাড় করালো। আর আমার দিকে আঙুল দেখিয়ে রাগি গলায় বলল,,, ----- তোমার সমস্যা টা কি?? এতো টাকা দিয়েছি তবুও মন ভরে নি?? হ্যা?? কিছু বুঝে উঠতে পারছি না, উনি কি বলছেন।তাই মলিন কন্ঠে বললাম,,, ----- আমি কি করেছি..? মারলেন কেন আমায়..? ধমক দিয়ে বললেন,,,, ----- চুপ।একদম চুপ। তোমাদের মতো মিড্যাল ক্লাস মেয়েদের আমি ভালো ভাবেই চিনি। কি দরকার ছিল দাদুর সামনে বলার সাদ তোমার ছেলে..? হ্যা..? কি দরকার ছিল। এতো ক্ষনে বুঝলাম ভদ্রলোক কেন আমায় মারল। আমি তার দাদির সামনে সাদকে আমার ছেলে বলেছি বলে এমন করেছেন।কিন্তু আমি মিথ্যা কি বলেছি..? সাদ তো আমার ছেলে।আমার সন্তান। আমি কি আমার ছেলেকে আমার সন্তান বললবো না???... ------ তোমাকে আমি ৬ মাসের জন্য কিনেছি।এই ৬ মাসে এমন কিছু করবা না,,যা আমাকে বাধ্য করবে স্ট্রেট ত্র‍্যাকশান নিতে। নিজের নজর আর নিজের যোগ্যতা দুটোই সীমাবদ্ধতার মাঝে রাখবে। কথা গুলো মনে থাকে যেন। বলে হন হন করে রুম থেকে বেরিয়ে পড়ল ভদ্রলোক। নিমিষেই আমার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। এ পানি থাপ্পড় খাওয়ার জন্য নয়।আমার পরিস্থিতির জন্য।আমাকে অপমান করার জন্য। ভাগ্য আজ আমায় কোথায় এনেছে??? শুধু একটা কাগজে সাইন করলেই বিয়ে হয়ে যায় না। মন থেকে মানতে হয়, আর আমি মনে প্রানে সাদিরকে আমার স্বামী মানি।আর আজ সাদিরের বদলে একজন পর পুরুষ আমার গায়ে হাত তুলল। ছিঃ... মরে যেতে ইচ্ছে করছে। আজ সাদির থাকলে এই থাপ্পড় দেওয়ার সাহস হতো না কারো। হাত ভেঙে দিত সাদির। চোখের পানি মুছে সাদের কাছে গেলাম। ওর পাশে বসে ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম। সব কষ্ট ভুলে যাই ওকে দেখে... আমরা মা জননীরা অনেকটাই অদ্ভুত। সন্তান কে ৯ মাস পেটে ধারণ করি। সেই প্রসব ব্যাদনা যে কতো টুকু কষ্ট। সেটা আমারাই বুঝি। সাদের জন্মের কথা মনে পড়ল। যখন সাদ আমার পেটে ছিল। তখন খুব কষ্ট করি ওর জন্য। আল্লাহ কাছে প্রার্থনা করি সাদের যেন কিছু না হয়।সাদিরের শেষ চিহ্ন হলো সাদ। আমার সব সাদ। যখন প্রসবের সময় তখন কতটা ব্যাথা হয়েছিল আমার সেটা বোঝানো অসম্ভব। সাধারণ ভাবে বাসায় নার্স দিয়ে আমার ডেলিভারি করা হয়। নার্স ছিলেন আমার প্রতিবেশী। ব্যাথা-বেদনা আমি চিৎকার করে উঠি। ভিতরে কেউ যেন আমার কলিজায় লাত্থি মারছে। কলিজা টা ছিড়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। ব্যাথায় আমি নার্সকে বলি" আমাকে একটু বিষ দিন।আমি খেয়ে মরে যেতে চাই।এতো ব্যাথা আমি সহ্য করতে পারছি না। আমার কলিজা ছিড়ে৷ যাচ্ছে। আমায় বিষ দিন।আমি খেয়ে মরতে চাই।"" কিছুক্ষণ পরেই সাদের দুনিয়াতে আগমন হয়। আমি তখন অজ্ঞান ছিলাম। কিন্তু তবুও সাদের কান্নার আওয়াজ আমি শুনতে পারছিলাম। এইটাই হয়তো মায়ের ক্ষমতা। জ্ঞান ফিরার পর যখন সাদকে কোলে নিলাম,তখন সব ব্যাথা ভুলে গিয়েছিলাম।আমার সব কষ্ট যেন সার্থক হয়েছে। আজ আবার সাদের সেই মুখ দেখে সব কষ্ট ভুলে গেলাম। ওর জন্য এই সামান্য একটা কষ্ট কিছুই নয়। রাতে,,, বিছানায় লাফাচ্ছে সাদ। আমি সেই কখন থেকে বারন করছি।কিন্তু কে শুনে কার কথা,,, সে তার মতো লাফিয়ে যাচ্ছে। ---- এই ভাবে লাফিয়ো না সাদ।ব্যাথা পাবা। তোমার এখনও জ্বর আছে। ----- আমাল কিত্তু ওয় নি মেতলা। আমি তিক আতি।।এই দেকো,,আমি তুস্ত। নাপাচ্ছি। ---- তুমি সুস্থ মানে,দেখি দেখি,,কতো টুকু জ্বর আছে। সাদ কে কাছে টেনে কপালে হাত দিলাম,কিছুটা জ্বর আছে। ---- কোথায় তুমি সুস্থ..? এখনও জ্বর আছে অনেক। বসো আমার সাথে,,,আর লাফাবে না। --- কিনু। ---- কেন মানে,,,এখন চুপ চাপ বসে থাকো। ---- আত্তা,,, না চুনলে তো তুমি কান্না কলবা। দাও,,বতে আতি। বলেই আমার কোলে এসে বসে পড়ল সাদ।দুই হাত দিয়ে আমার গলায় জরিয়ে ধরল। ---- মেতলা.. ওও মেতলা। --- বলো সোনা। ---- এতা কাল বাতা..? অননেএএএএক বলো। তখম কেউ বলে উঠল,, ---- এটা তোমার বাসা। পিছে তাকিয়ে দেখি ভদ্রলোকের দাদি রুমে এসেছে।সাথে কাজের বুয়া কিছু খাবার হাতে নিয়ে এসেছে। তিনি আমার সাথে এসে বসলেন। আর বললেন,,, ------ এইটা তোমার বাসা দাদুভাই। ------ ইইইই,,,আমাল বাতা..? ------ হ্যা,,তোমার বাসা। ------ মেতলা,,,এতা আমাল বাতা..? ------ হ্যা সোনা তোমার বাসা। ------ইয়েএএএএএএ,,,[ খুশিতে লাফাতে লাগলো সাদ ]... হঠাৎ ভদ্রলোকের দাদি আমার গালে হাত দিয়ে বলল,,, ----- একি...? তোর গালে কিসের দাগ দাদুভাই..? তখন আমার মনে পড়ল ভদ্রলোকের থাপ্পড়ে আমার গালে আঙুলের দাগ বসে গেছে। কিন্তু বিষয়টি লুকানো জন্য আমি একটু হেসে বললাম,, ------ আর বলিয়েন না দাদু। একটা মশা গালে বসেছি।তাই রেগে খুব জোরে একটা থাপ্পড় মারি।আর গালে দাগ বসে যায়। কাজের বুয়া হেসে দিল। দাদু মায়া দেখিয়ে বলল,,, ------ আহারে। কতো দাগ বসে গেছে। অনেক ব্যাথা করছে না..? আমি বরফ আনবো..? ------ আরে না দাদু।এইসব লাগবে না।কিছুক্ষণ পরই চলে যাবে। ------- তোর ব্যাথা করছে না..? বরফ আনি। ------- না,, না দাদু।একদম ই ব্যাথা করছে না। আমি একদম ভালো। এখন বলো। তুমি খেয়েছো..? ------ হ্যা,আমি খেয়েছি। তুই এখনো খাস নি তাইতো..? আকাশ আসতে দেড়ি হবে।তুই খেয়ে নে।ওর জন্য অপেক্ষা করিস না। এতোদিনে আমি জানলাম ভদ্রলোকের নাম আকাশ। ------- আচ্ছা দাদু। ------ হুম। তো দাদুভাই (সাদকে) এখন আর দুষ্টামি করো না। সকালে তোমাকে পুরো বাসা দেখাবো।বাহিরে নিয়ে ঘুরবো।অনেক চকলেট নিকে দিবো। ------- তত্তি..?,,আমাতে তকলেট কিনে দিবা..? ----- হ্যা,,সত্যি। অনেক গুলো কিনে দিবো।কিন্তু তার আগে তোমাকে এখন খেয়ে ঘুমাতে হবে।নয়তো কিছুই পাবে না। ------ না,, না,,না,,আমি এতনি তেয়ে, তুয়ে পলবো। তুমি তিন্তা কইলো না। দাও তুমি। ------ এইতো লক্ষি ছেলে আমার। তো মেঘলা। এখন আমি আসি।।খেয়ে ঘুমিয়ে পরিস। ----- আচ্ছা দাদু। খাবার গুলো রেখে আকাশের দাদু রুম থেকে। সাদকে খাইয়ে আমি কিছুটা খাবার খেলাম। রাত প্রায় ২টা বাজছে।আকাশ এখনও বাসায় আসে নি। আমি যে তার জন্য সজাগ তা নয়।আমার ঘুম আসছে না। ঘড়ে শুধু সাদ আর আমি।সাদ ঘুমাচ্ছে। তাই ঘরের লাইট অফ করে জানালার পাশে দাড়িয়ে আছি। চাঁদের আলোয় ঘর ভরে গেছে। চাঁদ কে দেখতে বড়ই সুন্দর লাগছে।সে যেন আমারি মতোই একা এই ভুবনে। কতো সুন্দর সে।তবুও তার সাথি কেউ নেই। হঠাৎ দরজা খোলার আওয়াজ পেলাম।হয়তো আকাশ রুমে এসেছে। আমি তাকাই নি তার দিকে।আমি তো আর ১০ টা বউয়ের মতো না যে স্বামী ঘরে আসলে তার কাছে যাবো।হাতের ব্যাগটা নিবো।ভালোমন্দ কথা বলবো,আমি তো তার টাকা দিয়ে কিনা বউ।তাই এইসব নাটকের আমার কোনো প্রয়োজন নেই। চুপ চাপ দাড়িয়ে আছি। কিছুক্ষণ পর আমার পাশে কারো উপস্থিতি অনুভব করলাম। হয়তো আকাশ হবে। উনি আমার দিকে তাকালেন। শান্ত গলায় বললেন,,, ------ সাদ ঘুমিয়েছে..? ------ হ্যা,, ------ কখন..? ------ কিছুক্ষণ আগে। ------ সাদ খেয়েছে..? ঔষধ দিয়েছো..? ------ হ্যা,,দিয়েছি। ------ তুমি খেয়েছো..? উনার এমন ব্যাবহার ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। উনি এমন ভালো ব্যাবহার করছেন কেন..? তাহলে কি উনি রাগের মাথায় ভুল করে আমায় থাপ্পড় দিয়েছিলেন..? হয়তো অনুতপ্ত উনি। আকাশ আবার শান্ত গলায় বলতে লাগল,,, ------ রেগে আছো..? আসলে সরি।আমার মাথা ঠিক ছিল না তখন,তাই কি করে থাপ্পড় দিয়েছি,বুঝে উঠতে পারিনি। আমায় মাফ করে দিও। ------ আপনি মাফ চাচ্ছেন কেন..? আসলে আমি তো আপনার বউ ন,,,[তখনি আকাশ আমার ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ করিয়ে দিল। আমি অবাক হয়ে গেলাম তার এই কাণ্ডে ].. ------ ইট'স অকে। আমি আর এমন করবো না। ভুল হয়েছে সরিইইইই,,, মাফ চাচ্ছি,,,,সরি। তখন আমার মুখ থেকে হাত সরিয়ে ফেলল,,, আমি বললাম,, ------ আচ্ছা। ------ হুম বেগম।এখন আসেন।রাত ২ টা বাজে,,ঘুমাবেন। আসেন। বলে আকাশ বিছানার দিকে গেল। সাদের মাথায় হাত বুলাতে লাগল। ------ সাদ একদম শুকিয়ে গেছে। জ্বর টা কমে গেলে ভিটামিন খাওয়াতে হবে। এখন আমি ভাবছি কোথায় ঘুমাবো। উনার সাথে বিছানায় সোয়া অসম্ভব। এক রুমে আছি,,এটাই অনেক। তখন আর কিছু না ভেবে বিছানা থেকে একটা বালিশ নিয়ে সোফায় ঘুমাতে গেলাম। আকাশ বিছানা থেকে উঠে আমার কাছে গিয়ে বললেন,, ----- কি ব্যাপার,, তুমি সোফায় শুয়ে পড়ছো কেন..? এইখানে তো তোমার শোয়ার কথা না। ------ তাহলে কোথায় ঘুমাবো..? সোফা থেকে আমার বালিশ টা বিছানার সামনে ফ্লোরে ছুড়ে ফেলে বলল,, ----- এইখানে। আমি তো খুবই অবাক।এ কি অবস্থা। মাত্রই না আমার সাথে এতো ভালো ব্যাবহার..? আকাশ বলল,,, ------ তুমি কি ভেবেছো, তোমার সাথে এতো ভালো ব্যাবহার কেন করেছি,..? কারণ আমার দাদু রুমের বাহিরে ছিল।তোমার গালের থাপ্পড় দেখে উনার সন্দেহ হয়েছিল যে আমাদের মাঝে কিছুই ঠিক নেই। তাই এই নাটক করা। এখন দাদু চলে গেছে। তাছাড়া অন্যের স্ত্রী ও বাচ্চার প্রতি আমার কোনো ইন্ট্রেস্ট নেই। আর কি ভেবেছিলা..? তোমাকে আমার বিছানায় নিয়ে ঘুমাবো..? কখনোই না। তোমাকে তো আমি আমার সোফায় ও বসতে দিবো না,,বিছানায় তো দূরে থাক। নিজের ছেলেকে নিয়ে ফ্লোরে শুয়ে পড়,,, আমি একটু নরম গলায় বললাম,,, ----- আমি মাটিতে শুয়ে ঘুমাতে পারবো। কিন্তু সাদ অনেক অসুস্থ। জ্বর। এখন মাটিতে শোয়ালে অনেক জ্বর উঠবে। ---- তো,,?? তুমি কি চাও তোমার ছেলেকে আমি আমার সাথে নিয়ে ঘুমাই..? কখনও না। ----- দয়া করে আমার এই মিনতি টা রাখুন।আমি আর কিছু চাইবো না।আমার সাদকে একটু বিছানায় ঘুমোতে দিন। ------উফফফ,,! ------ দয়া করে এই মিনতি টা রাখুন। প্লিজ,,, আমার অতিরিক্ত দয়া প্রার্থনা করায় আকাশ মেনে গেল। কিছু না বলে সোজা বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল। আমিও মাটিতে শুয়ে পড়লাম। চলবে....... কোটীপতি স্বামী পর্বঃ৪ মেহেক স্যামথন আজ আমাদের বাসর রাত। না ভুল বললাম,, আজ আমার ২য় বাসর রাত। আর আমি শুয়ে আছি ফ্লোরে। এক হিসেবে বলতে গেলে কিসের বাসর রাত?.. উনি তো আমার স্বামী নন। আমাকে বিয়ে করার সাথে সাথে তিনি তালাক দিয়েছেন।কিনেছে আমায় কিছু টাকা দিয়ে। নাম মাত্র আমি উনার স্ত্রী। আমিও উনাকে আমার স্বামী ভাবি না।আমাকে কিনা একজন ক্রেতা ভাবি। উনার কাজ ছাড়া স্বামী হিসেবে উনার কোনো অধিকার নেই আমার কাছে। আমারও নেই তার প্রতি। এই কেনা বেচার মাঝে নিজেকে বড় অসহায় মনে হচ্ছে। দুনিয়া টা জেল খানা মনে হচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,," দুনিয়া মুনিনদের জন্য কারাগার সরূপ।" কিন্তু আমি তো মুমিন ব্যক্তি নই।কোনো সতী নারীও নই। তাহলে আমার কাছে কারাগার মনে হচ্ছে ক্যান..? আল্লাহ্ তায়ালা তার প্রিয় বান্দাকে নাকি খুব তারাতাড়ি তার কাছে নিয়ে যায়।আমি কি তাহলে আল্লাহ্ তায়ালার প্রিয় নই..? আমি তো কারো কোনো ক্ষতি করিনি। কারো খারাপ করিনি।তাহলে আমাকে কেন তিনি নিয়ে যান না। কেন। আমার চোখের পানিতে বালিশের কিছু অংশ ভিজে গেছে। কান্না যেন থামছেই না। -- কিন্তু আমি মরলে আমার সাদের কি হবে। ওর জন্য যে আমাকে বাঁচতে হবে।শুধু ওর জন্য। আর যে কেউ নেই আমার। এইসব চিন্তা করছি আর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। ঘুম নেই চোখে।আসলে সাদির মরার পর থেকে আমার চোখে ঘুম নেই। মনে সুখ নেই,শান্তি নেই। তখন হঠাৎ মনে হলো তাহাজ্জুদ এর নামাজ টা পড়ার সময় হয়েছে। চোখের পানি মুছে উঠে ওয়াশরুমে গেলাম অজু করতে। ঘরের লাইট অন করিনি।উনি হয়তো পছন্দ করবেন না। অজু করে এসে জায়নামাজ খুজতে লাগলাম। ড্রিম লাইটে তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। তবুও খোজার চেষ্টা করতে লাগলাম।কিন্তু পেলাম না। হয়তো উনার রুমে নেই। তাই নিজের ব্যাগটা খুজে সেইখান থেকে আমার জায়নামাজ টা বের করে বসে পড়লাম নামাজে। ----- হে মাবুদ। তুমি তো সর্বশক্তিমান। সব কিছুর মালিক তুমি।তোমার তুলোনা কিছুই নেই। সমস্ত জাহানের মালিক তুমি।তুমিই প্রভু। এই সময়ে যখন তোমার সমস্ত জাহানের বান্দার ঘুমাচ্ছে,তখন আমি তোমার দরবারে হাত তুলেছি। তুমি বলেছো এই সময় তুমি তোমার বান্দারের সমস্ত দোয়া কবুল করো। মাবুদ,, মাবুদ গো। তুমি আমার সাদিকে জান্নাত নাজিল করো। উনার মতো স্বামী পৃথিবীর প্রতিটি নারীকে দান করো। ------- মাবুদ গো,,, জন্মের পর থেকে আমি কষ্ট সহ্য করছি। মাকে হারিয়েছি।বাবা থেকেও ছিল না। ধর্ষণের শিকার হয়েছি। তবুও সহ্য করেছি। সেই সহ্যের ফল তুমি আমায় দিয়েছো।সাদিরের মতো একজন স্বামীকে দিয়ে। কিন্তু কিছু দিন পরে তুমি আমার কাছ থেকে সেই সুখ কেরে নিলে। কেন কেরে নিলে মাবুদ।কেন..? আমার যে একটাই সাদির ছিল। একটাই আশা ভরশা বিশ্বাস ভালোবাসা ছিল। আমার যে আর কেউ নেই তুমি ছাড়া। এতো কষ্ট আমাকে তুমি দিচ্ছো কেন মাবুদ।আমাকে কি তোমার এতো পছন্দ হয়েছে..? এতোই প্রিয় আমি তোমার কাছে...? দাও।আরো কষ্ট দাও আমায়। আমাকে তুমি কষ্ট দিয়েছো তুমি আবার আমাকে সুখ দিবে। কিন্তু মাবুদ আমার সাদকে মানুষের মতো মানুষ না করে আমাকে তোমার কাছে নিয়ো না মাবুদ।আমার সাদের যে কেউ নেই আমি ছাড়া,,এতিন আমার সাদ। দুনিয়াটা ওর জন্য অনেক পাষাণ। ওর মতো এতিমদের জন্য জায়গা নেই।সবার অবহেলার পাত্র হবে আমার সন্তান। আমি যে মরেও শান্তি পাবো না। আমাকে তুমি অনেক কষ্ট দাও।কিন্তু আমার সন্তানকে দিয়ো না মাবুদ।আমার সন্তানকে তুমি কষ্ট দিয়ো না। আমি সুখ চাই না। আমার সন্তানের সুখ চাই।ওর সমস্ত দুঃখ আমাকে দাও আর আমার সমস্ত সুখ আমার ছেলেকে দাও। কোনোদিন আমার উপর নারাজ হয়ে যেও না মাবুদ।তুমি ছাড়া আমার কেউ নেই।তুমিই সব আমার। নামাজ পড়ে আবার শুয়ে পড়লাম মাটিতে। কখন যে চোখ লেগে গেল বুঝতেই পারিনি। ঘুমের মাঝে অনুভব করলাম কেউ আমার শরীর নাড়িয়ে ডাকছে। মিটিমিটি চোখে তাকিয়ে দেখি আকাশ সামনে। উনার পা দিয়ে আমার হাতে ধাক্কা দিচ্ছে আর এই এই,,, বলছে। আমি আস্তে আস্তে উঠে বসলাম। উনার পড়ছে একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট। দেখে মনে হচ্ছে এখনি গোসল করে এসেছেন। আমি আস্তে করে বললাম,,, ----- কি হয়েছে..? ------ নাটক ছেড়ে এখনি তোমার ছেলের সাথে গিয়ে শুয়ে পড়। ------ কেন..? ------ কেন মানে..? কেন মানে কি..? দাদি আসবে এখনি।আমাদের দেখতে।এখন যদি উনি এইভাবে তোমাকে ফ্লোরে দেখে উনি ঠিকই বুঝে যাবেন আমাদে মাঝে কিছুই নেই। তাই কথা না বাড়িয়ে বেডে শুয়ে পড়। আমি কথা না বাড়িয়ে সাদের সাথে শুয়ে পড়লাম। আকাশ কাউচে বসে পড়ল তার ল্যাপটপ নিয়ে। সাদের গায়ে হাত বুলাচ্ছি। কোনো জ্বর নেই এখন। তখ৷ সাদের ঘুম ভাঙলো। সাদ আমাকে জরিয়ে ধরল,,, ------ সোনা,,ঘুম ভেঙেছে..? ------- উহু।আমি এতনো ঘুমাত্তি। এই দেকো।[ বলেই দুই হাত দিয়ে চোখ ডেকে ফেলল ]... আমি ওর চোখ থেকে হাত সরিয়ে বললাম,,, ------ ওরে সয়তান..? দুষ্ট হয়ে গেছো তাই না। হুড়মুড়ে উঠে বসল সাদ। দুই হাত বটে কপাল কুচকে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,,, ------ উহু।আমি অনেএএএএএত ভালো। আমি মেতলার তেলে।অনেক ভালু আমি।অনেএএএএত। আমি উঠে বসলাম,,,,আর সাদকে কাতুকুতু দিতে লাগলাম,,, ----- তাই না,,,তুমি ভালো,, তুমি ভালো,,, কাতুকুতু সহ্য না করতে পেরে হাসতে লাগল সাদ,,, ----- তালো মেতলা,,তালো আমায়,,,আর না,,আর না,,, কাতুকুতু দেওয়া বন্ধ করে সাদকে জরিয়ে ধরলাম। সাদ আহ্লাদী আটখানা হয়ে বলল,,, ----- তোমাতে কত্তো ভালুপাতি না মেতলা। কত্তো ভালুপাতি,,, ----- হ্যাঁ। সাদ বুড়ো আমায় অনেক ভালো বাসে। আকাশের পছন্দ হচ্ছেনা আমাদের কথা বলা। গম্ভীর ভাব নিয়ে নিজের কাজ করছে। তখন হঠাৎ সাদের নজর গেল আকাশের দিকে। সাদ অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো,,, ------ মেতলা,,মেতলা,, মেতলা,,, ------ কি সোনা। ------ এটা,কে..?( অবাক হয়ে আঙুল দিয়ে আকাশের দিকে ঈশারা করে)... ------ উনি এই বাসার মালিক। ------ এএএএহহহহহ,,,, এই বাতার মালিক আমি।।আল কেও না। ------ হ্যাঁ,, কিন্তু এই বাসা উনি কিনেছেন। ------ উহ,,,,আমি কিনেতি। দালাও। বলেই সাদ বিছানা থেকে নেমে পড়ে আকাশের সামনে যায়। দুইহাত দিয়ে কোমড়ে ধরে দাঁড়িয়ে পড়ল। আকাশ আড় চোখে সাদকে দেখে আবার নিজের কাজে মন দিল। ------ এই,,,টুমাল নাম কি..? আকাশ জবাব দিল না। নিজের কাজ করতেই লাগল। সাদ ভ্রু জোড়া কুচকে আকাশের দিকে তাকালো। আর একটু রাগি গলায় বলল,,, ----- তুমি কি তুনোতে পাও না..? আমি বলেতি টুমাল নাম কি। আবারো আকাশ সাদের সাথে কথা বলল না। সাদ কুড়মুড়ে গিয়ে আকাশের চশমা টা টান মেরে খুলে ফেলল। আকাশ বিরক্তি ভাব নিয়ে বলে উঠল,,, ------ আরে,,,আরে,,হচ্ছে কি। এইসব এর মানে কি।আমার চশমা দাও,,,, -----উহু,,দিবো না। আমি সেই ততন তেকে টুমাল নাম দানতে তাচ্ছি,টমি বলোই না। ----- চশমা টা দাও ------ উহু,,,নাম বলো,,, ------ উফফফফ। অসহ্য। আকাশ আমার নাম।এইবার,দাও। ------ এই বালি নাকি টুমার..? ------ হ্যা,,,আমার,,এইবার চশমা টা দাও। -----সাদ,,সোনা চশমা টা দাও। ----- তুপ,,তুপ মেতলা,,আমি কতা বলতেছি না,,টুমি কতা বলবা,না। -----দাও,,চশমা। ----- না। টুমাল বালি কিবাবে...? কাল ওই বুলি বলতিল এইতা আমাল বালি। টুমাল কিবাবে..?হুম।হুম। আমি সাদের লাছে এসে সাদের হাত থেকে চশমা টা কেড়ে নিয়ে আকাশকে দিয়ে সাদকে কোলে নিয়ে বেড়িয়ে পড়ি। আকাশের মুখে এখনও বিরক্তি ভাব। দুপুরে খেয়ে দেয়ে সাদ ঘুমাচ্ছে। আমি বসে সাদের পোশাক গুছিয়ে রাখছি। তখন আকাশের দাদু রুমে আসল আর বলল,,, ----- দাদুভাই,,, আকাশ বলেছে ওর রুমের ইম্পর্ট্যান্ট একটা ফাইল আছে। নীল রঙের। তুই ওই ফাইল,টা ড্রাইভার কে দিয়ে দে তো। আমি এখন নামাজ পড়তে বসবো। সময় চলে যাচ্ছে। ------ আচ্ছা দাদু।তুমি যাও আমি দিয়ে দিচ্ছি। দাদু রুম থেকে চলে গেল। আমি আকাশের ফাইল গুলোর কাছে গেলাম।এইখানে অনেক গুলো ফাইল। তার মধ্যে নীল রঙের ফাইল অনেক গুলো । আমি বুঝতেছি না কোনটা রেখে কোনটা দিবো। কোনটা তার দরকারী। ভুল টা দিলে উনার সমস্যা হবে। উনি রাগ ও করতে পারেন। তখন দরজায় ড্রাইভার এসে ডাকছে। তখন আর কিছু না ভেবে সব গুলো নীল রঙের ফাইল ড্রাইভারকে দিয়ে দিলাম। যেটা উনার,,উনি নিয়ে নিবেন। প্রায় ঘন্টা খানেকের মাঝেই আকাশ বাসায় এলো। আমি রুমেই ছিলাম। উনি দ্রুত পায়ে আমার কাছে এসে আমার দুই হাত মুচড়িয়ে পিঠে চেপে ধরল। আমি ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠলাম চলবে,,,,,,

No comments yet

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.