read.cash Log in

@Jacky211

Joined 19 November 2020 · 4 posts

120 KT

0 KT · 2¢ received · 0 KT given

Posts

@Jacky211

পরের ঘরে বাত্তি জ্বালাইয়া নিজের ঘরে অন্ধকার 💔💔💔 রিকশায় উঠে বসেছে। কড়া রোদে শঙ্খের মতো সাদা কাশবন যেমন ঝলমল করে, ঠিক তেমনি ঝলমল করছে সাদা শাড়ি পড়া এই তরুণী। আর কিছুক্ষণ বাদেই প্রশান্তির এক গভীর স্রোত বয়ে যাবে তার ওপর দিয়ে। প্রণয়কে না দেখে কাটানো এক একটা মুহূর্ত যেন অসস্তিকর। তাদের প্রথম দেখাটা ছিল প্রচণ্ড অদ্ভুত! প্রণয়ের বাবা অনিমার মায়ের অফিসের কলিগ। সেই সুবাদে কোনো এক ঈদের দুপুরে তাদের বাড়িতে দাওয়াতে যায় অনিমারা। ছেলেটাকে প্রথম দেখে মনে হয়েছিল অতি সাধারণ। সাধারণের মতো হাঁটাচলা, সাধারণের মতো কথাবার্তা। নিজেকে অতিচালাক মনে করা ওই ছেলেটির প্রতি আর যাইহোক, প্রেম জন্মায়নি অনিমার মনে। বাড়িটা সেদিন গিজগিজ করছিল প্রণয়দের আত্মীয়দের ভীড়ে। পরিবেশটাকে হাসিখুশি রাখার উদ্দেশ্যেই প্রণয় উঁচু গলায় বলে উঠলো, “আমি কি আপনাদেরকে একটু হাসাতে পারি?” বয়স্ক ধরনের এক লোক বলে উঠেলন, “অবশ্যই! অবশ্যই!” প্রণয় উৎসাহ নিয়ে বলে উঠলো, “স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছে, ডিভোর্স হবে হবে এমন একটা অবস্থা। এখন সমস্যা হলো তাদের ছেলেটা কার কাছে থাকবে? স্ত্রী কোর্টে বলল, মেলর্ড! আমি দশ মাস দশ দিন কষ্ট সহ্য করে ছেলেটাকে পৃথিবীতে এনেছি, তাই ও আমার কাছে থাকবে। অন্যদিকে স্বামী শান্তভাবে বলল, আপনিই বলুন মেলর্ড, এটিএম মেশিনে টাকা জমা রেখেছি আমি। তাহলে টাকাটা কার? আমার না এটিএম মেশিনের।” কয়েকজন বয়স্ক লোক অবুঝের মতো হো হো করে হেসে উঠলেন। হাসেনি অনিমা, অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল প্রণয়ের দিকে। একটা পর্যায়ে মনে হলো, শুধুমাত্র তাকিয়ে থেকে কাজ হবে না। ছেলেটাকে শিক্ষা দিতে হবে, কঠিন এক শিক্ষা! অনিমা প্রণয়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে স্বাভাবিক গলায় বলল, “কী বললেন? আরেকবার বলুন!” প্রণয় কিছুটা ভড়কে গিয়ে বলল, “কেন? আপনি শুনতে পাননি?” “পেয়েছি, তবে হজম করতে পারিনি। এই আপনার মতো মানুষের কারণেই মেয়েরা আজ যথাযথ সন্মান পায় না। এতই যখন শখ, তখন টাকা নিজের কাছে রাখলেই হয়। এটিএম মেশিনে জমা রাখার প্রয়োজন কী?” “দেখুন আপনি ভুল ভাবছেন। এটা শুধুমাত্র একটা জোক ছিল।” “কই আমার কাছে তো জোক বলে মনে হয়নি। আপনি হাসতে হাসতে গোটা নারীসমাজকে অপমান করেছেন।” “আমি কাউকে অপমান করিনি। আর তাছাড়া জোকটা তো আমি বানাইনি।” “জোকটা আপনার না, তবুও এতগুলো মানুষের সামনে নির্বিকার ভঙ্গিতে বললেন। এর অর্থ কি এই নয়, যে আপনি মেয়েদেরকে অপমান করাটা সমর্থন করেন?” এই ছেলের সঙ্গে আর কথা বাড়ানোর কোনো অর্থ হয় না। অনিমা রাগী ভঙ্গিতে তাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এল। ধরেই নিয়েছিল, বাজে মানসিকতার ওই ছেলেটার সঙ্গে আর কোনো দিন দেখা হবে না। তবে দেখাটা হয়েই গেল। সেদিন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের লাইব্রেরীতে বই ঘাটাঘাটিতে মহাব্যস্ত অনিমা, চারপাশের তাকানোর বিন্দুমাত্র সময় নেই। তবুও মনের অজ্ঞাতে চোখ পড়েই গেল, দূরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রণয়ের দিকে। অনিমার চোখে চোখ পড়তেই ছেলেটা শান্ত ভঙ্গিতে এগিয়ে এল তার দিকে। “ভালো আছেন?” অনিমা তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল, “হুঁ।” “আপনাকে স্যরি না বলা পর্যন্ত, ঠিক শান্তি পাচ্ছিলাম না।” “স্যরি বলতে হবে না। ওই ছোট্ট একটা শব্দ বললে তো আর আপনার মানসিকতা বদলাচ্ছে না!” প্রণয় এবার গলার স্বর কিছুটা কঠিন করে বলল, “শুনুন! শুধু শুধু আমার মানসিকতার ওপর দোষ চাপাবেন না। ওই জোকটা আমি বানাইনি। আপনার বোন, তৃণা না তৃধা কী যেন নাম?” “তৃষা?” “হ্যাঁ, তৃষা! ওই তৃষাই আমাকে জোকটা শিখিয়ে দিয়েছিল।” “কেন?” “আপনাকে রাগিয়ে দেওয়ার জন্য।” কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে শুকনো গলায় প্রণয় বলল, “আসি হ্যাঁ?” অনিমার জবাবের অপেক্ষা না করেই গড়গড় করে হেঁটে চলে গেল প্রণয়। যন্ত্রণায় পড়ল অনিমা। একটা কাজ করতে গেলেই বারবার মনে হয়, শুধু শুধু এতগুলো কথা শুনতে হলো মানুষটাকে। অসংখ্য রাত নির্ঘুম কাটিয়ে দেয় অনিমা। শুধুমাত্র একটি প্রহরের অপেক্ষায়, প্রণয়ের সঙ্গে তৃতীয়বার দেখা হওয়ার প্রহর। শুধু তৃতীয়ই নয় - চতুর্থ,পঞ্চম,ষষ্ঠ,b প্রত্যেকবারই দেখা হয়ে গেছে কাকতালীয়ভাবে। পুরোপুরি কাকতালীয় বললে ভুল হবে, একদিন তো অনিমা নিজেই দাঁড়িয়ে ছিল প্রণয়দের বাড়ির বাইরে। উদ্দেশ্য, ছেলেটা বাড়ি থেকে বের হওয়া মাত্র চমকে ওঠা। উৎফুল্ল গলায় বলা, “আরে আপনি? ভালো আছেন?” রিকশা থেকে নেমে অনিমা লক্ষ করল, স্যার মাথা নিচু করে সিগারেট টানছেন। প্রণয়ের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ দেখে বুক ধুকপুক করে উঠলো অনিমার। “প্রণয়?” অনিমাকে দেখে অকারণেই আতকে উঠে প্রণয় বলল, “অনিমা! এসে গেছ?” “দেরি করলাম না-কি?” “না, না! আমিই তাড়াতাড়ি এসেছি।” “তোমার গ্রামের সবাই ভালো আছে?” “হ্যাঁ, আছে। তুমি কেমন আছ?” “ভালো আর থাকি কী করে? তোমাকে না দেখে কখনো কাটিয়েছি এতগুলো দিন? দেখো, তোমার দেওয়া শাড়িটা পড়েছি!” “বাহ্, সুন্দর লাগছে।” অনিমা লক্ষ করল প্রণয় একটু পরপরই ঘামছে, চিন্তায় তার গলা শুকিয়ে আসছে। “তোমার কী হয়েছে প্রণয়?” “কিছু হয়নি তো!” “আমাকে মিথ্যা বলছো? তুমি খুব ভালো করেই জানো আমাকে মিথ্যা বলে কোনো লাভ হয় না। কী হয়েছে?” “কিভাবে যে বলবো...” “স্বাভাবিকভাবেই বলবে!” “আচ্ছা অনিমা, আমাদের সম্পর্কের কত দিন হয়ে গেল?” “তিন বছরের বেশি তো হবেই। কেন?” “এই তিন বছরে আমরা কতটা বদলে গেছি তাই না?” “তো?” “তোমার কি কখনো মনে হয়নি আমরা একে অপরের থেকে কিছুটা হলেও আলাদা?” “কী?” প্রণয় শান্তভাবে বলল, “আমাদের চিন্তাভাবনা এক ধরনের না, পছন্দ এক ধরনের না। তুমি পাহাড় পছন্দ করো, আমি সমুদ্র। ছুটির দিনে তুমি ঘুরে বেড়াতে পছন্দ কোরো আর আমি ঘরে থাকতে।” “শুরু থেকেই তো জানো আমরা একে অপরের থেকে একটু আলাদা। কিন্তু সেটা জরুরী নয়, জরুরী হলো আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। তাই না?” “অনিমা আমার মনে হচ্ছে না যে এ বিষয়টা জরুরী না। এখনের জন্য ঠিক আছে কিন্তু ভবিষ্যতে? তুমি পারবে এমন একটা মানুষের সঙ্গে সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে যে কি-না তোমার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা?” “তুমি পারবে?” “এখানে আমার কথা আসছে কেন?” “তাহলে আমার কথাও আসছে কেন?” “কারণ আমার মনে হয়, আমি তোমার জন্যে পারফেক্ট নই।” “হঠাৎই?” “হঠাৎই না অনিমা। অনেক দিন ধরে ভাবছি ব্যাপারটা নিয়ে। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে তুমি আরও ভালো কাউকে ডিজার্ভ করো।” “করতেই পারি। কিন্তু আমার তোমাকেই লাগবে। বুঝেছ?” “অনিমা মনোযোগ দিয়ে শুনবে, আমার কাছে এই সম্পর্কটাকে ভিত্তিহীন বলে মনে হচ্ছে। সম্পর্কটার কোনো ভবিষ্যত নেই। আর তাছাড়া এই মুহূর্তে আমার কাজেও মন দেওয়া উচিত।” “শুধুমাত্র কাজে মনোযোগ দেওয়ার জন্য আমাকে ছাড়তে চাইছো?” প্রণয় বেশ অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “হ্যাঁ।” অনিমা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। যে প্রণয়কে নিয়ে সুন্দর একটা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছে এতদিন, সেই প্রণয়ের কাছেই আজ এ সম্পর্ক ভিত্তিহীন? “বেশ। আমি তোমাকে কোনো প্রশ্ন করবো না, কোনো জোরাজুরিও করবো না। শুধু আমার একটা অনুরোধ রাখবে?” “কী?” “একটা সত্যি কথা বলবে প্লিজ? আমি খুব ভালো করে জানি কাজে মনোযোগ দেওয়ার জন্যে তিন বছরের সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ার মতো মানুষ তুমি নও। আসল কারণটা কী?” প্রণয় দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “তোমার কাছে মিথ্যা বলে লাভ নেই। সত্যিটা হলো, আমি একজনকে পছন্দ করি। মাসখানেক হলো আমাদের দেখা-সাক্ষাৎ। তোমাকে বলতে চেয়েছি অনেকবার। কিন্তু...” অনিমা স্তম্ভিত হয়ে বলল, “তাকে কি আমি চিনি?” “ফারজানা।” অনিমার চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে, ছুটে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে এখান থেকে। পালিয়ে যাওয়াটাই উচিত। তবুও অনিমা দাঁড়িয়ে রইলো, যদি প্রণয় বলে, “অনিমা ভয় পেও না তো, মজা করছিলাম!” - সেই আশায়। তবে প্রণয় তা বলল না। চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো অনিমার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে। অনিমার এর পরের দিনগুলো কেটে গেলো বিষন্নতায়। লেখাপড়া করতে গেলে প্রণয়ের কথা মনে পড়ে, মায়ের সঙ্গে বসে গল্প করতে গেলেও পড়ে, বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখতে গেলে তো সবথেকে বেশি পড়ে। প্রণয়ের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া ওই আনন্দের মুহূর্তগুলো সারাজীবন শুধু স্মৃতি হয়েই রয়ে যাবে, ভাবতেই যেন কেমন লাগে। অনিমা নিজেকে একেবারে ঘরের মধ্যে বন্দী করে রেখেছে। বাইরে বের হলেই একেকজনের একেক রকম প্রশ্ন! সেদিন তার বান্ধবী মেঘলা এসেছিল। কড়া গলায় জিজ্ঞেস করেছে, “প্রণয়কে দেখলাম আজ ফারজানার সঙ্গে ঘোরাঘুরি করছে। তুই কিছু বলছিস না কেন?”। এদিকে আবার কাল রাতে অনিমার মা সুলতানা বেগম আন্তরিক গলায় বলে উঠলেন, “মা রে, গ্র্যাজুয়েশনের পর ভালো একটা দিন দেখে তোর আর প্রণয়ের বিয়ের কাজটা সেরে ফেলি। এতদিনের চেনাজানা তোদের। তাছাড়া প্রণয়ের বাবা জুয়েল ভাই, কতো স্নেহ করেন তোকে। তোর কোনো আপত্তি নেই তো মা?”। কোনো প্রশ্নেরই উত্তর নেই অনিমার কাছে। মেয়ের কষ্ট মায়ের চোখে ঠিকই হানা দিয়েছে। সুলতানা বেগম বহুবার লক্ষ করেছেন, দরজা বন্ধ করতে অনিমাকে কাঁদতে। অচেনা এই কান্নার কারণ জিজ্ঞেসও করতে চেয়েছেন বহুবার, কিন্তু পারেননি। জিজ্ঞাস করা মানেই মেয়েটাকে লজ্জা দেওয়া। কী দরকার! কয়েকটা দিন এভাবে চলুক, পরে এমনিতেই সব আগের মতো হয়ে যাবে। দিন চলে যায়, কিন্তু অনিমা আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে না। অদৃশ্য এক শক্তি ঘিরে রেখেছে তাকে। মেয়ের এই অবস্থায় কোনো মা-ই পারেন না হাত গুটিয়ে বসে থাকতে। তীব্র এই কষ্ট থেকে মেয়েকে মুক্ত করার জন্যে এক মেন্টাল কাউন্সিলরের খোঁজ করলেন সুলতানা বেগম। যে অনিমার কষ্ট পুরোপুরিভাবে কমিয়ে দিতে না পারলেও সমস্যার সমাধান করতে পারবে, আগের মতো স্বাভাবিক করে তুলতে পারবে। কাউন্সিলিং নেওয়ার ব্যাপারে খুব একটা আপত্তি করলো না অনিমা। সত্যি কথা বলতে কী, মেয়েটা নিজেও চায় এই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে। কাউন্সিলর মহিলার নাম নওশাদ, বয়স চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশের মধ্যে। চেম্বারের চেয়ারের ওপর পা তুলে বসে থাকার ব্যাপারটা ঠিক হজম হলো না অনিমার। নওশাদ স্বাভাবিক গলায় বললেন, “আপনিই তাহলে অনিমা?” অনিমা অস্পষ্ট গলায় বলল, “হুঁ।” “যতদূর শুনেছি, আপনি না-কি প্রেমে ব্যর্থ হয়েছেন?” “হুঁ।” “তা কী নাম ছিল আপনার বন্ধুর?” “প্রণয়।” “বাহ্! নামের মধ্যেই তো একটা প্রেম প্রেম ব্যাপার! আপনার মতো বয়সে আমারও এক বন্ধু ছিল, আজিজুল। নাম শুনলেই যেন মনে হয় সরকারি ব্যাংকের কর্মচারী।” “আপনি এভাবে বলছেন কেন? একটা মানুষকে তার নাম নিয়ে অপমান করা মোটেই উচিত নয়।” “মিস অনিমা, আপনার বোধ হয় জোক বুঝতে একটু অসুবিধা হয়। তাই না?” অনিমা চুপ করে রইলো। “তা এই প্রণয়ের সঙ্গে আপনার পরিচয় হয় কীভাবে?” “এভাবেই। ও একটা জোক বলেছিল, আমি বুঝতে পারিনি। না বুঝেই অযথা রাগ দেখিয়েছি।” “কী সর্বনাশ! দেখেছেন আমি ঠিকই ধরতে পেরেছি!” অনিমা বিরক্তির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। “আচ্ছা, সম্পর্কে ফাটল ধরলো কী করে?” “আমরাই ক্লাসমেট ফারজানা। আমার কাছ থেকে ওকে কেড়ে নিয়ে গেছে। একদিন হঠাৎ আমাকে ডেকে প্রণয় বলল, আমাদের এই সম্পর্ক না-কি ভিত্তিহীন।” “তা ভিত্তিহীন সম্পর্কটা কতদিনের?” “তিন বছর।” “তিন বছর! সময়টা কিন্তু অল্প না। আপনার কি মনে হয়, একজন মানুষকে পুরোপুরিভাবে চেনার জন্যে সময়টুকু যথেষ্ট?” “হুঁ।” “তার মানে আপনি প্রণয়কে চিনতে পেরেছিলেন। তাহলে কখনো বুঝতে পারেননি কেন, যে একদিন সে আপনাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে।” অনিমা বিরক্ত গলায় বলল, “আপনি এসব প্রশ্ন আমাকে করছেন কেন? আপনার আজ আমার সমস্যাগুলোকে কমানো, বাড়িয়ে দেওয়া নয়।” “তাইতো! দেখেছেন ভুলেই গিয়েছিলাম। আচ্ছা এবার বলুন, ভালোবেসেছিলেন তাকে?” “নিজের চাইতেও বেশি।” “প্রণয় আপনাকে বেসেছিল?” “জানি না। মানে, ও কখনো আমাকে আই লাভ ইউ জাতীয় কথাবার্তা বলেনি। তবে ওর চোখে ভালোবাসা দেখতে পেয়েছিলাম।” নওশাদ চুপ করে রইলেন। “জানেন প্রণয় যদি আমার কাছে এসে বলতো, অনিমা আমাকে খুশি করার জন্য আগুনে ঝাঁপ দাও। বিশ্বাস করুন আমি হাসিমুখে ঝাঁপিয়ে পড়তাম। কিন্তু ও কী করলো? আমার বেঁচে থাকাটা কঠিন করে দিয়ে চলে গেল। প্রণয়কে ছাড়া বেঁচে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।” নওশাদ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, “আমরা যখন কোনো কিছু মুখস্ত করি, কিংবা কোনো বিশেষ বা সাধারণ ঘটনা আমাদের সঙ্গে ঘটে - তখন সেগুলো আমাদের মস্তিকে জমা থাকে। স্মৃতি কখনো আমাদের মস্তিক থেকে মুছে যেতে পারে না বা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে না। এখন আপনি বলতে পারেন, পরীক্ষার হলে তাহলে কেন মুখস্ত করা পড়াটা আমরা ভুলে যাই? পরীক্ষার হলে আসল মস্তিষ্ক এক ধরনের অসস্তিকর অবস্থায় থাকে, ভোঁতা এক দুশ্চিন্তা কাজ করে সেখানে। তাই মস্তিষ্ক আমাদের পড়া মনে করিয়ে দিতে পারে না। ভালোবাসার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। আপনি যখন একটা মানুষকে মন থেকে ভালোবাসেন, তখন তাকে কোনোভাবেই সেখান থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারবেন না। হ্যাঁ হয়তো ভালোবাসার পরিমাণ বাড়তে-কমতে পারে, কিন্তু তা কোনোদিনও ফুরিয়ে যাবে না। আজ আপনার বন্ধু অন্য একজনকে নিয়ে খুশি, তবে আপনার জন্যে তার ভালোবাসা কখনো ফুরিয়ে যাবে না। আমি নিশ্চিত, এখনও তার মনের কোনো এক ছোট্ট কোণায় আপনি বেঁচে আছেন। আমাদের মন আবার ওই কোণায় পড়ে থাকা ভালোবাসাকে প্রকাশ করতে পারে না। মনের বেশির ভাগ অংশ জুড়ে যার জন্যে ভালোবাসা, তাকেই প্রাধান্য দেয়।” অনিমা মুগ্ধ গলায় বলল, “বাহ্, আপনি তো বেশ সুন্দর করে কথা বলতে পারেন।” “কী করবো বলুন, এটাই আমার পেশা। আচ্ছা এখন আসল কথায় আসি, আপনি কী জানেন পৃথিবীর জনসংখ্যা কত?” “সাত বিলিয়ন?” “সাত বিলিয়ন, সাত’শ কোটি! এতগুলো মানুষ, তাদের এত এত আনন্দ, দুঃখ, রাগ, হিংসা, ভালোবাসা। একজনের সঙ্গে আরেকজনের জীবনের কোনো মিল নেই। সিনেমার পরিচালকেরা যদি একেকজনের জীবনী নিয়ে সিনেমা বানানোর প্রকল্প হাতে নেন, তবে পৃথিবীতে নতুন সাত’শ কোটি গল্পের সিনেমা আসবে। কিন্তু না! সেই একই গল্পকে নতুন নাম দিয়ে, নতুন রূপ দিয়ে বারবার সিনেমা বানাতে হবে। একজন সাধারণ মানুষের জীবনী নিয়ে সিনেমা বানানোটা অপ্রচলিত, তাই কেউ বানায় না। ঠিক তেমনি অনেক দিনের সম্পর্ক ভেঙে গেলে কষ্ট পাওয়াটা প্রচলিত। তাই সবাই কষ্ট পায়, আপনিও পাচ্ছেন।” “তাহলে কী আমার আনন্দ করা উচিত?” “না, তবে কষ্ট পাওয়াও উচিত নয়। আপনার বয়স এখন অনেক কম, কোনো পরিচালক যদি আপনার জীবনী নিয়ে সিনেমা বানাতে চায় তাহলে তাকে কমপক্ষে ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর অপেক্ষা করতে হবে। এই বছরগুলোতে অনেকগুলো ঘটনা আপনার সঙ্গে ঘটবে, প্রচুর মানুষ আসবে আপনর জীবনে।” “আসুক, তবে আমি প্রণয় বাদে অন্য কাউকে ভালোবাসতে পারবো না।” “ভালবাসাবাসি নিতান্তই মনের ব্যাপার। মন যে কখন চুপিসারে একটা মানুষকে ভালোবেসে ফেলবে, টেরও পাবেন না। তবুও যদি কাউকে ভালোবাসতে না পারেন, তাহলে প্রণয়ের মনের ছোট্ট একটা কোণে এখনো আপনার বসবাস এই ভেবে বাকিটা জীবন কাটিয়ে দেবেন। অনিমা কিছুটা হেসে বলল, “থ্যাংক য়্যু!” “ভালো লাগছে এখন?” “অনেক!” “এখনও কি মনে হচ্ছে, প্রণয়কে ছেড়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব?” অনিমা হাসতে হাসতে না-সূচক মাথা নাড়ল।

@Jacky211

চিরকুটের প্রেম সারারাত ফারহান ঘুমাতে পারেনি। শুধু একটা চিন্তা করেছে, পায়েল কী চিরকুট পেয়েছে? যদি পেয়েই থাকে তাহলে নিশ্চয় খুব খুশি হবে পায়েল।সে খুশির ঝলকানো মুখটা দেখতে খুব ইচ্ছা করছে ফারহানের।সে ঠিক করেছে এবার পায়েলকে বলবে তার সাথে যেন দেখা করে।এভাবে আর লুকোচুরি প্রেম তার আর ভালো লাগছে না। সকালের ভোরের আলো ফুটতেই গায়ে চাদুর জড়িয়ে বেরিয়ে পড়ল।কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল দেখতে দেখতে চলে আসল হাতিরঝিল।চিরকুট'টা পেয়ে খুশিতে আপ্লুত হয়ে পড়ল ফারহান।পায়েলের চিরকুট'টা মেলে ধরে পড়তে গিয়ে ফারহান চিন্তিত হয়ে পড়ল।পায়েল নিজে থেকে তার সাথে দেখা করতে চায়? তার ফোন নাম্বার চাইছে।যে মেয়েটা আজ পর্যন্ত তার নামটা জানতে চায়নি, আজকে সেই মেয়েটা...এক দিকে খুব খুশি হচ্ছে অন্যদিকে চিন্তাও হচ্ছে। সে একটা চিরকুটে তার নাম্বার দিল।নিচে দিয়ে লিখে দিল,' ফোন কোরো।তখন তোমায় বলব কোথায় দেখা করব?' বলে সে বেড়িয়ে গেল। রজনী হাতিরঝিলে যাওয়ার জন্য সকাল সকাল রেডি হয়ে নিচে নেমেছে।নিচে এসে দেখল দরজায় তালা ঝুলছে।বিরক্ত হয়ে কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কপাল কুঁচকে বলল,' চাবি এখন কই পাই?' বলে সোফায় বসে রইল। জুলেখা উঠে নাস্তা বানাল।সবাইকে ডেকে পাঠাল।রজনী শুধু একটা জিনিস খেয়লা করল? সকাল ১০টা বাজতে চলেছে। এখনো দরজার তালা খুলছে না? তাই সে জিজ্ঞেস করল,' মামণি, দরজা খুলছো কেন? ' জুলেখা সিরিয়াস হয়ে বলল,' কালকে আমাদের পাশের বাসায় দিনে ডাকাতি হয়েছে।তাদের টাকা পয়সা, সোনার গয়না সব নিয়ে গেল।সেই ভয়ে সবাই এখন দিনেও দরজায় তালা মেরে রাখে।রাহা ডাকাতকে খুব ভয় পায়।আর আমাদের ঘরে সোনার গয়নাও আছে। যদি চুরি হয়ে যায় সেই ভয়ে তালা দিয়ে রেখেছি।' মায়ের কথায় মিটিমিটি হাসল রজভ। রজনী সেটা খেয়াল করল।কিন্তু বুঝতে পারল না এখানে হাসির কী বলা হয়েছে? সে রজভকে ঠোঁট বাঁকাল।আর জুলেখা বলল,' তালা দেওয়ার কী আছে। লক করে রাখলেই হয়।' জুলেখা এবার কিছু বলেনি।রাহা বলল,' আমি ডাকাতকে খুব ভয় পাই সুন্দরী। ডাকাতের কথা শুনলে আমার গা কাটা দেয়।এই দেখো ভয়ে আমি কাঁপছি।তুমি তালা খোলার কথা বলো না।' রজনী খুব বিরক্ত হলো।কিন্তু মুখে সেটা প্রকাশ করল না। জুলেখা বলল,' মামণি।আমার বাইরে একটা কাজ আছে।আমার বাইরে যেতে হবে।একটু তালাটা খুলে দাও।' ' তালা খুলে দেওয়া যাবে না।' ' তালা খুলতে কয়েক সেকেন্ড লাগবে।আমার তালা লাগিয়ে দিয়ো।' ' বলছি না খোলা যাবে না।' ' আমাকে যেতেই হবে।' ' তুমি যাতে বাইরে যেতে না পারো সেই জন্যই তালা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।' ' কী? ' ' যা শুনেছো তাই।' বলে জুলেখা উঠে দাঁড়াল।চলে গেল।তার পিছন পিছন রাহাও চলে গেল। রজনী খুব রাগ হচ্ছে।সে বুঝতে পাচ্ছে এই বুদ্ধিটা কার? নিশ্চয় তার মায়ের।তার মা তাকে এই বিয়ের নাকক বাঁধনে আটকানোর জন্য এইসব করছে।সে বিড়বিড় করে বলল,' তুমি যতই চেষ্টা করো।কিছুতেই এই বিয়ে তুমি আটকাতে পারবে না!' বলেই টেবিলে বসে থাকা রজভের দিকে চোখ গেল।এখন তার কাছে পরিষ্কার। কেন তখন রজভ হেসেছিল?ওদের মিথ্যে বলা কথা সে বুঝতে পারেনি,কিন্তু রজভ বুঝতে পেরে হেসেছে।সে শব্দ করে উঠে দাঁড়ায়।রজভ তার দিকে তাকাল।সে টেবিলে উপর থেকে পানি ভর্তি গ্লাস হাতে নিল।এরপর এটা রজভের প্লেটের সামনে জুড়ে মারল।খুব জোরে একটা শব্দ হলো। কিছু পানি রজভের মুখে আঁচড়ে পড়ল, কিছুটা নিচে। টেবিল গড়িয়ে গ্লাসটা নিচে পড়ে যেতে নিতেই রজভ ধরে ফেলল।গালি গ্লাসটা রজনীর হাতে দিয়ে সে উঠে চলে গেল।রজনী সেটা ফ্লোরে আঁচড়ে মারল।সেই শব্দটা শুনে রজভ পিছন ঘুরে রজনীর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।সে হাসি দেখে রজনীর দ্বিগুণ রাগ হলো।সে টেবিল থেকে আরেকটা গ্লাস নিয়ে রজভের দিকে ছুড়ে মারল।রজভ সেটা ক্যাচ ধরে ফেলল। রজনীকে দেখিয়ে বলল,' রজনীগন্ধা , আরেকটা ছুঁড়ে মারো, দেখি ধরতে পারিনি কীনা।' রজভের এই ঠাট্টা মোটেও ভালো লাগেনি।সে হনহন করে হেঁটে রান্না ঘরে চলে গেল।রজভ উপরে চলে গেল। রান্নাঘর থেকে একটা চুরি এনে তালা কাটার চেষ্টা করল। কিন্তু সেই চেষ্টা বৃথা গেল।সে চুরি ফেলে জুলেখা কাছে গেল। আকুতি মিনতি করে চাবিটা চাইল।কিন্তু দিল না।সে রাগ করে উপরে চলে গেল। রজভ সোফায় বসে মোবাইল টিপছে। রজভকে দেখে রজনী বলে উঠল,' আপনার মায়ের থেকে চাবি এনে দিন।আমি বাইরে যাব।' ' তোমার সেই ভালোবাসার মানুষটার সাথে দেখা করতে যাবে।' রজনী কিছু বলল না এই ব্যাপারে।সে বলল,' চাবিটা এনে দিন দয়া করে।' ' তুমি না বললেও কী হয়েছে।আম্মু জানে তুমি ওই কাজে বাইরে যাবে।তাই চাবি কখনোই দিবে না।' ' আপনি গিয়ে একবার চান।আপনি আপনার কথা বলে চাবি নিন।যে আপনি বাইরে যাবেন।' ' কেন আমি মিথ্যে বলব?' ' আমার জন্য।' ' মানুষ নিজের আপনজন বা প্রিয়জনের জন্য মিথ্যে বলে।আপনি তো আমার কোনোটাই নয়।তাহলে আপনার জন্য কেন শুধু শুধু মিথ্যে বলে আমার পাপের বোঝা বাড়াব?' ' আইছে আমার সত্যিবাদী।যান গিয়ে চাবি আনেন।' রজভ মোবাইল রেখে রজনী মুখোমুখি হয়ে দাঁড়াল।বলল,' আমার মত কাইল্যা ছেলের কপালে তোমার মত রূপবতী মেয়ে জুটেছে।কী করে চাবি এনে দিয়ে ওমন রূপবতী বউকে কীভাবে হাতছাড়া করি।ভাগ্য করে পেয়েছি বটে।' বলে মোবাইল নিয়ে চলে গেল।রজভের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল রজনী। দেওয়ালের সাথে হেলান দিয়ে রজনীর নিজেই নিজেকে বোকা বলে গালি দিচ্ছে।আর বিড়বিড় করে বলল,' ফারহানের চিরকুট আমি পেয়েছি।তখন আমার দেওয়া চিরকুটে আমার নিজে নাম্বারটা দিয়ে আসতে পারতাম।কিন্তু তা না করে গাধীর মত ফারহানের নাম্বার চেয়েছি।আজ যদি আমার নাম্বার দিয়ে আসতাম।তাহলে ফারহান আমায় ফোন করতে পারত।কিন্তু এখন আমি এই বন্দীখানা থেকে কবে মুক্তি পাব।কালকে আবার চলে যাবে ওই দূর দেশে।সেই দেশে যাওয়ার আগেই ফারহানের সাথে কথা বলা খুব জরুরী। ফারহানকে সবটা খুলে বলতে হবে।' সকাল গড়িয়ে রাত এলো। এখনো ফারহানের মোবাইলে পায়েলের ফোন আসল না।ফারহান খুব চিন্তিত হলো।সে বুঝতে পাচ্ছে না পায়েল কেন ফোন করছে না এখনো।সেই সকালে নাম্বার দিয়ে এসেছে।ফোনের অপেক্ষা করতে করতে রাতের বারোটা বেজে গেল।ফোন আসল না। ফোনের দিকে তাকিয়ে সারারাত কেটে গেল।ফজরের আযানের ধ্বনি শুনে অযু করে বাইরে চলে গেল। নামায পড়ে হাতিরঝিলে গেল।নিজের দেওয়া চিরকুট'টা দেখে ফারহান বুঝতে পেরেছে কেন একটা ফোন ও আসেনি তার মোবাইলে।সে স্বগতোক্তি করে বলল,' জরুরী কথা আছে।অথচ চিরকুট এসে নিল না।' সেখানে ঠাঁই বসে রইল।বলে উঠল,' কাল নেয়নি ।আজ তো নিতে আসবে।তখন তোমার সাথে দেখা হবে।জানতে চাইব কী এমন জরুরী কথা বলার ছিল।' সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো।বিকালে গড়াবে ঠিক সেই সময় তার মায়ের ফোন আসলা।তাকে বাসায় চলে যেতে হলো।এরপর সন্ধ্যা আবার হাতিরঝিলে আসল।তখন দেখল, তার দেওয়া চিরকুট'টি জায়গাই রাখা। সে মাথা নিচু করে বসে রইল।মাথা উঠিয়ে হাতিরঝিলে চারপাশে তাকাল। যদি তার পায়েল আসে।কিন্তু তখন তার চোখ পড়ল বাদামওয়ালার দিকে।সে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে গেল বাদামওয়ালার দিকে।বলল,' তোমাকে কিছু বলে গিয়েছে আমার চিরকুটওয়ালী।ওর কোনো সমস্যার কথা।ও কেন আসছে না আমার চিরকুট নিতে।' ফারহানকে দেখে বাদামওয়ালা বলল,'কাস্টমার বিদায় করে আমি আপনার সাথে দেখা করতে যাইতাম।' এটা বলে বাদাম রাখা পত্রিকার নিচ থেকে দুটো চিরকুট বের করে বলল,' এই নিন।' ফারহান জিজ্ঞেস করল, ' কী এটা।' ' ওই আফার রেখে যাওয়া চিরকুট।আপনি কয়দিন আসেনি।তখন ওই আফা এসে রেখে গেছিল।আপনি আসছে না দেখে আমি ওই চিরকুটগুলো নিয়ে আমার কাছে এনে রেখে দিয়েছি।' ফারহান চিরকুট গুলো পড়ল।দুটো চিরকুটেই একই লিখা।সে বুঝতে পেরেছে আগে দিন একটা রেখে চলে গেছে পরেদিন রিপ্লাই চিরকুট আসেনি দেখে সেইম লিখা আবার লিখেছে।সে এটা বুঝতে পাচ্ছে না হঠাৎ করে পায়েল তার সাথে দেখা করতে চাইছে কেন? ওর কোনো বিপদ হয়নি তো।সে বাদামওয়ালাকে বলল,'এতদিন কেন আমায় চিরকুটগুলো দেননি।' ' এতদিন অসুস্থতা জন্য বাদাম বিক্রি করতে আসতে পারিনি।আজ অসুস্থতা নিয়ে এসেছি এই চিরকুট গুলো আপনার হাতে দেওয়ার জন্য।আমি পড়ে বুঝিছি। আফার আপনার সাথে দেখা করার খুব জরুরী। ' ' আচ্ছা ও তোমাকে কিছু বলে যায় নিই।' ' না।উনি এসেছিলেন দু'দিন।ওই দুদিন চিরকুট রেখে গিয়েছিলেন।আমি শেষের দিন চিরকুট নিয়ে আমার কাছে রেখে দিই।ভেবেছি পরেদিন আসলে আফাকে বলল,' আপনি আসেনি।চিরকুটগুলো আমি নিজের কাছে রেখেছি।' আর চিরকুট উনার হাতে দিয়ে দিতাম।কিন্তু চিরকুট নেওয়ার পরেরদিন থেকে খুব জ্বর ছিল।আসতেই পারেনি।' ফারহান মন খারাপ করে বসে রইল।চিৎকার করে বলল,' পায়েল, আমি তোমার জরুরী কথা শুনতে চাই।কবে এসে বলবে সেই কথাগুলো।' প্রতিদিন গল্প দিই।কিন্তু গঠনমূলক মন্তব্য কেউ করছেন না।এত কষ্ট করে আপনাদের জন্যই তো লিখি।আপনারা কী পড়ে ভালো-মন্দ মন্তব্য করতে পারবেন না।

@Jacky211

#পলাশী_নদীয়া_পশ্চিমবঙ. #একতরফা_প্রেম_ সাদা জামা পরে, নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে, একদিন ভেঙেছি নিজ ঘর, প্রেমিক হিসাবে দাবি করতে গিয়ে, আজ আমি বড়োই প্রেমিকহীন মানুষ, ।। সাদা জামা খুলে দেখি, ভিতরে যে কুচকুচে কালো চামড়া, আমাদের প্রেমিক সাজা যে মানা , পচা জলে গা ডুবিয়ে , আজ আমি বড়োই প্রেমিকহীন মানুষ ।। সুরের তালে গা ভাসিয়ে, পা নাচিয়ে প্রতিদিন ভেবেছি প্রেমিক, বুক চাপড়ে অনুভূতি মাখিয়েছি কত কিন্তু বুঝিনি প্রেমের স্বাদ টক-ঝাল না মিষ্টি, তবে কি আমি প্রেমিক হতে পারিনি ।। নদীর ধারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছি, জোয়ার, ভাটা, সভ‍্যতার ভাঙা-গড়া, হাটে-বাজারে চোখের সামনে দেখছি, কেজি দরে আলু পটলের দামোদর তবে কি আমি প্রেমিক হতে পারিনি ।। কিন্তু আমি প্রেমিক হতে চাই, যার ছোঁয়ায় প্রতিটি স্বপ্ন রঙিন হয়ে ওঠে।।

@Jacky211

অমানুষিক নির্যাতন সদর দরজা খুলতেই তাতিয়ানা দেখল গেটের কাছে একটা কালো কালারের গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে। তাতিয়ানা কিছুটা সাইডে সরে গিয়ে গাড়ি প্রবেশ করার পথ করে দিল। গাড়ি গিয়ে সোজা গাড়ি বারান্দায় গিয়ে ব্রেক কসল।গাড়ি থেকে রোগা টাইপের মাঝবয়সী একজন লোক নেমে এলো। তাতিয়ানা লোকটিকে দেখে বলল —হ্যালো আংকেল, কেমন আছেন আপনি? —আমি ভালো আছি মাই ডার্লিং তাতিয়ানা। তুমি কেমন আছো ডার্লিং তাতিয়ানা? — আমি ভালো আছি আংকেল।চলুন বাবার কাছে যাওয়া যাক বাবা বাগানেই আছে। —চল ডার্লিং যাওয়া যাক। পাতলা রোগা টাইপের লোকটি ড. হেনরি। ড. হেনরি আর ড. ওয়াং ছোট থেকেই খুব ভালো বন্ধু । স্কুল কলেজ সব জায়গায় তারা একত্রে ছিল। এমনকি তাদের কাজের জায়গাও একই।ড. হেনরি ও ড. ওয়াং এর মতো নাসার একজন খ্যাতিমান বিজ্ঞানী । তারা দুজনে একই সাথে বিভিন্ন গবেষণা চালিয়েছে । ড. ওয়াং এর কিছুদিন পরেই ড. হেনরি ও রিটায়ার্ড করেন। তাতিয়ানা আর ড. হেনরি কথা বলতে বলতেই গাড়ি বারান্দা থেকে বাগানে চলে এসেছে। তাতিয়ানা বলল, —আংকেল আপনি একটু বসুন আমি চট করে গিয়ে তোমার প্রিয় ব্লাক কফি নিয়ে আসছি। — তুমি কেমন করে জানলে যে আমার ব্লাক কফি পছন্দ। আমিতো আগে কখনো আসিনি।? — বাবা সবসময় আপনার গল্প করতো সেখান থেকেই জেনেছি। আচ্ছা তাহলে আপনারা গল্প করুন , আমি গিয়ে কফি নিয়ে আসছি । বলেই তাতিয়ানা ঘরের দিকে পা বাড়ালো । তাতিয়ানার বাবা ড. ওয়াং আর হেনরি দুজনে বসে গল্প করছিল এই ফাঁকে তাতিয়ানা কফির ট্রে নিয়ে হাজির। তাতিয়ানা ড. হেনরির দিকে কফির মগ এগিয়ে দিয়ে বলল, —আংকেল আপনি এখোনো বিয়ে করেন নি কেন? — আমার তাতিয়ানা ডার্লিংটার জন্যই বিয়ে করি নি। বিয়ে করলে আমার তাতিয়ানা ডার্লিংটা আমার মত হ্যান্ডসাম ছেলে কই পাবে। বলেই হেসে উঠলো ড. হেনরি।তার সাথে সাথে ড. ওয়াং আর তাতিয়ানাও হেসে উঠলো।তখন হঠাৎ করে তাতিয়ানা বলে উঠলো বাবা আমাকে যে প্রজেক্টের ব্যাপারে বলতে চাইছিলে। তাতিয়ানার কথাতে ড. ওয়াং এর চোখ যেন কপালে উঠলো। ড. ওয়াং এর মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে এই সময় এই ধরনের প্রশ্ন আশা করেনি। তাতিয়ানা নিজের ভুল বুঝতে পারলো কিন্তু কিছু করার নেই যা হবার তা তো হয়েই গেছে। এদিকে ড. হেনরি তাতিয়ানার কথা শুনে ভাবতে লাগলো কোন প্রজেক্ট সম্পর্কে বলতে চাইছে ওয়াং। কিছুক্ষণ ভেবে তাতিয়ানাকে বলল মা তুমি ভিতরে যাও তোমার বাবার সাথে কিছু ইম্পরট্যান্ট কথা আছে। তাতিয়ানাও সেখানে দেরি না করে ভিতরে চলে গেল। তখন ড. হেনরি ড. ওয়াংকে বলল কোন প্রজেক্ট এর ব্যাপারে বলতে চাইছিলি তাতিয়ানাকে।ড. ওয়াং সবকিছু খুলে বলল। আর বলল —এই প্রজেক্টটা গোপনএ দিয়েছিল। কিন্তু কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় আমার রিটায়ার্ড হয়। তাই প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে যায়।কিন্তু তুইতো জানিস কোন কিছু আমি অসম্পূর্ণ রাখতে পারি না তাই গোপনে প্রজেক্ট টা শুরু করি আবার। —তুই তো ভাল করেই জানিস তাদের গোপন কোন কিছু সমন্ধে অন্য কাউকে জানানো নিষেধ। যদি তাঁরা কোনভাবে জানতে পারে এটা তাহলে তোর খুব বিপদ হবে।একটু সাবধানে কাজ কর বলে ড. হেনরি বিদায় নিয়ে চলে গেল। ড. হেনরি চলে যেতেই বাবা মেয়ে মিলে দাবা নিয়ে মেতে উঠলো।ড. ওয়াং বেশ ভালো দাবারু প্রতিটা চাল দিয় সে তার মেয়েকে আটকাতে চাছে । কিন্তু তাতিয়ানাও কম যায় না। সে প্রতিটা চাল এর ডিফেন্স খুব ভালোভাবে করছে। চাল এর উত্তরে চাল। কেউ কারো থেকে কম নয়। দাবা খেলতে খেলতে ড. ওয়াং বলল, — আমার পরিচিত কিছু বড় বড় বিজনেসম্যান আছে। তাদের সাথে তোর মিট করার ব্যবস্থা করে দিব। —চঞ্চল, বুদ্ধিমতী মেয়ে তাতিয়ানা তার বাবার উদ্দেশ্য খুব সহজেই বুঝে ফেলল।তাতিয়ানা বলে উঠলো বাবা আমি এখন বিয়ে করবো না। — তা বললে কি হয় মা, তুই এখন বড় হয়েছিস সারাজীবনতো আর তোকে বেঁধে রাখতে পারি না। — ওসব বলে লাভ হবে না বাবা। আমি এখন বিয়ে করছি না। এইতো কদিন হলো তুমি এলো । আর এক্ষুনি আমাকে পর করে দিতে চাচ্ছা বাবা। আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না। আমি চলে গেলে তোমাকে কে দেখবে। তাই আমি কোথাও যাচ্ছি না বাবা। ড. ওয়াং আর কিছু বলল না তার মেয়েকে। এতো তাড়াতাড়ি তার মেয়েকে বলা ঠিক হয়নি। তাকে আগে বুঝার সময় দিতে হতো। তাকে বুঝিয়ে বলা লাগতো প্রথমে।সে বড্ড তাড়াহুড়ো করে ফেলেছে। মেয়েটা এখোনো বাচ্চাই রয়ে গেছে। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা ৭ এর ঘরে। অর্থাৎ সাতটা বেজে গেছে। তাতিয়ানা তৈরি হয়ে তার বাবার রুমে গেল।তাতিয়ানার বান্ধবী এলিক্সার আজ বার্থডে । এলিক্সা বার্থডের জন্য বড়সর একটা পার্টি রেখেছে। ড.ওয়াং আর তাতিয়ানাকেও সে ইনভাইট করেছে । সেটারই জন্য তাতিয়ানা তার বাবার কাছে যাচ্ছে। — বাবা আজ আমার বান্ধবীর জন্মদিন মনে আছেতো। তাতিয়ানা তার বাবা ড.ওয়াংকে বলল। — মনে আছে মা কিন্তু আমিতো যেতে পারবো না। একটা ইম্পরট্যান্ট কাজ করতেছি । ল্যাপটপের দিক থেকে চোখ না সরিয়েই বলল ড. ওয়াং। তাতিয়ানা দেখল তার বাবা ল্যাপটপে কিছু একটা করছে। খুব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাতিয়ানা দেখল ল্যাপটপের স্ক্রিনে project302 the hidden project লিখাটা ভেসে আছে।সত্যিই খুব ইম্পরট্যান্ট কাজ। তাই তাতিয়ানা আর তার বাবাকে ডিসটার্ব করল না। তার বাবার থেকে বিদায় নিয়ে গাড়ি বারান্দার দিকে পা বাড়ালো । রাত প্রায় ১:০০ বেজে গেছে। এলিক্সার বার্থডে পার্টিতে ইনজয় করতে করতে কখন যে এতো রাত হয়ে গেছে তাতিয়ানা বুঝতেই পারেনি। অবশ্য এলিক্সা তাতিয়ানে আজ রাতটা তাদের ওখানেই কাটিয়ে দিতে বলেছিল, কিন্ত ড. ওয়াং একা বলে সে বেড়িয়ে এসেছে । বাড়ির কাছাকাছি আসতে তাতিয়ানা দেখলো আজও বাড়ির দরজা খোলা। সে ভাবলো তার বাবা আজও কোনো মজা করছে। তাই গাড়ি বারান্দাতে গাড়ি রেখে সে তার বাবাকে ডাকতে লাগলো। কিন্তু কোন সারা পাচ্ছে না। তাই ঘরের ভিতরে যেতেই সে দেখল সবকিছু ভাঙ্গচুর হয়ে আছে। তার ভিতরটা ছ্যাৎ করে উঠলো। তাতিয়ানা দৌঁড়ে তার বাবার রুমে গেল। সেখানেও সব কিছু পরে আছে যেন কেউ কিছু একটা খুঁজেছে। কিন্তু বাবা, বাবা কোথায় গেল। তাতিয়ানা মাথা কাজ করছে না সবকিছু কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। রাগে আর কষ্টে মাথার চুল সে টানতে লাগলো।তখন হঠাৎ মনে পরল প্রজেক্ট সম্পর্কে । প্রজেক্টের জন্য বাবা কিছু হয়নি তো? তাতিয়ানা লুকিয়ে ড.ওয়াং আর হেনরির সব কথা শুনেছিল। তাতিয়ানা দৌঁড়ে আবার তার বাবার রুমে গেল । যেখানে ফাইলটা রেখেছিল সেখানে কিন্তু সে ফাইল পেলো না। ল্যাপটপ টা নিয়ে দেখলো সেটাতেও কোনো ফাইল নেই সব ডিলিট করেছে।তাতিয়ানা পুরো ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজতে লাগলো। কোনো কিছুতো নিশ্চয়ই আছে যা সে পাচ্ছে না।রাগে সে ঘর থেকে বাহিরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই ভাঙ্গা ফুলদানিতে পা লেগে ফুলদানিটা কিছুটা ছড়িয়ে গেল। তাতিয়ানা পায়ে আঘাত নিয়ে আবার উঠতে যাবে তখন মনে হলো কিছু একটা রয়েছে ফুলদানিতে। তাতিয়ানা ফুলদানির ভাঙ্গা অংশগুলো সারাতেই দেখলোএকটা পেন ড্রাইভ । এটাতো সে তার বাবার ল্যাপটপে দেখেছিল। এটাইতো প্রজেক্ট সম্পর্কিত সেই পেন ড্রাইভ টা। নিমিষে তার ব্যাথা যেন দূর হয়ে গেলো। পেন ড্রাইভ এর পাশে একটা চিরকুটও আছে যেটাতে লেখা হেনরি। তাতিয়ানা হঠাৎ মনে পরলো তার প্রতিবেশী এডওয়ার্ড আংকেল কে বলে দেখি তারা কোথাও বাবাকে দেখেছে কিনা। চলবে...