করোনাকালে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যের সম্মিলন
ক্ষুদ্র এক ভাইরাস গ্রাস করছে সমগ্র বিশ্বকে, বদলে দিয়েছে অর্থনীতির হিসাব, বিপযস্থ করছে সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতিকে। এই কয়েকমাস মহামারীতে আজ বিশ্ববানিজ্য স্থবির, শিল্প উৎপাদন গতিহারা আর আমদানি-রফতানি তলানিতে। এই পরিস্থিতি আর দীর্ঘ হলে বিভিন্ন খাতে ক্ষতির পরিমাণ কি হবে তা ধারনার বাইরে। জীবন আর জীবিকা আজ হুমকির সম্মুখীন।জীবন ও জীবিকার মধ্যে কোনরকম কার্যকর সমন্বয় করে আপাতত টিকে থাকার চেষ্টা করছে বিশ্ব বাসী। কঠিন এই বাস্তবতার মধ্যে বৈশ্বিক মহামারীতে টিকে থাকা ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা কে সামনে রেখে সার্বিক দিক বিবেচনায় এনে সম্মিলিত শক্তি প্রয়োগে এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তুু এরুপ দৃষ্টিগোচর হয় যে নানা ধরনের সমালোচনা, নানা অমূলক বক্তব্য। এই দুর্যোগকালে এমনটি কাম্য না হলে ও তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,সংক্রমণ বৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী ধারা আর ও কিছু দিন চলতে থাকবে। ফলে সমগ্র বিশ্বের সার্বিক পরিস্থিতি আর ও ভয়াবহ হয়ে উঠবে, তা সহজেই অনুমেয়। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কেউ যদি 'একলা চলো' নীতি অনুসরণ করে চলে তবে শুধু জনভোগান্তিই বাড়বে না, উদ্ভব হবে আর ও নানা সমস্যার। তাই জাতীয় ঐক্যের প্রাসঙ্গিকতা খুবই জরুরি বলে আমি মনে করি। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে জীবন রক্ষার তাগিদে জীবনের সম্মিলন ঘটাতে হবে। যার যার নিজ নিজ ছোট্ট পরিসর থেকে বের হয়ে জনমাণবতার দিকে হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। গড়ে তুলতে হবে ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন আলোকিত দৃষ্টান্ত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, যতই বলা হোক না কেন আমরা এক কাতারে দাঁড়াবো, আমাদের বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে তা অমূলক। করোনা দুর্যোগ ফের নিজে আমাদের সামনে এই বিষয় গুলো নিয়ে আসছে। এই মহামারী হয়তো একদিন কেটে যাবে, আমরা সবাই আবার এক নতুন সকাল, নতুন সুর্য, নতুন উৎসাহ খুজে পাবো নতুন করে পথ চলার। কিন্তু এর মধ্যেই যে অন্ধকার নেমে এসেছে, যে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বা আরও হবে তা এতো সহজেই সেরে উঠার নয়। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, মহামারী কেটে গেলেও আরও এক কঠিন সময় উপস্থিত হয়ে দাঁড়াবে আমাদের সামনে। আর তাই এই সময়ের মুখোমুখি মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজন যথোপযুক্ত ঐক্যতার প্রয়াস, সম্মিলিত চিন্তাশক্তির বিকাশ৷ আর এভাবেই তৈরি হতে পারে মুক্তির সহজ পথ। এই মহামারীতে চিরন্তন সত্য এই বাণী যেন আমরা ভুলে না যাই। দুর্যোগে ঐক্যতাই পরম শক্তি।
No comments yet