মুক্তিযুদ্ধে শিশু কিশোরদের অবদান
বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি বাঙালির জন্য গৌরবের আখ্যান। এই ভূখণ্ডে হাজার ১৯৭১সালে এমন একটি সময় এসেছিল ,যে সময় আবাল বৃদ্ধ বনিতা, নারী পুরুষ সকলে একাত্ম হয়ে স্বাধীনতার জন্য ঝাপিয়ে পড়েছিল। যারা অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করেছেন তারা মুক্তিযোদ্ধা খেতাব হয়েছেন। কিন্তু অনেক শিশু বৃদ্ধা নারী যারা এই যুদ্ধে পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের মূল্যায়ন আমরা এখনো করতে পারিনি।
একটি দেশের যখন যুদ্ধ হয়, তখন সে দেশের শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশের ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল, এদেশে যুদ্ধকালীন নয় মাসের শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমাদের দেশের দলিলপত্রের হিসাব মতে, দুই লাখেরও বেশি বাঙালি নারী নির্যাতিত হয়েছিলেন আর গরে গরে কত নারী যে নানাভাবে নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছিলেন তার কোন হিসাব নেই।
যুদ্ধের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যত নারী নির্যাতিত হন, তার ও অনেক বেশি শিশু নির্যাতিত হয়েছে। যুদ্ধকালীন নয় মাসে যুদ্ধের কারণে কত শিশু মারা গেছে, কত শিশুর শিক্ষাজীবন পারিবারিক জীবন ধ্বংস হয়েছে, কতশিশু মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে তার কোন হিসাব এখনো পর্যন্ত নির্ণয় করা যায়নি। আমার ব্যক্তিগত মতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মুক্তিযোদ্ধা ও বীরঙ্গনা নারীদের মতো এসব শিশুদের ভূমিকা অপরিসীম। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন গ্রামে আক্রমণ করেছে তখন অনেক মা দুধের বাচ্চার মুখ চেপে ধরেছে যাতে শব্দ করে কান্না করতে না পারে। এই ফাঁকে দুধের শিশুটি মায়ের কোলেই মারা গেছে। সে কি তার জীবন দিয়ে পরিবারের অন্যান্যদের জীবন বাঁচায়নি?
আমরা এই অবুঝ শিশুর জীবন দান কিভাবে ইতিহাসে অমর করতে পারব? আমাদের বীরাঙ্গনা নারীদের সেইসব যুদ্ধ শিশু আমাদের জাতির অনন্ত গৌরবের বিশেষ্য। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শিশু-কিশোরদের স্মৃতি, সেসময় তাদের যাপিত জীবনের দুর্বিষহ অবস্থা, যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীকে সহায়তা কিংবা নানাভাবে ভূমিকা পালনের কথা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের স্বার্থেই নির্ণয় করা প্রয়োজন। তাছাড়া যুদ্ধশিশুদের জীবন ও এই মুক্তিযুদ্ধের অপরিহার্য অংশ।
No comments yet