একদিন রাতে
আমার কাকা একজন মাওলানা হুজুর। তিনি বিভিন্ন জায়গায় ওয়াজ মাহফিল করে থাকেন। তার জন্য তার বাড়ি ফিরতে অনেক রাত হয়ে যায়। একদিন মাহফিল শেষ হতে হতে প্রায় মাঝ রাত হয়ে যায়। তিনি ছিলেন একটু ভীতু টাইপের মানুষ। হুজুর মানুষ হয়েও ভুতে প্রচুর ভয় পেত। তাই অতিরিক্ত রাত হলে তিনি অন্য হুজুরদের সাথে বাড়ি ফিরতেন। কিন্তু সেদিন তার সাথে কেউ ছিলনা। তাই তিনি সারা রাস্তা দোয়া দুরুদ পড়তে পড়তে ফিরছিলেন। হঠাৎ তার চোখে একটি বড় আকারের কালো বিড়াল দেখতে পান। তার সামনে সামনে বিড়ালটি হাঁটছিল। সে আরও ভয় অনেকটা ভয় পেয়ে গিয়েছে আর দোয়া দুরুদ পড়ছে। হঠাৎ করে বিড়ালটি মিলিয়ে যায়। তখন কাকা জোরে জোরে পা চালিয়ে হাটতে থাকে। এমন সময় তার ফোনটি বেজে উঠে। আসে পাশেই একটি বাড়িতে ডাকা হয় তাকে। একজন জ্বীনে ধরা রোগীর চিকিৎসার জন্য। সে আরও ভয় পেয়ে যায়। ইচ্ছা না থাকা সত্বেও তিনি ওই বাড়িতে যান, রোগীর অবস্থা দেখতে ও চিকিৎসা করতে। তিনি দেখতে পেলেন রোগীর অবস্থা খুব বেশি ভালো না। তিনি কিছু দোয়া কালাম পড়তে থাকলেন রোগীকে সামনে রেখে। এবং রোগীর শরীরে ফু দিতে লাগলেন। এমন সময় রোগীর অবস্থা আরও বিগড়ে যায়। এই অবস্থা দেখে তিনি ঘাবড়ে যান এবং দোয়া পাঠ শেষ করে অন্য মাওলানার কাছে নিয়ে যেতে বলেন। এই অবস্থার পর বাড়ি যেতে তিনি বেশ ভয় পাচ্ছিলেন। কিন্তু হুজুর মানুষ হয়ে ভূতে ভয় পাওয়াটা কেমন লজ্জার ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তাই কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে তিনি রওনা হলেন বাড়ির পথে। সারা রাস্তা ঘুটঘুটে অন্ধকার। কোথাও কোনো আলোর ছিটে নেই। গ্রামের এলাকাগুলো এমনই হয়ে থাকে সাধারণত। তিনি কাঁপতে-কাঁপতে আর দোয়া দুরুদ পড়তে পড়তে এগোতে থাকেন। এভাবে কোনরকমে তিনি বাড়ি পৌঁছালে। এখন তিনি হাফ ছেড়ে বাচলেন। কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ নয় হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে যখন তিনি শুয়ে পড়েছেন, তখনই শুরু হয় আসল কাহিনী। যেহেতু শীতকাল ছিল, তাই ভারী লেপ কাঁথা মুড়ে তিনি শুয়ে পড়লেন। আর জিনে ধরা রোগীর কথা মনে মনে ভাবতে লাগলেন। এমন সময় তার পিঠে কে যেন আঙুল দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ডাকছে। তার শরীরের মধ্যে একটি ভয়ের হিমশীতল বন্যা বয়ে গেল। ভয়ে হাত পা শীতল হয়ে যাচ্ছে তার। ভয়ে যেন কুকরে যাচ্ছে সারা শরীর। কয়েক সেকেন্ড পর আবার তার পিঠে খোঁচাচ্ছে। দুই-তিনবার করে। কাকা কোন সাড়া-শব্দ করছে না। ঠক ঠক করে কাঁপছে আর দোয়া-দুরুদ পড়ছে। এমন সময় দাদি এসে কাকাকে ডাক দেয়। এদিকে কাকা ভয়ে জমে বরফ হয়ে আছে। দাদির ডাক শুনে কাকা চিৎকার দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। আর দাদিকে সব খুলে বলে। এরপর দাদি ঘরে ঢুকে দেখে লেপের নিচে একটা বিড়াল শুয়ে আছে। কাকার চিৎকারে বিড়াল ও ভয়ে শিটকে আছে। এটা দেখে দাদি হাসতে হাসতে শেষ😂😂 এই ছিল আমার গল্প। এটি একটি সত্য ঘটনা। গল্পটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
No comments yet