অদ্ভুত অলৌকিক
আমার আম্মুর কাছ থেকে শুনেছিলাম আমার মামারবাড়ির ঘটে যাওয়া কিছু অলৌকিক ঘটনা তার মধ্যে একটি এখন এখানে বর্ণনা করব। সময়টি ছিল ইরি এবং বোরো ধানের মৌসুমের। সে সময় ক্ষেতের মধ্যে অনেকে একসাথে টিলার মেশিন দিয়ে হালচাষ করে। আমার মামাদের ধানের খেত ছিল। এবং তারা নিজেরাই তার বেশিরভাগ ক্ষেত চাষ করে থাকে। অনেক সময় সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। একদিন অনেক রাত্রিবেলায় কোন এক লোক এসে খবর দেয় তার ক্ষেতের হাল টানতে হবে। সেই দিনটি ছিল আমাবস্যার রাত। মামা অন্য কিছু মাথায় না এনে টিলার মেশিন নিয়ে বেরিয়ে পড়ে হাল চাষের জন্য। বিশাল মাঠ অথচ মামা একাই গেছেন হাল চাষের জন্য। বিশাল ক্ষেতের মধ্যে দুটি চড়া ভাগ করা আছে। একটি উত্তর চড়া অন্যটি দক্ষিণ চড়া। মামা যখন উত্তরা চড়ায় টিলার মেশিন চালাচ্ছিল তখন দক্ষিণ চড়া থেকে বিকট ভাবে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। মামা তখন দক্ষিণ চড়ায় যায় কিসের আওয়াজ তা দেখতে। কিন্তু মামা যখন দক্ষিণ চড়ায় যায় তখন এই গোঙ্গানির আওয়াজ আসছিল উত্তরা চড়া থেকে। মামা প্রথমে কোন মানুষ বিপদে পড়েছে ভেবে এ চড়াও চড়া এভাবে ঘুরছিল। কিন্তু যখন বুঝতে পারলো আশেপাশে কোন মানুষই নেই। তখন তিনি মাঠের মধ্যে টিলার রেখেই বাড়ির পথে হাঁটতে লাগলেন। ঠিক তখনই বিশালদেহের কিছু একটা তার উপর আক্রমণ করে বসে। তবে সেটা যে মানুষ নয় এটা তিনি বুঝতে পারলেন। বেশ খানিকক্ষণ ওই অদৃশ্য শক্তির সাথে লড়াই করতে করতে তিনি এক সময় অজ্ঞান হয়ে যান। মামার ভাগ্য ভালো ছিল বিধায় সেই সময় ওই রাস্তা দিয়ে কিছু লোক যাওয়ার সময় মামাকে দেখতে পান। তখন মামা মাটিতে গড়াগড়ি করে গোঙাচ্ছে। কিন্তু তার হুঁশ নেই। তখন তারা মামাকে চিনতে পেরে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং চিকিৎসা করে। তারা কবিরাজি চিকিৎসা করেছিলো মামার। মামার জ্ঞান ফিরতে সাতদিন সময় লেগেছিল। সেদিন সেই লোক গুলো মামাকে দেখতে না পেলে হয়তো মামা আজ আর জীবিত থাকতেন না। এই ছিল আম্মুর কাছ থেকে শোনা আমার গল্প। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
No comments yet