সিনিয়র বউ
সিনিয়র বউ .............. লেখকঃ সাফওয়ান পর্বঃ 06 - হ্যাঁ ভাল কিন্তু আপনি কে ? - নুহা আমাকে চিনতে পারছ না ? আমি রিয়াদ - কোন রিয়াদ ? - কোন রিয়াদ মানে তুমি আমাকে চিনতে পারছ না ? - আপনি যেই হন প্লিজ আপনি যান আমার ভাল লাগছে না - ওকে তুমি রেস্ট নাও আমি পরে আসব । - নিশ্চুপ ...... রিয়াদ আর কিছু বলল না , কারণ নুহার শরীরের অবস্থা ভাল না আর ডাক্তার বলেছে বেশি স্ট্রেস না নিতে । রিয়াদ নুহার কাছ থেকে এসে বাড়িতে ফোন দেয় । কিছুক্ষনের মধ্যে সবাই হাসপাতালে উপস্থিত । সবাই নুহার কেবিনে বসে আছে , সবাই বলতে নুহার বাবা নুহার মা আর রিয়াদ । নুহা ওর বাবা মাকে দেখতে পেয়ে যতটা খুশি হয়েছে ততটাই বেজার হল রিয়াদকে এখানে দেখতে পেয়ে । আসলে রিয়াদ এরও অজানা কেন নুহা তার সাথে এমনটা করছে । নুহাকি রিয়াদকে ভুলে গেছে , নাকি রিয়াদ এর উপর প্রতিশদ নিতে চাইছে । রিয়াদ নুহার সামনে যেতেই -বাবা এই লোকটা কে ? উনাকে এখান থেকে চলে যেতে বল । আমার কেন জানি না লোকটাকে সহ্য হচ্ছে না । - মা তুই সত্যি রিয়াদকে চিনতে পারছিস না ? ( নুহার বাবা ) - আমি এই লোকটাকে চিনি না , আর তুমরা প্লিজ ওকে বল না চলে যেতে । আমার ভাল লাগে না লোকটাকে । - নুহা এইসব কি যাতা বলছিস ? ও তোর ... - আরে থাক না আব্বু । আমি চলে যাচ্ছি ওকে মানসিক স্ট্রেস থেকে মুক্ত রাখতে বলেছে ডাক্তার । তুমরা থাক আমি গেলাম । - আপনার মেহেরবানি । আর দয়া করে আমার সামনে আসবেন না । ( নুহা ) - ত্তুমি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আসব না । ভাল থেকো -ধুর ...... যতদিন নুহা হাসপাতালে ছিল রিয়াদ নুহার সামনে যায় নি । হাসপাতালে গিয়েছে ঠিকি , বাইরে দাড়িয়ে থেকে দেখেছে নুহাকে । সে ভাবছে যে , নুহা হঠাৎ আমাকে বাদে সবাইকে চিনতে পারছে । এটা কি নেহায়েতই কাত্তালিও নাকি সত্যিই নুহা আমাকে চিনতে পারছে না । নাকি চিনেও না চিনার ভান করছে । সে কি আমার উপর প্রতিশদ নিচ্ছে , হয়ত । যে মানুষটাকে এতটা ভালবেসেছে তাকে কি করে ভুলা সম্ভব । এদিকে নুহার ভাবনা , - সালা আমাকে এতো কষ্ট দিয়েছিস তোকে আমি প্রতিটা কষ্টের জবাব হারে হারে টের পাওয়াবো । ভালোবেসে ছিলাম ভাল লাগে নি । আমাকে কেন দূরে সরালি , আমার বুঝি কষ্ট হয়নি । তকেও আমি প্রতিটা কষ্টের মজা বুঝাব । খুব চোখের পানি ফেলবি তুই , খুব । কয়েকদিন এর মধ্যে নুহাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় । নুহা রিয়াদকে বাড়িতে দেখে বাড়ি মাথায় তুলে - এই ছেলে টা আবার এখানে কেন ? ( চিৎকার করে বলল নুহা ) - কেন মা কি হয়েছে ? ( নুহার বাবা ) - কি হয়েছে মানে ! তুমাদের তো আগেই বলেছি যে এই ছেলে টাকে আমার সহ্য হয় না । তারপরও কেন আমার সামনে আসে ও ? - কেন ওকে সহ্য হয়ে না তোর ? সেটা আমাকে একটু বলবি ? - জানি না কেন । কিন্ত আমার ওকে একদমই সহ্য হয় না । কেন সহ্য হয় না । অকি আমাকে কিছু করেছিল ? - হ্যাঁ করেছে ও তোকে খুব ভালোবেসে ছিল । বুঝলি খুব ( নুহার বাবা কথাটা বলে চলে যায় ) -( আমি জানিত খুব ভালোবাসে আমাকে ,তাহলে কেন দূরে সরাল ,কেন) ... - নুহা আজকে অফিসে যাবে ?( রিয়াদ ) - তুই কেরে আমাকে নাম ধরে ডাকছিস ? আমিতো তোর থেকে বড় হব , আর শুনেছি তুই নাকি আমাদের অফিসেই কাজ করিস । আজ থেকে আমাকে মেডাম বলে ডাকবি , যতসব । - ( মাথা নিচু করে ) জি মেডাম, আজকে অফিসে একটা মিটিং আছে । আপনি কি যাবেন ? - হ্যাঁ যেতে তো হবেই , কিন্তু এটা তুই আমাকে কেন জিগ্যেস করছিস ? - আসলে আপনার বাবা আমাকে বলেছিল যে আমি যাতে আপনাকে নিয়ে যাই। তাই বললাম - তুই ভাবলি কি করে যে আমি তোর সাথে যাব ? - সরি মেডাম আমার ভুল হয়ে গেছে । মাফ করবেন - ( দেখ কেমন লাগে ) পরের বার যেন মনে থাকে / নুহা প্রতিনিয়ত রিয়াদ এর করা অবহেলার প্রতিশদ নিয়ে যাচ্ছে । যা রিয়াদ খুব ভাল করেই বুঝতে পারছে । রিয়াদ ও কম কিসে , সেদিন অফিসে রিয়াদ আর নুসরাত কাজ বাদ দিয়ে গল্প করছিল তখন নুহা এসে - কি হচ্ছে এখানে ? অফিসের কাজের দিকে দেখছি কারো কোন খেয়াল নেই । ( অনেকটা রেগে । আসলে অফিসে তেমন কাজ নেই আজ , নুহা রেগেছে রিয়াদ ওই মেয়েটার সাথে আছে বলে । ) - দেখুন আপনি চাইলেই আমাকে কিছু বলতে পারেন না , অনেক সহ্য করেছি আপানার অত্যাচার আর না । এই অফিসে যতটুকু আপনার অধিকার আছে ততটুকু আমার আছে । - কি বললি তুই ? তোর কিসের অধিকার রে ? - অধিকার আছে বলেইত বললাম , কারণ এই কোম্পানির ৫০% শেয়ার আমার বাবার । সেই হিসেবে ওই ৫০% শেয়ার আমার । - তোর সাহস তো কম না তুই আমাকে চোখ রাঙিয়ে কথা বলছিস - আপানার সাথে তো কথা বলতে চাই নি আপনিই তো উঠে এসে আমাদের মাঝে কথা বললেন । নুহা আর কিছু বলল না । সে এখন খুব বুঝতে পারছে যে যেটা হচ্ছে আর চলতে দেওয়া যাবে না , এতে আবার হিতে বিপরীত হতে পারে । সেদিন রাতে রিয়াদ ভাবছে , - আমাকে দেখলে তোর সহ্য হয় না তাই তো , থাক তুই তোর বাড়িতে । দেখি তুই আমাকে ছাড়া কি করে থাকিস । যেই ভাবা সেই কাজ । রিয়াদ একটা চিঠি রেখে আসে নুহার রুমে । বেশি কিছু ছিল না চিঠিতে । শুধু লেখা ছিল । ( ভাল থাকবেন । ) রিয়াদ সেদিন সারা রাত নুহার রুমে দাড়িয়ে কাটিয়ে ছিল । আসলে ভালোবাসার মানুষটাকে যতই দেখ না কেন কখনো মন ভরবে না , সারারাত দেখেও রিয়াদ এর মন ভরেনি রিয়াদ এর মনে হচ্ছে আর একটু দেখি কিন্তু তাকে যেতে হবে । পরের দিন নুহা ঘুম থেকে উঠেই তার বিছানার পাশে একটা চিরকুট পায় । চিঠিটা দেখে নুহার মনে ধক করে উঠে খুব খারাপ কিছুই চিন্তা করছে নুহা । চিঠিটা খুলে চির চেনা অক্ষরে কিছু লেখা দেখতে পায় নুহা লেখাটা পরেই ওর মাকে ডাকতে থাকে - মা । ও মা , কোথায় তুমি ? ( কান্না করতে করতে ) - কি রে মা কি হয়েছে , এমন বিচলিত লাগছে কেন তোকে ? ( নুহার মা ) - মা রিয়াদ কোথায় ? - কেন রে কি হয়েছে ? ও কি কিছু করেছে তোকে ? - আগে বল ও কোথায় ? আজকে শুধু ওকে পাই তারপর দেখ ওর কি করি । ( কান্না করতে করতে বলছে কথা গুল ) - আরে কাদছিস কেন ? - রিয়াদ কোথায় বলনা মা , প্লিজ বল । - রিয়াদ তো আজ সকালেই চলে গেল ? - চলে গেল মানে ? কোথায় গেছে ও ? - কি জানি বলল আর নাকি ফিরবে না । তোর তো ভালই হল বল ।( হাসি মাখা মুখ নিয়ে ) - মা তুমি মজা করছ ,না ? রিয়াদ কোথায় বল আমাকে ? আমার রিয়াদ কোথায় ? ( চিৎকার করে ) - আরে আমি মজা করতে যাব কেন ? রিয়াদ সত্যিই বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে । চলবে
No comments yet