read.cash Log in
@Safwan more from that month

টিভি

খালার জরুরী তলব। সুইটি কেয়ারটেকারের প্রেমে পড়েছে! যেমন তেমন প্রেম না। কেয়ারটেকার রফিকুলকে নিয়ে ভেগে যাওয়ার সময় খেয়েছে ধরা! এই বিচার করতে হবে আমার। ঐ বাড়িটা আমার বুদ্ধির উপর ভর দিয়ে চলে। আমার মাথায় আবার চরম বুদ্ধি। বুদ্ধি খালি গিজগিজ করে। যেতেই খালা বলল, তুই ওকে গলা টিপে মেরে ফেল, নাহয় আমি গাঙের জলে ভাসিয়ে দেবো! আমার মান ইজ্জত সব শেষ! ‘ খালা! এরকম বাচ্চাদের মতো কথা বলবেন না। গাঙের জলে ভাসিয়ে দিলে ও মরবে? না, ও সাঁতার জানে। ' ‘ তাহলে কী করব? গলা টিপে মারার মতো গায়ে শক্তি তো আমার নাই। গুলি করব? তোর খালুর একটা বন্দুক আছে। ভেতরে আসল বারুদ। ’ ‘ আগে ব্যাপারটা আমাকে বুঝতে দেন। সমস্যাটা কোথায়? রফিকুল কেয়ারটেকার বলে আপনার সমস্যা? কেয়ারটেকারকে কি কেউ ভালোবাসতে পারে না? তাঁকে নিয়ে ভেগে যেতে পারে না? ' ‘ আমাকে কি তোর ছোটলোক মনে হয়? আমি টাকা পয়সা দিয়ে মানুষ গুনি? ' ‘ নাহ, মনে হয় না। আপনি ছোটলোক হলে আমার পা এ বাড়িতে পড়তো না। যাই হোক। মূল কথায় আসি। তাহলে রফিকুল কি সুদ খায়? ' খালার সরাসরি উত্তর, নাহ, খায় না! ‘ তাহলে কী সমস্যা? সে কি দেখতে খারাপ? যদিও আমার ধারেকাছেও ঘেঁষতে পারবে না। তাও কিন্তু সে শাহরুখ খানের চেয়ে কম না! উঁচা লম্বা একটা স্বাস্থ্যবান সুদর্শন ছেলে। ' ‘ নাহ, সে দেখতেও খারাপ না। ' ‘ সে কি ভারতীয় সিরিয়াল দেখে? ' ‘ নাহ! তাও দেখে না! ' ‘ সে কি হিন্দু? ' ‘ হিন্দু হতে যাবে কেন? ' ‘ সে কি নেশাখোর? ' ‘ নাহ, নেশা করে না! ' ‘ সে কি অলস? ' ‘ তাও না! ' ‘ তাঁর টাকা পয়সা কম। এতে আপনার সমস্যা নাই। সে সুদও খায় না। দেখতেও মাশাল্লাহ। ভারতীয় সিরিয়ালও দেখে না। হিন্দুও না। নেশাখোরও না, না সে অলস! তাহলে আপনার সমস্যাটা কই? ' ‘ আরে ওর শুধু লুঙ্গি খুলে পড়ে যায়! লুঙ্গি ছাড়া সে কিছুই পরবে না! আবার সেই লুঙ্গি যেখানে সেখানে খুলে পড়ে যায়! এমন ছেলের সাথে আমি আমার মেয়ের বিয়ে দেবো কীভাবে? ধর বিয়ের পর আমার সব আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত দিলাম। তাঁরা সবাই আসলো। রফিকুল আসলো সুইটির হাত ধরে সবার সামনে। সেই মুহূর্তে গেল ওর লুঙ্গি খুলে! তখন কি আমার আমার মানসম্মান কিছু থাকবে? না থাকবে আমার মেয়ের? মানুষ বলবে না? এমন গাঁধার সাথে তোর মেয়ের বিয়ে দিতে পারলি! ’ বলে কী! এ দেখি ডিমেনশিয়ার চাইতেও মারাত্মক রোগ! এই রোগের রুগীকে সুইটি ভালোবাসলো কীভাবে? সেটা পরের কথা। তাঁর আগে জানতে হবে, বারবার লুঙ্গি খুলে যায় ছেলেকে খালা কেয়ারটেকার হিসেবে রেখে দিল কেন? বিদায় করে দিলেই তো পারতো। বললাম, খালা! লুঙ্গি খুলে পড়ে যায় ছেলেকে বিদায় করে দিলেন না কেন? খালার উত্তর, আমি তো প্রথম দিনই বিদায় করতে চেয়েছিলাম। তোর খালু তো দেয় না। উনার মন তো আবার বিশাল বড়। আটলান্টিক উনার মনের তুলনায় কোটি ভাগের এক ভাগ। এই ছেলে না কি খুবই গরীব। লুঙ্গি খুলে যাওয়ার কারণে অন্য জায়গায় কাজও পাবে না। না খেয়ে মরবে! এজন্য বিদায় করতে পারিনি! কিন্তু এমন ছেলের সাথে সুইটি? আমি শেষ রে, আমি শেষ! তুই ওকে গলা টিপে মার নাহয় আমি গুলি করব! কাহিনী দেখি চরমভাবে জটিল! দার্শনিকদের মতো দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললাম, কোনো টেনশন করবেন না খালা। আমি এর একটা ব্যবস্থা করছি। সুইটির ছোট বোন ইলমা হাতে এক কাপ চা নিয়ে হাজির। তাঁর মুখটা হাসি হাসি। সে বোধহয় এই ঘটনায় খুব খুশি হয়েছে। মজা পাচ্ছে। বাচ্চা মেয়ে। বাচ্চা মেয়েরা এসব ঘটনা হা করে গিলে। তাঁরা মনে করে নাটক হচ্ছে। নাটকের ভয়াবহতা আর বুঝে না! বললাম, ভ্যাটকাচ্ছিস কেন? ‘ কই ভ্যাটকাচ্ছি? ' ‘ আবার মিথ্যা বলছিস! আমি দেখছি তুই ভ্যাটকাচ্ছিস! ' ‘ তুমি চোখে বেশি দেখো ভাইয়া। আমার মুখটাই তো এমন। ' ‘ আমাকে বুঝাবি না তোর মুখ কেমন। তোকে আমার ভালো করেই চেনা আছে। হাতে কী? ' ‘ হাতে আবার কী থাকবে? তোমার জন্য চা করে আনলাম। হালকা পাতি আর মৃদু পরিমাণে আদা দিয়ে রং চা। তোমার খুব পছন্দ। তোমার গলার স্বর শুনেই বানিয়ে আনলাম। কতদিন পরে আসলে আমাদের বাড়িতে। ' এই মেয়ের কথা শুনে মনে হতে পারে আমি অনেকদিন এই বাড়িতে আসি না। এক সপ্তাহ আগে এসেও আমি এই বাড়ির টিভি, সিডি যা ছিল ভেঙেচুরে গেছি। খালার আদেশ। মেয়েরা নাকি টিভিতে হাঙ্কিপাঙ্কি দেখে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নামাজ কালাম নাই। ‘ এই একটা ভালো কাজ করছিস। তুই তো আবার ভালো কাজ করতে পারিস না। ' ‘ এরকম একটা মিথ্যা কথা তুমি আমার নামে বলতে পারলে? আমি কোন কাজটা খারাপ করি বলো? আমি টিভি দেখি না, ফেসবুক চালাই না। বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়াই না। শুধু ঘুমাই, ঘুমানো কি খারাপ কাজ? ' সুইটির ঠিক বিপরীত ইলমা। সে আসলেই এসব করে না। শুধু ঘুমায়! এত ঘুমায় যে স্কুলে যাওয়ারও সময় পায় না। বছর শেষে পরীক্ষা দিতে গেলে স্যারেরা অজ্ঞাত চিনে না ইত্যাদি বলে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়! ‘ সুইটি কই? ' ‘ রুমে, রফিকুল ভাইয়ার সাথে আবার পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে! ' ‘ চল ওর সাথে আগে কথা বলি। চা পরে খাব। ' ‘ ঠাণ্ঠা হয়ে যাবে তো! ' ‘ তখন আরেক কাপ চা বানাবি। তুই বাড়িতে আছিস কী করতে? ' রুমে ঢুকে দেখি সে গুরুগম্ভীর হয়ে বসে আছে। এই মুহূর্তে সে নিউটনের চতুর্থ সূত্র আবিষ্কার করে ফেলবে! বললাম, সুইটি! কী শুনি এসব? ‘ যা শুনেছ সব সত্য। আমি রফিকুলকে ভালোবেসে ফেলেছি। ওকে ছাড়া বাঁচব না। আম্মাকে বলেছিলাম। রাজি হয়নি, তাই পালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম! ' ‘ এই ছেলের তো বারবার লুঙ্গি খুলে পড়ে যায়! যে ছেলে এখনো লুঙ্গিই সামলাতে পারে না! সে কীভাবে বউ সামলাবে? সংসার সামলাবে? ' ‘ তো সমস্যা কী? বিয়ের পর আমি ওকে শক্ত করে লুঙ্গি পরা শিখিয়ে দেবো। না পারলে সারাজীবন আমিই ওর লুঙ্গি পরিয়ে দেবো। দরকার পড়লে লুঙ্গিতে বেল লাগানোর ব্যবস্থা করব! আর বউয়ের কথা বললে না? আমি কি বেশি খাই না বেশি পরি? দুই লোকমা খাই না, আর একটা থ্রি-পিচ ছয় মাস চলে যায়। সে বউও সামলাতে পারবে। সংসারও সামলাতে পারবে। তোমাদের অত টেনশন করা লাগবে না! ' সর্বনাশ! এই মেয়ে দেখি, লাইলি, শিরি ও জুলিয়েটকে এক তুরিতে পেছনে ফেলে দিয়েছে! এত প্রেম! আজকাল এত ভালোও কোনো ছেলেকে মেয়েরা বাসে? ‘ পালিয়ে যে যাচ্ছিলি। কোথায় উঠতি তখন? ' ‘ বটগাছ তলায় থাকতাম। সবাই পালিয়ে গিয়ে কোনো বাসা বাড়িতে উঠে না। কেউ কেউ বটগাছ তলাতেও থাকে! ' ‘ তুই দেখি পাগল হয়ে গেছিস! ' ‘ তোমরা পাগল বলো আর ছাগল বলো। আমি তাই, এবং রফিকুলকে চাই। ওর মতো নিষ্পাপ ছেলে আর একটাও শহরে আছে? ' বুদ্ধিশুদ্ধির সাথে দেখি এই মেয়ের চোখও গেছে! রফিকুল ছাড়া আর একটাও নাকি শহরে নিষ্পাপ ছেলে নাই! তাহলে আমি কি ছেলে না? গণ্ডার? ‘ রফিকুল কোথায় এখন? ওর সাথে কথা বলতে হবে। ' ‘ কোথায় আবার? ছাদে আছে। সে কাপুরুষের মতো পালিয়ে যায়নি। বসে আছে। আমাকে নিয়েই সে যাবে! ' ইলমাকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে সুইটির সাহায্য আমার খুব করে দরকার। এই বিশেষ মুহূর্তে যদি তাঁকে আমি আস্থা, আশ্বাস না দিতে পারি। তাহলে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারার মতো হবে। বললাম, তুই চিন্তা করিস না। আমি তোর মনের ব্যাপারটা বুঝি। তুই তো আসলে শিশুর মতো। সচ্ছ মন তোর। সেই মন কাউকে চেয়েছে। না পেলে বড় কষ্ট পাবে মনটা। তাঁকে আমি কষ্ট পেতে দেবো না! এই কথা শুনে ইলমা আমার দিকে এমন চাহনি দিয়েছে! এই চাহনিকে কবিরা বলে, চোখ আমার চড়ক গাছে উঠে গেছে! ইলমা বলল, মানে কী ভাইয়া? তুমি কি আপার দালালি করতে এসেছ? ওকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলাম, চুপ থাক! দালালি আবার কী? আমার চৌদ্দ গোষ্ঠীতে কেউ দালালি করে নাই। আমিও করি না। আমরা সত্যের পথে চলি। সত্যই মুক্তি। সুইটি খুশি হয়ে বলল, ভাইয়া! তুমি একটু ওর জন্য ছাদে খাবার নিয়ে যেতে পারবে? বেচারার খুব খিদে পেয়েছে নিশ্চয়! ও তো একটু ভোজনপ্রিয়। এক বেলা সময়মতো না খেতে পারলে গ্যাস্টিকের ব্যথা শুরু হয়! আর সে কাল থেকে কিচ্ছু খায়নি! প্লিজ ভাইয়া, একটু দেখো এই ব্যাপারটা। ‘ দেখব, অবশ্যই দেখব। জেলখানার আসামিরাও তিন বেলা খাবার পায়। ও কেন পাবে না? সে কী এমন পাপ করেছে? ভালোবাসা কি পাপ? যদি পাপ হয় তাহলে সবার আগে খালুকে ফাঁসিতে ঝুলানো উচিত! ' সুইটি আমাকে থামিয়ে দিল, ভাইয়া থামো এবার! আম্মা পাশের রুমে। নিশ্চিত কান পেতে আছে! ইলমাকে নিয়ে আমি ছাদে যাচ্ছি। বড় বাড়ি এদের। এক তলার একটা ছাদওয়ালা বাড়ি। আবার বেলকনিও আছে। অসম্ভব সুন্দর একটা বাড়ি। খালু নিজের কষ্টের অর্জিত টাকা দিয়ে এই বাড়ি বানাননি কিন্তু। এই বাড়ি বানিয়েছেন তিনি জমি বিক্রি করে। বাবার রেখে যাওয়া জমি। সিঁড়ির পথে আমি ইলমাকে বললাম, শোন। শেষে সুইটিকে যে কথাগুলো বলেছি। ওগুলো হলো সান্ত্বনা বাণী। ফাঁসির আগে আসামিকে সান্ত্বনা বাণী শোনাতে হয়। সুইটি হলো এখন ফাঁসির আসামি, বুঝেছিস তো কী বলছি আমি? ‘ বুঝেছি। আপা এখন ফাঁসির আসামি। তুমি হলে বিচারক। আম্মা হলো ভুক্তভোগী। আমি হলাম আসামির অসহায় ছোট বোন! ' ‘ গুড, তোর মাথায় বুদ্ধি আছে। তবে আমি বিচারক হতে চাই না। বাংলাদেশে সৎ বিচারক হওয়া যায় না। হয় গুলি খাও, নাহয় ঘুষ খাও। আমি ঘুষ খেতে চাই না, গুলিও না। জীবন অনেক সুন্দর। আচ্ছা তোর কি রফিকুলকে ভালো লাগে? ' ‘ ভালো লাগে। উনাকে দেখলেই মনে হয় আমি মোশাররফ করিমকে সরাসরি দেখছি! ' ‘ বাহ, সুন্দর বলেছিস। ' এসব কথা বলতে বলতে আমরা ছাদে চলে এসেছি। রফিকুল রোদের মধ্যে মাথা নেড়ে দিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে কী যেন ভাবছে। আমাকে দেখে বলল, আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া। ভালো আছেন? বাহ, ছেলের আদবকায়দাও আছে। বেচারা যদি লুঙ্গি ঠিক রাখতে পারতো তাহলে আমি আজকেই এদের বিয়ের ব্যবস্থা করতাম। ‘ ওয়ালাইকুম আসসালাম। তুমি বসে কথা বলছো কেন? দাঁড়িয়ে কথা বলো। ' ‘ নাহ ভাইয়া। আপনাকে দেখেই বুঝেছি কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে এসেছেন। গুরুত্বপূর্ণ কথা শুনলেই আমার লুঙ্গি খুলে পড়ে যায়! তাই বসে কথা বলছি। বেয়াদবি নেবেন না। ' খুব মায়া লাগল আমার। আহারে বেচারা! ‘ তাহলে ঠিক আছে, বসেই কথা বলো। সুইটি যে তোমাকে ভালোবাসে। সেটা তুমি কবে বুঝতে পেরেছ? ' রফিকুল জিহ্বা কামড় দিয়ে বলল, নাউজুবিল্লাহ! ও আমাকে ভালোবাসতে যাবে কেন? মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল! পালিয়ে যেতে চেয়েছিল কালকে, আজকে সে এটাই জানে না কেন সুইটি ভালোবাসতে যাবে! ‘ তুমি বলতে চাইছো যে সুইটি তোমাকে ভালোবাসে। এই ব্যাপারটা তুমি জানো না? ' ‘ নাহ! এসব কী বলছেন ভাইয়া? আমার চাকরিটা খেতে এসেছেন কেন? এই চাকরি চলে গেলে আমাকে না খেয়ে মরতে হবে! ' ‘ আরেহ, তুমি কালকে সুইটিকে নিয়ে পালিয়ে যেতে চাও নাই? ' ‘ চেয়েছিলাম! কিন্তু ওটা তো অভিনয় ছিল! বাড়িতে টিভি ভেঙ্গে ফেলার কারণে ওর নাকি চরম চরম নাটক মিস যাচ্ছে। সেসব না দেখতে পেরে অত্যন্ত কষ্টে আছে সে। এই কষ্টটার একটু ভাগ সে খালাকে দেবে বলেই এই পরিকল্পনা করল! আমি কিন্তু মানা করেছিলাম। শুনে নাই! এখনোও কি সুইটি অভিনয় করছে? ওকে বলেন অভিনয় ভঙ্গ করতে। আমি তো ক্ষুধায় মারা যাব! ' ইলমা বলল, কীহ? সত্য বলছেন আপনি? ' ‘ হ রে বইন, যে থালিতে খাই, সে থালি ফুটো করব কেন? ' রাগে দুঃখে আমার মেজাজটা চরম পর্যায়ে চলে গেছে। যে কোনো কিছু করে ফেলতে পারি। ইলমাকে বললাম, আয় তো! ওর অভিনয় বের করি আমি। শাবানাগিরি ছুটিয়ে দেবো একদম! খালার গুলি করা লাগবে না। আমিই গুলি করব। এই তোর বাপে বন্দুক কই রাখছে? ' ‘ আলমারিতে! তুমি কি আপাকে সত্যি সত্যি গুলি করবে ভাইয়া? ' ইলমা ভয়ে থরথর করে কাঁপছে! যেভাবে শীতের চোটে বাচ্চারা খালি গায়ে থাকলে কাঁপে! ‘ তুই ভয়ে কাঁপছিস কেন? তুই কি আসামি? সুইটি আসামি। ওকে গুলি করব! ' ইলমা কান্না শুরু করে দিয়ে একেবারে পায়ে পড়ে গিয়ে বলল, ভাইয়া এবারের মতো ক্ষমা করে দাও। আপাকে এই বুদ্ধিটা আমিই দিয়েছিলাম! ছয়টা দিন হয়ে গেছে ভাইয়া! ঘরে কোনো টিভি নাই, খেলা নাই, সিরিয়াল নাই, খবর নাই, সিনেমা নাই। বন্দী কারাগারে আছি মনে হচ্ছে। এই কারাগারের যে কী কষ্ট। সেই কষ্টের ভাগ একটু আম্মাকে দিতে চাইলাম। নিজের মেয়েকে নিয়ে কেউ ভাগিয়ে নিয়ে গেলে যে কষ্ট লাগে। সে কষ্টটাই লেগেছে কদিন আগে তুমি যখন আম্মার কথায় টিভিটা ভেঙ্গে ফেলেছ! আমি মাথায় হাত দিয়ে বললাম, তুই? ইলমা তুই? তুই এই কাজ করেছিস? ইলমা আরো জোরে কান্না শুরু করল, ভাইয়া! তুমি কি আমাকে গুলি করবে? তোমার কষ্ট লাগবে না? এ বাড়িতে আসলে কে দেবে তোমাকে অত যত্ন করে চা বানিয়ে? মনে মনে বলছি, হুঁ আমি অত গাধাই তো। বিয়ের আগে বউকে মেরে বিপত্নীক হই! কিন্তু মুখে বললাম, আজকে তুই শেষ ইলমা! আজকে তুই শেষ! খালার মনে যে দুঃখ তুই দিয়েছিস। এর শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদণ্ড! ইলমা ভাইয়া ভাইয়া করতে আকাশ পাতাল এক করে দিচ্ছে। আর আমি নিচে গিয়ে বন্দুক না এনেই বলে চলেছি, আজকে তুই শেষ! আজকে তুই শেষ! | টিভি |

5 comments

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.