মিথ্যা অভিযোগ ১৯
#গল্প :মিথ্যা অভিযোগ/ধর্ষক #পর্ব ১৯ -- মিথিলা তোমার সাথে কথা বলতে চায়।(রোকসানা) এখন আমি কি উত্তর দিবো ভাবছি।। আমি মেসেজ সিন করে রিপ্লে না দিয়ে,,, অফলাইনে চলে গেলাম।মিথিলার সাথে কথা বললে হয়তো।রাগ অভিমান সব শেষ হয়ে যাবে। তাছাড়া প্রথম ভালোবাসা,,,কি থেকে কি বলে ফেলে।আমি কিছুই সুনতে চাই না। রেজাল্ট পাওয়ার পর ভার্সিটির ভর্তি পরিক্ষা নিয়ে চিন্তায় আছি।ইচ্ছা ঢাকা ভার্সিটিতে পড়া,,,ইনশাআল্লাহ আমি পারবো। আর এখন আমার লেখাপড়ার খরচ আমি নিজেই চালাই।আংকেলের অফিসে চাকরি করে। আমি আর রিমি একই ভার্সিটিতে ভর্তি হলাম।,,একটা নতুন পরিবেশ ভালোই লাগছে।।আর রিমির সাথে আমার ভালোবাসার সম্পর্ক চলছে খুব ভালো ভাবেই। মনে হয় বেশি ভালো আমার কপালে নাই। আন্টি,,আর আংকেল আমাকে খুব গোপনে ডাকে যেন রিমি এই বিষয়ে না জানতে পারে। আমি ত খুব ভয় পেয়ে যাই,,,এত গোপনে ডাকার মানে কি? --আসিফ তুমি ত আমাকে মায়ের মতো মনে করো।আজ আমাকে সব সত্যি বলবা কথা দেও?(আন্টির কথা সুনে ত কলিজা সুকিয়ে যাচ্ছিল) -- জ্বি আন্টি বলেন?(আমি কাপা গলায়) -- তোমার আর রিমির সম্পর্কটা কেমন।বন্ধুত্ব নাকি অন্য কিছু(আন্টি) -- আন্টি বন্ধুত্ব।(মিথ্যা বললাম) -- আমার ত মনে হয় না তোমাদের সম্পর্কটা বন্ধুত্বে সিমাবদ্ধ। সত্যি করে বলো?(আন্টি কি সব জেনে গেছে) -- আসলে আন্টি,,আমি রিমিকে বন্ধু ভাবলেও রিমি অন্যকিছুতে নিয়ে গেছে।রিমির বিভিন্ন পাগলামি আমাকে বাধ্য করেছে রিমির কথায় সাড়া দেওয়ায়।(আমার বুক কাপা অবস্থা) -- তুমি জানো ত রিমির বিয়ে ঠিক হয়ে আছে রিদয়ের সাথে?(আংকেল) -- জ্বি আংকেল,,? -- তাহলে রিমির পাগলামিতে কেন সাড়া দিলা?(আংকেল) -- আংকেল আপনি ত জানেন রিমি কেমন পাগলামি করে।আর আমি রিমিকে আগেও বলছি এখনো বলি আপনাদের কথার বাহিরে আমি কিছু করতে পারবো না।আর আমি জানি এই সম্পর্ক মেনে নিবেন না।কারন কোনো বাবা মা তার মেয়ে কে এরকম ছেলের সাথে বিয়ে দিবে না।(আমি কথা বলছি আর বুকের ভিতর কেমন ব্যথা লাগছে।কারন আমিও রিমিকে ভালোবেসে ফেলেছি) -- সব কিছুই ঠিক আছে।মেয়েটা আমার একটু বেশিই পাগলামি করে।তোমরা ছোট মানুষ না বুজে ভুল করতেই পারো। কিন্তু মেয়েটার ত একটা ভালো ভবিষ্যৎ দরকার।(আংকেল) -- জ্বি আংকেল,,,এখন আমার কি করা উচিৎ? (আমি) -- এখন যদি আমি বলি তুমি রিমিকে ভুলে যাও অবহেলা কর তাহলে রিমি উল্টা পাল্টা কিছু করে ফেলতে পারে।আর এদিক দিয়ে রিদয়ের সাথে রিমির বিয়ে দিবো কথা দিয়ে রেখেছি।তুমিও লেখাপড়া করো,,নিজের বাসা থেকে মিথ্যা অপবাদ নিয়ে আসছো।(আংকেল) -- জ্বি আংকেল,,আপনারা যেভাবে বলবেন সেভাবেই করবো।।বলেন ত রিমিও ভুলে যাবো।কারন আপনাদের ভালোবাসার কাছে রিমির ভালোবাসা কিছুই না?(রিদয় ভাইয়া ত আশাকে ভালোবাসেই,,এখন ইমুশন দিয়ে আংকেল আন্টিকে মানিয়ে নিয়ে পারলেই হলো) -- আচ্ছা তুমি কি চাও বলো?(আন্টি) -- আন্টি আমি রিমিকে ভালোবাসি ঠিকি।কিন্তু আমি চাই রিমি ভালো থাকুক।যদি অন্য কোথাও রিমি ভালো থাকে আমি তাতেই খুশি।কারন আমি হয়ত ভালোবাসা দিতে পারবো।কিন্তু থাকার জন্য ঘর দিতে পারবো না।কারন আমিই ত আপনাদের বাসায় থাকি।খাওয়ার জন্য খাবারই বা দিব কোথা থেকে।আন্টি আপনারা যা ভালো মনে করেন তাই করতে পারেন।তবে রিমির পাগলামির জন্য কিছু একটা ভেবে রাখেন?(আমি) -- সুনো আসিফ তুমি একটা ভালো ছেলে।সবকিছু এত সহজে বলছো।আর তোমার সব কিছুই রিমির ভালোর জন্য করছো।তাই রিমিকে ভালোবাসা অপরাধ বলবো না।কারন ভালোবাসার মানে টা আমি বুজি। আমিও ভালোবেসে বিয়ে করছি।কিন্তু বাবা হিসেবে আমার দায়ীত্ব মেয়েকে ভালো একটা প্রতিষ্ঠিত ছেলের কাছে বিয়ে দেওয়া।আর আমি কথাও দিয়ে রাখছি।তাই তোমাকে অনুরোধ করে বলছি।রিমিকে যেভাবে পারো বুঝাবে যে রিমির সাথে তোমার যায় না।(আংকেল) -- জ্বি আংকেল।।(খুব কষ্ট হচ্ছিল,,আমার মত ছেলের জোর দিয়ে কিছু বলার ক্ষমতা নেই।আর আংকেল আন্টি তাদের দিক থেকে ১০০% সঠিক।আমিই ভুল ছিলাম। ভ্রামন হয়ে চাদে হাত,,,) -- আচ্ছা,,,কিন্তু রিমিকে বলবা না এই নিয়ে আমাদের কথা হইছে।আর বুজিয়ে বইল নয়ত রিমি হয়ত নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবে না।(আন্টি) --আচ্ছা,,,(আমি) আংকেল আন্টি চলে গেলো।।অন্য কেউ হলে হয়তো এতক্ষনে বাসা থেকে বের করে দিয়।কারন আমাকে রাস্তা থেকে ঘরে তুলে যখন সুনবে তার মেয়ের সাথেই প্রেম।হয়ত কোনো বাবা মা তা মেনে নিতে পারবে না। তারপর ও আংকেল আন্টি আমাকে ভুল না বুজে রিমিকে বুজিয়ে বলতে বলছে।,,,, আজ যদি আংকেল আন্টি রেগে গিয়ে বাসা থেকে বের করে দিত।আমার লেখাপড়া সব কিছু শেষ হয়ে যেত।আর থাকতামই বা কই।আর আংকেলের অফিসে চাকরি টাও চলে যেত। আংকেল যদি এত টুকু সেক্রিফাইস করতে পারে।আমি কেন রিমিকে ভুলতে পারবো না।যদিও কথায় আছে ভালোবাসা ধনী গরিব,, বড়, ছোট দেখে না।তার পর ও আমি বলি বাস্তবতা অনেক কঠিন। আংকেল আন্টি চলে যাওয়ার পর নিজেকে কন্ট্রোল রেখে।ভালোভাবে ভেবে দেখলাম,,,রিমিকে বুজিয়ে না বলে দেওয়াটাই সঠিক। রিমির সাথে আগের মতো মিশি না,,,,।রিমিকে বুজাতেও পারছি না।যদি রিমি সহ্য করতে না পারে? -- আসিফ তোমার কি হইছে,,,আমাকে এড়িয়ে চলছো কেন?(রিমি) রিমির কথা সুনে বুকে একটা ধাক্কা লাগে।কেমনে বুজাই। -- কিছু না,,,(আমি মোবাইল টিপছি আর উত্তর দিলাম) -- মোবাইল রাখো আমার দিকে তাকিয়ে বলো।আমি কিন্তু তোমার অবহেলা সহ্য করতে পারছি না।তোমার কি হয়েছে আমাকে বলো প্লিজ?(রিমি কান্না মাখা কন্ঠে) -- বুজলাম না কান্না কাটির এমন কি হলো?আমার এইসব কান্না কাটি পছন্দ না।ন্যাকামি?(আমি নিজেকে কন্ট্রোল রেখে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেস্টা করছি) -- এভাবে কেন কথা বলছো আসিফ?আমার কান্না তোমার কাছে ন্যাকা কান্না মনে হয়?(রিমি) -- তা নয়তো কি?দেখছো মোবাইল নিয়ে বিজি,,তুমি এসে কান্না কাটি শুরু করে দিছো?(আমি) -- আমার থেকেও মোবাইল বেশি হয়ে গেলো?দেখি মোবাইলে কি করছো (রিমি আমার মোবাইল্টা হাতে নিতে চাইলো) আমি হাতে নিতে দেই নি,,,তাই রিমি কান্না করছে।রিমির কান্না দেখে আমার ভিতরটা পুরে যাচ্ছে। -- রিমি এগুলো কি?পার্সোনাল লাইফ বলে একটা কথা আছে।(আমি মিথ্যা অভিনয় করছি) -- কি আমার কাছেও তোমার পার্সোনাল লাইফ আছে?তুমি জানো আমার কাছে তুমিই আমার পার্সোনাল লাইফ।(রিমি কেদে কেদে) -- এইসব ফিল্মি ডাইলগ বন্ধ কর অসহ্য লাগে?(বলেই রুম থেকে বেরিয়ে আসি।) আসার সময় আন্টিকে দরজার বাহিরে দেখলাম। জানিনা রিমি এখন কি করছে?রিমি কি এগুলো নিতে পারবে?? জানি না, আমার যে কিছু করার নাই।রাত তখন ৮ রাস্তায় বেরিয়ে পরি, আন্টি আমার চোখের পানি দেখেছিল।আংকেল ও গেইটের সামনে চোখ মুছতে দেখেছিল। হয়ত,,রিমি কান্না করছে,,আন্টি অভিনয় করে জানতে চাইছে কেন কান্না করছে রিমি।রিমি কি বলবে?না বলবে না।আংকেল বাসায় গিয়ে দেখবে হয়ত রিমি কান্না করছে।সব কিছুর কারন যেনেও আংকেল আন্টি কিছু বলতে পারবে না।কারন ওরা ত দায়িত্বে বাধা। হাটতে হাটতে চোখে জল নিয়ে চলে যাই মদের আড্ডা খানায়।মানুষ গুলোর কাছে আমি একেবারে নতুন,,,।এখানে শুধু কষ্টে থাকা মানুষ গুলোই আসে।আমি বলব না কেউ যেন এখানে না আসে।কারন আজ নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। সিগেরেট আর,,মদ খেয়ে চলছি।এইসব কখনো ছুয়েও দেখি নাই।ভালোবাসার কষ্ট যে কি? তা কেউ ভালোনাবাসলে বুজবে না।,,,আমিও বুজতা না,,,কিন্তু ভালোবাসার মানুষটির সাথে যখন পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে বাজে ব্যবহার করতে হয়।কষ্ট দিয়ে দুরে রাখতে হয়,আর ভালোবাসার চোখের পানি দেখতে হয়।তখন এই সামান্য নেশা কিছুই না। চোখ বেয়ে পানি পরছে আর মদে চুমুক দিচ্ছি।সাথে সিগেরেট ত আছেই। কষ্টটা যেন তার পরও হালকা হচ্ছে না। তবে চোখ গুলো বন্ধ হয়ে আসছে।,বাসায় যাওয়ার জন্য পা বাড়ালাম কিন্তু হাটতে পারছি না।দুপা হেটেই পরে যাই।,কখন চোখ বন্ধ হয়ে গেছে মনে নাই। চোখ খুলে দেখি আমি রাহুলের বাসায়।এখানে কিভাবে আসলাম আমি?আমি ত মদের আড্ডায় ছিলাম। এর মধ্যেই দেখি রাহুল রুমে আসলো? -- কিরে এখন কেমন লাগছে?(রাহুল) -- ভালোই,,আমি তোর বাসায় কিভাবে আসলাম?আমি ত(আমাকে আটকে দিয়ে) -- মদের আড্ডায় ছিলি?অজ্ঞান হয়ে পরে ছিলি তোর মোবাইলে আমার নাম্বার পেয়ে ফোন করে বললো আমি গিয়ে তোকে অজ্ঞান অবস্থায় নিয়ে আসি।কি হয়েছিল তর তোকে ত কখনো কোনো বাজে নেশায় দেখি নাই?(রাহুল) --তাহলে সুন।।(আমি রাহুলকে সব খুলে বললাম।আর এই কথা গুলো যেন কাউকে না বলে প্রমিস করতে বললাম) -- আচ্ছা ঠিক আছে।এখন কি করবি ভাবছিস?(রাহুল) -- আংকেল আন্টি যা বলবে তাই।আচ্ছা বাসায় যাই,,হয়ত সবাই চিন্তা করছে।(আমি) -- নাস্তা করে যা।আর কাল রাতে রিমি ফোন করছিল আমি বলছি তুই আমার সাথেই আছিস আর এখানেই থাকবি?(রাহুল) -- আচ্ছা ভালো করছিস।।(আমি নাস্তা খেয়ে বাসার দিকে হাটা দিলাম) বাসায় আসা মাত্র আন্টি,আংকেল নাস্তার টেবিলে রিমি টেবিল ছেড়ে দৌরে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো।আংকেল আন্টি সবকিছুই দেখছে? চলবে,,,,
4 comments
গল্পটা অনেকটা সিনেমার কাহিনীর মত। গল্পটা পড়ে অনেক ভালো লাগলো। ধন্যবাদ এত সুন্দর গল্প পোষ্ট করার জন্য।
গল্পটা অনেকটা সিনেমার কাহিনীর মত। গল্পটা পড়ে অনেক ভালো লাগলো। ধন্যবাদ এত সুন্দর গল্প পোষ্ট করার জন্য।
গল্প টা অনেক লম্বা হলে ও, কষ্ট করে লিখেছেন বলে পড়েছি। এবং ভালো ও লেগেছে। ধন্যবাদ।
Tnx