read.cash Log in
@Safwan more from that month

শুধু নিরবতা

গল্পঃ- শুধু নিরবতা। প্রথম পর্ব। ড্রইংরুম বলতে তেমন কিছুই নেই তবুও যেটুকু আছে সেটুকু মোমবাতির আলোতে সাজানো হবে। ঘরের একটি কোনেও আধার রাখা যাবেনা। একমাত্র ছেলে আবিদের জন্মদিন বলে কথা। আবিদ এই মুহুর্তে বাসায় নেই সেই সুযোগে আবিদের আম্মু বাসাটা সুন্দর ভাবে গুছিয়ে রেখেছেন। শুধু প্রয়োজন অনেক গুলা ছোট ছোট মোমবাতির।।।। মিঃ ইহান সাহেব খুবই শান্ত মেজাজ ব্যক্তিত্ব সম্পূর্ণ সমাজের একজন প্রতিষ্ঠিত মানব। মিঃ ইহান কোন এক প্রয়োজনে খুলনায় এসেছেন। খুলনা শহরটাও মিঃ ইহান সাহেবের মত শান্ত মেজাজের। ঢাকার মত অতটা যানজট আর কলকারখানার আওয়াজ অহন সাহেবের কাছে আসছেনা। খুব একটা ফুরফুরে মেজাজে ইহান সাহেব সামনে এগিয়ে চলেছে। এত্তোগুলা কাপড় চোপড় কিনে, মল থেকে বের হচ্ছে ''অহনা'' অনেকদিন বাদে আজ সে শপিং করতে এসেছে। কাপড় চোপড় নিয়ে বেশ কৌতুহল রয়েছে অহনার মনে। শপ থেকে বের হয়ে সে চলে আসে সিটির সবচাইতে বড় রেষ্টুরেন্টে সেখান থেকে কিছু খাবার প্যাক করে বাহিরে আসতিছে। মনের মাঝে অতিরিক্ত কোতুহল থাকায় সামনের দিকে লক্ষ্য না রেখেই হাটতেছে। এমন অমনোযোগী ভাবে হাটাচলা করলে সিনেমায় যেটা হয় ঠিক সেটাই অহনার সাথে ঘটেছে। হ্যান্ডসাম, সুদর্শন, বলিষ্ঠ, সুন্দর, স্মার্ট নায়কের সাথে ধাক্কা খেয়ে হাতের ব্যাগ গুলো নিচে পড়ে গেলো। সম্পুর্ন দোষটুকু অহনার তবুও ভদ্রতার খাতিরে সে সে হ্যান্ডসাম ভদ্রলোকটি অহনার ব্যাগ গুলি তুলে দিতে সাহায্য করছেন। কাপড়ের ব্যাগ গুলি অহনার হাতে দিতে নিলে অহনার চোখ পড়ে ভদ্রলোকটির চোখের উপর। ভদ্রলোকটি ব্যাগ গুলি অহনার হাতে ধরিয়ে দিয়ে অহনার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখতে পান যে অহনা তার দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে। (সিনেমায় দেখছেন না যে প্রথম যখন নায়ক নায়কার চোখাচোখি হয় তখন কি রোমান্টিক দৃশ্য নিয়ে তাকিয়ে থাকে আর সেখান থেকেই প্রেম শুরু। এখানেও ঠিক সিনেমায় হতে চলেছে সাথেই থাকুন) অহনার চোখে চোখ রাখতেই ভদ্রলোকটির চোখ সেখানেই আঁটকে গেলো। নিরবতায় পেরিয়ে গেছে কয়েক মুহুর্ত। পাশ থেকে কেউ একজন ভদ্রলোকের উদেশ্য বলে উঠলেনঃ স্যার সামনে চলুন। ভদ্রলোক অহনার চোখের দিকে তাকিয়েই মুহুর্তের মাঝে নিজের রূপ বদল করে বলেনঃ ড্রাইভার এক্ষুনি গাড়ি ঘোরাও। ড্রাইভারঃ স্যার আপনি গাড়িতে আসুন তার পরেই ঘুরাচ্ছি। প্রথম লোকটি আবারো বললেনঃ any problem sir?? ভদ্রলোক হুংকার দিয়ে বলে ওঠেনঃ সামান্য একজন পি,এ হয়ে তোমার সাহস হয় কিভবে, যে আমাকে question করো। ভদ্রলোকের পি,এ মিঃ রফিক সাহেব অবাক হয়ে গেলেন। স্যার হটাৎ এমন ভাবে রেগে গেলেন কেন? একটু আগেই তো বেশ রোমান্টিক মুডে ছিলেন। তা হলে কি স্যারের রোমান্টিক সময় ডিস্টার্ব করাতে রেগে গেছেন!!! রফিকঃ সরি স্যার ভুল হয়ে গেছে। ভদ্রলোকঃ এই মুহুর্তে ঢাকায় যাওয়ার ব্যবস্থা করো। রফিকঃ স্যার আমরাতো মাত্রই ঢাকা থেকে এলাম। খাবার খেয়ে তারপর না হয় ব্যাক করুন। মেম বলেছেন ঠিকমত খাওয়া দাওয়া না করলে আপনার শরীর খারাপ করে। ভদ্রলোক প্রচন্ড রেগে বলেনঃ আমার শরীর সম্পর্কে আমি ভালো বুঝি নাকি তোমার মেম ভালো বোঝে? রফিক আর একটা কথা বললে তোমাকে চাকরি থেকে বের করে দিতে বাধ্য হবো। অহনা রফিকের দিকে তাকিয়ে বলেঃ আপনি আর কথা বলিয়েন না। কারন কুকুরের লেজে যতই তেল মালিশ করুন না কেন কখনোই সোজা হয়না। রফিকঃ এই যে আপু আপনি মুখ সামলে কথা বলুন আপনি আমাদের স্যারকে চিনেন না তাই এই কথা বলছেন। অহনাঃ আপনার স্যারকে আমার চাইতে ভালো করে ২য় কেউ চিনেনা। রফিকঃ স্যার তো আজকে প্রথমবার খুলনায় এলেন, কি সব উল্টো পালটা বলছেন? আপনি আমার স্যারের সামাজিক অবস্থান জানেন? অহনাঃ আপনার স্যারের নাম মিঃ ইহান আফনাফ। বাংলাদেশের সুনামধন্য চৌধুরী গ্রুপের একমাত্র নির্ভরযোগ্য চেয়ারম্যান তিনি। শুধু তাই না জমিদার চৌধুরী আফরাফুল হকের নাতি। ঢাকা সিটি সেরা ১০ আলিশান বাড়ির মালিকের মধ্যে উনি অন্যতম একজন। আপনাদের ইহান স্যারের ঘুম থেকে উঠে ঘুমানো যাওয়া পর্যন্ত সব কিছুই আমার জানা আছে এমন,কি উনি ঘুমের মাঝে কি করেন সেটাও আমার অজানা নয় সুতরাং উনার সম্পর্কে আমাকে কিছু বলতে আসিয়েন না। পারলে আপনার মেমকে জানাইয়েন। দেখি সাইড দেন, আজকে আমার ছেলের জন্মদিন। ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফিরতে হবে ওর দাদু সহ সবাই অপেক্ষা করছে। ছেলেকে আনতে আমি এখন জেলা স্কুলে যাব। ভদ্রলোক বা ইহানঃ বাহ এই কয়দিনে বেশ উন্নতি করেছো!! তোমার ছেলে হয়েছে সে স্কুলে পড়ছে, দাদা দাদু রয়েছে, পিতাও অপেক্ষা করছে অবশ্যই? অহনাঃ আপনাকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই। আপনি আমার হাতটা ছাড়ুন বলছি খুব ব্যথা লাগছে আমার। ইহান, অহনার হাতের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলো কখন যে সে অহনার হাত নিজের হাতের মাঝে আবদ্ধ করেছে নিজেই জানেনা। ইহানঃ এইটুকু ব্যথা সহ্য হচ্ছেনা! তা হলে বাকি ব্যথা কিভাবে সহ্য হবে? তোমার ঠিকানা যখন পেয়েই গেছি তখন দেখি তুমি কিভাবে শান্তিতে বসবাস করো। ছোট্ট ''আবিদ'' স্কুলের গেইটে এসে অপেক্ষা করছে কখন তার আম্মু তাকে রিসিভ করবে। একটু পরেই আবিদের আম্মু এবং তার দাদুভাই একসাথেই এসেছে। আবিদ তার আম্মুর কাছে বাইনা ধরেছে আজকে ঘুরতে যাবে। জন্মদিন সুতরাং কিছুতেই না করা যাবেনা। অহনা তার ছোট্ট আবিদ কে বলেঃ বাবাই তুমি তোমার দাদুভাইয়ের সাথে ঘুরতে যাও আমি আমি বাসায় যাচ্ছি। সন্ধ্যের মধ্যেই ফিরে আসবা কেমন। এই বলে অহনা আবিদের কপালে আদরকে একটা চুমু একে দিলো। পায়ে হেটেই অহনা বাসার দিকে রওনা হলো। কিছুদুর আসার পরে অহনার পাশ দিয়ে। ২ টা বি,এম,ডব্লিউ ব্যাক কার খুব স্পিডে ছুটে গেলো। অহনার গায়ে বেশ ধুলা ছিটিয়ে দিলো। । । অহনা বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে নিলো। ছেলের জন্য অনেক গুলো কাপড় কিনেছে নিজের জন্য কিছু কেনা হয়নি। ছেলের জন্য দামি রেষ্টুরেন্ট থেকে খাবার এনেছে৷ আর তখন কি কান্ডটা না ঘটলো উফহ। মোমবাতি দিয়ে অহনা বাসাটা সুন্দর ভাবে সাজিয়ে নিয়েছে, ছোট ছোট লাল নিল মোমবাতির সাথে রয়েছে রঙের বেলুন। তার মাঝে একটা ইয়া বড় কেক। আলো পেরিয়ে সন্ধ্যা নেমে এসেছে কিন্তু আবিদ আর তার দাদু এখনো বাসায় ফিরেনি। অহনার কেমন অস্থির লাগছে। বিকালে বাসায় ফেরার সময় একবার হাতের ব্যাগ গুলি রাস্তায় পড়ে গিয়েছিলো এখন আবার কেমন জানি লাগছে। অহনা আবার নিজেকে স্বাভাবিক করে নিলে। আজকে তার একমাত্র ছেলের জন্মদিন। উফ কত্তো আনন্দ হয়ে, কত্তো কত্তো হৈচৈ হবে। শুধু একটু অপেক্ষার প্রয়োজন। তখনই অহনার মোবাইল রিং বেজে ওঠে। কল রিসিভ করে কথা বলতেই অহনার হাত থেকে মোবাইল টা নিচে পড়ে গেলো। আস্তে করে অহনা মেঝেতে বসে পড়েছে। অহনা নিরব পাথর হয়ে হয়ে গেছে। কলটি এসেছিলো খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আবিদ এবং তার দাদা এক্সিডেন্ট করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। খুব ক্রিটিকাল কন্ডিশন। কয়েক মুহুর্ত নিরব থাকার পর অহনা আবিদ বলে খুব জোরে চিৎকার দিয়ে ওঠে কান্না শুরু করে করে দিলো। কাদতে কাদতেই ছুটে গেলো হাসপাতালে। to be continue.....

3 comments

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.