read.cash Log in
@Safwan more from that month

কে তুমি

#কে_তুমি #পর্ব-০১ এখানে সবার সামনে নিজের শাড়ি খুলে দেখাও,, বলেই হাসতে লাগলো মিহিরের বন্ধুরা, মিহির মুচকি হেসে প্রশ্নবিদ্ধ চোখে তাকায় চারুর দিকে। কলেজের বড় ভাই হওয়ার সুবাদে তারা চারুকে র্যাগ দিচ্ছে। মিহিরের কথা শুনে চারুর বুকটা ধক করে ওঠে, কিন্তু এত সহজে হারবার পাত্রি সে না। চারু হাত থেকে ব্যগটা নিচে রেখে শাড়ির আঁচলটা আরো শক্ত করে ধরে রাখে, সবাই যেন মজা লুফে নিচ্ছে, কলেজের বড় ভাইএরা এমন বখাটে হলে কেমন হয় কোন ডিসিপ্লিন নাই। সিনিয়রদের দলের একটা মেয়ে ইনা এতক্ষণ মিহির নামের ছেলেটার গাঁ ঘেসে ছিলো, এবারে তার মজা নেয়া ই বাদ যায় কিভাবে। , মেয়েটা ঢং করে হেটে হেটে এসে চারুর সামনে দাঁড়ালো, তারপর চারুর মুখে একটা আঙুল বুলিয়ে গলায় নামালো। সবাই মজা নিচ্ছে, রাগে চারুর চোখে পানি টলমল করছে, দূরে তিতির দাঁড়িয়ে ভয়ে আসতে পারে না। আঁচলটা একটু একটু করে আঁচলটা ফেলে দিতে নিলে,, তিতির এসে হাতটা চেঁপে ধরে,, কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,, কি করছিস কি চারুলতা, চল দাঁড়িয়ে আছিস এখনও, এখানে সব ছেলেমেয়ে তাকিয়ে দেখছে। , --হেই ইউ, সাহস তো কম না,, সিনিয়রদের সাথে বেয়াদবি করো, বলেই মেয়েটা তিতিরেরর উপর হাত তুলতে নিলে চারু মেয়েটার হাত ধরে ফেলে,, মেয়েটা তাতে আরো ক্ষেপে যায়,, চারু চোখ ঘুড়িয়ে চারপাশটা ভালোভাবে দেখে নেয়। সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে,, চারু ইনার হাতটা সরিয়ে দিয়ে আঁচলে হাত রাখে,, আঁচলটা একটানে সরিয়ে ফেলে,, সবাই চোখে হাত দিয়ে দেয়,, শুধু মিহির ছাড়া,, অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মিহির। কারন যাই করুক কাউকে ভয় দেখানো ছাড়া অসম্মান করার কোন ইচ্ছা মিহিরের নেই, কিন্তু এই মেয়েটা যেন একটু বেশিই যায়। , তিতির চারুকে জড়িয়ে ধরে চারু চল এখান থেকে। কিন্তু চারুর দিকে তাকিয়ে অবাক হয় তিতির,, শাড়ি খুলে ফেলার পর দেখতে পায় সুন্দর একটা গ্রাউন, আর চারুর চারপাশটায় যেন আলো চিকচিক করছে, তারার মত জ্বলজ্বল করছের চুমকি বসানো চারুর গ্রাউনে, ঠিক যেন সাদা পরীর মতন লাগছে চারুকে। সবাই চোখ থেকে হাত সরিয়ে তাকায়,, ওয়াও এ যেন আকাশের পরীকে দেখছে তারা। এক মুহুর্তের মধ্যে সব যেন স্বপ্নের মত মনে হয়,, কারো মুখে টু শব্দটি নেই। হঠাৎ চারুর গলায় থাকা লকেটটা টুং করে আওয়াজ করে,, চারু তাড়াতাড়ি শাড়িটা উঠিয়ে নেয় , মিহির বুঝতে পারেনা আসলে কি হচ্ছে,, মিহিরের বন্ধুদের মুখ বাংলার পাঁচের মতন হয়ে যায়। , চারু শাড়িটা আবার পরে নেয়,, তারপর মিহিরের সামনে গিয়ে দাড়ায়। ডেয়ার ডান নেক্সট আপনার টার্ন বলে চোখটিপ মেরে মোটা কালো ফ্রেমের চশমাটা চোখে পরে নেয়। পাশ থেকে একটা মেয়ে জোরে সিটি বাজিয়ে ওঠে,, মেয়েটার দিকে মিহির তীক্ষ্ণ চোখে তাকালে মেয়েটা ভয়ে চলে যায়। , তিতির এসে চারুর হাতটা টেনে বলে,, চল ক্লাসে চল,, চারু চুপচাপ ক্লাসে চলে যায়,, কিন্তু মিহিরের দল চুপ করে তাকিয়ে থাকে। আড়ালে কেউ একজন গাছের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে পায়ের উপর পা তুলে, চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বাঁকা হাসে। কেউ তাকে দেখতে পায় না, কালো কোর্ট টাই পরা অদ্ভুত মানব, যার চোখের মনিটা নীল বর্ণের, যেমনটা চারুর চোখে দেখতে পায় মিহির। , চারুলতা নামটা খুবই বোকাসোকা মনে হয় আর ঠিক এই মেয়েটাও দেখতে বোকাসোকা টাইপ, কিন্তু তিনদিনের যত র্যাগ দেয়া হয় ওকে ও কিভাবে যেন কাভার করে ফেলে। মিহির শিটট বলে চলে আসে,, একবারও এই মেয়েটাকে হারাতে পারেনা,, জাদু জানে নাকি? , , আগের দিন মিহির চারুকে পায়ে পা বাজিয়ে ফেলে দিতে চেয়েছিলো, কিন্তু এই মেয়েটা ওর পায়ে পাড়া দিয়ে দিব্বি হেটে গেলো,, আর তার পর যখন লাইব্রেরীতে চারুকে একা সিটকানি লাগিয়ে দিলো মিহির,, ঠিক এই মেয়েটা বের হয়ে এলো,, কিভাবে সম্ভব,, চারুর চোখটা অনেক মায়াবী,, কেন যেন তাকাতে পারেনা মিহির, কিন্তু বারবার হেরে যাওয়ার জন্য চারুর প্রতি ওর একটা ক্ষোভ তৈরী হয়। যা খুবই ভয়ংকর। , , ওনারা সিনিয়র হয়ে যে কলেজের মাথা কিনে নিয়েছে যা খুশি তাই করে যাবে, আর সবাই বসে বসে দেখবে,, মামুর জোর পেয়েছে নাকি হাটট বলে হাতে থাকা কাগজের টুকরাটা জানালা দিয়ে ফেলে দিতেই আরিফ নামের ছেলেটা চোখ পাকিয়ে তাকায় ওর দিকে,, ভয়ে ঢোক গিলে তিতির,, মনে মনে বলে যেখানেই যাই সেখানেই এই বড় ভাই। কেন যে কলেজে পড়তে এলাম। , চারুর অন্য দুনিয়ায় কোন হুশ নেই ক্লাসের ফ্রি টাইমেও বইএ মুখ গুজে আছে,, তিতির এসে চারুর বইটা টেনে নিয়ে যায়। --কি করছিস তিতির পড়বো তো। --অনেকতো পড়লি,, এখন চল ক্যানটিনে যাই, আমার পেট চু চু করছে। , --ওকে চল,,, , কেউ একজন পেছন থেকে হাসে,, ফোন দেয় মিহিরকে,,, মিহির বাইকের উপর বসে বসে ভাবছিলো একটু আগের কাহিনী। কল পেয়ে ফোনটা কানে নিয়েই বাঁকা হাসে,,, , ওকে ডান। , , , , চারু আর তিতির টেবিলে বসে আছে মুখোমুখি,, হঠাৎ সিটি বাজানোর মেয়েটা আসে সামনে,, হাই আমি প্রিতি,,, প্রথম বর্ষ,, --হাই, আমি তিতির আর ও চারু, না মানে চারুলতা। --হাই চারু,, হেসে হেসে তাকায় চারু মেয়েটার দিকে তাকালে প্রিতি ইতস্তত করে, ওর চোখ দেখে কি যেন অদ্ভুত লাগে। , হাই চারু,, না মানে চারুলতা,, --চারু মুচকি হেসে হাই জানাই। বসো না, একসাথে নাস্তা করা যাবে,, প্রিতি হেসে দেয়, চারুর চোখ দেখে ভয় পেয়েছিলো। ভেবেছিলো চারু অনেক হিংসুটে আসলে তা না,, তাই হেসে বসে পরে। , দূর থেকে কেউ একজন ওদের দিকে তাকিয়ে আছে তা বুঝতে পারেনা কেউ। কিন্তু চারুর কেন যেন খুব অশান্তি হচ্ছে মনে মনে,, এসব না ভেবে বন্ধুদের আড্ডায় যোগ দেয়। , হঠাৎ রুমের সবাই চুপ হয়ে যায়। কিন্তু চারু তিতির আর প্রিতি তিনজনের আড্ডা বহাল তাবিয়াতে চলছেই। প্রিতি খেয়াল করে ব্যাপারটা,, একটুর মধ্যেই ক্যানটিন খালি হয়ে যায়। ওরা তিনজন অবাক হয়ে যায়,, দেখে মিহিরের দল ক্যানটিনে আসছে, সবাই ওদের ভয় পায়,, এই সিনিয়ররা অনেককে অপমান করেছে তাই কেউ ওদের সাথে লাগতে যায় না। তিতির হুড়মুড়িয়ে উঠে পরে, কিন্তু চারুর সেদিকে খেয়াল নেই, ডোন্ট কেয়ার ভাব। , --চল চারু সিনিয়র খারুচরা এদিকেই আসছে, আবার ঝামেলা করবে তার থেকে চল। --বস তুই বলে তিতিরকে বসিয়ে দেয়। --প্লিজ চারু ত্যাড়ামী করিস না, সবসময় জিতে যাবি এমনটা নাও হতে পারে,, চারু তিতিরকে দেখে উঠে যেতে নিলে মিহির এসে সামনে দাড়ায়। , --হেই চড়ুই পাখি ভয় পেলে?(মিহির) --চারু সামনে পা বাড়ায়, কথা বাড়াতে চায়না তাই ইগনোর করে সামনে আগাতেই মিহির আবার ওর সামনে দুই হাত প্রসারিত করে দাড়ায়। , --সিনিয়রদের রিসপেক্ট দিতে শেখোনি? --ভাইয়া সরি প্লিজ,, যেতে দিন আমাদের আর হবে না(প্রিতি) --হেই সিটিজেন চুপপ,, তোমার কাছে পরে আসছি,, কেমন সিটি বাজাও আজকে আমি দেখবো। ভয়ে প্রিতির হাতপা ঠান্ডা হয়ে আসে,,, , চারুর মুখে কোন প্রতিক্রিয়া দেখতে পায় না মিহির। , চারু মিহিরের কথা শুনে গিয়ে আবার আগের জায়গায় বসে। --এই চারু জিদ করিসনা চল,, (তিতির) --হ্যাঁ চারুলতা চলে আসো, ওরা ভালো না। , চারু কোন কথা না বলে বসে রইলো,, ওদের খাবার আসলো,, যখনই চারু খাবার প্লেটটা নিতে যাবে মিহির প্লেটটা নিয়ে খাওয়া শুরু করলো। , চারুর ভিষন রাগ হলেও কিছু বললো না। তিতির আর প্রিতিও ভয়ে ভয়ে বসে পরলো,, মিহিরের দলেরা টেবিলের উপর বসে বসে মজা নিচ্ছে। , হেই দোস্ত কেমন টেস্ট সামুসার? --সেই দোস্ত ইয়াম্মি,, খেতে খেতে বললো মিহির। , --চল আজকে একটা গেম খেলা যাক। --ভাইয়া আমাদের এখন ক্লাস আছে চল চারু। --এই তিত বেপি তুমি এত বকরবকর করো কেন?(আরিফ) , --বল আরিফ কি গেম খেলতে চাস তুই? --আজকে ছোট আপুদের খাবার আমরা খাবো আর আমাদের খাবার ছোট আপুরা খাবে,, শত হলেও আমাদের স্নেহের ছোট আপুরা। বলেই সবাই হো হো করে হাসতে থাকে। , শাওন বলে ডাক দেয় মিহির। জ্বী হুকুম জাঁহাপনা বলেই এক প্লেট ফুচকা ওদের সামনে দেয়,, যাতে কিছুই দেখা যাচ্ছে না শুধু মরিচ ছাড়া,, ফুচকা দেখে তিতিরের জান চলে যাওয়ার মত অবস্হা। , চারুর সামনে প্লেটটা রেখে দেয় মিহির। , চলো চাড়ুই পাখি গেম স্টার্ট করি.. --চারুলতা নট চড়ুই ওকে? এতক্ষণে মুখ খুললো পাখি বলেই মিহিরের কাধে হাত রাখে আকাশ। , --ওকে গেমে যদি আমরা জিতি তাহলে কি হবে আর হারলেই বা কি হবে?(চারু) , --গেমে যদি তুমি জেতো তাহলে সব ফুচকা আমি খেয়ে নিবো, আর যদি আমি জিতি তাহলে এই সব ফুচকা তোমাকে খেতে হবে। , --ওকে ডান। --নাহ চারু কি করছিস কি,, পাগল নাকি মাথামোটা। ভাইয়া প্লিজ স্যরি তো, সেদিন ইচ্ছে করে আপনাদের গায়ে ঢিল মারতে চাইনি চারু, গাছের আম পারার জন্য ঢিল ছুড়েছিলো তারজন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি। প্লিজ আমাদের যেতে দিন। , --তিত বেবি তুমি কি র্যাগ নিতে চাও? --নাহ --তাহলে একটা শব্দও হবে না (জোরে ধমক দিয়ে) -- চলো গেমের রুলস বলি,, ওই যে একটা খাঁচা দেখতেছো,, তার ভেতর একটা বল আছে ওই বলটায় স্যুট করতে হবে, বলেই গানটা পকেট থেকে বের করে টেবিলে রাখলো। , তিতির শুনে ভয়ে হাটু কাঁপতে লাগলো তিতিরের, প্রিতি নিজের হাত শক্ত করে মুঠি করে ফেলে ভয়ে। গান জীবনে কখনও চারু গান তো ভালো খেলনা পিস্তলও হাতে নিয়েছ কিনা জানেনা তিতির। , চারু নিশ্চুপ, চোখে তার কি খেলা চলছে কেউ বুঝতে পারছে না। তাও যদি খালি জায়গায় স্যুটার পয়েন্ট হত। কিন্তু খাঁচার ভেতর স্যুট করলে খাঁচার গ্রিলে লেগে যাবে বলে তো লাগবে না। , , কি হলো চারুলতা ভয় পেয়ে গেলে? ফিসফিস করে বললো মিহির, ভয় পেলে আগেই সারেন্ডার করো তাহলে আমি সব বন্ধ করে দিবো। , --চারু গানটা হাতে নিলো,, --চারু তুই পারবিনা, এমনটা করিস না চারু প্লিজ। , --ওয়েট গেম রুলস চেন্জ(আরিফ) --মিহির থেমে যায়। --বলটা এখানে না,, চলে এসো তিত বেবি, বেশি বকরবকর করলে এমনই হয় বলে তিতিরের হাত টেনে সামনে দাড় করালো। গান পয়েন্ট হবে এটা বলেই একটা আপেল এনে তিতিরের মাথার উপর রাখে। তিতিরের পুরো শরীর কাঁপাকাঁপি লেগে যায়,,, চারু ভয় পেয়ে যায়, এতক্ষণ যা ছিলো মানার মত কিন্তু এখন। , তিতির অনবরত কাঁপছে আজকে বুঝি আমার শেষ, মাম্মি, পাপা আমাকে আর তোমরা দেখতে পাবেনা। চোখ থেকে পানি পরে তিতিরের। , চারু গানটা তুলে তিতিরের দিকে তাক করে। চারুর সাহস দেখে অবাক হয় মিহির, একটা গেয়ো শাড়ি পড়া বুড়ি টাইপ মেয়ে এভাবে স্ট্রং ভাবে গান ধরলো কি করে, ওর তো হাত কাঁপার কথা। , চারু গানটা ধরে ভাবে, তিতিরের ঠিক কঁপাল বরাবর টার্গেট করে, মিহির হেসে অন্য দিকে তাকায়, ফাউল সেন্টিমেন্ট,,, গেয়ো আন্টি তবুও সারেন্ডার করবে না। , চারু তুই আমায় মারিসনা বইন আমার এখনও বাচ্চাকাচ্চার মুখ দেখা হয় নাই, না জানি আমার বরটা কোথায় ভবিষ্যৎ বর হেল্প মি। , চারু গানটা নিয়ে চোখ বন্ধ করে জোরে একটা নিশ্বাস নেয়, তারপর চোখ বন্ধ করে দুই হাতে গানটা ধরে স্যুট করে দেয়। ঠাসস করে একটা শব্দ হয়, আর তিতির চিৎকার করে মাথা চেঁপে ধরে বসে পরে, প্রিতি কান চেঁপে ধরে চোখ বন্ধ করে ফেলো, মিহির এখনও অন্য দিকে তাকানো, চারু গানটা ফেলে দেয় ভয়ে, কি করছে ও নিজেও জানে না। , , চলবে.....

No comments yet

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.