পর্দবতি
❤️পর্দাবতী❤️ Part : ৩ ( শেষ পার্ট) কথা শুনে বুঝতে পারলাম মেয়েটার ইসলাম সম্পর্কে ভাল জ্ঞান আছে। জ্ঞানী লোক ভয়ংকর হয় আর মেয়েরা যদি জ্ঞানী হয় তাহলে তো ভয়ংকরের বাপ হয়ে যায়।আমি মেয়েটাকে জিজ্ঞাস করলামঃ >তাহলে পর্দার মূল অর্থ কি? মেয়েটা কোরআন থেকে দুটি আয়াত শুনালঃ ‘‘হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রী, কন্যা ও মুসলিম রমণীগণকে বল, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের (মুখমন্ডলের) উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে; ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। (লম্পটরা তাদেরকে উত্যক্ত করবে না। ’’সূরা আহযাব ৩৩:৫৯ ‘‘মুমিন নারীদেরকে বল, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করে ও লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং যা প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের(অন্যান্য) আভরণ প্রদর্শন না করে, তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় (উড়না অথবাচাদর) দ্বারা আবৃত করে। সূরা আন-নূর ২৪:৩১ আয়াত বলার পর মেয়েটা প্রশ্ন রাখলোঃ >এই আয়াত দ্বারা পর্দার ব্যাপারে বুঝা যায়। যারা এই আয়াত মানে না অবশ্যই তারা পর্দার ব্যাপারে অজ্ঞ। পর্দার আলোচনা পুরোপুরি বুঝতে পারলাম।এবার মেয়েটাকে বললামঃ >তাহলে আপনি আপত্তি করেন নি কেন? করেছি কিন্তু খালা শুনে নি। আমি ভ্রু-কুচকে প্রশ্ন করলামঃ >খালা মানি মা-বাবা কোথায়? >মা-বাবা ছেড়ে গেছেন অনেক আগেই।খালার কাছে বড় হয়েছি। >তাহলে উনি আপনার সাথে এমন করছিলেন কেন? >আপনি কি কখনো অন্যের ঋন নিজের কাধে নিয়েছেন? >না। >তাহলে বুঝবেন না।মেয়ে মানুষ ঋনের মতো হয়।যত তারাতারি শোধ করা যায় তত ভাল।আর অন্যের ঋন যদি ঘাড়ে চেপে বসে তাহলে তো শ্বাস নেওয়াও মুশকিল। মেয়েটার প্রতিটা কথায় যুক্তি ভরা। আমাদের দেশে একটা প্রবাদ আছে "মায়ের বোন খালা মায়ের থেকে ভালা"।আসলে প্রবাদ প্রবাদেই মানায় বাস্তব অনেক কঠিন। ... আমার মেয়েটার প্রতি কৌতুহল বেড়ে গেল।আমি পর্দার ব্যাপারে আরো কিছু জিজ্ঞাস করলামঃ >আচ্ছা পর্দা করতে শুধু কালো বোরকাই কেন পরেন অন্য কোন কালারের সাথে কি দুশমনি আছে? মেয়েটা হয়ত মুচকি হাসলো আর বললঃ >দুশমনি নেই কিন্তু আপনি কি কখনো লাল,নীল,হলুদ,সবুজ আকাশে চাঁদকে উঠতে দেখেছেন।চাঁদের সৌন্দর্য কি সেখানে প্রকাশ পাবে? আমি মেয়েটার যুক্তি বুঝতে পেরে উল্টা প্রশ্ন করলামঃ >আপনি কি নিজেকে চাঁদের মতো সুন্দর দাবি করছেন?এটা কিন্তু অহংকারের পর্যায়ে চলে গেল। >দাবি করার কি আছে,প্রতিটা মানুষকে আল্লাহ চাঁদ-সূর্য্য এমনকি সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। বুঝা গেল মেয়েটার সাথে পেরে উঠা কঠিন সত্য।সব কথার পরে যুক্তি দেয়।আমি জানতাম নাস্তিকরা ভাল যুক্তি জানে কিন্তু ধার্মিকরা যে এত যুক্তি জানে জানা ছিল না। মেয়েটার প্রতি আমার শ্রদ্ধা বাড়তে থাকল।হয়ত মেয়েটাকে ভালবেসে ফেলেছিলাম। আমি মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে বললামঃ >আমি যদি এখন আপনাকে প্রেম নিবেদন করি? মেয়েটা হয়ত আঁতকে উঠলঃ >আল্লাহ মাফ করুক।এমন কাজের কথা ভাববেনও না।প্রেমগুলো এখন সরু হয়ে গেছে অথচ প্রেমগুলো ত্রিভুজাকৃতির হওয়া উচিত ছিল। >মানি? >আমার করা দোয়াটি আল্লাহ পর্যন্ত যাবে মানি একটি রেখা।আমাকে পাওয়ার জন্য যে দোয়া করবে তার থেকে আল্লাহ পর্যন্ত আরেকটা রেখা। আর আল্লাহ আমাদের মাঝে যে রেখাটি টানবেন সেটা দিয়ে একটা ত্রিভুজ হওয়া দরকার ছিল কিন্তু এখন তেমন কিছু হয় না। ... আমি সত্যিই মেয়েটার প্রতি আসক্ত হয়ে গেলাম।সকাল হয়ে গেছে,বাইরে সব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।আমার জন্য হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সকাল।আমি মায়ের সাথে কথা বলে মেয়েটাকে আর ঘর থেকে বের হতে দেই নি।একজন মায়ের কথা একটা মেয়ে অমান্য করতে পারে না এটা মেয়েদের দুর্বলতা। আমি মেয়েটার ব্যাপারে কিছুই জানতাম না এমনকি নামও না তবুও মেয়েটাকে সেইদিনই বিয়ে করে ফেলি।মধুচন্দ্রিমার রাতে যখন বৈধভাবে মেয়েটার চেহারা দেখলাম বুঝতে পারলাম কেন আল্লাহ বলেছেন,তিনি মানুষকে সবথেকে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন।আমার ঘরে যেন চাঁদের থেকে সুন্দর একটা মুখ প্রবেশ করেছে।আমি আল্লাহর শুকরিয়া না করে পারলাম না। মেয়েটাকে বিয়ে করার পর আমি তার নাম জিজ্ঞাস করেছিলাম উত্তরে সে বলেছিল "জোবাঈদা ইসলাম ভাবনা"। ভাবনা পবিত্র ভাবনা।ওর নামটাই যেন আমার ভাবনাগুলো পবিত্র করে দিয়েছে।আসলেই যে আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।ওই যে একটা আয়াত আছে না "মুমিন পুরুষের জন্য পতিতা নারী হারাম"এখানে এটা দ্বারা শুধু মুমিন আর পতিতা অর্থে বুঝায় নি।এটার মূল অর্থ হলো যে যেমন সে তেমনই পাবে। আমি কখনো কারো সাথে প্রেম করি নি।ভাবনাও কারো সাথে প্রেম করে নি।আজ একটা কথা ভাবি আর আর বুঝতে পারি কেন আল্লাহ বলেছেনঃ নেককার স্ত্রী একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় পুরুষ্কার।আমি হয়ত মুমিন না কিন্তু ভাবনার মতো মেয়েকে বউ হিসেবে মেয়ে আমি আসলেই পুরুষ্কৃত। ... আমার আরেকটা ধারনা পাল্টে গেছে ইসলাম হয়ত রোমান্টিক না। কিন্তু বিয়ের পর দেখা গেল যেটাকে আমরা রোমান্টিকতা মনে করি ওইগুলা আসলে নোংরামি আর ইসলাম রোমান্টিকতার বাপ।ভাবনা প্রতিদিন ভোরে আমার কপালে চুমু দিয়ে ফজর নামাজ পরতে ডাক দেয়।জুম্মার দিনে পাগড়ী বেধে দেয় চোখে সুরমা লাগিয়ে দেয়।বর্তমানের কয়জন স্ত্রী তার স্বামীর সাথে এমন আচরন করে?আর বৃষ্টিতে ভিজাকে আমরা রোমান্টিকতা বলি না এইখানেও ইসলাম রোমান্টিক।আসলে বৃষ্টিতে ভেজাও সুন্নত।কয়েকদিন আগে ভাবনা আমাকে বৃষ্টিতে ভেজার জন্য ছাদে টানতে লাগল।আমি যেতে মানা করায় আমাকে ও একটা হাদিস শুনালঃ আনাস ইবনে মালিক রাঃ বর্ণনা করে "আমরা একদিন বৃষ্টিপাতের সময় রাসূল সাঃ এর সাথেই ছিলাম এমন সময় তিনি তাঁর গায়ের জামা খানিক আলগা করে দিলেন।পতিত বৃষ্টি তার ত্বক ভিজিয়ে দিল।আমরা জিজ্ঞাস করলাম "হে আল্লাহর নবী আপনি এমন কেন করলেন?উত্তরে তিনি বললেন "এটা মাত্রই আমার রবের নিকট থেকে পতিত হয়েছে। (সহীহ মুসলিম) ইসলাম যে মানুষকে এত রোমান্টিক বানায় আগে জানা ছিল না।ধর্মের কথা মারাত্মক কথা।আগেই একটা কথা বলেছিলাম মানুষ সাজানো গুছানো জিনিস পছন্দ করে,তো ইসলাম এতটাই গুছানো যে কেউ এটার একটা জিনিসও অস্বিকার করতে পারবে না।আমার গর্ব হচ্ছিল এই ভেবে যে আমি একজন পর্দাবতীর স্বামী।রূপবতীর রূপ,মায়াবতীর মায়া,লজ্জাবতীর লজ্জা সব জায়গায় সমান নাও হতে পারে কিন্তু একজন পর্দাবতীর পর্দা সব জায়গায় সব সময় সমান।
No comments yet