read.cash Log in
@Safwan more from that month

মেয়ে

এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। পরীক্ষা দিয়েছে মেয়েরা, পাশ করেছে মেয়েরা, আশানুরূপ ভাল ফল করতে পারেনি মেয়েরা, ফেলও করেছে মেয়েরা। আনন্দের ছবিতে মেয়েরা। হতাশার ছবিতে মেয়েরা। কান্নার ছবিতেও মেয়েরা। পুরুষের অস্তিত্ব খুঁজে পেলাম কেবল এক স্থানে। ছবি সাংবাদিকের নামে। নাম দিলাম না। একটা ব্যাপার এখনও বুঝলাম না। বাজে ফলের কারনে মানুষের কান্নার ছবি এইভাবে শীর্ষস্থানে কোন লজিকে প্রকাশ করা হয়ে থাকে? ফাজিলগুলির কী প্রাইভেসি বলে টার্মের সাথে পরিচয় নেই? যাই হোক। যারা আশানুরূপ ভাল ফল করেছেন, অভিনন্দন। যারা করেননি, তাঁদের বলি, আমিও জিপিএ ফাইভ পাইনি। এবং আমি গাঙের জলে ভেসে যাইনি। জীবন অনেক লম্বা এবং দুনিয়া অনেক বিশাল। ঠিক মতন লেগে থাকলে দুয়েকটা হোঁচটে কিছুই আসে যায়না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, শেষটা কেমন হলো? মা বাবার পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে চিন্তা করছিলাম। তাঁদের আশংকা, রেসে পিছিয়ে পড়লে তাঁদের ছেলে মেয়েদের কী হবে! এই দেশে ভাল রেজাল্ট না করলে ভাল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় কোথাওই যে সুযোগ মিলবে না! চাকরির কী হবে? ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কী হবে? রিল্যাক্স। সবাই ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হলে ব্যবসায়ী হবে কে? এমবিএ করবে কে? অফিস চালাবে কারা? ফিজিক্স, কেমেস্ট্রি, ম্যাথ কিংবা অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে পড়াশোনা করতে হবেনা? সমাজে কেবল ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারদেরই ইজ্জত আছে, বাকিদের নেই? সৎ উপার্জনের প্রতিটা মানুষকে স্যালুট। তাঁরা আছেন বলেই সমাজটা এখনও বন্য হয়ে যায়নি। যারা মোটামুটি মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাবেন বলে ভয়ে হতাশ হয়ে জীবন থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন, তাঁদের কেবল একটা সহজ টিপস দেই। বেশি বেশি করে পড়াশোনা করুন, নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করুন। টোফেল, আইয়েল্টস দিন। (আল্লাহ্ যদি আমাদের করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করেন।,,,অন্য অন্য ধর্মে যে যা বলে অনুমোদন করেন।) বিদেশে স্কলারশিপ পেয়ে যাবার চেষ্টা করুন। বিদেশিরা কেয়ার করেনা আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এপ্লাই করেছেন, নাকি বুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আপনাকে ওরা বিচার করবে ওদের স্বীকৃত পরীক্ষায় আপনি কতটা ভাল করেছেন সেটার উপর। দেশের সুপার জিনিয়াস ছেলেকে এদেশে এসে অতি কম বেতনের চাকরি করতে দেখেছি। আবার দেশের অতি সাধারণ ছেলেকেও এখানে এসে কোটিপতি হতেও দেখেছি। বলেছিলাম না, জীবন অনেএএএক লম্বা, পৃথিবীটা অনেএএএক বিশাআআল! বিদেশ যাওয়া ছাড়াও আরও হাজারো পথ খোলা আছে। শুধু উঁকি দিয়ে দেখলেই চলবে। পড়াশোনা চালিয়ে যান। একটা দুইটা দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেই থামতে হবেনা। এইটাই পড়াশোনার শুরু। আরও জোর লাগান। আরও পরিশ্রম করুন। কেউ যদি সাথে না থাকে, হতাশার কিছু নেই। যখন আপনি জীবন পাল্টাতে শুরু করবেন, ধীরে ধীরে পুরো পৃথিবী আপনার পাশে এসে দাঁড়াবে। ভবিষ্যৎ জীবন হোক হতাশামুক্ত জীবন। সবাইকে শুভকামনা।

No comments yet

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.