গল্পটা ভালবাসার
#গল্পটা_ভালোবাসার💞💞💞 #সিজন_2 #পর্বঃ৩৫ #safwan এতোক্ষণ আমি লুকিয়ে লুকিয়ে শুনছিলাম। এখন আমি এসে বলি, "না গো। তোমার রোদ ভাইয়া তোমার স্পেশাল কফি খাবে না। ও আমার হাতের কফিই বেশি পচ্ছন্দ করে" বলে আমি রোদের দিকে আমার বানানো কফি এগিয়ে দেই।রোদ সেটা নিয়ে খাওয়া শুরু করে। আর সিমা জ্বলে পুড়ে রুম থেকে চলে যায়। আর আমি রোদের দিকে তাকাতেই দেখি ও আমার বানানো কফি খাচ্ছে। আমি ওর হাত থেকে কফিটা টান দিয়ে বললাম, "দিন আমার কফি আমাকে দিন। খুব শখ না কফি খাওয়ার। ওই সিমার হাতের কফি খাওয়ার। স্পেশাল কফি। যান খান ওই সিমার বানানো স্পেশাল কফি। আমার কফি আপনি খাবেন না।" বলে ওর হাত থেকে টান দিয়ে নিয়ে নেই কফি মগটা । "কিন্তু কফিটা তো আমার জন্যই আনছিলা তাহলে ওটা নষ্ট হবে কেনো দাও খেয়ে ফেলি।" "কে বলছে এইটা আপনার জন্যই আনছি। জ্বী না ওটা আপনার জন্য আনি নাই। কফিটা আমার জন্যই আনছিলাম। আমি খাবো বলে। " তারপর আমি কফি খাওয়া শুরু করে দেই। "তুমি আমার এঁটো কফি খাচ্ছো কিন্তু।" "হিহিহি,,,,শুধু আমি না। আপনি ও খেয়েছেন। " "আমি কিভাবে খেলাম?" "আমি তো কফিটা খাচ্ছিলাম কিন্তু ভূল করে আপনাকে কফিটা দিয়েছিলাম আর আপনি ও কফিটা গাধার মতো খেয়ে নিলেন।।" "কিহ্" "হুম।" "থাক নিজের বউয়ের এঁটোই খেয়েছি এতে বোকা হওয়ার কি আছে। আমার জন্য আরেক কাপ বানিয়ে আনো তো যাও।" "ইশ, আপনার কাজিন আছে না। আপনার জন্য স্পেশাল কফি বানাতে। যান ওরে যাইয়া বলুন। ও বানিয়ে দিবে।" বলে আমি কফি খেয়ে ফ্রেশ হয়ে নেই। পরেরদিন সিমা বান্দরনি আমাকে তার রুমে ডাকে। আমি ও যাই। যাই গিয়ে দেখি কি বলে, "আমায় ডাকছিলা তুমি?" "হ্যাঁ শোন।" "কি?" "রোদ ভাইয়া তো নাই। চলো আমরা গল্প করি।" আমি সিমার এরুপ কথায় বেশ অবাকই হয়েছি। আমাকে তো ওর একেবারে পচ্ছন্দ না। তাহলে আজকে আমার সাথে গল্প করতে চাইছে। "কি গল্প করবো আমি। আমার এখন কোন গল্পই মাথায় নাই।" "ঠিক আছে আমি করি তুমি শোন। কেমন?" "শাঁকচুন্নিটা কি গল্প করবে কে জানে? " যেটা সন্দেহ করছিলাম ঠিক সেটাই হলো সিমা আবারো সেই রোদের কথা শুরু করছে। ছোট বেলায় কি করছিলো না করছিলো বড় হইয়া কি করলো না করলো হেনতেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এই মাইয়াটার মাথায় খালি রোদ আর রোদ। খালি রোদের কথা। আপাতত রোদের ভূত চাপছে। এটা আমাকেই সরাতে হবে। "আচ্ছা সিমা তোমার মাথায় রোদ ভাইয়া ছাড়া আর কোন কথা নাই।" " তুমি জানো রোদ ভাইয়াকে আমার কতো ভালো লাগে। ইশ রোদ ভাইয়ার সাথে যদি সারাটা জীবন কাটাতে পারতাম।" আমি সিমার কথা শুনে রেগে গিয়ে "পাগল হয়ে গেলা নাকি। রোদ না তোমার ভাইয়া হয়। তুমি না রোদকে ভাইয়া বলো। আর রোদ বিবাহিত। ওর সাথে সারাজীবন কাটাতে পারলে ভালো হতো এসব কি বলো তুমি?" "ভাইয়া হলে কি কেউ বিয়ে করতে পারে না নাকি?" " রোদ শুনতে পারলে না তোমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিবে।" "জ্বী না। রোদ ভাইয়া আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমি ঠিক বুঝতে পারি। শুধু তোমার জন্য বলতেই পারছে না। আগে তো রোদ ভাইয়াকে আমি যেখানে বলতাম সেখানেই নিয়ে যেতো কিন্তু এখন,,," "আমার কাজ আছে আমি গেলাম।" বলে ওখান থেকে চলে আসি। বাথরুমে রোদের একগাদা জামাকাপড় ভিজিয়ে রেখেছিলাম। ওইগুলা পরিষ্কার করতে গেলে দেখি সিমা শাঁকচুন্নিটা আমার পিছে পিছে এসে হাজির। "তুমি?" "তুমি রোদ ভাইয়ার জামাকাপড় ধুচ্ছিলা।" "হ্যাঁ। কেনো?" "দাও আমি ধুয়ে দেই।" "তুমি কেনো আমার বরের শার্ট-প্যান্ট আমি ধুবো।" "প্লিজ দাও না। তুমি অন্য কাজ করো যাও।" বলে ও আমাকে এক প্রকার ধাক্কা দিয়েই সরিয়ে দিলো। আমি তো রেগেই ছিলাম আর এখন যেন রাগ আরো দ্বিগুন হলো। আমার বরের জামাকাপড় অন্য মেয়ে ধুবে এটা তো সহ্যই করতে পারছি না। তার উপর কিছুক্ষণ আগে আবার কি বাজে কথা বলছিলো। আমার এখন ইচ্ছা করছে এই শাঁকচুন্নিটাকে ঠাস ঠাস করে কতো গুলো চড় দিয়ে গাছের উপর উলটা করে ঝুলিয়ে লাঠি দিয়ে ইচ্ছামতো পিটিয়ে পানিতে চুবাইয়া চব্বিশ তালা বিল্ডিং থেকে ফেলে দেই ।😡,,,,,, সিমা কাজ শুরু করে ও দিয়েছে। আমি নিজের ইচ্ছাটাকে নিজের মনে রেখেই রাগ কন্ট্রোল করে ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম বের করে খাচ্ছি আর বুদ্ধি বের করছি। কি করে কি করা যায় আরকি? অবশেষে বুদ্ধি ও পেয়ে গেলাম। এক দৌড়ে রুমে গিয়ে দেখলাম সিমা এখনো পরিষ্কারই করছে। আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম কখন ও জামাগুলো শুকাতে দিবে। কিছুক্ষণ পর সিমা সব জামাকাপড় ছাদে শুকাতে দিয়ে চলে যায়। আর আমি আস্তে আস্তে রোদের শার্ট-টি শার্ট গুলাকে ইচ্ছে করেই মাঝ বরাবর কেঁচি দিয়ে কেটে দেই। আমার বরের জামা-কাপড় ধুয়া তাই না। খালি রোদ ভাইয়া রোদ ভাইয়া। এবার তোর জামাকাপড় ধুয়া দেখে তোর রোদ ভাইয়া এতো খুশি হবে যে তা দেখে তোর কি অবস্থা হবে আল্লাহ্ই জানে। আমি তাড়াতাড়ি ছাদ থেকে নিচে চলে এলাম। বিকালে সিমা ছাদ থেকে জামাগুলো নিয়ে এসে ভাজ করতে গেলে জামাগুলো কাটা দেখে অবাকের সাথে ভয় ও পায়। ও কোন মতে জামাগুলো ভাজ করে আমার রুমে দিয়ে আসে। আমি তো জানিই এগুলার কি হইছে। কিন্তু সিমার মুখটা দেখে বেশ হাসি পাচ্ছে। হাসি চাপিয়ে রেখে আমি নিজেই সিমাকে আটকিয়ে গল্প করতে বসিয়ে দেই। আমি ওর সাথে কথা বলেই যাচ্ছি তো বলেই যাচ্ছি। কিন্তু এবার সিমার মুখ থেকে একটা কথা ও বের না হওয়া দেখে আমার তো খুব ভালো লাগছে। আমি ওর দিকে বারে বারে তাকাচ্ছি আর মিটিমিটি হাসছি। রোদের আসার শব্দ শুনে,,,,,,,,,,,, চলবে...............
No comments yet