রহস্যময়ী কবর
রহস্যময়ী কবর এই কবরটাতে একটা রহস্য আছে। মোড়ল বাড়ির গোরস্থানের সবার দক্ষিণে এই কবরটা। পারিবারিক কবরস্থান। তিন পুরুষ থেক এই বংশের মরহুমদের দাফন করা হয় এখানে। গাছপালায় ঘেরা এই কবরস্থানে সর্বশেষ দাফন করা হয় শ্রাবনীকে।রহস্যটা এই কবরেই! তিন বছর আগে মারা যাওয়া মেয়েটা বাবার একমাত্র সন্তান ছিল। বিয়ের সাড়ে চৌদ্দ বছর পর জন্ম নেয় মেয়েটা। অঝোর বর্ষার শ্রাবণ সন্ধ্যায় জন্ম নেয়া মেয়েটার নাম রাখা হয় শ্রাবনী। শ্রাবনী নামটা বেশ দুঃখী দুঃখী টাইপের। নামের সাথে একফোঁটা অজানা দুঃখের শ্রাবনধারা সবসময় মিশে থাকে। গত তিন বছর আগে শরতের রাতে মারা যায় শ্রাবনী। আকাশ ভরা তারার রাতে; এতো মুগ্ধ পৃথিবী ছেড়ে কেউ যেতে পারে? তারার রাতে বাবার মেয়েটা কেমন করে আকাশের তারা হয়ে গেল? আপনকে পর করে পরপারে চিরতরে কেমন করে যাওয়া সম্ভব হল? বাবার আগে সন্তান চলে যাওয়া কোন নিয়ম হল? মাঝে মাঝেই বিলাপ করে শ্রাবনীর বাবা। পাগলের মত একরাশ প্রশ্ন ছুড়ে দেয় বিধাতার কাছে। স্থির দৃষ্টিতে আকাশ পানে তাকিয়ে থাকে বাবা। কোন উত্তর আশে না। বিধাতা হয়তো হাসেন; অবাক হন পাগল বাবার পাগলামিতে। ভার্সিটির ছাত্রী ছিল শ্রাবনী। শরতের এক বিকেলে হঠাৎ বাসায় আসে সে। ছুটি নেই; ক্লাস আছে ভার্সিটিতে। এক্সট্রা ক্লাস হচ্ছে; ক্লাস টেস্টও। তবুও বাসায় কেন আসলো কেউ আন্দাজ করতে পারেনি। বাবা অবাক হননি। বাবা-মার টান যে ক্লাস- পরীক্ষার টানের চেয়ে বেশি। সন্তান বাবার কাছে এসেছে; মায়ের কোলে ফিরেছে। ছুটি নাই তো কি? সন্তান ফিরবেই। অবাক হবার কিছু নেই। বাহারী রান্না করা হল। রাতে মা ডাকলেন শ্রাবনীকে। খাবার টেবিলে এসে বাবার দিকে অপলক তাকিয়ে রইল মোয়েটা। হঠাৎ চোখটা ভিজে উঠছে। বাবা এবার অবাক হয়।মায়ের দিকে তাকিয়ে মেয়েটা ডুকরে কেঁদে উঠে। খাবার টেবিলে হঠাৎ মেয়েটা অমন করছে কেন? হঠাৎ ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে এল কেন? ও বিষন্ন কেন? কাঁদছে কেন? বাবা বললেন: কি হয়েছে মা? মা বলনেন: খুলে বল, কি হয়েছে? মেয়েটা আবার বাবার দিকে চোখ তুলে তাকায়। মায়ের দিকে ফিরে। কোন উত্তর নেই। বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে মেয়েটা। বোঝা গেল না রহস্যটা কি! আব্দার করে; মা-বাবার সাথে আজ ঘুমাবে। অত বড় মেয়ে এতো ছোট্ট মানুষের মত করছে কেন? শরতের তারার রাত। চাঁদের পাশে অনেক তারা। হাজার। লক্ষ। কোটি। মিট মিট করে জ্বলছে; নিভছে। পাশাপাশি শুয়ে আছে তিনটা মানুষ। বাবা-মায়ের মাঝে একটা চাঁদ। হঠাৎ ভোরে বাবা মায়ের মাঝে শুয়ে থাকা মেয়েটা
No comments yet