read.cash Log in
@Safwan more from that month

তুমি এমন কেনো

গল্প,,,তুমি এমন কেনো পর্ব,২ রাত এখন আনুমানিক সাড়ে বারোটা বাজে। হাটতে হাটতে মাঝে মাঝে আধপাকা পুরানো জং ধরা কয়েকটা বাড়ি চোখের সামনে পড়ে। আর একটু পরেই আজাদ চাচার বাসা। উনার সাথে আমার পরিচয় হঠাৎ করে। আমি বাসে করে যাচ্ছিলাম মোহাম্মদপুরের দিকে। আমার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল।হঠাৎ করে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। পরে আমি উনার ফোনের কল লিস্ট থেকে মুনা নামের একজনকে কল করে উনার বাসা অব্দি পৌছে দিয়েছিলাম।জানলাম মুনা উনার মেয়ে। অনার্স শেষ বর্ষের ফাইনাল দিবে। এই সামান্য বিষয়টা থেকেই এই মানুষ গুলোর সাথে আমার পরিচয়।তবে একটা বিষয় হলো মুনা উনার নিজ মেয়ে না। পালিত মেয়ে। উনাদের কোন সন্তান হচ্ছিল না। মুনা যে উনাদের পালিত মেয়ে ব্যাপারটা মুনাও জানে। . মুনা আমাকে দেখেই বললো “আপনি মানুষটা সুবিধার না। আপনার আসার কথা ছিল কয়টায়? নয়টায় না? আর এখন কয়টা বাজে? আব্বা আম্মাও ঘুমিয়ে গেছেন অপেক্ষা করতে করতে।” আমি একটু সময় নিয়ে বললাম “আপনার নিশ্চয় অপেক্ষা ব্যাপারটার সাথে পরিচয় এই প্রথম। এই প্রথম কারো জন্য অপেক্ষা করলেন?” আমি বুঝতে পারলাম আমার কথাটা ভালো ভাবে নেয়নি মুনা। মুনা দরজার ভিতরে চলে গেলো। যাওয়ার সময় এইটুকুই বললো টেবিলে সব কিছু দেওয়া আছে।চলুন খেয়ে নিবেন।রাত কম হয়নি। এমনিতে খাবার অনেকটা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। না হয় আবার গরম করতে হবে।” যখন টেবিলে বসলাম মুনা প্লেটে খাবার বেড়ে দিয়ে ভিতরে চলে যায় আর বলে যায় “খাওয়া শেষ হলে আমাকে ডাক দিয়েন।” . আজকে মুনাদের বাসায় মিলাদ পড়িয়েছিল। আমাকে দাওয়াত দিয়েছিল। মুনা অনেক জোর করেই বলেছিল আসতেই হবে।আজাদ চাচাকে সেদিন বাসায় দিয়ে আসার পর ব্যাপারটা ওখানেই সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্যাপারটা ওখানে সমাপ্ত না হয়ে পরিচয়টা আরো লম্বা করেছিল যদি না মুনার সাথে আমার দ্বিতীয়বার দেখা হতো বই মেলায়। আমি হাটছিলাম আর ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম কি কেনা যায়। হঠাৎ করেই একজন মিডিয়ার লোক এসে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল “এবারের বই মেলাটা আপনার কাছে কেমন মনে হচ্ছে? আর আপনি কি কি বই কিনতে আসছেন?” হুট করে এসে এমন করে প্রশ্ন করবে আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি।পরে আমি ভেবে শুধু বলেছিলাম “মেলার পরিবেশটা ভালোই। দেখি কি কেনা যায়।এখন তো যে পারে সেই লিখে। দু চারটা গল্প কবিতা লিখলো তারপর বই বের করে ফেললো।লেখক আর কবি হওয়া এতো সোজা না। এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার।” এরপর আমাকে যখন বললো “গল্প পড়তে বেশি পছন্দ করেন নাকি কবিতা?” আমি ব্যাটার কাছ থেকে পালাতে চাইছিলাম আর কি না কি প্রশ্ন করে বসে। আমি উনার চোখ বরাবর তাকিয়ে সরাসরিই বলেছিলাম “ভাই অনেক চাপ আসছে।বড় ধরনের চাপ।চাপ সাইড়া আইসা উত্তর দিচ্ছি। বলতে পারেন টয়লেটটা কোনদিকে? মেলায় কি কোন টয়লেটের ব্যবস্থা করেছে?” কিন্তু মিডিয়ার মানুষের সামনে থেকে রেহাই পাওয়া অনেক কঠিন আমি জানতাম।পালাতে পারিনি।আমি উত্তর দিলাম “দুটোই পছন্দ।যখন যেটা মন চায় পড়ি।” এরপর আমাকে একটা কবিতার কিছু লাইন শোনাতে বলে।আমি বলতে পারছিলাম না “ভাইজান আর লজ্জা দিয়েন না।আমি তেমন একটা গল্প কবিতা পড়িই না।খুব কম পড়ি। বই মেলায় আসলে শুধু আমাকে না, কাউকে কাউকে প্রশ্ন করলে এমনিতেই বলবে “অনেক অনেক বই পড়ি।কিন্তু ফেসবুকে ওদের মধ্যে এই কাউকে কাউকে একটা লেখায় ম্যানশন করলে বলবে “হায় আল্লাহ এতো বড় লেখা পড়বে কে? পড়ার সময় নাই।” আমি তেমন একজন। কিন্তু আমি এসব না বলে ভদ্র ভাবেই আমার পছন্দের সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটা কবিতা বললাম… . আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ এই কি মানুষজন্ম? নাকি শেষ পুরোহিত কঙ্কালের পাশা খেলা! প্রতি সন্ধ্যেবেলা আমার বুকের মধ্যে হাওয়া ঘুরে ওঠে, হৃদয়কে অবহেলা করে রক্ত; আমি মানুষের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসে থাকি- তার ভেতরের কুকুরটাকে দেখবো বলে… . এই কবিতা বলেই মিডিয়ার লোকের কাছ থেকে পালাতে পেরেছিলাম ঠিকি কিন্তু তৎক্ষনাত মুনা আমার সামনে এসে বললো “আপনি তো দেখছি খুব ভালো কবিতা আবৃত্তি করতে পারেন। আমি সব শুনেছি। রসিকতাও করতে পারেন বটে। আপনি মানুষটা একটু আলাদা টাইপের আছেন। দেখলে কিন্তু তেমন একটা বুঝা যায় না।” সেই থেকেই মুনার সাথে আমার পরিচয়টা বাড়তে বাড়তে এই অব্দি পৌছালো। . আমি শহরটার দিকে তাকাই। সন্ধ্যার পর এই শহরটা সাজার মাঝে ব্যাস্ত থাকে।তার সাজসজ্জায় ঢাকার এই সৌন্দর্যে নিজেকে এখন অনেকটা ক্ষুদ্র মনে হয়। বাসায় পৌছে আমি বুঝতে পারলাম আমার কিছুই ভালো লাগছে না। আমি দীবার কথা ভাবি।আমি বুঝি না যখনি আমার খারাপ লাগে তখনি খুব বেশি দীবার কথা মনে পড়ে।দীবা আমার থেকে বিদায় নিয়েছে চার বছর হয়ে গেলো। দীবা যেদিন আমার থেকে বিদায় নিবে তার ঠিক দুদিন আগে আমাকে বলেছিল “একটা কথা রাখবেন?” আমি শুধু “হুম” করে একটা শব্দ করেছিলাম।দীবা আরো কিছুক্ষন সময় চুপ করে ছিল। তারপর আমাকে ইতস্ততার সহিত বললো “আজকে আমাকে একটু জড়িয়ে ধরবেন? বুকে নিয়ে ঘুমাবেন?” আমি কিছুই বুঝতে পারিনি কেন দীবা এমন করে বললো।আমি বলেছিলাম “অনেক খারাপ লাগছে? আমাকে বলো। খারাপ লাগছে কি অনেক?” দীবা কান্না করে দিয়ে বলেছিল “বলেন নাহ, আমাকে আজকে একটু জড়িয়ে নিবেন? বুকে নিয়ে ঘুমাবেন?” আমি সাথে সাথেই ওকে বুকে জড়িয়ে নিয়েছিলাম।আমার তখন মনে হয়েছিল সমগ্র দুনিয়া একদিকে আর ও একদিকে। আমি বলেতে চাইলাম “দীবা এই কয়েক মাসে তুমি আমার ভিতর কেমন টগবগে ভালোবাসা জন্ম দিয়েছো তা তুমি হয়তো জানো না।আমি মানুষটাকে একা রেখে কোথাও যেও না।” দীবা আমাকে জড়িয়ে থেকেই বলছিল “জানেন আমি বার বার হেরে যাচ্ছি।আমি দিন দিন নিজের সাথে ক্রমাগত যুদ্ধ করে যাচ্ছি। আপনাকে কষ্ট দিচ্ছি।আমি নিজেও কষ্ট পাচ্ছি।এই বিশাল একটা পৃথিবীর মাঝে আমি অনেক ক্ষুদ্র একটা মানুষ। এই ক্ষুদ্র মানুষটা এই পৃথিবীর বিশালত্ব থেকে আড়াল হলে পৃথিবীর কি কোন ক্ষতি হবে বলুন? আমি অনেক আগেই পচে গেছি। আপনাকে ভালোবাসা দেওয়ার মত কিছু নেই। আমার খুব খারাপ লাগে। কেন এমন করে ভালোবাসতে গেলেন আমায়?” দীবার কান্না দেখে আমার চোখেও পানি চলে আসছিল। কিন্তু আমি ওর মত শব্দ করে কাঁদতে পারছিলাম না।আমি শুধু বলেছিলাম “তুমি ক্ষুদ্রই থাকো।আমার বিশালতা দরকার নেই। তুমি কেঁদো না। তুমি কাঁদলে আমার খারাপ লাগে।একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।তুমি দেইখো।” . কিন্তু ঠিক হয়নি। কিছুই ঠিক হয়নি।তার ঠিক দুদিন পর দীবা আত্মহত্যা করলো।আত্মহত্যা করার আগে আমাকে শুধু এইটুকুই লিখে গিয়েছিল “আপনাকে ঠিক মত ভালোবাসাটাও দিতে পারলাম না। মাফ করবেন” আমি পাগলের মত হয়ে গিয়েছিলাম। কান্না করতাম আর শুধু বলতাম আমায় একা করলে কেন? একা করলে কেন? আমি মাফ করবো না তোমায়।” আমি যদি জানতাম ও এমন করে হারিয়ে যাবে আল্লাহর কসম আমি ওকে মরতে দিতাম না। আমার ভালোবাসাটা খুব দরকার ছিল কি? তার থেকে হাজার গুন দরকার ছিল তোমাকে। অন্তত আমার চোখে চোখে তোমাকে রাখতে পারতাম। যখন ইচ্ছা হতো আমি কাচুমচু করে একটু কথা বলতে পারতাম। তোমার চুল কানে গুজে দিতে পারতাম ঘুমের মাঝে। এর বেশি কি চাওয়া ছিল আমার? আমার কষ্ট পায় খুব কষ্ট পায়।আমি কেমন একটা মানুষ? একটা মানুষকে নিজের কাছে বন্ধি করার ক্ষমতা রাখি না। যোগ্যতা রাখি না।ছিহ।,,,,,,,,, চলবে,,,চলবে,,,চলবে,,,,

No comments yet

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.