read.cash Log in
@Safwan more from that month

বড় লোকের অহংকারী মেয়ে

#বড়োলোকের_অহংকারী_মেয়ে #সাফওয়ান -- এই তোর এতো বড়ো বড়ো কিসের কথা হুম? আমার আব্বুর অনেক টাকা আমি যা খুশি করতে পারি। (তিশা) -- তা আপনি করতে পারেন তা নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই তাই বলে আপনি আমায় এভাবে প্রতিদিন অপমান করতে পারেন না। এটা বলার সাথে সাথে আমার গালে একটা থাপ্পড় মারলো, আমার চারকোনা কাঁচওয়ালা চশমাটা মাটিতে পড়ে গেলো, আমি আবছা দেখতে থাকলাম, সারা ক্যাম্পাস আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে আর তামাশা দেখছে। জানেন তো এখনকার দিনে বড়ো লোকরাই বেশি খুশি কারন টাকা আছে বড়ো লোকরাই বেশি সম্মাব পাই কারন টাকা। পৃথিবীটা আজ টাকায় চলে। এসব ভাবতে ভাবতে আমি চশমাটা খুঁজতে লাগলাম, চোখের কোনা অনেকটা পানি এসে গিয়েছে তাও সেটাকে আটকে রাখার চেষ্টা করলাম নয়তো আমার এই চোখের পানী নিয়েও ওরা মজা করবে৷ আমাকে ওভাবে দেখে... -- এই কে আছিস ওর চশমাটা খুঁজে দে পুরাই ক্ষাত ভাইয়া পোলা। তিশা এটা বলেই খুব হাসাহাসিতে মেতে উঠলো ওর ফ্রেন্ডদের সাথে। আমি কোনোকিছুই না বলে চশমাটা নিয়ে চলে এলাম। যে মেয়েটি থাপ্পড় দিলো সে হলো তিশা, আমায় প্রতিদিন অপমান করে আমিও সব সহ্য করে নিই, কারন তার একটাই এরা বড়োলোক যদি এরা আমায় কলেজ থেকে রিজেক্ট করে দেই কিছু টাকা খাইয়ে, হায়রে দুনিয়া আজ টাকা দিয়ে রক্ত পাওয়া গেলে এসব তো মাত্র কিছুই না। আমি হলাম অভ্রনীল, অর্নাস ১ম বর্ষে পড়াশোনা করি। আরো কিছু জানা লাগলে আমার প্রোফাইলে যেতে দেখে আসতে পারেন। আমি এবার ক্লাস রুমের একেবারে লাস্টের বেঞ্চে গিয়ে বসলাম যেখানে আমি সর্বদা বসি। যাতে ওই বড়ো লোকের অহংকারী মেয়েরা আমায় না দেখতে পায়, দেখতে পায় না বললে ভুল হবে দেখতে পায় অতোটা নোটিস করেনা, একটু পরেই তিশা আর ওর ফ্রেন্ডরা আমার কাছে এসে আমার একজন সামনে বসে... -- তিশা দেখেছিস জামাটার অবস্থা।(রূপা) -- জ্বি সেটাই দেখছি, এই তোর কি এতোটুকুও লজ্জা নেই জামাটা কত ময়লা। (তিশা) আমি কথা শুনে চুপ হয়ে থাকলাম, হাহাহা যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরায় তাহলে জামা পরিষ্কার কিভাবে হবে? -- ইশ কি দুর্গন্ধ। (ইতি) -- তিশা এবার আমার মুখের দিকে ১০০ টাকার একটি নোট বের করে আমার মুখের সামনে ছুঁড়ে মারলো। এরকম ব্যবহার করাতে আমি খুব রেগে গেলাম.... আমি চিৎকার করে... -- এই যে বড়োলোকের অহংকারী মেয়েরা আপনারা নিজেদের কি ভাবেন হুম? এটা বলতেই পুরো ক্লাস রুমের পোলাপানরা আমার দিকে তাকালো, কেউ হাসবে কেউ আবার চুপ হয়ে আছে? আমি আবারো চিৎকার করে... -- দেখুন আমি গরীব আমি কোনোদিন কারোর ক্ষতি করিনি, আমি গাইয়া হতে পারি কিন্তু কখনো কারোর অসম্মান করিনি। ক্লাসের এক পোলা চিৎকার করে... -- তোর মতো গাইয়া ছেলের আবার সম্মান অসম্মান হাহাহা। আমি কিছুটা কষ্ট পেয়ে... -- আচ্ছা, তিশার দিকে তাকিয়ে আমি.... -- এই নিন আপনার টাকাটা। তিশা ঘৃনার সাথে... -- ছি তোর হাতের জিনিস আবার নেওয়া যায় না৷ পুরাই ক্ষাত একটা। আমি মনে মনে... -- মিস তিশা এর যোগ্য জবাব আপনাকে পেতেই হবে একদিন। ক্লাস শেষ হয়ে গেলো আমি কলেজ ক্যাম্পাসে এসে বসলাম, মনটা খুব খারাপ থাকাতে আমি মেসে ফিরে গেলাম ওহ হ্যাঁ আমি মেসে থাকি এটা তো বলতেই ভুলে গেছি, মেস বললে ভুল হবে একটা একেবারে পুরাতন বাড়ি। আমি মেসে গিয়ে রুটিন দেখতেই আমার মাথা ঘুরে গেলো, হায় আল্লাহ আজ আমার তিনটা টিউশন, মানে আমি পড়াতে যাই অন্যের বাসায়। সকাল থেকে কিচ্ছু পেটে পড়েনি আর পকেটের হাল তেমন ভালো না তাই ভাবলাম পড়ানোর শেষে যে নাস্তাটা দেবে ওটাই পেট ভরে যাবে। ভাইরে পেট কি আর ভরে মন থেকে পেটটারে ভরাতে হয়। জ্বি এটাকে গরীব বলে। আজ আমার টাকা থাকলে আমি ক্ষাত নামে পরিচিত হতাম না স্টাইলিশ অভ্র নামে পরিচিত হতাম। ছাড়ুন টাকা ছাড়া এই পৃথিবীটা কেমন সেটা আপনিও বোঝেন আর আমিও বুঝছি। আমি এবার টিউশন পড়াতে চলে গেলাম, পরপর তিনটা টিউশন করে বাসায় ফিরতে প্রায় সন্ধা সাতটা বেজে গেলো, বাসায় এসে বেডে একবার গা হেলালাম, খুব টায়ার্ড হয়ে গেছি৷ আবার চিন্তায় পড়ে গেলাম রাতের খাবার কি হবে? উঠে দেখলাম চাল ডাল কিছুই নেই। পকেটে মাত্র ২০ টি টাকা পড়ে আছে আর তার সাথে তিশার দেওয়া ১০০ টাকাটা। এখনো মাস শেষও হয়নি যে বেতন নেবো৷ কিভাবে যে চালাবো। রাতে কিছু না খেয়েই খালি পেটেই ঘুমিয়ে পড়লাম, সকালে উঠে বিনা চিনিতে এক কাপ চা খেয়েই কলেজের দিকে রওনা হলাম, কলেজের গেটের সামনে দেখি তিশা ও তার ফ্রেন্ডরা দাঁড়িয়ে আছে, তাই আমি ওদের ইগ্নোর করে অন্যদিকে ঢোকার চেষ্টা করলাম কিন্তু তাতেও আমি ব্যর্থ, হঠাৎ তিশা আমার সামনে এসে... -- কিরে ক্ষাত পোলা? (তিশা) আমি মাথা নিচু করে.... -- জ্বি বলুন। একজন পিছন থেকে লাথি মেরে... -- জ্বি বলুন কিরে বল যে জ্বি ম্যাডাম বলুন। -- আচ্ছা, ম্যাডাম বলুন। -- আজ আমার বাসায় আসিস। -- কেন ম্যাডাম? -- আমার জুতাগুলার একটু মোছামুছির কাজ আছে, করে দিস আর টাকাও নিয়ে যাস। এটা তিশা বলেই সবাই হাসাহাসি শুরু করলো... আমি কিছু না বলে ওদের সাইড কাটিয়ে যাবার সময় তিশার দেওয়া ১০০ টাকার নোটটা ওর হাতে গুঁজে দিলাম... গুঁজে দেবার সাথে সাথে তিশা.... -- তোর সাহস হয় কিভাবে আমার হাতে তোর হাত দেওয়ার, জানিস কত টাকা দামি ক্রিম লাগিয়ে এসেছি। এটা বলে আমার গালে থাপ্পড় মারতে যাবে ঠিক তখনি আমি তিশার হাতটা ধরে.... -- আপনার সাহস কিভাবে হয় আমার মুখের উপর টাকা ছুঁড়ে দেওয়া, আপনার কিভাবে সাহস হয় আমাকে প্রতিদিন সবার সামনে এভাবে অপমান করতে? আপনারা বড়ো বলে কি আমাদের মতো মানুষদের মাথা কিনে রেখেছেন নাকি? সবাই আমার দিকে কেমন ভাবে যেন তাকিয়ে আছে এসব বলাতে আমার। তিশা রাগে লাল হয়ে গেছে, -- স্টুপিড তোকে আমি দেখে নেবো। এটা বলে চলে যেতে লাগলো..... চলবে নাকি.........? সাড়া পেলে আগামী পর্ব লেখার জন্য আগ্রহী হবো।

No comments yet

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.